(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: -)
النقد والبيان في دفع أوهام خزيران القسم: الفقه العام
الكتاب: النقد والبيان في دفع أوهام خزيران
تأليف: محمد كامل القصاب، محمد عز الدين القسام
أعده وقدمه وعلق عليه وشرحه: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: مركز بيت المقدس للدراسات التوثيقية، فلسطين
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 246
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান ফি দাফই আওহাম খুজাইরান বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান ফি দাফই আওহাম খুজাইরান
রচনা: মুহাম্মাদ কামিল আল-কাসসাব, মুহাম্মাদ ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম
সম্পাদনা, ভূমিকা, টীকা ও ব্যাখ্যা: আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: মারকায বাইতুল মাকদিস লিত-দিরাসাত আত-তাওসিকিয়্যাহ, ফিলিস্তিন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৬
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১)
النقد والبيان
في
دفع أوهام خزيران
فيه بُحوث عِلمِيَّة مُحَرَّرة عن البدعة وبعض مفرداتها، ومُقَدِّمة ضافية (*)
عن (السَّلفِيَّين وقَضِيَّة فلسطين) ، و (حكم عَمَليَّات المُغامرة بالنفَّس)
تأليف
مُحَمَّد كامل القَصَّاب
… مُحَمَّد عزّ الدِّين القَسَّام
قدََّمَ لَهُ وَعَلَّقَ عَلَيْهِ وَشَرَحَهُ
فضيلة الشيخ الهُمام
أبُو عبيدة مَشهُور بن حسن آل سَلمَان
--------------------------------------------
আল-নকদ ওয়াল বায়ান (সমালোচনা ও স্পষ্টীকরণ)
প্রসঙ্গে
খুযাইরানের বিভ্রান্তি নিরসন
এতে নব-আবিষ্কার (بدعة) এবং এর কতিপয় বিষয়ের ওপর সুসংহত ইলমী গবেষণা এবং একটি বিস্তারিত ভূমিকা (*) রয়েছে
(সালাফিগণ ও ফিলিস্তিন ইস্যু) এবং (আত্মোৎসর্গমূলক অভিযানের বিধান) সম্পর্কে
রচনায়
মুহাম্মদ কামিল আল-কাসসাব
… মুহাম্মদ ইযযুদ্দীন আল-কাসসাম
ভূমিকা, টীকা ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন
বরেণ্য শায়খ
আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي عافانا مِمّا ابتلى به كثيراً مِنْ خلقِه، وأَلْهَمَنا بفضله أن نُحافِظَ على دينه، ونُبَلّغَه للناس، كما أنزل على نبيه، لا مُبَدّلين، ولا مُغَيِّرين، حتى يأتينا اليقين. ونشهد أن لا إله إلا الله، الحميد المَجيد، الذي نادى عبادَه الصادقين بقوله في كتابه المكنون: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ. وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ} [الأنفال: 20-21] ، ونشهد أن سيّدنا محمداً عبده ورسوله، نبيُّ الرحمة، وهادي الأمة، وكاشف الحيرة والغمّة، القائل: «من تمسك بسنّتي عند فساد أمتي، فله أجرُ [مئة] شهيد» (1) ،
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির অনেককে যে পরীক্ষায় ফেলেছেন তা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের তাঁর দ্বীন রক্ষা করতে ও তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনুপ্রাণিত করেছেন; ঠিক যেভাবে তা তাঁর নবীর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে—কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন ছাড়াই, মৃত্যু আমাদের কাছে আসা পর্যন্ত। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, প্রশংসিত ও মহিমান্বিত আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি তাঁর সংরক্ষিত কিতাবে মুমিন বান্দাদের আহ্বান করে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং শোনার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বলে ‘আমরা শুনেছি’, অথচ তারা শোনে না} [আল-আনফাল: ২০-২১]। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি রহমতের নবী, উম্মাহর পথপ্রদর্শক এবং বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দূরকারী। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনার (বিপর্যয়ের) সময় আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য [একশ] শহীদের সওয়াব রয়েছে।" (১) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৩)
والقائل: «إنّ الدين بدأ غريباً، ويرجع غريباً، فطوبى للغرباء، الذين يصلحون ما أفسد الناس بعدي من سُنَّتي» (1) ،
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই দীন শুরু হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং পুনরায় তা অপরিচিত হয়ে পড়বে; অতএব সুসংবাদ সেই অপরিচিতদের জন্য, যারা আমার পরে মানুষ আমার সুন্নাহর যা কিছু নষ্ট করবে তা সংশোধন করবে» (১) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৪)
صلى الله البر الرحيم على هذا الرسول الكريم، ذي الخلق العظيم، وعلى آله وأصحابه، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد؛ فقد اطَّلعنا على رسالة «فصل الخطاب في الرد على الزَّنكلوني والقسام والقصاب» (1) تأليف الفاضل الشيخ محمد صبحي خزيران الحنفي العكّي، رئيس كُتَّاب المحكمة الشرعية في ثغر عكاء، وقد ألّفها انتصاراً لأُستاذه الفاضل الشيخ عبد الله الجزار (2) مفتي عكاء وقاضيها؛ إذ قد أفتى أحدُنا (3) لما سُئل عن حكم الصياح في التّهليل والتكبير وغيرِهما، أَمام الجنائز، بأنه مكروه تحريماً، وبدعةٌ قبيحةٌ، يجب على علماء المسلمين إنكارُها، وعلى كلِّ قادرٍ إزالَتُها، مستدلاًّ بآيةٍ قرآنيةٍ، وحديثٍ صحيحٍ، وأقوالِ الفقهاءِ. وسأل المستفتي عن السؤال نفسه من الفاضل الشيخ عبد الله الجزار، فأفتاه بالجواز، فاضْطُرَّ السَّائلُ إلى إرسال الجوابين إلى عالِمَين من كبار علماء الأزهر (الشيخ محمود محمد خطاب السُّبكي (4) ، والشيخ علي مسرور الزنكلوني) ، فأَفْتيا بأنه بدعةٌ منكرةٌ، مؤيِّدَيْن فتوى أحدنا (5) ، وقد نشر العلامة الزنكلوني فتواه على صفحات جريدة «الشورى» التي تصدر في مصر، ولم يكتف ومؤلّفُ الرسالة برأيه
--------------------------------------------
পুণ্যময় ও পরম দয়ালু আল্লাহ এই সম্মানিত রাসূলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যিনি মহান চরিত্রের অধিকারী এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপরও।
অতঃপর; আমরা ‘ফসলুল খিতাব ফি আর-রাদ্দি আলায যানকালুনি ওয়াল কাসসাম ওয়াল কাসসাব’ (১) নামক পুস্তিকাটি দেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আক্রা বন্দরের শরয়ি আদালতের প্রধান মুহররির, ফাজেল শায়খ মুহাম্মাদ সুবহি খুযাইরান আল-হানাফি আল-আক্কি কর্তৃক রচিত। তিনি এটি তাঁর উস্তাদ আক্রার মুফতি ও বিচারক ফাজেল শায়খ আবদুল্লাহ আল-জায্যারের (২) সমর্থনে রচনা করেছেন। কারণ, যখন আমাদের একজনের (৩) নিকট জানাযার সামনে সশব্দে তাহলিল, তাকবির ও অন্যান্য জিকির করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি ফতোয়া দিয়েছিলেন যে এটি মাকরূহে তাহরিমি এবং একটি নিকৃষ্ট বিদআত, যা মুসলিম উলামাদের জন্য প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব এবং প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির জন্য তা নির্মূল করা আবশ্যক। তিনি তাঁর সপক্ষে পবিত্র কুরআনের আয়াত, সহিহ (صحيح) হাদিস এবং ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ থেকে দলীল পেশ করেছেন। প্রশ্নকারী একই প্রশ্ন ফাজেল শায়খ আবদুল্লাহ আল-জায্যারের নিকটও করেন, এবং তিনি তা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেন। ফলে প্রশ্নকারী উত্তর দুটি আল-আযহারের দুই বিশিষ্ট আলেম (শায়খ মাহমুদ মুহাম্মাদ খাত্তাব আস-সুবকি (৪) এবং শায়খ আলি মাসরুর আয-যানকালুনি) এর নিকট পাঠাতে বাধ্য হন। তাঁরা উভয়েই আমাদের একজনের ফতোয়াকে (৫) সমর্থন করে এটি একটি বর্জনীয় বিদআত বলে ফতোয়া প্রদান করেন। আল্লামা যানকালুনি মিসর থেকে প্রকাশিত ‘আশ-শুরা’ পত্রিকার পাতায় তাঁর ফতোয়াটি প্রকাশ করেছেন। তবে পুস্তিকাটির লেখক কেবল তাঁর মতেই সন্তুষ্ট থাকেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৫)
في المسألةِ المُتَنَازَعِ فيها فقط، بل شطَّ قلمُه، وأسند إلينا ما لم نقل به، ولم نعتقده، ورمانا -عفا الله عنه- بالزَّيغ والضلال، لاتّباعنا السنة الموروثة عن النبي صلى الله عليه وسلم، في الأقوال والأفعال، وتكلّفَ في تفسير الآياتِ القرآنية والأحاديث النبوية، فأخرجها عن معانيها؛ ليوهم صحة ما ذهب إليه، ويُقرَّ العامةَ على ما هم عليه، وخاض لذلك في القواعد الأصولية خوض من لم يأخذ من العلم بقسط، وخرّج المسائل تخريجاً لا ينطبق على القواعد العلمية، فكانت استدلالاتُهُ دليلاً لنا، وحُجّةً عليه، وداعيةً للتمسكِ بما أرشدْنا النّاسَ إليه.
فرأينا من الواجب انتصاراً للدّين، وحفظاً لشريعة سيد المرسلين، أن نردَّ بهذه الرسالة ما أسند وفنّد، مصدِّرين رسالَتَنا بأقوال علماء المذاهب الأربعة في حكم المسألة المتنازَعِ فيها، ناقلين عباراتِه التي نريد الردَّ عليها بنصِّها وفصِّها، إلا ما تعذَّر نقلُه بالحرف؛ فإننا نشير إلى معناه، وما التوفيق إلا بالله، وهو حسبنا، ونِعمَ الوكيل.
শুধুমাত্র বিতর্কিত মাসআলার ক্ষেত্রেই নয়, বরং তার কলম সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং তিনি আমাদের প্রতি এমন বিষয় আরোপ করেছেন যা আমরা বলিনি এবং বিশ্বাসও করি না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ও কাজ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সুন্নাহ অনুসরণের কারণে তিনি আমাদের দিকে—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতার অভিযোগ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় কৃত্রিমতা অবলম্বন করেছেন এবং সেগুলোকে প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করেছেন; যাতে নিজের মতাদর্শকে সঠিক বলে ভ্রম তৈরি করা যায় এবং সাধারণ মানুষকে তাদের বর্তমান অবস্থাতেই বহাল রাখা যায়। এ উদ্দেশ্যে তিনি উসূলের মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية) নিয়ে এমনভাবে চর্চা করেছেন যেমনটি কোনো স্বল্প ইলমের অধিকারী ব্যক্তি করে থাকে। তিনি মাসআলাগুলোকে এমনভাবে উদ্ভাবন (تخريج) করেছেন যা ইলমি মূলনীতিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে তার উপস্থাপিত যুক্তিপ্রমাণসমূহ (استدلالات) আমাদের অনুকূলে দলিল এবং তার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা মানুষকে আমাদের নির্দেশিত পথে অটল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
তাই দ্বীনের বিজয় এবং রাসূলদের সরদারের শরীয়ত হিফাজত করার জন্য আমরা এই রিসালার মাধ্যমে তার আরোপিত ও খণ্ডনকৃত বিষয়গুলোর জবাব দেওয়া কর্তব্য বলে মনে করেছি। আমরা আমাদের এই রিসালার শুরুতে বিতর্কিত মাসআলাটির বিধান সম্পর্কে চার মাজহাবের আলেমদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছি। আমরা তার সেই বাক্যগুলো হুবহু এবং বিস্তারিত উদ্ধৃত করছি যেগুলোর জবাব দিতে চাই; তবে যা শব্দে শব্দে উদ্ধৃত করা অসম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা কেবল মর্মার্থের দিকে ইঙ্গিত করব। আর তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৬)
أقوال علماء المذاهب الأربعة في حكم رفع الصوت بالتهليل والتكبير وغيرهما أمام الجنائز
أقوال السادة الحنفية:قال في «الدر المختار شرح تنوير الأبصار» : «وكره في الجنازة رفع الصوت بذكر أو قراءة (1) ا. هـ» ، قال محشيه العلامة ابن عابدين: «وفي «البحر» عن «الغاية» : «وينبغي لمن تبع جنازة أن يطيل الصَّمت» ، وفيه عن «الظهيرية» : «فإنْ أراد أن يذكرَ الله -تعالى- يذكرُه في نفسه؛ [لقوله -تعالى-: {إِنَّهُ لا يُحِبُّ الْمُعْتَدِين} [الأعراف: 55] ؛ أي: الجاهرين بالدعاء] » ، وعن إبراهيمَ أنه كان يكره أن يقول الرجل وهو يمشي معها: استغفروا له غفر الله لكم ا. هـ. قلت: «وإذا كان هذا في الدُّعاء والذِّكر، فما ظنُّك بالغناء الحادث في هذا الزمان» (2)
--------------------------------------------
জানাজার সামনে উচ্চস্বরে তাহলিল, তাকবির এবং অন্যান্য জিকির করার বিধান সম্পর্কে চার মাযহাবের আলেমদের অভিমতহানাফি মাশায়েখগণের অভিমত:‘আদ-দুররুল মুখতার শারহু তানভিরিল আবসার’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “জানাজায় জিকির বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করা অপছন্দনীয় (كره)।” এর ব্যাখ্যাকারী আল্লামা ইবনে আবিদিন বলেন: “আল-বাহর’ গ্রন্থে ‘আল-গায়াহ’ থেকে বর্ণিত হয়েছে: ‘যিনি জানাজার অনুসরণ করবেন, তার দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকা উচিত।’ তাতে ‘আজ-জহিরিয়্যাহ’ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: ‘যদি কেউ মহান আল্লাহর জিকির করতে চায়, তবে সে যেন তা মনে মনে করে; [কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আরাফ: ৫৫]; অর্থাৎ: যারা উচ্চস্বরে দোয়া করে]’।” এবং ইব্রাহিম (আন-নাখায়ি) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জানাজার সাথে হাঁটার সময় কোনো ব্যক্তির ‘তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করুন’ বলা অপছন্দ (يكره) করতেন। আমি (ইবনে আবিদিন) বলি: “যদি দোয়া ও জিকিরের ক্ষেত্রে এই বিধান হয়, তবে বর্তমান সময়ে প্রচলিত সুরেলা আওয়াজ বা বিলাপের ব্যাপারে আপনার কী ধারণা!”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৭)
ا. هـ كلام ابن عابدين، وفي «الفتاوى الهندية» : «وعلى متبعي (1) الجنازة الصمت، ويكره لهم [-يعني: تحريماً-] رفع الصوت بالذكر وقراءة القرآن، كذا في «شرح الطحاوي» ، فإن أراد أن يذكر الله يذكره في نفسه، كذا في «فتاوي قاضي خان» » (2) ، وقال في «الكنز» و «شرحه» «وحواشيه» : «ويكره رفعُ الصوتِ بالذكرِ والقرآنِ، وعليهم -يعني: السائرين مع الجنازة- الصمتَ (3) . وقولِهِم: (كل حي سيموت) ونحو ذلك، من الأذكار المتعارفة خلف الجنازة بدعة قبيحة» . وقال العلامة الشُّرُنْبلالي في «نور الإيضاح» و «شرحه» : «ويكره رفعُ الصوتِ بالذكرِ والقرآنِ، وعليهم الصمتَ، وقولُهم: (كل حي سيموت) ونحو ذلك خلف الجنازة بدعة» ا. هـ (4) .
قال العلامة الطحطاوي في «حاشيته» على الكتاب المذكور نقلاً عن السراج: «ولا يرفع صوتَه بالقراءةِ ولا بالذكرِ، ولا يغتر بكثرة من يفعل ذلك، وأما ما يفعله الجهّالُ في القراءة على الجنازة؛ من رفع الصوت، والتمطيط فيه، فلا يجوز بالإجماع، ولا يسع أحداً يقدر على إنكاره أن يسكت عنه ولا ينكر عليه» (5) .
--------------------------------------------
ইবনে আবিদীনের বক্তব্য এখানেই শেষ। আর ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’-তে রয়েছে: ‘জানাজার অনুসারীদের (১) জন্য কর্তব্য হলো নীরবতা অবলম্বন করা। জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে তাদের উচ্চস্বরে শব্দ করা মাকরূহ (يكره) [অর্থাৎ: তাহরিমি (تحريماً) মাকরূহ]। ‘শরহুত তাহাবি’-তেও অনুরূপ রয়েছে। যদি কেউ আল্লাহর জিকির করতে চায়, তবে সে মনে মনে তা করবে; ‘ফাতাওয়া কাজি খান’-এ (২) এমনটিই বর্ণিত হয়েছে।’ ‘আল-কানজ’, এর ‘শরহ’ এবং এর ‘হাশিয়া’ সমূহে বলা হয়েছে: ‘জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করা মাকরূহ (يكره)। জানাজার সাথে গমনকারীদের জন্য কর্তব্য হলো নীরব থাকা (৩)। জানাজার পেছনে প্রচলিত জিকিরসমূহ যেমন— “প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” এবং এই জাতীয় বাক্য উচ্চারণ করা একটি মন্দ বিদআত (بدعة)।’ আল্লামা শুরুনবুলালি ‘নুরুল ইজাহ’ ও এর ‘শরহ’-এ বলেছেন: ‘উচ্চস্বরে জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত করা মাকরূহ (يكره), তাদের জন্য নীরব থাকা আবশ্যক এবং জানাজার পেছনে “প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” ইত্যাদি বলা বিদআত (بدعة)।’ বক্তব্য শেষ হলো (৪)।
আল্লামা তহতাভি উক্ত কিতাবের ওপর লিখিত তাঁর ‘হাশিয়া’-তে ‘আস-সিরাজ’ থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: ‘কেউ তেলাওয়াত বা জিকিরে কণ্ঠস্বর উঁচু করবে না এবং যারা এমনটি করে তাদের আধিক্য দেখে যেন কেউ প্রতারিত না হয়। আর মূর্খরা জানাজার ওপর উচ্চস্বরে এবং টেনে টেনে যেভাবে তেলাওয়াত করে, তা সর্বসম্মতভাবে (إجماع) নাজায়েজ। যে ব্যক্তি এটি প্রতিরোধ করতে সক্ষম, তার পক্ষে নীরব থাকা বা এর প্রতিবাদ না করে চুপ থাকা বৈধ নয় (৫)।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৮)
أقوال السادة الشافعية:قال الإمام النووي -رحمه الله تعالى- في «مجموعه» (1) و «أذكاره» (2) : «والصواب ما كان عليه السلف من السكوت في حال السير مع الجنازة، فلا يُرفَعُ صَوتٌ بقراءةٍ ولا ذكرٍ ولا غيرِهما؛ لأنه أَسكنُ للخاطر، وأَجمعُ للفكر فيما يتعلق بالجنازة، وهو المطلوب في هذا الحال، فهذا هو الحق ولا تغتر بكثرة من يخالفه، فقد قال أبو علي الفضيل بن عياض: «الزم طرقَ الهدى ولا يغرَّكَ قلَّة السالكين، وإياك وطرقَ الضلالةِ ولا تغترّ بكثرة الهالكين» (3) ، وقد رَوَيْنا (4)
--------------------------------------------
শাফেয়ী ইমামগণের বক্তব্য:ইমাম নববী -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর «আল-মাজমু» (১) ও «আল-আজকার» (২)-এ বলেছেন: «সঠিক পদ্ধতি হলো—জানাজার সাথে চলার সময় সালাফগণ যেভাবে নীরব থাকতেন সেই পন্থা অবলম্বন করা। সুতরাং কিরাআত, জিকর বা অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে উচ্চস্বর করা যাবে না; কারণ এটি মনকে প্রশান্ত রাখতে এবং জানাজা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চিন্তা করতে অধিক সহায়ক, যা এই অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত। এটাই সত্য; যারা এর বিরোধিতা করে তাদের সংখ্যার আধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আবু আলী আল-ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বলেছেন: ‘হেদায়েতের পথে অবিচল থাকো, পথিকের স্বল্পতা তোমাকে যেন বিচলিত না করে; আর ভ্রান্তির পথ থেকে বেঁচে থাকো, ধ্বংসপ্রাপ্তদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হয়ো না’» (৩)। আমরা বর্ণনা করেছি (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ৯)
في «سنن البيهقي» (1)
--------------------------------------------
সুনানুল বায়হাকি গ্রন্থে (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১০)
ما يقتضي
ما قلتُه، وأما ما يفعله الجهلةُ من القراءة بالتَّمطيط، وإخراج الكلام عن موضوعه، فحرام بإجماع العلماء، وقد أوضحتُ قُبحَه، وغِلَظَ تحريمه، وفسقَ من تمكن من إنكاره فلم ينكرْه في كتابي «آداب القراء» (1)
--------------------------------------------
যা সমর্থন করে
আমার বলা কথাকে। আর মূর্খরা টেনে টেনে পাঠ করার (التمطيط) মাধ্যমে শব্দকে তার মূল উচ্চারণ থেকে বিচ্যুত করে যা করে থাকে, তা আলেমদের সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী হারাম। আমি আমার ‘আদাবুল কুররা’ গ্রন্থে এর কুৎসিত রূপ, এর কঠোর হারামের বিধান এবং যে ব্যক্তি তা প্রতিহত করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও করেনি তার পাপাচারিতা (فسق) স্পষ্ট করেছি। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১১)
ا. هـ» ، ونحوه لشيخ الإسلام في «شرح الروض» (1) ، وقال الرملي وغيره في «حواشي المنهاج» (2) : «المختار والصواب (3) ما كان عليه السلف من السكوت في حال السير [مع الجنازة] (4) ، فلا يُرفعُ صوتٌ بقراءة، ولا ذكر، ولا غيرهما، بل يُشتَغَلُ بالتفكر في الموت وما بعده، وفَناءِ الدنيا وأن هذا آخرُها، ومن أراد الاشتغال بالقراءة والذكر فليكن سرّاً (5) ، وما يفعله جهلةُ القرَّاء من القراءة بالتمطيط، وإخراج الكلام عن موضوعه، فحرام، يجب إنكارُه (6) والمنعُ منه، ومن تمكَّن من منعه، ولم يمنعه فسق» ، وقال ابن حجر في «شرح المنهاج» (7) : «ويكره اللغط -وهو: رفع الصوت- ولو بالذكر أو القراءة في المشي مع الجنازة؛ لأنّ الصحابة رضي الله عنهم كرهوه حينئذ، رواه البيهقي (8) ،
--------------------------------------------
এটি সমাপ্ত হলো। শায়খুল ইসলামও তাঁর 'শারহুর রওদ' (১) গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। আর রামলি ও অন্যান্যরা 'হাওয়াশিল মিনহাজ' (২) গ্রন্থে বলেছেন: 'পছন্দনীয় ও সঠিক (المختار والصواب) মত হলো সেটিই যার ওপর সালাফগণ (السلف) ছিলেন—তা হলো জানাজার সাথে চলার সময় [জানাজার সাথে] (৪) নীরবতা পালন করা। সুতরাং তিলাওয়াত, জিকর বা অন্য কিছুর মাধ্যমে উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করা যাবে না। বরং মৃত্যু ও পরবর্তী অবস্থা, দুনিয়ার নশ্বরতা এবং এটিই যে দুনিয়ার শেষ—এই সকল বিষয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকতে হবে। আর যে ব্যক্তি তিলাওয়াত বা জিকরে মশগুল হতে চায়, সে যেন তা গোপনে (سراً) করে (৫)। আর মূর্খ ক্বারিরা সুর করে টেনে টেনে পড়ার মাধ্যমে এবং শব্দসমূহকে তার সঠিক রূপ থেকে বিকৃত করে যা করে থাকে, তা হারাম। এটি প্রত্যাখ্যান করা (৬) ও তা থেকে বারণ করা আবশ্যক। আর যে ব্যক্তি তা প্রতিহত করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বাধা দেয় না, সে পাপাচারী (فسق) বলে গণ্য হবে।' ইবনে হাজার 'শারহুল মিনহাজ' (৭) গ্রন্থে বলেছেন: 'কোলাহল বা শোরগোল করা—যা মূলত আওয়াজ উঁচু করা—অপছন্দনীয় (يكره), যদিও তা জানাজার সাথে চলার সময় জিকর বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে হয়। কারণ সাহাবীগণ (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম সেই মুহূর্তে এটিকে অপছন্দ করতেন। এটি বায়হাকি (৮) বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكره الحسن وغيره: استغفروا لأخيكم (1) ،
--------------------------------------------
হাসান এবং অন্যরা অপছন্দ করেছেন: তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো (১) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن ثَمَّ قال ابن عمر رضي الله عنهما لقائله: «لا غفر الله لك» (1) : بل يسكت متفكراً في الموت وما يتعلق به وفناءِ الدنيا، ذاكراً بلسانه سراً لا جهراً؛ لأنه بدعة قبيحة» .
وفي «المجموع» (2) عن جمع من الصحابة (3) ،
--------------------------------------------
এ কারণেই ইবনে উমর (রা.) এটি পাঠকারীকে বলেছিলেন: "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন" (১): বরং মৃত্যু, মৃত্যু-সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং দুনিয়ার নশ্বরতা সম্পর্কে চিন্তা করতে করতে নীরব থাকবে, মনে মনে জিকির করবে, উচ্চস্বরে নয়; কেননা এটি একটি মন্দ বিদআত (بدعة)।
আর 'আল-মাজমু' (২) গ্রন্থে একদল সাহাবীর বর্ণনা অনুযায়ী (৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أنهم كرهوا رفع الصوت عند الجنازة، حتى باستغفروا الله، بل قال ابن عمر لمن سمعه يقوله: لا غفر الله لك. رواه سعيد بن منصور في «سننه» (1) .
أقوال السادة المالكية:قال العلامة ابن الحاج في كتاب «المدخل» (2)
--------------------------------------------
তারা জানাজার সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করা অপছন্দ করতেন, এমনকি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার (আসতাগফিরুল্লাহ) শব্দের মাধ্যমেও। বরং ইবনে ওমর যখন কাউকে তা বলতে শুনলেন, তখন বললেন: "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন।" এটি সাঈদ বিন মনসুর তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১)।
মালিকি উলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ:আল্লামা ইবনুল হাজ তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে (২) বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ما ملخصه: العجب من أصحاب الميت، حيث يأتون بجماعة يذكرون أمام الجنازة، وهو من الحدث في الدين، ومخالف لسنَّة سيد المرسلين، وأصحابه والسَّلف الصَّالحين، يجب على من له قدرة على منعهم أن يمنعهم مع الزجر والأدب؛ لمخالفتهم للشريعة المطهرة، ولأنه ضد ما كانت عليه جنائز السلف الماضين؛ لأنّ جنائزهم كانت على التزام الأدب والسكون والخشوع، حتى إن صاحب المصيبة كان لا يعرف من بينهم؛ لكثرة حزن الجميع (1) ، وما أخذهم من القلق والانزعاج بسبب الفكرة فيما هم إليه صائرون، وعليه قادمون (2) ،
--------------------------------------------
সারসংক্ষেপ হলো: মৃতের স্বজনদের আচরণ বিস্ময়কর যে, তারা একদল লোককে নিয়ে আসে যারা জানাজার সামনে জিকির করতে থাকে; এটি দ্বীনের মধ্যে একটি নবউদ্ভাবিত (حدث) বিষয় এবং রাসূলদের সর্দার, তাঁর সাহাবীগণ এবং পুণ্যবান পূর্বসূরিদের সুন্নাহর পরিপন্থী। যাদের এটি বন্ধ করার সক্ষমতা রয়েছে, কঠোরতা ও আদব প্রদানের মাধ্যমে তাদের এটি বন্ধ করা আবশ্যক; কারণ এটি পবিত্র শরীয়তের পরিপন্থী এবং অতীতের পূর্বসূরিদের জানাজার রীতির বিপরীত। কেননা তাঁদের জানাজা ছিল আদব, নীরবতা ও খুশু-খুযুর (ভয় ও বিনয়) ওপর প্রতিষ্ঠিত, এমনকি সবার মধ্যে শোকের আধিক্য (১) এবং তারা কোন অবস্থার দিকে ফিরে যাচ্ছে ও কার দিকে অগ্রসর হচ্ছে (২) সেই চিন্তায় তাদের অস্থিরতা ও ব্যাকুলতার কারণে তাদের মধ্য থেকে মৃত ব্যক্তির প্রকৃত শোকাতুর স্বজনকে চেনা যেত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
حتى لقد كان بعضهم يريد أن يلقى صاحبه لضرورات تقع عنده، فيلقاه في الجنازة، فلا يزيد على السلام الشرعي شيئاً (1) ؛ لشغل كل منهما بما تقدم ذكره، وبعضهم لا يقدر أن يأخذ الغِذَاء تلك الليلة لشدة ما أصابه من الجزع (2) ، كما قال الحسن البصري رضي الله عنه: «ميت غد يشيِّع ميتَ اليوم» (3) ،
--------------------------------------------
এমনকি তাদের কেউ কেউ কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তার সঙ্গীর সাথে দেখা করতে চাইতেন, অতঃপর জানাজায় তার সাথে দেখা হয়ে যেত; কিন্তু তিনি শারয়ি সালামের অতিরিক্ত কিছুই করতেন না (১); এর কারণ ছিল তাদের প্রত্যেকের উপরে উল্লিখিত বিষয়ে মগ্ন থাকা। আবার তাদের কেউ কেউ নিদারুণ মর্মপীড়ার (২) কারণে সেই রাতে আহার গ্রহণ করতে পারতেন না, যেমনটি হাসান বসরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আগামীকালের মৃত ব্যক্তি আজকের মৃত ব্যক্তিকে বিদায় জানাচ্ছে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وانظر -رحمنا الله تعالى وإياك- إلى قول عبد الله بن مسعود رضي الله عنه لمن قال في الجنازة: استغفروا لأخيكم؛ يعني: الميت، فقال له: لا غفر الله لك (1) . فإن كان هذا حالهم في تحفظهم من رفع الصوت بمثل هذا اللفظ الدال على طلب الدعاء من الحاضرين للميت، فما بالك بما يفعله أهل هذا الزمان من رفع الأصوات بنحو قراءة القرآن أو البردة (2) ،
--------------------------------------------
এবং দেখুন—আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং আপনাকে রহম করুন—আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি সেই ব্যক্তির প্রতি, যে জানাজায় বলেছিল: 'তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো'; অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির জন্য। তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: 'আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন' (১)। সুতরাং উপস্থিতদের নিকট হতে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া কামনার উদ্দেশ্যে এই ধরণের শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে উচ্চস্বরে আওয়াজ করার ক্ষেত্রে তাদের সতর্কতার এই অবস্থা যদি হয়ে থাকে, তবে বর্তমান কালের লোকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কী বলা যায়, যারা কুরআন তিলাওয়াত বা বুরদাহ (২) পাঠের ন্যায় বিভিন্ন উপায়ে উচ্চস্বরে আওয়াজ করে থাকে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فأين الحال من الحال، فإنا لله وإنا إليه راجعون، فيجب على من له عقل أن لا ينظر إلى أفعال أكثر أهل الوقت، ولا لعوائدهم، فالسعيد من نبذ هذه العوائد المبتدعة، وشد يده على أتباع السلف؛ فهم القوم لا يشقى من اتبعهم، ولا من أحبهم، (إن المحب لمن يحب مطيع) ، ولقد أطال رحمه الله في التشنيع على ما يقع من بعض الناس، من رفع الصوت بالذكر ونحوه أمام الجنائز ا. هـ» (1) .
أقوال السادة الحنابلة:قال في «دليل الطالب» (2) و «شرحه» (3) : «ويكره رفع الصوت، والصيحة معها، وعند رفعها [-يعني: الجنازة-] (4) ، ولو بالذِّكر والقرآن، [بل يسنُّ الذِّكر والقرآن سراً] (5) ، ويسنُّ لمتَّبعها أن يكون متخشِّعاً متفكِّراً في مآله، متَّعظاً بالموت وبما يصير إليه الميت، وقول القائل مع الجنازة: (استغفروا [الله] (6) له) ونحوه، بدعة عند الإمام أحمد، وكرهه وحرمه أبو حفص، ويحرم أن يتبعها مع منكر وهو عاجز عن إزالته» ا. هـ.
--------------------------------------------
সেই অবস্থার সাথে বর্তমান অবস্থার কী বিস্তর ব্যবধান! আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের কার্যকলাপ বা তাদের রীতিনীতির দিকে না তাকানো। বরং সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে এই উদ্ভাবিত (مبتدعة) রীতিনীতি বর্জন করে এবং সালাফদের (سلف) অনুসরণের ওপর দৃঢ় থাকে; কারণ তাঁরা এমন এক জাতি যাদের অনুসরণকারী বা তাদের ভালোবাসে এমন ব্যক্তি দুর্ভাগা হয় না। (নিশ্চয়ই প্রেমিক তার প্রিয়জনের প্রতি অনুগত থাকে)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) জানাজার সামনে উচ্চস্বরে জিকির ও অনুরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে যা ঘটে থাকে, তার কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। (১)
হাম্বলি মনিষীদের উক্তি:‘দালিলুত তালিব’ (২) এবং এর ‘শারহ’ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এ (৩) বলা হয়েছে: “জানাজার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা এবং চিৎকার করা অপছন্দনীয় (مكروه); এমনকি জানাজা বহনের সময়ও তা অপছন্দনীয় (مكروه), [-অর্থাৎ: জানাজা- (৪)] যদিও তা জিকির বা কুরআনের মাধ্যমে হয়। [বরং জিকির ও কুরআন পাঠ গোপনে করাই সুন্নাহ (سنة)] (৫)। এবং জানাজার অনুসরণকারীর জন্য সুন্নাহ (سنة) হলো বিনীত থাকা, নিজের শেষ পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করা এবং মৃত্যু ও মৃত ব্যক্তি যে অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করা। জানাজার সাথে থাকাকালীন কারো এই কথা বলা যে: ‘(আল্লাহর কাছে) তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো’ (৬) বা এই জাতীয় কিছু বলা ইমাম আহমদের মতে নব-উদ্ভাবিত (بدعة)। আবু হাফস একে অপছন্দনীয় (مكروه) এবং নিষিদ্ধ (حرام) বলেছেন। আর এমন কোনো গর্হিত কাজের সাথে জানাজার পেছনে চলা নিষিদ্ধ (حرام), যা পরিবর্তন বা প্রতিহত করতে সে অক্ষম।” সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال في «الإقناع» (1) و «شرحه» (2) للشيخ منصور الحنبلي: (ويكره رفع الصوت والضجة عند رفعها) ؛ لأنه محدث، (وكذا) رفع الصوت (معها) -أي: مع الجنازة- (ولو بقراءة أو ذكر) ؛ لنهي (3) النبي صلى الله عليه وسلم أن تتبع الجنازة بصوت أو نار. رواه أبو داود (4) ، (بل يسنُّ) القراءة والذِّكر (سرّاً) ، وإلا الصمت. ا. هـ.
--------------------------------------------
وقال «আল-ইকনা» (১) ও শেখ মনসুর আল-হাম্বলির এর «শারহ» (২)-এ (ব্যাখ্যাগ্রন্থে) বলা হয়েছে: (জানাজা তোলার সময় উচ্চস্বর এবং হট্টগোল করা মাকরুহ (يكره)); কারণ এটি নব-উদ্ভাবিত (محدث)। (অনুরূপভাবে) জানাজার (সাথে) উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করাও — অর্থাৎ জানাজার সাথে থাকাকালীন — (এমনকি তিলাওয়াত বা জিকিরের মাধ্যমে হলেও); কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার পেছনে শব্দ বা আগুন নিয়ে যেতে নিষেধ (نهي) করেছেন। এটি আবু দাউদ (৪) বর্ণনা করেছেন। (বরং সুন্নত (يسن)) হলো তিলাওয়াত ও জিকির গোপনে (سراً) করা, অন্যথায় মৌনতা অবলম্বন করা। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال في «المنتهى» (1) و «شرحه» (2) : (و) كره (رفع الصوت معها) -أي: الجنازة- (ولو بقراءة) أو تهليل؛ لأنه بدعة، وقول القائل مع الجنازة: استغفروا له ونحوه بدعة. وروى سعيد بن عمر (3) وسعيد بن جبير، قالا لقائل ذلك: لا غفر الله لك (4) ا. هـ.
هذا ما أردنا نقله باختصار من كتب المذاهب الأربعة.
وقد اطّلعنا على رسالة «تحفة الأبصار والبصائر في بيان كيفية السير مع الجنازة إلى المقابر» ، و «رسالة فتاوى أئمة المسلمين بقطع لسان المبتدعين» الموافقتين لما أتينا به في هذا الموضوع، مِن منع رفع الصوت مع الجنائز، لمؤلِّفهما العلامة المفضال الشيخ محمود محمد خطاب السُّبكي (5)
--------------------------------------------
এবং "আল-মুনতাহা" (১) ও এর "শারহ" বা ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২) বলা হয়েছে: (এবং) অপছন্দনীয় (كره) করা হয়েছে (তার সাথে আওয়াজ উচ্চ করা) -অর্থাৎ: জানাজার সাথে- (এমনকি তিলাওয়াতের মাধ্যমে হলেও) অথবা তাহলীল পাঠের মাধ্যমে; কারণ এটি নবউদ্ভাবন (بدعة), এবং জানাজার সাথে কোনো ব্যক্তির এই কথা বলা: "তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন" এবং এই জাতীয় কথা নবউদ্ভাবন (بدعة)। সাঈদ বিন উমর (৩) এবং সাঈদ বিন জুবাইর বর্ণনা করেছেন, তারা এই কথা পাঠকারীকে বলেছিলেন: "আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা না করুন" (৪)। সমাপ্ত।
চার মাজহাবের কিতাবসমূহ থেকে আমরা সংক্ষেপে এটিই উদ্ধৃত করতে চেয়েছি।
আমরা "তুহফাতুল আবসার ওয়াল বাসাইর ফি বায়ানি কাইফিয়্যাতিস সাইরি মাআল জানাজা ইলাল মাকাবির" এবং "রিসালাতু ফাতাওয়া আইম্মাতিল মুসলিমিন বি-কাতয়ি লিসানিল মুবতাদিঈন" নামক পুস্তিকা দুটি দেখেছি, যা জানাজার সাথে উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করা নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গে আমরা এই বিষয়ে যা নিয়ে এসেছি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ দুটির লেখক হলেন মহান পন্ডিত আল্লামা শেখ মাহমুদ মুহাম্মদ খাত্তাব আস-সুবকি (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২১)
المدرس بالقسم العالي بالجامع الأزهر، وفيهما تقاريظ وفتاوى جمع غفير مِن كبار علماء الأزهر وشيوخه؛ منهم: شيخ الإسلام الشيخ سُليم البِشْري (1) المالكي، وشيخ الإسلام الشيخ حَسُّونَة النَّواوي (2)
--------------------------------------------
জামে আজহারের উচ্চ বিভাগের শিক্ষক, এবং যাতে (বইদ্বয়ে) আজহারের একদল বড় আলেম ও শায়খদের প্রশংসা বাণী ও ফতোয়া রয়েছে; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখুল ইসলাম শায়খ সুলাইম আল-বিশরি (১) আল-মালিকি এবং শাইখুল ইসলাম শায়খ হাসুনা আন-নাওয়াবি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحنفي، وشيخ الإسلام الشيخ محمد أبو الفضل الجِيزَاوي (1) المالكي، وشيخ شيوخ السادة الشافعية الشيخ محمد البحيري، ومفتي الديار المصرية سابقاً الشيخ محمد بَخِيت المطيعي (2) ،
--------------------------------------------
আল-হানাফি, এবং শাইখুল ইসলাম শাইখ মুহাম্মদ আবু আল-ফজল আল-জিজাওয়ি (১) আল-মালিকি, এবং শাফেয়ি মাশায়েখগণের প্রধান শাইখ মুহাম্মদ আল-বুহাইরি, এবং মিশরের সাবেক মুফতি শাইখ মুহাম্মদ বাখিত আল-মুতিয়ি (২) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وشيخ السادة الحنبلية الشيخ يوسف النابلسي (1) ، فهل بعد هذه النصوص، وبعد اتفاق علماء المذاهب الأربعة في الديار المصرية يبقى ريب لمستريب؟ وهل يصح مِن عاقل أن يقول بجواز رفع الصوت مع الجنازة؟ وهل يلتفت لقول مَن قال: إنّ ترك التهليل بالجهر مع الجنازة يعدُّ إزراءً بالميت وتعريضاً للتكلم فيه وفي ورثته؟ وهل يليق بمؤمن أن يتوهم أنّ الفعل الموافق لفعل الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه والسلف الصالح يكون فيه إزراء بالميت وورثته؟ سبحانك هذا بهتان عظيم، ولسنا ندري ما الّذِي حمل الأُستاذ الجزار وتلميذه خزيران على مخالفة مذهبهما ومذاهب بقية الأئمة، فهل هو الجهل؟ لا نعتقد ذلك؛ لأنّ مَن مضى عليه عشراتٌ مِن السنين في مقام الإفتاء لا تخفى عليه مسألة بسيطة (2)
--------------------------------------------
এবং হাম্বলি মহোদয়গণের শাইখ, শাইখ ইউসুফ আল-নাবুলসি (১), এই সকল নির্ভরযোগ্য পাঠ (نصوص) এবং মিসর ভূখণ্ডের চার মাযহাবের ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যের (اتفاق) পর কি কোনো সংশয়বাদীর মনে আর কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট থাকে? কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে কি এটা বলা সঠিক হবে যে, জানাজার সাথে উচ্চস্বরে আওয়াজ করা জায়েজ (جواز)? আর যে ব্যক্তি বলে যে, জানাজার সাথে উচ্চস্বরে তাহলিল (تهليل) পাঠ বর্জন করা মৃত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করা এবং তাকে ও তার উত্তরাধিকারীদের নিয়ে সমালোচনার সুযোগ করে দেওয়ার শামিল—তার কথার কি কোনো মূল্য আছে? একজন মুমিনের পক্ষে কি এমন ধারণা করা শোভা পায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং সালফে সালেহীনদের (السلف الصالح) কর্মের অনুসারী কাজের মধ্যে মৃত ব্যক্তি ও তার উত্তরাধিকারীদের জন্য অবমাননা রয়েছে? হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র! এটি এক ভয়াবহ অপবাদ (بهتان)। আমরা জানি না উস্তাদ আল-জাযযার এবং তার ছাত্র খুযায়রানকে তাদের নিজস্ব মাযহাব এবং অন্যান্য ইমামগণের মাযহাবের বিরোধিতা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? এটা কি অজ্ঞতা (جهل)? আমরা তা বিশ্বাস করি না; কারণ ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) দায়িত্বে যিনি কয়েক দশক অতিবাহিত করেছেন, তাঁর কাছে একটি সাধারণ (بسيطة) মাসআলা (مسألة) অজানা থাকার কথা নয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مذكورة في «مراقي الفلاح» (1) و «حواشيه» (2) ، وهو أول كتاب يقرأ في فقه السادة الحنفية، والذي يغلب على الظنّ أنّ الحامل لهما على ذلك، هو بغية المحافظة على مكانتهما الوهمية بين العامة؛ حذراً مِن أنْ ينفر منهما رعاعُ الناس، الذين اتخذوا الدين متجراً، لو أفتيا بالحق الذي يصادم منفعة أولئك المبتدعين، فليتقوا الله، وليقولوا قولاً سديداً، وهنا نبدأ برد ما قال.
قال في رده حكم العلامة الزنكلوني ما معناه: إنه يجب على المفتي أن يكون جوابه في المسألة بعد تأمله في الحجج التي أدلى بها كل مِن الأستاذين؛ لأنه بمثابة الطبيب.
نقول: يظهر للمتأمِّل في جواب العلامة الزنكلوني «الذي قطع قول كل خطيب» ، أنه نظر في الجوابين نظر تدقيق وتحقيق وإمعان، ثم أيد بفتواه فتوى المستدل بكتاب الله وسنة رسوله وأقوال الفقهاء، وزيف قول من أخذ من غير فهم بقول الشعراني عن شيخه الخواص (3) .
وقال: ولو دقق -أي: العلامة الزنكلوني- بجواب الفاضل القصَّاب؛ لتبيَّن له أنّ ما أتى في صدره مِن الآية والحديث إثباتاً لدعواه التي صدر بها جوابه لا يفيده، بل ولا تعلق لهما بموضوع السؤال أصلاً، لما أن معنى الآية هو: (اطلبوا حوائجكم مِمّن قام بأمر تربيتكم مِن بداية أمركم إلى نهايته، حال كونكم خاضعين متذلّلين له، متأدِّبين بخفض أصواتكم غير متجاوزين مكانتكم، وما تستعد إليه ذواتكم) ، ولم يذهب أحد مِنَ المفسرين إلى أنَّ المراد مِن الدّعاء فيها هو الذِّكر.
--------------------------------------------
«মারাকিউল ফালাহ» (১) এবং এর «হাশিয়া» বা টিকাসমূহ (২)-এ এটি বর্ণিত হয়েছে; আর এটি হানাফী মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রে পঠিত প্রথম কিতাব। প্রবল ধারণা এই যে, তাদের উভয়কে এই কাজে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের কাল্পনিক মর্যাদা বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা; এই ভয়ে যে পাছে সেই সকল সাধারণ নির্বোধ লোক তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়—যারা দ্বীনকে ব্যবসার সামগ্রী বানিয়ে নিয়েছে—যদি তারা এমন সত্যের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান করতেন যা ঐ সকল উদ্ভাবকদের (مبتدعين) স্বার্থের পরিপন্থী হতো। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে। আর এখান থেকেই আমরা তার বক্তব্যের খণ্ডন শুরু করছি।
তিনি আল্লামা যানকালুনীর রায়ের খণ্ডনে যা বলেছেন তার মর্মার্থ হলো: মুফতির জন্য আবশ্যক হলো কোনো মাসআলায় উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে উভয় উস্তাদের পেশকৃত দলিলসমূহ গভীরভাবে অনুধাবনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া; কারণ তিনি একজন চিকিৎসকের সমতুল্য।
আমরা বলি: আল্লামা যানকালুনীর উত্তরে গভীর অনুধাবনকারীর নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে—যা সকল বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে—তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও তাত্ত্বিক বিচার-বিশ্লেষণ এবং গভীরতার সাথে উত্তরদ্বয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাব, রাসুলের সুন্নাহ (سنة) এবং ফকিহগণের বক্তব্যের আলোকে দলিল পেশকারীর ফতোয়াকে সমর্থন করেছেন। আর তিনি সেই ব্যক্তির বক্তব্যকে বাতিল করে দিয়েছেন যে কোনো প্রকার সম্যক উপলব্ধি ছাড়াই স্বীয় শাইখ খওয়াস (৩) সম্পর্কে শা'রানীর উক্তি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেছেন: যদি আল্লামা যানকালুনী ফাযেল আল-কাসসাবের উত্তরের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন, তবে তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যেত যে, তিনি তার দাবির সপক্ষে প্রারম্ভে যে আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেছেন, তা তার কোনো উপকারে আসে না; বরং প্রশ্নোক্ত বিষয়ের সাথে সেগুলোর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। কেননা আয়াতের অর্থ হলো: (তোমাদের প্রয়োজনসমূহ তাঁরই নিকট প্রার্থনা করো যিনি তোমাদের সূচনালগ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত লালন-পালনের আঞ্জাম দিয়েছেন, এমতাবস্থায় যে তোমরা তাঁর প্রতি বিনীত ও বিনম্র থাকবে এবং তোমাদের কণ্ঠস্বর নিচু রেখে আদব রক্ষা করবে এবং তোমাদের মর্যাদা ও যোগ্যতার সীমা লঙ্ঘন করবে না)। আর মুফাসসিরগণের মধ্য হতে কেউই এই মর্মে অভিমত দেননি যে, এখানে 'দুয়া' দ্বারা 'যিকির' উদ্দেশ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نقول: إنَّ هذا الاعتراض غير وارد ألبتة؛ لأنَّ السؤالَ الذي وجه إلى أحدنا هذا نَصُّه: «ما قول أهل العلم الحق في الصياح في التهليل والتكبير وغيره أمام الجنائز، أفتونا أثابكم الله؟» ، ومِن المعلوم أنّ لفظة (وغيره) تشمل الدعاء والاستغاثة وكل ما يرفع به الصوت مع الجنازة، فتكون الآية الشريفة على هذا دليلاً واضحاً في الموضوع، على أنّ الدعاء ذكر أيضاً «لا كما ادعاه حضرة المعترض» ، بدليل قوله -تعالى- حكاية عن سيدنا يونس في دعائه: {فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَاّ إِلَهَ إِلَاّ أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 87] . روى الحافظ ابن كثير في «تفسيره» (1) من حديث مصعب بن سعد، [عن سعد] (2) ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَن دعا بدعاء يونس استجيب له» (3) ،
--------------------------------------------
নقول: إنَّ هذا الاعتراض غير وارد ألبتة؛ لأنَّ السؤالَ الذي وجه إلى أحدنا هذا نَصُّه: «ما قول أهل العلم الحق في الصياح في التهليل والتكبير وغيره أمام الجنائز، أفتونا أثابكم الله؟» ، ومِن المعلوم أنّ لفظة (وغيره) تشمل الدعاء والاستغاثة وكل ما يرفع به الصوت مع الجنازة، فتكون الآية الشريفة على هذا دليلاً واضحاً في الموضوع، على أنّ الدعاء ذكر أيضاً «لا كما ادعاه حضرة المعترض» ، بدليل قوله -تعالى- حكاية عن سيدنا يونس في دعائه: {فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَاّ إِلَهَ إِلَاّ أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 87] . روى الحافظ ابن كثير في «تفسيره» (1) من حديث مصعب بن سعد، [عن سعد] (2) ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَن دعا بدعاء يونس استجيب له» (3) ،
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي «فتح البيان» (1) : «
وأخرج أحمد والترمذي والنسائي والحاكم -وصححه- والبيهقي عن سعد بن أبي وقاص، قال: سمعت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: «دعوة ذي النون إذ هو في بطن الحوت لا إله إلا أنت
… إلخ، لم يدع بها مسلمٌ ربَّه في شيء قط، إلا استجاب له» (2) ،
--------------------------------------------
এবং 'ফাতহুল বায়ান'-এ (১) রয়েছে: «
আহমদ, তিরমিজি, নাসায়ি, হাকেম—এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন—ও বায়হাকি সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «জুন-নুন (ইউনুস আ.)-এর দুআ, যখন তিনি মাছের পেটে ছিলেন—'লা ইলাহা ইল্লা আনতা...' ইত্যাদি। কোনো মুসলিম তার রবের কাছে এ দুআ দ্বারা কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই তা কবুল করেন।» (২) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال العلامة الصاوي في «حاشيته على الجلالين» (1) : «وهذا الدعاء (أي: قول يونس: لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت مِنَ الظالمين) عظيم جدّاً؛ لاشتماله على التهليل والتسبيح والإقرار بالذنب، ولذا ورد في الحديث: «ما مِن مكروب يدعو بهذا الدعاء، إلا استجيب له» (2) ، وبدليل قوله صلى الله عليه وسلم في حديث عرفة: «أكثر دعائي ودعاء الأنبياء قبلي بعرفات: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير» (3) .
--------------------------------------------
আল্লামা সাওয়ী তাঁর ‘হাশিয়াতু আলাল জালালাইন’ (১)-এ বলেন: «এই দুয়া (অর্থাৎ ইউনুস আলাইহিস সালামের কথা: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন) অত্যন্ত মহান; কারণ এতে তাহলীল (একত্ববাদ), তাসবীহ (পবিত্রতা ঘোষণা) এবং পাপের স্বীকারোক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ কারণেই হাদিসে এসেছে: «কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি এই দুয়া পাঠ করলে অবশ্যই তার দুয়া কবুল করা হবে» (২)। আর এর প্রমাণ হলো আরাফাতের হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আরাফাতের দিনে আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের পঠিত শ্রেষ্ঠ দুয়া হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن الأثير في «النهاية» (1) : «إنما سمي التهليل والتحميد والتمجيد دعاء؛ لأنه بمنزلته في استيجاب ثواب الله وجزائه؛ كالحديث الآخر: «إذا شغل عبدي ثناؤه عليَّ مسألتي أعطيتُه أفضل ما أُعطي السائلين» (2)
--------------------------------------------
ইবনে আল-আসির 'আন-নিহায়া' (১)-তে বলেছেন: «মূলত তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) এবং তামজিদ (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করা)-কে দোয়া হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ আল্লাহর সওয়াব ও প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি দোয়ার স্থলাভিষিক্ত; যেমনটি অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "যখন আমার বান্দা আমার প্রশংসা করার কারণে আমার কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থাকে, তখন আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়েও উত্তম কিছু দান করি" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদু ওয়াল বায়ান ফী দাফই আওহামে খুজাইরান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ا. هـ. وبدليل قوله صلى الله عليه وسلم: «أفضل الذِّكر: لا إله إلا الله، وأفضل الدعاء: الحمد لله» (1) . قال المناوي (2) في تفسير «أفضل الدعاء: الحمد لله» : الدعاء عبارة عن ذكر الله.
وأما قوله: لا تعلق للآية والحديث بموضوع السؤال؛ فإنه واهم فيه؛ لأنّ للآية الكريمة تعلقاً تاماً بالمسئول عنه، وهو الصياح في التهليل والتكبير وغيرهما، ولو أنعم النظر في تفسيره الذي ذكره وهو قوله: «متأدبين بخفض أصواتكم» ، لعلم أنّ تفسيره دليل لنا وحجة عليه.
ثم قال: ولأنّ المراد بالحديث (3) :
--------------------------------------------
সমাপ্ত। এবং এর প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সর্বোত্তম জিকির হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আর সর্বোত্তম দোয়া হলো: আলহামদুলিল্লাহ।" (১)। আল-মুনাভি (২) 'সর্বোত্তম দোয়া হলো: আলহামদুলিল্লাহ'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: দোয়া মূলত আল্লাহর জিকিরেরই একটি রূপ।
আর তাঁর এই দাবি যে, প্রশ্নোক্ত বিষয়ের সাথে আয়াত ও হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই; তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্ত। কারণ পবিত্র আয়াতের সাথে জিজ্ঞাসিত বিষয়টি, অর্থাৎ তাহলীল, তাকবীর এবং অন্যান্য জিকিরে উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করার পূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি যদি নিজের উল্লিখিত ব্যাখ্যার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন—যা হলো: "তোমাদের কণ্ঠস্বর নিচু করার মাধ্যমে আদব রক্ষা করা"—তবে তিনি অবশ্যই বুঝতে পারতেন যে, তাঁর এই ব্যাখ্যাটি আমাদের সপক্ষেই দলিল এবং তাঁর বিপক্ষে প্রমাণ।
অতঃপর তিনি বলেছেন: আর হাদিস (৩) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:
--------------------------------------------