(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى صحيح البخاري (محمد أبو الهدى اليعقوبي)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: المدخل إلى صحيح البخاري
المؤلف: محمد أبو الهدى اليعقوبي
الناشر: دار توقيعات - لندن - المملكة المتحدة
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 313
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الأول 1442
সহীহ আল-বুখারীর ভূমিকা (মুহাম্মদ আবু আল-হুদা আল-ইয়াকুবী)
বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: সহীহ আল-বুখারীর ভূমিকা
লেখক: মুহাম্মদ আবু আল-হুদা আল-ইয়াকুবী
প্রকাশক: দারু তাওকিআত - লন্ডন - যুক্তরাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৩
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৪)
الجَامِعُ المُسْنَدُ الصَّحِيحُ المُخْتَصَرُ مِنْ أُمُورِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَنِهِ وَأَيَّامِهِلِلإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيِّ الطَّبْعَةُ السُّلْطَانِيَّةُ فِي تِسْعِ مُجَلَّدَاتٍ مَعَ مُجَلَّدٍ لِلمُقَدِّمَةِطُبِعَ الأَصْلُ فِي المَطْبَعَةِ الأَمِيرِيَّةِ بِمِصْرَ سَنَةَ 1313/ 1895 بِأَمْرٍ مِنَ السُّلْطَانِ العُثْمَانِيِّ عَبْدِ الحَمِيدِ الثَّانِيوَأَعَادَتْ دَارُ تَوْقِيعَاتٍ طِبَاعَتَهُ طِبْقَ الأَصْلِ بِطَرِيقَةِ الفَاكْسِيمِيل سَنَةَ 1440/ 2019 مُقَدِّمَةُ الطَّبْعَةِ السُّلْطَانِيَّةِالمَدْخَلُ إِلَى صَحِيحِ البُخَارِيِّمُحَمَّدٌ أَبُو الهُدَى اليَعْقُوبِيُّ الطَّبْعَةُ الأُولَى 1440/ 2019جَمِيعُ الحُقُوقِ مَحْفُوظَةٌ لِدَارِ تَوْقِيعَاتٍ - المَمْلَكَةُ المُتَّحِدَةُ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্যাবলি, তাঁর সুন্নাহসমূহ এবং তাঁর দিনলিপি সম্বলিত সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য সংকলনইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী বিরচিত ভূমিকা খণ্ডসহ নয় খণ্ডে সুলতানি সংস্করণউসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের নির্দেশে ১৩১৩ হিজরি/ ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে মিশরের আমিরিয়া মুদ্রণালয়ে মূল গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছিলএবং দারুত তাওকিয়াত ১৪৪০ হিজরি/ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্যাক্সিমিলি পদ্ধতিতে মূলানুগ পুনর্মুদ্রণ করেছে সুলতানি সংস্করণের ভূমিকাসহীহ আল-বুখারীর প্রবেশিকামুহাম্মদ আবু আল-হুদা আল-ইয়াকুবী প্রথম সংস্করণ ১৪৪০/ ২০১৯সর্বস্বত্ব দারুত তাওকিয়াত - যুক্তরাজ্য কর্তৃক সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الناشربعدَ حمدِ الله تعالى، والصلاةِ والسلامِ على خيرِ خلقِه سيدِنا محمدٍ وآلِه وصحبِه، تشرُف دارُ توقيعات للنشر، بأن تقدم للعالم الإسلامي الطبعة السلطانية لصحيح الإمام البخاري رحمه الله تعالى، وهي التي أمر بطباعتها السلطان العثماني عبد الحميد الثاني، وانتهت المطبعة الأميرية ببولاق في مصر من طباعتها سنة 1313، وخرجت في تسعة أجزاء بحرف جميل، وتنضيد أنيق، وحلة قشيبة.وبما أن صحيح البخاري هو أصحُّ كتابٍ للمسلمين بعد القرآن الكريم، فقد وجَّه السلطانُ عبد الحميد الثاني رحمه الله كلَّ اهتمامه لإخراج طبعةٍ صحيحةٍ مُتقَنةٍ منه.، تكون مرجعًا للأمة الإسلامية، وأصدر الأمر بالبدء بطباعته على نفقته الخاصة. وأرسل إلى مصر من خزانته المُلوكية النسخةَ اليونينية الخطية الأصلية النادرة، لمقابلة الطبعة وتصحيحها.وبعد انتهاء الطبع قام شيخ الأزهر الشيخ حسونةُ النواوي، وستةَ عشرَ من العلماء الأعلام بتصحيحها ومقابلتها كلمةً كلمةً. على النسخة اليونينية التي أرسلها السلطان.، وأعدُّوا جداول بالخطأ والصواب، أُرفقت مع كل جزء من أجزائها التسعة. ثم قام شيخ الإسلام محمد جمال الدين أفندي، ولجنةٌ أخرى من كبار علماء الدولة العثمانية في إستنبول، بمراجعة الطبعة ثانيةً وإجازتها. إنها مأثَرةٌ من مآثر السلطان عبد الحميد الثاني رحمه الله، زادها حُسنًا بأنه جعل تلك الطبعة وقفًا عامًّا للمسلمين.
প্রকাশকের ভূমিকামহান আল্লাহর প্রশংসার পর এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সঙ্গীদের প্রতি দরুদ ও সালামের পর, 'তাওকিয়াত পাবলিশিং হাউস' মুসলিম বিশ্বের সামনে ইমাম বুখারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সহিহ-এর সুলতানি সংস্করণ পেশ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে। এটি সেই সংস্করণ যা উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ মুদ্রণের আদেশ দিয়েছিলেন এবং মিশরের বুলাকের আমীরিয়া প্রেস ১৩১৩ হিজরিতে এর মুদ্রণ সম্পন্ন করেছিল। এটি সুন্দর হরফ, পরিপাটি বিন্যাস এবং জাঁকজমকপূর্ণ অবয়বে নয়টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।যেহেতু পবিত্র কুরআনের পর মুসলমানদের কাছে সহিহ বুখারি সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ, তাই সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর একটি নির্ভুল ও নিপুণ সংস্করণ বের করার দিকে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে এর মুদ্রণ শুরু করার আদেশ জারি করেছিলেন। তিনি সংস্করণটি যাচাই ও সংশোধনের জন্য তাঁর রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে বিরল ও মূল পাণ্ডুলিপি 'নুসখাতুল ইউনিনিয়্যাহ' মিশরে পাঠিয়েছিলেন।মুদ্রণ শেষে শায়খুল আজহার শায়খ হাসুনা আন-নাওয়াবি এবং আরও ষোলজন প্রখ্যাত আলেম সুলতানের পাঠানো ইউনিনিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে এটি শব্দে শব্দে সংশোধন ও যাচাই করেন। তাঁরা ভুল-সঠিকের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন, যা এর নয়টি খণ্ডের প্রতিটির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এরপর শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন এফেন্দি এবং ইস্তাম্বুলের উসমানীয় সাম্রাজ্যের শীর্ষ আলেমদের একটি কমিটি দ্বিতীয়বার এই সংস্করণটি পর্যালোচনা করেন এবং এর অনুমোদন প্রদান করেন। এটি সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর এক অনন্য কীর্তি, যার সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ তিনি এই সংস্করণটিকে মুসলমানদের জন্য একটি সাধারণ ওয়াকফ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৮)
لقد مرت مائةٌ وسبع وعشرون سنةً منذ صدور تلك الطبعة، ولا تزال هي أفضل طبعة لصحيح البخاري على الإطلاق، تتحدى بدقتها، وحسن إخراجها أحدثَ أساليب الطباعة والتحقيق. ولم تستطع آلات الطبع الحديثة، ولا الحروف الجديدة المخترعة، ولا المجامعُ العلمية التي تأسست خلال هذه المدة أن تُخرج طبعةً أفضل منها، لا في صحة النص ودقة الضبط، ولا في جمال الإخراج وأناقة التنضيد.لقد أبدع الإمامُ شرفُ الدِّينِ عليُّ بنُ مُحمَّدٍ اليُونِينيُّ (-701) في تصحيح نسخته ومقابلتها على أصحِّ الأصول الخطية، وتَتَبَّعَ كل اختلاف بين هذه الأصول فأثبته، من خلال نظام دقيق لتحقيق النص وإثبات الفروق، جعل فيه لكل نسخة من النسخ التي اعتمد عليها رمزًا، فكان بذلك مبدعًا في ميدان التوثيق، ورائدًا في مجال التحقيق.وصرف الإمام اليونيني عمره في دراسة صحيح البخاري وتدريسه ومقابلته، حتى قابله في سنة واحدة إحدى عشرةَ مرةً. وجمع سنة 667 هـ أبرز علماء دمشق، وعقد لهم مجالس لقراءة صحيح البخاري وتصحيحه.، حضرها إمام النحاة الشهير محمد ابن مالك (-672) صاحب الألفية، وتمت القراءة والمقابلة والتصحيح في واحدٍ وسبعين مجلسًا، نتج عنها أصح نسخة من صحيح البخاري تُسَمَّى: النسخة اليونينة.لقد أخرجت الطبعة السلطانية كنوز تلك النسخة اليونينية بإتقان، ونقلت رموزها بدقة بالغة، وهو أمرٌ لم تتمكن من القيام به أي طبعة أخرى حتى الآن.وقد زادت الطبعة السلطانية دقةً وتحريرًا بمقابلتها على نسخة أخرى فائقة الأهمية، هي النسخة البصرية، وهي فرعٌ عن النسخة اليونينية، نسخها بخط يده العلامة الشيخ عبد الله بن سالمٍ البصري (-1134)، وهو عالم شهير، أقرأ صحيح البخاري في جوف الكعبة عدة مراتٍ، وألَّف شرحًا له. واعتنى بنسخته من صحيح البخاري،
সেই সংস্করণটি প্রকাশের পর থেকে একশত সাতাশ বছর অতিবাহিত হয়েছে, এবং এটি এখনও সহীহ বুখারীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সংস্করণ হিসেবে টিকে আছে। এর নির্ভুলতা এবং চমৎকার উপস্থাপন আধুনিক মুদ্রণ ও সম্পাদনা পদ্ধতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে। আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র, নতুন উদ্ভাবিত হরফ কিংবা এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক একাডেমিগুলো এর চেয়ে উন্নত কোনো সংস্করণ প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি; পাঠ্যের বিশুদ্ধতা ও সূক্ষ্ম বিন্যাসের ক্ষেত্রেও নয়, আবার মুদ্রণের সৌন্দর্য ও সজ্জার পারিপাট্যের ক্ষেত্রেও নয়।ইমাম শরফুদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইউনিনী (মৃত্যু: ৭০১ হিজরী) তাঁর পাণ্ডুলিপিটি সংশোধনে এবং সর্বাধিক বিশুদ্ধ মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তা তুলনা করার ক্ষেত্রে এক অনন্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি এই মূল উৎসগুলোর মধ্যকার প্রতিটি পার্থক্য অনুসরণ করে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। পাঠ্য সম্পাদনা ও পাঠভেদ নিশ্চিত করার জন্য তিনি একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি প্রতিটি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির জন্য একটি করে সংকেত চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রামাণিককরণের ক্ষেত্রে একজন উদ্ভাবক এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে একজন অগ্রপথিক হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।ইমাম ইউনিনী তাঁর জীবন সহীহ বুখারীর অধ্যয়ন, অধ্যাপনা এবং পাণ্ডুলিপি তুলনার কাজে উৎসর্গ করেছিলেন, এমনকি তিনি এক বছরেই এটি এগারো বার মূলের সাথে মিলিয়ে দেখেছেন। ৬৬৭ হিজরীতে তিনি দামেস্কের প্রখ্যাত আলেমদের একত্রিত করেন এবং সহীহ বুখারী পাঠ ও সংশোধনের জন্য মজলিস পরিচালনা করেন। আলফিয়ার লেখক প্রখ্যাত ভাষাবিদ মুহাম্মদ ইবনে মালিক (মৃত্যু: ৬৭২ হিজরী) এই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। একাত্তরটি মজলিসে পাঠ, তুলনা ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়, যার ফলস্বরূপ সহীহ বুখারীর সর্বাধিক বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিটি প্রস্তুত হয়, যা 'ইউনিনী সংস্করণ' নামে পরিচিত।সুলতানি সংস্করণটি সেই ইউনিনী সংস্করণের অমূল্য সম্পদসমূহ অত্যন্ত নিপুণতার সাথে প্রকাশ করেছে এবং এর সংকেত বা প্রতীকসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে স্থানান্তর করেছে, যা এখন পর্যন্ত অন্য কোনো মুদ্রণ করতে সক্ষম হয়নি।সুলতানি সংস্করণটির নির্ভুলতা ও পরিমার্জনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখার কারণে, আর সেটি হলো 'বসরী সংস্করণ'। এটি মূলত ইউনিনী সংস্করণেরই একটি শাখা, যা প্রখ্যাত আলেম শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরী (মৃত্যু: ১১৩৪ হিজরী) স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম, যিনি কাবা ঘরের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকবার সহীহ বুখারী পাঠদান করেছেন এবং এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থও রচনা করেছেন। তিনি সহীহ বুখারীর তাঁর এই পাণ্ডুলিপিটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন,
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأمضى نحو عشرين سنةً في مقابلتها وتصحيحها. وقام المصححون في مطبعة بولاق بالاستفادة من جواهر نسخته، ومراجعة الطبعة السلطانية عليها.وبعد انتهاء التصحيح والمقابلة أعيدت النسخة اليونينية من مصر إلى إستنبول، ولكنها فُقدت بعد ذلك، ولم يُعثَر لها إلى هذا اليوم على أي أثر، كما أن مصير النسخة البصرية التي كانت مِلكًا للشيخ طاهر سنبل في المدينة المنورة لا يزال سرًّا غامضًا.هذه الأحداث جعلت من الطبعة السلطانية طبعةً فريدةً في دقتها العلمية، نادرةً في قيمتها التاريخية، لأنها تمثل خلاصة الجهود التي بذلها العلماء لتصحيح صحيح البخاري خلال سبعمائة سنة. وزاد في ندرتها أنه لم يطبع منها غيرُ ألف نسخة، فأصبحت بذلك تحفةً أثريةً لا تقدر بثمن.وقد أحببنا في دار توقيعات أن نعيد إصدارها لسببين: الأول: أنها أصحُّ الطبعات على الإطلاق، فينبغي أن تكون في متناوَل العلماء، وبين أيدي القراء. الثاني: لإحياء ذكرى السلطان عبد الحميد الثاني رحمه الله تعالى، والتذكير بمآثره في خدمة الإسلام.، ومنها طبع صحيح البخاري.واعتمدنا في إعادة الطباعة على نسخة أصلية من الطبعة السلطانية في مكتبة الشيخ محمد أبو الهدى اليعقوبي حفظه الله تعالى، ذات جلد أصلي مذهَّبٍ تُحَلِّيه طُغَراءُ السلطان، وشعار الدولة العثمانية، تعرف باسم (بخاري سَراي) أي نسخة القصر.لقد جرت عدةُ محاولات في العقود السابقة لإعادة إصدار الطبعة السلطانية مع إضافات عديدة، وتحسينات مفيدة، اجتهد الناشرون في اختيارها لتحسين الطبعة وتيسير المراجعة فيها.
তিনি এর মোকাবিলা (মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা) এবং সংশোধনে প্রায় বিশ বছর অতিবাহিত করেন। বুলাক প্রেসের সংশোধনকারীগণ তাঁর পাণ্ডুলিপির অমূল্য বিষয়াদি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে সুলতানি সংস্করণটি পর্যালোচনা করেছেন।সংশোধন ও মোকাবিলা সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিনি পাণ্ডুলিপিটি মিসর থেকে ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে আনা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে সেটি হারিয়ে যায় এবং আজ পর্যন্ত এর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুরূপভাবে, মদিনা মুনাওয়ারায় শেখ তাহের সানবালের মালিকানাধীন বসরি পাণ্ডুলিপিটির পরিণতিও একটি রহস্য হয়ে আছে।এই ঘটনাবলি সুলতানি সংস্করণটিকে এর তাত্ত্বিক সূক্ষ্মতায় অনন্য এবং ঐতিহাসিক মূল্যে বিরল করে তুলেছে; কারণ এটি গত সাতশ বছর ধরে সহিহ বুখারি সংশোধনে আলেমদের প্রচেষ্টার সারনির্যাস। এর বিরলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এই কারণে যে, এর মাত্র এক হাজার কপি মুদ্রিত হয়েছিল, ফলে এটি একটি অমূল্য নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।আমরা 'দারুত তাওকিআত' থেকে দুটি কারণে এটি পুনঃপ্রকাশ করতে চেয়েছি: প্রথমত, এটি সর্বকালের সবচেয়ে বিশুদ্ধ সংস্করণ, তাই এটি আলেমদের নাগালের মধ্যে এবং পাঠকদের হাতের নাগালে থাকা উচিত। দ্বিতীয়ত, সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইসলামের খিদমতে তাঁর গৌরবময় কীর্তিগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যার অন্যতম হলো সহিহ বুখারি মুদ্রণ।পুনঃমুদ্রণের ক্ষেত্রে আমরা শেখ মুহাম্মদ আবু আল-হুদা আল-ইয়াকুবি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর গ্রন্থাগারে রক্ষিত সুলতানি সংস্করণের একটি মূল কপির ওপর নির্ভর করেছি। এর মূল প্রচ্ছদটি সোনালি কারুকাজ খচিত, যাতে সুলতানের রাজকীয় সিলমোহর ও উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতীক শোভা পাচ্ছে। এটি 'বুখারি সরাই' অর্থাৎ রাজপ্রাসাদের সংস্করণ নামে পরিচিত।বিগত দশকগুলোতে সুলতানি সংস্করণটি পুনঃপ্রকাশের বেশ কিছু প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যার সাথে যুক্ত ছিল নানা সংযোজন এবং উপকারী সংস্কার। প্রকাশকরা এই সংস্করণটিকে উন্নত করতে এবং এতে পর্যালোচনা সহজতর করতে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولكن ما يميز طبعتنا هذه هو أنها نسخةٌ طبقُ الأصل عن الطبعة السلطانية، طُبعت بطريقة الفاكسيميل محاكاةً للأصل. واختير لذلك ورقٌ فاخرٌ مُقَهَّرٌ.، وتمَّ الاعتناء بالتسفير والتذهيب، كما جرت العادة في النسخ التي تُقدَّم إلى خزائن الملوك. واستُعمل لونُ الذهب بدل اللون الأسود في الخطوط العريضة للعناوين وبدايات الأحاديث، وحُذفت عبارة: (وقف لله تعالى لا يباع ولا يشرى) من أعلى الصفحات، ووُضعت طُغَراءُ السلطان عبد الحميد، وشعارُ الدولة العثمانية في عهده على طرفي الجلد.، كما كان في النسخ الفاخرة من الطبعة الأصلية.وأرفقنا مع هذه الطبعة السلطانية كتاب المَدْخَل إِلى صَحِيحِ البُخَارِيِّ تأليف الشيخ محمد أبو الهدى اليعقوبي، وهو كتاب يُعَدُّ سَفَطَ جوهرٍ يشتمل على لآلئَ ودررٍ من الأبحاث التي لا يستغني عنها قارئُ صحيح البخاري.وإننا في دار توقيعات للنشر إذ نضع هذه الطبعة السلطانية، والتحفة النفسية الخزائنية من صحيح البخاري بين أيدي المحبين للنبي عليه الصلاة والسلام من كافة طبقات المجتمع، وهي أول كتاب نصدره، لنشكر كل من أعاننا على إخراج هذه التحفة الثمينة في هذه الحلة القَشيبة، سائلين الله تعالى أن يتقبل منا جميعًا صالح الأعمال، إنه سميع قريب مجيب. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين غرة شهر شوال سنة 1440دار توقيعات للنشر - لندن
কিন্তু আমাদের এই সংস্করণের বৈশিষ্ট্য হলো এটি সুলতানি সংস্করণের একটি অবিকল প্রতিলিপি, যা মূলের আদলে ফ্যাক্সিমিলি পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়েছে। আর এর জন্য উন্নতমানের মুকাহহার (পালিশ করা) কাগজ নির্বাচন করা হয়েছে। সেই সাথে এর বাঁধাই ও কারুকার্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, যেমনটি রাজকীয় গ্রন্থাগারসমূহে পেশ করা পাণ্ডুলিপিগুলোর ক্ষেত্রে করা হতো। শিরোনামের মোটা লেখা এবং হাদীসসমূহের শুরুতে কালো রঙের পরিবর্তে সোনালী রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। পৃষ্ঠার উপরিভাগ থেকে "আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য ওয়াকফকৃত, যা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না" শীর্ষক বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। মূল সংস্করণের বিলাসবহুল প্রতিলিপিগুলোর মতো এর চামড়ার বাঁধাইয়ের উভয় পাশে সুলতান আব্দুল হামিদের রাজকীয় মোহর (তুগরা) এবং তাঁর আমলের উসমানীয় সাম্রাজ্যের লোগো স্থাপন করা হয়েছে।এই সুলতানি সংস্করণের সাথে আমরা শায়খ মুহাম্মদ আবুল হুদা আল-ইয়াকুবী রচিত 'সহীহ বুখারীর ভূমিকা' গ্রন্থটি যুক্ত করেছি। এই গ্রন্থটিকে মণিমুক্তার একটি সিন্দুক হিসেবে গণ্য করা হয়, যা এমন সব গবেষণালব্ধ মুক্তা ও রত্ন সমৃদ্ধ যা সহীহ বুখারীর পাঠকের জন্য অপরিহার্য।আমরা 'দারু তাউকিআত পাবলিশিং'-এর পক্ষ থেকে যখন সহীহ বুখারীর এই সুলতানি সংস্করণ এবং রাজকীয় এই অমূল্য উপঢৌকনটি সমাজের সর্বস্তরের নবীপ্রেমিকদের (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) হাতে তুলে দিচ্ছি—যা আমাদের প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ—তখন আমরা সেই সব ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যারা এই মূল্যবান উপহারটিকে এমন সুশোভিত রূপে প্রকাশ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলের নেক আমলগুলো কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং দোয়া কবুলকারী। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। পহেলা শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরীদারু তাউকিআত পাবলিশিং - লন্ডন
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة المؤلفصحيحُ الحمدِ مرفوعٌ إلى الله تعالى سالمًا من كلِّ عِلَّة، على أن جعلنا من خيرِ أمةٍ أُخْرِجَتْ للناس وأفضلِ مِلَّة. نحمدُه على ما اتصل إلينا من آلائه، حمدًا يزيدُنا قربًا لديه.، ونشكرُه على ما تواتر من نعمائه، شكرًا جامعًا مُسْنَدًا إليه. أنعمَ علينا بنعمة الإيمان والإسلام، وأكرمَنا ببعثة سيدنا محمد عليه الصلاة والسلام، وامتنَّ علينا بذلك في الكتاب العزيز فقال سبحانه وتعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ} [سورة آل عمران: 164].اللهم صلِّ وسلم وبارك على نبيِّكَ ورسولك سيدِنا مُحَمَّدٍ الذي رَفَعْتَ ذِكْرَهُ عَلِيًّا، وأبقيتَ حديثَهُ مَروِيًّا، وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين ..أما بعد، أيدك الله تعالى بالعلم، وزانك بالعمل، وحلاك بالسنة، وأيدك بالتوفيق، فهذا كتاب المدخل إلى صحيح البخاري، أضعه بين يديك، وهو مقدمات هامَّةٌ يحتاج إليها قارئ كتابِ الجامع المُسْنَدِ الصحيح المختصرِ من أمور رسولِ الله صلى الله عليه وسلم وسننِه وأيامِه، للإمام الحافظ الحجة أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي رحمه الله تعالى، المعروفِ اختصارًا باسم الجامع الصحيح أو صحيح البخاري، نقدمه لجمهور القراء والطلبة والباحثين مقترنًا بمناسبتين اثنتين:الأولى: عقدُ مجالسِ السماع للحديث النبوي الشريف، لقراءة صحيح البخاري روايةً في مسجد آشتون المركزي في منطقة مانشستر بإنجلترة.
লেখকের ভূমিকানিখুঁত ও সঠিক প্রশংসা মহান আল্লাহর প্রতি উত্থিত হোক, যা সকল প্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত; কারণ তিনি আমাদের মানবজাতির জন্য বের হওয়া শ্রেষ্ঠ উম্মত ও সর্বোত্তম মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর সেই সকল নিআমতের জন্য যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিকট আমাদের নৈকট্য বাড়িয়ে দেয়। এবং আমরা তাঁর শুকরিয়া আদায় করি তাঁর ক্রমাগত নিআমতরাজির জন্য, এমন এক পূর্ণাঙ্গ শুকরিয়া যা কেবল তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। তিনি আমাদের ঈমান ও ইসলামের নিআমত দান করেছেন, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন। তিনি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এ বিষয়ে আমাদের প্রতি অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল} [সূরা আলে ইমরান: ১৬৪]।হে আল্লাহ, আপনার নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন, যাঁর আলোচনাকে আপনি উচ্চ মর্যদায় উন্নীত করেছেন এবং যাঁর হাদিসকে বর্ণনাসূত্রে অক্ষয় রেখেছেন; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর...অতঃপর, আল্লাহ তাআলা আপনাকে জ্ঞান দিয়ে শক্তিশালী করুন, আমল দিয়ে সুশোভিত করুন, সুন্নাহ দিয়ে সজ্জিত করুন এবং তাওফীক দিয়ে সাহায্য করুন। এটি 'সহীহ বুখারীর প্রবেশিকা' গ্রন্থ, যা আমি আপনার সমীপে পেশ করছি। এটি ইমাম হাফিজ হুজ্জাহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী আল-জু’ফী রহমতুল্লাহি আলাইহি—যিনি সংক্ষেপে 'আল-জামে আস-সহীহ' বা 'সহীহ বুখারী' নামে সুপরিচিত—প্রণীত 'আল-জামেউল মুসনাদুস সহীহুল মুখতাসারু মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি' গ্রন্থের পাঠকদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আমরা এটি সাধারণ পাঠক, ছাত্র ও গবেষকদের সামনে দুটি বিশেষ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে উপস্থাপন করছি:প্রথমত: ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার অঞ্চলের অ্যাশটন সেন্ট্রাল মসজিদে রিওয়ায়াতের ভিত্তিতে সহীহ বুখারী পাঠের লক্ষ্যে শরীফ নববী হাদিস শ্রবণের মজলিস আয়োজন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১২)
والثانية: إعادة إصدار الطبعة السلطانية النفيسة لصحيح البخاري، وهي أصح الطبعات، ليكون هذا الكتاب مفتاحًا للصحيح، ودليلًا لمن يريد قراءته.وقد رأينا الحاجة الماسة لكتاب مختصر سهل قريب المأخذ يكون عمدةً لقارئ الجامع الصحيح في ترجمة مؤلفه ومعرفة أحواله وتسهيل قراءة صحيحه، فوفقنا الله تعالى لتأليف هذا الكتاب الذي يجمع ستة كتبٍ في مجلَّد واحد هي:1. حياة الإمام البخاري.2. التعريف بالجامع الصحيح.3. التعريف بالنسخة اليونينة والطبعة السلطانية.4. آداب رواية الحديث.5. ثبت الأسانيد التي نروي بها الجامع الصحيح.6. دعاء ختم الجامع الصحيح.وقد رتبناه في اثني عشر فصلًا وتمهيد وملحقين، وابتدأنا بترجمة البخاري، وذكر ثناء العلماء عليه. ودراسة عن الصحيح وأقوال الأئمة عليه، واعتناء المسلمين به، ورواياته وطبعاته وأشهر الأسانيد إليه.وخصصنا النسخة اليونينية بالاعتناء، فتكلمنا عنها وعن أشهر فروعها. ووجهنا إلى الطبعة السلطانية النظر، لأنا نرى لكل من اشتغل بإخراجها حقًّا علينا، فعقدنا تراجم للعلماء والمصححين والمشرفين الذين خدموها، خصوصًا من أمر بطبعها وهو السلطان عبد الحميد الثاني رحمه الله، ومن أشرف عليه وهو الغازي أحمد مختار باشا.، ومن أجاز بعد المراجعة والتدقيق النشرَ، وهما شيخ الجامع الأزهر العلامة الشيخ حسونة النواوي، وشيخ الإسلام في الدولة العثمانية العلامة محمد جمال الدين
এবং দ্বিতীয়টি হলো: সহীহ বুখারীর মূল্যবান সুলতানি সংস্করণের পুনঃমুদ্রণ, যা সর্বাধিক নির্ভুল সংস্করণ; যাতে এই বইটি সহীহ-এর জন্য একটি চাবিকাঠি এবং যারা এটি পড়তে চায় তাদের জন্য একটি নির্দেশিকা হতে পারে।আল-জামি আস-সহীহ পাঠকারীর জন্য এর লেখকের জীবনী, তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানা এবং সহীহ পাঠ করা সহজতর করার লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য ও সুগম উৎসের বইয়ের একান্ত প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করেছি। তাই মহান আল্লাহ আমাদের এই বইটি সংকলনের তাওফীক দিয়েছেন, যা এক খণ্ডে ছয়টি বইকে একত্রিত করেছে, সেগুলো হলো:১. ইমাম বুখারীর জীবন।২. আল-জামি আস-সহীহ-এর পরিচিতি।৩. ইউনিনিয়াহ পাণ্ডুলিপি এবং সুলতানি সংস্করণের পরিচিতি।৪. হাদিস বর্ণনার শিষ্টাচার।৫. আল-জামি আস-সহীহ বর্ণনার সনদসমূহের তালিকা।৬. আল-জামি আস-সহীহ খতমের দোয়া।আমরা এটি বারোটি অধ্যায়, একটি উপক্রমনিকা এবং দুইটি পরিশিষ্টে বিন্যস্ত করেছি। আমরা ইমাম বুখারীর জীবনী এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসার উল্লেখের মাধ্যমে শুরু করেছি। এছাড়া সহীহ সম্পর্কে গবেষণা, এর উপর ইমামদের বক্তব্য, এর প্রতি মুসলমানদের গুরুত্ব প্রদান, এর বিভিন্ন বর্ণনাধারা ও মুদ্রণসমূহ এবং এর প্রসিদ্ধ সনদসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।আমরা বিশেষভাবে ইউনিনিয়াহ পাণ্ডুলিপির প্রতি যত্নশীল হয়েছি এবং এটি ও এর প্রসিদ্ধ শাখাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সুলতানি সংস্করণের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি, কারণ আমরা মনে করি যারা এটি প্রকাশের কাজে শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের আমাদের ওপর অধিকার রয়েছে। তাই আমরা সেইসব আলেম, পাণ্ডুলিপি সংশোধক এবং তত্ত্বাবধায়কগণের জীবনী সংকলন করেছি যারা এর খিদমত করেছেন; বিশেষ করে যিনি এটি মুদ্রণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি হলেন সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ (রহিমাহুল্লাহ), আর যিনি এর তত্ত্বাবধান করেছেন তিনি হলেন গাজী আহমদ মুখতার পাশা। এবং যারা পর্যালোচনা ও সূক্ষ্ম যাচাইয়ের পর এর প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন, তারা হলেন জামে আজহারের শায়খ আল্লামা শায়খ হাসুনা আন-নাওয়াবী এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুহাম্মদ জামালুদ্দীন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أفندي. واستخرجنا من الأرشيف العثماني مراسلات بين حاجب السلطان وبين مندوبه العالي في مصر تكشف عن كثير من أسرار الطبعة السلطانية.وعقدنا فصلًا بسطنا فيه فوائد الاشتغال برواية الحديث وحضور مجالس السماع، وفصلًا في آداب رواية الحديث الشريف، وحكم اللَّحْنِ - أي الخطأ - في رواية الحديث الشريف، وأصولَ كتابة البلاغات والسماعات والطِّباق.وختمنا الكتاب بدعاء ختم الجامع الصحيح، وهو دعاءٌ جمعناه سنة 1422، طبع مرتين.، وقرئ في عدة مجالس للختم، أدرجنا فيه ما ورد في صحيح البخاري من أدعية السنة.، ومنتخبات مما ذكره العلماء قبلنا في أدعية ختم البخاري. ومن الأمور المشهورة المجربة عند العلماء أن الدعاء عند ختم قراءة صحيح البخاري مستجاب.ورغم أن مصادر ترجمة الإمام البخاري محدودة معروفة، إلا أن الباري جل جلاله فتح علينا من خلال التأمل في النصوص، والنظر في الروايات، بدرر من الفوائد كالخرائد، وبدائع من التحقيقات فرائد، نرجو أن يكون في شيء منها إرشاد للساري في دروب ترجمة الإمام البخاري، وضياء للساري في مسالك أبواب الجامع الصحيح.واعتنينا في ثنايا الكتاب بدفع الشكوك المتناثرة، وردِّ الشبه المتفرقة، مما يُوجَّهُ إلى الإمام البخاريِّ وصحيحه، فرددنا عليها، وبيَّنَّا وجوه المغالطة فيها. وقدَّمنا لأجل ذلك بين يدي الكتاب بتمهيدٍ، شرحنا فيه مسألة وجوب العمل بخبر الآحاد، أي وجوب العمل بالحديث الصحيح وإن رواه واحد أو اثنان من الرواة الثقات الحفاظ المتقنين، راجين أن يكون عونًا للقارئ في الدفاع عن صحيح البخاري أمام المغرضين الذين يطعنون في الإسلام، أو يشككون في السنة النبوية المطهرة التي هي المصدر الثاني للدين. وما الذي يبقى من ديننا إذا هدمنا أصح كتاب في السنة، وهو
আফেন্দি। আমরা উসমানীয় আর্কাইভ থেকে সুলতানের হাজিব এবং মিশরে তাঁর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির মধ্যে সম্পাদিত এমন কিছু চিঠিপত্র উদ্ধার করেছি, যা সুলতানি মুদ্রণের অনেক রহস্য উন্মোচন করে।আমরা একটি পরিচ্ছেদ নির্দিষ্ট করেছি যেখানে হাদিস বর্ণনায় নিয়োজিত থাকার উপকারিতা এবং শ্রবণের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার সুফলসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এছাড়া শরিফ হাদিস বর্ণনার আদব, হাদিস বর্ণনায় 'লাহন' তথা ভুলের বিধান এবং সংবাদ আদান-প্রদান, শ্রবণ ও সনদ লিখন পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ নিয়ে একটি পৃথক পরিচ্ছেদ রচনা করেছি।আমরা কিতাবটি জামেউস সহিহ সমাপ্তির দোয়ার মাধ্যমে শেষ করেছি। এটি এমন একটি দোয়া যা আমরা ১৪২২ হিজরি সনে সংকলন করেছি এবং যা দুবার মুদ্রিত হয়েছে। অনেকগুলো খতম মজলিসে এটি পাঠ করা হয়েছে। এতে আমরা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত সুন্নাহর দোয়াগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং আমাদের পূর্ববর্তী আলেমগণ বুখারি খতমের দোয়া সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে নির্বাচিত অংশ যুক্ত করেছি। আলেমদের নিকট এটি একটি প্রসিদ্ধ ও পরীক্ষিত বিষয় যে, সহিহ বুখারি পাঠ সমাপ্ত করার সময় দোয়া কবুল হয়।যদিও ইমাম বুখারির জীবনীর উৎসসমূহ সীমিত ও সুপরিচিত, তবুও মহান স্রষ্টা (বারী জাল্লা জালালুহু) মূল পাঠসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের সামনে মণি-মুক্তার মতো অনেক উপকারিতা ও অনন্য গবেষণালব্ধ চমৎকার বিষয়সমূহ উন্মোচন করে দিয়েছেন। আমরা আশা করি যে, এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ইমাম বুখারির জীবনী পথের যাত্রীদের জন্য পথনির্দেশক হবে এবং জামেউস সহিহ-এর অধ্যায়গুলোর পথে বিচরণকারীদের জন্য আলো হিসেবে কাজ করবে।আমরা কিতাবটির বিভিন্ন স্থানে ইমাম বুখারি এবং তাঁর সহিহ গ্রন্থকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত বিক্ষিপ্ত সন্দেহ ও সংশয়গুলো খণ্ডন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা সেগুলোর উত্তর দিয়েছি এবং তাতে বিদ্যমান বিভ্রান্তিকর দিকগুলো স্পষ্ট করেছি। সেই লক্ষ্যে আমরা কিতাবের শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি, যেখানে খবরে ওয়াহিদের ওপর আমল করার আবশ্যকতা ব্যাখ্যা করেছি। অর্থাৎ, সহিহ হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব যদিও তা নির্ভরযোগ্য, স্মৃতিধর ও দক্ষ বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে মাত্র একজন বা দুজন বর্ণনা করেন। আমাদের আশা, ইসলাম বিদ্বেষী—যারা ইসলামকে আক্রমণ করে অথবা পবিত্র সুন্নাহর ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে (যা দ্বীনের দ্বিতীয় উৎস)—তাদের বিরুদ্ধে সহিহ বুখারিকে রক্ষা করতে এটি পাঠকের জন্য সহায়ক হবে। আমাদের দ্বীনের আর কী অবশিষ্ট থাকে যদি আমরা সুন্নাহর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাবটিকে ধ্বংস করে ফেলি, যা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صحيح البخاري؟ وهل عرفنا معظم أحكام العبادات والمعاملات والأخلاق والفضائل والآداب إلا من أحاديث النبي عليه الصلاة والسلام؟ومع كل ذلك فإننا نرى أن أفضل وسيلة للرد على الطاعنين في صحيح البخاري هي تعريف الناس بهذا الكتاب الجليل.، وبيان مزاياه، وعقد المجالس لقراءته ودراسته، ليتخرج جيل من الطلبة والعلماء يشتغلون بروايته وتدريسه والدفاع عنه.ونشير إلى أننا لم نقصد في كتابنا هذا استقصاء جميع أخبار الإمام البخاري، ولا الإحاطة بالمباحث المتعلقة بالجامع الصحيح ورواياته ومخطوطاته وطبعاته، فتلك بحور متلاطمة.، وفيافٍ واسعةٌ، قد يستغرق الكلام فيها بضع مجلدات. وما لا يُدرَك كُلُّه لا يُترَكُ قُلُّه. وقد أردنا للكتاب أن يكون قريبَ المأخذ، سهلَ المطالعة، يتجول القارئ في رياضه، ويقطف من ثماره وأزهاره، يكشف من خلاله عن بعض أسرار الجامع الصحيح، ويتمثل بين عينيه حياة مؤلفه الإمام البخاري رحمه الله تعالى. ولذلك اخترنا أن لا نثقل الكتاب بالحواشي والإحالات، فإن مصادر النصوص والروايات لا تخفى على أهل العلم، وقد أفردنا لها فِهرِسًا في آخر الكتاب.وفي الختام، فإننا نهدي ثواب هذا الكتاب إلى جميع من خدم الجامع المسند الصحيح من العلماء والرواة، بدءًا من الإمامِ الفِربريِّ الذي سمع الصحيح من مؤلفه مرتين، وإليه تنتهي روايتنا، وانتهاءً بالإمام شرف الدين اليونينيِّ والإمام عبد الله بن سالمٍ البصري اللذَين أمضيا عمرَهما في تصحيح الجامع الصحيح وخدمته.ونهدي الثواب بوجهٍ خاصٍّ إلى السلطان عبد الحميد الثاني، الذي أمر بالطبعة السلطانية وأنفق عليها من ماله الخاص، وإلى شيخ الأزهر حسونةَ النواوي، وشيخ الإسلام محمد جمال الدين أفندي اللذَين قاما بالإشراف على تصحيحها، وإلى الغازي
সহীহুল বুখারী? আর আমরা কি ইবাদত, লেনদেন, চরিত্র, ফযীলত ও শিষ্টাচারের অধিকাংশ বিধান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস ছাড়া অন্য কিছু থেকে জানতে পেরেছি?এতসব সত্ত্বেও আমরা মনে করি যে, সহীহুল বুখারীর সমালোচকদের জবাব দেওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো মানুষকে এই মহান কিতাবটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা এবং এটি পাঠ ও অধ্যয়নের মজলিস কায়েম করা; যাতে এমন এক প্রজন্মের ছাত্র ও আলেম তৈরি হয় যারা এর বর্ণনা, শিক্ষাদান এবং এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকবে।আমরা উল্লেখ করছি যে, আমাদের এই কিতাবে ইমাম বুখারীর সমস্ত সংবাদ অনুসন্ধান করা, কিংবা জামে সহীহ এবং এর বর্ণনা, পাণ্ডুলিপি ও সংস্করণ সংক্রান্ত সকল আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়; কারণ সেগুলো হলো উত্তাল সমুদ্র এবং বিশাল মরুভূমি, যে বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে কয়েক খণ্ড লেগে যেতে পারে। আর যা পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়, তার সামান্যটুকুও ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। আমরা চেয়েছি কিতাবটি যেন সহজবোধ্য ও পাঠযোগ্য হয়, পাঠক যেন এর বাগানে বিচরণ করতে পারে এবং এর ফল ও ফুল আহরণ করতে পারে, যার মাধ্যমে জামে সহীহ-এর কিছু রহস্য উন্মোচিত হবে এবং তার চোখের সামনে এর সংকলক ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি তা'আলার জীবন ফুটে উঠবে। এজন্য আমরা কিতাবটিকে টীকা ও উদ্ধৃতি দিয়ে ভারাক্রান্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ পাঠ্য ও বর্ণনাসমূহের উৎস আলেমদের কাছে অজানা নয়; আর আমরা বইয়ের শেষে এর জন্য একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।পরিশেষে, আমরা এই কিতাবের সওয়াব সেই সমস্ত আলেম ও বর্ণনাকারীদের উৎসর্গ করছি যারা 'জামে আল-মুসনাদ আস-সহীহ'-এর খিদমত করেছেন; ইমাম ফিরিবরী থেকে শুরু করে—যিনি এই সহীহ কিতাবটি এর লেখকের কাছ থেকে দুবার শুনেছিলেন এবং যাঁর কাছে আমাদের বর্ণনা শেষ হয়েছে—ইমাম শরফুদ্দিন আল-ইউনিনী এবং ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে সালেম আল-বাসরী পর্যন্ত, যাঁরা এই সহীহ গ্রন্থটির সংশোধন ও খিদমতে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন।আমরা বিশেষভাবে এই সওয়াব উৎসর্গ করছি সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের প্রতি, যিনি সুলতানি সংস্করণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এর জন্য নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে ব্যয় করেছিলেন; আল-আযহারের শায়খ হাসুনা আন-নাওয়াবী এবং শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন এফেন্দির প্রতি, যাঁরা এর সংশোধনের তত্ত্বাবধান করেছিলেন; এবং গাযী...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أحمد مختار باشا مندوب السلطان في مصر، الذي كان لهمته العالية، ومتابعته الدؤوبة أعظم الأثر في إنجازها، وإلى العلماء الأفذاذ الستة عشر ذوي العلم المنيف، الذين قاموا بمقابلتها وتصحيحها في الأزهر الشريف، وإلى المصححين في المطبعة الأميرية العامرة، ببولاقِ مصر القاهرة، الذين أظهروا منتهى البراعة في تدقيقها، وإلى العمال الذي سهروا على تنضيد حروفها وتنسيقها.إلى جميع هؤلاء وغيرِهم ممن ساعدوا على إخراج الطبعة السلطانية، وأظهروا لنا مخبآت النسخة اليونينية، إلى أن بدت من وراء الستار، وكشفت عن حسن وجهها الخِمار، تزهو في حُلاها بأجمل وصف، وتَمِيسُ في حَلْيِها بأحسن رَصف.، تحاكي أبهى عقود الدُّرِّ المُحَلَّاة، وتَبُزُّ أنفَسَ طُرُزِ الخزِّ المُوَشَّاة، نهدي ثواب هذا العمل، فلقد أسدَوا للمسلمين خدماتٍ جُلَّى، وطوَّقُوا أعناقنا يَدَ الدهر بمِنَنٍ عُظْمَى، فجزاهم الله تعالى عن رسوله صلى الله عليه وسلم وسنته، وعن صحبه وعترته، وعنا وعن المسلمين أجمعين، إلى يوم الدين، خير الجزاء وأوفاه.ولكل من أعاننا من أصحابنا، على نَشْرِ عَرْفِ هذا المَدخل، شكرٌ وعرفان، ودعاءٌ وامتنان، ما توالى الجديدان، وتعاقبَ المَلَوان. وصلى الله عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وآله وصحبه، وسلَّمَ تسليمًا كثيرًا إلى يوم الدين. والحمد لله رب العالمين.مدينة الرباط في المملكة المغربية، لعَشْرٍ مَضَيْنَ من شهر شوال سنة 1440خادم السنة المشرفةمحمد أبو الهدى اليعقوبيُّ الحسنيُّ
মিসরে সুলতানের প্রতিনিধি আহমদ মুখতার পাশা, যাঁর সুউচ্চ হিম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন তদারকি এটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভাব ফেলেছে; এবং সেই ষোলো জন অনন্যসাধারণ ও সুমহান ইলমের অধিকারী আলেমদের প্রতি, যাঁরা আল-আজহার আল-শরিফে এটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছেন ও সংশোধন করেছেন; এবং কায়রোর বুলাকের সমৃদ্ধ আমিরিয়া ছাপাখানার সেই প্রুফ রিডারদের প্রতি, যাঁরা এর নিরীক্ষায় চূড়ান্ত দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন; এবং সেই শ্রমিকদের প্রতি, যাঁরা এর অক্ষরবিন্যাস ও সাজসজ্জায় বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন।এঁদের সকলে এবং সেই সব ব্যক্তিদের প্রতি যাঁরা সুলতানি সংস্করণটি প্রকাশে সহায়তা করেছেন এবং আমাদের সামনে ইউনিনিয়া সংস্করণের গুপ্ত রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন—যতক্ষণ না তা পর্দার অন্তরাল থেকে প্রকাশ পেল এবং তার সুন্দর চেহারা থেকে নেকাব উন্মোচন করল; যা তার অলঙ্কারে অত্যন্ত সুন্দর বর্ণনায় উদ্ভাসিত হয়েছে এবং তার ভূষণে সর্বোত্তম বিন্যাসে দুলছে; যা উজ্জ্বল মুক্তার মালার সৌন্দর্যকে অনুকরণ করে এবং নকশা করা রেশমি বস্ত্রের চেয়েও মূল্যবান কারুকাজকে ছাড়িয়ে যায়। আমরা এই কাজের সওয়াব তাঁদের প্রতি উৎসর্গ করছি। নিশ্চয়ই তাঁরা মুসলিমদের জন্য মহান সেবা প্রদান করেছেন এবং কালক্রমে আমাদের গর্দানে মহান ইহসানের ঋণের হার পরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সুন্নতের পক্ষ থেকে, তাঁর সাহাবী ও পরিজনদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের ও সকল মুসলিমদের পক্ষ থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।এবং আমাদের বন্ধুদের মধ্য থেকে যাঁরা এই মুখবন্ধের সুবাস ছড়িয়ে দিতে আমাদের সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি এবং দুয়া ও কৃতজ্ঞতা রইল—যতদিন রাত-দিনের আবর্তন থাকবে। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, কিয়ামত পর্যন্ত প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।মরক্কো রাজ্যের রাবাত শহর, ১৪৪০ হিজরি সালের ১০ই শাওয়াল।সম্মানিত সুন্নতের খাদেমমুহাম্মদ আবু আল-হুদা আল-ইয়াকুবি আল-হাসানি
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تمهيد في وجوب العمل بخبر الواحدلقد أوجب الله تعالى علينا طاعة رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم فقال سبحانه وتعالى: {وَأَطِيعُوا اللهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [سورة آل عمران: 132]. وجعل طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم طاعة له فقال: {مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} [سورة النساء.: 80]. وأمر باتباع رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم.، وجعل ذلك شرطًا لنيل محبته ومغفرته فقال عز وجل: {قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} [سورة آل عمران: 31] .. وألزم الناس بقبول حكمه، والانقياد له، واتباع ما أمر به، وحذرهم من معصيته ومخالفته فقال عزَّ من قائل: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا} [سورة الأحزاب: 36]. وأخبر بعصمته فيما يبلغ عن ربه فقال جل جلاله: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى * مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى * وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [سورة النجم: 1 - 4]. وقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} [سورة الحشر: 7].فلا شك ولا ريب أن السنة حجة مع القرآن الكريم، وأن الكتاب والسنة لا يفترقان، فالسنة هي المبيِّنة للكتاب قال اللهُ تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [سورة النحل: 44].وأحاديث النبي صلى الله عليه وسلم درجاتٌ في قوة الثبوت فأقواها: ما رواه جمع من الصحابة كبير ثم رواه عنهم جمعٌ آخر وهكذا إلى عصر تدوين الحديث، وهي التي تُسمَّى الأحاديث المتواترة. يليها ما رواه واحد أو اثنان من الصحابة ثم أخذه عنهما جمعٌ كبير بعد
খবরে ওয়াহিদের (একক বর্ণনা) ওপর আমল করার আবশ্যকতা বিষয়ক ভূমিকানিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও} [সূরা আলে ইমরান: ১৩২]। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যকে স্বীয় আনুগত্য হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [সূরা নিসা: ৮০]। তিনি তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেটিকে তাঁর ভালোবাসা ও ক্ষমা লাভের শর্ত সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} [সূরা আলে ইমরান: ৩১]। তিনি মানুষের ওপর তাঁর ফয়সালা গ্রহণ করা, তাঁর প্রতি অনুগত হওয়া এবং তাঁর নির্দেশিত বিষয়ের অনুসরণ করাকে আবশ্যক করেছেন। আর তাঁর অবাধ্য হওয়া ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হলো} [সূরা আহযাব: ৩৬]। তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দেন তাতে তাঁর অভ্রান্ততা সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: {নক্ষত্রের কসম যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল অহী যা তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়} [সূরা নাজম: ১ - ৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [সূরা হাশর: ৭]।এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই যে, কুরআনুল কারীমের পাশাপাশি সুন্নাহ হলো একটি দলিল, এবং কিতাব ও সুন্নাহ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সুন্নাহ হলো কিতাবের ব্যাখ্যাকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [সূরা নাহল: ৪৪]।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার শক্তির দিক থেকে বিভিন্ন স্তরের। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো: যা সাহাবীদের একটি বিশাল দল বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাঁদের থেকে পরবর্তী স্তরের এক বিশাল দল বর্ণনা করেছেন এবং এভাবে হাদীস সংকলনের যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছে; এগুলোকে 'মুতাওয়াতির হাদীস' বলা হয়। এর পরবর্তী স্তরে রয়েছে যা একজন বা দুইজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাঁদের থেকে পরবর্তীতে এক বিশাল দল তা গ্রহণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ذلك.، وهي الأحاديث المشهورة، وقد اعتدَّ بها الحنفية. والدرجة الثالثة: ما رواه واحدٌ من الصحابة ثم أخذه عنه واحدٌ من التابعين وهكذا إلى عصر تدوين الحديث .. وهذه الأحاديث هي التي تسمَّى أخبار الآحاد، وهي معظم ما في كتب السنة المطهرة. ولا بد من التنبيه هنا إلى أنه رغم اختلاف هذه المراتب الثلاث في درجة الثبوت، فإن الثلاثة لا اختلاف بين العلماء في وجوب العمل بها.ومسألة وجوب العمل بخبر الواحد في ثبوت الأحكام هي مما أجمع عليه الصحابة والتابعون ومن جاء بعدهم في كل عصر. قال الحافظ أبو عمر ابن عبد البر النمري القرطبي (368 - 463): "أجمع أهل العلم من أهل الفقه والأثر في جميع الأمصار فيما علمت على قبول خبر الواحد العدل.، وإيجابِ العمل به إذا ثبت ولم ينسخه غيره من أثر أو إجماع".وقال الإمام محمد بن أحمد الأنصاري القرطبي (-671): "وهو - أي وجوب العمل بخبر الواحد العدل - مُجْمَعٌ عليه من السلف، معلومٌ بالتواتر من عادة النبي صلى الله عليه وسلم في توجيهه ولاتَه ورسلَه آحادًا للآفاق ليعلِّموا الناس دينَهم، فيبلغوهم سنةَ رسولهم صلى الله عليه وسلم من الأوامر والنواهي".ولا شك أن هذا الواحد الذي يجب العمل بما يرويه ويخبر به له شروط وأوصاف يجب أن تتحقق فيه لكي تقبل روايته، ويُعمل بخبره، هذا أمرٌ بدهي، ولذلك قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} [سورة الحجرات: 6]، وفي قراءة حمزةَ بن حبيبٍ (80 - 156) وعلي بن حمزةَ الكسائي (119 - 189): {فَتَثَبَّتُوا} فمفهوم الآية أنه إذا جاء النبأُ عن صالحٍ ثقةٍ يُقبل ولا حاجة إلى التثبت معه، وإنما يجب التثبت مع الفاسق.
এগুলো হলো প্রসিদ্ধ হাদিস, এবং হানাফিগণ এগুলোকে প্রামাণ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। আর তৃতীয় স্তর হলো: যা একজন সাহাবি বর্ণনা করেছেন, তারপর তার থেকে একজন তাবেয়ি তা গ্রহণ করেছেন এবং এভাবেই হাদিস সংকলনের যুগ পর্যন্ত চলেছে। এই হাদিসগুলোকেই খবরে ওয়াহিদ (একক সংবাদ) বলা হয় এবং পবিত্র সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের অধিকাংশ হাদিসই এই প্রকারের। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রমাণের স্তরের দিক থেকে এই তিনটি স্তরের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, এগুলোর ওপর আমল করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদের ওপর আমল করার আবশ্যকতা এমন একটি বিষয় যার ওপর সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী প্রত্যেক যুগের উত্তরসূরিগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। হাফেজ আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি (৩৬৮ - ৪৬৩ হিজরি) বলেছেন: "আমার জানা মতে সকল অঞ্চলের ফিকহ ও হাদিস বিশারদ আলেমগণ একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির একক সংবাদ গ্রহণ করার ব্যাপারে এবং তা সাব্যস্ত হলে এবং অন্য কোনো বর্ণনা বা ইজমা দ্বারা রহিত না হলে তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।"এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ আনসারি আল-কুরতুবি (মৃত্যু: ৬৭১ হিজরি) বলেছেন: "এটি—অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির একক সংবাদের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া—সালাফদের মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতি থেকে মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) ভাবে জানা যায় যে, তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর গভর্নর ও দূতদের এককভাবে পাঠাতেন যাতে তারা মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন এবং তাদের কাছে তাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে আদেশ ও নিষেধসমূহ পৌঁছে দিতে পারেন।"এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তির বর্ণিত ও সংবাদকৃত বিষয়ের ওপর আমল করা ওয়াজিব, তার এমন কিছু শর্ত ও বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক যা তার বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা ও তার সংবাদের ওপর আমল করার জন্য পূর্ণ হতে হবে। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। আর একারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} [সুরা হুজুরাত: ৬]। হামজাহ বিন হাবিব (৮০ - ১৫৬ হিজরি) এবং আলি বিন হামজাহ আল-কিসায়ি (১১৯ - ১৮৯ হিজরি)-এর কিরাতে শব্দটি এসেছে: {তোমরা নিশ্চিত হয়ে নাও}। সুতরাং আয়াতের মর্মার্থ হলো এই যে, যদি কোনো সৎ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সংবাদ নিয়ে আসে তবে তা গ্রহণ করা হবে এবং তার ক্ষেত্রে যাচাই করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং কেবল পাপাচারীর সংবাদের ক্ষেত্রে যাচাই করা ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولذلك قال الإمام الشافعي في الرسالة: "فقال لي قائلٌ: احْدُدْ لي أقلَّ ما تقوم به الحجةُ على أهل العلم حتى يثبتَ عليهم خبرُ الخاصة، فقلت: خبر الواحد عن الواحد حتى يُنتهَى به إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو من انتُهِيَ بِه إليه دونه. ولا تقوم الحجة بخبر الخاصة حتى يجمع أمورًا، منها: أن يكون من حدث به ثقةً في دينه، معروفًا بالصدق في حديثه، عاقلًا لما يحدث، عالمًا بما يُحيل معانيَ الحديث من اللفظ. وأن يكون ممن يؤدي الحديث بحروفه كما سمع، لا يحدث به على المعنى، لأنه إذا حدث به على المعنى وهو غير عالم بما يُحيل معناه لم يدر لعله يُحيل الحلال إلى الحرام، وإذا أداه بحروفه فلم يَبق وجهٌ يُخاف فيه إحالتُه الحديثَ. حافظًا إن حدث به من حفظه.، حافظًا لكتابه إن حدث به من كتابه … إلخ".ومن أمثلة ذلك ما أخرجه البخاري عن ابن عمر رضي الله عنهما في مسألة تحويل القبلة أنه قال: "بينما الناس بقُباء في صلاة الصبح إذ جاءهم آت فقال: إن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قد أُنزل عليه الليلة قرآن، وقد أُمِر أن يستقبل الكعبة فاستقبلوها، وكانت وجوههم إلى الشام فاستداروا إلى الكعبة". فقد عمل أهل قباء بخبر الواحد الثقة العدل الذي جاءهم، فاستداروا وهم في الصلاة، ولم يشكُّوا في خبره، ولم يطلبوا التثبُّتَ منه.، بل عملوا به فور سماعهم إياه وهم في الصلاة، وهي أعظم العبادات وأهم أركان الإسلام. ومثل ذلك ما أخرجه البخاريُّ ومسلمٌ من حديث أنس بن مالكٍ رضي الله عنه أنه قال: "كنت أسقي أبا طلحة وأبا عبيدة وأبيَّ بن كعب شرابًا من فَضيخٍ، فجاءهم آت فقال: إن الخمر قد حُرِّمَتْ، فقال أبو طلحة: قم يا أنسُ إلى هذه الجِرار فاكسرها". وهنا نرى مسارعةَ الصحابة إلى تصديق خبر الواحد الذي كان عندهم ثقةً.، والعمل به، ووصلوا إلى حدِّ إتلاف الأموال طاعةً لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم.
এজন্য ইমাম শাফিঈ 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "একজন আমাকে প্রশ্ন করলেন: আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের নিকট খবরুল খাসসাহ (ব্যক্তিগত বর্ণনা) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এর ন্যুনতম যে মানদণ্ডে দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে তা আমার কাছে সংজ্ঞায়িত করুন। উত্তরে আমি বললাম: একজনের থেকে অপরজনের বর্ণনা, যা শেষ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত অথবা তাঁর নিচের কারো কাছে গিয়ে পৌঁছেছে। আর খবরুল খাসসাহ দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না যতক্ষণ না তাতে কতগুলো বিষয় একত্রিত হয়। তার মধ্যে রয়েছে: যিনি বর্ণনা করবেন তিনি যেন তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য হন, হাদীস বর্ণনায় সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত হন, যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হন এবং শব্দ প্রয়োগের ফলে হাদীসের অর্থের কী পরিবর্তন হতে পারে সে বিষয়ে অবগত হন। আর তিনি যেন হাদীসটি যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই অক্ষরে অক্ষরে বর্ণনা করেন, অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা না করেন। কারণ, যদি তিনি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করেন অথচ এর ফলে অর্থের কী পরিবর্তন ঘটবে সে বিষয়ে অবগত না হন, তবে তিনি জানবেন না যে সম্ভবত তিনি হালালকে হারামে রূপান্তরিত করে ফেলেছেন। আর যদি তিনি তা অক্ষরে অক্ষরে বর্ণনা করেন, তবে হাদীসের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার কোনো ভয় অবশিষ্ট থাকে না। যদি তিনি মুখস্থ থেকে বর্ণনা করেন তবে যেন তা ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে, আর যদি কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে যেন তাঁর কিতাবটি সংরক্ষিত থাকে … ইত্যাদি"।এর উদাহরণ হলো যা বুখারী ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে কিবলা পরিবর্তনের মাসআলায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "লোকেরা যখন কুবা মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করছিল, তখন জনৈক ব্যক্তি তাদের নিকট এসে বললেন: আজ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরাও কাবার দিকে মুখ করো। তখন তাদের চেহারা সিরিয়ার দিকে ছিল, অতঃপর তারা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন।" কুবা অঞ্চলের অধিবাসীরা তাদের কাছে আসা একজন বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির একক সংবাদের ওপর আমল করেছেন। ফলে তারা সালাতরত অবস্থাতেই ঘুরে গেছেন, তারা তার সংবাদের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি এবং কোনো যাচাই-বাছাইও দাবি করেননি। বরং সালাতরত অবস্থায় তা শোনামাত্রই তারা আমল করেছেন; অথচ সালাত হলো ইবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন। অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো যা বুখারী ও মুসলিম আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আবু তালহা, আবু উবাইদাহ এবং উবাই ইবনে কাবকে খেজুরের তৈরি পানীয় পান করাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন আগমনকারী এসে বললেন: নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে। তখন আবু তালহা বললেন: হে আনাস, ওঠো এবং এই মটকাগুলো ভেঙে ফেলো।" এখানে আমরা দেখতে পাই যে, সাহাবীগণ তাদের নিকট বিশ্বস্ত একজনের সংবাদকে কত দ্রুত সত্যায়ন করেছেন এবং তার ওপর আমল করেছেন। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যে সম্পদ বিনষ্ট করার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২০)
من أجل هذا كان الطعن في صحيح البخاري ورواته ممتنعًا، لأن الكتاب قد بلغ أعلى درجات الثقة والقبول عند علماء الحديث، لأن الإمام البخاريَّ كان أكثر المحدثين تشدُّدًا في قبول رواية الراوي من حيث العدالة والثقة والحفظ والإتقان لما يرويه. فاحتمال الخطأ في جميعه غير ممكن عادةً، وغيرُ حاصلٍ في حقيقة الأمر، وإذا حصل الخطأ فإنه قد يحصل لحديث أو اثنين مما حصره العلماء وعرفوه ودرسوه وأجابوا عنه وبينوا أنه ليس بخطأ إلا لمن توهَّمه.وهنا يظهر أحد الفروق بين القرآن الكريم وغيره من كتب أهل العلم، فإن كثيرًا من كتب أهل العلم قد سلمت من الخطأ وليس فيها ما يُنتقد، رغم أن أصحابها ليسوا بمعصومين، ولم يقل أحدٌ إنها تساوي كتاب الله تعالى في العصمة من الخطأ، وذلك للفرق بين الإمكان العقلي والإمكان العادي. فإن الخبير المتقن لأمر إذا حفظه ومارسه سنين طوالًا يقطع حكمُ العادةِ بعدم إمكان وقوعه في الخطأ، وإن كان العقل يجيز ذلك.، وبين الإمكان العقلي والإمكان العادي فرقٌ كبير تُعلم به درجة كتاب الله تعالى في العصمة والحفظ، فإن الخطأ في كتاب الله تعالى مستحيل عقلًا وشرعًا وعادة لم يقع في الماضي، ولا يمكن أن يقع في المستقبل.وبهذا الفرق بين الإمكان العقلي والعادي يُعرف فضل المصنفات التي بذل أصحابها أوسع الجهد في تحريرها وتهذيبها لتَسلمَ من الخطأ. وعلى رأس هذه المصنفات صحيح البخاري الذي قيل فيه.: صحيح البخاري أصح الكتب بعد القرآن الكريم.ومن معجزات النبيِّ صلى الله عليه وسلم أنه أخبر عن جماعة من الناس يقبلون القرآن ويردُّون الحديث، وهو ما حدث في عصور متفرقة منذ زمان الإمام الشافعي رحمه الله، وتجدَّد في عصرنا هذا، فهو من باب إخبار النبي صلى الله عليه وسلم بالمغيَّبات.
এই কারণে সহীহ বুখারী এবং এর বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করা অসম্ভব; কারণ হাদীস বিশারদদের নিকট এই গ্রন্থটি নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। কেননা ইমাম বুখারী বর্ণনাকারীর বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা, বিশ্বস্ততা, মুখস্থ শক্তি এবং বর্ণনার নির্ভুলতার বিচারে মুহাদ্দিসদের মধ্যে সর্বাধিক কঠোর ছিলেন। ফলে এর সামগ্রিক বিষয়ে ভুলের সম্ভাবনা অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব এবং বাস্তবিকভাবেও তা ঘটেনি। আর যদি কোনো ভুল হয়েও থাকে, তবে তা মাত্র দুই-একটি হাদীসে হতে পারে যা উলামায়ে কিরাম চিহ্নিত করেছেন, অনুধাবন করেছেন, গবেষণা করেছেন এবং এর উত্তর প্রদান করেছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সেটি প্রকৃতপক্ষে কোনো ভুল নয়, বরং কেউ কেউ একে ভুল বলে ধারণা করেছে মাত্র।এখানে পবিত্র কুরআন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে একটি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। উলামায়ে কিরামের অনেক কিতাবই ভুল থেকে মুক্ত এবং তাতে সমালোচনার কিছু নেই, যদিও তাঁদের রচয়িতাগণ নিষ্পাপ ছিলেন না। আর কেউ এ কথা বলেনি যে, ভুল থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে এগুলো মহান আল্লাহর কিতাবের সমতুল্য। এর কারণ হলো বুদ্ধিগত সম্ভাবনা এবং অভ্যাসগত সম্ভাবনার মধ্যকার পার্থক্য। কোনো বিষয়ে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ যখন দীর্ঘ বছর ধরে তা মুখস্থ রাখেন এবং চর্চা করেন, তখন অভ্যাসগত বিচার এটিই নিশ্চিত করে যে তার পক্ষে ভুল হওয়া অসম্ভব, যদিও বিবেক বা বুদ্ধি তা সম্ভব বলে মনে করতে পারে। বুদ্ধিগত সম্ভাবনা এবং অভ্যাসগত সম্ভাবনার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে, যার দ্বারা মহান আল্লাহর কিতাবের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের সুউচ্চ মর্যাদা উপলব্ধি করা যায়। কেননা আল্লাহর কিতাবে ভুল হওয়া বুদ্ধিগতভাবে, শরয়িভাবে এবং অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব; যা অতীতে কখনো ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও ঘটা সম্ভব নয়।বুদ্ধিগত ও অভ্যাসগত সম্ভাবনার এই পার্থক্যের মাধ্যমেই সেই সমস্ত কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় যেগুলোর রচয়িতাগণ ভুল থেকে মুক্ত রাখার জন্য তা সংকলন ও পরিমার্জনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। এই কিতাবসমূহের শীর্ষে রয়েছে সহীহ বুখারী, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: পবিত্র কুরআনের পর সহীহ বুখারীই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম মুজিজা হলো তিনি এমন একদল মানুষের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যারা কুরআন গ্রহণ করবে কিন্তু হাদীস প্রত্যাখ্যান করবে। ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এটি ঘটেছে এবং বর্তমান যুগেও এর পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের একটি বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أخرج أبو داود في باب لزوم السنة عن المقدام بن مَعْدي كَرِبَ رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ألا إني أوتيتُ الكتابَ ومثلَه معه. ألا يوشكُ رجلٌ شبعانُ على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلالٍ فأحلُّوه، وما وجدتم فيه من حرامٍ فحرِّموه. ألا لا يحلُّ لكم الحمار الأهليُّ إلخ الحديث».ومعناه فيما ذكره الإمام أبو سليمانَ الخَطَّابي (319 - 388) يحتمل وجهين من التأويل:"أحدهما: أن يكون معناه أنه أُوتي من الوحي الباطن غيرِ المَتْلُوِّ مثلَ ما أُعطي من الظاهر المتلوِّ. ويحتمل أن يكون معناه أنه أُوتي الكتاب وحيًا يُتلى، وأُوتي من البيان.، أي أُذن له أن يُبَيِّنَ ما في الكتاب، ويَعُمَّ ويَخُصَّ، وأن يزيد عليه فيُشرِّعَ ما ليس له في الكتاب ذِكر، فيكونُ ذلك في وجوب الحكم، ولزومِ العمل به كالظاهر المتلوِّ من القرآن".ثم قال: "وفي الحديث دليلٌ على أنه لا حاجة بالحديث أن يُعرَضَ على الكتاب، وأنه مهما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان حجةً بنفسه. فأما ما رواه بعضهم أنه قال: "إذا جاءكمُ الحديثُ فاعرضوه على كتاب الله، فإن وافقه فخذوه وإن خالفه فدعوه"، فإنه حديثٌ باطل لا أصل له. وقد حكى زكريا بن يحيى الساجيُّ (-307) عن يحيى بن مَعينٍ (-233) أنه قال: "هذا حديثٌ وضعته الزنادقة".وزُبدة الكلام أننا على مذهب أهل السنة والجماعة، من الأشاعرة والماتريدية وأهل الحديث، ومن الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة، نعتقد جازمين بصحة ما أخرجه البخاري في هذا الكتاب من أحاديث النبي عليه الصلاة والسلام. ونعتقد أن ما في صحيح البخاري من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة يجب قبوله والعمل به عند المجتهد بالشروط المعروفة، كأن لا يكون منسوخًا، وإن كان عدد من رواه لا يزيد
আবু দাউদ 'সুন্নাহর আবশ্যকতা' অধ্যায়ে মিকদাম ইবনে মা'দি কারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! শীঘ্রই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো আর যা হারাম পাবে তা-ই হারাম হিসেবে বর্জন করো। সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধা হালাল নয়... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।"ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি (৩১৯ - ৩৮৮ হিজরি) এর অর্থ বর্ণনায় দুটি ব্যাখ্যার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন:"প্রথমটি হলো: এর অর্থ হতে পারে যে, তাকে এমন অপ্রকাশ্য ও অপঠিত ওহী প্রদান করা হয়েছে যা তার নিকট অবতীর্ণ হওয়া প্রকাশ্য ও পঠিত ওহীর (কুরআনের) অনুরূপ। দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো: তাকে তিলাওয়াতযোগ্য ওহী হিসেবে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং সাথে দেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা। অর্থাৎ তাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিতাবের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার, কোনো বিধানকে ব্যাপক বা বিশেষিত করার এবং কিতাবে উল্লেখ নেই এমন নতুন বিধান প্রবর্তন করার। ফলে বিধানের আবশ্যকতা এবং তার ওপর আমল করার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে তা কুরআনের পঠিত ওহীর মতোই গণ্য হবে।"অতঃপর তিনি বলেন: "এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, কোনো হাদিসকে কুরআনের সামনে পেশ করে যাচাই করার প্রয়োজন নেই। বরং যখনই কোনো কিছু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হবে, তা নিজেই একটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে। আর কেউ কেউ যে বর্ণনা করে যে তিনি বলেছেন— 'যখন তোমাদের কাছে কোনো হাদিস পৌঁছাবে, তখন তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখো; যদি তা কিতাবের অনুকূলে হয় তবে তা গ্রহণ করো আর যদি পরিপন্থী হয় তবে তা বর্জন করো'—সেটি একটি বাতিল হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই। জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-সাজি (মৃত্যু ৩০৭ হিজরি) ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃত্যু ২৩৩ হিজরি) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: 'এটি একটি জাল হাদিস যা যিন্দিকরা তৈরি করেছে'।"সারকথা হলো, আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব অনুযায়ী—চাই তারা আশআরি, মাতুরিদি ও আহলুল হাদিস হোক কিংবা হানাফি, মালিকি, শাফিঈ ও হাম্বলি হোক—দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ইমাম বুখারি এই কিতাবে নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যে হাদিসগুলো সংকলন করেছেন তা সহিহ। আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিহ বুখারিতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ দলিল হিসেবে গণ্য, যা গ্রহণ করা এবং পরিচিত শর্তাবলির আলোকে মুজতাহিদের জন্য তার ওপর আমল করা আবশ্যক; যেমন হাদিসটি মানসুখ (রহিত) না হওয়া, যদিও তার বর্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক না হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২২)
على واحدٍ أو اثنين.، لأن رواة صحيح البخاريِّ الذي خرَّجَ لهم في الأصول ثقاتٌ عدولٌ في أعلى درجات الضبط والإتقان.فالطعن والتشكيك في صحيح البخاري إجمالًا ممتنعٌ، وردُّ الصحيح بالكلية ردٌّ للسُّنَّة، وهَدْمُ السنة هَدْمٌ للدين، وردُّها ردٌّ للقرآن، والاستخفاف بالأحاديث التي في صحيح البخاري حرامٌ، والتشكيك في صحيح البخاري يقود إلى التشكيك في البدهيات من أركان الإسلام.من أجل ذلك فإن العلامة الشيخ محمد بن الحسن الحِجوي (-1376) - وهو شيخ عدد من شيوخنا - سمَّى رسالته التي ألفها في الرد على من شكك في بعض أحاديث الصحيحين: (الدفاعُ عن الصحيحين دفاعٌ عن الإسلام)، وقال فيها: "إذا ساء ظنُّ المسلمين بالصحابة ورجال البخاري ومسلم وأئمة الدين نَقَلَةِ الشرع المطهر، واتهموهم، وكذَّبوا الكتبَ الصحيحة التي وقع الإجماع على قبولها، وهي الحجة التي بين أيدينا وأيدي المسلمين في عموم الأرض، أو دخلهم التشكيكُ فيها، صارت ديانتنا إلى ما صارت إليه ديانة اليهود والنصارى المطعونِ في كتبهم، وصرنا نطعن ديننا بيدنا".
এক বা দুইজনের বিপরীতে। কারণ সহীহ বুখারীর বর্ণনাকারীগণ যাদের হাদিস তিনি মূল পাঠে (উসুল) সংকলন করেছেন, তারা অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ এবং তারা মুখস্থ ও সংরক্ষণের সর্বোচ্চ স্তরে আসীন।সুতরাং সামগ্রিকভাবে সহীহ বুখারীর ওপর অভিযোগ তোলা ও সন্দেহ পোষণ করা অগ্রহণযোগ্য, আর সহীহকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করা সুন্নাহকেই প্রত্যাখ্যান করার শামিল। সুন্নাহকে ধ্বংস করা মানে দ্বীনকে ধ্বংস করা, আর সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা মানে কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করা। সহীহ বুখারীতে বিদ্যমান হাদিসসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করা হারাম এবং সহীহ বুখারী নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা ইসলামের রোকনসমূহের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলো নিয়ে সন্দেহের দিকে ধাবিত করে।এই কারণেই আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-হিজউই (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরি) —যিনি আমাদের অনেক শাইখের উস্তাদ— সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর কিছু হাদিস নিয়ে সন্দেহ পোষণকারীদের জবাবে রচিত তার পুস্তিকাটির নাম দিয়েছেন: 'সহীহাইন তথা বুখারী ও মুসলিমের প্রতিরক্ষা মানেই ইসলামের প্রতিরক্ষা'। সেখানে তিনি বলেছেন: "যদি মুসলিমরা সাহাবীগণ, বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী এবং পবিত্র শরীয়তের বাহক দ্বীনের ইমামগণের প্রতি কুধারণা পোষণ করে, তাদের অভিযুক্ত করে এবং ঐ সকল সহীহ গ্রন্থসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে যেগুলোর গ্রহণযোগ্যতার ওপর ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— অথচ সারা বিশ্বের মুসলিমদের নিকট এগুলোই হচ্ছে দলীল— অথবা যদি সেগুলোতে সন্দেহের উদ্রেক ঘটে, তবে আমাদের ধর্মও ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের ধর্মের মতো হয়ে যাবে যাদের কিতাবসমূহ প্রশ্নবিদ্ধ, আর আমরা নিজেরাই নিজেদের হাতে নিজেদের ধর্মকে কলঙ্কিত করব।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الأول: التعريف بالإمام البخارياسمُ البخاري ونِسبتُه:هو الإمامُ، الحافظُ، الحُجَّةُ، أميرُ المؤمنين في الحديث، إمام الأَئِمَّةِ، حافظُ الإسلام أبو عبد الله محمدُ بنُ إسماعيلَ بنِ إبراهيمَ بنِ المغيرةِ بنِ بَرْدِزْبَهْ البخاريُّ الجُعْفِيُّ.وقد وضع بعض من ساق نسب البخاري في الأسانيد اسم الأحنف مكان اسم بَرْدِزْبَهْ، منهم مؤرخ بخارى الحافظ محمد بن أحمد الملقب غُنْجَار (-412).واشتهر بالبخاريِّ: نسبةً إلى مدينة بخارى، وكانت من أعظم مدن الإسلام، فُتحت سنةَ تسعين للهجرة على يد القائد الشهير قتيبة بن مسلمٍ الباهلي، وكان واليًا على خراسان بين سنتي (86 - 96).واشتهر بالجُعْفيِّ: نسبةً إلى والي بخارى اليمانِ الجُعفي، وهو أحد أجداد شيخ البخاري المحدث الشهير: عبد الله بن محمد بن جعفر بن يمان الجُعفي المُسْنَديِّ (-229). وجُعفٌ هو ابن سعدِ العَشيرة من قبيلة مَذْحِج، واسمُ مَذْحِجٍ: مالكٌ، وهو من سَبَأٍ، وينتهي نسبه إلى قحطان. ولحقت هذه النسبةُ الإمامَ البخاري لأن أبا جده المغيرةَ أسلم على يد اليمان الجعفي، فصار ولاؤُه له.وعقدُ الولاءِ قرابةٌ حُكمية تنشأ من عهدٍ بين شخصٍ وآخر، على أنه إن جنى فعليه أَرْشُهُ، وإن مات فله ميراثه. والوَلاء نوعان: وَلاءُ عتقٍ، أجمع عليه الفقهاء، وولاء مُوالاة، رُوي جوازه عن عمر وعليٍّ وابن مسعود رضي الله عنهم، وهو قول إبراهيم النَّخَعي وحمَّادٍ، ومذهبُ أبي حنيفة رحمهم الله تعالى.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর পরিচিতিবুখারীর নাম ও তাঁর বংশীয় পরিচয়:তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, হুজ্জাহ (প্রমাণ), হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন, ইমামদের ইমাম, ইসলামের হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগিরা ইবনে বারদিজবাহ আল-বুখারী আল-জু’ফী।সনদের বর্ণনায় ইমাম বুখারীর বংশপরম্পরা উল্লেখ করতে গিয়ে কেউ কেউ বারদিজবাহ নামের স্থলে আহনাফ নাম বসিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বুখারার ঐতিহাসিক হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ—যিনি গুনজার (মৃত্যু ৪১২ হি.) নামে পরিচিত—অন্যতম।তিনি 'বুখারী' হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন বুখারা শহরের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে। এটি ছিল ইসলামের অন্যতম মহান শহর, যা বিখ্যাত সেনাপতি কুতাইবা ইবনে মুসলিম আল-বাহিলীর হাতে হিজরী ৯০ সনে বিজিত হয়; তিনি ৮৬ থেকে ৯৬ হিজরী পর্যন্ত খুরাসানের গভর্নর ছিলেন।তিনি 'জু'ফী' নামেও প্রসিদ্ধ ছিলেন; এটি বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু'ফীর সাথে সম্পৃক্ততার কারণে, যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে ইয়ামান আল-জু'ফী আল-মুসনাদী (মৃত্যু ২২৯ হি.)-এর অন্যতম পূর্বপুরুষ ছিলেন। আর জু'ফ হলেন মাজহিজ গোত্রের সাদ আল-আশিরাহর সন্তান, আর মাজহিজের নাম হলো মালিক; তিনি সাবা বংশোদ্ভূত এবং তাঁর বংশলতিকা কাহতান পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। ইমাম বুখারীর সাথে এই সম্পৃক্ততা যুক্ত হওয়ার কারণ হলো, তাঁর দাদার বাবা আল-মুগিরা ইয়ামান আল-জু’ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তাঁর প্রতি ‘ওয়ালা’ (আনুগত্যের সম্পর্ক) সাব্যস্ত হয়।আর 'ওয়ালা' চুক্তি হলো একটি বিধানগত আত্মীয়তা যা দুই ব্যক্তির মধ্যকার অঙ্গীকার থেকে সৃষ্টি হয়, এই মর্মে যে যদি একজন অপরাধ সংঘটন করে তবে অপরজন তার ক্ষতিপূরণ দেবে, আর সে মারা গেলে অপরজন তার উত্তরাধিকারী হবে। ‘ওয়ালা’ দুই প্রকার: আযাদ করার কারণে ওয়ালা, যার ওপর ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন; এবং বন্ধুত্বের ওয়ালা (ওয়ালাউল মুয়ালাত), যা উমর, আলী এবং ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে জায়েজ হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। এটি ইব্রাহিম নাখয়ি ও হাম্মাদের অভিমত এবং ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহু তাআলার মাযহাব।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تاريخ ولادة البخاري:ولد البخاري يوم الجمعة بعد الصلاة، في اليوم الثاني عشر من شهر شوالٍ، سنة مائة وأربع وتسعين .. ويبدو أن أباه إسماعيل كان حريصًا على حفظ تاريخ ولادة ابنه، فاعتنى بذلك وقيَّد شهادة ولادته بخطه، ورأى البخاريُّ تلك الشهادة وأخبر عنها. قال أبو عمرٍو المستنيرُ بن عتيقٍ: سألت أبا عبد الله محمد بن إسماعيل: متى ولدتَ؟ فأخرج لي خطَّ أبيه: "وُلد محمد بن إسماعيل يوم الجمعة بعد الجمعة لثلاثَ عشرة ليلةً مضت من شوالٍ سنة أربع وتسعين ومائة". أصلُ البخاري:الإمام البخاري فارسيُّ الأصل، يبدو أن جده الأعلى بَرْدِزْبَه كان فلاحًا، إذ هذا هو معنى الكلمة في لغة أهل بخارى. وكلمة بَرْدِيز تعني بالفارسية القديمة البستان.ومع دخول الفتح الإسلامي دخل أهل تلك البلاد في الإسلام، فأسلم المغيرة، وهو والد جده على يد والي بخارى: اليمان الجُعفي، فانتسب إليه. وقد نشأ البخاري وأبوه وجده نشأةً عربية، وكانت اللغة العربية لغتَه ولغةَ والديه في الحياة والعلم، في الصبا والشباب والشيخوخة. ولم نجد في الروايات التي بين أيدينا ما يُشير إلى أن البخاري كان يتحدث لغةً أخرى على الإطلاق. والدُ البخاري:هو أبو الحسن إسماعيل بن إبراهيم البخاري، محدث، عالم، ورعٌ، ثقةٌ، رحل في طلب الحديث، وأخذه عن عدد من الأعلام، وروي عنه الحديث. كان مرجعًا لأهل بلده في عدد من أبواب العلم. وكان على الغاية من الورع وطلب الحلال في الكسب.
বুখারীর জন্ম তারিখ:বুখারী ১৯৪ হিজরির শাওয়াল মাসের বারো তারিখে জুমার দিন নামাজের পর জন্মগ্রহণ করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর পিতা ইসমাইল তাঁর পুত্রের জন্ম তারিখ সংরক্ষণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; তাই তিনি এ বিষয়ে যত্নবান হন এবং নিজ হাতে তাঁর জন্ম সনদ লিখে রাখেন। বুখারী সেই সনদটি দেখেছিলেন এবং সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেছেন। আবু আমর আল-মুস্তানির ইবনে আতিক বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কখন জন্মগ্রহণ করেছেন? তখন তিনি তাঁর পিতার হাতের লেখা বের করে দেখালেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ১৯৪ হিজরির শাওয়াল মাসের তেরো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন জুমার নামাজের পর জন্মগ্রহণ করেছেন।" বুখারীর বংশপরিচয়:ইমাম বুখারী বংশগতভাবে পারস্যীয়। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহ বারদিযবাহ একজন কৃষক ছিলেন; কারণ বুখারা অধিবাসীদের ভাষায় এই শব্দের অর্থ তাই। আর প্রাচীন পারস্য ভাষায় 'বারদিয' শব্দের অর্থ হলো বাগান।ইসলামী বিজয়ের সূচনার সাথে সাথে ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলামে দীক্ষিত হয়। ফলে তাঁর প্রপিতামহ মুগীরা বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু’ফির হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রতিই নিজের নিসবাত (সম্বন্ধ) করেন। বুখারী, তাঁর পিতা এবং তাঁর পিতামহ আরবীয় পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য—জীবনের প্রতিটি স্তরে এবং জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে আরবি ভাষাই ছিল তাঁর এবং তাঁর পিতামাতার ভাষা। আমাদের হাতে থাকা বর্ণনাগুলোর মধ্যে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না যা ইঙ্গিত করে যে বুখারী আদৌ অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতেন। বুখারীর পিতা:তিনি হলেন আবুল হাসান ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-বুখারী। তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, আলেম, পরহেজগার ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদিস অন্বেষণে সফর করেছেন এবং বহু প্রথিতযশা মনিষীদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, আর তাঁর থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় তাঁর দেশবাসীর কাছে নির্ভরযোগ্য আধার ছিলেন। তিনি খোদাভীতি ও উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল অন্বেষণে অত্যন্ত উচ্চস্তরে ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رحل في طلب الحديث وحج، وروى عن الإمام مالك بن أنسٍ (93 - 179)، والإمام عبد الله بن المبارك (118 - 181)، وحمَّاد ابن زيدٍ (-179)، وأبي معاوية الضرير محمد بن خازمٍ (113 - 195). ويبدو أن له رواية عن سفيان الثوري، فقد كان عنده كتاب الجامع لسفيان الثوري، كما أخبر بذلك ابنه، وقد قرأه البخاري على صديق أبيه الإمام أبي حفصٍ الكبير، وصحح للإمام موضعًا فيه، مما يدل على أنها كانت نسخةً صحيحة.وكان أبو الحسن إسماعيل وثيق الصلة بكبار علماء مدينة بخارى، وله منهم أصحاب لا يترددون في الرجوع إليه في خواص أمورهم، يُستفاد ذلك من قصة أوردها الحافظ شمس الدين الذهبي في كتابه سير أعلام النبلاء في ترجمة الإمام أبي حفص الكبير أحمد بن حفصٍ البخاري الحنفي (150 - 217)، وهو من كبار أئمة الحنفية، وكان من تلاميذ الإمام محمد بن الحسن الشيباني (131 - 189). فقد رأى أبو حفصٍ النبيَّ عليه الصلاة والسلام في منامه، عليه قميصٌ، وامرأةٌ إلى جنبه تبكي، فقال لها: لا تبكي، فإذا متُّ فابكي. وبحثَ الإمام أبو حفصٍ عن عالمٍ يعبِّر له هذه الرؤيا فلم يجد عند أحدٍ عِلمًا، حتَّى اجتمع بإسماعيل والد الإمام البخاري فقصها عليه، فأخبره إسماعيلُ بتأويلها قائلًا له.: "إن السنةَ قائمةٌ بعدُ"، فاستغنى أبو حفصٍ بهذا الجواب. ويُستفاد من هذه القصة أن والد البخاري كان ذا مكانة عالية بين علماء بخارى. واستمرت الصلة بين أبي حفص وأبي الحسن إلى وفاة الثاني، وقد عاده أبو حفص في مرض موته، وسمعه يقول: "لا أعلم من مالي درهمًا من حرامٍ ولا درهمًا من شبهة".وروى أبو حفص هذا الكلام وقال عقبه: "فتصاغرت إلي نفسي عند ذلك". ويبدو لي أن سبب إيراد إسماعيل لهذا الكلام وهو على فراش الموت مقبل على الله تعالى، لا غرض له في شيء من الدنيا هو أن يطمئن أصحابه إلى أن المال الذي سيخلفه لابنيه أحمد ومحمد هو مال حلال خالص عن الشبهة.
তিনি হাদিস অন্বেষণে সফর করেছেন এবং হজ পালন করেছেন। তিনি ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৯৩ - ১৭৯), ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১১৮ - ১৮১), হাম্মাদ ইবনে যায়েদ (-১৭৯) এবং আবু মুআবিয়া আদ-দারির মুহাম্মদ ইবনে খাযিম (১১৩ - ১৯৫) থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে, সুফিয়ান আস-সাওরি থেকেও তাঁর বর্ণনা রয়েছে। কেননা তাঁর নিকট সুফিয়ান আস-সাওরির 'কিতাবুল জামি' ছিল, যেমনটি তাঁর পুত্র সংবাদ দিয়েছেন। ইমাম বুখারি তাঁর পিতার বন্ধু ইমাম আবু হাফস আল-কাবিরের নিকট এটি পাঠ করেছিলেন এবং তিনি ইমামের জন্য তাতে একটি স্থান সংশোধন করে দিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে সেটি একটি বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি ছিল।আবুল হাসান ইসমাইল বুখারা শহরের প্রথিতযশা আলেমদের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর এমন কিছু বন্ধু ছিল যারা নিজেদের বিশেষ বিষয়সমূহে তাঁর কাছে ফিরে আসতে দ্বিধাবোধ করতেন না। এটি হাফেজ শামসুদ্দিন আদ-দাহাবি তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে ইমাম আবু হাফস আল-কাবির আহমদ ইবনে হাফস আল-বুখারি আল-হানাফি (১৫০ - ২১৭) এর জীবনীতে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে জানা যায়। তিনি হানাফি মাযহাবের অন্যতম মহান ইমাম ছিলেন এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি (১৩১ - ১৮৯) এর ছাত্র ছিলেন। আবু হাফস স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন; তাঁর গায়ে একটি জামা ছিল এবং তাঁর পাশে এক নারী কাঁদছিলেন। তিনি তাকে বললেন: "কেঁদো না, যখন আমি মারা যাব তখন কেঁদো।" ইমাম আবু হাফস এমন একজন আলেম খুঁজলেন যিনি তাঁর এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, কিন্তু কারো কাছেই এর জ্ঞান পেলেন না। পরিশেষে তিনি ইমাম বুখারির পিতা ইসমাইলের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ঘটনাটি শোনালেন। ইসমাইল তাঁকে এর ব্যাখ্যা প্রদান করে বললেন: "সুন্নাহ এখনো প্রতিষ্ঠিত আছে।" এই উত্তর পেয়ে আবু হাফস পরিতৃপ্ত হলেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, বুখারার আলেমদের মাঝে ইমাম বুখারির পিতার উচ্চ মর্যাদা ছিল। আবু হাফস ও আবুল হাসানের মধ্যকার এই সম্পর্ক দ্বিতীয়জনের মৃত্যু পর্যন্ত বজায় ছিল। আবু হাফস তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং তাঁকে বলতে শুনেছিলেন: "আমি আমার উপার্জিত সম্পদের মধ্যে একটি দিরহামও হারাম অথবা একটি দিরহামও সন্দেহজনক বলে জানি না।"আবু হাফস এই কথাটি বর্ণনা করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "সেই মুহূর্তে আমার নিকট নিজেকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র মনে হলো।" আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, মৃত্যুশয্যায় আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা অবস্থায়—যখন দুনিয়ার কোনো কিছুর প্রতি তাঁর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না—ইসমাইলের এই কথাটি বলার কারণ ছিল তাঁর বন্ধুদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করা যে, তিনি তাঁর দুই পুত্র আহমদ ও মুহাম্মদের জন্য যে সম্পদ রেখে যাচ্ছেন, তা সন্দেহমুক্ত ও বিশুদ্ধ হালাল সম্পদ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وتصدر والد الإمام البخاري للتحديث فقصده الطلبة، وروى عنه أهلُ العراق. ومن جملة تلاميذه: يحيى بن جعفرٍ البِيكَنْدِيُّ، وهو الذي حدث البخاريَّ عن أبيه.، وأحمد ابن جعفر، ونصر بن الحسين.وقد ذكر البخاري أباه في التاريخ الكبير في غير موضع، وترجم له باقتضابٍ، ومما ذكره عنه قوله: "حدثني أصحابنا يحيى وغيره عن أبي قال: رأيت حماد بن زيدٍ وجاءه ابن المبارك بمكة فصافحه بكلتا يديه". وذكره الإمام أبو حاتم محمد بن حِبَّان (270 - 354) في الطبقة الرابعة من الثقات. أُمُّ البخاري:هي أم الحسن وأم أحمد، ولم يصل إلينا كثير من أخبارها، ولكن الروايات التي وصلت تفيد أنها كانت امرأة صالحة، تقية، عابدة، مجابة الدعوة، تعرف قدر العلم.، ولذلك دفعت بابنها إلى المكتب ليطلب العلم، ثم رحلت به إلى الحجاز ليؤدي فريضة الحج، ويتابع طلب العلم ولقاء الشيوخ وسماع الحديث، وأذنت له بالتخلُّف في الحجاز وقفلت راجعة مع ابنها البكر أحمد.وقد رُويت عنها قصةٌ تظهر مدى قربها من الله تعالى: هي أن البخاري فقد بصره في صغره، فاغتمَّت أمه لذلك، وكانت تبتهل إلى الله تعالى أن يرد عليه بصره .. فرأت ذات ليلة في المنام نبي الله إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام، فقال لها: قد رد الله على ابنك بصره، بكثرة دعائك له، فقام في الصباح وقد شفاه الله تعالى ورد عليه بصره.وهذه القصة من أعظم الكرامات التي تظهر مكانة هذه الأم عند الله تعالى، ومكانة هذا الطفل الذي تولاه الله تعالى منذ صغره، ليكون بعد ذلك علمًا من أعلام الأمة
ইমাম বুখারীর পিতা হাদিস বর্ণনায় নিয়োজিত ছিলেন, তাই শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট আসতেন এবং ইরাকবাসীরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইয়াহইয়া ইবনে জাফর আল-বিকান্দি, যিনি বুখারীর নিকট তাঁর পিতার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন, এবং আহমদ ইবনে জাফর ও নাসর ইবনে আল-হুসাইন।বুখারী তাঁর 'তারিখ আল-কাবির' গ্রন্থে একাধিক স্থানে তাঁর পিতার কথা উল্লেখ করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত আকারে তাঁর জীবনী তুলে ধরেছেন। তাঁর সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর এই উক্তি: "আমাদের সাথী ইয়াহইয়া ও অন্যরা আমার পিতার সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে দেখেছি, মক্কায় ইবনুল মুবারক তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁর সাথে উভয় হাত দিয়ে মুসাফাহা করলেন'।" ইমাম আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান (২৭০ - ৩৫৪) তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের চতুর্থ স্তরে উল্লেখ করেছেন। বুখারীর মাতা:তিনি ছিলেন উম্মুল হাসান ও উম্মু আহমদ। তাঁর সম্পর্কে খুব বেশি সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছেনি, তবে যে বর্ণনাগুলো পাওয়া যায় তা থেকে জানা যায় যে তিনি একজন নেককার, পরহেজগার, ইবাদতগুজার ও মুজাবুদ দাওয়াহ (যাঁর দুআ কবুল হয়) নারী ছিলেন, যিনি ইলমের মর্যাদা বুঝতেন। এই কারণেই তিনি তাঁর পুত্রকে ইলম অর্জনের জন্য মক্তবে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে হিজাজে সফর করেন যাতে তিনি হজ্জ পালন করতে পারেন এবং ইলম অর্জন, শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ ও হাদিস শ্রবণের ধারা অব্যাহত রাখতে পারেন। তিনি তাঁকে হিজাজে থেকে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং নিজে তাঁর বড় ছেলে আহমদকে নিয়ে ফিরে আসেন।তাঁর সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে যা মহান আল্লাহর সাথে তাঁর নৈকট্যের গভীরতা প্রকাশ করে: ইমাম বুখারী শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, এতে তাঁর মা অত্যন্ত শোকাহত হন। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে রোনাজারি ও প্রার্থনা করতেন যেন তিনি তাঁর ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে আল্লাহর নবী ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে দেখলেন, তিনি তাঁকে বললেন: 'হে নারী, তোমার অধিক দুআর কারণে আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন'। সকালে উঠে তিনি দেখলেন যে আল্লাহ তাআলা তাঁকে আরোগ্য দান করেছেন এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে।এই ঘটনাটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারামত যা মহান আল্লাহর নিকট এই মহীয়সী মায়ের মর্যাদা এবং এই শিশুর উচ্চ মাকামকে প্রকাশ করে, যার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা শৈশব থেকেই গ্রহণ করেছিলেন, যাতে পরবর্তীতে তিনি উম্মতের এক মহান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الإسلامية، ويكون كتابه الجامع الصحيح أهم كتاب للمسلمين بعد القرآن الكريم. أسرة البخاري:كان للإمام البخاري أخٌ واحدٌ أكبر منه اسمه أحمد، رحلت بهما أمهما إلى الحج، ورجع أحمد مع أمه إلى بخارى، وتوفي فيها. وبقي البخاري في الحجاز لطلب العلم. ولا نعرف من أخبار أخيه سوى أنه كانت له زوجة، كانت تتردد على البخاري.روى وراقه محمد بن أبي حاتمٍ في كتابه شمائل البخاري قال: "سمعت أبا عبد الله يقول: ما ينبغي للمسلم أن يكون بحالة إذا دعا لم يُستجب له. فقالت له امرأة أخيه بحضرتي: فهل تبيَّنت ذلك أيها الشيخ من نفسك، أو جرَّبت؟ قال: نعم، دعوت ربي عز وجل مرتين فاستجاب لي، فلن أحب أن أدعوَ بعد ذلك، فلعله ينقص من حسناتي، أو يُعجل لي في الدنيا. ثم قال: ما حاجة المسلم إلى الكذب والبخل".ويبدو من تتبع أخبار الإمام البخاريِّ التي كتبها ورَّاقه في كتابه: شمائل البخاري أنه كانت للبخاري زوجة. فقد أراد البخاري أن يقاسم وراقه أمواله في قصة طويلة ساقها الذهبي قال فيها البخاري لوراقه: "لي جوَارٍ وامرأةٌ، وأنتَ عَزَبٌ، فالذي يجب عليَّ أن أناصفك لنستويَ في المال وغيره، وأربحُ عليك في ذلك".وتفيد بعض الروايات أنه كان للبخاري ولدٌ اسمه أحمد يكنَّى أبا حفصٍ، نقل الذهبي عن غُنجارٍ بسنده إلى بكر بن منيرٍ قال: "كان حُمِلَ إلى البخاري بضاعةٌ أنفذها إليه ابنه أحمد، فاجتمع بعض التجار إليه فطلبوها بربح خمسة آلاف درهم، فقال: انصرِفوا الليلةَ. فجاءه من الغد تجارٌ آخرون.، فطلبوا منه البضاعة بربح عشرة آلاف. فقال: إني نويت بيعها للذين أتوا البارحة". وفي رواية أخرى زيادة: ولا أحب أن أنقض نيتي. وساق ابن عساكر الرواية بإسناده عن غُنْجارٍ وزاد فيها "أنفذها إليه ابنه
ইসলামী [জগতের], এবং তাঁর রচিত ‘আল-জামি আস-সহিহ’ কুরআনুল কারীমের পর মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হিসেবে গণ্য। বুখারীর পরিবার:ইমাম বুখারীর তাঁর চেয়ে বড় একজন ভাই ছিলেন যার নাম ছিল আহমাদ। তাঁদের মা তাঁদের উভয়কে নিয়ে হজে গমন করেন। আহমাদ তাঁর মায়ের সাথে বুখারায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। আর বুখারী জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে হিজাজে অবস্থান করেন। আমরা তাঁর ভাইয়ের সংবাদ সম্পর্কে কেবল এতটুকুই জানি যে, তাঁর এক স্ত্রী ছিলেন যিনি বুখারীর কাছে আসা-যাওয়া করতেন।তাঁর লিপিকার (ওয়াররাক) মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম তাঁর ‘শামায়িলুল বুখারী’ নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: একজন মুসলমানের এমন অবস্থায় থাকা উচিত নয় যে, সে দুআ করলে তার দুআ কবুল হবে না। তখন তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী আমার উপস্থিতিতেই তাঁকে বললেন: হে শায়খ, আপনি কি নিজের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অথবা পরীক্ষা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি আমার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী প্রতিপালকের কাছে দুইবার দুআ করেছি এবং তিনি তা কবুল করেছেন। অতঃপর আমি এরপর আর দুআ করতে পছন্দ করিনি, পাছে এটি আমার নেক আমল কমিয়ে দেয় অথবা দুনিয়াতে আমাকে এর বিনিময় দ্রুত দিয়ে দেয়। তারপর তিনি বললেন: একজন মুসলমানের মিথ্যা এবং কৃপণতার কী প্রয়োজন?”ইমাম বুখারীর লিপিকার তাঁর ‘শামায়িলুল বুখারী’ কিতাবে যেসব সংবাদ লিপিবদ্ধ করেছেন, তা অনুসরণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, বুখারীর একজন স্ত্রী ছিলেন। যাহাবি কর্তৃক বর্ণিত একটি দীর্ঘ ঘটনায় দেখা যায়, বুখারী তাঁর লিপিকারের সাথে তাঁর সম্পদ ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন। সেখানে বুখারী তাঁর লিপিকারকে বলেছিলেন: “আমার দাসীগণ ও স্ত্রী রয়েছে, আর আপনি অবিবাহিত। তাই আমার ওপর আবশ্যক হলো আপনার সাথে আমার সম্পদ আধাআধি ভাগ করে নেওয়া যাতে আমরা সম্পদে ও অন্যান্য বিষয়ে সমান হতে পারি, এবং এতে আমি আপনার ওপর সাওয়াব লাভ করতে পারি।”কিছু বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, বুখারীর আহমাদ নামে এক পুত্র ছিল যার কুনিয়াত ছিল আবু হাফস। যাহাবি গুঞ্জার থেকে তাঁর সনদে বকর ইবনে মুনির হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: “বুখারীর কাছে কিছু পণ্য আনা হয়েছিল যা তাঁর পুত্র আহমাদ পাঠিয়েছিলেন। তখন কিছু ব্যবসায়ী তাঁর কাছে একত্রিত হয়ে পাঁচ হাজার দিরহাম লাভে সেগুলো কিনতে চাইল। তিনি বললেন: আজ রাতে ফিরে যান। পরদিন অন্য কিছু ব্যবসায়ী তাঁর কাছে এল। তারা তাঁর কাছ থেকে দশ হাজার দিরহাম লাভে পণ্যগুলো চাইল। তিনি বললেন: আমি এগুলো তাদের কাছে বিক্রয় করার নিয়ত করেছি যারা গত রাতে এসেছিল।” অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: “আর আমি আমার নিয়ত ভঙ্গ করতে পছন্দ করি না।” ইবনে আসাকির গুঞ্জারের সূত্রে তাঁর সনদে বর্ণনাটি এনেছেন এবং তাতে বৃদ্ধি করেছেন যে, “এটি তাঁর পুত্র তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন...”
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أحمد أبو حفصٍ". فهل سمى ابنه على اسمه أخيه أحمد وكناه بكنية شيخه ورفيق أبيه، أم أن المعنيَّ في هذه الرواية تاجرٌ اسمه أبو حفص أنفذ إلى البخاري بضاعة مع ابنه أحمد. كل ذلك محتمل، لكن يبقى نص ابن عساكر دليلًا على أن للبخاري ابنًا اسمه أحمد كنيته أبو حفص حتى يظهر دليل معارض.وكانت للبخاري جارية تخدمه، فأعتقها لما أخطأت. ويفيد خبر آخر أنه اشترى جارية وانتقاها دميمةً.وكانت له قرابات بعيدة من النساء في مدينة بخارى، وكانت تأتيه الرسائل منهن وهو في رحلاته ويجيب عليها. وكان له أقرباء في بلدة خرتنكَ، قيل إنه نزل عليهم قبيل وفاته.، وسيأتي اسم من نزل عليه عند الحديث عن وفاته رحمه الله تعالى. طلبُ البخاريِّ للعلم:بدأت نشأة البخاري في حضن أبيه الذي كان وثيق الصلة بعدد من كبار أهل العلم، يتردد عليهم ويرجعون إليه. ولا شك أن الأب غرس في ابنه حب القرآن الكريم والحديث الشريف وطلب العلم، حتى نشأ البخاري وذلك فيه سجيةٌ وهوًى.وسرعان ما توفي والده وتركه يتيمًا، فاعتنت به أمه وربته أحسن تربية، وأرادت له أن يكون عالمًا كأبيه، فأرسلته إلى المكتب يطلب العلم. ويخبرنا البخاري هنا كيف أن الله تعالى ألهمه حفظ الحديث في المكتب وهو دون العاشرة من العمر.وكان يتردد على بعض الفقهاء بمَروَ وهو صبيٌّ، وكان ما زال يكتب الحديث في المكتب.، فسأله أحد المؤدبين: كم كتبت اليوم؟ فقال: اثنين، وأراد بذلك حديثين، فضحك من حضر المجلس، فقال شيخ منهم: لا تضحكوا، فلعله يضحك منكم يومًا، فكان كما قال ذلك الشيخ.
"আহমদ আবু হাফস।" তিনি কি তাঁর পুত্রের নাম তাঁর ভাই আহমদের নামে রেখেছিলেন এবং তাঁর উস্তাদ ও পিতার সঙ্গীর কুনিয়া অনুসারে তাঁর কুনিয়া রেখেছিলেন, নাকি এই বর্ণনায় উদ্দেশ্য হলেন আবু হাফস নামক জনৈক বণিক, যিনি তাঁর পুত্র আহমদের মাধ্যমে বুখারীর নিকট পণ্য পাঠিয়েছিলেন? এই সবকটিই সম্ভব, তবে যতক্ষণ কোনো বিরোধী দলিল প্রকাশ না পাচ্ছে, ততক্ষণ ইবনে আসাকিরের বর্ণনাটি বুখারীর আহমদ নামক একজন পুত্র থাকার প্রমাণ হিসেবেই থেকে যাবে, যার কুনিয়া ছিল আবু হাফস।ইমাম বুখারীর একজন দাসী ছিল যে তাঁর সেবা করত। সে যখন একটি ভুল করল, তখন তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন। অন্য একটি বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিনি একটি দাসী ক্রয় করেছিলেন এবং তিনি একজন কদাকার দাসীকে নির্বাচন করেছিলেন।বুখারা শহরে তাঁর দূরসম্পর্কের কিছু নারী আত্মীয় ছিলেন। তিনি যখন সফরে থাকতেন তখন তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে চিঠি আসত এবং তিনি সেগুলোর উত্তর দিতেন। খরতঙ্গ জনপদেও তাঁর কিছু আত্মীয় ছিলেন; বলা হয় যে, ইন্তেকালের কিছুদিন আগে তিনি তাঁদের কাছে অবস্থান করেছিলেন। তিনি কার কাছে অবস্থান করেছিলেন, তাঁর মৃত্যু প্রসঙ্গে আলোচনার সময় সেই নাম আসবে (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)। বুখারীর ইলম অর্জন:বুখারীর শৈশব শুরু হয়েছিল তাঁর পিতার কোলে, যাঁর অনেক বড় বড় আলেমদের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি তাঁদের কাছে যাতায়াত করতেন এবং তাঁরাও তাঁর কাছে আসতেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পিতা তাঁর পুত্রের অন্তরে পবিত্র কুরআন, মহান হাদিস এবং ইলম অর্জনের ভালোবাসা বপন করেছিলেন, যার ফলে বুখারীর প্রকৃতি ও আসক্তি এগুলোর সাথেই গড়ে উঠেছিল।অচিরেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে এতিম অবস্থায় রেখে যান। অতঃপর তাঁর মা তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং সর্বোত্তমভাবে লালন-পালন করেন। মা চেয়েছিলেন তিনি যেন তাঁর পিতার মতো একজন আলেম হন, তাই তিনি তাঁকে ইলম অর্জনের জন্য মকতবে পাঠান। বুখারী এখানে আমাদের জানাচ্ছেন যে, দশ বছরেরও কম বয়সে মকতবে থাকাকালীনই আল্লাহ তায়ালা কীভাবে তাঁর অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছিলেন।বালক অবস্থায় তিনি মার্ভের কোনো কোনো ফকিহদের কাছে যাতায়াত করতেন এবং তখনও তিনি মকতবে হাদিস লিখতেন। জনৈক শিক্ষক তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আজ তুমি কয়টি লিখেছ?" তিনি উত্তর দিলেন, "দুটি", এর দ্বারা তিনি দুটি হাদিস বুঝিয়েছিলেন। মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিরা হেসে উঠলেন। তখন তাঁদের মধ্য থেকে এক শাইখ বললেন, "হাসাহাসি করো না, সম্ভবত কোনো একদিন সে তোমাদের দেখে হাসবে।" সেই শাইখ যা বলেছিলেন তা-ই সত্য হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وعَرَف البخاري بما تأدب عليه في المكتب أن طلب العلم لا بد فيه من الحفظ فانصرف إليه، فأخذ كتب مشاهير المحدثين واشتغل بحفظها، ومما حفظه في تلك المرحلة المبكرة التي بلغ فيها بلغ السادسة عشرة من عمره: 1. كتب الإمام عبد الله بن المبارك (118 - 181):قال يحيى بن معين في وصفها: "كانت كتبه التي يحدِّث بها عشرين ألفًا أو واحدًا وعشرين ألفًا". ولم يُمَيِّزِ الراوي العدد، ولم يبيِّن ما هو المعدود، وبين الشيخ زاهد الكوثري أن المعدود الأحاديث. وأرى أنه لا يَبعد أن تكون الأوراق، فإن ابن المبارك حمل عن ألفي شيخ، ولو كان المقصود عدد الأحاديث، لكان الكلام: "كانت أحاديثه التي يحدث بها عشرين ألفًا إلخ". ويؤيد ما ذهبنا إليه ما سيأتي أن البخاري حفظ في البصرة خمسة عشر ألف حديث في ستة عشر يومًا، وكان رفقاؤه يكتبون وهو لا يكتب. 2. كتب الإمام وكيع بن الجراح (129 - 197):وهي: التفسير، وكتاب الزهد، والسنن، وفضائل الصحابة، والمُسند، والمصنف، والمعرفة والتاريخ، ونسخة [مرويات] وكيع عن الأعمش. وتدخل هذه المصنفات كلها في فنون الحديث لأن أبواب العلم كانت تعتمد على رواية بالأسانيد.فانظر مقدار ما كان يشتغل البخاري بحفظه في مدة وجيزة. لتعرف مقدار ما حفظه، بعد ذلك، ولا تستغرب قوله: إنه انتخب الصحيح من ستمائة ألف حديث.ولا يُستغرب انتشار كتب ابن المبارك ووكيعٍ في بخارى.، فكلاهما كان يميل إلى مذهب أبي حنيفة، وكانت خراسان وبخارى من أهم معاقل مذهب أبي حنيفة رحمه الله تعالى.
মক্তবে অর্জিত আদব ও শিষ্টাচার থেকে ইমাম বুখারী বুঝতে পেরেছিলেন যে, জ্ঞান অন্বেষণে মুখস্থ করা অপরিহার্য; তাই তিনি সেদিকেই মনোনিবেশ করলেন। তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহ সংগ্রহ করলেন এবং সেগুলো মুখস্থ করার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। শৈশবের সেই প্রাথমিক পর্যায়ে—যখন তাঁর বয়স মাত্র ষোলো বছর—তিনি যা যা মুখস্থ করেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে: ১. ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১১৮ - ১৮১)-এর কিতাবসমূহ:ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন সেগুলোর বর্ণনায় বলেছেন: "তাঁর বর্ণিত কিতাবসমূহ বিশ হাজার বা একুশ হাজার ছিল।" বর্ণনাকারী সংখ্যাটি নির্দিষ্ট করেননি এবং কী গণনা করা হয়েছে তাও স্পষ্ট করেননি। শেখ জাহেদ আল-কাওসারী স্পষ্ট করেছেন যে, গণনাকৃত বিষয়টি হলো 'হাদিস'। তবে আমার মতে, এটি 'পৃষ্ঠা' হওয়াও অসম্ভব নয়; কেননা ইবনুল মুবারক দুই হাজার শায়খের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। যদি উদ্দেশ্য হাদিসের সংখ্যা হতো, তবে কথাটি এমন হতো: "তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ ছিল বিশ হাজার ইত্যাদি।" আমাদের এই মতকে সেই ঘটনাটি সমর্থন করে যা সামনে আসছে যে, বুখারী বসরায় ষোলো দিনে পনেরো হাজার হাদিস মুখস্থ করেছিলেন, অথচ তাঁর সঙ্গীরা লিখে রাখতেন আর তিনি লিখতেন না। ২. ইমাম ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ (১২৯ - ১৯৭)-এর কিতাবসমূহ:আর সেগুলো হলো: আত-তাফসীর, কিতাবুয যুহদ, আস-সুনান, ফাদাইলুস সাহাবা, আল-মুসনাদ, আল-মুসান্নাফ, আল-মা'রিফাতু ওয়াত তারিখ এবং আমাশ থেকে বর্ণিত ওয়াকি'র পাণ্ডুলিপি [বর্ণনাসমূহ]। এই সমস্ত সংকলনই হাদিস শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তখন জ্ঞানের সকল শাখা সনদের সাথে বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল ছিল।লক্ষ্য করুন, ইমাম বুখারী কত অল্প সময়ে কত বিশাল পরিমাণ মুখস্থ করার কাজে নিমগ্ন ছিলেন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন পরবর্তী সময়ে তিনি কতটুকু মুখস্থ করেছিলেন। অতএব, তাঁর এই কথায় অবাক হওয়ার কিছু নেই যে—তিনি ছয় লক্ষ হাদিস থেকে 'সহীহ' হাদিসগুলো নির্বাচন করেছেন।বুখারায় ইবনুল মুবারক ও ওয়াকি'র কিতাবসমূহের প্রসারও আশ্চর্যজনক কিছু নয়। কারণ তাঁরা উভয়ই ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, আর খোরাসান ও বুখারা ছিল ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثم اشتغل البخاري بطلب الفقه على مذهب أهل الرأي، أي مذهب أبي حنيفة، فكان يتردد على الإمام أبي حفص الكبير، وهو أحمد بن حفصٍ البخاري (150 - 217).، من كبار أئمة الحنفية وتلميذُ محمد بن الحسن الشيباني (131 - 189). ومما قرأه عليه البخاري كتاب الجامع لسفيان الثوري.يقول البخاري: كنت عند أبي حفصٍ أحمد بن حفصٍ أسمع كتاب الجامع جامع سفيان من كتاب والدي، فمرَّ أبو حفصٍ على حرفٍ ولم يكن عندي ماذكر، فراجعته، فقال الثانية كذلك، فراجعته الثانيةَ فقال كذلك، فراجعته الثالثةَ فسكت سويعة ثم قال: من هذا؟ قالوا: هذا ابن إسماعيل بن إبراهيم بن بَرْدِزْبَهْ، فقال أبو حفصٍ: هو كما قال: واحفظوا فإن هذا يصير يومًا رجلًا.وكان للإمام البخاري أيام طلبه للعلم ببخارى بلدِه رفقاءُ، منهم: الإمامُ محمدُ بنُ أحمدَ بنِ حفصٍ (-264) الذي صار من بعد مفتي بخارى وأحد كبار الأئمة، وهو ابن أبي حفصٍ الكبيرِ، نقل الذهبي أنه رافق البخاريَّ في الطلب مدةً.وقد وضع البخاري لنفسه منهجًا دقيقًا في طلب العلم، فمع أنه كان يروي عمن هو فوقه ومثله ودونه من الشيوخ، إلا أنه كان يدقق مع الشيوخ الذين يروي عنهم من غير المشاهير من الأئمة، فكان يسأل الرجل عن اسمه وكنيته ونسبه، وكيف تحمَّل الحديث الذي يرويه، فإن لم يكن من أهل الحفظ والدراية، طلب منه أن يُخرج له أصل كتابه، فيستعيره منه وينسخه.وهذا الحرص من الإمام البخاري هو الذي أوصله إلى أعلى المراتب بين أهل عصره ومن بعدهم. ومن أمثلة حرصه قوله في بعض كلامه: تركت أنا عشرة آلافِ حديثٍ لرجل لي فيه نظر، وتركت مثله أو أكثر منه لغيره لي فيه نظر".
এরপর বুখারি আহলে রায়ের মাজহাব অর্থাৎ আবু হানিফার মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জনে ব্রতী হন। তিনি ইমাম আবু হাফস আল-কাবিরের কাছে যাতায়াত করতেন, যিনি হলেন আহমদ ইবনে হাফস আল-বুখারি (১৫০ - ২১৭ হিজরি)। তিনি হানাফি মাজহাবের অন্যতম বড় ইমাম এবং মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-শায়বানির (১৩১ - ১৮৯ হিজরি) ছাত্র ছিলেন। বুখারি তাঁর কাছে সুফিয়ান সাওরির কিতাবুল জামে পাঠ করেছিলেন।বুখারি বলেন: আমি আবু হাফস আহমদ ইবনে হাফসের নিকট আমার পিতার পাণ্ডুলিপি থেকে সুফিয়ানের জামে কিতাবটি শ্রবণ করছিলাম। এমতাবস্থায় আবু হাফস একটি শব্দের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলেন যা আমার পাণ্ডুলিপিতে ছিল না। তখন আমি তাঁকে বিষয়টি পুনরায় পরীক্ষা করতে বললাম। দ্বিতীয়বারও তিনি একই কথা বললেন, আমি আবারও তাঁকে বিষয়টি লক্ষ্য করতে বললাম। তৃতীয়বারও তিনি একই কথা বললেন, তখন আমি পুনরায় তাঁকে সংশোধন করে দিলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব রইলেন এবং বললেন: এটি কে? তারা বললেন: ইনি ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে বারদিজবাহর পুত্র। তখন আবু হাফস বললেন: সে যেমন বলেছে বিষয়টি তেমনই। তোমরা একে স্মরণ রেখো, কারণ এই বালক একদিন এক মহান ব্যক্তিতে পরিণত হবে।ইমাম বুখারির নিজ শহর বুখারায় ইলম অন্বেষণের দিনগুলোতে তাঁর কয়েকজন সঙ্গী ছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাফস (মৃত্যু: ২৬৪ হিজরি), যিনি পরবর্তীতে বুখারার মুফতি এবং অন্যতম বড় ইমামে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি আবু হাফস আল-কাবিরের পুত্র ছিলেন। যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দীর্ঘ সময় ইলম অন্বেষণে বুখারির সঙ্গী ছিলেন।ইমাম বুখারি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে নিজের জন্য একটি সূক্ষ্ম কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন। যদিও তিনি তাঁর চেয়ে উচ্চমর্যাদার, সমপর্যায়ের এবং নিম্নপর্যায়ের শায়খদের থেকে বর্ণনা করতেন, তবে প্রখ্যাত ইমামদের বাইরে যেসব শায়খদের থেকে তিনি বর্ণনা করতেন, তাঁদের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই করতেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, উপনাম, বংশপরিচয় এবং তিনি যে হাদিসটি বর্ণনা করছেন তা কীভাবে গ্রহণ করেছেন—সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যদি ওই ব্যক্তি হেফজ (স্মৃতিশক্তি) ও জ্ঞানের অধিকারী না হতেন, তবে বুখারি তাঁর কাছে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিটি বের করার অনুরোধ করতেন এবং সেটি ধার নিয়ে তা থেকে অনুলিপি তৈরি করে নিতেন।ইমাম বুখারির এই গভীর আগ্রহ ও সতর্কতা তাঁকে সমকালীন এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের মাঝে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে। তাঁর এই সতর্কতার একটি উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি: "আমি এমন একজন ব্যক্তির দশ হাজার হাদিস বর্জন করেছি যার ব্যাপারে আমার আপত্তি রয়েছে, এবং অন্য একজনেরও সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি হাদিস বর্জন করেছি যার ব্যাপারে আমার আপত্তি রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رحلات البخاري:ابتدأ الإمام البخاري الرحلة سنة عشر ومائتين وهو ابن ستَّ عشرةَ سنةً، وكانت أول رحلة له إلى الحج صحبةَ أمِّه وأخيه أحمد، وهو أكبرُ منه، وبقي هو في الحجاز لطلب العلم، وقفلَ أخوه أحمدُ بأمه إلى بخارى.ورحل البخاري بعد ذلك إلى الشام ومصر وبغداد والكوفة والبصرة. وأقام بالبصرة خمس سنين، وبالحجاز ستة أعوام. قال: ولا أحصي كم دخلت إلى الكوفة وبغداد مع المحدثين. وكان أول دخوله إلى بغداد آخر سنة عشر ومائتين قبل فتنة خلق القرآن.، وتردد إليها مرارًا، منها ثماني مراتٍ لقي فيها الإمام أحمد بن حنبلٍ. ودخل مدن بلخ ومروَ والرَّي وواسط ودمشق وحمص وعسقلان. وورد نيسابور أول مرة سنة 209، ودخل عسقلان سنة 217 ودخل مصر مرتين إحداهما سنة 217.ثم رحل بعد ذلك في التحديث، فدخل إلى عدد من البلاد التي كان طلب العلم بها.، بعد أن طبَّقت شهرته الآفاق، وحدَّث بالحجاز والعراق وما وراء النهر، وقدم الرَّيَّ سنة 250، وأقام بنيسابور خمس سنين ابتداءً من سنة 250. وورد أنه أسمع الجامع الصحيح بمدينة فربر سنة 248، وأسمعه بمدينة بخارى سنة 252.وقد طاف الإمام البخاري البلاد، ودخل حواضر الإسلام الكبرى، منها مكة المكرمة والمدينة المنورة ودمشق وبغداد عاصمة الخلافة، وقضى معظم عمره متنقلًا بين البلاد راحلًا إما في طلب الحديث أو في إملائه.ولكنه رغم ذلك آثر العودة إلى خراسان وبلده بخارى. ويبدو أنه ندم على ذلك في آخر عمره، بعدما جرى له من المحن وما قاساه من الشدائد في نيسابور وبخارى وغيرهما جَرَّاءَ حسدِ الأقران. يشير إلى ذلك ما رواه وراقه أبو جعفرٍ محمدُ بن أبي حاتم حيث
বুখারীর সফরসমূহ:ইমাম বুখারী দুইশত দশ হিজরীতে সফর শুরু করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ষোলো বছর। তাঁর প্রথম সফর ছিল তাঁর মা এবং তাঁর ভাই আহমদের সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে, যিনি তাঁর চেয়ে বড় ছিলেন। তিনি জ্ঞান অর্জনের জন্য হিজাজে অবস্থান করেন এবং তাঁর ভাই আহমদ তাঁর মাকে নিয়ে বুখারায় ফিরে যান।এরপর বুখারী সিরিয়া, মিশর, বাগদাদ, কুফা এবং বসরায় সফর করেন। তিনি বসরায় পাঁচ বছর এবং হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেন। তিনি বলেছেন: মুহাদ্দিসদের সাথে আমি কতবার কুফা এবং বাগদাদে প্রবেশ করেছি তা গণনা করতে পারি না। বাগদাদে তাঁর প্রথম প্রবেশ ছিল দুইশত দশ হিজরীর শেষ দিকে কুরআন সৃষ্টির ফিতনা শুরুর আগে। সেখানে তিনি বারবার যাতায়াত করেছেন, যার মধ্যে আটবার তিনি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বালখ, মার্ভ, রাই, ওয়াসিত, দামেস্ক, হিমস এবং আসকালান শহরে প্রবেশ করেন। তিনি ২০৯ হিজরীতে প্রথমবার নিশাপুরে উপস্থিত হন এবং ২১৭ হিজরীতে আসকালানে প্রবেশ করেন এবং মিশরে দুইবার প্রবেশ করেন যার মধ্যে একবার ২১৭ হিজরীতে।এরপর তিনি হাদিস বর্ণনার উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেই সব দেশগুলোতে প্রবেশ করেন যেখানে তিনি আগে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। যখন তাঁর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন তিনি হিজাজ, ইরাক এবং মা-ওয়ারাউন-নাহরে হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি ২৫০ হিজরীতে রাই শহরে আগমন করেন এবং ২৫০ হিজরী থেকে শুরু করে নিশাপুরে পাঁচ বছর অবস্থান করেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি ২৪৮ হিজরীতে ফারাবর শহরে এবং ২৫২ হিজরীতে বুখারা শহরে জামেউস সহীহ শুনিয়েছিলেন।ইমাম বুখারী বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং ইসলামের বড় বড় কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করেছেন, যার মধ্যে মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, দামেস্ক এবং খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন দেশের মাঝে স্থানান্তরিত হয়ে কাটিয়েছেন, হয় হাদিসের সন্ধানে অথবা হাদিস শ্রুতলিপি করানোর জন্য।কিন্তু এতদসত্ত্বেও তিনি খোরাসান এবং তাঁর নিজ শহর বুখারায় ফিরে যাওয়াকে প্রধান্য দিয়েছিলেন। মনে হয় জীবনের শেষ দিকে তিনি এ নিয়ে অনুতপ্ত হয়েছিলেন, কারণ সমসাময়িকদের হিংসার কারণে নিশাপুর, বুখারা এবং অন্যান্য স্থানে তাঁকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তাঁর লিপিকার আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম যা বর্ণনা করেছেন তা সেই দিকেই ইঙ্গিত করে যেখানে—
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال: "سمعت البخاري يقول.: "دخلت بغداد آخر ثمانِ مراتٍ، في كل ذلك أجالس أحمد بن حنبلٍ.، فقال لي في آخر ما ودعتُه: يا أبا عبد الله، تدعُ العلم والناسَ وتصير إلى خراسان! " قال: "فأنا الآن أذْكُر قوله". شيوخ البخاري:روى البخاري عن ألف وثمانين شيخًا، روي عنه أنه قال: كتبت عن ألفٍ وثمانين نفسًا ليس فيهم إلا صاحب حديث.وقال: دخلت بلخَ، فسألوني أن أُمْلِيَ عليهم لكل من كتبت عنه، فأمليت ألف حديثٍ عن ألف شيخٍ.وأعلى شيوخه طبقةً بعض أتباع التابعين، منهم محمد بن عبد الله الأنصاري، وعصام ابن خالد وأبو عاصم النبيل ومكي بن إبراهيم.وأكثر شيوخه تأثيرًا فيه هو الإمام الحافظ الحجة أمير المؤمنين في الحديث عليُّ بن المَديني (161 - 234)، رُوي عن البخاري أنه قال: "ما استصغرت نفسي عند أحدٍ إلا عند علي بن المَديني، وربما كنت أُغْرِبُ عليه" ويقول: "ما سمعت الحديث من في إنسانٍ أشهى عندي من أن أسمعه من في علي". وروى عنه في الصحيح أكثر من مائتي حديث. ومع ذلك فإن ابن المديني كان إذا بلغه قول البخاري فيه قال: "دعوا قوله، فإنه ما رأى مثل نفسه". وعن فتح بن محمد النيسابوري قال: أتيت علي بن المديني فرأيت محمد بن إسماعيل جالسًا عن يمينه، وكان إذا حدَّث التفت إليه كأنه يهابه. ومما يُظهر تأثير ابن المديني في البخاري واختصاص البخاري به أن ابن كثير لما ذكر في البداية والنهاية وفيات سنة 234 قال: "وعلي بن عبد الله بن جعفر المديني شيخ
তিনি বলেন: "আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি: 'আমি শেষ আটবারের মতো বাগদাদে প্রবেশ করেছি, প্রতিবারই আমি আহমদ বিন হাম্বলের মজলিসে বসতাম। শেষবার যখন আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি ইলম এবং মানুষকে ছেড়ে খোরাসানে চলে যাচ্ছেন!' তিনি বলেন: 'আমি এখন তাঁর সেই কথাটি স্মরণ করছি'।" বুখারির উস্তাদগণ:ইমাম বুখারি এক হাজার আশিজন শায়খের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এক হাজার আশিজন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, যাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ।"তিনি আরও বলেন: "আমি বলখ শহরে প্রবেশ করলাম, তখন তাঁরা আমাকে অনুরোধ করলেন যেন আমি যাঁদের কাছ থেকে হাদিস লিখেছি তাঁদের প্রত্যেকের থেকে একটি করে হাদিস লিপিবদ্ধ করিয়ে দেই। ফলে আমি এক হাজার শায়খের নিকট থেকে এক হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করে দিলাম।"তাঁর শায়খদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ স্তরের (তাবাকাহ) ছিলেন কয়েকজন তাবে-তাবেয়ী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, ইসাম ইবনে খালিদ, আবু আসিম আন-নাবিল এবং মক্কী বিন ইবরাহিম।তাঁর উস্তাদদের মধ্যে তাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন ইমাম, হাফিজ, হুজ্জাহ এবং হাদিসের ক্ষেত্রে আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনুল মাদিনী (১৬১ - ২৩৪ হিজরি)। ইমাম বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আলী ইবনুল মাদিনী ছাড়া আর কারও সামনে নিজেকে ছোট মনে করিনি, তবে কখনও কখনও আমি তাঁর নিকট এমন হাদিস পেশ করতাম যা তাঁর জানা ছিল না।" তিনি আরও বলতেন: "আমি কোনো মানুষের মুখ থেকে হাদিস শোনা আলী (ইবনুল মাদিনী)-এর মুখ থেকে শোনার চেয়ে বেশি পছন্দ করি না।" তিনি তাঁর থেকে সহিহ বুখারিতে দুই শতাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও, ইবনুল মাদিনী যখন তাঁর সম্পর্কে বুখারির মন্তব্য শুনতেন, তখন তিনি বলতেন: "তাঁর কথা বাদ দাও, তিনি তো নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি।" ফাতহ বিন মুহাম্মাদ আন-নিশাপুরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আলী ইবনুল মাদিনীর নিকট আসলাম এবং দেখলাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল তাঁর ডান পাশে বসে আছেন। তিনি যখন হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তাঁর দিকে এমনভাবে তাকাতেন যেন তাঁকে শ্রদ্ধা বা সমীহ করছেন।" ইবনুল মাদিনীর প্রতি বুখারির প্রভাব এবং তাঁর সাথে বিশেষ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয় যখন ইবনে কাসির 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে ২৩৪ হিজরির মৃত্যুসংবাদ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "এবং আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-মাদিনী, যিনি ছিলেন শায়খ..."
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
البخاري في صناعة الحديث".وأكثر من روى عنه من الشيوخ هو الإمام الحافظ أبو محمد عبد الله بن يوسف الدمشقي التنيسي (-218)، وهو من رواة الموطأ عن الإمام مالك، روى عنه البخاري في الصحيح ثلاثمائة وخمسةً وأربعين حديثًا، وكان لقيه بمصر سنة مائتين وسبعَ عشرةَ .. ومن أبرز شيوخه:عبد الله بن الزبير الحميدي القرشي (-219)خَلَّاد بن يحيى المُقرئ (-213)عبيد الله بن موسى العَبْسي (-213)عصام بن خالد أبو إسحاق الحمصي (-211)طَلْق بن غنام الكوفي (-211)أبو عاصم النبيل الضَّحَّاكُ بن مَخْلَدٍ (-212)مكيُّ بن إبراهيمَ (126 - 214)عصام بن خالد الحضرمي أبو إسحاق الحمصي (-214)أبو نُعيم الفضل بن دُكَين (130 - 219)علي بن عَيَّاشٍ الحمصي (143 - 219)آدم بن أبي إياس (132 - 220)أبو اليمان الحكم بن نافع الحمصي (138 - 222)
"হাদিস সংকলনশৈলীতে বুখারি"।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যার থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন ইমাম হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকি আত-তিন্নিসি (মৃত্যু: ২১৮ হিজরি), যিনি ইমাম মালিকের নিকট থেকে মুওয়াত্তার অন্যতম বর্ণনাকারী। বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে তাঁর থেকে তিনশত পঁয়তাল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ২১৭ হিজরিতে মিসরে তাঁর সাথে ইমাম বুখারির সাক্ষাৎ হয়েছিল... এবং তাঁর অন্যতম প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আল-হুমাইদি আল-কুরাইশি (মৃত্যু: ২১৯ হিজরি)খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুপরি (মৃত্যু: ২১৩ হিজরি)উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি (মৃত্যু: ২১৩ হিজরি)ইসাম ইবনে খালিদ আবু ইসহাক আল-হিমসি (মৃত্যু: ২১১ হিজরি)তালক ইবনে গান্নাম আল-কুফি (মৃত্যু: ২১১ হিজরি)আবু আসিম আন-নাবিল আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ (মৃত্যু: ২১২ হিজরি)মক্কি ইবনে ইব্রাহিম (১২৬ - ২১৪ হিজরি)ইসাম ইবনে খালিদ আল-হাদরামি আবু ইসহাক আল-হিমসি (মৃত্যু: ২১৪ হিজরি)আবু নুআইম আল-ফজল ইবনে দুকাইন (১৩০ - ২১৯ হিজরি)আলি ইবনে আইয়াশ আল-হিমসি (১৪৩ - ২১৯ হিজরি)আদম ইবনে আবি ইয়াস (১৩২ - ২২০ হিজরি)আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি আল-হিমসি (১৩৮ - ২২২ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
سليمان بن حرب (140 - 224)محمد بن سَلَامٍ الِبيكَنْدِي (-225)يحيى بن يحيى التميمي الخراسانيُّ (142 - 226)عبد الله بن محمد بن جعفر بن يمانٍ الجُعفي المُسْنَديُّ (-229)يحيى بن مَعينٍ (158 - 233)إسحاق بن راهَوَيْهِ (161 - 238)قتيبة بن سعيدٍ البلخي (149 - 240)الإمام أحمد بن حنبل (164 - 241)علي بن حُجر المروزي (154 - 244 نبوغ البخاري:كان البخاري نابغةً، شديد الذكاء، دقيق الفهم، واسع العلم، له في في الأسانيد بصيرة نافذة، ونظر ثاقب، وأوتي مع ذلك حدَّةَ الذهن، وسرعةَ الاستحضار. ولذلك صار مرجعًا لشيوخه وهو ما زال بعد في ريعان الشباب.ومن الأمثلة على نبوغ البخاري في سنٍّ مبكرةٍ أنه حضر مرة في مجلس شيخه محمد بن يوسف الفِريابي (-212) وهو ما زال فَتًى دون الثامنة عشرة من عمره، ، فقال الفريابيُّ.: حدثنا سفيان عن أبي عَروبةَ عن أبي الخطاب عن أنسٍ «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يطوف على نسائه في غُسلٍ واحد»، فلم يعرف أحدٌ في المجلس أبا عَروبةَ ولا أبا الخطاب، فقال البخاري: "أما أبو عَروبة فمَعْمَرٌ، وأما أبو الخطاب فقَتادةُ، وكان
সুলাইমান ইবন হারব (১৪০ - ২২৪)মুহাম্মাদ ইবন সালাম আল-বিকান্দি (-২২৫)ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত-তামিমি আল-খুরাসানি (১৪২ - ২২৬)আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন জাফর ইবন ইয়ামান আল-জুফি আল-মুসনাদি (-২২৯)ইয়াহইয়া ইবন মাঈন (১৫৮ - ২৩৩)ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহ (১৬১ - ২৩৮)কুতাইবা ইবন সাঈদ আল-বালখি (১৪৯ - ২৪০)ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (১৬৪ - ২৪১)আলী ইবন হুজর আল-মারওয়াজি (১৫৪ - ২৪৪ বুখারীর প্রতিভা:বুখারী ছিলেন এক অসাধারণ প্রতিভা, অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সূক্ষ্ম বোধশক্তি ও ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী। সনদসমূহের ক্ষেত্রে তাঁর ছিল এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। এর পাশাপাশি তাঁকে দান করা হয়েছিল প্রখর মেধা ও দ্রুত স্মরণে আনার ক্ষমতা। এই কারণেই তিনি তাঁর শিক্ষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হয়ে উঠেছিলেন, যখন তিনি তখনও তাঁর নবযৌবনে পদার্পণ করেছিলেন মাত্র।অল্প বয়সে বুখারীর প্রতিভার অন্যতম উদাহরণ হলো যে, একবার তিনি তাঁর শিক্ষক মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবির (-২১২) মজলিসে উপস্থিত ছিলেন যখন তিনি তখনও আঠারো বছর বয়সের নিচে এক কিশোর। তখন ফিরইয়াবি বললেন: "সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আরূবা থেকে, তিনি আবু আল-খাত্তাব থেকে, তিনি আনাস থেকে যে, 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক গোসলেই তাঁর সকল স্ত্রীদের নিকট গমনাগমন করতেন'।" তখন মজলিসের কেউ আবু আরূবা কিংবা আবু আল-খাত্তাবকে চিনতে পারল না। তখন বুখারী বললেন: "আবু আরূবা হলেন মা'মার, আর আবু আল-খাত্তাব হলেন কাতাদাহ।" এবং তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الثوري فَعولًا لهذا، يَكْني المشهورين".وقال له شيخه عبد الله بن يوسفَ التِّنِّيسيُّ (-218) مرة: يا أبا عبد الله! انظر في كتبي وأخبرني بما فيها من السَّقْط، فقال البخاري: نعم.وقال له شيخه محمد بن سَلَام البيكنَدي (-225): انظر في كُتُبي، فما وجدتَ فيها مِن خطأ فاضربْ عليه. وقال له شيخه إسماعيل بن أبي أويس (-226): انظر في كتبي وجميع ما أملك لك، وأنا شاكرٌ لك أبدًا ما دمتُ حيًّا.وروي عن الحافظ أبي حامدٍ أحمد بن حمدون (-321): أنه رأى البخاري في جنازة سعيد بن مروان البغدادي، وكان ذلك في نيسابور منتصف شهر شعبان من سنة 252.، وشيخه محمد بن يحيى الذُّهْليُّ (172 - 258) يسأله عن الأسماء والعلل، والبخاري يمرُّ فيه كالسهم - أي في سرعة الإجابة - كأنه يقرأ {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}. وسعيد بن مروان هو أحد شيوخ البخاري.وذكر الحافظ أحمد بن الأزهر العَبدي النيسابوري (-261) أنه كان بسمرقند أربعمائة من طلاب الحديث، فاستعدوا سبعة أيامٍ لمغالطة البخاري، فأدخلوا إسناد الشام في إسناد العراق، وإسناد العراق في إسناد الشام، وإسناد الحرم في إسناد اليمن.، فأتى بكل إسناد على وجه الصواب، وما وجدوا في أجوبته خطأً واحدًا، لا في الإسناد ولا في المتن. حفظ البخاري:كان البخاري سريع الحفظ، وكانت له ذاكرة قوية واسعة، وكان سريع الاستحضار لما حفظه. وقد وصل في الحفظ إلى درجة أدهشت شيوخه ومعاصريه، ولم يأت بعده في
সাওরী একে কর্মবাচক হিসেবে ব্যবহার করতেন, তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপনামে ডাকতেন।এবং তাঁর উস্তাদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আত-তিন্নিসী (মৃত্যু ২১৮ হি.) তাঁকে একবার বলেছিলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি আমার কিতাবগুলো দেখুন এবং এতে কী কী ভুল বা বিচ্যুতি রয়েছে তা আমাকে জানান। তখন বুখারী বললেন: ঠিক আছে।এবং তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ বিন সালাম আল-বাইকান্দী (মৃত্যু ২২৫ হি.) তাঁকে বলেছিলেন: আপনি আমার কিতাবগুলো দেখুন, আর তাতে আপনি যে ভুলই পাবেন তা কেটে দেবেন। এবং তাঁর উস্তাদ ইসমাঈল বিন আবি উওয়াইস (মৃত্যু ২২৬ হি.) তাঁকে বলেছিলেন: আপনি আমার কিতাবগুলো দেখুন, আমার যা কিছু আছে তা আপনার জন্যই (উন্মুক্ত), আর আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।হাফেয আবু হামিদ আহমদ বিন হামদুন (মৃত্যু ৩২১ হি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি বুখারীকে সাঈদ বিন মারওয়ান আল-বাগদাদীর জানাযায় দেখেছিলেন, আর এটি ছিল ২৫২ হিজরী সনের শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিশাপুরে। এমতাবস্থায় তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী (১৭২ - ২৫৮ হি.) তাঁকে রাবীদের নাম এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন, আর বুখারী তীরের মতো দ্রুততার সাথে তার উত্তর দিচ্ছিলেন—অর্থাৎ উত্তর দেওয়ার দ্রুততায়—যেন তিনি 'বলুন, তিনি আল্লাহ এক' (সূরা ইখলাস) পাঠ করছেন। আর সাঈদ বিন মারওয়ান ছিলেন বুখারীর অন্যতম উস্তাদ।হাফেয আহমদ বিন আল-আযহার আল-আবদী আন-নিশাপুরী (মৃত্যু ২৬১ হি.) উল্লেখ করেছেন যে, সমরকন্দে চারশত হাদিস অন্বেষী ছাত্র ছিলেন। তাঁরা বুখারীকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাত দিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ফলে তাঁরা শামের সনদকে ইরাকের সনদে, ইরাকের সনদকে শামের সনদে এবং হারামের সনদকে ইয়ামেনের সনদে মিশ্রিত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রতিটি সনদ সঠিকভাবে উপস্থাপন করলেন এবং তাঁরা তাঁর উত্তরের মধ্যে একটি ভুলও খুঁজে পাননি, সনদেও নয় এবং মতনেও (মূল পাঠে) নয়। বুখারীর মুখস্থ শক্তি:বুখারী ছিলেন অত্যন্ত দ্রুত মুখস্থকারী, তাঁর স্মরণশক্তি ছিল প্রখর ও বিস্তৃত এবং তিনি যা মুখস্থ করতেন তা খুব দ্রুত উপস্থিত করতে পারতেন। মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তিনি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যা তাঁর উস্তাদ ও সমসাময়িকদের বিস্মিত করেছিল, এবং তাঁর পরে এমন কেউ আসেনি যিনি...