(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: -)
خطاب الماردي ومنهجه في النحو   (حسن موسى الشاعر)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: خطاب الماردي ومنهجه في النحو

المؤلف: حسن موسى الشاعر

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: العددان التاسع والسبعون والثمانون, السنة العشرون- رجب-ذوالحجة 1408هـ

عدد الصفحات: 143

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মারদির বক্তব্য এবং নাহুশাস্ত্রে তাঁর পদ্ধতি   (হাসান মুসা আল-শায়ির)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: আল-মারদির বক্তব্য এবং নাহুশাস্ত্রে তাঁর পদ্ধতি

লেখক: হাসান মুসা আল-শায়ির

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৭৯ ও ৮০তম সংখ্যা, ২০তম বর্ষ - রজব-জিলহজ্জ ১৪০৮ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১০৭)
‌‌خطَّاب المارديّ ومنهجه في النحو

للدكتور/ حسن موسى الشاعر أستاذ مشارك بكلية اللغة العربية بالجامعة الإسلامية

خطَّاب المارديّ

عصره:

عاش خطَّاب المارديّ حياته في الأندلس، في النصف الأول من القرن الخامس الهجري، وشهد سقوط الخلافة الأموية في الأندلس، على إثر انهيار الدولة العامرية سنة 399 هـ، وانقسام بلاد الأندلس إلى دول متعددة تقوم في كل منها دولة أو مملكة تزعم لنفسها الاستقلال، ولا تربطها بجاراتها أو زميلاتها أية رابطة، إلا المنافسة والحرب الأهلية، وقد عرف هذا العصر بعصر دول الطوائف 1.

وقد ذكرت المصادر أن خطاباً كان من أهل قرطبة، ثم سكن بطليوس، وأنه توفي آخر أيام المظفر بن الأفطس، صاحب بطليوس 2.

وكانت مملكة بطليوس تشمل رقعة كبيرة تمتد من غرب مملكة طليطلة عند مثلث نهر وادي يانه غرباً حتى المحيط الأطلسي، وتشمل أراضي البرتغال كلها تقريباً حتى مدينة باجه في الجنوب. وكانت العاصمة بطليوس تتوسط هذه الرقعة الكبيرة التي تشمل عدا العاصمة عدة مدن هامة أخرى مثل: ماردة، ويابرة، وأشبونة، وشنترين، وقلمرية وغيرها 3.

وكان بنو سلمة أو بنو الأفطس، كما اشتهر اسمهم، سادة هذه المملكة الشاسعة التي حكموها نيفاً وسبعين عاماً، وسطع بلاطهم أيام الطوائف.

وينتمي أبو محمد عبد الله بن مسلم المعروف بابن الأفطس إلى قبيلة من قبائل مكناسة المغربية، وأصله من ولاية قرطبة. وقد استولى على حكم بطليوس سنة 413 هـ، وتلقب

--------------------------------------------

1 دول الطوائف. محمد عبد الله عنان ص 3 (المقدمة) ، التاريخ الأندلسي للحجي 354.

2 التكملة لكتاب الصلة لابن الأبار 1/ 291.

3 دول الطوائف ص 80.
খাত্তাব আল-মারিদি এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তাঁর পদ্ধতি (منهج)

লিখেছেন: ড. হাসান মুসা আল-শা'ইর, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক

খাত্তাব আল-মারিদি

তাঁর যুগ:

খাত্তাব আল-মারিদি তাঁর জীবন আন্দালুসে অতিবাহিত করেছেন, যা ছিল হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমার্ধ। তিনি আন্দালুসে উমাইয়া খিলাফতের পতন প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা ৩৯৯ হিজরিতে আমিরি রাষ্ট্রের পতনের ফলে ঘটেছিল। এর ফলে আন্দালুস ভূখণ্ড একাধিক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যেখানে প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে রাষ্ট্র বা রাজতন্ত্র গড়ে উঠেছিল যারা নিজেদের স্বাধীনতা দাবি করত। প্রতিবেশী বা সমগোত্রীয় রাষ্ট্রগুলোর সাথে তাদের কোনো সুসম্পর্ক ছিল না; বরং বিদ্যমান ছিল কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং গৃহযুদ্ধ। এই যুগটি 'তওয়াইফ রাজ্যসমূহের যুগ' নামে পরিচিত ১।

ঐতিহাসিক উৎসসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খাত্তাব ছিলেন কর্ডোভার অধিবাসী, অতঃপর তিনি বাডাহোজে বসবাস শুরু করেন এবং তিনি বাডাহোজের অধিপতি মুযাফফর ইবনে আল-আফতাসের শেষ জীবনে মৃত্যুবরণ করেন ২।

বাডাহোজ রাজ্যটি একটি বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যা পশ্চিমে টলেডো রাজ্যের পশ্চিম সীমান্ত হতে ওয়াদি ইয়ানা নদীর ত্রিভুজাকার মোহনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত এবং দক্ষিণে বাজা শহর পর্যন্ত প্রায় সমগ্র পর্তুগাল ভূখণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। রাজধানী বাডাহোজ ছিল এই বিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, যা রাজধানী ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন: মারিদা, ইয়াবুরা, আশবুনা, শানতারিন, কলামরিয়া এবং অন্যান্য শহরকে বেষ্টন করে ছিল ৩।

বনু সালামাহ বা বনু আল-আফতাস—যে নামে তারা সমধিক পরিচিত ছিল—ছিল এই বিস্তীর্ণ রাজ্যের অধিপতি। তারা সত্তর বছরেরও অধিক সময় এটি শাসন করেছিল এবং তওয়াইফ যুগে তাদের রাজদরবার ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জাঁকজমকপূর্ণ।

আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম, যিনি ইবনে আল-আফতাস নামে পরিচিত, তিনি মাগরিবি মিকনাসাহ গোত্রের একটি শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর আদি নিবাস ছিল কর্ডোভা প্রদেশে। তিনি ৪১৩ হিজরিতে বাডাহোজের শাসন ক্ষমতা দখল করেন এবং উপাধি গ্রহণ করেন...

--------------------------------------------

১ তওয়াইফ রাজ্যসমূহ। মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আনান, পৃষ্ঠা ৩ (ভূমিকা), আল-হাজ্জি রচিত আন্দালুসের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৩৫৪।

২ ইবনুল আব্বার রচিত আত-তাকমিলা লি কিতাবিস সিলাহ, ১/২৯১।

৩ তওয়াইফ রাজ্যসমূহ, পৃষ্ঠা ৮০।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১০৮)
بالمنصور، وكان رجلا كثير المعرفة والدهاء، وافر الحزم والسياسة، توفي سنة 437 هـ، فخلفه محمد بن عبد الله بن أفطس، وتلقب بالمظفر، وكان عالماً وفارساً شجاعاً، وكان يرى في بني عباد - حكام إشبيلية - خصومه الأوائل، ويعمل لاتقاء عدوانهم، واستطاع ابن الأفطس أن يوقع بالمعتضد بن عباد هزيمة شديدة سنة 439 هـ. ثم جهز المعتضد قوة كبيرة وتوغلت في أراضي ابن الأفطس، والتقى الفريقان على مقربة من يابرة، فهزم ابن الأفطس سنة 442 هـ، وقتل كثير من جنده، واستمرت الحرب عدة شهور ثم عقد الصلح بينهما سنة 443 هـ.

وأخذ المظفر يتعرض لخطر جديد، وذلك من قبل نصارى الشمال، الذين أخذوا يتحينون الفرص ويستولون على بعض المدن، وكان أعظم خطب نزل بالمسلمين هو فقد مدينة قلمرية، أعظم مدن البرتغال الشمالية، وذلك سنة 456 هـ، وتوفي المظفر بن الأفطس سنة 461 هـ 1.

وقد كان المظفر من أعلم أهل عصره، وكان رأسًا في الأدب والشجاعة والرأي، وكان مناغراً للروم، شجىً في حلوقهم. وكان مع استغراقه في الجهاد لا يفتر عن العلم، ولا يترك العدل، صنع مدرسة يجلس فيها كل جمعة ويحضره العلماء. وقد اشتهر في عالم الأدب بكتابه الضخم الموسوم بالمظفري، نسبه إلى اسمه، وهو موسوعة أدبية وتاريخية عظيمة، على هيئة عيون الأخبار لابن قتيبة، يحتوي على كثير من الأخبار والسير الطرائف والنوادر…وقيل: إن المظفري كان يحتوي على خمسين مجلدا، وقيل عشرة أجزاء ضخمة 2.

اسمه ونسبه:

هو خطّاب بن يوسف بن هلال المارديّ، من أهل قرطبة، وسكن بطليوس، يكنى أبا بكر 3.

وذكر بعضهم في نسبه أيضاً "المالكي" 4. وأعتقد أن خطّاباً كان مالكي المذهب، وإن لم أجد له ترجمة في طبقات المالكية، إذ كان مذهب الإمام مالك منتشراً في الأندلس

--------------------------------------------

1 دول الطوائف باختصار 80-87 باختصار.

2 سير أعلام النبلاء للذهبي 18/514، دول الطوائف 87. الأعلام للزركلي 6/228.

3 انظر في ترجمته: التكملة كتاب الصلة لابن الأبار 1/291، إشارة التعيين لعبد الباقي اليماني 112، البلغة للفيروز آبادي 77، بغية الوعاة للسيوطي 1/553، معجم المؤلفين 4/103، كشف الظنون 1/507، هدية العارفين 1/347، إيضاح المكنون 1/281.

4 هدية العارفين 1/347.
মনসুরের মাধ্যমে, তিনি ছিলেন প্রগাঢ় জ্ঞান ও বিচক্ষণতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তি, অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অধিকারী। তিনি ৪৩৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আফতাস, যিনি 'আল-মুজাফফর' উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি একজন আলেম (عالم) এবং সাহসী অশ্বারোহী ছিলেন। তিনি সেভিলের (ইশবিলিয়াহ) শাসক বনু আব্বাদকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গণ্য করতেন এবং তাদের আগ্রাসন ঠেকাতে সচেষ্ট ছিলেন। ইবনে আফতাস ৪৩৯ হিজরিতে আল-মুতাদিদ বিন আব্বাদকে কঠোরভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হন। এরপর আল-মুতাদিদ এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করেন এবং ইবনে আফতাসের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেন। ৪৪২ হিজরিতে ইয়াবুরা নামক স্থানের নিকটে উভয় পক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং ইবনে আফতাস পরাজিত হন। তাঁর অনেক সৈন্য নিহত হয়। যুদ্ধ কয়েক মাস যাবৎ অব্যাহত থাকে এবং অবশেষে ৪৪৩ হিজরিতে তাঁদের মধ্যে সন্ধি স্থাপিত হয়।

অতঃপর আল-মুজাফফর উত্তরের খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে নতুন বিপদের সম্মুখীন হন, যারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং কিছু শহর দখল করে নিচ্ছিল। মুসলমানদের ওপর নেমে আসা সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ছিল পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলের প্রধান শহর কালমারিয়া হারানো, যা ৪৫৬ হিজরিতে ঘটেছিল। আল-মুজাফফর বিন আফতাস ৪৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

মুজাফফর ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম (عالم) এবং সাহিত্য, বীরত্ব ও প্রজ্ঞায় শীর্ষস্থানীয়। তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে সর্বদা লড়াই চালিয়ে যেতেন এবং তাদের গলার কাঁটা হয়ে ছিলেন। জিহাদে নিমগ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি জ্ঞানচর্চা থেকে বিরত হতেন না এবং ন্যায়বিচার বর্জন করতেন না। তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে প্রতি শুক্রবার বসতেন এবং সেখানে আলেমগণ (علماء) উপস্থিত হতেন। সাহিত্যজগতে তিনি তাঁর বিশাল গ্রন্থ 'আল-মুজাফফরি'র জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, যা তাঁর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল। এটি ইবনে কুতায়বার 'উয়ুনুল আখবার'-এর আদলে একটি মহান সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক বিশ্বকোষ, যা অসংখ্য সংবাদ, জীবনী এবং বিরল ঘটনাবলি ধারণ করে…বলা হয়ে থাকে যে, 'আল-মুজাফফরি' পঞ্চাশ খণ্ডে সমাপ্ত ছিল, আবার কেউ বলেছেন এটি দশটি বিশাল খণ্ড।

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন খাত্তাব বিন ইউসুফ বিন হিলাল আল-মারদি, কর্ডোভার অধিবাসী ছিলেন এবং বাতালিইউসে বসবাস করতেন। তাঁর উপনাম ছিল আবু বকর।

কেউ কেউ তাঁর বংশপরিচয়ে 'আল-মালিকি' শব্দটিও উল্লেখ করেছেন। আমার বিশ্বাস যে, খাত্তাব মালিকি মাযহাবের (مذهب) অনুসারী ছিলেন, যদিও মালিকিগণের জীবনীগ্রন্থের স্তরবিন্যাসে (طبقات) আমি তাঁর কোনো জীবনী (ترجمة) খুঁজে পাইনি; যেহেতু আন্দালুসে ইমাম মালিকের মাযহাব (مذهب) ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

--------------------------------------------

১. সংক্ষেপে দুওয়ালুত তাওয়াইফ, ৮০-৮৭।

২. জাহাবির সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৮/৫১৪; দুওয়ালুত তাওয়াইফ, ৮৭; যারকালির আল-আলাম, ৬/২২৮।

৩. তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: ইবনুল আব্বারের আত-তাকমিলা কিতাবুস সিলাহ, ১/২৯১; আবদুল বাকি আল-ইয়ামানির ইশারাতুত তায়িন, ১১২; আল-ফিরোজাবাদীর আল-বুলগাহ, ৭৭; সুয়ুতির বুগয়াতুল উয়াহ, ১/৫৫৩; মুজামুল মুআল্লিফীন, ৪/১০৩; কাশফুয যুনুন, ১/৫০৭; হাদিয়াতুল আরিফীন, ১/৩৪৭; ইদাহুল মাকনুন, ১/২৮১।

৪. হাদিয়াতুল আরিফীন, ১/৩৪৭।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১০৯)
وقد ذكر أن شيخه ابن الفخار القرطبي الحافظ كان مالكياً 1.

وزاد بعضهم في نسبه "الأنباري" 2، ولا أرى له وجهاً، ولم أجد أحداً من القدامى ذكره، ولعله وهم سببه أن خطّاباً صنف مختصر الزاهر لابن الأنباري، فالتبس ذلك على بعضهم، فأدخل " الأنباري " في نسب خطّاب.

و"المارديّ" نسبة إلى ماردة. قال أبو حيان 3: "أبو بكر خطّاب به يوسف بن هلال الماردي، أندلسي من ماردة".

قال ياقوت 4: "ماردة كورة واسعة من نواحي الأندلس، من أعمال قرطبة، إحدى القواعد التي تخيرتها الملوك للسكنى من القياصرة والروم.. وهي مدينة رائقة كثيرة الرخام، عالية البنيان، فيها آثار قديمة حسنة، تقصد للفرجة والتعجب، وبينها وبين قرطبة ستّة أيام.. ينسب إليها غير واحد من أهل العلم والرواية".

وكانت ماردة إحدى المدن الهامة في مملكة بطليوس التي يعيش بها خطّاب في عصر دول الطوائف 5.

وقد وقع تحريف كثير في لفظة "المارديّ" في عدد من المصنفات: ففي فهرسة ابن خير الإشبيلي ذكر في مواضع "المارديّ" وفي مواضع أخرى "الماوردي" 6.

وفي إشارة التعيين والبلغة ذكر "المازريّ" 7.

وفي توضيح المقاصد للمراديِّ ورد "الماورديّ" 8.

وفي التصريح للشيخ خالد ورد "خطاب الماردي" 9. وورد مرة "خطّاب الماوردي" 10. ومرة "خطاب المرادي" 11.

--------------------------------------------

1 الصلة لابن بشكوال / القسم الثاني 510، نفح الطيب 2/61.

2 كشف الظنون 1/507، هدية العارفين 1/347.

3 تذكرة النحاة 278.

4 معجم البلدان 5/38-39، باختصار.

5 دول الطوائف 80.

6 فهرسة ما رواه عن شيوخه 319، 480، 484، 509، 524، 527.

7 إشارة التعيين 112، البلغة 77.

8 توضيح المقاصد والمسالك شرح ألفية ابن مالك للمرادي 1/345.

9 التصريح 2/336.

10 التصريح 1/223.

11 التصريح 2/289.
উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর উস্তাদ হাফিজ (الحافظ) ইবনুল ফাকখার আল-কুরতুবি মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন ১।

কেউ কেউ তাঁর বংশপরম্পরায় "আল-আনবারি" ২ শব্দটি যুক্ত করেছেন, তবে আমি এর কোনো ভিত্তি দেখি না এবং প্রাচীনদের কাউকেও এটি উল্লেখ করতে দেখিনি। সম্ভবত এটি একটি ভ্রান্তি (وهم), যার কারণ হলো খাত্তাব ইবনুল আনবারির 'আল-জাহির' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রচনা করেছিলেন; ফলে বিষয়টি কারো কারো কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং তারা খাত্তাবের বংশনামের সাথে "আল-আনবারি" শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করে দেন।

এবং "আল-মারিদি" শব্দটি মারিদাহর সাথে সম্পৃক্ত। আবু হাইয়ান ৩ বলেছেন: "আবু বকর খাত্তাব বিন ইউসুফ বিন হিলাল আল-মারিদি, মারিদাহর একজন আন্দালুসীয়।"

ইয়াকুত ৪ বলেছেন: "মারিদাহ হলো আন্দালুসের অঞ্চলের একটি বিশাল প্রদেশ, যা কর্ডোবার অন্তর্ভুক্ত। এটি সেই প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি যা কায়সার ও রোমান রাজন্যবর্গ বসবাসের জন্য পছন্দ করেছিলেন। এটি একটি চমৎকার শহর যেখানে প্রচুর মার্বেল পাথর ও সুউচ্চ দালানকোঠা রয়েছে। সেখানে প্রাচীন সুন্দর নিদর্শনাবলি বিদ্যমান, যা ভ্রমণ ও বিস্ময়কর কিছু দেখার জন্য পর্যটকদের গন্তব্য। এর এবং কর্ডোবার মধ্যবর্তী দূরত্ব ছয় দিনের পথ। ইলম ও বর্ণনার (الرواية) অধিকারী একাধিক ব্যক্তি এই শহরের দিকে সম্পৃক্ত।"

মারিদাহ ছিল বাতালইউস রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেখানে খাত্তাব 'দুয়ালুত তাওয়াইফ' ৫ (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশের শাসনকাল) যুগে বসবাস করতেন।

অনেক গ্রন্থে "আল-মারিদি" শব্দটিতে প্রচুর বিকৃতি (تحريف) ঘটেছে: যেমন ইবনে খাইর আল-ইশবিলির 'ফিহরিসাহ' গ্রন্থে কোনো কোনো স্থানে "আল-মারিদি" এবং অন্য স্থানে "আল-মাওয়ারদি" ৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

'ইশারাতুত তা'য়িন' এবং 'আল-বুলগাহ' গ্রন্থে "আল-মাজিরি" ৭ উল্লেখ করা হয়েছে।

আল-মুরাদি প্রণীত 'তাওদিহুল মাকাসিদ' গ্রন্থে "আল-মাওয়ারদি" ৮ এসেছে।

শায়খ খালিদ রচিত 'আত-তাসরিহ' গ্রন্থে "খাত্তাব আল-মারিদি" ৯ এসেছে। আবার এক জায়গায় "খাত্তাব আল-মাওয়ারদি" ১০ এবং অন্য জায়গায় "খাত্তাব আল-মুরাদি" ১১ এসেছে।

--------------------------------------------

১ আস-সিলাহ লি-ইবনে বাশকুওয়াল / দ্বিতীয় খণ্ড ৫১০, নাফহুত তিব ২/৬১।

২ কাশফুয যুনুন ১/৫০৭, হাদিয়্যাতুল আরিফিন ১/৩৪৭।

৩ তাযকিরাতুন নুহাত ২৭৮।

৪ মু'জামুল বুলদান ৫/৩৮-৩৯, সংক্ষেপে।

৫ দুয়ালুত তাওয়াইফ ৮০।

৬ ফিহরিসাতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি ৩১৯, ৪৮০, ৪৮৪, ৫০৯, ৫২৪, ৫২৭।

৭ ইশারাতুত তা'য়িন ১১২, আল-বুলগাহ ৭৭।

৮ আল-মুরাদি প্রণীত তাওদিহুল মাকাসিদ ওয়াল মাসালিক শারহু আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক ১/৩৪৫।

৯ আত-তাসরিহ ২/৩৩৬।

১০ আত-তাসরিহ ১/২২৩।

১১ আত-তাসরিহ ২/২৮৯।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১০)
وذكره صاحب ضياء السالك باسم "خطّاب الماوردي" 1 تبعاً لما ورد في التصريح. وفي إيضاح المكنون وهدية العارفين ذكر "المادري" 2.

أما محقق ارتشاف الضرب ففي قسم الفهارس ذكر خطاباً مرتين باسم "المارزي" 3 مع أسماء المصنفين، ولعله من أخطاء الطباعة وهو يقصد "المازري" لأنه ذكره مرتين أيضاً باسم "المازري" 4 في فهرس أسماء الكتب.

هذا مع أن الاسم ورد صحيحاً مرات كثيرة في أصل كتاب الارتشاف باسم "خطّاب الماردي " 5.

وفي الأشباه والنظائر للسيوطي ورد "خطاب المارديني"، وعلق عليها المحقق في الحاشية بقوله: "في النسخ الثلاث "الماريني " وفي (ط) فقط "المارديني " ولعل الصواب "الماردي" 6.

وفي شرح أبيات مغني اللبيب للبغدادي ورد "خطاب بن يوسف الماردي" 7. ويبدو أن المحققَيْنِ اختارا ذلك اعتماداً على كتاب إيضاح المكنون الذي أشارا إليه في الحاشية.

وأنا أرى أن هذه التحريفات من أخطاء النساخ أو المحققين أو الناشرين للكتب من غير تدقيق؛ لأنه ورد باسم "خطّاب المارديّ " في معظم الكتب التي ترجمت له، وفي مواضيع كثيرة من كتب النحو التي ذكرته.

نشأته ومنزلته:

لا تسعفنا المصادر التي بين أيدينا إلا بشذرات قليلة عن حياة خطّاب، لا تتضح بها حياة خطّاب من ولادته أو نشأته، ولكنها تدل على علو منزلته.

فقد ذكرت المصادر أنه من أهل قرطبة وسكن بطليوس 8. ويبدو لي أنه ولد في قرطبة ونشأ بها، لأنه روى عن أبي عبد الله بن الفخار الفقيه 9.

--------------------------------------------

1 ضياء السالك للنجار 1/290.

2 إيضاح المكنون 1/281، هدية العارفين 1/347.

3 إرتشاف الضرب تحقيق: د. النماس / قسم الفهارس 3/658.

4 إرتشاف الضرب 3/684.

5 انظر الارتشاف 1/286، 1/442، 2/144، 2/197، 3/27،29 ومواضع أخرى.

6 الأشباه والنظائر للسيوطي: تحقيق: د. عبد العال سالم 1/247.

7 شرح أبيات مغني اللبيب تحقيق: أحمد دقاق وزميله 5/216.

8 التكملة لكتاب الصلة 1/291، إشارة التعيين 112.

9 التكملة لكتاب الصلة 1/291.
যিয়াউস সালিক গ্রন্থের লেখক একে "খাত্তাব আল-মাওয়ার্দি" নামে উল্লেখ করেছেন ১, যা "আত-তাসরিহ" গ্রন্থে যা এসেছে তার অনুসরণে। এবং "ইজাহুল মাকনুন" ও "হাদিয়াতুল আরিফিন" গ্রন্থে "আল-মাদরি" ২ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে "ইর্তিশাফুদ দারাব" গ্রন্থের মুহাক্কিক (محقق) নির্ঘণ্ট অংশে গ্রন্থকারদের নামের তালিকায় খাত্তাবকে দুইবার "আল-মারিযি" ৩ নামে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত এটি একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি এবং তিনি "আল-মাযারি" বুঝিয়েছেন, কারণ তিনি গ্রন্থসমূহের নামের নির্ঘণ্টে তাকে পুনরায় দুইবার "আল-মাযারি" ৪ নামে উল্লেখ করেছেন।

অথচ "ইর্তিশাফ" গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপিতে নামটি বহুবার সঠিকভাবে "খাত্তাব আল-মারদি" ৫ নামে এসেছে।

সুয়ূতি রহ.-এর "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর" গ্রন্থে "খাত্তাব আল-মারদিনি" এসেছে। এর ওপর মুহাক্কিক (محقق) টীকায় মন্তব্য করে বলেছেন: "তিনটি পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) 'আল-মারিনি' এবং শুধুমাত্র (ত্বা) পাণ্ডুলিপিতে 'আল-মারদিনি' এসেছে, তবে সম্ভবত সঠিক হলো 'আল-মারদি'" ৬।

বাগদাদির "শারহু আবিয়াত মুগনী আল-লাবিব" গ্রন্থে "খাত্তাব ইবনে ইউসুফ আল-মারদি" ৭ এসেছে। মনে হয় মুহাক্কিক (محقق) দ্বয় "ইজাহুল মাকনুন" গ্রন্থের ওপর নির্ভর করে এটি গ্রহণ করেছেন যা তারা টীকায় নির্দেশ করেছেন।

আমার দৃষ্টিতে এই বিকৃতিগুলো (تحريفات) অনুলিপিকার, মুহাক্কিক (محقق) বা প্রকাশকদের অসাবধানতাজনিত ভুল; কারণ তাকে নিয়ে রচিত অধিকাংশ জীবনী (ترجمة) গ্রন্থে এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের বহু কিতাবে তার নাম "খাত্তাব আল-মারদি" হিসেবেই এসেছে।

তার লালন-পালন ও মর্যাদা:

আমাদের হাতে থাকা উৎসসমূহ খাত্তাবের জীবন সম্পর্কে সামান্য কিছু বিক্ষিপ্ত তথ্য ছাড়া আর কিছুই প্রদান করে না, যা দ্বারা তার জন্ম বা বেড়ে ওঠার বিষয়টি স্পষ্ট হয় না; তবে তা তার উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়।

উৎসসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি কর্ডোবার অধিবাসী ছিলেন এবং বাদাজোজে বসবাস করতেন ৮। আমার কাছে মনে হয় যে তিনি কর্ডোবায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন, কারণ তিনি ফকিহ (فقيه) আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল ফাকখার থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন ৯।

--------------------------------------------

১ যিয়াউস সালিক, নাজ্জার ১/২৯০।

২ ইজাহুল মাকনুন ১/২৮১, হাদিয়াতুল আরিফিন ১/৩৪৭।

৩ ইর্তিশাফুদ দারাব, তাহকিক: ড. আন-নামাস / নির্ঘণ্ট অংশ ৩/৬৫৮।

৪ ইর্তিশাফুদ দারাব ৩/৬৮৪।

৫ দেখুন আল-ইর্তিশাফ ১/২৮৬, ১/৪৪২, ২/১৪৪, ২/১৯৭, ৩/২৭, ২৯ এবং অন্যান্য স্থান।

৬ সুয়ূতির আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর: তাহকিক: ড. আব্দুল আল সালিম ১/২৪৭।

৭ শারহু আবিয়াত মুগনী আল-লাবিব, তাহকিক: আহমদ দাক্কাক ও তার সহকর্মী ৫/২১৬।

৮ আত-তাকমিলা লি কিতাবিস সিলাহ ১/২৯১, ইশারাতুত তা'য়িন ১১২।

৯ আত-তাকমিলা লি কিতাবিস সিলাহ ১/২৯১।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১১)
وشيخه هذا هو أبو عبد الله محمد بن عمر بن يوسف المالكي الحافظ، يعرف بابن الفخار، من أهل قرطبة، قدم مصر وحج وجاور بالمدينة المنورة، وأفتى بها، وكان من أهل العلم والذكاء والحفظ والفهم، عارفاً بمذاهب الأئمة وأقوال العلماء، يحفظ المدونة والنوادر لأبي زيد. قيل توفي بمدينة بلنسية سنة 417 هـ، وقيل 419 هـ. وهو آخر الفقهاء الحفاظ الراسخين العالمين بالكتاب والسنة بالأندلس 1.

أمّا خطّاب فقال عنه ابن الأبّار (المتوفي سنة 659 هـ) : كان متقدماً في علوم اللسان، واقفاً على كتب الأشعار والأخبار، متحققا بالنحو، يؤخذ عنه، ويرغب فيه، وقعد لإقراء ذلك، وعاصر الأستاذ أبا عبد الله بن يونس الحجاري2.

وقال عنه ابن عبد الملك المراكشي (المتوفى سنة 703 هـ) : كان من جلّة النحاة، ومحققيهم والمتقدمين في المعرفة بعلوم اللسان على الإطلاق، روى عن أبي عبد الله بن الفخار وأبي عمر أحمد بن الوليد وهلال بن عريب، وروى عنه ابناه عبد الله وعمر، وتصدر لإقراء العربية طويلاً، وصنف فيها3.

وفاته:

تشير أكثر المصادر التي ترجمت لخطّاب المارديّ أنه توفي بعد الخمسين والأربعمائة 4، في آخر أيام المظفر بن الأفطس، صاحب بطليوس. وقد اختلف في سنة وفاة المظفر بن الأفطس فقيل توفي سنة 460 هـ 5، وقيل سنة 461 هـ 6.

وعليه أرجّح أن تكون وفاة خطّاب نحو سنة 460 هـ.

مصنفاته:

ترك خطّاب مصنفات كثيرة، ذكرها ابن خير الإشبيلي في كتابه "فهرسة ما رواه عن شيوخه". ثم قال 7: "وكل ذلك من تأليف الشيخ الأستاذ أبي بكر خطّاب بن يوسف بن هلال المارديّ النحوي رحمه الله. حدثني بذلك كله الشيخ الحاج أبو حفص عمر بن عياد

--------------------------------------------

1 الصلة لابن بشكوال / القسم الثاني 510. نفح الطيب للمقري 2/60-61.

2 التكملة لكتاب الصلة 1/291.

3 بغية الوعاة 1/553.

4 التكملة لكتاب الصلة 1/291، إشارة التعيين 112، البلغة 77، بغية الوعاة 1/553.

5 الأعلام 6/228، التاريخ الأندلسي 333.

6 دول الطوائف 87.

7 فهرسة ما رواه عن شيوخه / ابن خير ص 319.
তার এই উস্তাদ হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন ইউসুফ আল-মালিকি আল-হাফিজ (الحافظ), যিনি ইবনুল ফাখখার নামে পরিচিত। তিনি কর্ডোবার অধিবাসী ছিলেন; তিনি মিসরে আগমন করেন, হজ সম্পাদন করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করেন ও সেখানে ফতোয়া প্রদান করেন। তিনি জ্ঞান, মেধা, মুখস্থশক্তি ও বোধশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি ইমামদের মাযহাব ও আলেমদের মতামত সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন; তিনি আবু যায়েদ রচিত 'আল-মুদাওওয়ানা' ও 'আল-নাওয়াদির' মুখস্থ জানতেন। বলা হয় যে, তিনি ৪১৭ হিজরি সনে ভালেন্সিয়া শহরে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয় তা ৪১৯ হিজরি সনে। তিনি ছিলেন আন্দালুসের কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ এবং হাদিস সংরক্ষক (الحافظ) ফকিহদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।১

আর খাত্তাব সম্পর্কে ইবনুল আব্বার (মৃত্যু ৬৫৯ হিজরি) বলেন: তিনি ভাষাতত্ত্বে অগ্রগামী ছিলেন, কাব্য ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলি সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিলেন এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা হতো এবং তার প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল। তিনি এই শাস্ত্র পাঠদানের জন্য আসীন হয়েছিলেন এবং উস্তাদ আবু আবদুল্লাহ বিন ইউনুস আল-হাজারির সমসাময়িক ছিলেন।২

ইবনে আব্দুল মালিক আল-মাররাকুশি (মৃত্যু ৭০৩ হিজরি) তার সম্পর্কে বলেন: তিনি শীর্ষস্থানীয় ও গবেষক নাহুবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ভাষাতত্ত্বে নিরঙ্কুশভাবে অগ্রগামীদের একজন ছিলেন। তিনি আবু আবদুল্লাহ বিন আল-ফাখখার, আবু উমর আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ এবং হিলাল বিন উরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন (روى), আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন (روى) তার দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও উমর। তিনি দীর্ঘকাল আরবি ভাষা পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।৩

তার মৃত্যু:

খাত্তাব আল-মারদি সম্পর্কে জীবনীমূলক অধিকাংশ উৎস নির্দেশ করে যে, তিনি ৪৫০ হিজরির পরে বাদাউসের অধিপতি মুজাফফর বিন আল-আফতাস এর শেষ সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। মুজাফফর বিন আল-আফতাস এর মৃত্যুর সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় তিনি ৪৬০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন ৪, আবার বলা হয় ৪৬১ হিজরি সনে।৫

এর প্রেক্ষিতে আমি খাত্তাবের মৃত্যু ৪৬০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে বলে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

তার রচনাবলি:

খাত্তাব অনেকগুলো গ্রন্থ রেখে গেছেন, যা ইবনে খায়ের আল-ইশবিলি তার "ফাহরাসাতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন ৭: "এই সবগুলিই শাইখ উস্তাদ আবু বকর খাত্তাব বিন ইউসুফ বিন হিলাল আল-মারদি আল-নাহুয়ি (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা। শাইখ আল-হাজ আবু হাফস উমর বিন ইয়াদ আমাকে এই সব বর্ণনা করেছেন (حدثني)"।

--------------------------------------------

১ আল-সিলাহ লি-ইবনে বাশকুওয়াল / দ্বিতীয় খণ্ড ৫১০। নাফহুত তিব লিল-মাক্কারি ২/৬০-৬১।

২ আত-তাকমিলা লি-কিতাবিস সিলাহ ১/২৯১।

৩ বুগইয়াতুল উয়াত ১/৫৫৩।

৪ আত-তাকমিলা লি-কিতাবিস সিলাহ ১/২৯১, ইশারাতুত তায়ীন ১১২, আল-বুলাগাহ ৭৭, বুগইয়াতুল উয়াত ১/৫৫৩।

৫ আল-আলাম ৬/২২৮, আত-তারিখুল আন্দালুসি ৩৩৩।

৬ দুয়ালুত তাওয়ায়েফ ৮৭।

৭ ফাহরাসাতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি / ইবনে খায়ের, পৃষ্ঠা ৩১৯।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১২)
ابن أيوب بن عبد الله اليحصبي رحمه الله، عن أبي حفص عمر بن خطاب بن يوسف عن أبيه مؤلفها رحمه الله. وحدثني بها أيضا الشيخ أبو بكر محمد بن أحمد بن محرز عن أبيه رحمه الله، عن أبي حفص عمر بن خطاب المذكور عن أبيه خطّاب بن يوسف رحمه الله.

وهذه هي مصنفاته التي ذكرها ابن خير، وما أضفته إليها، مما وجدته عند غيره، رتبتها فيمايلي:

1- الترشيح في النحو، وهو أشهر كتبه، وقد وصلتنا منه نقول كثيرة، وسوف أعرض له بالتفصيل.

2- أرجوزة في مخارج الحروف وصفاتها 1.

3- إعراب مسألة (الحسن الوجه) بعللها وتصريف وجوهها 2.

4- الترجمة 3.

5- التمحيص 4.

6- الدلائل في النحو 5.

7- الدلالة 6.

8- الفصول في النحو 7.

9- شرح مسألة الزي 8.

10- المشعر 9.

11- اختصار الزاهر لابن الأنباري 10.

12- شعر فيما يذكر ويؤنث 11.

--------------------------------------------

1 فهرسة ما رواه عن شيوخه 319،369.

2 فهرسة ما رواه عن شيوخه 319،473.

3 فهرسة ما رواه عن شيوخه 480، 319، التذكرة لأبي حيان 292.

4 فهرسة ما رواه عن شيوخه 483،319.

5 فهرسة ما رواه عن شيوخه 490،319، التذكرة لأبي حيان 292.

6 فهرسة ما رواه عن شيوخه 319.

7 فهرسة ما رواه عن شيوخه 509، 319.

8 فهرسة ما رواه عن شيوخه. 524، 319.

9 فهرسة ما رواه عن شيوخه. 527،319.

10 فهرسة ما رواه عن شيوخه494، التكملة لكتاب الصلة 1/291، إشارة التعيين 112، البلغة 77، بغية الوعاة 1/553.

11 التكملة لكتاب الصلة 1/291، إشارة التعيين 112، البلغة 77.
ইবনে আইয়ুব বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াহসাবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), তিনি আবু হাফস উমর বিন খাত্তাব বিন ইউসুফ থেকে (عن), আর তিনি তাঁর পিতা তথা এই গ্রন্থের লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন। আর শেখ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহরিজও তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে (عن), তিনি উল্লিখিত আবু হাফস উমর বিন খাত্তাব থেকে (عن), আর তিনি তাঁর পিতা খাত্তাব বিন ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে (عن) আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন (حدثني)।

আর এগুলোই হলো তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি যা ইবনুল খায়ের উল্লেখ করেছেন, এবং এর সাথে আমি যা যোগ করেছি তা অন্যের নিকট থেকে প্রাপ্ত, যা আমি নিম্নরূপে বিন্যস্ত করেছি:

1- নাহু শাস্ত্রে আত-তারশিহ; এটি তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। আমাদের নিকট এর অনেক উদ্ধৃতি পৌঁছেছে এবং অচিরেই আমি তা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করব।

2- বর্ণের উচ্চারণস্থল ও গুণাবলি বিষয়ক আরজুজা ১।

3- 'আল-হাসান আল-ওয়াজহ' মাসআলার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, এর কারণসমূহ এবং এর রূপান্তরের পদ্ধতিসমূহ ২।

4- আত-তারজামাহ ৩।

5- আত-তামহিস ৪।

6- নাহু শাস্ত্রে আদ-দালাইল ৫।

7- আদ-দাললাহ ৬।

8- নাহু শাস্ত্রে আল-ফুসুল ৭।

9- মাসআলায়ে যি-এর ব্যাখ্যা ৮।

10- আল-মাশআর ৯।

11- ইবনুল আম্বারির আয-যাহির গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার ১০।

12- পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ বিষয়ক কবিতা ১১।

--------------------------------------------

1 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৩১৯, ৩৬৯।

2 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৩১৯, ৪৭৩।

3 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৪৮০, ৩১৯; আবু হাইয়ানের আত-তাযকিরাহ ২৯২।

4 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৪৮৩, ৩১৯।

5 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৪৯০, ৩১৯; আবু হাইয়ানের আত-তাযকিরাহ ২৯২।

6 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৩১৯।

7 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৫০৯, ৩১৯।

8 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৫২৪, ৩১৯।

9 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৫২৭, ৩১৯।

10 তাঁর শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট (فهرسة) ৪৯৪; আস-সিলাহ কিতাবের তাকমিলাহ ১/২৯১; ইশারাতুত তা'ইয়িন ১১২; আল-বুলগাহ ৭৭; বুগইয়াতুল উয়াত ১/৫৫৩।

11 আস-সিলাহ কিতাবের তাকমিলাহ ১/২৯১; ইশারাতুত তা'ইয়িন ১১২; আল-বুলগাহ ৭৭।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৩)
كتاب الترشيح في النحو لخطّاب:

الترشيح في النحو أشهر مصنفات خطّاب، وقد ذكره معظم الذين ترجموا له، كما وصلتنا نقول كثيرة منه، تمثل آراء خطّاب النحوية.

قال السيوطي في ترجمة خطّاب: "وهو صاحب كتاب الترشيح، ينقل عنه أبو حيان وابن هشام كثير"ا 1.

ووصف بعضهم كتاب الترشيح في النحو بأنه كبير 2.

وقد لخص أبو حيان السّفر الأول من كتاب الترشيح في كتابه (تذكرة النحاة) ، بدأه بقوله 3: "أبو بكر خطّاب بن يوسف بن هلال المارديّ، أندلسي من ماردة، له تصانيف في النحو، منها كتاب الترشيح، عارض به كتاب دريود في شرحه لكتاب الكسائي".

وبلغ ما لخصه أبو حيان نحو خمس وعشرين صحيفة، ثم قال 4: "انتهى ما لخص من السفر الأول من كتاب الترشيح".

وقد ذكر البغدادي 5 نصوصاً من كتاب الترشيح منقولة عن كتاب التذكرة لأبي حيان، وليست في الجزء المطبوع منه، ولعله في الأجزاء المفقودة من كتاب التذكرة.

الترشيح أم التوشيح؟

ذكرت معظم كتب التراجم وكتب النحو أن كتاب خطّاب اسمه "الترشيح " بالراء. ولكن ورد في مصدرين أن اسمه "التوشيح" وذلك في فهرسة ما رواه عن شيوخه 6 لابن خير، وفي كشف الظنون 7 لحاجي خليفة.

وأنا أرى أن كتاب خطّاب اسمه "الترشيح" لأنه ورد بهذا اللفظ في معظم كتب التراجم التي ذكرته، وفي جميع كتب النحو التي نقلت عنه في مواضع كثيرة.

فأما تسميته "التوشيح" فذلك وهم أو تحريف بلا شك. ومما يقطع بذلك نصّ صريح جاء في التصريح للشيخ خالد الأزهري، عند قول ابن هشام في إحدى المسائل " … خلافا

--------------------------------------------

1 بغية الوعاة 1/553.

2 إشارة التعيين 112، البلغة 77.

3 تذكرة النحاة 278.

4 تذكرة النحاة 303.

5 خزانة الأدب 6/251، شرح أبيات مغني اللبيب 5/216.

6 فهرسة ما رواه عن شيوخه لابن خير 319،484.

7 كشف الظنون 1/507.
খাত্তাবের ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ 'আত-তারশিহ':

'আত-তারশিহ ফিন নাহব' খাত্তাবের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ রচনা। যারা তার জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন, তাদের অধিকাংশ এটি উল্লেখ করেছেন। এর থেকে অনেক উদ্ধৃতি আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যা খাত্তাবের ব্যাকরণিক মতামতকে উপস্থাপন করে।

খাত্তাবের জীবনী (ترجمة) সম্পর্কে আস-সুয়ুতি বলেছেন: "তিনি 'কিতাবুত তারশিহ'-এর লেখক, আবু হাইয়ান এবং ইবনে হিশাম তার থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করেন" ১।

কেউ কেউ ব্যাকরণ শাস্ত্রের 'কিতাবুত তারশিহ'-কে একটি বৃহৎ গ্রন্থ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ২।

আবু হাইয়ান তার 'তাজকিরাতুন নুহাত' গ্রন্থে 'কিতাবুত তারশিহ'-এর প্রথম খণ্ডটি সংক্ষেপ করেছেন। তিনি এটি এভাবে শুরু করেছেন ৩: "আবু বকর খাত্তাব বিন ইউসুফ বিন হিলাল আল-মারিদি; মারিদার একজন আন্দালুসীয় বংশোদ্ভূত। ব্যাকরণ শাস্ত্রে তার বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো 'কিতাবুত তারশিহ'। তিনি এটি কিসায়ির গ্রন্থের ব্যাখ্যায় দরিউদের গ্রন্থের প্রত্যুত্তরে রচনা করেছেন।"

আবু হাইয়ানের সংক্ষেপিত অংশ প্রায় পঁচিশ পৃষ্ঠার মতো ছিল, তারপর তিনি বলেছেন ৪: "'কিতাবুত তারশিহ'-এর প্রথম খণ্ড থেকে যা সংক্ষেপ করা হয়েছে, তা এখানে সমাপ্ত হলো।"

আল-বাগদাদি ৫ 'কিতাবুত তারশিহ' থেকে কিছু পাঠ উল্লেখ করেছেন যা আবু হাইয়ানের 'তাজকিরা' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত। তবে এগুলো সেই গ্রন্থের মুদ্রিত অংশে পাওয়া যায় না; সম্ভবত এগুলো 'তাজকিরা' গ্রন্থের হারিয়ে যাওয়া অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

তারশিহ নাকি তাওশিহ?

জীবনী বিষয়ক (تراجم) অধিকাংশ গ্রন্থ এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খাত্তাবের বইটির নাম 'রা' (ر) অক্ষরযোগে 'আত-তারশিহ'। তবে দুটি উৎসে এর নাম 'আত-তাওশিহ' হিসেবে এসেছে; যথা: ইবনে খায়রের 'ফিহরাসাতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি' ৬ (তার শায়খদের থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন (رواه) তার তালিকা) এবং হাজি খলিফার 'কাশফুয যুনুন' ৭-এ।

আমার মতে খাত্তাবের বইটির নাম 'আত-তারশিহ', কারণ এটি উল্লেখকারী অধিকাংশ জীবনী (ترجمة) গ্রন্থে এবং এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারী ব্যাকরণ শাস্ত্রের সকল কিতাবে এই শব্দেই তা উল্লেখ করা হয়েছে।

আর এর নাম 'আত-তাওশিহ' হওয়াটা নিঃসন্দেহে একটি ভুল (وهم) বা বিকৃতি (تحريف)। শেখ খালিদ আল-আযহারির 'আত-তাসরিহ' গ্রন্থে আসা একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, যেখানে ইবনে হিশাম একটি মাসআলা প্রসঙ্গে বলেছেন, " … এর বিপরীতে

--------------------------------------------

১ বুগিয়াতুল উয়াত ১/৫৫৩।

২ ইশারাতুত তা'য়িন ১১২, আল-বুলগাহ ৭৭।

৩ তাজকিরাতুন নুহাত ২৭৮।

৪ তাজকিরাতুন নুহাত ৩০৩।

৫ খিজানাতুল আদাব ৬/২৫১, শারহু আবয়াতি মুগনীল লাবীব ৫/২১৬।

৬ ফিহরাসাতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি ৩১৯, ৪৮৪।

৭ কাশফুয যুনুন ১/৫০৭।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৪)
لصاحب الترشيح "قال الشيخ خالد "بالراء، وهو خطاب الماردي" 1.

وقد ورد بلفظ "الترشيح" في المصادر التالية: إشارة التعيين، وفي البلغة، وفي بغية الوعاة، وفي إيضاح المكنون في الذيل على كشف الظنون، وفي هدية العارفين، وفي معجم المؤلفين.

وورد بلفظ "الترشيح" أيضاً في كتب النحو التالية:

- في ارتشاف الضرب - في نحو ثلاثين موضعاً.

- في أوضح المسالك لابن هشام 2، وفي التصريح على التوضيح 3.

وفي حاشية يس على التصريح 4، وفي الأشموني وحاشية الصبان 5.

وفي الأشباه والنظائر للسيوطي 6، وفي خزانة الأدب للبغدادي 7. وفي شرح أبيات مغني اللبيب 8 للبغدادي.

وقد اضطرب محقق كتاب همع الهوامع للسيوطي في ضبط اسم الكتاب فجاء في الجزء الأول منه: قال خطّاب في الترشيح 9، وعلق عليه في الحاشية بقوله: في نسخة أ "التوشيح" بالواو تحريف.

وجاء في الجزء الثاني منه: خطاب بن يوسف المارديّ صاحب "التوشيح" 10، وعلّق عليه في الحاشية بقوله: في البغية والأشموني "الترشيح" بالراء تحريف، صوابه من النسخ الثلاث وكشف الظنون.

وهكذا اختلف حكم المحقق في اسم الكتاب فقال: "التوشيح" تحريف، ثم قال في الموضع الثاني: " الترشيح" تحريف.

وجاء في الجزء الخامس من الهمع أيضاً: خطّاب في الترشيح 11.

--------------------------------------------

1 التصريح على التوضيح 1/223.

2 أوضح المسالك 1/346.

3 التصريح 1/223، 1/266، 2/336.

4 حاشية يس على التصريح 2/104.

5 شرح الأشموني وحاشية الصبان 1/281.

6 الأشباه والنظائر 1/96.

7 خزانة الأدب 6/251.

8 شرح أبيات مغني اللبيب للبغدادي 5/119، 216، 217.

9 همع الهوامع 1/141.

10 همع الهوامع 2/174.

11 همع الهوامع 5/44.
"আত-তারশিহ" গ্রন্থের লেখকের ব্যাপারে শেখ খালিদ বলেছেন, "'রা' বর্ণের সাথে (অর্থাৎ তারশিহ), আর তিনি হলেন খাত্তাব আল-মারিদি" ১।

এবং পরবর্তী উৎসসমূহে এটি "আত-তারশিহ" শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে: ইশারাতুত তায়িন, আল-বুলগাহ, বুগইয়াতুল উয়াত, ইদাহুল মাকনুন ফিয যায়লি আলা কাশফিয যুনুন, হাদিয়্যাতুল আরিফিন এবং মুজামুল মুয়াল্লিফিন।

এছাড়াও নিচের নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতেও এটি "আত-তারশিহ" শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

- ইরতিশাফুল দারাব গ্রন্থে - প্রায় ত্রিশটি স্থানে।

- ইবনে হিশামের আওদাহুল মাসালিক গ্রন্থে ২ এবং আত-তাসরিহ আলাত তাওদিহ গ্রন্থে ৩।

এবং আত-তাসরিহ-এর উপর ইয়াসিনের হাশিয়াতে ৪ এবং আল-আশমুনি ও সাব্বানের হাশিয়াতে ৫।

এবং সুয়ুতির আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর গ্রন্থে ৬ এবং বাগদাদীর খিযানাতুল আদব গ্রন্থে ৭। এছাড়া বাগদাদীর শারহু আবইয়াতি মুগনিল লাবিব গ্রন্থে ৮।

সুয়ুতির হামউল হাওয়ামি গ্রন্থের মুহাক্কিক (সম্পাদক) কিতাবটির নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে অসংগতির (اضطراب) শিকার হয়েছেন। এর প্রথম খণ্ডে এসেছে: খাত্তাব "আত-তারশিহ" গ্রন্থে বলেছেন ৯, এবং তিনি এর টীকায় মন্তব্য করেছেন যে: 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে এটি "ওয়াও" যোগে "আত-তাওশিহ" হিসেবে এসেছে যা একটি বিকৃতি (تحريف)।

এর দ্বিতীয় খণ্ডে এসেছে: খাত্তাব বিন ইউসুফ আল-মারিদি, যিনি "আত-তাওশিহ" এর লেখক ১০। সেখানে তিনি টীকায় মন্তব্য করেছেন: বুগইয়াহ এবং আশমুনিতে 'রা' যোগে "আত-তারশিহ" এসেছে যা একটি বিকৃতি (تحريف), তিনটি পাণ্ডুলিপি এবং কাশফুয যুনুন অনুযায়ী সঠিক (صواب) হলো এটিই (আত-তাওশিহ)।

এভাবেই কিতাবটির নামের ব্যাপারে মুহাক্কিকের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে; তিনি প্রথমে বলেছেন "আত-তাওশিহ" হলো বিকৃতি (تحريف), আবার দ্বিতীয় স্থানে বলেছেন "আত-তারশিহ" হলো বিকৃতি (تحريف)।

এছাড়াও হামউল হাওয়ামি-এর পঞ্চম খণ্ডে এসেছে: খাত্তাব "আত-তারশিহ" গ্রন্থে বলেছেন ১১।

--------------------------------------------

১ আত-তাসরিহ আলাত তাওদিহ ১/২২৩।

২ আওদাহুল মাসালিক ১/৩৪৬।

৩ আত-তাসরিহ ১/২২৩, ১/২৬৬, ২/৩৩৬।

৪ আত-তাসরিহ-এর উপর ইয়াসিনের হাশিয়া ২/১০৪।

৫ শারহুল আশমুনি ও সাব্বানের হাশিয়া ১/২৮১।

৬ আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর ১/৯৬।

৭ খিযানাতুল আদব ৬/২৫১।

৮ বাগদাদীর শারহু আবইয়াতি মুগনিল লাবিব ৫/১১৯, ২১৬, ২১৭।

৯ হামউল হাওয়ামি ১/১৪১।

১০ হামউল হাওয়ামি ২/১৭৪।

১১ হামউল হাওয়ামি ৫/৪৪।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৫)
أقول: والصحيح أنه "الترشيح". فأما تسميته "التوشيح" فهو تحريف وقع في فهرسة ابن خير، ووهم من أوهام كشف الظنون.

وكتاب كشف الظنون على الرغم من غزارة مادته، لا يمكن الاطمئنان إلى كل ما ورد فيه، فقد وقعت فيه أوهام كثيرة بحاجة إلى توقف ونظر.

بين الترشيح لخطّاب والترشيح لابن الطراوة:

عرفنا أن كتاب الترشيح لخطّاب المارديّ كتاب كبير يقع في عدة أجزاء، عارض به كتاب دريود في شرحه لكتاب الكسائي، ومنه نقول كثيرة في كتب النحو، كما سيأتي.

وابن الطراوة 1 (المتوفى سنة 528 هـ) له كتاب في النحو باسم "الترشيح" أيضاً.

وكتاب الترشيح لابن الطراوة كتاب صغير، وصفه ابن عبد الملك المراكشي فقال: "وله مجموع في النحو مختصر، سماه "الترشيح " يكون على قدر النصف من جمل الزجاجي " 2.

ويقول عنه الدكتور عياد الثبيتي: "إنه مقدمة صغيرة في النحو" 3. ثم يقول: "وهذا الكتاب مما لم أجد له ذكرا في الكتب النحوية التي اطلعت عليها، ولا أعلم عنه شيئاً".

وينبه الدكتور عياد على وهم وقع في كشف الظنون يتعلق بوصف كتاب الترشيح لابن الطراوة 4، حيث جاء في كشف الظنون "وهو مختصر من المقدمات على كتاب سيبويه" فيبين الدكتور عياد أن هذا الوهم في كشف الظنون أوقعه فيه قول السيوطي عن ابن الطراوة: "وألف الترشيح وهو مختصر، المقدمات على كتاب سيبويه"، فقوله "المقدمات على كتاب سيبويه" كتاب آخر لابن الطراوة غير الترشيح.

وهذا ملحظ جيد من الدكتور عياد، لم أجد أحداً نبه عليه.

وعلى الرغم من هذه الفروق بين كتاب الترشيح لخطّاب وكتاب الترشيح لابن الطراوة فقد وقع لبس في عنوان كتاب خطّاب من جهة، ووقع خلط بينه وبين كتاب الترشيح لابن الطراوة عند بعض الباحثين من جهة أخرى.

--------------------------------------------

1 انظر عنه الذيل والتكملة 4/79، إنباه الرواة 4/113، إشارة التعيين 135. ابن الطراوة النحوي للدكتور عياد الثبيتي.

2 الذيل والتكملة 4/80.

3 ابن الطراوة النحوي 104.

4 المصدر السابق نفسه.
আমি বলি: সঠিক (الصحيح) হলো এটি "আত-তারশিহ"। আর একে "আত-তাওশিহ" নামে অভিহিত করা ইবনে খায়রের সূচিপত্রে সংঘটিত একটি বিকৃতি (تحريف) এবং কাশফুয যুনুন-এর অন্যতম একটি বিভ্রান্তি (وهم)।

কাশফুয যুনুন গ্রন্থটি এর তথ্যের প্রাচুর্য সত্ত্বেও এতে বর্ণিত সবকিছুর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না; কারণ এতে অনেক বিভ্রান্তি (أوهام) রয়ে গেছে যা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

খাত্তাব এবং ইবনে আত-তারাওয়ার "আত-তারশিহ" গ্রন্থের মধ্যে পার্থক্য:

আমরা জেনেছি যে খাত্তাব আল-মারদিনি-র "আত-তারশিহ" গ্রন্থটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা কয়েক খণ্ডে বিন্যস্ত। তিনি কিসায়ির কিতাবের ওপর দাউদ-এর করা শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এর বিপরীতে এটি রচনা করেছেন। আর এটি থেকে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে, যা সামনে আসবে।

আর ইবনে আত-তারাওয়া ১ (মৃত্যু ৫২৮ হিজরি)-রও নাহু শাস্ত্রে "আত-তারশিহ" নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে।

ইবনে আত-তারাওয়ার "আত-তারশিহ" গ্রন্থটি আকারে ছোট। ইবনে আব্দুল মালিক আল-মাররাকুশি এর বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন: "নাহু শাস্ত্রে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) সংকলন রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন 'আত-তারশিহ'। এটি আয-যাজ্জাজির 'জুমাল' গ্রন্থের প্রায় অর্ধেক পরিমাণের সমান।" ২।

ড. আইয়াদ আস-সুবাইতি এর সম্পর্কে বলেন: "এটি নাহু শাস্ত্রের একটি ছোট মুকাদ্দিমাহ (مقدمة)।" ৩। এরপর তিনি বলেন: "এটি এমন একটি কিতাব যার কোনো উল্লেখ আমি অধ্যয়নকৃত নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে খুঁজে পাইনি এবং এটি সম্পর্কে আমি আর কিছুই জানি না।"

ড. আইয়াদ কাশফুয যুনুন-এ ইবনে আত-তারাওয়ার "আত-তারশিহ" গ্রন্থের বর্ণনায় হওয়া একটি বিভ্রান্তি (وهم) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন ৪, যেখানে কাশফুয যুনুন-এ বলা হয়েছে: "এটি সিবাওয়াইহ-এর কিতাবের মুকাদ্দিমাহগুলোর একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر)"। ড. আইয়াদ ব্যাখ্যা করেন যে, কাশফুয যুনুন-এর এই বিভ্রান্তিটি (وهم) মূলত ইবনে আত-তারাওয়া সম্পর্কে আস-সুয়ুতির একটি উক্তির কারণে হয়েছে। আস-সুয়ুতি বলেছিলেন: "তিনি আত-তারশিহ রচনা করেছেন এবং এটি সংক্ষিপ্ত (مختصر), আল-মুকাদ্দিমাত আলা কিতাবি সিবাওয়াইহ"। মূলত তাঁর উক্তি "আল-মুকাদ্দিমাত আলা কিতাবি সিবাওয়াইহ" ইবনে আত-তারাওয়ার 'আত-তারশিহ' ভিন্ন অন্য একটি গ্রন্থ।

এটি ড. আইয়াদের একটি চমৎকার পর্যবেক্ষণ যা আমি আর কাউকে উল্লেখ করতে দেখিনি।

খাত্তাব ও ইবনে আত-তারাওয়ার "আত-তারশিহ" গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে এই পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, একদিকে খাত্তাবের গ্রন্থের শিরোনাম নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে কিছু গবেষকের কাছে এটি ইবনে আত-তারাওয়ার "আত-তারশিহ"-এর সাথে গুলিয়ে ফেলার বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

--------------------------------------------

১. দেখুন: আদ-যাইল ওয়াত তাকমিলাহ ৪/৭৯, ইনবাহুর রুওয়াত ৪/১১৩, ইশারাতুত তা'য়িন ১৩৫। ড. আইয়াদ আস-সুবাইতি রচিত 'ইবনু আত-তারাওয়া আন-নাহউই'।

২. আদ-যাইল ওয়াত তাকমিলাহ ৪/৮০।

৩. ইবনু আত-তারাওয়া আন-নাহউই ১০৪।

৪. পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৬)
فالدكتور محمد البنا وهو يتحدث عن مصنفات ابن الطراوة، يذكر منها كتاب الترشيح، ويقول: "وهو مفقود … ولم يُحل عليه ابن الطراوة في الإفصاح". ثم يقول الدكتور البنا: "وإن من يقرأ الارتشاف لأبي حيان يرى اسم "الترشيح" يتردد كثيرا، وقد يظن أن هذا هو الكتاب الذي نحن بسبيله، وقد وقعنا في هذا الظن فترة، ثم تبين لنا أنه "التوشيح " بالواو لا بالراء، وأن صاحبه هو أبو بكر خطّاب بن يوسف بن هلال الماردي 1.

وهكذا يوفق الدكتور البنا إلى معرفة صاحب الكتاب وهو خطّاب، ولكنه يلتبس عليه ضبط اسم الكتاب، فلا يقنعه أن يتردد كثيراً باسم "الترشيح "، بل يجزم بأنه "التوشيح" بالواو لا بالراء، اعتمادا على ما ذكره صاحب كشف الظنون الذي لا يخلو من أوهام كثيرة.

والدكتور عياد الثبيتي في رسالته عن ابن الطراوة، يرجّح أيضاً أن مصنف الكتاب المذكور هو خطّاب، ولكنه يرى أن عنوانه محرف عن "التوشيح" وهو يذكر أنه رجع إلى شرح كتاب سيبويه للصفّار فوجده يذكر "الترشيح" مرتين، ثم يقول الدكتور عياد: "فالمتبادر إلى الذهن هو أن هذا كتاب ابن الطراوة، ولكن الراجح أن هذا المنقول منه هو كتاب التوشيح لخطّاب المارديّ وقد نقل عنه أبوحيان كثيرا في التذييل والتكميل وفي ارتشاف الضرب وفي التذكرة، كما نقل عنه السيوطي في الهمع وفي الأشباه والنظائر، ويصيبه التحريف في كثير من المواضع فيكتب بالراء، فيشتبه بكتاب ابن الطراوة … " 2.

ولا أدري لماذا يجعل الدكتور عياد وجود التحريف في المصادر الكثيرة التي تكتبه بالراء، ولا يجعل التحريف في المصادر القليلة التي كتبته بالواو، وما الذي يمنع أن يكون "الترشيح " لكل من خطّاب وابن الطراوة!

وفي شرح أبيات مغنى اللبيب ورد كتاب الترشيح مرتين، جاء في المرة الأولى "وذكر صاحب الترشيح" 3. فعلق المحققان عليه في الحاشية بقولهما: " الترشيح في النحو لسليمان ابن محمد بن الطراوة المالقي المتوفى سنة 528 هـ، وهو مختصر من المقدمات على كتاب سيبويه " وأحالا على كشف الظنون 1/ 399.

وجاء في المرة الثانية: " … نقله أبو حيان في تذكرته من كتاب الترشيح لخطّاب … " 4 فعلّق المحققان عليه في الحاشية بقولهما: " الترشيح في النحو للأديب

--------------------------------------------

1 أبو الحسين بن الطراوة /د. محمد إبراهيم البنا ص50.

2 ابن الطراوة النحوي /د. عياد الثبيتي ص105.

3 شرح أبيات مغني اللبيب 5/119.

4 شرح أبيات مغني اللبيب 5/216.
ডক্টর মুহাম্মদ আল-বান্না ইবনে আল-তরাওয়াহ-এর সংকলনগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ‘কিতাব আল-তরশীহ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: “এটি নিখোঁজ (مفقود) … এবং ইবনে আল-তরাওয়াহ ‘আল-ইফসাহ’ গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেননি।” এরপর ডক্টর আল-বান্না বলেন: “যারা আবু হাইয়ানের ‘আল-ইরতশাফ’ পাঠ করেন, তারা সেখানে ‘আল-তরশীহ’ নামটি বারবার দেখতে পাবেন। কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে এটি সেই বই যার আলোচনা আমরা করছি। আমরাও বেশ কিছুকাল এই ধারণায় ছিলাম, কিন্তু পরে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি ‘আল-তউশীহ’ (ওয়াও দিয়ে, রা দিয়ে নয়) এবং এর লেখক হলেন আবু বকর খাত্তাব ইবনে ইউসুফ ইবনে হিলাল আল-মারিদী।” ১।

এভাবেই ডক্টর আল-বান্না বইটির লেখকের পরিচয় লাভে সফল হন যে তিনি হলেন খাত্তাব, কিন্তু বইটির শিরোনাম নির্ধারণে তিনি বিভ্রান্তির শিকার হন। ‘আল-তরশীহ’ নামটি বারবার আসা সত্ত্বেও তিনি তাতে আশ্বস্ত হতে পারেননি, বরং তিনি ‘কাশফুয যুনুন’-এর লেখকের বর্ণনার ওপর নির্ভর করে দৃঢ়ভাবে বলেন যে এটি ‘ওয়াও’ দিয়ে ‘আল-তউশীহ’ হবে, ‘রা’ দিয়ে নয়; অথচ উক্ত লেখকের বর্ণনায় অনেক ভ্রম (أوهام) রয়েছে।

ডক্টর ইয়াদ আল-থুবাইতি ইবনে আল-তরাওয়াহ সম্পর্কে তাঁর থিসিসে বইটির লেখক যে খাত্তাব—তাকেও অগ্রাধিকার (يرجّح) দিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন যে বইটির শিরোনাম ‘আল-তউশীহ’ থেকে বিকৃত (محرف) হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল-সাফফারের ‘শরহ কিতাব সিবাওয়াইহ’ পর্যালোচনা করে সেখানে ‘আল-তরশীহ’ নামটি দুইবার উল্লেখ থাকতে দেখেছেন। এরপর ডক্টর ইয়াদ বলেন: “প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে এটি ইবনে আল-তরাওয়াহ-এর বই, কিন্তু অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) মত হলো এই যে, এখান থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে তা হলো খাত্তাব আল-মারিদী রচিত ‘আল-তউশীহ’। আবু হাইয়ান তাঁর ‘আল-তাদয়িল ওয়াল তাকমিল’, ‘ইরতশাফ আল-দাব’ এবং ‘আল-তাযকিরা’ গ্রন্থে এর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। একইভাবে আল-সুয়ুতী ‘আল-হাম’ এবং ‘আল-আশবাহ ওয়াল নাযাইর’ গ্রন্থে এর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অনেক স্থানেই এটি বিকৃতি (تحريف)-এর শিকার হয়ে ‘রা’ দিয়ে লিখিত হয়েছে, ফলে ইবনে আল-তরাওয়াহ-এর বইয়ের সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে …।” ২।

আমি জানি না ডক্টর ইয়াদ কেন সেই অসংখ্য উৎসকে বিকৃতি (تحريف) হিসেবে গণ্য করছেন যেগুলোতে ‘রা’ দিয়ে (অর্থাৎ আল-তরশীহ) লেখা হয়েছে, আর কেন সেই অল্প কিছু উৎসকে বিকৃতি হিসেবে দেখছেন না যেগুলোতে ‘ওয়াও’ দিয়ে (অর্থাৎ আল-তউশীহ) লেখা হয়েছে! খাত্তাব এবং ইবনে আল-তরাওয়াহ উভয়েরই ‘আল-তরশীহ’ নামে একটি করে বই থাকতে বাধা কোথায়!

‘শরহ আবইয়াত মুগনি আল-লাবীব’ গ্রন্থে ‘কিতাব আল-তরশীহ’ নামটি দুইবার এসেছে। প্রথমবার এসেছে এভাবে: “আল-তরশীহ-এর লেখক উল্লেখ করেছেন” ৩। তখন এর টীকায় মুহাক্কিকদ্বয় মন্তব্য করেছেন: “ব্যাকরণ শাস্ত্রের ‘আল-তরশীহ’ গ্রন্থটি সুলায়মান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-তরাওয়াহ আল-মালাকী-এর রচনা, যিনি ৫২৮ হিজরিতে মৃত্যু (متوفى) বরণ করেন। এটি কিতাব সিবাওয়াইহ-এর ভূমিকাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ।” এবং তাঁরা ‘কাশফুয যুনুন’ ১/৩৯৯-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

দ্বিতীয়বার এসেছে এভাবে: “… আবু হাইয়ান তাঁর ‘তাযকিরা’ গ্রন্থে খাত্তাব রচিত ‘কিতাব আল-তরশীহ’ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন …” ৪। তখন এর টীকায় মুহাক্কিকদ্বয় মন্তব্য করেছেন: “ব্যাকরণ শাস্ত্রের ‘আল-তরশীহ’ গ্রন্থটি সেই সাহিত্যিকের জন্য...

--------------------------------------------

১ আবু আল-হুসাইন ইবনে আল-তরাওয়াহ / ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না, পৃষ্ঠা ৫০।

২ ইবনে আল-তরাওয়াহ আল-নাহবী / ড. ইয়াদ আল-থুবাইতি, পৃষ্ঠা ১০৫।

৩ শরহ আবইয়াত মুগনি আল-লাবীব ৫/১১৯।

৪ শরহ আবইয়াত মুগনি আল-লাবীব ৫/২১৬।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৭)
أبي بكر خطاب بن يوسف بن هلال المارديّ القرطبي النحوي المتوفى سنة 450 هـ" وأحالا على إيضاح المكنون 1/281.

وهكذا اضطرب المحققان في تحديد صاحب الترشيح، فنسباه مرة إلى ابن الطراوة ومرة إلى خطّاب.

وفي خزانة الأدب للبغدادي ذكر كتاب الترشيح مرة واحدة منسوبا إلى خطاب بنص صريح، إذ قال البغدادي عن بيت من الشعر: "…وكذا رواه خطّاب بن يوسف في كتاب الترشيح" 1. ولم يعلق عليه المحقق في الحاشية، ولكنه في القسم الخاص بالفهارس، في فهرس الكتب والمصادر قال: " الترشيح لخطاب بن يوسف نقلاً عن تذكرة أبي حيان" 2.

وليت المحقق اكتفى بذلك، ولكنه علق عليه في الحاشية فقال: " في كشف الظنون: الترشيح في النحو لسليمان بن محمد بن الطراوة المالقي المتوفى سنة 528 هـ، وهو مختصر من المقدمات على كتاب سيبويه، فهذا كتاب آخر، وصواب تسمية كتاب خطاب هو التوشيح بالواو كما في كشف الظنون 1/345، وكذا في فهرسة ابن خير الإشبيلي 319، وفاة خطّاب هذا كانت بعد سنة 450هـ، وقال صاحب الكشف المتوفى تقريبا سنة 450هـ، كذا ذكر صاحب البغية، وجاء فيها اسم الكتاب بالراء محرفا".

وفي كتاب ارتشاف الضرب لأبي حيان تردد ذكر كتاب "الترشيح" مرات كثيرة، وكثر النقل عن هذا الكتاب، وقد صرّح المصنف بنسبة الكتاب إلى خطاب، فقال: "وقال خطاب الماردي، في كتاب الترشيح" 3.

فماذا كان موقف المحقق من تحديد صاحب الترشيح؟

لقد اضطرب المحقق كثيراً في نسبة كتاب الترشيح، فهو أحياناً ينسبه إلى ابن الطراوة 4، وأحيانا ينسبه إلى خطّاب 5، وأحيانا أخرى يقع في حيرة فيذكر ابن الطراوة وخطاباً معا، ومن ذلك تعليقه عليه في الحاشية 6: " كتاب الترشيح في النحو لسليمان

--------------------------------------------

1 خزانة الأدب بتحقيق هارون 6/251.

2 خزانة الأدب 13/30.

3 ارتشاف الضرب 2/197، 297، 3/27.

4 ارتشاف الضرب 1/128، 405، 512، 521 الحواشي.

5 ارتشاف الضرب 1/286، 381، 2/118 الحواشي.

6 ارتشاف الضرب 1/253، 544، 2/191.
"আবু বকর খাত্তাব বিন ইউসুফ বিন হিলাল আল-মারিদি আল-কুরতুবি আন-নাহবি (ব্যাকরণবিদ), যিনি ৪৫০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।" এবং তারা ইদাহুল মাকনুন ১/২৮১-এর বরাত দিয়েছেন।

এভাবেই আত-তারশিহ গ্রন্থের রচয়িতা নির্ধারণে দুই মুহাক্কিক (গবেষক) অসংলগ্নতা (اضطرب) প্রকাশ করেছেন; ফলে তারা এটিকে একবার ইবনুত তরাওয়াহ-এর দিকে এবং অন্যবার খাত্তাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

বাগদাদির খিজানাতুল আদাব-এ আত-তারশিহ গ্রন্থটি একবার সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে খাত্তাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাগদাদি একটি কাব্যচরণ সম্পর্কে বলেছেন: "…এবং একইভাবে খাত্তাব বিন ইউসুফ এটি আত-তারশিহ গ্রন্থে বর্ণনা (رواه) করেছেন" ১। মুহাক্কিক (গবেষক) পাদটীকায় এর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি নির্ঘণ্ট অংশে, গ্রন্থ ও উৎসের তালিকায় বলেছেন: "আবু হাইয়ানের তাজকিরাহ থেকে উদ্ধৃত করে বলা যায় যে, আত-তারশিহ খাত্তাব বিন ইউসুফের রচনা" ২।

মুহাক্কিক (গবেষক) যদি এতেই ক্ষান্ত হতেন! কিন্তু তিনি পাদটীকায় এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "কাশফুয যুনুন-এ রয়েছে: ব্যাকরণ বিষয়ক আত-তারশিহ গ্রন্থটি সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-তরাওয়াহ আল-মালিকির রচনা, যিনি ৫২৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। এটি সিবাওয়াইহ-এর কিতাবের ওপর লিখিত মুকাদ্দিমাসমূহের সংক্ষিপ্তসার (مختصر), সুতরাং এটি একটি ভিন্ন গ্রন্থ। আর খাত্তাবের গ্রন্থটির সঠিক নাম হলো আত-তাওশিহ 'ওয়াও' বর্ণ সহযোগে, যেমনটি কাশফুয যুনুন ১/৩৪৫-এ বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে ইবনে খায়ের আল-ইশবিলির ফিহরিস্ত ৩১৯-এও অনুরূপ রয়েছে। এই খাত্তাবের মৃত্যু ৪৫০ হিজরির পরে হয়েছিল। আর কাশফ-এর রচয়িতা বলেছেন যে, তাঁর মৃত্যু আনুমানিক ৪৫০ হিজরিতে। আল-বুগিয়াহ-এর লেখকও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে গ্রন্থটির নাম 'রা' বর্ণসহ বিকৃতভাবে (محرفا) এসেছে।"

আবু হাইয়ানের আর্তিশাফুদ দারব গ্রন্থে আত-তারশিহ গ্রন্থের উল্লেখ বহুবার এসেছে এবং এই গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রন্থকার খাত্তাবের দিকেই গ্রন্থটির সম্বন্ধ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "খাত্তাব আল-মারিদি আত-তারশিহ গ্রন্থে বলেছেন" ৩।

তাহলে আত-তারশিহ-এর রচয়িতা নির্ধারণে মুহাক্কিকের (গবেষক) অবস্থান কী ছিল?

মুহাক্কিক (গবেষক) আত-তারশিহ গ্রন্থের নিসবত বা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বেশ অসংলগ্নতা (اضطرب) প্রদর্শন করেছেন। তিনি কখনো এটিকে ইবনুত তরাওয়াহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন ৪, কখনো খাত্তাবের দিকে ৫, আবার কখনো বিভ্রান্তিতে পড়ে ইবনুত তরাওয়াহ ও খাত্তাব—উভয়ের কথাই একত্রে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাদটীকা ৬-এ তাঁর এই মন্তব্য: "সুলাইমানের রচিত ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ আত-তারশিহ...

--------------------------------------------

১ খিজানাতুল আদাব, হারুনের সম্পাদনায় ৬/২৫১।

২ খিজানাতুল আদাব ১৩/৩০।

৩ আর্তিশাফুদ দারব ২/১৯৭, ২৯৭, ৩/২৭।

৪ আর্তিশাফুদ দারব ১/১২৮, ৪০৫, ৫১২, ৫২১ (পাদটীকা)।

৫ আর্তিশাফুদ দারব ১/২৮৬, ৩৮১, ২/১১৮ (পাদটীকা)।

৬ আর্তিশাফুদ দারব ১/২৫৩, ৫৪৪, ২/১৯১।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৮)
بن محمد بن الطراوهّ المالقي المتوفى سنة 528 هـ كما في كشف الظنون 1/399، ولكن في البغية 1/533 أن كتاب الترشيح لخطاب المارديّ القرطبي مات بعد سنة 450هـ وينقل عنه أبو حيان كثيراً ".

وفي قسم الفهارس، - في فهرس الكتب - ذكر المحقق الترشح في النحو لابن الطراوة وأحال عليه في عدد من الصفحات، ثم ذكر الترشيح لخطاب وأحال عليه في عدد من الصفحات 1. علماً بأن النقول كلها عن الترشيح لخطّاب.

وهكذا كان كتاب كشف الظنون من أهم أسباب الوهم والاضطراب في ضبط عنوان كتاب "الترشيح" وفي نشبته إلى صاحبه خطّاب.

بين خطّاب ودُريود:

عرفنا أن خطابا صنف كتابه "الترشيح" في النحو في عدة أسفار، عارض به كتاب دريود في شرحه لكتاب الكسائي.

ودريود اسمه عبد الله بن سليمان بن المنذر الأندلسي القرطبي النحوي، الملقب بدَرْوَد، وربما صغر فقيل دُرَيْود، معروف بالنحو والأدب، شرح كتاب الكسائي، توفي سنة 325 هـ 2.

وقيل اسمه محمد بن أصبغ، وله شرح على نحو الكسائي في ستة أجزاء سمع عليه.3

فإن كان كتاب دريود في ستة أجزاء، فلا بد أن يكون كتاب الترشيح لخطاب نحو ذلك أيضا لأنه عارضه به.

ويبدو لي أن دريوداً نهج نَهْج الكوفيين في شرحه لكتاب الكسائي، فدفع هذا خطّاباً إلى معارضته بكتاب الترشيح، والانتصار لمذهب سيبويه والبصريين.

وكثيراً ما نرى دريوداً تابعاً للكسائي أو الكوفيين في آرائه النحوية، ومن ذلك في قولك: "نِعْمَ رَجُلاً زَيْدٌ". ذهب سيبويه ومعظم البصريين إلى أن في (نِعْمَ) ضميرا مستكناً هو

--------------------------------------------

1 ارتشاف الضرب قسم الفهارس 3/684.

2 بغية الوعاة 2/44-45، وانظر طبقات النحويين واللغويين للزبيدي 323، بغية الملتمس للضبي 344، جذوة المقتبس للحميدي 262، التكملة لكتاب الصلة 2/778، معجم المؤلفين 6/61.

3 إشارة التعيين 299، البلغة 211.
ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-তারাওয়াহ আল-মালাকি, যিনি ৫২৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি 'কাশফ আল-জুনুন' (১/৩৯৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু 'আল-বুগইয়াহ' (১/৫৩৩) গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, 'আল-তারশিহ' গ্রন্থটি খাত্তাব আল-মারিদি আল-কুরতুবির, যিনি ৪৫০ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন এবং আবু হাইয়ান তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন।

এবং নির্ঘণ্ট অংশে—গ্রন্থসূচিতে—গবেষক ব্যাকরণ শাস্ত্রে ইবনে আল-তারাওয়াহ-এর 'আল-তারাশশুহ' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বেশ কিছু পৃষ্ঠায় এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অতঃপর তিনি খাত্তাবের 'আল-তারশিহ' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বেশ কিছু পৃষ্ঠায় এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন ১। উল্লেখ্য যে, সমস্ত উদ্ধৃতিই খাত্তাবের 'আল-তারশিহ' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

এভাবেই 'কাশফ আল-জুনুন' গ্রন্থটি 'আল-তারশিহ' গ্রন্থের শিরোনাম যথাযথভাবে নির্ধারণ (ضبط) এবং এর লেখক খাত্তাবের প্রতি এর সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বিভ্রম (الوهم) ও অসংগতি (الاضطراب) সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

খাত্তাব ও দুরইউদ-এর মধ্যে:

আমরা জানতে পেরেছি যে, খাত্তাব ব্যাকরণ শাস্ত্রের ওপর বেশ কয়েকটি খণ্ডে তাঁর 'আল-তারশিহ' গ্রন্থটি সংকলন করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি আল-কিসায়ির গ্রন্থের ওপর দুরইউদ-এর করা ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন।

আর দুরইউদ-এর নাম হলো আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-মুনজির আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আন-নাহবি, যাঁকে 'দারওয়াদ' উপাধিতে ডাকা হতো। অনেক সময় ক্ষুদ্রার্থে (تصغير) তাঁকে 'দুরইউদ' বলা হতো। তিনি ব্যাকরণ ও সাহিত্যের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি আল-কিসায়ির গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং ৩২৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ২।

আবার বলা হয় যে, তাঁর নাম মুহাম্মদ বিন আসবাগ; আল-কিসায়ির ব্যাকরণ গ্রন্থের ওপর ছয় খণ্ডে তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যা তাঁর নিকট শ্রবণ (سمع) করা হয়েছে ৩।

যদি দুরইউদ-এর গ্রন্থটি ছয় খণ্ডের হয়ে থাকে, তবে খাত্তাবের 'আল-তারশিহ' গ্রন্থটিও অনুরূপ হওয়া আবশ্যক, কারণ তিনি এর পাল্টা হিসেবে এটি লিখেছিলেন।

আমার কাছে মনে হয় যে, দুরইউদ আল-কিসায়ির গ্রন্থের ব্যাখ্যায় কুফাবাসীদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন; আর এটিই খাত্তাবকে 'আল-তারশিহ' গ্রন্থের মাধ্যমে এর বিরোধিতা করতে এবং সিবাওয়াইহ ও বসরাবাসীদের মাযহাব বা মতবাদকে সমর্থন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

আমরা প্রায়ই দুরইউদকে তাঁর ব্যাকরণিক মতামতে আল-কিসায়ি অথবা কুফাবাসীদের অনুসারী হতে দেখি। এর একটি উদাহরণ হলো: "نِعْمَ رَجُلاً زَيْدٌ" (যায়েদ কতই না চমৎকার ব্যক্তি)। সিবাওয়াইহ এবং অধিকাংশ বসরাবাসী এই মত পোষণ করেছেন যে, (نِعْمَ) এর মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম (ضمير مستكن) রয়েছে যা হলো—

--------------------------------------------

১. ইরতিশাফ আদ-দারব, নির্ঘণ্ট অংশ ৩/৬৮৪।

২. বুগয়াত আল-উয়াত ২/৪৪-৪৫, আরও দেখুন: জুবাইদির তাবাকাতুন নাহবিইয়িন ওয়াল লুগাবিইয়িন ৩২৩, দাব্বির বুগয়াত আল-মুলতামিস ৩৪৪, হুমাইদির জাযওয়াত আল-মুকতাবিস ২৬২, আত-তাকমিলা লি কিতাবিস সিলাহ ২/৭৭৮, মুজামুল মুয়াল্লিফিন ৬/৬১।

৩. ইশারাতুত তায়িন ২৯৯, আল-বুলগাহ ২১১।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১৯)
فاعل (نعم) . و (رجلاً) تمييز لذلك الضمير. وذهب الكسائي والفراء أنه لا ضمير، والفاعل بنعم هو زيد، والمنصوب عند الكسائي حال، وتبعه دريود 1.

ومن ذلك أيضاً أنة يشترط فيما يجمع جمع المذكر السالم أن يكون خاليا من تاء التأنيث لا يكون عوضاً، نحو طلحة، خلافاً للكوفيين وتبعهم دريود، فإنهم يجيزون جمعه بحذف التاء، فيقولون طلحون… 2.

ويقوم خطاب بتعقب دريود في عدد من المسائل، فيغلطه ويرد عليه، ومن ذلك في أسلوب (لا سيما) قال خطاب 3: "وقد قال دريود في كتابه: إن في قولك: (لا سيما) لغتين التثقيل والتخفيف، فمن خفف خفض بها، ومن ثقل رفع - وهو غلط منه، لأنها اسم مضاف في كلا الحالين، وإنما علة الخفض زيادة (ما) وعلة الرفع كون (ما) بمعنى الذي. وقد صرح الأخفش في كتابه بإجازة الرفع والخفض في التثقيل والتخفيف، دون تفضيل، وهو الذي لا يجوز غير في القياس".

وفي إنابة الظرف عن الفاعل، يقول خطاب 4: "وأما الأيام المعروفة بأعيانها كيوم السبت والأحد ويوم الأحد، والأزمنة المحدودة كالشتاء والصيف والربيع، وأوقات الليل والنهار مثل بكرة وعشية…فإنك تقيمها مقام الفاعل، وكان دريود لا يرى ذلك ويقول: "كل وقت محدود يحسن فيه (ائتني) فانصبه أبدا، كقولك: سير به يوم الجمعة، وهذا غلط منه، لأنك تقول: ائتني شهر رمضان، وأيام التشريق، ثم تقيم ذلك مقام الفاعل، تقول: سير عليه شهرُ رمضان وأيام التشريق، وهذا ما لا اختلاف فيه، لأنه موقوف محدود محصور العدد، وقد أجاز سيبويه رحمه الله: سير عليه بكرةٌ وغدوةٌ ويومُ الجمعة ويومُ السبت، بالرفع على أن تقيمها مقام الفاعل…"

وقد يذكر رأي سيبويه ويضعّف رأي دريود، كما جاء في الاستثناء حيث قال خطاب 5: "وأما قوله عز وجل: {وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَاّ اللهُ} 6 بالرفع فهو على البدل مِن (مَن) ، أو من الضمير الفاعل في (يغفر) العائد عليها، وجاز هذا لأن في الكلام معنى نفي

--------------------------------------------

1 الارتشاف 3/20، همع الهوامع 5/33.

2 ارتشاف الضرب 1/266.

3 تذكرة النحاة ص 298.

4 تذكرة النحاة 291، ارتشاف الضرب 2/192.

5 تذكرة النحاة 296-297.

6 سورة آل عمران آية 135.
কর্তা (فاعل) হলো (নি’মা) শব্দের ভেতরে থাকা সর্বনাম। আর (রাজুলান) শব্দটি সেই সর্বনামের জন্য শব্দভেদী বিশেষ্য (تمييز)। আল-কিসায়ী এবং আল-ফাররা মনে করেন যে সেখানে কোনো সর্বনাম নেই, বরং (নি’মা) এর কর্তা (فاعل) হলো যাইদ, আর আল-কিসায়ীর নিকট মানসুব শব্দটি অবস্থা নির্দেশক (حال) হিসেবে গণ্য, এবং দুরিওয়াদ ১ তাকে অনুসরণ করেছেন।

এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয় হলো, জমা মুজাক্কার সালেম (جمع المذكر السالم) করার ক্ষেত্রে শর্ত হলো শব্দটি যেন স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক তা (تاء التأنيث) থেকে মুক্ত হয় এবং তা যেন কোনো কিছুর পরিবর্তে না আসে, যেমন ‘ত্বালহা’। কুফীদের মতের বিপরীতে দুরিওয়াদ তাদের অনুসরণ করেছেন; তারা ‘তা’ বিলুপ্ত করে একে বহুবচন করার অনুমতি দেন এবং তারা বলেন ‘ত্বালহুন’… ২।

খাত্তাব বেশ কিছু মাসআলায় দুরিওয়াদের ভুলগুলো তুলে ধরেন এবং তার প্রতিবাদ করেন। তার মধ্যে একটি হলো (লা সিয়াম্মা) এর প্রয়োগ। খাত্তাব ৩ বলেন: "দুরিওয়াদ তার কিতাবে বলেছেন: (লা সিয়াম্মা) বাক্যাংশে দুটি রূপ রয়েছে: তাশদীদযুক্ত (تثقيل) এবং তাশদীদবিহীন (تخفيف)। যে ব্যক্তি হালকা করে পড়বে সে একে জের বা খাফদ (خفض) করবে, আর যে ভারী করে পড়বে সে একে পেশ বা রাফা (رفع) প্রদান করবে। এটি তার একটি ভুল, কারণ এটি উভয় অবস্থায় ইসম মুদাফ (اسم مضاف)। এখানে খাফদ হওয়ার কারণ হলো (মা) এর আধিক্য (زيادة), আর রাফা হওয়ার কারণ হলো (মা) শব্দটি ‘যিনি বা যা’ (الذي) এর অর্থে হওয়া। আল-আখফাশ তার কিতাবে তাশদীদ বা তাশদীদহীন উভয় অবস্থায় অগ্রাধিকার প্রদান ছাড়াই রাফা এবং খাফদ হওয়ার বৈধতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। নিয়মানুগ পরিমাপ (القياس) অনুযায়ী এর বাইরে অন্য কিছু জায়েজ নয়।"

কর্তার পরিবর্তে সময় বা স্থানবাচক অব্যয় (ظرف) ব্যবহারের ক্ষেত্রে খাত্তাব ৪ বলেন: "সুনির্দিষ্ট দিবসসমূহ যেমন শনিবার, রবিবার এবং সুনির্দিষ্ট সময়সমূহ যেমন শীতকাল, গ্রীষ্মকাল, বসন্তকাল এবং দিন-রাত্রির সময় যেমন সকাল ও সন্ধ্যা…এগুলোকে আপনি কর্তার (فاعل) স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন। কিন্তু দুরিওয়াদ এটি সঠিক মনে করতেন না এবং বলতেন: ‘প্রতিটি সুনির্দিষ্ট সময়ের ক্ষেত্রে (ইতিনি) বলা শুদ্ধ, তাই একে সর্বদা জবর বা নাসব (نصب) প্রদান করুন, যেমন আপনার কথা: জুমার দিনে ভ্রমণ করা হয়েছে’। এটি তার একটি ভুল, কারণ আপনি বলেন: রমজান মাসে বা তাশরিকের দিনগুলোতে আমার কাছে এসো, অতঃপর আপনি একে কর্তার (فاعل) স্থলাভিষিক্ত করেন এবং বলেন: রমজান মাসে এবং তাশরিকের দিনগুলোতে ভ্রমণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই, কারণ এটি সুনির্দিষ্ট এবং নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ। সিবওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ) সকাল, সন্ধ্যা, শনিবার এবং জুমার দিনকে পেশ বা রাফা (رفع) করার মাধ্যমে কর্তার (فاعل) স্থলাভিষিক্ত করা জায়েজ রেখেছেন…"

কখনো কখনো তিনি সিবওয়াইহ-এর মত উল্লেখ করেন এবং দুরিওয়াদের মতকে দুর্বল (يضعّف) হিসেবে গণ্য করেন, যেমনটি ব্যতিক্রম (الاستثناء) সংক্রান্ত আলোচনায় এসেছে যেখানে খাত্তাব ৫ বলেছেন: "আর মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ছাড়া আর কে গুনাহ ক্ষমা করবে?} ৬ এখানে রাফা (رفع) হয়েছে (মান) থেকে বদল (بدل) হিসেবে, অথবা (ইয়াগফিরু) এর মধ্যকার লুকায়িত কর্তা (فاعل) থেকে যা (মান) এর দিকে ফিরছে। এটি জায়েজ হয়েছে কারণ বাক্যের মধ্যে নেতিবাচক (نفي) অর্থ রয়েছে"

--------------------------------------------

১ আল-ইরতিশাফ ৩/২০, হামউল হাওয়ামি ৫/৩৩।

২ ইরতিশাফুদ দারব ১/২৬৬।

৩ তাযকিরাতুন নুহাত, পৃষ্ঠা ২৯৮।

৪ তাযকিরাতুন নুহাত ২৯১, ইরতিশাফুদ দারব ২/১৯২।

৫ তাযকিরাতুন নুহাত ২৯৬-২৯৭।

৬ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৩৫।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২০)
وتقديره: لا يغفر أحد الذنوب إلا الله، وقال دريود: ومثل ذلك {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَاّ اللهُ لَفَسَدَتَا} 1 على البدل، وهذا عند سيبويه ومن وافقه رفع على النعت، لأن (إلا) مع ما بعدها قد تكون نعتا للنكرات وللأجناس غير المعهودة كما تكون (غير) … والبدل الذي ذكره قد أجازه غيره وفيه ضعف، لأن معنى النفي في (لو) ليس قويا كقوته في معنى (ما) و (من) في الاستفهام…

وقد يكون خطّاب معتدلا في رده على دريود، فيكتفي بمخالفته، ومن ذلك في باب الوقف، قال خطاب في الترشيح 2: "هاء السكت ساكنة أبدا، وزعم دريود أنها زيدت للسكت، ولتكون عوضا من الألف الذاهبة، ولا أرى قوله، لأن العوض يكون لازما، وهاء السكت ليست لازمة إلا في كل فعل يعود إلى حرف واحد نحو: (قِهْ، وعِهْ) ". انتهى.

ومن ذلك أيضا أن جواب (لو) إذا كان ماضيا مثبتا فالأكثر أن يجيء باللام، وقد يجيء بلا لام، نحو قوله تعالى: {لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ} 3 وجواب لولا ماض مثبت مقرون باللام نحو قوله تعالى: {وَلَوْلا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ} 4 وحذف اللام ضرورة، وقيل: قليل. قال صاحب الترشيح 5: "حذف اللام مع لولا جائز، وأكثر ما تأتي في الشعر، وسوّى دريود بين حذف اللام وإثباتها في (لو) و (لولا) . انتهى.

--------------------------------------------

1 سورة الأنبياء آية 22.

2 ارتشاف الضرب 1/405.

3 سورة الأعراف آية 155.

4 سورة النور آية 14.

5 ارتشاف الضرب 2/577.
এর বিশ্লেষণ হলো: আল্লাহ ব্যতীত কেউ পাপসমূহ ক্ষমা করে না। দুরইউদ বলেছেন: অনুরূপ হলো {যদি তাদের উভয়ের মধ্যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত} ১। এটি বদল (بدل) হিসেবে হয়েছে। এটি সিবওয়াইহি এবং যারা তার সাথে একমত হয়েছেন তাদের নিকট না'ত (نعت) হিসেবে রফ' (رفع) হয়েছে; কারণ 'ইল্লা' (إلا) তার পরবর্তী শব্দসহ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرات) এবং অপ্রচলিত জাতিবাচক বিশেষ্যের জন্য না'ত (نعت) হতে পারে, যেমনটি 'গাইর' (غير) হয়ে থাকে … আর তিনি যে বদল (بدل)-এর কথা উল্লেখ করেছেন তা অন্যরাও অনুমোদন করেছেন, তবে এতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। কেননা 'লাও' (لو)-এর মধ্যে নেতিবাচক অর্থ প্রশ্নবোধক (استفهام) বাক্যে 'মা' (ما) এবং 'মান' (من)-এর অর্থের ন্যায় শক্তিশালী নয় …

খাত্তাব দুরইউদের প্রত্যুত্তরে হয়তো মধ্যপন্থী (معتدل) ছিলেন, তাই তিনি কেবল তার ভিন্নমতের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন। এর একটি উদাহরণ হলো ওয়াকফ (وقف) অধ্যায়ে; খাত্তাব আত-তারশিহ ২ গ্রন্থে বলেছেন: "হা-উস সাকত (هاء السكت) সর্বদা সাকিন (ساكن) হয়। দুরইউদ দাবি করেছেন যে, বিরতির জন্য এবং বিলুপ্ত আলিফের বিনিময় (عوض) হিসেবে এটি অতিরিক্ত আনা হয়েছে। কিন্তু আমি তার বক্তব্য গ্রহণ করি না; কারণ বিনিময় (عوض) সর্বদা আবশ্যক (لازم) হয়ে থাকে, অথচ হা-উস সাকত কেবল সেই ক্রিয়াগুলোতে আবশ্যক (لازم) হয় যা মাত্র একটি বর্ণে ফিরে আসে, যেমন: (কিহ্ قِهْ, এবং ইহ্ عِهْ)"। সমাপ্ত।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো, 'লাও' (لو)-এর জবাব যদি ইতিবাচক অতীতকাল (ماض مثبت) হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাতে 'লাম' যুক্ত হয়ে আসে। আবার কখনো 'লাম' ছাড়াই আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি ইচ্ছা করলে ইতিপূর্বেই তাদেরকে ধ্বংস করতে পারতেন} ৩। আর 'লাওলা' (لولا)-এর জবাব যদি ইতিবাচক অতীতকাল (ماض مثبت) হয়, তবে তা 'লাম' যুক্ত হয়ে আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে অবশ্যই তোমাদের ওপর আপতিত হতো...} ৪। আর 'লাম' বিলুপ্ত হওয়া কাব্যিক বাধ্যবাধকতা (ضرورة) হেতু ঘটে, এবং বলা হয়েছে যে এটি অল্প (قليل)। আত-তারশিহ ৫ প্রণেতা বলেন: "'লাওলা'-এর সাথে 'লাম' বিলুপ্ত করা বৈধ (جائز), যা কবিতায় অধিক পাওয়া যায়। আর দুরইউদ 'লাও' (لو) এবং 'লাওলা' (لولا)-এর ক্ষেত্রে 'লাম' বিলুপ্ত করা এবং বহাল রাখাকে সমান মনে করেছেন। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ২২।

২ ইরতিশাফুদ দারাব ১/৪০৫।

৩ সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৫।

৪ সূরা আন-নূর, আয়াত ১৪।

৫ ইরতিশাফুদ দারাব ২/৫৭৭।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২০)
‌‌منهجه في النحو

خطّاب المارديّ كما قال عنه ابن الأبّار: "كان متقدماً في علوم اللسان، واقفاً على كتب الأشعار والأخبار، متحققاً بالنحو" 1.

وقال عنه ابن عبد الملك المراكشي: "كان من جلّة النحاة ومحققيهم والمتقدمين في المعرفة بعلوم اللسان" 2.

والباحث المدقق في آرائه النحوية، من خلال هذه النقول المتعددة من كتابه

--------------------------------------------

1 التكملة لكتاب الصلة 1/291.

2 بغية الوعاة 1/553.
ব্যাকরণশাস্ত্রে (نحو) তাঁর পদ্ধতি

খাত্তাব আল-মারিদী—যেমনটি তাঁর সম্পর্কে ইবনুল আব্বার বলেছেন: "তিনি ভাষাতত্ত্বে অগ্রগণ্য ছিলেন, কাব্য ও ইতিহাস বিষয়ক কিতাবসমূহে ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন ছিলেন এবং ব্যাকরণশাস্ত্রে (نحو) গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন" ১।

এবং ইবনে আবদুল মালিক আল-মাররাকুশি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি প্রথিতযশা ব্যাকরণবিদ (نحاة) ও গবেষকদের (محقق) অন্যতম এবং ভাষাতত্ত্বের জ্ঞানে অগ্রবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" ২।

তাঁর কিতাব থেকে সংগৃহীত এই বিবিধ বর্ণনার আলোকে তাঁর ব্যাকরণিক মতামতের সূক্ষ্ম পর্যালোচনাকারী গবেষক...

--------------------------------------------

১ আত-তাকমিলা লি-কিতাবিস সিলা ১/২৯১।

২ বুগইয়াতুল উয়াত ১/৫৫৩।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২১)
"الترشيح " يجد صدق هذه المقولات، بل يجد نفسه أمام عالم متبحر في النحو واللغة، شديد الثقة بنفسه، مع التواضع والتقدير للعلماء الآخرين، والقدرة على الموازنة والترجيح والاختيار. ولو قدر لنا أن نطلع على مصنفاته لاتضحت لنا جوانب أكثر إشراقا وعمقاً.

ويمكن أن نتناول منهجه في النحو من خلال الجوانب التالية:

مذهبه النحوي:

لم يصرخ خطّاب بمذهبه في النحو، ولكنه كان كثير الاستدلال بآراء النحاة البصريين، مما يدل على تقديره لهم، وميله إلى مذهبهم، ولعله صنف كتاب "الترشيح" في الردّ على دريود انتصارا لمذهب البصريين، ولكنه لم يكن متعصباً لهم، بل نلمح دائما شخصيته المتفردة، وقدرته على اختيار الرأي الراجح لديه، وهذه سمة عامة للنحو الأندلسي.

ومن الأمثلة على ميله إلى البصريين، ما جاء في أسلوب "لاحبذا" من نحو قولك: حبذا زيذ راكباً. قال أبو حيان 1: "اختلف النحاة في هذا المنصوب بعد (حبذا) ، فذهب الأخفش والفارسي والربعي وخطّاب وجماعة من البصريين إلى أنه منصوب على الحال لا غير، سواء أكان جامدا أم مشتقاً، وأجاز الكوفيون وبعض البصريين نصبه على التمييز.."

وكان خطّاب كثيرا ما يذكر سيبويه على سبيل الإعجاب والتقدير، ومن ذلك ما ذكره في حركة الحرف المضعّف المجزوم نحو: لم يردّ، ولم يعضّ، ولم يفرّ. قال 2: "ومن العرب من يكْسر هذا كلّه، ومنهم من يحركه بحركة ما قبله: لم يرُدُّ، ولم يعضَّ، ولم يفِرِّ، فإن اتصلت بهذا المضاعف هاء الإضمار للمؤنث فتحت في كل اللغات: لم يعضَّها، ولم يفرَّها، ولم يردَّها، وإن اتصلت به هاء الإضمار لمذكر ضممت في كل لغة فقلت: لم يردُّهُ، ولم يعضُّه، ولم يفرُّه. وهذا قول سيبويه وجلّة النحويين".

وقال فيما ينوب عن الفاعل من الظرف، وهو يردّ على دريود: "وقد أجاز سيبويه رحمه الله: سير عليه بكرةٌ، وغدوةٌ، ويومُ الجمعة.." 3.

ويبدو وعيه بآراء سيبويه في الرد على من ينسب رأياً لسيبويه وليس له، ومن ذلك أنه لا يجيز تقديم خبر ليس عليها، قال 4: "تقول: ليس عالماً زيدٌ، ولو قلت: عالماً ليس زيدٌ،

--------------------------------------------

1إرتشاف الضرب 3/30.

2 تذكرة النحاة 288.

3 تذكرة النحاة 291.

4 تذكرة النحاة 287.
"আত-তারশিহ" এই উক্তিগুলোর সত্যতা খুঁজে পায়, বরং পাঠক নিজেকে নাহু ও ভাষার এক অগাধ পাণ্ডিত্যসম্পন্ন আলেমের সামনে দেখতে পান, যিনি নিজের ব্যাপারে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثقة), সেই সাথে অন্যান্য আলেমদের প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা পোষণকারী এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা, অগ্রাধিকার প্রদান ও যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতাসম্পন্ন। যদি আমাদের পক্ষে তাঁর রচনাবলি দেখা সম্ভব হতো, তবে আমাদের কাছে তাঁর আরও উজ্জ্বল ও গভীর দিকগুলো স্পষ্ট হতো।

আমরা নিম্নলিখিত দিকগুলোর মাধ্যমে তাঁর নাহু চর্চার পদ্ধতি আলোচনা করতে পারি:

তাঁর ব্যাকরণিক মাযহাব:

খাত্তাব নাহু শাস্ত্রে তাঁর মাযহাবের কথা সরাসরি উচ্চস্বরে ঘোষণা করেননি, তবে তিনি বসরার ব্যাকরণবিদদের মতামতের মাধ্যমে প্রচুর দলিল পেশ করতেন, যা তাদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং তাদের মাযহাবের প্রতি তাঁর ঝোঁককে নির্দেশ করে। সম্ভবত তিনি বসরার ব্যাকরণবিদদের মাযহাবের সমর্থনে ইবনে দুরিদ-এর খণ্ডন হিসেবে "আত-তারশিহ" গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। তবে তিনি তাদের প্রতি অন্ধভাবে আসক্ত ছিলেন না, বরং আমরা সর্বদা তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং নিজের কাছে অগ্রগণ্য মতামতটি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা লক্ষ্য করি; আর এটি আন্দালুসি নাহু চর্চার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

বসরার ব্যাকরণবিদদের প্রতি তাঁর ঝোঁকের একটি উদাহরণ হলো "লা হাব্বাজা" ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যেমন আপনার উক্তি: "হাব্বাজা যাইদুন রাকিুবান"। আবু হাইয়ান ১ বলেন: " ‘হাব্বাজা’ এর পরে আসা এই মানসুব পদটি নিয়ে ব্যাকরণবিদদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আখফাশ, ফারিসি, রাবা‘ঈ, খাত্তাব এবং বসরার একদল আলেম মনে করেন যে, এটি কেবল ‘হাল’ হিসেবেই মানসুব হবে, চাই তা জামিদ হোক বা মুশতাক। অন্যদিকে কুফাবাসী এবং বসরার কিছু আলেম একে ‘তাময়িজ’ হিসেবে মানসুব হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন..."

খাত্তাব প্রায়ই সিবওয়াইহ-এর কথা অত্যন্ত প্রশংসা ও শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করতেন। এর মধ্যে একটি হলো দ্বিত্ব বর্ণের জজমযুক্ত অবস্থার হরকত সম্পর্কে তাঁর আলোচনা, যেমন: "লাম ইয়ারুদ্দা", "লাম ইয়া‘আদ্দা", এবং "লাম ইয়াফিররা"। তিনি ২ বলেন: "আরবদের মধ্যে কেউ কেউ এই সবগুলোতে কাসরা প্রদান করেন, আবার কেউ কেউ একে তার পূর্ববর্তী বর্ণের হরকত অনুযায়ী হরকত দেন: 'লাম ইয়ারুদ্দু', 'লাম ইয়া‘আদ্দা', 'লাম ইয়াফিররি'। যদি এই দ্বিত্ব শব্দের সাথে স্ত্রীলিঙ্গবাচক একবচনের ‘হা’ যমীর যুক্ত হয়, তবে সকল ভাষাতেই তা ফাতহাহ প্রাপ্ত হয়: 'লাম ইয়া‘আদ্দাহা', 'লাম ইয়াফিররাহা', 'লাম ইয়ারুদ্দাহা'। আর যদি এর সাথে পুংলিঙ্গবাচক একবচনের ‘হা’ যমীর যুক্ত হয়, তবে সকল ভাষাতেই পেশ যুক্ত হয়, যেমন আপনি বলবেন: 'লাম ইয়ারুদ্দুহু', 'লাম ইয়া‘আদ্দুহু', 'লাম ইয়াফিররুহু'। এটিই সিবওয়াইহ এবং প্রথিতযশা ব্যাকরণবিদদের অভিমত।"

এবং ইবনে দুরিদ-এর খণ্ডন করতে গিয়ে যা ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত যরফ সম্পর্কে তিনি বলেন: "সিবওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ) বৈধ বলেছেন: 'সীরা আলাইহি বুকরাতুন', 'গুদওয়াতুন', এবং 'ইয়াওমুল জুমুআতি'..." ৩।

সিবওয়াইহ-এর মতামতের ব্যাপারে তাঁর সচেতনতা তখন প্রকাশ পায় যখন তিনি এমন কারও প্রতিবাদ করেন যিনি সিবওয়াইহ-এর নয় এমন কোনো মত তাঁর দিকে আরোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি 'লাইসা' এর খবরকে তার আগে আনা বৈধ মনে করেন না। তিনি ৪ বলেন: "আপনি বলবেন: 'লাইসা আলিমান যাইদুন', কিন্তু যদি আপনি বলেন: 'আলিমান লাইসা যাইদুন'..."

--------------------------------------------

১ ইরতশাফুল দারাব ৩/৩০।

২ তাযকিরাতুল নুহাত ২৮৮।

৩ তাযকিরাতুল নুহাত ২৯১।

৪ তাযকিরাতুল নুহাত ২৮৭।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২২)
لم يجز، لأن (ليس) لا تتصرف، لما فيها من معنى الجحد، وقد أجاز تقديم خبرها ابن النحاس، ونسبه إلى سيبويه وليس يصح عنه".

وذكر خطاب أن أبا إسحاق الزجاج يجيز: لولاك ولولاه، على مذهب سيبويه 1.

موقفه من مصادر الاحتجاج:

اعتمادا على النصوص الواردة إلينا من آراء خطاب، يبدو لنا اهتمام خطّاب بمصدرين رئيسيين من مصادر الاحتجاج وهما: القرآن الكريم، وكلام العرب (من شعر نثر) . ولم أجد له احتجاجا بالحديث النبوي.

وقد صرّح خطّاب بموقفه هذا عندما تعرض لحذف الخبر بعد لولا، نحو: لولا زيدٌ لقمت. قال: "تقديره بالحضرة، أو بهذا المكان. وقال قوم: يجوز إظهار الخبر، وليس ما ذكروه بجيد، لأن ذلك لم يأت في قرآن ولا شعر فصيح، وهذا الخبر عند جلة النحويين من المضمر الذي لا يجوز إظهاره" 2.

ويظهر اهتمامه أيضاً بكلام العرب في قول أبي حيان: "وزعم أبو العباس وخطاب الماردي أن بدل الغلط لا يوجد في كلام العرب، لا نثرها ولا نظمها". قال خطّاب: "وقد عنيت بطلب ذلك في الكلام والشعر، فلم أجده، فطالبت غيري فلم يعرفه" 3.

أما القرآن الكريم فهو مصدر مهم من مصادر الاحتجاج عنده، والأمثلة على ذلك كثيرة لا تحتاج إلى بيان.

ولكن خطّاباً وقف موقفاً عجباً في رفض بعض القراءات القرآنية الثابتة، لأنها خالفت القياس النحوي الذي يراه.

وهذا يذكرنا بما أورده السيوطي عن موقف قوم من النحاة في رفض بعض القراءات القرآنية، إذ يقول السيوطي 4: "كان قوم من النحاة المتقدمين يعيبون على عاصم وحمزة وابن عامر قراءات بعيدة في العربية، وينسبونهم إلى اللحن، وهم مخطئون في ذلك، فإن قراءاتهم ثابتة بالأسانيد المتواترة الصحيحة التي لا مطعن فيها، وثبوت ذلك دليل على جوازه في العربية. وقد ردّ المتأخرون، منهم ابن مالك، على من عاب عليهم ذلك بأبلغ رد، واختار جواز ما وردت به قراءاتهم في العربية، وإن منعه الأكثرون مستدلا به.

--------------------------------------------

1 تذكرة النحاة 285.

2 تذكرة النحاة 284.

3 إرتشاف الضرب 2/625-626.

4 الاقتراح 49.
এটি বৈধ নয়, কারণ 'লাইসা' রূপান্তরযোগ্য নয়, যেহেতু এর মধ্যে অস্বীকারের অর্থ রয়েছে। ইবনে আল-নাহহাস এর 'খবর'-কে আগে আনা বৈধ বলেছেন এবং একে সিবাহওয়াইহ-এর দিকে নিসবত করেছেন, কিন্তু তার থেকে এটি সহিহ (صحيح) নয়।

খাত্তাব উল্লেখ করেছেন যে, আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজ সিবাহওয়াইহ-এর মাযহাব অনুযায়ী 'লাওলাকা' এবং 'লাওলাহু' বৈধ মনে করেন ১।

দলীল গ্রহণের উৎসের ব্যাপারে তার অবস্থান:

খাত্তাবের মতামতের ওপর ভিত্তি করে আমাদের কাছে পৌঁছানো পাঠ্যসমূহ থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, খাত্তাব দলীল গ্রহণের দুটি প্রধান উৎসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তা হলো: পবিত্র কুরআন এবং আরবদের কথা (কবিতা ও গদ্য)। আমি তার পক্ষ থেকে নববী হাদিস দ্বারা কোনো দলীল গ্রহণ করতে দেখিনি।

খাত্তাব তার এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যখন তিনি 'লাওলা'-এর পরে 'খবর' বিলুপ্ত করার বিষয়টি আলোচনা করেন, যেমন: 'লাওলা যাইদুন লাক্বুমতু'। তিনি বলেন: "এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো 'উপস্থিত থাকা' বা 'এই স্থানে থাকা'। একদল বলেছেন: খবর প্রকাশ করা বৈধ। কিন্তু তারা যা উল্লেখ করেছেন তা উত্তম নয়, কারণ তা কুরআন কিংবা বিশুদ্ধ কোনো কবিতায় আসেনি। আর অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে এই খবরটি এমন প্রচ্ছন্ন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা প্রকাশ করা বৈধ নয়" ২।

আরবদের বাণীর প্রতি তার গুরুত্ব আবু হাইয়ানের উক্তিতেও ফুটে ওঠে: "আবু আব্বাস এবং খাত্তাব আল-মারিদী দাবি করেছেন যে, ভুল সংশোধনমূলক স্থলাভিষিক্ত পদ (বাদালুল গালাত) আরবদের কথায় পাওয়া যায় না, গদ্যেও নয়, পদ্যেও নয়।" খাত্তাব বলেন: "আমি কথা ও কবিতার মধ্যে তা অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছি, কিন্তু পাইনি। আমি অন্যদের কাছেও জানতে চেয়েছি, কিন্তু কেউ তা জানতে পারেনি" ৩।

আর পবিত্র কুরআনের কথা বললে, তা তার নিকট দলীল গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এর উদাহরণ এতো বেশি যে তা বর্ণনার প্রয়োজন রাখে না।

কিন্তু খাত্তাব কিছু সুসাব্যস্ত কুরআনী ক্বিরাত প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, কারণ সেগুলো তার দৃষ্টিতে ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী ছিল।

এটি আমাদের সুয়ূতী কর্তৃক একদল ব্যাকরণবিদের কুরআনী ক্বিরাত প্রত্যাখ্যানের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণিত আলোচনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সুয়ূতী বলেন ৪: "পূর্ববর্তী একদল ব্যাকরণবিদ আসিম, হামযাহ ও ইবনে আমিরের আরবী ভাষার দূরবর্তী কিছু ক্বিরাতের সমালোচনা করতেন এবং সেগুলোকে ব্যাকরণগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিতেন। তারা এ ব্যাপারে ভুল পথে ছিলেন। কারণ তাদের ক্বিরাতগুলো সনদ (الأسانيد) সমূহের মাধ্যমে সুসাব্যস্ত মুতাওয়াতির (متواتر) ও সহিহ (صحيح) ক্বিরাত, যাতে কোনো ত্রুটি নেই। আর এসব ক্বিরাত সাব্যস্ত হওয়াই আরবী ভাষায় এর বৈধতার প্রমাণ। পরবর্তী উলামাগণ, বিশেষ করে ইবনে মালিক, যারা সমালোচনা করেছিলেন তাদের কঠোরভাবে জবাব দিয়েছেন এবং তাদের ক্বিরাতগুলো আরবী ভাষায় জায়েজ হওয়ার মতটি গ্রহণ করেছেন, যদিও অধিকাংশ আলেম তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।"

--------------------------------------------

১ তজকিরাতুল নুহাত ২৮৫।

২ তজকিরাতুল নুহাত ২৮৪।

৩ ইরতিশাফুয যারব ২/৬২৫-৬২৬।

৪ আল-ইকতিরাহ ৪৯।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৩)
وقد صرّح خطّاب برفض الاحتجاج بقراءة لحمزة، فقال: "ورأيت ابن الأنباري يجيز أن تقول: لم يخشى، ولم يسعى، بإثبات الألف، واحتج بقراءة حمزة {لاتخفْ دركاً ولا تخشى} 1 بإثبات الألف وهذا لا يجوز عندنا " 2.

ولكن العكبري يرى لهذه القراءة وجوهاً سائغة، فيقول: "ولا تخشى" على قراءة الجزم هو حال، أي: وأنت لا تخشى.. وقيل: الألف في تقدير الجزم شبهت بالحروف الصحاح. وقيل: نشأت لإشباع الفتحة ليتوافق رؤوس الآي" 3.

بل نجد خطّاباً يتهم حمزة بالجهل بالعربية، ويجعل ذلك سبيلا لردّ قراءته. ومن ذلك أنه يرى أن إسكان لام الأمر مع "ثم " يكون في ضرورة الشعر، ولا يجوز في الكلام. قال: "وإن كان حمزة قد قرأ {ثّم لْيقْطَعْ} 4 بسكون اللام، لأنه لم يكن له علم بالعربية" 5.

قال السيوطي: "وهو مردود"، قال أبو حيان: "ما قرئ به في السبعة لا يردّ ولا يوصف بضعف ولا بقلة" 6.

ويستدل خطّاب بالقراءة إذا وافقت القاعدة النحوية، ومن ذلك رفع الفاعل بفعل محذوف بعد المفعول الذي لم يُسمَّ فاعله، نحو: ضُربَ زيدٌ وعمرو. قال: "وعلى ذلك قراءة بعضهم {وَكَذَلِكَ زُيِّنَ لِكَثِيرٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ قَتْلَ أَوْلادِهِمْ شُرَكَاؤُهُم} 7 أي زيّنه شركاؤهم" 8.

وهذه القراءة شاذة ذكرها ابن جني في المحتسب، ونسبها إلى أبي عبد الرحمن السلمي، قال أبو الفتح: "يحتمل رفع "شركاء" تأويلين: أحدهما وهو الوجه أن يكون مرفوعا بفعل مضمر دلّ عليه قوله "زين" كأنه لما قال: "زُيّن لكثير من المشركين قتلُ أولادهم " قيل: من زيّنه لهم؟ فقيل: زيّنه لهم شركاؤهم، فارتفع الشركاء بفعل مضمر دلّ عليه "زُين "

--------------------------------------------

1 سورة طه آية 77.

2 إرتشاف الضرب1/423.

3 التبيان 899.

4 سورة الحج آية 15.

5 الارتشاف 2/541، التذكرة 288.

6 همع الهوامع 4/308.

7 سورة الأنعام آية 137.

8 التذكرة 290.
খাত্তাব হামজার কেরাত দ্বারা দলিল গ্রহণকে অস্বীকার করার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন: "আমি ইবনে আল-আনবারীকে দেখেছি যে, তিনি 'আলিফ' বহাল রেখে 'লাম ইয়াখশা' এবং 'লাম ইয়াস’আ' বলা বৈধ মনে করেন। তিনি হামজার কেরাত {লা তাখাফ দারাকান ওয়া লা তাখশা} ১-এ 'আলিফ' বহাল রাখার সপক্ষে দলিল দিয়েছেন; তবে আমাদের নিকট এটি জায়েজ নয়।" ২।

কিন্তু আল-উকবারী এই কেরাতের জন্য গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেখতে পান। তিনি বলেন: "জজম-এর কেরাত অনুযায়ী 'ওয়া লা তাখশা' একটি হাল (অবস্থা), অর্থাৎ: 'এমতাবস্থায় যে আপনি ভয় পাচ্ছেন না'। এবং বলা হয়েছে: জজম-এর অবস্থায় আলিফকে সহীহ হরফের ন্যায় গণ্য করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: আয়াতের শেষভাগের মিল রক্ষার জন্য ফাতহার দীর্ঘায়নের ফলে এই আলিফের উৎপত্তি হয়েছে।" ৩।

বরং আমরা দেখতে পাই যে, খাত্তাব হামজাকে আরবি ভাষার বিষয়ে অজ্ঞতার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং একে তার কেরাত প্রত্যাখ্যান করার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো, তিনি মনে করেন 'সুম্মা' এর সাথে 'লামুল আমর' সাকিন করা কেবল কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرورة الشعر) হয়ে থাকে, যা সাধারণ গদ্যে জায়েজ নয়। তিনি বলেন: "যদিও হামজা {সুম্মা ল-ইয়াকতা'} ৪ লাম-কে সাকিন করে পাঠ করেছেন, কিন্তু আরবি ভাষার ব্যাপারে তার জ্ঞান ছিল না।" ৫।

সুয়ূতী বলেন: "এটি প্রত্যাখ্যাত (مردود)"। আবু হাইয়ান বলেন: "সাব’আ (সাত) কেরাতের অন্তর্ভুক্ত কোনো পাঠকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না এবং তাকে দুর্বল (ضعيف) বা বিরল হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না।" ৬।

আর খাত্তাব কোনো কেরাত দ্বারা তখনই দলিল পেশ করেন যখন তা ব্যাকরণগত নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর একটি উদাহরণ হলো, কর্মবাচ্যের পরে উহ্য ক্রিয়ার মাধ্যমে কর্তাকে রাফ’ (পেশ) প্রদান করা; যেমন: 'দুরিবা যাইদুন ওয়া আমরুন'। তিনি বলেন: "এর ওপর ভিত্তি করেই কারো কারো কেরাত হলো {ওয়া কাজালিকা ঝুইয়িনা লি-কাছিরিম মিনাল মুশরিকিনা কাতলা আওলাদিহিম শুরাকাউহুম} ৭ অর্থাৎ: তাদের অংশীদাররা একে সুশোভিত করেছে।" ৮।

এই কেরাতটি বিচ্ছিন্ন (شاذة), যা ইবন জিন্নি 'আল-মুহতাসিব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং একে আবু আবদুর রহমান আস-সুলামীর দিকে নিসবত করেছেন। আবুল ফাতহ বলেন: "'শুরাকাউ' শব্দটিতে রাফ’ হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি ব্যাখ্যার সম্ভাবনা রয়েছে: এর মধ্যে একটি এবং প্রধান দিকটি হলো এটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মারফু (مرفوع) হওয়া যা 'ঝুইয়িনা' শব্দ দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। যেন যখন বলা হলো: 'অনেক মুশরিকের নিকট তাদের সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করা হয়েছে', তখন প্রশ্ন করা হলো: কে তাদের নিকট এটি সুশোভিত করেছে? তখন উত্তর দেওয়া হলো: তাদের অংশীদাররা এটি তাদের নিকট সুশোভিত করেছে। ফলে 'শুরাকাউ' শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে যা 'ঝুইয়িনা' শব্দ দ্বারা নির্দেশিত।"

--------------------------------------------

১ সূরা ত্বহা, আয়াত ৭৭।

২ ইরতিশাফুদ দারব ১/৪২৩।

৩ আত-তিবইয়ান ৮৯৯।

৪ সূরা হজ, আয়াত ১৫।

৫ আল-ইরতিশাফ ২/৫৪১, আত-তাযকিরাহ ২৮৮।

৬ হাম'উল হওয়া-মি' ৪/৩০৮।

৭ সূরা আন'আম, আয়াত ১৩৭।

৮ আত-তাযকিরাহ ২৯০।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৪)
وقد يذكر القراءة الشاذة على وجه الإنكار، ومن ذلك قوله: "حكى أبو حاتم (السجستاني) عن هارون القارئ أن الأعمش قرأ {وما كان صلاتَهم عند البيت إلا مكاءٌ وتصديةٌ} 2 فنصب الصلاة ورفع المكاء والتصدية، وهذا من شواذ القراءات" 3.

قال السمين 4: "وخطّأ الفارسي هذه القراءة، وقال: لا يجوز أن يخبر عن النكرة بالمعرفة إلا في ضرورة…"

وقد حاول ابن جني توجيه هذه القراءة ودفع القبح أو اللحن عنها 5.

موقفه من القياس والسماع:

"إنما النحو قياس يتبع". ولهذا قيل في حد النحو 6: "إنه علم بمقاييس مستنبطة من استقراء كلام العرب".

وقد اعتنى النحاة بالقياس في بناء قواعدهم النحوية، كما اهتم به خطّاب المارديّ في توجيه الآراء والمذاهب النحوية.

ومن ذلك في باب ما لا ينصرف للعلمية والتأنيث، قال خطاب في الترشيح 7: "ما لا علامة فيه فبعض النحويين يجريه مجرى ما فيه الهاء، ولا يصرفه معرفة، قلّت حروفه أو كثرت، ويصرفه نكرة، وهو القياس…"

وقد يتبع خطاب القياس فيرى رأياً حسنا في القياس، ولكنه مخالف لآراء العلماء، فيؤثر الاتّباع على الابتداع، والالتزام برأي الأئمة، وهذا تواضع منه واحترام للعلماء.

ومن ذلك في باب أفعال المقاربة، في نحو قولك: عسى أن يقوم زيدٌ. قال أبو بكر خطّاب 8: " (أن يقوم) : فاعل (بعسى) ، هذا قول النحويين، وقد كان عندي قياساً أن يكون مفعوله توسط بين الفعل وفاعله، كما تقول: يريد أن يضربك زيدٌ. المعنى: يريد زيدٌ أن يضربك. وجاز أن يتوسط مفعول (عسى) ، كما توسط خبر (ليس) في قولنا: ليس قائماً زيدٌ.

--------------------------------------------

1 المحتسب 1/229، انظر التبيان للعكبري 1/541.

2 سورة الأنفال آية 35.

3 تذكرة النحاة 287.

4 الدر المصون 5/602.

5 المحتسب 1/279.

6 الاقتراح 94.

7 ارتشاف الضرب 1/440.

8 ارتشاف الضرب 2/132.
وقد يذكر القراءة الشاذة على وجه الإنكار، ومن ذلك قوله: "حكى أبو حاتم (السجستاني) عن هارون القارئ أن الأعمش قرأ {وما كان صلاتَهم عند البيت إلا مكاءٌ وتصديةٌ} 2 فنصب الصلاة ورفع المكاء والتصدية، وهذا من شواذ القراءات" 3. তিনি কখনো কখনো অপ্রসিদ্ধ (شاذة) কিরাতগুলো প্রত্যাখ্যানের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি: "আবু হাতিম (আল-সিজিস্তানি) হারুন আল-কারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল-আমাশ {وما كان صلاتَهم عند البيت إلا مكاءٌ وتصديةٌ} আয়াতটি পাঠ করেছেন; যেখানে তিনি 'সালাত' শব্দটিকে নসব (যবর) এবং 'মুকান ও তাসদিয়াহ' শব্দদ্বয়কে রফ (পেশ) দিয়ে পড়েছেন। এটি অপ্রসিদ্ধ (شاذة) কিরাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"

قال السمين 4: "وخطّأ الفارسي هذه القراءة، وقال: لا يجوز أن يخبر عن النكرة بالمعرفة إلا في ضرورة…"

আল-সামিন ৪ বলেছেন: "আল-ফারিসি এই কিরাতটিকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: বিশেষ কাব্যিক প্রয়োজন (জরুরত) ব্যতীত কোনো নির্দিষ্ট (মারিফাহ) বিশেষ্য সম্পর্কে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) বিশেষ্য দিয়ে সংবাদ বা খবর দেওয়া বৈধ নয়…"

وقد حاول ابن جني توجيه هذه القراءة ودفع القبح أو اللحن عنها 5. আর ইবন জিন্নি এই কিরাতের একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং একে কদর্যতা বা ভাষাগত ভুল (لحن) থেকে রক্ষা করতে চেয়েছেন ৫।

موقفه من القياس والسماع:

সাদৃশ্য বা অনুমান (قياس) এবং শ্রুতি বা বর্ণনা (سماع) সম্পর্কে তাঁর অবস্থান:

"إنما النحو قياس يتبع". ولهذا قيل في حد النحو 6: "إنه علم بمقاييس مستنبطة من استقراء كلام العرب".

"নাহু বা ব্যাকরণ মূলত একটি অনুসরণযোগ্য সাদৃশ্য বা অনুমান (قياس)"। এ কারণেই নাহুর সংজ্ঞায় ৬ বলা হয়েছে: "এটি এমন এক জ্ঞান যা আরবদের বাকভঙ্গি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত নিয়মাবলির (مقاييس) সমষ্টি।"

وقد اعتنى النحاة بالقياس في بناء قواعدهم النحوية، كما اهتم به خطّاب المارديّ في توجيه الآراء والمذاهب النحوية.

বৈয়াকরণগণ তাঁদের ব্যাকরণিক নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বা অনুমানের (قياس) প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন, ঠিক যেমন খাত্তাব আল-মারদি ব্যাকরণিক মতামত ও মাযহাবগুলোর যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদানে এর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ومن ذلك في باب ما لا ينصرف للعلمية والتأنيث، قال خطاب في الترشيح 7: "ما لا علامة فيه فبعض النحويين يجريه مجرى ما فيه الهاء، ولا يصرفه معرفة، قلّت حروفه أو كثرت، ويصرفه نكرة، وهو القياس…"

'আলম' (নামবাচক বিশেষ্য) এবং 'তানিস' (স্ত্রীলিঙ্গ) হওয়ার কারণে যা রূপান্তরহীন বা গাইরে মুনসারিফ হয়, সেই পরিচ্ছেদে খাত্তাব 'আল-তারশিহ' গ্রন্থে ৭ বলেছেন: "যে শব্দে কোনো চিহ্ন নেই, কিছু বৈয়াকরণ তাকে 'হা' (গোল তা) যুক্ত শব্দের অনুরূপ গণ্য করেন এবং তাকে মারিফাহ (নির্দিষ্ট) অবস্থায় রূপান্তরহীন রাখেন, চাই তার অক্ষর সংখ্যা কম হোক বা বেশি। তবে নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট) অবস্থায় একে রূপান্তরযোগ্য করেন, আর এটিই হলো নিয়মসিদ্ধ সাদৃশ্য বা অনুমান (قياس)…"

وقد يتبع خطاب القياس فيرى رأياً حسنا في القياس، ولكنه مخالف لآراء العلماء، فيؤثر الاتّباع على الابتداع، والالتزام برأي الأئمة، وهذا تواضع منه واحترام للعلماء.

খাত্তাব কখনো কখনো সাদৃশ্য বা অনুমান (قياس) অনুসরণ করে কোনো একটি মতকে উত্তম মনে করেন, কিন্তু তা যদি ওলামায়ে কেরামের মতের পরিপন্থী হয়, তবে তিনি নতুন উদ্ভাবনের (ابتداع) চেয়ে অনুসরণকে (اتّباع) এবং ইমামদের মতের ওপর অবিচল থাকাকে প্রাধান্য দেন। এটি তাঁর বিনয় এবং ওলামাদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধের পরিচায়ক।

ومن ذلك في باب أفعال المقاربة، في نحو قولك: عسى أن يقوم زيدٌ. قال أبو بكر خطّاب 8: " (أن يقوم) : فاعل (بعسى) ، هذا قول النحويين، وقد كان عندي قياساً أن يكون مفعوله توسط بين الفعل وفاعله، كما تقول: يريد أن يضربك زيدٌ. المعنى: يريد زيدٌ أن يضربك. وجاز أن يتوسط مفعول (عسى) ، كما توسط خبر (ليس) في قولنا: ليس قائماً زيدٌ.

--------------------------------------------

1 المحتسب 1/229، انظر التبيان للعكبري 1/541. ১. আল-মুহতাসিব ১/২২৯, দেখুন: আল-উকবরি কৃত আত-তিবইয়ান ১/৫৪১।

2 سورة الأنفال آية 35. ২. সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৩৫।

3 تذكرة النحاة 287. ৩. তাজকিরাতুল নুহাত ২৮৭।

4 الدر المصون 5/602. ৪. আদ-দুররুল মাসুন ৫/৬০২।

5 المحتسب 1/279. ৫. আল-মুহতাসিব ১/২৭৯।

6 الاقتراح 94. ৬. আল-ইকতিরাহ ৯৪।

7 ارتشاف الضرب 1/440. ৭. ইরতিশাফুজ জারাব ১/৪৪০।

8 ارتشاف الضرب 2/132. ৮. ইরতিশাফুজ জারাব ২/১৩২।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৫)
وهذا قول حسن في القياس، غير أنه رأي رأيناه، ولم يقل به أحد غيرنا، واتباعنا لأئمة النحويين أحق وأجمل". انتهى.

وفي باب المفعول الذي لم يسم فاعله، قال خطّاب المارديّ في الترشيح 1: "وكان قياسها، يعني اختير وانقيد، أن يجري مجرى (قيل وبيع) في الإشمام، وفي قلب الياء واواً، كما قيل: بوع وكول الطعام، ولكني لم أره قولا لأحد".

أقول: يبدو أن خطابا هو صاحب هذا الرأي، ثم تبعه فيه ابن مالك وغيره. قال الشيخ خالد 2: "وادعى ابن عذرة وطائفة من متأخري المغاربة امتناعها في افتعل كاختار، وانفعل كانقاد مما زاد على الثلاثة، فلا يقال اختور ولا انقود. والمشهور الأول، وهو قول ابن عصفور والأبذي وابن مالك.

قال ابن مالك في الألفية:

وما لفا باع لما العين ثلي … في اختار وانقاد وشبه ينجلي

وكان خطّاب يهتم أيضاً بالسّماع، ويرى أن بعض مسائل النحو تؤخذ سماعاً ولا تنقاس.

ومن ذلك باب جمع المؤنث السالم، قال في الترشيح 3: "ومن قال الاثنان لليوم فجعل الرفع والنصب والخفض في النون جمعه الاثنانات، كما تقول رمضانات وشعبانات، وأجاز ابن قتيبة: الأثانين، كما تقول الدهاقين، وتكسير هذا على فعاليل لا ينقاس، وإنما هو يؤخذ سماعا عن العرب، وإلا فهو مجموع على السلامة". انتهى.

وفي دخول (ما) على إنّ وأخواتها فيبقى بعضها عاملا، يقول خطّاب 4: "وبعض العرب يقول: ليتما زيداً منطلقٌ. ولا يجوز هذا في غير (ليت) . وقد أجاز بعض النحويين النصب بهذه الحروف قياساً على (ليتما) فتقول: لكنّما زيداً مقبلٌ، ولعلّما عمراً خارجٌ، وإنما أخاك ذاهبٌ. وهو مذهب أبي القاسم الزجاجي، وأبي بكر بن السراج، والقول الأول مذهب الأخفش، وهو أقوى، لأنه المسموع من العرب الذي لا يُعرف غيره … "

ويستعمل خطّاب مصطلحات في السّماع مثل: قليل، وقبيح، وشاذ، ولا يطرد، وقد

--------------------------------------------

1 ارتشاف الضرب 2/197-198.

2 التصريح على التوضيح 1/295.

3 إرتشاف الضرب 1/273.

4 تذكرة النحاة 281.
"এটি কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমানের) ক্ষেত্রে একটি উত্তম (حسن) উক্তি, তবে এটি এমন একটি অভিমত যা আমরা ব্যক্ত করেছি এবং আমাদের ছাড়া অন্য কেউ তা বলেনি। তাই ব্যাকরণবিদদের ইমামদের অনুসরণ করাই আমাদের জন্য অধিক সংগত ও সুন্দর।" সমাপ্ত।

কর্মবাচ্য (আল-মাফউলুল্লাযি লাম ইউসাম্মা ফা-ইলুহু) অধ্যায়ে খাত্তাব আল-মারদি ‘আত-তারশিহ’ গ্রন্থের ১-এ বলেছেন: "এর কিয়াস (যৌক্তিক নিয়ম) ছিল—অর্থাৎ ইখতিরা ও ইনকাদা—যে এগুলো ইশমামের ক্ষেত্রে এবং ইয়া-কে ওয়াও-এ রূপান্তরের ক্ষেত্রে 'কিলা ও বিয়া' এর অনুরূপ হবে, যেমনটি বলা হয়েছে: 'বুআ' এবং 'কুলাত তয়াম'; কিন্তু আমি এটিকে কারো অভিমত হিসেবে দেখিনি।"

আমি বলছি: প্রতীয়মান হয় যে, খাত্তাবই এই অভিমতের প্রবক্তা, অতঃপর ইবনে মালিক ও অন্যান্যরা এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন। শেখ খালিদ ২ বলেন: "ইবনে উযরা এবং মাগরেব অঞ্চলের একদল পরবর্তী যুগের আলেম 'ইফতাআলা' (যেমন: ইখতারা) এবং 'ইনফাআলা' (যেমন: ইনকাদা) এর মতো তিন অক্ষরের অধিক শব্দে এর অসম্ভবতার দাবি করেছেন; ফলে 'উখতুওয়িরা' বা 'উনকুউইদা' বলা যাবে না। তবে প্রথম অভিমতটিই প্রসিদ্ধ (المشهور), যা ইবনে আসফুর, আল-আবযি এবং ইবনে মালিকের অভিমত।"

ইবনে মালিক ‘আলফিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেছেন:

বাআ-এর ফা অক্ষরের জন্য যা প্রযোজ্য, তা সেই আইন অক্ষরের জন্য সাব্যস্ত হবে … যা ইখতারা, ইনকাদা এবং অনুরূপ শব্দে প্রকাশিত হয়।

খাত্তাব ‘সিমাআ’ (আরবদের থেকে শ্রুত প্রয়োগ)-এর প্রতিও গুরুত্বারোপ করতেন এবং মনে করতেন যে, ব্যাকরণের কিছু মাসআলা শ্রুতির (সিমাআ) মাধ্যমে গ্রহণ করা হয় এবং তা কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এর উদাহরণ হলো জমা মুয়ান্নাস সালেম (অপরিবর্তিত স্ত্রীবাচক বহুবচন) অধ্যায়, তিনি ‘আত-তারশিহ’ গ্রন্থের ৩-এ বলেছেন: "যে ব্যক্তি ‘আল-ইসনানি’ শব্দটিকে দিনের নাম হিসেবে ব্যবহার করে এবং এর রফা, নাসব ও জার (জের) নুন অক্ষরের ওপর প্রদান করে, তার নিকট এর বহুবচন হবে ‘আল-ইসনানাত’, যেমনটি আপনি বলে থাকেন ‘রামাযানাত’ ও ‘শা’বানাত’। ইবনে কুতাইবা ‘আল-আসানিন’ বলা বৈধ (جائز) বলেছেন, যেমন বলা হয় ‘আদ-দাহাকিন’। ‘ফাআলিল’ ছাঁচে এর তকসির (ভগ্ন বহুবচন) কিয়াসযোগ্য নয়, বরং এটি আরবদের থেকে শ্রুতির (সিমাআ) মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হয়, অন্যথায় এটি জমা সালেম হিসেবেই গণ্য হবে।" সমাপ্ত।

‘ইন্না’ ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়গুলোর ওপর ‘মা’ যুক্ত হওয়ার পর সেগুলোর কোনো কোনোটির আমল (ক্রিয়া) বহাল থাকা প্রসঙ্গে খাত্তাব ৪ বলেন: "কিছু আরব বলে থাকেন: 'লাইতামা যাইদান মুনতালিকুন'। আর এটি ‘লাইতা’ ব্যতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে বৈধ (جائز) নয়। তবে কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ ‘লাইতামা’-এর ওপর কিয়াস করে এই হরফগুলোর মাধ্যমে নাসব (জবর) প্রদান করা বৈধ (جائز) বলেছেন, ফলে আপনি বলবেন: 'লাকিন্নামা যাইদান মুকবিলুন', 'লায়াল্লামা আমরান খরিজুন' এবং 'ইন্নামা আখাকা যাহিবুন'। এটি আবুল কাসিম আয-যাজ্জাজি এবং আবু বকর ইবনুস সাররাজ-এর মাযহাব (মতামত)। আর প্রথম অভিমতটি আল-আখফাশ-এর মাযহাব, যা অধিক শক্তিশালী (أقوى); কারণ এটিই আরবদের থেকে শ্রুত যা ব্যতিরেকে অন্য কিছু জানা নেই … "

খাত্তাব সিমাআ-এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করেন, যেমন: অল্প (قليل), নিকৃষ্ট (قبيح), ব্যতিক্রমী (شاذ), এবং যা নিয়মিত বা ব্যাপক নয় (لا يطرد)। এবং তিনি

--------------------------------------------

১. ইরতিশাফুদ দারাব ২/১৯৭-১৯৮।

২. আত-তাসরিহ আলাত তাওযিহ ১/২৯৫।

৩. ইরতিশাফুদ দারাব ১/২৭৩।

৪. তাযকিরাতুন নুহাত ২৮১।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৬)
يلجأ إلى الوقوف عند ظاهر النصّ المسموع عن العرب إذا خالف القاعدة التي يراها، ومن ذلك قوله في الترشيح 1: "ومن العرب من يثبت الألف في الاستفهام إذا دخل عليها حرف الجر، فيقول: عمّا تسأل؟ وفيما ترغب؟ وذلك قليل وقبيح. فإن كانت بمعنى الذي أثبت الألف. وحكى أبو زيد أن من العرب من يقول: سَلْ عمّ شئت، كأنهم حذفوا لكثرة الاستعمال. وهذا شاذ عندي ولا يطّرد، يحفظ كما وقع، ولا يصرف من لفظه غير ما سمع، ولو قلت: سَلْ عمّ تشاء، لم يجز، لأن ذلك إنما سمع مع شئت". انتهى.

ومن قواعد خطّاب في السّماع أن الظروف تؤخذ سماعاً ولا تقاس 2. والشاذ يحفظ حفظاً ولا يقاس عليه 3.

ومن الشاذ عنده وزن (فُعَلَى) من أوزان ألف التأنيث المقصورة، فقد عدّ ابن مالك وزن (فُعَلى) من الأوزان المشهورة لألف التأنيث المقصورة نحو: أُرَبى للداهية، وأُدَمى وشُعَبى لموضعين.

فاعترض عليه ابن هشام بأن جعل هذا الوزن في الأوزان المشهورة مشكل 4.

قال الشيخ خالد: "لأنها من الأوزان النادرة، بل قال خطّاب الماردي: إنها شاذة" 5.

آراؤه النحوية:

تعد مصنفات أبي حيان الأندلسي هي المصادر الأساسية لعدد من نحاة الأندلسيين، إذ لولا أبو حيان لضاع كثير من التراث النحوي الأندلسي.

ومن هؤلاء النحاة الأندلسيين خطّاب المارديّ، الذي عاش في القرن الخامسِ الهجري، ومع ذلك لم أجد أحداً ذكر له رأياً قبل أبي حيان، الذي نقل إلينا في مصنفاته كثيرا من آراء خطاب النحوية، كما أنه لخص لنا في تذكرته السّفر الأول من كتاب الترشيح لخطّاب.

وقد ذكر بعض آراء خطّاب عدد من النحاة الذين جاءوا بعد أبي حيان، كالمرادي، وابن هشام، وابن عقيل، والشيخ خالد الأزهري، والأشموني، والسيوطي، وعبد القادر البغدادي.

--------------------------------------------

1 إرتشاف الضرب 1/544، شرح أبيات مغني اللبيب 5/217.

2 إرتشاف الضرب 2/257.

3 إرتشاف الضرب 3/43، تذكرة النحاة 292.

4 أوضح المسالك 4/288.

5 التصريح 2/289.
তিনি আরবদের কাছ থেকে শ্রুত বাচনিক ভাষ্যের বাহ্যিক রূপের ওপর নির্ভর করার আশ্রয় নেন যখন সেটি তার নির্ধারিত নিয়মের পরিপন্থী হয়। এর মধ্যে রয়েছে আত-তারশিহ গ্রন্থে তার উক্তি ১: "আরবদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্নবোধক অব্যয়ের ক্ষেত্রে আলিফ বহাল রাখেন যখন তার পূর্বে অব্যয় (হারফে জার) যুক্ত হয়, তখন তারা বলে: আম্মা তাসআল? এবং ফিমা তারগাব?। এটি নগণ্য এবং শ্রুতিকটু। তবে যদি এটি 'আল্লাযি' অর্থে হয় তবে আলিফ বহাল থাকবে। আবু জায়েদ বর্ণনা করেছেন যে, আরবদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: সাল আম্মা শিতা, যেন তারা অধিক ব্যবহারের কারণে তা বিলুপ্ত করেছেন। এটি আমার নিকট অসংগতিপূর্ণ/ব্যব্যতিক্রমী (شاذ) এবং এটি নিয়মিত নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই মুখস্থ রাখতে হবে এবং এর শ্রুত শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দ পরিবর্তন করা যাবে না। আপনি যদি বলেন: সাল আম্মা তাশা-উ, তবে তা শুদ্ধ হবে না; কারণ এটি কেবল 'শিতা' শব্দের সাথেই শ্রুত হয়েছে।" সমাপ্ত।

সিমাহ বা শ্রুত ভাষ্যের ক্ষেত্রে খাত্তাবের অন্যতম মূলনীতি হলো—কালবাচক ও স্থানবাচক বিশেষ্য (যুরুফ) শ্রুতির মাধ্যমেই গ্রহণ করা হবে এবং এতে কিয়াস (তথা অনুমান বা তুলনা) চলবে না ২। আর অসংগতিপূর্ণ/ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয়গুলো কেবল মুখস্থ রাখতে হবে এবং তার ওপর কিয়াস করা যাবে না ৩।

তার নিকট আলিফ আত-তানিছ আল-মাকসুরাহ-এর ওজনগুলোর মধ্যে 'ফু’আলা' ওজনটি অসংগতিপূর্ণ/ব্যতিক্রমী (شاذ) হিসেবে গণ্য। যদিও ইবনে মালিক 'ফু’আলা'-কে আলিফ আত-তানিছ আল-মাকসুরাহ-এর প্রসিদ্ধ ওজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন: অ্যারাবা (বিপদের জন্য), এবং উদামা ও শু’আবা দুটি স্থানের নাম।

ইবনে হিশাম এর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন যে, এই ওজনকে প্রসিদ্ধ ওজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা সমস্যাযুক্ত ৪।

শেখ খালিদ বলেন: "কারণ এটি দুর্লভ ওজনগুলোর অন্তর্ভুক্ত, বরং খাত্তাব আল-মারিদি বলেছেন: এটি অসংগতিপূর্ণ/ব্যব্যতিক্রমী (شاذ)" ৫।

তার ব্যাকরণিক মতবাদসমূহ:

আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসির গ্রন্থসমূহ অনেক আন্দালুসি ব্যাকরণবিদের জন্য মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত। কারণ আবু হাইয়ান না থাকলে আন্দালুসি ব্যাকরণ ঐতিহ্যের অনেক কিছুই হারিয়ে যেত।

এই আন্দালুসি ব্যাকরণবিদদের মধ্যে খাত্তাব আল-মারিদি অন্যতম, যিনি হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন। তা সত্ত্বেও আমি আবু হাইয়ানের পূর্বে আর কাউকে তার কোনো মত উল্লেখ করতে দেখিনি। আবু হাইয়ান তার গ্রন্থাবলীতে খাত্তাবের অনেক ব্যাকরণিক মতামত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এমনকি তিনি তার তাজকিরা গ্রন্থে খাত্তাবের আত-তারশিহ কিতাবের প্রথম খণ্ডটি সারসংক্ষেপ করেছেন।

আবু হাইয়ানের পরবর্তী অনেক ব্যাকরণবিদ খাত্তাবের কিছু মতামত উল্লেখ করেছেন, যেমন আল-মুরাদি, ইবনে হিশাম, ইবনে আকিল, শেখ খালিদ আল-আজহারি, আল-আশমুনি, আস-সুয়ুতি এবং আব্দুল কাদির আল-বাগদাদি।

--------------------------------------------

১ ইরতিশাফ আদ-দারাব ১/৫৪৪, শারহু আবিয়াত মুগনি আল-লাবিব ৫/২১৭।

২ ইরতিশাফ আদ-দারাব ২/২৫৭।

৩ ইরতিশাফ আদ-দারাব ৩/৪৩, তাজকিরাতুন নুহাত ২৯২।

৪ আওদাহুল মাসালিক ৪/২৮৮।

৫ আত-তাসরিহ ২/২৮৯।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৭)
وقد صرّح عبد القادر البغدادي بالنقل عن تذكرة أبي حيان في أكثر من موضع 1.

وسوف أختار هنا أشهر آراء خطّاب النحوية، مع توضيحها وتوثيقها، ومراعاة ألاّ أكرر آراءه التي وردت سابقاً، بقدر الإمكان.

(1) من مواضع قلب الياء همزة

تقلب الواو والياء والألف همزة إذا وقعت إحداها بعد ألف مفاعل وكانت مدة زائدة في الواحد، نحو: عجوز عجائز، وصحيفة صحائف، ورسالة رسائل. فلو كانت المدة عيناً لم تهمز نحو: معاون ومعايش ومثاوب جمع معونة ومعيشة ومثوبة. وشذّ الهمز في معائش ومنائر ومصائب.

أما مسائل جمع مسيل فذهب الزبيدي إلى أن الهمزة أصلية فهمزها قياس. وذهب الأعلم وغيره إلى أن مسيلاً مَفعِل من سال، فالهمز في جمعه شاذ 2.

قال خطّاب في الترشيح 3: "مسيل الماء جمعه مسايل بلا همزة، لأنه من سال يسيل، قال زهير-:

(فقال شياهٌ راتعاتٌ بقفْرةٍ) … بمُستأسدِ القُرْيان حُوٍ مَسايلُهْ 4

وإن شئت همزت، تجعل الميم أصلية، لأن الجمع مُسُل. وحكَى يعقوب 5 في مسيل الماء أن جمعه أمسلة ومُسل ومُسْلان ومسائل، قال: يقال للمسيل مَسَل 6. وقوله يدل على أن الميم أصل، كأنه من مَسَل يمسلُ. انتهى.

وقال الجوهري 7: "ومسيل الماء موضع سيله، والجمع مسايل، ويحمع أيضاً على مُسُل وأمْسلة ومُسلان على غير قياس؛ لأن مسيلاً إنما هو مَفْعِل، ومَفْعِل لا يجمع على ذلك، لكنهم شبهوه بفعيل، كما قالوا: رغيف ورُغُف وأرغفة ورُغفان. ويقال للمسيل أيضاً مَسَل بالتحريك".

--------------------------------------------

1 خزانة الأدب 6/251، شرح أبيات مغني اللبيب 5/216.

2 أوضح المسالك 4/374، ارتشاف الضرب 1/128، منجد الطالبين للشيخ عمارة 34.

3 ارتشاف الضرب 1/128.

4 المستأسد: ما طال من النبت وقوي، القربان: مجاري الماء، حوّ: خضر.

5 هو يعقوب بن السكيت المتوفي سنة 246 هـ، صاحب إصلاح المنطق.

6 إصلاح المنطق لابن السكيت 371.

7 الصحاح (مادة سيل) .
আব্দুল কাদির আল-বাগদাদি একাধিক স্থানে আবু হাইয়ানের 'তাজকিরা' থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন ১।

আমি এখানে খাত্তাবের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যাকরণিক মতসমূহ নির্বাচন করব, সেই সাথে সেগুলোর ব্যাখ্যা ও নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রদান করব এবং যথাসম্ভব চেষ্টা করব যেন পূর্বে উল্লিখিত তাঁর মতামতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

(১) 'ইয়া' বর্ণটি 'হামজা'-তে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ

ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ হামজায় রূপান্তরিত হয় যখন এগুলোর কোনো একটি 'মাফাইল' ওজনের আলিফের পরে আসে এবং একবচনে সেটি অতিরিক্ত দীর্ঘস্বর (মদ্দ) হিসেবে থাকে। যেমন: 'আজুজ' থেকে 'আজায়িজ', 'সহিফাহ' থেকে 'সাহায়িফ' এবং 'রিসালাহ' থেকে 'রাসায়িল'। তবে দীর্ঘস্বরটি যদি মূল বর্ণ (আইনুল ফেল) হয়, তবে তা হামজা হবে না। যেমন: 'মাউনাহ', 'মাঈশাহ' ও 'মাসুবাহ'-এর বহুবচন যথাক্রমে 'মাওয়াউন', 'মায়ায়িশ' ও 'মাসায়িব'। আর 'মায়ায়িশ', 'মানায়ির' এবং 'মাসায়িব' শব্দগুলোতে হামজা হওয়াটি বিরল বা ব্যতিক্রম (شاذ)।

'মাসিল'-এর বহুবচন 'মাসায়িল'-এর ক্ষেত্রে জুবাইদি মনে করেন যে, এখানে হামজাটি মূল বর্ণ, তাই এতে হামজা হওয়া নিয়মসিদ্ধ (قياس)। অন্যদিকে আল-আ'লাম এবং অন্যান্যের মতে 'মাসিল' শব্দটি 'সা-লা' থেকে 'মাফইল' ওজনের শব্দ; তাই এর বহুবচনে হামজা হওয়াটি বিরল বা ব্যতিক্রম (شاذ) ২।

খাত্তাব 'আত-তারশিহ' ৩ গ্রন্থে বলেন: "পানির প্রবাহস্থল (মাসিল)-এর বহুবচন হলো 'মাসায়িল', এতে হামজা নেই; কারণ এটি 'সা-লা ইয়াসিলু' থেকে উৎপন্ন। যুহাইর বলেছেন-:

(তিনি বললেন, এক জনমানবহীন প্রান্তরে চরে বেড়ানো কিছু বন্য মেষ) … যার নালাগুলো দীর্ঘ ঘাসযুক্ত এবং পানির প্রবাহপথগুলো গাঢ় বর্ণের ৪।

আর তুমি চাইলে এতে হামজা যোগ করতে পারো, সেক্ষেত্রে 'মিম' বর্ণটিকে মূল বর্ণ হিসেবে গণ্য করতে হবে, কারণ এর বহুবচন হয় 'মুসুল'। ইয়াকুব ৫ পানির প্রবাহস্থল (মাসিল) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, এর বহুবচন হলো 'আমসিলাহ', 'মুসুল', 'মুসলান' এবং 'মাসায়িল'। তিনি বলেন: প্রবাহস্থলকে 'মাসাল'ও বলা হয় ৬। তাঁর এই উক্তি প্রমাণ করে যে 'মিম' বর্ণটি মূল বর্ণ, যেন এটি 'মাসাল ইয়ামসুলু' থেকে নির্গত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

জাওহারি ৭ বলেন: "পানির প্রবাহস্থল (মাসিল) হলো তার প্রবাহিত হওয়ার স্থান। এর বহুবচন হলো 'মাসায়িল'। এছাড়া এটি নিয়মবহির্ভূতভাবে (غير قياس) 'মুসুল', 'আমসিলাহ' ও 'মুসলান' হিসেবেও ব্যবহৃত হয়; কারণ 'মাসিল' শব্দটি 'মাফইল' ওজনের, আর 'মাফইল' ওজনের শব্দের বহুবচন সাধারণত এমন হয় না। তবে তারা এটিকে 'ফায়িল' ওজনের শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করেছে, যেমন তারা বলে: 'রাগিফ', 'রুগুফ', 'আরাগিফাহ' এবং 'রুগফান'। প্রবাহস্থলকে স্বরচিহ্নযুক্ত 'মাসাল'ও বলা হয়।"

--------------------------------------------

১ খিজানাতুল আদাব ৬/২৫১, শারহু আবইয়াতি মুগনিল লাবিব ৫/২১৬।

২ আওদাহুল মাসালিক ৪/৩৭৪, ইরতিশাফুদ দারাব ১/১২৮, শাইখ আম্মারা রচিত মুনজিদাতুত তালিবিন ৩৪।

৩ ইরতিশাফুদ দারাব ১/১২৮।

৪ আল-মুস্তাসিদ: যা লম্বা ও শক্তিশালী ঘাস। আল-কুরইয়ান: পানির নালা। হুওয়ুন: সবুজ বা গাঢ় বর্ণের।

৫ তিনি হলেন ইয়াকুব বিন ইসকিত (মৃত্যু ২৪৬ হিজরি), ইসলাহুল মানতিক গ্রন্থের রচয়িতা।

৬ ইবনুল ইসকিতের ইসলাহুল মানতিক ৩৭১।

৭ আস-সিহাহ (সিল অনুচ্ছেদ)।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৮)
(2) تثنية المركَّب

من شروط التثنية عدم التركيب، فلا يثنى المركّب تركيب إسناد ولا يجمع، نحو تأبط شراً.

وأما تركيب المزج كبعلبك وسيبويه، فالأكثر على منعه لعدم السماع.

وقال خطّاب في الترشيح 1: "فإن ثنيت على من جعل الإعراب في الآخر، قلت: معدي كربان ومعدي كريبين، وحضرموتان وحضرموتين أو على من أعرب إعراب المتضايفين قلت: حضْراموتٍ وحضرَي موتٍ. وقال في المختوم بويه: تلحقه العلامة بلا حذف نحو: سيبويهان وسيبويهون.

(3) في النسب إلى محذوف اللام

إذا كانت لام الكلمة تردّ في التثنية أو الإضافة أو الجمع بالألف والتاء، وجب ردّها عند النسب، نحو: أب أبوي، أخ أخوي، سنة سنوي أو سنهي، لأن لامها تردّ بالجمع بالألف والتاء، ولامها هاء في لغة أهل الحجاز، وواو عند غيرهم.

وإذا لم يثبت ردّ اللام في موضع من هذه المواضع فأنت في النسب مخير بين الردّ والترك. نحو: غد ويد، تقول: غديّ أو غدويّ، يدي أو يدويّ. وفي شفة تقول: شفيّ أو شفهيّ 2 قال أبو حيان 3: "ولم يذكر أبو البقاء العكبري في شفة إلا الردّ فتقول شفهي. وذكر خطّاب المارديّ فيها الوجهين".

قال ابن هشام بعد قوله: "شفيّ أو شفهيّ " 4: "قاله الجوهري وغيره، وقول ابن الخباز "إنه لم يسمع إلا شفهيّ بالردّ" لا يدفع ما قلناه، إن سلّمناه، فإن المسألة قياسية لا سماعية. ومن قال "إن لامها واو" فإنه يقول إذا ردّ: شفويّ. والصّواب ما قدمناه بدليل شافهت والشفاه.

(4) في النّسب إلى الكلمة الدالة على جماعة

ينسب إلى الكلمة الدالة على جماعة على لفظها إن أشبهت الواحد، بكونها اسم جمع له مفرد من لفظه أولا، فالأول كصحْبيّ ورَكْبيّ. والثاني كقوميّ ورهطيّ، ولا يردّ إلى مفرده في اللفظ، فلا يقال: صاحبيّ وراكبيّ. ولا إلى مفرده في المعنى فلا يقال: رجُليّ؛ لأن اسم

--------------------------------------------

1 ارتشاف الضرب 1/253، همع الهوامع 1/141.

2 ارتشاف الضرب 1/286، شرح المفصل لابن يعيش 6/2، التصريح 2/334.

3 ارتشاف الضرب 1/286.

4 أوضح المسالك 4/338.
(২) যৌগিক শব্দের দ্বিবচন রূপ

দ্বিবচন করার একটি শর্ত হলো শব্দটি যৌগিক (مركب) না হওয়া। সুতরাং ইসনাদি যৌগিক (تركيب إسناد) শব্দকে দ্বিবচন বা বহুবচন করা যায় না, যেমন: তায়াব্বাতা শাররান।

আর মিশ্র যৌগিক (تركيب المزج) শব্দের ক্ষেত্রে, যেমন: বালবাক্ক ও সিবাহওয়াইহি; শোনা না যাওয়ার (سماع) কারণে অধিকাংশ ভাষাবিদ একে দ্বিবচন করতে নিষেধ করেছেন।

খাত্তাব 'আত-তারশিহ' গ্রন্থে বলেছেন: "যদি আপনি সেই মতানুসারে দ্বিবচন করেন যারা শেষে ইরাব বা বিভক্তি (إعراب) প্রদান করে, তবে আপনি বলবেন: মা'দী কারবান ও মা'দী কারিবাইন এবং হাজরামাওতান ও হাজরামাওতাইন। অথবা যারা মুদাফ-মুদাফ ইলাইহ (متضايفين) এর ন্যায় ইরাব প্রদান করে তাদের মতানুসারে বলবেন: হাজরামাওতিন ও হাজরাই মাওতিন। আর 'ওয়াইহি' শব্দ দ্বারা সমাপ্ত শব্দের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: কোনো বিলোপ ছাড়াই দ্বিবচনের চিহ্ন যুক্ত হবে, যেমন: সিবাহওয়াইহানি ও সিবাহওয়াইহুনা।"

(৩) লাম-বর্ণ বিলুপ্ত শব্দের নিসবাহ প্রসঙ্গে

যদি শব্দের শেষ বর্ণটি অর্থাৎ লাম-বর্ণটি (لام الكلمة) দ্বিবচন, ইজাফাত (إضافة) অথবা আলিফ ও তা যোগে বহুবচনের সময় ফিরে আসে, তবে নিসবাহ (نسب) বা সম্বন্ধবাচক রূপ তৈরির সময়ও তা ফিরিয়ে আনা ওয়াজিব (واجب)। যেমন: আবু থেকে আবওয়ি, আখু থেকে আখওয়ি, সানাহ থেকে সানাওয়ি বা সানাহি; কারণ আলিফ ও তা যোগে বহুবচন করার সময় এর লাম-বর্ণটি ফিরে আসে। হিজাজবাসীদের ভাষায় এর লাম-বর্ণটি হলো 'হা' এবং অন্যদের নিকট তা হলো 'ওয়াও'।

আর যদি এই স্থানগুলোর কোনোটিতেই লাম-বর্ণটি ফিরে আসা প্রমাণিত না হয়, তবে নিসবাহর ক্ষেত্রে আপনি তা ফিরিয়ে আনা বা বর্জন করার মাঝে ইখতিয়ার (مخير) রাখেন। যেমন: গাদুন এবং ইয়াদুন; আপনি বলতে পারেন: গাদিয়্যুন অথবা গাদাওয়িয়্যুন, ইয়াদিয়্যুন অথবা ইয়াদাওয়িয়্যুন। শিফাহ শব্দের ক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন: শাফিয়্যুন অথবা শাফাহিয়্যুন। আবু হাইয়ান বলেছেন: "আবু আল-বাকা আল-উকবারি 'শিফাহ' শব্দের ক্ষেত্রে কেবল ফিরিয়ে আনার কথাই উল্লেখ করেছেন, তাই আপনি বলবেন শাফাহিয়্যুন। আর খাত্তাব আল-মারিদি এক্ষেত্রে উভয় পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন।"

ইবনে হিশাম তার উক্তি "শাফিয়্যুন অথবা শাফাহিয়্যুন"-এর পর বলেন: "আল-জাওহারি ও অন্যান্যরা এটি বলেছেন। আর ইবনে আল-খাব্বাজের উক্তি—'লাম-বর্ণ ফিরিয়ে দিয়ে শাফাহিয়্যুন ব্যতীত অন্য কিছু শোনা যায়নি'—আমাদের কথাকে নাকচ করে না। যদি আমরা তা মেনেও নিই, তবুও এই বিষয়টি কিয়াসি (قياسية) তথা নিয়মসিদ্ধ, সামা'য়ি (سماعية) বা কেবল শ্রুতিগত নয়। আর যারা বলেন যে এর লাম-বর্ণটি হলো 'ওয়াও', তারা বর্ণটি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বলেন: শাফাওয়িয়্যুন। তবে আমরা যা অগ্রগণ্য বলেছি সেটিই সঠিক, যার প্রমাণ হলো 'শাফাহতু' এবং 'আশ-শিফাহ'।"

(৪) সমষ্টিবাচক শব্দের নিসবাহ প্রসঙ্গে

সমষ্টিবাচক শব্দের নিসবাহ (نسب) এর মূল উচ্চারণ অনুযায়ী হবে যদি তা একবচনের সদৃশ হয়; অর্থাৎ এটি এমন ইসমু জাম' (اسم جمع) হয় যার মূল শব্দ থেকে একবচন আছে অথবা নেই। প্রথমটির উদাহরণ: সাহবিয়্যুন ও রাকবিয়্যুন। দ্বিতীয়টির উদাহরণ: কাওমিয়্যুন ও রাহতিয়্যুন। শব্দগত একবচনের দিকে একে ফিরিয়ে নেওয়া হয় না; সুতরাং সাহিবিয়্যুন বা রাকিবিয়্যুন বলা যাবে না। আবার অর্থগত একবচনের দিকেও ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না; তাই রাজুলিয়্যুন বলা যাবে না; কারণ ইসম...

--------------------------------------------

১. ইরতিনাশুদ দারাব ১/২৫৩, হামউল খাওয়াতি' ১/১৪১।

২. ইরতিনাশুদ দারাব ১/২৮৬, শারহুল মুফাসসাল লি ইবনি ইয়াইশ ৬/২, আত-তাসরিহ ২/৩৩৪।

৩. ইরতিনাশুদ দারাব ১/২৮৬।

৪. আওজাহুল মাসালিক ৪/৩৩৮।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২৯)
الجمع بمنزلة الفرد. أو بكونها اسم جنس كشجريّ. لا يقال يحتمل أن يكون منسوبا إلى مفرده وهو شجرة، وحذفت التاء كما في مكّي، لأنا نقول ليس الأمر كذلك، وإنما هو منسوب إلى الجماعة، بدليل قولهم في النسب إلى الشعّير شعيريّ، بإثبات الياء بعد العين. ولو كان منسوباً إلى الشَّعيرة لقيل شَعَريّ بحذف الياء المثناة تحت، لأن شعيرة فعيلة، وقياس فعيلة فعَليِّ، كفَرضيّ في فريضة. قاله خطّاب الماردي في الترشيح 1 (5) ما لا ينصرف للوصفية الأصلية ووزن الفعل

قال ابن مالك:

فالأدهمُ القيد لكونهِ وُضع … في الأصل وصفا انصرافه منع

قال المرادي 2: "أدهم للقيد، وأسود للحية، وأرقم لحية فيها نقط كالرقم، فهذه أوصاف في الأصل غلبت عليها الاسمية، وهي غير منصرفة نظراً إلى أصلها، وذكر سيبويه أن كل العرب لا تصرفها … "

قال سيبويه 3: "وأما أدهم إذا عنيت القيد، والأسود إذا عنيت به الحية، والأرقم إذا عنيت الحية، فإنك لا تصرفه في معرفة ولا نكرة، لم تختلف في ذلك العرب".

وفي الترشيح 4: "قولهم للقيد أدهم، وللحية أسود وأرقم، الأقيس ألا تصرف، لأنها صفات عند ابن النحاس. وقوله هذا يؤدي إلى ترك الصرف لغة فيها. وسيبويه يزعم أن العرب لم تختلف في ترك صرفها لأنها صفات". انتهى.

(6) دخول اللام في خبر إنَّ

قال ابن مالك:

وبعد ذات الكسر تصحبُ الخَبرْ … لامُ ابتداء نحو: إني لَوَزَرْ

ولا يلي ذي اللام ما قد نُفيا … ولا من الأفعال ما كرضيا

وقد يليها مع قد كـ "إنّ ذا … لقد سما على العدا واستحوذا"

--------------------------------------------

1 التصريح 1/336.

2 توضيح المقاصد والمسالك 4/125.

3 الكتاب 3/201.

4 ارتشاف الضرب 1/430-431.
বহুবচন একবচনের (فرد) মর্যাদাপ্রাপ্ত। অথবা এটি শ্রেণিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس) হওয়ার কারণে, যেমন: শাজারি (شجري)। এটি বলা যাবে না যে, এটি তার একবচন অর্থাৎ 'শাজারা' (شجرة) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (منسوب) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং 'মাক্কি' শব্দের মতো এখানেও 'তা' (تاء) বিলুপ্ত হয়েছে; কারণ আমরা বলি বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি সমষ্টির দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (منسوب), যার প্রমাণ হলো 'শাঈর' শব্দের নিসবত বা সম্বন্ধকরণের (نسبة) ক্ষেত্রে তাদের 'শাঈরি' (شعيري) উক্তিটি, যেখানে 'আইন'-এর পরে 'ইয়া' অক্ষরের উপস্থিতি বিদ্যমান। যদি এটি 'শাইরাহ' (شعيرة) শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (منسوب) হতো, তবে নিচের দুই নুক্তাওয়ালা 'ইয়া' বিলুপ্ত করে 'শাআরি' (شَعَريّ) বলা হতো। কারণ 'ফাইলাহ' (فعيلة) ওজনের নিসবত বা সম্বন্ধকরণের (نسبة) নিয়ম হলো 'ফায়ালি' (فعَليِّ), যেমন 'ফারিদাহ' (فريضة) থেকে 'ফারাদি' (فَرضيّ)। খাত্তাব আল-মারিদি তার আত-তারশিহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন ১। (৫) মূল বিশেষণমূলক গুণ (وصفية) এবং ক্রিয়ার ওজন (وزن الفعل) হওয়ার কারণে যা রূপান্তরহীন (ما لا ينصرف)。

ইবনে মালিক রহ. বলেছেন:

নিগড় বা বেড়ি অর্থে 'আদহাম' শব্দটি যেহেতু মূলগতভাবে বিশেষণ (وصف) হিসেবে গঠিত হয়েছিল, তাই এর রূপান্তর (صرف) নিষিদ্ধ করা হয়েছে …

আল-মুরাদি ২ বলেন: "বেড়ি বা নিগড় অর্থে 'আদহাম', সাপ অর্থে 'আসওয়াদ' এবং গায়ে নকশা বা ছাপ থাকা সাপ অর্থে 'আরকাম'—এগুলো মূলত বিশেষণ (وصف) ছিল যা পরবর্তীতে বিশেষ্য হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে। তবে তাদের মূল অবস্থার বিবেচনায় এগুলো রূপান্তরহীন (غير منصرف)। সিবওয়াইহি উল্লেখ করেছেন যে, সকল আরবই এগুলোর রূপান্তর (صرف) করে না …"

সিবওয়াইহি ৩ বলেন: "আর যখন আপনি 'আদহাম' দ্বারা বেড়ি, 'আসওয়াদ' দ্বারা সাপ এবং 'আরকাম' দ্বারা সাপ বোঝাবেন, তখন আপনি সেটিকে নির্দিষ্ট (معرفة) বা অনির্দিষ্ট (نكرة) কোনো অবস্থাতেই রূপান্তর (صرف) করবেন না। এ বিষয়ে আরবদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।"

আত-তারশিহ ৪ গ্রন্থে রয়েছে: "নিগড়ের জন্য 'আদহাম' এবং সাপের জন্য 'আসওয়াদ' ও 'আরকাম' শব্দগুলো রূপান্তর (صرف) না করাই অধিকতর নিয়মসম্মত; কারণ ইবনে আন-নাহাসের মতে এগুলো বিশেষণ (صفات)। তার এই উক্তিটি উক্ত শব্দগুলোতে রূপান্তর বর্জন করাকে একটি ভাষাগত রীতি হিসেবে গণ্য করে। আর সিবওয়াইহি দাবি করেন যে, আরবরা এগুলো রূপান্তর না করার বিষয়ে কোনো দ্বিমত করেনি, কারণ এগুলো বিশেষণ (صفات)।" সমাপ্ত।

(৬) ইন্না (إنَّ)-র খবরে (خبر) 'লাম' (لام)-এর প্রবেশ

ইবনে মালিক রহ. বলেছেন:

ইন্না-র নিচের কাসরাযুক্ত রূপের পর খবরের (خبر) সাথে প্রারম্ভিক লাম (لام ابتداء) যুক্ত হয়, যেমন: 'ইন্নি লা-ওয়াযার' …

যে খবরটি না-বোধক (منفي) কিংবা 'রাদিয়া'-র মতো ক্রিয়া (فعل), তার আগে এই 'লাম' যুক্ত হয় না …

তবে 'কাদ' (قد) যুক্ত ক্রিয়ার আগে এটি আসতে পারে, যেমন: 'ইন্না যা লা-কাদ সামা...' …

--------------------------------------------

১ আত-তাসরিহ ১/৩৩৬।

২ তাওদিহ আল-মাকাসিদ ওয়া আল-মাসালিক ৪/১২৫।

৩ আল-কিতাব ৩/২০১।

৪ ইরতিশাফ আদ-দারাব ১/৪৩০-৪৩১।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩০)
قال ابن هشام 1: "تدخل لام الابتداء بعد إن المكسورة على أربعة أشياء، أحدها: الخبر، وذلك بثلاثة شروط: كونه مؤخراً، ومثبتاً، وغير ماض، نحو: {إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ} 2 {وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ} 3. بخلاف {إِنَّ الله اصْطَفَى} 4. وأجاز الأخفش والفراء، وتبعهما ابن مالك: إن زيداً لقد قام، لشبه الماضي المقرون بقد بالمضارع لقربه زمانه من الحال. وليس جواز ذلك مخصوصاً بتقدير اللام للقسم لا للابتداء، خلافاً لصاحب الترشيح".

قال الشيخ خالد في شرحه 5: "وهو خطّاب المارديّ، حيث ذهب إلى منع دخول لام الابتداء على قد، وادّعى أن هذه اللام الداخلة عليها لام جواب القسم، والتقدير: إن زيداً والله لقد قام. ووافقه على ذلك محمد بن مسعود الغزني".

وقال السيوطي 6: "وذهب خطّاب بن يوسف المارديّ في الترشيح إلى أنها لا تدخل على الماضي مطلقاً، لا مع قد ولا خالياً عنها، لأنه ليس له معنى اسم الفاعل. قال: وما سمع من ذلك فاللام فيه للقسم، لا للابتداء".

قال خطّاب 7: "إن قلت: إن زيداً قام، أو قد قام لم يجز أن تدخل عليه اللام، لأن الفعل الماضي ليس له معنى اسم الفاعل، وهذا مما يضربُ عنه لدقته. ويجوز أن تقول: إن زيداً لقام، إذا جعلت اللام جواباً ليمين محذوفة، والمعنى: إن زيداً والله لقد قام. كما قال عز وجل: {لَقَدْ خَلَقْنَا الإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ} 8.

(7) هل تعدّ "لاسيّما" و"إلا أن يكون" من أدوات الاستثناء؟

قال السيوطي 9: "عدّ الكوفيون وجماعة من البصريين كالأخفش وأبي حاتم والفارسي والنحاس وابن مضاء من أدوات الاستثناء "لا سيّما". وقال خطّاب 10: وقد ألحق "لا سيّما"

--------------------------------------------

1 أوضح المسالك 1/344 وما بعدها.

2 سورة إبراهيم آية 39.

3 سورة النمل آية 74.

4 سورة آل عمران آية 23.

5 التصريح 1/223، توضيح المقاصد للمرادي 1/345، الجنى الداني 163، مغني اللبيب 252، شرح الأشموني مع الصبان 1/281.

6 همع الهوامع 2/174.

7 تذكرة النحاة 280.

8 سورة التين آية 4.

9 همع الهوامع 3/291.

10 تذكرة النحاة 298، ارتشاف الضرب 2/328.
ইবনে হিশাম ১ বলেন: "জেরযুক্ত 'ইন্না'-এর পরে 'লামুল ইবতিদা' (প্রারম্ভিক লাম) চারটি বিষয়ের ওপর যুক্ত হয়, যার একটি হলো: খবর (বিধেয়)। এটি তিনটি শর্তের ভিত্তিতে হয়: খবরটি শেষে আসা, ইতিবাচক হওয়া এবং অতীতকালীন ক্রিয়া না হওয়া। যেমন: {নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক প্রার্থনা শ্রবণকারী} ২ এবং {আর নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক অবশ্যই জানেন} ৩। এর বিপরীতে {নিশ্চয়ই আল্লাহ মনোনীত করেছেন} ৪। আল-আখফাশ ও আল-ফাররা জায়েজ বলেছেন এবং ইবনে মালিক তাঁদের অনুসরণ করেছেন: 'নিশ্চয়ই জায়েদ অবশ্যই দাঁড়িয়েছে' (ইন্না জাইদান লা-কাদ কমা); কারণ 'কাদ' যুক্ত অতীতকাল বর্তমান সময়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (মুদারে) সদৃশ। আর এটি জায়েজ হওয়া কেবল শপথের 'লাম' অনুমিত হওয়ার সাথে নির্দিষ্ট নয় যে তা প্রারম্ভিক 'লাম' হবে না, যা 'সাহিবুত তারশীহ'-এর মতের পরিপন্থী।"

শেখ খালিদ তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ৫ বলেন: "তিনি হলেন খাত্তাব আল-মারিদি, যিনি 'কাদ'-এর ওপর 'লামুল ইবতিদা' যুক্ত হওয়াকে নিষিদ্ধ মনে করতেন এবং দাবি করতেন যে, এখানে যুক্ত হওয়া লামটি হলো শপথের উত্তরের লাম। আর বাক্যটি হবে: 'নিশ্চয়ই জায়েদ, আল্লাহর শপথ, অবশ্যই দাঁড়িয়েছে'। মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ আল-গজনী এ বিষয়ে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।"

আস-সুয়ূতী ৬ বলেন: "খাত্তাব ইবনে ইউসুফ আল-মারিদি 'আত-তারশীহ' গ্রন্থে এই মত পোষণ করেছেন যে, 'লাম' কোনোভাবেই অতীতকালীন ক্রিয়ার ওপর যুক্ত হবে না—চাই তা 'কাদ' যুক্ত হোক বা না হোক; কারণ এতে কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (ইসমুল ফাঈল) অর্থ নেই। তিনি বলেন: এ ক্ষেত্রে যা কিছু শোনা গেছে, সেখানে 'লাম'টি শপথের জন্য, প্রারম্ভিকতার (ইবতিদা) জন্য নয়।"

খাত্তাব ৭ বলেন: "যদি আপনি বলেন: 'ইন্না জাইদান কমা' অথবা 'কাদ কমা', তবে তার ওপর 'লাম' যুক্ত করা জায়েজ হবে না। কারণ অতীতকালীন ক্রিয়ার মধ্যে কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (ইসমুল ফাঈল) অর্থ থাকে না, আর অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ার কারণে এটি বর্জন করা হয়। তবে আপনি বলতে পারেন: 'ইন্না জাইদান লা-কমা', যদি আপনি এই 'লাম'টিকে একটি উহ্য শপথের উত্তর হিসেবে গণ্য করেন। এর অর্থ হবে: 'নিশ্চয়ই জায়েদ, আল্লাহর শপথ, অবশ্যই দাঁড়িয়েছে'। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে} ৮।"

(৭) 'লা-সিয়্যামা' এবং 'ইল্লা আন ইয়াকুনা' কি ব্যতিরেকজ্ঞাপক অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে?

আস-সুয়ূতী ৯ বলেন: "কুফিবাসীগণ এবং আল-আখফাশ, আবু হাতিম, আল-ফারিসি, আন-নাহহাস ও ইবনে মাদা-এর মতো বসরাবাসীদের একটি দল 'লা-সিয়্যামা'-কে ব্যতিরেকজ্ঞাপক অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। খাত্তাব ১০ বলেন: আর 'লা-সিয়্যামা'-কে সংযুক্ত করা হয়েছে..."

--------------------------------------------

১ আউদ্বাহুল মাসালিক ১/৩৪৪ এবং পরবর্তী অংশ।

২ সূরা ইবরাহিম, আয়াত ৩৯।

৩ সূরা আন-নামল, আয়াত ৭৪।

৪ সূরা আল ইমরান, আয়াত ২৩।

৫ আত-তাসরীহ ১/২২৩, আল-মুরাদির তাওদ্বীহুল মাকাসিদ ১/৩৪৫, আল-জানা আদ-দানী ১৬৩, মুগনিল লাবীব ২৫২, সাব্বানের টীকাসহ শারহুল আশমুনি ১/২৮১।

৬ হামউল হাওয়ামি' ২/১৭৪।

৭ তাজকিরাতুন নুহাওয়াত ২৮০।

৮ সূরা আত-তীন, আয়াত ৪।

৯ হামউল হাওয়ামি' ৩/২৯১।

১০ তাজকিরাতুন নুহাওয়াত ২৯৮, আরতিশাফুদ দারাব ২/৩২৮।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩১)
بحروف الاستثناء جماعة من النحويين، منهم الأخفش وأبو حاتم وابن النحاس. وأضرب عن ذكرها في باب الاستثناء سيبويه والمبرّد. وما أرى لإلحاقها في باب الاستثناء وجهاً، لأنك إذا قلت: جاءني القوم ولاسيما زيدٌ؛ فمعناه: ولامثل زيد فيمن جاءني، فكأنك قلت: لا يأتي مثل زيد، فإنما نفيت أن يكون أحد ممن جاءك شبهاً لزيد، ولعل زيداً قد جاءك أو لم يأتك".

وقال خطّاب 1: "ورأيت جماعة من النحويين ألحقوا "إلا أن يكون" في عدد حروف الاستثناء، وليس لها فيه حظ، وإنما حرف الاستثناء إلاّ ".

(8) المنادى المضاف إلى ياء المتكلّم

المنادى المضاف إلى ياء المتكلم إذا كان صحيح الآخر، نحو: يا غلامي، جاز فيه ست لغات.

قال ابن هشام 2: "فالأكثر حذف الياء والاكتفاء بالكسر نحو: {يَا عِبَادِ فَاتَّقُونِ} 3.ثم ثبوتها ساكنة نحو: {يَا عِبَادِ لا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ} 4. أو مفتوحة نحو: {يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا} 5. ثم قلب الكسرة فتحة والياء ألفا نحو: {يا حسرتا} 6. وأجاز الأخفش حذف الألف والاجتزاء بالفتحة، كقوله:

بِلَهْفَ ولا بِلَيْتَ ولا لو انّي

أصله بقولي: يا لَهْفَ. َ

ومنهم من يكتفي من الإضافة بنيتها، ويضم الاسم، كما تُضم المفردات وإنما يفعل ذلك فيما يكثر فيه ألاّ ينادَى إلاّ مضافاً، كقول بعضهم: يا أمُّ لا تفعلي، وقراءة آخر: {ربُّ السجنُ أحبُّ إليّ} 7.

قال خطّاب المارديّ عن هذه اللغة الأخيرة 8: "والخامسة قليلة رديئة، وهي: يا غلامُ

--------------------------------------------

1 تذكرة النحاة 296.

2 أوضح المسالك 4/37.

3 سورة الزمر آية 16.

4 سورة الزخرف آية 68.

5 سورة الزمر آية 53.

6 سورة الزمر آية 56.

7 سورة يوسف آية 33.

8 ارتشاف الضرب 2/539.
একদল ব্যাকরণবিদ (النحويين) একে 'ব্যতিক্রমবাচক হরফ' (حروف الاستثناء) সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে আল-আখফাশ, আবু হাতিম এবং ইবনুন নাহহাস অন্যতম। অন্যদিকে সিবওয়াইহি এবং মুবাররাদ একে 'ব্যব্যতিক্রম অধ্যায়' (باب الاستثناء)-এ উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন। আমি একে 'ব্যতিক্রম অধ্যায়' (باب الاستثناء)-এর অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যুক্তি দেখি না। কারণ যখন আপনি বলেন: 'লোকেরা আমার কাছে এসেছে, বিশেষ করে জায়েদ'; এর অর্থ হলো: যারা আমার কাছে এসেছে তাদের মধ্যে জায়েদের মতো কেউ নেই। যেন আপনি বলছেন: জায়েদের মতো কেউ আসে না। আপনি মূলত আপনার কাছে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ জায়েদের সদৃশ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন, অথচ জায়েদ আপনার কাছে এসে থাকতে পারে অথবা নাও এসে থাকতে পারে।"

খাত্তাব ১ বলেন: "আমি একদল ব্যাকরণবিদকে (النحويين) দেখেছি যারা 'ব্যতিক্রমবাচক হরফ' (حروف الاستثناء)-এর সংখ্যার মধ্যে 'ইল্লা আন ইয়াকুনা' (إلا أن يكون)-কে যুক্ত করেছেন, অথচ এতে এর কোনো স্থান নেই। মূলত 'ব্যব্যতিক্রমবাচক হরফ' (حرف الاستثناء) হলো কেবল 'ইল্লা' (إلا)।"

(৮) ইয়া-এ মুতাকাল্লিম (উত্তম পুরুষের সর্বনাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত সম্বোধন পদ (المنادى المضاف إلى ياء المتكلّم)

ইয়া-এ মুতাকাল্লিম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত সম্বোধন পদ (المنادى المضاف إلى ياء المتكلّم) যদি শেষে সঠিক বর্ণ (صحيح الآخر) বিশিষ্ট হয়, যেমন: 'ইয়া গুলামি', তবে এতে ছয়টি রীতি (لغات) বৈধ আছে।

ইবনে হিশাম ২ বলেন: "সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রীতি হলো 'ইয়া' বিলুপ্ত করা এবং নিচের জের বা কাসরাহ (الكسر) দিয়েই তুষ্ট থাকা, যেমন: {হে আমার বান্দারা, তোমরা আমাকে ভয় করো} ৩। অতঃপর সাকিন অবস্থায় ইয়া বহাল রাখা, যেমন: {হে আমার বান্দারা, তোমাদের কোনো ভয় নেই} ৪। অথবা জবর বা ফাতহা (مفتوحة) যুক্ত অবস্থায় রাখা, যেমন: {হে আমার ঐসব বান্দারা যারা সীমালঙ্ঘন করেছ} ৫। এরপর কাসরাহ-কে ফাতহা এবং ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা, যেমন: {হায় আফসোস!} ৬। আল-আখফাশ আলিফ বিলুপ্ত করা এবং ফাতহা বা জবর (الفتحة) দ্বারা তুষ্ট থাকাকে বৈধ বলেছেন, যেমন কবির উক্তি:

বি লাহফা ওয়া লা বি লাইতা ওয়া লা লু আন্নি

এর মূল ছিল: 'ইয়া লাহফা'।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ সম্বন্ধের (الإضافة) কেবল নিয়ত রেখেই তুষ্ট থাকেন এবং বিশেষ্য পদটিকে পেশ বা দম্মাহ (يضم) প্রদান করেন, যেভাবে একক শব্দসমূহকে (المفردات) পেশ প্রদান করা হয়। এটি কেবল সেসব ক্ষেত্রেই করা হয় যেখানে সাধারণত সম্বন্ধযুক্ত (مضافاً) হওয়া ব্যতীত সম্বোধন করা হয় না। যেমন কারও উক্তি: 'ইয়া উম্মু লা তাফয়ালি', এবং অন্য একজনের কিরাত: {হে আমার পালনকর্তা, কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়} ৭।

খাত্তাব আল-মারদিনি এই সর্বশেষ রীতি (اللغة) সম্পর্কে বলেন ৮: "পঞ্চমটি অত্যন্ত বিরল ও নিকৃষ্ট (رديئة), আর তা হলো: 'ইয়া গুলামু'"

--------------------------------------------

১ তাযকিরাতুন নুহাত ২৯৬।

২ আওযাহুল মাসালিক ৪/৩৭।

৩ সূরা আয-জুমার আয়াত ১৬।

৪ সূরা আয-জুখরুফ আয়াত ৬৮।

৫ সূরা আয-জুমার আয়াত ৫৩।

৬ সূরা আয-জুমার আয়াত ৫৬।

৭ সূরা ইউসুফ আয়াত ৩৩।

৮ ইরতিশাফুদ দারব ২/৫৩৯।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩২)
بحذف الياء وبضم الميم، وأنت تريد يا غلامي. وهذا قبيح لأنه يلتبس المضاف بغيره كقولك: يا غلامُ، إذا أردت يا أيها الغلام، وهذه لغة ذكرها أبو القاسم الزجاجي 1، ولم ينص عليها بالضم، ولكن بعض شيوخنا كان يرويه بالضم، وذلك لا يصحّ. والصواب يا غلامَ بالفتح، فحذف الألف المنقلبة عن الياء، كما حذف الياء من غلامي، وهي قليلة لأن الألف خفيفة والياء ثقيلة، فجاز حذف الياء، وقبح حذف الألف. انتهى.

فخطاب يضعّف لغة الضم، ويصفها بأنها قليلة رديئة قبيحة، بله يخطئها، ويصوّب أن تكون بالفتح، مع أن لغة الفتح عنده قليلة أيضاً.

ولكن لغة الضم التي أنكرها خطاب أجازها بعض النحاة بشرط أمن اللبس، أي ألاّ تستعمل إلا فيما يكثر فيه النداء بالإضافة.

قال أبو حيان 2: "وأقلُّها: يا غلامُ، وقال الأستاذ أبو علي: "وهذا إذا لم يلبس، يعني بالمنادى المقبل عليه"، وقال ابن هشام اللخمي: "يا غلامُ أقبل، لا يجوز على مذهب الجماعة، إنما أجاز سيبويه الضم فيما يراد فيه الإضافة، فيما كثر حتى إذا ضممته علم أن المراد فيه الإضافة".

(9) بدل الاشتمال

اختلف النحاة في المشتمل في بدل الاشتمال على أقوال 3:

ذهب الفارسي في أحد قوليه، والرماني في أحد قوليه، وخطّاب المارديّ إلى أن الأول مشثمل على الثاني. قال خطّاب: "ولا يجوز: سرّني زيدٌ داره، ولا أعجبني زيدّ فرسه، ولا رأيتُ زيداً فرسه. ويجوز: سرّني زيدٌ ثوبُه، وسرَّني زيدٌ قلنسوتُه، لأن الثوب يتضمنه جسده.

وذهب الفارسي في الحجة إلى أن الثّاني مشتمل على الأول نحو: سُرق زيدٌ ثوبُه.

وذهب المبرّد والسيرافي وابن جني والرماني في أحد قوليه وابن الباذش وابن أبي العافية وابن الأبرش إلى أن المعنى المسند إلى المبدل، فيكون إسناده إلى الأول

--------------------------------------------

1 قال الزجاجي في كتابه الجمل 160: "ومن العرب من يقول: يا غلامُ أقبل".

2 ارتشاف الضرب 2/538-539.

3 ارتشاف الضرب 2/624. وانظر هذه المسألة في كتاب ابن الباذش النحوي للدكتور دردير ص 98 وما بعدها.
ইয়া (ياء) বিলোপ করে এবং মিম (ميم) বর্ণে পেশ যোগ করে, যখন আপনি 'ইয়া গুলামী' (হে আমার কিশোর) বলতে চান। এটি অশোভন, কারণ এতে মুদাফ (অন্বিত শব্দ) অন্য শব্দের সাথে বিভ্রান্তি তৈরি করে। যেমন আপনার উক্তি: 'ইয়া গুলামু', যখন আপনি 'হে কিশোর' (ইয়া আইয়ুহাল গুলাম) উদ্দেশ্য করেন। এটি একটি ভাষাগত রীতি যা আবু আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি পেশ দিয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেননি। কিন্তু আমাদের কিছু শায়খ এটি পেশ সহযোগে বর্ণনা (يرويه) করতেন, যা সঠিক বা সহিহ (يصحّ) নয়। বরং সঠিক (الصواب) হলো জবরের সাথে 'ইয়া গুলামা' বলা; এখানে ইয়া থেকে পরিবর্তিত আলিফটি বিলোপ করা হয়েছে, যেমন 'গুলামী' থেকে ইয়া বিলোপ করা হয়। এই প্রয়োগটি বিরল, কারণ আলিফ হলো হালকা এবং ইয়া হলো ভারী; তাই ইয়া বিলোপ করা জায়েজ হলেও আলিফ বিলোপ করা অশোভন। সমাপ্ত।

সুতরাং খাত্তাব পেশের ব্যবহারকে দুর্বল (يضعّف) সাব্যস্ত করেছেন এবং একে বিরল, নিকৃষ্ট ও অশোভন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এমনকি তিনি একে ভুল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জবরের ব্যবহারকে সঠিক (يصوّب) বলেছেন, যদিও তার মতে জবরের ব্যবহারটিও বিরল।

তবে পেশের যে রীতিটিকে খাত্তাব অস্বীকার করেছেন, কিছু ব্যাকরণবিদ একে বৈধ বলেছেন এই শর্তে যে, যদি কোনো বিভ্রান্তির আশঙ্কা না থাকে। অর্থাৎ, এটি কেবল সেখানেই ব্যবহৃত হবে যেখানে ইদাফাত বা সম্বন্ধযুক্ত আহ্বানের অধিক প্রচলন রয়েছে।

আবু হাইয়্যান বলেছেন: "এর মধ্যে সবচেয়ে কম প্রচলিত হলো: ইয়া গুলামু।" উস্তাদ আবু আলী বলেছেন: "এটি তখনই প্রযোজ্য যখন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় না, অর্থাৎ যার দিকে মুখ করে আহ্বান জানানো হচ্ছে তার ক্ষেত্রে।" ইবনে হিশাম আল-লাখমি বলেছেন: "'ইয়া গুলামু আকবিল' বলা জুমহুর বা সংখ্যাগুরু (الجماعة) পণ্ডিতদের মতানুসারে জায়েজ নয়। সিবাওয়াই কেবল সেই ক্ষেত্রে পেশ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যেখানে ইদাফাত উদ্দেশ্য থাকে এবং তা এতোটাই প্রচলিত হয় যে, পেশ দেখলেই বোঝা যায় সেখানে ইদাফাত উদ্দেশ্য করা হয়েছে।"

(9) বদল আল-ইশতিমাল

বদল আল-ইশতিমাল (অন্তর্ভুক্তিবাচক স্থলাভিষিক্ত) এর অন্তর্ভুক্তকারী বিষয় নিয়ে ব্যাকরণবিদদের মাঝে বিভিন্ন মত (أقوال) রয়েছে:

আল-ফারিসি তার দুই মতের একটিতে, আর-রুমানি তার এক মতে এবং খাত্তাব আল-মারদিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, প্রথম বিষয়টি দ্বিতীয় বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। খাত্তাব বলেছেন: "সা-রাননী যাইদুন দারুহু (যাইদের বাড়িটি আমাকে আনন্দিত করেছে), আ'জাবানি যাইদুন ফারাসুহু (যাইদের ঘোড়াটি আমাকে মুগ্ধ করেছে) বা রাইতু যাইদান ফারাসাহু (আমি যাইদকে ও তার ঘোড়াকে দেখেছি) বলা জায়েজ নয়। তবে 'সা-রাননী যাইদুন সাওবুহু' (যাইদের কাপড়টি আমাকে আনন্দিত করেছে) বা 'সা-রাননী যাইদুন কালানসুয়াতুহু' (যাইদের টুপিটি আমাকে আনন্দিত করেছে) বলা জায়েজ, কারণ কাপড় তার শরীরকে পরিবেষ্টন বা অন্তর্ভুক্ত করে রাখে।"

আল-ফারিসি 'আল-হাজ্জাহ' গ্রন্থে এই মত দিয়েছেন যে, দ্বিতীয়টি প্রথমটিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: 'সুরিফা যাইদুন সাওবুহু' (যাইদের কাপড় চুরি হয়েছে)।

আল-মুবররাদ, আস-সিরাফি, ইবনে জিন্নি, আর-রুমানি (তার এক মতে), ইবনে আল-বাযিশ, ইবনে আবিল আফিয়া এবং ইবনে আল-আবরাশ এই মত পোষণ করেছেন যে, অর্থটি মুবদাল (স্থলাভিষিক্তকৃত)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, ফলে এর সম্বন্ধ হয় প্রথমটির দিকে।

--------------------------------------------

১ আল-জাজ্জাজি তার বই আল-জুমাল-এর ১৬০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আরবদের কেউ কেউ বলে: ইয়া গুলামু আকবিল।"

২ ইরতিশাফ আদ-দারাব ২/৫৩৮-৫৩৯।

৩ ইরতিশাফ আদ-দারাব ২/৬২৪। ডক্টর দারদীরের কিতাব ইবনে আল-বাযিশ আন-নাহবি-এর ৯৮ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
مجازا، وإلى الثاني حقيقة، إذ المسلوب في الحقيقة هو الثوب لا الرجل، والمعجب هو العِلم لا زيد.

(10) أسلوب نعم وبئس

يجوز في الفصيح "نِعْمَ الفتاةُ" في المدح، و "بئس الفتاة" في الذم بترك التاء فيهما، لأن المراد بالفتاة فيهما الجنس، وهو مؤنث مجازي.

وأل في الفتاة جنسية، خلافا لمن زعم أنها عهدية، ومع كون الحذف حسناً الإثبات أحسن منه 1.

وفصّل خطّاب في الترشيح فقال 2: "يجوز نعم الجارية، والأحسن التاء، وتقول: بئست المرأتان أختاك، وبئس المرأتان، وبئس النساء أخواتك، وبئست، إلاّ أن ترك التأنيث في الجماعة أحسن منه في الواحد والاثنين، وقد يجوز: نِعْمَ الزيدُ زيدُ بن حارثة، ونِعْم العمر عمر بن الخطاب، لأنك أردت واحداً من جماعة فصار جيداً حسنا لكل من له هذا الاسم، وكل معنى لا نظير له، ولا هو واحد من جنس يشركه في اسمه فلا يجوز وقوع نعم وبئس عليه، ولو قلت: نعمت الشمس هذه، ونعم القمر هذا، لم يجز من حيث جاز نعم الرجل، فلو قلت: نعم الشمس هند، ونعم القمرُ زيدٌ، جاز على التشبيه، ولو قلت: نعم القمرُ ما يكون لأربع عشرة، ونعمت الشمس شمس السعود جاز، لأنك أردت تفصيل أحوالها، كما تقول: هذه الشمس حارة وهذه الشمس باردة…".

(11) أسلوب حبذا

يقال في المدح: "حبذا"، ويقال في الذم: "لا حبذا".

وقد اختلف في هذا التركيب "حبذا زيدٌ" على أقوال:

فمذهب سيبويه أن "حبّ" فعل، و"ذا" فاعل، وأنهما باقيان على أصلهما، وقيل: ركّبا وغلّبت الفعلية لتقدم الفعل، فصار الجميع فعلاً، وما بعده فاعل، وقيل: ركّبا وغُلبت الاسمية لشرف الاسم، فصار الجميع اسماً مبتدأ وما بعده خبر، ولا يتغير "ذا" عن الإفراد والتذكير، لأن ذلك كلام جرى مجرى المثل 3.

--------------------------------------------

1 شرح الأشموني 2/55.

2 تذكرة النحاة 285-286، ارتشاف الضرب 3/17.

3 أوضح المسالك 3/284-285.
রূপকভাবে (مجازا), এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে (حقيقة), কারণ প্রকৃতপক্ষে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তা হলো পোশাক, ব্যক্তি নয়; আর যা মুগ্ধ করেছে তা হলো জ্ঞান, যায়েদ নয়।

(১০) ‘নি’মা’ (نعم) এবং ‘বি’সা’ (بئس) এর প্রয়োগ পদ্ধতি

প্রাঞ্জল (فصيح) ভাষায় প্রশংসার (مدح) ক্ষেত্রে 'নি’মা আল-ফাতাতু' এবং নিন্দার (ذم) ক্ষেত্রে 'বি’সা আল-ফাতাতু' বলা জায়েজ, উভয় ক্ষেত্রে ‘তা’ (تاء) বর্জন করে। কারণ উভয় ক্ষেত্রে ‘আল-ফাতাতু’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাতি বা শ্রেণি, আর তা হলো রূপক স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث مجازي)।

আর 'আল-ফাতাতু' শব্দের ‘আল’ (ال) হলো জাতিবাচক (جنسية), তাদের মতের বিপরীতে যারা মনে করেন যে এটি পরিচিতিবাচক (عهدية)। বর্জন করাটি উত্তম (حسن) হলেও, তা বহাল রাখা এর চেয়েও বেশি উত্তম (أحسن) ১।

খাত্তাব 'আত-তারশিহ' গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেছেন ২: "'নি’মা আল-জারিইয়াতু' বলা জায়েজ, তবে ‘তা’ (تاء) যুক্ত করাই অধিকতর উত্তম। আর আপনি বলবেন: 'বি’সাতিল মার’আতানি উখতাকা', 'বি’সাল মার’আতানি', 'বি’সান নিসাউ আখাওয়াতুকা' এবং 'বি’সাত'; তবে বহুবচনের ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্ন বর্জন করা একবচন ও দ্বিবচনের তুলনায় অধিকতর উত্তম (أحسن)। এবং কখনো জায়েজ হতে পারে: 'নি’মা আয-যায়েদু যায়েদ বিন হারিসাহ' এবং 'নি’মা আল-উমরু উমর বিন আল-খাত্তাব', কারণ আপনি একটি গোষ্ঠী থেকে একজনকে উদ্দেশ্য করেছেন, ফলে এই নামটি যারই আছে তার জন্য এটি সঠিক ও উত্তম (حسن) হয়েছে। আর এমন প্রতিটি অর্থ যার কোনো নজির নেই, অথবা সেটি এমন কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয় যার নামে অন্যরা অংশীদার হয়, তবে সেখানে ‘নি’মা’ এবং ‘বি’সা’ এর প্রয়োগ জায়েজ হবে না। আর আপনি যদি বলেন: 'নি’মাতিশ শামসু হাজিহি' এবং 'নি’মাল কামারু হাজা', তবে তা 'নি’মার রাজুলু' জায়েজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি আপনি বলেন: 'নি’মাতিশ শামসু হিন্দুন' এবং 'নি’মাল কামারু যায়দুন', তবে তা উপমার (تشبيه) ভিত্তিতে জায়েজ হবে। আর যদি আপনি বলেন: 'নি’মাল কামারু' যা চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমা হয় এবং 'নি’মাতিশ শামসু' যা সৌভাগ্যের সূর্য, তবে তা জায়েজ হবে; কারণ আপনি এর অবস্থার বিবরণ দিতে চেয়েছেন, যেমন আপনি বলেন: 'এই সূর্যটি উত্তপ্ত' এবং 'এই সূর্যটি শীতল'..."।

(১১) ‘হাব্বাযা’ (حبذا) এর প্রয়োগ পদ্ধতি

প্রশংসার (مدح) ক্ষেত্রে ‘হাব্বাযা’ বলা হয় এবং নিন্দার (ذم) ক্ষেত্রে ‘লা হাব্বাযা’ বলা হয়।

'হাব্বাযা যায়েদুন' এই বাক্য গঠন নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে:

সিবওয়াইহ-এর মাযহাব হলো ‘হাব্বা’ হলো ক্রিয়া (فعل) এবং ‘যা’ হলো কর্তা (فاعل), এবং উভয়ই তাদের মূল অবস্থায় বহাল আছে। আবার বলা হয়ে থাকে: উভয়কে একত্রিত করা হয়েছে এবং ক্রিয়া আগে আসার কারণে ক্রিয়াবাচক রূপটিই (فعلية) প্রাধান্য পেয়েছে, ফলে সম্পূর্ণ অংশটি ক্রিয়া (فعل) হয়ে গেছে এবং পরবর্তী শব্দটি কর্তা (فاعل) হয়েছে। আবার বলা হয়ে থাকে: উভয়কে একত্রিত করা হয়েছে এবং বিশেষ্যের মর্যাদার কারণে বিশেষ্যবাচক রূপটিই (اسمية) প্রাধান্য পেয়েছে, ফলে সম্পূর্ণ অংশটি বিশেষ্য হিসেবে উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং পরবর্তী অংশটি বিধেয় (خبر) হয়েছে। আর ‘যা’ শব্দটি একবচন (إفراد) এবং পুংলিঙ্গ (تذكير) থেকে পরিবর্তিত হবে না, কারণ এই কথাটি প্রবাদের (مثل) মতো প্রচলিত হয়ে গেছে ৩।

--------------------------------------------

১ আশমুনির ব্যাখ্যা ২/৫৫।

২ তাজকিরাতুন নুহাওয়াত ২৮৫-২৮৬, ইরতিশাফুদ দারব ৩/১৭।

৩ আওযাহুল মাসালিক ৩/২৮৪-২৮৫।
(খণ্ড: ১) খিতাবুল মারিদী ওয়া মানহাজুহু ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
فهذه ثلاثة أقوال. ذهب قوم منهم الأخفش وخطّاب المارديّ إلى القول الثاني منها. أي أن حبّ تركبت مع ذا وصار فعلاً، والمخصوص هو الفاعل 1.

قال خطّاب في الترشيح 2: "ومن زعم أن زيداً بدل من "ذا" لزمه أن يقول: حبذان الزيدان، وحبذه هندو وهذا لم يقله أحد علمناه، ولكن تقول: (حبذا أخوك، وحبذا أخواك، وحبذا إخوتك، وحبذا أخواتك، وحبذا النساء الحسان) . فهذا كلّه فاعل مرفوع بحبّذا، وهذا على لفظ واحد في ذلك كله، لأنه صار كالمثل … "

قال ابن عقيل 3: "وردّ بعدم النظير، فلم يركب فعل من فعل واسم، وبأنه دعوى بلا دليل".

واختلف النحاة أيضاً في الاسم المنصوب بعد حبذا 4، نحو قولك: حبذا زيد رجلاً. فذهب الأخفش والفارسي والربعي وخطّاب وجماعة من البصريين إلى أنه منصوب على الحال لا غير، سواء أكان جامدا أم مشتقاً.

وأجاز الكوفيون وبعض البصريين نصبه على التمييز …

(12) أسلوب التعجب

للتعجب صيغتان قياسيتان هما (ما أفعَلَه) نحو: ما أحسنَ زيداً! (وأَفْعِل به) نحو: أَحْسِنْ بزيدٍ.

ويبنى هذان الفعلان مما اجتمعت فيه ثمانية شروط 5، وهي: أن يكون فعلاً، ثلاثياً، متصرفاً، قابلا للتفاضل، غير مبني للمفعول، تاماً، مثبتاً، وليس الوصف منه على وزن أَفَعْل.

وفيه مسائل تتعلق بآراء خطّاب:

المسألة الأولى:

يشترط فيما يصاغ منه فعلا التعجب أن يكون ثلاثياً، فلا يبنيان من دحرج وضارب واستخرج. إلا ما كان على وزن (أَفْعَلَ) فقيل: يجوز مطلقاً، وقيل: يمتنع مطلقاً، وقيل: يجوز

--------------------------------------------

1 ارتشاف الضرب 3/29.

2 تذكرة النحاة 285.

3 المساعد على تسهيل الفوائد 2/142.

4 تذكرة النحاة 285، ارتشاف الضرب 3/30.

5 أوضح المسالك 3/265، وما بعدها. شرح الأشموني 3/22.
এগুলো হলো তিনটি অভিমত (قول)। আল-আখফাশ ও খাত্তাব আল-মারিদিসহ একদল আলেম এগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অভিমতটি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, 'হাব্বা' শব্দটি 'যা'-এর সাথে মিলে একটি ক্রিয়া (فعل) হয়েছে এবং নির্দিষ্ট বিষয়টি (المخصوص) হলো কর্তা (فاعل) ১।

খাত্তাব 'আত-তারশিহ' ২ গ্রন্থে বলেছেন: "যে ব্যক্তি মনে করে যে 'যাইদ' শব্দটি 'যা' (ذا) থেকে স্থলাভিষিক্ত (بدل), তার জন্য এটি বলা আবশ্যক হয়ে পড়বে যে: 'হাব্বাযানি আয-যাইদানি' এবং 'হাব্বাযাহু হিন্দুন'; অথচ আমাদের জানামতে এমন কথা কেউ বলেননি। বরং আপনি বলবেন: (হাব্বাযা আখুকা, হাব্বাযা আখাওয়াকা, হাব্বাযা ইখওয়াতুকা, হাব্বাযা আখাওয়াতুকা, হাব্বাযা আন-নিসাউল হিসান)। সুতরাং এগুলোর সবই 'হাব্বাযা' যোগে মারফু (مرفوع) হওয়া কর্তা (فاعل), এবং এটি সব ক্ষেত্রে একই শব্দরূপে থাকে, কারণ এটি প্রবাদের মতো হয়ে গেছে … "

ইবন আকিল ৩ বলেছেন: "অনুরূপ উদাহরণের অভাবের কারণে এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কেননা ক্রিয়া ও বিশেষ্য মিলে কোনো ক্রিয়া গঠিত হয়নি এবং এটি একটি দলীলবিহীন দাবি।"

ব্যাকরণবিদগণ 'হাব্বাযা'-এর পরবর্তী মানসুব (منصوب) বিশেষ্য নিয়ে ৪ মতভেদ করেছেন, যেমন আপনার কথা: 'হাব্বাযা যাইদুন রাজুলান'। আল-আখফাশ, আল-ফারিসি, আর-রাবায়ি, খাত্তাব এবং একদল বাসরাবাসী আলেমের অভিমত হলো যে, এটি অবস্থা (حال) হিসেবে মানসুব (منصوب) হয়েছে অন্য কিছু নয়; সেটি স্থির (جامد) হোক বা বুৎপন্ন (مشتق) হোক।

কুফাবাসী এবং কিছু বাসরাবাসী আলেম একে প্রভেদক (تمييز) হিসেবে মানসুব (منصوب) করার অনুমতি দিয়েছেন …

(১২) বিস্ময়সূচক রীতি

বিস্ময় প্রকাশের দুটি মূল কাঠামো (قياسي) রয়েছে, তা হলো (মা আফয়ালাহু - ما أفعَلَه) যেমন: 'মা আহসান যাইদান!' এবং (আফয়িল বিহি - وأَفْعِل به) যেমন: 'আহসিন বি-যাইদিন'।

এই দুটি ক্রিয়া (فعل) এমন শব্দ থেকে গঠিত হয় যাতে আটটি শর্ত ৫ বিদ্যমান থাকে, সেগুলো হলো: সেটিকে ক্রিয়া (فعل) হতে হবে, ত্রিমাত্রিক (ثلاثي) হতে হবে, রূপান্তরযোগ্য (متصرف) হতে হবে, তারতম্যযোগ্য হতে হবে, কর্মবাচ্যের ক্রিয়া (مبني للمفعول) হওয়া যাবে না, পূর্ণাঙ্গ (تام) হতে হবে, ইতিবাচক (مثبت) হতে হবে এবং এর বিশেষণ 'আফআল' ওজনে হওয়া যাবে না।

এতে খাত্তাবের মতামতের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা:

বিস্ময়সূচক ক্রিয়া যেখান থেকে গঠিত হবে সেটির জন্য ত্রিমাত্রিক (ثلاثي) হওয়া শর্ত, তাই 'দাহরাজা', 'দরাবা' ও 'ইস্তাখরাজা' থেকে এগুলো গঠিত হবে না। তবে যেগুলো 'আফআলা' (أَفْعَلَ) ওজনে আসে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: এটি সাধারণভাবে জায়েয, আবার বলা হয়েছে: এটি সাধারণভাবে নিষিদ্ধ, এবং আরও বলা হয়েছে: এটি জায়েয

--------------------------------------------

১ ইরতিলশাফুদ দারাব ৩/২৯।

২ তাযকিরাতুন নুহাত ২৮৫।

৩ আল-মুসায়িদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ ২/১৪২।

৪ তাযকিরাতুন নুহাত ২৮৫, ইরতিলশাফুদ দারাব ৩/৩০।

৫ আওদাহুল মাসালিক ৩/২৬৫ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা; শারহুল আশমুনি ৩/২২।