(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: -)
الحيل   (محمد المسعودي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الحيل

المؤلف: محمد المسعودي

الناشر: مطابع الجامعة الإسلامية

الطبعة: (السنة السابعة عشرة -العددان 71، 72) رجب-ذو الحجة 1406هـ.

عدد الصفحات: 164

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-হিয়াল   (মুহাম্মদ আল-মাসউদী)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: আল-হিয়াল

গ্রন্থকার: মুহাম্মদ আল-মাসউদী

প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি প্রেস

সংস্করণ: (সপ্তদশ বর্ষ - সংখ্যা ৭১، ৭২) রজব-জিলহজ ১৪০৬ হিজরি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ৯৭)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلوات الله وسلامه عليه، ورضي الله عن الصحابة والتابعين وعمن تبع نهجهم واقتفى أثرهم إلى يوم الدين.

أما بعد:

فإن الفقه درة الإسلام، وثروة أمة الإيمان، ولا يعرف قدره إلا أهله، وهو ذروة سنام العلوم، وتاج العلماء، من حصل عليه وعمل به فقد أخذ بحظي الدنيا والآخرة، وصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين " 1، وناهيك بقوله لابن عباس: " اللهم فقهه في الدين"2.

والفقه يحتوي على قواعد كلية ترد إليه جزئيات كثيرة من مسائل الفقه، ويحتوي على مسائل متناثرة، وبه من دقيق المسائل وعويصها ما يعرفه أهل الفقه والفضل، ولقد عنى به الفقهاء عناية فائقة ففتقوا مسائله، وخرجوها على أصول أصحابهم، وفرضوا فرضيات وقع بعضها، وسيقع البعض الآخر، لأن الحوادث لا تتناهى، نظراً لاتساع دائرة الحياة، وتمدن البشر، واتساع مداركهم واختراعاتهم.

ومن مسائل الفقه التي تعد من أدقه فهماً مسائل الحيل، لا أستبق الأحداث، ولكنني إن شاء الله سأسلط الضوء عليها بتوضيح غامضها، وكشف حقائقها.

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري جـ 9ص110.

2 صحيح البخاري جـ1ص42.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তাওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর অসংখ্য দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সাহাবী ও তাবেয়ীদের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন তাঁদের প্রতি।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ফিকহ হলো ইসলামের উজ্জ্বল রত্ন এবং ঈমানদার উম্মাহর অমূল্য সম্পদ। এর প্রকৃত মর্যাদা কেবল এর বিশেষজ্ঞরাই অনুধাবন করতে পারেন। এটি ইলমের উচ্চশিখর এবং ওলামায়ে কেরামের মুকুট। যে ব্যক্তি এটি অর্জন করল এবং সে অনুযায়ী আমল করল, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যের বিরাট অংশ লাভ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যই বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সম্যক জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন।" আর ইবনে আব্বাসের প্রতি তাঁর এই উক্তিই আপনার জন্য যথেষ্ট: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের সম্যক জ্ঞান (ফিকহ) দান করুন।"

ফিকহ এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতি ধারণ করে যার অধীনে ফিকহী মাসআলাসমূহের অসংখ্য খুটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি এমন কিছু বিক্ষিপ্ত মাসআলা এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা কেবল ফিকহ ও ফযীলতের অধিকারীরাই বুঝতে পারেন। ফকীহগণ এর প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ প্রদান করেছেন। তাঁরা এর মাসআলাসমূহকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের ইমামদের মূলনীতির (أصول) ওপর ভিত্তি করে সেগুলো উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা এমন কিছু অনুমাননির্ভর মাসআলাও বর্ণনা করেছেন যার কিছু বাস্তবে ঘটেছে এবং কিছু ভবিষ্যতে ঘটবে; কারণ জীবন পরিক্রমার বিস্তৃতি, মানুষের নগরায়ন এবং তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রসারের ফলে নিত্যনতুন ঘটনার কোনো শেষ নেই।

ফিকহী মাসআলাসমূহের মধ্যে সূক্ষ্মতম বুঝের দাবিদার বিষয়গুলোর অন্যতম হলো কৌশল বা 'হিলা' সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ। আমি কোনো অগ্রিম মন্তব্য করছি না, তবে ইনশাআল্লাহ আমি এর অস্পষ্টতা দূর করে এবং এর স্বরূপ উন্মোচন করে এর ওপর আলোকপাত করব।

--------------------------------------------

১ সহীহ বুখারী, ৯ম খণ্ড, ১১০ পৃষ্ঠা।

২ সহীহ বুখারী, ১ম খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ৯৮)
ولقد كانت البادرة الأولى أنني ألقيت جزءاً منها محاضرة في القاعة الكبرى بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وحصل مالم أتوقعه من الإقبال والحضور من طلبة العلم الذين زادوني همة وألحوا عليَّ بإكمال الجزء المتبقي من الحيل، حيث أشرت إلى الحيل المحظورة وصورها، وضاق وقت المحاضرة عن الحيل الجائزة وصورها.

ولما وجدت حرصهم ومتابعتهم لهذا الموضوع قررت الاستجابة، ولم يكن لي إلا أن أخوض غماره مرة أخرى بإكمال باقيه، وارتقاء مراميه، وأن أجلي غموضه، وأميط لثامه، وها أنا أبين طريقة عرضي لهذا الموضوع:

1- فندت هذا الموضوع وجعلته في مقدمة وتمهيد وسبعة فصول.

2- حاولت جاهدا أن أسهل أسلوب هذا الموضوع الشائك حتى يتيسر ويسهل تناوله لأكثر طلبة العلم.

3- دعمته بالاستدلال الكافي من الكتاب والسنة.

4- ضربت له الشواهد والأمثلة حتى يتضح المقال بالمثال ولم أشأ أن أجعله مستفيضاً في ضرب الأمثلة والشواهد طلبا للاختصار، وتحقيقاً لهدفي منه وهو الإبانة عن هذا الموضوع الشائق الشائك المبتكر إن كان المقصود بالابتكار إخراج عمل عصري جديد، لم يعمل بصفة الاستقلالية، ولم يفرد له بحث مستقل على هذا المنوال، من التوسط في المقال، مع إيفاء الموضوع حقه بالمثال، وإلا فالابتكار بمعنى عدم السبق في التأليف أمر يكاد يكون مستحيلا، فنحن خلف لسلف نقتدي لنهتدي، ونتبع ولا نبتدع، وما ترك الأول للآخر شيئاً، وقد قال الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً} 1.

وليست أمور الشرع جارية على ناموس العلوم الكونية من علوم الآلات وعلوم الطب والفيزياء والكيمياء والتجارب الحسية الخاضعة للابتكار والاختراع.

وأخيرا أرجو من إخواني إتحافي بملاحظاتهم القيمة فالمؤمن مرآة أخيه، وما كان من صواب في هذا البحث فمن الله، وما كان من خطأ فمني ومن الشيطان، وأستغفر الله لذنبي كله وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

--------------------------------------------

1 الآية 3 من سورة المائدة.
এর প্রথম পদক্ষেপটি ছিল যখন আমি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মিলনায়তনে এর একাংশ নিয়ে একটি বক্তৃতা প্রদান করেছিলাম। সেখানে দ্বীনি ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে এমন অভাবনীয় সাড়া ও উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছিল যা আমি কল্পনাও করিনি; এটি আমার মনোবল বাড়িয়ে দেয় এবং তারা ‘হিলা’ (কৌশল) বিষয়ক অবশিষ্ট অংশটুকু সম্পন্ন করার জন্য আমার নিকট বারবার দাবি জানায়। যেহেতু আমি সেখানে কেবল নিষিদ্ধ কৌশল ও তার স্বরূপসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, আর আলোচনার সময় সংকীর্ণ হওয়ার কারণে বৈধ কৌশল ও তার স্বরূপসমূহ বর্ণনা করা সম্ভব হয়নি।

যখন আমি এই বিষয়ের প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ ও একাগ্রতা লক্ষ্য করলাম, তখন আমি এতে সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার পক্ষে এই বিষয়ের গভীরে পুনরায় অবগাহন করে এর অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করা, এর লক্ষ্যসমূহকে সমুন্নত করা, এর অস্পষ্টতা দূর করা এবং এর রহস্য উন্মোচন করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। নিচে আমি এই বিষয়টি উপস্থাপনের পদ্ধতি বর্ণনা করছি:

১- আমি এই বিষয়টি বিন্যস্ত করেছি এবং একে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা ও সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।

২- আমি এই জটিল বিষয়ের উপস্থাপন শৈলীকে সহজসাধ্য করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি যাতে অধিকাংশ ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তা অনুধাবন করা সহজ হয়।

৩- আমি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে পর্যাপ্ত দলিলের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করেছি।

৪- আমি এর সপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) ও উদাহরণ পেশ করেছি যাতে উদাহরণের মাধ্যমে মূল বক্তব্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে সংক্ষেপণের স্বার্থে আমি উদাহরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) প্রদানের ক্ষেত্রে একে অতিবিস্তৃত (مستفيض) করতে চাইনি। আমার লক্ষ্য ছিল এই আকর্ষণীয় ও জটিল বিষয়ের এক অভিনব ব্যাখ্যা প্রদান করা—যদি অভিনবত্ব বলতে এমন কোনো আধুনিক কাজ উপস্থাপন করা বোঝায় যা ইতিপূর্বে এই পদ্ধতিতে স্বতন্ত্রভাবে সম্পাদিত হয়নি, যেখানে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের পাশাপাশি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়ের যথাযথ হক আদায় করা হয়েছে। নতুবা, ইতিপূর্বে কেউ রচনা করেননি—এই অর্থে নতুন উদ্ভাবন হওয়া প্রায় অসম্ভব। কেননা আমরা হলাম উত্তরসূরি যারা পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি যাতে আমরা সঠিক পথ পেতে পারি; আমরা তাঁদের অনুসরণ করি এবং নতুন কিছুর উদ্ভাবন করি না। আর পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীগণের জন্য বিশেষ কিছুই বাকি রেখে যাননি। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} ১।

আর শরিয়তের বিষয়াবলি জাগতিক বিজ্ঞানের নিয়মে চলে না—যেমন যন্ত্রবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যা নিত্য-নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের অধীন।

পরিশেষে আমি আমার ভাইদের নিকট তাদের মূল্যবান মতামতের প্রত্যাশা করছি, কেননা মুমিন হলো তার ভাইয়ের দর্পণ। এই গবেষণায় যা কিছু সঠিক হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আমার সকল গুনাহের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহর ৩ নং আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ৯৯)
‌‌تمهيد

الحمد لله الذي أنار عقول المؤمنين، وألزمهم كلمة التقوى وكانوا أحق بها وأهلها، والصلاة والسلام على سيد الأولين والآخرين، الذي أنار الله به دياجير الظلام وختم به دين الإسلام.

أما بعد:

فإن من أشد الضروريات التي طالب بها رب العزة والجلال، أن نعبده وحده ولانشرك به شيئا وبين توحيده في أفعاله وأفعال عباده وأسمائه وصفاته مما يجب الإيمان به والتسليم له.

ثم ألزمنا بمأمورات، ونهانا عن محظورات، وفرض لنا فرائض، وسنَّ لنا سنناً وبهذا تكامل العقد وانتظم وتجانس الدين وانسجم، وتمت كلمة ربك الحسنى وأصبح لدين الإسلام الطريقة المثلى في تحقيق الأمن والسعادة وما يحتاجه أي إنسان في حياته، وما ينجيه في دنياه وأخراه.

وهذه النعمة ألا وهي نعمة الإسلام، التي امتن الله بها علينا كما قال تعالى: {بَلِ الله يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 1 توجب علينا الشكر لمنعمها وتقتضي منا العمل على تطبيقها في سائر حياتنا، ثم حملها للناس دعوة وجهاداً في سبيل الله عز وجل.

ويوم كان الإسلام عزيز الجانب مهيب الصولة والجولة تفجرت ينابيع العلم وتدفقت مناهله، وهكذا سنة الله في الأرض، حتى العلم يقوى بقوة الإسلام ويضعف بضعفه.

لقد كان مصدر العلم ولا زال ولن يزال إن شاء الله إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وهما المنبعان الأساسيان الخالدان، ويليهما من مصادر وأصول التشريع الإجماع وهو راجع إليهما، ثم استصحاب الحال ودليل العقل، وهذه الأربعة متفق عليها.

وهناك أصول أربعة مختلف فيها وهي: شرع من قبلنا، إذا لم يصرح شرعنا بنسخه، والثاني قول الصحابي إذا لم يظهر له مخالف، والثالث الاستحسان، والرابع المصلحة المرسلة.

ومجمل القول أن مصادر التشريع وأدلة الأحكام إما أصلية، وهي الكتاب والسنة

--------------------------------------------

1 الآية رقم 17 من سورة الحجرات.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মুমিনদের বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিত করেছেন এবং তাদের ওপর তাকওয়ার বাণীকে অপরিহার্য করেছেন, আর তারাই এর অধিক হকদার ও উপযুক্ত ছিল। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতার ওপর, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ অন্ধকারের অমানিশা দূরীভূত করেছেন এবং যাঁর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে পূর্ণতা দিয়েছেন।

অতঃপর:

মহান রব্বুল ইজ্জত যেসকল বিষয়কে সর্বাধিক অপরিহার্য করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো আমরা যেন কেবল তাঁরই ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি। তিনি তাঁর কার্যাবলিতে, বান্দাদের কার্যাবলিতে এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে স্বীয় তাওহিদ (একত্ববাদ) সুস্পষ্ট করেছেন, যার ওপর ঈমান আনা এবং যার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা আবশ্যক।

এরপর তিনি আমাদের জন্য কিছু আদিষ্ট বিষয় (مأمورات) বাধ্যতামূলক করেছেন, কিছু নিষিদ্ধ বিষয় (محظورات) থেকে বারণ করেছেন, আমাদের জন্য কিছু ফরজ (فرائض) বিধান নির্ধারণ করেছেন এবং আমাদের জন্য কিছু সুন্নাহ পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। এর মাধ্যমেই দ্বীনের এই তামাদ্দুনিক কাঠামো পূর্ণতা পেয়েছে ও সুশৃঙ্খল হয়েছে এবং দ্বীন ভারসাম্যপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। এভাবে আপনার রবের উত্তম বাণী পূর্ণ হয়েছে এবং ইসলাম ধর্ম নিরাপত্তা ও সুখ অর্জনে এবং মানুষের জীবনের সকল প্রয়োজন পূরণে ও দুনিয়া-আখিরাতের নাজাত লাভে সর্বোত্তম পথ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

আর এই নেয়ামত তথা ইসলামের নেয়ামত, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ধন্য করেছেন—যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {বরং আল্লাহই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তোমাদের ঈমানের দিকে পরিচালিত করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো} ১—এই নেয়ামত দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব (واجب) করে দেয় এবং আমাদের সমগ্র জীবনে এর প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি রাখে। অতঃপর একে দাওয়াত ও আল্লাহর পথে জিহাদ হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

আর যেদিন ইসলাম ছিল প্রতাপশালী ও প্রভাবশালী, সেদিন ইলমের (জ্ঞানের) ঝরনাধারাগুলো উৎসারিত হয়েছিল এবং এর উৎসসমূহ ছিল প্রবাহমান। পৃথিবীতে আল্লাহর নিয়ম এমনই যে, ইসলামের শক্তির সাথে সাথে ইলম শক্তিশালী হয় এবং এর দুর্বলতার সাথে সাথে ইলমও দুর্বল হয়ে পড়ে।

জ্ঞানের উৎস ছিল, আছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে—তা হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ। এ দুটিই হলো মৌলিক ও চিরন্তন উৎস। এরপর শরয়ি বিধানের উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে ইজমা (الإجماع), যা মূলত এই কিতাব ও সুন্নাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। এরপর রয়েছে ইসতিসহাবুল হাল (استصحاب الحال) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল; এই চারটি উৎসের ওপর সকলে একমত।

আর এমন চারটি উৎস রয়েছে যেগুলোতে দ্বিমত রয়েছে, সেগুলো হলো: আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের শরিয়ত—যদি তা আমাদের শরিয়তে রহিত (نسخ) করার বিষয়টি স্পষ্ট না থাকে, দ্বিতীয়টি হলো সাহাবীর বক্তব্য—যদি তার কোনো প্রকাশ্য বিরোধিতাকারী না থাকে, তৃতীয়টি হলো ইসতিহসান (الاستحسان), এবং চতুর্থটি হলো মাসলাহা মুরসালা (المصلحة المرسلة)।

সারকথা হলো, শরিয়তের উৎস এবং আহকামের দলিলসমূহ হয় মৌলিক—যা হলো কিতাব ও সুন্নাহ

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত নম্বর ১৭।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০০)
والإجماع، وإما تابعة وهي: استصحاب الحال ودليل العقل وقلنا إنه تابع لأنه إبقاء لما كان على ما كان من الإثبات أو النفي، ط والقياس، وشرع من قبلنا إذا لم يصرح شرعنا بنسخه، وقول الصحابي إذا لم يظهر له مخالف، والاستحسان، والمصلحة المر سلة وسد الذرائع. والعرف؛ وسنعطي لمحة موجزة عن هذه الأدلة أصلية كانت أو تبعية تمهيدا للدخول في صلب الموضوع الذي نريده لأن عليها يبني الفقيه فقهه ويلجأ إليها عند حدوث الوقائع والمشكلات فأقول وبالله التوفيق:

المصدر الأول: وهو القرآن الكريم: كلام الله تعالى المعجز في لفظه ومعناه الذي نزل به جبريل الأمين على قلب سيد الأولين والآخرين صلى الله عليه وسلم بلسان عربي مبين وهو مابين دفتي المصحف المنقول إلينا نقلا متواترا لا زيادة فيه ولا نقصان {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ الله حَدِيثاً} 1 {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 2 وهذا القرآن هو أساس الدين ومصدر التشريع وحجة الله البالغة في كل عصر ومصر، تلقاه عنه أصحابه رضوان الله عليهم، تلاوة له، وحفظاً ودراسة لمعانيه، وعملا بما فيه.

قال أبو عبد الرحمن السلمي: " حدثنا الذين كانوا يقرؤوننا القرآن عثمان بن عفان وعبد الله بن مسعود وغيرهما أنهم كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عَشر آيات لا يتجاوزونها حتى يتعلموها وما فيها من العلم والعمل جميعاً " وهكذا استمر نقله وحفظ المسلمين له جيلا بعد جيل من غير تحريف أو تبديل.

المصدر الثاني: السنة المطهرة وهي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير وهذا تقسيم لها من حيث ذاتها أو من حيث هي.

وأما أقسامها من حيث الرواية فهي على قسمين:

1- الحديث المتصل وهو ما اتصل سنده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يسقط أحد رواته.

2- الحديث الغير متصل وهو ما أسقط منه راو فأكثر ويسمى في اصطلاح الأصوليين بالمرسل سواء سقط منه الصحابي أو غير الصحابي، وأما في اصطلاح المحدثين فالمرسل ما سقط منه الصحابي فقط، وأما ما سقط منه غير الصحابي فيسمونه المنقطع.

وأما الحديث المتصل فهو على ضربين:

أحدهما: الحديث المتواتر وهو الذي يرويه جمع عن جمع يستحيل عادة تواطؤهم على الكذب، وذلك من أول السند إلى منتهاه.

--------------------------------------------

1 الآية رقم 87 من سورة النساء.

2 الآية رقم 9 من سورة الحجر.
এবং ইজমা (ঐক্যমত), আর দ্বিতীয়টি হলো অনুগামী উৎস, যা হলো: ইসতিসহাবুল হাল (পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা) এবং আকলি দলিল (বিবেকের প্রমাণ); আর আমরা একে অনুগামী বলেছি কারণ এটি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে যা ছিল তা সেভাবেই বহাল রাখার নামান্তর। আর কিয়াস (সাদৃশ্যমূলক অনুমান), আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের শরিয়ত যতক্ষণ না আমাদের শরিয়ত তা রহিত করার ঘোষণা দেয়, সাহাবীর বক্তব্য যতক্ষণ না তার কোনো বিরোধী মত প্রকাশ পায়, ইসতিহসান (পছন্দ করা), মাসলাহাত মুরসালাহ (জনকল্যাণ) এবং সাদ্দুদ যারায়ে (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা) ও উরফ (প্রথা)। আমরা এই মূল বা অনুগামী দলীলসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করব, যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মূল আলোচনায় প্রবেশের ভূমিকা স্বরূপ হবে; কেননা এর ওপর ভিত্তি করেই ফকিহ তার ফিকহ গঠন করেন এবং বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যা তৈরি হলে এগুলোর আশ্রয় নেন। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি:

প্রথম উৎস: আর তা হলো পবিত্র কুরআন। যা আল্লাহর বাণী, এর শব্দ ও অর্থ অলৌকিক, যা বিশ্বস্ত জিবরাঈল (আ.) পূর্বাপর সকলের সরদার (সা.)-এর হৃদয়ে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। এটি মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী অংশ, যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছেছে, যাতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস নেই। {আর আল্লাহর চেয়ে সত্যভাষী আর কে আছে?} ১ {নিশ্চয় আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।} ২ আর এই কুরআনই হলো ধর্মের মূল ভিত্তি, শরিয়তের উৎস এবং প্রতিটি যুগে ও জনপদে আল্লাহর চূড়ান্ত দলিল। সাহাবীগণ (রা.) তাঁর নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছেন—এর তেলাওয়াত, হিফজ, অর্থ অধ্যয়ন এবং এতে যা আছে তদানুযায়ী আমলের মাধ্যমে।

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী বলেন: "যারা আমাদের কুরআন পাঠ করাতেন—যেমন উসমান বিন আফফান, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ এবং অন্যান্যগণ (রা.)—তারা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তারা যখন নবী (সা.)-এর কাছ থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তারা তা অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না তারা সেই আয়াতগুলো এবং তার অন্তর্গত ইলম ও আমল উভয়টি শিখে নিতেন।" এভাবে কোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মুসলিমদের মাধ্যমে এর বর্ণনা ও সংরক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

দ্বিতীয় উৎস: সুন্নাহ মুতাহহারাহ (পবিত্র সুন্নাহ)। আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি (تقرير)। এটি এর সত্তাগত বা প্রকৃত দিক থেকে এর শ্রেণিবিভাগ।

বর্ণনার দিক থেকে এর প্রকারভেদ মূলত দুটি:

1- সংযুক্ত (متصل) হাদিস: এটি হলো সেই হাদিস যার সনদ (সূত্র) রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কেউ বাদ পড়েনি।

2- অসংযুক্ত হাদিস: এটি হলো সেই হাদিস যার সূত্র থেকে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন। উসুলবিদদের পরিভাষায় একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) বলা হয়, চাই বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে সাহাবী বাদ পড়ুক বা অন্য কেউ। তবে মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় বিচ্ছিন্ন (مرسل) হলো সেই হাদিস যেখান থেকে শুধুমাত্র সাহাবী বাদ পড়েছেন। আর সাহাবী ছাড়া অন্য কেউ বাদ পড়লে তারা একে বিচ্ছিন্ন (منقطع) নামে অভিহিত করেন।

আর সংযুক্ত (متصل) হাদিস দুই প্রকার:

প্রথমটি হলো: নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) হাদিস। এটি হলো এমন হাদিস যা একদল বর্ণনাকারী অপর একদল থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের সংখ্যাগত আধিক্যের কারণে মিথ্যা বলার ওপর একমত হওয়া স্বভাবত অসম্ভব; আর এটি সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ধারায় হতে হবে।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত নং ৮৭।

২ সূরা আল-হিজর, আয়াত নং ৯।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০১)
مثل حديث " إنما الأعمال بالنيات " وحديث " من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار".

ثانيهما: حديث الآحاد أو خبر الواحد، وهو الذي يرويه واحد أو اثنان من أول السند إلى منتهاه، فرواته لا يبلغون حد التواتر في الطبقات الثلاث، أعني طبقة الصحابة وطبقة التابعين وطبقة تابعي التابعين وإن بلغوا حد التواتر فيما بعد، لأن السنة قد دونت بعد عصر تابعي التابعين وأصبحت الأخبار معلومة بهذا التدوين.

وغالب الأحاديث الواردة من هذا الباب، وزاد الحنفية ضرباً ثالثاً وهو المشهور وهو فوق خبر الآحاد ودون المتواتر وهو الذي لم يبلغ رواته عن الرسول صلى الله عليه وسلم حد التواتر ولكنهم يبلغونه فيما بعد فإذا روى الحديث عن الرسول صلى الله عليه وسلم أحد أو اثنان من الصحابة ثم رواه عنهم جمع من التابعين يمتنع اتفاقهم على الكذب وهكذا حتى نهاية السند في عصر التدوين، فهذا الحديث يسمى مشهورا عند الحنفية والمعول عليه في الشهرة هو الطبقة الثانية أو الثالثة من الرواة أي التابعون أو تابعوا التابعين.

وليس المقام مقام التفصيل في كل من الأنواع المتقدمة وشروط العمل بها ومدى حجتها فمكانه في مظانه أن علمي الحديث والأصول ولكنه الإجمال وبيان العناية التي أولتها هذه الأمة الإسلامية هذه السنة المطهرة حيث حفظوها وكتبوها ورواها كل عن الآخر حتى جاء بعضها متواتراً باللفظ والمعنى أو بالمعنى فقط متصلا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا من خصائص ومزايا وكمال هذه الشريعة وحدها فنقل الثقة عن الثقة يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم مع الاتصال خصَّ الله به المسلمين دون سائر الملل1.

ثالثها: وأما الإجماع لغةً فهو الاتفاق والعزم وفي اصطلاح الأصوليين: اتفاق مجتهدي العصر من أمة محمد صلى الله عليه وسلم، بعد وفاته على أمر من أمور الدين.

فقد انقطع التشريع والوحي بوفاة النبي صلى الله عليه وسلم واتسعت رقعة الدولة الإسلامية وجدت حوادث ونوازل لم تكن من قبل أملتها الظروف التي نحياها والاتصالات بالأمم الأخرى وما هم عليه من عادات وتقاليد فاقتضى ذلك أن يجتهد الصحابة فمن بعدهم في تلك الوقائع فإن اتفقوا على أمر منها عدَّ ذلك إجماعاً وإن اختلفوا فذلك هو غالب الأحكام ولكل مجتهد نصيب2.

--------------------------------------------

1 انظر مقدمة ابن الصلاح بكاملها.

2 روضة الناظر ص67.
যেমন "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিস এবং "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" হাদিস।

দ্বিতীয় প্রকার: আহাদ হাদিস (حديث الآحاد) বা খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد); এটি এমন হাদিস যা সনদের (السند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন বা দুইজন বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা তিন স্তরে নিরবচ্ছিন্নতার সীমায় (حد التواتر) পৌঁছান না; আমি বলতে চাচ্ছি সাহাবি (الصحابة) স্তর, তাবেয়ি (التابعين) স্তর এবং তাবে-তাবেয়ি (تابعي التابعين) স্তর। যদিও তাঁরা পরবর্তীকালে নিরবচ্ছিন্নতার সীমায় (حد التواتر) পৌঁছেছেন, কারণ তাবে-তাবেয়িদের যুগের পর সুন্নাহ সংকলিত (دونت) হয়েছিল এবং এই সংকলনের (التدوين) মাধ্যমে সংবাদগুলো সুপরিচিত হয়ে গিয়েছিল।

এই অধ্যায়ে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসই এই প্রকারের। তবে হানাফিগণ একটি তৃতীয় প্রকার যোগ করেছেন যা হলো মাশহুর (المشهور)। এটি খবরে ওয়াহিদের (خبر الآحاد) ঊর্ধ্বে এবং মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসের নিচে। এটি এমন হাদিস যার বর্ণনাকারীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নতার সীমায় (حد التواتر) পৌঁছাননি, তবে পরবর্তীতে তাঁরা সেই সীমায় পৌঁছেছেন। সুতরাং যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এক বা দুইজন সাহাবি (الصحابة) হাদিস বর্ণনা করেন, অতঃপর তাঁদের থেকে একদল তাবেয়ি (التابعين) তা বর্ণনা করেন যাঁদের পক্ষে মিথ্যার (الكذب) ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব এবং সংকলনের (التدوين) যুগ পর্যন্ত সনদের (السند) শেষ অব্দি এভাবেই চলতে থাকে, তবে হানাফিদের নিকট এই হাদিসকে মাশহুর (المشهور) বলা হয়। মাশহুর হওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরই নির্ভরযোগ্য, অর্থাৎ তাবেয়ি (التابعين) অথবা তাবে-তাবেয়ি (تابعي التابعين)।

উল্লিখিত প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত বিবরণ, সেগুলো পালনের শর্তাবলি এবং সেগুলোর প্রামাণিকতার পরিধি আলোচনার স্থান এটি নয়; বরং এর উপযুক্ত স্থান হলো হাদিস শাস্ত্র এবং উসুল (الأصول) শাস্ত্রের মূল গ্রন্থসমূহ। তবে এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম এবং এই মুসলিম উম্মাহ পবিত্র সুন্নাহর প্রতি যে বিশেষ যত্ন প্রদান করেছেন তার বর্ণনা, যেখানে তাঁরা এটি সংরক্ষণ করেছেন, লিপিবদ্ধ করেছেন এবং একে অন্যের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। এমনকি এর কিছু অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً) সূত্রে শব্দে ও অর্থে মুতাওয়াতির (متواتراً باللفظ والمعنى) হিসেবে অথবা কেবল অর্থগতভাবে (بالمعنى) মুতাওয়াতির হিসেবে পৌঁছেছে। এটি কেবল এই শরিয়তেরই অনন্য বৈশিষ্ট্য, মর্যাদা এবং পূর্ণতা। একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে অন্য একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর নিকট থেকে সনদের নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বর্ণনা পৌঁছে দেওয়া এমন একটি বিষয়, যা আল্লাহ তাআলা অন্যান্য জাতি বাদ দিয়ে কেবল মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন ১।

তৃতীয় প্রকার: আর ইজমা (الإجماع) আভিধানিকভাবে (لغةً) হলো ঐকমত্য ও সংকল্প। উসুলবিদদের (الأصوليين) পরিভাষায় (اصطلاحاً): নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর কোনো এক যুগের তাঁর উম্মতের মুজতাহিদগণের (مجتهدي) দ্বীনি কোনো বিষয়ের ওপর একমত হওয়া।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর বিধান প্রণয়ন (التشريع) এবং ওহি (الوحي) আসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এমন অনেক নতুন ঘটনা (حوادث) এবং উদ্ভূত সমস্যার (نوازل) উদ্ভব হয়েছে যা আগে ছিল না; যা আমাদের বর্তমান জীবনধারা এবং অন্যান্য জাতির সাথে যোগাযোগ ও তাদের আচার-আচরণ ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাহাবি এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেসব ঘটনার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করার (يجتهد) প্রয়োজন দেখা দেয়। যদি তাঁরা কোনো বিষয়ে একমত হতেন, তবে তাকে ইজমা (إجماعاً) হিসেবে গণ্য করা হতো। আর যদি তাঁরা মতভেদ করতেন, তবে অধিকাংশ বিধানের ক্ষেত্রে তা-ই হয়ে থাকে এবং প্রত্যেক মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য রয়েছে নিজস্ব প্রতিদান ২।

--------------------------------------------

১ ইবনে সালাহর মুকাদ্দিমা সম্পূর্ণটি দেখুন।

২ রওদাতুন নাজির, পৃষ্ঠা ৬৭।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০২)
رابعها: وأما استصحاب الحال ودليل العقل فمعناه إبقاء ما كان على ما كان حتى يقوم الدليل الذي يغيره.

فإذا ثبت حكم معين في الزمن الماضي فإنه يظل ثابتاً حتى يقوم دليل عليه بنفيه وإذا انتفى هذا الحكم بقي منفياً حتى يقوم دليل على ثبوته.

واستصحاب الحال أربعة أنواع:

1- النفي الأصلي أو براءة ذمة.

2- استصحاب الدليل مالم يرد مغير.

3- استصحاب الحكم مالم يرد مغير.

4- استصحاب حال الإجماع إلى مسألة موضع خلاف.

فمثال الأول: وهو براءة الذمة أو النفي الأصلي أن الإنسان مباح له أن يفعل كل شيء حتى يأتي الرسل ويحصل التبليغ، والعقل دليل للنفي، والأحكام الشرعية تدرك بالسمع.

ومثال النوع الثاني: وهو استصحاب دليل الشرع مالم يرد المغير فكاستصحاب العموم إلى أن يرد تخصيص واستصحاب النص إلى أن يرد النسخ.

ومثال النوع الثالث: وهو استصحاب الحكم مالم يرد مغير كاستصحاب الملك الثابت حتى يأتي المغير بالدفع، وشغل الذمة بالاتلاف حتى يأتي الإبراء.

ومثال النوع الرابع: وهو استصحاب حال الإجماع إلى مسألة موضع خلاف أن يقول في المتيمم إذا رأى الماء في أثناء الصلاة: الإجماع منعقد على صحة صلاته ودوامها فنحن نستصحب ذلك حتى يأتي دليل يزيلنا عنه.

وهذا النوع ليس بحجة في قول الأكثرية، لأن الإجماع في المثال السابق إنما دل على دوام الصلاة حال العدم. فأما مع الوجود في أثناء الصلاة فهو مختلف فيه ولا إجماع مع الاختلاف لأن حقيقة الإجماع الاتفاق ولا اتفاق هنا1.

خامسها: القياس وقد عرفه علماء الأصول بأنه إلحاق فرع بأصل لعلة جامعة بينهما في الحكم كإلحاق الأرز بالبر في الحكم وهو تحريم الربا لجامع الكيل أو الطعم أو الاقتيات والادخار وإلحاق النبيذ بالخمر في التحريم لجامع الإسكار.

--------------------------------------------

1 روضة الناظر ص79-80.
চতুর্থত: আর পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা (استصحاب الحال) এবং আকলি দলিল বা বিবেকের প্রমাণের অর্থ হলো, যা যেভাবে ছিল তাকে সেভাবেই বহাল রাখা যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা তাকে পরিবর্তন করে।

সুতরাং যখন অতীত সময়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধান প্রমাণিত হয়, তখন সেটি ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত থাকে যতক্ষণ না সেটি নাকচ করার বিষয়ে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার যদি কোনো বিধান অনুপস্থিত থাকে, তবে সেটি ততক্ষণ পর্যন্ত অনুপস্থিত হিসেবেই গণ্য হয় যতক্ষণ না সেটি সাব্যস্ত হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল আসে।

আর পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা (استصحاب الحال) চার প্রকার:

১- মৌলিক অস্বীকৃতি (النفي الأصلي) বা দায়মুক্তি (براءة ذمة)।

২- দলিলের অনুবৃত্তি (استصحاب الدليل) যতক্ষণ না কোনো পরিবর্তনকারী দলিল আসে।

৩- বিধানের অনুবৃত্তি (استصحاب الحكم) যতক্ষণ না কোনো পরিবর্তনকারী দলিল আসে।

৪- মতভেদের বিষয়েও ইজমার অবস্থার অনুবৃত্তি (استصحاب حال الإجماع)।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো দায়মুক্তি (براءة ذمة) বা মৌলিক অস্বীকৃতি (النفي الأصلي); তা হলো রাসুলগণের আগমন এবং দাওয়াত পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত মানুষের জন্য সবকিছু করা বৈধ (مباح)। এক্ষেত্রে বিবেক হলো অস্বীকৃতির দলিল, আর শরিয়তের বিধানসমূহ শ্রুতির (নকলি দলিলের) মাধ্যমে অনুধাবন করা হয়।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো শরিয়তের দলিলের অনুবৃত্তি (استصحاب الدليل) যতক্ষণ না কোনো পরিবর্তনকারী দলিল আসে। যেমন কোনো ব্যাপকতা (العموم)-কে বহাল রাখা যতক্ষণ না তা সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করার দলিল আসে এবং কোনো নস (النص)-কে বহাল রাখা যতক্ষণ না রহিতকরণ (النسخ) আসে।

তৃতীয় প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো বিধানের অনুবৃত্তি (استصحاب الحكم) যতক্ষণ না কোনো পরিবর্তনকারী দলিল আসে। যেমন কোনো সাব্যস্ত মালিকানাকে বহাল রাখা যতক্ষণ না তা হাতছাড়া হওয়ার মতো কোনো পরিবর্তনকারী আসে, অথবা কোনো কিছু নষ্ট করার কারণে জিম্মাদার বা দায়বদ্ধ থাকাকে বহাল রাখা যতক্ষণ না দায়মুক্তি লাভ হয়।

চতুর্থ প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো মতভেদের ক্ষেত্রেও ইজমার অবস্থার অনুবৃত্তি (استصحاب حال الإجماع)। যেমন তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি যদি নামাজের মাঝখানে পানি দেখতে পায়, তবে বলা হয়: তার নামাজ সহিহ হওয়া এবং তা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং আমরা সেটিকে অনুবৃত্তি করব যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল আসে যা আমাদের তা থেকে ফিরিয়ে নেয়।

আর এই প্রকারটি অধিকাংশ আলিমের মতে দলিল (حجة) নয়। কারণ পূর্বোক্ত উদাহরণে ইজমা (الإجماع) কেবল পানির অনুপস্থিতকালীন অবস্থায় নামাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ দেয়। কিন্তু নামাজের মধ্যে পানি পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি মতভেদপূর্ণ, আর মতভেদের উপস্থিতিতে কোনো ইজমা (الإجماع) থাকে না। কেননা ইজমার প্রকৃত অর্থ হলো ঐক্য (الاتفاق), আর এখানে কোনো ঐক্য নেই।

পঞ্চমত: কিয়াস বা তুলনা (القياس)। উসুলবিদগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, কোনো বিধানের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে অভিন্ন কারণ বা ইল্লত (علة)-এর ভিত্তিতে একটি শাখাকে (فرع) তার মূলের (أصل) সাথে যুক্ত করা। যেমন বিধানের ক্ষেত্রে চালকে গমের সাথে যুক্ত করা, আর তা হলো পরিমাপযোগ্য হওয়া বা স্বাদ অথবা খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণযোগ্য হওয়ার অভিন্ন কারণের ভিত্তিতে সুদ হারাম (تحريم الربا) হওয়া। এবং নেশা সৃষ্টির অভিন্ন কারণের ভিত্তিতে নাবিযকে মদের সাথে হারামের অন্তর্ভুক্ত করা।

--------------------------------------------

১ রওজাতুন নাজির, পৃ. ৭৯-৮০।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৩)
ومن أدلة جوازه قوله تعالى: {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الأَبْصَارِ} 1، وقوله صلى الله عليه وسلم للخثعمية: " أرأيت لو كان على أبيك دين أكنت قاضيته قالت نعم قال فدين الله أحق بالقضاء " 2.

وللقياس مباحث جليلة تراجع في مظانها من كتب الأصول.

سادسها: شرع من قبلنا إذا لم يصرح شرعنا بنسخه وهو من الأصول المختلف فيها وقد حصل الإتفاق على أن ما أمرنا الله باتباعه من هذه الأحكام في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم فإنه يكون ملزماً لنا لا بطريق الشرائع السابقة بل بالنص الوارد في شريعتنا، مثاله شرعية الصوم قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 3.

كما حصل اتفاق الأصوليين أيضاً على أن ما نهانا عن اتباعه مما في الشرائع السابقة لا يجوز لنا اتباعه، لأن النهي عنه يعد نسخاً صريحاً بالاتفاق، ولا يجوز العمل بالمنسوخ، مثاله حل الأطعمة التي كانت محرمة على اليهود لهذه الأمة المحمدية قال تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلا مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ} 4.

وأما الأحكام التي ورد ذكرها في القرآن الكريم أو السنة المطهرة دون أن نؤمر باتباعها أو ننهى عنها فهذا هو مثار النزاع ومحط الخلاف بين علماء الأصول، وهذا ما أحيل القارىء الكريم عليه بكتب الأصول5.

سابعها: قول الصحابي إذا لم يظهر له مخالف: وهو من الأصول المختلف فيها أيضاً فقد ذهب مالك والشافعي في القديم وبعض الحنفية والراجح عند الحنابلة إلى أنه حجة يقدم على القياس ويخصص به العموم وقال الشافعي في الجديد وأبو الخطاب من الحنابلة وعامة المتكلمين أنه ليس بحجة ولكل وجهة6.

ثامنها: الاستحسان وللعلماء في الأخذ بالإستحسان وتفسيره أقوال ليس هذا مجالها، والصحيح من أقوالهم أنه لا يراد به الاستحسان العقلي المجرد من الدليل، وإنما المراد

--------------------------------------------

1 الآية 2 من سورة الحشر.

2 روضة الناظر ص145.

3 سورة البقرة آية 183.

4 الانعام آية 146.

5 أصول البزدوي مبحث النسخ، المغني في أصول الفقه للخبازي، المعتمد لأبي الحسين البصري، شرح البدخشي، أصول الشاشي كلها في مباحث النسخ.

6 روضة الناظر ص84.
এর বৈধতার সপক্ষে অন্যতম দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব হে চক্ষুষ্মানগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো} ১, এবং খাসআমীয়া গোত্রের মহিলার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই উক্তি: "তুমি কি মনে করো, যদি তোমার পিতার ওপর কোনো ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা তো অধিকতর হকদার।" ২.

কিয়াসের (القياس) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে, যা উসুল সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ থেকে দেখে নেয়া যেতে পারে।

ষষ্ঠ: আমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের শরীয়ত (شرع من قبلنا), যদি আমাদের শরীয়ত তা রহিত (النسخ) করার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দেয়। এটি মতভেদপূর্ণ নীতিসমূহের (الأصول المختلف فيها) অন্যতম। তবে এই বিষয়ে ঐক্যমত (الإتفاق) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যবানীতে এসব বিধানের মধ্য থেকে আমাদের যা অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য অপরিহার্য। তবে তা পূর্ববর্তী শরীয়ত হওয়ার কারণে নয়, বরং আমাদের শরীয়তের বর্ণিত ভাষ্যের (النص) কারণে। এর উদাহরণ হলো রোজার বিধান, আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৩.

অনুরূপভাবে উসুলবিদগণের (الأصوليين) মাঝে এ বিষয়েও ঐক্যমত (الإتفاق) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের যেসব বিষয় অনুসরণে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তা আমাদের জন্য অনুসরণ করা বৈধ নয়। কারণ এর নিষেধাজ্ঞা সর্বসম্মতিক্রমে স্পষ্ট রহিতকরণ (النسخ) হিসেবে গণ্য হবে, আর রহিত (المنسوخ) বিষয়ের ওপর আমল করা বৈধ নয়। এর উদাহরণ হলো ইহুদিদের জন্য যা হারাম ছিল এমন খাবারসমূহ এই উম্মতে মুহাম্মাদীয়ার জন্য হালাল হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা ইহুদি হয়েছে, তাদের ওপর আমি নখরবিশিষ্ট সব জন্তু হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে আমি তাদের ওপর ওই দুটোর চর্বি হারাম করেছিলাম, তবে যা ওই দুটোর পিঠে বা অন্ত্রে থাকে অথবা যা হাড়ের সাথে মিশে থাকে তা ছাড়া} ৪.

তবে যেসব বিধান কুরআনুল কারীম বা পবিত্র সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, অথচ আমাদের সেগুলো অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়নি আবার নিষেধও করা হয়নি, সেগুলোই উসুল শাস্ত্রের আলেমগণের মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত এবং মতভেদের (الخلاف) মূল কেন্দ্রবিন্দু। আর এ বিষয়ে আমি সম্মানিত পাঠককে উসুল সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করছি ৫।

সপ্তম: সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي), যখন তাঁর কোনো বিরোধী মত প্রকাশ পায় না। এটিও মতভেদপূর্ণ নীতিসমূহের (الأصول المختلف فيها) অন্তর্ভুক্ত। ইমাম মালিক, শাফেয়ী তাঁর পূর্ববর্তী (القديم) মতানুসারে, কিছু হানাফী এবং হাম্বলী মাযহাবের অগ্রগণ্য (الراجح) মত অনুসারে এটি দলিল (حجة), যা কিয়াসের (القياس) ওপর প্রাধান্য পায় এবং এর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থবোধক (العموم) বিষয়কে বিশেষায়িত (يخصص) করা হয়। আর ইমাম শাফেয়ী তাঁর পরবর্তী (الجديد) মতে, হাম্বলীদের মধ্যে আবুল খাত্তাব এবং অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ (المتكلمين) মনে করেন যে, এটি দলিল (حجة) নয়। আর প্রত্যেকেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ৬।

অষ্টম: ইসতিহসান (الاستحسان)। ইসতিহসান গ্রহণ করা এবং এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আলেমগণের বিভিন্ন অভিমত রয়েছে যা এখানে আলোচনার সুযোগ নেই। তাদের উক্তিগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) হলো, এর দ্বারা দলিলবিহীন কেবল নিছক বুদ্ধিপ্রসূত পছন্দ উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো...

--------------------------------------------

১ সূরা হাশরের ২ নং আয়াত।

২ রওজাতুন নাজির, পৃষ্ঠা ১৪৫।

৩ সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াত।

৪ সূরা আনআমের ১৪৬ নং আয়াত।

৫ উসুলুল বাজদাওয়ী-এর রহিতকরণ (النسخ) অধ্যায়, খাব্বাজীর আল-মুগনী ফী উসুলিল ফিকহ, আবুল হুসাইন বসরীর আল-মুতামাদ, শারহুল বাদখশী, উসুলুশ শাশী; এ সকল গ্রন্থের রহিতকরণ (النسخ) অধ্যায়সমূহ।

৬ রওজাতুন নাজির, পৃষ্ঠা ৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৪)
به العدول بحكم مسألة عن نظائرها لدليل شرعي خاص فيكون هذا بمثابة تخصيص الدليل بدليل أقوى في نظر المجتهد.

ومن أمثلة ذلك:

1- أن يتيمم فاقد الماء لكل صلاة استحسانا والقياس أن التراب بمنزلة الماء فلا يتيمم حتى يحدث.

2- ومنه مسألة ما يسمى بالاستصناع وذلك كأن تتعاقد مثلا مع شخص على بناء بيت أو صنع سيارة أو حياكة ثوب، فالمعقود عليه معدوم وقت العقد ولا يصح بيع الشيء المعدوم فكان القياس عدم جواز هذا العقد، ولكنهم أجازوه استحساناً لتيسير المعاملات وجرى عرف الأمة على التعامل به1.

تاسعها: المصلحة المرسلة: ونصوص الشريعة العامة تدل عليها كقوله تعالى: {يُرِيدُ الله بِكُمُ الْيُسْرَ} 2 {مَا يُرِيدُ الله لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ} 3.

والمصلحة المرسلة هي جلب منفعة أو دفع مضرة لم يشهد لها الشرع بإبطال ولا باعتبار معين، ومثلوا لذلك بجمع القرآن في عهد أبي بكر، عندما استشرى القتل في القراء بعد وقعة اليمامة، ومثلوا كذلك بتترس الكفار بجماعة من أسرى المسلمين، فإننا لو رميناهم قتلنا مسلماً معصوماً وهذا لا عهد به في الشرع، ولو تركناهم تسلطوا على سائر المسلمين بالغلبة فقتلوهم ولاشك أن حفظ جميع المسلمين أقرب إلى مقصود الشارع وإن أدى إلى قتل القلة من المسلمين الأسارى فهذه مصلحة ضرورية ليس لها أصل معين في نص أو قياس.

وقد قسم الأصوليون المصلحة إلى ثلاثة أقسام:

1- مصلحة ضرورية وهي ما لابد منها في مصالح الدين والدنيا وهي على خمسة أضرب، حفظ الدين، وحفظ النفس، وحفظ النسل، وحفظ المال، وحفظ العقل.

2- مصلحة حاجية وهي ما احتاج إليها المكلفون مع عدم الضرورة الملجئة إليها بل من باب رفع الحرج والمشقة ومن أمثلتها الرخص التي شرعت في باب العبادات كقصرِ الصلاة، والفطر في السفر، وفي العادات إباحة ما زاد على الضرورة من اقتناء الطيبات مأكلاً ومشرباً وملبساً ومركباً، وفي المعاملات بالقراض والمساقاة والسلم،

--------------------------------------------

1 نظرية المصلحة للدكتورحسين حامد حسان في مباحث الاستحسان عند الأئمة الأربعة، وروضة الناظرص83.

2 الآية 185 من سورة البقرة.

3 الآية 6 من سورة المائدة.
এর মাধ্যমে একজন মুজতাহিদ (مجتهد) কোনো বিশেষ শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে একটি বিষয়ের বিধানকে তার অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ের বিধান থেকে সরিয়ে আনেন। ফলে এটি মুজতাহিদের দৃষ্টিতে একটি দলিলকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলিল দ্বারা সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করার সমতুল্য হয়।

এর কিছু উদাহরণ হলো:

১- পানি না পাওয়া ব্যক্তি ইস্তইহসান (استحسان) বা প্রশংসিত বিবেচনার ভিত্তিতে প্রত্যেক সালাতের জন্য তায়াম্মুম করবে। অথচ কিয়াস (قياس) বা যুক্তিগত অনুমানের দাবি হলো, মাটি পানির স্থলাভিষিক্ত, তাই ওযু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত সে পুনরায় তায়াম্মুম করবে না।

২- এর অন্তর্ভুক্ত হলো ফরমায়েশি পণ্য উৎপাদন (الاستصناع) সংক্রান্ত মাসআলা। যেমন—আপনি কোনো ব্যক্তির সাথে একটি বাড়ি তৈরি, গাড়ি নির্মাণ বা কাপড় সেলাইয়ের চুক্তি করলেন। চুক্তির সময় চুক্তিকৃত বস্তুটি অবিদ্যমান (معدوم), আর কোনো অবিদ্যমান (معدوم) বস্তুর বিক্রয় সঠিক নয়। কিয়াস (قياس) অনুযায়ী এই চুক্তি নাজায়েজ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু লেনদেন সহজ করার লক্ষ্যে ইস্তইহসান (استحسان) বা উত্তম বিবেচনার ভিত্তিতে ফুকাহাগণ একে বৈধ বলেছেন এবং উম্মতের মাঝে এর প্রচলন রয়েছে।১

নবম প্রকার: জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة): শরয়ি সাধারণ মূল পাঠসমূহ (نصوص) এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান} ২ এবং {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য আরোপ করতে চান না} ৩।

জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) হলো এমন কোনো উপকার লাভ করা বা ক্ষতি দূর করা যার ব্যাপারে শরয়ি কোনো সুনির্দিষ্ট বাতিলের প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট বিবেচনার (اعتبار) দলিল নেই। এর উদাহরণ হিসেবে আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের কথা উল্লেখ করা হয়, যখন ইয়ামামার যুদ্ধের পর হাফেজদের শাহাদাত ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। অনুরূপভাবে কাফেররা মুসলিম যুদ্ধবন্দীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলে, যদি আমরা তাদের লক্ষ্য করে তীর ছুড়ি তবে একজন নিষ্পাপ (معصوم) মুসলিমকে হত্যা করা হবে যার কোনো নজির শরয়ি বিধানে নেই; আবার যদি তাদের ছেড়ে দিই তবে তারা অন্যান্য মুসলিমদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে তাদের হত্যা করবে। নিঃসন্দেহে গুটিকতক মুসলিম যুদ্ধবন্দী নিহত হলেও সকল মুসলিমকে রক্ষা করা শারিয়াহ প্রণেতার উদ্দেশ্যের অধিক নিকটবর্তী। এটি এমন এক অপরিহার্য কল্যাণ যার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নস (نص) বা কিয়াস (قياس) নেই।

উসুলবিদগণ (الأصوليون) কল্যাণকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন:

১- অপরিহার্য কল্যাণ (مصلحة ضرورية): যা দ্বীন ও দুনিয়ার স্বার্থে একান্ত আবশ্যক। এটি পাঁচ প্রকার: দ্বীন রক্ষা, জীবন রক্ষা, বংশ রক্ষা, সম্পদ রক্ষা এবং বিবেক রক্ষা।

২- প্রয়োজনীয় কল্যাণ (مصلحة حاجية): যার প্রতি মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিরা (المكلفون) মুখাপেক্ষী, যদিও তা জীবন-মরণ সংকটের পর্যায়ের নয়; বরং এটি সংকীর্ণতা ও কষ্ট দূর করার অন্তর্ভুক্ত। এর উদাহরণ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রবর্তিত ছাড়সমূহ (رخصة), যেমন সালাত কসর করা, সফরে সিয়াম ভঙ্গ করা; আর সাধারণ অভ্যাসের ক্ষেত্রে জীবন ধারণের অতিরিক্ত উত্তম খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও বাহন ব্যবহারের অনুমতি; এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে কিরাদ, মুসাকাত ও আগাম ক্রয় (السلم) চুক্তির বৈধতা।

--------------------------------------------

১. ড. হুসাইন হামিদ হাসান প্রণীত ‘নাজরিয়াতুল মাসলাহা’ (চার ইমামের নিকট ইস্তইহসানের আলোচনা অধ্যায়) এবং রওদাতুন নাজির, পৃষ্ঠা ৮৩।

২. সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াত।

৩. সূরা মায়িদার ৬ নং আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৫)
وفي الجنايات بالحكم باللوث وتحميل الدية على العاقلة.

3- مصالحة تحسينية وتسمى أيضاً كمالية وهي مانزلت عن حد الحاجة وعُدَّ تحصيلها من باب محاسن الأخلاق وكريم العادات.

ومثالها أخذ الزينة في الصلاة والتقرب إلى الله بنوافل الطاعات1.

عاشراً: سد الذرائع وسنفرد لها كلاماً مستقلاً وشرحاً مختصراً في موضوعنا " الحيل " للعلاقة الوثيقة بينهما.

الحادي عشر: العرف وهو دليل من أدلة الشرع حيث لا يوجد النص، أو يصادمه ما هو أقوى منه من أدلة الأحكام الأخرى.

والمراد بالعرف ما تعارف الناس عليه واعتادوه ولذلك قيل " العادة محكمة "، وذلك كما لو حلف لا يدخل بيتاً فإنه لا يحنث بدخول المسجد لأنه وإن سُمي بيتاً في اللغة فإنه لا يسمى بيتاً في العرف وكذلك لو حلف لا يأكل لحماً لا يحنث بأكل السمك والخلاصة أن ما تعارف الناس عليه من أوجه المعاملات والتصرفات يحكم بصحته طالما أنه لم يخالف دليلاً شرعياً معتبراً2.

هذه هي أصول الأحكام وأدلة الشرع التي يبنى عليها الفقيه فقهه، ويلجأ إليها عند وقوع الحوادث والمشكلات وحيث إن موضوع الحيل من أدق الموضوعات، ويتطلب من أراد أن يبحر في عبابه أن يجيد فيه السباحة، وأن يكون من ربانه؛ لذلك كان لزاماً عليَّ أن أعطي هذه المقدمة الضافية المختصرة في الأدلة الشرعية لتعين المطلع على هذا الموضوع فهي أدوات لفهمه، ووسيلة لإيضاح غموضه، ولعلي ألقي الضوء على جانب من جوانب الفقه، جانب حارت فيه العقول وتباينت فيه الأفهام ما بين مجيز له ومانع، هذا الجانب هو جانب الحيل في الشريعة الإسلامية كما أرجو أن أوفق في موضوع شائق شائك تكبدت مصاعبه ومتاعبه لأجلي غموضه وأميط لثامه، ولأجل العلاقة الوطيدة بنا الحيل وسد الذرائع والاشتباه الحاصل بينهما في كثير من المواضع أحببت أن أبين بياناً مختصراً شافياً يزال فيه الالتباس وتتضح به أوجه الافتراق وأوجه الاجتماع بين هاتين القاعدتين قاعدة الحيل وقاعدة سد الذرائع فلنشرع في المقصود بعد بذل المجهود سائلين العون من المعبود.

--------------------------------------------

1 نظرية المصلحة د/ حسين حامد، وروضة الناظرص86، شفاء الغليل ص211.

2 الأشباه والنظائر للسيوطى ص89-101.
এবং ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে 'লাউস' (اللوث) -এর বিধান প্রয়োগ এবং 'আকিলা' (العاقلة) বা রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের ওপর রক্তপণ (الدية) আদায়ের দায়ভার ন্যস্ত করার মাধ্যমে।

৩- তাহসিনিয়াহ (তথা সৌন্দর্যমন্ডিত) জনকল্যাণ (مصالحة تحسينية): একে পরিপূরক (كمالية) জনকল্যাণও বলা হয়। এটি এমন বিষয় যা মৌলিক প্রয়োজনের (الحاجة) স্তরের নিচে এবং যা অর্জন করাকে সচ্চরিত্র ও উন্নত রীতিনীতির অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়।

এর উদাহরণ হলো—সালাতের সময় সৌন্দর্য গ্রহণ (শালীন পোশাক পরিধান) করা এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।১

দশম: সদ্দুদ যারাঈ (سد الذرائع) বা অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা; আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় ‘হিলা’ (الحيل) বা কৌশলের সাথে এর গভীর সম্পর্ক থাকার কারণে আমরা এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব।

একাদশ: উরফ (العرف) বা প্রথা; এটি শরিয়তের দলিলসমূহের (أدلة الشرع) অন্তর্ভুক্ত একটি দলিল ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ (সংশ্লিষ্ট বিষয়ে) কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (النص) না থাকে অথবা যখন এর বিপরীতে অন্য কোনো শক্তিশালী শরিয়তি দলিল না থাকে।

‘উরফ’ বলতে সেই বিষয়কে বোঝায় যা মানুষ নিজেদের মধ্যে পারস্পরিকভাবে নির্ধারণ করেছে এবং যাতে অভ্যস্ত হয়েছে। এই লক্ষ্যেই বলা হয়েছে: “প্রথা বা অভ্যাস বিচার্য বিষয় (العادة محكمة)”। উদাহরণস্বরূপ: কেউ যদি শপথ করে যে সে কোনো ‘ঘরে’ প্রবেশ করবে না, তবে মসজিদে প্রবেশের কারণে তার শপথ ভঙ্গ হবে না। কারণ, আভিধানিক অর্থে মসজিদকে ঘর বলা হলেও প্রথাগত (العرف) অর্থে একে ঘর বলা হয় না। অনুরূপভাবে কেউ যদি শপথ করে যে সে ‘মাংস’ খাবে না, তবে মাছ খাওয়ার দ্বারা তার শপথ ভঙ্গ হবে না। সারকথা হলো—মানুষের লেনদেন ও আচরণের ক্ষেত্রে যা কিছু প্রথা হিসেবে স্বীকৃত, তার শুদ্ধতার ফয়সালা দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তা কোনো গ্রহণযোগ্য শরিয়তি দলিলের (دليلاً شرعياً) পরিপন্থী না হয়।২

এগুলো হলো আহকামের মূলনীতি (أصول الأحكام) এবং শরিয়তের দলিল (أدلة الشرع) যার ওপর ভিত্তি করে একজন ফকিহ তার ফিকহ শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং কোনো ঘটনা বা সমস্যার উদ্ভব হলে এগুলোরই আশ্রয় নেন। যেহেতু ‘হিলা’ বা কৌশল-সংক্রান্ত আলোচনাটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এ বিষয়ে পারদর্শী হতে হলে এর বিশাল জ্ঞানসমুদ্রে দক্ষ ডুবুরি ও নাবিক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাই পাঠককে এই বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করার জন্য শরিয়তের দলিলসমূহের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিস্তারিত ভূমিকা দেওয়া আমার জন্য আবশ্যক ছিল। মূলত এগুলো হলো বিষয়টি বোঝার উপকরণ এবং এর অস্পষ্টতা দূর করার মাধ্যম। আমি ফিকহ শাস্ত্রের এমন একটি দিকের ওপর আলোকপাত করতে চাই, যেখানে মানুষের বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়েছে এবং এর বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে চিন্তাধারায় ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। আর এই বিষয়টি হলো ইসলামি শরিয়তে ‘হিলা’ (الحيل) বা কৌশল। আমি আশা করি এই আকর্ষণীয় অথচ জটিল বিষয়টি—যার অস্পষ্টতা দূর করতে আমি অনেক কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করেছি—তা সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব। যেহেতু অনেক ক্ষেত্রে ‘হিলা’ এবং ‘সদ্দুদ যারাঈ’ (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা)-এর মধ্যে গভীর সম্পর্ক ও সাদৃশ্য বিদ্যমান, তাই আমি এই দুই মূলনীতি তথা ‘হিলা’ এবং ‘সদ্দুদ যারাঈ’ (سد الذرائع)-এর মধ্যে পার্থক্য ও সাদৃশ্যের দিকগুলো সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে চেয়েছি যেন সংশয় দূর হয়। সুতরাং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং যথাসাধ্য চেষ্টার পর আমরা মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করছি।

--------------------------------------------

১ ড. হুসাইন হামিদ কৃত নাজারিইয়াতুল মাসলাহাহ, রওদাতুন নাজির পৃষ্ঠা ৮৬, শিফাউল গালিল পৃষ্ঠা ২১১।

২ সুয়ুতি কৃত আল-আশবাত ওয়ান নাজাঈর পৃষ্ঠা ৮৯-১০১।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৬)
سد الذرائع:

الذريعة لغة هي الوسيلة إلى الشيء، والجمع الذرائع قال ابن منظور: الذريعة جمل يختل به الصيد يمشى الصياد إلى جنبه فيستتر به ويرمي الصيد إذا أمكنه1.

وأما شرعاً فهي الشيء الذي أصله الحل لكنه يفضي إلى المحرم أو ما استخدم كوسيلة للمحرم.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: " الذريعة ما كان وسيلة وطريقاً إلى الشيء لكن صارت في عرف الفقهاء عبارة عما أفضت إلى فعل محرم ولو تجردت عن ذلك الإفضاء لم يكن لها مفسدة "2.

الفرق بين الذريعة والحيلة:

الذريعة والحيلة قد تجتمعان وقد تفترقان، فالحيلة تجتمع مع الذريعة عند القصد وكل منهما تفترق عن الأخرى فيما عدا ذلك؛ فالذرائع والحيل قاعدتان متشابهتان، والكلام فيهما متداخل ولأجل هذا التداخل نلاحظ أن من كتب عنهما كابن تيمية وابن االقيم يتكلم عن أحدهما أثناء الكلام على الأخرى ويستدل لأحدهما بأدلة الأخرى فابن تيمية مثلاً اعتبر الذريعة إن كان إِفضاؤها إلى المحرم بقصد فاعلها من باب الحيل، وعلى تقسيمه توجد ذريعة ليست حيلة وحيلة ليست ذريعة، وذريعة هي حيلة، قال رحمه الله فصارت الأقسام ثلاثة:

1- ما هو ذريعة وهو مما يحتال به كالجمع بين البيع والسلف، وكشراء البائع السلعة من مشتريها بأقل ثمن تارة وبأكثر أخرى، وكالاعتياض في ثمن الربوي بربوي لا يباع بالأول نسأ، وكقرض بني آدم.

2- ما هو ذريعة لا يحتال بها كسب الأوثان فإنه ذريعة إلى سب الله تعالى وكذلك سب الرجل والد غيره فإنه ذريعة إلى أن يسب والده وأن هذا لا يقصدهما مؤمن.

3- ما يحتال به من المباحات في الأصل كبيع النصاب في أثناء الحول فراراً من الزكاة وكإغلاء الثمن لإسقاط الشفعة3.

وابن القيم والشاطبي تحدثا عن المقاصد ثم عرضا لسد الذرائع ومنها إلى الحيل لأن الأمور بمقاصدها والذريعة والحيلة يرتبطان بالقصد4.

--------------------------------------------

1 لسان العرب جـ 1ص 5 106.

2 الفتاوى الكبرى جـ3 ص 256.

3 الفتاوى الكبرى جـ3 ص 257.

4 انظر: إعلام الموقعين المجلد الثالث والرابع في مسائل العبرة في العقود بالمقاصد والنيات وسد الذرائع والحيل، وانظر: الموافقات الجزء الثاني كتاب المقاصد.
সদুদ জারাঈ (سد الذرائع):

আভিধানিক দৃষ্টিতে (لغة) মাধ্যম বা অসীলা (الذريعة) বলতে কোনো কিছুর উপায়কে বোঝায়, যার বহুবচন হলো জারাঈ (الذرائع)। ইবনে মানযুর বলেন: 'জারিআহ' হলো এমন উট যার আড়ালে শিকারি লুকিয়ে থাকে এবং শিকারের পাশে হেঁটে যায়, অতঃপর সেটির মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করে সুযোগমতো শিকারের দিকে তীর নিক্ষেপ করে।১

শরয়ি (شرعاً) পরিভাষায় এটি এমন বিষয় যা মূলত বৈধ (الحل), কিন্তু তা হারামের (المحرم) দিকে ধাবিত করে অথবা যা হারামের (المحرم) মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "জারিআহ (الذريعة) হলো এমন বিষয় যা কোনো কিছুর মাধ্যম ও পথ হিসেবে কাজ করে। তবে ফকিহদের পরিভাষায় এটি এমন বিষয়কে বোঝায় যা কোনো নিষিদ্ধ (محرم) কাজের দিকে নিয়ে যায়। যদি সেই পথে ধাবিত করার বিষয়টি না থাকত, তবে তাতে কোনো অনিষ্ট (مفسدة) থাকত না।"২

জারিআহ (الذريعة) ও হিলা (الحيلة)-র মধ্যে পার্থক্য:

জারিআহ ও হিলা কখনো একত্রিত হয় আবার কখনো পৃথক হয়। উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে হিলা ও জারিআহ একত্রিত হয়, আর অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা একে অপরের থেকে পৃথক। জারিআহ এবং হিলা সদৃশ দুটি মূলনীতি, এবং এ দুটির আলোচনা পরস্পরের সাথে সংশ্লিষ্ট। এই সংশ্লিষ্টতার কারণে আমরা লক্ষ্য করি যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিমের মতো যারা এ বিষয়ে লিখেছেন, তারা একটির আলোচনা করতে গিয়ে অন্যটির অবতারণা করেছেন এবং একটির প্রমাণ হিসেবে অন্যটির দলিল পেশ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে তাইমিয়্যাহ জারিআহকে তখন হিলা (الحيل) হিসেবে গণ্য করেছেন যখন সম্পাদনকারীর উদ্দেশ্য থাকে হারামে (المحرم) পৌঁছানো। তাঁর এই বিভাজন অনুযায়ী, এমন জারিআহ রয়েছে যা হিলা নয়, এমন হিলা রয়েছে যা জারিআহ নয়, আবার এমনও আছে যা একই সাথে জারিআহ ও হিলা। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এর তিনটি প্রকার রয়েছে:

১- যা একই সাথে জারিআহ (ذريعة) এবং যা দ্বারা হিলা (الحيلة) করা হয়। যেমন: ক্রয়-বিক্রয় ও ঋণকে একত্রে জমা করা; বিক্রেতা কর্তৃক ক্রেতার কাছ থেকে কোনো পণ্য কখনো কম মূল্যে আবার কখনো বেশি মূল্যে পুনরায় ক্রয় করা; সুদি পণ্যের বিনিময়ে অন্য কোনো সুদি পণ্য গ্রহণ করা যা বাকিতে বিক্রয় করা হয় না; এবং মানুষের সাধারণ ঋণ।

২- যা জারিআহ (ذريعة) কিন্তু যা দ্বারা হিলা (الحيلة) করা হয় না। যেমন: মূর্তিকে গালি দেওয়া; কারণ এটি মহান আল্লাহকে গালি দেওয়ার মাধ্যম (ذريعة) হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে অন্যের পিতাকে গালি দেওয়া, যা নিজের পিতাকে গালি দেওয়ার মাধ্যমে (ذريعة) পরিণত হয়। কোনো মুমিনই এই দুটি বিষয়ের সংকল্প করে না।

৩- যা মূলত বৈধ (المباحات) কাজ কিন্তু তার মাধ্যমে হিলা (الحيلة) করা হয়। যেমন: যাকাত থেকে পলায়ন করার জন্য বছর পূর্ণ হওয়ার মাঝপথে নিসাব পরিমাণ সম্পদ বিক্রি করে দেওয়া; অথবা শুফআ (অগ্রক্রয়াধিকার) বাতিল করার জন্য পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া।৩

ইবনুল কাইয়্যিম ও শাতবি মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) নিয়ে আলোচনার সময় 'সদুদ জারাঈ' (سد الذرائع) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং সেখান থেকে হিলা (الحيل) প্রসঙ্গে এসেছেন। কারণ সমস্ত বিষয়ই তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল, আর জারিআহ ও হিলা উভয়ই উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত।৪

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৫, ১০৬।

২ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৬।

৩ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৭।

৪ দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ৩য় ও ৪র্থ খণ্ড, চুক্তি ও ইবাদতে উদ্দেশ্য ও নিয়ত এবং সদুদ জারাঈ ও হিলা সংক্রান্ত আলোচনা; আরও দেখুন: আল-মুয়াফাকাত, ২য় খণ্ড, কিতাবুল মাকাসিদ।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৭)
أما شواهد قاعدة سد الذرائع فأكثر من أن تحصى ومنها:

1- قوله تعالى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ الله فَيَسُبُّوا الله عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ} 1.

دلت هذه الآية على عدم سب آلهة المشركين مع أن سبها قربة لكن لما كانت وسيلة إلى سب الله منعوا من ذلك.

2- قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 2ووجه الدلالة أن الله نهى المؤمنين أن يقولوا راعنا قصدهم الخير، لكن لما كان اليهود يقصدون فاعلاً من الرعونة سد باب هذه الكلمة إلى غيرها مما لا يحتمل غير المراد.

هذه شواهد من الكتاب، وأما السنة فمنها:

1) ما رواه البخاري عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن من أكبر الكبائر أن يلعن الرجل والديه؛ فقيل: يا رسول الله وكيف يلعن الرجل والديه؟ قال: يسب الرجل أبا الرجل فيسب أباه ويسب أمه فيسب أمه 3.

2) ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يكف عن قتل المنافقين خشية أن يقول الناس إن محمداً يقتل أصحابه4.

3) أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بناء المساجد على القبور، ولعن من فعل ذلك، وأمر بتسويتها ونهى عن الصلاة إليها أو عندها، وعن إيقاد المصابيح عليها وما ذلك إلا لئلا تكون ذريعة إلى الشرك فيعبد أصحابها من دون الله5.

والشواهد كثيرة على قاعدة سد الذرائع وإنما القصد البيان والاختصار، وقد ضرب شيخ الإسلام ابن تيميه ثلاثين مثالاً، واستشهد لها ابن القيم بتسعة وتسعين دليلاً6.

وبالجملة فقاعدة سد الذرائع ربع الشريعة كما قال غير واحد من الأئمة؛ وذلك لأن المحرمات قسمان: مفاسد وذرائع موصلة إليها، وكذلك القربات نوعان: مصالح وذرائع موصلة إليها فصار سد الذرائع المفضية إلى الحرام ربع الدين.

--------------------------------------------

1 الآية 108 من سورة الأنعام.

2 الآية 104 من سورة البقرة.

3 صحيح البخاري جـ8 ص 3.

4 صحيح البخاري جـ4 ص 192، صحيح مسلم جـ8 ص 19.

5 صحيح البخاري جـ2 ص98.

6 الفتاوى الكبرى جـ3 ص258-264، إعلام الموقعين جـ3 ص 137-159.
'সাদদুয যারাই' (سد الذرائع) বা অশুভ পথ রুদ্ধকরণ নীতির প্রমাণসমূহ অসংখ্য, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ الله فَيَسُبُّوا الله عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ} ১।

এই আয়াতটি মুশরিকদের উপাস্যদের গালি না দেওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে, যদিও সেগুলোকে গালি দেওয়া একটি পুণ্যকর্ম (قربة); কিন্তু যেহেতু তা আল্লাহকে গালি দেওয়ার একটি মাধ্যম (وسيلة) হয়ে দাঁড়ায়, তাই মুমিনদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

২- মহান আল্লাহর বাণী: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ২। এর প্রমাণের দিকটি হলো, আল্লাহ মুমিনদের 'রায়িনা' বলতে নিষেধ করেছেন যদিও তাদের উদ্দেশ্য ছিল কল্যাণকর। কিন্তু যেহেতু ইয়াহুদীরা এটি দ্বারা 'রউনা' (মূর্খতা) শব্দজাত একটি মন্দ অর্থ গ্রহণ করত, তাই এই শব্দের পথ রুদ্ধ করে এমন অন্য শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যার দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো মন্দ অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা নেই।

এগুলো হলো কিতাবুল্লাহ বা কুরআন থেকে প্রাপ্ত কিছু প্রমাণ, আর সুন্নাহ বা হাদিস থেকে কিছু প্রমাণ হলো:

১) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির নিজ পিতামাতাকে অভিশাপ দেওয়া কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! একজন মানুষ কীভাবে তার পিতামাতাকে অভিশাপ দিতে পারে? তিনি বললেন: "সে অন্য কোনো ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, বিনিময়ে ঐ ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেয়। সে অন্যের মাকে গালি দেয়, ফলে ঐ ব্যক্তিও তার মাকে গালি দেয়।" ৩।

২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুনাফিকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকতেন এই ভয়ে যে, পাছে মানুষ বলে— মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে। ৪।

৩) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন এবং যারা তা করে তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি কবর সমান করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কবরের দিকে মুখ করে বা কবরের পাশে সালাত আদায় করতে এবং কবরের ওপর বাতি জ্বালাতে নিষেধ করেছেন। এসবই করা হয়েছে যাতে তা শিরকের মাধ্যম (ذريعة) না হয়ে দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে ছেড়ে কবরে শায়িত ব্যক্তিদের ইবাদত করা না হয়। ৫।

'সাদদুয যারাই' (سد الذرائع) নীতির সপক্ষে প্রমাণ অনেক, এখানে শুধুমাত্র বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং সংক্ষেপ করাই উদ্দেশ্য। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এর ত্রিশটি উদাহরণ দিয়েছেন এবং ইবনুল কাইয়্যিম এর সপক্ষে নিরানব্বইটি দলীল (دليل) পেশ করেছেন। ৬।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, 'সাদদুয যারাই' (سد الذرائع) নীতিটি শরীয়তের এক-চতুর্থাংশ, যেমনটি একাধিক ইমাম বলেছেন। কারণ হারাম বিষয়সমূহ দুই প্রকার: ফাসাদ বা অনিষ্ট (مفاسد) এবং যা অনিষ্টের দিকে নিয়ে যায় এমন মাধ্যম (ذرائع)। অনুরূপভাবে পুণ্যকর্মসমূহও (القربات) দুই প্রকার: জনকল্যাণমূলক বিষয় (مصالح) এবং যা কল্যাণের দিকে নিয়ে যায় এমন মাধ্যম। ফলে হারামের দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমগুলোর পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع) দ্বীনের এক-চতুর্থাংশ সাব্যস্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১০৮।

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১০৪।

৩ সহীহ বুখারি, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩।

৪ সহীহ বুখারি, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯২; সহীহ মুসলিম, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯।

৫ সহীহ বুখারি, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৮।

৬ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৮-২৬৪; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৭-১৫৯।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌الفصل الأول: تعريف الحيل

قال ابن منظور: " الحول: الحيلة والقوة، قال ابن سيده: الحوْلُ والحيْلُ والحَوِلُ والحِيَلَةُ والحَويلُ والمحَالةُ والاحْتِيال والتَّحوُّل والتحيُّل كل ذلك: الحِذقُ وجودة النظر، والقدرة على دقة التصَرف، والحِيَل والحِوَل جمع حيلة، ورجل حُوَل وحُوَلَة مثل هُمَزَة، وحُولة وحُوَّل وحَوَاليّ وحُواليّ وحَوَلْوَل: مُحْتال شديد الاحتيال "1.

وقال الجرجاني: "الحيلة اسم من الاحتيال وهي التي تحَوِّل المرء عما يكرهه إلى ما يحبه"2.

وقال الجوهري: "الحيلة بالكسر والاسم الاحتيال وهو من الواو وكذلك الحَيْلُ والحَولُ يقال: لا حيل ولا قوة لغة فى حول"، قال الفراء: "هو أحْيلُ منك أي أكثر حيلة- وما أحْيلَهُ لغة في ما أحْوَلَهُ"، قال أبو زيد: "يقال ماله حِيلَةٌ ولا مَحَالَةٌ ولا احْتِيالٌ ولا مِحالٌ بمعنى واحد-".

وقال أبو البقاء: "الحيلة من التحول لأن بها يتحول فاعلها من حال إلى حال بنوع تدبير ولطف يحيل به الشيء عن ظاهره"3.

وقال الراغب الأصفهاني في غريب القرآن: "والحيلة ما يتوصل بها إلى حالة ما في خفية وكذا الحويلة وأكثر استعماها فيما في تعاطيه خبث وقد تستعمل فيما فيه حكمة، وهذا قيل في وصف الله عز وجل: {وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ} (الرعد: من الآية13) أي الوصول في خفية إلى الناس إلى ما فيه حكمه وعلى هذا النحو وصف بالمكر والكيد لا على وجه المذموم تعالى الله عن القبيح".

ومما تقدم علم أن الحيلة قد تكون مصدر بمعنى الاحتيال.

وقد تكون اسماً لما به الاحتيال.

--------------------------------------------

1 لسان العرب جـ 1 ص 759.

2 التعريفات للجرجاني ص 94.

3 الصحاح للجوهري جـ 4 ص 1681-1682.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: কৌশল (الحيلة)-এর সংজ্ঞা

ইবনে মানজুর বলেছেন: "আল-হাওল (الحول) হলো: কৌশল (الحيلة) ও শক্তি। ইবনে সিদাহ বলেছেন: আল-হাওল (الحول), আল-হাইল (الحيل), আল-হাওয়িল (الحول), কৌশল (الحيلة), আল-হাওয়িল (الحويل), আল-মাহালাহ (المحالة), চতুরতা (الاحتيال), রূপান্তর (التحول) এবং কৌশল অবলম্বন (التحيل) - এই সবগুলোর অর্থ হলো: দক্ষতা, বিচক্ষণতা এবং নিপুণভাবে কার্য পরিচালনার সক্ষমতা। আল-হিয়াল (الحيل) ও আল-হিওয়াল (الحول) হলো হিলাহ (حيلة) শব্দের বহুবচন। আর 'হুওয়াল' (حول) ও 'হুওয়ালাহ' (حولة) ব্যক্তি—যেমন 'হুমাজাহ' (همزة) শব্দটির গঠন—এবং 'হুলাহ' (حولة), 'হুউওয়াল' (حول), 'হাওয়ালি' (حوالي), 'হুওয়ালি' (حوالي) ও 'হাওয়ালওয়াল' (حولول) বলতে অত্যন্ত ধূর্ত ও কৌশলী ব্যক্তিকে বোঝায়।"১

আল-জুরজানি বলেছেন: "কৌশল (الحيلة) হলো 'ইহতিয়াল' (الاحتيال) থেকে গৃহীত একটি বিশেষ্য (اسم), যা মানুষকে তার অপছন্দনীয় অবস্থা থেকে পছন্দনীয় অবস্থার দিকে পরিবর্তন করে দেয়।"২

আল-জাওহারি বলেছেন: "কৌশল (الحيلة) শব্দটি নিচে কাসরা যোগে গঠিত এবং এটি 'ইহতিয়াল' (الاحتيال) এর বিশেষ্য (اسم), যা 'ওয়াও' (و) বর্ণ থেকে উদ্ভূত। অনুরূপভাবে 'হাইল' (الحيل) ও 'হাওল' (حول) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে: 'লা হাইলা ওয়ালা কুওয়াতা' (لا حيل ولا قوة), যা 'হাওল' (حول) শব্দেরই একটি ভাষাগত রূপ।" আল-ফাররা বলেছেন: "সে তোমার চেয়ে অধিক কৌশলী (أحيل منك), অর্থাৎ তার কৌশল (حيلة) অধিক। আর 'মা আহয়ালাহু' (ما أحيله) হলো 'মা আহওয়ালাহু' (ما أحوله) এর একটি ভাষাগত রূপ।" আবু জায়েদ বলেন: "বলা হয়—তার কোনো উপায় নেই, কোনো কৌশল নেই এবং কোনো চতুরতা নেই; এখানে 'হিলাহ' (حيلة), 'মাহালাহ' (محالة), 'ইহতিয়াল' (احتيال) এবং 'মিহাল' (محال) একই অর্থ প্রকাশ করে।"

আবু আল-বাকা বলেছেন: "কৌশল (الحيلة) শব্দটি রূপান্তর (التحول) থেকে এসেছে; কারণ এর মাধ্যমে এর ব্যবহারকারী এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয় এমন এক প্রকার ব্যবস্থাপনা ও সূক্ষ্ম কৌশলের মাধ্যমে, যা দ্বারা সে কোনো বিষয়কে তার বাহ্যিক রূপ থেকে পরিবর্তন করে দেয়।"৩

রাগেব আল-আসফাহানি 'গারিব আল-কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: "কৌশল (الحيلة) হলো এমন মাধ্যম যার দ্বারা গোপনে কোনো বিশেষ অবস্থায় পৌঁছানো যায়। 'হুইলাহ' (الحويلة) শব্দটিও অনুরূপ। এর অধিকাংশ ব্যবহার মন্দ বা কুটিল কার্যের ক্ষেত্রে হলেও কখনো কখনো তা প্রজ্ঞাপূর্ণ (حكمة) কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। একারণেই মহান আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনায় বলা হয়েছে: {আর তিনি মহাশক্তিশালী কৌশলী (شَدِيدُ الْمِحَالِ)} (আর-রাদ: ১৩-এর অংশ), অর্থাৎ মানুষের অলক্ষ্যে তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞা অনুযায়ী তাদের কাছে পৌঁছানো। এই অর্থেই মকর (المكر) ও কাইদ (الكيد) শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, যা এখানে নিন্দনীয় অর্থে নয়; মহান আল্লাহ সকল কদর্যতা থেকে পবিত্র।"

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, কৌশল (الحيلة) শব্দটি কখনো ক্রিয়া বিশেষ্য (مصدر) হিসেবে চতুরতা (الاحتيال) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আবার কখনো এটি কৌশল অবলম্বনের উপকরণের নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৫৯।

২ আত- তারিফাত লিল জুরজানি, পৃষ্ঠা ৯৪।

৩ আস-সিহাহ লিল জাওহারি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬৮১-১৬৮২।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১০৯)
‌‌الفصل الثاني: إطلاقات الحيلة

تطلق الحيلة على عدة معان نوجزها فيما يأتي:

1) تطلق الحيلة ويراد بها الحذق وجودة النظر والقدرة على التصرف، لأن فاعلها يتحول بها من حال إلى، وكل من حاول الوصول إلى أمر أو الخلاص منه فيما يحاول به حيلة يتوصل بها إليه، وهي بهذا المعنى لا تشعر بمدح ولا ذم ولا تتقيد بخفاء أو ظهور في وسيلتها أو غايتها.

قال ابن القيم في إعلام الموقعين: " إن مباشرة الأسباب حيلة على حصول مسبباتها فالأكل والشرب واللبس والسفر حيلة على المقصود منه، والعقود الشرعية واجبها ومستحبها ومباحها كلها حيل على حصول المقصود عليه، والأسباب المحرمة كلها حيل على حصول مقاصدها منها "1.

2) ثم غلب إطلاقها في العرف اللغوي على ما يكون من الطرق الخفية التي يتوصل

بها إلى بلوغ المراد بحيث لا يفطن لها إلا بنوع من الذكاء، وإلى هذا المعنى أشار الراغب الأصفهاني: "والحيلة ما يتوصل به إلى حالة ما في خفية".

وهذا الاستعمال أخص من وصفها في أصل اللغة فقد اشترط فيها الخفاء هنا في حين لم يشترط في الإطلاق الأول خفاءً أو ظهوراً.

3) وتطلق الحيلة على الطرق الخفية التي يتوصل بها إلى الغرض المذموم شرعاً أو عقلاً أو عادة، وإلى هذا المعنى أشار الراغب الأصفهاني فقال: وأكثر استعمالها فيما في تعاطيه خبث.

وهذا الإطلاق هو الغالب عليها في عرف الناس أيضاً فإنهم يقولون فلان من أرباب الحيل، ولا تعاملوه فإنه محتال، وفلان يعلم الناس الحيل، ولا يريدون بها إلا المعنى المذموم.

4) تطلق الحيلة في عرف الفقهاء والمحدثين غالباً على الحيل المذمومة شرعاً وهى الطرق والوسائل الخفية التي تستحل بها المحارم وتسقط بها الواجبات ظاهراً، وكل حيلة تتضمن إسقاط حق لله تعالى أو أو لآدمي فهي من هذا القبيل، كحيل اليهود التي من أجلها لعنهم الله تعالى.

--------------------------------------------

1 إعلام الموقعين جـ3 ص 241.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিইলাহ (حيلة)-এর প্রয়োগসমূহ

‘হিইলাহ’ (حيلة) শব্দটি বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করছি:

১) ‘হিইলাহ’ শব্দটি কখনও নিপুণতা, প্রখর দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতার সাথে কোনো কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর প্রয়োগকারী এর মাধ্যমে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। যে ব্যক্তি কোনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় অথবা কোনো বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চায়, সে এর জন্য যে উপায় অবলম্বন করে তা-ই একটি হিইলাহ বা কৌশল যার দ্বারা সে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এই অর্থে শব্দটি কোনো প্রশংসা বা নিন্দার অর্থ বহন করে না এবং এর উপায় বা উদ্দেশ্য গোপন হওয়া কিংবা প্রকাশ্য হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ নয়।

ইবনুল কাইয়্যিম ইলামুল মুওয়াক্কিইন গ্রন্থে বলেন: "প্রকৃতপক্ষে উপকরণসমূহের প্রত্যক্ষ প্রয়োগ হলো তার ফলাফল লাভের একটি কৌশল। সুতরাং আহার, পানীয়, পরিধেয় এবং সফর হলো এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা অর্জনের একটি কৌশল। তদ্রূপ শরয়ী চুক্তিসমূহ—তা ওয়াজিব (واجب), মুস্তাহাব (مستحب) কিংবা মুবাহ (مباح) যাই হোক না কেন—সবই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যম বা কৌশল। এমনকি হারাম (حرام) উপায়গুলোও এর দ্বারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কৌশল হিসেবে গণ্য।"১

২) অতঃপর আভিধানিক ব্যবহারে শব্দটি এমন সব গোপন পন্থার ক্ষেত্রে প্রবল হয়েছে, যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এমনভাবে পৌঁছানো যায় যে, প্রখর বুদ্ধিমত্তা ছাড়া তা অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। ইমাম রাগেব আল-ইসফাহানী এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: "হিইলাহ হলো তা, যার মাধ্যমে গোপনে কোনো বিশেষ অবস্থায় পৌঁছানো যায়।"

এই ব্যবহারটি মূল আভিধানিক বর্ণনার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট; কারণ এখানে গোপনীয়তার শর্তারোপ করা হয়েছে, যেখানে প্রথম প্রয়োগে প্রকাশ্য বা গোপনীয়তার কোনো শর্ত ছিল না।

৩) ‘হিইলাহ’ শব্দটি এমন সব গোপন পন্থার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে শরয়ী, যুক্তিসম্মত অথবা প্রচলিত প্রথানুযায়ী নিন্দনীয় কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়। ইমাম রাগেব আল-ইসফাহানী এই অর্থটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: "অধিকাংশ ক্ষেত্রে হীন বা মন্দ উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহৃত হয়।"

সাধারণ মানুষের পরিভাষাতেও এই ব্যবহারটিই প্রবল। তারা বলে থাকে, 'অমুক ব্যক্তি ফন্দিবাজ', 'তার সাথে লেনদেন করো না কারণ সে একজন প্রতারক (محتال)', এবং 'অমুক ব্যক্তি মানুষকে কূটকৌশল শেখায়'। এসব ক্ষেত্রে তারা কেবল নিন্দনীয় অর্থই উদ্দেশ্য করে থাকে।

৪) ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘হিইলাহ’ শব্দটি সাধারণত শরিয়ত সমর্থিত নয় এমন নিন্দনীয় কৌশলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো এমন সব গোপন পথ ও মাধ্যম যার দ্বারা বাহ্যিকভাবে নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করা হয় এবং ওয়াজিবসমূহ (واجبات) বিলুপ্ত করা হয়। আল্লাহ তাআলার কোনো হক কিংবা কোনো মানুষের হক নষ্ট করার অভিপ্রায় যেখানে থাকে, প্রতিটি কৌশলই এই পর্যায়ভুক্ত; যেমনটি ছিল ইহুদিদের হীন কৌশল, যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

১. ইলামুল মুওয়াক্কিইন, ৩য় খণ্ড, ২৪১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১০)
5) وربما أطلقها بعض الفقهاء على المخارج من المضايق بوجه شرعي ويوجد هذا عند فقهاء الحنفية بكثرة قال الحموي في الأشباه والنظائر: " الحيل جمع حيلة، وهي الحذق وجودة النظر والمراد بها هنا ما يكون مخلصاً شرعياً لمن ابتلى بحادثة دينية ولكون المخلص من ذلك لا يدرك إلا بالحذق وجودة النظر أطلق عليه لفظ الحيلة "1.

قلت: وهذا الاستعمال قليل وإن جاز شرعاً وساغ في اللغة ولهذا قال الراغب الأصفهاني: " وقد تستعمل فيما فيه حكمة ".

الموازنة بين الإطلاقات المتقدمة:

الإطلاق الأول هو أعم الإطلاقات الخمسة حيث لم تقيد فيه الحيلة بخفاء أو ظهور، ولا بمدح أو ذم إذ هي كما مرَّ بك: التصرف الذي يتحول به فاعله من حال إلى حال.

ويليه في العموم الإطلاق الثاني وهو ما يتوصل به إلى المقصود بالطرق الخفية.

ويليه في العموم الإطلاق الثالث وهو ما يتوصل به إلى المقاصد المذمومة بالطرق الخفية.

وأخص مما تقدم الإطلاق الرابع وهو إطلاقها على الحيل المذمومة شرعاً كما هو عرف الفقهاء والمحدثين في الغالب حيث عرفوها بأنها ما يتوصل بها إلى استحلال المحرمات وإسقاط الواجبات وتعطيل مقاصد الشرع من الوسائل التي ظاهرها الحل شرعاً وباطنها إسقاط الحكم.

وأخص من الإطلاق الرابع الإطلاق الخامس وهو إطلاقها على مالم يذم شرعاً.

وقد صنف بعض الفقهاء وخاصة فقهاء الحنفية في هذا النوع من الحيل وعرفوها بأنها المخارج من المآزق بما لا يتعارض ومقاصد الشريعة.

إذا علم هذا فإن الحيل تدخل الحكم الشرعي عموماً، تكليفاً أو وضعاً وما يندرج تحتها من أقسام كالواجب والمحرم والسبب والرخصة وغيرها.

وبيان ذلك أن الحيلة جنس يدخل تحته التوصل إلى فعل الواجب وترك المحرم وفعل المندوب وترك المكروه، وتخليص الحق، ونصرة المظلوم وقمع الظالم.

قال ابن القيم في إعلام الموقعين: "وإذا قسمت الحيلة باعتبارها لغة انقسمت إلى الأحكام الخمسة فإن مباشرة الأسباب الواجبة حيلة على حصول مسبباتها، فالأكل وما شابهه

--------------------------------------------

1 غمز عيون البصائر شرح الأشباه والنظائر جـ4 ص219.
৫) সম্ভবত কোনো কোনো ফকিহ একে শরয়ী পন্থায় সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং হানাফি ফকিহদের নিকট এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। আল-হামাউয়ি 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজা'ইর' গ্রন্থে বলেছেন: "হিলা (حيلة) শব্দের বহুবচন হলো হিয়াল (حيل), যার অর্থ নিপুণতা ও সূক্ষ্মদর্শিতা। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন এক শরয়ী সমাধান যা কোনো দ্বীনি সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য মুক্তির পথ হয়। যেহেতু এই মুক্তি নিপুণতা ও সূক্ষ্মদর্শিতা ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, তাই একে হিলা (حيلة) শব্দে অভিহিত করা হয়েছে।" ১।

আমি বলি: এই ব্যবহার খুবই কম, যদিও তা শরয়ীভাবে বৈধ এবং ভাষাগতভাবে সংগত। এই কারণেই রাগেব আল-আসফাহানি বলেছেন: "কখনও কখনও এটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাতে হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে।"

উল্লিখিত প্রয়োগগুলোর মধ্যে তুলনা:

প্রথম প্রয়োগটি হলো এই পাঁচটি প্রয়োগের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক। কারণ এখানে হিলাকে (حيلة) গোপনীয়তা বা প্রকাশ্যতা, কিংবা প্রশংসা বা নিন্দার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়নি। বরং এটি—যেমনটি আপনার সামনে অতিক্রান্ত হয়েছে—এমন এক পদক্ষেপ যার মাধ্যমে এর কর্তা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হন।

ব্যাপকতার দিক থেকে এর পরের অবস্থানে রয়েছে দ্বিতীয় প্রয়োগটি। আর তা হলো গোপন উপায়ে কোনো উদ্দীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো।

ব্যাপকতার দিক থেকে এর পরের অবস্থানে রয়েছে তৃতীয় প্রয়োগটি। আর তা হলো গোপন উপায়ে কোনো নিন্দনীয় লক্ষ্যে পৌঁছানো।

পূর্বোক্তগুলোর তুলনায় অধিক সুনির্দিষ্ট হলো চতুর্থ প্রয়োগটি। আর তা হলো শরয়ীভাবে নিন্দনীয় কূটকৌশলের (حيلة) ক্ষেত্রে এর ব্যবহার, যেমনটি ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের (محدثين) নিকট অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত। তারা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি এমন এক মাধ্যম যার দ্বারা হারামকে (محرم) হালাল করা, ওয়াজিবকে (واجب) বর্জন করা এবং শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহকে নিষ্ক্রিয় করা হয়; এমন সব উপায়ের মাধ্যমে যার বাহ্যিক দিক শরয়ীভাবে বৈধ মনে হলেও অভ্যন্তরীণ দিক হলো হুকুম বা বিধানকে বাতিল করা।

চতুর্থ প্রয়োগের চেয়েও অধিক সুনির্দিষ্ট হলো পঞ্চম প্রয়োগটি। আর তা হলো এমন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার যা শরয়ীভাবে নিন্দনীয় নয়।

কোনো কোনো ফকিহ, বিশেষ করে হানাফি ফকিহগণ এ ধরনের হিলা (حيلة) সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এগুলো হলো এমন সংকট থেকে উত্তরণের পথ যা শরিয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

এটি জানা হলে প্রতীয়মান হয় যে, হিলা (حيلة) সাধারণত শরয়ী বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়, হোক তা তাকলিফি (تكليفي) কিংবা ওয়াদয়ি (وضعي), এবং এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিভাগ যেমন ওয়াজিব (واجب), হারাম (محرم), কারণ (سبب), অনুমতি বা ছাড় (رخصة) ইত্যাদি।

এর ব্যাখ্যা হলো—হিলা (حيلة) এমন একটি প্রকার যার অধীনে ওয়াজিব (واجب) পালন, হারাম (محرم) বর্জন, মুস্তাহাব (مندوب) পালন এবং মাকরূহ (مكروه) বর্জন করার উপায়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই সাথে হক উদ্ধার করা, মজলুমকে সাহায্য করা এবং জালেমকে দমন করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

ইবনুল কাইয়িম 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন' গ্রন্থে বলেছেন: "যখন ভাষাগত দিক থেকে হিলাকে (حيلة) ভাগ করা হয়, তখন তা পাঁচটি বিধানে বিভক্ত হয়। কেননা ওয়াজিব (واجب) কারণসমূহ সম্পাদন করা হলো তার ফলাফল অর্জনের একটি কৌশল। সুতরাং আহার গ্রহণ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো..."

--------------------------------------------

১ গামজু উইউনিল বাসাইর শারহুল আশবাহ ওয়ান নাজা'ইর, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২১৯।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১১)
والسفر الواجب حيلة على المقصود منه، والعقود الشرعية واجبها ومستحبها ومباحها كلها حيلة على حصول المقصود عليه، والأسباب المحرمة كلها حيلة على حصول مقاصدها منها وليس كلامنا في الحيلة بهذا الاعتبار العام الذي هو مورد التقسيم إلى مباح ومحظور، فالحيلة جنس تحته التوصل إلى فعل الواجب وترك المحرم وتخليص الحق ونصر المظلوم وقهر الظالم وعقوبة المعتدي، وتحته التوصل إلى استحلال المحرم وإبطال الحقوق، وإسقاط الواجبات وَلمَّا قال النبي صلى الله عليه وسلم: " لا ترتكبوا ما ارتكبت اليهود فتستحلوا محارم الله بأدنى الحيل " غلب استعمال الحيل في عرف الفقهاء على النوع المذموم، وكما يذم الناس أرباب الحيل فإنهم يذمون أيضا العاجز الذي لا حيلة له لعجزه وجهله بطرق تحصيل مصالحه، فالأول ماكر مخادع، والثاني عاجز مفرط، والممدوح غيرهما وهو من له خبرة بطرق الخير والشر خفيها وظاهرها فيحسن التوصل إلى مقاصده المحمودة التي يحبها الله ورسوله بأنواع الحيل ويعرف طرق الشر الظاهرة والخفية التي يتوصل بها إلى خداعه والمكر به فيحترز منها ولا يفعلها ولا يدل عليها، وهذه كانت حال سادات الصحابة رضي الله عنهم فإنهم كانوا أَبرَّ الناس قلوباً، وأعلم الناس بطرق الشر ووجوه الخداع، وأتقى لله من أن يرتكبوا منها شيئاً، أو يدخلوه في الدين كما قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: " لست بخب ولا يخدعني الخبُّ "، وكان حذيفة أعلم الناس بالشر والفتن، وكان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكان هو يسأله عن الشر، والقلب السليم ليس هو الجاهل بالشر الذي لا يعرفه بل الذي يعرفه ولا يريده بل يريد الخير والبر "1.

ألفاظ بمعنى الحيلة:

هناك ألفاظ بمعنى الحيلة تستعمل لغة وعرفاً ومنها المكر والخديعة والكيد، فهي ألفاظ متقاربة أو مترادفة تطلق في أصل اللغة على كل فعل يقصد منه فاعله خلاف ما يقتضيه الظاهر وعلى كل فعل يوصل إلى المقصود وليس له ظاهر وباطن ولكن الذهن لا يلتفت عادة إلى أنه يوصل.

ومثال ذلك ما رواه الإمام الشافعي في مسنده عن عروة بن الزبير قال: "ابتاع عبد الله بن جعفر بيعاً فقال علي رضي الله عنه: لآتين عثمان فلأحجرن عليك فأعلم ذلك عبد الله بن جعفر الزبير فقال: أنا شريكك في بيعتك فأتى علي عثمان وقال: تعال احجر علي هذا؛ فقال الزبير: أنا شريكه فقال عثمان: أحجر على رجل شريكه الزبير"2.

--------------------------------------------

1 إعلام الموقعين جـ3 ص241-242.

2 مسند الشافعي ص384.
ওয়াজিব সফর হলো তার উদ্দেশ্য অর্জনের একটি কৌশল (حيلة), আর শরয়ী চুক্তিসমূহ—তা ওয়াজিব, মুস্তাহাব কিংবা মুবাহ হোক—সবই হলো অভীষ্ট লক্ষ্য হাসিলের এক একটি কৌশল (حيلة)। একইভাবে হারাম মাধ্যমগুলোও তাদের লক্ষ্য অর্জনের কৌশল (حيلة)। তবে আমাদের এই আলোচনা কৌশল (حيلة) এর সেই সাধারণ অর্থ নিয়ে নয় যা বৈধ এবং নিষিদ্ধ—এই দুই ভাগে বিভক্ত; বরং কৌশল (حيلة) হলো এমন এক প্রকার যার অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াজিব পালন, হারাম বর্জন, হক উদ্ধার, মজলুমের সাহায্য, জালেমকে দমন এবং সীমালঙ্ঘনকারীর শাস্তির পথ প্রশস্ত করা। আবার এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হারামকে হালাল করা, অধিকার নষ্ট করা এবং ওয়াজিবসমূহ বাতিল করার অপকৌশল। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ইয়াহূদীদের মতো আচরণ করো না, ফলে তোমরা সামান্য কৌশলের (حيلة) আশ্রয়ে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলোকে হালাল করে ফেলবে," তখন থেকেই ফকীহগণের পরিভাষায় 'হিলা' বা কৌশল (حيلة) শব্দের ব্যবহার সাধারণত নিন্দনীয় প্রকারের ক্ষেত্রেই অধিক প্রচলিত হয়ে গেছে। মানুষ যেমন কৌশলবাজদের নিন্দা করে, তেমনি তারা সেই অক্ষম ব্যক্তিকেও নিন্দা করে যে স্বীয় কল্যাণ অর্জনের পথ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অক্ষমতার কারণে কোনো কৌশল (حيلة) অবলম্বন করতে পারে না। ফলে প্রথমজন হলো চক্রান্তকারী (ماكر) ও ধোঁকাবাজ (مخادع), আর দ্বিতীয়জন হলো অক্ষম ও চরম অবহেলাকারী; আর প্রশংসিত ব্যক্তি হলেন এঁদের বিপরীত এমন একজন, যাঁর কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পথসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রয়েছে। ফলে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পছন্দনীয় প্রশংসিত উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রকার বৈধ কৌশল (حيلة) সুন্দরভাবে প্রয়োগ করতে জানেন, আবার অকল্যাণের প্রকাশ্য ও গোপন পথগুলোও চিনেন যার মাধ্যমে তাঁকে ধোঁকা দেওয়া বা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত (المكر) করা হতে পারে, ফলে তিনি সেগুলো থেকে বেঁচে থাকেন, নিজে তা করেন না এবং অন্যকেও সেই পথ দেখান না। আর এটাই ছিল মহান সাহাবীগণের (رضي الله عنهم) বৈশিষ্ট্য; তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, অকল্যাণের পথ ও প্রতারণার রূপগুলো সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং আল্লাহকে এতটাই ভয় করতেন যে কখনও তা নিজে করতেন না কিংবা দ্বীনের মধ্যে তা প্রবেশ করাতেন না। যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) বলেছেন: "আমি ধোঁকাবাজ নই এবং ধোঁকাবাজ আমাকে ধোঁকা দিতে পারে না।" আর হুজাইফা (رضي الله عنه) ছিলেন অকল্যাণ ও ফিতনা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর তিনি জিজ্ঞাসা করতেন অকল্যাণ সম্পর্কে। সুস্থ হৃদয় (القلب السليم) বলতে এমন অজ্ঞ হৃদয়কে বোঝায় না যা অকল্যাণ চেনে না, বরং তা হলো সেই হৃদয় যা অকল্যাণ চেনে কিন্তু তা চায় না, বরং কেবল কল্যাণ ও নেক কাজই কামনা করে।1

কৌশল (حيلة) এর সমার্থক শব্দসমূহ:

এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা ভাষা ও লোকব্যবহারে কৌশল (حيلة) এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: চক্রান্ত (المكر), ধোঁকা (الخديعة) এবং অপকৌশল (الكيد)। এগুলো কাছাকাছি বা সমার্থক শব্দ যা মূলত এমন প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে কর্তা প্রকাশ্য অবস্থার বিপরীত উদ্দেশ্য পোষণ করে এবং এমন প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে যা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় কিন্তু তার কোনো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ভিন্ন রূপ নেই, তবে সাধারণ মস্তিষ্ক সেদিকে খেয়াল করে না যে এটি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

এর উদাহরণ হলো যা ইমাম শাফেয়ী তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে জাফর একটি কেনাবেচা সম্পন্ন করলেন। তখন আলী (رضي الله عنه) বললেন: আমি অবশ্যই উসমানের কাছে যাব এবং তোমার উপর লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর বিষয়টি যুবায়েরকে জানালেন। তখন যুবায়ের বললেন: আমি তোমার এই কেনাবেচায় অংশীদার। অতঃপর আলী (رضي الله عنه) উসমানের কাছে এসে বললেন: আসুন, এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন। তখন যুবায়ের বললেন: আমি তার অংশীদার। তখন উসমান (رضي الله عنه) বললেন: আমি এমন ব্যক্তির উপর কীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব যার অংশীদার যুবায়ের?"2.

--------------------------------------------

1 ইলামুল মুয়াক্কিইন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪১-২৪২।

2 মুসনাদ শাফেয়ী, পৃষ্ঠা ৩৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১২)
فمشاركة الزبير لعبد الله بن جعفر في الصفقة منعت عثمان من الحجر عليه.

لأن الزبير معروف بحسن التصرف وإدارة المال فكان أن اتخذ هذه الحيلة لمنع الحجر وليس لها ظاهر وباطن، ولكن الذهن لا يلتفت عادة إلى هذه الحيلة.

وأكثر ما تستعمل هذه الألفاظ (المكر والخديعة والكيد) في الفعل المذموم وهو الأشهر عند الناس وذلك بأن يقصد فاعله إنزال مكروه بمن لا يستحقه ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم " الخديعة في النار " 1 أي تؤدي بفاعلها إلى النار.

وقد تستعمل تلك الألفاظ في الفعل المحمود وذلك بأن يقصد فاعله إلى استدراج غيره لما فيه مصلحته كما يفعل بالصبي أو المريض إذا امتنع من فعل ما فيه مصلحته كشرب الدواء ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم: " الحرب خدعة " 2 فهذا أمر بالخداع عند لقاء الأعداء لأنه يقصر أمد الحرب ويوفر المال والجهد، ولكون المكر والخديعة والكيد ضربين: حسناً وسيئاً قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ يَمْكُرُونَ السَّيِّئَاتِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَكْرُ أُولَئِكَ هُوَ يَبُورُ} 3، وقوله: {فَلَمَّا جَاءَهُمْ نَذِيرٌ مَا زَادَهُمْ إِلا نُفُوراً اسْتِكْبَاراً فِي الأرْضِ وَمَكْرَ السَّيِّئِ وَلا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلا بِأَهْلِهِ} 4 {أَفَأَمِنَ الَّذِينَ مَكَرُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ يَخْسِفَ الله بِهِمُ الأرْضَ} 5 فخصَّ في الآيات السيء من المكر تنبيهاً على جواز المكر الحسن ووصف نفسه تعالى بالمكر الحسن فقال: {وَمَكَرُوا وَمَكَرَ الله وَالله خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} 6.

ووصف نفسه بالخداع الحسن فقال: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ الله وَهُوَ خَادِعُهُمْ} 7 وبالكيد الحسن فقال: {كَذَلِكَ كِدْنَا لِيُوسُفَ مَا كَانَ لِيَأْخُذَ أَخَاهُ فِي دِينِ الْمَلِكِ إِلا أَنْ يَشَاءَ الله} 8.

وعلى ذلك الاستدراج والإملاء والاستهزاء منه تعالى كما في قوله: {سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لا يَعْلَمُونَ وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ} 9 والمعنى في ذلك كله إمهال الله للعبد الجاحد

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري جـ3 ص 75.

2 صحيح البخاري جـ4 ص 66، صحيح مسلم جـ5 ص143.

3 الآية رقم 10 من سورة فاطر.

4 الآية رقم 42 من سورة فاطر.

5 الآية رقم 45 من سورة النحل.

6 الآية رقم 54 من سورة آل عمران.

7 الآية رقم 142 من سورة السماء.

8 الآية رقم 76 من سورة يوسف.

9 الآية رقم 44 من سورة القلم.
আব্দুল্লাহ বিন জাফরের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনে জুবাইরের অংশগ্রহণ উসমানকে তার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা থেকে বিরত রেখেছিল।

কারণ জুবাইর তার বিচক্ষণ পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য সুপরিচিত ছিলেন; তাই তিনি বিধি-নিষেধ প্রতিরোধের জন্য এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন এবং এর কোনো (ভিন্নধর্মী) প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য দিক ছিল না, তবে সাধারণ বুদ্ধি সাধারণত এই কৌশলের প্রতি লক্ষ্য করে না।

এই শব্দগুলো (কৌশল, প্রতারণা ও চক্রান্ত) অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিন্দনীয় কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং মানুষের কাছে এটিই অধিক পরিচিত; আর তা হলো এই যে, এর প্রয়োগকারী এমন কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ইচ্ছা পোষণ করে যে তার উপযুক্ত নয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "প্রতারণা জাহান্নামে নিয়ে যায়" ১ অর্থাৎ এটি প্রয়োগকারীকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে।

কখনো কখনো এই শব্দগুলো প্রশংসনীয় কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো এই যে, এর প্রয়োগকারী অন্য কারো কল্যাণের স্বার্থে তাকে কৌশল বা প্ররোচনার মাধ্যমে সঠিক পথে নিয়ে আসার ইচ্ছা পোষণ করে; যেমনটি শিশু বা অসুস্থ ব্যক্তির সাথে করা হয় যখন সে তার জন্য কল্যাণকর কোনো কাজ—যেমন ওষুধ সেবন—করতে অস্বীকার করে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যুদ্ধ হলো একটি কৌশল" ২। এটি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবিলায় কৌশল অবলম্বন করার একটি নির্দেশ, কারণ এটি যুদ্ধের সময়কাল সংক্ষিপ্ত করে এবং অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করে। কৌশল, প্রতারণা ও চক্রান্ত দুই প্রকার—উত্তম ও মন্দ—হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যারা মন্দ কাজের চক্রান্ত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি এবং তাদের সে চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে যাবে} ৩। এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর যখন তাদের নিকট একজন সতর্ককারী আসলেন, তখন তা কেবল তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করল। জমিনে তাদের অহংকার প্রদর্শন ও মন্দ চক্রান্তের কারণে; আর মন্দ চক্রান্ত কেবল তার হোতাকেই ঘিরে ফেলে} ৪। {যারা মন্দ চক্রান্ত করে, তারা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদের জমিনে ধসিয়ে দেবেন না?} ৫। সুতরাং এই আয়াতগুলোতে মন্দ চক্রান্তকে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে উত্তম কৌশল জায়েজ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য। আর আল্লাহ তাআলা নিজের ক্ষেত্রে উত্তম কৌশলের গুণটি বর্ণনা করে বলেছেন: {তারাও কৌশল করেছে এবং আল্লাহও কৌশল করেছেন, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী} ৬।

তিনি নিজের ক্ষেত্রে উত্তম প্রতারণার (শাস্তি প্রদানের) গুণটিও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করতে চায়, অথচ তিনি তাদের সাথেই কৌশলকারী (তাদের প্রতারণার শাস্তি দাতা)} ৭। এবং উত্তম চক্রান্তের ক্ষেত্রেও তিনি বলেছেন: {এভাবেই আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলাম। সে বাদশাহর আইনে তার ভাইকে গ্রহণ করতে পারত না, যদি না আল্লাহ চাইতেন} ৮।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কৌশল (ইস্তিদরাজ), অবকাশ দান ও উপহাসের বিষয়টিও এরই অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি তাঁর বাণীতে রয়েছে: {আমি তাদের এমনভাবে ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে (ধ্বংসের দিকে) নিয়ে যাব যে তারা জানবেও না। আর আমি তাদের অবকাশ দেই; নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত সুদৃঢ়} ৯। এর সবগুলোর মূল অর্থ হলো—অস্বীকারকারী বান্দাকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সময় বা সুযোগ প্রদান করা।

--------------------------------------------

১ সহিহ বুখারী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৭৫।

২ সহিহ বুখারী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৬; সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৪৩।

৩ সূরা ফাতির, আয়াত নং ১০।

৪ সূরা ফাতির, আয়াত নং ৪২।

৫ সূরা আন-নাহল, আয়াত নং ৪৫।

৬ সূরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৫৪।

৭ সূরা আন-নিসা, আয়াত নং ১৪২।

৮ সূরা ইউসুফ, আয়াত নং ৭৬।

৯ সূরা আল-কালাম, আয়াত নং ৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৩)
وتمكينه من أعراض الدنيا حتى يغتر ويؤخذ بذنبه، لذلك قيل " من وسع عليه في دنياه من أهل الفسق ولم يعلم أنه قد مكر به فهو مخدوع عن عقله "، قال الإمام الراغب في كتابه "الذريعة إلى مكارم الشريعة": " وهذه ألفاظ لولا أن الباري تعالى أطلقها في مواضع مخصوصة قاصداً بها معاني صحيحة لما تجاسر بشر عرف الله تعالى أن يخطر ذلك بباله فضلا عن أن يجريه في مقاله وإن قصد بها المعنى الصحيح تنزيها له وتعظيماً فيجب أن تتلى في القرآن حيثما وردت ولا يتعدى بها "1.

--------------------------------------------

1 الذريعة ص 351.

এবং তাকে পার্থিব ভোগ-বিলাসের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যাতে সে প্রলুব্ধ হয় এবং তার পাপের দরুন পাকড়াও হয়। এজন্যই বলা হয়েছে, "পাপাচারী (فسق) ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যাকে পার্থিব জীবনে প্রাচুর্য দান করা হয়েছে অথচ সে উপলব্ধি করতে পারেনি যে এটি তার জন্য একটি কৌশল (مكر), সে মূলত স্বীয় বিবেকের দ্বারা প্রতারিত।" ইমাম রাগিব তাঁর "আদ-জারিআহ ইলা মাকারিম আশ-শারিয়াহ" গ্রন্থে বলেছেন: "এগুলো এমন কিছু শব্দ যে, মহান স্রষ্টা যদি বিশেষ কিছু স্থানে সঠিক অর্থ প্রকাশের উদ্দেশ্যে তা প্রয়োগ না করতেন, তবে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা কোনো মানুষ তা অন্তরে স্থান দেওয়ারও দুঃসাহস দেখাত না, মুখে উচ্চারণ করা তো বহু দূরের কথা; যদিও সে মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা ও মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে সঠিক অর্থই পোষণ করে থাকে। সুতরাং কুরআনের যেখানে এগুলো অবতীর্ণ হয়েছে সেখানেই তিলাওয়াত করা আবশ্যক এবং তা অতিক্রম করা যাবে না।" ১

--------------------------------------------

১ আদ-জারিআহ, পৃষ্ঠা ৩৫১।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৪)
‌‌الفصل الثالث: ضابط الحيل الجائزة وغير الجائزة

قبل أن نتطرق إلى هذا الضابط، ننظر في أصل معنى الحيلة لغة فإنها سلوك طريق يفضي إلى المقصود على وجه فيه حذق ومهارة وجودة نظر، ولا نستطيع أن نحرمها بإطلاق حينئذ ولا أن نحلها بإطلاق ولا أن نحمدها بإطلاق ولا أن نذمها بإطلاق، لذا وجب النظر في ضابط عام يميز بين ما يجوز من الحيل في نظر الشارع وما لا يجوز فنقول:

ضابط الحيل الجائزة: كل طريق مشروع يترتب على سلوكه تحقيق مقاصد الشارع من فعل ما أمر الله به واجتناب ما نهى الله عنه وإقامة الحق وقمع الباطل فهذا جائز مشروع.

وضابط الحيل غير الجائزة: كل طريق يترتب عليه إبطال مقاصد الشارع أو العبث بها من إسقاط للواجبات وارتكاب للمحرمات وقلب الحق باطلا والباطل حقا فهذا محظور يذم فاعله ومعلمه.

وبين النوعين الجائز وغير الجائز من الفرق ما بين النور والظلام والحق والباطل والعدل والظلم والبر والإثم.

وقد أجمل الشاطبي في كتابه الفريد في بابه ما ذكرناه فقال: " لا يمكن إقامة دليل في الشريعة على إبطال كل حيلة كما أنه لا يقوم دليل على تصحيح كل حيلة، وإنما يبطل منها ما كان مضاداً لقصد الشارع خاصة وهو الذي يتفق عليه جميع أهل الإسلام، ويقع الاختلاف في المسائل التي تتعارض فيها الأدلة "1.

--------------------------------------------

1 الموافقات جـ2 ص 337.
‌‌তৃতীয় অধ্যায়: বৈধ ও অবৈধ কৌশলের নীতিমালা

এই নীতিমালা নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমরা কৌশলের আভিধানিক অর্থের প্রতি দৃষ্টিপাত করি; কেননা এটি হলো এমন এক পথ অবলম্বন করা যা বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও সূক্ষ্ম চিন্তার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। এমতাবস্থায় আমরা একে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ করতে পারি না, আবার ঢালাওভাবে বৈধও বলতে পারি না; একইভাবে একে নিরঙ্কুশভাবে প্রশংসাও করা যায় না, আবার নিন্দাও করা যায় না। তাই এমন একটি সাধারণ নীতিমালা পর্যালোচনা করা আবশ্যক যা শরিয়ত প্রণেতার দৃষ্টিতে বৈধ ও অবৈধ কৌশলের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করবে। আমরা বলি:

বৈধ কৌশলের নীতিমালা: এমন প্রতিটি শরয়ি পথ যা অনুসরণের ফলে আল্লাহর নির্দেশ পালন, তাঁর নিষেধ বর্জন, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং মিথ্যা দমনের মাধ্যমে শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়িত হয়, তা বৈধ ও শরয়ি হিসেবে গণ্য।

অবৈধ কৌশলের নীতিমালা: এমন প্রতিটি পথ যার ফলে শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ নস্যাৎ হয় অথবা সেসব নিয়ে তামাশা করা হয়—যেমন আবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহ বিলোপ করা, নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া এবং সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর করা—তবে তা নিষিদ্ধ, এবং এর প্রয়োগকারী ও শিক্ষাদানকারী উভয়ই নিন্দনীয়।

বৈধ ও অবৈধ—এই দুই প্রকার কৌশলের মাঝে পার্থক্য ঠিক তেমনি, যেমন পার্থক্য রয়েছে আলো ও অন্ধকার, সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায় এবং পুণ্য ও পাপের মধ্যে।

ইমাম শাতিবি তাঁর বিষয়বস্তুর দিক থেকে অনন্য গ্রন্থে আমাদের উল্লিখিত আলোচনার সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে বলেন: "শরিয়তে এমন কোনো দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব নয় যা প্রতিটি কৌশলকেই বাতিল করে দেয়, ঠিক যেমন প্রতিটি কৌশলকে সঠিক (صحيح) সাব্যস্ত করার সপক্ষেও কোনো দলিল নেই। বরং কৌশলের মধ্যে কেবল তা-ই বাতিল হবে যা বিশেষভাবে শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং এ বিষয়ে সকল মুসলিম একমত। আর মতভেদ কেবল সেই সব মাসআলায় দেখা দেয় যেখানে দলিলসমূহের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়।" ১।

--------------------------------------------

১. আল-মুয়াফাকাত, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৫)
‌‌الفصل الرابع: في كيفية معرفة مقاصد الشارع

سبق وأن قدمنا أن الحيل الجائزة هي التي لا تناقض مقاصد الشارع والحيل المحظورة هي التي تناقض مقاصد الشارع، وحينئذ لابد من إعطاء الفهم الصحيح والبيان الكافي لبيان الطرق التي يتوصل بها إلى معرفة هذه المقاصد حتى نستطيع أن نعطي كل حيلة ما يناسبها من الحكم.

وإليك ملخص ما قاله الشاطبى في كتابه الموافقات في هذا الصدد قال: " الراسخون من أهل العلم على أن مقاصد الشارع تعرف من ألفاظ النصوص ومعانيها النظرية جميعاً فينبغي أن ينظر إلى الألفاظ على وجه لا يخل بالمعنى وإلى المعاني على وجه لا يخل بالألفاظ لتجري الشريعة على نظام واحد لا اختلاف فيه ولا تناقض ".

ومن زعم أن مقاصد الشارع لا تؤخذ إلا من ألفاظ النصوص وظواهرها كالظاهرية أو لا تؤخذ إلا من المعاني النظرية. وإن عادت على الظواهر والنصوص بالتعطيل والإلغاء كما هو رأي المتعمقين في القياس المقدمين له على النصوص، من زعم هذا أو ذاك فقد غلا في جانب الإفراط والتفريط ونظر إلى جانب من الشريعة دون جانب، وذلك بُعْدٌ عن الصراط المستقيم.

فالصواب الذي عليه أكثر العلماء اعتبار الأمرين جميعاً على وجه لا يخل فيه المعنى النظري بالنص، ولا النص بالمعنى النظري وعلى هذا المذهب وحده الاعتماد في تقرير الجهات التي يعرف بها مقاصد الشارع فنقول وبالله التوفيق.

إن مقاصد الشارع تعرف من جهات:

أحدها: الأمر والنهي الواردان عن الشارع فالأمر يقتضي حصول المأمور به من المكلف، فوقوعه عند وجود الأمر به مقصود للشارع، وعدم إيقاعه مخالف لمقصوده وكذلك النهي يقتضي الكف عن الفعل المنهي عنه. فعدم وقوع الفعل المنهي عنه مقصود للشارع وإيقاعه مخالف لمقصوده.

فهذا وجه ظاهر عام لمن اعتبر مجرد الأمر والنهي من غير نظر إلى علة ولمن اعتبر العلل والمصالح.

الجهة الثانية: اعتبار علل الأمر والنهي ولماذا أمر الشارع بهذا الفعل، ولماذا نهى عن
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) জানার পদ্ধতি সম্পর্কে

আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, বৈধ কৌশলসমূহ (الحিল الجائزة) হলো সেগুলো যা শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشارع) পরিপন্থী নয়, আর নিষিদ্ধ কৌশলসমূহ (الحيل المحظورة) হলো সেগুলো যা শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشارع) পরিপন্থী। এমতাবস্থায়, শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) জানার পদ্ধতিসমূহের সঠিক বোধগম্যতা ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা আবশ্যক, যাতে আমরা প্রতিটি কৌশলকে তার যথাযথ বিধান (الحكم) প্রদান করতে সক্ষম হই।

ইমাম শাতবি তাঁর ‘আল-মুয়াফাকাত’ গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ। তিনি বলেন: "সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণ (الراسخون من أهل العلم) এ বিষয়ে একমত যে, শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) নসের শব্দাবলি (ألفاظ النصوص) এবং সেগুলোর তাত্ত্বিক অর্থ (معانيها النظرية) উভয়টির মাধ্যমেই জানা যায়। সুতরাং শব্দের প্রতি এমনভাবে দৃষ্টি দেওয়া উচিত যা অর্থের কোনো ক্ষতি না করে, আর অর্থের প্রতি এমনভাবে দৃষ্টি দেওয়া উচিত যা শব্দের কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়, যাতে শরিয়ত একটি সুসংগত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় যেখানে কোনো অনৈক্য বা বৈপরীত্য থাকবে না।"

যারা দাবি করে যে শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) কেবল নসের শব্দাবলি (ألفاظ النصوص) ও সেগুলোর জাহিরি বা বাহ্যিক রূপ (ظواهرها) থেকে গ্রহণ করতে হবে—যেমন জাহিরি (الظاهرية) মতাবলম্বীরা মনে করে; অথবা যারা মনে করে যে এটি কেবল তাত্ত্বিক অর্থ (المعاني النظرية) থেকেই গ্রহণ করতে হবে, যদিও তা বাহ্যিক শব্দ ও নসকে (النصوص) অকার্যকর (تعطيل) ও বাতিল (إلغاء) করে দেয়—যেমন কিয়াসের (القياس) ক্ষেত্রে অতি গভীরে প্রবেশকারী ও নসের (النصوص) ওপর কিয়াসকে প্রাধান্যদানকারীদের অভিমত; যারা এর যেকোনো একটির দাবি করে তারা বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির (الإفراط والتفريط) মধ্যে লিপ্ত হয়েছে এবং শরিয়তের কেবল একটি দিকের প্রতি নজর দিয়েছে অন্যটিকে উপেক্ষা করে। আর এটি সরল পথ (الصراط المستقيم) থেকে বিচ্যুতি।

সুতরাং সঠিক সিদ্ধান্ত—যার ওপর অধিকাংশ আলেম রয়েছেন—তা হলো উভয় বিষয়কে এমনভাবে বিবেচনা করা যাতে তাত্ত্বিক অর্থ (المعنى النظري) নসের (النص) কোনো ক্ষতি না করে এবং নসও (النص) তাত্ত্বিক অর্থের (المعنى النظري) কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়। শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল এই মাযহাব বা মতাদর্শের ওপরই নির্ভর করা যায়। আমরা আল্লাহর তাওফিক কামনা করে বলছি:

নিশ্চয়ই শারিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) কয়েকটি দিক থেকে জানা যায়:

প্রথমত: শারে’ বা বিধানদাতার পক্ষ থেকে বর্ণিত আদেশ (الأمر) ও নিষেধ (النهي)। আদেশ (الأمر) দাবি করে যে মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلف) কর্তৃক আদিষ্ট কাজটি সম্পন্ন হবে। সুতরাং আদেশের উপস্থিতিতে সেই কাজটির বাস্তবায়ন শারে’র কাছে অভিপ্রেত (مقصود), আর সেটি সম্পাদন না করা তাঁর উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। একইভাবে, নিষেধ (النهي) নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি রাখে। সুতরাং নিষিদ্ধ কাজের অনটন বা না হওয়া শারে’র কাছে অভিপ্রেত (مقصود) এবং তা সম্পাদন করা তাঁর উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

এটি একটি স্পষ্ট ও সাধারণ দিক তাদের জন্য যারা কোনো ইল্লত (علة) বা কারণ বিবেচনা না করে কেবল আদেশ (الأمر) ও নিষেধকে (النهي) গ্রাহ্য করেন এবং তাদের জন্যও যারা ইল্লত (العلل) ও মাসলাহাত বা জনকল্যাণকে (المصالح) বিবেচনা করেন।

দ্বিতীয় দিক: আদেশ (الأمر) ও নিষেধের (النهي) ইল্লতসমূহ (علل) বা কারণসমূহ বিবেচনা করা; অর্থাৎ কেন শারে’ এই কাজের আদেশ দিলেন এবং কেন তিনি নিষেধ করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৬)
الفعل الآخر؟ ثم العلة إما أن تكون معلومة أو لا؛ فإن كانت غير معلومة فلابد من التوقف عن القطع على الشارع أنه قصد كذا وكذا حتى يدل دليل على ذلك القصد، وإن كانت العلة معلومة اتبعت، فحيث وجدت وجد مقتضى الأمر والنهي من قصد الشارع إلى إيقاع الفعل في الأمر، وعدم إيقاعه في النهي كالنكاح لمصلحة التناسل والبيع لمصلحة الانتفاع بالمعقود عليه والحدود لمصلحة الازدجار، وتعرف العلة هنا بمسالكها المقررة في أصول الفقه، فإذا تعينت علم أن مقصود الشارع ما اقتضته تلك العلل من الفعل أو عدمه.

ويغلب على باب العبادات جهة التعبد، وعلى باب العادات جهة الالتفات إلى المعاني، والعكس في البابين قليل، ومن أجل هذا لم يلتفت مالك رحمه الله في إزالة الأنجاس ورفع الأحداث إلى مجرد النظافة حتى اشترط الماء المطلق فيهما، واشترط لرفع الأَحداث النية وإن حصلت النظافة بدونها، ومنع من إقامة غير التكبير والتسليم في الصلاة مقامهما، ومنع من إخراج القيم في الزكاة، واقتصد على مجرد العدد في الكفارات، إلى غير ذلك من المسائل التي تقتضي الإقتصار على عين المنصوص عليه أو ما ماثله، وغلَّب في باب العادات المعنى فقال فيها بقاعدة المصالح المرسلة، والاستحسان الذي قال فيه إنه تسعة أعشار العلم إلى ما يتبع ذلك.

الجهة الثالثة: إن للشارع في شرع العبادات والعادات مقاصد أصلية ومقاصد تابعة وقد دلنا تتبع النصوص وظواهرها وإشاراتها واستقراء معانيها النظرية أن الشارع لم يشرع من الأسباب العادية والعبادية الموصلة إلى المقاصد التابعة إلا ما عاد من تلك المقاصد على المقاصد الأصلية بالتوثيق والإحكام والتقوية والربط، فاستدللنا بذلك على أن ما كان من تلك الأسباب كذلك مما لم ينص عليه فهو موافق لمقاصد الشارع، وما كان منها مؤديا إلى إبطال المقاصد الأصلية منها وإزالتها فهو مناقض لمقاصد الشارع.

فالتسبب إلى تلك المقاصد التابعة مشروع في الأول وغير مشروع في الثاني.

ومثال ذلك: النكاح فإنه مشروع للتناسل بالقصد الأول ويليه طلب السكن والازدواج والتعاون على المصالح الدنيوية والأخروية من الاستمتاع بالحلال والنظر إلى ما خلق الله من المحاسن في النساء والتجمل بمال المرأة أو قيامها عليه وعلى أولاده منها أو من غيرها أو إخوته والتحفظ من الوقوع في المحظور من شهوة الفرج ونظر العين والازدياد من الشكر بمزيد النعم من الله على العبد وما أشبه ذلك فجميع هذا مقصود الشارع من شرع النكاح بالقصد الثاني، فمنه منصوص عليه أو مشار إليه، ومنه ما علم بدليل آخر، ومسلك استقرىء من
অন্য কাজটি কি? এরপর কার্যকর কারণ (علة) হয় জানা থাকবে অথবা থাকবে না; যদি তা জানা না থাকে তবে শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এটি বা সেটিই উদ্দেশ্য করেছেন—এমন অকাট্য সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যতক্ষণ না সেই উদ্দেশ্যের পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর যদি কার্যকর কারণ (علة) জানা থাকে তবে তা অনুসরণ করা হবে। সুতরাং যেখানেই সেটি পাওয়া যাবে সেখানেই শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي) এর দাবি বিদ্যমান থাকবে; অর্থাৎ আদেশের ক্ষেত্রে কাজটি সম্পাদন করা এবং নিষেধের ক্ষেত্রে তা বর্জন করা। যেমন: বংশবৃদ্ধির স্বার্থে বিবাহ, চুক্তিকৃত বস্তু থেকে উপকারের স্বার্থে ক্রয়-বিক্রয় এবং অপরাধ দমনের স্বার্থে দণ্ডবিধি (حدود)। আর কার্যকর কারণ (علة) এখানে উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রে নির্ধারিত তার পদ্ধতিসমূহ (مسالك) দ্বারা চেনা যাবে। সুতরাং যখন তা নির্দিষ্ট হয়ে যাবে তখন জানা যাবে যে শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এর উদ্দেশ্য হলো সেই সব কারণের দাবি অনুযায়ী কাজটি করা বা না করা।

ইবাদত (عبادات) এর ক্ষেত্রে আনুগত্যমূলক (تعبد) দিকটিই প্রবল থাকে এবং লোকজ প্রথা বা আদত (عادات) এর ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত অর্থসমূহের (معاني) প্রতি লক্ষ্য রাখার বিষয়টি প্রবল থাকে। এর বিপরীত হওয়া উভয় ক্ষেত্রে বিরল। এই কারণেই ইমাম মালিক (রহ.) নাপাকি দূর করা এবং অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কেবল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য করেননি, বরং এ উভয় ক্ষেত্রে শর্তহীন পানি ব্যবহারের শর্তারোপ করেছেন। তিনি অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়ত (نية) এর শর্ত দিয়েছেন, যদিও তা ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়ে যায়। তিনি নামাজে তাকবির (تكبير) ও তাসলিম (تسليم) ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ দ্বারা তা শুরু বা শেষ করা বৈধ মনে করেননি। তিনি জাকাতের ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য প্রদান করাকে নিষেধ করেছেন এবং কাফফারা (كفارات) এর ক্ষেত্রে কেবল সংখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এই জাতীয় আরও অনেক মাসআলা রয়েছে যেখানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত বিষয়ের ওপর বা তার সদৃশ বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক হয়। অন্যদিকে তিনি লোকজ প্রথা বা আদত (عادات) এর ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত অর্থের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন; তাই এই ক্ষেত্রে তিনি জনকল্যাণ (المصالح المرسلة) এবং ইসতিহসান (الاستحسان) এর মূলনীতি গ্রহণ করেছেন, যে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন যে এটি জ্ঞানের দশ ভাগের নয় ভাগ; এবং আরও যা এর অনুগামী।

তৃতীয় দিক: ইবাদত ও আদত প্রবর্তনের ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এর কিছু মূল উদ্দেশ্য (مقاصد أصلية) থাকে এবং কিছু অনুগামী উদ্দেশ্য (مقاصد تابعة) থাকে। শরিয়তের পাঠ বা নসসমূহ (نصوص), তাদের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر), ইঙ্গিত ও তাদের তাত্ত্বিক অর্থসমূহের আরোহী পদ্ধতি (استقراء) আমাদের নির্দেশ করেছে যে, শরিয়ত প্রণেতা (شارع) সেই সব প্রথাগত ও ইবাদত সংক্রান্ত মাধ্যমসমূহ—যা অনুগামী উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছায়—কেবল তখনই বিধিবদ্ধ করেছেন যখন সেই অনুগামী উদ্দেশ্যগুলো মূল উদ্দেশ্যসমূহকে সুসংহত, সুদৃঢ়, শক্তিশালী ও সুনিবদ্ধ করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে আমরা এই প্রমাণ পাই যে, সেই সকল মাধ্যম—যেগুলোর ব্যাপারে নস বা স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই—যদি অনুরূপ হয় তবে তা শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এর উদ্দেশ্যের অনুকূল। আর যদি তা মূল উদ্দেশ্যসমূহকে বাতিল বা বিলুপ্ত করার দিকে নিয়ে যায়, তবে তা শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এর উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

সুতরাং প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে সেই অনুগামী উদ্দেশ্যসমূহের উপায় অবলম্বন করা বৈধ এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তা অবৈধ।

এর উদাহরণ হলো: বিবাহ। এটি মূলত বংশবৃদ্ধির প্রাথমিক উদ্দেশ্যে (القصد الأول) বিধিবদ্ধ হয়েছে। এর পরেই রয়েছে মানসিক প্রশান্তি, দাম্পত্য জীবন গঠন এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণমূলক কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্য। যার মধ্যে রয়েছে হালাল পন্থায় আনন্দ উপভোগ, আল্লাহ নারীদের মধ্যে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন তার দিকে দৃষ্টিপাত করা, স্ত্রীর সম্পদ বা তার মাধ্যমে প্রাপ্ত সন্তানদের ওপর কিংবা অন্যের সন্তানদের বা ভাইদের দেখাশোনার মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করা, প্রবৃত্তির লালসা ও চোখের কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর অতিরিক্ত নেয়ামতের কারণে শোকরগোজারি বৃদ্ধি করা ও এই জাতীয় আরও অনেক বিষয়। এই সব কিছুই বিবাহের বিধান প্রবর্তনে শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এর অনুগামী বা গৌণ উদ্দেশ্য (القصد الثاني)। এর কোনটি নস বা পাঠে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, কোনটি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং কোনটি অন্য দলিলের মাধ্যমে জানা গেছে। আর এটি এমন একটি পথ যা আরোহী পদ্ধতি (استقراء) দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৭)
ذلك المنصوص… فحاصل الجهة الثالثة التي يعرف بها مقاصد الشارع أن المقاصد التابعة للمقاصد الأصلية على ثلاثة أقسام:

1- ما يقتضي تأكيد المقاصد الأصلية وتوثيقها وتقوية الرغبة فيها فلا شك أنه مقصود للشارع، فالقصد إلى التسبب إليه بالسبب المشروع موافق لقصد الشارع فيضخ.

2- ما يقتضي زوال المقاصد الأصلية عيناً فلا (شك) أيضاً من أن القصد لها مخالف لمقصد الشارع عيناً فلا يصح التسبب بإطلاق، ولا فرق في القسمين بين العبادات والعادات.

3- ما لا يقتضي تأكيداً ولا توثيقاً ولكنه مع ذلك لا يقتضي رفع المقاصد الأصلية ولا إزالتها عيناً فهذا لا يصح في العبادات، وأما صحته في العادات فللنظر فيه مجال؛ فمن قال بالصحة نظر إلى أنه يجوز حصول الربط والتوثيق بعد التسبب، ومن قال بعدم الصحة نظر إلى أنه لا يقتضي تأكيد المقاصد الأصلية، وقصد الشارع التأكيد فلا يكون ذلك التسبب موافقاً لقصد الشارع فلا يصح.

الجهة الرابعة: مما يعرف به مقاصد الشارع السكوت عن شرع الحكم مع قيام المعنى المقتضي له، فإن ذلك يدل على قصد الشارع إلى عدم الزيادة على ما كان موجودا قبل فإذا زاد زائد ظهر أنه مخالف لقصد الشارع فيرد عليه ما أحدث، أي يعتبر من قبيل " من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد " وبيان ذلك أن سكوت الشارع عن الحكم على ضربين:

أحدهما: أن يسكت عنه لأنه لا داعية له تقتضيه ولا موجب يقرر لأجله كالنوازل التي حدثت بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنها لم تكن موجودة ثم سكت عنها مع وجودها وإنما حدثت بعد ذلك فاحتاج أهل الشريعة إلى النظر فيها وإجرائها على ما تقرر في كلياتها.

وما أحدثه السلف الصالح راجع إلى هذا القسم كجمع المصحف وتدوين العلم، وما شابه ذلك مما لم يجر له ذكر في زمن النبي صلى الله عليه وسلم من نوازل زمانه. ولا عرض للعمل بها موجب يقتضيها فهذا القسم جارية فروعه على أصوله المقررة شرعاً بلا إشكال فالقصد الشرعي فيها معروف من الجهات المذكورة قبل.

ثانيهما: أن يسكت عنه الشارع وموجبه المقتضي له قائم فلم يقرر فيه حكم عند نزول النازلة زائد على ما كان في ذلك الزمان فالسكوت في هذا الضرب كالنص على أن قصد الشارع أن لا يزاد ولا ينقص لأنه لما كان هذا المعنى الموجب لشرع الحكم العملي موجوداً ثم
সেই সুনির্দিষ্ট বক্তব্য… শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) চেনার তৃতীয় দিকটির সারসংক্ষেপ হলো এই যে, মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد الأصلية) অনুগামী উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد التابعة) তিন প্রকার:

১- যা মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহকে (المقاصد الأصلية) সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার এবং সেগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির দাবি রাখে। এটি যে শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য (مقصد الشارع), সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অতএব, শরীয়তসম্মত উপায়ের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হওয়া শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যের (قصد الشارع) সাথে সংগতিপূর্ণ, ফলে তা সঠিক বলে গণ্য হবে।

২- যা সরাসরি মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصদ الأصلية) বিলুপ্তি ঘটায়। এক্ষেত্রেও কোনো সন্দেহ নেই যে, এই জাতীয় সংকল্প সরাসরি শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যের (مقصد الشارع) পরিপন্থী। সুতরাং কোনোভাবেই এমন উপায় অবলম্বন করা বৈধ নয়। এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রে ইবাদত (العبادات) এবং প্রথা বা আদতের (العادات) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

৩- যা (মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহকে) সুদৃঢ় বা শক্তিশালী করার দাবি রাখে না, তবে তা মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহকে (المقاصد الأصلية) রহিত বা সরাসরি বিলুপ্তও করে না। এটি ইবাদতের (العبادات) ক্ষেত্রে সঠিক নয়। তবে প্রথা বা আদতের (العادات) ক্ষেত্রে এর সঠিকতা নিয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। যারা একে সঠিক বলেছেন তারা লক্ষ্য করেছেন যে, উপায় অবলম্বনের পর সংশ্লিষ্টতা ও দৃঢ়তা অর্জিত হওয়া সম্ভব। আর যারা সঠিক নয় বলেছেন, তারা লক্ষ্য করেছেন যে, এটি মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহকে (المقاصদ الأصلية) সুদৃঢ় করার দাবি রাখে না, অথচ শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য হলো সুদৃঢ় করা; ফলে এমন উপায় অবলম্বন শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যের (قصد الشارع) সাথে সংগতিপূর্ণ নয় বিধায় তা সঠিক হবে না।

চতুর্থ দিক: শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) চেনার অন্যতম একটি উপায় হলো, কোনো বিধানের প্রয়োজনীয় কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সেই বিধান প্রণয়ন থেকে বিরত থাকা বা নীরবতা (السكوت) অবলম্বন করা। এটি নির্দেশ করে যে, শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য (قصد الشارع) হলো পূর্বে যা বিদ্যমান ছিল তার অতিরিক্ত কিছু না করা। সুতরাং যদি কেউ এতে নতুন কিছু যোগ করে, তবে তা শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যের (قصد الشارع) পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার উদ্ভাবিত নতুন বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত হবে। অর্থাৎ, এটি এই হাদিসের পর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য হবে: "যে আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" এর ব্যাখ্যা হলো, কোনো বিধানের ক্ষেত্রে শরীয়তদাতার নীরবতা (السكوت) দুই প্রকার:

প্রথমটি: তিনি সেই বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন কারণ তখন এর জন্য কোনো দাবিদার বা প্রয়োজনীয় কারণ ছিল না। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর উদ্ভূত নতুন সমস্যাসমূহ (النوازل)। সেগুলো আগে বিদ্যমান ছিল না যে তিনি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ে নীরবতা পালন করেছেন; বরং সেগুলো পরবর্তীতে উদ্ভূত হয়েছে। ফলে শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণ সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতে এবং শরীয়তের সামগ্রিক মূলনীতিসমূহের (كليات) আলোকে সেগুলোর সমাধান দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পূর্বসূরি পুণ্যবানগণ (سلف صالح) যা উদ্ভাবন করেছেন তা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যেমন—কুরআন সংকলন, ইলম লিপিবদ্ধকরণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যেগুলোর উল্লেখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সেই সময়ের উদ্ভূত সমস্যা (النوازل) হিসেবে ছিল না। সে সময় এগুলোর ওপর আমল করার মতো কোনো প্রয়োজনীয় কারণও দেখা দেয়নি। সুতরাং এই প্রকারের শাখা-প্রশাখাগুলো শরীয়ত নির্ধারিত মূলনীতিসমূহের ওপর কোনো সংশয় ছাড়াই পরিচালিত হবে। এগুলোর ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্য (القصد الشرعي) পূর্বে বর্ণিত দিকগুলো থেকে সুস্পষ্ট।

দ্বিতীয়টি: শরীয়তদাতা সেই বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন অথচ এর প্রয়োজনীয় কারণ বা প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল। তা সত্ত্বেও সেই উদ্ভূত সমস্যার (النازلة) ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ের অতিরিক্ত কোনো বিধান নির্ধারণ করা হয়নি। এই প্রকারের ক্ষেত্রে নীরবতা (السكوت) একটি সুস্পষ্ট ভাষ্যের (النص) মতো কাজ করে যে, শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য (قصد الشارع) হলো এখানে কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাস না করা। কেননা আমলযোগ্য বিধান প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় এই কারণটি যখন বিদ্যমান ছিল এবং এরপরও...
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৮)
لم يشرع له الحكم كان ذلك صريحاً في أن الزائد على ما كان هنالك بدعة زائدة، ومخالفة لما قصده الشارع إِذْ فُهِمَ من قصده الوقوف عند ما حد هنالك لا الزيادة عليه ولا النقصان منه.

ومن أمثلة هذا الضرب: سجود الشكر في مذهب مالك فقد سئل مالك رحمه الله عن الرجل يأتيه الأمر يحبه فيسجد لله عز وجل شكراً، فقال: " لا يفعل، ليس هذا مما مضى من أمر الناس " قيل له إن أبا بكر الصديق فيما يذكرون سجد يوم اليمامة شكراً لله أفسمعت ذلك؟ قال: " ما سمعت ذلك، فأنا أرى أن قد كذبوا على أبي بكر وهذا من الضلال أن يسمع المرء الشيء فيقول هذا شيء لم أسمع له خلافاً "، فقيل له: إنما نسألك لنعلم رأيك فنرد ذلك به، فقال: "نأتيك بشيء آخر أيضا لم تسمعه مني قد فتح على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى المسلمين بعده، أفسمعت أن أحدا منهم فعل مثل هذا؟ إذا جاءك مثل هذا مما قد كان للناس وجرى على أيديهم لا يسمع عنهم فيه شيء فعليك بذلك، لأنه لو كان لذكر، لأنه من أمر الناس الذي قد كان فيهم، فهل سمعت أن أحداً منهم سجد، فهذا إجماع إذا جاءك أمر لا تعرفه فدعه"؛ هذا تمام الرواية ذكرها في العتبية من سماع أشهب وابن نافع قال ابن رشد: "واستدلاله على أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعل ذلك ولا المسلمون بعده بأن ذلك لو كان لنقل صحيح، إذ لا يصح أن تتوفر دواعي المسلمين على عدم نقل شريعة من شرائع الدين وقد أمروا بالتبليغ قال: وهذا أصل من الأصول وعليه يأتي إسقاط الزكاة عن الخضر والبقول مع وجوبها فيها بعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: " فيما سقت السماء والعيون والبعل العشر وفيما سقى بالنضح نصف العشر " أخرجه النسائي وأبو داود وابن ماجه.

لأنا نَزَّلْنَا تَرْكَ نَقْل أخذ النبي صلى الله عليه وسلم الزكاة منها كالسنة القائمة في أن لا زكاة فيها، فكذلك ننزل ترك نقل السجود عن النبي صلى الله عليه وسلم في الشكر كالسنة القائمة في أن لا سجود فيه. والمقصود من المسألة توجيه مالك لها من حيث أنها بدعة لا توجيه أنها بدعة على الإِطلاق، وإلا فقد وردت أحاديث في سجوده صلى الله عليه وسلم شكراً، ذكرها صاحب منتقى الأخبار وترجم عليها باب سجدة الشكر ولعلها لم تبلغ مالكاً أو بلغته ولم تصح عنده، وعلى هذا النحو جرى بعضهم في تحريم نكاح المحلل وأنه بدعة منكرة من حيث إنه وجد في زمانه عليه الصلاة والسلام المعنى المقتضي للتخفيف والترخيص للزوجين بإجازة التحليل ليتراجعا كما كان أول مرة، وأنه كما لم يشرع ذلك مع حرص امرأة رفاعة على رجوعها إليه، دل على أن التحليل ليس بمشروع لها ولا لغيرها وهو أصل صحيح، إذا اعتبر وضح به الفرق بين ما هو من البدع وما ليس منها؛ والله أعلم1.

--------------------------------------------

1 ملخص ما قاله الشاطبي بتصرف من جـ2 ص391-414.
যদি তার জন্য কোনো বিধান প্রবর্তিত না হয়ে থাকে, তবে তা এই বিষয়ে স্পষ্ট দলিল যে, সেখানে যা বিদ্যমান ছিল তার অতিরিক্ত কিছু করা একটি অতিরিক্ত বিদআত (بدعة) এবং শরিয়তপ্রণেতার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য থেকে এটাই বোঝা যায় যে, সেখানে যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানেই থেমে থাকতে হবে, তাতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাবে না।

এই প্রকারের একটি উদাহরণ হলো: মালিকি মাযহাবে শুকরিয়ার সিজদা (سجود الشكر)। ইমাম মালিক (রহ.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার কাছে কোনো আনন্দদায়ক সংবাদ এসেছে এবং সে আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ সিজদা করতে চায়। তিনি বললেন: "সে যেন তা না করে, এটি মানুষের (পূর্ববর্তীদের) কর্মপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়।" তাকে বলা হলো যে, লোকজন উল্লেখ করে থাকে যে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইয়ামামার যুদ্ধের দিন আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ সিজদা করেছিলেন, আপনি কি তা শুনেছেন? তিনি বললেন: "আমি তা শুনিনি; আমার মনে হয় তারা আবু বকর (রা.)-এর নামে মিথ্যা বলেছে। এটি পথভ্রষ্টতার অন্তর্ভুক্ত যে, একজন মানুষ কোনো কিছু শুনবে এবং বলবে যে এর বিপরীতে কোনো কিছু আমি শুনিনি।" তাকে পুনরায় বলা হলো: "আমরা আপনাকে আপনার মতামত জানার জন্য জিজ্ঞাসা করছি যাতে এর মাধ্যমে আমরা বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করতে পারি।" তিনি বললেন: "আমি তোমাদের কাছে এমন আরেকটি বিষয় নিয়ে আসছি যা তোমরা আমার কাছ থেকে শোননি; রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর পরে মুসলিমদের অনেক বিজয় অর্জিত হয়েছে, তোমরা কি শুনেছ যে তাদের মধ্যে কেউ এমন কাজ করেছেন? যখন তোমাদের কাছে এমন কোনো বিষয় আসে যা মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল এবং তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল, অথচ সেই বিষয়ে তাদের থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি, তবে তোমাদের সেটিই আঁকড়ে ধরা উচিত। কারণ যদি এটি থাকতো তবে অবশ্যই উল্লিখিত হতো, যেহেতু এটি মানুষের এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। সুতরাং তোমরা কি শুনেছ যে তাদের কেউ সিজদা করেছেন? এটি একটি ইজমা (إجماع); যখন তোমার কাছে এমন কোনো বিষয় আসবে যা তোমার পরিচিত নয়, তবে তা বর্জন করো।" এটিই পূর্ণ বর্ণনা, যা আত-তাবিয়্যাহ গ্রন্থে আশহাব ও ইবনে নাফি'র শ্রবণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে রুশদ বলেন: "নবী (সা.) এবং তাঁর পরবর্তী মুসলিমগণ যে এটি করেননি, তার স্বপক্ষে তার (মালিকের) দলিল হলো—যদি এটি হতো তবে তা সহিহ (صحيح) বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হতো। কারণ দ্বীনের কোনো বিধান বর্ণনা না করার বিষয়ে সকল মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়, অথচ তাদের তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন: এটি একটি মূলনীতি (أصل), এবং এর ভিত্তিতেই শাকসবজি ও তরি-তরকারির ওপর যাকাত রহিত করা হয়, যদিও নবী (সা.)-এর সাধারণ বাণীর কারণে তাতে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার কথা ছিল: 'যা আকাশ ও ঝরনার পানি এবং বৃষ্টির পানি দ্বারা সিক্ত হয় তাতে ওশর (দশমাংশ) এবং যা সেচযন্ত্রের সাহায্যে সিক্ত হয় তাতে নিসফে ওশর (বিংশতাংশ) দিতে হবে।' এটি নাসায়ি, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

কারণ, নবী (সা.) কর্তৃক এগুলি থেকে যাকাত গ্রহণের বর্ণনা না থাকাকে আমরা একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর (سنة) মতো গণ্য করেছি যে তাতে যাকাত নেই। ঠিক একইভাবে, নবী (সা.) থেকে শুকরিয়ার সিজদা বর্ণিত না হওয়াকে আমরা একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর (سنة) মতো গণ্য করি যে তাতে সিজদা নেই। এই মাসআলাটির উদ্দেশ্য হলো ইমাম মালিক কর্তৃক এটিকে বিদআত (بدعة) হিসেবে গণ্য করার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা, ঢালাওভাবে একে বিদআত বলা নয়। অন্যথায় নবী (সা.)-এর শুকরিয়ার সিজদা সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা মুনতাকা আল-আখবার গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন এবং 'শুকরিয়ার সিজদা' নামে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। সম্ভবত এই বর্ণনাগুলো ইমাম মালিকের কাছে পৌঁছায়নি অথবা পৌঁছালেও তার কাছে তা সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়নি। এই পথেই কেউ কেউ মুহাল্লিল (তথা হালালকারী) নিকাহ হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছেন এবং বলেছেন যে এটি একটি নিকৃষ্ট বিদআত (بدعة) এই কারণে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে স্বামী-স্ত্রীর জন্য التحليل (তথা তাহলীল) অনুমোদনের মাধ্যমে প্রথমাবস্থার মতো পুনরায় একত্র হওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান ছিল। কিন্তু রিফাআহ-এর স্ত্রীর তার স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও যেহেতু এটি বৈধ করা হয়নি, তাই এটি প্রমাণ করে যে তার জন্য বা অন্য কারো জন্য তাহলীল বৈধ নয়। এটি একটি সঠিক মূলনীতি (أصل); যদি এটি বিবেচনা করা হয় তবে যা বিদআত (بدعة) আর যা বিদআত নয় তার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহু আলাম ১।

--------------------------------------------

১. ইমাম শাতবি যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ (পরিমার্জিত), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯১-৪১৪।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১১৯)
‌‌الفصل الخامس: أقسام الحيل

تنقسم الحيل إلى قسمين:

القسم الأول: الحيل الجائزة: وهي ما كان المقصود منها جائزاً شرعاً من إثبات حق أو رفع باطل وهذا القسم يتنوع باعتبار الطرق المفضية إليه إلى نوعين:

النوع الأول: أن تكون الحيلة جائزة موضوعة لذلك المقصود شرعاً، ومن أمثلة ذلك:

ما إذا خافت المرأة أن يغيرها زوجها بالزواج عليها- فالحيلة في منع هذا الأذى أن تشترط هي أو وليُّها في العقد أنه متى تزوج عليها فأمرها بيدها- إن شاءت أقامت معه وإن شاءت فارقته.

ومن أمثلته أيضاً المعاريض التي يقصد بها جلب مصلحة أو دفع مفسدة فإن فيها مندوحة عن الكذب وقد لقي النبي صلى الله عليه وسلم طائفة من المشركين وهو في نفر من أصحابه، فقال المشركون: ممن أنتم؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: نحن من ماء فنظر بعضهم إلى بعض فقالوا: أحياء اليمن كثير فلعلهم منهم وانصرفوا1، وجاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: احملني فقال: ما عندي إلا ولد الناقة فقال: ما أصنع بولد الناقة؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: وهل يلد الإبلَ إلا النوقُ 2؟ وكقول الخليل: " هذه أختي "3، وقول الصديق: " هادٍ يهديني السبيل "4، وقد رأت امرأة عبد الله بن رواحة عبد الله على جارية له، فذهبت وجاءت بسكين فصادفته وقد قضى حاجته، فقالت: لو وجدتك على الحال التي كنت عليها لوجأتك فأنكر، فقالت: فاقرأ إن كنت صادقاً فقال:

شهدت بأن وعد الله حق … وأن النار مثوى الكافرينا

وأن العرش فوق الماء طاف … وفوق العرش رب العالمينا

وتحمله ملائكة كرام … ملائكة الإله مسومينا

فقالت: آمنت بالله وكذبت بصري فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فضحك ولم ينكر عليه5.

--------------------------------------------

1 إقامة الدليل ص165، إعلام الموقعين جـ3 ص 191.

2 سنن أبي داود جـ4 ص 300، سنن الترمذي جـ4 ص 358 وقال: حديث حسن صحيح غريب.

3 صحيح البخاري جـ7 ص 6، صحيح مسلم جـ7 ص 98.

4 صحيح البخاري جـ5 ص 69.

5 إقامة الدليل ص205.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কৌশলসমূহের প্রকারভেদ

কৌশলসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: বৈধ কৌশল: এটি হলো সেই কৌশল যার উদ্দেশ্য শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ, যেমন কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বা কোনো অন্যায় অপসারিত করা। এই প্রকারটি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদ্ধতির বিচারে দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ধরন: কৌশলটি বৈধ হওয়া এবং শরিয়ত কর্তৃক সেই উদ্দেশ্যের জন্যই নির্ধারিত হওয়া। এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

যখন কোনো নারী আশঙ্কা করে যে তার স্বামী তার ওপর পুনরায় বিবাহ করে তাকে কষ্ট দিবে—এমতাবস্থায় এই কষ্ট প্রতিরোধের কৌশল হলো, সে নিজে অথবা তার অভিভাবক বিবাহের চুক্তিতে এই শর্তারোপ করবে যে, স্বামী যখনই পুনরায় বিবাহ করবে, তখনই তার (স্ত্রীর) বিষয়টি তার নিজ হাতে চলে আসবে—চাইলে সে তার সাথে ঘর-সংসার করবে অথবা চাইলে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

এর আরও উদাহরণের মধ্যে রয়েছে দ্ব্যর্থবোধক কথা (তাওরিয়াহ), যার মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন বা অকল্যাণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্য থাকে। কেননা এতে মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সত্য বলার বিকল্প সুযোগ থাকে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর কয়েকজন সাহাবীর সাথে ছিলেন, তখন একদল মুশরিকের সাথে তাঁর দেখা হলো। মুশরিকরা জিজ্ঞাসা করল: "তোমরা কোন বংশের?" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমরা পানি থেকে।" তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাল এবং বলল: "ইয়ামেনের অনেক গোত্র আছে, সম্ভবত তারা তাদেরই কেউ।" অতঃপর তারা চলে গেল। জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: "আমাকে একটি সওয়ারি দিন।" তিনি বললেন: "আমার কাছে উষ্ট্রীর বাচ্চা ছাড়া আর কিছুই নেই।" লোকটি বলল: "আমি উষ্ট্রীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "উষ্ট্রীই কি উট প্রসব করে না?" এবং যেমন খলিল (ইব্রাহিম আ.)-এর উক্তি: "ইনি আমার বোন", এবং সিদ্দীক (আবু বকর রা.)-এর উক্তি: "উনি একজন পথপ্রদর্শক, যিনি আমাকে পথ দেখাচ্ছেন।" আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার স্ত্রী আব্দুল্লাহকে তাঁর এক দাসীর সাথে দেখলেন। তিনি গিয়ে একটি ছুরি নিয়ে আসলেন এবং তাঁকে এমন অবস্থায় পেলেন যখন তিনি তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন। স্ত্রী বললেন: "আমি যদি আপনাকে সেই অবস্থায় পেতাম যে অবস্থায় আমি সন্দেহ করেছিলাম, তবে আমি আপনাকে এই ছুরি দিয়ে আঘাত করতাম।" তিনি তা অস্বীকার করলেন। স্ত্রী বললেন: "যদি আপনি সত্যবাদী হন তবে কুরআন পাঠ করুন।" তখন তিনি পাঠ করলেন:

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য … এবং জাহান্নাম কাফিরদের আবাসস্থল

এবং আরশ পানির ওপর ভাসমান … আর আরশের ওপর বিশ্বজগতের প্রতিপালক

তাঁকে বহন করে সম্মানিত ফেরেশতারা … মহান আল্লাহর চিহ্নে চিহ্নিত ফেরেশতারা

তখন স্ত্রী বললেন: "আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম এবং নিজের চোখকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলাম।" এই সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি হাসলেন এবং তাঁর প্রতি কোনো আপত্তি প্রকাশ করেননি।

--------------------------------------------

১ ইকামাতুল দালীল পৃ. ১৬৫, ইলামুল মুয়াক্কিইন ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৯১।

২ সুনান আবু দাউদ ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩০০, সুনান তিরমিজি ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৫৮ এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি উন্নত মানের (حسن), বিশুদ্ধ (صحيح), একক (غريب)।

৩ সহিহ বুখারি ৭ম খণ্ড, পৃ. ৬, সহিহ মুসলিম ৭ম খণ্ড, পৃ. ৯৮।

৪ সহিহ বুখারি ৫ম খণ্ড, পৃ. ৬৯।

৫ ইকামাতুল দালীল পৃ. ২০৫।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১২০)
وهذا تحيل من عبد الله بن رواحة بإظهار القراءة لما أوهم أنه قرآن ليتخلص من مكروه الغيرة.

وهذا النوع من الحيل لا ارتياب في حله.

النوع الثاني: أن تكون الحيلة جائزة ولكنها لم توضع بالقصد الأول لذلك المقصود شرعاً.

ومن أمثلة هذا النوع أن ينكح المرأة ليعتز بأهلها أو ليستعين بمالها، أو بجمالها فيما لا يغضب الله فإن المقصود جائز ولكن النكاح لم يوضع لذلك شرعاً على وجه القصد، وإنما وضع بالقصد الأول لطلب النسل وعفة الزوجين عما حرم الله والمساكنة والازدواج وقد يستتبع المعاونة والنصرة فإذا نكح المرأة لما لا ينتفع به، أو لأهلها ينصرونه مثلا جاز ذلك النكاح لأن هذا المقصود لا يتنافى مع مقاصد النكاح الأصلية، بل ربما كان موثقاً لها وعلى ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: " تنكح المرأة لأربع لمالها ولجمالها ولحسبها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك " 1.

القسم الثاني من الحيل: الحيل المحظورة: وهي ما كان المقصود منها محرماً محظوراً وهذا القسم يتنوع إلى ثلاثة أنواع.

النوع الأول: أن تكون الحيلة محرمة في نفسها كالاحتيال على فسخ النكاح بالردة، وقد أجاد ابن القيم في هذا الصدد فقال: الطرق الخفية التي يتوصل بها إلى ما هو محرم في نفسه بحيث لا يحل بمثل ذلك السبب بحال فمتى كان المقصود بها محرما في نفسه فهي حرام باتفاق المسلمين، وذلك كالحيل على أخذ أموال الناس وظلمهم في نفوسهم وسفك دمائهم وإبطال حقوقهم وإفساد ذات البين، وهي من جنس حيل الشياطين على إغواء بني آدم بكل طريق، وهم يتحيلون عليهم ليوقعوهم في واحدة من ستة ولابد، فيتحيلون عليهم بكل طريق أن يوقعوهم في الكفر والنفاق على اختلاف أنواعه، فإذا عملت حيلهم في ذلك قرت عيونهم، فإن عجزت حيلهم عن من صحت فطرته وتلاها شاهد الإيمان من ربه بالوحي الذي أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم أعملوا الحيلة في إلقائه في البدعة على اختلاف أنواعها وقبول القلب لها وتهيئته واستعداده فإن تمت حيلهم كان ذلك أحب إليهم من المعصية وإن كانت كبيرة، ثم ينظرون في حال من استجاب لهم إلى البدعة فإن كان مطاعا في الناس أمروه بالزهد

1 صحيح مسلم بشرح النووي جـ10ص51.
এটি ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার একটি কৌশল (تحيل), যেখানে তিনি তিলাওয়াত প্রদর্শনের মাধ্যমে এমন বিভ্রম তৈরি করেছিলেন যে তা কুরআন ছিল, যাতে তিনি ঈর্ষার ন্যায় অপছন্দনীয় (مكروه) পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পান।

এই ধরণের কৌশলের বৈধতার (حل) ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

দ্বিতীয় প্রকার: কৌশলটি বৈধ (جائز) হওয়া, তবে তা শরীয়ত নির্দেশিত সেই মূল উদ্দেশ্যের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রবর্তিত হয়নি।

এই প্রকারের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনো নারীকে এই উদ্দেশ্যে বিবাহ করা যাতে তার পরিবারের মাধ্যমে সম্মান লাভ করা যায়, অথবা তার সম্পদের মাধ্যমে সাহায্য নেওয়া যায়, কিংবা তার সৌন্দর্যের মাধ্যমে এমন কিছুতে সহায়তা নেওয়া যায় যা আল্লাহকে রাগান্বিত করে না। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটি বৈধ (جائز), কিন্তু শরীয়তসম্মতভাবে বিবাহ কেবল সেই উদ্দেশ্যের জন্য প্রবর্তিত হয়নি। বরং এটি প্রাথমিকভাবে প্রবর্তিত হয়েছে বংশধারা লাভের জন্য, দম্পতিকে আল্লাহর হারামকৃত বিষয় থেকে পবিত্র রাখার জন্য, একত্রে বসবাস এবং দাম্পত্যের জন্য। আর এর ফলে পারস্পরিক সহায়তা ও বিজয় অর্জিত হতে পারে। সুতরাং কেউ যদি কোনো নারীকে এমন উদ্দেশ্যে বিবাহ করে যার মাধ্যমে সে উপকৃত হবে, অথবা যেমন তার পরিবার তাকে সাহায্য করবে, তবে সেই বিবাহ বৈধ (جاز) হবে। কারণ এই উদ্দেশ্য বিবাহের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সম্ভবত এটি বিবাহের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ়কারী হয়। আর এই প্রেক্ষিতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নারীকে চারটি গুণের ভিত্তিতে বিবাহ করা হয়: তার সম্পদ, তার সৌন্দর্য, তার বংশমর্যাদা এবং তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই লাভ করো, অন্যথায় তোমার দুই হাত ধূলিমলিন হোক।" ১।

কৌশলের দ্বিতীয় বিভাগ: নিষিদ্ধ কৌশল (الحيل المحظورة): এটি এমন কৌশল যার উদ্দেশ্য হলো হারাম (محرم) ও নিষিদ্ধ (محظور)। এই বিভাগটি তিন প্রকারে বিভক্ত।

প্রথম প্রকার: কৌশলটি মৌলিকভাবেই হারাম (محرمة) হওয়া, যেমন ধর্মত্যাগের (ردة) মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের (فسخ النكاح) প্রতারণা করা। ইবনুল কাইয়্যিম এই বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার আলোচনা করেছেন, তিনি বলেছেন: এমন সব সূক্ষ্ম পথ যা দ্বারা মূলত কোনো হারাম (محرم) বিষয়ে উপনীত হওয়া যায়, যা কোনোভাবেই এমন পন্থায় বৈধ (يحل) হয় না; সুতরাং যখন এর দ্বারা উদ্দেশ্যটি মৌলিকভাবেই হারাম (محرم) হয়, তখন মুসলিমদের ঐক্যমতে (اتفاق) তা হারাম (حرام) হিসেবে গণ্য। যেমন মানুষের সম্পদ হরণ করার কৌশল, তাদের প্রাণের ওপর জুলুম করা, রক্তপাত ঘটানো, তাদের অধিকার বাতিল করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করা। এগুলো শয়তানের সেই সব কৌশলের পর্যায়ভুক্ত যার মাধ্যমে সে আদম সন্তানকে সব উপায়ে বিভ্রান্ত করে। তারা তাদের ওপর কৌশল প্রয়োগ করে যাতে তাদের ছয়টি স্তরের যেকোনো একটিতে অবশ্যই নিপতিত করা যায়। তারা সব উপায়ে তাদের ওপর কৌশল চালায় যাতে তাদের বিভিন্ন প্রকার কুফর (كفر) এবং নিফাকে (نفاق) লিপ্ত করা যায়। যখন তাদের কৌশল এতে সফল হয়, তখন তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়। কিন্তু যদি তাদের কৌশল এমন কারো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় যার স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) সঠিক এবং যা তার রবের পক্ষ থেকে আসা ওহির মাধ্যমে অর্জিত ঈমানের সাক্ষ্য দ্বারা পুষ্ট—যা তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন—তখন তারা তাকে বিভিন্ন প্রকার বিদআতে (بدعة) লিপ্ত করার কৌশল প্রয়োগ করে এবং তার অন্তর যাতে তা গ্রহণ করে এবং তার জন্য প্রস্তুত ও উন্মুখ হয় সেই চেষ্টা করে। যদি তাদের কৌশল সফল হয়, তবে তা তাদের কাছে গুনাহের (معصية) চেয়েও অধিক প্রিয় হয়, যদিও সেই গুনাহ বড় (كبيرة) হয়। এরপর তারা সেই ব্যক্তির অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে যে তাদের বিদআতের ডাকে সাড়া দিয়েছে; যদি সে মানুষের মধ্যে মান্যবর ব্যক্তি হয়, তবে তাকে বৈরাগ্য অবলম্বনের নির্দেশ দেয়...

১. সহীহ মুসলিম বিশরাহ আন-নববী, ১০ম খণ্ড, ৫১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১২১)
والتعبد ومحاسن الأخلاق والشيم، ثم أطاروا له الثناء بين الناس ليصطادوا عليه الجهال ومن لا علم عنده بالسنة، وإن لم يكن كذلك جعلوا بدعته عوناً له على ظلمه أهل السنة وأذاهم والنيل منهم وزينوا له إن هذا انتصار لما هم عليه من الحق، فإن أعجزتهم هذه الحيلة ومنَّ الله على العبد بتحكيم السنة ومعرفتها والتمييز بينها وبين البدعة ألقوه في الكبائر وزينوا له فعلها بكل طريق وقالوا له أنت على السنة وفساق أهل السنة أولياء الله وعبَّاد أهل البدعة أعداء الله، وقبور فساق أهل السنة روضة من رياض الجنة وقبور عبَّاد أهل البدعة حفرة من حفر النار، والتمسك بالسنة يكفر الكبائر كما أن مخالفة السنة تحبط الحسنات وأهل السنة إن قعدت بهم أعمالهم قامت بهم عقائدهم، وأهل البدع إذا قامت بهم أعمالهم قعدت بهم عقائدهم، وأهل السنة هم الذين أحسنوا الظن بربهم إذ وصفوه بما وصف به نفسه ووصفه به رسول الله صلى الله عليه وسلم ووصفوه بكل كمال وجلال، ونزهوه عن كل نقص، والله تعالى عند ظن عبده به، وأهل البدع هم الذين يظنون بربهم ظن السوء، إذ يعطلونه عن صفات كماله وينزهونه عنها، وإذا عطلوه عنها لزم اتصافه بأضدادها ضرورة ولهذا قال الله تعالى في حق من أنكر صفة واحدة من صفاته وهي صفة العلم ببعض الجزيئات {وَذَلِكُمْ ظَنُّكُمُ الَّذِي ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (فصلت:23) وأخبر عن الظانين بالله ظن السوء أن عليهم دائرة السوء وغضب الله عليهم ولعنهم وأعَدَّ لهم جهنم وساءت مصيرا فلم يتوعد بالعقاب أحداً عظم ممن ظن به ظن السوء، وأنت لا تظن به ظن السوء فمالك وللعقاب، وأمثال هذا من الحق الذي يجعلونه وصلة لهم وحيلة إلى الاستهانة بالكبائر وأخذه إلا من نفسه.

وهذه حيلة لا ينجو منها إلا الراسخ في العلم، العارف بأسماء الله وصفاته فإنه كلما كان بالله أعرف كان له أشد خشية وكلما كان به أجهل كان أشد غروراً به وأقل خشية. فإن أعجزتهم هذه الحيلة وعظم وقار الله في قلب العبد هوَّنوا عليه الصغائر وقالوا له أنها تقع مكفرة باجتناب الكبائر حتى كأنها لم تكن وربما منَّوه أنه إذا تاب منها - كبائر كانت أو صغائر- كتبت له مكان كل سيئة حسنة.

فيقولون له كثر منها ما استطعت ثم أربح مكان كل سيئه حسنة بالتوبة، ولو قبل الموت بساعة، فإن أعجزتهم هذه الحيلة وخلص الله عبده منها نقلوه إلى الفضول من أنواع المباحات والتوسع فيها، وقالوا له قد كان لداود مائة امرأة إلا واحدة ثم أراد تكميلها بالمائة، وكان لسليمان ابنه مائة امرأة، وكان للزبير بن العوام وعبد الرحمن بن عوف وعثمان بن عفان من الأموال ما هو معروف وكان لعبد الله بن المبارك والليث بن سعد من الدنيا وسعة المال
এবং ইবাদত-বন্দেগি, উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচার। অতঃপর তারা মানুষের মাঝে তার প্রশংসার জয়ধ্বনি ছড়িয়ে দেয় যাতে মূর্খ এবং সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের তার মাধ্যমে শিকার করতে পারে। যদি সে তেমন নাও হয়, তবুও তারা তার বিদআতকে (بدعة) আহলুস সুন্নাহর ওপর জুলুম করতে, তাদের কষ্ট দিতে এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে তার জন্য সহায়ক বানিয়ে দেয়। তারা তার কাছে বিষয়টিকে এমনভাবে সুশোভিত করে যে, তারা যে সত্যের ওপর আছে, এটি তারই বিজয়। যদি এই কৌশলটি তাদের ব্যর্থ করে দেয় এবং আল্লাহ কোনো বান্দার প্রতি সুন্নাহকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করা, তা জানা এবং সুন্নাহ ও বিদআতের (بدعة) মধ্যে পার্থক্য করার তাওফিক দিয়ে অনুগ্রহ করেন, তবে তারা তাকে কবিরা গুনাহে (الكبائر) লিপ্ত করে এবং সব উপায়ে তার কাছে সেগুলো সুশোভিত করে তোলে। তারা তাকে বলে যে, তুমি সুন্নাহর ওপর আছো; আর আহলুস সুন্নাহর পাপাচারীগণ আল্লাহর ওলী (বন্ধু), পক্ষান্তরে বিদআতপন্থীদের (بدعة) ইবাদতগুজারগণ আল্লাহর শত্রু। তারা আরও বলে যে, আহলুস সুন্নাহর পাপাচারীদের কবর জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, আর বিদআতপন্থীদের (بدعة) ইবাদতগুজারদের কবর জাহান্নামের গর্তসমূহের একটি গর্ত। তারা বলে, সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা কবিরা গুনাহসমূহকে (الكبائر) ক্ষমা করে দেয়, যেমন সুন্নাহর বিরোধিতা নেক আমলসমূহকে ধ্বংস করে দেয়। আহলুস সুন্নাহর আমল যদি তাদের পিছিয়ে দেয়, তবে তাদের আকিদা (عقيدة) তাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। আর বিদআতপন্থীদের (بدعة) আমল যদি তাদের এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে তাদের আকিদা (عقيدة) তাদের পিছিয়ে দেয়। আহলুস সুন্নাহ হলো তারা যারা তাদের রব সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করে, যেহেতু তারা তাঁর বর্ণনা সেভাবেই দিয়েছেন যেভাবে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং যেভাবে তাঁর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন। তারা তাঁর জন্য সকল পূর্ণতা ও মহিমা সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁকে সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র রেখেছে। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার ধারণা অনুযায়ীই হয়ে থাকেন। অন্যদিকে বিদআতপন্থীরা (بدعة) তাদের রব সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করে, যেহেতু তারা তাঁকে তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি (صفات) থেকে শূন্য বা অস্বীকার (تعطيل) করার চেষ্টা করে। আর যখন তারা তাঁকে গুণাবলি (صفات) থেকে শূন্য করে দেয়, তখন অনিবার্যভাবেই তাঁকে এর বিপরীত দোষে বিশেষিত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর সিফাতসমূহের (صفات) মধ্যে একটি সিফাত, তথা আংশিক বিষয় সম্পর্কে তাঁর ইলমের সিফাতকে (صفات) অস্বীকারকারীর ব্যাপারে বলেছেন: “তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদের ধ্বংস করেছে, ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছো।” (ফুসসিলাত: ২৩)। আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণাকারীদের ব্যাপারে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের ওপর আপতিত হবে অকল্যাণচক্র, আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন, তাদের অভিশপ্ত করেছেন এবং তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য! সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণাকারীর চেয়ে কঠোর শাস্তির হুমকি তিনি আর কাউকে দেননি। যেহেতু তুমি তাঁর সম্পর্কে কুধারণা করো না, তবে তোমার কিসের আজাব? এই জাতীয় কিছু সত্য কথাকে তারা কবিরা গুনাহকে (الكبائر) তুচ্ছজ্ঞান করার উপায় ও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে এবং সে এগুলো কেবল নিজের প্রবৃত্তি থেকেই গ্রহণ করে।

এটি এমন এক কৌশল যা থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই নাজাত পায় যে জ্ঞানে সুগভীর এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (صفات) সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। কারণ মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে যত বেশি জানবে, তাঁকে তত বেশি ভয় পাবে। আর যে যত বেশি অজ্ঞ হবে, সে তাঁর ব্যাপারে তত বেশি বিভ্রান্ত হবে এবং তাঁর প্রতি ভয় তত কম হবে। যদি এই কৌশলটিও ব্যর্থ হয় এবং বান্দার হৃদয়ে আল্লাহর মহিমা সুদৃঢ় থাকে, তবে তারা তার কাছে সগিরা গুনাহসমূহকে (الصغائر) হালকা করে দেখায়। তারা বলে যে, কবিরা গুনাহসমূহ (الكبائر) বর্জন করলে এগুলো মোচনকারী (مكفرة) হিসেবে কাজ করে এবং এমনভাবে মিটে যায় যেন এগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। কখনো কখনো তাকে এই আশা দেয় যে, সে যদি তওবা করে—তা কবিরা (الكبائر) হোক বা সগিরা (الصغائر)—তবে প্রতিটি গুনাহর পরিবর্তে তার জন্য একটি করে নেকি লিখে দেওয়া হবে।

তারা তাকে বলে: যতটা পারো গুনাহ করো, তারপর তওবার মাধ্যমে প্রতিটি গুনাহর বিনিময়ে নেকি অর্জন করো, এমনকি তা যদি মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগেও হয়। যদি এই কৌশলটিও ব্যর্থ হয় এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাকে তা থেকে রক্ষা করেন, তবে তারা তাকে বিভিন্ন প্রকারের মুবাহ বা বৈধ বিষয়সমূহের (المباحات) আধিক্য ও প্রসারের দিকে নিয়ে যায়। তারা তাকে বলে: দাউদ (আ.)-এর নিরানব্বই জন স্ত্রী ছিল, অতঃপর তিনি একশত পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর পুত্র সুলায়মান (আ.)-এর একশত স্ত্রী ছিল। জুবায়ের ইবনুল আওয়াম, আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং উসমান ইবনে আফফানের সম্পদের পরিমাণ তো সর্বজনবিদিত। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং লাইস ইবনে সাআদ দুনিয়াবি সচ্ছলতা ও প্রচুর সম্পদের অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১২২)
ما لا يجهل وينسوه ما كان لهؤلاء من الفضل، وأنهم لم ينقطعوا عن الله بدنياهم، بل ساروا إليه فكانت طريقا لهم إلى الله، فإن أعجزتهم هذه الحيلة- بأن تفتح بصيرة قلب العبد حتى كأنه يشاهد بها الآخرة وما أعده الله فيها لأهل طاعته وأهل معصيته فأخذ حذره وتأهب للقاء ربه …

واستقصر مدة هذه الحياة الدنيا وحياته الدنيوية في جنب الحياة الباقية الدائمة- نقلوه إلى الطاعات المفضولة الصغيرة ليشغلوه بها عن الطاعات الفاضلة الكثيرة الثواب فيعمل حيلته في تركه كل طاعة كبيرة إلى ما هو دونها، فيعمل حيلته في تفويت الفضيلة عليه، فإن أعجزتهم هذه الحيلة - وهيهات – لم يبق لهم إلا حيلة واحدة وهي تسليط أهل الباطل والبدع والظلمة عليه يؤذونه وينفرون الناس عنه، ويمنعوهم من الاقتداء به ليفوتوا عليه مصلحة الدعوة إلى الله- وعليهم مصلحة الإجابة1.

النوع الثاني: من أقسام الحيل: أن تكون الحيلة مباحة تفضي إلى المقصود المحظور كما تفضي إلى غيره من المقاصد الحسنة كالسفر لقطع الطريق وقتل النفس التي حرم الله.

ومثل من يسافر إلى الخارج لكي يرتكب محارم الله تعالى، فيصير السفر حراما تحريماً قطعياً ونظيره كثير.

النوع الثالث: أن تكون الحيلة مباحة شرعت لغير هذا المقصود المحظور، فيتخذها المحتال وسيلة إليه، ومن أمثلة ذلك الفرار من الزكاة ببيع النصاب أو هبته أو استبداله قبيل حولان الحول، وهذا النوع هو محل الاشتباه وموضع الزلل وهو المقصود الأول لنا من الكلام على الحيل المحرمة، ولم نتكلم على غيرها من الحيل التي ظهر تحريمها إلا من باب تتميم الفائدة فقط، مع ما يتبعه من الفوائد الأخرى.

وهذا النوع - أعني ما كان المقصود منه محرماً والوسيلة مباحة لم تشرع له - حرام من جهتين: من جهة الغاية والمقصود، ومن جهة الوسيلة والطريق، أما من جهة الغاية فلأن المحتال قصد به إباحة ما حرم الله وإسقاط ما أوجبه، وأما من جهة الوسيلة فلأنه اتخذ آيات الله هزواً وقصد بالسبب ما لم يشرع له، بل قصد ضده فقد ضادَّ الشارع في الغاية والوسيلة والحكمة جميعاً.

وهذا النوع من الحيل على عدة أضرب:

الضرب الأول: الاحتيال لحل ما هو حرام في الحال كالحيل الربوية، وحيلة التحليل، والحيل الربوية نوعان:

--------------------------------------------

1 إعلام الموقعين جـ3 ص 328-221.
যা তারা অবগত হতে ভুল করে না এবং বিস্মৃত হয় না তা হলো এই মহৎ ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব; আর এটি যে তারা তাদের পার্থিব জীবনের মাধ্যমে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি, বরং তারা আল্লাহর দিকেই ধাবিত হয়েছেন এবং দুনিয়া তাদের জন্য আল্লাহর পথে চলার মাধ্যম হয়েছে। যদি তারা (শয়তান বা বিরোধীরা) এই কৌশলে অক্ষম হয়ে পড়ে—যাতে বান্দার হৃদয়ের অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) উন্মোচিত হয় এবং সে যেন এর মাধ্যমে আখেরাত এবং আল্লাহর অনুগত ও অবাধ্যদের জন্য সেখানে যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করতে পারে, ফলে সে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং তার রবের সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করে …

এবং সে চিরস্থায়ী ও শাশ্বত জীবনের তুলনায় এই পার্থিব জীবনের সময়কালকে অতি তুচ্ছ মনে করে—তখন তারা তাকে কম ফযিলতপূর্ণ ছোট ইবাদতের (طاعة مفضولة) কাজে নিয়োজিত করার চেষ্টা করে যাতে তাকে অধিক সওয়াবযুক্ত শ্রেষ্ঠ ইবাদতের (طاعة فاضلة) কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। এভাবে সে বড় ইবাদত ত্যাগ করিয়ে তার চেয়ে নিম্নমানের আমলের দিকে ধাবিত করার কৌশল প্রয়োগ করে, যাতে সে তাকে শ্রেষ্ঠত্ব থেকে বঞ্চিত করার ফন্দি আঁটতে পারে। যদি তারা এই কৌশলেও ব্যর্থ হয়—যা প্রায় অসম্ভব—তবে তাদের কাছে কেবল একটিই কৌশল অবশিষ্ট থাকে, আর তা হলো তার বিরুদ্ধে বাতিলপন্থী, বিদআতি (بدعة) ও জালিমদের লেলিয়ে দেওয়া, যাতে তারা তাকে কষ্ট দেয়, মানুষকে তার থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাকে অনুসরণ করতে বাধা দেয়; এর মাধ্যমে তারা তার আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কল্যাণ এবং মানুষের সেই দাওয়াহ কবুলের কল্যাণ থেকে তাদের বঞ্চিত করতে চায়।১

দ্বিতীয় প্রকার: কৌশলের প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে: এমন কোনো বৈধ (مباحة) কৌশল যা কোনো নিষিদ্ধ (محظور) গন্তব্যে নিয়ে যায়, যেমন তা অন্যান্য উত্তম গন্তব্যেও নিয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: ডাকাতি বা আল্লাহর নিষিদ্ধ করা কোনো প্রাণ হত্যার উদ্দেশ্যে সফর করা।

যেমন কেউ আল্লাহর নিষিদ্ধ (محارم) কাজ করার উদ্দেশ্যে বিদেশে সফর করে, ফলে এই সফর চূড়ান্তভাবে হারাম (حرام) হয়ে যায় এবং এর অনুরূপ অনেক উদাহরণ রয়েছে।

তৃতীয় প্রকার: কৌশলটি এমন একটি বৈধ (مباحة) বিষয় যা এই নিষিদ্ধ (محظور) উদ্দেশ্যের জন্য শরিয়তে বিধিবদ্ধ হয়নি, কিন্তু কৌশলী ব্যক্তি এটিকে সেই নিষিদ্ধ উদ্দেশ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। এর উদাহরণ হলো: নিসাব (نصاب) পূর্ণ হওয়ার কিছুকাল আগে তা বিক্রি করে দেওয়া, হেবা করে দেওয়া বা পরিবর্তন করার মাধ্যমে জাকাত প্রদান থেকে পলায়ন করা। এই প্রকারটিই হলো সংশয় ও পদস্খলনের ক্ষেত্র এবং নিষিদ্ধ কৌশল নিয়ে আমাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য এটিই। আমরা এ ব্যতীত অন্য কৌশলের বিষয়ে আলোচনা করিনি যেগুলোর নিষিদ্ধতা স্পষ্ট, কেবল আলোচনার পূর্ণতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপকারিতার খাতিরে কিছু কথা এসেছে।

আর এই প্রকারটি—অর্থাৎ যার উদ্দেশ্য হারাম (حرام) এবং মাধ্যমটি ছিল বৈধ (مباحة) যা এই কাজের জন্য বিধিবদ্ধ হয়নি—তা দুই দিক থেকে হারাম (حرام): লক্ষ্যের দিক থেকে এবং মাধ্যমের দিক থেকে। লক্ষ্যের দিক থেকে এজন্য যে, কৌশলী ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করার এবং ওয়াজিব (واجب) বিষয়কে রহিত করার ইচ্ছা পোষণ করেছে। আর মাধ্যমের দিক থেকে এজন্য যে, সে আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসে পরিণত করেছে এবং এমন একটি মাধ্যমকে এমন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে যার জন্য তা বিধিবদ্ধ হয়নি, বরং তার বিপরীত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। ফলে সে লক্ষ্য, মাধ্যম এবং হিকমত (প্রজ্ঞা)—সব দিক দিয়েই শরিয়ত প্রণেতার বিরোধিতা করেছে।

এই ধরনের কৌশল কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে:

প্রথম ধরণ: বর্তমানে হারাম এমন বিষয়কে হালাল (حلال) করার জন্য কৌশল অবলম্বন করা, যেমন সুদি কারবারের কৌশল (حيل ربوية) এবং হালালা করার কৌশল (حيلة التحليل)। সুদি কৌশল আবার দুই প্রকার:

--------------------------------------------

১ ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২১-৩২৮।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১২৩)
1- أن يضم العاقدان في العقد المحرم إلى العوضين أو إلى أحدهما عوضاً ليس بمقصود ليتخلصا به من التحريم ظاهراً، مثل أن يتعاقدا على بيع ربوي بجنسه متفاضلا ولأجل أن يتخلصا من التحريم في زعمهما يضمان إلى العوضين أو إلى أحدهما شيئاً آخر من غير الجنس، كأن يتعاقدا على بيع ألف دينار بألفي دينار ثم يضمان إلى كل من العوضين أو إلى أحدهما ثوباً أو منديلاً لا غرض فيه لواحد منهما إلا أن يتخلصا من حرمة الربا ظاهراً، فمتى كان المقصود بيع ربوي بجنسه متفاضلاً حرمت المسألة عند مالك والشافعي وأحمد ومتقدمي الكوفيين وهو الذي تدل عليه السنة.

2- أن يضم العاقدان إلى العقد المحرم عقداً ليس بمقصود ليتخلصا به من التحريم أيضاً في زعمهما ومثاله أن يتواطآ على أن يقرضه ألفاً بألف ومائتين، ولأجل أن يتخلصا من التحريم بزعمهما يبيعه المقرض سلعة لا غرض للمقترض فيها بألف ومائتين إلى أجل ثم يبيع المقترض هذه السلعة بعينها إلى المقرض بألف حالة، أو يبيعها المقترض لثالث أجنبي قد فهم غرضهما بألف حالة، ثم يبيعها الثالث للمقترض بنفس الثمن وهو الألف، فآل ذلك في الصورتين إلى أن أقرضه ألفاً حالة ليردها إليه بعد الأجل ألفاً ومائتين ولكن في قالب تصرف جائز ظاهرا.

الضرب الثاني: الاحتيال على حل ما انعقد سبب تحريمه وهو صائر إلى التحريم كما إذا علق الطلاق بشرط كدخولها الدار مثلا، ثم أراد منع وقوع الطلاق عند الشرط، فخالعها لتدخل الدار وهي على غير عصمته فلا يقع الطلاق بعد ذلك إذا عادت إليه بعقد جديد ودخلت الدار، لأن التعليق غير قائم حينئذٍ.

الضرب الثالث: الاحتيال على إسقاط ما هو واجب في الحال كالاحتيال على إسقاط الإنفاق الواجب عليه، وأداء الدين الواجب، بأن يملك ماله لزوجته أو ولده فيصير معسراً فلا يجب عليه الانفاق ولا أداء الدين، وكمن يدخل عليه رمضان ولا يريد صومه، فيسافر ولا غرض له من السفر سوى الفطر.

الضرب الرابع: الاحتيال على إسقاط سبب وجود ما لم يجب، ولكنه صائر إلى الوجوب فيحتال حتى يمنع الوجوب، كالاحتيال على إسقاط الزكاة قبيل الحول بتمليكه ماله لبعض أهله، ثم استرجاعه بعد ذلك، وكالاحتيال على إسقاط حق الشفعة التي شرعت دفعاً للضرر عن الشريك أو الجار قبل وجوبها، فإن السبب قائم وهو الشركة أو الجوار ولكنه لا يقتضي حكمه إلا بالشرط وهو البيع فالبيع هنا كحولان الحول في الزكاة فيعمد المحتال إلى إزالة الشرط بحيلة ليمنع اقتضاء السبب حكمه.
1- চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয় কর্তৃক নিষিদ্ধ (محرم) চুক্তিতে প্রতিদানদ্বয়ের সাথে অথবা যেকোনো একটির সাথে এমন কোনো বিনিময় যুক্ত করা যা মূলত উদ্দেশ্য নয়, বরং কেবল বাহ্যিকভাবে নিষিদ্ধতা (تحريم) থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য। যেমন—একই জাতীয় সুদী পণ্যের কম-বেশিতে কেনাবেচার চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া এবং তাদের ধারণা মতে নিষিদ্ধতা থেকে বাঁচার জন্য তারা উভয় প্রতিদানের সাথে অথবা যেকোনো একটির সাথে ভিন্ন জাতীয় অন্য কিছু যুক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, এক হাজার দিনারের বিনিময়ে দুই হাজার দিনারের চুক্তি করা এবং এরপর উভয় প্রতিদানের সাথে অথবা যেকোনো একটির সাথে একটি কাপড় বা রুমাল যুক্ত করা, যাতে তাদের কারো কোনো প্রকৃত উদ্দেশ্য নেই; কেবল বাহ্যিকভাবে সুদের নিষিদ্ধতা (حرمة الربا) থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া ছাড়া। সুতরাং যখন উদ্দেশ্য হবে একই জাতীয় সুদী পণ্য কম-বেশিতে কেনাবেচা করা, তখন ইমাম মালিক, শাফেয়ি, আহমদ এবং কুফাবাসীদের পূর্বসূরিদের নিকট বিষয়টি নিষিদ্ধ (حرام) হবে। আর সুন্নাহ (سنة) এটিই প্রমাণ করে।

2- চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয় কর্তৃক নিষিদ্ধ চুক্তির সাথে এমন একটি চুক্তি যুক্ত করা যা মূলত উদ্দেশ্য নয়, বরং তাদের ধারণা মতে নিষিদ্ধতা (تحريم) থেকে বাঁচার জন্য। এর উদাহরণ হলো—উভয়ে এই মর্মে একমত হওয়া যে, সে তাকে এক হাজার মুদ্রার বিপরীতে বারোশ মুদ্রা ঋণ দেবে। আর তাদের ধারণা মতে নিষিদ্ধতা থেকে নিষ্কৃতি পেতে ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার নিকট এমন একটি পণ্য বারোশ মুদ্রায় মেয়াদে বিক্রয় করে যাতে ঋণগ্রহীতার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপর ঋণগ্রহীতা সেই পণ্যটিই পুনরায় ঋণদাতার নিকট নগদে এক হাজার মুদ্রায় বিক্রয় করে দেয়, অথবা ঋণগ্রহীতা তৃতীয় কোনো পক্ষের নিকট নগদে এক হাজার মুদ্রায় বিক্রয় করে যে তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে, এরপর সেই তৃতীয় পক্ষ পণ্যটি ঋণদাতার নিকট একই মূল্য অর্থাৎ এক হাজার মুদ্রায় বিক্রয় করে। ফলে উভয় সুরতেই বিষয়টি এমন দাঁড়াল যে, সে তাকে বর্তমানে এক হাজার মুদ্রা ঋণ প্রদান করল যা মেয়াদের পর বারোশ মুদ্রা হিসেবে ফেরত নেবে, কিন্তু তা বাহ্যিকভাবে একটি বৈধ (جائز) লেনদেনের কাঠামোতে সম্পন্ন হলো।

দ্বিতীয় প্রকার: কোনো বিষয়ের নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ সংঘটিত হওয়ার পর তাকে বৈধ করার কৌশল অবলম্বন করা, যা মূলত নিষিদ্ধতার (تحريم) দিকেই ধাবিত হয়। যেমন—তালাককে (طلاق) কোনো শর্তের সাথে যুক্ত করা, উদাহরণস্বরূপ ঘরে প্রবেশ করার সাথে; এরপর শর্ত পাওয়া যাওয়ার সময় তালাক কার্যকর হওয়া রোধ করতে চাইলে তাকে খোলা (خلع) করে দেওয়া, যাতে সে তার বৈবাহিক বন্ধনে (عصمة) না থাকা অবস্থায় ঘরে প্রবেশ করে। ফলে পরবর্তীতে সে যদি নতুন চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় তার নিকট ফিরে আসে এবং ঘরে প্রবেশ করে, তবে তালাক কার্যকর হবে না। কারণ তখন সেই শর্তযুক্ত করার বিষয়টি আর বিদ্যমান নেই।

তৃতীয় প্রকার: বর্তমানে যা আবশ্যক (واجب), তা বিলোপ করার কৌশল অবলম্বন করা। যেমন—তার ওপর আবশ্যক ভরণপোষণ (إنفاق) এবং ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর কৌশল হিসেবে নিজের সম্পদ স্ত্রী বা সন্তানের মালিকানায় প্রদান করা, যাতে সে অসচ্ছল (معسر) হয়ে পড়ে এবং তার ওপর ভরণপোষণ বা ঋণ পরিশোধ আবশ্যক (واجب) না থাকে। অথবা যেমন—রমজান মাস উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি রোজা রাখতে চায় না, সে সফরের কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই কেবল রোজা ভঙ্গের জন্য সফরে বের হয়।

চতুর্থ প্রকার: যা এখনো আবশ্যক (واجب) হয়নি কিন্তু আবশ্যক হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে, এমন বিষয়ের উপস্থিতির কারণটিই বিলোপ করার কৌশল করা যাতে ওয়াজিব হওয়া রোধ করা যায়। যেমন—বছর পূর্ণ হওয়ার (حول) কিছুকাল পূর্বে নিজের সম্পদ পরিবারের কোনো সদস্যকে মালিক বানিয়ে দিয়ে জাকাত (زكاة) ফাঁকি দেওয়ার কৌশল করা এবং এরপর তা পুনরায় নিজের অধিকারে নিয়ে আসা। অথবা যেমন—অংশীদার বা প্রতিবেশীর ক্ষতি রোধে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত অগ্রক্রয়াধিকারের (شفعة) হক আবশ্যক হওয়ার পূর্বেই তা বিলোপ করার কৌশল করা। কারণ এখানে মূল কারণটি বিদ্যমান—আর তা হলো অংশীদারিত্ব বা প্রতিবেশী হওয়া—কিন্তু শর্ত অর্থাৎ বিক্রয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার বিধান কার্যকর হয় না। এক্ষেত্রে বিক্রয় হচ্ছে জাকাতের ক্ষেত্রে বছর পূর্ণ হওয়ার ন্যায়। তাই কৌশলী ব্যক্তি একটি হিলার মাধ্যমে শর্তটি বিলোপ করতে সচেষ্ট হয় যাতে কারণটি তার বিধান প্রদান করতে না পারে।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১২৪)
‌‌الفصل السادس: أمثلة للحيل المحظورة

بعد الكلام والتفصيل المتقدم أحب أن أسوق بعض الأمثلة على الحيل المحظورة والحيل الجائزة كي يتضح المقال بضرب المثال ويحسن الفهم الكامل للحيل وصورها المتعددة، وسأبدأ بالحيل المحظورة مستدلا لتحريمها من الكتاب والسنة والإجماع

فأما الكتاب فمنه أولا: قال الله تعالى في أول سورة البقرة في وصف المنافقين الذين أظهروا الإسلام وأبطنوا الكفر {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِالله وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ يُخَادِعُونَ الله وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ الله مَرَضاً وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ} 1 وهذا وأمثاله كثير مما ذم الله به المنافقين في كثير من السور المدنية كسورة البقرة والنساء والتوبة والمنافقون وقد سئل القرطبي عن حكمة كفه صلى الله عليه وسلم عن قتل المنافقين مع علمهم بأعيان بعضهم فأجاب بأجوبة أمثلها ما ثبت في الصحيحين أنه صلى الله عليه وسلم قال لعمر رضي الله عنه: " أكره أن يتحدث العرب أن محمداً يقتل أصحابه " 2 ومعنى هذا أنه كف عن قتلهم خشية أن يقع بسبب ذلك تنفير لكثير من الأعراب عن الدخول في الإسلام ولا يعلمون حكمة قتله لهم وأن قتله إنما هو على الكفر، فإنهم إنما يأخذونه بمجرد ما يظهر لهم، فيقولون إن محمداً يقتل أصحابه، وهذا كما كان يعطي المؤلفة قلوبهم مع علمه بسوء اعتقادهم تأليفاً لهم ولغيرهم ولأن ولايته المنافقين وحسن معاشرتهم ربما أدت إلى استمالتهم فيما بعد ونزعوا عما هم فيه من النفاق.

وقال الحافظ ابن كثير في تفسيره: " إنما نزلت صفات المنافقين في السور المدنية لأن مكة لم يكن فيها نفاق بل كان من الناس من يظهر الكفر ويخفي الإيمان لضعف المؤمنين وقوة المشركين " إلى آخر ما قاله فليتأمل في موضعه3.

والشاهد من الآيات على ذم الحيل أن النفاق حيلة ظاهرها الإيمان والتسليم وباطنها الكفر والتكذيب، والمقصود من هذه الحيلة إحراز دمائهم وأموالهم ومشاركة المسلمين فيما قد يحصلون عليه من المغانم وإيذاء المؤمنات وإذاعة أسرارهم إلى الكافرين وقد توعد الله المنافقين بالعذاب الأليم، وأخبر أنهم يخادعونه وما يخدعون إلا أنفسهم ويمكرون به وما يمكرون

--------------------------------------------

1 الآية من 8-10 من سورة البقرة.

2 صحيح البخاري جـ6ص 175، صحيح مسلم جـ8 ص 19.

3 مختصر تفسير ابن كثير جـ 1ص 33.
ষষ্ঠ অধ্যায়: নিষিদ্ধ কৌশলসমূহের উদাহরণ

পূর্বোক্ত আলোচনা ও বিস্তারিত বিবরণের পর, আমি নিষিদ্ধ ও বৈধ কৌশলসমূহের কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করতে চাই, যাতে উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং কৌশল ও এর নানাবিধ রূপ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা অর্জিত হয়। আমি কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع) থেকে নিষিদ্ধ কৌশলসমূহের হারাম হওয়ার প্রমাণাদি উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করব।

কুরআনের দলিলের ক্ষেত্রে প্রথমত: আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার শুরুতে সেই সব মুনাফিকদের বর্ণনায় বলেছেন যারা ইসলাম প্রকাশ করে এবং কুফর গোপন রাখে: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালকে বিশ্বাস করি’, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ ও মুমিনদেরকে প্রতারিত করতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরকেই প্রতারিত করছে, কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারছে না। তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত।} ১। এটি এবং এ জাতীয় আয়াতগুলো তার বহু উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মাদানী সূরাসমূহে যেমন—সূরা বাকারা, নিসা, তাওবা এবং মুনাফিকুন-এ মুনাফিকদের নিন্দা করেছেন। ইমাম কুরতুবীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট কিছু মুনাফিক সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও কেন তাদের হত্যা করা থেকে বিরত থেকেছেন। জবাবে তিনি কয়েকটি উত্তর প্রদান করেন, যার মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হলো যা সহীহাইনে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রা.)-কে বলেছিলেন: "আমি অপছন্দ করি যে আরবরা বলুক যে মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে।" ২। এর অর্থ হলো, তিনি তাদের হত্যা করা থেকে বিরত ছিলেন এই ভয়ে যে, এর ফলে অনেক মরুবাসী আরব ইসলামে প্রবেশ করতে অনীহা প্রকাশ করবে। তারা তাদের হত্যার হিকমত (প্রজ্ঞা) সম্পর্কে অবগত হবে না এবং তারা বুঝবে না যে এই হত্যা কেবলমাত্র কুফরির কারণেই হচ্ছে। তারা তো কেবল তাদের সামনে যা প্রকাশিত হয় তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেবে এবং বলবে যে, মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে। এটি ঠিক তেমন যেমন তিনি 'মুআল্লাফাতুল কুলুব' (যাদের অন্তর জয় করা কাম্য)-দের দান করতেন তাদের কু-আকীদা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও, যাতে তাদের এবং অন্যদের অন্তর আকৃষ্ট করা যায়। অধিকন্তু, মুনাফিকদের সাথে ভালো আচরণ এবং সুসম্পর্ক হয়তো পরবর্তীতে তাদের মন জয়ে সাহায্য করবে এবং তারা তাদের মুনাফিকি ত্যাগ করবে।

হাফেজ ইবনে কাসীর তার তাফসীরে বলেছেন: "মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যসমূহ কেবল মাদানী সূরাগুলোতেই অবতীর্ণ হয়েছে, কারণ মক্কায় কোনো নিফাক (মুনাফিকি) ছিল না। বরং মুমিনদের দুর্বলতা এবং মুশরিকদের শক্তির কারণে সেখানে এমন লোক ছিল যারা কুফরি প্রকাশ করত এবং ঈমান গোপন রাখত।" তিনি যা বলেছেন তার শেষ পর্যন্ত স্বস্থানে দেখে নেয়া উচিত।৩

কৌশল বা প্রতারণার নিন্দায় এই আয়াতগুলোর প্রমাণ্য বিষয় হলো—নিফাক (মুনাফিকি) এমন একটি কৌশল যার বাহ্যিক রূপ হলো ঈমান ও আনুগত্য, কিন্তু অভ্যন্তরীণ রূপ হলো কুফর ও অস্বীকার। এই কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের রক্ত ও সম্পদ রক্ষা করা, মুসলমানদের অর্জিত গনীমতে (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) অংশীদার হওয়া, মুমিন নারীদের কষ্ট দেওয়া এবং তাদের গোপন সংবাদগুলো কাফিরদের কাছে ফাঁস করে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করছে অথচ তারা কেবল নিজেদের সাথেই প্রতারণা করে এবং তারা কূটকৌশল অবলম্বন করছে অথচ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই কৌশল অবলম্বনকারী।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারার ৮-১০ নম্বর আয়াত।

২ সহীহ বুখারী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৭৫; সহীহ মুসলিম, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৯।

৩ মুখতাসার তাফসীর ইবনে কাসীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-হিয়াল (পৃষ্ঠা: ১২৫)
إلا بأنفسهم وأنهم فيما قالوا وفعلوا غير صادقين فلهم عذاب أليم بما كانوا يكذبون، فهذه الحيلة هي رأس الحيل المحرمة ظاهرها الطاعة وباطنها المعصية.

ثانياً: وقال تعالى في سورة البقرة في قصة أصحاب السبت {وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ فَجَعَلْنَاهَا نَكَالاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ} 1.

وقد فصل الله تعالى هذه القصة في سورة الأعراف فقال: {وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعاً وَيَوْمَ لا يَسْبِتُونَ لا تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْماً الله مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَاباً شَدِيداً قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ} 2، وخلاصة هذه القصة ما ذكره المفسرون سلفاً وخلفاً أن الله أمر اليهود أن يكون عيدهم الجمعة من كل أسبوع على ما هو ثابت في شريعتنا فأبوا إلا السبت فأجيبوا إلى ما طلبوا وأمروا أن يتفرغوا فيه للعبادة وحرم الله عليهم صيد السمك فيه، ثم ابتلاهم الله سبحانه فكانت الحيتان تأتيهم يوم سبتهم شرعاً، ظاهرة على وجه الماء فإذا كان يوم الأحد لزمن سفل اليحر فلم ير منهن شيء حتى يكون يوم السبت الذي بعده وهكذا كما قال الله تعالى: {وَيَوْمَ لا يَسْبِتُونَ لا تَأْتِيهِمْ} (أعراف: من الآية163) ، وقد مكثوا مدة لا يصيدونها في ذلك اليوم كما أمرهم الله، ثم اشتهتها أنفسهم فاحتالوا للاصطياد في السبت بصورة الاصطياد في غيره بشتى الحيل التي ظاهرها الامتثال وباطنها التمرد والعصيان، حتى إذا فشا فيهم ذلك المنكر علانية نصحهم أحبارهم ورهبانهم وأبلغوا في النصح فلم يقبلوا منهم فانقسم هؤلاء الناصحون إلى فرقتين: فرقة كفت عن النهي لعلمها بحال القوم ويأسها من هدايتهم، وفرقة استمرت على نهيهم وتذكيرهم حماسة في دين الله وحرصاً على هداية المعتدين حتى قالت لهم الطائفة التي نهت وكفت عن النهي {لِمَ تَعِظُونَ قَوْماً الله مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَاباً شَدِيداً} (لأعراف: من الآية164) وهو سؤال استفسار فأجابت الطائفة التي استمرت على التذكير بما حكاه الله عنها {مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} (لأعراف: من الآية164) ومع ذلك لم يجدهم التذكير نفعاً واستمروا على الاعتداء {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ} (لأعراف: من الآية165) وهم الطائفتان التي نصحت وكفت والتي نصحت ولم تكف عن النصح: {وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ

--------------------------------------------

1 الآية 65 من سورة البقرة.

2 لآية 163 من سورة الأعراف.
...বরং তারা কেবল নিজেদের সাথেই (প্রতারণা করে), আর তারা যা বলেছে ও করেছে সে বিষয়ে তারা সত্যবাদী ছিল না। সুতরাং তাদের মিথ্যাচারের কারণে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর এই অপকৌশলটিই হলো নিষিদ্ধ অপকৌশলসমূহের মূল, যার বাহ্যিক রূপ হলো আনুগত্য কিন্তু অভ্যন্তরীণ রূপ হলো অবাধ্যতা।

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ সূরা আল-বাকারায় শনিবারের অধিবাসীদের (আসহাবুস সাবত) ঘটনায় ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা অবশ্যই তাদের সম্পর্কে জানো যারা তোমাদের মধ্যে শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে বলেছিলাম, 'তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও'। অতঃপর আমি একে তার সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য এক অনুকরণীয় শাস্তি এবং মুত্তাকিদের জন্য উপদেশস্বরূপ বানিয়েছি।} ১।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আরাফে এই ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ইরশাদ করেছেন: {আর তুমি তাদের কাছে সেই জনপদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো যা সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ছিল; যখন তারা শনিবারের বিধান পালনে সীমালঙ্ঘন করছিল। যখন তাদের শনিবারের দিন মাছগুলো পানির ওপর ভেসে তাদের কাছে আসত, আর যেদিন তাদের শনিবার থাকত না সেদিন সেগুলো আসত না। এভাবেই আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম, কারণ তারা পাপাচার (فسق) করত। আর যখন তাদের মধ্য থেকে একদল বলল, 'আপনারা কেন এমন এক কওমকে উপদেশ দিচ্ছেন যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন কিংবা কঠিন শাস্তি দেবেন?' তারা বলল, 'আপনাদের রবের কাছে ওজর পেশ করার জন্য এবং যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে'। অতঃপর তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের মুক্তি দিলাম যারা মন্দ কাজে বাধা প্রদান করত এবং যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে তাদের পাপাচারের (فسق) দরুন কঠিন শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম। অতঃপর তারা যখন যা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল সে বিষয়ে অবাধ্যতা করল, তখন আমি তাদেরকে বললাম, 'তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও'।} ২। এই ঘটনার সারসংক্ষেপ যা পূর্ববর্তী (سلف) এবং পরবর্তী (خلف) মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন তা হলো—আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন প্রতি সপ্তাহের জুমুআর দিন তাদের ঈদের দিন হয়, যা আমাদের শরিয়তেও সাব্যস্ত (ثابت) রয়েছে। কিন্তু তারা শনিবার ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। ফলে তাদের চাওয়া অনুযায়ী তাদের দাবি মঞ্জুর করা হলো এবং তাদের নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তারা এই দিনে ইবাদতের জন্য নিবিষ্ট থাকে। আর আল্লাহ তাদের জন্য এই দিনে মাছ শিকার করা হারাম করে দিলেন। এরপর মহান আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করলেন; ফলে তাদের শনিবারের দিন মাছগুলো পানির উপরিভাগে স্পষ্টভাবে ভেসে আসত। কিন্তু যখন রবিবার হতো, তখন মাছগুলো সমুদ্রের গভীরে চলে যেত এবং পরবর্তী শনিবার না আসা পর্যন্ত সেগুলোর কিছুই দেখা যেত না। এভাবেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যেদিন তাদের শনিবার থাকত না, সেদিন সেগুলো আসত না} (সূরা আল-আরাফ: ১৬৩ আয়াতাংশের অংশবিশেষ)। তারা দীর্ঘ সময় আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ওই দিনে মাছ শিকার করা থেকে বিরত ছিল। অতঃপর তাদের মনে মাছের লোভ জাগল এবং তারা শনিবারের শিকারকে অন্য দিনের শিকার হিসেবে দেখানোর জন্য বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিল, যার বাহ্যিক রূপ ছিল আনুগত্য কিন্তু অভ্যন্তরীণ রূপ ছিল বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা। যখন তাদের মাঝে এই অন্যায় কাজ প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ল, তখন তাদের আলেম ও দরবেশগণ তাদের উপদেশ দিলেন এবং উপদেশের চূড়ান্ত করলেন। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করল না। তখন এই উপদেশ দানকারীরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়লেন: একদল ওই লোকদের অবস্থা সম্পর্কে জেনে এবং তাদের হেদায়েতের ব্যাপারে হতাশ হয়ে উপদেশ দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। আর অন্য একদল আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আগ্রহ ও সীমালঙ্ঘনকারীদের হেদায়েতের আকাঙ্ক্ষায় তাদের উপদেশ ও নসিহত প্রদান অব্যাহত রাখলেন। এমনকি যারা উপদেশ দেওয়া বন্ধ করেছিলেন তারা নসিহতকারীদের বললেন: {আপনারা কেন এমন এক কওমকে উপদেশ দিচ্ছেন যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন কিংবা কঠিন শাস্তি দেবেন?} (সূরা আল-আরাফ: ১৬৪ আয়াতাংশের অংশবিশেষ)—এটি একটি জিজ্ঞাসামূলক প্রশ্ন। তখন যারা নসিহত অব্যাহত রেখেছিলেন তারা উত্তর দিলেন যা আল্লাহ তাআলা এভাবে উল্লেখ করেছেন: {আপনাদের রবের নিকট ওজর পেশ করার জন্য এবং যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে} (সূরা আল-আরাফ: ১৬৪ আয়াতাংশের অংশবিশেষ)। তা সত্ত্বেও নসিহত তাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং তারা সীমালঙ্ঘন চালিয়ে যেতে লাগল। {অতঃপর তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের মুক্তি দিলাম যারা মন্দ কাজে বাধা প্রদান করত} (সূরা আল-আরাফ: ১৬৫ আয়াতাংশের অংশবিশেষ)—তারা ছিল সেই দুই দল যারা উপদেশ দিয়ে বিরত হয়েছিল এবং যারা উপদেশ দেওয়া বন্ধ করেনি: {আর যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে আমি পাকড়াও করলাম কঠিন শাস্তি দ্বারা...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারার ৬৫ নম্বর আয়াত।

২. সূরা আল-আরাফের ১৬৩ নম্বর আয়াত।