(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: -)
حكم القراءة على الأموات   (الشقيري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حكم القراءة على الأموات

المؤلف: محمد بن أحمد عبد السلام خضر الشقيري الحوامدي (ت بعد 1352 هـ)

المحقق: محمود مهدي الاستامبولي [ت 1420 هـ]

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: الثالثة

عدد الصفحات: 36

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মৃতদের ওপর কুরআন পাঠের বিধান   (আশ-শুকাইরি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মৃতদের ওপর কুরআন পাঠের বিধান

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আহমদ আব্দুস সালাম খিজর আশ-শুকাইরি আল-হাওয়ামিদি (মৃত্যু ১৩৫২ হিজরির পর)

সম্পাদক: মাহমুদ মাহদি আল-ইস্তাম্বুলি [মৃত্যু ১৪২০ হিজরি]

প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারাহ

সংস্করণ: তৃতীয়

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة المؤلف

الحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، ومن يهد الرسول صلى الله عليه وآله وسلم اكتفى، ومن باع المضللين احتشم واختفى.

وبعد: فقد سألنا أخ لنا في الله تعالى عن قراءة القرآن هل يصل ثوابها للموتى؟ فأجبناه بما يأتي:

هديه صلى الله عليه وسلم في زيارة القبور

أخرج أبوداود في سننه أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه فقال: "استغفروا لأخيكم، وسلوا له التثبيت فإنه الآن يسأل" 1 حديث حسن. وأخرج أيضا أبو داود وغيره بإسناد حسن أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا وضع الميت في لحده قال: "بسم الله وبالله، وعلى ملة رسول الله " (2) .

فليس في هذه الأحاديث أنه قرأ سورة كذا هو ولا أحد أصحابه على القبر كما يفعل ذلك القراء الآن. وكذا رواية مسلم عن أبى هريرة قال: زار النبي صلى الله عليه وسلم قبر أمه فبكى وأبكى من حوله فقال: "أستأذنت ربى في أن أستغفر لها فلم

--------------------------------------------

1 إن هذه السنة منسية- ويا للأسف- وندر من يعمل بها، مما يسبب خسارة كبيرة للميت، فمن الواجب إحياؤها من جديد بالبقاء عند الميت مقدار ذبح بعير يستغفر له ويدعى له بالتثبيت. والحديث صححه الحاكم ووافقه الذهبي.

2 وسنده صحيح (مم) .
‌লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াত গ্রহণ করল সে-ই যথেষ্ট হেদায়াত পেল, আর যে পথভ্রষ্টকারীদের অনুসারী হলো সে লজ্জিত ও বিলুপ্ত হলো।

অতঃপর: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের এক দ্বীনি ভাই কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব মৃত ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছায় কি না সে সম্পর্কে আমাদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তার উত্তরে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ব্যক্ত করছি:

কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ

আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতেন, তখন কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: "তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দৃঢ়তার জন্য দোয়া করো, কারণ তাকে এখন জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।" ১ এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা একটি হাসান (حسن) সনদে (إسناد) আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরের লাহদে (নিচে খননকৃত গর্তে) রাখতেন তখন বলতেন: "আল্লাহর নামে, আল্লাহর সাহায্যে এবং রাসূলুল্লাহর মিল্লাত বা আদর্শের ওপর।" (২)।

এই হাদিসগুলোর কোথাও এটি নেই যে, বর্তমানে পাঠকারীরা কবরের ওপর যেভাবে তিলাওয়াত করে থাকে, তিনি নিজে বা তাঁর সাহাবীদের কেউ সেখানে নির্দিষ্ট কোনো সূরা পাঠ করেছিলেন। অনুরূপভাবে মুসলিম-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করলেন, অতঃপর তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর চারপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। এরপর তিনি বললেন: "আমি আমার রবের কাছে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি..."

--------------------------------------------

১ এই সুন্নাহটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে - অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় - এবং খুব কম লোকই এর ওপর আমল করে, যা মৃত ব্যক্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। তাই মৃত ব্যক্তির নিকট একটি উট জবাই করার সমপরিমাণ সময় অবস্থান করে তার জন্য ইস্তিগফার করা এবং দৃঢ়তার দোয়া করার মাধ্যমে এই সুন্নাহকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করা আবশ্যক। হাদিসটিকে হাকিম সহিহ (صححه) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

২ এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১০)
يأذن لي، واستأذنته في أن أزور قبرها فأذن لي. فزوروا القبور. فإنها تذكر الموت" - وفى رواية- "فإن فيها عبرة، فإنها تزهد فى الدنيا وتذكر الآخرة".

فظهر أن المعروف عنه صلى الله عليه وسلم إنما هو الاستغفار، لا تلاوة القرآن. وهذا هو المنقول1 والمعقول. أما تلاوة القرآن التي هي أحكام الدين وآدابه، وحلاله وحرامه فلا يمكن أن تفيد الميت شيئا قط2، والقرآن والسنة الثابتة معنا على ذلك.

فيما ينتفع به الإنسان بعد موته

نعم ينتفع الميت بكل ما قررته شريعة الإسلام في كتاب الله وهدى رسوله، فقد ورد في الصحيح أنه يكن قال: "إذا مات الإنسان انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له" 3.

--------------------------------------------

1 وملخص هديه صلى الله عليه وسلم في زيارة القبور الدعاء للموتى والسلام عليهم مع أخذ العبرة، فلا تلاوة الفاتحة ولا غيرها.

2 ذكر مؤلف هذه الرسالة أدعية مأثورة عن زيارة القبور، ولكن فيها ضعف لذا استعضنا عنها بغيرها مما هو صحيح:

1- " السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وإنا إن شاء الله بكم للاحقون أنتم لنا فرط ونحن لكم تبع، نسأل الله لنا ولكم العافية" … أخرجه مسلم وغيره والزيادة لغيره وهما موقوفان على الصحابة.

2- "السلام عليكم دار قوم مؤمنين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون" … الحديث أخرجه مسلم وغيره.

3- "السلام عليكم (أهل) دار قوم مؤمنين، وأتاكم ما توعدون غدا مؤجلون، إنا إن شاء الله بكم لاحقون. اللهم اغفر لأهل بقيع الغرقد" (مقبرة في المدينة) .

3 رواه مسلم.
"...আমাকে অনুমতি দেননি। আর আমি তাঁর নিকট তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি প্রার্থনা করলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।" - এবং অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে- "কেননা এতে শিক্ষা রয়েছে, নিশ্চয় তা দুনিয়াবিমুখ করে এবং পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়।"

সুতরাং এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা প্রসিদ্ধ তা হলো কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করা, কুরআন তিলাওয়াত নয়। আর এটিই হচ্ছে বর্ণিত ও যুক্তিগ্রাহ্য। কিন্তু কুরআন তিলাওয়াত—যা দীনের বিধান, শিষ্টাচার এবং হালাল ও হারাম সংক্রান্ত বিষয়—তা মৃত ব্যক্তিকে কখনোই বিন্দুমাত্র উপকৃত করতে পারে না; কুরআন এবং আমাদের কাছে থাকা অকাট্য (الثابتة) সুন্নাহ সেদিকেই নির্দেশ করে।

মৃত্যুর পর মানুষ যা দ্বারা উপকৃত হয়

হ্যাঁ, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের হেদায়াতে ইসলামি শরীয়াহ যা নির্ধারণ করেছে, তার মাধ্যমেই মৃত ব্যক্তি উপকৃত হয়। সহিহ (صحيح) বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে"।

--------------------------------------------

১. কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শের সংক্ষিপ্ত সার হলো—মৃতদের জন্য দোয়া করা এবং তাদের ওপর সালাম পেশ করার পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণ করা; এখানে সূরা ফাতিহা বা অন্য কিছু তিলাওয়াত করার কোনো বিধান নেই।

২. এই পুস্তিকার লেখক কবর যিয়ারত সম্পর্কে কিছু বর্ণিত দোয়া উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেগুলোতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তাই আমরা সেগুলোর পরিবর্তে অন্যান্য সহিহ (صحيح) দোয়া দ্বারা তা স্থলাভিষিক্ত করেছি:

১- "হে মুমিন ও মুসলিম গৃহবাসীগণ, আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। আপনারা আমাদের অগ্রগামী এবং আমরা আপনাদের অনুগামী। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের এবং আপনাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।" … এটি মুসলিম এবং অন্যরা সংকলন (أخرجه) করেছেন এবং অতিরিক্ত অংশটুকু অন্যদের থেকে বর্ণিত, আর উভয়টিই সাহাবীদের ওপর স্থগিত (موقوف)।

২- "হে মুমিন সম্প্রদায়ের আবাসস্থল, আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি।" … হাদিসটি মুসলিম এবং অন্যরা সংকলন (أخرجه) করেছেন।

৩- "হে মুমিন সম্প্রদায়ের আবাসস্থলের (অধিবাসীগণ), আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আগামীকাল তোমাদের যা ওয়াদা করা হয়েছিল তা তোমাদের কাছে এসে গেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। হে আল্লাহ! আপনি বাকিউল গারকাদ (মদিনার একটি কবরস্থান) বাসীদের ক্ষমা করে দিন।"

৩. এটি মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১১)
وينتفع الميت بما ورد في حديث: "إن مما يلحق المؤمن عمله وحسناته بعد موته: علما علمه ونشره، وولدا صالحا تركه، ومصحفا ورثه أو مسجدا بناه، أو بيتا لابن السبيل بناه، أو نهرا أجراه، أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته، تلحقه بعد موته" رواه ابن ماجه وابن خزيمة1. وينتفع الميت بعد موته بسنة حسنة سنها فعمل بها من بعده كما روى مسلم في صحيحه أنه صلى الله عليه وسلم قال: "من سن في الإسلام سنة فله حسنة أجرها وأجرمن عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيء" 2.

وينتفع الميت3 بالصدقة عنه كما روى البخاري أن رجلا قال للرسول صلى الله عليه وسلم: "إن أمي توفيت أينفعها إن تصدقت عنها؟ ". قال: "نعم". وفى المسند والسنن عن سعد بن عبادة رضي الله عنه أنه قال: "يا رسول الله إن أم سعد ماتت فأي الصدقة أفضل؟ ". قال: "الماء". فحفر بئرا. وقال لأم سعد: "فسقي الماء من الصدقات التى ينتفع بها الميت من ولده". وأخرج مسلم أن رجلا قال للنبى صلى الله عليه وسلم: "إن أبي ترك مالا ولم يوص فهل يكفي أن أتصدق عند؟ ". قال: "نعم".

--------------------------------------------

1 وسنده حسن (مم) .

2 يراجع في رياض الصالحين سبب ورود هذا الحديث، ليعرف جهل وضلال

من يقول بوجود بدعة حسنة، فكل بدعة ضلالة كما جاء في الحديث الصحيح.

3 على أن تكون من أحد فروعه لقوله تعالى: {وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ}

وقوله صلى الله عليه وسلم: " إذا مات الإنسان انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له ". رواه مسلم. ويؤيد ذلك قوله تعالى: {وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى} .

মৃত ব্যক্তি সেই সমস্ত কাজ দ্বারা উপকৃত হন যা এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজসমূহের মধ্যে যা তার সাথে মিলিত হয় তা হলো: এমন ইলম যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, নেক সন্তান যাকে সে রেখে গিয়েছে, কুরআন শরিফ যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গিয়েছে অথবা মসজিদ যা সে নির্মাণ করেছে, কিংবা মুসাফিরদের জন্য সরাইখানা যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা নদী (বা খাল) যা সে খনন করেছে, অথবা এমন সদকা যা সে তার সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় তার সম্পদ থেকে বের করেছে, যা তার মৃত্যুর পর তার সাথে মিলিত হয়।" এটি ইবনে মাজাহ এবং ইবনে খুজাইমাহ বর্ণনা করেছেন।১ মৃত ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর এমন কোনো উত্তম রীতির (সুন্নাহ) মাধ্যমেও উপকৃত হন যা তিনি চালু করেছিলেন এবং তার পর সে অনুযায়ী আমল করা হয়েছে, যেমনটি মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির সূচনা করল, তার জন্য তার প্রতিদান রয়েছে এবং তার পর যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, তবে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও কমানো হবে না।" ২.

মৃত ব্যক্তি৩ তার পক্ষ থেকে প্রদানকৃত সদকার মাধ্যমে উপকৃত হন, যেমনটি বুখারি বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন: "আমার মা ইন্তেকাল করেছেন, আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি তবে কি তিনি উপকৃত হবেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" এবং মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থে সাদ ইবনে উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! সাদের মা মারা গিয়েছেন, কোন সদকাটি উত্তম হবে?" তিনি বললেন: "পানির ব্যবস্থা করা।" অতঃপর তিনি একটি কূপ খনন করলেন। এবং সাদের মায়ের পক্ষ থেকে বললেন: "পানির ব্যবস্থা করা সেই সদকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা মৃত ব্যক্তি তার সন্তানের পক্ষ থেকে উপকৃত হন।" আর মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: "আমার পিতা কিছু সম্পদ রেখে গিয়েছেন কিন্তু কোনো অসিয়ত করে যাননি, আমি কি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে তা যথেষ্ট হবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

--------------------------------------------

১ এবং এর সনদ হাসান (حسن) (ম.ম.)।

২ এই হাদিসটি বর্ণিত হওয়ার প্রেক্ষাপট জানতে রিয়াদুস সালিহীন দেখা যেতে পারে, যাতে সেই ব্যক্তির অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা সম্পর্কে জানা যায় যে 'বিদআতে হাসানা' (উত্তম বিদআত) এর অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি করে; কারণ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, যেমনটি সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে।

৩ শর্ত হলো সেটি যেন তার কোনো বংশধরের (শাখা) পক্ষ থেকে হয়, কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমি লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা তারা পেছনে রেখে যায়} (সুরা ইয়াসিন: ১২)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণী: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলার এই বাণীও একে সমর্থন করে: {আর মানুষের জন্য তাই থাকে যার জন্য সে চেষ্টা করে} (সুরা আন-নাজম: ৩৯)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১২)
وينتفع الميت بدعاء المسلمين واستغفارهم له لقوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ} وفى السنن مرفوعا: "إذا صليتم على الميت فأخلصوا له الدعاء" 1.

هذا هو الوارد في هذا الباب مما ينفع الأموات من الأحياء، وليس فيها دليل واحد يستأنس به أو يشم منه رائحة جواز قراءة القرآن للموتى أو سورة مخصوصة كسورة (يس) أو غيرها أو عمل عتاقة بسورة الإخلاص مائة ألف مرة أو سبحة بلا إله إلا الله ألف مرة2، وسنسرد عليك هنا إن شاء الله أقوال المفسرين والمحدثين والأصوليين وأئمة المذاهب المعروفة، مما يدلك دلالة واضحة على أن كل ما عليه الناس فى مآتمهم وعلى قبورهم، لا يتفق وشرائع الإسلام وهدى الرسول عليه السلام.

--------------------------------------------

1 وسنده جيد (مم) .

2 ومثلها في البدعة: اللطيفية 999 يا لطيف، يا لطيف، فإن أسماء الله الحسنى كالاسم المفرد: الله، لم يرد الذكر بها، إنما صح الذكر بـ: لا إله إلا الله، وسبحان الله، والحمد لله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله وغيرها مما ورد في السنة ولا ثواب إلا بها، فتأمل!
মৃত ব্যক্তি মুসলিমদের দোয়া এবং তাদের ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে উপকৃত হয়; কারণ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন।} এবং সুনান গ্রন্থসমূহে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়বে, তখন তার জন্য একনিষ্ঠভাবে দোয়া করো।" ১।

জীবিতদের পক্ষ থেকে যা কিছু মৃতদের উপকারে আসে, সে বিষয়ে বর্ণিত দলিলগুলো মূলত এগুলোই। এর মধ্যে এমন একটিও দলিল নেই যার মাধ্যমে মৃতদের জন্য কুরআন পাঠ করা, কিংবা বিশেষ কোনো সূরা যেমন সূরা (ইয়াসিন) বা অন্য কোনো সূরা পাঠ করা, অথবা সূরা ইখলাস এক লক্ষ বার পাঠ করে 'আতাকা' (মুক্তির আমল) করা, কিংবা হাজার বার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর তসবিহ পাঠ করার বৈধতার সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা সামান্যতম ইঙ্গিত পাওয়া যায় ২। আমরা এখানে ইনশাআল্লাহ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, উসুলবিদ এবং প্রসিদ্ধ মাযহাবসমূহের ইমামগণের বক্তব্যসমূহ আপনার সামনে উপস্থাপন করব, যা আপনাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেবে যে, মানুষ তাদের শোকানুষ্ঠানে এবং কবরের পাশে যা কিছু করে থাকে, তার কোনোটিই ইসলামের শরিয়ত এবং রাসূল আলাইহিস সালাম-এর হিদায়াত বা নির্দেশিত পথের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

--------------------------------------------

১. এবং এর সূত্র (سند) উত্তম (جيد) (ম.ম.)।

২. বিদআতের ক্ষেত্রে এরই অনুরূপ হলো: 'লতিফিয়া' (৯৯৯ বার ইয়া লতিফ, ইয়া লতিফ পাঠ করা)। কেননা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে একক নাম—যেমন: 'আল্লাহ'—দ্বারা জিকির করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জিকির করা বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে কেবল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'আল্লাহু আকবার', 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' এবং সুন্নাহ-তে বর্ণিত অন্যান্য বাক্যগুলোর মাধ্যমে; আর এগুলো ব্যতীত অন্য কিছুতে কোনো সওয়াব নেই। অতএব গভীরভাবে চিন্তা করুন!
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد

…

سبحان الله ربنا لماذا أنزل الله تعالى هذا القرآن!؟

هل أنزله لتصنع منه الحجب وتوضع للأطفال والمرضى؟

هل أنزله ليتلى في المقابر على الأموات، ويتخذ منه المتمشيخون وسيلة لابتزاز أموال الناس بالباطل؟

وهل أنزله ليكتبه الدجاجلة على الآنية ليشرب من مائه الضعفاء والمسحورون؟

هل أنزله ليتلوه الكسالى والعاطلون في قارعة الطريق بقصد الاستجداء!؟

هل أنزله ليعلق في صفحة واحدة على الجدران للزينة والبركة وعلى أعناق المتبرجات للحرز!؟

هل أنزله ليصنع منه المشعوذون التمائم ويصيحوا على أبواب المساجد: آية الكرسي والمعوذات والآيات المنجيات بخمسة قروش!؟

هل أنزله ليتغنى به المنشدون ويطرب على نغماته وموسيقاه السامعون، فيرسلون الآهات طربأ كأنهم في ملهى من الملاهي!

هل أنزله لتتخذ منه طريقة للاستخارة والتنجيم؟

هل أنزله ليتلى كالببغاء صبح مساء دون فهم ولا تدبر!؟ هل أنزله بعدما فتح به المسلمون الأولون الدنيا، ليوضع اليوم في زاوية مظلمة يتراكم عليه الغبار!؟ غفرانك يا رب!

ليس لهذا كله أنزلت كتابك العظيم!

لقد أنزلته ليتدبر الناس آياته، وليكون لهم سراجا منيرا.
প্রারম্ভিকা

…

সুবহানাল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক! আল্লাহ তাআলা কেন এই কুরআন নাযিল করেছেন!?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, এটি দ্বারা কবচ (حجب) তৈরি করা হবে এবং তা শিশু ও রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, এটি কবরস্থানে মৃতদের ওপর তিলাওয়াত করা হবে এবং ছদ্মবেশি শাইখগণ (المتمشيخون) একে মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করবে?

আর তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, প্রতারকরা (دجاجلة) এটি পাত্রের গায়ে লিখে রাখবে যাতে দুর্বল ও জাদুক্রান্ত ব্যক্তিরা সেই পানি পান করতে পারে?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, অলস ও কর্মহীন ব্যক্তিরা ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এটি তিলাওয়াত করবে!?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, এটি শোভাবর্ধন ও বরকতের জন্য দেয়ালের এক পার্শ্বে টাঙিয়ে রাখা হবে এবং বেপর্দা নারীদের গলায় তা রক্ষাকবচ হিসেবে ঝোলানো হবে!?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, জাদুকররা এটি দিয়ে তাবিজ (تمائم) তৈরি করবে এবং মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলবে: আয়াতুল কুরসি, আল-মুআউবিজাত (المعوذات) এবং মুক্তিদানকারী আয়াতসমূহ (الآيات المنجيات) মাত্র পাঁচ পয়সায়!?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, গায়করা এটি দিয়ে সুর করে গান গাইবে এবং শ্রোতারা এর সুর ও সংগীতে বিমোহিত হবে, ফলে তারা এমনভাবে আমোদ-প্রমোদ প্রকাশ করবে যেন তারা কোনো বিনোদন কেন্দ্রে অবস্থান করছে!

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, একে ইস্তিখারা (استخارة) ও জ্যোতিষশাস্ত্রের (تنجيم) মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হবে?

তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, এটি সকাল-সন্ধ্যা কোনো প্রকার অনুধাবন (تدبر) ছাড়াই তোতাপাখির মতো তিলাওয়াত করা হবে!? তিনি কি এটি এজন্য নাযিল করেছেন যে, প্রাথমিক যুগের মুসলিমগণ যা দ্বারা বিশ্ব জয় করেছিলেন, তা আজ অন্ধকার কোণে ফেলে রাখা হবে এবং তার ওপর ধুলোবালি জমবে!? হে প্রভু! আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি!

এসবের জন্য আপনি আপনার মহান কিতাব নাযিল করেননি!

আপনি তো এটি নাযিল করেছেন যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে অনুধাবন (تدبر) করে এবং এটি যেন তাদের জন্য এক উজ্জ্বল প্রদীপ হয়।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৬)
أنزلته ليكون بشيرا ونذيرا، أنزلته ليكون كتابا للأحياء لا للموتى!

أنزلته ليتخذ منه المسلمون دستورهم ونظامهم سواء في دورهم أو أسواقهم، وسواء في معاهدهم أو محاكمهم!

اللهم قد ضللنا طريق السعادة الذي رسمت لنا، فضعنا وأضعنا: ضعنا وغدونا على هامش الحياة، نتردى في هاوية الفوضى والشقاء نتيجة تمردنا على أهداف القرآن ومخططاته.

فقد قلبنا مفاهيمه ومراميه بطريقة عجيبة لم تسبقنا إليها أمة من الأمم مهما جحدت بكتابها السماوي، فلا نعلم واحدة منها جعلت منه بضاعة للموتى!!

وأضعنا هذه الملايين الشاردة من البشر الذين أخذت منا العهود للتبشير بينهم وهدايتهم.

فأهملنا كل هذا حتى غدوا خطرا علينا وعلى أنفسهم بما اخترعوا من آلات الحرب والتدمير.

لقد بشرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أربعة عشر قرنا فقال: " تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا: كتاب الله وسنة نبيه ". رواه الحاكم وسنده حسن.

ولما تمسك به أجدادنا حقيقة وجعلوه منهاجهم في الحياة ونبراسهم في العمل، غدوا سادة العالم وقادة الإنسانية في سنين قليلة.

نقرؤه كثيرا، ولكن لا تتجاوز قراءته حناجرنا.

إننا نقرأه أكثر مما قرأه أسلافنا الصالحون.

نقرؤه دون فهم ولا تدبر ولا عمل حتى صح في كثير منا قول بعض السلف: "كم من تال للقرآن، والقرآن يلعنه! ".
আমি এটি অবতীর্ণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে; আমি এটি অবতীর্ণ করেছি জীবিতদের জন্য কিতাব হিসেবে, মৃতদের জন্য নয়!

আমি এটি অবতীর্ণ করেছি যেন মুসলিমগণ একে তাদের সংবিধান ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে—তা তাদের গৃহে হোক বা বাজারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হোক বা আদালতে!

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য সুখের যে পথ এঁকে দিয়েছিলেন, আমরা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছি; ফলে আমরা পথ হারিয়েছি এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছি। আমরা পথ হারিয়ে জীবনের প্রান্তসীমায় এসে দাঁড়িয়েছি; কুরআনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমাদের বিদ্রোহের ফলে আমরা বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভাগ্যের গহ্বরে পতিত হচ্ছি।

আমরা এর মর্মার্থ ও উদ্দেশ্যকে এমন অদ্ভুতভাবে পাল্টে ফেলেছি যে, কোনো জাতি তাদের আসমানি কিতাব অস্বীকার করা সত্ত্বেও এমনটি আগে করেনি; আমরা এমন কোনো জাতির কথা জানি না যারা একে মৃতদের পণ্যে পরিণত করেছে!!

আর আমরা এই পথহারা কোটি কোটি মানুষকে হারিয়েছি, যাদের মাঝে সুসংবাদ প্রচার ও হিদায়াতের দাওয়াত দেওয়ার অঙ্গীকার আমাদের থেকে নেওয়া হয়েছিল।

আমরা এ সবকিছুর অবহেলা করেছি, এমনকি তারা যুদ্ধ ও ধ্বংসের যে সব সরঞ্জাম আবিষ্কার করেছে, তা দিয়ে তারা আমাদের এবং নিজেদের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চৌদ্দশ বছর আগে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সুসংবাদ দিয়ে বলেছিলেন: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত।" এটি আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) হাসান (حسن)।

যখন আমাদের পূর্বপুরুষগণ একে প্রকৃতার্থে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং একে জীবনের পাথেয় ও কর্মের আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তারা অল্প কয়েক বছরেই বিশ্বের অধিপতি ও মানবতার নেতায় পরিণত হয়েছিলেন।

আমরা এটি প্রচুর পাঠ করি, কিন্তু আমাদের সেই পাঠ আমাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না।

আমরা এটি আমাদের নেককার পূর্বসূরিদের চেয়েও বেশি পাঠ করি।

আমরা এটি পাঠ করি কোনো বুঝ, চিন্তা-গবেষণা ও আমল ছাড়াই; এমনকি আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে জনৈক পূর্বসূরির উক্তিটিই সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে: "কুরআনের এমন অনেক তিলওয়াতকারী রয়েছে, যাদেরকে কুরআন অভিশাপ দেয়!"
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৭)
أما آن لنا أن نصحوا من غفلتنا!

أما آن لنا أن نرجع عن ضلالنا!

أما آن لعلمائنا أن يحاربوا هذه البدع والمنكرات؟

وإذا لم يجرؤوا على هذا الجهاد، فهل لهم أن يتنحوا عن الطريق ويفسحوا المجال لغيرهم من المصلحين، فلا ينبذوهم بالألقاب ويتهمونهم بالمروق من الدين؟

إننا لنأمل في هذا العصر العصيب الذي أحاطت بنا فيه الأخطار والمشكلات العائلية والاجتماعية والسياسية والاقتصادية، أن نستيقظ من هذا النوم العميق، فنعمد إلى كتاب الله تعالى، فنتلوه بتدبر وإمعان كدستور، ومنهج في الحياة.

وفى الصفحات التالية بحث هام خطير في سد باب دجل الدجالين، وشعوذة قراء القبور والموتى، يبطل افتراءاتهم الكاذبة وادعاءاتهم الباطلة بالأدلة الصحيحة على كذب ما ذهبوا إليه- سفها وزورا- من وصول ثواب قراءة القرآن الكريم للأموات، ليأكلوا أموال الناس ويحطوا من قدره العظيم!

ونختتم هذه المقدمة بهذه العبارة المؤثرة لأحد المفكرين:

"إنك- يا أيها المسلم- لا تزال أسيرا للمتزعمين للدين، والمحتكرين للعلم، لا تستمد من حكمة القرآن في تشريعك ولا فقهك".

"إن هذا الكتاب الذي هو مصدر حياتك، ومنبع قوتك لا اتصال لك به إلا إذا حضرتك الوفاة، فنقرأ عليك سورة: (يس) لتموت بسهولة.

فواعجبا كيف أصبح هذا القرآن الذي أنزل ليمنحك الحياة والقوة يتلى الآن لتموت براحة وسهولة!

فإلى الثورة على هذه التقاليد البالية البعيدة عن الإسلام.
আমাদের কি আমাদের গাফিলতি থেকে জেগে ওঠার সময় আসেনি?

আমাদের কি আমাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরে আসার সময় আসেনি?

আমাদের ওলামায়ে কেরামের কি এই সকল বিদআত (بدعة) এবং গর্হিত কার্যাবলীর (منكرات) বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার সময় আসেনি?

আর যদি তারা এই জিহাদ (جهاد) করার সাহস না পান, তবে তারা কি পথ ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য সংস্কারকদের জন্য সুযোগ করে দেবেন না, যাতে তারা তাদেরকে মন্দ উপাধিতে ভূষিত না করেন এবং ধর্মত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত না করেন?

আমরা এই কঠিন যুগে—যেখানে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিপদ ও সমস্যা আমাদের ঘিরে ধরেছে—আশা করি যে আমরা এই গভীর নিদ্রা থেকে জেগে উঠব এবং মহান আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরে যাব, অতঃপর একে জীবনবিধান ও জীবনপদ্ধতি হিসেবে গভীর চিন্তা ও অনুধাবনের সাথে পাঠ করব।

পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে প্রতারকদের দাজ্জালি এবং কবর ও মৃতদের ওপর কিরাত পাঠকারীদের জাদুটোনার পথ রুদ্ধ করার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণা রয়েছে। এটি তাদের মিথ্যা অপবাদ এবং ভিত্তিহীন দাবিগুলোকে সঠিক (صحيحة) দলিলের মাধ্যমে বাতিল করে দেয় এবং তাদের মূর্খতা ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে—যেখানে তারা মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য এবং কোরআনের সুমহান মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে মৃতদের কাছে কোরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানোর দাবি করে থাকে।

আমরা জনৈক চিন্তাবিদের এই প্রভাবশালী উক্তির মাধ্যমে এই মুখবন্ধটি শেষ করছি:

"হে মুসলিম! তুমি এখনও ধর্মের নামধারী নেতা এবং ইলমের (علم) একচেটিয়া দখলদারদের নিকট বন্দী হয়ে আছো; তুমি তোমার আইন প্রণয়ন কিংবা ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে কোরআনের প্রজ্ঞা থেকে নির্যাস গ্রহণ করছ না।"

"নিশ্চয়ই এই কিতাব যা তোমার জীবনের উৎস এবং তোমার শক্তির আধার, তার সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই যতক্ষণ না তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়; তখন তোমার ওপর সূরা 'ইয়াসিন' পাঠ করা হয় যাতে তুমি সহজে মৃত্যুবরণ করতে পারো।

হায় বিস্ময়! যে কোরআন তোমাকে জীবন ও শক্তি দান করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল, তা এখন কেবল তোমার আরামদায়ক ও সহজ মৃত্যুর জন্য পাঠ করা হচ্ছে!

অতএব, ইসলাম থেকে বিচ্যুত এই জরাজীর্ণ প্রথাগুলোর বিরুদ্ধে বিপ্লব গড়ে তোলো।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৮)
وإلى محاربة القبوريين الذين سبقوا عرب الجاهلية بشركهم، فهم يسارعون إلى الرمم البالية والموتى في أشد حالات الضيق، كلما الم بهم خطب، أو نزلت بهم مصيبة، يطلبون منهم قضاء حاجاتهم أو يتخذونهم وسائط، فينذرون لهم ويذبحون لهم، ليقربوهم إلى الله زلفى بخلاف هؤلاء الجاهليين الكفرة الذين وصفهم الله بقوله: {فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ} . (العنكبوت: 65) .

وقد سخر الله سبحانه في آيات كثيرة من هؤلاء القبوريين الذين مسخوا عقولهم، وأماتوا ضمائرهم، واستأصل الشرك في قلوبهم بسبب تركهم لكتاب الله سبحانه وتعالى وتراميهم على الموتى يستغيثون بهم.

{وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ} . (الأحقاف: 5) .

{وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ} . (الحج: 73) . وإلى تطهير شريعتنا مما أدخله علينا المقلدة والأدعياء من باع وأوهام وأساطير.

وإلى حمل مشعل الإصلاح الديني الذي تتوقف عليه نهضتنا وعزتنا. أدعو العلماء والمفكرين وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت وإليه أنيب.

محمود مهدي استامبولي.

--------------------------------------------

ملحوظة: رموز الأحاديث:

محقق مشكاة المصابيح: (مم) .

محقق الجامع الصغير وزياداته (مج) .
এবং সেই সকল কবরপূজারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিকে [আহ্বান জানাই], যারা তাদের শিরকের মাধ্যমে জাহেলিয়াতের আরবদেরও ছাড়িয়ে গেছে। তারা চরম সংকটের মুহূর্তে, যখনই কোনো বিপদ বা মুসিবত তাদের ওপর নেমে আসে, তখনই জীর্ণ হাড়গোড় ও মৃতদের দিকে ছুটে যায়। তারা তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করে অথবা তাদেরকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে তারা তাদের নামে মানত করে এবং তাদের জন্য পশু জবাই করে, যাতে তারা তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। অথচ সেই জাহেলিয়াত আমলের কাফেরদের অবস্থা এমন ছিল না, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বর্ণনা করেছেন: {যখন তারা জলযানে আরোহণ করে তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্থলে পৌঁছে দিয়ে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শিরকে লিপ্ত হয়।}। (আল-আনকাবুত: ৬৫)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে সেই সকল কবরপূজারীদের উপহাস করেছেন, যারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে বিকৃত করেছে এবং তাদের বিবেককে মৃত করেছে। আল্লাহর কিতাব বর্জন করার কারণে এবং মৃতদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে তাদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার দরুন তাদের অন্তরে শিরক বদ্ধমূল হয়েছে।

{আর তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? অথচ তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে গাফেল।}। (আল-আহকাফ: ৫)।

{আর তোমরা তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া যাদেরকে ডাকো, তারা তো খেজুরের আঁটির তুচ্ছ আবরণেরও মালিক নয়।}। (আল-হজ্জ: ৭৩)। এবং আমাদের শরিয়তকে সেই সকল বিদআত (بدعة), কুসংস্কার ও রূপকথা থেকে পবিত্র করার দিকে [আহ্বান জানাই], যা অন্ধ অনুসারী (مقلد) এবং দাবিদাররা আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করিয়েছে।

এবং ধর্মীয় সংস্কারের মশাল বহন করার দিকে [আহ্বান জানাই], যার ওপর আমাদের নবজাগরণ ও মর্যাদা নির্ভরশীল। আমি আলেম ও চিন্তাবিদদের এই আহ্বান জানাচ্ছি। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।

মাহমুদ মাহদি ইস্তাম্বুলি।

--------------------------------------------

দ্রষ্টব্য: হাদিসের সংকেতসমূহ (رموز الحديث):

মিশকাতুল মাসাবিহ-এর মুহাক্কিক (محقق): (মি-ম)।

আল-জামি আস-সগির ও তার যিয়াদাতসমূহের মুহাক্কিক (محقق): (মি-জ)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أقوال المفسرين

تفسير الإمام ابن كثير:

قال رحمه الله عند قوله تعالى: {أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَى وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّى أَلَاّ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَى ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاءَ الأَوْفَى} أي كل نفس ظلمت نفسها بكفر أو شيء من الذنوب فإنما عليها وزرها لا يحمله عنها أحد كما قال: {وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى} ، {وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى} أي كما لا يحمل عليه وزر غيره كذلك لا يحصل له من الأجر إلا مما كسب هو لنفسه.

قال: "ومن هذه الآية الكريمة استنبط الشافعي رحمه الله ومن اتبعه أن القراءة لا يصل ثوابها إلى الموتى لأنه ليس من عملهم ولا كسبهم، ولهذا لم يندب إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم أمته ولا حثهم عليه ولا أرشدهم إليه بنص ولا إيماء، ولم ينقل ذلك عن أحد من الصحابة رضي الله عنهم ولو كان خيرا لسبقونا إليه. وباب القربات يقتصر فيه على النصوص ولا يتصرف فيه بأنواع الأقيسة والآراء. فأما الدعاء والصدقة1. فذلك مجمع على وصولهما ومنصوص من الشارع عليهما. وأما الحديث الذي رواه مسلم في صحيحه عن أبي

--------------------------------------------

1 وذلك بشرط أن تكون من أحد فروعه كما سبق ذكره.
‌‌মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ

ইমাম ইবনে কাসীরের তাফসির:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ তাআলার এই বাণী প্রসঙ্গে বলেন: {নাকি তাকে জানানো হয়নি যা রয়েছে মুসার সহীফায়? এবং ইব্রাহীমের (সহীফায়), যিনি (তার দায়িত্ব) পূর্ণ করেছিলেন। তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে তা-ই সে পায়। আর তার প্রচেষ্টা অচিরেই দেখা হবে। তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।} অর্থাৎ, যে ব্যক্তি কুফরি বা কোনো পাপাচারের মাধ্যমে নিজের ওপর জুলুম করেছে, তার ওপর কেবল তার নিজের গুনাহের বোঝাই বর্তাবে; অন্য কেউ তা বহন করবে না। যেমনটি তিনি বলেছেন: {আর কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহন করতে কাউকে ডাকে, তবে তার সামান্য অংশও বহন করা হবে না, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়}, এবং {মানুষ যা চেষ্টা করে তা-ই সে পায়}। অর্থাৎ, যেভাবে অন্যের পাপের বোঝা তার ওপর চাপানো হবে না, তেমনিভাবে সে নিজের উপার্জিত আমল ব্যতীত অন্য কিছুর সওয়াব লাভ করবে না।

তিনি বলেন: "এই মহান আয়াত থেকে ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর অনুসারীগণ এই মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন যে, তিলাওয়াতের সওয়াব মৃত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায় না; কারণ তা তাদের নিজস্ব কোনো আমল বা উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে এর প্রতি আহ্বান জানাননি, উৎসাহিত করেননি এবং কোনো অকাট্য দলিল (نص) বা ইঙ্গিতের (إيماء) মাধ্যমে এর নির্দেশনা দেননি। সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কারো থেকেও এমনটি বর্ণিত হয়নি। যদি এটি কোনো কল্যাণকর কাজ হতো, তবে তারা অবশ্যই আমাদের আগে তা পালন করতেন। আর ইবাদত বা নৈকট্য লাভের বিষয়গুলো কেবল শরয়ি দলিলের (نصوص) ওপর সীমাবদ্ধ থাকে এবং এতে বিভিন্ন প্রকারের কিয়াস (أقيسة) বা ব্যক্তিগত মতামতের কোনো সুযোগ নেই। তবে দুআ এবং সদকা১-এর সওয়াব পৌঁছানোর বিষয়টি ঐকমত্যপূর্ণ (مجمع) এবং শরিয়তদাতার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা (منصوص) রয়েছে। আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু...

--------------------------------------------

১. আর তা এই শর্তে যে, সেটি তার কোনো বংশধরের পক্ষ থেকে হতে হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৪)
هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إذا مات الإنسان انقطع عمله إلا من ثلاث: ولد صالح يدعو له أو صدقة جارية من بعده أو علم ينتفع به " 1. فهذه الثلاثة في الحقيقة من سعيه وكده وعمله كما جاء في الحديث "إن أطيب ما أكل الرجل من كسبه، وإن ولده من كسبه " 2 والصدقة الجارية كالوقف ونحوه هى من آثار عمله ووقفه، وقد قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نُحْيِ الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ} والعلم الذي نشره في الناس فاقتدى به الناس هو أيضا من سعيه وعمله، وثبت في الصحيح "من دعا إلى هدى كان له من الأجرمثل أجورمن تبعه من غير أن ينقص من أجورهم شيئا" 3.

تفسير الإمام الشوكاني:

قال رحمه الله عند قوله تعالى: {وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى} والمعنى ليس له إلا أجر سعيه وجزاء عمله ولا ينفع أحدنا عمل أحد. وهذا العموم مخصص بمثل قوله سبحانه: {أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ} وبمثل ما ورد في شفاعة الأنبياء والملائكة للعباد، ومشروعية دعاء الأحياء للأموات ونحو ذلك. ولم يصب من قال إن هذه الآية منسوخة بمثل هذه الأمور، فإن الخاص لا ينسخ العام بل يخصه، فكل ما قام الدليل على أن الإنسان ينتفع به وهو من غير سعيه كان مخصصه لما في هذه الآية من العموم اهـ.

--------------------------------------------

1 رواه مسلم.

2 وسنده صحيح (مم) .

3 رواه مسلم وتمامه: "ومن دعا إلى ضلالة، كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه، لا ينقص ذلك من آثامهم شيئا".
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে, অথবা সদকায়ে জারিয়া যা তার মৃত্যুর পর চলমান থাকে, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়।" ১। প্রকৃতপক্ষে এই তিনটি বিষয় তার নিজস্ব প্রচেষ্টা, শ্রম ও আমলের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই মানুষ যা আহার করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজ উপার্জন, আর তার সন্তানও তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।" ২। আর সদকায়ে জারিয়া যেমন ওয়াকফ ও অনুরূপ বিষয়গুলো তার আমল ও ওয়াকফ করারই প্রভাব। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি মৃতদের জীবিত করি এবং তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও তাদের চিহ্নসমূহ লিখে রাখি}। আর যে জ্ঞান সে মানুষের মাঝে প্রচার করেছে এবং মানুষ যার অনুসরণ করেছে, সেটিও তার প্রচেষ্টা ও আমলের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে যে: "যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই হেদায়েত অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব থাকবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।" ৩।

ইমাম শাওকানির তাফসির:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী {এবং মানুষের জন্য তাই রয়েছে যার জন্য সে চেষ্টা করে} সম্পর্কে বলেছেন: এর অর্থ হলো মানুষের জন্য তার নিজস্ব প্রচেষ্টা ও আমলের প্রতিদান ব্যতীত আর কিছুই নেই এবং আমাদের একজনের আমল অন্যজনের উপকারে আসে না। আর এই সাধারণ (عام) বক্তব্যটি মহান আল্লাহর বাণী {আমি তাদের সাথে তাদের বংশধরদের সম্মিলিত করব} এবং বান্দাদের জন্য নবী ও ফেরেশতাদের সুপারিশ সংক্রান্ত বর্ণনা এবং মৃতদের জন্য জীবিতদের দোয়ার বৈধতা ও অনুরূপ বিষয়গুলোর মাধ্যমে বিশেষায়িত (مخصص) করা হয়েছে। যারা মনে করেন যে এই আয়াতটি এসব বিষয়ের কারণে রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে, তারা সঠিক বলেননি। কেননা বিশেষ (خاص) বিধান সাধারণ (عام) বিধানকে রহিত (منسوخ) করে না, বরং তাকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করে। অতএব, মানুষ তার প্রচেষ্টা ছাড়াও যে বিষয়গুলো দ্বারা উপকৃত হয় বলে দলিল পাওয়া যায়, সেগুলো এই আয়াতের সাধারণ (عام) বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্টকারী (مخصص) হিসেবে গণ্য হবে। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১ মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

২ এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) (এম এম)।

৩ মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং এর পূর্ণরূপ হলো: "আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার ওপর সেই পথভ্রষ্টতা অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ গুনাহ বর্তাবে, এতে তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।"
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৫)
تفسير صاحب المنار:

قال رحمه الله في تفسيره عند آية: {وَلا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} في آخر سورة الأنعام بعد بحث طويل، قال ما حصله:

"إن كل ما جرت به العادة من قراءة القرآن والأذكار وإهداء ثوابها إلى الأموات واستئجار القراء1 وحبس الأوقاف على ذلك، بدع غير مشروعة، ومثلها ما يسمونه إسقاط الصلاة ولو كان لها أصل في الدين لما جهلها السلف، ولو علموها لما أهملوا العمل بها".

وقال أيضا: "وإن حديث قراءة سورة يس على الموتى غير صحيح، وإن أريد به من حضرهم الموت. وأنه لم يصح في هذا الباب حديث قط كما قال بذلك المحدث الدارقطني.

وأعلم أن ما اشتهر وعم البدو والحضر من قراءة الفاتحة للموتى لم يرد فيه حديث صحيح ولا ضعيف، فهو من البدع المخالفة لما تقدم من النصوص القطعية، ولكنه صار بسكوت اللابسين لباس العلماء وبإقرارهم له، ثم بمجاراة العامة عليه، من قبيل السنن المؤكدة أو الفرائض المحتمة".

--------------------------------------------

1 صحت أحاديث كثيرة في النهى عن التكسب بالقرآن وقد أجمعت الأئمة الأربعة على عدم وصول ثواب القراءة للأموات إذا كانت بالأجرة، والمال المأخوذ على ذلك حرام، ويأئم الآخذ والمعطى فتأمل!!
তাফসিরে সাহিব আল-মানার:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সূরা আল-আনআ’মের শেষ দিকে এই আয়াতের অধীনে: "প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে তা তারই উপর বর্তায় এবং কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না" দীর্ঘ আলোচনার পর তার সারসংক্ষেপ এভাবে ব্যক্ত করেছেন:

"কুরআন তেলাওয়াত, যিকির-আযকার এবং এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিদের জন্য উৎসর্গ করা, কারীদের ভাড়া করা ১ এবং এই উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা—যা প্রচলিত প্রথায় পরিণত হয়েছে—তা হলো শরিয়ত পরিপন্থী বিদআত (بدع)। অনুরূপভাবে ‘নামাজের ফিদইয়া বা ইসকাত’ (ইলাহি হক থেকে দায়মুক্ত হওয়া) নামে যা প্রচলিত রয়েছে তাও তাই। দ্বীনে এগুলোর কোনো ভিত্তি থাকলে সালাফে সালেহীন তা অজানা রাখতেন না এবং তারা যদি এগুলো জানতেন, তবে তা আমল করতে অবহেলা করতেন না।"

তিনি আরও বলেন: "মৃতদের জন্য সূরা ইয়াসিন পাঠ করার হাদিসটি সহিহ নয় (غير صحيح), যদিও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় মৃত্যু পথযাত্রী মুমূর্ষু ব্যক্তি। এই বিষয়ে কোনো হাদিসই সহিহ হিসেবে প্রমাণিত (لم يصح) হয়নি, যেমনটি মুহাদ্দিস আদ-দারাকুতনি বলেছেন।

আর জেনে রাখুন, মৃতদের উদ্দেশ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ করার যে প্রথা গ্রাম ও শহরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, সে বিষয়ে কোনো সহিহ (صحيح) কিংবা যইফ (ضعيف) হাদিস বর্ণিত হয়নি। সুতরাং এটি পূর্বোক্ত অকাট্য দলিলাদির বিরোধী একটি বিদআত (بدع)। কিন্তু আলেমদের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদের নীরবতা ও সম্মতির কারণে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর ব্যাপক প্রচলনের ফলে তা বর্তমানে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা আবশ্যিক ফরজের ন্যায় গণ্য হতে শুরু করেছে।"

--------------------------------------------

১. কুরআনকে উপার্জনের মাধ্যম বানানোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনেক হাদিস সহিহ প্রমাণিত (صحت) হয়েছে। চার ইমামের ঐকমত্য এই যে, যদি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন পাঠ করা হয় তবে সেই সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে না। এ কাজের জন্য গৃহীত অর্থ হারাম এবং দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই পাপিষ্ঠ হবে। অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন!!
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال:"وخلاصة القول إن المسألة من الأمور التعبدية التي يجب فيها الوقوف عند نصوص الكتاب والسنة وعمل الصدر الأول من السلف الصالح.

قد علمنا أن القاعدة المقررة في نصوص القرآن الصريحة والأحاديث الصحيحة أن الناس لا يجزون في الآخرة إلا بأعمالهم {يَوْمَ لا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئاً} وقال تعالى: {وَاخْشَوْا يَوْماً لا يَجْزِي وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئاً} وأن النبي صلى الله عليه وسلم بلغ أقرب أهل عشيرته إليه بأمر ربه: "أن اعملوا لا أغني عنكم من الله شيئا" 1 وأن مدار النجاة في الآخرة على تزكية النفس بالإيمان والعمل الصالح"اهـ.

ونقل رشيد رضا عن الحافظ ابن حجر أنه سئل عمن قرأ شيئا من القرآن وقال في دعائه: "اللهم اجعل ثواب ما قرأته زيادة في شرف سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم". قال: فأجاب بقوله: "هذا مخترع من متأخري القراء لا أعرف لهم سلفا"اهـ.

] نقول [: "إن كثيرا من المتمشيخين الذين لم يفهموا معنى آية من الكتاب العزيز ولم يفهموا معنى آية {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ} ولا معنى الحديث الصحيح: "من عمل

--------------------------------------------

1 جزء من حديث رواه البخاري ومسلم.
তিনি বলেন: "সারকথা এই যে, বিষয়টি ইবাদত সংশ্লিষ্ট (تعبدي) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কুরআন ও সুন্নাহর নস এবং সালাফে সালেহীনের প্রথম প্রজন্মের আমলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক।"

"আমরা জেনেছি যে, কুরআনের সুস্পষ্ট নস ও সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ দ্বারা নির্ধারিত মূলনীতি হলো, পরকালে মানুষ কেবল তাদের আমলের মাধ্যমেই বিনিময় প্রাপ্ত হবে; (যেমন আল্লাহ বলেন:) {যেদিন কোনো সত্তা অন্য কোনো সত্তার জন্য কোনো কিছুরই মালিক হবে না} এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা ভয় করো সেই দিনকে, যেদিন পিতা সন্তানের কোনো কাজে আসবে না এবং সন্তানও পিতার কোনো উপকারে আসবে না}। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের নির্দেশে তাঁর নিকটতম আত্মীয়-স্বজনদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন যে: 'তোমরা আমল করো, আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের রক্ষায় আমি কোনো কাজে আসব না।' ১ এবং পরকালে নাজাতের ভিত্তি হলো ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা।" শেষ।

রশীদ রিদা হাফিজ ইবনে হাজার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করে তার দোয়ায় বলে: "হে আল্লাহ! আমি যা পাঠ করেছি তার সাওয়াব আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদার বৃদ্ধির জন্য দান করুন।" তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "এটি পরবর্তী যুগের ক্বারীগণের আবিষ্কৃত বিষয়, যার স্বপক্ষে পূর্ববর্তীদের (سلف) কোনো আমল আমার জানা নেই।" শেষ।

[আমরা বলি]: "নিশ্চয়ই সেই সব ভণ্ড শাইখদের অনেকে, যারা মহান কিতাবের একটি আয়াতের মর্মও বোঝেনি এবং {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো} আয়াতের অর্থ বোঝেনি এবং এই সহিহ (صحيح) হাদিসের মর্মও বোঝেনি যে: 'যে ব্যক্তি এমন আমল করবে..."

--------------------------------------------

১. বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের অংশ বিশেষ।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৭)
عملا ليس عليه أمرنا فهو رد"1. وحديث: "وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة" 2، هؤلاء هم الذين يتأكلون3 بالقرآن فحسابهم على الله.

--------------------------------------------

1 رواه أحمد ومسلم.

2 رواه مسلم بلفظ: "أما بعد، فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدى هدى محمد، وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة ". ورواه النسائي وزاد "وكل ضلالة في النار" وسندها صحيح (مم) …

3 وقد صح في ذلك أحاديث منها: "اقرؤ وا القرآن، ولا تأكلوا به، ولا تستكثروا به ولا تجفوا عنه، ولا تغلوا فيه ". رواه العمادي وقال ابن حجر سنده قوي. ومعنى لا تأكلوا به، ولا تستكثروا به مالكم كما يفعل أكثر القراء المحترفين اليوم حتى جعلوه بضاعة للموتى فيا ويلهم يوم القيامة. ولا تجفوا عنه: لا تتركوا العمل به. ولا تغلوا فيه: لا تحملوا معانيه فوق ما تحمل كالذين حرفوه، فجعلوا له ظاهرا، وباطنا يخالفه، ونتج منه القول بوجود شريعة، وحقيقة.
...এমন আমল যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد)"১। আর হাদিস: "সবচেয়ে মন্দ বিষয় হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثات), আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা (ضلالة)"২; এরাই তারা যারা কুরআনের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহ করে৩, তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।

--------------------------------------------

১ এটি আহমাদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

২ মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশ, আর সবচেয়ে মন্দ বিষয় হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো (محدثات) এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)"। আর নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত যোগ করেছেন "এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে" এবং এর সনদ সহিহ (صحيح) …

৩ এ বিষয়ে বেশ কিছু সহিহ (صحيح) হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: "তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো, এর বিনিময়ে আহার করো না, এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধি করতে চেয়ো না, এটি থেকে বিমুখ হয়ো না এবং এতে অতিরঞ্জন করো না।" এটি ইমাদি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার বলেছেন এর সনদ শক্তিশালী (قوي)। 'এর বিনিময়ে আহার করো না এবং সম্পদ বৃদ্ধি করতে চেয়ো না' এর অর্থ হলো—একে তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যম বানিও না যেমনটি বর্তমান যুগের অনেক পেশাদার ক্বারী করে থাকে, এমনকি তারা এটিকে মৃতদের জন্য পণ্যে পরিণত করেছে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য দুর্ভোগ অনিবার্য। 'এটি থেকে বিমুখ হয়ো না' এর অর্থ: এর ওপর আমল করা ছেড়ে দিও না। 'এতে অতিরঞ্জন করো না' এর অর্থ: এর অর্থকে এমনভাবে গ্রহণ করো না যা তা বহন করে না, যেমনটি সেই সব লোক করেছে যারা একে বিকৃত করেছে। তারা এর একটি বাহ্যিক (ظاهر) ও একটি অভ্যন্তরীণ (باطن) অর্থ সাব্যস্ত করেছে যা পরস্পর বিরোধী, এবং এর মাধ্যমেই শরিয়ত ও হাকিকতের পৃথক অস্তিত্বের বিষয়টি উদ্ভাবিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أقوال أئمة الحديث:

قال الإمام النووي في (شرح مسلم) في باب وصول ثواب الصدقة عن الميت إليه عند حديث عائشة أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "يا رسول الله إن أمي افتلتت نفسها ولم توص، وأظنها لو تكلمت تصدقت، فلها أجر إن تصدقت عنها؟ ". قال: "نعم".

قال الإمام النووي: "وفى هذا الحديث أن الصدقة عن الميت تنفع الميت ويصل ثوابها4 وهو كذلك بإجماع العلماء وكذا أجمعوا على وصول الدعاء وقضاء الدين بالنصوص

--------------------------------------------

4 إذا كان من فروعه كما ذكرنا.
হাদিসের ইমামগণের উক্তি:

ইমাম নববী (শারহ মুসলিম)-এর ‘মৃত ব্যক্তির নিকট তার পক্ষ থেকে করা সদকার সওয়াব পৌঁছানো’ পরিচ্ছেদে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের আলোচনায় বলেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কোনো অসিয়ত করতে পারেননি। আমার ধারণা, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সদকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তিনি সওয়াব পাবেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

ইমাম নববী বলেন: "এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে এবং এর সওয়াব তার নিকট পৌঁছায়। ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী বিষয়টি এমনই। অনুরূপভাবে দলিলাদির (نصوص) ভিত্তিতে দোয়া এবং ঋণ পরিশোধের সওয়াব পৌঁছানোর ব্যাপারেও তারা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

৪. যদি তা তার বংশধরদের পক্ষ থেকে হয়, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৮)
الواردة في الجميع. ويصح الحج1 عن الميت والصوم2 للأحاديث الصحيحة فيه، والمشهور من مذهبنا أن قراءة القرآن لا يصله ثوابها"اهـ.

وقال الإمام الصنعاني في كتاب (سبل السلام) عند حديث ابن عباس قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقبور المدينة فأقبل عليهم بوجهه فقال: "السلام عليكم يا أهل القبور، يغفر الله لنا ولكم أنتم سلفنا ونحن بالأثر". رواه الترمذي بإسناد حسن3.

قال: "في الحديث دليل على أن الإنسان إذا دعا لأحد أو استغفر يبدأ بالدعاء لنفسه والاستغفار لها، وعليه وردت الأدعية القرآنية {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا … } ، {وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ} وفيه أن هذه الأدعية ونحوها نافعة للميت بلا خلاف. وأما غيرها من قراءة القرآن له فالشافعي يقول: "لا يصل ذلك إليه! ""

وقال الإمام الشوكاني رحمه الله في شرح المنتقى: "والمشهور من مذهب الشافعي وجماعة من أصحابه

--------------------------------------------

1 كل ذلك بشروط لا مجال لذكرها هنا. كأن لم يحج لعذر، ويذهب عنه أحد فروعه.

2 وذلك مقيد بصوم النذر فقط، فمن مات وعليه صوم نذر صام عنه أحد فروعه، وقد صح في ذلك حديث. وإلا ترك الكثيرون صوم رمضان ومثله الصلاة وطلبوا من فروعهم قضاءها …

3 هذا الحديث ضعيف السند (مج) وقد ذكرنا فيما سبق أدعية صحيحة فى هذا الموضوع.
সকলের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। আর সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহের ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ ১ এবং রোজা ২ রাখা বৈধ। আমাদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, কোরআন তেলাওয়াতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে না।" সমাপ্ত।

ইমাম সানআনি 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের হাদিসের বর্ণনায় বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) মদিনার কবরসমূহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের অগ্রগামী এবং আমরা তোমাদের অনুগামী।" তিরমিজি এটি একটি হাসান (حسن) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন ৩।

তিনি বলেন: "এই হাদিসে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ যখন অন্য কারো জন্য দোয়া বা ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন সে যেন নিজের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু করে। আর এর স্বপক্ষেই কোরআনের দোয়াগুলো অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন— {হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা...} এবং {আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন}। এতে প্রতীয়মান হয় যে, এই দোয়াগুলো এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো মৃত ব্যক্তির জন্য কোনো মতভেদ ছাড়াই ফলপ্রসূ। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন তেলাওয়াত করা ছাড়া অন্যান্য ইবাদতের ব্যাপারে ইমাম শাফেঈ বলেন: 'তা তার কাছে পৌঁছে না!'"

এবং ইমাম শাওকানি (রহ.) 'শারহুল মুনতাকা'-তে বলেন: "ইমাম শাফেঈ এবং তার একদল অনুসারীর মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো—

--------------------------------------------

১. এই সবকিছুই এমন সব শর্তসাপেক্ষ যা এখানে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। যেমন ওজরের কারণে হজ করতে না পারা এবং তার কোনো উত্তরসূরি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করা।

২. আর এটি কেবল মানতের রোজার সাথে নির্দিষ্ট। সুতরাং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমতাবস্থায় যে তার জিম্মায় মানতের রোজা ছিল, তবে তার উত্তরসূরিদের কেউ তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবে। এ বিষয়ে একটি সহিহ (صح) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। অন্যথায় অনেকে রমজানের রোজা এবং নামাজের ন্যায় ইবাদতগুলো ছেড়ে দিত এবং তাদের উত্তরসূরিদের নিকট তা কাজা করার দাবি জানাত...

৩. এই হাদিসটির সনদ (السند) দুর্বল (ضعيف) (মাজ)। আমরা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে সহিহ (صحيحة) দোয়াগুলো উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ১৯)
أنه لا يصل إلى الميت ثواب قراءة القرآن"1.

[ونقول] : إن مما يدل دلالة واضحة على أن القرآن لا ينفع الموتى ولا يتلى على قبورهم قول رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما رواه البيهقي بلفظ " اقرؤوا سورة البقرة في بيوتكم ولا تجعلوها قبورا" 2 وأيضا: "صلوا في بيوتكم ولا تتخذوها قبورا" 3. رواه الترمذي والنسائي وأبو يعلى والضياء المقدسي، وصححه السيوطي في الصغير فلو كان القرآن يتلى لنفع الأموات ويقرأ على قبورهم لما قال النبي صلى الله عليه وسلم الذي هو بالمؤمنين رؤوف رحيم- "أقرؤوا وصلوا فى بيوتكم ولا تجعلوها قبورا". وإنما قال هذا لأن القبور ليست محلا لقراءة القرآن ولا للصلاة، ولهذا لم يرد حديث واحد بسند صحيح ولا حسن مقبول أنه صلى الله عليه وسلم قرأ القرآن ولا شيئا منه مرة واحدة في حياته كلها مع كثرة زيارته للقبور وتعليمه للناس كيفية زيارتها.

--------------------------------------------

1 إلا من فروعه طبعا. فإن يصل إليهم.

2 رواه مسلم بلفظ: "لا تجعلوا بيوتكم مقابر، إن الشيطان ينفر من البيت الذي يقرأ فيه سورة البقرة".

3 رواه الترمذي والنساثي وسنده صحيح (مج) .
মৃত ব্যক্তির নিকট কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছে না। ১.

[এবং আমরা বলি]: কুরআন যে মৃতদের কোনো উপকারে আসে না এবং তাদের কবরের পাশে তিলাওয়াত করা হয় না, সে বিষয়ে যা স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে তা হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, যা বায়হাকি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না।" ২ এবং আরও বর্ণিত আছে: "তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না।" ৩। এটি তিরমিজি, নাসায়ি, আবু ইয়ালা এবং দিয়া আল-মাকদিসি বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ুতি আল-জামি আস-সগির গ্রন্থে এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন। যদি কুরআন তিলাওয়াত মৃতদের উপকারে আসত এবং তাদের কবরের ওপর পড়া হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান ও করুণাময়—কখনো বলতেন না: "তোমরা তোমাদের ঘরে তিলাওয়াত ও সালাত আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না।" বরং তিনি এটি এই কারণে বলেছেন যে, কবরস্থান কুরআন তিলাওয়াত বা সালাত আদায়ের স্থান নয়। আর এই কারণেই একটি হাদিসও সহিহ (صحيح) কিংবা গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণিত হয়নি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সমগ্র জীবনে একবারের জন্যও কবরের পাশে কুরআন বা এর কোনো অংশ পাঠ করেছেন, অথচ তিনি অধিক পরিমাণে কবর জিয়ারত করতেন এবং মানুষকে জিয়ারত করার নিয়ম শিক্ষা দিতেন।

--------------------------------------------

১ অবশ্য তাঁর শাখা বা বংশধরদের পক্ষ থেকে হলে তা তাদের কাছে পৌঁছাবে।

২ মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না; নিশ্চয়ই শয়তান সেই ঘর থেকে পলায়ন করে যেখানে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা হয়।"

৩ তিরমিজি ও নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌أقوال أئمة المذاهب الأربعة

مذهب أبى حنيفة:

قال في كتاب الفقه الأكبر للإمام ملا علي القاري الحنفي (ص 115) : "ثم القراءة عند القبور مكروهة عند أبى حنيفة ومالك وأحمد رحمهم الله في رواية. لأنه محدث لم ترد به السنة" وكذلك قال شارح الإحياء (ج 3 ص 285) (1) 1.

مذهب الشافعي:

استدل الإمام الشافعي على عدم وصول ثواب القراءة بآية {وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى} هو وبحديث: "إذا مات الإنسان انقطع عمله … " الخ.

وقال النووي في شرح هذا الحديث: "وأما قراءة القرآن وجعل ثوابها للميت والصلاة عنه ونحوها، فذهب الشافعي والجمهور أنها لا تلحق الميت".اهـ، وكرر ذلك في عدة مواضع من شرح مسلم.

--------------------------------------------

1 فتوى المذهب الحنفي: قال الإمام البركوي في كتابه (الطريقة المحمدية) في الفصل الثالث في أمور مبتدعة وباطلة أكب الناس عليها على ظن أنها قرب مقصودة … إلى أن قال: "ومنها الوصية من الميت باتخاذ الطعام والضيافة يوم موته أو بعده ولإعطاء دراهم لمن يتلو القرآن لروحه ويسبح أو يهلل له، وكلها بدع منكرة باطلة والمأخوذ منها حرام للآخذ وهو عاص بالتلاوة والذكر لأجل الدنيا" انتهى ملخصا. وقال الإمام العلامة العيني شارح البخاري: "ويمنع القاريء للدنيا، والآخذ والمعطى آثمان" وقال تاج الشريعة في (شرح الهداية) من كتب الحنفية: "إن القراءة بالأجرة لا يصل ثوابها لا للميت ولا للقاريء".
চার মাজহাবের ইমামগণের বক্তব্য

হানাফী মাজহাব:

ইমাম মোল্লা আলী কারী হানাফী তাঁর আল-ফিকহুল আকবার গ্রন্থের (পৃষ্ঠা ১১৫) ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অতঃপর কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা ইমাম আবু হানিফা, মালিক এবং আহমাদ (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর নিকট একটি বর্ণনামতে (رواية) অপছন্দনীয় (مكروه)। কারণ এটি একটি উদ্ভাবিত (محدث) বিষয় যার স্বপক্ষে কোনো সুন্নাহ (سنة) বর্ণিত হয়নি।" অনুরূপভাবে এহিয়া-উ উলুমুদ্দিন-এর ব্যাখ্যাকারীও বলেছেন (৩য় খণ্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা)। (১) ১.

শাফেয়ী মাজহাব:

ইমাম শাফেয়ী তেলাওয়াতের সওয়াব না পৌঁছানোর সপক্ষে {وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى} (মানুষ কেবল তা-ই পায় যার জন্য সে চেষ্টা করে) এই আয়াত এবং এই হাদিস দ্বারা দলিল (استدل) পেশ করেছেন: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়..." ইত্যাদি।

ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আর কুরআন তেলাওয়াত করা এবং এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে পৌঁছানো, তার পক্ষ থেকে সালাত আদায় করা এবং এই জাতীয় আমলগুলোর ব্যাপারে শাফেয়ী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) উলামাদের অভিমত হলো যে, তা মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় না।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত, তিনি সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যার বিভিন্ন স্থানে এই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

--------------------------------------------

১. হানাফী মাজহাবের ফতোয়া: ইমাম বিরকিবী তাঁর 'আত-তরীকাতুল মুহাম্মাদিয়া' কিতাবের তৃতীয় পরিচ্ছেদে সেই সব উদ্ভাবিত (مبتدعة) ও বাতিল (باطلة) বিষয়াবলী সম্পর্কে বলেছেন যা মানুষ ইবাদত মনে করে আঁকড়ে ধরেছে... থেকে শুরু করে তিনি বলেন: "তন্মধ্যে রয়েছে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই অসিয়ত করা যে, তার মৃত্যুর দিনে বা পরে খাবার ও মেহমানদারির আয়োজন করা হবে অথবা তার রূহের মাগফেরাতের জন্য কুরআন তেলাওয়াতকারী, তাসবিহ পাঠকারী বা তাহলিল পাঠকারীকে অর্থ প্রদান করা হবে। এগুলোর সবই গর্হিত বিদআত (بدع منكرة) ও বাতিল (باطلة); আর এর বিনিময়ে যা গ্রহণ করা হয় তা গ্রহণকারীর জন্য হারাম (حرام)। দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে তেলাওয়াত ও জিকির করার কারণে সে একজন পাপিষ্ঠ (عاص)।" সংক্ষেপে সমাপ্ত। বুখারীর ব্যাখ্যাকারী ইমাম আল্লামা আইনী বলেছেন: "দুনিয়াবী স্বার্থে তেলাওয়াতকারীকে বাধা দিতে হবে; দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই পাপী (آثمان)।" হানাফী কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হেদায়া-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তাজউশ শরীয়াহ বলেছেন: "বিনিময়ের মাধ্যমে কুরআন পাঠের সওয়াব মৃত ব্যক্তি বা পাঠকারী কারও নিকটই পৌঁছায় না।"
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال وفى شرح المنهاج لابن النحوي: "لا يصل إلى الميت عندنا ثواب القراءة على المشهور"اهـ.

وسئل العز بن عبد السلام عن ثواب القراءة المهدى للميت هل يصل أولا؟ فأجاب بقوله: "ثواب القراءة مقصور على القاريء ولا يصل إلى غيره". قال: "والعجب من الناس من يثبت ذلك بالمنامات وليست المنامات من الحجج اهـ.

مذهب المالكية:

قال الشيخ ابن أبى جمرة: "إن القراءة عند المقابر بدعة وليست بسنة. كذا في المدخل. وقال الشيخ الدردير في كتابه الشرح الصغير (ج1 ص180) : "وكره قراءة شيء من القرآن عند الموت وبعده على القبور لأنه ليس من عمل السلف وإنما كان من شأنهم الدعاء بالمغفرة والرحمة والاتعاظ"اهـ. وكذلك في حاشية العلامة العدوي على شرح أبى الحسن.

مذهب الحنابلة:

قال الإمام أحمد لمن رآه يقرأ على القبر: "يا هذا إن قراءة القرآن على القبر بدعة". وهو قول جمهور السلف وعليه قدماء أصحابه. وقال أيضا: "والقراءة على الميت بعد موته بدعة"

وقال: "ولم يكن من عادة السلف إذا صلوا تطوعا أو
এবং ইবনে আন-নাহবী 'শারহুল মিনহাজ'-এ বলেন: "আমাদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور) মতানুসারে মৃত ব্যক্তির নিকট কুরআন পাঠের সওয়াব পৌঁছে না।" সমাপ্ত।

ইজ্জ বিন আব্দুস সালামকে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে কুরআন পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তা পৌঁছাবে কি না? উত্তরে তিনি বলেন: "কুরআন পাঠের সওয়াব কেবল পাঠকারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ, তা অন্য কারও নিকট পৌঁছে না।" তিনি আরও বলেন: "ঐ সব মানুষের আচরণ বিস্ময়কর যারা স্বপ্নের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে চায়, অথচ স্বপ্ন কোনো দলিল (حجة) নয়।" সমাপ্ত।

মালিকি মাযহাব:

শেখ ইবনে আবি জামরাহ বলেন: "কবরস্থানের নিকট কুরআন পাঠ করা বিদআত (بدعة) এবং তা সুন্নাহ (سنة) নয়।" এটি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। শেখ আদ-দারদীর তাঁর 'আশ-শারহুস সাগির' (১ম খণ্ড, ১৮০ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেছেন: "মৃত্যুর সময় এবং মৃত্যুর পর কবরের পাশে কুরআন পাঠ করা অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ এটি পূর্বসূরীদের (سلف) আমল ছিল না। বরং তাঁদের রীতি ছিল ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করা এবং উপদেশ গ্রহণ করা।" সমাপ্ত। একইভাবে আল্লামা আদ-আদাওয়ীর 'শারহু আবিল হাসান'-এর টীকাতেও বর্ণিত হয়েছে।

হাম্বলি মাযহাব:

ইমাম আহমাদ এক ব্যক্তিকে কবরের ওপর কুরআন পাঠ করতে দেখে বলেছিলেন: "হে ব্যক্তি! কবরের ওপর কুরআন পাঠ করা বিদআত (بدعة)।" এটিই অধিকাংশ (جمهور) পূর্বসূরীদের (سلف) অভিমত এবং তাঁর আদি অনুসারীরাও এর ওপর ছিলেন। তিনি আরও বলেন: "মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করা বিদআত (بدعة)।"

তিনি আরও বলেন: "পূর্বসূরীদের (سلف) এমন অভ্যাস ছিল না যে, যখন তাঁরা নফল (تطوع) ইবাদত করতেন অথবা...
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২২)
صاموا تطوعا أو حجوا تطوعا أو قرؤوا القرآن أن يهدوا ثواب ذلك إلى موتى المسلمين، فلا ينبغي العدول عن طريق السلف"1.

وأما حديث "اقرؤوا على موتاكم يس" فهو حديث معلول مضطرب الإسناد مجهول السند. وعلى فرض صحته فلا دلالة فيه قطعا، فإن المراد من قوله "موتاكم" أي من حضرته مقدمات الموت2.

--------------------------------------------

1 فتوى المذهب الحنبلى: قال الإمام أبو الحسن البعلي (الاختيارات) : "ولا يصح الاستئجار على القراءة وإهداؤها إلى الميت لأنه لم ينقل عن أحد من العلماء الإذن في ذلك، وقد قال العلماء: إن القاريء إذا قرأ لأجل المال فلا ثواب له فأي شيء يهدى إلى الميت؟!. وإنما يصل إلى الميت العمل الصالح، والاستثجار على مجرد التلاوة لم يقل به أحد من الأئمة وإنما تنازعوا في الاستئجار على التعليم- أي منهم من أباح الأجرة على تعليم القرآن ومنهم من لم يبحها" وقال في (شرح الإقناع) قال الأكثر: "لا يصل إلى الميت ثواب القراءة وإن ذلك لفاعله".

2 خلاصة الفتاوى المتقدمة:

يقول الجمهور بعدم وصول ثواب القراءة على الأموات إذا كان بالأجرة، والمال المأخوذ على ذلك حرام ويأثم الآخذ والمعطى. وقال الشافعي: بعدمه- أي عدم وصول ثواب قراءة القرآن- على الأموات بأجرة أو بغير أجرة، وهو الصواب الذي ندين الله به، قال تعالى: {وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلَاّ مَا سَعَى} وقال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: "إذا مات الإنسان انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له ". رواه مسلم.

وإذا كانت قراءة القرآن تصل إلى الميت لما دخل أحد من المسلمين النار لقوله صلى الله عليه وآله وسلم: "من قرأ حرفا من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها. لا أقول {ألم} حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف ". أخرجه الترمذي وقال: "حديث صحيح غريب إسناده".. وهو صحيح (مم) .

وإذا كانت القراءة تصل إلى الموتى فما بال الأحياء لا يضعون آلات تسجيل على القبور يتلى فيها القرآن ليل نهار؟؟ {فَمَالِ هَؤُلاءِ الْقَوْمِ لا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثاً} ؟!
তারা নফল রোজা পালন করেছেন বা নফল হজ করেছেন অথবা কুরআন তেলাওয়াত করেছেন যেন তারা এর সওয়াব মৃত মুসলিমদের নিকট উপহার হিসেবে পৌঁছে দেন, তবে সালাফদের (পূর্বসূরীদের) পথ থেকে সরে আসা উচিত নয়।"১

আর "তোমরা তোমাদের মৃতদের ওপর ইয়াসিন পাঠ করো" এই হাদিসটির ব্যাপারে বলা যায় যে, এটি একটি ত্রুটিযুক্ত (معلول) ও অসংলগ্ন সনদবিশিষ্ট (مضطرب الإسناد) হাদিস যার সনদ অজ্ঞাত (مجهول السند)। আর যদি এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরেও নেওয়া হয়, তবে এতে নিশ্চিতভাবে কোনো প্রমাণ নেই। কেননা "তোমাদের মৃতরা" বলতে এখানে তাদের বোঝানো হয়েছে যাদের নিকট মৃত্যুর আলামত উপস্থিত হয়েছে।২

--------------------------------------------

১ হাম্বলি মাযহাবের ফতোয়া: ইমাম আবুল হাসান আল-বালি (আল-ইখতিয়ারাত) গ্রন্থে বলেছেন: "কুরআন পাঠের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা এবং তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট উপহার পাঠানো সঠিক নয়। কারণ কোনো আলেম থেকে এ বিষয়ে অনুমতির কথা বর্ণিত হয়নি। আলেমগণ বলেছেন: যদি কোনো ক্বারি অর্থের বিনিময়ে তেলাওয়াত করে তবে তার কোনো সওয়াব নেই, তাহলে মৃত ব্যক্তিকে কী উপহার দেওয়া হবে?! মূলত মৃত ব্যক্তির নিকট কেবল নেক আমলই পৌঁছে। শুধুমাত্র তেলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের কথা ইমামদের (الأئمة) কেউ বলেননি, বরং তারা শিক্ষা প্রদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন—অর্থাৎ তাদের কেউ কেউ কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক বৈধ বলেছেন এবং কেউ কেউ তা বৈধ বলেননি।" আর 'শারহুল ইকনা' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে অধিকাংশের মতে: "তেলাওয়াতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় না, বরং তা পাঠকারীর জন্যই নির্দিষ্ট।"

২ পূর্বোক্ত ফতোয়াগুলোর সারসংক্ষেপ:

জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরাম বলেন, যদি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে হয় তবে মৃতদের ওপর কুরআন পাঠের সওয়াব পৌঁছে না। আর এর বিনিময়ে নেওয়া অর্থ হারাম এবং দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই গুনাহগার হবে। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: মৃতদের ওপর কুরআন তেলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছায় না—চাই তা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে হোক বা পারিশ্রমিক ছাড়া—আর এটিই সেই সঠিক মত যার ওপর আমরা আল্লাহর নিকট দ্বীনদারী পোষণ করি। মহান আল্লাহ বলেন: "আর মানুষের জন্য তা-ই থাকে যার জন্য সে চেষ্টা করে।" আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ হাদিস (الحديث الصحيح) এ বলেছেন: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া: সাদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

যদি কুরআন পাঠের সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছাত, তবে কোনো মুসলিমই জাহান্নামে প্রবেশ করত না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করল, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর প্রতিটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলছি না যে 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি একটি বিশুদ্ধ এবং একক সনদবিশিষ্ট (حديث صحيح غريب إسناده) হাদিস" এবং এটি বিশুদ্ধ (صحيح)।

যদি তেলাওয়াত মৃতদের নিকট পৌঁছাতই, তবে জীবিতরা কেন কবরের ওপর রেকর্ডার স্থাপন করে না যাতে দিনরাত কুরআন তেলাওয়াত হতে থাকে?? "এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?!"
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌كلام علماء الأصول

قال صاحب كتاب "طريق الوصول إلى إبطال البدع بعلم الأصول" بعدما ذكر قاعدة أصولية نفيسة ما نصه: "من هذه القاعدة الجليلة تعلم أن أكثر ما تفعله العامة، هو من البدع المذمومة، ولنذكر لك أمثلة:

الأول: قراءة القرآن على القبور رحمة بالميت، تركه النبي صلى الله عليه وسلم وتركه الصحابة مع قيام المقتضى للفعل، والشفقة للميت وعدم المانع منه، فمقتضى القاعدة المذكورة يكون تركه هو السنة وفعله بدعة مذمومة! وكيف يعقل أن يترك الرسول صلى الله عليه وآله وسلم شيئا نافعا لأمته يعود عليها بالرحمة ويتركه الرسول صلى الله عليه وسلم طول حياته ولا يقرؤه على ميت مرة واحدة.

الثاني: قراءة الصمدية بعدد معلوم أو الجلالة بعدد معلوم. القرآن في ذاته عبادة لقارئه يتقرب بقراءته وبسماعه إلى الله تعالى ولا ينازع في ذلك أحد، إنما النزاع في قراءته للميت ليكون عتقا لرقبته من النار: مع العلم بأن القرآن ما نزل للأموات وإنما نزل للأحياء1 نزل ليكون تبشيرا للمطيع وإنذارا للعاصي، نزل لنهذب به نفوسنا ونصلح به شؤوننا، أنزل الله القرآن كغيره من الكتب السماوية ليعمل على طريقه العاملون، ويهتدى بهديه المهتدون، قال جل شأنه:

--------------------------------------------

1قال تعالى في سورة (يس) : {إِنْ هُوَ إِلَاّ ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيّاً وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} (يا: 75) .
উসূল শাস্ত্রবিদগণের (علماء الأصول) বক্তব্য

‘তরীকুল উসূল ইলা ইবতালিল বিদা বি-ইলমিল উসূল’ কিতাবের লেখক একটি মূল্যবান উসূল শাস্ত্রীয় নীতি (قاعدة أصولية) উল্লেখ করার পর যা বলেছেন তার মূলপাঠ (نص) নিম্নরূপ: "এই মহান নীতি থেকে আপনি জানতে পারবেন যে, সাধারণ মানুষ যা করে তার অধিকাংশই নিন্দনীয় বিদআতের (البدع المذمومة) অন্তর্ভুক্ত। আমরা আপনার জন্য কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি:

প্রথমত: মৃতের প্রতি রহমতের উদ্দেশ্যে কবরের ওপর কুরআন পাঠ করা; অথচ কাজের প্রেক্ষাপট (المقتضى) বিদ্যমান থাকা, মৃতের প্রতি মমতা থাকা এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্ত্বেও নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণ (الصحابة) তা বর্জন করেছেন। সুতরাং উল্লিখিত নীতির দাবি অনুযায়ী তা বর্জন করাই হলো সুন্নাহ (السنة) এবং তা সম্পাদন করা হলো একটি নিন্দনীয় বিদআত (بدعة مذمومة)! এটা কীভাবে বোধগম্য হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য কল্যাণকর ও রহমত বয়ে আনে এমন কিছু ছেড়ে দেবেন যা তিনি সারা জীবন বর্জন করেছেন এবং একবারের জন্যও কোনো মৃতের পাশে তা পাঠ করেননি।

দ্বিতীয়ত: নির্দিষ্ট সংখ্যায় ‘আস-সামাদিয়্যাহ’ (সূরা ইখলাস) পাঠ করা অথবা নির্দিষ্ট সংখ্যায় ‘আল-জালালাহ’ (আল্লাহ শব্দ) জিকির করা। কুরআন মূলত তিলাওয়াতকারীর জন্য একটি ইবাদত, যা পাঠ করার মাধ্যমে এবং শ্রবণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়—এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না। দ্বিমত কেবল মৃতের জন্য তা পাঠ করা নিয়ে যাতে এটি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়। তবে এটি জানা থাকা আবশ্যক যে, কুরআন মৃতদের জন্য অবতীর্ণ হয়নি, বরং তা অবতীর্ণ হয়েছে কেবল জীবিতদের জন্য।১ এটি অবতীর্ণ হয়েছে অনুগতদের জন্য সুসংবাদ এবং অবাধ্যদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে; অবতীর্ণ হয়েছে যাতে আমরা আমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করতে পারি এবং আমাদের বিষয়াদি সংশোধন করতে পারি। মহান আল্লাহ অন্যান্য আসমানী কিতাবের ন্যায় কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে আমলকারীরা এর পথে চলে এবং হেদায়েতপ্রাপ্তরা এর মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করে। মহান আল্লাহ বলেন:

--------------------------------------------

১. মহান আল্লাহ সূরা ইয়াসীনে বলেন: {এটি তো কেবল একটি উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন, যাতে তিনি জীবিত ব্যক্তিকে সতর্ক করেন এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ অবধারিত হয়} (ইয়াসীন: ৭৫)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৪)
{إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً وَأَنَّ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَاباً أَلِيماً} .

فهل سمعتم أن كتابا من الكتب السماوية قرىء على الأموات أو أخذت عليه الأجور والصدقات؟! ويقول الله خطابا لنبيه: {قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُ بَعْدَ حِينٍ} .

أكان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ على أصحابه عددا معلوما في الصمدية أو عددا معلوما من الجلالة ليكون ذلك عتقا لرقبتهم وإنقاذا لهم من النار؟! مع العلم بأن من ليس بمعصوم في حاجة إلى تكفير السيئات ورفع الدرجات، أم كانت سنته أن يدفن الرجل من أصحابه ويذهب كل إلى عمله ليس له إلا ما قدم؟ هذه كانت سنته وهذه طريقته، والله تعالى يقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ} فلنتأس به في الفعل، كما نتأسى به في الترك"اهـ. كلام صاحب طريق الوصول.

فصل في أشياء تتعلق بذلك

أما ما يروى عن ابن عمر أنه أوصى بقراءة الفاتحة وخواتيم البقرة على قبره، فهو أثر شاذ لم يصح سنده، ولم يوافقه عليه أحد من الصحابة، وكذلك ما يروى من قراءة الفاتحة والصمدية والمعوذتين وألهاكم والكافرون وإهدائها
{নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে বড় পুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি প্রস্তুত করেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।}।

আপনারা কি কখনও শুনেছেন যে আসমানী কিতাবসমূহের কোনো একটি মৃত ব্যক্তিদের ওপর পাঠ করা হতো কিংবা তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক ও সদকা গ্রহণ করা হতো?! আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে সম্বোধন করে বলেন: {বলুন, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি কৃত্রিমতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। এটি তো বিশ্বজগতের জন্য কেবল এক উপদেশ। আর তোমরা অবশ্যই কিছুকাল পর এর সংবাদ জানতে পারবে।}।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তাঁর সাহাবীদের ওপর নির্দিষ্ট সংখ্যক ‘আস-সামাদিয়্যাহ’ কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক ‘আল-জালালাহ’ পাঠ করতেন যাতে তা তাঁদের মুক্তির উসিলা এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি হয়?! অথচ এটি জানা কথা যে, যে ব্যক্তি নিষ্পাপ নয়, তার পাপ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। নাকি তাঁর সুন্নাহ এমন ছিল যে, তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে দাফন করা হতো এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজে চলে যেতেন, যেখানে মানুষের জন্য তার কৃতকর্ম ব্যতীত আর কিছুই থাকে না? এটিই ছিল তাঁর সুন্নাহ এবং এটিই ছিল তাঁর পদ্ধতি। আর মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, ওই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও পরকাল আশা করে।} সুতরাং তাঁর অনুসৃত কর্মের ন্যায় বর্জিত কার্যাবলীর ক্ষেত্রেও আমাদের তাঁর অনুসরণ করা উচিত।" সমাপ্ত। ‘তারীক আল-উসুল’ গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য।

এতদসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর কবরের ওপর সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ পাঠ করার অসিয়ত করেছিলেন, তা একটি অসংগতিপূর্ণ (شاذ) বর্ণনা (أثر) যার সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাথে এ ব্যাপারে একমত হননি। একইভাবে সূরা ফাতিহা, সামাদিয়্যাহ, মুআওয়িযাতাইন, আলহাকুম ও কাফিরুন পাঠ করা এবং তা উপহার দেওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৫)
لأهل المقابر فباطل لمخالفتها لأقوال النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأفعال أصحابه.

[ومن البدع] : قراءة القرآن في الشوارع والطرقات

وعلى أبواب الأضرحة للتعيش والارتزاق، إذ في ذلك تسول فاحش بالقرآن، فهو امتهان للقرآن، والتسول يحرمه الدين الإسلامي تحريما باتا، وهو بالقرآن أشد تحريما، ولكن يجب على العلماء أن يفهموا الحكومة والأغنياء أنه فرض عليهم أن ينفقوا على هؤلاء العميان وأن يستخدموهم في أي عمل كصناعة الزنابيل وخيزران الكراسي وما يليق بهم من الصناعات.

[ومن البدع] : نصب السرادقات (الصواوين)

يوم وفاة الميت وعمل السبحة التي هي عبارة عن التهليل ألف مرة من المعزين2. ويهبون ثوابها للميت، وأصلها منام رآه بعض المتمشيخين فأذاعه بين إخوانه الجهلاء فاتخذوها سنة! ثم حديث " من قرأ قل هو الله أحد ألف مرة فقد أشترى نفسه من النار"، موضوع، وفيه مجاشع الكذاب.

[ومن البدع] : والمنكر أنهم يجددون الحزن كل

--------------------------------------------

1 كالخيمة وقد نهى ابن عمر رضي الله عنهما عن ذلك وقال. " إن الميت يظله عمله"!

2ومن البدع المحرمة إطعام أهل الميت الطعام للمعرين أو الفقراء بعد تشييع الجنازة وفى يوم الخميس واليوم الثالث والأربعين والسنوية والسنة إطعام الأصدقاء والجيران لأهل الميت لحديث: " اصنعوا لآل جعفر طعاما، وقد أتاهم ما يشغلهم " رواه الترمذي وغيره وسنده صحيح، فما أعظم الفرق بين السنة والبدعة!
কবরবাসীদের জন্য তা বাতিল (باطل) কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী এবং তাঁর সাহাবীগণের কর্মের পরিপন্থী।

[এবং বিদআতের অন্তর্ভুক্ত]: রাস্তাঘাট ও অলিতে-গলিতে কুরআন তিলাওয়াত করা

এবং মাজারের দরজাসমূহে জীবিকা নির্বাহ ও উপার্জনের উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করা, কারণ এতে কুরআনের মাধ্যমে জঘন্য ভিক্ষাবৃত্তি প্রকাশ পায়। এটি কুরআনের অবমাননা। ইসলামি শরিয়ত ভিক্ষাবৃত্তিকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেছে, আর কুরআনের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি আরও কঠোরভাবে হারাম। তবে আলেমদের উচিত সরকারকে এবং বিত্তবানদের বোঝানো যে, এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পেছনে ব্যয় করা তাদের ওপর ফরজ এবং তাদেরকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা, যেমন ঝুড়ি তৈরি, বেতের চেয়ার তৈরি বা তাদের জন্য উপযুক্ত অন্য কোনো শিল্প।

[এবং বিদআতের অন্তর্ভুক্ত]: বড় তাবু (সারাদিকাত/সাওয়াউইন) স্থাপন করা

মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর দিনে এবং শোকপ্রকাশকারীদের পক্ষ থেকে এক হাজার বার তাহলীল পাঠের মাধ্যমে তাসবিহ অনুষ্ঠান করা। এবং তারা এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করে। এর মূল ভিত্তি হলো এমন এক স্বপ্ন যা কিছু ভণ্ড পীর দেখেছিল এবং তা তাদের মূর্খ অনুসারীদের মাঝে প্রচার করেছিল, ফলে তারা একে সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করেছে! এছাড়া এই হাদিস যে, "যে ব্যক্তি এক হাজার বার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করবে, সে যেন নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নিল" - এটি বানোয়াট (موضوع), এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুজাশে' নামক একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) রয়েছে।

[এবং বিদআতের অন্তর্ভুক্ত]: এবং আপত্তিকর (منكر) বিষয় হলো তারা প্রতি বছর শোকের পুনরাবৃত্তি করে

--------------------------------------------

১. যেমন তাঁবু; আর ইবনে উমর (রা.) এটি নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার আমলই ছায়া দান করবে!"

২. আর হারাম বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হলো জানাজা দাফনের পর শোকপ্রকাশকারী বা দরিদ্রদের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার খাওয়ানো। একইভাবে বৃহস্পতিবার, তৃতীয় দিন, চল্লিশতম দিন এবং মৃত্যুবার্ষিকীতে খাওয়ানো। অথচ সুন্নাত হলো বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করা; কারণ হাদিসে এসেছে: "তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করো, কারণ তাদের ওপর এমন আপদ এসেছে যা তাদের ব্যস্ত করে ফেলেছে।" এটি তিরমিজি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদটি সহিহ (صحيح)। সুতরাং সুন্নাত এবং বিদআতের মাঝে কত বিশাল পার্থক্য!
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৬)
خميس بعد وفاة الميت إلى يوم الأربعين أو إلى أول عيد له1، ويعملون السرادقات ويحضرون القراء وينتظرون مجيء الناس إليهم للتعزية، وقد روى الإمام أحمد وابن ماجه بإسناد صحيح عن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال: "كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام بعد دفنه من النياحة". وقال الشافعي: يكره الجلوس للتعزية! " وقال الأوزاعي: مثله. وقال الإمام أحمد: وهو من فعل الجاهلية" وأنكره.

[من البدع] : ذهاب النساء والرجال إلى المقابر في الأعياد2 والجمع ومعهم القرص والبلح لتوزيعها على القراء وغيرهم. ومن عيوب القراء أنهم يقولون للجالسات على القبر: اقرأ سورة هنا ياست!؟

ثم يتشاجر معها بعد القراءة لقلة ما تعطيه، وهذا قبيح جدا يحط من كرامة القراء ورجولتهم. وعلاج ذلك أن تمنع الحكومة في شدة وحزم هذه المهازل قبل وقوعها، فلا تسمح للنساء بالخروج إلى المقابر3 وتجري على هؤلاء ما يغنيهم عن ذلك، كما يجب على العلماء أن يذكروا وينكروا ذلك العمل عند كل مناسبة.

--------------------------------------------

1 ومثلها السنوية، وكل ذلك تقليد وتشبه بالكفرة وإضاعة للأموال.

2 ويغريهم الشيطان أن يكون ذلك قبل صلاة العيد والجمعة ليضيع عليهم صلاتهما ا

ومن البدع أيضا سقوط الصلاة، وفك وحدة الميت بعد المغرب، والذهاب إلى

قبره صباحا قبل الشمس في الأيام الثلاثة الأولى من دفنه.

3 لأنهن لا يحتجبن بالحجاب الشرعي، ولا يتمسكن بآداب زيارة القبور.
মৃত ব্যক্তির ইন্তেকালের পর থেকে চল্লিশতম দিন পর্যন্ত কিংবা তার প্রথম ঈদ আসা পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার তারা শামিয়ানা খাটায়, কারীদের উপস্থিত করে এবং শোক প্রকাশের জন্য মানুষের আগমনের অপেক্ষা করে। ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট সমবেত হওয়া এবং দাফনের পর খাবারের আয়োজন করাকে বিলাপের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম।" ইমাম শাফেয়ী বলেন: "শোক প্রকাশের জন্য বসা অপছন্দনীয়!" ইমাম আওজাঈও অনুরূপ বলেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: "এটি জাহেলিয়াত যুগের কর্মকাণ্ড" এবং তিনি একে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

[বিদআতসমূহের (البدع) অন্তর্ভুক্ত]: ঈদ এবং জুমার দিনগুলোতে নারী ও পুরুষদের গোরস্তানে গমন এবং সাথে করে পিঠা ও খেজুর নিয়ে যাওয়া কারী ও অন্যদের মাঝে বিতরণের জন্য। কারীদের একটি ত্রুটি হলো তারা কবরের পাশে উপবিষ্ট নারীদের বলে: "হে মহোদয়া! এখানে একটি সূরা পাঠ করুন!"

এরপর কিরাত পাঠ শেষে পারিশ্রমিক কম হওয়ার কারণে তাদের সাথে ঝগড়া করে; এটি অত্যন্ত কদর্য বিষয় যা কারীদের মর্যাদা ও পুরুষত্বকে ক্ষুণ্ণ করে। এর প্রতিকার হলো, সরকার অত্যন্ত কঠোরতা ও দৃঢ়তার সাথে এসব তামাশা ঘটার আগেই তা রোধ করবে। সুতরাং মহিলাদের গোরস্তানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না, এবং এই কারীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করা হবে যা তাদের এই কাজ থেকে বিমুখ রাখবে। তদ্রূপ আলেমদের উচিত প্রতিটি সুযোগে এই কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং এর প্রতিবাদ করা।

--------------------------------------------

1 অনুরূপভাবে বাৎসরিক অনুষ্ঠান (বার্ষিকী); আর এগুলোর সবই কাফেরদের অন্ধ অনুকরণ ও সাদৃশ্য অবলম্বন এবং সম্পদের অপচয়।

2 শয়তান তাদের প্ররোচিত করে যেন এটি ঈদ ও জুমার সালাতের আগে হয়, যাতে তাদের উভয় সালাত নষ্ট হয়ে যায়।

বিদআতসমূহের (البدع) অন্তর্ভুক্ত আরও বিষয় হলো সালাত পতনের (সাকতুত সালাত) আয়োজন করা, মাগরিবের পর মৃতের একাকীত্ব কাটানোর অনুষ্ঠান করা এবং দাফনের প্রথম তিন দিন সূর্যোদয়ের পূর্বে কবরে যাওয়া।

3 কারণ তারা শরয়ি পর্দার বিধান পালন করে না এবং কবর যিয়ারতের আদবসমূহ মেনে চলে না।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৭)
[ومن البدع] : تسهير القراء في شهر رمضان، إذ لم يكن هذا من فعل السلف الصالح ولا هو من تعليم الرسول صلى الله عليه وآله وسلم وليس في الكتب الصحيحة بل ولا غيرها ما يدل على جواز ذلك. إنما المطلوب شرعا أن نتدارس القرآن، كما ورد أنه صلى الله عليه وآله وسلم: "كان إذا دخل العشر الأخير من رمضان شد مئزره وأحيى ليله وأيقظ أهله"، رواه البخاري ومسلم وغيرهما.

[ومن البدع] :: قراءة سورة يس 40 مرة بقصد إهلاك شخص أو إضرار طائفة، وغاب عن هؤلاء أن الله أنزل القرآن شفاء ورحمة، وأرسل الرسول رحمة للعالمين، وما أنزل الله علينا القرآن لنشقى، وهذا من الجهلاء شنيع، لكنه من أهل العلم أشنع وأفظع، ولكن ضللهم هؤلاء بقولهم: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "خذ من القرآن ما شئت لما شئت، (ويس) لما قرئت له". وكلاهما باطل لا أصل له!!

[ومن البدع] : قراءة سورة الكهف بالمساجد على الهيئة المعروفة، والسنة أن يقرأها يوم الجمعة كل مسلم ومسلمة لحديث " من قرأ سورة الكهف في يوم الجمعة أضاء له من النور ما بين الجمعتين" وفى رواية " أضاء له من النور ما بينه وبين البيت العتيق" وهذان الحديثان ضعيفان1، وهما يفيدان أن الكل مطلوب منه قراءة سورة الكهف ولكن

--------------------------------------------

1بل هما صحيحان (مم) .

[বিদআতগুলোর (البدع) অন্তর্ভুক্ত]: রমজান মাসে ক্বারিদের দীর্ঘক্ষণ জাগিয়ে রাখা, কেননা এটি সৎপূর্বসূরিদের (السلف الصالح) আমল ছিল না এবং এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা থেকেও প্রমাণিত নয়। সহিহ (صحيح) কিতাবসমূহে বা অন্য কোনো কিতাবে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা এর বৈধতা নির্দেশ করে। শরয়িভাবে কাঙ্ক্ষিত হলো আমরা যেন কুরআন অধ্যয়ন করি, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সা.) যখন রমজানের শেষ দশকে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর কোমরবন্ধ শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন; এটি বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

[বিদআতগুলোর (البدع) অন্তর্ভুক্ত] :: কোনো ব্যক্তিকে ধ্বংস করার বা কোনো গোষ্ঠীর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ৪০ বার সুরা ইয়াসিন পাঠ করা। তারা এটি ভুলে গেছে যে আল্লাহ কুরআনকে নিরাময় ও রহমত হিসেবে নাজিল করেছেন এবং রাসুলকে জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেননি আমাদের দুর্ভাগা করার জন্য। সাধারণ মূর্খদের পক্ষ থেকে এটি জঘন্য কাজ, কিন্তু আলেমদের পক্ষ থেকে এটি আরও জঘন্য ও ভয়ংকর। তবে তাদেরকে এই কথা বলে বিভ্রান্ত করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা তা গ্রহণ করো যে উদ্দেশ্যে ইচ্ছা," এবং "(সুরা ইয়াসিন) যে উদ্দেশ্যে পাঠ করা হয় তা সফল হয়।" এই দুটি বর্ণনাই বাতিল (باطل) এবং এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)!!

[বিদআতগুলোর (البدع) অন্তর্ভুক্ত]: মসজিদে প্রচলিত পদ্ধতিতে সুরা কাহাফ পাঠ করা। সুন্নাহ (السنة) হলো প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী জুমার দিনে এটি পাঠ করবেন। কারণ হাদিসে আছে: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়টুকু নুর দ্বারা আলোকিত হবে।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তার এবং বাইতুল আতিকের (কাবা) মধ্যবর্তী স্থান নুর দ্বারা আলোকিত হবে।" এই হাদিস দুটি দুর্বল (ضعيف)১, তবে এগুলো দ্বারা বুঝা যায় যে সকলের জন্যই সুরা কাহাফ পাঠ করা কাম্য কিন্তু

--------------------------------------------

১বরং এই দুটি সহিহ (صحيح) (এম.এম)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৮)
التشويش بها من قارىء واحد ممنوع شرعا وعقالا، وفى الحديث " لا يجهر بعضكم على بعض بالقرآن". رواه مالك في الموطأ وأبوداود في سننه1.

وروى الإمام أحمد ومسلم والنسائي مرفوعا: "من قرأ العشر الأواخر من سورة الكهف عصم من فتنة الدجال " 2.

[ومن البدع] : قراءة سورة تبارك جماعة على صوت واحد كما يفعل ذلك جماعة الخلوتية وغيرهم، أما السورة نفسها فقراءتها سنة لحديث: "إن سورة من القرآن ما هي إلا ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له، وهى تبارك الذي بيده الملك ". رواه أحمد وأصحاب السنن وابن حبان3.

[ومن البدع] : قراءة سورة الفاتحة لروح النبي صلى الله عليه وسلم بعد صلاة الظهر، وقراءتها بعد صلاة العشاء لروح عمر وبعد صلاة المغرب لروح عثمان وبعد صلاة العشاء لروح على، ويعتقدون أنهم بهذا يحضرونهم عند تغسيلهم بعد الموت أو عند سؤال القبر، وتلك بدع وخرافات ما أنزل الله بها من سلطان!

[ومن البدع] : قول بعض المصلين عقب التسليم من صلاة الجمعة فورا: "الفاتحة لسيدي الحسين" أو يقول

--------------------------------------------

1 وهو صحيح لغيره.

2 رواه مسلم بلفظ: "من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال". وهو شاذ (أي ضعيف) باللفظ الذي ذكره المصنف.

3 وإسناده حسن (مم) .
একজন ক্বারী কর্তৃক এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা শরীয়ত ও বিবেক অনুযায়ী নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে, "তোমরা কোরআন পাঠের মাধ্যমে একে অপরের ওপর উচ্চস্বর করো না।" এটি মালিক মুওয়াত্তায় এবং আবু দাউদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন।১

ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও নাসাঈ রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।" ২

[বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত]: সূরা তাবারক (সূরা মুলক) সম্মিলিতভাবে সমস্বরে পাঠ করা, যেমনটি খালওয়াতিয়া জামাত ও অন্যরা করে থাকে; তবে এই সূরাটি পাঠ করা সুন্নাত, কারণ হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই কোরআনের একটি সূরা যাতে মাত্র ত্রিশটি আয়াত রয়েছে, তা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছিল যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়েছে, আর সেটি হলো 'তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক' (সূরা মুলক)।" এটি আহমাদ, সুনান গ্রন্থকারগণ এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন।৩

[বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত]: জোহরের সালাতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহের উদ্দেশ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ করা, এশার সালাতের পর উমরের রূহের জন্য, মাগরিবের পর উসমানের রূহের জন্য এবং এশার পর আলীর রূহের জন্য পাঠ করা। তারা বিশ্বাস করে যে, এর মাধ্যমে মৃত্যুর পর গোসল দেওয়ার সময় অথবা কবরে প্রশ্নের সময় তারা তাঁদের কাছে উপস্থিত হবেন। এগুলো এমন বিদআত ও কুসংস্কার যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল অবতীর্ণ করেননি!

[বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত]: জুমার সালাতের সালাম ফেরানোর সাথে সাথে কিছু মুসল্লির এ কথা বলা: "আমার নেতা হোসাইনের জন্য ফাতিহা" অথবা বলা

--------------------------------------------

১ এবং এটি অন্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিশুদ্ধ (صحيح لغيره)।

২ মুসলিম এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।" আর লেখক যে শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন তা শায বা ব্যতিক্রমী (شاذ) (অর্থাৎ দুর্বল (ضعيف))।

৩ এবং এর সনদ বা সূত্র (إسناد) হাসান বা গ্রহণযোগ্য (حسن)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ২৯)
"للسيد البدوي"1 أو (الفاتحة على هذه النية) وهذا جهل قبيح، ولكن لماذا يقره العلماء ويسكتون عليه؟ الحق أن الكل أجمع على ترك أوامر الدين. إنا لثه وإنا إليه راجعون.

[ومن البدع] : تعليق المصحف على الصغير أو الكبير والسيارة كحجاب أو للنظرة. وكذا من البدع كتابة شيء من القرآن لهذا الغرض. والمشروع قراءة آية الكرسي عند النوم أو المعوذتين أو قراءة الأدعية الواردة في السنة لهذا فليعلم2.

[ومن البدع] :3 تعليق سورة {أَلَمْ نَشْرَحْ} في ورقة على الدكاكين لجلب الزبون، والمطلوب حسن المعاملة وحسن الخلق والصدق وعدم رفع الأسعار، فإن هذا حقا يجلب الزبون، وقد نهى الإسلام عن التعليق حتى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من علق تميمة فقد أشرك" 4.

[ومن البدع] : أنهم عندما يمرون بقبر أو تابوت أو قبة يتجهون إلى القبلة رافعين أيديهم إلى السماء قائلين؟ الفاتحة لصاحب هذا المقام ويكثرون من الدعاء، ثم

--------------------------------------------

1 ومن أسوأ وأخطر ما رأيته في مصر طواف الناس حول ما يسمى قبر الحسين في المسجد الذي يسمى باسمه في القاهرة، وحول قبر البدوي في طنطا، وصياحهم المدد يا حسين، ويا بدوى وتمسحهم بضريحهما ووضع النذور لهما، على مشهد من كثير من الشيوخ. ومن أغرب ما رأيته ازدحام الناس في مسجد الحسين، بينما لا نجد أحدا إلا النادر في الجامع الأزهر، وهو بقربه!! فيا لجريمة العلماء الذين أخذ الله سبحانه منهم المواثيق أن يبينوا الحق للناس ولا يكتمونه، وإلا لعنهم الله ولعنهم اللاعنون!

2 لقد ورد في قراءة آية الكرسي وسورة قل هو الله أحد، والمعوذتين عند النوم وبعد كل صلاة. أحاديث صحيحة.

3 ومن البدع ختم القرآن بأقل من ثلاثة أيام لحديث: "لم يفقه القرآن من قرأه في أقل من ثلاثة". رواه الترمذي وأبو داود والدا رمي وسنده صحيح فتأمل!

4 رواه أحمد والحاكم وسنده صحيح (مج) .
"সায়েদ আল-বাদাওয়ীর জন্য"১ অথবা (এই নিয়তে আল-ফাতিহা) এবং এটি একটি জঘন্য মূর্খতা, কিন্তু কেন ওলামায়ে কেরাম এটিকে সমর্থন করেন এবং এ ব্যাপারে নীরব থাকেন? সত্য হলো সবাই দ্বীনের নির্দেশনাবলি বর্জনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। আমরা আল্লাহরই জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

[বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত]: শিশু বা বড়দের ওপর কিংবা গাড়িতে তাবিয হিসেবে অথবা কুনজর থেকে বাঁচতে মুসহাফ (কুরআন) ঝুলিয়ে রাখা। তদ্রূপ এই উদ্দেশ্যে কুরআনের কোনো অংশ লেখা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। অথচ শরয়ি বিধান হলো ঘুমের সময় আয়াতুল কুরসি বা মুয়াউওয়িযাতাইন পাঠ করা অথবা সুন্নাহতে বর্ণিত দোয়াগুলো পাঠ করা, এটি জেনে রাখা উচিত২।

[বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত]:৩ ক্রেতা আকর্ষণের জন্য দোকানের কাগজে সূরা {আলাম নাশরহ} লিখে ঝুলিয়ে রাখা। অথচ কাম্য হলো উত্তম লেনদেন, সচ্চরিত্র, সততা এবং মূল্য বৃদ্ধি না করা; কারণ এগুলোই প্রকৃতপক্ষে ক্রেতা আকর্ষণ করে। ইসলাম (গায়ে কিছু) ঝুলাতে নিষেধ করেছে, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তাবিয ঝুলাল, সে শিরক করল" ৪।

[বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত]: যখন তারা কোনো কবর, কফিন বা গম্বুজের পাশ দিয়ে যায়, তখন তারা কিবলার দিকে মুখ করে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে— এই মাকামের অধিকারীর জন্য ফাতিহা এবং তারা প্রচুর দোয়া করে, অতঃপর...

--------------------------------------------

১ আমি মিশরে যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে মন্দ ও বিপজ্জনক বিষয় হলো কায়রোর হুসাইন নামীয় মসজিদে হুসাইনের কবরের চারপাশে এবং তান্তায় বাদাওয়ীর কবরের চারপাশে মানুষের তাওয়াফ করা। তাদের চিৎকার করে 'মাদাদ ইয়া হুসাইন', 'ইয়া বাদাওয়ী' বলা এবং তাদের কবরে হাত বুলানো ও মানত পেশ করা, যা অনেক শায়খদের উপস্থিতিতেই ঘটে। আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো হুসাইন মসজিদে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, অথচ এর নিকটবর্তী জামে আল-আযহারে খুব নগণ্য সংখ্যক মানুষ পাওয়া যায়!! সেই আলেমদের কী ভয়াবহ অপরাধ যাদের কাছ থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের কাছে সত্য স্পষ্ট করার এবং তা গোপন না করার অঙ্গীকার নিয়েছিলেন; অন্যথায় আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেবেন এবং অভিশাপ প্রদানকারীরাও তাদের অভিশাপ দেবে!

২ ঘুমের সময় এবং প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরসি, সূরা কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ এবং মুয়াউওয়িযাতাইন পাঠ করার ব্যাপারে সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

৩ বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হলো তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করা; কারণ হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন পাঠ করে সে তা বুঝতে পারে না।" এটি তিরমিযি, আবু দাউদ ও দারেমি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح), অতএব চিন্তা করুন!

৪ এটি আহমাদ ও হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) (মাজমা)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৩০)
يمسحون وجوههم بأيديهم قائلين: "راعنا1 يا سيدي راعنا سقت عليك النبي"، وهذا منهم بدعة وجهل وضلال، وهذه كبدعة زائري القبور، فإنهم أيضا يقولون: الفاتحة لروح أمواتنا وأموات المسلمين كافة عامة، ثم يقولون يا حي يا قيوم، ويقرأون الفاتحة.

[ومن البدع] : أنهم عند خروجهم مثلا من مصر أو غيرها من البلاد عند قيام القطار يقول قائلهم: "الفاتحة لأولياء الله على العموم (نظرة يا أسيادي) " ويقرؤونها، ثم يقولون: "نظرة يا أهل البيت خلوا بالكم معنا". والمشروع أن يلجأ إلى الله تعالى، فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا سألت فاسأل الله، وإذا استعنت فاستعن بالله2، واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك، وإن اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك رفعت الأقلام وجفت الصحف ". رواه الترمذي وغيره3

[ومن البدع] : أنهم ينذرون لأصحاب القبور النقود والذبائح4 السنوية. وأيضا قراءة الختمات وما إلى

--------------------------------------------

1 وهذا شرك لأنه دعاء غير الله.

2 إن الدعاء والاستغاثة، ومثلها النذر والذبح والحلف كلها عبادات لا تحوز إلا لته، فمن دعا غير الله وذبح له فقد أشرك؟ والعياذ بالله.

3 وسنده صحيح (مم) .

4 بل هي شرك لقوله صلى الله عليه وآله وسلم في الحديث الصحيح: "ملعون من ذبح لغير الله ". رواه مسلم.

وبمناسبة الكلام على الذبائح، فإنه يحرم الذبح عند خروج الجنازة، وعند الدفن، وهو عقر كان يفعل في الجاهلية، ولحمه نجس لا يؤكل. كما يحرم الذبح عند القبر ولو نوى صاحبه أنه لله! وفى ذلك حديث صحيح.
তারা তাদের হাত দিয়ে মুখ মোছে এবং বলে: "হে আমাদের নেতা (সায়্যিদ), আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন, আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন, আমি আপনাকে নবীর দোহাই দিচ্ছি", আর তাদের এই কাজ একটি বিদআত (بدعة), মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা (ضلال)। এটি কবর জিয়ারতকারীদের বিদআতের (بدعة) মতো; কারণ তারাও বলে: আমাদের মৃতদের এবং সকল মুসলিমের রূহের জন্য আল-ফাতিহা, তারপর তারা বলে হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক (ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম), এবং তারা সূরা ফাতিহা পাঠ করে।

[বিদআতসমূহের (البدع) অন্তর্ভুক্ত] : তারা যখন উদাহরণস্বরূপ মিসর বা অন্য কোনো দেশ থেকে বের হয়, তখন ট্রেন ছাড়ার সময় তাদের কেউ বলে: "সাধারণভাবে আল্লাহর ওলিদের জন্য আল-ফাতিহা (হে আমার সায়্যিদগণ, আমাদের দিকে দৃষ্টি দিন)" এবং তারা তা পাঠ করে। এরপর তারা বলে: "হে আহলে বাইত, আমাদের দিকে নজর দিন, আমাদের খেয়াল রাখুন।" অথচ শরয়ি বিধান হলো মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও; আর যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো2। জেনে রেখো, সমস্ত উম্মত যদি তোমার কোনো উপকারে ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার ততটুকুই উপকার করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার বিরুদ্ধে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং সহিফাসমূহ শুকিয়ে গেছে।" এটি তিরমিজি ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন3

[বিদআতসমূহের (البدع) অন্তর্ভুক্ত] : তারা কবরবাসীদের জন্য অর্থকড়ি এবং বার্ষিক পশুবলি (জবাই) করার মানত করে4। এছাড়া খতম পড়া এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়...

--------------------------------------------

1 আর এটি শিরক (شرك); কারণ এটি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দোয়া বা প্রার্থনা করা।

2 নিশ্চয়ই দোয়া ও ফরিয়াদ (ইস্তিগাসা), আর অনুরূপভাবে মানত, পশুবলি (জবাই) ও শপথ করা—এসবই ইবাদত (عبادات) যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জায়েজ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দোয়া করে অথবা অন্যের নামে পশু জবাই করে, সে শিরক (أشرك) করল। আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

3 এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) (মিম-মিম)।

4 বরং এটি শিরক (شرك); কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সহিহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করল, তার ওপর লানত (অভিশাপ)।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

পশু জবাইয়ের আলোচনার সূত্র ধরে বলা যায় যে, জানাজা বের করার সময় এবং দাফনের সময় পশু জবাই করা হারাম। এটি মূলত 'আকর' (عقر), যা জাহেলি যুগে করা হতো; এর গোশত নাপাক (نجس), যা খাওয়া যায় না। একইভাবে কবরের কাছে পশু জবাই করা হারাম, যদিও জবাইকারী ব্যক্তি এটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে করার নিয়ত করে থাকে! আর এ বিষয়ে সহিহ (صحيح) হাদিস বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৩১)
ذلك، ولاشك أنه حدث1 في الدين، ومخالفة صريحة لطريق خاتم المرسلين ومن تابعه من العلماء الصالحين.

قال في (سبل السلام) : "وأما النذور المعروفة في هذه الأزمنة على القبور والمشاهد والأموات فلا كلام في تحريمها! لأن الناذر يعتقد في صاحب القبر أنه ينفع ويضر ويجلب الخير ويدفع الشر، ويعافى الأليم، ويشفى السقيم. وهذا هو الذي كان يفعله عباد الأوثان بعينه، فيحرم كما يحرم النذر على الوثن، ويحرم قبضه لأنه تقرير على الشرك2 ويجب النهي عنه، وإبانة أنه من أعظم المحرمات، وأنه الذي كان يفعله عباد الأصنام. لكن طال الأمد حتى صار المعروف منكرا، والمنكر معروفا إنا لله وإنا إليه راجعون".اهـ.

--------------------------------------------

1 ومن هذه البدع المنكرة خرافة سقوط الصلاة التي لا أصل لها، كما سبق وذكرنا، وهي تشجع على ترك الصلاة والصوم وغيرهما. مادام يمكن إسقاطها عن ذمة المسلم بقروش معدودة، وكل ذلك كذب وضلال!

2 مما يؤسف له أن بعض رجال الطرق طالبوا المسؤولين في مصر إعطاءهم نصيبهم من أموال هذه النذور، وهي سحت!

نصيحة ثمينة وتحذير مخيف:

بعدما تقدم من فتاوى المذاهب الأربعة فليتق الله هؤلاء الذين جعلوا من القرآن بضاعة للموتى، وهو الدستور السماوي الذي أنزله تعالى للأحياء لا للأموات: {لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيّاً وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} .

وليتق الله أيضا هؤلاء القوم الآثمون المسمون (قراء) فلا يأكلون أموال الأرامل والأيتام وغيرهم بالباطل.

وقد نهى الرسول صلى الله عليه وسلم عن التكسب بالقرآن في أحاديث صحيحة كثيرة سبق ذكر بعضها.

وليتق الله كذلك هؤلاء العلماء الساكتون عن الحق، وقد أخذ الله سبحانه منهم المواثيق أن يقولوا الحق للناس ولا يكتموه مالا استحقوا اللعن. وليتق الله أخيرا هؤلاء الناس الذين يضيعون أموالهم على أولئك المرتزقة فيأثمون معهم ويساعدونهم على ارتكاب البدع ومعصية الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم.
এটি, এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি দ্বীনের মধ্যে একটি নব-উদ্ভাবন (حدث)১, এবং এটি সর্বশেষ রাসূলের পথ ও তাঁর অনুসরণকারী সৎকর্মপরায়ণ আলেমদের পথের এক সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সুবুলুস সালাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আর বর্তমান সময়ে কবর, মাজার এবং মৃতদের উদ্দেশ্যে যে মানত প্রচলিত রয়েছে, তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই! কারণ মানতকারী কবরের অধিবাসী সম্পর্কে এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, সে উপকার ও ক্ষতি করতে পারে, কল্যাণ বয়ে আনতে পারে ও অকল্যাণ দূর করতে পারে এবং ব্যথিতকে রোগমুক্ত ও অসুস্থকে আরোগ্য দান করতে পারে। এটি হুবহু সেই কাজ যা মূর্তিপূজারীরা করত। সুতরাং এটি হারাম হবে যেভাবে মূর্তির নামে মানত করা হারাম। আর এই মানত কবজ করাও হারাম, কারণ এটি শিরকের স্বীকৃতি প্রদানের শামিল২ এবং এটি থেকে নিষেধ করা এবং এটি যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হারাম কাজ তা স্পষ্ট করা আবশ্যক; আর এটিই সেই কাজ যা মূর্তিপূজারীরা করত। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে আজ পরিচিত ভালো কাজগুলো প্রত্যাখ্যাত (منكر) হয়ে পড়েছে, আর প্রত্যাখ্যাত (منكر) কাজগুলো সুপরিচিত হয়ে গেছে। আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১. এই প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিদআতগুলোর (بدعة) মধ্যে সালাত পতনের কুসংস্কার একটি যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له), যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এটি সালাত, সিয়াম ও অন্যান্য ইবাদত ত্যাগে উৎসাহিত করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে একজন মুসলিমের জিম্মাদারী থেকে এগুলোকে দায়মুক্ত করা সম্ভব হয়; এগুলোর সবই মিথ্যা ও ভ্রষ্টতা!

২. এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মিশরের কিছু তরীকা পন্থী লোক দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে এই মানতের অর্থের ভাগ দাবি করেছে, যা মূলত অবৈধ সম্পদ!

মূল্যবান উপদেশ ও ভীতিপ্রদ সতর্কতা:

চার মাযহাবের ফতোয়া বর্ণনার পর সেই সব লোকেদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত যারা কুরআনকে মৃতদের ব্যবসার সামগ্রী বানিয়েছে; অথচ এটি মহান আল্লাহর নাজিলকৃত ঐশী সংবিধান যা তিনি জীবিতদের জন্য পাঠিয়েছেন: {যাতে তিনি সতর্ক করতে পারেন তাকে যে জীবিত এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়}।

সেই সব পাপিষ্ঠ সম্প্রদায় যারা 'ক্বারী' হিসেবে পরিচিত, তাদেরও আল্লাহকে ভয় করা উচিত, যেন তারা অন্যায়ভাবে বিধবা, এতিম ও অন্যদের সম্পদ ভক্ষণ না করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন দিয়ে উপার্জন করতে অনেকগুলো সহিহ (صحيح) হাদিসে নিষেধ করেছেন, যার কিছু পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে ঐসব আলেমদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত যারা সত্যের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকে। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তারা মানুষের কাছে সত্য বলবে এবং তা গোপন করবে না, পাছে তারা অভিশাপের যোগ্য না হয়। পরিশেষে সেই সব মানুষের আল্লাহকে ভয় করা উচিত যারা ঐসব সুবিধাবাদীদের পেছনে নিজেদের অর্থ অপচয় করছে; ফলে তারা নিজেরাও গুনাহগার হচ্ছে এবং বিদআত (بدعة) ও আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাফরমানি করতে তাদের সহায়তা করছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল কিরাআতি আলাল আমওয়াত (পৃষ্ঠা: ৩২)
[ومن البدع] : المنكرة تلقين الميت، والحديث الوارد فيه غير صحيح كما قال الإمام ابن القيم في زاد المعاد (1- 256) وضعفه النووي وغيره وكذلك الصنعاني في (سبل السلام- 2: 161) .

لذا كان العمل به بدعة. وهو يجلب السخرية كأن الملقن يريد تلقين الميت الإسلام من جديد. وقد كان من هديه صلى الله عليه وسلم تلقين الأحياء المشيعين حين الدفن فيذكرهم بالموت وما بعده في هذا الموقف الرهيب فما أروع السنة! وما أبغض البدعة، وما أقبح نشازها.

[ومن البدع] : الأذان عند دفن الميت، وإشادة القبر ورفعه أكثر من التراب الخارج منه، والبناء عليه.

[ومن البدع] : الجنائز المنكرة وضع الجريد والآس والأزهار فوق القبر كما يفعله كثير من الناس الآن، لأن ذلك مخالف لما كان عليه السلف الصالح رضوان الله عليهم، ولا تأثير له، وإنما التأثير للعمل الصالح وأما ما رواه البخاري وغيره عن ابن عباس من أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم مر على قبرين فقال: "إنهما يعذبان وما يعذبان في كبير1. أما هذا فكان لا يستنزه من البول، وأما هذا فكان يمشي بالنميمة". ثم دعا بعسيب رطب فشقه اثنين ثم غرس على هذا واحدا وعلى هذا واحدا وقال: "لعله يخفف عنهما ما لم ييبسا" فقد أجاب عنه الخطابي بقوله: "وأما غرسه شق

--------------------------------------------

1 ومما يدل على أن ذلك خصوصه للرسول قوله في صحيح مسلم: "فأحببت بشفاعتي أن يرد عنهما مادام الغصنان رطبين".
[বিদআত সমূহের মধ্যে]: মৃত ব্যক্তিকে তালকিন করা একটি বর্জিত (منكرة) বিষয়। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসটি সঠিক (صحيح) নয়, যেমনটি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম যাদুল মাআদ (১- ২৫৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী ও অন্যান্যরা একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, অনুরূপভাবে সানআনী সিবুলুস সালাম (২: ১৬১) গ্রন্থে একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।

তাই এর ওপর আমল করা বিদআত। এটি বিদ্রূপের উদ্রেক করে, যেন তালকিনকারী মৃত ব্যক্তিকে নতুন করে ইসলাম শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ছিল দাফনের সময় জানাজায় অংশগ্রহণকারী জীবিতদের তালকিন করা তথা উপদেশ প্রদান করা; তিনি এই ভয়াবহ মুহূর্তে তাদের মৃত্যু এবং মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতেন। সুন্নাহ কতই না চমৎকার! আর বিদআত কতই না ঘৃণ্য এবং এর অসঙ্গতি কতই না কুৎসিত।

[বিদআত সমূহের মধ্যে]: মৃত দাফনের সময় আজান দেওয়া, কবরকে উঁচু করা ও কবর থেকে নির্গত মাটির চেয়েও বেশি মাটি দিয়ে তা ভরাট করা এবং কবরের ওপর কোনো কিছু নির্মাণ করা।

[বিদআত সমূহের মধ্যে]: জানাজা সংক্রান্ত বর্জিত (منكرة) বিষয় হলো কবরের ওপর খেজুরের ডাল, সুগন্ধি লতা ও ফুল রাখা, যেমনটি বর্তমানে অনেক মানুষ করে থাকে। কারণ এটি সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর রীতির পরিপন্থী এবং এর কোনো প্রভাব বা উপকারিতা নেই। মূলত প্রভাব কেবল নেক আমলেরই রয়েছে। আর বুখারি ও অন্যান্য ইমামগণ ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বললেন: "তাদের আজাব দেওয়া হচ্ছে, অথচ কোনো বড় বিষয়ের জন্য তাদের আজাব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না, আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত।" এরপর তিনি একটি কাঁচা খেজুরের ডাল আনিয়ে তা দুই ভাগে চিরলেন এবং প্রতিটি কবরের ওপর একটি করে অংশ পুঁতে দিলেন এবং বললেন: "আশা করা যায়, ডাল দুটি না শুকানো পর্যন্ত তাদের আজাব লাঘব করা হবে।" এ বিষয়ে খাত্তাবি তাঁর বক্তব্যে জবাব দিয়েছেন: "আর তাঁর ডাল চিরে পুঁতে দেওয়ার বিষয়টি..."

--------------------------------------------

১. এটি যে কেবল রাসুলের জন্য নির্দিষ্ট ছিল তার একটি প্রমাণ হলো সহিহ মুসলিম-এর বর্ণনা, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমি আমার সুপারিশের মাধ্যমে চেয়েছি যেন ডাল দুটি কাঁচা থাকা পর্যন্ত তাদের আজাব লাঘব করা হয়।"