(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: -)
شرح الأثيوبي على ألفية السيوطي في الحديث = إسعاف ذوي الوطر بشرح نظم الدرر في علم الأثر   (محمد بن علي بن آدم الأثيوبي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح أَلْفِيَّةِ السُّيوطي في الحديث المسمى «إسعاف ذوي الوَطَر بشرح نظم الدُّرَر في علم الأثر»

المؤلف: الشيخ محمد ابن العلامة علي بن آدم ابن موسى الأثيوبي الولوي

الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية، المدينة المنورة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432

হাদিসশাস্ত্রে আলফিয়্যাতুস সুয়ূতির ওপর আল-আসিউবির ব্যাখ্যা = ইস'আফু যাউয়িল ওয়াতার বি-শারহি নাযমিদ দুরার ফি ইলমিল আসার   (মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আদম আল-আসিউবি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্রে আলফিয়্যাতুস সুয়ূতির ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম «ইস'আফু যাউয়িল ওয়াতার বি-শারহি নাযমিদ দুরার ফি ইলমিল আসার»

লেখক: শাইখ মুহাম্মদ ইবন আল্লামা আলী ইবন আদম ইবন মুসা আল-আসিউবি আল-ওয়ালাউয়ি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরাবা আল-আসারিইয়াহ, মদিনা মুনাওয়ারা - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপার অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

ـ[شرح الأثيوبي على أَلْفِيَّةِ السُّيوطي في الحديث]ـ

الكتاب: شرح الأثيوبي على أَلْفِيَّةِ السُّيوطي في الحديث = إسعاف ذوي الوَطَر بشرح نظم الدُّرَر في علم الأثر

المؤلف: محمد بن علي بن آدم بن موسى الأثيوبي الولوي

الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية - المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

—[হাদিসশাস্ত্রে আলফিয়্যাহ আস-সুয়ূতী-র ওপর আল-আসিয়ুবী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ]—

গ্রন্থ: হাদিসশাস্ত্রে আলফিয়্যাহ আস-সুয়ূতী-র ওপর আল-আসিয়ুবী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ = ইলমে আসার-এর ক্ষেত্রে নাজমুল দুরার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইসআফু যাবিল ওয়াতার

লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আদম ইবনে মূসা আল-আসিয়ুবী আল-ওয়ালাউয়ী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিইয়্যাহ - মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইবরাহিম হাসানাইন

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌(مقدمة)

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للَّه الذي رفع من وقف تحت أمره ونهيه إلى أوج الكمال، ووصل من انقطع إليه بصلة فاخرة في الحال والمآل، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المرسل بصحيح الأقوال والأفعال، الذي بلغ حسن حديثه مبلغ الإعجاز والكمال، وعلى آله المدرجين في سلسلة هديه التي لا انفصام لها ولا انفصال، وعلى أصحابه الذين بذلوا نفوسهم وأموالهم في مرضاته تعالى، من غير ضعف ولا اعتلال، وعلى التابعين لهم السالكين طريقهم بلا قلب ولا اضطراب بل ساروا باعتدال.

أما بعد فقد كنت شرعت في شرح المنظومة المسماة نظم الدرر في علم الأثر للحافظ جلال الدين عبد الرحمن بن الكمال أبي بكر بن محمد بن سابق الخضيري (1)، السيوطي الشافعي، المولود ليلة الأحد مستهل رجب سنة 849 هجرية والمتوفي سحر ليلة الجمعة 19 جمادى الأولى سنة 911 هجرية وعمره 61 سنة و10 أشهر و18 يوماً.

شرحاً وسطاً، غير أن الاشتغال بأشغال تعوقني (2) عن مواصلة السير على منهجه أحوجني (3) لصرف عنان العزم نحو اختصاره، مُسَدِّداً الأنظار

--------------------------------------------

(1) بصيغة التصغير.

(2) صفة جملة في محل جر صفة أشغال.

(3) خبر أن.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

(ভূমিকা)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর আদেশ ও নিষেধের অনুগত ব্যক্তিদের পূর্ণতার শিখরে উন্নীত করেছেন; এবং যিনি তাঁর প্রতি নিবিষ্ট ব্যক্তিকে ইহকাল ও পরকালে এক গৌরবময় যোগসূত্রে আবদ্ধ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি সঠিক কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রেরিত হয়েছেন, যাঁর বাণীর সৌন্দর্য অলৌকিকত্ব ও পূর্ণতার স্তরে পৌঁছেছে। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, যারা তাঁর হেদায়েতের এমন এক অচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন সিলসিলার অন্তর্ভুক্ত, এবং তাঁর সাহাবীগণের প্রতি, যারা কোনো প্রকার দুর্বলতা বা শৈথিল্য ছাড়াই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন; এবং তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীনদের প্রতি, যারা কোনো বিচ্যুতি বা অস্থিরতা ছাড়াই তাঁদের পথে চলেছেন, বরং ভারসাম্যপূর্ণভাবে অগ্রসর হয়েছেন।

অতঃপর, আমি হাফেজ জালালুদ্দিন আবদুর রহমান বিন আল-কামাল আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন সাবিক আল-খুদাইরি (১), আস-সুয়ূতি আশ-শাফিঈ—যিনি ৮৪৯ হিজরির রজব মাসের শুরুতে রবিবার দিবাগত রাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯১১ হিজরির ১৯শে জুমাদাল উলা শুক্রবার শেষ রাতে ৬১ বছর ১০ মাস ১৮ দিন বয়সে ইন্তেকাল করেন—তাঁর ‘ইলমে আছার’ (হাদিস বিজ্ঞান) বিষয়ক ‘নাজমুল দুরার’ নামক কাব্যগ্রন্থের একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যা লিখতে শুরু করেছিলাম।

তবে বিভিন্ন কর্মব্যস্ততা যা আমাকে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছিল (২), তা আমাকে আমার সংকল্পের লাগামকে গ্রন্থটি সংক্ষেপ করার দিকে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে (৩), যাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে...

--------------------------------------------

(১) ক্ষুদ্রতাবোধক (ইসমে তাসগির) রূপে।

(২) বাক্যটি ‘আশগাল’ (ব্যস্ততা) শব্দের বিশেষণ (সিফাত) হওয়ার কারণে ‘জার’ অবস্থায় রয়েছে।

(৩) ‘আন্না’-এর খবর।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৬)
في ترصيف اقتصاره، تعجيلاً للمنفعة الهامة، وتحقيقاً للمسرة العامة، والله أرجو في تسهيل ما أملته من الشرحين، من غير فتور ولا شين، إنه ولى ذلك، وهادي السالك، وما توفيقي إلا باللَّهِ، عليه توكلت وإليه أنيب، وحسبي الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا باللَّهِ العلي العظيم.

(وسميته إسعافَ ذوي الوطر، بشرح نظم الدرر، في علم الأثر)

واللَّهَ أسأل القبول، وحسن الختام؛ إذ هما غاية ما يطلب من الهمام.

 

(تنبيهٌ): وإرشادٌ إلى بعض المصطلحات في هذا الشرح:

(ت): إشارة إلى تقريب التهذيب للحافظ ابن حجرٍ. المتوفي سنة 852.

(ق): إشارة: إلى القاموس المحيط، لمجد الدين، محمد بن يعقوب، الفيروز آبادي، اللغوي، ت 817 هـ.

(تاج): إشارة إلى تاج العروس، شرحه، للعلامة السيد محمد مرتضى الزبيدي، ت 1305 هـ.

(المصباح): هو المصباح المنير، للعلامة أحمد بن محمد بن علي المقري، ت 770 هـ.

(لسان): هو لسان العرب، للعلامة اللغوي، أبي الفضل جمال الدين محمد بن مكرَم بن منظور، الإفريقي، المصري، ت 711 هـ.

(اهـ): إشارة إلى أنه انتهى الكلام المنقول.

وإذا قلت قاله فلان، أو انتهى كلام فلان، أو قال فلان: كذا، ثم كتبت في آخره (اهـ) فالكلام منقول بنص لفظه غالباً، وإذا قلت أفاده فلان فهو مما نقل بالمعنى واللَّه أعلم.
এই সংক্ষিপ্তসার বিন্যাসে, গুরুত্বপূর্ণ উপকার ত্বরান্বিত করার জন্য এবং সাধারণ আনন্দ অর্জনের লক্ষ্যে; আর আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যেন তিনি আমার প্রত্যাশিত এই দুই ব্যাখ্যাগ্রন্থ সহজ করে দেন, কোনো শিথিলতা বা ত্রুটি ছাড়াই। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং পথিকের পথপ্রদর্শক। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি ফিরে যাই। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই।

(আর আমি এর নাম রেখেছি: ইস'আফু যাবিল ওয়াতার, বিশারহি নাজমিল দুরার, ফী ইলমিল আসার)

আর আমি আল্লাহর কাছে এটি কবুল হওয়া এবং উত্তম পরিণতির প্রার্থনা করি; কেননা এ দুটিই হলো একজন সংকল্পকারী ব্যক্তির কাম্যর চূড়ান্ত সীমা।

 

(সতর্কবার্তা): এবং এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ব্যবহৃত কিছু পরিভাষার নির্দেশনা:

(ত): এটি হাফেজ ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরী) রচিত 'তাকরীবুত তাহযীব' গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত।

(ক্বাফ): এটি ভাষাবিদ মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু: ৮১৭ হিজরী) রচিত 'আল-কামূসুল মুহীত' গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত।

(তাজ): এটি আল্লামা সাইয়্যিদ মুহাম্মদ মুরতাদা আজ-জাবিদি (মৃত্যু: ১৩০৫ হিজরী) রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাজুল আরুস'-এর প্রতি ইঙ্গিত।

(আল-মিসবাহ): এটি আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মুকরি (মৃত্যু: ৭৭০ হিজরী) রচিত 'আল-মিসবাহুল মুনীর'।

(লিসান): এটি ভাষাবিদ আল্লামা আবুল ফজল জামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম ইবনে মানযুর আল-ইফরিকি আল-মিসরি (মৃত্যু: ৭১১ হিজরী) রচিত 'লিসানুল আরব'।

(আ.হা.): এটি উদ্ধৃত কথার সমাপ্তির ইঙ্গিত।

আর যখন আমি বলি "অমুক ব্যক্তি এটি বলেছেন", বা "অমুক ব্যক্তির কথা শেষ হলো", অথবা "অমুক ব্যক্তি এমনটি বলেছেন", অতঃপর শেষে (আ.হা.) লিখি, তবে সেই কথাটি সাধারণত হুবহু শব্দে উদ্ধৃত করা হয়েছে। আর যদি বলি "অমুক ব্যক্তি এর সারমর্ম প্রদান করেছেন", তবে তা মর্মার্থ হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৭)
قال رحمه اللَّه تعالى:

بسم الله الرحمن الرحيم

اقتداء بالكتاب العزيز، واقتفاء لآثار نبيه الكريم عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم، حيث بدأ بها كتبه إلى الآفاق، كما بُين ذلك في الصَّحِيحين، وغيرهما، وعملاً بخبر أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: " كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بـ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فهو أقطع، قال النووي رحمه الله: هذا الحديث حسن اهـ. وصححه ابن حبان وأبو عوانة قاله البدر العيني وضعفه الحافظ ابن حجرٍ، وقد أطال الكلام عليه تاج الدين السبكي في أول طبقات الشافعية. والكلام على البسملة طويل قد أفرده بعض العلماء بتأليف مستقل.

ثم أتبع البسملة بالحمدلة لكونها من مطلوبات الابتداء فقال

 

1 - للهِ حَمْدِي وإلَيهِ أَسْتَنِدْ … وما يَنوبُ فَعَلَيْهِ أَعْتَمِدْ

 

(للهِ) سبحانه وتعالى خبر مقدم لقوله (حمدي) من إضافة المصدر إلى فاعله، أي ثنائي بالجميل الاختياري على وجه التبجيل والتعظيم كائن للَّه تعالى، وقدم الخبر لإفادة الحصر. (وإليه) تعالى متعلق بقوله: (أستند) أي ألتجيء في تسهيل نظم هذه الألفية، أو هو عام، وفيه إشارة إلى براعة الاستهلال: وهو ذكر الشخص في أول كلامه ما يشعر بمقصوده ويُسمَّى براعة المطلع ومقابله يسمى براعة الاختتام وبراعة المقطع (وما) موصولة
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বলেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মহাগ্রন্থের (আল-কুরআন) অনুসরণ করে এবং তাঁর সম্মানিত নবীর —তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক— আদর্শের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, কারণ তিনি বিভিন্ন দিগন্তে প্রেরিত তাঁর পত্রসমূহ এর মাধ্যমে শুরু করতেন, যেমনটি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; এবং আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীসের ওপর আমল স্বরূপ: "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।" ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই হাদীসটি হাসান। সমাপ্ত। ইবনে হিব্বান ও আবু আওয়ানা একে সহীহ বলেছেন—একথা বদরুদ্দীন আইনী উল্লেখ করেছেন; তবে হাফেয ইবনে হাজার একে যঈফ বলেছেন। আর তাজউদ্দীন সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ'-এর শুরুতে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। বিসমিল্লাহর ওপর আলোচনা দীর্ঘ, কোনো কোনো আলিম এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

অতঃপর তিনি বিসমিল্লাহর পর হামদালার (আল্লাহর প্রশংসা) অনুগামী করেছেন, যেহেতু এটিও সূচনা করার জন্য কাম্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত; তাই তিনি বলেন:

 

১ - আমার প্রশংসা আল্লাহর জন্যই এবং আমি তাঁরই আশ্রয় গ্রহণ করি … আর যা কিছু আপতিত হয় তাতে আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি।

 

(আল্লাহর জন্য) সুবহানাহু ওয়া তাআলা শব্দটি তাঁর বাণী (আমার প্রশংসা)-এর জন্য অগ্রবর্তী সংবাদ (খবরে মুকাদ্দাম), যা মূলধাতুকে (মাসদার) তার কর্তার (ফায়িল) দিকে সম্বন্ধ (ইযাফত) করার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ সম্মান ও মর্যাদার সাথে স্বেচ্ছাধীন সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে আমার প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্যই সাব্যস্ত; আর সীমাবদ্ধতা বা নির্দিষ্টকরণের অর্থ প্রদানের জন্য এখানে সংবাদকে (খবর) আগে আনা হয়েছে। (এবং তাঁরই প্রতি) তাআলা শব্দটি তাঁর বাণী (আমি আশ্রয় গ্রহণ করি)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ এই আলফিয়্যার কাব্য গাঁথা সহজ করার জন্য আমি তাঁরই কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অথবা এটি সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত। এর মধ্যে 'বারাআতুল ইস্তিহলাল'-এর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে: আর তা হলো কোনো ব্যক্তির তার কথার শুরুতে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আভাস দেয়; একে 'বারাআতুল মাতলা'ও বলা হয়, আর এর বিপরীত বিষয়কে 'বারাআতুল ইখতিতাম' বা 'বারাআতুল মাকতা' বলা হয়। (এবং যা কিছু) শব্দটি এখানে সংযোজক অব্যয় (মা মাওসূলা)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৮)
مبتدأ أي الذي (ينوب) أي يصيبني من العوائق عن تكميل المقصود وقوله (فعليه) تعالى وحده (أعتمد) أي ألتجئ يقال اعتمدت على الشيء اتكأت عليه، قاله في المصباح. خبر المبتدإ. والمعنى: أن الذي يصيبني من العوائق فاعتمد على الله وحده في دفعه ويحتمل كون (ما) منصوباً بنزع الخافض أي فيما ينوبني أي في دفعه والفاء على الأول دخلت في الخبر لما في المبتدإ من معنى العموم وعلى الثاني زائدة ثم إن الاستناد والاعتماد إما مترادفان أو الثاني أخص وهو الأنسب لأن الناظم قيده بما ينوبه، ثم ثلث بذكر الصلاة والسلام على النبي صلى الله عليه وسلم، لأنها سنة العلماء فقال

 

2 - ثمَّ عَلَى نَبِيِّهِ مُحَمَّدِ … خَيْرُ صَلاةٍ وسَلامٍ سَرْمَدِ

 

(ثم) للترتيب الرتبي، لأن رتبتها بعد الحمد، (على نبيه) بالهمزِ، وتركه، قراءتان سبعيتان من النَّبَاءِ وهو الخبر أو النَّبْوة (1) وهي الرفعة، فعيل بمعنى فاعل، أو مفعول، لأنه مخبر عن اللَّه، أو مرفوع الرتبة، أو رافع رتبة من تبعه، وهو خبر مقدم، وقوله: (محمد) صفة أو بدل أو عطف بيان ويجوز قطعه (خير صلاة) مبتدإ مؤخر أي أفضل صلاة وهي من اللَّه الرحمة المقرونة بالتعظيم وفضائلها شهيرة في الأحاديث الصحاح، وأما فضل كتابتها فلم يصح، بل قيل بوضعه. (و) خير (سلام) أي تسليم من الآفات المنافية لغاية الكمالات، وأتى به فراراً من كراهية الإفراد لأحدهما عن الآخر، لأن الآية قرنت بينهما، وأما إفرادها في الصلاة الإبراهيمية فلتقدمه في التشهد، وخص الحافظ رحمه الله الكراهة بمن جعله دَيْدَناً له لوقوع (2) ذلك في كلام الشافعي ومسلم، والشيخ أبي إسحاق وغيرهم، قاله السخاوي (سرمد) بالجر نعت لسلام حذف مثله من صلاة قال في التاج: السرمد الدائم الذي لا ينقطع، واشتقاقه من السرد، وهو التوالي، والتعاقب، ولما كان الزمان إنما

--------------------------------------------

(1) بفتح فسكون.

(2) قلت لكن في الاستدلال بفعل هؤلاء نظر، لأن الكراهة وعدمها حكمان والحكم لا يثبت إلا بنص أو إجماع.
এটি একটি মুবতাদা বা উদ্দেশ্য, অর্থাৎ লক্ষ্য পূরণে যেসব প্রতিবন্ধকতা আমার ওপর আপতিত হয়। আর তাঁর উক্তি (অতঃপর তাঁরই ওপর) যিনি সুউচ্চ, একমাত্র তাঁরই ওপর (আমি নির্ভর করি) অর্থাৎ আমি আশ্রয় গ্রহণ করি। বলা হয়ে থাকে 'আমি বস্তুর ওপর নির্ভর করেছি' অর্থাৎ আমি তাতে হেলান দিয়েছি; এটি আল-মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে। এটি মুবতাদার খবর বা বিধেয়। আর অর্থ হলো: প্রতিবন্ধকতার মধ্য থেকে যা কিছু আমার ওপর আপতিত হয়, তা দূর করার ক্ষেত্রে আমি কেবল আল্লাহর ওপরই নির্ভর করি। আর 'মা' শব্দটি হারফে জার বিলুপ্ত হওয়ার কারণে মানসুব হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অর্থাৎ আমার ওপর যা আপতিত হয় তাকে দূর করার ক্ষেত্রে। প্রথম মত অনুযায়ী 'ফা' অক্ষরটি খবরের ওপর যুক্ত হয়েছে কারণ মুবতাদার মধ্যে ব্যাপকতার অর্থ রয়েছে, আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটি অতিরিক্ত। অতঃপর 'ইসতিনাদ' (ভরসা) এবং 'ইতিমাদ' (নির্ভরতা) শব্দ দুটি হয় সমার্থক, অথবা দ্বিতীয়টি অধিকতর সুনির্দিষ্ট, আর এটিই অধিক মানানসই কারণ কাব্যকার একে তার ওপর আপতিত বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। অতঃপর তিনি তৃতীয় পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করার উল্লেখ করেছেন, কারণ এটি আলেমদের অনুসৃত পদ্ধতি। তিনি বলেছেন:

 

২ - অতঃপর তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর... সর্বোত্তম সালাত এবং চিরন্তন সালাম বর্ষিত হোক।

 

'সুম্মা' শব্দটি মর্যাদাগত ক্রমবিন্যাসের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ প্রশংসার পরেই এর অবস্থান। 'তাঁর নবীর ওপর' শব্দটিতে হামযাহ সহ এবং হামযাহ ছাড়া—উভয়টিই সাতটি প্রসিদ্ধ কিরাতের অন্তর্ভুক্ত। এটি 'নাবা' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সংবাদ, অথবা এটি 'নাবওয়াহ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ উচ্চতা। এটি কর্তা অথবা কর্মের অর্থে ব্যবহৃত; কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী, অথবা তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, কিংবা তিনি তাঁর অনুসারীদের মর্যাদা উন্নতকারী। ব্যাকরণগতভাবে এটি 'খবরে মুকাদ্দাম', এবং তাঁর উক্তি 'মুহাম্মাদ' শব্দটি সিফাত, বাদাল অথবা আতফে বয়ান; আর একে পূর্ববর্তী অংশ থেকে পৃথক করাও বৈধ। 'সর্বোত্তম সালাত' হলো 'মুবতাদায়ে মুয়াখখার' অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ সালাত। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো সম্মান মিশ্রিত রহমত। এর ফজিলতসমূহ সহীহ হাদীসসমূহে সুপ্রসিদ্ধ। তবে সালাত লেখার ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা বিশুদ্ধ নয়, বরং একে জাল বলা হয়েছে। এবং শ্রেষ্ঠ 'সালাম' অর্থাৎ এমন সকল আপদ থেকে মুক্তি যা চূড়ান্ত পূর্ণতার পরিপন্থী। তিনি সালাম শব্দটি এনেছেন সালাত বা সালামের কোনো একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক রাখার অপছন্দনীয়তা থেকে বাঁচতে, কারণ কুরআনের আয়াতে এ দুটিকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সালাতে ইবরাহিমীতে একে এককভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো তাশাহহুদে এটি পূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে। হাফেজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই অপছন্দনীয়তাকে ঐ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যে একে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে নেয়; কেননা ইমাম শাফিয়ী, ইমাম মুসলিম, শায়খ আবু ইসহাক ও অন্যদের বক্তব্যে সালাত বা সালাম এককভাবে ব্যবহারের নজির পাওয়া গেছে—এটি সাখাভী বর্ণনা করেছেন। 'সারমাদ' শব্দটি যের যুক্ত অবস্থায় সালামের বিশেষণ, সালাত থেকেও অনুরূপ একটি বিশেষণ উহ্য রয়েছে। 'তাজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সারমাদ হলো স্থায়ী যা নিরবচ্ছিন্ন। এর উৎপত্তি হয়েছে 'সারদ' থেকে, যার অর্থ পর্যায়ক্রম বা একের পর এক আসা। আর যেহেতু সময় কেবল...

--------------------------------------------

(১) ফাতহা ও সুকুন সহ।

(২) আমি বলছি, তবে এদের কর্ম দ্বারা দলিল পেশ করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ মাকরূহ হওয়া বা না হওয়া—উভয়ই শারঈ হুকুম, আর কোনো হুকুম স্পষ্ট বর্ণনা বা ইজমা ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৯)
يبقى بتعاقب أجزائه، وكان ذلك يسمى بالسرد، أدخلوا عليه الميم الزائدة، ليفيد المبالغة في ذلك، فوزنها فعمل. اهـ. باختصار. ثم تحدث عن منظومته فقال:

 

3 - وهذهِ أَلْفيَّةٌ تَحكِى الدُّرَرْ … منظومةٌ ضَمَّنْتُها عِلْمَ الأَثَرْ

4 - فائِقةٌ أَلْفيَّةَ العِرَاقِي … فِي الجَمْعِ والإِيجازِ وَاْتِّسَاقِ

5 - واللهُ يُجْرِيْ سابِغَ الإِحْسانِ … لِيْ وَلَهُ ولِذَوِيْ الإِيْمَانِ

 

(و) بعد ما تقدم فأقول: (هذه) إشارة إلى المعاني الحاضرة في الذهن، تقدمت الخطبة، أو تأخرت، وفيه احتمالات أُخر مذكورة في المطولات، وهو مبتدأ خبره قوله: (ألفية) أي أرجوزة منسوبة إلى ألف إن كانت من كامل الرجز، أو إلى ألفين إن كانت من مشطوره، ولا يرد عليه ما فيه من اللبس، لأنهم لا يبالون به في النسب قال ابن مالك:

وَعَلَمَ التَّثْنِيَةِ احْذِفْ لِلنَّسَبْ … وَمْثلُ ذَا فِي جَمْعِ تَصْحِيحٍ وَجَبْ

(تحكى) أي تشابه (الدرر) جميع درة وهي اللؤلؤة العظيمة الكبيرة أي تشابهها في النفاسة وعزة الوجود ورفعة القيمة صفة لألفية. (منظومة) صفة كاشفة بعد صفة، أو حال، (ضمنتها) أي جعلت فيها (علم الأثر) يقال: ضمنت الشيء كذا: أي جعلته محتوياً عليه فتضمنه، أي فاشتمل عليه، واحتوى قاله في المصباح، وهو من باب جعل المدلول في الدال، أو جعل الجزء في الكل، قاله الشارح (1). وقوله: علم الأثر أي مسائله وهو من إضافة العام إلى الخاص كشجر أراك. والأثر بفتح الهمزة والثاء لغة بقية الشيء واصطلاحاً الأحاديث مرفوعة كانت أو موقوفة على المعتمد، ومنه شرح معاني الآثار للإمام الطحاوي، لاشتماله عليهما وإن قصره بعض الفقهاء على الموقوف كما سيأتي قاله السخاوي.

--------------------------------------------

(1) هو العلامة محمد بن عبد الله الترمسي رحمه الله تعالى.
তার অংশগুলোর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে অবশিষ্ট থাকে, আর একে 'সারদ' বলা হতো, তারা এতে অতিরিক্ত 'মীম' যুক্ত করেছেন যাতে তা অতিশয়োক্তি প্রকাশ করে, এর ওজন হলো 'ফামআল'। সংক্ষেপে সমাপ্ত। এরপর তিনি তাঁর কাব্য সম্পর্কে আলোচনা করে বললেন:

 

৩ - আর এটি এক আলফিয়াহ যা মুক্তার সদৃশ … এক কাব্যমালা যার মধ্যে আমি নিহিত করেছি আছারের জ্ঞান (হাদিস শাস্ত্র)

৪ - যা ইরাকির আলফিয়াহর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে … সংকলন, সংক্ষিপ্তকরণ এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসে

৫ - আর আল্লাহ যেন তাঁর পরিপূর্ণ অনুগ্রহ প্রবাহিত করেন … আমার প্রতি, তাঁর প্রতি এবং সকল মুমিনের প্রতি

 

(এবং) যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে তার পরে আমি বলছি: (এটি) দ্বারা মনের মধ্যে উপস্থিত অর্থসমূহের দিকে ইশারা করা হয়েছে, চাই খুতবা আগে হোক বা পরে; এই বিষয়ে আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে যা দীর্ঘ কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) হলো তাঁর কথা: (আলফিয়াহ) অর্থাৎ এটি একটি রাজায ছন্দে রচিত কাব্য যা এক হাজারের সাথে সম্পর্কিত যদি তা কামিল রাজায হয়, অথবা দুই হাজারের সাথে সম্পর্কিত যদি তা মাশতুর রাজায হয়। এতে কোনো অস্পষ্টতা আপতিত হবে না, কারণ নিসবত বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা এর পরোয়া করেন না। ইবনে মালিক বলেছেন:

আর নিসবতের ক্ষেত্রে দ্বিবচনের আলামত বিলোপ করো … আর একই নিয়ম সহীহ বহুবচনের ক্ষেত্রেও আবশ্যক

(সদৃশ) অর্থাৎ সদৃশ হওয়া। (মুক্তার) এটি ‘দুররাহ’-এর বহুবচন, আর তা হলো মহান এবং বড় মুক্তা। অর্থাৎ দুষ্প্রাপ্যতা, দুর্লভতা এবং মূল্যের উচ্চতার দিক থেকে এটি মুক্তার সদৃশ। এটি ‘আলফিয়াহ’-এর গুণ। (কাব্যমালা) এটি পরবর্তী একটি ব্যাখ্যামূলক গুণ অথবা অবস্থা (হাল)। (নিহিত করেছি) অর্থাৎ এর অন্তর্ভুক্ত করেছি। (আছারের জ্ঞান) বলা হয়: আমি বস্তুটিকে এমন করেছি, অর্থাৎ তাকে ধারণকারী বানিয়েছি যাতে তা তাকে শামিল করে এবং অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে। এটি দলীলের মধ্যে মাদলুল রাখা অথবা সমষ্টির মধ্যে অংশ রাখার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ভাষ্যকার বলেছেন (১)। তাঁর কথা: ‘আছারের জ্ঞান’ অর্থাৎ এর মাসআলাসমূহ; এটি সাধারণের সংযুক্তি বিশেষের সাথে, যেমন ‘আরাক গাছ’। ‘আছার’ শব্দটি হামযাহ এবং ছা-এর যবর সহকারে আভিধানিক অর্থে কোনো বস্তুর অবশিষ্টাংশ। আর পারিভাষিক অর্থে নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তা হলো হাদিস—চাই তা মারফু হোক বা মাওকুফ। ইমাম তহাবীর ‘শারহু মাআনিল আছার’ এই নামকরণের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে উভয় প্রকারের বর্ণনা বিদ্যমান, যদিও কোনো কোনো ফকীহ একে মাওকুফ বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, যেমনটি সামনে আসবে—সাখাভী এটি বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ তিরমিযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১০)
وعلم الأثر: أي الحديث يطلق على معنيين: علم الحديث دراية، وعلم الحديث رواية، والأول هو المقصود هنا، ويُسمَّى علم مصطلح الحديث، وعلم مصطلح الأثر، وهو علم يبحث فيه عن كيفية اتصال الأحاديث برسول الله صلى الله عليه وسلم، من حيث أحوالُ نقلتِها ضبطاً وعدالة، ومن حيث كيفية السَّند اتصالاً وانقطاعاً، وغير ذلك. والجملة صفة بعد صفة لألفية أو حال منها.

 

(تنبيه): اشتهرت هذه الألفية باسم ألفية السيوطي في علم الحديث، وسماها الشارح الترمسي - وهو المراد عند إطلاق اسم الشارح في هذا الشرح - بمنظومة علم الأثر، والذي رأيته عن بعض المحققين نقلًا عن حسن المحاضرة للناظم أنه سماها نظم الدرر، في علم الأثر، وهذا هو الذي ينبغي اعتماده لكونه منقولًا عن المؤلف فتنبه.

(فائقة) بالرفيع أو بالنصب كمنظومة من فاق الرجل أصحابه يفوقهم فَضَلَهُم ورجَحَهُم أو غَلَبَهم قاله في المصباح. (ألفية) العراقي بالنصب مفعول به لفائقة والعراقي: هو الإمام الحافظ الأثري زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن العراقي، نسبةً إلى عراق العرب، وهو القطر الأعم، المتوفي سنة ست وثمانمائة، عن أزيد من إحدى وثمانين سنة، (في الجمع) للأنواع متعلق بفائقة. (والإيجاز) للألفاظ مع كثرة المعاني. (واتساق) أي انتظام بعضها مع بعض على وجه المناسبة، وإنما لم يفعل العراقي ذلك مسايرة لأصله مقدمةِ ابن الصلاح، فإنه أملاها شيئاً فشيئاً، ورأى إلقاءها كذلك خيراً من طلب حسن الترتيب، لأنه يحتاج إلى فراغ كثير، لجمعه ذلك من متفرقات كتب من تقدمه كتصانيف الخطيب.

(واللهُ) عز وجل مبتدأ خبره قوله: (يُجري) من الإجراء بالراء، وجوز الشارح كونه من الجزاء، لكن يحتاج إلى إثبات نقله من الناظم، (سابغ الإحسان) بالنصب مفعولٌ به ليُجرِي وهو من إضافة الصفة إلى الموصوف، أي الإحسان السابغ، أي التام المتسع، يقال: سبغت النعمة سبوغا
এবং ইলমুল আসার: অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্র; এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: ইলমুল হাদীস দিরায়া (তত্ত্বীয় হাদীস বিজ্ঞান) এবং ইলমুল হাদীস রিওয়ায়া (বর্ণনামূলক হাদীস বিজ্ঞান)। এখানে প্রথমটিই উদ্দেশ্য, আর একে ইলমে মুসতালাহুল হাদীস এবং ইলমে মুসতালাহুল আসারও বলা হয়। এটি এমন একটি বিদ্যা যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত হাদীসসমূহ পৌঁছানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়—বর্ণনাকারীদের অবস্থা (স্মৃতিশক্তি ও ন্যায়পরায়ণতা) এবং সনদের ধরন (সংযুক্ত বা বিচ্ছিন্ন হওয়া) ইত্যাদি দিক থেকে। এই বাক্যটি 'আলফিয়্যাহ' শব্দের জন্য একটির পর একটি গুণবাচক শব্দ অথবা তার অবস্থা হিসেবে এসেছে।

 

(সতর্কবার্তা): এই আলফিয়্যাহটি হাদীস শাস্ত্রে 'আলফিয়্যাহ আস-সুয়ূতী' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ব্যাখ্যাকার আত-তিরমুসী—এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে 'শারহ' বা ব্যাখ্যাকার বলতে তিনিই উদ্দেশ্য—একে 'মানযুমা ইলমুল আসার' নামে অভিহিত করেছেন। তবে আমি কিছু গবেষকের নিকট হতে মূল গ্রন্থকারের 'হুসনুল মুহাদারা'র উদ্ধৃতিতে দেখেছি যে, তিনি এর নামকরণ করেছেন 'নাযমুত দুরার ফী ইলমিল আসার'। গ্রন্থকার হতে বর্ণিত হওয়ার কারণে এটিই গ্রহণ করা উচিত, সুতরাং বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।

(ফাইক্বাহ - শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী) শব্দটি পেশ বা যবর যোগে হতে পারে 'মানযুমাহ' এর গুণবাচক শব্দ হিসেবে; যা 'ফাক্বা' ক্রিয়া হতে উৎপন্ন, যেমন বলা হয়: ব্যক্তিটি তার সঙ্গীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য লাভ করেছে বা তাদের ছাড়িয়ে গিয়েছে—যেমনটি 'মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে। (আলফিয়্যাহ) আল-ইরাকী: 'ফাইক্বাহ' শব্দের কর্ম হিসেবে এটি যবরযুক্ত। আর ইরাকী হলেন: ইমাম হাফিয আসারি যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান আল-ইরাকী। ইরাকে আরবের দিকে সম্বন্ধ করে তাকে ইরাকী বলা হয়, যা একটি বিস্তৃত অঞ্চল। তিনি ৮০৬ হিজরীতে ৮১ বছরেরও অধিক বয়সে ইন্তেকাল করেন। (ফীল জাময়ি - সংকলনের ক্ষেত্রে) প্রকারসমূহকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে; এটি 'ফাইক্বাহ' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট।

(ওয়াল ইজায - এবং সংক্ষিপ্ততা) শব্দের সংক্ষিপ্ততা অথচ অর্থ হবে ব্যাপক। (ওয়াততিসাক - এবং সুসামঞ্জস্যতা) অর্থাৎ প্রাসঙ্গিকভাবে একটির সাথে অপরটির সুশৃঙ্খল বিন্যাস। ইমাম ইরাকী তাঁর মূল উৎস 'মুক্বাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ'-এর অনুকরণে সুশৃঙ্খল বিন্যাস বজায় রাখেননি, কারণ ইবনুস সালাহ এটি ধারাবাহিকভাবে অল্প অল্প করে লিখিয়েছিলেন। তিনি বিন্যাস সুন্দর করার চেয়ে সেভাবেই প্রদান করাকে উত্তম মনে করেছিলেন, কারণ এটি বিন্যস্ত করতে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন ছিল এবং তিনি পূর্ববর্তী খতীব আল-বাগদাদীর মতো লেখকদের বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত গ্রন্থ হতে এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন।

(আল্লাহ) মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ শব্দটি এখানে উদ্দেশ্য, যার বিধেয় হলো তাঁর বাণী: (ইউজরী - প্রবাহিত করেন)। এটি 'ইজরা' শব্দ হতে আগত। ব্যাখ্যাকার একে 'জাযা' (প্রতিদান) শব্দ হতে হওয়ার অবকাশ দিয়েছেন, তবে তা গ্রন্থকার হতে বর্ণিত হওয়ার প্রমাণের মুখাপেক্ষী। (সাবিকাল ইহসান - পূর্ণ অনুগ্রহ) এটি 'ইউজরী' ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে যবরযুক্ত। এটি গুণবাচক শব্দকে বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ করার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ পূর্ণ ও বিস্তৃত অনুগ্রহ। বলা হয়ে থাকে: নিয়ামতটি পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১১)
اتسعت، وأسبغها الله أفاضها، وأتمها، قاله في المصباح، والمراد به الجنة، (لي) متعلق بيُجْرِي، بدأ بنفسه لأنه السنة. (وله) أي للعراقي دعا له لأنه مُرشِدُه إلى هذا التأليف حيث اقتدى به (ولذوي) أي أصحاب (الإيمان) أي التصديق الجازم بكل ما عُلم مجيئه صلى الله عليه وسلم به بالضرورة إجمالًا في الإجمالي، وتفصيلاً في التفصيلي، وعَمَّمَ بالدعاء لهم لأنه من أسباب الإجابة كما جاء في الحديث.
প্রশস্ত হয়েছে; আর আল্লাহ তাআলা তা পরিপূর্ণরূপে দান করেছেন অর্থাৎ তা প্রচুর পরিমাণে প্রদান করেছেন এবং পূর্ণ করেছেন, ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে এমনটিই বলা হয়েছে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জান্নাত। (আমার জন্য) অংশটি ‘ইউজরি’ (প্রবাহিত করবেন) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি নিজের মাধ্যমে শুরু করেছেন কারণ এটিই সুন্নাহ। (এবং তাঁর জন্য) অর্থাৎ আল-ইরাকির জন্য; তিনি তাঁর জন্য দোয়া করেছেন কারণ তিনি এই গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর পথপ্রদর্শক ছিলেন, যেহেতু তিনি তাঁকে অনুসরণ করেছেন। (এবং অধিকারীদের জন্য) অর্থাৎ যারা অধিকারী (ঈমানের); ঈমান হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন বলে অকাট্যভাবে প্রমাণিত, সে সবকিছুর প্রতি এমন দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা যা সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তভাবে এবং বিস্তারিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিস্তারিতভাবে হয়ে থাকে। তিনি তাঁদের জন্য সাধারণভাবে দোয়া করেছেন, কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে এটি দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌(حد الحديث وأقسامه)

أي هذا مبحث حد الحديث، ومبحث أقسامه، والحدُّ لغة المنع، واصطلاحاً ما يميز الشيءَ عما عداه، وقدَّمَ البحث عنه ليكون الشارع في الفن على بصيرة، لئلا يضل سعيه، إذ لو اندفع إليه قبل ذلك لم يَأمَنْ فواتَ المطلوب، وَضَيَاعَ الوقت في غير مرغوب، وهو ترجم لشيئين، وذكر معهما، غيرهما زيادةً في الإفادة، لأنه ذكر الموضوع والفائدة وتعريف السَّند والمتن، وغير ذلك … وذلك واقع في كلام البلغاء نَظِيرَ حديثِ: هو " الطَّهُور ماؤه الحِل ميتته ". قال رحمه الله:

 

6 - عِلمُ الحديثِ: ذُو قوانِينْ تُحَدْ … يُدْرَى بِها أَحْوَالْ مَتْنٍ وَسَنَدْ

7 - فَذَانِكَ الموضوعُ، والمقصودُ … أَنْ يُعرَفَ المقبُولُ والمَردُودُ

 

(علم) مصطلح أهل (الحديث) مبتدأ خبره قوله (ذو) أي صاحب (قوانين) جمع قانون وهو القاعدة. (تُحَدْ) أي تُعَرَّف تلك القوانين بأنها (يدرى) أي يعرف (بها) أي بتلك القوانين (أحوال متن) للحديث من صحة، وحسن، وضعف، ورفع، ووقف، وغير ذلك، مما يأتي. (و) أحوالُ (سند) له من صفات رجاله، وكيفية التحمل، والأداء، وغير ذلك مما سيأتي أيضاً. والجملة صفة قوانين، (فذانك) أي المتن والسَّند تثنية ذا وعود الإشارة إلى المضاف إليه قليل كما عاد الضمير إليه في قوله تعالى {ادْخُلُوا
(হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ)

অর্থাৎ এটি হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা। আভিধানিক অর্থে ‘হদ’ বা সংজ্ঞা মানে হলো বারণ করা। আর পারিভাষিক অর্থে তা হলো এমন বিষয় যা কোনো বস্তুকে তার বহির্ভূত অন্যান্য বিষয় থেকে পৃথক করে দেয়। তিনি এই আলোচনাটিকে অগ্রগণ্য করেছেন যেন এই শাস্ত্রে প্রবেশকারী ব্যক্তি সুস্পষ্ট জ্ঞানের অধিকারী হন এবং তার প্রচেষ্টা যেন পণ্ড না হয়। কারণ, এর আগেই যদি কেউ এতে প্রবৃত্ত হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সময় নষ্ট হওয়া থেকে সে নিরাপদ থাকতে পারবে না। তিনি শিরোনামে দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, কিন্তু উপকারের আধিক্যের জন্য সেগুলোর সাথে আরও কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি বিষয়বস্তু, উপকারিতা এবং সনদ ও মতনের সংজ্ঞা সহ আরও অনেক কিছু উল্লেখ করেছেন … আর এটি বাগ্মী ব্যক্তিদের কথাবার্তায় সচরাচর ঘটে থাকে, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল।” তিনি (রহ.) বলেন:

 

৬ - হাদিস শাস্ত্র: এটি এমন কিছু নিয়মনীতির সমষ্টি যার মাধ্যমে সংজ্ঞা দেওয়া হয় … যা দ্বারা মতন ও সনদের অবস্থাসমূহ জানা যায়।

৭ - ঐ দুটিই হলো এর বিষয়বস্তু, আর এর উদ্দেশ্য হলো … যেন কবুলযোগ্য এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্য হাদিস চিনে নেওয়া যায়।

 

হাদিস বিশারদদের পরিভাষায় (ইলম) বা শাস্ত্র শব্দটি হলো মুবতাদা, এর খবর হলো (জু) শব্দটি যার অর্থ অধিকারী। (কাওয়ানিন) শব্দটি ‘কানুন’ এর বহুবচন, যার অর্থ হলো মূলনীতি। (তুহাদ্দ) অর্থাৎ সেই নিয়মনীতিগুলোকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে, (ইউদরা) অর্থাৎ জানা যায় (বিহা) অর্থাৎ সেই নিয়মনীতিগুলোর মাধ্যমে হাদিসের (মতনের অবস্থাসমূহ); যেমন—সহিহ, হাসান, যঈফ, মারফু, মাওকুফ এবং সামনে আসবে এমন অন্যান্য বিষয়াদি। (ওয়া) এবং তার (সনদ) বা বর্ণনাসূত্রের অবস্থাসমূহ; যেমন—তার বর্ণনাকারীদের গুণাবলি, হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয় যা সামনে আসবে। আর এই বাক্যটি ‘কাওয়ানিন’ শব্দের সিফাত বা বিশেষণ। (ফা-যানিকা) অর্থাৎ মতন ও সনদ; এটি ‘যা’ শব্দের দ্বিবচন রূপ এবং মুদাফ ইলাইহ-এর দিকে ইশারা ফিরে আসা বিরল, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে জমির (সর্বনাম) ফিরে এসেছে: {তোমরা প্রবেশ করো...}
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৩)
أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا} أفاده بعض (1) المحققين الأعلام. وهو مبتدأ خبره قوله (الموضوع) أي موضوع علم الحديث دراية، وهو مصطلح الحديث، وموضوعُ كُل علم ما يبحثُ فيه عن عوارضه الذاتية، فموضوع علم مصطلح أهل الحديث المتن والسَّند، وأما موضوع الحديث رواية فهو ذات رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث إنه رسول الله صلى الله عليه وسلم كما قاله بعضهم.

(والمقصود) أي الفائدةُ والغاية من علم الحديث هذا، وهو مبتدأ، خبره (أن يعرف المقبول) من الحديث ليعمل به (والمردود) منه ليجتنب، لأنه إن وجدت فيه صفة القبول يؤخذ به، وإلا فلا.

وقد ذكر رحمه الله من المبادئ العشرة (2) هنا ثلاثة الحدَّ والموضوعَ والفائدة، لأنها المهم جداً. قال رحمه الله:

 

8 - والسَّندُ: اْلإِخْبارُ عنْ طَرِيقِ … مَتْنٍ كَاْلاِسْنادِ لَدَى فَرِيقِ

 

(والسَّند) المتقدم ذكره مبتدأ خبره قوله (الإخبار) بكسر الهمزة مصدراً (عن طريق متن) متعلق بالإخبار، أو بمحذوف حال من الإخبار، أي حال كونه ناشئاً عن طريق متن. والمعنى: أن السَّند هو إخبار المحدث بالحديث ذاكراً طريقه أخذاً مما ارتفع من سفح الجبل لأن المسند يرفعه إلى قائله، أو من قولهم فلان سَنَدٌ: أي معتمد سُمِّيَ به لاعتماد الحفاظ عليه في صحة الحديث وضعفه. وأما الإسناد فهو وفع الحديث إلى قائله، وهو متقارب مع السَّند في الاعتماد. وقال بعضهم هما شيء واحد وإليه أشار بقوله: (كالإسناد) خبر لمحذوف أي هو - أي السَّند - كائن كالإسناد من حيث

--------------------------------------------

(1) هو العلامة المحقق الشيخ محمد نور إدريس اليجي حفظه الله تعالى.

(2) والمبادئ العشرة هي المجموعة في قول بعضهم:

إن مبادئ كل فنّ عشرهْ … الحد والموضوع ثمَّ الثمرهْ

ونسبة وفضله والواضعْ … والاسمُ الاستمدادُ حكمُ الشارع

مسائل والبعض بالبعض اكتفي … وَمَنْ دَرَى الجَميعَ حاز الشرفا
জাহান্নামের দরজাসমূহ, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} কোনো কোনো (১) প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ এটি ব্যক্ত করেছেন। এটি একটি মুবতাদা, যার খবর হলো তাঁর উক্তি (বিষয়বস্তু) অর্থাৎ ইলমে হাদিস দিরাওয়াহর (হাদিস বিশ্লেষণ শাস্ত্রের) বিষয়বস্তু, যা হলো মুসতালাহুল হাদিস। আর প্রতিটি শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো ওইসব বিষয় যা সেই শাস্ত্রের মৌলিক অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো মতন ও সনদ। আর ইলমে হাদিস রিওয়াহর (হাদিস বর্ণনা শাস্ত্রের) বিষয়বস্তু হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তা, এই দিক থেকে যে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন।

(আর উদ্দেশ্য) অর্থাৎ এই ইলমে হাদিসের উপকারিতা ও লক্ষ্য। এটি মুবতাদা, এর খবর হলো (মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য হাদিস সম্পর্কে জানা) যাতে সেই অনুযায়ী আমল করা যায়, (এবং মারদুদ বা প্রত্যাখ্যাত হাদিস সম্পর্কে জানা) যাতে তা থেকে বেঁচে থাকা যায়। কারণ যদি তাতে গ্রহণযোগ্যতার গুণ পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করা হয়, অন্যথায় নয়।

রহিমাহুল্লাহ এখানে দশটি মূলনীতির (২) মধ্যে তিনটির কথা উল্লেখ করেছেন: সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু ও উপকারিতা; কারণ এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

 

৮ - আর সনদ হলো: মতনের সূত্র সম্পর্কে সংবাদ দান... একদলের মতে তা ইসনাদ-এর মতোই।

 

(আর সনদ) যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে, তা মুবতাদা, তার খবর হলো তাঁর উক্তি (সংবাদ দান)। এটি হামজার নিচে কাসরা (জের) যোগে একটি মাসদার। (মতনের সূত্র সম্পর্কে) এটি ‘সংবাদ দান’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা ‘সংবাদ দান’ থেকে উহ্য হাল। অর্থাৎ এমন অবস্থায় যে তা মতনের সূত্রের মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ হলো: সনদ হলো মুহাদ্দিস কর্তৃক তাঁর সূত্র উল্লেখ করার মাধ্যমে হাদিসের সংবাদ প্রদান করা। এই শব্দটি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে যা উঁচু হয়েছে তা থেকে গৃহীত হয়েছে, কারণ সনদ হাদিসটিকে এর বক্তা পর্যন্ত উন্নীত করে। অথবা এটি তাদের কথা ‘অমুক ব্যক্তি একজন সনদ’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো: নির্ভরযোগ্য; এর এমন নামকরণ করা হয়েছে কারণ হাদিস বিশারদগণ (হাফিজগণ) হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করেন। আর ইসনাদ হলো হাদিসকে তার বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, আর নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে তা সনদের কাছাকাছি। কেউ কেউ বলেছেন যে উভয়টি একই বস্তু, এবং সেদিকেই তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইশারা করেছেন: (ইসনাদ-এর মতো) এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর, অর্থাৎ এটি—অর্থাৎ সনদ—ইসনাদ-এর মতোই, এই দিক থেকে যে—

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ শাইখ মুহাম্মদ নূর ইদ্রিস আল-ইয়াজি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন।

(২) আর দশটি মূলনীতি কোনো কোনো আলিমের এই চরণে সংগৃহীত হয়েছে:

নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি হলো দশটি: সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু ও ফলাফল;

সম্বন্ধ, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রণেতা; নাম, উৎসের বর্ণনা ও শরীয়তের বিধান;

এর মাসআলাসমূহ; কেউ কেউ আংশিক আলোচনা করেই ক্ষান্ত হন, আর যে ব্যক্তি সবকটি জানল সে সম্মান অর্জন করল।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৪)
المعنى (لدى فريق) بالتنكير، وفي نسخة بالتعريف، أي عند طائفة من علماء الحديث.

 

9 - وَالْمَتْنُ: ما انْتَهَى اِلَيْهِ السَّنَدُ … مِنَ الْكَلامِ، والحديثَ قَيَّدُوا

10 - بِما أضيفَ لِلنَّبِيِّ قَوْلاً أوْ … فِعْلاً وَتَقْرِيراً وَنَحْوَهَا حَكَوْا

 

(والمتن) بفتح فسكون مبتدأ خبره قوله (ما انتهى إليه السَّند) أي ما بلغ إليه السَّند من النهاية، يقال: انتهى الأمر إذا بلغ النهاية، وهي أقصى ما يمكن أن يبلغه، قاله في المصباح. (من الكلام) بيان لما وهو مشتق من المماتنة وهي المباعدة في الغاية لأنه غاية السَّند، أو من متنت الكبش إذا شَقَقْتَ جِلدةَ بيضته، واستخرجتها، فَكأنَّ المسِندَ استخرج المتن بسنده، أو من المُتْن بالضم وهو ما صلب وارتفع من الأرض لأن المسند يقويه بالسَّند، ويرفعه إلى قائله، أو من تَمْتِين القوسِ أي شدها بالعَصَبِ لأن المسند يقوي الحديث بسنده، (والحديثَ) مفعول مقدم لقوله: (قيدوا) ، وفي نسخة حددوا، أي العلماء بقولهم (ما أضيف للنبي) أي أسند ورفع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وهو لغة ضد القديم استعمل في قليل الخبر وكثيره، لأنه يَحْدُثُ شيئاً فشيئاً، واصطلاحاً ما ذكره في النظم بقوله: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

(قولا) كقوله صلى الله عليه وسلم: " إنما الأعمال بالنيات " ، ونُصِبَ على الحالية، أو خبراً لكان المحذوفة أي سواء كان قولا له، أو مفعولا لفعل محذوف، أي أعني قولا. وقولُه: (أو فعلا) عطف عليه، كصلاته صلى الله عليه وسلم على الراحلة حيث ما توجهت به، وقوله: (وتقريرا) عطف على قولاً، والواو بمعنى أو، كتقريره صلى الله عليه وسلم خالدَ بن الوليدِ في أكله الضبَّ عنده. قوله (ونحوها) عطف على قولا، أو مفعول مقدم لقوله (حكوا) وفي نسخة رووا، أي حكى ذلك العلماء الحفَاظُ، والجملة على الأول مستأنفة أتى بها تتميماً للقافية. ومثالُ النحوِ أوصافُهُ صلى الله عليه وسلم الخَلْقية بالفتح ككونه أبيض ليس بالطويل البائن، ولا بالقصير المُشَذَّب، أي المقطوع والخُلقِيَّة بضمتين ككونه لا يواجه أحداً بما
(একটি দল) শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি নির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ একদল হাদীস বিশারদের নিকট এর অর্থ এমন।

 

৯ - আর মতন হলো: বাণীর সেই অংশ যেখানে গিয়ে সনদ শেষ হয়েছে... আর তারা 'হাদীস'কে সীমাবদ্ধ করেছেন—

১০ - ঐ বিষয়ের সাথে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—তা কথা হোক কিংবা কাজ বা সম্মতি কিংবা অনুরূপ কিছু, যা তারা বর্ণনা করেছেন।

 

(মতন) শব্দটি 'মীম' বর্ণে ফাতহা এবং 'তা' বর্ণে সুকুনসহ মুবতাদা (উদ্দেশ্য), আর এর খবর (বিধেয়) হলো তার এই উক্তি: (যেখানে গিয়ে সনদ শেষ হয়েছে)। অর্থাৎ সনদ যে চূড়ান্ত প্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে। বলা হয়: 'বিষয়টি শেষ হয়েছে' যখন তা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়, আর তা হলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমা—যা 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে। (বাণীর মধ্য হতে) এটি 'যা' (মা)-এর ব্যাখ্যা। এটি 'মুমাতানাহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ চূড়ান্ত দূরত্ব বজায় রাখা, কারণ এটি সনদের শেষ প্রান্ত। অথবা এটি 'মুতান্তুল কাবশ' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো যখন তুমি ভেড়ার অণ্ডকোষের চামড়া চিরে তা বের করে আনো; যেন সনদ বর্ণনাকারী তার সনদের মাধ্যমে মতনকে বের করে এনেছেন। অথবা এটি 'মুতন' (মীম বর্ণে পেশ যোগে) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ জমিনের শক্ত ও উঁচু অংশ; কারণ সনদ বর্ণনাকারী সনদের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করেন এবং এর বক্তা পর্যন্ত উন্নীত করেন। অথবা এটি ধনুককে রগ বা শিরা দিয়ে মজবুত করা (তামতীন) থেকে এসেছে, কারণ সনদ বর্ণনাকারী সনদের মাধ্যমে হাদীসকে শক্তিশালী করেন। ('হাদীস' শব্দটি) হলো 'কাইয়্যাদু' (তারা সীমাবদ্ধ করেছেন) ক্রিয়ার অগ্রবর্তী কর্মপদ (মাফঊলে মুকাদ্দাম)। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'হাদ্দাদু' (তারা সংজ্ঞা দিয়েছেন) এসেছে। অর্থাৎ উলামায়ে কেরাম তাদের এই উক্তির মাধ্যমে: (যা নবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে), অর্থাৎ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে এবং উন্নীত করা হয়েছে। শাব্দিক অর্থে এটি 'কাদিম' (অনাদি)-এর বিপরীত, যা স্বল্প বা অধিক সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি পর্যায়ক্রমে নতুনভাবে সৃষ্টি হয়। আর পারিভাষিক অর্থে তাই, যা তিনি কবিতায় উল্লেখ করেছেন: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

(কথা বা বাণী) যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"। এটি 'হাল' হিসেবে মানসূব হয়েছে, অথবা উহ্য 'কানা' ক্রিয়ার খবর হিসেবে (অর্থাৎ: চাই তা তাঁর কথা হোক), অথবা উহ্য কোনো ক্রিয়ার কর্মপদ হিসেবে (অর্থাৎ: আমি তাঁর কথাকে বোঝাচ্ছি)। আর তাঁর কথা: (অথবা কাজ) এর ওপর সংযুক্ত (আতফ) হয়েছে, যেমন সওয়ারির পিঠ যেদিকেই ফিরুক না কেন তার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নফল সালাত আদায় করা। আর তাঁর কথা: (এবং সম্মতি) এটি 'কওলান' (কথা)-এর ওপর সংযুক্ত হয়েছে, এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'অথবা' অর্থে ব্যবহৃত। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে খালিদ বিন ওয়ালীদ-এর গুই সাপ ভক্ষণ করা এবং তাতে তাঁর সম্মতি জ্ঞাপন করা। তাঁর কথা: (এবং অনুরূপ কিছু) এটি 'কওলান'-এর ওপর সংযুক্ত অথবা 'হাকাও' (তারা বর্ণনা করেছেন) ক্রিয়ার অগ্রবর্তী কর্মপদ। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'রাওয়াও' (তারা বর্ণনা করেছেন) এসেছে। অর্থাৎ হাফেজ উলামায়ে কেরাম তা বর্ণনা করেছেন। প্রথম বর্ণনা অনুযায়ী বাক্যটি প্রারম্ভিক (মুসতা'নাফাহ), যা ছন্দের পূর্ণতার জন্য আনা হয়েছে। 'অনুরূপ কিছু'-এর উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শারীরিক গুণাবলি (খালকিয়্যাহ—খ-এর ওপর ফাতহা যোগে), যেমন তাঁর গায়ের রঙ ছিল ধবধবে সাদা, তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ ছিলেন না এবং অতিরিক্ত খাটোও ছিলেন না। আর চারিত্রিক গুণাবলি (খুলুকিয়্যাহ—খ ও ল-এর ওপর পেশ যোগে), যেমন তিনি কারো সাথে এমনভাবে কথা বলতেন না যা দিয়ে...
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৫)
يكْرَهُ، ومنه هَمُّه صلى الله عليه وسلم كهمه تنكيس ردائه في الاستسقاء، ودخول مكة من الحديبية، ومعاقبة المتخلفين عن الجماعة بالإحراق.

 

11 - وَقِيلَ: لا يَخْتَصُّ بِالمَرْفُوعِ … بَلْ جَاءَ لِلمَوْقُوفِ وَالمَقْطُوعِ

12 - فَهْوَ عَلَى هَذَا مُرادِفُ الْخَبَرْ … وَشَهَّرُوا رَدْفَ الْحَدِيثِ الأَثَرْ

 

(وقيل) أي قال بعض علماء هذا الفن (لا يختص) الحديث (بالمرفوع) إلى النبي صلى الله عليه وسلم (بل) يعمه وغيره، فإنه (جاء) إطلاقه (للموقوف) أي على الموقوف وهو ما أضيف إلى الصحابي قولا له أو نحوه كما يأتي في محله.

(والمقطوعِ) هو ما أضيف إلى التابعي كذلك (فهو) الفاء فصيحية وهو مبتدأ أي الحديث (على هذا) جار ومجرور حال منه أي حال كونه جاريا على هذا القول الثاني، أو متعلق بما بعده وقوله: (مرادف الخبر) خبر المبتدإ أي مترادف معه. وفي القاموس مع شرحه المترادف: أن تكون أسماء لشيء واحد وهي مولدة، ومشتقة من تراكب الأشياء اهـ.

والمعنى أن الحديث والخبَر على هذا القول بمعنى واحد (وشهَّروا) أي عَدَّ العلماءُ مشهورا (ردف) بالفتح، أي ترادف (الحديث والأثر) أي إتيان كل منهما بمعنى الآخر وكذا الخبر، وفي نسخة وشهَّروا شمول هذين الأثر، والمعنى واحد، وهذا القول هو المختار، وقيل: الخبر ما يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم، والأثر عن الصحابة، قيل: والتابعين، ومن بعدهم، وقيل: غيرُ ذلك. (تنبيه) ما ذكر في هذه الأبيات السبعة من زيادات الناظم على العراقي إلا الشطر الأخير.

 

13 - وَالأَكْثَرُونَ قَسَّمُوا هَذِيْ السُّنَنْ … إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنْ

 

(والأكثرون) مبتدأ خبره قوله (قسموا) أَي نوعوا (هذي) اسم إشارة للمؤنث أشار به إلى ما هو معلوم حاضر في ذهن كل أحد. (السنن) جمع سنة بالضم فيهما، وهي لغة الطريقة، واصطلاحاً بمعنى الحديث المتقدم
এটি অপছন্দনীয়; এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করা—যেমন ইস্তিসকার (বৃষ্টি কামনার) সালাতে চাদর উল্টে দেওয়ার ইচ্ছা, হুদায়বিয়া থেকে মক্কায় প্রবেশ করার ইচ্ছা এবং জামাতে উপস্থিত না হওয়া ব্যক্তিদের পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা।

 

১১ - এবং বলা হয়েছে: এটি মারফূ-এর সাথে নির্দিষ্ট নয়... বরং এটি মাওকৃষ্ণ এবং মাকতূ-এর জন্যও ব্যবহৃত হয়।

১২ - অতএব, এই মতানুসারে এটি 'খবর'-এর সমার্থক... আর তাঁরা হাদীস ও আসার-কে সমার্থক হিসেবে প্রসিদ্ধ করেছেন।

 

(এবং বলা হয়েছে) অর্থাৎ এই শাস্ত্রের কিছু আলেম বলেছেন (নির্দিষ্ট নয়) হাদীস (মারফূ-এর সাথে) যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে, (বরং) এটি একে এবং অন্য বিষয়কেও শামিল করে। কারণ এর ব্যবহার (মাওকৃষ্ণ-এর জন্য এসেছে) অর্থাৎ মাওকৃষ্ণ হাদীসের ক্ষেত্রে। আর তা হলো যা সাহাবীর কথা বা অনুরূপ কিছু হিসেবে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, যেমনটি স্বস্থানে আসবে।

(এবং মাকতূ) তা হলো যা একইভাবে তাবিঈর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। (অতএব এটি) এখানে 'ফা' বর্ণটি বর্ণনাপ্রাসঙ্গিক এবং 'এটি' শব্দটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য), অর্থাৎ হাদীস। (এই মতানুসারে) এটি জার ও মাজরুর হয়ে হাল (অবস্থা) হয়েছে, অর্থাৎ এই দ্বিতীয় মতের ওপর ভিত্তি করে; অথবা এটি পরবর্তী অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর তাঁর কথা: ('খবর'-এর সমার্থক) এটি মুক্তাদার খবর (বিধেয়), অর্থাৎ এটি খবরের সমার্থক। আল-কামুস ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আছে যে, 'মুতারা দিফ' (সমার্থক) হলো: একই বস্তুর জন্য একাধিক নাম হওয়া; এটি একটি পরবর্তীকালে উদ্ভূত শব্দ এবং বস্তুর স্তূপীকরণ বা সমন্বয় থেকে ব্যুৎপন্ন। ইতি।

অর্থ হলো—এই মত অনুযায়ী হাদীস ও খবর একই অর্থবোধক। (আর তাঁরা প্রসিদ্ধ করেছেন) অর্থাৎ আলেমগণ একে প্রসিদ্ধ হিসেবে গণ্য করেছেন (সমার্থকতা) অর্থাৎ হাদীস ও আসার-এর সমার্থকতা। অর্থাৎ এদের প্রতিটি একে অপরের অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং খবরের ক্ষেত্রেও তাই। অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে যে, তাঁরা এই দুটির অন্তর্ভুক্তিতে 'আসার' শব্দটিকে প্রসিদ্ধ করেছেন, তবে অর্থ একই। আর এই মতটিই হলো পছন্দনীয় (মুখতার)। আবার বলা হয়েছে: 'খবর' হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়, আর 'আসার' হলো যা সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত হয়। কেউ কেউ তাবিঈন এবং তাঁদের পরবর্তীগণের বর্ণনাকেও আসার বলেছেন। আবার এর বাইরেও মতামত রয়েছে। (সতর্কবার্তা) এই সাতটি কবিতায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হাফেজ ইরাকীর ওপর গ্রন্থকারের বর্ধিত অংশ, শেষ চরণটি ব্যতীত।

 

১৩ - এবং অধিকাংশ (আলেম) এই সুন্নাহসমূহকে... সহীহ, যয়ীফ ও হাসান—এই ভাগে বিভক্ত করেছেন।

 

(এবং অধিকাংশগণ) এটি মুক্তাদা যার খবর হলো (বিভক্ত করেছেন) অর্থাৎ প্রকারভেদ করেছেন। (এই) এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক ইশারা (নির্দেশক শব্দ), যার মাধ্যমে প্রত্যেকের মনে উপস্থিত সুপরিচিত বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। (সুন্নাহসমূহ) এটি 'সুন্নাহ' শব্দের বহুবচন; যা আভিধানিক অর্থে পদ্ধতি বা পথ, আর পারিভাষিক অর্থে ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদীসের অর্থেই ব্যবহৃত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৬)
تعريفه (إلى صحيح وضعيف وحسن) متعلق بقسموا، والمعنى: أن أكثر أهل الحديث قسموا الحديث إلى ثلاثة أقسام صحيح، وضعيف، وحسن.

وانما قيد بالأكثر الذي زاده على العراقي تنكيتاً على من أطلقه، لأن فيه خلافاً فإن بعضهم قال: الحديث صحيح وضعيف فقط، والحسن مندرج في أنواع الصَّحِيح.

وأدرج الضَّعِيف في السنن تغليباً، وإلا فهو لايسمى بسنة، وقدمه على الحسن للضرورة أو لمراعات المقابلة بينه وبين الصَّحِيح، أو لملاحظة صنع الأكثرين. ثم ذكر القسم الأول بقوله:
এর সংজ্ঞা (সহীহ, যয়ীফ ও হাসান-এর দিকে) 'তারা ভাগ করেছেন' পদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর অর্থ হলো: অধিকাংশ হাদীস বিশারদ হাদীসকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন—সহীহ, যয়ীফ এবং হাসান।

আর তিনি 'অধিকাংশ' কথাটি যুক্ত করে যে সীমাবদ্ধতা এনেছেন—যা তিনি আল-ইরাকির বর্ণনার ওপর অতিরিক্ত যোগ করেছেন—তা মূলত তাদের ওপর সূক্ষ্ম সমালোচনা বা আপত্তি হিসেবে যারা বিষয়টিকে নিঃশর্তভাবে ব্যক্ত করেছেন। কারণ এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; কেননা তাদের কেউ কেউ বলেছেন: হাদীস কেবল সহীহ এবং যয়ীফ—এই দুই প্রকার, আর হাসান মূলত সহীহ হাদীসের প্রকারভেদেরই অন্তর্ভুক্ত।

আর তিনি প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে 'সুনান'-এর মধ্যে যয়ীফকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, নতুবা একে সুন্নাহ বলা হয় না। আর তিনি একে হাসানের পূর্বে উল্লেখ করেছেন বিশেষ প্রয়োজনে, অথবা সহীহের বিপরীতে এর অবস্থানের প্রতি লক্ষ্য রেখে, অথবা অধিকাংশ মুহাদ্দিসের কর্মপদ্ধতি অনুসরণের নিমিত্তে। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথম প্রকারটি উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌(الصَّحِيح)

أي هذا مبحثه وهو الأول من أنواع علوم الحديث وهو لغة ضِدُّ السقيم وقدمه لشرفه.

 

14 - حَدُّ الصَّحِيحِ: مُسنَدٌ بِوَصْلِهِ … بِنَقْلِ عَدْلٍ ضَابِطٍ عَنْ مِثْلِهِ

 

(حد الصَّحِيح) اصطلاحاً (مسند) أي حديث مرفوع إلى قائله (بوصله) أي مع وصل سنده، أو بسبب وصله، فخرج به المنقطع، والمعضل، والمرسل، والمعلق، على تفصيل يأتي، (بِنَقْلِ عَدْلٍ) أي مع نقل عدل، أو بسبب نقله، وهو: من له مَلَكَة تحمله على ملازمة التقوى، والمرؤة، وخرج به ما في سنده ضعيف، أو مجهول، (ضابط) أي حازم ضَبْطَ صدرٍ، وهو اثبات ما سمعه حتى يتمكن من استحضاره متى شاء حتى يؤديه، وضبط كتاب وهو صونه عن تطرق الخلل إليه من حين سماعه إلى وقت أدائه. والمراد تمامُ الضبط لئلا يدخل في التعريف الحسن لذاته، وخرج به ما في سنده راوٍ مُغَفلٌ كثيرُ الخطأ في روايته، وإن عُرِفَ بالصدق، والعدالة. وقوله: (عن مثله) أي عن العدل الضابط تصريح بما فهم مما قبله توضيحا.

وحاصل معنى البيت أن حد الصَّحِيح هو الحديث الذي اتصل إسناده مع عدالة ناقله وضبطه.
‌(সহীহ)

অর্থাৎ এটি এর আলোচনার বিষয় এবং এটি হাদীস বিজ্ঞানের প্রকারসমূহের মধ্যে প্রথম। আভিধানিক অর্থে এটি 'সাকীম' বা রুগ্ণ-এর বিপরীত। এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে একে সর্বাগ্রে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

১৪ - সহীহ-এর সংজ্ঞা: এটি এমন মুসনাদ যা তার সংযোগের দ্বারা... এবং যা একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী তার অনুরূপ ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেন।

 

পারিভাষিক অর্থে (সহীহ-এর সংজ্ঞা) হলো (মুসনাদ), অর্থাৎ এমন হাদীস যা এর বক্তা পর্যন্ত উন্নীত। (তার সংযোগের দ্বারা) অর্থাৎ এর সনদের সংযোগসহ অথবা এর সংযোগের কারণে। এর মাধ্যমে মুনকাতি‘ (বিচ্ছিন্ন), মু‘দাল (জটিল), মুরসাল এবং মু‘আল্লাক হাদীসগুলো বের হয়ে গেছে, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে। (ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনায়) অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে অথবা তার বর্ণনার কারণে। আর তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার মধ্যে এমন এক বিশেষ চারিত্রিক গুণ বিদ্যমান যা তাকে সর্বদা তাকওয়া ও মনুষ্যত্ব বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। এর মাধ্যমে সেই হাদীসগুলো বের হয়ে গেছে যার সনদে কোনো দুর্বল বা অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে। (স্মৃতিশক্তিতে প্রখর) অর্থাৎ যিনি মুখস্থ রক্ষায় দৃঢ়। অন্তরে মুখস্থ রাখা হলো যা কিছু তিনি শুনেছেন তা এমনভাবে গেঁথে নেওয়া যাতে যখনই ইচ্ছা করবেন তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হন এবং তা যথাযথভাবে বর্ণনা করতে পারেন। আর কিতাব বা লেখনীর মাধ্যমে সংরক্ষণ হলো শ্রবণের সময় থেকে শুরু করে বর্ণনা করার সময় পর্যন্ত তাতে কোনো প্রকার ত্রুটি প্রবেশ করা থেকে একে রক্ষা করা। এখানে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তি উদ্দেশ্য, যাতে করে সংজ্ঞার মধ্যে 'হাসান লি-জাতিহি' হাদীস অন্তর্ভুক্ত না হয়। এর মাধ্যমে সেই হাদীস বাদ পড়েছে যার সনদে এমন অসতর্ক বর্ণনাকারী রয়েছে যার বর্ণনায় ভুল অধিক, যদিও সে সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য পরিচিত। আর তাঁর উক্তি: (তার অনুরূপ ব্যক্তির নিকট থেকে) অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে; এটি পূর্বের বক্তব্য থেকে যা বোঝা গিয়েছিল তারই একটি সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বর্ণনা।

কবিতার পংক্তির সারকথা হলো, সহীহ-এর সংজ্ঞা হচ্ছে এমন হাদীস যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন এবং যার বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৮)
15 - ولَمْ يَكُنْ شَذَّ وَلا مُعَلَّلا … والحُكْمُ بِالصَّحَةِوَالضَّعْفِ عَلَى

16 - ظاهِرِهِ، لاالقَطْعِ، إِلَاّ مَاحَوَى … كِتابُ مُسلِمٍ أَوِ الجُعْفِي سِوَى

17 - ما انْتَقَدُوا فَابْنُ الصَّلاحِ رَجَّحَا … قَطْعًا بِهِ، وَكَمْ إِمَامٍ جَنَحَا

18 - والنَّوَوِيْ رَجَّحَ فِي التَّقْرِيبِ … ظَنًّا بِهِ، وَالقَطْعُ ذُو تَصْوِيبِ

 

(ولم يكن) الحديث المذكور (شَذَّ) فعل ماض خبر يكن وقوله (ولا معللا) عطف على الخبر، والجملة عطف على خبر المبتدإ والمعنى: أن الحديث المذكور غير شاذ، وهو ما يخالف فيه الثقة من هو أرجح منه، ولا معللٌ، وهو ما ظاهره الصحة، وبعد التفتيش اطلع على علة قادحة فيه فخرج الشَّاذ، والمعلل، والحاصل أن شروط الحديث الصَّحِيح خمسة: اتصال السَّند، وعدالة الناقل، وضبطه، وعدم الشذوذ، وعدم العلة، فإذا حصلت هذه الشروط حكمنا له بالصحة، وها هنا فوائد مهمة ذكرتها في الشرح الكبير ثم إن هذا الحكم على الظاهر لا على نفس الأمر، كما ذكره بقوله (والحكم) مبتدأ (بالصحة) متعلق به أي وكذا بالحسن (والضعف) بالفتح والضم (على ظاهره) جار ومجرور خبر المبتدإ، أي حكم المحدثين على الحديث بالصحة والضعف وكذا الحسن فيما يظهر لهم عملا بظاهر الإسناد، حيث اجتمعت فيه الشروط. (لا القطع) مجرور عطفاً على ظاهِرهِ أي ليس الحكم على القطع في نفس الأمر، لجواز الخطأ والنسيان على الثقة، والصدق والإصابة على الكاذب، ومن هو كثير الخطأ.

وحاصل المعنى: أنه إذا قيل هذا الحديث صحيح فمعناه أنه اتصل سنده مع باقي الشروط المذكورة فيجب العمل به عملاً بظاهر الإسناد وكذا الحسن، وإذا قيل هذا حديث ضعيف فمعناه أنه لم يصح سنده على الشروط المذكورة فلا يعمل به وليس المراد أنه كذلك في نفس الأمر.

وهذا هو الصَّحِيح عند أكثر أهل العلم وقيل: إن خبر الواحد يوجب العلم، ثم ذكر استثناء أحاديث الشيخين أو أحدهما بقوله:

(إلا ما) أي الحديث الذي (حوى) أي جمعه يقال حويت الشيء
১৫ - এবং এটি যেন 'শায' (বিচ্ছিন্ন) না হয় এবং 'মুআল্লাল' (ত্রুটিযুক্ত) না হয় … আর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার বিধান প্রদান করা হয়

১৬ - এর বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, অকাট্যতার ভিত্তিতে নয়; কেবল তা ব্যতীত যা ধারণ করেছে … মুসলিম অথবা জু'ফীর (বুখারী) কিতাব, সেই অংশ বাদে

১৭ - যা নিয়ে তারা সমালোচনা করেছেন; অতঃপর ইবনুস সালাহ প্রাধান্য দিয়েছেন … এ ব্যাপারে অকাট্যতার বিষয়টিকে, এবং কতো ইমামই না এর দিকে ঝুঁকেছেন

১৮ - এবং ইমাম নববী 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে প্রাধান্য দিয়েছেন … একে প্রবল ধারণা হিসেবে গণ্য করতে, তবে অকাট্য মনে করাটাই সঠিক

 

(এবং হয়নি) উল্লিখিত হাদিসটি (শায); এটি অতীতকালের ক্রিয়া যা 'ইয়াকুন'-এর খবর। আর তাঁর উক্তি (এবং মুআল্লাল নয়) খবরের ওপর সংযোজিত। এই বাক্যটি মুক্তাদার খবরের ওপর সংযোজিত। এর অর্থ হলো: উল্লিখিত হাদিসটি 'শায' নয়। আর 'শায' হলো তা, যাতে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন। এবং তা 'মুআল্লাল' নয়। আর 'মুআল্লাল' হলো সেই হাদিস যার বাহ্যিক দিকটি বিশুদ্ধ মনে হয়, কিন্তু অনুসন্ধানের পর তাতে এমন কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি প্রকাশ পায় যা তার বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে 'শায' এবং 'মুআল্লাল' হাদিস (সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা থেকে) বের হয়ে গেল। সারকথা হলো, সহিহ হাদিসের শর্ত পাঁচটি: সনদের ধারাবাহিকতা, বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা, তার নির্ভুলতা, শায না হওয়া এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি না থাকা। যখন এই শর্তগুলো অর্জিত হবে, তখন আমরা একে বিশুদ্ধ বলে বিধান দেব। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে যা আমি 'শারহুল কাবীর'-এ উল্লেখ করেছি। অতঃপর এই বিধানটি বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, বিষয়টির চূড়ান্ত হাকিকত বা বাস্তবতার ওপর নয়; যেমনটি তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: (এবং বিধান) এটি মুক্তাদা, (বিশুদ্ধতার মাধ্যমে) এর সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ অনুরূপভাবে 'হাসান' এবং (দুর্বলতা) 'ফাতহ' ও 'দাম্মাহ' উভয়ভাবে পঠিত হয়, (তার বাহ্যিক অবস্থার ওপর) এটি যার-মাজরুর যা মুক্তাদার খবর। অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের কোনো হাদিসের ওপর সহিহ, দুর্বল বা হাসানের বিধান প্রদান করা হয় তাদের নিকট যা প্রকাশ পায় তার ওপর ভিত্তি করে, যা সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর আমল করার মাধ্যমে হয়, যেখানে শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকে। (অকাট্যভাবে নয়) এটি 'যহিরিহি'র ওপর সংযোজিত হওয়ার কারণে মাজরুর। অর্থাৎ বিষয়টির চূড়ান্ত বাস্তবতার ক্ষেত্রে এই বিধান অকাট্য নয়; কারণ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও ভুল বা বিস্মৃতি ঘটা সম্ভব, আবার একজন মিথ্যাবাদী বা অত্যধিক ভুলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সত্য বলা বা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সারকথা হলো: যখন বলা হয় "এই হাদিসটি সহিহ", তখন তার অর্থ হলো এর সনদটি উল্লিখিত অন্যান্য শর্তাবলির সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত, তাই সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে 'হাসান' হাদিসের ক্ষেত্রেও। আর যখন বলা হয় "এটি দুর্বল হাদিস", তখন তার অর্থ হলো উল্লিখিত শর্তানুযায়ী এর সনদটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়নি, তাই এর ওপর আমল করা যাবে না; এর অর্থ এই নয় যে এটি বাস্তব ক্ষেত্রেও অবিকল তেমন।

অধিকাংশ আলিমের নিকট এটিই সঠিক অভিমত। কেউ কেউ বলেছেন: খবরে ওয়াহিদ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। এরপর তিনি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাঁদের কোনো একজনের হাদিসসমূহকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে:

(তা ব্যতীত যা) অর্থাৎ সেই হাদিস যা (ধারণ করেছে) অর্থাৎ যা একত্র করেছে। বলা হয় 'আমি বস্তুটিকে ধারণ করেছি'।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৯)
أحويه حواية بالفتح، واحتويت عليه إذا ضممته واستوليت عليه اهـ المصباح. (كتاب) بالرفع فاعل حوى الإمامِ الحافظ الحجةِ أبي الحسين (مسلم) بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري، ولد سنة أربع ومائتين، وتوفي في الخامس والعشرين من رجب سنة إحدى وستين ومائتين، وقدم مسلماً مع أن عادتهم تقديم البخاري لجلالته، للنظم، (أو) بمعنى الواو، أي وكتاب الإمام الحافظ الحجة أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه (الجعفي) بضم الجيم وسكون العين، وخفف الياء هنا للوزن نسبة إلى يمان الجعفي وَالِي بُخَارَى ونسب إليه البخاري لأن المغيرة جده الأعلى أسلم على يديه فنسب إليه نِسبَةَ ولاء، ولد رحمه الله يوم الجمعة ثالث عشر شوال سنة أربع وتسعين ومائة، وتوفي يوم السبت غرة شوال سنة ست وخمسين ومائتين، عن اثنتين وستين سنة، إلا ثلاثة عشرة يوماً. وقد جمع بعضهم ميلاده وعمره وموته رامزاً في بيتين فقال من الكامل:

 

كَانَ البُخَارِيُّ حَافِظاً وَمُحَدِّثاً … جَمَعَ الصَّحِيحَ مُكَّمِّلَ التَّحْرِيرِ

مِيلَاده (صِدقٌ) (1) وَمُدَّةُ عمرِهِ … فِيهَا (حَمِيدٌ) (2) وَانْقَضَى فيِ (نُورِ) (3)

 

ثم إن هذا الاستثناء ليس على إطلاقه، بل هو لما لم ينتقد عليهما، وأما ما انتقد عليهما فأشار إليه بقوله:

(سوى ما) أي غيرَ الحديث الذي (انتقدوا) أي اعترض العلماء النُّقَّادُ على هذين الكتابين، كالدارقطني، وأبي مسعود الدمشقي، وأبي علي الغَسَّاني الجَيَّاني، وهي قليلة سيأتي عددها.

--------------------------------------------

(1) هذه إشارة إلى الرموز الأبجدية لمدَّة ميلاده فالصاد بتسعين، والدال بأربعة، والقاف بمائة، فتصير (194).

(2) إشارة لمدة عمره، فالحاء: بثمانية، والميم بأربعين، والياء بعشرة، والدال بأربعة، فالمجموع (62).

(3) إشارة لموته، فالنون بخمسين، والواو بستة، والراء بمائتين، فالمجموع (256).
‘হাওয়া’ শব্দটি যবর দিয়ে পড়তে হয়, যার অর্থ হলো ধারণ করা। আর ‘আমি কোনো কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি’ (আহতাওয়াইতু আলাইহি) কথাটি তখন বলা হয় যখন আমি তা একত্রিত করি এবং তার ওপর কর্তৃত্ব লাভ করি। (আল-মিসবাহ গ্রন্থ থেকে সমাপ্ত)। (কিতাব বা বই) শব্দটি পেশসহকারে ‘হাওয়া’ ক্রিয়ার কর্তা। এটি হলো ইমাম, হাফিজ, হুজ্জাত আবুল হুসাইন (মুসলিম) ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নাইসাবুরীর কিতাব। তিনি ২০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬১ হিজরির ২৫শে রজব মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এখানে মুসলিমের উল্লেখ আগে করেছেন, যদিও ইমাম বুখারীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাকে আগে উল্লেখ করার রেওয়াজ রয়েছে; মূলত কাব্যের ছন্দের প্রয়োজনেই তিনি এমনটা করেছেন। (অথবা) শব্দটি এখানে ‘এবং’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এবং ইমাম, হাফিজ, হুজ্জাত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ (আল-জুফী)-এর কিতাব। জুফী শব্দটি জীম অক্ষরে পেশ এবং আইন অক্ষরে সাকিন দিয়ে পড়তে হয়। কাব্যের ছন্দের খাতিরে এখানে ‘ইয়া’ অক্ষরটিকে হালকা (তাসদীদ ছাড়া) করা হয়েছে। এটি বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জুফীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। ইমাম বুখারীকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয় কারণ তাঁর ঊর্ধ্বতন দাদা মুগীরা তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, ফলে ‘বিলা’ (আনুগত্যের সম্পর্ক) হিসেবে তিনি সেই বংশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ১৯৪ হিজরির ১৩ই শাওয়াল জুমাবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরির পহেলা শাওয়াল শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেরো দিন কম বাষট্টি বছর। কেউ কেউ তাঁর জন্মসাল, বয়স এবং মৃত্যুসালকে দুটি পঙক্তিতে সঙ্কেত আকারে সংকলন করেছেন। কামিল ছন্দে তিনি বলেন:

 

বুখারী ছিলেন এক মহান হাফিজ ও মুহাদ্দিস … অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তিনি সহীহ হাদিস সংকলন করেছেন

তাঁর জন্ম ‘সিদক’ (সত্যতা) শব্দে (১) এবং তাঁর আয়ুষ্কাল … তাতে রয়েছে ‘হামিদ’ (প্রশংসিত) (২) আর তাঁর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে ‘নূর’ (জ্যোতি)-তে (৩)

 

এরপর জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এই ব্যতিক্রমটি শর্তহীন নয়, বরং তা কেবল ঐসব হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা সমালোচিত হয়নি। আর যেসব হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন:

(তা বাদে যা) অর্থাৎ সেই হাদিসগুলো ব্যতীত যা (সমালোচনা করা হয়েছে) অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ আলেমগণ এই দুটি কিতাবের ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন। যেমন আদ-দারাকুতনী, আবু মাসউদ আদ-দিমাশকী এবং আবু আলী আল-গাসসানী আল-জাইয়ানী। এগুলোর সংখ্যা খুবই কম, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।

--------------------------------------------

(১) এটি তাঁর জন্মসালের আবজাদ সাংকেতিক চিহ্নের প্রতি ইঙ্গিত। এখানে ‘সোয়াদ’ মানে ৯০, ‘দাল’ মানে ৪ এবং ‘ক্বাফ’ মানে ১০০; ফলে যোগফল হয় (১৯৪)।

(২) এটি তাঁর আয়ুষ্কালের প্রতি ইঙ্গিত। এখানে ‘হা’ মানে ৮, ‘মীম’ মানে ৪০, ‘ইয়া’ মানে ১০ এবং ‘দাল’ মানে ৪; ফলে মোট যোগফল হয় (৬২)।

(৩) এটি তাঁর মৃত্যুসালের প্রতি ইঙ্গিত। এখানে ‘নূন’ মানে ৫০, ‘ওয়াও’ মানে ৬ এবং ‘রা’ মানে ২০০; ফলে মোট যোগফল হয় (২৫৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২০)
(فا) الإمام الحافظ تقى الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن الشهْرَزُوِري، ثم الدمشقي المعروف بابن (الصلاح) لقبُ أبيه صلاح الدين. توفي ابن الصلاح رحمه الله سنة إحدى وأربعين وستمائة. (رجحا) بألف الإطلاق من الترجيح يقال رجحت الشيء بالتثقيل فضَّلتُة وَقوَّيتُهُ. اهـ. المصباح. (قطعا) مفعولُ رجَّحَ، أي إفادة قطع (به) أي بما حواه الكتابان، والمعنى: أن الإمام ابن الصلاح رحمه الله رجح إفادة ما في هذين الكتابين مما لم ينتقد عليهما العلم اليقيني النظريَّ المقطوع بصدقه. وهذا دون التعليقات والموقوفات والمقاطيع فسيأتي حكمها. (وكم) خبرية بمعنى كثير مبتدأ (إمام) مضاف إليه (جنحا) أي مال إليه، والألف إطلاقية. والجملة خبر (كم)، أي كثير من الأئمة مال إلى رأي ابن الصلاح، فمنهم من سبقه كالإمام محمد بن طاهر المقدسي، وأبي نصر عبد الرحيم بن عبد الخالق بن يوسف، ومنهم من أتى بعده كالإمام ابن كثير، والناظم كما يأتي، وحكى ابن كثير أن الإمام ابن تيمية رحمه الله حكى ذلك عن أهل الحديث، وعن السلف وجماعة من الشافعية، والحنابلة، والأشاعرة والحنفية، وغيرهم.

(والنووي) بتخفيف الياء للوزن مبتدأ وهو الإمام محي الدين أبو زكريا يحيى بن شرف بن مُرِّي الحِزاميُّ الشافعي المولود سنة إحدى وثلاثين وستمائة، والمتوفى ليلة الأربعاء رابع عشر رجب سنة ست وسبعين وستمائة على المشهور، عن خمس وأربعين سنة، رحمه الله تعالى.

(رجح في التقريب) خبر المبتدإ أي قَوَّى في كتابه المسمى بالتقريب، المختصرِ من الإرشاد له المختصرِ من علوم الحديث لابن الصلاح. (ظناً) مفعول رجح أي إفادَةَ ظنِّ (به) متعلق بظن أي بما حواه الكتابان قال رحمه الله: خالف ابنَ الصلاح المحققون والأكثرون فقالوا يفيد الظن ما لم يتواتر قال لأن ذلك شأن الآحاد، ولا فرق في ذلك بين الشيخين وغيرهما لكن الصواب ما تقدم لابن الصلاح كما أشار إليه الناظم بقوله: (والقطع ذو تصويب) مبتدأ وخبر، أي القول بإفادة ما في هذين الكتابين القطعَ بصدقه صاحبُ صواب، يقال: صوبت قوله قلت إنه
(ফা) ইমাম হাফেজ তকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আশ-শাহরাজুরি, অতঃপর আদ-দামাশকি, যিনি ইবনে (আস-সালাহ) নামে পরিচিত; তাঁর পিতার লকব ছিল সালাহুদ্দীন। ইবনে আস-সালাহ রহিমাহুল্লাহ ৬৪১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (রাজ্জাহা) এটি আত-তারজিহ (প্রাধান্য দেওয়া) শব্দ থেকে আলফে ইতলাকসহ গঠিত। বলা হয় 'রাজ্জাহতুশ শাইআ' অর্থাৎ আমি একে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি এবং শক্তিশালী করেছি। সমাপ্ত। আল-মিসবাহ। (কত্বআন) এটি 'রাজ্জাহা' ক্রিয়ার মাফউল (কর্মপদ), অর্থাৎ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করা। (বিহি) অর্থাৎ এই দুই কিতাব যা অন্তর্ভুক্ত করেছে তার দ্বারা। এর অর্থ হলো: ইমাম ইবনে আস-সালাহ রহিমাহুল্লাহ এই দুই কিতাবের ঐ সকল বিষয় যা সমালোচিত হয়নি, সেগুলোকে সুনিশ্চিত তাত্ত্বিক জ্ঞান হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যার সত্যতা অকাট্য। আর এটি তালিফাত (ঝুলন্ত বর্ণনা), মাওকুফাত (সাহাবীর বর্ণনা) এবং মাক্বাতি (তাবেয়ীদের বর্ণনা) ব্যতীত; এগুলোর বিধান সামনে আসবে। (ওয়া কাম) এটি খবরিয়া 'কাম' যা 'অনেক' অর্থে মুবতাদা (উদ্দেশ্য)। (ইমামিন) এটি মুদাফ ইলাইহি। (জানাহা) অর্থাৎ এর দিকে ঝুঁকেছেন, আর এর আলিফটি ইতলাকি। এই বাক্যটি 'কাম'-এর খবর (বিধেয়), অর্থাৎ অনেক ইমাম ইবনে আস-সালাহ-এর মতামতের দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর পূর্ববর্তী ছিলেন, যেমন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি এবং আবু নাসর আব্দুর রহিম ইবনে আব্দুল খালিক ইবনে ইউসুফ। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর পরবর্তীকালে এসেছেন, যেমন ইমাম ইবনে কাসীর এবং গ্রন্থকার (নাজিম), যা সামনে আসবে। ইবনে কাসীর বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ এটি আহলে হাদিস, সালাফ এবং শাফেয়ী, হাম্বলী, আশআরী ও হানাফী মাযহাবের একদল আলিম ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

(আন-নাওয়াবী) ছন্দের প্রয়োজনে 'ইয়া' বর্ণটি হালকাভাবে পড়া হয়েছে, এটি মুবতাদা। তিনি হলেন ইমাম মুহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররি আল-হিযামি আশ-শাফেয়ী। তিনি ৬৩১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রসিদ্ধ মতানুসারে ৬৭৬ হিজরি সনের ১৪ই রজব বুধবার দিবাগত রাতে ৪৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

(রাজ্জাহা ফিত তাকরিব) এটি মুবতাদার খবর, অর্থাৎ তিনি তাঁর 'আত-তাকরিব' নামক গ্রন্থে একে শক্তিশালী করেছেন, যা তাঁরই রচিত 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার এবং 'আল-ইরশাদ' হলো ইবনে আস-সালাহ-এর 'উলুমুল হাদিস' থেকে সংক্ষেপিত। (জান্নান) এটি 'রাজ্জাহা' এর মাফউল, অর্থাৎ প্রবল ধারণা প্রদান করা। (বিহি) এটি 'জান'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ এই দুই কিতাব যা অন্তর্ভুক্ত করেছে তার দ্বারা। তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেন: মুহাক্কিকগণ এবং অধিকাংশ আলিম ইবনে আস-সালাহ-এর বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, যা মুতাওয়াতির নয় তা 'জান' (প্রবল ধারণা) প্রদান করে। তিনি বলেন, কারণ এটি 'আহাদ' বর্ণনার বৈশিষ্ট্য। আর এ ক্ষেত্রে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু সঠিক মত হলো ইবনে আস-সালাহ যা পূর্বে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি গ্রন্থকার (নাজিম) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইশারা করেছেন: (ওয়াল ক্বতউ যু তাসউইব) এটি মুবতাদা ও খবর, অর্থাৎ এই দুই কিতাবে যা রয়েছে তা সত্য হওয়ার ব্যাপারে অকাট্যতার (ক্বতউ) প্রবক্তাই সঠিক মতের অধিকারী। বলা হয়: আমি তাঁর কথাকে সঠিক বলেছি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২১)
صواب، والصواب ضد الخطأ أفاده في المصباح، فتصويب بمعنى صواب إطلاقاً للمسبب على السبب.

وحاصل المعنى: أن القول بالقطع وهو قول ابن الصلاح هو الصواب.

قال ابن كثير: وأنا مع ابن الصلاح فيما عَوَّل عليه، وأرشد إليه، وقال الناظم: وهو الذي أختارُه ولا أعتقد سواه. اهـ. تدريب.

ثم إن ما ذكر من الشروط الخمسة للصحيح هو المعول عليه، وزاد عليه بعض من لا يعتد بقوله اشتراط تعدد الرواة وإلى رد ذلك أشار بقوله:

 

19 - وَلَيْسَ شَرْطًا عَدَدٌ، وَمَنْ شَرَطْ … رِوَايَةَ اثْنَيْنِ فَصَاعِدًا غَلَطَ

 

(وليس شرطاً) خبر ليس مقدم على اسمها وهو (عدد) أي رواية متعدد أي ليس تعدد الرواة شرطاً في صحة الحديث بل المعتبر فيه هي الشروط الخمسة المتقدمة سواء رواه متعددون، أم لا؟ (ومن) شرطية، أو موصولة مبتدأ (شرط) من بابي ضرب وقتل، في صحة الحديث (روايةَ اثنين) من الرواة (فصاعداً) أي حال كونه زائداً على ذلك (غلط) بكسر اللام جواب الشرط، أو خبر المبتدإ يقال: غَلِطَ في منطقه كفَرِح أخطأ وجهَ الصواب، لكن يلزم على هذا عيب السناد، وهو وإن كان جائزاً للمولدين فالأولى جعل غلط بفتح اللام مصدراً على حذف مضاف خبر مبتدأ محذوف مع الرابط أي فهو ذو غلط، هذا في الشوطية، وأما في الموصولة فهو خبرُ مَن على حذف مضاف أيضاً أي الذي شرط في صحة الحديث رواية راويين فصاعداً ذو غلط. وهذا القول. محكي عن ابن علية، وبعض المعتزلة.

 

20 - والوَقْفُ عَنْ حُكْمٍ لِمَتْنٍ أَوْ سَنَدْ … بِأَنَّهُ أَصَحُّ مُطلَقًا أَسَدْ

 

(والوقف) مبتدأ أي التوقف (عن حكم) متعلق به (لمتن أو سند) متعلق بحكم (بأنه أصح) من غيره متعلق بحكم أيضاً (مطلقاً) حال من حكم أي حال كون الحكم على سبيل الإطلاق أي من غير تقييد بصحابي
সঠিক, এবং 'সঠিক' হলো ভুলের বিপরীত, যেমনটি আল-মিসবাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তাসউইব (সঠিক বলা) শব্দটি 'সঠিক' অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে কারণকে ফলাফলের মাধ্যমে প্রকাশ করার রীতি অনুযায়ী।

সারকথা হলো: নিশ্চিত হওয়ার অভিমতটিই সঠিক, যা ইবনুল সালাহর মত।

ইবনে কাসীর বলেন: "আমি ইবনুল সালাহর সেই মতের সাথেই আছি যার ওপর তিনি নির্ভর করেছেন এবং যার প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।" কবি বলেছেন: "আমি এটিই নির্বাচন করেছি এবং এর বাইরে অন্য কিছু বিশ্বাস করি না।" ইতি - তাদরীীব।

অতঃপর সহীহ হাদীসের জন্য যে পাঁচটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে সেটিই নির্ভরযোগ্য। যার কথা ধর্তব্য নয় এমন কেউ কেউ রাবীর সংখ্যার আধিক্যকে শর্ত হিসেবে যোগ করেছেন। কবির নিম্নোক্ত উক্তিতে তারই খণ্ডন করা হয়েছে:

 

১৯ - সংখ্যা কোনো শর্ত নয়, এবং যে ব্যক্তি দুই বা ততোধিক রাবীর বর্ণনাকে শর্তারোপ করেছে সে ভুল করেছে।

 

(এবং শর্ত নয়) এখানে 'লাইসা'-এর খবরটি তার ইসমের (নামের) আগে এসেছে, আর সেই ইসমটি হলো (সংখ্যা) অর্থাৎ রাবীর সংখ্যার আধিক্য। এর অর্থ হলো, হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য রাবীর সংখ্যা একাধিক হওয়া শর্ত নয়, বরং এতে বিবেচ্য বিষয় হলো উপরে বর্ণিত পাঁচটি শর্ত, চাই সেটি একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করুক বা না করুক। (এবং যে) এটি শর্তবাচক বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় ও মুবতাদা। (শর্তারোপ করেছে) 'দরবা' এবং 'কাতালা' বাব থেকে, হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে (দুইজনের বর্ণনা) রাবীদের মধ্য থেকে (বা ততোধিক) অর্থাৎ এর চেয়েও বেশি হওয়ার অবস্থায়। (ভুল করেছে) 'লাম' বর্ণে কাসরাহ (জের) সহকারে, এটি শর্তের জবাব অথবা মুবতাদার খবর। বলা হয়: সে তার বক্তব্যে ভুল করেছে—যেমন 'ফারিহা' বাব থেকে; অর্থাৎ সে সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে। তবে এতে 'আইবুল সিনাদ' (ছন্দগত দোষ) দেখা দেয়। যদিও পরবর্তী কবিদের ক্ষেত্রে এটি জায়েজ, তবুও 'গলাত' শব্দটিকে 'লাম' বর্ণে ফাতহা (যবর) সহকারে মাসদার হিসেবে গণ্য করাই উত্তম, যা একটি উহ্য মুদাফ সহ বিলুপ্ত মুবতাদার খবর হবে; অর্থাৎ 'সেটি ভুলযুক্ত'। এটি শর্তবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে। আর সম্বন্ধবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে এটি 'মান'-এর খবর, এখানেও উহ্য মুদাফ রয়েছে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য দুই বা ততোধিক রাবীর বর্ণনাকে শর্তারোপ করেছে সে ভুলকারী। এই মতটি ইবনে উলাইয়্যা এবং কিছু মুতাজিলা থেকে বর্ণিত হয়েছে।

 

২০ - কোনো মতন বা সনদের ক্ষেত্রে শর্তহীনভাবে এটিই 'সর্বাধিক বিশুদ্ধ'—এমন হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকাই অধিক সমীচীন।

 

(বিরত থাকা) এটি মুবতাদা, অর্থাৎ থেমে যাওয়া। (হুকুম দেওয়া থেকে) এটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট। (মতন বা সনদের জন্য) এটি হুকুমের সাথে সংশ্লিষ্ট। (যে এটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ) অন্যগুলোর তুলনায়, এটিও হুকুমের সাথে সংশ্লিষ্ট। (শর্তহীনভাবে) এটি হুকুমের অবস্থা নির্দেশ করছে; অর্থাৎ হুকুমটি শর্তহীন বা সাধারণভাবে হওয়া, যা কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীর সাথে সীমাবদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২২)
أو بلد مثلا (أسد) خبر المبتدإ، أي أكثر سَدَاداً بالفتح وهو الصواب، ومعنى البيت: أن التوقف عن الحكم لأي متن كان أو أي سند بكونه أصح على الإطلاق هو الصواب والمختار من أقوال المحدثين، وذلك لأن تفاوت مراتب الصحة مرتب على تمكن الإسناد من شروط الصحة. وَيعِزُّ وجود أعلى درجات القبول في كل واحد من رجال الإسناد الكائنين في ترجمة واحدة، ولهذا اضطرب من خاض في ذلك إذ لم يكن عندهم استقراء تام وإنما رجح كل منهم بحسب ما قَوِيَ عنده خصوصاً إسناد بلده لكثرة اعتنائه به، وخلاف الصواب ما ذكره بقوله:

 

21 - وآخَرُونَ حَكَمُوا فاضْطَرَبُوا … لِفَوقِ عَشْرٍ ضُمِّنَتْهَا الْكُتُبُ

 

(وآخرون) مبتدأ خبره قوله حكموا أي جماعة من المحدثين غيرُ من توقف عن الحكم (حكموا) بالأصحية على الإطلاق على بعض الأسانيد (فاضطربوا) أي اختلفوا في التعيين لاختلاف أنظارهم لأنه لم يكن عندهم الاستقراء التام وإنما رجح كل منهم بحسب ما قوي عنده وقوله: (لِفَوقِ عَشْرٍ) جار ومجرور متعلق بمحذوف نعتٍ لمصدر محذوف أي اضطراباً منتهياً لفوق عشر، أو حالٍ منه أي حال كون الاضطراب منتهياً إلى فوق عشر، أو متعلق بفعل محذوف معطوف على الفعل أي وانتهت أقوالهم لفوق عشر من الأقوال. وقوله: (ضمنتها الكتب) فعل ونائب فاعل صفة لفوق عشر، أي جُعِلَت الكتب محتوية عليها يقال: ضمنت الشيء كذا جعلته محتوياً عليه فتضمنه، أي فاشتمل عليه، واحتوى.

ثم شرع الناظم يعدد بعض تلك الأقوال بقوله:

 

22 - فَمَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَيِّدِهْ … وَزِيدَ مَا لِلشَّافِعِيْ فَأَحْمَدِهْ

 

الفاء فصيحية أي إذا أردت أن تعرف بعض تلك الأقوال فأقول لك: أصح الأسانيد مطلقاً (مالك) بن أنس بن مالك بن أبي عامر بن عمرو بن الحارث الأصبحي أبو عبد الله المدني، إمام دار الهجرة، أحد الأئمة
অথবা উদাহরণস্বরূপ একটি শহর, (আসাদ) এটি হলো মুবতাদা-এর খবর, অর্থাৎ ফাতহাহ যোগে 'সাদাদ' এর আধিক্য বুঝাচ্ছে এবং এটাই সঠিক। কবিতাটির অর্থ হলো: যেকোনো মতন (মূল পাঠ) বা যেকোনো সনদকে নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক সহিহ হিসেবে ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকাই সঠিক এবং এটিই মুহাদ্দিসগণের মতামতের মধ্যে অগ্রগণ্য। কারণ, বিশুদ্ধতার স্তরের তারতম্য নির্ভর করে সনদে বিশুদ্ধতার শর্তাবলি কতটা পূর্ণ হয়েছে তার ওপর। একই বর্ণনাক্রমে বিদ্যমান প্রতিটি রাবীর মধ্যে গ্রহণের সর্বোচ্চ মান বজায় থাকা বিরল। এই কারণেই যারা এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন, কারণ তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ছিল না। বরং প্রত্যেকেই নিজের কাছে যা শক্তিশালী মনে হয়েছে তাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, বিশেষ করে নিজ শহরের সনদকে, তার প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়ার কারণে। আর সঠিকের বিপরীত বিষয়টি তিনি তার এই উক্তির মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন:

 

২১ - আর অন্যরা ফয়সালা দিয়েছেন এবং দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন... দশের অধিক মতামতে যা কিতাবসমূহে সংকলিত হয়েছে।

 

(আর অন্যরা) এটি মুবতাদা, এর খবর হলো 'তারা ফয়সালা দিয়েছেন'। অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের একটি দল যারা বিরতি পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন, তারা (ফয়সালা দিয়েছেন) কোনো কোনো সনদের ওপর নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক সহিহ হওয়ার। (ফলে তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন) অর্থাৎ তারা সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে। কারণ তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ছিল না, বরং প্রত্যেকেই নিজের নিকট শক্তিশালী প্রতীয়মান হওয়া মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর তার উক্তি: (দশের অধিক) এটি যার ও মাজরুর, যা একটি উহ্য বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট যা একটি উহ্য মাসদারের গুণ। অর্থাৎ এমন এক দ্বিধা যা দশের অধিক পর্যন্ত পৌঁছেছে। অথবা এটি হাল (অবস্থা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ দ্বিধাটি দশের উপরে পৌঁছানো অবস্থায়। অথবা এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট যা পূর্ববর্তী ক্রিয়ার ওপর আতফ হয়েছে, অর্থাৎ তাদের মতামতসমূহ দশের অধিক মত পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। আর তার উক্তি: (কিতাবসমূহ এগুলোর ধারক হয়েছে) এটি ক্রিয়া এবং নায়েবে ফায়েল, যা 'দশের অধিক' এর বিশেষণ। অর্থাৎ কিতাবসমূহকে এগুলোর ধারক করা হয়েছে। বলা হয়: আমি বস্তুটিকে এমন করেছি অর্থাৎ তাকে ধারক বানিয়েছি, ফলে তা তাকে শামিল বা অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ধারণ করেছে।

অতঃপর গ্রন্থকার সেই মতামতগুলোর কিছু গণনা শুরু করেছেন তার এই উক্তির মাধ্যমে:

 

২২ - সুতরাং মালেক নাফে' থেকে, তিনি তার মনিব থেকে... আর এর সাথে শাফেয়ি এবং আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন তা যোগ করা হয়েছে।

 

'ফা' বর্ণটি বর্ণনা পরিষ্কার করার জন্য এসেছে। অর্থাৎ যদি তুমি সেই মতামতগুলোর কিছু জানতে চাও, তবে আমি তোমাকে বলছি: নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো (মালেক) ইবনে আনাস ইবনে মালেক ইবনে আবু আমির ইবনে আমর ইবনে হারিস আল-আসবাহি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি, যিনি দারুল হিজরতের ইমাম এবং অন্যতম প্রধান ইমাম।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৩)
الأربعة، له نحو ألف حديث، ولد سنة ثلاث وتسعين، وتوفي سنة تسع وسبعين ومائة، عن ست وثمانين سنة، ودفن بالبقيع. فمالك: مبتدأ حذف خبره أي أصح الأسانيد، أو خبر لمحذوف أي أصح الأسانيد مالك إلخ.

(عن نافع) متعلق بحال محذوف أي حال كونه راوياً عن نافع العدوي، قيل اسم أبيه هرمز، أبو عبد الله المدني، أحد الأعلام، وهو غير نافع بن عبد الرحمن بن أبي نعيم المقريء، يروي عن نافع هذا، مات نافع رحمه الله سنة عشرين ومائة، حال كون نافع آخذاً (عن سيده) أي مولاه عبد الله بن عمر بن الخطاب العدوي أبي عبد الرحمن المكي، هاجر مع أبيه، وشهد الخندق، وبيعة الرضوان، له ألف وستمائة وثلاثون حديثاً، اتفقا على مائة وسبعين وانفرد البخاري بأحد وثمانين ومسلم بأحد وثلاثين، مات رضي الله عنه سنة أربع وسبعين عن أربع وثمانين.

وهذا القول للبخاري رحمه الله، أخرجه الحاكم بسنده عنه، قال في التدريب: وهذا أمر تميل إليه النفوس، وتنجذب القلوب.

روى الخطيب بسنده عن يحيى بن بكير أنه قال لأبي زرعة الرازي: يا أبا زرعة ليس ذا (1) زعزعة عن زوبعة إنما ترفع الستر فتنظر إلى النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة، حدثنا مالك عن نافع عن ابن عمر اهـ.

(وزيد) على مالك في هذا السَّند (ما) أي الحديث الذي للإمام الأعظم أحد أئمة الأعلام محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب بن عبيد بن عبد يزيد بن هاشم بن المطلب بن عبد مناف القرشي أبي عبد الله (الشافعي) رحمه الله، ولد سنة خمسين ومائة وتوفي في آخر يوم من رجب سنة أربع ومائتين عن أربع وخمسين سنة، والمعنى أنه زيد في هذا السَّند المذكور الحديث الذي رواه الشافعي عن مالك الخ.

--------------------------------------------

(1) قوله زعزعة هي تحريك الريح الشجرة ونحوها وكل تحريك شديد.

قوله زوبعة هي الأعصار التي نرفع التراب في الجو وتستدير كأنها عمود. اهـ.

من هامش الشرح.
চার ইমামের একজন, তাঁর প্রায় এক হাজার হাদিস রয়েছে, তিনি তিরানব্বই হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একশত ঊনআশি হিজরিতে ছিয়াশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়। সুতরাং 'মালিক': এটি একটি মুবতাদা যার খবর উহ্য রয়েছে অর্থাৎ 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদসমূহ', অথবা এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর অর্থাৎ 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো মালিক' ইত্যাদি।

(নাফে থেকে) এটি একটি উহ্য হালের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ নাফে আল-আদাবী থেকে বর্ণনাকারী হওয়া অবস্থায়। বলা হয় যে, তাঁর পিতার নাম হরমুজ, আবু আবদুল্লাহ আল-মাদানী, অন্যতম প্রখ্যাত আলেম। তিনি ক্বারী নাফে ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি নুয়াইম নন, বরং ক্বারী নাফে এই নাফে থেকে বর্ণনা করেন। নাফে (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) একশত বিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আর নাফে (তাঁর মনিব থেকে) গ্রহণকারী হওয়া অবস্থায়, অর্থাৎ তাঁর অভিভাবক আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব আল-আদাবী আবু আবদুর রহমান আল-মাক্কী থেকে। তিনি তাঁর পিতার সাথে হিজরত করেন এবং খন্দকের যুদ্ধ ও বাইয়াতে রিদওয়ানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর এক হাজার ছয়শত ত্রিশটি হাদিস রয়েছে। বুখারী ও মুসলিম উভয়ে একশত সত্তরটি হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন, আর বুখারী এককভাবে একাশিটি এবং মুসলিম একত্রিশটি বর্ণনা করেছেন। তিনি চুয়াত্তর হিজরিতে চুরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

আর এই উক্তিটি ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর, হাকেম তাঁর নিজস্ব সনদে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। 'তাদরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বিষয় যার প্রতি আত্মা ঝুঁকে পড়ে এবং অন্তর আকৃষ্ট হয়।

খতীব তাঁর নিজস্ব সনদে ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু যুরআ আর-রাযীকে বলেছিলেন: হে আবু যুরআ, এটি (১) কোনো ঝড়ো হাওয়া বা ঘূর্ণিবায়ুর বিষয় নয়; বরং আপনি কেবল পর্দা উন্মোচন করবেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীদের দিকে তাকাবেন (যখন বলা হয়): মালিক আমাদের নিকট নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন—সমাপ্ত।

আর এই সনদে মালিকের ওপর (যুক্ত করা হয়েছে) (যা), অর্থাৎ সেই হাদিস যা মহান ইমাম, প্রখ্যাত ইমামগণের অন্যতম, মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনুল আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফি ইবনে সায়িব ইবনে উবাইদ ইবনে আবদ ইয়াজিদ ইবনে হাশিম ইবনুল মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফ আল-কুরাশী আবু আবদুল্লাহ (শাফেয়ী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর। তিনি একশত পঞ্চাশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুইশত চার হিজরির রজব মাসের শেষ দিনে চুয়ান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এর অর্থ হলো, উল্লেখিত এই সনদে ইমাম শাফেয়ী মালিক থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা যুক্ত করা হয়েছে ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) তাঁর কথা 'যা'যাআহ' হলো বাতাসের মাধ্যমে বৃক্ষ বা অনুরূপ কিছুকে নাড়ানো এবং প্রতিটি তীব্র আন্দোলন।

তাঁর কথা 'যাওবাআহ' হলো সেই ঘূর্ণিঝড় যা বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা উত্তোলন করে এবং স্তম্ভের ন্যায় ঘুরতে থাকে। সমাপ্ত।

ব্যাখ্যার টীকা থেকে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৪)
لأنه أَجَلُّ من أخذ عنه هكذا زاده الإمام أبو منصور عبد القاهر بن طاهر التميمي فذكر أن أجلَّ الأسانيد الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر واحتج بإجماع أهل الحديث على أنه لم يكن في الرواة عن مالك أجل منه (فأحمده) بالجر عطفاً على الشافعي والهاء ضمير راجع إلى الشافعي على حد قوله:

عَلَا زَيْدُنَا يَومَ النَقَى رَأْسَ زَيْدِكُمْ

أضافه إليه لاختصاصه بكونه أجل من أخذ عنه أي زاد الصلاح العلائي شيخ العراقي ما لأحمد عن الشافعي إلخ. لأنه أجل من أخذ عن الشافعي.

وأحمد: هو الإمام الأوحد الفقيه الحافظ الحجة أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني أبو عبد الله المروزي ثم البغدادي، ولد سنة أربع وستين ومائة، وتوفي في ربيع الأول وقيل في رجب سنة إحدى وأربعين ومائتين عن سبع وسبعين سنة رحمه الله.

(تنبيه) قول الناظم فيما مَرَّ: لِمَتْن وتعبيره هنا بما مراداً بها الحديث فيه إشارة إلى أن الأصحية كما تطلق على الأسانيد تطلق على المتون أيضاً وهذا قاله تبعاً لابن الصلاح زيادة على العراقي، قال الحافظ رحمه الله: إن مِنْ لازِمِ قول بعضهم إن أصح الأسانيد ما رواه أحمد عن الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر أن يكون أصحُّ الأحاديث الحديثَ الذي رواه أحمد بهذا الإسناد فإنه لم يرو في مسنده به غيره (1) فيكون أصح الأحاديث على رأي من ذهب إلى ذلك.

 

23 - وَابْنُ شِهابٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنْ أَبِهْ … عَنْ جَدِّهِ، أَوْ سَالِمٍ عَمَّنْ نَبِهْ

--------------------------------------------

(1) وهو حديث: " لايبع بعضكم على بيع بعض، ونهي عن النجش، ونهي عن بيع حبلٍ الحبلة، ونهى عن المزابنة، والمزابنة بيع التمر بالتمر كيلاً، وبيع الكرم بالزبيب كيلا.
কারণ তিনি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক মহান। ইমাম আবু মনসুর আব্দুল কাহির ইবনে তাহির আত-তামিমি এভাবেই এটি বর্ধিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সর্বাধিক মর্যাদাশীল সনদ হলো শাফিঈ, মালিক থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। তিনি মুহাদ্দিসগণের ইজমা বা ঐকমত্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, ইমাম মালিকের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক মহান আর কেউ ছিলেন না। (অতঃপর আহমাদ) - এখানে 'আহমাদ' শব্দটি 'শাফিঈ' শব্দের ওপর সমম্বিত হওয়ার কারণে জের বিশিষ্ট হয়েছে এবং 'হু' সর্বনামটি শাফিঈর দিকে প্রত্যাবর্তন করছে, যেমনটি কবির এই বক্তব্যে রয়েছে:

নাক্বাহ-এর দিনে আমাদের যাইদ তোমাদের যাইদের মাথার ওপর বিজয়ী হয়েছে

তিনি একে তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন কারণ তিনি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণকারীদের মধ্যে বিশিষ্ট ও মহান। অর্থাৎ, ইরাকির উস্তাদ সালাহ আল-আলায়ি ইমাম আহমাদ কর্তৃক শাফিঈর সূত্রে বর্ণিত অংশটি বর্ধিত করেছেন; কারণ তিনি শাফিঈর নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বাধিক মহান।

আর আহমাদ হলেন: অদ্বিতীয় ইমাম, ফকিহ, হাফিয, হুজ্জাত আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানি আবু আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযি, অতঃপর আল-বাগদাদি। তিনি একশত চৌষট্টি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুইশত একচল্লিশ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে, মতান্তরে রজব মাসে সাতাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

(সতর্কবার্তা) পূর্বে অতিক্রান্ত নাজিমের বক্তব্য: "মূলপাঠের জন্য" এবং এখানে তাঁর এই অভিব্যক্তি—যার দ্বারা তিনি হাদিসকে উদ্দেশ্য করেছেন—তাতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সর্বাধিক বিশুদ্ধতা যেমন সনদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তেমনি তা মূলপাঠ বা মাতনের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়। তিনি এটি ইবনে আস-সালাহর অনুসরণে ইমাম ইরাকির বক্তব্যের অতিরিক্ত হিসেবে বলেছেন। হাফিয রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: কারো কারো এই বক্তব্যের অনিবার্য দাবি হলো—যারা বলেন যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো যা আহমাদ বর্ণনা করেছেন শাফিঈ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে—যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস হবে সেই হাদিসটি যা ইমাম আহমাদ এই সনদযোগে বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এই সনদযোগে কেবল একটি হাদিসই বর্ণনা করেছেন (১)। অতএব, যারা এই মত পোষণ করেন তাদের নিকট এটিই হবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস।

 

২৩ - এবং ইবনে শিহাব, আলি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে … তিনি তাঁর দাদা থেকে; অথবা সালিম তাঁর থেকে যিনি খ্যাতিমান।

--------------------------------------------

(১) আর সেটি হলো এই হাদিস: "তোমাদের কেউ যেন অন্যের সওদার ওপর সওদা না করে; আর নাজাশ (ক্রেতাকে ধোঁকা দিতে দাম বাড়ানো) নিষেধ করা হয়েছে, গর্ভস্থ পশুর গর্ভস্থ সন্তান বিক্রয় করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং মুযাবানাহ নিষেধ করা হয়েছে। আর মুযাবানাহ হলো শুকনা খেজুরের বিনিময়ে পরিমাপে তাজা খেজুর বিক্রি করা এবং কিসমিসের বিনিময়ে পরিমাপে আঙুর বিক্রি করা।"
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৫)
(و) قيل أصح الأسانيد الإمام الحجة محمد بن مسلم بن عبيد الله بن عبد الله (ابن شهاب) ابن عبد الله بن الحارث بن زهرة القرشي الزهري أبو بكر المدني له نحو ألفي حديث.

قال رحمه الله ما استودعت قلبي شيئاً فنسيته، مات سنة أربع وعشرين ومائة. فابنُ شهاب خبر لمحذوف أي أصح الأسانيد ابن شهاب (عن علي) حال من ابن شهاب أي حال كونه راوياً عن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب الهاشمي أبي الحسين زين العابدين المدني، مات سنة اثنين وتسعين وقيل غير ذلك (عن أبه) على لغة النقص كما في قوله:

بِأبِهِ اقْتَدَى عَدِي فِي اْلكَرَمْ … وَمَنْ يُشَابِهْ أبَهُ فَمَا ظَلَمْ

وإعرابه كسابقه وأبوه هو الحسين بن علي المذكور، سبط رسول الله صلى الله عليه وسلم وريحانته استشهد بكربلاء من أرض العراق يوم عاشوراء سنة إحدى وستين عن أربع وخمسين سنة. (عن جده) أي جد عليٍّ وهو علي بن أبي طالب أمير المؤمنين أبو الحسن روى عن النبي صلى الله عليه وسلم خمسمائة وستة وثمانين حديثاً، اتفق الشيخان منها على عشرين وانفرد البخاري بتسعة ومسلم بخمسة عشر، مات شهيداً من ضربة عبد الرحمن بن مُلْجِم المرادي بسيف مسموم في جبهته ليلة سبع عشرة من رمضان ليلة الجمعة، فتوفي في الكوفة ليلة الأحد التاسع عشر من رمضان سنة أربعين عن ثلاث وستين سنة.

وهذا القول لعبد الرزاق الصنعاني صاحب المسند وأبي بكر بن أبي شيبة صاحب المسند والمصنف كما أخرجه الحاكم بسنده عنهما (أو) لتنويع الخلاف أي أصح الأسانيد على رأي بعضهم ابن شهاب الزهري عن (سالم) بن عبد الله بن عمر بن الخطاب العدوي المدني أحد الفقهاء السبعة على أحد الأقوال، قال الحافظ العراقي في ألفيته:

 

وَفِي اْلكِبَارِ اْلفُقَهَاءُ السبْعَةُ … خَارِجَةُ اْلقَاسِم ثُمَّ عُرْوُة

ثُمَّ سُلَيمَانُ عبَيُدُ اللهِ … سَعِيدُ والسَّابِعُ ذُو اشْتِبَاهِ
(এবং) বলা হয়েছে যে, সর্বাধিক সহীহ সনদ হলো ইমাম, হুজ্জাহ মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ (ইবনে শিহাব) বিন আবদুল্লাহ বিন হারিস বিন জুহরাহ আল-কুরাশি আল-জুহরি আবু বকর আল-মাদানি; তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: আমি আমার হৃদয়ে যা কিছু জমা রেখেছি তা কখনও ভুলে যাইনি। তিনি একশ চব্বিশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। এখানে 'ইবনে শিহাব' শব্দটি একটি উহ্য পদের সংবাদ (খবর), অর্থাৎ: সর্বাধিক সহীহ সনদ হলো ইবনে শিহাব (আলী থেকে)। এটি ইবনে শিহাবের অবস্থার বর্ণনা (হাল), অর্থাৎ তিনি আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব আল-হাশিমি আবু আল-হুসাইন জয়নুল আবেদীন আল-মাদানি থেকে বর্ণনা করছেন। তিনি বিরানব্বই হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, তবে অন্য মতও রয়েছে। (তাঁর পিতা থেকে) এটি স্বরচিহ্ন বিলোপের ব্যাকরণগত নিয়ম (লুগাতুন নাকস) অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে যেমন কবি বলেছেন:

আদী উদারতায় তাঁর পিতারই অনুসরণ করেছেন … আর যে ব্যক্তি তার পিতার সদৃশ হয় সে কোনো জুলুম করেনি

এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ আগের মতোই। আর তাঁর পিতা হলেন উল্লিখিত হুসাইন বিন আলী, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৌহিত্র এবং তাঁর সুগন্ধি ফুল; তিনি একষট্টি হিজরীতে আশুরার দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে চুয়ান্ন বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন। (তাঁর দাদা থেকে) অর্থাৎ আলীর দাদা, আর তিনি হলেন আমীরুল মুমিনীন আবু আল-হাসান আলী বিন আবু তালিব। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাঁচশ ছিয়াশিটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে শাইখান (বুখারী ও মুসলিম) বিশটি হাদীসের ওপর একমত হয়েছেন, বুখারী এককভাবে নয়টি এবং মুসলিম এককভাবে পনেরোটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আবদুর রহমান বিন মুলজিম আল-মুরাদির বিষাক্ত তরবারির আঘাতে কপালের ওপর জখম হয়ে শহীদ হন। সতেরো রমজান শুক্রবার রাতে এই আঘাত করা হয় এবং ১৯শে রমজান রবিবার রাতে কুফায় চল্লিশ হিজরীতে তেষট্টি বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আর এই অভিমতটি হলো মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনী এবং মুসনাদ ও মুসান্নাফ গ্রন্থের রচয়িতা আবু বকর বিন আবু শাইবা-এর, যেমনটি হাকীম তাঁর সনদে তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। (অথবা) এটি মতভেদের বৈচিত্র্য প্রকাশের জন্য, অর্থাৎ কারও মতে সর্বাধিক সহীহ সনদ হলো ইবনে শিহাব আল-জুহরি (সালেম থেকে), যিনি হলেন সালেম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব আল-আদাবী আল-মাদানি। তিনি একটি মতানুসারে মদিনার সাত ফকীহর অন্যতম। হাফেজ ইরাকী তাঁর আলফিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন:

 

প্রবীণদের মাঝে সাতজন ফকীহ হলেন … খারিজাহ, কাসেম এবং এরপর উরওয়াহ

এরপর সুলাইমান, উবায়দুল্লাহ … সাঈদ এবং সপ্তম জনের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৬)
إِمَّا أبُو سَلَمَةٍ أوْ سَالِمُ … أوْ فَأبُو بَكْرٍ خِلَافٌ قَائِمُ

 

مات رحمه الله سنة ست ومائة على الأصح. حال كونه آخِذاً (عمن نبه) أي عن شخص شريف وفطن، يقال نبه كفرح فَطِنَ والأولى هنا ضبطه كفرح لئلا يلزم عيب السناد وإن كان جائزاً للمولدين.

ويحتمل أن يكون صفة مشبهة كفطن فتكون مَنْ نكرة موصوفة بمفرد كما يقال مررت بمن معجبٍ لك. والمراد بمن نبه هو عبد الله بن عمر رضي الله عنهما وهذا القول مروي عن أحمد وإسحاق رحمهما الله.

 

24 - أَوْ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ حَبْرِ البَشَرْ … هُوَ ابْنُ عَباسٍ وَهَذَا عَنْ عُمَرْ

 

(أو) لتنويع الخلاف أيضاً أي قال بعضهم أصح الأسانيد ابن شهاب الزهري (عن عبيد الله) بن عبد الله بن عتبة بن مسعود أبي عبد الله الأعمى أحد الفقهاء السبعة المتقدم ذكره، مات سنة أربع وتسعين وقيل ثمان وقيل تسع حال كونه راوياً (عن حَبر البشر) أي عالم هذه الأمة بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم له، وفي المصباح الحِبْر أي بالكسر العالم والجمع أحبار مثل حمل وأحمال، والحَبر بالفتح لغة فيه وجمعه حبور مثل فلس وفلوس، واقتصر ثعلب على الفتح وبعضهم أنكر الكسر اهـ.

(هو) أي حبر البشر عبد الله (ابن عباس) بن عبد المطلب الهاشمي له ألف وستمائة وستة وتسعون حديثاً اتفقا على خمسة وسبعين وانفرد البخاري بثمانية وعشرين، ومسلم بتسعة وأربعين، مات سنة ثمان وستين بالطائف رحمه الله ورضي عنه -. و (هذا) مبتدأ أي ابن عباس (عن عمر) جار ومجرور خبره، والجملة حال من حبر البشر أي حال كون الحبر راوياً عن عمر بن الخطاب بن نفيل بن عبد العزى العدوي أبي حفص أحد الخلفاء الراشدين له خمسمائة وتسعة وثلاثون حديثاً اتفقا على عشرة وانفرد البخاري بتسعة ومسلم بخمسة عشر، استشهد في آخر سنة ثلاث وعشرين ودفن في أول سنة أربع وعشرين، وهو ابن ثلاث وستين سنة ودفن في الحجرة رضي الله عنه وهذا القول منقول عن النسائي.
হয় আবু সালামাহ অথবা সালিম … অথবা আবু বকর, এই মতভেদ বিদ্যমান।

 

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে একশ ছয় হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি 'যিনি সচেতন' (আম্মান নাবিহ) অর্থাৎ একজন মহান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি থেকে গ্রহণকারী হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন। বলা হয় 'নাবিহা' যা 'ফারিহা' এর ওজনে, যার অর্থ বুদ্ধিমান হওয়া। এখানে এটি 'ফারিহা' এর ওজনে পড়াই উত্তম যাতে ছন্দের ত্রুটি না ঘটে, যদিও পরবর্তীদের জন্য এটি বৈধ।

এবং এটি সম্ভব যে এটি 'ফাতিন' এর মতো একটি গুণবাচক শব্দ, ফলে 'মান' শব্দটি একটি একবচন দ্বারা বিশেষিত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য হবে, যেমন বলা হয়: "আমি এমন একজনের পাশ দিয়ে গিয়েছি যে তোমার কাছে বিস্ময়কর"। আর 'যিনি সচেতন' দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। আর এই মতটি ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহিমাহুমাল্লাহ) থেকে বর্ণিত।

 

২৪ - অথবা উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি মানবজাতির মহা-বিদ্বান থেকে … তিনি হলেন ইবনে আব্বাস এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

(অথবা) শব্দটি এখানেও মতভেদের বৈচিত্র্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ কেউ কেউ বলেছেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো ইবনে শিহাব আজ-জুহরি (উবাইদুল্লাহ থেকে)। তিনি হলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ আবু আবদুল্লাহ আল-আ'মা, যিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত সাতজন ফকিহর একজন। তিনি ৯৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ৯৮ বা ৯৯ হিজরিতে। তিনি বর্ণনাকারী হিসেবে (মানবজাতির মহা-বিদ্বান থেকে), অর্থাৎ এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ আলিম, যার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দোয়া করেছিলেন। 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে রয়েছে, 'হিবর' (হা বর্ণে ই-কার দিয়ে) অর্থ আলিম, যার বহুবচন হলো 'আহবার', যেমন 'হামল' থেকে 'আহমাল'। আর 'হাবার' (হা বর্ণে আ-কার দিয়ে) এটি একটি ভাষাগত রূপ যার বহুবচন 'হুবুর', যেমন 'ফালস' থেকে 'ফুলুস'। ভাষাবিদ সা'লাব কেবল আ-কার দিয়ে পড়াকেই গ্রহণ করেছেন এবং কেউ কেউ ই-কার দিয়ে পড়াকে অস্বীকার করেছেন।

(তিনি) অর্থাৎ মানবজাতির সেই মহা-বিদ্বান হলেন আবদুল্লাহ (ইবনে আব্বাস) ইবনে আবদুল মুত্তালিব আল-হাশেমি। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা এক হাজার ছয়শ ছিয়ানব্বইটি। ইমাম বুখারি ও মুসলিম উভয়ই তাঁর পঁচাত্তরটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারি এককভাবে আটাশটি এবং ইমাম মুসলিম এককভাবে ঊনপঞ্চাশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৬৮ হিজরিতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আর (এই) শব্দটি এখানে উদ্দেশ্য (মুবতাদা), অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (উমর থেকে) এটি বিধেয় (খবর)। পুরো বাক্যটি 'হাবরুল বাশার' থেকে অবস্থা (হাল) প্রকাশ করছে, অর্থাৎ উক্ত মহা-বিদ্বান উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আবদুল উযযা আল-আদাউয়ি আবু হাফস থেকে বর্ণনা করছেন, যিনি খুলাফায়ে রাশিদীনের একজন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা পাঁচশ উনচল্লিশটি। বুখারি ও মুসলিম তাঁর দশটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, বুখারি এককভাবে নয়টি এবং মুসলিম এককভাবে পনেরোটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৩ হিজরি সনের শেষে শাহাদাত বরণ করেন এবং ২৪ হিজরির শুরুতে তাঁকে দাফন করা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর এবং তাঁকে রাসুলুল্লাহর হুজরায় দাফন করা হয় (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আর এই মতটি ইমাম নাসায়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৭)
25 - وَشُعْبَةٌ عَنْ عَمْرٍو بْنِ مُرَّهْ … عَنْ مُرَّةٍ عَنِ ابْنِ قَيْسٍ كَرَّهْ

 

وقيل أصح الأسانيد (شعبة) بن الحجاج بن الورد العتكي مولاهم الحافظ الواسطي نزيل البصرة له نحو ألفي حديث. ولد سنة ثمانين ومات سنة ستين ومائة حال كونه راوياً (عن عمرو ابن مرة) (1) بن عبد الله بن طارق بن الحارث الهمداني المرادي الجَمَلي أبي عبد الله الأعمى الكوفي أحد الأعلام له نحو مائتي حديث، مات سنة ست عشرة ومائة حال كونه راوياً (عن مرة) بن شراحيل الهمداني أبي إسماعيل الكوفي العابد مرة الطيب ومرة الخير، مات سنة ست وسبعين وقيل: غير ذلك، وقد أخطأ المحقق ابن شاكرٍ تبعاً للشارح في تعليقه هنا، وفي الباعث الحثيث حيث يقول: عن عمرو بن مرة عن أبيه مرة، والصواب أن مرة هذا ليس والداً لعمرو هذا بل هو شيخه غايته أنه اتفق اسم شيخه ووالده. راجع التاريخ (2) الكبير للبخاري والجرح والتعديل (3) لابن أبي حاتم، حال كونه راوياً (عن ابن قيس) هو عبد الله بن قيس بن سليمان بن حَضَّار الأشعري أبو موسى له ثلاثمائة وستون حديثاً اتفقا على خمسين وانفرد البخاري بأربعة ومسلم بخمسة وعشرين، توفي سنة اثنين وأربعين: وقوله (كرة) أي مرة، يعني: أن شعبة له تارات فتارة يروي عن عمرو بن مرة إلخ. وتارة عن غيره، فإذا روى عن عمرو بن مرة عن مرة عن عبد الله بن قيس يكون أصح الأسانيد، وهذا القول رواه الخطيب في الكفاية عن وكيع قال: لا أعلم في الحديث شيئاً أحسن إسناداً من هذا.

--------------------------------------------

(1) بتنوين عمرو وإثبات ألف ابن، لأنه ليس صفة بل هو إما بدل أو خبر لمحذوف أو مفعول لفعل محذوف أي هو ابن مرة، أو أعني ابن مرة. اهـ الجامع.

(2) جـ 6 ص 368.

(3) جـ 6 ص 5257 ثم إن مرة شيخه من رجال التهذيب وغيره مشهور، وأما مرة أبوه فَهُو مترجم في التاريخ الكبير للبخاري جـ 8 ص: 6، وفي الجرح والتعديل جـ 8 ص: 366.
২৫ - আর শু'বাহ আমর ইবনে মুররাহ থেকে … মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন বারবার।

 

বলা হয়েছে যে, সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদসমূহের অন্যতম হলো: (শু'বাহ) ইবনে আল-হাজ্জাজ ইবনে আল-ওয়ারদ আল-আতাকি, তাঁদের মুক্তদাস, আল-হাফিজ, আল-ওয়াসিতি, বসরার অধিবাসী। তাঁর প্রায় দুই হাজার হাদিস রয়েছে। তিনি আশি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একশত ষাট হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বর্ণনা করেছেন (আমর ইবনে মুররাহ) (১) ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তারিক ইবনে আল-হারিস আল-হামদানি আল-মুরাদি আল-জামালি আবু আবদুল্লাহ আল-আ'মা আল-কুফি থেকে, যিনি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম, তাঁর প্রায় দুইশত হাদিস রয়েছে। তিনি একশত ষোল হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বর্ণনা করেছেন (মুররাহ) ইবনে শারাহিল আল-হামদানি আবু ইসমাইল আল-কুফি আল-আবিদ থেকে, যাঁকে 'মুররাহ আত-তাইয়িব' এবং 'মুররাহ আল-খায়র' বলা হয়। তিনি ছিয়াত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ ভিন্ন মতও দিয়েছেন। মুহাক্কিক ইবনে শাকির ব্যাখ্যাকারীর অনুসরণ করতে গিয়ে তাঁর টীকাতে এখানে এবং 'আল-বায়িস আল-হাসিস'-এ ভুল করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: 'আমর ইবনে মুররাহ তাঁর পিতা মুররাহ থেকে'; অথচ সঠিক হলো এই মুররাহ আমরের পিতা নন, বরং তিনি তাঁর উস্তাদ। বড়জোর এতটুকু যে, তাঁর উস্তাদ ও পিতার নাম মিলে গেছে। বুখারীর 'আত-তারিখ (২) আল-কাবীর' এবং ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (৩)' দেখুন। তিনি বর্ণনা করেছেন (ইবনে কায়স) থেকে, যিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে কায়স ইবনে সুলাইমান ইবনে হাদ্বার আল-আশআরি আবু মুসা। তাঁর তিনশত ষাটটি হাদিস রয়েছে। বুখারী ও মুসলিম পঞ্চাশটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, বুখারী এককভাবে চারটি এবং মুসলিম পঁচিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বিয়াল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আর তাঁর বক্তব্য (কাররাহ) অর্থ 'বারবার', অর্থাৎ: শু'বাহর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে; কখনো তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেন... ইত্যাদি। আবার কখনো অন্য কারো থেকে। সুতরাং যখন তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তখন তা সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হয়। এই উক্তিটি আল-খাতিব 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে ওয়াকি' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'আমি হাদিসের ক্ষেত্রে এর চেয়ে উত্তম সনদ আর কিছু জানি না।'

--------------------------------------------

(১) আমরের ওপর তানভীন দিয়ে এবং ইবনের আলিফ বহাল রেখে, কারণ এটি বিশেষণ নয় বরং এটি হয় বদল, অথবা উহ্য কোনো পদের খবর, অথবা উহ্য কোনো ক্রিয়াপদের কর্ম, অর্থাৎ: তিনি হলেন মুররাহর পুত্র, অথবা আমি মুররাহর পুত্রকে উদ্দেশ্য করছি। সমাপ্ত— আল-জামি।

(২) ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৬৮ পৃষ্ঠা।

(৩) ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫২৫৭ পৃষ্ঠা। তারপর তাঁর উস্তাদ মুররাহ 'আত-তাহজিব' ও অন্যান্য গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি প্রসিদ্ধ। আর তাঁর পিতা মুররাহর জীবনী বুখারীর 'আত-তারিখ আল-কাবীর' ৮ম খণ্ড, ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় এবং 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল' ৮ম খণ্ড, ৩৬৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৮)
26 - أَوْ مَا رَوَى شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَهْ … إِلَى سَعِيدٍ عَنْ شُيُوخٍ سَادَهْ

 

(أو) لتنويع الخلاف أيضاً أي قال بعضهم أصح الحديث (ما روى) أي نقل (شعبة) بن الحجاج المتقدم (عن قتادة) بن دِعامةَ السدوسي أبي الخطاب البصري الأكمه أحد الأئمة الأعلام الحافظ المدلس توفي سنة سبع عشرة ومائة (إلى) أي عن (سعيد) بن المسيب بن حزن بن أبي وهب بن عمرو بن عابد بن مخزوم المخزومي أبي محمد المدني الأعور، ولد سنة خمس عشرة ومات سنة ثلاث وتسعين، وقيل أربع (عن شيوخ سادة) وهم شيوخ سعيد لأنه من كبار التابعين، تلقى عن شيوخ كثيرين من الصحابة وكبار التابعين. وهذا منقول عن حجاج بن الشاعر وهو إنما قال أجود الأسانيد إلا أن من لازمه صحة الحديث ولذلك قال ما روى. فتفطن.

 

27 - ثُمَّ ابْنُ سِيرِينَ عَنِ الْحَبْرِ الْعَلِي … عَبِيدَةٍ بِما رَوَاهُ عَنْ عَلِي

 

(ثم) للترتيب الذكري أي قال بعضهم أصح الأسانيد محمد (بن سيرين) الأنصاري إمام وقته، مات سنة عشر ومائة (عَنِ الْحَبْرِ) بالفتح والكسر أي العالم (الْعَلِي) بتخفيف الياء للوزن صفة الحبر أي الرفيع الشأن والذكر (عبيدة) بفتح العين والصرف للضرورة، وهو بدل من الحبر، وهو عبيدة بن عمرو السلماني، مات النبي صلى الله عليه وسلم وهو في الطريق، مات رحمه الله سنة اثنتين وسبعين وقيل ثلاث (بما) أي بالحديث الذي (رواه) أي نقله عبيدة (عن علي) بن أبي طالب رضي الله عنه والجار والمجرور حال من عبيدة أي حال كون عبيدة مقيداً بما رواه عن علي رضي الله عنه، فهذا القول يقيد الأصحية بالمروي عن علي، فلو روى عن غيره من التابعين مثلاً لا يكون مثل هذا السَّند فتأمل.

وهذا القول منقول عن عمرو بن علي الفلاس وعلي بن المديني وسليمان بن حرب إلا أن ابن المديني شرط أن يكون الراوي عن ابن سيرين عبد الله بن عون وسليمان شرط أن يكون الرواي عنه أيوبَ السختياني والفلاس ما شرط ذلك فتدبر.
২৬ - অথবা যা শুবা কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন … সাঈদ পর্যন্ত, যিনি সর্দার শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

(অথবা) এটিও মতভেদের বৈচিত্র্য প্রকাশের জন্য। অর্থাৎ, কেউ কেউ বলেছেন সবচেয়ে সহীহ হাদীস হলো (যা বর্ণনা করেছেন) অর্থাৎ নকল করেছেন ইতিপূর্বে উল্লিখিত (শুবা) ইবনুল হাজ্জাজ (কাতাদাহ) ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদুসী আবুল খাত্তাব আল-বাসরী আল-আকমেহ থেকে। তিনি অন্যতম দিকপাল ইমাম, হাফেজ এবং মুদাল্লিস ছিলেন। তিনি ১১৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (পর্যন্ত) অর্থাৎ (সাঈদ) ইবনে আল-মুসাইয়্যিব ইবনে হাযন ইবনে আবু ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে আবিদ ইবনে মাখযূম আল-মাখযূমী আবু মুহাম্মদ আল-মাদানী আল-আওয়ার থেকে। তিনি ১৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৩ হিজরীতে (মতান্তরে ৯৪) মৃত্যুবরণ করেন। (সর্দার শাইখদের থেকে) তারা হলেন সাঈদের উস্তাদগণ। কারণ তিনি বড় মাপের তাবেঈ ছিলেন এবং বহু সাহাবী ও বড় তাবেঈদের থেকে ইলম অর্জন করেছেন। এটি হাজ্জাজ ইবনে আশ-শা'য়ির থেকে বর্ণিত। তিনি মূলত বলেছিলেন 'সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সনদসমূহ', তবে এর আবশ্যিক দাবি হলো হাদীসটি সহীহ হওয়া। এজন্যই তিনি 'যা বর্ণনা করেছেন' বলেছেন। বিষয়টি অনুধাবন করুন।

 

২৭ - অতঃপর ইবনে সীরীন মহান বিদ্বান থেকে … আবীদাহর মাধ্যমে, যা তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

(অতঃপর) এটি বর্ণনার ক্রমধারার জন্য। অর্থাৎ, কেউ কেউ বলেছেন সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো মুহাম্মদ (ইবনে সীরীন) আল-আনসারী থেকে বর্ণিত সনদ। তিনি তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন এবং ১১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (বিদ্বান থেকে) হারফটি যবর বা যের উভয় ভাবেই পড়া যায়, যার অর্থ হলো আলিম। (মহান) ছন্দের প্রয়োজনে ইয়া বর্ণে তাশদীদ ছাড়া এটি বিদ্বান শব্দের বিশেষণ। অর্থাৎ সুউচ্চ মর্যাদা ও খ্যাতির অধিকারী। (আবীদাহ) আইন বর্ণে ফাতহ সহ এবং কাব্যিক প্রয়োজনে তানভীন যুক্ত। এটি 'বিদ্বান' শব্দ থেকে বদল বা পরিচয়মূলক শব্দ। তিনি হলেন আবীদাহ ইবনে আমর আস-সালমানী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় তিনি মদীনার পথে ছিলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৭২ হিজরীতে (মতান্তরে ৭৩) ইন্তেকাল করেন। (যা দ্বারা) অর্থাৎ ঐ হাদীস যা আবীদাহ (বর্ণনা করেছেন) অর্থাৎ নকল করেছেন (আলী) ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে। এখানে অব্যয় ও বিশেষ্যযুক্ত অংশটি আবীদাহ থেকে অবস্থা (হাল) প্রকাশ করছে। অর্থাৎ আবীদাহ যখন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসের সাথে নির্দিষ্ট থাকবেন। এই মতটি সহীহ হওয়ার বিষয়টিকে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসের সাথে শর্তযুক্ত করে। সুতরাং তিনি যদি অন্য কোনো তাবেঈ থেকে বর্ণনা করেন তবে তা এই পর্যায়ের সনদ হবে না। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।

এই মতটি আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস, আলী ইবনুল মাদীনী এবং সুলাইমান ইবনে হারব থেকে বর্ণিত। তবে ইবনুল মাদীনী শর্ত দিয়েছেন যে, ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনাকারী যেন আবদুল্লাহ ইবনে আউন হন। আর সুলাইমান শর্ত দিয়েছেন যে, তাঁর থেকে বর্ণনাকারী যেন আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী হন। কিন্তু ফাল্লাস কোনো শর্ত আরোপ করেননি। বিষয়টি ভেবে দেখুন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - كَذَا ابْنُ مِهْرَانَ عَنِ ابْرَاهِيمَ عَنْ … عَلْقَمَةٍ عَنِ ابْنِ مَسعُودِ الْحَسَنْ

 

(كذا) أي مثل ما تقدم من الأقوال في أصح الأسانيد قولُ ابن معين: أصحها سليمان (ابن مهران) بكسر فسكون الكاهلي الكوفي أبو محمد الأعمش أحد الأعلام الحفاظ والقراء، رأى أنساً رضي الله عنه، ولم يرو عنه له نحو ألف وثلاثمائة حديث، ويقال ظهر له أربعة الآف حديث، مات سنة ثمان وأربعين ومائة عن أربع وثمانين سنة، حال كونه راوياً (عن ابراهيم) بن يزيد بن قيس بن الأسود النخعي أبي عمران الكوفي، ولد سنة خمسين وقيل سنة سبع وأربعين، ومات سنة ست وتسعين، وقيل: خمس (عن علقمة) بن قيس بن عبد الله بن علقمة بن سَلَامَان بن كُهَيل بن بكر بن عوف بن النَّخَع النخعي الكوفي أبي شِبْل أحد الأعلام، مخضرم، مات سنة اثنتين وستين، وقيل: إِحدى وستين، قيل: عن تسعين سنة.

(عن ابن مسعود) بن غافل بن حَبِيب بن شَمْخ (1) بن مخزوم الهذلي أبي عبد الرحمن الكوفي أحد السابقين الأولين، روى ثمانمائة وثمانية وأربعين حديثاً اتفقا على أربعة وستين، وانفرد البخاري بأحد وعشرين ومسلم بخمسة وثلاثين، وتلقن عن النبي صلى الله عليه وسلم سبعين سورة، مات بالمدينة المنورة سنة اثنتين وثلاثين عن بضع وستين سنة. وحذف التنوين هنا للضرورة وقوله (الحسن) صفة لابن مسعود رضي الله عنه أي حسن الأوصاف لأنه كان يُشْبِه النبي صلى الله عليه وسلم في هَدْيِه ودَلِّهِ وسَمْتِه كما جاء في السير.

 

29 - وَوَلَدُ القَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ … عائِشَةٍ .............

 

(و) قيل أصحها عبد الرحمن (ولد القاسم) بن محمد بن أبي بكر الصديق أبي محمد المدني، مات سنة ست وعشرين ومائة وقيل سنة إحدى وثلاثين ومائة (عن أبيه) القاسم المذكور أحد الفقهاء السبعة كما تقدم، له مائتا حديث، مات سنة ست ومائة، وقيل سبع، أو ثمان، أو تسع وقيل:

--------------------------------------------

(1) بفتح الشين، وسكون الميم.
২৮ - অনুরূপভাবে ইবনে মিহরান, ইব্রাহিম থেকে, তিনি … আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ আল-হাসান থেকে।

 

(অনুরূপভাবে) অর্থাৎ সহীহতম সনদসমূহ সম্পর্কে পূর্বে বর্ণিত উক্তিগুলোর মতো ইবনে মাঈনের উক্তি: তাদের মধ্যে অধিক সহীহ হলো সুলাইমান (ইবনে মিহরান)। 'মিহরান' মিম বর্ণে কাসরা (যের) এবং হা বর্ণে সুকুন (জযম) যোগে; তিনি আল-কাহিলী আল-কুফী আবু মুহাম্মাদ আল-আমাশ, অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম, হাফেজ এবং ক্বারী। তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছিলেন, কিন্তু তাঁর থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা প্রায় এক হাজার তিনশ। বলা হয় যে, তাঁর চার হাজার হাদিস প্রকাশ পেয়েছে। তিনি একশত আটচল্লিশ হিজরিতে চুরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বর্ণনাকারী (ইব্রাহিম) থেকে, যিনি ইবনে ইয়াযিদ ইবনে কায়েস ইবনে আসওয়াদ আন-নাখায়ী আবু ইমরান আল-কুফী। তিনি পঞ্চাশ হিজরিতে, মতান্তরে সাতচল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছিয়ানব্বই হিজরিতে, মতান্তরে পঁচানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (আলকামা থেকে), যিনি ইবনে কায়েস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলকামা ইবনে সালামিন ইবনে কুহাইল ইবনে বকর ইবনে আউফ ইবনে আন-নাখআ আন-নাখায়ী আল-কুফী আবু শিবল; অন্যতম ইমাম এবং মুখাদরাম (যিনি জাহিলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পেয়েছেন)। তিনি বাষট্টি হিজরিতে, মতান্তরে একষট্টি হিজরিতে প্রায় নব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

(ইবনে মাসউদ থেকে), যিনি ইবনে গাফিল ইবনে হাবিব ইবনে শামখ (১) ইবনে মাখজুম আল-হুযালী আবু আব্দুর রহমান আল-কুফী। তিনি প্রথম দিকের ইসলাম গ্রহণকারী বিশিষ্ট সাহাবীদের একজন। তিনি আটশত আটচল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। বুখারী ও মুসলিম যৌথভাবে তাঁর চৌষট্টিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এককভাবে একুশটি এবং ইমাম মুসলিম এককভাবে পঁয়ত্রিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে সরাসরি সত্তরটি সূরা শিক্ষা করেছেন। তিনি বত্রিশ হিজরিতে মদীনা মুনাওয়ারায় ষাটের কিছু বেশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এখানে ছন্দের প্রয়োজনে তানউইন বিলুপ্ত করা হয়েছে। লেখকের উক্তি (আল-হাসান) হলো ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিশেষণ। অর্থাৎ তিনি সুন্দর গুণের অধিকারী ছিলেন, কারণ তিনি তাঁর আদর্শ, চালচলন এবং স্বভাব-চরিত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সদৃশ ছিলেন, যেমনটি সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

 

২৯ - এবং আল-কাসিমের সন্তান তাঁর পিতা থেকে, তিনি … আয়েশা থেকে...

 

(এবং) বলা হয়েছে যে, সবচেয়ে সহীহ হলো আব্দুর রহমান, যিনি (আল-কাসিমের সন্তান), যিনি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আস-সিদ্দিক আবু মুহাম্মাদ আল-মাদানী। তিনি একশত ছাব্বিশ হিজরিতে, মতান্তরে একশত একত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (তাঁর পিতা থেকে), অর্থাৎ উল্লিখিত কাসিম, যিনি পূর্বে বর্ণিত সাতজন ফকীহের একজন। তাঁর থেকে দুইশত হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি একশত ছয় হিজরিতে, মতান্তরে সাত, আট বা নয় হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এবং বলা হয়:

--------------------------------------------

(১) শিন বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং মিম বর্ণে সুকুন (জযম) যোগে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৩০)
غير ذلك. (عن) عمته (عائشة) بالصرف للضرورة بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنهما أم المؤمنين، أم عبد الله الفقيهة الربانية لها ألفان ومائتان وعشرة أحاديث اتفقا على مائة وأربعة وسبعين وانفرد البخاري بأربعة وخمسين ومسلم بثمانية وستين، توفيت سنة سبع وخمسين ودفنت بالبقيع رضي الله عنها. وهذا القول لابن معين أيضاً فله قولان وله ثالث يأتي ثم ذكر رحمه الله ما احترز عنه بقوله مطلقاً فيما تقدم وهو التفصيل فقال:

 

............... ........... وَقَالَ قَوْمٌ ذُو فِطَنْ

30 - لا يَنْبَغِي التَّعْمِيمُ فِي الإِسْنادِ … بَلْ خُصَّ بِالصَّحْبِ أَوِ البِلادِ

 

(وقال قوم) من المحدثين، وهو الحاكم أبو عبد الله المعروف بابن البَيِّع، صاحب المستدرك على الصَّحِيحين، ومن تبعه (ذو) أي صاحب (فطن) بكسر ففتح جمع فطنة بكسر فسكون، وهي الحِذْق بالكسر، وأفرد ذو نظراً للفظ قوم، أي أصحاب حِذْق في فن الحديث (لا ينبغي التعميم) أي تعميم الحكم (في الإسناد) أي في أصحيته على الإطلاق أي لا يحكم بأنه أصح الأسانيد كلها (بل خص) أيها المحدث، أي قَيِّد الحكم على كل ترجمة منها (بالصحب) أي بصحابي تلك الترجمة بأن تقول مثلاً أصح أسانيدِ فلانٍ: فُلَانٌ إلخ. (أو) خص بـ (البلاد) بأن تقول مثلاً أصح أسانيد المدنيين: فلانٌ إلخ، ويحتمل كون خُصَّ فعلاً ماضياً مغير الصيغة أي خص الحكم إلخ.

 

31 - فَأَرْفَعُ الإِسْنادِ لِلصِّدِّيقِ مَا … اِبْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ نَمَا

 

(فَأَرْفَعُ) الفاء فصيحية أي إذا عرفت أن الأحسن والأليق هو التقييد وأردت بيان ذلك فأقول لك أرفع (الإسناد) اللام للجنس أي أصح الأسانيد فهو على حذف مضاف لأن ما واقعة على الحديث كما يأتي، لأبي بكر (الصديق) واسمه عبد الله بن عثمان بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم التيمي، روى مائة واثنين وأربعين حديثاً اتفقا على ستة وانفرد البخاري
এবং তা ছাড়া অন্য কিছু। (তার) ফুফু (আয়েশা) থেকে [ছন্দবদ্ধ করার প্রয়োজনে আয়েশা শব্দটিতে তানভীন ব্যবহৃত হয়েছে], তিনি আবু বকর সিদ্দিকের (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) কন্যা, মুমিনদের মাতা, উম্মে আব্দুল্লাহ, ফকিহা ও রব্বানিয়াহ (আল্লাহভীরু বিদুষী)। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা দুই হাজার দুইশ দশটি। ইমাম বুখারি ও মুসলিম একশ চুয়াত্তরটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এককভাবে বুখারি চুয়ান্নটি এবং মুসলিম আটষট্টিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি সাতান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকি গোরস্তানে সমাহিত হন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)। এটি ইবনে মাঈনেরও মত; তাঁর দুটি মত রয়েছে এবং একটি তৃতীয় মত সামনে আসছে। এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইতিপূর্বে যে 'মুত্বলাক' (সাধারণ) কথাটি বলেছিলেন, তার ব্যতিক্রম তথা বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে বলেন:

 

............... ........... এবং একদল প্রজ্ঞাবান বলেছেন

30 - সনদের ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করা অনুচিত … বরং একে সাহাবি অথবা অঞ্চলের সাথে নির্দিষ্ট করা উচিত।

 

(একদল বলেছেন) অর্থাৎ একদল মুহাদ্দিস, তিনি হলেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনুল বাইয়ি' নামে পরিচিত এবং 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন' গ্রন্থের প্রণেতা, এবং যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন। (যু) অর্থাৎ অধিকারী (ফিতান) [ফ-এ কাসরা এবং ত্ব-এ ফাতহা যোগে] এটি 'ফিতনাহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ প্রখর বুদ্ধি বা পারদর্শিতা। এখানে 'যু' শব্দটি একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে 'কওম' শব্দের প্রতি লক্ষ্য রেখে, যার অর্থ হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তিগণ। (সাধারণীকরণ অনুচিত) অর্থাৎ সনদের ক্ষেত্রে এই হুকুমের সাধারণীকরণ করা, তথা পরমভাবে 'সবচেয়ে সহিহ সনদ' হিসেবে কোনোটির ওপর হুকুম লাগানো ঠিক নয়। অর্থাৎ সমস্ত সনদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সহিহ সনদ বলে হুকুম দেয়া যাবে না। (বরং নির্দিষ্ট করো) হে মুহাদ্দিস, অর্থাৎ প্রতিটি বর্ণনাক্রমের হুকুমকে সীমাবদ্ধ করো (সাহাবির মাধ্যমে) অর্থাৎ সেই নির্দিষ্ট বর্ণনাক্রমের সাহাবির সাথে যুক্ত করে। যেমন আপনি বলবেন: অমুক সাহাবির বর্ণিত সবচেয়ে সহিহ সনদ হলো এই এই ইত্যাদি। (অথবা) নির্দিষ্ট করো (অঞ্চলের মাধ্যমে), যেমন আপনি বলবেন: মদিনাবাসীদের বর্ণিত সবচেয়ে সহিহ সনদ হলো এই এই ইত্যাদি। আর এটিও সম্ভব যে 'খুসসা' শব্দটি মাজি মাজহুল (নামপুরুষ কর্মবাচ্য) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ হুকুমটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে ইত্যাদি।

 

31 - সুতরাং সিদ্দিকের জন্য সর্বোচ্চ সনদ হলো সেটি … যা ইবনে আবি খালিদ কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

(সুতরাং সর্বোচ্চ) এখানে 'ফা' বর্ণটি বক্তব্য স্পষ্টকারী হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ আপনি যখন জানতে পারলেন যে সীমাবদ্ধ করাই উত্তম ও উপযুক্ত এবং আপনি যখন তার বর্ণনা চাচ্ছেন, তখন আমি আপনাকে বলছি: সর্বোচ্চ (সনদ) এখানে 'আলিফ লাম' জাতিগত আধিক্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ সবচেয়ে সহিহ সনদ। এটি মূলত একটি উহ্য মুজাফ-এর সাথে সম্পর্কিত, কারণ পরবর্তী 'মা' শব্দটি হাদিসকে নির্দেশ করছে যা সামনে আসছে। আবু বকর (সিদ্দিক)-এর জন্য। তাঁর নাম আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম আত-তাইমি। তিনি একশ বিয়াল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি ও মুসলিম ছয়টি হাদিসের ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন এবং বুখারি এককভাবে...
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৩১)
بأحد عشر ومسلم بحديث، توفي سنة ثلاث عشرة عن ثلاث وستين سنة، ودفن بالحجرة النبوية، رضي الله عنه فقوله: أرفع مبتدأ خبر قوله: (ما) واقعة على الحديث أي الحديث الذي روى إسماعيل (بن أبي خالد) (1) البجلي الأحمسي أبو عبد الله الكوفي أحد الأعلام، له نحو ثلثمائة حديث، مات سنة ست وأربعين ومائة.

(عن قيس) بن أبي حازم (2) البجلي الأحمسي، أبي عبد الله الكوفي مخضرم، ويقال: له رؤية، وهو الذي يقال: إنه اجتمع له الرواية عن العشرة (3)، مات بعد التسعين، أو قبلها، وقد جاوز المائة وتغير. (نما) أي نسبه إليه، يقال: نَمَيتُ الحديث ونَمَّيتُه بالتخفيف، والتشديد: رفعته وأبلغته، ونما الحديثُ ارتفع، والجملة صلة ما، ومعنى البيت أن أرفع وأصح أحاديث الأسانيد لأبي بكر الصديق رضي الله عنه هو الحديث الذي رواه إسماعيل بن أبي خالد، حال كونه آخذ عن قيس بن أبي حازم أي الحديث المروي بهذا السَّند.

 

32 - وَعُمَرٍ فَابْنَ شِهابٍ بَدِّهِ … عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِهِ عَنْ جَدِّهِ

 

(وَعُمَرٍ) بالجر عطف على الصديق أي أصح الأسانيد لعمر رضي الله عنه صرف للضرورة (فابن شهاب) بالنصب مفعول به لـ (بَدِّهِ) أمر من التبديه يقال: بدهه بأمر كمنعه استقبله به، أو بدأه، ولعل التضعيف هنا ليوافق لجدِّهِ، وفي نسخة الشرح بدئه بالهمز والجر ولا يظهر توجيهه. (عن سالم) المتقدم حال كونه راوياً (عن أبه) عبد الله بن عمر على لغة النقص

--------------------------------------------

(1) اسم أبي خالد قيل هرمز، وقيل كثير، وقيل سعد.

(2) اسم أبي حازم: قيل حصين، وقيل عوف، وقيل عبد عوف صحابي له حديث. اهـ تقريب التهذيب ص 581.

(3) كما سيأتي في النظم قوله:

704 - وَالتَّابِعُونَ طَبَقَاتٌ عَشَرَهْ … مَعْ، خَمْسَةٍ: أَوَّلُهُمْ ذُو الْعَشَرَهْ

705 - وَذَاكَ " قَيْسٌ " مَا لَهُ نَظِيرُ … وَعُدَّ عِنْدَ حَاكِمٍ كَثِيرُ
এগারোটি হাদিস এবং মুসলিম একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি তেরো হিজরি সনে তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং নববী হুজরায় দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন। তাঁর উক্তি: 'আরাফা' (সবচেয়ে উঁচু) হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এর খবর (বিধেয়) হলো তাঁর উক্তি: (মা) যা হাদিসের ওপর আপতিত হয়েছে। অর্থাৎ সেই হাদিস যা ইসমাইল (ইবনে আবি খালিদ) (১) আল-বাজালি আল-আহমাসি আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি বর্ণনা করেছেন। তিনি অন্যতম প্রধান ইমাম, তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা প্রায় তিনশত। তিনি একশত ছেচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

(কায়েস থেকে) অর্থাৎ ইবনে আবি হাযিম (২) আল-বাজালি আল-আহমাসি, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি। তিনি একজন মুখাদরাম (যিনি জাহিলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পেয়েছেন), এবং বলা হয় যে তিনি নবীজিকে দেখেছেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, তাঁর ক্ষেত্রে দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী)-এর সকলের থেকে বর্ণনা করার বিষয়টি একত্রিত হয়েছে (৩)। তিনি নব্বই হিজরির পরে অথবা আগে ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স একশ অতিক্রম করেছিল এবং তাঁর স্মৃতিশক্তিতে পরিবর্তন এসেছিল। (নামা) অর্থাৎ তিনি এটিকে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন বা সম্পর্কিত করেছেন। বলা হয়: 'নামাইতুল হাদিসা' হালকাভাবে এবং 'নাম্মাইতুহু' তাশদিদ সহকারে; যার অর্থ: আমি হাদিসটিকে উন্নীত করেছি এবং পৌঁছে দিয়েছি। আর 'নামাল হাদিসু' অর্থ হলো হাদিসটি উন্নীত হয়েছে। এই বাক্যটি 'মা'-এর সিলাহ। এই চরণের অর্থ হলো আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর সনদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ ও বিশুদ্ধ সনদ হলো সেই হাদিস যা ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ বর্ণনা করেছেন কায়েস ইবনে আবি হাযিম থেকে গ্রহণ করা অবস্থায়। অর্থাৎ এই সনদে বর্ণিত হাদিস।

 

৩২ - এবং উমরের ক্ষেত্রে ইবনে শিহাবকে অগ্রাধিকার দাও... সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে।

 

(ওয়া উমারা) এটি 'আস-সিদ্দিক'-এর ওপর আতফ বা সংযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ। ছন্দের প্রয়োজনে এখানে তানউইন ব্যবহৃত হয়েছে। (ফাবনা শিহাব) নসব (যবর) সহকারে এটি 'বাদ্দিহি'-এর মাফউল বিহি (কর্মপদ)। 'বাদ্দিহি' হলো 'তাবদিহ' থেকে নির্গত আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া)। বলা হয়: 'বাদাহাহু বি-আমরিন' অর্থাৎ সে এর মোকাবিলা করেছে বা তা দ্বারা শুরু করেছে। সম্ভবত এখানে তাশদিদ বা দ্বিত্ব করা হয়েছে 'লি-জাদ্দিহি' শব্দের সাথে মিল রাখার জন্য। ব্যাখ্যার এক কপিতে এটি হামযাহ ও জেরসহ 'বাদ-ই-হি' (শুরু করা অর্থে) রয়েছে, তবে এর সঠিক প্রয়োগ স্পষ্ট নয়। (সালেম থেকে) যিনি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন, তিনি বর্ণনাকারী হওয়া অবস্থায় (তাঁর পিতা থেকে) অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, যা 'নাকস' এর ব্যাকরণরীতি অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আবু খালিদের নাম; কেউ বলেছেন হুরমুজ, কেউ বলেছেন কাসির, আবার কেউ বলেছেন সাদ।

(২) আবু হাযিমের নাম: কেউ বলেছেন হুসাইন, কেউ বলেছেন আউফ, আবার কেউ বলেছেন আব্দুল আউফ; তিনি একজন সাহাবী যাঁর থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত - তাকরিবুত তাহযিব, পৃষ্ঠা ৫৮১।

(৩) যেমনটি কবিতার সামনে আসবে তাঁর এই উক্তিতে:

৭০৪ - তাবেয়ীগণ দশটি স্তরে বিভক্ত... সাথে আরও পাঁচটি; তাঁদের প্রথম স্তর হলো সেই দশজন (সাহাবী) থেকে বর্ণনাকারী।

৭০৫ - এবং তিনি হলেন 'কায়েস', যাঁর কোনো নজির নেই... আর হাকিমের মতে এমন বর্ণনাকারী অনেক।
(খণ্ড: ১) শারহুল আছয়ূবী আলা আলফিয়্যাতিস সুয়ূতী ফিল হাদীস = ইসআফু যাউয়িল ওয়াতারি বিশারহি নাযমিদ দুরারি ফী ইলমিল আছার (পৃষ্ঠা: ৩২)
كما تقدم (عن جده) أىِ جد سالم وهو عمر بن الخطاب رضي الله عنه وهذا القول للحاكم أيضاً.

 

33 - وَأَهْلِ بَيْتِ المُصْطَفَى جَعْفَرُ عَنْ … آبَائِهِ، إِنْ عَنْهُ رَاوٍ مَا وَهَنْ

 

(و) أرفع أسانيد (أهل بيت المصطفى) صلى الله عليه وسلم: (جعفر) بمنع الصرف للوزن هو الصادق بن محمدِ الباقرِ بن علي زَيْنِ العابدين بن الحسين بن علي بن أبي طالب الهاشمي، أبو عبد الله، المدني، مات سنة ثمان وأربعين ومائة، عن ثمان وستين سنة.

(عن آبائه) المذكورين أي راوياً هو عن أبيه وهو عن جده إلخ.

قال الناظم: هذه عبارة الحاكم، ووافقه من نقلها، وفيها نظر فإن الضمير في جده إن عاد إلى جعفر، فجده عَلِيٌ لم يسمع من علي بن أبي طالب، أو إلى محمد فهو لم يسمع من الحسين. اهـ تدريب.

(إن عنه راوٍ ما وهن) أي إن له يكن الراوي عن جعفر ضعيفاً، يقال: وَهَنَ يَهِن وَهْنا كوعد يعد وعداً: ضعف، أفاده في المصباح. وإنما قيده به وإن كان هذا القيد لازماً في كل ما مَرَّ لكثرة رواية الضعفاء عنه.

وحاصل معنى البيت أن أصح أسانيد أهل البيت جعفر بن محمد بن علي بن الحسين بن علي عن أبيه عن جده عن علي إن كان الراوي عن جعفر ثقة.

 

34 - وَلأَبِي هُرَيرَةَ الزُّهْرِيُّ عَنْ … سَعِيدٍ أوْ أَبُو الزِّنَادِ حَيْثُ عَنْ

35 - عَنْ أَعْرَجٍ، وَقيلَ: حَمَّادٌ بِمَا … أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ لَهُ نَمَا

 

(و) أصح الأسانيد (لأبي هريرة) الدوسي (1) رضي الله عنه ، له خمسة

--------------------------------------------

(1) اختلف في اسمه واسم أبيه على نحو ثلاثين قولاً والأصح عبد الرحمن بن صخر =
যেমন পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (তাঁর দাদা থেকে) অর্থাৎ সালিমের দাদা, আর তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)। এই অভিমতটি হাকিমেরও।

 

৩৩ - আর মুস্তফার আহলে বাইতের ক্ষেত্রে জাফর বর্ণনা করেছেন তাঁর... পূর্বপুরুষদের থেকে, যদি তাঁর থেকে বর্ণনাকারী দুর্বল না হন।

 

(এবং) মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (আহলে বাইতের) সনদগুলোর মধ্যে উচ্চতর হলো: (জাফর) - যা ছন্দের কারণে অ-পরিবর্তনীয় রূপে ব্যবহৃত হয়েছে - তিনি হলেন আস-সাদিক ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাকির ইবনে আলী যায়নুল আবিদীন ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব আল-হাশেমি, আবু আব্দুল্লাহ, মদিনার অধিবাসী। তিনি একশ আটচল্লিশ হিজরি সনে আটষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

(তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে) উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ, অর্থাৎ তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, ইত্যাদি।

গ্রন্থকার বলেন: এটি হাকিমের বক্তব্য এবং যারা এটি উদ্ধৃত করেছেন তারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কেননা ‘তাঁর দাদা’ শব্দের সর্বনামটি যদি জাফরের দিকে ফিরে যায়, তবে তাঁর দাদা আলী (যায়নুল আবিদীন) আলী ইবনে আবি তালিব থেকে শ্রবণ করেননি। আর যদি তা মুহাম্মাদের দিকে ফিরে যায়, তবে তিনি হুসাইন থেকে শ্রবণ করেননি। সমাপ্ত (তাদরীব)।

(যদি তাঁর থেকে বর্ণনাকারী দুর্বল না হন) অর্থাৎ যদি জাফর থেকে বর্ণনাকারী দুর্বল না হন। বলা হয়ে থাকে: ‘ওয়াহানা ইয়াহিনু ওয়াহনান’ যেমন ‘ওয়াদা ইয়াঈদু ওয়া’দান’ (ক্রিয়াপদের রূপ), এর অর্থ হলো: দুর্বল হওয়া, যা আল-মিসবাহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখক এই শর্তটি যুক্ত করেছেন - যদিও এই শর্তটি পূর্বে অতিক্রান্ত সকল বর্ণনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য - কারণ জাফর থেকে দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণনার আধিক্য রয়েছে।

এই পঙ্‌ক্তির সারমর্ম হলো, আহলে বাইতের বিশুদ্ধতম সনদ হলো জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী, যা তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন; যদি জাফর থেকে বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হন।

 

৩৪ - আর আবু হুরাইরার জন্য যুহরি সাঈদ থেকে... অথবা আবুয যিনাদ যখন বর্ণনা করেন...

৩৫ - আল-আরাজ থেকে। এবং বলা হয়েছে: হাম্মাদ সেই বর্ণনা যা... আইয়ুব মুহাম্মাদ থেকে তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন।

 

(এবং) আবু হুরাইরা আদ-দাওসি (১) (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত (বিশুদ্ধতম সনদসমূহ); তাঁর জন্য পাঁচটি সনদ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর এবং তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে প্রায় ত্রিশটি অভিমত রয়েছে, তবে বিশুদ্ধতম হলো আব্দুর রহমান ইবনে সাখর। =