(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
حركة حروف المضارعة القسم: النحو والصرف
الكتاب: حركة حروف المضارعة
المؤلف: عبد الله بن ناصر القرني
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 119 - السنة 35 - 1423هـ
عدد الصفحات: 491
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুদারে-এর বর্ণসমূহের হরকত বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: মুদারে-এর বর্ণসমূহের হরকত
লেখক: আবদুল্লাহ বিন নাসির আল-কারনি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৯ - বর্ষ ৩৫ - ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫১)
ال
مقدَّمةالحمد لله والصَّلاة والسَّلامُ على رَسولِ اللهِ.
وَبَعْد؛ فقد اهتمَّ علماء العربيّة بلغتهم، ووضعوا نحوها وصرفها ولغتها على نحوٍ منضبط، بهر من جاء بعدهم لدقّتهم البالغة، وسرعة استواء هذه العلوم على سوقها.
وكان في جملة اهتماماتهم الكلمة المفردة، إذ تناولوها من جهة نوعها، وبنيتها، ومدلولها.
فأمَّا نوعها فقسموها إلى ثلاثة أقسام: اسم، وفعل، وحرف. وأمّا بنيتها فصنفوا جميع أبنية العربيّة على اختلاف هيئاتها وأحوالها.
وأمّا مدلولها: فصنّفوا في ذلك الموسوعات الحاوية لمعاني ألفاظ العربيّة.
وكان في جملة بيانهم انقسامَ الكلمة إلى اسم وفعل وحرف انقسامُ الفعل إلى ثلاثة أيضًا: ماضٍ ومضارع وأمر. فإن قال قائل: لم كانت الأفعال ثلاثة: ماضيًا وحاضرًا ومستقبلاً؟ قيل: لأنّ الأزمنة ثلاثة، ولمّا كانت ثلاثة وجب أن تكون الأفعال ثلاثة: ماضيًا وحاضرًا ومستقبلاً1.
ولكلِّ نوعٍ منها علاماته التي يعرف بها، وميزاته التي ينفرد بها عن نظيريه.
فالفعل المضارع قسم من أقسام الفعل، ونوع من أنواعه، شُغِلَ به النّحويّون والصّرفيّون واللّغويّون.
فالنحويون تناولوا المضارع بالدراسة من حيث علامته المميزة له، وإعرابه أو بناؤه، وانتهوا إلى أمور، منها:
علامته المميزة له نوعان:
1-نوع يرجع إلى ما يدخل عليه من عوامل، وهي صلاحيته لأن يلي
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।
অতঃপর, আরবি ভাষাবিদগণ তাঁদের ভাষার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর ব্যাকরণ (নাহু), রূপতত্ত্ব (সরফ) ও ভাষাতত্ত্বকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সংকলন করেছেন। তাঁদের এই অত্যন্ত সূক্ষ্মতা এবং এই বিজ্ঞানসমূহ অতি দ্রুত পূর্ণতা লাভ করা পরবর্তী প্রজন্মকে বিস্মিত করেছে।
তাঁদের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল একক শব্দ; কেননা তাঁরা এর ধরন, গঠন এবং অর্থগত তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শব্দের প্রকারভেদের ক্ষেত্রে তাঁরা একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়। আর গঠনের দিক থেকে তাঁরা আরবি ভাষার সকল কাঠামোকে সেগুলোর বিভিন্ন রূপ ও অবস্থা অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করেছেন।
আর অর্থগত তাৎপর্যের ক্ষেত্রে তাঁরা আরবি শব্দের অর্থসমূহ সংবলিত বিভিন্ন বিশাল গ্রন্থ ও বিশ্বকোষ সংকলন করেছেন।
শব্দকে বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ে বিভক্ত করার আলোচনার ধারায় তাঁরা ক্রিয়াকেও তিন ভাগে ভাগ করেছেন: অতীতকালীন, বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন (মুদারে) এবং আদেশসূচক। যদি কেউ প্রশ্ন করেন: ক্রিয়া কেন তিনটি—অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ? তবে বলা হবে: যেহেতু কাল বা সময় তিনটি; আর কাল যেহেতু তিনটি, তাই ক্রিয়াও তিনটি হওয়া আবশ্যক: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।১
এর প্রত্যেকটি প্রকারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে যার মাধ্যমে একে চেনা যায় এবং এর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্য দুটি প্রকার থেকে পৃথক করে।
মুদারে ক্রিয়া হলো ক্রিয়ার একটি বিভাগ ও প্রকার, যা নিয়ে ব্যাকরণবিদ, রূপতত্ত্ববিদ এবং ভাষাতত্ত্ববিদগণ বিস্তারিত কাজ করেছেন।
ব্যাকরণবিদগণ মুদারে ক্রিয়াকে এর স্বতন্ত্র আলামত, এর রূপান্তরশীলতা (ই’রাব) অথবা অপরিবর্তনীয়তা (বিনা) নিয়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে আলোচনা করেছেন এবং তাঁরা বেশ কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
একে পৃথক করার আলামত দুই প্রকার:
১-এমন এক প্রকার যা এর পূর্ববর্তী প্রভাবকসমূহের (আওয়ামিল) সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো এর এমন যোগ্যতা যার কারণে এটি পরে আসতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫২)
لم نحو: لم يقم زيد ولم يشم1.
2-وآخر يرجع إلى صيغة أوزان المضارع، وهي افتتاحه بحرف من حروف نأيت. قال الزمخشري في تعريفه: "وهو ما يعقب في صدره الهمزة والنون والتاء والياء
…"2.
وليس هذه العلامة في قوة السابقة لها؛ لأنها ليست علامةً قاطعةً، وإنما هي مساعدة.
إعرابه:
يقرر النحويون أن حق الفعل المضارع الإعراب لمشابهته للاسم، وبهذا أعرب، واستحق التقديم على أخويه2.
واستثنوا من ذلك حالتين هما:
1-إذا اتصلت به نون التوكيد، فإنه يبنى معها على الفتح بشرط أن تكون مباشرة للفعل، لم يفصل بينها وبينه فاصلٌ، ظاهراً كان ـ كألف الاثنين ـ أو مقدراً ـ كواو الجماعة وياء المخاطبة ـ وإلا كان معرباً.
2-إذا اتصلت به نون النسوة، فإنه يبنى معها على السكون، كما في قوله جل وعلا: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ
… } 3.
أمَّا الصرفيُّون فقد شغلتهم حركة عين المضارع؛ ذلك لاختلافها باختلاف الماضي ونوعه من حيث التجرُّد والزِّيادة، ومن حيث نوعيّة حروفه في بعض الأحيان.
--------------------------------------------
যেমন ‘লাম’: ‘লাম ইয়াকুম যায়দুন ওয়া লাম ইয়াশাম্মু’১।
২-অন্যটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ওজনের রূপের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো এর শুরুতে ‘নাআইতু’ অক্ষরসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে শুরু হওয়া। আল-যামাখশারী এর সংজ্ঞায় বলেন: “আর এটি এমন যা তার শুরুতে হামজা, নুন, তা এবং ইয়া-কে ধারণ করে
...”২।
এই চিহ্নটি পূর্ববর্তীটির মতো শক্তিশালী নয়; কারণ এটি কোনো চূড়ান্ত চিহ্ন নয়, বরং এটি কেবল একটি সহায়ক চিহ্ন।
এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:
ব্যাকরণবিদগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, বিশেষ্যের (ইসম) সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো ই’রাব বা ব্যাকরণিক রূপান্তর গ্রহণ করা। এই কারণে এটি রূপান্তরযোগ্য হয় এবং তার অপর দুই সহোদরের ওপর অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য হয়২।
তারা এর থেকে দুটি অবস্থাকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন, সেগুলো হলো:
১-যখন এর সাথে গুরুত্বারোপকারী নুন (নুনুত তাকীদ) যুক্ত হয়, তখন এটি ‘ফাতহাহ’-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি) হয়; শর্ত হলো নুনটি ক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত হতে হবে এবং উভয়ের মাঝে দৃশ্যত কোনো ব্যবধান (যেমন দ্বিবচনের আলিফ) কিংবা উহ্য কোনো ব্যবধান (যেমন বহুবচনের ওয়াও এবং মধ্যম পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া) থাকা চলবে না; অন্যথায় তা রূপান্তরযোগ্য হবে।
২-যখন এর সাথে স্ত্রীবাচক নুন (নুনুন নিসওয়াহ) যুক্ত হয়, তখন এটি ‘সুকুন’-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি) হয়। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে
... } ৩।
অন্যদিকে শব্দরূপ বিশারদগণ (সারফিগণ) বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ‘আইন’ বর্ণের হরকত নিয়ে ব্যাপৃত ছিলেন; কারণ অতীতকালীন ক্রিয়ার ভিন্নতা এবং এর মূল রূপ (মুজাররাদ) বা বর্ধিত রূপের (যিয়াদাহ) ধরন অনুযায়ী এবং ক্ষেত্রবিশেষে এর বর্ণগুলোর প্রকৃতির কারণে এটি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
فالمعروف أنَّ أبواب الماضي الثّلاثي المجرّد ثلاثة: فَعَل وفعِل وفعُل وهذا التَّقسيم ناتج من تغيّر حركة العين، ذلك أنَّ الفعل ـ كما ترى ـ ثلاثة أحرف. فالأوَّل منها متحرّك دائمًا إذ لايُبْدَأ بساكن [وحركته الفتحة] واختيرت من بين الحركات لخفَّتِها، وآخره مبنيٌّ على الفتح لفظًا أو تقديرًا، ولم يكن ساكنًا؛ لأنَّه يتَّصل به الضَّمائر، وبعضها ملازم للسُّكون كواو الجماعة، وألف الاثنين. والعين لا تكون إلَاّ متحرّكة لئلَاّ يلزم التقاء السَّاكنين إذا سكن آخر الفعل لاتِّصاله بضمير رفع متحرِّك. والحركات ثلاث: فتحة وكسرة وضمَّة؛ لذلك انحصرت أوزانه في هذه الصِّيغ الثَّلاث 1.
أمَّا الرُّباعي المجرَّد فله وزن واحد هو فَعْلَل نحو: دحرج لأن الرُّباعي أثقل من الثُّلاثي، فوجب أن يكون فيه سكون ليُخَفِّفَ ثقَله؛ ولأنَّه لو كانت حروفه كلُّها متحرِّكة كالثُّلاثي لزم اجتماع أربعة متحرِّكات متوالية في الكلمة الواحدة، وهذا مما رفض في كلام العرب للاستثقال.
وأما اللغويون فكان من جملة الأحكام التي يطالعها دارس العربيَّة في دراساتهم حركة حرف المضارعة، فاشتُهِر أنَّ حكمها دائر بين حالتين:
الأولى: حالة الفتح، وذلك إذا كان ماضي الفعل ثلاثيًّا أو خماسيًّا أو سداسيًّا.
والأخرى: حالة الضَّم، وتختصّ بما كان ماضيه على أربعة أحرف.
ولا يذكر مع هاتين الحالتين حالة ثالثة. ولكنَّا نجد في كتاب سيبويه مبحثًا مستقلاًّ عنوانه كسر حروف المضارعة2 وذلك يشعر بخروج هذه الحالة عن القاعدة العامَّة، ذلك أنَّ النُّحاة بنوا قواعدهم على ما اطَّرد من قواعد
--------------------------------------------
সুপরিচিত যে, তিন অক্ষরবিশিষ্ট মৌলিক অতীতকালীন ক্রিয়ার (আদ-থালাথি আল-মুজাররাদ) অধ্যায়সমূহ তিনটি: ফায়ালা, ফায়িলা এবং ফাউলা। এই বিভাজনটি মূলত ক্রিয়ার মধ্যম বর্ণের (আইন কালিমা) হরকতের পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে; কারণ ক্রিয়াটি—যেমনটি আপনি দেখছেন—তিনটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। এর প্রথম বর্ণটি সর্বদা হরকতযুক্ত থাকে, যেহেতু সাকিন (স্থির বর্ণ) দিয়ে শব্দ শুরু করা অসম্ভব; আর হরকতসমূহের মধ্য থেকে এর লঘুতা বা উচ্চারণের সহজতার কারণে ফাতহাকে নির্বাচন করা হয়েছে। আর ক্রিয়ার শেষ বর্ণটি শাব্দিক বা উহ্যভাবে ফাতহার ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় থাকে এবং তা সাকিন হয় না; কারণ এর সাথে বিভিন্ন সর্বনাম যুক্ত হয়, যার কোনো কোনোটি (যেমন: ওয়াও আল-জামাআহ এবং আলিফ আল-ইতলাইন) সর্বদা সাকিন হওয়া আবশ্যক। আর মধ্যম বর্ণ বা ‘আইন’ কালিমা অবশ্যই হরকতযুক্ত হতে হবে, যাতে কোনো হরকতযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যুক্ত হওয়ার ফলে ক্রিয়ার শেষ বর্ণটি সাকিন হয়ে গেলে দুই সাকিনের মিলন (ইজতিমাউস সাকিনাইন) না ঘটে। হরকত মূলত তিনটি: ফাতহা, কাসরা ও দাম্মা; একারণেই এই ক্রিয়ার ওজন বা গঠনসমূহ কেবল এই তিনটি রূপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ১।
আর চার অক্ষরবিশিষ্ট মৌলিক ক্রিয়ার (আর-রুবায়ি আল-মুজাররাদ) কেবল একটিই ওজন রয়েছে, তা হলো ‘ফায়লালা’; যেমন: দাহরাজা। কারণ চার অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের চেয়ে অধিক গুরুভার, তাই এর ভার লাঘব করার জন্য এতে একটি সাকিন থাকা আবশ্যক করা হয়েছে। এছাড়া এর সবগুলো বর্ণই যদি তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের মতো হরকতযুক্ত হতো, তবে একই শব্দের মধ্যে পরপর চারটি হরকতযুক্ত বর্ণের সমাবেশ ঘটত, যা অতিরিক্ত গুরুভারের কারণে আরবি ভাষায় বর্জন করা হয়েছে।
ভাষাবিদগণের মতে, আরবি ভাষা শিক্ষার্থীর জন্য অধ্যয়নযোগ্য বিষয়সমূহের অন্যতম একটি হলো মুদারি বা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার আলামতের বর্ণের হরকত। এটি সুপ্রসিদ্ধ যে, এর বিধানটি মূলত দুটি অবস্থার মধ্যে আবর্তিত হয়:
প্রথমটি: ফাতহা হওয়ার অবস্থা; এটি তখন হয় যখন অতীতকালীন ক্রিয়াটি তিন, পাঁচ অথবা ছয় অক্ষরবিশিষ্ট হয়।
অন্যটি: দাম্মা হওয়ার অবস্থা; এটি কেবল সেই ক্রিয়াগুলোর জন্য নির্দিষ্ট যেগুলোর অতীত রূপ চার অক্ষরবিশিষ্ট হয়।
এই দুটি অবস্থার সাথে তৃতীয় কোনো অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয় না। কিন্তু আমরা ইমাম সিবওয়াইহ-এর কিতাবে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ দেখতে পাই যার শিরোনাম হলো ‘বর্তমানকালীন ক্রিয়ার আলামতের বর্ণে কাসরা হওয়া’ ২। এটি এই অবস্থাটি সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত হওয়ার বিষয়টি অনুভব করায়। আর এটি একারণেই যে, ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের নিয়মাবলীসমূহ সে সব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সংকলন করেছেন যা অধিক নিয়মিত ও অবিচ্ছিন্ন নিয়ম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
العربيَّة، مستندًا إلى قياس صحيح، أو رَكَنَ إلى سماعٍ فصيح.
وكسر حروف المضارعة ليس مطردًا في لغة العرب، غير أنَّها وجدت لهجات عربية تكسرها.
ولما كان الأمر كذلك أردت أن أقف عندها، جامعًا كلام العلماء فيها ليسهل النَّظر في هذه الحالة، وليطلع دارسو العربيَّة على آراء العلماء فيها.
وذكرت معها نبذة عن حروف المضارعة من حيث، عددها، ومكان زيادتها، ولماذا كانت دون غيرها، وهل زيادتها في أوائل الفعل المضارع دون غيره من الأسماء والأفعال؟
أرجو أن أكون قد حقَّقت المقصود، ووصلت إلى المراد، والله الهادي إلى سواء السَّبيل.
আরবি ভাষা, যা সঠিক (صحيح) কিয়াস বা পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে অথবা প্রাঞ্জল শ্রুতির (سماع) ওপর নির্ভরশীল।
আরবি ভাষায় মুদারে-এর আদ্যক্ষরগুলোতে (حروف المضارعة) কাসরা প্রদান করা কোনো নিয়মিত নিয়ম নয়; তবে এমন কিছু আরবি উপভাষা পাওয়া গেছে যেখানে সেগুলোতে কাসরা প্রদান করা হয়।
বিষয়টি যখন এরূপ, তখন আমি এই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে চেয়েছি এবং এ সংক্রান্ত ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ একত্রিত করেছি, যাতে এই বিষয়টি অনুধাবন করা সহজ হয় এবং আরবি ভাষার শিক্ষার্থীগণ এ বিষয়ে আলেমদের মতামতের ব্যাপারে অবগত হতে পারেন।
এর সাথে আমি মুদারে-এর আদ্যক্ষরসমূহ (حروف المضارعة) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ করেছি—এগুলোর সংখ্যা, সেগুলোর বৃদ্ধির স্থান, কেন অন্য বর্ণগুলো বাদ দিয়ে এগুলোকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং এগুলোর আধিক্য কি কেবল বর্তমানকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) শুরুতে হয় নাকি অন্য কোনো বিশেষ্য বা ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটে?
আমি আশা করি যে, আমি উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
حروف المضارعةحروف المضارعة هي الهمزة والنون والتاء والياء التي تكون في صدر الفعل المضارع، وزيادتها في أوله لازمة، بل هي جزء من تعريفه. قال الزّمخشري في تعريفه: "وهو ما يعقب في صدره الهمزة والنّون والتّاء والياء. وذلك في قولك للمخاطب أو الغائبة: تفعل. وللغائب: يفعل. وللمتكلّم: أفعل. وله إذا كان معه غيره واحدًا أو جماعة: نفعل. وتسمّى الزّوائد الأربع، ويشترك فيه الحاضر والمستقبل...."1. فإن سألت عن أصل هذه الحروف ومن أين جاءت؟ أجابك السّهيلي في نتائجه بقوله: "وإن كان المعنى الزّائد أولاً كانت الزّيادة المنبئة عنه أولاً، مسبقة على حروف الكلمة، كهذه الزّوائد الأربع، فإنّما تنبئ أنّ الفعل لم يحصل بعد لفاعله، وأن بينه وبين تحصيله جزءًا من الزّمان، فكان الحرف الزَّائد السَّابق للفظ الفعل مشيرًا في اللِّسان إلى ذلك الجزء من الزَّمان، مرتَّبًا في البيان على حسب ترتُّب المعنى في الجنان "2.
فإن سألت: لم كانت هذه الأحرف الأربعة دون غيرها من حروف الهجاء؟ أجابك بقوله: " إنَّ الأصل في هذه الزّوائد الياء، بدليل كونها في الموضع الذي لا يحتاج فيه إلى الفرق بين مذكّر ومؤنّث، وهو فعل جماعة النِّساء.
دليل آخر: وهو أنَّ أصل الزِّيادة لحروف المدّ واللِّين، والواو لا تزاد أولاً كيلا تشبه واو العطف، ولعلّة أخرى تذكر في باب التّصريف3، والألف لا
--------------------------------------------
মুদারা’আত-এর বর্ণসমূহমুদারা’আত-এর বর্ণসমূহ হলো হামজা, নুন, তা এবং ইয়া, যা মুদারে’ ক্রিয়ার শুরুতে থাকে। ক্রিয়ার প্রারম্ভে এগুলোর সংযোজন অপরিহার্য, বরং এগুলো এই ক্রিয়ার সংজ্ঞারই অংশ। আয-যামাখশারী এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি (মুদারে’ ক্রিয়া) হলো এমন যা তার প্রারম্ভে হামজা, নুন, তা এবং ইয়া গ্রহণ করে। আর তা আপনার সম্বোধিত ব্যক্তি বা অনুপস্থিত নারীর ক্ষেত্রে ব্যবহারের সময় হয়: তাফ’আলু। অনুপস্থিত পুরুষের ক্ষেত্রে: ইয়াফ’আলু। বক্তার ক্ষেত্রে: আফ’আলু। আর বক্তার সাথে অন্য কেউ এক বা একাধিক ব্যক্তি থাকলে: নাফ’আলু। এগুলোকে 'যাওয়ায়েদে আরবা’আ' (চারটি অতিরিক্ত বর্ণ) বলা হয় এবং এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় কালের অর্থ প্রদান করে..."১। আপনি যদি এই বর্ণগুলোর মূল ভিত্তি এবং এগুলো কোথা থেকে এসেছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে আস-সুহাইলী তার 'নাতাইযুল ফিকর' গ্রন্থে উত্তর দিয়েছেন: "যদি অতিরিক্ত অর্থটি প্রথমে থাকে, তবে সেই অর্থের সংবাদ প্রদানকারী অতিরিক্ত বর্ণটিও শব্দের মূল বর্ণমালার আগে আসবে, যেমন এই চারটি অতিরিক্ত বর্ণ। এগুলো মূলত এই সংবাদ দেয় যে, ক্রিয়াটি তার কর্তার দ্বারা এখনও সম্পন্ন হয়নি এবং কাজটির সম্পাদনের মধ্যে সময়ের কিছুটা অংশ বাকি আছে। সুতরাং ক্রিয়া উচ্চারণের আগে আসা অতিরিক্ত বর্ণটি ভাষায় সময়ের সেই অংশের দিকে ইঙ্গিত করে, যা অন্তরের সংকল্পের বিন্যাস অনুযায়ী বর্ণনায় বিন্যস্ত হয়েছে"২।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: বর্ণমালার অন্যান্য বর্ণ বাদ দিয়ে কেন কেবল এই চারটি বর্ণই নির্ধারিত হলো? তিনি উত্তরে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই অতিরিক্ত বর্ণগুলোর মূল ভিত্তি হলো ইয়া; এর প্রমাণ হলো এটি এমন স্থানে ব্যবহৃত হয় যেখানে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচকের মধ্যে পার্থক্যের প্রয়োজন হয় না, আর তা হলো নারীদের বহুবচনের ক্রিয়া।
অন্য একটি দলিল হলো: মূলত অতিরিক্ত বর্ণ হওয়ার বৈশিষ্ট্য হলো মাদ এবং লীন-এর বর্ণসমূহের। তবে 'ওয়াও' শুরুতে যুক্ত হয় না যাতে এটি সংযোজক 'ওয়াও'-এর সদৃশ না হয়ে যায়। এছাড়া ইলমে সরফ (শব্দরূপান্তর বিদ্যা)-এ বর্ণিত অন্য কারণও রয়েছে৩, আর আলিফ শুরুতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৬)
تزاد أولاً لسكونها، فلم يبق إلَاّ الياء فهي أصل هذا الباب. فلمَّا أرادوا الفرق كانت الهمزة بفعل المتكلّم أولى، لإشعارها بالضَّمير المستتر في الفعل، إذ هي أول حروف ذلك الضَّمير إذا برز، فلتكن مشيرةً إليه إذا أرز. وكانت النّون بفعل المتكلّمين أولى بوجودها في أول لفظ الضَّمير الكامن في الفعل إذا ظهر، فلتكن دالّة عليه إذا خفي واستتر، وكانت التّاء من تفعل للمخاطب؛ لوجودها في ضميره المستتر فيه، وإن لم تكن في أوّل لفظ الضَّمير ـ أعني أنت ـ ولكنَّها في آخره، ولم يخصّوا بالدّلالة عليه ما هو في أوّل لفظه ـ أعني الهمزة ـ لمشاركته للمتكلّم فيها وفي النّون، فلم يبق من لفظ الضَّمير إلَاّ التَّاء، فجعلوها في أوَّل الفعل علمًا عليه، وإيماءً إليه.
فإن قيل: فكان يلزم على هذا أن تكون الزِّيادة في فعل الغائب هاءً، لوجودها في لفظ الضَّمير الغائب إذا برز؟
فالجواب: أنَّه لا ضمير في فعل الغائب في أصل الكلام وأكثر موضوعه؛ لأنَّ الاسم الظَّاهر يغني عنه، ولا يستتر ضمير الغائب حتَّى يتقدّمه مذكور يعود عليه، وليس كذلك فعل المتكلّم والمخاطب والمخبرين عن أنفسهم
… 1.
ويقول الكيشيُّ عن هذه الأحرف: "وإنَّما اختصّت الحروف الأربع بالمضارع لأنَّ حروف المدّ هي التي تزاد للمعاني، لكونها ناشئة من الحركات الدَّالَّة على المعاني الإعرابيّة، وحرك الألف للابتداء به فصارت همزة؛ لقرب المخرج، فأبدل من الواو تاءً كتراث وتجاه وتقًى؛ لأنَّ الواو لا تزاد أولاً بمقتضى التَّصريف،
--------------------------------------------
প্রথমে এটি অতিরিক্ত (زيادة) হিসেবে যুক্ত করা হয় কারণ এটি সাকিনযুক্ত; ফলে কেবল ইয়া (ياء) অবশিষ্ট থাকে, যা এই অধ্যায়ের মূল ভিত্তি। যখন তারা পার্থক্য করতে চাইলেন, তখন মুতাকাল্লিম-এর (উত্তম পুরুষ) ক্রিয়ায় হামযাহ ব্যবহার করাই অধিক সংগত বিবেচিত হলো। কারণ এটি ক্রিয়ার মধ্যে লুক্কায়িত সর্বনামের (الضمير المستتر) প্রতি ইঙ্গিত করে; যেহেতু এই সর্বনামটি যখন প্রকাশিত হয় তখন এটিই তার শব্দের প্রথম অক্ষর হয়। সুতরাং লুক্কায়িত অবস্থায়ও এটি যেন সেই সর্বনামের প্রতি নির্দেশক হয়। আর বহুবচন মুতাকাল্লিম-এর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নুন (نون) ব্যবহার করাই অধিক সংগত ছিল; কারণ ক্রিয়ার মধ্যে সুপ্ত সর্বনামটি যখন প্রকাশিত হয় তখন এটি তার শব্দের শুরুতেই বিদ্যমান থাকে। সুতরাং সর্বনামটি যখন প্রচ্ছন্ন ও গুপ্ত থাকে, তখন এটি যেন তার পরিচয় জ্ঞাপনকারী হয়। আর মুখাতাব-এর (মধ্যম পুরুষ) জন্য 'তাফউলু' (تفعل) থেকে তা (تاء) নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কারণ এটি সেখানে লুক্কায়িত সর্বনামের মধ্যে বিদ্যমান। যদিও এটি সর্বনামের —অর্থাৎ 'আন্তা' (أنت)— শব্দের শুরুতে নেই, কিন্তু এটি তার শেষে বিদ্যমান। আর তারা (ভাষাবিদগণ) সর্বনামটির শুরুতে যা আছে —অর্থাৎ হামযাহ— তাকে তার পরিচায়ক হিসেবে নির্দিষ্ট করেননি; কারণ মুতাকাল্লিম ও নুন-এর সাথে হামযাহর সাদৃশ্য রয়েছে। ফলে সর্বনামের শব্দ থেকে কেবল 'তা' (تاء) অবশিষ্ট থাকল; তাই তারা একে ক্রিয়ার শুরুতে তার আলামত ও নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করলেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে তো এই যুক্তি অনুসারে গায়িব-এর (নাম পুরুষ) ক্রিয়ায় অতিরিক্ত (زيادة) অক্ষরটি হা (هاء) হওয়া আবশ্যক ছিল, যেহেতু গায়িব-এর সর্বনাম যখন প্রকাশ পায় তখন তাতে তা বিদ্যমান থাকে?
উত্তর হলো: মূল কালাম (বাক্য) এবং এর অধিকাংশ প্রয়োগে গায়িব-এর ক্রিয়ায় কোনো সর্বনাম থাকে না; কারণ প্রকাশ্য বিশেষ্য (اسم ظاهر) তার অভাব পূরণ করে দেয়। আর গায়িব-এর সর্বনাম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রচ্ছন্ন থাকে না যতক্ষণ না তার পূর্বে এমন কিছুর উল্লেখ থাকে যার দিকে সে ফিরে যাবে। কিন্তু মুতাকাল্লিম, মুখাতাব এবং যারা নিজেদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছে তাদের ক্রিয়ার বিষয়টি এমন নয়
… ১।
আল-কিশি এই অক্ষরগুলো সম্পর্কে বলেন: "এই চারটি অক্ষর কেবল মুদারি (مضارع) ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণ হলো, মাদ্দ-এর (مد) অক্ষরগুলোই অর্থের বৈচিত্র্যের জন্য অতিরিক্ত (زيادة) হিসেবে যুক্ত হয়; যেহেতু সেগুলো ইরাবি (إعراب) অর্থবোধক হরকত থেকে উৎপন্ন। আর আলিফকে শুরুতে আসার কারণে হরকত প্রদান করা হয়েছে, ফলে মাখরাজ-এর (مخرج) নৈকট্যের কারণে সেটি হামযাহতে পরিণত হয়েছে। অতঃপর একে ওয়াও (واو) থেকে 'তা' (تاء) দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমন তুরাছ, তিজাহ এবং তুকান শব্দে হয়েছে; কারণ সরফ-এর (تصريف) নিয়ম অনুযায়ী ওয়াও কখনো শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত (زيادة) হিসেবে আসে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
واضطروا إلى حرف رابع فتعيَّن النّون، لما فيه من الغنّة الشَّبيهة بالمدّ "1.
فيرى الكيشي أنَّهم لمَّا احتاجوا إلى أحرف تدلُّ على المعاني الزَّائدة في الفعل كان الأولى بذلك حروف المدّ الثَّلاثة: الألف والواو والياء، فأبدل من الألف الهمزة للعلّة التي ذكر، ومن الواو التَّاء؛ لأنَّه لا تزاد أولاً، والياء بقيت على طبيعتها، فلمَّا اضطروا إلى حرف رابع كان النّون.
وزيادة هذه الأحرف ليست خاصة بالفعل المضارع، ولذلك لا يذكرها النحويون لتعريفه بها؛ لأنَّها ليست علامة قاطعة، وإنَّما هي مساعدة. ولذلك قال ابن هشام فيها: "وإنَّما ذكرت هذه الأحرف بساطًا وتمهيدًا للحكم الذي يأتي بعدها، لا لأُعرِّف بها الفعل المضارع؛ لأنَّا وجدناها تدخل في أوَّل الفعل الماضي، نحو: أكرمت زيدًا وتعلّمت المسألة ونرجست الدَّواء إذا جعلت فيه نرجسًا، ويرنأت الشَّيب إذا خضبته باليُرَنَّاً، وهو الحنّاء، وإنَّما العمدة في تعريف المضارع دخول لم عليه"2. ونجد أنَّ هذه الأحرف تدخل أيضًا على الأسماء، وتجيء في أوَّلها، ويفسِّر ابن جنِّي ذلك بقوله: "فإن قلت: فهلا قُصِرَت حروف المضارعة على الأفعال كما قصرت الميم على الأسماء، وقد سمعناهم يقولون: أفْكَلٌ، وأَيْدَعٌ، وتَنْضُبٌ، وتَتْفلٌ3 وغير ذلك ممَّا في أوَّله الهمزة والنّون والتَّاء والياء؟
قيل: إنَّما زيدتْ هذه الحروف التي بابها الأفعال في أوائل الأسماء، لقوَّة الأسماء وتمكّنها، وغلبتها للأفعال فشاركت الأسماءُ في هذا الموضع الأفعالَ،
--------------------------------------------
এবং তারা চতুর্থ একটি বর্ণ বা হরফের (حرف) প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন, ফলে ‘নুন’ (النّون) নির্ধারিত হলো; কারণ এতে দীর্ঘস্বরের (المدّ) সদৃশ নাসিক্যধ্বনি বা গুন্নাহ (الغنة) রয়েছে।
আল-কাইশি মনে করেন যে, যখন ক্রিয়ার (الفعل) অতিরিক্ত অর্থগুলো নির্দেশ করার জন্য তাদের কিছু বর্ণের (أحرف) প্রয়োজন হলো, তখন এর জন্য তিনটি দীর্ঘস্বর বিশিষ্ট বর্ণই (حروف المدّ) অধিকতর উপযুক্ত ছিল: আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া। অতঃপর তিনি উল্লেখিত কারণবশত আলিফকে হামযাহ (الهمزة) দ্বারা এবং ওয়াও-কে তা (التَّاء) দ্বারা পরিবর্তন করলেন; কারণ এটি (ওয়াও) শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয় না, আর ইয়া তার নিজ প্রকৃতিতেই বহাল থাকল। অতঃপর যখন তারা চতুর্থ একটি বর্ণের (حرف) প্রয়োজনবোধ করলেন, তখন তা ছিল নুন (النّون)।
আর এই বর্ণগুলোর অতিরিক্ত হওয়া কেবল বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) সাথে সুনির্দিষ্ট নয়। এই কারণে ব্যাকরণবিদগণ একে সংজ্ঞায়িত করার জন্য এগুলোর উল্লেখ করেন না; কারণ এগুলো কোনো অকাট্য আলামত নয়, বরং এগুলো কেবল সহায়ক মাত্র। এইজন্যই ইবনে হিশাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন: “আমি এই বর্ণগুলোর উল্লেখ করেছি কেবল পরবর্তী বিধানের ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট হিসেবে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে (الفعل المضارع) চেনার জন্য নয়। কারণ আমরা এগুলোকে অতীতকালীন ক্রিয়ার (الفعل الماضي) শুরুতে প্রবেশ করতে দেখি, যেমন: আকরামতু যায়দান (أكرمت زيدًا), তা‘আল্লামতুল মাসআলাহ (تعلّمت المسألة) এবং নারজাসতুদ দাওয়া (نرجست الدَّواء) যখন তাতে নারজিস (এক প্রকার ফুল) মিশানো হয়, এবং ইয়ারনাআতুশ শাইব (يرنأت الشَّيب) যখন একে ‘আল-ইউরান্না’ (অর্থাৎ মেহেদি) দ্বারা রঞ্জিত করা হয়। মূলত বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع) চেনার মূল ভিত্তি হলো তার পূর্বে ‘লাম’ (لم) এর প্রবেশ।” আমরা দেখতে পাই যে, এই বর্ণগুলো বিশেষ্যের (الأسماء) মধ্যেও প্রবেশ করে এবং তার শুরুতে আসে। ইবনে জিন্নি এর ব্যাখ্যায় বলেন: “যদি তুমি বলো: কেন বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন বর্ণসমূহকে (حروف المضارعة) কেবল ক্রিয়ার (الأفعال) জন্য সুনির্দিষ্ট করা হলো না যেমন ‘মীম’ (الميم) বর্ণটিকে কেবল বিশেষ্যের (الأسماء) জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে? অথচ আমরা তাদের বলতে শুনেছি: আফকাল (أفكل), আইদা‘ (أيدع), তানদুব (تنضب), তিতফাল (تتفل) এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ যার শুরুতে হামযাহ (الهمزة), নুন (النّون), তা (التَّاء) এবং ইয়া (الياء) রয়েছে?”
উত্তরে বলা হয়েছে: মূলত এই বর্ণগুলো—যার মূল ক্ষেত্র হলো ক্রিয়া (الأفعال)—বিশেষ্যের (الأسماء) শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে আনা হয়েছে বিশেষ্যের শক্তি, সুদৃঢ়তা এবং ক্রিয়ার ওপর তার প্রাধান্যের কারণে। ফলে এই ক্ষেত্রে বিশেষ্যসমূহ (الأسماء) ক্রিয়ার (الأفعال) অংশীদার হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
لقوّتها
… ويدلّك على أنَّ أصل هذه الزِّيادات ـ أعني: الحروف المضارعة ـ أن تكون في أوَّل الأفعال أنَّ الأسماء التي جاءت على أفعل أكثرها صفات نحو: أحمر، وأصفر، وأخضر، وأسود، وأبيض، والأسماء التي في أوَّلها الهمزة على هذا البناء من غير الصِّفات قليلة. ألا ترى أنَّ باب: أحمر، وأصفر، وأسود، وأبيض أكثر من باب أَيْدَعٍ، وَأَزْمَلٍ، وَأَفْكَلٍ، فلمَّا أرادوا أن يكثر هذا المثال الذي في أوّله الهمز جعلوه صفات؛ لقرب مابين الصّفة والفعل. ألا ترى أنَّ كلَّ واحدٍ منهما ثانٍ للاسم، وأنَّ الصِّفة تحتاج إلى الموصوف كما أنَّ الفعل لابدَّ له من فاعلٍ "1.
ولذلك يقرر النحويون أنَّ علامة الفعل المضارع صحة دخول لم الجازمة على الفعل دون اختلال في التّركيب. أمَّا أحرف المضارعة فهي قابلة للدّخول على الماضي والأسماء.
الفتح والضم في أحرف المضارعة:
شغل اللغويون بالمضارع من حيث حركة حرف المضارعة. فقد اشتهر في لغة أهل الحجاز أنَّه إذا بني المضارع من ماضٍ رباعي ـ سواء أكان رباعي الأصول أم رباعيًّا بالزِّيادة ـ كانت حركة حرف المضارعة منه الضَّم. فتقول: أكرم يُكرم، قطَّع يقطِّع، دحرج يُدحرج.
وإذا جاء ما يشعر بمخالفته ذلك فعلى اعتبار آخر، وعليه يمكن تفسير قراءة أبي رجاء العطاردي2 {فَاتَّبِعُونِي يحَْبِبْكُمُ اللَّهُ} 3 بفتح الياء.قال
--------------------------------------------
এর শক্তির কারণে
… এবং এটি আপনাকে নির্দেশ করে যে এই অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর মূল—অর্থাৎ মুদারিয়া বা বর্তমান-ভবিষ্যত কালের অক্ষরসমূহ—ক্রিয়ার শুরুতে হওয়া। কারণ 'আফআলু' ওজনে যেসব বিশেষ্য এসেছে তার অধিকাংশই হলো গুণবাচক বিশেষণ, যেমন: লাল, হলুদ, সবুজ, কালো, সাদা; এবং এই ওজনে যেসব বিশেষ্য শুরুতে হামযাহ যুক্ত হয়ে আসে কিন্তু বিশেষণ নয়, তা সংখ্যায় অল্প। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে 'আহমার', 'আসফার', 'আসওয়াদ' এবং 'আবইয়াদ'-এর ব্যবহার 'আইদা', 'আজমাল' এবং 'আফকাল'-এর ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি? তাই তারা যখন শুরুতে হামযাহ যুক্ত এই ছাঁচটিকে অধিক করতে চাইল, তখন তারা একে বিশেষণ হিসেবে নির্ধারণ করল; বিশেষণ এবং ক্রিয়ার মধ্যকার ঘনিষ্ঠতার কারণে। আপনি কি দেখেন না যে তাদের প্রত্যেকেই বিশেষ্যের পরবর্তী স্তরের এবং বিশেষণের যেমন বিশেষিত বিশেষ্যের প্রয়োজন হয়, তেমনি ক্রিয়ার জন্যও অবশ্যই একজন কর্তার প্রয়োজন হয়।
১এ কারণেই ব্যাকরণবিদগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মুদারিয়া ক্রিয়ার চিহ্ন হলো ক্রিয়ার পূর্বে জাযম প্রদানকারী 'লাম' যুক্ত হওয়া বিশুদ্ধ (صحيحة) হওয়া, যাতে বাক্যের গঠনে কোনো ত্রুটি না ঘটে। আর মুদারিয়ার অক্ষরগুলো অতীতকালীন ক্রিয়া এবং বিশেষ্যের পূর্বেও প্রবেশ করতে সক্ষম।
মুদারিয়ার অক্ষরসমূহে ফাতহা ও যম্মাহ:
ভাষাবিদগণ মুদারিয়ার অক্ষরের হারাকাত বা স্বরচিহ্নের দিক থেকে মুদারিয়া নিয়ে ব্যাপৃত ছিলেন। হিজাযবাসীদের ভাষায় এটি প্রসিদ্ধ যে, যখন কোনো চার অক্ষরবিশিষ্ট অতীতকালীন ক্রিয়া—চাই তা মূলগতভাবে চার অক্ষরবিশিষ্ট হোক কিংবা অতিরিক্ত অক্ষরের মাধ্যমে চার অক্ষরবিশিষ্ট হোক—থেকে মুদারিয়া গঠিত হয়, তখন মুদারিয়ার অক্ষরের হারাকাত যম্মাহ বা পেশ হয়। যেমন আপনি বলেন: আকরামা-ইউকরিমু, ক্বত্তায়া-ইউক্বত্তিইু, দাহরাজা-ইউদাহরিজু।
যদি এমন কিছু আসে যা এর বিপরীত মনে হয়, তবে তা ভিন্ন বিবেচনার ভিত্তিতে হবে। এর ওপর ভিত্তি করে আবু রাজা আল-উতারিদির
২ কিরাত {সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন}
৩ 'ইয়া' বর্ণে ফাতহা যোগে পাঠ করার ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তিনি বলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
الكسائي:" يقال يَحِبُّ وتَحِبُّ وأَحِبُّ
… والفتح لغة تميم وأسد وقيس. وهي على لغة من قال: حَبَّ وهي لغة قد ماتت "1.
فنلحظ هنا أنَّ الفتح على اعتبار أنَّ الفعل ثلاثي الماضي، وليس أحبَّ الرّباعي. وهو رأي وجيه ارتضاه النَّحاس. إذ قال: "فأمَّا فتحها فمعروف يدل عليه محبوب"2. وهذا إشارة إلى اسم المفعول من الثّلاثي الذي يأتي على وزن مفعول؛ كما تقتضيه القواعد الصَّرفيَّة.
وإذا بني المضارع من ثلاثي أو خماسي أو سداسي كانت حركة حرف المضارعة الفتح. فإن قيل: فلم فتحوا حرف المضارعة في الثّلاثي، وضمُّوه من الرُّباعي؟ قيل: لأنَّ الثَّلاثي أكثر من الرُّباعي، والفتحة أخفُّ من الضَّمة، فأعطوا الأكثر الأخف، والأثقل الأقل ليعادلوا بينهما.
فإن قيل: فالخماسي والسُّداسي أقلُّ من الرُّباعي فهلا وجب ضَمُّهُ؟ قيل: إنَّما وجب فتحه لوجهين:
الأوَّل: أنَّ النَّقل من الثّلاثي أكثر من الرّباعي، فلمَّا وجب الحمل على أحدهما كان الحمل على الأكثر أولى من الحمل على الأقلّ.
والآخر: أنَّ الخماسي والسُّداسي ثقيلان لكثرة حروفهما، فلو بنوهما على الضَّمِّ لأدَّى ذلك إلى أن يجمعوا بين كثرة الحروف، وثقل الضَّم، وذلك لايجوز فأعطوها أخفّ الحركات وهو الفتح3.
وهذا ما اشتهر في المسألة، وعليه الاعتماد في التعليم والتقعيد. غير أنَّه قد جاءت لغات تخالف هذا المشهور، من ذلك كسر حروف المضارعة.
وهذه المسألة ـ أعني: كسر حروف المضارعة ـ هي التي شغلت اللغويين؛
--------------------------------------------
আল-কিসায়ি বলেন: "বলা হয় ইয়াহিব্বু, তাহিব্বু এবং আহিব্বু
… আর ফাতহ (যবর) হলো তামীম, আসাদ ও কায়েস গোত্রের ভাষা। এটি তাদের ভাষা অনুযায়ী যারা 'হাব্বা' বলে থাকে; তবে এটি একটি বিলুপ্ত ভাষা"১।
এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, ফাতহ হওয়াটি এই বিবেচনায় যে ক্রিয়াটি সুলাসি (তিন অক্ষরবিশিষ্ট) মাজি (অতীতকাল), রুবায়ি (চার অক্ষরবিশিষ্ট) 'আহাব্বা' নয়। এটি একটি গ্রহণযোগ্য মত যা আন-নাহহাস পছন্দ করেছেন। কেননা তিনি বলেছেন: "আর এর ফাতহ হওয়া সুবিদিত, যার প্রমাণ দেয় 'মাহবুব' শব্দটি"২। এটি সুলাসি থেকে গঠিত ইসমুল মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)-এর প্রতি ইঙ্গিত যা 'মাফউল' ওজনে আসে; যেমনটি সরফ-শাস্ত্রীয় (রূপতাত্ত্বিক) নিয়ম দাবি করে।
যখন সুলাসি, খুমাসি (পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট) বা সুদাসি (ছয় অক্ষরবিশিষ্ট) থেকে মুজারি (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল) গঠিত হয়, তখন মুজারি-র হরফটির হরকত হয় ফাতহ (যবর)। যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন তারা সুলাসির ক্ষেত্রে মুজারি-র হরফে ফাতহ দিল এবং রুবায়ি-র ক্ষেত্রে দম্মাহ (পেশ) দিল? উত্তরে বলা হবে: কারণ সুলাসি রুবায়ি অপেক্ষা অধিক ব্যবহৃত হয় এবং ফাতহ দম্মাহ অপেক্ষা হালকা, তাই তারা অধিক ব্যবহৃত রূপটিকে হালকা হরকত দিয়েছে এবং ভারী হরকতটিকে কম ব্যবহৃত রূপের জন্য রেখেছে, যাতে উভয়ের মধ্যে সমতা বজায় থাকে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: খুমাসি এবং সুদাসি তো রুবায়ি অপেক্ষা কম ব্যবহৃত হয়, তবে কি সেগুলোতে দম্মাহ (পেশ) হওয়া আবশ্যক ছিল না? উত্তরে বলা হবে: মূলত দুইটি কারণে সেখানে ফাতহ (যবর) হওয়া আবশ্যক হয়েছে:
প্রথমত: সুলাসি থেকে রূপান্তর রুবায়ি অপেক্ষা বেশি, আর যখন কোনো একটির অনুগামী হওয়া আবশ্যক হয়, তখন অল্প ব্যবহৃত শব্দের চেয়ে অধিক ব্যবহৃত শব্দের অনুগামী হওয়া অধিক শ্রেয়।
দ্বিতীয়ত: খুমাসি এবং সুদাসি অধিক বর্ণ থাকার কারণে এমনিতেই ভারী, তাই যদি সেগুলোকে দম্মাহর (পেশ) ভিত্তিতে গঠন করা হতো, তবে তা বর্ণের আধিক্য এবং দম্মাহর ভার—এই দুইয়ের একত্রীকরণ ঘটাত। আর এটি সমীচীন নয়, তাই সেগুলোকে সবচেয়ে হালকা হরকত ফাতহ (যবর) প্রদান করা হয়েছে৩।
এই বিষয়টিই এ মাসআলায় প্রসিদ্ধ (مشهور) এবং শিক্ষাদান ও নিয়ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করা হয়। তবে এমন কিছু ভাষা (উপভাষা) রয়েছে যা এই প্রসিদ্ধ (مشهور) মতের পরিপন্থী, যেমন—মুজারি-র হরফে কাসরাহ (যের) প্রদান করা।
আর এই মাসআলাটি—অর্থাৎ মুজারি-র হরফে কাসরাহ (যের) প্রদান করা—ভাষাবিদদের বিশেষভাবে ব্যাপৃত রেখেছে;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬০)
لأنَّ العرب تباينت في النّطق بها، وإليك تفصيل ذلك:
কেননা আরবরা এর উচ্চারণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা পোষণ করেছে, এবং নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬০)
ما يكسر من حروف المضارعة وما يمتنع كسره:سبق أن بيَّنَّا أن حروف المضارعة أربعة: الهمزة، والنّون، والتَّاء، والياء، فهل يصح لنا أن نكسر شيئًا منها؟
يقول سيبويه:" هذا باب ما تكسر فيه أوائل الأفعال المضارعة للأسماء كما كسرت ثاني الحرف حين قلت: فَعِل، وذلك في لغة جميع العرب إلا أهل الحجاز، وذلك قولهم: أنت تِعْلم ذاك، وأنا إعلم، وهي تِعْلم، ونحن نعلم ذلك، وكذلك كل شيء فيه فَعِل من بنات الياء والواو التي الياء والواو فيهن لام أو عين، والمضاعف، وذلك قولهم: شقيت فأنت تِشْقَى، وخشيتُ فأنا إخشى، وخلنا فنحن نِخال، وعَضضْتُنَّ فأنتنَّ تِعْضَضْنَ وأنت تِعَضِّين "1.
وبتأمّل هذا النَّصِّ نلحظ أنَّ الحروف التي تكسر من حروف المضارعة ثلاثة: الهمزة، والتَّاء، والنّون، وكسر هذه الحروف لايكون في صيغ الأفعال كلّها، وإنَّما يكون في مضارع فَعِل مكسور العين. وهذا معنى قوله: "كما كَسَرْتَ ثاني الحرف حين قلت: فَعِل ".
والمراد بذلك ما جاء على فَعِل يفعَل بكسر العين في الماضي وفتحها في المضارع.
و"ما ورد من فَعِل يفْعِل بكسر العين في الماضي والمضارع لا يكسر منه حرف المضارعة عند أحد من العرب. وأمَّا ما سمع بالوجهين فيكسر فيه حرف المضارعة على لغة الفتح لا على لغة الكسر "2.
وبهذا يتبين أنَّ ما كان على فعِل يفعِل لا يكسر منه حرف المضارعة.
--------------------------------------------
মুদারিয়াত হরফসমূহের (حروف المضارعة) মাঝে যা কাসরা (জের) যুক্ত হয় এবং যা কাসরা হওয়া থেকে বিরত থাকে:আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি যে, মুদারিয়াত হরফ (حروف المضارعة) চারটি: হামজাহ (الهمزة), নুন (النّون), তা (التَّاء) এবং ইয়া (الياء)। তাহলে আমাদের জন্য কি এগুলোর কোনোটিতে কাসরা প্রদান করা সঠিক হবে?
সিবওয়াইহি বলেন: "এটি এমন একটি অধ্যায় যেখানে বিশেষ্য পদের (ইসম) ন্যায় মুদারিয়াত ক্রিয়ার শুরুতে কাসরা প্রদান করা হয়, যেমনটি আপনি দ্বিতীয় অক্ষরে কাসরা প্রদান করেছিলেন যখন আপনি বলেছিলেন: ‘ফা-ইলা’ (فَعِل)। আর এটি হিজাজবাসী ব্যতীত সমস্ত আরবদের ভাষা। তাদের উদাহরণ হলো: ‘আনতা তি’লামু যাক’ (أنت تِعْلم ذاك), ‘আনা ই’লামু’ (أنا إعلم), ‘হিয়া তি’লামু’ (هي تِعْلم), ‘নাহনু নি’লামু যালিকা’ (نحن نعلم ذلك)। একইভাবে ‘ফা-ইলা’ (فَعِل) ওজনের সবকিছুতে—চাই তা ইয়া-যুক্ত হোক বা ওয়াও-যুক্ত (মো’তাল), যার ইয়া বা ওয়াও বর্ণটি লাম (لام) অথবা আইন (عين) স্থানে থাকে, কিংবা দ্বিত্ব বর্ণ (المضاعف)—যেমন তাদের বক্তব্য: ‘শাকিতু ফা আনতা তিশকা’ (شقيت فأنت تِشْقَى), ‘খাশিতু ফা আনা ইখশা’ (خشيتُ فأنا إخشى), ‘খিলনা ফানাহনু নিখালু’ (خلনা فنحن نِخال), ‘আদা’তুননা ফা আনতুননা তি’দাদনা’ (عَضضْتُنَّ فأنتنَّ تِعْضَضْنَ) এবং ‘আনতি তা’দ্দীন’ (أنت تِعَضِّين)" ১।
এই উদ্ধৃতিটি পর্যবেক্ষণ করলে আমরা লক্ষ্য করি যে, মুদারিয়াত হরফগুলোর (حروف المضارعة) মধ্যে তিনটি বর্ণে কাসরা প্রদান করা হয়: হামজাহ (الهمزة), তা (التَّاء) এবং নুন (النّون)। এই হরফগুলোতে কাসরা প্রদান করা সকল ক্রিয়ার রূপান্তরের ক্ষেত্রে হয় না, বরং এটি কেবল সেই মুদারিয়াত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে হয় যার আইন কালিমা (عين) কাসরা-যুক্ত। এটিই তাঁর এই কথার অর্থ: "যেমনটি আপনি দ্বিতীয় অক্ষরে কাসরা প্রদান করেছিলেন যখন আপনি বলেছিলেন: ফা-ইলা (فَعِل)"।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা ‘ফা-ইলা ইয়াফ’আলু’ (فَعِل يفعَل) ওজনে আসে, যেখানে অতীতকালে (মাযি) আইন কালিমা (عين) কাসরা-যুক্ত এবং বর্তমানকালে (মুদারি) ফাতহা-যুক্ত হয়।
আর যা ‘ফা-ইলা ইয়াফ’ইলু’ (فَعِل يفْعِل) ওজনে আসে—যেখানে অতীত ও বর্তমান উভয় কালেই আইন কালিমা (عين) কাসরা-যুক্ত—সেখানে আরবদের কারো মতেই মুদারিয়াত হরফে (حروف المضارعة) কাসরা প্রদান করা হয় না। আর যা উভয় পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে ফাতহা বা জবর পঠনরীতির ভিত্তিতে মুদারিয়াত হরফে কাসরা দেওয়া হয়, কাসরা পঠনরীতির ভিত্তিতে নয় ২।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, যা ‘ফা-ইলা ইয়াফ’ইলু’ (فعِل يفعِل) ওজনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, তার মুদারিয়াত হরফে (حروف المضارعة) কাসরা প্রদান করা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬১)
وعلة ذلك ثقل الكسر بعد الكسر؛ ولأنَّ العلَّة في كسر حرف المضارعة فيما كان ماضيه على فعِل التنبيه على كسر العين منه، قال سيبويه: "وإنَّما كسروا هذه الأوائل؛ لأنَّهم أرادوا أن تكون أوائلها كثواني فَعِل كما ألزموا الفتح ما كان ثانيه مفتوحًا في فَعَل وكان البناء عندهم على هذا أن يجروا أوائلها على ثواني فعِل منها "1.
ولما كانت العلّة هذه لم يُكْسَرْ في الباب شيء كان ثانيه مفتوحًا نحو ضرب وذهب وأشباههما 2.
أمَّا الياء الدَّالة على الغائب من حروف المضارعة فإنَّا نجدها تخرج من هذا، وتسلم من الكسر. يقول الرّضي: "وتركوا الكسر؛ لأنَّ الياء من حروف المضارعة يُستثقل عليها، وكسر حروف المضارعة ـ إلَاّ الياء ـ لغة غير الحجازيين إذا كان الماضي مكسور العين "3. وقال أيضًا: "واعلم أنَّ جميع العرب ـ إلَاّ أهل الحجاز ـ يجوزون كسر حروف المضارعة سوى الياء في الثلاثي المبني للفاعل، إذا كان الماضي على فعِل بكسر العين فيقولون: أنا إعلم، ونحن نِعلم وأنت تِعلم
… "4.
وبهذا يتبيّن أنَّ الياء ليست ممَّا يكسر من حروف المضارعة إلَاّ في حالات نادرة، كأن تكون بعدها ياء أخرى. قال الرَّضي: "ويكسرون الياء أيضًا إذا كانت بعدها ياءٌ أخرى"5.
--------------------------------------------
এর কারণ হলো কাসরার পর কাসরার পুনরাবৃত্তিতে উচ্চারণের গুরুভার হওয়া; এবং মুদারে’র বর্ণে (حرف المضارعة) কাসরা প্রদানের কারণ হলো—যে শব্দগুলোর মাযী (ماضي) ‘ফা-ইলা’ (فعِل) ওজনের হয়, সেগুলোর আইন কালেমার কাসরার প্রতি নির্দেশ করা। সিবওয়াইহি বলেছেন: "তারা এই আদ্যবর্ণগুলোতে কাসরা প্রদান করেছে; কারণ তারা চেয়েছিল এগুলোর আদ্যবর্ণ যেন ‘ফা-ইলা’ (فعِل) ওজনের দ্বিতীয় বর্ণের অনুরূপ হয়, যেমনটি তারা সেই শব্দের শুরুতে ফাতহা প্রদান করা আবশ্যক করেছে যার দ্বিতীয় বর্ণ ‘ফা-আলা’ (فَعَل) ওজনে ফাতহাযুক্ত ছিল। তাদের নিকট এই পদ্ধতিটি ছিল আদ্যবর্ণগুলোকে তার ‘ফা-ইলা’ ওজনের দ্বিতীয় বর্ণের অনুগামী করা।"১।
আর যেহেতু কারণটি ছিল এটিই, তাই এই পরিচ্ছেদে এমন কোনো শব্দে কাসরা দেওয়া হয়নি যার দ্বিতীয় বর্ণ ফাতহাযুক্ত ছিল, যেমন: ‘দরাবা’ (ضرب), ‘যাহাবা’ (ذهب) এবং এদের সদৃশ শব্দসমূহ ২।
তবে মুদারে’র বর্ণগুলোর (حروف المضارعة) মধ্যে নামপুরুষের (غائب) নির্দেশক যে ‘ইয়া’ (الياء) রয়েছে, আমরা তাকে এর ব্যতিক্রম হিসেবে পাই এবং এটি কাসরা থেকে মুক্ত থাকে। আল-রাযী বলেন: "তারা কাসরা পরিত্যাগ করেছে; কারণ মুদারে’র বর্ণগুলোর মধ্যে ‘ইয়া’-এর ওপর কাসরা হওয়াকে গুরুভার মনে করা হয়। আর মুদারে’র বর্ণগুলোতে কাসরা প্রদান করা—‘ইয়া’ ব্যতীত—হলো অ-হিজাযীদের ভাষা, যখন মাযী (ماضي) আইন কালেমা কাসরাযুক্ত হয়" ৩। তিনি আরও বলেন: "জেনে রাখুন যে, হিজাযবাসী ব্যতীত সমস্ত আরবগণ তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূলের (الثلاثي) কর্তৃবাচ্যের (المبني للفاعل) ক্ষেত্রে ‘ইয়া’ ব্যতীত মুদারে’র বর্ণগুলোতে কাসরা দেওয়া বৈধ মনে করেন, যখন মাযী (ماضي) ‘ফা-ইলা’ (فعِل) ওজনে আইন কালেমা কাসরাযুক্ত হয়। ফলে তারা বলে: ‘আনা ই’লামু’, ‘নাহনু নি’লামু’ এবং ‘আংতা তি’লামু’
… " ৪।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, মুদারে’র বর্ণগুলোর মধ্যে ‘ইয়া’ এমন নয় যাতে সচরাচর কাসরা দেওয়া হয়, কেবল কিছু বিরল (نادرة) ক্ষেত্র ব্যতীত; যেমন এর পরে অন্য একটি ‘ইয়া’ থাকা। আল-রাযী বলেন: "তারা ‘ইয়া’-তেও কাসরা প্রদান করে যদি তারপরে অন্য একটি ‘ইয়া’ থাকে" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬২)
أمَّا تعليل إخراجها من دائرة الكسر عن مثيلاتها فهو الثّقل النَّاشئ عن ذلك؛ لأنَّ الياء ثقيلة والكسرة ثقيلة، ولذلك لم ترد مكسورة في أوَّل الأسماء إلَاّ في كلمات معدودة، ذكرها ابن جنِّي في منصفه وعلَّل ذلك بالثّقل إذ قال: "وليس في كلام العرب اسم في أوَّله ياء مكسورة إلَاّ قولهم في اليد اليسرى: يِسار بكسر الياء والأفصح يَسار بفتحها. وقالوا أيضًا في جمع يقظان: يِقاظ وفي جمع يَعْرٍ وهو الجدي يِعَرَة وفي جمع يابس: يِباس. وإنَّما تنكَّبوا ذلكَ عنديَ استثقالاً للكسرة في الياء، وليست كالواو التي إذا انضمَّت هُمِزَتْ هربًا من الضَّمَّة فيها. فلمَّا لم يكن فيها القلب لم يستجيزوا كسرها أولاً "1.
ولأجل هذه العلَّة تركت بعض القبائل التي تكسر حروف المضارعة الكسر في الياء. قال سيبويه: "وجميع هذا إذا قلت فيه يفعل فأدخلت الياء فتحت؛ وذلك أنَّهم كرهوا الكسرة في الياء حيث لم يخافوا انتقاض معنًى فيحتمل ذلك
… "2.
وقال ابن جنِّي: "وتَقِلُّ الكسرة في الياء نحو يِعلم، ويِركب استثقالاً للكسرة في الياء
… "3.
وتعبير ابن جنِّي بالقلَّة احتراز ممَّا وقع في لغة بعض القبائل من الكسر حتَّى في الياء، كبعض كلب إذ تكسر فيها وفي غيرها.ذكر ذلك أبوحيَّان فقال: " وغيرهم من العرب [أي: الحجازيين] قيس وتميم وربيعة ومن جاورهم تكسر إلَاّ في الياء فتفتح، إلَاّ بعض كلب فتكسر فيها وفي غيرها من الثَّلاثة"4. على أنَّه وجد غير كلب يكسر في الجميع في بعض الأفعال خاصَّة، كما تفعل تميم في مثل وجل إذ تكسر مطلقًا. وسيأتي بيان ذلك ـ إن شاء الله.
--------------------------------------------
সমজাতীয় বর্ণগুলোর তুলনায় একে (অর্থাৎ 'ইয়া' বর্ণকে) কাসরাহ বা জের প্রদানের ক্ষেত্র থেকে বহির্ভূত রাখার কারণ (علة) হলো এর ফলে উদ্ভূত হওয়া উচ্চারণগত জড়তা বা ভার; কেননা 'ইয়া' বর্ণটিও ভারী এবং 'কাসরাহ'-ও ভারী। এই কারণেই ইবনে জিন্নি তাঁর আল-মুনসিফ গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, হাতেগোনা কিছু শব্দ ছাড়া বিশেষ্য পদের শুরুতে 'ইয়া' বর্ণটি কাসরাহযুক্ত হয়ে আসেনি এবং তিনি এর কারণ হিসেবে এই উচ্চারণগত ভারকেই চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন: "আরবদের বাক্যে এমন কোনো বিশেষ্য নেই যার শুরুতে 'ইয়া' বর্ণটি কাসরাহযুক্ত হয়, কেবল বাম হাতের ক্ষেত্রে তাদের 'ইইসার' শব্দে 'ইয়া' বর্ণে কাসরাহ প্রদান করা ব্যতীত—তবে এর অধিক সাবলীল রূপ হলো 'ইয়াসার', অর্থাৎ 'ইয়া' বর্ণে ফাতহা বা জবর প্রদান করা। তারা 'ইয়াকযান' শব্দের বহুবচনে 'ইইকায', 'ইয়া'র' (তরুণ ছাগল) শব্দের বহুবচনে 'ইই'আরাহ' এবং 'ইয়াবিস' শব্দের বহুবচনে 'ইইবাস' শব্দগুলো ব্যবহার করে থাকে। আমার মতে, 'ইয়া' বর্ণের ওপর কাসরাহ প্রদানের উচ্চারণগত ভারের কারণেই তারা এটি পরিহার করেছে। এটি 'ওয়াও' বর্ণের মতো নয়, যা পেশযুক্ত হলে সেই পেশের ভার থেকে বাঁচতে হামযায় রূপান্তরিত হয়। যেহেতু 'ইয়া' বর্ণের ক্ষেত্রে এই রূপান্তর সম্ভব ছিল না, তাই তারা শব্দের শুরুতে একে কাসরাহ প্রদান করা বৈধ মনে করেনি।"1.
এই একই কারণের (علة) জন্য সেই সকল গোত্র—যারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার শুরুতে ব্যবহৃত বর্ণগুলোতে (হরফে মুদারাআহ) কাসরাহ প্রদান করে থাকে—তারা 'ইয়া' বর্ণের ক্ষেত্রে কাসরাহ বর্জন করেছে। সিবওয়াইহ বলেন: "এই সব ক্ষেত্রে যখন আপনি 'ইয়াফ'আলু' বলেন এবং শুরুতে 'ইয়া' যুক্ত করেন, তখন তাতে ফাতহা প্রদান করবেন; এর কারণ হলো তারা 'ইয়া' বর্ণের ওপর কাসরাহ দেওয়াকে অপছন্দ করত যখন অর্থের কোনো বিভ্রান্তি ঘটার ভয় থাকত না, ফলে তারা তা মেনে নিত
… "2.
ইবনে জিন্নি বলেন: "'ইই'লামু' এবং 'ইইরাকাবু' এর মতো শব্দগুলোতে 'ইয়া'র ওপর কাসরাহ প্রদানের উচ্চারণগত ভারের কারণে কাসরাহর ব্যবহার অত্যন্ত বিরল
… "3.
ইবনে জিন্নি কর্তৃক 'বিরলতা' শব্দটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো কিছু গোত্রের ভাষারীতি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা, যারা এমনকি 'ইয়া' বর্ণেও কাসরাহ ব্যবহার করে থাকে। যেমন কালব গোত্রের কিছু লোক, যারা 'ইয়া' এবং অন্যান্য বর্ণের ক্ষেত্রেও কাসরাহ প্রদান করে। আবু হাইয়ান এ বিষয়ে বলেন: "হিজাজিগণ ব্যতীত অন্যান্য আরব যেমন—কায়স, তামিমি, রাবিয়া এবং তাদের নিকটবর্তী গোত্রসমূহ কাসরাহ প্রদান করলেও 'ইয়া'র বেলায় ফাতহা প্রদান করে। তবে কালব গোত্রের কেউ কেউ 'ইয়া' সহ তিনটি বর্ণেই কাসরাহ প্রদান করে।"4. উল্লেখ্য যে, কালব ছাড়াও অন্য কিছু গোত্র বিশেষ কিছু ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সব বর্ণেই কাসরাহ প্রদান করে থাকে, যেমন তামিমি গোত্র 'ওয়াজিলা' এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে নিঃশর্তভাবে কাসরাহ দেয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
ويرى بعض الباحثين المعاصرين أنَّه " لا يستبعد أن تلحق الكسرة الياء كما لحقت غيرها من حروف المضارعة؛ لأنَّ الكسرة أنسب للياء من الفتحة أو الضَّمَّة فهما من مخرج واحد"1. وهذا ناتج عن تعليل سبب الكسر بأنَّه من قبيل ميل القبائل البدويَّة إلى الكسر، بسبب طبيعة التعجل عندهم 2.
الأفعال التي تكسر فيها حروف المضارعة:
حدد علماء العربية القدماء نوع الأفعال التي تكسر فيها حروف المضارعة فجعلوه من الثلاثي ما جاء على فِعل يفعَل ومن غيره ما كان مبدوءاً بهمزة وصل أو تاء زائدة. وجعلوا علة ذلك الإشارة إلى كسر العين في فَعِل 3 ثم شبهوا ما كان في ماضيه ألف وصل بما كان الماضي منه على فَعِل لاجتماعهما في كسرة ألف الوصل أولاً، وكسرة عين فِعل ثانياً، وكرهواً كسر الحرف الثاني من مستقبل فعِل لأن صفته السكون، وكرهوا كسر الثالث لئلا يلتبس يفعَل بـ يفعِل فوجب كسر الأول. ثم شبهوا مستقبل ما ماضيه ألف الوصل بمستقبل فعِل فكسروا أوله 4 ثم حملوا عليه ما بدئ بتاءٍ زائدة لأنه كان في الأصل مما ينبغي أن يكون أوله ألف موصولة، لأن معناه معنى الانفعال، وهو بمنزلة انفتح وانطلق، ولكنهم لم يستعملوه استخفافاً5 هذه تعليلات القدماء، وهي تعليلات مقبولة، استنتجوها من طبيعة اللغة والنظر في قوانينها وإن لم تقصدها العرب حين تكلمت بهذه الأفعال.
وحين تحدث علماء العربية المحدثون عن هذه القضية جعلها بعضهم من
--------------------------------------------
বর্তমান সময়ের কিছু গবেষক মনে করেন যে, "এটি অসম্ভব নয় যে ইয়া (الياء) অক্ষরে কাসরা (الكسرة) যুক্ত হবে, যেমনটি অন্যান্য মুদারে’র হরফসমূহে (حروف المضارعة) যুক্ত হয়েছে; কারণ ফাতহা (الفتحة) বা দাম্মা (الضمة)-এর চেয়ে কাসরা ইয়া-এর জন্য অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, কেননা তারা উভয়ই একই মাখরাজ (مخرج) থেকে উচ্চারিত।"১ এটি কাসরা ব্যবহারের কারণ হিসেবে এই ব্যাখ্যা থেকে উদ্ভূত যে, এটি মূলত মরুবাসী গোত্রগুলোর দ্রুত উচ্চারণের প্রবণতার কারণে কাসরার প্রতি তাদের ঝোঁকের ফল।২
যেসব ক্রিয়ার (الأفعال) মুদারে’র হরফসমূহে (حروف المضارعة) কাসরা (الكسرة) প্রদান করা হয়:<
প্রাচীন আরবি ভাষাবিদগণ মুদারে’র হরফসমূহে (حروف المضارعة) কাসরা যুক্ত হওয়ার ক্রিয়াগুলোর (الأفعال) ধরন নির্ধারণ করেছেন। তারা সুলাসি (الثلاثي) বা তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা ফায়িলা ইয়াফআলু (فَعِلَ يَفْعَلُ) ওজনে আসে এবং অন্যগুলোর ক্ষেত্রে সেগুলোকে রেখেছেন যা হামজাতুল ওয়াসল (همزة وصل) বা অতিরিক্ত তা (تاء زائدة) দিয়ে শুরু হয়। তারা এর কারণ হিসেবে ‘ফায়িলা’ (فَعِلَ) ওজনে আইন (عين) অক্ষরের কাসরার দিকে ইঙ্গিত করাকে নির্ধারণ করেছেন।৩ অতঃপর তারা যার মাজিতে (الماضي) আলিফ ওয়াসল (ألف وصل) রয়েছে তাকে সেই মাজির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছেন যা ‘ফায়িলা’ (فَعِلَ) ওজনে আসে; কারণ প্রথমত আলিফ ওয়াসলের কাসরা এবং দ্বিতীয়ত ‘ফায়িলা’-র আইন অক্ষরের কাসরার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। তারা ‘ফায়িলা’-র মুস্তাকবিল (المستقبل) বা ভবিষ্যৎকালীন রূপের দ্বিতীয় অক্ষরের নিচে কাসরা দেওয়া অপছন্দ করেছেন কারণ সেটির বৈশিষ্ট্য হলো সুকুন (السكون), আর তারা তৃতীয় অক্ষরে কাসরা দেওয়াও অপছন্দ করেছেন যাতে ‘ইয়াফআলু’ (يفعَل) এবং ‘ইয়াফইলু’ (يفعِل)-এর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, ফলে প্রথম অক্ষরে কাসরা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। অতঃপর তারা যার মাজিতে আলিফ ওয়াসল রয়েছে তার মুস্তাকবিলকে ‘ফায়িলা’-র মুস্তাকবিলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছেন এবং এর শুরুতে কাসরা (كسروا أوله) প্রদান করেছেন।৪ এরপর অতিরিক্ত তা (تاء زائدة) দিয়ে শুরু হওয়া ক্রিয়াকেও এর ওপর প্রয়োগ করেছেন, কারণ এটি মূলত শুরুতে আলিফ মওসুলা (ألف موصولة) যুক্ত হওয়ার উপযুক্ত ছিল, যেহেতু এর অর্থ হলো ইনফিয়াল (الانفعال)-এর অর্থ প্রদান করা, যা ‘ইনফাতাহা’ এবং ‘ইনতালাকা’-এর সমপর্যায়ের। কিন্তু তারা উচ্চারণের সহজতার (استخفافاً) কারণে তা ব্যবহার করেননি।৫ এগুলো প্রাচীনদের দেওয়া ব্যাখ্যা, এবং এগুলো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা। তারা ভাষার প্রকৃতি এবং এর নিয়মাবলী পর্যালোচনার মাধ্যমে এগুলো আহরণ করেছেন, যদিও আরবরা এই ক্রিয়াগুলো বলার সময় সরাসরি এমন উদ্দেশ্য পোষণ করেনি।
আর যখন আধুনিক আরবি ভাষাবিদগণ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের কেউ কেউ একে গণ্য করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
قبيل ميل القبائل البدوية إلى الكسر بسبب طبيعة التعجل عندهم1.
وذهب الدكتور غالب المطلبي إلى أن تعليل القدماء ليس صحيحاً بسبب وجود أمثلة من غير باب فعِل يفعَل من نحو أبي، وركن، وخال2 وصنع. ومال إلى أن كسر حروف المضارعة في الأصل متعلق بصيغة يفعَل المفتوحة العين بغض النظر عن حركة العين في الماضي، وجعل ذلك ظاهرة لغوية سامية قديمة، إذ إنه اطرد في لغتين ساميتين غربيتين هما العبرية والسريانية 3.
ونلحظ هنا أن تعليل المحدثين أغفل المبدوء بهمزة الوصل والتاء الزائدة، مما يجعل الأمر يحتاج إلى نظر، على أن كل ما ذكروه لا يمكن الجزم به لافتقاره إلى الأدلة القاطعة التي تبرهن على صحته، وفساد ما ذهب إليه القدماء ـ في نظرهم ـ ومن ثم أرى تعليل القدماء يبقى الأصل، ولا يقبل الحكم بعدم صحته إلا إذا توصل الباحثون إلى تعليل تعضده الأدلة، وتُعَيِّنُ القول به البراهينُ، وقد أشار الدكتور المطلبي إلى عدم توافر هذا فقال: "ولكننا لا نستطيع أن نذهب مذهباً يُطمأنُ إليه لاندثار هذه اللغات، وعدم وجود أدلة جازمة فيه "4.
أما الأفعال التي تجري فيها هذه الظاهر فيمكن تناولها على النحو التالي:
1- ما كان الكسر فيه تنبيهًا على كسر عين الفعل الماضي منه، وذلك في كل فعل ماضيه على فَعِل سالمًا كان، أو مضاعفًا، أو أجوف أو ناقصًا5، أو مهموزًا، أو مثالاً أو لفيفًا، وكان مبنيًّا للفاعل.
--------------------------------------------
মরুচারী গোত্রগুলোর তাড়াহুড়ো করার স্বভাবের কারণে তাদের মাঝে কাসরা বা স্বরধ্বনির নিম্নে হ্রস্ব করার প্রবণতা ছিল ১।
ডক্টর গালিব আল-মুত্তালিবি মনে করেন যে, প্রাচীন ভাষাবিদদের দেওয়া ব্যাখ্যাটি সঠিক নয়। কারণ 'ফা’িলা ইয়াফ’ালু' (فَعِلَ يَفْعَلُ) বাব বা পরিচ্ছেদ বহির্ভূত উদাহরণ যেমন: 'আবা', 'রাকানা', 'খালা' ২ এবং 'সানা’আ'-তেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মুজারি’র বর্ণসমূহে (حروف المضارعة) কাসরা হওয়া মূলত 'ইয়াফ’ালু' (يفعَل) রূপের (صيغة) সাথে সম্পর্কিত যার আইন কালিমা জবরযুক্ত, সেখানে মাজি বা অতীতকালীন ক্রিয়ার আইন কালিমার হরকত যাই হোক না কেন। তিনি বিষয়টিকে একটি প্রাচীন সেমিটিক ভাষাগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন, যেহেতু এটি হিব্রু ও সিরিয়াক নামক দুটি পশ্চিম সেমিটিক ভাষায় অবিচ্ছিন্নভাবে প্রচলিত (اطرد) ছিল ৩।
আমরা এখানে লক্ষ্য করি যে, আধুনিক গবেষকদের ব্যাখ্যায় হামজাতুল ওয়াসল (همزة الوصل) এবং অতিরিক্ত তা (التاء الزائدة) দিয়ে শুরু হওয়া শব্দগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার অবকাশ রাখে। তাছাড়া, তারা যা উল্লেখ করেছেন তার কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়, কারণ এতে এমন অকাট্য প্রমাণের অভাব রয়েছে যা এর সত্যতা প্রমাণ করে এবং তাদের দৃষ্টিতে প্রাচীনদের মতবাদকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে। ফলে আমি মনে করি, প্রাচীনদের ব্যাখ্যাই মূল ভিত্তি হিসেবে রয়ে যাবে। গবেষকগণ যতক্ষণ পর্যন্ত অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো নতুন ব্যাখ্যায় পৌঁছাতে না পারছেন, ততক্ষণ প্রাচীনদের মতবাদকে ভুল বলা গ্রহণযোগ্য নয়। ডক্টর আল-মুত্তালিবি এই প্রমাণের অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "তবে আমরা এমন কোনো সুনিশ্চিত মতবাদ গ্রহণ করতে পারি না, কারণ এই ভাষাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ (أدلة جازمة) অবশিষ্ট নেই" ৪।
তবে যেসব ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যটি পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যেতে পারে:
১- যেখানে কাসরা প্রদান করা হয়েছে মাজি বা অতীতকালীন ক্রিয়ার আইন কালিমা যে কাসরাযুক্ত ছিল তা নির্দেশ করার জন্য। এটি সেই প্রতিটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার মাজি 'ফা’িলা' (فَعِلَ) ওজনে গঠিত; চাই তা ত্রুটিমুক্ত (سالم) হোক, কিংবা দ্বিত্ব বর্ণবিশিষ্ট (مضاعف), মধ্য-অক্ষর দুর্বল (أجوف), শেষ-অক্ষর দুর্বল (ناقص) ৫, হামজা বিশিষ্ট (مهموز), প্রথম-অক্ষর দুর্বল (مثال) অথবা লাফিফ (لفيف) হোক এবং তা কর্তৃবাচ্য (مبني للفاعل) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৫)
2- ما كان مبدوءًا بهمزة وصل مكسورة.
3- ما كان مبدوءًا بتاءٍ معتادة ممَّا يكون على وزن تفعّل أو تفاعل أو تفعلل وإليك بيان هذه الأحكام بالتَّفصيل:
ما كان الكسر فيه تنبيهًا على كسر عين الفعل الماضي منه، ويكون ذلك في الفعل الصَّحيح والمعتلّ على السَّواء وفق التَّفصيل التَّالي:
أالصَّحيح السَّالم:
من المعلوم أنَّ الصَّحيح هو ما خلت حروفه الأصول من أحرف العلَّة الألف والياء والواو. والسَّالم ما سلم من الهمز والتَّضعيف، وهذا النَّوع من الأفعال ممَّا يكسر فيه حرف المضارعة إذا كان ماضيه على فَعِل ومضارعه على يفعَل.
وقد مرَّ بنا آنفًا تمثيل سيبويه بالفعل عَلِم الذي توافرت فيه شروط كسر حرف المضارعة منه. وجاء عند ابن جنِّي قوله: "هذه لغة تميم أن تكسر أوَّل مضارع ما ثاني ماضيه مكسور نحو: علمت تِعْلم، وأنا إعلم، وهي تِعْلم ونحن نِرْكَب "1.
وقد وردت شواهد في القراءات الشَّاذَّة والشّعر والنَّثر على هذا. منها: ما نقله أبو حيَّان أنَّ أبا عمرو قرأ: {وَلا تِِرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا} 2 بكسر التَّاء على لغة تميم3. والفعل ركن يأتي على فعِل وفَعَل فيقال: رَكِن إلى الشَّيء ورَكَن يَرْكَنُ ويَرْكُنُ 4. فكسر التَّاء هنا على أنَّه من رَكِنَ يَرْكَنُ.
--------------------------------------------
২- যা কাসরা (জের) যুক্ত হামজাতুল ওয়াসল (همزة وصل) দ্বারা শুরু হয়।
৩- যা 'তাফাউল' (تفعّل), 'তাফা-উল' (تفاعل) অথবা 'তাফাললুল' (تفعلل) ওযনের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ 'তা' দ্বারা শুরু হয়। নিচে এই বিধানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
যেখানে কাসরা (জের) ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো এর মাজি (অতীতকাল) এর 'আইন' বর্ণে কাসরা থাকার প্রতি ইঙ্গিত করা। এটি সহিহ (صحيح) এবং মু'তাল (معتل) উভয় প্রকার ক্রিয়ার ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য, যার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
ক. সহিহ সালিম (الصَّحيح السَّالم):
এটি সর্বজনবিদিত যে, সহিহ (صحيح) হলো সেই শব্দ যার মূল অক্ষরগুলো হরফে ইল্লত (أحرف العلَّة) অর্থাৎ আলিফ, ইয়া এবং ওয়াও থেকে মুক্ত। আর সালিম (السالم) হলো যা হামজা এবং দ্বিত্বকরণ (تضعيف) থেকে মুক্ত। এই প্রকারের ক্রিয়াগুলোর মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) এর শুরুতে কাসরা (জের) হয়, যদি এর মাজি (অতীতকাল) 'ফায়িলা' (فَعِل) এবং মুদারে 'ইয়াফআলু' (يفعَل) ওযনে হয়।
ইতিপূর্বে আমাদের আলোচনায় সিবওয়াইহি বর্ণিত 'আলিমা' (عَلِم) ক্রিয়ার উদাহরণ অতিক্রান্ত হয়েছে, যাতে মুদারে এর বর্ণে কাসরা হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান। ইবনে জিন্নি (র.)-এর বক্তব্যে এসেছে: "এটি তামিমি গোত্রের ভাষা যে, তারা ঐসব মুদারে এর প্রথম বর্ণে কাসরা দেয় যেগুলোর মাজির দ্বিতীয় বর্ণ কাসরাযুক্ত। যেমন: তুমি জানো (تِعْلم), আমি জানি (إعلم), সে জানে (تِعْلم) এবং আমরা আরোহণ করি (نِرْكَب)" ১।
ব্যতিক্রমী (شاذ) কিরাত, কবিতা এবং গদ্যে এর অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হলো আবু হাইয়্যান বর্ণিত আবু আমর-এর কিরাত; তিনি {আর তোমরা জালেমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না} (وَلا تِِرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا) ২ আয়াতে তামিমি লুগাত অনুযায়ী 'তা' বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে পড়েছেন ৩। 'রাকানা' ক্রিয়াটি 'ফায়িলা' (فَعِل) এবং 'ফায়ালা' (فَعَل) উভয় ওযনেই ব্যবহৃত হয়; যথা: 'রাকিনা' (رَكِنَ) এবং 'রাকানা' (رَكَنَ), এর মুদারে হলো 'ইয়ারকানু' ও 'ইয়ারকুনু' ৪। সুতরাং এখানে 'তা' বর্ণে কাসরা হওয়ার কারণ হলো এটি 'রাকিনা-ইয়ারকানু' (رَكِنَ يَرْكَنُ) ওযন থেকে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৬)
ومثل ذلك عهد إذ ورد في ذلك كسر حرف المضارعة في قراءة يحيى بن وثاب1 في قوله تعالى: {أَلَمْ إِعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ
… } 2.
قال الزَّمخشري: "وقرئ إعهد بكسر الهمزة، وباب فَعِل كلّه يجوز في حروف مضارعته الكسر إلَاّ في الياء، وأعهد بكسر الهاء.."3.
ومن ذلك في النَّثر ماذكره أبو حاتم السّجستاني من أنَّه سمع حترش بن ثمال ـ وهو عربي فصيح ـ يقول في خطبته: "الحمد لله إحمده وإستعينه وإتوكل عليه" فيكسر الألفات كلّها4. وكذلك ما ذكره ابن خالويه من قولهم: "ربِّ اغفر وارحم، واعف عمَّا تِعلم إنَّك أنت الأعزُّ الأكرم"5، فاتَّضح ممَّا سبق أنَّ كسر حرف المضارعة من الصَّحيح السَّالم وارد في لهجات العرب إذا كان الماضي على فعِل بكسر العين.
ومثلها قراءة من قرأ {تِعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا إِعْلَمُ مَا فِي نَفْسِك} 6 بكسر حرفي المضارعة7 و {تِقْرَبَا} بكسر التَّاء أيضًا8؛ لأنَّه من قَرِبْتُ أقْرَبُ.
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে ‘عهد’ শব্দের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে, যেহেতু ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব-এর ক্বিরাআতে মুদারি‘-এর হরফে কাসরাহ (জের) পাঠ করার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {أَلَمْ إِعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ … } (হে বনী আদম, আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি...?)।
যামাখশারি বলেন: “‘ই‘হাদ’ শব্দটি হামযাহ-এর কাসরাহ সহ পাঠ করা হয়েছে। আর ‘ফَعِلَ’ পরিচ্ছেদের সকল ক্ষেত্রে মুদারি‘-এর হরফসমূহে কাসরাহ প্রদান করা বৈধ, কেবল ‘ইয়া’ হরফটি ব্যতীত। আর ‘আ‘হাদ’ শব্দটি ‘হা’ অক্ষরের কাসরাহ সহ...।”
গদ্যের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হিসেবে আবু হাতেম আস-সিজিস্তানি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাতরাশা ইবনে সুমাল—যিনি একজন সাবলীল ও বিশুদ্ধভাষী আরব ছিলেন—তাকে তার খুতবায় বলতে শুনেছেন: “সকল প্রশংসা আল্লাহর, আমি তাঁর প্রশংসা করছি (ইহামাদুহু), তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি (ইস্তায়িনুহু) এবং তাঁর ওপর ভরসা করছি (ইতাওয়াক্কালু)”; এখানে তিনি সকল আলিফেই কাসরাহ প্রদান করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে খালুওয়াইহ তাদের এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: “হে রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনি যা জানেন (তি‘লামু) তা মার্জনা করুন, নিশ্চয়ই আপনি মহা সম্মানিত ও দয়ালু।” সুতরাং পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হলো যে, সহিহ সালিম (الصحيح السالم) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মুদারি‘-এর হরফে কাসরাহ প্রদান করা আরবদের উপভাষায় প্রচলিত ছিল, যদি তার মাজি বা অতীতকাল ‘ফَعِلَ’ অর্থাৎ ‘আইন’ কালিমা কাসরাহ যুক্ত হয়।
অনুরূপভাবে যারা {তি‘লামু মা ফী নাফসী ওয়া লা ই‘লামু মা ফী নাফসিক} পাঠ করেছেন তাদের ক্বিরাআতেও মুদারি‘-এর উভয় হরফে কাসরাহ করা হয়েছে এবং {তিপ্ররাবা} শব্দটিতেও ‘তা’ অক্ষরে কাসরাহ করা হয়েছে; কারণ এটি ‘কারিবা-ইয়াকরাবু’ থেকে উদ্ভূত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৭)
ب المضاعف [مضاعف الثلاثي] :
المضاعف يقصد به ما كانت عينه ولامه من جنس، مثل شدَّ ومدَّ؛ إذ أصلهما شَدَد ومَدَدَ، جرى فيهما وفي أمثالهما إدغام لكون الحرفين من مخرج واحد بلا فصل بينهما.
وهذا النَّوع من الأفعال هو ما عناه سيبويه في الكتاب بقوله: "وعَضِضْتُن فأنتن تِعْضضن وأنت تِعَضِّين "1.
فالفعل عَضَّ من باب فَعِل يَفْعَل تقول: قد عَضِضْتُه أَعَضُّهُ. جرى فيه كسر حرف المضارعة، ومن ذلك قراءة يحيى2 والأعمش3 وطلحة4 بخلاف. ورواه إسحاق الأزرق5 عن حمزة6: {فَتِمَسَّكُمُ النَّارُ} 7. وذلك من قول الله تبارك وتعالى: {وَلا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتِمَسَّكُمُ النَّارُ} 8.
والفعل مَسَّ على فَعِل ومضارعه على يفعل. تقول: مَسِسْتُه بالكسر أَمَسُّه مَسًّا ومَسِيسًا: لَمَسْتُه، هذه اللّغة الفصيحة. ومَسَسْتُه بالفتح أمُسُّه
--------------------------------------------
দ্বিত্ববর্ণযুক্ত শব্দের পরিচ্ছেদ [ত্রয়ী দ্বিত্ববর্ণযুক্ত] :
দ্বিত্ববর্ণযুক্ত বলতে সেই শব্দকে বোঝানো হয় যার আইন এবং লাম বর্ণ একই জাতীয়, যেমন ‘শাদ্দা’ এবং ‘মাদ্দা’; কারণ এগুলোর মূল রূপ ছিল ‘শাদাদা’ এবং ‘মাদাদা’। এগুলোতে এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ইদগাম বা সন্ধি ঘটেছে, কারণ বর্ণ দুটি কোনো ব্যবধান ছাড়াই একই উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারিত হয়।
ক্রিয়ার এই প্রকারটিকেই সিবওয়াইহি তাঁর আল-কিতাব গ্রন্থে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "আমি কামড়েছি, অতঃপর তোমরা (নারীরা) কামড়াও এবং তুমি (নারী) কামড়াও" ১।
অতএব ‘আদ্দা’ ক্রিয়াটি ‘ফা-ই-লা ইয়াফ-আ-লু’ অধ্যায়ভুক্ত; আপনি বলবেন: আমি তা কামড়েছি, আমি তা কামড়াচ্ছি। এতে বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন চিহ্নে কাসরা (জের) প্রদান করা হয়েছে। ইয়াহইয়া ২, আমাশ ৩ এবং তালহা ৪ থেকে ভিন্নতা সহকারে এটি বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক আল-আজরাক ৫ এটি হামজা ৬ থেকে বর্ণনা করেছেন: {যাতে আগুন তোমাদের স্পর্শ না করে} ৭। আর এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী থেকে গৃহীত: {আর তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে} ৮।
‘মাসসা’ ক্রিয়াটি ‘ফা-ই-লা’ ওজনে এবং এর বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল ‘ইয়াফ-আ-লু’ ওজনে হয়। আপনি বলবেন: আমি তা স্পর্শ করেছি (কাসরা সহকারে), আমি তা স্পর্শ করছি, স্পর্শ করা (মাসসান এবং মাসীসান); অর্থাৎ আমি তাকে স্পর্শ করেছি; এটিই অধিক প্রাঞ্জল ভাষা। আবার ফাতহা (জবর) দিয়েও ‘মাসাসতুহু’ বলা হয় এবং তখন এর বর্তমান কাল হয় ‘আমুসসুহু’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৮)
بالضَّم لغة1. فكسر حرف المضارعة في القراءة المذكورة على اللغة الفصيحة، وبهذا يتّفق مع داعي الكسر المذكور في كلام أهل اللّغة.
ومثلها قراءةَ {تمِسَّنَا النَّارُ} 2 بكسر التَّاء3.
ضَلَّ اللغة الفصيحة في هذا الفعل فَعَل يفعِل وعلى هذا ليس جاريًا على قاعدة كسر حرف المضارعة، وفي قول الله تعالى: {قُلْ إِنْ ضَلَلْتُ فَإِنَّمَا أَضِلُّ عَلَى نَفْسِي
… } 4 قُرئ: {إضَلُّ} بكسر الهمزة وفتح الضَّاد5، وهذا على أنَّ الفعل من قولهم: ضَلِلت أَضَلُّ وذلك على لغة أهل الحجاز6.
ومثل ذلك ما جاء في اللِّسان: " وكان ينشد [أي: ابن دريد] هذا البيت:
كان لنا وهو فُلُوٌّ نِربَبُه
পেশ (ضم) যোগে এটি একটি আভিধানিক ব্যবহার (لغة)। উল্লিখিত কিরাতে মুদারে-এর হরফকে (حرف المضارعة) কাসরা (জের) প্রদান করা মার্জিত ভাষারীতির (اللغة الفصيحة) অন্তর্ভুক্ত, আর এর মাধ্যমে এটি ভাষাবিদদের বক্তব্যে উল্লিখিত কাসরা ব্যবহারের কারণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
এবং এর অনুরূপ হলো {تمِسَّنَا النَّارُ} আয়াতের কিরাত, যেখানে ‘তা’ (تاء) অক্ষরে কাসরা প্রদান করা হয়েছে।
‘দাল্লা’ (ضل) ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে মার্জিত ভাষারীতি (اللغة الفصيحة) হলো ‘ফা’আলা ইয়াফ’ইলু’ (فَعَل يفعِل) ওজনে হওয়া, আর এই হিসেবে এটি মুদারে-এর হরফে (حرف المضارعة) কাসরা প্রদানের নিয়মের (قاعدة) অনুসারী নয়। মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যদি আমি পথভ্রষ্ট হই, তবে তো আমি নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হব
… } আয়াতে হামজাতে কাসরা এবং ‘দদ’ (ض) অক্ষরে ফাতহা (জবর) যোগে {إضَلُّ} পঠিত হয়েছে। এটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, ক্রিয়াটি তাদের ব্যবহৃত ‘দালিলতু আদাল্লু’ (ضَلِلت أَضَلُّ) শব্দ থেকে এসেছে এবং এটি হিজাজবাসীদের ভাষারীতি (لغة) অনুযায়ী।
অনুরূপভাবে ‘লিসান’ গ্রন্থে যা এসেছে: "তিনি [অর্থাৎ: ইবনে দুরেয়দ] এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করতেন:
সেটি আমাদের ছিল যখন সে ঘোড়ার বাচ্চা ছিল, আমরা তাকে লালন-পালন করতাম।"
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৮)
كَسَرَ حرف المضارعة ليعلم أنّ ثاني الفعل الماضي مكسور7.
وذكر الجندي أنه قرئ {وَنِقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ} . بكسر النون8 ولم يعزه
--------------------------------------------
মুদারে (المضارعة) এর হরফে কাসরাহ (كسر) প্রদান করা হয়েছে যাতে জানা যায় যে, মাজি (الماضي) বা অতীতকালীন ক্রিয়ার দ্বিতীয় বর্ণটি কাসরাহযুক্ত (مكسور) ছিল7.
আল-জুনদি উল্লেখ করেছেন যে, {ওয়া-নিকিররু ফিল আরহাম} পাঠ করা হয়েছে নুন (النون) বর্ণে কাসরাহ (كسر) সহকারে এবং তিনি এটি কারো দিকে সম্পৃক্ত (يعزه) করেননি।8
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৯)
إلى مصدر معين، ولم أقف عليه فيما رجعت إليه من مصادر، فإن صح ما ذكر فذلك غير ممتنع ـ لغةً ـ ويدخل في باب المضاعف.
جـ الصَّحيح المهموز:
أَمِنَ فعل صحيح مهموز، ورد كسر حرف المضارعة منه في قراءة ابن وثاب1 وأبي رزين2 في قول الله تعالى: {مَا لَكَ لا تَأْمَنَّا} 3 إذ قرآ "مالك لاتيمنا" بكسر التَّاء مع الإدغام. وفي مصحف ابن مسعود: {تِيمنه. وكذلك في مصحف أبيّ بن كعب: {تِئمنه} 4.
ألم أَلِمَ يأْلَمُ على فَعِل يفعَل. ولذا جاء كسر حرف المضارعة فيه في قراءة يحيى بن وثاب: {فإنَّهم ييلمون كما تيلمون} وذلك من قول الله تعالى: {وَلا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ إِنْ تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ وَتَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا لا يَرْجُونَ
… } 5 بكسر حرفي المضارعة الياء والتَّاء.
وقد استوقفت هذه القراءة ابن جنِّي من حيث إنَّ أحد الحرفين الياء. يقول ابن جنِّي في هذه القراءة: "العرف في نحو هذا أن من قال: أنت تِئمن وتِئلف وإيلف، فكسر حرف المضارعة في نحو هذا إذا صار إلى الياء فتحها ألبتة،
--------------------------------------------
...নির্দিষ্ট কোনো উৎসের দিকে, এবং আমি যে সকল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি সেগুলোর মধ্যে এটি খুঁজে পাইনি। যদি বর্ণিত বিষয়টি সঠিক হয়, তবে ভাষাগতভাবে তা অসম্ভব নয় এবং তা দ্বিত্ববিশিষ্ট (المضاعف) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
গ. সহিহ (صحيح) মাহমুজ (مهموز):
'আমিনা' (أمن) একটি সহিহ (صحيح) মাহমুজ (مهموز) ক্রিয়া। মহান আল্লাহর বাণী: {মা লাকা লা তামান্না} (ইউসুফ: ১১) এর ক্ষেত্রে ইবনে ওয়াছছাব এবং আবু রাজিন-এর কিরাআতে মুদারির হরফে (حرف المضارعة) কাসরা (জের) পড়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে; যখন তারা ইদগাম (إدغام) সহকারে 'তা' বর্ণে কাসরা দিয়ে "মা লাকা লা তেইমান্না" পড়েছিলেন। ইবনে মাসউদের মুসহাফে রয়েছে: {তিইমানাহু}। অনুরূপভাবে উবাই ইবনে কাবের মুসহাফেও রয়েছে: {তি'মানাহু}।
'আলিমা', 'ইয়ালামু' ক্রিয়াটি 'ফা'ইলা', 'ইয়াফ'আলু' ওজনে গঠিত। একারণেই ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াছছাব-এর কিরাআতে এর মুদারির হরফে (حرف المضارعة) কাসরা করার বিষয়টি এসেছে: {ফাইন্নাহুম ইয়ালামুনা কামা তালামুন}। এটি মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা শত্রুদলের সন্ধানে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা কষ্ট পাও, তবে তারা যেমন কষ্ট পাচ্ছে তোমরাও তেমনই কষ্ট পাচ্ছ এবং আল্লাহর কাছে তোমরা এমন কিছু আশা করছ যা তারা আশা করে না
... } যেখানে মুদারির (حرف المضارعة) এর 'ইয়া' এবং 'তা' বর্ণ দুটিতে কাসরা করা হয়েছে।
এই কিরাআতটি ইবনে জিন্নিকে ভাবিয়ে তুলেছে এই কারণে যে, এর দুটি হরফের একটি হলো 'ইয়া'। ইবনে জিন্নি এই কিরাআত সম্পর্কে বলেন: "এই জাতীয় ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম হলো, যারা বলে: 'আনতা তি'মানু' (তুমি নিরাপদ বোধ করছ), 'তি'লাফু' এবং 'ইলাফ', তারা এই ধরণের ক্ষেত্রে মুদারির হরফে (حرف المضارعة) কাসরা দিলেও যখন সেটি 'ইয়া' বর্ণে পৌঁছে, তখন তাতে অবশ্যই ফাতহা প্রদান করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭০)
فقال: يألف، ولايقول: هو ييلف، استثقالاً للكسرة في الياء "1. أمَّا كسر التَّاء فهو جارٍ على نظائره، وذكر النَّحاس أنَّها قراءة عبد الرَّحمن الأعرج، وقال: "ولايجوز عند البصريين في تألمون كسر التاء لثقل الكسر فيها "2. ومراده أنَّ الثقل نشأ من تتابع الكسرة والياء، لا أن الكسرة مستثقلة على التاء.
أذن الفعل أذن صحيح مهموز وهو من باب فعِل يفعَل وقد ورد كسر حرف المضارعة منه في قراءةٍ شاذَّة في قول الله تعالى: {قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ} 3 إذ قرئت إيذن بكسر الهمزة وياءٍ بعدها ووجهه أنَّه كسر حرف المضارعة فصارت الألف ياءً 4.
ومن ذلك ماجاء في قول منصور بن مرثد5 الأسدي:
قلتُ لبوابٍ لديه دارُها
… تِئذن فإني حَمْؤُها وجارُها
بكسر التَاء. وإن كان جُعِل كسر حرف المضارعة هنا بسبب حذف لام الأمر، إذ الأصل: لتئذن، إلَاّ أنِّي أرى أنَّه من باب كسر حرف المضارعة لأنَّ الفعل أذِن يأذن على فعِل يفعَل فقد توافرت فيه شرائط كسر حرف المضارعة. وممَّا يقوّي القول بأنَّه من قبيل كسر حرف المضارعة قول ابن مالك: وليس الحذف بضرورة لتمكنه من أن يقول: ايذن6.
كما أنَّ كون الشَّاعر من بني أسد التي تُسْلَكُ في القبائل التي تكسر حرف المضارعة يؤيد ذلك والله أعلم.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: يألف বলা হয়; ‘ইয়া’ অক্ষরের ওপর কাসরা (كسرة) ব্যবহারের গুরুভারের কারণে هو ييلف বলা হয় না। আর ‘তা’ অক্ষরে কাসরা (كسرة) প্রদান করা তার সমজাতীয় শব্দগুলোর মতোই প্রচলিত। আন-নাহহাস উল্লেখ করেছেন যে, এটি আবদুর রহমান আল-আরাজ-এর কিরাত। তিনি আরও বলেছেন: "বসরীয় ব্যাকরণবিদদের নিকট ‘তালামুন’ শব্দে ‘তা’ অক্ষরে কাসরা (كسرة) দেয়া জায়েজ নয়, কারণ এতে কাসরা (كسرة) ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য।" তাঁর উদ্দেশ্য হলো, এই গুরুভার বা কষ্টসাধ্যতা সৃষ্টি হয়েছে কাসরা (كسرة) ও ‘ইয়া’-এর পর্যায়ক্রমিক অবস্থানের কারণে, এমন নয় যে কেবল ‘তা’ অক্ষরের ওপর কাসরা (كسرة) প্রদান করা দুষ্কর।
‘আযিনা’ (أذن) ক্রিয়াটি সঠিক (صحيح) এবং হামযাহযুক্ত (مهموز); এটি ‘ফাঈলা ইয়াফআলু’ (فعِل يفعَل) বাব বা শ্রেণিভুক্ত। মহান আল্লাহর বাণী: {ফেরাউন বলল, আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই কি তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে?} এখানে একটি বিরল (شاذة) কিরাতে মুদারা বা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার আদ্যাক্ষরে কাসরা (كسرة) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেখানে ‘ইযিন’ (إيذن) পড়া হয়েছে—হামযাহর নিচে কাসরা (كسرة) এবং এরপর ‘ইয়া’ যোগ করে। এর কারণ হলো মুদারা’র আদ্যাক্ষরে কাসরা (كسرة) প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে আলিফটি ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয়েছে।
অনুরূপ উদাহরণ মানসুর ইবনে মারসাদ আল-আসাদির উক্তিতে পাওয়া যায়:
আমি সেই দ্বাররক্ষীকে বললাম যার নিকটে তার গৃহ অবস্থিত
… সে যেন অনুমতি দেয়, কারণ আমি তার নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশী
এখানে ‘তা’ অক্ষরে কাসরা (كسرة) ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও কেউ কেউ মনে করেন যে, এখানে মুদারা’র আদ্যাক্ষরে কাসরা (كسرة) হওয়ার কারণ হলো ‘লামুল আমর’ (নির্দেশসূচক লাম) বিলুপ্ত হওয়া—যেহেতু মূল শব্দ ছিল ‘লিতি’যিন’—তবে আমি মনে করি এটি মুদারা’র আদ্যাক্ষরে কাসরা (كسرة) ব্যবহারের ব্যাকরণগত নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। কারণ ‘আযিনা-ইয়াযানু’ ক্রিয়াটি ‘ফাঈলা-ইয়াফআলু’ ওজনের, যেখানে মুদারা’র আদ্যাক্ষরে কাসরা (كسرة) ব্যবহারের সকল শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। ইবনে মালিকের উক্তি এই মতটিকে শক্তিশালী করে, যেখানে তিনি বলেছেন: এখানে বিলুপ্তি বা উহ্য হওয়া কোনো অপরিহার্য বিষয় নয়, কারণ কবির পক্ষে ‘ইযিন’ বলা সম্ভব ছিল।
এছাড়া কবি বনু আসাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই মতটিকে সমর্থন করে, কারণ তারা সেই সকল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত যারা মুদারা’র আদ্যাক্ষরে কাসরা (كسرة) ব্যবহার করে থাকে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭১)
أثم من الصّحيح المهموز وهو من باب فعِل يفعَل، تقول: أَثِمَ يأثم. ومن ثم جاء كسر حرف المضارعة فيه وذلك في قول الراجز:
لو قُلتَ مافي قومها لم تِيثم يفضلها في حسب وميسم1
فنجد أنَّه كسر حرف المضارعة في الفعل تأثم وأبدل الهمزة ياءً لمناسبة الكسر لها، وبهذا يتبيّن أنَّ أقسام الصَّحيح في كسر حرف المضارعة سواء إذا توافرت أسباب ذلك.
أمَّا المعتلّ فهو أقسام أربعة: مثال، وأجوف، وناقص، ولفيف. فالمثال ما اعْتَلَّتْ فاؤه، والأجوف ما اعتلت عينه، والنَّاقص ما اعتلت لامه، واللفيف ما كان فيه حرفا علة سواء كانا متتابعين أو فرق بينهما حرف صحيح.
د المثال:
الفعل وجل فعل مثال لأنَّ فاءه حرف عِلَّةٍ، وقد ورد كسر حرف المضارعة منه في كلام العرب. يقول سيبويه: "وأمَّا وجِل يوجَل ونحوه فإنَّ أهل الحجاز يقولون: يوجَل فيجرونه مُجْرَى علمت. وغيرهم من العرب سوى أهل الحجاز يقولون في تَوْجل: هي تِيجلُ، وأنا إيجل، ونحن نِيجل. وإذا قلت: يفعَل فبعض العرب يقولون يَيْجل كراهية الواو مع الياء، شبهوا ذلك بأيام ونحوها.
وقال بعضهم: ياجَل، فأبدلوا مكانها ألفًا كراهية الواو مع الياء كما يبدلونها من الهمزة السَّاكنة.
وقال بعضهم: يِيجل، كأنَّه لمَّا كره الياء مع الواو كسر الياء ليقلب الواو ياءً؛ لأنَّه قد علم أنَّ الواو السَّاكنة إذا كانت قبلها كسرة صارت ياءً، ولم تكن عنده الواو التي تقلب مع الياء حيث كانت الياء التي قبلها متحرّكة، فأرادوا أن
--------------------------------------------
'আছিমা' শব্দটি হামযাযুক্ত (مهموز) সহীহ (صحيح) ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং এটি 'ফা-ইলা ইয়াফ-আলু' বাব বা গোত্রের অন্তর্গত; আপনি বলবেন: 'আছিমা ইয়া’সামু'। সেখান থেকেই শব্দটিতে মুজারের (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল) হরফে কাসরা (জের) এসেছে, যা জনৈক রাজেয (ছন্দকার)-এর উক্তিতে পাওয়া যায়:
যদি তুমি বলতে যে তার সম্প্রদায়ে তার মতো আর কেউ নেই, তবে তুমি পাপিষ্ঠ হতে না; বংশমর্যাদা ও সৌন্দর্যে সে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।১
আমরা দেখতে পাই যে, তিনি 'তা’সামু' ক্রিয়াটিতে মুজারের হরফে কাসরা প্রদান করেছেন এবং কাসরার সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য হামযাকে 'ইয়া' বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করেছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মুজারের হরফে কাসরা হওয়ার কারণসমূহ বিদ্যমান থাকলে সহীহ (صحيহ) এর সকল প্রকারের বিধান অভিন্ন।
পক্ষান্তরে ত্রুটিযুক্ত (معتل) ক্রিয়া চার প্রকার: মেসাল (مثال), আজওয়াফ (أجوف), নাক্বিস (ناقص) এবং লাফীফ (لفيف)। মেসাল (مثال) হলো যার ফা-কালিমা (প্রথম বর্ণ) দুর্বল বর্ণ (حرف علة) হয়; আজওয়াফ (أجوف) হলো যার আইন-কালিমা (মধ্য বর্ণ) দুর্বল বর্ণ হয়; নাক্বিস (ناقص) হলো যার লাম-কালিমা (শেষ বর্ণ) দুর্বল বর্ণ হয়; আর লাফীফ (لفيف) হলো যাতে দুটি দুর্বল বর্ণ (حرف علة) থাকে, চাই তারা পাশাপাশি হোক বা তাদের মাঝে কোনো সবল বর্ণ (حرف صحيح) ব্যবধান সৃষ্টি করুক।
মেসাল (مثال)-এর উদাহরণ:
'ওয়াজিলা' শব্দটি একটি মেসাল (مثال) ক্রিয়া, কারণ এর ফা-কালিমা (প্রথম বর্ণ) একটি দুর্বল বর্ণ (حرف علة); আরবদের কথাবার্তায় এর মুজারের হরফে কাসরা প্রদান করার প্রয়োগ পাওয়া যায়। সিবওয়াইহ বলেন: "আর 'ওয়াজিলা ইয়াওজালু' এবং এর অনুরূপ ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে হিজাযের অধিবাসীরা 'ইয়াওজালু' বলে থাকেন; তারা একে 'আলিমা' ক্রিয়ার অনুগামী করেন। হিজাযবাসী ব্যতীত অন্যান্য আরবরা 'তাওজালু'-এর স্থলে বলেন: 'তীজালু', 'ঈজালু' (আমি ভয় পাই) এবং 'নীজালু' (আমরা ভয় পাই)। আর যখন আপনি 'ইয়াফ-আলু' ওজনে বলেন, তখন কিছু আরব 'ওয়াও' এর সাথে 'ইয়া' এর একত্র হওয়া অপছন্দ করে 'ইয়াইজালু' বলেন; তারা একে 'আইয়াম' ও এই জাতীয় শব্দের সাথে তুলনা করেছেন।
তাদের কেউ কেউ 'ইয়াজালু' বলেন। তারা 'ইয়া' এর সাথে 'ওয়াও' এর একত্র হওয়া অপছন্দ করে এর পরিবর্তে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করেছেন, যেমনটি তারা সাকিনযুক্ত হামযার ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে থাকেন।
আবার কেউ কেউ 'য়ীজালু' বলেন। যেন যখন তিনি 'ওয়াও' এর সাথে 'ইয়া' এর একত্র হওয়া অপছন্দ করলেন, তখন 'ওয়াও' কে 'ইয়া' তে রূপান্তরিত করার জন্য 'ইয়া' তে কাসরা প্রদান করলেন। কারণ এটি সুপরিচিত যে, সাকিনযুক্ত 'ওয়াও' এর পূর্বে কাসরা থাকলে তা 'ইয়া' তে পরিণত হয়। আর তার নিকট এই 'ওয়াও' টি সেই 'ওয়াও' এর মতো ছিল না যা 'ইয়া' এর সাথে পরিবর্তিত হয় যেখানে পূর্ববর্তী 'ইয়া' টি হরকতযুক্ত ছিল। ফলে তারা চাইলেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭২)
يقلبوها إلى هذا الحد، وكره أن يقلبها على ذلك الوجه الآخر "1.
فتجد أنَّ سيبويه نصَّ على أنَّ من العرب من يكسر حروف المضارعة الثَّلاثة ـ الهمزة والتاء والنون ـ أمَّا مع الياء فورد عن بعضهم، ولكنَّه التمس له تعليلاً غير ماكان لغيرها.
وصرَّح الأخفش بأنَّ كسر الياء في باب وجل لأنَّ الواو قد تحوَّلت إلى الياء مع التاء والنُّون والألف، فلو فتحوها استنكروا الواو، ولو فتحوا الياء لجاءت الواو، فكسروا الياء فقالوا: يِيجل ليكون الذي بعدها ياء، وكانت الياء أخفَّ مع الياء من الواو مع الياء؛ لأنَّه يُفَرُّ إلى الياء من الواو، ولا يُفرُّ إلى الواو من الياء2.
وكسر حروف المضارعة الثَّلاثة في وجل جعله ابن مالك مطلقًا إذ قال: "
… ويكسره غير الحجازيين مالم يكن ياءً إن كسر ثاني الماضي أو زيد أوله ياء معتادة أو همزة وصل؛ ويكسرونه مطلقًا في مضارع أبى ووجل ونحوه "3.
وقال أبوحيان: "فإن كان مثل وجل مما هو مكسور العين وفاؤه واو فمضارعه على يَفعَلُ بفتحِ العين، وهي لغةُ قريشٍ وكنانة. فأهل الكسر مختلفون، فمنهم من يكسر مطلقًا، وهي لغة تميم، فتنقلب تلك الواو ياءً، ومنهم من يكسر إلَاّ في الياء فيفتح وهي لغة بني عامر
… "4.
وبهذا يتضح لنا حكم كسر حروف المضارعة في الفعل المثال.
--------------------------------------------
তারা একে এই সীমা পর্যন্ত পরিবর্তন করেন এবং তিনি একে অন্য কোনো রূপে পরিবর্তন করাকে অপছন্দ করেছেন "১।
আপনি দেখতে পাবেন যে সিবওয়াইহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আরবদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা মুদারে-র তিনটি হরফ—হামজাহ, তা এবং নুন—কে কাসরা প্রদান করেন। তবে ইয়া-এর ক্ষেত্রে কারো কারো পক্ষ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তিনি এর জন্য এমন একটি কারণ অনুসন্ধান করেছেন যা অন্যগুলোর চেয়ে ভিন্ন।
আখফাশ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, 'ওয়াজিলা' অধ্যায়ে ইয়া-তে কাসরা করার কারণ হলো 'তা', 'নুন' এবং 'আলিফ'-এর সাথে 'ওয়াও' বর্ণটি ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়েছে। যদি তারা এতে ফাতহা প্রদান করত, তবে তারা 'ওয়াও'-কে অপছন্দ করত। আর যদি তারা ইয়া-তে ফাতহা দিত তবে 'ওয়াও' ফিরে আসত। তাই তারা ইয়া-তে কাসরা প্রদান করেছে এবং 'য়ীজালু' বলেছে যেন এর পরের বর্ণটি ইয়া হয়। আর ইয়া-এর সাথে ইয়া উচ্চারণ করা 'ওয়াও'-এর সাথে ইয়া উচ্চারণের চেয়ে হালকা; কারণ 'ওয়াও' থেকে ইয়া-এর দিকেই পরিবর্তন করা হয়, ইয়া থেকে 'ওয়াও'-এর দিকে নয় ২।
'ওয়াজিলা' ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মুদারে-র তিনটি হরফে কাসরা প্রদান করাকে ইবন মালিক শর্তহীন (مطلقًا) হিসেবে গণ্য করেছেন, যেহেতু তিনি বলেছেন: "
… হিজাজবাসী ব্যতীত অন্যরা এতে কাসরা প্রদান করে যতক্ষণ না তা ইয়া হয়, যদি মাঝির দ্বিতীয় বর্ণটি কাসরাযুক্ত হয় অথবা এর শুরুতে সাধারণ ইয়া বা হামজাতুল ওয়াসল যুক্ত হয়; আর তারা 'আবা' এবং 'ওয়াজিলা' ও তদ্রূপ ক্রিয়ার মুদারে-তে শর্তহীনভাবে (مطلقًا) কাসরা প্রদান করে থাকে "৩।
আবু হাইয়ান বলেছেন: "যদি এটি 'ওয়াজিলা'-এর মতো হয় যার আইন বর্ণটি কাসরাযুক্ত এবং ফা বর্ণটি 'ওয়াও', তবে এর মুদারে 'ইয়াফ'আলু' ওজনে আইন বর্ণে ফাতহা সহকারে হবে, আর এটি কুরাইশ ও কিনানা গোত্রের ভাষা। যারা কাসরা প্রদান করেন তারা বিভিন্ন মতাবলম্বী; তাদের মধ্যে কেউ কেউ শর্তহীনভাবে (مطلقًا) কাসরা প্রদান করেন, যা তামীম গোত্রের ভাষা, ফলে সেই 'ওয়াও' বর্ণটি ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'ইয়া' ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে কাসরা দেন এবং 'ইয়া'-তে ফাতহা দেন, যা বনু আমির গোত্রের ভাষা
… "৪।
এর মাধ্যমে আমাদের নিকট মিসাল (مثال) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মুদারে-র হরফসমূহে কাসরা প্রদানের বিধান স্পষ্ট হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭৩)
الأجوف:جاء في قول عمر بن أبي ربيعة1:
مالقلبي كأنَّه ليس مني
… وعظامي إخال فيهن فترا
كَسَرَ حرفَ المضارعة من إخال وهو فعل أجوف.
ومثله قول العباس بن مرداس السّلمي:
قد كان قومك يحسبونك سَيِّدًا
… وإخال أنَّك سيد معيون2
وكذلك قول بعض بني جَرْم من طيِّئ:
إخالك مُوعِدي ببني حُفيفٍ
… وهالةَ إنَّني أنهاك هالا3
وإخال جاء فيها كسر الهمزة كما روي هنا، وجاء فيها الفتح. قال ابن منظور: "وفي الحديث ماإخالك سرقت، أي: ما أظنّك. وتقول في مستقبله: إخال، بكسر الألف وهو الأفصح، وبنو أسد يقولون: أخال بالفتح وهو القياس، والكسر أكثر استعمالاً"4. ويقول المرزوقيُّ: "ويقال: خِلت أخالُ. وإخالُ طائيَّةٌ، فكثر استعمالها في ألسنة غيرها، حتى صار أخال كالمرفوض"5.
وبهذا يتبيَّن أنَّ همزة إخال تكسرها جَرْم [بطن من طيِّئ] ونسب التبريزيُّ الكسر إلى طيئ6، ونسبه المرزوقيُّ إلى هذيل إذ قال: "وإخال كسر الهمز منه لغة هذيل، ثمَّ فشت في غيرها"7.
--------------------------------------------
অজওয়াফ (الأجوف):উমর ইবনে আবি রাবিআ-এর উক্তিতে এসেছে১:
আমার হৃদয়ের কী হলো যে, মনে হয় যেন তা আমার নয়
… আর আমি মনে করি (ইখাল) আমার হাড়গুলোতে শিথিলতা রয়েছে
তিনি ‘ইখাল’ শব্দের মুদারিয়া (مضارعة) বর্ণটিকে কাসরা (জের) প্রদান করেছেন, আর এটি একটি অজওয়াফ (أجوف) ক্রিয়া।
অনুরূপভাবে আব্বাস ইবনে মিরদাস আস-সুলামির উক্তি:
তোমার সম্প্রদায় তো তোমাকে সরদার মনে করত
… আর আমি মনে করি (ইখাল) যে তুমি একজন বদনজরপ্রাপ্ত সরদার২
তেমনিভাবে তায়্যি গোত্রের বনু জারম-এর জনৈক ব্যক্তির উক্তি:
আমি তোমাকে (ইখালুকা) হুফাইফের বংশধরদের মাধ্যমে আমাকে হুমকিদাতা মনে করি
… এবং হালার মাধ্যমেও; নিশ্চয়ই আমি তোমাকে হালা থেকে বারণ করছি৩
‘ইখাল’ শব্দে হামজাকে কাসরা প্রদান করা হয়েছে যেভাবে এখানে বর্ণিত (روي) হয়েছে, আবার এতে ফাতহা (জবর) প্রদানও এসেছে। ইবনে মানযুর বলেন: "হাদিসে এসেছে— আমি মনে করি না (মা ইখালুকা) যে তুমি চুরি করেছ; অর্থাৎ: আমি তোমাকে (চোর) ধারণা করি না। আর আপনি এর মুস্তাকবিল (ভবিষ্যৎকাল) রূপে বলবেন: ‘ইখাল’ (إخال), আলিফকে কাসরা দিয়ে, আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (الأفصح)। বনু আসাদ গোত্র ফাতহা দিয়ে ‘আখাল’ (أخال) বলে, যা ব্যাকরণিক নিয়মসিদ্ধ (القياس), তবে কাসরা অধিক ব্যবহৃত।"৪। আল-মারযুকি বলেন: "বলা হয়: খিলতু আখালু। আর ‘ইখালু’ হলো তায়্যি গোত্রের ভাষা, যা অন্য গোত্রগুলোর মাঝেও বহুল প্রচলিত হয়ে পড়েছিল, এমনকি ‘আখাল’ প্রায় পরিত্যক্ত (المرفوض) হয়ে যায়।"৫।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, জারম [তায়্যি গোত্রের একটি শাখা] গোত্র ‘ইখাল’ শব্দের হামজাকে কাসরা প্রদান করে এবং তিবরিজি এই কাসরাকে তায়্যি গোত্রের দিকে নিসবত (نسبة) করেছেন৬, আর মারযুকি একে হুযাইল গোত্রের দিকে নিসবত (نسبة) করেছেন যেখানে তিনি বলেন: "ইখাল-এর হামজাকে কাসরা প্রদান করা হুযাইল গোত্রের ভাষা, পরে তা অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে।"৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭৪)
أما الفتح في هذا الفعل فنسب إلى بني أسد، نسبه إليهم ابنُ منظور والفيوميُّ وخالدُ الأزهريُّ، وذكر أنَّه مَحْكِيُّ عن أسدٍ خاصَّةً، وكذا البغدادي1 ولغة أسدٍ هي القياس. وبهذا تكون بنو أسد قد خالفت المشهور عنها في هذا الفعل خاصَّة دون غيره، وهذا مراد ابن هشام بالعكس في قوله: "وكسر همزة إخال فصيح استعمالاً شاذُّ قياسًا، وفتحُها لغةُ أسدٍ وهو بالعكس"2 أي بعكس ما اشتهر عنها في كسر حروف المضارعة من غير هذا الفعل.
وقد شكَّ الدُّكتور أحمد الجندي في هذا، ولم يرتض الفتحَ من بني أسد في إخال لأنَّ بني أسد من القبائل التي اشتهر عنها كسر حروف المضارعة، ونسب إلى ابن فارس خلطًا في هذه المسألة إذ ذكر أنَّه نسب إلى أسد فتح النُّون من {نَسْتَعِينُ} وفي موضع آخر نسب إليهم الكسر في مثل تعلمون3 ومن ثمَّ رجَّح أن أسد مصحفة من الأزد. وتابعته في ذلك صالحة آل غنيم4.
وعند تأمّل ما نقله الدُّكتور الجندي يتَّضح أنَّ ابن فارس لم يخلط، ولم يخلط غيره من الرُّواة، وإنَّما نقل عن الفرَّاء أنَّ النون من {نستعين} مفتوحة في لغة قريشٍ، وأسدٌ وغيرهم يقولونها بكسر النُّون. فجعل الجندي أسدًا معطوفة على قريش والحق غير ذلك. وبهذا يعلم أنَّ بني أسد خالفت المشهور عنها في هذا الفعل خاصَّة ففتحت، والتَّصحيف الذي ذكره الدّكتور الجندي مستبعد؛ لأنَّ الرّواة قالوا بنو أسد ثمّ إنَّ الأزد لغاتهم مختلفة باختلاف قبائلهم، إذ بعضها لايحتج بلغاتهم كالغساسنة وأزد شنوءة.
--------------------------------------------
এই ক্রিয়াপদে 'ফাতহ্' (যবর) প্রদানকে বনু আসাদ গোত্রের দিকে নিসবত করা হয়েছে; ইবনে মনজুর, আল-ফাইয়ুমি এবং খালিদ আল-আযহারী একে তাদের দিকেই নিসবত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি বিশেষভাবে আসাদ গোত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে; আল-বাগদাদিও ১ অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং আসাদ গোত্রের ভাষাই হচ্ছে এখানে পদ্ধতিগত নীতি (قياس)। এর মাধ্যমে বনু আসাদ এই নির্দিষ্ট ক্রিয়াপদটির ক্ষেত্রে তাদের সাধারণ ও প্রসিদ্ধ (مشهور) রীতির বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইবনে হিশাম তাঁর বক্তব্যে 'বিপরীত' বলতে এটাই বুঝিয়েছেন: "ইখ্যালু শব্দে হামযাহ্র কাসরা (যের) ব্যবহারিকভাবে প্রাঞ্জল কিন্তু পদ্ধতিগত নীতির (قياس) দিক থেকে তা বিরল (شاذّ) এবং এর ফাতহ্ প্রদান আসাদ গোত্রের ভাষা, যা মূলত এর বিপরীত।" ২ অর্থাৎ, এই ক্রিয়াপদ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে মুদারিয়া (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল) এর হরফসমূহে কাসরা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের যে প্রসিদ্ধি রয়েছে, এটি তার বিপরীত।
ডক্টর আহমদ আল-জুন্দি এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। বনু আসাদ থেকে 'ইখ্যালু' ক্রিয়াপদে ফাতহ্ হওয়াকে তিনি গ্রহণ করেননি, কারণ বনু আসাদ এমন একটি গোত্র যারা মুদারিয়ার হরফসমূহে কাসরা প্রদানের জন্য প্রসিদ্ধ (مشهور)। তিনি ইবনে ফারিসের দিকে এ বিষয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ তুলেছেন; কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ফারিস {নাসতাঈনু} শব্দের নুন-এ ফাতহ্ প্রদানকে আসাদ গোত্রের দিকে নিসবত করেছেন, আবার অন্য স্থানে তাদের কাসরা প্রদানকে নিসবত করেছেন। ৩ অতঃপর তিনি প্রবল মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, 'আসাদ' শব্দটি মূলত 'আযদ' শব্দের একটি লিপিক্রমিক বিকৃতি (مصحفة)। সালিহাহ আল-গুনাইমও ৪ এই মতের অনুসারী হয়েছেন।
ডক্টর আল-জুন্দি যা উদ্ধৃত করেছেন তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, ইবনে ফারিস কোনো বিভ্রান্তি করেননি এবং অন্য কোনো বর্ণনাকারীও (رواة) ভুল করেননি। বরং তিনি আল-ফাররা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, {নাসতাঈনু} শব্দের নুন-টি কুরাইশদের ভাষায় ফাতহ্-যুক্ত, আর আসাদ ও অন্যান্যরা একে নুন-এর কাসরা সহকারে পাঠ করেন। জুন্দি মূলত 'আসাদ' শব্দটিকে 'কুরাইশ'-এর ওপর সংযুক্ত করে ফেলেছেন, অথচ প্রকৃত বিষয়টি ভিন্ন। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, বনু আসাদ এই নির্দিষ্ট ক্রিয়াপদটিতে তাদের প্রসিদ্ধ (مشهور) রীতির বিপরীতে ফাতহ্ প্রদান করত। ডক্টর আল-জুন্দি যে লিপিক্রমিক বিকৃতির (تصحيف) কথা উল্লেখ করেছেন তা সুদূরপরাহত; কারণ বর্ণনাকারীবৃন্দ (رواة) একে 'বনু আসাদ' হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তদুপরি আযদ গোত্রের ভাষা তাদের উপগোত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; কারণ তাদের কোনো কোনোটির ভাষা (যেমন- গাসসানি ও আযদ শানুয়াহ) ভাষাতাত্ত্বিক দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭৫)
و
النَّاقص:قرأ يحيى بن وثاب والأعمش وطلحة بن مصرف: {فكيف إيسى على قومٍ كافرين} 1. وهذه لغة تميم يقولون: أنا إضرب2.
وإيسى من أسيت عليه أسًى. حزنت، وأسِيَ على مصيبته بالكسر يأسَى أسًى مقصورٌ: إذا حزن 3 فكسر حرف المضارعة منه جارٍ على مايجري في غيره مما هو على فعِل يفعَل. ومثل ذلك قراءة الأعمش: {ولاتعِثوا} من قول الله تعالى: {وَلا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ} 4. إذ قرأ بكسر التاء، قال العكبري: "ويقرأ كذلك إلَاّ أنَّه بكسر التاء، وهي لغة كنانة يكسرون حرف المضارعة"5، والفعل عثى من باب فَعِل يفعَل كـ رضي يرضى. وذلك جاء موافقًا للقاعدة.
ز اللفيف:
يطلق الصرفيون هذا المصطلح على الفعل الذي يكون من أصوله حرفا علة، فإن فرق بينهما حرف صحيح سمي مفروقًا، وإن كانا عين الفعل ولامه سمي مقرونًا. والفعل وني من هذا النّوع وهو من باب فعِل وفعَل. قال ابن القطَّاع: " ووَنِي ونًى ووناءً ووُنِيّاً وونَى وَنْيًا: فتر وضعف "6 وفي قول الله تعالى: {وَلا تَنِيَا فِي ذِكْرِي} 7 قرأ يحيى بن وثاب: {تِنيا} بكسر التاء8.
--------------------------------------------
এবং
ত্রুটিপূর্ণ ক্রিয়া (النَّاقص):ইয়াহইয়া বিন ওয়াসসাব, আল-আমাশ এবং তালহা বিন মুসাররিফ পাঠ করেছেন: {কীভাবে আমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য শোক (ইসি) করব} ১। এটি তামীম গোত্রের ভাষা, তারা বলে: ‘আনা ইদরিবু’ (আমি প্রহার করছি) ২।
‘ইসি’ (إيسى) শব্দটি ‘আসাইতু আলাইহি আসান’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ—আমি দুঃখিত হয়েছি। আর ‘আসিয়া’ (أسِيَ) ক্রিয়াটি বিপদের ক্ষেত্রে ‘কাসরা’ (জের) যোগে শোকাতুর হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়; এর বর্তমান রূপ ‘ইয়াস-আ’ (يأسَى) এবং মাসদার বা ক্রিয়ামূল ‘আসান মাকসুরুন’ (أسًى مقصورٌ) হয়: যখন কেউ দুঃখ পায় ৩। সুতরাং এর বর্তমানকালীন উপসর্গ (حرف المضارعة)-এ কাসরা প্রদান করার বিষয়টি অন্যান্য ‘ফা-ইলা ইয়াফ-আলু’ (فعِل يفعَل) ওজনের শব্দের মতোই নিয়মসিদ্ধ। অনুরূপভাবে আল-আমাশ-এর পঠনরীতি (قراءة)-তে রয়েছে: {ওয়ালা তা’ইসু}, যা আল্লাহ তাআলার বাণী: {জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াবে না} ৪ থেকে গৃহীত। যেহেতু তিনি ‘তা’ বর্ণে কাসরা দিয়ে পাঠ করেছেন, তাই আল-উকবরি বলেছেন: “এটি একইভাবে পঠিত হয়, তবে পার্থক্য শুধু ‘তা’ বর্ণে কাসরা হওয়া; এটি কিনানাহ গোত্রের উপভাষা, তারা বর্তমানকালীন উপসর্গ (حرف المضارعة)-এ কাসরা ব্যবহার করে” ৫। আর ‘আথা’ ক্রিয়াটি ‘ফা-ইলা ইয়াফ-আলু’ (فَعِل يفعَل) পরিচ্ছেদ (باب)-এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন: ‘রাদিয়া ইয়ারদা’। এটি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ীই এসেছে।
য. দ্বিত্ব-দুর্বল ক্রিয়া (اللفيف):
শব্দতত্ত্ববিদগণ এই পরিভাষাটি এমন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যার মূল বর্ণগুলোর মধ্যে দুইটি দুর্বল বর্ণ (حرفا علة) থাকে। যদি এই দুই বর্ণের মাঝে কোনো সবল বর্ণ ব্যবধান তৈরি করে, তবে তাকে বিচ্ছিন্ন (مفروقًا) বলা হয়। আর যদি সেগুলো ক্রিয়ার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণ হয়, তবে তাকে সংযুক্ত (مقرونًا) বলা হয়। ‘ওয়ানি’ ক্রিয়াটি এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ‘ফা-ইলা’ (فعِل) ও ‘ফা-আলা’ (فعَل) ওজনের অন্তর্ভুক্ত। ইবনুল কাত্তাহ বলেছেন: “ওয়ানি, ওনান, ওনায়ান, উনিউয়্যান এবং ওয়ানা ওয়ানিয়ান: অর্থ শিথিল হওয়া ও দুর্বল হওয়া” ৬। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা আমার স্মরণে শিথিলতা করো না} ৭-এর পঠনরীতি (قراءة)-তে ইয়াহইয়া বিন ওয়াসসাব ‘তা’ বর্ণে কাসরা দিয়ে {তিনিয়া} পাঠ করেছেন ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭৬)
وبهذا يتبين مايتعلق بالفعل الثلاثي من أحكام من حيث كسر حرف المضارعة منه.
এর মাধ্যমেই ত্রিমূল বিশিষ্ট ক্রিয়া (ثلاثي) সংক্রান্ত বিধিবিধান (أحكام) স্পষ্ট হয়, যা এর মুদারে চিহ্নের (مضارعة) কাসরা (كسر) প্রদানের প্রেক্ষিত থেকে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
হারাকাতু হুরুফিল মুদারাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭৬)
2
المبدوء بهمزة وصل:ذكرت سابقًا أن من جملة مايكسر حرف المضارعة منه ماكان مبدوءًا بهمزة وصل، وهذا مأخوذ من نص سيبويه؛ إذ قال في كتابه: "واعلم أنَّ كلَّ شيءٍ كانت ألفه موصولة ممَّا جاوز ثلاثة أحرف في فَعَل فإنَّك تكسر أوائل الأفعال المضارعة للأسماء، وذلك لأنَّهم أرادوا أن يكسروا أوائلها كما كسروا أوائل فعَل فلما أرادوا الأفعال المضارعة على هذا المعنى كسروا أوائلها كأنَّهم شبهوا هذا بذلك، وإنَّما منعهم أن يكسروا الثواني في باب فعل أنَّها لم تكن تحرك، فوضعوا ذلك في الأوائل، ولم يكونوا ليكسروا الثالث فيلتبس يفعِل بيفعَل، وذلك قولك: استعفر فأنت تِستغفر، واحرنجم فأنت تِحرنجم، واغدودن فأنت تِغدودِن، واقعنسس فأنا إقعنسس "1.
وقال ابن جنِّي ـ بعد ذكر كسر ما ثاني الماضي منه مكسور ـ:"وكذلك ما في أول ماضيه همزة وصل مكسورة، نحو: تِنْطَلِق، ويوم تِسْوَدُّ وجوهٌ وتِبْيَضُّ وجوهٌ
… "2. وحكى الكسائي: أنت تستطيع 3.
وقد وردت نصوص على هذا منها:
- قراءة يحيى بن وثاب وأبي رزين في قول الله تعالى: {يوم تِبْيَضُّ وجوهُُ وتِسْوَدُّ وجوهُُ} 4 إذ قرآ بكسر التاء فيهما5.
--------------------------------------------
২
হামজাতুল ওয়াসল (همزة وصل) দ্বারা শুরু হওয়া শব্দসমূহ:আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, যে সকল শব্দের বর্তমানকালীন ক্রিয়ার বর্ণে (حرف المضارعة) কাসরা (كسرة) প্রদান করা হয়, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো হামজাতুল ওয়াসল (همزة وصل) দিয়ে শুরু হওয়া শব্দসমূহ। এটি সিবাওয়াইহ-এর উক্তি থেকে গৃহীত; তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন: "জেনে রেখো, তিন অক্ষরের অধিক অতীতকালীন রূপের (فعل) ক্ষেত্রে যে সকল শব্দের আলিফটি সংযোগকারী (همزة وصل) ছিল, সেক্ষেত্রে তুমি বিশেষ্য বা ইসম-এর সদৃশ বর্তমানকালীন ক্রিয়াগুলোর (مضارع) শুরুতে কাসরা (كسرة) প্রদান করবে। আর এটি এ কারণে যে, তারা এগুলোর শুরুতে কাসরা (كسرة) দিতে চেয়েছিলেন যেমনটি তারা অতীতকালীন রূপের (فعل) শুরুতে দিয়েছিলেন; ফলে যখন তারা এই নিয়মানুসারে বর্তমানকালীন ক্রিয়া (مضارع) গঠন করতে চাইলেন, তখন তারা এগুলোর শুরুতে কাসরা (كسرة) প্রদান করলেন, যেন তারা ইহাকে উহার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছেন। অতীতকালীন রূপের (فعل) ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বর্ণে কাসরা (كسرة) দিতে তাদের যা বাধা দিয়েছিল তা হলো বর্ণগুলো তখন হরকতযুক্ত ছিল না; তাই তারা সেটি শুরুর বর্ণে প্রদান করেন। তারা তৃতীয় বর্ণে কাসরা (كسرة) প্রদান করেননি যাতে 'ইয়াফ-ইলু' এবং 'ইয়াফ-আলু' এর মধ্যে সংশয় তৈরি না হয়। আর এটি তোমার এই উক্তির মতো: 'ইস্তাগফারা' থেকে তুমি বলবে 'তিসতাগফিরু', 'ইহরাঞ্জাম' থেকে 'তিহরানজামু', 'ইগদাওদানা' থেকে 'তিগদাওদিনু', এবং 'ইকআনসাসা' থেকে আমি বলব 'ইকআনসিসু'।"১
ইবনে জিন্নি —যেসব অতীতকালীন ক্রিয়ার (ماضي) দ্বিতীয় বর্ণ কাসরাযুক্ত (مكسور) হওয়ার আলোচনার পর— বলেন: "অনুরূপভাবে ঐ সকল শব্দ যার অতীতকালীন ক্রিয়ার (ماضي) শুরুতে কাসরাযুক্ত হামজাতুল ওয়াসল (همزة وصل) থাকে, যেমন: 'তিিনতালিকু', এবং 'যেদিন কিছু মুখ কালো হবে ও কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে'
… "২। আর আল-কিসায়ি বর্ণনা করেছেন: "তুমি সক্ষম হবে" (তিস্তাতিতু)।৩
এ বিষয়ে কিছু বর্ণনা এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ইয়াহইয়া বিন ওয়াসসাব এবং আবু রাজিন-এর পাঠরীতি (قراءة); যেখানে তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হয়ে যাবে} ৪-এর ক্ষেত্রে উভয় শব্দেই 'তা' বর্ণে কাসরা (كسرة) দিয়ে পাঠ করেছেন।৫
--------------------------------------------