(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
حقيقة السحر وحكمه في الكتاب والسنة   (عواد المعتق)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حقيقة السحر وحكمه في الكتاب والسنة

المؤلف: د عواد بن عبد الله المعتق

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة 34 - العدد 115 - 1422 هـ/2002م

عدد الصفحات: 201

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাদুর বাস্তবতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর বিধান (حكم)   (আওয়াদ আল-মু'তিক)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: জাদুর বাস্তবতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর বিধান (حكم)

লেখক: ড. আওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মু'তিক

প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৪তম বর্ষ - ১১৫তম সংখ্যা - ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
حقيقة السحر وحكمه في الكتاب والسنة

إعداد الدكتور عواد بن عبد الله المعتق

ال‌‌مقدمة

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.

أما بعد؛ فنظراً لكثرة المشعوذين في كل زمان وخصوصا في هذا الزمان الذي كثرت فيه المشكلات النفسية حتى أصبحت سمة هذا العصر. وأخذ كثير ممن ابتلوا بمثل هذه المشكلات - وخصوصا من يغلب عليهم الجهل أو قلة الإيمان - أخذوا يلجأون إلى المشعوذين الذين يدعون الطب عن طريق الكهانة أو السحر يبحثون عندهم عن حل لمشكلاتهم النفسية ظناً أن لديهم حلاً لها أو علاجاً لأثرها. ومعلوم ما في هذا من الخطر على الإسلام والمسلمين لما فيه من التعلق بغير الله ومخالفة أمره وأمر رسوله صلى الله عليه وسلم. لما ذكرت رأيت أن أكتب لمحة موجزة عن السحر مبيناً فيها حقيقته وحكم تعلمه وتعليمه والعمل به - وعقوبة الساحر وتوبته - ثم علاجه. وقد جعلتها في مقدمة وأربعة مباحث وخاتمة.

المقدمة: في أهمية الموضوع وبعض الدوافع التي دفعتني لإعداده.

المبحث الأول: في تعريف السحر وأنواعه.

المبحث الثاني: السحر له حقيقة أم لا؟

المبحث الثالث: حكم السحر والسحرة.

المبحث الرابع: في علاج السحر.

الخاتمة: في ذكر أهم النتائج التي توصلت إليها.

وأخيراً أسأل الله أن يتقبل صوابه ويتجاوز عن خطئه إنه سميع مجيب وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জাদুর হাকীকত ও এর বিধান

ড. আউয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মু'তাক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত

আল-ভূমিকা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

অতঃপর; সব যুগে বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ভণ্ড জাদুকর ও প্রতারকদের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবং মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে—যা বর্তমান যুগের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। আর যারা এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন—বিশেষ করে যাদের ওপর অজ্ঞতা বা ঈমানের স্বল্পতা প্রবল—তাদের অনেকেই সেই সব প্রতারকদের শরণাপন্ন হতে শুরু করেছেন যারা গণনা বা জাদুর মাধ্যমে চিকিৎসার দাবি করে; তারা তাদের কাছে নিজেদের মানসিক সমস্যার সমাধান খুঁজছে এই ধারণায় যে, তাদের কাছে হয়তো এর কোনো সমাধান বা চিকিৎসার প্রভাব রয়েছে। আর এটি জানা কথা যে, এতে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কী ভয়াবহ বিপদ নিহিত রয়েছে; কেননা এতে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের বিরোধিতা করা হয়। উল্লিখিত বিষয়গুলোর কারণে আমি জাদুর বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা সমীচীন মনে করেছি, যেখানে জাদুর হাকীকত, জাদু শেখা, শেখানো ও তা প্রয়োগের বিধান, জাদুকরের শাস্তি ও তার তাওবা এবং সবশেষে এর প্রতিকার সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। আমি একে একটি ভূমিকা, চারটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

ভূমিকা: বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি প্রস্তুতির পেছনে থাকা কিছু প্রেষণা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: জাদুর সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাদুর কি কোনো হাকীকত বা বাস্তবতা আছে কি নেই?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাদু ও জাদুকরের বিধান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জাদুর প্রতিকার।

উপসংহার: গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের বর্ণনা।

পরিশেষে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর সঠিক অংশটুকু কবুল করেন এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দোয়া কবুলকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
‌‌المبحث الأول: في تعريف السحر وأنواعه

‌‌أولأ: تعريفه

…

المبحث الأول: في تعريف السحر وأنواعه

أولا: تعريف السحر:

السحر لغة: هو الأخذة، وكل ما لطف مأخذه ودق فهو سحر، والجمع أسحار، وسحور. وسحره يسحره سَحراً وسِحراً وسَحّره، ورجل ساحر من قوم سحرة وسُحّار، وسَحّار من قوم سحّارين، ولا يكسر."

والسحر أيضا: البيان في فطنة كما جاء في الحديث أنه صلىالله عليه وسلم قال: "إن من البيان لسحرا" 1

قال ابن الأثير: يعني إن من البيان لسحرا: أي منه ما يصرف قلوب السامعين وإن كان غيرحق. وقيل معناه إن من البيان ما يكسب من الإثم ما يكتسبه الساحر بسحره فيكون في معرض الذم. ويجوز أن يكون في معرض المدح، لأنه تستمال به القلوب ويرضى به الساخط ويستنزل به الصعب.

قال الأزهري: وأصل السَّحر: صرف الشي عن حقيقته إلى غيره فكأن الساحر لما أرى الباطل في صورة الحق وخيّل الشيء على غير حقيقته قد سحر الشيء عن وجهه أي صرفه.

قال الفراء: في قوله تعالى: {فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} 2 معناه فأنى تصرفون3.

كما يأتي السحر ويراد به الخديعة. يقال سحره بالطعام والشراب: أي خدعه، والسحور المفسد من الطعام أو المكان.

--------------------------------------------

1رواه البخاري في كتاب النكاح باب الخطبة، ومسلم في كتاب الجمعة باب تخفيف الصلاة والخطبة.

2 آية 89 المؤمنين.

3 لسان العرب ج2 ص. 106.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: জাদুর সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ

‌‌প্রথমত: এর সংজ্ঞা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: জাদুর সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ

প্রথমত: জাদুর সংজ্ঞা:

আভিধানিকভাবে জাদু (السحر) হলো বশ করা; যে বিষয়ের উৎস সূক্ষ্ম ও প্রচ্ছন্ন তাকেই জাদু বলা হয়। এর বহুবচন হলো ‘আসহার’ ও ‘সুহুর’। তাকে জাদু করা হয়েছে অর্থে ‘সাহারা-ইয়াসহারু-সাহরান’ ও ‘সিহরান’ এবং ‘সাহ্হারা’ ব্যবহৃত হয়। জাদুকর ব্যক্তিকে ‘সাহির’ বলা হয়, যার বহুবচন হলো ‘সাহারা’ ও ‘সুহ্হার’। আর ‘সাহ্হার’ (অত্যধিক জাদুকর) শব্দের বহুবচন হলো ‘সাহ্হারিন’, এর কোনো ভগ্ন বহুবচন (جمع تكسير) হয় না।

জাদু বুদ্ধিবৃত্তিক বাগ্মিতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদুর ন্যায়।" ১

ইবনুল আসির বলেন: এর অর্থ হলো—বাগ্মিতার মধ্যে এমন প্রভাব রয়েছে যা শ্রোতাদের অন্তরকে সত্যের বাইরেও অন্যদিকে বিমুখ করতে পারে। কারো মতে এর অর্থ হলো, কোনো কোনো বাগ্মিতা এমন গুনাহ অর্জন করে যা একজন জাদুকর তার জাদুর মাধ্যমে অর্জন করে থাকে; এমতাবস্থায় এটি নিন্দার্থে ব্যবহৃত হবে। আবার এটি প্রশংসার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর জয় করা যায়, অসন্তুষ্ট ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করা যায় এবং কঠিন বিষয়কে আয়ত্তে আনা যায়।

আল-আযহারি বলেন: জাদুর (السحر) মূল অর্থ হলো কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত রূপ থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। জাদুকর যখন মিথ্যাকে সত্যের অবয়বে পেশ করে এবং কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে কল্পনা করায়, তখন সে মূলত বিষয়টিকে তার আসল রূপ থেকে বিচ্যুত করে ফেলে।

আল-ফাররা আল্লাহ তাআলার বাণী: {فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} ২ (অর্থাৎ: তবে তোমরা কীভাবে জাদুগ্ৰস্ত হচ্ছ?) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর অর্থ হলো—তোমরা কীভাবে সত্য থেকে বিমুখ হচ্ছ। ৩

অনুরূপভাবে জাদু শব্দটি প্রতারণা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়, ‘সে তাকে পানাহারে জাদু করেছে’ অর্থাৎ তাকে প্রতারিত করেছে। আর ‘সুহুর’ বলতে নষ্ট বা ত্রুটিযুক্ত খাবার অথবা স্থানকে বোঝানো হয়।

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ‘বিবাহ’ অধ্যায়ের ‘খুতবা’ পরিচ্ছেদে এবং মুসলিম ‘জুমা’ অধ্যায়ের ‘নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করা’ পরিচ্ছেদে।

২ সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৮৯।

৩ লিসানুল আরব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
يقال: سحر المطر الطين والتراب: أفسد فلم يصلح للعمل1.

السحر في الإصطلاح:

عرف السحر اصطلاحا بتعاريف كثيرة مختلفة متباينة، ذلك لكثرة الأنواع الداخلة تحته ولا يتحقق قدر مشترك بينها يكون جامعاً لها مانعًا لغيرها2.

ولاختلاف المذاهب فيه بين الحقيقة والتخييل. فمثلا البعض يعرفه بتعاريف لا تصدق إلا على ما لا حقيقة له من أنواع السحر، أو ما هو سحر في اللغة.

ومن هؤلاء أبو بكر الرازي حيث قال: "هو كل أمر خفي سببه وتخيل على غير حقيقته ويجري مجرى التمويه والخدع"3.

وعرفه البعض بماله حقيقة وأثر كابن قدامة حيث قال: "السحرعزائم ورقى وعقد يؤثر في القلوب والأبدان فيمرض ويقتل ويفرق بين امرء وزوجه ويأخذ أحد الزوجين عن صاحبه"4.

وعرفه أحد العلماء المعاصرين - تعريفاً جمع فيه القسمين. فقال: "هو عبارة عن أمور دقيقة موغلة في الخفاء يمكن اكتسابها بالتعلم تشبه الخارق للعادة وليس فيها تحد، أو تجري مجرى التمويه والخداع تصدر من نفس شريرة تؤثر في عالم العناصر بغير مباشرة أو بمباشرة"5.

ونستخلص من هذه التعاريف وغيرها تعريفاً لعله يكون جامعاً بلفظ موجز إن شاء الله.

--------------------------------------------

1انظر لسان العرب مادة سحر ج2 ص.106- 107، القاموس المحيط ج2 ص45.

2 أضواء البيان ج4 ص، 444.

3 أحكام القرآن له ج1 ص50.

4 الكافي ج4 ص164 وانظر تيسير العزيز الحميد ص 333.

5 السحر بين الحقيقة والوهم ص 38.
বলা হয়ে থাকে: বৃষ্টি মাটি ও ধুলোবালিকে নষ্ট (سحر) করে দিয়েছে: অর্থাৎ সেটিকে কলুষিত করেছে, ফলে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।1

পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে জাদু (السحر):

জাদু (السحر)-কে পারিভাষিক (اصطلاحاً) ক্ষেত্রে অনেক ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর কারণ হলো এর অন্তর্ভুক্ত প্রকারভেদের আধিক্য এবং এগুলোর মধ্যে এমন কোনো সাধারণ মানদণ্ড পাওয়া যায় না যা সবগুলোকে অন্তর্ভুক্তকারী (جامع) এবং অন্য বিষয়গুলোকে বর্জনকারী (مانع) হতে পারে।2

এছাড়া এর বাস্তবতা (الحقيقة) এবং কাল্পনিকতা (التخييل) নিয়ে মাযহাবগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকার কারণেও এমনটি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ কেউ জাদুকে এমন সব সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন যা কেবল বাস্তবতাহীন জাদুর প্রকারভেদ অথবা আভিধানিক জাদুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

তাদের মধ্যে আবু বকর আল-রাজি অন্যতম, তিনি বলেছেন: "এটি এমন এক বিষয় যার কারণ গোপন (خفي) থাকে এবং যা এর বাস্তব রূপের বিপরীতে কল্পনা করা হয় এবং যা বিভ্রম (التمويه) ও প্রতারণার (الخدع) পর্যায়ভুক্ত।"3

আবার কেউ কেউ একে এমন বিষয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যার বাস্তবতা (حقيقة) ও প্রভাব (أثر) রয়েছে, যেমন ইবনে কুদামা। তিনি বলেন: "জাদু (السحر) হলো কিছু মন্ত্র (عزائم), ঝাড়ফুঁক (رقى) এবং গিট (عقد), যা অন্তর ও দেহের ওপর প্রভাব বিস্তার করে; ফলে তা অসুস্থ করে, হত্যা করে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় এবং স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।"4

জনৈক সমকালীন আলেম এমন একটি সংজ্ঞা দিয়েছেন যাতে তিনি উভয় প্রকারকে একত্রিত করেছেন। তিনি বলেন: "এটি এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় যা অত্যন্ত গোপন (خفاء), যা শিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব এবং যা অলৌকিক (الخارق للعادة) বিষয়ের সদৃশ কিন্তু তাতে কোনো চ্যালেঞ্জ (تحد) থাকে না; অথবা যা বিভ্রম (التمويه) ও প্রতারণার ন্যায় যা কোনো মন্দ আত্মা থেকে প্রকাশ পায় এবং পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে বস্তুজগতে প্রভাব ফেলে।"5

আমরা এই সংজ্ঞাগুলো এবং অন্যান্য সংজ্ঞা থেকে ইনশাআল্লাহ এমন একটি সংজ্ঞা চয়ন করব যা সংক্ষিপ্ত শব্দে পূর্ণাঙ্গ (جامع) হতে পারে।

--------------------------------------------

1 দ্রষ্টব্য: লিসানুল আরব, 'সাজারা' (سحر) শব্দমূল, ২য় খণ্ড, ১০৬-১০৭ পৃষ্ঠা; আল-কামুস আল-মুহিত, ২য় খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।

2 আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৪৪৪ পৃষ্ঠা।

3 আহকামুল কুরআন (তার রচিত), ১ম খণ্ড, ৫০ পৃষ্ঠা।

4 আল-কাফি, ৪র্থ খণ্ড, ১৬৪ পৃষ্ঠা এবং দেখুন তায়সিরুল আজিজিল হামিদ, ৩৩৩ পৃষ্ঠা।

5 আস-সিহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল ওয়াম, ৩৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
فنقول: السحر: هو كل ما فيه مخادعة أوتأثير في عالم العناصر نتيجة الاستعانة بغير الله من شيطان أو نحوه، يشبه الخارق للعادة وليس فيه تحد يمكن اكتسابه بالتعلم.
সুতরাং আমরা বলব: জাদু হলো এমন প্রতিটি বিষয় যাতে রয়েছে প্রতারণা অথবা প্রাকৃতিক উপাদানের জগতে প্রভাব বিস্তার, যা শয়তান বা তদ্রূপ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সাহায্য গ্রহণের ফলস্বরূপ ঘটে থাকে; এটি অলৌকিক বিষয়ের সদৃশ কিন্তু এতে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই এবং যা শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে আয়ত্ত করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
‌‌ثانياً: أنواع السحر:

السحرأنواع كثيرة منها: ماله حقيقة، ومنها ما ليس له حقيقة، ومنها ما هو سحر في اللغة "هو السحر المجازي"، ولذا اختلفت تقسيمات العلماء للسحر فبعضهم جمع الجميع كالرازي وبعضهم اقتصر على ما هو سحر في عرف الشرع1وبعضهم اقتصر على ماله حقيقة فقط. وإليك شيئاً من هذه الأنواع بشيء من الإيجاز.

القسم الأول:- ما هو سحر في الشرع - ومنه ماله حقيقة، ومنه ما ليس له حقيقة - ومن أنواعه ما يلي:

النوع الأول: سحر أصحاب الأوهام والنفوس القوية. ذلك أن الوهم والنفس لهما تأثير على الإنسان، وبناءً على ذلك يقوم الساحر بأقوال وأفعال مخصوصة تقوي النفس حتى تؤثر في الآخرين بقدرة الله تعالى.

وقد ذكر الرازي وجوها كثيرة تؤكد أن للوهم والنفس تأثيراً، منها:

الأول: أن الإنسان يمكنه أن يمشي على الجذع الموضوع على وجه الأرض ولا يمكنه المشي عليه إذا كان ممدوداً على نهر أو نحوه ذلك أن توهم السقوط متى قوي أوجبه.

الثاني: قد أجمع الأطباء على نهي المرعوف عن النظر إلى الأشياء الحمر خشية أن يؤثر هذا على نفسه فيستمر رعافه وعلى نهي المصروع عن النظر إلى الأشياء القوية اللمعان أو الدوران لأن هذا يؤثر في نفسه فيتمادى به صرعه.

--------------------------------------------

1 المراد في عرف الشرع: بحيث يحكم على صاحبه شرعاً بأنه ساحر.
দ্বিতীয়ত: জাদু (سحر)-র প্রকারভেদ:

জাদু (سحر)-র অনেক প্রকার রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাস্তবতাসম্পন্ন (حقيقة), আর কিছু বাস্তবতা বর্জিত। আবার কিছু কেবল আভিধানিক অর্থে জাদু (سحر), যাকে 'রূপক জাদু' (سحر مجازي) বলা হয়। এ কারণেই আলেমগণ জাদু (سحر)-র শ্রেণিবিভাগে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ কেউ ইমাম রাজির ন্যায় সবগুলোকে একত্রিত করেছেন, আবার কেউ কেউ কেবল শরঈ পরিভাষা (عرف الشرع)১-র অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আবার কেউ কেউ কেবল বাস্তবতাসম্পন্ন (حقيقة) প্রকারটিকেই গ্রহণ করেছেন। নিচে সংক্ষেপে এসব প্রকারের কিছু বর্ণনা দেওয়া হলো।

প্রথম পরিচ্ছেদ: যা শরয়ি (شرع) দৃষ্টিকোণ থেকে জাদু (سحر) হিসেবে গণ্য—চাই তার বাস্তবতা (حقيقة) থাকুক বা না থাকুক—এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

প্রথম প্রকার: কল্পনা (وهم) ও শক্তিশালী আত্মার (نفس) অধিকারীদের জাদু (سحر)। মূলত মানুষের কল্পনা (وهم) ও আত্মার (نفس) একটি প্রভাব রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে জাদুকর (ساحر) বিশেষ কিছু কথা ও কাজের মাধ্যমে নিজের আত্মাকে (نفس) শক্তিশালী করে, যাতে আল্লাহর ইচ্ছায় তা অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

ইমাম রাজি কল্পনা (وهم) ও আত্মার (نفس) প্রভাবের বিষয়ে অনেকগুলো দিক উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: একজন মানুষ মাটির ওপর রাখা একটি গাছের গুঁড়ির ওপর দিয়ে অনায়াসেই হেঁটে যেতে পারে, কিন্তু সেই গুঁড়িটি যদি কোনো নদীর ওপর বা অনুরূপ কোনো কিছুর ওপর স্থাপন করা হয়, তবে সে তার ওপর দিয়ে হাঁটতে পারে না। কারণ, নিচে পড়ে যাওয়ার তীব্র কল্পনা (وهم) যখন প্রবল হয়, তখন তা তাকে পড়ে যেতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ত: চিকিৎসাবিদগণ নাক দিয়ে রক্ত পড়া ব্যক্তির জন্য লাল বস্তুর দিকে তাকানো নিষেধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, এই ভয়ে যে এটি তার আত্মার (نفس) ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং রক্তক্ষরণ চলতেই থাকবে। তেমনিভাবে মৃগী (صرع) রোগীকে অত্যন্ত উজ্জ্বল বা ঘূর্ণমান বস্তুর দিকে তাকাতে নিষেধ করেছেন, কারণ এটি তার আত্মার (نفس) ওপর প্রভাব ফেলে এবং তার মৃগী (صرع) রোগ দীর্ঘস্থায়ী করে দেয়।

--------------------------------------------

১ শরঈ পরিভাষা (عرف الشرع) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যার মাধ্যমে শরয়ি (شرع) বিধান অনুযায়ী তার কর্তাকে জাদুকর (ساحر) হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
كل ذلك دليل على أن التصورات النفسية التي تعرض للنفس تؤثر في صاحبها.

الثالث: التجربة والعيان شاهدان بأن هذه التصورات مبادئ قريبة لحدوث الكيفيات في الأبدان فإن الغضبان تشتد سخونة مزاجه حتى إنه يفيده سخونة قوية. وذلك دليل على أن النفوس لها تأثير في بدن صاحبها وإذا جاز كون التصورات مبادئ لحدوث الحوادث في البدن فأي استبعاد من كونها مبادئ لحدوث الحوادث خارج البدن.

الرابع: ومما يؤكد أن النفس قد تؤثر بالآخرين الإصابة بالعين1

وقد اتفق النقل والعقل على ذلك. قال صلى الله عليه وسلم: "العين حق ولو كان شيء سابق القدر لسبقته العين" 2

ثم قال3: "النفس التي تفعل هذه الأفاعيل قد تكون قوية جداً تستغني في هذه الأفاعيل عن الاستعانة بالآلات … وقد تكون ضعيفة فتحتاج إلى الاستعانة بهذه الآلات.

وتحقيقه أن النفس إذا كانت متعلية على البدن شديدة الانجذاب إلى عالم السماوات صارت كأنها روح من الأرواح السماوية فكانت قوية على التأثير في مواد هذا العالم، وإذا كانت ضعيفة شديدة التعلق بهذه اللذات البدنية فحينئذ لا يكون لها تأثير البتة إلا في هذا البدن … ثم أرشد إلى أنه لا بد لمزاولة هذه الأعمال من انقطاع المألوفات والمشتهيات وتقليل الغذاء والانقطاع عن مخالطة الخلق، وكلما كانت هذه الأمور أكثر كان ذلك التأثير أقوى"4.

--------------------------------------------

1 التفسير الكبير للرازي ج 3، ص 208-209 (بتصرف) .

2 رواه مسلم والترمذي جامع الأصول حديث 5737.

3 الرازي.

4 التفسير الكبير للرازي ج 3، ص 209.
এ সব কিছুই এর প্রমাণ যে, নফসে (আত্মায়) যেসকল মানসিক ধারণা উদিত হয়, তা তার অধিকারীর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

তৃতীয়: অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ এর সাক্ষী যে, এই ধারণাগুলো শরীরে বিভিন্ন অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার নিকটবর্তী উৎস। কেননা রাগান্বিত ব্যক্তির মেজাজের উষ্ণতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে, তা তার শরীরে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি করে। এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, নফসের তার অধিকারীর শরীরের ওপর প্রভাব রয়েছে। আর যদি এই ধারণাগুলো শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ঘটনা ঘটার উৎস হওয়া সম্ভব হয়, তবে শরীরের বাইরেও বিভিন্ন ঘটনা ঘটার উৎস হওয়াকে কেন অসম্ভব মনে করা হবে?

চতুর্থ: নফস যে অন্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তার অন্যতম নিশ্চিতকারী বিষয় হলো বদনজর।১

বর্ণনা এবং যুক্তি উভয়ই এ বিষয়ে একমত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বদনজর সত্য। যদি কোনো কিছু তাকদিরের আগে আসত, তবে বদনজরই তার আগে আসত।" ২

অতঃপর তিনি বলেন৩: "যে নফস এই কর্মগুলো সম্পাদন করে, তা কখনও অত্যন্ত শক্তিশালী হয়, যা এই কাজগুলো করার ক্ষেত্রে কোনো উপকরণের সাহায্য নেওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী থাকে … আবার কখনও তা দুর্বল (ضعيفة) হতে পারে, ফলে তার এই উপকরণগুলোর সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয়।

এর তাৎপর্য হলো, নফস যখন শরীরের ঊর্ধ্বে উঠে আসমানি জগতের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়, তখন তা যেন আসমানি রুহগুলোর মতো হয়ে যায়, ফলে তা এই জগতের উপাদানগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর যদি তা দুর্বল (ضعيفة) হয় এবং এই শারীরিক লালসার সঙ্গে তীব্রভাবে জড়িয়ে থাকে, তখন এই শরীর ব্যতীত অন্য কোথাও তার কোনো প্রভাব থাকে না … অতঃপর তিনি এ বিষয়ের পথনির্দেশ দিয়েছেন যে, এসব কাজে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য পরিচিত ও কাম্য বস্তুসমূহ বর্জন করা, আহার কমিয়ে দেওয়া এবং সৃষ্টির সংশ্রব ত্যাগ করা আবশ্যক। এই বিষয়গুলো যত বেশি হবে, সেই প্রভাব তত শক্তিশালী হবে।"৪।

--------------------------------------------

১. তাফসিরে কাবীর, ইমাম রাযী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৮-২০৯ (পরিমার্জিত)।

২. মুসলিম ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন, জামিউল উসুল, হাদিস নম্বর: ৫৭৩৭।

৩. ইমাম রাযী।

৪. তাফসিরে কাবীর, ইমাম রাযী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৯।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
والحق أن هذا الساحر لم يؤثر على الآخرين بنفسه فقط بل هناك معين، وهذا المعين إنما هو شيطان، ذلك أن الساحر عندما خرج عن حد الاعتدال المشروع في تلبية رغبات الروح والجسد وأشقى نفسه في معصية الله، تعلت روحه على بدنه وقويت حتى أصبح من السهل على الأرواح التعامل معها، ومن ثم تولتها الأرواح الشيطانية لكونها خبيثة ورغبتها في هذا السلوك، وذلك بتحقيق أمور لا تستطيعها في حال اعتدالها، لتستمر في هذا الطريق الباطل مع عدم شعورها بعون تلك الأرواح. ولذا يمكن أن يطلق على ما تحققه من أمور أحوال شيطانية1 أعاذنا الله منها.

النوع الثاني: السحر الذي يستعان فيه بالكواكب ومنه:

1- سحر الكلدانيين وأهل بابل وغيرهم، وهؤلاء كانوا قوما صابئين يعبدون الكواكب السبعة ويعتقدون أنها المدبرة للعالم وأن حوادث العالم كلها من أفعالها، ومنها يصدر كل مظهر خير وشر، وقد بعث الله إليهم إبراهيم عليه السلام مبطلاً لمقالتهم ونظراً لاعتقادهم أنها مدبرة من دون الله فهم يزعمون أن لها ادراكات روحانية فإذا قوبلت ببخور خاص ولباس خاص على الذي يباشر البخور مع إقدامه على أفعال خاصة، وألفاظ يخاطب بها الكواكب كانت روحانية الفلك مطيعة له متى ما أراد شيئاً فعلته له على حد زعمهم. والحق أن الروحانيات التي قضت حوائجهم إنما هي الشياطين أعاذنا الله منها ليستمروا في باطلهم فيضلوا ويضلوا2

--------------------------------------------

1 تفسير ابن كثير ج1، ص145، والسحر بين الحقيقة والخيال. ص 21.

2 تفسير الرازي ج3 ص 206 وأضواء البيان ج 4 ص453 وتيسير العزيز الحميد ص 387 وأحكام القرآن ج1ص52.
প্রকৃত সত্য হলো, এই জাদুকর (ساحر) শুধুমাত্র নিজের মাধ্যমে অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে না, বরং সেখানে একজন সাহায্যকারী থাকে। আর এই সাহায্যকারী মূলত শয়তান। কারণ, জাদুকর (ساحر) যখন আত্মা ও দেহের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত পরিমিতিবোধের সীমা অতিক্রম করে এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় নিজেকে লিপ্ত করে কষ্ট দেয়, তখন তার আত্মা শরীরের ওপর প্রবল হয়ে ওঠে এবং শক্তিশালী হয়। ফলে আত্মাগুলোর পক্ষে তার সাথে লেনদেন করা সহজ হয়ে যায়। এরপর শয়তানি আত্মাসমূহ তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, কারণ সেগুলো অপবিত্র এবং এই আচরণের প্রতি আগ্রহী। জাদুকর (ساحر) স্বাভাবিক অবস্থায় যা করতে সক্ষম হয় না, এ অবস্থায় সে সব কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই ভ্রান্ত পথে অবিচল থাকে, যদিও সে ওই আত্মাসমূহের সাহায্যের বিষয়টি অনুভব করতে পারে না। তাই সে যা অর্জন করে তাকে শয়তানি অবস্থা (أحوال شيطانية)১ বলা যেতে পারে; আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

দ্বিতীয় প্রকার: এমন জাদু (سحر) যাতে নক্ষত্রের সাহায্য নেওয়া হয়, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

১- ক্যালডীয় এবং ব্যাবিলনবাসী ও অন্যদের জাদু (سحر)। তারা ছিল সাবিঈন সম্প্রদায়ের লোক যারা সাতটি নক্ষত্রের পূজা করত এবং বিশ্বাস করত যে এগুলোই বিশ্বজগত পরিচালনা করে। জগতের সব ঘটনাপ্রবাহ মূলত এগুলোরই ক্রিয়াকলাপ এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রতিটি বহিঃপ্রকাশ এগুলোর মাধ্যমেই ঘটে। আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-কে তাদের এই মতবাদ বাতিলের জন্য প্রেরণ করেছিলেন। আল্লাহ ব্যতীত এই নক্ষত্রগুলোই পরিচালক—তাদের এই বিশ্বাসের কারণে তারা দাবি করত যে, এগুলোর আধ্যাত্মিক উপলব্ধি (ادراكات روحانية) রয়েছে। তাই যখন নির্দিষ্ট ধূপ এবং ধূপ ব্যবহারকারীর বিশেষ পোশাকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কার্যাবলী এবং নক্ষত্রগুলোকে সম্বোধন করে বিশেষ বাক্য উচ্চারণ করা হয়, তখন আসমানের আধ্যাত্মিক শক্তিগুলো তার অনুগত হয়ে যায়—তাদের দাবি অনুযায়ী জাদুকর (ساحر) যা চায় তারা তা সম্পাদন করে দেয়। প্রকৃত সত্য হলো, যে আধ্যাত্মিক শক্তিগুলো তাদের প্রয়োজন পূরণ করত সেগুলো মূলত শয়তান; আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন। যাতে তারা তাদের ভ্রান্তিতে অটল থাকে এবং নিজেরা পথভ্রষ্ট হয় ও অন্যদের পথভ্রষ্ট করে।২

--------------------------------------------

১ তাফসির ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৫; এবং আস-সিহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল খিয়াল, পৃ. ২১।

২ তাফসির আল-রাজি, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২০৬; আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৫৩; তায়সিরুল আজিজিল হামিদ, পৃ. ৩৮৭ এবং আহকামুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫২।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
2- ومنه نوع يسمى بالطلاسم: وهو عبارة عن نقش أسماء خاصة لها تعلق بالأفلاك والكواكب - على زعم أهلها - في جسم من المعادن أو غيرها تحدث به خاصية ربطت في مجاري العادات، ولا بد مع ذلك من نفس صالحة لهذه الأعمال فإن بعض النفوس لا تجري الخاصية المذكورة على يده1

وهذا النوع من السحر يحصل في الغالب إما من محتال ذكي مع مغفل فنتيجة تصديقه يحصل الشعور النفسي بتأثيره. وأما من صاحب علاقة بالشياطين، وإنما يستعمل هذا الطلسم لإخفاء ضلاله وكفره وكلاهما محرم. فالأول كذب وغش، والثاني شرك ظاهر من فاعله2. وعليه فليس للكواكب فيه أي أثر.

3- ومنه: النظر في حركات الأفلاك ودورانها وطلوعها وغروبها واقترابها وافتراقها معتقدين أن لكل نجم منها تأثير حال انفراده كما أن له تأثيراً حال اجتماعه بغيره، على الحوادث الأرضية من غلاء الأسعار ورخصها ووقوع الحوادث وهبوب الرياح ونحو ذلك وقد ينسبون إليه ذلك مطلقاً3

4- ومنه النظر في منازل القمر الثمانية والعشرين معتقدين التأثير، في اقتران القمر بكل منها ومفارقته وان في تلك المقارنة أو المفارقة سعوداً أو نحساً أوتأليفا أو تفريقاً وغير ذلك4.

5- ومنه ما يفعله من يستخدم الأرقام لحروف أبجد هوز.... المسمى بعلم الحرف. وهو أن يكتب حروف أبجد هوز … الخ. ويجعل لكل حرف منها قدراً من العدد معلوماً ويجري على ذلك أسماء الآدميين والأزمنة والأمكنة وغيرها

--------------------------------------------

1 أضواء البيان ج4 ص453 الفصل ج5 ص4.

2 انظر السحر بين الحقيقة والخيال ص 27.

3 انظر معارج القبول ج2 ص560، والفتاوى ج35ص192.

4 معارج القبول ج2ص560.
২- এর একটি প্রকারকে তিলিজ্ম (طلاسم) বলা হয়: এটি মূলত বিশেষ কিছু নামের নকশা—যা তার অনুসারীদের দাবি অনুযায়ী আকাশমন্ডলী ও গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে সম্পর্কিত—কোনো ধাতব বস্তু বা অন্য কিছুর ওপর খোদাই করা, যার মাধ্যমে এমন একটি বৈশিষ্ট্য তৈরি হয় যা প্রাকৃতিক নিয়মের (مجاري العادات) সাথে সম্পৃক্ত। এর পাশাপাশি উক্ত কাজের জন্য একটি উপযুক্ত আত্মার প্রয়োজন হয়, কেননা সকল আত্মার মাধ্যমে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যটি কার্যকর হয় না।১

এই প্রকারের জাদু সাধারণত কোনো ধূর্ত প্রতারক এবং কোনো অসতর্ক ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটে থাকে; যেখানে প্রতারকের প্রতি বিশ্বাসের ফলে তার প্রভাবে একটি মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি তৈরি হয়। অথবা এটি শয়তানের সাথে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটে থাকে, যে মূলত তার বিভ্রান্তি ও কুফরি (كفر) গোপন করার জন্য এই তিলিজ্ম ব্যবহার করে। আর উভয়ই হারাম (محرم)। প্রথমটি হলো মিথ্যা ও প্রতারণা, আর দ্বিতীয়টি হলো সম্পাদনকারীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্য শিরক (شرك)।২ সুতরাং এতে গ্রহ-নক্ষত্রের কোনো প্রভাব নেই।

৩- এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আকাশমণ্ডলীর গতিবিধি, আবর্তন, উদয়, অস্ত এবং গ্রহগুলোর মিলন ও বিচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করা—এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, প্রতিটি নক্ষত্র এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে পার্থিব ঘটনাবলি যেমন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস, বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটা, বায়ুপ্রবাহ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কখনো কখনো তারা এসব বিষয়কে নক্ষত্রের দিকেই নিরঙ্কুশভাবে আরোপ করে থাকে।৩

৪- এর অন্তর্ভুক্ত হলো চাঁদের আটাশটি মনজিল বা অবস্থানের ওপর নজর রাখা—এই বিশ্বাস নিয়ে যে, চাঁদের প্রতিটি মনজিলে অবস্থান বা তা থেকে প্রস্থান করার প্রভাব রয়েছে এবং এই মিলন বা বিচ্ছেদে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য, সম্প্রীতি বা বিভেদ কিংবা অন্য কিছু নিহিত আছে।৪

৫- এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ব্যক্তির কাজ, যে আবজাদ (أبجد هوز) অক্ষরের সংখ্যাতত্ত্ব ব্যবহার করে... যাকে বর্ণ-বিজ্ঞান (علم الحرف) বলা হয়। এর পদ্ধতি হলো সে আবজাদ অক্ষরগুলো লেখে... ইত্যাদি এবং প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করে। অতঃপর সে মানুষের নাম, সময়, স্থান এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর তা প্রয়োগ করে থাকে।

--------------------------------------------

১ আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৪৫৩ পৃষ্ঠা; আল-ফাসল, ৫ম খণ্ড, ৪ পৃষ্ঠা।

২ দ্রষ্টব্য: আস-সিহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল খায়াল, ২৭ পৃষ্ঠা।

৩ দ্রষ্টব্য: মাআরিজুল কবুল, ২য় খণ্ড, ৫৬০ পৃষ্ঠা এবং আল-ফাতাওয়া, ৩৫তম খণ্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা।

৪ মাআরিজুল কবুল, ২য় খণ্ড, ৫৬০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
ويجمع جمعاً معروفاً عنده ويطرح طرحاً خاصاً ويثبت إثباتاً خاصاً، وينسبه إلى الأبراج الاثني عشر المعروفة عند أهل الحساب، ثم يحكم على تلك القواعد بالسعود والنحوس وغيرها مما يوحيه إليه الشيطان وكثير منهم يفرق بين المرء وزوجته بذلك بدعوى أنهم إن جمعهم بيت لا يعيش أحدهم، وقد يتحكم بذلك في الغيب فيدعي أن هذا يولد له وهذا لا. وهذا يكون غنياً وهذا يكون فقيرا ونحو ذلك. كأنه هو الكاتب ذلك للجنين في بطن أمه لا والله لا يدريه الملك الذي يكتب حتى يسأل ربه فكيف بهذا الكاذب المفترى ولا شك في تحريم هذا العمل وكذب مدعيه وأن أحكامه رجم بالغيب1.

النوع الثالث: الاستعانة بالأرواح الأرضية، وهم الجن. وهم على قسمين مؤمنين - وكفار، وهم الشياطين. أما المؤمنون فمن المعلوم أنهم لا يعملون فعل محرم أو يعينون عليه. إذا فالاستعانة إنما هي بالشياطين.

واتصال النفوس الناطقة بها سهل، لما بينهما من المشابهة والقرب. وهذا الاتصال يحصل بشي من الرقى والدخن والتجريد2.

قال الرازي: "إن أصحاب الصنعة وأرباب التجربة شاهدوا أن الاتصال بهذه الأرواح الأرضية يحصل بأعمال سهلة قليلة من الرقى والدخن والتجريد، وهذا النوع هو المسمى بالعزائم وعمل تسخير الجن"3.

وعندما يتحقق الاتصال تحصل الاستعانة ثم الإعانة لكن ذلك لا يكون دون الشرك بالله تعالى.

--------------------------------------------

1 معارج القبول ج2 ص559 - 560، 562 وتيسير العزيز الحميد ص 363-364.

2 انظر تفسير الرازي ج3 ص210، وتفسير ابن كثير ج1 ص145.

3 تفسير الرازي ج3 ص211.
তিনি নিজের কাছে পরিচিত এক পদ্ধতিতে গণনা বা যোগফল বের করেন এবং বিশেষ পদ্ধতিতে বিয়োগ করেন ও বিশেষ কিছু প্রমাণ সাব্যস্ত করেন। অতঃপর তিনি একে গণিতবিদদের নিকট পরিচিত বারোটি রাশির সাথে সম্পর্কিত করেন। তারপর সেই নিয়মগুলোর ওপর ভিত্তি করে সৌভাগ্য, দুর্ভাগ্য এবং শয়তান তাকে যা প্ররোচনা দেয় তার মাধ্যমে ফয়সালা করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এই উপায়ে স্বামী ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটান এই দাবিতে যে, যদি কোনো ঘর তাদের একত্রিত করে তবে তাদের একজন বাঁচবে না। তিনি এর মাধ্যমে অদৃশ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চান এবং দাবি করেন যে, অমুকের সন্তান হবে আর অমুকের হবে না, অমুক ধনী হবে আর অমুক দরিদ্র হবে ইত্যাদি। যেন তিনিই মায়ের পেটে থাকা ভ্রূণের জন্য তা নির্ধারণকারী! না, আল্লাহর শপথ, যে ফেরেশতা ভাগ্য লেখেন তিনিও তা জানেন না যতক্ষণ না তিনি তার পালনকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন। তাহলে এই মিথ্যাবাদী (كاذب) অপবাদকারী (مفترى) ব্যক্তির অবস্থা কী হতে পারে? এই কাজের হারাম হওয়া এবং এর দাবিদারের মিথ্যাবাদী হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, আর তার এই হুকুম বা ফয়সালাগুলো হলো অদৃশ্যের বিষয়ে অনুমান বা আন্দাজে ঢিল ছোড়া।১

তৃতীয় প্রকার: পার্থিব আত্মাগুলোর সাহায্য গ্রহণ করা, আর তারা হলো জিন। তারা দুই প্রকার: মুমিন এবং কাফির, আর তারাই হলো শয়তান। মুমিনদের ব্যাপারে এটি সুবিদিত যে, তারা কোনো হারাম কাজ করে না এবং তাতে সাহায্যও করে না। সুতরাং সাহায্য গ্রহণ মূলত শয়তানদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

আর বাকশক্তি সম্পন্ন নফসগুলোর সাথে এদের যোগাযোগ সহজ, কারণ তাদের মধ্যে সাদৃশ্য ও নৈকট্য রয়েছে। এই যোগাযোগটি কিছু মন্ত্র (رقى), ধূপ এবং নির্জন সাধনার মাধ্যমে অর্জিত হয়।২

ইমাম রাজি বলেন: "নিশ্চয়ই এই শিল্পের ধারক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষ করেছেন যে, এই পার্থিব আত্মাগুলোর সাথে যোগাযোগ কিছু সহজ ও সামান্য আমল যেমন মন্ত্র (رقى), ধূপ ও নির্জন সাধনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর এই প্রকারটির নাম হলো আজাইম বা মন্ত্র এবং জিন বশ করার আমল।"৩

যখন যোগাযোগ বাস্তবায়িত হয় তখন সাহায্য প্রার্থনা ও সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু তা মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা ছাড়া সম্পন্ন হয় না।

--------------------------------------------

১. মাআরিজুল কবুল, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৫৯ - ৫৬০, ৫৬২ এবং তাইসিরুল আজিজিল হামিদ, পৃ. ৩৬৩-৩৬৪।

২. দেখুন তাফসিরে রাজি, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২১০ এবং তাফসিরে ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৫।

৩. তাফসিরে রাজি, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২১১।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وأصحاب هذا النوع قد يخفون استعانتهم بالشياطين بما يزعمونه من أن لكل نوع من الملائكة أسماء أمروا بتعظيمها ومتى أقسم عليهم بها أطاعواوفعلوا ما طلب منهم ولا يخفى بطلان هذا الزعم، وأن ما يحصل من تعظيم وقسم إنما هو متوجه إلى الشياطين1.

النوع الرابع: العقد والنفث فيه قال تعالى: {وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ} 2

والنفاثات في العقد: هن السواحر اللاتي يعقدن الخيوط وينفثن3 في كل عقدة حتى ينعقد ما يردن من السحر وذلك إذا كان المسحور غير مباشر، أما إذا كان مباشراً فينفثن عليه مباشرة. وذلك كله بعد أن تكيف نفس الساحر بالخبث والشر الذي يريده بالمسحور ويستعين عليه بالأرواح الخبيثة فيقع فيه السحر بإذن الله الكوني القدري. ويطلق البعض على هذا النوع الرقى لشبهها بها في الصورة ومن هذا النوع سحر لبيد بن ألاعصم اليهودي للرسول صلى الله عليه وسلم والشرك في هذا النوع ظاهر ذلك أنه استعانة بالأرواح الخبيثة وهم الشياطين4.

النوع الخامس: الهيمياء بكسر الهاء على وزن كبرياء، وهو ما تركب من خواص سماوية تضاف لأحوال الأفلاك يحصل لمن عمل له شيء من ذلك أمور معلومة عند السحرة، وقد يبقى له إدراك وقد يسلبه بالكلية فتصير أحواله كحالات النائم من غير فرق حتى يتخيل مرور السنين الكثيرة في الزمن اليسير وحدوث

--------------------------------------------

1 أضواء البيان ج4 ص453.

2 آية 4 سورة الفلق.

3 النفث: هو النفخ مع الريق وهو دون التفل.

4 انظر بدائع الفوائد ج2 ص221 ومعارج القبول ج2 ص563، وأضواء البيان ج4 ص452.
এই প্রকারের অনুসারীরা শয়তানদের থেকে তাদের সাহায্য গ্রহণের বিষয়টি এই দাবির মাধ্যমে গোপন করে থাকতে পারে যে, ফেরেশতাদের প্রতিটি শ্রেণির নির্দিষ্ট কিছু নাম রয়েছে যা তাদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আর যখনই ওইসব নাম ব্যবহার করে তাদের শপথ দেওয়া হয়, তারা আনুগত্য করে এবং তাদের নিকট যা চাওয়া হয় তা সম্পাদন করে। এই দাবির অসারতা কারো অজানা নয়; মূলত যে সম্মান প্রদর্শন ও শপথ করা হয়, তা শয়তানদের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হয়।১।

চতুর্থ প্রকার: গিঁট দেওয়া এবং তাতে ফুঁ দেওয়া (النفث)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং গিঁটে ফুঁ দানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে।"২

গিঁটে ফুঁ দানকারী বলতে ওইসব জাদুকর নারীদের বোঝানো হয়েছে যারা সুতোয় গিঁট দেয় এবং প্রতিটি গিঁটে ফুঁ দেয়৩ যতক্ষণ না তারা জাদুর মাধ্যমে যা চায় তা কার্যকর হয়। এটি তখন ঘটে যখন যাকে জাদু করা হচ্ছে সে সরাসরি উপস্থিত না থাকে; আর যদি সে উপস্থিত থাকে, তবে তারা সরাসরি তার ওপর ফুঁ দেয়। আর এই সব কিছু ঘটে জাদুকরের আত্মা ওইসব অপবিত্রতা ও অনিষ্টের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর যা সে জাদুকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইচ্ছা করে এবং সে এই কাজে অপবিত্র রূহ বা আত্মাদের সাহায্য গ্রহণ করে। ফলে আল্লাহর সৃষ্টিগত ও তকদিরি অনুমতিক্রমে (بإذن الله الكوني القدري) জাদুটি কার্যকর হয়। কেউ কেউ এই প্রকারকে ঝাড়ফুঁক (الرقى) বলে অভিহিত করেন কারণ বাহ্যিক আকৃতিতে এর সাথে তার সাদৃশ্য রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি লাবীদ ইবনে আসম ইহুদির করা জাদুটি এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এই প্রকারের জাদুতে শিরক হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট, কেননা এতে অপবিত্র রূহ অর্থাৎ শয়তানদের সাহায্য নেওয়া হয়।৪।

পঞ্চম প্রকার: আল-হীমিয়া (الهيمياء)—এটি ‘হা’ বর্ণে কাসরাহ বা জের সহকারে ‘কিবরিয়া’ শব্দের ওজনে। এটি এমন বিষয় যা আসমানি বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যার ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়, তার ক্ষেত্রে জাদুকরদের নিকট পরিচিত কিছু বিষয় পরিলক্ষিত হয়। কখনো কখনো তার বোধশক্তি অবশিষ্ট থাকে, আবার কখনো তা পুরোপুরি অপসারিত হয়, ফলে তার অবস্থা কোনো পার্থক্য ছাড়াই ঘুমন্ত ব্যক্তির মতো হয়ে যায়; এমনকি তার নিকট খুব অল্প সময়ে অনেক বছর অতিবাহিত হওয়ার এবং অনেক ঘটনা ঘটার (حدوث) কাল্পনিক অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

--------------------------------------------

১ আদওয়াউল বায়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৫৩।

২ সূরা আল-ফালাক, আয়াত ৪।

৩ ফুঁ দেওয়া (النفث): এটি হলো লালার সাথে ফুঁ দেওয়া, যা থুতু ফেলার (التفل) চেয়ে সামান্য কম।

৪ দেখুন: বাদায়েউল ফাওয়াইদ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২১; মাআরিজুল কবুল, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৬৩ এবং আদওয়াউল বায়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৫২।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
الأولاد وإنقضاء الأعمار وغير ذلك في ساعة ونحوها من الزمن اليسير، ومن لم يعلم له ذلك لا يجد شيئا مما ذكر وكل ما يتصوره المسحور في هذه الحالة من الأوهام التي لا حقيقة لها1.

النوع السادس: السيمياء: بكسر السين وهو عبارة عما تركب من خواص أرضية كدهن خاص أو كلمات خاصة توجب إدارك الحواس الخمسة أو بعضها بما له وجود حقيقي، أو بما هو تخييل صرف2.

وهذا النوع تخييلي. يأتي بأحد أمرين إما بتأثير عقاقير بخواصها. وهذا ليس سحراً في الشرع. وإما بكلمات خاصة، وهذا لا يحصل بمجرد الكلام وإنما هو بمعين من الشياطين يكون منه التخييل على الحواس بعد ذلك الكلام الذي يستدعي به الساحر ذلك المعين وهذا الكلام تذلل للشياطين يعاوضون عنه الساحر بما يريد من الخداع. ولا شك في حرمته لكونه شركاً3.

القسم الثاني: ماسحر في اللغة.وهو"السحر المجازي" ومداره على قوة البيان وخفة اليد، والحيل والاكتشافات التي سبق بها الساحر عصره وإنما أدخل هذا القسم في فن السحر للطافة مأخذه، ذلك أن السحر في اللغة عبارة عما خفي ولطف سببه4. وهو أنواع منها:

الأول: الأخذ بالأبصار والشعبذة، وهذا النوع مبني على مقدمات. أحدها: أن أغلاط البصر كثيرة ومن أمثلة ذلك أن راكب السفينة إذا نظر إلى الشط رأى السفينة واقفة والشط متحركاً ومثلها السيارة ونحوها. وذلك دليل على أن الساكن يرى متحركاً والمتحرك يرى ساكناً.

--------------------------------------------

1 أضواء البيان ج4 ص452، وحاشية ابن عابدين ج1 ص45.

2 أضواء البيان ج4 ص452، وحاشية ابن عابدين ج1 ص45.

3 انظر السحر بين الحقيقة والخيال ص33.

4 انظر تفسير ابن كثير ج1 ص147.
সন্তান-সন্ততি, আয়ু শেষ হওয়া এবং এরুপ অন্যান্য বিষয়াবলি এক ঘণ্টা বা অনুরূপ স্বল্প সময়ের মধ্যে (সংগঠিত হওয়া); আর যার কাছে এই বিষয়টি জানা নেই, সে উল্লেখিত বিষয়গুলোর কিছুই পায় না। জাদুকৃত ব্যক্তি এই অবস্থায় যা কিছু কল্পনা করে, তার সবই অলীক ধারণা মাত্র যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই১।

ষষ্ঠ প্রকার: সিনিয়া (সিমের নিচে কাসরা বা জেরসহ)। এটি এমন এক বিষয় যা পার্থিব বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত, যেমন কোনো বিশেষ তৈল বা বিশেষ শব্দাবলি, যা পঞ্চেন্দ্রিয় বা তার কোনো একটিকে এমন কিছুর অনুভূতি দান করে যার প্রকৃত অস্তিত্ব আছে অথবা যা নিছক কল্পনাপ্রসূত (تخييل صرف)২।

আর এই প্রকারটি কাল্পনিক (تخييلي)। এটি দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে ঘটে; হয় ভেষজ দ্রব্যের গুণাগুণের প্রভাবে—আর এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে জাদু নয়—অথবা বিশেষ শব্দাবলির মাধ্যমে। এটি কেবল কথার মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং শয়তানদের মধ্য থেকে কোনো সহযোগীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যে ওই কথার পর ইন্দ্রিয়সমূহে বিভ্রম (تخييل) সৃষ্টি করে যার মাধ্যমে জাদুকর সেই সহযোগীকে আহ্বান করে। আর এই কথাগুলো হলো শয়তানদের প্রতি আনুগত্য বা হীনতা প্রকাশ, যার বিনিময়ে তারা জাদুকরের কাঙ্ক্ষিত প্রতারণামূলক কাজে সহায়তা করে। এর হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই কারণ এটি অংশীবাদ (شرك)৩।

দ্বিতীয় অংশ: যা আভিধানিক অর্থে জাদু। আর এটি হলো "রূপক জাদু" (السحر المجازي), যার ভিত্তি হলো বাগ্মিতা, হাতের কৌশল, কলাকৌশল এবং এমন সব উদ্ভাবন যার মাধ্যমে জাদুকর তার সময়ের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে থাকে। এই অংশটিকে জাদুবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এর উৎসের সূক্ষ্মতার কারণে; কেননা অভিধানে জাদুর অর্থ হলো এমন বিষয় যার কারণ অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম৪। এর কয়েকটি প্রকার রয়েছে, যথা:

প্রথমত: দৃষ্টির বিভ্রম এবং ভেলকিবাজি (الشعبذة)। এই প্রকারটি কয়েকটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার একটি হলো: দৃষ্টিবিভ্রম অনেক হয়ে থাকে; এর উদাহরণ হলো—নৌকার আরোহী যখন তীরের দিকে তাকায় তখন সে নৌকাকে স্থির এবং তীরকে চলন্ত দেখতে পায়। গাড়ি বা এই জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, স্থির বস্তুকে গতিশীল এবং গতিশীল বস্তুকে স্থির দেখা যেতে পারে।

--------------------------------------------

১ আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৪৫২ পৃষ্ঠা এবং হাশিয়াহ ইবনে আবিদিন, ১ম খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।

২ আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৪৫২ পৃষ্ঠা এবং হাশিয়াহ ইবনে আবিদিন, ১ম খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।

৩ আস-সিহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল খায়াল, ৩৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

৪ তাফসিরে ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, ১৪৭ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
ثانيها: أن القوة الباصرة إنما تقف على المحسوسات وقوفاً تاماً إذا أدركت المحسوسات في زمان له مقدار ما، أما إذا أدركت المحسوس في زمان قصير جداً ثم أدركت بعده محسوساً آخر وهكذا فانه يختلط البعض بالبعض.

وثالثها: أن النفس إذاكانت مشغولة بشيء فربما حضر عند الحس شيء آخر ولا يشعر الحس به ألبتة. مثاله: أن الإنسان عند دخوله على السلطان قديلقاه إنسان آخر ويتكلم معه فلا يعرفه ولا يفهم كلامه، إذ إن قلبه مشغول بشيء آخر. ثم بعد أن فصّل الرازي في تلك المقدمات قال: إذا عرفت هذه المقدمات سهل عند ذلك تصور كيفية هذا النوع من السحر، وذلك أن المشعبذ الحاذق يظهر عمل شيء يشغل أذهان الناظرين به ويأخذ عيونهم إليه حتى إذا استغرقهم الشغل بذلك الشيء والتحديق نحوه عمل شيئا آخر بسرعة شديدة فيبقى ذلك العمل خفياً لتفاوت الشيئين.

أحدهما: اشتغالهم بالأمر الأول والثاني: سرعة الإتيان بهذا العمل الثاني وحينئذ يظهر لهم شيء آخر غيرما انتظروه فيتعجبون منه جداً ولو أنه سكت ولم يتكلم بما يصرف الخواطر إلى ضد ما يريد أن يعمله، ولم تتحرك النفوس والأوهام إلى غير ما يريد إخراجه لفطن الناظرون لكل ما يفعله1.

وهذا النوع - كما نرى - تخييل لا حقيقة له وهو محرم، لما يتضمنه من الكذب والخداع وقد قال البعض2 بأن سحر سحرة فرعون من هذا النوع والأظهر والله أعلم أنه ليس من هذا النوع ذلك أن سحرة فرعون لم يكن منهم حركات سوى

--------------------------------------------

1 تفسير الرازي ج3 ص211.

2 تفسير ابن كثير ج1 ص146.
দ্বিতীয়ত: দৃষ্টিশক্তি কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু সম্পর্কে তখনই পূর্ণ ধারণা লাভ করে, যখন সে বস্তুটি একটি নির্দিষ্ট সময়ব্যাপ্তি জুড়ে পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু যদি সে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য দেখে এবং পরপরই অন্য একটি বস্তু দেখে, তবে একটির সাথে অন্যটি মিশ্রিত হয়ে যায়।

তৃতীয়ত: আত্মা যখন কোনো কিছুতে মগ্ন থাকে, তখন ইন্দ্রিয়ের সামনে অন্য কিছু উপস্থিত হলেও ইন্দ্রিয় তা মোটেও অনুভব করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ: একজন মানুষ যখন সুলতানের দরবারে প্রবেশ করে, তখন অন্য কেউ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে বা কথা বলতে পারে, কিন্তু সে তাকে চিনতে পারে না বা তার কথা বুঝতে পারে না; কারণ তার অন্তর অন্য কিছুতে মগ্ন থাকে। অতঃপর (ইমাম) রাজি এই ভূমিকাগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার পর বলেন: যখন তুমি এই ভূমিকাগুলো বুঝতে পারলে, তখন এই প্রকারের জাদু অনুধাবন করা সহজ হয়ে যাবে। আর তা হলো—দক্ষ জাদুকর (مشعبذ) এমন কিছু প্রদর্শন করে যা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তাদের দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ রাখে। যখন তারা সেই কাজে এবং সেদিকে তাকিয়ে থাকায় পুরোপুরি মগ্ন হয়ে পড়ে, তখন সে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অন্য একটি কাজ করে ফেলে। ফলে দুটি কারণে সেই কাজটি গোপন থেকে যায়।

প্রথমত: প্রথম কাজে তাদের মগ্ন থাকা এবং দ্বিতীয়ত: এই দ্বিতীয় কাজটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা। তখন তাদের সামনে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তারা আশা করেনি, ফলে তারা খুব বিস্মিত হয়। জাদুকর যদি নীরব থাকত এবং এমন কথা না বলত যা চিন্তাকে তার কাঙ্ক্ষিত কাজের বিপরীতে অন্যদিকে সরিয়ে দেয়, এবং মানুষের মন ও কল্পনা যদি তার লুকানো কাজের পরিবর্তে অন্য কিছুতে ধাবিত না হতো, তবে দর্শকরা তার প্রতিটি পদক্ষেপ ধরে ফেলত।

এই প্রকারের জাদু—যেমনটি আমরা দেখছি—স্রেফ একটি কল্পনা (تخييل) যার কোনো বাস্তবতা নেই এবং এটি নিষিদ্ধ (محرم), কারণ এতে মিথ্যা ও প্রতারণা নিহিত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, ফেরাউনের জাদুকরদের জাদুও এই প্রকারের ছিল। তবে অধিকতর স্পষ্ট মত—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—হলো এটি সেই প্রকারের ছিল না। কারণ ফেরাউনের জাদুকরদের পক্ষ থেকে নড়াচড়া ব্যতীত আর কোনো

--------------------------------------------

১. তাফসির রাজি, ৩য় খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা।

২. তাফসির ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, ১৪৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
إلقاء الحبال والعصي ثم تراءى للناس أنها متحركة فكان سحرهم بفعل آخر أثر على الأعين، وهو من نوع الاستخدامات1.

الثاني: الاستعانة بخواص الأدوية والأطعمة والملابس ونحوها. وهو ضرب من الاحتيال يقوم به بعض من يدعي السحر.

فمن ذلك أن يدعي القدرة على فعل أمور خارقة، فيستخدم خواص بعض المواد التي خلقها الله مما عرف خاصيته ولم يعلمه بقية الناس.

ومن أمثلة ذلك دخول بعض هؤلاء النار بعد أن يدهنوا جلودهم بمواد لها خاصية مقاومة النار، أو يلبس ثياب لا تحرقها النار، فيظن الرائي الجاهل أنه فعل أمراً خارقاً، ولو علم بما فعل لزال العجب، كذلك من هذا النوع أن يجعل في طعام من يريد إيذاءه بعض الأدوية أو الأطعمة المبلدة المزيلة للعقل أو الدخن المسكرة، فإذا تناولها الضحية تبلد عقله وقلت فطنته فيتصرف تصرفاً غيرسليم فيقول الناس إنه مسحور، وقد يستعين بهذه الأدوية ونحوها في مسك الحيات، ثم يزعم أمام جهلة الناس أنها أحوال له2.

الثالث: السعي بالنميمة وإغراء بعض الناس ببعض من وجوه لطيفة خفية وهذا شائع بين الناس3 وخصوصاً ضعاف الإيمان منهم.

قال أبو الخطاب في عيون المسائل: "ومن السحر السعي بالنميمة والإفساد بين الناس"4

--------------------------------------------

1 انظر: السحر بين الحقيقة والخيال ص 35.

2 انظر تفسير الرازي ج3 ص. 212 وتفسير ابن كثير ج1ص146 وعالم السحر والشعوذة ص 144.

3 انظر تفسير الرازي ج 3 ص 213.

4 فتح المجيد ص 232.
দড়ি ও লাঠি নিক্ষেপ করা, অতঃপর মানুষের সামনে এমনভাবে প্রদর্শন করা যেন মনে হয় সেগুলো নড়াচড়া করছে; মূলত তাদের জাদু ছিল এমন এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা চোখের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল, আর এটি এক ধরণের প্রয়োগ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।১

দ্বিতীয়: ওষুধ, খাদ্য, পোশাক এবং এই জাতীয় জিনিসের বিশেষ গুণাগুণ থেকে সাহায্য গ্রহণ করা। এটি এক প্রকারের প্রতারণা যা জাদুর দাবিদার এক শ্রেণির লোক করে থাকে।

এর একটি দিক হলো অলৌকিক কাজ করার সক্ষমতা দাবি করা; মূলত সে মহান আল্লাহর সৃষ্টি করা এমন কিছু বস্তুর বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে যার গুণাগুণ সে জানে কিন্তু অন্য সাধারণ মানুষ জানে না।

এর দৃষ্টান্ত হলো, তাদের কারো কারো আগুনে প্রবেশ করা—নিজেদের চামড়ায় এমন কিছু পদার্থের প্রলেপ দেওয়ার পর যা আগুন প্রতিরোধক গুণসম্পন্ন, অথবা এমন পোশাক পরিধান করা যা আগুন পুড়িয়ে দেয় না। ফলে অজ্ঞ দর্শক মনে করে যে সে কোনো অলৌকিক কাজ করেছে; অথচ সে যা করেছে তা যদি ওই ব্যক্তি জানত, তবে তার বিস্ময় কেটে যেত। তদ্রূপ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো, যাকে ক্ষতি করতে চায় তার খাবারে এমন কিছু ওষুধ বা খাদ্য মিশিয়ে দেওয়া যা চেতনাকে স্থবির করে দেয় অথবা বুদ্ধি লোপ করে দেয় কিংবা নেশাগ্রস্তকারী ধোঁয়া ব্যবহার করা। যখন ভুক্তভোগী তা গ্রহণ করে, তখন তার বুদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ে এবং বিচক্ষণতা কমে যায়, ফলে সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। তখন মানুষ বলে যে সে জাদুগ্রস্ত হয়েছে। আবার কখনো সে সাপ ধরার ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলোর সাহায্য নিতে পারে এবং মূর্খদের সামনে দাবি করতে পারে যে এগুলো তার আধ্যাত্মিক অবস্থাসমূহ।২

তৃতীয়: চোগলখুরি করা এবং সূক্ষ্ম ও গোপন উপায়ে মানুষের মধ্যে উসকানি দেওয়া। এটি মানুষের মধ্যে বহুল প্রচলিত৩ এবং বিশেষ করে যাদের ঈমান দুর্বল তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

আবু আল-খাত্তাব ‘উয়ুন আল-মাসাইল’ গ্রন্থে বলেছেন: “চোগলখুরি করা এবং মানুষের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করা জাদুর অন্তর্ভুক্ত।”৪

--------------------------------------------

১. দেখুন: আস-সিহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল খায়াল, পৃ. ৩৫।

২. দেখুন: তাফসিরে রাজি, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২১২; তাফসিরে ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৬ এবং আলম আস-সিহর ওয়াশ শা’ওয়াজাহ, পৃ. ১৪৪।

৩. দেখুন: তাফসিরে রাজি, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২১৩।

৪. ফাতহুল মাজিদ, পৃ. ২৩২।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
وإنما أطلق على النميمة للإفساد سحراً، لأنها تحول ما بين الصديقين من محبة إلى عداوة بوسيلة خفية كاذبة.

وقال ابن كثير: "النميمة على قسمين تارة تكون على وجه التحريش بين الناس وتفريق قلوب المؤمنين فهذا حرام متفق عليه، فأما إذا كانت على وجه الإصلاح بين الناس … أو على وجه التخذيل والتفريق بين جموع الكفرة فهذا أمر مطلوب كما فعل نعيم بن مسعود"1.

الرابع: تعليق القلب:

وهو أن يدعي الساحر أنه قد عرف اسم الله الأعظم وأن الجن يطيعونه وينقادون له في أكثر الأمور فإذا اتفق أن كان السامع لذلك ضعيف العقل قليل التمييز اعتقد أنه حق وتعلق قلبه بذلك، وحصل في نفسه نوع من الرعب والمخافة، وإذا حصل الخوف ضعفت القوى الحساسة فحينئذ يتمكن الساحر من أن يفعل ما يشاء2.

قال الرازي: "وإن من جرب الأمور وعرف أحوال أهل العلم علم أن لتعلق القلب أثراً عظيماً في تنفيذ الأعمال وإخفاء الأسرار"3.

--------------------------------------------

1 تفسير ابن كثير ج1 ص147.

2 تفسير الرازي ج3 ص213.

3 تفسير الرازي ج3ص213.
অনর্থক বিবাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কৃত চোগলখুরিকে যাদু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ তা গোপন ও মিথ্যা উপায়ের মাধ্যমে দুজন বন্ধুর মধ্যকার ভালোবাসা ও বন্ধুত্বকে শত্রুতাতে রূপান্তরিত করে।

ইবনে কাসীর বলেন: "চোগলখুরি দুই প্রকার; কখনও এটি মানুষের মাঝে উসকানি দেওয়া এবং মুমিনদের হৃদয়ে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হয়, যা সর্বসম্মত (متفق عليه) ভাবে নিষিদ্ধ (حرام)। তবে যদি তা মানুষের মধ্যে সংশোধন করার উদ্দেশ্যে হয় … অথবা কাফেরদের ঐক্যে ফাটল ধরানো ও তাদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা বাঞ্ছনীয় কাজ; যেমনটি নুয়াইম বিন মাসউদ করেছিলেন।"১।

চতুর্থ: অন্তরের আসক্তি:

আর তা হলো যাদুকর এমন দাবি করবে যে, সে ইসমে আজম জেনে ফেলেছে এবং জিনরা অধিকাংশ বিষয়ে তার আনুগত্য করে ও তার অনুগত থাকে। যদি শ্রোতা দুর্বল মস্তিষ্ক ও স্বল্প বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হয়, তবে সে বিশ্বাস করে ফেলে যে এটি সত্য এবং তার অন্তর তার সাথে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তার মনে এক প্রকার ত্রাস ও ভীতির সৃষ্টি হয়। আর যখন ভীতির উদ্রেক হয়, তখন সংবেদনশীল শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে; ফলে তখন যাদুকর যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম হয়।২।

আল-রাযী বলেন: "যিনি বিষয়গুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং বিজ্ঞজনদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন, তিনি জানেন যে কোনো কাজ বাস্তবায়ন এবং রহস্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে অন্তরের আসক্তির এক বিশাল প্রভাব রয়েছে।"৩।

--------------------------------------------

১ তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৭।

২ তাফসীরে রাযী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১৩।

৩ তাফসীরে রাযী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌المبحث الثاني: السحر له حقبقه أم لا؟

‌‌القول الأول: قول أهل السنة

…

المبحث الثاني: السحر له حقيقة أم لا؟

اخُتلف في السحر هل له حقيقة أم لا حقيقة له بل مجرد تخييل؟ على قولين وإليك رأي كل من الفريقين مع بيان الرأي الصائب إن شاء الله.

القول الأول: قول أهل السنة والجماعة:

وهو أن للسحر حقيقة وأثراً ثابتاً بالكتاب والسنة. قال النووي: "والصحيح أن السحر له حقيقة وبه قطع الجمهور وعليه عامة العلماء … 1" وقال القرطبي رحمه الله "ذهب أهل السنة إلى أن السحر ثابت وله حقيقة … "2 وقال أيضاً: "وعندنا أنه حق وله حقيقة يخلق الله عندها ما يشاء"3 وقال الإمام المازري: "مذهب أهل السنة وجمهور علماء الأمة على إثبات السحر وأن له حقيقة كحقيقة غيره من الأشياء الثابتة خلافاً لمن أنكر ذلك … 4" وقال الإمام ابن القيم: "وقد دل قوله تعالى: {وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ} 5

وحديث عائشة رضى الله عنها على تأثير السحر وأن له حقيقة6.

أدلة أهل السنة:

لقد استدل أهل السنة على أن للسحر حقيقة وأثراً بأدلة كثيرة من الكتاب والسنة، ومن الواقع وإليك شيئا منها:

--------------------------------------------

1 فتح الباري ج10 ص222.

2 تفسير القرطبي ج2 ص44.

3تفسير القرطبي ج2 ص46.

4 شرح صحيح مسلم للنووي ج14 ص174.

5 آية 4 سورة الفلق.

6 التفسير القيم ص 571.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাদুর কি বাস্তবতা আছে কি নেই?‌

‌‌প্রথম মত: আহলে সুন্নাতের অভিমত

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাদুর কি বাস্তবতা আছে কি নেই?

জাদুর কি কোনো বাস্তবতা আছে, নাকি এটি নিছক কল্পনা মাত্র—এ বিষয়ে দুটি মতভেদ রয়েছে। নিচে উভয় দলের মতামত এবং ইনশাআল্লাহ সঠিক মতটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।

প্রথম মত: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অভিমত:

আর তা হলো, জাদুর বাস্তবতা এবং প্রভাব রয়েছে যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। ইমাম নববী বলেন: "সঠিক (الصحيح) মত হলো জাদুর বাস্তবতা রয়েছে, অধিকাংশ (الجمهور) আলিম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং সাধারণ ওলামায়ে কিরামের অবস্থানও এর ওপর … ১" ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আহলে সুন্নাত এই মত পোষণ করেন যে জাদু প্রমাণিত এবং এর বাস্তবতা রয়েছে … "২ তিনি আরও বলেন: "আমাদের নিকট এটি সত্য এবং এর এমন বাস্তবতা রয়েছে যার মাধ্যমে আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন।"৩ ইমাম মাযেরী বলেন: "আহলে সুন্নাতের মাযহাব এবং উম্মতের অধিকাংশ (جمهور) আলিমের মত হলো জাদুকে সাব্যস্ত করা। অন্যান্য প্রমাণিত বিষয়ের মতো এরও বাস্তবতা রয়েছে, যারা এটি অস্বীকার করে তাদের মতের বিপরীতে … ৪" ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে} ৫ এর দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস জাদুর প্রভাব এবং এর বাস্তবতার প্রমাণ দেয় ৬।"

আহলে সুন্নাতের দলিলসমূহ:

আহলে সুন্নাত কুরআন, সুন্নাহ এবং বাস্তবতার বহু দলিল দ্বারা জাদুর বাস্তবতা ও প্রভাবের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন। নিচে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২২২।

২ তাফসিরে কুরতুবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪।

৩ তাফসিরে কুরতুবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৬।

৪ শারহে সহিহ মুসলিম (নববী), খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৪।

৫ সূরা আল-ফালাক, আয়াত ৪।

৬ আত-তাফসিরুল কাইয়্যিম, পৃষ্ঠা ৫৭১।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫১)
أولا: الأدلة من الكتاب منها ما يلي:

1- قوله تعالى: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} 1

وجه الاستدلال: الآية تدل على أن للسحر حقيقة من وجوه الأول: أن الله سبحانه وتعالى قد أخبر فيها عن السحر وأنه مما يعلم ويتعلم وأن متعلمه يكفر بذلك وهذه الصفات لا تكون إلا لماله حقيقة، مما يدل على أن له حقيقة2.

الثاني: أن الله تعالى قد أخبر في هذه الآية بأن للسحر آثاراً محسوسة كالتفريق بين المرء وزوجه والأثر دليل على وجود المؤثر وأن له حقيقة3.

الثالث: كما أخبر الله تعالى في هذه الآية بأن للسحرضرراً لا يتحقق إلا بإذنه، والاستثناء دليل على حصول الآثار بسببه والضرر أو الأثر لا يكون إلا مماله حقيقة4.

2- قوله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ} 5

--------------------------------------------

1 آية 102 سورة البقرة.

2 انظر شرح النووي على صحيح مسلم ج14 ص 174.

3انظر تفسير القرطبي ج2ص46، وشرح النووي على صحيح مسلم ج14 ص 174 أضواء البيان ج4 ص437

4 تفسير الرازي ج3 ص213.

5 سورة الفلق.
প্রথমত: কুরআন থেকে প্রাপ্ত দলিলসমূহ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

1- মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা ঐ বিষয়ের অনুসরণ করল, যা শয়তানরা সুলায়মানের রাজত্বকালে আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলে হারূত ও মারূত নামক ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা উভয়ই কাউকে তা শিক্ষা দিত না, যতক্ষণ না তারা বলত যে, ‘আমরা তো কেবল এক পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফরি করো না।’ অতঃপর তারা তাদের নিকট থেকে এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা তা দিয়ে কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে (গ্রহণ করবে), আখেরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না। আর যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে, তা খুবই মন্দ; যদি তারা জানত।} ১

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: আয়াতটি বিভিন্ন দিক থেকে জাদুর বাস্তব অস্তিত্ব থাকার ওপর প্রমাণ পেশ করে। প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এতে জাদু সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি এমন একটি বিষয় যা জানা যায় এবং শেখা যায়, আর এর শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে কুফরি করে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো কেবল এমন বিষয়ের জন্যই হওয়া সম্ভব যার বাস্তব ভিত্তি রয়েছে; যা প্রমাণ করে যে জাদুর বাস্তবতা আছে।২

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে সংবাদ দিয়েছেন যে, জাদুর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রভাব রয়েছে, যেমন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো। আর প্রভাবের উপস্থিতিই প্রভাব বিস্তারকারীর অস্তিত্ব এবং তার বাস্তবতার দলিল।৩

তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে যেমনটি সংবাদ দিয়েছেন যে, জাদুর এমন ক্ষতি করার ক্ষমতা রয়েছে যা কেবল তাঁর অনুমতি সাপেক্ষেই কার্যকর হয়। আর এখানে ব্যতিক্রমধর্মী বর্ণনা (ব্যতীত) এর মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণিত হয়; আর ক্ষতি বা প্রভাব কেবল বাস্তব অস্তিত্বসম্পন্ন বিষয়ের মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব।৪

2- মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে। আর অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা নিবিড় হয়। আর গিরায় ফুৎকারদানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে। এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।} ৫

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াত।

২ দেখুন: সহীহ মুসলিমে ইমাম নববীর শারহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৪।

৩ দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৬; এবং সহীহ মুসলিমে ইমাম নববীর শারহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৪; আদওয়াউল বায়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৩৭।

৪ তাফসীরে রাযী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১৩।

৫ সূরা আল-ফালাক।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫২)
وجه الاستدلال: أن الله تعالى أمرنبيه صلى الله عليه وسلم في هذه السورة بالاستعاذة من شر النفاثات في العقد وهن السواحر كما فسرها جمهور المفسرين1 مما يدل على أن للسحر حقيقة وأثرا2 إضافة إلى ذلك أن هذه السورة وسورة الناس باتفاق جمهور المفسرين سبب نزولهما3 سحر لبيد بن الأعصم اليهودي لرسول الله صلى الله عليه وسلم

ولو لم يكن له حقيقة وأثر لما أنزلت هاتان السورتان لإبطال أثره.

ثانياً: الأدلة من السنة وهي كثيرة منها ما يلي:

1- أخرج البخاري بسنده إلى عيسى بن يونس عن هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت: سحر رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل من بني زريق يقال له لبيد بن الأعصم حتى كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخيل إليه أنه فعل الشيء وما فعله حتى إذا كان ذات يوم، أو ذات ليلة - وهو

--------------------------------------------

1 انظر تفسير ابن كثير ج4 ص573 ومختصر تفسير الطبري ص707 والتفسير القيم ص563.

2 انظر أضواء البيان ج4 ص437، ونيل الأوطار ص 363 والمغني ج8ص151 وشرح المهذب ج19ص240 وفتح المجيد ص222

3 أسباب النوزل للنيسابوري ص347 وأسباب النزول للسيوطي ص550 والتفسير القيم ص567 وتفسير القرطبي ج2ص546 وقد يقول قائل كيف أن سورة الفلق مكية ويكون سبب نزولها ماوقع من سحر للنبي صلى الله عليه وسلم في المدينة؟ ويجاب على ذلك بأن سورة الفلق ليست مكية وإنما هي من السور المختلف فيها والأرجح أنها مدنية كما في الصحاح، قال الألوسي بعد أن حكى الخلاف ورجح أنها مدنية قال: فلا يلتفت لمن قال بمكيتها وحتى لوسلمنا بأنها مكية فإنه لا يلزم منه أنها لا تكون علاجاً للسحر. انظر الناسخ والمنسوخ ص 144 وروح المعاني ج30ص 278والسحر بين الحقيقة والوهم ص69.
দলীল প্রদানের পদ্ধতি: মহান আল্লাহ এই সূরায় তাঁর নবী (সা.)-কে গিরাসমূহে ফুৎকার দানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জুমহুর (جمهور) মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তারা হলেন জাদুকর। এটি প্রমাণ করে যে, জাদুর বাস্তবতা ও প্রভাব (أثر) রয়েছে। এর পাশাপাশি, জুমহুর (جمهور) মুফাসসিরদের ঐকমত্য অনুযায়ী এই সূরা এবং সূরা নাস অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول) হলো লবীদ ইবনুল আসম নামক ইহুদি কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর জাদু করা।

যদি এর কোনো বাস্তবতা ও প্রভাব (أثر) না থাকত, তবে এর প্রভাব (أثر) দূর করার জন্য এই সূরা দুটি অবতীর্ণ হতো না।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ, যা অনেক। তন্মধ্যে নিম্নরূপ:

1- বুখারী তাঁর সনদ (سند) সহ ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বনু যুরাইক গোত্রের লবীদ ইবনুল আসম নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জাদু করেছিল, এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে মনে হতো যে তিনি কোনো কাজ করেছেন অথচ তিনি তা করেননি। এমনকি একদিন বা এক রাতে— তিনি

--------------------------------------------

১. দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর, ৪র্থ খণ্ড, ৫৭৩ পৃষ্ঠা; মুখতাসার তাফসীরে তাবারী, ৭০৭ পৃষ্ঠা এবং আত-তাফসীরুল কায়্যিম, ৫৬৩ পৃষ্ঠা।

২. দেখুন: আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৭ পৃষ্ঠা; নাইলুল আওতার, ৩৬৩ পৃষ্ঠা; আল-মুগনী, ৮ম খণ্ড, ১৫১ পৃষ্ঠা; শারহুল মুহাযযাব, ১৯তম খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা এবং ফাতহুল মাজীদ, ২২২ পৃষ্ঠা।

৩. আসবাবুন নুযূল লিন-নাইসাবূরী, ৩৪৭ পৃষ্ঠা; আসবাবুন নুযূল লিস-সুয়ূতী, ৫৫০ পৃষ্ঠা; আত-তাফসীরুল কায়্যিম, ৫৬৭ পৃষ্ঠা এবং তাফসীরে কুরতুবী, ২য় খণ্ড, ৫৪৬ পৃষ্ঠা। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে, সূরা ফালাক তো মক্কী (مكي), তাহলে এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول) কীভাবে মদীনায় নবী (সা.)-এর ওপর করা জাদু হতে পারে? এর উত্তরে বলা হয় যে, সূরা ফালাক মক্কী (مكي) নয়; বরং এটি এমন সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকতর সঠিক মত হলো এটি মাদানী (مدني), যেমনটি সহীহ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আলূসী মতপার্থক্য বর্ণনা করার পর এটি মাদানী (مدني) হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন: যারা এর মক্কী (مكي) হওয়ার কথা বলেন তাদের কথার প্রতি কর্ণপাত করা যাবে না। এমনকি আমরা যদি মেনেও নেই যে এটি মক্কী (مكي), তবুও এটি জাদুর প্রতিষেধক হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে না। দেখুন: আন-নাসিখ ওয়াল মানসূখ, ১৪৪ পৃষ্ঠা; রূহুল মাআনী, ৩০তম খণ্ড, ২৭৮ পৃষ্ঠা এবং আস-সিহরু বাইনাল হাকীকতি ওয়াল ওয়াহমি, ৬৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
عندي لكنه دعا ودعا، ثم قال "يا عائشة أشعرت أن الله أفتاني فيما استفتيته فيه. أتاني رجلان فقعد أحدهما عند رأسي والآخر عند رجلي فقال أحدهما لصاحبه ما وجع الرجل؟ قالا: مطبوب1

قال: ومن طبه؟ قال لبيد بن الأعصم. قال في أي شيئ؟ قال في مشط ومشاطة2 وجف طلع3 نخلة ذكر. قال: وأين هو؟ قال في بئر ذروان4.فأتاها رسول الله صلى الله عليه وسلم في ناس من أصحابه، فجاء فقال: يا عائشة كأن مائها نقاعة الحنا5 وكأن رؤوس نخلها رؤوس الشياطين6 قلت يا رسول الله أفلا استخرجته؟ قال قد عافاني الله فكرهت أن أثير على الناس فيه شراً فأمر بها فدفنت7

--------------------------------------------

1 المطبوب: المسحور.

2 المشط: ما يسرح به الشعر، المشاطة هي الشعر الذي يسقط من الرأس واللحية عند تسريحه.

3وعاء طلع النخل: هو الغشاء الذي يكون عليه ويطلق على الذكر والأنثى، ولذا قيده في الحديث بالذكر.

4 وهي بئر في المدينة في بستان بني رزيق.

5 الماء الذي ينقع فيه الحنا أي أحمر

6 أي كأن نخلها الذي يشرب من مائها - وقد التوى سعفه - رؤس الشياطين أي في قبحه

7 رواه البخاري في كتاب الطب باب السحر 5763 ومسلم في كتاب السلام باب السحر. انظر مسلم المطبوع مع شرح النووي ج14 ص 174 - 178
আমার নিকটে, কিন্তু তিনি বারবার প্রার্থনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "হে আয়েশা! তুমি কি বুঝতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহ্‌র নিকট যে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে সেই বিষয়ে ফয়সালা (অবহিত) দিয়েছেন? আমার নিকট দু'জন ব্যক্তি এলেন; তাঁদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অন্যজন আমার পায়ের কাছে বসলেন। তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেন, 'এই লোকটির বেদনা কিসের?' তিনি বললেন, 'জাদুগ্রস্ত (مطبوب)'।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কে তাকে জাদু করেছে?" তিনি বললেন, "লাবীদ ইবনুল আসম।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কিসের মাধ্যমে?" তিনি বললেন, "চিরুনি, চিরুনি করার সময় ঝরে পড়া চুল এবং পুরুষ খেজুর গাছের শুকনো মোচার আবরণের মাধ্যমে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তা কোথায়?" তিনি বললেন, "যারওয়ান নামক কূপে।" অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কয়েকজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে সেখানে গেলেন। ফিরে এসে তিনি বললেন, "হে আয়েশা! সেই কূপের পানি যেন মেহেদি ভেজানো নির্যাস এবং সেখানকার খেজুর গাছের মাথাগুলো যেন শয়তানের মাথা।" আমি বললাম, "হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আপনি কি তা বের করলেন না?" তিনি বললেন, "আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, তাই আমি মানুষের মধ্যে নতুন করে কোনো অনিষ্ট ছড়িয়ে দেওয়া অপছন্দ করেছি।" অতঃপর তাঁর নির্দেশে সেটি মাটিচাপা দেওয়া হলো।

--------------------------------------------

১. জাদুগ্রস্ত (مطبوب): অর্থাৎ জাদুকৃত (مسحور)।

২. চিরুনি (مشط): যা দিয়ে চুল আঁচড়ানো হয়। 'মুশাতাহ' (مشاطة) হলো আঁচড়ানোর সময় মাথা বা দাড়ি থেকে ঝরে পড়া চুল।

৩. খেজুর গাছের মোচার আবরণ: এটি সেই আবরণ যা ফলের ওপর থাকে এবং এটি পুরুষ ও স্ত্রী উভয় প্রকার খেজুর গাছেই হয়ে থাকে। এ কারণেই হাদিসে একে 'পুরুষ' (ذكر) শব্দ দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

৪. এটি মদিনার বনু রুরাইক গোত্রের একটি বাগানে অবস্থিত কূপ।

৫. মেহেদি ভিজিয়ে রাখা পানি, যা লাল বর্ণ ধারণ করে।

৬. অর্থাৎ সেই কূপের পানি পান করে বেড়ে ওঠা খেজুর গাছগুলো—যার ডালপালা কুঁচকে কদর্য রূপ নিয়েছে—তা দেখতে যেন শয়তানের মাথার মতো।

৭. বুখারি এটি কিতাবুত তিব্ব, জাদু পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ৫৭6৩) এবং মুসলিম কিতাবুস সালাম, জাদু পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা শারহ (شرح) সহ মুদ্রিত মুসলিম, ১৪শ খণ্ড, ১৭৪-১৭৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
وفي رواية لمسلم "فقلت يا رسول الله أفلا أحرقته" 1

ويقول الإمام النووي عن الروايتين: "كلاهماصحيح: فطلبت أن يخرجه ثم يحرقه والمراد إخراج السحر"2.

وفي رواية عمرة عن عائشة "فنزل رجل فاستخرجه" وفيه من الزيادة أنه "وجد في الطلعة تمثالاً من شمع تمثال رسول الله صلى الله عليه وسلم وإذا فيه إبر مغروزة، وإذابه وتر فيه إحدى عشرة عقدة فنزل جبريل بالمعوذتين فكلما قرأ آية انحلت عقدة وكلما نزع إبرة وجد لها ألما ثم يجد بعدها راحة" 3

وجه الاستدلال: الحديث كما نرى يروي واقعة سحره عليه الصلاة والسلام ابتداءً من تغيرعادته صلى الله عليه وسلم حتى إنه يخيل إليه أنه فعل الشيء ولم يفعله وانتهاءً بقراءة المعوذتين وحل العقد ونزع الإبر وما بين ذلك من دعائه صلىالله عليه وسلم ثم نزول الملكين ونقاشهما فيما حصل له صلى الله عليه وسلم ثم ذهابه إلى البئر في جماعة من أصحابه وإخبار عائشة فيما حصل. وطلبها رضي الله عنها استخراجه، قوله صلى الله عليه وسلم "إن الله شفاني" كل هذا لا يكون إلا فيما له حقيقة وأثر بيّن4.

2

--------------------------------------------

1 رواه مسلم في كتاب السلام باب السحر. صحيح مسلم بشرح النووي ج14 ص177 (المتن)

2 صحيح مسلم بشرح النووي ج14 ص177 (الشرح)

3 فتح الباري ج10 ص 230

4 انظر: التفسير القيم ص 571 والتفسير الكبير للرازي ج3ص213، وشرح النووي على صحيح مسلم ج14 ص174 وتفسير القرطبي ج2ص213.
এবং মুসলিমের একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে, "আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি এটি পুড়িয়ে দেবেন না?" ১

ইমাম নববী এই দুটি বর্ণনা (رواية) সম্পর্কে বলেন: "উভয়টিই বিশুদ্ধ (صحيح); তাই তিনি (আয়েশা রা.) সেটি বের করে আনার এবং এরপর পুড়িয়ে ফেলার প্রার্থনা করেছিলেন, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাদু বের করে আনা।" ২

আয়েশা (রা.) থেকে আমরাহ-এর বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে যে, "এক ব্যক্তি (কূপের নিচে) নামলেন এবং সেটি বের করে আনলেন।" এতে অতিরিক্ত বর্ণনা হিসেবে রয়েছে যে, "খেজুরের মোচড়ের ভেতর মোমের একটি প্রতিকৃতি পাওয়া যায় যা ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিকৃতি এবং তাতে সুঁই গেঁথে রাখা হয়েছিল। এছাড়া সেখানে একটি সুতা ছিল যাতে এগারোটি গিঁট ছিল। অতঃপর জিবরাঈল (আ.) মুআউওয়াযাতাইন (সুরা ফালাক ও নাস) নিয়ে অবতরণ করলেন; তিনি যখনই একটি আয়াত পাঠ করতেন, একটি গিঁট খুলে যেত এবং যখনই একটি সুঁই বের করা হতো, তিনি ব্যথা অনুভব করতেন এবং এর পরেই স্বস্তি পেতেন।" ৩

প্রমাণ উপস্থাপনের (الاستدلال) পদ্ধতি: হাদিসটি যেমন আমরা দেখছি, এটি তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ওপর যাদু করার ঘটনাটি বর্ণনা করে; যার শুরু হয়েছিল তাঁর অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে—এমনকি তাঁর কাছে মনে হতো যে তিনি কোনো কাজ করেছেন অথচ আসলে তা করেননি—এবং এর সমাপ্তি ঘটেছিল মুআউওয়াযাতাইন পাঠ, গিঁটসমূহ খোলা এবং সুঁই অপসারণের মাধ্যমে। এর মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর দুআ করা, অতঃপর ফেরেশতাদ্বয়ের অবতরণ এবং তাঁর সাথে যা ঘটেছিল সে বিষয়ে তাঁদের কথোপকথন, এরপর সাহাবিদের এক দল নিয়ে তাঁর কূপের নিকট গমন এবং যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে আয়েশা (রা.)-কে জানানো—সবই এতে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সেটি বের করে আনার আবেদন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই উক্তি— "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন"—এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে, বিষয়টির একটি বাস্তবতা এবং সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। ৪

2

--------------------------------------------

১ এটি মুসলিম বর্ণনা (رواية) করেছেন সালাম অধ্যায়, যাদু পরিচ্ছেদে। সহিহ মুসলিম বিশারহিন নববী, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৭ (মূল পাঠ (متن))

২ সহিহ মুসলিম বিশারহিন নববী, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৭ (ব্যাখ্যা)

৩ ফাতহুল বারি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৩০

৪ দেখুন: আত-তাফসীরুল কাইয়্যিম পৃষ্ঠা ৫৭১, আর-রাজির আত-তাফসীরুল কাবীর খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১৩, সহিহ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যা খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৪ এবং কুরতুবির তাফসির খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২১৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
2- ما رواه البخاري بسنده إلى أبي الغيث عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:"اجتنبوا السبع الموبقات قالوا يا رسول الله وما هن؟ قال: الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرم الله إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات" 1

وجه الاستدلال: أن الرسول صلى الله عليه وسلم أمرنا باجتناب السبع الموبقات وعد منها السحر بل جعله في المرتبة الثانية بعد الشرك بالله. مما يدل على أن له حقيقة.

3- قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "من تصّبح بسبع تمرات عجوة2 لم يضره ذلك اليوم سم ولا سحر" 3

وجه الاستدلال: أن الرسول صلى الله عليه وسلم أرشدنا إلى ما فيه وقاية من السحر ولايتوقى إلاشيء له حقيقة وأثر بين، كما أنه قارنه بالسم والسم متفق بأن له حقيقة وأثراً فكذلك إذاً السحر4.

ثالثاً: الدليل من الواقع: كذلك من أدلة أهل السنة على أن للسحر حقيقة: الواقع المشاهد وما اشتهر بين الناس من عقد الرجل عن امرأته حين يتزوجها

--------------------------------------------

1رواه البخاري في كتاب الوصايا. باب قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} برقم 2615 ورواه مختصرا بلفظ "اجتنبوا الموبقات الشرك بالله والسحر" في كتاب الطب باب الشرك والسحر من الموبقات برقم 5431

2 ضرب من أجود تمر المدينة والينه. انظر فتح الباري ج10 ص 238.

3رواه البخاري في كتاب الطب باب الدواء بالعجوة للسحر برقم 5769، ومسلم في كتب الأشربة باب فضل تمر المدينة. انظر: صحيح مسلم المطبوع مع شرح النووي ج14ص2.

4 انظر: السحر بين الحقيقة والخيال ص66.
২- ইমাম বুখারি তাঁর সনদের (سند) মাধ্যমে আবুল গায়স থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকো। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরিক করা, জাদু, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ ব্যতীত হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সতী-সাধ্বী উদাসীন মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।" ১

দলিলের ভিত্তি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জাদুকে তার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; বরং তিনি একে আল্লাহর সাথে শিরক করার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রেখেছেন। যা প্রমাণ করে যে, জাদুর বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে।

৩- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" ৩

দলিলের ভিত্তি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যাতে জাদুর প্রতিকার রয়েছে। আর যা কিছুর বাস্তব অস্তিত্ব এবং সুস্পষ্ট প্রভাব থাকে, তা থেকেই কেবল সুরক্ষা গ্রহণ করা হয়। তদুপরি, তিনি জাদুকে বিষের সাথে তুলনা করেছেন; আর বিষের যে বাস্তব অস্তিত্ব এবং প্রভাব রয়েছে তা সর্বসম্মত। সুতরাং জাদুর ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। ৪

তৃতীয়ত: বাস্তবতা থেকে দলিল: জাদুর যে বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে সে বিষয়ে আহলে সুন্নাতের অন্য একটি দলিল হলো: দৃশ্যমান বাস্তবতা এবং মানুষের মধ্যে যা প্রসিদ্ধ রয়েছে, যেমন—বিয়ের সময় কোনো পুরুষকে তার স্ত্রীর সাথে মিলনে অক্ষম (আবদ্ধ) করে ফেলা।

--------------------------------------------

১ ইমাম বুখারি এটি 'কিতাবুল ওয়াসায়া'-এর 'আল্লাহ তাআলার বাণী: নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে...' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ২৬১৫। এবং তিনি এটি সংক্ষেপে "তোমরা ধ্বংসাত্মক কাজগুলো—আল্লাহর সাথে শিরক এবং জাদু থেকে বিরত থাকো" শব্দে 'কিতাবুত তিব'-এর 'শিরক ও জাদু ধ্বংসাত্মক কাজের অন্তর্ভুক্ত' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ৫৪৩১।

২ এটি মদিনার সর্বোত্তম এবং অত্যন্ত নরম খেজুরের একটি প্রকার। দেখুন: ফাতহুল বারি, ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৮।

৩ ইমাম বুখারি এটি 'কিতাবুত তিব' অধ্যায়ে 'জাদুর চিকিৎসায় আজওয়া খেজুর' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ৫৭৬৯; এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল আশরিবা' অধ্যায়ে 'মদিনার খেজুরের ফজিলত' অনুচ্ছেদে। দেখুন: সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহুন নববী), ১৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২।

৪ দেখুন: আস-সিহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল খায়াল, পৃষ্ঠা ৬৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
فلا يقدرعلى إتيانها. وحل عقده فيقدر عليها بعد عجز عنها حتى صار متواتراً لا يمكن جحده.

وروى من أخبار السحرة ما لا يكاد يمكن التواطؤ على الكذب فيه1.

كل هذا دليل ظاهر على أن للسحر حقيقة والله أعلم.

--------------------------------------------

1 انظر: المغني لابن قدامه ج8ص151.
সুতরাং তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট আসতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। অতঃপর তাঁর বাঁধন খুলে দেওয়া হলো এবং তিনি এর সামর্থ্য লাভ করলেন অথচ এর আগে তিনি তা করতে অক্ষম ছিলেন। বিষয়টি এমন 'পরম্পরাগত (متواتر)' পর্যায়ে পৌঁছেছে যা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

জাদুকরদের বিষয়ে এমন সব সংবাদ বর্ণিত হয়েছে যাতে মিথ্যার (كذب) ওপর ঐকমত্য হওয়া প্রায় অসম্ভব।১

এই সবই জাদুর বাস্তবতার ওপর এক সুস্পষ্ট প্রমাণ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

১. দেখুন: ইবনে কুদামাহ-র আল-মুগনি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৫১।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
‌‌القول الأول: قول عامة المعتزلة

…

القول الثاني: وهو قول عامة المعتزلة.

وجماعة من العلماء كأبي منصور الماتريدي وابن حزم وأبي جعفر الأستراباذي من الشافعية وأبي بكر الجصاص، وغيرهم.

ويتلخص رأيهم في أن السحر لا حقيقة له وإنما هو تمويه وتخييل فلا تأثير له لا في مرض ولا حل ولا عقد ولاغير ذلك، وعلى ذلك فهم ينكرون من أنواع السحر ما كان له حقيقة ويجعلونه ضرباً واحداً وهو سحر التخييل.

يقول القاضي عبد الجبار:"إن السحر في الحقيقة لا يوجب المضرة لأنه ضرب من التمويه والحيلة…"1

ويقول أبو منصور الماتريدي: "والأصل أن الكهانة محمول أكثرها على الكذب والمخادعة والسحر على التشبيه والتخييل"2

ويقول ابن حزم: "…وقد نص الله عز وجل على ما قلنا فقال تعالى: {فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى} 3 فأخبر الله تعالى أن عمل أولئك السحرة إنما كان تخيلاً لا حقيقة … "4

--------------------------------------------

1 انظر: متشابه القرآن ج1ص101.

2 التوحيد له، 209

3 آية 66 سورة طه.

4 الفصل له ج5 ص506 وانظر المحلى له ج1ص36.
প্রথম মত: সাধারণ মুতাজিলাদের অভিমত

…

দ্বিতীয় মত: এটি সাধারণ মুতাজিলাদের অভিমত।

এবং একদল আলেম যেমন আবু মনসুর আল-মাতুরিদি, ইবনে হাজম, শাফেয়ী মাজহাবের আবু জাফর আল-আস্তারাবাদি, আবু বকর আল-জাসসাস এবং অন্যান্যরা।

তাদের অভিমতের সারসংক্ষেপ হলো এই যে, জাদুর কোনো বাস্তবতা নেই; বরং এটি স্রেফ প্রতারণা ও বিভ্রম মাত্র, ফলে রোগব্যাধি সৃষ্টি করা কিংবা কোনো কিছু খোলা বা বাঁধার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই। এর ভিত্তিতে তারা জাদুর সেই সব প্রকারকে অস্বীকার করেন যার বাস্তবতা রয়েছে এবং তারা একে কেবল একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেন, আর তা হলো বিভ্রমমূলক জাদু।

কাযী আব্দুল জব্বার বলেন: "জাদু প্রকৃতপক্ষে কোনো ক্ষতি সাধন করে না, কারণ এটি এক প্রকার প্রতারণা ও কৌশল…"১

আবু মনসুর আল-মাতুরিদি বলেন: "মূলনীতি হলো, গণকবিদ্যার অধিকাংশ বিষয়ই মিথ্যা ও প্রতারণার ওপর নির্ভরশীল এবং জাদু হলো সাদৃশ্য প্রদান ও বিভ্রমের ওপর ভিত্তি করে।"২

ইবনে হাজম বলেন: "…আমরা যা বলেছি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তখন তাদের জাদুবিদ্যার প্রভাবে তাঁর মনে হলো যে, তাদের রশি ও লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে} ৩। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, সেই জাদুকরদের কাজ ছিল কেবল বিভ্রম, বাস্তব কিছু নয়… "৪

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: মুতাশাবিহ আল-কুরআন, ১ম খণ্ড, ১০১ পৃষ্ঠা।

২ আত-তাওহিদ (তাঁর রচিত), ২০৯ পৃষ্ঠা।

৩ সূরা তাহা, আয়াত ৬৬।

৪ আল-ফাসল (তাঁর রচিত), ৫ম খণ্ড, ৫০৬ পৃষ্ঠা এবং দেখুন আল-মুহাল্লা (তাঁর রচিত), ১ম খণ্ড, ৩৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
وقال ابن حجر: "واختلف في السحر: فقيل هو تخييل فقط ولا حقيقة له وهذا اختيار أبي جعفر الاستراباذي من الشافعية وأبي بكر الرازي من الحنفية وابن حزم الظاهري وطائفة"1

وقد أيدوا قولهم هذا بشبهات نقلية وعقلية.

وإليك شيئاً منها مع المناقشة:

أولا: الشبهات النقلية منها، ما يلي

الشبهة الأولى: قوله تعالى: {فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ} 2

وجه الاستدلال: قالوا الآية تدل على أن السحرة حاولوا إرهاب الناس وتخويفهم بأن خيلوا لأعين الناظرين أمراً لا حقيقة له مما يدل على أن السحر لا حقيقة له3.

الشبهة الثانية: قوله تعالى: {فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى} 4

الشبهة الثالثة: قوله تعالى: {إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى} 5

وجه الاستدلال: يقول ابن حزم:"وقد نص الله عز وجل على ما قلنا فقال تعالى {فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى} 6

فأخبر تعالى: (أن عمل أولئك السحرة إنما كان تخييلا لا حقيقة له.

--------------------------------------------

1 فتح الباري ج10ص222، وانظر أحكام القرآن للجصاص ج1 ص52، 59

2 آية 116 سورة الأعراف

3 انظر: أضواء البيان ج4 ص437 والفصل ج5ص6

4 آية 66 سورة طه.

5 آية 69 سورة طه.

6 آية 66 سورة طه.
ইবনে হাজার বলেন: "জাদু সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে: বলা হয়েছে যে এটি কেবলই দৃষ্টিভ্রম (تخييل), এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এটি শাফেয়ী মাযহাবের আবু জাফর আল-আস্তারাবাদি, হানাফী মাযহাবের আবু বকর আল-রাজি, ইবনে হাজম আজ-জাহিরি এবং একদল আলিমের অভিমত।"1

তাঁরা তাঁদের এই বক্তব্যকে কিছু বর্ণনাভিত্তিক (نقلية) এবং যৌক্তিক (عقلية) সংশয়ের মাধ্যমে সমর্থন করেছেন।

এখানে সেগুলোর কিছু অংশ পর্যালোচনাসহ তুলে ধরা হলো:

প্রথমত: বর্ণনাভিত্তিক (نقلية) সংশয়সমূহ নিম্নরূপ:

প্রথম সংশয়: মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যখন (জাদুর বস্তুগুলো) নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখগুলোকে জাদুগ্রস্ত করল এবং তাদের আতঙ্কিত করে তুলল; আর তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল।} 2

দলিল উপস্থাপনের ধরণ: তাঁরা বলেন, এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে জাদুকররা দর্শকদের চোখের সামনে এমন কিছুর দৃষ্টিভ্রম (تخييل) তৈরি করে মানুষকে আতঙ্কিত ও ভীত করার চেষ্টা করেছিল যার কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না; যা প্রমাণ করে যে জাদুর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব (حقيقة) নেই।3

দ্বিতীয় সংশয়: মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর হঠাৎ তাদের জাদুর প্রভাবে তাঁর (মূসার) কাছে মনে হলো যেন তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছোটাছুটি করছে।} 4

তৃতীয় সংশয়: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যা তৈরি করেছে তা কেবল জাদুকরের কৌশল; আর জাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না।} 5

দলিল উপস্থাপনের ধরণ: ইবনে হাজম বলেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমরা যা বলেছি সে ব্যাপারেই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইরশাদ করেন: {অতঃপর হঠাৎ তাদের জাদুর প্রভাবে তাঁর কাছে মনে হলো যেন তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছোটাছুটি করছে।}" 6

সুতরাং আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে: ঐ জাদুকরদের কাজ ছিল কেবলই দৃষ্টিভ্রম (تخييل), এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব (حقيقة) ছিল না।

--------------------------------------------

1 ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা; আরও দেখুন আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস, ১ম খণ্ড, ৫২ ও ৫৯ পৃষ্ঠা।

2 সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১১৬।

3 দেখুন: আদওয়াউল বায়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৭ পৃষ্ঠা এবং আল-ফাসল, ৫ম খণ্ড, ৬ পৃষ্ঠা।

4 সূরা তাহা, আয়াত ৬৬।

5 সূরা তাহা, আয়াত ৬৯।

6 সূরা তাহা, আয়াত ৬৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
وقال تعالى {إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى} 1

فأخبر تعالى أنه كيد لا حقيقة له)

الجواب يقال لهم:

أولاًً: الآيات دليل على أن للسحر حقيقة إذ إنها دلت على أن للسحر أثراً في نظر المسحور حتى تخيل الشيء علىخلاف ما هو عليه وهو تأثير في إحساسهم، وإذا جاز، فما الذي يحيل تأثيره في تغيير بعض أعراضهم وقواهم وطباعهم؟ وما الفرق بين التغيير الواقع في الرؤية والتغيير الواقع في صفة أخرى من صفات النفس والبدن؟ وعليه فالآيات حجة عليكم لا لكم.

ثانياً: على التسليم بدلالة الآيات على التخييل فقط فإن هذا لا يمنع أن يكون غير التخييل من جملة السحر؛ لأنها لم تحصر السحر في التخييل، وإنما دلت على أن سحر سحرة فرعون ونحوهم كان من هذا النوع ونحن لاننكر أن يكون التخييل من أنواع السحر وعلى ذلك فلا حجة في الآيات على نفي حقيقة السحر وتأثيره3والله أعلم.

ثانياُ: الشبهات العقلية: منها ما يلي:

الشبهة الأولى: قالوا إن في القول بأن للسحر أثراً خارقاً للعادة يلزم منه أن يكون هناك موجوداً مثلاً لله تعالى. كما أنه لا يمكن العلم معه بالفرق بين ما يختص الله بالقدرة عليه وبين مقدور العباد4.

--------------------------------------------

1 آية 69 سورة طه.

2 الفصل ج5 ص5 - 6.

3 انظر التفسير القيم ص 571 –572، وتفسير القرطبي ج2 ص 46.

4 انظر تفسير الرازي ج3 ص206-207 ومتشابه القرآن ج1ص102.
মহান আল্লাহ বলেন, {তারা যা করেছে তা কেবল জাদুকরের চাতুরী মাত্র। জাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না।} ১

আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি একটি চাতুরী যার কোনো বাস্তবতা (حقيقة) নেই।

উত্তর স্বরূপ তাদের বলা হয়:

প্রথমত: আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে জাদুর বাস্তবতা (حقيقة) আছে। কেননা আয়াতগুলো নির্দেশ করে যে, জাদুগস্ত ব্যক্তির দৃষ্টিতে জাদুর প্রভাব পড়ে, এমনকি সে কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে কল্পনা করে এবং এটি তাদের ইন্দ্রিয়ের ওপর এক ধরণের প্রভাব। আর যদি তা সম্ভব হয়, তবে তাদের কিছু বাহ্যিক অবস্থা, শক্তি এবং প্রকৃতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে বাধা কোথায়? দৃষ্টিতে সংঘটিত পরিবর্তন এবং আত্মা ও শরীরের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে সংঘটিত পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য কী? সুতরাং আয়াতগুলো আপনাদের বিপক্ষে প্রমাণ (حجة), পক্ষে নয়।

দ্বিতীয়ত: যদি মেনে নেওয়া হয় যে আয়াতগুলো কেবল অলীক কল্পনা (تخييل) নির্দেশ করে, তবুও এটি অলীক কল্পনা (تخييل) ব্যতীত অন্য কিছু জাদুর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে নাকচ করে না; কারণ আয়াতগুলো জাদুকে কেবল অলীক কল্পনার (تخييل) মধ্যে সীমাবদ্ধ করেনি। বরং এটি নির্দেশ করেছে যে ফেরাউনের জাদুকর ও তাদের ন্যায় অন্যদের জাদু এই প্রকারের ছিল। আমরা অস্বীকার করি না যে অলীক কল্পনা (تخييل) জাদুর অন্যতম একটি প্রকার। অতএব, জাদুর বাস্তবতা (حقيقة) ও এর প্রভাব অস্বীকার করার ক্ষেত্রে এই আয়াতগুলোতে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয়ত: বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয়সমূহ: সেগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

প্রথম সংশয়: তারা বলে যে, জাদুর অলৌকিক (خارق للعادة) প্রভাব আছে—এ কথাটি বললে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে মহান আল্লাহর সমকক্ষ কোনো অস্তিত্ব রয়েছে। তদুপরি, এর ফলে আল্লাহর একক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত বিষয় এবং বান্দার ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা সম্ভব হবে না।

--------------------------------------------

১. সূরা ত্বহা, আয়াত ৬৯।

২. আল-ফাসল, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৫-৬।

৩. দেখুন: আত-তাফসীরুল কাইয়্যিম, পৃ. ৫৭১-৫৭২; এবং তাফসীরে কুরতুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৬।

৪. দেখুন: তাফসীরে রাযী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২০৬-২০৭; এবং মুতাশাবিহুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০২।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
الجواب: يقال لهم هذه الشبهة باطلة ولا يلزم من القول بأن للسحر أثراً ما زعمتم، ذلك أن أهل السنة لما قالوا بأن للسحر أثراً لم يطلقوا القول بحصول كل أثر أو بحصول أثر يصل إلى مرتبة الخلق والإيجاد، ذلك أن الموجد الحق هو الله وحده لا شريك له.

قال تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ....الآية} 1 وقال تعالى {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيراً} 2 وقال تعالى {أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لا يَخْلُقُ 000الآية} 3 والقول بأن أثر السحر يصل إلى درجة الخلق شرك في الربوبية. أعاذنا الله منه.

وإنما قالوا له أثر على النفس والبدن يؤدي إلى المرض.

فهو سبب قد ربط الله به بعض المسببات في حدود قدرة الخلق من الجن والإنس وبما أن قدرة الشياطين تختلف عن قدرة الإنس لذا قد يظن الجاهل أن حصول الأثر المناقض للعادة فوق قدرة الخلق والواقع أنه في حدود قدرة الخلق من الجن والإنس ولذا يمكن معارضته بمثله وأقوى منه4.

وإذا كان كذلك فلن يلزم من القول بان للسحر أثراً ما زعمتم. والله أعلم.

الشبهة الثانية: يروي الرازي عن القاضي أنه قال: "أنا لو جوزنا ذلك5" لتعذر الاستدلال بالمعجزات على النبوات لأنا لو جوزنا استحداث الخوارق بواسطة تمزيج القوى السماوية بالقوى الأرضية لم يمكنا القطع بأن هذه الخوارق التي

--------------------------------------------

1 آية 62 سورة الزمر.

2 آية 2 سورة الفرقان.

3 آية 17 سورة النحل.

4 النبوات ص 258، 277- 278،281.

5 أن يكون للسحر أثر خارق للعادة.
উত্তর: তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, এই সংশয়টি বাতিল (باطل) এবং যাদুর প্রভাব রয়েছে—এই কথাটি বলার মাধ্যমে আপনারা যা দাবি করেছেন তা আবশ্যক হয় না। কারণ আহলে সুন্নাত যখন বলেছেন যাদুর প্রভাব আছে, তখন তারা প্রতিটি প্রভাব ঘটা অথবা সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দানের স্তরে পৌঁছায় এমন প্রভাব ঘটার কথা ঢালাওভাবে বলেননি। কেননা প্রকৃত অস্তিত্ব দানকারী একমাত্র আল্লাহ, যার কোনো শরিক নেই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ সকল কিছুর স্রষ্টা....আয়াত} ১ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন {এবং তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তা সুনির্ধারিত করেছেন} ২ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন {সুতরাং যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তার মতো যে সৃষ্টি করে না? ....আয়াত} ৩ আর যাদুর প্রভাব সৃষ্টির স্তরে পৌঁছায়—এমন কথা বলা রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরক (شرك)। আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

বরং তারা (আহলে সুন্নাত) বলেছেন যে, মন ও শরীরের ওপর এর এমন প্রভাব রয়েছে যা অসুস্থতার দিকে ধাবিত করে।

সুতরাং এটি একটি কারণ (سبب), যার সাথে আল্লাহ জিন ও মানুষের ক্ষমতার সীমানার মধ্যে কিছু ফলাফলকে (مسببات) যুক্ত করে দিয়েছেন। যেহেতু শয়তানদের ক্ষমতা মানুষের ক্ষমতার চেয়ে ভিন্ন, তাই কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি মনে করতে পারে যে, অভ্যাস পরিপন্থী (خارق للعادة) কোনো প্রভাব সৃষ্টি হওয়া সৃষ্টির ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি জিন ও মানুষের ক্ষমতার সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর এ কারণেই এর মোকাবিলা এর সমপর্যায় বা এর চেয়ে শক্তিশালী কিছু দিয়ে করা সম্ভব ৪।

আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন যাদুর প্রভাব আছে—এই কথা থেকে আপনাদের দাবিকৃত বিষয়টি আবশ্যক হয় না। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

দ্বিতীয় সংশয়: রাযী কাযীর সূত্রে বর্ণনা (يروي) করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা যদি বিষয়টিকে সম্ভব (جوزنا) ৫ মনে করি," তবে নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে মুজিযা (معجزات) দ্বারা দলিল পেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ আমরা যদি আসমানি শক্তি ও জমিনি শক্তির সংমিশ্রণের মাধ্যমে অলৌকিক বিষয়াবলির (خوارق) উদ্ভব সম্ভব (جوزنا) বলে মনে করি, তবে এই অলৌকিক বিষয়গুলো যে...

--------------------------------------------

১ সূরা আয-যুমার, আয়াত ৬২।

২ সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ২।

৩ সূরা আন-নাহল, আয়াত ১৭।

৪ আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা ২৫৮, ২৭৭- ২৭৮, ২৮১।

৫ যাদুর কোনো অভ্যাস পরিপন্থী (خارق للعادة) প্রভাব থাকা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬০)
ظهرت على أيدي الأنبياء عليهم السلام صدرت عن الله تعالى بل يجوز فيها أنهم أتوا بها عن طريق السحر وحينئذ يبطل القول بالنبوات من كل الوجوه1.

الجواب: يقال لهم العادة تنخرق على يد النبي والولي والساحر.

ولكن النبي يتحدى بها الخلق ويستعجزهم عن مثلها ويخبر عن الله تعالى بخرق العادة بها لتصديقه فلو كان كاذباً لم تنخرق العادة على يديه. ولذا لا يمكن معارضته بمثله أو أقوى منه؛ إذ إنّه ليس في مقدور الجن والإنس.

قال تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} 2

أما الولي والساحر: فلا يتحديان الخلق ولا يستدلان على نبوة ولو ادعيا شيئاً من ذلك لم تنخرق العادة لهما.

وأما الفرق بين الولي والساحر فمن وجوه منها:

الأول: وهو المشهور، إجماع المسلمين على أن السحر لا يظهر إلا على فاسق أو كافر، والكرامة لا تظهر إلا على ولي.

الثاني: أن السحر يكون بمعاناة أقوال وأفعال حتى يتم لساحر ما يريد.

والكرامة لا تفتقر إلى شيئ من ذلك. وفي كثير من الأوقات تقع الكرامة اتفاقا من غير أن يستدعيها أو يشعر بها.

الثالث: أن ما يأتي به السحرة، يمكن معارضته بمثله وأقوى منه كما هو الواقع بخلاف الكرامات فهي كالمعجزات لا يمكن لأحد أن يعارضها بمثلها أو أقوى منها.

--------------------------------------------

1 تفسير الرازي ج3ص306،314 وانظر الفصل ج5 ص7 ومتشابه القرآن ج1 ص102.

2 آية 88 سورة الإسراء.
নবিদের (আলাইহিমুস সালাম) মাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই এসেছে। বরং (বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী) এতে এটিও সম্ভব যে তারা তা জাদুর মাধ্যমে নিয়ে এসেছেন, আর এমতাবস্থায় নবুওয়তের (نبوة) বিষয়টি সকল দিক থেকেই অসার হয়ে যায়।১

উত্তর: তাদের বলা হবে যে, স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম বা অলৌকিক ঘটনা (خرق العادة) নবি, ওলি এবং জাদুকরের হাতে সংঘটিত হতে পারে।

কিন্তু নবি এর মাধ্যমে সৃষ্টির সামনে চ্যালেঞ্জ (تحدي) প্রদান করেন এবং তাদের অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম (تعجيز) করে দেন। তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর সত্যতা প্রমাণের জন্য অলৌকিক বিষয় (خرق العادة) ঘটার সংবাদ দেন। সুতরাং তিনি যদি মিথ্যাবাদী হতেন তবে তাঁর হাতে অলৌকিক কিছু প্রকাশিত হতো না। একারণেই এর অনুরূপ বা এর চেয়ে শক্তিশালী কিছু দ্বারা এর মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; কেননা এটি জিন ও মানুষের সক্ষমতার বাইরে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য সমবেত হয়, তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} ২

পক্ষান্তরে ওলি ও জাদুকর: তারা সৃষ্টির প্রতি চ্যালেঞ্জ (تحدي) প্রদান করেন না এবং নবুওয়তের (نبوة) দাবিও করেন না। যদি তারা এমন কিছুর দাবি করতেন, তবে তাদের হাতে অলৌকিক কিছু (خرق العادة) প্রকাশ পেত না।

আর ওলি ও জাদুকরের মধ্যে পার্থক্যের কয়েকটি দিক রয়েছে, তন্মধ্যে:

প্রথম: এটিই প্রসিদ্ধ যে, মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী জাদু কেবল ফাসিক (فاسق) বা কাফিরের (كافر) মাধ্যমেই প্রকাশ পায়, আর কারামত (كرامة) কেবল ওলির মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।

দ্বিতীয়: জাদুকর যা চায় তা অর্জনের জন্য বিশেষ কিছু কথা ও কাজের সাধনা বা কসরত করতে হয়।

কিন্তু কারামত (كرامة) এ জাতীয় কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নয়। অনেক সময় কারামত (كرامة) ওলির প্রার্থনা বা অনুভূতি ছাড়াই আকস্মিকভাবে ঘটে থাকে।

তৃতীয়: জাদুকররা যা প্রকাশ করে, বাস্তবে তার অনুরূপ বা তার চেয়ে শক্তিশালী কিছু দ্বারা তার মোকাবিলা করা সম্ভব। পক্ষান্তরে কারামতসমূহ (كرامات) হলো মুজিজার (معجزات) মতো, যার অনুরূপ বা তার চেয়ে শক্তিশালী কোনো কিছু দিয়ে কারো পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

১ তাফসিরে রাজি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩০৬, ৩১৪ এবং দেখুন আল-ফাসল খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭ এবং মুতাশাবিহুল কুরআন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০২।

২ সুরা আল-ইসরা, আয়াত ৮৮।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬১)
الرابع: إن مايأتي به السحرة لا يخرج عن كونه مقدوراً للإنس والجن بخلاف الكرامات فهي كالمعجزات لا يقدر عليها إلا الله1.

الشبهة الثالثة: يروي الرازي عن القاضي أنه قال:" … لو جوزنا أن يكون في الناس من يقدر علىخلق الجسم والحياة والألوان لقدر ذلك الإنسان على تحصيل الأموال العظيمة من غير تعب. لكنا نرى من يدعي السحر متوصلا ً إلى اكتساب الحقير من المال بجهد جهيد فعلمنا كذبه."2

الجواب: يقال لهم هذه الشبهة باطلة ولا تلزمنا لأنا لم نطلق الحكم بحصول كل تأثير مهما كان بل قلنا في نطاق معين لا يتجاوز التصرف في الأعراض من باب التأثير على القلوب بالحب والبغض وعلى الأبدان بالألم والسقم. أما أن يقلب الجماد حيواناً أو عكسه أو الحديد ذهباً أو نحوه فليس في مقدور الساحر3.

وبذلك يزول اللبس وتبطل هذه الشبهة. والله أعلم.

والأظهر في هذه المسألة - والله أعلم - أن السحر المذموم صاحبه ليس كله حقيقة وليس كله تخييلاً. بل منه ما هو حقيقة كما دلت عليه أدلة أهل السنة، ومنه ما هو تخييل كما دلت عليه الآيات التي استدل بها المخالفون. وبذلك يتضح عدم التعارض بين الأدلة النقلية. وعلى هذا جماهير العلماء من المسلمين4. والله أعلم.

--------------------------------------------

1 شرح النووي على صحيح مسلم ج14 ص175-176، النبوات لابن تيمية ص 281-282، فتح الباري ج10 ص 223.

2 تفسير الرازي ج3 ص206.

3 انظر فتح الباري ج10 ص223.

4 أضواء البيان ج4 ص437-438، ص 455وتيسيير العزيز الحميد 334.
চতুর্থত: জাদুকররা যা কিছু উপস্থাপন করে তা মানুষ এবং জিনের সক্ষমতার বাইরে নয়; পক্ষান্তরে অলৌকিকত্ব হলো মুজিজার মতো, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ সম্পাদন করতে সক্ষম নয়।১

তৃতীয় সংশয়: ইমাম রাযী কাজী থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: " … যদি আমরা এটি বৈধ মনে করি যে মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে দেহ, জীবন এবং বর্ণ সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে সেই ব্যক্তি কোনো ক্লান্তি ছাড়াই বিপুল অর্থসম্পদ অর্জনে সক্ষম হতো। কিন্তু আমরা দেখি যে, যারা জাদুর দাবি করে তারা কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামান্য অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে, যার ফলে আমরা তাদের মিথ্যা (كذب) সম্পর্কে জানতে পারি।"২

উত্তর: তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, এই সংশয়টি অসার (باطل) এবং এটি আমাদের ওপর প্রযোজ্য নয়। কারণ আমরা যেকোনো ধরনের প্রভাব সৃষ্টির ঢালাও কোনো বিধান দেইনি; বরং আমরা একটি নির্দিষ্ট সীমার কথা বলেছি যা ভালোবাসা ও ঘৃণার মাধ্যমে হৃদয়ের ওপর এবং ব্যথা ও অসুস্থতার মাধ্যমে শরীরের ওপর প্রভাব বিস্তারের বাইরে যায় না। আর জড় পদার্থকে প্রাণীতে রূপান্তর করা বা এর বিপরীত করা, অথবা লোহাকে স্বর্ণে বা এই জাতীয় কিছুতে রূপান্তর করা জাদুকরের ক্ষমতার বাইরে।৩

এর মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূর হয় এবং এই সংশয়টি বাতিল হয়ে যায়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এই বিষয়ে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—নিন্দনীয় জাদুর অধিকারী যা করে তার সবটুকুই বাস্তব নয় এবং সবটুকুই কাল্পনিক নয়। বরং এর কিছু অংশ বাস্তব, যেমনটি আহলে সুন্নাতের দলীলসমূহ প্রমাণ করে; আর কিছু অংশ কাল্পনিক, যেমনটি বিরোধীদের পেশকৃত আয়াতসমূহ নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে বর্ণিত দলীলসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আর মুসলিমদের অধিকাংশ আলেম এই মতের ওপর রয়েছেন।৪ আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

১ শারহু নববী আলা সহীহ মুসলিম, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৫-১৭৬; ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা ২৮১-২৮২; ফাতহুল বারী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২২৩।

২ তাফসীরে রাযী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২০৬।

৩ দেখুন: ফাতহুল বারী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২২৩।

৪ আদওয়াউল বায়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৩৭-৪৩৮, পৃষ্ঠা ৪৫৫ এবং তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ৩৩৪।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌المبحث الثالث: حكم السحر والسحرة

‌‌أولا: حكم تعلم السحر وتعليمه

…

تابع لحقيقة السحر وحكمه في الكتاب والسنة

المبحث الثالث: حكم السحر والسحرة.

سنتناول في هذا المبحث إن شاء الله ما يلي:

أولاً: حكم تعلم السحر وتعليمه.

ثانيا: حكم العمل به.

ثالثا: عقوبة الساحر.

رابعا: توبة الساحر.

أولا: حكم تعلم السحر وتعليمه:

اختلف العلماء في حكم تعلم السحر وتعليمه على أقوال.

الأول: قول الجمهور من علماء أهل السنة، قالوا إن تعلم السحر وتعليمه حرام. قال ابن قدامة رحمه الله " … فإن تعلم السحر وتعليمه حرام لا نعلم فيه خلافاً بين أهل العلم"1

لكن ما هي درجة هذا التحريم؟

إن قصد من تعلمه العمل به وكان فيه قول أو فعل يقتضي الكفر، أو تعلمه معتقداً إباحته فهو كفر، وإلا فهو فسق.

قال الإمام الشافعي: "إذا تعلم السحر قيل له صف لنا سحرك؟ فإن وصف ما يستوجب الكفر مثل سحر أهل بابل من التقرب للكواكب وأنها تفعل ما يطلب منها فهو كافر وإن كان لا يوجب الكفر فإن اعتقد إباحته فهو كافر وإلا فلا2

وقال النووي رحمه الله وهو يتكلم عن السحر: " … وأما تعلمه وتعليمه فحرام فإن تضمن ما يقضي الكفر كفر وإلا فلا"3.

--------------------------------------------

1 المغني لابن قدامة ج8 ص151.

2 أضواء البيان ج4ص455.

3شرح صحيح مسلم للنووي ج14 ص176.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাদু ও জাদুকরের বিধান

প্রথমত: জাদু শেখা ও শেখানোর বিধান

…

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জাদুর বাস্তবতা ও এর বিধানের ধারাবাহিকতা

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাদু ও জাদুকরের বিধান।

আমরা এই পরিচ্ছেদে ইনশাআল্লাহ নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:

প্রথমত: জাদু শেখা ও শেখানোর বিধান।

দ্বিতীয়ত: জাদুর ওপর আমল করার বিধান।

তৃতীয়ত: জাদুকরের শাস্তি।

চতুর্থত: জাদুকরের তাওবা।

প্রথমত: জাদু শেখা ও শেখানোর বিধান:

জাদু শেখা ও শেখানোর বিধান সম্পর্কে আলেমগণ বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়েছেন।

প্রথম: আহলে সুন্নাহর জমহুর (جمهور) আলেমদের মত; তারা বলেছেন যে জাদু শেখা ও শেখানো হারাম (حرام)। ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "...নিশ্চয়ই জাদু শেখা ও শেখানো হারাম (حرام), এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই।"১

তবে এই হারাম (حرام) হওয়ার মাত্রা কতটুকু?

যদি জাদু শেখার উদ্দেশ্য হয় এর ওপর আমল করা এবং এতে এমন কোনো কথা বা কাজ থাকে যা কুফর (كفر) সাব্যস্ত করে, অথবা জাদুকে বৈধ (إباحة) মনে করে কেউ তা শেখে, তবে তা কুফর (كفر); অন্যথায় তা ফিসক (فسق)।

ইমাম শাফেয়ী বলেন: "যখন কেউ জাদু শেখে, তখন তাকে বলা হয়—আমাদের কাছে তোমার জাদুর বর্ণনা দাও। যদি সে এমন কিছুর বর্ণনা দেয় যা কুফর (كفر) সাব্যস্ত হওয়াকে অনিবার্য করে (যেমন বাবেলবাসীদের জাদু, যা ছিল নক্ষত্ররাজির নৈকট্য লাভের মাধ্যমে এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে নক্ষত্রসমূহ যা চাওয়া হয় তা করতে সক্ষম), তবে সে কাফির (كافر)। আর যদি তা কুফর (كفر) অনিবার্য না করে, তবুও যদি সে জাদুকে বৈধ (إباحة) মনে করে তবে সে কাফির (كافر); অন্যথায় নয়।"২

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) জাদু সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "...আর এটি শেখা ও শেখানো হারাম (حرام); যদি এতে কুফর (كفر) হওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে তবে তা কুফর (كفر), অন্যথায় নয়।"৩।

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৫১।

২ আদওয়াউল বায়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৫৫।

৩ শারহু সহীহ মুসলিম, নববী, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুস সিহর ওয়া হুকমুহু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وقال أبو حيان: "وأما حكم السحر فما كان منه يعظم به غير الله من الكواكب والشياطين وإضافة ما يحدثه الله إليها فهوكفر إجماعاً لا يحل تعليمه ولا العمل به وكذا ما قصد بتعلمه سفك الدماء والتفريق بين الزوجين والأصدقاء، وأما إذا كان لا يعلم منه شيئا من ذلك بل يحتمل فالظاهر أنه لا يحل تعلمه والعمل به … 1"

وقال الشيخ سليمان بن عبد الوهاب: "وقد نص أحمد على أنه يكفر بتعلمه وتعليمه2.

الأدلة: وقد أيدوا قولهم بأدلة كثيرة منها ما يلي:

الأول: قوله تعالى {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ … الآية} 3

قال ابن حجر:"فإن ظاهرها أنهم كفروا بذلك، ولا يكفر بتعليم الشيء إلا وذلك الشيء كفر"4

الثاني: قوله تعالى: {وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلا تَكْفُرْ … الآية} 5

قال ابن حجر: "الآية فيها إشارة إلى أن تعلم السحركفر"6

الثالث: قوله تعالى { … وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلاقٍ … الآية} 7

--------------------------------------------

1 روائع البيان ج1ص84.

2 تيسير العزيز الحميد ص 335.

3 آية 102 سورة البقرة.

4 فتح الباري ج10ص225.

5 آية 102 سورة البقرة.

6 فتح الباري ج10ص225.

7 آية 102 سورة البقرة.
وقال আবু হাইয়ান বলেন: "আর জাদুর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে কথা হলো, যে জাদুর মাধ্যমে গ্রহ-নক্ষত্র ও শয়তানদের মতো আল্লাহ ব্যতীত অন্যের মহিমা প্রকাশ করা হয় এবং আল্লাহর সৃষ্টি করা কার্যাবলীকে তাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তা সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعاً) কুফর (كفر)। এটি শিক্ষা করা বা এর দ্বারা আমল করা বৈধ নয়। একইভাবে যা শিক্ষা করার উদ্দেশ্য হলো রক্তপাত ঘটানো এবং স্বামী-স্ত্রী ও বন্ধুদের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা, তাও নিষিদ্ধ। আর যদি এগুলোর কোনোটিই জানা না যায় বরং সম্ভাবনা থাকে, তবে বাহ্যত এটি শিক্ষা করা ও এর দ্বারা আমল করা বৈধ নয় … ১"

শেখ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব বলেন: "ইমাম আহমাদ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জাদু শিক্ষা করা ও তা শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায় ২।

দলীলসমূহ: তাঁরা তাঁদের বক্তব্যের স্বপক্ষে অনেকগুলো দলীল পেশ করেছেন, যার মধ্যে নিম্নরূপ:

প্রথম: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা অনুসরণ করল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে তিলাওয়াত করত। আর সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত … আয়াত} ৩

ইবনে হাজার বলেন: "এর বাহ্যিক অর্থ হলো তারা এর মাধ্যমে কুফরী করেছিল। আর কোনো কিছু শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাফির হয় না, যতক্ষণ না সেই বিষয়টি কুফর (كفر) হয়।" ৪

দ্বিতীয়: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা (ফেরেশতাদ্বয়) কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না তারা বলত যে, আমরা তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তোমরা কুফরী করো না … আয়াত} ৫

ইবনে হাজার বলেন: "আয়াতটিতে এই মর্মে ইঙ্গিত রয়েছে যে, জাদু শিক্ষা করা হলো কুফর (كفر)।" ৬

তৃতীয়: মহান আল্লাহর বাণী: { … আর তারা তা শেখে যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, আখিরাতে তার কোনো অংশ নেই … আয়াত} ৭

--------------------------------------------

১ রাওয়াইউল বায়ান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৮৪।

২ তাইসীরুল আজিজিল হামিদ, পৃ. ৩৩৫।

৩ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২।

৪ ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, পৃ. ২২৫।

৫ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২।

৬ ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, পৃ. ২২৫।

৭ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২।