(খণ্ড: ১) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: -)
فهرس الفهارس   (عبد الحي الكتاني المغربي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: فهرس الفهارس والأثبات ومعجم المعاجم والمشيخات والمسلسلات

المؤلف: محمد عَبْد الحَيّ بن عبد الكبير ابن محمد الحسني الإدريسي، المعروف بعبد الحي الكتاني (ت 1382هـ)

المحقق: إحسان عباس

الناشر: دار الغرب الإسلامي - بيروت ص. ب: 113/5787

الطبعة: 2، 1982

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফিহরিসুল ফাহরিস   (আবদুল হাই আল-কাত্তানি আল-মাগরিবী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: ফিহরিসুল ফাহরিস ওয়াল আসবাত ওয়া মু'জামুল মা'আজিম ওয়াল মাশায়িখাত ওয়াল মুসালসালাত

লেখক: মুহাম্মদ আবদুল হাই বিন আবদুল কাবীর ইবনে মুহাম্মদ আল-হাসানি আল-ইদ্রিসি, যিনি আবদুল হাই আল-কাত্তানি নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৩৮২ হিজরি)

সম্পাদক: ইহসান আব্বাস

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি - বৈরুত, ডাক বাক্স: ১১৩/৫৭৮৭

সংস্করণ: ২, ১৯৮২

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١)
فهرس الفهارس والإثبات

‌‌مقدمة لكتاب فهرس الفهارس

بقلم كاتب كبير وشاعر خطير (1)

أتقدم اليوم إلى ديوان الخلود، وعريضة الأعمال الطائلة، وإلى لوح الدهر الحافل بذكريات أفذاذ العالم وأقطاب العلم والتفكير، بكتابة موجزة ولكنها الطالعة الغراء لذلك الديوان الشرقي، والعنوان الصادق لتلك العريضة الضافية، والروح الحي بجوهر ذلك اللوح الوضاح - حقا إنها كلمة يسيرة وكتابة موجزة، ولكنها كل المهمة التي وأيم الحق ما كنت لأحلم بان مثلي ستتيح له سوانح السعد التفرد بنعمة شرف مزاولتها والقبض على زمام فخرها وماذا عساي أن أستطيعه من الكتابة في ترجمة رجل العلم والعمل، وقطب الشهامة والسياسة والعزم، وأستاذ الأخلاق والمروءة، ومثال الإخلاص والعفة، الكعبة المحجوجة للطبقة الراقية من غواة الكتابة ووعاة العلم من مختلف أنحاء المعمور، والمنهل العذب لرواد المعارف، وعفاة الفائدة الغالية والنادرة العالية والنكتة الغريبة والطرفة المستملحة، من متنوع فنون العلم ومتشعب طرائق المعرفة، والساعد المساعد الأعظم لكل اّخذ في مشروع علمي أو عملي من عشاق البحث وحداة الاستفادة، العرق الحي النابض في جسد الإسلام المنهوك المثخن، أستاذ الأساتذة مولاي وسيدي وملاذي وولي

--------------------------------------------

(1) إن صدر هذه المقدمة نموذج للتكلف، ولكن ليس من حقنا حذفه، ولذلك رأينا من الأمانة للطبعة الأولى إبقاءه.

وهذه المقدمة هي بقلم أبو العزم الشاعر، تلميذ المؤلف والذي نشر الطبعة الأولى للكتاب عام 1947 هجرية - 1929 ميلادية. (المحقق)
নির্ঘণ্টসমূহের নির্ঘণ্ট ও সনদ-সমষ্টি

‌‌'ফিহরিসুল ফাহারিস' গ্রন্থের ভূমিকা

একজন মহান লেখক ও বিশিষ্ট কবির কলমে (১)

আজ আমি অবিনশ্বরতার দফতরে, সুদীর্ঘ কর্মতৎপরতার বিবরণীতে এবং বিশ্বের অনন্য ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞান ও চিন্তার মেরু নক্ষত্রদের স্মৃতিবিজড়িত মহাকালের ফলকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু উজ্জ্বল উপক্রমনিকা পেশ করছি সেই প্রাচ্যীয় সংকলনের জন্য, এবং সেই বিস্তারিত বিবরণের জন্য একটি সত্যনিষ্ঠ শিরোনাম এবং সেই প্রোজ্জ্বল ফলকের মূল নির্যাস সমৃদ্ধ এক জীবন্ত প্রাণ হিসেবে—সত্যিই এটি একটি সামান্য কথা এবং সংক্ষিপ্ত লেখনী, কিন্তু এটিই সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ যার সম্পাদনার অনন্য সৌভাগ্যের অধিকারী হওয়া এবং এর গৌরবের লাগাম ধরার নেয়ামত আমার মতো কেউ পাবে তা আমি সত্যের কসম খেয়ে বলছি কখনও কল্পনাও করিনি। জ্ঞান ও কর্মের পুরুষ, সাহসিকতা, রাজনীতি ও সংকল্পের মেরু, নৈতিকতা ও বীরত্বের শিক্ষক, নিষ্ঠা ও পবিত্রতার মূর্ত প্রতীক—যিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উচ্চবর্গের লেখক ও জ্ঞানপিপাসুদের লক্ষ্যস্থল, জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য সুমিষ্ট প্রস্রবণ, এবং জ্ঞানের বিবিধ শাখা ও বিচিত্র জ্ঞানপদ্ধতির দুর্লভ ও মূল্যবান ফায়দা, উচ্চাঙ্গের বিরল তথ্য, অদ্ভুত সূক্ষ্ম বিষয় ও চমৎকার রসদপ্রার্থীদের মিলনস্থল—সেই মহীয়ান ব্যক্তির জীবনী রচনায় আমি আর কতটুকুই বা সামর্থ্য রাখি? তিনি প্রতিটি তাত্ত্বিক বা ব্যবহারিক প্রকল্পে ব্রতী গবেষণা-প্রেমী ও জ্ঞান-সন্ধানীদের শ্রেষ্ঠতম সহায়ক এবং জরাজীর্ণ ও ক্ষতবিক্ষত ইসলামের দেহে স্পন্দিত জীবন্ত ধমনী, উস্তাদদের উস্তাদ, আমার মওলা, আমার সাইয়্যেদ, আমার আশ্রয় ও অভিভাবক—

--------------------------------------------

(১) এই ভূমিকার প্রারম্ভিক অংশটি কৃত্রিম আড়ম্বরপূর্ণ রচনার একটি নমুনা, তবে এটি বাদ দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই। তাই প্রথম সংস্করণের আমানত রক্ষার্থে আমরা এটি বজায় রাখা সমীচীন মনে করেছি।

এই ভূমিকাটি কবি আবুল আজম কর্তৃক লিখিত, যিনি লেখকের ছাত্র এবং যিনি ১৯৪৭ হিজরি - ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন। (সম্পাদক)
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢)
نعمتي وعتادي، الشيخ أبي الإسعاد وأبي الإقبال وأبي الإرشاد محمد عبد الحي ابن الشيخ الأكبر العارف الأشهر مولانا أبي المكارم الشيخ سيدنا عبد الكبير الحسني الإدريسي الكتاني أطال الله بقاءه ممتطيا جواد العلم الذي لا يكبو، متدرعا صارم المجد الذي لا ينبو، رافلا في حلل السيادة والسماحة والشرف. قد والله تلعثم لسان القلم، ونضبت دواة الضمير القائد، وخرت عزيمة الافتكار ساجدة بين يدي عظمة شأنه وفخامة قدره، وتأخرت فتاة النجدة القلمية واضعة سلاح القوة العاملة، خافضة راية التقهقر والانكسار أمام جيش فضائله العرمرم، سادلة من جلباب الخجل والوجل ما لعله يستر فضيحة عار القصور، ويكفر جريمة فادح التقصير.

وجدت زهر خيمه متفتحا، وموج بحار علمه متدفقا، واطراد مجده رواسي شامخات، ونجوم سماء ذكره زواهي زاهرات، فما الذي أختاره لك أيها القارىء الكريم من عيون فضائله وكلها مختارة:

تكاثرت الظباء على خراش … فما يدري خراش ما يصيد وان موقف التحدث عن تاريخ حياة عظيم مثله من أكبر زعماء العالم الإسلامي في هذا العصر لموقف رهيب يسيخ فيه قدم مثلي، ولكنني أوثر الحقيقة الناصعة لحمل إكليل الشرف بأداء هذا الواجب المقدس نحو شخصه المفدى بكرائم الأرواح، فهي الجديرة به، وعلى كاهلها أضع حق النهوض فهي القادرة على بعضه، ولسانها الصادق استملي، فهي التي تملي علينا من جميل ترجمته الطيبة الأحدوثة، الناصعة بياض المخبر، الحاضرة الأثر والعين، ما يقضي به الحق وتشهد به عدول المحاسن، ويزكيه قسطاس التاريخ العدل.

لست أنظر من مرآة محاسنه الصقيلة من خصوص جهته الشخصية المحبوبة
আমার নিয়ামত ও পাথেয়, শাইখ আবুল ইসআদ, আবুল ইকবাল ও আবুল ইরশাদ মুহাম্মদ আবদুল হাই, যিনি মহান শাইখ, সুপ্রসিদ্ধ আরিফ বিল্লাহ, আমাদের মাওলা আবুল মাকারিম শাইখ সাইয়্যেদুনা আবদুল কাবীর আল-হাসানি আল-ইদ্রিসি আল-কাত্তানি এর পুত্র—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন; তিনি ইলমের এমন এক অশ্বের সওয়ার হয়েছেন যা কখনো হোঁচট খায় না, আভিজাত্যের এমন এক ধারালো তলোয়ারে সজ্জিত যা কখনো ভোঁতা হয় না, এবং শ্রেষ্ঠত্ব, উদারতা ও সম্মানের পোশাকে সুশোভিত। আল্লাহর কসম, কলমের জিহ্বা তোতলামি করছে, চালিকাশক্তিরূপী বিবেকের কালির দোয়াত শুকিয়ে গেছে, এবং তাঁর সুমহান মর্যাদা ও বিশালত্বের সামনে চিন্তাশক্তির সংকল্প সিজদায় লুটিয়ে পড়েছে। তাঁর গুণাবলির বিশাল বাহিনীর সামনে কলমী সহায়তারূপী কুমারী তার কর্মশক্তির হাতিয়ার ত্যাগ করে পিছিয়ে গেছে এবং পরাজয় ও ভগ্নদশার পতাকা অবনমিত করেছে। লজ্জা ও ভীতির চাদর দিয়ে এমন এক আবরণ টেনে দিয়েছে যা হয়তো অক্ষমতার কলঙ্ক ঢেকে দেবে এবং চরম অবহেলার অপরাধ মার্জনা করবে।

আমি তাঁর তাঁবুর ফুলসমূহকে প্রস্ফুটিত, তাঁর ইলমের সমুদ্রের ঢেউকে উত্তাল, তাঁর আভিজাত্যের পরম্পরাকে সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় অটল এবং তাঁর স্মৃতির আকাশের নক্ষত্রসমূহকে উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত দেখতে পেয়েছি। হে সম্মানিত পাঠক, তাঁর শ্রেষ্ঠ গুণাবলির মধ্য থেকে আমি আপনার জন্য কোনটি নির্বাচন করব, যখন তার প্রতিটিই পছন্দনীয়?

খিরাশের ওপর হরিণের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে … খিরাশ বুঝতে পারছে না সে কোনটি শিকার করবে। বর্তমান যুগের মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে তাঁর মতো একজন মহামনীষীর জীবনী নিয়ে আলোচনা করা এক ভয়াবহ পরিস্থিতি, যেখানে আমার মতো ব্যক্তির পা পিচ্ছিল হয়ে যায়। কিন্তু আমি সেই পবিত্র আত্মার প্রতি উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিত্বের প্রতি এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সম্মানের মুকুট ধারণের জন্য স্বচ্ছ সত্যকেই প্রাধান্য দিচ্ছি; কারণ সত্যই এর যোগ্য এবং আমি সত্যের ওপরই এই গুরুভার অর্পণ করছি, কেননা সত্যই এর কিঞ্চিৎ প্রকাশে সক্ষম। আমি সত্যের সত্যবাদী রসনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, যা আমাদের সামনে তাঁর সেই পবিত্র জীবনীর সুন্দর বর্ণনা লিপিবদ্ধ করবে যা লোকমুখে প্রচলিত, যার অভ্যন্তরীণ দিকটি ধবল ও স্বচ্ছ এবং যার প্রভাব ও স্বরূপ বিদ্যমান; যা সত্যের দাবি অনুযায়ী হবে এবং যার সপক্ষে শ্রেষ্ঠ গুণাবলি সাক্ষ্য দেবে এবং ইতিহাসের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড যাকে সত্যায়িত করবে।

আমি তাঁর গুণাবলির স্বচ্ছ দর্পণের দিকে কেবল তাঁর প্রিয় ব্যক্তিগত দিক থেকেই দৃষ্টিপাত করছি না।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٣)
حتى يتبسم له قلمي عن شعر الملاطفة والمحاباة، كلا وربك، تلك شنشنة لم أعرفها من اخزم، وذلك مهيع لم من أبناء العفة، فكيف لقلم مثلي بمواساة من أغنته ثروة مجده الطائلة عن مواساة أقلام الكاتبين! أم كيف لصرير قلمي أن يصل إلى منافذ ذلك العقل الكبير وقد ملأها صوت ضمير النزاهة روعة وجلالا، وصد رنين الحق حاسته السمعية عن سماع نداء الاستمالة والاستهواء بتمويهات القول الكاذب وتنويهات الفضل المزعوم! إن أول مايتراءى من بين أشباح أغنياء الشرف المطل على مستوى العلماء الدينيين من نوافذ الاستطلاع شبح مولانا الأستاذ الإمام يتراءى طودا راسخا على قوائم الجد العملي، وقد كسته يد طبيعة السعد الجميل والبخت الميمون حلة الازدهاء والازدهار.

1 - بدايته ومشيخته ورحلاته:

ربي في كنف والده المحترم، وزاويتهم المكتظة على الدوام برجال العلم والدين والأدب من الوطنيين والأفاقيين، وأول ماحبب الله إليه من العلوم علم الحديث والسيرة النبوية بسبب حضوره دروس والده المفضال فيهما. وأول كتاب حضر عليه فيها الشمائل بشرح المناوي:

*فصادف قلبا خاليا فتمكنا* … فاتخذ الكتاب المذكور هجيراه حتى كاد يحفظه، ثم أخذ في حضور دروس العلم على أعلام فاس:

1 - كخاله أبي المواهب جعفر بن إدريس الكتاني: سمع عليه الكثير من كتب الحديث والفقه والتصوف والتاريخ والأنساب في مجالس خاصة، والهمزية بجامع الأقواس في الملأ العام، وأجازه عامة مروياته عام 1318.

2 - ووالده الشيخ الإمام: سمع عليه كثيرا من كتب الصحاح والسنن
যাতে আমার কলম তার প্রতি তুষ্টি ও পক্ষপাতিত্বের কাব্য নিয়ে মৃদু হাসে—না, আপনার রবের কসম, এটি এমন এক অভ্যাস যা আমার মজ্জাগত নয়, এবং এটি এমন এক পথ নয় যা সচ্চরিত্রবানদের জন্য শোভনীয়। আর আমার মতো এক কলম কীভাবে তাঁকে তুষ্ট করবে, যার সুউচ্চ মর্যাদার বিপুল ঐশ্বর্য লেখকদের কলমের তোষামোদের প্রয়োজন থেকে তাঁকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে! অথবা আমার কলমের খসখস শব্দ কীভাবে সেই মহান মস্তিষ্কের দুয়ারে পৌঁছাবে, যখন সততার কণ্ঠস্বর তাঁর অন্তরকে মহিমা ও গাম্ভীর্যে পূর্ণ করে রেখেছে, এবং সত্যের ঝংকার তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয়কে মিথ্যা বাক্যের প্রলেপ ও কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্বের গুণকীর্তনের মাধ্যমে প্রলুব্ধকর ও মোহাবিষ্ট আহ্বান শোনা থেকে বিরত রেখেছে! নিশ্চয়ই পর্যবেক্ষণের জানালা দিয়ে ধর্মীয় আলেমদের স্তরে মর্যাদাবান ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যার অবয়ব ভেসে ওঠে, তিনি হলেন আমাদের মাওলা উস্তায ইমাম। তাঁকে বাস্তব কর্মতৎপরতার ভিত্তির ওপর এক সুদৃঢ় পাহাড়ের মতো দেখা যায়, যাকে সুন্দর সৌভাগ্য ও কল্যাণময় ভাগ্যের হাত মর্যাদা ও উন্নতির ভূষণে ভূষিত করেছে।

১ - তাঁর সূচনা, শিক্ষকবৃন্দ এবং সফরসমূহ:

তিনি তাঁর সম্মানিত পিতার তত্ত্বাবধানে এবং তাঁদের সেই খানকায় লালিত-পালিত হন যা সর্বদা দেশি ও বিদেশি ইলম, দ্বীন ও সাহিত্যের ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকত। আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট ইলমের মধ্যে সর্বপ্রথম ইলমে হাদিস ও সীরাতে নববীকে প্রিয় করে দেন, কারণ এই দুই বিষয়ে তিনি তাঁর গুণী পিতার দারসে উপস্থিত হতেন। এ বিষয়ে তিনি সর্বপ্রথম যে কিতাবের দারসে শরিক হন তা হলো আল-মুনাউয়ি-র ব্যাখ্যাসহ ‘শামায়িল’:

*তা এক শূন্য হৃদয়ের দেখা পেল এবং সেখানে গেঁথে গেল* … অতঃপর তিনি উক্ত কিতাবটি নিজের সার্বক্ষণিক পাঠের বিষয় বানিয়ে নেন এমনকি তিনি প্রায় সেটি মুখস্থ করে ফেলেন। এরপর তিনি ফাসের বড় বড় আলেমদের নিকট ইলমের মজলিসে উপস্থিত হতে শুরু করেন:

১ - যেমন তাঁর মামা আবুল মাওয়াহিব জাফর ইবনে ইদ্রিস আল-কাত্তানি: তাঁর নিকট তিনি ব্যক্তিগত মজলিসে হাদিস, ফিকহ, তাসাউফ, ইতিহাস ও বংশবিদ্যার অনেক কিতাব শ্রবণ করেছেন। এছাড়া জামেউল আকওয়াস-এ সর্বসাধারণের মজলিসে ‘হামজিয়্যাহ’ শ্রবণ করেছেন এবং তিনি ১৩১৮ হিজরিতে তাঁকে তাঁর সমস্ত বর্ণনার সাধারণ অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন।

২ - এবং তাঁর পিতা শায়খ ইমাম: তাঁর নিকট তিনি সিহাহ ও সুনান গ্রন্থাবলির অনেক কিতাব শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٤)
والمساند والمعاجم والأجزاء والأوائل والمسلسلات وكتب التفسير، خصوصا الدر المنثور والبغوي وابن كثير والألوسي وكتب التصوف كالإحياء والقوت والعوارف والفتوحات والفصوص والعهود والمنن والإبريز، خصوصا كتب الطبقات والتراجم ودقائق طرائق القوم وكان خريتها المرحول إليه فيها تهذيبا وتكميلا، وهو عمدته واليه ينتسب وعنه يروي.

3 - وشقيقه أبي عبد الله محمد بن عبد الكبير الكتاني: حضر عليه في الصحيح والشفاء وسنن النسائي والمواهب والشمائل، وسمع عليه الكثير من الإحياء والفتوحات المكية والقوت وغيرها من كتب الحديث والتصوف، وأخذ عنه فلسفة التشريع وعلم الأخلاق والكلام وغير ذلك، ولازمه ملازمة الظل للشاخص عدة سنوات.

4 - وابن خاله أبي عبد الله محمد بن جعفر الكتاني صاحب السلوة: حضر درسه في الصحيحين والموطأ وسنن أبي داوود والألفية والمختصر والمرشد وجمع الجوامع وغير ذلك، وسمع عليه كثيراً من المسلسلات والأوائل والفوائد.

5 - وأبي العباس أحمد بن محمد بن الخياط الزكاري: سمع عليه جميع الشفا والطرفة بشرحها وحاشيتها عليه ومجالس من الصحيح والحكم العطائية وجملة صالحة من التلخيص.

6 - وأبي عبد الله محمد بن قاسم القادري: أخذ عنه الشمائل بشرح جسوس وحاشيته عليه والبردة بشرحها للأزهري وحاشيته عليه وجمع الجوامع والجرومية والشيخ الطيب على المرشد بحاشيته عليه.

7 - وأبي عبد الله محمد بن عبد السلام قنون: حضر عليه في جمع الجوامع وعبادة المختصر بشرح الدردير، وغير هؤلاء من أعلام فاس.
এবং মুসনাদসমূহ, মু'জামসমূহ, আজজা (অংশসমূহ), আওয়ায়িল, মুসালসালাত এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে আদ-দুররুল মানসুর, বাগভী, ইবনে কাসীর এবং আলূসী; আর তাসাউফ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ যেমন এহিয়া, কুত, আওয়ারেফ, ফুতুহাত, ফুসুস, উহুদ, মিনান এবং ইবরিজ; বিশেষত তাবাকাত, জীবনীগ্রন্থ এবং এই জামাতের সূক্ষ্ম পথ ও পদ্ধতিসমূহ। তিনি ছিলেন এর অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক এবং পরিমার্জন ও পূর্ণতাদানের ক্ষেত্রে আশ্রয়স্থল। তিনি ছিলেন তাঁর প্রধান অবলম্বন এবং তাঁর সাথেই তিনি সম্বন্ধযুক্ত হন এবং তাঁর থেকেই বর্ণনা করেন।

৩ - এবং তাঁর সহোদর ভাই আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাবীর আল-কাত্তানী: তিনি তাঁর নিকট সহীহ (বুখারী), আশ-শিফা, সুনানে নাসাঈ, মাওয়াহিব এবং শামায়েল পাঠ করেছেন। এছাড়াও এহিয়া, ফুতুহাতে মক্কিয়া, কুত এবং অন্যান্য হাদিস ও তাসাউফের কিতাবসমূহ তাঁর কাছে শ্রবণ করেছেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে শরীয়তের দর্শন, আখলাক শাস্ত্র, ইলমুল কালাম এবং আরও অনেক কিছু গ্রহণ করেছেন এবং বেশ কয়েক বছর ছায়ার মতো তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।

৪ - এবং তাঁর মামাতো ভাই 'আস-সালওয়াহ' গ্রন্থের রচয়িতা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানী: তিনি তাঁর নিকট সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম), মুয়াত্তা, সুনানে আবু দাউদ, আলফিয়্যাহ, মুখতাসার, মুরশিদ, জামউল জাওয়ামে এবং অন্যান্য কিতাবের পাঠ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর কাছে প্রচুর পরিমাণে মুসালসালাত, আওয়ায়িল এবং ফাওয়াইদ শ্রবণ করেছেন।

৫ - এবং আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-খাইয়্যাত আজ-জাক্কারী: তিনি তাঁর নিকট সম্পূর্ণ আশ-শিফা, ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাসহ আত-তুর্ফাহ, সহীহ (বুখারী) এর কিছু মজলিস, হিকামে আতাইয়্যাহ এবং আত-তালখীস-এর একটি বড় অংশ শ্রবণ করেছেন।

৬ - এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-কাদিরী: তিনি তাঁর নিকট জাসূসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাসহ শামায়েল, আযহারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাসহ বুরদাহ, জামউল জাওয়ামে, আজরুমিয়্যাহ এবং টীকাসহ মুরশিদের ওপর শেখ তাইয়্যিবের ব্যাখ্যা পাঠ করেছেন।

৭ - এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম কানুন: তিনি তাঁর নিকট জামউল জাওয়ামে এবং দারদীরের ব্যাখ্যাসহ মুখতাসারের ইবাদত অধ্যায় পাঠ করেছেন। এছাড়াও তিনি ফাস নগরীর আরও অনেক বিশিষ্ট আলেমদের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٥)
وفي أثناء ذلك كان يتردد على بقية البقية من مسندي المغرب وشيوخ الرواية والعلو في السند.

8 - فأخذ عن قاضي مكناس أبي العباس أحمد بن الطالب بن سودة: سمع عليه بعض الصحيح بالحرم الإدريسي، ثم تردد إليه بداره بفاس عام 1318 وسمع عليه أوائل الصحيحين والشمائل وأجازه عامة مرورياته بخطه ولفظه.

9 - ومحدث فقهاء المغرب أبي عبد الله محمد الفضيل بن الفاطمي الإدريسي الزرهوني: سمع عليه الكثير من كتب السنة وبالخصوص شرحه الجامع على البخاري المسمى بالفجر الساطع، وسيدنا الأستاذ المترجم حفظه الله منفرد بروايته عنه الآن في الدنيا واجازه إجازة عامة بخطه ولفظه وذلك 6 جمادي الثانية عام 1318بزرهون.

وكاتب بقية المسندين بالأقطار البعيدة والنائية في المشرق، أخذ عنهم بالمكاتبة: كمسند المدينة المنورة أبي الحسن عليّ بن ظاهر الحنفي أجازه مكاتبة عام. 132.

وعالم المدينة المنورة أبي العباس أحمد بن إسماعيل البرزنجي أجازه مكاتبة عام. 1319

ثم رحل بنفسه للعدوتين عام 1319 فاستجاز فيها القاضي العدل أبا عبد الله محمد بن عبد الرحمن البريبري الرباطي وغيره.

ثم رحل عام 1321 إلى مراكش فأخذ في طريقه إليها وأخذ عنه وحصل له فيها إقبال عظيم، ناهيك أن الخليفة السلطاني في مراكش إذ ذاك المولى عبد الحفيظ بن الحسن أخذ عنه واستجازه فأجازه وألف باسمه فهرساً سماه المنهج المنتخب المستحسن فيما أسندناه لسعادة مولاي عبد الحفيظ بن السلطان مولاي الحسن.
সেই সময়ে তিনি মাগরিবের অবশিষ্ট মুসনিদগণ, বর্ণনাশাস্ত্রের শাইখগণ এবং উচ্চ সনদধারী ব্যক্তিবর্গের নিকট যাতায়াত করতেন।

৮ - তিনি মেকনেসের কাযী আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনুত তালিব বিন সাওদাহ থেকে ইলম হাসিল করেন: তিনি ইদরীসী হারামে তাঁর নিকট সহীহ (বুখারী) এর কিছু অংশ শ্রবণ করেন। অতঃপর ১৩১৮ হিজরীতে ফাসে তাঁর বাসভবনে যাতায়াত করেন এবং তাঁর নিকট সহীহাইন ও শামায়িলের প্রথমাংশ শ্রবণ করেন। তিনি (শাইখ) তাকে তাঁর স্বহস্তে লিখিত ও মৌখিক বর্ণনার সাধারণ ইজাযত প্রদান করেন।

৯ - এবং মাগরিবের ফকীহদের মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-ফুদ্বাইল বিন আল-ফাতিমী আল-ইদরীসী আল-যারহুনী: তিনি তাঁর নিকট সুন্নাহর বহু কিতাব শ্রবণ করেন, বিশেষ করে বুখারীর ওপর তাঁর সংকলিত ‘আল-ফাজরুস সাতি’ নামক সুসংহত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি। আমাদের সাইয়্যেদ উস্তাদ যার জীবনী এখানে আলোচিত হচ্ছে (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন), বর্তমানে পৃথিবীতে তিনি একাই তাঁর থেকে এই বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অনন্য। তিনি তাকে ১৩১৮ হিজরীর ৬ই জুমাদাস সানি তারিখে যারহুনে স্বহস্তে লিখিত ও মৌখিক সাধারণ ইজাযত প্রদান করেন।

তিনি প্রাচ্যের দূর-দূরান্তের অবশিষ্ট মুসনিদদের নিকটও পত্র লিখতেন এবং পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের থেকে ইজাযত গ্রহণ করতেন; যেমন মদীনা মুনাওয়ারার মুসনিদ আবুল হাসান আলী বিন যাহির আল-হানাফী, তিনি ১৩২০ হিজরীর দিকে পত্রের মাধ্যমে তাকে ইজাযত প্রদান করেন।

এবং মদীনা মুনাওয়ারার আলিম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইসমাঈল আল-বারযানজী, তিনি ১৩১৯ হিজরীতে পত্রের মাধ্যমে তাকে ইজাযত প্রদান করেন।

অতঃপর ১৩১৯ হিজরীতে তিনি নিজেই আদওয়াতাইন সফর করেন এবং সেখানে ন্যায়পরায়ণ কাযী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-বারবারী আর-রিবাতী ও অন্যদের নিকট থেকে ইজাযত লাভ করেন।

এরপর ১৩২১ হিজরীতে তিনি মাররাকেশ সফর করেন। যাত্রাপথে তিনি যেমন ইলম হাসিল করেন, তেমনি ছাত্ররাও তাঁর থেকে ইলম হাসিল করেন। সেখানে তিনি বিপুল সমাদর লাভ করেন। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন মাররাকেশে সুলতানের প্রতিনিধি মাওলা আব্দুল হাফীয বিন হাসান তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন এবং ইজাযত প্রার্থনা করেন। তিনিও তাকে ইজাযত প্রদান করেন এবং তাঁর নামে একটি ফিহরিস্ত রচনা করেন যার নাম দেন: ‘আল-মানহাজুল মুনতাখাবুল মুস্তাহসান ফীমা আসনাদনাহু লি-সাআদাতি মাওলায়া আব্দুল হাফীয বিন সুলতান মাওলায়া হাসান’।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٦)
وفي عام 1323 رحل للحجاز فدخل مصر وأدرك بقية المسندين بتلك الديار، خصوصاً شيخ الإسلام عبد الرحمن الشربيني، وشيخ المالكية سليم البشري، والشهاب أحمد الرفاعي، والشيخ حسين الطرابلسي الحنفي، والشيخ عبد الله البنا بالاسكندرية، فأجازوه بما لهم في المعقول والمنقول.

ثم دخل الحجاز فألقى به عصا التسيار وأخذ عن بقية من وجد هناك من المعمرين، كالسيد حسين الحبشي الباعلوي المكي، وهو اعظم من لقي في الحجاز، جلالة في النفوس، ووقعاً في القلوب، وسعة رواية، ومحدث الحجاز الشيخ فالح الظاهري، وأديب الحجاز الشيخ عبد الجليل برادة المدني، والشهاب البرزنجي المدني، والشيخ خليل الخربطلي المدني الحنفي، وعالم مكة الشيخ حسب الله المكي الشافعي، والشهاب أحمد الحضراوي الشافعي المكي وغيرهم من حجيج الآفاق الذين وردوا تلك السنة من الهند واليمن وغيره من بلاد الله شرقاًوغرباً. وفي مكة صادف صاحبه الشيخ أحمد أبا الخير المكي الهندي مسند الشرق فتصافحا وتصاحبا وتدبجا فوافق شن طبقة وحمل كل منهما عن الآخر علماً جماً.

ثم دخل الشام فأدرك به بقية البقية من رجال الدور الأول، خصوصاً الشيخ عبد الله السكري الركابي بدمشق، وهو أعظم مسند وجده في تلك الديار وأفخر، والشيخ سعيد الحبال، والشيخ أبا النصر الخطيب، والشيخ محمد أمين البيطار وأمثالهم، فرجع إلى المغرب حاملاً راية التحديث والرواية من أقصى الشرق إلى أقصى الغرب ومجموعة إجازاته من شيوخه في مجلد ضخم.

وقد درس في الحرم المدني جميع شمائل الترمذي ومقدمة صحيح مسلم ودرس سنن النسائي في ضريحه بالرملة من فلسطين، والفتوحات المكية في ضريح الإمام الحاتمي بدمشق، والموطأ في ضريح الإمام مالك بالبقيع، وكتاب
১৩২৩ হিজরি সনে তিনি হিজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং মিসরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি ওই অঞ্চলের অবশিষ্ট উচ্চপদস্থ মুসনিদগণের (উচ্চ সনদধারী বর্ণনাকারী) সাক্ষাৎ লাভ করেন, বিশেষত শায়খুল ইসলাম আবদুর রহমান আশ-শারবিনি, মালিকি মাযহাবের প্রধান শায়খ সালিম আল-বিশরি, শিহাব আহমদ আর-রিফায়ি, শায়খ হুসাইন আত-তরাবুলুসি আল-হানাফি এবং আলেকজান্দ্রিয়ার শায়খ আবদুল্লাহ আল-বান্না। তাঁরা তাঁকে যুক্তিভিত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক (আকলি ও নাকলি) সকল শাস্ত্রে ইজাজত প্রদান করেন।

অতঃপর তিনি হিজাজে প্রবেশ করে সেখানে তাঁর ভ্রমণের সমাপ্তি টানেন এবং সেখানে অবস্থানরত দীর্ঘজীবী অবশিষ্ট আলিমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মক্কার সাইয়্যিদ হুসাইন আল-হাবাশি আল-বাআলাউয়ি, যিনি হিজাজে তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া আলিমদের মধ্যে ব্যক্তিত্বের গাম্ভীর্য, হৃদয়ে প্রভাব এবং বর্ণনার প্রশস্ততার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। আরও ছিলেন হিজাজের মুহাদ্দিস শায়খ ফালিহ আজ-জাহিরি, হিজাজের সাহিত্যিক শায়খ আবদুল জলিল বাররাদা আল-মাদানি, শিহাব আল-বারজানজি আল-মাদানি, মদিনার হানাফি শায়খ খলিল আল-খারবুতলি, মক্কার শাফেয়ি আলিম শায়খ হাসবুল্লাহ আল-মাক্কি, মক্কার শিহাব আহমদ আল-হাদরাওয়ি আশ-শাফেয়ি এবং ঐ বছর ভারত, ইয়ামেন ও আল্লাহর অন্যান্য পূর্ব ও পশ্চিমের দেশ থেকে আগত হাজিদের মধ্যে অবস্থানরত অন্যান্য আলিমগণ। মক্কায় তিনি তাঁর সঙ্গী প্রাচ্যের মুসনিদ শায়খ আহমদ আবু আল-খায়ের আল-মাক্কি আল-হিন্দিকে দেখতে পান; তাঁরা একে অপরের সাথে করমর্দন করেন, দীর্ঘ সাহচর্য লাভ করেন এবং ইলম বিনিময় করেন, যা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তাঁরা প্রত্যেকেই একে অপরের কাছ থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেন।

এরপর তিনি সিরিয়ায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে প্রথম যুগের অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎ পান, বিশেষ করে দামেস্কের শায়খ আবদুল্লাহ আস-সুক্কারি আর-রিকাবি, যিনি ওই অঞ্চলে তাঁর পাওয়া সবচেয়ে মহান ও গৌরবময় মুসনিদ ছিলেন। এ ছাড়া শায়খ সাঈদ আল-হাব্বাল, শায়খ আবু আন-নাসর আল-খতিব, শায়খ মুহাম্মদ আমিন আল-বিতার ও তাঁদের সমপর্যায়ের আলিমগণ। অতঃপর তিনি সুদূর প্রাচ্য থেকে সুদূর পশ্চিম পর্যন্ত ইলমে হাদিস ও বর্ণনার ঝাণ্ডা বহন করে মরক্কোতে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর মাশায়েখদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইজাজতসমূহ একটি বিশাল খণ্ডে সংকলিত রয়েছে।

তিনি মদিনার হারামে তিরমিযীর সম্পূর্ণ 'শামায়েল' ও সহিহ মুসলিমের 'মুকাদ্দিমা' পাঠদান করেছেন। ফিলিস্তিনের রামলায় অবস্থিত কবরের পাশে নাসায়ীর 'সুনান' পাঠদান করেছেন। দামেস্কে ইমাম হাতমির কবরের পাশে 'ফুতুহাতে মক্কিয়া' পাঠদান করেছেন। বাকিতে ইমাম মালিকের কবরের পাশে 'মুয়াত্তা' এবং কিতাব...
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٧)
الفرج بعد الشدة لابن أبي الدنيا في بيت المقدس، وفي يوم ختمه لشمائل الترمذي أنشد فيه عالم المدينة المنورة الآن الشيخ أبو عبد الله محمد العمري الجزائري المالكي قوله:

حللت حلول الغيث في البلد المحل … إمام غياث الخلق بالرحب والسهل

وأحببت عبد الحي آثار من مضى … من السلف الأخيار في القول والفعل

وشنفت آذاناً بذكر شمائل … لخاتم رسل الله ذي المنطق الفصل

وأبديت من غر الفوائد جملة … بها خلصت كل النفوس من الجهل

وصارت مثالا يحتذى لمدرس … ونور هدى للطالبين إلى الفضل

فلا زلتم سفن النجاة لأمة … تقلبها الآفات علوا الى سفل

ولا زال في الإسلام منكم دعائم … بني المصطفى أهل الديانة والعدل وقد خضع له في الشرق رقاب، وأذعن له فحول لا يقعقع لهم بالشنان، أخذوا عنه واستجازوه إذ ذاك مع صغر سنه، ولأسانيده روجان عظيم في تلك الديار واعتبار كبير، لحد أنهم يحتجون بما يرويه أو ينقله في دروسهم وتصانيفهم إلى الآن. ووقع له من الإقبال في دمشق الشام ما أمست الركبان تتحدث به، وما زالت الألسن رطبة طيبة بذكر دروسه في المسجد الأموي يوم الجمعة، وقد أنشد الأديب المصقع الشيخ أبو الخير الطباع الدمشقي في الملأ العام من الذين خرجوا لتوديعه في محطة دمشق قوله مودعاً ومؤرخاً:

قد أشرقت جلق واحتلها الظفر … مذ حل فيها لعمري ذلك القمر

بدر الكمال وشمس العارفين سنا … وفرقد العلم من ألفاظه الدرر

تاج الشريعة (عبد الحي) سيدنا … جعفي ذا العصر منه الدر ينتثر

وحين حل دمشقا قلت أرخ ألا … أمست بكوكب عبد الحي تزدهر
জেরুজালেমে ইবনে আবিদ দুনিয়ার 'আল-ফারাজ বা'দাশ শিদ্দাহ' পাঠ সমাপ্তির মজলিসে এবং তিরমিযীর 'শামায়েল' পাঠ সম্পন্ন করার দিনে মদিনা মুনাওয়ারার বর্তমান আলেম শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-উমরি আল-জাযায়েরি আল-মালিকি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

আপনি শুষ্ক ভূমিতে বৃষ্টির মতো অবতরণ করেছেন … হে সৃষ্টির ত্রাণকর্তা ইমাম, প্রশস্ততা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে।

আর হে আব্দুল হাই, আপনি পূর্বসূরি নেককার সালাফদের কথা ও কাজের … পদাঙ্ক অনুসরণকে ভালোবেসেছেন।

আপনি আল্লাহর শেষ রাসূল, যাঁর কথা ছিল অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তাঁর … শামায়েল (গুণাবলি) বর্ণনার মাধ্যমে মানুষের কানগুলোকে তৃপ্ত করেছেন।

আপনি এমন কিছু উজ্জ্বল ও চমৎকার জ্ঞানগর্ভ বিষয় প্রকাশ করেছেন … যার দ্বারা সকল আত্মা মূর্খতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

তা একজন শিক্ষকের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে … এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পথে হিদায়াতের আলো হয়েছে।

আপনারা চিরকাল সেই উম্মতের জন্য নাজাতের নৌকা হয়ে থাকুন … যাকে নানাবিধ বিপদ-আপদ উপর থেকে নিচে ওলটপালট করে দিচ্ছে।

আর ইসলামে আপনাদের মতো স্তম্ভ যেন চিরকাল অটল থাকে … হে মুস্তফা (সা.)-এর উত্তরসূরি, দ্বীনদারি ও ন্যায়ের ধারকগণ। প্রাচ্যের বহু প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব তাঁর কাছে মস্তক অবনত করেছেন এবং এমন সব দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছেন যারা কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেন না। তাঁর অল্প বয়স সত্ত্বেও তারা তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং ইজাযত গ্রহণ করেছেন। সেই সব ভূখণ্ডে তাঁর সনদসমূহের ব্যাপক প্রচার ও মহান গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এমনকি তারা তাদের পাঠদান ও গ্রন্থাবলিতে এখনো তিনি যা বর্ণনা করেন বা উদ্ধৃত করেন তা দলিল হিসেবে পেশ করেন। আর সিরিয়ার দামেস্কে তাঁর যে বিপুল সমাদর হয়েছিল, তা নিয়ে পর্যটক কাফেলাগুলো আজও আলোচনা করে। জুমার দিনে উমাইয়া মসজিদে তাঁর দরসের সুমিষ্ট আলোচনার স্মরণে জিহ্বা আজও সিক্ত ও সুগন্ধময় থাকে। প্রখ্যাত সুবক্তা ও সাহিত্যিক শায়খ আবু আল-খায়ের আল-তাব্বা আল-দিমাশকি দামেস্ক স্টেশনে তাঁকে বিদায় জানাতে আসা জনসমাবেশের সামনে বিদায়ী সম্ভাষণ ও তারিখ হিসেবে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

দামেস্ক আলোকিত হয়েছে এবং বিজয় তাকে আচ্ছন্ন করেছে … যখন থেকে আমার জীবনের কসম—সেই পূর্ণিমা সেখানে উদিত হয়েছে।

তিনি পূর্ণতার চাঁদ এবং আরিফদের সূর্যের আলোকচ্ছটা … জ্ঞানের উজ্জ্বল নক্ষত্র যাঁর শব্দাবলি যেন মুক্তা।

শরীয়তের মুকুট আমাদের নেতা (আব্দুল হাই) … এই যুগের সেই মহাপ্রাণ যাঁর থেকে মুক্তা বিচ্ছুরিত হয়।

আর যখন তিনি দামেস্কে পদার্পণ করলেন, আমি ইতিহাসের তারিখ হিসেবে বললাম: শোন … আব্দুল হাই নামক নক্ষত্রের আগমনে এই শহর আজ উদ্ভাসিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٨)
وفي عام 1339 رحل إلى الجزائر وتونس والقيروان، فعرف في تلك الديار المأهولة بأهل العلم والإنصاف مقامه وفضله، وما زال تذكار أثر تلك الرحلة الواسعة تردده الأفواه، ودروسه وأماليه مرموقة بعين الحفظ والاهتمام.

وقرأ بالقيروان الرسالة والنوادر في ضريح مؤلفهما ابن أبي زيد، والملخص في ضريح مؤلفه القابسي، والمدونة في ضريح مؤلفها سحنون.

2 - ثناء الكبار عليه واعترافهم بمحضيلته:

ناهيك في هذا الباب بتحلية شيخ الإسلام عبد الرحمن الشربيني له في تقريظه على رسالته الرحمة المرسلة المطبوع معها بمصر عام 1323 بحافظ المغرب، وناهيك بها من مثله على بخله بالحلي ومزيد تثبته، وكثيراً ما ينقل عالم الديار المصرية الشيخ محمد بخيت المطيعي في تأليفه في الفونغراف (1) واصفاً له بالحافظ. وكذا وصفه شيخ المالكية بالأزهر الشيخ سليم البشري في إجازة له بالحافظ الضابط الثقة المتفنن. وكذا وصفه عالم مراكش وزعيم علمائها أبو عبد الله محمد بن إبراهيم السباعي عام 132. بالعالم الحافظ اللافظ. وأنشد فيه:

أمين على ما استودع الله قلبه … فإن قال قولاً كان فيه مصدقاً وقال عنه بو صيري العصر وحسانه الشيخ أبو المحاسن النبهاني في وصاية به لمفتي يافا الشيخ أبي المواهب الدجاني جاء فيها: وهو (أي المترجم) يسمع بكم وبفضلكم ويعرف ترجمة أبيكم معرفة جيدة لا تقل عن معرفتنا به لأنه من أنجب أهل العصر، ولو قال لفظ (من) هنا زائدة لا يستبعد.

وقال فيه أيضاً الشيخ النبهاني في كتابه أسباب التأليف من هذا العبد

--------------------------------------------

(1) أنظر هذه الرسالة (ط 1324) ص: 40.،. 42.
১৩৩৯ হিজরী সালে তিনি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া এবং কাইরোয়ান সফর করেন। ইলম ও ইনসাফওয়ালা লোকেদের আবাদকৃত সেই জনপদগুলোতে তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়। সেই সুদূরপ্রসারী সফরের স্মৃতির কথা এখনও মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হয় এবং তার দরস ও শ্রুতিলিপিগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও যত্নের সাথে সংরক্ষিত ও সমাদৃত।

তিনি কাইরোয়ানে ইবনে আবি যাইদ-এর কবরের পাশে থাকাকালীন তাঁর রচিত 'আর-রিসালাহ' ও 'আন-নাওয়াদির', আল-কাবেসীর কবরের পাশে তাঁর রচিত 'আল-মুলাখখাস' এবং সাহনুন-এর কবরের পাশে তাঁর রচিত 'আল-মুদাওওয়ানাহ' পাঠ করেন।

২ - তাঁর প্রতি বরেণ্য মণীষীদের প্রশংসা ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি:

এই বিষয়ে শায়খুল ইসলাম আবদুর রহমান আশ-শারবীনী কর্তৃক তার 'আর-রাহমাতুল মুরসালাহ' নামক রিসালার ওপর লিখিত প্রশংসাপত্রে (যা ১৩২৩ হিজরীতে মিশরে মুদ্রিত হয়েছে) তাকে 'হাফিজে মাগরিব' (মরক্কোর হাফিজ) বলে ভূষিত করাই যথেষ্ট। আর তার মতো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই উপাধি প্রদানই যথেষ্ট, যিনি কাউকে অলংকৃত করার ক্ষেত্রে কার্পণ্য ও অধিক সতর্কতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এছাড়া মিশরের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ বাখীত আল-মুতিয়ী তার 'ফোনোগ্রাফ' (১) সংক্রান্ত রচনায় প্রায়শই তাকে 'হাফিজ' হিসেবে বর্ণনা করে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অনুরূপভাবে আল-আযহারের মালেকী মাযহাবের শায়খ, শায়খ সালীম আল-বিশরী তাকে এক ইজাজতনামায় 'হাফিজ, সূক্ষ্ম স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনুরূপভাবে মারাক্কাশের আলেম ও সেখানকার ওলামায়ে কেরামের নেতা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আস-সিবায়ী ১৩২০ হিজরী সালে তাকে 'হাফিজ ও সুবক্তা আলেম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার শানে এই কবিতা পাঠ করেছেন:

আল্লাহ তাঁর অন্তরে যা গচ্ছিত রেখেছেন সে বিষয়ে তিনি আমানতদার … অতএব তিনি যখন কোন কথা বলেন, তখন তাতে তিনি সত্যবাদী বলে বিবেচিত হন। এই যুগের বুসিরী ও হাসান (ইবনে সাবিত), শায়খ আবুল মাহাসিন আন-নাবহানী ইয়াফার মুফতি শায়খ আবুল মাওয়াহিব আদ-দাজানীর নিকট তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে এক ওসিয়তনামায় লিখেছেন: "তিনি (যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে) আপনাদের সম্পর্কে এবং আপনাদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত আছেন এবং তিনি আপনাদের পিতার জীবনবৃত্তান্ত খুব ভালো করেই জানেন যা আমাদের জানার চেয়ে কম নয়; কেননা তিনি এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও মহৎ ব্যক্তি। আর কেউ যদি এখানে 'অন্যতম' শব্দটি অতিরিক্ত মনে করেন (অর্থাৎ তিনি এই যুগের অদ্বিতীয় মেধাবী), তবে তা অবাস্তব হবে না।"

শায়খ আন-নাবহানী তার 'আসবাবুত তালীফ মিন হাযাল আব্দ' কিতাবেও তার সম্পর্কে বলেছেন—

--------------------------------------------

(১) দেখুন এই রিসালাহ (১৩২৪ মুদ্রণ) পৃষ্ঠা: ৪০, ৪২।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٩)
الضعيف (1) : " وهو بالاختصار رجل كثير الفضل والأدب، عارف بالحديث والعلوم النافعة، نير الباطن والظاهر، جميل الصورة والسيرة، في سن إحدى وعشرين لكنه أعطي من الفضل والكمال والقبول والإقبال ما لم يعطه كثير من المعمرين وهو في ازدياد بفضل الله ببركة جده الأعظم صلى الله عليه وسلم ".

وقال أيضاً في كتاب جامع كرامات الأولياء (2) " ومن نظر إلى معارفه مع ما كساه الله من حلل المهابة والوقار، مع كمال حليته وفصاحة لسانه وقوة محفوظاته ووفرة عقله ودقة نظره وحدة فهمه، يتعجب من حصول ذلك مع هذه السن، ولكن الله يهب من يشاء ما يشاء ولاسيما آل البيت "

وكتب عالم المدينة المنورة الشهاب البرزنجي في إجازته له عام 1319 محليا له بقوله: " الأوفر من التحقيق، وحاز الحكم الأنور من التدقيق، ورفل من فنون العلم في ثوب فضفاض، وأخرس كل مجادل بلسان نضناض، بما حواه من ضياء مدارك التقى، من سني مسالك الهدى، وفرع مجده الباذخ كل مجد طريف وتليد، وقرع جده الشامخ كل ماجد وشريف ".

وكتب مسند الشرق الشيخ أحمد أبو الخير المكي الهندي في إجازته له: " من علت همته في طلب هذا الشأن، السابق فرسه في هذا الميدان، من بين الأماثل والأقران، الغني بما منحه الله من الشرف والشهرة عن الإطراء في المدح والوصف والبيان، العلامة المسند للرحلة، العلم المفرد الذي لم تر عيني نظيرا له ولا ثاني ".

--------------------------------------------

(1) انظر ج 4 ص 473.

(2) جامع كرامات الأولياء 1: 239.
আয-যঈফ (১): "সংক্ষেপে তিনি অত্যন্ত ফযীলত এবং শিষ্টাচার সম্পন্ন একজন ব্যক্তি, হাদীস এবং উপকারী ইলম সম্পর্কে জ্ঞানী, যার অন্তর ও বাহির উভয়ই জ্যোতির্ময়, সুন্দর অবয়ব এবং চরিত্রের অধিকারী। একুশ বছর বয়সে তিনি এমন মর্যাদা, পূর্ণতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং শুভসূচনা লাভ করেছেন যা বহু দীর্ঘজীবী ব্যক্তিও লাভ করতে পারেননি। আল্লাহর অনুগ্রহে এবং তাঁর মহান পূর্বপুরুষ (রাসূলুল্লাহ)-এর বরকতে তাঁর এই মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।"

তিনি 'জামি' কারামাতুল আউলিয়া' (২) কিতাবে আরও বলেছেন, "যে ব্যক্তি তাঁর জ্ঞানসমূহ প্রত্যক্ষ করবে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তাকে যে গাম্ভীর্য ও মর্যাদার পোশাকে ভূষিত করেছেন তা দেখবে, সেই সাথে তাঁর দৈহিক পূর্ণতা, জিহ্বার সাবলীলতা, মুখস্থ শক্তির প্রখরতা, প্রচুর বুদ্ধিমত্তা, সূক্ষ্ম দৃষ্টি এবং তীক্ষ্ণ মেধার দিকে তাকাবে, সে এই অল্প বয়সেই এই সব অর্জনে বিস্মিত হবে। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তা দান করেন, বিশেষ করে আহলে বাইত বা নবীবংশের ক্ষেত্রে।"

মদীনা মুনাওয়ারার আলেম আশ-শিহাব আল-বারযাঞ্জী ১৩১৯ হিজরীতে তাঁকে দেয়া ইজাযতনামায় তাঁর প্রশংসা করে লিখেছেন: "তিনি গবেষণায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ, এবং সূক্ষ্ম বিচারে উজ্জ্বল প্রজ্ঞার অধিকারী হয়েছেন। তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় প্রশস্ত পোশাকে বিচরণ করেছেন (অর্থাৎ পারদর্শী হয়েছেন) এবং তীক্ষ্ণ ও বাগ্মী ভাষায় প্রত্যেক বিতর্ককারীকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। হিদায়াতের উচ্চতর পথসমূহ এবং তাকওয়ার উপলব্ধির যে আলো তিনি ধারণ করেছেন, তার মাধ্যমে তিনি এই যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর সুউচ্চ গৌরব প্রতিটি নতুন ও পুরাতন গৌরবকে ছাড়িয়ে গেছে এবং তাঁর মহান আভিজাত্য প্রতিটি মর্যাদাবান ও শরীফ ব্যক্তিকে স্পর্শ করেছে।"

প্রাচ্যের মুসনিদ শায়খ আহমাদ আবু আল-খায়ের আল-মাক্কী আল-হিন্দী তাঁকে দেয়া ইজাযতনামায় লিখেছেন: "যাঁর হিম্মত এই মর্যাদা অন্বেষণে সুউচ্চ হয়েছে, যাঁর ঘোড়া এই ময়দানে সমসাময়িক ও সমকক্ষদের মধ্যে অগ্রগামী। আল্লাহ তাঁকে যে মর্যাদা ও খ্যাতি দান করেছেন, তার কারণে তিনি অতিরিক্ত প্রশংসা ও বর্ণনার মুখাপেক্ষী নন। তিনি আল্লামা, সফরের উপযুক্ত মুসনিদ এবং এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যাঁর কোনো নজির বা দ্বিতীয় কাউকেও আমার চোখ দেখেনি।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন ৪র্থ খণ্ড, ৪৭৩ পৃষ্ঠা।

(২) জামি' কারামাতুল আউলিয়া ১: ২৩৯।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٠)
وكتب الشيخ أحمد أبو الخير مكتوبا لشيخه مسند عصره القاضي حسين السبعي الأنصاري يستدعي فيه الإجازة للمترجم قال فيه: " وفد إلى مكة في هذا العام رجل من فضلاء الغرب وصلحائه، عالم مدينة فاس ومحدثها وابن محدثها، شيخنا وسيدنا العلامة المحدث المسند السيد محمد عبد الحي الكتاني الحسني، وقد أخذ المذكور كما يظهر من مسودة معجمه، وله ولع واشتغال بالحديث أخذاً وأداء، بل وعملاً به ووقوفاً وإحاطة على أسماء العصر ومسنديهم خصوصاً على اسمكم الشريف، وقد هرعت إليه أهل مكة قاطبة فسمعوا منه حديث الأولية وأستجازوه، ومن جملتهم الحقير خويدمكم … "، وهي بتاريخ. 1323

وناهيك بهذا من مثله مع تطوافه في الشرق وسبره أعلام الهند واليمن والحجاز وغيره.

وكتب له سنة 1325 في مسألة حديثه إلى أن قال فيها: " مع اعتقادي بأنكم أحفظ أهل العصر ".

وقال الأستاذ الشيخ جمال الدين القاسمي الدمشقي فيه من قصيدة طنانة:

لله در فتى أحيا معالمه … فحيث سار يرى للعلم تابعه

غدا مثال الهدى والمكرمات فمن … يقفوه في هديه فالله نافعه

مثل الإمام المفدى اليبد الحسني ال … كتاني من في المعالي ضاء لامعه

محمد وهو عبد الحي بدر تقى … سليل مجد كبير الصيت ذائعه

لم أنس لما بدا في الشام كوكبه … وآنس الكل والإقبال تابعه

لله أوقات أنس في زيارته … لنا وما قد صفت منها مجامعه

وسعينا لجلا مرآه في نزه … يضوع عن عرفها الفواح ضائعه وكتب عالم الجزائر الشيخ محمد بن عبد الرحمن البو سعادي الهاملي في
শায়খ আহমদ আবু আল-খাইর তার শায়খ, এ যুগের মুসনিদ কাজি হুসাইন আস-সাব'ঈ আল-আনসারির নিকট একটি পত্র লিখেছেন, যাতে তিনি জীবনীকারের জন্য ইজাজতের (সনদ প্রদানের অনুমতি) আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: "এ বছর মক্কায় মাগরিবের (মরক্কো) গুণীজন ও নেককার ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আগমন করেছেন, যিনি ফাস শহরের আলেম, মুহাদ্দিস এবং এক মুহাদ্দিসের পুত্র; তিনি আমাদের শায়খ ও সরদার, আল্লামা, মুহাদ্দিস, মুসনিদ আস-সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি আল-হাসানি। উক্ত ব্যক্তি, যেমনটি তার মু'জামের পাণ্ডুলিপি থেকে স্পষ্ট হয়, ইলমে হাদিসের আহরণ ও প্রচারের প্রতি গভীর অনুরাগী ও একাগ্র; বরং এর ওপর আমল এবং সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ ও মুসনিদদের সম্পর্কে বিশেষ করে আপনার সম্মানিত নাম সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। মক্কাবাসীগণ দলে দলে তার নিকট ছুটে গিয়েছেন এবং তার নিকট থেকে 'হাদিসে আউয়ালিয়া' শ্রবণ করেছেন ও ইজাজত প্রার্থনা করেছেন। তাদের মধ্যে আপনার এই তুচ্ছ খাদেমও রয়েছে …"। এটি ১৩২৩ হিজরি তারিখের কথা।

পূর্বাঞ্চল ভ্রমণ এবং ভারত, ইয়েমেন, হিজাজ ও অন্যান্য স্থানের বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনার পর তার মতো ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এটিই আপনার জন্য যথেষ্ট।

১৩২৫ হিজরি সনে একটি হাদিস সংক্রান্ত মাসআলায় তিনি তাকে লিখেছিলেন, যেখানে তিনি বলেন: "আমি বিশ্বাস করি যে, আপনি এ যুগের সবচেয়ে বড় হাফেজ (হাদিস মুখস্থকারী)"।

উস্তাদ শায়খ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি আদ-দিমাশকি একটি সুপ্রসিদ্ধ কবিতায় তার সম্পর্কে বলেছেন:

আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই যুবকের জন্য কল্যাণ হোক যে ইলমের নিদর্শনগুলো পুনর্জীবিত করেছে … সে যেখানেই যায়, ইলম তাকে অনুসরণ করে।

সে হিদায়াত ও মহত্ত্বের মূর্তপ্রতীক হয়ে উঠেছে, সুতরাং যে … তার আদর্শ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে উপকৃত করবেন।

সেই ইমামের ন্যায় যার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা যায়, হাসানি আল- … কাত্তানি, সুউচ্চ মর্যাদায় যার দীপ্তি প্রোজ্জ্বল।

মুহাম্মদ, যিনি আব্দুল হাই, তাকওয়ার পূর্ণিমা চাঁদ … সুপ্রসিদ্ধ ও মহান আভিজাত্যের সুযোগ্য সন্তান।

আমি ভুলব না যখন শামে তার নক্ষত্র উদিত হয়েছিল … এবং সকলের সাথে হৃদ্যতা গড়ে তুলেছিল আর সৌভাগ্য ছিল তার অনুগামী।

আল্লাহর শুকরিয়া সেই আনন্দের মুহূর্তগুলোর জন্য যখন আমরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম … এবং সেই নির্মল সমাবেশের জন্য।

এবং আমরা মনোরম পরিবেশে তার দর্শন লাভের চেষ্টা করেছি … যেখান থেকে সুগন্ধি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। এবং আলজেরিয়ার আলেম শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-বু সা'দি আল-হামিলি লিখেছেন:
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١١)
تحليته حفظه الله ومتع الإسلام بوجوده: " مجدد رسوم الحديثية، ومحيي دارس الآثار المصطفية بالمغربين، بل حافظ الخافقين، المشرق نوره بالمشرقين، بلا مرية ولا مين " كتب له ذلك سنة 1328، ولقبه الشيخ المذكور بعد اجتماعه به وحضوره درسه في زاوية الهامل ب " لسان السنة ".

وكتب له أستاذ أفريقيا ومسندها الشيخ المكي بن عزوز أول تأليفه عمدة الإثبات " وبعد فإن أنزر العلوم في هذا الزمان علم الحديث ومعالم السنن، مع كونها أرفعها وأنفعها وأشرفها، فبينما أنا آسف وباك، وإلى الله المستعان شاك، إذ جاءت الركبان، والبريد من أقاصي البلدان، بأخبار تنعش الروح، وتداوي القلب المجروح، بإحياء السنن وإفاضة المنن، من منابع عرفانية، ومطالع ربانية، من صفوة العصر زينة المغرب، السادات الكتانية، وتواترت الأخبار، وانتشرت الآثار، فحمدنا الله على وجود الطائفة القائمة بأمر الله، الداعية إلى الله، الهادية على بصيرة إلى منهج رسول الله، ومن رجالها الكاملين، وأطوادها الراسخين، حضرة العلامة المكين، ذي الفهم المتين، والنصح المبين، أبي عبد الله سيدي محمد عبد الحي " إلى أن قال: " لأنه من أيمة هذه الصناعة، ومن الداعين إلى التعلق والتخلق والتحقق بالأنفاس النبوية والمكارم الأثرية، فهو ممن يقول ويفعل، لاكمن يأخذ ويعطي الإجازة ويدرس الصحيحين ولا يقتدي بما فيهما، ولا يعتمد على إفادتهما استغناء بأوهام الآراء وعصارة الأذهان " …

وقال الأستاذ ابن عزوز المذكور في طالعة مكتوب له: " إمام الحفاظ والمسندين، وقبلة آمال المحبين للسنة والدين، الغني عن التمجيدات، وإشهار ماله من معالي الصفات " …

وقال أيضا بعد وقوفه على كتابه البحر المتلاطم: " لقد أدهشتني حتى كدت أدوخ بين تعجب وحمد، وشكر لله واستعظام لشأن المؤلف، وإكبار
তাঁর (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর অস্তিত্বের মাধ্যমে ইসলামের কল্যাণ করুন) গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে: "হাদিস শাস্ত্রের রীতিনীতির পুনর্জাগরণকারী, দুই মাগরেব (পূর্ব ও পশ্চিম মাগরেব) ভূখণ্ডে বিলুপ্তপ্রায় নববী নিদর্শনসমূহের পুনরুজ্জীবনকারী, বরং দুই দিগন্তের হাফিয, যাঁর নূর দুই উদয়াচলেই বিকিরিত, এতে কোনো সন্দেহ বা মিথ্যা নেই।" ১৩২৮ হিজরিতে তিনি তাঁর সম্পর্কে এটি লিখেছিলেন। উক্ত শাইখ তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর এবং ‘যাওয়িয়াতুল হামেল’-এ তাঁর দরসে উপস্থিত হওয়ার পর তাঁকে ‘লিসানুস সুন্নাহ’ (সুন্নাহর কণ্ঠস্বর) উপাধিতে ভূষিত করেন।

আফ্রিকার উস্তায এবং তাঁর মুসনিদ শাইখ আল-মাক্কী বিন আযযূয তাঁর ‘উমদাতুল ইসবাত’ গ্রন্থের শুরুতে তাঁর সম্পর্কে লিখেছিলেন: "অতঃপর, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দুর্লভ ইলম হলো ইলমে হাদিস ও সুন্নাহর নিদর্শনসমূহ, অথচ তা ইলমসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ, সর্বাধিক উপকারী এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। এমতাবস্থায় আমি যখন ব্যথিত ও ক্রন্দনরত এবং সাহায্যপ্রার্থনার স্থল আল্লাহর নিকট ফরিয়াদরত ছিলাম, তখন দূর-দূরান্তের দেশগুলো থেকে কাফেলা ও সংবাদবাহক এমন খবর নিয়ে এলো যা আত্মাকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের উপশম ঘটায়। আর তা হলো মারেফাতের উৎস ও রব্বানী উদয়াচল থেকে—যিনি যুগের শ্রেষ্ঠতম এবং মাগরেবের অলঙ্কার সেই কাত্তানী সাদাতগণের অন্তর্ভুক্ত—সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন এবং নিয়ামতের প্রবাহের সুসংবাদ। সংবাদগুলো ধারাবাহিকভাবে আসতে শুরু করল এবং তাঁর কীর্তি ছড়িয়ে পড়ল। ফলে আমরা আল্লাহর প্রশংসা করলাম এমন একটি জামাতের অস্তিত্বের জন্য যারা আল্লাহর আদেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানহাজের দিকে পথপ্রদর্শক। সেই দলের পূর্ণাঙ্গ পুরুষদের এবং সুদৃঢ় পর্বতসম ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হলেন—সুপ্রতিষ্ঠিত আল্লামা, প্রখর ধীশক্তি ও সুস্পষ্ট নসিহতের অধিকারী হযরত আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ আব্দুল হাই..." তিনি আরও বলেন: "কেননা তিনি এই শাস্ত্রের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত এবং নববী আদর্শ ও হাদীসসংশ্লিষ্ট মহান গুণাবলীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, সেগুলোর মাধ্যমে চরিত্র গঠন ও হাকীকত অন্বেষণের দিকে আহ্বানকারীদের একজন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি যা বলেন তা পালন করেন; তাদের মতো নন যারা কেবল ইজাযত গ্রহণ ও প্রদান করে এবং সহীহাইন পাঠদান করে অথচ সেগুলোর শিক্ষা অনুসরণ করে না, কিংবা কাল্পনিক মতবাদ ও মস্তিষ্কের খেয়ালখুশিতে মগ্ন থেকে সেই দুই কিতাবের উপকারিতার ওপর নির্ভর করে না।" …

উক্ত উস্তায ইবনে আযযূয তাঁর একটি পত্রের শুরুতে বলেছিলেন: "হাফিয ও মুসনিদগণের ইমাম, সুন্নাহ ও দ্বীন-অনুরাগীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কিবলা, যিনি প্রশংসা ও উচ্চতর গুণাবলীর প্রচারের মুখাপেক্ষী নন।" …

তিনি তাঁর ‘আল-বাহরুল মুতালাতিম’ কিতাবটি দেখার পর আরও বলেছিলেন: "এটি আমাকে এতটাই বিস্মিত করেছে যে, আমি একাধারে বিস্ময় ও প্রশংসা এবং আল্লাহর শুকরিয়া ও লেখকের শান-মান এবং তাঁর মাহাত্ম্যের চিন্তায় যেন প্রায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম..."
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٢)
لتلك النباهة وحسن التطبيق ورعاية قواعد البلاغة في التراكيب، وغير ذلك مما لا يكاد يجتمع في إنسان واحد. وكنت لما ألفت كتابي السيف الرباني، وعرضته على نظار جامع الزيتونة ليأذنوا بطبعه، وأعلمهم وأدقهم نظرا شيخنا سيدي عمر بن الشيخ، ولا يخشى إلا منه، فبعد إطلاعه عليه قال لي: أقول لك كلمة باليمين لئلا تظن أنها مجاملة ظاهرة، ما ظننت أنه يوجد على وجه الأرض من يؤلف مثل هذا الكتاب، فهذه الكلمة جنابكم أحق بها ورب الكعبة، أين السيف الرباني من البحر المتلاطم الأمواج … ".

وقال في رسالة له أخرى: " لكم عليّ فضل عظيم، ونعمة طوقتمونا بها، وهي أنكم بهذا الكتاب أدبتمونا، وكسرتم شوكة إعجابي بنفسي، وعرفتموني قدري، وأوقفتموني عند حدي، بلسان الحال لا بلسان المقال، كانت نفسي الخبيئة تظن أن ليس في غالب المعمور من يحس التآليف مثلها، وأظن لو سئلت قبل كتابكم هذا: هل تعلم من يطلع على مخبآت الكتب وذخائر الدفاتر، وينقب في كل فن، ويصنف بانسجام وتنظيم رائق، ويطبق القواعد على موضوعاتها مثلك لقلت: لا، ولو في قلبي، فقد أبرز الله لي ما يكذب النفس الأمارة بالسوء،

وعرفها أن في الزوايا خفايا، وفي الرجال بقايا، وأن أولئك السادات الكتانيين هم الطائفة القائمة بأمر الله ورسوله، هم العلماء بالله ورسوله وبالدين، هم المعانون من الله في أوقاتهم وكتبهم، هؤلاء الذين كلامهم أشد وقعا على المبتدعة من مواقع المترليوز، لا المكي ابن عزوز، ولكن أحمد الله حيث وعظني الله بك وأنت شاب، وأنا اشتعلت لحيتي شيبا أو كادت، بل سررت بأنك تبقى في المستقبل إن شاء الله عشرات السنين، لتنفع المسلمين، وتنصر الدين وأنت أهل لذلك … ".

وقال شامة العصر الشيخ أبو عبد الله محمد بن جعفر الكتاني صاحب السلوة في تأليفه الكبير في البيت الكتاني بعدما ترجم لوالد الأستاذ ما نصه: " وخلف
...সেই প্রখর মেধা, প্রয়োগের সৌন্দর্য এবং বাক্য গঠনে অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মনীতির অনুসরণ, আর এমন সব গুণাবলীর জন্য যা সচরাচর একজন মানুষের মধ্যে একত্রিত হয় না। আমি যখন আমার কিতাব 'আস-সাইফুর রাব্বানী' রচনা করেছিলাম এবং যায়তুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শকদের সামনে তা পেশ করেছিলাম যাতে তাঁরা তা মুদ্রণের অনুমতি দেন—আর তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ও সূক্ষ্মদর্শী ছিলেন আমাদের শায়খ সায়্যিদি উমর বিন আশ-শায়খ, যাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পাওয়ার ছিল না—তখন এটি দেখার পর তিনি আমাকে বললেন: 'আমি আপনাকে কসম খেয়ে একটি কথা বলছি যাতে আপনি এটিকে কেবল বাহ্যিক সৌজন্য মনে না করেন; আমি ভাবিনি যে পৃথিবীর বুকে এমন কেউ আছে যে এই ধরনের কিতাব রচনা করতে পারে।' কাবার রবের কসম, আপনার মহামান্য সত্তাই এই কথার অধিক যোগ্য। উত্তাল তরঙ্গের এই সমুদ্রের তুলনায় 'আস-সাইফুর রাব্বানী' কোথায়! … ".

তিনি তাঁর অন্য একটি পত্রে বলেছেন: "আমার ওপর আপনাদের মহান অনুগ্রহ এবং এমন এক নিয়ামত রয়েছে যা আপনারা আমাকে দান করেছেন; আর তা হলো এই কিতাবের মাধ্যমে আপনারা আমাকে আদব শিখিয়েছেন, আমার আত্মমুগ্ধতার দম্ভ চূর্ণ করেছেন, আমাকে আমার সঠিক মর্যাদা চিনিয়েছেন এবং আমাকে আমার সীমানায় এনে দাঁড় করিয়েছেন—কথার ভাষায় নয় বরং অবস্থার ভাষায়। আমার অন্তরের গোপন সত্তা ধারণা করত যে, পৃথিবীর অধিকাংশ জনপদে এমন কেউ নেই যে তাঁর মতো রচনাশৈলী অনুধাবন করতে পারে। আমি মনে করি, আপনাদের এই কিতাবের আগে যদি আমাকে প্রশ্ন করা হতো: আপনি কি এমন কাউকে চেনেন যে কিতাবসমূহের লুকানো বিষয় ও পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার সম্পর্কে অবগত, প্রতিটি শাস্ত্র নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালায় এবং অত্যন্ত চমৎকার সামঞ্জস্য ও বিন্যাসের সাথে সংকলন করে, আর নিয়মাবলিকে সেগুলোর বিষয়ের ওপর আপনার মতো প্রয়োগ করতে পারে? তবে আমি অবশ্যই বলতাম: 'না', অন্তত নিজের মনে মনে হলেও। কিন্তু আল্লাহ আমার সামনে এমন কিছু প্রকাশ করে দিয়েছেন যা আমার কুপ্রবৃত্তিপ্রবণ মনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে,

এবং তাকে চিনিয়েছেন যে নিভৃত কোণে অনেক গুপ্ত রহস্য থাকে এবং মানুষের মধ্যে গুণীজন অবশিষ্ট থাকে। আর সেই কাত্তানি মহোদয়গণ হলেন আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত এক জামাত। তাঁরাই আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং দ্বীন সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞানী। তাঁরা তাঁদের সময়ে এবং তাঁদের কিতাবসমূহে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত। তাঁরা এমন ব্যক্তি যাদের কথা বিদআতিদের ওপর মেশিনগানের আঘাতের চেয়েও তীব্রতর। এটা কেবল মাক্কি ইবনে আজুজের কথা নয়, বরং আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যে আল্লাহ আমাকে আপনার মাধ্যমে উপদেশ দিয়েছেন অথচ আপনি এখনো যুবক, আর আমার দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বরং আমি আনন্দিত যে আপনি ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ আরও কয়েক দশক বেঁচে থাকবেন, যাতে মুসলমানদের উপকার করতে পারেন এবং দ্বীনকে সাহায্য করতে পারেন, আর আপনি এর জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য … ".

সমসাময়িক যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব 'আস-সালওয়া'র রচয়িতা শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানি, কাত্তানি পরিবারের ওপর রচিত তাঁর এক বৃহৎ গ্রন্থে উস্তাদজীর পিতার জীবনী আলোচনার পর যা বলেছেন তা হলো: "এবং তিনি রেখে গিয়েছেন..."
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٣)
رضي الله عنه ولده الشهير المحدث الكبير العلامة الماهر التاريخي النسابة الباهر، ذا التآليف الكثيرة والفوائد الغزيرة والنكات العجيبة والاستنباطات تالغريبة، أبا عبد الله مولانا محمد عبد الحي، أخذ عن والده وأخيه وعن غيرهما من الشيوخ، واستجاز عددا كثيرا من الأكابر وأهل الرسوخ.

وحج البيت الحرام، وحصلت له شهرة كبيرة بمصر والحجاز والشام، واستجاز هناك واستفاد، كما انه حدث وأجاز وأفاد، وهو حي لهذا العهد ".

ومجموعة ما مدح به من القصائد والتقاريض على تآليفه من أدباء الشرق والغرب تخرج في مجلدات، كما أن مخاطبات الملوك له وكبار رجال العلم والدين والسياسة والحكومة تخرج أيضاً في مجلدات.

1 - معلوماته وما يغلب عليه الخوض فيه من أبواب العلم:

يعرف الحديث معرفة كبرى جرحاً وتعديلاً، واضطراباً وتعليلاً، صحة وسقماً. أجمع المخالف والموافق ممن يعتد به على أنه حافظ العصر ومحدث الزمان، نشر من علوم الحديث تدريساً وتصنيفاً وتشجيعاً وتعليقاً ما عجز عنه غيره، وتصانيفه في ذلك منتشرة في مشارق الأرض ومغاربها، محتج بها معول عليها من أساطين العلم في المشرق والمغرب، وجمع حفظه الله من كتب هذا الباب ما لم يجمع في مكتبة الآن بالمشرق والمغرب، وتم له سماع وإسماع الكتب الستة وكثير من المساند والمعاجم والأجزاء والمشيخات والإثبات مراراً، أما العالي والنازل ومعرفة الطبقات والطباق فحدث عن البحر ولا حرج.

يعرف التاريخ الإسلامي وفلسفته معرفة جيدة، بل هو فيه فارس الرهان وسابق الميدان وحامل الراية.
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁর বিখ্যাত সন্তান, মহান মুহাদ্দিস, সুদক্ষ আল্লামা, ইতিহাসবিদ ও প্রথিতযশা বংশপরম্পরাবিদ, যিনি বহু গ্রন্থ, প্রচুর জ্ঞানগর্ভ ফায়দা, চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয়াদি এবং বিরল উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী; আবু আবদুল্লাহ মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই। তিনি তাঁর পিতা, ভাই এবং অন্যান্য শায়খদের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন এবং বহু সংখ্যক বরেণ্য ও জ্ঞানগবেষণায় সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ইজাজত গ্রহণ করেছেন।

তিনি পবিত্র বাইতুল্লাহ হজ করেছেন এবং মিসর, হিজাজ ও শামে তাঁর ব্যাপক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ইজাজত গ্রহণ করেছেন ও উপকৃত হয়েছেন, তেমনি তিনি নিজেও হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইজাজত দিয়েছেন এবং অন্যকে উপকৃত করেছেন। তিনি বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবিত আছেন।

পূর্ব ও পশ্চিমের সাহিত্যিকগণ তাঁর গ্রন্থাবলির ওপর প্রশংসা করে যেসব কাসিদা ও অভিমত প্রদান করেছেন, তার সংকলন কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত হবে। একইভাবে রাজা-বাদশাহ এবং জ্ঞান, ধর্ম, রাজনীতি ও সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ তাঁর কাছে যেসব পত্রালাপ করেছেন, তাও কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত হবে।

১ - তাঁর অর্জিত জ্ঞান এবং ইলমের যে শাখাগুলোতে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও বিচরণ রয়েছে:

তিনি হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর ও ব্যাপক জ্ঞান রাখেন; যার মধ্যে রয়েছে জারহ-তাদিল, ইযতিরাব ও ইলাল (সুক্ষ্ম ত্রুটি), এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা বিষয়ক জ্ঞান। গ্রহণযোগ্য বিরুদ্ধবাদী ও অনুসারী সকলে এই বিষয়ে একমত যে, তিনি এই যুগের হাফেজ এবং বর্তমান সময়ের মুহাদ্দিস। তিনি পাঠদান, গ্রন্থ রচনা, উৎসাহ প্রদান এবং টীকা লিখনের মাধ্যমে উলুমুল হাদিসের যে প্রচার-প্রসার ঘটিয়েছেন, তা অন্য কেউ করতে সক্ষম হয়নি। এ বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞান জগতের দিকপালদের নিকট দলিল হিসেবে স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন; তিনি এই শাস্ত্রের এমন সব কিতাব সংগ্রহ করেছেন যা বর্তমানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অন্য কোনো লাইব্রেরিতে একত্রে পাওয়া দুষ্কর। তিনি বারবার কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ), বহু মাসানিদ, মাআজিমা, আজযা, মাশয়াখাত এবং সাবাত শ্রবণ করেছেন ও শুনিয়েছেন। আর উচ্চতর ও নিম্নতর সনদ এবং রাবিদের স্তর ও শ্রেণি বিন্যাস সম্পর্কে বলতে গেলে নির্দ্বিধায় বলা যায়, তিনি এক কূলহীন মহাসমুদ্র।

তিনি ইসলামি ইতিহাস ও তার দর্শন সম্পর্কে চমৎকার জ্ঞান রাখেন, বরং তিনি এ ময়দানে একজন অপরাজেয় বীর, অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব এবং পতাকাবাহী।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٤)
يعرف أنساب العرب والبربر معرفة لا يعرف لأحد من معاصريه فيها مجار بل ولا مقارب، وأنساب بني هاشم بالخصوص، والأدارسة بنوع أخص، وقد جمع من كتب هذا الفن أيضا وسجلاته العجب العجاب.

يستحضر طبقات العلماء ويورد سيرهم إيرادا لا يطمع في مجاراته فيه طامع، ويحفظ الوفيات والولادات والمطاعن والملامح حفظا يسترعي عيون المصيخين، ويستدعي الإعجاب الكبير، لا فرق في محفوظاته الكثيرة الواسعة ومعلوماته الجليلة وأحاديثه عن الغابر والغابرين

بين المشرقي والمغربي، والعربي والعجمي، ولابين القديم والحديث، حتى إذا سمعه المكي والمدني يتكلم عن سير الحجازيين والشامي في أخبار الشاميين والمصري في المصريين والهندي في الهنديين واليمني في اليمنيين وخطوطهم وأنسابهم وأسانيدهم وكتبهم ووقائعهم ونوادرهم وكل ما يمكن أن يطلع عليه من الأحوال والماجربات والشئون، قطع أهل كل إقليم

بأنه في إقليمهم تربى وبين ظهرانيهم عاش. لذلك كلما هم مؤرخ من مؤرخي العصر في جهة من الجهات بالتصنيف والجمع لأخبار جهة لم يجد صمدا يصمد إليه ولا عدة وعمدة يتخذها سوى الأستاذ حفظه الله. واسأل الأساتذة الكاتبين (ابن عليّ) في تاريخه لسلا و (ابن إبراهيم) في تاريخه لمراكش و (بوجندار) في تاريخه للرباط و (ابن زيدان) في تاريخه لمكناس و (سكيرجا) في تاريخه لطنجة، تعرف الحقيقة الناطقة بصحة حديثنا الصادق عن قيمة الرجل العالمية العظيمة بين أهل الوسط الذي يعيش فيه. أضف الى هؤلاء غيرهم من دكاترة الأمم الإفرنجية - ورجالات العالم الغربي ك (دوكاستري) في تاريخه للدولة السعدية و (ليفي بروفنسال) في أصول التاريخ المغربي وغيرهم من جهابذة البحث وفطاحلة النقد.

يعرف علاوة عن ذلك فلسفة التاريخ معرفة واسعة خصوصا التاريخ الإسلامي وبالخصوص فيما يرجع لبلاده ودولها وحوادثها وما جرياتها.
তিনি আরব এবং বারবারদের বংশতালিকা সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখতেন যা তাঁর সমসাময়িক কারো মধ্যে সমকক্ষ এমনকি কাছাকাছিও পাওয়া যেত না। বিশেষ করে বনী হাশিমের বংশতালিকা এবং আরও নির্দিষ্টভাবে ইদ্রিসিদের সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। তিনি এই শিল্পের গ্রন্থাবলি ও নথিপত্র থেকেও অত্যন্ত বিস্ময়কর তথ্যাদি সংগ্রহ করেছিলেন।

তিনি আলিমদের স্তরসমূহ স্মরণে রাখতেন এবং তাঁদের জীবনী এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যা অতিক্রম করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেউ পোষণ করতে পারত না। তিনি মৃত্যু ও জন্মের তারিখ, সমালোচনা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ এমনভাবে মুখস্থ রাখতেন যা মনোযোগী শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত এবং ব্যাপক বিস্ময় জাগাত। তাঁর অসংখ্য ও বিস্তৃত মুখস্থ জ্ঞান, মহিমান্বিত তথ্য এবং অতীত ও অতীতবাসীদের সম্পর্কে বর্ণনার মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না—

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে, আরব ও অনারবের মধ্যে কিংবা প্রাচীন ও আধুনিকের মধ্যে। এমনকি যখন মক্কা বা মদিনার কোনো অধিবাসী তাঁকে হিজাজীদের জীবনী সম্পর্কে, কোনো সিরীয় নাগরিক তাঁকে সিরীয়দের সংবাদ সম্পর্কে, কোনো মিশরীয় মিশরীয়দের সম্পর্কে, কোনো ভারতীয় ভারতীয়দের সম্পর্কে এবং কোনো ইয়েমেনি ইয়েমেনিদের সম্পর্কে, তাঁদের লিপি, বংশতালিকা, সনদ, কিতাবসমূহ, ঘটনাবলি, দুর্লভ তথ্য এবং পরিস্থিতি, অভিজ্ঞতা ও বিষয়াদি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের ওপর কথা বলতে শুনত, তখন প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করত—

যে তিনি তাঁদের অঞ্চলেই লালিত-পালিত হয়েছেন এবং তাঁদের মাঝেই জীবন অতিবাহিত করেছেন। এই কারণেই, বর্তমান যুগের কোনো অঞ্চলের কোনো ঐতিহাসিক যখন কোনো বিশেষ অঞ্চলের ইতিহাস সংকলন ও সংগ্রহের উদ্যোগ নিতেন, তখন তিনি উস্তাদ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) ব্যতীত আর কাউকে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল কিংবা অবলম্বন হিসেবে পেতেন না। আপনি লেখক উস্তাদদের জিজ্ঞাসা করুন— যেমন (ইবনে আলী) তাঁর সালা-এর ইতিহাসে, (ইবনে ইব্রাহিম) তাঁর মাররাকেশ-এর ইতিহাসে, (বুজানদার) তাঁর রাবাত-এর ইতিহাসে, (ইবনে যাইদান) তাঁর মেকনেস-এর ইতিহাসে এবং (স্কিরজা) তাঁর তাঞ্জিয়ার-এর ইতিহাসে; তবেই আপনি সেই জাজ্বল্যমান সত্য জানতে পারবেন যা তাঁর পারিপার্শ্বিক বিদগ্ধজনদের মাঝে এই মহান ব্যক্তির বিশ্বজনীন মর্যাদার বিষয়ে আমাদের সত্যভাষণের যথার্থতা প্রমাণ করে। এঁদের সাথে যুক্ত করুন ইউরোপীয় দেশগুলোর ডক্টরেটধারী ও পাশ্চাত্য বিশ্বের মণীষীদের, যেমন (দু কাসত্রি) তাঁর সা’দী সালতানাতের ইতিহাসে এবং (লেভি প্রোভেনসাল) মরক্কোর ইতিহাসের উৎস সংক্রান্ত কাজে, আর অন্যান্য গবেষণা বিশারদ ও প্রাজ্ঞ সমালোচকদের।

এ ছাড়াও তিনি ইতিহাসের দর্শন সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখতেন, বিশেষ করে ইসলামি ইতিহাস এবং সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর নিজ দেশ, সেখানকার রাষ্ট্রব্যবস্থা, ঘটনাবলি এবং পরিস্থিতির বিষয়ে।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٥)
ويعرف في الأصول معرفة لا تقل عن سابقاتها، بحيث يحسن تطبيق الأصول على الفروع، خصوصاً في دروسه الحديثية ومؤلفاته الفقهية، وإليه في فلسفة التشريع المرجع والمنتهى، لا يستلذ سماع حكم التكاليف الشرعية والأوامر الإلهية ونظامات الإسلام من غيره.

ويعرف التصوف الإسلامي النقي الذي في دار سلفه الصالح باض وفرخ المعرفة الباهظة، يحسن الكلام فيه ويستحضر مشكلات الفتوحات المكية وأمثالها والأجوبة عنها، ويحسن تقريرها على البديهة. وتطبيق مشارب أهلها على مبادئ الكتاب والسنة. اعترف له بذلك رجال الطريق من كل فريق، وإليه انتهت رياستهم اليوم فلا متكلم أمامه ولا متقدم وهو رافع منار الطريق اليوم فلا متكلم أمامه ولا متقدم وهو رافع منار الطريق اليوم لأهلها الذاب عنها في السر والجهر لدى من جهلها.

ويعرف السياسة الحاضرة خصوصاً الشرقية معرفة جعلته ممن يشار إليهم فيها بالبنان وقد اعترف له الساسة من الإفرنج بذلك.

4 - أخلاقه ونعوته:

سيدنا الشيخ المترجم أكبر ساع ومدير لدوالب عاطفة الاتحاد بين مختلفي أرباب الطرائق والمبادئ والغايات، دمث الأخلاق لين العريكة صادق اللهجة والحديث، طاهر الخيم جميل الشيم، حسن الضريبة، يعجبك مخبره، ويدهشك منظره، وتروقك أحاديثه الخلابة وابتساماته العذبه، فتطمعك وتمنيك، ولكن سرعان مايبدهك بلسان شهامته الدينية، ويبهتك بنظراته الجديه، واسع الصدر صبور على الجفوة، فاتح للباب على مصراعيه للوارد والزائر، سعى غاية السعي في تعليم أمم البربر أحكام الإسلام ومميزاته يخرج لهم بنفسه لا يبالي في ذلك بالزاري ولا القالي، فعرفوه وأحبوه، فانتشرت فيهم المساجد وكثر قراء القرآن وطلاب العلم والدين، ساع لتمكين
তিনি উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে এমন জ্ঞান রাখেন যা তাঁর পূর্ববর্তী জ্ঞানগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, যার ফলে তিনি শাখা-প্রশাখার মাসআলাগুলোতে মূলনীতির প্রয়োগে পারদর্শী, বিশেষ করে তাঁর হাদিস পাঠে এবং ফিকহী সংকলনসমূহে। শরয়ি বিধানের দর্শনে তিনিই একমাত্র নির্ভরস্থল ও শেষ আশ্রয়। তাঁর মুখ থেকে শরয়ি বিধান, ঐশী নির্দেশাবলি এবং ইসলামের বিধিব্যবস্থা শোনা ব্যতীত অন্য কারো কাছে শুনতে মানুষের তৃপ্তি হয় না।

তিনি সেই বিশুদ্ধ ইসলামি তাসাউফ সম্পর্কে জানেন যা তাঁর পুণ্যবান পূর্বসূরিদের ঘরে লালিত ও বিকশিত হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে চমৎকার আলোচনা করেন এবং 'ফুতুহাতে মাক্কিয়া' ও তৎসদৃশ গ্রন্থসমূহের জটিল বিষয়াবলি ও তার উত্তরগুলো নখদর্পণে রাখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা ব্যাখ্যা করতে পারদর্শী। তিনি এই পথের অনুসারীদের ধারাকে কিতাব ও সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে প্রয়োগ করতে দক্ষ। প্রতিটি দলের তরিকার ব্যক্তিবর্গ তাঁর এই যোগ্যতার কথা স্বীকার করেছেন। আজ তাঁদের নেতৃত্ব তাঁর কাছেই এসে থেমেছে; তাঁর সামনে কথা বলার মতো বা তাঁর অগ্রগামী হওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি আজ এই পথের অনুসারীদের জন্য আলোকবর্তিকা উত্তোলনকারী এবং অজ্ঞদের সামনে গোপনে ও প্রকাশ্যে এই পথের প্রতিরক্ষাকারী।

তিনি বর্তমান রাজনীতি, বিশেষ করে প্রাচ্যের রাজনীতি সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখেন যা তাঁকে এই অঙ্গনে অনন্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ইউরোপীয় রাজনীতিবিদগণও তাঁর এই পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি দিয়েছেন।

৪ - তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি:

আমাদের সাইয়্যেদ শায়খ—যাঁর জীবনী আলোচিত হচ্ছে—তিনি বিভিন্ন তরীকা, আদর্শ ও লক্ষ্যের অনুসারীদের মাঝে ঐক্যের আবেগ সঞ্চারের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচেষ্টাকারী ও পরিচালক। তিনি নম্র স্বভাবের, কোমল হৃদয়ের, সত্যবাদী এবং বিশুদ্ধ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী। তাঁর অভ্যন্তরীণ অবস্থা আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং তাঁর অবয়ব আপনাকে অভিভূত করবে। তাঁর চমৎকার আলোচনা ও মিষ্টি হাসি আপনাকে মুগ্ধ ও আশান্বিত করবে, কিন্তু শীঘ্রই তাঁর ধর্মীয় বীরত্বপূর্ণ ভাষা আপনাকে চমকে দেবে এবং তাঁর গাম্ভীর্যপূর্ণ দৃষ্টি আপনাকে স্তব্ধ করে দেবে। তিনি বিশাল হৃদয়ের অধিকারী, রূঢ় আচরণের প্রতি ধৈর্যশীল এবং আগন্তুক ও দর্শকদের জন্য তাঁর দুয়ার উন্মুক্ত রাখেন। তিনি বারবার উপজাতিদের ইসলামের বিধান ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ শেখানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি নিজেই তাঁদের কাছে যেতেন, এক্ষেত্রে তিনি কোনো নিন্দুক বা বিদ্বেষ পোষণকারীর পরোয়া করতেন না। ফলে তাঁরা তাঁকে চিনেছে এবং ভালোবেসেছে; আর তাঁদের মাঝে মসজিদ ছড়িয়ে পড়েছে এবং কুরআন তেলাওয়াতকারী ও দ্বীন ও ইলমের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٦)
العقيدة السلفية منهم وإيثار الأوراد النبوية المأثورة على غيرها، مخفف الوطأة غلو الاعتقاد منهم، وتدريسه في أسفاره أكثر منه في حضره، فقل موطن حل فيه في المشرق والمغرب ألا ودرس فيه وأملى وأفاد وأبدا وأعاد، شغفه بالدراسة والمطالعة فوق كل شغف وعاطفة، قوي الحافظة فصيح التعبير سيال القلم، لم نر ولم نسمع في زماننا هذا بمثل شغفه بالمطالعة، لا يملها وإن ملته. هي أول أعماله صباحاً وآخرها مساء، لا ينام إلا غلبة وكراسته في يده الشريفة.

وبالجملة فالأستاذ كبير في عقله، كبير في علمه، كبير في عمله، قد زاده الله بسطة في العلم والجسم والقدر والشأن، فهو الشامة البيضاء اليوم في جسم الإسلام، والغرة الوضاحة في جبين العصر، والإكليل المنضد على هامة الدهر، راوية العلم وخزانة الآداب وبحر المعارف، وشمس الذكاء والنبل، وهو الرجل علماً وعملاً، الصحيح ديناً القوي أملا، وهنا أتمثل بقول الشاعر الكريم:

مدح العظيم عظيم المدح لو قدرت … مني السجايا عليه كنت مبديه

فما بدا لي منه ليس يقنعني … وما يقنعني عجزت أبديه

فرب مدح عظيم كان عجزك عن … إبدائه هو عين المدح تبديه 5 - مكتبته:

جمع مكتبة سرت بحديثها الركبان من أقاصي الشرق إلى أقاصي الغرب بهمته العالية وولوعه العجيب في هذا الباب، وخدمه السعد في ذلك أكبر الخدمات وأجملها. رتبها ونظمها ترتيباً عصرياً على الفنون والعلوم، مازال نهماً في تكثير فروعها وأقسامها، شرهاً لتكثير أعدادها، فعلائقه مع الكتبيين في مشارق الأرض ومغاربها وافرة، ولم ير قط في سوق من أسواق البلاد التي
তাদের মধ্য হতে প্রাপ্ত সালাফি আকিদাহ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর সুন্নাহর বর্ণিত জিকির ও দোয়াকে অগ্রাধিকার প্রদান, তাঁদের আকিদাহগত অতিরঞ্জনের প্রভাবকে লাঘব করে। স্বদেশে অবস্থানের চেয়ে সফরকালীন সময়েই তাঁর পাঠদান ছিল অধিকতর। পূর্ব বা পশ্চিমের এমন জনপদ খুব কমই আছে যেখানে তিনি অবস্থান করেছেন অথচ সেখানে পাঠদান করেননি, শ্রুতলিপি প্রদান করেননি, উপকৃত করেননি কিংবা কোনো বিষয়ের অবতারণা ও পুনরাবৃত্তি করেননি। পড়াশোনা ও অধ্যয়নের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল যে কোনো আবেগ বা অনুরাগের ঊর্ধ্বে। তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তি, প্রাঞ্জল অভিব্যক্তি এবং সাবলীল লেখনীর অধিকারী। আমাদের এই যুগে অধ্যয়নের প্রতি তাঁর মতো এমন অনুরাগ আমরা দেখিনি এবং শুনিওনি। তিনি এতে কখনো ক্লান্ত হতেন না, যদিও অধ্যয়নই হয়তো তাঁকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ত। এটিই ছিল প্রভাতে তাঁর প্রথম কাজ এবং সন্ধ্যায় তাঁর সর্বশেষ কাজ। প্রবল তন্দ্রাচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঘুমাতেন না, আর তখনও তাঁর সম্মানিত হাতে থাকত তাঁর পাণ্ডুলিপি।

সারসংক্ষেপে, উস্তাদ তাঁর প্রজ্ঞায় মহান, তাঁর জ্ঞানে মহান এবং তাঁর কর্মেও মহান। আল্লাহ তাঁকে জ্ঞান, দেহ, মর্যাদা ও সম্মানে প্রশস্ততা দান করেছেন। তিনি আজ ইসলামের দেহে শ্বেত তিলকতুল্য, বর্তমান সময়ের ললাটে এক উজ্জ্বল জ্যোতি এবং মহাকালের মস্তকে সুসজ্জিত মুকুট। তিনি ইলমের বর্ণনাকারী, সাহিত্যের ভাণ্ডার, জ্ঞানের সমুদ্র এবং মেধা ও মহত্ত্বের সূর্য। তিনি জ্ঞান ও কর্মে এক অনন্য পুরুষ, দ্বীনের ক্ষেত্রে সঠিক এবং সংকল্পে সুদৃঢ়। এখানে আমি সম্মানিত কবির পঙক্তিটি উপস্থাপন করছি:

মহান ব্যক্তির প্রশংসা মহান স্তুতির দাবি রাখে, যদি আমার স্বভাব তা প্রকাশে সক্ষম হতো, তবে আমি তা প্রকাশ করতাম। …

তাঁর সম্পর্কে আমার কাছে যা প্রকাশ পেয়েছে তা আমাকে সন্তুষ্ট করছে না, আর যা আমাকে সন্তুষ্ট করে তা প্রকাশে আমি অক্ষম। …

কখনো মহান প্রশংসা প্রকাশে তোমার অক্ষমতাই হয়ে ওঠে প্রকৃত প্রশংসা যা তুমি প্রকাশ করছ। ৫ - তাঁর পাঠাগার:

তিনি এমন এক পাঠাগার সংগ্রহ করেছেন যার সুখ্যাতি তাঁর সুউচ্চ হিম্মত এবং এই বিষয়ে তাঁর বিস্ময়কর অনুরাগের কারণে পূর্ব দিগন্ত থেকে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কাজে সৌভাগ্য তাঁকে সর্বাত্মক ও সুন্দরতম সহায়তা করেছে। তিনি এটিকে বিষয় ও শাস্ত্র অনুযায়ী আধুনিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত ও সজ্জিত করেছেন। তিনি এর শাখা-প্রশাখা ও বিভাগসমূহ বৃদ্ধিতে সর্বদা অতৃপ্ত ছিলেন এবং বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ছিলেন অতিশয় আগ্রহী। পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের গ্রন্থ বিক্রেতাদের সাথে তাঁর সুগভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি যে দেশেই ভ্রমণ করেছেন, সেখানকার বাজারগুলোতে কখনোই এমনটি দেখা যায়নি যে...
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٧)
يسكنها أو يدخلها إلا في دكاكين الكتبية، وأول وآخر من يلقاه صباحاً مساء باعة الكتب في حضره وسفره، وقد حازت مكتبته أكبر شهرة في العالم الإسلامي والغربي، واحتاج إليها العلماء والأدباء والكتاب ورجال الدولة. وقد كانت جريدة السعادة نشرت عنها مقالات متتابعة بقلم المؤرخ الرباطي الشهير السيد محمد أبي جندار رحمه الله. ومن اهتمامه بالكتب انه لم يقبل وظيفاً عرض عليه في عمره غير تكليفه بمكتبة القرويين، ومن أكبر ما يحمله على الأسفار واتباع الرحلات تطلب الكتب.

6 - جهوده الإصلاحية ومباديه وآماله:

كان سيدنا الأستاذ المترجم بعد رجوعه من الشرق عام1323 أول من فكر في وجوب إصلاح حالة البلاد إدارياً وعلمياً واقتصادياً وسياسياً، ولذلك لما قام المولى عبد الحفيظ باسم الدين والإصلاح كان هو أول من شايعه وتشيع له، وكاتبه من فاس وألف رسالته المعروفة بالمفاكهة التي طبعت مراراً وترجمت لعدة لغات، وكانت من أقوى الأسباب في نداء الشعب المغربي به سلطاناً على البلاد، وقد انتقد في مفاكهته المذكورة دوائر أبواب الحكومة كلها من حربية وخارجية وداخلية وغيرها. فهو أول مغربي خط قلمه وتجاسر وتجاهر بوجوب الإصلاح الإداري في البلاد وانتقد سلوكها وكتب في الموضوع عدة لوائح تخرج في مجلدات.

ولما استقر المولى المذكور على أريكة الملك لم يظهر بكل ما كان يؤمله منه فعلم أن البرق خلب والسحابة صيفية، ومع ذلك لم ييأس فأعاد للسلطان المذكور كتب لائحة إصلاحية أنذره فيها بما آلت إليه الحالة بعد، فصادف منه الأذن الصماء.

وما زال الأستاذ يعالج من الزمان وطوارقه حتى جرت محنتهم المشهورة
তিনি বইয়ের দোকান ছাড়া অন্য কোথাও অবস্থান করতেন না বা প্রবেশ করতেন না। প্রবাসে কিংবা স্বদেশে, সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎকারী প্রথম ও শেষ ব্যক্তি হতেন পুস্তক বিক্রেতারা। তাঁর ব্যক্তিগত পাঠাগারটি সমগ্র ইসলামি ও পশ্চিমা বিশ্বে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল এবং উলামা, সাহিত্যিক, লেখক ও পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। 'আস-সাআদাহ' পত্রিকা রাবাতের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু জিনদার (রহিমাহুল্লাহ)-এর কলমে এই পাঠাগার সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল। বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের একটি প্রমাণ হলো এই যে, তিনি তাঁর জীবনে কোনো চাকরি গ্রহণে সম্মত হননি, কেবল আল-কারাউইন পাঠাগারের দায়িত্ব গ্রহণ করা ছাড়া। তাঁর সফর ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুষ্প্রাপ্য বইয়ের অনুসন্ধান করা।

৬ - তাঁর সংস্কারমূলক প্রচেষ্টা, মূলনীতি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা:

আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ (যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে) ১৩২৩ হিজরিতে প্রাচ্য থেকে ফিরে আসার পর প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি প্রশাসনিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দেশের অবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। এজন্য যখন মাওলা আব্দুল হাফিজ ধর্ম ও সংস্কারের নামে আন্দোলন শুরু করেন, তখন তিনি ছিলেন তাঁর প্রথম অনুসারী ও সমর্থক। তিনি ফাস থেকে তাঁর নিকট পত্রালাপ করতেন এবং তাঁর বিখ্যাত পুস্তিকা 'আল-মুফাকাহাহ' রচনা করেন, যা বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মরক্কোর জনগণ কর্তৃক সুলতান হিসেবে তাঁকে আহ্বানের পেছনে এটি ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি তাঁর উক্ত পুস্তিকায় সরকারের সামরিক, পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ বিভাগসহ সকল দপ্তরের সমালোচনা করেছিলেন। তিনিই ছিলেন প্রথম মরক্কোবাসী যিনি লেখনীর মাধ্যমে দেশে প্রশাসনিক সংস্কারের আবশ্যকতা নিয়ে সাহসের সাথে জনসমক্ষে কথা বলেছিলেন এবং তৎকালীন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন। এই বিষয়ে তিনি বেশ কিছু প্রস্তাবনা লিখেছিলেন যা বড় বড় খণ্ডে সংকলিত হওয়ার যোগ্য।

যখন উক্ত মাওলা রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হলেন, তখন তাঁর নিকট থেকে যা আশা করা হয়েছিল তার প্রতিফলন দেখা গেল না। ফলে উস্তাদ বুঝতে পারলেন যে, সেই আশার আলোকচ্ছটা ছিল অন্তঃসারশূন্য এবং সেই মেঘমালা ছিল বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকালীন মেঘের মতো। তা সত্ত্বেও তিনি হতাশ হননি এবং উক্ত সুলতানের নিকট পুনরায় একটি সংস্কারমূলক প্রস্তাবনা পেশ করেন, যেখানে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সুলতান তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি।

উস্তাদ এভাবেই সময়ের প্রতিকূলতা ও দুর্যোগসমূহ মোকাবিলা করতে থাকেন, যতক্ষণ না তাঁদের সেই সুপরিচিত অগ্নিপরীক্ষা ও বিপদের সময়টি ঘনিয়ে এল।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٨)
ووقعتهم المأسوف عليها من الجنة والناس، فكانت الضربة القاضية التي قضت على كل مفكر بالانزواء والتدثر بدثار الموت المعنوي، حيث أن البلاد طولها والعرض لم تتصور الداء حتى تطلب له دواء، فبقي الحال على ذلك إلى أن جاء دور الاحتلال.

ولما أفرج عن سيدنا المترجم وزواياهم وبعض البعض من كتبهم انقطع للتدريس بالقرويين، وشرع يجاهد جهاده المعروف في مسألة إصلاح القرويين ومكتبتها، سعى في ذلك سعيه المتواتر، وطرق أبواب الحكومة مرات، ونشرت عنه جريدة السعادة مقابلة للمرشال اليوطي عام1331 ومحادثته في الموضوع، فكان من نتيجته تكوين المجلس العلمي، وإصدار الأمر بإصلاح حال مكتبة القرويين التي كانت مبعثرة ينخر في البقية الموجودة منها السوس، عدا عن يد الإنسان التي ما كانت أبقت إلا ما يصلح لمن ذكر، وسرعان ما قام منافسوه في معاكسة القضية الإصلاحية، وحيث أن اليد لا تكف وحدها وكل شيء بإبانه، فإذا جاء الإبان تجيء.

نعم يحب المترجم كل إصلاح وترق ينبني على أساسين: أساس الدين وأساس القومية المغربية وشعارها، فهو يحب الإصلاح والترقي الذي يقوده الدين وتعاليمه، ويرغب في التقدم الذي من غاياته دوام اعتبار القومية العربية المغربية وشعارها، ولا يحب الإصلاح الهادم لانقاض هذين الأساسين، ويود أن لا يكون حظ المصلح التمندل بمن سلف، والقضاء على كل قديم، والأخذ بكل جديد، بل يرى أن عقل المرء المؤمن ميزانه، فعليه أن يزن كل جديد وقديم بميزان الدين والقومية والمصلحة العامة، التي يعتبرها مصلحة عامة كل سليم الفطرة صحيح الإيمان غيور على البلاد عرف تاريخها ودينها وتقاليدها، ولا يرى أن نترك كل ماعلمناه من قبل لمقال في كتيب رمت لنا به مصر على علاته، لأنه جاء من مصر، ولأن عليه صورة جامعه، فهذا
জিন ও মানুষের মাঝ থেকে আসা তাদের সেই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছিল, যা ছিল এক চূড়ান্ত আঘাত। এটি প্রতিটি চিন্তাবিদকে নির্জনতা অবলম্বন করতে এবং এক প্রকার আত্মিক মৃত্যুর চাদরে নিজেকে আবৃত করে নিতে বাধ্য করেছিল। দেশের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ জুড়ে কেউ এই ব্যাধিটি সম্পর্কে কল্পনাও করতে পারেনি যে তার জন্য কোনো প্রতিকার খুঁজবে। ফলে দখলদারিত্বের যুগ না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবেই অপরিবর্তিত থাকে।

যখন আমাদের সাইয়্যিদ (যাঁর জীবনী এখানে আলোচিত হচ্ছে), তাঁদের খানকাহসমূহ এবং তাঁদের কিছু কিতাবাদি মুক্তি পেল, তখন তিনি কারাউয়্যিন মসজিদে অধ্যাপনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন। তিনি কারাউয়্যিন ও এর গ্রন্থাগারের সংস্কারের বিষয়ে তাঁর সুপরিচিত সংগ্রামে লিপ্ত হলেন। এ লক্ষ্যে তিনি নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং বহুবার সরকারের দ্বারে ধরণা দিয়েছিলেন। ১৩৩১ হিজরি সনে 'আস-সাআদাহ' সংবাদপত্রে মার্শাল লুইটের সাথে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার ও এ বিষয়ে তাঁর আলাপচারিতা প্রকাশিত হয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে একটি 'ইলমি কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং কারাউয়্যিন গ্রন্থাগারের জীর্ণদশা সংস্কারের আদেশ জারি করা হয়। তখন গ্রন্থাগারটি ছিল অগোছালো এবং অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলো পোকা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। এছাড়া মানুষের অপতৎপরতার কারণে সামান্য কিছু অংশই অবশিষ্ট ছিল যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। অচিরেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে শুরু করে। তবে যেহেতু একা হাত সব কাজের জন্য যথেষ্ট নয় এবং প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি নির্ধারিত সময় থাকে, তাই সময় যখন উপনীত হলো, তখন সংস্কারও বাস্তবায়িত হলো।

হ্যাঁ, জীবনীকার সেই সমস্ত সংস্কার ও উন্নতি পছন্দ করেন যা দুটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: দ্বীনের ভিত্তি এবং মরক্কান জাতীয়তা ও তার প্রতীকের ভিত্তি। তিনি এমন সংস্কার ও উন্নতি ভালোবাসেন যা দ্বীন এবং এর শিক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়। তিনি এমন অগ্রগতি কামনা করেন যার অন্যতম লক্ষ্য হলো আরব-মরক্কান জাতীয় সত্তা ও তার ঐতিহ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। তিনি এমন সংস্কার পছন্দ করেন না যা এই দুটি ভিত্তির ধ্বংসস্তূপের ওপর নির্মিত হয়। তিনি চান না যে একজন সংস্কারকের ভূমিকা শুধু পূর্বসূরীদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা, পুরাতন সব কিছুকে মিটিয়ে দেওয়া এবং নতুন সব কিছুকে চোখ বুজে গ্রহণ করা হোক। বরং তিনি মনে করেন যে, মুমিন ব্যক্তির বিচারবুদ্ধিই হলো তার মানদণ্ড। তাকে প্রতিটি নতুন ও পুরাতনকে দ্বীন, জাতীয়তা এবং জনস্বার্থের নিক্তিতে পরিমাপ করতে হবে। সুস্থ স্বভাবজাত গুণসম্পন্ন, সঠিক ঈমানের অধিকারী এবং দেশের ইতিহাস, ধর্ম ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অবগত ও স্বদেশের প্রতি মমত্ববোধসম্পন্ন যে কোনো ব্যক্তিই একে জনস্বার্থ হিসেবে গণ্য করবেন। তিনি মনে করেন না যে, মিশর থেকে আগত কোনো পুস্তিকার কোনো প্রবন্ধের খাতিরে—তা যেমনই হোক না কেন—আমাদের পূর্বলব্ধ জ্ঞান বর্জন করা উচিত; শুধুমাত্র একারণে যে সেটি মিশর থেকে এসেছে এবং তাতে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি রয়েছে। এই...
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ١٩)
موقف المذبذبين الذين يلعب بهم كل ريح، ويستهويهم كل وارد، فيعتنق ما طلق اليوم. ويعبد غد الغد ما كان يكفر به البارحة.

ورأيه في الطرق الصوفية وجوب إصلاحها تدريجاً، والسعي في تربية من يرأسها تربية علمية دينية لا القضاء عليها، فإنها الرابطة الوحيدة بين كثير من المتدينين اليوم، وهي الماسكة اليوم أزمة أغلب مظاهر الإسلام، وحجاج بيت الله الحرام، وزوار قبر النبي صلى الله عليه وسلم، فالساعي في قطع دابر هؤلاء ساع تحت ستار الخفاء لقطع جرثومة الإسلام والحط من كرامة النبي عليه السلام. ولو أن كل عضو من جسد مرض آثرنا قطعه على إصلاحه وعلاجه لخلا الكون من النوع الإنساني، وسادت السباع والذئاب العاوية على البسيطة، ولا يرى هذا الصخب المقام نحو رجال الدين والطرق، وأفعال بعض المتمسكين بها خاصة، وغض الطرف عن منكرات بقية الهيئات والجمعيات والمشارع التي هي محل الرأس من جسد الأمة إلا مقدمة من مقدمات التبشير، وآلة عظمى من مقومات التدمير، ولا يرى أن نهدم كل شيء من آثار قديمنا لأنه قديم، ونندمج في تيار الجديد وأهله من كل وجهة وباب لأنه جديد، من غير تمحيص ولا اختبار.

لذلك هو حفظه الله أول من يتلمذ لكل صالح مصلح إصلاحاً صالحاً بالبلاد مرتكزاً على الدين والقومية المغربية، أما لغيره فهو ممن لا تعمل فيهم تيارات هاته الأبخرة، ولا تهزهم هذه الرياح والزلازل. فهو الجبل الثابت نحو صواعقها الذي لا تعمل فيه معامل الإفساد ولو بقي وحده. وأكبر شرف يتحدى به ويختص به عن أنداده عداوة الملحدين وسباب المفسدين ودحض المساوئ التي يلحقها ويلزقها به المتزلفون، وستعلم الأجيال المقبلة أحقية مباديه هذه وأصوبيتها فتشكره، فيشكرها الإنصاف وأهله، أو تكفر به فلا يكون
দোদুল্যমান ব্যক্তিদের অবস্থান এমন, যাদেরকে প্রতিটি বায়ুপ্রবাহ খেলনার মতো ব্যবহার করে এবং প্রত্যেক আগন্তুক প্রলুব্ধ করে; ফলে আজ তারা তা গ্রহণ করে যা গতকাল বর্জন করেছিল, এবং আগামীকাল তারা এমন কিছুর উপাসনা করে যাকে গতকাল তারা অস্বীকার করেছিল।

সুফি তরীকাগুলোর বিষয়ে তাঁর অভিমত হলো, এগুলোকে পর্যায়ক্রমে সংশোধন করা আবশ্যক এবং এর প্রধানদেরকে ধর্মীয় ও ইলমী আদবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত, সমূলে বিনাশ করা নয়। কেননা আজ অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এগুলোই একমাত্র যোগসূত্র, এবং আজ ইসলামের অধিকাংশ বাহ্যিক নিদর্শনাদি, আল্লাহর পবিত্র ঘরের হাজিগণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজার যিয়ারতকারীদের নিয়ন্ত্রণের লাগাম তাদের হাতেই রয়েছে। অতএব, এদের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকারী মূলত ইসলামের মূল শিকড় উপড়ে ফেলার এবং নবী আলাইহিস সালামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এক গোপন অন্তরালের অপচেষ্টায় লিপ্ত। যদি দেহের কোনো অঙ্গ অসুস্থ হওয়ার কারণে আমরা এর সংশোধন ও চিকিৎসার পরিবর্তে তাকে কেটে ফেলাকেই প্রাধান্য দিতাম, তবে পৃথিবী মানবশূন্য হয়ে যেত এবং এই ধরাধাম হিংস্র পশুপাখি ও চিৎকারকারী নেকড়েদের দখলে চলে যেত। আর আলিম সমাজ ও তরীকাগুলো এবং বিশেষ করে এগুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মপদ্ধতির বিরুদ্ধে যে শোরগোল তোলা হচ্ছে, অথচ উম্মাহর দেহের মস্তকস্বরূপ অন্যান্য সংস্থা, সমিতি ও প্রকল্পগুলোর অপকর্মের প্রতি চোখ বন্ধ করে রাখা হচ্ছে—তিনি একে মিশনারি তৎপরতার একটি ভূমিকা এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের এক বিশাল হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। তিনি এটিও মনে করেন না যে, আমাদের প্রাচীন নিদর্শনাদি পুরাতন হওয়ার কারণেই সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা উচিত, আর কোনো যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা ছাড়াই আধুনিকতার স্রোত ও তার অনুসারীদের মাঝে সর্বতোভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত কারণ তা নতুন।

এই কারণেই তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—ঐ সকল সৎ সংস্কারকদের প্রথম শিষ্য, যারা ধর্ম ও মরক্কোর জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশে কল্যাণকর সংস্কার সাধন করেন। আর অন্যদের ক্ষেত্রে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাদের ওপর এই ভ্রান্ত বাষ্পের প্রবাহ কাজ করে না এবং এই বাতাস ও ভূমিকম্পগুলো তাদের টলাতে পারে না। তিনি এর বজ্রপাতের মুখে এক অটল পাহাড়, যার ওপর অনিষ্টকারীদের কোনো কারসাজি কাজ করে না—চাই তিনি একাকীই হোন না কেন। নাস্তিকদের শত্রুতা, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের গালিগালাজ এবং স্তাবকদের আরোপিত অপবাদসমূহ খণ্ডন করাটাই হলো তাঁর সবচেয়ে বড় মর্যাদা, যা তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের থেকে স্বতন্ত্র করেছে। আগত প্রজন্ম তাঁর এই আদর্শসমূহের সত্যতা ও যথার্থতা অনুধাবন করবে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে, তখন ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা তাদের ধন্যবাদ জানাবে; অথবা তারা তা অস্বীকার করবে, সেক্ষেত্রে তা আর টিকবে না।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أول من كفرت نعمه وجحدت فضائله من الرجال العاملين، وعند عالم الخفيات حقائق الطويات والنيات.

ونسأل الله أن يريد لهذه الأمة إصلاحاً عاجلاً، فإذا أراده خلق له رجالاً أول ما يعملون تحديد نقط الخلاف بين الأفكار المتعارضة، وفهم حقيقة المبادئ التي تظهر لأول وهلة أنها متباينة، وهي في الحقيقة واحدة، تحجبها عن الظهور والانجلاء الأغراض والعوارض التي تستر الحقائق الواضحة وتحجبها عن التجلي. وإذ ذاك لا يجد هذا الشعب المسكين ودعاة الإصلاح الحقيقي من أهله أوسع صدراً ولا أقوى نفوذاً ولا أدق إدراكاً ولا أبعد مدى ولا أقوى وأسعد بالإصلاح من المترجم الذي نراه شرقياً في مباديه وأطواره ومنازعه وآماله، وإن كان مغربي الجنس والاستيطان.

وبالجملة فختام القول فيه ما أنشده في حقه مفتي فاس سابقاً العلامة الأديب أبو الفضل عباس بن أحمد التازي رحمه الله:

لعبد الحي فضل ليس يخفى … تضيء به الليالي المدلهمة

يريد الحاسدون ليطفئوه … ويأبى الله إلا أن يتمه 7 - مؤلفاته:

1 - رفع الاصر ودفع الضير عن إجماع الحافظ أبي بكر بن خير.

2 - تعليق على الهمزية غير كامل.

3 - تلخيص النفح المسكي في شيوخ أحمد المكي، بيضه في " منى السر الخفي الامتناني، في شرح الراتب الكتاني " صغير (والكبير في مجلد طبع بفاس عام 1325) .
কর্মতৎপর ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর নেয়ামতকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং যাঁর গুণাবলিকে উপেক্ষা করা হয়েছে; আর গোপন বিষয়ের পরিজ্ঞাত আল্লাহর নিকট অন্তরের নিগূঢ় রহস্য ও নিয়তসমূহ স্পষ্ট।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই উম্মতের জন্য দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করেন। যখন তিনি তা চাইবেন, তখন তিনি এমন কিছু পুরুষ সৃষ্টি করবেন যাদের প্রথম কাজ হবে বিবাদমান চিন্তা-ভাবনার মধ্যে বিরোধের বিন্দুগুলো নির্ধারণ করা এবং সেই নীতিগুলোর প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা যা প্রথম দৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে সেগুলো অভিন্ন; বিভিন্ন জাগতিক উদ্দেশ্য ও আপতিত বিষয়সমূহ একে প্রকাশিত ও বিকশিত হতে বাধা দেয়, যা স্পষ্ট সত্যকে ঢেকে রাখে এবং তা উন্মোচিত হতে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় এই অসহায় জাতি এবং তাদের মধ্যকার প্রকৃত সংস্কারকামীরা এই জীবনীকারের চেয়ে প্রশস্ত হৃদয়ের, অধিক প্রভাবশালী, সূক্ষ্ম প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সুদূরপ্রসারী এবং সংস্কারের কাজে অধিক শক্তিশালী ও সৌভাগ্যবান আর কাউকে খুঁজে পাবে না—যাঁকে আমরা তাঁর আদর্শ, আচার-আচরণ, প্রবণতা ও আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে প্রাচ্যদেশীয় হিসেবে দেখি, যদিও তিনি বংশগত ও আবাসগত দিক থেকে মরক্কো বা মাগরেবের অধিবাসী।

পরিশেষে, তাঁর সম্পর্কে আলোচনার সমাপ্তি টানা যায় ফেজের সাবেক মুফতি, প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক আল্লামা আবুল ফজল আব্বাস বিন আহমদ আত-তাজি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে যে কাব্য গেয়েছেন তার মাধ্যমে:

‘আবদুল হাইয়ের এমন শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যা লুকানো নয় … যার ছটায় ঘোর অন্ধকার রজনীও আলোকিত হয়

হিংসুকরা তা নিভিয়ে দিতে চায় … কিন্তু আল্লাহ তা পূর্ণ করা ব্যতীত ক্ষান্ত হন না। ৭ - তাঁর রচনাবলি:

১ - রাফউল ইসর ওয়া দাউদ দাইর আন ইজমাউল হাফিজ আবি বকর বিন খাইর।

২ - হামজিয়াহ-এর ওপর অসম্পূর্ণ টীকা।

৩ - তালখিসুন নাফহিল মিসকি ফি শুয়ূখি আহমাদ আল-মাক্কি; যা তিনি "মুনা আস-সিররিল খাফি আল-ইমতিনানি ফি শারহির রাতিবিল কাত্তানি" নামক ক্ষুদ্র গ্রন্থে পাণ্ডুলিপি থেকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিলেন (আর বড়টি এক খণ্ডে ১৩২৫ হিজরিতে ফেজে মুদ্রিত হয়েছে)।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢١)
4 - مفاكهة ذي النبل والإجادة، حضرة مدير السعادة (طبع بفاس مراراً وترجم لعدة لغات) .

5 - غاية الاستناد، في أغلاط إمداد ذوي الاستعداد، عنى فهرس الشيخ عبد القادر الكوهن.

6 - عقد الزبرجد، في أن من لغا فلا جمعة له مما نقب عنه من الأخبار فلم يوجد، في مجلد صغير.

7 - المخبر الفصيح عن أسرار غرامي صحيح.

8 - الإجازة الصغرى، وهي المطبوعة بمصر.

9 - مجالي الامتنان، فبما روى لنا بالتسلسل من سور القرآن.

10 - منية السائل، اختصار الشمائل (طبع بفاس) .

11 - أحسن المشارب، وأوضح المسالك المؤدية إلى أن الغزالي لم يعتنق قط مذهب مالك.

12 - الإسعاف بالإسعاد الرباني، في إجازة الشيخ النبهاني.

13 - ترجمة الشيخ محمد صالح البخاري الكبرى (في مجلد كبير) .

14 - عبير الند، في ترجمة سيدنا الجد.

15 - وسيلة الملهوف، إلى جده الرحيم العطوف (طبع بفاس) .

16 - استجلاب شفاعة الرسول، من جمع أربعين حديثاً من كلامه العذب المقبول.

17 - ما علق بالبال أيام الاعتقال (مجلدة وسطى) .

18 - الطوالع الفخرية، في السلاسل القادرية.

19 - الترجمة السياسية لشقيقه الشيخ الكتاني الشهير.
4 - মফাকেহাতু জিল নুবলি ওয়াল ইজাদাহ, হাযরাত মুদির আস-সাআদাহ (এটি ফেজে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে)।

5 - গায়াতুল ইস্তিনাদ, ফি আগলাতি ইমদাদি জাওয়িল ইস্তিদাদ, যা শেখ আব্দুল কাদির আল-কুহিনের নির্ঘণ্টের (ফিহরিস্ত) ভুলত্রুটি সংক্রান্ত।

6 - উকদুজ জাবারজাদ, ফি আন্না মান লাগা ফালা জুমুআতাহু লাহু—যেসব বর্ণনার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি তা অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে রচিত, এক ছোট খণ্ডে।

7 - আল-মুখবিরুল ফাসিহ আন আসরারি গরামি সহিহ।

8 - আল-ইজাজাতুস সুগরা, যা মিশরে মুদ্রিত হয়েছে।

9 - মাজালিল ইমতিনান, যা আমাদের নিকট কুরআনের সূরাসমূহের ধারাবাহিক বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

10 - মুনিয়াতুস সায়িল, শামায়িলের সংক্ষিপ্তসার (ফেজে মুদ্রিত)।

11 - আহসানুল মাশারিব ওয়া আউদাহুল মাসালিক, যা প্রমাণ করে যে ইমাম গাজ্জালি কখনোই মালেকি মাজহাব গ্রহণ করেননি।

12 - আল-ইসআফ বিল ইসআদির রব্বানি, শেখ আন-নাবহানির ইজাজত প্রসঙ্গে।

13 - শেখ মুহাম্মদ সালেহ আল-বুখারির বৃহৎ জীবনীগ্রন্থ (বিশাল এক খণ্ডে)।

14 - আবীরুন নাদ, আমাদের মহান দাদার জীবনী প্রসঙ্গে।

15 - ওয়াসিলাতুল মালহুফ ইলা জাদ্দিহির রহিমিল আতুফ (ফেজে মুদ্রিত)।

16 - ইসতিজলাবু শাফাআতির রাসুল, তাঁর সুমধুর ও গ্রহণযোগ্য বাণীসমূহ থেকে চল্লিশটি হাদিস সংকলন।

17 - মা আলাকা বিল বাল আইয়ামাল ইতিবাল (বন্দিত্বের দিনগুলোতে স্মৃতিপটে যা উদিত হয়েছিল), এক মধ্যম খণ্ডে।

18 - আত-তাওয়ালিউল ফাখরিয়্যাহ, কাদিরিয়া সিলসিলাসমূহের বর্ণনায়।

19 - তাঁর সহোদর প্রখ্যাত শেখ আল-কাত্তানির রাজনৈতিক জীবনী।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
20 - المباحث الحسان المرفوعة إلى قاضي تلمسان.

21 - اليواقيت الثمينة، في الأحاديث القاضية بظهور سكة الحديد ووصولها إلى المدينة (طبع بالجزائر) .

22 - إتحاف الحفيد، بترجمة جده الصنديد، وهو قاضي فاس أبو حامد العربي الزرهوني دفين الصويرة.

23 - الوصل الميمون، بأخبار الشيخ عليّ بن ميمون.

24 - إنارة الأغوار والإنجاد بدليل معتقد ولادة النبي صلى الله عليه وسلم من السبيل المعتاد (طبع بتونس) .

25 - الأجوبة النبعة عن الأسئلة الأربعة (مجلدة) .

26 - ختمة كتاب الأربعين النووية.

27 - شرح كتاب الأربعين، لم يكمل.

28 - تعليقة على جامع الترمذي.

29 - إتحاف الألباء بحكم الغسل على غسالة الكبراء.

30 - الاعتراضات والعراقيل، لمن يسمى ملك الموت عزرائيل.

31 - سلاسل البركات الموصولة بدلائل الخيرات.

32 - رسالة في الطريقة السبتية.

33 - أجوبة فقهية (تخرج في مجلد) .

34 - المعجم الأكبر (في مجلدات) .

35 - المسلسلات الكبرى (مجلدة) .

36 - ذيل العجلونية (كراسة) .
20 - তিলিমসানের কাজীর নিকট উত্থাপিত সুন্দর গবেষণাসমূহ।

21 - মূল্যবান ইয়াকুত পাথরসমূহ: রেললাইনের আবির্ভাব এবং মদিনায় তার পৌঁছানোর ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে (আলজেরিয়ায় মুদ্রিত)।

22 - নাতিকে উপহার: তার বীর পিতামহ, ফেজের কাজী আবু হামিদ আল-আরবি আজ-জারহুনির জীবনী প্রসঙ্গে, যিনি সুওয়াইরায় সমাহিত।

23 - বরকতময় সংযোগ: শায়খ আলী বিন মাইমুনের সংবাদসমূহ প্রসঙ্গে।

24 - নিম্নভূমি ও উচ্চভূমি আলোকিতকরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বাভাবিক পথে জন্মগ্রহণের বিশ্বাসের দলীল প্রসঙ্গে (তিউনিসিয়ায় মুদ্রিত)।

25 - চারটি প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তরসমূহ (এক খণ্ডে)।

26 - আরবাঈন আন-নববী কিতাবের সমাপ্তি পাঠ।

27 - আরবাঈন কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা পূর্ণ হয়নি।

28 - জামে আত-তিরমিজীর ওপর টীকা।

29 - জ্ঞানীদের উপহার: বুজুর্গদের ব্যবহৃত ধৌত পানি দ্বারা গোসলের বিধান প্রসঙ্গে।

30 - আপত্তি ও প্রতিবন্ধকতাসমূহ: যারা মালাকুল মউতকে আজরাঈল নামে অভিহিত করে তাদের জন্য।

31 - দালাইলুল খাইরাতের সাথে যুক্ত বরকতের সিলসিলাসমূহ।

32 - সাবতিয়্যাহ তরীকা বিষয়ক একটি রিসালা।

33 - ফিকহী উত্তরসমূহ (এক খণ্ডে প্রকাশিত)।

34 - আল-মু'জামুল আকবার (কয়েক খণ্ডে)।

35 - আল-মুসালসালাতুল কুবরা (এক খণ্ডে)।

36 - আল-আজলুনিয়্যাহর পরিশিষ্ট (পুস্তিকা)।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
37 - أوائل في معارضتها. (كراسة) .

38 - تخريج ثلاثيات البخاري.

39 - الأربعون المسلسلة بالإشراف.

40 - رسالة حديث أكثر أهل الجنة البلة.

41 - أعلام فقهاء الحي بمن سمي قبلي بعبد الحي.

42 - الرحلة الحجازية (تخرج في عدة مجلدات وضاع معظمها) .

43 - رسالة سر محن الأكابر.

44 - رسالة من امتحن من الأكابر (أخرى مثلها) .

45 - رسالة تحقيق الخلاف في اسم يسر بن أرطأة.

46 - مولد شريف (وهو أول مؤلف لسيدنا الأستاذ في كراريس) .

47 - فهرسة الشيخ الشبيهي.

48 - فهرسة سيدنا الجد (كتبها باسم قاضي تلمسان سماها منية القاصد في بعض أسانيد الأستاذ الوالد) .

49 - ارتقاء الهمم العلية، إلى ما علق بالبال على حديث الأولية (كراسة كتبت إملاء) .

50 - رسالة حاء التحويل وكيفية النطق بها.

51 - رسالة في حديث أول الوقت رضوان الله.

52 - الأربعون حديثاً التي عزيت إلى كتب لم توجد فيها.

53 - نقد فهرس الشيخ فالح المدني.

54 - رسالة تحرير معنى حسن صحيح، الواقعة كثيراً في كلام الترمذي.
37 - আওয়ায়েল ফী মুআরাদাহা (একটি পুস্তিকা)।

38 - বুখারীর সুলাসিয়াতের (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদিস) তাখরিজ বা তথ্যসূত্র চয়ন।

39 - আল-আরবাউন আল-মুসালসালা বিল-ইশরাফ।

40 - জান্নাতবাসীদের অধিকাংশ সরলমনা—এই হাদিস সংক্রান্ত রিসালাহ।

41 - আমার পূর্বে যাদের নাম 'আবদুল হাই' রাখা হয়েছিল, সেই সব ফকিহদের জীবন চরিত।

42 - হিজাজ সফরনামা (এটি কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এর অধিকাংশ হারিয়ে গেছে)।

43 - বরেণ্য ব্যক্তিদের বিপদাপদের রহস্য বিষয়ক রিসালাহ।

44 - বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন তাদের বিষয়ক রিসালাহ (অনুরূপ আরেকটি)।

45 - ইউসর বিন আরতাহ-এর নামের মতপার্থক্য নিরসন বিষয়ক রিসালাহ।

46 - মাওলিদ শরিফ (এটি আমাদের উস্তাদ সাইয়্যিদের প্রথম রচনা যা কয়েকটি পুস্তিকায় লিখিত)।

47 - শায়খ শাবিবির গ্রন্থতালিকা।

48 - আমাদের দাদাজানের গ্রন্থতালিকা (এটি তিনি তিলিমসানের বিচারকের নামে লিখেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: 'পিতা উস্তাদের কিছু সনদের বর্ণনায় জ্ঞানপ্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা')।

49 - উচ্চাকাঙ্ক্ষার আরোহণ: হাদিসে আউয়ালিয়্যাহ সম্পর্কে মনে যা উদিত হয়েছে (শ্রুতিলিপি হিসেবে লিখিত একটি পুস্তিকা)।

50 - হাদিসের বর্ণনায় ব্যবহৃত 'হা' রূপান্তর এবং তা উচ্চারণের পদ্ধতি বিষয়ক রিসালাহ।

51 - 'ওয়াক্তের শুরু হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি'—এই হাদিস বিষয়ক রিসালাহ।

52 - সেই চল্লিশটি হাদিস যেগুলোকে এমন সব গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে যেগুলোতে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।

53 - শায়খ ফালিহ আল-মাদানির গ্রন্থতালিকার সমালোচনা।

54 - ইমাম তিরমিযীর বক্তব্যে বহুল ব্যবহৃত 'হাসান সহিহ' পরিভাষার অর্থ বিশ্লেষণ বিষয়ক রিসালাহ।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
55 - المنافحات عن أسرار المتابعات.

56 - نفح العطر الذكي، من تلخيص فهرس الحضيكي والبابوركي.

57 - الاستهزاء بمن يزعم الشرف للشيخ أبي يعزى.

58 - أسانيد صحيح مسلم.

59 - أسانيد حصر الشارد.

60 - عدة مقالات سياسية (في كراريس) .

61 - نصيحة كتبها للسلطان المولى عبد الحفيظ.

62 - ختمة جامع الترمذي (أملاها بالقرويين يوم السبت 7 ذي الحجة سنة1328 بحضرة ملأ عظيم من طلبة أشياخه فمن دونهم) .

63 - الطالع السعيد إلى المهم من الأحاديث المسلسلة بيوم العيد.

64 - البحر المتلاطم الأمواج المذهب لما في سنة القبض من العتاد واللجاج (في مجلد ضخم) .

65 - البيان المعرب عن معاني بعض ما ورد في أهل اليمن والمغرب. (أصله سؤال ورد عليه من قاضي تلمسان الشيخ شعيب الجليلي، (طبع بفاس) .

66 - النور الساري على صحيح البخاري.

67 - إفادة النبيه لتيسير الاجتهاد ومن ادعاه أو ادعى فيه.

68 - رفع العناد عن الصور الخضب بالسواد.

69 - جزء فيما ورد من الأخبار النبوية عن أسباب استيلاء الإفرنج على بلاد الإسلام آخر الزمان.

70 - فهرسة باسم الشيخ محمد الصادق النيفر التونسي قاضيها لهذا العصر (وهي من مقدار خمس كراريس فأزيد) .
৫৫ - অনুসরণের রহস্যসমূহের প্রতিরক্ষামূলক বিতর্কসমূহ।

৫৬ - আল-হাদিকি ও আল-বাবুকরি-এর সূচিপত্রের সারসংক্ষেপ থেকে সুগন্ধি সুবাসের বিচ্ছুরণ।

৫৭ - শায়খ আবু ইয়া'জার জন্য আভিজাত্যের দাবিদারদের প্রতি উপহাস।

৫৮ - সহিহ মুসলিমের সনদসমূহ।

৫৯ - হাশর আশ-শারিদ-এর সনদসমূহ।

৬০ - বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রবন্ধ (পুস্তিকা আকারে)।

৬১ - সুলতান মাওলা আব্দুল হাফিজের উদ্দেশ্যে লেখা একটি উপদেশনামা।

৬২ - জামে আত-তিরমিযীর সমাপনী পাঠ (এটি তিনি ১৩২৮ হিজরীর ৭ই জিলহজ্জ শনিবার আল-কারাওয়িইন মসজিদে তাঁর উস্তাদদের ছাত্র এবং অন্যদের এক বিশাল সমাবেশের উপস্থিতিতে শ্রুতিলিপি করিয়েছিলেন)।

৬৩ - আত্ব-ত্বালি' আস-সাঈদ: ঈদের দিনের গুরুত্বপূর্ণ মুসালসাল হাদিসসমূহের সংগ্রহ।

৬৪ - আল-বাহরুল মুতালাতিমুল আমওয়াজ: নামাযে হাত বাঁধার সুন্নাত নিয়ে বিদ্যমান সরঞ্জাম ও বিবাদ নিরসনকারী গ্রন্থ (বিশাল এক খণ্ডে)।

৬৫ - আল-বায়ানুল মু'রিব: ইয়েমেন ও মাগরিবের অধিবাসীদের সম্পর্কে বর্ণিত কিছু বিষয়ের অর্থ ব্যাখ্যা। (মূলত এটি তিলিমসানের বিচারক শায়খ শুয়াইব আল-জালিলির পক্ষ থেকে তাঁর কাছে আসা একটি প্রশ্নের উত্তর, যা ফেজে মুদ্রিত হয়েছে)।

৬৬ - সহিহ বুখারীর ওপর আন-নূরুস সারি।

৬৭ - ইফাদাতুন নাবিহ: ইজতিহাদ সহজ করা এবং যারা এর দাবি করে বা এতে নিজেদের সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি করে তাদের জন্য দিকনির্দেশনা।

৬৮ - রাফ'উল ইনাদ: কালো রঙের খেজাব ব্যবহারের ক্ষেত্রে হঠকারিতা নিরসন।

৬৯ - শেষ যামানায় মুসলিম দেশগুলোর ওপর ইউরোপীয়দের আধিপত্য বিস্তারের কারণসমূহ সম্পর্কে বর্ণিত নববী সংবাদসমূহের একটি পুস্তিকা।

৭০ - বর্তমান যুগের তিউনিসিয়ার বিচারক শায়খ মুহাম্মদ আস-সাদিক আন-নিফার তিউনিসি-এর নামে একটি সূচিপত্র (যা প্রায় পাঁচটি পুস্তিকা বা তারও বেশি)।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
71 - أعذب الموارد في الطرق التي أجيز بالتسليك عليها الشيخ الوالد.

72 - ألذ المناهل فبما اشتهر من قال أنا عالم فهو جاهل.

73 - إرشاد المغفلين عن صحبة الصالحين.

74 - الإلمام ببعض أحاديث الحمام.

75 - إدامة المنفعة في الكلام على الأحاديث الأربعة.

76 - الإجازة إلى معرفة أحكام الإجازة.

77 - بيان الحق بلا مين في حكم القيام لأهل العلمين.

78 - بوارق النجوم في حديث أصحابي كالنجوم.

79 - البحث المحبوب عن أخبار الشيخ السنوسي نزيل جغبوب.

80 - تحقيق الحق عند الله في حديث دعاء يوم عرفة ما شاء الله.

81 - جلاء النقاب عن أحاديث الشهاب.

82 - الدلائل المشهودة لدى الناطق بالقاف المعقودة.

83 - الدرر المرفوعة عن حكم اللآلي المصنوعة.

84 - الرحمة المرسلة في شأن حديث البسملة (طبع بمصر) .

85 - الردع الوجيز لمن أبى أن يجيز.

86 - رد لهج الصبابة فيمن قبل يد المصطفى من الصحابة.

87 - الطلعة الزهراء في خذوا شطر دينكم عن هذه الحميراء.

88 - الطب الروحاني المحشو في أسانيدنا المجاز بها محمد بن المعطي العمراني.

89 - كوكب المجد الساري في ترجمة أبي عبد الله محمد صالح الرضوي البخاري.
৭১ - সেই পথসমূহের সবচেয়ে সুমিষ্ট ঝরনাধারা, যার মাধ্যমে শ্রদ্ধেয় শায়খ পিতাকে (সুফিবাদী) দীক্ষা প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

৭২ - "যে বলে আমি আলেম, সে প্রকৃতপক্ষে জাহেল"—এই প্রসিদ্ধ উক্তিটির বিষয়ে সবচেয়ে সুস্বাদু পানীয়স্থল।

৭৩ - নেককারদের সাহচর্য গ্রহণ বিষয়ে গাফেলদের জন্য নির্দেশনা।

৭৪ - গোসলখানার (হাম্মাম) বিধান সংশ্লিষ্ট কিছু হাদিস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান।

৭৫ - চারটি হাদিসের ওপর আলোচনার মাধ্যমে উপকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

৭৬ - ইজাজতের (অনুমতি) হুকুম-আহকাম জানার বিষয়ে ইজাজত।

৭৭ - দুই জগতের জ্ঞানীদের (আলেমদের) সম্মানে দাঁড়ানোর বিধান সম্পর্কে সংশয়হীন সত্য বর্ণনা।

৭৮ - "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য"—এই হাদিসের বিষয়ে নক্ষত্ররাজির উজ্জ্বল দীপ্তি।

৭৯ - জাগবুবের অধিবাসী শায়খ সেনুসীর জীবনবৃত্তান্ত বিষয়ক প্রিয় গবেষণা।

৮০ - "মা-শাআল্লাহ" সম্বলিত আরাফাহ দিবসের দোয়ার হাদিস বিষয়ে আল্লাহর নিকট সত্যের যাচাই।

৮১ - শিহাবের (মুসনাদুশ শিহাব) হাদিসসমূহ থেকে পর্দা উন্মোচন।

৮২ - 'কাফ' বর্ণটির বিশেষ উচ্চারণকারীদের নিকট প্রত্যক্ষ দলীলসমূহ।

৮৩ - ‘আল-লাআলী আল-মাসনুআহ’ (বানোয়াট মুক্তাসমূহ)-এর বিধান সম্পর্কে উন্নত মুক্তাসমূহ।

৮৪ - বিসমিল্লাহর হাদিস প্রসঙ্গে প্রেরিত রহমত (মিসরে মুদ্রিত)।

৮৫ - যারা ইজাজত দিতে অস্বীকার করে, তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ও জোরালো প্রতিবাদ।

৮৬ - সাহাবীগণের মধ্যে যারা মুস্তফা (সা.)-এর হাতে চুম্বন করেছেন, তাদের বিষয়ে অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ।

৮৭ - "তোমরা তোমাদের দ্বীনের অর্ধেক এই হুমায়রা (আয়েশা) থেকে গ্রহণ করো"—এই হাদিসের বিষয়ে উজ্জ্বল উদ্ভাস।

৮৮ - আমাদের সনদসমূহের অন্তর্ভুক্ত আধ্যাত্মিক চিকিৎসা, যার মাধ্যমে মুহাম্মদ ইবনুল মুতী আল-উমরানীকে ইজাজত দেওয়া হয়েছে।

৮৯ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সালেহ আল-রাদাওয়ী আল-বুখারীর জীবনীতে প্রবহমান মর্যাদার নক্ষত্র।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
90 - كشف اللبس عن حديث وضع اليد على الرأس (طبع طنجة) .

91 - اللآلي الدرية في زبدة عقد اليواقيت الجوهرية.

92 - المورد الهائل على كتاب الشمائل.

93 - المسالك المتبوعة في الأحاديث الموضوعة.

94 - مواهب الرحمن في صحبة القاضي أبي محمد عبد الرحمن، يعني شمهروش.

95 - المحاسن الفاشية عن الآثار الشمهروشية.

96 - مجلي أسرار الفرقان في قوله سبحانه وإذا قرئ القرآن.

97 - المفاتيح لقراء المصابيح.

98 - مطية المجاز إلى من لنا في الحجاز أجاز.

99 - منح القدير في أسانيد والدي الشيخ عبد الكبير.

100 - مرقاة التخصيص في الكمالات المحمدية.

101 - العطايا الإلهامية على شرح القصيدة اللامية لابن فرح.

102 - غاية المنى والسول على قول ابن السبكي وأما المجهول.

103 - المقتضب، في حديث أحبوا العرب.

104 - الفيض الجاري على ثلاثيات البخاري (فهارس) .

105 - مجموع الأجوبة الحديثية.

106 - النجوم السوابق الأهلة، فيمن لقيته أو كتب لي من الأجلة، (ذكر فيها مائة شيخ مرتبة على حروف المعجم ألفها عام 1321) .

107 - استجلاب التحصن والرضى بحديث سيدنا عليّ الرضى.
90 - মাথার উপর হাত রাখা সংক্রান্ত হাদিসের অস্পষ্টতা নিরসন (তানজাহ সংস্করণ)।

91 - আকদুল ইওয়াকিতিল জাওহারিয়্যাহ-এর সারনির্যাস হিসেবে উজ্জ্বল মুক্তাসমূহ।

92 - শামায়েল কিতাবের ওপর সুমহান উৎস।

93 - জাল হাদিসসমূহের বিষয়ে অনুসৃত পথসমূহ।

94 - কাজি আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান অর্থাৎ শামহারুশের সাহচর্যে দয়াময় আল্লাহর দানসমূহ।

95 - শামহারুশি নিদর্শনসমূহ থেকে প্রকাশিত কল্যাণসমূহ।

96 - মহান আল্লাহর বাণী 'যখন কুরআন পাঠ করা হয়' এর মধ্যে ফুরকানের (কুরআন) রহস্য উন্মোচন।

97 - মাসাবিহ পাঠকদের জন্য চাবিকাঠিসমূহ।

98 - হিজাজে যারা আমাদের ইজাজত দিয়েছেন তাদের অভিমুখে রূপক সওয়ারি।

99 - আমার পিতা শায়খ আবদুল কাবীরের সনদসমূহের ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ।

100 - মুহাম্মাদী পূর্ণতাসমূহ অর্জনে বিশেষত্বের সোপান।

101 - ইবনে ফারাহ রচিত কাসিদা লামিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যার ওপর ইলহামি দানসমূহ।

102 - ইবনে সুবকির উক্তি 'আর অজ্ঞাত ব্যক্তি' সম্পর্কে আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার চূড়ান্ত সীমা।

103 - 'আরবদের ভালোবাসো' হাদিস প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

104 - বুখারির সুলাসিয়াত (তিন রাবি বিশিষ্ট হাদিস) সমূহের ওপর প্রবহমান ঝরনাধারা (সূচিপত্র)।

105 - হাদিস বিষয়ক উত্তরসমূহের সংকলন।

106 - অগ্রগামী নক্ষত্র ও উদিত চন্দ্রসমূহ; সে সকল মহান ব্যক্তি যাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে অথবা যারা আমার নিকট লিখেছেন (এতে বর্ণানুক্রমিকভাবে ১০০ জন শায়খের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা ১৩২১ হিজরিতে রচিত)।

107 - আমাদের নেতা আলী আর-রিদার হাদিসের মাধ্যমে সুরক্ষা ও সন্তুষ্টি অর্জন।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
108 - المظاهر السامية في النسبة الشريفة الكتانية (في مجلد كبير قرظه جماعة من الأعلام) .

109 - النبذة اليسيرة في تاريخ الدولة العلوية الشهيرة.

110 - تاريخ جامع القرويين.

111 - أداء الحق الفرض في الذين يقطعون ما أمر الله به أن يوصل ويفسدون في الأرض (في مجلدين) .

112 - الرحلة الجزائرية التونسية القيروانية (تخرج في مجلدين) .

113 - رسالة في تحقيق رفع نسب صنهاجة لحمير وإمكان دخول أفريقش الحميري لأفريقية.

114 - الاهتزاز لأطواد زاوية كرزاز (ألفه في وجدة) .

115 - فتح الملك الناصر لعبده الأمير محمد باي الناصر، وهو إجازة كتبها لملك تونس لما اجتمع به فيها.

116 - التراتيب الإدارية (في مجلدين) ، وهو الآن تحت الطبع والمجلد الأول منه مشرف على التمام) (1) .

117 - الإفادات والإنشادات وبعض ما تحملته من لطائف المحاضرات (الكبير ألفه ببلاد تادلة لما ضاع له الأول) .

118 - جزء في المبشرات النبوية التي رويت له بالمسند المتصل ألفه ببلاد تادلة ودمنات.

119 - اختصار كتاب الدلالات السمعية للخزاعي التلمساني في نحو أربع كراريس.

120 - اختصار كتاب العواصم والقواصم لابن العربي المعافري والتعليق عليه.

--------------------------------------------

(1) طبع في مجلدين سنة 1946.
108 - আল-মাজাহিরুস সামিয়া ফিন নিসবাতুশ শারিফাহ আল-কাত্তানিয়া (একটি বিশাল খণ্ডে, যা একদল প্রথিতযশা আলেম কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে)।

109 - আন-নুবজাতুল ইয়াসিরাহ ফী তারিখিদ দাওলাতিল আলাওয়িয়্যাহ আশ-শাহীরাহ (বিখ্যাত আলাওয়ী রাজবংশের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ)।

110 - জামে আল-কারাওয়িইনের ইতিহাস।

111 - আদাউল হাক্কিল ফারদ ফীল্লাজিনা ইয়াকতউনা মা আমরাল্লাহু বিহি আই ইউসালা ওয়া ইউফসিদুনা ফিল আরদ (ঐ সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফরজ হক আদায় করা যারা আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে) (দুই খণ্ডে)।

112 - আর-রিহলাতুল জাযাইরিয়্যাহ আত-তিউনিসিয়্যাহ আল-কাইরাওয়ানিয়্যাহ (আলজেরীয়, তিউনিসীয় ও কাইরাওয়ান ভ্রমণকাহিনী) (দুই খণ্ডে প্রকাশিত)।

113 - সিনহাজা গোত্রকে হিমইয়ার বংশের সাথে সম্পৃক্ত করার সত্যায়ন এবং আফরিকিশ আল-হিমইয়ারির আফ্রিকায় প্রবেশের সম্ভাবনা বিষয়ক একটি রিসালাহ।

114 - আল-ইহতিযায লি আতওয়াদি ঝাবিয়া কারঝাঝ (এটি তিনি ওয়াজদাতে রচনা করেছেন)।

115 - ফাতহুল মালিকিন নাসির লি আবদিহিল আমির মুহাম্মাদ বে আন-নাসির; এটি একটি ইজাযাতনামা যা তিনি তিউনিসিয়ার রাজার জন্য লিখেছিলেন যখন তিনি সেখানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

116 - আত-তারাতিবুল ইদারিয়্যাহ (দুই খণ্ডে), এটি বর্তমানে মুদ্রণাধীন এবং এর প্রথম খণ্ডটি সমাপ্তির পথে) (১)।

117 - আল-ইফাদাত ওয়াল ইনশাদাত ওয়া বা'দু মা তাহাম্মালতুহু মিন লাতাইফিল মুহাদারাত (বৃহৎ সংস্করণ, যা তিনি তাদলা অঞ্চলে রচনা করেছেন যখন প্রথমটি হারিয়ে গিয়েছিল)।

118 - মুত্তাসিল সনদে বর্ণিত নব্যুয়তের সুসংবাদসমূহ সম্পর্কিত একটি জুয (খণ্ড), যা তিনি তাদলা ও দিমনাতে রচনা করেছেন।

119 - খুযায়ী আত-তিলামসানির 'আদ-দালালাতুস সামইয়্যাহ' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার, যা প্রায় চার কুইয়ারে (খাতায়) সমাপ্ত।

120 - ইবনুল আরাবি আল-মা'আফিরি-র 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার ও এর উপর টীকা।

--------------------------------------------

(১) ১৯৪৬ সালে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
121 - تبليغ الأمانة في مضار الإسراف والتبرج والكهانة (مجلد صغير) .

122 - رسالة في علاقة ملوك المغرب بشيوخ الزوايا وما كانوا يندبونهم إلبه من خدمة الصالح العام.

123 - إجازات لو جمعت لخرجت في عدة مجلدات.

124 - تلخيص صلة الخلف للرداني.

125 - اختصار الفتح الوهبي في مناقب أبي حامد العربي، هو ابن المعطي الشرقي.

126 - بيوتات درن وزواياه ورجاله (يخرج في مجلدات) .

127 - رسالة في رئاسة الطريقة الكتانية ومؤسسها وما له بذلك علاقة.

128 - التنويه والإشادة بنسخة ورواية ابن سعادة من صحيح البخاري.

129 - رسالة في إثبات التدوين والجمع لأهل القرن الأول الهجري من الصحابة والتابعين (وهي الخطاب الذي ألقاه في مؤتمر المستشرقين الذي انعقد بالمدرسة العليا من الرباط عام 1346) .

130 - فهرس الفهارس وهو هذا الكتاب العظيم الشأن الذي ينبئ أولاً عن سعة وكثرة مؤلفات علماء الإسلام في شوارد أبواب التاريخ الإسلامي، لأن باب الفهارس باب قليل الطروق. ومع ذلك جمع في الفهرس المذكور ذلك العدد العديد. الهائل وهو ما يقرب من ثلاثة عشر مائة فهرس، ويدل ثانياً على سعة اطلاع الأستاذ المؤلف اطلاعاً فاق فيه كثيراً ممن غبر فضلاً عمن حضر، فإن صاحب كشف الظنون إذا تتبعه المتتبع لم يجد فيه من أسماء الفهارس والإثبات ولا عشر معشار ربع هذا العدد، مع أن صاحب الكشف جمع فأوعى وانتفع بمكاتب الآستانة التي كانت أوسع في زمانه وأغنى مكاتب العالم الإسلامي، ومن هنا يظهر لك الفرق. ومما يستغرب ذكره أن محمد
121 - তাবলিগুল আমানাহ ফি মাদাররিল ইসরাফ ওয়াত তাবাররুজ ওয়াল কিহানাহ (ছোট এক খণ্ড)।

122 - মরক্কোর সুলতানদের সাথে জাউইয়া (খানকাহ)-এর শায়খদের সম্পর্ক এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য তাঁদের যে আহ্বান জানানো হতো, সে বিষয়ে একটি পুস্তিকা।

123 - ইজাযতসমূহ (অনুমতিপত্র), যা একত্রিত করলে কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত হতো।

124 - আল-রুদানীর 'সিলাতুল খালাফ'-এর সংক্ষিপ্তসার।

125 - 'আল-ফাতহুল ওয়াহাবি ফি মানাকিবি আবি হামিদ আল-আরবি'-এর সংক্ষিপ্তকরণ; তিনি হলেন ইবনে আল-মুতি আশ-শারকি।

126 - দারান অঞ্চলের বংশসমূহ, জাউইয়া এবং সেখানকার ব্যক্তিবর্গ (কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত)।

127 - কাত্তানিয়া তরীকার নেতৃত্ব, এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে একটি পুস্তিকা।

128 - সহীহ বুখারীর ইবনে সাআদার পাণ্ডুলিপি এবং বর্ণনার গুরুত্ব ও প্রশংসা।

129 - প্রথম হিজরী শতাব্দীর সাহাবী এবং তাবিঈগণের মাঝে (হাদীস) সংকলন ও সংগ্রহের প্রমাণাদি বিষয়ক পুস্তিকা (এটি সেই ভাষণ যা তিনি ১৩৪৬ হিজরীতে রাবাতের মাদ্রাসা আল-উলইয়ায় আয়োজিত প্রাচ্যবিদদের সম্মেলনে প্রদান করেছিলেন)।

130 - ফাহরাতুল ফাহরিস; এটি সেই সুমহান কিতাব যা প্রথমত ইসলামী ইতিহাসের বিরল বিষয়াবলীতে ইসলামী পণ্ডিতগণের রচনার ব্যাপকতা ও প্রাচুর্যের সংবাদ দেয়; কারণ 'ফাহরাস' (গ্রন্থপঞ্জি) এর বিষয়টি একটি কম আলোচিত বিষয়। তা সত্ত্বেও উক্ত ফাহরাসে বিশাল সংখ্যক তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় তেরো শত। দ্বিতীয়ত, এটি লেখক উস্তাদের ব্যাপক অধ্যয়ন ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়, যে ক্ষেত্রে তিনি পূর্ববর্তী তো বটেই সমসাময়িক অনেকের ওপরও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। কেননা কেউ যদি 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখককে অনুসন্ধান করে, তবে সে সেখানে ফাহরাস এবং ইসবাত বা অনুমতিপত্রের নামসমূহের এই সংখ্যার চল্লিশ ভাগের এক ভাগও পাবে না; যদিও 'কাশফ'-এর লেখক অনেক সংগ্রহ করেছিলেন এবং ইস্তাম্বুলের কুতুবখানাগুলো থেকে উপকৃত হয়েছিলেন, যা তাঁর যুগে ইসলামী বিশ্বের প্রশস্ততম ও সমৃদ্ধতম লাইব্রেরি ছিল। এখান থেকেই পার্থক্যটি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। আর একটি বিস্ময়কর বিষয় এই যে, মুহাম্মদ...
(খণ্ড: ١) ফিহরিসুল ফাহারিস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
لطفي جمعة المصري صاحب تاريخ فلاسفة الإسلام، قال فيه (1) : " قد انفرد ابن خلدون بين مؤلفي العرب باتخاذ يوميات أو مذكرات شخصية يدونها يوماً فيوماً (أجندة) وأطلق عليها اسم التعريف بابن خلدون وفيها ترجمته ونسبه وتاريخ أسلافه وشرح في خلالها ماعاناه في حياته، ويتخلل ذلك مراسلات وقصائد نظمها في بعض الأحوال، وكثيراً مما أصابه في دهره " الخ …

كلامه مع أن هذا معنى الفهرسة عند المتقدمين وتلك المواضع التي تطرق فيها، فالفهرسة عبارة عن الكتاب الذي يجمع أحوال المفهرس ووقعاته الدهرية وما صدر عنه من رواية وتصنيف وقصيد. وهذا كيف يدعي تفرد ابن خلدون به دون مؤلفي العرب

وقد جاء هذا الكتاب فهرس الفهارس قاموساً جامعاً لتراجم المؤلفين في السنة من أواسط القرن التاسع إلى الآن وقبلها، وذيلاً على طبقات الحفاظ لابن ناصر والسيوطي إلى الآن، فقلما تجد عالماً في الإسلام اشتغل بالحديث وعلومه اشتغالاً مفيداً ارتفع به ذكره إلا وتجد ترجمته فيه مبسوطة وفيه من التراجم ما لم يجمع قبل في ديوان. وبالجملة فإنه الكتاب الذي يجد فيه أهل كل إقليم تراجم أعلامهم ووفياتهم وولاداتهم وآثارهم، فلا عجب إذا زين الهندي به مكتبته، ورفع به السوداني منصته، كما يستفيد منه اليمني في رفيع مقامه، والمصري والشامي على عظيم مجده وهيامه.

ففيه من تراجم الحجازيين:

عليّ بن ظاهر. أحمد بن علوي جمل الليل. أمين رضوان. أبو ذر

--------------------------------------------

(1) انظر صفحة 231 من الكتاب المذكور (المؤلف) . " قلت: وهذا القول يدل على أن لطفي جمعة لم ير كتاب التعريف بابن خلدون ".
লুতফি জুমআ আল-মিসরি, যিনি ‘তারিখে ফালাসিফাতুল ইসলাম’ (ইসলামের দার্শনিকদের ইতিহাস) গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি এতে বলেছেন (১): "আরব লেখকদের মধ্যে ইবনে খালদুন অনন্য ছিলেন এই কারণে যে, তিনি একটি দিনপঞ্জি বা ব্যক্তিগত ডায়েরি (এজেন্ডা) মেইনটেইন করতেন যেখানে তিনি প্রতিদিনের ঘটনা লিপিবদ্ধ করতেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ‘আত-তারিফ বি-ইবনে খালদুন’। এতে তার জীবনী, বংশপরিচয় এবং পূর্বপুরুষদের ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে তিনি তার জীবনের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা দিয়েছেন। এর মাঝে বিভিন্ন পত্রালাপ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার রচিত কবিতা, এবং তার জীবনে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনা রয়েছে" ইত্যাদি... ...

তার এই বক্তব্য সত্ত্বেও, প্রাচীনদের নিকট 'ফিহরিসাহ' (সূচিপত্র বা জীবনীগ্রন্থ) এর অর্থ ছিল এটাই এবং এই বিষয়গুলোই সেখানে আলোচিত হতো। সুতরাং ফিহরিসাহ বলতে এমন একটি গ্রন্থকে বোঝায় যা রচয়িতার অবস্থা, তার জীবনের ঘটনাবলী এবং তার থেকে বর্ণিত বর্ণনা, রচনা ও কবিতা সংগ্রহ করে। এমতাবস্থায়, কীভাবে দাবি করা যায় যে ইবনে খালদুন আরব লেখকদের মধ্যে এতে একক বা অনন্য ছিলেন?

আর এই ‘ফিহরিসুল ফাহারিস’ গ্রন্থটি নবম হিজরি শতকের মধ্যভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এবং তার আগের সুন্নাহ বিষয়ক লেখকদের জীবনীর একটি সংকলিত বিশ্বকোষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি ইবনে নাসির এবং সুয়ূতির ‘তাবাকাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য। ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো আলিম পাওয়া দুষ্কর, যিনি হাদিস ও এর ইলম নিয়ে ফলপ্রসূ কাজ করেছেন এবং যার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ তার বিস্তারিত জীবনী এই গ্রন্থে নেই। এতে এমন সব জীবনী সংকলিত হয়েছে যা আগে কোনো গ্রন্থে একত্রিত হয়নি। সংক্ষেপে, এটি এমন একটি কিতাব যেখানে প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ তাদের মনীষীদের জীবনী, মৃত্যু ও জন্ম তারিখ এবং কর্মতৎপরতা খুঁজে পাবে। সুতরাং ভারতবাসী যদি এর মাধ্যমে তাদের লাইব্রেরি সজ্জিত করে, সুদানিরা যদি তাদের পাঠপিঠকে এর দ্বারা অলংকৃত করে, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই; যেমনটি ইয়েমেনি ব্যক্তি তার উচ্চ মর্যাদায়, এবং মিশরীয় ও শামি ব্যক্তিরা তাদের মহান গৌরব ও আগ্রহের সাথে এর থেকে উপকৃত হন।

এতে হিজাজিদের জীবনীর মধ্যে রয়েছে:

আলী বিন জাহির। আহমদ বিন আলাউয়ি জামালুল লাইল। আমিন রাদওয়ান। আবু যার।

--------------------------------------------

(১) উল্লিখিত কিতাবের ২৩১ পৃষ্ঠা দেখুন (লেখক)। "আমি বলি: এই কথাটি প্রমাণ করে যে, লুতফি জুমআ ‘আত-তারিফ বি-ইবনে খালদুন’ কিতাবটি দেখেননি।"