(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: -)
النقد والبيان في دفع أوهام خزيران   (محمد كامل القصاب)

القسم: الفقه العام


الكتاب: النقد والبيان في دفع أوهام خزيران

تأليف: محمد كامل القصاب، محمد عز الدين القسام

أعده وقدمه وعلق عليه وشرحه: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان

الناشر: مركز بيت المقدس للدراسات التوثيقية، فلسطين

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 246

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান ফি দাফই আওহাম খুজাইরান   (মুহাম্মাদ কামিল আল-কাসসাব)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান ফি দাফই আওহাম খুজাইরান

রচনা: মুহাম্মাদ কামিল আল-কাসসাব, মুহাম্মাদ ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম

সম্পাদনা, ভূমিকা, টীকা ও ব্যাখ্যা: আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান

প্রকাশক: মারকায বাইতুল মাকদিস লিত-দিরাসাত আত-তাওসিকিয়্যাহ, ফিলিস্তিন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৬

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১)
النقد والبيان

 

في

دفع أوهام خزيران

 

فيه بُحوث عِلمِيَّة مُحَرَّرة عن البدعة وبعض مفرداتها، ومُقَدِّمة ضافية (*)

عن (السَّلفِيَّين وقَضِيَّة فلسطين) ، و (حكم عَمَليَّات المُغامرة بالنفَّس)

تأليف

مُحَمَّد كامل القَصَّاب … مُحَمَّد عزّ الدِّين القَسَّام

 

قدََّمَ لَهُ وَعَلَّقَ عَلَيْهِ وَشَرَحَهُ

فضيلة الشيخ الهُمام

أبُو عبيدة مَشهُور بن حسن آل سَلمَان

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: انظر هذه المقدمة مستقلة في الشاملة، عنوانها (السلفيون وقضية فلسطين) ، وفيها ترجمة للشيخين القصاب والقسام رحمهما الله تعالى
আল-নকদ ওয়াল বায়ান (সমালোচনা ও স্পষ্টীকরণ)

 

প্রসঙ্গে

খুযাইরানের বিভ্রান্তি নিরসন

 

এতে নব-আবিষ্কার (بدعة) এবং এর কতিপয় বিষয়ের ওপর সুসংহত ইলমী গবেষণা এবং একটি বিস্তারিত ভূমিকা (*) রয়েছে

(সালাফিগণ ও ফিলিস্তিন ইস্যু) এবং (আত্মোৎসর্গমূলক অভিযানের বিধান) সম্পর্কে

রচনায়

মুহাম্মদ কামিল আল-কাসসাব … মুহাম্মদ ইযযুদ্দীন আল-কাসসাম

 

ভূমিকা, টীকা ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন

বরেণ্য শায়খ

আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান

--------------------------------------------

(*) শামিলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন: এই ভূমিকাটি শামিলাতে স্বতন্ত্রভাবে দেখুন, যার শিরোনাম (সালাফিগণ ও ফিলিস্তিন ইস্যু); এতে শায়খদ্বয় আল-কাসসাব ও আল-কাসসাম (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর জীবনী (ترجمة) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي عافانا مِمّا ابتلى به كثيراً مِنْ خلقِه، وأَلْهَمَنا بفضله أن نُحافِظَ على دينه، ونُبَلّغَه للناس، كما أنزل على نبيه، لا مُبَدّلين، ولا مُغَيِّرين، حتى يأتينا اليقين. ونشهد أن لا إله إلا الله، الحميد المَجيد، الذي نادى عبادَه الصادقين بقوله في كتابه المكنون: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ. وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ} [الأنفال: 20-21] ، ونشهد أن سيّدنا محمداً عبده ورسوله، نبيُّ الرحمة، وهادي الأمة، وكاشف الحيرة والغمّة، القائل: «من تمسك بسنّتي عند فساد أمتي، فله أجرُ [مئة] شهيد» (1) ،

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عدي في «الكامل» (2/ 739) ، وابن بشران في «أماليه» (رقم 503، 701) -ومن طريقه البيهقي في «الزهد» (رقم 209) - من طريق الحسن بن قتيبة: أنا عبد الخالق بن المنذر، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، عن ابن عباس رفعه، ولفظة (مئة) من مصادر التخريج، وسقطت من الأصول.

 

وإسناده ضعيف جدّاً، الحسن بن قتيبة، قال الدارقطني: متروك الحديث، وقال الأزدي: واهي الحديث، وقال العقيلي: كثير الوهم، وقال ابن عدي: أرجو أنه لا بأس به، وتعقبه الذهبي بقوله: «بل هو هالك» . انظر: «الجرح والتعديل» (3/33) ، «الميزان» (1/518) ، «لسان الميزان» (2/246) .

وعزاه المنذري في «الترغيب» (1/41) للبيهقي فقط، وهو في «ضعيفه» (رقم 30) ، وقال: «ضعيف جدّاً» ، قال المنذري بعده:

«ورواه الطبراني من حديث أبي هريرة بإسناد لا بأس به، إلا أنه قال: «فله أجر شهيد» . … =

 

= … وتعقبه الحافظ الناجي في «عجالة الإملاء المتيَسّرة» (1/194 - ط. المعارف) : «كذا رواه البيهقي في «المدخل» من حديث أبي هريرة، لكن أوله: «القائم بسنتي» ، وآخره: «له أجر مئة شهيد» ، ولعل لفظة (مئة) سقطت من الرواية المذكورة، والله أعلم» .

قلت: ومطبوع «المدخل» ناقص، وليس فيه هذا الحديث.

وأخرج حديث أبي هريرة: الطبراني في «الأوسط» (5/315 رقم 5414) -ومن طريقه أبو نعيم في «الحلية» (8/200) - من طريق محمد بن صالح العدوي: ثنا عبد المجيد بن عبد العزيز، عن أبيه، عن عطاء، عن أبي هريرة رفعه: «المتمسك بسنتي عند فساد أمتي، له أجر شهيد» .

قال الطبراني عقبه: «لا يروي هذا الحديث عن عطاء إلا عبد العزيز بن أبي رواد، تفرد به ابنه عبد المجيد» .

وقال الهيثمي في «المجمع» (1/172) بعد عزوه للطبراني في «الأوسط» : «وفيه محمد ابن صالح العدوي، ولم أر من ترجمه، وبقية رجاله ثقات» !

قلت: عبد العزيز هو ابن أبي رواد، قال أبو حاتم: ليس بالقوي، وقال ابن حبان: كان يقلب الأخبار، ويروي المناكير عن المشاهير، فاستحق الترك. ووثقه ابن معين وأبو داود والنسائي وأحمد وغيرهم، ولذا قال ابن حجر عنه: «صدوق» ، وأفرط ابن حبان، فقال: «متروك» ، وانظر: «التهذيب» (6/381) ، «الميزان» (2/648) .

وابنه عبد المجيد، صدوق يخطئ.

قال شيخنا الألباني رحمه الله في «السلسلة الضعيفة» (327) بعد كلام الهيثمي السابق: «ومنه تعلم قول المنذري: وإسناده لا بأس به، ليس كما ينبغي» ، قال: «ويغني عنه حديث: «إنَّ من ورائكم أيام الصبر، للمتمسك فيهن يومئذ بما أنتم عليه أجر خمسين منكم … » الحديث، وهو مخرج في «الصحيحة» (494) » .

قلت: وهذا التعقب يلحق الشيخ عبد الحق لما قال في «لمعات التنقيح» (1/238) : «إسناده حسن» !!

وضعّفه شيخنا الألباني في «ضعيف الترغيب والترهيب» (1/36 رقم 31) و «المشكاة» (176) … وفيه عزوه لـ «الشعب» للبيهقي، ولم يعزه في «كنز العمال» (رقم 1071) إلا للطبراني في «الأوسط» ، ولأبي نعيم في «الحلية» .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির অনেককে যে পরীক্ষায় ফেলেছেন তা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের তাঁর দ্বীন রক্ষা করতে ও তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনুপ্রাণিত করেছেন; ঠিক যেভাবে তা তাঁর নবীর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে—কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন ছাড়াই, মৃত্যু আমাদের কাছে আসা পর্যন্ত। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, প্রশংসিত ও মহিমান্বিত আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি তাঁর সংরক্ষিত কিতাবে মুমিন বান্দাদের আহ্বান করে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং শোনার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বলে ‘আমরা শুনেছি’, অথচ তারা শোনে না} [আল-আনফাল: ২০-২১]। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি রহমতের নবী, উম্মাহর পথপ্রদর্শক এবং বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দূরকারী। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনার (বিপর্যয়ের) সময় আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য [একশ] শহীদের সওয়াব রয়েছে।" (১) ,

--------------------------------------------

(১) ইবনে আদি 'আল-কামিল' (২/৭৩৯) গ্রন্থে, ইবনে বিশরান তাঁর 'আমালি' (নম্বর ৫০৩, ৭০১) গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকি 'আয-যুহদ' (নম্বর ২০৯) গ্রন্থে হাসান ইবনে কুতাইবা—আব্দুল খালিক ইবনে মুনযির—ইবনে আবি নাজিহ—মুজাহিদ—ইবনে আব্বাস (রাযি.) সূত্রে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 'একশ' শব্দটি তাখরিজের উৎসসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে, যা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছিল।

 

এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدّاً)। হাসান ইবনে কুতাইবা সম্পর্কে দারাকুতনি বলেছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত (متروك الحديث)। আল-আযদি বলেন: ভিত্তিহীন হাদিস বর্ণনাকারী (واهي الحديث)। আল-উকায়লি বলেন: অতিশয় ভ্রমপ্রবণ (كثير الوهم)। ইবনে আদি বলেন: আমি আশা করি তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই; তবে ইমাম যাহাবি এর প্রতিবাদ করে বলেছেন: "বরং সে ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك)"। দেখুন: 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (৩/৩৩), 'মিযানুল ইতিদাল' (১/৫১৮), 'লিসানুল মিযান' (২/২৪৬)।

মুনযিরি 'আত-তারগিব' (১/৪১) গ্রন্থে একে কেবল বায়হাকির দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এটি তাঁর 'যঈফ' (নম্বর ৩০) গ্রন্থে রয়েছে; তিনি বলেছেন: "অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدّاً)"। মুনযিরি এরপর বলেন:

"তাবারানি এটি আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিস থেকে এমন এক সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন যার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به), তবে তিনি বলেছেন: 'তার জন্য একজন শহীদের সওয়াব রয়েছে'।" … =

 

= … হাফেজ আন-নাজি 'উজালাতুল ইমলা আল-মুতাইয়াসসিরাহ' (১/১৯৪) গ্রন্থে এর প্রতিবাদ করে বলেছেন: "এভাবেই বায়হাকি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে এর শুরুতে রয়েছে: 'আমার সুন্নাহর ওপর কায়েম থাকা ব্যক্তি' এবং শেষে রয়েছে: 'তার জন্য একশ শহীদের সওয়াব রয়েছে'। সম্ভবত উল্লিখিত বর্ণনা থেকে 'একশ' শব্দটি বাদ পড়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।"

আমি (লেখক) বলছি: 'আল-মাদখাল'-এর মুদ্রিত কপিটি অপূর্ণাঙ্গ, সেখানে এই হাদিসটি নেই।

আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিসটি তাবারানি 'আল-আওসাত' (৫/৩১৫, নম্বর ৫৪১৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—এবং তাঁর সূত্রে আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (৮/২০০) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-আদাবি—আব্দুল মাজিদ ইবনে আব্দুল আজিজ—তাঁর পিতা—আতা—আবু হুরায়রা (রাযি.) সূত্রে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "উম্মতের বিপর্যয়ের সময় আমার সুন্নাহ আঁকড়ে ধারণকারীর জন্য একজন শহীদের সওয়াব রয়েছে।"

তাবারানি এরপর বলেছেন: "আতা থেকে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ ছাড়া আর কেউ এই হাদিস বর্ণনা করেননি, আর তাঁর থেকে তাঁর ছেলে আব্দুল মাজিদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।"

হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/১৭২) গ্রন্থে তাবারানির 'আল-আওসাত'-এর দিকে সম্বন্ধ করার পর বলেছেন: "এতে মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-আদাবি রয়েছেন, আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি; তবে তাঁর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)!"

আমি (লেখক) বলছি: আব্দুল আজিজ হলেন ইবনে আবি রাওয়াদ। আবু হাতিম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি সংবাদগুলো ওলটপালট করতেন এবং প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের সূত্রে অগ্রহণযোগ্য হাদিস (مناكير) বর্ণনা করতেন, তাই তিনি পরিত্যক্ত হওয়ার (الترك) যোগ্য। ইবনে মায়ীন, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ ও অন্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। একারণেই ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: সত্যবাদী (صدوق)। আর ইবনে হিব্বান কঠোরতা করে বলেছেন: পরিত্যক্ত (متروك)। দেখুন: 'আত-তাহযিব' (৬/৩৮১), 'মিযানুল ইতিদাল' (২/৬৪৮)।

আর তাঁর পুত্র আব্দুল মাজিদ হলেন সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন (صدوق يخطئ)।

আমাদের শায়খ আলবানি (রহ.) 'আস-সিলসিলাহ আদ-দাঈফাহ' (৩২৭) গ্রন্থে হাইসামির উল্লিখিত বক্তব্যের পর বলেছেন: "এ থেকে আপনি মুনযিরির উক্তি—'এর সনদ (إسناد) এমন যার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)'—সম্পর্কে জানতে পারবেন যে, এটি সঠিক নয়।" তিনি আরও বলেন: "এর পরিবর্তে এই হাদিসটি যথেষ্ট: 'তোমাদের অনাগত দিনগুলোতে ধৈর্যের সময় আসবে, তখন তোমরা যে আদর্শের ওপর আছ তা আঁকড়ে ধারণকারীর জন্য তোমাদের পঞ্চাশ জনের সমান সওয়াব থাকবে...'; এই হাদিসটি 'আস-সিলসিলাহ আস-সহিহা' (৪৯৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।"

আমি (লেখক) বলছি: এই সমালোচনা শেখ আব্দুল হকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কারণ তিনি 'লামাআতুত তানকিহ' (১/২৩৮) গ্রন্থে বলেছেন: "এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)"!!

আমাদের শায়খ আলবানি 'যঈফুত তারগিব ওয়াত তারহিব' (১/৩৬, নম্বর ৩১) এবং 'মিশকাত' (১৭৬) গ্রন্থে একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। সেখানে তিনি একে বায়হাকির 'শুআবুল ঈমান'-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তবে 'কানযুল উম্মাল' (নম্বর ১০৭১) গ্রন্থে একে কেবল তাবারানির 'আল-আওসাত' এবং আবু নুআইমের 'আল-হিলয়াহ'-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৩)
والقائل: «إنّ الدين بدأ غريباً، ويرجع غريباً، فطوبى للغرباء، الذين يصلحون ما أفسد الناس بعدي من سُنَّتي» (1) ،

--------------------------------------------

(1) الحديث دون ذكر «الذين يصلحون … » : أخرجه مسلم في «الصحيح» (كتاب الإيمان) : باب رفع الأمانة والإيمان من بعض القلوب وعرض الفتن على القلوب (1/130 رقم 415) من حديث أبي هريرة وابن عمر رضي الله عنهم.

وأخرجه مع تفسيرهم بـ «الذين يصلحون عند فساد الناس» : أبو عمرو الداني في «السنن الواردة في الفتن» (ق25/أو رقم 288 - المطبوع) ، والآجري (رقم 1) من حديث ابن مسعود، بإسناد صحيح.

وأخرجه أحمد وابنه عبد الله في «المسند» (1/184) ، وأبو يعلى في «المسند» (2/99 رقم 756) ، والبزار في «المسند» (رقم 56 - مسند سعد) -دون زيادة-، والدورقي في «مسند سعد» (رقم 87) ، وابن منده في «الإيمان» (رقم 424) بإسناد صحيح.

وأخرجه مع تفسيرهم بـ «الذين يحيون سنتي ويعلمونها عباد الله» ، وفي لفظ: «الذين يحيون ما أمات الناس من سنتي» : الترمذي في «الجامع» (رقم 2630) ، والطبراني في «الكبير» (17 رقم 11) ، وابن عدي في «الكامل» (6/2080) ، والفسوي في «المعرفة والتاريخ» (1/350) ، والبزَّار في «المسند» (رقم 3287 - زوائده) ، والهروي في «ذم الكلام» (5/168 رقم 1479) ، والقضاعي في «مسند الشهاب» (رقم 1052، 1053) ، والبيهقي في «الزهد» (رقم 207) ، والخطيب في «شرف أصحاب الحديث» (ص 23) ، وفي «الجامع» (1/112) ، وابن عبد البر في «الجامع» (2/120) ، وأبو نعيم في «الحلية» (2/10) ، وعياض في «الإلماع» (ص 18-19) ؛ جميعهم من طريق كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف، عن أبيه، عن جده رفعه، وأوله عند الترمذي: «إنّ الدِّين ليأْرِزُ إلى الحجاز كما تأْزِرُ الحيَّةُ إلى جُحرها … » .

وإسناده ضعيف جداً، فيه كثير بن عبد الله، ضعيف جداً، وقد اتّهم!

 

وأخرجه مع تفسيرهم بـ «النزاع من القبائل» : الترمذي في «العلل الكبير» (2/854) ، وابن ماجه في «السنن» (2/1320 رقم 3988) ، وابن أبي شيبة في «المصنف» (13/236) -ومن طريقه أحمد، وابنه عبد الله في «المسند» (1/398) - وأبو يعلى في «المسند» (رقم 4975) ، والآجري في «الغرباء» (رقم 2) ، وابن وضاح في «البدع» (ص 65) ، والخطابي في «غريب الحديث» (1/174-175) ، والخطيب في «شرف أصحاب الحديث» (ص 23) ، والبغوي في «شرح السنة» (رقم 64) ، وابن حزم في «الإحكام» (8/37) ، والطحاوي في= = «المشكل» (1/298) ، والبيهقي في «الزهد» (رقم 208) .

وقال البخاري -نقله عنه الترمذي في «العلل» -: «وهو حديث حسن» ، وصححه البغوي. وانظر «السلسلة الصحيحة» (رقم 1273) .
এবং তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই দীন শুরু হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং পুনরায় তা অপরিচিত হয়ে পড়বে; অতএব সুসংবাদ সেই অপরিচিতদের জন্য, যারা আমার পরে মানুষ আমার সুন্নাহর যা কিছু নষ্ট করবে তা সংশোধন করবে» (১) ,

--------------------------------------------

(১) «যারা সংশোধন করবে … » অংশটুকু ব্যতীত হাদিসটি: ইমাম মুসলিম তার «সহিহ» (কিতাবুল ঈমান)-এ বর্ণনা করেছেন: অধ্যায়: কিছু অন্তর থেকে আমানত ও ঈমান উঠে যাওয়া এবং অন্তরসমূহে ফিতনা উপস্থাপিত হওয়া (১/১৩০ নং ৪১৫), আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন আবু আমর আদ-দানি «আস-সুনান আল-ওয়ারিদা ফিল ফিতান» (খণ্ড ২৫/ক বা নং ২৮৮ - মুদ্রিত) গ্রন্থে এবং আল-আজুরি (নং ১)-এ ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদসহকারে, যেখানে তাদের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে «যারা মানুষের বিভ্রান্তির সময় সংশোধন করে»।

এবং এটি ইমাম আহমদ ও তার পুত্র আবদুল্লাহ «মুসনাদ» (১/১৮৪)-এ, আবু ইয়ালা «মুসনাদ» (২/৯৯ নং ৭৫৬)-এ, আল-বাজার «মুসনাদ» (নং ৫৬ - মুসনাদ সাদ)-এ -অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত-, আদ-দাওরাকি «মুসনাদ সাদ» (নং ৮৭)-এ এবং ইবনে মানদাহ «আল-ঈমান» (নং ৪২৪)-এ একটি সহিহ (صحيح) সনদসহকারে বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী «আল-জামি» (নং ২৬৩০)-এ, তাবারানি «আল-কাবীর» (১৭ নং ১১)-এ, ইবনে আদি «আল-কামিল» (৬/২০৮০)-এ, আল-ফাসাউয়ি «আল-মারিফা ওয়াত তারিখ» (১/৩৫০)-এ, আল-বাজার «মুসনাদ» (নং ৩২৮৭ - জাওয়াইদ)-এ, আল-হারাউয়ি «যাম্মুল কালাম» (৫/১৬৮ নং ১৪৭৯)-এ, আল-কুদায়ী «মুসনাদ আশ-শিহাব» (নং ১০৫২, ১০৫৩)-এ, আল-বায়হাকি «আয-যুহদ» (নং ২০৭)-এ, আল-খাতিব «শারাফু আসহাবিল হাদিস» (পৃ. ২৩)-এ এবং «আল-জামি» (১/১১২)-এ, ইবনে আবদিল বার «আল-জামি» (২/১২০)-এ, আবু নুয়াইম «আল-হিলইয়াহ» (২/১০)-এ এবং ইয়াদ «আল-ইলমা» (পৃ. ১৮-১৯)-এ; তাদের সেই ব্যাখ্যার সাথে যে, «যারা আমার সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং আল্লাহর বান্দাদের তা শিক্ষা দেয়», এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: «যারা মানুষ আমার সুন্নাহর যা কিছু মৃতবৎ করেছে তা জীবিত করে»; তারা সকলেই কাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আউফ-এর সূত্রে, তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তিরমিযীর বর্ণনার শুরুতে রয়েছে: «নিশ্চয়ই দীন হিজাজের দিকে গুটিয়ে আসবে যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে … »।

আর এর সনদটি খুবই দুর্বল (ضعيف جداً), এতে কাসির বিন আব্দুল্লাহ রয়েছে, যে খুবই দুর্বল (ضعيف جداً), এমনকি সে অভিযুক্তও হয়েছে!

 

এবং এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী «আল-ইলাল আল-কাবীর» (২/৮৫৪)-এ, ইবনে মাজাহ «সুনান» (২/১৩২০ নং ৩৯৮৮)-এ, ইবনে আবি শাইবাহ «আল-মুসান্নাফ» (১৩/২৩৬)-এ -এবং তার সূত্রে আহমদ ও তার পুত্র আব্দুল্লাহ «মুসনাদ» (১/৩৯৮)-এ- আবু ইয়ালা «মুসনাদ» (নং ৪৯৭৫)-এ, আল-আজুরি «আল-গুরাবা» (নং ২)-এ, ইবনে ওয়াদদাহ «আল-বিদআ» (পৃ. ৬৫)-এ, আল-খাত্তাবি «গারিবুল হাদিস» (১/১৭৪-১৭৫)-এ, আল-খাতিব «শারাফু আসহাবিল হাদিস» (পৃ. ২৩)-এ, আল-বাগাউয়ি «শারহুস সুন্নাহ» (নং ৬৪)-এ, ইবনে হাজম «আল-ইহকাম» (৮/৩৭)-এ, আত-তাহাবি «আল-মুশকিল» (১/২৯৮)-এ এবং আল-বায়হাকি «আয-যুহদ» (নং ২০৮)-এ, যেখানে তাদের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে «গোত্রসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগণ»।

এবং ইমাম বুখারী -যা তিরমিযী «আল-ইলাল»-এ তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন- বলেছেন: «এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস», এবং বাগাউয়ি একে সহিহ (صححه) বলেছেন। দেখুন «আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ» (নং ১২৭৩)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৪)
صلى الله البر الرحيم على هذا الرسول الكريم، ذي الخلق العظيم، وعلى آله وأصحابه، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد؛ فقد اطَّلعنا على رسالة «فصل الخطاب في الرد على الزَّنكلوني والقسام والقصاب» (1) تأليف الفاضل الشيخ محمد صبحي خزيران الحنفي العكّي، رئيس كُتَّاب المحكمة الشرعية في ثغر عكاء، وقد ألّفها انتصاراً لأُستاذه الفاضل الشيخ عبد الله الجزار (2) مفتي عكاء وقاضيها؛ إذ قد أفتى أحدُنا (3) لما سُئل عن حكم الصياح في التّهليل والتكبير وغيرِهما، أَمام الجنائز، بأنه مكروه تحريماً، وبدعةٌ قبيحةٌ، يجب على علماء المسلمين إنكارُها، وعلى كلِّ قادرٍ إزالَتُها، مستدلاًّ بآيةٍ قرآنيةٍ، وحديثٍ صحيحٍ، وأقوالِ الفقهاءِ. وسأل المستفتي عن السؤال نفسه من الفاضل الشيخ عبد الله الجزار، فأفتاه بالجواز، فاضْطُرَّ السَّائلُ إلى إرسال الجوابين إلى عالِمَين من كبار علماء الأزهر (الشيخ محمود محمد خطاب السُّبكي (4) ، والشيخ علي مسرور الزنكلوني) ، فأَفْتيا بأنه بدعةٌ منكرةٌ، مؤيِّدَيْن فتوى أحدنا (5) ، وقد نشر العلامة الزنكلوني فتواه على صفحات جريدة «الشورى» التي تصدر في مصر، ولم يكتف ومؤلّفُ الرسالة برأيه

--------------------------------------------

(1) سبقت تراجم هؤلاء في المقدمة.

(2) ستأتي ترجمته (ص 146، 149) .

(3) هو القسَّام. انظر ما قدمناه (ص 90) .

(4) ستأتي ترجمته (ص 24) .

(5) الفتاوى الأربع ذيلنا بها آخر الرسالة (منهما) .
পুণ্যময় ও পরম দয়ালু আল্লাহ এই সম্মানিত রাসূলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যিনি মহান চরিত্রের অধিকারী এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপরও।

অতঃপর; আমরা ‘ফসলুল খিতাব ফি আর-রাদ্দি আলায যানকালুনি ওয়াল কাসসাম ওয়াল কাসসাব’ (১) নামক পুস্তিকাটি দেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আক্রা বন্দরের শরয়ি আদালতের প্রধান মুহররির, ফাজেল শায়খ মুহাম্মাদ সুবহি খুযাইরান আল-হানাফি আল-আক্কি কর্তৃক রচিত। তিনি এটি তাঁর উস্তাদ আক্রার মুফতি ও বিচারক ফাজেল শায়খ আবদুল্লাহ আল-জায্যারের (২) সমর্থনে রচনা করেছেন। কারণ, যখন আমাদের একজনের (৩) নিকট জানাযার সামনে সশব্দে তাহলিল, তাকবির ও অন্যান্য জিকির করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি ফতোয়া দিয়েছিলেন যে এটি মাকরূহে তাহরিমি এবং একটি নিকৃষ্ট বিদআত, যা মুসলিম উলামাদের জন্য প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব এবং প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির জন্য তা নির্মূল করা আবশ্যক। তিনি তাঁর সপক্ষে পবিত্র কুরআনের আয়াত, সহিহ (صحيح) হাদিস এবং ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ থেকে দলীল পেশ করেছেন। প্রশ্নকারী একই প্রশ্ন ফাজেল শায়খ আবদুল্লাহ আল-জায্যারের নিকটও করেন, এবং তিনি তা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেন। ফলে প্রশ্নকারী উত্তর দুটি আল-আযহারের দুই বিশিষ্ট আলেম (শায়খ মাহমুদ মুহাম্মাদ খাত্তাব আস-সুবকি (৪) এবং শায়খ আলি মাসরুর আয-যানকালুনি) এর নিকট পাঠাতে বাধ্য হন। তাঁরা উভয়েই আমাদের একজনের ফতোয়াকে (৫) সমর্থন করে এটি একটি বর্জনীয় বিদআত বলে ফতোয়া প্রদান করেন। আল্লামা যানকালুনি মিসর থেকে প্রকাশিত ‘আশ-শুরা’ পত্রিকার পাতায় তাঁর ফতোয়াটি প্রকাশ করেছেন। তবে পুস্তিকাটির লেখক কেবল তাঁর মতেই সন্তুষ্ট থাকেননি...

--------------------------------------------

(১) তাঁদের জীবনীসমূহ ইতিপূর্বে ভূমিকায় অতিবাহিত হয়েছে।

(২) তাঁর জীবনী সামনে (১৪৬ ও ১৪৯ পৃষ্ঠায়) আসবে।

(৩) তিনি হলেন আল-কাসসাম। আমরা পূর্বে যা পেশ করেছি তা দেখুন (পৃষ্ঠা ৯০)।

(৪) তাঁর জীবনী সামনে (২৪ পৃষ্ঠায়) আসবে।

(৫) আমরা পুস্তিকার শেষে চারটি ফতোয়া সংযুক্ত করেছি (সেই দুটি হতে)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৫)
في المسألةِ المُتَنَازَعِ فيها فقط، بل شطَّ قلمُه، وأسند إلينا ما لم نقل به، ولم نعتقده، ورمانا -عفا الله عنه- بالزَّيغ والضلال، لاتّباعنا السنة الموروثة عن النبي صلى الله عليه وسلم، في الأقوال والأفعال، وتكلّفَ في تفسير الآياتِ القرآنية والأحاديث النبوية، فأخرجها عن معانيها؛ ليوهم صحة ما ذهب إليه، ويُقرَّ العامةَ على ما هم عليه، وخاض لذلك في القواعد الأصولية خوض من لم يأخذ من العلم بقسط، وخرّج المسائل تخريجاً لا ينطبق على القواعد العلمية، فكانت استدلالاتُهُ دليلاً لنا، وحُجّةً عليه، وداعيةً للتمسكِ بما أرشدْنا النّاسَ إليه.

فرأينا من الواجب انتصاراً للدّين، وحفظاً لشريعة سيد المرسلين، أن نردَّ بهذه الرسالة ما أسند وفنّد، مصدِّرين رسالَتَنا بأقوال علماء المذاهب الأربعة في حكم المسألة المتنازَعِ فيها، ناقلين عباراتِه التي نريد الردَّ عليها بنصِّها وفصِّها، إلا ما تعذَّر نقلُه بالحرف؛ فإننا نشير إلى معناه، وما التوفيق إلا بالله، وهو حسبنا، ونِعمَ الوكيل.
শুধুমাত্র বিতর্কিত মাসআলার ক্ষেত্রেই নয়, বরং তার কলম সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং তিনি আমাদের প্রতি এমন বিষয় আরোপ করেছেন যা আমরা বলিনি এবং বিশ্বাসও করি না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ও কাজ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সুন্নাহ অনুসরণের কারণে তিনি আমাদের দিকে—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতার অভিযোগ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় কৃত্রিমতা অবলম্বন করেছেন এবং সেগুলোকে প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করেছেন; যাতে নিজের মতাদর্শকে সঠিক বলে ভ্রম তৈরি করা যায় এবং সাধারণ মানুষকে তাদের বর্তমান অবস্থাতেই বহাল রাখা যায়। এ উদ্দেশ্যে তিনি উসূলের মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية) নিয়ে এমনভাবে চর্চা করেছেন যেমনটি কোনো স্বল্প ইলমের অধিকারী ব্যক্তি করে থাকে। তিনি মাসআলাগুলোকে এমনভাবে উদ্ভাবন (تخريج) করেছেন যা ইলমি মূলনীতিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে তার উপস্থাপিত যুক্তিপ্রমাণসমূহ (استدلالات) আমাদের অনুকূলে দলিল এবং তার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা মানুষকে আমাদের নির্দেশিত পথে অটল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।

তাই দ্বীনের বিজয় এবং রাসূলদের সরদারের শরীয়ত হিফাজত করার জন্য আমরা এই রিসালার মাধ্যমে তার আরোপিত ও খণ্ডনকৃত বিষয়গুলোর জবাব দেওয়া কর্তব্য বলে মনে করেছি। আমরা আমাদের এই রিসালার শুরুতে বিতর্কিত মাসআলাটির বিধান সম্পর্কে চার মাজহাবের আলেমদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছি। আমরা তার সেই বাক্যগুলো হুবহু এবং বিস্তারিত উদ্ধৃত করছি যেগুলোর জবাব দিতে চাই; তবে যা শব্দে শব্দে উদ্ধৃত করা অসম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা কেবল মর্মার্থের দিকে ইঙ্গিত করব। আর তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أقوال علماء المذاهب الأربعة في حكم رفع الصوت بالتهليل والتكبير وغيرهما أمام الجنائز

‌‌أقوال السادة الحنفية:

قال في «الدر المختار شرح تنوير الأبصار» : «وكره في الجنازة رفع الصوت بذكر أو قراءة (1) ا. هـ» ، قال محشيه العلامة ابن عابدين: «وفي «البحر» عن «الغاية» : «وينبغي لمن تبع جنازة أن يطيل الصَّمت» ، وفيه عن «الظهيرية» : «فإنْ أراد أن يذكرَ الله -تعالى- يذكرُه في نفسه؛ [لقوله -تعالى-: {إِنَّهُ لا يُحِبُّ الْمُعْتَدِين} [الأعراف: 55] ؛ أي: الجاهرين بالدعاء] » ، وعن إبراهيمَ أنه كان يكره أن يقول الرجل وهو يمشي معها: استغفروا له غفر الله لكم ا. هـ. قلت: «وإذا كان هذا في الدُّعاء والذِّكر، فما ظنُّك بالغناء الحادث في هذا الزمان» (2)

--------------------------------------------

(1) (2/233 - حاشيته) ، وفيه: «كما كره فيها رفع صوت بذكر أو قراءة فتح» .

(2) «حاشية ابن عابدين» (2/233) ، وما بين المعقوفتين منه، وإبراهيم هو النخعي، وعلقه البيهقي في «سننه الكبرى» (4/74) عنه وعن سعيد بن المسيب والحسن البصري وسعيد بن جبير.

وانظر كراهة ابن جبير في «زهد وكيع» (2/463 رقم 212) ، وانظر في المسألة: «اقتضاء الصراط المستقيم» (ص 57) ، «الباعث على إنكار البدع والحوادث» (ص 270-271 - بتحقيقي) ، «الحوادث والبدع» (162) ، «الأمر بالاتباع» (253-254 - بتحقيقي) ، «المدخل» (2/221) ، «الطريقة المحمدية» (1/131 - شرح عبد الغني النابلسي) ، «البحر الرائق» (2/207 - ط. دار الكتاب الإسلامي أو 2/236 - ط. دار الكتب العلمية) ، «الإبداع في مضار الابتداع» (ص 110، 225) ، «أحكام الجنائز وبدعها» (ص 71، 92، 250) ، «تلخيص الجنائز» (39-40) ، «صلاة التراويح» (24) ، «معلمة الفقه المالكي» (197) .

 

ولقاضي الرباط محمد بن أحمد بن عبد الله، المتوفى بمكة (عام 1383-1963م) : «الصارم المسلول على مخالف سنن الرسول في الرد على من استحسن بدعة الذكر جهراً في تشييع الجنازة» ، انظر: «من أعلام الفكر المعاصر» (2/92) ، «معلمة الفقه المالكي» (160) .
জানাজার সামনে উচ্চস্বরে তাহলিল, তাকবির এবং অন্যান্য জিকির করার বিধান সম্পর্কে চার মাযহাবের আলেমদের অভিমত

হানাফি মাশায়েখগণের অভিমত:

‘আদ-দুররুল মুখতার শারহু তানভিরিল আবসার’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “জানাজায় জিকির বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করা অপছন্দনীয় (كره)।” এর ব্যাখ্যাকারী আল্লামা ইবনে আবিদিন বলেন: “আল-বাহর’ গ্রন্থে ‘আল-গায়াহ’ থেকে বর্ণিত হয়েছে: ‘যিনি জানাজার অনুসরণ করবেন, তার দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকা উচিত।’ তাতে ‘আজ-জহিরিয়্যাহ’ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: ‘যদি কেউ মহান আল্লাহর জিকির করতে চায়, তবে সে যেন তা মনে মনে করে; [কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আরাফ: ৫৫]; অর্থাৎ: যারা উচ্চস্বরে দোয়া করে]’।” এবং ইব্রাহিম (আন-নাখায়ি) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জানাজার সাথে হাঁটার সময় কোনো ব্যক্তির ‘তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করুন’ বলা অপছন্দ (يكره) করতেন। আমি (ইবনে আবিদিন) বলি: “যদি দোয়া ও জিকিরের ক্ষেত্রে এই বিধান হয়, তবে বর্তমান সময়ে প্রচলিত সুরেলা আওয়াজ বা বিলাপের ব্যাপারে আপনার কী ধারণা!”

--------------------------------------------

(১) (২/২৩৩ - হাশিয়া), এবং তাতে আছে: “যেমন এতে জিকির বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করা অপছন্দনীয় (كره) সাব্যস্ত করা হয়েছে, ফাতহ।”

(২) “হাশিয়া ইবনে আবিদিন” (২/২৩৩), এবং বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু সেখান থেকেই নেওয়া। ইব্রাহিম হলেন আন-নাখায়ি, এবং আল-বায়হাকি তার “সুনানুল কুবরা” (৪/৭৪) গ্রন্থে তার থেকে এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, হাসান বসরী ও সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এটি তালীক (علقه) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এবং ইবনে জুবায়েরের অপছন্দনীয়তা (كراهة) সম্পর্কে দেখুন “জুহদু ওয়াকি” (২/৪৬৩, নং ২১২)। এই মাসআলা সম্পর্কে আরও দেখুন: “ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম” (পৃ. ৫৭), “আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা’ ওয়াল হাওয়াদিস” (পৃ. ২৭০-২৭১ - আমার তাহকিককৃত), “আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা’” (১৬২), “আল-আমরু বিল ইত্তিবা’” (২৫৩-২৫৪ - আমার তাহকিককৃত), “আল-মাদখাল” (২/২২১), “আত-তারিকাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ” (১/১৩১ - আব্দুল গনি নাবলুসীর শারহ), “আল-বাহরুর রায়িক” (২/২০৭ - দারুল কিতাব আল-ইসলামি মুদ্রণ অথবা ২/২৩৬ - দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ মুদ্রণ), “আল-ইবদা’ ফি মাদাররিল ইবতিদা’” (পৃ. ১১০, ২২৫), “আহকামুল জানায়িজ ওয়া বিদাউহা” (পৃ. ৭১, ৯২, ২৫০), “তালখিসুল জানায়িজ” (৩৯-৪০), “সালাতুত তারাবিহ” (২৪), “মুয়াল্লামাতুল ফিকহ আল-মালিকি” (১৯৭)।

 

রাবাতের বিচারক মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ (মৃত্যু মক্কায়, ১৩৮৩ হি.- ১৯৬৩ খ্রি.)-এর রচিত: “আস-সারিমুল মাসলুল আলা মুখালিফি সুনানুর রাসুল ফির রাদ্দি আলা মান ইসতাহসানা বিদআতায যিকরি জাহরান ফি তাশয়িয়িল জানাজাহ”, দেখুন: “মিন আ’লামিল ফিক্রিল মুয়াসির” (২/92), “মুয়াল্লামাতুল ফিকহ আল-মালিকি” (১৬০)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৭)
ا. هـ كلام ابن عابدين، وفي «الفتاوى الهندية» : «وعلى متبعي (1) الجنازة الصمت، ويكره لهم [-يعني: تحريماً-] رفع الصوت بالذكر وقراءة القرآن، كذا في «شرح الطحاوي» ، فإن أراد أن يذكر الله يذكره في نفسه، كذا في «فتاوي قاضي خان» » (2) ، وقال في «الكنز» و «شرحه» «وحواشيه» : «ويكره رفعُ الصوتِ بالذكرِ والقرآنِ، وعليهم -يعني: السائرين مع الجنازة- الصمتَ (3) . وقولِهِم: (كل حي سيموت) ونحو ذلك، من الأذكار المتعارفة خلف الجنازة بدعة قبيحة» . وقال العلامة الشُّرُنْبلالي في «نور الإيضاح» و «شرحه» : «ويكره رفعُ الصوتِ بالذكرِ والقرآنِ، وعليهم الصمتَ، وقولُهم: (كل حي سيموت) ونحو ذلك خلف الجنازة بدعة» ا. هـ (4) .

قال العلامة الطحطاوي في «حاشيته» على الكتاب المذكور نقلاً عن السراج: «ولا يرفع صوتَه بالقراءةِ ولا بالذكرِ، ولا يغتر بكثرة من يفعل ذلك، وأما ما يفعله الجهّالُ في القراءة على الجنازة؛ من رفع الصوت، والتمطيط فيه، فلا يجوز بالإجماع، ولا يسع أحداً يقدر على إنكاره أن يسكت عنه ولا ينكر عليه» (5) .

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «متبع» ، والتصويب من «الفتاوى الهندية» .

(2) «الفتاوى الهندية» (1/162) ، وما بين المعقوفتين زيادة من المصنف.

وأما كلام قاضي خان فهو في «فتاويه» (1/190 - هامش الفتاوى الهندية) .

(3) «البحر الرائق» (2/207 - دار الكتاب الإسلامي) أو (2/336 - ط. دار الكتب العلمية) .

(4) «مراقي الفلاح شرح نور الإيضاح» (ص 101 - ط. المطبعة العلمية) أو (332- مع «حاشية الطحطاوي» ) .

(5) «حاشية الطحطاوي» (332) .
ইবনে আবিদীনের বক্তব্য এখানেই শেষ। আর ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’-তে রয়েছে: ‘জানাজার অনুসারীদের (১) জন্য কর্তব্য হলো নীরবতা অবলম্বন করা। জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে তাদের উচ্চস্বরে শব্দ করা মাকরূহ (يكره) [অর্থাৎ: তাহরিমি (تحريماً) মাকরূহ]। ‘শরহুত তাহাবি’-তেও অনুরূপ রয়েছে। যদি কেউ আল্লাহর জিকির করতে চায়, তবে সে মনে মনে তা করবে; ‘ফাতাওয়া কাজি খান’-এ (২) এমনটিই বর্ণিত হয়েছে।’ ‘আল-কানজ’, এর ‘শরহ’ এবং এর ‘হাশিয়া’ সমূহে বলা হয়েছে: ‘জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করা মাকরূহ (يكره)। জানাজার সাথে গমনকারীদের জন্য কর্তব্য হলো নীরব থাকা (৩)। জানাজার পেছনে প্রচলিত জিকিরসমূহ যেমন— “প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” এবং এই জাতীয় বাক্য উচ্চারণ করা একটি মন্দ বিদআত (بدعة)।’ আল্লামা শুরুনবুলালি ‘নুরুল ইজাহ’ ও এর ‘শরহ’-এ বলেছেন: ‘উচ্চস্বরে জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত করা মাকরূহ (يكره), তাদের জন্য নীরব থাকা আবশ্যক এবং জানাজার পেছনে “প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” ইত্যাদি বলা বিদআত (بدعة)।’ বক্তব্য শেষ হলো (৪)।

আল্লামা তহতাভি উক্ত কিতাবের ওপর লিখিত তাঁর ‘হাশিয়া’-তে ‘আস-সিরাজ’ থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: ‘কেউ তেলাওয়াত বা জিকিরে কণ্ঠস্বর উঁচু করবে না এবং যারা এমনটি করে তাদের আধিক্য দেখে যেন কেউ প্রতারিত না হয়। আর মূর্খরা জানাজার ওপর উচ্চস্বরে এবং টেনে টেনে যেভাবে তেলাওয়াত করে, তা সর্বসম্মতভাবে (إجماع) নাজায়েজ। যে ব্যক্তি এটি প্রতিরোধ করতে সক্ষম, তার পক্ষে নীরব থাকা বা এর প্রতিবাদ না করে চুপ থাকা বৈধ নয় (৫)।’

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: ‘মুততাবি’ (একবচন), যা ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’ অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।

(২) ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’ (১/১৬২); আর বন্ধনীর মধ্যবর্তী অংশটুকু লেখকের সংযোজন। কাজি খানের বক্তব্য তাঁর ‘ফাতাওয়া’-তে (১/১৯০ - আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া এর হাশিয়া) রয়েছে।

(৩) ‘আল-বাহরুর রায়েক’ (২/২০৭ - দারুল কিতাব আল-ইসলামি) অথবা (২/৩৩৬ - দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ মুদ্রণ)।

(৪) ‘মারাকিল ফালাহ শরহে নুরুল ইজাহ’ (পৃ. ১০১ - আল-মাতবাআ আল-ইলমিয়্যাহ মুদ্রণ) অথবা (৩৩২ - ‘হাশিয়াতুত তহতাভি’ সহ)।

(৫) ‘হাশিয়াতুত তহতাভি’ (৩৩২)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أقوال السادة الشافعية:

قال الإمام النووي -رحمه الله تعالى- في «مجموعه» (1) و «أذكاره» (2) : «والصواب ما كان عليه السلف من السكوت في حال السير مع الجنازة، فلا يُرفَعُ صَوتٌ بقراءةٍ ولا ذكرٍ ولا غيرِهما؛ لأنه أَسكنُ للخاطر، وأَجمعُ للفكر فيما يتعلق بالجنازة، وهو المطلوب في هذا الحال، فهذا هو الحق ولا تغتر بكثرة من يخالفه، فقد قال أبو علي الفضيل بن عياض: «الزم طرقَ الهدى ولا يغرَّكَ قلَّة السالكين، وإياك وطرقَ الضلالةِ ولا تغترّ بكثرة الهالكين» (3) ، وقد رَوَيْنا (4)

--------------------------------------------

(1) «المجموع» (5/290-291) ، وسينقل كلامه الرملي في «حواشي المنهاج» ، وسيأتي ذكره قريباً عند المصنف، وانظر ما علقته، والله الموفق.

(2) «الأذكار» (ص 145) ، والمزبور بحروفه منه.

(3) ذكره الشاطبي في «الاعتصام» (1/135 - بتحقيقي) ، وفيه: «اتبع طرق … ولا يضرك قلة … » ، وعزاه النووي في «الأذكار» (58 - ط. دار ابن كثير) إلى الحاكم.

(4) قال عز الدين بن جماعة في «شرح الأربعين النووية» (ق5/ب) : … =

= … «الأكثر يقولون: رَوَيْنا -بفتح الراء مخففة-، مِن روى: إذا نقل عن غيره؛ مثل: … رمى يرمي، والأجود بضم الراء وكسر الواو مشددة؛ أي: روانا مشايخنا؛ أي: نقلوا لنا فسمعنا» .

وقال ابن المعز الحجازي: إنّ المشهور، هو: رَوَيْنا -بفتح الراء والواو مخففة-. وفي الوجهين يقول الناظم:

وقل رَوَيْنا أو رُوِّينا ضما … وجهان فيهما فكن مهتما

 

وهناك في ضبطها قول ثالث ذكر ابن علان عن الكازروني؛ وهو: بضم الراء مبنياً للمفعول مخففة؛ أي: روى لنا إسماعاً أو إقراء أو إجازة أو غيرها. انظر: «الفتوحات الربانية» (1/29) .

 

وقد أفرد عبد الغني النابلسي (1143هـ) ضبط هذه الكلمة في رسالة مفردة، اسمها: «إيضاح ما لدينا في قول المحدثين: روينا» ، وهي مِن محفوظات المكتبة الأحمدية بحلب، وهي تقع في خمس ورقات، وهذا نصها: بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على مَنْ لا نَبِيَّ بعده وعلى آله وأصحابه، وأخص بالزيادة أتْبَاعه وأنصاره وجُنده، أمَّا بَعْدُ: فيقول (أ) شيخنا الإمام العلامة العمدة الهُمَام الفَهَّامة جَنَاب الشيخ عبد الغني الشهير نسبه الكريم بابن النابلسي الدمشقي الحنفي -عامله الله تعالى بلطفه الخفي-:

سألني الكامل الفاضل جامع الفضائل والفواضل محمد أفندي الرومي نائب الشرع الشريف في محروسته دمشق الشام، يوم الخميس، تاسع شهر ربيع الثاني من شهور سنة خمس وعشرين ومئة وألف، حين ورد بالنيابة واجتمعنا به -أحسن الله تعالى قدومه وإيابه، وأجزل ثوابه-: عن معنى قول الإمام العالم العلامة القدوة الكامل الفهامة محيي الدين أبي زكريا يحيى بن شرف الدين النووي -رحم الله روحه، ونَوَّر ضريحه- في كتابه «الأربعين» ، المشتمل على أحاديث سَيِّد المرسلين صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه أجمعين، في آخر الحديث (السابع والعشرين) من كتابه المذكور، بعد إيراد لفظ الحديث عن وابصة بن معبد رضي الله عنه، قال النووي: «حديث صحيح -وفي نسخة: حسن-، رويناه في … «مسند الإمامين أحمد بن حنبل والدارمي» بإسناد جيد -وفي نسخة: حسن-، وصورة السؤال: أنّ قوله: «رويناه» في «مسند الإمامين» يقتضي أنّ الإمام النووي مَذْكور في=

-------------------------

(أ) القائل هنا؛ هو: محمد بن إبراهيم الدكدكجي.

= «المسند» الذي للإمامين، مع أنَّ الإمام النووي متأخر عنهما بيقين، والإمامان متقدمان ولم يجتمع بهما ولا بأحدهما، فإنَّ الإمام أحمد بن حنبل وُلد في ربيع الأول سنة أربع وستين ومئة، ومات في ربيع الأول سنة إحدى وأربعين ومئتين عن سبع وسبعين سنة، وأبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن الدَّارِمي التميمي السَّمَرْقَنْدي الحافظ من بني دارم بن مالك بن حنظلة بن زيد مناة بن تميم، ولد سنة إحدى وثمانين ومئة، ومات يوم التروية سنة خمس وخمسين ومئتين.

وأمَّا الإمام النووي، فإنه ولد في محرم سنة إحدى وثلاثين وست مئة، وتوفي في رجب سنة ست وسبعين وست مئة عن خمس وأربعين سنة، فقلت في الجواب عن ذلك -بعون القدير المالك-: أما قوله: رويناه في «مسند الإمامين أحمد بن حنبل والدارمي» مثل قوله في أول كتابه «الأربعين» قبل الشروع فيه: «فقد روينا عن علي بن أبي طالب، وعبد الله ابن مسعود، ومعاذ بن جبل، وأبي الدرداء، وابن عمر، وابن عباس، وأنس بن مالك، وأبي هريرة، وأبي سعيد الخدري رضي الله عنهم» ، وهم صحابة متقدمون، وهو متأخر عنهم جداً؛ فإنه على معنى روت لنا مشايخنا؛ أي: نقلوا لنا فسمعنا؛ كما صرح بهذا شارح «الأربعين» الشيخ الإمام شهاب الدين أحمد بن حجر المكي الهَيْتَمي، وذكر الشارح -أيضاً- في شرح قوله: «رويناه في «مسند الإمامين» » يعني: رويناه بسندنا المتصل حالة كونه في «مسند الإمامين» ، وقال الشارح -أيضاً-: «وقوله رَوَيناه بفتح أوله مع تخفيف الواو عند الأكثر، من رَوَى إذا نقل عن غيره. وقال جمع: الأجود ضم الراء وكسر الواو المشددة؛ أي: روت لنا مشايخنا، فسمعنا عن علي بن أبي طالب … » إلى آخره.

وذكر الشيخ الإمام شهاب الدين أحمد بن محمد بن علي الهمداني الفَيُّومي ثم الحموي المشهور بابن خطيب الدهشة في كتابه «المصباح المنير في غريب الشرح الكبير» ، وهو شرح «الوجيز» ، تصنيف الإمام الغزَّالي في فقه الشافعية، وشرحه للإمام الرافعي -رحمهم الله تعالى-، قال: «رَوَى البعير الماء، يَرْويه مِن باب: رَمَى فهو رَاوِيَة، الهاء فيه للمبالغة، ثم أطلقت الرَّاوِيَة على كل دابَّة يُسْتَقى الماء عليها، ومنه قيل: رَوَيْتُ الحديث: إذا حَمَلْتَه ونقلتَه، ويُعَدَّى بالتضعيف، فيقال: رَوَّيْت زيداً الحديث، ويُبْنى للمفعول، فيقال: رُوِّينَا الحديث» . انتهى كلامه.

وعلى هذا؛ فإذا حمل قول النووي -رحمه الله تعالى-: فقد روينا عن علي بن أبي طالب … إلى آخره، بتشديد الواو مبنياً للمفعول؛ يعني: رَوَّانا مشايخنا ذلك -بتشديد الواو-= =بأن كان الشيخ الأول رَوَّى -بتشديد الواو- مَنْ بَعْده، والذي بعده رَوَّى -بتشديد الواو- مَنْ بعده إلى آخر شيخ هو روَّانا -بتشديد الواو-، فعلى هذا؛ يُقْرأ قوله: فقد رُوِّينَا بضم الراء وتشديد الواو مكسورة وضم الهاء مبنياً للمفعول، ولا يختلف رسم الكتابة في ذلك.

وأمّا قوله: بإسناد جيد أو حسن، بعد قوله: رويناه في «مسند الإمامين أحمد بن حنبل والدارمي» فالجار والمجرور متعلق بواجب الحذف حال من الهاء في قوله: رويناه، كما أنّ قوله: في «مسند الإمامين» ، الجار والمجرور متعلق بواجب الحذف حال -أيضاً- من الهاء في قوله: رويناه، كما أشار إليه الشارح فيما قدمناه، فيكون الحالان من الهاء الضمير المنصوب بالمفعولية الثانية لرَوَّى -مشدد الواو-، والمفعول الأول: نا، التي هي ضمير المُعَظِّم نفسه بشرف الرواية، أو هو ومعه غيره من أصحابه، وهذه الحال متداخلة، وتقدير ذلك: رُوِّيناه حال كونه في «مسند الإمامين» ، وحال كونه وهو من «مسند الإمامين» حاصلاً بإسناد جيد. ويصح أن يكون الجار والمجرور الثاني وهو قوله: «بإسناد جيد» متعلقاً بقوله: حديث صحيح، إمَّا بحديث، وإما بصحيح، وليس هذا الجار والمجرور الأول متعلقاً برويناه؛ لأنّ إسناده هو لم يُرِد الإخبار عنه بأنه جيد، ولم يرد ذكره، وإنما أراد بالإسناد الجيد: إسناد الإمام أحمد والدارمي، يدل عليه قول الشارح المذكور: فإنْ قلتَ: ما حِكْمة قول المصنف أولاً: حديث صحيح، وقوله هنا: بإسناد جيد؟ قلت: حكمته: أنه لا يلزم من كون الحديث في «المسندين» المذكورين أن يكون صحيحاً، فبين أولاً بأنه صحيح، وثانياً: أنّ سبب صحته أن إسناد هذين الإمامين الذين أخرجاه صحيح أيضاً، وله حكمة أخرى حديثية؛ وهي: ما صرحوا به أنه لا تلازم بين الإسناد والمتن، فقد يصح فيه السند أو يحسن؛ لاستجماع شروطه من الاتصال والعدالة والضبط دون المتن؛ لشذوذ فيه أو علة، فنص المصنف أولاً: على صحة المتن بقوله: «هذا حديث صحيح» ، وثانياً: على صحة السند بقوله: «بإسناد جيد» إلى آخر ما بسطه من الكلام في هذا المقام.

والحاصل: أنّ قول الإمام النووي رحمه الله هنا: روَيناه -بفتح الواو وتخفيفها- مبنياً للفاعل؛ يعني: روينا عن مشايخنا أو بإسنادنا هذا الحديث الكائن في «مسند الإمامين» المذكور ثمة بإسناد جيد، أو معناه: رُوِّيناه -بتشديد الواو- مبنياً للمفعول؛ أي: رَوَّى -بتشديد الواو- هذا الحديث لنا مشايخنا الكائن ذلك الحديث في «مسند الإمامين» ، كما أن قوله: فقد رَوَيْنا -بتخفيف الواو مفتوحة- والبناء للفاعل؛ أي: روت لنا مشايخنا بإسناد متصل عن علي بن أبي طالب … إلى آخره، أو معناه: رُوِّينا -بتشديد الواو مكسورة- مبنياً= =للمفعول؛ أي: رَوَّتْنا -بتشديد الواو مفتوحة- مشايخنا عن علي بن أبي طالب … إلى آخره، والله أعلم وأحكم، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكان الفراغ من كتابة هذه النسخة المباركة في الخامس عشر من ربيع الثاني سنة خمس وعشرين ومئة وألف على يد العبد الفقير محمد بن إبراهيم بن محمد الشهير بابن الدكدكجي الدمشقي الحنفي -لطف الله به والمسلمين-، وذلك في مجلس واحد، ونقلتها مِن خط مؤلفها شيخنا الإمام الهمام العلامة -نفعنا الله تعالى والمسلمين ببركاته، وأمدنا بصالح دعواته-.

وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين» .

قال أبو عبيدة: انتهت الرسالة النافعة، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
শাফেয়ী ইমামগণের বক্তব্য:

ইমাম নববী -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর «আল-মাজমু» (১) ও «আল-আজকার» (২)-এ বলেছেন: «সঠিক পদ্ধতি হলো—জানাজার সাথে চলার সময় সালাফগণ যেভাবে নীরব থাকতেন সেই পন্থা অবলম্বন করা। সুতরাং কিরাআত, জিকর বা অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে উচ্চস্বর করা যাবে না; কারণ এটি মনকে প্রশান্ত রাখতে এবং জানাজা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চিন্তা করতে অধিক সহায়ক, যা এই অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত। এটাই সত্য; যারা এর বিরোধিতা করে তাদের সংখ্যার আধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আবু আলী আল-ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বলেছেন: ‘হেদায়েতের পথে অবিচল থাকো, পথিকের স্বল্পতা তোমাকে যেন বিচলিত না করে; আর ভ্রান্তির পথ থেকে বেঁচে থাকো, ধ্বংসপ্রাপ্তদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হয়ো না’» (৩)। আমরা বর্ণনা করেছি (৪)

--------------------------------------------

(১) «আল-মাজমু» (৫/২৯০-২৯১), অচিরেই আর-রামলি «হাওয়াশিল মিনহাজ»-এ তাঁর কথাটি উদ্ধৃত করবেন এবং এই কিতাবের লেখকের আলোচনায় তা শীঘ্রই আসবে। আমি এ বিষয়ে যা লিখেছি তা দেখে নিন, আল্লাহই তৌফিকদাতা।

(২) «আল-আজকার» (পৃ. ১৪৫), হুবহু সেখান থেকেই বর্ণিত।

(৩) এটি আশ-শাতিবি তাঁর «আল-ইতিসাম» (১/১৩৫ - আমার তাহকিককৃত) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেখানে শব্দগুলো হলো: «অনুসরণ করো পথ... আর তোমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না স্বল্পতা...», এবং ইমাম নববী «আল-আজকার»-এ (পৃ. ৫৮ - দার ইবনে কাসির সংস্করণ) এটি আল- হাকিমের দিকে নিসবত করেছেন।

(৪) ইজ্জুদ্দিন বিন জামাআ «শারহুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ» (৫/খ) গ্রন্থে বলেছেন: …=

= … «অধিকাংশ লোক বলেন: রওয়াইনা (رَوَيْنا) - রা বর্ণে ফাতহা ও হালকা উচ্চারণ সহকারে, যা রাওয়া (رَوى) থেকে উদ্ভূত; যখন অন্য কারো থেকে বর্ণনা করা হয়; যেমন: … রামা-ইয়ারমি। আর উত্তম হলো রা বর্ণে দম্মা এবং ওয়াও বর্ণে কাসরা ও তাশদিদ সহকারে রউয়িনা (رُوِّينا) পড়া; অর্থাৎ: আমাদের শাইখগণ আমাদের বর্ণনা শুনিয়েছেন; তারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর আমরা তা শুনেছি»।

ইবনুল মুইজ আল-হিজাজি বলেছেন: প্রসিদ্ধ হলো রওয়াইনা (رَوَيْنا) - রা এবং ওয়াও বর্ণে ফাতহা ও হালকা উচ্চারণ সহকারে। উভয় পঠনপদ্ধতি সম্পর্কে কবি বলেন:

তুমি রওয়াইনা (رَوَيْنا) বলো অথবা দম্মা দিয়ে রউয়িনা (رُوِّينا) বলো … এতে দুটি অভিমত রয়েছে, তাই তুমি মনোযোগী হও।

 

এই শব্দের উচ্চারণে তৃতীয় আরেকটি মত রয়েছে যা ইবনে আল্লান আল-কাযরুনি থেকে উল্লেখ করেছেন; তা হলো: রা বর্ণে দম্মা ও মাজহুল (مبني للمفعول) হিসেবে হালকা উচ্চারণে রুউয়িনা (رُوِينا); অর্থাৎ: শ্রবণ (ইসমা), পাঠ (ইকরা) বা অনুমতি (ইজাজাহ) অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: «আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ» (১/২৯)।

 

আব্দুল গনি আন-নাবুলসি (১১৪৩ হি.) এই শব্দের উচ্চারণের বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা লিখেছেন, যার নাম: «ইজাহু মা লাদাইনা ফি কউলি আল-মুহাদ্দিসিনা: রওয়াইনা», এটি আলেপ্পোর আল-আহমাদিয়্যাহ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে এবং এটি পাঁচ পৃষ্ঠার। এর মূলপাঠ হলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর, এবং দরুদ ও সালাম তাঁর উপর যার পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের উপর, বিশেষ করে তাঁর অনুসারী, সাহায্যকারী ও বাহিনীর উপর। অত:পর: আমাদের শাইখ, ইমাম, আল্লামা, অবলম্বন, তীক্ষ্ণধী আব্দুল গনি—যিনি নাবুলসি দামেশকি হানাফি নামে প্রসিদ্ধ (আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে তাঁর গোপন করুণা দ্বারা আচরণ করুন)—বলেন:

পূর্ণাঙ্গ ও গুণী ব্যক্তিত্ব, বহু গুণের সমাহার মুহাম্মদ এফেন্দি আর-রুমি—যিনি দمشق (দামেস্ক) শহরের শরয়ি প্রতিনিধি ছিলেন—১১২৫ হিজরির রবিউস সানি মাসের ৯ তারিখ বৃহস্পতিবার আমাকে একটি প্রশ্ন করেন। যখন তিনি দায়িত্ব পালনে আসলেন এবং আমাদের সাথে সাক্ষাৎ হলো (আল্লাহ তাঁর আগমন ও প্রত্যাবর্তন সুন্দর করুন এবং তাঁর সওয়াব বৃদ্ধি করুন): তিনি ইমাম, আল্লামা, আদর্শ ব্যক্তিত্ব মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শরাফ উদ্দিন নববী (রহ.)-এর «আল-আরবাঈন» কিতাবের একটি উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। কিতাবটি সাইয়্যিদুল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর হাদিস সংবলিত। এর ২৭তম হাদিসের শেষে ওয়াবিসাহ বিন মাবাদ (রা.) থেকে হাদিসটির শব্দগুলো বর্ণনা করার পর ইমাম নববী বলেছেন: «সহীহ (صحيح) হাদিস - কোনো কোনো পান্ডুলিপিতে রয়েছে: হাসান (حسن) -, আমরা এটি বর্ণনা করেছি (رويناه) ... দুই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ও আদ-দারিমির মুসনাদ-এ উত্তম ইসনাদ (إسناد جيد)-এর সাথে - কোনো কোনো সংস্করণে রয়েছে: হাসান (حسن) -। প্রশ্নের সারসংক্ষেপ হলো: তাঁর এই কথা «আমরা এটি বর্ণনা করেছি (رويناه)» ইমাম আহমাদ ও আদ-দারিমির মুসনাদ-এ, এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম নববী উক্ত দুই ইমামের মুসনাদ-এ উল্লিখিত আছেন=

-------------------------

(ক) এখানে বক্তা হলেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দাকদাকজি।

= অথচ ইমাম নববী নিশ্চিতভাবেই তাদের পরবর্তী সময়ের মানুষ, আর ইমামদ্বয় তাঁর অনেক পূর্বের। তিনি তাদের কারও সাথেই সাক্ষাৎ করেননি। কারণ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ১৬৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ৭৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আর আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি আত-তামিমি আস-সামারকান্দি আল-হাফিজ (الحافظ), যিনি বনু দারিম বিন মালিক বিন হানজলা বিন জায়েদ মানাত বিন তামিম গোত্রের লোক, তিনি ১৮১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৫ হিজরির তারবিয়ার দিনে ইন্তেকাল করেন।

পক্ষান্তরে ইমাম নববী ৬৩১ হিজরির মহররম মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭৬ হিজরির রজব মাসে ৪৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাই আমি সেই মালিক ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্যে এর উত্তরে বললাম: তাঁর কথা—«আমরা এটি বর্ণনা করেছি দুই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ও আদ-দারিমির মুসনাদ-এ»—যেমনটি তিনি তাঁর «আল-আরবাঈন» কিতাবের শুরুর দিকে আলোচনা শুরুর আগে বলেছেন: «আমরা আলী বিন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মুয়াজ বিন জাবাল, আবু দারদা, ইবনে ওমর, ইবনে আব্বাস, আনাস বিন মালিক, আবু হুরায়রা ও আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছি (روينا)», অথচ তাঁরা পূর্ববর্তী সাহাবী এবং তিনি তাদের থেকে অনেক পরের। এর অর্থ হলো—আমাদের শাইখগণ আমাদের বর্ণনা শুনিয়েছেন; অর্থাৎ: তারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর আমরা তা শুনেছি। যেমনটি «আল-আরবাঈন»-এর ব্যাখ্যাকার ইমাম শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন হাজার আল-মাক্কি আল-হাইতামি স্পষ্ট করেছেন। ব্যাখ্যাকার আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কথা «আমরা এটি বর্ণনা করেছি দুই ইমামের মুসনাদ-এ» এর অর্থ হলো: আমরা এটি আমাদের নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি এমতাবস্থায় যে সেটি ওই দুই ইমামের মুসনাদ-এ বিদ্যমান। ব্যাখ্যাকার আরও বলেছেন: «তাঁর উক্তি রওয়াইনাহু (رَوَيناه) প্রথম বর্ণে ফাতহা ও ওয়াও বর্ণে হালকা উচ্চারণ সহকারে অধিকাংশের মতে, যা রওয়া (رَوَى) থেকে এসেছে যখন তা অন্যের কাছ থেকে বর্ণনা করা হয়। একদল বলেছেন: উত্তম হলো রা বর্ণে দম্মা ও ওয়াও বর্ণে তাশদিদ সহকারে (رُوِّينا); অর্থাৎ: আমাদের শাইখগণ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা আলী বিন আবি তালিব (রা.) থেকে শুনেছি...» শেষ পর্যন্ত।

ইমাম শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হামদানি আল-ফাইয়ুমি অতঃপর আল-হামাভি—যিনি ইবনে খাতিব আদ-দাহশাহ নামে পরিচিত—তাঁর «আল-মিসবাহুল মুনির ফি গরিবুশ শারহিল কাবির» কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এটি ইমাম গাজালির শাফেয়ী ফিকহ বিষয়ক কিতাব «আল-অজিজ»-এর ব্যাখ্যা যা ইমাম রাফেয়ি (রহ.) লিখেছেন। তিনি বলেছেন: «উট পানি বহন করেছে (রওয়া), এটি রামা-এর পরিচ্ছেদ থেকে ব্যবহৃত হয়, সেখান থেকেই ‘রাবিয়াহ’ (রাবি) শব্দটির উৎপত্তি, এখানে ‘হা’ বর্ণটি আধিক্যের জন্য। পরবর্তীতে ‘রাবিয়াহ’ শব্দটি সেই পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যার ওপর পানি বহন করা হয়। সেখান থেকেই বলা হয়: আমি হাদিসটি বর্ণনা করেছি (রওয়াইতু), যখন তুমি তা বহন করেছ এবং স্থানান্তর করেছ। তাশদিদ যোগ করে একে সকর্মক করা হয়, তখন বলা হয়: রউয়াইতু (আমি বর্ণনা শুনিয়েছি) জায়েদকে হাদিসটি। আর মাজহুল হিসেবে বলা হয়: রুউয়িনা আল-হাদিস (আমাদের নিকট হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে)»। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।

এর ওপর ভিত্তি করে, যদি ইমাম নববী (রহ.)-এর কথা—«আমরা আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছি (روينا)...»—একে ওয়াও বর্ণে তাশদিদ ও মাজহুল হিসেবে ধরা হয়; অর্থাৎ: আমাদের শাইখগণ আমাদের তা বর্ণনা শুনিয়েছেন (রউয়ানা) —ওয়াও বর্ণে তাশদিদ সহকারে— এভাবে যে, প্রথম শাইখ তার পরবর্তীজনকে বর্ণনা শুনিয়েছেন এবং তিনি তার পরবর্তীজনকে শুনিয়েছেন একদম শেষ শাইখ পর্যন্ত যিনি আমাদের বর্ণনা শুনিয়েছেন; তবে এই ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্যটি এভাবে পড়া হবে: রউয়িনা (رُوِّينا) রা বর্ণে দম্মা, ওয়াও বর্ণে তাশদিদ ও কাসরা সহকারে এবং ‘না’ যুক্ত করে মাজহুল হিসেবে। এতে লেখার ধরনে কোনো পরিবর্তন হবে না।

আর তাঁর কথা—«উত্তম ইসনাদ (إسنাদ جيد) বা হাসান (حسن) সনদের সাথে», যা তাঁর কথা «আমরা এটি বর্ণনা করেছি দুই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ও আদ-দারিমির মুসনাদ-এ» এর পরে এসেছে; এখানে যার-মাজরুর (সম্বন্ধযুক্ত পদ) একটি উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট যা ‘রওয়াইনাহু’-এর ‘হু’ (এটি) সর্বনাম থেকে হাল (অবস্থা) হিসেবে কাজ করছে। ঠিক যেমন তাঁর কথা «দুই ইমামের মুসনাদ-এ» যার-মাজরুরটিও ‘রওয়াইনাহু’-এর ‘হু’ সর্বনাম থেকে হাল হিসেবে সংশ্লিষ্ট, যা ব্যাখ্যাকার ইঙ্গিত করেছেন। ফলে এই দুটি হাল (অবস্থা) ওই ‘হু’ সর্বনাম থেকে হবে যা রউয়ানা (রউয়া - তাশদিদ যুক্ত)-এর দ্বিতীয় কর্মপদ। আর প্রথম কর্মপদ হলো ‘না’ (আমরা), যা বর্ণনার সম্মানে নিজেকে বা সাথীদের নিয়ে ব্যবহৃত সর্বনাম। এই হালটি পরস্পর প্রবিষ্ট (মুদাকখিলাহ), এর বাক্যকাঠামো হবে এমন: আমরা এটি বর্ণনা করেছি এমতাবস্থায় যে এটি দুই ইমামের মুসনাদ-এ রয়েছে এবং এমতাবস্থায় যে এটি দুই ইমামের মুসনাদ থেকে উত্তম ইসনাদ (إسناد جيد)-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এটিও সহীহ যে, দ্বিতীয় যার-মাজরুর অর্থাৎ «উত্তম ইসনাদ (إسنাদ جيد)-এর সাথে» কথাটি তাঁর উক্তি «সহীহ (صحيح) হাদিস»-এর সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে; হয় হাদিস শব্দের সাথে, নয়তো সহীহ শব্দের সাথে। আর এই প্রথম যার-মাজরুরটি ‘রওয়াইনাহু’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়; কারণ তিনি নিজের ইসনাদ বা সূত্রটি উত্তম বলে সংবাদ দিতে চাননি এবং সেটি উল্লেখ করারও ইরাদা করেননি। বরং উত্তম ইসনাদ (إسناد جيد) দ্বারা তিনি ইমাম আহমাদ ও আদ-দারিমির ইসনাদ বা সূত্র উদ্দেশ্য করেছেন। এর প্রমাণ হলো উক্ত ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্য: «যদি আপনি বলেন: লেখকের প্রথমে হাদিসটিকে সহীহ (صحيح) বলা এবং এখানে উত্তম ইসনাদ (إسنাদ جيد) বলার রহস্য কী? আমি বলব: এর রহস্য হলো, উল্লিখিত দুই মুসনাদ-এ হাদিসটি থাকলেই তা সহীহ (صحيহ) হওয়া আবশ্যক নয়। তাই তিনি প্রথমে স্পষ্ট করেছেন যে এটি সহীহ (صحيহ), আর দ্বিতীয়ত স্পষ্ট করেছেন যে এর সহীহ হওয়ার কারণ হলো—এই দুই ইমাম যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের ইসনাদ বা সূত্রটিও সহীহ। এর পেছনে হাদিস শাস্ত্রীয় আরেকটি রহস্য রয়েছে; আর তা হলো যা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে—ইসনাদ এবং মতন (متن)-এর মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। কখনও সনদ (سند) সহীহ বা হাসান (حسن) হতে পারে নিরবচ্ছিন্নতা (متصل), ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও স্মৃতিশক্তি (ضبط)-এর শর্তসমূহ পূর্ণ হওয়ার কারণে, কিন্তু মতন (متن) সহীহ নাও হতে পারে তাতে কোনো অস্বাভাবিকতা (شذوذ) বা ত্রুটি (علة) থাকার কারণে। তাই লেখক প্রথমে মতনের সহীহ হওয়ার বিষয়ে নস (স্পষ্ট বর্ণনা) দিয়েছেন এই বলে যে: ‘এটি সহীহ (صحيহ) হাদিস’, এবং দ্বিতীয়ত সনদের সহীহ হওয়ার বিষয়ে নস দিয়েছেন এই বলে যে: ‘উত্তম ইসনাদ (إسناد جيد)-এর সাথে’» তাঁর দীর্ঘ আলোচনার শেষ পর্যন্ত।

সারকথা হলো: ইমাম নববী (রহ.)-এর এখানে উক্তি—রওয়াইনাহু (রওয়াইনা)—ওয়াও বর্ণে ফাতহা ও হালকা উচ্চারণে মারুফ (কর্তৃবাচ্য) হিসেবে; অর্থাৎ: আমরা আমাদের শাইখদের থেকে অথবা আমাদের ইসনাদের মাধ্যমে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছি যা ওই দুই ইমামের মুসনাদ-এ উত্তম ইসনাদ (إسنাদ جيد)-এর সাথে বর্ণিত। অথবা এর অর্থ: রউয়িনাহু (رُوِّيناه)—ওয়াও বর্ণে তাশদিদ ও মাজহুল হিসেবে; অর্থাৎ: আমাদের শাইখগণ আমাদের নিকট এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (রউয়া) যা দুই ইমামের মুসনাদ-এ বিদ্যমান। যেমনটি তাঁর কথা—রওয়াইনা (রওয়াইনা)—ওয়াও বর্ণে ফাতহা ও হালকা উচ্চারণে মারুফ হিসেবে; অর্থাৎ: আমাদের শাইখগণ আমাদের নিকট আলী বিন আবি তালিব (রা.) থেকে নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদে বর্ণনা করেছেন... শেষ পর্যন্ত। অথবা এর অর্থ: রউয়িনা (رُوِّينا)—ওয়াও বর্ণে তাশদিদ ও কাসরা সহকারে মাজহুল হিসেবে; অর্থাৎ: আমাদের শাইখগণ আমাদের বর্ণনা শুনিয়েছেন আলী বিন আবি তালিব (রা.) থেকে... শেষ পর্যন্ত। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত ও প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এই বরকতময় পান্ডুলিপিটি লেখা সমাপ্ত হয়েছে ১১২৫ হিজরির রবিউস সানি মাসের ১৫ তারিখ, আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ—যিনি ইবনে আদ-দাকদাকজি দামেশকি হানাফি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর ও সকল মুসলমানের প্রতি দয়া করুন)—এর হাতে। এটি এক বৈঠকেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আমি এটি আমার শাইখ, ইমাম, আল্লামা—আল্লাহ তাঁর বরকত দ্বারা আমাদের ও সকল মুসলমানকে উপকৃত করুন এবং তাঁর নেক দোয়া দ্বারা আমাদের সাহায্য করুন—এর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি।

আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার ও সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।»

আবু উবাইদাহ বলেন: এই উপকারী পুস্তিকাটি এখানেই সমাপ্ত হলো। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যার অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ৯)
في «سنن البيهقي» (1)

--------------------------------------------

(1) يشير إلى ما أخرجه وكيع في «الزهد» (رقم 211) -وعنه ابن أبي شيبة (4/99) ، ومن طريق وكيع: البيهقي في «السنن الكبرى» (4/74) ، والخطيب في «تاريخ بغداد» (8/91) - وابن المنذر في «الأوسط» (5/389 رقم 3056) من طريق أبي نعيم الفضل بن دكين، كلاهما قال: حدثنا هشام صاحب الدستوائي، عن قتادة، عن الحسن، عن قيس بن عُبَاد، قال: كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يكرهون رفع الصوت عند الجنائز، وعند القتال، وعند الذكر.

وأخرجه ابن المبارك في «الزهد» (83 رقم 247) ، وأبو نعيم في «الحلية» (9/58) من طريق هشام، به. ومن طريقه عند أبي داود (3/114) ، والحاكم (2/116) مختصراً مقتصراً على ذكر القتال، ورجاله ثقات، وهذا أصح ما ورد في الباب.

ومما جاء في ألفاظ حديث البراء الطويل: «خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنازة، فانتهينا إلى القبر، فجلس وجلسنا، كأنَّ على رؤوسنا الطير» أخرجه ابن ماجه (1549) بسند حسن، وتتمة تخريجه في غير هذا الموطن، وتكلمت عليه بإسهاب في تعليقي على «التذكرة» للقرطبي، يسر الله إتمامه وإخراجه.

وفي الباب عن ابن عباس، قال: «إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا شهد جنازة رُئِيَتْ عليه كآبة، وأكثر حديث النفس» أخرجه الطبراني في «الكبير» (11/106 رقم 11189) ، وفيه ابن لهيعة، وفيه كلام، كما في «المجمع» (3/29) .

= … وفي الباب عن عبد العزيز بن أبي رواد رفعه، عند ابن المبارك في «الزهد» (رقم 244) ، وعن عمران بن الحصين، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا شيع جنازة علاه كرب، وأقلّ الكلام، وأكثر حديث النفس. أخرجه الدارقطني في «المؤتلف والمختلف» (1/203) ، وتفرد به المعلى ابن تُركة، وليس بالقوي، أفاده الدارقطني.

 

وعن زيد بن أرقم رفعه: «إن الله يحب الصمت عند ثلاث: … وعند الجنازة» . أخرجه الطبراني في «الكبير» (5/213 رقم 5130) ، وفي إسناده رجل لم يسم، قاله الهيثمي في «المجمع» (3/29) .

وأخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 26 - بتحقيقي) من طريق أبي النضر، وأبو داود في «المراسيل» (ص 308) من طريق مسكين بن بكير، كلاهما عن المسعودي، عن عون بن عبد الله، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا اتبع جنازة، عَلَتْهُ كآبة، وأكثر حديث النفس، وأقلّ الكلام.

إسناده ضعيف؛ لإرساله. ورجاله ثقات، أبو النضر هاشم بن القاسم بن مسلم الليثي، ثقة فقيه، لقبه قيصر، وسماعه وسماع مسكين من المسعودي بعد اختلاطه، والمسعودي هو عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود، ترجمته في «تهذيب الكمال» (17/219) ، وعون بن عبد الله هو ابن عتبة بن مسعود الهُذلي، أبو عبد الله الكوفي، ثقة عابد، تابعي، مات قبل سنة عشرين ومئة.

وأخرجه وكيع في «الزهد» (رقم 206) ، وعنه ابن أبي شيبة (4/98) ، وعبد الرزاق (3/453 رقم 6282) ، كلاهما في «المصنف» عن ابن جريج، قال: حُدِّثت أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا تبع الجنازة أكثر السُّكات، وأكثر حديث نفسه. لفظ عبد الرزاق.

ولفظ ابن أبي شيبة: «أكثر السكوت، وحدث نفسه» .

وهذا معضل.

ووصله أبو نعيم في «ذكر أخبار أصبهان» (1/166) من طريق الثوري وابن جريج، عن أبي الزبير، عن جابر، قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا تبع جنازة، أكثر السكات، والتفكر حتى يعرف ذلك فيه» ، ورجاله ثقات، إلا أن فيه أبا الزبير محمد بن مسلم بن تدرس المكي، مدلس، وقد عنعن.
সুনানুল বায়হাকি গ্রন্থে (১)

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম ওয়াকি তাঁর 'কিতাবুয যুহদ' (নম্বর ২১১) গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তার প্রতি ইঙ্গিত করছে - এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আবি শাইবা (৪/৯৯), এবং ওয়াকির সূত্রে: বায়হাকি তাঁর 'আস-সুনানুল কুবরা' (৪/৭৪) গ্রন্থে, এবং খতিব বাগদাদি 'তারিখু বাগদাদ' (৮/৯১) গ্রন্থে - এবং ইবনুল মুনযির 'আল-আওসাত' (৫/৩৮৯ নম্বর ৩০৫৬) গ্রন্থে আবু নুআইম আল-ফাযল ইবনে দুকাইনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হিশাম সাহিবুদ দাস্তাওয়ায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি কায়েস ইবনে উবাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ জানাজার সময়, যুদ্ধের সময় এবং জিকিরের সময় উচ্চস্বরে শব্দ করা অপছন্দ করতেন।

এবং ইবনুল মুবারক তাঁর 'কিতাবুয যুহদ' (৮৩ নম্বর ২৪৭) গ্রন্থে এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (৯/৫৮) গ্রন্থে হিশামের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর সূত্রেই আবু দাউদ (৩/১১৪) ও হাকীম (২/১১৬) সংক্ষেপে শুধুমাত্র যুদ্ধের আলোচনাটুকু বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), এবং এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح)।

বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসের শব্দাবলীতে যা এসেছে: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি জানাজায় বের হলাম, তারপর কবরের কাছে পৌঁছলাম, তিনি বসলেন এবং আমরাও বসলাম, যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে।" এটি ইবনে মাজাহ (১৫৪৯) হাসান সনদসহ (بسند حسن) বর্ণনা করেছেন। এর তাখরিজের অবশিষ্টাংশ অন্য স্থানে রয়েছে। আমি কুরতুবির 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থের টীকায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, আল্লাহ যেন এটি পূর্ণ করার ও প্রকাশের তৌফিক সহজ করে দেন।

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাজায় উপস্থিত হতেন, তখন তাঁর মাঝে বিষণ্ণতা দেখা যেত এবং তিনি মনে মনে বেশি চিন্তা করতেন।" তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবীর' (১১/১০৬ নম্বর ১১১৮৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, এবং তাঁর ব্যাপারে কিছুটা আপত্তি রয়েছে (فيه كلام), যেমনটি 'আল-মাজমা' (৩/২৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

= … এই বিষয়ে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ মারফু হিসেবে (رفعه) ইবনুল মুবারকের 'কিতাবুয যুহদ' (নম্বর ২৪৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এবং ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাজার অনুসরণ করতেন, তখন তাঁর ওপর অস্থিরতা আচ্ছন্ন হতো, তিনি কম কথা বলতেন এবং মনে মনে বেশি চিন্তা করতেন। দারাকুতনি 'আল-মুতালাফ ওয়াল মুখতালাফ' (১/২০৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং মুআল্লা ইবনে তুর্কাহ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي), যেমনটি দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন।

 

এবং যায়িদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে মারফু হিসেবে (رفعه) বর্ণিত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনটি ক্ষেত্রে নীরবতা পছন্দ করেন: … এবং জানাজার সময়।" তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবীর' (৫/২১৩ নম্বর ৫১৩০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি (لم يسم), যেমনটি হাইসামি 'আল-মাজমা' (৩/২৯) গ্রন্থে বলেছেন।

ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আল-কুবুর' (নম্বর ২৬ - আমার সম্পাদনায়) গ্রন্থে আবুল নাযরের সূত্রে, এবং আবু দাউদ 'আল-মারাসিল' (পৃষ্ঠা ৩০৮) গ্রন্থে মিসকিন ইবনে বুকাইরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে মাসউদি থেকে, তিনি আওন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাজার অনুসরণ করতেন, তাঁর ওপর বিষণ্ণতা আচ্ছন্ন হতো, তিনি মনে মনে বেশি চিন্তা করতেন এবং বাক্যালাপ কম করতেন।

এর সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف); এর বিচ্ছিন্নতা বা মুরসাল হওয়ার কারণে (لإرساله)। তবে এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আবু নাযর হাশেম ইবনে কাসেম ইবনে মুসলিম আল-লাইসি হলেন একজন নির্ভরযোগ্য ফকিহ (ثقة فقيه), তাঁর উপাধি হলো কায়সার। তাঁর এবং মিসকিনের শ্রবণ মাসউদি থেকে তাঁর স্মৃতিভ্রমের (اختلاطه) পরের। মাসউদি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, তাঁর জীবনী 'তহযীবুল কামাল' (১৭/২১৯) গ্রন্থে রয়েছে। আওন ইবনে আব্দুল্লাহ হলেন ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালি, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফি, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইবাদতগুজার (ثقة عابد) এবং তাবেয়ি (تابعي), তিনি ১২০ হিজরির পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ওয়াকি তাঁর 'কিতাবুয যুহদ' (নম্বর ২০৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আবি শাইবা (৪/৯৮) ও আব্দুর রাজ্জাক (৩/৪৫৩ নম্বর ৬২৮২) উভয়ে তাঁদের 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাজার অনুসরণ করতেন, তখন অধিক সময় নীরব থাকতেন এবং মনে মনে বেশি চিন্তা করতেন। এটি আব্দুর রাজ্জাকের শব্দ।

ইবনে আবি শাইবার শব্দ হলো: "অধিক সময় নীরব থাকতেন এবং মনে মনে কথা বলতেন।"

এটি মু'দাল (معضل)।

আবু নুআইম 'যিকরু আখবারি আসবাহান' (১/১৬৬) গ্রন্থে সাওরি ও ইবনে জুরাইজের সূত্রে, আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে এটি সংযুক্ত করেছেন (وصله): "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাজার অনুসরণ করতেন, তখন অধিক সময় নীরব থাকতেন এবং চিন্তা-ভাবনা করতেন, এমনকি তাঁর ওপর এর প্রভাব লক্ষ্য করা যেত।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ورجاله ثقات), তবে এতে আবু যুবাইর মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে তাদরুস আল-মাক্কি রয়েছেন, তিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس) এবং তিনি এখানে 'আন' শব্দ দ্বারা বর্ণনা (عنعن) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১০)
ما يقتضي

ما قلتُه، وأما ما يفعله الجهلةُ من القراءة بالتَّمطيط، وإخراج الكلام عن موضوعه، فحرام بإجماع العلماء، وقد أوضحتُ قُبحَه، وغِلَظَ تحريمه، وفسقَ من تمكن من إنكاره فلم ينكرْه في كتابي «آداب القراء» (1)

--------------------------------------------

(1) يريد كتابه «التبيان في آداب حملة القرآن» ، ويشير إلى ما جاء فيه (ص 56 - ط. دار ابن كثير) ، وسيأتي الكلام برمته (ص 110-111) .

ونقله شيخنا الألباني في «أحكام الجنائز» (ص 92) ، وقال قبله مؤكداً بدعة رفع الصوت بالذكر أمام الجنازة: «ولأنَّ فيه تشبُّهاً بالنصارى، فإنَّهم يَرْفَعُون أصواتهم بشيء من أناجيلهم وأذكارهم مع التمطيط والتلحين والتحزين.

 

وأقبح من ذلك تشييعُها بالعزف على الآلات الموسيقية أمامها عزفاً حزيناً، كما يُفعل في بعض البلاد الإسلامية تقليداً للكفار، والله المستعان» .
যা সমর্থন করে

আমার বলা কথাকে। আর মূর্খরা টেনে টেনে পাঠ করার (التمطيط) মাধ্যমে শব্দকে তার মূল উচ্চারণ থেকে বিচ্যুত করে যা করে থাকে, তা আলেমদের সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী হারাম। আমি আমার ‘আদাবুল কুররা’ গ্রন্থে এর কুৎসিত রূপ, এর কঠোর হারামের বিধান এবং যে ব্যক্তি তা প্রতিহত করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও করেনি তার পাপাচারিতা (فسق) স্পষ্ট করেছি। (১)

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা তিনি তাঁর গ্রন্থ ‘আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন’ বুঝিয়েছেন এবং সেখানে যা এসেছে (পৃ. ৫৬ - দার ইবনে কাসীর সংস্করণ) তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সামনে আসবে (পৃ. ১১০-১১১)।

আমাদের শায়খ আলবানী ‘আহকামুল জানাইয’ (পৃ. ৯২) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর আগে জানাজার সামনে উচ্চস্বরে জিকির করার বিদআত (بدعة) হওয়া নিশ্চিত করে বলেছেন: “কারণ এর মধ্যে খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয়; তারা সুর দিয়ে, ছন্দবদ্ধভাবে এবং বিলাপের সুরে তাদের ইঞ্জিল ও জিকির পাঠ করার সময় উচ্চস্বর ব্যবহার করে।

 

এর চেয়েও জঘন্য বিষয় হলো জানাজার সামনে শোকের সুরে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া, যা কিছু মুসলিম দেশে কাফেরদের অনুকরণের ফলে করা হয়। আল্লাহই সাহায্যস্থল।”
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১১)
ا. هـ» ، ونحوه لشيخ الإسلام في «شرح الروض» (1) ، وقال الرملي وغيره في «حواشي المنهاج» (2) : «المختار والصواب (3) ما كان عليه السلف من السكوت في حال السير [مع الجنازة] (4) ، فلا يُرفعُ صوتٌ بقراءة، ولا ذكر، ولا غيرهما، بل يُشتَغَلُ بالتفكر في الموت وما بعده، وفَناءِ الدنيا وأن هذا آخرُها، ومن أراد الاشتغال بالقراءة والذكر فليكن سرّاً (5) ، وما يفعله جهلةُ القرَّاء من القراءة بالتمطيط، وإخراج الكلام عن موضوعه، فحرام، يجب إنكارُه (6) والمنعُ منه، ومن تمكَّن من منعه، ولم يمنعه فسق» ، وقال ابن حجر في «شرح المنهاج» (7) : «ويكره اللغط -وهو: رفع الصوت- ولو بالذكر أو القراءة في المشي مع الجنازة؛ لأنّ الصحابة رضي الله عنهم كرهوه حينئذ، رواه البيهقي (8) ،

--------------------------------------------

(1) نقل الشيخ زكريا الأنصاري في «شرح روض الطالب» (1/312) كلام النووي السابق إلى قوله: «وهو المطلوب في هذا الحال» .

(2) (3/23) من «نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج» ، وفي المطبوع: «حواشي المنهج» ! وللرملي «حواشٍ» على مطبوع «شرح روض الطالب» ! والكلام المذكور ليس فيه، وإنما هو في «النهاية» .

(3) بعدها في «النهاية» : «كما في «المجموع» » .

(4) لا وجود لها في «نهاية المحتاج» .

(5) في «نهاية المحتاج» : «ويسنّ الاشتغال … سراً» .

(6) أي: وليس ذلك خاصاً بكونه عند الميت، بل هو حرام مطلقاً؛ أي: عند غسله وتكفينه ووضعه في النعش، وبعد الوصول إلى المقبرة إلى دفنه، ومنه ما جرت به العادة الآن من قراءة الرؤساء ونحوهم، أفاده الشبراملسي في «حاشيته على نهاية المحتاج» (3/23) ، = =وعبد الحميد الشرواني وأحمد بن القاسم العبادي في «حاشيتيهما على تحفة المحتاج» (3/187، 188) .

(7) (3/187-188 - مع «حواشي الشرواني والعبادي» ) .

(8) يشير إلى ما خرجناه بالتفصيل قريباً من قول قيس بن عُباد، فانظره -غير مأمور- (ص 11) ..
এটি সমাপ্ত হলো। শায়খুল ইসলামও তাঁর 'শারহুর রওদ' (১) গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। আর রামলি ও অন্যান্যরা 'হাওয়াশিল মিনহাজ' (২) গ্রন্থে বলেছেন: 'পছন্দনীয় ও সঠিক (المختار والصواب) মত হলো সেটিই যার ওপর সালাফগণ (السلف) ছিলেন—তা হলো জানাজার সাথে চলার সময় [জানাজার সাথে] (৪) নীরবতা পালন করা। সুতরাং তিলাওয়াত, জিকর বা অন্য কিছুর মাধ্যমে উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করা যাবে না। বরং মৃত্যু ও পরবর্তী অবস্থা, দুনিয়ার নশ্বরতা এবং এটিই যে দুনিয়ার শেষ—এই সকল বিষয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকতে হবে। আর যে ব্যক্তি তিলাওয়াত বা জিকরে মশগুল হতে চায়, সে যেন তা গোপনে (سراً) করে (৫)। আর মূর্খ ক্বারিরা সুর করে টেনে টেনে পড়ার মাধ্যমে এবং শব্দসমূহকে তার সঠিক রূপ থেকে বিকৃত করে যা করে থাকে, তা হারাম। এটি প্রত্যাখ্যান করা (৬) ও তা থেকে বারণ করা আবশ্যক। আর যে ব্যক্তি তা প্রতিহত করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বাধা দেয় না, সে পাপাচারী (فسق) বলে গণ্য হবে।' ইবনে হাজার 'শারহুল মিনহাজ' (৭) গ্রন্থে বলেছেন: 'কোলাহল বা শোরগোল করা—যা মূলত আওয়াজ উঁচু করা—অপছন্দনীয় (يكره), যদিও তা জানাজার সাথে চলার সময় জিকর বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে হয়। কারণ সাহাবীগণ (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম সেই মুহূর্তে এটিকে অপছন্দ করতেন। এটি বায়হাকি (৮) বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) শায়খ জাকারিয়া আনসারী 'শারহু রওদিত তালিব' (১/৩১২) গ্রন্থে ইমাম নববীর পূর্বোক্ত বক্তব্যটি 'وهو المطلوب في هذا الحال' (আর এই অবস্থাই এই মুহূর্তে কাম্য) পর্যন্ত উদ্ধৃত করেছেন।

(২) 'নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ' (৩/২৩) থেকে। অথচ মুদ্রিত কপিতে 'হাওয়াশিল মানহাজ' রয়েছে! আর 'শারহু রওদিত তালিব'-এর মুদ্রিত কপির ওপর রামলির একটি 'হাশিয়া' (টিকা) রয়েছে; কিন্তু উল্লিখিত বক্তব্যটি সেখানে নেই, বরং এটি 'নিহায়া' গ্রন্থে রয়েছে।

(৩) 'নিহায়া' গ্রন্থে এরপর রয়েছে: 'যেমনটি মাজমু' গ্রন্থে রয়েছে'।

(৪) 'নিহায়াতুল মুহতাজ' গ্রন্থে এর অস্তিত্ব নেই।

(৫) 'নিহায়াতুল মুহতাজ' গ্রন্থে রয়েছে: 'এবং গোপনে (سراً) মশগুল থাকা সুন্নাত (يسن) ...'।

(৬) অর্থাৎ: এটি কেবল মৃত ব্যক্তির নিকটে থাকার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি সাধারণভাবে হারাম; অর্থাৎ তাকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, খাটিয়ায় রাখা এবং কবরস্থানে পৌঁছানো থেকে দাফন করা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। বর্তমানে প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (কুরআন) পাঠ করার যে প্রথা চালু হয়েছে, তাও এর অন্তর্ভুক্ত। এটি শিবরামাল্লিসি তাঁর 'নিহায়াতুল মুহতাজ'-এর হাশিয়ায় (৩/২৩) উল্লেখ করেছেন এবং আব্দুল হামিদ শিরওয়ানি ও আহমদ বিন কাসিম আল-আবাদি তাদের 'তুহফাতুল মুহতাজ'-এর হাশিয়াহদ্বয়ে (৩/১৮৭, ১৮৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) (৩/১৮৭-১৮৮ — 'শিরওয়ানি ও আবাদির হাশিয়া' সহ)।

(৮) এটি কায়েস বিন উবাদের বক্তব্য থেকে আমরা ইতিপূর্বে বিস্তারিত যা তখরিজ (خرجناه) করেছি, সেদিকে ইঙ্গিত করছে। সুতরাং আপনি সেটি দেখে নিন—অনুরোধক্রমে—(পৃষ্ঠা ১১)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১২)
وكره الحسن وغيره: استغفروا لأخيكم (1) ،

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي شيبة في «المصنف» (3/274) .

ونقل مذهب الحسن: البيهقي في «سننه» (4/74) ، وابن قدامة في «المغني» (2/476) ، وابن المنذر في «الأوسط» (5/389) ، والنووي في «المجموع» (5/291) ، وشيخه أبو شامة المقدسي في «الباعث» (ص 275) ، والسيوطي في «الأمر بالاتباع» (ص 254) .

وانظر «موسوعة فقه الحسن البصري» (2/858-859) .

وأسند البيهقي في «السنن الكبرى» (4/74) و «الشعب» (رقم 9277) إلى الأسود ابن شيبان، قال: كان الحسن في جنازة النضر بن أنس، فقال الأشعث بن سليم العجلي: يا أبا سعيد! إنه ليعجبني أن لا أسمع في الجنازة صوتاً، فقال: إن للخير أهلين.

وأخرج عبد الرزاق (3/439 رقم 6241، 6242) وابن أبي شيبة (3/274) في «مصنفيهما» ، وابن سعد في «الطبقات الكبرى» (5/141) بسندٍ صحيح عن سعيد بن المسيب، أنه قال في مرضه: «إياك وحاديهم، هذا الذي يحدو لهم، يقول: استغفروا الله، غفر لكم» .

وذكره عنه: البيهقي في «سننه» (4/74) ، والذهبي في «السير» (4/244) ، وأبو شامة في «الباعث» (275) ، والسيوطي في «الأمر بالاتباع» (253) .

وقال ابن المنذر في «الأوسط» (5/389-390) : «وكره سعيد بن المسيب وسعيد بن جبير والحسن البصري والنخعي وأحمد وإسحاق قول القائل خلف الجنازة: استغفروا له، = =قال عطاء: محدثة، وقال الأوزاعي: بدعة، وقال النخعي: كانوا إذا شهدوا جنازة، عرف ذلك فيهم ثلاثاً» .

وقال (5/390) : «ونحن نكره من ذلك ما كرهوا» .

ولذا اقتصر في كتابه القيم «الإقناع» (1/175) على قوله: «ويكره رفع الصوت عند حمل الجنائز» ، وقال النووي في «المجموع» (5/290) : «وقد أفرد ابن المنذر في «الإشراف» … باباً في هذه المسألة» . قلت: لا توجد في القسم المطبوع منه، وهو ناقص، ولا قوة إلا بالله.

 

وأما الكراهية عن سعيد بن جبير، فقد أخرج وكيع في «الزهد» (2/463 رقم 212) ، وعبد الرزاق (3/439-440 رقم 6243) ، وابن أبي شيبة (4/97) عن سعيد بن جبير، أنه كره رفع الصوت عند الجنازة. وإسناده صحيح. وذكرها البيهقي في «سننه» (4/74) .

وأما كراهة الحسن وابن المسيب، فقد تقدم تخريجها عنهما.

وأما كراهة النخعي، فقد أخرجها ابن أبي شيبة (3/273) ، وذكرها البيهقي (4/74) .

وأما قوله: «كانوا إذا شهدوا جنازة … » فقد أخرجها وكيع في «الزهد» (رقم 207) -ومن طريقه أحمد في «الزهد» -أيضاً- (365) ، وأبو نعيم في «الحلية» (4/227-228) - وابن أبي شيبة (7/208) ، وعبد الرزاق (3/453 رقم 6283) في «مصنفيهما» ، وابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 30 - بتحقيقي) ، وابن المبارك (رقم 246) ، وأحمد (365) ، كلاهما في «الزهد» ، وأبو نعيم في «الحلية» (4/228) ، وهو صحيح عنه.

وحكاه أبو شامة في «الباعث» (253) ، والسيوطي في «الأمر بالاتباع» (275) نحوه عن الفضيل بن عياض قوله.

وأخرج ابن أبي شيبة (3/273) عن عطاء، أنه كره أن يقول: استغفروا له، غفر الله لكم، وذكر مذهبه: النووي في «المجموع» (5/291) ، وابن قدامة في «المغني» (2/479) ، وذكر كراهية إسحاق: أبو شامة في «الباعث» (275) ، وتلميذه النووي في «المجموع» (5/291) ، والسيوطي في «الأمر بالاتباع» (254) .

وأما كراهية أحمد، فستأتي -قريباً- عند المصنِّفَيْن، تحت عنوان: (أقوال السادة الحنابلة) .

وأما مذهب الأوزاعي، ففي «المجموع» (5/291) ، و «المغني» (2/479) ، و «فقه= =الإمام الأوزاعي» (1/320) .

وأخرج البيهقي في «الشعب» (7/11-12 رقم 9276) بسنده أن ابن عيينة سئل: ما بال الناس يؤمرون في الجنازة بالسكوت؟ قال: لأنه حشر. ووجدته -بعد- مطولاً عند ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 58 - بتحقيقي) .

وأخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 57) عن الأعمش، قال: «أدركت الناس إذا كانت فيهم جنازة، جاؤوا فجلسوا صموتاً لا يتكلمون، فإذا وضعت نظرتُ إلى كل رجل واضعاً حبوته على صدره، كأنه أبوه أو أخوه أو ابنه» .

وأسند -أيضاً- برقم (56) عن أبي قلابة، قال: كانوا يعظّمون الموت بالسكينة.

وأسند برقم (39) إلى سلام بن أبي مطيع، قال: شهدتُ قتادة في جنازة، فلم يتكلم حتى انصرف، وشهدت الجريري في جنازة، فلم يزل يبكي حتى تفرّق القوم، وشهدت محمد ابن واسع في جنازة، فلم يزل واضعاً أصبعه السبابة على نابه، مقنَّع الرأس، مطرقاً ما يلتفت يميناً ولا شمالاً حتى انصرف الناس، وما يشعر بهم.

وأسند برقم (40) -أيضاً- إلى قتادة، قال: شهدتُ خليداً العصري في جنازة، مقنَّع رأسه، لم يتكلم حتى دفن الميت، ورجع إلى أهله.
হাসান এবং অন্যরা অপছন্দ করেছেন: তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো (১) ,

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শাইবা এটি তাঁর মুসান্নাফ-এ (৩/২৭৪) সংকলন করেছেন।

আর হাসানের মাযহাব বর্ণনা করেছেন: বায়হাকি তাঁর সুনান-এ (৪/৭৪), ইবনে কুদামা আল-মুগনি-তে (২/৪৭৬), ইবনে মুনজির আল-আওসাত-এ (৫/৩৮৯), নববি আল-মাজমু-তে (৫/২৯১), তাঁর শায়খ আবু শামা আল-মাকদিসি আল-বা'য়িস-এ (পৃষ্ঠা ২৭৫) এবং সুয়ূতি আল-আমর বিল ইত্তিবা-এ (পৃষ্ঠা ২৫৪)।

আর দেখুন মাওসুআহ ফিকহুল হাসান আল-বাসরি (২/৮৫৮-৮৫৯)।

বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা (৪/৭৪) এবং আশ-শুআব-এ (নং ৯২৭৭) আসওয়াদ ইবনে শায়বান থেকে বর্ণনা (أسند) করেছেন, তিনি বলেন: হাসান নধর ইবনে আনাসের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তখন আশআস ইবনে সুলাইম আল-ইজলি বলেন: হে আবু সাইদ! আমি জানাজায় কোনো আওয়াজ শুনতে না পাওয়াটা পছন্দ করি। তিনি (হাসান) বললেন: নিশ্চয়ই কল্যাণের উপযুক্ত মানুষ রয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক (৩/৪৩৯ নং ৬২৪১, ৬২৪২) এবং ইবনে আবি শাইবা (৩/২৭৪) তাঁদের উভয় মুসান্নাফ-এ এবং ইবনে সাদ আত-তাবাকাত আল-কুবরা-তে (৫/১৪১) একটি সহিহ (صحيح) সনদে (بسندٍ) সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর অসুস্থতার সময় বলেছিলেন: "তোমরা তাদের গায়ক থেকে বেঁচে থেকো, যে তাদের জন্য সুর করে বলে: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন।"

এবং তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন: বায়হাকি তাঁর সুনান-এ (৪/৭৪), জাহাবি আস-সিয়ার-এ (৪/২৪৪), আবু শামা আল-বা'য়িস-এ (২৭৫) এবং সুয়ূতি আল-আমর বিল ইত্তিবা-এ (২৫৩)।

ইবনে মুনজির আল-আওসাত-এ (৫/৩৮৯-৩৯০) বলেন: "সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, হাসান বসরী, নাখয়ি, আহমাদ এবং ইসহাক জানাজার পেছনে এই কথা বলা অপছন্দ করেছেন: 'তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো', আতা বলেছেন: এটি উদ্ভাবিত (محدثة), আওজায়ি বলেছেন: এটি বিদআত (بدعة), এবং নাখয়ি বলেন: তারা যখন জানাজায় উপস্থিত হতেন, তখন তাদের মধ্যে তিন দিন পর্যন্ত এর প্রভাব দেখা যেত।"

এবং তিনি (৫/৩৯০) বলেন: "তারা যা অপছন্দ করেছেন আমরাও তা অপছন্দ করি।"

একারণেই তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ আল-ইকনা-তে (১/১৭৫) কেবল তাঁর এই কথার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন: "জানাজা বহন করার সময় আওয়াজ তোলা অপছন্দনীয়।" নববি আল-মাজমু-তে (৫/২৯০) বলেছেন: "ইবনে মুনজির আল-ইশরাফ-এ … এই বিষয়ে একটি অধ্যায় পৃথক করেছেন।" আমি বলছি: এর মুদ্রিত অংশে তা পাওয়া যায়নি, যা অসম্পূর্ণ; আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।

 

আর সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি ওয়াকি আয-জুহদ-এ (২/৪৬৩ নং ২১২), আবদুর রাজ্জাক (৩/৪৩৯-৪৪০ নং ৬২৪৩) এবং ইবনে আবি শাইবা (৪/৯৭) সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জানাজার সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করা অপছন্দ করতেন। আর এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। বায়হাকি এটি তাঁর সুনান-এ (৪/৭৪) উল্লেখ করেছেন।

আর হাসান এবং ইবনুল মুসায়্যিবের অপছন্দ করার বিষয়টি তাঁদের থেকে আগেই উদ্ধৃত (تخريج) হয়েছে।

আর নাখয়ির অপছন্দ করার বিষয়টি ইবনে আবি শাইবা (৩/২৭৩) বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি (৪/৭৪) তা উল্লেখ করেছেন।

আর তাঁর কথা: "তারা যখন জানাজায় উপস্থিত হতেন … " এটি ওয়াকি আয-জুহদ-এ (নং ২০৭) বর্ণনা করেছেন — তাঁর মাধ্যমে আহমাদও আয-জুহদ-এ (৩৬৫), আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ-তে (৪/২২৭-২২৮) — এবং ইবনে আবি শাইবা (৭/২০৮) ও আবদুর রাজ্জাক (৩/৪৫৩ নং ৬২৮৩) তাঁদের উভয় মুসান্নাফ-এ, ইবনে আবিদ দুনিয়া আল-কুবুর-এ (নং ৩০ - আমার সম্পাদনায়), ইবনুল মুবারক (নং ২৪৬) এবং আহমাদ (৩৬৫) উভয়ে আয-জুহদ-এ এবং আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ-তে (৪/২২৮) বর্ণনা করেছেন; এবং এটি তাঁর থেকে সহিহ (صحيح)।

আবু শামা আল-বা'য়িস-এ (২৫৩) এবং সুয়ূতি আল-আমর বিল ইত্তিবা-এ (২৭৫) ফুদাইল ইবনে ইয়াজ থেকেও অনুরূপ কথা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শাইবা (৩/২৭৩) আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এ কথা বলা অপছন্দ করতেন: "তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন।" তাঁর এই অভিমতটি উল্লেখ করেছেন: নববি আল-মাজমু-তে (৫/২৯১), ইবনে কুদামা আল-মুগনি-তে (২/৪৭৯)। আর ইসহাকের অপছন্দ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন: আবু শামা আল-বা'য়িস-এ (২৭৫), তাঁর ছাত্র নববি আল-মাজমু-তে (৫/২৯১) এবং সুয়ূতি আল-আমর বিল ইত্তিবা-এ (২৫৪)।

আর আহমাদের অপছন্দের বিষয়টি সামনে শীঘ্রই আসবে — গ্রন্থকারদ্বয়ের নিকট, "হাম্বলি ইমামগণের বক্তব্য" শিরোনামের অধীনে।

আর আওজায়ির মাযহাব সম্পর্কে আল-মাজমু (৫/২৯১), আল-মুগনি (২/৪৭৯) এবং ফিকহুল ইমাম আল-আওজায়ি (১/৩২০)-তে রয়েছে।

বায়হাকি আশ-শুআব-এ (৭/১১-১২ নং ৯২৭৬) তাঁর সনদে (بسنده) বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উইয়াইনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: জানাজার সময় লোকদের কেন চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়? তিনি বললেন: কারণ এটি পুনরুত্থান। আমি পরে এটি বিস্তারিতভাবে ইবনে আবিদ দুনিয়ার আল-কুবুর-এ (নং ৫৮ - আমার সম্পাদনায়) পেয়েছি।

ইবনে আবিদ দুনিয়া আল-কুবুর-এ (নং ৫৭) আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি লোকদের এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো জানাজা হতো, তারা আসতেন এবং মৌন হয়ে বসে থাকতেন, কথা বলতেন না। যখন জানাজা রাখা হতো, আমি দেখতাম প্রত্যেকে তার হাঁটু বুকের সাথে লাগিয়ে বসে আছে, যেন মৃত ব্যক্তিটি তার নিজের পিতা, ভাই কিংবা পুত্র।"

তিনি আরও ৫৬ নং ক্রমিকে আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা (أسند) করেছেন, তিনি বলেন: তারা গাম্ভীর্য ও নীরবতার মাধ্যমে মৃত্যুকে সম্মান করতেন।

তিনি ৩৯ নং ক্রমিকে সালাম ইবনে আবি মুতি থেকে বর্ণনা (أسند) করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে এক জানাজায় দেখেছি, তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি। আমি জুরয়রিকে এক জানাজায় দেখেছি, লোকেরা বিদায় নেওয়া পর্যন্ত তিনি কাঁদতে ছিলেন। আমি মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসিকে এক জানাজায় দেখেছি, তিনি তাঁর তর্জনী দাঁতের ওপর রেখে মাথা ঢেকে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, লোকদের ফিরে যাওয়া পর্যন্ত তিনি ডানে-বামে তাকাননি এবং তাদের উপস্থিতি অনুভব করেননি।

তিনি আরও ৪০ নং ক্রমিকে কাতাদাহ থেকে বর্ণনা (أسند) করেছেন, তিনি বলেন: আমি খুলাইদ আল-আসারিকে এক জানাজায় দেখেছি, তিনি মাথা ঢেকে ছিলেন এবং মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن ثَمَّ قال ابن عمر رضي الله عنهما لقائله: «لا غفر الله لك» (1) : بل يسكت متفكراً في الموت وما يتعلق به وفناءِ الدنيا، ذاكراً بلسانه سراً لا جهراً؛ لأنه بدعة قبيحة» .

وفي «المجموع» (2) عن جمع من الصحابة (3) ،

--------------------------------------------

(1) ذكره أبو شامة في «الباعث» (276 - بتحقيقي) عن ابن عمر، وعلق عليه بقوله: «وإنما كره ذلك: لما فيه من التشويش على المشيّعين، الموَفَّقين المفَكِّرين في أحوالهم ومعادهم» .

قال أبو عبيدة: فإباية ابن عمر وإنكارُه عليه ليس من جهة أصل الدعاء، ولكن من جهة أخرى؛ وهي التشويش والجهر، أو أن يُعتقد أنه سنة تُلزم، أو تجري في الناس في مجرى السنن اللازمة، أو أن يُعتقد في الداعين أمر زائد، أو أنه وسيلة إلى أن يُعتقد فيهم أنهم مجابوا الدعوة، ولذا أنكر جمع من السلف من الصحابة ومَنْ بعدهم على من طلب وألح في الدعاء لهم، كما تراه في «الاعتصام» للشاطبي (2/315-319) ، و «تالي التلخيص» للخطيب (رقم 115) ، و «المجالسة» (4/71-72) وتعليقي عليها، وانظر: «تفسير القرطبي» (9/287) (الرعد: 8) ، «الحكم الجديرة بالإذاعة» (ص 54-55) لابن رجب، «قاعدة جليلة» (ص 71 - ط. الشيخ ربيع) ، «إعلام الموقعين» (5/8 - بتحقيقي) «معجم المناهي اللفظية» = = (ص 38 - ط. الأولى) و «تصحيح الدعاء» (226) كلاهما للشيخ بكر أبو زيد.

وأما أثر ابن عمر، فسيأتي معزواً لـ «سنن سعيد بن منصور» ، وهو ليس في القسم المطبوع منه، إذ هو ناقص.

(2) (5/291) ، والمذكور عند المصنف بفحواه ومعناه، دون نصِّه ومبناه.

(3) أورد النووي أثر قيس بن عُباد، المتقدم ذكره وتخريجه (ص 11) .

وأثر الحسن البصري: قال: «وذكر الحسن البصري عن أصحاب رسول الله S أنهم يستحبون خفض الصوت عند الجنائز، وعند قراءة القرآن، وعند القتال» .

 

قلت: أخرجه عبد الرزاق (3/453 رقم 6281) -ومن طريقه ابن المنذر في «الأوسط» (5/389 رقم 3057) - عن معمر، عن الحسن بنحوه. وفي رواية عند ابن أبي شيبة (3/272) من طريق علي بن زيد -وهو ضعيف- عن الحسن مرسلاً، وإسناده ضعيف.

ومما يساعد عليه: ما أخرجه ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 31 - بتحقيقي) ، والبيهقي في «الشعب» (7/11 رقم 2973) عن ثابت البناني، قال: إن كنا لنتبع الجنازة، فما نرى إلا متقنعاً باكياً، أو متقنعاً مفكراً. وثابت أدرك أنساً وغيره.

ويشوش على هذا: ما أخرجه عبد الرزاق (3/440 رقم 6244) -ومن طريقه ابن المنذر (5/390 رقم 3058) - بسنده إلى عكرمة مولى ابن عباس، قال: توفي ابن لأبي بكر، كان يشرب الشراب، قال أبو هريرة: استغفروا له، فإنما يستغفر لمسيء عمله.

والجواب عليه من وجهين:

الأول: في سنده الحكم بن أبان فيه كلام، وهو من رجال «الميزان» (1/569) .

والثاني: قال ابن المنذر: «قد يجوز أن يكون معنى قول أبي هريرة صياحهم: استغفروا له، فيما بينكم وبين أنفسكم، خلاف البدعة التي أحدثها الناس من رفع الصوت بالاستغفار» !
এ কারণেই ইবনে উমর (রা.) এটি পাঠকারীকে বলেছিলেন: "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন" (১): বরং মৃত্যু, মৃত্যু-সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং দুনিয়ার নশ্বরতা সম্পর্কে চিন্তা করতে করতে নীরব থাকবে, মনে মনে জিকির করবে, উচ্চস্বরে নয়; কেননা এটি একটি মন্দ বিদআত (بدعة)।

আর 'আল-মাজমু' (২) গ্রন্থে একদল সাহাবীর বর্ণনা অনুযায়ী (৩),

--------------------------------------------

(১) আবু শামা এটি ইবনে উমর থেকে 'আল-বাইস' (২৭৬ - আমার তাহকিক অনুযায়ী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "এটি অপছন্দ করার কারণ হলো—জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের মনে বিভ্রান্তি বা ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়া, যারা নিজেদের অবস্থা ও পরকাল সম্পর্কে চিন্তামগ্ন হওয়ার তাওফিক লাভ করেছেন।"

আবু উবাইদাহ বলেন: ইবনে উমরের অস্বীকৃতি এবং আপত্তি করার বিষয়টি মূল দোয়ার দিক থেকে নয়, বরং অন্য দিক থেকে; আর তা হলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং উচ্চস্বর, অথবা এমন বিশ্বাস করা যে এটি একটি নিয়মিত সুন্নত (سنة) যা পালন করা আবশ্যক, কিংবা মানুষের মাঝে এটি প্রচলিত সুন্নতের মতো প্রবাহিত হওয়া, অথবা দোয়া পাঠকারীদের মাঝে বিশেষ কোনো অতিরিক্ত ফজিলাত আছে বলে বিশ্বাস করা, অথবা এটি এমন একটি মাধ্যম হওয়া যার ফলে মনে করা হবে যে তারা অবশ্যই দোয়া কবুলের অধিকারী। এই কারণেই একদল সালাফ তথা সাহাবী এবং পরবর্তীগণ তাদের জন্য দোয়ার জন্য জোরাজুরি বা অধিক গুরুত্ব দেওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি আপনি আল-শাতিবির 'আল-ইতিসাম' (২/৩১৫-৩১৯), আল-খাতিবের 'তালি আল-তালখিস' (নং ১১৫), 'আল-মুজালাসাহ' (৪/৭১-৭২) ও এর ওপর আমার টীকাগুলোতে দেখতে পাবেন। আরও দেখুন: 'তাফসির কুরতুবি' (৯/২৮৭) (সূরা রাদ: ৮), ইবনে রজবের 'আল-হিকাম আল-জাদিরাহ বিল-ইজাত' (পৃ. ৫৪-৫৫), 'কায়িদাহ জালিলাহ' (পৃ. ৭১ - শায়খ রবি কর্তৃক প্রকাশিত), 'ইলামুল মুয়াক্কিয়িন' (৫/৮ - আমার তাহকিক অনুযায়ী), শায়খ বকর আবু যাইদের 'মুজাম আল-মানাহি আল-লাফজিয়্যাহ' (পৃ. ৩৮ - ১ম প্রকাশ) এবং 'তাসহিহ আদ-দোয়া' (২২৬)।

আর ইবনে উমরের আসার (أثر) টি সামনে 'সুনানে সাঈদ বিন মানসুর'-এর বরাতে আসবে; তবে এটি এর মুদ্রিত অংশে নেই, কারণ সেটি অসম্পূর্ণ।

(২) (৫/২৯১), আর গ্রন্থকারের এখানে উল্লিখিত বিষয়টি এর সারমর্ম ও অর্থ অনুযায়ী, মূল পাঠ বা শব্দ গঠন অনুযায়ী নয়।

(৩) ইমাম নববী কায়েস ইবনে উবাদের আসার (أثر) উল্লেখ করেছেন, যা ইতিপূর্বে (পৃ. ১১) উল্লেখ ও তাখরিজ (تخريج) করা হয়েছে।

আর হাসান বসরীর আসার (أثر): তিনি বলেন: "হাসান বসরী আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাহাবীদের থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা জানাজার সময়, কুরআন পাঠের সময় এবং যুদ্ধের সময় শব্দ নিচু রাখা পছন্দ করতেন।"

 

আমি বলি: এটি আব্দুর রাজ্জাক (৩/৪৫৩ নং ৬২৮১) এবং তাঁর সূত্রে ইবনুল মুনজির 'আল-আওসাত' (৫/৩৮৯ নং ৩০৫৭) গ্রন্থে মা'মার হতে হাসান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আবি শায়বার (৩/২৭২) এক বর্ণনায় আলী বিন যায়িদের সূত্রে—যিনি দুর্বল (ضعيف)—হাসান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) বর্ণিত হয়েছে এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)।

একে সমর্থন করে এমন একটি বর্ণনা হলো যা ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আল-কুবুর' (নং ৩১ - আমার তাহকিক অনুযায়ী) এবং বায়হাকি 'আশ-শুআব' (৭/১১ নং ২৯৭৩) গ্রন্থে সাবেত আল-বুনানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আমরা যখন জানাজার অনুসরণ করতাম, তখন কাউকে মুখ ঢাকা অবস্থায় ক্রন্দনরত অথবা মুখ ঢাকা অবস্থায় চিন্তামগ্ন ছাড়া দেখতাম না।" আর সাবেত আনাস (রা.) ও অন্যান্যদের সাহচর্য পেয়েছেন।

তবে এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন একটি বর্ণনা হলো যা আব্দুর রাজ্জাক (৩/৪৪০ নং ৬২৪৪) ও তাঁর সূত্রে ইবনুল মুনজির (৫/৩৯০ নং ৩০৫৮) ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু বকরের এক পুত্র ইন্তেকাল করলেন, যিনি মদ্যপান করতেন। তখন আবু হুরায়রা বললেন: "তোমরা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, কেননা পাপাচারী ব্যক্তির জন্যই ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।"

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: এর সনদে (سند) হাকাম বিন আবান রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে সমালোচনা আছে এবং তিনি 'আল-মিজান' (১/৫৬৯) গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়ত: ইবনুল মুনজির বলেন: "আবু হুরায়রার বক্তব্য 'তার জন্য ইস্তিগফার করো'-এর অর্থ সম্ভবত হতে পারে যে তোমরা নিজেদের মধ্যে মনে মনে ক্ষমা প্রার্থনা করো, যা মানুষের আবিষ্কৃত উচ্চস্বরে ইস্তিগফার করার বিদআতের (بدعة) পরিপন্থী!"
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৪)
أنهم كرهوا رفع الصوت عند الجنازة، حتى باستغفروا الله، بل قال ابن عمر لمن سمعه يقوله: لا غفر الله لك. رواه سعيد بن منصور في «سننه» (1) .

‌‌أقوال السادة المالكية:

قال العلامة ابن الحاج في كتاب «المدخل» (2)

--------------------------------------------

(1) انظر ما قدمناه قريباً.

(2) (3/250-251) ، والكتاب لأبي عبد الله محمد بن محمد بن العبدري الفاسي (ت 737هـ) ، واسمه: «المدخل إلى تتمة الأعمال بتحسين النيات والتنبيه على بعض البدع والعوائد التي انتحلت وبيان شناعتها» ، مدحه ابن حجر في «الفتح» (10/340، 343) بقوله: «وهو كتاب كثير الفوائد، كشف فيه عن معايب وبدع يفعلها الناس ويتساهلون فيها، وأكثرها مما ينكر، وبعضها مما يحتمل» .

قال أبو عبيدة: والكتاب احتوى أحاديث موضوعة، وحكايات مكذوبة، وشطحات منكرة، وشركيات وبدع، وانظر عنه -لزاماً-: «السراج لكشف ظلمات الشرك في مدخل ابن الحاج» لعبد الكريم الحميد، و «الحاوي للفتاوي» للغماري (3/7-8) ، و «أحكام الجنائز» (ص 336) لشيخنا الألباني، وكتابي «كتب حذر منها العلماء» (1/311-312) .

 

وكلام ابن الحاج تصرف فيه المؤلفان كثيراً، فاقتضى التنويه.
তারা জানাজার সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করা অপছন্দ করতেন, এমনকি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার (আসতাগফিরুল্লাহ) শব্দের মাধ্যমেও। বরং ইবনে ওমর যখন কাউকে তা বলতে শুনলেন, তখন বললেন: "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন।" এটি সাঈদ বিন মনসুর তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১)।

‌‌মালিকি উলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ:

আল্লামা ইবনুল হাজ তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে (২) বলেছেন—

--------------------------------------------

(১) আমরা ইতিপূর্বে যা আলোচনা করেছি তা দেখুন।

(২) (৩/২৫০-২৫১), গ্রন্থটি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আবদারি আল-ফাসি (মৃত্যু ৭৩৭ হিজরি)-এর। এর নাম: 'আল-মাদখাল ইলা তাতাতিম্মাতিল আমাল বি-তাহসিনিন নিয়াত ওয়াত তানবিহ আলা বাদিল বিদা ওয়াল আওয়াইদ আল্লাতি ইনতাহালাত ওয়া বায়ানা শানাআতিহা'। ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' (১০/৩৪০, ৩৪৩) গ্রন্থে এর প্রশংসা করে বলেছেন: "এটি বহুবিধ ফায়েদা সম্পন্ন একটি কিতাব। এতে তিনি মানুষের মাঝে প্রচলিত বিভিন্ন ত্রুটি ও বিদআত উন্মোচন করেছেন যেগুলোকে তারা অবজ্ঞা করে থাকে; এগুলোর অধিকাংশ প্রত্যাখ্যাত (منكر) এবং কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য হওয়ার অবকাশ রাখে।"

আবু উবাইদাহ বলেন: এই কিতাবটিতে জাল (موضوع) হাদিস, মিথ্যা (مكذوبة) কিচ্ছা-কাহিনী, প্রত্যাখ্যাত (منكرة) বিভ্রান্তিকর কথা, শিরক ও বিদআত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অবশ্যই দেখুন: আব্দুল কারীম আল-হামীদ রচিত 'আস-সিরাজ লি কাশফি জুলুমাতিশ শিরকি ফি মাদখালি ইবনিল হাজ', আল-গুমারির 'আল-হাউয়ি লিল ফাতাওয়া' (৩/৭-৮), আমাদের শায়খ আলবানীর 'আহকামুল জানাইয' (পৃ. ৩৩৬) এবং আমার রচিত 'কুতুবুন হাজ্জারা মিনহাল উলামা' (১/৩১১-৩১২)।

 

ইবনুল হাজের বক্তব্যকে লেখকদ্বয় অনেক পরিমার্জন করেছেন, তাই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া আবশ্যক মনে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৫)
ما ملخصه: العجب من أصحاب الميت، حيث يأتون بجماعة يذكرون أمام الجنازة، وهو من الحدث في الدين، ومخالف لسنَّة سيد المرسلين، وأصحابه والسَّلف الصَّالحين، يجب على من له قدرة على منعهم أن يمنعهم مع الزجر والأدب؛ لمخالفتهم للشريعة المطهرة، ولأنه ضد ما كانت عليه جنائز السلف الماضين؛ لأنّ جنائزهم كانت على التزام الأدب والسكون والخشوع، حتى إن صاحب المصيبة كان لا يعرف من بينهم؛ لكثرة حزن الجميع (1) ، وما أخذهم من القلق والانزعاج بسبب الفكرة فيما هم إليه صائرون، وعليه قادمون (2) ،

--------------------------------------------

(1) أخرج وكيع في «الزهد» (2/460 رقم 208) وعنه ابن أبي شيبة في «المصنف» ، وأحمد في «الزهد» (365) ، وابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 32 - بتحقيقي) ، وأبو نعيم في «الحلية» (5/50) بإسناد صحيح عن الأعمش، قال: إن كنا لنتبع الجنازة، فما ندري مَن نعزّي من حزن القوم. وانظر «الباعث» (ص 277 - بتحقيقي) لأبي شامة المقدسي.

وأخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 23) عن حوشب بن مسلم، قال: لقد= =أدركت الميت يموت في الحي، فما يعرف حميمه من غيره من شدّة جزعهم، وكثرةِ البكاء عليه، قال: ثم بقيت، حتى فقدتُ عامّة ذلك.

وحوشب بن مسلم الثقفي، مولى الحجاج، كان من العُبّاد، ممن يقص، له ترجمة في «التاريخ الكبير» (3/100) ، و «ثقات ابن حبان» (6/243) .

(2) أخرج وكيع (2/460 رقم 208) وأحمد (365) كلاهما في «الزهد» ، وأبو نعيم في «الحلية» (5/50) بسند صحيح، أن أسيد بن حضير كان يقول: ما شهدتُ جنازةً، فحدثت نفسي بشيء سوى ما هو مفعول بها، وما هي صائر إليه.

وأخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 36) بسنده إلى صالح المري، قال: أدركت بالبصرة شباباً وشيوخاً يشهدون الجنائز، يرجعون منها كأنهم نُشِروا من قبورهم، فيُعرف فيهم -والله- الزيادة بعد ذلك.

 

وأخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 34، 59 - بتحقيقي) عن عامر بن يساف، قال: كان يحيى بن أبي كثير إذا حضر جنازة، لم يتعشّ تلك الليلة، ولم يقدر أحد من أهله يكلمه من شدّة حزنه. وإسناده لا بأس به. وذكره ابن حبان في «ثقاته» (7/592) ، وعنه الذهبي في «السير» (6/28) ، وانظر أثر حوشب في الهامش السابق.

সারসংক্ষেপ হলো: মৃতের স্বজনদের আচরণ বিস্ময়কর যে, তারা একদল লোককে নিয়ে আসে যারা জানাজার সামনে জিকির করতে থাকে; এটি দ্বীনের মধ্যে একটি নবউদ্ভাবিত (حدث) বিষয় এবং রাসূলদের সর্দার, তাঁর সাহাবীগণ এবং পুণ্যবান পূর্বসূরিদের সুন্নাহর পরিপন্থী। যাদের এটি বন্ধ করার সক্ষমতা রয়েছে, কঠোরতা ও আদব প্রদানের মাধ্যমে তাদের এটি বন্ধ করা আবশ্যক; কারণ এটি পবিত্র শরীয়তের পরিপন্থী এবং অতীতের পূর্বসূরিদের জানাজার রীতির বিপরীত। কেননা তাঁদের জানাজা ছিল আদব, নীরবতা ও খুশু-খুযুর (ভয় ও বিনয়) ওপর প্রতিষ্ঠিত, এমনকি সবার মধ্যে শোকের আধিক্য (১) এবং তারা কোন অবস্থার দিকে ফিরে যাচ্ছে ও কার দিকে অগ্রসর হচ্ছে (২) সেই চিন্তায় তাদের অস্থিরতা ও ব্যাকুলতার কারণে তাদের মধ্য থেকে মৃত ব্যক্তির প্রকৃত শোকাতুর স্বজনকে চেনা যেত না।

--------------------------------------------

(১) ওয়াকি তাঁর 'যুহদ' (২/৪৬০, নং ২০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আবি শাইবাহ 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে, আহমাদ 'যুহদ' (৩৬৫) গ্রন্থে, ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কুবুর' (নং ৩২ - আমার তাহকিককৃত) গ্রন্থে এবং আবু নুয়াইম 'হিলইয়াহ' (৫/৫০) গ্রন্থে আমাশ থেকে সহিহ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আমাশ) বলেন: আমরা জানাজার অনুসরণ করতাম, কিন্তু লোকজনের শোকাতুর অবস্থার কারণে কাকে সমবেদনা জানাব তা বুঝতে পারতাম না। দেখুন আবু শামাহ আল-মাকদিসির 'আল-বাইস' (পৃ. ২৭৭ - আমার তাহকিককৃত)।

ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কুবুর' (নং ২৩) গ্রন্থে হাওশাব ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এমন সময় পেয়েছি যখন পাড়ায় কেউ মারা গেলে লোকজনের চরম অস্থিরতা ও প্রচুর কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তির অতি নিকটজন কে আর কে পর তা চেনা যেত না। তিনি বলেন: এরপর আমি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকলাম এবং অবশেষে এসবের অধিকাংশ হারিয়ে যেতে দেখেছি।

আর হাওশাব ইবনে মুসলিম আস-সাকাফি ছিলেন হাজ্জাজের মুক্তদাস, তিনি ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং নসিহত করতেন। তাঁর জীবনী 'তারিখে কাবির' (৩/১০০) এবং ইবনে হিব্বানের 'সিকাত' (৬/২৪৩) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) ওয়াকি (২/৪৬০, নং ২০৮) ও আহমাদ (৩৬৫) উভয়েই তাঁদের 'যুহদ' গ্রন্থে এবং আবু নুয়াইম 'হিলইয়াহ' (৫/৫০) গ্রন্থে সহিহ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন যে, উসাইদ ইবনুল হুদাইর বলতেন: আমি যখনই কোনো জানাজায় শরিক হতাম, তখন মৃত ব্যক্তির সাথে কী করা হচ্ছে এবং সে কোন অবস্থার দিকে ফিরে যাচ্ছে সে ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে নিজের মনে কথা বলতাম না।

ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কুবুর' (নং ৩৬) গ্রন্থে সালেহ আল-মুররি পর্যন্ত তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বসরায় এমন যুবক ও বৃদ্ধদের পেয়েছি যারা জানাজায় শরিক হতেন এবং সেখান থেকে এমনভাবে ফিরতেন যেন তারা কবর থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন। এরপর আল্লাহর কসম! তাদের মধ্যে (ইবাদত ও ভীতির) বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যেত।

 

ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কুবুর' (নং ৩৪, ৫৯ - আমার তাহকিককৃত) গ্রন্থে আমির বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির যখন জানাজায় উপস্থিত হতেন, সেই রাতে তিনি রাতের খাবার খেতেন না এবং তাঁর তীব্র শোকের কারণে পরিবারের কেউ তাঁর সাথে কথা বলতে পারত না। এর সনদটি মন্দ নয় (لا بأس به)। ইবনে হিব্বান তাঁর 'সিকাত' (৭/৫৯২) গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সূত্রে আয-যাহাবি 'সিয়ার' (৬/২৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী টীকায় হাওশাবের বর্ণনাটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৬)
حتى لقد كان بعضهم يريد أن يلقى صاحبه لضرورات تقع عنده، فيلقاه في الجنازة، فلا يزيد على السلام الشرعي شيئاً (1) ؛ لشغل كل منهما بما تقدم ذكره، وبعضهم لا يقدر أن يأخذ الغِذَاء تلك الليلة لشدة ما أصابه من الجزع (2) ، كما قال الحسن البصري رضي الله عنه: «ميت غد يشيِّع ميتَ اليوم» (3) ،

--------------------------------------------

(1) أخرج ابن المبارك في «الزهد» (رقم 245) بسنده إلى بديل، قال: كان مطرّف يلقى الرجل من خاصة إخوانه في الجنازة، فعسى أن يكون غائباً، فما يزيد على التسليم، ثم يعرض اشتغالاً بما هو فيه.

وذكره أبو شامة في «الباعث» (277) ، والسيوطي في «الأمر بالاتباع» (255) .

(2) أخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 38 - بتحقيقي) -ومن طريقه ابن عساكر في «تاريخ دمشق» (56/170) - بسند لا بأس به، عن محمد بن واسع، أنه حضر جنازة، فلما رجع إلى أهله، أُتي بغدائه، فبكى، وقال: هذا يوم منغَّص علينا نهاره، وأبى أن يَطْعَم. وانظر أثر يحيى بن أبي كثير في الهامش قبل السابق.

(3) ظفرتُ بنحوه عن أبي الدرداء.

أخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» (رقم 28 - بتحقيقي) -ومن طريقه ابن عساكر في «تاريخ دمشق» (47/193 - ط. دار الفكر) - من طريق يحيى بن جابر، قال: خرج أبو الدرداء إلى جنازة، وأتى أهل الميت يبكون عليه، فقال: مساكين، موتى غدٍ يبكون على ميت اليوم.

وإسناده ضعيف، يحيى بن جابر لم يدرك أبا الدرداء.

وأما أثر الحسن، فقد ورد بمعناه.

 

أخرج ابن أبي الدنيا في «القبور» -أيضاً- (رقم 35) عن مالك بن دينار، قال: كنا مع الحسن في جنازة، فسمع رجلاً يقول لآخر: من هذا الميت؟ فقال الحسن: هذا أنا وأنت رحمك الله، أنتم محبوسون على آخرنا، حتى يلحق آخرنا بأوّلنا. وهو في «الموت» لابن أبي الدنيا -أيضاً- (رقم 558 - بتجميعي) ، وانظر نحوه عنه في «القبور» (رقم 198 - الملحق) ، وهو عند ابن رجب في «أهوال القبور» (رقم 544) .
এমনকি তাদের কেউ কেউ কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তার সঙ্গীর সাথে দেখা করতে চাইতেন, অতঃপর জানাজায় তার সাথে দেখা হয়ে যেত; কিন্তু তিনি শারয়ি সালামের অতিরিক্ত কিছুই করতেন না (১); এর কারণ ছিল তাদের প্রত্যেকের উপরে উল্লিখিত বিষয়ে মগ্ন থাকা। আবার তাদের কেউ কেউ নিদারুণ মর্মপীড়ার (২) কারণে সেই রাতে আহার গ্রহণ করতে পারতেন না, যেমনটি হাসান বসরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আগামীকালের মৃত ব্যক্তি আজকের মৃত ব্যক্তিকে বিদায় জানাচ্ছে" (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল মুবারক তাঁর 'জুহদ' (নম্বর ২৪৫) গ্রন্থে তাঁর সনদে (بسند) বুদাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাররিফ তাঁর বিশেষ বন্ধুদের কারো সাথে জানাজায় মিলিত হতেন, সম্ভবত তিনি দীর্ঘকাল অনুপস্থিত থাকতেন, তবুও সালামের অতিরিক্ত কিছু করতেন না, অতঃপর তিনি যে অবস্থায় মগ্ন আছেন সেদিকে মনোনিবেশ করতেন।

আবু শামাহ 'আল-বায়িছ' (২৭৭) গ্রন্থে এবং সুয়ূতি 'আল-আমর বিল ইত্তিবা' (২৫৫) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) ইবনু আবিদ দুনইয়া 'আল-কুবুর' (নম্বর ৩৮ - আমার তাহকিককৃত) গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (৫৬/১৭০) গ্রন্থে—একটি গ্রহণযোগ্য (لا بأس به) সনদে (بسند) মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। যখন তিনি তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে আসলেন এবং তাঁর দুপুরের খাবার আনা হলো, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: "এটি এমন একটি দিন যা আমাদের দিনকে বিষণ্ণ করে দিয়েছে", আর তিনি খেতে অস্বীকার করলেন। পূর্ববর্তী টিকার আগের টিকায় ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের বর্ণনাটি (أثر) দেখুন।

(৩) আমি আবু দারদা থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা পেয়েছি।

ইবনু আবিদ দুনইয়া 'আল-কুবুর' (নম্বর ২৮ - আমার তাহকিককৃত) গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (৪৭/১৯৩ - দারুল ফিকর সংস্করণ) গ্রন্থে—ইয়াহইয়া ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দারদা এক জানাজার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং দেখলেন মৃত ব্যক্তির পরিবার তার জন্য কাঁদছে। তখন তিনি বললেন: "অভাগা দল! আগামীকালের মৃতরা আজকের মৃতের জন্য কাঁদছে।"

আর এর সনদটি (إسناد) দুর্বল (ضعيف), ইয়াহইয়া ইবনে জাবির আবু দারদাকে পাননি (لم يدرك)।

আর হাসান বসরির বর্ণনাটির (أثر) ক্ষেত্রে এর অর্থগত দিকটি বর্ণিত হয়েছে।

 

ইবনু আবিদ দুনইয়া 'আল-কুবুর' (নম্বর ৩৫) গ্রন্থে মালিক ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হাসানের সাথে এক জানাজায় ছিলাম, তখন তিনি একজনকে অন্যজনকে বলতে শুনলেন: "এই মৃত ব্যক্তি কে?" হাসান বললেন: "হে আল্লাহর বান্দা, এটি আমি এবং আপনি; আপনাদের শেষ ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আটক থাকবে যতক্ষণ না আমাদের শেষ ব্যক্তি প্রথম জনের সাথে মিলিত হয়।" এটি ইবনু আবিদ দুনইয়ার 'আল-মাওত' (নম্বর ৫৫৮ - আমার সংগৃহীত) গ্রন্থেও রয়েছে, এবং তাঁর থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা 'আল-কুবুর' (নম্বর ১৯৮ - পরিশিষ্ট) গ্রন্থে দেখুন। এটি ইবনে রজবের 'আহওয়ালুল কুবুর' (নম্বর ৫৪৪) গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৭)
وانظر -رحمنا الله تعالى وإياك- إلى قول عبد الله بن مسعود رضي الله عنه لمن قال في الجنازة: استغفروا لأخيكم؛ يعني: الميت، فقال له: لا غفر الله لك (1) . فإن كان هذا حالهم في تحفظهم من رفع الصوت بمثل هذا اللفظ الدال على طلب الدعاء من الحاضرين للميت، فما بالك بما يفعله أهل هذا الزمان من رفع الأصوات بنحو قراءة القرآن أو البردة (2) ،

--------------------------------------------

(1) المأثور في ذلك عن ابن عمر لا ابن مسعود، وهو معزو لـ «سنن سعيد بن منصور» ، وهو غير موجود في القسم المطبوع منه.

(2) قصيدة مشهورة جداً، ألفها محمد بن سعيد بن حماد الصنهاجي البوصيري (ت 684هـ) ، وتسمى «قصيدة الكواكب الدرية في مدح خير البرية» ، اعتنى العلماء بتشطيرها ومعارضتها، والتعليق عليها، وأفردها غير واحدٍ بنقدٍ خاص، ولا سيما في الأمور التي تخص العقيدة، انظر أبياتاً منتقدة منها في «القول المفيد على كتاب التوحيد» (1/81-82، 184-185، 476) ، و «مظاهر الانحرافات العقدية» (1/428-430) ، وممن انتقدها بكتاب مفرد: الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن الإمام محمد بن عبد الوهاب، له «هذا بيان المحجة في الرد= =على صاحب اللجة» مطبوع ضمن «مجموعة التوحيد» (الرسالة الثالثة عشرة، ص 435-542) ، والشيخ عبد البديع صقر، وشيخنا محمد نسيب الرفاعي رحمه الله، ولأبي الفضل عبد الله بن محمد بن الصديق الغماري «نقد قصيدة البردة» مطبوع آخر «رفع الإشكال عن مسألة المحال» . وانظر عن هذه القصيدة: «المدائح النبوية» لزكي مبارك (ص 197-198) ، «المدائح النبوية بين المعتدلين والغلاة» لمحمد بن سعد بن حسين (ص 54-74) ، «كشف الظنون» (2/1331-1349) ، «هدية العارفين» (2/138) .

وانظر عن نقدها -مجملاً- مقالة أخينا الشيخ السلفي محمد المغراوي المنشورة في مجلتنا «الأصالة» (العدد الخامس عشر/15/ذي القعدة/سنة 1415هـ) (ص 75-88) بعنوان (حول قصيدة البردة) ، وكتابنا «شعر خالف الشرع» ، يسر الله إتمامه بخير وعافية.

 

وانظر عنها «الأدب في التراث الصوفي» لمحمد عبد المنعم خفاجي (ص 253-258) . وانظر عن بدعية التزام (البردة) و (الشقراطسية) أمام الجنائز، وفي حلق الذكر في: «عدة المريد الصادق» (ص 551) للشيخ زروق، وكتابنا «شعر خالف الشرع» .
এবং দেখুন—আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং আপনাকে রহম করুন—আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি সেই ব্যক্তির প্রতি, যে জানাজায় বলেছিল: 'তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো'; অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির জন্য। তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: 'আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন' (১)। সুতরাং উপস্থিতদের নিকট হতে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া কামনার উদ্দেশ্যে এই ধরণের শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে উচ্চস্বরে আওয়াজ করার ক্ষেত্রে তাদের সতর্কতার এই অবস্থা যদি হয়ে থাকে, তবে বর্তমান কালের লোকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কী বলা যায়, যারা কুরআন তিলাওয়াত বা বুরদাহ (২) পাঠের ন্যায় বিভিন্ন উপায়ে উচ্চস্বরে আওয়াজ করে থাকে?

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে যা বর্ণিত (المأثور) হয়েছে তা ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, ইবনে মাসউদ থেকে নয়। এটি 'সুনান সাঈদ ইবন মানসুর'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (معزو), তবে এটি গ্রন্থটির মুদ্রিত অংশে বিদ্যমান নেই।

(2) এটি একটি অত্যন্ত সুপরিচিত কাসিদা (কবিতা), যা মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন হাম্মাদ আস-সিনহাজি আল-বুসিরি (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি) রচনা করেছেন। এর নাম ‘কাসিদাতুল কাওয়াকিব আদ-দুররিয়া ফি মাদহি খাইরিল বারিয়্যাহ’। উলামায়ে কেরাম এর পঙক্তি বর্ধিতকরণ (تشطير), সমকক্ষ কাব্য রচনা (معارضة) এবং এর ওপর টীকা রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। একাধিক আলেম এর স্বতন্ত্র ও বিশেষ সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে আকিদাহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে সমালোচিত পঙক্তিগুলোর জন্য দেখুন: ‘আল-কাওলুল মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহিদ’ (১/৮১-৮২, ১৮৪-১৮৫, ৪৭৬) এবং ‘মাজাহিরুল ইনহিরাফাত আল-আকদিয়্যাহ’ (১/৪২৮-৪৩০)। যারা এটি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখে সমালোচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ আবদুর রহমান বিন হাসান বিন ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব, তাঁর গ্রন্থ ‘হাযা বায়ানুল মাহাজ্জাহ ফির রাদ্দি আলা সাহিবিল লাজ্জাহ’ যা ‘মাজমুআতুত তাওহিদ’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে (ত্রয়োদশ রিসালাহ, পৃ. ৪৩৫-৫৪২); শেখ আবদুল বাদি সাকর; আমাদের শায়খ মুহাম্মদ নাসিব আল-রিফায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) এবং আবুল ফাদল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সিদ্দিক আল-গুবারি রচিত ‘নাকদু কাসিদাতিল বুরদাহ’ যা ‘রাফউল ইশকাল আন মাসআলাতিল মুহাল’-এর শেষে মুদ্রিত। এই কাসিদা সম্পর্কে আরও দেখুন: জাকি মুবারকের ‘আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ’ (পৃ. ১৯৭-১৯৮), মুহাম্মদ বিন সাদ বিন হুসাইনের ‘আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল মুতাদিলিনা ওয়াল গুলাত’ (পৃ. ৫৪-৭৪), ‘কাশফুজ জুনুন’ (২/১৩৩১-১৩৪৯), ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ (২/১৩৮)।

এবং এর সাধারণ সমালোচনা সম্পর্কে আমাদের সালাফি ভাই শেখ মুহাম্মদ আল-মাগরাউয়ি-এর নিবন্ধটি দেখুন, যা আমাদের ‘আল-আসালাহ’ ম্যাগাজিনে (সংখ্যা ১৫/১৫ জিলকদ/১৪১৫ হিজরি) (পৃ. ৭৫-৮৮) ‘হাওলা কাসিদাতিল বুরদাহ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের গ্রন্থ ‘শি'রুন খালাফাশ শারআ’ দেখুন, আল্লাহ তাআলা এটি কল্যাণ ও সুস্থতার সাথে সম্পন্ন করা সহজ করে দিন।

 

এবং এ সম্পর্কে আরও দেখুন: মুহাম্মদ আবদুন মুনইম খাফাজির ‘আল-আদাবু ফিত তুরাসিস সুফি’ (পৃ. ২৫৩-২৫৮)। জানাজার সামনে এবং জিকিরের মজলিসে ‘বুরদাহ’ ও ‘শাকরাতিসিয়্যাহ’ আবৃত্তির আবশ্যিকতার বিদআতি (بدعية) হওয়া সম্পর্কে দেখুন: শেখ যাররুক রচিত ‘উদ্দাতুল মুরিদ আস-সাদিক’ (পৃ. ৫৫১) এবং আমাদের গ্রন্থ ‘শি'রুন খালাফাশ শারআ’।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৮)
فأين الحال من الحال، فإنا لله وإنا إليه راجعون، فيجب على من له عقل أن لا ينظر إلى أفعال أكثر أهل الوقت، ولا لعوائدهم، فالسعيد من نبذ هذه العوائد المبتدعة، وشد يده على أتباع السلف؛ فهم القوم لا يشقى من اتبعهم، ولا من أحبهم، (إن المحب لمن يحب مطيع) ، ولقد أطال رحمه الله في التشنيع على ما يقع من بعض الناس، من رفع الصوت بالذكر ونحوه أمام الجنائز ا. هـ» (1) .

‌‌أقوال السادة الحنابلة:

قال في «دليل الطالب» (2) و «شرحه» (3) : «ويكره رفع الصوت، والصيحة معها، وعند رفعها [-يعني: الجنازة-] (4) ، ولو بالذِّكر والقرآن، [بل يسنُّ الذِّكر والقرآن سراً] (5) ، ويسنُّ لمتَّبعها أن يكون متخشِّعاً متفكِّراً في مآله، متَّعظاً بالموت وبما يصير إليه الميت، وقول القائل مع الجنازة: (استغفروا [الله] (6) له) ونحوه، بدعة عند الإمام أحمد، وكرهه وحرمه أبو حفص، ويحرم أن يتبعها مع منكر وهو عاجز عن إزالته» ا. هـ.

--------------------------------------------

(1) وممن نص على كراهية ذلك -أيضاً-: الشيخ الدردير في «الشرح الكبير» (4/423) ، فذكر من المخالفات: «وقول -أي: متبعي الجنازة-: استغفروا لها» ، قال الدسوقي: «وذلك كما يقع بمصر، يمشي رجل قدام الجنازة، ويقول: هذه جنازة فلان استغفروا له» ، وفي «تقريرات عليش» تعليل لذلك، فقال: «لمخالفة السلف» .

(2) (ص 62 - ط. الأولى عن المكتب الإسلامي) وعليه «حاشية العلامة الشيخ محمد بن مانع» .

(3) المسمى «نيل المآرب» (1/229-230) .

(4) ما بين المعقوفتين زيادة توضيحية من المصنِّفَيْن.

(5) ما بين المعقوفتين سقط من المطبوع، وأثبته من «نيل المآرب» .

(6) ما بين المعقوفتين زيادة من المصنِّفَيْن.
সেই অবস্থার সাথে বর্তমান অবস্থার কী বিস্তর ব্যবধান! আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের কার্যকলাপ বা তাদের রীতিনীতির দিকে না তাকানো। বরং সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে এই উদ্ভাবিত (مبتدعة) রীতিনীতি বর্জন করে এবং সালাফদের (سلف) অনুসরণের ওপর দৃঢ় থাকে; কারণ তাঁরা এমন এক জাতি যাদের অনুসরণকারী বা তাদের ভালোবাসে এমন ব্যক্তি দুর্ভাগা হয় না। (নিশ্চয়ই প্রেমিক তার প্রিয়জনের প্রতি অনুগত থাকে)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) জানাজার সামনে উচ্চস্বরে জিকির ও অনুরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে যা ঘটে থাকে, তার কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। (১)

‌‌হাম্বলি মনিষীদের উক্তি:

‘দালিলুত তালিব’ (২) এবং এর ‘শারহ’ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এ (৩) বলা হয়েছে: “জানাজার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা এবং চিৎকার করা অপছন্দনীয় (مكروه); এমনকি জানাজা বহনের সময়ও তা অপছন্দনীয় (مكروه), [-অর্থাৎ: জানাজা- (৪)] যদিও তা জিকির বা কুরআনের মাধ্যমে হয়। [বরং জিকির ও কুরআন পাঠ গোপনে করাই সুন্নাহ (سنة)] (৫)। এবং জানাজার অনুসরণকারীর জন্য সুন্নাহ (سنة) হলো বিনীত থাকা, নিজের শেষ পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করা এবং মৃত্যু ও মৃত ব্যক্তি যে অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করা। জানাজার সাথে থাকাকালীন কারো এই কথা বলা যে: ‘(আল্লাহর কাছে) তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো’ (৬) বা এই জাতীয় কিছু বলা ইমাম আহমদের মতে নব-উদ্ভাবিত (بدعة)। আবু হাফস একে অপছন্দনীয় (مكروه) এবং নিষিদ্ধ (حرام) বলেছেন। আর এমন কোনো গর্হিত কাজের সাথে জানাজার পেছনে চলা নিষিদ্ধ (حرام), যা পরিবর্তন বা প্রতিহত করতে সে অক্ষম।” সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) একে অপছন্দনীয় (مكروه) হিসেবে যারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে শায়খ দারদির তাঁর ‘আশ-শারহুল কাবীর’ গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন (৪/৪২৩)। সেখানে তিনি নিয়ম-বিরুদ্ধ কাজের বর্ণনায় বলেছেন: “এবং জানাজার অনুসরণকারীদের এই বলা যে—তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।” দাসুকি বলেন: “মিশরে যেমনটি ঘটে থাকে যে, জানাজার সামনে একজন লোক হেঁটে যায় এবং বলে: এটি অমুকের জানাজা, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।” আর ‘তাকরীরাতে আলিশ’-এ এর কারণ দর্শাতে গিয়ে বলা হয়েছে: “সালাফদের (سلف) বিরোধিতা করার কারণে।”

(২) (পৃষ্ঠা ৬২ - আল-মাকতাবুল ইসলামী থেকে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণ) এবং এর ওপর ‘আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন মানে’-এর ‘হাশিয়া’ (টিকা) রয়েছে।

(৩) যার নাম ‘নাইলুল মায়ারিব’ (১/২২৯-২৩০)।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটি গ্রন্থকারদ্বয়ের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যামূলক সংযোজন।

(৫) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মুদ্রিত কপিতে ছিল না, ‘নাইলুল মায়ারিব’ থেকে তা সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৬) বন্ধনীভুক্ত অংশটি গ্রন্থকারদ্বয়ের পক্ষ থেকে সংযোজন।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال في «الإقناع» (1) و «شرحه» (2) للشيخ منصور الحنبلي: (ويكره رفع الصوت والضجة عند رفعها) ؛ لأنه محدث، (وكذا) رفع الصوت (معها) -أي: مع الجنازة- (ولو بقراءة أو ذكر) ؛ لنهي (3) النبي صلى الله عليه وسلم أن تتبع الجنازة بصوت أو نار. رواه أبو داود (4) ، (بل يسنُّ) القراءة والذِّكر (سرّاً) ، وإلا الصمت. ا. هـ.

--------------------------------------------

(1) (1/405) (منهما) .

(2) المسمى «كشاف القناع» (2/130) .

(3) في المطبوع: «لقول» ، والمثبت من «كشاف القناع» .

(4) أخرجه أبو داود (3171) ، وأحمد (2/427، 528، 532) ، والبيهقي (3/394-395) ، وابن الجوزي في «الواهيات» (1504) عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تُتْبع الجنازة بنار ولا صوت» . وإسناده ضعيف. والحديث حسن لغيره؛ لشواهده. وصح ذلك موقوفاً، وهذا البيان:

أخرج مالك (1/226) بسند صحيح عن أبي هريرة، أنه نهى أن يُتْبع بعد موته بنار.

وأخرج مسلم (121) عن عبد الله بن عمرو قوله: «فإذا أنا مت فلا تصحبني نائحة ولا نار» .

وفي الباب عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه نهى أن يتبع الميت صوتٌ أو نارٌ.

أخرجه أبو يعلى (2627) . وفيه عبد الله بن المحرّر، منكر الحديث، وتحرف اسمه= =على الهيثمي في «المجمع» (3/29) فلم يعرفه!!

وفي الباب عن ابن عمر، أخرج أحمد (2/92) ، وابن ماجه (1583) ، والطحاوي في «شرح معاني الآثار» (1/484) ، والطبراني (13484، 13498) عنه، قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تُتْبع جنازة معها رَنَّة. وإسناده ضعيف.

قال السندي: « (رَنَّة) بفتح راء وتشديد نون: صوت مع بكاء، فيه ترجيع، كالقلقلة واللقلقة» .

وورد بلفظ: «فيها صارخة» عند ابن حبان في «المجروحين» (1/254) ، وأورده ابن الجوزي في «الموضوعات» (3/225) . ونحوه في «الحلية» (6/66) من طريق آخر عنه، ولكن الأسانيد الواردة في ذلك ضعيفة جداً.
وقال «আল-ইকনা» (১) ও শেখ মনসুর আল-হাম্বলির এর «শারহ» (২)-এ (ব্যাখ্যাগ্রন্থে) বলা হয়েছে: (জানাজা তোলার সময় উচ্চস্বর এবং হট্টগোল করা মাকরুহ (يكره)); কারণ এটি নব-উদ্ভাবিত (محدث)। (অনুরূপভাবে) জানাজার (সাথে) উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করাও — অর্থাৎ জানাজার সাথে থাকাকালীন — (এমনকি তিলাওয়াত বা জিকিরের মাধ্যমে হলেও); কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার পেছনে শব্দ বা আগুন নিয়ে যেতে নিষেধ (نهي) করেছেন। এটি আবু দাউদ (৪) বর্ণনা করেছেন। (বরং সুন্নত (يسن)) হলো তিলাওয়াত ও জিকির গোপনে (سراً) করা, অন্যথায় মৌনতা অবলম্বন করা। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) (১/৪০৫) (উভয় গ্রন্থ থেকে)।

(২) যার নাম «কাশশাফুল কিনা» (২/১৩০)।

(৩) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: «বলার কারণে», আর «কাশশাফুল কিনা» থেকে যা সাব্যস্ত তা-ই এখানে রাখা হয়েছে।

(৪) এটি আবু দাউদ (৩১৭১), আহমাদ (২/৪২৭, ৫২৮, ৫৩২), বায়হাকি (৩/৩৯৪-৩৯৫) এবং ইবনুল জাওজি «আল-ওয়াহিয়াত» (১৫০৪) গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জানাজার পেছনে আগুন বা শব্দ নিয়ে যাওয়া যাবে না»। এর সানাদ দুর্বল (ضعيف)। তবে হাদিসটি এর অন্যান্য সাক্ষ্যমূলক বর্ণনার (شواهده) কারণে হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره)। আর এটি মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে সহিহ (صح) প্রমাণিত হয়েছে; যার বিবরণ নিম্নরূপ:

মালিক (১/২২৬) সহিহ (صحيح) সানাদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার মৃত্যুর পর পেছনে আগুন নিয়ে যেতে নিষেধ করেছিলেন।

মুসলিম (১২১) আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে তার উক্তি বর্ণনা করেছেন: «আমি যখন মারা যাব, তখন যেন কোনো বিলাপকারিনী বা আগুন আমার সঙ্গী না হয়»।

এই অধ্যায়ে জাবির থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মৃতের পেছনে শব্দ বা আগুন নিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন।

এটি আবু ইয়ালা (২৬২৭) বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনুল মুহাররার রয়েছেন, যিনি মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث)। হাইসামি «আল-মাজমা» (৩/২৯) গ্রন্থে তার নাম বিকৃতভাবে পাওয়ায় তাকে চিনতে পারেননি!!

এই অধ্যায়ে ইবনে উমর থেকেও বর্ণনা রয়েছে। আহমাদ (২/৯২), ইবনে মাজাহ (১৫৮৩), তাহাবি «শারহু মাআনিল আসার» (১/৪৮৪) এবং তাবারানি (১৩৪৮৪, ১৩৪৯৮) তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার সাথে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ (رنة) করতে নিষেধ করেছেন। এর সানাদ দুর্বল (ضعيف)।

সিন্দি বলেন: « (রন্নাহ - رنة) রা বর্ণে ফাতহা এবং নুন বর্ণে তাশদিদ যোগে: এটি কান্নার এমন শব্দ যাতে সুরের অনুরণন থাকে, যেমন কলকলা বা লকলাকা শব্দ»।

ইবনে হিব্বান «আল-মাজরুহিন» (১/২৫৪) গ্রন্থে এটি «এতে আর্তনাদকারী (صارخة) থাকবে» শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল জাওজি «আল-মাওদুআত» (৩/২২৫) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। অনুরূপ বর্ণনা অন্য সূত্রে «আল-হিলয়াহ» (৬/৬৬) গ্রন্থেও এসেছে, কিন্তু এ সংক্রান্ত বর্ণিত সানাদগুলো অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جداً)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال في «المنتهى» (1) و «شرحه» (2) : (و) كره (رفع الصوت معها) -أي: الجنازة- (ولو بقراءة) أو تهليل؛ لأنه بدعة، وقول القائل مع الجنازة: استغفروا له ونحوه بدعة. وروى سعيد بن عمر (3) وسعيد بن جبير، قالا لقائل ذلك: لا غفر الله لك (4) ا. هـ.

هذا ما أردنا نقله باختصار من كتب المذاهب الأربعة.

وقد اطّلعنا على رسالة «تحفة الأبصار والبصائر في بيان كيفية السير مع الجنازة إلى المقابر» ، و «رسالة فتاوى أئمة المسلمين بقطع لسان المبتدعين» الموافقتين لما أتينا به في هذا الموضوع، مِن منع رفع الصوت مع الجنائز، لمؤلِّفهما العلامة المفضال الشيخ محمود محمد خطاب السُّبكي (5)

--------------------------------------------

(1) (1/422 - على هامش «شرح الإقناع» ) (منهما) .

قلت: وانظره (1/164 - تحقيق عبد الغني عبد الخالق) .

(2) انظر: «إرشاد أولي النهى لدقائق المنتهى» (1/366) ، «غاية المنتهى» (1/264) ، «حاشية ابن قائد على المنتهى» (1/421) .

وانظر عن (شروح «المنتهى» ) : «المدخل المفصل» (2/780-784) للشيخ العلاّمة بكر أبو زيد -حفظه الله وعافاه-.

(3) كذا في المطبوع! وصوابه: «ابن منصور» .

(4) مضى تخريجه في التعليق على (ص 14، 15، 16) .

(5) ولد في (سبك الأحد) من قرى (أشمون) ، بالمنوفية، وتعلّم بالأزهر، كبيراً، ودرّس فيه، وأسس الجمعيّة الشرعية، وترأسها من سنة (1331هـ) إلى (1352هـ) ، وتوفي بالقاهرة، له كتب عديدة؛ أشهرها: «الدين الخالص» ويسمى «إرشاد الخلق إلى دين الحق» ، «أعذب المسالك المحمودية» ، «هداية الأمة المحمودية» (خطب منبرية) ، «المنهل العذب المورود» .

 

انظر ترجمته في: «الأعلام الشرقية» (1/406-408 ترجمة 504) ، «مجلة الفتح» (20/ربيع الأول/سنة 1352هـ) ، «مجلة الإسلام» العدد (12) ، السنة الثانية، «الأعلام» (7/186) ، «الدين الخالص» (7/434-439) له، «معجم المطبوعات العربية» (1005) .
এবং "আল-মুনতাহা" (১) ও এর "শারহ" বা ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২) বলা হয়েছে: (এবং) অপছন্দনীয় (كره) করা হয়েছে (তার সাথে আওয়াজ উচ্চ করা) -অর্থাৎ: জানাজার সাথে- (এমনকি তিলাওয়াতের মাধ্যমে হলেও) অথবা তাহলীল পাঠের মাধ্যমে; কারণ এটি নবউদ্ভাবন (بدعة), এবং জানাজার সাথে কোনো ব্যক্তির এই কথা বলা: "তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন" এবং এই জাতীয় কথা নবউদ্ভাবন (بدعة)। সাঈদ বিন উমর (৩) এবং সাঈদ বিন জুবাইর বর্ণনা করেছেন, তারা এই কথা পাঠকারীকে বলেছিলেন: "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন" (৪)। সমাপ্ত।

চার মাজহাবের কিতাবসমূহ থেকে আমরা সংক্ষেপে এটিই উদ্ধৃত করতে চেয়েছি।

আমরা "তুহফাতুল আবসার ওয়াল বাসাইর ফি বায়ানি কাইফিয়্যাতিস সাইরি মাআল জানাজা ইলাল মাকাবির" এবং "রিসালাতু ফাতাওয়া আইম্মাতিল মুসলিমিন বি-কাতয়ি লিসানিল মুবতাদিঈন" নামক পুস্তিকা দুটি দেখেছি, যা জানাজার সাথে উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করা নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গে আমরা এই বিষয়ে যা নিয়ে এসেছি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ দুটির লেখক হলেন মহান পন্ডিত আল্লামা শেখ মাহমুদ মুহাম্মদ খাত্তাব আস-সুবকি (৫)।

--------------------------------------------

(১) (১/৪২২ - "শারহুল ইকনা"-এর পার্শ্বটিকায়) (উভয় গ্রন্থ থেকে)।

আমি বলছি: এটি দেখুন (১/১৬৪ - আব্দুল গণি আব্দুল খালিকের সম্পাদনায়)।

(২) দেখুন: "ইরশাদু উলিন নুহা লি-দাকায়িকিল মুনতাহা" (১/৩৬৬), "গায়াতুল মুনতাহা" (১/২৬৪), "হাশিয়া ইবনে কায়িদ আলাল মুনতাহা" (১/৪২১)।

"শারহু মুনতাহা" সম্পর্কে দেখুন: আল্লামা শেখ বকর আবু যায়দ - আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন ও সুস্থ রাখুন - এর "আল-মাদখালুল মুফাসসাল" (২/৭৮০-৭৮৪)।

(৩) মুদ্রিত কপিতে এমনই রয়েছে! তবে এর সঠিক রূপ হবে: "ইবনে মানসুর"।

(৪) ১৪, ১৫ ও ১৬ পৃষ্ঠার টীকায় ইতিপূর্বে এর হাদিসের সূত্রায়ন (تخريج) গত হয়েছে।

(৫) তিনি মুনুফিয়া প্রদেশের আশমুন গ্রামের "সুবকুল আহাদ"-এ জন্মগ্রহণ করেন। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় আজহারে শিক্ষালাভ করেন এবং সেখানে অধ্যাপনা করেন। তিনি "জামিয়াতুশ শারইয়্যাহ" প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৩৩১ হিজরি থেকে ১৩৫২ হিজরি পর্যন্ত এর সভাপতিত্ব করেন। তিনি কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত অনেক কিতাব রয়েছে; যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো: "আদ-দিনুল খালিস" যার অপর নাম "ইরশাদুল খালক ইলা দিনিল হাক", "আজাবুল মাসালিকিল মাহমুদিয়্যাহ", "হিদায়াতুল উম্মাতিল মাহমুদিয়্যাহ" (মিম্বরের খুতবাসমূহ), "আল-মানহালুল আজবুল মাওরুদ"।

 

তাঁর জীবনী দেখুন: "আল-আলামুশ শারকিয়্যাহ" (১/৪০৬-৪০৮, জীবনী নম্বর ৫০৪), "মাজাল্লাতুল ফাতহ" (২০ রবিউল আউয়াল, ১৩৫২ হিজরি), "মাজাল্লাতুল ইসলাম" (১২তম সংখ্যা, দ্বিতীয় বর্ষ), "আল-আলাম" (৭/১৮৬), লেখকের নিজস্ব কিতাব "আদ-দিনুল খালিস" (৭/৪৩৪-৪৩৯), "মুজামুল মাতবুয়াতিল আরাবিয়্যাহ" (১০০৫)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২১)
المدرس بالقسم العالي بالجامع الأزهر، وفيهما تقاريظ وفتاوى جمع غفير مِن كبار علماء الأزهر وشيوخه؛ منهم: شيخ الإسلام الشيخ سُليم البِشْري (1) المالكي، وشيخ الإسلام الشيخ حَسُّونَة النَّواوي (2)

--------------------------------------------

(1) هو الشيخ سليم البِشْري ابن السيد أبي فراج سليم، المالكي المذهب، شيخ الجامع الأزهر (وهو الشيخ الرابع والعشرون) ، وشيخ المالكية، ولد سنة 1248هـ - 1832م في محلة (بشر) بمديرية البحيرة، ونشأ بها، وتلقى العلم على كبار علماء عصره، كالشيخ عُلَيش، والباجوري، وغيرهما، وكان واسع الاطلاع في علوم السنة، توفي في شهر ذي الحجة سنة 1335هـ - 1917م، له «تحفة الطلاب بشرح رسالة الآداب» ، «شرح نهج البردة لشوقي» ، «حاشية على رسالة الشيخ عليش في التوحيد» ، «المقامات السنية في الرد على القادح في البعثة النبوية» .

انظر ترجمته في «الأعلام الشرقية» (1/313-314) ، «الكنز الثمين» (1/106) ، «مرآة العصر» (2/465) ، «الأعلام» (3/119) .

(2) هو الشيخ حَسُّونة بن عبد الله النّواوي الحنفي، شيخ الجامع الأزهر (وهو الشيخ الثاني والعشرون من شيوخ الأزهر) ، ولد في (نواي) من قرى (أسيوط) مصر، وتعلم في الأزهر، وفي عهده وضع للجامع الأزهر نظامات ولوائح، ورتب شؤون رواتبه، وأدخل بعض العلوم؛ كالحساب، والهندسة، والجبر، وتقويم البلدان، توفي سنة 1343هـ - 1924م، وله كتاب «سلم المسترشدين لأحكام الشريعة والدين» في ثلاثة أجزاء. … =

 

= … انظر ترجمته في: «الأعلام الشرقية» (1/301 رقم 402) ، «مرآة العصر» (190) ، «تاريخ الأزهر» (156) ، «مجلة الزهراء» (2/485) ، «الأعلام» (2/229) .
জামে আজহারের উচ্চ বিভাগের শিক্ষক, এবং যাতে (বইদ্বয়ে) আজহারের একদল বড় আলেম ও শায়খদের প্রশংসা বাণী ও ফতোয়া রয়েছে; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখুল ইসলাম শায়খ সুলাইম আল-বিশরি (১) আল-মালিকি এবং শাইখুল ইসলাম শায়খ হাসুনা আন-নাওয়াবি (২)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শায়খ সুলাইম আল-বিশরি ইবনে আস-সাইয়্যেদ আবি ফাররাজ সুলাইম, মালিকি মাযহাব অনুসারী, জামে আজহারের শায়খ (তিনি ছিলেন ২৪তম শায়খ), এবং মালিকি মাযহাবের প্রধান। তিনি ১২৪৮ হিজরি - ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে বুহাইরা প্রদেশের (বিশরি) নামক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর সময়ের বড় বড় আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেন, যেমন শায়খ উলাইশ, আল-বাজুরি এবং অন্যান্যদের নিকট। তিনি সুন্নাহর জ্ঞান (علوم السنة) এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ছিলেন। তিনি ১৩৩৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসে (১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'তুহফাতুত তুল্লাব বি শারহি রিসালাতিল আদাব', 'শারহু নাহজিল বুরদাহ লি শাওকি', 'হাশিয়া আলা রিসালাতিশ শাইখ উলাইশ ফিত তাওহিদ', 'আল-মাকামাতুস সানিয়্যাহ ফির রদ্দি আলাল কাদিহি ফিল বা’সাতিন নববিয়্যাহ'।

তাঁর জীবনী দেখুন: 'আল-আ'লাম আশ-শারকিয়্যাহ' (১/৩১৩-৩১৪), 'আল-কানজুস সামিন' (১/১০৬), 'মিরাতুল আসর' (২/৪৬৫), 'আল-আ'লাম' (৩/১১৯)।

(২) তিনি হলেন শায়খ হাসুনা বিন আব্দুল্লাহ আন-নাওয়াবি আল-হানাফি, জামে আজহারের শায়খ (তিনি ছিলেন আজহারের শায়খদের মধ্যে ২২তম)। তিনি মিশরের আসিউত প্রদেশের (নাওয়ায়ি) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং আজহারে শিক্ষালাভ করেন। তাঁর আমলে জামে আজহারের জন্য বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, বেতন-ভাতার বিষয়গুলো বিন্যস্ত করা হয় এবং কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়; যেমন: পাটীগণিত, জ্যামিতি, বীজগণিত এবং ভূগোল। তিনি ১৩৪৩ হিজরি - ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর তিন খণ্ডে 'সুল্লামুল মুস্তারশিদিন লি আহকামিশ শারিয়াহ ওয়াদ দ্বীন' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। … =

 

= … তাঁর জীবনী দেখুন: 'আল-আ'লাম আশ-শারকিয়্যাহ' (১/৩০১, নং ৪০২), 'মিরাতুল আসর' (১৯০), 'তারিখে আজহার' (১৫৬), 'মাজাল্লাতুয যাহরা' (২/৪৮৫), 'আল-আ'লাম' (২/২২৯)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২২)
الحنفي، وشيخ الإسلام الشيخ محمد أبو الفضل الجِيزَاوي (1) المالكي، وشيخ شيوخ السادة الشافعية الشيخ محمد البحيري، ومفتي الديار المصرية سابقاً الشيخ محمد بَخِيت المطيعي (2) ،

--------------------------------------------

(1) ولد سنة 1264هـ - 1487م في بلدة وراق الحضر التابعة للجيزة، ونشأ بها، وتلقى العلم على كبار علماء عصره، (وهو الشيخ السابع والعشرون في شيوخ جامع الأزهر) ، وكان واسع االاطلاع في العلوم العقلية والنقلية والفلسفية، توفي سنة 1346هـ - 1927م، له «رسالة في البسملة وحديثها المشهور» ، «تقرير على كتاب ابن الحاجب في الأصول» ، «الطراز الحديث في مصطلح الحديث» .

انظر ترجمته في: «الأعلام الشرقية» (1/355-356 رقم 463) ، مجلة «كل شيء والعالم» (رقم 206) ، وجريدة «الأهرام» ، سنة 1927م، مجلة «الفتح» (22/محرم/سنة 1346) ، «الكنر الثمين» (112) ، «الأعلام» (6/330) .

(2) هو الشيخ محمد بخيت بن حسين المطيعي الحنفي، مفتي الديار المصرية، ومن كبار فقهائها، ولد سنة 1271هـ - 1854م في بلدة (المطيعة) من أعمال أسيوط، وتعلم في الأزهر، واشتغل بالتدريس فيه، توفي بالقاهرة سنة 1354هـ - 1935م، له كتب كثيرة؛ منها: «أحسن الكلام فيما يتعلق بالسنة والبدعة من الأحكام» ، «الكلمات الحسان في الأحرف السبعة وجمع القرآن» ، «الأجوبة المصرية عن الأسئلة التونسية» .

 

انظر ترجمته في: «الأعلام الشرقية» (2/497-499 رقم 416) ، «مجلة الرسالة» (3/1757) ، «مرآة العصر» (2/467) ، «تاريخ الأزهر» (172) ، «قطرة من مداد الأعلام المعاصرين والأنداد» لمحمد لطفي جمعة (275-280) ، «الفتح المبين في طبقات الأصوليين» (3/181) ، «الفكر السامي» (4/38) ، «الكنز الثمين» (118) ، «الأعلام» (6/50) .
আল-হানাফি, এবং শাইখুল ইসলাম শাইখ মুহাম্মদ আবু আল-ফজল আল-জিজাওয়ি (১) আল-মালিকি, এবং শাফেয়ি মাশায়েখগণের প্রধান শাইখ মুহাম্মদ আল-বুহাইরি, এবং মিশরের সাবেক মুফতি শাইখ মুহাম্মদ বাখিত আল-মুতিয়ি (২) ,

--------------------------------------------

(১) তিনি ১২৬৪ হিজরি - ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে গিজার অন্তর্গত ওয়াররাক আল-হাদর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর সময়ের প্রথিতযশা আলেমদের কাছে ইলম অর্জন করেন, (তিনি জামে আজহারের শাইখদের মধ্যে সাতাশতম শাইখ ছিলেন)। তিনি আকলি (যুক্তিভিত্তিক), নাকলি (বর্ণনাভিত্তিক) এবং দর্শন শাস্ত্রে অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। ১৩৪৬ হিজরি - ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: «রিসালাহ ফিল বাসমালাহ ওয়া হাদিসিহিল মাশহুর» প্রসিদ্ধ (مشهور), «তাকরীর আলা কিতাব ইবনে হাজিব ফিল উসুল» উসুল (الأصول), «আত-তিরাজুল হাদিস ফি মুসতালাহিল হাদিস» হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث)।

তাঁর জীবনী দেখুন: «আল-আলাম আশ-শারকিয়্যাহ» (১/৩৫৫-৩৫৬ নং ৪৬৩), «কুল্লু শাই ওয়াল আলাম» সাময়িকী (নং ২০৬), এবং «আল-আহরাম» পত্রিকা, ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ, «আল-ফাতহ» সাময়িকী (২২/মুহররম/১৩৪৬ হিজরি), «আল-কানজুল সামিন» (১১২), «আল-আলাম» (৬/৩৩০)।

(২) তিনি হলেন শাইখ মুহাম্মদ বাখিত বিন হোসেন আল-মুতিয়ি আল-হানাফি; মিশরের মুফতি এবং সেখানকার শ্রেষ্ঠ ফকিহগণের অন্যতম। তিনি ১২৭১ হিজরি - ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে আসইউত প্রদেশের (আল-মুতিয়াহ) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আজহারে শিক্ষালাভ করেন এবং সেখানে অধ্যাপনায় নিযুক্ত হন। কায়রোতে ১৩৫৪ হিজরি - ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: «আহসানুল কালাম ফিমা ইয়াতায়াল্লাকু বিস-সুন্নাহ ওয়াল বিদআতি মিনাল আহকাম» সুন্নাহ (السنة) ও বিদআত (البدعة) সংক্রান্ত বিধানাবলী, «আল-কালিমাতুল হিসান ফিল আহরুফিস সাবআতি ওয়া জাময়িল কুরআন» সাত কিরাত (الأحرف السبعة) ও কুরআন সংকলন প্রসঙ্গে, «আল-আজউবাতুল মিসরিয়্যাহ আনিল আসইলাতুত তিউনিসিয়্যাহ»।

 

তাঁর জীবনী দেখুন: «আল-আলাম আশ-শারকিয়্যাহ» (২/৪৯৭-৪৯৯ নং ৪১৬), «মাজাল্লাতুর রিসালাহ» (৩/১৭৫৭), «মিরাতিল আসর» (২/৪৬৭), «তারিখুল আজহার» (১৭২), মুহাম্মদ লুতফি জুমআ রচিত «কাতরাতুম মিন মিদাদিল আলামিল মুআসিরিনা ওয়াল আন্দাদ» (২৭৫-২৮০), «আল-ফাতহুল মুবিন ফি তবাকাতিল উসুলিয়্যিন» উসুল শাস্ত্রবিদগণের জীবনী (طبقات الأصوليين) (৩/১৮১), «আল-ফিকরুস সামি» (৪/৩৮), «আল-কানজুল সামিন» (১১৮), «আল-আলাম» (৬/৫০)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৩)
وشيخ السادة الحنبلية الشيخ يوسف النابلسي (1) ، فهل بعد هذه النصوص، وبعد اتفاق علماء المذاهب الأربعة في الديار المصرية يبقى ريب لمستريب؟ وهل يصح مِن عاقل أن يقول بجواز رفع الصوت مع الجنازة؟ وهل يلتفت لقول مَن قال: إنّ ترك التهليل بالجهر مع الجنازة يعدُّ إزراءً بالميت وتعريضاً للتكلم فيه وفي ورثته؟ وهل يليق بمؤمن أن يتوهم أنّ الفعل الموافق لفعل الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه والسلف الصالح يكون فيه إزراء بالميت وورثته؟ سبحانك هذا بهتان عظيم، ولسنا ندري ما الّذِي حمل الأُستاذ الجزار وتلميذه خزيران على مخالفة مذهبهما ومذاهب بقية الأئمة، فهل هو الجهل؟ لا نعتقد ذلك؛ لأنّ مَن مضى عليه عشراتٌ مِن السنين في مقام الإفتاء لا تخفى عليه مسألة بسيطة (2)

--------------------------------------------

(1) هو المترجم في «أعيان دمشق» (ص 301-302) للشيخ محمد جميل الشّطي.

(2) استخدام (البساطة) و (التبسيط) بمعنى (التسهيل) من الأخطاء الشنيعة، وقولهم: مسألة بسيطة، هذا شيء بسيط، تكلم ببساطة، وهذا لا يعتقده إلا البسطاء، خطأ، قال صاحب «اللسان» : «ورجل بسيط: منبسط بلسانه، وقد بسطه بساطة. الليث: البسيط: المنبسط اللسان، والمرأة بسيط، ورجل بسيط اليدين: منبسط بالمعروف، وبسيط الوجه: متهلل، وجمعها: بسط» .

قلت: فقد رأيت أن (البساطة) لا تدل على ما يريد المؤلفان بها، وذلك بعيد عن استعمال العرب، بل هو ضده؛ لأنَّ البسيط في اللغة، هو الواسع، ومن أجل ذلك سميت الأرض (البسيطة) ؛ لسعتها.

 

وأصل هذا الخطأ، آت من اصطلاح الأطباء في تسميتهم الدواء الذي هو من مادة واحدة (بسيطاً) ، ويقابله (المركب) الذي يتألف من أجزاء، كل جزء من مادة، وقد استعمله الفلاسفة -أيضاً-، فقسموا الجهل إلى قسمين: (جهل بسيط) ، و (جهل مركب) ، والأول: أن يكون الشخص جاهلاً، ويعلم أنه جاهل. وقولهم: (بسيط) ، و (بساطة) ترجمة للكلمة الأجنبية (Simple) ؛ يراد به: شيء سهل غير مركب، غير معقد، وأخذ منه كثير من الناس (بسّطه) -بتشديد السين-: جعله بسيطاً؛ أي: سهلاً غير معقد، أو قليلاً، أو حقيراً، وكل ذلك خطأ شهير، وضلال مبين.

انظر «تقويم اللسانين» (ص 32-34، 125-126) للدكتور محمد تقي الدين الهلالي.
এবং হাম্বলি মহোদয়গণের শাইখ, শাইখ ইউসুফ আল-নাবুলসি (১), এই সকল নির্ভরযোগ্য পাঠ (نصوص) এবং মিসর ভূখণ্ডের চার মাযহাবের ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যের (اتفاق) পর কি কোনো সংশয়বাদীর মনে আর কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট থাকে? কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে কি এটা বলা সঠিক হবে যে, জানাজার সাথে উচ্চস্বরে আওয়াজ করা জায়েজ (جواز)? আর যে ব্যক্তি বলে যে, জানাজার সাথে উচ্চস্বরে তাহলিল (تهليل) পাঠ বর্জন করা মৃত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করা এবং তাকে ও তার উত্তরাধিকারীদের নিয়ে সমালোচনার সুযোগ করে দেওয়ার শামিল—তার কথার কি কোনো মূল্য আছে? একজন মুমিনের পক্ষে কি এমন ধারণা করা শোভা পায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং সালফে সালেহীনদের (السلف الصالح) কর্মের অনুসারী কাজের মধ্যে মৃত ব্যক্তি ও তার উত্তরাধিকারীদের জন্য অবমাননা রয়েছে? হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র! এটি এক ভয়াবহ অপবাদ (بهتان)। আমরা জানি না উস্তাদ আল-জাযযার এবং তার ছাত্র খুযায়রানকে তাদের নিজস্ব মাযহাব এবং অন্যান্য ইমামগণের মাযহাবের বিরোধিতা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? এটা কি অজ্ঞতা (جهل)? আমরা তা বিশ্বাস করি না; কারণ ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) দায়িত্বে যিনি কয়েক দশক অতিবাহিত করেছেন, তাঁর কাছে একটি সাধারণ (بسيطة) মাসআলা (مسألة) অজানা থাকার কথা নয় (২)।

--------------------------------------------

(১) শাইখ মুহাম্মাদ জামিল আশ-শাত্তি রচিত ‘আয়ান দামেশক’ (পৃষ্ঠা ৩০১-৩০২)-এ তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

(২) ‘সহজ করা’ অর্থে ‘বাসাতাহ’ (البساطة) এবং ‘তাবসিত’ (التبسيط) শব্দের ব্যবহার জঘন্য ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তাদের কথা: ‘মাসআলাতু বাসিতা’ (مسألة بسيطة), ‘এটি একটি সাধারণ (بسيط) বিষয়’, ‘সহজভাবে (ببساطة) কথা বলুন’—এসবই ভুল, যা কেবল সাধারণ মানুষরাই (البسطاء) বিশ্বাস করে। ‘লিসানুল আরব’ প্রণেতা বলেন: “রাজুলুন বাসিত (رجل بسيط) অর্থ: বাকপটু ব্যক্তি, যাকে তার জিহ্বা প্রসারিত করার মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়। লাইস বলেন: বাসিত (البسيط) অর্থ: বাকপটু ব্যক্তি; নারীর ক্ষেত্রেও ‘বাসিত’ ব্যবহৃত হয়। আর ‘রাজুলুন বাসিতুল ইয়াদাইন’ অর্থ: দানশীল ব্যক্তি, এবং ‘বাসিতুল ওয়াজহ’ অর্থ: হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তি; এর বহুবচন হলো: বুসুত (بسط)।”

আমি (সম্পাদক) বলছি: আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে ‘বাসাতাহ’ (البساطة) শব্দটি লেখকদ্বয় যা বুঝাতে চেয়েছেন তা নির্দেশ করে না এবং এটি আরবদের ব্যবহারের পরিপন্থী; বরং এটি তার বিপরীত। কারণ আরবি ভাষায় ‘বাসিত’ (البسيط) অর্থ হলো প্রশস্ত, আর এই কারণেই জমিনকে তার প্রশস্ততার জন্য ‘বাসিতা’ (البسيطة) বলা হয়।

 

এই ভুলের উৎস হলো চিকিৎসকদের পরিভাষা, যেখানে তারা একটি মাত্র উপাদান দ্বারা তৈরি ওষুধকে ‘বাসিত’ (بسيط) বলেন, যার বিপরীত হলো ‘মুরাক্কাব’ (المركب) যা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। দার্শনিকগণও এটি ব্যবহার করেছেন; তারা অজ্ঞতাকে (الجهل) দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ‘সরল অজ্ঞতা’ (جهل بسيط) এবং ‘জটিল অজ্ঞতা’ (جهل مركب)। প্রথমটি হলো: কোনো ব্যক্তি অজ্ঞ হওয়া এবং সে যে অজ্ঞ তা সে জানে। আর তাদের ‘বাসিত’ (بسيط) ও ‘বাসাতাহ’ (بساطة) শব্দটি বিদেশি শব্দ ‘Simple’-এর অনুবাদ; যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সহজ কোনো বিষয় যা যৌগিক বা জটিল নয়। এ থেকেই অনেকে ‘বাসসাতাহু’ (بسّطه) শব্দটি গ্রহণ করেছেন—যাতে ‘সিন’ বর্ণে তাশদিদ রয়েছে—যার অর্থ: তিনি একে সহজ বা সরল করেছেন; অর্থাৎ সহজ ও জটিলতামুক্ত করেছেন, অথবা একে নগণ্য বা তুচ্ছ করেছেন। এসবই সুপরিচিত ভুল এবং সুস্পষ্ট বিচ্যুতি।

দেখুন ডক্টর মুহাম্মাদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী রচিত ‘তাকভীমুল লিসানাইন’ (পৃষ্ঠা ৩২-৩৪, ১২৫-১২৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৪)
مذكورة في «مراقي الفلاح» (1) و «حواشيه» (2) ، وهو أول كتاب يقرأ في فقه السادة الحنفية، والذي يغلب على الظنّ أنّ الحامل لهما على ذلك، هو بغية المحافظة على مكانتهما الوهمية بين العامة؛ حذراً مِن أنْ ينفر منهما رعاعُ الناس، الذين اتخذوا الدين متجراً، لو أفتيا بالحق الذي يصادم منفعة أولئك المبتدعين، فليتقوا الله، وليقولوا قولاً سديداً، وهنا نبدأ برد ما قال.

قال في رده حكم العلامة الزنكلوني ما معناه: إنه يجب على المفتي أن يكون جوابه في المسألة بعد تأمله في الحجج التي أدلى بها كل مِن الأستاذين؛ لأنه بمثابة الطبيب.

نقول: يظهر للمتأمِّل في جواب العلامة الزنكلوني «الذي قطع قول كل خطيب» ، أنه نظر في الجوابين نظر تدقيق وتحقيق وإمعان، ثم أيد بفتواه فتوى المستدل بكتاب الله وسنة رسوله وأقوال الفقهاء، وزيف قول من أخذ من غير فهم بقول الشعراني عن شيخه الخواص (3) .

وقال: ولو دقق -أي: العلامة الزنكلوني- بجواب الفاضل القصَّاب؛ لتبيَّن له أنّ ما أتى في صدره مِن الآية والحديث إثباتاً لدعواه التي صدر بها جوابه لا يفيده، بل ولا تعلق لهما بموضوع السؤال أصلاً، لما أن معنى الآية هو: (اطلبوا حوائجكم مِمّن قام بأمر تربيتكم مِن بداية أمركم إلى نهايته، حال كونكم خاضعين متذلّلين له، متأدِّبين بخفض أصواتكم غير متجاوزين مكانتكم، وما تستعد إليه ذواتكم) ، ولم يذهب أحد مِنَ المفسرين إلى أنَّ المراد مِن الدّعاء فيها هو الذِّكر.

--------------------------------------------

(1) تقدم النقل عنه (ص 7) .

(2) انظر ما قدمناه في التعليق على (ص 7) .

(3) انظر «فصل الخطاب» (ص 36) للزَّنكلوني.

وبعدها في صلب الكتاب: «راجع (ص 10) » ! ثم صوبت في آخر الكتاب في (جدول تصحيح الخطأ) إلى (ص 36) .
«মারাকিউল ফালাহ» (১) এবং এর «হাশিয়া» বা টিকাসমূহ (২)-এ এটি বর্ণিত হয়েছে; আর এটি হানাফী মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রে পঠিত প্রথম কিতাব। প্রবল ধারণা এই যে, তাদের উভয়কে এই কাজে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের কাল্পনিক মর্যাদা বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা; এই ভয়ে যে পাছে সেই সকল সাধারণ নির্বোধ লোক তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়—যারা দ্বীনকে ব্যবসার সামগ্রী বানিয়ে নিয়েছে—যদি তারা এমন সত্যের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান করতেন যা ঐ সকল উদ্ভাবকদের (مبتدعين) স্বার্থের পরিপন্থী হতো। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে। আর এখান থেকেই আমরা তার বক্তব্যের খণ্ডন শুরু করছি।

তিনি আল্লামা যানকালুনীর রায়ের খণ্ডনে যা বলেছেন তার মর্মার্থ হলো: মুফতির জন্য আবশ্যক হলো কোনো মাসআলায় উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে উভয় উস্তাদের পেশকৃত দলিলসমূহ গভীরভাবে অনুধাবনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া; কারণ তিনি একজন চিকিৎসকের সমতুল্য।

আমরা বলি: আল্লামা যানকালুনীর উত্তরে গভীর অনুধাবনকারীর নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে—যা সকল বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে—তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও তাত্ত্বিক বিচার-বিশ্লেষণ এবং গভীরতার সাথে উত্তরদ্বয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাব, রাসুলের সুন্নাহ (سنة) এবং ফকিহগণের বক্তব্যের আলোকে দলিল পেশকারীর ফতোয়াকে সমর্থন করেছেন। আর তিনি সেই ব্যক্তির বক্তব্যকে বাতিল করে দিয়েছেন যে কোনো প্রকার সম্যক উপলব্ধি ছাড়াই স্বীয় শাইখ খওয়াস (৩) সম্পর্কে শা'রানীর উক্তি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেছেন: যদি আল্লামা যানকালুনী ফাযেল আল-কাসসাবের উত্তরের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন, তবে তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যেত যে, তিনি তার দাবির সপক্ষে প্রারম্ভে যে আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেছেন, তা তার কোনো উপকারে আসে না; বরং প্রশ্নোক্ত বিষয়ের সাথে সেগুলোর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। কেননা আয়াতের অর্থ হলো: (তোমাদের প্রয়োজনসমূহ তাঁরই নিকট প্রার্থনা করো যিনি তোমাদের সূচনালগ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত লালন-পালনের আঞ্জাম দিয়েছেন, এমতাবস্থায় যে তোমরা তাঁর প্রতি বিনীত ও বিনম্র থাকবে এবং তোমাদের কণ্ঠস্বর নিচু রেখে আদব রক্ষা করবে এবং তোমাদের মর্যাদা ও যোগ্যতার সীমা লঙ্ঘন করবে না)। আর মুফাসসিরগণের মধ্য হতে কেউই এই মর্মে অভিমত দেননি যে, এখানে 'দুয়া' দ্বারা 'যিকির' উদ্দেশ্য।

--------------------------------------------

(১) পূর্বে এ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে (পৃষ্ঠা ৭)।

(২) পৃষ্ঠা ৭-এর টীকায় আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দেখুন।

(৩) যানকালুনীর «ফাসলুল খিতাব» (পৃষ্ঠা ৩৬) দেখুন।

অতঃপর মূল কিতাবে রয়েছে: «দেখুন (পৃষ্ঠা ১০)»! পরবর্তীকালে কিতাবের শেষে (ভুল সংশোধন তালিকায়) তা (পৃষ্ঠা ৩৬) হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৫)
نقول: إنَّ هذا الاعتراض غير وارد ألبتة؛ لأنَّ السؤالَ الذي وجه إلى أحدنا هذا نَصُّه: «ما قول أهل العلم الحق في الصياح في التهليل والتكبير وغيره أمام الجنائز، أفتونا أثابكم الله؟» ، ومِن المعلوم أنّ لفظة (وغيره) تشمل الدعاء والاستغاثة وكل ما يرفع به الصوت مع الجنازة، فتكون الآية الشريفة على هذا دليلاً واضحاً في الموضوع، على أنّ الدعاء ذكر أيضاً «لا كما ادعاه حضرة المعترض» ، بدليل قوله -تعالى- حكاية عن سيدنا يونس في دعائه: {فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَاّ إِلَهَ إِلَاّ أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 87] . روى الحافظ ابن كثير في «تفسيره» (1) من حديث مصعب بن سعد، [عن سعد] (2) ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَن دعا بدعاء يونس استجيب له» (3) ،

--------------------------------------------

(1) (5/363 - ط. دار الشعب) .

(2) سقطت من المطبوع، وأثبتها من «تفسير ابن كثير» .

(3) أخرجه البزار في «البحر الزخار» (ق 197 أو رقم 69 - مسند سعد/ط. الحويني، أو 3/363 رقم 1163 - ط. محفوظ رحمه الله) ، والدورقي في «مسند سعد» (رقم 36) ، وأبو يعلى في «المسند» (2/65 رقم 707) -ومن طريقه الضياء في «المختارة» (2/351) - وابن عدي في «الكامل» (6/2088) ، والحاكم في «المستدرك» (2/584) ، وابن أبي حاتم في «تفسيره» (8/2465 رقم 13713) ؛ جميعهم من طريق أبي خالد الأحمر، عن كثير بن زيد بن المطَّلب بن عبد الله بن حنطب، عن مصعب بن سعد، به.

وتفرد به أبو خالد الأحمر عن كثير، أفاده البزار، وقاله الدارقطني في «الغرائب والأفراد» (ق57/أأو 1/326 رقم 496 - المطبوع) .

 

وإسناده صالح، والحديث صحيح بالشاهد الذي يليه.
নقول: إنَّ هذا الاعتراض غير وارد ألبتة؛ لأنَّ السؤالَ الذي وجه إلى أحدنا هذا نَصُّه: «ما قول أهل العلم الحق في الصياح في التهليل والتكبير وغيره أمام الجنائز، أفتونا أثابكم الله؟» ، ومِن المعلوم أنّ لفظة (وغيره) تشمل الدعاء والاستغاثة وكل ما يرفع به الصوت مع الجنازة، فتكون الآية الشريفة على هذا دليلاً واضحاً في الموضوع، على أنّ الدعاء ذكر أيضاً «لا كما ادعاه حضرة المعترض» ، بدليل قوله -تعالى- حكاية عن سيدنا يونس في دعائه: {فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَاّ إِلَهَ إِلَاّ أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 87] . روى الحافظ ابن كثير في «تفسيره» (1) من حديث مصعب بن سعد، [عن سعد] (2) ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَن دعا بدعاء يونس استجيب له» (3) ،

--------------------------------------------

(1) (৫/৩৬৩ - দারুশ শাব মুদ্রণ)।

(2) মুদ্রিত কপি থেকে এটি বাদ পড়েছে, আমি এটি "তাফসির ইবনে কাসির" থেকে যুক্ত করেছি।

(3) আল-বাজ্জার এটি "আল-বাহরুয যাখখার"-এ (পৃষ্ঠা ১৯৭ বা নং ৬৯ - মুসনাদ সা'দ/হুওয়াইনি সংস্করণ, অথবা ৩/৩৬৩ নং ১১৬৩ - মরহুম মাহফুজ সংস্করণ) বর্ণনা করেছেন, এবং আদ-দাওরাকি "মুসনাদ সা'দ" (নং ৩৬) গ্রন্থে, আবু ইয়ালা "আল-মুসনাদ" (২/৬৫ নং ৭০৭) গ্রন্থে -এবং তাঁর সূত্র হয়ে আদ-দিয়া "আল-মুখতারা" (২/৩৫১) গ্রন্থে- ইবনে আদি "আল-কামিল" (৬/২০৮৮) গ্রন্থে, আল-হাকিম "আল-মুসতাদরাক" (২/৫৮৪) গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর "তাফসির" (৮/২৪৬৫ নং ১৩৭১৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলে আবু খালিদ আল-আহমারের সূত্রে, তিনি কাসির বিন যাইদ বিন আল-মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব থেকে, তিনি মুসআব বিন সা'দ থেকে, উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আবু খালিদ আল-আহমার কাসির থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে একক হয়েছেন (تفرد), যা আল-বাজ্জার উল্লেখ করেছেন এবং আদ-দারাকুতনি "আল-গরাইব ওয়াল আফরাদ" (পৃষ্ঠা ৫৭/ক অথবা ১/৩২৬ নং ৪৯৬ - মুদ্রিত সংস্করণ) গ্রন্থে তা বলেছেন।

 

এবং এর সনদ সন্তোষজনক (إسناده صالح), আর পরবর্তী সাক্ষী বর্ণনার (بالشاهد) ভিত্তিতে হাদিসটি সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي «فتح البيان» (1) : «

وأخرج أحمد والترمذي والنسائي والحاكم -وصححه- والبيهقي عن سعد بن أبي وقاص، قال: سمعت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: «دعوة ذي النون إذ هو في بطن الحوت لا إله إلا أنت … إلخ، لم يدع بها مسلمٌ ربَّه في شيء قط، إلا استجاب له» (2) ،

--------------------------------------------

(1) (4/432) لصديق حسن خان، ومثله في «فتح القدير» (3/100 - ط. الرشد) للشوكاني، و «الدر المنثور» (5/668) للسيوطي. وزاد عزوه إلى الحكيم في «نوادر الأصول» وابن جرير وابن أبي حاتم والبزار وابن مردويه والبيهقي في «الشعب» .

(2) أخرجه أحمد (1/170) ، والترمذي (3500) ، والنسائي في «عمل اليوم= =والليلة» (رقم 655، 656) ، والبزار في «مسنده» (ق200 أو رقم 117 - مسند سعد/ط. الحويني، أو رقم 1163 - ط. محفوظ رحمه الله) ، وأبو يعلى (2/110-111 رقم 772) ، والحاكم في «المستدرك» (1/505 و2/382-383) ، والطبراني في «الدعاء» (رقم 124) ، وابن أبي الدنيا في «الفرج بعد الشدة» (ص 25-26) ، وابن أبي حاتم في «التفسير» (8/2465 رقم 13712) -وإسناده في «تفسير ابن كثير» (5/363) -، والبيهقي في «الشعب» (1/432 رقم 620) و «الدعوات الكبير» (رقم 166، 167) ، وابن السني في «عمل اليوم والليلة» (343) ، من طريق محمد بن سعد عن أبيه، به.

وإسناده صحيح.

وأخرجه ابن جرير (17/65) ، والحاكم (1/505-506) من طريق سعيد بن المسيب عن سعد، وفيه عمرو بن بكر السكسكي، متروك، فإسناده ضعيف جداً.

 

وأخرجه ابن السني في «عمل اليوم والليلة» (345) ، وابن عدي في «الكامل» (5/1799) من طريق أبي أمامة بن سهل بن حنيف عن سعد، وإسناده ضعيف جداً أيضاً، فيه عمرو بن الحصين العُقيلي، متروك.
এবং 'ফাতহুল বায়ান'-এ (১) রয়েছে: «

আহমদ, তিরমিজি, নাসায়ি, হাকেম—এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন—ও বায়হাকি সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «জুন-নুন (ইউনুস আ.)-এর দুআ, যখন তিনি মাছের পেটে ছিলেন—'লা ইলাহা ইল্লা আনতা...' ইত্যাদি। কোনো মুসলিম তার রবের কাছে এ দুআ দ্বারা কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই তা কবুল করেন।» (২) ,

--------------------------------------------

(১) সিদ্দিক হাসান খান রচিত (৪/৪৩২); অনুরূপ উদ্ধৃতি শাওকানি রচিত 'ফাতহুল কাদির' (৩/১০০ - রুশদ সংস্করণ) এবং সুয়ুতি রচিত 'আদ-দুররুল মানসুর' (৫/৬৬৮)-এ রয়েছে। আল-হাকিম তাঁর 'নাওয়াদিরুল উসুল'-এ এবং ইবন জারির, ইবন আবি হাতিম, বাজজার, ইবন মারদুওয়াইহ ও বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এও এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (১/১৭০), তিরমিজি (৩৫০০), নাসায়ি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (নং ৬৫৫, ৬৫৬), বাজজার তাঁর 'মুসনাদ'-এ (পৃষ্ঠা ২০০ বা নং ১১৭ - সা'দ-এর মুসনাদ/হুওয়াইনি সংস্করণ, অথবা নং ১১৬৩ - মরহুম মাহফুজ সংস্করণ), আবু ইয়া'লা (২/১১০-১১১ নং ৭৭২), হাকেম 'মুস্তাদরাক'-এ (১/৫০৫ এবং ২/৩৮২-৩৮৩), তাবারানি 'আদ-দুআ'-তে (নং ১২৪), ইবন আবিদ দুনিয়া 'আল-ফারাজ বা'দাশ শিদ্দাহ'-তে (পৃষ্ঠা ২৫-২৬), ইবন আবি হাতিম 'তাফসির'-এ (৮/২৪৬৫ নং ১৩৭১২)—এবং এর সনদ (إسناد) ইবন কাসির-এর 'তাফসির'-এ (৫/৩৬৩) রয়েছে—, বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ (১/৪৩২ নং ৬২০) ও 'আদ-দাওয়াতুল কাবির'-এ (নং ১৬৬, ১৬৭), ইবনুল সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'-তে (৩৪৩); মুহাম্মদ ইবন সা'দ-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে।

এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

এবং ইবন জারির (১৭/৬৫) ও হাকেম (১/৫০৫-৫০৬) এটি সা'দ থেকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে আমর ইবন বকর আস-সাকসাকি রয়েছেন, যিনি বর্জনীয় (متروك); সুতরাং এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)।

 

এবং ইবনুল সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (৩৪৫) ও ইবন আদি 'আল-কামিল' (৫/১৭৯৯)-এ সা'দ থেকে আবু উমামাহ ইবন সাহল ইবন হুনাইফ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; এই সনদটিও (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) এবং এতে আমর ইবনুল হুসাইন আল-উকায়লি রয়েছেন, যিনি বর্জনীয় (متروك)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال العلامة الصاوي في «حاشيته على الجلالين» (1) : «وهذا الدعاء (أي: قول يونس: لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت مِنَ الظالمين) عظيم جدّاً؛ لاشتماله على التهليل والتسبيح والإقرار بالذنب، ولذا ورد في الحديث: «ما مِن مكروب يدعو بهذا الدعاء، إلا استجيب له» (2) ، وبدليل قوله صلى الله عليه وسلم في حديث عرفة: «أكثر دعائي ودعاء الأنبياء قبلي بعرفات: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير» (3) .

--------------------------------------------

(1) (3/88) ، وانظر عن دعاء يونس عليه السلام: «المجالسة» للدينوري (رقم 123، 124 - بتحقيقي) .

(2) غير محفوظ بهذا اللفظ، وما ورد آنفاً يغني عنه، والله الموفق.

(3) أخرجه مالك في «الموطأ» (2/38) -ومن طريقه عبد الرزاق في «المصنف» (4/378) ، والفاكهي في «أخبار مكة» (5/25 رقم 2760) ، والبيهقي في «السنن الكبرى» (4/284 و5/117) وفي «فضائل الأوقات» (ص 367) وفي «الدعوات الكبير» (رقم 468) ، والبغوي في «شرح السنة» (7/157) -، عن زياد بن أبي زياد مولى ابن عياش، = =عن طلحة بن عبيد الله مرفوعاً.

قال البيهقي عقبه في «السنن» : «هذا مرسل» ، وزاد في الموطن الثاني: «وقد روي عن مالك بإسناد آخر موصولاً، وَوَصْلُه ضعيف» .

وقال في «الفضائل» : «مرسل حسن» .

وقال في «الدعوات» : «وهذا منقطع، وقد روي من حديث مالك بإسناد آخر موصولاً، وهو ضعيف، والمرسل هو المحفوظ» .

قلت: وصله ابن عدي في «الكامل» (4/1599-1600) ، والبيهقي في «الشعب» (3/462) ، عن عبد الرحمن بن يحيى المدني: حدثنا مالك، عن سُمَيّ، عن أبي صالح، عن أبي هريرة مرفوعاً.

قال ابن عدي: «وهذا منكر عن مالك عن سُمَيّ عن أبي صالح عن أبي هريرة، لا يرويه عنه غير عبد الرحمن بن يحيى هذا، وعبد الرحمن غير معروف» .

وقال البيهقي عقبه: «هكذا رواه عبد الرحمن بن يحيى، وغلط فيه، إنما رواه مالك في «الموطأ» مرسلاً» .

 

وترجم العقيليُّ في «الضعفاء الكبير» (2/351) لابن يحيى هذا، وقال عنه: «مجهول، لا يقيم الحديث من جهته» ، وقال عنه أبو أحمد الحاكم: «لا يُعتمد على روايته» ، وقال الدارقطني: «ليس بالقوي» ، و «ضعيف» ، وقال الأزدي: «متروك، لا يحتج بحديثه» . انظر: «اللسان» (3/443) .

وروي الحديث عن عبد الله بن عمرو بن العاص.

أخرجه الترمذي في «الجامع» (رقم 3585) -ومن طريقه ابن الجوزي في «مثير العزم الساكن» (1/54 رقم 136) -، والفاكهي في «أخبار مكة» (5/24-25 رقم 2759) ، والبيهقي في «فضائل الأوقات» (ص 368-369) وفي «الشعب» (3/358 رقم 3767) ، وابن الجوزي في «التبصرة» (2/137) و «مثير العزم الساكن» (1/254 رقم 137) ، عن حماد بن أبي حميد، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده رفعه.

قال الترمذي: «هذا حديث غريب من هذا الوجه، وحماد بن أبي حميد هو محمد بن أبي حميد، وهو أبو إبراهيم الأنصاري، وليس بالقوي عند أهل الحديث» .

وأشار ابن عبد البر في «التمهيد» (6/39) إلى ضعفه، بقوله: «وليس دون عمرو من= =يحتج به فيه» .

وروي عن علي مرفوعاً.

أخرجه الطبراني في «الدعاء» (رقم 874) وفي «فضائل عشر ذي الحجة» (13/2) -كما في «السلسلة الصحيحة» (رقم 1503) - عن قيس بن الربيع، عن الأغرّ بن الصباح، عن خليفة بن حصين، عن علي رفعه بلفظ: «أفضل ما قلتُ أنا والنبيون قبلي عشية عرفة: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير» .

هكذا قال عفان بن مسلم عن قيس، واختلف عليه.

أخرجه البيهقي في «الشعب» (2/ق139/أ) عن إبراهيم بن إسحاق الحربي، ثنا عفان، به، ولكن بلفظ وافقه عليه ثلاثة، وسيأتي قريباً.

فأخرجه الترمذي في «الجامع» (رقم 3520) عن علي بن ثابت، وابن خزيمة في «صحيحه» (رقم 2841) ، والمحاملي في «الدعاء» (رقم 62) ، والبيهقي في «الشعب» (2/ق165/أ) عن عبيد الله بن موسى العبسي، وأبو نعيم في «ذكر تاريخ أصبهان» (1/221) عن الحسن بن عطية، عن قيس بن الربيع، به، ولفظه: «أكثر ما دعا به رسول الله صلى الله عليه وسلم عشية عرفة في الموقف: اللهم لك الحمد كالذي نقول وخيراً مما نقول، اللهم لك صلاتي ونُسُكي ومحياي ومماتي، وإليك مآبي … » لفط الترمذي.

فهذا اللفظ ليس فيه ما يصلح شاهداً لما عندنا، وهو على أي حال ضعيف، قيس متكلم فيه، قال ابن حجر عنه في «التقريب» : «صدوق، تغيَّر لما كبر وأدخل عليه ابنه ما ليس من حديثه، فَحَدَّث به» .

وقال عنه الترمذي: «هذا حديث غريب من هذا الوجه، وليس إسناده بالقوي» .

وله طريق آخر عن علي مرفوعاً، وفيه نحو ما في رواية الطبراني السابقة.

أخرجه ابن أبي شيبة في «المصنف» (10/373 رقم 9705 وص 443 - القسم المفقود) -ومن طريقه ابن عبد البر في «التمهيد» (6/40-41) ، والخطيب في «تاريخ بغداد» (6/40) ، وابن الجوزي في «مثير العزم الساكن» (2/255) - عن وكيع، عن موسى بن عُبَيدة، عن أخيه -وهو: عبد الله بن عُبَيدة الرَّبَذِيّ-، عن علي رفعه.

وتابع وكيعاً: عُبيدالله بن موسى.

أخرجه من طريقه: البيهقي في «السنن الكبرى» (5/117) وفي «الدعوات الكبير» = = (رقم 469) وفي «فضائل الأوقات» (ص 374-375) ، والخرائطي في «مكارم الأخلاق» (ق152/أ) ، والخطيب في «تلخيص المتشابه» (1/33) .

وإسناده ضعيف جداً، وهو منقطع.

قال البيهقي في «السنن» عقبه: «تفرد به موسى بن عبيدة، وهو ضعيف، ولم يدرك أخوه علياً رضي الله عنه» .

وفي الباب عن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي حسين -وهو من صغار التابعين- رفعه.

أخرجه ابن أبي شيبة في «المصنف» (6/40) -ومن طريقه ابن عبد البر في «التمهيد» (6/40) - عن وكيع، عن نضر بن عربي، عنه مرفوعاً.

وإسناده ضعيف، وهو معضل.

وأخرجه التيمي في «الترغيب» (2/1010 رقم 2482 - ط. زغلول، أو 3/271 رقم 2509 - ط. دار الحديث) عن أبي مروان، عن عبد العزيز بن محمد، عن عمرو بن أبي عمرو، عن المطلب مرفوعاً بلفظ: «أفضل الدعاء دعاء يوم عرفة، وإن أفضل ما أقول أنا وما قال النبيون من قبلي: لا إله إلا الله» .

وهذا مرسل، وأبو مروان، هو محمد بن عثمان بن خالد الأموي، صدوق يخطئ. قال شيخنا الألباني في «السلسلة الصحيحة» (رقم 1503) بعد ذكره بعض هذه الطرق: «وجملة القول: أن الحديث ثابت بمجموع هذه الشواهد، والله أعلم» .

আল্লামা সাওয়ী তাঁর ‘হাশিয়াতু আলাল জালালাইন’ (১)-এ বলেন: «এই দুয়া (অর্থাৎ ইউনুস আলাইহিস সালামের কথা: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন) অত্যন্ত মহান; কারণ এতে তাহলীল (একত্ববাদ), তাসবীহ (পবিত্রতা ঘোষণা) এবং পাপের স্বীকারোক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ কারণেই হাদিসে এসেছে: «কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি এই দুয়া পাঠ করলে অবশ্যই তার দুয়া কবুল করা হবে» (২)। আর এর প্রমাণ হলো আরাফাতের হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আরাফাতের দিনে আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের পঠিত শ্রেষ্ঠ দুয়া হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর» (৩)।

--------------------------------------------

(১) (৩/৮৮), ইউনুস আলাইহিস সালামের দুয়া সম্পর্কে দেখুন: দীনুরীর ‘আল-মুজালাসা’ (নম্বর ১২৩, ১২৪ - আমার তাহকীকসহ)।

(২) এই শব্দে হাদিসটি সংরক্ষিত (غير محفوظ) নয়, তবে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর অভাব পূরণ করে। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

(৩) এটি ইমাম মালিক ‘মুওয়াত্তা’ (২/৩৮)-এ বর্ণনা করেছেন - এবং তাঁর সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক ‘আল-মুসান্নাফ’ (৪/৩৭৮), ফাকীহী ‘আখবারু মক্কা’ (৫/২৫ নম্বর ২৭৬০), বায়হাকী ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ (৪/২৮৪ এবং ৫/১১৭), ‘ফাযায়িলুল আওকাত’ (পৃ. ৩৬৭) ও ‘আদ-দাওয়াতুল কাবীর’ (নম্বর ৪৬৮) এবং বাগভী ‘শারহুস সুন্নাহ’ (৭/১৫৭)-তে বর্ণনা করেছেন - যিয়াদ বিন আবী যিয়াদ থেকে, যিনি ইবনে আইয়াশের মুক্তদাস, তিনি তালহা বিন উবাইদুল্লাহ থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকী ‘আস-সুনান’-এ এর পরে বলেন: «এটি মুরসাল (مرسل)»। তিনি দ্বিতীয় স্থানে আরও যোগ করেন: «মালিক থেকে অন্য একটি সনদে এটি সংযুক্তভাবে (موصولاً) বর্ণিত হয়েছে, তবে এর সংযোগটি দুর্বল (ضعيف)»।

তিনি ‘আল-ফাযায়িল’-এ বলেন: «এটি হাসান (حسن) পর্যায়ের মুরসাল (مرسل)»।

তিনি ‘আল-দাওয়াত’-এ বলেন: «এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), আর এটি মালিকের হাদিস থেকে অন্য একটি সনদে সংযুক্তভাবে (موصولاً) বর্ণিত হয়েছে, যা দুর্বল (ضعيف); আর মুরসাল (مرسل) বর্ণনাটিই সংরক্ষিত (المحفوظ)»।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনে আদী ‘আল-কামিল’ (৪/১৫৯৯-১৬০০) এবং বায়হাকী ‘আশ-শুআব’ (৩/৪৬২)-এ এটি সংযুক্ত করেছেন (وصله) আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মাদানী থেকে: তিনি বলেন, মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুমাইয়্যি থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে।

ইবনে আদী বলেন: «মালিক-সুমাইয়্যি-আবু সালিহ-আবু হুরায়রা সূত্রে এটি একটি মুনকার (منكر) বর্ণনা। এই আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া ছাড়া আর কেউ এটি মালিক থেকে বর্ণনা করেননি, আর আব্দুর রহমান অপরিচিত (غير معروف)»।

বায়হাকী এর পরে বলেন: «আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এতে ভুল করেছেন; মূলত মালিক এটি ‘মুওয়াত্তা’-তে মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন»।

 

উকাইলী ‘আদ-দুয়াফাউল কাবীর’ (২/৩৫১)-এ এই ইবনে ইয়াহইয়ার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি অজ্ঞাতনামা (مجهول), তার পক্ষ থেকে হাদিস প্রতিষ্ঠিত হয় না (لا يقيم الحديث)»। আবু আহমাদ আল-হাকিম তার সম্পর্কে বলেছেন: «তার বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায় না (لا يُعتمد على روايته)»। দারা কুতনী বলেছেন: «তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)» এবং «দুর্বল (ضعيف)»। আযদী বলেছেন: «তিনি পরিত্যক্ত (متروك), তার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না (لا يحتج بحديثه)»। দেখুন: ‘আল-লিসান’ (৩/৪৪৩)।

হাদিসটি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

তিরমিযী এটি ‘আল-জামি’ (নম্বর ৩৫৮৫)-এ বর্ণনা করেছেন - এবং তাঁর সূত্রে ইবনুল জাওযী ‘মুসীরুল আযমিস সাকিন’ (১/৫৪ নম্বর ১৩৬), ফাকীহী ‘আখবারু মক্কা’ (৫/২৪-২৫ নম্বর ২৭৫৯), বায়হাকী ‘ফাযায়িলুল আওকাত’ (পৃ. ৩৬৮-৩৬৯) ও ‘আশ-শুআব’ (৩/৩৫৮ নম্বর ৩৭৬৭), ইবনুল জাওযী ‘আত-তাবসিরাহ’ (২/১৩৭) ও ‘মুসীরুল আযমিস সাকিন’ (১/২৫৪ নম্বর ১৩৭)-এ হাম্মাদ বিন আবী হুমাইদ থেকে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী বলেন: «এই সূত্রে হাদিসটি গরীব (غريب)। হাম্মাদ বিন আবী হুমাইদ হলেন মূলত মুহাম্মদ বিন আবী হুমাইদ, তিনি আবু ইবরাহীম আল-আনসারী; হাদিস বিশারদদের নিকট তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)»।

ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ (৬/৩৯)-এ এর দুর্বলতার (ضعفه) দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: «আমর বিন শুআইব ব্যতীত সনদের নিম্নের স্তরে এমন কেউ নেই যিনি দলিল হওয়ার যোগ্য (يحتج به)»।

এটি আলী (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

তাবারানী ‘আদ-দুয়া’ (নম্বর ৮৭৪) এবং ‘ফাযায়িলু আশরি যিলহিজ্জাহ’ (১৩/২)-এ এটি বর্ণনা করেছেন - যেমনটি ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ’ (নম্বর ১৫০৩)-এ রয়েছে - কাইস বিন রাবী থেকে, তিনি আগার বিন সাবাহ থেকে, তিনি খলিফা বিন হুসাইন থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে মারফু (رفعه) হিসেবে এই শব্দে: «আরাফাতের সন্ধ্যায় আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর»।

আফফান বিন মুসলিম কাইস থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর ওপর মতভেদ হয়েছে।

বায়হাকী ‘আশ-শুআব’ (২/ক ১৩৯/আ)-এ ইবরাহীম বিন ইসহাক আল-হারবী থেকে, তিনি আফফান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এটি এমন শব্দে যা অন্য তিনজনের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা শীঘ্রই আসছে।

তিরমিযী ‘আল-জামি’ (নম্বর ৩৫২০)-এ আলী বিন সাবিত থেকে, ইবনে খুযাইমাহ তাঁর ‘সহীহ’ (নম্বর ২৮৪১)-এ, মাহামিলী ‘আদ-দুয়া’ (নম্বর ৬২)-এ, বায়হাকী ‘আশ-শুআব’ (২/ক ১৬৫/আ)-এ উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসী থেকে এবং আবু নুআইম ‘যিকরুত তারিখ আসবাহান’ (১/২২১)-এ হাসান বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি কাইস বিন রাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের সন্ধ্যায় অবস্থানের স্থানে সবচেয়ে বেশি যে দুয়াটি করতেন তা হলো: আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু কাল্লাযী নাকূলু ওয়া খাইরাম মিম্মা নাকূলু, আল্লাহুম্মা লাকা সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতী, ওয়া ইলাইকা মাআবী …» এটি তিরমিযীর শব্দ।

সুতরাং এই শব্দে এমন কিছু নেই যা আমাদের আলোচিত বর্ণনার জন্য সমর্থক (شاهد) হিসেবে যোগ্য হতে পারে। তাছাড়া এটি যেকোনোভাবেই দুর্বল (ضعيف), কারণ কাইস সমালোচিত বর্ণনাকারী। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে ‘আত-তাকরীব’-এ বলেছেন: «তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে বৃদ্ধ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল (تغير) এবং তাঁর পুত্র তাঁর বর্ণনার মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করিয়েছিলেন যা তাঁর হাদিস নয়, আর তিনি সেগুলোই বর্ণনা করেছিলেন»।

তিরমিযী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «এই সূত্রে হাদিসটি গরীব (غريب) এবং এর সনদ শক্তিশালী নয় (ليس إسناده بالقوي)»।

আলী (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে, যাতে তাবারানীর পূর্বোক্ত বর্ণনার অনুরূপ বিষয় রয়েছে।

ইবনে আবী শায়বাহ ‘আল-মুসান্নাফ’ (১০/৩৭৩ নম্বর ৯৭০৫ এবং পৃ. ৪৪৩ - হারানো অংশ)-এ এটি বর্ণনা করেছেন - এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ (৬/৪০-৪১), খতীব ‘তারিখ বাগদাদ’ (৬/৪০), ইবনুল জাওযী ‘মুসীরুল আযমিস সাকিন’ (২/২৫৫)-এ ওয়াকী থেকে, তিনি মুসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ বিন উবাইদাহ আর-রাবাযী থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে মারফু (رفعه) হিসেবে।

ওয়াকীর অনুসরণ করেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন মুসা।

তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন: বায়হাকী ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ (৫/১১৭), ‘আদ-দাওয়াতুল কাবীর’ (নম্বর ৪৬৯), ‘ফাযায়িলুল আওকাত’ (পৃ. ৩৭৪-৩৭৫), খারায়িতী ‘মাকারিমুল আখলাক’ (ক ১৫২/আ) এবং খতীব ‘তালখীসুল মুতাশাবিহ’ (১/৩৩)।

এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) এবং এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)।

বায়হাকী ‘আস-সুনান’-এ এর পরে বলেন: «মুসা বিন উবাইদাহ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দুর্বল (ضعيف); এবং তাঁর ভাই আলী (রা.)-কে পাননি»।

এই অনুচ্ছেদে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবী হুসাইন থেকে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে - তিনি ছোট স্তরের তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে আবী শায়বাহ ‘আল-মুসান্নাফ’ (৬/৪০)-এ এটি বর্ণনা করেছেন - এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ (৬/৪০)-এ ওয়াকী থেকে, তিনি নযর বিন আরাবী থেকে, তিনি তাঁর থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে।

এর সনদ দুর্বল (ضعيف) এবং এটি মুদাল (معضل)।

তাইমী ‘আত-তারগীব’ (২/১০১০ নম্বর ২৪৮২ - যাগলুল সংস্করণ, অথবা ৩/২৭১ নম্বর ২৫০৯ - দারুল হাদিস সংস্করণ)-এ আবু মারওয়ান থেকে, তিনি আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আমর বিন আবী আমর থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «শ্রেষ্ঠ দুয়া হলো আরাফাত দিবসের দুয়া, আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু»।

এটি মুরসাল (مرسل)। আর আবু মারওয়ান হলেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন খালিদ আল-উমাবী; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন। আমাদের শায়খ আলবানী ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ’ (নম্বর ১৫০৩)-এ এর কিছু সূত্র উল্লেখ করার পর বলেছেন: «সারকথা হলো: এই সমর্থক বর্ণনাসমূহের (شواهد) সমষ্টির কারণে হাদিসটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت), আল্লাহই ভালো জানেন»।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن الأثير في «النهاية» (1) : «إنما سمي التهليل والتحميد والتمجيد دعاء؛ لأنه بمنزلته في استيجاب ثواب الله وجزائه؛ كالحديث الآخر: «إذا شغل عبدي ثناؤه عليَّ مسألتي أعطيتُه أفضل ما أُعطي السائلين» (2)

--------------------------------------------

(1) (2/122) .

(2) أخرج الخطابي في «شأن الدعاء» (ص 206-207) وفي «غريب الحديث» (2/709) ، والبيهقي في «الشعب» (1/414 رقم 575) ، والدينوري في «المجالسة» (رقم 48 - بتحقيقي) -ومن طريقهم الثلاثة: ابن عساكر في «تاريخ دمشق» (9/273، 273-274، 274، 274-275) -، والخليلي في «الإرشاد» (3/978-979) ، وابن عبد البر في «التمهيد» (6/43-44) عن سفيان بن عيينة، قال: حدثنا منصور، عن مالك بن الحارث، = =قال: قال الله تبارك وتعالى: «من أشغله الثناء عليّ عن مسألتي، أعطيتُه أفضل ما أعطي السائلين» وهذا مرسل.

ثم استدل سفيان على ذلك بأبيات من الشعر، انظرها مع تتمة التخريج في تعليقي على «المجالسة» (1/343-344) ، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

وأخرجه الترمذي (2926) ، والدارمي (2/317) ، وعبد الله بن أحمد في «السنة» (128) ، وأبو سعيد الدارمي في «الرد على الجهمية» (285، 339) ، والحكيم الترمذي في «نوادر الأصول» (3/ق103/ب) ، وابن نصر في «قيام الليل» (ص 122) ، وابن حبان في «المجروحين» (2/272) ، وغيرهم من طرق عن محمد بن الحسن بن أبي يزيد الهمداني، عن عمرو بن قيس، عن عطية العوفي، عن أبي سعيد، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يقول الله -تعالى-: من شغله قراءة القرآن عن دعائي، أعطيته أفضل ثواب الشاكرين» .

ومحمد بن حسن متروك، وقال أبو حاتم في «العلل» (1738) لابنه: «منكر» ، ولكنه توبع، فالعلة فيه عطية العوفي.

 

وللحديث شواهد عن عمر وحذيفة وجابر وحكيم بن حزام، ومن مرسل عمرو بن مرة. والحديث حسن بمجموع طرقه.
ইবনে আল-আসির 'আন-নিহায়া' (১)-তে বলেছেন: «মূলত তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) এবং তামজিদ (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করা)-কে দোয়া হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ আল্লাহর সওয়াব ও প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি দোয়ার স্থলাভিষিক্ত; যেমনটি অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "যখন আমার বান্দা আমার প্রশংসা করার কারণে আমার কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থাকে, তখন আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়েও উত্তম কিছু দান করি" (২)।

--------------------------------------------

(১) (২/১২২)।

(২) খাত্তাবি 'শা'নুদ দোয়া' (পৃষ্ঠা ২০৬-২০৭) এবং 'গারিবুল হাদিস' (২/৭০৯)-এ, বায়হাকি 'শুআবুল ইমান' (১/৪১৪, নং ৫৭৫)-এ, দাইনুুরি 'আল-মুজালাসাহ' (নং ৪৮ - আমার সম্পাদনায়) এবং তাদের তিনজনের সূত্র ধরে ইবনু আসাকির 'তারিখে দামেশক' (৯/২৭৩, ২৭৩-২৭৪, ২৭৪, ২৭৪-২৭৫)-এ, খলিলি 'আল-ইরশাদ' (৩/৯৭৮-৯৭৯)-এ, এবং ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ' (৬/৪৩-৪৪)-এ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: "যাকে আমার প্রশংসা করার বিষয়টি আমার কাছে চাওয়া থেকে বিরত রাখে, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়েও উত্তম কিছু দান করি।" আর এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)।

অতঃপর সুফিয়ান এর স্বপক্ষে কিছু কবিতা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন, তা 'আল-মুজালাসাহ' (১/৩৪৩-৩৪৪)-এর ওপর আমার টিকায় তখরিজের অবশিষ্টাংশসহ দেখে নিন। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (২৯২৬), দারেমি (২/৩১৭), আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'আস-সুন্নাহ' (১২৮)-তে, আবু সাঈদ আদ-দারেমি 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' (২৮৫, ৩৩৯)-তে, হাকিম তিরমিজি 'নাওয়াদিরুল উসুল' (৩/পৃ. ১০৩/খ)-তে, ইবনু নাসর 'কিয়ামুল লাইল' (পৃষ্ঠা ১২২)-এ, ইবনু হিব্বান 'আল-মাজরুহিন' (২/২৭২)-এ এবং অন্যান্যরা মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বিন আবি ইয়াযিদ আল-হামদানি থেকে, তিনি আমর ইবনে কাইস থেকে, তিনি আতিয়্যাহ আল-আওফি থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালা বলেন: যাকে কুরআন তিলাওয়াত আমার নিকট দোয়া করা থেকে বিরত রাখে, আমি তাকে কৃতজ্ঞ বান্দাদের শ্রেষ্ঠ সওয়াব দান করি।"

আর মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান হলেন পরিত্যক্ত (متروك)। আবু হাতিম তার পুত্রকে 'আল-ইলাল' (১৭৩৮)-এ বলেছেন: "অস্বীকৃত (منكر)"। তবে তার সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে, ফলে এই হাদিসের ত্রুটিটি মূলত আতিয়্যাহ আল-আওফির কারণে।

 

এই হাদিসের সমর্থনে উমর, হুযাইফা, জাবির এবং হাকিম ইবনে হিযাম (রা.) থেকে সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা রয়েছে এবং আমর ইবনে মুররাহ এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাও রয়েছে। হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য (حسن)।
(খণ্ড: ১) আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান (পৃষ্ঠা: ২৯)
ا. هـ. وبدليل قوله صلى الله عليه وسلم: «أفضل الذِّكر: لا إله إلا الله، وأفضل الدعاء: الحمد لله» (1) . قال المناوي (2) في تفسير «أفضل الدعاء: الحمد لله» : الدعاء عبارة عن ذكر الله.

وأما قوله: لا تعلق للآية والحديث بموضوع السؤال؛ فإنه واهم فيه؛ لأنّ للآية الكريمة تعلقاً تاماً بالمسئول عنه، وهو الصياح في التهليل والتكبير وغيرهما، ولو أنعم النظر في تفسيره الذي ذكره وهو قوله: «متأدبين بخفض أصواتكم» ، لعلم أنّ تفسيره دليل لنا وحجة عليه.

ثم قال: ولأنّ المراد بالحديث (3) :

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (3383) ، والنسائي في «عمل اليوم والليلة» (رقم 831) ، وابن ماجه (3800) ، وابن حبان (2326 - الإحسان) ، والخرائطي في «فضيلة الشكر» (رقم 7) ، والحاكم (1/498) ، والطبراني في «الدعاء» (رقم 1483) ، والبيهقي في «الشعب» (رقم 4371) ، وابن حجر في «نتائج الأفكار» (1/58) من حديث جابر بن عبد الله.

قال ابن حجر في «نتائج الأفكار» (1/59) : «هذا حديث حسن» .

والحديث في «السلسلة الصحيحة» (1497) ، وفاته العزو للنسائي والترمذي وابن ماجه.

(2) في «فيض القدير» (2/34) ، ونحوه في «التيسير بشرح الجامع الصغير» (1/182) له.

(3) «أيها الناس! أربعوا على أنفسكم؛ إنكم لا تدعون أصمَّ ولا غائباً، إنكم تدعون سميعاً بصيراً وهو معكم، والذي تدعونه أقرب إلى أحدكم من عنق راحلته» (منهما) .

 

قال أبو عبيدة: أخرجه البخاري (2992، 4205، 6384، 6409، 6610، 7386) ومسلم (2704) في «صحيحيهما» ، عن أبي موسى الأشعري رفعه.
সমাপ্ত। এবং এর প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সর্বোত্তম জিকির হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আর সর্বোত্তম দোয়া হলো: আলহামদুলিল্লাহ।" (১)। আল-মুনাভি (২) 'সর্বোত্তম দোয়া হলো: আলহামদুলিল্লাহ'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: দোয়া মূলত আল্লাহর জিকিরেরই একটি রূপ।

আর তাঁর এই দাবি যে, প্রশ্নোক্ত বিষয়ের সাথে আয়াত ও হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই; তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্ত। কারণ পবিত্র আয়াতের সাথে জিজ্ঞাসিত বিষয়টি, অর্থাৎ তাহলীল, তাকবীর এবং অন্যান্য জিকিরে উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করার পূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি যদি নিজের উল্লিখিত ব্যাখ্যার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন—যা হলো: "তোমাদের কণ্ঠস্বর নিচু করার মাধ্যমে আদব রক্ষা করা"—তবে তিনি অবশ্যই বুঝতে পারতেন যে, তাঁর এই ব্যাখ্যাটি আমাদের সপক্ষেই দলিল এবং তাঁর বিপক্ষে প্রমাণ।

অতঃপর তিনি বলেছেন: আর হাদিস (৩) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী (৩৩৮৩), নাসায়ি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (নং ৮৩১), ইবনে মাজাহ (৩৮০০), ইবনে হিব্বান (২৩২৬ - আল-ইহাসান), আল-খারাতি 'ফাদিলাতুশ শুকর' (নং ৭), আল-হাকিম (১/৪৯৮), তাবারানি 'আদ-দোয়া' (নং ১৪৮৩), বাইহাকি 'আশ-শুয়াব' (নং ৪৩৭১) এবং ইবনে হাজার 'নাতায়িজুল আফকার' (১/৫৮) গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদিস থেকে।

ইবনে হাজার 'নাতায়িজুল আফকার' (১/৫৯) গ্রন্থে বলেছেন: "এই হাদিসটি হাসান (حسن)"।

হাদিসটি 'আস-সিলসিলাতুস সহিহা' (১৪৯৭) গ্রন্থে রয়েছে, তবে সেখানে নাসায়ি, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-র উদ্ধৃতি বাদ পড়েছে।

(২) 'ফায়দুল কাদির' (২/৩৪) গ্রন্থে, এবং অনুরূপ তাঁরই রচিত 'আত-তায়সীর বি-শারহিল জামিইস সাগির' (১/১৮২) গ্রন্থে রয়েছে।

(৩) "হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও (নিচু স্বরে কথা বলো); কারণ তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না। তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাকে এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। যাকে তোমরা ডাকছ, তিনি তোমাদের প্রত্যেকের নিকট তার সওয়ারির ঘাড়ের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।" (তাঁদের উভয়ের থেকে)।

 

আবু উবায়দাহ বলেন: এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২৯৯২, ৪২০৫, ৬৩৮৪, ৬৪০৯, ৬৬১০, ৭৩৮৬) এবং মুসলিম (২৭০৪) তাঁদের 'সহিহাইন'-এ, আবু মুসা আল-আশআরি থেকে মারফু (رفعه) সূত্রে।