(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
ذكرياتي في إفريقيا (محمد بن ناصر العبودي)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: ذكرياتي في إفريقيا
المؤلف: محمد العبودي
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: الأولى - 1388 هـ/ 1968 م
عدد الصفحات: 40
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আফ্রিকায় আমার স্মৃতি (মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আবৌদী)
বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: আফ্রিকায় আমার স্মৃতি
লেখক: মুহাম্মদ আল-আবৌদী
প্রকাশক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম - ১৩৮৮ হিজরি/ ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ করা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مدخل…ذكرياتي في أفريقياللشيخ محمد العبودي الأمين العام للجامعةالحمد لله رب العالمين، وصلى الله وبارك على أشرف خلقه وخاتم أنبيائه ورسله، وعلى آله وصحبه ومن أتبع هداه إلى يوم الدين. وبعد:لقد طلب مني أن يكون عنوان حديثي إليكم عن مشاهداتي في أفريقيا. إنني أقول حديثي ولا أقول محاضرتي، لأنني سوف أتحدث هنا عن مشاهداتي حديثا مرسلا، لا يصل إلى درجة المحاضرة التي تتطلب البحث العميق والتفصيل الكامل في موضوع من المواضيع.ومع ذلك أيها الإخوان، فإن الحديث عن أفريقيا مجاله رحب، وفي الحديث عن الإسلام في أفريقيا وأحوال المسلمين هناك ما يحرك العواطف، ويثير الشجون، وإن أحوال المسلمين في أفريقيا لتتطلب لا الأحاديث الكثيرة فقط، وإنما تستدعي من كل مسلم التفكير في خطط العمل الجاد، والمساهمة بقدر ما يستطيع.أيها الإخوة في الإسلام، إن أفريقيا قارة واسعة شاسعة، ولا يمكن إصدار حكم واحد على مجموعها أو وصفها بصفة تنطبق على كافة أجزائها. فالأحوال في أقطارها متباينة والظروف التي تحيط بأجزائها مختلفة، والمتحدث إليكم لم يشاهد أقطار أفريقيا كلها، ومن الطبيعي أنه لن يتحدث إلا عما شاهدها منها.ولذلك لا بد من أن نحدد المقصود من أفريقيا حين ترد في حديثنا. فنقول: إننا نريد بها ما وراء الصحراء الكبرى جنوبا. إننا نقصد بإفريقيا إفريقيا الفتية التي تحررت أو تحرر أكثرها من الاستعمار، وأخذت تتطلع إلى المستقبل بعين الأمل والرجاء وهي تريد أن تعوض ما فاتها خلال نومها الطويل تحت ليل الاستعمار، ثم تريد أن تساهم بعد ذلك في البناء الحضاري الإنساني. وهي الآن وقد أخذ يتضح لها زيف المبادئ التي كان قد لقنها
সূচনা...আফ্রিকায় আমার স্মৃতিচারণবিশ্ববিদ্যালয়ের মহাসচিব শায়খ মুহাম্মদ আল-আবুদী কর্তৃকসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা ও নবী-রাসূলগণের সর্বশেষ প্রতিনিধি এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর। অতঃপর:আমার কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল যে, আপনাদের সামনে আমার আলোচনার শিরোনাম যেন হয় ‘আফ্রিকায় আমার প্রত্যক্ষ করা ঘটনাবলি’। আমি এটাকে ‘আলোচনা’ বলছি, ‘প্রবন্ধ’ বা ‘লেকচার’ বলছি না; কারণ আমি এখানে আমার দেখা বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণভাবে কথা বলব, যা কোনো প্রবন্ধের স্তরে পৌঁছায় না—যেটির জন্য কোনো একটি বিষয়ে গভীর গবেষণা ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।তা সত্ত্বেও হে ভাইয়েরা, আফ্রিকা সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্র অত্যন্ত প্রশস্ত। আফ্রিকায় ইসলাম এবং সেখানকার মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আবেগকে আপ্লুত করে এবং হৃদয়ে ব্যথার সঞ্চার করে। আফ্রিকায় মুসলমানদের অবস্থা কেবল অনেক আলোচনারই দাবি রাখে না, বরং এটি প্রত্যেক মুসলমানকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা করতে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে আহ্বান জানায়।হে ইসলামের ভাতৃবৃন্দ, আফ্রিকা একটি সুবিশাল মহাদেশ। এর সামগ্রিক অবস্থার ওপর একক কোনো হুকুম প্রদান করা অথবা এমন কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করা সম্ভব নয় যা এর সকল অংশের ওপর প্রযোজ্য হয়। কারণ এর বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন এবং এর বিভিন্ন অংশকে ঘিরে থাকা পরিস্থিতিও বিচিত্র। আপনাদের সামনে যিনি কথা বলছেন, তিনি আফ্রিকার সকল দেশ ভ্রমণ করেননি। আর এটা স্বাভাবিক যে, তিনি কেবল যা দেখেছেন তা নিয়েই কথা বলবেন।তাই আমাদের আলোচনায় যখন ‘আফ্রিকা’ শব্দটি আসবে, তখন এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। আমরা বলব: এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো ‘সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চল’। আমরা আফ্রিকা বলতে সেই নবীন আফ্রিকাকে বোঝাচ্ছি যা ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে অথবা যার অধিকাংশ অংশ স্বাধীন হয়েছে। দেশটি এখন আশা ও আকাঙ্ক্ষার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে এবং ঔপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ রাতের ঘুমে যা হারিয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে চাইছে। এরপর সে মানব সভ্যতার বিনির্মাণে অবদান রাখতে চায়। বর্তমানে তার সামনে সেই সমস্ত আদর্শের অসারতা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে যা তাকে শেখানো হয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المستعمرون لأبنائها تبحث عن مبادئ وقيم جديدة، ولن تجد تلك المبادئ الإنسانية النبيلة التي تتفق مع الفطرة وتصلح لكل زمان ومكان إلا في الإسلام.لقد أتيح لي – أيها الأحبة في الله – أن ازور أفريقيا مرتين، إحداهما في عام 1384هـ والثانية في عام 1386هـ الموافق للعام الميلادي 1967 م. وقد زرت خلال الرحلتين المذكورتين الأقطار التالية: ارتيريا، الحبشة، الصومال، كينيا، يوغندا، تنجانيقا، بورندي، الكنغو، زامبيا، روديسيا، ملاوي. ولن يتسع الوقت بطبيعة الحال للحديث عن كل تلك الأقطار، فالحديث عنها وخاصة عن الإسلام والمسلمين فيها، حديث ذو شجون – كما قدمت – ولكن ما لا يدرك كله لا يترك جله، وفي نطاق الوقت المحدد لهذا الحديث لابد من الإيجاز والاختصار، وإيراد الألفاظ العامة، والأحكام غير المفصلة إلا بالقدر اللازم لفهم الموضوع وفيما لا يتعدى الحقيقة.أيها الإخوان في الله:في مطلع هذا الحديث أحب أن أزف إليكم بشارة تحققت منها عن يقين وبعد تدقيق وإمعان وهي: أن الإسلام في أفريقيا بخير، وأن الإسلام في أفريقيا الآن ليس في مكان الدفاع كما يدعى أعداؤه والمتخاذلون من أبنائه، ولكنه الآن في معظم أقطار أفريقيا كنور الشمس الساطع الذي لا يقف أمامه ظلام.إن الإسلام الآن في أفريقيا ينتشر انتشار النور الساطع الذي يلج – مع كل دقيقة من ارتفاع الشمس – زاوية جديدة، ولكن لا بد أنكم تتساءلون كيف وأين؟ وبأية وسلية كان ويكون انتشاره؟ وأجيبكم بإيجاز فأقول:لقد وفق الله سبحانه وتعالى لنشر دينه، أبطالا مجهولين للناس، وأنصارا لا يعرف بعضهم بعضا في البلاد الأفريقية المختلفة.إنهم جماعة بل جماعات من إخواننا الأفريقيين نذروا أنفسهم لله ووقفوا جهودهم وجهادهم بالنفس والمال في سبيل الله، لم يجدوا العون إلا من الله وكفى به وكيلا، وقد التمسوا العون من بعض إخوانهم المسلمين في خارج أفريقيا فما وجدوا لالتماسهم صدى وذهبت أصواتهم صيحة في واد، ونفخه في رماد، وذلك في الوقت الذي تتدفق فيه المساعدات المادية والمعنوية والمعونات المتعددة على المسيحيين وأعداء الإسلام من شيوعيين وملحدين من خارج القارة تدفقا، مما يثبط عزائم أولي العزم من الرجال، ولكن: {وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} .أيها الإخوان الأعزاء:سوف أعرض على مسامعكم بعض النماذج، وأضرب لكم بعض الأمثلة، وبإمكانكم أن تقيسوا عليها غيرها.أولها: شخص حي يرزق اسمه الحاج موسى كسولى. من يوغندا. هذا الرجل ولد مسيحيا ولبث كذلك
সন্তানদের জন্য ঔপনিবেশিকরা নতুন আদর্শ ও মূল্যবোধ খুঁজছে, এবং তারা সেই মহৎ মানবিক আদর্শসমূহ যা ফিতরাতের (সহজাত প্রকৃতি) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সকল সময়ের ও স্থানের জন্য উপযোগী, তা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোথাও পাবে না।আল্লাহর পথে প্রিয়জনেরা, আমার জন্য আফ্রিকায় দুই বার সফর করার সুযোগ হয়েছিল; একবার ১৩৮৪ হিজরিতে এবং দ্বিতীয়বার ১৩৮৬ হিজরিতে, যা ইংরেজি ১৯৬৭ সালের সাথে সংগতিপূর্ণ। উল্লিখিত দুই সফরে আমি নিম্নোক্ত দেশগুলো ভ্রমণ করেছি: ইরিত্রিয়া, আবিসিনিয়া, সোমালিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, টাঙ্গানিকা, বুরুন্ডি, কঙ্গো, জাম্বিয়া, রোডেশিয়া ও মালাউই। স্বাভাবিকভাবেই এই সকল দেশ নিয়ে কথা বলার মতো পর্যাপ্ত সময় হবে না। কারণ তাদের সম্পর্কে, বিশেষ করে সেখানে ইসলাম ও মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা একটি দীর্ঘ আবেগজড়িত বিষয়—যেমনটি আগে উল্লেখ করেছি। তবে 'যা সম্পূর্ণ অর্জন করা যায় না, তা পুরোপুরি বর্জন করা উচিত নয়'। এই আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের সীমাবদ্ধতায় সংক্ষিপ্তসার ও সংক্ষেপণ অপরিহার্য। তাই সাধারণ শব্দাবলি এবং বিস্তারিত বিবরণ ব্যতিরেকে কেবল বিষয়বস্তু বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় এবং সত্যের অপলাপ না করে আলোচনা করা হবে।আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সমবেত ভ্রাতৃবৃন্দ:এই আলোচনার শুরুতে আমি আপনাদের একটি সুসংবাদ দিতে চাই যা আমি নিশ্চিতভাবে যাচাই এবং গভীর পর্যবেক্ষণের পর অর্জন করেছি। তা হলো: আফ্রিকায় ইসলাম ভালো অবস্থায় আছে। বর্তমানে আফ্রিকায় ইসলাম আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, যেমনটি তার শত্রুরা এবং তার সন্তানদের মধ্যে যারা উৎসাহ হারিয়েছে তারা দাবি করে। বরং এটি এখন আফ্রিকার অধিকাংশ দেশে প্রখর সূর্যের আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যার সামনে কোনো অন্ধকার টিকতে পারে না।বর্তমানে আফ্রিকায় ইসলাম সেই উজ্জ্বল আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ছে যা সূর্যের প্রতিটি মুহূর্তের উদয়ের সাথে সাথে নতুন নতুন কোণে প্রবেশ করে। তবে আপনারা অবশ্যই প্রশ্ন করবেন যে এটি কীভাবে এবং কোথায় ঘটছে? এবং এটি কোন উপায়ে ছড়িয়েছে এবং ছড়াচ্ছে? আমি আপনাদের সংক্ষেপে উত্তর দিচ্ছি:মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর দ্বীন প্রচারের জন্য এমন কিছু অকুতোভয় বীরদের তাওফিক দান করেছেন যারা মানুষের কাছে অপরিচিত এবং এমন কিছু সাহায্যকারীদের কবুল করেছেন যারা আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে একে অপরকে চেনে না।তারা আমাদের আফ্রিকান ভাইদের মধ্য থেকে গঠিত একটি দল, বরং বলা যায় অনেকগুলো দল, যারা নিজেদের জীবন আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছেন এবং আল্লাহর পথে তাদের জান ও মাল দিয়ে প্রচেষ্টা ও জিহাদ অব্যাহত রেখেছেন। তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছ থেকে সাহায্য পায়নি এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তারা আফ্রিকার বাইরের কিছু মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিল, কিন্তু তাদের আবেদনে কোনো সাড়া পায়নি; তাদের আর্তনাদ যেন জনশূন্য উপত্যকায় প্রতিধ্বনিত হয়ে হারিয়ে গেছে অথবা ছাইয়ের মধ্যে ফুঁ দেওয়ার মতো নিষ্ফল হয়েছে। অথচ এই একই সময়ে মহাদেশের বাইরে থেকে খ্রিষ্টান এবং ইসলামের শত্রু কমিউনিস্ট ও নাস্তিকদের জন্য বস্তুগত ও নৈতিক সাহায্য এবং নানাবিধ অনুদান স্রোতের মতো প্রবাহিত হচ্ছে, যা অনেক দৃঢ়সংকল্প ব্যক্তির মনোবল ভেঙে দেওয়ার মতো। কিন্তু: "আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।"প্রিয় ভ্রাতৃবৃন্দ:<আমি আপনাদের সামনে কিছু নমুনা তুলে ধরব এবং কিছু উদাহরণ দেব, যার মাধ্যমে আপনারা অন্যান্য বিষয়গুলো অনুমান করে নিতে পারবেন। প্রথম উদাহরণটি একজন জীবিত ব্যক্তির, যার নাম আলহাজ্ব মুসা কাসুলি। তিনি উগান্ডার অধিবাসী। এই ব্যক্তি খ্রিষ্টান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সেই অবস্থায় ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حتى بلغ الثلاثين من عمره، وقد حدثنا عن نفسه فقال:"أول ما فتح الله بصيرتي للإسلام أنني لا حظت أن المسلمين عندما يريدون تأدية الصلاة والعبادة، يقومون بتنظيف أعضائهم، وغسلها من الأدران، ثم يذهبون فيضع كل منهم أشرف عضو في جسده وهو جهة على الأرض، خضوعا وخشوعا لله؛ وقارنت بين ما يفعلونه وبين عبادة النصارى التي لا تشترط الطهارة، والتي ليس فيها سجود، فكان ذلك أول ما استرعى انتباهي، وكان أول ما فتح الله به علي وهداني بسببه إلى الإسلام".لقد اسلم ذلك الرجل الحاج موسى كسولى وحسن إسلامه، وكان ثريا فأنفق جزءا كبيرا من ثروته على الشؤون الإسلامية، ويكفي أن تعلموا أنه بنى وحده عدة مساجد كبيرة بالأسمنت المسلح، وليس ذلك فحسب بل أن كل مسجد يبنيه له عمارة مكونة من دكاكين وشقق للإيجار، ويوقفها عليه لكي يكون للمسجد موارد ثابتة. وكان من آخر ما فعله في هذا الصدد أن اشترى قطعة أرض في مكان يبعد (5) أميال من العاصمة (كمبالا) ، وتبلغ مساحة الأرض المذكورة خمسة افدنة فبنى مسجدا جامعا هناك، ومدرسة إعدادية لتعليم العلوم الإسلامية، وجعل فيها قسما داخليا بحيث يقيم الطلبة فيها وينامون ويأكلون ويشربون، وقد أوقف جميع الأرض على المدرسة والمسجد، ويسعى الآن مع جماعة من إخوانه المسلمين لإعادة بناء المدرسة وتوسعتها.ومن أواخر المبرات التي قام بها الحاج موسى كسولى أنه فكر في أمر نساء المسلمين في يوغندا، والجهل المطبق بشؤون الدين الذي يرين على عقولهن، فقام على مشروع يرمي إلى تعميم التعليم الإسلامي للنساء وفتح عدة مدارس وكتاتيب بلغ عددها حتى الآن أكثر من مائتي مدرسة، وبلغت ميزانيتها السنوية مائة وعشرين ألف شلن.ذلك بعض ما قام به هذا الرجل لله وفي الله، نسأل الله سبحانه أن يثيبه على عمله الصالح ويكثر في المسلمين أمثاله إنه سميع قريب. ويقول الحاج موسى كسولى: "إن أمنيته التي يرجو أن تتحقق هي أن يدفن في المدينة المنورة، وقال إنه رصد في البنك مبلغا من المال يكفي لنقله مع مرافقي جنازته إلى المدينة". وهذا أيها الإخوان كان رجلا مسيحيا، ولكنه الإيمان الذي إذا خالطت بشاشته القلوب فعل العجائب، إنه فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم.أما المثل الثاني فهو شخص آخر من يوغندا أيضا ولكن من مكان آخر فيها.إنه الشيخ شعيب اسحق. كان الشيخ شعيب اسحق يملك قطعة من الأرض مقدارها ثمانية وعشرون فدانا، وهي كل ما يملكه وتعتبر من أجود الأراضي في يوغندا، وتقع في كوتومو على بعد (47) ميلا
এমনকি তিনি তাঁর বয়সের ত্রিশ বছরে পৌঁছালেন। তিনি নিজের সম্পর্কে আমাদের নিকট বর্ণনা করে বলেছেন:"ইসলামের প্রতি আল্লাহ প্রথম যেভাবে আমার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিলেন তা হলো, আমি লক্ষ্য করলাম যে মুসলমানরা যখন সালাত ও ইবাদত আদায় করতে চায়, তারা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করে এবং সেগুলোকে ময়লা-আবর্জনা থেকে ধৌত করে। এরপর তারা যায় এবং তাদের প্রত্যেকেই তার দেহের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ অর্থাৎ কপালকে আল্লাহর সামনে বিনয় ও নম্রতার সাথে মাটিতে রাখে। আমি তাদের এই কাজের সাথে খ্রিষ্টানদের ইবাদতের তুলনা করলাম যেখানে পবিত্রতার কোনো শর্ত নেই এবং যাতে কোনো সিজদাহ নেই। এটিই ছিল প্রথম বিষয় যা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং এটিই ছিল প্রথম বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ আমার জন্য পথ খুলে দিয়েছিলেন এবং আমাকে ইসলামের দিকে পরিচালিত করেছিলেন।"সেই ব্যক্তি অর্থাৎ আল-হাজ্জ মুসা কাসুলি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্পদশালী, তাই তিনি তাঁর সম্পদের একটি বড় অংশ ইসলামি কাজে ব্যয় করেন। আপনাদের জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি একাই রিইনফোর্সড কংক্রিট দিয়ে বেশ কয়েকটি বড় মসজিদ নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয়, বরং প্রতিটি মসজিদের সাথে তিনি দোকান ও ভাড়ার ফ্ল্যাট সম্বলিত একটি ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সেগুলো মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন যাতে মসজিদের স্থায়ী আয়ের উৎস থাকে। এই বিষয়ে তাঁর সর্বশেষ কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো, তিনি রাজধানী (কাম্পালা) থেকে ৫ মাইল দূরে একটি জায়গায় একখণ্ড জমি ক্রয় করেন। উক্ত জমির আয়তন ছিল পাঁচ একর। সেখানে তিনি একটি জামে মসজিদ এবং ইসলামি জ্ঞান শিক্ষার জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। তিনি সেখানে একটি আবাসিক বিভাগ তৈরি করেন যেখানে ছাত্ররা বসবাস করবে, ঘুমাবে এবং পানাহার করবে। তিনি সম্পূর্ণ জমিটি মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কিছু মুসলিম ভাইদের সাথে নিয়ে মাদ্রাসাটি পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন।আল-হাজ্জ মুসা কাসুলির করা শেষদিকের নেক কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো তিনি উগান্ডার মুসলিম নারীদের বিষয়ে এবং তাদের অন্তরে জেঁকে বসা দ্বীনি বিষয়ের ঘোর অজ্ঞতা নিয়ে চিন্তা করলেন। ফলে তিনি নারীদের জন্য ইসলামি শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেন এবং বেশ কিছু মাদ্রাসা ও মক্তব খোলেন যার সংখ্যা এ পর্যন্ত দুইশরও বেশি। এর বার্ষিক বাজেট ছিল এক লক্ষ বিশ হাজার শিলিং।এগুলো হলো সেই সব কাজের কিছু অংশ যা এই ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে তার সৎকাজের জন্য প্রতিদান দান করেন এবং মুসলমানদের মধ্যে তাঁর মতো মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী। আল-হাজ্জ মুসা কাসুলি বলেন: "তাঁর আকাঙ্ক্ষা যা তিনি পূরণ হওয়ার আশা রাখেন তা হলো, তাঁকে যেন মদিনা মুনাওয়ারায় দাফন করা হয়।" তিনি আরও বলেছেন যে, তিনি ব্যাংকে এমন পরিমাণ অর্থ জমা রেখেছেন যা তাঁকে এবং তাঁর জানাজার সাথীদের মদিনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। হে ভাইয়েরা, এই ব্যক্তি একজন খ্রিষ্টান ছিলেন, কিন্তু এটিই হলো ঈমান, যা যখন অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে তখন তা বিস্ময়কর কিছু ঘটিয়ে দেয়। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।আর দ্বিতীয় উদাহরণটি উগান্ডারই অন্য একজন ব্যক্তি সম্পর্কে, তবে তিনি সেদেশের অন্য স্থানের।তিনি হলেন শায়খ শুয়াইব ইসহাক। শায়খ শুয়াইব ইসহাক আটাশ একর জমির মালিক ছিলেন। এটিই ছিল তাঁর সর্বস্ব সম্পদ এবং এটি উগান্ডার সবচেয়ে উন্নত মানের জমিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হতো। এটি ৪৭ মাইল দূরে কুতুমুতে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
من العاصمة كمبالا، وتنتج الموز الذي منه يأكلون، أو ما يسمونه الماتوكو، والماتوكو نوع من الموز يقطف أخضر ثم يطبخ ويؤكل بالمرق، وهذا الغذاء الرئيسي لسكان مناطق وسط أفريقيا، وهو لهم بمثابة الخبز لسكان الشرق الأوسط، وبمثابة الأرز لسكان الشرق الأقصى، وإلى جانب الموز تنتج الأرض المذكورة محصولا وفيرا من البن.لقد قام الشيخ شعيب وهو حي يرزق الآن وعمره يقارب التسعين عاما أمد الله في عمره في العمل الصالح فأوقف أرضه تلك لله وبنى فيها ثلاث بنايات إحداها مسجدا جامع، والثانية مدرسة إسلامية، والثالثة أماكن للنوم؛ وقد سمى المدرسة المذكورة مدرسة الدين والتهذيب الإسلامي. ووفر لكل طالب يتعلم فيها أن يعيش في تلك المساكن ثم اشترط عليه بعد تخرجه أن يؤسس مع إخوانه في مناطق مختلفة من البلاد، وخاصة في المناطق التي يكثر فيها المسيحيون والوثنيون، مدارس إسلامية، أو بتعبير أدق فروعا لمدرسته تحمل كل منها اسم (مدرسة الدين والتهذيب الإسلامية) وقد بلغ عددها حتى الآن سبع عشرة مدرسة، وأذكر أننا عند زيارتنا للمدرسة الأم في كوتومو حضرت صلاة الظهر فصلينا معا في المسجد، وكان المطر يهطل مدرارا، فتريثنا في المسجد حتى يخف نزول المطر وقد قدم الشيخ شعيب في المسجد شرابا من عصير الفاكهة للحاضرين، فكان أن بدأ بأحد التلاميذ وكان يجلس في وسط الصف وليس بأول الصف، ولما سألتهم عن السبب أجابوا بقولهم: "أن هذا الأخ دخل في الإسلام حديثا وجاء ليتعلم في المدرسة وقد ترك أهله وذويه، فله علينا حق التقديم والتكريم". وحدثنا بعض الشخصيات أن الذين دخلوا في الإسلام على يد الشيخ شعيب المذكور وتلامذته أكثر من مائتي ألف شخص.المثال الثالث، من كينيا: وهو في شخص الأخ (محمد داود) ومحمد داود قد نشأ وترقى في الوظائف الدينية حتى بلغ رتبة (قسيس) فيما قيل لنا، وكان يتمتع بامتيازات مالية ومعنوية، وله سلطة على عدد من الناس، فأنار الله بصيرته للإسلام فترك جميع ما كان عليه، وهجر مسقط رأسه ومركز عمله، في المدينة كيسو على ضفة بحيرة (فكتوريا ينانزا) وأخذ يتجول في البلاد يدعو إخوانه ومواطنيه من الأفريقيين إلى الإسلام، وقد عرفنا من فضيلة الشيخ محمد قاسم المزروعي رئيس القضاة في كينيا أنه قد دخل عدد من الأفريقيين إلى الإسلام بواسطته، وقد قابلناه في إحدى جولاته في ناحية بعيدة من كينيا، فرأينا فيه رجلا أشرب قلبه حب الإسلام حتى ظهر ذلك على وجهه بشرا وإشراقا وطمأنينة.إخواني:تلكم نماذج فقط، وهي جوانب مشرقة من الصورة، إلا أن هناك في الواقع الإسلامي في أفريقيا جوانب تدعو للأسف إنها نماذج وصور تمثل الوجه الثاني للصورة، تمثل
রাজধানী কাম্পালা থেকে, এবং সেখানে কলা উৎপন্ন হয় যা তারা আহার করে, অথবা যাকে তারা 'মাতুকু' বলে। মাতুকু হলো এক প্রকার কলা যা সবুজ অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়, অতঃপর রান্না করে ঝোলের সাথে খাওয়া হয়। এটি মধ্য আফ্রিকার অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য, যা তাদের নিকট মধ্যপ্রাচ্যের অধিবাসীদের রুটির মতো এবং দূরপ্রাচ্যের অধিবাসীদের চালের মতো। কলার পাশাপাশি উক্ত ভূমিতে প্রচুর পরিমাণে কফি উৎপাদিত হয়।শেখ শুয়াইব—যিনি বর্তমানে জীবিত আছেন এবং তাঁর বয়স প্রায় নব্বই বছর, আল্লাহ তাঁর নেক আমলের সাথে দীর্ঘায়ু দান করুন—তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ভূমি ওয়াকফ করেছেন এবং সেখানে তিনটি ভবন নির্মাণ করেছেন; যার একটি জামে মসজিদ, দ্বিতীয়টি একটি ইসলামি মাদ্রাসা এবং তৃতীয়টি আবাসন ব্যবস্থা। তিনি উক্ত মাদ্রাসার নাম রেখেছেন 'মাদ্রাসা আদ-দীন ওয়াত-তাহজীব আল-ইসলামি'। তিনি সেখানে অধ্যয়নরত প্রত্যেক ছাত্রের জন্য সেই আবাসনে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন, অতঃপর তাদের ওপর শর্তারোপ করেছেন যে, শিক্ষা সমাপন করার পর তারা যেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে যেখানে খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের সংখ্যা বেশি, সেখানে তাদের ভাইদের সাথে মিলে ইসলামি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। অধিকতর সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে, এগুলো হবে তাঁর মাদ্রাসার শাখা এবং প্রতিটি শাখার নাম হবে 'মাদ্রাসা আদ-দীন ওয়াত-তাহজীব আল-ইসলামি'। এ পর্যন্ত এই মাদ্রাসার সংখ্যা সতেরটিতে পৌঁছেছে। আমার মনে পড়ে, আমরা যখন কুতুমোর মূল মাদ্রাসাটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন জোহরের নামাজের সময় হলো এবং আমরা মসজিদে একত্রে নামাজ আদায় করলাম। তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল, তাই বৃষ্টির বেগ কমার অপেক্ষায় আমরা মসজিদে অবস্থান করলাম। শেখ শুয়াইব মসজিদে উপস্থিতদের ফলের রস পরিবেশন করলেন। তিনি জনৈক ছাত্রকে দিয়ে পরিবেশন শুরু করলেন যে কাতারগুলোর মাঝখানে বসা ছিল, প্রথম কাতারে নয়। যখন আমি তাঁদের এর কারণ জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁরা উত্তর দিলেন: "এই ভাইটি সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং মাদ্রাসায় শিক্ষা অর্জন করতে এসেছেন। তিনি তাঁর পরিবার ও স্বজনদের ত্যাগ করে এসেছেন, তাই আমাদের ওপর তাঁর অগ্রাধিকার ও সম্মান লাভের অধিকার রয়েছে।" কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি আমাদের জানিয়েছেন যে, উক্ত শেখ শুয়াইব এবং তাঁর ছাত্রদের হাতে এ পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।কেনিয়া থেকে প্রাপ্ত তৃতীয় উদাহরণ: এটি জনাব (মুহাম্মদ দাউদ) এর ব্যক্তিত্বের মাঝে প্রতিফলিত। আমাদের যা বলা হয়েছে তা অনুযায়ী, মুহাম্মদ দাউদ বড় হয়েছেন এবং ধর্মীয় পদমর্যাদায় উন্নতি করতে করতে 'পাদ্রি' স্তরে পৌঁছেছিলেন। তিনি বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন এবং বহু মানুষের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব ছিল। অতঃপর আল্লাহ ইসলামের জন্য তাঁর অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচিত করে দিলেন, ফলে তিনি তাঁর পূর্বের সব অবস্থা পরিত্যাগ করলেন। তিনি তাঁর জন্মভূমি এবং কর্মস্থল কিসুমু শহর ত্যাগ করলেন, যা (ভিক্টোরিয়া নায়ানজা) হ্রদের তীরে অবস্থিত। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে ঘুরে তাঁর আফ্রিকান ভাই ও স্বদেশীদের ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। কেনিয়ার প্রধান বিচারপতি ফজিলাতুশ শাইখ মুহাম্মদ কাসিম আল-মাযরুই-এর নিকট থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাঁর মাধ্যমে অসংখ্য আফ্রিকান ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কেনিয়ার একটি দূরবর্তী অঞ্চলে তাঁর এক সফরের সময় আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমরা তাঁর মধ্যে এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছি যার অন্তর ইসলামের প্রেমে সিক্ত, এমনকি তা তাঁর চেহারায় আনন্দ, উজ্জ্বলতা ও প্রশান্তির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।আমার ভাইয়েরা:এগুলো কেবল কিছু নমুনা মাত্র, এবং এগুলো চিত্রের উজ্জ্বল দিক। তবে আফ্রিকার ইসলামি বাস্তবতায় এমন কিছু দিক রয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সেগুলো মূলত মুদ্রার অপর পিঠ বা নেতিবাচক দিককে উপস্থাপন করে।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الوجه الثاني لصورة عطش المسلمين إلى من يرشدونهم ويعلمونهم، وتمثل جهل المسلمين خارج القارة بإخوانهم، إنها نماذج محزنة أذكر لكم بعضها ولا أطيل لأنني لا أريد أن أبعث الألم في نفوسكم، والحسرة في قلوبكم، إليكم مثالا شاهدته في زامبيا أنقل لكم حرفيا من مذكراتي اليومية ما يتعلق به، وهذا نصها: يوم الأحد 19- 6-84 هـ الموافق 25-10-1964م ذهبنا بالسيارة من مدينة اندولا في روديسيا الشمالية (زامبيا الآن) إلى حي أفريقي يبعد ثلاثة أميال عن المدينة المذكورة إلى الشرق منها، وذلك لزيارة الجمعية السلامية الأفريقية في اندولا، وللصلاة في المسجد الجامع الوحيد في تلك المنطقة، وقد قابلنا رئيس الجمعية وأمين سرها كما شاهدنا المسجد فوجدناه نظيفا واسعا يتسع لحوالي (ثلاثمائة مصلي) ، كما أن فيه ركنا مخصصا للنساء، ولكن المسجد بحاجة إلى فرش إذ لم يفرش منه إلا قسم قليل جدا، فرش ببطانيات من الصوف صنعتها النساء المسلمات بأيديهن، أما باقي أرضية المسجد فهي بلاط أقرع، كما أنه لا توجد للمسجد منارة ولا دورة مياه للوضوء، ومن المشاريع التي تدور في أذهان أعضاء الجمعية المذكورة ويعتبرونها حلما يسألون الله تعالى تحقيقه أن يتمكنوا من بناء غرفة للإمام وغرفة للمؤذن بجانب المسجد، أما بناء المسجد نفسه فقد تم بطريقة مؤثرة لقد تقدم نفر من المسلمين الأفريقيين، وهم فقراء كلهم من العمال، تقدموا إلى السلطات الإنجليزية بطلب الترخيص بتكوين جمعية تقوم بجمع مبالغ من المال لبناء المسجد، ثم أخذوا طيلة سبع سنوات يجمعون ما تيسر لهم بالشلن الواحد ونصف الشلن وربعه، يطوفون البلاد من أولئك العمال الفقراء على فقرهم حتى جمعوا مبلغ ستة آلاف جنيه أستراليني، وقد اشتروا بها المواد اللازمة من الحديد والأسمنت والآجر والحديد اللازم للسقف، أي اشتروا ما يحتاجونه إليه من مواد البناء ولكن لم يبق معهم شيء لأجور العمال.ومع ذلك لم ييأسوا، فذهبوا إلى مهندس إنجليزي وطلبوا منه الأشراف على العمل، وعندما بدأ التنفيذ شاهد ذلك المهندس الإنجليزي منظرا مؤثرا، لقد شاهد كل من وجد فسحة من وقته منهم، يحضر من كافة الأعمار من الرجال والنساء وحتى الأطفال عندما يفرغون من المدارس والشيوخ والعجائز كل منهم يأتي للمسجد ويساهم في بنائه، ذلك يحمل لبنة وآخر ينقل التراب، وآخرون يساعدون على خلط الأسمنت حتى بعض العمال الذين يعملون الذين كانوا يخرجون محطمين من مناجم النحاس تحت الأرض التي يعملون فيها، والذين يشاهدون عند خروجهم من جوف الأرض كأنما خرجوا من القبور، كل من يستطيع العمل منهم يساهم بقدر ما أبقى جوف الأرض في جسمه
মুসলমানদের জন্য এমন ব্যক্তিদের তৃষ্ণারূপী ছবির দ্বিতীয় দিক যারা তাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন এবং শিক্ষা দেবেন, এবং মহাদেশের বাইরের মুসলমানদের তাদের ভাইদের সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রতিফলন; এগুলো কিছু দুঃখজনক দৃষ্টান্ত যার কিছু আমি আপনাদের কাছে উল্লেখ করছি। আমি কথা দীর্ঘ করব না, কারণ আমি আপনাদের মনে ব্যথা এবং হৃদয়ে আফসোস জাগ্রত করতে চাই না। আপনাদের কাছে জাম্বিয়াতে আমার দেখা একটি উদাহরণ পেশ করছি, যা আমি আমার দৈনন্দিন ডায়েরি থেকে হুবহু উদ্ধৃত করছি, আর তা হলো: রবিবার ১৯-০৬-১৩৮৪ হিজরি মোতাবেক ২৫-১০-১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ। আমরা উত্তর রোডেশিয়ার (বর্তমান জাম্বিয়া) এনডোলা শহর থেকে গাড়িতে করে পূর্ব দিকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত একটি আফ্রিকান পাড়ায় গেলাম, তা ছিল এনডোলার আফ্রিকান ইসলামি সমিতি পরিদর্শন করার জন্য এবং সেই এলাকার একমাত্র জামে মসজিদে নামাজ আদায় করার জন্য। আমরা সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং মসজিদটি দেখে আমরা পরিচ্ছন্ন ও প্রশস্ত পেলাম যাতে প্রায় তিনশ মুসল্লির সংকুলান হয়। সেখানে মহিলাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোণও রয়েছে। কিন্তু মসজিদে বিছানা প্রয়োজন ছিল, কারণ এর খুব সামান্য অংশই বিছানো ছিল। যা ছিল তা হলো মুসলিম নারীদের নিজ হাতে তৈরি পশমি কম্বল। মসজিদের বাকি মেঝে ছিল খালি টাইলস বিছানো। এছাড়া মসজিদের কোনো মিনার বা ওজুর জন্য কোনো শৌচাগার ছিল না। উল্লিখিত সমিতির সদস্যদের মনে যেসব পরিকল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং যেটিকে তারা স্বপ্ন মনে করে আল্লাহ তায়ালার কাছে তা পূরণের প্রার্থনা করেন, তা হলো তারা যেন মসজিদের পাশে ইমামের জন্য একটি কক্ষ এবং মুয়াজ্জিনের জন্য একটি কক্ষ নির্মাণ করতে সক্ষম হন। আর মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। একদল আফ্রিকান মুসলিম, যারা সবাই ছিলেন দরিদ্র শ্রমিক, তারা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সমিতি গঠনের অনুমতির জন্য আবেদন করেন যা মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবে। এরপর তারা দীর্ঘ সাত বছর ধরে এক শিলিং, আধ শিলিং এবং সিকি শিলিং করে যা সম্ভব হতো তা সংগ্রহ করতে থাকেন। তারা সেই দরিদ্র শ্রমিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতেন, যারা নিজেরাও অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। এভাবে তারা মোট ছয় হাজার স্টার্লিং পাউন্ড সংগ্রহ করেন। তারা সেই অর্থ দিয়ে রড, সিমেন্ট, ইট এবং ছাদের জন্য প্রয়োজনীয় লোহা তথা নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করেন। অর্থাৎ তারা যা প্রয়োজন ছিল তা কিনেছিলেন, কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার মতো আর কিছুই তাদের কাছে অবশিষ্ট ছিল না।তা সত্ত্বেও তারা হতাশ হননি। তারা একজন ইংরেজ প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে কাজটির তদারকি করার অনুরোধ জানান। যখন নির্মাণ কাজ শুরু হলো, সেই ইংরেজ প্রকৌশলী এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখতে পেলেন। তিনি দেখলেন, তাদের মধ্যে যারা যখনই অবসর সময় পাচ্ছেন, তারা সেখানে হাজির হচ্ছেন। সব বয়সের পুরুষ, নারী, এমনকি স্কুল ছুটির পর শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত সবাই মসজিদে আসতেন এবং এর নির্মাণে অংশ নিতেন। কেউ ইট বহন করছেন, কেউ মাটি সরাচ্ছেন, আবার কেউ সিমেন্ট মেশাতে সাহায্য করছেন। এমনকি যেসব শ্রমিক ভূগর্ভস্থ তামার খনিতে কাজ করে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে বের হতেন—যাদের মাটির গভীর থেকে উঠে আসার দৃশ্য দেখে মনে হতো যেন তারা কবর থেকে উঠে এসেছেন—তাদের মধ্য থেকে যারা কাজ করার সামর্থ্য রাখতেন, তারা খনি থেকে ফেরার পর শরীরে যতটুকু শক্তি অবশিষ্ট থাকত তা নিয়েই নির্মাণে অবদান রাখতেন।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
من قوة في المسجد.قالوا لقد غلب التأثر ذلك المهندس الإنجليزي عندما رأي إخلاصهم وصدقهم في بناء المسجد وتنازل لهم عن أجرته في الإشراف على البناء.وهذا مثل آخر وسوف أنقل لكم هنا فقرة من مذكراتي اليومية أيضا في روديسية:يوم الثلاثاء الموافق 30 شعبان عام 1386 هـ هنالك في روديسيا يسكن الأفريقيون في أماكن منفصلة ضمن مساحات معينة، تلكم كانت الساسية المتبعة للحكومة الروديسية وقد بنت الحكومة مدينة صغيرة في ضاحية من ضواحي سالسبوري العاصمة وخصصتها للأفريقيين من عمال الشركات والموظفين من القادرين على دفع الأقساط الشهرية المستحقة، وتسمى: هراري. وهي تقع إلى الجنوب الشرقي من مدينة سالسبوري، وتتكون من بيوت جميلة بعضها على شكل دارات (أي فيلات) ، وبعضها على شكل بيوت صغيرة، يتكون كل منها مما يبدوا غرفة كبيرة من الخارج يقسم إلى عدة غرف من الداخل، ويحيط بكل بيت مساحة من الأرض المزروعة، ولولا أن الأرض هناك كلها خضراء لا سميتها حديقة، ويخترق المدينة أو الضاحية المذكورة شوارع واسعة مبلطة وقد عمها النور الكهربائي وأكملت لها المرافق العامة، حتى الملاعب الرياضية منتشرة فيها مما يجعلها تضاهي في المظهر الضواحي الجميلة في مدن الشرق الأوسط إن لم تفقها.إلا أن ما يضايق الأفريقيين وهو ما يضايق حقا أنهم مجبرون على السكنى منعزلين عن غيرهم من الأوربيين والآسيويين، وحتى الأوربيين والآسيويون، كانوا في السابق ممنوعين حسب أوامر الشرطة من الذهاب إلى مناطق سكن الأفريقيين والاختلاط بهم، ولكن ذلك قد خفت وطأته الآن بسبب المشكلة السياسية التي تتخبط فيها الحكومة الروديسية الحاضرة نتيجة لإعلانها الاستقلال من جانب واحد.فالإفريقيون في مساكنهم الجميلة تلك كأنما يعيشون في سجن كبي، ًإن ما يهمنا في هذا الموضوع ما يأتي:يوجد مسجد في تلك الضاحية التي يسكنها الإفريقيون دخلناه فإذا به نظيف جميل البناء، متوسط السعة، يحيط به فناء صغير ألحقت به مدرسة من غرفة واحدة كبيرة، وقد زودت بالمقاعد الدراسية وبالسبورات، وبجانبها غرفتان لسكنى المدرس، والمسجد مع ملحقاته مبني بالآجر، ومفروش بفرش بسطية، ويتسع لحوالي (250) مصليا. والواقع أن بناءه في ذلك المكان وسط حي أغلبية سكانه من الأفريقيين غير المسلمين، مناسب كل المناسبة، وربما يمكن تحويله في المستقبل إلى مركز من مراكز الدعوة الاسلامية في ذلك الحي.
মসজিদের শক্তির উৎস থেকে।তারা বলেছিল যে, সেই ইংরেজ প্রকৌশলী যখন মসজিদ নির্মাণে তাদের আন্তরিকতা ও সত্যনিষ্ঠা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তখন তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধানের পারিশ্রমিক তাদের অনুকূলে ত্যাগ করেন।এটি অন্য একটি উদাহরণ এবং আমি এখানে রোডেশিয়ায় আমার দৈনন্দিন ডায়েরি থেকেও একটি অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করব:মঙ্গলবার, ৩০ শাবান ১৩৮৬ হিজরি। সেখানে রোডেশিয়ায় আফ্রিকানরা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে পৃথক স্থানে বসবাস করে; এটি ছিল রোডেশীয় সরকারের অনুসৃত নীতি। সরকার রাজধানী স্যালসবেরির একটি শহরতলিতে একটি ছোট শহর নির্মাণ করেছে এবং যারা মাসিক কিস্তি পরিশোধে সক্ষম এমন কোম্পানির শ্রমিক ও কর্মচারী আফ্রিকানদের জন্য তা নির্দিষ্ট করেছে; যার নাম: হারারে। এটি স্যালসবেরি শহরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং সুন্দর ঘরবাড়ি নিয়ে গঠিত, যার কিছু ভিলার মতো এবং কিছু ছোট ঘরের মতো। প্রতিটি ঘর বাইরে থেকে একটি বড় কক্ষের মতো মনে হলেও ভেতর থেকে কয়েকটি কক্ষে বিভক্ত। প্রতিটি ঘরের চারপাশে আবাদি জমি রয়েছে; সেখানকার মাটি পুরোটাই সবুজ না হলে আমি একে বাগান বলতাম। উল্লিখিত শহর বা শহরতলির মাঝখান দিয়ে প্রশস্ত পাকা রাস্তা চলে গেছে এবং এটি বৈদ্যুতিক আলোয় আলোকিত ও সকল জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। এমনকি সেখানে খেলার মাঠও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যা একে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর সুন্দর শহরতলিগুলোর সমতুল্য করে তুলেছে, যদি তা শ্রেষ্ঠতর না হয়।তবে যা আফ্রিকানদের কষ্ট দেয় এবং যা সত্যিই কষ্টদায়ক তা হলো, তারা ইউরোপীয় ও এশীয়দের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করতে বাধ্য। এমনকি ইউরোপীয় এবং এশীয়দেরও আগে পুলিশের নির্দেশে আফ্রিকানদের আবাসিক এলাকায় যাওয়া এবং তাদের সাথে মেলামেশা করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান রোডেশীয় সরকার একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার ফলে যে রাজনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত, তার কারণে সেই কড়াকড়ি এখন কিছুটা কমেছে।ফলে আফ্রিকানরা তাদের সেই সুন্দর ঘরবাড়িতে যেন এক বিশাল কারাগারে বসবাস করছে। এই বিষয়ে আমাদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো:আফ্রিকানদের বসবাসরত সেই শহরতলিতে একটি মসজিদ আছে। আমরা সেখানে প্রবেশ করে দেখলাম এটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে নির্মিত, মাঝারি আয়তনের। এর চারপাশ ঘিরে একটি ছোট আঙিনা আছে যার সাথে একটি বড় কক্ষের স্কুল সংযুক্ত। স্কুলটি পড়ার বেঞ্চ এবং ব্ল্যাকবোর্ড দ্বারা সুসজ্জিত। এর পাশেই শিক্ষকের বসবাসের জন্য দুটি কক্ষ রয়েছে। মসজিদ ও এর সংশ্লিষ্ট অংশগুলো ইট দিয়ে নির্মিত এবং সাধারণ কার্পেট বিছানো। এতে প্রায় ২৫০ জন মুসল্লির সংকুলান হয়। প্রকৃতপক্ষে, অমুসলিম আফ্রিকান অধ্যুষিত এই এলাকায় এই মসজিদের অবস্থান অত্যন্ত উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতে হয়তো এটিকে এই এলাকায় ইসলামি দাওয়াতের অন্যতম কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقد تم بناؤه بطريقة جمع التبرعات حيث قام بعض المسلمين الغيورين بجمع المبالغ اللازمة له شيئا فشيئا، وساهمت الجمعية الاسلامية الآسيوية بنصيب كبير من نفقاته.إلى هنا وكل شيء جميل وسار، ولكن ماذا حدث بعد ذلك؟ لقد عرفنا أن المدرسة الملحقة به ظلت معطلة بسبب عدم وجود مدرس يحسن العربية أو يحسن حتى تدريس المبادئ الإسلامية، والأدهى من ذلك أن الصلاة في ذلك المسجد في كثير من الأوقات كانت تعطل لأنه لا يوجد في ذلك الحي كله إمام يحسن أن يؤم الناس أو يقرأ بعض السور القصار ولو كان لا يفهم معناها، إنه لشيء محزن ولكنه الواقع، وهذا المسجد مثال من أمثلة كثيرة على انعدام الذين يحسنون حتى مبادئ التعليم الإسلامي هناك.أيها الإخوان إن الأمثلة كثيرة والوقت محدود، ولذلك سوف أعرض على أسماعكم جملا موجزة لإخواننا المسلمين في البلاد التي زرناها.
এটি অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে কিছু উৎসাহী মুসলিম ধীরে ধীরে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন এবং এশীয় ইসলামি সংস্থা এর ব্যয়ের একটি বড় অংশে অবদান রেখেছিল।এ পর্যন্ত সবকিছুই সুন্দর ও আনন্দদায়ক ছিল, কিন্তু এরপর কী ঘটল? আমরা জানতে পেরেছি যে, এর সাথে সংযুক্ত মাদ্রাসাটি আরবি ভাষায় দক্ষ অথবা এমনকি ইসলামের প্রাথমিক বিষয়গুলোও শেখাতে পারদর্শী এমন শিক্ষকের অভাবে অচল হয়ে পড়ে ছিল। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, সেই মসজিদে অনেক সময় নামাজ বন্ধ থাকত কারণ পুরো এলাকায় এমন কোনো ইমাম ছিলেন না যিনি মানুষের ইমামতি করতে পারেন অথবা কিছু ছোট সূরা পাঠ করতে পারেন, যদিও তিনি সেগুলোর অর্থ না বুঝতেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব। আর এই মসজিদটি সেখানে ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষার জ্ঞান রাখেন এমন লোকের অভাবের বহু উদাহরণের মধ্যে একটি মাত্র।হে ভাইয়েরা, উদাহরণ অনেক কিন্তু সময় সীমিত। তাই আমরা যেসব দেশ সফর করেছি, সেখানের আমাদের মুসলিম ভাইদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত বাক্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أولا: ارتيريا والحبشةيكون المسلمين الأغلبية في تلك البلاد، ولكن ليس في أيديهم من الأمر شيء، ويواجهون ضغطا متزايدا من المبشرين المسيحين، ويشجعهم على ذلك المستشارون الاسرائليون في الحكومة الحبشية، بغية زعرعة الثقة في نفوسهم، وإضعاف روح الإسلام لدى ناشئتهم، وأعظم ميدان نجح فيه أعداء الإسلام ميدان الملاجئ والدور التي تتولى تنشئة أطفال المسلمين من الأيتام ومن لا عائل لهم حتى يشبوا على غير دين الإسلام.
প্রথমত: ইরিত্রিয়া ও হাবশাউক্ত দেশগুলোতে মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু তাদের হাতে কোনো কর্তৃত্ব নেই। তারা খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে এবং হাবশা সরকারের ইসরায়েলি উপদেষ্টারা তাদের এ কাজে উৎসাহিত করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো তাদের অন্তরে আত্মবিশ্বাসকে টলিয়ে দেওয়া এবং তাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়া। ইসলামের শত্রুরা যে ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি সাফল্য লাভ করেছে তা হলো আশ্রয়কেন্দ্র ও শিশু সদনসমূহের ময়দান, যেগুলো মুসলিম এতিম ও অভিভাবকহীন শিশুদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করে, যাতে তারা ইসলাম ব্যতিরেকে অন্য ধর্মের ওপর বেড়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثانيا: كينيايقطن الساحل الكيني أغلبية إسلامية من العرب والسواحليين والصوماليين، ويسود الحركة الإسلامية هناك بعض الركود إلا في المظاهر، حيث يوجد في ذلك الشريط الضيق من الأراضي عدد من الجمعيات الإسلامية التي هي أسماء بلا مسميات، ويدور بين البعض ما تكون منها جدال وخصومات، هي ابعد ما تكون عما ينبغي أن تكون عليه علاقات المسلمين بعضهم ببعض. أما في باقي أنحاء كينيا فإن الإسلام يتقدم وينتشر، وفي كل يوم يزيد عدد الداخلين في الإسلام ويزيد عدد المساجد والكتاتيب الإسلامية، ويذكر هنا أن حكومة الرئيس كينياتا قد أعطت المسلمين الحرية كل الحرية في الدعوة إلى دينهم وسهلت الطرق لإشادة المؤسسات الإسلامية.
দ্বিতীয়ত: কেনিয়াকেনিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে আরব, সোয়াহিলি এবং সোমালিদের সমন্বয়ে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বসবাস করে। বাহ্যিক কিছু রূপ ছাড়া সেখানে ইসলামি আন্দোলনের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। ভূখণ্ডের সেই সংকীর্ণ পটিজুড়ে এমন বেশ কিছু ইসলামি সংগঠন রয়েছে যেগুলোর নাম থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর তৎপরতা নেই। সেগুলোর কয়েকটির মধ্যে এমন সব বিতর্ক ও বিবাদ বিদ্যমান যা মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্কের আদর্শিক রূপ থেকে বহু দূরে। তবে কেনিয়ার বাকি অংশগুলোতে ইসলাম অগ্রসর হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে; প্রতিদিন ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং মসজিদের সংখ্যা ও ইসলামি মক্তবের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট কেনিয়াত্তার সরকার মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মের দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে এবং ইসলামি প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্মাণের পথ সুগম করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثالثا: أوغندافي أوغندا يدخل يوميا إلى حظيرة الدين الإسلامي أكبر عدد من الناس، وبالنسبة إلى الأقطار الأفريقية الأخرى، حتى إننا نرى قرية تسمى كاباساندا عرفنا أنها منذ حوالي عشر سنوات لا يوجد فيها مسلمون، والآن
তৃতীয়ত: উগান্ডাউগান্ডায় প্রতিদিন অন্যান্য আফ্রিকান দেশসমূহের তুলনায় সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে প্রবেশ করছে। এমনকি আমরা কাবাসান্দা নামক একটি গ্রাম দেখতে পাই যার সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি যে, প্রায় দশ বছর আগেও সেখানে কোনো মুসলিম ছিল না, আর এখন—
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
دخلت الأغلبية من سكانها إلى الإسلام، وشيدت فيها مدرسة إسلامية وقام أهلها على بناء مسجد جامع كان لي شرف المساهمة بافتتاحه هناك.ولولا الخلافات التي تمزق صفوف المسلمين هناك، وهي في الأصل خلافات سياسية، ولا يتسع المجال لذكرها، لولا ذلك لقلنا إن وضع المسلمين في أوغندا هو أفضل وضع للمسلمين في البلاد التي يكونون فيها أقلية سكانية.
এর অধিকাংশ অধিবাসী ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং সেখানে একটি ইসলামি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানকার অধিবাসীরা একটি জামে মসজিদও নির্মাণ করেছেন, যা সেখানে উদ্বোধন করার গৌরব আমি অর্জন করেছিলাম।সেখানে মুসলমানদের কাতারকে ছিন্নভিন্নকারী সেই মতভেদগুলো যদি না থাকত—যা মূলত রাজনৈতিক মতভেদ এবং তা উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত অবকাশ এখানে নেই—তবে আমরা বলতে পারতাম যে, উগান্ডায় মুসলমানদের অবস্থা হলো সেই সকল দেশের মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অবস্থা যেখানে তারা সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করেন।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
رابعا: تنزانياتوجد في بعض البلاد الإسلامية مثل زنجبار ومنطقة دار السلام، ومنطقة تانجا أغلبيات إسلامية، ولكن يسيطر الآن على الوضع في زنجبار حركات ساسية يسارية هي في طبيعتها ضد الإسلام، كما تسود في تنجانيقا فورة من القومية الضيقة إضافة على الاتجاه اليساري هناك، كل ذلك من العوامل غير المشجعة للجهود الجماعية الإسلامية، ومع ذلك فإن هناك في تنجانيقا خاصة جهودا فردية طيبة في نشر الإسلام.
চতুর্থত: তানজানিয়াজাঞ্জিবার, দারুস সালাম এবং তানজা অঞ্চলের মতো কিছু ইসলামি জনপদে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে বর্তমানে জাঞ্জিবারের পরিস্থিতির ওপর এমন কিছু বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন প্রভাব বিস্তার করে আছে, যা প্রকৃতিগতভাবে ইসলামের বিরোধী। এছাড়া টাঙ্গানিকায় বামপন্থী ঝোঁকের পাশাপাশি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের উন্মাদনা বিরাজ করছে। এই সবগুলিই সম্মিলিত ইসলামি প্রচেষ্টার প্রতিকূল উপাদান। তা সত্ত্বেও, বিশেষত টাঙ্গানিকায় ইসলাম প্রসারে প্রশংসনীয় কিছু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
خامسا: برونديتقف حكومة بورندي من الأقلية الإسلامية في بلادها موقفا وديا، وحالة المسلمين المادية بالنسبة لغيرهم طيبة، ويعيش المسلمين في العاصمة بزومبورا في حي خاص بهم هو حي: (مويانزى) ، ويتكلمون اللغة السواحلية خلاف بقية السكان من غير المسلمين الذين يتكلمون البورندية، ويتقدم الإسلام من حيث الكمية هناك، وقد تحققنا أنه خلال عيد الفطر المبارك الماضي أسلم من المسيحيين من أهل البلاد أكثر من مائة وعشرة من الناس.
পঞ্চম: বুরুন্ডিবুরুন্ডি সরকার তাদের দেশের মুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পোষণ করে এবং অন্যদের তুলনায় মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো। মুসলমানরা রাজধানী বুজুম্বুরায় তাদের নিজস্ব একটি এলাকায় বসবাস করে, যা হলো: (মুয়ানজি) এলাকা। তারা সোয়াহিলি ভাষায় কথা বলে, যা দেশের অন্যান্য অমুসলিম বাসিন্দাদের বিপরীত, যারা বুরুন্ডীয় ভাষায় কথা বলে। সেখানে সংখ্যার দিক থেকে ইসলাম অগ্রসর হচ্ছে এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় স্থানীয় খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে একশ দশ জনেরও বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
سادسا: الكونغويعتبر الكنغوا في الوقت الحاضر من أحسن الميادين لنشر الدعوة الإسلامية، وهناك مناطق من البلاد دخلها الإسلام قديما على أيدي الإفريقيين السواحليين الذين قدموا إليها من ساحل تنجانيقا منذ أكثر من مائة سنة، وذلك في إقليمي (كيفو) والإقليم الشرقي (اوريينتال) كما أن هناك إقليما نائيا بالنسبة للمسلمين هو أقليم (كاساى) دخله الإسلام لأول مرة منذ ست سنوات، وقد علمنا أن الحركة الإسلامية هناك في تقديم ظاهر ولله الحمد، إلا أن العائق عن تقدم الإسلام في الكنغو بصورة أعظم هو ضعف مستوى المسلمين فيه، وقلة المبشرين، وصعوبة الانتقال بين أجزاء البلاد لاتساعها وعدم استقرار الأمن الكامل فيها.
ষষ্ঠ: কঙ্গোবর্তমানে কঙ্গো ইসলামি দাওয়াত প্রচারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে একশ বছরেরও বেশি সময় আগে টাঙ্গানিকা উপকূল থেকে আগত সোয়াহিলি আফ্রিকানদের মাধ্যমে প্রাচীনকালে ইসলাম প্রবেশ করেছিল; বিশেষ করে কিভু এবং পূর্ব (ওরিয়েন্টাল) প্রদেশে। এছাড়াও মুসলমানদের জন্য কাসাই নামক একটি দুর্গম অঞ্চল রয়েছে, যেখানে মাত্র ছয় বছর আগে প্রথমবারের মতো ইসলাম প্রবেশ করেছে। আমরা জানতে পেরেছি যে, সেখানে ইসলামি আন্দোলন দৃশ্যমান অগ্রগতির পথে রয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তবে কঙ্গোতে ইসলামের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সেখানকার মুসলমানদের মানগত দুর্বলতা, ধর্ম প্রচারকের স্বল্পতা এবং দেশটির বিশালতা ও পূর্ণ নিরাপত্তার অভাবের কারণে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতের অসুবিধা।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
سابعا: زامبيا ((روديسيا الشمالية سابقا))توجد أقلية إسلامية من الإفريقين يعيشون حول (اندولا) وفي أماكن
সপ্তম: জাম্বিয়া ((সাবেক উত্তর রোডেশিয়া))আফ্রিকানদের একটি মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রয়েছে যারা (এনডোলা) এবং অন্যান্য স্থানে বসবাস করে।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أخرى متفرقة من البلاد ولكن حالتهم المادية ومستوى معيشتهم ضعيف، والحركة الإسلامية هناك غير نشطة مع الأسف.
দেশের অন্যান্য বিভিন্ন প্রান্তেও [তারা ছড়িয়ে আছে], তবে তাদের আর্থিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সেখানে ইসলামি আন্দোলন সক্রিয় নয়।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ثامنا: روديسياتوجد أقلية إسلامية ولكن الجهل المطبق بأمور الإسلام يشمل جميع المسلمين الإفريقيين هناك، والحركة الإسلامية ضعيفة مع الأسف، مع أن الحكومة لاتتدخل في شؤون الدين ولا تعارض الداعين إليه.ومعظم المسلمين هناك قد قدموا في الاصل من اقطار مجاورة مثل نياسالاند.
অষ্টম: রোডেশিয়াসেখানে একটি মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রয়েছে, তবে ইসলামের বিষয়াবলি সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা সেখানকার সকল আফ্রিকান মুসলিমদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। দুর্ভাগ্যবশত ইসলামি আন্দোলন সেখানে অত্যন্ত দুর্বল, যদিও সরকার ধর্মীয় বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না এবং এর দিকে আহ্বানকারীদের বিরোধিতা করে না।সেখানকার অধিকাংশ মুসলিম মূলত নিয়াসাল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো থেকে এসেছেন।
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
تاسعا: ملاوييوجد في ملاوي أكبر عدد من المسلمين في اقطار شرق إفريقيا ووسطها فيما وراء الصحراء إذ تبلغ نسبة المسلمين 42% ولا يرجع دخول كل هذا العدد من السكان في الإسلام إلى الأزمنة الحديثة، بل يعود ذلك إلى زمن قديم حيث دخل الإسلام إلى إقليم سفالة، (أي شمالي موزامبيق) قبل ألف سنة ولكن حالة المسلمين في تلك البلاد من الضعف والانحطاط بحيث يحتاج علاجها إلى جهود كثيرة وإلى وقت طويل. أيها الإخوان الكرام، لقد تفضلتم فاستمعتم إلى شيء من واقع الإسلام والمسلمين في أفريقيا، وإنني أرجو أن تتفضلوا بسماع بعض المقترحات التي أراها لعلاج الحالة المذكورة.أولا – إنشاء صندوق إسلامي عالمي لتمويل الدعوة الإسلامية في أفريقيا يساهم فيه المسلمون على مستوى الحكومات والجمعيات والأفراد، خاصة وأن هناك من علماء المسلمين من يرون أن الإنفاق على الدعوة الإسلامية من الإنفاق في سبيل الله الذي هو وجه من أوجه مصارف الزكاة.ونحن لا نشك مطلقا في أن الوقت الحاضر هو أنسب الأوقات للقيام بحملة إسلامية واسعة للدعوة والارشاد، ونشر محاسن الإسلام أمام الإفريقيين من غير المسلمين، ذلك لأن الدين المسيحي الذي هو المنافس الرئيسي، قد ارتبط في اذهان كثير من ابناء أفريقيا بالاستعمار الأوربي، لأنه جاء إلى أفريقيا مع الرجل الأوربي، ونظرا إلى ضعف سلطان الاستعمار الأوربي، وبالتالي ضعف المنافس، فإن الفرصة سانحة الآن لنجاح الدعوة الإسلامية أكثر من ذي قبل. وذلك كله إضافة إلى
নবম: মালাউয়িমালাউয়িতে সাহারা-পরবর্তী পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলিম বসবাস করেন, সেখানে মুসলিমদের হার ৪২%। এই বিপুল সংখ্যক জনবসতির ইসলামে প্রবেশের বিষয়টি আধুনিক যুগের নয়, বরং তা প্রাচীন কালের; প্রায় এক হাজার বছর আগে সোফালা অঞ্চলে (অর্থাৎ উত্তর মোজাম্বিকে) ইসলাম প্রবেশ করেছিল। তবে সেইসব দেশে মুসলিমদের অবস্থা এতটাই দুর্বল ও শোচনীয় যে, এর প্রতিকারের জন্য প্রচুর প্রচেষ্টা ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। হে সম্মানিত ভ্রাতৃমণ্ডলী, আপনারা সদয় হয়ে আফ্রিকায় ইসলাম ও মুসলিমদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে কিছু তথ্য শ্রবণ করেছেন। এখন আমি আশা করছি যে, উক্ত অবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আমার প্রস্তাবিত কিছু পরামর্শ শোনার অনুগ্রহ করবেন।প্রথমত – আফ্রিকায় ইসলামী দাওয়াত কার্যক্রমের অর্থায়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী তহবিল গঠন করা, যেখানে সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে মুসলিমরা অবদান রাখবে। বিশেষ করে যেহেতু মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা মনে করেন যে, ইসলামী দাওয়াতের কাজে ব্যয় করা হচ্ছে আল্লাহর পথে ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা জাকাত প্রদানের অন্যতম একটি খাত।আমরা এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করি না যে, দাওয়াত ও নির্দেশনার জন্য একটি ব্যাপক ইসলামী অভিযান পরিচালনার এবং অমুসলিম আফ্রিকানদের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য বর্তমান সময়ই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কারণ খ্রিস্টধর্ম, যা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, আফ্রিকার অনেক মানুষের মনে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে; কেননা তা ইউরোপীয়দের হাত ধরেই আফ্রিকায় এসেছিল। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দুর্বলতা এবং ফলস্বরূপ প্রতিদ্বন্দ্বীর দুর্বলতার কারণে ইসলামী দাওয়াতের সাফল্যের সুযোগ এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ সবই এর সাথে সাথে—
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ما هو معروف ومعلوم من أن الإسلام دين الفطرة، وهو ببساطته ووضوحة ويسره الدين الوحيد الملائم لكل زمان ومكان.ثانيا – الإكثار من المنح الدراسية في الجامعات والكليات والمدراس الإسلامية في البلاد الإسلامية، خارج أفريقيا، وذك حتى تتاح الفرصة لأكبر عدد ممكن من أبناء المسلمين في أفريقيا للتزود من العلوم الإسلامية فيها ثم العودة إلى بلادهم مبشرين ومنذرين، وهادين ومهتدين عملا بقوله تعالى: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} .ثالثا – المساعدة على إنشاء ملاجئ ودور للأيتام في البلاد الأفريقية التي يقطنها مسلمون. وذلك وقاية لأبناء المسلمين من أن يقعوا في احضان التربية الكفرية التي تربيهم على الكفر، وتبعدهم حتى عن اسم الإسلام، خاصة وأنه لوحظ أن تلك الطريقة منتشرة انتشارا واسعا، لأنها تكاد تكون الطريقة الوحيدة العملية لإخراج بعض المسلمين من دائرة الإسلام، بعد أن لوحظ أنه مامن مسلم يدخل الإسلام في قلبه ثم ينبذ الإسلام وينضم علنا إلى صفوف المشركين.رابعا- أن يختار من المدرسين من مختلف البلاد الإسلامية من ذوي الإستعداد للتضحية والعمل في سبيل الله ويرسلوا إلى الإقطار الإفريقية المحتاجة، مع مراعاة الظروف والملابسات الساسية المحيطة بكل بلد إفريقي، وذلك بلا شك علاج سريع.خامسا – العمل على كثرة طبع الكتب الإسلامية مترجمة إلى اللغات الإقليمية، واللغات العالمية السائدة في أفريقيا مثل الإنجليزية والفرنسية والسواحلية وغيرها وتوزيعها، حيث لا حظنا قلة الكتب الإسلامية بل ندرتها في بعض الأقطار. هذه بعض المقترحات، وهي ليست بصعبة إذا ما صحت العزائم، وخلصت النيات، خاصة وأن الإسلام دين الدعوة والجهاد، ودين العمل والحركة، بل إن كل مسلم سبيله في الحياة أن يدعوا إلى الله على بصيرة كما قال تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} وقال تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَة..} . وقال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحاً..} .
এটা সুপরিচিত ও সুবিদিত যে ইসলাম হলো ফিতরাত বা স্বভাবজাত ধর্ম। এর সরলতা, স্পষ্টতা ও সহজবোধ্যতার কারণে এটিই একমাত্র ধর্ম যা প্রতিটি সময় ও স্থানের উপযোগী।দ্বিতীয়ত— আফ্রিকার বাইরের মুসলিম দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং ইসলামি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করা; যাতে আফ্রিকার সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম সন্তান সেখান থেকে ইসলামি জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পায় এবং এরপর নিজ দেশে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং হেদায়েতদানকারী ও হেদায়েতপ্রাপ্ত হিসেবে ফিরে যেতে পারে। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: "অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।"তৃতীয়ত— আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে এতিমখানা ও আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করা। এটি মুসলিম সন্তানদের কুফরি লালন-পালনের কবলে পড়া থেকে রক্ষা করার জন্য, যা তাদের কুফরির ওপর গড়ে তোলে এবং এমনকি ইসলামের নাম থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়। বিশেষ করে লক্ষ্য করা গেছে যে, এই পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে; কারণ কোনো মুসলিমের অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করার পর সে ইসলাম ত্যাগ করে প্রকাশ্যে মুশরিকদের কাতারে যোগ দিচ্ছে এমনটি দেখা যায় না বললেই চলে, তাই কিছু মুসলিমকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে নেওয়ার জন্য এটিই প্রায় একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।চতুর্থত— বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে এমন শিক্ষকদের নির্বাচন করা যাদের আল্লাহর পথে ত্যাগ স্বীকার ও কাজ করার মানসিকতা রয়েছে এবং তাদের আফ্রিকার অভাবী অঞ্চলগুলোতে পাঠানো। এক্ষেত্রে প্রতিটি আফ্রিকান দেশের পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। নিঃসন্দেহে এটি একটি দ্রুত সমাধান।পঞ্চমত— ইসলামি বইপুস্তকগুলো আঞ্চলিক ভাষায় এবং আফ্রিকায় প্রচলিত আন্তর্জাতিক ভাষা যেমন ইংরেজি, ফরাসি, সোয়াহিলি ও অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করে অধিক পরিমাণে ছাপানো এবং বিতরণের ব্যবস্থা করা; যেহেতু আমরা কিছু দেশে ইসলামি বইয়ের স্বল্পতা বরং দুষ্প্রাপ্যতা লক্ষ্য করেছি। এগুলো কিছু প্রস্তাবনা মাত্র, যা বাস্তবায়ন করা কঠিন নয় যদি সংকল্প দৃঢ় হয় এবং নিয়ত খাঁটি থাকে। বিশেষ করে ইসলাম হলো দাওয়াত ও জিহাদের ধর্ম, আমল ও কর্মতৎপরতার ধর্ম। বরং প্রত্যেক মুসলিমের জীবনের পথই হলো প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "বলুন, এটাই আমার পথ, আমি এবং আমার অনুসারীরা আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত প্রজ্ঞার সাথে।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে এবং নেক আমল করে?"
(খণ্ড: ১)
যিকরিয়াতি ফী ইফরিকিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪০)
أيها الإخوان: إنه لا بد لي هنا من باب إحقاق الحق، ووضع الأمور في نصابها، من أن اشيد بما قامت به هذه البلاد المقدسة وعلى رأسها حضرة صاحب الجلالة الملك المعظم فيصل بن عبد العزيز حفظه الله، حيث استجاب لكل الاقتراحات التي رفعتها إليه وئاسة الجامعة الإسلامية حول تخصيص المنح والمقاعد الدراسية لأبناء المسلمين في أفريقيا حتى لقد بلغ عدد الأقطار الأفريقية التي يدرس أبناؤها في الجامعة الإسلامية وحدها أكثر من عشرين قطرا، وقد كان لي شرف المساهمة في تنفيذ بعض ما أمر به جلالته من توزيع الإعانات المالية والمساعدات النقدية وغيرها على مختلف الجمعيات والهيئات والمدراس الإسلامية في أفريقيا.ثم إن جلالته قد أولى ما عرضه مفتى البلاد السعودية الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ حفظه الله من إرسال المدرسين والمرشدين إلى مختلف أنحاء أفريقيا غاية الاهتمام، فأصدر موافقته السامية على كل ذلك، وقد قامت دار الإفتاء بارسال العديد من المدرسين من خريجي الجامعة الإسلامية وغيرهم إلى عدد من الأقطار الإفريقية في شرقي ووسط أفريقيا، وهم الآن يواصلون عملهم بجد ونشاط. كما أننا لا يمكن أن ننسى جهود رابطة العالم الإسلامي في مكة المكرمة التي تعمل في هذا الميدان على مختلف المستويات، ولكن العبء ثقيل والميدان واسع، وناهيك بالتخطيط للعمل في قارة من القارات إذا فلا بد من تضافر الجهود، وتكاتف الهمم، نسأل الله تعالى أن ينصر دينه ويعلى كلمته، وأن يوفق المسلمين إلى الرجوع إلى دينهم، والعمل بكتاب ربهم، وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم إنه سميع قريب.حينما وصل الشاعر محمد إقبال إلى صقلية عائدا من أوروبا قال: "أبك أيها الرجل دما لادمعا فهنا مدفن الحضارة الحجازية".
হে ভ্রাতৃবৃন্দ: সত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিষয়সমূহকে সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করার উদ্দেশ্যে আমাকে অবশ্যই এই পবিত্র দেশ এবং এর প্রধান মহামান্য বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলীর প্রশংসা করতে হবে। কেননা তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আফ্রিকার মুসলিম সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং শিক্ষা আসনে বরাদ্দ সংক্রান্ত সকল প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছেন। এমনকি শুধুমাত্র ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আফ্রিকান দেশগুলোর সংখ্যা বর্তমানে বিশটিরও অধিক। মহামান্য বাদশাহর নির্দেশে আফ্রিকার বিভিন্ন সমিতি, সংস্থা ও ইসলামি মাদরাসাসমূহে আর্থিক অনুদান ও নগদ সহায়তা বিতরণের কার্যক্রমে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।অতঃপর মহামান্য বাদশাহ সৌদি আরবের মুফতি শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-শেখ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) কর্তৃক আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক প্রেরণের প্রস্তাবনার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর রাজকীয় সম্মতি প্রদান করেছেন। দারুল ইফতা মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকধারী এবং আরও অনেক শিক্ষককে পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেছে এবং তাঁরা বর্তমানে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও উদ্দীপনার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একইভাবে আমরা মক্কা মুকাররামায় অবস্থিত রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামীর প্রচেষ্টার কথাও ভুলতে পারি না, যারা এই ময়দানে বিভিন্ন স্তরে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কাজের বোঝা অনেক ভারী এবং কর্মক্ষেত্র অত্যন্ত বিশাল। আর একটি মহাদেশে কাজের পরিকল্পনার বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সংকল্পের ঐক্য একান্ত প্রয়োজন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন। আর মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীনের পথে ফিরে আসার এবং তাদের রবের কিতাব ও তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।কবি মুহাম্মদ ইকবাল যখন ইউরোপ থেকে ফেরার পথে সিসিলি পৌঁছালেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "হে ব্যক্তি! তুমি অশ্রুর পরিবর্তে রক্ত বিসর্জন দাও, কারণ এখানেই হিজাজি সভ্যতার সমাধি নিহিত।"