(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: -)
الكتيبة الكامنة في من لقيناه بالأندلس من شعراء المائة الثامنة   (لسان الدين بن الخطيب)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الكتيبة الكامنة في من لقيناه بالأندلس من شعراء المائة الثامنة

المؤلف: لسان الدين بن الخطيب، محمد بن عبد الله (ت 776هـ)

المحقق: إحسان عباس

الطبعة: الأولى، 1963

الناشر: دار الثقافة، بيروت - لبنان

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 308

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

অষ্টম শতাব্দীর আন্দালুসে আমাদের সাক্ষাৎ হওয়া কবিদের বর্ণনায় আল-কাতিবাহ আল-কামিনাহ   (লিসান উদ্দিন ইবনুল খাতিব)

বিভাগ: জীবনী ও জীবনবৃত্তান্ত


গ্রন্থ: অষ্টম শতাব্দীর আন্দালুসে আমাদের সাক্ষাৎ হওয়া কবিদের বর্ণনায় আল-কাতিবাহ আল-কামিনাহ

লেখক: লিসান উদ্দিন ইবনুল খাতিব, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)

সম্পাদক: ইহসান আব্বাস

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৬৩

প্রকাশনী: দারুস সাকাফাহ, বৈরুত - লেবানন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৮

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌تمهيد

هذا هو الكتاب الثامن في هذه السلسلة التي أطلقنا عليها اسم " المكتبة الأندلسية " نقدمه للقراء والباحثين الذين أيدوا عملنا بالإقبال عليه، وتقدير ما نبذله من جهد في جانبي الدراسة والبحث ونشر الأصول التي احتاجها الدارسون والباحثون. وكل ما نرجو أن نمضي قدماً؟ بتوفيق من الله وعونه؟ في خدمة تراثنا العربي، داعين إخواننا المهتمين بأدب الأندلس وتاريخها؟ أينما كانوا؟ إلى الإسهام في هذا العمل، إذ أننا لا ندعي القدرة على الاضطلاع بكل ما تحتاجه المكتبة الأندلسية من خدمات وتضحيات، وإن كنا آلينا على أنفسنا أن لا نوفر جهداً في هذا السبيل.

وقد كان تحقيق هذا الجزء من المكتبة الأندلسية ثمرة بفضل إخواني المغاربة في الرباط، الذين أمدوني بثلاث مخطوطات مما يحتفظون به في خزائنهم العامرة، فأنا أحب أن أسجل لهم هنا اعترافي بجميلهم، متوجهاً بشكري الخالص الوفير للأستاذ عبد الله الرجراجي مدير الخزانة العامة بالرباط؛ وأما أصدقائي العلماء الأجلاء الأستاذ محمد العابد الفاسي
ভূমিকা

এটি হচ্ছে এই সিরিজের অষ্টম গ্রন্থ, যার নাম আমরা রেখেছি "আল-মাকতাবাতুল আন্দালুসিয়াহ"। আমরা এটি সেই সকল পাঠক ও গবেষকদের নিকট পেশ করছি যারা এর প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করে আমাদের কাজকে সমর্থন করেছেন এবং অধ্যয়ন ও গবেষণা এবং ছাত্র ও গবেষকদের প্রয়োজনীয় মূল উৎসসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমরা যে শ্রম দিচ্ছি তার মূল্যায়ন করেছেন। আমরা কেবল আল্লাহর তাওফিক ও তাঁর সাহায্যে আমাদের এই আরবি ঐতিহ্যের সেবায় সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রাখি। সেই সাথে আন্দালুসিয়ার সাহিত্য ও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী আমাদের ভাইদের—তারা যেখানেই থাকুন না কেন—এই কাজে অবদান রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা আমরা এই দাবি করি না যে, আন্দালুসিয়ান লাইব্রেরির প্রয়োজনীয় সকল সেবা ও ত্যাগের দায়িত্ব একাকী বহন করার সামর্থ্য আমাদের আছে, যদিও আমরা নিজেদের এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছি যে এই পথে আমরা কোনো চেষ্টার ত্রুটি করব না।

আন্দালুসিয়ান লাইব্রেরির এই অংশটির সম্পাদনা সম্পন্ন হয়েছে রিবাতের আমার মরক্কান ভাইদের বদৌলতে, যারা তাদের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারে সংরক্ষিত তিনটি পাণ্ডুলিপি দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছেন। তাই আমি এখানে তাদের অনুগ্রহের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে লিপিবদ্ধ করতে চাই এবং রিবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারের (আল-খিজানাতুল আম্মাহ) পরিচালক উস্তাদ আব্দুল্লাহ আর-রাজরাজির প্রতি আমার অকৃত্রিম ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা পেশ করছি। আর আমার শ্রদ্ধেয় আলিম বন্ধু উস্তাদ মুহাম্মাদ আল-আবিদ আল-ফাসি...
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
والأستاذ إبراهيم الكتاني والأستاذ محمد المنوني، فأني اعجز عن أن أفيهم حقهم من الشكر على الحفاوة التي تلقوني بها في المغرب العربي في صيف عام 1962 وعلى المساعدة التي بذلوها من اجلي، حفظهم الله ورعاهم وجزاهم عني خير جزاء.

لقد كتب لسان الدين بن الخطيب هذا الكتاب ليهديه للمشارقة، وإنما اقتدي بكرم نفسه حين اهديه - بعد تحقيقه - لأخواني في المغرب، وان على يقين من إننا جميعا نتعاون على خدمة تراث عربي مشترك. وان ليس هنالك ما يقال فيه إزاء العاملين في ميدان العلم: هذا تراث مغربي فهو وقف على المغاربة وذاك تراث مشرقي فهو وقف على المشارقة وقد كنت أرجو لفضل أخواني في المغرب أن لا يقنع لي بالنغبة اليسيرة من معين تراثهم الغزير وان لا يستكثروا علي الإخلاص في إظهار دورهم في تاريخ الأدب والحضارة العربيين وقد كنت اطمع في كرمهم وعونهم على ما بين يدي من دراسات تعطل جانب كبير منها لظنهم بما اعتقد انه حق للدارسين جميعا ومن الغبن أن يؤخذ المرء بجريرة غيره واشد الظلم ظلم عبقري ينالك من صديق وما سمحت لنفسي بهذا العتاب إلا إبقاء على صداقة اعتز بها والله يحفظهم من كل سوء؟.

بيروت في 15 أيلول (سبتمبر) 1963
এবং উস্তাদ ইব্রাহিম আল-কাত্তানি ও উস্তাদ মুহাম্মদ আল-মানুনি, ১৯৬২ সালের গ্রীষ্মকালে মাগরেবে তাঁরা আমাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন এবং আমার জন্য যে সহায়তা প্রদান করেছেন, তার জন্য তাঁদের প্রতি যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমি অক্ষম। আল্লাহ তাঁদের হেফাজত করুন, তাঁদের দেখাশোনা করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

লিসানুদ্দিন বিন আল-খতিব এই বইটি লিখেছিলেন প্রাচ্যবাসীদের উপহার দেওয়ার জন্য; আমি তাঁর মহানুভবতারই অনুসরণ করছি যখন আমি এটি—সম্পাদনার পর—মরক্কোর ভাইদের উপহার দিচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা সকলে একটি অভিন্ন আরবি ঐতিহ্যের সেবায় একে অপরকে সহযোগিতা করছি। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ময়দানে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের সামনে এ কথা বলার কোনো অবকাশ নেই যে: এটি মাগরেবি ঐতিহ্য তাই এটি কেবল মাগরেবিদের জন্য সংরক্ষিত, আর ওটি মাশরিকি ঐতিহ্য তাই তা কেবল মাশরিকিদের জন্য। আমি আমার মরক্কোর ভাইদের অনুগ্রহের কাছে আশা করেছিলাম যে, তাঁরা তাঁদের বিশাল ঐতিহ্যের ঝরনাধারা থেকে আমাকে কেবল সামান্য এক চুমুকেই তুষ্ট করবেন না এবং আরবি সাহিত্য ও সভ্যতার ইতিহাসে তাঁদের ভূমিকা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার একনিষ্ঠতাকে তাঁরা অতিশয় মনে করবেন না। আমার হাতে থাকা গবেষণাসমূহের ব্যাপারে আমি তাঁদের উদারতা ও সহায়তার প্রত্যাশী ছিলাম, যার একটি বড় অংশ স্থবির হয়ে আছে কারণ তাঁরা এমন কিছু দিতে কার্পণ্য করছেন যা আমি মনে করি সকল গবেষকেরই প্রাপ্য। অন্যের অপরাধে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা একটি বঞ্চনা, আর সবচেয়ে কঠিন জুলুম হলো কোনো বন্ধুর পক্ষ থেকে আসা জুলুম। আমি নিজেকে এই অনুযোগ করার অনুমতি দিয়েছি কেবল সেই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদে যা আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আল্লাহ তাঁদের সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।

বৈরুত, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌مقدمة

- 1؟

في غرة جمادى الآخرة من سنة 773 جاز لسان الدين بن الخطيب إلى سبتة، تاركاً أعباء الوزارة بالأندلس مفارقاً المال والولد والجاه، فاراً إلى ما يرجوه من حياة هادئة مطمئنة في ظل السلطان المريني أبي فارس عبد العزيز. وقد كانت هجرته تلك وليدة أزمة نفسية طالت به معاناتها إلى أن وضح له المنهج واستبانت الطريق. وقد كشف هو عن هذه الأزمة في عهد مبكر حين كتب إلى الشيخ أبي عبد الله ابن مرزوق رسالة يعذله فيها على جنوحه إلى خدمة الدولة ونزوعه إلى الدنيا ويصور فيها مكاره الحياة السياسية ومكايدها وقد علق ابن مرزوق عليها حين قراها بقوله: " والعجب كل العجب أن جميع ما خاطبني به - أبقاه الله تعالى - تحلى به اجمع وابتلي بما منه حذر فكأنه خاطب نفسه وانذرها بما وقع له فالله تعالى يحسن له الخاتمة والخلاص " (1) . ولعل مما زاد في حدة تلك الأزمة النفسية انتشاب لسان الدين في التصوف قولا

--------------------------------------------

(1) النفح 7: 80.
ভূমিকা

- ১?

৭৭৩ হিজরির জমাদিউল আখিরাত মাসের শুরুতে লিসানুদ্দীন ইবনুল খতিব আন্দালুসের মন্ত্রীত্বের গুরুদায়িত্ব ত্যাগ করে এবং ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও মান-মর্যাদা ছেড়ে দিয়ে সেবতায় পাড়ি জমান। তিনি মরিনি সুলতান আবু ফারেস আব্দুল আজিজের ছায়াতলে একটি শান্ত ও নিশ্চিন্ত জীবনের আশায় পলায়ন করেন। তাঁর এই হিজরত ছিল দীর্ঘস্থায়ী এক মানসিক সংকটের ফসল, যার যাতনা তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত ভোগ করেছেন যতক্ষণ না তাঁর কাছে কর্মপন্থা স্পষ্ট হয়েছে এবং পথ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি প্রাথমিক যুগেই এই সংকটের কথা প্রকাশ করেছিলেন, যখন তিনি শেখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মারজুকের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন। সেই পত্রে তিনি শেখকে রাষ্ট্রীয় খিদমতের প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং দুনিয়ার প্রতি আসক্তির জন্য ভর্ৎসনা করেন এবং রাজনৈতিক জীবনের অপ্রীতিকর দিক ও ষড়যন্ত্রসমূহ চিত্রায়িত করেন। ইবনে মারজুক পত্রটি পড়ার পর এই মন্তব্য করেন: "সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি আমাকে যা যা সম্বোধন করে লিখেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—সেসব কিছুতেই তিনি নিজে জড়িয়ে পড়েছেন এবং যে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন তাতেই তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। মনে হচ্ছে যেন তিনি নিজের আত্মাকেই সম্বোধন করছিলেন এবং যা তাঁর ভাগ্যে ঘটতে যাচ্ছিল সে সম্পর্কে নিজেকেই সতর্ক করছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর শেষ পরিণাম ও মুক্তি সুন্দর করুন।" (১)। সম্ভবত লিসানুদ্দীনের বাচনিকভাবে তাসাউফের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া সেই মানসিক সংকটের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আন-নাফহ ৭: ৮০।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
يحفزه إلى الرياضة العملية، والى التجرد عن الدنيا.

وقد صور دواعي هذه الأزمة في رسالته إلى الغني بالله سلطان الأندلس حين فارقه، وفي رسالة إلى ابن خاتمة حين عذله على اعتزام الهجرة، وفي كتابة أعمال الأعلام، وفي مقدمة الكتيبة الكامنة، فتحدث عن رغبته في الراحة والذهاب إلى مكة وإيثاره للآخرة على الدنيا فقال في رسالته لابن خاتمة: " أني إلى الله تعالى مهاجر، وللعرض الأدنى هاجر، ولأضعان السرى زاجر، لنجد - إن شاء الله تعالى - وحاجر " (1) وفي رسالته للغني بالله يقول: " طرقته الأفكار وزعزعت صبره الرياح الخواطر وتذكر أشراف العمر على التمام وعواقب الاستغراق وسيرة الفضلاء عند شمول البياض فغلبته حال شديدة هزمت التعشق بالشمل الجميع والوطن المليح والجاه الكبير والسلطان القليل النظير وعمل بمقتضى قوله: موتوا قبل أن تموتوا " (2) .

وكان الذي أيأسه من حياة السياسة تغير النفوس عليه لما بلغه من مكانة واستقلال في النظر وبسطة في النفوذ، فكثرت السعايات وتنكر له من كان هو سببا في تقريبهم ورفع جاههم، وسيطر الحسد على بعض النفوس، ولم يكن هو غافلا عما يجري من حوله، فهو يقول في وصف هذه الظاهرة: " وصرت انظر إلى الوجوه فالمح الشر في نظراتها، واعتبر الكلمات فأتبين الحسائف في لغاتها، والضغينة في كل يوم تستحكم والشر يتضاعف، ونعمة الولد تطلق لسان الحسود، وشبح الكلاب المطيفة تهيج حسائف النمور الجائعة والأسود، والأصحاب الذين تجمعهم المائدة كل يوم وليلة يفتنون في الإطراء والمديح وتحسين القبيح والمحاولات في الغي

--------------------------------------------

(1) النفح 8: 143.

(2) التعريف بابن خلدون: 148 - 149.
এটি তাকে ব্যবহারিক সাধনা এবং দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দিকে উদ্দীপ্ত করে।

তিনি যখন আন্দালুসের সুলতান আল-গানি বিল্লাহর কাছ থেকে বিদায় নেন, তখন তাকে লেখা পত্রে এই সংকটের কারণগুলো চিত্রিত করেছেন। এছাড়াও ইবনে খাতিমার কাছে লেখা পত্রে (যখন তিনি তাকে হিজরতের সংকল্প করার জন্য তিরস্কার করেছিলেন), 'আমালুল আ'লাম' গ্রন্থে এবং 'আল-কাতিবাতুল কামিনাহ'-এর ভূমিকায় তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বিশ্রাম নেওয়া, মক্কায় গমন এবং দুনিয়ার ওপর আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। ইবনে খাতিমাকে লেখা পত্রে তিনি বলেন: "আমি মহান আল্লাহর দিকে হিজরতকারী, তুচ্ছ পার্থিব বস্তু ত্যাগকারী এবং সারারাত সফরের জন্য উটচালনা কারী; ইনশাআল্লাহ নজদ ও হাজেরের (পবিত্র ভূমির) উদ্দেশ্যে।" (১) এবং আল-গানি বিল্লাহর কাছে লেখা পত্রে তিনি বলেন: "নানা চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করেছে, মনের খেয়ালখুশির বাতাস তার ধৈর্যকে টলিয়ে দিয়েছে। তিনি স্মরণ করেছেন যে তার আয়ু শেষের দিকে, নিমগ্ন থাকার পরিণতি এবং চুল পেকে শুভ্র হওয়ার সময় গুণীজনদের জীবন কেমন হয়। ফলে তার ওপর এক প্রবল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা তার সংহতি, সুন্দর স্বদেশ, উচ্চ পদমর্যাদা এবং অতুলনীয় রাজকীয় প্রভাবের প্রতি আসক্তিকে পরাজিত করেছে। তিনি ‘তোমাদের মৃত্যুর আগেই তোমরা মরো’—এই বাণীর মর্ম অনুযায়ী কাজ করেছেন।" (২)।

রাজনৈতিক জীবনের প্রতি তাকে নিরাশ করেছিল মানুষের মনের পরিবর্তন, যা তার উচ্চ মর্যাদা, স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রভাবের বিস্তারের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে চক্রান্ত বেড়ে যায় এবং যাদের তিনি নিকটে টেনেছিলেন ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন, তারা তার সাথে বিরূপ আচরণ শুরু করে। কিছু অন্তরে হিংসা আধিপত্য বিস্তার করে। তিনি তার চারপাশে যা ঘটছে সে সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন না। এই পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন: "আমি মুখগুলোর দিকে তাকাতাম এবং তাদের দৃষ্টিতে অনিষ্টের আভাস পেতাম। কথাগুলো বিশ্লেষণ করে তাদের ভাষায় ক্ষোভ এবং প্রতিদিন শক্তিশালী হতে থাকা বিদ্বেষ ও দ্বিগুণ হতে থাকা অনিষ্ট প্রত্যক্ষ করতাম। সন্তানের নেয়ামত হিংসুকের জিব খুলে দেয় এবং চারপাশে ঘিরে থাকা কুকুরদের ছায়া ক্ষুধার্ত চিতাবাঘ ও সিংহের ক্ষোভকে জাগিয়ে তোলে। আর সেই সঙ্গীরা যারা প্রতিদিন দিবা-রাত্রি একই দস্তরখানে বসে, তারা অতিশয় প্রশংসা, মিথ্যা তোষামোদ, মন্দকে সুশোভিত করা এবং বিপথগামী করার প্রচেষ্টায় মত্ত থাকে—"

--------------------------------------------

(১) আন-নাফহ ৮: ১৪৩।

(২) আত-তারিফ বি-ইবনি খালদুন: ১৪৮ - ১৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
والتقرب بالسعي، انظر إليهم يتناقلون الإشارات بالعيون والمغامزة بالجفون والمخاطبة باللغوز، فإذا انصرفوا صرف الله قلوبهم فقلبوا الأمور ونقلوا العيوب وافسدوا القلوب وتعللوا بالأحلام وقواطع الأحكام " (1) .

ولقد قضى ابن الخطيب في هذا الجو المكفهر فترة من الزمن وهو فريسة للخوف والحذر، نهبة للتلوم النفسي والتردد، وكلما خلا إلى نفسه جعل يخاطبها قائلا: " يا مشئومة! أما تشعرين لما نزل بك، حملت هذا الكل على ضعفك، وأوسعت هذا الشغب في فكرك.. وتعرضت لان تسخطي الطالب الممنوع بخيبته، وتسخطي المعطى بما يرى انك قد منعته الزيادة في عطيته، وتسخطي الأجنبي بالقبول على عدوه؟ وتسخطي الجاني بإنفاذ العقوبة في جنايته؟ وتسخطي الجيش باختباره وعرضه؟ وتسخطي الرعية باستقصاء الجباية " (2) .. وجاءت اللحظة الحاسمة التي وجد فيها أن الفرار أمر محتوم، وهي لحظة عبر عنها لسان الدين " بالعجز " حين قال للغني بالله " ونختم لكم هذه الغزارة بالحلف الأكيد: أني ما تركت لكم وجه نصيحة في دين ولا في دنيا ألا وقد وفيتها لكم ولا فارقتكم ألا عن عجز " (3) ، وهذا التصريح يدل على الحقيقة النفسية الكامنة التي كانت تتعلل بالماضي والمستقبل، أما الماضي فقد لفه لسان الدين في ثوب من الترفع عن الكسب وجمع المال وجعله كله عملا مخلصا ممتدا في الزمان، استطاع فيه أن يؤمن للدولة أسبابها ويطمئن على صاحبه، بإرضاء الجند وعقد المعاهدات مع الاعداء، وتكثير الأصدقاء، وأما المستقبل فسوف يكون هجرة إلى الله تعالى وزيارة لمكة وقبر

--------------------------------------------

(1) أعمال الأعلام: 316.

(2) المصدر نفسه: 315.

(3) التعريف بابن خلدون: 152.
এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে নৈকট্য লাভ; আপনি তাদের দিকে তাকান, তারা চোখের ইশারায় ইঙ্গিত বিনিময় করে, চোখের পাতার মাধ্যমে ইশারা করে এবং ধাঁধার মাধ্যমে কথা বলে। অতঃপর যখন তারা ফিরে যায়, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে ফিরিয়ে দেন; ফলে তারা বিষয়গুলোকে উল্টে দেয়, ত্রুটিগুলো প্রচার করে, অন্তরগুলোকে কলুষিত করে এবং স্বপ্ন ও অকাট্য বিধানসমূহের প্রতিবন্ধকতার অজুহাত পেশ করে। (১)।

ইবনুল খতিব এই থমথমে পরিবেশে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলেন যখন তিনি ভয় ও সতর্কতার শিকার ছিলেন এবং আত্মগ্লানি ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের শিকলে বন্দি ছিলেন। যখনই তিনি নির্জনে নিজের মুখোমুখি হতেন, তখন তিনি নিজের নফসকে সম্বোধন করে বলতেন: "হে দুর্ভাগ্যবান! তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা কি তুমি অনুভব করছ না? তুমি তোমার দুর্বলতা সত্ত্বেও এই সমস্ত বোঝা বহন করেছ এবং তোমার চিন্তায় এই বিশৃঙ্খলাকে স্থান দিয়েছ... তুমি নিজেকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছ যে, তুমি বঞ্চিত প্রার্থীকে তার ব্যর্থতার কারণে অসন্তুষ্ট করেছ, আর দানগ্রহীতাকে অসন্তুষ্ট করেছ এজন্য যে সে মনে করে তুমি তাকে দানে অতিরিক্ত দিতে বাধা দিয়েছ; এবং তুমি বিদেশিকে তার শত্রুর প্রতি আনুকূল্য দেখিয়ে অসন্তুষ্ট করেছ, অপরাধীকে তার অপরাধের দণ্ড কার্যকর করে অসন্তুষ্ট করেছ, সেনাবাহিনীকে তাদের যাচাই-বাছাই ও প্রদর্শনের মাধ্যমে অসন্তুষ্ট করেছ এবং প্রজাসাধারণকে কর আদায়ে কঠোরতা অবলম্বন করে অসন্তুষ্ট করেছ।" (২)। এরপর সেই চূড়ান্ত মুহূর্তটি এল যখন তিনি অনুভব করলেন যে পলায়ন করা অনিবার্য। এটি এমন এক মুহূর্ত ছিল যা লিসান উদ্দিন 'অক্ষমতা' হিসেবে ব্যক্ত করেছিলেন, যখন তিনি আল-গণি বিল্লাহকে বলেছিলেন: "আমি একটি সুদৃঢ় শপথের মাধ্যমে আপনাদের জন্য এই প্রাচুর্যের সমাপ্তি টানছি: আমি আপনাদের জন্য দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো উপদেশের দিকই বাকি রাখিনি যা আমি আপনাদের জন্য পূর্ণ করিনি, এবং আমি কেবল অক্ষমতার কারণেই আপনাদের ছেড়ে যাচ্ছি।" (৩)। এই ঘোষণাটি সেই সুপ্ত মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে নির্দেশ করে যা অতীত ও ভবিষ্যতের দোহাই দিচ্ছিল। অতীতের কথা বলতে গেলে, লিসান উদ্দিন সেটিকে সম্পদ অর্জন ও অর্থ সঞ্চয়ের ঊর্ধ্বে থাকার এক আবরণে আবৃত করেছিলেন এবং সেটিকে দীর্ঘ সময়ের একনিষ্ঠ কর্মে পরিণত করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তিগুলোকে নিরাপদ করতে এবং সৈন্যদের সন্তুষ্ট করে, শত্রুদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে ও বন্ধুদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে তার অধিপতিকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর ভবিষ্যতের ব্যাপারে কথা হলো, তা হবে মহান আল্লাহর দিকে হিজরত এবং মক্কা ও রওজা জিয়ারত—

--------------------------------------------

(১) আমালুল আলাম: ৩১৬।

(২) একই উৎস: ৩১৫।

(৩) আত-তারিফ বি-ইবনি খালদুন: ১৫২।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
الرسول، ولكن كلمة العجز كانت تدل على أن لا خيار ثمة، وان الاضطرار هو القوة الداعية إلى التحول، وهون الرجل على نفسه مفارقة الأهل والوطن بأنه لا يفر لذنب اقترفه وإنما خلف " الوسائل المرعية والآثار الخالدة والسير الجميلة " وانه - أن فسح الله له في الآجل - يود العودة إلى وطنه.

ولم يفده الإلحاح على سلطانه بان يأذن له بالسفر فعمد إلى اصطناع جفاء يثير غضبه، والسلطان يعد ذلك إدلالا ويعتذر عما يفعله صاحبه. وعندئذ قرر لسان الدين أن يخفي أمر فراره، فاتصل بالسلطان المريني واخذ منه عهدا بالإقامة في كنفه، وبتمكينه من الحج والزيارة، واستأذن الغني بالله في تفقد الثغور " وسار إليها في لمة من فرسانه، وكان معه ابنه علي الذي كان خالصة للسلطان، وذهب لطيته فلما حاذى جبل الفتح، فرضة المجاز إلى العدوة مال إليه، وسرح أذنه بين يديه فخرج قائد الجبل لتلقيه، وقد كان السلطان عبد العزيز أوعز إليه بذلك وجهز له الأسطول من حينه، فأجاز إلى سبتة وتلقاه ولاتها بأنواع التكرمة وامتثال المراسم " (1) . وقد عيره أعداؤه من بعد بفراره وبهذه الخدعة التي اختارها، فقال القاضي النباهي في رده عليه: " ثم وريتم بتفقد ثغر الجزيرة الخضراء، مكرا منكم، فلما بلغتم ارض الجبل انحرفتم عن الجادة وهربتم بأثقالكم الهروب الذي أنكره عليكم من بلغه حديثكم - أو يبلغه إلى آخر الدهر - في العدوتين من مؤمن وكافر وبر وفاجر " (2) .

أما بقية التهم التي وجهها النباهي إلى ابن الخطيب فتتلخص في إخلاد

--------------------------------------------

(1) تاريخ ابن خلدون 7: 335، والنفح 8: 30 - 31.

(2) النفح 7: 56.
রাসূল, কিন্তু 'অক্ষমতা' শব্দটি নির্দেশ করছিল যে সেখানে আর কোনো গত্যন্তর ছিল না এবং নিরুপায় হওয়াই ছিল এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। সেই ব্যক্তি পরিবার ও স্বদেশ ত্যাগের বেদনাকে এই বলে প্রশমিত করলেন যে, তিনি কোনো কৃত অপরাধের কারণে পলায়ন করছেন না, বরং তিনি পেছনে রেখে যাচ্ছেন "সম্মানিত মাধ্যমসমূহ, শাশ্বত কীর্তিনিদর্শন ও সুন্দর জীবনচরিত" এবং আল্লাহ যদি তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করেন তবে তিনি স্বদেশে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা রাখেন।

সুলতানের নিকট ভ্রমণের অনুমতির জন্য বারবার আবেদন করেও কোনো ফল হলো না। ফলে তিনি সুলতানকে রাগান্বিত করার জন্য কৃত্রিম ঔদাসীন্য ও দুর্ব্যবহারের আশ্রয় নিলেন। কিন্তু সুলতান একে প্রিয়জনের আবদার হিসেবে গণ্য করলেন এবং তাঁর সঙ্গীর আচরণের জন্য নিজেই ওজর পেশ করলেন। এমতাবস্থায় লিসানুদ্দিন তাঁর পলায়নের বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি মেরিনিড সুলতানের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর আশ্রয়ে বসবাসের এবং হজ ও যিয়ারতের সুযোগ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। এরপর তিনি আল-গানি বিল্লাহর নিকট সীমান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি চাইলেন "এবং একদল অশ্বারোহী নিয়ে সেদিকে যাত্রা করলেন। তাঁর সাথে তাঁর পুত্র আলীও ছিল, যে ছিল সুলতানের একান্ত অনুগত। তিনি যখন তাঁর গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হয়ে জাবালুল ফাতহ তথা পারাপারের ঘাটের সমান্তরালে পৌঁছালেন, তখন সেদিকে মোড় নিলেন। তিনি তাঁর দূতকে আগে পাঠিয়ে দিলেন এবং পাহাড়ের সেনাপতি তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে এলেন। সুলতান আব্দুল আজিজ পূর্বেই তাঁকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তখনই তাঁর জন্য নৌবহর প্রস্তুত রেখেছিলেন। অতঃপর তিনি সাবতা অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং সেখানকার শাসকগণ তাঁকে বিভিন্ন প্রকার সম্মাননা ও রাজকীয় প্রটোকল পালনের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানালেন।" (১)। পরবর্তীতে তাঁর শত্রুরা তাঁর এই পলায়ন এবং এই চতুর কৌশলের জন্য তাঁকে বিদ্রূপ করে। কাজী আন-নাবাহি তাঁর জবাবে বলেন: "অতঃপর তোমরা আল-জাজিরাতুল খাদরা সীমান্ত পরিদর্শনের বাহানা করলে, যা ছিল তোমাদের পক্ষ থেকে একটি চক্রান্ত। যখন তোমরা পাহাড়ের ভূমিতে পৌঁছালে, তখন মূল পথ ছেড়ে নিজেদের মালসামানসহ এমন পলায়ন করলে যে, উভয় ভূখণ্ডের মুমিন-কাফির এবং নেককার-বদকার নির্বিশেষে যারাই তোমাদের এই সংবাদ শুনেছে—বা কিয়ামত পর্যন্ত শুনবে—সবাই তার নিন্দা জানিয়েছে।" (২)।

আর ইবনুল খতিবের বিরুদ্ধে আন-নাবাহি যেসব অবশিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন তার সারমর্ম হলো দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া...

--------------------------------------------

(১) তারিখ ইবনে খালদুন ৭: ৩৩৫, এবং আন-নাফহ ৮: ৩০-৩১।

(২) আন-নাফহ ৭: ৫৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
هذا الثاني إلى الدنيا بالاستكثار من العقار والبناء، وانه إنما هرب من الأندلس لأنه يمد عينيه إلى التمتع بغيرها، مع أن الأندلس دار رباط لا يستحب للرجل المؤمن أن يتركها إلا إلى مكة أو طيبة أو بيت المقدس. وسرد النباهي بعض القضايا التي تدل على تدخل ابن الخطيب في نزاهة القضاء، واتهم لسان الدين بالعبث في " الابشار والأموال وهتك الأعراض وإفشاء الأسرار وكشف الأستار واستعمال المكر والحيل والغدر في غالب الأحوال للشريف والمشروف والخادم والمخدوم " (1) ، ولم ينس النباهي إن يوجه إلى ابن الخطيب تهمة الطعن في الشريعة والوقوع في جناب الرسول الكريم، وانه نقلت عنه في ذلك أشياء منكرة، وانه متأثر في ذلك بأستاذه وشيخه المستخف ابن هذيل منك علم الجزئيات القائل بعدم قدرة الرب - جل اسمه - على جميع الممكنات.

وما كان القاضي النباهي إلا واحدا من أولئك الذين ارصدوا العداوة والشنآن لابن الخطيب، ولعله آثار عليه كثيرا من القلوب، بما يروجه من نقد لتصرفاته، وكذلك كان تلميذه ابن زمرك من اشد الناس طعنا عليه وكيدا له، ومثلهما في ذلك ربيبه احمد بن سليمان بن فركون، - في اغلب الظن - وغير هؤلاء ممن كان لسان الدين قد رشحهم للمناصب ومكنهم منها، وكان هذا كله في نظر لسان الدين تنكرا للجميل، وعضا ليد المحسن الكريم، ولذلك عبر عن موقفه من الحياة السياسية بالعجز واثر الفرار. فوصل الباب العزيزي - أي باب السلطان عبد العزيز - بتلمسان في 19 رجب سنة 773: " فتلقاني بما يليق بحسبه وشرف مذهبه: من اركاب الحجبة ورعي الوسيلة ودنو الجلسة واجراء

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه: 55.
এই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি ভূ-সম্পত্তি ও অট্টালিকা বৃদ্ধির মাধ্যমে পার্থিব মোহে মগ্ন ছিলেন। তিনি মূলত আন্দালুস থেকে পলায়ন করেছিলেন কারণ তিনি অন্যত্র ভোগ-বিলাসের প্রতি লালায়িত ছিলেন; অথচ আন্দালুস হলো একটি সীমান্ত রক্ষার ভূমি (রিবাত), যা কোনো মুমিন ব্যক্তির জন্য মক্কা, মদিনা বা বায়তুল মুকাদ্দাস অভিমুখে যাত্রা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ত্যাগ করা সমীচীন নয়। নুবেহী এমন কিছু ঘটনা বর্ণনা করেছেন যা বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতায় ইবনুল খাতিবের হস্তক্ষেপের প্রমাণ দেয়। তিনি লিসানুদ্দীনকে 'মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন, সম্মানহানি, গোপনীয়তা ফাঁস, গোমর উন্মোচন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজাত ও সাধারণ, সেবক ও মনিব—সকলের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত, প্রবঞ্চনা ও বিশ্বাসঘাতকতা'র দায়ে অভিযুক্ত করেন (১)। নুবেহী ইবনুল খাতিবের বিরুদ্ধে শরীয়তের সমালোচনা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সত্তার অবমাননার অভিযোগ তুলতেও দ্বিধা করেননি। এই বিষয়ে তার থেকে কিছু জঘন্য কথা বর্ণিত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে তিনি তার উস্তাদ ও শায়খ, বেপরোয়া ইবনু হুদাইল দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যিনি আল্লাহর বিস্তারিত জ্ঞানকে অস্বীকার করতেন এবং দাবি করতেন যে, প্রতিপালক —তাঁর নাম মহিমান্বিত— সমস্ত সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর সক্ষম নন।

কাজী নুবেহী ছিলেন কেবল তাদেরই একজন যারা ইবনুল খাতিবের প্রতি চরম শত্রুতা ও ঘৃণা পোষণ করতেন। সম্ভবত তিনি তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা প্রচারের মাধ্যমে অনেক মানুষের অন্তরকে তার বিরুদ্ধে বিষিয়ে তুলেছিলেন। একইভাবে তার ছাত্র ইবনু যুমরুক ছিলেন তার সবচেয়ে কঠোর সমালোচক ও ষড়যন্ত্রকারী। তাদের মতোই ছিলেন —প্রবল ধারণা অনুযায়ী— তার পালক পুত্র আহমাদ বিন সুলাইমান বিন ফারকুন এবং আরও অনেকে যাদেরকে লিসানুদ্দীন উচ্চপদে আসীন ও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। লিসানুদ্দীনের দৃষ্টিতে এই সব কিছুই ছিল চরম অকৃতজ্ঞতা এবং অনুগ্রহকারীর হাতে দংশন করার নামান্তর। এ কারণেই তিনি রাজনৈতিক জীবনের প্রেক্ষাপটে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করেন এবং পলায়নের পথ বেছে নেন। অতঃপর তিনি ৭৭৩ হিজরির ১৯শে রজব তিলিমসানের 'বাবুল আজিজী' —অর্থাৎ সুলতান আব্দুল আজিজের দরবারে— উপস্থিত হলেন: "তিনি তার বংশমর্যাদা ও স্বভাবের আভিজাত্য অনুযায়ী আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন: রাজকীয় প্রহরী পরিবেষ্টিত বাহনের ব্যবস্থা, বিশেষ মর্যাদা প্রদান, সান্নিধ্য দান এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে।"

--------------------------------------------

(১) একই উৎস: ৫৫।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
النعمة ". وكتب إلى سلطان الأندلس في استقدام أولاد ابن الخطيب أهله، فأرسلهم إليه.

إلا إن السعاية ضده لم تفتر، وذلك - حسبما يعتقد لسان الدين - كي يأمن أعداؤه عودته إلى الأندلس، ومال السلطان إلى رأي الوشاة والأعداء فقام النباهي بإصدار فتوى توجب حرق كتب لسان الدين لأنها تنطوي على الزندقة فحرقت، وصودرت أملاكه، واستحثت السلطان المريني على تسليمه لإجراء العقوبة عليه بسبب الإلحاد فأبى، وقال لرسل ابن الأحمر: " هلا أنقذتم فيه حكم الشرع وهو عندكم، وانتم عالمون بما كان عليه ".

ويقول لسان الدين في التعليق على هذه الحال (1) : " وكنت لغروري بالزمان، وثقتي منه بالأمان أظن أن لا سبيل للدهر علي، ولا تطرق له ألي، وان مفارقتي لمن بالأندلس إنما هي مفارقة أب لولد، وقلب لخلد، وان عقاري الموروث والمكتسب جار مجرى الوقف الذي لا يبدل، وصريح الشريعة الذي لا يتأول، وان فوائده تلحق بي حيث كنت من المعمور، فلا أكلف رزقا جهدا لغرور " (2) .

- 2 -

توفي السلطان أبو فارس عبد العزيز أو " دك الجبل العاصم من الطوفان، والممسك للأرض عند الرجفان " في شهر ربيع الآخر سنة 774هـ؟. وانتقل ابن الخطيب من تلمسان إلى فاس مع الوزير أبي بكر ابن غازي الوصي على

--------------------------------------------

(1) تاريخ ابن خلدون 7: 335.

(2) أعمال الأعلام، 319 - 320.
"আল-নিয়ামাহ (অনুগ্রহ)"। এবং তিনি আন্দালুসের সুলতানের কাছে ইবনে আল-খতিবের সন্তান ও পরিবারকে নিয়ে আসার জন্য চিঠি লিখেছিলেন, ফলে তিনি তাদের তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি, এবং সেটি ছিল - লিসান আদ-দ্বীনের বিশ্বাস মতে - যেন তাঁর শত্রুরা তাঁর আন্দালুসে ফিরে আসা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। সুলতান চোগলখোর ও শত্রুদের মতামতের দিকে ঝুঁকে পড়লেন, ফলে আন-নাবাহি লিসান আদ-দ্বীনের বইগুলো পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দিয়ে একটি ফতোয়া জারি করেন কারণ সেগুলো ধর্মদ্রোহিতার (যিন্দিকপনা) অন্তর্ভুক্ত ছিল; ফলে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারা মেরিনি সুলতানকে নাস্তিকতার (ইলহাদ) দায়ে তাঁর ওপর দণ্ড কার্যকর করার জন্য তাঁকে হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করেছিল, কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। তিনি ইবনে আল-আহমারের প্রতিনিধিদের বলেন: "কেন আপনারা তাঁর ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর করেননি যখন তিনি আপনাদের কাছে ছিলেন এবং আপনারা জানতেন তিনি কিসের ওপর ছিলেন?"

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিসান আদ-দ্বীন বলেন (১): "সময়ের প্রতি আমার মোহাচ্ছন্নতা এবং এর নিরাপত্তার প্রতি আমার বিশ্বাসের কারণে আমি মনে করেছিলাম যে, মহাকালের আমার ওপর আধিপত্য বিস্তারের কোনো পথ নেই এবং আমার প্রতি এর কোনো আক্রমণ সম্ভব নয়। আন্দালুসে যাদের আমি ছেড়ে এসেছি তাদের সাথে আমার বিচ্ছেদ ছিল সন্তানের কাছ থেকে পিতার বিচ্ছেদ এবং অন্তরের সাথে হৃদয়ের বিচ্ছেদ। আমার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ও অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি ছিল এমন এক ওয়াকফের মতো যা পরিবর্তিত হয় না এবং শরীয়তের অকাট্য বিধানের মতো যার কোনো ভিন্ন ব্যাখ্যা হয় না। আমি পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, এর মুনাফা আমার কাছে পৌঁছে যাবে, তাই আমি মোহাচ্ছন্ন হয়ে জীবিকার জন্য কোনো কঠোর পরিশ্রম করব না" (২)।

- ২ -

সুলতান আবু ফারিস আব্দুল আজিজ, অথবা "মহা প্লাবন থেকে রক্ষাকারী সুউচ্চ পাহাড় এবং কম্পনের সময় পৃথিবীকে স্থির করে রাখা সত্তা", ৭৭৪ হিজরির রবিউস সানি মাসে ইন্তেকাল করেন। এবং ইবনে আল-খতিব তিলিমসান থেকে ফাসে স্থানান্তরিত হন উজির আবু বকর ইবনে গাজীর সাথে, যিনি অভিভাবক ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) তারিখ ইবনে খালদুন ৭: ৩৩৫।

(২) আমাল আল-আলাম, ৩১৯ - ৩২০।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
السلطان الابن - لم يحج كما انتوى حين هاجر من الأندلس، ولم يعتزل الدنيا والحياة السياسية، بل انه حين أقام بفاس استكثر من شراء الضياع وتأنق في بناء المساكن واغتراس الجنات (1) واخذ يستغل الحال التي تمخضت عنها الأزمة النفسية والهجرة استغلال المؤلف الذي لا يزال مورط الخواطر في العداوة الفردية وفي التقلبات السياسية.

ففي حياة السلطان عبد العزيز آلف له كتابه " المباخر الطيبة في المفاخر الخطيبية " يذكر فيه نباهة سلفه وما لهم من المجد، وقصده الرد على أهل الأندلس المجاهرين له بالعداوة القادحين في فخر سلفه (2) ألف للسلطان المذكور كتابا آخر اسماه: " خلع الرسن في التعريف بأحوال ابن الحسن " جمع فيه نوادر وحكايات عن النباهي، وقال في وصف الكتاب " انه لاشيء فوقه في الظرف والاستطراف يسلي الثكالي، ونستغفر الله تعالى " (3) .

وفي جمادى الآخر من سنة 774 كان يكتب كتابه هذا الذي سماه: " الدرر الكامنة في من لقيناه بالأندلس من شعراء المائة الثامنة "، أي كان تأليفه له بعد نحو ثلاثة اشهر من وفاة السلطان عبد العزيز (4) وسأتحدث

--------------------------------------------

(1) تاريخ ابن خلدون 7: 108.

(2) النفح 7: 108.

(3) المصدر نفسه.

(4) اخطأ الأستاذ محمد عبد الله عنان حين ظن أن هذا الكتاب من أوائل مؤلفات ابن الخطيب وانه وضعه في شبابه ولما يتجاوز الخامسة والعشرين (انظر مقدمة الإحاطة 1: 69) وإنما الذي أوقعه في الخطأ أن النسخة الخطية بالجزائر تحمل فيما يقوله كوديرا تاريخ سنة 738، هذا مع أن لسان الدين ذكر في درج كتابه، تاريخ العمل في ذلك الكتاب، وعلى هذا فهناك وهم لا ادري من أين جاء اهو من ناسخ نسخة الجزائر أو من الأستاذ كوديرا أو من الأستاذ عنان، ومن المعقول أن تكون نسخة الجزائر قد كتبت عام 783 أي بعد سنوات قليلة من وفاة المؤلف (أو837) ولا يمكن مجال أن يكون التاريخ 738 صحيحا.
সুলতানপুত্র - আন্দালুস থেকে হিজরত করার সময় যেমনটি নিয়ত করেছিলেন তেমনভাবে তিনি হজ সম্পন্ন করতে পারেননি এবং দুনিয়া ও রাজনৈতিক জীবন থেকে বিমুখ হয়ে যাননি। বরং তিনি যখন ফেসে বসবাস শুরু করলেন, তখন প্রচুর ভূসম্পত্তি ক্রয় করলেন, আবাসস্থল নির্মাণে পরিপাট্য প্রদর্শন করলেন এবং বাগান গড়ে তুললেন (১)। তিনি মানসিক সংকট ও হিজরত থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সেই লেখকের মতো কাজে লাগাতে শুরু করলেন যার চিন্তাচেতনা তখনও ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক রদবদলের আবর্তে জড়িয়ে ছিল।

সুলতান আব্দুল আজিজের জীবনকালেই তিনি তাঁর জন্য 'আল-মাবাখিরুত তায়্যিবা ফিল মাফাখিরিল খাতিবিয়্যাহ' গ্রন্থটি রচনা করেন। এতে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁদের অর্জিত মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সেই সমস্ত আন্দালুসীয়দের জবাব দেওয়া যারা প্রকাশ্যে তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করত এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবে কলঙ্ক লেপন করত (২)। তিনি উক্ত সুলতানের জন্য অন্য আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন: 'খুলউর রাসান ফিত তারিফি বি-আহওয়ালি ইবনিল হাসান'। এতে তিনি নুবাহীর বিরল ঘটনাবলী ও কাহিনী সংকলন করেছেন। কিতাবটির বর্ণনায় তিনি বলেছেন, 'রসিকতা ও চমৎকারিত্বে এর উপরে কিছু নেই, যা সন্তানহারা শোকাতুরা জননীকেও সান্ত্বনা প্রদান করে; আমরা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি' (৩)।

৭৭৪ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে তিনি তাঁর এই গ্রন্থটি লিখছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন: 'আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি মান লাকীনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মায়াতিল সামিনাহ'। অর্থাৎ এর সংকলন কাল ছিল সুলতান আব্দুল আজিজের মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর (৪)। আর আমি আলোচনা করব...

--------------------------------------------

(১) তারীখ ইবনে খালদুন ৭: ১০৮।

(২) আন-নাফহ ৭: ১০৮।

(৩) একই উৎস।

(৪) অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইনান ভুল করেছেন যখন তিনি ধারণা করেছেন যে, এই গ্রন্থটি ইবনুল খাতিবের প্রাথমিক রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এটি তাঁর যৌবনকালে যখন তাঁর বয়স পঁচিশও পার হয়নি তখন রচনা করেছিলেন (দেখুন মুকাদ্দামাতুল ইহাতা ১: ৬৯)। মূলত যা তাকে এই ভুলের মধ্যে নিপতিত করেছে তা হলো আলজেরিয়ায় সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটি কোডেরা-এর বর্ণনা অনুযায়ী ৭৩৮ হিজরি সাল বহন করছে। অথচ লিসানুদ্দিন তাঁর গ্রন্থের ভেতরেই সেই কিতাবের রচনার তারিখ উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় এখানে একটি বিভ্রম রয়েছে, আমি জানি না এটি কোথা থেকে এসেছে; এটি কি আলজেরিয়া পাণ্ডুলিপির লিপিকারের পক্ষ থেকে, নাকি অধ্যাপক কোডেরা অথবা অধ্যাপক ইনানের পক্ষ থেকে। এটিই যুক্তিসঙ্গত যে আলজেরিয়া পাণ্ডুলিপিটি ৭৮৩ হিজরিতে লেখা হয়েছে, অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর কয়েক বছর পর (অথবা ৮৩৭), আর ৭৩৮ তারিখটি সঠিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
بعد قليل عن هذا الكتاب حديثا مفصلا.

لما توفي السلطان أبو فارس عبد العزيز واصبح الآمر بيد ابن غازي الوزير صديق لسان الدين والوصي على ابن صغير من أبناء السلطان هو أبو زيان محمد السعيد، كثرت القالة في الوزير لأنه بايع صبيا وقال الطامحون والمعترضون في الأندلس والمغرب أن البيعة له لا تجوز فألف لسان الدين انتصارا لصديقه كتاب " أعمال الأعلام في من بويع قبل الاحتلام من ملوك الإسلام " (1) وفيه يقول رادا على أهل الأندلس: " فمتى نبس أهل الأندلس بإنكار بيعة صبي صغير، أو نيابة صاحب أو وزير فقد عموا وصموا، وخطروا بربع الأنصاف فاعرضوا وما الموا، وبما سنوه لغيرهم ذموا " (2) .

كل هذا وابن الأحمر لا يفتر عن المطالبة بابن الخطيب وقد فسد ما بين البلاطين - بلاط غر ناطة وبلاط فاس - بسبب تمسك الوزير ابن غازي بحماية صديقه وعدم إسلامه إلى أعدائه، واتصلت كتب ابن زمرك بابي العباس المستنصر ووزيره محمد بن عثمان تحثه على الثورة وخلع الصبي أو اسط عام 775، وانتصر أبو العباس في هذه الحركة في أوائل 776، فتحقق لبلاط غر ناطة ما يريده، إذ قبض السلطان الجديد على لسان الدين، أودع السجن، وأرسل الخبر بذلك إلى ابن الأحمر، فأرسل كاتبه ابن زمرك إلى فاس، وعقد لابن الخطيب مجلس وبخ فيه وعذب على مشهد من الملأ، ثم دس له أحد مبغضيه من قتله في السجن خنقا ثم طرح في اليوم التالي

--------------------------------------------

(1) سماه المقري: أعلام الأعلام بمن بويع من ملوك الإسلام قبل الاحتلام (النفح 7: 107) ثم أورد اسمه كما ذكرناه هنا (9: 307) .

(2) المصدر نفسه.
শীঘ্রই এই গ্রন্থ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

যখন সুলতান আবু ফারিস আবদুল আজিজ ইন্তেকাল করলেন এবং শাসনক্ষমতা উজির ইবনে গাজীর হাতে চলে এল—যিনি ছিলেন লিসানুদ্দিনের বন্ধু এবং সুলতানের এক শিশু পুত্র আবু জয়িয়ান মুহাম্মদ আস-সাঈদের অভিভাবক—তখন উজির সম্পর্কে নানাবিধ সমালোচনা শুরু হলো। কারণ তিনি এক শিশুকে আনুগত্যের শপথ (বায়াত) প্রদান করেছিলেন। আন্দালুস ও মাগরিবের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও বিরোধীরা বলতে লাগল যে, শিশুর জন্য বায়াত বৈধ নয়। তাই লিসানুদ্দিন তার বন্ধুর সমর্থনে "আ’মালুল আ’লাম ফী মান বুয়িআ ক্বাবলাল ইহতিলাম মিন মুলুকিল ইসলাম" (ইসলামের সেই রাজন্যবর্গ যাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে বায়াত প্রদান করা হয়েছিল তাদের কার্যাবলি) (১) নামক গ্রন্থটি রচনা করেন। তাতে তিনি আন্দালুসবাসীদের জবাবে বলেন: "যখনই আন্দালুসবাসী কোনো ছোট শিশুর বায়াত কিংবা কোনো সঙ্গী বা উজিরের প্রতিনিধিত্বকে অস্বীকার করে কোনো কথা বলেছে, তখনই তারা যেন অন্ধ ও বধির হয়ে গেছে। তারা ইনসাফ বা ন্যায়ের আঙিনায় পা রেখেও তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং অটল থাকতে পারেনি। তারা অন্যদের জন্য যে নীতি নির্ধারণ করেছিল, এখন তা নিয়েই তারা নিন্দা করছে।" (২)।

এই সবের মাঝেও ইবনে আহমার লিসানুদ্দিন ইবনুল খতিবকে হস্তান্তরের দাবি থেকে বিরত হননি। গ্রানাডা ও ফাস—এই দুই রাজদরবারের সম্পর্ক তখন তিক্ত হয়ে উঠেছিল, কারণ উজির ইবনে গাজী তার বন্ধুকে সুরক্ষা দিতে অনড় ছিলেন এবং তাকে শত্রুদের হাতে তুলে দিতে রাজি ছিলেন না। ইবনে জুমরুকের পত্রগুলো আবুল আব্বাস আল-মুসতানসির এবং তার উজির মুহাম্মদ ইবনে উসমানের কাছে পৌঁছাতে লাগল, যাতে তাকে বিদ্রোহ করতে এবং ৭৭৫ হিজরির মাঝামাঝি সময়ে শিশুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে প্ররোচিত করা হয়। ৭৭৬ হিজরির শুরুর দিকে আবুল আব্বাস এই আন্দোলনে জয়লাভ করেন। ফলে গ্রানাডা রাজদরবার যা চেয়েছিল তা সফল হলো। নতুন সুলতান লিসানুদ্দিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করলেন এবং এই খবর ইবনে আহমারের কাছে পাঠালেন। ইবনে আহমার তার লেখক ইবনে জুমরুককে ফাস-এ পাঠালেন। ইবনুল খতিবের বিরুদ্ধে একটি বিচার সভা ডাকা হলো যেখানে তাকে তিরস্কার করা হলো এবং সর্বসাধারণের সামনে নির্যাতন করা হলো। এরপর তার এক শত্রু সংগোপনে লোক পাঠিয়ে তাকে কারাগারে শ্বাসরোধ করে হত্যা করল এবং পরের দিন তার দেহ ফেলে রাখা হলো।

--------------------------------------------

(১) আল-মাক্বারি এর নামকরণ করেছেন: আ’লামুল আ’লাম বি-মান বুয়িআ মিন মুলুকিল ইসলাম ক্বাবলাল ইহতিলাম (নাফহুত তীব ৭: ১০৭)। এরপর তিনি নামটি সেভাবেই উল্লেখ করেছেন যেভাবে আমরা এখানে উল্লেখ করেছি (৯: ৩০৭)।

(২) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
وقد جمعت حول جثته أعواد أضرمت عليه نار فاحترق شعره واسودت بشرته ثم أعيد إلى حفرته، بمقبرة باب المحروق بمدينة فاس (1) .

- 3 -

قلت أن ابن الخطيب كان يكتب " الكتيبة الكامنة " في جمادى الآخرة من عام 774، وعمدتي في ذلك ما قاله هو في كتابه " الورقة: 85ب ": " وكل من ذكر إلى هذا الحد من المشايخ والإعراب، وقد تسابقوا تسابق العراب إلى التراب؟ ومن يجري ذكره بعد هذا فهم بقيد الحياة لتمام جمادى الآخرة عام أربعة وسبعين وسبعمائة ". وتدل مقدمته للكتاب أيضا على انه كتبه وهو في سن عالية، وانه كان قد تخلى عن الحياة السياسية واستكمل دوره: " واستوعبت من صحبة المغرب حصتي، وختمت بالدعاء قصتي، ونزلت عن منصتي، وابتلعت غصتي ".

لكن يبقى هنالك أشكالا لابد من أثارته، وهو أن لسان الدين ذكر كتابه: " الكتيبة الكامنة في أدباء المائة الثامنة " في ثبت كتبه الذي أورده في كتاب الإحاطة (2) . ونحن نعلم أن ابن الخطيب بدا تأليف الإحاطة في دور مبكر من حياته لعله يرقى إلى عام 755هـ؟. ألا أن هذا الأشكال ينتفي إذا نحن تذكرنا أن الإحاطة لم يكتب دفعة واحدة، فحتى سنة 763 كان ابن الخطيب قد جعله في مجلدات ستة،

--------------------------------------------

(1) تاريخ ابن خلدون 7: 341 والنفح 7: 38 - 39.

(2) النفح 8: 303.
তাঁর লাশের চারপাশে কাঠের টুকরো সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ফলে তাঁর চুল পুড়ে গিয়েছিল এবং গায়ের চামড়া কালো হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তাঁকে ফাস শহরের বাবুল মাহরূক গোরস্তানে তাঁর কবরে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় (১)।

- ৩ -

আমি বলেছি যে, ইবনুল খতীব ৭৭৪ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ মাসে "আল-কাতিবাতুল কামিনাহ" লিখছিলেন এবং এ বিষয়ে আমার ভিত্তি হলো তিনি তাঁর কিতাবের "পত্র: ৮৫খ"-এ যা বলেছেন: "এ পর্যন্ত যে সকল মাশায়েখ ও আরবদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কি কবরের মাটির দিকে আরবীয় ঘোড়ার মতো দ্রুত বেগে ধাবিত হয়েছে? আর এর পরে যাদের কথা উল্লেখ করা হবে, তারা ৭৭৪ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ মাসের সমাপ্তি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।" গ্রন্থটির ভূমিকাও একথার প্রমাণ দেয় যে, তিনি এটি বার্ধক্যে লিখেছিলেন এবং তখন তিনি রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ করে নিজের ভূমিকা সম্পন্ন করেছিলেন: "আমি মাগরিবের সাহচর্যে আমার অংশ পূর্ণ করেছি, দোয়ার মাধ্যমে আমার কাহিনীর সমাপ্তি টেনেছি, আমার মঞ্চ থেকে অবতরণ করেছি এবং আমার কষ্টগুলোকে হজম করেছি।"

তবে এখানে একটি সমস্যা থেকে যায় যা উত্থাপন করা প্রয়োজন, আর তা হলো লিসানুদ্দীন তাঁর গ্রন্থ তালিকায় "আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফি আদাবাইল মিআতিল ছামিনাহ" কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি "আল-ইহাতা" (২) গ্রন্থে এনেছেন। আমরা জানি যে, ইবনুল খতীব তাঁর জীবনের শুরুর দিকে "আল-ইহাতা" রচনা শুরু করেছিলেন, যা সম্ভবত ৭৫৫ হিজরীর দিকে হতে পারে। তবে এই সমস্যাটি দূর হয়ে যায় যদি আমরা মনে রাখি যে, "আল-ইহাতা" একবারে রচিত হয়নি; এমনকি ৭৬৩ হিজরী পর্যন্ত ইবনুল খতীব এটিকে ছয়টি খণ্ডে সমাপ্ত করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তারীখে ইবনে খালদুন ৭: ৩৪১ এবং আন-নাফহ ৭: ৩৮ - ৩৯।

(২) আন-নাফহ ৮: ৩০৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
قال ابن الأحمر: " ولما عاد ابن الخطيب إلى الأندلس بعودة جدنا الغني بالله تعالى ملكه عام ثلاثة وستين وسبعمائة، تلاحقت الفروع من كتاب الإحاطة بالأصول، أنجز من التبحر فيه الوعد الممطول، ووضعت بخناقاه سعيد السعداء النسخة المتممة من اثني عشر سفرا " (1) . وفي تراجم الإحاطة ما يشير إلى أن المؤلف ظل يضيف إليها حتى عام 771هـ ولا نستبعد أن يكون قد زاد فيها بعد ذلك وكان مما زاد في ترجمته بعض ما جد من كتبه بعد هجرته من الأندلس.

غير أن المقري بعد أن نقل أسماء كتبه من الإحاطة، عاد يقول: ولنذكر ما تأخر تاريخه عن الإحاطة أو أشير أليه فيها مجملا؟ وذكر في جملة هذه الكتب كتاب " الكتيبة الكامنة في شعراء المائة الثامنة "، فأنت ترى إن هذا الكتاب يذكر مرة الإحاطة ويذكر مرة في ما تأخر تأليفه عن الإحاطة مع تغيير في الاسم، ففي المرة الأولى ذكر كلمة " أدباء " وفي المرة الثانية لفظة " شعراء "، فهل الإشارة إلى كتابين أو كتاب واحد؟ أن لسان الدين لم يهتم في الكتاب الذي بين أيدينا بنثر من ترجم لهم وإنما اهتم بإيراد أمثلة من أشعارهم. ومع ذلك فإني استبعد أن يكون قد ألف كتابين باسم " الكتيبة الكامنة "، وإذا كان اهتمامه بالنثر قليلا فما ذلك ألا لأنه دون قسما كبير امن هذا النثر في كتبه الأخرى. أما تغيير العنوان والتصرف به بعض التصرف، فأمر مألوف كثيرا، وهاهو المقري نفسه يورد اسم الكتاب مرة ثالثة على النحو الآتي: " الكتيبة الكامنة في أبناء المائة الثامنة (2) ".

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه: 314، وهذه النسخة المذكورة قد أودعت في الخانقاه سنة 768هـ؟؟. (انظر النفح أيضا: 312) .

(2) النفح 7 - 66.
ইবনুল আহমার বলেন: "যখন ইবনুল খতিব আমাদের দাদা আল-গনি বিল্লাহ তা'আলার প্রত্যাবর্তনের সাথে তাঁর রাজত্বে সাতশত তেষট্টি হিজরি সালে আন্দালুসে ফিরে এলেন, তখন 'আল-ইহাতা' কিতাবের শাখাগুলো মূলের সাথে সংযুক্ত হলো, এতে গভীর অবগাহনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হলো এবং 'খানকাহে সাঈদ আস-সুয়াদা'-তে বারো খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিটি রাখা হলো" (১)। আর 'আল-ইহাতা'-র জীবনীগুলোতে এমন সব ইঙ্গিত রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, লেখক ৭৭১ হিজরি সাল পর্যন্ত এতে সংযোজন অব্যাহত রেখেছিলেন এবং আমরা এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিই না যে তিনি এর পরেও এতে বৃদ্ধি করেছিলেন; আর তিনি তাঁর নিজ জীবনীতে যা বৃদ্ধি করেছিলেন তার মধ্যে ছিল আন্দালুস থেকে হিজরতের পর তাঁর নতুন রচিত কিছু কিতাবের বিবরণ।

তবে আল-মাক্কারি 'আল-ইহাতা' থেকে তাঁর কিতাবসমূহের নাম উদ্ধৃত করার পর পুনরায় বলেন: "আর আমরা কি সেই সব কিতাবের কথা উল্লেখ করব যেগুলোর রচনকাল 'আল-ইহাতা'-র পরে, অথবা যেগুলোর প্রতি সেখানে সংক্ষেপে ইঙ্গিত করা হয়েছে?" এরপর তিনি এই কিতাবসমূহের মধ্যে "আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফি শুআরাইল মিয়াতিল সামিনাহ" কিতাবটির কথা উল্লেখ করেন। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, এই কিতাবটি একবার 'আল-ইহাতা'-তে উল্লিখিত হয়েছে এবং আরেকবার এর নাম পরিবর্তন করে 'আল-ইহাতা'-র পরবর্তী রচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমবার "সাহিত্যিকগণ" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়বার "কবিগণ" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, এখানে কি দুটি ভিন্ন কিতাব নাকি একটি কিতাবকেই নির্দেশ করা হয়েছে? আমাদের হাতের এই কিতাবটিতে লিসানুদ্দীন যাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন তাদের গদ্যের প্রতি গুরুত্ব দেননি, বরং তিনি তাদের কবিতার উদাহরণ উপস্থাপনের প্রতিই মনোযোগী ছিলেন। তা সত্ত্বেও, আমি এটি অসম্ভব মনে করি যে তিনি "আল-কাতিবাতুল কামিনাহ" নামে দুটি কিতাব রচনা করেছেন। আর গদ্যের প্রতি তাঁর মনোযোগ কম হওয়ার কারণ এটাই যে, তিনি এই গদ্যের একটি বিশাল অংশ তাঁর অন্যান্য কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর শিরোনাম পরিবর্তন এবং তাতে কিছুটা রদবদল করা একটি খুবই সাধারণ বিষয়। এই তো আল-মাক্কারি নিজেই তৃতীয়বার কিতাবটির নাম এভাবে উল্লেখ করেছেন: "আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফি আবনাইল মিয়াতিল সামিনাহ (২)"।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস: ৩১৪, আর উল্লিখিত এই অনুলিপিটি ৭৬৮ হিজরি সালে খানকাহে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল??। (নাফহুত তীব-ও দেখুন: ৩১২)।

(২) আন-নাফহ ৭ - ৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
ويبدو أن تأليف هذا الكتاب إنما اقترن بإزماع ابن الخطيب أن يؤدي فريضة الحج، وانه صرف إلى المشرق وجه، واخذ يمني النفس برؤية المشاهد الكريمة، والمعاهد التي طاب ثراها " نسأل الله أن يتم علينا فضله باحتلالها، وتسكين الأشواق في ضلالها " ثم يقول معتذرا عن هديته هذه التي يحتقبها إلى المشرق: " وان كان كل جالب مثل هذا إلى البلاد المشرقية - اعز الله اهلها، وامن حزنها وسهلها - جالب نغبة إلى غدير، وحبابة إلى كاس مدير " (1) . فالكتاب في صورته العامة " تقرير " يقدمه ابن الخطيب إلى المشارقة معرفا بشعراء الأندلس المعاصرين على مثال ما فعل ابن سعيد وابن اليسع وابن دحية من قبل: " فجمعت في هذا الكتاب جملة وافرة، وكتيبة ظافرة، ممن لقيناه في بلدنا الذي طوينا جديد العمر في ظله، وطاردنا قنائص الآمال في حرمه وحله ما بين من تلقينا أفادته، أو أكرمنا وفادته، وبين من علمناه وخرجناه، ورشحناه ودرجناه، ومن اصطفيناه ورعيناه، فما أضعناه " (2) . وفي هذه النية غرض كامن، تدل عليه هذه الكلمات المقتبسة، وذلك أن الكتاب شهادة لابن الخطيب نفسه، بما كان له من مكانة وما أثار من نشاط ادبي، وما أفاض على غيره من فضل، إذ يكاد يكون محور هذا الكتاب هو ابن الخطيب نفسه، ممدوحا أو متفضلا أو مثيرا إلى القول أو مواجها بنكران الجميل.

ثم أن لسان الدين كان قد كتب في عصر الشباب كتابه " التاج المحلى في مساجلة القدح المعلى " وفاته أن يذكر فيه بعض من لم يكن بلغه شئ

--------------------------------------------

(1) الورقة: 3ب.

(2) الورقة: 3 ا.
মনে হয় যে, এই গ্রন্থটি রচনার বিষয়টি ইবনুল খাতিবের হজ পালন করার দৃঢ় সংকল্পের সাথে যুক্ত ছিল। তিনি প্রাচ্যের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং পবিত্র স্থানসমূহ ও সুগন্ধিময় পুণ্যভূমিগুলো দেখার জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করতে শুরু করেছিলেন: "আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি সেখানে আমাদের অবস্থানের সুযোগ দিয়ে এবং সেগুলোর ছায়াতলে আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রশমিত করার মাধ্যমে আমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন।" অতঃপর তিনি প্রাচ্যের দিকে নিয়ে যাওয়া তাঁর এই উপহারের জন্য বিনয় প্রকাশ করে বলেন: "যদিও প্রাচ্যের দেশগুলোতে—আল্লাহ তাদের অধিবাসীদের সম্মানিত করুন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব ও সহজ করুন—এই ধরণের কিছু নিয়ে আসা অনেকটা জলাধারে এক চুমুক পানি কিংবা সুরাপাত্রে এক ফোঁটা পানীয় নিয়ে আসার মতোই।" (১)। সুতরাং গ্রন্থটি তার সাধারণ অবয়বে একটি "প্রতিবেদন", যা ইবনুল খাতিব প্রাচ্যের অধিবাসীদের কাছে তৎকালীন আন্দালুসিয়ার কবিদের পরিচয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে পেশ করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে ইবনে সাঈদ, ইবনুল ইয়াসা এবং ইবনে দিহ্ইয়া করেছিলেন: "আমি এই গ্রন্থে এক বিশাল সংকলন এবং এক বিজয়ী বাহিনী একত্রিত করেছি, যাদের সাথে আমাদের সেই দেশে সাক্ষাৎ হয়েছিল যার ছায়াতলে আমরা আমাদের যৌবন অতিবাহিত করেছি এবং যার পবিত্র ও উন্মুক্ত স্থানে আমরা আমাদের প্রত্যাশার মৃগয়া করেছি; তাদের মধ্যে কেউ আছেন যাদের কাছ থেকে আমরা জ্ঞান লাভ করেছি অথবা আমাদের কাছে এলে আমরা তাদের যথাযথ সমাদর করেছি, আবার কেউ আছেন যাদের আমরা শিক্ষা দিয়েছি ও গড়ে তুলেছি এবং যাদের আমরা যোগ্য হিসেবে ধাপে ধাপে উন্নীত করেছি, আর যাদের আমরা পছন্দ করেছি ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছি এবং কখনও অবহেলা করিনি।" (২)। এই সংকল্পের পেছনে একটি প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য ছিল, যা এই উদ্ধৃত শব্দগুলো থেকে স্পষ্ট হয়। আর তা হলো, এই গ্রন্থটি স্বয়ং ইবনুল খাতিবের একটি সাক্ষ্য, যা তাঁর মর্যাদা, তাঁর পরিচালিত সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড এবং অন্যদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের প্রকাশ ঘটায়; কেননা এই গ্রন্থের মূল কেন্দ্রবিন্দু যেন খোদ ইবনুল খাতিব নিজেই, যিনি কখনও প্রশংসিত, কখনও অনুগ্রহকারী, কখনও আলোচনার সূত্রপাতকারী অথবা কখনও অকৃতজ্ঞতার সম্মুখীন।

অতঃপর লিসানুদ্দিন তাঁর যৌবনকালে তাঁর গ্রন্থ "আত-তাজুল মুহাল্লা ফি মুসাজালাতিল কাদহিল মু'আল্লা" লিখেছিলেন, তবে তাতে এমন কিছু লোকের কথা উল্লেখ করতে তিনি বাদ পড়েছিলেন যাদের সম্পর্কে কোনো সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি পাতা: ৩ খ।

(২) পাণ্ডুলিপি পাতা: ৩ ক।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
من إنتاجه، أو من شب في خدمة الأدب، بعد تأليف ذلك الكتاب فجاء كتاب الكتيبة الكامنة زيادة تعريف أو صلة للكتاب الأول، وان اعتمد لسان الدين على التاج نفسه في ذكر بعض التراجم المكررة، كما اعتمد على كتاب له آخر اسمه " الإكليل الزاهر، فيما فضل عند نظم التاج من الجواهر " فكتاب الكتيبة مع هذين الكتابين ومع رابع سماه " النقابة بعد الكفاية " كلها تمثل جانبا من جهد ابن الخطيب في تراجم الشعراء وإيراد نماذج من أشعارهم. وتلتقي هذه الكتب الأربعة في أنها تعتمد السجع محاكاة لما صنعه الفتح ابن خاقان في القلائد والمطمحين (1) . على أني المح عاملا آخر قويا حدا على تأليف هذه الكتاب وهو رغبة لسان الدين في أن يعيد النظر في تقدير الأشخاص الذين تنكروا له مثل القاضي النباهي وابن فركون وابن زمرك وأبي القاسم بن قطبة الدوسي، وان يكيل لهم من الذم ما يشفي به بعض غليله، ويصحح آراءه التي سجلها فيهم من قبل في الإحاطة وغيرها من كتبه ورسائله، وحسبك أن تقارن مثلا بين ما كتبه في ظهير بتولية ابن الحسن القضاء وفي ترجمته له في الإحاطة وفي الإشارات التي دونها عنه في مواضع أخرى منها (2) وبين ترجمته في الكتيبة " لجعسوس " (3) حتى ترى مبلغ التغير الذي أصاب نظرة ابن الخطيب نحو صديق قديم، ومثل ذلك

--------------------------------------------

(1) انظر كلام المقري عن هذه الناحية في النفح 8: 326.

(2) انظر الظهير في النفح 7: 59، وقد ذكر ابن الحسن في ترجمته للسلطان محمد بن يوسف بن نصر (الإحاطة 2: 19) فقال: ثم قدم الفقيه القاضي الحسيب أبا الحسن علي عبد الله بن الحسن عين الأعيان ببلدة مالقة والمخصوص برسم التجلة والقيام بوظيفة العقد والحل بها في الدولة الأولى.. فسدد وقارب وحمل الكل واحسن فصاحة الخطبة واكرم المشيخة وارضى، واستشعر النزاهة، ولم يقف في حسن التاتي عند غاية؟ الخ.

(3) هي الترجمة رقم: 50 في هذا الكتاب.
তাঁর রচনার অন্তর্ভুক্ত, অথবা যারা সেই গ্রন্থটি রচনার পর সাহিত্যের সেবায় বেড়ে উঠেছেন, ফলশ্রুতিতে 'আল-কাতিবা আল-কামিনা' গ্রন্থটি প্রথম গ্রন্থের একটি অতিরিক্ত পরিচিতি বা সংযোজন হিসেবে এসেছে। যদিও লিসান আল-দিন কিছু পুনরাবৃত্ত জীবনী বর্ণনায় 'আত-তাজ' গ্রন্থের ওপরই নির্ভর করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর অন্য একটি গ্রন্থ যার নাম 'আল-ইকলিল আজ-জাহির, ফিমা ফাদালা ইনদা নাজম আত-তাজ মিনাল জাওয়াহির'—তার ওপরও নির্ভর করেছেন। সুতরাং 'আল-কাতিবা' গ্রন্থটি এই দুটি গ্রন্থের সাথে এবং চতুর্থ আরেকটি গ্রন্থ যাকে তিনি 'আন-নিকাবাহ বা’দাল কিফায়াহ' নামকরণ করেছেন—এই সবগুলোই কবিদের জীবনী এবং তাদের কবিতার নমুনা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনুল খাতিবের প্রচেষ্টার একটি দিককে প্রতিনিধিত্ব করে। এই চারটি গ্রন্থ আল-ফাতহ ইবনে খাকান তাঁর 'আল-কালায়িদ' এবং 'আল-মাতমাহাইন' (১) গ্রন্থে যা করেছিলেন, তারই অনুকরণে গদ্যছন্দ (সাজাউ) অবলম্বনের ক্ষেত্রে একীভূত হয়েছে। তবে আমি এই গ্রন্থটি রচনার পেছনে আরেকটি শক্তিশালী প্রভাব লক্ষ্য করছি, আর তা হলো লিসান আল-দিনের সেই সমস্ত ব্যক্তিদের মূল্যায়নের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করার আকাঙ্ক্ষা যারা তাঁর সাথে বিরূপ আচরণ করেছিলেন, যেমন কাজী আন-নাবাহী, ইবনে ফুরকুন, ইবনে জুমরুক এবং আবু আল-কাসিম ইবনে কুতবাহ আদ-দাওসি; এবং তাদের প্রতি এমন নিন্দা বর্ষণ করা যা তাঁর মনের ক্ষোভকে কিছুটা প্রশমিত করে, এবং 'আল-ইহাতা' ও তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ ও পত্রাবলিতে ইতিপূর্বে তাদের সম্পর্কে তিনি যে মতামত লিপিবদ্ধ করেছিলেন তা সংশোধন করা। আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আপনি তুলনা করে দেখুন উদাহরণস্বরূপ তিনি ইবনুল হাসানের বিচারক পদে নিয়োগের প্রশংসাপত্রে যা লিখেছেন, আর 'আল-ইহাতা' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে এবং অন্যান্য স্থানে তাঁর সম্পর্কে যে ইঙ্গিতগুলো দিয়েছেন (২), সেগুলোর সাথে 'আল-কাতিবা' গ্রন্থে 'জা’সুস' (৩)-এর জীবনীতে যা লিখেছেন তার তুলনা করলেই বুঝতে পারবেন জনৈক পুরনো বন্ধুর প্রতি ইবনুল খাতিবের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের মাত্রা কতটা প্রকট ছিল, এবং অনুরূপ বিষয়...

--------------------------------------------

(১) এই দিকটি সম্পর্কে নাফহ-এ আল-মাক্কারির বক্তব্য দেখুন ৮: ৩২৬।

(২) নাফহ ৭: ৫৯-এ নিয়োগপত্রটি দেখুন; ইবনুল হাসান সম্পর্কে তিনি সুলতান মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে নাসরের জীবনীতে (আল-ইহাতা ২: ১৯) উল্লেখ করে বলেছেন: "অতঃপর তিনি বিজ্ঞ ফকিহ ও বিচারক আবুল হাসান আলী আবদুল্লাহ ইবনুল হাসানকে মনোনীত করেন, যিনি মালাগা শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্যতম এবং প্রথম শাসনামলে সেখানে যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমাধানের দায়িত্বে বিশেষ সম্মানের সাথে নিয়োজিত ছিলেন... তিনি সঠিক পথে পরিচালিত হয়েছেন এবং ভারসাম্য বজায় রেখেছেন, সব দায়ভার বহন করেছেন এবং চমৎকার বাগ্মিতার সাথে খুতবা দিয়েছেন, বিজ্ঞজনদের সম্মান দিয়েছেন ও সন্তুষ্ট করেছেন, এবং সর্বদা সততা ও পবিত্রতা বজায় রেখেছেন, আর কর্মদক্ষতায় কোনো শেষ সীমানায় থেমে থাকেননি... ইত্যাদি।"

(৩) এটি এই গ্রন্থের ৫০ নম্বর জীবনী।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
موقفه من سائر الأشخاص الذين تنكروا له وتأمروا عليه. وإذا كان ابن الخطيب ملوما من الزاوية التاريخية فأولئك الأشخاص يتلقون قدرا مكافئا من اللوم. هذا ابن زمرك الذي حرق البخور الكثير على أعتاب أستاذه تحين كل فرصة بعد تغير الحال لينحي عليه بالذم في قصائده ويعرض به تقربا إلى السلطان، أنها أزمة لم تحرق ابن الخطيب وحده بنارها بل حرقت خصومه أيضا.

ترجم ابن الخطيب في كتاب الكتيبة الكامنة لثلاثة أشخاص ومائة جعلهم في قسمين كبيرين: الذين قضوا نحبهم قبل تأليف الكتاب (من رقم 1 84) والذين كانوا ما يزالون على قيد الحياة عند تأليفه (من رقم 85 - 103) . وفي هذه القسمة شئ من التجوز فان بعض الذين ترجم لهم في القسم الأول وعاشوا بعد وفاة الخطيب نفسه مثل القاضي النباهي. ثم قسم المترجمين حسب ما غلب على كل واحد منهم فجاءوا في الطبقات آلاتية:

1 - طبقة الخطباء والصوفية (1 - 19) وحظهم في الإجادة قليل.

2 - طبقة المقرئين والمدرسين (20 - 30) وهم اقل شانا من الطبقة السابقة في باب الشعر.

3 - طبقة القضاة (31 - 54) وهي طبقة منحطة في البيان لاقتصار مداركها على علوم الأديان ويندر فيها المجيد.

4 - طبقة من خدم أبواب الأمراء من الكتاب والشعراء (55 - 103) وربما كانوا متميزين بالإجادة اكثر من أفراد الطبقات السابقة.

وإذا قارنا هذا العدد بما احتواه " التاج المحلى " وجدنا أن الكتيبة تنقص عن التاج بمقدار سبعة تراجم، فهل هذا كل ما أدرجه لسان الدين في الكتيبة؟ أن النسخ التي اعتمدناها في تحقيقها لا تختم بشيء يشير إلى
অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর অবস্থান যারা তাঁকে অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে যদি ইবনুল খাতিবকে দোষারোপ করা হয়, তবে ঐ ব্যক্তিরাও সমপরিমাণ দোষারোপের যোগ্য। এই ইবনু যামরাক, যিনি তাঁর শিক্ষকের দরবারে অনেক চাটুকারিতা করেছেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন তাঁর কবিতায় তাঁকে নিন্দা করতে এবং সুলতানের নৈকট্য লাভের জন্য তাঁর সমালোচনা করতে। এটি ছিল এমন এক সংকট যা কেবল ইবনুল খাতিবকেই তাঁর আগুনে দগ্ধ করেনি, বরং তাঁর বিরোধীদেরও দগ্ধ করেছে।

ইবনুল খাতিব 'আল-কাতিba আল-কামিনা' গ্রন্থে একশত তিন জন ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁদের দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন: যারা গ্রন্থটি রচনার পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন (১ থেকে ৮৪ নম্বর) এবং যারা গ্রন্থটি রচনার সময় জীবিত ছিলেন (৮৫ থেকে ১০৩ নম্বর)। এই বিভাজনে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, কারণ প্রথম ভাগে যাঁদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাঁদের কেউ কেউ খোদ ইবনুল খাতিবের মৃত্যুর পরেও জীবিত ছিলেন, যেমন কাযী আন-নুবাহি। অতঃপর তিনি জীবনীকারদের তাঁদের প্রধান বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভক্ত করেছেন, যা নিম্নোক্ত স্তরে বিন্যস্ত হয়েছে:

১ - খতীব এবং সূফীগণের স্তর (১ - ১৯); এবং সাহিত্যিক নৈপুণ্যে তাঁদের ভাগ সামান্য।

২ - ক্বারী এবং শিক্ষকগণের স্তর (২০ - ৩০); কবিতার ক্ষেত্রে তাঁরা পূর্ববর্তী স্তরের চেয়েও নিম্নমানের।

৩ - বিচারকগণের (কাযী) স্তর (৩১ - ৫৪); অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে এটি একটি অনুন্নত স্তর, কারণ তাঁদের জ্ঞান কেবল ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তাঁদের মধ্যে দক্ষ ব্যক্তি বিরল।

৪ - লেখক এবং কবিদের মধ্য থেকে যারা আমীরদের দরবারে কর্মরত ছিলেন তাঁদের স্তর (৫৫ - ১০৩); এবং তাঁরা সম্ভবত পূর্ববর্তী স্তরগুলোর ব্যক্তিদের তুলনায় অধিকতর নৈপুণ্যের অধিকারী ছিলেন।

যদি আমরা এই সংখ্যাটিকে "আত-তাজ আল-মুহাল্লা"-তে যা রয়েছে তার সাথে তুলনা করি, তবে দেখতে পাই যে "আল-কাতিবা" গ্রন্থে "আত-তাজ" অপেক্ষা সাতটি জীবনী কম রয়েছে। তাহলে লিসানুদ্দীন কি আল-কাতিবা গ্রন্থে কেবল এইটুকুই উল্লেখ করেছেন? আমরা এর সম্পাদনার (তাহকীক) ক্ষেত্রে যেসব পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, সেগুলো এমন কোনো কিছুর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়নি যা নির্দেশ করে যে...
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
نهاية الكتاب، وقد ورد في هامش آخر ورقة من النسخة ك: " يوجد في الأصول المكتوب منها بطرتها ما نصه: " إلى هنا توجد هذه الكتيبة ولعل مؤلفها اخترمته المنية قبل تمامها، والله تعالى اعلم ". لعل لسان الدين لم يشغل عن إتمام الكتيبة لأنه عاش ليكتب لعدها أعمال الأعلام، وإنما تقاعس عن إتمامها لان رحلته إلى المشرق لم تتم، وفترت حماسته بفقدان الغاية الأولى التي ألف الكتاب من اجلها: ثم إذا صح أن نسخ الكتيبة جميعا تقف عند الترجمة رقم: 103 فلعل المؤلف شاء أن يتركها دون خاتمة لأنه عهد إلى ابنه عبد الله أن يكملها فقد قال في ترجمة ابنه هذا: " فحسبي أن اقدم منه على تذييل هذا الكتاب بعدي وكيلا، يوفي منه مكيلا، وينكل الحسدة تنكيلا " (1) .

- 4 -

وإذا كان كتاب الكتيبة، لقيامه على السجع، قليل الفائدة من الناحية التاريخية الأخبارية، إذا نحن قارناه بكتاب الإحاطة، فانه يقدم لنا صورة عن جانب من الحياة الأدبية في القرن الثامن بالاندلس، وعن الاتجاهات التي كان الشعر يسلكها حينئذ، وإذا لمس القارئ ضعف النماذج الأدبية فليذكر أن هذا الشعر حصيلة القرن الثامن، وليحاول أن يستعيد إلى ذاكرته صورة الشعر في هذا القرن في المشرق نفسه، فانه يكون حينئذ اقرب إلى الأنصاف في حكمه.

--------------------------------------------

(1) انظر الترجمة رقم: 94.
বইয়ের সমাপ্তি; 'কাফ' পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার টীকায় বর্ণিত হয়েছে: "মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর প্রচ্ছদে পাঠটি এভাবে রয়েছে: 'এই কাতিবা গ্রন্থটি এই পর্যন্তই বিদ্যমান, সম্ভবত এর লেখক এটি সম্পন্ন করার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ'। সম্ভবত লিসানুদ্দীন আল-খতিব এটি সম্পন্ন করতে অসমর্থ ছিলেন না, কারণ তিনি এর পরেও 'আ'মালুল আ'লাম' লেখার জন্য জীবিত ছিলেন। বরং তিনি এটি সমাপ্ত করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন কারণ তার প্রাচ্য সফর পূর্ণ হয়নি এবং যে প্রাথমিক উদ্দেশ্যে তিনি বইটি লিখেছিলেন তা হারিয়ে যাওয়ায় তার উৎসাহ স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর যদি এটি সঠিক হয় যে 'কাতিবা'র সকল পাণ্ডুলিপি ১০৩ নম্বর জীবনীতে এসে থেমে গেছে, তবে হতে পারে লেখক এটি কোনো উপসংহার ছাড়াই রেখে দিতে চেয়েছিলেন; যেহেতু তিনি তার পুত্র আবদুল্লাহকে এটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি তার এই পুত্রের জীবনীতে বলেছেন: 'আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আমার পরে এই গ্রন্থের পরিশিষ্ট রচনার জন্য তাকে প্রতিনিধি হিসেবে পেশ করছি, যে এর প্রাপ্য যথাযথভাবে পূর্ণ করবে এবং হিংসুকদের কঠোরভাবে দমন করবে' (১)।

- ৪ -

যদিও 'কাতিবা' গ্রন্থটি অনুপ্রাসযুক্ত গদ্যশৈলীর (সাজ') ওপর ভিত্তি করে রচিত হওয়ায় ঐতিহাসিক তথ্যের বিচারে 'আল-ইহাতা' গ্রন্থের তুলনায় কম ফলপ্রসূ, তবুও এটি আমাদের সামনে অষ্টম শতাব্দীর আন্দালুসের সাহিত্যিক জীবনের একটি দিক এবং তৎকালীন কবিতার গতিধারা সম্পর্কে একটি চিত্র উপস্থাপন করে। পাঠক যদি সাহিত্যিক নিদর্শনের মধ্যে কোনো দুর্বলতা খুঁজে পান, তবে তার মনে রাখা উচিত যে এই কবিতা অষ্টম শতাব্দীর ফসল; আর তিনি যদি প্রাচ্যের তৎকালীন কবিতার চিত্রটি নিজের স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, তবে তিনি তার বিচারে ইনসাফের নিকটবর্তী হতে পারবেন।

--------------------------------------------

(১) জীবনী নম্বর ৯৪ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وليس يستقل كتاب الكتيبة الكامنة بإعطاء صورة عن الأدب الأندلسي حينئذ لأنه ليس إلا حلقة واحدة من عدة حلقات إذا نحن جمعناها معا تكاملت جوانب الصورة أصبحت أتم وأوضح، ومن تلك الحلقات مؤلفات لسان الدين الأخرى كالتاج والإكليل والنقاية والإحاطة وعائد الصلة ونفاضة الجراب. ولكن لسان الدين لا يستقل بالإحساس بعصره وبالتوفر على تدوين ظواهره الأدبية - وان تميز بالإكثار من ذلك - بل لعل القرن الثامن في الأندلس والمغرب كان عصر هذا الشعور بالتاريخ المعاصر يومئذ ولابد لمن شاء أن يستكمل صورته من الوقوف على حلقات أخرى تمثلها المؤلفات الآتية:

1 - فهرسة أبي عبد الله الحضرمي.

2 - فهرسة أبي زكريا السراج.

3 - المؤتمن في أنباء من لقيه من أبناء الزمن لأبي البركات ابن الحاج.

4 - نثير فرائد الجمان في من نظمني وإياه الزمان لابن الأحمر.

5 - تراجم المعاصرين من أبناء القرن الثامن في مراقبة العليا للنباهي ومزية المرية لابن خاتمة.

6 - كتب مفردة في التراجم مثل " التعريف بابن خلدون ورحلته شرقا وغربا " لابن خلدون نفسه، والبقية والمدرك من شعر ابن زمرك لابن الأحمر، وتنبيه الساهي على طرف النباهي، وخلع الرسن في أمر القاضي ابن الحسن لابن الخطيب، وأشباهها. هذا عدا الكتب التاريخية الجامعة الهامة.

وبين هذه الحلقات لابد أن يكون للكتيبة الكامنة مقامه في دراسة الحياة الأدبية بالأندلس والمغرب في القرن الثامن الهجري.
তৎকালীন আন্দালুসি সাহিত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য কেবল 'আল-কাতিবাতুল কামিনাহ' গ্রন্থটিই যথেষ্ট নয়; কেননা এটি বিভিন্ন পর্যায়ের একটি পর্যায় মাত্র। আমরা যদি সেগুলোকে একত্রে সন্নিবেশ করি, তবেই চিত্রের সকল দিক পূর্ণতা পায় এবং তা অধিকতর সম্পূর্ণ ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই পর্যায়গুলোর মধ্যে লিসানুদ্দীনের অন্যান্য রচনাও রয়েছে, যেমন: আত-তাজ, আল-ইকলীল, আন-নুকায়াহ, আল-ইহাতা, আইদুস সিলাহ এবং নুফাদাতুল জিরাব। তবে লিসানুদ্দীন একা তাঁর যুগকে উপলব্ধি করার এবং তার সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে একক নন—যদিও তিনি এই কাজে প্রচুর অবদানের কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী—বরং সম্ভবত আন্দালুস ও মাগরিবে অষ্টম হিজরি শতাব্দী ছিল তৎকালীন সমসাময়িক ইতিহাসের এই অনুভূতির যুগ। যে ব্যক্তি এই চিত্রটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চান, তাকে অবশ্যই নিম্নলিখিত গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত অন্যান্য পর্যায়গুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করতে হবে:

১ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাদরামীর ফাহরাসাত।

২ - আবু জাকারিয়া আস-সাররাজের ফাহরাসাত।

৩ - আবু বারাকাত ইবনুল হাজ্জের ‘আল-মুতামান ফী আনবায়ি মান লাকিয়াহু মিন আবনায়িয যামান’।

৪ - ইবনুল আহমারের ‘নাথীরু ফারা’ইদিল জুমান ফী মান নাযামানীল ওয়া ইয়াহুয যামান’।

৫ - আন-নুবাহীর ‘মুরাকাবাতুল উলিয়া’ এবং ইবনে খাতিমার ‘মাযিয়াতুল মারিয়া’-তে উল্লিখিত অষ্টম শতাব্দীর সমসাময়িক ব্যক্তিদের জীবনী।

৬ - জীবনী বিষয়ক স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ, যেমন: ইবনে খালদুন কর্তৃক স্বীয় জীবনী ‘আত-তারীফ বি-ইবনি খালদুন ওয়া রিহলাতুহু শারকান ওয়া গারবান’, ইবনুল আহমার রচিত ইবনে যুমরাকের কবিতার অবশিষ্টাংশ ‘আল-বাকিয়্যাহ ওয়াল মুদরিক মিন শি’রি ইবনি যুমরাক’, ‘তানবীহুস সাহী আলা তারাফিন নুবাহী’, ইবনুল খতিব রচিত ‘খাল’উর রাসান ফী আমরিল কাদী ইবনিল হাসান’ এবং এই জাতীয় অন্যান্য গ্রন্থ। এগুলো ছাড়াও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থসমূহ।

এই পর্যায়গুলোর মধ্যে অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে আন্দালুস ও মাগরিবের সাহিত্যিক জীবন পর্যালোচনায় 'আল-কাতিবাতুল কামিনাহ' গ্রন্থের একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وقد قمت بتحقيق هذا الكتاب على ثلاث نسخ:

(1) النسخة " ك " وهي رقم 2291 بالمكتبة الكتانية. كتبت بخط مغربي واضح وجميل، مشكول بعض الشكل، جيدة الضبط وعلى هامشها رواية من نسخة أخرى تتفق في بعض صورها مع النسخة التالية، وتقع في212 صفحة. تحتوي كل صفحة على 21 سطرا، والبياض فيها قليل. وقد اعتمدتها في اغلب القراءات.

(2) النسخة " د " وهي رقم 132 بالخزانة العامة بالرباط، وخطها مغربي جميل، وتقع في 211 صفحة وهي أيضا جيدة الضبط، ولولا أن النقص في مواطن منها اكثر مما هو في الأولى لكانت أحق أن تعتمد.

(3) النسخة " ج " وهي رقم 56ج بالخزانة العامة بالرباط، وتقع في 235 صفحة، وتتفق مع ك كثيرا، إلا إن المواضع التي تعسر قراءتها من ك قد تركت فيها بياضا، لذلك كانت اقل قيمة من النسختين السابقتين، ولعلها اشتركت مع ك في الأصل الذي نقلت عنه النسختان.

وبعد أن قمت بالمقارنة بين النسختين عرضت الكتاب على المصادر المتيسرة وزودته بالتعليقات التي وجدتها لازمة. راجيا بتقديمه المشاركة بشيء من الجهد المتواضع في بعث اثر من آثار ابن الخطيب، التي تمثل " مكتبة " كاملة، تستحق العناية والاهتمام والنشر العلمي المحقق.

إحسان عباس
আমি এই গ্রন্থটি তিনটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদনা করেছি:

(১) পাণ্ডুলিপি "কাফ", যা কাত্তানিয়া লাইব্রেরির ২২৯১ নম্বর পাণ্ডুলিপি। এটি স্পষ্ট ও সুন্দর মাগরেবি হস্তাক্ষরে লিখিত, আংশিক হরকতযুক্ত এবং অত্যন্ত নির্ভুল। এর পার্শ্বটীকায় অন্য একটি পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর রয়েছে যা পরবর্তী পাণ্ডুলিপির সাথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ২১২ পৃষ্ঠাব্যাপী। প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি লাইন রয়েছে এবং এতে ফাঁকা জায়গা খুব কম। অধিকাংশ পাঠান্তরের ক্ষেত্রে আমি এরই ওপর নির্ভর করেছি।

(২) পাণ্ডুলিপি "দাল", যা রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারের ১৩২ নম্বর পাণ্ডুলিপি। এর হস্তাক্ষর সুন্দর মাগরেবি শৈলীর এবং এটি ২১১ পৃষ্ঠাব্যাপী। এটিও যথেষ্ট নির্ভুল; যদি এর বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি প্রথম পাণ্ডুলিপির চেয়ে বেশি না হতো, তবে এটিই পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য হতো।

(৩) পাণ্ডুলিপি "জিম", যা রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারের ৫৬-জ নম্বর পাণ্ডুলিপি। এটি ২৩৫ পৃষ্ঠাব্যাপী এবং "কাফ" পাণ্ডুলিপির সাথে অনেকাংশেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে "কাফ" পাণ্ডুলিপির যেসব অংশ পাঠ করা দুঃসাধ্য ছিল, এখানে সেসব স্থান ফাঁকা রাখা হয়েছে। একারণেই পূর্বের দুটি পাণ্ডুলিপির তুলনায় এর মান কিছুটা কম। সম্ভবত এই পাণ্ডুলিপি ও "কাফ" পাণ্ডুলিপি একই মূল উৎস থেকে অনুলিপি করা হয়েছে।

পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনা করার পর আমি গ্রন্থটিকে লভ্য উৎসগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন করেছি। এই বিনীত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি ইবনে আল-খতিবের জ্ঞানভাণ্ডারের একটি নিদর্শন পুনরুজ্জীবিত করার আশা রাখছি, যা একটি পূর্ণাঙ্গ "লাইব্রেরি" স্বরূপ এবং বিশেষ যত্ন, মনোযোগ ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ সম্পাদনার পর প্রকাশের দাবি রাখে।

ইহসান আব্বাস
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌مراجع التحقيق

الإحاطة في أخبار غر ناطة ج؟ 1 تحقيق الأستاذ محمد عبد الله عنان ط. دار المعارف بمصر.

الإحاطة في أخبار غر ناطة (الجزء1، 2) ط. مصر 1329.

أعمال الإعلام تحقيق الأستاذ ل. بروفنسال، ط. بيروت 1955.

اللمحة البدرية في الدولة النصرية ط. السلفية 1347.

أزهار الرياض (1 - 3) للمقري تحقيق الأستاذ السقا والابياري وشلبي، لجنة التأليف 1939، 1942.

نفح الطيب (1 - 10) للمقري بعناية الشيخ محيي الدين عبد الحميد، المكتبة التجارية 1949.

الديباج المذهب لابن فرحون ط. مصر.

نيل الابتهاج (على هامش الديباج) .

نيل الابتهاج للتنبكي ط، فاس.

بغية الوعاة للسويطي ط. الخانجي بمصر.

المرقبة العليا للنباهي تحقيق الأستاذ ل. بروفنسال، ط. دار الكاتب المصري.

الدرر الكامنة لابن حجر. ط. حيدر آباد الدكن.

التعريف بابن خلدون ورحلته شرقا وغربا تحقيق الأستاذ محمد بن تاويت الطنجي ط. لجنة التأليف 1951.

رحلة البلوي المسماة تاج المفرق في تحلية علماء المشرق (نسخة خطية رقم 1075 جغرافيا بدار الكتب المصرية) .

مسالك الأبصار للعمري (ج11) نسخة خطية رقم 2797 بمكتبة طوبقبو سراي.
সম্পাদনার তথ্যসূত্রসমূহ

আল-ইহাতা ফি আখবার গারনাতা, ১ম খণ্ড, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইনান কর্তৃক সম্পাদিত, দারুল মাআরিফ, মিশর।

আল-ইহাতা ফি আখবার গারনাতা (১ম ও ২য় খণ্ড), মিশরীয় সংস্করণ ১৩২৯ হিজরি।

আমালুল আলাম, অধ্যাপক লেভি প্রোভেনসাল কর্তৃক সম্পাদিত, বৈরুত সংস্করণ ১৯৫৫।

আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ ফিদ দাওলাতিন নাসরিয়্যাহ, আস-সালাফিয়্যাহ সংস্করণ ১৩৪৭ হিজরি।

আল-মাক্কারি রচিত আজহারুর রিয়াদ (১ - ৩), অধ্যাপক আস-সাক্কা, আল-আবিয়ারি ও শালবি কর্তৃক সম্পাদিত, রচনা কমিটি ১৯৩৯, ১৯৪২।

শায়খ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদের তত্ত্বাবধানে আল-মাক্কারি রচিত নাফহুত তিব (১ - ১০), আল-মাকতাবাতুত তিজারিইয়াহ ১৯৪৯।

ইবনে ফারহুন রচিত আদ-দিবাজুল মুযাহহাব, মিশরীয় সংস্করণ।

নাইলুল ইবতিহাজ (আদ-দিবাজ-এর পার্শ্বটীকায়)।

আত-তিমবুকতি রচিত নাইলুল ইবতিহাজ, ফাস সংস্করণ।

সুয়ূতি রচিত বুগয়াতুল উয়াত, মিশরের আল-খানজি প্রকাশনী।

আন-নাবাহি রচিত আল-মারকাবাতুল উলিয়া, অধ্যাপক লেভি প্রোভেনসাল কর্তৃক সম্পাদিত, দারুল কাতিব আল-মিসরি প্রকাশনী।

ইবনে হাজার রচিত আদ-দুরারুল কামিনাহ, হায়দ্রাবাদ ডেকান সংস্করণ।

অধ্যাপক মুহাম্মদ বিন তাউয়িত আত-তানজি কর্তৃক সম্পাদিত আত-তারিফ বি-ইবনে খালদুন ওয়া রিহলাতুহু শারকান ওয়া গারবান, রচনা কমিটি সংস্করণ ১৯৫১।

বালউয়ি-এর সফরনামা যা 'তাজুল মাফরিক ফি তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক' নামে পরিচিত (মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ১০৭৫ নং ভৌগোলিক পাণ্ডুলিপি)।

আল-উমরি রচিত মাসালিকুল আবসার (১১শ খণ্ড), তোপকাপি প্রাসাদ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ২৭৯৭ নং পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد واله وسلم

(اللهم الإعانة على التمام بجاه سيد الأنام، عليه افضل الصلاة وأزكى السلام) (1) .

--------------------------------------------

(1) هامش ك.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

(হে আল্লাহ, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার অসিলায় পূর্ণতা লাভের জন্য আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক) (১)।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'কাফ'-এর পার্শ্বটীকা।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الحمد لله الذي جعل الأدب في جميع ما للفنون من الأسواق، فاكهة شهية الأذواق، تهدى في الأطباق، مكللة بالإحداق، وريحانا عطر الانتشاق، في أنوف عشاق الكمال واكرم بأولئك العشاق، وجعل بينه وبين النفوس الرقاق نسبا ثابت الاستحقاق، والصلاة والسلام على مولانا محمد رسوله سيد ولد آدم على العموم والإطلاق، الذي أوتى جوامع الكلم ومكارم الأخلاق، والرضى عن أصحابه واله نجوم ملته الباهرة الاشراق، لهداية الطراق، ما أقامت الذكرى أسواق الأشواق، فضاقت عن الزفرات مسالك الاطواق، وما خفقت جوانح القلوب من الاشفاق، عند هبوب النسيم الخفاق.

أما بعد فأنني لما استوفيت اوطاري، واستكملت أدواري، وتشوفت ظلمي إلى مطالع انواري، واستوعبت من صحبة المغرب حصتي، وختمت بالدعاء قصتي، ونزلت عن منصتي، وابتلعت [2ب] غصتي، ومن بعد أن لبست دنياه فاخلقت، وبنيت بمبانيه المشيدة وطلقت، ولبيت بمواقيت جهاده واهللت، وحللت من ملوكه حيث حللت، ومن مأزق العربدة تسللت، واستعادتي الدنيا فتجنيت وتعللت، وأخبرتها أني قد مللت وأملت، ولم يبق للشهرة مرقب إلا ركزت فيه راية خافقة، ولا للفخر مذهب إلا كتبت فيه أية ناطقة، حمدا لربي الغني الحميد، المنوه بالعدم حتى يذكر، المشيد به فتراه يحمد ويشكر، ويعرف فلا ينكر، صرفت إلى المشرق وجهي والعشية قد ضقت، والعمرة قد أفاقت
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিভিন্ন শিল্পকলার বাজারে সাহিত্যকে করেছেন আস্বাদনে এক সুস্বাদু ফল, যা থালায় করে উপহার দেওয়া হয়, যা দৃষ্টির নিবিড়তায় সুশোভিত এবং যা পূর্ণতাকামী প্রেমিকদের নাসিকায় এক সুগন্ধি ফুল; আর ধন্য সেই প্রেমিককুল! তিনি সাহিত্যের সাথে কোমলমনাদের এক সুদৃঢ় ও ন্যায্য সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বতোভাবে আদম সন্তানদের সরদার; যাঁকে দান করা হয়েছে জাওয়ামিউল কালিম (অল্প কথায় ব্যাপক অর্থপূর্ণ কথা) এবং মহান চারিত্রিক মাধুর্য। আরও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক তাঁর সাহাবী ও পরিজনদের ওপর, যারা তাঁর মিল্লাতের উজ্জ্বল দীপ্তিময় নক্ষত্র—পথিকদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য; যতদিন স্মৃতির পাতায় আকাঙ্ক্ষার বাজার সজীব থাকবে, দীর্ঘশ্বাসে কণ্ঠনালীর পথ সংকীর্ণ হবে এবং মৃদু পবনের হিল্লোলে হৃদয়ের কোণগুলো আশঙ্কায় স্পন্দিত হবে।

অতঃপর, আমি যখন আমার সকল উদ্দেশ্য পূর্ণ করলাম, আমার ভূমিকার সমাপ্তি ঘটালাম এবং আমার অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকগুলো আলোকময় উদয়স্থলের দিকে ধাবিত হলো; যখন আমি মাগরিবের (পাশ্চাত্যের) সাহচর্য থেকে আমার প্রাপ্য অংশটুকু গ্রহণ করলাম, প্রার্থনার মাধ্যমে আমার কাহিনীর ইতি টানলাম, আমার উচ্চাসন থেকে অবরোহণ করলাম এবং আমার বিষাদ গিলে ফেললাম [২খ]। পার্থিব জগতের পোশাক পরিধান করার পর যখন তা জীর্ণ করে ফেললাম, এর সুউচ্চ অট্টালিকাগুলো নির্মাণের পর যখন তা বর্জন করলাম, এর জিহাদের সময়গুলোতে যখন আমি সাড়া দিলাম ও উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলাম, এর রাজন্যবর্গের সান্নিধ্যে যেখানে আমার অবস্থান করার ছিল সেখানে করলাম এবং বিশৃঙ্খলার গোলযোগ থেকে সুকৌশলে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। দুনিয়া আমাকে পুনরায় ফিরে পেতে চাইল, কিন্তু আমি ওজর পেশ করলাম ও টালবাহানা করলাম এবং তাকে জানিয়ে দিলাম যে আমি ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছি। খ্যাতির এমন কোনো উচ্চবিন্দু বাকি নেই যেখানে আমি বিজয়ী পতাকা উড্ডীন করিনি এবং গৌরবের এমন কোনো পথ বাকি নেই যেখানে আমি কোনো কথা বলা নিদর্শন লিপিবদ্ধ করিনি। প্রশংসা আমার সেই প্রতিপালকের জন্য যিনি অভাবমুক্ত ও চিরপ্রশংসিত; যিনি অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন যেন তাঁকে স্মরণ করা হয়, যাকে তিনি মহিমান্বিত করেন ফলে তাকে প্রশংসিত ও কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ দেখা যায় এবং যাকে চেনা যায় ও অস্বীকার করা যায় না। আমি প্রাচ্যের দিকে মুখ ফিরালাম এমতাবস্থায় যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছিল এবং জীবন সজাগ হয়ে উঠেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
والخوف من توقع القواطع شديد، ومجال التقية من فوات البقية (1) عريض مديد، لكن الأمل يشب مع الشبيبة، وعين الحريص تعمى عن تصور الخيبة، والطمع يحث على انتهاز الفرصة، قبل أفول القرصة، والنفس تقول: قنعنا ولو بإلمام، وطل عن غمام، وبسلام من طويل كلام، ومن لنا بالنظر إلى تلك الوجوه المشرقة المقسمات، السافرة عن كرائم السمات، من قبل الممات، واجتلاء تلك المعاهد التي طاب ثراها، والمشاهد التي راق مراها، نسأل الله تعالى أن يتم علينا فضله باحتلالها، وتسكين الأشواق في ظلالها، ويقر العيون باجتلاء جمالها، والنفوس ببلوغ آمالها، من خير (1) كمالها.

ولما وقع العزم، وكاد يحذف العلل الجزم، وكاد الرسم أن يطوق القادم محل وسطه بتحفة قدوم، إن رائحة محروم، على قدر حاله، ووسيع انتحاله، وبضائع رحاله، وموازين خصبه أو امحاله، فتح بين يديه أبواب الأدلال قبل الاختلال، وتسبب الوسائل إلى أمد الكمال، ومطاوي الآمال، وكنا ارقنا بقايا المزاد، ونفضنا [3 ا] ؟ (3)

في الطريق فضلات الزاد، وردنا على الدنيا بعد الشبع من طحين ثفالها، وملء اليدين من ثقالها، ما بقي من أوضاع احتفالها، ورفعنا مخفف القماش فوق اكفالها، وأزمعنا وداعها طوعا لا اضطرارا، وأقرضنا صاغتها فرارا وازورارا، ولم نتبع حولها الالتفات، ولا أغرينا - والحمد لله - الندم على ما فات، فجعلت الهدية، من جنس ما تتشوف إليه النفوس الغنية، وتتجر في أسواقه الهمم السنية، من

--------------------------------------------

(1) ج: البغية.

(1) ج: البغية.

(3) بياض بقدر كلمة في د ج ك.
প্রতিবন্ধকতাগুলোর আশঙ্কায় ভয় অত্যন্ত তীব্র, আর যা অবশিষ্ট আছে তা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে সতর্কতার ক্ষেত্রটি বেশ বিস্তৃত। তবে তারুণ্যের সাথে সাথে আশাও বৃদ্ধি পায় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষীর চোখ ব্যর্থতার কল্পনা করতে অন্ধ হয়ে যায়। লোভ সুযোগ কাজে লাগাতে প্ররোচিত করে, সূর্যের চাকতি অস্ত যাওয়ার পূর্বেই। নফস বলে: আমরা অল্পতেই তুষ্ট, হোক তা সামান্যতম সাক্ষাৎ, কিংবা মেঘমালা থেকে ঝরে পড়া মৃদু শিশিরবিন্দু, অথবা দীর্ঘ বাক্যালাপের পরিবর্তে কেবল সালাম। মৃত্যুর আগে সেই উজ্জ্বল ও সুশ্রী চেহারাগুলোর দিকে তাকানোর সুযোগ আমাদের কে দেবে, যা মহৎ গুণাবলি প্রকাশ করে? এবং সেই সকল পুণ্যময় স্থান দর্শনে যার মাটি সুগন্ধযুক্ত এবং সেই সকল দৃশ্যপটে যা নয়নাভিরাম। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সেখানে আমাদের অবস্থানের সুযোগ দিয়ে আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন, তাদের ছায়ায় আমাদের আকুলতাকে প্রশমিত করেন এবং তাদের সৌন্দর্য অবলোকনের মাধ্যমে আমাদের চক্ষুসমূহ শীতল করেন এবং তাদের কল্যাণের পূর্ণতা লাভের মাধ্যমে আত্মাগুলোকে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে দেন।

যখন সংকল্প দৃঢ় হলো এবং দৃঢ়তা অজুহাতগুলোকে বিলীন করে দিল, আর প্রথা অনুযায়ী যখন আগন্তুকের উপহার প্রদানের সময় ঘনিয়ে এল—যা মূলত একজন বঞ্চিত ব্যক্তির উপঢৌকন স্বরূপ, তার সামর্থ্য অনুযায়ী, তার বিস্তৃত সংশ্লিষ্টতা, সফরের আসবাবপত্র এবং তার প্রাচুর্য বা অভাবের মানদণ্ড অনুযায়ী—তখন বিশৃঙ্খলার পূর্বেই তার সামনে অনুগ্রহ ও নৈকট্যের দ্বার খুলে গেল এবং পূর্ণতার শিখর ও আকাঙ্ক্ষার সোপানগুলোর দিকে পৌঁছানোর উপায়গুলো তৈরি হলো। আমরা আমাদের মশকের অবশিষ্টাংশ ঢেলে দিয়েছিলাম এবং [৩ ক] ? (৩) পথের মধ্যে পাথেয় বা খাদ্যের অবশিষ্টাংশ ঝেড়ে ফেলেছিলাম। দুনিয়ার তুচ্ছ পেষণজাত খাদ্যে পরিতৃপ্ত হওয়ার পর এবং এর ভারি বোঝা দ্বারা হাত পূর্ণ করার পর, তার অবশিষ্ট চাকচিক্যের আকর্ষণে আমরা পুনরায় ফিরে এলাম। আমরা হালকা আসবাবপত্র বাহনের পিঠে তুলে নিলাম। আমরা বাধ্য হয়ে নয়, বরং স্বেচ্ছায় দুনিয়াকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। একে পরিহার করে এবং এর প্রতি বিমুখ হয়ে এর কারিগরদের বা মোহে আবিষ্টদের আমরা ত্যাগ করলাম। এর প্রতি আমরা ভ্রুক্ষেপ করিনি এবং যা গত হয়েছে তার জন্য—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—আমরা অনুশোচনায় লিপ্ত হইনি। অতঃপর উপহারটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হলো যার প্রতি সম্পদশালী আত্মাগুলো ব্যাকুল থাকে এবং যার বাজারে উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো ব্যবসা পরিচালনা করে...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি ‘জিম’: অভীষ্ট।

(১) পাণ্ডুলিপি ‘জিম’: অভীষ্ট।

(৩) পাণ্ডুলিপি ‘দাল’, ‘জিম’ ও ‘কাফ’-এ এক শব্দ পরিমাণ শূন্যস্থান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وضع يستطرف، أو اختراع إليه يستشرف، واثر يدل على طور المتسول، وطريقة المتعرف المسترسل، يظهر منه مصرف عنايته، وشرح كنايته، وبيان دعايته، ومرعى رعايته، ويتبين ما وراء صحيفته من عنوانه، ويخبر بذلك عن تفصيل ديوانه، وينوب مكتوبه عن لسانه، فيما ينتحل من احسانه، فجمعت في هذا الكتاب جملة وافرة، وكتيبة ظافرة، مما لقيناه ببلدنا الذي طوينا جديد العمر في ظله، وطاردنا قنائص الآمال في حرمه وحله، ما بين من تلقينا أفادته، أو أكرمنا وفادته، وبين من علمناه وخرجنا، ورشحناه ودرجناه، ومن اصطفيناه ورعيناه، فما أضعناه، بعد أن وصفنا كل واحد منهم وحليناه، وبما تولاه الله تعالى توليناه، إذ لا يلزمنا أن ننحل الكمال لمن لم يكمله مكمل الذوات، ومخول الادوات، فننتحل الكذب لغير ضرورة مبيحة، ونتحمل المشقة لا لتجارة ربيحة، والمقصود إنما هو إلمام بتعريف، وجلب أدب ظريف، وخبر طريف، بل التماس إنعام ممن يقف عليه وتشريف، وان ينظر النقص بعين كماله، ويعذر المهدي في تقصيره واسهاله، فالله تعالى لا يكلف العبد من أعماله فوق احتماله.

وسميت هذا الوضع بالكتيبة الكامنة فيمن لقيناه [3ب] بالأندلس من شعراء المائة الثامنة، يستدل به من يباشره، على نبل من كنا نعاشره، ويقف من يدارسه، على فضل من كنا نمارسه، وان كان جالب مثل هذا إلى البلاد المشرقية اعز الله اهلها، وامن حزنها وسهلها، جالب نغبة إلى غدير، وحبابة إلى كاس مدير، فالعذر إلى الوسع مصروف، ولا تجود (1) يد إلا بما تجد بمثل معروف، ولو كانت

--------------------------------------------

(1) ج ك: ولا تجد.
এটি একটি বিরল উপস্থাপনা, অথবা এমন এক উদ্ভাবন যার দিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিবদ্ধ হয়, এবং এমন এক নিদর্শন যা একজন সত্যান্বেষীর অবস্থা ও সাবলীল জ্ঞানান্বেষীর পথের পরিচয় দেয়। এর মাধ্যমে তাঁর মনোযোগের ক্ষেত্র, রূপকধর্মী বক্তব্যের ব্যাখ্যা, তাঁর প্রচারণার স্বরূপ এবং লালন-পালনের ক্ষেত্র স্পষ্ট হয়। এর শিরোনাম হতেই এর পত্রসমূহের অভ্যন্তরে কী রয়েছে তা ফুটে ওঠে এবং তা তাঁর কাব্যসমগ্রের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে। তাঁর লিখনী তাঁর জিহ্বার স্থলাভিষিক্ত হয়ে তাঁর কৃত অনুগ্রহসমূহ বর্ণনা করে। আমি এই গ্রন্থে একটি বিশাল সংগ্রহ এবং এক বিজয়ী বাহিনী সংকলিত করেছি—তাদের মধ্য হতে যাদের সাথে আমাদের সেই দেশে সাক্ষাৎ হয়েছে যার ছায়াতলে আমরা আমাদের জীবনের নব বসন্ত অতিবাহিত করেছি এবং যার পবিত্র ও সাধারণ সর্বত্র আমরা আমাদের আশারূপ শিকারের অন্বেষণ করেছি। তাদের মধ্যে কেউ এমন যাদের থেকে আমরা জ্ঞান অর্জন করেছি অথবা যাদের আগমনে আমরা আতিথেয়তা প্রদান করেছি; আবার কেউ এমন যাদের আমরা শিক্ষা দিয়েছি ও বের করে এনেছি, যাদের আমরা যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলেছি ও ক্রমান্বয়ে উন্নীত করেছি, এবং যাদের আমরা মনোনীত করেছি ও তত্ত্বাবধান করেছি, ফলে আমরা তাদের অবহেলা করিনি। আমরা তাদের প্রত্যেকের গুণাবলি বর্ণনা ও অলংকৃত করার পর এবং মহান আল্লাহ তাদের সাথে যে আচরণ করেছেন তদনুযায়ী আচরণ করার পর এটি সম্পন্ন করেছি। কেননা আমাদের জন্য এটি আবশ্যক নয় যে, যিনি সত্তাসমূহের পূর্ণতাদানকারী এবং যোগ্যতাসমূহ প্রদানকারী, তিনি যাকে পূর্ণতা দান করেননি তার ওপর আমরা পূর্ণতা আরোপ করব। ফলে আমরা কোনো সংগত আবশ্যকতা ছাড়া মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করি না এবং কোনো অলাভজনক ব্যবসার জন্য কষ্ট স্বীকার করি না। প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো কেবল একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান, মার্জিত সাহিত্য ও চমৎকার সংবাদ উপস্থাপন করা; বরং এর পাঠকের নিকট থেকে অনুগ্রহ ও সম্মানের প্রত্যাশা করা, এবং তিনি যেন ত্রুটিকে স্বীয় পূর্ণতার দৃষ্টিতে দেখেন এবং লেখককে তাঁর সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য মার্জনা করেন। কারণ আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকেই তার সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব অর্পণ করেন না।

আমি এই সংকলনের নামকরণ করেছি ‘আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকীনাহু বিল-আন্দালুস মিন শুআরাইল মায়াতাস সামিনাহ’ (অষ্টম শতাব্দীর আন্দালুসের কবিদের মধ্যে আমরা যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি তাদের বিষয়ে লুকায়িত বাহিনী)। এর পাঠক এর মাধ্যমে আমরা যাদের সাথে ওঠাবসা করতাম তাদের মহানুভবতা সম্পর্কে প্রমাণ পাবেন এবং এর শিক্ষার্থী আমরা যাদের সংস্পর্শে ছিলাম তাদের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করবেন। যদিও এই ধরণের বিষয় প্রাচ্যের দেশগুলোতে—আল্লাহ এর অধিবাসীদের সম্মানিত করুন এবং এর দুঃখ-কষ্ট ও কাঠিন্য দূর করে সহজ করুন—নিয়ে আসা হচ্ছে ঠিক যেন সরোবরে এক ঢোক পানি অথবা আবর্তিত পেয়ালায় একটি বুদবুদ নিয়ে আসার মতো। সুতরাং সাধ্য অনুযায়ী ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়েছে; আর হাত যা পায় তা-ই কেবল সৌজন্যের সাথে দান করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) জ, ক: পায় না।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الهدايا التي تجلب إلى أبوابهم، لالتزام ثوابهم، يشترط فيها المماثلة لمحالهم (1) العالية، والمناسبة لأقدارهم الغالية، لسد الباب، وعجزت الالباب، وتقطعت؟ ونعوذ بالله تعالى؟ تلك الأسباب، ومثلهم على المسامحة جبل، وقد أهدت قبرة إلى سليمان عليه السلام جرادة فقبل، وهم أهل المزايا الفاخرة (2) ، وأولو الدنيا والآخرة، ومعدن الكمال، ومعرف وجوه الآمال، وصل الله لهم عوائد الاجلال، ومتعهم بما وهبهم من حسن الخلق وفضل الخلال.

وقد كنت جمعت في الزمان (3) المنصرم، قبل أن يرسل الله تعالى على شبابنا سيل العرم، وقبل ان يعتاض الشباب بحال الهرم وقلق البرم، مائة شاعر وعشرة، وسميته بالتاج المحلى في مساجلة القدح المعلى، وربما تخلل ذلك من تأخر عن مولدي أجله، ممن أرحله عن الوطن (4) عجله، وبلغني مرواه ومرتجله، وربما دعوت إلى هذا المدعى بعض من حضر الأول، وألقيت بيده ما كان من الحلي قد تحول، أو شذ نادر لا يعتد به ممن لم أحقق وفاته، ورامه هذا الغرض فما فاته، وهاأنا أنسقهم على ترتيب مقرر، وتبويب محرر، وأضيف الرجل إلى ما غلب عليه من انتحال، وعرف به في كل حال، وألاحظ أحوالهم بحسب الزمان والمكان، وأقرب ذلك جهد الإمكان، إنشاء الله [4ا] تعالى.

--------------------------------------------

(1) ك: الصلوح بمحالهم، ج: بمحالهم وفي مكان " المماثلة " بياض.

(2) ك: المفاخرة.

(3) في الزمان: سقطت من ك.

(4) ج: الطريق.
যেসব উপহার তাঁদের দরবারে নিয়ে আসা হয়, তাঁদের সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে, তাতে শর্ত হলো তাঁদের উচ্চ মর্যাদার (১) সাথে সাদৃশ্য থাকা এবং তাঁদের মূল্যবান সম্মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া; যাতে (অযোগ্যদের) দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বুদ্ধি-বিবেক অপারগ হয়ে যায় এবং সব উপায়-উপকরণ ছিন্ন হয়ে যায়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই। তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিগণ সহজাতভাবেই ক্ষমাশীল। যেমন একটি চড়ুই পাখি সুলায়মান আলাইহিস সালামের নিকট একটি ফড়িং উপহার দিয়েছিল এবং তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা গৌরবময় বৈশিষ্ট্যের (২) অধিকারী, দুনিয়া ও আখিরাতের অধিপতি, পূর্ণতার খনি এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। আল্লাহ তাঁদের সম্মানের ধারা অব্যাহত রাখুন এবং তাঁদেরকে যে সুন্দর চরিত্র ও শ্রেষ্ঠ গুণাবলি দান করেছেন, তা দ্বারা তাঁদেরকে উপকৃত করুন।

আমি গত হওয়া সময়ে (৩), মহান আল্লাহ আমাদের যৌবনের ওপর বিধ্বংসী বন্যা প্রেরণের আগে এবং যৌবনের পরিবর্তে বার্ধক্যের জরা ও অস্থিরতা আসার আগে, একশত দশজন কবিকে একত্র করেছিলাম। আমি এর নাম দিয়েছিলাম ‘আত-তাজুল মুহাল্লা ফী মুসাজালাতিল ক্বদহিল মুআল্লা’। মাঝেমধ্যে সংকলনের ভেতরে এমন ব্যক্তিদের কথাও এসেছে যাদের মৃত্যু আমার জন্মের পরে হয়েছে, যাদেরকে দ্রুততা স্বদেশ (৪) থেকে সরিয়ে দিয়েছিল এবং যাদের মুখে বলা ও তাৎক্ষণিকভাবে রচিত কবিতা আমার কাছে পৌঁছেছে। কখনো কখনো আমি এই সংকলনে এমন কিছু ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছি যারা প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের হাতে সেই অলংকার তুলে দিয়েছি যা পরিবর্তিত হয়েছিল। অথবা এমন কোনো বিরল ব্যক্তি যার মৃত্যু আমি নিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি, অথচ সে এই লক্ষ্যটি অর্জন করতে চেয়েছিল এবং তা থেকে বঞ্চিত হয়নি। এখন আমি তাঁদেরকে একটি নির্ধারিত ক্রম এবং পরিমার্জিত অধ্যায় অনুযায়ী সাজাচ্ছি। আমি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাঁর সেই পরিচয়ের সাথে যুক্ত করছি যা তাঁর ওপর প্রবল ছিল এবং যার মাধ্যমে তিনি সর্বাবস্থায় পরিচিত ছিলেন। আমি কাল ও পাত্র ভেদে তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করব এবং মহান আল্লাহ চাইলে [৪-আ] যথাসম্ভব তা কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করব।

--------------------------------------------

(১) কাফ: তাঁদের অবস্থানের স্থায়িত্ব; জিম: তাঁদের অবস্থানে, এবং "সাদৃশ্য" শব্দের স্থানে শূন্যস্থান রয়েছে।

(২) কাফ: গৌরবগাথা।

(৩) ‘গত হওয়া সময়ে’ অংশটি কাফ পাণ্ডুলিপি থেকে পড়ে গেছে।

(৪) জিম: পথ।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
- 1 -

فمن الخطباء الفصحاء، والصوفية الصلحاء:

قلت: وهذه الطبقة أهلها أعلام سراوة ومجادة، وفرسان (1) مرقى وسجادة، وليسوا بحجة في إجادة، إلا من جرى منهم مجرى إفادة في وفادة، ومظنة الإجادة في هذا الكتاب، هم طبقات الشعراء والوزراء والكتاب.

1 - الخطيب الصالح أبو جعفر احمد بن محمد بن خميس الأنصاري

كان هذا الرجل في بلده مقلة بها يبصر، ولسانا يسهب ببلاغته ويختصر، ويستعدى ويستنصر؛ شأنه عجاب، ودعاؤه مستجاب، ووجوه (2) فضله لا يعوق عن اجتلائها حجاب، وورعه لا تقرب الشبهات حماه، واجتهاده لا يبلغ مرماه، وكان له أدب يقتحم حمى الإجادة، وتزين حلاه حلل الدين والمجادة، فمن ذلك قوله:

يا أخي اقبل وصيتي لك أني … قد خبرت الورى على التحقيق لا تؤمل مهما استطعت سوى الله ولا تتكل على مخلوق … بل تحفظ من كل ما دب فوق الأرض وأحذر منهم بكل طريق … ورض النفس بالقناعة واليأس من الناس تحظ بالتوفيق …

إنما الناس في زمانك يا … صاح فريق مغرى بضر فريق (3)

--------------------------------------------

(1) ج: وبرهان.

(2) ج ك: وجوه وفي هامش ك: ووجوه من نسخة.

(3) ج ك: والبيت متاخر عن الذي يليه في د.
- 1 -

বাগ্মী বাগ্মীগণ এবং নেককার সুফিদের মধ্য হতে:

আমি বলি: এই স্তরের ব্যক্তিগণ হলেন আভিজাত্য ও মহত্ত্বের নিদর্শন এবং আধ্যাত্মিক সোপান ও জায়নামাজের অশ্বারোহী (১); তবে যারা কোনো প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ফায়দা প্রদানের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়েছেন তারা ব্যতীত অন্যদেরকে কাব্যপ্রতিভার বিচারে দলীল হিসেবে গণ্য করা যায় না। আর এই কিতাবে কাব্যিক উৎকর্ষের প্রত্যাশিত স্থান হলো কবি, উজির এবং লেখকবৃন্দের স্তরসমূহ।

1 - নেককার খতিব আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন খামিস আল-আনসারী

এই ব্যক্তি তাঁর জনপদে চোখের মণির ন্যায় ছিলেন যার দ্বারা সকলে পথ দেখত এবং তিনি ছিলেন এমন এক জিহ্বা যা নিজ বাগ্মিতার মাধ্যমে কখনও বিস্তারিত বর্ণনা করত আবার কখনও সংক্ষিপ্ত করত, এবং যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য ও বিজয় প্রার্থনা করত; তাঁর অবস্থা ছিল বিস্ময়কর, তাঁর দোয়া ছিল কবুলযোগ্য এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের (২) দিকগুলো দর্শনে কোনো আবরণ বাধা হয়ে দাঁড়াত না। তাঁর তাকওয়া ও পরহেজগারির সীমানায় কোনো সংশয় নিকটবর্তী হতে পারত না এবং তাঁর সাধনার লক্ষ্যবস্তু নাগালে পাওয়া সহজ ছিল না। তাঁর এমন সাহিত্য প্রতিভা ছিল যা উৎকর্ষের চারণভূমিতে সগৌরবে প্রবেশ করত এবং তাঁর ভূষণসমূহ দ্বীন ও মর্যাদার অলঙ্কারে সুশোভিত ছিল। তারই কিছু অংশ হলো তাঁর এই উক্তি:

হে আমার ভাই! আমার অসিয়ত গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই আমি … সৃষ্টিজগতকে গভীরভাবে পরীক্ষা করেছি। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহ ব্যতীত কারো নিকট আশা করো না এবং কোনো সৃষ্টির ওপর ভরসা করো না … বরং ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী থেকে নিজেকে রক্ষা করো এবং প্রতিটি পথে তাদের থেকে সতর্ক থাকো … আর নফসকে অল্পে তুষ্টির মাধ্যমে অনুগত করো এবং মানুষের নিকট থেকে নিরাশ হও, তবেই তুমি তাওফিক লাভে ধন্য হবে …

হে বন্ধু! তোমার এই যামানার মানুষ তো কেবল এমন এক দল … যারা অন্য দলের ক্ষতি সাধনে প্রলুব্ধ (৩)

--------------------------------------------

(১) 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এবং দলীল।

(২) 'জিম' ও 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'দিকসমূহ' এবং 'কাফ'-এর টীকাতে রয়েছে: অন্য একটি পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী 'এবং দিকসমূহ'।

(৩) 'জিম' ও 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে: এই পঙক্তিটি 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে এর পরের পঙক্তির পরে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
فادر اكؤس المداراة حلما … لعدو مبارز وصديق واجعل الزاد يا مسافر تقوى الله واجعل هداه أولى طريق … وقال رحمة الله عليه:

عليك بأعمال القناعة والرضى … بما قدر الرحمن إن كنت ذا حلم

ولو لم يكن للمرء في مقتضاهما … من الخير إلا راحة القلب والجسم وقال رحمة الله عليه (1) :

[4ب] إذا لم يكن للمرء مال فما له … لعمرك عند الناس قدر ولا حظ

وان هو أبدى حكمة وبلاغة … وفصل خطاب لم يحسن له لفظ وقال أيضا رحمه الله تعالى:

قوام العيش في جدة وأمن … وصحة إنها أقصى الأماني

وأوفاهن للدارين أمن … فوال السعي في طلب الأماني 2 - الخطيب الصالح أبو اسحق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن [أبي] العاصي (2) التنوخي رحمه الله تعالى (3) :

سابق في حلبة العلم والدين، بشهادة تلك الميادين، رأى الله تعالى تقلب وجهه الوجيه في الساجدين، فوسمه بسمة الهادين المهتدين، اغربت طريف (4)

--------------------------------------------

(1) ج: رحمة الله عليه.

(2) في الأصول: ابن العاصي والتصحيح عن الإحاطة ونيل الابتهاج.

(3) أصله من جزيرة طريف، رحل منها سنة 671 وحل بسبتة ثم عاد إلى الأندلس، واستوطن غرناطة وكتب عن السلطان، وتولى الخطابة والإمامة بجامعها عام 726، ولقي قبولاً عظيماً. ترجم له ابن الخطيب في عائد الصلة والإحاطة 1: 382 (1: 218) وانظر نيل الابتهاج: 37 (ص 10 ط. فاس) وبغية الوعاة: 185.

(4) طريف: يعني جزيرة طريف في جنوب الأندلس على بحر الزقاق، قريبة من الجزيرة الخضراء.
সহিষ্ণুতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রু ও বন্ধুর প্রতি সদাচরণের পেয়ালাগুলো ঘুরিয়ে দাও … হে মুসাফির! আল্লাহর তাকওয়াকে তোমার পাথেয় করো এবং তাঁর হেদায়েতকে প্রধান পথ হিসেবে গ্রহণ করো … এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:

যদি তুমি প্রজ্ঞাবান হও, তবে দয়াময় (আল্লাহর) নির্ধারিত ফয়সালার ওপর অল্পে তুষ্টি ও সন্তুষ্টির আমল করা তোমার জন্য আবশ্যক …

যদি এই দুটির দাবি অনুযায়ী চলার মধ্যে অন্তর ও দেহের প্রশান্তি ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ নাও থাকত (তবে সেটিই যথেষ্ট ছিল) … এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন (১):

[৪খ] যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদ না থাকে, তবে তোমার জীবনের কসম! মানুষের নিকট তার কোনো মর্যাদা বা অংশ নেই …

যদিও সে প্রজ্ঞা ও সাবলীলতা প্রকাশ করে … এবং চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করে, তবুও তার কথা তাদের কাছে সুন্দর মনে হবে না। এবং তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আরও বলেন:

সচ্ছলতা, নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্যের মধ্যেই জীবনের স্থায়িত্ব … এগুলোই হলো আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমা।

আর উভয় জগতের জন্য এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো নিরাপত্তা … তাই আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো অন্বেষণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও। ২ - নেককার খতিব আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন [আবি] আল-আসি (২) আত-তানুখি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) (৩):

ইলম ও দ্বীনের ময়দানে তিনি এক অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব, সেই ময়দানগুলোই এর সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ তাআলা সিজদাকারীদের মাঝে তাঁর সম্মানিত চেহারার বিচরণ প্রত্যক্ষ করেছেন, অতঃপর তাঁকে পথপ্রদর্শক ও হেদায়েতপ্রাপ্তদের চিহ্নে চিহ্নিত করেছেন। তারিফ (শহরটি) থেকে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হলো (৪)

--------------------------------------------

(১) জ: তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: ইবনুল আসি; আর সংশোধনটি আল-ইহাতা এবং নাইলুল ইবতিহাজ থেকে নেওয়া হয়েছে।

(৩) তাঁর আদি নিবাস তারিফ দ্বীপে; তিনি সেখান থেকে ৬৭১ হিজরিতে যাত্রা করেন এবং সেউটাতে অবস্থান করেন, অতঃপর আন্দালুসে ফিরে আসেন এবং গ্রানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি সুলতানের পক্ষ থেকে সরকারি চিঠিপত্র লিখতেন এবং ৭২৬ হিজরিতে সেখানকার কেন্দ্রীয় মসজিদে খতিব ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেন এবং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। ইবনুল খতিব ‘আইদ আস-সিলাহ’ এবং ‘আল-ইহাতা’ ১: ৩৮২ (১: ২১৮) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন। আরও দেখুন: নাইলুল ইবতিহাজ: ৩৭ (১০ পৃষ্ঠা, ফাস সংস্করণ) এবং বুগইয়াতুল উয়াত: ১৮৫।

(৪) তারিফ: অর্থাৎ আন্দালুসের দক্ষিণে সমুদ্রপ্রণালীর তীরে অবস্থিত জাজিরাতু তারিফ (তারিফ দ্বীপ), যা আল-জাজিরাতুল খাদরার নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
منه بطرفة رائقة ورغبت منه في رغيبة (1) فائقة، وقذف بحرها منه بدرة (2) بزينة الحضرة لائقة، فاتخذها دارا وملا هالتها ابدارا، وصعد منبرها تجلو الخطوب خطبه، ويهز جذعه فيتساقط رطبه، وحمل نفسه على الجود بالحاضر الموجود، لا يلفي شيئا إلا بذله، غي مصغ إلى من عذله، فجلب إليه (3) القلوب واستمالها، ولم يدع غاية إلا استمى لها، وكان يلم بيسير الأبيات، ويبدي جيادها رائقة الشياة، فمن ذلك قوله رحمة الله عليه (4) :

اعمل بعلمك تؤت حكما إنما … جدوى علوم المرء نهج الأقوم

وإذا الفتى قد نال علما ثم لم … يعمل به فكأنه لم يعلم وقال أيضا رحمه الله تعالى وقد احسن:

دنياك مهما اعتبرت فيها … كجيفة عرضة انتهاب

إن شئتها فاحتمل أذاها … واصبر عليها مع الكلاب (5آ) وقال موطئا على البيت الأخير: (5)

أمولاي أنت الكريم العفو … لبذل النوال وللمعذره

علي ذنوب وتصحيفها … ومن عندك الجود والمغفره

--------------------------------------------

(1) ك: برغيبة.

(2) ك ج: في درة.

(3) د: فجلب الله إليه.

(4) البيتان في الإحاطة 1: 384 وبغية الوعاة: 186.

(5) البيتان في الإحاطة 1: 385 ورواية الأول: أنت الغفور الكريم.
তার থেকে এক চমৎকার দৃষ্টি এবং আমি তার কাছে এক অনন্য আকাঙ্ক্ষা পোষণ করলাম। আর তার জ্ঞান-সমুদ্র থেকে এমন এক মুক্তা বিচ্ছুরিত হলো যা রাজকীয় সভার শোভার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। তিনি একে আবাস হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং এর পরিমণ্ডলকে পূর্ণিমার চাঁদসমূহ দ্বারা পূর্ণ করলেন। তিনি এর মিম্বরে আরোহণ করলেন, যেখানে তার ভাষণসমূহ বিপদ-আপদ দূর করে দেয়; তিনি এর কাণ্ড নাড়া দিলেন আর তা থেকে পাকা তাজা খেজুর ঝরতে লাগল। বর্তমান যা কিছু বিদ্যমান আছে তা অকাতরে দান করার মাধ্যমে তিনি নিজেকে উদারতার অভ্যস্ত করে তুললেন। যা কিছু তিনি পেতেন তা বিলিয়ে দিতেন, কোনো নিন্দুকের তিরস্কারে কর্ণপাত করতেন না। এভাবে তিনি মানুষের অন্তরসমূহকে নিজের দিকে আকৃষ্ট ও বিমোহিত করলেন। তিনি এমন কোনো উচ্চতর লক্ষ্য বাকি রাখেননি যার পানে তিনি অগ্রসর হননি। তিনি অল্প কিছু কাব্যগাথাও রচনা করতেন এবং সেগুলোর চমৎকার শিল্পসৌকর্য ফুটিয়ে তুলতেন। তার মধ্য থেকে তার (আল্লাহ তার ওপর দয়া করুন) এই উক্তিটি অন্যতম:

তোমার ইলম অনুযায়ী আমল করো, তবেই তোমাকে হিকমত দান করা হবে; কেননা … মানুষের ইলমের প্রকৃত সার্থকতা হলো সরল ও সঠিক পথে চলা।

যখন কোনো যুবক জ্ঞান অর্জন করে কিন্তু সে অনুযায়ী … আমল করে না, তবে সে যেন কিছুই জানল না। আর তিনি (আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দয়া করুন) আরও বলেছেন এবং কতই না চমৎকার বলেছেন:

তোমার এই দুনিয়াকে তুমি যেভাবে বিবেচনা করো না কেন, … তা যেন এক দুর্গন্ধযুক্ত মৃতদেহ যা লুণ্ঠনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

যদি তুমি তা পেতে চাও, তবে এর কষ্ট সহ্য করো … আর কুকুরদের সাথে থেকে এর ওপর ধৈর্য ধারণ করো। (৫আ) শেষ পঙক্তিটির ভূমিকা স্বরূপ তিনি আরও বলেছেন: (৫)

হে আমার রব! আপনিই তো দান ও ক্ষমার জন্য … পরম করুণাময় ও মার্জনাদানকারী।

আমার ওপর পাপের বোঝা এবং সেগুলোর কালিমা রয়েছে, … আর আপনার নিকট থেকেই আসে বদান্যতা ও ক্ষমা।

--------------------------------------------

(১) কাফ: এক আকাঙ্ক্ষায়।

(২) কাফ, জিম: এক মুক্তার মধ্যে।

(৩) দাল: আল্লাহ তার দিকে (হৃদয়সমূহকে) আকৃষ্ট করেছেন।

(৪) পঙক্তি দুটি আল-ইহাতা ১: ৩৮৪ এবং বুগইয়াতুল উয়াত: ১৮৬-তে বর্ণিত।

(৫) পঙক্তি দুটি আল-ইহাতা ১: ৩৮৫-তে বর্ণিত এবং প্রথমটির পাঠ হলো: আপনিই তো ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
3 - الخطيب (1) الصالح أبو جعفر احمد بن الحسن بن علي الكلاعي المعروف بابن الزيات (2) رحمه الله ونفع (3) به آمين:

رحلة الوطن، وملقى العطن (4) ، وخبيئة العناية التي لا يعثر عليها إلا أهل الفطر السليمة والفطن، والخطيب الذي إذا نطق اخرس سحبان، وإذا رجح خف متالع وأبان (5) وإذا تاوه بذكر الله تعالى تأرج الهندي والبان، والولي الذي تضرب آباط مطيها إليه الركبان، حثا في وجوه السابقين ثانيا من عنان سيره، وجمع من شروط الخطابة ما تفرق في غيره، صورة أنشأها الله في احسن تقويم، ومجتلى احب إلى العيون من سنة التنويم، ولسانا يرمي البلابل بالعي، ويوقفها إذا ادعت نسب الفصاحة موقف الدعي، وخشوعا يعلم غلاظ الكبود معاملة المعبود، ونغمة بالسبع المثاني، تزري (6) بنغمات المثالث والمثاني، وصدقا يصدع بوعظه الصخر، وانشاء يتمم هذا الفخر، إلى الحفظ الأقوى، والانفراد بإحراز قصب السباق في مجال البر والتقوى. وهذه الشروط قلما اجتمعن في سواه، ولا اطعن إلا خافق لواه، وكان يتدفق بالشعر تدفق البحر

--------------------------------------------

(1) بياض بقدر كلمة في ج.

(2) من أهل بلش مالقة كان صوفيا وقورا، حسن الشيمة، يعرب لفظه إذا تكلم، خطيبا قديرا، وله عدة تصانيف. توفي ببلش سنة 728، ترجم لسان الدين له في عائد الصلة والإحاطة 1: 265 (152) وانظر بغية الوعاة: 131.

(3) ك: ونفعنا.

(4) ج: الظعن.

(5) متالع وأبان، جبلان ذكرهما الشاعر بقوله: درس المنا بمتالع فابان (ديوان لبيد) .

(6) تزري: سقطت من د.
৩ - খতিব (১) সৎকর্মশীল আবু জাফর আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী আল-কালা'য়ী, যিনি ইবনুল জাইয়াত (২) নামে পরিচিত, আল্লাহ তাকে রহম করুন এবং তার দ্বারা উপকার করুন (৩), আমীন:

স্বদেশের যাত্রা এবং আবাসের মিলনস্থল (৪), এবং সেই ঐশ্বরিক যত্নের গুপ্তধন যা কেবল সুস্থ স্বভাব এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই খুঁজে পায়। তিনি সেই খতিব, যিনি কথা বললে সাহবান নির্বাক হয়ে যেত, আর যখন তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন, তখন মুতালি' এবং আবান (৫) পাহাড়ও তুচ্ছ হয়ে যেত। আর যখন তিনি মহান আল্লাহর স্মরণে আহাজারি করতেন, তখন ভারতীয় চন্দন এবং সুগন্ধি বৃক্ষের সুবাস ছড়িয়ে পড়ত। তিনি সেই ওলী, যার কাছে পৌঁছানোর জন্য আরোহীরা তাদের বাহনগুলোর বগল দুলিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে আসত। তিনি তার চলার লাগাম টেনে পূর্ববর্তীদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন এবং খুতবার সেই সব শর্তাবলী নিজের মধ্যে একত্রিত করেছেন যা অন্যদের মাঝে বিক্ষিপ্ত ছিল। এমন এক অবয়ব যা আল্লাহ সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছেন, এবং এমন এক দৃশ্য যা চোখের কাছে তন্দ্রার আবেশের চেয়েও অধিক প্রিয়। এমন এক জিহ্বা যা বুলবুলি পাখিদের নির্বাক করে দেয়, আর যখন তারা বাগ্মিতার বংশমর্যাদা দাবি করে, তখন তাদের জালিয়াতির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। এমন এক বিনয় যা কঠোর হৃদয়ের অধিকারীদের মা’বুদের সাথে আচরণের পদ্ধতি শিক্ষা দেয়। সাবউ মাসানি (সাতটি বারংবার পঠিত আয়াত) পাঠের এমন এক সুর যা সংগীতের সুর লহরীকে তুচ্ছ (৬) করে দেয়। এমন এক সত্যনিষ্ঠা যার উপদেশের আঘাতে পাথরও বিদীর্ণ হয় এবং এমন এক রচনাশৈলী যা এই গৌরবকে পূর্ণতা দান করে। সুদৃঢ় মুখস্থ শক্তি এবং নেকি ও তাকওয়ার ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের ঝাণ্ডা অর্জনে তিনি অনন্য। আর এই গুণাবলী তার ছাড়া অন্য কারও মধ্যে খুব কমই একত্রিত হয়েছে, এবং তার ঝাণ্ডা সর্বদা উচ্চকিত ছিল। তিনি কবিতার ক্ষেত্রে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো প্রবহমান ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি ‘জিম’-এ একটি শব্দের পরিমাণ শূন্যস্থান রয়েছে।

(২) মালাগার ভেলজ শহরের অধিবাসী ছিলেন। তিনি একজন গম্ভীর সুফি এবং সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। কথা বলার সময় অত্যন্ত শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করতেন। তিনি একজন দক্ষ খতিব ছিলেন এবং তার বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৭২৮ হিজরিতে ভেলজ শহরে মৃত্যুবরণ করেন। লিসানুদ্দিন তার জীবনী ‘আয়িদুস সিলাহ’ এবং ‘আল-ইহাতা’ ১: ২৬৫ (১৫২)-তে বর্ণনা করেছেন এবং ‘বুগইয়াতুল উয়াত’: ১৩১ দেখুন।

(৩) পাণ্ডুলিপি ‘কাফ’-এ: এবং আমাদের উপকার করুন।

(৪) পাণ্ডুলিপি ‘জিম’-এ: আল-জআন (যাত্রা)।

(৫) মুতালি‘ এবং আবান হলো দুটি পাহাড়, যা কবি তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন: “মুতালি‘ ও আবানে স্মৃতিচিহ্নগুলো পুরনো হয়ে মুছে গিয়েছে” (দিওয়ানে লাবিদ)।

(৬) ‘তুজরি’ (তুচ্ছ করা) শব্দটি পাণ্ডুলিপি ‘দাল’ থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাকাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মিয়াতিল ছামিনাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الزاخر، ويتكل معربا في هذا الزمان المستاخر، ومثواه بالأندلس كعبة المفاخر، بشهادة العظم الناخر. ومن شعره (1) :

شهود ذاتك سر عنك محجوب … لو كنت تدركه لم يبق مطلوب

علو وسفل ومن هذا وذاك معا … دور (2) على نقطة الأشراف منصوب

(5 ب) ومنزل النفس منه ميم مركزه … إن صح للغرض الطيني مرغوب

وان تناءت مساويها فحيزها … أوج الكمال وتحت الأوج تقليب

والروح ان لم تخنه النفس قام (3) به … في حضرة القدس تخصيص تقريب ومن ذلك قوله رحمه الله تعالى:

برق بآفاق المعارف لاحا … حيا (4) الجسوم وجرح الأرواحا

ولوى عليها من سناه سرداقا … أحيت (5) مباسمه ندى وسماحا

نشرت بنود العز من تلقائه … نشرا غدا في الصالحات وراحا

وأقام منه عليه برهانا أبت … أنواره إلا هدى وصلاحا

ما لم يفدك العقل تبصرة بما … أومى إليه ويورث استمناحا

فالعقل في حكم الهوى ولذاك لم … ينفض بميدان النفاذ (6) جناحا

فانظر بعقلك هل ترى من كائن … إلا ويفصح بالهدى إفصاحا

وارجع إلى النظر الصحيح ولا تدع … سر العناية لا يفيد فلاحا

--------------------------------------------

(1) الأبيات في الإحاطة 1: 302.

(2) ج: در.

(3) د ج: قاربه والتصحيح عن هامش ك.

(4) حيا: سقطت من ج؛ وفي د وهامش ك: فكسا.

(5) احيت: سقطت من ج؛ وفي د: حيكت.

(6) ج ك: النفاد.
প্রচুর জ্ঞানসম্পন্ন, এবং এই শেষ সময়ে তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে কথা বলেন। আন্দালুসে তাঁর বাসস্থান হলো গৌরবের কাবা, যা জীর্ণ অস্থির সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত। এবং তাঁর কবিতা থেকে:

তোমার সত্তার প্রত্যক্ষ হওয়া তোমার থেকে এক গোপন রহস্য... যদি তুমি তা উপলব্ধি করতে তবে কোনো উদ্দেশ্যই অবশিষ্ট থাকত না।

উচ্চতা ও নিচতা এবং এই সব ও সেই সব একত্রে... আভিজাত্যের বিন্দুর ওপর স্থাপিত একটি বৃত্ত (২)।

(৫ খ) এবং তা থেকে নফসের মঞ্জিল বা স্থান হলো তার কেন্দ্রের 'মীম'... যদি পার্থিব লক্ষ্যের কোনো আকাঙ্ক্ষা সঠিক হয়।

যদিও তার মন্দ দিকগুলো দূরে সরে যায়, তবুও তার পরিধি হলো পূর্ণতার শিখর, আর সেই শিখরের নিচে রয়েছে পরিবর্তন।

আর রুহ বা আত্মা, যদি নফস তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে, তবে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় (৩)... পবিত্র সান্নিধ্যে নৈকট্যের এক বিশেষ মর্যাদা। এবং তাঁর কথা থেকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন):

জ্ঞানের দিগন্তে এক বিজলি চমকাল... যা দেহগুলোকে সঞ্জীবিত (৪) করল এবং রুহগুলোকে আহত করল।

এবং তা তাদের ওপর তার জ্যোতির একটি শামিয়ানা স্থাপন করল... তার মৃদু হাসিতে সজীব (৫) হয়ে উঠল দানশীলতা ও উদারতা।

তার পক্ষ থেকে সম্মানের পতাকাগুলো উড্ডীন করা হলো... এমনভাবে উড্ডীন করা হলো যা সৎকর্মে সকাল-সন্ধ্যা জারি রইল।

এবং তিনি তার ওপর তা থেকে এমন এক দলিল কায়েম করলেন... যার আলোগুলো হিদায়াত ও সঠিক পথ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করল।

যতক্ষণ পর্যন্ত বিবেক তোমাকে সেই বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি না দেয়... যেদিকে সে ইঙ্গিত করেছে এবং যা অনুদান লাভের পথ সুগম করে—

ততক্ষণ বিবেক প্রবৃত্তির হুকুমের অধীনে থাকে, আর সে কারণেই তা... সফলতার (৬) ময়দানে ডানা ঝাপটাতে পারেনি।

সুতরাং তোমার বিবেক দিয়ে দেখ, তুমি কি এমন কোনো অস্তিত্ব দেখছ... যে হিদায়াতকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে না?

এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ফিরে এসো এবং ছেড়ে দিও না... যেন ঐশ্বরিক অনুগ্রহের রহস্য সফলতা লাভে ব্যর্থ না হয়।

--------------------------------------------

(১) কবিতাগুলো আল-ইহাতা ১: ৩০২-এ রয়েছে।

(২) জিম: মুক্তা।

(৩) দাল, জিম: সে তার নিকটবর্তী হয়েছে; এবং সংশোধনটি কাফ-এর পার্শ্বটীকা থেকে নেওয়া।

(৪) হাইয়া: জিম থেকে বাদ পড়েছে; এবং দাল ও কাফ-এর পার্শ্বটীকায় রয়েছে: পোশাক পরিয়েছে।

(৫) আহইয়াত: জিম থেকে বাদ পড়েছে; এবং দাল-এ রয়েছে: বোনা হয়েছে।

(৬) জিম, কাফ: সমাপ্তি।