(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: -)
الحدود في علم النحو القسم: النحو والصرف
الكتاب: الحدود في علم النحو
المؤلف: أحمد بن محمد بن محمد البجائي الأٌبَّذيٌ، شهاب الدين الأندلسي (ت 860هـ)
المحقق: نجاة حسن عبد الله نولي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 112 - السنة 33 - 1421هـ/2001م
عدد الصفحات: 490
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাহু শাস্ত্রের সংজ্ঞাসমূহ (আল-হুদুদ ফি ইলমিন নাহু) বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: নাহু শাস্ত্রের সংজ্ঞাসমূহ (আল-হুদুদ ফি ইলমিন নাহু)
লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বিজায়ী আল-আব্বাযী, শিহাবুদ্দীন আল-আন্দালুসী (মৃত্যু ৮৬০ হিজরী)
সম্পাদক (محقق): নাজাত হাসান আব্দুল্লাহ নুলি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১১২ - বর্ষ ৩৩ - ১৪২১ হিজরী/২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯০
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৩)
ال
مقدمةالحمدُ للهِ رب العالمين، والصلاةُ والسلامُ على سيدِ المرسلين، نبينا محمد، وعلى آلهِ وصحبهِ أجمعين، وعلى من اهتدى بهديه إلى يومِ الدين.
أما بعدُ، فقد أثرى علماؤنا الأفذاذُ وأسلافُنا الجهابذةُ المكتبةَ بتراثٍ عظيمٍ يتمثَّلُ في هذا الزخم العاطر والكمِّ الهائلِ من المؤلفات والمصنَّفاتِ في مختلفِ فنونِ المعرفةِ وضروبِ العلمِ، ولكن هذه الأسفارَ العظامَ والكتبَ قابعةٌ في ظلماتِ الخزائنِ تهيلُ عليها السنون مزيداً من النسيانِ، لذا فإن تحقيقَ المخطوطاتِ، وبعثَها وإخراجَ كنوزِها وفضَّ غبارِ السنين عنها وإتاحةَ الفرصةِ لها لترى النور، من أعظمِ الخدماتِ التي تُقدَّمُ للتراث.
وقد قمتُ بعونِ اللهِ وتوفيقهِ بتحقيقِ كتابِ "الحدود في علمِ النحوِ" للعلَاّمةِ الأُبَّذي المتوفَّى سنة 860?.
والكتابُ على صغرِ حجمه، عظيمُ الفائدةِ، جمُّ المنافعِ، فهو يضمُ عدداً كبيراً من المصطلحاتِ والتعريفاتِ النحوية وقليلاً جداً من التعريفات الصرفية، مع شرحِها وتفسيرِها وتوضيحِها، في إيجازٍ غيرِ مقلٍ، وإجمالٍ غيرِ مخلٍّ، مع البعدِ عن الشواهدِ والأمثلةِ والآراءِ والمذاهبِ النحويةِ والخلافاتِ المذهبيةِ.
أما صاحبُ الكتابِ - وهو الأبذي - فقد توقفتْ كتبُ الطبقاتِ والتراجم عن الترجمةِ له إلا النزر اليسير، ولعلَ السببَ في ذلك تأخُره، فلم نجدْ سوى ترجمةٍ يسيرةٍ له ونبذة مختصرة عن حياتهِ. وإنا إذ نلقي الضوءَ على هذا المخطوطِ لنرجو اللهَ أن ينفعَ به، وأنْ يجعلَ في ذلك التوفيقَ والسداد.
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসারী হবেন তাদের সবার ওপর।
অত:পর, আমাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ওলামায়ে কেরাম এবং প্রাজ্ঞ পূর্বসূরিগণ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ও বিদ্যায় অসংখ্য রচনা ও সংকলনের এক বিশাল সুগন্ধিময় ভাণ্ডার এবং মহান ঐতিহ্যের মাধ্যমে কুতুবখানা বা লাইব্রেরিগুলোকে সমৃদ্ধ করেছেন। কিন্তু এই মহান গ্রন্থসমূহ ও পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠাগারের নিভৃত অন্ধকারে পড়ে আছে, যার ওপর বছরের পর বছর বিস্মৃতির ধুলো জমেছে। তাই পাণ্ডুলিপিগুলোর সম্পাদনা (تحقيق) করা, সেগুলোকে পুনর্জীবিত করা, সেগুলোর লুকায়িত রত্নরাজি বের করা, বছরের পর বছর জমে থাকা ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে সেগুলোকে আলোর মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়া ঐতিহ্যের প্রতি নিবেদিত অন্যতম মহান খিদমত।
আমি আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে আল্লামা আল-উববাযী (মৃত্যু ৮৬০ হিজরি)-র রচিত ‘আল-হুদুদ ফি ইলমিন নাহু’ কিতাবটির সম্পাদনা (تحقيق) সম্পন্ন করেছি।
বইটি আকারে ছোট হলেও এর উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক। এতে নাহু শাস্ত্রের প্রচুর পরিভাষা ও সংজ্ঞা এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে সরফ শাস্ত্রের কিছু সংজ্ঞা, তাদের ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনাসহ স্থান পেয়েছে। এখানে অতি সংক্ষিপ্ততা পরিহার করা হয়েছে যা অর্থ প্রকাশে বাধা দেয় না, আবার এমন সংক্ষেপায়নও করা হয়নি যা মূল বিষয়কে ক্ষুণ্ণ করে। পাশাপাশি এতে কাব্যিক প্রমাণ (شواهد), উদাহরণ, নাহু শাস্ত্রীয় বিভিন্ন মতবাদ ও মাজহাবগত বিতর্ক এড়িয়ে চলা হয়েছে।
কিতাবটির লেখক আল-উববাযী সম্পর্কে জীবনীগ্রন্থ (كتب الطبقات) ও জীবনচরিত (تراجم) সমূহে অতি সামান্য তথ্য ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। সম্ভবত এর কারণ হলো তিনি পরবর্তী যুগের মানুষ ছিলেন। তাই আমরা তাঁর সম্পর্কে সামান্য জীবনবৃত্তান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ছাড়া আর কিছু পাইনি। আমরা যখন এই পাণ্ডুলিপিটির ওপর আলোকপাত করছি, তখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করেন এবং একে সঠিক ও সফল প্রচেষ্টায় পরিণত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৪)
ترجمة الأبذينسبه:
هو أحمد بن محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن علي بن أحمد الشهاب ويُقالُ: شهاب الدين البجائي الأٌبَّذي المغربي المالكي، نزيل الباسطية1. ويُعرفُ بالأٌبَّذيٌ2.
وهناك خلافٌ في لقبِه:
فقد ذهبَ الحميريُّ3، والحافظُ ابن حجر، والحافظُ الذهبيُّ، والبدرُ الدمامينيُّ4 في حواشي المغني والسيوطي5،وعبد الباقي اليماني6،
--------------------------------------------
আল-আব্বাযীর জীবনীতাঁর বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন আহমদ আশ-শিহাব; তাঁকে শিহাবুদ্দীন আল-বেজায়ি আল-আব্বাযী আল-মাগরিবি আল-মালিকি বলা হয়, তিনি আল-বাসিতিয়া
১-এর অধিবাসী ছিলেন। তিনি আল-আব্বাযী
২ নামেই সমধিক পরিচিত।
তাঁর উপাধি নিয়ে মতভেদ রয়েছে:
আল-হিময়ারি
৩, হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার, হাফিজ (الحافظ) আয-যাহাবি, আল-মুগনির টীকাগ্রন্থে আল-বদর আদ-দামামিনি
৪, আস-সুয়ুতি
৫ এবং আব্দুল বাকি আল-ইয়ামানি
৬ এই মত পোষণ করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৫)
والزركلي1، وعمر رضا كحاله2 إلى أن دالَ مدينة أُبَّذة التي ينتسب إليها المؤلفُ، معجمةٌ، ومن ثَمَّ فإن لقبَه، "الأبذي" بذال معجمة.3.
وذهبَ صاحبُ لب اللباب والتكملة4 وياقوت الحموي5 والفيروزآبادي6 والسخاويُّ7 وحاجي خليفة8 إلى أن دالَ مدينةِ "أُبَّدة" مهملة. وعليه فإن لقَبه الأُبَّدي بدالٍ مهملة.
وأرجحُ أنه الأبذيّ بذالٍ معجمة، لأن اسمَ المدينةِ "أُبَّذة"، ثم لما تناقل الناسُ اسمَها أهملوا الذالَ، فصارتْ "أُبَّدة"، والدليلُ: أنها صارتْ تُعرف بأُبدة العربِ9، فكلا اللقبين صحيحٌ. خاصة أن ياقوت ذكر الحرفين فيها.
--------------------------------------------
জিরিকলি (১) এবং ওমর রেজা কাহহালা (২) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, লেখক যে উববাযা (أُبَّذة) শহরের দিকে সম্পর্কিত, তার ‘দাল’ বর্ণটি নুকতাযুক্ত (معجمة); ফলে তাঁর উপাধি হলো ‘আল-উববাযী’, যা নুকতাযুক্ত (معجمة) ‘যাল’ (ذ) দিয়ে গঠিত (৩)।
অন্যদিকে লুব্বুল লুবাব ও আত-তাকমিলাহ (৪)-এর লেখক, ইয়াকুত আল-হামাউয়ি (৫), আল-ফিরোযআবাদী (৬), আস-সাখাউয়ি (৭) এবং হাজ্জি খলিফা (৮)-এর মতে ‘উববাদাহ’ শহরের ‘দাল’ বর্ণটি নুকতাহীন (مهملة)। সেই অনুযায়ী তাঁর উপাধি হলো ‘আল-উববাদী’, যা নুকতাহীন (مهملة) ‘দাল’ দিয়ে গঠিত।
আমি অধিকতর সঠিক (أرجح) মনে করি যে, এটি নুকতাযুক্ত (معجمة) ‘যাল’ দিয়ে ‘আল-উববাযী’। কারণ শহরটির মূল নাম হলো ‘উববাযা’, পরবর্তীতে যখন মানুষের মুখে মুখে এর নাম ছড়িয়ে পড়ে, তখন তারা ‘যাল’-এর নুকতা পরিহার করে একে নুকতাহীন (مهملة) করে দেয়; ফলে এটি ‘উববাদাহ’-তে পরিণত হয়। এর প্রমাণ হলো: এটি ‘উববাদাতুল আরব’ (৯) নামে পরিচিতি লাভ করে। সুতরাং উভয় উপাধিই সঠিক (صحيح); বিশেষ করে ইয়াকুত এতে উভয় বর্ণের উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৬)
نشأته:
هو من أهل "أُبَّذة" بقربِ جيان1. نشأ في بلادِ الأندلسِ، وتعلَّمَ في بجاية2.
ثم انتقل إلى القاهرة، فدرسَ بالأزهرِ، ثم بالباسطية حيث سكنها برغبةِ أحدِ شيوخهِ3. وحجَّ وارتحل إلى المدينةِ المنورة4.
شيوخه:
1- البيوسقي البجائي:
هو أبو عبد الله محمد بن يحيى بن عبد الله البيوسقي المغربي البجائي محمد نزيل بجاية.
وقرأ عليه الشيخُ الأبذيُّ الشفا5ببجاية6.
2- ابن القماح:
هو أبو عبد الله محمد بن محمد بن محمد الأنصاريّ الخزرجيّ الأندلسيّ
--------------------------------------------
তাঁর জীবনকাল:
তিনি জায়ানের১ নিকটবর্তী 'উব্বাদা' এলাকার অধিবাসী ছিলেন। তিনি আন্দালুস ভূখণ্ডে বেড়ে ওঠেন এবং বেজাইয়াতে২ শিক্ষালাভ করেন।
পরবর্তীতে তিনি কায়রোতে স্থানান্তরিত হন এবং আল-আজহারে অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি আল-বাসিতিয়্যায় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং তাঁর জনৈক শিক্ষক (شيوخه)-এর ইচ্ছানুসারে সেখানে বসবাস করেন।৩ তিনি হজ (حج) সম্পাদন করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় সফর করেন।৪
তাঁর শিক্ষকগণ (شيوخه):
১- আল-বায়ুসাকি আল-বেজায়ি:
তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ আল-বায়ুসাকি আল-মাগরিবি আল-বেজায়ি মুহাম্মদ, যিনি বেজাইয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।
শায়খ (شيخ) আল-আবাদী বেজাইয়াতে৬ তাঁর নিকট 'আশ-শিফা'৫ পাঠ করেন।
২- ইবনুল কাম্মাহ:
তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-খাজরাজি আল-আন্দালুসি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৭)
التونسيّ المالكيّ بن القماح. سمعَ بتونس والقاهرة ورجعَ إلى بلادِه الأندلس فعني بالحديثِ واشتهرَ به. وقد ولي قضاءَ بعضِ الجهاتِ بالمغرب. كان حسنَ البشرِ، سمحَ الأخلاقِ، وقرأ عليه بعضَ الشفا الشهابُ الأبذيُّ ببجاية. مات سنةَ سبع وثلاثين وثمانمائة1.
3- القاياتي:
هو محمد بن علي بن محمد بن يعقوب بن محمد القاياتي القا?ري الشافعي. وُلِد سنة خمس وثمانين وسبعمائة تقريباً بالقايات، بلد قرب الفيومِ، وقرأ القرآنَ وحفظ المنهاجَ وألفيةَ النحوِ، والتسهيلَ وغيرها، وعرض على جماعة. كان إماماً عالماً علَاّمة، غاية في التحقيقِ وجودةِ الفكرِ والتدقيقِ، واضح العبارة، صائب النظر، صارَ شيخَ الفنونِ بلا مدافعة، وتصدَّى للإقراءِ زماناً، فانتفعَ به خلقٌ، وتزاحمَ الناسُ عليه من سائرِ أربابِ الفنونِ والمذاهبِ، وانتشرت تلامذتُه، وصاروا رؤساءَ في حياتهِ، كلُّ ذلك مع الدينِ والعقلِ والتواضعِ، والتقشّفِ والحلمِ والاحتمال، توفي سنة 8502. قال السخاوي عن الأبذيّ: "قدمَ القاهرةَ فحضرَ دروسَ القاياتي"3.
4- ابن قديد:
?وعمر بن قديد، الركن، أبو حفص بن الأمير سيف الدين القَلَمْطائي
--------------------------------------------
আল-তিউনিসি আল-মালিকি ইবনে আল-কাম্মাহ। তিনি তিউনিসিয়া ও কায়রোতে হাদিস শ্রবণ করেছেন (سمع) এবং স্বীয় দেশ আন্দালুসে ফিরে গিয়ে হাদিস চর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি মাগরেবের কিছু অঞ্চলের বিচারিক (قضاء) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হাসিখুশি চেহারার অধিকারী ও নম্র স্বভাবের ছিলেন। বিজায়া নামক স্থানে শিহাব আল-আবাজি তাঁর কাছে আশ-শিফা গ্রন্থের কিছু অংশ পাঠ করেন। তিনি ৮৩৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন১।
৩- আল-কায়াতি:
তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মাদ আল-কায়াতি আল-কাহিরি আশ-শাফিয়ি। তিনি আনুমানিক ৭৮৫ হিজরি সনে ফাইয়ুমের নিকটবর্তী আল-কায়াত নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং আল-মিনহাজ, আলফিয়াতুন নাহব, আত-তাসহিল এবং অন্যান্য গ্রন্থ মুখস্থ করেন এবং একদল উস্তাদের কাছে তা পেশ (عرض) করেন। তিনি একজন বিজ্ঞ ইমাম (إمام) ও মহাজ্ঞানী আল্লামা (علامة) ছিলেন। তিনি বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছেছিলেন। তাঁর বর্ণনাশৈলী ছিল সুস্পষ্ট এবং অন্তদৃষ্টি ছিল সঠিক। তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী শাস্ত্রীয় পণ্ডিত (شيخ الفنون) হিসেবে গণ্য হন এবং দীর্ঘকাল পাঠদান (إقراء) কার্যে নিয়োজিত ছিলেন। ফলে অসংখ্য মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ও মাযহাবের পণ্ডিতগণ তাঁর নিকট ভিড় জমাতেন। তাঁর ছাত্ররা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই তারা শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এসবের পাশাপাশি তিনি ধর্মভীরুতা, প্রজ্ঞা, বিনয়, অনাড়ম্বরতা, সহনশীলতা ও ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি ৮৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন২। আস-সাখাভী আল-আবাজি সম্পর্কে বলেন: "তিনি কায়রোতে আগমন করেন এবং আল-কায়াতির পাঠদানে উপস্থিত হন"৩।
৪- ইবনে কুদাইদ:
তিনি হলেন ওমর ইবনে কুদাইদ, আর-রুকন, আবু হাফস ইবনে আমির সাইফুদ্দীন আল-কালামতাই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৮)
القاهري الحنفيّ، ولد سنةَ خمسٍ وثمانين وسبعمائة بالقاهرةِ، ونشأ بها في غايةِ الرفاهيةِ، وكان من كبارِ الأمراءِ، ولي نيابة الكركِ والإسكندريةِ، وحفظ القرآنَ وبعضَ الكتبِ العلمية، وبحثَ في العرُوضِ وغيرهِ، وحجَّ مراراً وجاورَ، وزارَ بيتَ المقدسِ والإسكندرية، وتقَّدمَ في الفنونِ. وفاقَ في النحوِ والصرفِ. بحيث قيل إنه كان أنحى علماءِ مصرَ، وكان علَاّمةً خيِّراً متعبِّداً منقطعاً عن الناس، مع علو رتبتِه عندهم، متواضعاً مع الفقراء، بشوشاً، عاقلاً، ساكناً، طارحاً للتكلِّفِ في سائرِ أحوالهِ، على طريقةِ السلفِ، زائد الخفرِ والوقارِ، انتفع به الفضلاءُ، واشتهر اسمُه، مات بمكةَ سنة 856? في رمضان، وكان من أئمة الحنفيةِ، اجتمعَ فيه العلمُ والزهدُ واتباعُ السلفِ1.
5- الجمال الكازَرُوني:
هو محمد بن أحمد بن محمد بن محمود بن روزبة الجمال والمحب والشمس أبو عبد الله وأبو البركات بن الصفي أبي العباس الشمس أبي الإيادي بن الجمال أبي الثناء الكازروني الأصل، المدني الشافعي، ولد سنة 757? بالمدينة النبوية، ارتحلَ إلى مصرَ والشامِ وغيرهما، وسمعَ من كثيرين، وأخذَ الحديثَ والفقهَ والنحْو، وصارَ فقيهَ المدينةِ وعالمهَا وقاضيها، وقد أخذ عنه كثيرون، وممن أخذَ عنه إجازةٍ الأبذيُّ حين ذهبَ إلى الحجِّ، توفى بالمدينةِ في ليلة الاثنين ثاني عشر شوال سنة 843?2.
--------------------------------------------
আল-কাহিরি আল-হানাফি; তিনি ৭৮৫ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই অত্যন্ত সচ্ছলতার মাঝে লালিত-পালিত হন। তিনি উচ্চপদস্থ আমিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কারাক ও আলেকজান্দ্রিয়ার নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুরআন এবং কিছু ইলমি কিতাব মুখস্থ করেন। তিনি আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) ও অন্যান্য বিষয়ে গবেষণা করেন। তিনি একাধিকবার হজ পালন করেন ও মক্কায় অবস্থান করেন এবং বায়তুল মাকদিস ও আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন। তিনি বিভিন্ন শিল্পকলায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি নাহু ও সরফ শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন, এমনকি বলা হতো যে তিনি মিশরের আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নাহুবিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত (علامة), কল্যাণকামী, ইবাদতগুজার এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা নিভৃতচারী ব্যক্তি। মানুষের কাছে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি দরিদ্রদের প্রতি বিনয়ী, হাস্যোজ্জ্বল, বুদ্ধিমান, শান্ত স্বভাবের এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে লৌকিকতা বর্জনকারী ছিলেন। তিনি সালাফদের (السلف) অনুসৃত পথে চলতেন। তাঁর মাঝে অত্যন্ত লজ্জা ও গাম্ভীর্য ছিল। গুণী ব্যক্তিরা তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ৮৫৬ হিজরি সনের রমজান মাসে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তিনি হানাফি ইমামদের (أئمة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মাঝে ইলম, দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) এবং সালাফদের অনুসরণ (اتباع السلف) এর সমন্বয় ঘটেছিল।1.
5- আল-জামাল আল-কাযারুনি:
তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ ইবন রুযবাহ আল-জামাল, আল-মুহিব এবং আশ-শামস আবু আব্দুল্লাহ ও আবুল বারাকাত ইবন আস-সাফি আবু আব্বাস শামস আবুল ইয়াদি ইবন আল-জামাল আবু সানা আল-কাযারুনি (মূলত কাযারুনের অধিবাসী), মদিনায় বসবাসকারী শাফেয়ি। তিনি ৭৫৭ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিশর, শাম ও অন্যান্য স্থানে ভ্রমণ করেন এবং অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন। তিনি হাদিস, ফিকহ ও নাহু শিক্ষা করেন এবং মদিনার ফকিহ (فقيه), আলেম ও বিচারক (قاضي) হন। তাঁর কাছ থেকে অনেকেই ইলম অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে আল-আবযি যখন হজে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর কাছ থেকে অনুমতি (إجازة) লাভ করেন। তিনি ৮৪৩ হিজরি সনের ১২ই শাওয়াল সোমবার দিবাগত রাতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।2.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪০৯)
6- العز عبد السلام البغدادي:
هو عز الدين عبد السلام1 بن أحمد بن عبد المنعم بن أحمد بن محمد الشرف الحسيني القَيْلوي الأصل، نسبة لقريةٍ ببغداد، يُقالُ لها: "قليويه" كنفطويه، البغداديّ القاهريّ الحنبليّ الحنفيّ.
ولد سنة ثمانين وسبعمائة تقريباً ببغداد، ونشأ بها فقرأَ القرآنَ، وحفظَ كتباً جمةً في فنونٍ كثيرة، وأكثر من المحفوظات جداً وبحثَ في غالبِ العلومِ على مشايخِ بغدادَ والعجم والروم، حتى أنه بحثَ في فقه الشافعية والحنابلة وبرع فيهما، وصار يُقرئُ كتبَهما، ولازمَ الرحلةَ في العلمِ، إلى أن صار أحدَ أركانِه، وأدمنَ الاشتغالَ به، بحيث بقي أوحدَ زمانِه، وسمعَ أصولَ الحنفيةِ ودرسَ النحوَ والصرفَ، وأخذَ أصولَ الدينِ وآدابَ البحثِ والفرائض، والطب والمعاني والبيان، والمنطق وعلم الجدل والموسيقى، وارتحلَ إلى تبريز، ثم إلى أرزبخان من بلادِ الرومِ، فأخذ علمَ التصوّفِ، ثم عادَ من بلادِ الرومِِ، وناظرَ في الشامِ، واجتمعَ في القدسِ ببعضِ العلماءِ، وقد أشيرَ إليه في الصرف والنحو والمعاني والبيانِ، والمنطق والجدل وآداب البحث، والطب والعروض والفقه والتفسير، والقراءات، والتصوف وغيرها، ونزل بالجمالية، وقُرِّر في صوفيتها، وأقبلَ الناسُ عليه، فأخذوا عنه، وعَظُم في عينِ السلطانِ، ونُعت بالشيخ الإمامِ العالمِ العامل الفاضل المفنن ذي الفوائد والفرائد مفيد الطالبين، وأُذنَ له في
--------------------------------------------
৬- আল-ইযয আবদুস সালাম আল-বাগদাদি:
তিনি হলেন ইযযুদ্দিন আবদুস সালাম১ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল মুনইম ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শরাফ আল-হুসাইনি। তিনি বংশগতভাবে কাইলুয়ি, যা বাগদাদের একটি গ্রামের সাথে সম্পর্কিত, যাকে নাফতাওয়াইহ-এর মতো "কাইলুয়াইহ" বলা হয়; তিনি বাগদাদি, কায়রোবাসী, হাম্বলি ও পরবর্তীতে হানাফি ছিলেন।
তিনি আনুমানিক সাতশ আশি হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের বহু কিতাব মুখস্থ করেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে কিতাব মুখস্থ করেছিলেন এবং বাগদাদ, আজম (অনারব অঞ্চল) ও রোমের শায়খদের নিকট অধিকাংশ বিজ্ঞান বা শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেন। এমনকি তিনি শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহ (الفقه) নিয়ে গবেষণা করেন এবং উভয় শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এরপর তিনি সেই শাস্ত্রদ্বয়ের কিতাবসমূহ পড়াতে শুরু করেন। তিনি ইলম অর্জনের সফরে নিরবচ্ছিন্ন ছিলেন, এমনকি তিনি এর অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হন। তিনি ইলম চর্চায় এতটাই নিবিষ্ট ছিলেন যে, তিনি নিজ যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি হানাফি উসুল (أصول) শ্রবণ করেন এবং নাহু ও সরফ অধ্যয়ন করেন। তিনি উসুলুদ্দিন (আকিদা), বিতর্কের আদব, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), চিকিৎসাশাস্ত্র, মাআনি ও বায়ান, যুক্তিবিদ্যা, বিতর্কবিদ্যা ও সঙ্গীততত্ত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাবরিজে সফর করেন, এরপর রোম দেশের আরজবাখানে গিয়ে সুফিবাদ (التصوف) শিক্ষা করেন। অতঃপর রোম থেকে ফিরে সিরিয়ায় বিতর্ক করেন এবং জেরুজালেমে কতিপয় ওলামার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সরফ, নাহু, মাআনি, বায়ান, যুক্তিবিদ্যা, বিতর্কবিদ্যা, বিতর্কের আদব, চিকিৎসাশাস্ত্র, ছন্দতত্ত্ব, ফিকহ (الفقه), তাফসির, কিরাত, সুফিবাদ (التصوف) এবং অন্যান্য শাস্ত্রে তাঁর দিকেই অঙ্গুলিনির্দেশ করা হতো (অর্থাৎ তাঁকে বিশেষজ্ঞ মনে করা হতো)। তিনি জামালিয়া মাদরাসায় অবস্থান করেন এবং সেখানকার সুফিদের অন্তর্ভুক্ত হন। মানুষ তাঁর প্রতি ধাবিত হয় এবং তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করতে থাকে। সুলতানের নিকট তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁকে 'শায়খ, ইমাম, আমলকারী আলেম (العالم العامل), বিদগ্ধ পণ্ডিত, বিবিধ শাস্ত্রে দক্ষ, বহু অনন্য উপকারের অধিকারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য হিতৈষী' হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১০)
إقراءِ علومِ الحديثِ وإفادته، وقرَّره الزيني عبد الباسط متصدّراً بمدرستهِ ووصلَه بعطاء، وسكنها بعد الجمالية وقتاً ثم انتقل منها إلى غيرِها، فولي مشيختَها، وانتفعَ به الناسُ، وممن قرأ عليه الأبذيُّ وغيرهُ مِنَ المالكية، وصار غالبُ فضلاءِ الديارِ المصريةِ من تلامذته، كلّ ذلك مع الخيرِ، والديانةِ والأمانةِ، والزهدِ والعفِة، والتقشّفِ في مسكنِه وملبسِه ومأكلِه، والانعزال عن بني الدنيا، والتواضع مع الفقراء والإطعام وكرم النفس والصبر على الاشتغال، واحتمال جفاءِ الطلبةِ والتصدّي لهم طولَ النهارِ، والتقنّع بزراعاتٍ يزرعُها في الأريافِ، ومقاساة أمرِ المزارعين وإتعابهم، والإكثار من تأمل معاني كتاب الله عز وجل وتدبّره، مع كونِه لم يستظهرْ جميعَه، ويعتذرُ عن ذلك بكونِه لا يحبُّ قراءتَه بدونِ تأملٍ وتدبر وسُمع عن بعضِ علماءِ العصرِ أنه قال: لم نعلم أنه قدمَ مصرَ في هذه الأزمانِ مثلُه، ولقد تجملتْ هي وأهلها به، وكان ربما جاءه الصغير لتصحيح لوحه، ونحوه من الفقراء والمبتدئين لقراءة درسه، وعنده من يقرأ من الرؤساء، فيأمرهم بقطع قراءتهم، حتى ينتهي تصحيح ذاك الصغير، أو قراءة ذلك الفقير، ويقول: أرجو بذلك القربةَ وترغيبهم، وأن اندرج في الربانيين ولا يعكس، ولم يحصل له إنصاف من رؤساءِ الزمان في أمر الدنيا ولا أُعطى وظيفة مناسبة لعليّ مقامه، وكان فصيح اللسان مفوهاً، طلق العبارة، قويّ الحافظة، سريع النظم جداً، وشرع في جمع شِعره في ديوان على حروف المعجم، وكتب منه قطعة، إلى غير ذلك من التآليف والتعاليق التي كان يميلها على الطلبة، ومن ذلك على إيساغوجي والشمسية والألفية والتوضيح، واعتذر عن عدم الإكثار من التصانيف والتصدّي لها بأنه ليس من عدّة الموت لعدم الإخلاص فيه أو كما قال. وكان يُقصد بالفتاوى في النوازل الكبار
হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) পাঠদান ও তার উপকার প্রসারে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। যাইনি আবদুল বাসিত তাকে নিজের মাদ্রাসার প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন এবং তাকে অনুদান প্রদান করেন। তিনি জামালিইয়ার পর কিছুকাল সেখানে বসবাস করেন, তারপর সেখান থেকে অন্যত্র চলে যান। পরবর্তীতে তিনি সেখানকার প্রধান শায়খ (مشيخة) নিযুক্ত হন এবং মানুষ তার মাধ্যমে উপকৃত হয়। তার কাছে যারা পাঠ গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে আবযি এবং মালেকি মাজহাবের অন্যান্য আলেমগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মিসরের অধিকাংশ পণ্ডিত ব্যক্তিই তার ছাত্রে পরিণত হন। এসবের পাশাপাশি তিনি কল্যাণকামিতা, ধার্মিকতা ও বিশ্বস্ততা (أمانة), দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও পবিত্রতা, এবং আবাসস্থল, পোশাক ও খাদ্যের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন ও পার্থিব ভোগবিলাস থেকে বিচ্ছিন্নতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি দরিদ্রদের প্রতি বিনয় প্রকাশ করতেন, মানুষকে আহার করাতেন, অত্যন্ত উদারমনা ছিলেন এবং জ্ঞানচর্চায় ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ছাত্রদের রূঢ়তা সহ্য করতেন এবং সারাদিন তাদের পাঠদানে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। গ্রামাঞ্চলে নিজের আবাদ করা কৃষিকাজের মাধ্যমেই তিনি তুষ্ট থাকতেন, যদিও কৃষকদের নানা বিষয় সামলানো ও তাদের কষ্ট সহ্য করতে হতো। তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের অর্থ নিয়ে প্রচুর চিন্তা ও গবেষণা (تدبر) করতেন, যদিও তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ (استظهار) করেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলতেন যে, গভীর চিন্তা ও গবেষণা (تدبر) ছাড়া তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতে পছন্দ করেন না। সমসাময়িক কোনো কোনো আলেমের পক্ষ থেকে শোনা গেছে যে, তিনি বলেছিলেন: 'বর্তমান সময়ে তার মতো কেউ মিসরে আগমন করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তিনি এবং তার উপস্থিতিতে মিসর ও মিসরবাসী সুশোভিত হয়েছে।' অনেক সময় কোনো ছোট শিশু তার পড়ার তখতি সংশোধনের জন্য কিংবা কোনো দরিদ্র বা নতুন শিক্ষার্থী তার কাছে পড়ার জন্য আসত, অথচ তখন তার কাছে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা অধ্যয়নরত থাকতেন; এমতাবস্থায় তিনি উচ্চপদস্থদের পাঠ বন্ধ রাখতে বলতেন যতক্ষণ না সেই শিশুর তখতি সংশোধন বা দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাঠ শেষ হয়। তিনি বলতেন: 'আমি এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং তাদের উৎসাহিত করার আশা রাখি, যেন আমি রব্বানি (ربانيين) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি, এর বিপরীত নয়।' সমকালীন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তিনি পার্থিব বিষয়ে ইনসাফ পাননি এবং তার সুউচ্চ মর্যাদার উপযোগী কোনো পদও তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ও স্পষ্টভাষী ছিলেন, তার শব্দচয়ন ছিল সাবলীল এবং স্মৃতিশক্তি (حافظة) ছিল প্রখর। তিনি অত্যন্ত দ্রুত কবিতা রচনা করতে পারতেন। তিনি বর্ণানুক্রমিকভাবে তার কবিতার একটি দিওয়ান (ديوان) সংকলন করতে শুরু করেছিলেন এবং এর একটি অংশ লিখেছিলেন। এ ছাড়াও তার অনেক রচনা ও টীকা রয়েছে যা তিনি ছাত্রদেরকে শ্রুতলিখন (إملاء) করাতেন; যার মধ্যে ঈসাগুজি, শামসিয়্যাহ, আলফিয়া এবং তাওদিহ-এর ওপর টীকা উল্লেখযোগ্য। তিনি অধিক গ্রন্থ রচনা ও তাতে আত্মনিয়োগ না করার পেছনে ওজর পেশ করে বলতেন যে, ইখলাসের অভাবের আশঙ্কায় এটি মৃত্যুর পাথেয় হবে না বা এই জাতীয় কিছু। বড় বড় জটিল সমস্যার ফতোয়ার (فتاوى) ক্ষেত্রে মানুষ তার শরণাপন্ন হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১১)
ودونها، ولم يزل على طريقته متصدّياً لنشر العلم حتى مات في عشري رمضان سنة تسع وخمسين وثمانمائة. ولم يخلف بعدَه في مجموعه مثله1.
7- العز عبد السلام القدسي:
هو عبد السلام بن داود بن عثمان بن القاضي شهاب الدين عبد السلام بن عباس العز السلطي الأصل، المقدسيّ الشافعيّ، ويعرف بالعز القدسيّ، ولدَ في سنة إحدى أو اثنتين وسبعين وسبعمائة بكفر الماء، وهي قرية بالشام، ونشأ بها فقرأ القرآن، وفهمه عم والده بعض المسائل، ثم انتقل به قريبه البدر محمود العجلوني، أحد شيوخ البرهان الحلبي، في حدود سنة سبع وثمانين إلى القدس، فحفظ به في أسرع وقت عدة كتب في فنون شتى، بحيث كان يقضي العجب من قوة حافظته، وعلو همته ويقظته ونباهته، وبحث على البدر المذكور في الفقه إلى أن أذن له في الإفتاء والتدريس سريعاً، ثم ارتحل به إلى القاهرة في السنة التي تليها، فحضر بها دروس بعض العلماء، وسافر صحبةَ البدر إلى دمياط والاسكندرية وغيرهما من البلاد التي بينهما كسنباط، واجتمعا بقاضيها، ثم رجعا إلى القاهرة، ثم إلى القدس، وسمع بغزة على قاضيها، ثم عادا لبلادهما، ودخل صحبة البدر مدينة السلط والكرك وعجلون وحسبان، وجال في تلك البلاد، فلما مات البدر، ارتحل إلى دمشق، وذلك في حدود سنة سبع وتسعين، وجدَّ في الاشتغال بالحديث والفقه وأصله والعربية، وغيرها من علوم النقل والعقل على مشايخها، وسمع بها الحديث من جماعة كثيرين، وحج
--------------------------------------------
এবং তার নিম্ন পর্যায়ের, তিনি তার পদ্ধতিতে জ্ঞান প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন যতক্ষণ না ৮৫৯ হিজরি সালের ২০শে রমজান মৃত্যুবরণ করেন। তার সামগ্রিক গুণাবলীতে তার পরে তার মতো আর কেউ উত্তরসূরি হিসেবে আসেনি ১।
৭- আল-ইযয আব্দুস সালাম আল-কুদসী:
তিনি হলেন আব্দুস সালাম বিন দাউদ বিন উসমান বিন আল-কাদি শিহাবুদ্দিন আব্দুস সালাম বিন আব্বাস আল-ইযয, মূলত সালত অঞ্চলের অধিবাসী, কুদস-এর বাসিন্দা, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী, এবং আল-ইযয আল-কুদসী নামে পরিচিত। তিনি ৭৭১ বা ৭৭২ হিজরি সালে কাফরুল মা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যা শামের (সিরিয়া অঞ্চল) একটি গ্রাম। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং কুরআন পাঠ করেন, এবং তার পিতার চাচার কাছে কিছু মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তারপর তার আত্মীয় বদর মাহমুদ আল-আজলুনি—যিনি বুরহান আল-হালাবির অন্যতম শিক্ষক (شيخ) ছিলেন—৭৮৭ হিজরির কাছাকাছি সময়ে তাকে নিয়ে কুদসে চলে আসেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন শাস্ত্রের বেশ কয়েকটি কিতাব মুখস্থ করেন, যা তার স্মরণশক্তির (قوة حافظة) প্রখরতা, উচ্চ সংকল্প, সতর্কতা এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার কারণে বিস্ময় জাগাত। তিনি উল্লিখিত বদরের কাছে ফিকহ (فقه) শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং অতি দ্রুতই তাকে ফতোয়া প্রদান (إفتاء) এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়। পরবর্তী বছর তিনি তাকে নিয়ে কায়রোতে সফর করেন এবং সেখানে কিছু আলেমের দরসে উপস্থিত হন। তিনি বদরের সাথে দমিয়াত, আলেকজান্দ্রিয়া এবং এগুলোর মধ্যবর্তী স্থানসমূহ যেমন সানবাত সফর করেন এবং সেখানকার বিচারকের (قاضي) সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তারা কায়রোতে এবং পরে কুদসে ফিরে আসেন। তিনি গাজাতে সেখানকার বিচারকের (قاضي) কাছে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেন। অতঃপর তারা নিজ দেশে ফিরে যান এবং বদরের সাথে আস-সালত, আল-কারাক, আজলুন এবং হাসবান শহরে প্রবেশ করেন এবং ঐ সব অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। যখন বদর ইন্তেকাল করলেন, তিনি ৭৯৭ হিজরির কাছাকাছি সময়ে দামেস্কে গমন করেন এবং সেখানে তিনি উস্তাদদের (مشايخ) নিকট হাদিস, ফিকহ (فقه), উসুল (أصول), আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বর্ণিত ও যুক্তিনির্ভর শাস্ত্রসমূহ (علوم النقل والعقل) অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেন। সেখানে তিনি বহু সংখ্যক ব্যক্তির নিকট হাদিস শ্রবণ (سماع) করেন এবং হজ পালন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১২)
في سنة ثمانمائة، فسمع بالمدينة النبوية على بعض علمائها، وبمكة ثم رجع إلى دمشق، فسمع بها الكثير وأكثر من السماع والشيوخ، ثم انتقل في سنة ثلاث وثمانمائة إلى الديار المصرية، فقطن القاهرة ولازم علماء الفقه والحديث، ناب في القضاء سنة أربع ثم أعرض عن ذلك لكون والده عتبه عليه لتعطّله به عن الاشتغَال، ثم عاد إلى النيابة في سنة تسع، واستمر حتى صار من أجلَاّء النوَّاب، وصحب كاتب السر، وصار يزاحم الأكابر في المحافل، ويناطح الفحول الأماثل، بقوة بحثه وشهامته وغزارة علمه وفصاحتِه، واستمر في تدريس الحديث بالجمالية، وناب في الخطابة بالمؤيدية أول ما فتحت، واستقر به الزين عبد الباسط في مشيخة مدرسته بالقاهرة أول ما فتحت، بل ولي مشيخة الصلاحية ببيت المقدس، ثم رجع العز إلى القاهرة، فأقام بها على نيابة القضاء مع مرتب رتبه له عبد الباسط، إلى أن أعيد إلى الصلاحية، واستمر فيها حتى مات، وقد حدَّث بأشياء بالقاهرة وبيت المقدس وغيرهما، وممن قرأ عليه قاضي المالكية بحماة. ووصفه بشيخنا الإمام العلامة شيخ الإسلام علم المحققين حقاً وحائز فنون العلم صدقاً، وكذا درَّس وأفتى وأفاد، وانتفع به الفضلاء، سيما أهل تلك النواحي، وكان إماماً علاّمة، داهية، فصيحاً في التدريس والخطابة وغيرهما، حسن القراءة جداً، مفوهاً، طلق العبارة، قوي الحافظة، حتى في التاريخ وأخبار الملوك، جيّد الذهن، حسن الإقراء، كثير النقل والتنقيح، متين النقد والترجيح، وأقرأ هناك في جامع المختصرات فكان أمراً عجباً، صحيح العقيدة، شديد الحط والإنكار على أصحاب العقائد الرديئة، مغرماً ببيان تزييفها، جواداً كريماً إلى الغاية، قل أن ترى العيون في
আটশত হিজরি সনে তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করেন এবং সেখানকার কয়েকজন আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মক্কায় যান এবং পরবর্তীতে দামেস্কে ফিরে আসেন; সেখানে তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন এবং অনেক শায়খের সান্নিধ্য লাভ করেন। অতঃপর আটশত তিন হিজরি সনে তিনি মিশরে গমন করেন এবং কায়রোতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের আলেমদের সান্নিধ্যে সময় অতিবাহিত করেন। তিনি চার হিজরি সনে বিচারকার্যে (কাজাগিরি) প্রতিনিধিত্ব করেন, কিন্তু পরবর্তীতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার কারণে তার পিতা তাকে তিরস্কার করলে তিনি তা থেকে সরে আসেন। এরপর নয় হিজরি সনে তিনি পুনরায় বিচারকার্যে ফিরে আসেন এবং ক্রমান্বয়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি রাজকীয় সচিবের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং বিভিন্ন মজলিসে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমকক্ষ হয়ে ওঠেন। স্বীয় গবেষণা শক্তি, মহত্ত্ব, অগাধ জ্ঞান এবং বাগ্মিতার মাধ্যমে তিনি সমকালীন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। জামালিয়া মাদরাসায় তিনি হাদিস পাঠদান অব্যাহত রাখেন এবং মুয়ায়্যাদিয়া মসজিদ উদ্বোধনের পর সেখানে প্রথম খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জয়ন আব্দুল বাসিত তাকে কায়রোতে তার মাদরাসার শায়খ হিসেবে নিযুক্ত করেন; এমনকি তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের সালাহিয়া মাদরাসার শায়খ পদও অলঙ্কৃত করেন। অতঃপর আল-ইজ্জ কায়রোতে ফিরে আসেন এবং আব্দুল বাসিত কর্তৃক নির্ধারিত ভাতার বিনিময়ে বিচার বিভাগে কাজ করেন, যতক্ষণ না তাকে পুনরায় সালাহিয়া মাদরাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি কায়রো, বায়তুল মুকাদ্দাস এবং অন্যান্য স্থানে হাদিস বর্ণনা করেছেন। হামার মালেকি মাজহাবের বিচারক তার নিকট পাঠ গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাকে 'আমাদের শায়খ, ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, সত্যনিষ্ঠ গবেষকদের প্রতীক এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় পারদর্শী' বলে অভিহিত করেছেন। একইভাবে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং অনেককে উপকৃত করেছেন; বিশেষ করে ওই অঞ্চলের গুণীজনরা তার দ্বারা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ইমাম ও আল্লামা, অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং পাঠদান ও খুতবায় সাবলীল। তার কুরআন তিলাওয়াত ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাগ্মী ও মিষ্টভাষী। তার স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর, এমনকি ইতিহাস এবং রাজা-বাদশাহদের সংবাদের ক্ষেত্রেও। তিনি তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, চমৎকার শিক্ষক এবং অধিক বর্ণনা ও সূক্ষ্ম সংশোধনের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তার সমালোচনা (النقد) এবং প্রাধান্য নিরূপণ (الترجيح) ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়। সেখানে তিনি 'জামিউল মুখতাসারাত' গ্রন্থের ওপর পাঠ দান করতেন যা ছিল এক বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি সঠিক (صحيح) আকিদার অধিকারী ছিলেন এবং ভ্রান্ত মতবাদধারীদের কঠোর নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করতেন; তাদের ভ্রান্তি বর্ণনায় তিনি ছিলেন সর্বদা সচেষ্ট। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও উদার প্রকৃতির ছিলেন, সচরাচর এমন মানুষের দেখা খুব কমই মেলে।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৩)
أبناء جنسه نظيره في الكرم1.
মহানুভবতায় তিনি তাঁর সমসাময়িকদের (أبناء جنسه) সমকক্ষ (نظيره) ছিলেন১।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৩)
تلاميذه:أخذَ عنه الأعيانُ من كلِّ مذهبِّ فنوناً، كالفقهِ، والعربيةِ والصرفِ والمنطقِ والعروضِِ، وتصدَّى لنفعِ الطلبةِ بالأزهرِ ثم بالباسطيةِ، فأخذ عنه السخاويُّ العربيةَ وغيرها، وأخذ عنه أيضاً أخو السخاويِّ2، والأشمونيُّ3، والقاضي زكريا الأنصاري وابن الابشيهي، وفيما يلي ترجمة لكل منهم:
1- السخاوي:
هو محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان السخاوي الأصل، القاهري الشافعي، وربما يُقالُ له: "ابن البارد"، شهرةً لجدِّه بينَ أناس مخصوصين، ولم يشتهر بها أبوه، ولا هو، بل كان يكرهُها، ولا يذكرُه بها إلاً من يحتقرُه.
ولد سنة 831?، ودرس الفقهَ والفرائضَ والأصولَ والمعاني والبيانَ والتفسيرَ، والعربية والصرفَ والمنطق، وحجَّ، وزارَ المدينةَ، وقرأ بها على بعض المشائخِ، ورجعَ للقاهرةِ فأقام بها ملازماً السماعَ والقراءةَ والتخريجَ والاستفادةَ من الشيوخ والأقران، ثم ارتحل إلى حلب، وسمع بغزةَ والرملِ وبيت المقدس والخليل ونابلس ودمشق، والزبداني وبعلبك وحمص وحماه،
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:প্রতিটি মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর নিকট থেকে ফিকহ, আরবি ভাষা, সরফ (রূপতত্ত্ব), মানতিক (তর্কশাস্ত্র) এবং আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) সহ বিভিন্ন শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন। তিনি আল-আজহার এবং পরবর্তীতে আল-বাসিতিয়া মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দানে নিয়োজিত ছিলেন। সাখাভী তাঁর নিকট থেকে আরবি ভাষা ও অন্যান্য শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন। এছাড়াও সাখাভীর ভাই, আশমুনি, কাজী জাকারিয়া আনসারী এবং ইবনুল আবশিহি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। নিচে তাঁদের প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) তুলে ধরা হলো:
১- সাখাভী:
তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে উসমান, মূল নিবাস সাখা (সাখাভী), কায়রোর বাসিন্দা এবং শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছে তাঁর দাদার পরিচিতির কারণে তাঁকে কখনো কখনো "ইবনুল বারিদ" বলা হতো। তবে তাঁর পিতা বা তিনি নিজে এই নামে পরিচিত ছিলেন না; বরং তিনি এটি অপছন্দ করতেন এবং যারা তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইত কেবল তারাই তাঁকে এই নামে সম্বোধন করত।
তিনি ৮৩১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফিকহ, ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), উসুল (মূলনীতি), ইলমুল মাআনি, বায়ান, তাফসির, আরবি ভাষা, সরফ (রূপতত্ত্ব) এবং মানতিক (তর্কশাস্ত্র) অধ্যয়ন করেন। তিনি হজ পালন করেন এবং মদিনা যিয়ারত করেন। সেখানে তিনি কতিপয় শায়েখের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর কায়রোতে ফিরে আসেন এবং সেখানে অবস্থান করে শিক্ষকদের নিকট হাদিস শ্রবণ (سماع), পঠন (قراءة), তাখরিজ (تخريج) এবং শায়েখ ও সমসাময়িকদের কাছ থেকে ইলম অর্জনে নিরন্তর নিয়োজিত থাকেন। এরপর তিনি আলেপ্পো (হালাব) সফর করেন এবং গাজা, রামলা, বাইতুল মুকাদ্দাস, খলিল, নাবলুস, দামেস্ক, জাবাদানি, বালবাক, হিমস ও হামাহ-তে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৪)
والمعرَّة وطرابلس، له عدةُ مؤلفات1.
2- الأشموني:
هو عبد الرحمن بن محمد بن أحمد الأشمونيّ الأصل القاهريّ الشافعيّ المنهاجي نزيل الباسطية، وقيل له المنهاجي، لأنَّ جدَّه قدم من الأشمونيين قبل بلوغِه فحفظ القرآن والمنهاج في سنة فلُقِّب بذلك. ولد عبد الرحمن في ذي الحجةِ سنة خمس وثلاثين وثمانمائة وأبوه غائبٌ بمكةَ فرأى في غيبتِه قائلاً يقول له: يُولد لك ذكرٌ فسمِّه عبد الرحمن، فلما قَدِم ووجدهم سمّوه بغيره، غيّره، ونشأ فحفظ القرآنَ والمنهاجَ وجمعَ الجوامع وألفيةَ النحو والتلخيصَ والشاطبيتين، ودرس الفقهَ وأخذ النحو عن العز عبد السلام البغدادي والأبذي وقرأ عليهما الألفية. وعلى أولهما الحاجبية مع المعاني والبيان وأصول الفقه، وحج وأقام بمكةَ عشرين سنة، ثم لما قدم تحَوّل إلى الباسطية ولزم الانجماع بها مع مزيد تقنّعه وتقلّله وعدم قبوله إلا نادراً. والغالبُ عليه سوءُ الطباع، مع فضل وفهم2.
3- القاضي زكريا الأنصاري:
هو زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا.. الأنصاري السنبكي القاهري الأزهري الشافعي القاضي، ولد سنة 826? بسنبكة من الشرقية، ونشأ بها، ثم رحل إلى القاهرة، وأخذ عن كثيرين، ولم ينفك عن الاشتغال على طريقة جميلة من التواضع وحسن العشرة والأدب والعفة والانجماع عن بني الدنيا مع
--------------------------------------------
...মা‘ররাহ ও ত্রিপোলি। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে।
১২- আল-অশমুনি:
তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-অশমুনি। তিনি মূলগতভাবে আশমুনি হলেও কায়রোর অধিবাসী ছিলেন; তিনি শাফিঈ মাজহাবের অনুসারী এবং ‘আল-মিনহাজি’ উপাধিতে পরিচিত ও আল-বাসিতিয়্যাহর স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁকে ‘আল-মিনহাজি’ বলা হতো, কারণ তাঁর দাদা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই আশমুনাইন থেকে (কায়রোতে) এসেছিলেন এবং এক বছরেই কুরআন ও আল-মিনহাজ মুখস্থ করেছিলেন; ফলে তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হন। আব্দুর রহমান ৮৩৫ হিজরীর জিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন, তখন তাঁর পিতা মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর পিতা তাঁর অনুপস্থিত থাকাকালে স্বপ্নে জনৈক বক্তাকে বলতে শোনেন: "তোমার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, তার নাম রেখো আব্দুর রহমান।" অতঃপর তিনি যখন ফিরে আসলেন এবং দেখলেন যে পরিবারের লোকেরা তাঁর অন্য নাম রেখেছে, তখন তিনি তা পরিবর্তন করে দেন। তিনি লালিত-পালিত হন এবং কুরআন, আল-মিনহাজ, জামউল জাওয়ামি, আলফিয়্যাহ আন-নাহু, আত-তালখিস এবং উভয় শাতবিয়্যাহ মুখস্থ করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং আল-ইজ্জ আব্দুস সালাম আল-বাগদাদি ও আল-আবাজি-এর নিকট নাহু শাস্ত্র গ্রহণ করেন এবং তাঁদের নিকট আলফিয়্যাহ পাঠ করেন। আর তাঁদের মধ্যে প্রথমজনের নিকট আল-হাজিবিয়্যাহর সাথে আল-মা'আনি, আল-বায়ান এবং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) পাঠ করেন। তিনি হজ পালন করেন এবং বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। এরপর যখন ফিরে আসেন, তখন তিনি আল-বাসিতিয়্যাহতে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে অত্যন্ত অল্পে সন্তুষ্টি (تقنع) ও নিস্পৃহতার (تقلل) সাথে নির্জনবাস (الانجماع) অবলম্বন করেন; তিনি কদাচিৎ ছাড়া কারো পক্ষ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করতেন না। তাঁর মেজাজে কিছুটা কঠোরতা থাকলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদা (فضل) ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন (فهم)।
২৩- কাজী জাকারিয়া আল-আনসারি:
তিনি হলেন জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে জাকারিয়া.. আল-আনসারি আস-সুনবাকি আল-কাহিরাভি আল-আজহারি আল-শাফিঈ আল-কাজী। তিনি ৮২৬ হিজরীতে শারকিয়াহ প্রদেশের সুনবাকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। এরপর তিনি কায়রোর উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং বহু সংখ্যক আলিমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি সর্বদা বিনয়, উত্তম সামাজিকতা, শিষ্টাচার, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং দুনিয়াদার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জনবাস (الانجماع) অবলম্বন করার মতো চমৎকার পদ্ধতিতে ইলমি চর্চায় নিরন্তর নিয়োজিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৫)
التقلل، وشرف النفس، ومزيد العقل، وسعة الباطن، والاحتمال والمداراة، إلى أن أذِن له غيرُ واحدٍ من شيوخه في الإفتاء والإقراء1.
قال عنه السخاويُّ: "وأصول الدين على العز المذكور
… والأبدي، وغيرهم، وعن كل مشايخه في أصل الدين أخذ النحو"2. وقال أيضاً بعد ذكره أحد شيوخه: "وعن من عداه من شيوخ الصرف أخذ المنطق وكذا عن و
… و
… والأبدي"3.
4- ابن الأبشيهي:
هو محمد بن أحمد بن محمد بن موسى بن الشهاب المغراوي الأبشيهي الأصل القاهري المالكي، ولد سنة 834? بالقاهرة، ونشأ فحفظ القرآن وغيره، واشتغل في الفقهِ وغيره، وأخذ عن كثيرين منهم الأُبَّذي، وتميَّز، ووُصف بالشيخِ العلامة، النحرير الفهَّامة، المحقِّق الأمجد، مات سنة 898هـ 4.
অল্পে তুষ্টি, আত্মমর্যাদা, প্রখর বুদ্ধি, হৃদয়ের প্রশস্ততা এবং সহনশীলতা ও সৌজন্যবোধ, এমনকি তাঁর একাধিক শিক্ষক তাঁকে ফতোয়া প্রদান (الإفتاء) ও পাঠদান (الإقراء) করার অনুমতি দিয়েছিলেন১।
তাঁর সম্পর্কে সাখাভী বলেন: "তিনি উল্লেখিত ইজ্জ... এবং আবদী ও অন্যদের কাছে দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) এবং তাঁর দ্বীনের মূলনীতি (أصل الدين) শাস্ত্রের সকল শিক্ষকের নিকট ব্যাকরণ (النحو) শিক্ষা করেন।"২। তিনি তাঁর একজন শিক্ষকের কথা উল্লেখ করার পর আরও বলেন: "তিনি তাঁর অন্যান্য রূপতত্ত্ব (الصرف) শাস্ত্রের শিক্ষকদের নিকট যুক্তিবিদ্যা (المنطق) এবং একইভাবে... ও... এবং আবদীর নিকট থেকেও তা গ্রহণ করেন।"৩।
৪- ইবনুল আবশিহি:
তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন শিহাব আল-মাগরাউয়ি, মূল নিবাস আল-আবশিহি, কায়রোবাসী এবং মালেকি মাজহাব অনুসারী। তিনি ৮৩৪ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন ও অন্যান্য বিষয় হিফজ করেন এবং ফিকহ (الفقه) ও অন্যান্য শাস্ত্রের চর্চায় নিয়োজিত হন। তিনি আল-আবদীসহ অনেকের নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং বিশিষ্টতা অর্জন করেন। তাঁকে শায়খ, মহা-বিদ্বান (العلامة), অত্যন্ত দক্ষ প্রজ্ঞাবান এবং মহান গবেষক (المحقق) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি ৮৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৪।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৫)
صفاته:كان الأبذي متواضعاً، بشوشاً، رضياً، مُجَابَ الدعوة حتى قيل إنه
لكثرة ما كان يرى من تهكّم الشباسي5 بالطلبة، بل وبالشيوخ، دعا عليه،
--------------------------------------------
তাঁর গুণাবলি:আল-আবযী বিনয়ী, প্রফুল্লবদন, সন্তুষ্টচিত্ত এবং কবুল হওয়া দোয়ার (مجاب الدعوة) অধিকারী ছিলেন, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে-
শিক্ষার্থীদের প্রতি, এমনকি শায়খদের প্রতিও আশ-শাবাসীর অত্যধিক বিদ্রূপ ও উপহাস লক্ষ্য করার কারণে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৬)
فابتُلي بالجذام، كما كان عديم التردد لبني الدنيا، بعيداً عن الشر1.
তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তদ্রূপ তিনি দুনিয়াদারদের নিকট যাতায়াত বিমুখ এবং অনিষ্ট হতে দূরে ছিলেন ১।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৬)
مؤلفاته:قال السخاوي عن الأبذي: "كتب بخطِّه أشياءَ، بل درَّب زوجته نفيسه، وكانت تكتُب له أيضاً":2. ولكن لم تورد كتبُ الطبقاتِ القليلةُ التي ترجمت له إلا نزراً يسيراً عن مؤلفاته. ومن تلك المؤلفات:
1- كتاب الحدود في علم النحو الذي نحن بصدد تحقيقه. وذكر السخاوي أنه في إرشاد المبتدئين، وأثنى عليه بأنه نافع3.
2- شرح على كتاب إيساغوجي4 في علم المنطق،5 وقد قرَّظه السخاويُّ بأنه مفيد6.
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলী:আল-আবাযি সম্পর্কে সাখাভি বলেন: "তিনি স্বহস্তে অনেক কিছু লিখেছেন, এমনকি তিনি তাঁর স্ত্রী নাফিসাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, এবং তিনিও তাঁর জন্য লিখতেন।" ২। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এমন স্বল্পসংখ্যক জীবনীগ্রন্থ (طبقات) সমূহে তাঁর রচনাবলী সম্পর্কে খুব সামান্যই উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই রচনাবলীগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১- ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ শাস্ত্র) বিষয়ক 'কিতাবুল হুদুদ', যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা (تحقيق) করছি। সাখাভি উল্লেখ করেছেন যে এটি নতুন শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনার জন্য রচিত এবং তিনি একে উপকারী (نافع) বলে প্রশংসা করেছেন। ৩।
২- যুক্তিবিদ্যা (منطق) শাস্ত্রের 'ঈসাঘোজি' কিতাবের ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), ৫ সাখাভি একে ফলপ্রসূ (مفيد) বলে প্রশংসা করেছেন। ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
مكانته العلمية:تبوأ الأُبذَّي مكانةً رفيعةً ومنزلةً عاليةً بين علماءِ عصرهِ، لأنه حصَّلَ معظمَ العلومِ وتقدَّم فيها.
قال عنه السخاويُّ: "تقدَّم في العلوم سيما العربية"1.
وقد عدَّد السخاويُّ تلك العلوم، فذكر العربيَّةَ، والصرفَ والعروضَ والمنطقَ والفقه2.
فكان شيخاً من شيوخ العربية والصرف، يُؤخذ عنه هذا العلم. قال السخاويُّ: "وكنتُ ممن أخذ عنه العربية وغيرها"3.
وجاء في ترجمة تلميذيه القاضي زكريا الأنصاري والأشموني أن ممن أخذا عنه النحو الأبذي وقد قرأ عليه الثاني الألفية4.
ولا أدلَّ على معرفته بالعربيةِ والصرفِ من وضعه كتاب الحدود، وقد وصفه السخاوي بأنه نافعٌ كما مَرّ بنا.
وكان إماماً في علم المنطق، ويشيرُ إلى إحاطته بهذا العلم وضعُه شرحاً على أحد كتبِ المناطقةِ، فوضع شرحاً على إيساغوجي، وتصدَّى لتدريسِ
علمِ المنطق كما تقدَّم5، وقال عنه عمر رضا كحاله: "عالمٌ بالمنطق"6.
--------------------------------------------
তাঁর ইলমি মর্যাদা:আল-আবাজি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে এক উচ্চ মর্যাদা ও উচ্চাসীন স্থান লাভ করেছিলেন, কারণ তিনি অধিকাংশ শাস্ত্র আয়ত্ত করেছিলেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।
সাখাভি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে, বিশেষ করে আরবি ভাষায় পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন"১।
সাখাভি সেই শাস্ত্রগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন; তিনি আরবি ভাষা, সরফ (রূপতত্ত্ব), আরুজ (ছন্দশাস্ত্র), মানতিক (তর্কবিদ্যা) এবং ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) এর কথা উল্লেখ করেছেন২।
তিনি আরবি ভাষা ও সরফ শাস্ত্রের এমন একজন শায়খ (شيخ) ছিলেন, যাঁর নিকট থেকে এই ইলম গ্রহণ করা হতো। সাখাভি বলেছেন: "আমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাঁরা তাঁর নিকট থেকে আরবি ও অন্যান্য শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন"৩।
তাঁর দুই ছাত্র কাজী জাকারিয়া আল-আনসারি এবং আল-আশমুনি-এর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁরা যাঁর নিকট নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন তিনি হলেন আল-আবাজি; এবং দ্বিতীয়জন (আশমুনি) তাঁর নিকট আলফিয়্যাহ পাঠ করেছেন৪।
আরবি ভাষা ও সরফ শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্যের এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই যে তিনি 'কিতাবুল হুদুদ' রচনা করেছেন; সাখাভি এটিকে পূর্বোল্লিখিত বর্ণনানুযায়ী অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি মানতিক (তর্কবিদ্যা) শাস্ত্রে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন। এই শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ দখলের বিষয়টি মানতিকবিদদের একটি গ্রন্থের ওপর তাঁর রচিত শরাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) থেকে প্রতীয়মান হয়; তিনি 'ঈসাগুজি'-এর ওপর একটি শরাহ লিখেছিলেন এবং পূর্বে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী তিনি মানতিক শাস্ত্রের পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন৫। ওমর রেজা কাহহালা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মানতিক শাস্ত্রে বিজ্ঞ (عالم)"৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
ويوميء إلى تبحره في الفقه أنه طلب منه القضاء فاعتذر عنه1.
ويكفي للإشارة إلى علمه بأصول الدين أن القاضي زكريا الأنصاري درس على يديه هذا العلم كما تقدّم.
ولا شك أن رحلاتهِ في سبيل طلب العلم وتطوافه وتجواله بين حواضر العلم، ومنابره في ذلك الوقت، وانتقاله من بلدٍ لآخر، صقل شخصيّته العلميّة وجعله من متنوّعي الثقافة ومتعدّدي التخصّصات، فقد انتقل كما هي عادة علماء الأندلس إلى بلاد المشرق لينهل من مواردِ العلم.
فانتقلَ من الأندلس إلى المغربِ، وزار مصر والحجازَ2، وأخذ عن العلماء والتقى بهم واستفادَ من علومِهم المختلفة ومعارفِهم المتنوعة.
كلُّ ذلك خوَّله ليكون من العلماءِ الذين يأخذُ عنهم الأعيانُ من كلِّ مذهبٍ فنوناً مختلفة.
قال السخاويُّ: "أخذ عنه الأعيان من كلِّ مذهبٍ فنوناً، كالفقهِ والعربيةِ والصرفِ والمنطقِ والعروضِ، وكنتُ ممن أخذَ عنه العربيةَ وغيرَها، بل أخذَ عنه أخي أيضاً"3.
وقد قضى الأبذي حياته عالماً ومتعلماً في البيتِ وخارج البيت، فجنَّد نفسه لخدمةِ العلمِ، حتى لقد درَّب زوجه على كتابةِ أشياء له4، وهذا يدلُّ على شدةِ حبِّه للعلمِ واهتمامِه به، وولعِه بالمعارف، وأن يكون بيتُه بيتَ علم.
--------------------------------------------
ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এ থেকে যে, তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করেছিলেন১।
তাঁর উসুলুদ দ্বীন (ধর্মতত্ত্ব) বিষয়ক জ্ঞানের গভীরতা নির্দেশের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, কাজি জাকারিয়া আল-আনসারি তাঁর নিকট এই শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম অন্বেষণের পথে তাঁর সফরসমূহ এবং তৎকালীন জ্ঞানকেন্দ্র ও শিক্ষালয়গুলোতে তাঁর পরিভ্রমণ এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে হিজরত তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্বকে মার্জিত ও পরিশীলিত করেছে। এটি তাঁকে বহুমুখী সংস্কৃতি ও বিবিধ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলেছে। আন্দালুসের আলেমদের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী তিনি প্রাচ্যের দেশগুলোতে জ্ঞানের প্রস্রবণ থেকে পিপাসা মেটাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
তিনি আন্দালুস থেকে মরক্কোতে গমন করেন এবং মিশর ও হিজাজ২ সফর করেন। সেখানে তিনি আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের বিবিধ শাস্ত্র ও বিচিত্র জ্ঞান থেকে উপকৃত হন।
এই সবকিছুই তাঁকে এমন একজন আলেম হওয়ার যোগ্যতা দান করেছে, যাঁর নিকট থেকে প্রতিটি মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন শাস্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করতেন।
আল-সাখাবি বলেন: "প্রত্যেক মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর কাছ থেকে ফিকহ, আরবি ভাষা, সরফ (শব্দতত্ত্ব), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) এবং আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) এর মতো বিবিধ শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন। আমি নিজেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা তাঁর কাছ থেকে আরবি ভাষা ও অন্যান্য শাস্ত্র শিখেছে; বরং আমার ভাইও তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন"৩।
আল-আবযি তাঁর পুরো জীবন ঘরে ও বাইরে আলেম এবং তালিবে ইলম হিসেবে অতিবাহিত করেছেন। তিনি ইলমের খিদমতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিজের জন্য বিভিন্ন বিষয় লিখে দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন৪। এটি ইলমের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা ও গুরুত্বারোপ এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁর আসক্তি নির্দেশ করে; আর এও প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর ঘরকে একটি ইলমি মারকাজ বা জ্ঞাননিকেতনে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
وقد انتفع طلابُ العلمِ بالأُبذي، قال عنه السخاويُّ: "وتصدَّى لنفعِ الطلبة بالأزهرِ أولاً، ثم بالباسطية، حين سكنها برغبةِ أحدِ شيوخِه العزّ البغداديّ له، إلى أن مات"1.
وقد أُوتي الأبذي موهبةً عظيمة ومقدرةً كبيرة على إرشادِ المبتدئين وإعطائِهم أصولَ الصناعةِ وحدودَها بشكل عام ومبسّط ينتظمُ معظمَها ويشملُ غالبَ أبوابِها.
قال عنه السخاويُّ: "لم يكنْ بعدَ الشيخِ ابنِ خضرٍ2 من يدانيه في إرشادِ المبتدئين"3.
দ্বীনি ইলম অন্বেষণকারীরা আল-উবাদি-র দ্বারা উপকৃত হয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে আস-সাখাবি বলেন: "তিনি প্রথমে আল-আজহারে এবং পরবর্তীতে আল-বাসিতিয়্যাহ-তে ছাত্রদের উপকারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, যখন তাঁর অন্যতম শিক্ষক আল-ইয আল-বাগদাদি-র ইচ্ছানুসারে তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন, তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন"১।
আল-উবাদি শিক্ষানবিশদের (المبتدئين) পথনির্দেশনা প্রদান এবং শাস্ত্রীয় কৌশলের (الصناعة) মূলনীতি (أصول) ও সংজ্ঞা (حدود) সাধারণ এবং সহজবোধ্য ভাষায় তাদের শেখানোর ক্ষেত্রে এক অসাধারণ প্রতিভা ও বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, যা অধিকাংশ বিষয়কে সুবিন্যস্ত করত এবং এর প্রায় সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করত।
আস-সাখাবি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "শেখ ইবনে খিদর২-এর পর শিক্ষানবিশদের (المبتدئين) পথনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিল না"৩।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
وفاته:تُوفِّى في عشري رمضان سنة ستين وثمانمائة بالقاهرة، ودفن بتربة الصلاحية4، وقد جاوز الستين.
وهناك من يقول: إن وفاته سنة إحدى وستين، وإن الجمالي5 ناظر الخاص أرسل يلتمس منه قضاء المالكية6 بعد وفاة السنباطي فاعتذر بضعفه، ولم
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:তিনি ৮৬০ হিজরি সনের ২০শে রমজান কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে সালাহিয়া কবরস্থানে ৪ দাফন করা হয়; তখন তাঁর বয়স ষাট বছর অতিক্রম করেছিল।
কেউ কেউ বলেন: তাঁর মৃত্যু ৮৬১ হিজরি সনে হয়েছে। আস-সুনবাতির মৃত্যুর পর ‘নাযিরুল খাস’ আল-জামালি ৫ তাঁর নিকট মালিকি মাজহাবের বিচারকের ৬ পদ গ্রহণের প্রস্তাব পাঠালে তিনি তাঁর শারীরিক দুর্বলতার (ضعف) কারণে অপারগতা প্রকাশ করেন, এবং তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
يلبث أن مات، وهو ملتئم مع كونها في سنة إحدى، فإن السنباطي1مات في رجب منها 2.
শীঘ্রই তিনি ইন্তেকাল করেন, যা [হিজরি] এক সালে হওয়ার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ সিনবাতি১ উক্ত বছরের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন২।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
نسخ التحقيق:عثرتُ بفضلِ اللهِ على ثلاثِ نسخٍ لهذا المخطوط:
النسخة الأولى:
حصلتُ عليها من جامعةِ الملكِ سعود بالرياض، واعتمدتُها أصلاً لتحقيقِ الكتابِ، ورمزتُ لها بالرمز (أ) ، وهي واضحةٌ وخطُّها جيِّدٌ ووقعتْ في أربعةِ ألواحٍ، في كل لوحٍ صفحتان، وفي كلِّ صفحةٍ واحدٌ وعشرون سطراً.
النسخة الثانية:
وهي من جامعةِ الإمامِ محمد بن سعود الإسلاميةِ بالرياض، مصوَّرة عن الظاهريةِ 1845- الفهرس 201 بخطٍّ معتادٍ، ضمن مجموع 19-24، ووقعتْ في عشرِ صفحات، وتراوحت السطورُ بينَ اثني عشر سطراً وثلاثة عشر سطراً، وخمسة عشر وسبعة عشر. ورمزتُ لها بالرمز (ب) . وهي واضحةٌ، ولكن بها رطوبة.
--------------------------------------------
সম্পাদনার (تحقيق) পাণ্ডুলিপিগুলো (نسخ):আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এই পাণ্ডুলিপিটির (مخطوط) তিনটি অনুলিপি খুঁজে পেয়েছি:
প্রথম অনুলিপি:
আমি এটি রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছি এবং গ্রন্থটির সম্পাদনার (تحقيق) জন্য একে মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং একে (أ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি সুষ্পষ্ট এবং এর লিপি (خط) অত্যন্ত সুন্দর। এটি চারটি ফলকে (ألوح) বিন্যস্ত, যার প্রতিটিতে দুটি করে পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় একুশটি করে লাইন রয়েছে।
context:
দ্বিতীয় অনুলিপি:
এটি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত, যা জাহিরিয়াহ লাইব্রেরি (১৮৪৫ - নির্ঘণ্ট (فهرس) ২০১) থেকে সংগৃহীত একটি আলোকচিত্র; এটি সাধারণ লিপিতে (خط) একটি সংকলনের (مجموع) ১৯-২৪ পৃষ্ঠার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এটি দশটি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং এর লাইনের সংখ্যা বারো, তেরো, পনেরো এবং সতেরোর মধ্যে কমবেশি হয়েছে। আমি একে (ب) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি স্পষ্ট, তবে এতে আর্দ্রতার (رطوبة) ছাপ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
النسخة الثالثة:
وهي من جامعةِ الإمامِ محمد بن سعود الإسلاميةِ بالرياضِ أيضاً. ومصوَّرة عن دارِ الكتبِ المصريةِ، وكتبها عبد العال بن منصور البحيريّ الأزهريّ سنة 1094?، بخطٍ نسخيٍّ، ووقعتْ في ثلاثةِ ألواحٍ، وفي كل صفحةٍ خمسةٌ وعشرونَ سطراً، وتصويُرها رديء، فصَعُبَ قراءةُ بعضِها، ورمزتُ لها بالرمز (ج) .
توثيق نسبة الكتاب إلى الأبذي:
جاءَ في نسخةِ (أ) : "كتاب الحدود في علمِ النحوِ: تأليف الشيخ الإمام أبي العباس أحمد الأبذي رحمه الله ونفع به".
وجاءَ في نسخة (ج) : "هذه حدود النحو: للعلامة الأبذي".
وجاء في الضوءِ اللامعِ في أخبار القرن التاسع للسخاوي في ترجمة أحمد الأبذي: "له فيها" يعني في العربية " حدود نافعة"1.
وجاء في إيضاح المكنون في الذيل على كشف الظنون: "حدود النحو: لشهاب الدين الأبدي، مختصر، أوله: حد النحو في اللغة: القصد"2.
جهدي في التحقيق:
- قابلتُ بينَ نسخِ الكتابِ الثلاثِ، وقارنتُها ببعضٍ، ونبَّهتُ على ما بينها من أوجهِ الاتفاقِ والاختلاف.
--------------------------------------------
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি (نسخة):
এটিও রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগৃহীত। এটি মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার একটি অনুলিপি। এটি আব্দুল আল বিন মনসুর আল-বুহাইরি আল-আজহারি ১০৯৪ হিজরিতে নাসখ (نسخي) লিপিতে লিপিবদ্ধ করেছেন। এটি তিনটি ফলক বা পত্রে (ألواح) বিন্যস্ত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় পঁচিশটি লাইন রয়েছে। এর প্রতিলিপিটি নিম্নমানের (رديء), যার ফলে এর কিছু অংশ পাঠ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি একে (ج) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আল-আবাজির প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা (توثيق):
আলিফ (أ) পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) এসেছে: "ইলমুন নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের সংজ্ঞাসমূহ বিষয়ক গ্রন্থ: শায়খ, ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ আল-আবাজি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলন, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন।"
জিম (ج) পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) এসেছে: "এটি নাহুর সংজ্ঞাসমূহ: আল্লামা আল-আবাজির রচিত।"
সাখাওয়ির আদ-দাউ আল-লামি ফি আখবারি কার্নিত তাসি গ্রন্থে আহমদ আল-আবাজির জীবনীতে (ترجمة) এসেছে: "তাতে (অর্থাৎ আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে) তাঁর কিছু 'উপকারী সংজ্ঞাসমূহ' রয়েছে।"1
ইজাহুল মাকনুন ফিয যাইলি আলা কাশফিজ জুনুন গ্রন্থে এসেছে: "হুদুদুন নাহু: শিহাবুদ্দিন আল-আবাজির রচিত একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) সারসংক্ষেপ। এর প্রারম্ভিক অংশ হলো: শাব্দিক অর্থে নাহুর সংজ্ঞা হলো ইচ্ছা করা (আল-কাসদ)।"2
সম্পাদনা বা তাহকিক (التحقيق) কর্মে আমার প্রচেষ্টা:
- আমি গ্রন্থটির তিনটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) মধ্যে পাঠ-মিলন (مقابلة) করেছি এবং সেগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে তুলনা করেছি। একইসাথে এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো নির্দেশ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
- تناولتُ ماندَّ عنِ الأفهامِ، وآستعصى على الإدراكِ من العباراتِ والأساليبِ والمصطلحاتِ بالشرحِ والتبيان، فوضحتُ ما غمضَ من عبارةِ الكتابِ وما اقتضب من جملتهِ.
- قمتُ بالتعقيبِ والتعليقِ على ما وجدتهُ مثارَ جدلٍ، وموضعَ خلافٍ بينَ النحاةِ، من المدارسِ المختلفةِ.
- عزوتُ النصوصَ إلى قائليها، وأرجعتُها إلى مصادرِها الأصلية.
- عرَّفتُ الأعلامَ الواردةَ في الكتابِ، وهي قليلة.
- عملتُ فهرساً للمراجعِ والمصادر وآخر لموضوعات ومحتويات الكتاب.
وهذا جهدُ المقلِّ، فما كان فيه من صوابٍ فمن الله، وما كان من خلافه فنسألُ اللهَ التجاوزَ عن الزللِ والتقصيرِ.. إنه نِعمَ المولى ونِعم النصير.
- আমি সেই সকল অভিব্যক্তি, শৈলী ও পরিভাষা (مصطلحات) ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি যা সাধারণের বোধগম্য ছিল না এবং অনুধাবন করা দুঃসাধ্য ছিল। ফলে আমি কিতাবের অস্পষ্ট ইবারত ও সংক্ষিপ্ত বাক্যসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছি।
- বিভিন্ন মাযহাবের ব্যাকরণবিদদের মধ্যে যে সকল বিষয় বিতর্কিত ও মতপার্থক্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেগুলোর ওপর আমি পর্যালোচনা ও টীকা সংযোজন করেছি।
- আমি উদ্ধৃতিসমূহকে তাদের মূল প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং সেগুলোকে তাদের আদি উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি।
- আমি কিতাবে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের (الأعلام) পরিচয় প্রদান করেছি, যদিও তাদের সংখ্যা সামান্য।
- আমি সহায়ক গ্রন্থ ও মূল উৎসসমূহের একটি নির্ঘণ্ট এবং কিতাবের বিষয়বস্তু ও সূচিপত্রের জন্য আরেকটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
এটি একজন স্বল্প সামর্থ্যবানের সামান্য প্রচেষ্টা; এতে যা সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা এর বিপরীত তার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে বিচ্যুতি ও ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪২৯)
منهج الكتاب:- ذكرَ المؤلفُ في المقدمةِ خطةَ الكتابِ، حيثُ أجملَها في قوله: "هذه نبذةٌ لطيفةٌ في النحوِ جمعتُها لمنْ أراد ذلك"1. فبيَّن أنه سيميلُ للاختصار.
- وقد وَفَى بما ذكرَه، فجاءَ الكتابُ موجزاً مختصراً، لأنَّه ألَّفه للمبتدئينَ مِنْ طلبةِ العلمِ، كما يقولُ السخاويُّ2 ولا غروَ فالأبذيُّ متخصِّصٌ ومشهورٌ في إرشادِ المبتدئينَ كما مرَّ بنا.
- يخلو الكتابُ من الشواهِد من أيِّ نوعٍ، وهذا يتفقُ مع خطةِ المؤلِّفِ في طلبِه الإيجازَ.
- يحتوي الكتابُ على سردِ القواعدِ فقط، دونَ ذكرِ الأمثلةِ إلا قليلاً، مثالُ ذلك قولهُ: "مثالُ كلمةٍ: زَيْدٌ، مثالُ الكلمِ: إنْ قامَ زيدٌ، مثالُ الكلامِ: زيدٌ قائمٌ مثال ما اجتمعَ فيه الكلامُ والكَلِمُ: زيدٌ أبوه قائمٌ"3
ومثلهُ أيضاً ذكرهُ العُمَرَان والقَمَران4.
ومثلُه أيضاً ذكرُه "سواء" ثم قولُه: "فإنهم استغنوا عن تثنيتِةِ بتثنيةِ "سي"، فقالوا: "سيّان" "5.
- وانطلاقاً من مبدئِه في الإيجازِ، فقد جاءَ التعليلُ في موضعٍ واحدٍ فقط،
--------------------------------------------
গ্রন্থের বিন্যাস পদ্ধতি:- লেখক ভূমিকায় গ্রন্থের পরিকল্পনা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি সংক্ষেপে তা ব্যক্ত করে বলেছেন: "এটি ব্যাকরণ শাস্ত্রের একটি চমৎকার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যা আমি আগ্রহীদের জন্য সংকলন করেছি।"১ সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি সংক্ষেপণের দিকেই ঝোঁক রাখবেন।
- এবং তিনি যা উল্লেখ করেছিলেন তা রক্ষা করেছেন, ফলে গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষেপিত হয়েছে; কারণ সাখাভি ২ এর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি এটি ইলম অন্বেষণকারী নবীনদের জন্য রচনা করেছেন। আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ আবাজি নবীনদের দিকনির্দেশনা প্রদানে বিশেষজ্ঞ ও প্রসিদ্ধ ছিলেন, যেমনটি আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
- গ্রন্থটি যেকোনো ধরনের প্রমাণ (شواهد) থেকে মুক্ত, যা সংক্ষেপণের ক্ষেত্রে লেখকের পরিকল্পনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
- গ্রন্থটিতে শুধুমাত্র নিয়মাবলীর বর্ণনা রয়েছে, খুব সামান্য ব্যতীত উদাহরণ উল্লেখ করা হয়নি। যেমন লেখকের উক্তি: "কালিমার উদাহরণ: যায়িদ, কালিমের উদাহরণ: ইন কামা যায়িদ (যদি যায়িদ দাঁড়ায়), কালামের উদাহরণ: যায়িদুন কায়িমুন (যায়িদ দণ্ডায়মান), আর যাতে কালাম ও কালিম উভয়ই একত্রিত হয়েছে তার উদাহরণ: যায়িদুন আবুহু কায়িমুন (যায়িদ, তার পিতা দণ্ডায়মান)"৩
অনুরূপভাবে তার ‘উমরান’ এবং ‘কামারান’৪ উল্লেখ করা।
আরও অনুরূপ হলো ‘সাওয়া’ শব্দের উল্লেখ, অতঃপর তার উক্তি: "কেননা তারা এর দ্বিবচন ব্যবহারের পরিবর্তে 'সি' শব্দের দ্বিবচন ব্যবহার করে অমুখাপেক্ষী হয়েছে, ফলে তারা বলেছে: 'সইয়ান'"৫।
- এবং সংক্ষেপণের মূলনীতির উপর ভিত্তি করে, যুক্তি বা কারণ দর্শানো (تعليل) কেবল একটি স্থানেই এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪৩০)
حيثُ قال في معرِضِ حديثهِ عنِ الأسبابِ الخمسةِ للبناءٍ على حركةٍ: "الخامسُ: كونُ ما هي فيه شبيهاً بالمعربِ كالفعلِ الماضي، لأنه شبيهٌ بالمضارعِ في وقوعِه صفةً أو صلةً أو حالاً أو خبراً"1.
- لا يحتوي الكتابُ على مذاهبَ أو آراء أو خلافاتٍ للنحاةِ، إلا فيما ندرَ، وذلك كقولهِ: "السادسُ: اتفاقُ المعنى، فلا يُثَنَّى المشترك، خلافاً للحريريّ"2.
- وقوله بعد عرضِ أسبابِ البناءِ الأربعة: "وزادَ ابنُ مالكٍ خامساً، وهو الشبهُ الإهماليُّ"3.
- وقوله بعدَ سردِ المبنيّاتِ الستةِ منَ الأسماءِ: "وزادَ ابنُ مالكٍ سابعاً وهي الأسماءُ قبلَ التركيب"4.
- يُرَجِّحُ ما يراه صواباً، ومِنْ ذلك قولهُ: "أن يكونَ لَهُ ثَانٍ في الوجودِ، وأما نحو القمرانِ فمن بابِ المجاز"5.
وقوله: "وأما نحو العُمَرَان فمن بابِ التغليب"6.
--------------------------------------------
যেখানে তিনি হরকতের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়তা (بناء)-র পাঁচটি কারণ আলোচনার প্রেক্ষিতে বলেছেন: "পঞ্চম: এটি যার মধ্যে অবস্থিত তা পরিবর্তনশীল (معرب) শব্দের সদৃশ হওয়া, যেমন মাজি (অতীতকালবাচক) ক্রিয়া; কারণ এটি গুণ (صفة), সংযোগকারী (صلة), অবস্থা (حال) অথবা সংবাদ (خبر) হিসেবে আসার ক্ষেত্রে মুজারি' (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালবাচক) ক্রিয়ার সদৃশ।"১
- গ্রন্থটিতে বৈয়াকরণদের কোনো মতাদর্শ (مذاهب), মতামত বা মতপার্থক্য নেই, তবে খুব সামান্য বিষয় ব্যতীত। যেমন তাঁর উক্তি: "ষষ্ঠ: অর্থের ঐক্য; সুতরাং সমোচ্চারিত সমরূপ (مشترك) শব্দকে দ্বিবচন করা যাবে না, আল-হারিরি-র মতের বিপরীতে।"২
- এবং অপরিবর্তনীয়তা (بناء)-র চারটি কারণ উপস্থাপনের পর তাঁর উক্তি: "ইবনে মালিক পঞ্চম একটি কারণ বৃদ্ধি করেছেন, যা হলো অবহেলাজনিত সাদৃশ্য (الشبه الإهمالي)।"৩
- এবং বিশেষ্যসমূহের (أسماء) মধ্য থেকে ছয়টি অপরিবর্তনীয় (مبنيات) শব্দের তালিকা প্রদানের পর তাঁর উক্তি: "ইবনে মালিক সপ্তম আরেকটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো বাক্য গঠন (تركيب)-এর পূর্বের বিশেষ্যসমূহ।"৪
- তিনি যা সঠিক মনে করেন তাকেই প্রাধান্য (ترجيح) দেন, এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর উক্তি: "বাস্তব অস্তিত্বে তার দ্বিতীয় কেউ থাকা; আর ‘আল-কামারান’ (দুই চাঁদ)-এর মতো শব্দগুলো রূপক (مجاز) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।"৫
এবং তাঁর উক্তি: "আর ‘আল-উমারান’ (দুই উমর)-এর মতো শব্দগুলো প্রাধান্যদান (تغليب) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।"৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
مذهبُ المؤلِّفِ النحويّ:غَلَبَتْ على المؤلِّفِ النزعةُ البصريةُ، والدليلُ الأمثلةُ الآتية:
1- يرى أنَّ الفعلَ ينقسمُ إلى ثلاثةِ أقسامٍ حيثُ قالَ: "وأقسامُ الفعلِ ثلاثةٌ: - ماضٍ ومضارعٌ وأمرٌ"1 وهذا رأيُ البصريين. أما الكوفيون والأخفشُ فيرَوْنَ أنَّ الفعلَ قسمان، وأنَّ الأمرَ مقتطعٌ من المضارع2
2- عبَّر عن حروفِ الجرِ بهذا المسمَّى3، وهو مذهبُ البصريين. ويعبّرُ الكوفيون عنها بحروفِ الخفضِ وحروفِ الصفات4
3- يرى أنَّ مِنْ شروطِ جمعِ الكلمةِ جمعاً مذكراً سالماً أن تكونَ مذكرةً5.
وهو ما ذهبَ إليه البصريون، وأجازَ الكوفيون جمعَ ذيِ التاءِ بالواوِ والنونِ مطلقاً6.
4- ذهبَ مذهبَ البصريين في إطلاقِ مصطلحِ المضمر7 أما الكوفيون فيسمُّونه الكناية والمكنى8.
--------------------------------------------
লেখকের ব্যাকরণিক মাযহাব:লেখকের ওপর বসরীয় ঝোঁক প্রবল ছিল এবং এর প্রমাণ হলো নিম্নোক্ত উদাহরণগুলো:
১- তিনি মনে করেন যে, ক্রিয়া তিন প্রকার; যেমন তিনি বলেছেন: "ক্রিয়ার প্রকারভেদ তিনটি: অতীতকাল (ماضٍ), বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল (مضارع) এবং আদেশসূচক (أمر)"১—এটি বসরীয়দের অভিমত। অন্যদিকে কুফীয়গণ এবং আখফাশ মনে করেন যে, ক্রিয়া দুই প্রকার এবং আদেশসূচক (أمر) শব্দটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল (مضارع) থেকে উদ্ভূত২।
২- তিনি পদান্বয়ী অব্যয়সমূহকে এই নামেই (حروف الجر)৩ ব্যক্ত করেছেন, যা বসরীয়দের মাযহাব। আর কুফীয়গণ একে নিম্নগামী অব্যয় (حروف الخفض) এবং গুণবাচক অব্যয় (حروف الصفات)৪ হিসেবে অভিহিত করেন।
৩- তিনি মনে করেন যে, কোনো শব্দকে অপরিবর্তিত পুরুষবাচক বহুবচন (جمعاً مذكراً سالماً)৫ করার শর্তাবলির মধ্যে একটি হলো শব্দটিকে পুরুষবাচক হতে হবে।
এটিই বসরীয়দের অনুসৃত পথ, তবে কুফীয়গণ 'তা' (ة) যুক্ত শব্দকেও সাধারণভাবে 'ওয়াও' এবং 'নুন' যোগে বহুবচন করা বৈধ বলেছেন৬।
৪- তিনি 'সর্বনাম' (المضمر)৭ পরিভাষাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বসরীয়দের মাযহাব অনুসরণ করেছেন; পক্ষান্তরে কুফীয়গণ একে 'পরোক্ষ উল্লেখ' (الكناية) এবং 'উহ্য' (المكنى)৮ বলে অভিহিত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুদূদ ফী ইলমিন নাহউ
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
5- ذهب مذهب البصريين أن فعل الأمر مبني1 والكوفيون يرون أنه معرب مجزوم بلام مقدرة2.
6- استخدم مصطلحَ "البدل"3، وبه قال البصريّون. والكوفيون يسمُّونه الترجمة والتبيين والتكرير4.
7- وافق البصريين في أن أعرفَ المعارفِ المضمرُ5، والكوفيون يرون أنه الاسم المبهم6.
8- ذهب مذهب البصريين في التمييزِ بينَ ألقابِ الإعرابِ وألقابِ البناءِ7، ولم يفرِّق الكوفيون بين ما هو للإعراب وما هو للبناء8.
وهناك بعض المواضع التي ذهب فيها مذهب الكوفيين وهي:
1- ذكر أن "كي" تنصب بنفسها9، وهو مذهبٌ كوفيٌّ. ومذهب سيبويه والأكثرين أن "كي" يجوز أن تكونَ هي الناصبة بنفسها، ويجوزُ أن تقدَّر بعدها أن، لأن كي عندهم حرف مشترك، فتارةً تكونُ حرفَ نصبٍ.
فتنصب المضارع. وتارةً تكونُ حرفَ جرٍ بمعنى اللام10.
--------------------------------------------
৫- তিনি বসরাবাসীদের মতানুসারী ছিলেন যে, নির্দেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر) হলো অপরিবর্তনীয় (مبني)১; অন্যদিকে কুফাবাসীরা মনে করেন যে, এটি পরিবর্তনশীল (معرب) যা একটি ঊহ্য 'লাম' এর মাধ্যমে মাজযুম (مجزوم) হয়২।
৬- তিনি "বদল" (البدل)৩ পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন এবং বসরাবাসীরাও এই মত পোষণ করেন। আর কুফাবাসীরা একে অনুবাদ (الترجمة), বিশদকরণ (التبيين) এবং পুনরাবৃত্তি (التكرير)৪ নামে অভিহিত করেন।
৭- তিনি বসরাবাসীদের সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, নির্দিষ্ট বিশেষ্যসমূহের (المعارف) মধ্যে সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট হলো সর্বনাম (المضمر)৫। তবে কুফাবাসীদের মতে তা হলো অস্পষ্ট বিশেষ্য (الاسم المبهم)৬।
৮- তিনি ই’রাবের (الإعراب) পরিভাষা এবং বিনার (البناء) পরিভাষার মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে বসরাবাসীদের মাযহাব অনুসরণ করেছেন৭; কুফাবাসীরা ই’রাব এবং বিনার পরিভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না৮।
আবার এমন কিছু ক্ষেত্রও রয়েছে যেখানে তিনি কুফাবাসীদের মাযহাব অনুসরণ করেছেন, সেগুলো হলো:
১- তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "কাই" (كي) নিজেই নসব (نصب) প্রদান করে৯, যা একটি কুফী মাযহাব। তবে সিবওয়াইহি এবং অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মত হলো, "কাই" নিজেই নসব প্রদানকারী হতে পারে, আবার এর পরে 'আন' (أن) ঊহ্য থাকাও সম্ভব; কারণ তাদের নিকট "কাই" একটি দ্বিমুখী বর্ণ। ফলে কখনো এটি নসবের বর্ণ (حرف نصب) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তা মুজারি’ (المضارع) ক্রিয়াকে নসব প্রদান করে। আবার কখনো তা 'লাম'-এর অর্থে জরের বর্ণ (حرف جر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়১০।
--------------------------------------------