(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: -)
طبقات الفقهاء القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: طبقات الفقهاء
المؤلف: أبو اسحاق إبراهيم بن علي الشيرازي (ت 476هـ)
هذبهُ: محمد بن مكرم ابن منظور (ت 711هـ)
المحقق: إحسان عباس
الناشر: دار الرائد العربي، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1970
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 191
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফকিহগণের স্তরসমূহ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: ফকিহগণের স্তরসমূহ (তাবাকাতুল ফুকাহা)
লেখক: আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলি আশ-শিরাজি (মৃত্যু ৪৭৬ হিজরি)
পরিমার্জন করেছেন: মুহাম্মদ বিন মুকাররম ইবনে মানজুর (মৃত্যু ৭১১ হিজরি)
সম্পাদক: ইহসান আব্বাস
প্রকাশক: দার আল-রায়েদ আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৭০
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب طبقات الفقهاء
رضي الله عنهم
تأليف الإمام العالم الزاهد أبي إسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الشيرازي الفيروز أبادي رحمه الله، رواية أبي الحسن علي بن هبة الله بن عبد السلام الكاتب عنه، رواية الإنان العلامة تاج الدين ابي اليمن زيد ابن الحسن بن زيد الكندي عنه.
ফকিহগণের স্তরায়ন বিষয়ক গ্রন্থ
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন
ইমাম, আলিম, যাহেদ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আলি বিন ইউসুফ আল-শিরাজি আল-ফিরুজাবাদি (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) কর্তৃক রচিত; তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলি বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবদুস সালাম আল-কাতিব; তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম, আল্লামা তাজউদ্দীন আবুল ইয়ামান জায়েদ ইবনুল হাসান বিন জায়েদ আল-কিন্দি।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১)
ترجمة المؤلفولد إبراهيم بن علي بن يوسف (1) الذي أصبح - من بعد - يكنى أبا إسحاق ويلقب جمال الدين سنة 393 (2) هـ. في بلدة فيروز آباد (بكسر الفاء أو فتحها) ، وهي مدينة جور الواقعة على بعد 115 كم إلى الجنوب من شيراز، وبها نشأ وفيها بدأ تحصيله العلمي، وكان من أول شيوخه الذين علق عنهم فيها أبو عبد الله محمد بن عمر الشيرازي؛ وبعد أن نال من العلم ما يمكن أن يتيحه له بلده، اغترب عنه استكمالاً للطلب فدخل شيراز سنة 410 وعمره في حدود السابعة عشرة، كما دخل الغندجان، ودرس فيهما وفي غيرهما على شيوخ الفقه حينئذ، ومنهم أبو أحمد عبد الرحمن بن الحسين الغندجاني، علق عنه بشيراز والغندجان؛ ويقول السبكي أنه درس في شيراز علي أبي عبد الله البيضاوي (- 424) وأبي أحمد عبد الوهاب بن محمد بن رامين البغدادي (- 430) وهذان من أساتذته البغداديين أيضاً، فلعله أخذ عنهما في
--------------------------------------------
লেখকের জীবনীইব্রাহিম বিন আলী বিন ইউসুফ (১) ৩৯৩ (২) হিজরি সনে ফিরোজাবাদ (ফা বর্ণে কাসরা বা ফাতহা যোগে) শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যিনি পরবর্তীতে আবু ইসহাক উপনামে এবং জামালুদ্দিন উপাধিতে পরিচিত হন। এটি জুর নামক শহর, যা শিরাজ থেকে ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং এখানেই তাঁর জ্ঞানার্জন শুরু করেন। সেখানকার প্রথম শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ওমর আল-শিরাজি, যাঁর নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। নিজ শহরে প্রাপ্য জ্ঞান অর্জনের পর উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি দেশ ত্যাগ করেন এবং ৪১০ হিজরি সনে শিরাজ শহরে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল সতেরো বছরের কাছাকাছি। তিনি গান্দাজানেও প্রবেশ করেন এবং এই দুই শহর ও অন্যান্য স্থানে তৎকালীন ফকিহদের নিকট অধ্যয়ন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবু আহমদ আবদুর রহমান বিন আল-হুসাইন আল-গান্দাজানি, যাঁর নিকট তিনি শিরাজ ও গান্দাজানে অধ্যয়ন করেছিলেন। সুবকি বলেন যে, তিনি শিরাজে আবু আবদুল্লাহ আল-বাইদাউয়ি (মৃত্যু ৪২৪) এবং আবু আহমদ আবদুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মদ বিন রামিন আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৩০)-এর নিকট অধ্যয়ন করেছেন। তাঁরা উভয়েই তাঁর বাগদাদি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সম্ভবত তিনি তাঁদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২)
مرحلتين؛ كذلك دري علي أبي عبد الله الجلاب خطيب شيراز وفقيهها النظار، واتصل بأبي الفرج الفامي الشيرازي أحد رجال المذهب الداودي الظاهري، وكان يناظره وهو في تلك السن المبكرة، إذ يقول في الطبقات " وكنت أناظره بشيراز وأنا صبي "، وهذا يدل على أنه أحرز التمرس بفن الجدل وهو في تلك السن.
وبعد هذه المرحلة التي قضاها طالباً للعلم في بلاد فارس توجه إلى العراق، فدخل البصرة ودرس على فقهائها ومنهم الحوزي؛ ثم قصد بغداد فدخلها سنة 415 وهو في الثانية والعشرين من عمره، متابعاً طلب العلم، فوجد في بغداد بيئة علمية غير التي عرفها في سائر المدن والقرى التي أتيح له دخولها، ووصل نفسه بكبار الفقهاء من القائمين بمذهب الشافعي، ومن هؤلاء الشيرجي الفرضي الحاسب وابن رامين وأبو عبد الله البيضاوي ومنصور بن عمر الكرخي، ولكن أكبر أساتذته في هذا الدور هو أبو الطيب الطبري (- 450) الذي يقول هو في وصفه: " ولم أر في من رأيت أكمل اجتهاداً، واشد تحقيقاً، وأجود نظراً منه "، ويليه في المنزلة بين سائر شيوخه أستاذه أبو حاتم محمود بن الحسن الطبري المعروف بالقزويني، قال: " ولم أنتفع بأحد في الرحلة كما انتفعت به وبالقاضي أبي الطيب الطبري ". وعلي أبي حاتم قرأ أبو إسحاق الأصول، كما درس الفقه على آخرين منهم الزجاجي وأبو عبد الله محمد بن عمر الشيرازي وغيرهما، وسمع الحديث علي أبي بكر البرقاني وأبي علي ابن شاذان، وحضر بعض حلقات الدروس لغير الشافعية، فهو يقول في القاضي أبي علي الهاشمي الحنبلي: " حضرت حلقته وانتفعت به كثيرا ".
وقد نال أبو إسحاق إعجاب أستاذه أبي الطيب الطبري وثقته بعد وقت غير طويل، فأخذ الأستاذ يأذن له بتدريس أصحابه في مسجده حين رتبه معيداً، وأخذ الشيرازي نفسه بخطة صارمة فقد قال متحدثاً عن نفسه في تلك الفترة: " كنت أعيد كل قياس ألف مرة، فإذا فرغت منه أخذت
দুই পর্যায়; একইভাবে তিনি শিরাজের খতিব এবং সেখানের দূরদর্শী ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ আল-জাল্লাবের কাছে অধ্যয়ন করেন। তিনি দাউদি জাহেরি মাজহাবের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আবু আল-ফারাজ আল-ফামি আল-শিরাজির সাথেও যোগাযোগ করেন এবং সেই অল্প বয়সেই তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হতেন। যেমনটি তিনি 'তাবাকাত'-এ বলেছেন, "আমি যখন বালক ছিলাম, তখন শিরাজে তাঁর সাথে বিতর্ক করতাম।" এটি প্রমাণ করে যে, তিনি সেই বয়সেই বিতর্কশৈলীতে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
পারস্যে ইলম অন্বেষণের এই পর্ব শেষ করার পর তিনি ইরাক অভিমুখে রওনা হন। তিনি বসরায় প্রবেশ করেন এবং সেখানের ফকিহদের কাছে অধ্যয়ন করেন, যাদের মধ্যে আল-হাওজি অন্যতম। এরপর তিনি বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ৪১৫ হিজরিতে বাইশ বছর বয়সে ইলম অন্বেষণের ধারা অব্যাহত রেখে সেখানে প্রবেশ করেন। বাগদাদে তিনি এমন এক ইলমি পরিবেশ খুঁজে পান, যা তাঁর দেখা অন্যান্য শহর বা জনপদ থেকে ছিল ভিন্ন। সেখানে তিনি শাফেয়ি মাজহাবের শীর্ষস্থানীয় ফকিহদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মিরাসশাস্ত্রবিদ ও গণিতজ্ঞ আল-শিরাজি, ইবনে রামিন, আবু আব্দুল্লাহ আল-বায়দাওয়ি এবং মনসুর ইবনে উমর আল-কারখি। তবে এই পর্বে তাঁর প্রধান শিক্ষক ছিলেন আবু আল-তাইয়িব আল-তাবারী (মৃত্যু- ৪৫০ হিজরি), যাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন: "আমি যত মানুষ দেখেছি, তাঁদের মধ্যে ইজতিহাদের পূর্ণতায়, তাহকিকের দৃঢ়তায় এবং সূক্ষ্ম চিন্তায় তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি।" তাঁর অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে এরপরই ছিলেন উস্তাদ আবু হাতিম মাহমুদ ইবনে আল-হাসান আল-তাবারী, যিনি আল-কাজউইনি নামে পরিচিত। তিনি বলেন: "সফরকালে আমি তাঁর থেকে এবং কাজি আবু আল-তাইয়িব আল-তাবারীর মতো অন্য কারো থেকে এতোটা উপকৃত হইনি।" আবু হাতিমের কাছে আবু ইসহাক উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্র পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি আল-জাজ্জাজি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-শিরাজি সহ আরও অনেকের কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি আবু বকর আল-বারকানি এবং আবু আলি ইবনে শাজানের কাছে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি শাফেয়ি মাজহাবের বাইরের আলিমদের পাঠচক্রেও উপস্থিত হতেন; হাম্বলি কাজি আবু আলি আল-হাশিমি সম্পর্কে তিনি বলেন: "আমি তাঁর পাঠচক্রে উপস্থিত হয়েছি এবং তাঁর থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি।"
অল্প সময়ের মধ্যেই আবু ইসহাক তাঁর উস্তাদ আবু আল-তাইয়িব আল-তাবারীর প্রশংসা ও আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। ফলে উস্তাদ তাঁকে তাঁর মসজিদে সহকারীর পদে নিয়োজিত করেন এবং তাঁর ছাত্রদের পড়ানোর অনুমতি দেন। শিরাজি নিজেও অত্যন্ত কঠোর রুটিন অনুসরণ করতেন। সেই সময়কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: "আমি প্রতিটি কিয়াস এক হাজার বার পুনরাবৃত্তি করতাম, আর যখন তা শেষ হতো, তখন আমি নিতাম..."
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
قياساً آخر وهكذا؛ وكنت أعيد كل درس ألف مرة فإذا كان في المسألة بيت يستشهد به حفظت القصيدة " وما ذلك إلا طلباً للتثبيت واليقين؛ وكان قد مر عليه ببغداد حوالي خمسة عشر عاماً حين سأله أستاذه أبو الطيب الطبري أن ينفرد في أحد المساجد، ففعل ذلك وأخذ يدرس في مسجد بباب المراتب. وما لبث أن اشتهر أمره وانتشر صيته في البلدان ووصل إليه الطلبة من كل مكان وأخذت الفتاوى تحمل إليه من جميع الجهات. وأصبح في حياة شيخه أبي الطيب من اكبر فقهاء الشافعية في عصره، شهرة بالفقه وأصوله ومسائل الخلاف وقوة العارضة في الجدل، وأصبح شيخه يعتمد عليه في شئون المناظرة ويقدمه لذلك.
وكانت العادة ببغداد إذا أصيب أحد بوفاة أن يجلس للعزاء في مسجد الحي ليتقبل التعزية ويمضي على ذلك أياماً لا يتخللها سوى قراءة القرآن أو المناظرة بين الشيوخ؛ فلما توفيت زوجة الشيخ أبي الطيب حضر للعزاء فيمن حضر القاضي أبو عبد الله الصيمري شيخ الحنفية فرغب الناس إليهما في المناظرة في مسألة فقهية فلما اعتذر الصيمري عن ذلك قال الناس: من كان له تلميذ مثل أبي عبد الله الدامغاني لا يحوج إلى الكلام وها هو حاضر من أراد أن يكلمه فليفعل. فقال القاضي أبو الطيب: وهذا أبو إسحاق من تلامذتي ينوب عني.
وفي سنة 447 توفي قاضي القضاة أبو عبد الله الحسين بن جعفر بن ماكولا الشافعي، فاتجهت أنظار الخليفة وكان يومئذ هو القائم بأمر الله إلى أبي إسحاق الشيرازي، وأراده على أن بتولى قضاء القضاة فأبى فحاول إكراهه على ذلك فامتنع أيضاً، فوكل به من يلازمه حتى يحمله على القبول، فكتب إله أبو إسحاق: " ألم يكفك أن هلكت حتى تهلكني معك " فتأثر الخليفة لهذا وقال: " هكذا فليكن العلماء؛ إنما أردنا أن يقال انه كان في عصرنا من وكل به وأكره على القضاء فامتنع وقد أعفيناه "؛ ومثل هذه الحكاية روى عن غير أبي إسحاق مع غير القائم بأمر الله.
অন্যান্য কিয়াস এবং একইভাবে; আমি প্রতিটি পাঠ এক হাজার বার পুনরাবৃত্তি করতাম, আর যদি কোনো মাসয়ালায় প্রমাণের জন্য কোনো কবিতাংশ উদ্ধৃত করা হতো, তবে আমি পুরো কসিদাটিই মুখস্থ করে নিতাম; আর তা ছিল কেবল দৃঢ়তা ও নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষায়। বাগদাদে তার প্রায় পনের বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তার উস্তাদ আবুুত তাইয়্যিব আত-তাবারী তাকে কোনো একটি মসজিদে স্বতন্ত্রভাবে বসার (অধ্যাপনার) জন্য অনুরোধ করলেন। তিনি তা-ই করলেন এবং 'বাবুল মারাতীব' নামক একটি মসজিদে পাঠদান শুরু করলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল এবং দেশ-দেশান্তরে তার সুনাম সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। চারদিক থেকে ছাত্ররা তার কাছে আসতে লাগল এবং সব দিক থেকে ফাতাওয়া তার কাছে পাঠানো হতে লাগল। তার শাইখ আবুুত তাইয়্যিবের জীবদ্দশাতেই তিনি সমকালীন শাফেয়ী ফকীহদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ হিসেবে গণ্য হলেন; ফিকহ, উসূলে ফিকহ, মাসায়িলে খিলাফ এবং বিতর্কে পারদর্শিতার জন্য তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এমনকি তার শাইখ বিতর্ক ও আলোচনার বিষয়গুলোতে তার ওপর নির্ভর করতেন এবং তাকেই এজন্য সামনে এগিয়ে দিতেন।
বাগদাদের রীতি ছিল যে, যদি কেউ কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুতে শোকাহত হতো, তবে সে শোক প্রকাশের জন্য মহল্লার মসজিদে বসত যাতে মানুষ সমবেদনা জানাতে পারে। এভাবে কয়েক দিন অতিবাহিত হতো, যে সময়ে কুরআন তিলাওয়াত অথবা শাইখদের মধ্যে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্ক ছাড়া অন্য কিছু হতো না। যখন শাইখ আবুুত তাইয়্যিবের স্ত্রী ইন্তেকাল করলেন, তখন সমবেদনা জানাতে আগতদের মধ্যে হানাফী মাযহাবের শাইখ কাজী আবু আব্দুল্লাহ আস-সাইমারীও উপস্থিত ছিলেন। লোকেরা তখন তাদের উভয়ের কাছে একটি ফিকহী মাসআলার ওপর বিতর্কের অনুরোধ জানাল। যখন সাইমারী সে বিষয়ে ওজর পেশ করলেন, তখন লোকেরা বলল: "যার আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামাগানীর মতো ছাত্র আছে, তার নিজের কথা বলার প্রয়োজন নেই। তিনি তো এখানে উপস্থিত আছেন, যে তার সাথে কথা বলতে চায় সে যেন তা-ই করে।" তখন কাজী আবুুত তাইয়্যিব বললেন: "আর এই আবু ইসহাক আমার ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম, যে আমার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবে।"
৪৪৭ হিজরি সালে প্রধান বিচারপতি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন জাফর বিন মাকুলা আশ-শাফেয়ী মৃত্যুবরণ করেন। তখন তৎকালীন খলীফা আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহর দৃষ্টি আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর ওপর নিবদ্ধ হলো। তিনি চেয়েছিলেন তিনি যেন প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। খলীফা তাকে বাধ্য করার চেষ্টা করলেন, তবুও তিনি বিরত থাকলেন। খলীফা তার সাথে এমন লোক নিযুক্ত করলেন যারা তাকে সবসময় অনুসরণ করবে যতক্ষণ না তিনি পদটি গ্রহণে রাজী হন। তখন আবু ইসহাক খলীফাকে লিখে পাঠালেন: "আপনার জন্য কি এটুকুই যথেষ্ট নয় যে আপনি ধ্বংস হয়েছেন, এখন আমাকেও আপনার সাথে ধ্বংস করতে চান?" খলীফা এতে প্রভাবিত হলেন এবং বললেন: "আলিমদের তো এমনই হওয়া উচিত। আমরা কেবল চেয়েছিলাম যেন ইতিহাসে এমনটি বলা হয় যে—আমাদের যুগে এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যাকে বিচারপতির পদ গ্রহণের জন্য বাধ্য করতে লোক নিয়োগ করা হয়েছিল, তবুও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন; আর আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।" আবু ইসহাক ছাড়াও অন্যান্য আলিমদের সম্পর্কে এবং খলীফা আল-কায়িম ছাড়াও অন্যান্য খলীফাদের সম্পর্কে এই জাতীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد وفاة الشيخ أبي الطيب الطبري (450) يكاد أبو إسحاق يصبح العلم المتفرد بين فقهاء مذهبه، لا ينازعه في هذا منازع حتى أن الوزير نظام الملك لما بنى المدرسة النظامية ببغداد لم يقع اختياره لتولي التدريس فيها إلا على الشيخ أبي إسحاق، بل أنه جعلها برسمه بعد أن وافق الشيخ نفسه على ذلك. وفي العاشر من ذي القعدة سنة 459 جمع العميد أبو سعد القاشي الناس من مختلف الطبقات لا فتتاح المدرسة (1) . والقاء أول درس فيها، وطال انتظار الناس تشوقاً لحضور أبي إسحاق فلم يحضر، وطلب فلم يوجد، وعندئذ عهد العميد أبو سعد إلى أبي نصر بن الصباغ بالتدريس فيها.
وقيل أن أبا إسحاق إنما عدل عن الحضور بع موافقته لأن شاباً لقيه في الطريق فقال له: يا سيدنا، تريد تدريس في المدرسة؟ قال نعم. قال: وكيف تدرس في مكان مغصوب؟ وعندئذ غير الشيخ نيته ولم يحضر. ولما تولى ابن الصباغ التدريس في النظامية وبلغ الخبر نظام الملك غضب وأقام القيامة على العميد أبي سعد، وأبى أن يقبل بأحد سوى الشيرازي؛ وظهر أبو إسحاق بمسجد باب المراتب يلقي دروسه على عادته، فاجتمع إليه الناس داعين له لأنه رفض التدريس، وكان قد بلغهم انه قال: " إني لم أطب نفساً بالجلوس في هذه المدرسة لما بلغني أن أبا القاشي غصب أكثر آلاتها ونقض قطعة من البلد لأجلها ". غير أن تلامذة أبي إسحاق اغتموا لما فعله شيخهم، وفتروا عن حضور دروسه، وراسلوه يعلمونه انه إن لم يتول التدريس بالمدرسة فانهم سينفضون من حوله ويلحقون بابن الصباغ، فأرضاهم بالاستجابة تطيباً لقلوبهم؛ وصرف ابن الصباغ عن التدريس بعد أن قضى في ذلك عشرين يوماً، وجلس أبو إسحاق في النظامية في مستهل شهر ذي الحجة سنة 459 وبقي فيها مدرساً إلى حين وفاته أي حوالي سبعة عشر عاماً؛
--------------------------------------------
শাইখ আবু তাইয়্যেব আত-তাবারীর (৪৫০ হি.) ইন্তেকালের পর আবু ইসহাক তাঁর মাযহাবের ফকীহদের মধ্যে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী একক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এ বিষয়ে তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কেউ ছিল না। এমনকি উজির নিজামুল মুলক যখন বাগদাদে মাদরাসা নিজামিয়া নির্মাণ করেন, তখন সেখানে শিক্ষকতার দায়িত্ব প্রদানের জন্য শাইখ আবু ইসহাক ছাড়া অন্য কাউকেই তিনি নির্বাচন করেননি; বরং শাইখ নিজে রাজি হওয়ার পর তিনি এটি তাঁর নামেই উৎসর্গ করেছিলেন। ৪৫৯ হিজরীর ১০ই জিলকদ তারিখে আমীদ আবু সা’দ আল-কাশি মাদরাসাটি উদ্বোধন (১) এবং সেখানে প্রথম দরস প্রদানের উদ্দেশ্যে সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করেন। আবু ইসহাকের উপস্থিতির প্রতীক্ষায় মানুষ দীর্ঘক্ষণ উৎসুক হয়ে বসে থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তাঁকে খোঁজা হলেও পাওয়া যায়নি; এমতাবস্থায় আমীদ আবু সা’দ সেখানে শিক্ষকতার দায়িত্ব আবু নাসর বিন আস-সাব্বাগের ওপর ন্যস্ত করেন।
বলা হয়ে থাকে যে, আবু ইসহাক রাজি হওয়ার পরেও উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত ছিলেন এই কারণে যে, পথিমধ্যে এক যুবক তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছিল: "হে আমাদের সায়্যিদ, আপনি কি মাদরাসায় দরস দিতে যাচ্ছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" সে বলল, "একটি জবরদখলকৃত স্থানে আপনি কীভাবে দরস দেবেন?" তৎক্ষণাৎ শাইখ তাঁর নিয়ত পরিবর্তন করেন এবং সেখানে উপস্থিত হননি। যখন ইবনে আস-সাব্বাগ নিজামিয়ায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং এই খবর নিজামুল মুলকের কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি রাগান্বিত হলেন এবং আমীদ আবু সা’দের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি শিরাজী ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। এদিকে আবু ইসহাক প্রথা অনুযায়ী বাবুল মারাতিব মসজিদে আবির্ভূত হয়ে দরস দিতে লাগলেন। মানুষ তাঁর কাছে একত্রিত হয়ে তাঁর জন্য দোয়া করতে লাগল যেহেতু তিনি শিক্ষকতা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল যে তিনি বলেছিলেন: "এই মাদরাসায় বসার ব্যাপারে আমার মন সায় দিচ্ছে না, কারণ আমি জানতে পেরেছি যে আবু আল-কাশি এর অধিকাংশ সরঞ্জামাদি জবরদখল করেছেন এবং এর জন্য শহরের একটি অংশ ধ্বংস করেছেন।" তবে আবু ইসহাকের ছাত্ররা তাদের শাইখের এই আচরণে ব্যথিত হলো এবং তাঁর দরসে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতে লাগল। তারা তাঁকে পত্র মারফত জানাল যে, যদি তিনি মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ না করেন, তবে তারা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করবে এবং ইবনে আস-সাব্বাগের সাথে যোগ দেবে। ফলে তিনি তাদের মনতুষ্টির জন্য তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করলেন। ইবনে আস-সাব্বাগ সেখানে বিশ দিন শিক্ষকতা করার পর তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ৪৫৯ হিজরীর জিলহজ মাসের শুরুতে আবু ইসহাক নিজামিয়ায় আসন গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় সতের বছর শিক্ষক হিসেবে স্থায়ী থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
وكان إذا حضر وقت الصلاة خرج منها وصلى في بعض المساجد القريبة تحرجاً من الصلاة في موضع لحقته شبهة الغصب.
وكان الاضطلاع بأمر النظامية يعني تغيراً في نوع المسؤولية التي حملها أبو إسحاق، فهو من بعض النواحي لم يعد مسئولاً عن تصرفاته وحدها في المدرسة، وإنما للمنصب جعله يغدو " ممتثلاً " للشافعية ببغداد ولهذا نراه يظهر لأول مرة في " مهمة رسمية " عند وفاة القائم سنة 467 وبيعة المقتدي بأمر الله؛ ويخبرنا أن المقتدي كان كبير الاجلال للشيخ أبي إسحاق وأن الشيخ كان سبباً لجعله خليفة، ولكنه لا يوضح كيف كان ذلك؛ وأياً كان الأمر فان هذا القول - إن صح - يدل على أن أبا إسحاق أصبح بحكم منصبه قريباً من رجال الدولة إذا حدث ما يستدعي حضوره وهو موقف لن يعقبه من المتاعب.
وما لبثت المتاعب أن أقبلت، فبيئته بغداد يغلب عليها مذهب أحمد بن حنبل، والمدرسة النظامية معقل للشافعية، ولهذا كان في مقدور المدرسين والوعاظ الشافعيين أن يتخذوها منبراً لبث آرائهم في أتباع المذهب الحنبلي، وحضر إلى المدرسة أبو نصر القسيري (وهو ابن أبي القاسم صاحب الرسالة) سنة 469، كان في طريقه إلى مكة (1) فتكلم على مذهب الأشعري ونصره، وتعرض للحنابلة بالذم ونسبهم إلى التجسيم، فاستاء الحنابلة من ذلك وكان زعيمهم يومئذ الشريف أبو جعفر بن أبي موسى؛ وحاول أبو إسحاق أن يهدئ الحال بين الفريقين، فسأل الشريف أبا جعفر أن يعمل على تلافي الفتنة، ولكن ابن القشيري أخرج الأمر من حيز النظامية إلى الشارع، فقد ذهب إلى أحد المساجد وأخذ يبذل مالاً لليهود علهم أن يسلموا فكان عوام بغداد
--------------------------------------------
যখন সালাতের সময় উপস্থিত হতো তখন তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যেতেন এবং নিকটবর্তী কোনো মসজিদে সালাত আদায় করতেন; কারণ তিনি এমন স্থানে সালাত আদায়ের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন যেখানে জবরদখলের সন্দেহ বিদ্যমান ছিল।
নিযামিয়া মাদরাসার দায়িত্বভার গ্রহণ করার অর্থ ছিল আবু ইসহাকের ওপর অর্পিত দায়িত্বের ধরনে এক পরিবর্তন আসা। কিছু ক্ষেত্রে তিনি আর কেবল মাদরাসায় নিজের ব্যক্তিগত আচরণের জন্যই দায়ী ছিলেন না, বরং এই পদটি তাকে বাগদাদের শাফেয়ীদের এক প্রকার "প্রতিনিধি" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। একারণেই আমরা তাকে ৪৬৭ হিজরিতে আল-কায়িমের ইন্তেকাল এবং আল-মুকতাদি বি-আমরিল্লাহর আনুগত্যের শপথের (বাইয়াত) সময় প্রথমবারের মতো একটি "দাপ্তরিক মিশনে" উপস্থিত হতে দেখি। তিনি আমাদের জানাচ্ছেন যে, আল-মুকতাদি শাইখ আবু ইসহাককে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং শাইখই ছিলেন তার খলিফা হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে বিষয়টি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল তা তিনি স্পষ্ট করেননি। যাই হোক না কেন, এই উক্তিটি—যদি সঠিক হয়—তবে তা নির্দেশ করে যে, আবু ইসহাক তার পদের কারণে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের নিকটবর্তী হয়েছিলেন যখনই এমন কোনো ঘটনা ঘটত যার জন্য তার উপস্থিতির প্রয়োজন হতো। এটি এমন এক অবস্থান ছিল যা শুরুতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করেনি।
কিন্তু অচিরেই সমস্যা দেখা দিল। বাগদাদের পরিবেশে তখন আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের আধিপত্য ছিল এবং নিযামিয়া মাদরাসা ছিল শাফেয়ীদের দুর্গ। এই কারণে শাফেয়ী শিক্ষক ও ওয়ায়েজদের পক্ষে এটিকে একটি মিম্বর হিসেবে ব্যবহার করে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীদের মাঝে তাদের নিজস্ব মতাদর্শ প্রচার করা সম্ভব ছিল। ৪৬৯ হিজরিতে আবু নাসর আল-কুশায়রী (যিনি আল-রিসালার লেখক আবু আল-কাসিমের পুত্র) মাদরাসায় উপস্থিত হন। তিনি মক্কার পথে ছিলেন (১)। তিনি সেখানে আশআরী মাযহাব অনুযায়ী আলোচনা করেন এবং এর পক্ষ অবলম্বন করেন। তিনি হাম্বলীদের নিন্দা করেন এবং তাদের দিকে আল্লাহকে দেহধারী সাব্যস্ত করার (তাজসীম) অপবাদ আরোপ করেন। এতে হাম্বলীরা সংক্ষুব্ধ হয় এবং সেই সময় তাদের নেতা ছিলেন শরীফ আবু জাফর ইবনে আবু মুসা। আবু ইসহাক উভয় পক্ষের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং শরীফ আবু জাফরকে এই ফিতনা নিরসনে কাজ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু ইবনুল কুশায়রী বিষয়টি নিযামিয়ার গণ্ডি থেকে বের করে রাজপথে নিয়ে যান। তিনি একটি মসজিদে গিয়ে ইহুদীদের অর্থ প্রদান করতে শুরু করেন যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে, ফলে বাগদাদের সাধারণ জনতা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
(وأكثرهم حنابلة) يقولون: هذا إسلام الرشا لا إسلام التقى، وأسلم يوماً يهودي وحمل على دابة، وخرجت من حوله " مظاهرة " ضخمة اصطدم من فيها بجماعة الحنابلة، فيقال أنه وقع عدد غير قليل من القتلى في ذلك الصدام؛ فغضب الشيخ أبو إسحاق لأنه عرف أن الشريف أبا جعفر لم يقعد وحسب عن تهدئته النائرة، وإنما كان قد أعد جماعة لمواجهة " مظاهرة " الشافعية.
وأعلن أبو إسحاق عن وقوفه إلى جانب القشيري حين رضي أن يضع توقيعه في محضر كتبه القشيري يهاجم في " الأوباش الرعاع المتوسمين بالحنابلة " لما أظهروه ببغداد من البدع الفظيعة والمخازي الشنيعة كالقدح في الإمام الشافعي والقول بالتجسيم، فكان نص ما كتبه أبو إسحاق: " الأمر على ما ذكر في هذا المحضر من حال الشيخ الإمام الأوحد أبي نصر عبد الرحيم بن عبد الكريم القشيري، اكثر الله في أئمة الدين مثله، من عقد المجالس وذكر الله عز وجل يما يليق به من توحيده وصفاته ونفي التشبيه عنه وقمع المبتدعة من المجسمة والقدرية وغيرهم، ولم أسمع منه مذهب أهل الحق من أهل السنة والجماعة، وبه أدين الله عز وجل وإياه أعتقد، وهو الذي أدركت أئمة أصحابنا عليه، واهتدى به خلق كثير من المجسمة، وصاروا كلهم على مذهب أهل الحق، ولم يبق من المبتدعة إلا نفر يسير، فحملهم الحسد والغيظ على سبه وسب الشافعي وأئمة أصحابه ونصار مذهبه، وهذا أمر لا يجوز الصبر عليه، ويتعين على المولى أعز الله نصره التنكيل بهذا النفر اليسير الذين تولوا كبر هذا الأمر وطعنوا في الشافعي وأصحابه، لأن الله عز وجل أقدره وهو الذي بدأ في هذا البلد بإغزار هذا المذهب بما بني فيه من المدرسة التي مات كل مبتدع من المجسمة والقدرية غيظاً منها، وبما يرتفع فيها من الأصوات بالدعاء لأيامه، استجاب الله فيه صالح الأدعية، ومتى أهمل نصرهم لم يكن له عذر عند الله عز وجل؛ وكتب إبراهيم بن علي الفيروزابادي ".
ولم يكتف أبو إسحاق بهذا الذي قيده في المحضر استنفاراً لنظام الملك
(এবং তাদের অধিকাংশই ছিল হাম্বলি) তারা বলে: এটি ঘুষের ইসলাম, তাকওয়ার ইসলাম নয়। একদিন এক ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করল এবং তাকে একটি পশুর পিঠে আরোহণ করানো হলো। তাকে কেন্দ্র করে একটি বিশাল "মিছিল" বের হলো, যারা হাম্বলিদের একটি দলের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল। বর্ণিত আছে যে, সেই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা কম ছিল না। এতে শেখ আবু ইসহাক ক্ষুব্ধ হলেন, কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন যে শরিফ আবু জাফর কেবল সেই দাঙ্গা প্রশমিত করতেই বিরত থাকেননি, বরং শাফেয়িদের "মিছিলের" মোকাবিলা করার জন্য একদল লোক আগে থেকেই প্রস্তুত রেখেছিলেন।
আবু ইসহাক কুশায়রির প্রতি তাঁর সমর্থন ঘোষণা করলেন যখন তিনি কুশায়রি কর্তৃক লিখিত একটি পত্রে স্বাক্ষর দিতে সম্মত হলেন। কুশায়রি সেই পত্রে "হাম্বলি পরিচয়ে পরিচিত অসভ্য ইতরদের" আক্রমণ করেছিলেন তাদের বাগদাদে প্রদর্শিত জঘন্য বিদআত ও নিকৃষ্ট অপকর্মের জন্য, যেমন ইমাম শাফেয়ির নিন্দা করা এবং তাজসিম (আল্লাহকে দেহধারী সাব্যস্ত করা) এর প্রবক্তা হওয়া। আবু ইসহাক যা লিখেছিলেন তার মূল পাঠ ছিল: "শেখ, ইমাম, অদ্বিতীয় আবু নাসর আবদুর রহিম ইবনে আবদুল করিম কুশায়রির অবস্থা এই পত্রে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে বিষয়টি তেমনই—আল্লাহ দ্বীনের ইমামদের মধ্যে তাঁর ন্যায় ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন—যিনি দ্বীনি মজলিস পরিচালনা করেন এবং মহান আল্লাহর তাওহিদ ও সিফাত সম্পর্কে তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলোচনা করার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ করেন, তাঁর থেকে সাদৃশ্য বা তুলনা (তাশবিহ) অস্বীকার করেন এবং মুজাসসিমা (দেহবাদী), কাদরিয়া ও অন্যান্য বিদআতিদের দমন করেন। আমি তাঁর নিকট থেকে কেবল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সত্যপন্থীদের মাযহাবই শ্রবণ করেছি এবং এর মাধ্যমেই আমি আল্লাহর আনুগত্য করি ও এটিই বিশ্বাস (আকিদা) পোষণ করি। আমাদের মাযহাবের ইমামগণকেও আমি এই বিশ্বাসের ওপরই পেয়েছি। তাঁর মাধ্যমে বহু মুজাসসিমা (দেহবাদী) সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছে এবং তারা সবাই সত্যপন্থীদের মাযহাবে শামিল হয়েছে। এখন বিদআতিদের মধ্যে কেবল গুটি কয়েক লোক অবশিষ্ট আছে। হিংসা ও ক্ষোভ তাদেরকে প্ররোচিত করেছে তাঁকে গালি দিতে, ইমাম শাফেয়িকে গালি দিতে এবং তাঁর মাযহাবের ইমাম ও অনুসারীদের গালি দিতে। এটি এমন এক বিষয় যা নিরবে সহ্য করা জায়েজ নয়। মাওলার (শাসকের) ওপর—আল্লাহ তাঁর বিজয়কে শক্তিশালী করুন—আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো এই নগণ্য ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা যারা এই ধৃষ্টতা দেখিয়েছে এবং শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীদের নিন্দা করেছে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে সামর্থ্য দিয়েছেন এবং তিনিই এই শহরে এই মাযহাবের সমৃদ্ধির সূচনা করেছেন সেই মাদ্রাসা নির্মাণের মাধ্যমে, যার কারণে মুজাসসিমা ও কাদরিয়াদের প্রত্যেক বিদআতি ক্ষোভে মৃত্যুবরণ করেছে এবং যেখানে তাঁর রাজত্বের জন্য উচ্চস্বরে দোয়া করা হয়। আল্লাহ তাঁর নেক দোয়া কবুল করুন। যদি তিনি তাদের সাহায্যে অবহেলা করেন, তবে আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর কোনো অজুহাত থাকবে না। ইতি, ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-ফিরোজাবাদি।"
আবু ইসহাক নিজামুল মুলককে উদ্দীপ্ত করার জন্য কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ এই বিবৃতির মাধ্যমেই ক্ষান্ত হননি।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
بل كتب إليه رسائل يشرح فيها الأمر، كما يراه، وربما تعدى ذلك إلى التحريض الشديد، فأخذ الحنابلة يتكلمون في أبي إسحاق ويبلغونه الأذى بألسنتهم، ويشيعون عنه أنه كتب إلى نظام الملك يسأله إبطال المذهب الحنبلي، وازداد أبو إسحاق غضباً، ومضى إلى باب الطاق يعد العدة لمبارحة بغداد والصفر إلى نظام الملك؛ وخاف الخليفة - وهو حنبلي المذهب - أن يشنع عليه الشافعية عند نظام الملك، ولهذا أرسل إلى أبي إسحاق من أقنعه بالعدول عن السفر، وسعى لأجراء الصلح بين الفريقين على يد الوزير فخر الدولة فاستدعى الوزير الشريف أبا جعفر إلى دار الخلافة، وأبلغه أن الخليفة استاء لما جرى بين المسلمين من اختلاف في عقائدهم، وكان قد استدعى أيضاً بعض الزعماء الشافعية وفيهم أبو إسحاق والقشيري، وعرض على الفريقين أن يتصالحا، وكان أبو إسحاق راغباً في الصلح إطفاءً لنار الفتنة، فتقدم إلى الشريف وقال: " أنا ذاك الذي يحضر حلقة الشريف في أيام المناظرة) وهذه كتبي في أصول الفقه فيها خلافاً للأشعرية " ثم قبل رأسه، فقال الشريف: قد كان ما تقول، إلا أنك لما كنت فقيراً لم يظهر لنا ما في نفسك، فلما جاء الأعوان والسلطان وخواجا بزرك (يعني نظام الملك) أبديت ما كان مخفياً؛ وتقدم ابن القشيري منه ولم يكن الشريف يعرفه، فلما عرف به قال: لو جاز أن يشكر أحد على بدعته لكان هذا الشاب لأنه بادهنا بما في نفسه ولم ينافق؛ ثم قال للوزير: أي صلح بيننا؛ إنما يكون الصلح بين مختصمين على ولاية أو ولاية أو دنيا أو قسمة ميراث أو تنازع في ملك، فأما هؤلاء القوم فهم يزعمون أننا كفار، ونحن نزعم أن من لا يعتقد ما نعتقده كافر فأي صلح بيننا؟
ورغم ذلك فان الاضطراب قد سكن بين الفريقين، وعمل الخليفة على أن يستبقي الشريف فقيل له أنه قد أفرد لك موضع قريب من الخدمة للمراجعة في الأمور الدينية والتبرك بمكانك، وأدرك الشريف أن الخليفة إنما
بل كتب إليه رسائل يشرح فيها الأمر، كما يراه، وربما تعدى ذلك إلى التحريض الشديد، فأخذ الحنابلة يتكلمون في أبي إسحاق ويبلغونه الأذى بألسنتهم، ويشيعون عنه أنه كتب إلى نظام الملك يسأله إبطال المذهب الحنبلي، وازداد أبو إسحاق غضباً، ومضى إلى باب الطاق يعد العدة لمبارحة بغداد والصفر إلى نظام الملك؛ وخاف الخليفة - وهو حنبلي المذهب - أن يشنع عليه الشافعية عند نظام الملك، ولهذا أرسل إلى أبي إسحاق من أقنعه بالعدول عن السفر، وسعى لأجراء الصلح بين الفريقين على يد الوزير فخر الدولة فاستدعى الوزير الشريف أبا جعفر إلى دار الخلافة، وأبلغه أن الخليفة استاء لما جرى بين المسلمين من اختلاف في عقائدهم، وكان قد استدعى أيضاً بعض الزعماء الشافعية وفيهم أبو إسحاق والقشيري، وعرض على الفريقين أن يتصالحا، وكان أبو إسحاق راغباً في الصلح إطفاءً لنار الفتنة، فتقدم إلى الشريف وقال: " أنا ذاك الذي يحضر حلقة الشريف في أيام المناظرة) وهذه كتبي في أصول الفقه فيها خلافاً للأشعرية " ثم قبل رأسه، فقال الشريف: قد كان ما تقول، إلا أنك لما كنت فقيراً لم يظهر لنا ما في نفسك، فلما جاء الأعوان والسلطان وخواجا بزرك (يعني نظام الملك) أبديت ما كان مخفياً؛ وتقدم ابن القشيري منه ولم يكن الشريف يعرفه، فلما عرف به قال: لو جاز أن يشكر أحد على بدعته لكان هذا الشاب لأنه بادهنا بما في نفسه ولم ينافق؛ ثم قال للوزير: أي صلح بيننا؛ إنما يكون الصلح بين مختصمين على ولاية أو ولاية أو دنيا أو قسمة ميراث أو تنازع في ملك، فأما هؤلاء القوم فهم يزعمون أننا كفار، ونحن نزعم أن من لا يعتقد ما نعتقده كافر فأي صلح بيننا؟
ورغم ذلك فان الاضطراب قد سكن بين الفريقين، وعمل الخليفة على أن يستبقي الشريف فقيل له أنه قد أفرد لك موضع قريب من الخدمة للمراجعة في الأمور الدينية والتبرك بمكانك، وأدرك الشريف أن الخليفة إنما
বরং তিনি তাঁর কাছে এমন সব পত্র লিখলেন যাতে তিনি বিষয়টি তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং কখনো কখনো তা তীব্র প্ররোচনার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। ফলে হাম্বলিরা আবু ইসহাক সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করল এবং তাদের কথার দ্বারা তাঁকে কষ্ট দিতে লাগল। তারা তাঁর বিরুদ্ধে এ কথা রটনা করল যে, তিনি নিজামুল মুলকের কাছে চিঠি লিখে হাম্বলি মাযহাব বিলুপ্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। এতে আবু ইসহাকের ক্রোধ আরও বৃদ্ধি পেল এবং তিনি বাগদাদ ত্যাগ করে নিজামুল মুলকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বাবুত তাকি অভিমুখে রওনা হলেন। খলিফা—যিনি স্বয়ং হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন—আশঙ্কা করলেন যে শাফেয়িরা নিজামুল মুলকের কাছে তাঁর সম্পর্কে অপবাদ রটাবে। এ কারণে তিনি আবু ইসহাকের কাছে এমন একজনকে পাঠালেন যিনি তাঁকে এ সফর থেকে নিবৃত্ত হতে সম্মত করালেন। খলিফা উজির ফখরুদ দাওলার মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের প্রয়াস চালালেন। উজির তখন শরিফ আবু জাফরকে খিলাফত ভবনে তলব করলেন এবং তাঁকে জানালেন যে, মুসলমানদের মধ্যে আকিদাগত যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে তাতে খলিফা ব্যথিত হয়েছেন। তিনি শাফেয়ি মাযহাবের কয়েকজন নেতৃবৃন্দকেও তলব করেছিলেন, যাদের মধ্যে আবু ইসহাক এবং কুশাইরি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উভয় পক্ষের সামনে সন্ধির প্রস্তাব পেশ করলেন। আবু ইসহাক ফিতনার আগুন নেভানোর উদ্দেশ্যে সন্ধি করতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি শরিফের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: "আমি তো সেই ব্যক্তি যে মুনাজারার দিনগুলোতে শরিফের মজলিসে উপস্থিত থাকতাম। উসূলুল ফিকহের ওপর এগুলো আমার রচিত গ্রন্থ যাতে আশআরিদের সাথে আমার মতপার্থক্য বিদ্যমান।" এরপর তিনি তাঁর মস্তক চুম্বন করলেন। শরিফ বললেন: "তুমি যা বললে তা তো ছিলই, কিন্তু তুমি যখন দরিদ্র ছিলে তখন তোমার মনের কথা আমাদের কাছে প্রকাশ পায়নি। তবে যখন সাহায্যকারী, সুলতান এবং খাজা বুজুর্গ (অর্থাৎ নিজামুল মুলক) আবির্ভূত হলেন, তখন তুমি যা গোপন ছিল তা প্রকাশ করে দিলে।" এরপর ইবনুল কুশাইরি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন, অথচ শরিফ তাঁকে চিনতেন না। যখন তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো, তিনি বললেন: "যদি কাউকে তার বিদআতের জন্য প্রশংসা করা বৈধ হতো, তবে এই যুবকই তার যোগ্য হতো। কারণ সে তার অন্তরের কথা আমাদের সামনে সরাসরি ব্যক্ত করেছে এবং কপটতার আশ্রয় নেয়নি।" অতঃপর তিনি উজিরকে লক্ষ্য করে বললেন: "আমাদের মধ্যে কীসের সন্ধি? সন্ধি তো হয় বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে কোনো পদবি, পার্থিব স্বার্থ, উত্তরাধিকার বণ্টন কিংবা সম্পদের মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে। পক্ষান্তরে এই সম্প্রদায় আমাদের কাফের বলে মনে করে, আর আমরাও মনে করি যারা আমাদের আকিদায় বিশ্বাসী নয় তারা কাফের। এমতাবস্থায় আমাদের মধ্যে কীসের সন্ধি?"
তৎসত্ত্বেও উভয় পক্ষের মধ্যকার অস্থিরতা প্রশমিত হলো। খলিফা শরিফকে তাঁর নিকটবর্তী স্থানে রাখতে সচেষ্ট হলেন। তাঁকে বলা হলো যে, ধর্মীয় বিষয়াদি পর্যালোচনা এবং আপনার অবস্থান থেকে বরকত গ্রহণের উদ্দেশ্যে খলিফার খেদমতের নিকটবর্তী একটি স্বতন্ত্র স্থান আপনার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। শরিফ উপলব্ধি করলেন যে খলিফা মূলত...
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
" يعتقله " لبيعده عن الاتصال ب؟ " الشارع الحنبلي " ولذلك قال لمن حوله: " فعلتموها؟! ".
وتتضارب الأخبار حول الأجوبة التي وردت من نظام الملك في هذه الحادثة، ففي بعضها أنه كتب إلى الوزير فخر الدولة ينكر ما وقع ويأمر بالتشديد على خصوم ابن القشيري، وفي بعضها الآخر أنه نصح بالاعتدال؛ وقد نقل ابن الجوزي نسخة كتاب قال أن النظام أرسله إلى أبي إسحاق، ونص الكتاب يدل على أنه لم يرسل إلى أبي إسحاق، وقد جاء فيه: " ورد كتابك بشرح أطلت فيه الخطاب، وليس توجب سياسة السلطان وقضية العدالة إلى أن نميل في المذاهب إلى جهة دون جهة، ونحن بتأييد السنن أولى من تشييد الفتن، ولم نتقدم ببناء هذه المدرسة إلا لصيانة أهل العلم والمصلحة لا للاختلاف وتفريق الكلمة، ومتى جرت الأمور على خلاف ما أردناه من هذه الأسباب فليس إلا التقدم بسد الباب، وليس في المكنة الإتيان على بغداد ونواحيها ونقلهم عن ما جرت عليه عاداتهم، فان الغالب هناك هو مذهب الإمام أبي عبد الله أحمد بن حنبل رحمة الله عليه، ومحله معروف بين الأئمة وقدره معلوم في السنة. وكان ما انتهى إلينا أن السبب في تجديد ما تجدد مسألة سئل عنها أبو نصر القشيري من الأصول، فأجاب عنها بخلاف ما عرفوه في معتقداتهم؛ والشيخ الإمام أبو إسحاق - وفقه الله - رجل سليم الصدر سلس الانقياد ويصغي إلى كل من ينقل إليه، وعندنا من تصادر كتبه ما يدل على ما وصفناه من سهولة مجتذبة والسلام ".
ولم يطل عهد الهدوء بين الفريقين ففي الثاني من شوال سنة 470 خرج من النظامية متفقه يعرف بالإسكندراني إلى سوق الثلاثاء وتكلم هنالك بتكفير الحنابلة، فرماه بعضهم بآجرة، فهرب إلى سوق المدرسة النظامية واستنفر الناس لنصرته، فخرجوا إلى سوق الثلاثاء، ونهبوا بعض ما كان فيه، ووقع الشر، وتقدم بعض أهل سوق الثلاثاء إلى سوق المدرسة ونهبوا ما يليهم منه
"তাকে আটক রাখা হবে" যাতে তাকে "হাম্বলি জনতা" থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যায়, আর একারণেই তিনি তার আশেপাশের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "তোমরা এটা করে ফেললে?!"।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজামুল মুলকের পক্ষ থেকে আসা উত্তরগুলোর ব্যাপারে সংবাদের ভিন্নতা পাওয়া যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি উজির ফখরুদ দাওলাহর নিকট যা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়ে এবং ইবনুল কুশায়রীর বিরোধীদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি মধ্যপন্থার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ইবনুল জাওযী একটি পত্রের অনুলিপি উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন যে, নিজামুল মুলক সেটি আবু ইসহাকের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তবে পত্রের পাঠ্য ইঙ্গিত দেয় যে, সেটি আবু ইসহাকের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে: "আপনার পত্রটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাসহ আমার নিকট পৌঁছেছে। সুলতানের রাজনীতি এবং ইনসাফের দাবি হলো আমরা কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের দিকে ঝুঁকে পড়ব না। আমাদের নিকট ফিতনা বা গৃহবিবাদ সৃষ্টি করার চেয়ে সুন্নাতকে সমর্থন করা অধিক সমীচীন। আমরা এই মাদ্রাসা নির্মাণ করেছি কেবল আলেমদের সংরক্ষণ এবং কল্যাণের জন্য, মতভেদ ও বিভেদ সৃষ্টির জন্য নয়। যখনই বিষয়গুলো আমাদের উদ্দেশ্যের বিপরীতে যাবে, তখন এর দরজা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। আর বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিবাসীদের তাদের প্রচলিত রীতিনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা সেখানে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবই প্রবল এবং ইমামগণের মাঝে তার মর্যাদা ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে তার অবস্থান সর্বজনবিদিত। আমাদের নিকট যে সংবাদ পৌঁছেছে তা হলো, এই নতুন উত্তেজনার কারণ হলো উসুল বা আকিদা বিষয়ক একটি মাসআলা যা আবু নাসর আল-কুশায়রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আর তিনি তাদের বিশ্বাসের পরিপন্থী উত্তর দিয়েছিলেন। শেখ ইমাম আবু ইসহাক—আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন—একজন স্বচ্ছ হৃদয়ের মানুষ এবং সহজেই অন্যের কথায় প্রভাবিত হন এবং তার নিকট যা পৌঁছানো হয় তিনি তা কর্ণপাত করেন। আমাদের নিকট তার কিতাবসমূহের যে পাণ্ডুলিপি আছে, তা তার এই সরল স্বভাবেরই প্রমাণ দেয়। ওয়াসসালাম।"
তবে দুই পক্ষের মধ্যকার এই শান্তিকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৪৭০ হিজরির ২রা শাওয়াল নিজামিয়া মাদ্রাসা থেকে আল-ইস্কান্দারানী নামে পরিচিত একজন ফকিহ ছাত্র 'সুকুত থুলাসা' (মঙ্গলবার বাজার)-এ যান এবং সেখানে হাম্বলিদের কাফির বলে বক্তব্য দেন। এতে কেউ একজন তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারে। তখন সে নিজামিয়া মাদ্রাসার বাজারের দিকে পালিয়ে যায় এবং সাহায্যের জন্য মানুষকে উত্তেজিত করে। ফলে তারা সুকুত থুলাসা’র দিকে বেরিয়ে আসে এবং সেখানে থাকা মালামাল লুটপাট করে। এতে অঘটন ঘটে এবং সুকুত থুলাসার কিছু লোক মাদ্রাসার বাজারের দিকে অগ্রসর হয় এবং তাদের নিকটবর্তী অংশ লুট করে।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفي ذلك الموقع دار مؤيد الدولة ابن نظام الملك فخاف أن يمتد النهب إلى داره فاستعان بالجيش، فحضر جماعة منهم أخذوا يرمون الناس بالنشاب فقتلوا منهم بضعة عشر نفراً. وبذلك قضي على الشغب بالقوة؛ وأخذت الرسائل ترسل إلى نظام الملك ليتلافى الأمر، ويقول ابن الجوزي " فجاءت مكاتبات منه بالجميل ثم ثناها بضد ذلك "؛ ويمكن تفسير هذا القول المجمل بما قاله السبكي: " فعاد جواب نظام الملك في سنة سبعين وأربعمائة إلى الشيخ (أبي إسحاق) باستجلاب خاطره وتعظيمه والأمر بالانتقام من الذين أثاروا الفتنة وبأن يسجن الشريف أبو جعفر "؛ وغضب نظام الملك - بوجه خاص - على الوزير فخر الدولة أبي نصر بن جهير وكتب إلى الخليفة مطالباً بعزله، اعتقاداً منه أنه هو المسئول الأول عن تلك الحوادث، وكان من جملة الرسائل التي أرسلت إلى نظام الملك قصيدة من الفقيه الشافعي ابن أبي الصقر الواسطي يقول فيها:
وابنك القاطن فيها
… مستهان مستضام
فمتى لم تحسم الدا
… ء أياديك الجسام
فعلى مدرسة فيها
… ومن فيها السلام قال ابن الأثير: " فلما سمع نظام الملك ما جرى من الفتن وقصد مدرسته والقتل بجوارها مع أن أبنه مؤيد الملك فيها عظم عليه ذلك "؛ ولهذا سأل الخليفة أن يعزل الوزير فعزل؛ ويبدو أن الأمور ظلت هادئة بعد ذلك على مدى بضع سنوات بين أهل المذهبين، حتى عادت الخصومة فتجددت سنة 475 في شوال أيضاً، وكان المثير لها في هذه المرة شخص يدعى البكري المغربي وكان واعظاً اشعري المذهب، وكان قد قصد نظام الملك فأحبه ومال إليه وسيره إلى بغداد، وأجرى عليه الجراية الوافرة، فوعظ في المدرسة النظامية، وكان يذكر الحنابلة ويعيبهم يكفرهم، وكان فيه حدة وطيش ولكن يبدو أن تهجمه لم يتحول من مرحلة القول إلى مرحلة التصادم الفعلى.
সেই স্থানে নিজামুল মুলকের পুত্র মুআইয়িদুদ দাওলার বাসভবন ছিল। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে লুটতরাজ তাঁর বাসগৃহ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, ফলে তিনি সেনাবাহিনীর সাহায্য প্রার্থনা করলেন। সেনাসদস্যদের একটি দল উপস্থিত হয়ে জনগণের ওপর তীর নিক্ষেপ শুরু করল এবং তাদের মধ্যে দশের অধিক ব্যক্তিকে হত্যা করল। এভাবেই শক্তির মাধ্যমে দাঙ্গা দমন করা হলো। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনের জন্য নিজামুল মুলকের নিকট পত্রাদি প্রেরণ করা হতে থাকে। ইবনুল জাওযী বলেন, "তাঁর পক্ষ থেকে প্রথমে সদয় পত্র এল, অতঃপর তিনি এর বিপরীতে ভিন্ন বার্তার অনুগামী হলেন।" এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাটিকে সুবকী যা বলেছেন তা দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব: "৪৭০ হিজরি সনে নিজামুল মুলক শেখ আবু ইসহাকের নিকট প্রত্যুত্তর পাঠালেন তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁকে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদর্শন করে এবং যারা ফিতনা উস্কে দিয়েছিল তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ ও শরীফ আবু জাফরকে কারারুদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করে।" নিজামুল মুলক বিশেষভাবে উজির ফখরুদ দাওলা আবু নাসর বিন জাহিরের ওপর ক্রুদ্ধ হন এবং খলিফার নিকট তাঁকে পদচ্যুত করার দাবি জানিয়ে পত্র লেখেন; তাঁর বিশ্বাস ছিল যে এই ঘটনাপ্রবাহের জন্য তিনিই প্রধান দায়ী। নিজামুল মুলকের নিকট প্রেরিত পত্রসমূহের মধ্যে শাফিঈ ফকিহ ইবনুল আবিস সাক্কার আল-ওয়াসিতীর একটি কবিতা ছিল, যাতে তিনি বলেন:
এবং আপনার পুত্র যিনি সেখানে বসবাস করছেন
… লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত
যদি আপনার বিশাল হাতসমূহ এই ব্যাধি নির্মূল না করে
…তবে সেই মাদরাসা
… এবং সেখানে যারা আছে তাদের প্রতি সালাম (বিদায়)ইবনুল আসীর বলেন: "যখন নিজামুল মুলক সংঘটিত ফিতনা, তাঁর মাদরাসাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং এর সন্নিকটে হত্যাকাণ্ডের সংবাদ শুনলেন—অথচ তাঁর পুত্র মুআইয়িদুল মুলক সেখানে অবস্থান করছিলেন—তখন বিষয়টি তাঁর নিকট অত্যন্ত গুরুতর প্রতীয়মান হলো।" এই কারণেই তিনি খলিফার নিকট উজিরকে বরখাস্ত করার অনুরোধ করলেন এবং তাঁকে বরখাস্ত করা হলো। প্রতীয়মান হয় যে, এর পর কয়েক বছর উভয় মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত ছিল, যতক্ষণ না ৪৭৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে পুনরায় বিবাদ শুরু হয়। এবার এর নেপথ্যে ছিলেন আল-বাকরী আল-মাগরিবী নামক এক ব্যক্তি, যিনি আশ'আরী মাযহাবের একজন ওয়ায়েজ ছিলেন। তিনি নিজামুল মুলকের নিকট গিয়েছিলেন; নিজামুল মুলক তাঁকে পছন্দ করেন ও তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাঁকে বাগদাদে পাঠিয়ে তাঁর জন্য পর্যাপ্ত বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। তিনি নিযামিয়া মাদরাসায় ওয়াজ করতেন এবং সেখানে হাম্বলিদের উল্লেখ করে তাদের নিন্দা ও কাফের সাব্যস্ত করতেন। তাঁর মধ্যে উগ্রতা ও চপলতা ছিল, তবে প্রতীয়মান হয় যে তাঁর আক্রমণাত্মক আচরণ বাচনিক পর্যায় অতিক্রম করে বাস্তব সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولم يكن لأبي إسحاق موقف معين في هذا الحادث الأخير، خصوصاً وانه فارق بغداد في ذي الحجة من العام نفسه موفداً من الخليفة المقتدي في سفارة إلى السلطان وملكشاه ووزيره نظام الملك (1) ، وكان الخليفة يعلم أن لأبي إسحاق منزلة خاصة في نفس نظام الملك وانه قادر على إنجاح غايته - من ثم - لدى السلطان نفسه. ويبدو أن السفارة كانت ترمي إلى تحقيق غرضين: أولهما الشكوى والتظلم من العميد أبي الفتح بن أبي الليث عميد العراق، والثاني: استمالة ملكشاه للموافقة على أن يزوج ابنته من الخليفة.
وكان في صحبة الشيخ أبي إسحاق جماعة من أعيان بغداد منهم فخر الإسلام الشاشي والحسين بن علي الطبري وابن بيان والميانجي وأبو ثعلب الواسطي وعبد الملك الشابر خواشي وأبو الحسن الآمدي وأبو القاسم الزنجاني وأبو علي الفارقي وأبو العباس ابن الرطبي، وهؤلاء وغيرهم من أصحابه ومعه أيضاً جمال الدولة عفيف وهو خادم من خدام الخليفة؛ وتلقى الناس أبا إسحاق في كل بلد حله بحفاوة لا نظير لها، ويبدو أن صيته لم يكن مقصوراً على مكانته الفقيه بل كان للناس فيه اعتقاد عظيم متصل ببركة الصوفي، فكان بعض الناس في البلاد التي مر بها يخرجون إليه بنسائهم وأولادهم فيمسحون أردانه ويأخذون تراب نعليه ويستشفون به، وفي بعض تلك البلاد خرج إليه صوفيات البلد، وما فيهن إلا من معها سبحة، وألقين الجميع المحفة وكان قصدهن أن يلمسها لتحصل لهن البركة، فجعل يمرها على يديه وجسده ويتبرك بهن ويقصد في حقهن ما قصدن في حقه. ولما وصل ساوة خرج جميع أهلها للقائه وسأله فقهاؤها كل منهم أن يدخل بيته فلم يفعل، ولقيه أصحاب الصناعات ومعهم ما ينثرونه على محفته، فخرج الخبازون ينثرون الخبز وهو ينهاهم فلم ينتهوا، وهكذا فعل أصحاب الحلوى وباعة
--------------------------------------------
এই সাম্প্রতিক ঘটনায় আবু ইসহাকের নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান ছিল না, বিশেষ করে তিনি সেই বছরেরই জিলহজ মাসে খলিফা আল-মুকতাদির পক্ষ থেকে সুলতান মালিকশাহ এবং তাঁর উজির নিজামুল মুলকের নিকট দূত হিসেবে বাগদাদ ত্যাগ করেন (১)। খলিফা জানতেন যে, নিজামুল মুলকের নিকট আবু ইসহাকের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং তিনি সুলতানের নিকটও তাঁর উদ্দেশ্য সফল করতে সক্ষম হবেন। প্রতীয়মান হয় যে, এই দৌত্যের দুটি উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, ইরাকের প্রধান কর্মকর্তা (আমীদ) আবুল ফাতহ বিন আবিল লাইসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রতিকার প্রার্থনা করা এবং দ্বিতীয়ত, খলিফার নিকট নিজ কন্যাকে বিবাহ দিতে মালিকশাহকে সম্মত করা।
শায়খ আবু ইসহাকের সাথে বাগদাদের একদল গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ফখরুল ইসলাম আশ-শাশী, আল-হুসাইন বিন আলী আত-তাবারী, ইবনে বায়ান, আল-মিয়ানাজি, আবু সা'লাব আল-ওয়াসিতি, আব্দুল মালিক আশ-শাবির খাওয়াশি, আবুল হাসান আল-আমিদি, আবুল কাসিম আজ-জানজানি, আবু আলী আল-ফারিকি এবং আবুল আব্বাস ইবনুর রুতবি। এঁরা এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গীদের পাশাপাশি খলিফার অন্যতম খাদেম জামালুদ্দৌলা আফিফও তাঁর সাথে ছিলেন। প্রতিটি জনপদেই আবু ইসহাককে নজিরবিহীন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর খ্যাতি কেবল ফকিহ হিসেবে তাঁর মর্যাদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁর সুফি-সুলভ বরকতের ব্যাপারে মানুষের অগাধ বিশ্বাস ছিল। ফলে তিনি যেসব জনপদ অতিক্রম করতেন, সেখানকার কিছু লোক তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তাঁর কাছে বেরিয়ে আসত এবং তাঁর জামার হাতা স্পর্শ করত ও তাঁর জুতার ধূলি সংগ্রহ করত এবং এর মাধ্যমে রোগমুক্তি কামনা করত। কোনো কোনো জনপদে এলাকার সুফি নারীগণ তাঁর সাক্ষাতে বেরিয়ে আসেন, যাদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল তসবিহ। তাঁরা সকলে পালকির ওপর সেগুলো নিক্ষেপ করেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল তিনি যেন সেগুলো স্পর্শ করেন যাতে তাঁরা বরকত লাভ করতে পারেন। ফলে তিনি সেগুলো তাঁর হাত ও দেহে বুলাতে লাগলেন এবং তাঁদের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করতে লাগলেন, আর তাঁদের জন্য তেমনই কল্যাণ কামনা করলেন যেমনটি তাঁরা তাঁর জন্য করেছিলেন। যখন তিনি সাওয়াহ-তে পৌঁছালেন, তখন সেখানকার সমস্ত মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য বেরিয়ে আসে। সেখানকার ফকিহদের প্রত্যেকেই তাঁকে নিজ নিজ গৃহে আতিথ্য গ্রহণের অনুরোধ জানান, কিন্তু তিনি তা করেননি। বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ তাঁর সাথে দেখা করতে আসেন এবং তাঁর পালকির ওপর ছিটিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দ্রব্য সাথে আনেন। রুটি প্রস্তুতকারীরা রুটি ছিটিয়ে দিতে থাকে, যদিও তিনি তাদের নিষেধ করছিলেন কিন্তু তারা থামেনি। একইভাবে মিষ্টান্ন বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরাও করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفاكهة والثياب وغيرهم، وخرج إليه الأساكفه وقد عملوا مداساتٍ لطافاً تصلح لأرجل الأطفال ونثروها فكانت تسقط على رؤوس الناس، فكان الشيخ يتعجب ويذكر ذلك لأصحابه بعد رجوعه ويقول: رأيتم النثار ما أحسنه؟ وإيش وصل إليكم يا أولادي منه؟ فقال له بعضهم: ما كان حظ سيدنا منه، فقال: أما أنا فغطيت بالمحفة.
ولما بلغ بساط قيل للشيخ قد أتى فلان الصوفي - ويعرف بالسهلكي - فنهض الشيخ من مكانه ليستقبله، وإذا به رجل كبير السن على دابة، وخلفه خلق من الصوفية بمرقعات جميلة، فقيل له قد أتاك الشيخ أبو إسحاق، فرمى نفسه عن الدابة وقبل يد الشيخ ورجله وقال له: قتلتني يا سيدي فما يمكنني أمشي معك، ولكن تتقدم إلى مجلسك؛ ولما وصل جلس أبو إسحاق بين يديه وأظهر كل واحد منهما من تعظيم صاحبه ما جاوز الحد.
ثم إن أبا إسحاق دخل نيسابور وتلقاه أهلها على العادة المألوفة، وحمل شيخ البلد إمام الحرمين أبو المعالي الجويني غاشية ومشى بين يديه كالخديم، وقال: أفتخر بهذا، وعقدا مجالس للمناظرة في بعض المسائل. وفي هذه الرحلة رأى أبو إسحاق ثمرة جهد طويل بذله في تدريس الطلبة، فقد قال: " خرجت إلى خراسان فما بلغت بلدة ولا قرية إلا وكان قاضيها أو مفتيها أو خطيبها تلميذي أو من أصحابي "، ولهذا فلا عجب أن تتحرك خراسان لمقدمه وأن توليه كل ذلك الترحيب.
وقد كانت السفارة ناجحة، عاد منها أبو إسحاق يحمل كتب السلطان ملكشاه والوزير نظام الملك، بإجابة مطلسي الخليفة، غير أن الفقيه الشيخ لم يعش طويلاً بعد عودته من تلك السفارة، فتوفي ليلة الأحد الحادي والعشرين من جمادى الآخرة (وقيل جمادى الأولى) سنة ست وسبعين وأربعمائة، في دار المظفر ابن رئيس الرؤساء بدار الخلافة من الجانب الشرقي، وغسله الفقيه الحنبلي أبو الوفاء بن عقيل وصلي عليه بباب الفردوس لأجل
ফলমূল, পোশাক-আশাক ও অন্যান্য দ্রব্যাদি। মুচিরা তাঁর কাছে বেরিয়ে এল এবং তারা শিশুদের পায়ের উপযোগী চমৎকার সব জুতো তৈরি করেছিল। তারা সেগুলো ছিটিয়ে দিচ্ছিল, যা মানুষের মাথার ওপর পড়ছিল। শায়খ এতে বিস্মিত হলেন এবং ফিরে আসার পর তাঁর সাথীদের কাছে তা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: "তোমরা কি সেই ছিটানো উপহারগুলো দেখেছিলে, তা কতই না সুন্দর ছিল? হে আমার ছেলেরা, তোমরা সেখান থেকে কী পেয়েছ?" তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁকে বললেন: "আমাদের সাইয়্যিদ সেখান থেকে কী পেয়েছেন?" তিনি বললেন: "আমি তো পালকির মধ্যে আবৃত ছিলাম।"
যখন তিনি বিসাতে পৌঁছালেন, শায়খকে বলা হলো যে, অমুক সুফি—যিনি সাহলাকি নামে পরিচিত—এসেছেন। শায়খ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে নিজ স্থান থেকে উঠে দাঁড়ালেন। তখন দেখা গেল তিনি এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি, পশুর পিঠে সওয়ার হয়ে আছেন। তাঁর পেছনে তালি দেওয়া সুন্দর পোশাক পরিহিত একদল সুফি রয়েছেন। তাঁকে বলা হলো যে, শায়খ আবু ইসহাক আপনার কাছে এসেছেন। তখন তিনি নিজেকে পশুর পিঠ থেকে নিচে ফেললেন এবং শায়খের হাত ও পা চুম্বন করলেন। তিনি বললেন: "হে আমার হুজুর, আপনি আমাকে (লজ্জায়) মেরে ফেলেছেন। আমার পক্ষে আপনার সাথে হাঁটা সম্ভব নয়, বরং আপনি আগে আগে আপনার মজলিসের দিকে অগ্রসর হোন।" যখন তাঁরা পৌঁছালেন, আবু ইসহাক তাঁর সামনে বসলেন এবং তাঁরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনে সীমা ছাড়িয়ে গেলেন।
এরপর আবু ইসহাক নিশাপুরে প্রবেশ করলেন এবং সেখানকার অধিবাসীরা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তাঁকে অভ্যর্থনা জানাল। শহরের শায়খ, ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি জিনের গিলাফ বহন করলেন এবং তাঁর সামনে দাসের মতো হাঁটলেন। তিনি বললেন: "আমি এতে গর্ববোধ করছি।" তাঁরা কিছু মাসআলা নিয়ে বিতর্ক সভার আয়োজন করলেন। এই সফরে আবু ইসহাক ছাত্রদের পাঠদানে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল দেখতে পেলেন। তিনি বলেছিলেন: "আমি খোরাসানের দিকে বের হলাম। এমন কোনো শহর বা গ্রামে পৌঁছাইনি যেখানে সেখানকার কাজী, মুফতি বা খতিব আমার ছাত্র অথবা আমার সাথীদের মধ্যে কেউ ছিল না।" আর একারণেই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, খোরাসানবাসী তাঁর আগমনে উদ্বেলিত হবে এবং তাঁকে এরূপ ব্যাপক সংবর্ধনা দেবে।
এই দূতিয়ালি সফল হয়েছিল। আবু ইসহাক সেখান থেকে সুলতান মালিকশাহ এবং উজির নিজামুল মুলকের চিঠি নিয়ে ফিরে আসেন, যাতে খলিফার আবেদনের জবাব ছিল। তবে ফকিহ শায়খ সেই সফর থেকে ফিরে আসার পর বেশি দিন জীবিত ছিলেন না। তিনি চারশত ছিয়াত্তর হিজরি সালের একুশে জমাদিউল আখিরা (মতান্তরে জমাদিউল আউয়াল) রবিবার রাতে খিলাফত ভবনের পূর্ব পাশের রাইসুল রুয়াসা-র পুত্র মুজাফফরের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। হাম্বলি ফকিহ আবু ওয়াফা বিন আকিল তাঁকে গোসল করান এবং জানাজার নামাজ বাবুল ফিরদাউস নামক স্থানে আদায় করা হয়।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
نظام الملك وهذا لم يفعل على غيره، وأول من صلى عليه المقتدي بأمر الله، وتقدم في الصلاة عليه أبو الفتح المظفر ابن رئيس الرؤساء وهو حينئذ نائب بالديوان ثم حمل إلى جامع القصر فصلي عليه ودفن بباب أبرز؛ وجلس أصحابه للعزاء في المدرسة النظامية ثلاثة أيام، ولم يتخلف أحد عن العزاء ورثاه عدد كبير من الشعراء؛ ورتب مؤيد الملك بعد وفاته في المدرسة الشيخ أبا سعد المتولي، فلما علم نظام الملك بذلك أنكره وقال: كان الواجب أن تغلق المدرسة بعد الشيخ أبي إسحاق سنةً.
شخصيته وأخلاقه:كان نحيفاً دقيق الجسم، ذكياً قوي الحافظة، دءوباً على الدرس والتحصيل، متقللاً قشفاً في مطعمه وملبسه، قانعاً بالسير صابراً على الفقر؛ حدث بعض أصحابه أنه لم يكن يملك من الدنيا شيئاً، وبلغ به الفقر أنه كان لا يجد قوتاً ولا ملبساً قال: ولقد كنا نأتيه وهو ساكن في القطيعة فيقوم لنا نصف قومة ليس يعتدل قائماً من العري كي لا يظهر منه شيء؛ وقيل كان إذا بقي مدة لا يأكل شيئاً جاء إلى صديق له باقلاني فكان يثرد له رغيفاً ويثريه بماء الباقلاء، فربما أتاه وكان قد فرغ من بيع الباقلاء، فيقف أبو إسحاق ويقول: تلك إذاً كرة خاسرة، ويرجع. وحدث عن نفسه انه كان في أيام الطلب يشتهي ذلك النوع من الثريد بماء الباقلاء سنين، فلم يصح له لاشتغاله بالدرس ومسارعته إلى أن يكون في أول من يحضرون حلقة الشيخ؛ وكان مطرحاً للتكلف: سأله بعضهم أن يكتب له رأيه في مسألة، فمضى إلى دكان خباز فأخذ فلم الخباز ودواته وكتب الجواب في الحال ومسح القلم في ثوبه؛ وذهب يوماً إلى الديوان ومعه أبو نصر القشيري فأحس أبو نصر في كمه بثقل فقال: ما هذا يا سيدي؟ فقال: هذه قرصتي. وجمع إلى تقشفه وبساطته تورعاً شديداً أدى أحياناً إلى ما يشبه الوسواس: أخرج ذات يوم قرصين من بيته وقال لبعض أصحابه: وكلتك في أن تشتري لي الدبس
নিজামুল মুলক তার জন্য যা করেছিলেন তা অন্য কারো জন্য করেননি। তার জানাযায় সর্বপ্রথম ইমামতি করেন আল-মুকতাদি বি-আমরিল্লাহ। এরপর জানাযার সালাতে ইমামতি করতে এগিয়ে আসেন দিওয়ানের তৎকালীন নায়েব আবু আল-ফাতহ আল-মুজাফ্ফার ইবনে রইসুল রুয়াসা। অতঃপর তাকে জামে আল-কাসরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও জানাযা পড়া হয় এবং তাকে বাব-ই আবরাজে দাফন করা হয়। তার সঙ্গীরা মাদরাসা নিজামিয়ায় তিন দিন শোক পালনের জন্য বসেন। এই শোক প্রকাশে কেউ অনুপস্থিত ছিলেন না এবং বিপুল সংখ্যক কবি তার স্মরণে শোকগাথা রচনা করেন। তার ইন্তেকালের পর মুআইয়িদুল মুলক মাদরাসায় শেখ আবু সাদ আল-মুতাওয়াল্লিকে নিয়োগ দেন। নিজামুল মুলক যখন এ কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: “শেখ আবু ইসহাকের ইন্তেকালের পর অন্তত এক বছর মাদরাসাটি বন্ধ রাখা উচিত ছিল।”
তার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র:তিনি ছিলেন কৃশকায় ও দোহারা গড়নের, তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা অর্জনে তিনি ছিলেন সদা নিরলস। পানাহারে ও পোশাক-পরিচ্ছদে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংযমী ও অনাড়ম্বর। তিনি নিজ জীবনধারায় সন্তুষ্ট এবং দারিদ্র্যের ওপর ধৈর্যশীল ছিলেন। তার জনৈক সঙ্গী বর্ণনা করেন যে, পার্থিব কোনো বিষয়েরই তিনি মালিক ছিলেন না। তার দারিদ্র্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, অনেক সময় তিনি খাদ্য বা পরিধেয় বস্ত্র পেতেন না। তিনি বলেন: “আমরা যখন কতিআ-তে তার বাসস্থানে যেতাম, তখন তিনি আমাদের জন্য অর্ধ-দণ্ডায়মান হতেন। সতর আবৃত রাখার মতো পর্যাপ্ত বস্ত্র না থাকায় তিনি পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়াতেন না, যাতে তার শরীরের কোনো অংশ অনাবৃত না হয়ে পড়ে।” বলা হয়ে থাকে যে, দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকার পর তিনি তার এক শিম বিক্রেতা বন্ধুর নিকট আসতেন। সেই বন্ধু তার জন্য একটি রুটি ছিঁড়ে শিমের পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতেন। কখনো কখনো তিনি যখন আসতেন তখন শিম বিক্রি শেষ হয়ে যেত; তখন আবু ইসহাক দাঁড়িয়ে বলতেন: “তবে তো এটি একটি লোকসানযুক্ত প্রত্যাবর্তন,” এবং তিনি ফিরে আসতেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, ছাত্রজীবনে কয়েক বছর ধরে তিনি শিমের পানিতে ভেজানো সেই রুটি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, কিন্তু পাঠদানে মশগুল থাকা এবং শেখের মজলিসে প্রথম সারিতে উপস্থিত হওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকায় তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তিনি লৌকিকতা বর্জন করতেন: জনৈক ব্যক্তি তার কাছে কোনো একটি মাসয়ালায় তার মতামত লিখে দিতে অনুরোধ করলে তিনি একটি রুটির দোকানে গিয়ে রুটি বিক্রেতার কলম ও দোয়াত নিয়ে তৎক্ষণাৎ উত্তর লিখে দিলেন এবং নিজের পোশাকে কলমটি মুছে ফেললেন। একদিন তিনি আবু নসর আল-কুশাইরিকে সঙ্গে নিয়ে দিওয়ানে গেলেন। আবু নসর তার আস্তিনের ভেতর কোনো ভার অনুভব করে বললেন: “হে আমার শায়খ, এটি কী?” তিনি উত্তর দিলেন: “এটি আমার রুটির টুকরো।” স্বীয় কৃচ্ছ্রসাধন ও সরলতার সাথে তার মধ্যে ছিল অত্যন্ত কঠোর পরহেজগারি, যা কখনো কখনো খুঁতখুঁতে স্বভাবের পর্যায়ে চলে যেত। একদিন তিনি তার ঘর থেকে দুটি রুটি বের করলেন এবং তার জনৈক সঙ্গীকে বললেন: “আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে খেজুরের গুড় কেনার জন্য উকিল নিযুক্ত করলাম...”
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والراشي بهذه القرصة على وجه القرصة الأخرى فمضى الرجل وشك بأي القرصين اشترى، فما أكل الشيخ ذلك وقال: لا أدري اشترى بالذي وكلته أم بالأخرى. ودخل مسجداً لتيغدى فنسي ديناراً كان معه ثم ذكره فرجع فوجده، قم قال لنفسه: لعله وقع من غيري، فتركه ولم يأخذه؛ وكان سليم النية سلس الانقياد، وبهذا وصفه نظام الملك - كما تقدم - وقال انه يصغي إلى كل ما ينقل إليه.
ويبدو أن حالة الفقر ظلت غالبة عليه حتى تولى التدريس في النظامية وهذا ما عناه الشريف أبو جعفر حين قال له: " إلا أنك لما كنت فقيراً لم يظهر لنا ما في نفسك فلما جاء الأعوان.... أبديت ما كان مخفياً " وهذا قول قد يقال في لحظة غضب، ولا يدل على أن أبا إسحاق أصبح ميسور الحال، ولكنه أصبح ولا ريب أقدر من ذي قبل على صد الجوع والعري. غير أن الرجل لم يفارق تعففه، وفي رحلته في خراسان أبى أن ينزل عند أحد من أصحابه؛ ولهذه الأخلاق أحبه الناس، وزادهم حباً له تواضعه الشديد، وطلاقة وجهه وبشره الدائم وحسن مجالسته وملاحة مجاورته، فكان رغم الفقر والتقشف ذا دعابة لطيفة: زاره أحد الراحين إليه فرحب به وقال له: من أي بلاد أنت؟ فقال: من الموصل، فقال: أنت بلديي، فقال الموصلي: ولكن يا سيدي أنا من الموصل وأنت من فيروزاباد، فأجابه أبو إسحاق: يا ولدي، أما جمعتنا سفينة نوح؟ وكان يحلي مداعباته بإيراد الأشعار؛ داعب أبا طاهر خادمه في المدرسة النظامية ذات مرة بقوله:
وشيخنا الشيخ أبو طاهر
… جمالنا في السر والظاهر وكان يحب تلامذته ويقول: من قرأ علي مسألة فهو ولدي.
وبسبب ذلك الفقر لم يحاول أن يحج، وهذا وحده يدلنا على أن صلته بنظام الملك لم تغير كثيراً من حاله المادية، قال الماهاني: الشيخ أبو إسحاق
এবং এই রুটির টুকরোটি অন্য রুটির ওপর রাখা অবস্থায় লোকটি চলে গেল, কিন্তু লোকটি সন্দেহ করল সে কোন দুটির মধ্যে কোনটি কিনেছে। ফলে শাইখ তা খেলেন না এবং বললেন: "আমি জানি না সে কি আমার নিয়োগ করা টাকার বিনিময়ে কেনা রুটিটি এনেছে নাকি অন্যটি।" তিনি দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য একটি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তার সাথে থাকা একটি দিনার সেখানে ভুলে ফেলে গেলেন। পরে যখন তার কথা মনে পড়ল, তিনি ফিরে গিয়ে সেটি খুঁজে পেলেন। তখন তিনি নিজের মনে বললেন: "হয়তো এটি অন্য কারো কাছ থেকে পড়েছে।" ফলে তিনি তা আর গ্রহণ করলেন না এবং সেখানেই রেখে দিলেন। তিনি ছিলেন সরল মনের এবং অত্যন্ত কোমল প্রকৃতির। নিজামুল মুলক তাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং তিনি বলেছেন যে, তার কাছে যা কিছু বর্ণনা করা হতো তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।
মনে হয় যে, নিজামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করা পর্যন্ত দারিদ্র্য তার ওপর প্রবল ছিল। আশ-শরীফ আবু জাফর যখন তাকে বলেছিলেন তখন তিনি এটিই বুঝিয়েছিলেন: "তবে আপনি যখন দরিদ্র ছিলেন, তখন আপনার অন্তরের অবস্থা আমাদের কাছে প্রকাশ পায়নি। কিন্তু যখন সাহায্যকারীরা এলো... তখন আপনি যা গোপন ছিল তা প্রকাশ করলেন।" এটি এমন এক কথা যা রাগের মুহূর্তে বলা হয়ে থাকতে পারে, এবং এর দ্বারা এটি বোঝায় না যে আবু ইসহাক সচ্ছল হয়ে গিয়েছিলেন। তবে নিঃসন্দেহে তিনি ক্ষুধা ও বস্ত্রহীনতা নিবারণে আগের চেয়ে বেশি সক্ষম হয়েছিলেন। তবুও এই ব্যক্তি তার আত্মমর্যাদা ও সংযম ত্যাগ করেননি। খোরাসান সফরের সময় তিনি তার কোনো বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান করতে অস্বীকার করেছিলেন। আর এসব চারিত্রিক গুণাবলির কারণেই মানুষ তাকে ভালোবাসত। তার চরম বিনয়, উজ্জ্বল হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, সদা প্রফুল্লতা, চমৎকার সাহচর্য এবং প্রতিবেশী হিসেবে তার অমায়িকতা মানুষের মনে তার প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। দারিদ্র্য ও কৃচ্ছ্রসাধনা সত্ত্বেও তিনি সূক্ষ্ম রসিকতা করতেন। একবার এক দর্শনার্থী তাকে দেখতে আসলে তিনি তাকে স্বাগত জানালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কোন দেশের লোক?" সে উত্তর দিল: "মসুল থেকে।" তিনি বললেন: "তুমি তো আমার দেশি।" মসুলেবাসী লোকটি বলল: "কিন্তু হে আমার সাইয়্যিদ (নেতা), আমি মসুলের অধিবাসী আর আপনি ফিরুজাবাদের।" আবু ইসহাক তাকে উত্তর দিলেন: "হে বৎস, নূহের নৌকা কি আমাদের একত্রিত করেনি?" তিনি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তার রসিকতাগুলোকে প্রাণবন্ত করতেন। একবার তিনি নিজামিয়া মাদ্রাসায় তার খাদেম আবু তাহেরের সাথে এই বলে কৌতুক করেছিলেন:
আর আমাদের শাইখ, শাইখ আবু তাহের
... গোপনে এবং প্রকাশ্যে আমাদের সৌন্দর্য। তিনি তার ছাত্রদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং বলতেন: "যে ব্যক্তি আমার কাছে একটি মাসআলা পড়েছে, সে আমার সন্তানের মতো।"
সেই দারিদ্র্যের কারণেই তিনি হজ করার চেষ্টা করেননি। আর এটিই আমাদের নির্দেশ করে যে, নিজামুল মুলকের সাথে তার সম্পর্ক তার আর্থিক অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। আল-মাহানি বলেছেন: শাইখ আবু ইসহাক...
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ما كان له استطاعة الزاد والراحلة، ولكن لو أراد الحج لحملوه على الإحداق إلى مكة.
أما في الفصاحة والقدرة على المناظرة فكان يضرب به المثل، ولهذا شهد له الكثيرون بالتفوق، فقد قال أبو بكر الشاشي: الشيخ الشيرازي حجة الله على أئمة العصر. وقال الماوردي: ما رأيت كأبي إسحاق لو رآه الشافعي لتجمل به، وقال الموفق الحنفي: أبو إسحاق إما المؤمنين في الفقهاء؛ وهكذا كان في مجموع خصاله مثال العالم الذي يجمع بين العلم والعمل به، ولهذا كان مجمعاً عليه من أهل عصره علماً وديناً، رفيع الجاه بسبب ذلك، محبباً إلى غالب الخلق لا يقدر أحد أن يرميه بسوء لحسن سيرته وشهرتها عند الناس.
موقفه من المذهب الأشعري:قد مر بنا قول أبي إسحاق للشريف أبي جعفر شيخ الحنابلة: " وهذه كتبي في أصول الفقه أقول فيها خلافاً للأشعرية ". قال ابن عساكر: " وكان يظن به بعض من لا يفهم أنه مخالف للأشعري لقوله في كتابه في أصول الفقه: " وقالت الأشعرية إن الأمر لا صيغة له ". فقوله: وقالت الأشعرية يشير إلى أنه لا يجعل نفسه واحداً منهم، ولو كان منهم لقال: وقال أصحابنا، أو تعبيراً بهذا المعنى؛ وقد شهد أنه أورد في كتابه في أصول الفقه مسائل خالف فيها الأشعرية وتلك هي خلاصة موقفه: أعني انه لم يلتزم بكل ما ورد عن الأشعرية، وقد نقل ابن عساكر رأيه في سؤال ورد عليه في قوم يلعنون فرقة الأشعري ويكفرون أتباعها، فكتب: " أن الأشعرية أعيان السنة ونصار الشريعة، انتصبوا للرد على المبتدعة من القدرية والرافضة وغيرهم، فمن طعن فيهم فقد طعن على أهل السنة، وإذا رفع أمر من يفعل ذلك من المسلمين وجب عليه تأديبه بما يرتدع به كل أحد؛ وكتب إبراهيم بن علي الفيروزابادي ".
তাঁর পাথেয় এবং বাহনের সক্ষমতা ছিল না, কিন্তু তিনি যদি হজ্জ করার ইচ্ছা করতেন, তবে তারা তাঁকে তাদের চোখের মণির ওপর বহন করে মক্কায় নিয়ে যেত।
আর বাগ্মিতা এবং বিতর্কের ক্ষমতার ক্ষেত্রে তাঁর উদাহরণ দেওয়া হতো, আর একারণেই অনেকে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আবু বকর আশ-শাশী বলেছেন: শায়খ শিরাজী সমসাময়িক ইমামদের ওপর আল্লাহর হুজ্জাত (প্রমাণ)। আল-মাওয়ারদী বলেছেন: আমি আবু ইসহাকের মতো কাউকে দেখিনি, যদি শাফেয়ী তাঁকে দেখতেন তবে তিনি তাঁর কারণে সৌন্দর্যমন্ডিত হতেন। আল-মুওয়াফফাক আল-হানাফী বলেছেন: আবু ইসহাক ফকীহদের মাঝে মুমিনদের ইমাম। আর এভাবেই তিনি তাঁর সামগ্রিক গুণাবলীর মাধ্যমে এমন এক আলেমের উদাহরণ ছিলেন যিনি ইলম এবং তার আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি তাঁর সময়ের লোকদের কাছে ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত ছিলেন। এর ফলে তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং অধিকাংশ মানুষের কাছে প্রিয় ছিলেন। তাঁর সুন্দর জীবনচরিত্র এবং মানুষের কাছে এর ব্যাপক পরিচিতির কারণে কেউ তাঁকে কোনো মন্দ অপবাদ দেওয়ার সাহস পেত না।
আশ'আরী মাযহাবের প্রতি তাঁর অবস্থান:হাম্বলী শায়খ শরীফ আবু জাফরের প্রতি আবু ইসহাকের সেই উক্তি আমাদের সামনে অতিবাহিত হয়েছে: "আর এই যে উসূলে ফিকহের ওপর আমার কিতাবসমূহ, যেখানে আমি আশ'আরীদের মতের বিপরীতে কথা বলেছি।" ইবনে আসাকির বলেন: "কিছু অবুঝ লোক ধারণা করত যে তিনি আশ'আরীদের বিরোধী, কারণ তিনি তাঁর উসূলে ফিকহের কিতাবে বলেছেন: 'আশ'আরীরা বলেছে যে, নির্দেশের কোনো নির্দিষ্ট শব্দরূপ নেই'। তাঁর কথা 'আশ'আরীরা বলেছে' ইঙ্গিত দেয় যে তিনি নিজেকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করছেন না; যদি তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতেন তবে বলতেন: 'আমাদের সাথীরা বলেছেন', বা এই জাতীয় কোনো অভিব্যক্তি ব্যবহার করতেন।" আর এটি প্রমাণিত যে তিনি তাঁর উসূলে ফিকহের কিতাবে এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি আশ'আরীদের বিরোধিতা করেছেন। আর এটাই তাঁর অবস্থানের সারসংক্ষেপ: অর্থাৎ তিনি আশ'আরীদের থেকে বর্ণিত সবকিছুর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না। ইবনে আসাকির তাঁর একটি মত বর্ণনা করেছেন যা এমন একদল লোক সম্পর্কে করা প্রশ্নে এসেছিল, যারা আশ'আরী ফেরকাকে লানত করে এবং তাদের অনুসারীদের কাফের বলে। তখন তিনি লিখেছিলেন: "আশ'আরীরা সুন্নাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং শরীয়তের সাহায্যকারী। তারা কাদারিয়া, রাফেযী এবং অন্যান্য বিদআতিদের খণ্ডনের জন্য নিয়োজিত হয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের নিন্দা করল, সে আহলে সুন্নাহর নিন্দা করল। মুসলমানদের মধ্য থেকে যে কেউ এমন কাজ করবে, তার বিষয়টি উত্থাপিত হলে তাকে এমনভাবে শাস্তি দেওয়া ওয়াজিব যার মাধ্যমে অন্য সবাই বিরত থাকে। আর এটি ইব্রাহিম বিন আলী আল-ফিরোজাবাদী লিখেছেন।"
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تلامذته:انتشر تلامذته في الأمصار حتى كان أكثر علمائها منهم، ولا ريب في أن حصرهم متعذر جداً، وحسبنا أن نذكر ما قاله حين زاره بلاد فارس فانه لم يدخل قرية أو مدينة إلا وكان قاضيها أو مفتيها أو خطيبها من تلامذته أو من أصحابه. وفي طبقات الشافعية للسبكي عدد كبير من هؤلاء التلامذة الذين أصبحوا من أعيان المذهب (1) ، مما قد يؤيد القول: بأن المدارس التي أنشأها الملك لنصرة المذهب الشافعي قد أصبحت تحت إشراف " خريجي " النظامية في بغداد، بعد فترة يسيرة من الزمن، وأن أبا إسحاق كان يمثل الطاقة العلمية التي ساعدت على نشر المذهب الشافعي في القسم الشرقي من الدولة العباسية، في حين كان نظام الملك يمثل التخطيط المادي.
مؤلفاته:1 - المهذب في المذهب: وسماه حاجي خليفة " المهذب في الفروع ". كان سبباً تصنيفه أنه بلغه القول ابن الصباغ " إذا اصطلع الشافعي وأبو حنيفة ذهب علم أبي إسحاق الشيرازي " يعني أن علمه هو مسائل الخلاف بينهما فإذا اتفقا ارتفع ذلك الخلاف، فلهذا صنف هذا الكتاب ليثبت تمكنه في الفقه نفسه، صنفه مراراً فلما لم يوافق مقصوده رمى به في دجلة ثم أجمع رأيه على صورة أخرى احتفظ بها وتناقلها الناس. وقد بدأ تصنيفه سنة 455 وفرغ منه سنة 469، وهو كتاب جليل القدر اعتنى به فقهاء الشافعية وشرحوه (انظر بيان شروحه في كشف الظنون: 1912 - 1913) ، وكان أبو إسحاق شديد الرضى عنه حتى روى انه قال: " لو عرض هذا الكتاب الذي صنفته - وهو المهذب - على النبي صلى الله عليه وسلم قال: هذه شريعتي التي أمرت بها أمتي ".
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রগণ:তাঁর ছাত্রগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, এমনকি সেসব অঞ্চলের অধিকাংশ আলেমই তাঁদের মধ্য থেকে ছিলেন। নিঃসন্দেহে তাঁদের সংখ্যা নিরূপণ করা অত্যন্ত দুরূহ। পারস্য দেশ ভ্রমণের সময় তিনি যা বলেছিলেন তা উল্লেখ করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট; কেননা তিনি এমন কোনো গ্রাম বা শহরে প্রবেশ করেননি যেখানে তাঁর কোনো ছাত্র বা সহচর বিচারক (কাজি), মুফতি অথবা খতিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন না। সুবকির 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ' গ্রন্থে এই ছাত্রদের এক বিশাল তালিকা রয়েছে যারা এই মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন (১)। এটি এই মতকেই সমর্থন করে যে: শাফিঈ মাযহাবের প্রসারের জন্য বাদশাহ যে মাদ্রাসাগুলো নির্মাণ করেছিলেন, তা অল্প সময়ের মধ্যেই বাগদাদের 'নিজামিয়া'র স্নাতকদের তত্ত্বাবধানে চলে আসে। আর আবু ইসহাক সেই ইলমি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন যা আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের পূর্ব অঞ্চলে শাফিঈ মাযহাব প্রচারে সহায়তা করেছিল, যেখানে নিজামুল মুলক বস্তুগত পরিকল্পনার দিকটি পরিচালনা করতেন।
তাঁর রচনাবলী:১ - আল-মুহাযযাব ফিল মাযহাব: হাজি খলিফা এর নাম দিয়েছেন "আল-মুহাযযাব ফিল ফুরু"। এটি সংকলনের কারণ ছিল এই যে, ইবনুল সাব্বাগের একটি উক্তি তাঁর নিকট পৌঁছেছিল: "যদি শাফিঈ এবং আবু হানিফা একমত হন, তবে আবু ইসহাক শিরাযীর ইলম বিলীন হয়ে যাবে।" অর্থাৎ তাঁর জ্ঞান কেবল তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্যের মাসআলা কেন্দ্রিক, ফলে তাঁরা একমত হলে সেই মতপার্থক্য আর থাকে না। এই কারণেই তিনি ফিকহ শাস্ত্রে নিজের পারদর্শিতা প্রমাণের জন্য এই কিতাবটি রচনা করেন। তিনি এটি বারবার রচনা করেছিলেন, কিন্তু যখন তা তাঁর মনের মতো হচ্ছিল না, তখন তিনি তা দজলা নদীতে ফেলে দেন। অতঃপর তিনি অন্য একটি পাণ্ডুলিপির ওপর স্থির হন যা তিনি সংরক্ষণ করেন এবং মানুষ তা একে অপরের থেকে গ্রহণ করে। তিনি ৪৫৫ হিজরীতে এর সংকলন শুরু করেন এবং ৪৬৯ হিজরীতে সমাপ্ত করেন। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিতাব যার প্রতি শাফিঈ ফকীহগণ বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন (এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর বিবরণের জন্য দেখুন কাশফুয যুনুন: ১৯১২ - ১৯১৩)। আবু ইসহাক এই কিতাবটির ওপর এতটাই সন্তুষ্ট ছিলেন যে, বর্ণিত আছে তিনি বলতেন: "আমি যে কিতাবটি রচনা করেছি—অর্থাৎ আল-মুহাযযাব—তা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পেশ করা হতো, তবে তিনি বলতেন: 'এটিই আমার শরীয়ত যা আমি আমার উম্মতকে আদেশ করেছি'।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - التنبيه في الفقه؛ سماه حاجي خليفة " التنبيه في فروع الشافعية " وقال: هو أحد الكتب الخمسة المتداولة بين الشافعية وأكثرها تداولاً، أخذه من تعليقه الشيخ أبي حامد المروزي؛ وله أيضاً شروح كثيرة واختصر قوم، ونظم محتوياته آخرون (كشف الظنون: 489 - 493) .
3 - النكت في الخلاف؛ وسماه حاجي خليفة " النكت في علم الجدل " (كشف: 1977) وينقل السبكي (3: 98) .
4 - التبصر: قال ابن خلكان: إنه في الجدل، وقال حاجي خليفة إنه في أصول الفقه، وعليه شرح لابن جني.
5 - المعونة في الجدل: كما ذكر ابن خلكان وصاحب كشف الظنون.
6 - التلخيص: عند ابن خلكان أنه في الجدل، ولم يذكره حاجي خليفة.
7 - اللمع في أصول الفقه: شرحه الهدباني في مجلدين وشرحه غيره.
8 - شرح اللمع في أصول الفقه.
9 - نصح أهل العلم.
10 - طبقات الفقهاء.
مناظراته وفتاويه:لا ريب في أن لأبي إسحاق مناظرات كثيرة مع علماء عصره، لم تصلنا كلها وقد احتفظ له السبكي بنصوص المناظرات الآتية:
1 - مناظرة بينه وبين الشيخ أبي عبد الله الدامغاني عن مسألة الذمي إذا أسلم هل تسقط عنه الجزية (3: 100) .
2 - مناظرة أخرى بينه وبين أبي عبد الله الدامغاني عن الإعسار في النفقة هل يوجب الخيار للزوجة (3: 105) .
২ - ফিকহ শাস্ত্রের আত-তানবিহ; হাজী খলিফা একে "আত-তানবিহ ফি ফুরুয়িশ শাফিয়্যাহ" নামে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাফিঈ মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে প্রচলিত পাঁচটি প্রধান গ্রন্থের অন্যতম এবং সর্বাধিক প্রচলিত। তিনি এটি শেখ আবু হামিদ আল-মারওয়াযীর 'তালিক' থেকে গ্রহণ করেছেন। এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, কেউ কেউ একে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং অন্যরা এর বিষয়বস্তুকে পদ্যে রূপান্তর করেছেন (কাশফুন যুনুন: ৪৮৯ - ৪৯৩)।
৩ - মতভেদ বিষয়ক আন-নুকাত; হাজী খলিফা একে "আন-নুকাত ফি ইলমিল জাদাল" (তর্কবিদ্যার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ) নামে অভিহিত করেছেন (কাশফ: ১৯৭৭) এবং সুবকী (৩: ৯৮) তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
৪ - আত-তাবসিরা: ইবনে খাল্লিকান বলেছেন যে এটি তর্কবিদ্যার ওপর রচিত, আর হাজী খলিফা বলেছেন এটি উসূলে ফিকহের ওপর রচিত এবং এর ওপর ইবনে জিন্নীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।
৫ - আল-মাউনা ফিল জাদাল: যেমনটি ইবনে খাল্লিকান এবং কাশফুন যুনুন গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন।
৬ - আত-তালখিস: ইবনে খাল্লিকানের মতে এটি তর্কবিদ্যার ওপর রচিত, তবে হাজী খলিফা এটি উল্লেখ করেননি।
৭ - উসূলে ফিকহ বিষয়ক আল-লুমা: আল-হাদবানী এটি দুই খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন এবং অন্যরা এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
৮ - উসূলে ফিকহ বিষয়ক আল-লুমার ব্যাখ্যা।
৯ - নুসহু আহলিল ইলম (জ্ঞানীদের প্রতি উপদেশ)।
১০ - তাবাকাতুল ফুকাহা (ফকীহগণের জীবনী ও স্তরবিন্যাস)।
তাঁর বিতর্ক ও ফতোয়াসমূহ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু ইসহাকের তাঁর সমসাময়িক আলেমদের সাথে অনেক বিতর্ক হয়েছিল, যার সবকটি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে সুবকী তাঁর জন্য নিম্নলিখিত বিতর্কগুলোর বিবরণ সংরক্ষণ করেছেন:
১ - তাঁর এবং শেখ আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামগানীর মধ্যকার একটি বিতর্ক; জিম্মি ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে কি তার ওপর থেকে জিজিয়া রহিত হয়ে যাবে? (৩: ১০০)।
২ - আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামগানীর সাথে তাঁর আরেকটি বিতর্ক; ভরণপোষণে অক্ষমতার কারণে কি স্ত্রীর জন্য বিচ্ছেদের অধিকার সাব্যস্ত হবে? (৩: ১০৫)।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
3 - مناظرة بينه وبين إمام الحرمين أبي المعالي الجويني بنيسابور في إجبار البكر البالغ
… (3: 109، 278) .
4 - مناظرة ثانية بينه وبين إمام الحرمين الجويني بنيسابور عمن اجتهد في القبلة وصلى ثم تبين الخطأ (3: 275) .
أما فتاويه فلا ندري إن كانت قد جمعت، ولكن من المحقق أنها كانت كثيرة العدد، يقول السبكي " وكانت الفتاوي تحمل من البر والبحر إلى بين يديه ".
شعره:ليس في شعره ما يميزه، فهو جارٍ على طريقة الفقهاء، ولكن نثبت ما جاءت به المصادر من أبياته، فذلك أجمع للفائدة، وهو يعين على استكمال الجوانب المختلفة من ضروب نشاطه:
قال:
سألت الناس عن خل وفي
… فقالوا ما إلى هذا سبيل
تمسك أن ظفرت بود حر
… فإن الحر في الدنيا قليل وقال:
إذا تخلفت عن صديق
… ولم يعاتبك في التخلف
فلا تعد بعدها إليه
… فانما وده تكلف وقال في غريق:
غريق كأن الموت رق لفقده
… فلان له في صورة الماء جانبه
أبى الله أن أنساه دهري لأنه
… توفاه في الماء الذي أنا شاربه وقال:
لبست ثوب الرجا والناس قد رقدوا
… وقمت أشكو إلى مولاي ما أجد
৩ - সাবালিকা কুমারী মেয়েকে বিবাহে বাধ্য করার বিষয়ে নিশাপুরে তাঁর এবং ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনীর মধ্যে সংঘটিত মুনাজারা
… (৩: ১০৯, ২৭৮)।
৪ - নিশাপুরে তাঁর এবং ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর মধ্যে দ্বিতীয় মুনাজারা; ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে কিবলা নির্ণয়ে ইজতিহাদ করে সালাত আদায় করেছে, অতঃপর ভুল প্রকাশ পেয়েছে (৩: ২৭৫)।
তাঁর ফতোয়াগুলোর ব্যাপারে আমাদের জানা নেই যে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তবে এটি নিশ্চিত যে তা সংখ্যায় অনেক ছিল। সুবকী বলেন, "জলপথ ও স্থলপথের দূর-দূরান্ত থেকে ফতোয়াগুলো তাঁর নিকট নিয়ে আসা হতো।"
তাঁর কবিতা:তাঁর কবিতার মধ্যে বিশেষ কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নেই, কারণ তা ফকিহদের অনুসৃত পদ্ধতিতে রচিত। তবে উৎসগুলোতে তাঁর যে পংক্তিমালা পাওয়া গেছে আমরা তা উল্লেখ করছি, যাতে উপকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং এটি তাঁর বিভিন্ন কর্মতৎপরতার দিকগুলো পরিপূর্ণভাবে বুঝতে সাহায্য করে:
তিনি বলেছেন:
আমি লোকজনের নিকট একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর কথা জিজ্ঞেস করেছি
… তারা বলেছে যে, এমন বন্ধুর দেখা পাওয়ার কোনো উপায় নেই
যদি তুমি কোনো স্বাধীনচেতা ব্যক্তির ভালোবাসা পেয়ে যাও তবে তা আঁকড়ে ধরো
… কারণ দুনিয়াতে স্বাধীনচেতা মানুষ খুবই কম। তিনি আরও বলেছেন:
যখন তুমি কোনো বন্ধুর থেকে দূরে সরে যাও
… অথচ সেই দূরে সরে যাওয়ার কারণে সে তোমাকে তিরস্কার করে না
তবে এরপর আর তার কাছে ফিরে যেও না
… কারণ তার ভালোবাসা ছিল নিছক লৌকিকতামাত্র। তিনি এক ডুবে যাওয়া ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন:
এক নিমজ্জিত ব্যক্তি, যার মৃত্যু যেন তার বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়ে কোমল হয়ে গেছে
… পানির আকৃতিতে তার পার্শ্বদেশ নরম হয়ে গেছে
আল্লাহ চান না যে আমি সারাজীবন তাকে ভুলে থাকি, কারণ
… তিনি তাকে এমন পানিতে মৃত্যু দিয়েছেন যা আমি পান করি। তিনি বলেছেন:
যখন মানুষ ঘুমিয়ে ছিল তখন আমি আশার পোশাক পরিধান করেছি
… এবং আমি যা অনুভব করছি তা নিয়ে আমার মাওলার কাছে অভিযোগ করতে দাঁড়িয়েছি।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقلت يا عدتي في كل نائبة
… من عليه لكشف الضر أعتمد
أشكو إليك أموراً أنت تعلمها
… مالي على حملها صبر ولا جلد
وقد مددت يدي بالذل مبتهلاً
… إليك يا خير من مدت إليه يد
فلا تردنها يا رب خائبة
… فبحر جودك يروي كل من يرد وقال:
حكيم رأى أن النجوم حقيقة
… ويذهب في أحكامها كل مذهب
يخبر عن أفلاكها وبروجها
… وما عنده علم بما في المغيب وكان يوماً يمشي في الوحل وينشد الأشعار، فقال:
إنشادنا الأشعار في الوحل
… هذا لعمري غاية الجهل وأتى بثلجية فيها ماء بارد وكان أبو الخطاب علي بن عبد الرحمن حاضراً فقال أبو إسحاق:
ممنع وهو في الثلاجي
… فكيف لو كان في الزجاج فقال أبو الخطاب:
ماء صفا رقة وطيباً
… ليس بملح ولا أجاج وقال:
إذا طال الطريق عليك يوماً
… فليس دواؤه إلا الرفيق
تحدثه وتشكو ما تلاقي
… ويقرب بالحديث لك الطريق
আমি বললাম, হে বিপদে আমার সম্বল
… দুঃখ মোচনের জন্য আমি যাঁর ওপর নির্ভর করি।
আমি আপনার কাছে এমন সব বিষয়ের অভিযোগ করছি যা আপনি জানেন
… সেগুলো সহ্য করার মতো আমার কোনো ধৈর্য বা শক্তি নেই।
আমি বিনয়ের সাথে আপনার কাছে হাত প্রসারিত করেছি মিনতিভরে
… হে সেই শ্রেষ্ঠ সত্তা, যাঁর কাছে হাত তোলা হয়।
হে আমার রব, এই হাতকে ব্যর্থ করে ফিরিয়ে দেবেন না
… কারণ আপনার দানশীলতার সমুদ্র প্রত্যেক আগমনকারীকে তৃপ্ত করে। তিনি আরও বললেন:
এক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি মনে করেন যে নক্ষত্ররাজি এক ধ্রুব সত্য
… এবং তিনি এগুলোর বিচার-বিশ্লেষণে নানা পথ অবলম্বন করেন।
তিনি তাদের কক্ষপথ এবং রাশিচক্র সম্পর্কে সংবাদ দেন
… অথচ অদৃশ্যের বিষয়ে তাঁর কোনো জ্ঞান নেই। একদিন তিনি কাদার মধ্যে হাঁটছিলেন এবং কবিতা আবৃত্তি করছিলেন, তখন তিনি বললেন:
কাদার মধ্যে আমাদের কবিতা আবৃত্তি করা
… আমার জীবনের শপথ, এটি মূর্খতার শেষ সীমা। অতঃপর একটি বরফপাত্র আনা হলো যাতে শীতল পানি ছিল এবং আবু আল-খাত্তাব আলি ইবনে আবদুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন আবু ইসহাক বললেন:
বরফপাত্রে থাকা অবস্থায়ই এটি দুর্লভ
… তাহলে যদি কাঁচের পাত্রে থাকতো তবে কেমন হতো! তখন আবু আল-খাত্তাব বললেন:
পানি স্বচ্ছতা, সূক্ষ্মতা ও সৌরভে নির্মল
… এটি লোনা নয় এবং তিক্তও নয়। তিনি আরও বললেন:
যদি কোনোদিন তোমার পথ দীর্ঘ হয়ে যায়
… তবে একজন সঙ্গী ছাড়া এর কোনো ঔষধ নেই।
তুমি তাঁর সাথে কথা বলবে এবং তোমার কষ্টের কথা জানাবে
… আর আলোচনার মাধ্যমে তিনি তোমার পথকে সংক্ষেপ করে দেবেন।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كتاب الطبقات (1)
هنالك عدد من الكتب تناولت طبقات الفقهاء قبل أن يكتب أبو إسحاق كتابه هذا؛ عرفنا منها:
1 - طبقات الفقهاء والمحدثين للهيثم بن عدي (- 207) في أربع مجلدات.
2 - المذهب في ذكر شيوخ المذهب، وهو خاص بالشافعية، لأبي حفص عمر بن علي المطوعي.
3 - مختصر في مولد الشافعي، عد في آخره جماعة من الأصحاب، لأبي الطيب الطبري (- 450) أستاذ أبي إسحاق الشيرازي.
4 - كتاب مختصر في الطبقات لأبي عاصم محمد بن أحمد العبادي (- 458) .
5 - طبقات الفقهاء للحسن بن أحمد البغدادي الحنبلي المعروف بابن البناء (- 471) .
وقد كثرت الكتب في طبقات الفقهاء بعد الشيرازي، ومنها العام الجامع
--------------------------------------------
কিতাবুত তাবাকাত (১)
আবু ইসহাক তাঁর এই গ্রন্থটি রচনা করার পূর্বে ফকিহগণের স্তরবিন্যাস (তাবাকাত) নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছিল; সেগুলোর মধ্যে আমরা জানতে পেরেছি:
১ - হায়সাম বিন আদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) রচিত চার খণ্ডের 'তাবাকাতুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসিন'।
২ - আবু হাফস উমর বিন আলী আল-মুতাওয়ি রচিত 'আল-মাযহাব ফী যিকরি শুয়ুখিল মাযহাব', যা শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীদের জন্য বিশেষায়িত।
৩ - আবু ইসহাক আশ-শিরাজির উস্তাদ আবু তাইয়িব আত-তাবারী (মৃত্যু ৪৫০ হিজরি) রচিত 'মুখতাসারুন ফী মাওলিদিশ শাফিঈ', যার শেষে তিনি একদল সঙ্গীর কথা উল্লেখ করেছেন।
৪ - আবু আসিম মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আব্বাদি (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি) রচিত 'কিতাবুন মুখতাসারুন ফিত তাবাকাত'।
৫ - ইবনুল বান্না নামে পরিচিত আল-হাসান বিন আহমদ আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি) রচিত 'তাবাকাতুল ফুকাহা'।
শিরাজির পরে ফকিহগণের তাবাকাত নিয়ে গ্রন্থের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও ব্যাপক সংকলনসমূহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومنها المقصور على رجال مذهب واحد، وليس هذا موضع الحديث عنها، وإنما أشير منها إلى ما جاء ذيلاً على كتاب الشيرازي فمن ذلك:
1 - طبقات الفقهاء لأبي عبد الله محمد بن عبد الملك بن إبراهيم الهمذاني (- 521) ويقول ابن خلكان (2: 315) انه ذيل على طبقات أبي إسحاق.
2 - طبقات الفقهاء لعلي بن أنجب الساعي البغدادي (- 674) وقد ذكر صاحب كشف الظنون (1100) أنه ذيل على طبقات الشيرازي.
و" طبقات الفقهاء " للشيرازي كتاب موجز إذا قسنا بما ألف بعده، ويبدو لي أن المؤلف اطلع على كتاب أستاذه أبي الطيب الطبري فحاول أن يجئ بصورة أكمل وأوفى، فهو إذا قيس بذلك الكتاب كان توسعاً في النظرة والخطة؛ على أن صفة " الإيجار " بالنسبة إلينا اليوم ستظل عالقة به، لأنه لا يعدو في بعض الأحيان أن يكون سرداً لأسماء الفقهاء، ولكن الإيجاز كان عنصراً أساسياً في خطة الشيرازي، لأنه لم يحاول أن يكتب تراجم الفقهاء، وإنما حاول أن يقدم لنا صورة دقيقة عن تطور الفقه - من خلال رجاله - على مر الزمن، وأكبر شاهد على ذلك ما دونه من معلومات عن فقهاء الصحابة والتابعين، فانه لو شاء أن يرخي العنان لقلمه لكتب في هذا السبيل مجلدات؛ فالشيرازي من هذا الوجه مؤلف عارف بخطته شديد الإحكام لها قادر على الانتقاء الدقيق للمادة التي تصلح لكتابه، لا يستهويه الاستطراد والاستكثار من المعلومات، وهو حريص كل الحرص على أن يقول المعنى الكثير في اللفظ القليل، وقد جعل نصب عينيه غاية واحدة وهي أن يضمن كتابه ما لا يسع الفقيه جهلة ليعرف من هم الذين تعتبر أقوالهم في انعقاد الإجماع؛ ولهذا لم يكن عجيباً أن يصبح كتابه على صغره مصدراً هاماً في كتب التراجم، لا لقدمه النسبي ولا لمكانة صاحب وحسب، بل لدقة
এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা কেবল একটি মাযহাবের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে এখানে সেগুলো নিয়ে আলোচনার স্থান এটি নয়। বরং আমি এখানে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব যা শিরাযীর কিতাবের পরিশিষ্ট হিসেবে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন ইবরাহিম আল-হামাদানি (- ৫২১) এর তাবাকাতুল ফুকাহা। ইবনে খাল্লিকান (২: ৩১৫) বলেন যে, এটি আবু ইসহাকের তাবাকাত-এর একটি পরিশিষ্ট।
২ - আলী বিন আনজাব আল-সায়ি আল-বাগদাদি (- ৬৭৪) এর তাবাকাতুল ফুকাহা। কাশফুয যুনুন-এর লেখক (১১০০) উল্লেখ করেছেন যে, এটি শিরাযীর তাবাকাত-এর একটি পরিশিষ্ট।
শিরাযীর "তাবাকাতুল ফুকাহা" একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যদি আমরা তাঁর পরে রচিত গ্রন্থগুলোর সাথে তুলনা করি। আমার কাছে মনে হয় যে, লেখক তাঁর উস্তাদ আবু তাইয়্যেব আত-তাবারীর কিতাবটি দেখেছিলেন এবং তিনি একটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত রূপ উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। সুতরাং সেই কিতাবের সাথে তুলনা করলে এটি দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি বিস্তৃতি হিসেবে গণ্য হয়; তবে 'সংক্ষিপ্ততা'র বৈশিষ্ট্যটি আজকের দিনে আমাদের কাছে এর সাথে লেগেই থাকবে, কারণ এটি কখনো কখনো ফকীহগণের নামের একটি তালিকা ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। কিন্তু শিরাযীর পরিকল্পনায় সংক্ষিপ্ততা একটি মৌলিক উপাদান ছিল, কারণ তিনি ফকীহগণের জীবনী লেখার চেষ্টা করেননি, বরং তিনি সময়ের পরিক্রমায় ফিকহ শাস্ত্রের বিবর্তনের—এর ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে—একটি নির্ভুল চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো সাহাবী ও তাবেয়ী ফকীহগণের সম্পর্কে তিনি যে তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন তা; কারণ তিনি যদি তাঁর কলমের লাগাম ছেড়ে দিতে চাইতেন, তবে এই পথে তিনি অনেক খণ্ড লিখে ফেলতে পারতেন। এই দিক থেকে শিরাযী এমন একজন লেখক যিনি নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত, এর উপর তাঁর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তিনি তাঁর কিতাবের উপযোগী বিষয়বস্তু নিখুঁতভাবে নির্বাচনে সক্ষম। অবান্তর আলোচনা এবং তথ্যের বাহুল্য তাঁকে প্রলুব্ধ করে না। তিনি অল্প কথায় ব্যাপক অর্থ ব্যক্ত করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ। তিনি একটি লক্ষ্যকেই নিজের সামনে রেখেছেন, আর তা হলো তাঁর কিতাবে এমন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা যা একজন ফকীহ না জেনে থাকতে পারেন না, যাতে করে তিনি জানতে পারেন ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় কাদের বক্তব্য গণ্য করা হয়। এই কারণেই এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, ছোট হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কিতাবটি জীবনীগ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে; কেবল এর আপেক্ষিক প্রাচীনত্ব বা এর লেখকের মর্যাদার কারণে নয়, বরং এর নির্ভুলতার কারণে...
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
ما يورده من معلومات، ومن طالع وفيات الأعيان لابن خلكان وترتيب المدارك للقاضي عياض وتبين كذب المفتري لابن عساكر والجواهر المضية لابن أبي الوفاء وطبقات الشافعية للسبكي، وجد أن ما يقوله أبو إسحاق مادة هامة في تلك المصادر.
صحيح أن القاضي عياض قد استدرك عليه أشياء تتصل برجال المالكية كأن يعد إبراهيم بن محمد بن مزين في رواة سحنون من الأندلسيين، قال: " ولا يعرف ذلك في الأندلس وقد رده عليه أهل الصنعة والأشبه انه ابن بلز، وهو من جلة تلك الطبقة، وكذلك صنع في أسماء كثيرة منهم في أنسابهم وذكرهم في غير طبقاتهم " (1) ؛ وقال في موضع آخر: " فلقد ذكر الشيخ أبو إسحاق الشيرازي أن أبا يحيى الوقار ممن سمع من مالك وعده في طبقة أصحابه ولم يذكر هذا أحد ممن جمع رواة مالك وإنما عدوه في أتباع أصحابه وهو الصحيح والله أعلم؛ وكذلك ذكر أبو إسحاق في اتباع أصحابه من بعد على ما ذكر يحيى في أصحابه.. وكذلك ما ذكره الشيرازي أيضاً أن عبد الملك ابن حبيب تفقه أولاً بيحيى وعيسى وحسين بن عاصم، هو وهم؛ هؤلاء نظراؤه وإنما تفقه أولاً بشيوخ هؤلاء بالأندلس: زياد وصعصعة والغازي بن قيس ونظرائهم، وكذلك ذكره عبد الله بن غافق في طبقة سحنون، وزعم انه سمع من علي بن زياد، باطل، هو من أصحاب سحنون وليس من ذوي الأسنان منهم، ومولده بعد موت علي بن زياد بأزيد من عشرين سنة " (2) ؛ وهذه استدراكات هامة لم يتورط في مثلها أبو إسحاق وحده، وإنما وقع في مثلها كثير من العلماء، وعذر أبي إسحاق في هذا المواطن: تصحف الأسماء واضطرابها في النقل، وصعوبة التدقيق فيما يتصل بأخبار المالكة في الأندلس وأفريقية بسبب البعد الجغرافي.
--------------------------------------------
তিনি যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, এবং যারা ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান', কাজী ইয়াজের 'তারতিবুল মাদারিক', ইবনে আসাকিরের 'তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি', ইবনে আবিল ওয়াফার 'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ' এবং সুবকির 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' পাঠ করেছেন, তারা দেখতে পাবেন যে আবু ইসহাক যা বলেছেন তা ঐ উৎসগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিদ্যমান।
এটা সত্য যে, কাজী ইয়াজ মালিকি মাযহাবের ব্যক্তিত্বদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে তাঁর সমালোচনা বা সংশোধন করেছেন; যেমন—ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুযাইয়্যিনকে সাহনুনের আন্দালুসীয় বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি বলেন: "আন্দালুসে এটি পরিচিত নয় এবং এ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা তাঁর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অধিকতর সঠিক মনে হয় যে তিনি হলেন ইবনুল বালয, যিনি ঐ স্তরের (তাবাকার) একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। একইভাবে তিনি অনেকের নামের ক্ষেত্রে, তাঁদের বংশপরিচয় এবং তাঁদের নির্দিষ্ট স্তর ব্যতীত অন্য স্তরে উল্লেখ করার ক্ষেত্রেও অনুরূপ ভুল করেছেন" (১); এবং তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাজি উল্লেখ করেছেন যে, আবু ইয়াহইয়া আল-ওয়াক্কার সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ইমাম মালিকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তিনি তাঁকে ইমাম মালিকের শিষ্যদের স্তরে গণনা করেছেন। অথচ ইমাম মালিকের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলনকারী কেউই এটি উল্লেখ করেননি; বরং তাঁরা তাঁকে ইমাম মালিকের শিষ্যদের অনুসারীদের (তাবয়ে তাবিয়ী) অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটাই সঠিক, আল্লাহই ভালো জানেন। একইভাবে আবু ইসহাক পরবর্তীতে শিষ্যদের অনুসারীদের বর্ণনায় এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা ইয়াহইয়া তাঁর সাথীদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছিলেন... একইভাবে শিরাজি যে উল্লেখ করেছেন যে আবদুল মালিক ইবনে হাবিব প্রথমে ইয়াহইয়া, ঈসা এবং হুসাইন ইবনে আসিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, তা একটি ভুল ধারণা। এঁরা ছিলেন তাঁর সমসাময়িক; মূলত তিনি প্রথমে আন্দালুসে এঁদের শিক্ষকদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছিলেন, যেমন: যিয়াদ, সা'সা'আহ, আল-গাযী ইবনে কায়স এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। তেমনিভাবে আবদুল্লাহ ইবনে গাফিককে সাহনুনের স্তরে উল্লেখ করা এবং তিনি আলি ইবনে যিয়াদ থেকে শ্রবণ করেছেন বলে দাবি করাও ভিত্তিহীন। তিনি সাহনুনের শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন না, আর তাঁর জন্ম হয়েছে আলি ইবনে যিয়াদের ইন্তেকালের বিশ বছরেরও বেশি সময় পরে" (২); এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন, যে ধরণের ভুলের মধ্যে কেবল আবু ইসহাক একাই পড়েননি, বরং অনেক আলেমই এ ধরণের ভুলের শিকার হয়েছেন। এই ক্ষেত্রগুলোতে আবু ইসহাকের ওজর বা কারণ হলো: নামগুলোর লিপিক্রমিক বিকৃতি ও বর্ণনায় অসংলগ্নতা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে আন্দালুস ও আফ্রিকার মালিকি মাযহাবের সংবাদসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার অসুবিধা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
تحقيق الكتاباعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسختين:
1 - نسخة مكتبة شهيد علي (رقم: 1914) وقد رمزت لها بالحرف (ع) وهي نسخة جيدة قليلة الخطأ، منقولة عن نسخة كانت للإمام الحافظ زكي الدين عبد القوي بن عبد العظيم المنذري، وآخر طبقات السماع المدونة في آخرها تحمل تاريخ سنة أربع وخمسين وسبعمائة. وهي رواية أبي اليمن الكندي عن علي بن هبة الله بن عبد السلام عن الشيرازي؛ ونص الكتاب يقع في الورقات 3 - 52، وفيها أسمعة من 52 - 54، وخطها نسخي واضح وفيها ضبط بالشكل أحياناً، وفي الصفحة الواحدة منها 23 سطراً، ومعدل الكلمات في كل سطر 9 كلمات، وعلى هوامشها تعليقات قليلة، وتصويبات يكتب فوقها الحرف " ق "؛ وقد كتب على الورقة الأولى منها ترجمة موجزة للمؤلف، وورد تحت العنوان ما يلي:
" شاهدت ما مثاله ونقلته على صورته على النسخة المنقول منها:
نقل هذا الكتاب من نسختي التي عارضتها بالأصل الذي عليه خط المؤلف رحمه الله وشاهدت فيه سماع الرئيس أبي الحسن علي بن هبة الله بن عبد السلام الكاتب على المؤلف في مجالس آخرها في سنة اثنتين وسبعين وأربعمائة والسماع بخط ابن الخاضبة محمد بن أحمد بن عبد الباقي الدقاق رحمة الله وقرأته وشاهدت في الأصل الذي رأيت فيه هذا السماع وهو الذي بوقف ابن ناصر رحمة الله ببغداد سماع شيخنا العلامة أبي اليمن الكندي على أبي الحر ابن عبد السلام بقراءة أبي بكر عبد الله بن محمد بن أحمد بن النقور في جماعة درجوا كلهم إلى رحمة الله في يوم الأحد سادس صفر سنة ثمان وثلاثين وخمسمائة والحمد لله ربي العالمين؛ كتبه إسماعيل بن الانماطي رفق الله
গ্রন্থের তাহকীকএই গ্রন্থের তাহকীক বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:
১ - শহীদ আলী গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ১৯১৪); আমি এটিকে (আইন) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি একটি উন্নতমানের পাণ্ডুলিপি এবং এতে ভুলের পরিমাণ কম। এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে যা ইমাম হাফিজ জাকিউদ্দীন আব্দুল কাবি বিন আব্দুল আজিম আল-মুনজিরি-এর মালিকানাধীন ছিল। এর শেষে লিপিবদ্ধ সর্বশেষ 'সামা' বা শ্রবণ-সনদের স্তরগুলোতে সাতশত চুয়ান্ন হিজরি সালের তারিখ রয়েছে। এটি আবুল ইয়ামান আল-কিন্দি-এর বর্ণনা, যা তিনি আলি বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুস সালাম থেকে এবং তিনি আশ-শিরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন; গ্রন্থের মূল পাঠ ৩ থেকে ৫২ নম্বর পৃষ্ঠায় অবস্থিত এবং ৫২ থেকে ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠায় শ্রবণ-সনদসমূহ রয়েছে। এর লিপিশৈলী স্পষ্ট নাসখ্ পদ্ধতির এবং এতে মাঝে মাঝে স্বরচিহ্ন (হরকত) প্রদান করা হয়েছে। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ৯টি শব্দ রয়েছে। এর মার্জিনে সামান্য কিছু পার্শ্বটীকা রয়েছে এবং সংশোধনীগুলোর উপরে ‘ক্বফ’ অক্ষরটি লেখা হয়েছে। এর প্রথম পৃষ্ঠায় লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখা হয়েছে এবং শিরোনামের নিচে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি বর্ণিত হয়েছে:
"আমি যা দেখেছি এবং যে পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করা হয়েছে তার হুবহু অনুলিপি এখানে তুলে ধরছি:
এই বইটি আমার সেই পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে যা আমি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি, যাতে লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) নিজের হাতের লেখা ছিল। আমি তাতে লেখকের কাছে রইস আবুল হাসান আলি বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুস সালাম আল-কাতিব-এর শ্রবণ-সনদ দেখেছি, যার মজলিসসমূহ চারশত বাহাত্তর হিজরি সালে সমাপ্ত হয়েছিল। আর শ্রবণ-সনদটি ইবনুল খদিবাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল বাকি আদ-দাক্কাক-এর (রহিমাহুল্লাহ) হস্তাক্ষরে লিখিত। আমি এটি পাঠ করেছি এবং যে মূল পাণ্ডুলিপিতে এই শ্রবণ-সনদটি দেখেছি—যা বাগদাদে ইবনে নাসির-এর (রহিমাহুল্লাহ) ওয়াকফকৃত ছিল—তাতে আমাদের শাইখ আল্লামা আবুল ইয়ামান আল-কিন্দি-এর শ্রবণ-সনদ রয়েছে, যা তিনি আবু আল-হুর ইবনে আব্দুস সালামের কাছে পাঠ করেছেন। এটি পাঠ করেছিলেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আন-নাক্কুর, এমন এক দলের উপস্থিতিতে যারা সকলেই আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন (মৃত্যুবরণ করেছেন)। এটি ছিল পাঁচশত আটত্রিশ হিজরি সালের ৬ই সফর, রবিবার। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এটি লিখেছেন ইসমাইল বিন আল-আনমাতি, আল্লাহ তার প্রতি সদয় হোন।"
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
به آمين؛ نقله كما شاهده محمد بن منيع لن عثمان بن شاد البشطاري المولد في يوم الأربعاء الثامن والعشرين من جمادى الأولى سنة خمسين وستمائة أحسن الله خاتمتها والحمد لله وصلواته على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً ".
2 - نسخة طوبقو سراي (رقم: 2541) وقد رمزت " ط " وهي لا تقارب النسخة السابقة في الدقة، وفي آخر ورقاتها مطالعة تحمل تاريخ مستهل شوال سنة ثمان وعشربن وثمانمائة، ويقع النص فيها بين الورقة 2 - 62، وفيها طبقات سماع (على الورقة 62ب) ، وخطها نسخي جميل، والشكل فيها أكثر من النسخة السابقة، لكنها كثيرة الخطأ نسبياً، وفي كل صفحة منها 15 سطراً بمعدل 10 كلمات في السطر الواحد. وتحت العنوان على الورقة الأولى منها هذه السطور:
" قرأ علي القاضي الأجل شرف الدين عز القضاة زين الأئمة أبو الرضى محمد بن سليمان بن الحسن أحسن الله توفيقه، وسهل إلى كل خير طريقه، هذا الكتاب كتاب طبقات الفقهاء تأليف الإمام الموفق أبي إسحاق إبراهيم الفيروزابادي رضي الله عنه وأخبرته أني سمعته قراءة تصحيح ورواية وتفهم ورعاية على القاضي الإمام قاضي الخافقين أبي بكر محمد بن القاسم بن المظفر الشهرزوري رضي الله عنه وأخبرني انه سمعه على مصنفه؛ ورويته أيضاً له عن الأئمة المذكورين بباطنه بالإسناد المقيد وقد أذنت له أدام الله توفيقه أن يرويه عني بالأسانيد المذكورة بباطنه؛ وكتب محمد بن الأنصاري في يوم الاثنين حادي عشر ربيع الأول سنة خمس وتسعين وخمسمائة حامداً لله تعالى ومصلياً على سيدنا محمد النبي وآله الطاهرين وأصحابه أجمعين وسلم تسليماً ".
وقد كانت خطتي في تحقيق هذا الكتاب إثبات الفروق الهامة بين النسختين، ومراجعة الن على مصادر الشيرازي مثل طبقات ابن سعد والمعارف لابن قتيبة ومراجعته على الكتب التي نقلت عنه، وهي كتب ذكرتها
এর মাধ্যমে কবুল করুন। এটি মুহাম্মদ ইবনে মানি' বিন উসমান ইবনে শাদ আল-বাশতারি আল-মাওলিদ যেভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন সেভাবেই নকল করেছেন, বুধবার ২৮ জুমাদাল উলা, ৬৫০ হিজরিতে। আল্লাহ এর সমাপ্তিকে উত্তম করুন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও অনেক অনেক শান্তি বর্ষিত হোক।
২ - তোপকাপি প্রাসাদ পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ২৫৪১), আমি একে "ত" সংকেত দিয়েছি। এটি সূক্ষ্মতার বিচারে পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপির সমতুল্য নয়। এর শেষ পাতাগুলোতে একটি পাঠ-টীকা রয়েছে যা ৮২৮ হিজরির শাওয়াল মাসের শুরুর তারিখ বহন করে। মূল পাঠটি ২ থেকে ৬২ নম্বর পাতার মধ্যে অবস্থিত। এতে শ্রুতিলিপি বা সামা'র স্তরসমূহ (৬২-খ পৃষ্ঠায়) বিদ্যমান। এর লিপি সুন্দর নাসখি ধাঁচের, এবং পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপির চেয়ে এতে হরকত বা স্বরচিহ্ন বেশি রয়েছে, তবে এটি তুলনামূলকভাবে ভুল-ত্রুটিপূর্ণ। এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৫টি সারি রয়েছে এবং প্রতিটি সারিতে গড়ে ১০টি শব্দ রয়েছে। এর প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনামের নিচে এই বাক্যগুলো রয়েছে:
"আমার কাছে পাঠ করেছেন মহিমান্বিত বিচারক শরফুদ্দিন ইজ্জুল কুদাত যাইনুল আইম্মাহ আবু রেদা মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে হাসান—আল্লাহ তাঁর তাওফিককে সুন্দর করুন এবং তাঁর পথকে প্রতিটি কল্যাণের জন্য সহজ করে দিন। এই গ্রন্থটি হলো 'তাবাকাতুল ফুকাহা', যা ইমাম আল-মুওয়াফফাক আবু ইসহাক ইবরাহিম আল-ফিরুজাবাদি (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর রচনা। আমি তাঁকে সংবাদ দিয়েছি যে, আমি এটি সংশোধন, বর্ণনা, অনুধাবন ও যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে বিচারক ইমাম, পূর্ব ও পশ্চিমের বিচারক আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে মুজাফফর আশ-শাহরাজুরি (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর কাছে পাঠ শুনেছি। তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এটি সরাসরি এর লেখকের কাছে শুনেছেন। আমি এটি তাঁর জন্য এর অভ্যন্তরে উল্লিখিত ইমামদের কাছ থেকেও লিপিবদ্ধ সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি। আল্লাহ তাঁর তাওফিক অব্যাহত রাখুন, আমি তাঁকে এই মর্মে অনুমতি প্রদান করেছি যে, তিনি যেন এটি আমার পক্ষ থেকে এর অভ্যন্তরে বর্ণিত সনদসমূহের মাধ্যমে বর্ণনা করেন। মুহাম্মদ ইবনে আনসারি এটি লিখেছেন সোমবার ১১ই রবিউল আউয়াল, ৫৯৫ হিজরিতে, মহান আল্লাহর প্রশংসা করে এবং আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীর প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করে।"
এই গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি ছিল উভয় পাণ্ডুলিপির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ সাব্যস্ত করা এবং মূল পাঠকে শিরাজির উৎসগ্রন্থসমূহ যেমন ইবনে সা'দের 'তাবাকাত' ও ইবনে কুতায়বার 'আল-মা'আরিফ'-এর সাথে মিলিয়ে দেখা। পাশাপাশি এটি থেকে যারা উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন সেই বইগুলোর সাথেও যাচাই করা, যা আমি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
آنفاً ولم أضف إليها من الكتب إلا ما يساعد على التوضيح، دون الإكثار من ذكر مصادر كل من ترجم لهم الشيراز، فذلك يخرج الكتاب عن طبيعة الإيجاز الذي التزم به المؤلف.
كذلك فأني أضفت إلى الكتاب بعض العناوين والأرقام ليسهل على القارئ الحديث تصور موضوعه وتناوله، والله حسبي وهو نعم الوكيل.
إحسان عباس
مصادر المقدمة:
1 - وفيات الأعيان لابن خلكان 3: 9.
2 - طبقات الشافعية للسبكي 3: 88.
3 - اللباب لابن الأثير: (الفيروزابادي)
4 - تبيين كذب المفتري لابن عساكر: 276، 313، 332.
5 - شذرات الذهب لابن العماد 3: 394.
6 - العبر للذهبي 3: 283.
7 - المنتظم لابن الجوزي ج؟ 8، 9.
8 - الكامل لابن الأثير ج؟ 10 (ط. صادر، بيروت) .
9 - طبقات الفقهاء للشيرازي.
10 - كشف الظنون لحاجي خليفة.
ইতিপূর্বে আমি এতে ব্যাখ্যার জন্য সহায়ক গ্রন্থ ব্যতিরেকে অন্য কিছু সংযোজন করিনি এবং শিরাজী যাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রচুর পরিমাণে উৎস উল্লেখ করিনি; কারণ তা লেখকের অনুসৃত সংক্ষিপ্ততার বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী হতো।
তদ্রূপ, আধুনিক পাঠকের জন্য বইটির বিষয়বস্তু উপলব্ধি করা এবং এর ব্যবহার সহজ করার লক্ষে আমি এতে কিছু শিরোনাম ও নম্বর যুক্ত করেছি। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
ইহসান আব্বাস
ভূমিকার উৎসসমূহ:
১ - ইবনে খাল্লিকান রচিত ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩: ৯।
২ - সুবকী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৩: ৮৮।
৩ - ইবনুল আসীর রচিত আল-লুবাব: (আল-ফিরোজাবাদী)
৪ - ইবনে আসাকির রচিত তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি: ২৭৬, ৩১৩, ৩৩২।
৫ - ইবনুল ইমাদ রচিত শাযারাতুয যাহাব ৩: ৩৯৪।
৬ - যাহাবী রচিত আল-ইবার ৩: ২৮৩।
৭ - ইবনুল জাওযী রচিত আল-মুনতাযাম খণ্ড ৮, ৯।
৮ - ইবনুল আসীর রচিত আল-কামিল খণ্ড ১০ (সাদির প্রকাশনী, বৈরুত)।
৯ - শিরাজী রচিত তাবাকাতুল ফু কাহা।
১০ - হাজি খলিফা রচিত কাশফুয যুনুন।
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيمحسبي الله وكفى
الحمد لله حق حمده وصلواته على محمد (1) خير خلقه وعلى آله وصحبه (2) : هذا كتاب مختصر في ذكر الفقهاء وأنسابهم، ومبلغ أعمارهم ووقت وفاتهم، وما دل على علمهم من ثناء الفضلاء عليهم، وذكر من أخذ عنهم العلم من أتباعهم وأصحابهم، لا يسع الفقيه جهله لحاجته إليه في معرفة من (3) يعتبر قوله في انعقاد الإجماع ويعتد به في الخلاف. وبدأت بفقهاء الصحابة رضي الله عنهم، ثم من بعدهم من التابعين وتابعي التابعين رحمهم الله، ثم بفقهاء الأمصار، وإلى الله تعالى أرغب أن يوفقني للصواب، ويجزل لي في الأجر والثواب، إنه كريم وهاب.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেআল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই পর্যাপ্ত।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর যথার্থ প্রাপ্য; এবং তাঁর সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মদের (১) ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের (২) ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক: এটি ফকীহগণের (ইসলামী আইনজ্ঞ) আলোচনা, তাঁদের বংশপরিচয়, তাঁদের আয়ুষ্কাল ও ইন্তিকালের সময় এবং তাঁদের ইলম বা জ্ঞানের প্রমাণ হিসেবে গুণীজনদের কৃত তাঁদের প্রশংসা সম্বলিত একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। পাশাপাশি তাঁদের অনুসারী ও শিষ্যদের মধ্যে যাঁরা তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের কথাও এতে উল্লিখিত হয়েছে। একজন ফকীহর পক্ষে এ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়; কারণ ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠায় কার বক্তব্য বিবেচিত হবে এবং ইখতিলাফ বা মতভেদের ক্ষেত্রে কার মতামতের গুরুত্ব রয়েছে, তা জানার জন্য এর বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। আমি গ্রন্থটি শুরু করেছি ফকীহ সাহাবীগণকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) দিয়ে, এরপর তাঁদের পরবর্তী তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) দিয়ে, অতঃপর বিভিন্ন জনপদের ফকীহগণের আলোচনার মাধ্যমে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সঠিক বিষয়ের তাওফিক দান করেন এবং আমাকে প্রচুর প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও মহাদানশীল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فقهاء الصحابة رضي الله عنهم
ফকীহ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فراغ
খালি
(খণ্ড: ১)
তবাকাতুল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ذكر فقهاء الصحابة رضي الله عنهماعلم أن أكثر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين صحبوه ولازموه كانوا فقهاء، وذلك أن طرق (1) الفقه في حق الصحابة خطاب الله تعالى وخطاب رسوله صلى الله عليه وسلم وما عقل منهما، وأفعال رسول الله صلى الله عليه وسلم وما عقل منها؛ فخطاب الله عز وجل هو القرآن، وقد أنزل ذلك بلغتهم وعلى أسباب عرفوها وقصص كانوا فيها، فعرفوا مسطوره ومفهومه ومنصوصه ومعقوله، ولهذا قال أبو عبيدة في كتاب المجاز (2) : لم ننقل (3) أن أحداً من الصحابة رجع في معرفة شيء من القرآن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وخطاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بلغتهم يعرفون معناه ويفهمون منطوقه وفحواه وأفعاله التي (4) فعلها من العبادات والمعاملات والسير والسياسات، وقد شاهدوا (5) ذلك كله وعرفوه وتكرر عليهم وتبحروه، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: أصحابي كالنجوم بأيهم اقتديتم اهتديتم؛ ولأن من نظر فيما نقلوه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من أقواله
--------------------------------------------
সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ফকীহগণের আলোচনাজেনে রাখুন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ সাহাবী, যারা তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর সাথে লেগে থেকেছেন, তাঁরা ফকীহ ছিলেন। আর তা এজন্য যে, সাহাবীদের ক্ষেত্রে ফিকহ অর্জনের পথ (১) ছিল আল্লাহ তাআলার সম্বোধন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্বোধন এবং তা থেকে যা অনুধাবন করা যায়, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মসমূহ এবং তা থেকে যা অনুধাবন করা হয়। আল্লাহ তাআলার সম্বোধন হলো কুরআন, যা তাঁদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এমন সব প্রেক্ষাপটে যা তাঁরা জানতেন এবং এমন সব ঘটনায় যাতে তাঁরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে তাঁরা এর লিখিত রূপ, মর্মার্থ, ভাষ্য ও যুক্তিনির্ভর বিষয়সমূহ জানতেন। এই কারণেই আবু উবাইদাহ 'কিতাবুল মাজায' (২)-এ বলেছেন: আমাদের কাছে এমন কোনো বর্ণনা পৌঁছেনি (৩) যে, সাহাবীদের মধ্যে কেউ কুরআনের কোনো বিষয় বোঝার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরণাপন্ন হয়েছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্বোধনও ছিল তাঁদের ভাষায়, তাঁরা এর অর্থ জানতেন এবং এর শব্দার্থ ও মূল লক্ষ্য বুঝতেন। আর ইবাদত, লেনদেন, জীবনচরিত ও রাজনীতি বিষয়ক যে সব কাজ (৪) তিনি করেছেন, তাঁরা তার সবটুকুই প্রত্যক্ষ (৫) করেছেন, চিনেছেন, তাঁদের সামনে তা বারবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে এবং তাঁরা এতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাঁদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াত পাবে।" এবং এজন্য যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহ থেকে তাঁদের বর্ণিত বিষয়াদির প্রতি লক্ষ্য করবে—
--------------------------------------------