(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: -)
السؤال في القرآن الكريم وأثره في التربية والتعليم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: السؤال في القرآن الكريم وأثره في التربية والتعليم
المؤلف: أحمد بن عبد الفتاح ضليمي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الثالثة والثلاثون - العدد 111 - 1421هـ/2001م.
عدد الصفحات: 308
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র কুরআনে প্রশ্ন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এর প্রভাব বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনে প্রশ্ন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এর প্রভাব
লেখক: আহমাদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ দুলাইমি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: তেত্রিশতম বর্ষ - সংখ্যা ১১১ - ১৪২১ হিজরি/২০০১ খ্রিস্টাব্দ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
السؤال في القرآن الكريم وأثره في التربية والتعليم وأثره في التربية والتعليم
إعداد
د. أحمد بن عبد الفتاح ضليمي أستاذ مساعد بقسم التربية بكلية الدعوة وأصول الدين
بالجامعة الإسلامية
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فإن نعم الله على الإنسان عظيمة، وأفضاله عليه كثيرة، قال تعالى: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لا تُحْصُوهَا} 1 ومن نعم الله على الإنسان منحة القدرة على التعلم، وتزويده بأدوات التعلم ووسائله، قال تعالى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا} 2 وقال تعالى: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئاً وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} 3. وقد زوّد الإسلام المسلم بالمنهج السليم للتعلم، وأرشده إلى أدواته وطرائقه والتي من أهمها السؤال، فقال تعالى: {فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} 4 وقال تعالى: {الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً} 5. ولأهمية السؤال في التعلم والتعليم فقد عدّه بعض علماء الإسلام مفاتيح العلم6، كما عدّه بعضهم نصف العلم7. والمتأمل في السؤال وأهميته يجد أنه يشغل حيزاً كبيراً وهاماً في النشاطات التعليمية والتربوية، بل ويشكل
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনে প্রশ্ন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এর প্রভাব এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এর প্রভাব
প্রস্তুতকারক
ড. আহমদ ইবনে আবদুল ফাত্তাহ দলাইমি, সহকারী অধ্যাপক, শিক্ষা বিভাগ, দাওয়াহ ও উসুল আদ-দিন অনুষদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি-রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর। অতঃপর:
মানুষের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অপরিসীম এবং তাঁর অনুগ্রহ অগণিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না।” ১ মানুষের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো শেখার সক্ষমতা দান এবং তাকে শিক্ষা গ্রহণের উপকরণ ও মাধ্যমসমূহ দিয়ে সমৃদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন।” ২ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের পেট থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” ৩। ইসলাম মুসলিমদের শেখার সঠিক পদ্ধতি প্রদান করেছে এবং তাকে এর উপকরণ ও পদ্ধতির দিকে নির্দেশিত করেছে, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রশ্ন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “সুতরাং তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।” ৪ তিনি আরও বলেন: “তিনি পরম দয়াময়, সুতরাং তাঁর সম্পর্কে যিনি সম্যক অবগত তাঁকে জিজ্ঞাসা করো।” ৫। পঠন-পাঠন ও শিক্ষাদানে প্রশ্নের গুরুত্বের কারণে কোনো কোনো ইসলামি পণ্ডিত একে জ্ঞানের চাবিকাঠি বলে অভিহিত করেছেন ৬, আবার কেউ কেউ একে অর্ধেক জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন ৭। প্রশ্ন এবং এর গুরুত্ব নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, এটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডে একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, এমনকি এটি গঠন করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
أهمية كبيرة لمختلف عناصر الموقف التعليمي من معلم ومتعلم وطريقة ومحتوى وتقويم وأهداف تعليمية. وانطلاقاً من هذه الأهمية بالإضافة إلى قلة البحوث التربوية الإسلامية في مجال السؤال ولا سيما ما يتعلق منها بالسؤال في القرآن الكريم تبرز أهمية هذا البحث والذي يهدف الباحث - من خلاله - إلى إلقاء الضوء على مكانة السؤال في القرآن الكريم، والآداب التي أرشد المتعلمين والمعلمين إلى التمسك بها في هذا الصدد، فضلاً عن بيان الخصائص التربوية للسؤال والجواب في ضوء المنهج التربوي القرآني، ويأمل الباحث أن يكون هذا البحث خطوة في طريق إبراز وبلورة منهج إسلامي تربوي متكامل.
শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান যথা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পদ্ধতি, বিষয়বস্তু, মূল্যায়ন এবং শিক্ষাগত লক্ষ্যসমূহের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষামূলক গবেষণার স্বল্পতা, বিশেষ করে পবিত্র কুরআনে প্রশ্ন সংক্রান্ত বিষয়ের অভাবের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব পরিস্ফুটিত হয়। এর মাধ্যমে গবেষক পবিত্র কুরআনে প্রশ্নের মর্যাদা এবং এই ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যে সকল আদব বা শিষ্টাচার অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তার ওপর আলোকপাত করার লক্ষ্য ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া কুরআনি শিক্ষা পদ্ধতির আলোকে প্রশ্ন ও উত্তরের শিক্ষাগত বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করাও এই গবেষণার উদ্দেশ্য। গবেষক আশা প্রকাশ করেন যে, এই গবেষণাটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষাগত পদ্ধতি প্রকাশ ও বিনির্মাণের পথে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
أهميةالسؤال التربوي
أولا: قدم طريقة السؤال…المبحث الأول: أهمية السؤال التربوية.
أولاً: قدم طريقة السؤال.
ثانياً: أهمية السؤال في التربية الحديثة:
أ) - أهمية السؤال للطفل.
ب) - أهمية السؤال للمتعلم.
ج) - أهمية السؤال للمعلم.
د) - أهمية السؤال للدرس وطريقة التدريس.
هـ) - أهمية السؤال في مراحل التعليم المختلفة.
ثالثاً: أهمية السؤال عند المربيين المسلمين المتقدمين.
رابعاً: أهمية السؤال في السنة.
শিক্ষামূলক প্রশ্নের গুরুত্ব
প্রথমত: প্রশ্ন পদ্ধতির প্রাচীনত্ব…প্রথম পরিচ্ছেদ: শিক্ষামূলক প্রশ্নের গুরুত্ব।
প্রথমত: প্রশ্ন পদ্ধতির প্রাচীনত্ব।
দ্বিতীয়ত: আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নের গুরুত্ব:
ক) - শিশুর জন্য প্রশ্নের গুরুত্ব।
খ) - শিক্ষার্থীর জন্য প্রশ্নের গুরুত্ব।
গ) - শিক্ষকের জন্য প্রশ্নের গুরুত্ব।
ঘ) - পাঠ এবং শিক্ষাদান পদ্ধতির জন্য প্রশ্নের গুরুত্ব।
ঙ) - শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রশ্নের গুরুত্ব।
তৃতীয়ত: পূর্ববর্তী (المتقدمون) মুসলিম শিক্ষাবিদদের নিকট প্রশ্নের গুরুত্ব।
চতুর্থত: সুন্নাহর মধ্যে প্রশ্নের গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫২)
تمهيد:
للسؤال أهمية بالغة في التربية والتعليم، وقد كان السؤال وما زال من أفضل الطرق التربوية وأحسنها أثراً وأعظمها نفعاً.
ويُعدّ السؤال الطريقة التي يتعرّف الطفل من خلالها على العالم المحيط به، كما أنه يقدم الكثير من المنافع للمتعلم فيحرك تفكيره، ويثير نشاطه، ويقوي صلته بالموضوعات التي يدرسها، كما يعتمد المعلم على السؤال في تحقيق كثير من الأهداف التعليمية والتربوية، كما أن حسن استخدام المعلم للسؤال يعد آية نجاحه، ومقياس مهارته، ويعد السؤال قوام الدرس، وأساس الطريقة التدريسية، ولأهمية السؤال فإنه لا يمكن الاستغناء عنه في أي مرحلة من المراحل التعليمية، حيث تستمر الحاجة إليه من قبل المتعلم والمعلم على حد سواء.
وانطلاقاً من أهمية السؤال ودوره في التربية والتعليم، فإننا سوف نعرض في هذا المبحث لأهمية السؤال التربوية لكل من المتعلم والمعلم، كما نبرز الاهتمام الذي أولته التربية الإسلامية السؤال والمكانة الرفيعة التي نالها في ضوء هذه التربية.
أولاً: قدم طريقة السؤال
تعدّ طريقة السؤال من أقدم الطرق التعليمية والتربوية التي عرفها الإنسان، حيث استعملت المجتمعات الإنسانية على اختلافها هذه الطريقة، فاستعملها المربون والمعلمون والمصلحون في تلك المجتمعات1.
--------------------------------------------
ভূমিকা:
শিক্ষা ও লালন-পালনের ক্ষেত্রে প্রশ্নের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশ্ন করা ছিল এবং এখনও আছে সর্বোত্তম শিক্ষাদান পদ্ধতিগুলোর অন্যতম এবং প্রভাবের দিক থেকে এটি অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারের দিক থেকে সুমহান।
প্রশ্নকে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয় যার মাধ্যমে শিশু তার চারপাশের জগত সম্পর্কে জানতে পারে। তদুপরি এটি শিক্ষার্থীর জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে; এটি তার চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করে, তার সক্রিয়তাকে উদ্দীপ্ত করে এবং সে যে বিষয়গুলো অধ্যয়ন করছে তার সাথে তার সম্পর্ককে দৃঢ় করে। শিক্ষকও অনেক শিক্ষামূলক ও আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনে প্রশ্নের ওপর নির্ভর করেন। একইভাবে, শিক্ষকের প্রশ্নের যথাযথ ব্যবহার তার সাফল্যের নিদর্শন এবং তার দক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হয়। প্রশ্ন হলো পাঠের মূল ভিত্তি এবং শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রাণ। প্রশ্নের গুরুত্বের কারণে শিক্ষার কোনো স্তরেই একে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের কাছেই এর প্রয়োজনীয়তা নিরন্তর বিদ্যমান।
প্রশ্নের গুরুত্ব এবং শিক্ষা ও লালন-পালনে এর ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই পরিচ্ছেদে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্য প্রশ্নের শিক্ষাগত গুরুত্ব আলোচনা করব। পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নের প্রতি যে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এই শিক্ষার আলোকে প্রশ্ন যে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে তাও আমরা তুলে ধরব।
প্রথমত: প্রশ্ন পদ্ধতির প্রাচীনত্ব
প্রশ্ন পদ্ধতি হলো মানুষের জানা প্রাচীনতম শিক্ষা ও লালন-পালন পদ্ধতিগুলোর একটি। মানবসমাজের বৈচিত্র্য নির্বিশেষে সকল যুগে এই পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে; ফলে ঐসব সমাজের শিক্ষাবিদ, শিক্ষক এবং সংস্কারকগণ এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৩)
وإن الذين درسوا تاريخ التربية يعلمون أن طريقة السؤال طريقة قديمة قدم التربية ذاتها1.
বস্তুত যারা শিক্ষার ইতিহাস অধ্যয়ন করেছেন তারা জানেন যে, প্রশ্ন করার পদ্ধতিটি স্বয়ং শিক্ষার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন।১
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৩)
ثانياً: أهمية السؤال في التربية الحديثةأ) - أهمية السؤال للطفل: (مرحلة ما قبل الابتدائية)
يطلق البعض على هذه المرحلة مرحلة السؤال، حيث تكثر فيها أسئلة الطفل ويسمع فيها من الطفل دائماً (ماذا؟، لماذا؟، متى؟، أين؟، كيف؟، من؟،
… الخ) والطفل في هذه المرحلة علامة استفهام حية بالنسبة لكل شيء، فهو يحاول الاستزادة العقلية والمعرفية. إنه يريد أن يعرف الأشياء التي تثير انتباهه، وأن يفهم الخبرات التي يمر بها. ويقدر بعض الباحثين أن حوالي 10-15 % من حديث الطفل في هذه المرحلة يكون عبارة عن أسئلة. كما يشاهد سلوك الاستطلاع والاستكشاف بكثرة عند طفل الحضانة2.
ب) - أهمية السؤال للمتعلم:
يقوم السؤال بدور فاعل ومؤثر لدى المتعلم، حيث يجعله محور العملية التعليمية ومركز الفاعلية عوضاً عن المدرس3.
ويقدم السؤال للمتعلم العديد من الفوائد والإيجابيات، وذلك كما يلي:
1- يعدّ السؤال عماد المعلم في تعليم صغار التلاميذ الذين لا يطيقون التلقي والاستماع طويلاً دون إثارة انتباههم وتجديد نشاطهم بالمناقشة وتوجيه
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: আধুনিক শিক্ষায় প্রশ্নের গুরুত্বক) - শিশুর নিকট প্রশ্নের গুরুত্ব: (প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়)
কেউ কেউ এই পর্যায়টিকে প্রশ্নের পর্যায় বলে অভিহিত করেন, যেখানে শিশুর প্রশ্নের প্রাচুর্য দেখা যায় এবং শিশুর কাছ থেকে সর্বদা শোনা যায় (কী?, কেন?, কখন?, কোথায়?, কীভাবে?, কে?,
… ইত্যাদি)। এই পর্যায়ের শিশু প্রতিটি জিনিসের ব্যাপারে একটি জীবন্ত প্রশ্নবোধক চিহ্ন, কারণ সে তার মানসিক ও জ্ঞানগত সমৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করে। সে তার মনোযোগ আকর্ষণকারী বিষয়গুলো জানতে চায় এবং যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে যায় তা বুঝতে চায়। কিছু গবেষক অনুমান করেন যে, এই পর্যায়ে শিশুর কথাবার্তার প্রায় ১০-১৫% প্রশ্ন হয়ে থাকে। তেমনিভাবে নার্সারি পর্যায়ের শিশুদের মাঝে অনুসন্ধান ও অন্বেষণমূলক আচরণ প্রচুর পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়।
খ) - শিক্ষার্থীর নিকট প্রশ্নের গুরুত্ব:
প্রশ্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একটি সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে, কারণ এটি তাকে শিক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষা প্রক্রিয়ার মূলবিন্দু ও সক্রিয়তার কেন্দ্রে পরিণত করে।
এবং প্রশ্ন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক উপকারিতা ও ইতিবাচক দিক প্রদান করে, যা নিম্নরূপ:
১- প্রশ্ন হলো ছোট শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকের প্রধান অবলম্বন, যারা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা ও মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে তাদের সক্রিয়তা নবায়ন করা ব্যতীত কেবল গ্রহণ (تلقي) করা এবং শোনা সহ্য করতে পারে না এবং পরিচালনা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৪)
الأسئلة1.كما تفيد الأسئلة في توجيه الأطفال إلى التعرف على صفات المحسات وخواصها2.
2 - يدفع السؤال والمناقشة المتعلم إلى إعمال العقل والتفكير لمعرفة ما يتصل بموضوع النقاش3. كما يقود السؤال التلاميذ إلى الطريقة الصحيحة للتفكير، كما يحدث عند قيام المتعلم بفحص الجزئيات والمقدمات، بغرض الوصول إلى العموميات والكليات4، كما يؤدي السؤال دوراً هاماً في الجانب العقلي لدى المتعلم، وذلك عندما يكسبه القدرة على الربط والموازنة والاستنتاج5.
3 - يؤدي السؤال إلى تركيز انتباه التلاميذ وإثارة اهتمامهم نحو الحقائق التي يراد الوصول إليها6. فالأسئلة تثير مزيداً من الانتباه والنشاط والحيوية في حجرة الدراسة، ولا سيما إذا كان الموضوع مما يتصل بميول التلاميذ وحاجاتهم ومشكلاتهم7.
4 - يقوم السؤال بإثارة نشاط التلاميذ ويجعلهم فاعلين، ويحملهم على الاشتراك العملي في الدرس8، فالأسئلة التي يطرحها المعلم تحمل التلاميذ على المشاركة والاستماع والفهم والسؤال عما لا يدركونه من الحقائق.
--------------------------------------------
প্রশ্নসমূহ ১। তেমনিভাবে প্রশ্নসমূহ শিশুদেরকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ চিনতে নির্দেশিত করতে সাহায্য করে ২।
২ - প্রশ্ন এবং আলোচনা শিক্ষার্থীকে আলোচনার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানার জন্য মেধা ও চিন্তাশক্তি প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করে ৩। এছাড়াও প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের সঠিক চিন্তা পদ্ধতির দিকে পরিচালিত করে, যেমনটি ঘটে যখন শিক্ষার্থী আংশিক বিষয় (الجزئيات) ও ভূমিকাগুলো (المقدمات) পরীক্ষা করার মাধ্যমে সাধারণ বিষয় (العموميات) ও সামগ্রিক বিষয়সমূহে (الكليات) ৪ পৌঁছানোর চেষ্টা করে। তেমনিভাবে প্রশ্ন শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যখন এটি তাকে যোগসূত্র স্থাপন, তুলনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের (استنتاج) সক্ষমতা দান করে ৫।
৩ - প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নিবদ্ধ করতে এবং যে সত্যগুলোর (الحقائق) দিকে পৌঁছানো উদ্দেশ্য, সেগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ উদ্দীপিত করতে ভূমিকা রাখে ৬। সুতরাং প্রশ্নসমূহ শ্রেণীকক্ষে অধিক মনোযোগ, সক্রিয়তা ও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ঝোঁক, প্রয়োজন ও সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হয় ৭।
৪ - প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তাকে উদ্দীপ্ত করে এবং তাদেরকে কর্মতৎপর করে তোলে, আর তাদেরকে পাঠে ব্যবহারিক অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে ৮। কারণ শিক্ষকের করা প্রশ্নসমূহ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, শ্রবণ, অনুধাবন এবং সত্যের (الحقائق) যে বিষয়গুলো তারা বুঝতে পারছে না সে সম্পর্কে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৫)
5 - يعمل السؤال على إقامة علاقة قوية ومستمرة بين التلاميذ وبين حقائق الدرس ومعلوماته، ومن ثم فهو يكفل حضور التلاميذ العقلي وارتباطهم بالدرس وعدم انقطاع صلتهم به ومتابعتهم إياه، كما يؤدي اتباع طريقة السؤال في التعليم إلى عدم ملل التلاميذ من الدروس كما يحدث عند الاقتصار على طريقة الإلقاء1.
6 - تؤدي طريقة الأسئلة والمناقشة إلى ثبات المعلومات واستمرارها لدى المتعلمين حيث يلاحظ أن المعلومات التي يصل إليها المتعلم بجهده عن طريق السؤال تتصف بالثبات والاستمرار فترة أطول من المعلومات التي تصله عن طريق التلقي ولا يبذل جهداً في معرفتها والتوصل إليها2.
7 - تعمل طريقة السؤال - في التدريس - على إكساب التلاميذ مهارات التحدث والاستماع، وإبداء الملاحظات، وتقبل الانتقادات3.
8 - تؤدي مشاركة المتعلم في الدرس من خلال المناقشة والسؤال إلى الشعور بقيمته الذاتية مما يعزز ثقته بنفسه ويدفعه نحو المزيد من النمو والتقدم في دراسته وتعلمه4.
ج) - أهمية السؤال للمعلم:
يعدّ توجيه الأسئلة إلى المتعلمين والإجابة عن أسئلتهم ووضع الأسئلة الملائمة لتقويم تعلمهم من أهم المهارات التي يحتاجها المعلم5.
--------------------------------------------
5 - প্রশ্ন করার পদ্ধতি শিক্ষার্থী এবং পাঠের প্রকৃত তথ্য ও বিষয়বস্তুর মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও নিরন্তর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ফলে এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক উপস্থিতি ও পাঠের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে এবং পাঠ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়া রোধ করে। এছাড়া শিক্ষাদানে প্রশ্ন পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা পাঠে একঘেয়েমি অনুভব করে না, যা কেবল বক্তৃতা পদ্ধতির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।১
6 - প্রশ্ন ও আলোচনা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্জিত জ্ঞানের স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। লক্ষ্য করা গেছে যে, শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার মাধ্যমে নিজ প্রচেষ্টায় যে তথ্য লাভ করে, তা সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের তুলনায় অধিক স্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, যে তথ্য লাভে সে নিজে কোনো প্রচেষ্টা ব্যয় করেনি।২
7 - শিক্ষাদানে প্রশ্ন করার পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের কথা বলা ও শোনার দক্ষতা অর্জন, পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করা এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা তৈরিতে সহায়তা করে।৩
8 - আলোচনা ও প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ তার আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করে, যা তার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাকে পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জনে আরও উন্নতি ও অগ্রগতির দিকে ধাবিত করে।৪
গ) - শিক্ষকের নিকট প্রশ্নের গুরুত্ব:
শিক্ষার্থীদের নিকট প্রশ্ন করা, তাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা এবং তাদের শিখন মূল্যায়নের জন্য যথাযথ প্রশ্ন তৈরি করা একজন শিক্ষকের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত।৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৬)
ولأن إتقان وضع الأسئلة وإجادة المعلم طريقة مناقشتها مع تلاميذه فن لا يتقنه إلا كل بارع عليم بطرق التدريس، خبير بطبائع التلاميذ، فقد عد استعمال طريقة السؤال مقياس مهارة المعلم، وجودة طريقته، ووضوح منهجه في التدريس1.
ويُقدم استعمال السؤال في التدريس فوائد عديدة إلى المعلم من أهمها ما يلي:
1- دفع المعلم إلى التفكير العميق في جوانب الموضوع الذي يزمع القيام بتدريسه.
2 - تشجيع روح النقد الذاتي لديه لمراجعة أفكاره وخبراته بين الحين والآخر، فالحوار مع النفس أو الآخرين يعد من طرق التعلم الفاعلة، والتي ترافق الفرد في جميع مراحل حياته2.
3 - مناقشة ما يتلقاه من تلاميذه في الإجابة عن الأسئلة، وإصلاح ما قد يقعون فيه من خطأ3.
4 - اكتساب اليقظة والثقة بالنفس، وحضور البديهة، والاستعداد لحل أي مشكلة تعرض أثناء الدرس حلاً سريعاً وموفقاً4.
5 - اشتراك التلاميذ مع المعلم في استنباط المعلومات.
6 - يعد السؤال من أفضل الوسائل التي يستخدمها المعلم للمراجعة والتطبيق.
7 - كشف نواحي اهتمام التلاميذ وقدراتهم.
--------------------------------------------
যেহেতু প্রশ্ন প্রণয়নে নিপুণতা (إتقان) এবং শিক্ষার্থীদের সাথে তা নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের পারদর্শিতা এমন একটি শিল্প যা কেবল পাঠদান পদ্ধতিতে দক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের স্বভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তিই আয়ত্ত করতে পারেন; তাই প্রশ্ন করার পদ্ধতির ব্যবহারকে শিক্ষকের দক্ষতা, তার পদ্ধতির উৎকর্ষ এবং পাঠদানের ক্ষেত্রে তার কর্মপন্থা বা মানহাজ (منهج)-এর স্বচ্ছতার মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।১
পাঠদানে প্রশ্নের ব্যবহার শিক্ষককে অনেকগুলো উপকারিতা প্রদান করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
১- শিক্ষক যে বিষয়টি পাঠদানের পরিকল্পনা করছেন, তার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাকে গভীর চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করা।
২ - তার মাঝে আত্ম-সমালোচনার চেতনাকে উৎসাহিত করা যাতে তিনি মাঝেমধ্যে নিজের চিন্তা ও অভিজ্ঞতাগুলো পর্যালোচনা করতে পারেন। কারণ নিজের সাথে বা অন্যের সাথে কথোপকথন কার্যকর শিখন পদ্ধতিগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত, যা ব্যক্তির জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সঙ্গী হয়।২
৩ - প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করা এবং তারা যে ভুল করতে পারে তা সংশোধন করে দেওয়া।৩
৪ - সতর্কতা, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থিত বুদ্ধি অর্জন এবং পাঠদানকালে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও সার্থকভাবে সমাধানের প্রস্তুতি লাভ করা।৪
৫ - তথ্য উদ্ঘাটন বা ইস্তিনবাত (استنباط)-এর ক্ষেত্রে শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ।
৬ - প্রশ্নকে পুনরালোচনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ব্যবহৃত অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।
৭ - শিক্ষার্থীদের আগ্রহের দিক ও তাদের সক্ষমতাগুলো উন্মোচন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৭)
8 - حصر النقاط الهامة في الدرس وتلخيصها1.
د) - أهمية السؤال للدرس وطريقة التدريس:
لا يستطيع أحد أن ينكر ما للأسئلة من قيمة في التدريس فالسؤال قوام الطريقة التحاورية، وركن أساسي من أركان الطريقة الاستقرائية2.
فهو يقوم بتنويع مسلكية الدرس، وذلك بالانتقال من الإلقاء إلى الحوار، فيقوم بذلك بتبديد السأم عن التلاميذ وتجديد نشاطهم3.
كما أنه أشبه بالقوة الدافعة في الدرس، فيسير ويتحرك في اتجاه أهدافه4.
كما أن الأسئلة تعتبر بحق الوسيلة المنظمة للمناقشة بين الطلاب والأساتذة5.
كما تستخدم الأسئلة في جميع خطوات الدرس الأساسية من تمهيد، وعرض، وربط، وتعميم، وتطبيق6.
وتستخدم طريقة الأسئلة والمناقشة في كثير من الدروس والخطوات الدرسية التفصيلية، فيستخدمها المعلم عقب سرد القصص، فيكون في توجيهها وإجابة التلاميذ عنها تدريب على الاستعمال اللغوي السليم.
وما يقال عن الأسئلة والمناقشات عقب سرد القصص يقال عن الأسئلة والمناقشات عقب دروس المطالعة، فهناك أسئلة تعقب القراءة الصامتة، وأسئلة
--------------------------------------------
৮ - পাঠের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সারসংক্ষেপ করা ১।
ঘ) - পাঠের ক্ষেত্রে প্রশ্নের গুরুত্ব ও শিক্ষাদান পদ্ধতি:
শিক্ষাদানে প্রশ্নের গুরুত্ব কেউ অস্বীকার করতে পারে না; কেননা প্রশ্ন হলো কথোপকথনমূলক পদ্ধতির (الطريقة التحاورية) প্রাণ এবং আরোহী পদ্ধতির (الطريقة الاستقرائية) ২ একটি মৌলিক স্তম্ভ।
এটি পাঠের কর্মপদ্ধতিতে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে, যা পাঠদানকে কেবল একপাক্ষিক বর্ণনা থেকে দ্বিপাক্ষিক সংলাপে রূপান্তর করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর হয় এবং তাদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় ৩।
অনুরূপভাবে, এটি পাঠের ক্ষেত্রে একটি চালিকাশক্তির মতো কাজ করে, যা পাঠকে তার লক্ষ্যপানে পরিচালিত ও গতিশীল রাখে ৪।
প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল আলোচনার মাধ্যম হিসেবে প্রশ্নকেই যথাযথ পদ্ধতি বলে গণ্য করা হয় ৫।
পাঠের সকল মৌলিক ধাপ—যেমন ভূমিকা, উপস্থাপন, বিষয়বস্তুর সমন্বয়, সাধারণীকরণ এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন ব্যবহৃত হয় ৬।
প্রশ্ন ও আলোচনা পদ্ধতি অনেক পাঠ এবং পাঠদানের বিস্তারিত ধাপগুলোতে ব্যবহৃত হয়। যেমন, শিক্ষক কোনো গল্প বলার পর এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন; এতে প্রশ্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সঠিক ভাষাগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরনের অনুশীলন সম্পন্ন হয়।
গল্প বলার পর প্রশ্ন ও আলোচনার যে উপযোগিতা রয়েছে, পাঠ অনুশীলন বা পঠন পরবর্তী প্রশ্ন ও আলোচনার ক্ষেত্রেও তা সমভাবে প্রযোজ্য। যেমন নীরব পাঠের পরবর্তী প্রশ্নাবলি এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৮)
تتخلل المناقشات التفصيلية، وكذلك الحال في دروس التعبير عقب انتهاء المتحدث من حديثه1.
هـ) - أهمية السؤال في مراحل التعليم المختلفة:
للسؤال أهمية كبيرة في جميع مراحل التعليم: الابتدائية، والمتوسطة، والثانوية والجامعية2 حيث تستخدم طريقة السؤال على نطاق واسع في المراحل الأولى من التعليم بل ويجب أن تكون عماد التدريس فيها، أما في المراحل المتقدمة فهي تقتصر في الغالب على مناقشة المقدمات للوصول إلى النتائج العامة، كما تستخدم للربط والاستنتاج3.
وعلى الرغم من أهمية طريقة السؤال وشيوع استعمالها في جميع مراحل التعليم، إلا أن من الحقائق ما لا يمكن الوصول إليها عن طريق السؤال، ولا يستطيع التلاميذ استنباطها مهما دارت الأسئلة حولها، ولا سبيل لمعرفتها إلا بتوضيحها وإلقائها عليهم من قبل المعلم4.
--------------------------------------------
বিস্তারিত আলোচনার মাঝে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং একইভাবে বক্তব্য প্রদানের পাঠেও বক্তার হাদিস শেষ হওয়ার পর এটি করা হয় ১।
ঙ) - শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রশ্নের গুরুত্ব:
শিক্ষার সকল স্তরে প্রশ্নের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে: প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ২। যেখানে শিক্ষার প্রাথমিক স্তরগুলোতে প্রশ্ন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, বরং সেখানে এটি শিক্ষাদানের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। তবে উচ্চতর স্তরগুলোতে এটি সাধারণত সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রস্তাবনা বা ভূমিকা (مقدمات) আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তদুপরি এটি বিষয়ের সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের (استنتاج) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় ৩।
প্রশ্ন পদ্ধতির গুরুত্ব এবং শিক্ষার সকল স্তরে এর ব্যবহারের ব্যাপকতা সত্ত্বেও এমন কিছু সত্য রয়েছে যা কেবল প্রশ্নের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। সে বিষয়ে যত প্রশ্নই করা হোক না কেন শিক্ষার্থীরা তা উদ্ভাবন (استنباط) করতে সক্ষম হয় না। শিক্ষকের পক্ষ থেকে তা ব্যাখ্যা এবং উপস্থাপনের মাধ্যমেই কেবল তা জানার উপায় থাকে ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৮)
ثالثاً: أهمية السؤال عند المربيين المسلمين المتقدمينيبين أحد الدارسين المعاصرين1أن طريقة السؤال كانت من أهم الطرق التعليمية وأكثرها شيوعاً على امتداد التاريخ الإسلامي. وأن هذا الأسلوب كان معروفاً وشائعاً لدى الصحابة والتابعين ومن أوائل من طبق هذا الأسلوب علي
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: প্রাচীন মুসলিম শিক্ষাবিদদের নিকট প্রশ্ন করার গুরুত্বএকজন সমসাময়িক গবেষক১ বর্ণনা করেছেন যে, ইসলামের সমগ্র ইতিহাস জুড়েই প্রশ্ন করার পদ্ধতিটি ছিল অন্যতম প্রধান এবং সর্বাধিক প্রচলিত শিক্ষাদান পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি সাহাবী (الصحابة) এবং তাবেয়ীদের (التابعين) নিকট সুপরিচিত ও প্রচলিত ছিল এবং যারা সর্বপ্রথম এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করেছিলেন তাদের মধ্যে আলী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫৯)
ابن أبي طالب رضي الله عنه والذي أثر عنه قوله: "العلم خزائن، ومفتاحه السؤال، فاسألوا يرحمكم الله، فإنه يؤجر فيه أربعة: السائل، والمعلم، والمستمع، والمحب لهم"1. وكان هذا الأسلوب شائعاً استعمله عبد الله بن عباس وشجع تلاميذه عليه، وكان يرى فيه أداة تساعد على تمييز التلاميذ ومعرفة مستوياتهم العلمية، كما استعمله الحسن البصري، وابن سيرين، وإبراهيم النخعي، وعكرمة2.وخلصت آراؤهم إلى أن المعلم إذا لم يتح للمتعلمين أن يسألوه ويسألهم ينقص علمه، ويتوقف نموه، وينتهي بهم جميعاً إلى ركود في التفكير، ومن هنا اهتموا بصياغة السؤال وحسن طرحه وقرروا أن ذلك نصف العلم"3.
ومن العلماء الذين أكدوا على طريقة السؤال ودعوا إلى رعايتها والاهتمام بها:
1- علي بن محمد الماوردي (364-450هـ) :
وقد شدّد على استعمال الأسئلة، وتشجيع المتعلم على السؤال، حيث كان يرى أن كثرة السؤال فيما التبس ليست إعناتاً، وأن الأسئلة مفاتيح العلم، وأن الأحاديث النبوية تحضّ المتعلم على السؤال، وأنها جعلت حسن السؤال نصف العلم4.
--------------------------------------------
ইবনে আবি তালিব (রা.), যাঁর থেকে বর্ণিত (أثر) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "জ্ঞান হলো ভাণ্ডারস্বরূপ, আর এর চাবিকাঠি হলো প্রশ্ন। অতএব তোমরা প্রশ্ন করো, আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন; কেননা এর মাধ্যমে চারজন ব্যক্তি নেকী লাভ করেন: প্রশ্নকারী, শিক্ষক, শ্রোতা এবং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী"১। এই পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত প্রচলিত যা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ব্যবহার করতেন এবং তাঁর ছাত্রদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করতেন। তিনি একে ছাত্রদের মাঝে পার্থক্য করার এবং তাঁদের ইলমী স্তর যাচাই করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। হাসান বসরি, ইবনে সিরিন, ইবরাহিম নাখয়ি এবং ইকরিমাও এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতেন২। তাঁদের মতামত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দেন এবং তিনিও তাঁদের প্রশ্ন না করেন, তবে তাঁর ইলম হ্রাস পায়, তাঁর প্রবৃদ্ধি থমকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সবার চিন্তাশক্তি স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণেই তাঁরা প্রশ্নের গঠন এবং সুন্দর উপস্থাপনের দিকে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এটি হলো অর্ধেক ইলম"৩।
যেসব আলেম প্রশ্ন পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর যত্ন ও পরিচর্যার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১- আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মাওয়ার্দি (৩৬৪-৪৫০ হি.):
তিনি প্রশ্ন ব্যবহারের ওপর এবং শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। কেননা তিনি মনে করতেন যে, অস্পষ্ট বিষয়ে অধিক প্রশ্ন করা কোনো বিড়ম্বনা নয়, বরং প্রশ্ন হলো ইলমের চাবিকাঠি। নবীজির হাদিসসমূহ শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সুন্দর প্রশ্নকে অর্ধেক ইলম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬০)
2- أحمد بن علي الخطيب البغدادي (392-463هـ) :
وقد ركزّ على أسلوبين من أساليب التعليم كان يرى أن لهما علاقة وثيقة بالاجتهاد والتحرر من التقليد، وهما: أسلوب الأسئلة، وأسلوب المناظرة1.
3- بدر الدين بن جماعة (639-733هـ) :
وقد دعا المعلم - بعد فراغه من الدرس - أن يطرح بعض الأسئلة التي تكشف عن مدى فهم التلاميذ لما شرح، شريطة أن تنطلق هذه الأسئلة من منطلق واضح ومحدد2. كما يرى أن العلم إنما يتوصل إليه بطرح المسائل، ودعا إلى حسن فهم السؤال3.
4- ابن قيم الجوزية (691-751هـ) :
وقد اهتم بالسؤال وأولاه عناية كبيرة، حيث أكدّ أن الحياء من معوقات التعلم وذلك بعدم السؤال4 وبيّن أن العلم له ست مراتب أولها حسن السؤال5.
وفي أهمية السؤال في التعلم يقول الإمام ابن القيم:
"من الناس من يحرم العلم لعدم حسن سؤاله، إما أنه لا يسأل بحال، أو يسأل عن شيء وغيره أهم منه"6.
--------------------------------------------
২- আহমদ বিন আলী আল-খতিব আল-বাগদাদি (৩৯২-৪৬৩ হিজরি):
তিনি শিক্ষার দুটি পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যেগুলোর ব্যাপারে তিনি মনে করতেন যে ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং তাকলিদ (تقليد) থেকে মুক্তির সাথে তাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে; পদ্ধতি দুটি হলো: প্রশ্ন পদ্ধতি এবং মুনাজারা বা বিতর্ক (مناظرة) পদ্ধতি।১
৩- বদরুদ্দিন বিন জামা'আহ (৬৩৯-৭৩৩ হিজরি):
তিনি শিক্ষককে পাঠদান শেষ করার পর এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন যা শিক্ষার্থীরা তাঁর ব্যাখ্যা করা বিষয়বস্তু কতটুকু বুঝতে পেরেছে তা প্রকাশ করে, তবে শর্ত হলো এই প্রশ্নগুলো যেন একটি স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে উদ্ভূত হয়।২ তিনি আরও মনে করেন যে, জ্ঞান কেবল মাসআলা (مسألة) উত্থাপনের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব এবং তিনি প্রশ্ন ভালোভাবে অনুধাবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।৩
৪- ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১-৭৫১ হিজরি):
তিনি প্রশ্নের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং একে অত্যন্ত যত্নসহকারে গ্রহণ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, লজ্জা হলো শিক্ষালাভের অন্তরায়সমূহের একটি, যা প্রশ্ন না করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে।৪ তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, ইলম বা জ্ঞানের ছয়টি স্তর রয়েছে, যার প্রথমটি হলো উত্তমভাবে প্রশ্ন করা।৫
শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশ্নের গুরুত্ব সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:
"মানুষের মধ্যে কেউ কেউ সঠিক পদ্ধতিতে প্রশ্ন না করার কারণে জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়; হয় সে একেবারেই প্রশ্ন করে না, অথবা সে এমন কিছু সম্পর্কে প্রশ্ন করে যার চেয়ে অন্যটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।"৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬১)
5- عبد الرحمن بن خلدون (732- 808 هـ) :
وقد اهتم اهتماما كبيراً بالسؤال والحوار، وكان يرى "أن أيسر طرق ملكة التعلم فتق اللسان بالمحاورة والمناظرة في المسائل العلمية، فهو الذي يقرب شأنها ويحصل مرامها"1.
فطريقة المناقشة عنده من أجدى وسائل التعلم، ولذلك أخذ على المغاربة عدم أخذهم بها في التعليم2.
--------------------------------------------
৫- আবদুর রহমান ইবনে খালদুন (৭৩২- ৮০৮ হিজরি) :
তিনি প্রশ্ন ও সংলাপের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তিনি মনে করতেন যে, "শিক্ষা অর্জনের যোগ্যতা লাভের সহজতম উপায় হলো তাত্ত্বিক মাসয়ালাসমূহে কথোপকথন ও বিতর্কের মাধ্যমে জিহ্বাকে সাবলীল করা; কারণ এটিই এর বিষয়বস্তুকে বোধগম্য করে এবং এর লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে"১।
তাঁর নিকট আলোচনার পদ্ধতিটি শিক্ষালাভের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম ছিল, আর এ কারণেই তিনি মাগরেববাসীদের সমালোচনা করেছেন যেহেতু তারা শিক্ষাদানে এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করেনি২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬১)
رابعاً: أهمية السؤال في السنةاهتمت السنة بالسؤال اهتماماً كبيراً، حيث يتضح هذا الاهتمام من استخدام النبي صلى الله عليه وسلم للسؤال وكثرة الطرق والموضوعات التي استخدمه فيها:
1- فقد استخدم النبي صلى الله عليه وسلم أسلوب الحوار كوسيلة فاعلة ومؤثرة في تعليم أصحابه أمور دينهم وركائز عقيدتهم، وتوضيح كثير من الأمور الدينية والدنيوية التي تهمهم، ومن أمثلة ذلك: الحوار الذي جرى بين النبي صلى الله عليه وسلم وجبريل عليه السلام، بطريقة مشوقة شدت انتباه الصحابة الحاضرين وهيأت عقولهم للتلقي والفهم ومتابعة الحوار من بدايته إلى خاتمته، بوعي وتركيز شديدين.
2- كما كان صلى الله عليه وسلم حريصاً على أن يكون أصحابه هم البادئون بالسؤال في بعض الأحيان:
চতুর্থত: সুন্নাহতে প্রশ্ন করার গুরুত্বসুন্নাহতে প্রশ্ন করার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই গুরুত্বের বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রশ্নের ব্যবহার এবং প্রশ্ন করার বহুবিধ পদ্ধতি ও বিষয়ের মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে:
১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে দ্বীনের বিষয়াবলি এবং আকিদাহর (عقيدة) মূলভিত্তিগুলো শেখানোর জন্য এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় অসংখ্য দ্বীনী ও পার্থিব বিষয় স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে সংলাপ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর একটি উদাহরণ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মধ্যে সংঘটিত সংলাপ, যা এমন এক আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছিল যা উপস্থিত সাহাবীগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং তাঁদের মন-মস্তিষ্ককে অত্যন্ত সচেতনতা ও গভীর মনোযোগের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই সংলাপ গ্রহণ, অনুধাবন ও অনুসরণের জন্য প্রস্তুত করেছিল।
২- অনুরূপভাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাহাবীগণ যাতে নিজেরাই প্রশ্ন করার উদ্যোগ নেন সে ব্যাপারেও অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন:
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬২)
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سلوني"، فجاء رجل فجلس عند ركبتيه، فقال: يا رسول الله ما الإسلام؟ قال: "لا تشرك بالله شيئاً، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان
… الحديث" 1.
ويؤخذ من هذا الحديث فوائد تربوية من أهمها:
أ) - مشروعية ترغيب المتعلمين في أن يكونوا هم السائلين، ليكون التعليم مبنياً على رغبتهم، وليكون أشدّ وقعاً في نفوسهم.
ب) - إجراء حوار أمام المتعلمين ليتابعوا الحوار، ويتعلموا منه أمور دينهم2.
وهذه الطريقة ربما كانت مقصودة بدليل قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المتقدم: "هذا جبريل أراد أن تعلموا إذ لم تسألوا" 3.
3- وقد كانت طريقة السؤال تروق أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، عن أنس بن مالك رضي الله عنه، قال: "نهينا أن نسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شيء، فكان يعجبنا أن يجيء الرجل من أهل البادية العاقل، فيسأله ونحن نسمع
… الحديث"4.
4- وقد استخدم أسلوب السؤال في السنة استخدامات كثيرة ومتنوعة منها ما يلي:
- تعليم المسلمين أمور دينهم، كما في حديث جبريل المشار إليه آنفاً.
- لفت أنظار المسلمين إلى بعض الأفعال التي يؤدي الوقوع فيها إلى سوء العاقبة والتي لا ينفع معها القيام بأعمال صالحة، كقوله صلى الله عليه وسلم: "أتدرون ما المفلس؟ ....الحديث" 5.
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা আমাকে প্রশ্ন করো", অতঃপর এক ব্যক্তি এসে তাঁর হাঁটুদ্বয়ের নিকট বসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের সিয়াম পালন করবে
… হাদিস" ১।
এই হাদিস থেকে শিক্ষামূলক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করা যায়, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
ক) - শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার প্রতি আগ্রহী করে তোলার বৈধতা, যাতে পাঠদান তাদের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে হয় এবং তাদের অন্তরে তা অধিক প্রভাব ফেলতে পারে।
খ) - শিক্ষার্থীদের সামনে কথোপকথন পরিচালনা করা যাতে তারা সেই আলোচনা অনুসরণ করতে পারে এবং তা থেকে তাদের দ্বীনের বিষয়াবলি শিক্ষা লাভ করতে পারে ২।
আর এই পদ্ধতিটি সম্ভবত উদ্দেশ্যমূলক ছিল, যার প্রমাণ হলো পূর্বে উল্লিখিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "ইনি জিবরীল, তোমরা প্রশ্ন না করায় তিনি তোমাদের শিক্ষা দিতে চেয়েছেন" ৩।
৩- প্রশ্ন করার এই পদ্ধতিটি নবী (সা.)-এর সাহাবীদের কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিল। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল, তাই আমরা পছন্দ করতাম যে মরুভূমি থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি আসুক এবং তিনি তাঁকে প্রশ্ন করুক আর আমরা তা শুনি
… হাদিস" ৪।
৪- সুন্নাহর মধ্যে প্রশ্ন করার পদ্ধতিটি বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীনের বিষয়াবলি শিক্ষা দেওয়া, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত জিবরীলের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
- মুসলিমদের দৃষ্টি এমন কিছু কর্মের প্রতি আকর্ষণ করা যা অশুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যায় এবং যার উপস্থিতিতে নেক আমল কোনো উপকারে আসে না। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? ....হাদিস" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬৩)
- التنبيه على بعض المفاهيم والحقائق الأساسية، وكيفية ترجمتها إلى جانب عملي مثل حقيقة الإسلام، والهجرة، وأنهما ليسا ادعاء، وإنما هما عمل وتطبيق.
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده، والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه" 1.
- تصحيح مفاهيم وسلوكيات خاطئة، مثل مؤازرة الإخوان، والأقارب والأصدقاء، ونحوهم في الخير والشر.
عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنصر أخاك ظالماً أو مظلوماً قالوا: يا رسول هذا ننصره مظلوماً، فكيف ننصره ظالماً؟ قال: "تأخذ فوق يديه" 2.
- غرس خصال الخير، وتشجيع العطاء والبذل لدى المسلم والتشجيع على التفكير.
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن من الشجر شجرة لا يسقط ورقها، وإنها مثل المسلم، فحدثوني ما هي؟ فوقع الناس في شجر البوادي، قال عبد الله: ووقع في نفسي أنها النخلة، فاستحييت، ثم قالوا: حدثنا ما هي يا رسول الله، قال: "هي النخلة" 3.
--------------------------------------------
- কিছু মৌলিক ধারণা ও সত্যের প্রতি আলোকপাত করা এবং সেগুলোকে কীভাবে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়—যেমন ইসলামের প্রকৃত রূপ ও হিজরত (الهجرة)—এবং এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে এগুলো কেবল মৌখিক দাবি নয়, বরং কর্ম ও অনুশীলনের বিষয়।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে; আর প্রকৃত মুহাজির (المهاجر) সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন (هجر) করে।" ১।
- ভুল ধারণা ও আচরণের সংশোধন করা, যেমন কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রে নিজের ভাই, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের অন্ধ সমর্থন দেওয়া।
আনাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালেম হোক অথবা মজলুম।" সাহাবীগণ বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! মজলুম হলে তাকে সাহায্য করার বিষয়টি তো আমরা বুঝি, কিন্তু জালেম হলে তাকে কীভাবে সাহায্য করব?" তিনি বললেন: "তাকে (জুলুম থেকে) বিরত রাখার মাধ্যমে।" ২।
- উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি রোপণ করা, মুসলিমের মাঝে দান ও উৎসর্গের মানসিকতাকে উৎসাহিত করা এবং চিন্তাশীল হওয়ার প্রেরণা জোগানো।
ইবনে ওমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ রয়েছে যার পাতা ঝরে না এবং সেটি একজন মুসলিমের সদৃশ। তোমরা আমাকে বল তো সেটি কী?" তখন উপস্থিত লোকগণ বনাঞ্চলের বিভিন্ন গাছপালার কথা ভাবতে লাগল। আবদুল্লাহ বলেন: আমার মনে হলো সেটি হচ্ছে খেজুর গাছ, কিন্তু আমি (ছোট হওয়ায়) লজ্জা বোধ করলাম। এরপর সাহাবীগণ বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনিই আমাদের বলে দিন সেটি কী?" তিনি বললেন: "তা হলো খেজুর গাছ।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬৪)
المبحث الثاني:
مكانة السؤال في القرآن الكريم
أولاً: الحث على السؤال والترغيب فيه.
ثانيا: السؤال في قصة موسى والخضر عليهما السلام.
تمهيد:
عني القرآن الكريم بالسؤال عناية كبيرة، فالسؤال في المنهج التربوي وسيلة من أهم وسائل التعلم، بل هو الأداة التي يتوصل عن طريقها إلى الإلمام بالحقائق والمعلومات التي يرغب المتعلمون في معرفتها، لذلك وجه القرآن إلى الانتفاع بأسلوب السؤال وحثّ عليه ورغّب فيه. وسوف نوضح في هذا المبحث الأهمية التي أولاها القرآن السؤال والمكانة التي تبوأها السؤال في ظل المنهج التربوي القرآني.
أولاً: الحث على السؤال والترغيب فيه
قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلا رِجَالاً نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} 1
فقد وجه القرآن الكريم كفار قريش إلى سؤال علماء التوراة والإنجيل عن حقيقة إرسال الله رسلاً من البشر عندما استعظموا ذلك وأنكروا أن يرسل الله بشراً2،فكان سؤال أهل العلم والاختصاص وسيلة استخدمها القرآن لتثبيت حقيقة إيمانية، وترسيخها في النفوس، فلا يتطرق إليها الشك بعد ذلك
وفي استعمال السؤال في التعلم، والانتفاع بسؤال أهل الخبرة والمعرفة، يقول أحد الدارسين: "من الأدبيات القرآنية المهمة في مجال العلم وجوب الرجوع إلى أهل الخبرة في كل علم وفن، وسؤال أهل الذكر في كل موضوع،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
পবিত্র কুরআনে জিজ্ঞাসার মর্যাদা
প্রথমত: জিজ্ঞাসার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও অনুপ্রেরণা দান.
দ্বিতীয়ত: মূসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনীতে জিজ্ঞাসা।
উপস্থাপনা:
পবিত্র কুরআন জিজ্ঞাসার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে (المنهج التربوي) জিজ্ঞাসা হলো জ্ঞান অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; বরং এটি এমন এক উপকরণ যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সত্য ও তথ্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভে সক্ষম হয়। এই কারণেই কুরআন জিজ্ঞাসার পদ্ধতির সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছে। এই পরিচ্ছেদে আমরা কুরআনি শিক্ষা পদ্ধতির আলোকে জিজ্ঞাসার গুরুত্ব এবং এটি যে মর্যাদা লাভ করেছে তা স্পষ্ট করব।
প্রথমত: জিজ্ঞাসার প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আপনার পূর্বেও আমি কেবল পুরুষদেরই প্রেরণ করেছি যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম; সুতরাং তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো} ১
পবিত্র কুরআন কুরাইশ কাফেরদের নির্দেশ দিয়েছে তারা যেন তাওরাত ও ইঞ্জিল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষ হিসেবে রাসূল প্রেরণের বাস্তবতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তারা যখন বিষয়টিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে করেছিল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষ রাসূল হিসেবে প্রেরিত হওয়াকে অস্বীকার করেছিল, ২ তখন ইলম ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের (أهل الاختصاص) কাছে জিজ্ঞাসা করার বিষয়টি ছিল একটি মাধ্যম যা পবিত্র কুরআন ঈমানী সত্যকে সুদৃঢ় করতে এবং মানুষের অন্তরে তা বদ্ধমূল করতে ব্যবহার করেছিল, যাতে পরবর্তীতে সেখানে কোনো সন্দেহ (شك) প্রবেশ করতে না পারে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসার প্রয়োগ এবং অভিজ্ঞ ও জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার বিষয়ে জনৈক গবেষক বলেন: "জ্ঞানের ক্ষেত্রে কুরআনি শিষ্টাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিটি জ্ঞান ও শিল্পের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের (أهل الخبرة) শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রতিটি বিষয়ে আহলে জিকর বা বিশেষজ্ঞ জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
فهم الذين يستطيعون أن يحلوا العقد، ويعالجوا العضل من المسائل والعويص من القضايا"1.
وقد استعمل السؤال في القرآن لزيادة طمأنة الرسول صلى الله عليه وسلم بشأن نبوته ورسالته وذلك بسؤال أهل التوراة والإنجيل عن وجود هذه الحقيقة في كتبهم2. قال تعالى: {فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَأُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ لَقَدْ جَاءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ} 3.
ومرة ثالثة يوجه القرآن الكريم إلى أخذ الحقائق من أهلها العارفين بها4 ويكون أقرب الطرق وأصدقها في ذلك هو السؤال، قال تعالى: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيراً الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً} 5.
--------------------------------------------
তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা জট খুলতে পারেন, এবং মাসআলাসমূহের জটিলতা ও বিষয়ের গূঢ় রহস্যগুলোর সমাধান দিতে সক্ষম"১।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত ও রিসালাত বিষয়ে তাঁর চিত্তের প্রশান্তি আরও বৃদ্ধির জন্য কুরআনে প্রশ্ন করার পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়েছে; আর তা হলো তাওরাত ও ইঞ্জিলের অনুসারীদের কাছে তাদের কিতাবে এই সত্যের বিদ্যমানতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে২। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার প্রতি আমি যা অবতীর্ণ করেছি, সে সম্পর্কে যদি আপনি কোনো সন্দেহের মধ্যে থাকেন, তবে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন যারা আপনার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। অবশ্যই আপনার নিকট আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য এসে পৌঁছেছে; সুতরাং আপনি কখনোই সন্দেহবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না} ৩।
এবং তৃতীয়বার পবিত্র কুরআন সত্যকে তার সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণের দিকনির্দেশনা প্রদান করে৪ এবং এর জন্য সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সঠিক পথ হলো জিজ্ঞাসা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যিনি কখনো মারা যাবেন না, এবং তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন; তিনি তাঁর বান্দাদের পাপ সম্পর্কে সম্যক অবগত হিসেবে যথেষ্ট। যিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি পরম করুণাময়; সুতরাং তাঁর সম্পর্কে সম্যক অবগত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করুন} ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
ثانياً: السؤال في قصة موسى والخضر عليهما السلاملقد كان السؤال في هذه القصة من أهم طرق التعلم ووسائله، وقد حقق السؤال الكثير من الفوائد والإيجابيات، نبين بعضها في هذا الجزء من البحث، ونبين البعض الآخر في مكانها المناسب من البحث.
وقد تكرر استعمال السؤال مرات عديدة في هذه القصة، وكان استعماله فيها جميعها استعمالاً راشداً وموفقاً
দ্বিতীয়ত: মুসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনীতে প্রশ্ন জিজ্ঞাসাএই কাহিনীতে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ছিল শিক্ষা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ও মাধ্যম। এই জিজ্ঞাসার মাধ্যমে বহুবিধ উপকারিতা ও ইতিবাচক দিক অর্জিত হয়েছে; আমরা গবেষণার এই অংশে তার কিছু অংশ তুলে ধরব এবং অন্য অংশগুলো গবেষণার যথোপযুক্ত স্থানে বর্ণনা করব।
এই কাহিনীতে বারবার প্রশ্নের ব্যবহার হয়েছে এবং প্রতিবারই এর প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত প্রাজ্ঞজনোচিত ও সফল।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬৭)
1- فقد استخدم نبي الله موسى عليه السلام السؤال ليعرف مكان الخضر عليه السلام ويتعلم منه، روى الإمام البخاري عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه تمارى هو والحر بن قيس بن حصن الفزاري في صاحب موسى فمرّ بهما أُبي بن كعب فدعاه ابن عباس فقال: إني تماريت أنا وصاحبي هذا في صاحب موسى الذي سأل السبيل إلى لقيه، هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر شأنه؟ فقال أُبي: نعم سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يذكر شأنه يقول: "بينما موسى في ملأ من بني إسرائيل إذ جاءه رجل فقال: أتعلم أحداً أعلم منك؟ فقال موسى: لا فأوحى الله عز وجل إلى موسى: بلى عبدنا خضر. فسأل السبيل إلى لقيه، فجعل الله له الحوت آية، وقيل له: إذا فقدت الحوت فارجع فإنك ستلقاه
… الحديث"1.
2- كما استخدم عليه السلام السؤال في اتباعه الخضر والتعلم منه، قال تعالى: {قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْداً} 2 قال الإمام القرطبي في تفسير الآية: "هذا سؤال الملاطف المستنزل المبالغ في حسن الأدب، والمعنى هل يتفق لك ويخف عليك"3. وقد استخدم نبي الله موسى عليه السلام السؤال هنا لتحقيق أغراض منها: الاتباع، والتعلم الراشد.
3- إن طلب الخضر من نبي الله موسى أن لا يسأله عن شيء حتى يبينه له، يدل على أن السؤال من الوسائل الأولية والهامة لمعرفة أسباب القيام ببعض الأمور التي لا يرى لها حكماً ظاهرة، فيكون السؤال من أهم أسباب اجتلاء كنهها، ومعرفة أسرارها وخفاياها.
--------------------------------------------
1- আল্লাহর নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর অবস্থান জানতে এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করার পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এবং হুর বিন কায়েস বিন হিসন আল-ফাজারি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হলেন। তখন উবাই বিন কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইবনে আব্বাস তাঁকে ডেকে বললেন: "আমি এবং আমার এই সাথী মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সেই সাথী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, যার সাথে সাক্ষাতের পথ তিনি অনুসন্ধান করেছিলেন। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন?" উবাই বললেন: "হ্যাঁ, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলতে শুনেছি: 'একদা মূসা বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে থাকাকালীন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল—আপনি কি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে চেনেন? মূসা বললেন: না। তখন মহান আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ওহী নাযিল করলেন—কেন নয়, আমার বান্দা খিজির (অধিক জ্ঞানী)। এরপর মূসা তাঁর সাথে সাক্ষাতের পথ জিজ্ঞাসা করলেন। আল্লাহ তাআলা মাছকে তাঁর জন্য নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করলেন এবং তাঁকে বলা হলো—আপনি যখন মাছটি হারিয়ে ফেলবেন, তখন ফিরে আসবেন, তবেই আপনি তাঁর দেখা পাবেন... হাদিস'।"1.
2- অনুরূপভাবে তিনি (আলাইহিস সালাম) খিজিরের অনুসরণ ও তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রশ্নের ব্যবহার করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {মূসা তাঁকে বললেন: আমি কি এই শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, আপনাকে যে সঠিক পথের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?} 2 ইমাম কুরতুবি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "এটি অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র জিজ্ঞাসাকারীর প্রশ্ন, যাতে শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর অর্থ হলো—এটি কি আপনার অনুকূলে হবে এবং আপনার জন্য সহজসাধ্য হবে?"3. আল্লাহর নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) এখানে কতিপয় উদ্দেশ্য অর্জনে প্রশ্নের ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: অনুসরণ এবং সঠিক শিক্ষা লাভ।
3- আল্লাহর নবী মূসার প্রতি খিজিরের এই দাবি যে, তিনি যেন তাঁকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন না করেন যতক্ষণ না তিনি নিজেই তা ব্যাখ্যা করেন—এটি প্রমাণ করে যে, প্রশ্ন হলো সেই সব কাজের কারণ জানার প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম যেগুলোর বাহ্যিক কোনো যৌক্তিকতা পরিলক্ষিত হয় না। সুতরাং প্রশ্ন হলো কোনো বিষয়ের প্রকৃত রূপ উন্মোচন এবং তার রহস্য ও গোপন দিকগুলো উদ্ঘাটনের অন্যতম প্রধান উপায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬৮)
4- إن السؤال هو الوسيلة الوحيدة التي استخدمها نبي الله موسى عليه السلام للتعبير عن إنكاره لما جرى أمام عينيه من تعدٍّ وظلم، كما كان ظاهر ما حدث، وذلك كما جاء في قوله تعالى: {قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا} 1 وقوله تعالى: {قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْساً زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْس} 2 وقوله تعالى: {قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْراً} 3.
5- إن أسئلة نبي الله موسى المتكررة هي التي جعلت الخضر عليه السلام لا يجد مناصاً من تبيين حكمة ما فعل لموسى عليه السلام، وهذا يدل على فاعلية السؤال وقوة تأثيره في القصة، إذ أثمر معرفةً وفهماً وتفسيراً لأمور كانت أسبابها غير معروفة وغير ظاهرة للعيان.
6- إن التزام المتعلم بعدم سؤال المعلم فيما لا يجب أن يسأل فيه من الأسباب المؤدية إلى استمرار العلاقة بين المعلم والمتعلم وقوتها4، فالاستخدام الحكيم للسؤال يدل على أهمية السؤال في تحقيق الهدف المتقدم وغيره من الأهداف التعليمية والتربوية الإيجابية.
--------------------------------------------
4- প্রশ্নই ছিল একমাত্র মাধ্যম যা আল্লাহর নবী মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বাহ্যিক সীমালঙ্ঘন ও অবিচারের প্রতি তাঁর প্রতিবাদ প্রকাশের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {তিনি বললেন, আপনি কি এটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেন?} ১ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, আপনি কি এক নিষ্পাপ ব্যক্তিকে কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই হত্যা করলেন?} ২ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, আপনি ইচ্ছা করলে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন} ৩।
5- আল্লাহর নবী মূসার পুনঃপুনঃ প্রশ্নগুলোই খিজির আলাইহিস সালামের জন্য তাঁর কাজের প্রজ্ঞা বর্ণনা করা ব্যতীত কোনো উপায় রাখেনি। এটি এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্নের কার্যকারিতা ও জোরালো প্রভাবকেই নির্দেশ করে; কেননা এর ফলেই এমন কিছু বিষয়ের জ্ঞান, উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা অর্জিত হয়েছে যার কারণগুলো ছিল অজানা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে।
6- যেখানে প্রশ্ন করা অনুচিত সেখানে শিক্ষককে প্রশ্ন না করার ব্যাপারে শিক্ষার্থীর দায়বদ্ধতা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তা বজায় রাখার অন্যতম কারণ ৪। সুতরাং, প্রশ্নের বিজ্ঞোচিত ব্যবহার পূর্বোক্ত লক্ষ্য এবং অন্যান্য ইতিবাচক শিক্ষামূলক ও চারিত্রিক গঠনমূলক লক্ষ্য অর্জনে প্রশ্নের গুরুত্বকেই ফুটিয়ে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭০)
آداب السؤال عند المتعلمين…تمهيد
يعدّ السؤال من أهم وسائل بناء الجانب التعليمي لدى المتعلم، فعن طريق السؤال يستطيع المتعلم أن ينمي هذا الجانب، وذلك بما يضيفه إليه من خبرات تعليمية عديدة ولكن استخدام السؤال من قبل المتعلم لتحقيق الهدف المتقدم لا يمكن أن يتحقق ما لم يلتزم المتعلم بضوابط ومعايير يتحقق في ضوء التمسك بها ذلك الهدف، لذلك أرشد المربون والمختصون في مجال التربية التعليم إلى ضرورة التزام المتعلم بتلك الضوابط والمعايير والتمسك بها من أجل تحقيق ما يطمح إليه.
ولقد سبق القرآن الكريم إلى تنبيه المتعلم إلى تلك الضوابط والمعايير، وتوجيهه إلى ضرورة التحلي بها وجعلها أساساً ومنطلقاً لنشاطاته التعليمية، ومن أهم ضوابط وآداب السؤال التي أرشد إليها القرآن الكريم ما يلي:
(1) - احتمال عناء السؤال:
وقد قص علينا القرآن الكريم قصة رحلة نبي الله موسى عليه السلام وتحمله المشقة والتعب من أجل الالتقاء بالخضر عليه السلام والتعلم منه. ومما هو جدير بالذكر هنا أن سبب هذه الرحلة كان السؤال، فسؤال بني إسرائيل موسى عليه السلام أي الناس أعلم كان سبب خروجه وطلبه ملاقاة الخضر وقد احتل السؤال مكاناً بارزاً في القصة: مرة عند سؤال موسى عليه السلام الخضر أن يسمح باتباعه يتعلم منه، ومرات عند سؤاله عما كان يقوم به من أفعال لم تكن حكمتها ظاهرة لديه.
وإذا كان السؤال يكلف صاحبه عناءً ومشقةً، إلا أن فيه فوائد جليلة ومنافع عظيمة. قال الإمام القرطبي: "في هذا - أي في رحلة موسى إلى الخضر
শিক্ষার্থীর প্রশ্ন করার আদবসমূহ…ভূমিকা
শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দিক গঠনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রশ্নকে গণ্য করা হয়। প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার এই দিকটিকে সমৃদ্ধ করতে পারে, কারণ এটি তার জ্ঞানের ভাণ্ডারে বহু শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত করে। তবে শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ওপরোক্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রশ্নের ব্যবহার ততক্ষণ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না শিক্ষার্থী কিছু নিয়ম ও মানদণ্ড মেনে চলে, যা অনুসরণের মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়। এই কারণে শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে তাকে সেই সকল নিয়ম ও মানদণ্ড মেনে চলার ও তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশনা দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআন শিক্ষার্থীকে সেই সকল নিয়ম ও মানদণ্ডের প্রতি সতর্ক করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে এবং সেগুলোকে তার শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ভিত্তি ও উৎস হিসেবে গ্রহণ করার দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কুরআন প্রশ্ন করার যে সকল গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নিয়মের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো:
(১) - প্রশ্নের কষ্ট সহ্য করা:
পবিত্র কুরআন আমাদের নিকট আল্লাহর নবী মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সফরের কাহিনী বর্ণনা করেছে এবং খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাঁর কষ্ট ও ক্লান্তি সহ্য করার কথা উল্লেখ করেছে। এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই সফরের মূল কারণ ছিল একটি প্রশ্ন। বনী ইসরাঈল যখন মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে প্রশ্ন করেছিল যে, মানুষের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, তখন সেই প্রশ্নই ছিল তাঁর গৃহ ত্যাগ করা এবং খিজিরের সাথে সাক্ষাতের অন্বেষণ করার কারণ। এই কাহিনীতে প্রশ্ন করার বিষয়টি একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে: একবার যখন মুসা (আলাইহিস সালাম) খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট তাঁর অনুসরণ করার অনুমতি চেয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারেন, এবং কয়েকবার যখন তিনি এমন সব কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন যেগুলোর প্রজ্ঞা (حكمة) তাঁর নিকট স্পষ্ট ছিল না।
যদিও প্রশ্ন করা প্রশ্নকারীর জন্য কষ্ট ও পরিশ্রমের কারণ হয়, তবুও এতে মহান উপকারিতা ও অশেষ কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ইমাম কুরতুবী বলেন: "এর মধ্যে - অর্থাৎ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর খিজিরের কাছে সফরের মধ্যে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭১)
عليهما السلام - من الفقه: رحلة العالم في طلب الازدياد من العلم. واغتنام لقاء الفضلاء وإن بعدت أقطارهم، وذلك كان دأب السلف الصالح، وبسبب ذلك وصل المرتحلون إلى الحظ الراجح، وحصلوا على السعي الناجح، فركزت لهم في العلوم أقدام، وصح لهم من الذكر والأجر والفضل أفضل الأقسام"1. وقال الزجاج: "فيما فعل موسى وهو من جملة الأنبياء من طلب العلم والرحلة في ذلك ما يدل على أنه لا ينبغي لأحد أن يترك طلب العلم وإن كان قد بلغ نهايته"2.
وقال الشيخ السعدي: " في هذه القصة - قصة موسى والخضر - فضيلة العلم والرحلة في طلبه وأنه أهم الأمور، فإن موسى عليه السلام رحل مسافة طويلة ولقي النصب في طلبه، وترك القعود عند بني إسرائيل لتعليمهم وإرشادهم، واختار السفر لزيادة العلم على ذلك"3.
(2) - الحرص على السؤال والتعلم
وقد وجه القرآن الكريم المتعلمين إلى الحرص على السؤال والتعلم حتى لو كان من يتعلم منه أقل فضلاً ممن يتعلم، فنبي الله موسى عليه السلام كان حريصاً على التعلم من الخضر مع كونه أفضل من الخضر، قال تعالى: {قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْداً} 4 قال الإمام الرازي: "إن موسى عليه السلام مع كثرة علمه وعمله وعلو منصبه واستجماع موجبات الشرف التام في
--------------------------------------------
(তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) - ফিকহশাস্ত্রের একটি বিষয় হলো: ইলম বৃদ্ধির অন্বেষণে একজন আলিমের দেশভ্রমণ। এবং গুণীজনদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ গ্রহণ করা, যদিও তাঁদের আবাসস্থল অনেক দূরে হয়। আর এটাই ছিল সলাফে সালেহীনদের রীতি। এই কারণেই ভ্রমণকারীরা পরম সৌভাগ্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং সফল প্রচেষ্টায় ধন্য হয়েছিলেন। ফলে ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছিল এবং সুখ্যাতি, প্রতিদান ও ফযীলতের ক্ষেত্রে তাঁরা সর্বোত্তম অংশ লাভে সমর্থ হয়েছিলেন।১। আয-যাজ্জাজ বলেন: "মূসা (আলাইহিস সালাম) নবীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ইলম অন্বেষণ এবং সেই লক্ষ্যে দেশভ্রমণ করার যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা এ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, কারোরই ইলম অন্বেষণ ত্যাগ করা উচিত নয়, যদিও সে এর শেষ সীমায় পৌঁছে যায়।" ২。
শায়খ আস-সাদী বলেন: "মূসা ও খিজিরের এই কাহিনীতে ইলমের ফযীলত এবং তা অন্বেষণে ভ্রমণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে এবং এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মূসা (আলাইহিস সালাম) দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন এবং ইলম অন্বেষণে ক্লান্তি ও কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বনী ইসরাঈলকে তালীম ও দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে তাঁদের মাঝে অবস্থান করার পরিবর্তে ইলম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সফর করাকেই বেছে নিয়েছিলেন।" ৩。
(২) - প্রশ্ন করা এবং শেখার প্রতি গভীর আগ্রহ
কুরআন মাজীদ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহী হওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছে, এমনকি যার কাছ থেকে শেখা হচ্ছে সে যদি শিক্ষার্থীর তুলনায় মর্যাদায় কমও হয়। আল্লাহর নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) খিজিরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মূসা তাঁকে বললেন, আমি কি এই শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, আপনাকে যে সঠিক পথের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে আমাকেও কিছু শিক্ষা দেবেন?} ৪। ইমাম রাযী বলেন: "নিশ্চয়ই মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর প্রচুর ইলম, আমল, উচ্চ মর্যাদা এবং পূর্ণাঙ্গ সম্মানের সকল কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭২)
حقه، ذهب إلى الخضر لطلب العلم وتواضع له"1. وقال الإمام الشوكاني: "في الآية دليل على أن المتعلم تبع للعالم وإن تفاوتت المراتب، وليس في ذلك ما يدل على أن الخضر أفضل من موسى، فقد يأخذ الفاضل عن الفاضل، وقد يأخذ الفاضل عن المفضول إذا اختص أحدهما بعلم لا يعلمه الآخر، فقد كان علم موسى علم الأحكام الشرعية والقضاء بظاهرها، وكان علم الخضر علم بعض الغيوب ومعرفة البواطن"2. وقال الشيخ السعدي: "ومن فوائد الآية: تواضع الفاضل للتعلم ممن دونه، فإن موسى بلا شك أفضل من الخضر"3. وقال: "كان موسى أعلم من الخضر بأكثر الأشياء، وخصوصاً في العلوم الإيمانية والأصولية، لأنه من أولي العزم من المرسلين الذين فضلهم الله على سائر الخلق بالعلم والعمل وغير ذلك"4.
(3) - التلطف في السؤال
ومن آداب المتعلم التلطف والتواضع والاستئذان عند سؤال المعلم، وقد كان نبي الله موسى في غاية التلطف عند سؤال الخضر في اتباعه والتعلم منه، قال تعالى: {قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْداً} 5.قال الإمام الشوكاني في تفسير الآية: "في هذا السؤال ملاطفة ومبالغة في حسن الأدب، لأنه استأذنه أن يكون تابعاً له على أن يعلمه مما علمه الله من العلم"6.
وفي الآداب التي اشتملتها الآية يقول الإمام الرازي:
--------------------------------------------
তাঁর অধিকার; তিনি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য খিদরের নিকট গিয়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি বিনয় প্রদর্শন করেছিলেন।"১। ইমাম শাওকানি বলেন: "এই আয়াতে এই মর্মে প্রমাণ রয়েছে যে, শিক্ষার্থী জ্ঞানীর অনুসারী হয় যদিও মর্যাদার তারতম্য থাকে। এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে খিদর মুসার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কারণ কখনো কখনো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অন্য একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির নিকট থেকে গ্রহণ করেন, আবার কখনো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তার চেয়ে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তির নিকট থেকেও গ্রহণ করেন যদি তাদের একজন এমন কোনো জ্ঞানে বিশেষত্ব লাভ করেন যা অন্যজন জানেন না। মুসার জ্ঞান ছিল শরয়ি বিধান এবং তার বাহ্যিক দিকের বিচার-ফয়সালা সংক্রান্ত জ্ঞান, আর খিদরের জ্ঞান ছিল কতিপয় অদৃশ্যের জ্ঞান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়াদির পরিচয়।"২। শায়খ সাদী বলেন: "এই আয়াতের শিক্ষাগুলোর অন্যতম হলো: কোনো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির তার চেয়ে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তির নিকট থেকে শেখার জন্য বিনয় প্রকাশ করা, কারণ মুসা নিঃসন্দেহে খিদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন।"৩। তিনি বলেন: "মুসা অধিকাংশ বিষয়ে খিদরের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন, বিশেষ করে ইমানি এবং উসুলি (মৌলিক) শাস্ত্রসমূহে; কারণ তিনি ছিলেন উলুল আযম রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞান, আমল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।"৪।
(৩) - প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে নম্রতা অবলম্বন
শিক্ষার্থীর আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো শিক্ষকের নিকট প্রশ্ন করার সময় নম্রতা, বিনয় এবং অনুমতি প্রার্থনা করা। আল্লাহর নবী মুসা খিদরকে অনুসরণ করা এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা লাভের আবেদন জানানোর সময় অত্যন্ত নম্রতা প্রদর্শন করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুসা তাঁকে বললেন: আমি কি আপনার অনুসরণ করতে পারি এই শর্তে যে, আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা থেকে আমাকে সঠিক পথের শিক্ষা দান করবেন?} ৫। ইমাম শাওকানি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "এই প্রশ্নের মধ্যে অত্যন্ত নম্রতা এবং শিষ্টাচারের চরম পরাকাষ্ঠা বিদ্যমান, কেননা তিনি তাঁর অনুসারী হওয়ার জন্য তাঁর নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন যাতে আল্লাহ তাঁকে যে ইলম দান করেছেন তা থেকে তিনি তাঁকে শিক্ষা দেন।"৬।
এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত শিষ্টাচারসমূহ সম্পর্কে ইমাম রাজি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭৩)
"اعلم أن هذه تدل على أن موسى عليه السلام راعى أنواعاً كثيرة من الأدب واللطف عندما أراد أن يتعلم من الخضر، فأحدها أنه جعل نفسه تابعاً له لأنه قال {هَلْ أَتَّبِعُكَ} ، وثانيها أنه استأذن في إثبات هذه التبعية، فإنه قال هل تأذن لي أن أجعل نفسي تبعاً لك وهذا مبالغة عظيمة في التواضع"1.
وقال الإمام ابن القيم: "كان عبيد الله بن عبد الله بن عتبة يلطف لابن عباس في السؤال، فيعزه بالعلم عزاً"2.
وقال ابن جريج: "لم أستخرج العلم الذي استخرجت من عطاء إلا برفقي به"3. ويرى بدر الدين بن جماعة أن على المتعلم: "أن يحسن خطابه مع الشيخ بقدر الامكان، ولا يقول له لم؟ ولا نسلم، ولا من نقل هذا؟ وأين موضعه؟ وشبه ذلك، فإن أراد استفادته تلطف في الوصول إلى ذلك"4.
(4) - السؤال عن العلم النافع
والعلم النافع هو العلم الذي يهدي إلى الحق والخير والصواب والهدى، "فكل علم يكون فيه علم وهداية لطريق الخير، وتحذير عن طريق الشر أو وسيلة لذلك، فإنه من العلم النافع، وما سوى ذلك فإما أن يكون ضاراً أو ليس فيه فائدة"5.
وينبغي للمتعلم ألا يسأل عما لا فائدة عملية أو مصلحة حقيقية ترجى من ورائه لأن ذلك لا يعود عليه بفائدة في دينه أو دنياه، وقد ذكر القرآن أنواعاً
--------------------------------------------
জেনে রাখুন যে, এটি নির্দেশ করে যে মূসা (আলাইহিস সালাম) খিজিরের নিকট থেকে শিক্ষা অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করার সময় বহু প্রকার শিষ্টাচার ও নম্রতা বজায় রেখেছিলেন। এর মধ্যে একটি হলো তিনি নিজেকে তাঁর অনুসারী হিসেবে পেশ করেছেন, কারণ তিনি বলেছিলেন {আমি কি আপনার অনুসরণ করতে পারি?}; দ্বিতীয়ত, এই আনুগত্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনি অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। কেননা তিনি বলেছেন: আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন যে আমি নিজেকে আপনার অনুসারী হিসেবে গ্রহণ করি? এটি বিনয়ের ক্ষেত্রে এক মহান পরাকাষ্ঠা।১।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাসের প্রতি অত্যন্ত নম্রতা প্রদর্শন করতেন, ফলে তিনি ইলমের মাধ্যমে তাঁকে অত্যন্ত সম্মানিত করতেন।"২।
ইবনে জুরাইজ বলেন: "আতার কাছ থেকে আমি যে ইলম অর্জন করেছি, তা কেবল তাঁর প্রতি আমার নম্র ব্যবহারের মাধ্যমেই অর্জন করেছি।"৩। বদরুদ্দীন ইবনে জামাআহ মনে করেন যে, শিক্ষার্থীর উচিত: "যথাসম্ভব উস্তাদের সাথে কথোপকথন সুন্দর করা, এবং তাঁকে কেন? আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না, এটি কে বর্ণনা (نقل) করেছেন? এর উৎস কোথায়? এবং এই জাতীয় কথা না বলা। যদি সে কিছু জানতে চায়, তবে তা অর্জনের জন্য নম্র পন্থা অবলম্বন করবে।"৪।
(৪) - উপকারী ইলম সম্পর্কে প্রশ্ন করা
উপকারী ইলম হলো সেই ইলম যা সত্য, কল্যাণ, সঠিক পথ ও হেদায়াতের দিকে পরিচালিত করে, "সুতরাং যে ইলমে কল্যাণকর পথের দিশা ও নির্দেশনা থাকে এবং অকল্যাণের পথ থেকে সতর্কতা থাকে অথবা তার কোনো মাধ্যম থাকে, তবে সেটিই উপকারী ইলম। আর এর বাইরে যা আছে তা হয় ক্ষতিকর অথবা তাতে কোনো উপকার নেই।"৫।
শিক্ষার্থীর উচিত এমন বিষয়ে প্রশ্ন না করা যার পেছনে কোনো বাস্তব ফায়দা বা প্রকৃত কল্যাণ প্রত্যাশিত নয়। কারণ তা তার দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো উপকারে আসবে না। পবিত্র কুরআন এ জাতীয় বিভিন্ন প্রকার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭৪)
من الأسئلة بعضها عن المشركين، مثل: السؤال عن الساعة، وبعضها عن اليهود مثل: السؤال عن الروح وهي أسئلة لا ثمرة لها، لذلك كان الجواب أن ذلك من أمر الله ولا يعلمه سواه1.
قال تعالى: {يَسْأَلونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي} 2.
وقال تعالى: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي} 3.
(5) - التريث وعدم الاستعجال في السؤال
وهو من الآداب الضرورية والهامة للمتعلم، إذ كثيراً ما تأتي اعتراضات المتعلمين ومناقشاتهم وسؤالاتهم نتيجة التعجل وعدم التثبت، أو عدم فهم مراد المعلم وقصده، قال تعالى: {قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْراً} 4 قال القاضي أبو السعود في تفسير الآية: "قوله تعالى: {فَلا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ} تشاهده من أفعالي أي لا تفاتحني بالسؤال عن حكمته فضلاً عن المناقشة والاعتراض {حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْراً} أي حتى أبتدأ ببيانه، وفيه إيذان بأن كل ما صدر عنه فله حكمة وغاية حميدة البتة، وهذا من أدب المتعلم مع العالم"5.
ويقول الشيخ السعدي: "من فوائد الآية: التأني والتثبت وعدم المبادرة إلى الحكم على الشيء حتى يعرف ما هو المراد منه وما هو المقصود"6.
--------------------------------------------
কিছু প্রশ্ন মুশরিকদের পক্ষ থেকে ছিল, যেমন: কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন; আবার কিছু ছিল ইহুদিদের পক্ষ থেকে, যেমন: রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন। এগুলো এমন প্রশ্ন যেগুলোর কোনো বাস্তব ফায়দা নেই, তাই উত্তর দেওয়া হয়েছিল যে এগুলো আল্লাহর বিষয়াধীন এবং তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানেন না১।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন ঘটবে? আপনি বলুন, এর জ্ঞান কেবল আমার রবের নিকটেই আছে} ২।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, রূহ আমার রবের আদেশঘটিত বিষয়} ৩।
(৫) - ধীরস্থিরতা অবলম্বন এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করা
এটি শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আপত্তি, বিতর্ক ও প্রশ্নগুলো তাড়াহুড়ো এবং যাচাই (تثبت) না করা, অথবা শিক্ষকের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় বুঝতে না পারার ফলশ্রুতিতে হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি বললেন, যদি তুমি আমার অনুসরণ কর, তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবে না যতক্ষণ না আমি নিজে সে বিষয়ে তোমার কাছে বর্ণনা করি} ৪। কাজী আবুস সাউদ এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: “আল্লাহর বাণী: {তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবে না} যা তুমি আমার কর্মকাণ্ডের মধ্যে দেখতে পাও; অর্থাৎ এর হিকমত সম্পর্কে আমাকে কোনো প্রশ্ন করবে না, বিতর্ক বা আপত্তির কথা তো দূরে থাক। {যতক্ষণ না আমি নিজে সে বিষয়ে তোমার কাছে বর্ণনা করি} অর্থাৎ যতক্ষণ না আমি নিজে এর বর্ণনা শুরু করি। এর মধ্যে এই সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তার পক্ষ থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় তার অবশ্যই একটি হিকমত ও প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য রয়েছে। আর এটিই হলো আলেমের সাথে শিক্ষার্থীর শিষ্টাচার” ৫।
শায়খ আস-সাদী বলেন: “এই আয়াতের অন্যতম শিক্ষা হলো: ধীরস্থিরতা ও যাচাই (تثبت) করা এবং কোনো বিষয়ের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত না হওয়া পর্যন্ত সে সম্পর্কে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে (حكم) না পৌঁছানো” ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ালু ফিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফিত তারবিয়াতি ওয়াত তালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭৫)
(6) - حسن السؤال
وقد سبق أن ذكرنا قول بعض السلف أن حسن السؤال نصف العلم، وقول ابن القيم: "إن أول مراتب العلم حسن السؤال، وإن من الناس من يحرم العلم لعدم حسن سؤاله"1.
وقد دعا القرآن الكريم إلى حسن السؤال والبعد عن الأسئلة السيئة، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ} 2 وقد ذكر العلماء عديداً من صور السؤال المجانبة لحسن المسألة، والتي منها ما يلي:
(أ) - السؤال عما لا يعني السائل.
(ب) - المسائل التي نزلت فيها قول الله عزوجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} .
(ج) - الإكثار من تفريع المسائل، ومن ثم كره جماعة من السلف السؤال عما لا يقع، لما يتضمن من التكلف في الدين، والتنطع، والرجم بالظن من غير ضرورة3. وعن الزهري قال: "بلغنا أن زيد بن ثابت الأنصاري كان يقول إذا سئل عن الأمر: أكان هذا؟ فإن قالوا: نعم قد كان، حدث فيه بالذي يعلم والذي يرى، وإن قالوا: لم يكن، قال: فذروه حتى يكون"4 "وعن عبادة بن
--------------------------------------------
(6) - সুন্দরভাবে প্রশ্ন করা
ইতিপূর্বে আমরা কতিপয় সালাফ (السلف)-এর উক্তি উল্লেখ করেছি যে, সুন্দরভাবে প্রশ্ন করা হলো ইলমের অর্ধেক। আর ইবনুল কাইয়্যিমের উক্তি: "নিশ্চয়ই ইলমের প্রথম স্তর হলো সুন্দরভাবে প্রশ্ন করা, আর মানুষের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা সুন্দরভাবে প্রশ্ন না করার কারণে ইলম থেকে বঞ্চিত হয়"1।
কুরআন কারীম সুন্দরভাবে প্রশ্ন করার এবং মন্দ প্রশ্ন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর যদি তোমরা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সেগুলো ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম সহনশীল। তোমাদের পূর্বে এক কওম এ ধরনের প্রশ্ন করেছিল, তারপর তারা এ কারণে কাফির হয়ে গিয়েছিল} 2। ওলামায়ে কেরাম সুন্দরভাবে প্রশ্ন করার পরিপন্থী অনেকগুলো ধরন উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিম্নরূপ:
(ক) - এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা যা প্রশ্নকারীর জন্য অর্থহীন।
(খ) - এমন সব মাসআলা যেগুলোর ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে}।
(গ) - মাসআলার শাখা-প্রশাখা নিয়ে অত্যধিক চর্চা করা। এ কারণে সালাফদের (السلف) একটি দল যা এখনো ঘটেনি এমন বিষয়ে প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করতেন; কারণ এতে দ্বীনের মধ্যে কৃত্রিমতা, অতিরঞ্জন এবং অপ্রয়োজনে ধারণার বশবর্তী হওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে3। যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, যায়েদ ইবনে সাবিত আল-আনসারী কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে বলতেন: 'এটি কি ঘটেছে?' যদি তারা বলত: 'হ্যাঁ, ঘটেছে', তবে তিনি সে বিষয়ে তাঁর অর্জিত জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বর্ণনা করতেন। আর যদি তারা বলত: 'না, ঘটেনি', তবে তিনি বলতেন: 'তবে এটি ঘটা পর্যন্ত একে ছেড়ে দাও'।"4 "এবং উবাদাহ ইবনে... থেকে বর্ণিত
--------------------------------------------