(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الرابط وأثره في التراكيب في العربية   (حمزة النشرتي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الرابط وأثره في التراكيب في العربية

المؤلف: د حمزة عبد الله النشرتي

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السابع عشرة العددان السابع والستون والثامن والستون رجب ـ ذو الحجة 1405هـ ـ 1985م

عدد الصفحات: 168

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আরবি বাক্য গঠনে যোজক এবং এর প্রভাব   (হামজা আন-নাশরাতি)

বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব


বই: আরবি বাক্য গঠনে যোজক এবং এর প্রভাব

লেখক: ড. হামজা আবদুল্লাহ আন-নাশরাতি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সপ্তদশ বর্ষ, ৬৭ ও ৬৮ সংখ্যা, রজব - জিলহজ ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
‌‌مدخل

 

الرابط وَأثَره في التراكيب في العربية:

للدكتور حمزة عبد الله النشرتي أستاذ مساعد بكلية الشريعة

يمتاز الأسلوب العربي بقوة العلاقة بين جمله، والترابط بين أجزائه، فالترابط يحدد أبعاد المعنى ويرفع منه كل لبس وإبهام لآن الربط قائم بين جزء في الجملة الإسمية والفعلية، والجملة بأنواعها: شرطية أو حالية أو صلة أو صفة لابد من وجود ما يربطها بسابقها.

والرابط في التركيب اللغوي متعدد في أنواعه مختلف في اتجاهاته فقد عرف النحاة الضمير رابطاً، وهذا النوع لكونه أصل كل رابط فقد اتسع استخدامه وامتدت دائرته فتجده في الصفة المشبهة رابطاً، وفي التوكيد والبدل كما تجده في الظروف والجار والمجرور، وأكثر ما تجده في الجمل الخبرية والحالية وجملة الصفة.

وقد شهد التركيب اللغوي أنماطاً أخرى من الروابط فقد وقع في اللغة الربط بالاسم الظاهر، وباسم الإشارة، كما وقع الربط بالمعنى والعموم والخصوص، والعمل. وجوانب كثيرة سيكشف عنها هذا البحث.

لقد تمسك الكوفيون ببعض الأمثلة واتخذوها أساساً لجواز الربط بأل من ذلك قوله تعالى: {فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى} . فرأى الكوفيون أن: "أل" في المأوى رابطة حلت محل الضمير، والأصل مأواه، ولم يرتضى ذلك جمهور النحاة فالتناوب بين الإسم والحرف قبيح.

وقد يجتمع في الجملة أكثر من رابط. ألا ترى أن جملة الحال قد تربط بالواو والضمير معاً؟ ففي قوله تعالى: {لَئِنْ أَكَلَهُ الذِّئْبُ وَنَحْنُ عُصْبَةٌ} الجملة الحالية ربطت بالواو والضمير معاً. وجملة جواب الشرط قد تربط بالفاء والضمير معاً. اقرأ قول الله تعالى: {فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَاباً لا أُعَذِّبُهُ أَحَداً مِنَ الْعَالَمِينَ} . فجملة فإني أعذبه
‌ভূমিকা

 

আরবি বাক্যগঠনে সংযোজক এবং এর প্রভাব:

শরীয়াহ অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর হামজা আবদুল্লাহ আন-নাশরতী কর্তৃক

আরবি রচনাশৈলী বাক্যসমূহের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্ক এবং এর বিভিন্ন অংশের পারস্পরিক সংযোগের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এই সংযোগই অর্থের পরিধি নির্ধারণ করে এবং সব ধরনের অস্পষ্টতা ও সংশয় দূর করে। কারণ, বিশেষ্যমূলক ও ক্রিয়ামূলক বাক্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই সংযোগ বিদ্যমান থাকে। এছাড়া সব ধরনের বাক্য—তা শর্তবাচক, অবস্থা নির্দেশক, সম্বন্ধবাচক বা বিশেষণমূলক যাই হোক না কেন—সেটিকে তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে যুক্ত করার জন্য একটি সংযোজকের উপস্থিতি অপরিহার্য।

ভাষাগত কাঠামোতে এই সংযোজক বিভিন্ন প্রকারের এবং এর প্রয়োগও বৈচিত্র্যময়। ব্যাকরণবিদগণ সর্বনামকে একটি সংযোজক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি সকল প্রকার সংযোজকের মূল হওয়ার কারণে এর ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর পরিধি বিস্তৃত। ফলে আপনি এটিকে গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাতে মুশাব্বাহা), তাকিদ (দৃঢ়তা প্রদান) এবং বদল (স্থলাভিষিক্ত)-এর ক্ষেত্রে সংযোজক হিসেবে দেখতে পাবেন; ঠিক যেমনটি দেখা যায় ক্রিয়াবিশেষণ এবং অব্যয়-সংলগ্ন পদের (জার ও মাজরুর) ক্ষেত্রে। তবে এর সর্বাধিক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় সংবাদবাচক, অবস্থা নির্দেশক এবং বিশেষণমূলক বাক্যে।

ভাষাগত কাঠামোতে সংযোজকের আরও কিছু ধরন দেখা যায়। যেমন ভাষায় প্রকাশ্য বিশেষ্য এবং নির্দেশক বিশেষ্যের মাধ্যমেও সংযোগ সাধিত হয়েছে। এছাড়া অর্থ, সাধারণতা (عام) ও বিশেষত্ব (خاص) এবং ব্যাকরণিক কার্যের মাধ্যমেও সংযোগ ঘটে থাকে। এই গবেষণায় এমন আরও অনেক দিক উন্মোচিত হবে।

কুফাবাসী ব্যাকরণবিদগণ কিছু উদাহরণের ওপর ভিত্তি করে ‘আলিফ-লাম’-এর মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি উল্লেখযোগ্য: {অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করেছে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, নিশ্চয়ই জাহান্নামই হবে তার আবাসস্থল}। কুফাবাসীদের মতে, ‘আল-মাওয়া’ (আবাসস্থল) শব্দে বিদ্যমান ‘আলিফ-লাম’ একটি সংযোজক যা সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; অর্থাৎ এর মূল রূপটি ছিল ‘তার আবাসস্থল’। তবে অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এই মতটি গ্রহণ করেননি, কারণ বিশেষ্য এবং অব্যয়ের মধ্যে এই ধরনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া ব্যাকরণগতভাবে অশোভন।

একটি বাক্যে কখনও কখনও একাধিক সংযোজক একত্রিত হতে পারে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন না যে, অবস্থা নির্দেশক বাক্য কখনও কখনও ‘ওয়াও’ এবং ‘সর্বনাম’—উভয়ের মাধ্যমেই যুক্ত হতে পারে? যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলে অথচ আমরা একটি শক্তিশালী দল}—এখানে অবস্থা নির্দেশক বাক্যটি ‘ওয়াও’ এবং ‘সর্বনাম’ উভয়টির মাধ্যমেই যুক্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে, শর্তের উত্তরবাচক বাক্যও কখনও কখনও ‘ফা’ এবং ‘সর্বনাম’-এর মাধ্যমে একসাথে যুক্ত হতে পারে। মহান আল্লাহর এই বাণীটি লক্ষ্য করুন: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এরপর কুফরি করবে, নিশ্চয়ই আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দেব না}। এখানে ‘সুতরাং নিশ্চয়ই আমি তাকে শাস্তি দেব’ বাক্যটি...
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
وقعت جواباً للشرط وفيها الربط بالضمير الذي يعود على المبتدأ كما أن في الجواب رابطاً آخر هو الفاء.

وجملة جواب الشرط قد تجتمع فيها بالفاء وإذا رابطتين لتأكيد وتقوية الربط ففي قوله تعالى: {فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا} ربطت جملة الجواب بالفاء وإذا.

والربط في الأسلوب العربي ليس مقصوراً على هذه الروابط اللفظية. إذ الجملة قد تخلو منه إلا أن ارتباطها بما قبلها موجود وقائم حتى لا يصبح التركيب مبتوراً وغير مترابط فقد تكون الجملة الثانية مؤكدة، أو مفصلة أو معللة …

وشاعرنا العربي عندما بنى قصيدته فإن أبياتها لم تكن مجرد سرد بيت تلو آخر، وإنما تحكمت فيه العاطفة ممزوجة بالفكرة فجاءت الأبيات مرتبطاً بعضها ببعض حتى أصبحت القصيدة بناءً كاملاً مترابطاً. فالبيت قد يربط بسابقه بعلاقة التوكيد أو التعليل أو الإجابة عن تساؤل أو … ومما يدلنا على أن الشعراء كانوا يراعون الترابط في القصيدة الواحدة قول أحدهم للآخر: أنا أشعر منك فقيل له وكيف؟ فقال: لأني أقول البيت وأخاه وأنت تقول البيت وابن عمه. وهذا النوع من الروابط له مجاله ومباحثه لأن هذا البحث قد دار حول الرابط اللفظي الذي كثر دورانه على ألسنة النحاة.

ولكي يستفيد القاريء فإني قد حددت أنواع الرابط، ثم أشرت إلى مجال استخدام كل واستعماله. فمثلاً الربط بالعموم والخصوص حددت مجاله في تنازع العاملين، والربط بأل حددت مجالاته في الصفة المشبهة والخبر، والربط بالإسم الظاهر حددته في الجملة الخبرية وجملة الصلة والتوكيد.

والمتتبع لجوانب هذا البحث سيدرك بمشيئة الله مدى المعاناة التي بذلت في جمع شتات هذا الموضوع وتحديد معالمه ومناقشة آرائه.

نرجو الله أن ينفع به.. إنه سميع مجيب.
এটি শর্তের উত্তর (جواب الشرط) হিসেবে এসেছে এবং এতে একটি সর্বনামের (ضمير) মাধ্যমে সংযোগ রয়েছে যা উদ্দেশ্য (مبتدأ)-র দিকে ফিরে যায়, ঠিক যেমন উত্তরের মধ্যে ‘ফা’ (الفاء) নামক অন্য একটি সংযোজক (رابط) রয়েছে।

শর্তের উত্তরসূচক বাক্যে (جملة جواب الشرط) সংযোগকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার জন্য ‘ফা’ (الفاء) এবং ‘ইযা’ (إذا)—এই দুটি সংযোজককে (رابطتين) একত্রে আনা হতে পারে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর হঠাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে}, এখানে উত্তরসূচক বাক্যটিকে ‘ফা’ (الفاء) এবং ‘ইযা’ (إذا) দ্বারা সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরবি ভাষারীতিতে সংযোগ কেবল এই শব্দগত সংযোজকগুলোর (الروابط اللفظية) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, বাক্য এই শব্দগুলো থেকে মুক্ত হতে পারে, তবুও পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা বিদ্যমান ও বজায় থাকে যাতে বাক্যগঠনটি বিচ্ছিন্ন ও অসংলগ্ন না হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বাক্যটি সুনিশ্চিতকারী (مؤكدة), বিস্তারিত বর্ণনাকারী (مفصلة) অথবা কারণ দর্শানো (معللة) হতে পারে …

আমাদের আরব কবিগণ যখন কবিতা (قصيدة) রচনা করতেন, তখন তার পঙ্ক্তিগুলো (أبيات) কেবল একের পর এক পঙ্ক্তির অবতারণা ছিল না, বরং তাতে চিন্তার সাথে আবেগের সংমিশ্রণ থাকত। ফলে পঙ্ক্তিগুলো একে অপরের সাথে এমনভাবে গ্রথিত হতো যে, পুরো কবিতাটি একটি সুসংবদ্ধ পূর্ণাঙ্গ কাঠামোতে রূপ নিত। একটি পঙ্ক্তি তার পূর্ববর্তী পঙ্ক্তির সাথে তাকিদ (توكيد), কারণ ব্যাখ্যা (تعليل), কোনো প্রশ্নের উত্তর অথবা অন্য কোনো সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারে … কবিরা যে একটি কবিতার অভ্যন্তরীণ সংহতির প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, তার প্রমাণ হলো এক কবির অন্য কবিকে বলা এই উক্তিটি: "আমি তোমার চেয়ে বড় কবি।" তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "কীভাবে?" তিনি উত্তর দিলেন: "কারণ আমি একটি পঙ্ক্তি এবং তার সহোদর পঙ্ক্তিটি বলি, আর তুমি বলো একটি পঙ্ক্তি এবং তার চাচাতো ভাই (দূর সম্পর্কের) পঙ্ক্তিটি।" এই ধরণের সংযোগের নিজস্ব ক্ষেত্র ও গবেষণার বিষয় রয়েছে, কারণ এই গবেষণাটি শব্দগত সংযোজক (الرابط اللفظي) নিয়ে আবর্তিত হয়েছে যা ব্যাকরণবিদদের (النحاة) আলোচনায় বহুল প্রচলিত।

পাঠকের উপকারের সুবিধার্থে আমি সংযোজকের (الرابط) প্রকারভেদগুলো সুনির্দিষ্ট করেছি এবং প্রত্যেকের ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দেশ করেছি। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণত্ব (عموم) ও বিশেষত্ব (خصوص)-এর মাধ্যমে সংযোগের ক্ষেত্রটি আমি আমল প্রদানকারীদ্বয়ের দ্বন্দ্ব (تنازع العاملين) পরিচ্ছেদে নির্দিষ্ট করেছি; ‘আলিফ-লাম’ (أل)-এর মাধ্যমে সংযোগের ক্ষেত্র গুণবাচক বিশেষ্য (الصفة المشبهة) ও বিধেয় (خبر) এর মধ্যে নির্ধারণ করেছি; আর প্রকাশ্য বিশেষ্যের (الإسم الظاهر) মাধ্যমে সংযোগের বিষয়টি বর্ণনামূলক বাক্য (الجملة الخبرية), সম্বন্ধীয় বাক্য (جملة الصلة) ও তাকিদ (توكيد)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি।

এই গবেষণার বিভিন্ন দিক অনুধাবনকারী ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করতে, এর বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণ করতে এবং এর মতামতগুলো নিয়ে আলোচনা করতে যে শ্রম ব্যয় করা হয়েছে তা উপলব্ধি করতে পারবেন।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
‌‌أولا: الرابط بالضمير

‌‌الجملة الخبرية

…

أولاً- الربط بالضمير

لما كان الأصل في الرابط أن يكون بالضمير فقد كثر دورانه في لغة العرب رابطاً للجملة بما قبلها، ورابطاً للإسم بما قبله، وقد وقع الربط به مذكوراً ومحذوفاً. ولكون الربط بالضمير هو الأصل ذكر النحاة أن الظاهر قد يحل في الربط محل الضمير.

والأصل في الجملة أن تكون كلاماً مستقلاً غير أنك إن قصدت جعلها جزءاً من كلام فلا بد من رابطة تربطها بالجزء الآخر. وهذه الرابطة هي الضمير إذ هو موضوع لمثل هذا الغرض، فبدونه يصبح الأسلوب مبتوراً غير مستوف ولا تُحَصَّلُ منه فائدة.

ومن الأشياء التي تربط بالضمير:-

الجملة الخبرية:-

تقع الجملة الخبرية إسميةً وفعليةً وشرطيةً. وكل هذا لابد فيه من رابط يعود على المبتدأ لئلا تقع أجنبية عن المبتدأ1 ففي قوله تعالى: {وَاللَّهُ يُرِيدُ الآخِرَة} 2 وقع الخبر جملة فعلية وقد ربطت بالضمير، كما أن قولنا: القرآن حفظه مغنم وقع الخبر جملة أسمية وقد جاء الربط بالضمير.

وجملة الشرط على الخلاف بين النحويين: هل الخبر فعل الشرط أو الجواب أو هما معاً؟ فإن الضمير لابد من وجوده رابطاً للجملة بالمبتدأ.

ففي قوله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّه} 3 اشتمل فعل الشرط والجواب على رابط هو الضمير يعود إلى المبتدأ، وفي قوله تعالى: {وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ} 4، الربط موجود بالضمير في "به" وفي قوله تعالى: {فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُه} 5 في فعل الشرط ضمير الفاعل يعود على من، وضمير المفعول به في الجواب يعود على المبتدأ.

والضمير لكونه الأصل في الربط فقد جاء الربط به مذكور، ومحذوفاً ومن الربط

--------------------------------------------

1 ابن يعيش: (شرح المفصل جـ 1 ص 91) .

2 الآية رقم 67 من سورة الأنفال.

3 الآية رقم 80 من سورة النساء

4 الآية رقم 132 من سورة الأعراف.

5 الآية رقم 115 من سورة المائدة.
‌প্রথমত: সর্বনামের (ضمير) মাধ্যমে সংযোগ

‌বিবৃতিমূলক বাক্য (الجملة الخبرية)

...

প্রথমত- সর্বনামের মাধ্যমে সংযোগ

যেহেতু সংযোগের মূল ভিত্তি হলো সর্বনামের মাধ্যমে হওয়া, তাই আরবি ভাষায় একটি বাক্যকে তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে এবং একটি বিশেষ্যকে তার পূর্ববর্তী পদের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। এই সংযোগ কখনো স্পষ্টভাবে উল্লিখিত থাকে, আবার কখনো তা উহ্য থাকে। সর্বনামের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনই যেহেতু মূল নিয়ম, তাই ব্যাকরণবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কখনো কখনো বিশেষ্য পদ (اسم ظاهر) সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংযোগের কাজ সম্পাদন করতে পারে।

একটি বাক্যের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি স্বাধীন বক্তব্য হবে; তবে আপনি যদি একে অন্য কোনো বক্তব্যের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তবে অবশ্যই এমন একটি বন্ধন থাকতে হবে যা একে অন্য অংশের সাথে যুক্ত করবে। আর এই বন্ধনটি হলো সর্বনাম, কারণ এটি এই ধরনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এটি ছাড়া বাক্যরীতিটি বিচ্ছিন্ন ও অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং তা থেকে কোনো প্রকৃত ফায়দা পাওয়া যায় না।

যেসব বিষয় সর্বনামের মাধ্যমে যুক্ত হয় তার মধ্যে রয়েছে:-

বিবৃতিমূলক বাক্য:-

বিবৃতিমূলক বাক্য কখনো বিশেষ্যনির্ভর (ইস্মিয়া), কখনো ক্রিয়ানির্ভর (ফেইলিয়া) আবার কখনো শর্তযুক্ত (শর্তিয়া) হয়ে থাকে। এই সব ক্ষেত্রেই এমন একটি সংযোগকারী থাকা আবশ্যক যা মুক্তাদা বা উদ্দেশ্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যাতে খবরটি মুক্তাদা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় না হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ পরকাল চান}। এখানে খবরটি একটি ক্রিয়ানির্ভর বাক্য হিসেবে এসেছে এবং তা সর্বনামের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে আমাদের বাক্য: ‘কুরআন হিফজ করা একটি অর্জন’; এখানে খবরটি একটি বিশেষ্যনির্ভর বাক্য হিসেবে এসেছে এবং এখানেও সর্বনামের মাধ্যমে সংযোগ সাধিত হয়েছে।

শর্তযুক্ত বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদদের মাঝে মতভেদ রয়েছে: খবর কি শর্তসূচক ক্রিয়া, নাকি তার উত্তর (জাযা), নাকি উভয়টি মিলে? তবে সর্বাবস্থায় বাক্যের সাথে মুক্তাদার সংযোগ স্থাপনের জন্য সর্বনামের উপস্থিতি অপরিহার্য।

যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল}। এখানে শর্তসূচক ক্রিয়া ও উত্তর—উভয়টিতেই এমন একটি সংযোগকারী সর্বনাম রয়েছে যা মুক্তাদার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আবার আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা বলল: আমাদের জাদু করার জন্য তুমি যে নিদর্শনই আমাদের কাছে নিয়ে আসো না কেন, আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব না}। এখানে "তা দ্বারা" (به) এবং "তার দ্বারা" (بها) শব্দদ্বয়ের মধ্যকার সর্বনামের মাধ্যমে সংযোগ বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে এরপর কুফরি করবে, নিশ্চয়ই আমি তাকে শাস্তি দেব}। এখানে শর্তসূচক ক্রিয়ায় কর্তার (ফায়েল) সর্বনামটি ‘যে’ (من) এর দিকে ফিরছে এবং উত্তর বা জাযা-এর মধ্যে কর্মের (মাফুল বিহি) সর্বনামটি মুক্তাদার দিকে ফিরছে।

সর্বনাম যেহেতু সংযোগের মূল ভিত্তি, তাই এর মাধ্যমে সংযোগ কখনো উল্লিখিত অবস্থায় আসে, আবার কখনো উহ্য থাকে। আর সংযোগের মধ্য থেকে...

--------------------------------------------

১. ইবনে ইয়াইশ: শারহুল মুফাসসাল, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯১।

২. সূরা আল-আনফালের ৬৭ নম্বর আয়াত।

৩. সূরা আন-নিসার ৮০ নম্বর আয়াত।

৪. সূরা আল-আরাফের ১৩২ নম্বর আয়াত।

৫. সূরা আল-মায়িদাহর ১১৫ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
بالضمير محذوفاً قوله تعالى: {وَكُلاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى..} 1 يرفع كل وذكر الفراء أن الضمير قد يحذف قياساً2. وذلك إذا كان الضمير مفعولاً به والمبتدأ كل مثل قوله الشاعر:-

قد أصبحت أمُّ الخيار تدّعي … على ذنباً كُلُّهُ لم أصنع3

وجملة الخبر إذا كانت نفس المبتدأ في المعنى فلا تحتاج إلى رابط نحو"هو الله أحد" إذا قدر هو ضمير شأن فهو مبتدأ والله أحد جملة هي خبر المبتدأ. وهي عين المبتدأ في المعني لأنها مفسرة والمفسر عين المفسر4 والجملة إذا كانت نفس المبتدأ فإنها بمثابة المفرد5.

شبه الجملة:-

ويقع الخبر ظرفاً وجاراً ومجروراً ويتعلقان بمحذوف وجوباً ثم قيل: الخبر نفس الظرف والمجرور وحدهما. وقيل: هما ومتعلقهما والمتعلق جزء من الخبر واختاره الرضى. وذكر ابن هشام: أن الخبر هو المتعلق. واختلف في التقدير فقال الأخفش والفارسي والزمخشري: "التقدير كان أو استقر" والصحيح عند جمهور البصريين: "أن تقديره كائن لا كان أو استقر". وعلى القول بأن لهما متعلقاً تقديره كائن أو كان فإن الظرف والجار والمجرور بهما رابط يربطهما بالمبتدأ وسواءًَ أكان الضمير مستكناً في المتعلق أو انتقل إلى الظرف فالرابط موجود6.

--------------------------------------------

1 الآية رقم 10 من سورة الحديد وقراءة الرفع هي قراءة ابن عامر- البحر المحيط جـ 8/218.

2 الرضى: شرح الكافية جـ 1 ص 92.

3 شرح شواهد المفتي 2/ 544 وهو مطلع أرجوزة لأبي النجم العجلي وأم الخيار زوجة أبى النجم وهو في أمالي الشجري 1/7، 80، 293 والكتاب 1/ 44 والخزانة 1/173 وفي البيت شواهد أخرى لا محال لذكرها في هذا البحث.

4 التصريح على التوضيح جـ 1 ص 163.

الصبان جـ 1 ص 195.

5 في حاشية الصبان. قال الناظم في شرح التسهيل:" الجملة المتحدة بالمبتدأ معنى كل جملة مخبر بها عن مفرد يدل على جملة كحديث وكلام ومنه ضمير الشأن وإذا كانت الجملة الخبرية نفس المبتدأ في المعنى اكتفى بها عن الربط والمعنى أنه لا ضمير فيها لا أنه مستغنى عنه مع مكان الإتيان به مثل أفضل ما قلته: أنا والنبيون من قبلي لا إله إلا الله ". حاشية الصبان جـ 1 ص197 تسهيل الفوائد ص 48.

6 حاشية الصبان- جـ 1 ص 199 0 التصريح جـ 1 ص 166.
বিলুপ্ত সর্বনাম (الضمير) প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ্ প্রত্যেকের সাথেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন..} ১। এখানে 'কুল্লুন' (كل) শব্দটি পেশ (رفع) যুক্ত হবে এবং আল-ফাররা উল্লেখ করেছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী (قياساً) সর্বনামটি বিলুপ্ত হতে পারে ২। আর এটি তখনই ঘটে যখন সর্বনামটি কর্ম (مفعول به) হিসেবে থাকে এবং মুক্তাদা (المبتدأ) হিসেবে 'কুল' (كل) শব্দটি আসে, যেমনটি জনৈক কবির উক্তিতে পাওয়া যায়:-

উম্মুল খিয়ার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেছে... এমন এক অপরাধের যা আমি মোটেও করিনি ৩

খবরের বাক্য (جملة الخبر) যদি অর্থের দিক থেকে মুক্তাদার অনুরূপ হয়, তবে তা কোনো সংযোগকারীর (رابط) প্রয়োজন বোধ করে না। যেমন: "তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়।" যদি এখানে 'হুয়া' শব্দটি শান-এর সর্বনাম (ضمير شأن) হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা মুক্তাদা এবং 'আল্লাহু আহাদ' বাক্যটি উক্ত মুক্তাদার খবর (خبر المبتدأ)। আর এটি অর্থের দিক থেকে মুক্তাদার হুবহু অনুরূপ, কারণ এটি ব্যাখ্যামূলক (مفسرة) আর ব্যাখ্যা দাতা ও ব্যাখ্যাত বিষয় একই হয়ে থাকে ৪। আর বাক্যটি যদি মুক্তাদার অনুরূপ হয়, তবে তা একবচনের (مفرد) সমতুল্য ৫।

বাক্য সদৃশ বা শিবেহ জুমলা (شبه الجملة):-

খবর কখনো দযরফ (ظرف) এবং জার ও মাজরুর (جار ومجرور) হিসেবে আসে এবং এগুলো আবশ্যিকভাবে (وجوباً) একটি বিলুপ্ত শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। অতঃপর বলা হয়েছে: খবর হলো কেবল দযরফ ও মাজরুর অংশটি। আবার বলা হয়েছে: খবর হলো উভয়টি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট শব্দ (متعلق), আর সংশ্লিষ্ট শব্দটি খবরের অংশ; আর এটিই আল-রাদি পছন্দ করেছেন। ইবনে হিশাম উল্লেখ করেছেন যে, খবর হলো মূলত সেই সংশ্লিষ্ট শব্দটিই। তবে এর উহ্য রূপ (تقدير) নির্ধারণে মতভেদ রয়েছে। আল-আখফাশ, আল-ফারিসি এবং আল-যামাখশারী বলেছেন: "এর উহ্য রূপ হলো 'কানা' (كان) বা 'ইসতাকাররা' (استقر)"। আর বসরার জুমহুর (جمهور) আলেমদের মতে সঠিক হলো: "এর উহ্য রূপ হবে 'কায়িনুন' (كائن), 'কানা' বা 'ইসতাকাররা' নয়।" আর যে মতে বলা হয় যে এদের একটি সংশ্লিষ্ট শব্দ রয়েছে যার উহ্য রূপ হলো 'কায়িনুন' অথবা 'কানা', তবে দযরফ এবং জার ও মাজরুরের মাঝে একটি সংযোগকারী (رابط) থাকে যা তাদেরকে মুক্তাদার সাথে যুক্ত করে। চাই সেই সর্বনামটি সংশ্লিষ্ট শব্দের মধ্যে নিহিত থাক বা দযরফের দিকে স্থানান্তরিত হোক, সংযোগকারী বিদ্যমান থাকে ৬।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হাদিদ-এর ১০ নম্বর আয়াত এবং পেশ (رفع) যোগে পাঠটি ইবনে আমিরের কিরাআত- আল-বাহরুল মুহিত ৮/২১৮।

২ আর-রাদি: শারহুল কাফিয়া ১/৯২।

৩ শারহু শাওয়াহিদিল মুফতি ২/৫৪৪; এটি আবু নাজম আল-ইজলি-এর একটি রাজায কবিতার শুরু। উম্মুল খিয়ার হলো আবু নাজম-এর স্ত্রী। এটি আমালি আশ-শাজারি ১/৭, ৮০, ২৯৩; আল-কিতাব ১/৪৪ এবং আল-খিজানা ১/১৭৩ গ্রন্থে রয়েছে। এই পঙ্ক্তিতে আরও অনেক কাব্যিক প্রমাণ রয়েছে যা এই গবেষণায় উল্লেখ করার অবকাশ নেই।

৪ আত-তাসরিহ আলাত তাওদিহ ১/১৬৩।

আস-সাব্বান ১/১৯৫।

৫ হাশিয়া আস-সাব্বান-এ। লেখক তাসহিল-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "যে বাক্যটি অর্থের দিক থেকে মুক্তাদার সাথে অভিন্ন, তা হলো এমন প্রতিটি বাক্য যার দ্বারা কোনো একবচন (مفرد) পদের খবর দেওয়া হয় যা একটি বাক্যকে নির্দেশ করে, যেমন হাদিস এবং কোনো কথা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো শান-এর সর্বনাম (ضمير الشأن)। যখন খবরের বাক্যটি অর্থের দিক থেকে মুক্তাদার অনুরূপ হয়, তখন তা সংযোগকারী (الربط) থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। এর অর্থ হলো এতে কোনো সর্বনাম নেই, এমন নয় যে সর্বনাম আসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া হয়েছে। যেমন: 'আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের বলা শ্রেষ্ঠ কথা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।" হাশিয়া আস-সাব্বান ১/১৯৭, তাসহিলুল ফাওয়াইদ পৃষ্ঠা ৪৮।

৬ হাশিয়া আস-সাব্বান ১/১৯৯; আত-তাসরিহ ১/১৬৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
ثانياً:‌‌‌‌ جملة الصلة وشبهها

جملة الصلة:-

تتميز الموصولات الإسمية عن الحرفية بأن الإسمية لابد في صلتها من كائن يعود إلى
দ্বিতীয়ত:‌‌‌‌সম্বন্ধীয় বাক্য (جملة الصلة) এবং এর সদৃশ (شبهها)

সম্বন্ধীয় বাক্য (جملة الصلة):-

বিশেষ্যসূচক সম্বন্ধ পদসমূহ (الموصولات الإسمية) অব্যয়সূচক সম্বন্ধ পদ (الحرفية) থেকে এই বৈশিষ্ট্যে পৃথক যে, বিশেষ্যসূচক পদের সিলাহ বা সম্বন্ধীয় বাক্যে (صلة) এমন একটি বিষয়ের উপস্থিতি আবশ্যক যা ফিরে যায়...
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
الموصول ليحصل به الربط بين الموصول وصلته. فالصلة بعائدها يوضحان مفهوم اسم الموصول.

والموصول إن طابق لفظه معناه فلا إشكال في مطابقة العائد لفظاً ومعنى، وإن خالف لفظه معناه بأن يكون مفرد اللفظ مذكراً وأريد به غير ذلك نحو من، وما ففي العائد وجهان: مراعاة اللفظ وهو الأكثر مثل قوله تعالى: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْك} 1.

ويجوز اعتبار المعنى مثل قوله تعالى: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْك} 2 ومثله قول الشاعر:-

تَعَشَّ فإن عاهَدْتَني لا تخونُني … نَكُنْ مثلَ من يا ذئبُ يصطحبان 3

وقد اجتمع الأمران في قوله تعالى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا} 4 فقد أفرد الضمير في قوله {يُطِعِ} و {يُدْخِلْهُ} باعتبار لفظ من، وجمع الوصف الواقع حالاً من ضمير يدخله باعتبار معناه5.

--------------------------------------------

1 الآية رقم 16 من سورة محمد، وفي الآية الكريمة جاء عائد الموصول في يستمع مفرداً مراعاة للفظ، وبعدها خرجوا، جاء الضمير جمعاً مراعاة للمعنى أبو حيان: البحر المحيط جـ 8 ص 79.

2 الآية رقم 42 من سورة يونس. فالضمير في يستمعون عائد على معنى من ومراعاة المعنى أقل من مراعاة اللفظ. وهو كقوله تعالى- {ومن الشياطين من يغوصون له} ومن مراعاة اللفظ وهو الأكثر قوله تعالى: {ومنهم من ينظر إليك} . فالعائد مفرد مذكر المصدر السابق جـ 5 ص 161.

3 البيت للفرزدق من قصيدة يخاطب بها الذئب الذي أتاه وهو نازل في بعض أسفاره في بادية. كان الفرزدق قد أخذ شاة ثم أعجله المسير فسار بها فجاء الذئب فحركها وهي مربوطة على بعير فأبصر الفرزدق الذئب وهو ينهشها فقطع رجل الشاة فرمى بها إليه فأخذها وتنحى. ثم عاد فقطع له اليد فرمى بها إليه. فلما أصبح القوم خبرهم الفرزدق بما كان.

تعش: أمر قوله: لا تخونني قيل انه الجواب. والحق أن يكون الجواب نكن مثل.. ويكون لا تخونني جواب القسم الذي تضمنه عاهدتني.

وقد استشهد به النحاة على أن عائد الموصول وقع مثنى في قوله يصطحبان مراعاة للمعنى ورواية الديوان: تعش فإن واثقتنى.

ورواية سيبويه: تعال..

سيبويه: الكتاب جـ 2 ص 416.

الصبان جـ 1 ص 153.

الديوان- القاهرة ص 870.

4 الآية رقم 13 من سورة النساء.

5 البحر المحيط جـ 3 ص 191، والتصريح جـ 1 ص 140.
সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (الموصول) ব্যবহৃত হয় সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (الموصول) এবং তার পরবর্তী বাক্যাংশের (الصلة) মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য। সুতরাং, এই পরবর্তী বাক্যাংশ (الصلة) তার মধ্যকার প্রত্যাবর্তিত সর্বনামের (عائد) মাধ্যমে সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যের (اسم الموصول) ধারণাটি স্পষ্ট করে।

যদি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যের (الموصول) শব্দরূপ তার অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি (العائد) শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে সংগতিপূর্ণ হওয়া নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না। কিন্তু যদি তার শব্দরূপ অর্থের বিপরীত হয়—অর্থাৎ শব্দটি একবচন (مفرد) ও পুংলিঙ্গ (مذكر) কিন্তু তা দ্বারা অন্য কিছু বোঝানো হয়, যেমন ‘মান’ (من) এবং ‘মা’ (ما)—সেক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তিত সর্বনামের (العائد) ব্যাপারে দুটি নিয়ম রয়েছে: প্রথমটি হলো শব্দরূপের (اللفظ) অনুসরণ করা, যা অধিক প্রচলিত। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْك} (আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা আপনার কথা শোনে)।১

এবং অর্থের (المعنى) বিবেচনা করাও বৈধ, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْك} (আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা আপনার কথা শোনে)।২ অনুরূপ কবির উক্তি:-

রাতের খাবার খাও, তুমি যদি আমার সাথে অঙ্গীকার করো যে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না … তবে আমরা সেই দুটির মতো হব, হে নেকড়ে, যারা একে অপরের সঙ্গী হয় (يصطحبان)।৩

আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا} (আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে)।৪ এখানে ‘আনুগত্য করবে’ (يُطِعِ) এবং ‘তাকে প্রবেশ করাবেন’ (يُدْخِلْهُ) ক্রিয়াপদগুলোতে ‘মান’ (من) এর শব্দরূপ (لفظ) বিবেচনা করে সর্বনামকে একবচন রাখা হয়েছে, আর ‘প্রবেশ করাবেন’ (يدخله) এর সর্বনাম থেকে নির্দেশিত হাল বা অবস্থার বর্ণনায় ‘চিরকাল বসবাসকারী’ (خَالِدِينَ) শব্দে তার অর্থ (معنى) বিবেচনা করে বহুবচন (جمع) ব্যবহার করা হয়েছে।৫

--------------------------------------------

১ সূরা মুহাম্মাদের ১৬ নম্বর আয়াত। এই পবিত্র আয়াতে ‘মান’ (من) এর শব্দরূপ (لفظ) বিবেচনা করে ‘শোনে’ (يستمع) ক্রিয়াটিতে সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যের প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি (عائد) একবচন হিসেবে এসেছে। এরপর ‘তারা বেরিয়ে গেল’ (خرجوا) অংশে অর্থ (معنى) বিবেচনা করে সর্বনামটি বহুবচন হিসেবে এসেছে। আবু হাইয়ান: আল-বাহরুল মুহিত, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৯।

২ সূরা ইউনুসের ৪২ নম্বর আয়াত। এখানে ‘শুনছে’ (يستمعون) এর সর্বনামটি ‘মান’ (من) এর অর্থের (معنى) দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে; আর অর্থের বিবেচনা করা শব্দরূপের (لفظ) বিবেচনা করার চেয়ে কম প্রচলিত। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো— {ومن الشياطين من يغوصون له}। আর শব্দরূপের বিবেচনা করার উদাহরণ, যা অধিক প্রচলিত, তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {ومنهم من ينظر إليك}। এখানে প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি (العائد) একবচন ও পুংলিঙ্গ। পূর্বোক্ত উৎস, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬১।

৩ এই কাব্যপঙ্ক্তিটি আল-ফরাজদাকের একটি কাসিদা থেকে নেওয়া, যা তিনি একটি নেকড়েকে সম্বোধন করে বলেছিলেন। নেকড়েটি তাঁর কাছে এসেছিল যখন তিনি মরুভূমির কোনো এক স্থানে যাত্রাবিরতি করছিলেন। আল-ফরাজদাক একটি বকরি সাথে নিয়েছিলেন, কিন্তু যাত্রার তাড়াহুড়োয় তিনি তা সাথে নিয়ে চলতে শুরু করেন। এমতাবস্থায় নেকড়েটি এসে উটের পিঠে বাঁধা বকরিটিকে নাড়াচাড়া করতে শুরু করল। আল-ফরাজদাক নেকড়েটিকে সেটি ছিঁড়ে খেতে দেখে বকরির একটি পা কেটে তার দিকে ছুঁড়ে দিলেন। নেকড়েটি তা নিয়ে সরে গেল। এরপর সে আবার ফিরে এলে তিনি তাকে বকরির হাতটি কেটে ছুঁড়ে দিলেন। সকাল হলে তিনি লোকদের কাছে সেই ঘটনা বর্ণনা করেন।

‘তাআশশা’ (تعش): এটি একটি আদেশসূচক ক্রিয়া। তাঁর উক্তি ‘লা তাখুনানি’ (لا تخونني) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এটি শর্তের উত্তর। তবে সঠিক মত হলো, উত্তরটি হলো ‘নাকুন মিসলা’ (نكن مثل..)। আর ‘লা তাখুনানি’ হলো সেই শপথের উত্তর যা ‘আহাদতানি’ (عاهدتني) এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।

ব্যাকরণবিদগণ এটিকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে, ‘ইয়াসতাহিবান’ (يصطحبان) শব্দে সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যের প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি (عائد) দ্বিবচন (مثنى) হিসেবে এসেছে অর্থের (معنى) প্রতি লক্ষ্য রেখে। কাব্যগ্রন্থের (দিওয়ান) বর্ণনা অনুযায়ী: ‘তাআশশা ফাইন ওয়াসাকতানি’ (تعش فإن واثقتنى)।

আর সিবওয়াইহ-এর বর্ণনা অনুযায়ী: ‘তাআলা..’ (تعال..)।

সিবওয়াইহ: আল-কিতাব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৬।

আস-সাব্বান, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৩।

আদ-দিওয়ান- কায়রো সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৮৭০।

৪ সূরা নিসা-এর ১৩ নম্বর আয়াত।

৫ আল-বাহরুল মুহিত, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯১; এবং আত-তাসরিহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪০।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
‌‌الصلة بشبه الجملة:-

وتقع صلة الموصول شبه جملة وهي نوعان:-

الأول: الظرف والجار والمجرور. وتعلقهما باستقر محذوفاً وجوباً فبذلك

_________
বাক্যসদৃশ পদগুচ্ছ (شبه جملة) দ্বারা সম্বন্ধ (صلة):-

সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের সম্বন্ধ (صلة الموصول) বাক্যসদৃশ পদগুচ্ছ (شبه جملة) হিসেবে গঠিত হয়ে থাকে এবং এটি দুই প্রকার:-

প্রথম: কাল বা আধার (ظرف) এবং অব্যয় ও অন্বয় পদ (جار ومجرور)। এই উভয়টির আবশ্যিকভাবে বিলুপ্ত (محذوف وجوباً) 'ইস্তাকাররা' (استقر) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে

_________
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
أشبها الجملة 1، والعائد ضمير في المتعلق مطابق لاسم الموصول.

الثاني: الصفة الصريحة الخالصة للوصفية. وتقع صلة لأل الموصولة وهذه الصلة اسم لفظاً2 فعل معنى، ومن ثم حسن عطف الفعل عليها نحو قوله تعالى: {فالمغيرات صبحاً فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعاً} 3 وقوله: {إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضاً حَسَناً} 4.

ويلزم في عائد أل الموصولة اعتبار المعنى نحو الصائم والصائمة والمصدقين والمصدقات.

--------------------------------------------

1 التصريح جـ 1 ص 141، الهمع: جـ 1 ص 87.

2 حاشية الصبان جـ 1 ص 164.

3 الآية رقم 3، 4 من سورة العاديات.

4 الآية رقم 18 من سورة الحديد.
বাক্যসদৃশ (شبه الجملة) ১, এবং প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম (عائد) হলো সংশ্লিষ্ট শব্দের অন্তর্ভুক্ত একটি সর্বনাম যা সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (اسم الموصول)-এর সাথে সংগতিপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত: স্পষ্ট গুণবাচক বিশেষ্য (الصفة الصريحة) যা নিছক গুণ বর্ণনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সম্বন্ধসূচক আল (أل الموصولة)-এর সম্বন্ধ (صلة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সম্বন্ধ (صلة) শাব্দিক বিচারে বিশেষ্য (اسم) ২ কিন্তু অর্থগত বিচারে ক্রিয়া (فعل)। ফলে এর ওপর ক্রিয়ার অন্বয় (عطف) করা উত্তম, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {فالمغيرات صبحاً فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعاً} ৩ এবং তাঁর বাণী: {إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضاً حَسَناً} ৪।

আর সম্বন্ধসূচক আল (أل الموصولة)-এর প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম (عائد)-এর ক্ষেত্রে অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক; যেমন— আস-সায়েম (রোজাদার পুরুষ), আস-সায়েমাহ (রোজাদার নারী), আল-মুসাদ্দিকীন (দানশীল পুরুষগণ) এবং আল-মুসাদ্দিকাত (দানশীল নারীগণ)।

--------------------------------------------

১. আত-তাসরিহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪১; আল-হামউ: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৭।

২. হাশিয়া আস-সাব্বান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৪।

৩. সূরা আল-আদিয়াত, আয়াত নং ৩, ৪।

৪. সূরা আল-হাদিদ, আয়াত নং ১৮।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
‌‌جملة الحال:-

تقع الحال جملة وشبه جمله. وتربط في الأصل بالضمير. وقد تربط بالواو أو بهما وسيأتي حديث لاحق عن الربط بالواو، وفي هذا الجزء سنتناول الجمل التي يتعين ربطها بالضمير فقط. وهذه الجمل هي:-

الأولى: أن تبدأ الجملة بمضارع مثبت غير مسبوق بقد مثل قوله تعالى: {وَلا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ} 5 فجملة تستكثر حال من فاعل تمنن، ولم تقترن بالواو لأنه يشبه اسم الفاعل في الوزن والمعنى والواو لا تدخل اسم الفاعل فكذلك ما أشبهه.

الثانية: الجملة الواقعة بعد عاطف مثل قوله تعالى: {فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتاً أَوْ هُمْ قَائِلُونَ} 6 فجملة {أَوْ هُمْ قَائِلُونَ} حالية وقد ربطت بالضمير {هُمْ}

الثالثة: المؤكدة لمضمون الجملة السابقة مثل قوله تعالى: {ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ

--------------------------------------------

5 الآية رقم 6 من سورة المدثر. وتخريج الجملة حالاً على قراءة الرفع وقرأ الحسن تستكثر بالسكون على الإبدال من تمنن كأنه قيل: ولا تمنع لا تستكثر وقرأ الأعمش بالنصب بإضمار أن كقول الشاعر: ألا أيها الزاجري أحضر الوغى. وتؤيده قراءة ابن مسعود: ولا تمنن أن تستكثر.

ويجوز في الرفع أن تحذف أن ويبطل عملها كما روى أحضر الوغى بالرفع، الزمخشرى: الكشاف جـ 3 ص 285.

6 الآية رقم 4 من سورة الأعراف.

فجاءها. أي فجاء أهلها. بياتاً: مصدر واقع موقع الحال بمعنى بائتين، وقوله: أوهم قائلون جملة حالية معطوفة على بياتاً. فكأنه قيل: فجاءهم بأسنا بائتين أو قائلين من القيلولة المصدر السابق جـ 1 ص 539، التصريح جـ 1ص391.
‌হালিয়া বাক্য (অবস্থাবাচক বাক্য):-

হাল বা অবস্থা কখনো বাক্য এবং কখনো বাক্যাংশ হিসেবে আসে। এটি মূলত সর্বনাম বা যমিরের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। কখনো কখনো এটি ‘ওয়াও’ বর্ণের মাধ্যমে অথবা উভয়টির (ওয়াও ও যমির) মাধ্যমে সংযুক্ত হয়। ‘ওয়াও’-এর মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। এই অংশে আমরা কেবল সেই বাক্যগুলো নিয়ে আলোচনা করব যেগুলোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যমিরের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া আবশ্যক। এই বাক্যগুলো হলো:-

প্রথমত: বাক্যটি যখন এমন কোনো ইতিবাচক বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া বা মুজারি মুসবাত দ্বারা শুরু হয় যার পূর্বে ‘কাদ’ অব্যয়টি থাকে না। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর অধিক পাওয়ার আশায় অনুগ্রহ করো না} ৫। এখানে ‘তস্তাকসিরু’ বাক্যটি ‘তামনুন’ এর কর্তার অবস্থা বা হাল হিসেবে এসেছে। এটি ‘ওয়াও’-এর সাথে যুক্ত হয়নি, কারণ এটি গঠন ও অর্থের দিক থেকে কর্তাবাচক বিশেষ্য বা ইসমুল ফায়িলের সদৃশ; আর যেহেতু ইসমুল ফায়িলের শুরুতে ‘ওয়াও’ যুক্ত হয় না, তাই এর সদৃশ শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

দ্বিতীয়ত: সংযোজক অব্যয় বা আতিফের পরে অবস্থিত বাক্য। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তাদের নিকট আমার শাস্তি এসেছিল রাতে অথবা যখন তারা দুপুরে বিশ্রামরত ছিল} ৬। এখানে {অথবা তারা দুপুরে বিশ্রামরত ছিল} বাক্যটি অবস্থাবাচক এবং এটি ‘হুম’ যমিরের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে।

তৃতীয়ত: পূর্ববর্তী বাক্যের বিষয়বস্তুকে সুদৃঢ়কারী বাক্য। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই...

--------------------------------------------

৫. সূরা আল-মুদ্দাসসিরের ৬ নম্বর আয়াত। এখানে রফ (পেশ)-এর পাঠরীতি অনুযায়ী বাক্যটিকে হাল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইমাম হাসান ‘তস্তাকসির’ শব্দটিকে সুকুন (জজম) দিয়ে ‘তামনুন’ থেকে বদল হিসেবে পাঠ করেছেন; যেন বলা হয়েছে: ‘অনুগ্রহ করো না এবং অধিক পাওয়ার প্রত্যাশা করো না’। ইমাম আমাশ ‘আন’ অব্যয়টি উহ্য রেখে নসব (যবর) যোগে পাঠ করেছেন, যেমন জনৈক কবির উক্তি: ‘হে আমার ধমকদানকারী! আমি যেন যুদ্ধে উপস্থিত হই’। ইবনে মাসউদের পাঠরীতি একে সমর্থন করে: ‘ওয়ালা তামানুন আন তস্তাকসিরা’। রফ-এর ক্ষেত্রে ‘আন’ বিলুপ্ত হওয়া এবং এর আমল বা কার্যকারিতা বাতিল হওয়া বৈধ, যেমন ‘আহদুরু আল-ওয়াগা’ রফ সহকারে বর্ণিত হয়েছে। যামাখশারী: আল-কাশশাফ, ৩য় খণ্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা।

৬. সূরা আল-আ’রাফের ৪ নম্বর আয়াত। ‘ফাজাহাহ’ অর্থাৎ ‘তার অধিবাসীদের নিকট এসেছে’। ‘বায়াতান’ হলো হাল-এর স্থলাভিষিক্ত একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যার অর্থ ‘রাত্রিযাপনকারী অবস্থায়’। আর আল্লাহর বাণী ‘অথবা তারা দুপুরে বিশ্রামরত ছিল’ হলো একটি হালিয়া বাক্য যা ‘বায়াতান’ শব্দের ওপর আতফ বা সংযোজিত হয়েছে। সুতরাং এর মর্মার্থ দাঁড়ায়: ‘তাদের নিকট আমার শাস্তি এসেছে তারা রাতে থাকা অবস্থায় অথবা দুপুরে বিশ্রামরত অবস্থায়’। পূর্বোক্ত গ্রন্থ, ১ম খণ্ড, ৫৩৯ পৃষ্ঠা; আত-তাসরিহ, ১ম খণ্ড, ৩৯১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
فِيهِ} فجملة لا ريب فيه. جملة حالية مؤكدة لمضمون الجملة السابقة1. وهي ذلك الكتاب. وقد جاء الربط بالضمير في كلمة {فِيهِ} وكون الجملة الحالية مؤكدة لأن الأولى تفيد أن الكتاب في قمة الكمال فهو مبرأ من كل ريب.

الرابعة: الجملة الفعلية المصدرة بماض تال إلا مثل قوله تعالى: {وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} 2 فجملة كانوا به يستهزئون حال من الهاء والميم في يأتيهم ولا تقترن بالواو عند ابن مالك.

الخامسة: الجملة الفعلية المصدرة بماض متلو بأو. مثل لأضربنه ذهب أو مكث. فجملة ذهب حال من الماء وهي متلوة بأو فلا تقترن بالواو لأنها في تقدير شرط أي إن ذهب وان مكث، وفعل الشرط لا يقترن بالواو فكذلك ما كان في تقديره.

السادسة: المضارع المنفي بلا مثل قوله تعالى: {وَمَا لَنَا لا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ} 3 {مَا لِيَ لا أَرَى الْهُدْهُدَ} 4، وقوله: {مَا لَكُمْ لا تَنَاصَرُونَ} 5.

السابعة: المضارع المنفى بما كقول الشاعر:

عَهْدتُكَ مَا تصبُو وفيكَ شبيبة … فمالَكَ بعد الشَّيْبِ صَبًّا مُتَيَّماً6

--------------------------------------------

1 الآية رقم 2 من سورة البقرة.

لا ريب: المختار أن يكون ذلك الكتاب جملة مستقلة لأنه متى أمكن حمل الكلام على الإستقلال دون إضمار ولا افتقار كان أولى. ولا ريب: جملة مستأنفة لا موضع لها من الإعراب أو في موضع نصب على الحال. أي مبرأ من الريب، والمختار أن خبر لا محذوف للعلم به إذ هي لغة تميم إذا علم لا يلفظ به، ولغة الحجاز كثرة حذفه واختار الزمخشري. أن فيه خبراً للا. فالحملة أخبرت أن المشار إليه هدا الكتاب الكامل كما تقول محمد الرجل أي الكامل في الأوصاف. والثانية نفت أن يكون فيه شيء من الريب والثالثة أخبرت أن فيه الهدى للمتقين.

الزمحشري الكشاف 1/88، أبو حيان: البحر المحيط 1 ص 33؟.

2 الآية رقم 11من سورة الحجر.

3 الآية رقم 84 من سورة المائدة، فجملة نؤمن بالله حال من الضمير المجرور باللام ولم تقترن بالواو لأن المضارع المنفى بلا بمنزلة اسم الفاعل المضاف إليه غير فأجرى مجراه ألا ترى أن معناه مالنا غير مؤمنين فلما لا يقال ما لنا وغير مؤمنين، لا يقال مالنا ولا نؤمن.

مالنا: ما: استفهامية، ولنا في موضع الخبر، ولا نؤمن: جملة حالية ربطت بالضمير في نؤمن، والتقدير غير مؤمنين. البحر المحيط: جـ 4 ص 7.

4 الآية رقم 20 من سورة النحل.

5 الآية رقم 25 من سورة الصافات

6 البيت أنشده ابن مالك في شرح التسهيل ولم ينسبه.

عهدتك: عرفتك. تصبو: من الصبوة. وهى الميل إلى النساء. شبيبة: هي الفترة التي يكون فيها الإنسان موفور القوة. صباً: وصف من الصبابة وهي رقه الهوى والعشق. متيماً. اسم مفعول من تيمه العشق إذا استعبده وأذله.

ابن هشام: أوضح المسالك جـ2 ص 104، التصريح جـ 1 ص 392 الصبان جـ2 ص 189.
{তাতে} অংশে ‘তাতে কোনো সন্দেহ নেই’ বাক্যটি। এটি একটি অবস্থাজ্ঞাপক বাক্য যা পূর্ববর্তী বাক্যের বিষয়বস্তুকে সুনিশ্চিত করে১। আর তা হলো ‘সেই কিতাব’। এখানে ‘তাতে’ শব্দের সর্বনামের মাধ্যমে সংযোগ ঘটানো হয়েছে। অবস্থাজ্ঞাপক বাক্যটি সুনিশ্চিতকারী হওয়ার কারণ হলো, প্রথম বাক্যটি এই অর্থ প্রদান করে যে কিতাবটি পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে রয়েছে, ফলে তা সকল প্রকার সংশয় থেকে মুক্ত।

চতুর্থ: এমন ক্রিয়াবাচক বাক্য যা ‘ইল্লা’ এর পরবর্তী অতীতকালীন ক্রিয়া দ্বারা শুরু হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের কাছে এমন কোনো রাসূলই আসতেন না যাদের নিয়ে তারা উপহাস করত না} ২। এখানে ‘তারা তাকে নিয়ে উপহাস করত’ বাক্যটি ‘তাদের কাছে আসে’ ক্রিয়ার অন্তর্গত ‘হা’ ও ‘মীম’ সর্বনাম থেকে ‘হাল’ হিসেবে এসেছে এবং ইবনে মালিকের মতে এটি ‘ওয়াও’ এর সাথে যুক্ত হয় না।

পঞ্চম: এমন ক্রিয়াবাচক বাক্য যা ‘আউ’ এর পরবর্তী অতীতকালীন ক্রিয়া দ্বারা শুরু হয়। যেমন—‘আমি তাকে অবশ্যই প্রহার করব, সে চলে যাক কিংবা অবস্থান করুক’। এখানে ‘সে চলে যাক’ বাক্যটি ‘মা’ থেকে ‘হাল’ হিসেবে এসেছে এবং এটি ‘আউ’ এর অনুগামী হওয়ায় ‘ওয়াও’ এর সাথে যুক্ত হবে না। কারণ এটি শর্তের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ—যদি সে চলে যায় এবং যদি সে অবস্থান করে। আর শর্তের ক্রিয়া যেহেতু ‘ওয়াও’ এর সাথে যুক্ত হয় না, তাই যা তার সমার্থবোধক তাও যুক্ত হবে না।

ষষ্ঠ: ‘লা’ দ্বারা নেতিবাচক বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদের কী হয়েছে যে আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনব না?} ৩, {আমার কী হলো যে আমি হুদহুদ পাখিকে দেখছি না?} ৪, এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের কী হলো যে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?} ৫।

সপ্তম: ‘মা’ দ্বারা নেতিবাচক বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যেমন কবির উক্তি:

আমি তোমাকে চিনেছি এমন অবস্থায় যে তুমি আসক্ত ছিলে না যখন তোমার যৌবন ছিল... তবে বার্ধক্যের পরে তোমার কী হলো যে তুমি প্রেমে মত্ত ও দিশেহারা? ৬

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারার ২ নম্বর আয়াত।

সন্দেহ নেই (লা রাইবা): অধিক পছন্দনীয় মত হলো ‘সেই কিতাব’ একটি স্বতন্ত্র বাক্য হওয়া। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো কথাকে উহ্য বা মুখাপেক্ষী না রেখে স্বতন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়, ততক্ষণ সেটিই উত্তম। ‘সন্দেহ নেই’ বাক্যটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই অথবা এটি ‘নসব’ এর অবস্থায় ‘হাল’ হিসেবে আছে। অর্থাৎ: সংশয় হতে মুক্ত। অধিক পছন্দনীয় মত হলো, ‘লা’ এর বিধেয়টি জানা থাকার কারণে তা উহ্য রয়েছে; কারণ এটি তামীম গোত্রের ভাষা যে, বিধেয় জানা থাকলে তা উচ্চারণ করা হয় না। হিজাজীদের ভাষায় এটি উহ্য রাখার প্রবণতা বেশি এবং আল-ঝামাখশারী একেই গ্রহণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ‘তাতে’ শব্দটি ‘লা’ এর বিধেয়। ফলে বাক্যটি সংবাদ দিচ্ছে যে, ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি এই পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যেমন আপনি বলে থাকেন ‘মুহাম্মাদ একজন পুরুষ’ অর্থাৎ গুণের দিক থেকে পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় বাক্যটি তাতে কোনো প্রকার সন্দেহ থাকাকে নাকচ করে এবং তৃতীয় বাক্যটি সংবাদ দেয় যে, তাতে মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত রয়েছে।

আল-ঝামাখশারী: আল-কাশশাফ ১/৮৮, আবু হাইয়ান: আল-বাহরুল মুহিত ১ খণ্ড, ৩৩ পৃষ্ঠা।

২ সূরা আল-হিজরের ১১ নম্বর আয়াত।

৩ সূরা আল-মায়েদার ৮৪ নম্বর আয়াত। এখানে ‘আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনব না’ বাক্যটি ‘লাম’ এর সাথে যুক্ত মাজরুর সর্বনাম থেকে ‘হাল’ হিসেবে এসেছে এবং তা ‘ওয়াও’ এর সাথে যুক্ত হয়নি। কারণ ‘লা’ যুক্ত নেতিবাচক বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া মূলত ‘ইসম ফায়িল’ এর স্থলাভিষিক্ত যা ‘গাইর’ শব্দের সাথে সর্ম্পকিত হয়। তাই এর হুকুমও তেমনই হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে এর অর্থ হলো—‘ঈমান না আনা অবস্থায় আমাদের কী হলো?’ সুতরাং যেহেতু বলা হয় না ‘আমাদের কী হলো এবং ঈমান না আনা অবস্থায়’, তাই বলা হয় না ‘আমাদের কী হলো এবং আমরা ঈমান আনব না’।

মালানা: ‘মা’ হলো প্রশ্নবোধক এবং ‘লানা’ বিধেয়ের স্থানে রয়েছে। ‘আমরা ঈমান আনব না’ বাক্যটি একটি অবস্থাজ্ঞাপক বাক্য যা ‘নুমিনু’ এর সর্বনামের সাথে যুক্ত। এর মূল ভাব হলো—‘ঈমান না আনা অবস্থায়’। আল-বাহরুল মুহিত: ৪ খণ্ড, ৭ পৃষ্ঠা।

৪ সূরা আন-নামলের ২০ নম্বর আয়াত।

৫ সূরা আস-সাফফাতের ২৫ নম্বর আয়াত।

৬ এই পঙক্তিটি ইবনে মালিক ‘শারহুত তাসহিল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন কিন্তু রচয়িতার নাম উল্লেখ করেননি।

আমি তোমাকে চিনেছি: অর্থাৎ আমি তোমাকে জেনেছি। তুমি আসক্ত হও: এটি ‘সবওয়াহ’ থেকে আগত যার অর্থ নারীর প্রতি ঝোঁক। যৌবন: এটি সেই সময় যখন মানুষ পূর্ণ শক্তির অধিকারী থাকে। প্রেমে মত্ত: ‘সবাবাহ’ থেকে আগত বিশেষণ যার অর্থ অনুরাগের কোমলতা। দিশেহারা: এটি ‘তায়্যামাহুল ইশক’ থেকে ‘ইসম মাফউল’, যার অর্থ যখন প্রেম কাউকে দাসে পরিণত ও লাঞ্ছিত করে।

イবনে হিশাম: আওদাহুল মাসালিক ২ খণ্ড ১০৪ পৃষ্ঠা, আত-তাসরিহ ১ খণ্ড ৩৯২ পৃষ্ঠা, আস-সাব্বান ২ খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
فجملة ما تصبو: خالية من ضمير الخطاب في عهدتك وجاء الربط بالضمير في تصبو.

وقد ورد دخول الواو مع الضمير في قولهم: قمت وأصلك وقد يخرج على تقدير مبتدأ، ومثله قوله تعالى: {فَاسْتَقِيمَا وَلا تَتَّبِعَانّ} 1بتخفيف النون، فقد خرج ابن مالك2 الآية على حذف المبتدأ إلا أن ابن الناظم جعل ترك الواو قبل لا أكثر فعنده تكون لافية دون النهي لثبوت نون الرفع فتكون الواو للحال3، وقد رأى ابن عصفور أن تكون الواو للحال دخلت على المضارع مباشرة شذوذاً ويرده وروده في التنزيل الكريم في هذه الآية وفي قوله تعالى: {وَنَطْمَعُ أَنْ يُدْخِلَنَا رَبُّنَا} 4 ولا ينبغي أن يخرج القرآن على الشذوذ.

وذكر أبو البقاء في قراءة التخفيف أن "لا" يجوز5 أن تكون ناهيةً وحذفت النون الأولى من الثقيلة تخفيفاً، ولم تحذف الثانية لأنه لو حذفها لحذف نوناً محركة واحتاج إلى تحريك الساكنة، وحذف الساكنة أقل تغيراً، وعلى هذا تكون الواو عاطفة كما أجاز أبو البقاء أن تكون لا نافية والواو عاطفة لا واو الحال، وصح عطف الخبر على الأمر لأنه في معنى الطلب، كما عطف الطلب في قوله تعالى: {وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً} 6 على الخبر الذي في معناه في قوله تعالى: {لا تَعْبُدُونَ إِلَاّ اللَّهَ} .

--------------------------------------------

1 الآية رقم 89 من سورة يونس وراجع: الكشاف جـ 2 ص 85. البحر المحيط جـ 5 ص 188.

2 ابن مالك: شرح الكافية الشافية ص 762.

3 التصريح جـ 1 ص0392 الصبان جـ 2 ص 189.

4 الآية رقم 84 من سورة المائدة. وراجع البحر المحيط جـ 4 ص 7.

5 أبو البقاء جـ 2 ص 33.

6 الآية رقم 83 من سورة البقرة.
সুতরাং "তসবু" (تصبو) বাক্যটি: তোমার জিম্মায় সম্বোধনমূলক সর্বনাম (ضمير الخطاب) থেকে মুক্ত এবং "তসবু" ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত সর্বনামের মাধ্যমেই সংযুক্তি ঘটেছে।

প্রথাগত উক্তিতে সর্বনামের সাথে "ওয়াও"-এর প্রবেশ ঘটেছে, যেমন তাদের কথা: "ক্বুমতু ওয়া আসলুকা"; এবং কখনো কখনো এটি উহ্য উদ্দেশ্য (مبتدأ)-এর ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {فَاسْتَقِيمَا وَلا تَتَّبِعَانّ}, এখানে নুন বর্ণটি হালকা (تخفيف) করে পড়া হয়েছে। ইবনে মালিক আয়াতটিকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) বিলোপের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ইবনে নাযিম "লা" (لا)-এর পূর্বে "ওয়াও" বর্জন করাকে অধিক প্রচলিত বলে গণ্য করেন। তাঁর মতে, এটি নুন-এর স্থায়িত্বের কারণে নিষেধবাচক (ناهية) না হয়ে বরং না-বাচক (نافية) হবে, আর তখন ওয়াওটি অবস্থা বর্ণনার (واو الحال) জন্য ব্যবহৃত হবে। ইবনে উসফুর মনে করেন যে, বিরলভাবে (شذوذاً) অবস্থা বর্ণনাকারী ওয়াও (واو الحال) সরাসরি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া বা মুদারে (مضارع)-এর ওপর দাখিল হয়েছে। কিন্তু পবিত্র কুরআনের এই আয়াতে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {وَنَطْمَعُ أَنْ يُدْخِلَنَا رَبُّنَا} -এ এর উপস্থিতি তাঁর এই মতকে খণ্ডন করে; কেননা কুরআনকে বিরল ব্যাকরণিক নিয়মের (شذوذ) ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা সমীচীন নয়।

আবু আল-বাকা হালকা (تخفيف) পড়ার কেরাতের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, "লা" (لا) বর্ণটি নিষেধবাচক (ناهية) হওয়া বৈধ (جائز), এবং সহজীকরণের জন্য তাকিদ-এর দ্বিত্ব নুন থেকে প্রথম নুনটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি বিলুপ্ত করা হয়নি কারণ সেটি বিলুপ্ত করলে একটি হারকাতযুক্ত নুন বিলুপ্ত হতো এবং পূর্বের সুকুনযুক্ত বর্ণকে হারকাত দেওয়ার প্রয়োজন হতো, আর সুকুনযুক্ত বর্ণ বিলুপ্ত করা পরিবর্তনের দিক থেকে লঘুতর। এই মতানুসারে ওয়াও বর্ণটি হবে সংযোজক অব্যয় (عاطفة)। এছাড়া আবু আল-বাকা "লা"-কে না-বাচক (نافية) এবং ওয়াও-কে অবস্থা বর্ণনাকারী নয় বরং সংযোজক অব্যয় (عاطفة) হওয়াও বৈধ (جائز) বলেছেন। সংবাদমূলক (خبر) বাক্যকে নির্দেশমূলক (أمر) বাক্যের ওপর সংযুক্ত করা শুদ্ধ হয়েছে কারণ এটি অর্থগতভাবে চাহিদামূলক (طلب)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً} -এ চাহিদামূলক (طلب) বাক্যটিকে সংবাদমূলক বাক্যের ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে যা একই অর্থের দাবি রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {لا تَعْبُدُونَ إِلَاّ اللَّهَ} -এর মধ্যে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

১. সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৮৯; এবং দেখুন: আল-কাশশাফ, ২য় খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা। আল-বাহরুল মুহিত, ৫ম খণ্ড, ১৮৮ পৃষ্ঠা।

২. ইবনে মালিক: শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ, ৭৬২ পৃষ্ঠা।

৩. আত-তাসরিহ, ১ম খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা; আস-সাব্বান, ২য় খণ্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠা।

৪. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত নং ৮৪; এবং দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত, ৪র্থ খণ্ড, ৭ পৃষ্ঠা।

৫. আবু আল-বাকা, ২য় খণ্ড, ৩৩ পৃষ্ঠা।

৬. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৮৩।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
‌‌الحال شبه الجملة:-

وتقع الحال شبه الجملة: ظرفاً أو جاراً ومجروراً تامين، ويربطان بالضمير المستكن في المتعلق ففي مثل: رأيت الهلال بين السحاب. بين ظرف مكان في موضع الحال من الهلال.

وفي قوله تعالى: {فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِه} 7 الجار والمجرور وهو {فِي زِينَتِه} في موضع الحال من فاعل خرج العائد على قارون.

والظرف والجار والمجرور الواقعان حالين يتعلقان بمحذوف وجوباً تقديره مستقر8،

--------------------------------------------

7الآية رقم 79 من سورة القصص.

8 التصريح جـ 1ص 388.
বাক্যসদৃশ হাল (الحال شبه الجملة):-

বাক্যসদৃশ হাল (الحال شبه الجملة) ব্যবহৃত হয়: পূর্ণাঙ্গ যরফ (ظرفا) অথবা জার ও মাজরুর (جارا ومجرورا) হিসেবে, এবং তারা উভয়েই সংশ্লিষ্ট পদের (المتعلق) অন্তর্ভুক্ত প্রচ্ছন্ন সর্বনামের (الضمير المستكن) সাথে যুক্ত থাকে। যেমন: "আমি মেঘের মাঝে নতুন চাঁদ দেখেছি।" এখানে 'বাইন' (بين) শব্দটি 'হিলাল' (চাঁদ) থেকে হাল (حال) হিসেবে স্থানবাচক যরফ (ظرف مكان) এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর সে তার সম্প্রদায়ের নিকট তার জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থায় বের হলো} ৭। এখানে জার ও মাজরুর (الجار والمجرور) তথা {তার জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থায়} অংশটি 'খরাজা' (خرج) ক্রিয়ার কর্তা (فاعل)-র পক্ষ থেকে হাল (حال) এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যা কারুনের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

হাল (حال) হিসেবে ব্যবহৃত যরফ (الظرف) এবং জার ও মাজরুর (الجار والمجرور) আবশ্যিকভাবে একটি উহ্য (محذوف) পদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, যার আনুমানিক রূপ (تقديره) হলো 'মুস্তাকির' (مستقر)। ৮।

--------------------------------------------

৭. সূরা আল-কাসাসের ৭৯ নম্বর আয়াত।

৮. আত-তাসরিহ, ১ম খণ্ড, ৩৮৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
أو استقر وكون المتعلق مقدر بالمفرد أو الجملة فالرابط موجود وهو الضمير المستكن في المتعلق.
অথবা 'ইস্তাকাররা' (استقر) ক্রিয়াটি উহ্য ধরা হয় এবং সম্পৃক্ত শব্দটি (متعلق) একক শব্দ (مفرد) অথবা বাক্য (جملة) হিসেবে উহ্য (مقدر) থাকে, এমতাবস্থায় সংযোগকারী (رابط) বিদ্যমান থাকে; আর তা হলো সেই সম্পৃক্ত শব্দটির (متعلق) মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকা সর্বনাম (ضمير مستكن)।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
‌‌جملة الصفة

‌‌مدخل

…

جملة الصفة:-

توصف النكرة بجملة مكونة من فعل وفاعل1 أو مبتدأ وخبر أو مكونة من شرط أو جزاء كما توصف بالظرف والجار والمجرور. وكل هذه الصفات لابد فيها من رابط يعود إلى الموصوف، وإنما اشترط هذا الرابط ليحصل بذلك الربط اتصاف الموصوف بمضمون الصفة2 فيحدث التخصيص والتعريف المطلوب. فإذا قلت: مررت برجل قام عمرو لم يكن الرجل متصفاً بقيام عمرو بوجه فلا تخصص به. فإذا قلت: قام عمرو في داره صار الرجل متصفاً بقيام عمرو في داره.

فمن الوصف بالجملة قوله تعالى: {وَاتَّقُوا يَوْماً تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّه} 3 فجملة ترجعون في موضع نصب صفة لـ {يَوْماً} وقد وقع الربط بالضمير المذكور وهو {فِيهِ} والرابط في جملة الصفة قد يحذف. قال الشاعر:-

أن يقتلوك فإن قتلك لم يكن … عاراً عليك ورُبَّ قتلٍ عارُ4

فالرابط محذوف من جملة الصفة والتقدير هو عار، ومن العائد المحذوف قوله تعالى: {وَاتَّقُوا يَوْماً لا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئاً} 5 أي لا تجزى فيه. وهل حذف الجار والمجرور معاً أو حذف الجار وحده فانتصب الضمير واتصل بالفعل، ثم حذف منصوباً قولان الأول عن سيبويه والثاني عن الأخفش6.

--------------------------------------------

ابن يعيش: شرح المفصل جـ 3 ص 52.

2 الرضى: شرح الكافية جـ 1ص 308.

3 الآية رقم 281 من سورة البقرة.

4 البيت ضمن أبيات لثابت بن قطنة رثى بها يزيد بن المهلب. وإنما قيل له ثابت قطنة لأن عينه أصيبت في بعض معارك الترك. فكان يجعل عليها قطنة. وقد أورده ابن هشام شاهداً على أن إن بمعنى إذ ونقل ابن السيد البطليوسي فيما كتبه على الكامل قول المبرد: هكذا أنشده النحويون: رب قتل عار على إضمار هو عار وأنشد فيه المازني. وبعض قتل عار. وقد استدل الأخفش والكوفيون على اسمية رب بهذا البيت جعلها مبتدأ خبره عار، والجمهور على أن رب حرف جر شبيه بالزائد، وقيل المجرور في موضع رفع مبتدأ، وعار خبر لمحذوف أي هو عار، والجملة صفة لقتل، ومن جعل رب حرف جر زائد لا يتعلق بشيء. قال: قتل مبتدأ، وعار خبر، وما في رب من معنى التكثير هو المخصص للإبتداء.

المبرد: المقتضب. جـ 3 ص 66.

الجاحظ: البيان والتبين: جـ 1 ص 293.

ابن السيد: إصلاح الخلل الواقع في الجمل ص 380.

5 الآية رقم 123 من سورة البقرة.

6 التصريح جـ 2 ص 111.
‌বিশেষণমূলক বাক্য (جملة الصفة)

‌ভূমিকা (مدخل)

...

বিশেষণমূলক বাক্য (جملة الصفة):-

অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة)-কে ক্রিয়া ও কর্তা (فعل وفاعل), অথবা মুক্তাদা ও খবর (مبتدأ وخبر), অথবা শর্ত (شرط) ও প্রতিদান (جزاء) দ্বারা গঠিত বাক্য দিয়ে বিশেষিত করা যায়, যেমনটি অব্যয় (ظرف) এবং জার ও মাজরুর (جار ومجرور) দ্বারাও বিশেষিত করা হয়। এই সকল বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে এমন একটি সংযোগকারী (رابط) থাকা আবশ্যক যা মাওসুফ (موصوف)-এর দিকে ফিরে যায়। এই সংযোগকারীটি (رابط) শর্ত করা হয়েছে যাতে এই সংযোগের মাধ্যমে মাওসুফ (موصوف) বিশেষণের (صفة) বিষয়বস্তুর গুণে গুণান্বিত হতে পারে, ফলে কাঙ্ক্ষিত নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) ও পরিচয় নির্ধারণ (تعريف) অর্জিত হয়। আপনি যদি বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার জন্য আমর দাঁড়িয়েছে (মারারতু বি-রাজুলিন ক্বামা আমরুন)", তবে সেই ব্যক্তি কোনোভাবেই আমরের দাঁড়ানোর সাথে সম্পৃক্ত হয় না, ফলে তার কোনো নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) ঘটে না। কিন্তু যদি আপনি বলেন: "আমরের দাঁড়ানো তার ঘরে ছিল (ক্বামা আমরুন ফি দারিহি)", তবে ব্যক্তিটি তার ঘরে আমরের দাঁড়ানোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

বাক্য দ্বারা বিশেষিত করার একটি উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যে দিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" এখানে 'তুরুজাউনা' (ترجعون) বাক্যটি 'ইয়াওমান' (يوما)-এর বিশেষণ (صفة) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে এবং এখানে উল্লেখিত সর্বনাম (ضمير) অর্থাৎ 'ফিহি' (فيه)-এর মাধ্যমে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। বিশেষণমূলক বাক্যে (جملة الصفة) সংযোগকারী (رابط) কখনো কখনো বিলুপ্ত (محذوف) হতে পারে। কবি বলেছেন:-

যদি তারা তোমাকে হত্যা করে, তবে তোমার মৃত্যু তোমার জন্য লজ্জা নয়... বরং অনেক মৃত্যুই গৌরবের।

এখানে বিশেষণমূলক বাক্য (جملة الصفة) থেকে সংযোগকারীটি (رابط) বিলুপ্ত (محذوف) এবং এর মূল রূপ হলো "উহুয়া আরুন" (অর্থাৎ এটি গৌরবের)। বিলুপ্ত সংযোগকারী বা প্রত্যাবর্তনকারীর (عائد محذوف) আরেকটি উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যখন কেউ কারো কোনো উপকারে আসবে না।" অর্থাৎ "তাতে উপকারে আসবে না" (লা তাজজি ফিহি)। জার (جار) ও মাজরুর (مجرور) কি উভয়ই একসাথে বিলুপ্ত (محذوف) হয়েছে, নাকি কেবল জার (جار) বিলুপ্ত হয়েছে এবং সর্বনামটি (ضمير) মানসুব (منصوب) হয়ে ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে, তারপর মানসুব (منصুব) অবস্থায় বিলুপ্ত (محذوف) হয়েছে—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। প্রথমটি সিবাহওয়াই-এর এবং দ্বিতীয়টি আল-আখফাশের।

--------------------------------------------

ইবনে ইয়াইশ: শারহুল মুফাসসাল, ৩য় খণ্ড, ৫২ পৃষ্ঠা।

২ আর-রাদি: শারহুল কাফিয়া, ১ম খণ্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা।

৩ সূরা আল-বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত।

৪ এই কবিতাটি সাবিত বিন কুতনাহ-এর কতগুলো পঙক্তির অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বারা তিনি ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব-এর শোকগাঁথা রচনা করেছিলেন। তাকে সাবিত কুতনাহ বলা হতো কারণ তুর্কিদের সাথে কোনো এক যুদ্ধে তার চোখ জখম হয়েছিল, তাই তিনি সেখানে তুলো (কুতনাহ) দিয়ে রাখতেন। ইবনে হিশাম একে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন যে ‘ইন্ন’ (إن) এখানে ‘ইজ’ (إذ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনে সাইয়্যেদ আল-বাতালইউসি আল-কামিল গ্রন্থের টীকায় আল-মুবররাদ-এর উক্তি বর্ণনা করেছেন: ব্যাকরণবিদগণ এভাবেই আবৃত্তি করেছেন: 'রুব্বা কাতলিন আরুন' অর্থাৎ 'হুয়া আরুন' উহ্য রেখে। আল-মাজিনিও এটি আবৃত্তি করেছেন। কেউ কেউ 'ওয়া বা'দু কাতলিন আরুন'ও পড়েছেন। আল-আখফাশ এবং কুফাবাসীরা এই কবিতার মাধ্যমে ‘রুব্বা’ (رب)-এর ইসম (اسم) হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন এবং একে মুক্তাদা (مبتدأ) ও 'আরুন'-কে তার খবর (خبر) গণ্য করেছেন। তবে জুমহুর বা অধিকাংশের মতে 'রুব্বা' হলো অতিরিক্তের সদৃশ একটি হরফে জার (حرف جر)। আবার কেউ বলেছেন, মাজরুর (مجرور) শব্দটি রাফ (رفع) অবস্থায় মুক্তাদা (مبتدأ) হিসেবে আছে এবং 'আরুন' শব্দটি একটি উহ্য শব্দের খবর (خبر), অর্থাৎ 'হুয়া আরুন'। আর এই পুরো বাক্যটি 'কাতলিন'-এর বিশেষণ (صفة)। যারা 'রুব্বা'-কে অতিরিক্ত হরফে জার মনে করেন এবং যা কোনো কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তারা বলেন: 'কাতলিন' হলো মুক্তাদা (مبتدأ) এবং 'আরুন' হলো খবর (خبر); আর 'রুব্বা'-এর মাঝে যে আধিক্যের অর্থ রয়েছে সেটিই একে মুক্তাদা (مبتدأ) হিসেবে বসার যোগ্যতা (تخصيص) দান করেছে।

আল-মুবররাদ: আল-মুকতাদাব, ৩য় খণ্ড, ৬৬ পৃষ্ঠা।

আল-জাহিজ: আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন, ১ম খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা।

ইবনে সাইয়্যেদ: ইসলাহুল খালাল আল-ওয়াকি ফিল জুমাল, ৩৮০ পৃষ্ঠা।

৫ সূরা আল-বাকারার ১২৩ নম্বর আয়াত।

৬ আত-তাসরিহ, ২য় খণ্ড, ১১১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
الصفة بشبه الجملة:-

كما وقع الظرف والجار والمجرور التامان حالين فإنهما يكونان في موضع الصفة أيضاً ففي مثل: قرأت كتاباً في التفسير. الجار والمجرور قد خصص الكتاب وضيق دائرة عمومه فهو في موضع الصفة المجيئة بعد النكرة.

وفي مثل رأيت نجماً بين السحاب. ظرف المكان هنا في موضع الصفة لنجماً. والظرف والجار والمجرور يتعلقان بمحذوف وجوباً تقديره مستقراً أو استقر وعلى كلا الأمرين فالرابط موجود وهو الضمير المستكن والمستقر في المتعلق المحذوف.
বাক্যসদৃশ পদসমষ্টি (شبه الجملة) দ্বারা বিশেষণ (صفة):-

যেভাবে যরফ (ظرف) এবং পূর্ণাঙ্গ জার ও মাজরুর (الجار والمجرور) হাল (حال) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনিভাবে এগুলো বিশেষণ (صفة)-এর স্থলাভিষিক্তও হয়ে থাকে। যেমন উদাহরণস্বরূপ: "আমি তাফসীর বিষয়ক একটি কিতাব পড়েছি।" এখানে জার ও মাজরুর (الجار والمجرور) 'কিতাব' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করেছে এবং এর ব্যাপকতাকে সংকুচিত করেছে; ফলে এটি নাকিরাহ (نكرة)-এর পরে আসা বিশেষণ (صفة)-এর অবস্থানে রয়েছে।

আবার যেমন: "আমি মেঘের মাঝে একটি নক্ষত্র দেখেছি।" এখানে স্থানবাচক অব্যয় (ظرف المكان) 'নজম' (নক্ষত্র) শব্দের বিশেষণ (صفة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর যরফ (ظرف) এবং জার ও মাজরুর (الجار والمجرور) একটি উহ্য (محذوف) পদের সাথে আবশ্যিকভাবে (وجوباً) সংশ্লিষ্ট থাকে, যার অনুমিত রূপ হলো 'মুস্তাকিররান' (স্থির) অথবা 'ইস্তাকাররা' (স্থির হয়েছে)। আর উভয় পদ্ধতিতেই সেখানে একটি সংযোগকারী (رابط) বিদ্যমান থাকে, আর সেটি হলো সেই উহ্য সংশ্লিষ্ট পদের মধ্যে নিহিত থাকা প্রচ্ছন্ন সর্বনাম (ضمير مستكن)।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
‌‌الصفة بشبه الجملة:-

كما وقع الظرف والجار والمجرور التامان حالين فإنهما يكونان في موضع الصفة أيضاً ففي مثل: قرأت كتاباً في التفسير. الجار والمجرور قد خصص الكتاب وضيق دائرة عمومه فهو في موضع الصفة المجيئة بعد النكرة.

وفي مثل رأيت نجماً بين السحاب. ظرف المكان هنا في موضع الصفة لنجماً. والظرف والجار والمجرور يتعلقان بمحذوف وجوباً تقديره مستقراً أو استقر وعلى كلا الأمرين فالرابط موجود وهو الضمير المستكن والمستقر في المتعلق المحذوف.
অনুবাক্য দ্বারা বিশেষণ (الصفة بشبه الجملة):-

যেভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়াবিশেষণ (الظرف) এবং অব্যয় ও অব্যয়-সংলগ্ন বিশেষ্য (الجار والمجرور) অবস্থা (حال) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ঠিক তেমনি এগুলো বিশেষণের (الصفة) স্থলেও অবস্থান করে থাকে। যেমন: "আমি তাফসির বিষয়ক একটি বই পড়েছি"। এখানে অব্যয় ও অব্যয়-সংলগ্ন বিশেষ্য (الجار والمجرور) 'বই' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করেছে এবং এর সাধারণত্বের পরিধিকে সংকুচিত করেছে, ফলে এটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (النكرة) পরে আসা বিশেষণের (الصفة) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

তেমনিভাবে: "আমি মেঘের মাঝে একটি নক্ষত্র দেখেছি"। এখানে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ (ظرف المكان) শব্দটি 'নক্ষত্র' শব্দের বিশেষণ (الصفة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ক্রিয়াবিশেষণ (الظرف) এবং অব্যয় ও অব্যয়-সংলগ্ন বিশেষ্য (الجار والمجرুর) উভয়ই আবশ্যিকভাবে একটি উহ্য (محذوف) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, যার আনুমানিক রূপ হলো 'অবস্থিত' (مستقراً) অথবা 'অবস্থান গ্রহণ করেছে' (استقر)। আর উভয় অবস্থাতেই একটি যোগসূত্র (الرابط) বিদ্যমান থাকে, যা মূলত সেই উহ্য সংশ্লিষ্ট শব্দের মধ্যে সুপ্ত ও স্থিত সর্বনাম (الضمير المستكن)।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
‌‌جملة الشرط والجواب:-

من خلال تتبعي لكثير من الأساليب العربية المشتملة على الجملة الشرطية وجدت أن اسم الشرط إذا وقع مبتدأ أو وقع مفعولاً به فإن جملة الشرط أو الجواب تشتمل على ضمير يعود إلى المبتدأ، وإذا كان اسم الشرط مفعولاً به فإن جملة الجواب تشتمل على ضمير يعود على المفعول به المتقدم.

فعندما نقرأ قول الله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} 1 نجد أن اسم الشرط وقع مبتدأ فجاء الفعل في يطع، وأطاع: مشتملين على ضمير يعود إلى "من".

وما ذكرته في الآية الكريمة نجده في قوله تعالى: {وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ} 2، ومنه قوله تعالى: {فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَاباً لا أُعَذِّبُهُ أَحَداً مِنَ الْعَالَمِينَ} 3 ففي الفعل يكفر ضمير يعود على من، والضمير في "أعذبه" الأول يعود على من وعندما نقرأ قول الله تعالى: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّه} 4 نجد أن اسم الشرط وقع مفعولاً به مقدماً فاشتمل الجواب فقط على ضمير يعود على "ما" وهو الضمير في "يعلمه" وما ذكرته في هذه الآية نجده في قوله تعالى: {وَمَا تُقَدِّمُوا لأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ} 5 ومنه قوله تعالى: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا} 6

--------------------------------------------

1الآية رقم 80 من سورة النساء.

2الآية رقم 132 من سورة الأعراف.

3الآية رقم 115 من سورة المائدة.

4الآية رقم 197 من سورة البقرة.

5الآية رقم 20 من سورة المزمل.

6الآية رقم 106 من سورة البقرة.
শর্ত এবং প্রতিদান বাক্য (جملة الشرط والجواب):-

আরবি ভাষার বহুবিধ প্রয়োগরীতি যা শর্তবোধক বাক্য (جملة شرطية) সম্বলিত, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমি দেখতে পেয়েছি যে, শর্তবোধক বিশেষ্য (اسم الشرط) যখন উদ্দেশ্য (مبتدأ) অথবা কর্ম (مفعول به) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন শর্ত (شرط) বা প্রতিদান (جواب) বাক্যে এমন একটি সর্বনাম (ضمير) থাকে যা সেই উদ্দেশ্যের (مبتدأ) দিকে ফিরে যায়। আর যদি শর্তবোধক বিশেষ্যটি (اسم الشرط) কর্ম (مفعول به) হয়, তবে প্রতিদান (جواب) বাক্যে এমন একটি সর্বনাম (ضمير) অন্তর্ভুক্ত থাকে যা সেই অগ্রবর্তী কর্মের (مفعول به مقدم) দিকে ফিরে যায়।

যখন আমরা মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করি: {যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} ১; সেখানে আমরা দেখতে পাই যে, শর্তবোধক বিশেষ্যটি (اسم الشرط) উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে এসেছে। ফলে ক্রিয়া (فعل) ‘যুতি’ (يُطِعِ) এবং ‘আত্বা’ (أَطَاعَ)-এর মধ্যে এমন সর্বনাম (ضمير) রয়েছে যা ‘মান’ (مَنْ)-এর দিকে ফিরে যায়।

পবিত্র আয়াতে (آية) আমি যা উল্লেখ করেছি, তা মহান আল্লাহর এই বাণীতেও পাওয়া যায়: {তারা বলল, আমাদের জাদু করার জন্য তুমি যে নিদর্শন (آية) নিয়ে আস না কেন, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না} ২। অনুরূপভাবে আল্লাহর এই বাণী: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে কুফরি করবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দেব না} ৩। এখানে ক্রিয়া (فعل) ‘ইয়াকফুর’ (يَكْفُرْ)-এর মধ্যে একটি সর্বনাম (ضمير) রয়েছে যা ‘মান’ (مَنْ)-এর দিকে ফিরে যায় এবং প্রথম ‘উআজ্জিবুহু’ (أُعَذِّبُهُ) শব্দে থাকা সর্বনামটিও (ضمير) ‘মান’ (مَنْ)-এর দিকে ফিরে যায়। আর যখন আমরা মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করি: {তোমরা কল্যাণকর যা-ই করো, আল্লাহ তা জানেন} ৪; তখন দেখতে পাই যে, শর্তবোধক বিশেষ্যটি (اسم الشرط) অগ্রবর্তী কর্ম (مفعول به مقدم) হিসেবে এসেছে, ফলে কেবল প্রতিদান (جواب) বাক্যে ‘মা’ (مَا)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনাম (ضمير) যুক্ত হয়েছে; আর তা হলো ‘ইয়ালামহু’ (يَعْلَمْهُ) এর মধ্যকার সর্বনামটি (ضمير)। এই আয়াতে (آية) আমি যা উল্লেখ করেছি তা মহান আল্লাহর এই বাণীতেও পাওয়া যায়: {তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য অগ্রিম যা কিছু কল্যাণ পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে} ৫; এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতেও রয়েছে: {আমি কোনো আয়াত (آية) রহিত করলে বা তা ভুলিয়ে দিলে, আমি তদপেক্ষা উত্তম কোনো আয়াত (آية) নিয়ে আসি} ৬।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত নং ৮০।

২. সূরা আল-আরাফ, আয়াত নং ১৩২।

৩. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত নং ১১৫।

৪. সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ১৯৭।

৫. সূরা আল-মুজ্জাম্মিল, আয়াত নং ২০।

৬. সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ১০৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
فالضمير المجرور يعود على آية المفسرة لما. ومن ذلك قوله تعالى: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ} 1 فالضمير المجرور في جملة الجواب يعود إلى خبر المفسر للمفعول به المتقدم.

الجملة المفسرة لعامل الاسم المشتغل عنه:-

تقع الجملة مفسرة لعامل الإسم المشتغل عنه. وهذه الجملة تحتاج إلى ربط يربطها بالإسم المبتدأ وهو المشغول عنه. مثل كتاب الله حفظته. ورابط هذه الجملة لابد من وجوده، وحذفه قبيح2.

--------------------------------------------

1الآية رقم 215 من سورة البقرة.
এখানে মাজরুর সর্বনাম (الضمير المجرور) ‘মা’ (ما) এর ব্যাখ্যাকারী আয়াতের দিকে ফিরেছে। এর একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ} ১। এখানে জওয়াব বা উত্তরসূচক বাক্যের মাজরুর সর্বনামটি (الضمير المجرور) পূর্ববর্তী কর্মপদ (مفعول به)-এর ব্যাখ্যাকারী বিধেয় (خبر)-এর দিকে ফিরেছে।

ইশতিগাল (اشتغال)-এর আমেলের ব্যাখ্যাকারী বাক্য:-

বাক্যটি ইশতিগালকৃত বিশেষ্যের (ইসম) আমেলের (عامل) ব্যাখ্যাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই বাক্যের জন্য একটি সংযোগকারী (رابط) প্রয়োজন যা একে উদ্দেশ্য বা মুবতাদা (مبتدأ) তথা মাশগুল আনহু (مشغول عنه)-এর সাথে যুক্ত করবে। যেমন: ‘কিতাবুল্লাহি হাফিজতুহু’। এই বাক্যের সংযোগকারী বা রবিত (رابط) বিদ্যমান থাকা আবশ্যক এবং এর বিলুপ্তি অশোভন (قبيح) ২।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারার ২১৫ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
‌‌ألفاظ التوكيد:-

من ألفاظ التوكيد: كل وجميع وكلا، وكلتا، والنفس والعين. وتربط هذه الألفاظ بالضمير المذكور ليحصل الربط بين التابع والمتبوع. نحو جاء محمد نفسه، والمحمدان كلاهما، والقوم كلهم أو جميعهم.

ولما كان وجود الضمير في ألفاظ التوكيد لازماً فقد ردَّ قول الهروي عندما أعرب جميعاً على الحال في قولهم جاء القوم جميعاً وأعربها توكيداً في قولهم جاء القوم جميع. فقد أعرب جميعاً في المثال الثاني توكيداً مع خلوه من العائد فكان مردوداً.

وقريب من هذا قول الفراء والزمخشري في إعراب: "كلَاّ" توكيداً في قراءة بعضهم إنا كلا فيها3.. ونقف عند الآية الكريمة لنرى ما فيها من آراء. ثم نصل بعدها إلى رأي مرضٍ:-

يرى الفراء والزمخشري وابن عطية أن "كلَاّ" توكيد والرابط محذوف فيكون التقدير إنا كلنا، ولعلهم استدلوا بقول الله تعالى: {خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً} 4، وقد رد ابن مالك حذف الضمير استغناء5 بنية الإضافة، كما أعرب النحاة كلمة {جَمِيعاً} في الآية

--------------------------------------------

2الصبان جـ 2 ص 71 التصريح جـ 1ص 296.

3الآية رقم 48 من سورة غافر.

4الآية رقم 29 من سورة البقرة.

وفي البحر:وانتصب جميعاً على الحال من المخلوق وهي حال مؤكدة.لأن لفظه "ما" في الأرض تفيد العموم، ومعنى جميعاً العموم فهي مرادف من حيث المعنى للفظ كل. كأنه قيل ما في الأرض كله ولا تدل على الإجتماع في الزمان. وهذا الفرق بين معاً وجميعاً. أبو حيان:البحر المحيط جـ 1 ص134

5 التسهيل 164.
তাকিদসূচক শব্দাবলি:-

তাকিদসূচক শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে: কুল্ল (সব), জামি‘ (সকল), কিলা (উভয়-পুং), কিলতা (উভয়-স্ত্রী), নাফস (নিজে) এবং ‘আইন (স্বয়ং)। অনুগামী (তাবে‘) ও অনুগমনকৃত (মাত্ববু‘) পদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের জন্য এই শব্দগুলোকে উল্লিখিত সর্বনামের (দমির) সাথে যুক্ত করা হয়। যেমন: মুহাম্মাদ নিজেই এসেছে, উভয় মুহাম্মাদ এসেছে, এবং সম্প্রদায়ের সকলে বা তাদের সবাই এসেছে।

যেহেতু তাকিদসূচক শব্দসমূহে সর্বনামের উপস্থিতি আবশ্যিক, তাই আল-হারাবির অভিমতটি প্রত্যাখ্যাত (مردود) হয়েছে; যখন তিনি ‘জাওআল কওমু জামি‘আন’ বাক্যে ‘জামি‘আন’ শব্দটিকে ‘হাল’ (অবস্থা) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং ‘জাওআল কওমু জামি‘ ’ বাক্যে শব্দটিকে ‘তাকিদ’ হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি দ্বিতীয় উদাহরণে শব্দটিকে কোনো সংযোগকারী সর্বনাম (আয়িদ) ছাড়াই ‘তাকিদ’ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা প্রত্যাখ্যাত (مردود) বলে গণ্য হয়েছে।

এর কাছাকাছি একটি মত হলো আল-ফাররা এবং আয-যামাখশারির বক্তব্য, যেখানে তাঁরা কোনো কোনো কিরাআতে ‘ইন্না কুল্লান ফীহা’ আয়াতাংশের ‘কুল্লান’ শব্দটিকে ‘তাকিদ’ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। আমরা এই মহান আয়াতের বিষয়ে বর্ণিত অভিমতগুলো পর্যবেক্ষণ করব এবং অতঃপর একটি সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে উপনীত হব:-

আল-ফাররা, আয-যামাখশারি এবং ইবনে আতিয়্যাহ মনে করেন যে, ‘কুল্লান’ শব্দটি এখানে তাকিদ এবং এর সংযোগকারী সর্বনামটি উহ্য রয়েছে; ফলে এর মূল রূপটি হবে ‘ইন্না কুল্লানা’। সম্ভবত তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী: “তিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছু (জামি‘আন) সৃষ্টি করেছেন” থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন। তবে ইবনে মালিক সম্বন্ধের (ইদাফাত) নিয়ত থাকার কারণে সর্বনাম উহ্য রাখার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি নাহুবিদগণ উক্ত আয়াতে ‘জামি‘আন’ শব্দটিকে বিশ্লেষণ করেছেন।

--------------------------------------------

২. আস-সাব্বান, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭১; আত-তাসরিহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৬।

৩. সূরা গাফির, আয়াত নং ৪৮।

৪. সূরা বাকারাহ, আয়াত নং ২৯।

আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থে রয়েছে: ‘জামি‘আন’ শব্দটি মাখলুক (সৃষ্ট বস্তু) থেকে ‘হাল’ হিসেবে নসব হয়েছে এবং এটি একটি তাকিদসূচক হাল। কারণ ‘মা’ (যা কিছু) শব্দটি ব্যাপকতা (উমুম) প্রকাশ করে এবং ‘জামি‘আন’ শব্দটিও ব্যাপক অর্থবোধক। ফলে অর্থের দিক থেকে এটি ‘কুল্ল’ শব্দের সমার্থক। যেন বলা হয়েছে ‘জমিনে যা আছে তার সবটুকুই’; এবং এটি সময়ের একত্র হওয়াকে বোঝায় না। ‘মা‘আন’ এবং ‘জামি‘আন’ এর মধ্যে পার্থক্য এখানেই। আবু হাইয়ান: আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৪।

৫. আত-তাসহিল, ১৬৪।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
حالاً.. قد منع الزمخشري1 إعراب "كلَاّ"حال وقد تقدمت على عاملها الظرفي وهو كلمة فيها.

وهذا الذي منعه الزمخشري أجازه الأخفش وارتضاه ابن مالك.

يقول ابن مالك2: "والقول المرضي عندي. أن "كلَاّ" في القراءة المذكورة منصوب على أن الضمير المرفوع المنوي في "فيها" وفيها هو العامل وتقدمت الحال عليه مع عدم تصرفه كما قدمت في قراءة بعضهم: {وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} 3.

واختار أبو حيان وغيره من النحاة أن تعرب "كلَاّ" بدلاً من اسم إن. لأن كلا يتصرف فيها بالإبتداء والنواسخ وغير ذلك. وإذا كانوا قد تأولوا حولاً أكتعاً، ويوماً أجمعاً، على البدل مع أنها لا يليان العوامل فأولى بذلك "كلَاّ"

وإذا كان اتجاه أبى حيان4 في إعراب الآية أن تكون "كلَاّ" بدلاً فهي بدل من إسم إن وهو الضمير في إنا. وإبدال الظاهر ِمن ضمير الحاضر بدل كل جائز إذا كان مفيداً للإحاطة كقوله تعالى: {تَكُونُ لَنَا عِيداً لأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا} 5وهنا لا نحتاج إلى ضمير لأن بدل الكل لا يحتاج إلى ضمير6..

وقد ذكر سيبويه أن ألفاظ التوكيد كلمة "عامة" جاء الجيش عامته والقبيلة عامتها، والهندات عامتهن فتربط بالضمير. وقد خالف في ذلك المبرد فجعلها بمعنى أكثرهم فتكون بدل بعض من كل7.

--------------------------------------------

1 الزمخشري: الكشاف جـ 3 ص 56.

2 أبو حيان: البحر المحيط جـ 7 ص 469.

3 الآية رقم 67 من سورة الزمر.

4 أبو حيان: البحر المحيط جـ 7 ص 469

5 الآية رقم 114 من سورة المائدة.

6 ابن هشام: المغني ص 564.

7 الصبان جـ 3 ص 76.

8حاشية الصبان جـ 3 ص 124.
অবস্থা (حال) হিসেবে.. যামাখশারী১ 'কুল্লা' (كلَاّ)-এর ইরাব (إعراب) অবস্থা (حال) হিসেবে করাকে নিষেধ করেছেন, অথচ এটি তার স্থানবাচক (ظرفي) আমিল (عامل)-এর পূর্বে এসেছে এবং সেটি হলো 'ফিহা' (فيها) শব্দটি।

যামাখশারী যা নিষেধ করেছেন, আখফাশ সেটিকে বৈধতা দিয়েছেন এবং ইবনে মালিক তা গ্রহণ করেছেন।

ইবনে মালিক২ বলেন: "আমার নিকট সন্তোষজনক কথা হলো, উল্লিখিত কিরাতে 'কুল্লা' (كلَاّ) শব্দটি নসবযুক্ত (منصوب) হিসেবে রয়েছে এই ভিত্তিতে যে, 'ফিহা' (فيها) শব্দের মধ্যে উহ্য থাকা রফাযুক্ত (مرفوع) সর্বনামটি (ضمير) এখানে আমিল (عامل)। আর আমিলটি রূপান্তরযোগ্য (متصرف) না হওয়া সত্ত্বেও এখানে অবস্থা (حال) আমিলের পূর্বে এসেছে; যেমনটি কারো কারো কিরাতে অগ্রবর্তী হয়েছে: 'এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে'৩।

আবু হাইয়ান এবং অন্যান্য ব্যাকরণবিদগণ পছন্দ করেছেন যে, 'কুল্লা' (كلَاّ) শব্দটিকে 'ইন্না'-এর ইসিম (اسم إن)-এর স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে ইরাব (إعراب) করা হোক। কারণ 'কুল্লা' শব্দটি ইবতিদা (ابتداء), নাওয়াসিখ (نواسخ) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর যেহেতু তারা 'একটি পূর্ণ বছর' এবং 'একটি পূর্ণ দিন' শব্দসমষ্টিকে আমিলের অনুগামী না হওয়া সত্ত্বেও স্থলাভিষিক্ত (بدل) হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাই 'কুল্লা' (كلَاّ) শব্দটির ক্ষেত্রে এটি হওয়া আরও যুক্তিযুক্ত।

আয়াতটির ইরাব (إعراب) করার ক্ষেত্রে আবু হাইয়ান৪-এর দৃষ্টিভঙ্গি যদি এমন হয় যে 'কুল্লা' (كلَاّ) একটি স্থলাভিষিক্ত (بدل), তবে সেটি হবে 'ইন্না'-এর ইসিমের স্থলাভিষিক্ত, যা হলো 'ইন্না' (إنا)-এর মধ্যকার সর্বনাম (ضمير)। উপস্থিত সর্বনামের পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্যের পূর্ণ স্থলাভিষিক্ত (بدل كل) হওয়া জায়েজ যদি তা ব্যাপকতা বোঝাতে অর্থবহ হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: 'তা হবে আমাদের জন্য—আমাদের প্রথম ও শেষ সবার জন্য—একটি উৎসব'৫। এখানে আমাদের কোনো সর্বনামের (ضمير) প্রয়োজন নেই, কারণ পূর্ণ স্থলাভিষিক্ত (بدل كل)-এর ক্ষেত্রে সর্বনামের প্রয়োজন হয় না৬।

সিবওয়াইহ উল্লেখ করেছেন যে, তাকিদ (توكيد) প্রদানের শব্দসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আম্মাহ' (عامة); যেমন—বাহিনী তার সামগ্রিকতাসহ এসেছে, গোত্রটি তার সামগ্রিকতাসহ এসেছে এবং নারীগণ তাদের সামগ্রিকতাসহ এসেছে। ফলে এগুলো সর্বনামের (ضمير) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। মুবাররাদ এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং একে 'তাদের অধিকাংশ' অর্থে গ্রহণ করেছেন, ফলে এটি আংশিক স্থলাভিষিক্ত (بدل بعض من كل) হিসেবে গণ্য হবে৭।

--------------------------------------------

১ যামাখশারী: আল-কাশশাফ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫৬।

২ আবু হাইয়ান: আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৬৯।

৩ সূরা আয-যুমার, আয়াত নম্বর ৬৭।

৪ আবু হাইয়ান: আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৬৯।

৫ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত নম্বর ১১৪।

৬ ইবনে হিশাম: আল-মুগনি, পৃষ্ঠা ৫৬৪।

৭ আস-সাব্বান, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৭৬।

৮ হাশিয়াতুস সাব্বান, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৪।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
‌‌بدل البعض وبدل الإشتمال:-

أ - بدل البعض:-

بدلُ البعض هو بدل الجزء من كله قليلاً كان ذلك الجزء أو مساوياً أو أكثر وهذا النوع لابد فيه من الرابط وهو الضمير ليربط البعض بكله8 كقوله تعالى: {ثُمَّ عَمُوا وَصَمُّوا كَثِيرٌ
‌আংশিক অনুকল্প (بدل البعض) এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুকল্প (بدل الإشتمال):-

ক - আংশিক অনুকল্প (بدل البعض):-

আংশিক অনুকল্প (بدل البعض) হলো পূর্ণ সত্তার কোনো একটি অংশের অনুকল্প, সেই অংশটি পরিমাণে অল্প হোক, সমান হোক বা তার চেয়ে অধিক হোক। এই প্রকারের ক্ষেত্রে একটি সংযোজক (رابط) থাকা অপরিহার্য, যা মূলত একটি সর্বনাম (ضمير), যেন তা অংশকে পূর্ণের সাথে সংযুক্ত করতে পারে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের অনেকে অন্ধ ও বধির হয়ে রইল...}
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
مِنْهُم} 1 فكثير بدل بعض من كل وقد ربط هذا البدل بالضمير.

ب - بدل الإشتمال:-

هو بدل شيء من شيء يشتمل عامله على معناه كأعجبني الكتاب عرضه فعرضه بدل اشتمال من الكتاب ربط بالضمير، ومنه قوله تعالى: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِي} 2.

وقد اشترط أكثر النحاة وجود الضمير في بدل البعض وبدل الإشتمال غير أن ابن مالك رأى أن وجوده أكثر فلم يشترط..

فقد جاء في شرح الكافية الشافية: واشترط أكثر النحويين مصاحبة بدل البعض والإشتمال ضميراً عائداً على المبدل منه. والصحيح عدم اشتراطه لكن وجوده أكثر من عدمه3.

وهكذا ذهب ابن عصفور4 فقد ذكر أنه لا يأتي دون ضمير إلا قليلاً.

فمن شواهد الإستغناء. قوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} 5 فقد رأى ابن مالك وابن عصفور أن "من" بدل بعض من كل وقد خلا البدل من الرابط وهو الضمير.

ومن شواهد بدل الإشتمال الخالي من الرابط قوله تعالى: {قُتِلَ أَصْحَابُ الأُخْدُودِ النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ} 6 وفي قوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ … } آراء واتجاهات في "من" فقد ذهب أكثر النحاة إلى أن "من" بدل بعض من كل فتكون موصولة في موضع جر والعائد محذوف. والتقدير من استطاع إليه سبيلاً منهم. وذكر ابن عصفور أن الضمير قد حذف7 للعلم به

--------------------------------------------

1 الآية رقم 71 من سورة المائدة.

2 الآية رقم 217 من سورة البقرة.

3 ابن مالك: الكافية الشافية ص 1279.

التسهيل ص 172. حاشية الصبان جـ 3 ص 124.

4 ابن عصفور: شرح الحمل جـ 1 ص 285.

5 الآية رقم 97 من سورة آل عمران.

6 الآية رقم 4، 5 من سورة البروج.

قرأ الجمهور النار بالجر وهو بدل اشتمال. أو بدل كل من كل. أي أخدود النار وقرأ قوم النار بالرفع. الأخفش: معاني القرآن. الكويت جـ 2 ص 535.

أبو حيان: البحر المحيط جـ 8 ص 451.

7 ابن عصفور: شرح الجمل. بغداد جـ 1 ص 285.
তাদের মধ্য হতে} ১ এখানে 'কثير' (অনেক) শব্দটি হলো আংশিক পরিপূরক (بدل بعض من كل) এবং এই পরিপূরকটিকে সর্বনামের (الضمير) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে।

খ - অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিপূরক (بدل الإشتمال):-

এটি হলো এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুর এমন এক পরিপূরক যেখানে এর আমলকারী (عامل) তার অর্থের অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন: 'বইটির উপস্থাপনা আমাকে মুগ্ধ করেছে', এখানে উপস্থাপনা (عرضه) শব্দটি হলো বই (الكتاب) থেকে আসা অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিপূরক (بدل اشتمال), যা সর্বনামের মাধ্যমে সংযুক্ত। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে} ২।

অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ আংশিক পরিপূরক (بدل البعض) ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিপূরকের (بدل الإشتمাল) ক্ষেত্রে সর্বনামের (الضمير) উপস্থিতি শর্ত করেছেন, তবে ইবনে মালিক মনে করেন যে এর উপস্থিতিই অধিকতর প্রচলিত, তাই তিনি একে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি।

শারহুল কাফিয়াতুশ শাফিয়া-তে এসেছে: "অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ আংশিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিপূরকের সাথে এমন একটি সর্বনাম থাকাকে শর্ত করেছেন যা পূর্ববর্তী পদের (المبدل منه) দিকে ফিরে যায়। তবে সঠিক মত হলো এটি শর্ত নয়, কিন্তু এর অনুপস্থিতির চেয়ে উপস্থিতিই অধিক পরিলক্ষিত হয়।" ৩

ইবনে আসফুর ৪-ও একই মত পোষণ করেছেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সর্বনাম ব্যতিরেকে এটি খুব কমই ব্যবহৃত হয়।

সর্বনামের আবশ্যকতা না থাকার প্রমাণসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য} ৫। এখানে ইবনে মালিক ও ইবনে আসফুর মনে করেন যে "মান" (من) শব্দটি হলো আংশিক পরিপূরক (بدل بعض من كل), অথচ এখানে পরিপূরকটি সংযোগকারী (رابط) অর্থাৎ সর্বনাম থেকে মুক্ত রয়েছে।

সংযোগকারী বিহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিপূরকের অন্যতম প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {গর্তওয়ালা ধ্বংস হয়েছে, সেই আগুনের (গর্ত), যা ছিল ইন্ধনপূর্ণ} ৬। আর মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে...} এখানে "মান" (من) এর ব্যাপারে বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে "মান" শব্দটি আংশিক পরিপূরক (بدل بعض من كل), ফলে এটি সম্বন্ধসূচক (موصولة) হিসেবে 'জর' এর স্থানে রয়েছে এবং সংযোগকারী সর্বনামটি (العائد) এখানে উহ্য। এর মূল রূপ হলো: 'তাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে'। ইবনে আসফুর উল্লেখ করেছেন যে, বিষয়টি জানা থাকার কারণে সর্বনামটি এখানে বিলোপ (حذف) হয়েছে। ৭

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৭১।

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২১৭।

৩ ইবনে মালিক: আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া, পৃষ্ঠা ১২৭৯।

আত-তাসহিল, পৃষ্ঠা ১৭২। হাশিয়াতুস সাব্বান, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৪।

৪ ইবনে আসফুর: শারহুল জুমাল, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫।

৫ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯৭।

৬ সূরা আল-বুরুজ, আয়াত ৪, ৫।

অধিকাংশ ক্বারী 'আল-নার' শব্দটিকে 'জর' দিয়ে পড়েছেন এবং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিপূরক (بدل اشتمال) অথবা পূর্ণ পরিপূরক (بدل كل من كل)। অর্থাৎ আগুনের গর্ত। একদল একে 'রাফা' দিয়ে পড়েছেন। আল-আখফাশ: মা'আনিল কুরআন, কুয়েত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৩৫।

আবু হাইয়ান: আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪৫১।

৭ ইবনে আসফুর: শারহুল জুমাল, বাগদাদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
وقال الكسائي1: "من شرطية فتكون في موضع رفع بالإبتداء. ويلزم حذف الضمير الرابط لهذه الجملة بما قبلها وحذف جواب الشرط إذ التقدير. من استطاع إليه سبيلاً منهم فعليه الحج، أو فعليه ذلك. فقد رأى أن حذف جواب الشرط لفهم المعنى أحسن من حذف الضمير من البدل". وقد استحسن ابن عصفور هذا الرأي. والوجه الأول أولى لقلة الحذف فيه وكثرته في هذا، لكن يناسب الشرط مجيء الشرط بعده في قوله تعالى: {وَمَنْ كَفَر} .

وقيل: من موصولة في محل رفع على أنه فاعل بالمصدر الذي هو حج فيكون المصدر قد أضيف إلى المفعول ورفع به الفاعل.

وهذا القول ضعيف من جهة المعنى إذ لا يصح أن يكون المعنى أن الله أوجب2 على الناس مستطيعهم وغير مستطيعهم أن يحج البيت المستطيع، ومتعلق الوجوب إنما هو المستطيع، لا الناس على العموم. ويلزم على هذا أن يأثم الناس جميعاً إذا لم يحج المستطيع.

وفي قوله تعالى: {قُتِلَ أَصْحَابُ الأُخْدُودِ} رأى الكوفيون في هذه الآية أن الأصل ناره، ثم نابت أل عن الضمير. وسيأتي بحث ذلك في مكانه. ومما استدل به بعض النحاة على الإستغناء عن الرابط قوله تعالى: {وَلا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَاّ امْرَأَتَكَ} 3 بالرفع فامرأتك بدل بعض من كل وقد خلا من الرابط، ومثله قوله تعالى: {وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إِلَاّ الضَّالُّونَ} 4 في قراءة الجميع فالضالون بدل بعض من الضمير المستتر في يقنط ولم يؤت معه بضمير.

وإنما لم يشترط هؤلاء الضمير في بدل البعض من حيث هو ضمير، وإنما اشترطوه من حيث هو رابط. فإذا وجد الربط بدونه حصل الغرض من غير وجوده وهنا الربط متحقق بدونه، وذلك لأن إلا وما بعدها من تمام الكلام الأول وإلا لإخراج الثاني من الأول فعلم أنه

--------------------------------------------

1 المصدر السابق جـ1 ص 285.

2 نفس المصدر، ويراجع البحر المحيط جـ 2 ص 11.

3 الآية رقم 81 من سورة هود.

إلا امرأتك بالرفع والنصب. فالنصب استثناء من قولك بأهلك. والدليل عليه قراءة عبد الله: {فأسر بأهلك بقطع من الليل إلا امرأتك} . ويجوز أن ينصب عن "لا يلتفت " على أصل الإستثناء. وإن كان الفصيح البدل أي على قراءة الرفع. وهي قراءة ابن كثير وأبى عمرو.

الزمخشري: الكشاف جـ 2 ص 109.

4 الآية رقم 56 من سورة الحجر.
আল-কিসায়ী১ বলেছেন: " 'মান' (من) হলো শর্তবাচক, যা ইবতিদা-এর কারণে রাফ' (رفع) হওয়ার স্থানে অবস্থিত। আর এই বাক্যটিকে পূর্ববর্তী অংশের সাথে যুক্তকারী সর্বনামকে (ضمير رابط) বিলুপ্ত করা এবং শর্তের উত্তরকে (جواب الشرط) বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, কারণ প্রাক্কলিত অর্থ হলো—তাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে, তার ওপর হজ করা কর্তব্য অথবা তার ওপর এটি পালনীয়। তিনি মনে করেছেন যে, অর্থ বোঝার সুবিধার্থে শর্তের উত্তর বিলুপ্ত করা 'বদল' (بدل) থেকে সর্বনাম বিলুপ্ত করার চেয়ে উত্তম।" ইবনে উসফুর এই মতটিকে পছন্দ করেছেন। তবে প্রথম অভিমতটিই অধিকতর অগ্রগণ্য, কারণ তাতে বিলুপ্তি কম, আর দ্বিতীয়টিতে বিলুপ্তি অনেক বেশি; তবে মহান আল্লাহর বাণী: {وَمَنْ كَفَرَ} (এবং যে কুফরি করে)-তে পরবর্তী শর্তের আগমনটি 'শর্ত'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বলা হয়েছে: 'মান' (من) হলো সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য যা রাফ' (رفع) হওয়ার স্থানে অবস্থিত, কারণ এটি 'হজ' রূপী মাসদার-এর কর্তা (فاعل); ফলে মাসদারটি কর্মের (مفعول) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে এবং কর্তাকে রাফ' (رفع) প্রদান করেছে।

অর্থের দিক থেকে এই অভিমতটি দুর্বল (ضعيف), কারণ অর্থ এমন হওয়া সঠিক নয় যে, আল্লাহ মানুষের ওপর—সামর্থ্যবান ও অসামর্থ্যবান নির্বিশেষে—আবশ্যক করেছেন২ যে সামর্থ্যবান ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ করবে; বরং হজের আবশ্যকতা কেবল সামর্থ্যবানের সাথেই সংশ্লিষ্ট, সাধারণ মানুষের সাথে নয়। অন্যথায় এর ফলে এটি অনিবার্য হয়ে পড়বে যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তি হজ না করলে সমস্ত মানুষই পাপী হবে।

মহান আল্লাহর বাণী: {قُتِلَ أَصْحَابُ الأُخْدُودِ} (অগ্নিকুণ্ডের অধিপতিরা ধ্বংস হোক)-এর ক্ষেত্রে কুফাবাসী বৈয়াকরণগণ মনে করেন যে, মূল শব্দ ছিল 'নানিহি', অতঃপর সর্বনামের পরিবর্তে 'আল' (ال) ব্যবহৃত হয়েছে। এর আলোচনা যথাস্থানে আসবে। ব্যাকরণবিদগণ সংযোগকারীর আবশ্যকতা না থাকার বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {وَلا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَহَدٌ إِلَاّ امْرَأَتَكَ} ৩ (তোমাদের কেউ যেন পিছন ফিরে না তাকায়, তবে তোমার স্ত্রী ব্যতীত), এখানে রাফ' (رفع) অবস্থায় পাঠ করা হলে 'তোমার স্ত্রী' হলো 'বদল বাজ মিনাল কুল্ল' (بدل بعض من كل), যা সংযোগকারী থেকে মুক্ত। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إِلَاّ الضَّالُّونَ} ৪ (পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়?), এটি সকলের কিরাত অনুযায়ী 'আয-যাল্লুন' হলো 'ইয়াকনাতু'-এর মধ্যে নিহিত সর্বনামের 'বদল বাজ' (بدل بعض), যার সাথে কোনো সর্বনাম আনা হয়নি।

এঁরা 'বদল বাজ'-এর ক্ষেত্রে সর্বনাম হওয়া হিসেবে সর্বনামের শর্তারোপ করেননি, বরং সংযোগকারী হিসেবে শর্তারোপ করেছেন। সুতরাং যদি এটি ছাড়া সংযোগ সাধিত হয়, তবে তার উপস্থিতি ছাড়াই উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়। আর এখানে এটি ছাড়াই সংযোগ সুপ্রতিষ্ঠিত, কারণ 'ইল্লা' এবং তার পরবর্তী অংশ প্রথম বাক্যেরই পরিপূরক এবং 'ইল্লা' মূলত প্রথমটি থেকে দ্বিতীয়টিকে বর্জন করার জন্য আসে, ফলে এটি জানা যায় যে...

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫।

২. একই উৎস; দ্রষ্টব্য: আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১।

৩. সূরা হূদ, আয়াত ৮১। 'ইল্লা ইমরাআতুকা' রাফ' (رفع) ও নাসব (نصب) উভয় অবস্থায় পাঠ করা যায়। নাসব হওয়া হলো 'বি-আহলিকা' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে ইস্তিসনা (استثناء)। এর প্রমাণ হলো আবদুল্লাহর কিরাত: {فأسر بأهلك بقطع من الليل إلا امرأتك}। এছাড়া ইস্তিসনা-এর মূল নিয়ম অনুযায়ী 'লা ইয়ালতাফিত' থেকেও নাসব হওয়া জায়েয। যদিও ফাসিহ (বিশুদ্ধ) হলো বদল হওয়া অর্থাৎ রাফ' (رفع) অবস্থায় পাঠ করা। এটি ইবনে কাসির ও আবু আমরের কিরাত।

আয-যামাখশারি: আল-কাশশাফ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৯।

৪. সূরা আল-হিজর, আয়াত ৫৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
بعضه فحصل الربط بذلك ولم يحتج إلى الضمير1، كما أن قوة تعلق المستثنى بالمستثنى منه تغنى عن الضمير كالباء2.

--------------------------------------------

1 التصريح على التوضيح جـ 1 ص 350.

2 المصدر السابق جـ 2 ص 56.
এর কিয়দংশ, যার ফলে এর মাধ্যমেই যোগসূত্র (الربط) স্থাপিত হয়েছে এবং কোনো সর্বনামের (الضمير)১ প্রয়োজন পড়েনি, ঠিক যেমন মুস্তাসনা (المستثنى) ও মুস্তাসনা মিনহু (المستثنى منه)-এর মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক সর্বনামের (الضمير) প্রয়োজনীয়তাকে দূর করে দেয়, যেমন ‘বা’ (الباء)২।

--------------------------------------------

১ আত-তাসরিহ আলা আত-তাওদিহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫০।

২ পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌معمول الصفة المشبهة:-

يشترط في معمول الصفة المشبهة أن يكون سببياً. أي إسماً ظاهراً متصلاً، بضمير يعود على الإسم السابق، وهذا الضمير هو الرابط مثل محمد جميل صوته فالضمير في صوته رابط يعود على محمد، ولو قلت: محمد جميل لكان في جميل ضمير يعود على محمد.

والرابط في معمول الصفة المشبهة لابد من وجوده مذكوراً كما سبق أن أشرت. وقد يكون محذوفاً مثل محمد جميل الصوت أي منه فالرابط ولم يكن موجوداً في اللفظ فهو محذوف. هذا رأي البصريين 3 وسيأتي في مكان لاحق رأي للكوفيين حول: عدم وجود الضمير لفظاً.

--------------------------------------------

3 سيبويه: الكتاب. هارون جـ 1 ص 194 0 الرضى: شرح الكافية جـ 2 ص 211. التصريح جـ 2 ص 83.
সিফাতে মুশাব্বাহা (الصفة المشبهة)-এর মামুল (معمول):-

সিফাতে মুশাব্বাহা (الصفة المشبهة)-এর মামুল (معمول)-এর ক্ষেত্রে শর্ত হলো সেটি সাবাবি (سببياً) হওয়া। অর্থাৎ, এমন একটি প্রকাশ্য বিশেষ্য (إسماً ظاهراً) যা পূর্ববর্তী বিশেষ্যের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনামের (ضمير) সাথে যুক্ত থাকে; আর এই সর্বনামটিই হলো সংযোগকারী (الرابط), যেমন: 'মুহাম্মাদুন জামিলুন সউতুহু' (মুহাম্মাদের কণ্ঠস্বর সুন্দর)। এখানে 'সউতুহু' শব্দের সর্বনামটি (ضمير) হলো সংযোগকারী (رابط) যা মুহাম্মাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। আর আপনি যদি বলতেন: 'মুহাম্মাদুন জামিলুন', তবে 'জামিল' শব্দটিতে একটি সর্বনাম (ضمير) থাকতো যা মুহাম্মাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করতো।

সিফাতে মুশাব্বাহা (الصفة المشبهة)-এর মামুল (معمول)-এর মধ্যে সংযোগকারীর (الرابط) উপস্থিতি উল্লিখিত থাকা আবশ্যক যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি। তবে এটি কখনও উহ্য (محذوفاً) থাকতে পারে, যেমন: 'মুহাম্মাদুন জামিলুস সউতি' (মুহাম্মাদ সুন্দর কণ্ঠবিশিষ্ট) অর্থাৎ 'তার পক্ষ থেকে'; এখানে সংযোগকারীটি (الرابط) শব্দে বিদ্যমান নেই, তাই এটি উহ্য (محذوف)। এটি বসরী আলেমদের অভিমত ৩ এবং শব্দগতভাবে সর্বনাম (ضمير) বিদ্যমান না থাকার বিষয়ে কুফী আলেমদের অভিমত পরবর্তীতে যথাস্থানে আসবে।

--------------------------------------------

৩. সিবওয়াইহি: আল-কিতাব। হারুন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৪। আর-রাযী: শারহুল কাফিয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২১১। আত-তাসরীহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৩।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌ثانيا: الربط بالاسم الظاهر

‌‌الجملة الخبرية

…

ثانياً: الربط بالإسم الظاهر

الأصلي أن الإسم الظاهر متى احتاج إلى إعادته في جملة واحدة كان الإختيار ذكر ضميره مثل القرآن قرأته وقد ظهر في بعض التراكيب العربية أن أعيد الإسم السابق بلفظه فحل محل الربط بالضمير والربط بالإسم الظاهر وقع في الجملة الخبرية وجملة الصلة والتوكيد.

أ - الجملة الخبرية:-

سبق أن أشرت إلى أن الجملة الخبرية تربط في الأصل بالضمير، وقد يحل الظاهر محل الضمير فيكون رابطاً، وقد أجاز النحاة وسيبويه4 وضع الظاهر موضع الضمير قياساً إن كان في معرض التفخيم والتعظيم مثل قوله تعالى: {الْحَاقَّةُ مَا الْحَاقَّةُ} 5، وقوله: {الْقَارِعَةُ مَا الْقَارِعَةُ} 6 فالحاقة مبتدأ، وما لحاقة جملة خبرية وقد ربط بينها وبين المبتدأ بإعادته بلفظه خبراً للمبتدأ الثاني.

--------------------------------------------

4 سيبويه: الكتاب جـ 1 ص 63.

الرضى: شرح الكافِية جـ ص 92.

5 الآية رقم 1، 2 من سورة الحاقة، وراجع البحر المحيط جـ 8 ص320.

6 الآية رقم 1، 2 مر سورة القارعة
‌‌দ্বিতীয়ত: প্রকাশ্য বিশেষ্য (اسم ظاهر) দ্বারা সংযোগ

‌‌বর্ণনামূলক বাক্য (جملة خبرية)

…

দ্বিতীয়ত: প্রকাশ্য বিশেষ্য (اسم ظاهر) দ্বারা সংযোগ

মূল নিয়ম হলো, যখন একটি বাক্যে কোনো প্রকাশ্য বিশেষ্য (اسم ظاهر) পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়, তখন সেটির পরিবর্তে সর্বনাম (ضمير) ব্যবহার করাই উত্তম পদ্ধতি; যেমন: 'আল-কুরআন আমি এটি পাঠ করেছি'। তবে কিছু আরবি শব্দবিন্যাসে দেখা যায় যে, পূর্ববর্তী বিশেষ্যটিকেই তার মূল শব্দে পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে, যা সর্বনামের (ضمير) মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। প্রকাশ্য বিশেষ্য (اسم ظاهر) দ্বারা এই সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াটি বর্ণনামূলক বাক্য (جملة خبرية), সংযোজক বাক্য (جملة الصلة) এবং তাকিদ (توكيد) বা দৃঢ়তাসূচক বাক্যের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

ক - বর্ণনামূলক বাক্য (جملة خبرية):-

আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে, বর্ণনামূলক বাক্য (جملة خبرية) মূলত সর্বনাম (ضمير) দ্বারা সংযুক্ত থাকে। তবে অনেক সময় প্রকাশ্য বিশেষ্য (اسم ظاهر) সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে। যদি বিষয়টি মহিমা ও মাহাত্ম্য (تفخيم وتعظيم) প্রকাশের ক্ষেত্রে হয়, তবে বৈয়াকরণবিদগণ (نحاة) এবং সিবওয়াইহ ৪ কিয়াস (قياس) বা যুক্তিগত অনুমানের ভিত্তিতে সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করা বৈধ বলে গণ্য করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল-হাক্কাহ, কী সেই আল-হাক্কাহ?} ৫, এবং তাঁর বাণী: {আল-কারিআহ, কী সেই আল-কারিআহ?} ৬। এখানে 'আল-হাক্কাহ' হলো মুবতাদা (مبتدأ), এবং 'মা আল-হাক্কাহ' হলো একটি বর্ণনামূলক বাক্য (جملة خبرية); এখানে মুবতাদার সাথে বাক্যের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে সেটিকে দ্বিতীয় মুবতাদার খবর (خبر) হিসেবে হুবহু পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমে।

--------------------------------------------

৪ সিবওয়াইহ: আল-কিতাব, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩।

আর-রাদি: শারহুল কাফিয়া, পৃষ্ঠা ৯২।

৫ সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ১-২; আরও দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২০।

৬ সূরা আল-কারিআহ, আয়াত ১-২।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫১)
ولكي تكون الصورة مكتملة الجوانب نحو وضع الظاهر موضع الضمير ينبغي أن نشير إلى رأي سيبويه والأخفش إذا لم يكن الموقف موقف تفخيم أو تعظيم وما الرأي إذا لم يكن الظاهر بلفظ الأول؟.

هذا ما سنحاول تغطيته وإن كانت بعض الأمثلة ستخرج عن نطاق الربط في الجملة الخبرية فهذا من باب لزوم الشيء وإكماله فالإطار العام هو وضع الظاهر موضع الضمير أشار الرضى1 إلى أن سيبويه2 أجاز في غير موقف التفخيم أن يحل الظاهر محل المضمر بشرط أن يكون بلفظ الأول وهذا في الشعر فقط ضرورة قال الشاعر:-

إذا الوحش ضم الوَحش في ظُلُلاتِها … سواقطُ من حرٍّ وقد كان أظْهرا3

ومثله قول الشاعر:-

لا أرى الموت يَسْبِقُ الموتَ شيء … نغَّصَ الموتُ ذا الغنى والفقيرا4

وإن لم يكن الإسم الظاهر بلفظ الأول لم يجز عند سيبويه، وأجازه الأخفش 5 وإن لم يكن في الشعر. قال الشاعر:-

إذا المرء لم يغش الكريهة أوْشَكَتْ … حبالُ الهَوْينا بالفتى أن تقطعا6

--------------------------------------------

1 الرضى:شرح الكافية جـ 1 ص 92.

2 سيبويه: الكتاب جـ 1 ص 62.

3 البيت نسبه سيبويه للنابغة الجعدي ولم يرد في قصيدته من جمهرة أشعار العرب 145-148 وهكذا نسبه صاحب اللسان الظللات: وهذه جمع ظلة وهو ما يستظل به، فك الإدغام وحركة تحريك غير المضعف كما في ظلمات وغرفات، أو تكون جمع ظلل. وهذه جمع ظليل كحديد وجود فهو جمع الجمع

وسواقط الحر: ما يسقط منه. أظهر: صار في وقت الظهيرة والشاعر يصف سيره في الهاجرة في الوقت الذي تسكن فيه الوحش من الحر والشاهد فيه إعادة الظاهر موضع الضمير وفيه قبح فلا يكاد يجوز إلا في الضرورة.

سيبويه: الكتاب. هارون جـ 1 ص 62.

ابن منظور: لسان العرب سقط.

4 نسبة سيبويه لسواد بن عدي، وفي الخزانة "سواده بن عدي" ويروي أيضاً لأبيه عدي بن زيد كما يروي لأمية بن أبي الصلت. وشاهده كالبيت السابق.

سيبويه: الكتاب جـ 1ص 62.

الزمخشري: خزانة الأدب جـ 1 ص 183.

السيوطي: شرح شواهد المغني 296.

5 الرضى: شرح الكافية جـ 1ص 92.

6 البيت: للكلحية العرينى.

لم يغش من الغشيان. وهو الإثيان.والكريهة: الحرب. وقيل. شدتها وقيل النازلة، وأوشكت: قاربت ودنت. والحبال جمع حبل بمعنى السبب استعير. لكل شيء وصل به إلى أمر من الأمور الهوينى: السكون والخفض، وعدها ابن دريد من الكلمات التي تستعمل مصغره فقط.

ابن جنى: الخصائص: جـ 3 ص 53.

البغدادي: خزانة الأدب في جـ 1 ص 186.
সর্বনামের (ضمير) স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) ব্যবহারের বিষয়টি পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরার জন্য সিবওয়াইহি ও আখফাশের মতামত উল্লেখ করা প্রয়োজন, যখন বিষয়টি গৌরব প্রকাশ (تفخيم) বা মহিমান্বিত করার (تعظيم) উদ্দেশ্যে না হয়। আর যদি বিশেষ্যটি (ظاهر) প্রথম শব্দের অনুরূপ শব্দ দ্বারা না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে অভিমত কী?

এটিই আমরা এখানে আলোচনা করার চেষ্টা করব, যদিও কিছু উদাহরণ বর্ণনামূলক বাক্যের (الجملة الخبرية) কাঠামোর বাইরে চলে যেতে পারে, তবে তা বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ করার স্বার্থেই আনা হয়েছে। মূল আলোচ্য বিষয় হলো সর্বনামের (ضمير) স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) ব্যবহার করা। আল-রাযী ১ উল্লেখ করেছেন যে, সিবওয়াইহি ২ গৌরব প্রকাশের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য স্থানে সর্বনামের (ضمير) পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন, তবে শর্ত হলো তা প্রথম শব্দের হুবহু শব্দ দ্বারা হতে হবে এবং এটি কেবল কবিতার ক্ষেত্রে কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرورة) বৈধ। কবি বলেছেন:-

যখন বন্যপ্রাণী তার ছায়াযুক্ত স্থানে বন্যপ্রাণীকে (الوَحش) সমবেত করে … উত্তাপের কারণে ঢলে পড়ে, আর তখন ছিল দ্বিপ্রহর ৩

অনুরূপভাবে কবির উক্তি:-

আমি দেখি না যে মৃত্যুকে (الموت) কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারে … মৃত্যু (الموت) ধনী এবং দরিদ্র উভয়ের জীবনকেই বিষাদময় করে দিয়েছে ৪

আর যদি প্রকাশ্য বিশেষ্যটি (الإسم الظاهر) প্রথম শব্দের অনুরূপ না হয়, তবে সিবওয়াইহির মতে তা জায়েজ নয়; তবে আখফাশ ৫ এটি জায়েজ বলেছেন, এমনকি তা কবিতার বাইরে হলেও। কবি বলেছেন:-

যখন মানুষ অপ্রীতিকর যুদ্ধের (الكريهة) সম্মুখীন হয় না, তখন অচিরেই … অলসতার রশি যুবকের জীবনকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় ৬

--------------------------------------------

১ আল-রাযী: শারহুল কাফিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯২।

২ সিবওয়াইহি: আল-কিতাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২।

৩ সিবওয়াইহি এই চরণটি নাবিগা আল-জাদির দিকে নিসবত করেছেন, তবে এটি জামহারাতু আশআরিল আরবে (১৪৫-১৪৮) তার কাসিদার অন্তর্ভুক্ত নয়। লিসানুল আরবের লেখকও একে একইভাবে নিসবত করেছেন। "ظُلُلاتِها" হলো "ظلة" এর বহুবচন, যার অর্থ ছায়া দানকারী বস্তু। এখানে সন্ধিহীনতা (فك الإدغام) এবং দ্বিত্ব নয় এমন বর্ণের হরকত প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি "ظلمات" ও "غرفات" এর ক্ষেত্রে হয়। অথবা এটি "ظلل" এর বহুবচন হতে পারে। আর এটি "ظليل" এর বহুবচন, যেমন "حديد" ও "جود"; ফলে এটি বহুবচনের বহুবচন (جمع الجمع)।

উত্তাপের "সাওয়াকিত" (সোয়াগতি) বলতে যা তা থেকে ঝরে পড়ে। "أظهر" অর্থ সে জোহরের (দুপুর) সময়ে উপনীত হয়েছে। কবি এখানে দ্বিপ্রহরের প্রখর রোদে তার ভ্রমণের বর্ণনা দিচ্ছেন যখন উত্তাপের কারণে বন্যপ্রাণীরা শান্ত হয়ে যায়। এই কবিতার দলিল (شاهد) হলো সর্বনামের (ضمير) স্থলে পুনরায় প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) ব্যবহার করা, যাতে শ্রুতিকটুতা (قبح) রয়েছে; ফলে কাব্যিক প্রয়োজন (ضرورة) ছাড়া এটি প্রায় অবৈধ।

সিবওয়াইহি: আল-কিতাব। হারুন সম্পাদিত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২।

ইবন মনজুর: লিসানুল আরব, মূল ধাতু: সাকাতা (سقط)।

৪ সিবওয়াইহি একে সাওয়াদ বিন আদির দিকে নিসবত করেছেন, আল-খিজানাহ গ্রন্থে "সাওয়াদা বিন আদি" উল্লেখ আছে। এটি তার পিতা আদি বিন যায়েদ এবং উমাইয়া বিন আবিস সালত থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এর দলিল (شاهد) পূর্ববর্তী কবিতার ন্যায়।

সিবওয়াইহি: আল-কিতাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২।

যামাখশারী: খিজানাতুল আদাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৩।

সুয়ূতী: শারহু শাওয়াাহিদিল মুগনী, ২৯৬।

৫ আল-রাযী: শারহুল কাফিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯২।

৬ কবিতাটি কালহিয়া আল-আরিনীর।

"لم يغش" শব্দটি "الغشيان" থেকে এসেছে, যার অর্থ উপনীত হওয়া বা আসা। "الكريهة" অর্থ যুদ্ধ; কেউ কেউ বলেছেন যুদ্ধের তীব্রতা বা বিপদ। "أوشكت" অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। "الحبال" হলো "حبل" বা রশির বহুবচন যা এখানে কারণ (السبب) অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা দিয়ে কোনো বিষয়ে পৌঁছানো যায়। "الهوينى" অর্থ প্রশান্তি ও শিথিলতা; ইবন দুরাইদ একে এমন শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা কেবল ক্ষুদ্রার্থে (مصغره) ব্যবহৃত হয়।

ইবন জিন্নি: আল-খাসাইস, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫৩।

বগদাদী: খিজানাতুল আদাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫২)
ففي هذا البيت حل الظاهر محل المضمر ولم يكن بلفظ الأول.

وأجاز الأخفش كذلك أن يقال زيد قام أبو طاهر إذا كان زيد يكنى بأبي طاهر. ومنع البعض كل ذلك في غير التفخيم ولا حجة لهم لوروده1.

--------------------------------------------

1 الرضى: شرح الكافية جـ 1 ص 92.
সুতরাং এই পংক্তিতে স্পষ্ট বিশেষ্য (الظاهر) সর্বনামের (المضمر) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং এটি প্রথম পদের অনুরূপ শব্দে ছিল না।

আখফাশ অনুরূপভাবে ‘জায়েদ আবু তাহের দাঁড়িয়েছে’ বলাকে বৈধ (جائز) বলেছেন, যদি জায়েদ আবু তাহের উপনামে পরিচিত হয়ে থাকে। কেউ কেউ মহিমা প্রকাশ (التفخيم) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ করেছেন, তবে তাদের নিকট কোনো অকাট্য দলিল (حجة) নেই; যেহেতু এর প্রয়োগের বর্ণনা (ورود) বিদ্যমান।১

--------------------------------------------

১ আর-রাদি: শারহুল কাফিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯২।
(খণ্ড: ১) আর-রাবিতু ওয়া আসারুহু ফীত তারাকিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫২)
ب -‌‌ جملة الصلة:-

مرة أخرى نعود إلى جملة الصلة ورابطها بعد أن ذكرنا أنها تربط في الأصل بالضمير نعود هنا مرة أخرى لنقول: إن الإسم الظاهر قد يخلف الضمير فيحل محله ويصبح الرابط هنا الإسم الظاهر. قال الشاعر:-

فيا رَبَّ لَيْلَى أنْتَ في كلّ موْطِنٍ … وأنتَ الذي في رحمةِ الله أطمعُ2

فصلة الموصول وهي جملة أطمع في رحمة الله جاء العائد فيها الإسم الظاهر وهو لفظ الجلالة والأصل وأنت الذي في رحمتك.

ومثله:

سُعَادُ الذّي أضْنَاكَ حُبُّ سُعَادَا

…

أي حبها، وحكى أنهم قالوا: أبو سعيد الذي رويت عن الخدري. أي عنه3.

ومن الربط بالظاهر قوله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِه} 4.

قال أبو على الفارسي وغيره من النحاة: "ما: اسم موصول مبتدأ، وصلتها آتيتكم، والعائد محذوف تقديره آتيتكموه، ثم جاءكم معطوف على الصلة والعائد منها على الموصول محذوف تقديره ثم جاءكم رسول به فحذف لدلالة المعنى عليه". وزعموا أن ذلك على مذهب سيبويه.

وأما مذهب الأخفش: "فإن الربط لهذه الجملة العارية من الضمير حصل بقوله لما معكم لأنه هو الموصول فكأنه قيل: ثم جاءكم رسول مصدق له فحصل الربط بالإسم الظاهر الذي حل محل الضمير، وخبر المبتدأ الذي هو ما الجملة من القسم المحذوف وجوابه

--------------------------------------------

2 البيت لمجنون بني عامر. حاشية الصبان جـ 1ص 162.

3 السيوطى: همع الهوامع جـ 1 ص 87.

4 الآية رقم 81 من سورة آل عمران.
খ -‌‌ সম্পর্কযুক্ত বাক্য (جملة الصلة):-

আমরা পুনরায় সম্পর্কযুক্ত বাক্য (جملة الصلة) এবং এর সংযোগকারী (رابط) প্রসঙ্গে ফিরে আসছি। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এটি মূলত সর্বনাম (ضمير) দ্বারা সংযুক্ত হয়। আমরা এখানে পুনরায় বলছি যে: ব্যক্তনাম বা বাহ্যিক বিশেষ্য (الإسم الظاهر) সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং তখন বাহ্যিক বিশেষ্যটিই এখানে সংযোগকারী (الرابط) হিসেবে গণ্য হয়। কবি বলেছেন:-

হে লায়লার পালনকর্তা! আপনিই প্রতিটি স্থানে বিরাজমান … আর আপনিই সেই সত্তা, যাঁর আল্লাহর রহমতে আমি আশা পোষণ করি।২

এখানে 'সিলাতুল মাওসুল' (صلة الموصول) হলো 'আল্লাহর রহমতে আমি আশা পোষণ করি' বাক্যটি। এতে প্রত্যাবর্তনকারী শব্দ (العائد) হিসেবে বাহ্যিক বিশেষ্য (الإسم الظاهر) এসেছে, যা হলো 'আল্লাহ' (لفظ الجلالة) শব্দ। অথচ এর মূল রূপ হওয়ার কথা ছিল 'যাঁর রহমতে' (في رحمتك)।

অনুরূপ উদাহরণ:

সুআদ তো সেই ব্যক্তি, সুআদের প্রতি ভালোবাসাই তোমাকে রুগ্ন করেছে।

…

অর্থাৎ তার প্রতি ভালোবাসা। বর্ণিত আছে যে তারা বলতেন: আবু সাঈদ হলেন সেই ব্যক্তি যাঁর নিকট হতে তুমি খুদরি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছ। অর্থাৎ তাঁর থেকে (عنه)।৩

বাহ্যিক বিশেষ্য (الظاهر) দ্বারা সংযুক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, তারপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে।} ৪

আবু আলী আল-ফারিসি এবং অন্যান্য ব্যাকরণবিদগণ বলেন: "'মা' (ما) হলো একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول) যা উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে এসেছে, আর তার পরিপূরক বাক্য (صلتها) হলো 'আতিতাকুম' (آتيتكم)। এখানে উহ্য প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটি (العائد محذوف) হলো 'আতিতাকুমুহু' (آتيتكموه)। এরপর 'সুম্মা জাআকুম' (ثم جاءكم) অংশটি পরিপূরক বাক্যের (الصلة) ওপর সমম্বিত হয়েছে এবং এখান থেকে সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের (الموصول) দিকে প্রত্যাবর্তনকারী অংশটি উহ্য রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'সুম্মা জাআকুম রাসূলুন বিহি' (ثم جاءكم رسول به); অর্থগত স্পষ্টতার কারণে এটি উহ্য রাখা হয়েছে।" তারা দাবি করেছেন যে, এটি সিবওয়াইহ-এর মতানুসারে।

আর আখফাশ-এর মত হলো: "সর্বনামহীন এই বাক্যটির সংযোগ মূলত 'লামা মাআকুম' (لما معكم) বাক্যাংশ দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে, কারণ এটিই হলো সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (الموصول)। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যেন বলা হয়েছে: 'অতঃপর তোমাদের নিকট একজন রাসূল আসলেন যিনি তাঁর সত্যায়নকারী'। ফলে এখানে বাহ্যিক বিশেষ্যটি (الإسم الظاهر) সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংযোগ (الربط) সম্পন্ন করেছে। আর 'মা' (ما) নামক যে উদ্দেশ্য (مبتدأ) রয়েছে তার বিধেয় (خبر) হলো উহ্য শপথ এবং তার উত্তর সম্বলিত বাক্যটি।"

--------------------------------------------

২ কবিতাটি মাজনুন বনি আমিরের। হাশিয়াতুস সাব্বান, ১ম খণ্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা।

৩ সুয়ূতী: হামউল হাওয়ামি, ১ম খণ্ড, ৮৭ পৃষ্ঠা।

৪ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮১।