(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: -)
التمسك بالسنن والتحذير من البدع   (شمس الدين الذهبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: التمسك بالسنن والتحذير من البدع (السنة 27 -- العددان103 -104)

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)

المحقق: محمد باكريم محمد باعبد الله

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة 27 -- العددان 103 - 104 -- 1416 /1417هـ - 1996م/1997م

عدد الصفحات: 131

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত থেকে সতর্কীকরণ   (শামসুদ্দীন আয-যাহাবী)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত থেকে সতর্কীকরণ (বর্ষ ২৭ -- সংখ্যা ১০৩ - ১০৪)

লেখক: শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মায আয-যাহাবী (মৃত ৭৪৮ হিজরী)

তাহকীক: মুহাম্মদ বাকরীম মুহাম্মদ বা-আব্দুল্লাহ

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: বর্ষ ২৭ -- সংখ্যা ১০৩ - ১০৪ -- ১৪১৬ / ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ / ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩১

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৫৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد:

فإن الإتباع، والابتداع، أمران لهما أثرهما في صحة عقيدة المرء أو فسادها، وفي قبول العمل أو رده.

وقد أمرنا الله عز وجل باتباع نبيه صلى الله عليه وسلم، وجعل ذلك آية محبته فقال عز وجل: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ الله فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ الله} 1، وقال: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} 2.

وأوصى نبيُّنا صلى الله عليه وسلم أمته باتباع سنته وسنة الخلفاء المهديين من بعده فقال: "أوصيكم بتقوى الله، والسمع والطاعة، فإنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإيّاكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة" 3.

فأرشد صلى الله عليه وسلم أمته إلى سبيل نجاتها عند وقوع الاختلاف، وهو الإتباع والتمسك بالسنن، وحذرها من الضلالة والبدعة والإحداث في الدين.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران: آية 31.

2 سورة الأنعام: آية 153.

3 سيأتي تخريجه ص 95.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলদের মোহর, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই অনুসরণ (ইত্তিবা) এবং নব উদ্ভাবন (বিদ'আত) এমন দুটি বিষয় যা একজন ব্যক্তির আকীদার বিশুদ্ধতা বা কলুষতা এবং আমল কবুল হওয়া বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলে।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে তাঁর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} ১, তিনি আরও বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} ২।

আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে তাঁর সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণের ওসিয়ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং (নেতার কথা) শ্রবণ ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান থাকবে, কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদ'আত এবং প্রতিটি বিদ'আতই ভ্রষ্টতা" ৩।

অতএব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে মতভেদের সময় নাজাতের পথের দিশা দিয়েছেন, আর তা হলো অনুসরণ এবং সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে ভ্রষ্টতা, বিদ'আত এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা থেকে সতর্ক করেছেন।

--------------------------------------------

১ সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৩১।

২ সূরা আল-আন'আম: আয়াত ১৫৩।

৩ সামনে ৯৫ পৃষ্ঠায় এর উৎস উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৫৬)
والنصوص في هذا المعنى كثيرة متضافرة، في الكتاب، والسنة، وأقوال السلف، من الصحابة، والتابعين، وأئمة السلف في كل عصر.

ولا يزال أهل الحق والسنة، من علماء هذه الأمة، يدعون إلى ما دعا الله عز وجل إليه في كتابه، وإلى ما دعا إليه رسوله صلى الله عليه وسلم، وأقوالهم في ذلك مدونة مسطورة، وآثارهم مشهورة، في سيرهم وأخبارهم، ولبعضهم مؤلفات خاصة في ذلك.

ولقد وقفت على مؤلف لطيف في هذا الشأن، لإمام من أئمة أهل السنة والإتباع، ذلكم هو الإمام أبو عبد الله شمس الدين محمد بن أحمد الذهبي رحمه الله.

وما إن انتهيت من مطالعته وقراءته، حتى عزمت على إخراجه، لما حواه مع لطافته وصغر حجمه، من فوائد عزيزة، وتأصيلات في هذا الشأن مفيدة، صاغها الإمام الذهبي رحمه الله بأسلوب مميز فريد، تلمس فيه صدق النصح لهذه الأمة، والحرص على هداية من انحرفت به السبل منها، في رفق ولين، مع غيرة على السنة والدين.

ولئن كانت النسخة التي وقفت عليها خلت من ذكر اسم هذا المؤلَّف وعنوانه، إلا أن موضوعه، يدور حول الاتباع والتحذير من الابتداع، مما جعلني أرجح أن يكون هو كتاب "التمسك بالسنن " الذي ورد ذكره ضمن مؤلفات الإمام الذهبي1.

وقد جعلت العمل فيه في قسمين:

القسم الأول: دراسة عن المؤلف، والكتاب، في تمهيد ضم فصلين.

الفصل الأول: في التعريف بالمؤلف تضمن:

--------------------------------------------

1 وانظر: ص 81 لمزيد الإيضاح عن اسم الكتاب.
এই বিষয়ে কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী, তাবিঈন ও প্রত্যেক যুগের সালাফ ইমামগণের বক্তব্যে অসংখ্য ও সুসংহত দলিল রয়েছে।

এই উম্মতের আলেমদের মধ্য থেকে আহলুল হক ও সুন্নাহর অনুসারীরা সর্বদা সেদিকেই দাওয়াত দিয়ে চলেছেন যেদিকে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহ্বান করেছেন। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যসমূহ লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং তাদের জীবনী ও বর্ণনাসমূহে তাদের নিদর্শনগুলো সুবিখ্যাত। এমনকি তাদের কারো কারো এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রয়েছে।

আমি এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ও অনুসরণের ইমামদের অন্যতম একজন ইমামের একটি চমৎকার রচনার সন্ধান পেয়েছি, তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয-যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ)।

এটি অধ্যয়ন ও পাঠ শেষ করার পরপরই আমি এটি প্রকাশের সংকল্প করি; কারণ এর ক্ষুদ্র কলেবর ও চমৎকারিত্ব সত্ত্বেও এতে অনেক মূল্যবান ফায়দা এবং এই বিষয়ে কিছু উপকারী মূলনীতি রয়েছে। ইমাম যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) এটি এক অনন্য ও স্বতন্ত্র শৈলীতে রচনা করেছেন, যাতে এই উম্মতের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম নসিহত এবং সুন্নাহ ও দ্বীনের প্রতি মর্যাদাবোধের পাশাপাশি বিচ্যুতদের হেদায়াতের প্রতি কোমলতা ও নম্রতাপূর্ণ প্রবল আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।

আমার কাছে যে পাণ্ডুলিপিটি ছিল তাতে এই রচনার নাম বা শিরোনাম উল্লেখ ছিল না। তবে এর বিষয়বস্তু ইত্তিবা এবং বিদআত থেকে সতর্ক করাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যা আমাকে এই প্রবল ধারণা দেয় যে এটি ইমাম যাহাবির রচনাবলির মধ্যে উল্লিখিত সেই "আত-তামাসসুক বিস-সুনান" গ্রন্থটিই হবে১।

আমি এই কাজটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অংশ: একটি উপক্রমণিকা যাতে লেখক এবং গ্রন্থটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এবং যা দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয় সংবলিত:

--------------------------------------------

১ আর দেখুন: বইয়ের নাম সম্পর্কে অধিকতর স্পষ্টীকরণের জন্য ৮১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৫৭)
أولاً: اسمه.

ثانياً: نسبته.

ثالثاً: مولده.

رابعاً: طلبه العلم وارتحاله إليه.

خامساً: مكانته العلمية وثناء الناس عليه.

سادساً: مصنفاته.

سابعاً: جهوده في الدعوة إلى السنة ومحاربة البدعة.

ثامناً: وفاته.

الفصل الثاني: في التعريف بالكتاب ووصف النسخة الخطية، وعملي في الكتاب، على النحو التالي:

* التعريف بالكتاب.

أولاً: اسمه.

ثانياً: توثيق نسبته للمؤلف.

ثالثاً: موضوع الكتاب.

* وصف النسخة المعتمدة في التحقيق.

* عملي في الكتاب.

القسم الثاني: تحقيق الكتاب.

وقد بينت عملي فيه في الفقرة المشار إليها قبل.

وإذ أقدم هذا الكتاب لأرجوا الله مخلصاً أن ينفع به من اطلع عليه، وأن يجعل عملي المتواضع فيه خالصاً لوجهه تعالى، وأن يصلح العمل والنية، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه/ د. محمد باكريم محمد باعبد الله

2/9/1415هـ
প্রথমত: তাঁর নাম।

দ্বিতীয়ত: তাঁর বংশ পরিচয়।

তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম।

চতুর্থত: তাঁর ইলম অন্বেষণ ও সেই উদ্দেশ্যে তাঁর সফর।

পঞ্চমত: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর প্রতি মানুষের প্রশংসা।

ষষ্ঠত: তাঁর রচনাবলি।

সপ্তমত: সুন্নাহর দাওয়াত ও বিদআত দমনে তাঁর প্রচেষ্টা।

অষ্টমত: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি, পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কার্যাবলি সম্পর্কে, যা নিম্নরূপ:

* গ্রন্থ পরিচিতি।

প্রথমত: এর নাম।

দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।

তৃতীয়ত: গ্রন্থের বিষয়বস্তু।

* তাহকীকে (সম্পাদনায়) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ।

* গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজ।

দ্বিতীয় অংশ: গ্রন্থের তাহকীক (সম্পাদনা)।

এতে আমার সম্পাদিত কাজের বর্ণনা আমি পূর্বে উল্লেখিত অনুচ্ছেদে প্রদান করেছি।

আমি এই কিতাবটি পেশ করছি এবং আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করছি যে, তিনি এর দ্বারা পাঠকারীকে উপকৃত করবেন। তিনি যেন আমার এই বিনম্র কাজকে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমল ও নিয়তকে সংশোধন করে দেন। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

লেখক: ড. মুহাম্মদ বাকরীম মুহাম্মদ বাআবদুল্লাহ

২/৯/১৪১৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌التمهيد

…

تمهيد في التعريف بالمؤلِّف والكتاب

الفصل الأول: التعريف بالمؤلِّف.

الفصل الثاني: التعريف بالكتاب ووصف النسخة المعتمدة وعملي في الكتاب.
ভূমিকা

…

লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতি বিষয়ক ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক পরিচিতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি, নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজ।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬১)
الفصل الأول: التعريف بالمؤلِّف:

أولا: اسمه.

ثانيا: نسبته.

ثالثا: مولده.

رابعا: طلبه العلم ورحلاته.

خامسا: مكانته العلمية وثناء الناس عليه.

سادسا: مصنفاته.

سابعا: جهوده في الدعوة إلى السنة ومحاربة البدعة وأسلوبه في ذلك.

ثامنا: وفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি:

প্রথমত: তাঁর নাম।

দ্বিতীয়ত: তাঁর সম্বন্ধ।

তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম।

চতুর্থত: তাঁর ইলম অর্জন ও সফরসমূহ।

পঞ্চমত: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর প্রতি মানুষের প্রশংসা।

ষষ্ঠত: তাঁর রচনাবলি।

সপ্তমত: সুন্নাহর দিকে দাওয়াত ও বিদআতের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচেষ্টা এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি।

অষ্টমত: তাঁর ইন্তেকাল।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬২)
الفصل الأول

التعريف بالمؤلِّف

بعد الدراسة الضافية والموسعة، التي قدَّمها الدكتور بشار عوّاد عن الإمام الذهبي بعنوان: "الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام "1؛ لا أجدني بحاجة إلى تقديم دراسة وافية عن حياة الإمام الذهبي، وسأكتفي بتدوين ترجمة موجزة للمؤلف تتضمن الأمور التالية:

أولاً: اسمه:

محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز، ابن الشيخ عبد الله التركماني، الفارقي2 ثم الدمشقي الشافعي3، ويكنى بأبي عبد الله.

ثانياً: نسبته:

اشتهر رحمه الله بـ "الذهبي " أو "ابن الذهبي "، نسبة إلى صنعة أبيه، حيث كان أبوه قد برع في صنعة الذهب، وتميز بها فعرف بالذهبي.

قال د. بشار: "ويبدو أنه- أي صاحب الترجمة- اتخذ صنعة أبيه مهنة له في أول أمره، لذلك عُرف عند بعض معاصريه بـ "الذهبي "، مثل: الصلاح الصفدي، وتاج الدين السبكي، والحسيني، وعماد الدين ابن كثير "4.

--------------------------------------------

1 وهي في الأصل أطروحة دكتوراه في التاريخ الإسلامي، ظهرت أولى طبعاتها سنة 1976م.

2 نسبة إلى "ميافارقين"مدينة من أشهر مدن ديار بكر. انظر عنها: معجم البلدان للحموي: 4/703.

3 الذهبي: المعجم المختص بالمحدثين: ص97، بتحقيق: محمد الحبيب الهيلة، نشر مكتبة الصحابة بالطائف سنة 1408هـ.

4 الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام ص 79، ط: الحلبي 1976م.
প্রথম অধ্যায়

লেখকের পরিচিতি

ড. বাশার আওয়াদ ইমাম যাহাবি সম্পর্কে "যাহাবি এবং তার কিতাব তারিখুল ইসলাম-এ তার মানহাজ" ১ শীর্ষক যে বিস্তারিত ও সুদীর্ঘ গবেষণা উপস্থাপন করেছেন, তার পর আমি ইমাম যাহাবির জীবন সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পেশ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি না। আমি কেবল লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করবে:

প্রথমত: তার নাম:

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে কাইমাজ, ইবনুল শায়খ আব্দুল্লাহ আল-তুর্কমানি, আল-ফারেকি ২ এরপর আদ-দামেশকি আশ-শাফিঈ ৩, এবং তার কুনিয়াহ হলো আবু আব্দুল্লাহ।

দ্বিতীয়ত: তার নিসবত:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) "যাহাবি" বা "ইবনুল যাহাবি" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যা তার পিতার পেশার সাথে সম্বন্ধযুক্ত। কেননা তার পিতা স্বর্ণের কারুকাজে পারদর্শী ছিলেন এবং এতে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন, ফলে তিনি "যাহাবি" নামে পরিচিতি পান।

ড. বাশার বলেন: "প্রতীয়মান হয় যে, তিনি—অর্থাৎ যার জীবনী আলোচিত হচ্ছে—শুরুর দিকে তার পিতার পেশাকেই নিজের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এই কারণেই তাঁর সমসাময়িক কিছু পণ্ডিতের নিকট তিনি 'যাহাবি' নামে পরিচিত ছিলেন, যেমন: আস-সালাহ আস-সাফাদি, তাজউদ্দীন আস-সুবকি, আল-হুসাইনি এবং ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসির।" ৪

--------------------------------------------

১ এটি মূলত ইসলামি ইতিহাসের ওপর একটি ডক্টরেট থিসিস, যার প্রথম সংস্করণ ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

২ "মিয়াফারেকিন"-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত, যা দিয়ার বকর-এর অন্যতম বিখ্যাত শহর। এ সম্পর্কে দেখুন: হামাভির মু'জামুল বুলদান: ৪/৭০৩।

৩ যাহাবি: আল-মু'জামুল মুখতাস বিল মুহাদ্দিসিন: পৃষ্ঠা ৯৭, তাহকিক: মুহাম্মদ আল-হাবিব আল-হাইলা, মাকতাবাতুস সাহাবা কর্তৃক তায়েফ থেকে ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত।

৪ যাহাবি ওয়া মানহাজুহু ফি কিতাবিহি তারিখুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৭৯, প্রকাশনা: আল-হালাবি, ১৯৭৬ ইং।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৩)
قلت: ويدل لذلك قول سبط ابن حجر في ترجمته: "وتعلَّم صناعة الذهب كأبيه وعرف طرقها"1.

لذا نجد الذهبي يعرِّف نفسه في الغالب بـ "ابن الذهبي "2 وأحيانا بـ " الذهبي" 3.

ثالثاً: مولده:

ولد الإِمام الذهبي في ربيع الآخر سنة ثلاث وسبعين وستمائة4 في مدينة دمشق5.

قال تلميذه الصفدي: "وأخبرني- أي الذهبي- عن مولده فقال: في ربيع الآخر سنة ثلاث وسبعين وستمائة"6.

رابعاً: طلبه العلم ورحلاته:

بدأ الذهبي رحمه الله في طلب العلم في سن الثامنة عشرة من عمره 7، وكانت عنايته متجهة إلى علم القراءات، وعلم الحديث، وقد بلغ في علم القراءات شأواً عالياً، فبرع في هذا الفن حتى إن شيخه شمس الدين أبا عبد الله محمد بن عبد العزيز الدمياطي، أقعده مكانه في حلقته في الجامع الأموي في أواخر سنة 692، أو أوائل 693 حينما أصابه المرض الذي توفى فيه8، وألف في هذا الفن كتابه القيِّم "طبقات القُرَّاء".

--------------------------------------------

1 رونق الألفاظ: (2/ 35/ آ) مخطوط. عن قاسم علي سعيد صفحات في ترجمة الحافظ الذهبي.

2 انظر: المعجم المختص. ص 97، ومعجم الشيوخ الكبير: 1/12 بتحقيق: محمد الحبيب الهيلة، نشر مكتبة الصحابة بالطائف سنة 1408 هـ.

3 انظر: السبكي. طبقات الشافعية الكبرى: 9/ 102، بتحقيق: محمود الطناحي، وعبد الفتاح الحلو، ط: الأولى 1383 هـ.

4 الذهبي: المعجم المختص: ص 97

5 المصدر السابق. ص 97.

6 نكت الهميان: ص 242، ط: المطبعة الجمالية بمصر، سنة 1329 هـ.

7 ابن فهد: لحظ الألحاظ ذيل تذكرة الحفاظ: ص 348.

8 الذهبي: معجم الشيوخ:2/218.
আমি বলি: ইবনে হাজারের দৌহিত্র তাঁর জীবনীতে যা বলেছেন তা এর প্রমাণ দেয়: "তিনি তাঁর পিতার মতো স্বর্ণশিল্প শিখেছিলেন এবং এর পদ্ধতিগুলো জানতেন"১।

তাই আমরা দেখি যাহাবী অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেকে "ইবনুল যাহাবী"২ হিসেবে এবং কখনও কখনও "যাহাবী"৩ হিসেবে পরিচয় দিতেন।

তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম:

ইমাম যাহাবী ৬৭৩ হিজরীর রবিউল আখের মাসে৪ দামেশক শহরে৫ জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর ছাত্র সাফাদী বলেন: "যাহাবী আমাকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জানিয়েছেন এবং বলেছেন: ৬৭৩ হিজরীর রবিউল আখের মাসে"৬।

চতুর্থত: তাঁর ইলম অর্জন ও সফরসমূহ:

যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) আঠারো বছর বয়সে ইলম অর্জন শুরু করেন৭। তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল ক্বিরাত শাস্ত্র ও হাদীস শাস্ত্রের প্রতি। তিনি ক্বিরাত শাস্ত্রে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং এই বিষয়ে এতই পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন যে, তাঁর উস্তাদ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আদ-দামইয়াতি ৬৯২ হিজরীর শেষের দিকে অথবা ৬৯৩ হিজরীর শুরুর দিকে যখন সেই অসুস্থতায় আক্রান্ত হন যাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তখন তিনি উমাইয়াহ জামে মসজিদে নিজের পাঠদানস্থলে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন৮। আর তিনি এই বিষয়ে তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "তাবাকাতুল কুররা" রচনা করেন।

--------------------------------------------

১ রওনাকুল আলফাজ: (২/ ৩৫/ আ) পাণ্ডুলিপি। কাসিম আলী সাঈদ-এর হাফেয যাহাবীর জীবনীর পৃষ্ঠাগুলো থেকে সংগৃহীত।

২ দেখুন: আল-মু'জামুল মুখতাস, পৃষ্ঠা ৯৭; এবং মু'জামুশ শুয়ুখিল কাবীর: ১/১২, তাহকীক: মুহাম্মদ আল-হাবীব আল-হাইলাহ, মাকতাবাতুস সাহাবাহ কর্তৃক প্রকাশিত, তায়িফ, ১৪০৮ হিজরী।

৩ দেখুন: সুবকী, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা: ৯/ ১০২, তাহকীক: মাহমুদ আল-তানাহি এবং আব্দুল ফাত্তাহ আল-হুলু, প্রথম প্রকাশ: ১৩৮৩ হিজরী।

৪ যাহাবী: আল-মু'জামুল মুখতাস: পৃষ্ঠা ৯৭।

৫ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৯৭।

৬ নুকাতুল হামইয়ান: পৃষ্ঠা ২৪২, প্রকাশ: আল-মাতবাআহ আল-জামালিয়্যাহ, মিশর, ১৩২৯ হিজরী।

৭ ইবনে ফাহদ: লাহযুল আলহায যাইলু তাযকিরাতিল হাফফায: পৃষ্ঠা ৩৪৮।

৮ যাহাবী: মু'জামুশ শুয়ুখ: ২/২১৮।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৪)
أما علم الحديث فقد شغف به، وأولاه جل عنايته، فسمع ما لا يحصى من الكتب، ولقي الكثير من الشيوخ وأخذ عنهم، وأصيب بالشَّرَهِ في سماع الحديث وقراءته حتى إنه كان يسمع من أناس قد لا يرضى عنهم، كما قال في ترجمة: علاء الدين أبي الحسين بن مظفر الاسكندراني: "ولم يكن عليه ضوء في دينه، حملني الشره على السماع من مثله، والله يسامحه"1.

وقد رحل الإمام الذهبي في طلب العلم، فسمع بدمشق، وبعلبك، وبالقرافة، وبالثغر، ومكة، وحلب، ونابلس2، وحمص، وطرابلس، والرّملة، وبلبيس، والقاهرة، والإسكندرية، والحجاز، والقدس وغير ذلك3.

خامساً: مكانته العلمية وثناء الناس عليه:

برع الإِمام الذهبي رحمة الله عليه في علم الحديث ورجاله، والتاريخ وله تمكن في علم القراءات، مع مشاركة قوية في مختلف علوم الشريعة، وعلوم الآلة من نحو وصرف وأدب.

وقد تبوّأ رحمه الله مكانة علمية عالية في حياته، وكان جديراً بتولي مشيخة بعض المدارس والدور العلمية في عصره.

فتولى مشيخة دار الحديث بتربة أم الصالح، وهي من أكبر دور الحديث بدمشق، كما تولى بعد ذلك مشيخة دار الحديث الظاهرية.

وتولى تدريس الحديث بالمدرسة النفيسية، ومشيخة الحديث بدار

--------------------------------------------

1 انظر: معجم الشيوخ 2/58.

2 الذهبي: المعجم المختص: ص 97.

3 الصفدي: نكت الهميان: ص 242.
হাদিস শাস্ত্রের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিল এবং তিনি তাঁর অধিকাংশ মনোযোগ এতেই নিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি অগণিত কিতাব শ্রবণ করেছেন এবং অনেক শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন। হাদিস শ্রবণ ও পাঠ করার ক্ষেত্রে তিনি এক গভীর লালসায় (তথা অতিশয় আগ্রহে) আক্রান্ত হয়েছিলেন, এমনকি তিনি এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও হাদিস শুনেছেন যাদের ব্যাপারে তিনি হয়তো সন্তুষ্ট ছিলেন না। যেমনটি তিনি আলাউদ্দিন আবু আল-হুসাইন বিন মুজাফফার আল-ইসকান্দারানির জীবনীতে বলেছেন: "তাঁর দ্বীনদারিতে কোনো ঔজ্জ্বল্য ছিল না, কিন্তু প্রবল আগ্রহ আমাকে তাঁর মতো ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণে উদ্বুদ্ধ করেছিল, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।"১।

ইমাম যাহাবি ইলম অন্বেষণে সফর করেছেন; তিনি দামেশক, বালবাক, আল-কারাফা, আস-সাগর, মক্কা, আলেপ্পো (হালাব), নাবলুস২, হিমস, ত্রিপোলি (তরাবলুস), আর-রামলা, বিলবাইস, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, হিজাজ, কুদস এবং অন্যান্য স্থানে হাদিস শ্রবণ করেছেন৩।

পঞ্চম: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা:

ইমাম যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) হাদিস শাস্ত্র ও রিজাল শাস্ত্র এবং ইতিহাসে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। কিরাত শাস্ত্রেও তাঁর গভীর দখল ছিল। এর পাশাপাশি শরিয়তের বিভিন্ন শাখা এবং আরবি ব্যাকরণ (নাহু ও সরফ) ও সাহিত্যের মতো সহায়ক শাস্ত্রসমূহেও তাঁর শক্তিশালী অংশগ্রহণ ছিল।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবদ্দশায় এক সুউচ্চ ইলমি আসনে সমাসীন ছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িক বিভিন্ন মাদরাসা ও ইলমি প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান শায়খের দায়িত্ব পালনের যোগ্য ছিলেন।

তিনি 'উম্মুস সলিহ' মাকবারাসংলগ্ন দারুল হাদিসের প্রধান শায়খের দায়িত্ব পালন করেন, যা দামেশকের অন্যতম বৃহত্তম দারুল হাদিস ছিল। এরপর তিনি 'দারুল হাদিস আল-জাহিরিয়াহ'-এর প্রধান শায়খের দায়িত্বও পালন করেন।

তিনি নাফিসিয়া মাদরাসায় হাদিস পাঠদান এবং দারুল হাদিসের শায়খ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন...

--------------------------------------------

১. দেখুন: মুজামুশ শুয়ুখ ২/৫৮।

২. যাহাবি: আল-মুজামুল মুখতাস: পৃষ্ঠা ৯৭।

৩. সাফাদি: নুকাতুল হিমইয়ান: পৃষ্ঠা ২৪২।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৫)
الحديث والقرءآن التنكزية، ودار الحديث الفاضلية، ودار الحديث العُروّية1.

عرف منزلة الذهبي هذه، ومكانته، أفاضلُ أهل العلم من تلاميذه الذين أخذوا وتلقوا عنه، ومعاصريه الذين أدركوا فضله ومكانته، ومن جاء بعده من أهل العلم والفضل، فذكروه بخير، وأثنوا عليه بالجميل.

فقال تلميذه صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي في ترجمته: " … أبو عبد الله الذهبي، حافظ لا يجارَى، ولافظ لا يبارَى، أتقن الحديث ورجاله، ونظر علله وأحواله، وعرف تراجم الناس، وأزال الإيهام في تواريخهم والإلباس، مع ذهن يتوقد ذكاؤه، ويصح إلى الذهب نسبته وانتماؤه، جمع الكثير، ونفع الجم الغفير، وأكثَر من التصنيف، ووفر بالاختصار مؤونة التطويل في التأليف … اجتمعت به وأخذت عنه، وقرأت عليه كثيراً من تصانيفه، … له دُربة بأقوال الناس، ومذاهب الأئمة من السلف، وأرباب المقالات، وأعجبني ما يعانيه في تصانيفه من أنه لا يتعدى حديثاً يورده حتى يبين ما فيه من ضعف متن، أو ظلام إسناد، أو طعن في رواة، وهذا لم أر غيره يعاني هذه الفائدة فيما يورده"2.

وقال ابن ناصر الدين: " … كان آية في نقد الرجال، عمدة في الجرح والتعديل، عالماً بالتفريع والتأصيل، إماماً في القراءات، فقيهاً في النظريات، له دُربة بمذاهب الأئمة وأرباب المقالات، قائماً بين الخلف، ينشر السنة ومذهب السلف … " 3.

وقال عنه السيوطي: " … وطلب الحديث وله ثماني عشرة سنة، فسمع الكثير، ورحل، وعني بهذا الشأن، وتعب فيه وخدمه، إلى أن رسخت فيه

--------------------------------------------

1 راجع عن هذه المدارس ومشيخة الذهبي لها: الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام: ص 133. ومقدمة د. بشار لسير أعلام النبلاء: 1/41.

2 نكت الهميان: ص 241.

3 الرد الوافر: ص65، بتحقيق: زهير الشاويش، ط: الأولى 1400هـ، نشر: المكتب الإسلامي.
আল-হাদিস ওয়াল কুরআন আত-তানকিজিয়াহ, দারুল হাদিস আল-ফাজিলিয়াহ এবং দারুল হাদিস আল-উরউইয়াহ ১।

আয-যাহাবীর এই মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে তাঁর সেই সব শ্রেষ্ঠ জ্ঞানবান ছাত্রগণ অবহিত ছিলেন যারা তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, এবং তাঁর সমসাময়িকগণ যারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা প্রত্যক্ষ করেছেন, আর তাঁর পরবর্তী জ্ঞান ও গুণের অধিকারী ব্যক্তিবর্গও তাঁকে সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

তাঁর ছাত্র সালাহুদ্দীন খলীল ইবন আইবাক আস-সাফাদী তাঁর জীবনীতে বলেছেন: " … আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী এমন একজন হাফেয যাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, এবং এমন এক বাগ্মী যাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি হাদিস ও এর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে পূর্ণ বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন, এবং এর ত্রুটি ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি মানুষের জীবনী সম্পর্কে জানতেন এবং তাদের ইতিহাসে থাকা অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূর করেছিলেন। তাঁর ছিল এক প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত মেধা, এবং সোনার (যাহাব) সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা ও নিসবত যথার্থই সঠিক। তিনি প্রচুর ইলম সংগ্রহ করেছেন এবং বহু মানুষকে উপকৃত করেছেন। তিনি অধিক পরিমাণে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সংক্ষেপণের মাধ্যমে দীর্ঘ রচনার পরিশ্রম লাঘব করেছেন … আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি এবং তাঁর অনেক কিতাব তাঁর কাছে পাঠ করেছি, … মানুষের মতামত, সালাফদের ইমামগণের মাযহাব এবং বিভিন্ন মতাদর্শের প্রবক্তাদের বিষয়ে তাঁর গভীর অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর রচনার যে বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো, তিনি কোনো হাদিস উল্লেখ করলে তার মতন (মূল পাঠ)-এর দুর্বলতা, সনদের অন্ধকার বা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা স্পষ্ট না করে তা অতিক্রম করেন না। তাঁর আগে আর কাউকে তাঁর সংগৃহীত বর্ণনায় এমন উপকারিতা প্রদানে সচেষ্ট হতে দেখিনি" ২।

ইবন নাসিরুদ্দীন বলেছেন: " … তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় এক নিদর্শন ছিলেন, জারাহ-তাদিলের ক্ষেত্রে ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ। তিনি শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতি বিষয়ে জ্ঞানী ছিলেন, কিরাআত শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন এবং তাত্ত্বিক বিষয়ে ফকীহ ছিলেন। ইমামদের মাযহাব ও মতাদর্শের প্রবক্তাদের বিষয়ে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে সুন্নাহ এবং সালাফদের মানহাজ প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ছিলেন … " ৩।

আস-সুয়ূতী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: " … তিনি আঠারো বছর বয়সে হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন, সফর করেছেন এবং এই শাস্ত্রের প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন। তিনি এতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং এর সেবা করেছেন, যতক্ষণ না তিনি এতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন—

--------------------------------------------

১. এই মাদ্রাসাগুলো এবং এতে আয-যাহাবীর শিক্ষকতা সম্পর্কে দেখুন: আয-যাহাবী ওয়া মানহাজুহু ফী কিতাবিহি তারিখিল ইসলাম: পৃষ্ঠা ১৩৩; এবং ড. বাশারের লিখিত সিয়ারু আলামিন নুবালা-র ভূমিকা: ১/৪১।

২. নুকাতুল হিমইয়ান: পৃষ্ঠা ২৪১।

৩. আর-রাদ্দুল ওয়াফির: পৃষ্ঠা ৬৫, তাহকীক: যুহায়ের আশ-শাওয়িশ, ১ম সংস্করণ ১৪০০ হিজরী, প্রকাশনা: আল-মাকতাব আল-ইসলামী।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৬)
قدمه، وتلا بالسبع، وأذعن له الناس، -قال-: "وحكي عن شيخ الإِسلام أبي الفضل ابن حجر أنّه قال: "شربت ماء زمزم لأصل إلى مرتبة الذهبي في الحفظ".

والذي أقوله إن المحدثين عيال الآن في الرجال وغيرها من فنون الحديث على أربعة: المزي، والذهبي، والعراقي، وابن حجر"1.

هذا بعض ما قيل في هذا الإمام العظيم الشأن، وما تركت أكثر، وهو بعض ما يستحقه رحمة الله عليه.

أمّا هو فكان يقلل من شأن نفسه، ويتواضع تواضع العلماء الربّانيين فيقول في ترجمته لنفسه: " … وجمع تواليف- يقال مفيدة - والجماعة يتفضلون ويثنون عليه، وهو أخبر بنفسه، وبنقصه في العلم والعمل، والله المستعان، ولا قوة إلاّ به، وإذا سلم لي إيماني فيا فوزي"2.

يقول هذا عن نفسه، وهو من عرفنا في العلم والإمامة والفضل، فهل يعي هذا الجانب طلبة العلم؟، فإن لهم والله في سيرة هذا الإمام وأمثاله لقدوة، وأسوة.

سادساً: مصنفاته:

ذكر الدكتور بشّار للإمام الذهبي مائتين وأربعة عشر مصنفاً، وأشار في مقدمته إلى أنه عني بذكر آَثار الذهبي من المختصرات، والانتقاءات والتآليف، والتخاريج، مما ذَكَرتْه المصادر، أو وقف عليه، سواء أكانت مفقودة أم مخطوطة أم مطبوعة3.

--------------------------------------------

1 طبقات الحفاظ: ص 522، ط: الأولى 1403 هـ، نشر: دار الكتب العلمية.

2 المعجم المختص. ص 97.

3 الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام ص 139.
তাঁর অগ্রগণ্যতা, তিনি সাত কিরাতে তিলাওয়াত করেছেন এবং মানুষ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছে। বলা হয়েছে যে, শাইখুল ইসলাম আবুল ফদল ইবনে হাজার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মুখস্থবিদ্যায় আয-যাহাবীর স্তরে পৌঁছানোর নিয়তে যমযমের পানি পান করেছি।"

আর আমি যা বলি তা হলো, বর্তমানে হাদিস বিশারদগণ রাবী (বর্ণনাকারী) এবং হাদিসের অন্যান্য শাস্ত্রে প্রধানত চারজন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল: আল-মিযযী, আয-যাহাবী, আল-ইরাকী এবং ইবনে হাজার।" ১।

মহান মর্যাদাসম্পন্ন এই ইমাম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে এটি তার সামান্য অংশ মাত্র, আর আমি যা বাদ দিয়েছি তা আরও অনেক বেশি; আর এটি তাঁর প্রাপ্য সম্মানের কিঞ্চিৎ অংশ মাত্র, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

পক্ষান্তরে তিনি নিজে নিজের মর্যাদাকে তুচ্ছ জ্ঞান করতেন এবং রব্বানী আলেমদের ন্যায় বিনয় প্রকাশ করতেন। তিনি স্বীয় জীবনীতে বলেন: " … এবং তিনি কিছু সংকলন প্রস্তুত করেছেন—যাকে উপকারী বলা হয়—আর একদল লোক অনুগ্রহ করে তাঁর প্রশংসা করেন, অথচ তিনি নিজের সম্পর্কে এবং জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে নিজের ত্রুটি সম্পর্কে অধিক অবগত। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর সাহায্য ব্যতিরেকে কোনো শক্তি নেই। যদি আমার ঈমান নিরাপদ থাকে, তবেই আমি সফল।" ২।

তিনি নিজের সম্পর্কে এই কথা বলেন, অথচ তিনি জ্ঞান, ইমামত ও মর্যাদার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সুপরিচিত। ইলম অন্বেষণকারীরা কি এই দিকটি অনুধাবন করবেন? আল্লাহর কসম! এই ইমাম এবং তাঁর সমতুল্য ব্যক্তিদের জীবনীতে তাঁদের জন্য অবশ্যই উত্তম আদর্শ ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে।

ষষ্ঠত: তাঁর রচনাবলি:

ডক্টর বাশার ইমাম আয-যাহাবীর দুইশত চৌদ্দটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর ভূমিকায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি আয-যাহাবীর রচনাবলির মধ্যে সংক্ষিপ্তসার, সংকলন, মৌলিক গ্রন্থ এবং তাখরীজসমূহ উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বিভিন্ন উৎস হতে বর্ণিত হয়েছে বা তিনি যেগুলোর সন্ধান পেয়েছেন; চাই সেগুলো বর্তমানে বিলুপ্ত হোক, পাণ্ডুলিপি আকারে হোক কিংবা মুদ্রিত হোক। ৩।

--------------------------------------------

১. তাবাকাতুল হুফফাজ: পৃষ্ঠা ৫২২, প্রথম সংস্করণ ১৪০৩ হিজরী, প্রকাশনী: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।

২. আল-মু'জামুল মুখতাস, পৃষ্ঠা ৯৭।

৩. আয-যাহাবী ওয়া মানহাজুহু ফী কিতাবিহি তারিখিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৩৯।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وأشار أيضاً إلى أنه لم يُعْنَ باستقصاءِ طبعات الكتب ولا نُسَخِها في جميع خزائن العالم1.

وقد بذل جهداً متميزاً في دراسته للإمام الذهبي وكتابه "تاريخ الإسلام " بوجه عام، وفي اعتنائه بتتبع مؤلفاته ومحاولة استقصائها.

ومع ذلك فقد فاته ذكر بعض مصنفات الإمام الذهبي، التي لم يقف عليها أو على ذكر لها، ذكر منها الأستاذ: قاسم علي سعد ثمانية وثلاثين مصنفاً2. وفاته هو أيضاً ذكر بعض مصنفات الإمام الذهبي. وفي هذا دلالة على أن النقص وعدم الكمال من طبيعة عمل البشر، إذ أبى الله أن يتم كتاباً غير كتابه عز وجل.

ولمّا كان عمل الباحثين في فن من الفنون يكمل بعضه بعضاً، ويبدأ الآخر من حيث انتهى الذي قبله وهكذا حتى تتظافر الجهود على البلوغ بالبحث إلى أقصى ما يمكن للبشر من الاستيعاب والإتقان.

فإني من هذا المنطلق لم أشأ أن أعدد مصنفات الذهبي، التي ذكرها د. بشار أو الأستاذ قاسم علي سعد، لأنه تكرار لا موجب له، ورأيت أن أكتفي ببعض الإضافات التي وقفت عليها، سواء في أسماء المصنفات والمؤلفات، أو في ذكر نسخ خطية أخرى لبعضها، أو في الإشارة إلى طبع ما تم طبعه منها، وإن كان الدكتور بشار لم يلتزم باستقصاء الطبعات، ولا النسخ إلاّ أنه لو وقف على شيء من ذلك لذكره، وحيث إن في ذكر ذلك ما يفيد الباحثين، وطلاب العلم رأيت أن لا غضاضة في ذكر ما وقفت عليه أو بلغه علمي من نسخ أخرى لبعض هذه المؤلفات، أو طبعات لبعضها، أو زيادة توثيق لمصنفات ذكرها د. بشار، ولاسيما إذا كان هذا التوثيق من كلام الإمام الذهبي.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ص 140.

2 صفحات في ترجمة الحافظ الذهبي: ص 31.
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বের সমস্ত গ্রন্থাগারে বইগুলোর মুদ্রণ বা পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানে তিনি পূর্ণ মনোনিবেশ করেননি১।

ইমাম যাহাবি এবং সাধারণভাবে তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থটি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এবং তাঁর রচনাবলি অনুসরণ ও সেগুলো পূর্ণরূপে অনুসন্ধানের চেষ্টায় তিনি অসামান্য পরিশ্রম করেছেন।

তা সত্ত্বেও, ইমাম যাহাবির কিছু রচনার কথা উল্লেখ করা থেকে তিনি বাদ পড়েছেন, যেগুলোর বিষয়ে তিনি জানতে পারেননি বা সেগুলোর কোনো উল্লেখ পাননি। উস্তাদ কাসেম আলি সাদ এগুলোর মধ্যে আটত্রিশটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন২। তিনিও ইমাম যাহাবির কিছু রচনার কথা উল্লেখ করতে সক্ষম হননি। আর এটি এ কথার প্রমাণ যে, ত্রুটি ও অপূর্ণতা মানবীয় কাজের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য, কারণ মহান আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে পূর্ণাঙ্গ করতে অস্বীকার করেছেন।

যেহেতু কোনো একটি শাস্ত্রের গবেষকদের কাজ একে অপরের পরিপূরক হয় এবং একজন যেখান থেকে শেষ করেন অন্যজন সেখান থেকেই শুরু করেন, এভাবেই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গবেষণাকে মানবীয়ভাবে সম্ভব সর্বোচ্চ বোধগম্যতা ও নিপুণতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি ড. বাশশার বা উস্তাদ কাসেম আলি সাদ কর্তৃক উল্লিখিত যাহাবির রচনাবলির তালিকা পুনরায় উল্লেখ করতে চাইনি, কারণ তা হবে একটি অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি। আমি কেবল আমার দৃষ্টিগোচর হওয়া কিছু নতুন সংযোজনীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই সমীচীন মনে করেছি, চাই তা রচনার নাম হোক, অথবা কোনোটির নতুন কোনো পাণ্ডুলিপি হোক, কিংবা কোনোটি মুদ্রিত হয়ে থাকলে তার উল্লেখ হোক। যদিও ড. বাশশার সমস্ত মুদ্রণ বা পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না, তবুও তিনি যদি এগুলোর কোনোটির সন্ধান পেতেন তবে অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন। যেহেতু এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা গবেষক ও জ্ঞানান্বেষীদের জন্য উপকারী, তাই আমি এই রচনারগুলোর নতুন কোনো পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রণ, অথবা ড. বাশশার কর্তৃক উল্লিখিত রচনাগুলোর অধিকতর প্রামাণিকতা—বিশেষ করে যদি সেই প্রমাণ স্বয়ং ইমাম যাহাবির বক্তব্য থেকে পাওয়া যায়—তা উল্লেখ করা দোষণীয় মনে করিনি।

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৪০।

২. সাফাহাত ফি তারজামাতিল হাফেজ আল-যাহাবি: পৃষ্ঠা ৩১।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وهذا العمل ليس استدراكا على الباحثين الكريمين، ولا يقلل بحال من عملهما وإنما هو إضافة أطمع أن تكون مكملة لعملهما، مفيدة للباحثين وطلاب العلم.

وهذا أوان تفصيل ذلك:

أولاً: مؤلفات لم يذكرها د. بشار، أو الأستاذ قاسم:

1- أسماء الذين راموا الخلافة.

ورقة واحدة طبعت بتحقيق د. صلاح الدين المنجد.

2- الإمامة العظمى.

رسالة اختصر فيها كلام ابن حزم في ذلك، لها نسخة مصورة في قسم المخطوطات بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.

3- مختصر الجهر بالبسملة لأبي شامة:

له نسخة في الظاهرية ضمن مجموع رقم (55) الذي فيه "ذكر الجهر بالبسملة مختصراً" الذي اختصره الذهبي من تصنيف في هذا الموضوع للخطيب البغدادي، ذكره د. بشار برقم (133) .

4- مسائل في طلب العلم وأقسامه.

يوجد له نسخة في الظاهرية برقم (3216) وهو غير كتاب: "بيان زغل العلم" الذي ذكره د. بشار برقم (119) ،وأشار إلى نشره. وقد طبع كتاب المسائل، بتحقيق: جاسم الدوسري.

5- مشيخة محمد بن يوسف بن يعقوب:

ذكره الذهبي في "المشتبه"1.

--------------------------------------------

1 المشتبه في الرجال:1/290، بتحقيق علي محمد البجاوي، ط الأولى 1962.
এই কাজটি দুই সম্মানিত গবেষকের কাজের ভুল সংশোধন (ইস্তিদরাক) নয়, কিংবা কোনোভাবেই তাদের কাজের মান হ্রাস করে না; বরং এটি এমন একটি সংযোজন যার মাধ্যমে আমি তাদের কাজের পরিপূরক হতে এবং গবেষক ও ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য উপকারী হওয়ার আশা রাখি।

আর এটিই সেই বিস্তারিত বর্ণনার সময়:

প্রথমত: ড. বাশার বা উস্তাদ কাসেম উল্লেখ করেননি এমন গ্রন্থসমূহ:

১- আসমাউল্লাযিনা রামুল খিলাফাহ (যারা খিলাফতের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন তাদের নামসমূহ)।

এক পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি, যা ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনাজ্জিদের তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে।

২- আল-ইমামাতুল উজমা (মহা নেতৃত্ব)।

এটি একটি পুস্তিকা যাতে এই বিষয়ে ইবনে হাজমের বক্তব্য সংক্ষেপ করা হয়েছে। মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগে এর একটি ছায়ালিপি সংরক্ষিত রয়েছে।

৩- মুখতাসারু জাহরি বিল বাসমালা লি-আবি শামা (আবু শামার 'স্বশব্দে বিসমিল্লাহ পাঠ' গ্রন্থের সংক্ষেপ):

জাহিরিয়া লাইব্রেরির ৫৫ নম্বর মজমুআর (সংকলন) অন্তর্ভুক্ত এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এতে "যিকরুল জাহরি বিল বাসমালা মুখতাসারান" নামক অংশটি আছে, যা ইমাম যাহাবি এই বিষয়ে খতিব বাগদাদীর রচিত গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছেন। ড. বাশার এটি ১৩৩ নম্বরে উল্লেখ করেছেন।

৪- মাসায়িল ফি তলাবিল ইলম ওয়া আকসামিহি (ইলম অন্বেষণ এবং এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ)।

জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ৩২১৬ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। এটি ড. বাশার কর্তৃক ১১৯ নম্বরে উল্লিখিত এবং প্রকাশের প্রতি ইঙ্গিতকৃত "বায়ানু যাগালিল ইলম" গ্রন্থটি থেকে ভিন্ন। "আল-মাসায়িল" কিতাবটি জাসেম আদ-দাওসারীর তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে।

৫- মাশয়াখাতু মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব:

ইমাম যাহাবি এটি "আল-মুশতাবিহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।১

--------------------------------------------

১. আল-মুশতাবিহ ফির রিজাল: ১/২৯০, আলী মুহাম্মদ আল-বেজাওয়ীর তাহকীকে, প্রথম প্রকাশ ১৯৬২।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
6 - العزة للعلي العظيم.

ذكره الذهبي في السير (11/ 291) ويحتمل أن يكون هو "العلو للعلي العظيم ".

ثانياً: ذكر نسخة أو نسخ خطية لبعض مؤلفات الذهبي، لم يشر إليها د. بشار.

1- بيان زغل العلم.

ذكره د. بشار برقم (119) وذكر له نسخة برلين.

قلت: عُثر له على نسختين أخريين:

أولاهما: في مكتبة الأحقاف بتريم، وعنها صورة في معهد المخطوطات في الكويت تحت رقم (181) .

والأخرى: في إحدى مكتبات اليمن، وعنها صورة في قسم المخطوطات في عمادة شئون المكتبات في الجامعة الإسلامية تحت رقم (254) .

2- ذيل دول الإسلام.

ذكره د. بشار برقم (64) ، ولم يذكر له نسخاً خطية.

قلت: له نسخة خطية في مكتبة "تشستربتي " برقم (4100) ، بعنوان "ذيل تاريخ الإسلام".

3- الرخصة في الغناء بشرطه.

ذكر له د: بشار نسخة الظاهرية رقم (7159) في 54 ورقة.

قلت: له نسخة أخرى في مكتبة "تشستربتي" في إيرلندا، تحت رقم (5356) في 57 ورقة.

4- مختصر مناقب سفيان الثوري.

ذكره د. بشار برقم (163) ، وقال: ولا نعرف اليوم منه نسخة.
৬ - আল-ইযযাহ লিল-আলিয়্যিল আযীম।

আয-যাহাবী এটি আস-সিয়ার গ্রন্থে (১১/ ২৯১) উল্লেখ করেছেন এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি "আল-উলুউ লিল-আলিয়্যিল আযীম" হতে পারে।

দ্বিতীয়ত: আয-যাহাবীর কিছু রচনার পাণ্ডুলিপি বা একাধিক পাণ্ডুলিপির উল্লেখ, যা ডক্টর বাশার নির্দেশ করেননি।

১- বায়ানু যাগালিল ইলম।

ডক্টর বাশার এটি ১১৯ নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং এর জন্য একটি বার্লিন পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: এর আরও দুটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে:

প্রথমটি: তরীমের আল-আহকাফ লাইব্রেরিতে, এবং কুয়েতের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ১৮১ নম্বর অধীনে এর একটি অনুলিপি রয়েছে।

এবং অন্যটি: ইয়ামানের কোনো একটি লাইব্রেরিতে, এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিষয়ক ডিনশিপের পাণ্ডুলিপি বিভাগে ২৫৪ নম্বরের অধীনে এর একটি অনুলিপি রয়েছে।

২- যাইলে দুওয়ালিল ইসলাম।

ডক্টর বাশার এটি ৬৪ নম্বরে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি এর কোনো পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেননি।

আমি বলছি: "চেস্টার বিটি" লাইব্রেরিতে ৪১০০ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার শিরোনাম "যাইলে তারিখিল ইসলাম"।

৩- আর-রুখসা ফিল গিনা বি-শারতিহি।

ডক্টর বাশার এর জন্য ৫৪ পৃষ্ঠার জাহিরিয়া লাইব্রেরির ৭১৫৯ নম্বর পাণ্ডুলিপিটি উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: আয়ারল্যান্ডের "চেস্টার বিটি" লাইব্রেরিতে ৫৩৫৬ নম্বরের অধীনে ৫৭ পৃষ্ঠার এর আরও একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

৪- মুখতাসারু মানাকিবি সুফইয়ান আস-সাওরী।

ডক্টর বাশার এটি ১৬৩ নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: বর্তমানে আমাদের কাছে এর কোনো পাণ্ডুলিপি জানা নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭০)
قلت: له نسخه في دار الكتب المصرية برقم (382 مجاميع طلعت) .

5- المعجم المختص بمحدثي العصر.

ذكره د. بشار برقم (84) ولم يذكر له نسخة.

وقد وجد له نسختان خطيتان الأولى في المكتبة الناصرية بالهند تحت رقم (154) ، والثانية في مكتبة آزاد ذخيرة سبحان الله، الجامعة الإسلامية في عليكره برقم (212 ع 297) /2.

6- المقتنى في سرد الكنى.

ذكره د. بشار برقم (169) ، وذكر له ثلاث نسخ، الأولى في الأحمدية بحلب، والثانية في مكتبة فيض الله في استانبول، والثالثة في مكتبة الأوقاف ببغداد.

قلت: له نسخة رابعة في دار الكتب المصرية برقم (2786 ب) .

ثالثاً: ذكر بعض مصنفات الذهبي التي طبعت، ولم يشر إليها د. بشار إما لأنها طبعت بعد انتهائه من مؤلفه، أو لم يقع له علم بذلك.

1- أحاديث مختارة من الموضوعات من الأباطيل للجوزقاني. [125] 1

طبع بتحقيق: د. محمد حسن الغماري، بعنوان "مختصر الأباطيل والموضوعات". نشرته دار البشائر الإسلامية سنة 1413 هـ.

2- الأربعين في صفات رب العالمين. [13]

طبع بتحقيق: جاسم سليمان الدوسري، نشرته الدار السلفية في الكويت، سنة 1408 هـ.

كما طبع أيضاً بتحقيق: عبد القادر بن محمد عطا صوفي، نشرته

--------------------------------------------

1 الرقم بين الحاصرتين المعقوفتين يشير إلى رقم الكتاب في كتاب د. بشار "الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام".
আমি বলি: মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'তে (৩৮২ মাজামিউ তালাত) নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

৫- আল-মুজাম আল-মুখতাস বি-মুহাদ্দিসিল আসর।

ড. বাশার এটি ৮৪ নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং এর কোনো পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেননি।

এর দুইটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে; প্রথমটি ভারতের লাইব্রেরি আন-নাসিরিয়্যাহ-তে (১৫৪) নম্বরের অধীনে, এবং দ্বিতীয়টি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'আজাদ জখিরা সুবহানাল্লাহ' লাইব্রেরিতে (২১২ আইন ২৯৭) /২ নম্বরে।

৬- আল-মুকতানা ফী সারদিল কুনা।

ড. বাশার এটি ১৬৯ নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং এর তিনটি পাণ্ডুলিপির কথা বলেছেন; প্রথমটি আলেপ্পোর আহমাদিয়্যাহ লাইব্রেরিতে, দ্বিতীয়টি ইস্তাম্বুলের ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরিতে এবং তৃতীয়টি বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরিতে।

আমি বলি: মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'তে (২৭৮৬ বা) নম্বরে এর চতুর্থ একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

তৃতীয়ত: ইমাম যাহাবির এমন কিছু রচনার উল্লেখ যা মুদ্রিত হয়েছে, কিন্তু ড. বাশার সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেননি; হয়তো সেগুলো তার গ্রন্থ রচনার পরে মুদ্রিত হয়েছে অথবা সে বিষয়ে তার জানা ছিল না।

১- আল-জাওযাকানির 'আল-আবাতিল' থেকে সংকলিত 'আহাদিস মুখতারা মিনাল মাওজুয়াত'। [১২৫] ১

এটি ড. মুহাম্মদ হাসান আল-গুমারির তাহকিকে 'মুখতাসার আল-আবাতিল ওয়াল মাওজুয়াত' শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে। এটি ১৪১৩ হিজরিতে 'দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ' প্রকাশ করেছে।

২- আল-আরবাউন ফী সিফাতি রব্বিল আলামিন (বিশ্বজগতের রবের গুণাবলি সম্পর্কিত চল্লিশ হাদিস)। [১৩]

এটি জাসিম সুলাইমান আদ-দাউসারির তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে, যা ১৪০৮ হিজরিতে কুয়েতের 'আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ' প্রকাশ করেছে।

এটি আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আতা সুফির তাহকিকেও মুদ্রিত হয়েছে, যা প্রকাশ করেছে...

--------------------------------------------

১ থার্ড ব্র্যাকেটের ভেতরের সংখ্যাটি ড. বাশারের গ্রন্থ 'যাহাবি ওয়া মানহাজুহু ফী কিতাবিহি তারিখিল ইসলাম'-এ উক্ত বইয়ের নম্বরের দিকে ইঙ্গিত করে।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭১)
مكتبة العلوم والحِكَم بالمدينة المنورة، سنة 1413هـ.

3- تَشَبُّه الخسيس بأهل الخميس. [29]

طبع بتحقيق: علي حسن عبد الحميد، نشرته دار عمار، بالأردن، سنة 1408 هـ.

4- ذكر الجهر بالبسملة مختصراً. [133]

طبع بتحقيق: جاسم سليمان الدوسري، نشرته الدار السلفية في الكويت، سنة 1408 هـ.

5- ذكر من اشتهر بكنيته من الأعيان. [61]

طبع بتحقيق: جاسم سليمان الدوسري، نشرته الدار السلفية في الكويت، سنة 1408 هـ.

6- المجرد في أسماء رجال كتاب سنن الإمام أبي عبد الله ابن ماجة سوى من أخرج له منهم في أحد الصحيحين. [78]

طبع بتحقيق: جاسم سليمان الدوسري، نشرته الدار السلفية في الكويت، سنة 1408هـ.

7- مختصر مناقب سفيان الثوري. [163]

طبع بتحقيق: قسم التحقيق بدار الصحابة للتراث بطنطا، سنة 1413هـ.

8- معجم الشيوخ الكبير. [81]

طبع بتحقيق: د. محمد الحبيب الهيلة، نشرته مكتبة الصديق بالطائف، سنة 1408 هـ.

9- المعجم الصغير. [83]

طبع بتحقيق: جاسم سليمان الدوسري، نشرته الدار السلفية في الكويت، سنة 1408هـ. باسم " المعجم اللطيف ".
মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদীনা মুনাওয়ারা, ১৪১৩ হিজরি।

৩- তাশাব্বুহুল খাসিস বি-আহলিল খামিস। [২৯]

আলী হাসান আব্দুল হামিদ-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত, জর্ডানের দার আম্মার কর্তৃক ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত।

৪- বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। [১৩৩]

জাসিম সুলাইমান আদ-দাওসারী-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত, কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ কর্তৃক ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত।

৫- বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা কুনিয়াত বা উপনামে প্রসিদ্ধ তাদের বর্ণনা। [৬১]

জাসিম সুলাইমান আদ-দাওসারী-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত, কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ কর্তৃক ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত।

৬- আল-মুজাররাদ ফি আসমাই রিজালি কিতাবি সুনানি ইমাম আবি আবদিল্লাহ ইবনে মাজাহ (দুই সহীহ গ্রন্থে যাদের বর্ণনা আসেনি এমন রাবীদের নামের তালিকা)। [৭৮]

জাসিম সুলাইমান আদ-দাওসারী-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত, কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ কর্তৃক ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত।

৭- মুখতাসারু মানাকিব সুফিয়ান আস-সাওরি (সুফিয়ান সাওরির শ্রেষ্ঠত্বের সংক্ষিপ্ত সার)। [১৬৩]

তান্তার দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস-এর সম্পাদনা বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত, ১৪১৩ হিজরিতে মুদ্রিত।

৮- মু'জামুশ শুয়ুখিল কাবীর। [৮১]

ড. মুহাম্মদ আল-হাবিব আল-হায়লা-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত, তায়েফের মাকতাবাতুস সিদ্দিক কর্তৃক ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত।

৯- আল-মু'জামুস সগীর। [৮৩]

জাসিম সুলাইমান আদ-দাওসারী-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত, কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ কর্তৃক ১৪০৮ হিজরিতে ‘আল-মু'জামুল লতিফ’ নামে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭২)
10- المعجم المختص بمحدثي العصر. [84]

طبع بتحقيق: د. محمد الحبيب الهيلة، نشرته مكتبة الصديق بالطائف، سنة 1408 هـ.

11- المقتنى في سرد الكنى. [169]

طبع بتحقيق: محمد صالح المراد، نشره مركز البحث وإحياء التراث الإسلامي في الجامعة الإِسلامية بالمدينة المنورة، سنة 1408 هـ.

12- الموقظة في علم مصطلح الحديث. [11]

طبع بعناية: عبد الفتاح أبي غدة، نشرته مكتبة المطبوعات الإِسلامية في حلب، سنة 1405 هـ، وأعادت طبعه سنة 1412 هـ.

رابعاً: توثيق نسبة بعض مؤلفات الذهبي من كلامه في بعض مؤلفاته الأخرى.

اعتمد د. بشار في توثيق نسبة بعض المؤلفات للإِمام الذهبي على ذكر بعض المترجمين للإِمام الذهبي لها، مع أن الإمام الذهبي ذكرها في بعض كتبه، ولعل الدكتور بشار لم يقف على ذلك، ووثق نسبة بعضها من كلام الذهبي نفسه في بعض كتبه، ثم وقفت على توثيقها من كلامه أيضا في بعض كتبه فرأيت إثبات ذلك أيضا للفائدة. فمن ذلك:

1- ترجمة محمد بن الحسن الشيباني [105]

ذكره الذهبي أيضاً في: السير: 13/233.

2- سيرة الحلاج. [108]

ذكره الذهبي أيضاً في السير: 16/265، وقال: "وقد جمعت بلاياه في جزئين "، وفي كلام الإِمام الذهبي هذا إجابة على قول د. بشار: "وهو من كتب الذهبي الغريبة لأنه لم يكن من الذين يعتقدون
১০- সমকালীন হাদীসবিশারদদের বিশেষ অভিধান (আল-মু'জামুল মুখতাস)। [৮৪]

ড. মুহাম্মদ আল-হাবীব আল-হাইলার সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে; এটি তায়েফের মাকতাবাতুস সিদ্দিক ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশ করেছে।

১১- উপনামসমূহের বর্ণনায় আল-মুকতানা (আল-মুকতানা ফী সারদিল কুনা)। [১৬৯]

মুহাম্মদ সালেহ আল-মুরাদের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে; এটি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশ করেছে।

১২- হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় আল-মাউকিজাহ (আল-মাউকিজাহ ফী ইলমি মুসতালাহিল হাদীস)। [১১]

আবদাল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছে; এটি আলেপ্পোর মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ ১৪০৫ হিজরিতে প্রকাশ করেছে এবং ১৪১২ হিজরিতে পুনরায় মুদ্রণ করেছে।

চতুর্থত: ইমাম যাহাবীর অন্যান্য কিতাবে উল্লিখিত তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁর কিছু গ্রন্থের প্রামাণিকতা নিশ্চিতকরণ।

ড. বাশশার ইমাম যাহাবীর জীবনীকারদের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে ইমাম যাহাবীর কিছু গ্রন্থের প্রামাণিকতা নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করেছেন, যদিও ইমাম যাহাবী নিজেই তাঁর কিছু কিতাবে সেগুলোর উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত ড. বাশশার তা লক্ষ্য করেননি। আবার তিনি (ড. বাশশার) ইমাম যাহাবীর নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁর কিছু গ্রন্থের প্রামাণিকতা তাঁরই কিতাবে নিশ্চিত করেছেন। অতঃপর আমিও তাঁর (ইমাম যাহাবীর) কিতাবে তাঁরই বক্তব্যের মাধ্যমে সেগুলোর প্রামাণিকতা খুঁজে পেয়েছি, তাই উপকারের জন্য তা সাব্যস্ত করা সমীচীন মনে করলাম। এর মধ্যে রয়েছে:

১- মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শাইবানীর জীবনী। [১০৫]

ইমাম যাহাবী এটি সিয়ার (সিয়ারু আলামিন নুবালা)-এর ১৩/২৩৩ পৃষ্ঠাতেও উল্লেখ করেছেন।

২- আল-হাল্লাজের জীবনী (সীরাতুল হাল্লাজ)। [১০৮]

ইমাম যাহাবী এটি সিয়ার-এর ১৬/২৬৫ পৃষ্ঠাতেও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি তার (হাল্লাজের) বিভ্রান্তিগুলো দুই খণ্ডে একত্রিত করেছি।" ইমাম যাহাবীর এই বক্তব্যটি ড. বাশশারের উক্তির উত্তর প্রদান করে, যেখানে তিনি বলেছেন: "এটি যাহাবীর অদ্ভুত গ্রন্থগুলোর একটি, কারণ তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা বিশ্বাস করে..."
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭৩)
الحلاج ومبادئه"- ثم قال: "ولعله اهتم به لشهرته ولشدة خطورة سيرته وما قام به و … ".

قلت: وإنما جمعها الإِمام الذهبي للتحذير منها، وبيان فسادها ومخالفتها للشرع.

3- طرق أحاديث النزول [8]

وثقه د. بشَّار من كلام ابن تغري بردى، وسبط ابن حجر، وابن العماد.

وقد ذكره الذهبي نفسه في كتابيه " العلو ص 73"1 و"الأربعين في صفات رب العالمين. ص70"2.

4- كتاب مسألة دوام النار. [23]

وثقه د. بشار أيضاً من كلام المذكورين في الذي قبله.

وقد ذكره الذهبي نفسه في السير: 18/126.

5- كتاب معرفة آل منده. [85]

ذكره الذهبي أيضاً في السير: 17/38.

6- كسر وثن رتن. [163]

ذكره الذهبي أيضاً في السير: 12/367.

7- الكلام على حديث الطير. [5]

ذكره الذهبي أيضاً في السير: 13/233.

--------------------------------------------

1 بتصحيح: عبد الرحمن محمد عثمان ط المكتبة السلفية بالمدينة.

2 بتحقيق. عبد القادر بن محمد عطا صوفي.
"আল-হাল্লাজ ও তাঁর মূলনীতিসমূহ" - তারপর তিনি বলেন: "সম্ভবত তিনি এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এর প্রসিদ্ধির কারণে এবং তাঁর জীবনী ও কর্মকাণ্ডের চরম বিপজ্জনক হওয়ার কারণে এবং … "।

আমি বলছি: ইমাম আয-যাহাবী এটি কেবল এ থেকে সতর্ক করার জন্য এবং এর ভ্রান্তি ও শরীয়ত বিরোধী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য সংকলন করেছেন।

৩- হাদীসে নুযূলের (আল্লাহর নেমে আসা সংক্রান্ত হাদীসের) সনদসমূহ [৮]

ড. বাশশার এটিকে ইবনে তাগরি বারদি, সিবত ইবনে হাজার এবং ইবনুল ইমাদের বক্তব্য থেকে নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।

যাহাবী নিজেও এটি তাঁর "আল-উলুউ পৃষ্ঠা ৭৩" ১ এবং "আল-আরবাঈন ফি সিফাতি রব্বিল আলামীন পৃষ্ঠা ৭০" ২ গ্রন্থদ্বয়ে উল্লেখ করেছেন।

৪- জাহান্নামের আগুনের স্থায়িত্ব বিষয়ক গ্রন্থ। [২৩]

ড. বাশশার এটিকেও পূর্বোক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।

যাহাবী নিজেও এটি 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে: ১৮/১২৬-এ উল্লেখ করেছেন।

৫- কিতাব মা'রিফাতু আলি মানদাহ। [৮৫]

যাহাবী এটিও 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে: ১৭/৩৮-এ উল্লেখ করেছেন।

৬- কাসরু ওয়াসানি রতান। [১৬৩]

যাহাবী এটিও 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে: ১২/৩৬৭-এ উল্লেখ করেছেন।

৭- হাদীসে ত্বাইর-এর ওপর আলোচনা। [৫]

যাহাবী এটিও 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে: ১৩/২৩৩-এ উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১. আব্দুর রহমান মুহাম্মদ উসমান কর্তৃক সংশোধিত, মদীনার মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ সংস্করণ।

২. আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আতা সূফী কর্তৃক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭৪)
سابعا ً: جهوده في الدعوة إلى السنة ومحاربة البدعة وأسلوبه في ذلك:

الإمام الذهبي من أئمة أهل السنة، وأعلامهم في عصره، له في الدعوة إلى السّنة والذبِّ عنها، ومحاربة البدعة والتحذير منها، جهود مشكورة، وآثار مذكورة مشهورة.

فمؤلفاته المفيدة، في التاريخ، والتراجم، كتاريخ الإِسلام، وسير أعلام النبلاء، وتذكرة الحفاظ، وميزان الاعتدال، تحمل في طياتها كثيراً من أقواله في الحضِّ على التمسك بالسنة، والثناء على أهلها، والتحذير من البدع وأهلها، وله في ذلك مصنفات متخصصة في كثير من مسائل الدين، عقيدة، وعبادة، بيَّن فيها منهج أهل السنة والسلف الصالح الواجب اتباعه، وردّ على أهل البدع من الفرق والطوائف الحائدة عن سواء الصراط.

فمن هذه المصنفات:

1- كتابه القيم: العلو للعلي الغفار1. وهو من أهم الكتب المصنفة في مسألة العلو، جمع فيه النصوص من الكتاب، والسنة، وآثار السلف والأئمة في إثبات علو الله عز وجل على عرشه، والرد على النفاة والمؤولة لهذه الصفة.

2- الأربعين في صفات رب العالمين2. أورد فيه أربعين حديثاً في عدد من صفات الله عز وجل.

--------------------------------------------

1 مطبوع، تقدم.

2 طبع، بتحقيق: جاسم سليمان الدوسري، نشرته الدار السلفية في الكويت سنة 1408 هـ. وله طبعة أخرى بتحقيق: عبد القادر محمد عطا، نشرته مكتبة العلوم والحكم سنة 1413 هـ.
সপ্তম: সুন্নাহর দিকে দাওয়াত প্রদান এবং বিদআত দমনে তাঁর প্রচেষ্টা ও এ ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপন্থা:

ইমাম যাহাবী তাঁর যুগের আহলে সুন্নাহর ইমাম ও তাঁদের অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্বদের একজন। সুন্নাহর দিকে দাওয়াত প্রদান, এর প্রতিরক্ষা এবং বিদআতের মোকাবিলা ও তা থেকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ও সুবিখ্যাত কর্মসমূহ রয়েছে।

ইতিহাস ও জীবনীমূলক তাঁর উপকারী রচনাবলি যেমন— তারীখুল ইসলাম, সিয়ারু আলামিন নুবালা, তাযকিরাতুল হুফফায এবং মীযানুল ইতিদাল—এগুলোর পরতে পরতে সুন্নাহর অনুসরণে উৎসাহিত করা এবং সুন্নাহর অনুসারীদের প্রশংসা এবং বিদআত ও বিদআতিদের ব্যাপারে সতর্কবার্তা সংবলিত তাঁর বহু বাণী বিদ্যমান। এ ছাড়াও দ্বীনের অনেক বিষয়ে—বিশেষ করে আকিদা ও ইবাদত সংক্রান্ত—তাঁর বিশেষায়িত গ্রন্থাদি রয়েছে, যেখানে তিনি আহলে সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের সেই মানহাজ বর্ণনা করেছেন যা অনুসরণ করা ওয়াজিব। একইসাথে তিনি সরল পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া বিভিন্ন বিদআতি দল ও উপদলের প্রতিবাদ করেছেন।

এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ: আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার। উলুউ (সুউচ্চতা) সংক্রান্ত মাসআলায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এতে তিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফ ও ইমামগণের বাণীসমূহ সংকলন করেছেন যাতে আরশের ওপর মহান আল্লাহর উচ্চতা সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এই সিফাত অস্বীকারকারী ও ব্যাখ্যাকারীদের জবাব দেওয়া হয়েছে।

২- আল-আরবাউন ফী সিফাতিল রাব্বিল আলামীন। এতে তিনি মহান আল্লাহর বিভিন্ন সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদীস উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১ মুদ্রিত, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

২ মুদ্রিত, জাসিম সুলাইমান আদ-দাওসারীর তাহকীকে কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ থেকে ১৪০৮ হিজরীতে প্রকাশিত। এর আরেকটি সংস্করণ আব্দুল কাদির মুহাম্মদ আতার তাহকীকে মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম থেকে ১৪১৩ হিজরীতে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭৫)
3- كتاب رؤية الباري، عز وجل. وهو من كتبه التي لم تصل إلينا.

4- كتاب مسألة الوعيد. ولم يصل إلينا أيضاً.

5- كتاب في مسألة دوام النار. ولم يصل إلينا أيضاً.

6- تشبه الخسيس بأهل الخميس. وهو في بيان بدعة التشبه بالنصارى في أعيادهم1.

7- التمسك بالسنن. وهو كتابنا هذا.

وقام رحمه الله باختصار بعض المؤلفات التي ألفّها بعض أهل العلم في الردّ على بعض الفرق والطوائف وأهل البدع، فله:

1- مختصر الرد على ابن طاهر لابن المجد، وهو في بيان مسألة السماع، ردّ فيه على من جوزه 2 ولم يصل إلينا.

2- مختصر كتاب القدر للبيهقي. قال د. بشار: "ولا نعرف اليوم نسخة منه ولا من أصله".

قلت: أما أصله، فقد عثر على نسخة منه، في المكتبة السليمانية في استانبول، تحت رقم (1488) 3.

3- المنتقى من منهاج الاعتدال في نقض كلام أهل الرفض والاعتزال4. اختصر فيه كتاب منهاج السنة، لشيخ الإِسلام ابن تيمية.

وله تآليف عديدة، ومختصرات في هذا الباب مفيدة.

وكان رحمه الله شديد الحذر والتحذير من البدع، يخشى على نفسه وغيره من الوقوع فيها، فكان يدعو ربه عز وجل ويسأله السلامة من البدع والثبات

--------------------------------------------

1 وهو مطبوع كما تقدم.

2 انظر: الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام: ص 240.

3 انظر: د. أحمد عطية الغامدي: البيهقي وموقفه من الإِلهيات: ص (78) . وقد سجل الكتاب أطروحة جامعية في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

4 وهو مطبوع.
৩- কিতাব রুয়াতিল বারি (মহান আল্লাহর দিদার সংক্রান্ত)। এটি তাঁর এমন বইগুলোর মধ্যে একটি যা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

৪- কিতাব মাসআলাতুল ওয়াইদ (শাস্তির ধমকি সংক্রান্ত মাসআলা)। এটিও আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

৫- জাহান্নামের আগুন চিরস্থায়ী হওয়ার মাসআলা সংক্রান্ত কিতাব। এটিও আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

৬- তাশাব্বুহুল খাসিস বি আহলিল খামিস। এটি খ্রিস্টানদের উৎসবে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের বিদআত বর্ণনায় রচিত।১

৭- আত-তামাসসুক বিস সুনান (সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা)। এটি আমাদের এই আলোচ্য কিতাব।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইলম অন্বেষণকারী আলেমদের রচিত কিছু গ্রন্থের সংক্ষিপ্তকরণ করেছেন যা বিভিন্ন দল, উপদল এবং বিদআতপন্থীদের খণ্ডনে রচিত হয়েছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য সংক্ষেপিত গ্রন্থগুলো হলো:

১- ইবনুল মাজদ রচিত ইবনু তাহিরের খণ্ডনের সংক্ষিপ্তসার। এটি গান-বাজনা শোনার (সামা) মাসআলার বর্ণনায়, এতে তিনি একে বৈধকারীদের খণ্ডন করেছেন; এটি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।২

২- বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বাদারের সংক্ষিপ্তসার। ড. বাশার বলেন: "আজ আমরা এর কোনো পাণ্ডুলিপি বা এর মূল কিতাবের অস্তিত্ব জানি না।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: মূল কিতাবটির কথা বলতে গেলে, ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে (১৪৮৮) নম্বর পাণ্ডুলিপির অধীনে এর একটি কপি পাওয়া গেছে।৩

৩- আল-মুনতাক্বা মিন মিনহাজিল ইতিদাল ফি নাক্বদি কালামি আহলির রাফয ওয়াল ইতিযাল।৪ এতে তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহর মিনহাজুস সুন্নাহ কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন।

এই বিষয়ে তাঁর আরও অনেক রচনা এবং উপকারী সংক্ষিপ্তসার রয়েছে।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বিদআত থেকে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন এবং এ বিষয়ে অন্যদের সতর্ক করতেন। তিনি নিজের এবং অন্যদের ব্যাপারে এতে পতিত হওয়ার ভয় করতেন। তাই তিনি তাঁর মহিমান্বিত রবের কাছে প্রার্থনা করতেন এবং বিদআত থেকে মুক্তি ও দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক চাইতেন।

--------------------------------------------

১ এটি মুদ্রিত হয়েছে যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২ দেখুন: আয-যাহাবী ওয়া মানহাজুহু ফি কিতাবিহি তারিখিল ইসলাম: পৃষ্ঠা ২৪০।

৩ দেখুন: ড. আহমদ আতিয়্যাহ আল-গামদি: আল-বায়হাক্বী ওয়া মাওক্বিফুহু মিনাল ইলাহিয়্যাত: পৃষ্ঠা (৭৮)। কিতাবটি ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণাপত্র হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।

৪ এটি মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭৬)
على السنة. ويقول: "يا مصرف القلوب، ألهمنا سنة نبيك وجنّبنا الابتداع والتشبه بالكفار"1.

ويقول: "اللهم أحيي قلوبنا بالسُّنُّةِ المحضة، وأمددنا بتوفيقك ولا تكلنا إلى أنفسنا طرفة عين، اهدنا الصراط المستقيم، وجنبنا الفواحش والبدع ما ظهر منها وما بطن … "2.

وُيحَذِّر رحمه الله من البدع وإلْفِها وخطورة ذلك، فيقول: "فمتى تعودت القلوب بالبدع وألفتها لم يبق فيها فضل للسنن" 3. وفي ذلك موت القلوب وهلاكها وضلالها، وفي "اتباع السنن حَياة القلوب وغذاؤها"4.

وهذه النقول من كلامه رحمه الله تدل على مدى حُبّه للسنة، وحرصه عليها، وحذره من البدعة والوقوع فيها.

وكان من منهجه رحمه الله في دعوة أهل البدع: سلوك طريق الرفق واللين إذا كان المبتدع جاهلاً، لأن ذلك أحرى باستجابته وإقلاعه عن بدعته، فيقول: "فليكن رفقك بالمبتدع والجاهل حتى تردهما عما ارتكباه بلين، ولتكن شدتك على الضال الكافر"5.

ويقول: "والجاهل يعذر ويبين له برفق "6.

ونلمس أحيانا في أسلوبه شيئاً من الشدة والحدَّة ولاسيما مع من بُيِّن له الحق بدليله ولم يرعو عن بدعته وغيِّه.

--------------------------------------------

1 تشبه الخسيس بأهل الخميس. ص 39.

2 المصدر السابق ص 50.

3 المصدر نفسه ص 46.

4 المصدر نفسه ص 46.

5 المصدر نفسه ص 45.

6 التمسك بالسنن ص 130.
সুন্নাহর ওপর। তিনি বলেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের আপনার নবীর সুন্নাহর অনুপ্রেরণা দান করুন এবং বিদআত ও কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন থেকে দূরে রাখুন" ১।

তিনি আরও বলেন: "হে আল্লাহ! বিশুদ্ধ সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের অন্তরসমূহকে জীবিত করুন, আপনার তাওফীক দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন এবং চোখের পলকের জন্যও আমাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীলতা ও বিদআত থেকে আমাদের দূরে রাখুন … " ২।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বিদআত, এর প্রতি আসক্তি এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন: "যখন অন্তরসমূহ বিদআতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং এতে আসক্ত হয়, তখন তাতে সুন্নাহর জন্য আর কোনো মর্যাদা অবশিষ্ট থাকে না" ৩। আর এতেই রয়েছে অন্তরসমূহের মৃত্যু, ধ্বংস ও বিভ্রান্তি। পক্ষান্তরে, "সুন্নাহর অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে অন্তরের জীবন ও খোরাক" ৪।

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) এই উক্তিগুলো সুন্নাহর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, এর প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং বিদআত ও তাতে লিপ্ত হওয়া সম্পর্কে তাঁর সতর্কতার প্রমাণ দেয়।

বিদআতপন্থীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) মানহাজ ছিল: বিদআতকারী যদি মূর্খ হয়, তবে তার প্রতি কোমল ও নম্র পথ অবলম্বন করা। কেননা এতেই তার সাড়া দেওয়ার এবং বিদআত ত্যাগ করার অধিক সম্ভাবনা থাকে। তিনি বলেন: "বিদআতকারী ও মূর্খ ব্যক্তির প্রতি তোমার আচরণ যেন নম্র হয়, যাতে তুমি তাদের কৃতকর্ম থেকে কোমলতার সাথে ফিরিয়ে আনতে পার। আর তোমার কঠোরতা যেন হয় পথভ্রষ্ট কাফিরের ওপর" ৫।

তিনি আরও বলেন: "মূর্খ ব্যক্তিকে ওজরপ্রাপ্ত গণ্য করা হবে এবং তাকে নম্রতার সাথে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হবে" ৬।

কখনো কখনো আমরা তাঁর শৈলীতে কিছুটা কঠোরতা ও উগ্রতা দেখতে পাই, বিশেষ করে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার সামনে দলীলসহ সত্য স্পষ্ট করা হয়েছে, কিন্তু সে তার বিদআত ও বিভ্রান্তি থেকে বিরত হয়নি।

--------------------------------------------

১ তশাব্বুহুল খাসিস বি-আহলিল খামিস, পৃষ্ঠা ৩৯।

২ প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫০।

৩ প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৬।

৪ প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৬।

৫ প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৫।

৬ আত-তামাসসুক বিস-সুনান, পৃষ্ঠা ১৩০।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭৭)
فنراه يقول بعد أن ذكر نقولاً عن أئمة السلف في باب الصفات: "وقد طولنا في هذا المكان، ولو ذكرنا قول كل من له كلام في إثبات الصفات من الأئمة لاتسع الخرق، وإذا كان المخالف لا يهتدي عن ذكر ما أتت نقول الإِجماع على إثباتها من غير تأويل، أو لا يصدقه في نقلها فلا هداه الله، ولا خير والله فيمن رد على مثل: الزهري، ومكحول والأوزاعي … "1.

ثامناً: وفاته:

توفي الإِمام الذهبي رحمة الله عليه ليلة الاثنين، ثالث ذي القعدة، سنة ثمان وأربعين وسبعمائة، ودفن في مقابر باب الصغير.

وكان رحمه الله قد أضَرّ قبل موته بأربع سنين أو أكثر2.

وقال الحسيني: " … أضر في سنة إحدى وأربعين، ومات في ليلة الاثنين ثالث ذي القعدة سنة ثمان وأربعين وسبعمائة، بدمشق. . "3

--------------------------------------------

1 الأربعين في صفات رب العالمين، بتحقيق: عبد القادر عطا ص 95.

2 الصفدي، نكت الهميان: ص 242.

3 ذيل تذكرة الحفاظ: ص 36.
আমরা তাঁকে সিফাত (গুণাবলি) অধ্যায়ে সালাফ ইমামগণের থেকে উদ্ধৃতি উল্লেখ করার পর বলতে দেখি: "আমরা এই স্থানে আলোচনা দীর্ঘ করেছি, আর যদি আমরা ইমামদের মধ্য থেকে সেই সকল ব্যক্তির বক্তব্য উল্লেখ করতাম যাদের সিফাত সাব্যস্ত করার বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে, তবে বিষয়টি অনেক প্রশস্ত হয়ে যেত। আর যদি বিরুদ্ধবাদী ব্যক্তি কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা (তাবিল) ছাড়াই সিফাতসমূহ সাব্যস্ত করার বিষয়ে যে ইজমার বর্ণনা এসেছে তা থেকে হেদায়েত লাভ না করে, অথবা এর বর্ণনায় তাকে বিশ্বাস না করে, তবে আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান না করুন। আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি যুহরী, মাকহুল এবং আওযাঈ-এর মতো ... ইমামদের কথা প্রত্যাখ্যান করে, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।" ১।

অষ্টম: তাঁর মৃত্যু:

ইমাম যাহাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সাতশ আটচল্লিশ হিজরীর যিলকদ মাসের তিন তারিখ সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাব আস-সাগীর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর মৃত্যুর চার বছর বা তারও বেশি সময় আগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন ২।

আল-হুসাইনী বলেন: " ... তিনি একচল্লিশ হিজরীতে দৃষ্টিশক্তি হারান এবং সাতশ আটচল্লিশ হিজরীর যিলকদ মাসের তিন তারিখ সোমবার রাতে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।" ৩

--------------------------------------------

১. আল-আরবাঈন ফী সিফাতি রব্বিল আলামীন, তাহকীক: আব্দুল কাদির আত্বা, পৃষ্ঠা ৯৫।

২. আস-সাফাদী, নুকাতুল হিমইয়ান: পৃষ্ঠা ২৪২।

৩. যায়লু তাযকিরাতিল হুফফায: পৃষ্ঠা ৩৬।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭৯)
الفصل الثاني: التعريف بالكتاب ووصف النسخة المعتمدة وعملي في الكتاب.

* التعريف بالكتاب.

1- اسمه.

2- توثيق نسبته للمؤلف.

3- موضوع الكتاب.

* وصف النسخة المعتمدة في التحقيق.

* عملي في الكتاب.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি, নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজ।

* গ্রন্থ পরিচিতি।

১- এর নাম।

২- লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা।

৩- গ্রন্থের বিষয়বস্তু।

* তাহকিকে (সম্পাদনায়) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ।

* গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজ।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮১)
الفصل الثاني: التعريف بالكتاب والنسخة المعتمدة.

* التعريف بالكتاب ويتضمن الجوانب التالية:

أولاً: اسمه:

لم يدون اسم الكتاب على غلاف النسخة، ولم يذكره المؤلف في مقدمته.

وسجل الكتاب في فهارس قسم المخطوطات في عمادة شؤون المكتبات في الجامعة الإسلامية بعنوان: "رسالة في البدعة".

ويبدو أن المفهرس أخذ هذه التسمية من قول المصنف رحمه الله في مقدمته بعد ذكر حمد الله والصلاة على رسوله صلى الله عليه وسلم: "اعلم أن البدعة مذمومة في الجملة".

ومع بحثي في تراجم الإمام الذهبي ومؤلفاته فإني لم أجد من ذكر له مؤلفاً باسم " البدعة ".

لكن ذكر من مؤلفاته كتاب "التمسك بالسنن " ولم أقف على ذكر له مخطوطا ولا مطبوعاً.

وقد بحثت طويلاً في مؤلفات الذهبي لعلي أجد نقولاً من هذا الكتاب أسترشد بها وأقارن بينها وبين ما جاء في الكتاب الذي بين أيدينا فلم أظفر بشيء.

لكن موضوع كتاب "التمسك بالسنن " ذو صلة وثيقة ببيان البدع والتحذير منها.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ এবং নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির পরিচিতি।

* গ্রন্থ পরিচিতি এবং এতে নিম্নোক্ত দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথমত: এর নাম:

পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে গ্রন্থের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়নি এবং লেখক তাঁর ভূমিকাতেও এটি উল্লেখ করেননি।

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিষয়ক ডিনশিপের পাণ্ডুলিপি বিভাগের সূচিপত্রে গ্রন্থটি "বিদআত বিষয়ক পুস্তিকা" শিরোনামে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ধারণা করা হয় যে, সূচিকারক এই নামকরণটি লেখকের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ভূমিকার সেই উক্তি থেকে গ্রহণ করেছেন যেখানে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি দরুদ পাঠের পর তিনি বলেছেন: "জেনে রাখুন, সামগ্রিকভাবে বিদআত নিন্দনীয়।"

ইমাম যাহাবীর জীবনী এবং তাঁর গ্রন্থাবলি নিয়ে গবেষণার সময় আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি "বিদআত" নামে তাঁর কোনো রচনার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে তাঁর রচনাবলির মধ্যে "সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা" নামক একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়, যদিও পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রিত কোনো রূপেই সেটির হদিস আমি পাইনি।

আমি দীর্ঘ সময় ধরে ইমাম যাহাবীর রচনাবলিতে অনুসন্ধান করেছি যেন এই গ্রন্থ থেকে এমন কোনো উদ্ধৃতি খুঁজে পাই যার মাধ্যমে আমি সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে পারি এবং আমাদের সামনে বিদ্যমান এই গ্রন্থের বক্তব্যের সাথে সেটির তুলনা করতে পারি, কিন্তু আমি তাতে সফল হইনি।

তবে "সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা" গ্রন্থের বিষয়বস্তু বিদআতের বর্ণনা এবং তা থেকে সতর্ক করার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮২)
وفي كتابنا هذا نجد الإمام الذهبي رحمه الله يجمع بين بيان السنن والحض عليها، وبين بيان البدع والتحذير منها. فيقول في أول الرسالة: "فاتباع ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم أصل ونور، ومخالفته ضلالة ووبال، وابتداع ما لم يأذن به ولا سَنَّةُ مردود"1.

ويقول: "فلابدّ من العلم بالسنن "2.

ويقول: "فعلى العالم أن يفتش على المسألة النازلة في كتاب الله، فإن لم يجد فتش السنن، فإن لم يجد نظر في إجماع الأمة … "3.

ويقول في بيان ضرورة اتباع السنن والاقتصار عليها، ونبذ البدع والبعد عنها:

"وشرع لنا نبينا كل عبادة تقربنا إلى الله، وعلّمنا ما الإيمان وما التوحيد، وتركنا على البيضاء ليلها كنهارها، فأيُّ حاجة بنا إلى البدع في الأقوال والأعمال والأحوال والمحدثات، في السنة كفاية وبركة، فيا ليتنا ننهض ببعضها علماً وعملاً وديانة، واعتقاداً ".

ويقول في ص 48: "لكن الخير كله في الاتباع واجتماع الكلمة".

وهل كلام الذهبي هذا، وما يماثله في هذا الكتاب، إلَاّ دعوة إلى اتباع السنن، وحضٌّ على التمسك بها، ولا يتم ذلك إلا ببيان البدع والتنفير منها والحضِّ على الابتعاد عنها.

ولهذا أجدني شديد الميل إلى أن يكون كتابنا هذا هو كتاب (التمسك بالسنن) المذكور في مؤلفات الذهبي، ولذلك أثبته عنوانا للكتاب، ووضعت بين قوسين عبارة "والتحذير من البدع " لتضمن الكتاب الكلام عن البدع والتحذير منها.
আমাদের এই কিতাবে আমরা ইমাম যাহাবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-কে সুন্নাহসমূহের বর্ণনা ও সেগুলোর প্রতি উৎসাহিত করা এবং বিদআতসমূহের বর্ণনা ও সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করার মধ্যে সমন্বয় করতে দেখি। তিনি এই রিসালার শুরুতে বলেন: "রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ হলো মূল ভিত্তি ও আলো, আর তাঁর বিরোধিতা করা হলো পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংস; এবং এমন কিছু উদ্ভাবন করা যার অনুমতি তিনি দেননি এবং যা তাঁর সুন্নাহ নয় তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।"1.

তিনি আরও বলেন: "সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।"2.

তিনি বলেন: "বিদ্বানের কর্তব্য হলো কোনো উদ্ভূত মাসআলা আল্লাহর কিতাবে তালাশ করা, যদি সেখানে না পান তবে সুন্নাহতে তালাশ করা, আর যদি সেখানেও না পান তবে উম্মতের ইজমার দিকে লক্ষ করা ... "3.

সুন্নাহর অনুসরণ ও তাতে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা এবং বিদআত বর্জন ও তা থেকে দূরে থাকার বর্ণনায় তিনি বলেন:

"আমাদের নবী আমাদের জন্য এমন প্রতিটি ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন যা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে, তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ঈমান কী এবং তাওহীদ কী, এবং তিনি আমাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। সুতরাং কথা, কাজ, অবস্থা ও নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহে আমাদের বিদআতের কী প্রয়োজন? সুন্নাহর মধ্যেই রয়েছে পর্যাপ্ততা ও বরকত। হায়! আমরা যদি ইলম, আমল, দ্বীনদারী ও আকিদার ক্ষেত্রে এর কিছুটাও পালনে সচেষ্ট হতাম।"

তিনি ৪৮ পৃষ্ঠায় বলেন: "বস্তুত সমস্ত কল্যাণ রয়েছে অনুসরণের মধ্যে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার মধ্যে।"

ইমাম যাহাবীর এই কথা এবং এই কিতাবে থাকা এর অনুরূপ কথাগুলো কি সুন্নাহ অনুসরণের দাওয়াত এবং তা আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ প্রদান ছাড়া অন্য কিছু? আর তা বিদআত বর্ণনা করা, এর প্রতি অনীহা সৃষ্টি করা এবং এ থেকে দূরে থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা ছাড়া পূর্ণতা পায় না।

এই কারণে আমি মনে করি যে, আমাদের এই কিতাবটিই হলো ইমাম যাহাবীর রচনাবলীতে উল্লিখিত 'সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা' নামক কিতাবটি। তাই আমি কিতাবটির শিরোনাম হিসেবে এটি সাব্যস্ত করেছি এবং বন্ধনীর ভেতরে 'ও বিদআত থেকে সতর্কীকরণ' বাক্যটি যোগ করেছি, কারণ কিতাবটি বিদআতের আলোচনা ও এ থেকে সতর্কীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮৩)
ثانياً: توثيق نسبته للمؤلف:

يدل على صحة نسبة هذا الكتاب إلى الإمام الذهبي أمور منها:

1- قول ناسخ هذه النسخة في نهايتها: "وكتبت هذه النسخة من خط مؤلفها الحافظ الذهبي وقوبلت على خطه ".

2- ما سبق ذكره من الميل الشديد إلى كون هذا الكتاب هو كتاب " التمسك بالسنن " المذكور في مؤلفات الذهبي، كما ذكره، ابن تغرى بردى1، وسبط ابن حجر2، وابن العماد3.

3- جرى الإِمام الذهبي رحمة الله عليه في كثير من كتبه، أنه إذ ورد ذكر السنة، واعتقاد السلف الصالح، سأل الله: الثبات عليه والتوفيق إليه4.

وإذ ورد ذكر فتنة في دين أو دنيا، ذيّل كلامه عليها، بالالتجاء إلى الله عز وجل وسؤاله السلامة منها5.

وإذ ذكر بدعة في عقيدة، أو عبادة، ذيل كلامه عنها بالتعوذ منها وسؤال الله المعافاة والسلامة منها، والثبات على السنة، والتمسك بها6.

وإذا ذكر معصية، أو سوء سلوك، في ترجمة عَلمٍ، ذيل كلامه بالدعاء له ولصاحبها بالصلاح7.

--------------------------------------------

1 المنهل الصافي: ق 70.

2 رونق الألفاظ: ق 180.

3 شذرات الذهب: 6/ 156. وراجع: الذهبي ومنهجه في كتابه تاريخ الإسلام ص 212.

4 انظر مثلا: الأربعين في صفات رب العالمين، تحقيق: عبد القادر عطا ص 164.

5 انظر: تشبه الخسيس بأهل الخميس ص 30.

6 انظر: المصدر السابق: ص 28، 39،50.

7 وهذا كثير. انظر مثلا: المعجم المختص ص 261 ترجمة رقم (332) .
দ্বিতীয়ত: লেখকের দিকে এই কিতাবটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা:

ইমাম আয-যাহাবীর প্রতি এই কিতাবটির সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার বিষয়টি বেশ কিছু বিষয়ের দ্বারা প্রমাণিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১- এই পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারের উক্তি যা এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: "আমি এই পাণ্ডুলিপিটি এর লেখক হাফিজ যাহাবীর স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে লিখেছি এবং তাঁর হস্তাক্ষরের সাথেই এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে।"

২- ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই কিতাবটিই ইমাম যাহাবীর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লিখিত "আত-তামাসসুক বিস-সুনান" হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যেমনটি ইবনে তাগরি বারদি, সিবত ইবনে হাজার এবং ইবনুল ইমাদ উল্লেখ করেছেন।

৩- ইমাম আয-যাহাবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর অনেক কিতাবে এই রীতি অনুসরণ করেছেন যে, যখনই সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের আকিদার আলোচনা এসেছে, তখনই তিনি আল্লাহর কাছে এর ওপর অবিচল থাকা এবং তাওফীকের প্রার্থনা করেছেন।

আর যখন দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো ফিতনার কথা এসেছে, তখন তিনি সেই আলোচনার শেষে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা এবং তা থেকে নিরাপত্তার দুআ যুক্ত করেছেন।

এবং যখন আকিদা বা ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো বিদআতের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন এবং তা থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা, সুন্নাহর ওপর অটল থাকা এবং তা আঁকড়ে ধরার প্রার্থনা করে নিজের আলোচনার ইতি টেনেছেন।

আর যখন কোনো বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জীবনীতে কোনো গুনাহ বা মন্দ আচরণের কথা এসেছে, তখন তিনি তাঁর জন্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংশোধনের জন্য দুআ করে আলোচনা শেষ করেছেন।

--------------------------------------------

১ আল-মানহালুস সাফী: পৃষ্ঠা ৭০।

২ রাওনাকুল আলফাজ: পৃষ্ঠা ১৮০।

৩ শাযারাতুয যাহাব: ৬/ ১৫৬। এবং দেখুন: যাহাবী ওয়া মানহাজুহু ফী কিতাবিহি তারিখিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ২১২।

৪ উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আল-আরবাঈন ফী সিফাতি রব্বিল আলামীন (বিশ্বজগতের রবের গুণাবলি সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিস), তাহকীক: আব্দুল কাদির আতা, পৃষ্ঠা ১৬৪।

৫ দেখুন: তাশাব্বুহুল খাসীস বি-আহলিল খামীস, পৃষ্ঠা ৩০।

৬ দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস: পৃষ্ঠা ২৮, ৩৯, ৫০।

৭ এটি অনেক জায়গায় রয়েছে। দেখুন উদাহরণস্বরূপ: আল-মুজামুল মুখতাস, পৃষ্ঠা ২৬১, জীবনী নং (৩৩২)।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮৪)
وهذا المنهج والأسلوب نلمسه في كتابنا هذا في أكثر من موضع، فنراه لمّا ذكر أن اتباع غير سبيل المؤمنين بالهوى وبالظن وبالعادات المردودة مقت وبدعة، يدعو لنفسه فيقول: " اللهم اصرف قلوبنا إلى طاعتك "1.

ولمّا ذكر ما أنعم الله به على هذه الأمة المحمدية من وضع الإصر والأغلال عنها، وإباحة طيبات كثيرة حرمت على أهل الكتاب يذيل كلامه بقوله: "فلله الحمد على دين الإِسلام الحنيفي، فإنه يسر، ورفق، ورحمة للعالمين"2.

ولمّا ذكر البدع وتنوعها تعوذ منها في قوله: "فبدع العقائد تتنوع أعاذك الله وإيانا منها" 3.

ونحو ذلك في مواطن من الكتاب.

وهذا هو أسلوب الذهبي في كتبه ومؤلفاته، وهو قرينة قوية على صحة نسبة هذا الكتاب إلى الإِمام الذهبي رحمة الله عليه، والله أعلم.

ثالثاً: موضوع الكتاب:

بدأ المؤلف كتابه ببيان أن البدعة مذمومة في الجملة، وأَنها تشريع في الدين لم يأذن به الله.

وبيَّن أنّ اتباع ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم أصلٌ ونور وأنَّ مخالفته ضلال ووبال.

ثم أورد النصوص الداعية إلى اتباع السنة، والمحذرة من الابتداع.

ثم تكلم على تحديد مفهوم السنة والبدعة، ومنشأ النزاع في البدعة وأنه نشأ من جهة قوم ظنوا أن البدعة هي ما لم يفعله النبي صلى الله عليه وسلم، وأصحابه، والتابعون أو لم يقولوه.

--------------------------------------------

1 انظر: ص 109.

2 انظر: ص 122.

3 انظر: ص 126.
আমরা এই পদ্ধতি ও শৈলী আমাদের আলোচ্য গ্রন্থের একাধিক স্থানে লক্ষ্য করি। আমরা দেখি যে, যখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্রবৃত্তি, ধারণা ও প্রত্যাখ্যাত রীতিনীতির বশবর্তী হয়ে মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করা ঘৃণা ও বিদআত, তখন তিনি নিজের জন্য দুআ করে বলেন: "হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন।" ১।

আর যখন তিনি এই মুহাম্মদী উম্মতের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সেই নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ওপর থেকে বোঝা ও শিকলসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এমন অনেক পবিত্র বস্তু হালাল করা হয়েছে যা আহলে কিতাবদের ওপর হারাম ছিল, তখন তিনি তার আলোচনার শেষে এই কথাটি যুক্ত করেন: "সুতরাং একনিষ্ঠ দ্বীন ইসলামের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য; কেননা এটি সহজ, কোমল এবং বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ।" ২।

আর যখন তিনি বিদআত ও এর বিভিন্ন প্রকারের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে বলেন: "আকীদা-বিশ্বাসগত বিদআত বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে; আল্লাহ আপনাকে ও আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।" ৩।

এবং এই প্রকারের উদাহরণ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।

আর এটিই ইমাম যাহাবীর তাঁর গ্রন্থ ও রচনাবলীতে অনুসৃত শৈলী, যা এই গ্রন্থটি ইমাম যাহাবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) প্রতি সম্বন্ধিত হওয়ার সঠিকতার ব্যাপারে একটি শক্তিশালী প্রমাণ। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

তৃতীয়ত: গ্রন্থের বিষয়বস্তু:

লেখক তাঁর গ্রন্থটি এই বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে বিদআত নিন্দনীয় এবং এটি দ্বীনের মধ্যে এমন এক বিধান প্রবর্তন করা যার অনুমতি আল্লাহ দেননি।

তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণ করাই হলো মূল ভিত্তি ও আলো এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংস।

অতঃপর তিনি সুন্নাহ অনুসরণের আহ্বান সম্বলিত এবং বিদআত প্রবর্তন সম্পর্কে সতর্কতামূলক দলীলাদি পেশ করেছেন।

এরপর তিনি সুন্নাহ ও বিদআতের সংজ্ঞায়ন এবং বিদআত নিয়ে বিরোধের উৎস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিরোধের উৎপত্তি হয়েছে এমন একদল মানুষের পক্ষ থেকে যারা ধারণা করেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং তাবেঈগণ যা করেননি বা বলেননি, তা-ই বিদআত।

--------------------------------------------

১ দেখুন: পৃষ্ঠা ১০৯।

২ দেখুন: পৃষ্ঠা ১২২।

৩ দেখুন: পৃষ্ঠা ১২৬।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮৫)
ثم بين أن طريقة أهل الأثر التفريق بين البدعة الشرعية، والبدعة اللغوية. ونقل كلام الإِمام الشافعي في تقسيم البدعة.

ثم بيّن خطأ قول من قال إن البدعة هي: "ما نهي عنها لعينها، وما لم يرد فيه نهي لا يكون بدعة ولا سنة"، وبين ما يلزم هذا القول من تعطيل معنى قوله صلى الله عليه وسلم: "كل بدعة ضلالة".

وأشار إلى بداية ظهور البدع وأن أولها بدعة الخروج، ثم الرفض والطعن في الصحابة، وبدعة القدر، والجبر، والجهمية، والتشبيه، ثم ذكر بدعة الخُرَّميَّة، والقرامطة وتعطيل الشرائع وأن بدعة هاتين الطائفتين من البدع المكفرة.

ثم بيَّن المراد بقوله صلى الله عليه وسلم: "من سن سنة حسنة … " وذكر أمثلة للسنة الحسنة، وأخرى للسنة السيئة، وذمّ من لم يفرق بينهما.

وأوضح المراد من قول عمر رضي الله عنه: "نعمت البدعة" ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: "كل بدعة ضلالة" وأنه ليس معناه كلّ ما سمي بدعة ولابد من التفريق بين البدعة الشرعية واللغوية.

وبيّن كمال الدين، واستدل على ذلك، وأنه لا حاجة بالأمة بعد إكمال الدين إلى البدع في الأقوال، أو الأعمال. وأنّ اتباع الشرع متعين، واتباع الهوى والعادات بدعة ممقوتة.

ثم ذكر بعض الأمور التي أمر بها النبي صلى الله عليه وسلم ولم يعمل بها في عهده لانتفاء شرط الفعل ووجود مانعه كقتال أهل الردة، والمجوس والترك والخوارج، وكأمره بإطاعة أمراء الجور والصلاة خلفهم فإذا فعلت هذه الأشياء عند وجود المقتضي لها فلا تعد بدعة لأنها إنما فعلت بأمره وإن لم تفعل في عهده.

وأشار إلى أن إحداث ما بالناس إليه حاجة لتنظيم أمورهم الدنيوية، كتمصير المدن وإحداثها، ووضع الدواوين وخزائن الأموال لا يدخل في
তারপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, শরয়ী বিদআত এবং আভিধানিক বিদআতের মধ্যে পার্থক্য করা হলো আহলে আসারের (সালাফদের অনুসারীদের) পদ্ধতি। আর তিনি বিদআতের বিভাজন সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।

অতঃপর তিনি সেই ব্যক্তির বক্তব্যের ভ্রান্তি বর্ণনা করেছেন যে বলে: "বিদআত হলো তা-ই যা মূলত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আর যে বিষয়ে কোনো নিষেধ আসেনি তা বিদআতও নয়, সুন্নাতও নয়।" আর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, এই বক্তব্য গ্রহণ করলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা"—এর অর্থ অকেজো হয়ে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।

এরপর তিনি বিদআত প্রকাশের শুরুর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন যে, এর মধ্যে প্রথমটি হলো খারেজী মতবাদ, তারপর রাফেযী মতবাদ ও সাহাবীদের গালমন্দ করা, এবং কদর, জবর, জাহমিয়্যাহ ও সাদৃশ্যপ্রদানকারী বিদআত। অতঃপর তিনি খুররামিয়্যাহ ও কারামিতা সম্প্রদায়ের বিদআত এবং শরীয়াহ বিধানসমূহ অকেজো করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, এই দুই সম্প্রদায়ের বিদআত হলো কুফরী বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তারপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম সুন্নাহর (রীতি) প্রচলন করবে..."-এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন এবং উত্তম সুন্নাহ ও মন্দ সুন্নাহর উদাহরণসমূহ উল্লেখ করেছেন। আর যারা এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করে না, তিনি তাদের নিন্দা করেছেন।

তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কথা—"এটি কতই না চমৎকার বিদআত"—এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা"—এর অর্থও স্পষ্ট করেছেন; আর তা এই যে, এর অর্থ এমন নয় যে যাকেই বিদআত বলা হয় তা-ই ভ্রষ্টতা। বরং শরয়ী বিদআত ও আভিধানিক বিদআতের মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য।

তিনি দ্বীনের পূর্ণতা বর্ণনা করেছেন এবং এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। আর দ্বীন পূর্ণ হওয়ার পর উম্মতের জন্য কথা বা কাজের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিদআতের প্রয়োজন নেই। শরীয়তের অনুসরণ করা নির্ধারিত ও আবশ্যক, আর খেয়ালখুশি ও প্রথার অনুসরণ করা একটি ঘৃণ্য বিদআত।

অতঃপর তিনি এমন কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর যুগে তা পালন করা হয়নি কাজের শর্ত অনুপস্থিত থাকা এবং বাধা বিদ্যমান থাকার কারণে। যেমন মুরতাদ, মজুসী, তুর্কি ও খারেজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং যালিম শাসকদের আনুগত্য করা ও তাদের পেছনে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া। সুতরাং যখন এগুলোর প্রেক্ষাপট বা কারণ বিদ্যমান থাকে তখন তা পালন করা হলে তাকে বিদআত গণ্য করা হবে না, কারণ তা তাঁর নির্দেশেই করা হয়েছে—যদিও তা তাঁর যুগে করা হয়নি।

তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, মানুষের দুনিয়াবী বিষয়াবলী সুশৃঙ্খল করার প্রয়োজনে নতুন কিছু প্রবর্তন করা, যেমন শহর পত্তন করা ও নির্মাণ করা এবং দাপ্তরিক বিভাগ ও কোষাগার প্রতিষ্ঠা করা—এগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়...
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮৬)
مسمى البدعة المذمومة، وقد فعل الخلفاء والأئمة شيئاً من ذلك عند الحاجة.

ثم بين المنهج الذي ينبغي أن يسلكه العالم عند النوازل، وأَنه ينبغي أن يفتش أولاً في كتاب الله عز وجل، ثم في السنن، فإن لم يجد نظر في إجماع الأمة.

وبين بعد ذلك أن فعل ما أمسك النبي صلى الله عليه وسلم عن فعله أو الأمر به، أو الندب إليه، مع قيام المقتضي في عهده، ليس بحسن ولا بر.

وما أُحدث بعده وكان بنا إليه حاجة فحسن، كفرض عمر للصحابة وغيرهم وجمع الناس في التراويح، وجمع الناس على مصحف.

ونبَّه إلى أَنه قد كثر المنكر والمحدَث، وأنه ينبغي النهي عن ذلك بنيّة خالصة، وحذر من الغضب والفرقة.

وأشار إلى أنه قد وقع التفريط في مسمى السنة حتى أخرج عنها بعض مسماها، واُدخل فيها ما ليس منها، وكذا الشرع أيضاً.

ونبه إلى يسر هذا الدين وسماحة الشريعة المحمدية وأنه ينبغي حمد الله على دين الإسلام فإنه دين يسر ورفق ورحمة للعالمين. وذكر أموراً كانت محرمة على الأمم قبلنا أباحها الله لهذه الأمة، كالعمل يوم السبت، وإباحة الغنائم، والتطهر بالتراب والصلاة في الأرض إلا المقبرة والحمام، وغير ذلك.

ثم بين تنوع البدع وتفاوتها في الشر مع كونها كلها ضلالة وأن شرها ما أخرج صاحبها من الإسلام وأوجب له الخلود في النار كبدع النصيرية، والباطنية، وادعاء نبوة علي.

ثم ذكر بعد ذلك بدع الخوارج، وغلاة الروافض، والجهمية، ثم بدع القدرية، والشيعة المفَضِّلة لعلي مع محبة الشيخين.

ثم ذكر بدع العبادات والعادات، وأن الخطب فيها أيسر منه في غيرها، كصلاة النصف من شعبان، وتلاوة جماعة بتطريب وأشباه ذلك. وذيل ذلك بأن الخير كله في الإتباع واجتماع الكلمة.
নিন্দনীয় বিদআতের সংজ্ঞা, এবং খলিফা ও ইমামগণ প্রয়োজনের সময় এর কিছু বিষয় সম্পাদন করেছেন।

এরপর তিনি সেই মানহাজ বা পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন যা কোনো নতুন সংকটের সময় একজন আলেমের অবলম্বন করা উচিত; আর তা হলো তাকে প্রথমে মহান আল্লাহর কিতাবে অনুসন্ধান করতে হবে, তারপর সুন্নাহর মাঝে, আর যদি সেখানে না পাওয়া যায় তবে উম্মতের ইজমার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে।

এরপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করা থেকে, করার আদেশ দেওয়া থেকে বা উৎসাহিত করা থেকে বিরত থেকেছেন—অথচ তাঁর যুগে তা করার প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল—তা করা উত্তম নয় এবং তা পুণ্যও নয়।

আর যা তাঁর পরে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং যেটির প্রতি আমাদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তা উত্তম; যেমন উমর (রা.) কর্তৃক সাহাবী ও অন্যদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা, তারাবীহতে মানুষকে একত্রিত করা এবং মানুষকে একটি মুসহাফের ওপর একত্রিত করা।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, অপছন্দনীয় বিষয় ও নতুন উদ্ভাবিত বিষয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশুদ্ধ নিয়তের সাথে তা থেকে নিষেধ করা উচিত। তিনি ক্রোধ ও বিভেদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

তিনি ইশারা করেছেন যে, সুন্নাহর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে শিথিলতা ঘটেছে, এমনকি এর অন্তর্ভুক্ত কিছু বিষয়কে এর বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা এর ভেতর প্রবেশ করানো হয়েছে; শরীয়তের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটেছে।

তিনি এই দ্বীনের সহজসাধ্যতা এবং মুহাম্মাদী শরীয়তের উদারতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বলেছেন যে, ইসলাম দ্বীনের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত; কেননা এটি সহজতা, কোমলতা এবং বিশ্ববাসীর জন্য রহমতের দ্বীন। তিনি এমন কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যা আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্য হারাম ছিল কিন্তু আল্লাহ এই উম্মতের জন্য বৈধ করেছেন; যেমন শনিবার কাজ করা, গনীমত হালাল করা, মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন এবং কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া জমিনের যেকোনো স্থানে সালাত আদায় করা ইত্যাদি।

তারপর তিনি বিদআতের বৈচিত্র্য এবং সেগুলোর অনিষ্টের তারতম্য বর্ণনা করেছেন, যদিও সকল বিদআতই পথভ্রষ্টতা। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো তা যা সম্পাদনকারীকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় এবং তার জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম অবধারিত করে; যেমন নুসাইরিয়া ও বাতিনিয়াদের বিদআত এবং আলীর (রা.) নবুওয়াতের দাবি করা।

এরপর তিনি খারিজি, চরমপন্থী রাফেযী এবং জাহমিয়াদের বিদআতের কথা উল্লেখ করেছেন; তারপর কাদারিয়া এবং সেইসব শিয়াদের বিদআত যারা শাইখাইনকে (আবু বকর ও উমর) ভালোবাসা সত্ত্বেও আলীকে (রা.) শ্রেষ্ঠত্ব দেয়।

এরপর তিনি ইবাদত ও অভ্যাসের ক্ষেত্রে বিদআতসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, এগুলোর বিষয়টি অন্যদের তুলনায় সহজ; যেমন অর্ধ-শাবানের সালাত, সুর করে সম্মিলিত তিলাওয়াত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। তিনি পরিশেষে উল্লেখ করেছেন যে, সকল কল্যাণ কেবল অনুসরণের (ইত্তিবা) এবং ঐক্যের মধ্যে নিহিত।
(খণ্ড: ১) আত-তামাসসুকু বিস-সুনানি ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮৭)
*وصف النسخة المعتمدة في التحقيق:

اعتمدت في تحقيق الكتاب على نسخة فريدة، أصلها محفوظ في: مكتبة الاسكوريال برقم 707/5.

لها صورة فلمية، محفوظة في قسم المخطوطات في عمادة شئون المكتبات في الجامعة الإسلامية تحت رقم (7955) .

وهي نسخة منقولة من خط المؤلف، ومقابلة عليه، كما أثبت ذلك الناسخ في آخر الكتاب.

عدد لوحاتها: تقع هذه النسخة في ست لوحات. ضمن مجموع تبدأ من (53/ آ-58/ ب) .

عدد الأسطر: يبلغ عدد الأسطر خمسة وعشرين سطراً في كل وجه من لوحات المخطوط.

عدد الكلمات: متوسط عدد الكلمات في كل سطر: عشر كلمات.

نوع الخط ووصفه: كتبت هذه النسخة بخط نسخي جيد، منقوط، ولم تخل النسخة من الأخطاء، وبعض الكلمات غير المقروءة.

ولم يذكر اسم الناسخ ولا تاريخ النسخ.

*عملي في الكتاب:

1- اجتهدت في قراءة النص ونسخه حسب القواعد الإملائية الحديثة، وضبطت بالشَّكْل ما يحتاج إلى ضبط خاصة ما قد يُشْكِل على القارئ.

وحاولت قدر الطاقة إخراج النص على أقرب صورة تركه عليها المؤلف.

2- قمت بعزو الآيات القرآنية إلى سورها، فأشَرْتُ في الحاشية إلى اسم السورة ورقم الآية.
সম্পাদনার জন্য গৃহীত পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার মূল কপি এসকোরিয়াল লাইব্রেরিতে ৭০৭/৫ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

এর একটি মাইক্রোফিল্ম কপি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিষয়ক ডিনশিপের পাণ্ডুলিপি বিভাগে (৭৯৫৫) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে এবং তাঁর কপির সাথে এটি মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে, যেমনটি অনুলিপি প্রস্তুতকারী কিতাবের শেষে নিশ্চিত করেছেন।

পৃষ্ঠাসংখ্যা: এই পাণ্ডুলিপিটি ছয়টি পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তৃত। এটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত যা (৫৩/ক-৫৮/খ) পৃষ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

লাইনের সংখ্যা: পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠায় পঁচিশটি করে লাইন রয়েছে।

শব্দের সংখ্যা: প্রতি লাইনে গড়ে দশটি করে শব্দ রয়েছে।

লিপির ধরন ও বর্ণনা: এই কপিটি উত্তম নসখ লিপিতে সুস্পষ্টভাবে লিখিত। তবে পাণ্ডুলিপিটি ভুলত্রুটিমুক্ত নয় এবং কিছু শব্দ পড়ার অযোগ্য রয়ে গেছে।

এতে অনুলিপি প্রস্তুতকারীর নাম বা অনুলিপি তৈরির তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

*কিতাব সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি:

১- আমি আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী মূল পাঠটি পাঠ ও অনুলিখন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে হরকত প্রদান করেছি, বিশেষ করে যা পাঠকের জন্য অস্পষ্ট হতে পারে।

আমি সাধ্যমতো মূল পাঠটিকে লেখকের রেখে যাওয়া রূপের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

২- আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং পাদটীকায় সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।