(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التقريب لحد المنطق والمدخل إليه بالألفاظ العامية والأمثلة الفقهية القسم: المنطق
الكتاب: التقريب لحد المنطق والمدخل إليه بالألفاظ العامية والأمثلة الفقهية
المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي القرطبي الظاهري (ت 456هـ)
المحقق: إحسان عباس
الناشر: دار مكتبة الحياة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1900
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 213
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাধারণ পরিভাষা ও ফিকহী উদাহরণের মাধ্যমে যুক্তিশাস্ত্রের সংজ্ঞার পথ সুগমকরণ ও এতে প্রবেশের ভূমিকা বিভাগ: যুক্তিশাস্ত্র
বই: সাধারণ পরিভাষা ও ফিকহী উদাহরণের মাধ্যমে যুক্তিশাস্ত্রের সংজ্ঞার পথ সুগমকরণ ও এতে প্রবেশের ভূমিকা
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আলী বিন আহমাদ বিন সাঈদ বিন হাজম আল-আন্দালুসী আল-কুরতুবী আজ-জাহিরী (মৃত্যু ৪৫৬ হি.)
সম্পাদক: ইহসান আব্বাস
প্রকাশক: দার মাকতাবাতুল হায়াত - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৯০০
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৩
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة1 - اسم الكتاب
اسمه كما جاء على الورقة الأولى من المخطوطة " كتاب التقريب لحد المنطق، كلام الرئيس الأوحد ارسطاطاليس وغيره، مما عني بشرحه الفقيه الإمام الأوحد الأعلم أبو محمد علي بن احمد بن سعيد بن حزم؟ ". وقد أشار إليه ابن حزم مرات في كتابه الفصل في الملل والنحل فقال في باب عن ماهية البراهين " هذا باب قد أحكمناه في كتابنا الموسوم بالتقريب في حدود الكلام " (1) . وقال في موضع آخر " " هذه شغبية قد طالما حذرنا من مثلها في كتبنا التي جمعناها في حدود المنطق " (2) فأطلق اسم " الكتب " على هذا الكتاب لأنه مؤلف من كتب ثمانية؛ وذكره مرة ثالثة في الفصل فقال: " وبينا في كتاب التقريب لحدود الكلام أن الآلة المسماة الزرافة؟ الخ " (3) وقال مرة رابعة " على حسب المقدمات التي بيناها في كتابنا الموسوم بالتقريب في مائية البرهان " (4) فأشار في هذه التسمية إلى بعض جزء من الكتاب.
وقد ورد ذكر هذا الكتاب فيما ألفه ابن حزم الأندلسي عند كل من الحميدي في الجذوة وصاعد في طبقات الأمم. فقال الحميدي: " التقريب لحد المنطق والمدخل إليه والألفاظ العامية والأمثلة الفقهية، فانه سلك في بيانه وإزالة سوء الظن عنه وتكذيب
--------------------------------------------
ভূমিকা১ - গ্রন্থের নাম
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী এই গ্রন্থের নাম হলো "তর্কশাস্ত্রের সংজ্ঞার নিকটবর্তীকরণ বিষয়ক গ্রন্থ, অদ্বিতীয় প্রধান এরিস্টটল ও অন্যদের বক্তব্য, যা ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পেয়েছেন অদ্বিতীয় মহাজ্ঞানী ইমাম ফকিহ আবু মুহাম্মদ আলি ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম।" ইবনে হাজম তাঁর 'ধর্মাদর্শ ও মতবাদ সংক্রান্ত বিচার' (আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়ান নিহাল) গ্রন্থে একাধিকবার এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রমাণের স্বরূপ সংক্রান্ত অধ্যায়ে তিনি বলেছেন, "এটি এমন একটি অধ্যায় যা আমরা আমাদের 'শাস্ত্রীয় সংজ্ঞার নিকটবর্তীকরণ' (আত-তাকরিব ফি হুদুদিল কালাম) নামক গ্রন্থে সুসংহত করেছি" (১)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন, "এটি একটি বিতর্কিত বিষয় যা থেকে আমরা আমাদের সংকলিত তর্কশাস্ত্রের সীমারেখা বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে দীর্ঘকাল সতর্ক করেছি" (২)। এখানে তিনি 'গ্রন্থাবলী' (বহুবচন) শব্দটি এই কিতাবের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন কারণ এটি আটটি খণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত। 'আল-ফিসাল' গ্রন্থে তৃতীয়বার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন: "এবং আমরা 'শাস্ত্রীয় সংজ্ঞার নিকটবর্তীকরণ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি যে জিরাফ নামক যন্ত্রটি... ইত্যাদি" (৩)। চতুর্থবার তিনি বলেছেন, "সেই ভূমিকাগুলোর আলোকে যা আমরা আমাদের 'প্রমাণের স্বরূপের নিকটবর্তীকরণ' (আত-তাকরিব ফি মায়িয়াতিল বুরহান) নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছি" (৪)। এই নামকরণের মাধ্যমে তিনি গ্রন্থের একটি অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
ইবনে হাজম আন্দালুসির রচিত গ্রন্থাবলীর বর্ণনায় হুমাইদি তাঁর 'আল-জাদওয়া' গ্রন্থে এবং সায়েদ তাঁর 'তাবাকাতুল উমাম' গ্রন্থে এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন। হুমাইদি বলেন: "তর্কশাস্ত্রের সংজ্ঞার নিকটবর্তীকরণ এবং এর প্রবেশিকা, সাধারণ শব্দাবলী ও ফিকহি উদাহরণসমূহ; কেননা তিনি এটি বর্ণনায় এবং এটি সম্পর্কে কুধারণা দূরীকরণে ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ক্ষেত্রে একটি পথ অনুসরণ করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الممخرقين به طريقة لم يسلكها احد قبله فيما علمناه " (1) وهذه التسمية هي أدق، ما هنالك وهي بعينها مثبتة كاملة على الورقة (55) من كتاب التقريب. أما صاعد فقال: " فعني بعلم المنطق وألف فيه كتابا سماه التقريب لحدود المنطق بسط فيه القول على تبيين طرق المعارف واستعمل فيه أمثلة فقهية وجوامع شرعية وخالف ارسطاطاليس واضع هذا العلم في بعض أصوله مخالفة من لم يفهم غرضه ولا اتاض في كتابه، فكتابه من أجل هذا كثير الغلط بين السقط " (2) ويبدو ان ابن حيان مؤرخ الأندلس اطلع على قول صاعد هذا فردده دون ان يذكر اسم التقريب إذ قال: " كان أبو محمد حامل فنون من حديث وفقه وجدل ونسب وما يتعلق بأذيال الأدب مع المشاركة في كثير من انواع التعاليم القديمة من المنطق والفلسفة، وله في بعض تلك الفنون كتب كثيرة لم يخل فيها من الغلط والسقط، لجرأته في التسور على الفنون، لا سيما المنطق، فانهم زعموا انه زل هنالك، وضل في سلوك المسالك، وخالف ارسطاطاليس واضعه، مخالفة من لم يفهم غرضه، ولا ارتاض في كتبه " (3) .
وقد اتفق صاعد وابن حيان على القول بان ابن حزم اخطأ في فهم بعض الأصول من كلام ارسطاطاليس، ورأياهما رأي واحد لاعتماد الثاني منهما على الأول. وهذه مسألة سأعرض لها فيما يلي.
2 - متى ألف هذا الكتاب
إن إشارات ابن حزم إلى كتاب الفصل لا تدلنا على أن " التقريب " سابق للفصل في الزمن، فقد لحظنا في الفقرة السابقة انه أشار أيضا إلى التقريب في كتاب الفصل نفسه، وهذا قد يدل على أنه توفر الكتابين دون استيفاء لأحدهما قبل الآخر وأنه كان يراوح العمل فيما بينهما.
وهو في كتاب التقريب يحيل أيضا على كتابين آخرين وهما: كتاب السياسة وكتاب أخلاق النفس. ولا نعرف تاريخ تأليفه لهذين الكتابين أيضا ولكن ان التقريب سابق لهما لأنه إذا ذكرهما قال " على ما نبين في؟ " فعلق كلامه بالمستقبل، ودل على
--------------------------------------------
...ধাপ্পাবাজদের বিরুদ্ধে এমন একটি পদ্ধতি যা আমাদের জানামতে তাঁর পূর্বে কেউ অনুসরণ করেনি" (১)। আর এই নামকরণটিই সেখানে সবচেয়ে সঠিক এবং এটি হুবহু কিতাবুত তাকরীব-এর (৫৫) নম্বর পৃষ্ঠায় পূর্ণাঙ্গভাবে সাব্যস্ত আছে। পক্ষান্তরে সা'ইদ বলেছেন: "তিনি যুক্তিবিদ্যার প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন 'তাকরীব লি হুদুদিল মানতিক'। সেখানে তিনি জ্ঞানার্জনের পদ্ধতিসমূহ বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এতে ফিকহী উদাহরণ ও শরীয়তের মূলনীতিসমূহ ব্যবহার করেছেন। তিনি এই শাস্ত্রের প্রবর্তক এরিস্টটলের কিছু মূলনীতিতে এমনভাবে বিরোধিতা করেছেন, যা এমন ব্যক্তির বিরোধিতার মতো যে তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ নিয়ে যথেষ্ট চর্চা করেনি। এই কারণে তাঁর কিতাবটি প্রচুর ভুল এবং প্রকাশ্য বিচ্যুতিতে পূর্ণ" (২)। আর মনে হয় যে আন্দালুসের ইতিহাসবিদ ইবনে হাইয়ান সা'ইদের এই উক্তিটি লক্ষ্য করেছিলেন এবং 'তাকরীব' নাম উল্লেখ না করেই তা পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন: "আবু মুহাম্মদ হাদিস, ফিকহ, বিতর্কবিদ্যা, বংশলতিকা এবং সাহিত্যের অনুষঙ্গসহ প্রাচীন শিক্ষার অনেক ধরন যেমন যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনে পারদর্শী ছিলেন। এই সব শাস্ত্রের কোনো কোনোটিতে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে যা ভুল ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয়। কারণ তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে দুঃসাহস দেখাতেন, বিশেষ করে যুক্তিবিদ্যায়। তারা দাবি করেছেন যে, তিনি সেখানে স্খলিত হয়েছেন এবং সঠিক পথ অনুসরণে বিভ্রান্ত হয়েছেন। তিনি এই শাস্ত্রের প্রবর্তক এরিস্টটলের এমনভাবে বিরোধিতা করেছেন, যা এমন ব্যক্তির বিরোধিতার মতো যে তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ নিয়ে চর্চা করেনি" (৩)।
সা'ইদ এবং ইবনে হাইয়ান উভয়েই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইবনে হাজম এরিস্টটলের বক্তব্যের কিছু মূলনীতি বুঝতে ভুল করেছেন। তাঁদের উভয়ের রায় অভিন্ন, কারণ দ্বিতীয়জন প্রথমজনের ওপর নির্ভর করেছেন। এটি এমন একটি বিষয় যা আমি সামনে বিস্তারিত তুলে ধরব।
২ - এই গ্রন্থটি কখন রচিত হয়েছে
'কিতাবুল ফাসল'-এর প্রতি ইবনে হাজমের ইঙ্গিতগুলো আমাদের এটি নির্দেশ করে না যে 'তাকরীব' গ্রন্থটি সময়ের দিক থেকে 'ফাসল'-এর আগে। আমরা পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে লক্ষ্য করেছি যে, তিনি স্বয়ং 'কিতাবুল ফাসল'-এ 'তাকরীব'-এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটি নির্দেশ করতে পারে যে, তিনি একটি শেষ করার আগেই অন্যটি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং উভয় গ্রন্থের কাজের মধ্যে আসা-যাওয়া করছিলেন।
তিনি 'তাকরীব' গ্রন্থে আরও দুটি গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলো হলো: 'কিতাবুস সিয়াসাহ' এবং 'কিতাবুল আখলাকুন নাফস'। এই দুটি গ্রন্থ রচনার তারিখও আমাদের জানা নেই, তবে 'তাকরীব' এই দুটির আগে রচিত। কারণ যখনই তিনি সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন "যেমনটি আমরা বর্ণনা করব...", ফলে তিনি তাঁর বক্তব্যকে ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং এটি নির্দেশ করে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
انه لم يكن قد اخذ في تأليفها حينئذ وإنما حدد لنفسه منهجا هنالك.
ويقول ابن حزم في التقريب: " وما ألفنا كتابنا هذا وكثيرا مما ألفنا إلا ونحن مغربون مبعدون عن الموطن والأهل والولد مخافون مع ذلك في أنفسنا ظلما وعدوانا " (1) . وهذا القول على ما فيه من فائدة لا يحدد شيئا دقيقا وإنما هو ينبئنا بأن التقريب كغيره من سائر مؤلفات ابن حزم كتبت بعد مفارقة قرطبة وبدء التنقل في بلدان الأندلس.
وفي التقريب إشارات هامة تومئ إلى التوقيت الزمني، وهي:
1 - يروى ابن حزم حكاية عن مؤدبه احمد بن محمد بن عبد الوارث، ويترحم عليه (2) ولكنا للأسف لا نستطيع الاستفادة من هذه الحقيقة لأني لم اعثر على تاريخ لوفاة هذا الرجل.
2 - يتحدث ابن حزم في الكتاب عن حادث اعتقاله على يد المستكفي (3) لان ابن حزم كان يوالي المستظهر وقد تم هذا في سنة 414 أو أواخر 413 في اكثر تقدير.
3 - يذكر ان صديقه ابن شهيد ألف كتابا في علم البلاغة أثناء كتابته هو لكتاب التقريب (4) وقد توفي ابن شهيد سنة 426 وتعطل عن الأليف قبل ذلك بعام أو اكثر. وهذا يعين أن كتاب التقريب أو بعض فصول منه كتب قبل ذلك.
ونضيف إلى هذه الإشارات قول صاعد: " وكان ابنه الفقيه أبو محمد وزيرا لعبد الرحمن المستظهر؟ ثم نبذ هذه الطريقة وأقبل على قراءة العلوم وتقييد الآثار والسنن فعني بعلم المنطق؟ وأوغل بهد هذا في الاستكثار من علوم الشريعة " (5) فهو لم يبدأ دراساته حسب قول صاعد إلا بعد سنة 414، وكان المنطق من أول العلوم التي أقبل عليها.. " وبعد " ذلك أوغل في علوم الشريعة مستكثرا منها، وكل هذه الشواهد مجتمعة تجعل تاريخ للتقريب بعد عام 415 وقبل عام 425هـ.
3 - دواعي تأليفه
قضى ابن حزم جانبا من شبابه وهو يطلب العلم في قرطبة حتى سنة 401. وقد أثر في نفسه في ذلك الدور المبكر من حياته ما سمع بعض الأغرار يقولونه في المنطق والعلوم
--------------------------------------------
তিনি তখন এটি রচনায় মনোনিবেশ করেননি, বরং সেখানে নিজের জন্য একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করেছিলেন।
ইবনে হাজম ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে বলেন: "আমরা আমাদের এই কিতাবটি এবং আমাদের রচিত আরও অনেক কিছু তখনই লিখেছি যখন আমরা স্বদেশ, পরিবার ও সন্তানসন্ততি থেকে দূরে নির্বাসিত ছিলাম এবং সেই সাথে আমরা নিজের প্রাণের ওপর জুলুম ও শত্রুতার আশঙ্কা করছিলাম।" (১)। এই উক্তিটি তথ্যবহুল হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে না, বরং এটি আমাদের জানায় যে, ইবনে হাজমের অন্যান্য রচনার মতো ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থটিও কর্ডোভা ত্যাগের পর এবং আন্দালুসের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত শুরুর পরে লেখা হয়েছে।
‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে সময়কালের দিকে ইঙ্গিতকারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন রয়েছে, সেগুলো হলো:
১ - ইবনে হাজম তাঁর শিক্ষক আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়ারিস সম্পর্কে একটি গল্প বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করেছেন (২)। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা এই তথ্য থেকে উপকৃত হতে পারছি না, কারণ আমি এই ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ খুঁজে পাইনি।
২ - ইবনে হাজম বইটিতে আল-মুস্তাকফির হাতে নিজের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন (৩), কারণ ইবনে হাজম আল-মুস্তাজহিরের অনুসারী ছিলেন। আর এটি ৪১৪ হিজরি বা বড়জোর ৪১৩ হিজরির শেষের দিকে ঘটেছিল।
৩ - তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি ‘আত-তাকরীব’ লিখছিলেন, তখন তাঁর বন্ধু ইবনে শুহাইদ অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেন (৪)। ইবনে শুহাইদ ৪২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার এক বছর বা তারও আগে থেকে লেখালেখি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, ‘আত-তাকরীব’ কিতাবটি বা এর কিছু অধ্যায় তার আগেই লেখা হয়েছিল।
এই ইঙ্গিতগুলোর সাথে আমরা সাঈদের উক্তি যোগ করতে পারি: "তাঁর পুত্র ফকিহ আবু মুহাম্মদ (ইবনে হাজম) আব্দুর রহমান আল-মুস্তাজহিরের উজির ছিলেন। এরপর তিনি এই পথ ত্যাগ করেন এবং জ্ঞানচর্চা ও আসার (ঐতিহ্য) ও সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি যুক্তিবিদ্যার (মানতিক) প্রতি আগ্রহী হন এবং এরপর শরীয়াহর জ্ঞানে গভীরভাবে নিমগ্ন হন।" (৫) সাঈদের উক্তি অনুযায়ী, তিনি ৪১৪ হিজরির আগে তাঁর পড়াশোনা শুরু করেননি এবং যুক্তিবিদ্যা ছিল সেই প্রথমিক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি যেদিকে তিনি ঝুঁকেছিলেন। "এরপর" তিনি শরীয়াহর জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এই সমস্ত প্রমাণ একত্রিত করলে ‘আত-তাকরীব’ রচনার সময়কাল ৪১৫ হিজরির পর এবং ৪২৫ হিজরির আগের বলে প্রতীয়মান হয়।
৩ - এটি রচনার কারণসমূহ
ইবনে হাজম তাঁর যৌবনের একটি অংশ ৪০১ হিজরি পর্যন্ত কর্ডোভায় জ্ঞান অন্বেষণে অতিবাহিত করেন। তাঁর জীবনের সেই প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু মূর্খ লোক যুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞানের ব্যাপারে যা বলত, তা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الفلسفية عامة دون تحقيق، وأولئك هم اللذين عناهم بقوله: " ولقد رأيت طوائف من الخاسرين شاهدتهم أيام عنفوان طلبنا، وقبل تمكن قوانا في المعارف، وأول مداخلتنا صنوفا من ذوي الآراء المختلفة، كانوا يقطعون بظنونهم الفاسدة من غير يقين أنتجه بحث موثوق به على ان الفلسفة وحدود المنطق منافية للشريعة " (1) ولعل بيئة قرطبة والأندلس عامة - يومئذ بمعاداتها لعلوم الأوائل - هي التي حفزت حب الاستطلاع لديه فجعلته يدرس الفلسفة والمنطق، ومن ثم قوي لديه الشعور بأن العلوم الفلسفية لا تنافي الشريعة، بل ان المنطق منها خاصة يمكن أن يتخذ معيارا لتقويم الآراء الشريعية وتصحيحها، وكان اتجاهه إلى مجادلة أهل المذاهب والنحل الأخرى يفرض عليه أن يتدرع بقوة منطقية في المناظرة والجدل. وهاتان الغايتان كانتا من أول العوامل التي حدت به إلى التأليف في المنطق ليثبت عدم التنافي بينه وبين الشريعة وليعزز به موقفه العقلي إزاء الخصوم ويضع فيه القواعد الصحيحة للجدل والمناظرة ويبين فيه حيل السفسطة والتشغيب.
وظل ابن حزم على رأيه هذا يؤمن بفائدة المنطق والفلسفة وسائر علوم الأوائل؟ ماعدا التنجيم -. فهو في رسالة " مراتب العلوم " ينصح الدارس أن يبدأ بعد تعلم القراءة والكتابة وأصول النحو واللغة والشعر والفلك، بالنظر في حدود المنطق وعلم الأجناس والأنواع والأسماء المفردة والقضايا والمقدمات والقرائن والنتائج ليعرف ما البرهان وما الشغب كلها ويميزها من الأباطيل تمييزا لا يبقى معه ريب (2) . ويسأله أحدهم رأيه في أهل عصره وكيف انقسموا طائفتين: طائفة اتبعت علوم الأوائل وطائفة اتبعت علم ما جاءت به النبوة ويطلب إليه ان يبين له أيهما المصيب، فيقول في الجواب: اعلم؟ وفقنا الله وإياك لما يرضيه - أن علوم الأوائل هي الفلسفة وحدود المنطق التي تكلم فيها أفلاطون وتلميذه ارسطاطاليس والاسكندر ومن قفا قفوهم، وهذا علم حسن رفيع لأنه فيه معرفة العالم كله بكل ما فيه من أجناسه إلى أنواعه، إلى أشخاص جواهره وأعراضه، والوقوف على البرهان الذي لا يصح شيء إلا به وتمييزه مما يظن من جهل أنه برهان وليس برهانا، ومنفعة هذا العلم عظيمة في تمييز الحقائق مما سواها؟ (3)
--------------------------------------------
সাধারণভাবে দর্শন সম্পর্কে কোনো গভীর অনুসন্ধান ছাড়াই; আর তাদের উদ্দেশ্য করেই তিনি বলেছেন: "আমি ক্ষতিগ্রস্তদের এমন কিছু দলকে দেখেছি যাদের আমি আমাদের জ্ঞান অন্বেষণের প্রারম্ভিক দিনগুলোতে প্রত্যক্ষ করেছি, যখন জ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের শক্তি তখনও পরিপক্ক হয়নি এবং বিভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে আমাদের মেলামেশা শুরু হয়েছে মাত্র। তারা তাদের ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণালব্ধ সুনিশ্চিত জ্ঞান ছাড়াই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতো যে, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার সীমারেখা শরীয়তের পরিপন্থী।" (১) সম্ভবত তৎকালীন কর্ডোভা তথা সমগ্র আন্দালুসের পরিবেশ—যা প্রাচীনদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি বৈরী ছিল—তার কৌতূহলী মনকে উদ্দীপিত করেছিল এবং তাকে দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এর ফলে তার মধ্যে এই উপলব্ধি দৃঢ় হয় যে, দার্শনিক বিজ্ঞানসমূহ শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বরং এর মধ্যে বিশেষ করে যুক্তিবিদ্যাকে শরীয়তের মতামতসমূহের মূল্যায়ন ও সংশোধনের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন মাযহাব ও মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা তাকে মুনাজারা ও বিতর্কের ক্ষেত্রে যৌক্তিক শক্তির বর্ম পরিধান করতে বাধ্য করেছিল। আর এই দুটি লক্ষ্যই ছিল যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে তার গ্রন্থ রচনার প্রাথমিক কারণগুলোর অন্যতম; যাতে তিনি এর সাথে শরীয়তের কোনো বিরোধ নেই তা প্রমাণ করতে পারেন এবং বিরোধীদের মোকাবিলায় নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে পারেন। একইসাথে তিনি এতে বিতর্ক ও মুনাজারার সঠিক নিয়মাবলী স্থাপন এবং কুযুক্তি ও গোলযোগ সৃষ্টির কৌশলসমূহ ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন।
ইবনে হাজম তার এই মতের ওপর অবিচল ছিলেন এবং জ্যোতিষশাস্ত্র ব্যতীত যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও প্রাচীনদের অন্যান্য সকল বিজ্ঞানের উপকারিতায় বিশ্বাস করতেন। তিনি তাঁর 'মারাতীবুল উলুম' নামক রিসালায় শিক্ষার্থীকে উপদেশ দিয়েছেন যে, সে যেন লেখা-পড়া শেখার পর এবং নাহু, ভাষা, কাব্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করার পর যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা, বর্গ (জিলস), প্রকার (নও), একক বিশেষ্য, বচন, প্রস্তাবনা, প্রমাণ ও সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। যাতে সে প্রমাণ কী এবং বিভ্রান্তি কী তা জানতে পারে এবং সেগুলোকে বাতিল বিষয় থেকে এমনভাবে পৃথক করতে পারে যাতে আর কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট না থাকে। (২) কেউ একজন তাকে তাঁর সমসাময়িকদের সম্পর্কে এবং তারা কীভাবে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সে বিষয়ে তার মতামত জিজ্ঞাসা করেন: একদল প্রাচীনদের জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুসরণ করত এবং অন্য দলটি নবুওয়াতের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান অনুসরণ করত। প্রশ্নকারী তাঁর কাছে জানতে চান যে, তাদের মধ্যে কোনটি সঠিক পথে আছে। উত্তরে তিনি বলেন: "জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাঁর সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দিন—প্রাচীনদের জ্ঞান হলো দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা, যে বিষয়ে প্লেটো, তাঁর ছাত্র অ্যারিস্টটল, আলেকজান্ডার এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন তারা আলোচনা করেছেন। এটি একটি উত্তম ও উচ্চস্তরের জ্ঞান; কারণ এতে সমগ্র জগত এবং এর অন্তর্ভুক্ত সবকিছুর বর্গ ও প্রকার থেকে শুরু করে এর সারবস্তু ও গুণাবলী সম্পর্কে পরিচয় লাভ করা যায়। এছাড়া প্রমাণের ওপর ব্যুৎপত্তি লাভ করা যায় যা ছাড়া কোনো কিছুই সঠিক হতে পারে না এবং অজ্ঞতাবশত যেটিকে প্রমাণ মনে করা হয় অথচ তা প্রমাণ নয়, সেটি থেকে একে পৃথক করা সম্ভব হয়। সত্যকে অসত্য থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞানের উপকারিতা অপরিসীম।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فهذا الإيمان بفائدة علوم الفلسفة والنطق هو الذي جعل ابن حزم بعد درسه لها، يحاول أن يوصل ما فهمه منها مبسطا إلى الآخرين. وقد كسب له هذا الاتجاه عداوة الفريق الذي كان يكره الفلسفة والمنطق، وهو يومئذ الفريق الغالب في الأندلس. واتخذ أعداؤه هذه الناحية فيه محطا لهجماتهم، ومن أمثلة ذلك أن أحد الناقمين كتب إليه كتابا غفلا من الإمضاء، اتهمه فيه بأن الفساد دخل عليه من تعويله على كتب الأوائل والدهرية وأصحاب المنطق وكتاب اقليدس والمجسطي وغيرهم من الملحدين. فكتب ابن حزم يقول في الجواب: أخبرنا عن هذه الكتب من المنطق واقليدس والمجسطي: أطالعها أيها أنكرت ذلك على نفسك؟ وأخبرنا عن الإلحاد الذي وجدت فيها ان كنت وقفت على مواضعه منها، وإن كنت لم تطالعها فكيف تنكر مالا تعرف (1) وأصبح ابن حزم يعتقد أن فائدة المنطق أمر لا يرتاب فيه منصف لانها فائدة غير واقفة عند حدود الاطلاع والرياضة الذهنية بل تتدخل في سائر العلوم الديانة والمقالات والأهواء وعلم النحو واللغة والخبر والطب والهندسة وما كان بهذا الشكل فانه حقيق ان يطلب وان تكتب فيه الكتب، وتقرب فيه الحقائق الصعبة.
وغدا هذا الإيمان بقيمة المنطق وفائدته؟ ابتداء - حافزا قويا للتأليف فيه. الا ان ابن حزم واجه في دراسته لهذا العلم صعوبتين فلم لا يحاول تذليلهما للقارئ الذي يود الانتفاع بدراسة المنطق: الأولى تعقيد الترجمة وإيراد هذا العلم بألفاظ غير عامية، ويعني ابن حزم بالعامية الألفاظ الفاشية المألوفة التي يفهمها الناس لكثرة تداولها، فليكتب، اذن كتابا قريبا إلى الإفهام " فان الحظ لمن آثر العلم وعرف فضله ان يسهله جهده ويقربه بقدر طاقته ويخففه ما أمكن " (2) . وهو يحسن الظن بالمترجمين ويرى أن توعيرهم للألفاظ هو شح بالعلم وضن به يوم كان الناس جادين في طلبه يبذلون فيه الغالي والنفيس. الصعوبة الثانية: ان المناطقة قد درجوا على استعمال الرموز والحروف في ضرب الأمثلة. ومثل هذا شيء يعسر تناوله على عامة الناس فليحول ابن حزم الأمثلة من الرموز إلى أخرى منتزعة من المألوف في الأحوال اليومية والشريعية. وهو يحس بخطر ما هو مقدم عليه. ويعتقد انه أول من يتجشم هذه المحاولة.
--------------------------------------------
দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার উপকারিতার প্রতি এই বিশ্বাসই ইবন হাযমকে তা অধ্যয়নের পর যা বুঝেছিলেন তা সহজভাবে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। এই প্রবণতাটি তাঁর জন্য সেই গোষ্ঠীর শত্রুতা বয়ে এনেছিল যারা দর্শন ও যুক্তিবিদ্যাকে অপছন্দ করত, আর তৎকালীন সময়ে আন্দালুসে তারাই ছিল প্রভাবশালী গোষ্ঠী। তাঁর শত্রুরা এই দিকটিকে তাঁর ওপর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। এর একটি উদাহরণ হলো, জনৈক বিদ্বেষী ব্যক্তি তাঁর কাছে একটি বেনামি পত্র লেখে, যাতে সে অভিযোগ করে যে প্রাচীন দার্শনিক, দাহরিয়্যা (বস্তুবাদী), যুক্তিবিদ, ইউক্লিড ও মাজিস্টির লেখক এবং অন্যান্য নাস্তিকদের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করার কারণেই তাঁর মাঝে বিভ্রান্তি প্রবেশ করেছে। জবাবে ইবন হাযম লিখলেন: আমাদের এই যুক্তিবিদ্যা, ইউক্লিড ও মাজিস্টির কিতাবগুলো সম্পর্কে বলুন; আপনি কি নিজে সেগুলো পাঠ করেছেন নাকি পাঠ না করেই অস্বীকার করছেন? আর তাতে যে নাস্তিকতা খুঁজে পেয়েছেন তা সম্পর্কে আমাদের অবহিত করুন, যদি আপনি সেসব কিতাবের নির্দিষ্ট স্থানগুলো সম্পর্কে জেনে থাকেন। আর যদি আপনি সেগুলো পাঠই না করে থাকেন, তবে যা জানেন না তা কীভাবে অস্বীকার করবেন? (১) ইবন হাযম বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে, যুক্তিবিদ্যার উপকারিতা এমন একটি বিষয় যা নিয়ে কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করবেন না। কারণ এর উপকারিতা কেবল জ্ঞান অর্জন এবং মানসিক অনুশীলনের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দ্বীনি বিজ্ঞান, বিভিন্ন মতবাদ ও প্রবৃত্তি, ব্যাকরণ, ভাষা, ইতিহাস, চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যামিতি এবং এই জাতীয় সকল শাস্ত্রের মধ্যেই প্রবেশ করে। সুতরাং এটি অন্বেষণ করা, এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করা এবং এর কঠিন সত্যগুলোকে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা আবশ্যক।
যুক্তিবিদ্যার মূল্য ও উপযোগিতার প্রতি এই বিশ্বাসই প্রথমত এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। তবে ইবন হাযম এই শাস্ত্র অধ্যয়নের ক্ষেত্রে দুটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি কেন সেই পাঠকের জন্য এই সমস্যাগুলো দূর করার চেষ্টা করবেন না যে যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়ন করে উপকৃত হতে চায়: প্রথমটি হলো অনুবাদের জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের অপরিচিত পরিভাষা ব্যবহার করে এই শাস্ত্রটি উপস্থাপন করা। ইবন হাযম 'সাধারণ ভাষা' বলতে সেই বহুল প্রচলিত পরিচিত শব্দাবলিকে বুঝিয়েছেন যা মানুষ অধিক ব্যবহারের কারণে সহজে বুঝতে পারে। অতএব, তিনি এমন একটি কিতাব রচনা করলেন যা সহজে বোধগম্য হয়। কারণ "যে ব্যক্তি জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেয় এবং এর মর্যাদা অনুধাবন করে, তার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হলো সাধ্যমতো একে সহজতর ও নিকটতর করা এবং যতটা সম্ভব তা লঘু করা।" (২) তিনি অনুবাদকদের প্রতি সুধারণা পোষণ করেন এবং মনে করেন যে, তাদের ব্যবহৃত শব্দের কাঠিন্য আসলে জ্ঞানের প্রতি কার্পণ্য করার নামান্তর; সেই সময়ে যখন মানুষ জ্ঞান অর্জনে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিল এবং এর পেছনে মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করত। দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো: যুক্তিবিদরা উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতীক ও বর্ণ ব্যবহারের রীতি অনুসরণ করেছেন। এ ধরনের বিষয় সাধারণ মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন। তাই ইবন হাযম এই প্রতীকী উদাহরণগুলোকে দৈনন্দিন জীবন ও শরয়ি বিষয়াবলি থেকে সংগৃহীত পরিচিত উদাহরণে রূপান্তরিত করেন। তিনি যে উদ্যোগটি গ্রহণ করতে চলেছেন তার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টায় ব্রতী হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولم يكتب ابن حزم هذا الكتاب الا بعد ان حفزه كثير من الدواعي في الحياة اليومية، وإلا بعد ان وجد الحاجة ماسة إلى المنطق في النواحي العملية من علاقات الناس وتفكيرهم، فهو قد لقي من ينعته بالسؤال عن الفرق بين المحمول والمتمكن، ولقي كثيرا من المشتغبين الآخذين بالسفسطة في الجدل، وواجه من يسومه ان يريه العرض منخولا عن الجوهر، وقرأ مؤلفات معقدة لا طائل تحت تعقيدها، ورأى من يدعي الحكمة وهو منها براء فأراد لكتابه أن يكون تسديدا لعوج هذه الأمور وإصلاحاً لفسادها، وردا على المخالفين والمشغبين وإقامة للقواعد الصحيحة في المناظرة، وهي يومئذ شغل شاغل لعلماء الأندلس.
- 4مصادر الكتاب
منذ أن بدأ دور الترجمة في تاريخ الفكر العربي بدأ النقلة ومن بعدهم من الشراح يهتمون بكتب ارسطاطاليس المنطقية. وينسب إلى ابن المقفع انه نقل ثلاثة من كتب المنطق الارسطاطاليسي وهي قاطيغورياس وبارى ارمينياس وأنولوطيقا، وأنه ترجم المدخل المعروف بايساغوجي؟ وعبر عما ترجم من ذلك بعبارة سهلة قريبة المأخذ (1) . ويذكر طيماثاوس الجاثليق الذي اتصل بالرشيد والمأمون ان الخليفة " امرنا بترجمة كتاب طوبيقا لأرسطو الفيلسوف من السريانية إلى العربية. وقد قام بذلك بعون الله الشيخ أبو نوح " (2) . ويرى طيماثاوس ان الترجمات التي تمت قبل ذلك كانت غثة لا من ناحية الألفاظ فحسب بل من ناحية المعاني. وقد ترك لنا صاحب الفهرست صورة من جهود النقلة والشراح المختصرين للكتب المنطقية الثمانية (3) . وهو بيان يدل على ما بذله كل من الكندي واحمد بن الطيب وثابت بن قرة ومتى بن يونس القنائي والفارابي ويحيى بن عدي وغيرهم في هذا الميدان:
1 - فأما الكندي فان له رسالة في المدخل مختصرة موجزة ورسالة في المقولات العشر، ورسالة في الاحتراس من خدع السوفسطائيين، ورسالة في إيجاز واختصار البرهان المنطقي.
--------------------------------------------
ইবনে হাজম এই গ্রন্থটি কেবল তখনই রচনা করেছেন যখন প্রাত্যহিক জীবনের নানাবিধ চালিকাশক্তি তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং যখন তিনি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও চিন্তার ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যুক্তিশাস্ত্রের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তিনি এমন লোকের সম্মুখীন হয়েছেন যারা বিধেয় এবং আশ্রিত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করে তাঁকে বিব্রত করত; তিনি বিতর্কের ক্ষেত্রে কুতর্ককারী ও সফিস্টদের অনেক দেখেছেন; তিনি এমন ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন যে তাঁকে সারসত্তা থেকে বিযুক্ত অবস্থাকে বিশদভাবে দেখাতে দাবি করে; তিনি এমন সব জটিল রচনা পাঠ করেছেন যেগুলোর জটিলতার আড়ালে কোনো ফলপ্রসূতা নেই; এবং তিনি এমন অনেককে দেখেছেন যারা প্রজ্ঞার দাবিদার অথচ তারা তা থেকে সম্পূর্ণ রিক্ত। তাই তিনি চেয়েছিলেন তাঁর এই গ্রন্থটি যেন এসব বিষয়ের বক্রতাকে সংশোধন করে, এগুলোর বিশৃঙ্খলা সংস্কার করে, বিরোধীদের ও কুতর্ককারীদের জবাব দেয় এবং বিতর্কের সঠিক নিয়মাবলী প্রতিষ্ঠিত করে—যা তৎকালীন আন্দালুসের আলেমদের প্রধান জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যস্ততা ছিল।
- ৪ গ্রন্থের উৎসসমূহ
আরবি চিন্তাধারার ইতিহাসে যখন থেকে অনুবাদের যুগ শুরু হয়েছে, তখন থেকেই অনুবাদক এবং তাঁদের পরবর্তী ব্যাখ্যাদাতাগণ এরিস্টটলের যুক্তিশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে শুরু করেন। ইবনে আল-মুকাফফার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যে, তিনি এরিস্টটলের তিনটি যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন, সেগুলো হলো: কাতীগুরিয়াস (মাকুলাত), বারী আরমিনিয়াস (ইবারাত) এবং আনুলূতীকা (কিয়াস); এবং তিনি 'ঈসাগোজী' নামক পরিচিত মুখবন্ধটিও অনুবাদ করেছিলেন। তিনি যা অনুবাদ করেছেন তা অত্যন্ত সহজ ও বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করেছেন (১)। জাসালিক তিমাসাউস, যিনি রশীদ ও মামুনের সাথে যুক্ত ছিলেন, উল্লেখ করেছেন যে খলিফা "আমাদেরকে দার্শনিক এরিস্টটলের 'তুবীকা' (জাদাল) বইটি সিরিয়াক ভাষা থেকে আরবিতে অনুবাদ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহর সাহায্যে শায়খ আবু নূহ এটি সম্পন্ন করেছিলেন" (২)। তিমাসাউস মনে করেন যে এর আগে যেসব অনুবাদ সম্পন্ন হয়েছিল সেগুলো কেবল শব্দের দিক থেকেই নয়, বরং অর্থের দিক থেকেও ছিল নিম্নমানের। 'আল-ফিহরিস্ট' প্রণেতা আটটি যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থের অনুবাদক ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাকারীদের প্রচেষ্টার একটি চিত্র আমাদের জন্য রেখে গেছেন (৩)। এটি এমন এক বর্ণনা যা আল-কিন্দি, আহমদ বিন আল-তাইয়িব, সাবিত বিন কুররা, মাত্তা বিন ইউনুস আল-কুন্নায়ী, আল-ফারাবি, ইয়াহইয়া বিন আদি এবং এই অঙ্গনের অন্যান্যদের পরিশ্রমের নিদর্শন বহন করে:
১ - আল-কিন্দি সম্পর্কে বলা যায় যে, তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ মুখবন্ধ রিসালাহ রয়েছে, দশটি ক্যাটাগরি (মাকুলাত) বিষয়ক একটি রিসালাহ, সফিস্টদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা বিষয়ক একটি রিসালাহ এবং যুক্তিবিদ্যার প্রমাণের (বুরহান) সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্তকরণের ওপর একটি রিসালাহ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
2 - وأما تلميذه احمد بن الطيب فقد اختصر كلا من فاطيورياس وباري أرمنياس وانالوطيقا الأول والثاني، وايساغوجي. وله كتاب في الصناعة الديالقطية أي الجدلية على مذهب ارسطاطاليس من كتاب سوفسطيقا لارسطاطاليس.
3 - ولثابت كتاب باريمنياس، وجوامع كتاب انالوطيقا الاولى، واختصار المنطق ونوادر محفوظة من طوبيقا وكتاب في اغاليط السوفسطائيين.
4 - وانتهت رياسة المنطقيين إلى متى في عصره وكان اكثر جهوده موجها إلى النقل، كما انه فسر الكتب الأربعة في المنطق بأسرها، وعليها يعول الناس في القراءة، وله شرح إيساغوجي.
5 - وأبعدهم أثراً في الدراسات المنطقية هو الفارابي، وهو لم يكن مترجما ولكنه وضع الكتب المنطقية في شكل معتمد، وفسرها بعبارات واضحة نالت إعجاب من جاءوا بعده وأصبحت كتبه المرجع المفضل في هذا الباب.
6 - وتتلمذ عليه وعلى متى منطقي آخر أصبحت له الرياسة بعدهما في المنطق وهو يحيى بن عدي. ومن يحيى استمد أبو سليمان المنطقي أستاذ التوحيدي وشيخ تلك العصبة من التلامذة الذين كتب مقالة في اغراض كتب ارسطاطاليس ومقالة في معاني إيساغوجي وكتاب اللبس في الكتب الأربعة في المنطق.
تلك هي الحال في المشرق. أما في الأندلس فان الإقبال على الفلسفة والمنطق قبل عهد الحكم المستنصر كان ضعيفا، فكان اشهر من عني بالدراسات الفلسفية عامة قبل الفتنة البربرية (399) هو أبو القاسم مسلمة بن احمد المرحيطي وعليه تتلمذ بعض المشهورين من حكماء الأندلس، ولكنه هو واكثر تلامذته اتجهوا اتجاها رياضيا مع بعض اهتمام بالأمور المنطقية وقد شاركه هذا الاهتمام الطبقة الأولى من دارسي المنطق في الأندلس وهم: ابن عبدون الجبلي وعمر بن يونس بن احمد الحراني واحمد بن حفصون وأبو عبد الله محمد ابن إبراهيم القاضي وأبو عبد الله محمد بن مسعود البجاني ومحمد بن ميمون المعروف بمركوس وسعيد ين فتحون السرقسطي، وعلى هؤلاء درس ابن الكتاني، شيخ ابن حزم (1) . ونضيف إلى هؤلاء من الأندلسيين المهتمين بالمنطق ملحان بن عبيد الله بن سالم
--------------------------------------------
২ - আর তার ছাত্র আহমাদ ইবনে আল-তাইয়িব কাতাগুরিয়াস, বারি আরমানিয়াস এবং প্রথম ও দ্বিতীয় আনালুতিকা ও আইসাগুজির সংক্ষিপ্তসার রচনা করেছেন। অ্যারিস্টটলের সোফিস্টিকা গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে অ্যারিস্টটলের পদ্ধতি অনুযায়ী দ্বান্দ্বিক বা বিতর্ক বিদ্যার ওপর তার একটি গ্রন্থ রয়েছে।
৩ - সাবিতের রয়েছে বারি আরমানিয়াস বিষয়ক গ্রন্থ, আনালুতিকা প্রথম খণ্ডের সারসংক্ষেপ, যুক্তিশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার, তুবিকা থেকে সংরক্ষিত কিছু বিরল বিষয় এবং সোফিস্টদের বিভ্রান্তি বিষয়ক একটি গ্রন্থ।
৪ - তার যুগে যুক্তিবিদদের নেতৃত্ব মাত্তার হাতে গিয়ে পৌঁছায়। তার অধিকাংশ প্রচেষ্টা অনুবাদের দিকে নিবদ্ধ ছিল। তিনি যুক্তিশাস্ত্রের চারটি গ্রন্থ সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং মানুষ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এগুলোর ওপরই নির্ভর করে। আইসাগুজির ওপরও তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।
৫ - যুক্তিবিদ্যার গবেষণায় সবচেয়ে গভীর প্রভাব বিস্তারকারী হলেন আল-ফারাবি। তিনি অনুবাদক ছিলেন না, তবে তিনি যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থগুলোকে একটি নির্ভরযোগ্য রূপ দান করেন এবং সুস্পষ্ট ভাষায় সেগুলোর ব্যাখ্যা করেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের প্রশংসা অর্জন করে এবং তার গ্রন্থগুলো এই বিষয়ে প্রধান রেফারেন্সে পরিণত হয়।
৬ - তার এবং মাত্তার কাছে অন্য এক যুক্তিবিদ শিক্ষালাভ করেন, যিনি তাদের পরে যুক্তিবিদ্যার নেতৃত্ব লাভ করেন; তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে আদি। ইয়াহইয়া থেকেই আবু সুলায়মান আল-মানতিকি জ্ঞান আহরণ করেন, যিনি আল-তাওহিদির শিক্ষক এবং সেই ছাত্রগোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন যারা অ্যারিস্টটলের গ্রন্থসমূহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ, আইসাগুজির অর্থ সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ এবং যুক্তিশাস্ত্রের চারটি গ্রন্থের অস্পষ্টতা নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
পূর্বাঞ্চলের অবস্থা ছিল এমনই। তবে আন্দালুসে আল-হাকাম আল-মুস্তানসিরের যুগের পূর্বে দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার প্রতি আগ্রহ ছিল ক্ষীণ। বারবার ফিতনার (৩৯৯ হিজরি) পূর্বে দর্শন চর্চায় সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন আবুল কাসিম মাসলামা ইবনে আহমাদ আল-মারহিতি। তার কাছে আন্দালুসের প্রখ্যাত কিছু হেকিম শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি এবং তার অধিকাংশ ছাত্র গণিত শাস্ত্রের দিকে ঝুঁকেছিলেন, যদিও যুক্তিবিদ্যার প্রতি তাদের কিছুটা আগ্রহ ছিল। আন্দালুসে যুক্তিবিদ্যার প্রাথমিক স্তরের গবেষকগণ তার এই আগ্রহের অংশীদার ছিলেন, তারা হলেন: ইবনে আবদুন আল-জাবালি, উমর ইবনে ইউনুস ইবনে আহমাদ আল-হাররানি, আহমাদ ইবনে হাফসুন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-কাদি, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ আল-বাজানি, মুহাম্মদ ইবনে মাইমুন (যিনি মারকুস নামে পরিচিত) এবং সাঈদ ইবনে ফাতহুন আল-সারাকুস্তি। এদের কাছেই ইবনে হাজমের শিক্ষক ইবনে আল-কাত্তানি শিক্ষালাভ করেন (১)। আমরা এদের সাথে যুক্তিবিদ্যায় আগ্রহী আন্দালুসীয়দের মধ্যে মিলহান ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে সালিমের নাম যুক্ত করতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكان له نظر في حد المنطق ومطالعة لكتب الفلسفة، والرباحي وقد نظر في المنطقيات فاحكمها (1) واثنين من اليهود وهما منجم بن الفوال من سكان سرقسطة، وقد ألف كتابا في المنطق على طريقة السؤال والجواب، ومروان بن جناح، ولم يذكر له في المنطق تأليف معين (2) .
وعلى هذا يكون ابن حزم من رجال الطبقة الثالثة الذين توفروا على الدراسات المنطقية في الأندلس، بل لعله أن يكون أبرزهم في عصره. ولا استبعد ان يكون شيخه ابن الكتاني ذا اثر بعيد في توجهه إلى هذه الدراسات فانه يتحدث عنه في كتبه بإعجاب وتقدير (3) .
لكن إلى أي حد كانت الترجمات والشروح والمختصرات المشرقية معروفة في الأندلس؟ لا القاضي صاعد يحدثنا بشيء من ذلك، ولا ابن حزم في كتاب التقريب يشير إلى شيء واضح دقيق، وكل ما نستطيع ان نقوله في هذا الصدد لا يعدو الفرض والتقدير. ولنا ان نفترض ان المشارقة الراحلين إلى الأندلس مثل الحراني، والأندلسيين الراحلين إلى المشرق مثل ابن عبدون الجبلي قد نقلوا معهم فيما نقلوه من كتب شيئا من الترجمات في المنطق. ولا يبعد أن يكون ابن حزم قد أفاد شيئا منها وعول عليها كما عول على بعض مؤلفات الأندلسيين أنفسهم. وانه ليقول في بعض تعليقاته في التقريب: " قال الشيخ: هذه عبارات المترجمين وفيها تخليط لأنهم قطعوا على ان الرسم ليس مأخوذا من الأجناس والفصول وإنما هو مأخوذ من الاعراض والخواص " (4) . وقد استوقفتني عبارته هذه لأنها تتحدث فحسب عن " المترجمين "؟ بصيغة الدمع - وإنما لأنه صدرها بقوله: قال الشيخ، فمثل هذا التصدير ليس مما يجري في كتب ابن حزم. ثم هداني البحث إلى عبارة في " كتاب الرد على المنطقيين " لابن تيمية جاء فيها: " ولتعظيمه؟ يعني ابن حزم - المنطق رواه بإسناده إلى متى الترجمان الذي ترجمه إلى العربية " (5) . وقد حلت هذه العبارة بعض المشكلات وخلقت أخرى، اطلعتنا على المصدر الذي استغله
--------------------------------------------
তার তর্কশাস্ত্রের (মানতিক) সংজ্ঞায় ব্যুৎপত্তি এবং দর্শন শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি পাঠের অভিজ্ঞতা ছিল। আল-রাবাহিরও তর্কশাস্ত্রে গভীর জ্ঞান ছিল এবং তিনি এতে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন (১)। এ ছাড়া আরও দুইজন ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন—সারাকোস্তার বাসিন্দা মুনাজ্জিম বিন আল-ফাওয়াল, যিনি প্রশ্ন ও উত্তরের পদ্ধতিতে তর্কশাস্ত্রের ওপর একটি বই লিখেছিলেন; এবং মারওয়ান বিন জানাহ, তবে তর্কশাস্ত্রের ওপর তার কোনো নির্দিষ্ট রচনার কথা উল্লেখ করা হয়নি (২)।
এর ভিত্তিতে ইবনে হাজম আন্দালুসের সেই তৃতীয় প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত হন যারা তর্কশাস্ত্র গবেষণায় মনোনিবেশ করেছিলেন, এমনকি সম্ভবত তিনি তার সময়ের সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। আমি এ সম্ভাবনা নাকচ করি না যে, তার উস্তাদ ইবনে আল-কাত্তানি এই গবেষণার দিকে তার ঝোঁক তৈরির ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখেছিলেন, কারণ ইবনে হাজম তার গ্রন্থগুলোতে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও প্রশংসার সাথে তার কথা উল্লেখ করেছেন (৩)।
কিন্তু প্রাচ্য দেশীয় অনুবাদ, ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সংক্ষিপ্ত সারগুলো আন্দালুসে কতটুকু পরিচিত ছিল? এ সম্পর্কে কাজী সাঈদ আমাদের কিছুই জানাননি এবং ইবনে হাজমও তার ‘কিতাবুত তাকরীব’-এ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত প্রদান করেননি। এই প্রসঙ্গে আমরা যা কিছু বলতে পারি তা নিছক অনুমান ও ধারণার বাইরে নয়। আমরা এটুকু ধারণা করতে পারি যে, আল-হাররানির মতো যে সকল প্রাচ্যবাসী আন্দালুসে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং ইবনে আবদুন আল-জাবালির মতো যে সকল আন্দালুসীয় প্রাচ্যের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন, তারা তাদের সাথে সংগৃহীত বইপত্রের মাঝে তর্কশাস্ত্রের কিছু অনুবাদও বহন করে এনেছিলেন। এটি অসম্ভব নয় যে, ইবনে হাজম সেসব থেকে কিছু সুফল লাভ করেছিলেন এবং সেগুলোর ওপর নির্ভর করেছিলেন, যেমনটি তিনি কিছু আন্দালুসীয় লেখকের রচনার ওপর নির্ভর করেছিলেন। তিনি ‘তাকরীব’-এর কিছু টীকায় বলেন: "শায়খ বলেছেন: এগুলো অনুবাদকদের অভিব্যক্তি এবং এর মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে; কেননা তারা মনে করেছেন যে, 'রাস্ম' (বর্ণনামূলক সংজ্ঞা) 'জিনস' (বর্গ) ও 'ফাসল' (লক্ষণ) থেকে গৃহীত নয়, বরং তা 'আরাজ' (আকস্মিক গুণ) ও 'খাস' (বিশেষ বৈশিষ্ট্য) থেকে গৃহীত" (৪)। এই বাক্যটি আমাকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলেছে কারণ এটি "অনুবাদকদের" কথা বহুবচনে উল্লেখ করছে। কেবল এই কারণেই নয়, বরং তিনি বাক্যটি শুরু করেছেন "শায়খ বলেছেন" দিয়ে—কারণ ইবনে হাজমের বইগুলোতে সাধারণত এ ধরনের বাক্যশৈলী দেখা যায় না। পরবর্তীতে গবেষণায় ইবনে তাইমিয়ার ‘কিতাবুর রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন’-এ একটি উক্তি আমার দৃষ্টিগোচর হয় যেখানে বলা হয়েছে: "এবং তর্কশাস্ত্রের প্রতি তার (অর্থাৎ ইবনে হাজমের) অগাধ শ্রদ্ধার কারণে তিনি মাত্তা আল-তারজুমান—যিনি এটি আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন—পর্যন্ত তার সনদ বর্ণনা করেছেন" (৫)। এই উক্তিটি যেমন কিছু সমস্যার সমাধান করেছে, তেমনি নতুন কিছু প্রশ্নেরও সৃষ্টি করেছে; এটি আমাদের সেই উৎস সম্পর্কে অবহিত করেছে যা তিনি ব্যবহার করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ابن حزم في كتابه هذا، وجعلتني اعتقد أن كلمة " الشيخ " ربما تشير إلى متى المنطقي نفسه. غير ان ابن حزم لم يذكر شيئا عن متى هذا في هذه النسخة، أترى النسخة التي بين أيدينا مفتقرة إلى ذلك السند؟؛ ويحق لنا في هذا الموقف ان نتساءل: هل اطلع ابن تيمية على كتاب التقريب وان كان قد فعل فلم يناقش ابن حزم كما ناقش غيره من أنصار المنطق؟ اكبر الظنان انه اطلع عليه ولكنه لم يكن بين يديه حين ألف كتابه، أو انه لم يكن يرى في كتاب مغربي خطرا على الفكر المشرقي، فاكتفى بمهاجمة كتب المشارقة والرد عليها.
ثم: أكانت هناك ترجمات أندلسية خاصة غير تلك التي افترضنا ورودها من المشرق؟ ليس هناك جواب حاسم على هذا التساؤل وكل ما نستطيع أن نقدره هنا ان ابن حزم ربما عرف بعض الترجمات اللاتينية فانه كان يعرف هذه اللغة، وقد تعرض لذكرها في مواطن من كتاب التقريب فقال: " ومن أحكم اللغة اللطينية عرف الفرق بين المعنيين اللذين قصدنا في الاستفهام " (1) وقال مرة أخرى: " وهذا يستبين في اللغة اللطسنية عندنا استبانة ظاهرة " (2) وقال في موضع ثالث: " ولهذا المعنى في اللطينية لفظة لائحة البيان " (3) وليس بغريب أن يعرف ابن حزم اللاتينية فقد كانت حينئذ شائعة في الأندلس، أما اليونانية فلم يكن هنالك من يحسنها ولذلك نجد في التقريب ما يوحي بأنه لا يعرفها (4) غير أن مما يلفت النظر مناقشة لبعض الآراء على انها مما لم يقل به ارسطاطاليس، فهل استمد هذا من متى المنطقي أو كان يعرف أصولا دقيقة وهو ينقل عمن يسميهم " الأوائل "؟
وهناك مصدرا آخر مشرقي رشك في ان ابن حزم اطلع عليه وهو كتاب؟ أو كتب - من تأليف الناشئ الأكبر أبي العباس المعروف بابن شريشر (- 293) . وأبو العباس هذا الشاعر معتزلي ألف في الرد على المنطقيين وهو من أوائل المفكرين الذين حاولوا الطعن في المنطق أرسطو. وقد استشهد به أبو سعيد السيرافي في مناظرته مع متى المنطقي؟ وهي المناظرة التي حفظها أبو حيان في كتاب الإمتاع والمؤانسة - ويبدو مما أورده ابن حزم أن بعض آراء الناشئ كانت نوعا من السفسطة، ولذلك حمل عليه ووصفه بكثرة الهذر.
--------------------------------------------
ইবনে হাজম তাঁর এই কিতাবে, আর এটি আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে "শায়খ" শব্দটি সম্ভবত মাত্তা আল-মানতিকি (যুক্তিবিদ)-কেই নির্দেশ করছে। তবে ইবনে হাজম এই পাণ্ডুলিপিতে এই মাত্তা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি; আমাদের হাতে থাকা এই পাণ্ডুলিপিটিতে কি সেই সূত্রের অভাব রয়েছে? এই পরিস্থিতিতে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক: ইবনে তায়মিয়াহ কি আত-তাকরীব কিতাবটি দেখেছিলেন? আর যদি দেখে থাকেন, তবে কেন তিনি অন্যান্য যুক্তিবিদ্যার সমর্থকদের মতো ইবনে হাজমকে নিয়ে আলোচনা করেননি? প্রবল ধারণা এই যে, তিনি এটি দেখেছিলেন কিন্তু কিতাবটি রচনার সময় সেটি তাঁর হাতের কাছে ছিল না, অথবা তিনি কোনো মাগরিবি কিতাবকে মাশরিকি চিন্তাধারার জন্য বিপজ্জনক মনে করেননি, তাই তিনি কেবল মাশরিকি কিতাবসমূহ আক্রমণ ও সেগুলোর খণ্ডন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।
অতঃপর: প্রাচ্য থেকে আগত বলে আমরা যা ধারণা করেছি, তা ছাড়া কি আলাদা কোনো আন্দালুসি অনুবাদ ছিল? এই প্রশ্নের কোনো চূড়ান্ত উত্তর নেই। আমরা এখানে কেবল এটুকুই অনুমান করতে পারি যে, ইবনে হাজম সম্ভবত কিছু লাতিন অনুবাদ সম্পর্কে জানতেন, কারণ তিনি এই ভাষাটি জানতেন। আত-তাকরীব কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তিনি এর উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি লাতিন ভাষায় পারদর্শী, সে প্রশ্নবোধক বাক্যে আমাদের উদ্দেশ্যকৃত দুটি অর্থের পার্থক্য বুঝতে পারবে" (১)। তিনি আরও বলেন: "আমাদের কাছে লাতিন ভাষায় এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়" (২)। তৃতীয় এক স্থানে তিনি বলেন: "এই অর্থের জন্য লাতিন ভাষায় একটি সুস্পষ্ট শব্দ রয়েছে" (৩)। ইবনে হাজমের লাতিন ভাষা জানাটা আশ্চর্যজনক কিছু নয়, কারণ তৎকালীন সময়ে আন্দালুসে এটি প্রচলিত ছিল। পক্ষান্তরে, গ্রিক ভাষা জানতেন এমন কেউ সেখানে ছিল না, তাই আত-তাকরীব কিতাবে আমরা এমন কিছু পাই যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি গ্রিক জানতেন না (৪)। তবে নজর কাড়ার মতো বিষয় হলো তাঁর কিছু মতামতের আলোচনা যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে সেগুলো এরিস্টটল বলেননি। তাহলে কি তিনি এটি মাত্তা আল-মানতিকি থেকে গ্রহণ করেছিলেন, নাকি তিনি যাদেরকে "আওয়াইল" (পূর্বসূরি) বলে অভিহিত করেন, তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় কোনো সূক্ষ্ম মূলপাঠ সম্পর্কে জানতেন?
প্রাচ্যের আরও একটি উৎস রয়েছে যা ইবনে হাজম দেখেছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়, আর সেটি হলো আন-নাশি আল-আকবর আবুল আব্বাস, যিনি ইবনে শারিশার (মৃত্যু ২৯৩ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত কিতাব বা কিতাবসমূহ। এই কবি আবুল আব্বাস একজন মুতাযিলি ছিলেন, যিনি যুক্তিবিদদের খণ্ডনে কিতাব লিখেছিলেন এবং তিনি সেই সকল প্রাথমিক চিন্তাবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যার সমালোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন। আবু সাঈদ আস-সিরাফি মাত্তা আল-মানতিকির সাথে তাঁর বিতর্কে এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন—এই বিতর্কটি আবু হাইয়ান তাঁর আল-ইমতা ওয়াল মুআনাসা কিতাবে সংরক্ষণ করেছেন। ইবনে হাজমের উদ্ধৃতি থেকে মনে হয় যে, নাশি-এর কিছু মত ছিল এক ধরনের কুযুক্তি, তাই তিনি তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং তাঁকে অত্যধিক প্রলাপকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولعل الناشئ ممن لفتوا ابن حزم إلى بحث مسألة أسماء الله تعالى لأن الناشئ كان يقول: إن الأسماء " حقيقة في الخالق مجاز في المخلوق " (1) .
5 - منهج ابن حزم في التقريب
ورث المناطقة المسلمون عن المدرسيين والشراح الاسكندرانيين وغيرهم ترتيب الكتب المنطقية الارسططاليسية في ثمانية وهذا هو ما وضحه الفارابي توضيحا كافيا في نص تفصيلي نقله ابن أبي أصيبعة (2) ، سمى الكتاب الأول " المقولات "؟ قاطاغورياس - والثاني: العبارة؟ باريمنياس، والثالث: القياس أو أنالوطيقا الأولى والرابع البرهان أو أنالوطيقا الثانية والخامس المواضع الجدلية أو طوبيقا والسادس: الحكمة المموهة أو سوفسطيقا والسابع: الخطابة أو الريطورية والثامن الشعر أوفويطيقا. وقال الفارابي: والجزء الرابع هو أشدها تقدما للشرف والرياسة، والمنطق إنما التمس به على القصد الجزء الرابع وباقي أجزائه إنما تحمل لأجل الرابع.
وقد سار ابن حزم على هذه القسمة، على نحو مقارب، فقدم قبل الكتب الثمانية القول في المدخل أو ايساغوجي، ثم تناول القول في كتب أرسطاطاليس فسمى الأول، الأسماء المفردة وسمى الثاني كتاب الأخبار؟ وهو الذي دعاه الفارابي باسم " العبارة " وأدرج الكتب الأربعة التالية (3، 4، 5، 6) في باب واحد وجمعها تحت اسم " البرهان "، ورفض اسم القياس. ومع إيمانه بأن " البرهان " هو الغاية الكبرى فانه لم يمييز " أنالوطيقا الثاني " تمييزا بائنا، وفرق القول في السفطة على عدة مواضع، وقبيل آخر هذا الفصل تحدث عن رتبة الجدال وآداب المناظرة (والفقرة: 18) ثم شفع هذه الفقرة بفقرة اخرى (رقم: 19) تحدث فيها على أخذ المقدمات من العلوم وقسمها إلى اثني عشر علما ونص على أنه لا يلتزم في هذه القسمة ما جرى عليه المتقدمون. وبعد ذلك كتب فصلين صغيرين اجرى فيهما أحكاما من عنده على البلاغة والشعر ولم يقف عند شيء من آراء ارسطاطاليس.
وقسم الكتاب كله في سفرين، وقف في آخر السفر الأول عند نهاية القضايا القاطعة. وابتدأ السفر الثاني بذكر القضايا الشرطية دون ان يكون لهذه القسمة أية علاقة بطبيعة
--------------------------------------------
সম্ভবত আন-নাশি ছিলেন সেই ব্যক্তিদের একজন যারা ইবনে হাজমকে মহান আল্লাহর নামসমূহের মাসআলাটি নিয়ে গবেষণার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলেন, কারণ আন-নাশি বলতেন: নামসমূহ "সৃষ্টিকর্তার ক্ষেত্রে হাকীকত (প্রকৃত) এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে মাজায (রূপক)" (১)।
৫ - আত-তাকরীব গ্রন্থে ইবনে হাজমের পদ্ধতি
মুসলিম যুক্তিবিদগণ মাদ্রাসা শিক্ষক এবং আলেকজান্দ্রীয় ব্যাখ্যাকার ও অন্যদের কাছ থেকে এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থসমূহের আটটি ভাগে বিন্যাস উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন। ইবনে আবি উসাইবিয়া (২) কর্তৃক উদ্ধৃত একটি বিস্তারিত বর্ণনায় আল-ফারাবি এটি পর্যাপ্তভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি প্রথম বইটির নাম দিয়েছেন "আল-মাকুলাত" (ক্যাটেগরিস) বা ক্যাটাগোরিয়াস, দ্বিতীয়টি: "আল-ইবারাহ" (অন ইন্টারপ্রিটেশন) বা বারি-মানিয়াস, তৃতীয়টি: "আল-কিয়াস" বা প্রথম অ্যানালিটিকস, চতুর্থটি: "আল-বুরহান" বা দ্বিতীয় অ্যানালিটিকস, পঞ্চমটি: "আল-মাওয়াদি আল-জাদালিয়াহ" বা টপিকা, ষষ্ঠটি: "আল-হিকমাহ আল-মুমওয়াহাহ" বা সোফিসটিকা, সপ্তমটি: "আল-খাতাবাহ" বা রিটোরিকা এবং অষ্টমটি: "আশ-শি'র" বা পোয়েটিকা। আল-ফারাবি বলেছেন: চতুর্থ অংশটি মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সবচেয়ে অগ্রগণ্য, এবং মূলত চতুর্থ অংশের উদ্দেশ্যেই যুক্তিবিদ্যা অন্বেষণ করা হয়, বাকি অংশগুলো কেবল চতুর্থ অংশের খাতিরেই গ্রহণ করা হয়েছে।
ইবনে হাজম এই বিভাজনটি কাছাকাছি পদ্ধতিতে অনুসরণ করেছেন। তিনি আটটি বইয়ের আগে "আল-মাদখাল" বা ইসাগোজি (ভূমিকা) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি এরিস্টটলের বইগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রথমটির নাম দিয়েছেন "আল-আসমা আল-মুফরাদাহ" (একক নামসমূহ) এবং দ্বিতীয়টির নাম দিয়েছেন "কিতাবুল আখবার" (সংবাদসমূহের গ্রন্থ); যা আল-ফারাবি "আল-ইবারাহ" নামে অভিহিত করেছিলেন। তিনি পরবর্তী চারটি বইকে (৩, ৪, ৫, ৬) একটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং "আল-বুরহান" (প্রমাণ) নামে একত্রিত করেছেন, এবং "আল-কিয়াস" নামটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। "আল-বুরহান" যে চূড়ান্ত লক্ষ্য—তা বিশ্বাস করা সত্ত্বেও তিনি "দ্বিতীয় অ্যানালিটিকস"-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করেননি। তিনি কূটতর্ক (সফতা) সম্পর্কিত আলোচনাকে বিভিন্ন স্থানে বিভক্ত করেছেন। এই পরিচ্ছেদের শেষের ঠিক আগে তিনি বিতর্কের স্তর এবং মুনাজারার আদব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন (অনুচ্ছেদ: ১৮)। এরপর তিনি এই অনুচ্ছেদের সাথে আরেকটি অনুচ্ছেদ (নম্বর: ১৯) যুক্ত করেছেন যেখানে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞান থেকে ভূমিকা (মুকাদ্দিমা) গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং একে বারোটি বিজ্ঞানে বিভক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই বিভাজনের ক্ষেত্রে তিনি পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণে বাধ্য নন। এরপর তিনি দুটি ছোট পরিচ্ছেদ লিখেছেন যেখানে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র এবং কবিতা সম্পর্কে নিজস্ব বিচার বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন এবং এরিস্টটলের কোনো মতামতের কাছে থেমে থাকেননি।
তিনি পুরো বইটিকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করেছেন। প্রথম খণ্ডের শেষে তিনি অকাট্য সিদ্ধান্তসমূহের সমাপ্তি টেনেছেন। দ্বিতীয় খণ্ডটি তিনি শর্তযুক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যদিও এই বিভাজনের সাথে বিষয়ের প্রকৃতির কোনো সম্পর্ক নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الموضوع، ولعله إنما راعى فيها حجم الكتاب نفسه. وقد ذكر في موضع من كتابه (1) انه بناه على الاختصار، ولكنه في الحقيقة كان يطلق العنان لنفسه كلما وجد الموضوع أمامه يسمح بالانطلاق وخاصة في النواحي السلوكية وآداب المعاملة والأمور العقائدية وما شابه ذلك. فإذا دققنا في التقريب لم نجد شرحا لآراء ارسطاطاليس كما كتب على الورقة الأولى، ولكنه في أكثره تبسيط لأقرب الآراء. هذا وإن مقارنة عابرة بين ما كتبه ابن حزم عن البرهان وبين ما كتبه ابن سينا في كتابه البرهان ليدل على شيء من بعد الاحتذاء أو قربه من الأصل الارسطاطاليسي. ومن مقارنات أخرى نرى ابن حزم ينفرد بالمطمح المنطقي في مواطن كثيرة. والنص الذي ذكره الفارابي في أسماء الكتب الثمانية نفسها هو نفسه دليل على ذلك.
6 - قيمة الكتاب
لم يدع ابن حزم لنفسه شيئا من الابتكار في المنطق بل صرح بأن كتابه هذا يقع تحت النوع الرابع من المؤلفات وهو النوع الذي يتناول شرح المستغلق: " ولن نعدم إن شاء الله ان يكون فيها بيان تصحيح رأي فاسد يوشك أن يغلط فيه كثير من الناس، وتنبيه على أمر غامض، واحتقار لما ليست بطالب الحقائق إليه ضرورة، وجمع أشياء متفرقة مع الاستيعاب لكل ما بطالب البرهان إليه اقل حاجة " (2) .
وقد اتهم ابن حزم؟ كما تقدم - بأنه خالف ارسطاطاليس في بعض أصوله مخالفة من لم يفهم غرضه ولا ارتاض في كتابه واثبات هذه المخافة مما لا تتسع له هذه المقدمة، ولا تتيحه الظروف، ولكنها مخالفة ليست مستبعدة لعدة أسباب منها:
1 - ان ابن حزم تجاوز التمثيل بالحروف والرموز إلى انتزاع الأمثال من مألوف الحياة ومن الشريعة، ومن هنا يسهل دخول الخطأ وتقوم المخالفة.
2 - انه صدر في مفهوماته عن مقدمات دينية لم تكن لدى ارسطاطاليس وان شغفه بالتقريب بين المنطق ولشريعة قد يوقعه في الوهم أو الإحالة.
3 - أنه حكم نظرته الظاهرية في كثير من الأمور فأنكر القياس وأنكر العلية في الأمور الشرعية، وأطنب في بيان المعرفة العقلية، واضعف من قيمة الاستقرار مع أن
--------------------------------------------
বিষয়বস্তু, এবং সম্ভবত তিনি এতে কিতাবটির নিজস্ব আকারের প্রতিই লক্ষ রেখেছেন। তিনি তাঁর কিতাবের (১) এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি সংক্ষেপণের ভিত্তিতে রচনা করেছেন; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি যখনই দেখতেন যে বিষয়বস্তুটি তাঁকে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দিচ্ছে, তখনই তিনি সাবলীলভাবে দীর্ঘ আলোচনা করতেন—বিশেষ করে আচরণগত দিক, মুয়ামালাতের শিষ্টাচার, আকিদাগত বিষয় এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রগুলোতে। সুতরাং আমরা যদি 'আত-তাক্বরিব' কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে প্রথম পাতায় যা লেখা হয়েছে সে অনুযায়ী সেখানে আরিসতাতালিসের মতামতের কোনো ব্যাখ্যা পাব না; বরং এর অধিকাংশ বিষয়ই হলো নিকটতম মতামতের সহজীকরণ। তদুপরি, ইবনে হাজম 'বুরহান' (প্রমাণ) সম্পর্কে যা লিখেছেন এবং ইবনে সিনা তাঁর 'বুরহান' গ্রন্থে যা লিখেছেন, তার মধ্যে একটি সাধারণ তুলনা আরিসতাতালিসীয় মূলনীতির অনুসরণ থেকে দূরত্ব বা নৈকট্যের বিষয়টি নির্দেশ করে। অন্যান্য তুলনামূলক পর্যালোচনায় আমরা দেখি যে, ইবনে হাজম অনেক স্থানে যুক্তিবিদ্যার লক্ষ্যের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। আল-ফারাবি আটটি কিতাবের নামের ক্ষেত্রে যে পাঠ উল্লেখ করেছেন, তা নিজেই এর প্রমাণ।
৬ - কিতাবটির গুরুত্ব
ইবনে হাজম যুক্তিবিদ্যায় নিজের জন্য কোনো উদ্ভাবনের দাবি করেননি; বরং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর এই কিতাবটি রচনার চতুর্থ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যা মূলত অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করে: "ইনশাআল্লাহ, এতে কোনো ভ্রান্ত মতামতের সংশোধনের বর্ণনা পাওয়া যাবে যাতে অনেক মানুষ ভুল করার উপক্রম হয়, কোনো অস্পষ্ট বিষয়ের প্রতি সতর্কতা থাকবে, এবং যে সব বিষয় সত্য অন্বেষণকারীর জন্য খুব একটা জরুরি নয় সেগুলোর তুচ্ছতা বর্ণনা করা হবে; এছাড়া বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করা হবে এবং বুরহান বা প্রমাণের অন্বেষণকারীর জন্য ন্যূনতম যা প্রয়োজন তার পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ ঘটানো হবে।" (২)।
ইবনে হাজমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—যে তিনি আরিসতাতালিসের কিছু মূলনীতির বিরোধিতা করেছেন, যা এমন ব্যক্তির বিরোধিতার মতো যে তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি এবং তার কিতাব নিয়ে যথেষ্ট চর্চা করেনি। এই বিরোধিতার প্রমাণ দেওয়া এমন কিছু যা এই মুখবন্ধে সংকুলান সম্ভব নয় এবং পরিস্থিতিও এর অনুকূল নয়; তবে বেশ কিছু কারণে এই বিরোধিতা অসম্ভব নয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - ইবনে হাজম অক্ষর ও প্রতীকের মাধ্যমে উদাহরণের গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনঘনিষ্ঠ পরিচিত বিষয় এবং শরিয়ত থেকে উদাহরণ আহরণ করেছেন; আর এখান থেকেই ভুল প্রবেশের সম্ভাবনা সহজ হয় এবং বিরোধিতার সৃষ্টি হয়।
২ - তিনি তাঁর ধারণাগুলোর ক্ষেত্রে এমন ধর্মীয় ভূমিকা বা প্রাঙ্গণ থেকে কাজ শুরু করেছেন যা আরিসতাতালিসের কাছে ছিল না; আর যুক্তিবিদ্যা ও শরিয়তের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ তাঁকে বিভ্রম বা অসম্ভব কল্পনার মধ্যে নিপতিত করতে পারে।
৩ - তিনি অনেক ক্ষেত্রে তাঁর জাহেরি দৃষ্টিভঙ্গিকে বিচারক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, ফলে তিনি কিয়াস অস্বীকার করেছেন এবং শরিয়তের বিষয়ে কার্যকারণবাদ অস্বীকার করেছেন; তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের বর্ণনায় অতিবিস্তার ঘটিয়েছেন এবং আরোহী পদ্ধতির গুরুত্বকে দুর্বল করে দিয়েছেন, যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ارسطاطاليس يقول: " اننا يلزم أن نعلم الأوائل بالاستقرار وذلك أن الحس إنما يحصل فيها الكلي بالاستقرار ".
4 - صرح في مواضع من كتابه بأنه لا يتقيد في هذا أو ذاك من الآراء بقول الأوائل.
5 - استأنس بأحكام مستمدة من طبيعة اللغة العربية نفسها مما هو موجود؟ أو غير متحقق - في لغة اخرى كاليونانية.
ولم يكن ابن حزم منفردا في محاولته تقريب المنطق بالاستكثار من الأمثلة الشريعية ولكن لعله أول من فتح هذا الباب، مثلما حاول ابن سينا استمداد الأمثلة من الطب، ومن بعد جاء الغزالي فعاد يستمد الأمثلة من الفقه فكتاب التقريب يثبت أن الغزالي مسبوق إلى هذه المحاولة.
ومنذ البدء وقف المفكرون الدينيون فرقتين في النظر إلى منطق المعلم الأول. فريق حاولوا الاستقلال عنه وأوجدوا ما يمكن أن يسمى " منطق المتكلمين " وفريق آخر انتصر للمنطق الارسطاطاليسي. وبهذا الكتاب يقف ابن حزم في الفريق الثاني مع الفخر الرازي والغزالي، وعلى النقيض منهم يقف الناشئ والنوبختي والباقلاني وابن تيمية. ومن الطريف ان يقارن المرء بين اثنين متقاربين في المذهب العقائدي تقاربا شديدا مثل ابن حزم وابن تيمية وهما يقفان على طرفين متباعدين في النظر إلى المنطق.
ومهما يكن من شيء فان كتاب التقريب حلقة هامة في تاريخ الفكر لفلسفي الإسلامي عامة وفي تاريخ الفكر الأندلسي خاصة. وفيه إذا تجاوزنا النواحي المنطقية حقائق هامة تمس طبيعة الحياة الفكرية في الأندلس، وبعضها يتصل بشخصية ابن حزم نفسه ونظرته في الحياة والناس. ولا ريب في انه يفتح أمام الدارسين آفاقا جديدة في دراسة المصطلح المنطقي، وفيما خالف ابن حزم به ارسطاطاليس، وينشئ مقارنات بينه وبين الغزالي وابن تيمية وسواهم في نطاق المحاولة التي قام بها، ويدل على الأصل الذي استوحاه ابن مضاء في الرد على النحويين وإنكار العلل النحوية.
- 7تحقيق التقريب
اعتمدت فيه على نسخة وحيدة اعرف لها ثانية وهي نسخة محفوظة بالمكتبة الأحمدية بجامع الزيتونة بتونس ورقمها: 6814، وهي من المخطوطات التي احضرها معهد المخطوطات بجامعة الدول العربية، الفيلم رقم: 8 فللقائمين عليه شكري لأنهم أتاحوا لي تصويرها.
এরিস্টটল বলেছেন: "আমাদের জন্য আবশ্যক হলো আরোহ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক বিষয়গুলো জানা, কারণ ইন্দ্রিয় অনুভূতির মাধ্যমে এতে আরোহের দ্বারাই সামষ্টিক জ্ঞান অর্জিত হয়।"
৪ - তিনি তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি এই বা ওই মতামতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের দ্বারা সীমাবদ্ধ নন।
৫ - তিনি আরবি ভাষার নিজস্ব প্রকৃতি থেকে উৎসারিত বিধিবিধানের মাধ্যমে সাহায্য নিয়েছেন, যা অন্য কোনো ভাষায়—যেমন গ্রিক ভাষায়—বিদ্যমান থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
শরয়ী উদাহরণ অধিক ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যাকে সহজবোধ্য করার প্রচেষ্টায় ইবনে হাজম একাকী ছিলেন না, তবে সম্ভবত তিনিই প্রথম এই দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। ঠিক যেমন ইবনে সিনা চিকিৎসাশাস্ত্র থেকে উদাহরণ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ইমাম গাজালি এসে ফিকহ শাস্ত্র থেকে উদাহরণ গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং তাকরিব গ্রন্থটি প্রমাণ করে যে, গাজালির পূর্বেই এই প্রচেষ্টার সূচনা হয়েছিল।
শুরু থেকেই ধর্মীয় চিন্তাবিদগণ 'প্রথম শিক্ষক'-এর যুক্তিবিদ্যার পর্যালোচনায় দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক দল তাঁর থেকে স্বতন্ত্র থাকার চেষ্টা করেছেন এবং এমন কিছু উদ্ভাবন করেছেন যাকে "মুতাকাল্লিমদের যুক্তিবিদ্যা" বলা যেতে পারে। অন্য দলটি এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার সমর্থন করেছেন। এই গ্রন্থের মাধ্যমে ইবনে হাজম দ্বিতীয় দলে ফখরুদ্দিন রাজি এবং গাজালির সাথে অবস্থান করছেন; আর তাঁদের বিপরীতে অবস্থান করছেন আন-নাশি, আন-নাওবাখতি, আল-বাকিলানি এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ। এটি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক যে, আকীদাগত মাযহাবের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিকটবর্তী দুই ব্যক্তি—যেমন ইবনে হাজম এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ—যুক্তিবিদ্যার পর্যালোচনায় দুই বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করছেন।
যা-ই হোক না কেন, তাকরিব গ্রন্থটি সামগ্রিকভাবে ইসলামী দার্শনিক চিন্তার ইতিহাসে এবং বিশেষভাবে আন্দালুসিয়ান চিন্তার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এতে যুক্তিবিদ্যার দিকগুলো বাদ দিলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সত্য নিহিত রয়েছে যা আন্দালুসের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের প্রকৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট, যার কিছু অংশ স্বয়ং ইবনে হাজমের ব্যক্তিত্ব এবং জীবন ও মানুষ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে জড়িত। কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি গবেষকদের সামনে যুক্তিবিদ্যার পরিভাষা অধ্যয়ন এবং যেসব বিষয়ে ইবনে হাজম এরিস্টটলের বিরোধিতা করেছেন তা পর্যালোচনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়া তাঁর কৃত প্রচেষ্টার পরিধিতে গাজালি, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং অন্যদের সাথে তাঁর তুলনামূলক আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। সেই সাথে এটি সেই মূল উৎসের দিকে ইঙ্গিত করে যা থেকে ইবনে মাদা ব্যাকরণবিদদের খণ্ডন এবং ব্যাকরণগত কার্যকারণ অস্বীকার করার প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
- ৭ তাকরিব-এর সম্পাদনা
এতে আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যার দ্বিতীয় কোনো কপির কথা আমার জানা নেই। এটি তিউনিসিয়ার জামে যায়তুনা-র আহমাদিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে যার নম্বর: ৬৮১৪। এটি আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট কর্তৃক সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার ফিল্ম নম্বর: ৮। এর দায়িত্বরত ব্যক্তিবর্গের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, কারণ তাঁরা আমাকে এর ছবি তোলার সুযোগ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وتقع المخطوطة في اثنين وتسعين ورقة، في كل صفحة 26 سطرا ومتوسط كلمات السطر الواحد: 11 كلمة، وهي مكتوبة بخط نسخي دقيق القلم؟ أو متوسط الدقة - وكثير من الكلمات فيها ينقصه الاعجام. ومن ابرز ما فيها ان الناسخ يضع الحرف " ط " فوق الكلمة التي تشير بحذفها أو إسقاطها. وهو يثبت الياء في حال الرفع في كلمات مثل: متناهي. تالي. واهي. وهكذا وقد حذفت هذه الياء حيثما وقعت وأشرت إلى بعض ذلك؟ لا كله - في الحواشي على سبيل التمثيل. كذلك فان الناسخ لا يتقيد بعكس الهدد المفرد مع المعدود فهو يكتب مثلا: ستة أرجل، وقد سمحت لنفسي بتغيير هذا أيضاً. وليس على هوامش النسخة سوى بعض التصويبات وتعليقتين وثلاث.
والنسخة ليست مؤرخة ولكن خطها قد يدل على أنها ربما كتبت في القرن السابع أو قبله بقليل.
وقد بذلت في تصحيحها جهدي، ولكني لم استطع أن أحل كل ما اعترضني فيها من مشكلات (1) ، على إدامة النظر وتكرار المحاولة، والله أرجو أن ينفع بهذا الكتاب بمنه وكرمه.
بيروت في 10 تموز (يوليه) 1959
إحسان عباس
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপিটি বিরানব্বইটি পত্রে বিন্যস্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় ২৬টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১১টি শব্দ আছে। এটি সূক্ষ্ম অথবা মাঝারি মানের নাসখ লিপিতে লিখিত—এবং এর অনেক শব্দেই নুকতা বা বর্ণচিহ্নের অভাব রয়েছে। এর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, লিপিকার যে শব্দটিকে বর্জন বা বিলোপ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার উপরে 'ত' অক্ষরটি বসিয়ে দিয়েছেন। তিনি 'মুতানাহি', 'তালি', 'ওয়াহি'—এর মতো শব্দগুলোর ক্ষেত্রে রাফ (পেশ) অবস্থায় 'ইয়া' বর্ণটি বহাল রেখেছেন; আমি এই 'ইয়া' যেখানেই পেয়েছি তা বিলোপ করেছি এবং পাদটীকায় উদাহরণের খাতিরে এর কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, সবগুলোর ক্ষেত্রে নয়। একইভাবে, লিপিকার একবচন সংখ্যা ও গণনাকৃত বস্তুর লিঙ্গান্তরের ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসরণ করেননি, যেমন তিনি লিখেছেন: 'ছয়টি পা' (আরবি ব্যাকরণ বহির্ভূত লিঙ্গ ব্যবহারে)। আমি এটিও পরিবর্তনের অনুমতি নিয়েছি। কপির মার্জিনে সামান্য কিছু সংশোধন এবং দুই-তিনটি মন্তব্য ছাড়া আর কিছুই নেই।
কপিটিতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই, তবে এর হস্তলিপি দেখে বোঝা যায় যে এটি সম্ভবত সপ্তম হিজরি শতকে বা তার সামান্য আগে লিখিত হয়েছে।
আমি এটি সংশোধনে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি, কিন্তু দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও এতে আমার সামনে আসা সকল সমস্যার (১) সমাধান করতে পারিনি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এই কিতাব দ্বারা সংশ্লিষ্টদের উপকৃত করেন।
বৈরুত, ১০ জুলাই ১৯৫৯
ইহসান আব্বাস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
التقريب لحد المنطقبسم الله الرحمن الرحيم
" اللهم صل على سيد المرسلين
وعلى آل محمد وصحبه وسلم "
قال الإمام الأوحد الأعلم، أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم بن غالب ابن صالح بن خلف بن معدان بن يزيد الفارسي:
الحمد لله رب العالمين، بديع السماوات والأرض وما بينهما، ذي العرش المجيد، الفعال لما يريد، وصلى الله على محمد عبده وخاتم أنبيائه ورسله إلى عباده من الأنفس الحية القابلة للموت، من الإنس والجن، بالدين الذي اجتبرهم به، ليسكن الجنة التي هي دار النعيم السرمدي من أطاعه ويدخل النار التي هي محل العذاب الأبدي من عصاه؛ وما توفيقنا إلا بالله تعالى، ولا حول ولا قوة إلا بالله، عز وجل.
أما بعد: فان الأول الواحد الحق الخالق لجميع الموجودات دونه، يقول في وحيه الذي آتاه نبيه وخليله المقدس: {الله الخالق كل شيء وهو على كل شيء وكيل} . (62 الزمر: 39) وقال تعالى {ويتفكرون في خلق السماوات والأرض} (191 آل عمران: 3) مثنيا عليهم؛ وقال تعالى: {الرحمن علم القرآن، خلق الإنسان، علمه البيان} (3 الرحمن: 55) وقال تعالى: {اقرأ وربك الأكرم، الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم} (3 العلق: 96)
তর্কবিদ্যার সংজ্ঞার সরলীকরণপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
"হে আল্লাহ, আপনি সালাত বর্ষণ করুন রাসূলগণের সরদারের ওপর
এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং সালাম বর্ষণ করুন।"
অদ্বিতীয় ও মহাজ্ঞানী ইমাম আবু মুহাম্মাদ আলী ইবন আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন হাযম ইবন গালিব ইবন সালিহ ইবন খালাফ ইবন মা’দান ইবন ইয়াযীদ আল-ফারিসী বলেছেন:
সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ, যমীন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর অনন্য স্রষ্টা; যিনি মহান আরশের অধিকারী এবং যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী। এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা এবং তাঁর নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী মুহাম্মাদের ওপর; যাঁকে তিনি প্রেরণ করেছেন তাঁর সেই সকল বান্দাদের প্রতি যারা জীবনধারী ও মরণশীল, অর্থাৎ মানব ও জিন জাতির প্রতি; সেই দ্বীন সহকারে যার মাধ্যমে তিনি তাদের পরীক্ষা করেছেন, যাতে যারা তাঁর আনুগত্য করবে তারা জান্নাতে বসবাস করতে পারে যা চিরস্থায়ী নিআমতের আবাস, আর যারা তাঁর অবাধ্য হবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে যা অনন্ত শাস্তির স্থান। আমাদের তাওফিক কেবল মহান আল্লাহর মাধ্যমেই; আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সেই সত্তা যিনি অনাদি, এক, সত্য এবং তিনি ব্যতীত সকল বিদ্যমান বস্তুর স্রষ্টা; তিনি তাঁর সেই ওহীর মধ্যে বলেন যা তিনি তাঁর নবী ও পবিত্র খলীলকে প্রদান করেছেন: {আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর ওপর কর্মবিধায়ক}। (সূরা যুমার ৩৯:৬২) এবং মহান আল্লাহ তাদের প্রশংসা করে বলেন: {এবং তারা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে} (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১); এবং মহান আল্লাহ বলেন: {পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাকে বর্ণনা শিখিয়েছেন} (সূরা আর-রাহমান ৫৫:১-৪) এবং মহান আল্লাহ বলেন: {পাঠ করুন এবং আপনার রব মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না} (সূরা আলাক ৯৬:৩-৫)
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فهذه الآيات جامعة لوجوه البيان الذي امتن به عز وجل، على الناطقين من خلقه وفضلهم به على سائر الحيوان، فضلا منه تعالى يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم.
ووجدناه عز وجل قد عدد في عظيم نعمه على من ابتدأ اختراعه من النوع الانسى تعلمه أسماء الأشياء؛ فقال تعالى: " {وعلم آدم الأسماء كلها} (31 البقرة: 3) وهو الذي بانت به الملائكة والإنس والجن من سائر النفوس الحية، وهو البيان عن جميع الموجودات، على اختلاف وجوهها، وبيان معانيها، التي من أجل اختلافها وجب أن تختلف اسمتؤها، ومعرفة وقوع المسميات تحت الأسماء فمن جهل مقدار هذه النعمة عند نفسه، وسائر نوعه، ولم يعرف موقعها لديه، لم يكن يفضل البهائم إلا في الصورة؛ فلله الحمد على ما علم وآتى، لا إله إلا هو. ومن لم يعلم صفات الأشياء المسميات، الموجبة لافتراق أسمائها ويحد كل ذلك بحدودها، فقد جهل مقدار هذه النعمة النفيسة، ومر عليها غافلا عن معرفتها، معرضا عنها، ولم يخب خيبة يسيرة بل جليلة جدا.
فان قال جاهل: فهل تكلم أحد من السلف الصالح في هذا؟ قيل له: إن هذا العلم مستقر في نفس كل ذي [2ظ] لب، فالذهن الذكي واصل بما مكنه الله تعالى فيه من الفهم، إلى فوائد هذا العلم، والجاهل منكسع كالأعمى حتى ينبه عليه، وهكذا سائر العلوم. فما تكلم أحد من السلف الصالح، رضى الله عنهم، في مسائل النحو، لكن لما فشا جهل الناس، باختلاف الحركات التي باختلافها اختلفت المعاني في اللغة العربية، وضع العلماء كتب النحو، فرفعوا إشكالا عظيمة، وكان ذلك معينا على الفهم لكلام الله عز وجل، وكلام نبيه صلى الله عليه وسلم، وكان من جهل ذلك ناقص الفهم عن ربه تعالى، فكان هذا من فعل العلماء حسنا وموجبا لهم أجرا. وكذلك القول في تواليف كتب العلماء في اللغة والفقه؛ فان السلف الصالح غنوا عن ذلك كله بما آتاهم الله به من الفضل ومشاهدة النبوة، وكان من بعدهم فقراء إلى ذلك كله، يرى ذلك حسا ويعلم نقص من لم يطالع هذه العلوم ولم يقرأ هذه الكتب وأنه قريب النسبة من البهائم، وكذلك هذا العلم فان من جهله خفي عليه بناء كلام الله عز وجل مع كلام نبيه صلى الله عليه وسلم، وجاز
এই আয়াতগুলো বক্তব্যের সেই দিকসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর মাখলুকের মধ্যে কথা বলতে সক্ষমদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে অন্য সকল প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন; আর আল্লাহ হলেন মহান অনুগ্রহের অধিকারী।
আমরা দেখতে পাই যে, মহান আল্লাহ মানবজাতির মধ্য হতে যাঁকে প্রথম সৃষ্টি করেছেন, তাঁর প্রতি তাঁর মহান নিআমতসমূহের বর্ণনায় সবকিছুর নাম শিক্ষা দেওয়াকে গণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “আর তিনি আদমকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিলেন” (আল-বাকারাহ: ৩১)। এটিই সেই বিষয় যার মাধ্যমে ফেরেশতা, মানুষ এবং জিন অন্যান্য সকল জীবন্ত সত্তা থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। আর এটিই হলো সমস্ত বিদ্যমান বস্তুর বিভিন্ন দিক এবং তাদের অর্থসমূহের সুস্পষ্ট বর্ণনা, যে অর্থগুলোর ভিন্নতার কারণেই সেগুলোর নাম ভিন্ন হওয়া আবশ্যক হয়েছে; সেই সাথে নামের অধীনে নামধারী বিষয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের ক্ষেত্রে এবং নিজ জাতির ক্ষেত্রে এই নিআমতের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকল এবং নিজের কাছে এর মর্যাদা অনুধাবন করল না, সে কেবল শারীরিক আকৃতি ছাড়া চতুষ্পদ জন্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারল না। অতএব, আল্লাহ যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং দান করেছেন তার জন্য তাঁরই সমস্ত প্রশংসা; তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর যে ব্যক্তি নামধারী বস্তুসমূহের সেই গুণাবলি জানে না যা তাদের নামসমূহের ভিন্নতাকে অনিবার্য করে এবং সেগুলোর প্রত্যেকটিকে নিজ নিজ সীমারেখা দ্বারা চিহ্নিত করে না, সে মূলত এই মূল্যবান নিআমতের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে গেল। সে এ সম্পর্কে পরিচয় লাভ না করে গাফেল অবস্থায় এবং বিমুখ হয়ে একে অতিক্রম করে গেল। আর তার এই ব্যর্থতা সামান্য নয়, বরং অত্যন্ত বিশাল।
যদি কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি প্রশ্ন করে: ‘সালাফে সালেহীনদের কেউ কি এ বিষয়ে কথা বলেছেন?’ তবে তাকে বলা হবে: এই জ্ঞান প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির অন্তরেই প্রতিষ্ঠিত। প্রখর মেধার অধিকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহ তাকে যে বুঝ দান করেছেন তার মাধ্যমে এই ইলমের কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পক্ষান্তরে, অজ্ঞ ব্যক্তি অন্ধের ন্যায় হাতড়াতে থাকে যতক্ষণ না তাকে সতর্ক করা হয়। অন্যান্য সকল ইলমের বিষয়ও ঠিক এমনই। সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের কেউ নাহু বা ব্যাকরণের মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেননি। কিন্তু মানুষের মাঝে যখন হরকতের (স্বরচিহ্ন) তারতম্য সম্পর্কে অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ল—যে হরকতের ভিন্নতার কারণে আরবি ভাষায় অর্থের পরিবর্তন ঘটে যায়—তখন ওলামায়ে কেরাম নাহুশাস্ত্রের কিতাবসমূহ রচনা করলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা বড় ধরনের জটিলতা দূর করলেন এবং এটি মহান আল্লাহর কালাম ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হলো। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে অজ্ঞ ছিল, তার কাছে মহান রবের বাণী বোঝার ক্ষেত্রে অপূর্ণতা রয়ে গিয়েছিল। ওলামায়ে কেরামের এই কাজ ছিল অতি উত্তম এবং তাদের জন্য সওয়াব লাভের কারণ। লুগাত (ভাষা) এবং ফিকহশাস্ত্রে ওলামায়ে কেরামের কিতাব রচনার বিষয়টিও ঠিক একই রকম। কেননা সালাফে সালেহীন মহান আল্লাহর দানকৃত বিশেষ অনুগ্রহ এবং নবুওয়াত চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার কারণে এসবের মুখাপেক্ষী ছিলেন না। কিন্তু তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা এই সবকিছুর মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছিল। এটি প্রত্যক্ষভাবে অনুভূত হয় এবং যে ব্যক্তি এসব ইলম চর্চা করেনি বা এই কিতাবসমূহ পড়েনি, তার অপূর্ণতা সুস্পষ্টভাবে জানা যায়; এমনকি সে চতুষ্পদ জন্তুর কাছাকাছি পর্যায়ের হয়ে যায়। এই ইলমটির বিষয়টিও ঠিক তদ্রূপ; কেননা যে ব্যক্তি এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকবে, তার কাছে মহান আল্লাহর কালাম ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর গঠনশৈলী অস্পষ্ট থেকে যাবে এবং তা অনুমোদিত...
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
عليه من الشغب جوازا لا يفرق بينه وبين الحق، ولم يعلم دينه إلا تقليدا، والتقليد مذموم، وبالحرى إن سلم من الحيرة، نعوذ بالله منها. فلهذا وما نذكره بعد هذا، إن شاء الله، وجب البدار إلى تأليف هذا العلم، والتعب في شرحه وبسطه، بحول الله وقوته، فنقول وبالله نستعين:
إن جميع الأشياء التي أحدثها الأول، الذي لا أول على الإطلاق سواه، وقسمها الواحد الذي لا واحد على التصحيح حاشاه، واخترعها الخالق الذي لا خالق على الحقيقة إلا إياه، فان مراتبها في وجوه البيان أربعة، لا خامس لها أصلا وان تناقص منها واحد اختل من البيان بمقدار ذلك النقص.
فأول ذلك كون الأشياء الموجودات حقا في أنفسها، فانها إذا كانت حقا فقد امكنت استبانتها، وإن لم يكن لها مستبين، حينئذ، موجود، فهذه اول مراتب البيان؛ إذ ما لم يكن موجودا فلا سبيل إلى استبانته.
والوجه الثاني: بيانها عند من استبانها وانتقال أشكالها وصفاتها إلى نفسه، واستقراره فيها بمادة العقل الذي فضل به العاقل من النفوس، وتمييزه لها على ما هي عليه إذ من يبن له الشيء لم يصح له علمه ولا الإخبار عنه، فهذه المرتبة الثانية من مراتب البيان.
والوجه الثالث: إيقاع كلمات مؤلفات من حروف مقطعات، مكن الحكيم [3و] القادر لها المخارج من الصدر والحلق وأنابيب الرئة والحنك واللسان والشفتين والأسنان، وهيأ لها الهواء المندفع بقرع اللسان إلى سماخ الآذان، فيوصل بذلك نفس المتكلم مثل ما قد استبانته واستقر منها إلى نفس المخاطب، وينقلها إليها بصوت مفهوم بقبول الطبع منها للغة اتفقا عليها، فيستبين من ذلك ما قد استتبانته نفس المتكلم، ويستقر في نفس المخاطب، مثل ما قد استقر في نفس المتكلم، وخرج إليها بذلك مثل ما عندها، لطفا من اللطيف الخبير، لينتج بما وهب لنا من هذه الخاصة الشريفة، والقوة الرفيعة، والطبيعة الفاضلة
তাঁর উপর বিভ্রান্তি এমনভাবে আপতিত হয় যে তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করতে পারেন না এবং তিনি অন্ধ অনুকরণ ব্যতীত তাঁর ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আর অন্ধ অনুকরণ নিন্দনীয় এবং যদি তিনি বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পান তবে তা নিতান্তই সৌভাগ্য, আমরা তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এ কারণে এবং আমরা পরবর্তীতে যা উল্লেখ করব তার জন্য, ইনশাআল্লাহ, এই জ্ঞান সংকলনে দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের সাহায্যে এর ব্যাখ্যা ও বিস্তারে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
নিশ্চয়ই সেই আদি সত্তা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, যাঁর ব্যতীত নিরঙ্কুশভাবে আর কোনো আদি নেই; এবং সেই একক সত্তা যা কিছু বিভাগ করেছেন, যাঁর ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোনো এক নেই; এবং সেই স্রষ্টা যা কিছু উদ্ভাবন করেছেন, যাঁর ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোনো স্রষ্টা নেই—প্রকাশ বা বর্ণনার ক্ষেত্রে সেগুলোর স্তর হলো চারটি, যার পঞ্চম কোনো স্তর নেই। যদি এর থেকে একটিও কমে যায়, তবে সেই অভাবের পরিমাণ অনুযায়ী বর্ণনায় ত্রুটি দেখা দেবে।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো বস্তুসমূহের অস্তিত্ব তাদের নিজেদের মধ্যে সত্য হওয়া। কারণ সেগুলো যদি সত্য হয়, তবে সেগুলোকে স্পষ্ট করা সম্ভব। যদি সেই সময় তা স্পষ্ট করার মতো কেউ বিদ্যমান নাও থাকে, তবুও এটি বর্ণনার প্রথম স্তর; কেননা যা বিদ্যমান নেই তা স্পষ্ট করার কোনো উপায় নেই।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: যিনি তা স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করেন তাঁর নিকট এর বর্ণনা হওয়া এবং বস্তুগুলোর আকার ও বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁর নিজের মধ্যে স্থানান্তরিত হওয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদানের মাধ্যমে সেখানে স্থিতিশীল হওয়া, যার দ্বারা বুদ্ধিমান ব্যক্তি অন্যান্য প্রাণসত্তা থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। আর বস্তুগুলো যেমন ঠিক তেমনভাবেই সেগুলোকে পৃথক করা। কেননা যার নিকট কোনো কিছু স্পষ্ট হয় না, তার জন্য সে বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা বা সংবাদ প্রদান করা সঠিক হয় না। এটি বর্ণনার স্তরসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় স্তর।
তৃতীয় দিকটি হলো: বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা থেকে গঠিত শব্দমালার প্রয়োগ। প্রজ্ঞাবান ও সর্বশক্তিমান সত্তা সেগুলোর নির্গমনের জন্য বক্ষ, কণ্ঠনালি, ফুসফুসের নালি, তালু, জিহ্বা, ঠোঁট ও দাঁত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তিনি জিহ্বার আঘাতে চালিত বাতাসকে কানের ছিদ্রে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মাধ্যমে বক্তার সত্তা যা কিছু স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করেছে এবং তার নিকট যা স্থির হয়েছে, তা শ্রোতার সত্তার নিকট পৌঁছে যায়। একটি সুনির্দিষ্ট ভাষার মাধ্যমে যা উভয়েই গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে, একটি বোধগম্য ধ্বনির দ্বারা তা শ্রোতার নিকট স্থানান্তরিত হয়। ফলে বক্তার সত্তা যা স্পষ্ট উপলব্ধি করেছিল তা এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং শ্রোতার অন্তরে তা একইভাবে স্থির হয় যেমনটি বক্তার অন্তরে স্থির হয়েছিল। আর এর মাধ্যমে বক্তার কাছে যা ছিল তা শ্রোতার কাছে পৌঁছে যায়। এটি সুক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাদের যে মহান বৈশিষ্ট্য, উচ্চতর শক্তি এবং শ্রেষ্ঠ প্রকৃতি দান করেছেন তার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقربة لمن استعملها في طاعته، إلى فوز الأبد برضاه والخلود في جنته، نتيجة يبين بها من البهائم التي لا ثواب ولا عقاب عليها، والتي سخرها لنا في جملة ما سخر، وذللتها لحكمنا مع ما ذلل، إذ خلق لنا ما في السموات والأرض، الا ما حمى عنا، واستثنى بالتحريم علينا، فله الحمد والشكر منا، والسمع والطاعة علينا، ومن تتميم ذلك لنا بمنه وطوله، قال الله تعالى: {وما أرسلنا من رسول إلا بلسان قومه ليبين لهم} (4 إبراهيم: 14) فهذه المرتبة الثالثة من مراتب البيان.
والوجه الرابع: إشارات تقع باتفاق، عمدتها تخطيط ما استقر في النفس من البيان المذكور، بخطوط متباينة، ذات لون يخالف لون ما يخط فيه، متفق عليها بالصوت المتقدم ذكره، فسمى كتابا، تمثله اليد التي هي آلة لذلك. فتبلغ به نفس المخطط ما قد استبانته إلى النفس التي تريد ان تشاركها في استبانة ما قد استبانته، فتوصلها إليها العين، التي هي آلة لذلك. وهي في الأقطار المتباعدة، وعلى المسافات المتباينة التي يتفرق الهواء المسمى صوتا قبل بلوغها، ولا يمكن توصيله إلى من فيها فيعلمها بذلك دون من يجاورها في المحل ممن لا يريد اعلامه. ولولا هذا الوجه، ما بلغت إلينا حكم الاموات على آباد الدهور، ولا علمنا علم الذاهبين على سوالف الاعصار، ولا انتهت الينا اخبار الامم الماضية والقرون الخالية. وتندرج في هذا القسم اشياء تبين وليست بالفاشية، فمنها: اشارات باليد فقط، ومنها اشارات بالعين أو بعض الاعضاء، وقد يمكن ان يؤدي البيان بمذاقات، فمن ذلك ما يدرك الاعمى بها البيان إلى الحاضر وحده على حسب ما يتفق عليه مع الشير بذلك إليه، فهذه المرتبة الرابعة من مراتب البيان [3ظ] إذ لا سبيل إلى الكتاب الا بعد الاتفاق على تمييز تلك الخطوط بالاصوات الموقفة عليها، ندرة عجزت العقول عن اكثر المعرفة بها، وتوحد الواحد الأول الخالق الحق بتدبير ذلك واختراعه دون علة اوجبت عليه ذلك، الا انه يفعل ما يشاء لا معقب لحكمه ولا يسأل عما يفعل وهم يسألون. وصارت غاية الفضائل فيها ما ذكرنا واستعماله في وجوهه والإقرار للخالق الأول الواحد الحق بالقوة والقدرة والعلم
যা তাকে তাঁর আনুগত্যে নিয়োগকারীর জন্য তাঁর সন্তুষ্টির মাধ্যমে অনন্তকালের সফলতা এবং তাঁর জান্নাতে স্থায়ী হওয়ার নিকটবর্তী করে দেয়। এটি এমন এক ফলপ্রসূ বিষয় যার মাধ্যমে তিনি (মানুষকে) সেই চতুষ্পদ জন্তুসমূহ থেকে আলাদা করেন যাদের কোনো সওয়াব বা শাস্তি নেই এবং যাদেরকে তিনি আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন সেই সবকিছুর মধ্যে যা তিনি অনুগত করেছেন। আর তিনি আমাদের অধীন করে দিয়েছেন যা তিনি বশীভূত করেছেন, যেহেতু তিনি আমাদের জন্য আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করেছেন—তবে তিনি যা আমাদের থেকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং হারামের মাধ্যমে পৃথক করেছেন তা ব্যতীত। সুতরাং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা এবং আমাদের ওপর তাঁরই শ্রবণ ও আনুগত্য অপরিহার্য। আর তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের জন্য এর পূর্ণতা স্বরূপ মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর নিজ কওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যেন তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারেন।" (ইবরাহিম: ৪)। এটি হলো বর্ণনার স্তরসমূহের মধ্যে তৃতীয় স্তর।
এবং চতুর্থ প্রকার: এটি এমন কিছু সংকেত যা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যার মূল ভিত্তি হলো অন্তরে স্থির হওয়া পূর্বোক্ত বর্ণনাকে বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন রেখার মাধ্যমে অঙ্কন করা, যার রঙ যে বস্তুর ওপর লেখা হচ্ছে তার রঙ থেকে আলাদা হয়। এটি পূর্বে বর্ণিত শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃত। একে 'কিতাব' (লিখন) বলা হয়, হাত একে রূপদান করে যা এর জন্য একটি যন্ত্র স্বরূপ। এর মাধ্যমে লেখকের আত্মা যা স্পষ্ট হয়েছে তা সেই আত্মার কাছে পৌঁছে দেয় যাকে সে তার উপলব্ধিতে অংশীদার করতে চায়, অতঃপর চক্ষু তা সেখানে পৌঁছে দেয় যা এর জন্য একটি মাধ্যম। আর এই মাধ্যমটি সুদূর দিগন্তে এবং বিভিন্ন দূরত্বে পৌঁছাতে সক্ষম যেখানে শব্দ নামক বায়ু পৌঁছানোর আগেই মিলিয়ে যায়। আর এর মাধ্যমে নিকটবর্তী প্রতিবেশী যাকে জানাতে চায় না তাকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে সংবাদ পৌঁছানো সম্ভব হয়। যদি এই মাধ্যমটি না থাকত, তবে যুগ যুগ ধরে মৃত ব্যক্তিদের হিকমত ও প্রজ্ঞা আমাদের নিকট পৌঁছাত না, আর আমরা বিগত সময়ের চলে যাওয়া মানুষদের জ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারতাম না, এবং অতীত জাতি ও গত হয়ে যাওয়া প্রজন্মগুলোর সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছাত না। এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা বিষয় স্পষ্ট করে কিন্তু তা সাধারণ নয়। তন্মধ্যে রয়েছে: শুধুমাত্র হাতের মাধ্যমে ইশারা, চোখের মাধ্যমে ইশারা বা শরীরের কোনো অঙ্গের মাধ্যমে ইশারা। আবার স্বাদের মাধ্যমেও বর্ণনা প্রদান করা সম্ভব হতে পারে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো অন্ধ ব্যক্তি যার মাধ্যমে উপস্থিত ব্যক্তির নিকট বর্ণনা লাভ করে, যা ইশারাকারীর সাথে তার পূর্ব নির্ধারিত সম্মতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এটি হলো বর্ণনার চতুর্থ স্তর [৩-পৃষ্ঠা], কারণ নির্ধারিত শব্দের মাধ্যমে সেই রেখাগুলোকে আলাদা করার ব্যাপারে একমত হওয়া ছাড়া লিখনের কোনো পথ নেই। এটি এমন এক বিরল বিষয় যা অনুধাবনে জ্ঞানসমূহ অক্ষম হয়েছে। আর অনাদি এক সত্য স্রষ্টা কোনো আবশ্যিক কারণ ছাড়াই এর ব্যবস্থাপনা ও উদ্ভাবনে একক সত্তা হিসেবে অদ্বিতীয়, তবে তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তাঁর হুকুমকে রদ করার কেউ নেই এবং তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। আর এর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি তার যথাযথ ব্যবহার এবং অনাদি এক সত্য স্রষ্টার জন্য শক্তি, ক্ষমতা ও জ্ঞানের স্বীকৃতি প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وانه مباين لخلقه في جميع صفاتهم.
وبعد:
فان من سلف من الحكماء، قبل زماننا، جمعوا كتبا رتبوا فيها فروق وقوع المسميات تحت الأسماء التي اتفقت جميع الأمم في معانيها، وان اختلفت في أسمائها التي يقع بها التعبير عنها، إذ الطبيعة واحدة، والاختيار مختلف شتى، ورتبوا كيف يقوم بيان المعلومات من تراكيب هذه الاسماء، وما يصح من ذلك وما لا يصح، وتقفوا هذه الأمور، فحدوا في ذلك حدودا ورفعوا الاشكال، فنفع الله تعالى بها منفعة عظيمة، وقربت بعيدا، وسهلت صعبا، وذللت عزيزا [في] إرادة الحقائق، فمنها كتب أرسطاطاليس الثمانية المجموعة في حدود المنطق. ونحن نقول قول من يرغب إلى خالقه الواحد الأول في تسديده وعصمته، ولا يجعل لنفسه حولا ولا قوة الا به، ولا علم الا ما علمه: إن من البر الذي نأمل أن نغبط به عند ربنا تعالى بيان تلك الكتب لعظيم فائدتها فانا رأينا الناس فيها على ضروب أربعة: الثلاثة منها خطأ بشيع وجوز شنيع، والرابع حق مهجور، وصواب مغمور، وعلم مظلوم؛ ونصر المظلوم فرض وأجر.
فأحد الضروب الأربعة قوم حكموا على تلك الكتب بانها محتوية على الكفر وناصرة للإلحاد، دون ان يقفوا على معانيها أو يطالعوها بالقراءة. هذا وهم يتلون قول الله عز وجل، وهم المقصودون به إذ يقول تعالى: {ولا تقف ما ليس لك به علم، لإن السمع والبصر والفؤاد كل أولئك كان عنه مسؤولا} . (36 الاسراء: 17) وقوله تعالى: {ها أنتم أولاء حاججتم فيما لكم به علم فلم تحاجون فيما ليس لكم به علم} (66 آل عمران 3) وقوله تعالى: {قل هاتوا برهانكم ان كنتم صادقين} (64 النمل: 27) فرأينا من الأجر الجزيل العظيم في هذه الطائفة إزالة هذا الباطل من نفوسهم الجائرة الحاكمة قبل التثبيت، القابلة دون علم، القاطعة دون برهان، [4و] ورفع المأثم الكبير عنهم بإيقاعهم هذا الظن الفاسد على قوم برآء ذوي ساحة سالمة وبشرة نقية وأديم أملس مما
এবং তিনি তাঁর সকল গুণাবলিতে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।
অত:পর:
আমাদের সময়ের পূর্ববর্তী প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ (হাকিমগণ) এমন কিছু গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন যেখানে তারা বিভিন্ন সংজ্ঞার বিপরীতে নামের প্রয়োগের পার্থক্যের বিন্যাস করেছিলেন। সকল জাতি এগুলোর অর্থের ব্যাপারে একমত হলেও এগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নামের ক্ষেত্রে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছে; কারণ প্রকৃতি অভিন্ন হলেও মানুষের নির্বাচন বা প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। তারা আরও বিন্যস্ত করেছেন কীভাবে এই নামগুলোর সংমিশ্রণে তথ্যের বর্ণনা গঠিত হয়, এবং এর মধ্যে কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল। তারা এই বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করেছেন এবং এর কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন ও জটিলতা দূর করেছেন। মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে প্রভূত উপকার দান করেছেন; এটি দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করেছে, কঠিনকে সহজ করেছে এবং সত্যের অন্বেষণে দুর্লভ বিষয়কে সহজসাধ্য করেছে। এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো এরিস্টটলের আটটি গ্রন্থ যা যুক্তিবিদ্যার (মানতিক) সীমানার অন্তর্ভুক্ত। আমরা সেই ব্যক্তির ন্যায় বলছি যিনি তাঁর অদ্বিতীয় ও আদি স্রষ্টার কাছে সঠিক পথ ও সুরক্ষার প্রার্থনা করেন এবং নিজের জন্য তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য সাব্যস্ত করেন না, আর তিনি যা শিখিয়েছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো জ্ঞান নেই: আমাদের প্রতিপালক তাআলার কাছে আমরা যে পুণ্য ও মঙ্গলের আশা করি, তার মধ্যে একটি হলো ওই গ্রন্থগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা; কারণ সেগুলোর উপকারিতা অনেক। আমরা এসকল গ্রন্থের বিষয়ে মানুষকে চার ভাগে বিভক্ত হতে দেখেছি: তাদের মধ্যে তিনটি দল জঘন্য ভুল এবং কুৎসিত অনাচারে লিপ্ত, আর চতুর্থ দলটি হলো পরিত্যক্ত সত্য, লুকায়িত সঠিক পথ এবং মজলুম জ্ঞান; আর মজলুমের সাহায্য করা তো একটি ফরজ কাজ এবং সওয়াবের বিষয়।
এই চার শ্রেণীর মধ্যে এক দল হলো তারা যারা ওই গ্রন্থগুলোর মর্মার্থ না বুঝে বা সেগুলো পাঠ না করেই রায় দিয়ে দিয়েছে যে, এগুলো কুফরি ধারণায় পূর্ণ এবং নাস্তিকতার সহায়ক। এমতাবস্থায় তারা মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করে, অথচ তারাই এর লক্ষ্যবস্তু যখন মহান আল্লাহ বলেন: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।} (সুরা আল-ইসরা: ৩৬) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {শোনো, তোমরা তো সেই সব লোক যারা ওই বিষয়ে বিতর্ক করেছিলে যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল, কিন্তু এখন কেন এমন বিষয়ে বিতর্ক করছ যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?} (সুরা আলে ইমরান: ৬৬) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তোমাদের দলিল পেশ করো।} (সুরা আন-নামল: ৬৪) তাই আমরা এই শ্রেণির লোকদের ক্ষেত্রে এক মহান ও বিশাল সওয়াবের কাজ মনে করেছি যে, সত্য যাচাইয়ের পূর্বে হঠকারিতা প্রদর্শনকারী, কোনো জ্ঞান ছাড়াই গ্রহণকারী এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফয়সালা প্রদানকারী নফস থেকে এই বাতিল ধারণাকে দূরীভূত করা। সেই সাথে তাদের ওপর থেকে সেই মহাপাপের বোঝা সরিয়ে দেওয়া, যা তারা এমন এক নির্দোষ সম্প্রদায়ের ওপর এই ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করার মাধ্যমে অর্জন করেছে যাদের চরিত্র স্বচ্ছ, অন্তর পবিত্র এবং তারা এমন সব দোষ থেকে মুক্ত যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قرفوهم به. وقد قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم، الواسطة بيننا وبين الواحد الأول: " من قال لاخيه يا كافر فقد باء بها احدهما " فنحن نرجو من خالقنا أن نكون ممن يضرب لنا في كشف هذه الغمة بنصيب وافر به حدا يوم فقرنا إلى الحسنات وحاجتنا إلى النجاة بأنفسنا مما يقع فيه الآثمون، ييسرنا لسنة حسنة نشارك من تصرف بعدها ما كنا السبب في علمه إباه، دون أجره، دون ان ينقص من أجره شيء، فهكذا وعدنا الخالق الأول على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم فهؤلاء ضرب.
والضرب الثاني: قوم يعدون هذه الكتب هذيانا من المنطق وهذرا من القول وبالجملة فاكثر الناس سراع إلى معاداة ما جهلوه وذم ما لم يعلموه، وهو كما قال الصادق عليه السلام: " الناس كأبل مائة لا تجد فيها راحلة " فرأينا أيضاً أن من وجوه البر إفهام من جهل هذا المقدار الذي نصصنا الذي فضله اولا، ولعمري ما ذلك بقليل إذ بالعلم بهذا المعنى ننأى عن البهائم وفهمنا مراد الباري عز وجل في خطابه إيانا.
والضرب الثالث: قوم قرأوا هذه الكتب المذكورة بعقول مدخولة واهواء مؤوفة وبصائر غير سليمة، وقد اشربت قلوبهم حب الاسنخفاف واستلانوا مركب العجز واستوبأوا نقل الشرع وقبلوا قول الجهال فوسموا انفسهم بفهمها، وهم أبعد الناس عنها وأناهم عن درايتها، وكان ما ذكرنا زائدا في تلبيس هذه الكتب ومنفرا عنها فقوي رجاؤها في اننا في بيان ما نبينه منها يكون السبب في هداية من سبقت له الهداية في علم الله عز وجل، فيفوز بالحظ الاعلى ويحوز القسم الاسنى ان شاء الله عز وجل. ولم نجد احدا قبلنا أنتدب لهذا فرجونا ثواب الله عز وجل في ذلك.
والضرب الرابع: قوم نظروا بأذهان صافية وأفكار نقية من الميل وعقول سليمة فاستناروا بها ووقفوا على اغراضها فاهتدوا بمنارها وثبت التوحيد عندهم ببراهين ضرورية لا محيد عنها، وشاهدوا انقسام المخلوقات وتأثير الخالق فيها وتدبيره إياها، ووجدوا هذه الكتب الفاضلة كالفريق الصالح والخدين الناصح
তারা তাদের এর দ্বারা অভিযুক্ত করেছে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি আমাদের এবং একক আদি সত্তার মধ্যে মাধ্যম, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইকে 'হে কাফের' বলল, তবে তাদের দুজনের মধ্যে একজন অবশ্যই এর ভাগী হবে।" সুতরাং আমরা আমাদের স্রষ্টার কাছে আশা রাখি যে, আমরা যেন এই বিপদ দূর করার ক্ষেত্রে একটি বড় অংশের অধিকারী হতে পারি, বিশেষত সেই দিনে যখন আমরা নেক আমলের মুখাপেক্ষী থাকব এবং পাপাচারীরা যে বিপদে নিপতিত হয় তা থেকে আত্মরক্ষার প্রয়োজন হবে। তিনি যেন আমাদের একটি উত্তম সুন্নাহর (রীতি) জন্য সহজ করে দেন যাতে আমরা তাদের সাথে অংশীদার হতে পারি যারা পরবর্তীতে এর ওপর আমল করবে, কারণ আমরাই ছিলাম তাদের তা জানানোর মাধ্যম; এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস না করেই আমাদের সওয়াব দান করবেন। এভাবেই আদি স্রষ্টা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; সুতরাং এরা হচ্ছে এক প্রকার।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন এক দল যারা এই কিতাবগুলোকে যুক্তিশাস্ত্রের প্রলাপ এবং অসার বাক্য মনে করে। মোটের ওপর, অধিকাংশ মানুষ যা জানে না তার সাথে শত্রুতা করতে এবং যা তারা বোঝে না তার নিন্দা করতে দ্রুত ধাবিত হয়। এটি তেমনই যেমন সত্যবাদী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "মানুষ হচ্ছে সেই একশ উটের মতো যার মধ্যে কোনো আরোহণের যোগ্য উট খুঁজে পাওয়া যায় না।" তাই আমরা আরও মনে করলাম যে, সৎকর্মের একটি দিক হলো যে ব্যক্তি এই পরিমাণ জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ যা আমরা উল্লেখ করেছি এবং যার শ্রেষ্ঠত্ব প্রথমে বর্ণনা করেছি, তাকে তা অনুধাবন করানো। আমার জীবনের শপথ, এটি সামান্য বিষয় নয়; কেননা এই অর্থের জ্ঞানের মাধ্যমেই আমরা চতুষ্পদ জন্তু থেকে আলাদা হতে পারি এবং আমাদের প্রতি মহান স্রষ্টার (মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) সম্বোধনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারি।
তৃতীয় প্রকার: এমন এক দল যারা এই কিতাবগুলো পাঠ করেছে বিকৃত মস্তিস্ক, ত্রুটিযুক্ত প্রবৃত্তি এবং অস্বচ্ছ অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে। তাদের অন্তরে অবজ্ঞার ভালোবাসা মিশে গেছে, তারা অক্ষমতাকে সহজ মনে করেছে, শরীয়তের বর্ণনাকে অস্বাস্থ্যকর জ্ঞান করেছে এবং মূর্খদের কথা গ্রহণ করেছে। ফলে তারা এই কিতাবগুলো বোঝার দাবি করে নিজেদের চিহ্নিত করেছে, অথচ তারা এ থেকে সবচেয়ে দূরে এবং এর উপলব্ধিতে সবচেয়ে পিছিয়ে। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা এই কিতাবগুলোর ওপর আবিলতা বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং এগুলো থেকে মানুষকে বিমুখ করেছিল। ফলে আমাদের আশা সুদৃঢ় হলো যে, আমরা এ থেকে যা ব্যাখ্যা করছি তা যেন আল্লাহর (মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) জ্ঞানে যাদের জন্য হেদায়েত পূর্বনির্ধারিত হয়ে আছে তাদের হেদায়েতের কারণ হয়। এর ফলে সে সর্বোচ্চ সৌভাগ্য লাভ করবে এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ হাসিল করবে। আমরা আমাদের আগে কাউকে এ কাজের জন্য প্রস্তুত হতে দেখিনি, তাই আমরা এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কাছে সওয়াব আশা করছি।
চতুর্থ প্রকার: এমন এক দল যারা স্বচ্ছ মেধা, পক্ষপাতমুক্ত নির্মল চিন্তা এবং সুস্থ বুদ্ধি দিয়ে কিতাবগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেছে। ফলে তারা এর দ্বারা আলোকিত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে পেরেছে। তারা এর আলোকবর্তিকার মাধ্যমে পথ খুঁজে পেয়েছে এবং অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের কাছে তাওহীদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেখান থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা মাখলুকাতের বিভাজন, তাদের ওপর স্রষ্টার প্রভাব এবং তাদের ওপর তাঁর পরিচালনা প্রত্যক্ষ করেছে। তারা এই শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোকে একজন সৎ সঙ্গী এবং হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধুর মতো পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
والصديق المخلص [4ظ] الذي لا يسلم عند شدة ولا يفتقده صاحبه في ضيق إلا وجده معه. فلم يسلكوا شعبا من شعاب العلوم الا وجدوا منفعة الكتب امامهم ومعهم، ولا طلعوا ثنية من ثنايا المعارف الا أحسوا بفائدتها غير مفارقة لهم، بل ألفوها لهم كل مستغلق، وتليح لهم كل غامض في جميع العلوم، فكانت لهم للصير في، والاشياء التي فيها الخواص لتجلية مخصوصاتها. فلما نظرنا في ذلك وجدنا بعض الآفات الداعية إلى البلايا التي ذكرنا، تعقيد الترجمة فيها وايرادها بالفاظ غير عامية ولا فاشية الاستعمال، وليس كل فهم تصلح له كل عبارة، فتقربنا إلى الله عز وجل بان نورد معاني هذه بالفاظ سهلة سبطة يستوي ان شاء الله في فهمها العامي والخاصي والعالم والجاهل حسب إدراكها وما منحنا خالقنا تبارك وتعالى من القوة والتصرف. وكان السبب الذي حدا من سلف من المترجمين إلى إغماض الألفاظ وتوعيرها وتخشين المسلك نحوها، الشح منهم بالعلم والضن به.
ولقد يقع لنا أن طلاب العلم يومئذ والراغبين فيه كانوا كثيرا ذوي حرص قوي، فأما الآن وقد زهد الناس فيه، إلى ايذاء اهله وذعرهم ومطالبتهم والنيل منهم ولم يقنع بان يترك وجهله، بل صار داعية إليه وناهيا عن العلم بفعله وقوله، وصاروا كما قال حبيب بن أوس الطائي في وصفهم:
غدوا وكأن الجهل يجمعهم به
… أب وذوو الأدب فيهم نوافل فان الحظ لمن آثر العلم فضله، أن يسهله جهده، ويقربه بقدر طاقته، ويخففه ما أمكن. بل لو أمكن أن يهتف به على قوارع طرق المارة، ويدعو إليه في شوارع السابلة، وينادي عليه في مجامع السيارة، بل لو تيسر له أن يهب المال لطلابه، ويجزي الأجور لمقتنيه، ويعظم الاجعال عليه للباحثين عنه، ويسني مراتب أهله، صابرا في ذلك على المشقة والأذى، لكان ذلك حظا
এবং খাঁটি বন্ধু [৪ পৃষ্ঠার উল্টো পিঠ] যে বিপদের সময় ত্যাগ করে না এবং তার সাথী সংকটের সময় তাকে খুঁজলেই সাথে পায়। তারা বিজ্ঞানের কোনো পথেই বিচরণ করুক না কেন, তারা বইয়ের উপকারিতাকে সর্বদা তাদের সামনে ও সাথে পেয়েছে। আর তারা তত্ত্বজ্ঞানের কোনো উচ্চ শিখরেই আরোহণ করুক না কেন, তারা এর সুফলকে নিজেদের থেকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে অনুভব করেছে। বরং বই তাদের জন্য প্রতিটি রুদ্ধ দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং সমস্ত বিজ্ঞানের প্রতিটি অস্পষ্ট বিষয়কে তাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলেছে। সুতরাং এই বইগুলো ছিল তাদের জন্য পরখকারী স্বরূপ, যা নিগূঢ় বিষয়গুলোর বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। যখন আমরা এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলাম, তখন আমরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিপদসমূহের কারণ হিসেবে কিছু ত্রুটি দেখতে পেলাম; আর তা হলো অনুবাদের জটিলতা এবং এমন সব শব্দের ব্যবহার যা সাধারণ নয় এবং যা লোকসমাজে প্রচলিত নয়। আর সব ধরনের বোধশক্তির জন্য সব ধরনের প্রকাশভঙ্গি উপযুক্ত হয় না। তাই আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই বিষয়গুলোর অর্থ সহজ ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেছি, যাতে আল্লাহ চাহেন তো সাধারণ ও অসাধারণ, জ্ঞানী ও মূর্খ সকলেই তাদের নিজস্ব অনুধাবন ক্ষমতা এবং আমাদের স্রষ্টা বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ আমাদের যে শক্তি ও দক্ষতা দান করেছেন সে অনুযায়ী তা বোঝার ক্ষেত্রে সমান হয়। আর পূর্ববর্তী অনুবাদকদের শব্দসমূহকে অস্পষ্ট, দুর্গম ও কর্কশ করার কারণ ছিল জ্ঞানের প্রতি তাদের কৃপণতা ও সংকীর্ণমনা ভাব।
আমাদের কাছে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সেই যুগের জ্ঞান অন্বেষণকারী ও জ্ঞানপিপাসুরা অত্যন্ত দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার অধিকারী ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ জ্ঞানের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছে, এমনকি তারা জ্ঞানীদের কষ্ট দেওয়া, আতঙ্কিত করা, তাদের থেকে কৈফিয়ত তলব করা এবং তাদের মর্যাদা হানি করার পর্যায়ে চলে গিয়েছে। সে যে কেবল তার মূর্খতা নিয়ে সন্তুষ্ট থেকেছে তা নয়, বরং সে নিজের কাজ ও কথার মাধ্যমে মূর্খতার দিকে আহ্বানকারী এবং জ্ঞান অর্জনে বাধাদানকারী হয়ে উঠেছে। তাদের অবস্থা ঠিক তেমনই হয়েছে যেমনটি হাবিব ইবনে আওস আত-তাঈ তাদের বর্ণনায় বলেছেন:
তারা এমনভাবে সকাল অতিবাহিত করে যেন মূর্খতা তাদের একত্রিত করেছে
… যেন পিতা এবং শিষ্টাচারী ব্যক্তিরা তাদের মধ্যে অতিরিক্ত বোঝা। সুতরাং যে ব্যক্তি জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রাধান্য দেয় তার জন্য করণীয় হলো সে যেন নিজ প্রচেষ্টায় একে সহজ করে দেয়, নিজের সাধ্যমতো একে মানুষের নিকটবর্তী করে এবং যতটা সম্ভব একে সাবলীল করে তোলে। বরং যদি সম্ভব হতো তবে জনাকীর্ণ রাজপথে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে জ্ঞানের ঘোষণা দেওয়া হতো, পথচারীদের যাতায়াতের রাস্তায় এর দিকে আহ্বান জানানো হতো এবং ভ্রাম্যমাণ কাফেলাগুলোর সমাবেশে এর জন্য উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করা হতো। এমনকি যদি সম্ভব হতো তবে তিনি জ্ঞান অন্বেষণকারীদের সম্পদ দান করতেন, যারা তা অর্জন করে তাদের পারিশ্রমিক দিতেন, যারা এর অনুসন্ধান করে তাদের জন্য বড় পুরস্কারের ব্যবস্থা করতেন এবং জ্ঞানীদের মর্যাদা সুউচ্চ করতেন—আর এই পথে যাবতীয় কষ্ট ও যাতনার ওপর ধৈর্য ধারণ করতেন, তবে সেটিই হতো পরম সৌভাগ্যের বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
جزيلا وعملا جيدا وسعيا مشكورا كريما واحياء للعلم؛ والا فقد درس وبلي وخفي، إلا تحلة القسم، ولم يبق منه الا آثار لطيفة وأعلام دائرة والله المستعان. ورأينا هذه الكتب كالدواء القوي، إن تناوله ذو الصحة والمستحكمة، والطبيعة السالمة، والتركيب الوثيق، والمزاج الجيد، انتفع به وصفى بنيته وأذهب اخلاطه [5و] وقوى حواسه، وعدل كيفياته؛ وان تناوله العليل المضطرب المزاج، الواهي التركيب، أتى عليه، وزاده بلاء وربما أهلكه وقتله. وكذلك هذه الكتب إذا تناولها ذو العقل الذكي والفهم القوي لم يعدم اين تقلب وكيف تصرف منها نفعا جليلا وهديا منيرا وبيانا لائحا وتنجحا في كل علم تناوله وخيرا في حينه ودنياه وان اخذها ذو العقل السخيف ابطلته وذو الفهم الكليل بلدته وحيرته؛ فليتناول كل امرئ حسب طاقته. وما توفيقنا إلا بالله عز وجل. ولا ينذعر قارئ كتابنا هذا من هذا الفعل، فيكع راجعا، ويجفل هاربا، ويرجع من هذه الثنية ثانيا من عنانه، فانا نقول قولا ينصره البرهان، ونقضي قضية يعضدها العيان: إن اقواما ضعف عقولهم عن فهم القرآن فتناولوه باهواء جائرة، وافكار مشغولة، وافهام مشوبة فما لبثوا أن عاجوا عن الطريقة، وحادوا عن الحقيقة: فمن مستحل دم الامة، ومن نازع إلى بعض فجاج الكفر، ومن قائل على الله عز وجل ما لم يقل. وقد كر الله عز وجل وحيه وكلامه فقال: {يضل به كثيرا ويهدي به كثيرا، وما يضل به الا الفاسقين} (26 البقرة: 2) وهكذا كل من تناول شيئا على غير وجهه، أو هو غير مطيق له، وبالله تعالى نستعين.
وليعلم من قرأ كتابنا هذا ان منفعة هذه الكتب ليست في علم واحد فقط بل كل علم، فمنفعتها في كتاب الله عز وجل، وحديث نبيه، صلى الله عليه وسلم وفي الفتيا في الحلال والحرام، والواجب والمباح، من أعظم منفعة. وجملة ذلك في فهم الاشياء التي نص الله تعالى ورسوله، صلى الله عليه وسلم، عليها وما تحتوي عليها من المعاني التي تقع عليها الاحكام وما يخرج عنها من المسميات، وانتسابها تحت الاحكام على حسب ذلك
বিপুল পরিমাণ, উত্তম আমল, প্রশংসিত ও সম্মানিত প্রচেষ্টা এবং ইলম বা জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করার নিমিত্তে; অন্যথায় তা তো জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং প্রচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল—সামান্য অবশিষ্টাংশ ছাড়া। এখন এর কিছু সূক্ষ্ম চিহ্ন ও ঘূর্ণায়মান নিশান ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমরা এই বইগুলোকে শক্তিশালী ওষুধের মতো মনে করি। যদি কোনো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, সুস্থ প্রকৃতি, সুদৃঢ় শারীরিক গঠন এবং উত্তম মেজাজের ব্যক্তি তা গ্রহণ করে, তবে সে এর দ্বারা উপকৃত হবে, তার অভ্যন্তরীণ গঠনকে নির্মল করবে, তার শরীরের দূষিত রসসমূহ দূর করবে [৫ও], তার ইন্দ্রিয়গুলোকে শক্তিশালী করবে এবং তার গুণাবলিকে ভারসাম্যপূর্ণ করবে। কিন্তু যদি কোনো অসুস্থ, অস্থির মেজাজের এবং দুর্বল গঠনের ব্যক্তি তা গ্রহণ করে, তবে তা তাকে পরাভূত করবে, তার কষ্ট বাড়িয়ে দেবে এবং সম্ভবত তাকে ধ্বংস বা হত্যা করবে। একইভাবে এই বইগুলো যখন কোনো প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন এবং শক্তিশালী বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি পাঠ করবে, তখন সে এর যে দিকেই ফিরে তাকাক বা এটি নিয়ে যেভাবে নাড়াচাড়া করুক না কেন, সে এর থেকে মহান উপকার, এক উজ্জ্বল হেদায়েত, সুস্পষ্ট বর্ণনা, তার অধীত প্রতিটি বিদ্যায় সফলতা এবং তার ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে কল্যাণ অর্জন থেকে বঞ্চিত হবে না। কিন্তু যদি কোনো স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি তা গ্রহণ করে তবে তা তাকে অকেজো করে দেবে, আর স্থবির বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিকে তা নির্বোধ ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে। সুতরাং প্রত্যেকের উচিত তার সাধ্যানুসারে তা গ্রহণ করা। আর আমাদের তাওফিক তো কেবল মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আমাদের এই বইয়ের পাঠকের উচিত হবে না এই কর্ম দেখে ভীত হওয়া, বা ভয়ে পিছিয়ে যাওয়া, বা পালিয়ে যাওয়া, কিংবা এই গিরিপথ থেকে তার লাগাম ফিরিয়ে নিয়ে ফিরে যাওয়া। কারণ আমরা এমন কথা বলছি যা দলিল দ্বারা সমর্থিত এবং আমরা এমন ফয়সালা দিচ্ছি যা চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা দ্বারা পুষ্ট। নিশ্চয়ই এমন কিছু সম্প্রদায় আছে যাদের বুদ্ধি কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে, ফলে তারা একে অন্যায্য প্রবৃত্তি, বিভ্রান্ত চিন্তা এবং কলুষিত উপলব্ধির সাথে গ্রহণ করেছে। ফলস্বরূপ তারা শীঘ্রই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সত্য থেকে সরে গিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ উম্মাহর রক্তপাতকে বৈধ মনে করেছে, কেউ কুফরের কোনো পথের দিকে ধাবিত হয়েছে, আর কেউ আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলেছে যা তিনি বলেননি। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর ওহি এবং বাণী সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন: "এর মাধ্যমে তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হেদায়েত দান করেন, আর কেবল পাপাচারী ছাড়া কাউকে তিনি এর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করেন না।" (সূরা বাকারাহ: ২৬)। একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে তার সঠিক নিয়ম ব্যতীত গ্রহণ করে অথবা সে তার জন্য সক্ষম নয়, (তবে সে পথভ্রষ্ট হয়)। আর আমরা কেবল মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
আমাদের এই বই যে পাঠ করবে সে যেন জেনে নেয় যে, এই বইগুলোর উপকারিতা কেবল একটি শাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিটি শাস্ত্রেই এর উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিস এবং হালাল-হারাম, ওয়াজিব ও মুবাহ বিষয়ক ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা অত্যন্ত মহান। এর সারকথা হলো সেই বিষয়গুলো বুঝতে পারা যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই অর্থসমূহ উপলব্ধি করা যেগুলোর ওপর বিধানসমূহ বর্তায় এবং যে নামগুলো এর থেকে বের হয়ে আসে, এবং সেই অনুযায়ী বিধানসমূহের অধীনে এগুলোর বিন্যাস করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
والالفاظ التي تختلف عبارتها وتتفق معانيها. وليعلم العالمون ان من لم يفهم هذا القدر فقد بعد عن الفهم عن ربه تعالى وعن النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يجز له ان يفتي بين اثنين لجهله بحدود الكلام، وبناء بعضه على بعض، وتقديم المقدمات، وانتاجها النتائج التي يقوم بها البرهان وتصدق ابدا، أو يمييزها من المقدمات التي تصدق مرة وتكذب اخرى ولا ينبغي بها.
واما علم النظر بالآراء والديانات والاهواء والمقالات فلا غنى لصاحبه عن الوقوف على معاني هذه الكتب لما سنبينه من أبوابه إن شاء الله تعالى. وجملة ذلك معرفة ما يقوم بنفسه مما لا يقوم بنفسه، والحامل والمحمول، ووجوه الحمل في الشغب والاتباع، وغير ذلك.
فاما علم النحو واللغة والخبر وتمييز حقه من باطله والشعر والبلاغة والعروض [5ظ] فلها في جميع ذلك تصرف شديد وولوج لطيف وتكرر كثير ونفع ظاهر. فاما الطب والهندسة والنجوم فلا غنى لاهلها عنها أيضاً لتحقيق الاقسام والخلاص من الثلاثة الاشياء المشتركة وغير ذلك، مما ليس كتابنا هذا مكانا لذكره. وهذه جمل يستبينها من قرأ هذه الكتب وتمهر فيها وتمرن بها ثم نظر في شيء من العلوم التي ذكرنا وجد ما قلنا حقا، ولاحت له أعلامها في فجاجها وأغماضها تبدي له كل ما اختفى وبالله تعالى التوفيق.
وكتابنا هذا واقع من الانواع التي لا يؤلف أهل العلم والتمييز الصحيح إلا فيها تحت النوع الرابع، وهو شرح المستغلق، وهو المرتبة الرابعة من مراتب الشرف في التواليف. ولن نعدم، ان شاء الله، أن يكون فيها بيان تصحيح رأي فاسد يوشك أن يغلط فيه كثير من الناس وتنبيه على أمر غامض، واختصار لما ليست بطالب الحقائق إليه ضرورة، وجمع اشياء مفترقة مع الاستيعاب لكل ما يطالب البرهان إليه اقل حاجة، وترك حذف من ذلك البتة. والانواع التي ذكرنا سبعة لا ثامن لها: وهي إما شيء لم نسبق إلى استخراجه فنستخرجه؛ واما شيء ناقص فنتممه، واما شيء مخطأ فنصححه، واما شيء مستغلق فنشرحه، واما شيء طويل فنختصره، دون ان نحذف منه شيئا يخل حذفه إياه بغرضه
এবং সেই সকল শব্দ যার শব্দরূপ ভিন্ন কিন্তু অর্থ এক। আর আলিমগণের জানা উচিত যে, যে ব্যক্তি এই পরিমাণ বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হয়নি, সে তার মহান রব এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আসা বিষয়াদি অনুধাবন করা থেকে দূরে সরে গেছে। তার জন্য দুই ব্যক্তির মধ্যে ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয়; কারণ সে বক্তব্যের সীমানা, বক্তব্যের অংশসমূহের একে অপরের ওপর পারষ্পরিক নির্ভরশীলতা, ভূমিকা উপস্থাপন এবং তার মাধ্যমে এমন ফলাফল বের করা সম্পর্কে অজ্ঞ—যা দ্বারা অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যা সর্বদা সত্য হয়। অথবা সেই সকল ভূমিকা থেকে একে পৃথক করতেও সে অক্ষম যা কখনো সত্য হয় আবার কখনো মিথ্যা হয় এবং যা অনুসরণ করা অনুচিত।
আর মতামত, ধর্মতত্ত্ব, প্রবৃত্তিজাত চিন্তা ও বিভিন্ন মতবাদ সংক্রান্ত পর্যালোচনার জ্ঞানের ক্ষেত্রে এর অধিকারীর জন্য এই কিতাবগুলোর অর্থের ওপর অবগত হওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা এর অধ্যায়গুলোতে বর্ণনা করব। এর সারমর্ম হলো—যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল এবং যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় তা চেনা, ধারক ও ধৃত (বিষয় ও বিধেয়), এবং বিবাদ ও অনুসরণের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের দিকসমূহ ও অন্যান্য বিষয়াবলী।
পক্ষান্তরে নাহু, ভাষা, সংবাদ এবং এর সত্য-মিথ্যা নিরূপণ, কাব্য, অলঙ্কারশাস্ত্র ও ছন্দবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর ব্যাপক প্রভাব, সূক্ষ্ম প্রবেশাধিকার, অধিক পুনরাবৃত্তি ও সুস্পষ্ট উপযোগিতা রয়েছে। আর চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও এর পারদর্শীদের জন্য এগুলো অপরিহার্য; বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ নিশ্চিত করা এবং তিনটি সাধারণ বিষয় ও অন্যান্য জটিলতা থেকে নিষ্কৃতি লাভের জন্য, যা এই গ্রন্থে উল্লেখ করার স্থান নয়। এগুলি এমন কিছু মূলনীতি যা সেই ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে এই কিতাবগুলো পাঠ করবে, এতে দক্ষতা অর্জন করবে এবং অনুশীলন করবে; এরপর আমরা যে সকল বিজ্ঞানের কথা উল্লেখ করেছি তার কোনোটির দিকে দৃষ্টিপাত করলে সে আমাদের কথাকে সত্য হিসেবেই পাবে। তার সামনে এর নিদর্শনসমূহ এর প্রশস্ত পথ ও গূঢ় রহস্যে প্রতিভাত হবে এবং যা কিছু প্রচ্ছন্ন ছিল তা তার কাছে প্রকাশ পাবে। আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।
আর আমাদের এই গ্রন্থটি সেই সকল প্রকারের অন্তর্ভুক্ত যার অধীনে ইলম ও সঠিক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ চতুর্থ প্রকারের অধীনে গ্রন্থ রচনা করে থাকেন, আর তা হলো অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান। গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে মর্যাদার স্তরসমূহের মধ্যে এটি চতুর্থ স্তর। আমরা ইনশাআল্লাহ এতে কোনো ভ্রান্ত মতামতের সংশোধনের বর্ণনা দিতে বিমুখ হব না—যে ক্ষেত্রে বহু মানুষের ভুল করার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে কোনো জটিল বিষয়ে সতর্কতা প্রদান, সত্য অন্বেষণকারীর জন্য যা অপরিহার্য নয় তার সংক্ষিপ্তকরণ, এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলিকে একত্রে সন্নিবেশিত করা—যাতে প্রমাণের জন্য ন্যূনতম যা প্রয়োজন তার পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ ঘটে এবং তা থেকে কোনো কিছুই বর্জন করা না হয়। আর আমরা যে প্রকারগুলোর কথা উল্লেখ করেছি তা সাতটি, যার অষ্টম কোনো প্রকার নেই: হয় এমন কিছু যা পূর্বে কেউ উদ্ভাবন করেনি তাই আমরা তা উদ্ভাবন করি; অথবা কোনো অপূর্ণ বিষয় যাকে আমরা পূর্ণতা দান করি; অথবা কোনো ভুল বিষয় যা আমরা সংশোধন করি; অথবা কোনো অস্পষ্ট বিষয় যা আমরা ব্যাখ্যা করি; অথবা কোনো দীর্ঘ বিষয় যা আমরা সংক্ষিপ্ত করি, তবে তা থেকে এমন কিছু বর্জন করি না যা বর্জন করলে তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
واما شيء متفرق فنجمعه، واما شيء منثور فنرتبه. ثم المؤلفون يتفاضلون فيما عانوه من تواليفهم مما ذكرنا على قدر استيعابهم ما قصدوا أو يقصر بعضهم عن بعض، ولكل قسط من الاحسان والفضل والشكر والاجر، وان لم يتكلم الا في مسألة واحدة إذا لم يخرج عن الانواع التي ذكرنا في أي علم ألف. واما من اخذ تأليف غيره فاعاده على وجهه وقدم وأخر، دون تحسين رتبه، أو بدل ألفاظه دون أن يأتي بأبسط منها وأبين، أو حذف مما يحتاج إليه، أو اتى بما [لا] يحتاج إليه، أو نقض صوابا بخطأ، وأتى بما لا فائدة فيه، فإنما هذه أفعال أهل الجهل والغفلة، وأهل القحة والسخف فنعوذ بالله من ذلك.
[المدخل إلى المنطق أو ايساغوجي]
وهذا حين نبدأ، إن شاء الله عز وجل يحوله وقوته، فيما له قصدنا فنشرع في بيان المدخل إلى الكتب المذكورة، وهو المسمى باللغة اليونانية إيساغوجي. معنى إيساغوجي في اللغة اليونانية " المدخل " وهو خاصة من تأليف فرفوريوس الصوري. والكتب التي بعده من تأليف أرسطاطاليس معلم الاسكندر ومدبر مملكته، وبالله تعالى التوفيق، وبه نعتصم ونتأيد، لا إله إلا هو.
1 - الكلام في انقسام الاصوات المسموعة [6و]
جميع الاصوات الظاهرة من المصوتين فانها تنقسم قسمين: اما ان تدل على معنى، واما أن لا تدل على معنى. فالذي لا يدل على معنى لا وجه للاشتغال به لأنه لا يحصل لنا منه فائدة نفهمها؛ وطلب ما هذه صفته ليس من أفعال أهل العقول. وهذا مثل كل صوت سمعته لم تدر ما هو؛ ويدخل فيه أيضا الكلام الظاهر من المبرسمين والمجانين ومن جرى مجراهما. فان قال قائل: " فان هذا الكلام الذي ذكرت يدل على أن قائله لا يعقل أو أنه مريض "؛ قيل له وبالله تعالى التوفيق، انه يدلك [على] ذلك بمعناه. لكن لما فارق كلام أهل التمييز كان كالدليل على آفة بصاحبه. وأيضا فقد يظهر مثل هذا الكلام من حاك أو مجان، فلا يدل على أن صاحبه لا يعقل. فليس ما اعترض به هذا
আর যা কিছু বিচ্ছিন্ন তা আমরা একত্রিত করি, আর যা কিছু ছড়ানো ছিটানো তা আমরা বিন্যস্ত করি। অতঃপর লেখকগণ আমরা যা উল্লেখ করেছি তা রচনার ক্ষেত্রে তাদের পরিশ্রম অনুযায়ী একে অপরের থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন, যা তাদের উদ্দীষ্ট বিষয়ের অনুধাবন ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল; অথবা তাদের কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে থাকেন। আর প্রত্যেকের জন্যই ইহসান, শ্রেষ্ঠত্ব, কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিদানের অংশ রয়েছে, যদিও তিনি কেবল একটি মাসআলা নিয়েই আলোচনা করেন, যতক্ষণ না তিনি যেকোনো ইলম রচনার ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণিত প্রকারসমূহের বাইরে চলে যান। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অন্যের রচনা গ্রহণ করে এবং তা পূর্বাবস্থায় রেখে কেবল আগপিছ করে দেয়, এর বিন্যাসের কোনো উন্নতি ঘটানো ছাড়াই; অথবা এর শব্দাবলি পরিবর্তন করে অথচ তার চেয়ে সহজতর বা স্পষ্টতর কোনো শব্দ আনয়ন করে না; অথবা প্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দেয়, কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিষয় সংযোজন করে, অথবা কোনো সঠিক বিষয়কে ভুল দ্বারা নষ্ট করে দেয় এবং এমন কিছু নিয়ে আসে যাতে কোনো ফায়দা নেই; তবে এগুলো কেবল মূর্খ ও অসতর্ক এবং নির্লজ্জ ও নির্বোধদের কাজ। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
[মানতিকে প্রবেশের ভূমিকা বা ইসাগোজি]
আর এটিই সেই সময় যখন আমরা—আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর ইচ্ছা এবং তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যে—আমাদের উদ্দীষ্ট বিষয়ে শুরু করছি। সুতরাং আমরা উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের ভূমিকার বর্ণনায় প্রবৃত্ত হচ্ছি, যা গ্রিক ভাষায় ‘ইসাগোজি’ নামে অভিহিত। গ্রিক ভাষায় ‘ইসাগোজি’ শব্দের অর্থ হলো "ভূমিকা" এবং এটি বিশেষভাবে পোরফিরি অফ টায়ার-এর রচনা। আর এর পরবর্তী গ্রন্থসমূহ আলেকজান্ডারের শিক্ষক ও তাঁর সাম্রাজ্যের ব্যবস্থাপক এরিস্টটলের রচনা। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়, আমরা তাঁরই আশ্রয় গ্রহণ করি এবং তাঁরই মাধ্যমে শক্তিশালী হই। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।
১ - শ্রুত শব্দাবলির বিভাজন বিষয়ক আলোচনা [৬ ও]
শব্দকারীদের থেকে নির্গত সমস্ত প্রকাশ্য শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত: হয় তা কোনো অর্থের ওপর দলালত করে, অথবা তা কোনো অর্থের ওপর দলালত করে না। সুতরাং যা কোনো অর্থের ওপর দলালত করে না, তা নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই; কারণ তা থেকে আমরা বুঝতে পারি এমন কোনো উপকার অর্জিত হয় না। আর এমন গুণের অধিকারী বিষয় অনুসন্ধান করা বুদ্ধিমানদের কাজ নয়। এটি এমন প্রতিটি শব্দের মতো যা আপনি শুনেছেন কিন্তু তা কী তা জানেন না; আর এর মধ্যে প্রলাপ বককারী রোগী ও পাগল এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে প্রকাশ পাওয়া কথাবার্তাও অন্তর্ভুক্ত। যদি কেউ প্রশ্ন করে: "আপনি যে কথাবার্তার উল্লেখ করেছেন তা তো নির্দেশ করে যে, এর বক্তা নির্বোধ অথবা সে অসুস্থ"; তবে তাকে বলা হবে—আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়—যে, এটি তার অর্থের মাধ্যমেই আপনাকে সেদিকে নির্দেশ করে। কিন্তু যখন তা বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের কথাবার্তা থেকে পৃথক হয়ে যায়, তখন তা এর বক্তার ত্রুটির প্রমাণস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু, এ জাতীয় কথা কোনো অনুকরণকারী বা উন্মাদের থেকেও প্রকাশ পেতে পারে, যা নির্দেশ করে না যে তার বক্তা নির্বোধ। সুতরাং এই ব্যক্তি যা দিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছে তা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المعترض حقا. وهذا العلم إنما قصد به ما يكون حقا، وتخليصه مما قد يكون حقا وقد لا يكون. ثم نرجع فنقول ان الصوت الذي يدل على معنى ينقسم قسمين: إما أن يدل بالطبع واما أن يدل بالقصد فالذي يدل بالطبع هو كصوت الديك الذي يدل في الاغلب على السحر وكأصوات الطير الدالة على نحو ذلك وكأصوات البلارج والبرك والاوز والكلاب بالليل الدالة في الاغلب على انها رأت شخصا، وكأصوات السنانير في دعائها اولادها وسؤالها وعند طلبها السفاد وعند التضارب، وكل صوت تدل بطبعه على مصوته كالهدم ونقر النحاس وما اشبه ذلك من اصوات الحيوان غير الإنسان. فهذه إنما تدل على كل ما ذكرنا بالعادة المعهودة مما في شاهده تلك الاصوات، لا أنا نفهمها ما نتخاطب به فيما بيننا باللغات المتفق عليها بين الامم التي نتصرف بها في جميع مراداتنا. فهذه الاصوات التي ذكرناها لم نقصدها في كتابنا هذا إذ ليس يستفاد منها توقيف على علم ولا تعلم صناعة ولا افادة خبر وقع. واما الصوت الذي يدل بالقصد فهو الكلام الذي يتخاطب الناس به فيما بينهم ويتراسلون بالخطوط المعبرة عنه في كتبهم لايصال ما استقر في نفوسهم من عند بعضهم إلى بعض، وهذه التي عبر عنها الفيلسوف بأن " سماها الاصوات المنطقية الدالة ". فان شغب مشغب بما يظهر من بعض الحيوان غير الناطق من كلام مفهوم كالذي يعلمه الزرزور والببغاء والعقعق من حكاية كلام يدرى فيه قائم المعنى، فليس ذلك صحيحا ولا مقصودا به افهام معنى ولا يعد مما علم ولا يضعه موضعه ولكن يكرره كما يكرر سائر تغريده كما عوده. وكثير من الحيوان في طبيعته أن يصوت بحروف ما على رتبة ما، وذلك كله بخلاف كلام الإنسان [6 ظ] الذي يعبر به عن أنواع العلوم والصناعات والاخبار وجميع المرادات.
ثم نرجع فنقول: إن هذا القسم الذي ذكرنا أنه يدل بالقصد ينقسم قسمين:
প্রকৃত প্রতিবাদী। আর এই শাস্ত্রের মাধ্যমে কেবল সত্যেরই উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং সত্য হতে পারে ও না-ও হতে পারে এমন বিষয় থেকে সত্যকে পৃথক করাই এর লক্ষ্য। অতঃপর আমরা পুনরায় বলছি যে, অর্থ নির্দেশকারী শব্দ দুই প্রকার: হয় তা প্রকৃতিগতভাবে নির্দেশ করে অথবা অভিপ্রায়গতভাবে নির্দেশ করে। প্রকৃতিগতভাবে যা নির্দেশ করে তা হলো মোরগের ডাকের মতো যা সাধারণত শেষ রাতের ইঙ্গিত দেয়, এবং পাখিদের ডাকের মতো যা অনুরূপ বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়, এবং সারস, পানকৌড়ি, রাজহাঁস ও রাতে কুকুরের ডাকের মতো যা সাধারণত এই ইঙ্গিত দেয় যে তারা কোনো ব্যক্তিকে দেখেছে, এবং বিড়ালের ডাক যখন তারা তাদের সন্তানদের ডাকে, কোনো কিছু প্রার্থনা করে, প্রজননের ইচ্ছা করে অথবা লড়াইয়ের সময় শব্দ করে। আর এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বভাবগতভাবে তার উৎসের পরিচয় দেয়, যেমন কোনো কিছু ভেঙে পড়ার শব্দ, তামার পাত্রে আঘাতের শব্দ এবং মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীর অনুরূপ শব্দসমূহ। এগুলো কেবল আমাদের পরিচিত প্রথাগত অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর নির্দেশ করে, যা সেই শব্দসমূহ প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে জানা যায়; বিষয়টি এমন নয় যে আমরা এগুলোকে সেভাবে বুঝি যেভাবে আমরা নিজেদের মধ্যে জাতিসমূহের মাঝে স্বীকৃত ভাষার মাধ্যমে পরস্পর সম্বোধন করি এবং যার মাধ্যমে আমরা আমাদের যাবতীয় উদ্দেশ্য পরিচালনা করি। সুতরাং আমরা আমাদের এই কিতাবে এই শব্দসমূহ নিয়ে আলোচনার সংকল্প করিনি, কারণ এগুলো থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায় না, কোনো শিল্প শেখা যায় না এবং কোনো সংবাদও পাওয়া যায় না। আর যে শব্দ অভিপ্রায়গতভাবে নির্দেশ করে তা হলো সেই কথা যার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মধ্যে কথোপকথন চালায় এবং তাদের কিতাবসমূহে ব্যক্তকারী লিপির মাধ্যমে একে অপরের কাছে পত্রালাপ করে যাতে তাদের অন্তরে যা স্থির হয়েছে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। একেই দার্শনিক "যৌক্তিক নির্দেশক শব্দ" নামে অভিহিত করেছেন। যদি কোনো বিতর্ককারী এমন কিছু নির্বাক প্রাণীর মাধ্যমে বিতর্ক করতে চায় যাদের থেকে বোধগম্য কথা প্রকাশ পায়—যেমন শালিক, তোতাপাখি ও দোয়েল পাখি যা কথা অনুকরণ করে শেখে এবং যেখানে অর্থের অস্তিত্ব অনুভূত হয়—তবে তা সঠিক নয় এবং এর মাধ্যমে অর্থ বোঝানো উদ্দেশ্য নয়। একে জ্ঞান হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং সে (প্রাণীটি) একে যথাযথ স্থানে প্রয়োগও করে না; বরং সে এটি কেবল পুনরাবৃত্তি করে যেভাবে সে তার অভ্যস্ত গানের পুনরাবৃত্তি করে। অনেক প্রাণীর প্রকৃতিই এমন যে তারা নির্দিষ্ট ক্রমে কিছু ধ্বনি উচ্চারণ করে, তবে এসবই মানুষের কথার বিপরীত যা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান, শিল্প, সংবাদ এবং যাবতীয় উদ্দেশ্য ব্যক্ত করা হয়।
অতঃপর আমরা পুনরায় বলছি: আমরা যে প্রকারটি উল্লেখ করেছি যা অভিপ্রায়গতভাবে নির্দেশ করে, তা দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إما أن يدل على شخص واحد واما أن يدل على أكثر من شخص واحد.؟ فأما الذي يدل على شخص واحد فهو كقولنا زيد وعمرو وأمير المؤمنين والوزير وهذا الفرس وحمار خالد وما أشبه ذلك. فهذه إنما تعطينا إذا سمعنا الناطق ينطق بها الشخص الذي أراد الناطق وحده، لسنا نستفيد منه اكثر من ذلك وليس هذا الذي قصدنا الكلام عليه لان هذه الاسماء لا يضبط حدها من اسمها لفرق نذكره بعد هذا، ان شاء الله. واعلم ان كل مجتمع في العالم يوجد في العالم أجزاء مثله كثيرة، الا ان بعضها منحاز عن بعض فانا نسميه شخصا بالاتفاق منا كالرجل الواحد، والكلب الواحد، والجبل الواحد، وبياض الثوب الواحد، والحركة الوحدة وسائر كل انفرد عن غيره فإذا سمعتنا نذكر الشخص والاشخاص فهذا نريد.
زاما القسم الثاني: وهو الذي يدل على اكثر من واحد فهو كقولنا الناس والخيل والحمير والثياب والالوان وما اشبه ذلك. فان كل لفظة مما ذكرنا تدل إذا قلناها على اشخاص كثيرة العدد جدا. وقد تقوم مقام هذه الألفاظ أيضاً في اللغة العربية اسماء تقع على الجماعة كما ذكرنا، وتقع أيضاً على الواحد، الا ان حال المتكلم يبين عن مراده كقولك: " الإنسان " فان هذه اللفظة تدل على النوع كله، كقول الله عز وجل: {إن الإنسان لفي خسر] (2 العصر: 103) فإنما عنى جماعته ولد آدم صلى الله عليه وسلم وتقع أيضاً هذه اللفظة على واحد فتقول: أتأتي الإنسان الذي تعرف، وانت تريد غلامه أو زوجته أو واحد من الناس بعينه. وكذلك أيضاً في جميع الانواع فتقول " الفرس " فتعني كل فرس. الا ترى انك تقول: الفرس صهال، أو تقول " الفرس " لفرس واحد بعينه معهود، فإذا اردت رفع الاشكال اتيت بلفظ الجمع الموضوع له فقلت: الخيل أو الناس وما اشبه ذلك. فهذا القسم هو الذي قصدنا بالكلام عليه، ولوقوعه على جماعة احتجنا إلى البيان عنه تكلمنا لا على غيره من الاقسام التي ذكرنا قبل، لفرط الحاجة إلى ان تحد كل شخص واحد تحت هذه اللفظة بصفات وتوجد في جميعها
হয় তা একজন ব্যক্তি নির্দেশ করে অথবা একের অধিক ব্যক্তি নির্দেশ করে। যা একজন ব্যক্তি নির্দেশ করে, তার উদাহরণ হলো আমাদের বলা— জায়েদ, আমর, আমিরুল মুমিনিন, উজির, এই ঘোড়াটি, খালিদের গাধা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এগুলো যখন আমরা বক্তার মুখ থেকে শুনি, তখন তা শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে যাকে বক্তা উদ্দেশ্য করেছেন; এর চেয়ে বেশি কিছু আমরা তা থেকে লাভ করি না। আর এটি আমাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য নয়, কারণ এই নামগুলোর সংজ্ঞা কেবল নাম থেকে নির্ধারিত হয় না; এর কারণ আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ। জেনে রাখুন যে, জগতের প্রতিটি সমষ্টির মতো আরও অনেক অংশ জগতে বিদ্যমান রয়েছে, তবে এর কিছু অংশ অন্য অংশ থেকে পৃথক। আমরা সর্বসম্মতিক্রমে একে 'ব্যক্তি' বা 'একক সত্তা' বলে অভিহিত করি; যেমন— একজন মানুষ, একটি কুকুর, একটি পাহাড়, একটি কাপড়ের শুভ্রতা, একটি গতি এবং অন্য সব কিছু যা অন্য থেকে স্বতন্ত্র। সুতরাং আপনি যখন আমাদের 'ব্যক্তি' বা 'ব্যক্তিবর্গ' উল্লেখ করতে শুনবেন, তখন আমরা এটিই উদ্দেশ্য করি।
আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: যা একের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে; যেমন আমাদের বলা— মানুষ, ঘোড়াগুলো, গাধাগুলো, কাপড়গুলো, রঙগুলো এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। কারণ আমরা যে শব্দগুলো উল্লেখ করেছি, তার প্রতিটি উচ্চারণের সময় অত্যন্ত বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে। আরবি ভাষায় এই শব্দগুলোর পরিবর্তে এমন কিছু বিশেষ্যও ব্যবহৃত হতে পারে যা সমষ্টির ওপর আপতিত হয় যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, আবার তা এককের ওপরও আপতিত হয়। তবে বক্তার অবস্থাই তার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে দেয়; যেমন আপনার বলা— "মানুষ"; এই শব্দটি পুরো প্রজাতিকে নির্দেশ করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত} (সূরা আসর: ২), এখানে তিনি আদমের সন্তানদের (আলাইহিস সালাম) পুরো সমষ্টিকে বুঝিয়েছেন। আবার এই শব্দটি একক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনি বললেন: "তুমি কি সেই মানুষের কাছে আসছ যাকে তুমি চেনো?", অথচ আপনি এর দ্বারা তার গোলাম, তার স্ত্রী অথবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বোঝাচ্ছেন। একইভাবে সকল প্রজাতির ক্ষেত্রেও আপনি বলেন "ঘোড়া" এবং এর দ্বারা সকল ঘোড়াকে বোঝান। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি বলেন: "ঘোড়া হ্রেষা ধ্বনি করে", অথবা কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচিত ঘোড়ার ক্ষেত্রে বলেন "ঘোড়াটি"? যখন আপনি অস্পষ্টতা দূর করতে চান, তখন আপনি এর জন্য নির্ধারিত বহুবচন শব্দ ব্যবহার করেন এবং বলেন: "ঘোড়াগুলো" বা "মানুষগুলো" এবং এই জাতীয় শব্দ। এই প্রকারটিই আমাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। যেহেতু এটি একটি সমষ্টির ওপর আপতিত হয়, তাই আমাদের এটি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়েছে এবং আমরা এটি নিয়েই আলোচনা করছি, পূর্বে উল্লিখিত অন্যান্য প্রকার নিয়ে নয়। কারণ এই শব্দের অধীনে থাকা প্রতিটি একক সত্তাকে এমন সব বৈশিষ্ট্য দ্বারা সংজ্ঞায়িত করার প্রবল প্রয়োজন রয়েছে যা তাদের সবার মাঝে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولا توجد في سائر الاشخاص التي لا تقع عليها هذه اللفظة، تميزه مما سواه فانك تقدر ان تأتي بصفات توجد في كل ما يسمى جملا لا يخلو منها أصلاً ولا توجد البتة [7و] فيمن يسمى زيدا. فهذا هو الفرق الذي وعدنا بذكره آنفا ودعت الضرورة أيضاً إلى طلب هذه الفروق لاختلاف الاسماء في اللغات العربية والعجمية فاحتجنا إلى تقدير الصفات التي تتميز بها المسميات إذ المعاني في جميع اللغات واحدة لا تختلف وإنما تختلف الاسماء فقط. وايضا فان اللغة إما ان تضيق عن ان توقع على كل نوع اسما يفرد به واما انه لم يتهيأ ذلك للناس بالاتفاق أو أن الله عز وجل أعلم به. واكثر ذلك في الكيفيات فانك تجد صفرة النرجس صفرة، وصفرة الشمس صفرة، وصفرة الخيري صفرة، وصفرة الذهب صفرة، وهذه كلها ظاهرة التباين للعين وليس لكل واحد منها اسم يخصه يبين به مرادنا منها. وكذلك أيضاً كثير من انواع الحيوان كالمتولد في مناقع المياه وعفن الرطوبات حتى انواع الحشرات التي لا نعلم لها اسماء تخصها والاختلاف بين صفاتها مرئي معلوم، فلا بد من طلب صفات مفرقة يقع بها البيان لما نريده، ان شاء الله عز وجل، لا اله الا هو.
2 - الكلام على الاسماء التي تقع على جماعة أو اشخاص
قد نظر إلى القسم الذي قصدنا الكلام عليه فوجدناه قسمين: احدهما دال على جماعة الاشهاص دلالة لا تفارقها البتة، ولا ترتفع عنها الا بفسدها، وهذا القسم سماه الفيلسوف " ذاتيا " وشبهه بجزء من أجزاء ما هو فيه للزومه إياه، ونحن نقول إنه ألزم لما هو فيه من الجزء لسائر أجزائه. فان الجزء قد يذهب وتبقى سائر الاجزاء بحسبها كيد الإنسان تقع ويبقى إنسانا بحسه. وهذا اللفظ إن ذهبت الصفات التي من اجلها استحق الشيء المسمى أن يسمى بهذا الاسم بطل المسمى به جملة على ما نبينه بعد هذا، ان شاء الله عز وجل. والقسم الثاني دال على جماعة اشخاص دلالة قد تفارق ما هي فيه أو تتوهم مفارقتها له ولا يفسد بمفارقتها إياه. وهذا القسم سماه الفيلسوف " غيريا " للدليل الذي ذكرنا فيه.
ثم نظرنا إلى القسم الأول الذي قلنا انه يسمى ذاتيا فوجدناه ينقسم ثلاثة أقسام:
এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় না যার ওপর এই শব্দটি প্রযোজ্য হয় না, যা তাকে অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করে দেয়। কেননা আপনি এমন সব গুণাবলী উল্লেখ করতে সক্ষম যা ‘উট’ নামে অভিহিত প্রত্যেকটি প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান এবং তা থেকে মোটেও বিচ্যুত হয় না, আবার যা ‘যায়েদ’ নামে অভিহিত ব্যক্তির মধ্যে একেবারেই পাওয়া যায় না [৭ও]। এটাই হলো সেই পার্থক্য যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করার অঙ্গীকার করেছিলাম। আরবি ও অনারবি ভাষাসমূহে নামগুলোর ভিন্নতার কারণে এই পার্থক্যগুলো অনুসন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই আমাদের সেই গুণাবলীগুলো নির্ধারণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যার মাধ্যমে নামধারী বস্তুসমূহ পৃথক হয়; কারণ সকল ভাষায় অর্থসমূহ একই থাকে, তাতে কোনো ভিন্নতা নেই, কেবল নামগুলোতেই ভিন্নতা থাকে। অধিকন্তু, ভাষা হয়তো প্রতিটি প্রকারের জন্য আলাদা নাম নির্ধারণ করতে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, অথবা মানুষের মাঝে এ ব্যাপারে কোনো ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব হয়নি, কিংবা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। এর অধিকাংশ উদাহরণ পাওয়া যায় গুণগত অবস্থাগুলোর (কায়ফিয়াত) ক্ষেত্রে। কেননা আপনি নার্গিস ফুলের হলুদ রঙকে হলুদই পাবেন, সূর্যের হলুদ রঙকেও হলুদ পাবেন, খৈরি ফুলের হলুদ রঙকেও হলুদ পাবেন এবং স্বর্ণের হলুদ রঙকেও হলুদই পাবেন; অথচ চাক্ষুষভাবে এগুলোর প্রত্যেকটির মাঝে পার্থক্য সুস্পষ্ট, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্য এগুলোর প্রত্যেকটির এমন কোনো বিশেষ নাম নেই যা দ্বারা তাকে আলাদাভাবে চেনা যায়। অনুরূপভাবে অনেক প্রকারের প্রাণী, যেমন বদ্ধ জলাশয়ে এবং আর্দ্র পচা স্থানে জন্ম নেওয়া প্রাণীসমূহ, এমনকি বিভিন্ন প্রকারের পতঙ্গ যেগুলোর কোনো বিশেষ নাম আমাদের জানা নেই, অথচ তাদের গুণাবলীর মধ্যকার পার্থক্য দৃষ্টিগোচর ও সুবিদিত। সুতরাং আমরা যা চাই তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার জন্য এমন সব পৃথককারী গুণাবলী অনুসন্ধান করা আবশ্যক, ইনশাআল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।
২ - এমন নামসমূহ নিয়ে আলোচনা যা কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তিদের ওপর প্রযোজ্য হয়
আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা করেছি তা পর্যবেক্ষণ করে একে দুই ভাগে বিভক্ত পেয়েছি: এর একটি হলো যা একদল ব্যক্তির ওপর এমনভাবে দলালত (নির্দেশ) করে যা তাদের থেকে কখনোই বিচ্ছিন্ন হয় না এবং তারা ধ্বংস হওয়া ব্যতীত তা অপসারিতও হয় না। এই বিভাগকে দার্শনিক 'যাতি' (অপরিহার্য) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি একে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একটি অংশের সাথে তুলনা করেছেন, কারণ তা এর জন্য অপরিহার্য। আর আমরা বলি যে, এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য অন্য সকল অংশের তুলনায় অধিকতর অপরিহার্য। কেননা কোনো অংশ হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যায় অথচ অন্যান্য অংশগুলো নিজ নিজ অবস্থায় টিকে থাকে, যেমন মানুষের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও সে তার ইন্দ্রিয়লব্ধ অস্তিত্ব অনুযায়ী মানুষ হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু যে গুণাবলীর কারণে একটি নামধারী বস্তু এই নির্দিষ্ট নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, সেই গুণাবলী যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে উক্ত নামে নামধারী হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যাবে, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করব, ইনশাআল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা। এবং দ্বিতীয় বিভাগটি এমন যা একদল ব্যক্তির ওপর এমনভাবে দলালত করে যা হয়তো তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অথবা তা বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব বলে ধারণা করা যায়, আর তা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ধ্বংস হয়ে যায় না। দার্শনিক এই বিভাগকে আমরা পূর্বে যে দলীলের উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে 'গয়রি' (অ-অপরিহার্য) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অতঃপর আমরা প্রথম বিভাগটি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলাম যাকে আমরা 'যাতি' (অপরিহার্য) বলেছিলাম, আমরা তাকে তিন ভাগে বিভক্ত পেয়েছি:
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إما أن يكون لفظ يسمى به اشخاص كثيرة مختلفة بأشخاصها وبأنواعها، ويجاب بذلك اللفظ من سأل فقال: " ما هذا الشيء؟ " فاتفقنا على أن نسمي ذلك اللفظ " جنسا "؛ واما أن يكون لفظ يسمى به أشخاص كثيرة مختلفة بأشخاصها لا بأنواعها، ويجاب بذلك من سأل فقال: " ما هذا من الجملة التي سميت؟ " فاتفقنا على أن سمينا هذا اللفظ " وإما أن يكون يسمى به أشخاص كثيرة مختلفة أنواعها وأشخاصها إلا أنه يجاب به من سأل فقال: " أي شيء هذا من الجملة التي سميت؟ " [7ظ] فاتفقنا على أن سمينا هذا " فصلا ". وتفسير هذه المعاني يأتي بعد هذا، إن شاء الله عز وجل.
فهذه الثلاثة الاقسام هي ذاتيات كما قدمنا. وبيان ذلك أن تقول: ما هذا؟ فيقال لك جسم؛ فتقول: أي الاجسام هو؟ أي الاجسام هو؟ فيقال: النامى؛ فيقال أي النماة هو؟ فيقال لك: ذو السعف والخوص والورق والجريد والمستطيل والثمرة المسماة تمرا. فالجسم: جنس، والنمامى: نوع، وقولك: ذو السعف والخواص والجريد: فصل؛ وأنت إذا أسقطت الصفات التي ذكرنا، التي من أجلبها استحقت تلك الاشخاص أن تسمى بالاسماء التي ذكرنا، وتوهمت معانيها معدومة، سقطت عنها تلك الأسماء البتة، فلهذا سميت ذاتية.
ثم نظرنا إلى القسم الثاني الذي ذكرنا أنه سمتى غيريا فوجدناه ينقسم قسمين: إما لفظ يدل على مختلفين بأنواعهم في جواب " أي " فيكون " عرضا عاما " واما لفظ يدل على مختلفين بأشخاصهم في جواب " أي " فيكون " عرضا خاصا ". واعلم أن اللغة العربية لم تمكن العبارة فيها بأكثر مما ترى. على أن السؤال ب " ما " والسؤال ب " أي " قد يستويان في اللغة العربية وينوب كل واحد من هذين اللفظين عن صاحبه ويقعان بمعنى واحد، ومن أحكم اللغة اللطينية عرف الفرق بين المعنيين اللذين قصدنا في الاستفهام، فان فيها للاستفهام عن العام لفظا غير لفظ الاستفهام عن أبعاض ذلك العام ببيان لا يختل على صاحبه أصلا.
হয় এটি এমন একটি শব্দ হবে যার মাধ্যমে এমন অনেক ব্যক্তি বা বস্তুকে নামকরণ করা হয় যারা তাদের ব্যক্তি এবং প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন, এবং সেই শব্দের মাধ্যমে তাকে উত্তর প্রদান করা হয় যে প্রশ্ন করে বলে: "এই জিনিসটি কী?" তখন আমরা একমত হয়েছি যে, আমরা সেই শব্দটিকে "জিলস" (শ্রেণি) হিসেবে অভিহিত করব; অথবা এটি এমন একটি শব্দ হবে যার মাধ্যমে এমন অনেক ব্যক্তিকে নামকরণ করা হয় যারা তাদের ব্যক্তির দিক থেকে ভিন্ন কিন্তু প্রকারের দিক থেকে ভিন্ন নয়, এবং এর মাধ্যমে তাকে উত্তর দেওয়া হয় যে প্রশ্ন করে বলে: "তুমি যে সমষ্টির নাম উল্লেখ করেছ তার মধ্যে এটি কী?" তখন আমরা একমত হয়েছি যে আমরা এই শব্দটিকে "নাউ" (প্রকার) হিসেবে অভিহিত করব; অথবা এটি এমন একটি শব্দ হবে যার মাধ্যমে এমন অনেক ব্যক্তিকে নামকরণ করা হয় যাদের প্রকার এবং ব্যক্তি উভয়ই ভিন্ন, তবে এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির উত্তর প্রদান করা হয় যে প্রশ্ন করে বলে: "তুমি যে সমষ্টির নাম উল্লেখ করেছ তার মধ্যে এটি কোন ধরনের জিনিস?" [৭য] তখন আমরা একমত হয়েছি যে আমরা একে "ফাসল" (প্রভেদক) হিসেবে অভিহিত করব। আর এই অর্থগুলোর ব্যাখ্যা এর পরে আসবে, ইনশাআল্লাহ (যদি মহান আল্লাহ ইচ্ছা করেন)।
এই তিনটি বিভাগ হলো 'জাতিগত' (মৌলিক) যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। এর বর্ণনা হলো এই যে, আপনি যদি বলেন: "এটি কী?" তখন আপনাকে বলা হবে "জিসম" (দেহ বা বস্তু); অতঃপর আপনি বলবেন: "এটি কোন ধরনের জিসম?" তখন বলা হবে: "বর্ধমান" (বৃদ্ধিপ্রাপ্তশীল); তখন বলা হবে "এটি কোন ধরনের বর্ধমান বস্তু?" তখন আপনাকে বলা হবে: "খেজুর পাতার ডাল, আঁশ, পাতা, কচি ডাল এবং দীর্ঘ আকৃতি বিশিষ্ট ও খেজুর নামক ফলের অধিকারী।" সুতরাং "জিসম" (দেহ) হলো জিলস, "বর্ধমান" হলো নাউ, এবং আপনার এই কথা— খেজুর পাতার ডাল, আঁশ ও কচি ডাল বিশিষ্ট— হলো ফাসল। আর আপনি যদি আমাদের বর্ণিত সেই গুণাবলীগুলো বাদ দিয়ে দেন, যেগুলোর কারণে সেই ব্যক্তি বা বস্তুগুলো আমাদের উল্লেখিত নামগুলোর যোগ্য হয়েছিল এবং তাদের অর্থগুলোকে অস্তিত্বহীন মনে করেন, তবে তাদের থেকে সেই নামগুলো অবশ্যই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই কারণেই এদেরকে "জাতিগত" বা "সত্তা সংশ্লিষ্ট" বলা হয়।
অতঃপর আমরা দ্বিতীয় বিভাগের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম যেটিকে আমরা "অ-জাতিগত" হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম, আমরা সেটিকে দুই ভাগে বিভক্ত পেলাম: হয় এমন শব্দ যা "কোনটি" প্রশ্নের উত্তরে তাদের প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন বস্তুকে নির্দেশ করে, ফলে সেটি হয় "আরাজে আম" (সাধারণ আকস্মিক গুণ); অথবা এমন শব্দ যা "কোনটি" প্রশ্নের উত্তরে তাদের ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন সত্তাকে নির্দেশ করে, ফলে সেটি হয় "আরাজে খাস" (বিশেষ আকস্মিক গুণ)। আর জেনে রাখুন যে, আরবি ভাষায় আপনি যা দেখছেন তার চেয়ে অধিক স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। যদিও আরবি ভাষায় "কী" দ্বারা প্রশ্ন করা এবং "কোনটি" দ্বারা প্রশ্ন করা সমান হতে পারে এবং এই দুটি শব্দের প্রতিটিই তার সঙ্গীর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং তারা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে যারা লাতিন ভাষা সুনিপুণভাবে জানেন তারা জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে আমাদের উদ্দেশ্যকৃত এই দুটি অর্থের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারবেন। কারণ সেই ভাষায় সামান্য বা সাধারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জন্য এমন একটি শব্দ রয়েছে যা সেই সাধারণের অংশবিশেষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার শব্দ থেকে ভিন্ন, যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং এর ব্যবহারকারীর কাছে মোটেও বিভ্রান্তিকর নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - الكلام في تفسير الفاظ اندرجت لنا في الباب الذي قبل هذا الذي نبدأ به
ذكرنا في الباب الذي قبل هذا اشياء تختلف بانواعها واشخاصها، واشياء تختلف باشخاصها فقط دون انواعها، ومثال ذلك انا نقول في الذاتية: حيوان، فيدلنا على الإنسان والفرس وغير ذلك. وهذه اشياء تختلف بالانواع والاشخاص معا، فان الإنسان يخالف الفرس بشخصه في انه غيره، ويخالف أيضاً بصفات شخصه؛ نقول: فرس زيد، وفرس عمرو فهذان أنما يختلفان بالشخص فقط، أي ان هذا، والا فهذا فرس وهذا فرس، متفقان في الصفات التي استحق كل واحد منهما يسمى فرسا؛ وكذلك الدينار والدينار، والدرهم والدرهم، وهكذا سائر الاشياء. وكذلك نقول في الغيرية: ابيض وابيض ونعني الإنسان ابيض، والحائط ابيض، وهذه كلها مختلفة بانواعها في أن كل واحد منها غير الآخر. وتختلف أيضاً بصفاتها في ان احدها لحم ودم والثاني كتان محوك والثالث [8 و] تراب وماء وجص. ونقول ضحاك وضحاك فإنما يختلفان بالشخص في ان هذا غير هذا. واما سائر الصفات التي بها استحقا اسم الإنسانية فهما فيها متفقان، فهذه الجملة كافية تفرج اكثر الغم في الجهل بالمراد بهذا اللفظ الذي تقدم قبل؛ وبقي تفسير كثير يأتي بعد هذا، ان شاء الله تعالى.
4 - الكلام في الحد والرسم وجمل الموجودات وتفسير الوضع والحمل
هذا باب ينبغي ضبطه جدا فهو كالمفتاح لما يأتي بعد هذا ان شاء الله عز وجل. اعلم أنه لا موجود أصلا ولا حقيقة البتة الا الخالق وخلقه فقط، ولا سبيل إلى ثالث أصلا. فالخالق واحد اول لم يزل. وأما الخلق فكثير. ثم نقول: أما الخلق فينقسم قسمين لا ثالث لهما أصلا: شيء يقوم بنفسه ويحمل غيره، فاتفقنا على أن سميناه " جوهرا "؛ وشيء لا يقوم بنفسه ولا بد ان
৩ - পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আমাদের সামনে যে শব্দগুলো এসেছে সেগুলোর ব্যাখ্যা সংক্রান্ত আলোচনা
আমরা পূর্ববর্তী অধ্যায়ে এমন কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছি যা প্রকার ও ব্যক্তিসত্তার দিক দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হয়, আবার এমন কিছু যা কেবল ব্যক্তিসত্তার দিক দিয়ে ভিন্ন হয় কিন্তু প্রকারের দিক দিয়ে নয়। এর উদাহরণ হলো, যখন আমরা সত্তাগত দিক থেকে বলি: 'প্রাণী', তখন তা আমাদের মানুষ, ঘোড়া এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়ের দিকে নির্দেশ করে। এগুলো এমন বিষয় যা প্রকার ও ব্যক্তিসত্তা উভয় দিক থেকেই ভিন্ন। কেননা মানুষ তার ব্যক্তিসত্তার কারণে ঘোড়া থেকে ভিন্ন, যেহেতু সে অন্য কিছু; আবার সে নিজ ব্যক্তিসত্তার গুণাবলির দিক থেকেও ভিন্ন। আমরা বলি: জায়েদের ঘোড়া এবং আমরের ঘোড়া; এই দুটি ঘোড়া কেবল ব্যক্তিসত্তার দিক থেকেই ভিন্ন, অর্থাৎ এটি এক সত্তা এবং ওটি অন্য সত্তা। নতুবা এটিও ঘোড়া এবং ওটিও ঘোড়া; যে গুণাবলির কারণে তাদের প্রত্যেকে ঘোড়া নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য, সেগুলোতে তারা এক ও অভিন্ন। একইভাবে দিনার ও দিনার, দিরহাম ও দিরহাম এবং অন্যান্য সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। একইভাবে আমরা ভিন্নতার ক্ষেত্রে বলি: সাদা এবং সাদা; অর্থাৎ সাদা মানুষ এবং সাদা দেয়াল। এগুলো সব তাদের প্রকারের দিক থেকে ভিন্ন এই অর্থে যে, এদের একটি অন্যটির থেকে আলাদা। আবার এগুলো তাদের গুণাবলির দিক থেকেও ভিন্ন; যেমন একটি হলো মাংস ও রক্ত, দ্বিতীয়টি বোনা কাপড় এবং তৃতীয়টি [৮ ও] মাটি, পানি ও চুন। আমরা যদি বলি হাস্যকারী এবং হাস্যকারী, তবে তারা কেবল ব্যক্তিসত্তার দিক থেকেই ভিন্ন যে, এটি এক ব্যক্তি এবং ওটি অন্যজন। আর অবশিষ্ট গুণাবলি যার কারণে তারা মানুষ নামের যোগ্য হয়েছে, সেগুলোতে তারা অভিন্ন। এই আলোচনাটুকু পূর্বে অতিক্রান্ত শব্দগুলোর উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সংশয় দূর করার জন্য যথেষ্ট। আর এর অনেক ব্যাখ্যা বাকি রয়েছে যা পরবর্তীতে আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
৪ - সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, বিদ্যমান বিষয়ের সমষ্টি এবং বিন্যাস ও আরোপের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত আলোচনা
এটি এমন একটি অধ্যায় যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আয়ত্ত করা প্রয়োজন। কেননা ইনশাআল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা, এটি পরবর্তী বিষয়গুলোর জন্য চাবিকাঠি স্বরূপ। জেনে রাখুন যে, সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর সৃষ্টি ব্যতিরেকে মূলত আর কোনো অস্তিত্বশীল বস্তু বা কোনো বাস্তবতা নেই; এর বাইরে তৃতীয় কোনো পথ নেই। সৃষ্টিকর্তা এক, অনাদি ও চিরস্থায়ী। আর সৃষ্টি হলো অসংখ্য। অতঃপর আমরা বলি: সৃষ্টি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত যার তৃতীয় কোনো প্রকার নেই: এক হলো যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করে এবং অন্যকে ধারণ করে, যাকে আমরা 'সারবস্তু' বলে অভিহিত করতে একমত হয়েছি; আর অন্যটি হলো যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং যা অবশ্যই...
(খণ্ড: ১)
আত-তাকরীব লি-হাদ্দিল মানতিক ওয়াল মাদখাল ইলাইহি বিল আলফাজিল আম্মিয়্যাহ ওয়াল আমসিলতিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يحمله غيره فاتفقنا على ان سميناه " عرضا ". فالجوهر هو جرم الحجر والحائط والعود وكل جرم في العالم. والعرض هو طوله وعرضه ولونه وحركته وشكله وسائر صفاته هي محمولة في الجرم. فانك ترى البلحة (1) خضراء ثم تصير حمراء ثم تصير صفراء والحمراء غير الخضرة وغير الصفرة والعين التي تتصرف عليها (2) هذه الالوان واحدة ثم تنقل فتصير جسما آخر. وكذلك ترى الذهب زئبرة (3) ، ثم يصير سبيكة ثم يصير دينارا منقوشا والجسم في كل ذلك هو نفسه. وكذلك ترى الإنسان مضطجعا ثم راكعا قائما ثم قاعدا وهو في كل ذلك واحد لم يتبدل، واعراضه متبدلة متغيرة، صفة تذهب [وصفة] تحدث. ولا بد لكل ما ذكرنا من قسمي الخالق من صفات محمولة فيه أو معنى يوجد له يمتاز بذلك عما سواه ويجب من أجله الفرق بين الاسماء.
وأما الخالق عز وجل، فليس حاملا ولا محمولا بوجه من الوجوه وقد أحكمنا هذا المعنى في مكان غير هذا، والحمد لله رب العالمين على توفيقه إيانا.
ثم نرجع فنقول: إن الصفات أو المعاني التي ذكرنا أنه لا بد لكل ما دون الخالق تعالى، فانها تنقسم قسمين: إما دالة على طبيعة ما هي فيه مميزة له مما سواه، فاتقنا على أن سميناها " حدا "؛ وإما مميزة له مما سواه وهي غير دالة على طبيعة، فاتفقنا على أن سميناها " رسما " ونقول: إن المحارجة (4) في الاسماء لا معنى لها، وإنما يشغل بذلك أهل الهذر والنوك والجهل؛ وإنما غرضنا منها الفرق بين المسميات، وما يقع به إفهام بعضنا بعضا فقط. فقد ارسل الله تعالى رسلا بلغات شتى، والمراد بها معنى واحد، [8ظ] فصح أن الغرض إنما هو التفاهم فقط، ولا بد لكل مادون الخالق تعالى من ان يكون مرسوما ومحدودا (5) ضرورة، لأنه لا بد أن يوجد له معنى يميز به
--------------------------------------------
অন্য কিছু তা বহন করে, ফলে আমরা একমত হয়ে একে "গুণ" (আরায) হিসেবে নাম দিয়েছি। 'সারবস্তু' (জাওহার) হলো পাথর, দেয়াল, কাঠ এবং জগতের প্রতিটি পিণ্ডের দেহ। আর 'গুণ' (আরায) হলো তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, রঙ, গতি, আকৃতি এবং অন্যান্য যাবতীয় বৈশিষ্ট্য যা দেহের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। আপনি কাঁচা খেজুরকে (১) সবুজ দেখেন, তারপর তা লাল হয়, এরপর তা হলুদ হয়। এই লাল বর্ণটি সবুজ বা হলুদ বর্ণের চেয়ে ভিন্ন। অথচ যে সত্তার ওপর (২) এই রঙগুলো পর্যায়ক্রমে আসে তা অভিন্ন, পরবর্তীতে তা অন্য দেহে রূপান্তরিত হয়। তদ্রূপ আপনি স্বর্ণকে দেখেন চূর্ণ (৩) হিসেবে, এরপর তা পিণ্ড বা বার-এ পরিণত হয়, এরপর তা খোদাই করা দিনারে রূপ নেয়; অথচ এই সবকিছুর মধ্যে দেহটি একই থাকে। একইভাবে আপনি মানুষকে শায়িত দেখেন, এরপর রুকু করা অবস্থায়, দণ্ডায়মান অবস্থায়, তারপর বসা অবস্থায় দেখেন; অথচ সে এই সবকিছুর মধ্যে একজনই, যে পরিবর্তিত হয় না; কিন্তু তার গুণাবলি পরিবর্তিত ও বিবর্তিত হয়—একটি বৈশিষ্ট্য চলে যায় এবং [অন্যটি] সৃষ্টি হয়। আর স্রষ্টা ব্যতীত অন্য যে দুই প্রকারের (সারবস্তু ও গুণ) কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তাদের প্রত্যেকের মধ্যে অবশ্যই এমন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে যা তাতে বিদ্যমান, অথবা এমন কোনো অর্থ থাকতে হবে যার মাধ্যমে সে অন্য সবকিছু থেকে পৃথক হয় এবং যার কারণে নামগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক হয়।
আর মহান স্রষ্টা সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি কোনোভাবেই কোনো কিছু বহনকারী নন এবং অন্য কিছুর মাধ্যমে বাহিতও নন। আমরা এই বিষয়টি অন্য স্থানে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমাদের তাওফীক দান করার জন্য সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর।
এরপর আমরা পুনরায় বলছি: স্রষ্টা তাআলা ব্যতীত অন্য সবকিছুর জন্য যে গুণাবলি বা অর্থ থাকা আবশ্যক বলে আমরা উল্লেখ করেছি, তা দুই ভাগে বিভক্ত: হয় তা যে বিষয়ের মধ্যে আছে তার প্রকৃত স্বভাবের ওপর নির্দেশ করে এবং তাকে অন্য কিছু থেকে পৃথক করে—একে আমরা "সংজ্ঞা" (হাদ্দ) হিসেবে অভিহিত করতে একমত হয়েছি; অথবা তা তাকে অন্য কিছু থেকে পৃথক করে কিন্তু তার প্রকৃত স্বভাবের ওপর নির্দেশ করে না—একে আমরা "বিবরণ" (রাসম) হিসেবে অভিহিত করতে একমত হয়েছি। আমরা আরও বলি যে, নাম নিয়ে অনর্থক বিতর্ক করার (৪) কোনো অর্থ নেই; কেবল অসার বাকপটু, নির্বোধ ও মূর্খরাই এতে লিপ্ত হয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো নামকৃত বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা এবং যার মাধ্যমে কেবল আমাদের একে অপরকে বোঝানো সম্ভব হয়। মহান আল্লাহ বিভিন্ন ভাষায় রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, অথচ তাদের উদ্দেশ্য অভিন্ন ছিল। [৮-খ] সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, উদ্দেশ্য কেবল পারস্পরিক বুঝাপড়া। আর স্রষ্টা তাআলা ব্যতীত অন্য সবকিছুর জন্য আবশ্যিকভাবেই বর্ণিত ও সংজ্ঞায়িত (৫) হওয়া জরুরি; কারণ তার জন্য এমন একটি অর্থ থাকা আবশ্যক যার দ্বারা তাকে পৃথক করা যায়।
--------------------------------------------