(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
الرأي العام في المجتمع الإسلامي القسم: كتب عامة
الكتاب: الرأي العام في المجتمع الإسلامي
المؤلف: إبراهيم زيد الكيلاني
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة عشرة، العدد الواحد والستون، محرم- صفر - ربيع الأول 1404هـ/1984م
عدد الصفحات: 259
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামী সমাজে জনমত বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: ইসলামী সমাজে জনমত
লেখক: ইব্রাহিম জায়েদ আল-কিলানি
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ষোড়শ বর্ষ, ৬১তম সংখ্যা, মুহররম- সফর - রবিউল আউয়াল ১৪০৪ হিজরি/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৪)
الرأي العام في المجنمع الإسلامي
تعريفه…الرَّأيُ العَامُ في المجُتمع الإسلامِيِّ
لِلدكتور إبراهيم زيد الكيلَاني كلية الشريعة ـ الجامعة الأردنية
الرأي العام في المجتمع الإسلامي
الحمد لله رب العالمين وبه أستعين والصلاة والسلام على نبيه الكريم محمد بن عبد الله وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد:
فقد رأيت أن أكتب في الرأي العام في المجتمع الإسلامي من خلال النقاط التالية:
1- تعريف الرأي العام.
2- تكوين الرأي العام والمؤثرات فيه.
3- وظيفة الرأي العام.
الرأي العام:
تعريفه: وردت تعاريف متعددة للرأي العام منها: " أنه ميول الناس نحو قضية ما، إذا كان هؤلاء الناس من فئة اجتماعية واحدة "1
ومنها: " أنه الحكم الذي تصل إليه الجماعة في قضية ما ذات اعتبار ما ".
ومن هذين التعريفين يتبين أن الرأي العام هو نتيجة أمور عديدة منها:
ا- أن تكون هناك قضية مطروحة.
2- أن تكون مناقشات وافية حول القضية المطروحة.
3- أن يكون (الحكم) الذي تصل إليه الجماعة أو " الرأي " متفقا مع2:
أ- عقيدة الأمة.
--------------------------------------------
ইসলামি সমাজে জনমত
এর সংজ্ঞা…ইসলামি সমাজে জনমত
ড. ইবরাহিম জায়েদ আল-কিলানি, শরীয়াহ অনুষদ — জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামি সমাজে জনমত
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর। অতঃপর:
আমি ইসলামি সমাজে জনমতের ওপর নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর আলোকে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি:
১- জনমতের সংজ্ঞা।
২- জনমত গঠন এবং এতে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ।
৩- জনমতের ভূমিকা।
জনমত:
এর সংজ্ঞা: জনমতের একাধিক সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "এটি কোনো একটি বিষয়ের (قضية) প্রতি মানুষের ঝোঁক বা প্রবণতা, যদি সেই মানুষগুলো একই সামাজিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়।"১
অন্য একটি সংজ্ঞা হলো: "এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত (حكم) যাতে কোনো একটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো গোষ্ঠী উপনীত হয়।"
এই দুটি সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, জনমত বেশ কিছু বিষয়ের ফলাফল, যার মধ্যে রয়েছে:
ক- সেখানে কোনো একটি উত্থাপিত বিষয় (قضية) থাকতে হবে।
২- উত্থাপিত বিষয়টির ওপর পর্যাপ্ত আলোচনা হতে হবে।
৩- গোষ্ঠী যে সিদ্ধান্তে (حكم) বা "মতে" পৌঁছাবে তা যেন নিম্নোক্ত বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়২:
অ- উম্মাহর (الأمة) আকিদা (عقيدة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৫)
ب- ملبياً لحاجاتها محققاً لمصلحتها.
ومن الجدير بالذكر أن الرأي العام الذي ينشده الإسلام في المجتمع الإسلامي هو الرأي العام الصالح المتفق مع عقيدة الأمة وقيمها.
ومن الأهمية بمكان أن نقول إن هذا الرأي العام هو ثمرة ارتباط أفراد المجتمع الإسلامي برباط ثقافي موحد مستمد من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ومن شأن أفراده أن يرجعوا إلى حكم الله فيما يعرض لهم من حوادث، وأن ينطلقوا من القيم الإسلامية مهتدين بهديها ليكون الرأي العام فيها وليد عقيدتهم، راجعاً إلى هدى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
খ- তাদের প্রয়োজন পূরণকারী ও তাদের কল্যাণ বাস্তবায়নকারী।
এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ইসলামি সমাজে ইসলাম যে জনমত প্রত্যাশা করে, তা হলো উম্মাহর আকিদা (عقيدة) ও মূল্যবোধের সাথে সংগতিপূর্ণ একনিষ্ঠ জনমত।
এখানে এটি বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এই জনমত হলো ইসলামি সমাজের ব্যক্তিবর্গের একটি ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক বন্ধনে সস্পৃক্ত হওয়ার ফসল, যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) থেকে উৎসারিত। আর এই সমাজের ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য হলো তাদের সামনে উদ্ভূত যেকোনো ঘটনায় আল্লাহর বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং ইসলামি মূল্যবোধের আলোকবর্তিকা দ্বারা পরিচালিত হওয়া; যাতে জনমত তাদের আকিদা (عقيدة) থেকে উৎসারিত হয় এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর (سنة) নির্দেশনার অনুসারী হয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৫)
تكوين الرأي العام:يتكون الرأي العام في المجتمع الإسلامي نتيجة للإطار الثقافي الذي وضع القرآن الكريم حدوده، وبينته السنة المشرفة، والمبادئ الإسلامية التالية من شأنها أن تبين معالمه:
1- من مبادئ الإسلام أن يرجع المسلم في أموره كلها إلى حكم الله قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِم} . (الأحزاب: 36) .
2- من مبادئ الإسلام ألا يتسرع المسلم بالحكم على شيء قبل معرفة حكم الله فيه قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} . (الحجرات: 1) .
قال الإمام ابن كثير في تفسير هذه الآية: "أي لا تتسرعوا في الأشياء بين يديه، أي قبله بل كونوا تبعاً له في جميع الأمور، حتى يدخل في عموم هذا الأدب الشرعي حديث معاذ ـ رضى الله عنه- حيث قال له النبي صلى الله عليه وسلم حين بعثه إلى اليمن: "بم تحكم؟ ". قال: بكتاب الله تعالى، قال صلى الله عليه وسلم : "فإن لم تجد؟ " قال: بسنة رسول صلى الله عليه وسلم ، قال: "فإن لم تجد؟ " قال رضي الله عنه: أجتهد رأيي، فضرب في صدره وقال: "الحمد لله الذي وفق رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم لما يرضى رسول الله صلى الله عليه وسلم . ". رواه أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجة ـ قال ابن كثير: فالغرض منه أنه أخر رأيه ونظره واجتهاده إلى ما بعد الكتاب والسنة، ولو قدمه قبل البحث عنهما لكان من باب التقديم بين يدي الله ورسوله 1.
--------------------------------------------
জনমত গঠন:ইসলামি সমাজে জনমত গঠিত হয় সেই সাংস্কৃতিক কাঠামোর ফলশ্রুতিতে যার সীমা নির্ধারণ করেছে পবিত্র কুরআন এবং যার ব্যাখ্যা দিয়েছে সম্মানিত সুন্নাহ (سنة)। নিম্নোক্ত ইসলামি মূলনীতিসমূহ এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে স্পষ্ট করে:
1- ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো, একজন মুসলিম তার যাবতীয় বিষয়ে আল্লাহর বিধানের (حكم) দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকবে না।} (আল-আহজাব: ৩৬)।
2- ইসলামের একটি মূলনীতি হলো, কোনো বিষয়ে আল্লাহর বিধান (حكم) জানার আগে কোনো মুসলিম সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ো করবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} (আল-হুজুরাত: ১)।
ইমাম ইবনে কাসির এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "অর্থাৎ তোমরা কোনো বিষয়ে তাঁর সামনে তাড়াহুড়ো করো না, বরং সকল বিষয়ে তাঁর অনুসারী হও। এমনকি এই শরয়ি আদব (الأدب الشرعي)-এর ব্যাপকতার মধ্যে মুয়াজ (রা.)-এর হাদিসটিও অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে নবী (সা.) তাকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: 'তুমি কিসের ভিত্তিতে বিচার (حكم) করবে?' তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী। নবী (সা.) বললেন: 'যদি তা না পাও?' তিনি বললেন: আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী। নবী (সা.) বললেন: 'যদি তা-ও না পাও?' তিনি (রা.) বললেন: আমি আমার রায় (رأي) প্রয়োগ করে ইজতিহাদ (اجتهاد) করব। তখন নবী (সা.) তাঁর বুকে হাত চাপড়ে দিলেন এবং বললেন: 'সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি আল্লাহর রাসুলের প্রতিনিধিকে এমন তাওফিক দিয়েছেন যাতে আল্লাহর রাসুল সন্তুষ্ট'।" এটি আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসির বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো, তিনি তার রায় (رأي), পর্যবেক্ষণ ও ইজতিহাদকে (اجتهاد) কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর (سنة) পরবর্তী স্তরে রেখেছেন। যদি তিনি এ দুটি অনুসন্ধানের আগেই নিজের রায় (رأي) পেশ করতেন, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে অগ্রণী হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হতো। 1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
3- حدد الإسلام المصدر الوحيد لتلقي الثقافة وهو الكتاب والسنة، ولا يجوز للمسلم أن يشوه فكره بثقافة مغايرة، وعلى أولي الأمر في المجتمع الإسلامي أن يحموا أفراد المجتمع من منابع الفكر الغريب المنحرف، حتى لا تقع الأمة في مدارس فكرية مختلفة، فيحصل الانقسام، والفرقة، والتفكك، ومن المناسب هنا أن نذكر غضب رسول الله صلى الله عليه وسلم واستنكاره عندما رأى صحيفة من التوراة بيد عمر بن الخطاب- رضي الله عنه وبين أن موسى عليه السلام لو كان حياً لما وسعه إلا أن يتبع رسالة خاتم الرسل ومكمل الرسالات السابقة برسالته محمد صلى الله عليه وسلم .
3- ইসলাম সংস্কৃতি গ্রহণের একমাত্র উৎস হিসেবে কিতাব ও সুন্নাহকে (سنة) নির্ধারিত করেছে। একজন মুসলিমের জন্য ভিন্ন কোনো সংস্কৃতির দ্বারা নিজের চিন্তাধারাকে বিকৃত করা বৈধ নয়। মুসলিম সমাজের দায়িত্বশীলদের উচিত সমাজের সদস্যদের বিজাতীয় ও বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারার উৎস থেকে সুরক্ষা প্রদান করা, যাতে এই উম্মাহ বিভিন্ন বৈরী চিন্তাধারার আবর্তে নিপতিত না হয়; অন্যথায় এর ফলে বিভাজন, দলাদলি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক, যা তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে তাওরাতের একটি পাণ্ডুলিপি দেখে প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) যদি জীবিত থাকতেন, তবে শেষ নবী এবং যাঁর রিসালাত (رسالة) পূর্ববর্তী সকল বার্তার (رسالات) পূর্ণতাদানকারী, সেই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করা ব্যতীত তাঁরও কোনো উপায় থাকত না।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
المؤثرات في تكوين الرأي العام في المجتمع الإسلامي
المسجد…المؤثرات في تكوين الرأي العام في المجتمع الإسلامي:
في ظل هذه المبادئ والأسس التي رسمها الإسلام للمجتمع، نجد أن الإسلام دعا إلى قيام المؤسسات التوجيهية التي تربى أفراد الأمة تربية إيمانية صالحة على عقائد الإسلام وقيمه واتجاهاته ليكون الرأي العام في المجتمع الإسلامي الثمرة المباركة لهذه المؤسَسات وهي:
(1) المسجد:
كانت إقامة المسجد العمل الأول الذي بدأ به رسول الله صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة.
رسالة المسجد في الإسلام:
وليس المسجد في الإسلام مكاناً للعبادة فحسب، إنه مدرسة توجيه وإرشاد يلتقي فيه أفراد الحي كل يوم خمس مرات فيستمعون كتاباً واحداً هو القرآن الكريم ويتلقون توجيهاً واحداً من هدايته، ويستشعرون رابطة الوحدة والأخوة التي تجمعهم وهم صفوف مستوية متراصة تقتدي بإمام واحد.
ইসলামি সমাজে জনমত গঠনে প্রভাবকসমূহমসজিদ…ইসলামি সমাজে জনমত গঠনে প্রভাবকসমূহ:
ইসলাম সমাজের জন্য যেসকল মূলনীতি ও ভিত্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার আলোকে আমরা দেখতে পাই যে, ইসলাম এমন সব নির্দেশনামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে যা উম্মাহর সদস্যদের ইসলামের আকিদা (عقيدة), মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর একটি আদর্শ ইমানি লালন-পালনের মাধ্যমে গড়ে তুলবে; যেন ইসলামি সমাজের জনমত হয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোরই একটি বরকতময় ফল। আর সেই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
(১) মসজিদ:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা মুনাওয়ারায় সর্বপ্রথম যে কাজটির সূচনা করেছিলেন তা ছিল মসজিদ প্রতিষ্ঠা।
ইসলামে মসজিদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
ইসলামে মসজিদ কেবল ইবাদতের কোনো স্থান নয়; বরং এটি হলো সঠিক দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনের একটি বিদ্যাপীঠ, যেখানে মহল্লার অধিবাসীরা প্রতিদিন পাঁচবার একত্রিত হন। সেখানে তারা একটিই কিতাব অর্থাৎ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত শোনেন এবং এর হিদায়াত থেকে অভিন্ন নির্দেশনা গ্রহণ করেন। সেখানে তারা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক নিবিড় বন্ধন অনুভব করেন যা তাদেরকে একত্রিত করে, যখন তারা একজন ইমামের (إمام) পেছনে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ সারিতে দণ্ডায়মান হন।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
(2)
العلماء:وفي المسجد تلقى دروس العلم، ويلتقي أبناء الحي يتلقون ثقافة واحدة من هدي الكتاب والسنة وشروح العلماء.
وفي المسجد يلتقي أبناء الحي وتدور بينهم المناقشات حول قضاياهم الاجتماعية والاقتصادية التي من شأنها أن توحد رأيهم وتجمعهم على طريق سواء.
وللعلماء والعاملين الذين يتصفون بغزارة العلم، والزهد، والصدق والإخلاص والجرأة في قول الحق دور كبير في تكوين الرأي العام وتوجيهه نحو الخير.
(২)
আলেমগণ:মসজিদেই ইলমের পাঠসমূহ প্রদান করা হয় এবং সেখানে মহল্লার বাসিন্দারা কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ (السنة) ও আলেমদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে অভিন্ন এক তামাদ্দুন বা আদর্শিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য সমবেত হন।
মসজিদে মহল্লাবাসীরা পরস্পরের সাথে মিলিত হন এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়াবলী নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন, যা তাদের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদেরকে একটি সঠিক ও অভিন্ন পথে পরিচালিত করে।
বিপুল ইলম, দুনিয়াবিমুখতা (الزهد), সত্যবাদিতা, নিষ্ঠা এবং সত্য ভাষণে সাহসিকতার বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত আলেম ও কর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের জনমত গঠন এবং সমাজকে কল্যাণের দিকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৭)
فالعالم العاقل حتى يكون قدوة حسنه بعلمه ونزاهته وزهده وجرأته وصدقه وإخلاصه جدير به أن يؤثر بالجماهير ويقودها، ولقد حفل تاريخنا الإسلامي بالأمثلة العديدة لهذه القيادة التي قاد بها العلماء الرأي العام لمواجهة بدع المعتزلة في خلق القرآن وتأثير الفلسفة اليونانية في الفكر الإسلامي وضرب هذا الاتجاه الفلسفي ضربة قاصمة بعلمه وصبره وجهاده وثقة الناس به العالم أحمد بن حنبل- رضي الله عنه والشيخ العز بن عبد السلام- رضي الله عنه قاد الرأي العام في المجتمع الإسلامي لمواجهة الحاكم الذي تعاون مع الصليبين ضد المسلمين، ولمواجهة الانحراف في المجتمع والفساد الذي كان وراءه بعض الأفراد.
والإمام ابن تيمية - رحمه الله تعالى- وتلميذه ابن القيم قاد الرأي العام وأذكى شعلته لمواجهة التتار من جهة. ولمحاربة البدع والأفكار الدخيلة في المجتمع من جهة أخرى، وكان جهاده في ميدان الفكر كجهاده في ميدان المعركة يعطي الصورة الكريمة للعالم المسلم القادر على قيادة الجماهير بعلمه وموقفه، بقلمه وجهاده، حتى لا ينفصل العلم عن الموقف، ولأن الناس لا ينظرون إلى العلماء بألقابهم ووظائفهِم ورتبهم فحسب، وإنما ينظرون إليهم بسيرتهم وحسن اقتدائهم برسول الله صلى الله عليه وسلم جهاداً ودعوة.
একজন প্রাজ্ঞ আলেম যখন তাঁর জ্ঞান, নিষ্কলুষতা, নির্লোভতা, সাহসিকতা, সত্যবাদিতা এবং ইখলাসের গুণে গুণান্বিত হয়ে এক মহান আদর্শে পরিণত হন, তখন তিনিই আপামর জনসাধারণকে প্রভাবিত করতে এবং তাদের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন। আমাদের ইসলামী ইতিহাস এ জাতীয় নেতৃত্বের অসংখ্য উদাহরণে সমৃদ্ধ, যেখানে ওলামায়ে কেরাম 'কুরআন মাখলুক' হওয়া সংক্রান্ত মুতাজিলাদের বিদআত (بدعة) এবং ইসলামী চিন্তাধারায় গ্রিক দর্শনের অনুপ্রবেশের মোকাবিলায় জনমতকে পরিচালিত করেছিলেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বীয় জ্ঞান, ধৈর্য, সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আস্থার মাধ্যমে এই দার্শনিক প্রবণতাকে এক চূর্ণকারী আঘাত করেছিলেন। আবার শায়খ ইযয বিন আব্দুস সালাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের সাথে আঁতাতকারী শাসকের বিরুদ্ধে এবং সমাজের বিচ্যুতি ও কতিপয় ব্যক্তির প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ইসলামী সমাজে জনমত গঠন করেছিলেন।
অনুরূপভাবে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এবং তাঁর সুযোগ্য ছাত্র ইবনুল কায়্যিম একাধারে তাতারীদের মোকাবিলায় জনমত গঠন ও তা উজ্জীবিত করেছিলেন এবং অন্যদিকে সমাজে ছড়িয়ে পড়া বিদআত (بدعة) ও বিজাতীয় চিন্তাধারার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। চিন্তার ময়দানে তাঁর জিহাদ ছিল রণক্ষেত্রের জিহাদের মতোই, যা একজন মুসলিম আলেমের সেই সম্মানজনক চিত্র ফুটিয়ে তোলে—যিনি তাঁর জ্ঞান, সুদৃঢ় অবস্থান, লেখনী এবং সংগ্রামের মাধ্যমে জনতাকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম; যাতে জ্ঞান এবং বাস্তব অবস্থান পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। কারণ, মানুষ আলেমদের কেবল তাঁদের উপাধি, পদবি বা পদের মাপকাঠিতে বিচার করে না, বরং তারা তাঁদের জীবনচরিত এবং জিহাদ ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ অনুসরণের মাধ্যমেই তাঁদের মূল্যায়ন করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৭)
(3)
فريضة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:والعلماء في المجتمع الإسلامي هم المسؤولون بالدرجة الأولى عن القيام بفريضة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وللقيام بهذه الفريضة آثارها الكبيرة في إيجاد الرأي العام الصالح في المجتمع الإسلامي، ولهذا كانت الآيات الكثيرة في القرآن الكريم مبينة هذه الفريضة داعية الأمة إلى القيام بها. ومنها:
{وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} . (آل عمران: 104) .
ومن صفات المؤمنين الصالحين أنهم: يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر.
{يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ} . (التوبة: 71) .
(3)
সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও অসৎ কাজের নিষেধ করার আবশ্যিক বিধান (فريضة):ইসলামী সমাজে উলামায়ে কিরামই প্রধানত সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও অসৎ কাজের নিষেধ করার এই আবশ্যিক বিধান (فريضة) পালনের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের দায়িত্বশীল। এই আবশ্যিক বিধানটি (فريضة) পালনের মাধ্যমে ইসলামী সমাজে একটি কল্যাণকামী জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টি হয়; একারণেই পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এই বিধানের (فريضة) গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে এবং উম্মতকে তা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে:
{আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।} (আল ইমরান: ১০৪) ।
নেককার মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে।
{তারা সৎ কাজের আদেশ দেয়, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে এবং সালাত কায়েম করে।} (আত-তাওবাহ: ৭১) ।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৭)
-وهناك
مؤثرات أخرى في تكوين الرأي العام، عمل الإسلام على توجيهها وربطها بقواعده ومبادئه وهي:
(أ) البيت:
وقد أشار القرآن الكريم إلى الذرية الصالحة التي تتبع الوالدين على
-জনমত গঠনে
আরও কিছু প্রভাবশালী উপাদান রয়েছে, যেগুলোকে ইসলাম তার নিজস্ব নিয়ম ও মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত করার এবং সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করেছে; সেগুলো হলো:
(ক) পরিবার:
পবিত্র কুরআন সেই নেক বা সৎ বংশধরদের প্রতি ইঙ্গিত করেছে যারা তাদের পিতামাতাকে অনুসরণ করে...
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৮)
طريق الإيمان {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُم} . (الطور: 21) ، وأشار إلى خطر انفصال الولد عن أبيه والأسرة عن بعضها إذا انحلت عرى الإيمان فقال: {لا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ} . (المجادلة: 22) .
وفي الحديث الشريف: "كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يهودانه أو يمجسانه أو ينصرانه 1 "وكلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته ".
(ب) المدرسة:
وهى بيوت العلم التي حرص الإسلام على أدائها لرسالتها مهتدية بقواعد الإسلام ومبادئه في المنهج، والكتاب، والعلم، وحذر أشد التحذير من انحرافها عن الكتاب والسنة، ووجه لأن تكون العلوم المختلفة خادمة العقيدة والإيمان بالله ووحدانيته، حتى لا يتناقض ما يقرأه الطالب في درس التربية الإسلامية عما يقرأه في المباحث الأخرى، ولتكون الثقافة الواحدة التي يتربى عليها أفراد المجتمع في المدارس ثقافة واحدة، توحد الفكر ولا تمزقه، وتساعد على إيجاد رأي عام واحد صالح يخدم أهداف الإسلام ويرعى مبادئه.
لقد أثمرت الثقافة الإسلامية الواحدة التي تلقتها الأمة في المسجد والمدرسة وحدة في الاتجاه العام والرأي العام جعل أبناءها في العصور السالفة على اختلاف تخصصاتهم العلمية في الحديث، والتفسير، والفقه واللغة، والفلك والكيمياء والفيزياء والطب والهندسة أبناء ثقافة واحدة، تسلك طريقهم، وتوحد خطاهم في المجتمع، وتصنع وحدتهم وتقيم أواصر التعاون فيما بينهم. وحين وقع الانفصال بين الجامع والجامعة، وبين المدرسة والمسجد، وبين مصادر التوجيه، والدين، وأخذت تتسرب للأمة الثقافات المتعددة نتيجة الغزو الفكري الأجنبي، وسيطرة المستشرقين وتلاميذهم على معظم الجامعات في البلاد الإسلامية
… وانتقل هذا التأثير المنحرف إلى المناهج والكتب المدرسية في مراحل الدراسة الابتدائية والإعدادية والثانوية في بلاد المسلمين، حين حصل هذا وقع الانفصال بين ثقافة الأمة وشخصيتها الحضارية المستمدة من دينها وتاريخها وأصولها. وأصبح الرأي العام يتأثر تأثراً كبيراً بقيم جديدة وثقافات غريبة أوجدتها مراكز التوجيه المنحرفة. وأصبحت مهمة العلماء صعبة شاقة، ورسالتهم كبيرة ضخمة لإيجاد التغيير في المجتمع، والعودة إلى قيادة الأمة والرأي العام فيها من جديد.
--------------------------------------------
ঈমানের পথ: {আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলিত করে দেব} (আত-তুর: ২১)। এবং ঈমানের বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেলে সন্তান তার পিতা থেকে এবং পরিবার একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন: {তুমি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ভালোবাসে; যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র বা ভাই হোক না কেন} (আল-মুজাদালাহ: ২২)।
এবং হাদিস শরিফে এসেছে: "প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাত (প্রকৃতিগত দ্বীন)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, অগ্নিপূজক বা খ্রিস্টান হিসেবে গড়ে তোলে ১" এবং "তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।"
(খ) বিদ্যালয় (মাদরাসা):
এটি হলো ইলমের ঘর, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং যা পাঠ্যক্রম, পাঠ্যপুস্তক ও ইলমের ক্ষেত্রে ইসলামের নিয়মাবলি ও মূলনীতির আলোকে পরিচালিত হয়। এটি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আকিদাহ, আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদের সেবক হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে একজন ছাত্র ইসলামি শিক্ষা পাঠে যা শেখে, অন্যান্য বিষয়ে তার পঠিত বিষয়ের সাথে তার কোনো বিরোধ তৈরি না হয়। এছাড়া সমাজের ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়ে যে একক সংস্কৃতির ওপর বেড়ে ওঠে, তা যেন একটি অভিন্ন সংস্কৃতি হয়, যা চিন্তাধারাকে ঐক্যবদ্ধ করবে, বিচ্ছিন্ন করবে না; এবং এটি এমন একটি অভিন্ন ও কল্যাণকর জনমত গঠনে সহায়তা করবে যা ইসলামের লক্ষ্যসমূহ পূরণ করবে এবং এর মূলনীতিসমূহ রক্ষা করবে।
মসজিদ ও বিদ্যালয়ে উম্মাহ যে একক ইসলামি সংস্কৃতি লাভ করেছিল, তা সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ও জনমতের ক্ষেত্রে এমন এক ঐক্যের ফল দিয়েছিল, যা অতীত যুগের সন্তানদের তাদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিশেষত্ব—যেমন: হাদিস, তাফসির, ফিকহ ও ভাষা এবং জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, চিকিৎসা ও প্রকৌশল—সত্ত্বেও একক সংস্কৃতির সন্তানে পরিণত করেছিল। এটি তাদের পথ নির্ধারণ করত, সমাজে তাদের পদক্ষেপসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করত, তাদের ঐক্য গঠন করত এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন সুদৃঢ় করত। কিন্তু যখন জামে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে, বিদ্যালয় ও মসজিদের মধ্যে এবং নির্দেশনার উৎস ও দ্বীনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটল, এবং বিদেশি বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন ও মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের আধিপত্যের ফলে উম্মাহর মধ্যে বহুমুখী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ শুরু হলো
… এবং এই বিভ্রান্তিকর প্রভাব মুসলিম দেশগুলোর প্রাথমিক, নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে স্থানান্তরিত হলো, তখন উম্মাহর সংস্কৃতি এবং এর দ্বীন, ইতিহাস ও মূল উৎস থেকে প্রাপ্ত এর তামাদ্দুনিক সত্তার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে গেল। ফলে জনমত সেই সব নতুন মূল্যবোধ ও বিজাতীয় সংস্কৃতি দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে শুরু করল, যা ভ্রান্ত নির্দেশনাকেন্দ্রগুলো তৈরি করেছিল। এমতাবস্থায় উলামায়ে কেরামের কাজ কঠিন ও দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং সমাজে পরিবর্তন আনা ও উম্মাহর নেতৃত্ব ও জনমত গঠনে পুনরায় ফিরে আসার জন্য তাদের দায়িত্ব অনেক বড় ও বিশাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
بالإضافة إلى المؤثرات الاقتصادية والاجتماعية الأخرى التي شغلت الناس بالمادة عن الله وعبادته.
4- من مبادئ الإسلام أن يرجع المسلم إلى العلماء المشهود لهم بالصدق والنزاهة للتعرف على أحكام الله، ومتابعتهم قال تعالى: {فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} .
{وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} . (النساء:83) .
5- من مبادئ الإسلام أن الذي يصيب مسلما بسوء يصيب المجتمع كله، ومن هنا حرم الإسلام الإشاعات الباطلة ونزلت الآيات في حديث الإفك تربية للأمة وتطويراً للرأي العام فيها وصيانة له من الانحراف والجرأة على الباطل بدون بينة 1.
6- من مبادئ الإسلام فريضة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والآيات كثيرة تدل على وجوبها.
وسائل الإعلام والتوجيه المختلفة:
لوسائل الإعلام من إذاعة وتلفزيون وصحافة أثرها في إيجاد الرأي العام، فالرأي العام هو أساس الإعلام
… فهدف الإعلام الأول إيجاد الرأي العام أو توجيهه نحو قضية ما أو وجهة نظر مطلوبة وتأثير الإعلام في الرأي العام راجع إلى اتصاله المباشر بالجماهير على اختلاف طبقاتهم ومستوياتهم الثقافية.
ورجل الإعلام الناجح هو الذي يعرف نفسية الجماهير ورغباتهم ويحاول توجيهها لمصالح فكرته ومؤسسته.
ودخول وسائل الإعلام كل بيت بغير استئذان، وعرضها للفكرة بوسائل الإقناع المختلفة في أوقات النهار المختلفة يجعل لها التأثير البالغ على عقول الجماهير وإيجاد الرأي. العام في الأمة.
ومن هنا كانت خطورة أجهزة الإعلام وأهميتها البالغة إيجاباً أو سلباً، ومن هنا كان على العلماء في البلاد الإسلامية واجب كبير في توجيه هذه الأجهزة "السيطرة عليها حتى تكون معبرة عن عقيدة الأمة وحضارتها، داعية إليها بالحكمة والموعظة الحسنة، وهذا يقتضي أن تكون لهذه الأجهزة رسالة وفلسفة واضحة تلتقي مع رسالة أجهزة التوجيه
--------------------------------------------
সেই সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব যা মানুষকে আল্লাহ এবং তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ করে পার্থিব বস্তুর মোহে লিপ্ত করেছে।
৪- ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো, আল্লাহর বিধানাবলি জানার জন্য এবং তাঁদের অনুসরণ করার জন্য একজন মুসলমান এমন আলেমদের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে যাঁদের সত্যবাদিতা (الصدق) ও সততা (النزاهة) সর্বজনবিদিত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।"
"আর যদি তারা তা রাসুলের এবং তাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশালীদের কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন করে, তারা অবশ্যই এর স্বরূপ জানতে পারত।" (আন-নিসা: ৮৩)।
৫- ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো, কোনো মুসলমানকে অনিষ্ট করা মানে পুরো সমাজকে অনিষ্ট করা। এখান থেকেই ইসলাম মিথ্যা গুজব রটানো হারাম করেছে এবং উম্মাহকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে, জনমত গঠনে এবং প্রমাণহীনভাবে মিথ্যার ওপর আস্ফালন ও বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষার জন্য ইফকের হাদিস সম্পর্কিত আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে ১।
৬- ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা। এর আবশ্যকতা প্রমাণে অনেক আয়াত রয়েছে।
গণমাধ্যম ও বিভিন্ন নির্দেশনামূলক মাধ্যমসমূহ:
বেতার, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মতো গণমাধ্যমগুলোর জনমত সৃষ্টিতে বিশাল প্রভাব রয়েছে। কারণ জনমতই হলো গণমাধ্যমের মূল ভিত্তি
… গণমাধ্যমের প্রধান লক্ষ্য হলো জনমত সৃষ্টি করা অথবা একে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় বা কাঙ্ক্ষিত দৃষ্টিভঙ্গির দিকে পরিচালিত করা। জনমতের ওপর গণমাধ্যমের এই প্রভাবের কারণ হলো বিভিন্ন শ্রেণি ও সাংস্কৃতিক স্তরের জনসাধারণের সাথে এর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ।
একজন সফল গণমাধ্যমকর্মী তিনিই, যিনি জনসাধারণের মনস্তত্ত্ব ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জানেন এবং সেগুলোকে নিজের আদর্শ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পরিচালিত করার চেষ্টা করেন।
বিনানুমতিতে প্রতিটি ঘরে গণমাধ্যমের প্রবেশ এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে বিচিত্র উপায়ে কোনো আদর্শকে উপস্থাপন করা জনসাধারণের মনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে এবং জাতির মধ্যে জনমত সৃষ্টি করে।
আর এখান থেকেই গণমাধ্যমগুলোর গুরুত্ব ও ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাবের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে। এ কারণেই মুসলিম দেশগুলোর আলেমদের ওপর এই মাধ্যমগুলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার এক গুরুদায়িত্ব বর্তায়, যাতে এগুলো জাতির আকিদা ও সভ্যতার প্রতিফলন ঘটাতে পারে এবং হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে সেদিকে আহ্বান জানায়। এর জন্য প্রয়োজন এই মাধ্যমগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দর্শন থাকা, যা নির্দেশনামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
الأخرى في المجتمع وهي: المسجد والمدرسة والصحافة والكتاب، حتى لا تتناقض هذه الأجهزة ولا يهدم جهاز ما يبنيه الآخر، ولا تحدث الصراع والتمزق في نفوس أبناء الأمة. كما يقتضي حسن اختيار العاملين في هذه الأجهزة كفاءة وديناً وخلقاً ليكون رجال الإعلام القدوة الحسنة لما يدعون إليه الناس بسيرتهم وخلقهم، ولتكون دعوتهم مؤثرة فاعلة في الجماهير.
إن انفصال رجل الإعلام عن قيم الإسلام وأخلاقه بسيرته وسلوكه جريمة كبرى في أي بلد إسلامي تجعل من اللص (محافظاً على بيت المال) . (والمجرم) مسؤولاً عن حفظ الأمن.!!
كما تقيم الهوة السحيقة بين أجهزة الإعلام وثقة الناس بها. ومن هنا كان من أعظم الواجبات التي يجاهد لتحقيقها العلماء إنقاذ أجهزة الإعلام من التوجيه الفاسد المنحرف في البلاد الإسلامية. والقيام بمسؤولياتهم في توجيه الأمة من خلالها بلغة العصر وأسلوبه وكفاءته.
সমাজের অন্যান্য মাধ্যমগুলো হলো: মসজিদ, মাদ্রাসা, সংবাদপত্র ও পুস্তক; যাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য তৈরি না হয় এবং একটি অঙ্গন যা নির্মাণ করে অন্যটি যেন তা ধ্বংস না করে দেয়, আর যাতে উম্মাহর সন্তানদের অন্তরে কোনো সংঘাত ও বিভেদ সৃষ্টি না হয়। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের যোগ্যতা, দ্বীনদারি ও চারিত্রিক গুণাবলির ভিত্তিতে উত্তমরূপে নির্বাচন করা আবশ্যক, যাতে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের জীবনচরিত ও আচরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ হতে পারেন এবং জনসাধারণের মাঝে তাদের দাওয়াত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়।
গণমাধ্যমকর্মীর জীবনযাত্রা ও আচরণের সাথে ইসলামের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিচ্ছেদ যেকোনো মুসলিম দেশে এক গুরুতর অপরাধ, যা চোরকে ‘বায়তুল মালের রক্ষক’ এবং ‘অপরাধীকে’ নিরাপত্তার দায়িত্বশীল বানিয়ে দেওয়ার শামিল।!!
এটি গণমাধ্যম এবং জনসাধারণের আস্থার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি করে। এ কারণেই মুসলিম দেশগুলোতে গণমাধ্যমকে কলুষিত ও বিচ্যুত পরিচালনা থেকে রক্ষা করা আলেমদের অন্যতম মহান দায়িত্ব, যার জন্য তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সমসাময়িক যুগের ভাষা, শৈলী ও দক্ষতার সাথে এই মাধ্যমগুলোর সাহায্যে উম্মাহর দিকনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করাও তাঁদের অন্যতম কর্তব্য।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
وظيفة الرأي العام
رعاية تطبيق الأحكام الشرعية…(3) وظيفة الرأي العام:
للرأي العام في المجتمع الإسلامي وظائفه عديدة من أهمها:
1- رعاية تطبيق الأحكام الشرعية.
2- حراسة المبادئ الإسلامية وصيانتها ومساندة هيئات الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في هذا المجال.
3- حسن استنباط الأحكام الشرعية من أدلتها في الكتاب والسنة عن طريق إعطاء الثقة بأهل الحل والعقد من العلماء والعاملين.
4- رفع الروح المعنوية للأمة وتقوية أواصرها وتعاونها.
5- استثارة مشاعر الأمة للقيام بواجب معين.
1- رعاية تطبيق الأحكام الشرعية:
الأمة الإسلامية مخاطبة جميعها بتطبيق الأحكام الشرعية، والخطاب في القرآن في هذا المجال يتناول أَفراد الأمة جميعاً. فقوله تعالى في سورة النور مثلاً: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} . موجه لكل فرد في الأمة. ونظراً لأن الأفراد لا يستطيعون القيام بهذه المسؤولية متجمعين فلابد أن يختاروا من يقوم عنهم بهذه المهمة وهو الحاكم أو الإمام فالحاكم في الدولة الإسلامية وكيل الأمة في إقامة أحكام الله المطلوبة منهم جميعاً.
জনমতের ভূমিকা
শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ…(৩) জনমতের ভূমিকা:
ইসলামি সমাজে জনমতের অনেকগুলো ভূমিকা রয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১- শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ।
২- ইসলামি মূলনীতিসমূহের রক্ষা ও সংরক্ষণ করা এবং এই ক্ষেত্রে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ সংক্রান্ত সংস্থাসমূহকে সহায়তা করা।
৩- আলেম ও কর্মীবৃন্দের মধ্য থেকে 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ)-এর প্রতি আস্থা (الثقة) প্রদানের মাধ্যমে কিতাব ও সুন্নাহর দলিল (الأدلة) থেকে শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) সঠিক উদ্ভাবন (استنباط) করা।
৪- উম্মাহর মনোবল বৃদ্ধি এবং তাদের মধ্যকার বন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করা।
৫- কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য উম্মাহর আবেগকে জাগ্রত করা।
১- শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ:
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) বাস্তবায়নের জন্য সম্বোধিত, আর এই ক্ষেত্রে কুরআনের সম্বোধন উম্মাহর সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, সুরা আন-নূরে আল্লাহ তাআলার বাণী: "ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করো।" এটি উম্মাহর প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি নির্দেশিত। যেহেতু ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম নয়, তাই তাদের পক্ষ থেকে এই কার্য সম্পাদন করার জন্য কাউকে নির্বাচন করা আবশ্যক, আর তিনি হলেন শাসক বা ইমাম। সুতরাং ইসলামি রাষ্ট্রে শাসক হলেন উম্মাহর সকলের পক্ষ থেকে কাম্য আল্লাহর বিধানসমূহ (الأحكام) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উম্মাহর প্রতিনিধি।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
ومن هنا كان للرأي العام سلطانه في دعوة الحكومة لتطبيق أحكام الله تعالى والتقيد بها وعدم الخروج عنها إلى قوانين وضعية أو مشاريع مستوردة.
يقول الإمام النسفي في تفسير قوله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} . والخطاب للأئمة لأن إقامة الحد من الدين، وهي على الكل إلا أنهم لا يمكنهم الاجتماع فينوب الإمام منابهم 1.
--------------------------------------------
এখান থেকেই জনমতের সেই প্রভাব ও কর্তৃত্বের প্রতিফলন ঘটে যা সরকারকে মহান আল্লাহর বিধানসমূহ বাস্তবায়ন ও সেগুলোর প্রতি অনুগত থাকার এবং তা থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো মানব রচিত আইন বা আমদানিকৃত প্রকল্পের দিকে ধাবিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানায়।
ইমাম নাসাফী মহান আল্লাহর বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করো}—এর তাফসীরে বলেন: আর এই সম্বোধনটি ইমামদের প্রতি, কারণ দণ্ডবিধি (حد) কার্যকর করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সকলের ওপর অর্পিত দায়িত্ব, তবে যেহেতু তাদের পক্ষে একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই ইমাম তাদের প্রতিনিধি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
2-
حراسة المبادئ الإسلامية وصيانة قيمتها في المجتمع:ومن هذا المبدأ كانت مسؤولية الأمة عامة عن حراسة مبادئ الشريعة وقيمتها، وكان الرأي العام في المجتمع الإسلامي ذا سلطان قوي في حراسة هذه المبادئ ورعاية هذه القيم وصيانتها.
وقد وجه القرآن الكريم الأمة الإسلامية ودعاها مجتمعة متعاونة لترفع صوتها في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ومساندة العلماء الذين يقومون بهذه المسؤولية. والأمر بالمعروف يعني الأمر بما قرره الكتاب والسنة من مبادئ وقيم وأحكام للمجتمع، والنهي عن المنكر يعني النهى عما نهى عنه الكتاب والسنة من معاصي تعتبر خروجاً عن المبادئ الإسلامية وقيمها.
ومن المناسب إيراد النصوص التالية من الكتاب والسنة التي تصور حرص الإسلام على مساندة تعاليمه وأحكامه بسلطان الرأي العام المسلم:
(1) قال الله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} . (آل عمران:104) .
(2) عن النعمان بن بشير- رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم: "مثل القائم في حدود الله، والواقع فيها كمثل قوم استهموا على سفينة، فصار بعضهم أعلاها، وبعضهم أسفلها، فكان الذين في أسفلها إذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم، فقالوا: لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقا، ولم نؤذ من فوقنا، فإن تركوهم وما أرادوا هلكوا جميعاً، وإن أخذوا على أيديهم نجوا ونجوا جميعاً" 2.
فالرأي العام مدعو هنا للتوجيه وإصلاح الخطأ وإنقاذ نفسه مع إنقاذ المرتكبين للخطأ،
--------------------------------------------
২-
ইসলামি মূলনীতিসমূহের সুরক্ষা এবং সমাজে এর মূল্যবোধের সংরক্ষণ:আর এই মূলনীতির আলোকেই শরিয়তের মূলনীতি ও এর মূল্যবোধ রক্ষার সার্বিক দায়িত্ব উম্মতের ওপর অর্পিত হয়েছে। আর ইসলামি সমাজের জনমত এই মূলনীতিসমূহ রক্ষা এবং এই মূল্যবোধের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে এক শক্তিশালী প্রভাবের অধিকারী ছিল।
কুরআন মাজিদ মুসলিম উম্মাহকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং সম্মিলিত ও সহযোগিতামূলকভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ হতে এবং এই দায়িত্ব পালনকারী উলামায়ে কেরামকে সমর্থন জোগাতে আহ্বান জানিয়েছে। 'সৎকাজের আদেশ' বলতে কুরআন ও সুন্নাহ সমাজের জন্য যে সকল মূলনীতি, মূল্যবোধ ও বিধান নির্ধারণ করেছে তার আদেশ প্রদানকে বোঝায়। আর 'অসৎকাজের নিষেধ' বলতে কুরআন ও সুন্নাহ যে সকল পাপাচার থেকে নিষেধ করেছে—যা ইসলামি মূলনীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে গণ্য হয়—তা থেকে বারণ করাকে বোঝায়।
মুসলিম জনমতের শক্তির মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা ও বিধানসমূহকে সুদৃঢ় করার বিষয়ে ইসলামের যে ঐকান্তিক আগ্রহ রয়েছে, তা ফুটিয়ে তুলতে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ পেশ করা সমীচীন:
(১) আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজের নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।" (আলে ইমরান: ১০৪)।
(২) নুমান ইবনে বাশির (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহর নির্ধারিত সীমার ওপর অটল থাকা ব্যক্তি এবং তাতে লিপ্ত ব্যক্তির উদাহরণ সেই জাতির মতো, যারা একটি নৌকার আরোহী হওয়ার ব্যাপারে লটারি করল। ফলে তাদের কেউ উপরের তলায় আর কেউ নিচের তলায় স্থান পেল। যারা নিচে ছিল তাদের পানির প্রয়োজন হলে উপরের লোকদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। তখন তারা বলল, আমরা যদি আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই তবে ওপরের তলার লোকদের কষ্ট হবে না। এমতাবস্থায় ওপরের তলার লোকরা যদি তাদের আপন ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয় তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের হাত ধরে (বিরত রাখে), তবে তারা নিজেরাও বেঁচে যাবে এবং সবাই রক্ষা পাবে।" ২
এখানে জনমতকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান, ভুল সংশোধন এবং ভুলকারীকে রক্ষার পাশাপাশি নিজেকে রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫২)
إن الحديث الشريف يحذر الجماعة من شعور (اللامبالاة) وعدم الاهتمام بقضايا الجماعة العامة بحجة أن الذين يرتكبون الفساد قوم غيرهم.
(3) والمسلم.. مدعو للجهاد والتضحية في سبيل نصرة أحكام الشريعة إذا انتهك حرمتها حاكم ظالم. عن جابر- رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "سيد الشهداء حمزة بن عبد المطلب، ورجل قام إلى إمام جائر فأمره ونهاه، فقتله " 1.
إن الجمع بين حمزة بن عبد المطلب- رضي الله عنه الذي أبلى بلاء حسناً في قتال المشركين والتنكيل بهم حتى قضى شهيداً في غزوة أحد، وبين من جهر بكلمة الحق في وجه إمام ظالم، يصلنا بطبيعة المعركة التي خاضها حمزة- رضي الله عنه في وجه الجاهلية وظلمها، ويخوضها إخوان حمزة في طريق العمل لاستئناف الدولة الإسلامية، أو في مواجهة محاولات الظالمين لإبعاد أحكام الشريعة عن التطبيق بالتدريج وبالوسائل المختلفة. إن ظهور أمثال هؤلاء الرجال في ساحات المجتمع الإسلامي ومواجهة أعداء الشريعة من شأنه إلهاب مشاعر الجماهير المسلمة وإضاءة الطريق أمام الرأي العام ليقول كلمته ويتحمل مسؤوليته.
(4) إن دعوة الرأي العام في المجتمع المسلم ليقف في وجه الانحراف والفساد ومحاولات الخداع والتمويه تظهر صريحة في حديث النبي الكريم: عن ابن مسعود- رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما من نبي بعثه الله في أمة قبلي إلا كان له من أمته حواريون، وأصحاب يأخذون بسنته، ويقتدون بأمره، ثم إنها تخلف من بعدهم خلوف يقولون مالا يفعلون، ويفعلون مالا يؤمرون، فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن، ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن، ومن جاهدمم بقلبه فهو مؤمن، ليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل "2.
(5) ويحذر الإسلام أفراد المجتمع المسلم من الجبن في نصرة الحق والوقوع في ذلة الجبن والخور أمام رأي الأكثرية الفاسدة.
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يُحقِّرَن أحدكم نفسه، قالوا: يا رسول الله وكيف يحقر أحدنا نفسه؟ قال: يرى أن عليه مقالا، ثم لا
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই হাদিস শরিফ জামাতকে (সমাজ) 'উদাসীন্য' এবং এই অজুহাতে জামাতের সাধারণ বিষয়াবলি সম্পর্কে গুরুত্বহীনতার অনুভূতি থেকে সতর্ক করে যে, যারা বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি করছে তারা অন্য কোনো গোষ্ঠী।
(3) আর একজন মুসলিম... শরিয়তের বিধানসমূহ বিজয়ী করার পথে জিহাদ ও আত্মত্যাগের জন্য আহূত হন, যদি কোনো অত্যাচারী শাসক তার পবিত্রতা লঙ্ঘন করে। জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) এরশাদ করেছেন: "শহিদদের সরদার হলেন হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব, এবং সেই ব্যক্তি যে কোনো অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দকাজে নিষেধ করে, আর সে (শাসক) তাকে হত্যা করে" ১।
নিশ্চয়ই হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা.)—যিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ও তাদের নাস্তানাবুদ করতে সর্বোত্তম লড়াই করেছিলেন এবং ওহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন—এবং যে ব্যক্তি জালেম শাসকের সামনে সত্য কথা উচ্চারণ করে, তাদের মধ্যকার এই সমন্বয় আমাদের সেই যুদ্ধের প্রকৃতির সাথে যুক্ত করে যা হামজা (রা.) জাহিলিয়াত ও তার জুলুমের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। আর হামজার ভাইয়েরাও সেই যুদ্ধের ময়দানে রয়েছেন যারা ইসলামি রাষ্ট্র পুনপ্রতিষ্ঠার পথে কাজ করছেন অথবা শরিয়তের বিধানসমূহকে বিভিন্ন উপায়ে ও পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জালেমদের প্রচেষ্টার মোকাবিলা করছেন। মুসলিম সমাজের ময়দানে এ জাতীয় ব্যক্তিদের আবির্ভাব এবং শরিয়তের শত্রুদের মোকাবিলা করা মুসলিম জনসাধারণের অনুভূতিকে প্রজ্জ্বলিত করে এবং জনমতের সামনে পথকে আলোকিত করে, যাতে তারা নিজেদের কথা বলতে পারে এবং নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারে।
(4) মুসলিম সমাজের জনমতকে বিচ্যুতি, বিশৃঙ্খলা এবং ধোঁকা ও প্রতারণার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রিয় নবীর হাদিসে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়: ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: "আমার পূর্বে আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার উম্মতের মধ্যে তাঁর এমন কিছু সাহায্যকারী ও সাহাবী ছিল না, যারা তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করত এবং তাঁর আদেশ মেনে চলত। অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটে যারা এমন কথা বলে যা তারা করে না, এবং এমন কাজ করে যার আদেশ তাদের দেওয়া হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন এবং যে ব্যক্তি নিজের অন্তর দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মুমিন। এর বাইরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই" ২।
(5) আর ইসলাম মুসলিম সমাজের ব্যক্তিদের সত্যের সাহায্যে ভীরুতা প্রদর্শন করা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের সামনে ভীরুতা ও দুর্বলতার লাঞ্ছনায় নিপতিত হওয়া থেকে সতর্ক করে।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান না করে।" তারা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ কীভাবে নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করে? তিনি বললেন: "সে দেখে যে তার ওপর কিছু বলার (দায়িত্ব) রয়েছে, অথচ সে তা বলে না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৩)
يقول فيه، فيقول الله عز وجل يوم القيامة: ما منعك أن تقول في كذا وكذا؟ فيقول خشية الناس: فيقول فإياي كنت أحق أن تخشى". 1
(6) ويحذر الله الجماعة المسلمة أن يفلت من يدها زمام الأمر فتغلب المعاصي وتنتشر الفاحشة فيستحقوا عذاب الله. وقد سألت عائشة- رضي الله عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنهلك وفينا الصالحون؟ قال: نعم إذا كثر الخبث "2.
وعن جرير بن عبد الله- رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ما من رجل يكون في قوم يعمل فيهم بالمعاصي يقدرون على أن يغيروا عليه، ولا يغيرون إلا أصابهم الله منه بعقاب قبل أن يموتوا"3.
وعن أبي بكر الصديق- رضي الله عنه قال: يا أيها الناس إنكم تقرؤون هذه الآية: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
… } (المائدة: 160) وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الناس إذا رأوا الظالم فلم يأخذوا على يديه أوشك أن يعمهم الله بعقاب عن عنده " 4.
الرأي العام ودوره في مقاطعة مجالس المنكرات:
ومن خير ما تتجلى به حراسة الرأي العام في المجتمع الإسلامي لمبادئ الشريعة وقيمها الحكم الشرعي الذي يأمر الجماعة المسلمة وكل فرد مسلم بمقاطعة مجالس المنكرات، والأماكن التي يعصى فيها الله، والمحافل التي يستهزأ فيها بدين الله، قال تعالى:
{وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذاً مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعاً} . (النساء: 140) إن المسلم مدعو إذا لم يستطع أن يغير المنكر بيده ولسانه، أن يغيره بقلبه والتغيير بالقلب ليس حركة انفعالية نفسية ولا تظهر أثراً إيجابياً في إزالة المنكر، بل هي حركة انفعالية نفسية عملية تساعد على التغيير بالانسحاب من مجلس يعصى فيه الله، وهذا ما عبر عنه النبي صلى الله عليه وسلم في حديث له: "من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان".
إن كلمة: "فبلسانه " و "فبقلبه " متعلقتان بالفعل "فليغيره"، والتقدير: فليغيره بيده،
--------------------------------------------
তিনি এতে বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন: "অমুক অমুক বিষয়ে (কথা বলতে) তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল?" তখন সে বলবে: "মানুষের ভয়ের কারণে।" আল্লাহ বলবেন: "বরং আমিই ছিলাম অধিক হকদার যে তুমি আমাকে ভয় পেতে।" 1
(6) এবং আল্লাহ মুসলিম সমাজকে সতর্ক করেছেন যাতে তাদের হাত থেকে বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ না ছুটে যায়, যার ফলে পাপাচারে সয়লাব ঘটে এবং অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তারা আল্লাহর আজাবের উপযুক্ত হয়। আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আমাদের মাঝে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।" 2.
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো কওমের মধ্যে থাকে এবং তাদের মাঝে পাপাচার করে, আর তারা তা পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখা সত্ত্বেও তা পরিবর্তন করে না, তবে আল্লাহ তাদের মৃত্যুর পূর্বেই তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তিতে নিপতিত করবেন।" 3.
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতটি পাঠ কর: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না...} (আল-মায়েদাহ: ১৬০) এবং আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "মানুষ যখন কোনো জালেমকে দেখে অথচ তার হাত চেপে ধরে না (তাকে বাধা দেয় না), তবে অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি দিয়ে পরিবেষ্টন করবেন।" 4.
জনমত এবং অপকর্মের মজলিস বর্জনে এর ভূমিকা:
ইসলামি সমাজে শরিয়তের মূলনীতি ও মূল্যবোধ রক্ষায় জনমতের অতন্দ্র প্রহরার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ হলো সেই শরিয়তসম্মত বিধান, যা মুসলিম উম্মাহ এবং প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিকে অপকর্মের মজলিসসমূহ, আল্লাহর নাফরমানি করা হয় এমন স্থান এবং আল্লাহর দ্বীন নিয়ে উপহাস করা হয় এমন মাহফিল বর্জন করার নির্দেশ দেয়। মহান আল্লাহ বলেন:
{তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি (এই বিধান) অবতীর্ণ করেছেন যে, তোমরা যখন শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় লিপ্ত হয়। অন্যথায় তোমরাও তাদের মতোই গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন।} (আন-নিসা: ১৪০)। একজন মুসলিম যদি তার হাত ও জিহ্বা দ্বারা অপকর্ম পরিবর্তন করতে সক্ষম না হয়, তবে সে যেন তা অন্তর দিয়ে পরিবর্তন করে। আর অন্তর দিয়ে পরিবর্তন করা কেবল কোনো মানসিক আবেগীয় বিষয় নয় যা অপকর্ম দূরীকরণে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না, বরং এটি একটি মানসিক ও ব্যবহারিক আবেগীয় পদক্ষেপ যা আল্লাহর নাফরমানি করা মজলিস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনে সহায়তা করে। নবী (সা.) একটি হাদিসে এটিই ব্যক্ত করেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অপকর্ম হতে দেখবে সে যেন তা হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি তাতে সক্ষম না হয় তবে জিহ্বা দিয়ে; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে অন্তর দিয়ে। আর এটিই হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতম স্তর।"
নিশ্চয়ই "তার জিহ্বা দিয়ে" এবং "তার অন্তর দিয়ে" শব্দ দুটি "সে যেন তা পরিবর্তন করে দেয়" ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। আর মূল উদ্দেশ্য হলো: সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে,<
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৪)
أو فليغيره بلسانه أو فليغيره بقلبه
… ولا يكون بالقلب تغيير إلا بحركة هي أضعف الحركات وأقلها بعد اليد واللسان هي حركة الانسحاب من مجالس المنكرات ومقاطعتها
الرأي العام ودوره في مقاطعة من عصى:
والرأي العام في الإسلام حين يخاصم ويقاطع هدفه الإصلاح والعلاج، لا التشهير والهدم، وهذا ما يميزه عن المجتمعات المادية، فالثلاثة الذين خلفوا عن الجهاد بغير عذر وأمر الرسول صلى الله عليه وسلم الأمة بمقاطعتهم واستعمل رسول الله صلى الله عليه وسلم سلاح الرأي العام هذا وسيلة صالحة لإبرار أثر التخلف عن الجهاد على الأمة، وقيام الأمة جميعها بواجب المقاطعة، حتى أقارب المقاطع وزوجه يقاطعونه.
حتى إذا حققت المقاطعة ثمرتها التربوية للمتخلفين خاصة، وللأمة عامة نزل الحكم من السماء بإنهاء المقاطعة والتوبة على الذين تخلفوا وتابوا وأنابوا.
قال تعالى: {لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} . (التوبة:117-118) 1.
إن سلاح المقاطعة يمثل قمة التربية الإيمانية للشخصية المسلمة حين تحب في الله، وتبغض في الله، وتصل في الله، وتقطع في الله، وتحارب في الله وتسالم في الله.
وإن العقيدة التي توحد رأي أبنائها في إصدار حكم على شخص بمقاطعته لأنه تخلف عن الجهاد، أو جاهر بمعصية لتمثل لنا أسلوباً من أساليب الدعوة الإسلامية في تربية الجماعة وإصلاحها، والدارس للتاريخ الإسلامي يجد تطبيقاً كريماً لهذه المبادئ في محيط الأسرة، أو محيط الجماعة حين يخرج أحدهم عن الجادة، ويجاهر بمعصية الله فيهجر في الله، وتعطى الأمة برأيها فيه بالمقاطعة العلنية.
وقد ظهر هذا الأسلوب في مرحلة الدعوة الأولى في مكة قبل الهجرة حين أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بأن يهجر المجالس التي لا توقر فيها آيات الله وشرائعه فقال تعالى: {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ} . (الأنعام: 68) .
--------------------------------------------
...অথবা সে যেন তার জিহ্বা দ্বারা তা পরিবর্তন করে, অথবা তার অন্তর দ্বারা তা পরিবর্তন করে
… আর অন্তরের মাধ্যমে পরিবর্তন তখনই সম্পন্ন হয় যখন এমন একটি নড়াচড়া সংঘটিত হয় যা হাত ও জিহ্বার নড়াচড়ার তুলনায় সবচেয়ে দুর্বল ও ন্যূনতম। আর তা হলো পাপাচারের মজলিস থেকে সরে আসা এবং তা বর্জন করা।
জনমত এবং অবাধ্য ব্যক্তিকে বর্জনের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা:
ইসলামে জনমত যখন কারো বিরোধিতা করে বা তাকে বর্জন করে, তখন তার লক্ষ্য হয় সংশোধন ও প্রতিকার করা; মানহানি বা ধ্বংস করা নয়। আর এটিই একে জড়বাদী সমাজ ব্যবস্থা থেকে পৃথক করে। উদাহরণস্বরূপ, সেই তিন ব্যক্তি যারা কোনো ওজর ছাড়াই জিহাদ থেকে পিছিয়ে ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের বর্জন করার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনমতের এই অস্ত্রটিকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন উম্মতের ওপর জিহাদ থেকে পিছিয়ে পড়ার প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে এবং সমগ্র উম্মতের পক্ষ থেকে বর্জনের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে; এমনকি বর্জিত ব্যক্তির নিকটাত্মীয় ও তার স্ত্রীও তাকে বর্জন করেছিলেন।
পরিশেষে, যখন এই বর্জন প্রক্রিয়া বিশেষভাবে সেই পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিদের জন্য এবং সাধারণভাবে উম্মতের জন্য তার শিক্ষামূলক সুফল বয়ে আনল, তখন আসমান থেকে এই বর্জন সমাপ্ত করার এবং যারা পিছিয়ে পড়েছিল কিন্তু পরে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছিল, তাদের তওবা কবুলের ফয়সালা নাজিল হলো।
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করেছেন নবীকে এবং মুহাজির ও আনসারদেরকে, যারা সংকটের মুহূর্তে তাঁর অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের মধ্যকার একদলের অন্তর বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তারপর তিনি তাদের ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি পরম স্নেহশীল ও দয়ালু। আর সেই তিন ব্যক্তিকেও (ক্ষমা করলেন) যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, এমনকি যখন পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে এসেছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল এবং তারা উপলব্ধি করেছিল যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নেই। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি সদয় হলেন যাতে তারা তওবা করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।} (আত-তাওবাহ: ১১৭-১১৮)। ১।
নিশ্চয়ই বর্জনের এই অস্ত্রটি একজন মুসলিম ব্যক্তিত্বের ঈমানী তরবিয়ত বা প্রশিক্ষণের এক অনন্য উচ্চ শিখরকে প্রতিনিধিত্ব করে; যখন সে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে, আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সম্পর্ক বজায় রাখে, আল্লাহর জন্যই সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহর জন্যই যুদ্ধ করে এবং আল্লাহর জন্যই সন্ধি করে।
আর সেই আকীদা যা তার অনুসারীদের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে কোনো ব্যক্তিকে বর্জনের ফয়সালা দিতে—যেহেতু সে জিহাদ থেকে পিছিয়ে থেকেছে অথবা প্রকাশ্য পাপে লিপ্ত হয়েছে—তা আমাদের সামনে ইসলামী দাওয়াতের এমন এক পদ্ধতিকে তুলে ধরে যা জামাত বা সমাজকে গড়ে তোলা ও সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্যকর। ইসলামী ইতিহাসের গবেষকগণ পরিবার বা সমাজের গন্ডিতে এই নীতিমালার এক চমৎকার প্রয়োগ দেখতে পাবেন; যখন তাদের কেউ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং প্রকাশ্য আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাকে বর্জন (هجر) করা হয় এবং উম্মত তার ব্যাপারে প্রকাশ্য বর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করে।
এই পদ্ধতিটি হিজরতের আগে মক্কায় দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়েও প্রকাশ পেয়েছিল, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেই মজলিসগুলো বর্জন (هجر) করতে যেখানে আল্লাহর আয়াত ও তাঁর বিধানসমূহকে সম্মান করা হতো না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আপনি তাদের দেখেন যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসে লিপ্ত হয়, তবে আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় লিপ্ত হয়।} (আল-আনআম: ৬৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৫)
قال القرطبي في تفسير هذه الآية: "من خاض في آيات الله تركت مجالسته وهجر مؤمناً كان أو كافراًً
… وقد قال بعض أهل البدع لأبي عمران النخعي: اسمع مني كلمة فأعرض عنه وقال: "ولا نصف كلمة" 1 وروى عن عائشة- رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من وقر صاحب بدعة فقد أعان على هدم الإسلام " 2.
--------------------------------------------
আল-কুরতুবি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে অসার আলোচনায় লিপ্ত হয়, তার সান্নিধ্য ত্যাগ করতে হবে এবং তাকে বর্জন করতে হবে, সে মুমিন হোক কিংবা কাফির
… জনৈক বিদআতপন্থী (أهل البدع) ব্যক্তি আবু ইমরান আন-নাখায়িকে বললেন: 'আমার একটি কথা শুনুন', তখন তিনি তার থেকে বিমুখ হলেন এবং বললেন: 'অর্ধেক কথাও নয়।' ১ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কোনো বিদআতপন্থীকে (صاحب بدعة) সম্মান প্রদর্শন করল, সে যেন ইসলামের ভিত্তি ধ্বংস করতে সহায়তা করল'।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৫)
3-
حسن استنباط الأحكام الشرعية من أدلتها، وإعطاء الرأي في قضايا الأمة المهمة:
المقصود بهذا العنوان إظهار الأهمية التي يعطيها الإسلام للرأي العام من خلال بيان الرابطة بين جمهور الأمة وأهل الحل والعقد فيها، وبيان صلاحيات أهل الحل والعقد، ودورهم في بيان أحكام الشريعة باعتبارهم ممثلين شرعيين لجمهور الأمة، ومعبرين عن رأيها العام في أمور الشريعة، وهذا يقتضي التعريف بأهل الحل والعقد وأهم أعمالهم.
أهل الحل والعقد كما يسميهم جمهور العلماء، أو أهل الاختيار كما يسميهم الماوردي وغيره 3 أو أهل الاجتهاد كما يسميهم البغدادي 4 هم جماعة معينة من فضلاء الأمة يوكل إليهم النظر في مصالحها الدينية والدنيوية ومنها اختيار رئيس الدولة، فهم المسؤولون عن تصفح أحوال الذين يمكن صلوحهم لتولي هذا المنصب الخطير، والاجتهاد في ذلك، وهذه الجماعة لا تقوم باختيار الإمام إلا نيابة عن الأمة جميعاً، فهم بمباشرتهم هذا الاختيار لا يمثلون أنفسهم، بل يمثلون الأمة كلها، ولهذا فإنه عند مبايعة أهل الحل والعقد للإمام تجب مبايعته والانقياد له على سائر أفراد الأمة 5.
وقد بين العلماء أن أهل الحل والعقد هم: "العلماء والرؤساء، ووجوه الناس الذين يتيسر اجتماعهم " 6 ويرى الشيخ محمد رشيد رضا أن أهل الحل والعقد هم المقصودون بأولي الأمر في قوله تعالى: {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} . (النساء: 83) . وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ} . (النساء: 59) . وليس المراد بأولي الأمر في الآيتين الأمراء والسلاطين كما يرى بعض العلماء بدليل أن الآية الأولى
--------------------------------------------
3-
দলিলসমূহ থেকে শরয়ী বিধানাবলির উত্তম উদ্ভাবন (استنباط) এবং উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রদান:এই শিরোনামের উদ্দেশ্য হলো ইসলাম জনমতের যে গুরুত্ব প্রদান করে তা ফুটিয়ে তোলা। এটি উম্মাহর সাধারণ জনগণ এবং তাদের মধ্যকার 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'-এর (أهل الحل والعقد) পারস্পরিক সম্পর্কের বর্ণনার মাধ্যমে করা হয়। এছাড়া 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'-এর এখতিয়ার এবং শরয়ী বিধান বর্ণনায় তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়, কারণ তারা উম্মাহর সাধারণ জনগণের শরয়ী প্রতিনিধি এবং শরীয়তের বিষয়ে তাদের জনমতের মুখপাত্র। এর জন্য 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (أهل الحل والعقد) এবং তাদের প্রধান কার্যাবলির পরিচয় প্রদান আবশ্যক।
'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (أهل الحل والعقد) যেমনটি জমহুর (جمهور) উলামায়ে কেরাম তাদের নামকরণ করেছেন, অথবা 'আহলুল ইখতিয়ার' (أهل الاختيار) যেমনটি মাওয়ার্দী ও অন্যরা তাদের অভিহিত করেছেন, অথবা 'আহলুল ইজতিহাদ' (أهل الاجتهاد) যেমনটি বাগদাদী নামকরণ করেছেন; তারা উম্মাহর এক বিশেষ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ যাদের ওপর উম্মাহর দ্বীনি ও দুনিয়াবী স্বার্থ পর্যালোচনার দায়িত্ব অর্পিত হয়। যার মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। তারা এই মহান পদে আসীন হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বশীল এবং এ বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন। এই দলটি সমগ্র উম্মাহর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবেই ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে থাকেন। সুতরাং এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করেন না, বরং সমগ্র উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই কারণেই যখন 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (أهل الحل والعقد) কোনো ইমামের নিকট বায়াত (مبايعة) গ্রহণ করেন, তখন উম্মাহর অবশিষ্ট সকল ব্যক্তির ওপর তাঁর প্রতি আনুগত্য ও অনুগমন করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
উলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন যে, 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (أهل الحل والعقد) হলেন: "আলেমগণ, নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যাদের একত্র হওয়া সহজসাধ্য।" শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা মনে করেন যে, আল্লাহ তায়ালার এই বাণীতে 'উলিল আমর' (أولي الأمر) বলতে 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (أهل الحل والعقد) উদ্দেশ্য: "আর যখন শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ তাদের কাছে আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসুলের নিকট এবং তাদের উলিল আমরের (أولي الأمر) নিকট সোপর্দ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন (يستنبطونه) করতে সক্ষম, তারা অবশ্যই তা জানতে পারত।" (আন-নিসা: ৮৩)। এবং আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলিল আমরের (أولي الأمر) আনুগত্য করো।" (আন-নিসা: ৫৯)। কোনো কোনো আলেমের মতে, এই দুই আয়াতে 'উলিল আমর' (أولي الأمر) বলতে কেবল আমীর ও সুলতানগণ উদ্দেশ্য নয়, যার প্রমাণ হলো প্রথম আয়াতটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৬)
نزلت في أولي الأمر الذين كانوا على عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، ولم يكن هناك أمراء ولا سلاطين، قال: "وما كان هناك إلا أهل الرأي من كبار الصحابة- عليهم الرضوان- الذين يعرفون وجوه المصلحة مع فهم القرآن
… " وهكذا يجب أن يكون في الأمة رجال أهل بصيرة ورأي في سياستها، ومصالحها الاجتماعية، وقدرة على الاستنباط، يرد إليهم أمر الأمن والخوف وسائر الأمور الاجتماعية والسياسية وهؤلاء الذين يسمون في عرف الإسلام أهل الشورى وأهل الحل والعقد
… 1.
فيفهم من هذا القول ومما ذكره الفقهاء أن أهل الحل والعقد هم المتبوعون في الأمة الحائزون على ثقتها ورضاها لما عرفوا به من التقوى والعدالة 2.
أما علاقة أهل العقد والحل في الأمة فهي علاقة النائب والوكيل 3 أما كيف ينالون هذه المنزلة فإن الأمة هي التي ترفعهم إلى هذه المنزلة باختيارها لهم صراحة أو ضمنا، وأن السوابق التاريخية تبين لنا وكالة أهل الحل والعقد عن الأمة في عصر الإسلام الأول- عصر الخلفاء الراشدين- كانت وكالة ضمنية لأنهم كانوا معروفين بتقواهم وإخلاصهم وكفاءتهم وعلمهم شهد لهم القرآن الكريم والنبي صلوات الله وسلامه عليه بالثناء العام والخاص عليهم، فما كان هناك من حاجة لقيام الأمة بانتخابهم وتوكيلهم عنها صراحة.
ومن المقاييس المهمة في معرفة نبل هذا العالم أو ذاك لثقة الجماهير رجوعُها إليه في الفتوى، وحضورها دروسه، وترددها على مجالسه، وأخذها برأيه، في أمور حياتهم المختلفة.
ومع ذلك فإننا إذا أخذنا في الوقت الحاضر بنظام الانتخاب المباشر لأهل الحل والعقد ضمن شروط يقرها الإسلام، منها أنه يجب أن تتوافر فيمن يرشح نفسه للانتخاب:
(أ) العدالة الجامعة لشروطها.
(ب) العلم.
(ج) الرأي والحكمة والخبرة 4.
وإن مثل هذا الانتخاب على هذا النحو المذكور جدير بأن يترجم إرادة الأمة صراحة وتوكيلها لهؤلاء، وهو المناسب لعصرنا لأن إجازة التوكيل الضمني في هذا الزمن قد يفتح
--------------------------------------------
এটি সেই সকল উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ছিলেন, এবং তখন কোনো আমির বা সুলতান ছিল না। তিনি বলেন: "সেখানে বড় বড় সাহাবীগণের মধ্যে কেবল বিজ্ঞ ব্যক্তিগণই ছিলেন—তাদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন—যারা কুরআনের বুঝের সাথে জনকল্যাণের পথসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন
… " এভাবেই উম্মাহর মধ্যে এমন দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক যারা এর রাজনীতি ও সামাজিক কল্যাণের বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং মাসয়ালা উদ্ভাবন বা গবেষণার (استنباط) যোগ্যতাসম্পন্ন হবেন; যাদের কাছে নিরাপত্তা, ভীতি এবং অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি ন্যস্ত করা হবে। ইসলামের পরিভাষায় এরাই হলেন শুরা মজলিস এবং আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد)
… 1.
এই উক্তি এবং ফকিহগণ যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে বুঝা যায় যে, আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد) হলেন উম্মাহর সেই সকল অনুসরনীয় ব্যক্তিত্ব যারা তাদের তাকওয়া এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র জন্য পরিচিতি লাভ করায় উম্মাহর আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন 2.
উম্মাহর সাথে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর সম্পর্ক হলো প্রতিনিধি (نائب) ও উকিলের (وكيل) সম্পর্ক 3। আর তারা কীভাবে এই মর্যাদা লাভ করেন, তার উত্তর হলো উম্মাহ নিজেই তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে এই মর্যাদায় উন্নীত করে। ঐতিহাসিক নজিরসমূহ আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট করে যে, ইসলামের প্রথম যুগে—খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে—উম্মাহর পক্ষ থেকে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর প্রতিনিধিত্ব ছিল পরোক্ষ বা উহ্য। কারণ তারা তাদের তাকওয়া, ইখলাস, দক্ষতা ও জ্ঞানের (علم) জন্য সুপরিচিত ছিলেন। পবিত্র কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে ও বিশেষভাবে তাদের প্রশংসা করেছেন। ফলে উম্মাহ কর্তৃক তাদেরকে সরাসরি নির্বাচন করার বা প্রতিনিধি নিয়োগ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
কোনো আলেমের মহত্ত্ব এবং জনগণের আস্থার বিষয়টি জানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো বিভিন্ন বিষয়ে ফতোয়া (فتوى)-র জন্য জনগণের তার শরণাপন্ন হওয়া, তার পাঠদান বা দারসে উপস্থিত হওয়া, তার মজলিসে যাতায়াত করা এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার মতামতের অনুসরণ করা।
এতদসত্ত্বেও, বর্তমানে যদি আমরা ইসলামের স্বীকৃত শর্তাবলির অধীনে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাচন পদ্ধতি গ্রহণ করি, তবে প্রার্থীর মধ্যে অবশ্যই নিচের গুণাবলি থাকতে হবে:
(ক) শর্তসাপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)।
(খ) জ্ঞান (علم)।
(গ) প্রজ্ঞা, হিকমত ও অভিজ্ঞতা 4।
উল্লিখিত পন্থায় এই জাতীয় নির্বাচন উম্মাহর আকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে এবং তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে সক্ষম। এটিই আমাদের বর্তমান সময়ের জন্য উপযোগী, কারণ বর্তমান সময়ে পরোক্ষ প্রতিনিধিত্ত্বের সুযোগ দেওয়া হয়তো (অন্য কোনো পথ) খুলে দিতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৭)
باب شر خطير ويؤذن بالفوضى التي تضعها المزاعم الكاذبة والدعاوى الفارغة 1.
الفرق بين سيادة الرأي العام في الإسلام والنظم الديمقراطية:
(أ) ومن الأهمية بمكان أن نذكر أن الأمة حين تبدي رأيها عن طريق ممثليها في قضية من القضايا فلرأيها السيادة ولحكمها النفاذ في النظم الديمقراطية الغربية، أما في الإسلام فإن أهل الحل والعقد لا ينفذ رأيهم إلا في الأمور التي لم ينص عليها الشرع
… فإذا جَاء الله بحكم فليس لجماعة من الأمة أن تعارضه وليسر للأمة بمجموعها إن تبطله.
ومن هنا كانت المسائل الفقهية الخاضعة لرأي الجماعة مقيدة بأمرين:
أ- ألا يكون قد نزل فيها نص صريح.
2- أن يرجع أهل الحل والعقد في بيان الرأي فيها إلى أصول الشريعة ومقاصدها العامة.
(ب) أن القانون أو الحكم حين تصدره الدولة نابعاً من عقيدة الأمة ودستورها، تجد اقتناع الرأي العام به قوياً صادقاً، وتنفيذه سهلاً ميسوراً، بينما نجد حرمان القوانين الوضعية من هذه الميزة. وخير مثال يوضح هذه الفكرة المقارنة بين تحريم الخمر في الإسلام الذي تهيأ الرأي العام لقبوله وبين تحريمه في أمريكا
… فنجح في المجتمع الإسلامي ولم ينجح هناك.
--------------------------------------------
একটি ভয়াবহ মন্দের অধ্যায় যা মিথ্যা দাবি ও অন্তঃসারশূন্য প্রচারণার মাধ্যমে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘোষণা দেয় ১।
ইসলামে জনমতের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য:
(ক) এটি উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, উম্মাহ যখন কোনো বিষয়ে তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করে, তখন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই মতামতের সার্বভৌমত্ব থাকে এবং তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। পক্ষান্তরে ইসলামে ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ)-এর মতামত কেবল সেই সকল বিষয়েই কার্যকর হয় যে বিষয়ে শরিয়ত কর্তৃক কোনো অকাট্য বিধান (نص) প্রদান করা হয়নি
… সুতরাং আল্লাহ যদি কোনো বিধান প্রদান করেন, তবে উম্মাহর কোনো গোষ্ঠীর জন্য তার বিরোধিতা করার অধিকার নেই এবং সমগ্র উম্মাহর জন্য তা বাতিল করারও কোনো সুযোগ নেই।
এ কারণেই জামাতের মতামতের ওপর নির্ভরশীল ফিকহি বিষয়সমূহ দুটি বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ:
ক- সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলীল (نص صريح) অবতীর্ণ না হওয়া।
২- সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’-কে শরিয়তের মূলনীতি (أصول) এবং এর সাধারণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের (مقاصد) দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
(খ) রাষ্ট্র যখন উম্মাহর আকিদাহ ও সংবিধান থেকে উৎসারিত কোনো আইন বা বিধান জারি করে, তখন জনমতের মাঝে সেটির প্রতি শক্তিশালী ও আন্তরিক সন্তুষ্টি পরিলক্ষিত হয় এবং এর বাস্তবায়ন সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে মানবরচিত আইনসমূহ এই বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত। এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ইসলামে মদ হারাম করার সাথে আমেরিকার মদ নিষিদ্ধকরণের তুলনা। ইসলামে মদ হারামের বিধান গ্রহণের জন্য জনমত প্রস্তুত ছিল
… ফলে এটি ইসলামী সমাজে সফল হয়েছিল কিন্তু সেখানে সফল হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৭)
4-
رفع الروح المعنوية للأمة وتقوية أواصرها وتعاونها:من أهم وظائف الرأي العام في المجتمع الإسلامي رفع الروح المعنوية عند الجماهير التي تكونه، لأن وحدة الجماعة المسلمة على رأي واحد من شأنه أن يبرز قوة هذه الجماعة وتعاونها، ويعطيها الزاد والقوة على تحقيق أهدافها مهما بلغت التكاليف.
لقد وضع القرآن الكريم القاعدة المباركة لوحدة الجماعة المسلمة على الهدف الكريم بقوله: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الأِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} . (المائدة: 2) . وبقوله: {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفّاً كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ} . (الصف: 2) . وبقوله صلى الله عليه وسلم: "ترى المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الأعضاء بالحمى والسهر " 2.
--------------------------------------------
4-
উম্মাহর মনোবল বৃদ্ধি এবং এর বন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে সুদৃঢ়করণ:ইসলামি সমাজে জনমতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সেই জনসাধারণের মনোবল বৃদ্ধি করা যারা এই সমাজ গঠন করে। কারণ, একটি অভিন্ন মতের ওপর মুসলিম জামাআতের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সেই দলের শক্তি ও সহযোগিতাকে ফুটিয়ে তোলে এবং লক্ষ্য অর্জনে তাদের পাথেয় ও শক্তি যোগায়, তার জন্য যত ত্যাগই স্বীকার করতে হোক না কেন।
কুরআন মাজীদ মুসলিম জামাআতের ঐক্যের জন্য মহান লক্ষ্যের ভিত্তিতে একটি বরকতময় মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না}। (আল-মায়িদাহ: ২)। এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা এক সিসাঢালা প্রাচীর}। (আস-সাফ: ৪)। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তুমি মুমিনদের তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া এবং সহমর্মিতার ক্ষেত্রে একটি দেহের ন্যায় দেখবে; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অবশিষ্ট অঙ্গগুলো অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৮)
وتظهر أثر هذه التربية الإيمانية للجماعة المسلمة في وحدتها وتآلفها، في وقوفها في وجه المحن والشدائد صفاً واحداً، ومن أبرز الأمثلة على ذلك في تاريخ الإسلام خروج المسلمين، في اليوم التالي لغزوة أحد، للثأر من عدوهم، ومسح آثار مصيبتهم، وهذا ما عبر عنه القرآن بقوله: {الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا أَجْرٌ عَظِيمٌ} (آل عمران:172) .
لقد حرص الإسلام على دعم أهدافه بسلطة الرأي العام، وإيجاد روح التعاون بين أبناء الأمة الإسلامية، والتقارب بين فئات الشعب، لتتوحد اتجاهاتها، وتسيطر على مبدأ أساسي في حياة الأمة، وهو الاتفاق على الأهداف، وهذا الاتفاق يؤدي حتما إلى نجاح الأمة في بلوغ غايتها وتحقيق أمانيها.
إن الأذان الذي يتردد كل يوم خمس مرات، عالياً مدوياً معبراً عن أهداف الإسلام الكبيرة، وإن الصلوات التي تقام كل يوم خمس مرات جامعة للأمة موحدة لرأيهَا، وإن الجُمَع، والجماعات، وفريضة الحج التي من شأنها أن يظهر وحدة الأمة على أهدافها، وإن القرآن الذي يتلى في كل صلاة جامعا للأمة على أهدافه وغاياته، إن هذا كله جدير بأن يحقّق في المجتمع الإسلامي وحدة الأهداف ووحدة الرأي العام على هذه الأهداف، ويرفع معنويات الأمة لأداء دورها الكبير ورسالتها العظيمة في الحياة، ولنتأمل في روحِ العزة التي يصنعها الإسلام بالإيمان والعمل الصالح {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعاً إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} .
{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّه} .
وإلى رفع هذه الروح المعنوية في ضمير الأمة بالتقائها على أهدافها ووحدة رأيها يشير النبي صلى الله عليه وسلم بقوله:
"يد الله على الجماعة ومن شذ شذ في النار".
"المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا" 1.
إن البنيان الذي يشد بعضه بعضا يصور لنا الروح المعنوية العالية التي يعطيها وحدة الرأي العام لأفراد الأمة كما يصور لنا معاني التعاون على أهداف الإسلام الكريمة في
--------------------------------------------
মুসলিম উম্মাহর এই ঈমানি প্রতিপালনের প্রভাব তাদের ঐক্য ও সংহতির মধ্যে এবং বিপদ-আপদ ও সংকটের মুখে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ফুটে ওঠে। ইসলামের ইতিহাসে এর অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ হলো ওহুদ যুদ্ধের ঠিক পরের দিনই শত্রুর ওপর প্রতিশোধ নিতে এবং তাদের বিপদের চিহ্ন মুছে ফেলতে মুসলিমদের বের হওয়া। এ বিষয়টিই কুরআন এই বাণীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছে: "যারা আহত হওয়ার পরও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে, তাদের মধ্যে যারা সৎ কাজ করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।" (আলে ইমরান: ১৭২)।
ইসলাম জনমতের শক্তির মাধ্যমে তার লক্ষ্যসমূহকে সুদৃঢ় করতে এবং মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের মধ্যে সহযোগিতার চেতনা ও জনগণের বিভিন্ন স্তরের মাঝে নৈকট্য সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়েছে, যাতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একীভূত হয় এবং উম্মাহর জীবনের একটি মৌলিক নীতি—অর্থাৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ঐকমত্য—প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ঐকমত্য অবধারিতভাবেই উম্মাহকে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং তার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সফলতার দিকে নিয়ে যায়।
প্রতিদিন পাঁচবার যে আযান ধ্বনিত হয়, যা উচ্চৈঃস্বরে ইসলামের সুমহান লক্ষ্যসমূহ প্রকাশ করে; প্রতিদিন পাঁচবার যে সালাত উম্মাহকে একত্রিত করে এবং তাদের মতামতকে একীভূত করে আদায় করা হয়; আর জুমআ, জামাত ও হজের বিধান যা উম্মাহর লক্ষ্যসমূহের ওপর তাদের ঐক্য প্রদর্শন করে; এবং প্রতি সালাতে যে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় যা উম্মাহকে তার লক্ষ্য ও গন্তব্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করে—এই সবকিছুই মুসলিম সমাজে লক্ষ্যের ঐক্য এবং সেই লক্ষ্যসমূহের ওপর জনমতের ঐক্য সুনিশ্চিত করতে সক্ষম। এটি জীবনের সুমহান ভূমিকা ও মহান দাওয়াত পালনের জন্য উম্মাহর মনোবল বৃদ্ধি করে। আসুন আমরা সেই সম্মানের চেতনা নিয়ে চিন্তা করি যা ইসলাম ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে তৈরি করে: "কেউ যদি সম্মান চায়, তবে সকল সম্মান তো আল্লাহরই। তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং নেক আমল তা উন্নীত করে।"
"তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মাহ, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো।"
উম্মাহর লক্ষ্যের অভিন্নতা ও মতামতের ঐক্যের মাধ্যমে তাদের চেতনায় এই মনোবল বৃদ্ধির প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
"জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে, আর যে বিচ্ছিন্ন (شذ) হয়, সে জাহান্নামে বিচ্ছিন্ন হয়।"
"এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।" ১।
এই যে ইমারত যা একে অপরকে সুদৃঢ় করে, তা আমাদের সামনে সেই উচ্চ মনোবলের চিত্র তুলে ধরে যা জনমতের ঐক্য উম্মাহর ব্যক্তিদের প্রদান করে। পাশাপাশি এটি ইসলামের মহান লক্ষ্যসমূহ অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার তাৎপর্যও চিত্রায়িত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৯)
الحياة، وأن الجماعة التي تباركها يد الله وترعاها وتنصرها جديرة بأن تتغلب على أسباب الضعف وتحقق أسباب قوتها ونموها وازدهارها.
জীবন; আর নিশ্চয়ই যে জামাত আল্লাহর হাতের বরকতপ্রাপ্ত এবং তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও সাহায্যপুষ্ট, তারা দুর্বলতার (الضعف) কারণসমূহ কাটিয়ে উঠতে এবং নিজেদের শক্তি, প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির উপকরণসমূহ সার্থক করতে অধিকতর যোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আর-রায়ুল আম্মু ফিল মুজতামাইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫৯)
استثارة مشاعر الأمة للقيام بواجب معين:في كل مسجد جامع منبر وظيفته مخاطبة الرأي العام كل أسبوع يدعوه إلى واجب أو يحذره من أمر، أو يبصره بقضية لها أهميتها في حياته.
لقد سن رسول الله صلى الله عليه وسلم للأمة كيف تكون يدا واحدة في مواجهة الأحداث، يأخذ قويها بيد ضعيفها، وغنيها بيد فقيرها، وأنه من لم يهتم بأمر المسلمين فليس منهم.
والدارسون لسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسير الخلفاء الراشدين والتابعين هم بإحسان، نجد أن النبي الكريم كان يدعو المسلمين إلى المسجد عند كل حدث مهم يخبرهم به، أو واجب يدعوهم إليه، حين يوجه الحملات للجهاد، فيدعو إلى البذل والنفقة، كما يدعو إلى المشاركة بالجهاد.
وحين يرى طائفة من المسلمين تعاني ضائقة مالية فيدعو المسلمين إلى مساعدتهم وكذلك كان الصحابة- رضوان الله عليهم- فأبو بكر- رضي الله عنه يوجه الجيوش لفتوح الشام والعراق، وكلما دعا الداعي لإمداد جيش وجه النداء للأمة وندبها إلى الخروج مع هذا القائد أو تلك الحملة.
وفي تهيئة الأمة لقبول حكم معين كان الخليفة يوم الجمعة يعلن في الناس ويمهد لقراره ويقنع الجماهير به، ففي مسألة تحديد المهور استشار عمر الناس في المسجد فردت عليه امرأة رأيه بالآية الكريمة: {وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَاراً فَلا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئاً} . فأعلن رجوعه عن رأيه وقال: "اللهم، غفرا كل الناس أفقه من عمر، أخطأ عمر وأصابت امرأة" 1.
وفي الصورة المقابلة نجد خطبة الجمعة التي من شأنها أن تعالج قضايا الأمة يعرضها أولو الأمر من العلماء والحكام لتقوم بتهيئة الرأي العام لقبول القرار الذي ستتخذه الدولة أو رفضه بمناقشته وبيان مدى تحقيقه لأهداف الشريعة ومقاصدها.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
--------------------------------------------
নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য উম্মাহর আবেগকে জাগ্রত করা:প্রতিটি জামে মসজিদে একটি মিম্বর রয়েছে, যার কাজ হলো প্রতি সপ্তাহে জনমতকে সম্বোধন করা; যা তাদের কোনো কর্তব্যের দিকে আহ্বান করে অথবা কোনো বিষয়ে সতর্ক করে, কিংবা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সচেতন করে তোলে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মাহর জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, কীভাবে তারা ঘটনার মোকাবিলায় একতাবদ্ধ থাকবে—সবল ব্যক্তি দুর্বলের হাত ধরবে, ধনী ব্যক্তি গরিবের হাত ধরবে; আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিরাত এবং খুলাফায়ে রাশিদিন ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীনদের (التابعين) জীবনী অধ্যয়ন করেন, তারা দেখতে পান যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় মুসলিমদের মসজিদে আহ্বান করতেন এবং তাদের সেই বিষয়ে অবহিত করতেন অথবা কোনো কর্তব্যের দিকে ডাক দিতেন। যখন তিনি জিহাদের জন্য কোনো অভিযান পরিচালনা করতেন, তখন তিনি যেমন ত্যাগের আহ্বান জানাতেন, তেমনি জিহাদে অংশগ্রহণেরও ডাক দিতেন।
যখন তিনি মুসলিমদের কোনো এক গোষ্ঠীকে আর্থিক সংকটে ভুগতে দেখতেন, তখন তিনি মুসলিমদের তাদের সাহায্যের জন্য আহ্বান করতেন। সাহাবীগণ (الصحابة) -রাযিয়াল্লাহু আনহুম- এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়; আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সিরিয়া ও ইরাক বিজয়ের লক্ষ্যে সৈন্য পাঠাতেন এবং যখনই কোনো সেনাদলকে সাহায্য করার প্রয়োজন হতো, তিনি উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানাতেন এবং নির্দিষ্ট কোনো সেনাপতি বা অভিযানের সাথে বের হওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতেন।
নির্দিষ্ট কোনো বিধান (حكم) গ্রহণের জন্য উম্মাহকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে খলিফা জুমার দিন মানুষের মাঝে ঘোষণা দিতেন, নিজের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতেন এবং জনতাকে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করতেন। মোহর নির্ধারণের মাসআলায় উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদে লোকজনের সাথে পরামর্শ করেছিলেন, তখন এক নারী পবিত্র কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে তাঁর মতকে খণ্ডন করেন: {এবং তোমরা তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করেছ, সুতরাং তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না}। অতঃপর তিনি স্বীয় মত থেকে ফিরে আসার কথা ঘোষণা করেন এবং বলেন: "হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন, সকল মানুষ উমরের চেয়ে বেশি ফকিহ (أفقه); উমর ভুল করেছে আর এক নারী সঠিক বলেছে।" 1.
অন্যদিকে আমরা জুমার খুতবাকে পাই যা উম্মাহর সমস্যাবলি সমাধানের মাধ্যম। আলেম ও শাসক শ্রেণির দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ এটি পেশ করেন যাতে রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনমত তৈরি করা যায়, অথবা আলোচনার মাধ্যমে এবং শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) অর্জনে তা কতটুকু সহায়ক তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করা যায়।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------