(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: -)
البهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية القسم: النحو والصرف
الكتاب: البهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية
المؤلف: أبو البركات بدر الدين محمد بن محمد بن محمد الغزي رحمه الله (ت: 984 هـ)
دراسة وتحقيق: حمزة مصطفى حسن أبو توهة
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ربيع الأول 1442
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বি-হুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
বই: আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বি-হুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ
লেখক: আবু আল-বারাকাত বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৯৮৪ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: হামজা মুস্তাফা হাসান আবু তুহা
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১)
شروح الغزي على الخلاصة
الشرح المنظوم الكبير
البهجة الوفية
بحجة الخلاصة الألفية
نظم الإمام العلامة الأصولي المفسر المحدث
الفقية البياني شيخ الإسلام
أبي البركات
بدر الدين محمد بن محمد بن محمد الغزي
رحمه الله
ت 984 هـ
دراسة وتحقيق
حمزة مصطفى حسن أبو توهة
الجزء الأول
আল-খুলাসার ওপর আল-গাজ্জির ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
আশ-শারহুল মানজুম আল-কাবীর
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ
বিহুজজাতিল খুলাসাহ আল-আলফিয়্যাহ
ইমাম, আল্লামা, উসুলবিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিসের কাব্যরচনা
ফকিহ, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ, শাইখুল ইসলাম
আবুল বারাকাত
বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
মৃত্যু ৯৮৪ হিজরি
গবেষণা ও সম্পাদনা
হামযাহ মুস্তফা হাসান আবু তুহাহ
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৩)
الإهداء "حذيفة" أخي إلى روحك الطاهرة ألف سلام ورحمة وغفران
إلى أمي مذللة صعاب الحياة، أبي السند والركن حفظكما الله
إلى رفيقة الدرب "كوثر" أم البنين وشقيقة الروح، أدامك الله لي
إلى كل عاشق لهذي اللغة العظيمة
أهدي هذا العمل المتواضع
উৎসর্গ আমার ভাই "হুযাইফা", তোমার পবিত্র আত্মার প্রতি সহস্র সালাম, রহমত ও ক্ষমা বর্ষিত হোক।
আমার মা, যিনি জীবনের সকল কঠিন পথকে সহজ করেন; আমার পিতা, আমার আশ্রয় ও প্রধান স্তম্ভ—আল্লাহ আপনাদের উভয়কে হিফাযত করুন।
আমার জীবনসঙ্গিনী "কাওসার", সন্তানদের জননী ও আমার আত্মার আত্মীয়—আল্লাহ আপনাকে আমার জন্য চিরস্থায়ী করুন।
এই মহান ভাষার প্রত্যেক প্রেমিকের প্রতি—
আমি এই বিনম্র কাজ উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৪)
شكر وعرفان وتقدير إن كان من أحد لا بد من شكره فإني لا أنسى ربيع زاهر الطناني رفيق العلم واللغة، والصديق الجامعي الوحيد الذي ظفرت به.
الدكتور حازم السراج لك مني كل الشكر والتقدير؛ يدك عليّ لا يجازيها إلا الله، أدام الله فضلك وأسبغ عليك نعمه.
الدكتور أحمد بسيوني الذي لم يأل جهدًا في توفير ما عزّ من النسخ المخطوطة، لك مني كل الحب والتقدير.
محمود أبو هلال الذي ساعدني في الحصول على المخطوط الأصل، لك مني كل الحب والتقدير.
কৃতজ্ঞতা, স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন যদি এমন কেউ থাকেন যাকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানানো উচিত, তবে আমি জ্ঞান ও ভাষার সহযাত্রী রবি জাহের আল-তান্নানি-কে ভুলব না, যিনি আমার পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একমাত্র অকৃত্রিম বন্ধু।
ড. হাজেম আল-সিরাজ, আপনার প্রতি রইল আমার পূর্ণ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা; আমার ওপর আপনার যে অনুগ্রহ রয়েছে তার প্রতিদান আল্লাহ ব্যতীত কেউ দিতে পারবেন না; আল্লাহ আপনার মর্যাদা অব্যাহত রাখুন এবং আপনার ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করুন।
ড. আহমদ বাসইউনি, যিনি পাণ্ডুলিপির দুষ্প্রাপ্য কপিগুলো সংগ্রহে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি, আপনার প্রতি রইল আমার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
মাহমুদ আবু হিলাল, যিনি আমাকে মূল পাণ্ডুলিপিটি পেতে সাহায্য করেছেন, আপনার প্রতি রইল আমার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৫)
تصديرعبد اللطيف زكي ابو هاشم، مدير دائرة المخطوطات والآثار وزارة الأوقاف
والشؤون الدينية - فلسطين
تحفة أخرى لغوية من تراث بني النخال الغزي
البهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية شرح ألفية ابن مالك نظما: تأليف الإمام بدر الدين محمد بن محمد الغزي (ت. 984 ه) دراسة وتحقيق: حمزة مصطفى أبو توهة.
أطلعني الباحث الأديب حمزة الذي سلك طريق التحقيق والدراسة والبحث في أمهات كتب اللغة والأدب وبالأخص كتب النحو، منذ بواكير التأليف وحتى عصرنا الحاضر، فترى هذا الشاب الباحث حديث السن الذي لم يتجاوز من عمره اثنين وعشرين عاما، يقبل وهو في معاهد الدراسة وفترة التعلم، وقبل أن يحرز الشهادة الجامعية على تحقيق ودراسة هذا السفر النادر، لعالم كانت غزة مسقط رأسه وربوع أجداده هو الإمام بدر الدين محمد بن محمد الغزي، حيث قام الباحث حمزة مصطفى أبو توهة بتحقيق ودراسة هذا السفر النادر في مجلدين كبيرين، وإني والله الأغبط هذا الباحث الشاب من كل قلبي، وكم سررت عندما اطلعت على هذا العمل الذي يبشر بالنبوغ والمستقبل الزاهر، كما أنني أطمئن أن هناك حراسا لعلوم العربية في ربوع غزة هاشم، وهذا التوجه الذي سلكه الباحث كان ينبغي أن يسلكه أساتذة كبار نالوا درجة الأستاذية، ولكن للأسف الشديد هؤلاء لم يصنعوا شيئا، ولم يقدموا للعلم شيئا يذكر ما خلا بعض وريقات كانت لها مساهمة في إحراز الترقية،
أعيد وأذكر أن هذا العمل الجليل الواعد الذي قام به باحثنا له أهمية كبيرة في إحياء
উপস্থাপনাআবদুল লতিফ জাকি আবু হাশিম, পরিচালক, পাণ্ডুলিপি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় - ফিলিস্তিন
শুনুন
গাজার বনি আল-নাখহাল ঐতিহ্যের আরও একটি ভাষাতাত্ত্বিক অমূল্য নিদর্শন
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বি-হুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক নাযমান: গ্রন্থকার ইমাম বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি (মৃত্যু ৯৮৪ হিজরি), গবেষণা ও সম্পাদনা: হামজা মুস্তফা আবু তুহা।
সুসাহিত্যিক গবেষক হামজা আমাকে কিতাবটির ব্যাপারে অবগত করেছেন; তিনি রচনার প্রাথমিক যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভাষা ও সাহিত্যের মৌলিক গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে ব্যাকরণ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সম্পাদনা, অধ্যয়ন ও গবেষণার পথ বেছে নিয়েছেন। আপনি দেখতে পাবেন এই তরুণ গবেষক, যার বয়স এখনও বাইশ বছর পার হয়নি, তিনি তার ছাত্রাবস্থায় এবং শিক্ষাগ্রহণের থাকাকালীনই—বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পূর্বেই—এই বিরল গ্রন্থটির সম্পাদনা ও গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। এটি এমন একজন আলেমের কিতাব যার জন্মভূমি এবং পূর্বপুরুষদের বিচরণক্ষেত্র ছিল গাজা, তিনি হলেন ইমাম বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি। গবেষক হামজা মুস্তফা আবু তুহা এই বিরল গ্রন্থটি দুই বিশাল খণ্ডে সম্পাদনা ও গবেষণা করেছেন। আল্লাহর কসম, আমি এই তরুণ গবেষককে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঈর্ষা করি এবং আমি এই কাজটির ব্যাপারে অবগত হয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি, যা তার প্রতিভা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। সেই সাথে আমি আশ্বস্ত হয়েছি যে, গাজা হাশেমের প্রান্তরে আরবি ভাষার জ্ঞানসমূহের অতন্দ্র প্রহরীরা এখনও বিদ্যমান। গবেষক যে পথটি বেছে নিয়েছেন, তা আসলে সেইসব বড় বড় অধ্যাপকদের বেছে নেওয়া উচিত ছিল যারা প্রফেসর পদমর্যাদা লাভ করেছেন, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তারা বিজ্ঞানের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই করেননি এবং জ্ঞানের ভাণ্ডারে বলার মতো কিছু পেশ করেননি, কেবল পদোন্নতি লাভের সহায়ক কিছু পৃষ্ঠা ছাড়া।
আমি পুনরায় উল্লেখ করছি যে, আমাদের এই গবেষক যে মহান ও আশাব্যঞ্জক কাজটি আঞ্জাম দিয়েছেন, ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব অপরিসীম।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৬)
ودراسة تراث الأجداد والتنقيب عن كنوزهم الحبيسة في المكتبات الكبرى شرقا وغربا
وإن هذا العمل سيكون له أهمية كبيرة في إثراء البحث والدراسة في أهم مصادر اللغة العربية وفي علم النحو والإعراب خاصة بألفياته متنا وشروحا ودراسة،
وفي الختام أهنئ وأبارك لهذا الباحث، وأهيب بالمؤسسات العلمية والجامعات الفلسطينية أن تنظر بعين الاعتبار لمثل هذه الأعمال، وأن يعتبر مصدرا مهما من المصادر اللغوية التي يتم الاعتماد عليها في دراسة العربية ونحوها وصرفها وبلاغتها، وفقنا الله جميعا لإحياء تراث لغة القرآن، وجعل ذلك منارة وخدمة للعلم وأهله.
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وسلم.
পূর্ব ও পশ্চিমের বৃহৎ গ্রন্থাগারগুলোতে অবরুদ্ধ পূর্বসূরিদের ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করা এবং তাদের লুকায়িত জ্ঞানভাণ্ডার অনুসন্ধান করা
নিশ্চয়ই এই কাজটি আরবি ভাষার গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহে এবং বিশেষ করে ইলমে নাহু ও ইরাব শাস্ত্রের আলফিয়্যাহর মূল পাঠ, ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণা ও অধ্যয়নকে সমৃদ্ধ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,
পরিশেষে, আমি এই গবেষককে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিকট উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা এ জাতীয় কাজগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। এই কাজটিকে যেন আরবি ভাষা এবং এর নাহু, সরফ ও বালাগাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে কুরআনের ভাষার ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার তাওফিক দান করুন এবং একে ইলম ও জ্ঞানপিপাসুদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা ও খিদমত হিসেবে কবুল করুন।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحقق
الحمد لله الملهم بالمنطق الفصيح اللساني، للإعراب عما استكن في الضمير من المعاني، المميز المخصوص بجميع صفات وحالات الكمالات والمفاخر، هادي الألباب للغوص في بحر علم العربية مفتاح العلوم الزاخر، فأخرجوا منه لؤلؤ المعاني والفوائد، ومرجان النكت والقلائد، العاطف على مَن إليه رجع وأناب، المبدل سيآته حسنات بجزيل فضله وحسن الثواب، لا إله إلا هو المنزه عن الابتداء والزمان، واللغة والنحو والجهة والمكان، مرشد القلوب لخلاصة الكافية، الجامعة الشافية الوافية، ونصلي ونسلم على ناسخ الشرائع ذي المقام المحمود الأحمد، سيدنا ومولانا ونبينا محمد، أفصح من نطق بالضاد، وكسر بفصاحته ظهر كل معاند ومتطاول مضاد، وآله وأصحابه، وكل من اقتفى أثره وسَكِر بحبه وصحابه، ما دام العلم منشورًا في المجالس والدروس، ومنظومًا ومنثورًا في الأوراق والطروس، وبعدُ لمّا كانت العربية من أجل العلوم، ولما كانت المصنفات فيها أكثر من أن تعد وتحصى، تميزت من هذه التصنيفات بعضها، وشاع ذكرها، وتُصدي لشرحها، ومن أجَلّ هذه المصنفات "ألفية ابن مالك"، ولها ما يزيد على مئة وثلاثين شرحًا، ما بين مطبوع ومخطوط ومفقود، وقد أعرب أبياتها بعض العلماء، ووضع لها آخرون حواشي وتقريرات وتقييدات وتعليقات، وحوّلها بعضهم إلى نثر، وغير ذلك من ألوان العناية والاهتمام بهذا الكتاب المبارك
(1).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অন্তরে সুপ্ত অর্থসমূহ প্রকাশের নিমিত্তে প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষা ব্যবহারের প্রেরণা দানকারী; যিনি সমস্ত পূর্ণতা ও গৌরবের গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ দ্বারা বিশেষিত ও অদ্বিতীয়; যিনি সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের চাবিকাঠি স্বরূপ আরবি ব্যাকরণ বিজ্ঞানের সমুদ্রে অবগাহন করতে জ্ঞানীদের পথপ্রদর্শক। ফলে তারা সেখান থেকে অর্থের মুক্তা ও উপকারের মণি এবং সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও অলংকারের প্রবাল আহরণ করেছেন। তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ও অনুতপ্তদের প্রতি পরম সদয় এবং যিনি তাঁর সুমহান অনুগ্রহ ও উত্তম প্রতিদানের মাধ্যমে বান্দার পাপসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেন। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, যিনি সূচনা ও কাল এবং ভাষা, ব্যাকরণ, দিক ও স্থান থেকে পবিত্র। তিনি অন্তরসমূহকে ‘কাফিয়া’র সেই সারসংক্ষেপের দিকে পথপ্রদর্শক, যা পূর্ণাঙ্গ, নিরাময়কারী ও পর্যাপ্ত। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহের রহিতকারী, প্রশংসিত ও আহমদ মাকামের অধিকারী আমাদের নেতা, আমাদের অভিভাবক এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি আরবি বর্ণ ‘দাদ’ উচ্চারণকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জল এবং যিনি তাঁর বাকপটুতার মাধ্যমে প্রত্যেক হঠকারী ও উদ্ধত বিরোধীর দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছেন। তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ও তাঁর প্রেম ও সাহচর্যে মগ্ন হয়েছেন, তাদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—যতদিন পর্যন্ত জ্ঞান বিভিন্ন মজলিস ও পাঠদানে প্রচারিত হবে এবং কাগজ ও পাণ্ডুলিপিতে কবিতা ও গদ্য আকারে লিপিবদ্ধ থাকবে। অতঃপর, আরবি ভাষা যেহেতু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি জ্ঞান এবং এতে রচিত গ্রন্থাবলী যেহেতু অগণিত ও অনস্বীকার্য, সেহেতু এই রচনাগুলোর মধ্য থেকে কিছু বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে, সেগুলোর খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সকল রচনার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো “আলফিয়্যা ইবনে মালিক”। এর প্রায় একশ ত্রিশটিরও বেশি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে কিছু মুদ্রিত, কিছু পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত এবং কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কোনো কোনো আলেম এর কবিতাগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ এতে টীকা, ব্যাখ্যা, সংযোজনী ও মন্তব্য যুক্ত করেছেন। কেউ কেউ একে গদ্যে রূপান্তর করেছেন। এই বরকতময় কিতাবটির প্রতি এ জাতীয় আরও বহুবিধ যত্ন ও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويمكن القول إن أول شرح للألفية كان شرح ابن الناظم
(1)، ثم تلاه شروحات مَن بعده، وتصدى للألفية جهابذة العلماء كأبي حيان والمرادي والشاطبي والمكودي وابن عقيل وابن هشام.
لكن هذه الشروح كلها كانت على هئية واحدة وهي الشرح المنثور، إلا أن التراث حفظ لنا شرحًا بديعًا عظيمًا، غريبًا في بابه، لم يُنسج على منواله، وهو شرح الإمام بدر الدين الغزي المسمى "البهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية"، وهو شرح منظوم في عشرة آلاف بيت ونيف وخمسين بيتًا.
وقد وقعت النية على الخوض في غمار العربية، وخصوصًا في شيء يخص ألفية ابن مالك، فعقدت العزم على أن أعكف على هذا المصنف تحقيقًا.
والذي شجعني أكثر إلى جانب اهتمامي وغرامي بالتراث النحوي أن المؤلف غزيّ مثلي أصله من مدينة غزة.
بدأت رحلتي مع هذا المصنَّف المخطوط في شهر رمضان من عام ألف وأربعمئة وسبعة وثلاثين وأنا طالب في المستوى الثالث في الجامعة الإسلامية بغزة في كلية الآداب قسم اللغة العربية.
أسأل الله أن يتمم أمورنا بخير، إنه على كل شيء قدير.
حمزة مصطفى حسن أبو توهة
29 رمضان 1438 هـ
الموافق
23 يونيو 2017
--------------------------------------------
এটা বলা যেতে পারে যে, আলফিয়্যাহ-র প্রথম ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছিল ইবনে নাযিমের
(১) ব্যাখ্যাগ্রন্থ, অতঃপর তাঁর পরবর্তী সময়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো একে একে এসেছে। আবু হাইয়ান, আল-মুরাদি, আল-শাতবি, আল-মাকুদি, ইবনে আকিল এবং ইবনে হিশামের মতো প্রথিতযশা পণ্ডিতগণ আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় আত্মনিয়োগ করেছেন।
কিন্তু এই সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো ছিল একই ধারার, অর্থাৎ গদ্যে রচিত ব্যাখ্যা। তবে আমাদের ঐতিহ্য একটি চমৎকার ও মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংরক্ষণ করেছে, যা তার নিজ ক্ষেত্রে অনন্য এবং এর সমতুল্য আর কিছু রচিত হয়নি। তা হলো ইমাম বদরুদ্দিন আল-গাজ্জির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম "আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বি-হুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ"। এটি দশ হাজার পঞ্চাশটিরও কিছু বেশি পঙ্ক্তিতে রচিত একটি ছন্দবদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
আরবি ভাষার গভীর সমুদ্রে অবগাহনের ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম, বিশেষ করে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে। তাই আমি এই গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজে নিবিষ্ট হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করি।
নাহবি ঐতিহ্যের প্রতি আমার আগ্রহ ও অনুরাগের পাশাপাশি যা আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছে তা হলো লেখক আমার মতোই একজন গাজাবাসী এবং তাঁর মূল নিবাস গাজা শহরে।
এই পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল এক হাজার চারশত সাইত্রিশ হিজরির রমজান মাসে, যখন আমি গাজা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের আরবি ভাষা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকল কাজ কল্যাণের সাথে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশালী।
হামজা মুস্তফা হাসান আবু তুহা
২৯ রমজান ১৪৩৮ হিজরি
মোতাবেক
২৩ জুন ২০১৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدراسة
গবেষণা
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১১)
ترجمةُ المصنِّف (1)
اسمُهُ ولقبُه:محمدُ بنُ محمدِ بنِ محمدِ بنِ عبدِ اللهِ بنِ بدرِ بنِ عثمانَ بنِ جابر، الشيخُ الإمامُ العالِمُ العلّامةُ، الفقيهُ المفسّرُ المحدّثُ، شيخُ الإسلامِ وبحرُ العلومِ أبو البرَكاتِ بدرُ الدّينِ بنُ القاضي محمدِ بنِ محمدٍ رضيِّ الدينِ الغزيُّ العامريُّ الشافعيّ.
مولدُه:كان مولدُهُ في دمشقَ في وقتِ العشاءِ ليلةَ الاثنينِ رابعَ عشرَ ذي القعدةِ سنةَ أربعةٍ وتسعمئةٍ للهجرة.
شيوخُه (2):
قرأَ القرآنَ العظيمَ على المشايخِ الصالحينَ منَ الفُضلاءِ في وقتِه، ومنهم: الشموس البغداديُّ، ومحمدُ بنُ السبكيِّ، ومحمدُ النّشائيُّ، ومحمدُ اليمانيُّ، والبدرُ السَّنهوريّ.
أخذَ الفقهَ والعربيةَ والمنطقَ عن والدِه الشيخِ العلّامةِ رضيِّ الدينِ، وقرأَ الفقهَ كذلكَ على تقيِّ الدينِ أبي بكر بنِ قاضي عجلون، وأكثر انتفاعه بهِ بعدَ والدِه، وأخذَ الحديثَ على الشيخِ الإمامِ بدرِ الدينِ حسنِ بنِ الشويخِ المقدسيّ.
رحلتُه في طلَبِ العِلم:رحلَ أبو البركاتِ بدرُ الدينِ مع والدِه إلى القاهرةِ، فأخذَ بها عن الشيخِ الإمامِ شيخِ الإسلامِ القاضي زكريّا الأنصاريّ، وانتفعَ بهِ في مصرَ كثيرًا، وأخذَ كذلكَ عن
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের পরিচিতি (১)
তাঁর নাম ও উপাধি:মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর ইবনে উসমান ইবনে জাবির; তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, আল্লামা, ফকিহ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, শায়খুল ইসলাম এবং ইলমের সমুদ্র আবু আল-বারাকাত বদরুদ্দীন বিন কাজী মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ রাদ্বিউদ্দীন আল-গাজ্জি আল-আমিরি আশ-শাফেয়ি।
তাঁর জন্ম:তাঁর জন্ম হয়েছিল দামেস্কে ৯০৪ হিজরি সনের ১৪ই জিলকদ সোমবার দিবাগত রাতে এশার সময়।
তাঁর শিক্ষকগণ (২):
তিনি তাঁর সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যবান শায়খদের নিকট মহান কুরআন পাঠ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শামসুস আল-বাগদাদি, মুহাম্মদ ইবনে সুবকি, মুহাম্মদ আন-নাশাঈ, মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি এবং বদর আস-সানহুরি।
তিনি তাঁর পিতা আল্লামা শায়খ রাদ্বিউদ্দীনের নিকট ফিকহ, আরবি ভাষা ও যুক্তিবিদ্যা শিক্ষা করেন। অনুরূপভাবে তিনি তাকিউদ্দীন আবু বকর বিন কাজী আজলুনের নিকট ফিকহ পাঠ করেন; পিতার পর তাঁর মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক উপকৃত হয়েছেন। আর তিনি হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেন শায়খ ইমাম বদরুদ্দীন হাসান ইবনে শুওয়াইখ আল-মাকদিসির নিকট।
জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর সফর:আবু আল-বারাকাত বদরুদ্দীন তাঁর পিতার সাথে কায়রোতে সফর করেন। সেখানে তিনি শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম কাজী জাকারিয়া আল-আনসারির নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং মিসরে তাঁর সান্নিধ্যে থেকে প্রভূত উপকার লাভ করেন। এছাড়া তিনি আরও অর্জন করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১২)
جماعةٍ آخرينَ، منهم: القَسطلانيُّ صاحبُ المواهِبِ اللدُنِّية، والبرهانُ ابنُ أبي شريفٍ، والبرهانُ القلقشنديُّ، وبقيَ في مصرَ نحوًا من خمسِ سنواتٍ، واستجازَ لهُ والدُهُ من الحافِظِ جلالِ الدينِ السّيوطِيِّ، وعادَ إلى دمشقَ في رجب سنةَ إحدى وعشرينَ وتسعمئةٍ بعدَما برعَ ودرَّسَ وألَّفَ ونظَمَ الشّعرَ، وكانَ أوَّلُ شيءٍ نظمَهُ وهوَ ابنُ ستَّ عشرةَ سنةٍ قولَه:
يَا رَبِّ يَا رَحْمَنُ يَا اللهُ
… يَا مُنْقِذَ المِسْكِينِ مِنْ بَلْوَاهُ
امْنُنْ عَلَيَّ وَجُدْ بِمَا تَرْضَاهُ
… بِجَزِيلِ فَضْلٍ مِنْكَ يَا اللهُ
ومن شعرِهِ أيضًا:
إِلَهَ العَالَمِينَ رِضَاكَ عَنِّي
… وَتَوْفِيقِي لِمَا تَرْضَى مُنَايَ
فَحِرْمَانِي عَطَائِي إِنْ تُرِدْهُ
… وَفَقْرِي إِنْ رَضِيتَ بِهِ غِنَايَ
وكذلكَ من شعرِه قولُه:
بِالحَظِّ وَالجَاهِ لَا بِفَضْلِ
… فِي دَهْرِنَا المَالُ يُسْتَفَادُ
كَمْ مِنْ جَوَادٍ بِلَا حِمَارِ
… وَكَمْ حِمَارٌ لَهُ جَوَادُ
تصديرُهُ للتّدريسِ والتعلِيم (1):
تصدّى للتدريسِ والتعليمِ في دمشقَ بعدَ عودتِه منَ القاهرةِ وكانَ عمرُهُ سبعةَ عشَرَ عامًا، واجتمعَتْ عليهِ الطّلبةُ، وعُرِفَ فَضلُهُ وعلمُهُ وحُسْنُ فَتواهُ، وظلَّ على ذلكَ إلى المَماتِ مُشتغِلًا بالعِلمِ تدريسًا وتَصنيفًا، معَ ما عُرِفَ بهِ من الاشتغالِ بالعبادةِ وقيامِ اللّيل.
توَلِّيهِ للوظائفِ والمناصبِ الدينية:تولَّى رحمه الله مشيخةَ القُرّاءِ بالجامعِ الأُمويِّ، وإمامةَ المقصورةِ، ودرَّسَ بالمدرسةِ العادِليَّةِ، والفارسيّةِ والشّاميةِ البرانيةِ، والمقدميةِ، والتقوية.
--------------------------------------------
অন্যান্য একদল উলামা, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: 'মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ' গ্রন্থের রচয়িতা আল-কাসতালানি, বুরহান ইবনে আবি শারিফ এবং বুরহান আল-কালকাশান্দি। তিনি মিশরে প্রায় পাঁচ বছর অবস্থান করেন। তাঁর পিতা তাঁর জন্য হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ুতির নিকট থেকে ইজাজত (অনুমতি) গ্রহণ করেন। তিনি ৯২১ হিজরির রজব মাসে দামেস্কে প্রত্যাবর্তন করেন, ইতোমধ্যে তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং শিক্ষকতা, গ্রন্থ রচনা ও কবিতা চর্চা শুরু করেন। ষোলো বছর বয়সে তাঁর রচিত প্রথম কবিতা ছিল:
হে প্রতিপালক, হে পরম করুণাময়, হে আল্লাহ!
… হে নিঃস্ব ব্যক্তিকে তার বিপদ থেকে উদ্ধারকারী!
আমার ওপর অনুগ্রহ করুন এবং আপনি যা পছন্দ করেন তা দান করুন
… আপনার পক্ষ থেকে মহা অনুগ্রহ স্বরূপ, হে আল্লাহ!
তাঁর কবিতা থেকে আরও রয়েছে:
হে জগতসমূহের ইলাহ, আমার প্রতি আপনার সন্তুষ্টি
… এবং আপনি যাতে সন্তুষ্ট হন তার তাওফিক পাওয়াই আমার কামনা।
আপনার দান থেকে বঞ্চিত হওয়াও আমার জন্য উপহার যদি আপনি তা চান
… আর আমার দারিদ্র্যই আমার জন্য প্রাচুর্য যদি আপনি তাতে সন্তুষ্ট থাকেন।
অনুরূপভাবে তাঁর একটি কাব্য উক্তি হলো:
আমাদের এই যুগে যোগ্যতা বা শ্রেষ্ঠত্বের দ্বারা নয়, বরং ভাগ্য এবং প্রতিপত্তি দিয়েই
… সম্পদ লাভ করা যায়।
কত তেজস্বী ঘোড়া আছে যার কোনো গাধা নেই
… আবার কত গাধা রয়েছে যার কাছে তেজস্বী ঘোড়া আছে।
শিক্ষকতা ও শিক্ষাদানে তাঁর আত্মনিয়োগ (১):
কায়রো থেকে ফেরার পর সতেরো বছর বয়সে তিনি দামেস্কে শিক্ষকতা ও শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট সমবেত হয় এবং তাঁর মর্যাদা, জ্ঞান ও ফতোয়া প্রদানের দক্ষতা প্রসিদ্ধি লাভ করে। আমৃত্যু তিনি শিক্ষকতা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ইলমি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি ইবাদত বন্দেগি এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদ গুজারির জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
ধর্মীয় বিভিন্ন দায়িত্ব ও পদসমূহ গ্রহণ:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উমাইয়া জামে মসজিদের শাইখুল কুররা (কারিদের প্রধান) এবং মাকসুরার ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি আল-আদিলিয়া, আল-ফারসিয়া, আশ-শামিয়া আল-বাররানিয়া, আল-মুকাদ্দামিয়া এবং আত-তাকওয়িয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اختيارُه العُزلة (1):
بالرّغمِ منَ انتفاعِ الناسِ بهِ طبقةً بعدَ طبقةٍ، ورحلتِهِمْ إليهِ منَ الآفاقِ إلّا أنّهُ اختارَ العزلةَ عن النّاسِ في أواسطِ عمرِهِ، فكانَ لا يأتي قاضِيًا ولَا حاكِمًا ولَا كَبيرًا، بلْ هُمْ يقصِدُونَ منزِلَهُ الكريمَ للعِلْمِ والإِفادةِ، وَالاستفتاءِ، وطلَبِ الدُّعاءِ مِنهُ، وإذا قصدَهُ قاضي القُضاةِ أو نائبُهُ لا يأذَنُ لواحدٍ منهُما إلّا بعدَ مرّاتٍ ومُراجعاتٍ في الإذنِ، ودخلَ عليهِ نائبُ الشَّامِ مرةً وطلَبَ مِنهُ الدُّعاءَ فقالَ لهُ: "أَلْهَمَكَ اللهُ العَدْلَ"، فاستزادَهُ فَلَمْ يَزِدْ على قولِه: "أَلْهَمَكَ اللهُ العَدْلَ"، وكانتْ هذهِ دَعوتَهُ لكلِّ مَنْ قصدَهُ منَ الحُكّامِ والقُضاة.
مذهبُهُ في العَطايا والهَدايا والأُجرةِ على الفتيا:كان أبو البركاتِ رحمه الله لا يقبَلُ هدايا الطُّلّابِ مُطلقًا، ولا يأخُذُ أَجْرًا على الفتيا، بل سدَّ بابَ الهديّةِ مُطلقًا خشيةَ أن يُهدي إليه مَن يطلبُ منه إفادةً أو شفاعةً أو فتوى، ولم يقبلْ هدايا مِن أحدٍ إلا من أقربائهِ وأخصّائهِ، وكان يكافئُ على الهديّةِ أضعافًا.
كرمُهُ وسخاؤُهُ وجودُه:كان رحمه الله كريمًا سخيًّا، يُعطي الطلبةَ كثيرًا، ويكسُوهمْ، ويُجري على بعضِهم عطاءً دائمًا، وكان إذا ختمَ كِتابًا أو تصنيفًا أَوْلَمَ وصنَعَ خَتمًا حافلًا ودعا أكابِرَ الناسِ إليهِ وفقراءَهُم وأضافهُم، وساوى في ضيافتِهم بينَ الفقراءِ والأُمراءِ، وكان يُضاعفُ النّفقاتِ في رمضانَ، ويدعو إلى سِماطِه كلَّ ليلةٍ منهُ جماعةً مِن أهلِ العِلمِ والصّلاحِ والفُقراء.
أَمْرُهُ بالمعرُوفِ ونهيُهُ عنِ المُنْكر:كان رحمه الله يحبُّ الصُّوفيَّةَ ويُكرمُهم، وإذا سمِعَ عنهُم شيئًا مُخالفًا للشَّرعِ بعثَ إليهِم ونصحَهُم، ودعاهُم إلى اللهِ تَعالَى، وكانُوا يمتثِلُونَ أمرَهُ ونُصحَهُ، وكانوا يُقدِّرُونَهُ ويقتدُونَ بهِ رحمه الله.
--------------------------------------------
তাঁর নির্জনতা বেছে নেওয়া(১):
প্রজন্মান্তরে মানুষের তাঁর দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং দিগন্ত থেকে তাঁর অভিমুখে ভ্রমণের সত্ত্বেও, তিনি তাঁর জীবনের মধ্যভাগে মানুষের থেকে নির্জনতা বেছে নিয়েছিলেন। ফলে তিনি কোনো বিচারক, শাসক বা কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছে যেতেন না; বরং তাঁরাই জ্ঞান অর্জন, ফায়দা লাভ, ফতোয়া জিজ্ঞাসা এবং তাঁর কাছে দোয়ার আশায় তাঁর মহৎ গৃহে উপস্থিত হতেন। যখন প্রধান বিচারপতি বা তাঁর প্রতিনিধি তাঁর সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন কয়েকবার আবেদন এবং পর্যালোচনার পরই কেবল তিনি অনুমতি দিতেন। একবার শামের প্রতিনিধি তাঁর কাছে প্রবেশ করে দোয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে বললেন: "আল্লাহ আপনাকে ন্যায়ের প্রেরণা দান করুন।" প্রতিনিধি আরও দোয়ার অনুরোধ করলে তিনি "আল্লাহ আপনাকে ন্যায়ের প্রেরণা দান করুন" কথাটি ছাড়া আর কিছুই বাড়ালেন না। তাঁর কাছে আসা সকল শাসক ও বিচারকদের জন্য এটিই ছিল তাঁর নির্দিষ্ট দোয়া।
উপহার, উপঢৌকন এবং ফতোয়ার পারিশ্রমিকের বিষয়ে তাঁর নীতি:আবু আল-বারাকাত (রাহিমাহুল্লাহ) ছাত্রদের কাছ থেকে উপহার একেবারেই গ্রহণ করতেন না এবং ফতোয়া প্রদানের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না। বরং তিনি উপহারের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এই আশঙ্কায় যে, এমন কেউ হয়তো তাঁকে উপহার দেবে যে তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান লাভ, সুপারিশ বা ফতোয়া প্রত্যাশা করে। তিনি তাঁর নিকটাত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠজন ছাড়া আর কারো কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করতেন না। আর কোনো উপহার গ্রহণ করলে তিনি তার বিনিময়ে কয়েক গুণ বেশি প্রতিদান দিতেন।
তাঁর বদান্যতা, উদারতা ও দানশীলতা:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত উদার ও দানশীল ছিলেন। তিনি ছাত্রদের প্রচুর দান করতেন, তাঁদের পোশাক-পরিচ্ছদ দিতেন এবং তাঁদের কারো কারো জন্য নিয়মিত বৃত্তির ব্যবস্থা করতেন। তিনি যখনই কোনো কিতাব বা রচনা সম্পন্ন করতেন, তখন ভোজের আয়োজন করতেন এবং একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অভাবী মানুষদের দাওয়াত দিতেন। মেহমানদারির ক্ষেত্রে তিনি দরিদ্র ও আমীরদের মধ্যে সমতা বজায় রাখতেন। রমজান মাসে তিনি ব্যয়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন এবং প্রতি রাতে একদল আলেম, নেককার ও দরিদ্র মানুষকে তাঁর দস্তরখানের মেহমান করতেন।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সুফী সম্প্রদায়কে ভালোবাসতেন এবং তাঁদের সম্মান করতেন। তবে যদি তাঁদের থেকে শরিয়ত বিরোধী কোনো কিছু শুনতে পেতেন, তবে তিনি তাঁদের কাছে লোক পাঠিয়ে নসিহত করতেন এবং তাঁদের মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। তাঁরাও তাঁর আদেশ ও উপদেশ মেনে চলতেন এবং তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন ও তাঁর অনুসরণ করতেন (রাহিমাহুল্লাহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تصانِيفُه (1):
وأمّا تصانيفُ الشَّيخِ في سائرِ العُلومِ فبلغتْ مئةً وبضعةَ عشرَ مُصنّفًا، ومِن أشهرِها: التفاسيرُ الثلاثةُ: المنثورُ والمنظومانِ، وأشهرُها: المنظومُ الكبيرُ في مئةٍ وثمانينَ ألفَ بيتٍ، وحاشيتانِ على شَرحِ المِنهاجِ للمحلِّيِّ، وشرحانِ على المِنهاجِ كبيرٌ وصغيرٌ، سايرَ فيهِ المحليَّ، وزادَ فيه أكثرَ منَ الثُّلثِ معَ الإشارةِ فيهِ إلى نُكتِ الحاشية، وهو في حجمِ المحليِّ أو دُونَه، وكتابُ "فتح المُغلَق في تصحيحِ ما في الرّوضةِ مِنَ الخِلافِ المُطلَق"، وكتابُ" التَّنقِيب على ابنِ النَّقِيب"، وكتابُ "البُرهان النّاهِض في نيةِ استباحةِ الوَطْءِ لِلحائِض" وشرحُ "خاتمة البَهْجة" وكتابُ "الدرّ النَّضيد في أدبِ المُفيدِ والمُستفِيد" ودروسٌ على طائفةٍ مِن شرحِ الوجيزِ للرافعيِّ والروضةِ والتَّذكرَةِ الفِقهيةِ، وشرحانِ على الرَّحبيَّةِ، وتفسيرُ آيةِ الكُرسيِّ، وثلاثَةُ شُروحٍ على الألفيةِ في النَّحوِ منظومَانِ ومَنثورٌ، وكتابُ "شرح الصُّدور بشَرْحِ الشُّذُور"، وَشَرْحٌ على التَّوضِيحِ لابنِ هِشامٍ، وشَرحُ شواهِدِ التَّلخِيصِ في المعانِي والبَيانِ، لخَّصَ فيهِ شرحَ السيِّدِ عبدِ الرَّحيمِ العبّاسِيِّ، واللَّمْحَة في اختصارِ المُلْحَة، ونَظْمُ الآجُرُّومِيَّة، وهو أوّلُ تآليفِهِ، وشَرْحُ المُلحَةِ مُختَصَرٌ، وكتابُ "أَسباب النّجاح في آدَابِ النِّكاح"، وكتابُ "فصل الخِطاب في وَصْلِ الأَحْباب"، وَمَنظُومةٌ في خَصائصِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، ومنظومةٌ في خصائِصِ يومِ الجُمعةِ وَشرحُها، ومنظومةٌ في مُوافقاتِ سيِّدِنا عمرَ -رضيَ اللهُ تعالى عنه- للقرآنِ العظيمِ وشرحُها، والعقدُ الجامِع في شرحِ الدُّررِ اللّوامِع نَظمِ جَمْعِ الجَوامِع في الأُصولِ لوالدِه وغَيْرُ ذلِك.
وفاتُه (2):
مرضَ رحمه الله قبلَ وفاتِه أيّامًا، وكانَ ابتِدَاءُ مرضِهِ في ثاني شوّال مِن سنةِ تسعمئةٍ وأربعٍ وثمانِينَ، واستمرَّ بهِ مرضُهُ حتّى سادسَ عشرَ شوّال، وتُوفِّيَ عقِبَ
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলী(১):
অন্যান্য সকল শাস্ত্রে শাইখের রচনাবলী একশ দশটিরও বেশি। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো তিনটি তাফসীর: একটি গদ্যে এবং দুইটি পদ্যে রচিত। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো এক লক্ষ আশি হাজার পংক্তি বিশিষ্ট 'আল-মানযুম আল-কাবীর'। এছাড়া মাহাল্লী রচিত 'শারহুল মিনহাজ'-এর ওপর দু’টি হাশিয়া (টীকা), এবং 'মিনহাজ'-এর ওপর দু’টি শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)—একটি বৃহৎ ও একটি সংক্ষিপ্ত, যাতে তিনি মাহাল্লীর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং তাতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি তাত্ত্বিক আলোচনা বৃদ্ধি করেছেন; সাথে হাশিয়ার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। এটি কলেবরের দিক থেকে মাহাল্লীর সমান বা তার চেয়ে কিছুটা ছোট। আরও রয়েছে 'ফাতহুল মুগলাক ফী তাসহীহি মা ফির-রাওযাতি মিনাল খিলাফিল মুতলাক', 'আত-তানকীব আলা ইবনিন নাকীব', 'আল-বুরহানুন নাহিয ফী নিয়্যাতি ইসতিবাহাতিল ওয়াতয়ি লিল-হায়েয', 'খাতিমাতুল বাহজাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'আদ-দুররুন নাযীদ ফী আদাবিল মুফীদি ওয়াল মুসতাফীদ' এবং রাফেয়ী রচিত 'শারহুল ওয়াজীয়', 'আর-রাওযাহ' ও 'আত-তাযকিরাতুল ফিকহিয়্যাহ'-এর একটি অংশের ওপর পাঠসমূহ। আরও রয়েছে 'আর-রাহবিয়্যাহ'-এর ওপর দু’টি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আয়াতুল কুরসীর তাফসীর, নাহু শাস্ত্রের আলফিয়্যার ওপর তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ—দু’টি পদ্যে এবং একটি গদ্যে। আরও রয়েছে 'শারহুস সুদূর বিশারহিশ শুযূর', ইবনে হিশামের 'আত-তাওযীহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (মাআনী ও বায়ান) 'শাওয়াহিদুল তালখীস'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যাতে তিনি সাইয়্যেদ আব্দুল রহীম আল-আব্বাসীর ব্যাখ্যাগ্রন্থকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। এছাড়া 'আল-লামহাহ ফী ইখতিসারিল মুলহাহ' এবং 'আল-আজরুমিয়্যাহ'-এর পদ্যানুবাদ, যা ছিল তাঁর প্রথম রচনা। আরও রয়েছে 'শারহুল মুলহাহ'-এর সংক্ষিপ্তসার, 'আসবাবুন নাজাহ ফী আদাবিন নিকাহ', 'ফাসলুল খিতাব ফী ওয়াসলিল আহবাব', নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ, জুমার দিনের বৈশিষ্ট্যের ওপর একটি কাব্যগ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-কুরআনুল কারীমের সাথে আমাদের নেতা উমর—রাদিয়াল্লাহু আনহু—এর ঐকমত্যসমূহ (মুয়াফাকাত) নিয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং তাঁর পিতার উসূল শাস্ত্রের কাব্যগ্রন্থ 'জামউল জাওয়ামী'-এর পদ্যানুবাদ 'আদ-দুরারুল লাওয়ামি'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ইকদুল জামি' এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
তাঁর মৃত্যু(২):
তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—মৃত্যুর পূর্বে কয়েকদিন অসুস্থ ছিলেন। তাঁর অসুস্থতার সূচনা হয়েছিল ৯৮৪ হিজরী সালের ২রা শাওয়াল এবং সেই অসুস্থতা ১৬ই শাওয়াল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أذانِ العصرِ وهو جالسٌ يستمِعُ إلى الأذانِ، وصلَّى عليهِ جمعٌ غفيرٌ يومَ الخميسِ بعدَ الظُّهرِ في الجامعِ الأُمويِّ، ودُفنَ بتربةِ الشيخِ أَرْسَلَان خارجَ بابِ توما مِن أبوابِ دمشقَ من الجانبِ الشرقيّ.
وقال ماميَّةُ الشَّاعرُ مُؤرِّخًا لوفاتِه:
أَبْكَى الجَوَامِعَ وَالمَسَاجِدَ فَقْدُ مَنْ
… قَدْ كَانَ شَمْسَ عَوَارِفِ التَّمْكِينِ
وَكَذَا المَدَارِسُ أَظْلَمَتْ لَمَّا أَتَى
… تَاريِخُهُ بِـ"خَفَاءِ بَدْرِ الدِّينِ"
আছরের আযানের সময় তিনি বসে আযান শুনছিলেন। বৃহস্পতিবার যোহরের পর উমাইয়া জামে মসজিদে এক বিশাল জনসমাবেশ তাঁর জানাযার সালাত আদায় করে এবং তাঁকে দামেস্কের ফটকসমূহের অন্যতম 'বাব তুমা'-এর বাইরে পূর্ব পার্শ্বে শায়খ আরসালানের গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এবং কবি মামিয়্যাহ তাঁর ইন্তেকালের তারিখ বর্ণনা করে বলেছেন:
জামে ও সাধারণ মসজিদসমূহকে রোরুদ্যমান করেছে তাঁর প্রস্থান, যিনি ছিলেন
… সুদৃঢ় আধ্যাত্মিক মারেফাতের সূর্য।
তেমনিভাবে মাদ্রাসাগুলোও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল যখন তাঁর ইন্তেকালের তারিখ প্রকাশ পেল
… "বদরুদ্দীনের তিরোধান" বাক্যের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الكتاب نسبة وتوثيق واسم
نسبة البهجة الوفية إلى الإمام بدر الدين الغزي مما لا يختلف فيها اثنان، ولا ينتطح فيه عنزان؛ فكل من ترجم للمصنف رحمه الله أشار إلى هذا الكتاب، ونحن ننقل هنا شيئًا مما يدل على ذلك:
قال حاجي خليفة في كشف الظنون عندما تحدث عن ألفية ابن مالك وشراحها: "وبدر الدين محمد بن محمد بن الرضي الغزي .. ، وله ثلاثة شروح على الألفية: منثور ومنظومان"
(1).
قال ابنه نجم الدين في الكواكب السائرة عندما أتى على مصنفات والده: "وله ثلاثة شروح على الألفية النحوية في النحو: منظومان ومنثور"
(2).
وعندما أورد ابن العماد الحنبلي ترجمة الإمام بدر الدين ذكر من مصنفاته: "وثلاثة شروح على الألفية في النحو: منظومان ومنثور"
(3).
ولعل من يشهد لهذه النسبة المخطوط نفسه، فقد كتب على غلاف النسخة المعتمدة: "هذا شرح ألفية ابن مالك لأفقه الشعراء وأشعر الفقهاء محمد بن محمد بن محمد بن أحمد العامري الغزي"
(4).
أما اسم الكتاب فالمشهور أن اسمه: "البهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية"، فقد قال المصنف رحمه الله في خطبة الكتاب
(5):
سَمَّيْتُهُ بِالبَهْجَةِ الوَفِيَّه
… بِحُجَّةِ الخُلَاصَةِ الأَلْفِيَّه
--------------------------------------------
গ্রন্থের সম্বন্ধ, প্রামাণিকতা এবং নাম ইমাম বদর উদ্দিন আল-গাজ্জীর প্রতি 'আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ' গ্রন্থের সম্বন্ধটি এমন একটি বিষয় যাতে কোনো দ্বিমত নেই এবং যে বিষয়ে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ নেই। যারা গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) জীবনী রচনা করেছেন, তারা প্রত্যেকেই এই গ্রন্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আমরা এখানে তার প্রমাণস্বরূপ কিছু উদ্ধৃতি পেশ করছি:
হাজি খলিফা 'কাশফুজ জুনুন' গ্রন্থে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ এবং এর ব্যাখ্যাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "এবং বদর উদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আর-রাজি আল-গাজ্জী... আলফিয়্যাহর ওপর তার তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে: একটি গদ্যে এবং দুটি পদ্যে"
(১)।
তার পুত্র নাজমুদ্দিন 'আল-কাওয়াকিব আস-সায়িরাহ' গ্রন্থে তার পিতার রচনাবলির বর্ণনায় বলেছেন: "নাহু শাস্ত্রের ওপর আলফিয়্যাহর ক্ষেত্রে তার তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে: দুটি পদ্যে এবং একটি গদ্যে"
(২)।
যখন ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী ইমাম বদর উদ্দিনের জীবনী উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি তার রচনাবলি থেকে উল্লেখ করেছেন: "এবং নাহু শাস্ত্রের ওপর আলফিয়্যাহর ক্ষেত্রে তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ: দুটি পদ্যে এবং একটি গদ্যে"
(৩)।
সম্ভবত পাণ্ডুলিপি নিজেই এই সম্বন্ধের সাক্ষী দিচ্ছে; কেননা নির্ভরযোগ্য কপির প্রচ্ছদে লেখা আছে: "এটি কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং ফকিহদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-আমিরি আল-গাজ্জীর আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ"
(৪)।
গ্রন্থের নামের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ এই যে, এর নাম হলো: "আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ"। গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন
(৫):
আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ'
… 'বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ' নামে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولكن اختلفت دقة الاسم في آخر الكتاب؛ فقد وسمه بـ"البهجة الوفية بحجة الألفية النحوية"، قال رحمه الله
(1):
هَذَا تَمَامُ البَهْجَةِ الوَفِيَّه
… بِحُجَّةِ الأَلْفِيَّةِ النَّحْوِيَّه
--------------------------------------------
তবে গ্রন্থের শেষে নামের সূক্ষ্মতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়; তিনি একে "আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বি-হুজ্জাতিল আলফিয়্যাহ আন-নাহউইয়্যাহ" নামে অভিহিত করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন
(১):
এটিই হলো আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ-এর সমাপ্তি
… ব্যাকরণিক আলফিয়্যাহ-এর প্রমাণের সাথে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تعريف بالبهجة الوفية البهجة الوفية من أغرب الكتب التي تم تصنيفها في تراثنا النحوي؛ إذ إنه شرح كتابًا منظومًا في كتاب منظوم، وليس هذا سهلًا؛ إذ نظم العلوم والضوابط والفوائد من أصعب ما يكون.
لكن هذا الأمر ليس صعبًا على بعض العلماء الذين منهم ابن مالك وبدر الدين الغزي، وقد قيل عن ابن مالك إنه لو شاء أن يجعل كل كلامه منظومًا لجعل، أما ابن الغزي فهو أمة وحده في النظم.
ابن مالك له من الكتب ما هو منظوم، ومن أشهر كتبه "الألفية" وهي نظم على الرجز في ألف بيت، وأيضًا الألفية هذه مختصرة من كتاب سابق منظوم لابن مالك وهو "الكافية الشافية"، ولابن مالك أيضًا كتاب "الاعتضاد في الفرق بين الظاء والضاد" وهو على بحر الطويل.
وابن مالك لما رأى الألفية أجحفت بعض أبواب الصرف ألحق بها كتابه "لامية الأفعال" وهي نظم على بحر البسيط.
ومن كتب ابن مالك المنظومة كتاب "نظم الفوائد" وهو كتاب جمع فيه الكثير من الفوائد اللغوية والنحوية والصرفية كل فائدة على حدة ينظمها ويجمع أشتاتها، فجاء كتابًا بديعًا لطيفًا سهلًا.
أما ابن الغزي فكتاب واحد من كتبه المنظومة تفوق كل ما صنفه الناس نظمًا، ولعل ما يؤكد لك هذا أن له تفسيرًا كبيرًا للقرآن الكريم يقع في مئة وثمانين ألف بيت، عدا مختصره لهذا التفسير إلى جانب شرح الألفية ومختصره أيضًا.
البهجة الوفية تقع تقريبًا في عشرة آلاف بيت، وأشار الشارح إلى هذا في ختام الكتاب قائلًا
(1):
--------------------------------------------
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ-এর পরিচিতি আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ আমাদের নাহু (ব্যাকরণ) ঐতিহ্যে সংকলিত সবচেয়ে বিস্ময়কর গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম; কারণ এটি একটি পদ্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা অন্য একটি পদ্যগ্রন্থের মাধ্যমে প্রদান করেছে। এটি কোনো সহজ কাজ নয়; কেননা জ্ঞান-বিজ্ঞান, নীতিমালা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যসমূহকে পদ্যের ছাঁচে ফেলা অত্যন্ত কঠিন কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু ইবন মালিক এবং বদরুদ্দীন আল-গাজ্জীর মতো কিছু আলেমদের জন্য এ বিষয়টি মোটেও কঠিন ছিল না। ইবন মালিক সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি চাইলে তাঁর সকল বক্তব্যকেই পদ্যে রূপান্তর করতে পারতেন। আর ইবন আল-গাজ্জী তো ছন্দোবদ্ধ রচনা বা নাযমের ক্ষেত্রে নিজেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন।
ইবন মালিকের বেশ কিছু পদ্যগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো "আল-আলফিয়্যাহ", যা 'রাজায' ছন্দে রচিত এক হাজার পঙ্ক্তির একটি কবিতা। এই আলফিয়্যাহ গ্রন্থটি ইবন মালিকের পূর্ববর্তী একটি পদ্যগ্রন্থ "আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়্যাহ" এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইবন মালিকের "আল-ইতিদাদ ফিল ফারকি বাইনায যা-ই ওয়াদ দদ" নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে যা 'তাবীল' ছন্দে রচিত।
ইবন মালিক যখন দেখলেন যে আলফিয়্যাহ গ্রন্থটি শব্দতত্ত্বের (সরফ) কিছু অধ্যায় বাদ দিয়েছে বা সংক্ষিপ্ত করেছে, তখন তিনি এর সাথে তাঁর "লামিয়াতুল আফআল" গ্রন্থটি যুক্ত করেন, যা 'বাসীত' ছন্দে রচিত একটি পদ্য।
ইবন মালিকের ছন্দোবদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে "নাযমুল ফাওয়াইদ" একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এটি এমন একটি বই যেখানে তিনি ভাষাগত, নাহু এবং সরফ সংক্রান্ত প্রচুর গবেষণালব্ধ তথ্য একত্রিত করেছেন। প্রতিটি তথ্যকে তিনি আলাদাভাবে ছন্দোবদ্ধ করেছেন এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে সুসংহত করেছেন, যার ফলে এটি একটি চমৎকার, সাবলীল ও সহজবোধ্য গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে ইবন আল-গাজ্জীর ক্ষেত্রে তাঁর পদ্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি গ্রন্থই ছন্দোবদ্ধ রচনার ক্ষেত্রে মানুষের সংকলিত সমস্ত কাজকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সম্ভবত এর প্রমাণ হিসেবে আপনার কাছে এটিই যথেষ্ট হবে যে, পবিত্র কুরআনের ওপর তাঁর একটি সুবিশাল তাফসীর রয়েছে যা এক লক্ষ আশি হাজার পঙ্ক্তি নিয়ে গঠিত। এটি ছাড়াও তাঁর এই তাফসীরের সারসংক্ষেপ এবং আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা ও তার সারসংক্ষেপও রয়েছে।
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ প্রায় দশ হাজার পঙ্ক্তি সংবলিত একটি গ্রন্থ। ব্যাখ্যাকারক কিতাবের শেষে এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন
(১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أَبْيَاتُهُ عَشْرَةُ آلَافٍ وَمَا
… عَدَدْتُ مِنْهَا شَاهِدًا قَدْ أَتْمَمَا
واحتوى النظم على مقدمة للكتاب، وبعدها مقدمة في مهمات هذا الفن، وتلاها شرح لبداية ألفية ابن مالك وبدأه بالبسملة.
ثم ساير ابن مالك حرفًا حرفًا يمزج كلامه بكلامه، وكلام ابن مالك المبثوث في نظم الغزي ملون باللون الأحمر، ولو قرأت الملون بالأحمر وحده فإنك تقرأ ألفية ابن مالك.
وفي الختام شرح خاتمة الألفية، ثم ألحقها بختام للشرح ثم ختام للكتاب كله مفتخرًا معتدًا بهذا المصنف الغريب الذي لم يسبقه أحد في النسج على منواله فتراه يقول فيه
(1):
فِي الدَّهْرِ لَمْ أُسْبَقْ إِلَى مِثالِهِ
… وَلَا يُرَى نَسْجٌ عَلَى مِنْوَالِه
لكنه لا ينسى نفسه في مدح كتابه بل ينسب الفضل لله تعالى في جميع أعماله قائلًا
(2):
وَاللهِ مَا نَظَمْتُهُ وَعِنْدِي
… وَلَوْ بَذَلْتُ طَاقَتِي وَجَهْدِي
أَنِّيَ مِنْهُ بِالِغٌ بُعَيْضَ مَا
… حَقَّقْتُهُ فِيهِ إِلَى أَنْ نُظِمَا
وَإِنَّمَا اللهُ تَعَالَى سَهَّلَهْ
… بِمَنِّهِ الجَزِيلِ حَتَّى أَكْمَلَهْ
فَيَا لَهُ مِنْ نِعْمَةٍ لَوْ صُرِفَا
… شُكْرُ الوَرَى طُرًّا عَلَيْهِ مَا وَفَى
أما عن زمن نظم الشرح فهو كان في منتصف شعبان من عام تسعمئة وأربعين للهجرة، قال
(3):
خَتَمْتُهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَه
… تَنَزَّلَتْ فِي جَوْفِهَا المَلَائِكَه
يُفْرَقُ فِيهَا كُلُّ أَمْرٍ مُحْكَمِ
… مِنْ نِصْفِ شَعْبَانَ الأَغَرِّ الأَكْرَمِ
لِعَامِ أَرْبَعِينَ مِعْ تِسْعِمِئَه
… عَمَّ الجَمِيلُ خَتْمَهُ وَمَبْدَأَهْ
--------------------------------------------
এর শ্লোক সংখ্যা দশ হাজার এবং আমি এর মধ্যে যতগুলো সাক্ষী (দলিল) গণনা করেছি তা পূর্ণ হয়েছে।
এই কাব্যগ্রন্থটি বইয়ের একটি ভূমিকা সংবলিত, এরপর এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির উপর একটি ভূমিকা রয়েছে। এরপর ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র শুরুর ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে এবং তা বাসমালার মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে।
এরপর তিনি ইবনে মালিকের অনুসরণে অক্ষরে অক্ষরে অগ্রসর হয়েছেন এবং নিজের কথার সাথে তার কথাকে মিশ্রিত করেছেন। আল-গাজ্জির কাব্যে ইবনে মালিকের ছড়িয়ে থাকা কথাগুলো লাল রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে; যদি আপনি শুধু লাল রঙের অংশটুকু পড়েন, তবে আপনি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-ই পড়বেন।
পরিশেষে আলফিয়্যাহ-র উপসংহারের ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এরপর ব্যাখ্যার একটি সমাপ্তি এবং সবশেষে পুরো বইটির একটি সমাপ্তি টানা হয়েছে। তিনি এই অনন্য রচনার জন্য গর্ববোধ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যার বিন্যাসশৈলীতে তাঁর আগে কেউ অগ্রগামী হয়নি। আপনি তাঁকে এতে বলতে দেখবেন
(১):
মহাকালের আবর্তে এর সদৃশ রচনায় কেউ আমাকে ছাড়িয়ে যায়নি
… আর এর বিন্যাসশৈলীতে অন্য কোনো বুননও দেখা যায় না।
তবে তিনি নিজের বইয়ের প্রশংসায় নিজেকে ভুলে যাননি, বরং তাঁর সমস্ত কাজের জন্য মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন
(২):
আল্লাহর শপথ, আমি এটি রচনা করতে পারতাম না—এমনকি যদি আমি আমার সমস্ত শক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতাম—
… যে পর্যন্ত না আমি এতে যা যাচাই-বাছাই করেছি তার সামান্য অংশও অর্জিত হতো কাব্যিক রূপ লাভ করা পর্যন্ত।
বস্তুত আল্লাহ তাআলাই তাঁর সুমহান অনুগ্রহে এটিকে সহজ করে দিয়েছেন
… যতক্ষণ না এটি পূর্ণতা পেয়েছে।
সুতরাং এটি কতই না বড় নিয়ামত যে, যদি সমগ্র সৃষ্টিজগতের কৃতজ্ঞতা
… এর জন্য ব্যয় করা হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না।
আর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনার সময়কাল ছিল নয়শত চল্লিশ হিজরি সনের শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তিনি বলেন
(৩):
আমি এটি এক বরকতময় রাতে সমাপ্ত করেছি
… যার অভ্যন্তরে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
যাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় মীমাংসা করা হয়
… যা ছিল অত্যন্ত সম্মানিত ও মহিমান্বিত শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে।
নয়শত চল্লিশ হিজরি সনে
… এর শুরু ও শেষকে এক সুন্দর আবেশ পরিব্যাপ্ত করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২০)
بين الألفية والبهجة ابن الغزي من العلماء المتمرسين الموسوعيين في العلوم، ليس مجرد تابع ومقلد، بل كان ذا أثر بارز في شرحه للألفية.
وهو على جلالة قدره كان يجل ابن مالك وينزله منزلة لا يبلغها أحد، قال في مقدمته عن ابن مالك
(1):
وَكَانَ فِي النَّحْوِ إِلَيْهِ المُنْتَهَى
… وَفِي القِرَاءَاتِ وَفِي عِلَلِهَا
وَلَمْ يُبَلَّغْ أَحَدٌ مَا بُلِّغَهْ
… مِنِ اطِّلَاعِهِ عَلَى عِلْمِ اللُّغَه
مَعْ أَخْذِهِ مِنْ كُلِّ فَنٍّ بِنَصِيبْ
… وَضَرْبِهِ فِيهِ بِسَهْمِهِ المُصِيبْ
سَالِمُ فِطْرَةٍ رَقِيقُ القَلْبِ
… كَامِلُ فِطْنةٍ ذَكِيُّ اللُّبِّ
مَعْ صِدْقِ لَهْجَةٍ وَحُسْنِ سَمْتِ
… وَوَرَعٍ قَدْ زَانَهُ وَصَمْتِ
وَانْتَفَعَ النَّاسُ بِهِ كَثِيرَا
… وَكَانَ فِيهِمْ عَلَمًا مَنْشُورَا
تَهْوِي إِلَيْهِ النَّاسُ بِالأَفْئِدَةِ
… لِأَجْلِ نَيْلِ العِلْمِ وَالفائِدَةِ
وَكَمْ لَهُ مُؤَلَّفَاتٌ نَافِعَه
… فَرِيدَةٌ فِي كُلِّ عِلْمٍ جَامِعَه
وَكَانَ صَاحِبَ الإمَامِ النَّوَوِي
… تِلْمِيذِهِ وَشَيْخِهِ كَمَا رُوِي
للغزي طريقة بديعة في شرحه للألفية، فهو يذكر عنوان الباب قبل البدء، وأحيانًا يشرح العنوان ويذكر سبب ترتيب ابن مالك له في هذا الموضع، فتراه مثلًا في باب "المعرب والمبني" يقول
(2):
المُعْرَبُ اشْتُقَّ مِنَ الإِعْرَابِ إِذْ
… سَاوَى وَمَبْنِيٌّ مِنَ البِنَا أُخِذْ
وَقَدَّمَ الكَلَامَ فِيهِمَا عَلَى
… أَصْلَيْهِمَا إِذْ بَحْثُ ذَيْنِ طُوِّلَا
--------------------------------------------
আলফিয়্যাহ এবং আল-বাহজাহর মাঝে ইবনে আল-গাজ্জী ছিলেন বিভিন্ন বিদ্যায় সুগভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও অভিজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত; তিনি কেবল একজন অনুসারী ও অনুকারক ছিলেন না, বরং আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় তাঁর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
তিনি নিজে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ইবনে মালিককে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁকে এমন এক আসনে বসাতেন যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে না। ইবনে মালিক সম্পর্কে তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন
(১):
ব্যাকরণ শাস্ত্রে তাঁর কাছেই ছিল শেষ সীমা
… এবং ক্বিরাআত ও তার কারণসমূহের ক্ষেত্রেও।
আর কেউ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি যেখানে তিনি পৌঁছেছেন
… ভাষাবিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে।
সব শাস্ত্র থেকে অংশ গ্রহণের সাথে সাথে
… তাতে তিনি তাঁর নির্ভুল লক্ষ্যভেদী তীর নিক্ষেপ করেছেন।
তিনি ছিলেন স্বচ্ছ স্বভাবের ও কোমল হৃদয়ের
… নিখুঁত ধীশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী।
সাথে ছিল সত্যবাদিতা ও উত্তম আচরণ
… এবং তাকওয়া ও নীরবতা যা তাঁকে অলঙ্কৃত করেছিল।
মানুষ তাঁর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হয়েছে
… এবং তিনি তাঁদের মাঝে এক সুউচ্চ পতাকাস্বরূপ ছিলেন।
মানুষের অন্তর তাঁর দিকে ধাবিত হতো
… ইলম এবং উপকার লাভের উদ্দেশ্যে।
তাঁর কতই না উপকারী গ্রন্থাবলী রয়েছে
… প্রতিটি বিদ্যায় যা অনন্য ও সারগর্ভ।
তিনি ইমাম আন-নববীর সাথী ছিলেন
… তাঁর ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ই, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।
আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় আল-গাজ্জীর এক চমৎকার পদ্ধতি রয়েছে; তিনি আলোচনার শুরুতে অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করেন, আবার কখনো শিরোনামের ব্যাখ্যা দেন এবং ইবনে মালিক কেন এই স্থানে এটি বিন্যাস করেছেন তার কারণ উল্লেখ করেন। যেমন আপনি তাঁকে "মু'রাব ও মাবনি" অধ্যায়ে বলতে দেখবেন
(২):
'মু'রাব' শব্দটি 'ই'রাব' থেকে উদ্ভূত হয়েছে যেহেতু
… তা সমতা রক্ষা করে, আর 'মাবনি' শব্দটি 'বিনা' থেকে নেওয়া হয়েছে।
তিনি এই দুইটির আলোচনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের
… মূল ভিত্তির উপরে, যেহেতু এই দুইটির আলোচনা দীর্ঘ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২১)
وتراه في باب العلم يقول: " بِفَتْحِ عَيْنٍ ثُمَّ لَامٍ العَلَمْ ".
وابن الغزي من جميل صنيعه في الشرح أنه علل كثيرًا من ترتيب ابن مالك لأبواب الألفية، ومما يُظهر لك هذا جليلًا قوله في باب التصغير إذ ذكره ابن مالك بعد باب التكسير فقال منشدًا
(1):
قَدْ عَقَّبَ التَّكْسِيرَ بِالتَّصْغِيرِ
… لَمَّا تَقَارَبَا وَبِـ"التَّحْقِيرِ"
وقال في باب الحذف بعد أن ذكره ابن مالك بعد الإبدال
(2):
قَدْ عَقَّبَ الإِبْدَالَ بِالحَذْفِ كَمَا
… هُوَ عَلَى الإِدْغَامِ وَضْعًا قُدِّمَا
لِأَنَّهُ نَوْعٌ مِنَ الإِعْلَالِ
… مَعْ عِدَّةٍ مِنْ أَوْجُهِ الإِبْدَال
تراه أحيانًا يعلل بعض الفصول ولماذا وضعها ابن مالك، فتراه ينشد في أحد فصول الإبدال
(3):
عَقَدَ هَذَا الفَصْلَ فِي إِبْدَالِ
… التَّاءِ وَالطَّاءِ وَحَرْفِ الدَّال
وفي كثير من المواضع يعتذر لابن مالك في ترتيبه لبعض الأبيات، وتراه يعدل عليه في الأمثلة، وإذا استطاع عدل البيت كاملًا وترتيبَه، فتراه يقول في كثير من المواضع "لو كان كذا لكان أفضل"، "لو كان كذا لكان أحسن"، "ولو أتى به لكان أفضل"، ومن مثل ذلك
(4):
وَكُلُّ حَرْفٍ مُسْتَحِقٌّ لِلبِنَا
… لَوْ قَالَ "مَبْنِيٌّ" لَكَانَ أَحْسَنَا
إِذْ لَيْسَ كُلُّ مُسْتَحِقِّ أَمْرِ
… يَكُونُ مَوْصُوفًا بِذَاكَ الأَمْر
وقوله
(5):
وَالأَكْثَرُ الثَّانِي فَلَوْ قَدَّمَهُ
… لَكَانَ أَوْلَى مِثْلَ أَنْ يَنْظِمَهُ
--------------------------------------------
আপনি তাকে 'আল-আলাম' (বিশেষ্য) অধ্যায়ে বলতে দেখবেন: "'আইন' এবং তারপর 'লাম' বর্ণের উপরে ফাতহা (যবর) যোগে 'আল-আলাম' শব্দটি গঠিত।"
ইবনুল গাজ্জীর ব্যাখ্যার একটি চমৎকার দিক হলো তিনি আলফিয়ার অধ্যায়গুলোর বিন্যাসে ইবনে মালিকের অনুসৃত অনেক পদ্ধতির কারণ বর্ণনা করেছেন। যা আপনার কাছে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে 'তাসগির' (ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ) অধ্যায়ে তার বক্তব্যে, যখন ইবনে মালিক এটিকে 'তাকসির' (বহুবচন) অধ্যায়ের পরে উল্লেখ করেছেন; তখন তিনি কবিতা আকারে বলেন
(১):
তিনি তাকসিরের পর তাসগিরকে স্থান দিয়েছেন
… যেহেতু তাদের মাঝে নিকটবর্তী সম্পর্ক বিদ্যমান এবং একে "তাহকির" (তুচ্ছকরণ) বলা হয়।
এবং ইবনে মালিক 'ইবদাল' (বর্ণ পরিবর্তন) এর পরে 'হাফয' (বিলোপ) অধ্যায় উল্লেখ করার পর তিনি সেখানে বলেছেন
(২):
তিনি ইবদালের পর হাফযকে স্থান দিয়েছেন যেমনভাবে
… বিন্যাসের ক্ষেত্রে একে ইদগামের (সন্ধি) আগে রাখা হয়েছে।
কারণ এটি ই'লাল-এর (বর্ণের রূপান্তর) একটি প্রকার
… যার সাথে ইবদালেরও বিভিন্ন দিক রয়েছে।
মাঝে মাঝে আপনি তাকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদের কারণ এবং কেন ইবনে মালিক সেগুলোকে সেখানে রেখেছেন তা ব্যাখ্যা করতে দেখবেন; যেমন ইবদালের একটি পরিচ্ছেদে তাকে আবৃত্তি করতে দেখা যায়
(৩):
তিনি এই পরিচ্ছেদটি রচনা করেছেন 'তা', 'ত্বা'
… এবং 'দাল' বর্ণের পরিবর্তনের বিষয়ে।
অনেক স্থানে তিনি ইবনে মালিকের কিছু পংক্তির বিন্যাসের পক্ষে যুক্তি পেশ করেন, আবার কোনো কোনো উদাহরণে তার সংশোধনও করেন। যদি সম্ভব হয় তবে তিনি পুরো পংক্তিটি এবং তার বিন্যাসই পরিবর্তন করে দেন। অনেক স্থানে তাকে বলতে দেখা যায় "যদি এমন হতো তবে তা অধিকতর উত্তম হতো", "যদি এমন হতো তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো", "যদি তিনি এভাবে আনতেন তবে তা শ্রেষ্ঠ হতো।" এর একটি উদাহরণ হলো
(৪):
প্রত্যেক অব্যয়ই অপরিবর্তনীয় হওয়ার যোগ্য
… কিন্তু তিনি যদি "মাবনি" বলতেন তবে তা অধিক সুন্দর হতো।
কারণ কোনো বিষয়ের যোগ্যতা থাকলেই যে
… সেই বিষয় দ্বারা তাকে বিশেষিত করা হবে, এমনটি সর্বদা হয় না।
এবং তার উক্তি
(৫):
দ্বিতীয়টিই অধিক প্রচলিত, তাই তিনি যদি একে আগে উপস্থাপন করতেন
… তবে তা অধিক যুক্তিযুক্ত হতো যেমনটি তিনি কাব্যবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২২)
مُضَارِعَيْنِ ثُمَّ مَاضِيَيْنِ
… تُلْفِيهِمَا أَوْ مُتَخَالِفَيْن
وقوله
(1):
وَنَظَرُوا فِي مَا هُنَا قَدْ مَثَّلَا
… بِهِ مِنَ اللَّامِ الذِي دَلَّ عَلَى
بُعْدٍ وَمِنْ هَاءٍ لِسَكْتٍ حَيْثُ كُلّْ
… كَلِمَةٍ بِرَأْسِهَا حَيْثُ يَحُلّْ
فَلَوْ بِهَاءِ "أُمَّهَاتٍ" مَثَّلَا
… وَلَامِ "طَيْسَلٍ" لِكَانَ أَمْثَلَا
وقوله
(2):
وَفَاتَهُ اللَّبْسُ كَمَا أَشَرْنَا
… لَهُ فَلَوْ قَالَ اسْتَقَامَ المَعْنَى
بَلْ ذِكْرُ عُمْدَةٍ وَمُوهِمٍ يَجِبْ
… مُؤَخَّرًا وَغَيْرَهُ احْذِفْهُ تُصِبْ
وقوله
(3):
كَـ"غُرْفَةٍ" وَ"قُرْبَةٍ" وَ"مُدْيَه"
… وَ"حُجَّةٍ" وَ"مُدَّةٍ" وَ"زُبْيَه"
لَا الوَصْفَ نَحْوُ "ضُحْكَةٍ" فَلَوْ نُظِمْ
… (وَ"فُعْلَةٌ" لِـ"فُعَلِ" اسْمًا) لَسَلِمْ
وقوله
(4):
فَالهَمْزُ زَائِدٌ إِذَا مَا جُعِلَا
… مُمَاثِلٌ أَوْ لَيِّنٌ مُؤَصَّلَا
وَعَكْسَهُ فَلَوْ يَقُولُ بَدَلَا
… " حَرْفَيْنِ": "أَصْلِيَّيْنِ" كَانَ أَجْمَلَا
ومنها قوله
(5):
قِيلَ وَلَوْ قَدَّمَ نَاظِمٌ عَلَى
… مَقْصُورٍ المَنْقُوصَ كَانَ أَجْمَلَا
--------------------------------------------
দুইটি মুদারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া), অতঃপর দুইটি মাদি (অতীতকালীন ক্রিয়া)
… আপনি তাদের উভয়কে সমজাতীয় অথবা ভিন্নতর পাবেন
এবং তাঁর উক্তি
(১):
আর তারা এখানে যা উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে তাতে লক্ষ্য করেছেন
… এর মাধ্যমে সেই 'লাম' যা দূরত্বের নির্দেশনা দেয়
এবং সাক্ত-এর (বিরতি) 'হা' হতে, যেখানে প্রতিটি
… শব্দ তার নিজ অবস্থানে স্বতন্ত্রভাবে অবস্থান করে
যদি তিনি "উম্মাহাত" এর 'হা' দ্বারা উদাহরণ পেশ করতেন
… এবং "তাইসাল" এর 'লাম' দ্বারা, তবে তা অধিকতর যথাযথ হতো
এবং তাঁর উক্তি
(২):
আমরা যেমন তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তাতে অস্পষ্টতা পরিহার করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি
… তিনি যদি [অন্য কিছু] বলতেন তবে অর্থ সুসংগত হতো
বরং মূল ভিত্তি এবং অস্পষ্টকারী বিষয়ের উল্লেখ ওয়াজিব
… শেষের দিকে, আর অন্য যা কিছু আছে তা বর্জন করুন তবেই আপনি সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাবেন
এবং তাঁর উক্তি
(৩):
যেমন "গুরফাহ", "কুরবাহ" এবং "মুদইয়াহ"
… এবং "হুজ্জাহ", "মুদ্দাহ" এবং "জুবইয়াহ"
বিশেষণ নয় যেমন "দুহকাহ", যদি এভাবে ছন্দবদ্ধ করা হতো
… (এবং বিশেষ্য হিসেবে "ফু'আল" এর জন্য "ফু'লাহ") তবে তা ত্রুটিমুক্ত হতো
এবং তাঁর উক্তি
(৪):
হামযাহ অতিরিক্ত হবে যখন তাকে করা হবে
… সমজাতীয় অথবা মূলগত নরম অক্ষর (হরফে লীন)
এবং এর বিপরীত, তিনি যদি "দুইটি অক্ষর" এর পরিবর্তে
… "দুইটি মূল অক্ষর" বলতেন, তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো
তার মধ্য থেকে তাঁর উক্তি
(৫):
বলা হয়েছে, যদি রচয়িতা 'মাকসুর' শব্দের ওপর
… 'মানকুস' শব্দকে প্রাধান্য দিতেন তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقوله
(1):
وَكَانَ يَنْبَغِي بِأَنْ يُكَمِّلَا
… جُمَوعَ قِلَّةٍ وَأَنْ يَنْتَقِلَا
مِنْ بَعْدِهَا لِكَثْرَةٍ فَيَجْعَلَا
… ثَانِيَ شَطْرَيْ بَيْتِهِ ذَا أَوَّلَا
وقوله
(2):
وَقَدْ يُمَالُ دُونَ شَرْطٍ يُشْتَرَطْ
… بَلْ لِإِرَادَةِ تَنَاسُبٍ فَقَطْ
وَبَعْدَ أَبْيَاتٍ لِذَا سَيُوضِحُ
… لَكِنَّهُ بِذَا المَحَلِّ أَصْلَحُ
--------------------------------------------
এবং তাঁর উক্তি
(১):
আর সংগত ছিল যে তাঁরা পূর্ণ করবেন
… অল্পতার বহুবচনসমূহ এবং যেন তাঁরা স্থানান্তরিত হন
তার পরবর্তী আধিক্যের দিকে, ফলে তাঁরা করবেন
… তাঁর কবিতার পংক্তির দুই অর্ধাংশের দ্বিতীয়টিকে প্রথম
এবং তাঁর উক্তি
(২):
আর কখনও ইমালা করা হয় কোনো শর্তারোপ ছাড়াই
… বরং কেবল সামঞ্জস্য বিধানের উদ্দেশ্যে
আর কয়েক পংক্তির পরে তিনি এটি স্পষ্ট করবেন
… তবে এই স্থানেই এটি অধিকতর উপযুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
السمات البارزة في الشرح إذا كانت ألفية ابن مالك عنوانًا على عظمة ابن مالك وشهرته فإن شرحها لابن الغزي لا يقل أهمية عن ذلك، وندر أن تسمح قريحة بسبك مثل هذا الكتاب، ومما لا شك فيه أن مطالع هذا الشرح يقف على أشياء تميزه عن غيره من المصنفات النحوية، وإليك بعض تلك السمات:
سهولة الأسلوبذلك أن الشارح رحمه الله عمد إلى استخدام أسلوب سهل مبسط، ينساب برفق وأناة، يسيل عذوبة وحلاة على المطالع، ويجلو لك هذا أن الشارح يضبط لك ألفاظ الألفية فتراه يقول مثلًا
(1):
فَـ"الْزَمْ" بِفَتْحِ زَائِهِ أَيْ وَاظِبْ
… رَفْعَ الذِي يَتْبَعُ فَهْوَ وَاجِبْ
وقوله
(2):
بِقَوْلِهِ "فَعْلٌ" بِفَتْحِ الفَاءِ
… مُسَكِّنًا مَا قَبْلَ الِانْتِهَاء
وقوله
(3):
بِقَوْلِهِ كَـ"جَعْفَرٍ" لِرَجُلِ
… وَ"خِرْنِقًا" وَهْوَ بِكَسْرِ الأَوَّل
ومن ذلك أن الشارح يتمم ما أسقطه ابن مالك من حروف الكلمة ضرورة، وهذا ظاهر في باب التأنيث مما جاء ممدودًا فإن ابن مالك قصره أغلبه ضرورة، قال الشارح
(4):
وَغَيْرُ خَافٍ أَنَّ كُلَّ مَا ذُكِرْ
… فِي النَّظْمِ مَمْدُودٌ وَبَعْضُهُ قُصِرْ
--------------------------------------------
ব্যাখ্যার বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ যদি ইবনে মালিকের আলফিয়া তাঁর মহত্ত্ব ও খ্যাতির পরিচায়ক হয়ে থাকে, তবে ইবনে আল-গাজ্জি কর্তৃক এর ব্যাখ্যাও তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। খুব কম মেধার পক্ষেই এই ধরণের কিতাব সংকলন করা সম্ভব হয়েছে। নিঃসন্দেহে এই ব্যাখ্যার পাঠক এমন কিছু বিষয় দেখতে পাবেন যা একে অন্যান্য নাহু শাস্ত্রীয় রচনা থেকে স্বতন্ত্র করে তোলে, আর এখানে সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর কিছু তুলে ধরা হলো:
শৈলীর সহজবোধ্যতাতা এই যে, ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) সহজ ও সরল শৈলী ব্যবহারের সংকল্প করেছেন, যা অত্যন্ত সাবলীল ও ধীরস্থিরভাবে বহমান, পাঠকের কাছে যা সুমিষ্ট ও মনোরম মনে হয়। এটি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে, ব্যাখ্যাকার আপনার জন্য আলফিয়ার শব্দগুলোর উচ্চারণ সুনির্দিষ্ট করে দিচ্ছেন, যেমন আপনি তাকে বলতে দেখবেন
(১):
সুতরাং 'ইলযাম' এর 'যা' বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে পড়ুন অর্থাৎ অবিচল থাকুন... যা অনুসরণ করে তাকে রফ' (পেশ) প্রদান করা আবশ্যক।
এবং তাঁর উক্তি
(২):
তাঁর কথা 'ফালুন' দ্বারা যাতে 'ফা' বর্ণে ফাতহা (যবর) রয়েছে... এবং শেষের আগের বর্ণটি সাকিন (হসন্ত) করা হয়েছে।
এবং তাঁর উক্তি
(৩):
তাঁর কথা 'জা’ফর' এর মতো যা জনৈক ব্যক্তির নাম... এবং 'খিরনিকান' যা প্রথম বর্ণে কাসরা (যের) যুক্ত।
এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, ব্যাখ্যাকার শব্দের সেই বর্ণগুলো পূর্ণ করে দেন যা ইবনে মালিক ছন্দের প্রয়োজনে বাদ দিয়েছিলেন। এটি স্ত্রীলিঙ্গ অধ্যায়ে দীর্ঘস্বর বিশিষ্ট (মামদুদ) শব্দগুলোর ক্ষেত্রে স্পষ্ট, যার অধিকাংশ ইবনে মালিক ছন্দের প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত (কসর) করেছিলেন। ব্যাখ্যাকার বলেন
(৪):
আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, কাব্যে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা দীর্ঘস্বর বিশিষ্ট, তবে এর কিছু অংশ সংক্ষেপ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ضَرُورَةً لِكِنْ أَنَا مَدَدْتُهُ
… فِي الشَّرْحِ فَاقْرَأْهُ بِمَا أَنْشَدْتُهُ
توضيحه لمعاني بعض الكلماتكثيرًا ما يرى الشارح بعض الكلمات غريبة فيبادر بتوضيح المراد منها، ومعناها في اللغة، من أمثال ذلك قوله
(1):
فِي الوَصْلِ وَالوَقْفِ فَقِيلَ "الضَّيْفَنُ"
… وَهْوُ الطُّفَيْلِيُّ الذِي يُسْتَهْجَنُ
ومنه قوله
(2):
وَ"الصَّحْبُ" جَمْعُ "صَاحِبٍ" أَوِ اسْمُ
… جَمْعٍ لَهُ وَلِـ"الصَّحَابِي" وَسْمُ
وَهْوَ الذِي قَدْ لَقِيَ النَّبِيَّا
… خَيْرَ الأَنَامِ مُؤْمِنًا تَقِيًّا
وَالقَصْدُ بِالمُنْتَخَبِ الذِي عَلَى
… بَقِيَّةِ الأُمَّةِ قَدْ تَفَضَّلَا
فَهْوَ بِخَاءٍ أُعْجِمَتْ وَقِيلَ بَلْ
… بِالجِيمِ مِنْ نَجَابَةٍ ذَا "مُفْتَعَلْ"
ومنه قوله
(3):
ثُمَّ "هَذَاذَيْكَ" بِذَالٍ مُعْجَمَه
… جَاءَتْ مِنَ الإِسْرَاعِ تِلْكَ الكَلِمَه
ومنه قوله
(4):
فَهُوَ أَجْذَمٌ" وَفِي رِوَايَةِ
… "أَقْطَعُ" أَيْ خَالٍ مِنَ البَرَكة
إعرابه لبعض أبيات الألفيةومن ذلك قوله
(5):
الِاسْمُ أُكِّدَا بِرَفْعِ "الِاسْمُ" مَعْ
… بِنَاءِ "أُكِّدَا" لِمَفْعُولٍ وَقَعْ
--------------------------------------------
প্রয়োজনে, তবে আমি এটিকে দীর্ঘায়িত করেছি
… ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শারহ) মধ্যে, সুতরাং আমি যা আবৃত্তি করেছি তা দিয়ে এটি পাঠ করো।
কিছু শব্দের অর্থের ব্যাপারে তাঁর স্পষ্টীকরণব্যাখ্যাকার প্রায়শই কিছু শব্দকে বিরল বা অপরিচিত মনে করেন, ফলে তিনি সেগুলোর উদ্দেশ্য এবং অভিধানে সেগুলোর অর্থ কী তা স্পষ্ট করতে সচেষ্ট হন। এর উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি
(১):
সংযুক্ত অবস্থায় বা বিরতির ক্ষেত্রে, অতঃপর বলা হয়েছে "আদ-দাইফান"
… আর সে হলো ওই অনাহূত অতিথি যাকে মন্দ গণ্য করা হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর এই উক্তি
(২):
আর "আস-সাহব" হলো "সাহিব"-এর বহুবচন অথবা
… এর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমু জাম্), এবং "সাহাবি" শব্দের জন্য এটি একটি বৈশিষ্ট্যসূচক নাম।
আর তিনি হলেন ওই ব্যক্তি যিনি নবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন
… যিনি সৃষ্টির সেরা, মুমিন ও মুত্তাকি অবস্থায়।
আর "আল-মুনতাখাব" (নির্বাচিত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি, যিনি
… উম্মতের অবশিষ্ট অংশের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।
এটি নুকতাহযুক্ত 'খা' বর্ণ দিয়ে গঠিত, আবার বলা হয়েছে বরং
… 'জীম' বর্ণ সহযোগে "নাজাবাহ" (আভিজাত্য) হতে এটি "মুফতা'আল" ওজনে গঠিত।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর এই উক্তি
(৩):
অতঃপর "হাযাযাইকা" নুকতাহযুক্ত 'যাল' বর্ণ সহযোগে
… দ্রুততা বা ত্বরান্বিত করা হতে এই শব্দটি এসেছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর এই উক্তি
(৪):
তবে সে হাতকাটা (আজযাম)" এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে
… "বিচ্ছিন্ন (আকতা)", অর্থাৎ বরকতহীন।
আলফিয়ার কিছু পংক্তির ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই'রাব)এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর এই উক্তি
(৫):
"আল-ইসমু" শব্দটিকে 'রাফা' (পেশ) প্রদানের মাধ্যমে তাকিদ (জোরালো) করা হয়েছে
… সাথে "উক্কিদা" শব্দটি কর্মবাচ্যে (মাজহুল) গঠিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بِأَلْفِ الإِطْلَاقِ أَوْ بِنَصْبِهِ
… بِـ"أُكِّدَا" أَمْرًا وَمَفْعُولًا بِهِ
وَ"أَكِّدَا" الأَمْرُ وَأَجْرَى أَلِفَهْ
… عَنْ نُونِ تَوْكِيدٍ غَدَتْ مُخَفَّفَه
وقوله
(1):
فَالتَّاءُ قَدْ بَيَّنَ حُكْمَهَا فَقَالْ
… ذُو اللَّيْنِ مُبْتَدًا وَفَاءً مِنْهُ حَالْ
خَبَرُهُ أُبْدِلَ حَيْثُ عَمِلَا
… فِي قَوْلِهِ تًا فِي "افْتِعَالٍ" أُبْدِلَا
بِأَلِفِ اطْلَاقٍ وَإِبْدَالٌ وُصِفْ
… فِي وَاوٍ اوْ يَاءٍ وَلَيْسَ فِي الأَلِفْ
وقوله
(2):
"حَصَلَ": "بِالجَرِّ" غَدَا مُعَلَّقَا
… وَ"الِاسْمُ" بِالتَّمْيِيزِ قَدْ تَعَلَّقَا
التنبيه على اللغات الواردة في بعض الكلماتمن الكلمات ما له أكثر من لغة، وهذا الشيء ينبه عليه الشارح في أغلب الأحيان، ومن أمثال ذلك تنويهه على لغات "كلمة"، قال
(3):
وَ"كِلْمَةٌ" بِفَتْحِ كَافٍ وَمَعَهْ
… كَسْرٌ لِلَامٍ أَوْ سُكُونٍ تَبِعَهْ
وَكَسْرِهَا مَعْهُ سُكُونُ اللَّامِ
… فَأَوَّلٌ فِي أَوَّلِ الكَلَامِ
هُنَا وَبَاقِيهَا بِقَوْلِهِ انْتَظَمْ
… وَكِلْمَةٌ بِهَا كَلَامٌ قَدْ يُؤَم
ومنها ذكره للغات "فم"، قال
(4):
أَيْضًا وَمِنْ ذَاكَ أَيِ الأَسْمَاءِ
… الفَمُ مَعْ تَثْلِيثِهِمْ لِلفَاءِ
مُخَفَّفَ المِيمِ بِنَقْصٍ وَمَعَا
… قَصْرٍ وَمَعْ شَدٍّ وَأَنْ يَتَّابَعَا
--------------------------------------------
ইতলাকের আলিফ দ্বারা অথবা এর নসব (যবর) দ্বারা
… "আক্কিদা" (তাকিদ দেওয়া হয়েছে) শব্দটি আমর (আদেশ) এবং মাফউল বিহি (কর্মপদ) হিসেবে।
এবং "আক্কিদা" হলো আমর, আর এর আলিফটি তাকিদের নুন থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে
… যা মুখাফফাফাহ (হালকা) হয়ে গিয়েছে।
এবং তার কথা
(১):
অতঃপর 'তা' বর্ণের বিধান তিনি স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন
… 'যুল লাইন' এখানে মুবতাদা এবং 'ফা' তার থেকে হাল (অবস্থা)।
এর খবর পরিবর্তিত হয়েছে যেখানে তা আমল করেছে
… তার বক্তব্য "ইফতিআল" এর মধ্যে 'তা' পরিবর্তিত হয়েছে।
ইতলাকের আলিফ দ্বারা এবং আবদাল (পরিবর্তন) বর্ণিত হয়েছে
… ওয়াও অথবা ইয়া-এর ক্ষেত্রে, আলিফের মধ্যে নয়।
এবং তার কথা
(২):
"হাসালা": এটি "যার" এর সাথে মুতাল্লিক (সংশ্লিষ্ট) হয়েছে
… এবং "ইসিম" (বিশেষ্য) তাময়িযের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে।
কিছু শব্দের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভাষাগত বৈচিত্র্যের (লুগাত) প্রতি সতর্কতাকিছু শব্দের একাধিক ভাষাগত রূপ রয়েছে, আর এই বিষয়টি ব্যাখ্যাকার অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্মরণ করিয়ে দেন। এর অন্যতম উদাহরণ হলো "কালিমাহ" শব্দের ভাষাগত রূপসমূহের প্রতি তার ইঙ্গিত প্রদান। তিনি বলেছেন
(৩):
"কালিমাতুন" কাফ বর্ণের ফাতহা (যবর) সহ এবং তার সাথে
… লাম বর্ণের কাসরা (যের) অথবা সুকুন (জযম) তার অনুগামী হবে।
এবং কাফ বর্ণের কাসরা (যের) সহ লাম বর্ণের সুকুন
… অতঃপর প্রথম রূপটি আলোচনার শুরুতেই রয়েছে।
এখানে এবং এর অবশিষ্টাংশ তার বাণীর মাধ্যমে সুবিন্যস্ত হয়েছে
… আর "কালিমাতুন" দ্বারা কখনও "কালাম" (বাক্য) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো "ফাম" শব্দের ভাষাগত রূপসমূহের বর্ণনা। তিনি বলেছেন
(৪):
আরও সেই সকল বিশেষ্যের (আসমা) অন্তর্ভুক্ত হলো
… "ফাম" শব্দটি, যাতে তারা ফা বর্ণের তিনটি হরকতই (যবর, যের, পেশ) ব্যবহার করেন।
মিম বর্ণটি হালকা (তাশদিদহীন) করার মাধ্যমে হ্রস্বতার সাথে এবং সেই সাথে
… কাসর (সংক্ষিপ্তকরণ) ও তাশদিদ (দ্বিত্ব) সহকারে যা ধারাবাহিকভাবে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن ذلك قوله في لغات "اسم"
(1):
مِنْ لُغَةِ الإِسْمِ بِسِينٍ ثُلِّثَتْ
… وَالقَصْرِ وَ"اسْمٌ" وَ"سِمٌ" فِيهِ ثَبَتْ
بِضَمِّ أَوَّلٍ وَكَسْرِهِ وَقَدْ
… تَكَمَّلَتْ سَبْعُ لُغَاتٍ فِي العَدَدْ
وَمَا سِواهَا فَضَعِيفٌ إِنْ وَرَدْ
… وَقَدْ جَمَعْتُهَا بِبَيْتٍ انْفَرَدْ
"اسْمٌ" بِضَمِّ فَائِهِ وَالكَسْرِ
… كَذَا "سِمٌ" وَثُلِّثَتْ مَعْ قَصْر
ومن أهم ما يظهر لك في الشرح أن ابن الغزي لا يغفل شيوخه، بل ينقل عنهم ويتبنى رأيهم، ومن ذلك قوله
(2):
لَمْ يَسْبِقِ ابْنَ مَالِكٍ قَطُّ أَحَدْ
… إِلَيْهِمَا فَبِهِمَا قَدِ انْفَرَدْ
وَرَدَّ هَذَا مِنْ شُيُوخِي المُنْصِفُ
… بِأَنَّهُ قَدْ نَقَلَ المُصَنِّفُ
ذَيْنِ عَنِ الأَخْفَشِ فِي الفَتَاوِي
… وَهْوَ لِمَا يَرْوِيهِ خَيْرُ رَاوِي
وقوله
(3):
وَبَعْضُ أَشْيَاخِي يَرَى المَذْكُورَا
… مِنْ بَابِ "سَمْرَاتٍ" أَتَى نُدُورَا
وقوله
(4):
وَ"إِنَّ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ"
… هُوَ بِتَقْدِيرِ ضَمِيرِ الشَّانِ
أَيْ "لَهُمَا" أَوْ رُدَّ لِلبِنَاءِ
… كَالفَرْدِ أَوْ جَاءَ عَلَى إِجْرَاءِ
لَفْظِ المُثَنَّى مُطْلَقًا مَعْ أَلِفِ
… وَكُلُّ أَشْيَاخِي لِهَذَا يَصْطَفِي
ومن أهم ما يميز هذا الشارح تناوله للأصول النحوية وأحكامها، ومن ذلك:
--------------------------------------------
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো "ইসম" (নাম) শব্দের ভাষান্তরসমূহ সম্পর্কে তার বক্তব্য
(১):
'ইসম' শব্দের ভাষান্তরের মধ্যে রয়েছে 'সিন' বর্ণে তিন হরকত (পেশ, যের, যবর)
… এবং কাসর (সংক্ষিপ্ত রূপ), আর এতে 'ইসমুন' ও 'সিমুন' শব্দদ্বয় সাব্যস্ত হয়েছে।
প্রথম বর্ণের পেশ ও যেরের সাথে এবং প্রকৃতপক্ষে
… সংখ্যায় সাতটি ভাষান্তর পূর্ণ হয়েছে।
তদ্ব্যতীত অন্য যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা দুর্বল
… আর আমি তা একটি একক পংক্তিতে একত্র করেছি।
'ইসমুন' তার প্রথম বর্ণের পেশ ও যেরের সাথে
… অনুরূপভাবে 'সিমুন', আর কাসরের সাথে তিন হরকত বিশিষ্ট।
আর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহ) আপনার কাছে যা বিশেষভাবে প্রতীয়মান হবে তা হলো, ইবনুল গাযযী তার শিক্ষকদের (শায়খদের) কথা ভুলে যান না, বরং তিনি তাদের থেকে উদ্ধৃতি দেন এবং তাদের মত গ্রহণ করেন। এর উদাহরণ হলো তার এই বক্তব্য
(2):
ইবনে মালিকের পূর্বে এ দুটির ক্ষেত্রে কেউ কখনো অগ্রগামী হননি
… সুতরাং এ দুটির মাধ্যমে তিনি একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন।
আমার শিক্ষকদের মধ্যে যিনি ইনসাফকারী তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন
… এই বলে যে, গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) বর্ণনা করেছেন।
এই দুটি আল-আখফাশ থেকে 'ফাতাওয়া' গ্রন্থে
… আর তিনি যা বর্ণনা করেন তার জন্য তিনি সর্বোত্তম বর্ণনাকারী।
এবং তার বক্তব্য
(3):
আমার কোনো কোনো শায়খ (শিক্ষক) মনে করেন যে, উল্লিখিত বিষয়টি
… 'সামরাত' অধ্যায় থেকে বিরলভাবে এসেছে।
এবং তার বক্তব্য
(4):
আর "নিশ্চয়ই এরা দুজন জাদুকর"
… এটি 'দমিরে শান' (বিষয়সূচক সর্বনাম) উহ্য থাকার ভিত্তিতে।
অর্থাৎ "তাদের উভয়ের জন্য" অথবা একে 'বিনা' (অপরিবর্তনীয়তা) এর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে
… একবচনের ন্যায়, অথবা এটি প্রয়োগের ভিত্তিতে এসেছে।
দ্বিবচনের শব্দ সর্বদা আলিফের সাথে
… আর আমার সকল শায়খ (শিক্ষক) এটিকেই পছন্দ করেন।
এই ব্যাখ্যাকারীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ব্যাকরণিক মূলনীতি (উসুলুন নাহু) এবং এর বিধানসমূহ নিয়ে তার আলোচনা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
1 - التنبيه على الواجبومن ذلك قوله
(1):
وَالِاسْتِتَارُ وَاجِبٌ حَيْثُ جَرَا
… عَلَى الذِي هُوَ لَهُ وَذَكَرَا
وقوله
(2):
أَمَّا إِذَا لَمْ تَأْتِ عَنْ قَوْلٍ خَبَرْ
… أَوْ لَيْسَ قَوْلٌ مُخْبِرٌ عَنْهَا اسْتَقَر
وَكَانَ ذَا القَائِلُ غَيْرَ مُفْرَدِ
… فَالوَاجِبُ الكَسْرُ بِلَا تَرَدُّد
2 - التنبيه على المطردومن ذلك قوله
(3):
وَبَيْنَ مَوْصُولٍ وَوَصْلٍ إِنْ تُزَدْ
… كَـ"جَاءَ مَنْ كَانَ أَتَيْتَهُ" اطَّرَدْ
وقوله
(4):
وَحَذْفُ حَرْفِ الجَرِّ بَعْدَ "كَيْ" وُجِدْ
… كَبَعْدَ "أَنْ" وَ"أَنَّ" فَهْوَ مُطَّرِدْ
وقوله
(5):
وَالأَمْرُ هَكَذَا عَلَى وَزْنِ "فَعَالْ"
… مُطَّرِدٌ نَحْوُ "تَرَاكِ" وَ"نَزَالْ"
3 - التنبيه على المشهورومن ذلك قوله
(6):
وَ"أَلْ" تُسَاوِي مِثْلَ ذَا مَا ذُكِرَا
… يُفْهَمُ مِنْ ذَلِكَ أَنَّهَا تُرَى
مَوْصُولًا اسْمِيًّا وَذَا المُشْتَهِرُ
… حَيْثُ عَلَيْهَا قَدْ يُعَادُ المُضْمَرُ
--------------------------------------------
১ - ওয়াজিব (আবশ্যকীয়) বিষয়ের প্রতি সতর্কতাতার মধ্যে রয়েছে তার এই বক্তব্য
(১):
যেখানে প্রযোজ্য সেখানে সর্বনাম গোপন রাখা ওয়াজিব... যার জন্য তা নির্ধারিত এবং তিনি তা উল্লেখ করেছেন তার ওপর
এবং তার এই বক্তব্য
(২):
পক্ষান্তরে যখন (ইন্না-র হামযা) কোনো উক্তির সংবাদ হিসেবে না আসে... অথবা এমন কোনো উক্তি না থাকে যা তার সংবাদ হিসেবে স্থির হয়েছে
এবং এই বক্তা যদি একক না হন... তবে দ্বিধাহীনভাবে কাসরা (জের) প্রদান করা ওয়াজিব
২ - মুততারিদ (নিয়মিত/বহুল প্রচলিত) বিষয়ের প্রতি সতর্কতাতার মধ্যে রয়েছে তার এই বক্তব্য
(৩):
মাউসুল এবং সিলার মাঝে যদি অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করা হয়... যেমন "সে এসেছে যার কাছে তুমি গিয়েছিলে" এর মতো, তবে তা নিয়মিত (মুততারিদ)
এবং তার এই বক্তব্য
(৪):
"কাই" এর পরে হরফে জর বিলুপ্ত হওয়া পাওয়া যায়... যেমন "আন" এবং "আন্না" এর পরে, আর এটি নিয়মিত নিয়ম (মুততারিদ)
এবং তার এই বক্তব্য
(৫):
অনুরূপভাবে "ফায়াল" ওজনে নির্দেশবাচক শব্দ (আমর)... নিয়মিত ব্যবহৃত হয় যেমন "তারাকি" এবং "নাযালি" এর মতো
৩ - মাশহুর (প্রসিদ্ধ) বিষয়ের প্রতি সতর্কতাতার মধ্যে রয়েছে তার এই বক্তব্য
(৬):
আর "আল" উল্লিখিত বিষয়ের অনুরূপ হয়... যা থেকে বোঝা যায় যে তাকে গণ্য করা হয়
ইসমী মাউসুল হিসেবে এবং এটিই প্রসিদ্ধ... যেখানে তার দিকে সর্বনাম প্রত্যাবর্তন করতে পারে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله
(1):
وَوَاقِفًا زِدْ هَاءَ سَكْتٍ إِنْ تُرِدْ
… مِنْ بَعْدِ نَحْوِ أَلِفٍ وَلَا تَزِدْ
فِي الوَصْلِ فِي غَيْرِ اضْطِرَارٍ فَاكْسِرِ
… وَاضْمُمُ إِذَنْ وَذَا عَلَى المُشْتَهِر
وقوله
(2):
وَقِيلَ "أَوْلٌ" وَعَلَى المَشْهُورِ
… يَجُوزُ أَنْ يُضَافَ لِلضَّمِير
وقوله
(3):
وَبَدَلُ الضَّمِيرِ مِنْ ضَمِيرِ
… وَظَاهِرٍ يُمْنَعُ فِي المَشْهُور
وقوله
(4):
وَأَعْمِلِ المُهْمَلِ فِي ضَمِيرِ
… مَا قَدْ تَنَازَعَاهُ فِي المَشْهُور
4 - التنبيه على الأشهرومن ذلك قوله
(5):
وَالجَمْعُ بِالعَكْسِ أَتَى فَالأَشْهَرُ
… يُعَلُّ وَالتَّصْحِيحُ فِيهِ يَنْدُرُ
وقال
(6):
يُقَالُ "نِعْمَ"، "بِئْسَ" وَهْوَ أَشْهَرُ
… وَأَصْلُهُ "نَعِمْ"، "بَئِسْ" قَدْ ذَكَرُوا
وقال
(7):
ثُمَّ هُمُا مُبْتَدَآنِ الخَبَرُ
… مَا جَاءَ مِنْ بَعْدِهِمَا ذَا الأَشْهَرُ
--------------------------------------------
এবং তাঁর উক্তি
(১):
বিরতিদানকালে যদি তুমি চাও তবে 'হা-এ সাকত' (স্তব্ধতার হা) বৃদ্ধি করো
… আলিফের মতো বর্ণের পরে, আর তুমি তা বৃদ্ধি করো না
সংযুক্ত অবস্থায় (ওয়াসল) নিরুপায় অবস্থা ব্যতীত, তবে কাসরা (জের) প্রদান করো
… এবং তখন যম্মাহ (পেশ) দাও, আর এটিই প্রসিদ্ধ মতের উপর নির্ভরশীল
এবং তাঁর উক্তি
(২):
বলা হয়েছে "আওলুন", আর প্রসিদ্ধ মতানুসারে
… সর্বনামের (দমির) দিকে ইদাফাত করা বৈধ
এবং তাঁর উক্তি
(৩):
সর্বনাম থেকে সর্বনামের বদল (পরিবর্তন)
… এবং প্রকাশ্য বিশেষ্য থেকে হওয়া প্রসিদ্ধ মতে নিষিদ্ধ
এবং তাঁর উক্তি
(৪):
উপেক্ষিত আমিলকে (মুহমাল) সেই সর্বনামে আমল করাও
… প্রসিদ্ধ মতে যা নিয়ে তারা উভয়ে পারস্পরিক বিরোধ (তানাজু) করেছে
৪ - সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতের প্রতি সতর্কীকরণতারই অন্তর্ভুক্ত তাঁর উক্তি
(৫):
বহুবচন (জম্') এর বিপরীতরূপে এসেছে, ফলে অধিক প্রসিদ্ধ হলো
… তাতে 'ইলাল' (বর্ণ পরিবর্তন) হওয়া, আর তাতে 'তাসহিহ' (অপরিবর্তিত থাকা) বিরল
এবং তিনি বলেছেন
(৬):
বলা হয় "নি'মা", "বি'সা" এবং এটিই অধিক প্রসিদ্ধ
… আর এর মূল হলো "নাঈমা", "বাইসা", যা তারা উল্লেখ করেছেন
এবং তিনি বলেছেন
(৭):
অতঃপর তারা উভয়ে মুবতাদা (উদ্দেশ্য), আর খবর (বিধেয়)
… হলো যা তাদের পরে আসে, এটিই অধিক প্রসিদ্ধ মত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
5 - التنبيه على الغالبمن ذلك قوله
(1):
وَالثَّانِ فِي الحِرَفِ كَـ"النَّجَّارِ"
… يَغْلِبُ وَ"البَقَّالِ" وَ"العَطَّارِ"
وقوله
(2):
وَشَاعَ فِي الأَعْلَامِ إِذْ تُرَكَّبُ
… فِي اللَّفْظِ ذُو الإِضَافَةَ اعْنِي يَغْلِبُ
وقوله
(3):
وَهْوَ لِذِي تَكَلُّمٍ فِي الغَالِبِ
… وَرُبَّمَا يَكُونُ لِلمُخَاطَب
وقوله
(4):
بِأَنَّ فِي الغَالِبِ يُنْقَلُ اللَّقَبْ
… مِنِ اسْمِ غَيْرِ بَشَرٍ لِذَا وَجَبْ
6 - التنبيه على الكثيرومن ذلك قوله
(5):
وَبَعْدَ "مَا" وَ"لَيْسَ" فِي الكَثِيرِ جَر
… البَاءُ إِذْ أَكَّدَ نَفْيًا الخَبَرْ
وقوله
(6):
ثُمَّ الكَثِيرُ كَوْنُهُ مُضَارِعَا
… وَلِضَمِيرِ الِاسْمِ جَاءَ رَافِعَا
وقوله
(7):
وَلَكِنِ الكَثِيرُ فِي هَذَيْنِ إِنْ
… بِذَيْنِ قَدْ مُيِّزَ أَنْ يُؤتَى بِـ"مِنْ"
--------------------------------------------
৫ - অধিকাংশের ক্ষেত্রে সতর্কতাতন্মধ্যে তাঁর উক্তি হল
(১):
পেশার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রকারটি যেমন "ছুতার" … এটি প্রবল হয়, তদ্রূপ "মুদি" এবং "সুগন্ধি বিক্রেতা"র ক্ষেত্রেও।
এবং তাঁর উক্তি হল
(২):
যখন সংজ্ঞাবাচক নামগুলো যৌগিক হয় তখন তা বহুল প্রচলিত হয় … আমি বুঝাতে চাচ্ছি, শব্দগতভাবে সম্বন্ধবাচক পদটিই (ইদাফাত) অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
এবং তাঁর উক্তি হল
(৩):
আর এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বক্তার (উত্তম পুরুষ) জন্য হয়ে থাকে … এবং কখনো কখনো তা সম্বোধিত ব্যক্তির (মধ্যম পুরুষ) জন্যও হতে পারে।
এবং তাঁর উক্তি হল
(৪):
নিশ্চয়ই অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপাধিটি স্থানান্তরিত হয় … মানুষ ব্যতিরেকে অন্য কোনো বস্তুর নাম থেকে, একারণেই তা আবশ্যক হয়েছে।
৬ - আধিক্যের ক্ষেত্রে সতর্কতাতন্মধ্যে তাঁর উক্তি হল
(৫):
এবং "মা" ও "লায়সা"-এর পরে অধিকাংশ ক্ষেত্রে "বা" বর্ণটি মাজরুর (জের) প্রদান করে … যখন তা খবরের (বিধেয়) নেতিবাচকতাকে জোরালো করে।
এবং তাঁর উক্তি হল
(৬):
অতঃপর আধিক্যের ক্ষেত্রে এটি মুদারে (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) হিসেবে আসে … এবং এটি বিশেষ্যের সর্বনামের জন্য রাফ’কারী (পেশ দানকারী) হিসেবে আসে।
এবং তাঁর উক্তি হল
(৭):
কিন্তু এই দুটির ক্ষেত্রে আধিক্য বা নিয়ম হলো … যখন এই দুটির মাধ্যমে পার্থক্য নির্ণয় করা হয়, তখন "মিন" অব্যয়টি আনয়ন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যা বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
7 - التنبيه على الحسنومن ذلك قوله
(1):
فَجَازَ "جَاءَ مَنْ سِوَاكَ" دُونَ "مَنْ
… غَيْرُكَ" ذَا دَلِيلُهُمْ وَهْوَ حَسَنْ
وقوله
(2):
وَكُلَّمَا يَزْدَادُ طُولًا يَحْسُنُ
… حَذْفٌ لَهُ وَلَيْسَ ثَمَّ أَحْسَنُ
8 - التنبيه على الأحسنومن ذلك قوله
(3):
لَكِنَّ ذَا لِعَدَمِ الفَصْلِ وَهَى
… وَقَبْلَهُ ثَالِثُهَا أَحْسَنُهَا
وقوله
(4):
وَابْتَدَؤُوا بِهِ لِمَا يُضَمَّنُ
… مِنَ التَّعَجُّبِ وَهَذَا الأَحْسَنُ
وقوله
(5):
وَالأَحْسَنُ التَّكْرَارُ بِالمُرَادِفِ
… نَحْوُ "نَعَمْ أَجَلْ" جَوَابَ الوَاصِف
9 - التنبيه على المختارمن ذلك قوله
(6):
وَلَيْسَ هَذَا الحَذْفُ بِالجَازِمِ بَلْ
… عَلَى الذِي يُخْتَارُ عِنْدَهُ حَصَلْ
وقوله
(7):
وَفِي "أَنَا" وَ"هْوَ"، "هِيَ" المُخْتَارُ
… جَمِيعُهَا الضَّمِيرُ وَالإِضْمَارُ
--------------------------------------------
৭ - 'হাসান' (উত্তম) বিষয়ের প্রতি নির্দেশনাএরই অন্তর্ভুক্ত তার উক্তি
(১):
সুতরাং "তোমার ছাড়া অন্য কেউ এসেছে" বলা বৈধ হয়েছে, কিন্তু "তোমার ব্যতীত অন্য কেউ" নয়; এটিই তাদের দলিল এবং তা উত্তম।
এবং তার উক্তি
(২):
আর যখনই দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়, তখন তার বিলোপসাধন সুন্দর হয় এবং সেখানে এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কিছু নেই।
৮ - 'আহসান' (অধিকতর উত্তম) বিষয়ের প্রতি নির্দেশনাএরই অন্তর্ভুক্ত তার উক্তি
(৩):
কিন্তু ব্যবধান না থাকার কারণে এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর এর পূর্ববর্তী তৃতীয়টিই হলো সর্বাধিক উত্তম।
এবং তার উক্তি
(৪):
তারা এটি দিয়ে আরম্ভ করেছেন এতে বিস্ময়ের অর্থ নিহিত থাকার কারণে, আর এটিই অধিকতর উত্তম।
এবং তার উক্তি
(৫):
আর সমার্থক শব্দ দিয়ে পুনরাবৃত্তি করা অধিকতর উত্তম; যেমন গুণ বর্ণনাকারীর উত্তরে "হ্যাঁ, অবশ্যই" বলা।
৯ - 'মুখতার' (মনোনীত/পছন্দনীয়) বিষয়ের প্রতি নির্দেশনাএরই অন্তর্ভুক্ত তার উক্তি
(৬):
আর এই বিলোপসাধন অপরিহার্য নয়, বরং তার নিকট যা পছন্দনীয় সেই অনুযায়ী তা ঘটেছে।
এবং তার উক্তি
(৭):
"আমি", "সে" (পুং) এবং "সে" (স্ত্রী) শব্দগুলোর ক্ষেত্রে পছন্দনীয় অভিমত হলো—এগুলোর সবগুলোই সর্বনাম ও উহ্য নাম।
--------------------------------------------