(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: -)
حديث المصراة - رواية ودراية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حديث المصراة
المؤلف: ذيب بن مصري بن ناصر القحطاني
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الحادية والعشرون - العددان الواحد والثمانون والثانى والثمانون - المحرم - جمادى الآخرة 1409هـ
عدد الصفحات: 36
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসাররাহ এর হাদিস - বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: মুসাররাহ এর হাদিস
লেখক: দীব বিন মিসরি বিন নাসির আল-কাহতানি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: একুশতম বর্ষ - সংখ্যা ৮১ ও ৮২ - মুহাররম - জুমাদাল আখিরাহ ১৪০৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৯)
حديث المُصَرَّاة.. رواية ودراية
تصنيف الدكتور: ذيب بن مصري بن ناصر القحطاني
ال
مقدمةالحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه واستن بسنته إلى يوم الدين.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة وبعد
…فإن اتباع النبي صلى الله عليه وسلم والتزام سنته والسير على نهجه وتحكيم شرعه واجب على كل من شهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك لأن الله تعالى يقول: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليماً} 4.
--------------------------------------------
হাদিসে মুসাররাহ (Hadith al-Musarrah).. বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية)
ডক্টর জিব বিন মিসরি বিন নাসির আল-কাহতানি-র সংকলন
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর দেখানো হেদায়েত অনুযায়ী চলবে ও তাঁর সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ (محدثات) এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা। এরপর
…নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা, তাঁর সুন্নাহ (سنة) আঁকড়ে ধরা, তাঁর আদর্শের ওপর চলা এবং তাঁর শরিয়তকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা সেই প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব যে সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমার রবের কসম! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধাবোধ না থাকে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১০)
فتحكيم النبي صلى الله عليه وسلم لازم في العبادات والمعاملات ولا يجوز الخروج عن حكمه لأن الله قد نفى الإيمان عمن يجد في نفسه ضيقاً من حكم رسوله صلى الله عليه وسلم وهو أرحم بنا من أنفسنا ويشق عليه عنتنا. قال الله تعالى: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ} 1 وقال تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 2 فمن شفقته على أمته إيضاحه كل ما تحتاج إليه حب معاشها ومعادها سواء أكان في العبادات أو المعاملات فحل المشكلات وبين حلولها بما يشفي ويكفي رأفة بأمته ورحمة بها وكيف لا يحل مشاكل أمته وقد قال صلى الله عليه وسلم: "ما بقي شيء يقرب من لجنة ويباعد من النار إلا وقد بين لكم" 3 فهذا البيان وهذا التوضيح لحل كل مشكلة مما جعل العالم يقف حائرا مندهشا مفكرا في هذا الشرع العالمي4 العجيب الذيَ وسمعت تعاليمه كل لا يحتاج إليه البشر حتى أبسط المسائل التي قد يراها بعض الناس نقصان عقله وتفكيره من التوافه وحاشى الإسلام أن يكون فيه توافه أو سواقط وإنما اشتمل هذا الدين السماوي على ما يتصل بالمسلم في نفسه أو أسرته أو مجتمعه بنظام عجيب بلغ ذروة الكمال والتمام {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً} 5.
فالحمد لله على هذه النعمة التي هي أعظم النعم وأجلها نعمة الإسلام الكامل الشامل الذي وسعت تعاليمه كل حوائج البشر في أحسن حللها وأبهى صورها سواء ما كان منها في العبادات التي فصلها تفصيلا كاملا أو في المعاملات التي شملها هذا البيان الوافي بكل متطلبات البشر فمن هذه المعاملات التي بينها بيانا شافيا ما كان شائعا ومحببا للنفوس من التجارة والحصول على أغلى الأثمان في بيعهم وشرائهم. لهذا ترى بعض أصحاب السلع يحبون أن تظهر سلعهم بأجمل صورة لعلها تلفت نظر المشتري إليها فيحصلون منها على ربح كثير وقيمة كبيرة مقابل هذا المنظر ولو بالمخادعة لحب المال وزيادته ولما كان الغش محرما في الشريعة الإسلامية منع الشارع الحكيم من كل أنول الغش سواء كان في الحيوان أو في الطعام أو في المكيال أو الميزان أولا غير ذلك من جميع أنواع المعاملات ولهذا قال رسول الله
--------------------------------------------
ইবাদত এবং মুয়ামালাত (লেনদেন)-এর ক্ষেত্রে নবী (সা.)-এর ফয়সালা মেনে চলা আবশ্যক এবং তাঁর হুকুমের বাইরে যাওয়া বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা ঐ ব্যক্তির ঈমান অস্বীকার করেছেন, যে তাঁর রাসূল (সা.)-এর ফয়সালার ব্যাপারে নিজের মনে সংকীর্ণতা অনুভব করে। অথচ তিনি আমাদের নিজেদের চেয়েও আমাদের প্রতি বেশি দয়ালু এবং আমাদের কষ্ট বা দুর্দশা তাঁর নিকট অত্যন্ত পীড়াদায়ক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ} ১ এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর নিকট দুঃসহ। তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়} ২। উম্মতের প্রতি তাঁর মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, তাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছু তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, চাই তা ইবাদত হোক কিংবা মুয়ামালাত। তিনি উম্মতের প্রতি দয়া ও অনুকম্পাবশত যাবতীয় সমস্যার সমাধান এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা যথেষ্ট ও সন্তোষজনক। কেনই বা তিনি উম্মতের সমস্যার সমাধান করবেন না, যেখানে তিনি (সা.) বলেছেন: "এমন কোনো বিষয় অবশিষ্ট নেই যা তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে, অথচ তা তোমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়নি" ৩। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের এই স্পষ্ট বর্ণনা ও ব্যাখ্যা বিশ্বকে এই বিস্ময়কর বিশ্বজনীন শরিয়ত ৪ সম্পর্কে হতভম্ব, বিস্মিত এবং চিন্তামগ্ন করে দিয়েছে। এর শিক্ষা মানুষের সকল প্রয়োজনকে পরিব্যাপ্ত করেছে, এমনকি সেই অতি সাধারণ বিষয়গুলোকেও, যা কেউ কেউ তাদের বিচারবুদ্ধির সংকীর্ণতার কারণে তুচ্ছ মনে করতে পারে। ইসলামে তুচ্ছ বা বর্জনীয় কিছু থাকা অসম্ভব। বরং এই আসমানি দ্বীন একজন মুসলিমের ব্যক্তিগত জীবন, তার পরিবার বা সমাজ সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে এক বিস্ময়কর ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা পূর্ণতা ও সমাপ্তির চরম শিখরে পৌঁছেছে {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} ৫।
সুতরাং আল্লাহর প্রশংসা সেই নিআমতের জন্য, যা সকল নিআমতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও অতি মহৎ; আর তা হলো এই পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক দ্বীন ইসলাম। এর শিক্ষা মানুষের সকল প্রয়োজনকে সর্বোত্তম পন্থায় ও উজ্জ্বলতম রূপে ধারণ করেছে; চাই তা ইবাদতের ক্ষেত্রে হোক—যা তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, কিংবা মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে—যাতে মানুষের সকল চাহিদার পর্যাপ্ত বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এইসব মুয়ামালাতের মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা তিনি সন্তোষজনকভাবে বর্ণনা করেছেন, যেমন মানুষের মাঝে প্রচলিত ও পছন্দনীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মূল্য অর্জন। এই কারণে কিছু পণ্য বিক্রেতাকে দেখা যায় যারা চায় তাদের পণ্যগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে, যাতে ক্রেতার নজর কাড়া যায় এবং সেই বাহ্যিক রূপের বিনিময়ে অধিক মুনাফা ও চড়া দাম পাওয়া যায়; এমনকি সম্পদের লোভ ও তা বৃদ্ধির নেশায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হলেও। যেহেতু ইসলামি শরিয়তে প্রতারণা হারাম, তাই প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা সকল প্রকার প্রতারণা নিষিদ্ধ করেছেন; চাই তা পশু বিক্রিতে হোক, খাদ্যে হোক, মাপে হোক কিংবা ওজনে হোক অথবা অন্য যেকোনো প্রকার লেনদেনে হোক। এই লক্ষ্যেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১১)
صلى الله عليه وسلم: "منْ غشنا فليس منا" 1 وذلك لما في الغش من الضرر على المجتمع ومن أنواع الغش الذي كان شائعا "التصرية" فقد يترك صاحب الإبل أو الغنم أو البقر إبله أو غيرها اليوم واليومين بدون حلب حتى يكثر لبنها ويراها المشتري وقد امتلأ ضرعها باللبن فيظن أن هذا من عادتها فيزيد في ثمنها رغبة في لبنها فإذا حلبها وجدها على خلاف ما ظهر له منها فهنا جعل النبي صلى الله عليه وسلم هذا المشتري حلا، وخلاصا من هذا الغش الذي وقم فيه وهو أنه إذا حلبها مخير بين إمساكها أو ردها ومعها صاعا من تمر بدل ذلك اللبن الذي استهلكه من هذه الناقة أو البقرة أو الشاة وقد يقول قائل لماذا لا يكون اللبن للمشتري ويرد الشاة بدون عوض صاع تمر مقابل اللبن لأنه وجد فيها عيبا فكان الأولى أن ترد بدون مقابل لذلك اللبن المحلوب لوجود العيب والغش كسائر العيوب.
الجواب عن هذا وإن كنت لم أر من قال به من العلماء أنه قد يوجد بعض الخداعين والمكارين وضعاف النفوس يشتري الناقة أو الشاة أو البقرة وهو يريد لبنها الموجود في ضرعها حال البيع ولا رغبة له في اقتنائها فإذا استهلك ما في ضرعها من لبن أدعى بأن فيها عيبا وهو التصرية فيفوت على صاحبها لبنها ويسترد ما دفع فيها كاملا فجعل النبي صلى الله عليه وسلم هذا القيد إن كان صادقا بأنها مصراة والتصرية عيب فليدفع بدل اللبن الذي استهلكه صاعا من طعام حتى يرتدع أهل الفسق والتلاعب عن فسقهم وتلاعبهم بالسلع وأهلها وهذا فصلا لهذه القضية حتى لا يكون هناك خلاف بين المتبايعين يؤدي إلى الخصام والنزل فحكم النبي الذي لا ينطق عن الهوى بحكمه العدل حتى لا يدع مجالا للأخذ والإعطاء والخصام والنزاع لأنه لو ترك ذلك للاجتهاد والأخذ والإعطاء لأدى ذلك إلى الخصام الطويل والنزاع المستمر لتفاوت ألبان اِلإبل والغنم والبقر فقد يقول البائع أن اللبن الذي حلب أكثر من صاعين وقد يقول المشتري بأنه أقل من نصف صاع فيحصل من أجل ذلك الشجار والدعاوي الزيادة فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها بهذا القضاء قطعا للخصام والشجار بقضاء لا يوجد أعدل منه ولا أحسن منه ولم يترك ذلك لقول فلان أو علان فالحمد لله على هذه النعمة نعمة الإسلام التي بينت وكفت وشفت هذا ولما كان حديث المصراة قد ورد بألفاظ مختلفة وفي بعضها زيادة على بعض وبني من أجل هذه الزيادة حكم جمعت كل نوع منها على حدة فقد ورد الحديث بلفظ التمر وبلفظ الطعام وبلفظ خيار ثلاثة أيام فجعلت مباحثه كالآتي:
1- مبحث ألفاظه بالتمر.
2- مبحث ألفاظه بالطعام.
3- مبحث مدة الخيار.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" ১ আর এটি এ কারণে যে, প্রতারণার ফলে সমাজে ক্ষতি সাধিত হয়। প্রচলিত প্রতারণার প্রকারভেদগুলোর মধ্যে একটি হলো "তাসরিয়াহ (التصرية)"। এটি হলো যখন উট, ছাগল বা গরুর মালিক তার পশুটিকে একদিন বা দুইদিন দোহন না করে রেখে দেয়, যাতে দুগ্ধ বেশি জমা হয় এবং ক্রেতা এর ওলান দুগ্ধে পূর্ণ দেখে মনে করে যে, এটি পশুটির স্বভাবজাত বিষয়। ফলে সে দুধের আশায় অধিক মূল্য দিয়ে তা ক্রয় করে। কিন্তু যখন সে এটি দোহন করে, তখন সে পশুটিক তার নিকট যা প্রকাশ পেয়েছিল তার বিপরীত অবস্থায় পায়। এক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ক্রেতার জন্য এই প্রতারণা—যাতে সে পতিত হয়েছে—থেকে নিষ্কৃতি ও মুক্তির একটি পথ নির্ধারণ করেছেন। তা হলো—দোহন করার পর সে পশুটি রেখে দেওয়া বা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে ইখতিয়ার বা পছন্দ করার অধিকার (الخيار) লাভ করবে। তবে ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই উট, গরু বা ছাগলের নিঃশেষিত দুধের বিনিময়ে এক সা' খেজুর প্রদান করতে হবে। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে, কেন দুধ ক্রেতার হবে না এবং কেন সে কোনো বিনিময় অর্থাৎ এক সা' খেজুর ছাড়াই ছাগলটি ফেরত দেবে না? যেহেতু সে এতে ত্রুটি পেয়েছে, তাই অন্যান্য ত্রুটির মতোই এক্ষেত্রেও দোহনকৃত দুধের বিনিময়ে কিছু না দিয়ে কেবল পশুটি ফেরত দেওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত ছিল।
এই প্রশ্নের উত্তর হলো—যদিও আমি কোনো আলিমের নিকট থেকে এটি বলতে দেখিনি—তা হলো, কিছু ধূর্ত, প্রতারক ও দুর্বল চিত্তের মানুষ থাকতে পারে যারা কেবল বিক্রয়ের সময় পশুর ওলানে থাকা দুধটুকু পাওয়ার উদ্দেশ্যেই উট, ছাগল বা গরু ক্রয় করে, কিন্তু পশুটি লালন-পালন করার কোনো ইচ্ছা তাদের থাকে না। যখন সে ওলানের দুধটুকু নিঃশেষ করে ফেলে, তখন সে দাবি করে যে এতে ত্রুটি রয়েছে, যা হলো "তাসরিয়াহ (التصرية)"। ফলে মালিক তার দুধ থেকে বঞ্চিত হয় এবং ক্রেতা যা পরিশোধ করেছিল তা পূর্ণরূপে ফেরত নেয়। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, ক্রেতা যদি সত্যবাদী হয় যে এটি "তাসরিয়াহ (التصرية)" এবং এটি একটি ত্রুটি, তবে সে যেন নিঃশেষিত দুধের বিনিময়ে এক সা' খাদ্য প্রদান করে। যাতে পাপাচারী ও কারসাজিকারীরা তাদের পাপাচার এবং পণ্য ও তার মালিকদের নিয়ে খেলাধুলা করা থেকে বিরত থাকে। এটি এই সমস্যার একটি চূড়ান্ত ফয়সালা, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে এমন কোনো বিরোধ সৃষ্টি না হয় যা ঝগড়া ও বিবাদের দিকে নিয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, তিনি ইনসাফপূর্ণ বিধান দিয়েছেন যাতে বাদানুবাদ ও ঝগড়া-বিবাদের কোনো সুযোগ না থাকে। কারণ, যদি বিষয়টি ইজতিহাদ (اجتهاد) বা বাদানুবাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে উট, ছাগল ও গরুর দুধের পরিমাণের ভিন্নতার কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী বিবাদ ও নিরবচ্ছিন্ন ঝগড়ার দিকে নিয়ে যেত। বিক্রেতা হয়তো বলত যে, দোহনকৃত দুধ দুই সা'-এর বেশি ছিল, আবার ক্রেতা হয়তো বলত যে তা আধা সা'-এরও কম ছিল। ফলে এ কারণে ঝগড়া ও দুধের পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে বাদানুবাদের সৃষ্টি হতো। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ফয়সালা প্রদানের মাধ্যমে বিবাদ ও ঝগড়ার অবসান ঘটিয়েছেন এমন এক বিধানের মাধ্যমে যার চেয়ে অধিক ন্যায়সংগত ও সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। তিনি বিষয়টি অমুক বা তমুকের কথার ওপর ছেড়ে দেননি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, ইসলামের এই নেয়ামতের জন্য যা সব বিষয় সুস্পষ্ট করেছে, যথেষ্ট করেছে এবং নিরাময় দান করেছে। যেহেতু মুসাররাহ (مصراة) সম্পর্কিত হাদিস বিভিন্ন শব্দাবলি (ألفاظ) সহকারে বর্ণিত হয়েছে এবং কোনোটিতে অন্যের চেয়ে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, আর এই অতিরিক্ত অংশের ওপর ভিত্তি করে বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই আমি প্রত্যেক প্রকারকে আলাদাভাবে সংকলন করেছি। হাদিসটি খেজুর শব্দে, খাদ্য শব্দে এবং তিন দিনের ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকার (الخيار) শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তাই আমি এর আলোচনাগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সাজিয়েছি:
1- খেজুর শব্দে বর্ণিত শব্দাবলি (ألفاظ) সংক্রান্ত আলোচনা।
2- খাদ্য শব্দে বর্ণিত শব্দাবলি (ألفاظ) সংক্রান্ত আলোচনা।
3- ইখতিয়ার বা পছন্দের (الخيار) সময়সীমা সংক্রান্ত আলোচনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১২)
- مبحث خلاف العلماء في المسألة.
5- مبحث هل يتعدى حكم المصراة إلى غير الإبل والغنم.
6- مبحث هل يلزم التمر أو يجوز غيره.
علما بأنني قد ذكرت طرق الحديث ومن روي عنه من الصحابة وخرجتها من مصادرها وذكرت ما قيل فيها من تصحيح أو تضعيف. والله أسأل أن ينفع به كاتبه وقارئه
… وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
মাসআলাটি নিয়ে আলেমগণের মতভেদের অধ্যায়।
৫- মুসাররাহ (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা) সংক্রান্ত বিধান উট ও বকরি ব্যতীত অন্য পশুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, সেই বিষয়ক আলোচনা।
৬- (ক্ষতিপূরণ হিসেবে) খেজুর প্রদানই কি আবশ্যক নাকি অন্য কিছুও বৈধ হবে, সেই বিষয়ক আলোচনা।
জ্ঞাতব্য যে, আমি এখানে হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) এবং যে সকল সাহাবি (الصحابة) হতে তা বর্ণিত হয়েছে তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি। আমি হাদিসগুলো এগুলোর মূল উৎস হতে উদ্ধার করেছি এবং এগুলোর বিশুদ্ধ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) কিংবা দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف) বিষয়ে যা কিছু বলা হয়েছে তাও উল্লেখ করেছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখক ও পাঠক উভয়কে এর দ্বারা উপকৃত করেন... এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১২)
حديث المصراة رواية ودراية…حديث المصراة رواية من رواه بلفظ التمر
قال الإمام البخاري- رحمه الله تعالى-:
1_حدثنا ابن بكير، حدثنا الليث، عن جعفر بن ربيعة، عن الأعرج، قال أبو هريرة رضي الله عنه، عن النبي فصلى الله عليه وسلم: "لا تصروا1 الإبل والغنم فمن ابتاعها بعد فإنه بخير النظرين بعد أن يحتلبها إن شاء أمسك وإن شاء ردها وصاع تمر"، وبذكر عن أبي صالح2
--------------------------------------------
মুসাররাত (مصراة) সম্পর্কিত হাদিস: বর্ণনা ও বিশ্লেষণ...মুসাররাত (مصراة) সম্পর্কিত হাদিস: যারা এটি খেজুরের শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন তাদের বর্ণনা
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
১_আমাদের নিকট ইবনে বুকাইর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি জাফর ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা উট ও ছাগলের ওলানে দুধ জমিয়ে রেখো না (لا تصروا)। যদি কেউ এরপর এমন পশু ক্রয় করে, তবে দোহন করার পর তার জন্য দুটি বিকল্পের মধ্যে উত্তমটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে; যদি সে পছন্দ করে তবে তা রেখে দেবে, আর যদি অপছন্দ করে তবে তা ফেরত দেবে এবং সাথে এক সা' খেজুর প্রদান করবে।" আর এটি আবু সালিহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومجاهد1، والوليد بن رباح2 وموسى بن يسار3 عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: "وصاع تمر". وقال بعضهم عن ابن سيرين "وصاعا من طعام وهو بالخيار ثلاثا"، وقال بعضهم عن ابن سيرين "وصاعا من تمر "ولم يذكر ثلاثا "والتمر" أكثر4.
2- وقال البخاري أيضاً حدثنا عبد الله بن يوسف أخبرنا مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن "أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تلقوا الركبان ولا يبيع بعضكم على بيع بعض، ولا تناجشوا ولا يبيع حاضرة لباد، ولا تصروا الغنم، ومن ابتاعها فهو بخير النظرين بعد أن يحلبها إن رضيها أمسكها وإن سخطها ردها وصاعا من تمر" 5.
3- وقال أيضاً حدثنا محمد بن عمرو حدثنا المكي أخبرنا ابن جريج أخبرني زياد أن ثابتا مولى عبد الرحمن بن زيد أخبره أنه سمع أبا هريرة رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من اشترى غنما مصراة فاحتلبها، فإن رضيها أمسكها، وإن سخطها ففي حلبتها
--------------------------------------------
এবং মুজাহিদ১, ওয়ালিদ ইবনে রাবাহ২ এবং মুসা ইবনে ইয়াসার৩ আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "এবং এক সা' খেজুর।" তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন: "এবং এক সা' খাদ্যশস্য এবং সে তিন দিন পর্যন্ত ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ পাবে", আবার কেউ কেউ ইবনে সিরিন থেকে "এবং এক সা' খেজুর" বর্ণনা করেছেন এবং তারা তিন দিনের কথা উল্লেখ করেননি। আর "খেজুর" সংক্রান্ত বর্ণনাটিই অধিক প্রচলিত৪।
২- ইমাম বুখারি আরও বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, তিনি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা (পণ্য ক্রয়ের উদ্দেশ্যে) কাফেলার সাথে অগ্রিম সাক্ষাৎ করো না, তোমাদের কেউ যেন অন্যের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা না করে, তোমরা দালালি বা কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধি করো না, কোনো শহরবাসী যেন কোনো গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি না করে এবং তোমরা ছাগলের ওলানে দুধ জমিয়ে রেখো না। যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, দুধ দোহন করার পর তার জন্য দুটি উত্তম পথ খোলা থাকবে: যদি সে সন্তুষ্ট হয় তবে তা রেখে দেবে, আর যদি অসন্তুষ্ট হয় তবে তা ফেরত দেবে এবং সাথে এক সা' খেজুর প্রদান করবে" ৫।
৩- তিনি আরও বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মক্কি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে জুরাইজ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যিয়াদ যে, আবদুর রহমান ইবনে যায়েদের মুক্তদাস সাবিত তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা ছাগল ক্রয় করল এবং তার দুধ দোহন করল, অতঃপর যদি সে সন্তুষ্ট হয় তবে তা রেখে দেবে, আর যদি অসন্তুষ্ট হয় তবে তার দুধ দোহনের বিনিময়ে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صاع من تمر" 1.
4- وقال مسلم في صحيحه: حدثنا محمد بن رافع حدثنا عبد الرزاق حدثنا معمر عن همام بن منبه قال: هذا ما حدثنا أبو هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكر أحاديث منها وقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا ما أحدكم اشترى لقحة2 مصراة أو شاة فهو بخير النظرين بعد أن يحلبها إما هي وإلا فليردها وصاعا من تمر" 3.
5- وقال أيضاً حدثنا ابن أبي عمر حدثنا سفيان عن أيوب عن محمد عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من اشترى شاة مصراة فهو بخير النظرين إن شاء أمسكها وإن شاء ردها وصاعا من تمر لا سمراء" 4.
رواية أنس بن مالك لحديث المصراة
6- قال أبو يعلي حدثنا حميد بن مسعدة السامي حدثنا عرعرة بن البرند حدثنا إسماعيل المكي، عن الحسن عن أنس قال صلى الله عليه وسلم: " لا تلامسوا5 ولا تناجشوا6 ولا تبايعوا الغرر7، ولا يبيعنَّ حاضر لباد، ومن اشترى محفلة8 فليحلبها ثلاثة أيام فإن ردها فليردها بصاع من تمر" 9.
--------------------------------------------
১.
৪- ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে রাফে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মা'মার বর্ণনা করেছেন হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটিই সেই হাদিস যা আবু হুরায়রা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি অনেকগুলো হাদিস উল্লেখ করেন যার মধ্যে ছিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ এমন কোনো দুগ্ধবতী উট বা বকরি ক্রয় করে যার ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা হয়েছে, তবে সে দোহন করার পর দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে উত্তমটি গ্রহণের অধিকারী হবে; যদি সে তা পছন্দ করে তবে রাখবে, অন্যথায় তা ফেরত দিবে এবং সাথে এক সা' খেজুর দিবে।" ৩।
৫- তিনি আরও বলেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন বকরি ক্রয় করে যার ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা হয়েছে, সে দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে উত্তমটি গ্রহণের অধিকারী; চাইলে সে তা রাখবে, আর চাইলে তা ফেরত দিবে এবং সাথে এক সা' খেজুর দিবে যা গমের বিনিময়ে নয়।" ৪।
মুসরাত সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে আনাস বিন মালিকের বর্ণনা
৬- আবু ইয়ালা বলেছেন, আমাদের নিকট হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ আস-সামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আরআরাহ ইবনুল বারান্দ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসমাইল আল-মাক্কি বর্ণনা করেছেন হাসান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা একে অপরকে স্পর্শ করার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করো না, দালালি বা কৃত্রিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি করো না, ধোঁকামূলক লেনদেন করো না এবং কোনো শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি না করে। আর যে ব্যক্তি ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা পশু ক্রয় করে, সে যেন তিন দিন পর্যন্ত তা দোহন করে; এরপর যদি সে তা ফেরত দিতে চায় তবে এক সা' খেজুরসহ যেন তা ফেরত দেয়।" ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رواية ابن عمر
7- قال الدارقطني: ثنا يحي بن صاعد نا سوار بن عبد الله العنبري، نا معتمر بن سليمان عن ليث عن مجاهد عن ابن عمر وأبي هريرة رفعا الحديث قال: "لا يبيع حاضر لباد، ولا تلقوا السلع1 بأفواه الطرق ولا تناجشوا، ولا يسم2 الرجل على سوم أخيه ولا يخطب على خطبة أخيه حتى ينكح أو يرد، ولا تسأل المرأة طلاق أختها لتكتفيء ما في صحفتها فإنما لها ما كتب لها ولا تبيعوا المصراة من الإبل والغنم فمن اشتراها فهو بالخيار إن شاء ردها وصاعا من تمر، والرهن مركوب ومحلوب" 3.
رواية عمر بن عوف المزني لحديث المصراة
8- وقال أيضاً حدثنا أبو طالب علي بن محمد بن أحمد بن الجهم، نا علي بن يزيد الفرائضي، نا الحنيني إسحاق بن إبراهيم، نا كثير بن عبد الله على أبيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا جلب4 ولا جنب5 ولا اعتراض6ولا يبيع حاضر لباد، ولا تصروا
--------------------------------------------
ইবনে উমরের বর্ণনা
৭- আদ-দারাকুতনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সা’ঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনবারি থেকে, তিনি মুতামির ইবনে সুলায়মান থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফূ (رفعًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কোনো শহরবাসী যেন কোনো গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি না করে, আর তোমরা কাফেলার সাথে পথের মুখে সাক্ষাৎ করো না, আর তোমরা দালালি বা কৃত্রিম দাম বৃদ্ধি (নাজাশ) করো না। কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দরদামের উপর দরদাম না করে এবং তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না সে বিবাহ করে অথবা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। আর কোনো নারী যেন তার অন্য বোন (সতীন)-এর তালাক প্রার্থনা না করে যাতে তার পাত্রে যা আছে তা সে নিজের করে নিতে পারে, কারণ তার জন্য তা-ই নির্ধারিত যা তার ভাগ্যে লেখা আছে। আর তোমরা উট ও বকরিকে মুসাররাত (ওলানে দুধ জমিয়ে প্রতারণা) করো না; সুতরাং যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে তার ইখতিয়ার থাকবে—যদি সে চায় তবে তা রেখে দেবে, আর চাইলে এক সা’ খেজুরসহ তা ফেরত দেবে। আর বন্ধকী পশু আরোহণ করা যাবে এবং তার দুধ দোহন করা যাবে।" ৩।
মুসাররাত এর হাদীস সম্পর্কে উমর ইবনে আউফ আল-মুযানী-র বর্ণনা
৮- এবং তিনি আরও বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু তালিব আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল জাহাম, তিনি আলী ইবনে ইয়াযিদ আল-ফারায়েযি থেকে, তিনি আল-হুনায়নি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তার পিতার সূত্রে, তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জলাব (جلب) নেই, জানাব (جنب) নেই, এবং ই’তিরাদ (اعتراض) নেই। আর কোনো শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি না করে এবং তোমরা ওলানে দুধ জমিয়ে রেখো না (মুসাররাত করো না)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الإبل والغنم، فمن ابتاعها بعد ذلك فهو إذا حلبها بخير النظرين، إن رضيها أمسكها وإن سخط ردها وصاعا من تمر"
تابعه عاصم بن عبيد الله عن سالم عن ابن عمر في المصراة
حدث عنه داود بن عيسى1 وقال الحسن بن عمارة عن الحكم عن ابن أبي ليلى عن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم2 وقال أبو شيبة عن أبي هريرة3 وقال شعبة عن رجل من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم4.
9- وقال البخاري حدثنا مسدد حدثنا معتمر قال: سمعت أبي يقول حدثنا أبو عثمان عن عبد الله ابن مسعود رضي الله عنه قال: "من اشترى في شاة محفلة فردها فليرد معها صاعا من تمر" 5.
رواية حديث المصراة بلفظ الطعام
1- قال مسلم: حدثنا محمد بن عمر بن جبلة ابن أبي روّاد حدثنا أبو عامر العقدي حدثنا قرد عن محمد عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من اشترى شاة مصراة فهو بالخيار ثلاثة أيام فإن ردها رد معها صاعا من طعام لا سمراء" 6.
--------------------------------------------
উট এবং বকরি; সুতরাং যে ব্যক্তি এর পরে তা ক্রয় করবে, সে দোহনের পর দুটি বিষয়ের মধ্যে উত্তমটি গ্রহণ করার এখতিয়ার পাবে; যদি সে সন্তুষ্ট হয় তবে রেখে দেবে, আর যদি অসন্তুষ্ট হয় তবে তা ফেরত দেবে এবং সাথে এক 'সা' খেজুর প্রদান করবে।"
আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ 'মুসাররাহ' (দুগ্ধ জমা করে রাখা পশু) সংক্রান্ত হাদিসে সালিমের মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে এর অনুসরণ (تابعه) করেছেন।
তাঁর থেকে দাউদ ইবনে ঈসা ১ বর্ণনা করেছেন; হাসান ইবনে আম্মারা হাকাম থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আলী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ২ বর্ণনা করেছেন। আবু শাইবাহ্ আবু হুরায়রা থেকে ৩ বর্ণনা করেছেন এবং শু'বাহ্ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে ৪ বর্ণনা করেছেন।
৯- ইমাম বুখারি বলেন, মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মু'তামির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আবু উসমান আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো 'মুহাফফালাহ' (ওলানে দুধ জমানো) বকরি ক্রয় করে এবং তা ফেরত দিতে চায়, তবে সে যেন তার সাথে এক 'সা' খেজুর ফেরত দেয়।" ৫।
'ত্বআম' (খাদ্যদ্রব্য) শব্দসহযোগে মুসাররাহ্ সংক্রান্ত হাদিসের বর্ণনা
১- ইমাম মুসলিম বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে জাবালা ইবনে আবি রাওয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আল-আকদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ক্বুররাহ্ মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসাররাহ্ বকরি ক্রয় করবে সে তিন দিন পর্যন্ত এখতিয়ারপ্রাপ্ত হবে; যদি সে তা ফেরত দেয় তবে তার সাথে এক 'সা' খাদ্যদ্রব্য প্রদান করবে, গম নয়।" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2- وقال أحمد: حدثنا عبد الواحد عن عوف عن خلاس بن عمرو ومحمد بن سيرين عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من اشترى لقحة أو شاة مصراة فحلبها فهو بأحد النظرين بالخيار إلى أن يحوزها أو يردها وإناء من طعام" 1.
3- وقال الإمام أحمد حدثنا محمد بن جعفر، ثنا شعبة عن طلحة قال سمعت ابن أبي ليلى يحدث عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يتلقى جلب ولا بيع حاضر لباد ومن اشترى شاة مصراة أو ناقة فهو بآخر النظرين إذا هو حلب إن ردها رد معها صاعا من طعام قال الحكم أو صاعا من تمر" 2.
4- وقال أبو داود: حدثنا أبو كامل، حدثنا عبد الواحد حدثنا صدقة ابن سعيد عن جميع بن عمير التيمي، قال: سمعت عبد الله بن عمر يقول: قال رسوِل الله صلى الله عليه وسلم: "من ابتاع محفلة فهو بالخيار ثلاثة أيام فإن ردها رد معها مثل أو مثلى لبنها قمحاَ" 3.
أما روايات الخيار بثلاثة أيام
1- ففي صحيح مسلم من رواية أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من ابتاع شاة مصراة فهو فيها بالخيار ثلاثة أيام إن شاء أمسكها وإن شاء ردها ورد معها صاعا من تمر" 4
2- وعنده أيضاً عن ابن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من اشترى شاة مصراة فهو بالخيار ثلاثة أيام فإن ردها رد معها صاعا من طعام لا سمراء" 5.
--------------------------------------------
২- এবং ইমাম আহমদ বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন আওফ থেকে, তিনি খালাস ইবনে আমর ও মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তারা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো দুধেল উষ্ট্রী অথবা মুসাররাহ (مصراة - ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা হয়েছে এমন) ছাগল ক্রয় করল এবং তার দুধ দোহন করল, সে দুইটি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার (بالخيار) লাভ করবে; হয় সে তা নিজের কাছে রেখে দিবে অথবা তা ফেরত দিবে এবং সাথে এক পাত্র খাদ্য প্রদান করবে।" ১।
৩- এবং ইমাম আহমদ বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি লায়লাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বাজারে পৌঁছানোর আগে পণ্য ক্রয় করার জন্য এগিয়ে যাবে না এবং শহরের কোনো ব্যক্তি গ্রামের কোনো ব্যক্তির পক্ষ হয়ে বিক্রি করবে না। আর যে ব্যক্তি মুসাররাহ (مصراة) ছাগল বা উষ্ট্রী ক্রয় করবে, সে দুধ দোহনের পর দুইটির মধ্যে পরবর্তী বিষয়ের ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার (بالخيار) পাবে; যদি সে তা ফেরত দেয়, তবে তার সাথে এক সা' পরিমাণ খাদ্য প্রদান করবে।" হাকাম বলেন, "অথবা এক সা' পরিমাণ খেজুর।" ২।
৪- এবং আবু দাউদ বলেন: আমাদের নিকট আবু কামিল বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন, সাদাকাহ ইবনে সাঈদ জামি' ইবনে উমাইর আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন প্রাণী (যার ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা হয়েছে) ক্রয় করবে, সে তিন দিনের ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার (بالخيار) পাবে। যদি সে তা ফেরত দেয়, তবে তার সাথে তার দুধের সমপরিমাণ বা দ্বিগুণ পরিমাণ গম প্রদান করবে।" ৩।
তিন দিনের ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার (بالخيار) সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো:
১- সহিহ মুসলিম-এ আবু সালেহ থেকে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসাররাহ (مصراة) ছাগল ক্রয় করল, সে এ বিষয়ে তিন দিনের ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার (بالخيار) পাবে; সে চাইলে তা রেখে দিতে পারে অথবা চাইলে তা ফেরত দিতে পারে এবং সাথে এক সা' পরিমাণ খেজুর প্রদান করবে।" ৪
২- এবং তাঁর নিকট ইবনে সিরিন থেকে আবু হুরায়রা সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসাররাহ (مصراة) ছাগল ক্রয় করল, সে তিন দিনের ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার (بالخيار) পাবে; যদি সে তা ফেরত দেয়, তবে সাথে এক সা' পরিমাণ খাদ্য প্রদান করবে, উন্নত মানের গম (سمراء) নয়।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3- وأخرج أبو داود وابن ماجة عن جميع بن عمير التيمي قال: سمعت عبد الله بن عمر يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من ابتاع محفلة فهو بالخيار ثلاثة أيام فإن ردها رد معها مثل أو مثلى لبنها قمحاً" 1.
4- وأخرت البخاري في التاريخ الكبير عن عبد الله بن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من اشترى شاة لدرتها حلبها ثلاثة أيام فهو بالخيار إن شاء أمسك وإلا رد صاعا من تمر" 2.
5- وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تلامسوا ولا تناجشوا ولا تبايعوا الغرر ولا يبيعن حاضر لباد ومن اشترى محفلة فليحلبها ثلاثة أيام فإن ردها فليردها بصاع من تمر" 3.
هذه روايات الخيار في الحديث
وقال الخطابي وقد أخذ كل واحد من مالك، وأبي حنيفة بطرف من الحديث وترك الطرف الآخر، فقال أبو حنيفة لا خيار أكثر من ثلاث واحتج بهذا الحديث ولم يقل برد الصاع وقال مالك برد الصاع ولم يأخذ بالتوقيف في خيار الثلاث وصار إلى أن يرد متى وقف على العيب كان ذلك بعد الثلاث أو قبلها فكان أصح المذاهب قول من استعمل الحديث على وجهه وقال بجملة ما فيه4.
ثم قال: وقاد اختلف الناس في مدة الخيار المشروط في البيعَ فقال أبو حنيفة لا يجوز أكثر من ثلاث وهو قول الشافعي.
وقال ابن أبي ليلى، وأبو يوسف، ومحمد قليله وكثيره جائز.
وقال مالك: هو على قدر الحاجة إليه فخيار الثوب يوم ويومان. وفي الحيوان أسبوع ونحوه، وفي الدور شهر وشهران وفي الضيعة سنة ونحوها5.
قال الباجي في الخيار وقوله صلى الله عليه وسلم: " فهو بخير النظرين بعد أن يحلبها " قال محمد له الرد بعد أن يحلب مرتين فإن حلب ثلاثا لزمته وقال ابن القاسم لما سئل أيردها بعد الثالثة إذا رأىَ من ذلك ما يعلم أنه قد اختبرها قبل ذلك فما حلب بعد ذلك منع الرد، قال القاضي أبو الوليد رضي الله عنه والأظهر عندي إنه يكون الخيار بعد الثلاثة6.
--------------------------------------------
৩- আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ জামি' ইবনে উমাইর আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুহাফফালাহ (দুধ জমিয়ে রাখা পশু) ক্রয় করে, সে তিন দিন পর্যন্ত ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) পাবে। যদি সে তা ফেরত দেয়, তবে তার সাথে তার দুধের সমপরিমাণ বা দ্বিগুণ পরিমাণ গম ফেরত দিবে।" ১।
৪- ইমাম বুখারি আত-তারিখুল কবির-এ আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুধ দোহনের জন্য কোনো বকরি ক্রয় করে তিন দিন পর্যন্ত তার দুধ দোহন করল, সে ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) পাবে; যদি সে চায় তবে তা রেখে দিবে, আর না চাইলে এক সা' খেজুরসহ ফেরত দিবে।" ২।
৫- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুলামাসাহ (স্পর্শের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়) করো না, নাজাশ (প্রতারণামূলক দাম বৃদ্ধি) করো না, অনিশ্চয়তাযুক্ত (الغرر) ক্রয়-বিক্রয় করো না এবং কোনো শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি না করে। আর যে ব্যক্তি মুহাফফালাহ (দুধ জমিয়ে রাখা পশু) ক্রয় করল, সে যেন তিন দিন পর্যন্ত তার দুধ দোহন করে। অতঃপর যদি সে তা ফেরত দিতে চায়, তবে এক সা' খেজুরসহ যেন তা ফেরত দেয়।" ৩।
হাদিসে ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো এগুলিই।
খাত্তাবি বলেছেন, মালেক ও আবু হানিফা উভয়েই হাদিসের একাংশ গ্রহণ করেছেন এবং অন্য অংশ বর্জন করেছেন। আবু হানিফা বলেছেন, তিন দিনের বেশি ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) জায়েজ নেই এবং তিনি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, কিন্তু এক সা' খেজুর ফেরত দেওয়ার কথা বলেননি। অন্যদিকে মালেক এক সা' খেজুর ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন কিন্তু তিন দিনের মেয়াদের ব্যাপারে হাদিসের সীমাবদ্ধতা গ্রহণ করেননি। তার মতে, যখনই দোষটি প্রকাশিত হবে তখনই ফেরত দেওয়া যাবে, চাই তা তিন দিন পর হোক বা আগে। সুতরাং সবচেয়ে সঠিক মাযহাব হলো ঐ ব্যক্তির বক্তব্য যিনি হাদিসটিকে তার সঠিক রূপে প্রয়োগ করেছেন এবং এতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবটুকুই গ্রহণ করেছেন। ৪।
অতঃপর তিনি বলেন: ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তযুক্ত ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগের (الخيار) মেয়াদের ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আবু হানিফা বলেছেন, তিন দিনের বেশি জায়েজ নেই, যা শাফেয়িরও অভিমত।
ইবনে আবি লাইলা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ বলেছেন, এর অল্প বা বেশি মেয়াদ উভয়ই জায়েজ।
মালেক বলেছেন: এটি প্রয়োজনের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল। যেমন কাপড়ের ক্ষেত্রে ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) এক বা দুই দিন; গবাদি পশুর ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ বা অনুরূপ; ঘরের ক্ষেত্রে এক বা দুই মাস এবং স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এক বছর বা অনুরূপ। ৫।
বাজি ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "দুধ দোহন করার পর সে দুটি সিদ্ধান্তের মধ্যে উত্তমটি গ্রহণ করবে" প্রসঙ্গে বলেছেন: মুহাম্মদ বলেছেন, দুই বার দুধ দোহন করার পর তা ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে, কিন্তু যদি তিন বার দোহন করে তবে তা রাখা আবশ্যক হয়ে যাবে। ইবনে কাসিমকে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো, তৃতীয় দোহনের পর কি তা ফেরত দেওয়া যাবে যদি দেখা যায় যে সে পশুটি পরীক্ষা করার জন্য দোহন করেছে? তিনি বললেন, এর পর যা দোহন করবে তা ফেরত দেওয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। কাজী আবু আল-ওয়ালিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার নিকট অধিক স্পষ্ট মত হলো যে, ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ (الخيار) তিন দিনের পর কার্যকর হবে। ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعند الحنابلة في الخيار قولان:
أحدهما: للقاضي وهو أن مدة الخيار مقيدة بثلاثة أيام ليس له الرد قبل مضيها ولا إمساكها بعدها وهذا القول لأحمد وأصحاب الشافعي.
القول الثاني: لأبي الخطاب وهو أنه متى ثبتت التصرية جاز له الرد قبل الثلاثة أو بعدها لأنه تدليس يثبت الخيار فملك الرد به إذا تبينه كسائر التدليس ثم قال وهذا قول ابن المنذر، وأبي حامد من أصحاب الشافعي وحكاه عَن الشافعي نصا لظاهر حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه يقتضي ثبوت الخيار في الأيام الثلاثة كلها وعلى قول القاضي: "لا يثبت الخيار في شيء منها وإنما يثبت عقبها وقول أبي الخطاب يسوي بين الأيام الثلاثة وبين غيرها والعمل بالخبر أولى، والقياس ما قال أبو الخطاب لأن الحكم كذلك في العيوب وسائر التدليس" 1.
وقال النووي في الروضة ويثبت به- أي تدليس التصرية- الخيار للمشتري وفي خياره وجهان أصحهما: أنه على الفور، والثاني: يمتد إلى ثلاثة أيام2.
ولعل الأرجح ما ذهب إليه القاضي والقول الثاني الذي ذكره النووي لأن صاحب الشاة أو الناقة قد ينكر أنها مصراة ولا يتضح أنها مصراة إلا بعد حلبها ثلاثة أيام كما هو نص الحديث والله تعالى أعلم.
"موقف العلماء من حديث المصراة"
اختلف العلماء من هذا الحديث في مسائل:
الأولى: حكم المصراة، الثانية: مده الخيار، وتقدمت في رواية الخيار بثلاثة أيام، الثالثة: هل يتعدى حكم المصراة إلى غير الإبل والغنم، الرابعة: هل يتعين الصاع من التمر أو تجوز قيمته وهل يجزئ غير التمر من أنواع الأطعمة الأخرى.
** المسألة الأولى: الأقوال في حكم المصراة **
القول الأول: أخذ بظاهر هذا الحديث:
جمهور أهل العلم وهو قول: "مالك، والشافعي، والليث بن سعد، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهوية، وأبي عبيد، وأبي ثور"3.
--------------------------------------------
হাম্বলি মাযহাবে ইখতিয়ার (الخيار) সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: কাজী (আবু ইয়ালা)-র অভিমত; আর তা হলো, ইখতিয়ারের (الخيار) মেয়াদ তিন দিন দ্বারা সীমাবদ্ধ। উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তা ফেরত দেওয়ার অধিকার নেই এবং সময় পার হওয়ার পর তা আটকে রাখারও অধিকার নেই। এই অভিমতটি ইমাম আহমদ এবং শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারীদের।
দ্বিতীয় অভিমতটি: আবুল খাত্তাবের। সেটি হলো, যখনই তাসরিয়াহ (التصرية) প্রমাণিত হবে, তখন তিন দিনের পূর্বে বা পরে তা ফেরত দেওয়া জায়েজ হবে। কারণ এটি একটি ধোঁকা (تدليس), যা ইখতিয়ার (الخيار) সাব্যস্ত করে। সুতরাং অন্য সব ধোঁকার (تدليس) মতোই তা স্পষ্ট হওয়ার পর ফেরত দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হয়। এরপর তিনি বলেন, এটি ইবনে মুনযির এবং শাফিয়ি অনুসারীদের মধ্যে আবু হামিদের অভিমত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ভিত্তিতে এটি ইমাম শাফিয়ি থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা এটি পুরো তিন দিন পর্যন্ত ইখতিয়ার (الخيار) সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে। কাজীর অভিমত অনুযায়ী: "ঐ দিনগুলোর কোনো অংশেই ইখতিয়ার (الخيار) সাব্যস্ত হয় না, বরং তা মেয়াদের পরেই সাব্যস্ত হয়।" আর আবুল খাত্তাবের মতটি তিন দিন এবং অন্যান্য দিনের মধ্যে সমতা রক্ষা করে। তবে খবরের (হাদিসের) ওপর আমল করাই অধিকতর উত্তম। আর কিয়াস (القياس) আবুল খাত্তাবের বক্তব্যের অনুকূলেই যায়, কারণ দোষ-ত্রুটি এবং অন্যান্য ধোঁকার (تدليس) ক্ষেত্রে বিধান এমনই হয়ে থাকে। ১।
ইমাম নববী 'রওদাহ' গ্রন্থে বলেন, এর মাধ্যমে—অর্থাৎ তাসরিয়াহর ধোঁকার (تدليس التصرية) কারণে—ক্রেতার জন্য ইখতিয়ার (الخيار) সাব্যস্ত হয়। তার এই ইখতিয়ারের (الخيار) ক্ষেত্রে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে; যার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) হলো: এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। দ্বিতীয়টি হলো: এর মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। ২।
সম্ভবত কাজী (আবু ইয়ালা)-র গৃহীত মত এবং ইমাম নববী উল্লিখিত দ্বিতীয় মতটিই অধিক অগ্রগণ্য (أرجح)। কারণ ছাগল বা উটের মালিক তা মুসাররাহ (مصراة) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করতে পারে এবং হাদিসের বর্ণনা (نص) অনুযায়ী তিন দিন দোহন করার পরেই কেবল তা মুসাররাহ (مصراة) কি না তা স্পষ্ট হয়। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
"মুসাররাহ (المصراة) সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের অবস্থান"
এই হাদিসের ভিত্তিতে ওলামায়ে কেরাম বেশ কিছু মাসআলায় মতভেদ করেছেন:
প্রথমত: মুসাররাহ (المصরাة)-র বিধান; দ্বিতীয়ত: ইখতিয়ারের (الخيار) মেয়াদ, যা তিন দিনের ইখতিয়ারের (الخيار) বর্ণনায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে; তৃতীয়ত: মুসাররাহ (المصراة)-র বিধান কি উট ও ছাগল ব্যতীত অন্য পশুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে; চতুর্থত: এক সা' খেজুর কি নির্দিষ্ট, নাকি এর মূল্য প্রদান করা জায়েজ এবং খেজুর ব্যতীত অন্য কোনো ধরনের খাবার পর্যাপ্ত হবে কি না।
** প্রথম মাসআলা: মুসাররাহ (المصراة)-র বিধান সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিমত **
প্রথম অভিমত: এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা:
এটি জমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরামের মত। আর এটি হলো: মালিক, শাফিয়ি, লাইস ইবনে সা'দ, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি, আবু উবাইদ এবং আবু সাওর-এর অভিমত। ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأفتى به ابن مسعود، وأبو هريرة، ولا مخالف لهما من الصحابة رضي الله عنهم وقال به من التابعين ومن بعدهم من لا يحصى عدده ولم يفرقوا بين أن يكون اللبن الذي احتلب قليلا أو كثيرا ولا بين أن يكون التمر قوت تلك البلد أم لا1.
القول الثاني: عدم الأخذ بالحديث وهو رأي الإمام أبي حنيفة وروى عن مالك، وقد اعتذروا عن عدم الأخذ به بأمور منها:
1- ما يرجع إلى راوي الحديث الذي هو أبو هريرة لأنه ليس بفقيه.
2- ما يعود إلى الحديث لأنه مضطرب.
3- معارضته للقرآن الكريم.
4- القول بنسخ الحديث.
5- أنه حديث مخالف لقياس الأصول المعلومة، وما كان كذلك لا يلزم العمل به- ثم قسمه ابن دقيق العيد إلى مقامين:
أما الأول: وهو أنه مخالف لقياس الأصول فمن وجوه:
أحدها: أن المعلوم من الأصول أن ضمان المثليات بالمثل وضمان المقومات بالقيم من النقدين وهاهنا إن كان اللبن مثليا كان ينبغي ضمانه بمثله لبنا وإن كان متقوما ضمن بمثله من النقدين وقد وقع هاهنا مضمونا بالتمر فهو خارج عن الأصلين جميعا.
الثاني: أن القواعد الكلية تقتضي أن يكون المضمون مقدر الضمان بقدر التالف وذلك مختلف فقدر الضمان لكنه قدر هاهنا بمقدار واحد وهو الصاع مطلقا فخرج عن القياس الكلي في اختلاف ضمان المتلفات باختلاف قدرها ووصفها.
الثالث: أن اللبن التالف إن كان موجودا عند العقد فقد ذهب جزء من المعقود عليه من أصل الخلقة وذلك مانع من الرد كما لو ذهب بعض أعضاء المبيع، ثم ظهر على عيب فإنه يمنع الرد وإن كان هذا اللبن حادثا بعد الشراء فقد حدث على ملك المشتري فلا يضمنه وإن كان مختلطا فما كان موجودا منه عند العقد منع الرد وما كان حادثا لم يجب ضمانه.
الرابع: إثبات الخيار ثلاثا من غير شرط نحالف للأصول فإن الخيارات الثابتة بأصل الشرع من غير شرط لا تتقدر بالثلاث كخيار العيب وخيار الرؤية عند من يثبته وخيار المجلس عند من يقول به.
الخامسة: يلزم من القول بظاهره الجمع بين الثمن والمثمن للبائع في بعض الصور وهو إذا ما كانت قيمة الشاة صاعا من تمر فإنها ترجع إليه مع الصاع الذي هو مقدار ثمنها.
--------------------------------------------
ইবনে মাসউদ এবং আবু হুরায়রা (রা.) এর উপর ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যে তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারী নেই। তাবিঈন (التابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরিদের মধ্যে অগণিত ব্যক্তি এই মত পোষণ করেছেন। তাঁরা দোহনকৃত দুধের পরিমাণ অল্প বা বেশি হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি এবং খেজুর সেই জনপদের প্রধান খাদ্য কি না তার মধ্যেও কোনো তারতম্য করেননি।১
দ্বিতীয় মত: হাদিসটি গ্রহণ না করা। এটি ইমাম আবু হানিফার অভিমত এবং ইমাম মালেক থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা হাদিসটি গ্রহণ না করার পেছনে বেশ কিছু কারণ দর্শিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১- হাদিসের বর্ণনাকারীর (راوي الحديث) দিকে প্রত্যাবর্তিত কারণ; যিনি হলেন আবু হুরায়রা, কেননা তিনি ফকিহ (فقيه) ছিলেন না।
২- হাদিসটির সাথে সংশ্লিষ্ট কারণ; কারণ এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ (مضطرب)।
৩- পবিত্র কুরআনের সাথে এর বৈপরীত্য।
৪- হাদিসটি রহিত (نسخ) হওয়ার অভিমত।
৫- এটি এমন একটি হাদিস যা সুনিশ্চিত উসূলের কিয়াসের (قياس الأصول) পরিপন্থী; আর যা এরূপ হয় তার ওপর আমল করা আবশ্যক নয়। অতঃপর ইবনে দাকীক আল-ঈদ বিষয়টিকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম পর্যায়: এটি উসূলের কিয়াসের পরিপন্থী হওয়ার দিকগুলো হলো:
প্রথমত: উসূলের স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হলো সমজাতীয় বস্তুর (مثليات) ক্ষতিপূরণ সমজাতীয় বস্তু দ্বারা এবং মূল্যমানভিত্তিক বস্তুর (مقومات) ক্ষতিপূরণ স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রার বিনিময় মূল্যের মাধ্যমে দিতে হয়। এখানে যদি দুধ সমজাতীয় বস্তু হয়, তবে তার ক্ষতিপূরণ সমপরিমাণ দুধের মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিল। আর যদি তা মূল্যমানভিত্তিক বস্তু হতো, তবে মুদ্রার মাধ্যমে বিনিময় প্রদান করা হতো। কিন্তু এখানে ক্ষতিপূরণ খেজুরের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে, যা উভয় উসূলেরই বহির্ভূত।
দ্বিতীয়ত: সার্বজনীন নীতিমালা (القواعد الكلية) দাবি করে যে, বিনষ্ট মালের ক্ষতিপূরণ বিনষ্টকৃত পরিমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, ফলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবে। কিন্তু এখানে ক্ষতিপূরণকে সাধারণভাবে এক সা (صاع) হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; যা বিনষ্ট মালের পরিমাণ ও গুণগত পার্থক্যের কারণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণে ভিন্নতা আসার সার্বজনীন কিয়াসের (القيাস الكلي) পরিপন্থী।
তৃতীয়ত: বিনষ্ট হওয়া দুধ যদি চুক্তির সময় বিদ্যমান থেকে থাকে, তবে চুক্তিকৃত বিষয়ের একটি অংশ তার মূল গঠন থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা পণ্য ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক; যেমন বিক্রয়কৃত পণ্যের কোনো অঙ্গহানি হওয়ার পর তাতে দোষ (عيب) প্রকাশ পেলে তা ফেরত দেয়া যায় না। আর যদি এই দুধ ক্রয়ের পর সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে তা ক্রেতার মালিকানাধীন অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে, ফলে এর বিনিময় দেয়া আবশ্যক নয়। আর যদি তা মিশ্রিত হয়, তবে চুক্তির সময় যা বিদ্যমান ছিল তা ফেরত প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে এবং যা পরে সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়া আবশ্যক হবে না।
চতুর্থত: কোনো শর্ত ছাড়াই তিন দিনের ইখতিয়ার (خيار) বা সুযোগ সাব্যস্ত করা উসূলের পরিপন্থী। কারণ শর্তহীনভাবে শরীয়তের মূল বিধানের মাধ্যমে সাব্যস্ত ইখতিয়ারসমূহ তিন দিন দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়; যেমন দোষজনিত ইখতিয়ার (خيار العيب), দেখার ইখতিয়ার (خيار الرؤية) - যারা এটি সাব্যস্ত করেন তাদের মতে, এবং মজলিসের ইখতিয়ার (خيار المجلس) - যারা এটি সমর্থন করেন তাদের মতে।
পঞ্চমত: হাদিসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করলে কিছু ক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য মূল্য (ثمن) এবং বিক্রিত বস্তু (مثمن) উভয়টি একত্রিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেমন, যদি ছাগলের মূল্য এক সা (صاع) খেজুর হয়, তবে ছাগলটি বিক্রেতার কাছে ফিরে যাবে এবং সাথে এক সা খেজুরও যাবে যা মূলত ছাগলটির মূল্য সমপরিমাণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২১)
السادس: أنه مخالف لقاعدة الربا في بعض الصور وهو ما إذا اشترى شاة بصاع فإذا استرد معها صاعا من تمر فقد استرجع الصاع الذي هو الثمن فيكون قد باع صاعا وشاة بصاع وذلك خلاف قاعدة الربا عندكم فإنكم تمنعون مثل ذلك.
السابع: إذا كان اللبن باقيا لم يكلف رده عندكم فإذا أمسكه فالحكم كما لو تلف فيرد الصاع وفي ذلك ضمان الأعيان مع بقائها والأعيان لا تضمن بالبدل إلا مع فواتها كالمغصوب وسائر المضمونات.
الثامن: قال بعضهم أنه أثبت الرد من غير عيب ولا شرط لأن نقصان اللبن لو كان عيبا لثبت به الرد من غير تصرية ولا يثبت الرد في الشرع إلا بعيب أو شرط.
وأما المقام الثاني:
وهو أن ما كان من أخبار الآحاد مخالفا لقياس الأصول المعلومة لم يجب العمل به فلأن الأصول المعلومة مقطوع بها من الشرع وخبر الواحد مظنون والظنون لا يعارض المعلوم1.
الإجابة
وقد أجاب الأئمة عن هذه الاعتراضات بما يأتي:
1- أما الاعتراض بأنه من رواية أبي هريرة وهو ليس بفقيه فلا يؤخذ بما رواه مخالفا للقياس الجلي، فقال الحافظ ابن حجر وهو كلام آذى قائله به نفسه وفي حكايته غنى عن تكلف الرد عليه وقد ترك أبو حنيفة القياس الجلي لرواية أبي هريرة وأمثاله كما في الوضوء بنبيذ التمر2 ومن نقض الوضوء بالقهقهة في الصلاة3 وهما خبران ضعيفان عند أهل المعرفة
--------------------------------------------
ষষ্ঠ: এটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুদের (রিবা) মূলনীতির পরিপন্থী। আর তা হলো যখন কেউ এক ‘সা’ (এক প্রকার ওজন) বিনিময়ে একটি বকরি ক্রয় করে, অতঃপর যখন সে বকরির সাথে এক ‘সা’ খেজুর ফেরত দেয়, তখন সে মূলত সেই ‘সা’-টিই ফিরিয়ে দিল যা ছিল মূল্য। ফলে সে যেন এক ‘সা’ এবং একটি বকরিকে এক ‘সা’-এর বিনিময়ে বিক্রয় করল। এটি আপনাদের নিকট সুদের মূলনীতির পরিপন্থী, কারণ আপনারা এই জাতীয় লেনদেন নিষিদ্ধ করে থাকেন।
সপ্তম: আপনাদের নিকট যদি দুধ অবশিষ্ট থাকে তবে তা ফেরত দেওয়া আবশ্যক করা হয় না। কিন্তু ক্রেতা যদি তা আটকে রাখে তবে হুকুমটি এমন হবে যেন তা নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে সে এক ‘সা’ (খেজুর) ফেরত দেবে। এতে মূল বস্তু বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া আবশ্যক হয়, অথচ সাধারণত মূল বস্তু বিনষ্ট হওয়া ছাড়া তার বদল বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না, যেমনটি হয়ে থাকে জবরদখলকৃত বস্তু বা অন্যান্য জামানতযুক্ত বস্তুর ক্ষেত্রে।
অষ্টম: তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এটি কোনো ত্রুটি বা শর্ত ছাড়াই ফেরত দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত করেছে। কারণ দুধের ঘাটতি যদি ত্রুটি হতো, তবে ‘তাসরিয়া’ (পশুর ওলানে দুধ আটকে রাখা) ছাড়াও তার মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হতো। আর শরয়ি বিধানে কোনো ত্রুটি বা শর্ত ব্যতিরেকে ফেরত দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হয় না।
আর দ্বিতীয় পর্যায় হলো:
যে সকল একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদ (خبر الواحد) সুবিদিত মূলনীতিসমূহের কিয়াসের (قياس الأصول المعلومة) পরিপন্থী হয়, তার ওপর আমল করা ওয়াজিব নয়। কারণ সুবিদিত মূলনীতিসমূহ (الأصول المعلومة) শরয়িভাবে অকাট্য (مقطوع), আর একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদ (خبر الواحد) হলো ধারণাপ্রসূত (ظني), এবং ধারণাপ্রসূত (ظني) বিষয় অকাট্য (مقطوع) বিষয়ের মোকাবিলা করতে পারে না।১
উত্তর
ইমামগণ এই আপত্তিগুলোর নিম্নোক্ত উত্তর দিয়েছেন:
১- এই মর্মে আপত্তি যে, এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা এবং তিনি ফকিহ (فقيه) নন, তাই স্পষ্ট কিয়াসের (القياس الجلي) পরিপন্থী হওয়ার কারণে তার বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করা যাবে না—এর জবাবে হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন, এটি এমন এক কথা যা দ্বারা বক্তা নিজেই নিজেকে আঘাত করেছেন। তার এই বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেওয়াই তার বিপরীতে কষ্ট করে উত্তর দেওয়ার চেয়ে যথেষ্ট। ইমাম আবু হানিফা রহ. নিজেই আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তার ন্যায় অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিসের কারণে স্পষ্ট কিয়াস (القياس الجلي) বর্জন করেছেন; যেমন খেজুরের নবিত (এক প্রকার পানীয়) দিয়ে অজু করার মাসয়ালা২ এবং নামাজে উচ্চৈঃস্বরে হাসির কারণে অজু ভেঙে যাওয়ার মাসয়ালা৩। অথচ এই দুটি হাদিসই বিশেষজ্ঞগণের নিকট দুর্বল (ضعيف)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২২)
بالحديث، ثم إن ابن مسعود رضي الله عنه قد أفتى بذلك كما هو ثابت في صحيح البخاري كما تقدم فلو لم يكن خبر أبي هريرة في ذلك ثابت لما خالف ابن مسعود القياس الجلي في ذلك وقال: قال ابن السمعاني: التعرض إلى جانب الصحابة علامة على خذلان فاعله بل هو بدعة وضلالة وقد أختص أبو هريرة رضي الله عنه بمزيد الحفظ لدعاء رسول الله صلى الله عليه وسلم له- يعني المتقدم في كتاب العلم وفي أول البيوع- وفيه قوله: "إن إخواني من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالأسواق وكنت ألزم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأشهد إذا غابوا وأحفظ إذا نسوا الحديث"1.
ثم مع ذلك لم ينفرد أبو هريرة بهذا الأصل فقد أخرجه أبو داود من حديث ابن عمر وأخرجه الطبراني من وجه آخر عنه، وأبو يعلى من حديث أنس، وأخرجه البيهقي في الخلافيات عن عمرو ابن عوف المزني وأخرجه أحمد من رواية رجل من الصحابة لم يسم2 ثم قال: قال ابن عبد الله:هذا الحديث مجمع على صحته وثبوته من جهة النقل واعتل من لم يأخذ به بأشياء لا حقيقة لها.
2- وأما قولهم بأنه مضطرب لذكر التمر فيه تارة والقمح أخرى واللبن أخرى واعتباره بالصاع تارة وبالمثل أو المثلين تارة وبالإناء أخرىَ.
فالجواب أن الطرق الصحيحة لا اختلاف فيها كما تقدم والضعيف لا يعل به الصحيح.
3- وأما قولهم بأنه معارض لعموم القرآن كقوله تعالى: {وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ} 3 فأجيب بأنه من ضمان المتلفات لا العقوبات والمتلفات تضمن بالمثل وغير المثل.
4- وأما قولهم بأن الحديث منسوخ وتعقب بأن النسخ لا يثبت بالاحتمال، ولا دلالة على النسخ مع مدعيه لأنهم اختلفوا في الناسخ:
(أ) فقد قال الطحاويَ قال محمد بن شجاع فيما أخبرني عنه ابن أبي عمران، نسخه قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "البيعان بالخيار ما لم يتفرقا" فلما قطع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالفرقة الخيار ثبت
--------------------------------------------
হাদিস নিয়ে; অতঃপর ইবনে মাসউদ (রা.) সে অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন যেমনটি ইতিপূর্বে সহীহ বুখারীতে প্রমাণিত (ثابت) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যদি এ বিষয়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংবাদটি (خبر) প্রমাণিত (ثابت) না হতো, তবে ইবনে মাসউদ (রা.) এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কিয়াসের (القياس الجلي) বিপরীতে যেতেন না। তিনি বলেন: ইবনে সামআনী বলেছেন: সাহাবীগণের সমালোচনা করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লাঞ্ছনার লক্ষণ, বরং এটি একটি বিদআত (بدعة) ও গোমরাহি (ضلالة)। আবু হুরায়রা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার বরকতে অধিক মুখস্থ রাখার বিশেষত্ব লাভ করেছিলেন—যা ইতিপূর্বে কিতাবুল ইলম এবং ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তাঁর এই উক্তি রয়েছে: "মুহাজির ভাইদের বাজারে ক্রয়-বিক্রয় ব্যস্ত রাখত, আর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে লেগে থাকতাম। ফলে তারা যখন অনুপস্থিত থাকত আমি তখন উপস্থিত থাকতাম এবং তারা যখন ভুলে যেত তখন আমি হাদিস মুখস্থ রাখতাম"1.
অতঃপর এর পাশাপাশি আবু হুরায়রা (রা.) এই মূলনীতির বর্ণনায় একক (منفرد) নন। আবু দাউদ এটি ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাবারানী এটি তাঁর থেকে ভিন্ন সূত্রে (وجه آخر) বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা এটি আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, আর বাইহাকী 'আল-খিলাফিয়াত'-এ আমর ইবনে আউফ আল-মুযানী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এটি একজন নাম উল্লেখ না করা (لم يسم) সাহাবীর বর্ণনা (رواية) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এরপর তিনি বলেন: ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন: এই হাদিসটি বর্ণনার দিক থেকে সহীহ (صحيح) হওয়া এবং প্রমাণিত (ثابت) হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (مجمع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটি গ্রহণ করেননি তারা এমন সব ত্রুটি (اعتل) দেখিয়েছেন যার কোনো বাস্তবতা নেই।
2- আর তাদের এই উক্তি যে, এটি বিপর্যস্ত (مضطرب); কারণ এতে কখনো খেজুর, কখনো গম আবার কখনো দুধের কথা উল্লেখ আছে এবং কখনো 'সা' (صاع), কখনো সমপরিমাণ বা দ্বিগুণ আবার কখনো পাত্রের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর উত্তর হলো: সহীহ (صحيح) সূত্রসমূহে (الطرق) কোনো মতভেদ নেই যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা দ্বারা সহীহ (صحيح) বর্ণনার ত্রুটি সাব্যস্ত করা (يعل) যায় না।
3- আর তাদের এই দাবি যে, এটি কুরআনের সাধারণ অর্থের (عموم القرآن) পরিপন্থী (معارض), যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ততটুকুই শাস্তি দাও যতটুকু তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে} 3। এর উত্তর এই যে, এটি নষ্টকৃত মালের ক্ষতিপূরণ (ضمان المتلفات) সংক্রান্ত বিষয়, শাস্তি (العقوبات) নয়। আর নষ্টকৃত মালের ক্ষতিপূরণ সমজাতীয় বস্তু বা ভিন্ন বস্তু দ্বারাও হতে পারে।
4- আর তাদের এই দাবি যে হাদিসটি রহিত (منسوخ); এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, কোনো সম্ভাবনার (الاحتمال) ভিত্তিতে রহিতকরণ (النسخ) সাব্যস্ত (يثبت) হয় না। এমনকি যারা এটি দাবি করেছেন তাদের কাছে রহিতকরণের (النسخ) কোনো প্রমাণ (دلالة) নেই, কারণ তারা রহিতকারী (الناسخ) বর্ণনার বিষয়েই মতভেদ করেছেন:
(ক) ইমাম তহাবী বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে শুজা—যাঁর সম্পর্কে ইবনে আবি ইমরান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—তিনি বলেন, এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخه) হয়েছে: "ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার (بالخيار) থাকবে।" সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন পৃথক হওয়ার মাধ্যমে ইখতিয়ারের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন, তখন এটি সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بذلك أنه لا خيار بعدها إلا لمن استثناه رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث إلا بيع الخيار1 ثم قال وهذا التأويل عندي فاسد لأن الخيار المجعول في المصراة إنما هو خيار عيب وخيار العيب لا يقطعه الفرقة.
ألا ترى أن رجلا لو اشترى عبدا فقبضه، وتفرقا، ثم رأى به عيبا بعد ذلك أن له رده على بائعه باتفاق المسلمين لا يقطع ذلك التفرق الذي روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم!.
فكذلك المبتاع للشاة المصراة فإذا قبضها فاحتلبها، فعلم أنها على غير ما كان ظهر له منها وكان ذلك لا يعلمه في احتلابه مرة ولا مرتين جعلت له في ذلك هذه المدة وهي ثلاثة أيام. حتى يقف على حقيقة ما هي عليه فإن كان باطنها كظاهرها، فقد لزمته واستوفى ما اشترى وإن كان ظاهرها بخلاف باطنها فقد ثبت العيب ووجب له ردها به.
(ب) ثم قال: وقال عيسى بن أبان: كان ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الحكم في المصراة، بما في الآثار الأول في وقت ما كانت العقوبات في الذنوب يؤخذ بها المال فمن ذلك ما قد روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الزكاة أنه من أداها طائعا، فله أجرها وإلا أخذناها منه وشطر ماله عزمة من عزمات ربنا عز وجل.
ومن ذلك ما روي عنه في حديث عمرو بن شعيب في سارق التمرة التي لم تحرز فإنه يضرب جلدات ويغرم مثليها.
قال فلما كان الحكم في أول الإسلام كذلك حتى نسخ الله الربا أفردت الأشياء المأخوذة إلى أمثالها إن كانت لها أمثال وإلى قيمتها إن كانت لا أمثال لها2 رد هذا بأن التصرية من فعل البائع فلو كان من ذلك الباب للزمه التغريم والفرض أن حديث المصراة يقتضي تغريم المشتري فافترقا3.
(ج) وقال الطحاوي بعد ما ذكر قول عيسى بن أبان وأني رأيت في ذلك وجها هو أشبه عندي بنسخ هذا من ذلك الوجه الذي ذهب إليه عيسى وذلك أن لبن المصراة الذي احتلبه المشتريَ منها في الثلاثة الأيام التي احتلبها فيها قد كان بعضه في ملك البائع قبل الشراء وحدث بعضه في ملك المشتريَ بعد الشراء إلا أنه احتلبها مرة بعد مرة فكان ما كان في يد البائع من ذلك مبيعا إذا أوجب نقض البيع في الشاة وجب نقض البيع فيه وما حدث في يد المشتري من ذلك فإنما كان ملكه بسبب البيع أيضا وحكمه حكم الشاة لأنه من بدنها
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে এটিই বোঝানো হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসে যাঁদের ব্যতিক্রম করেছেন, তারা ব্যতীত কেনাবেচার ক্ষেত্রে পরবর্তীতে আর কোনো ইখতিয়ার (خيار) নেই; কেবল শর্তযুক্ত ইখতিয়ারের কেনাবেচা ব্যতীত। অতঃপর তিনি বলেন: আমার মতে এই ব্যাখ্যাটি অসার, কারণ মুসাররাহ (ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা পশু) পশুর ক্ষেত্রে যে ইখতিয়ার (خيار) প্রদান করা হয়েছে, তা মূলত ত্রুটিজনিত ইখতিয়ার (خيار العيب), আর ত্রুটিজনিত ইখতিয়ারকে মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া (تفرق) বাতিল করে না।
আপনি কি দেখেন না যে, কোনো ব্যক্তি যদি একটি গোলাম ক্রয় করে তা কবজ করে এবং তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অতঃপর সে তাতে কোনো ত্রুটি (عيب) দেখতে পায়, তবে সকল মুসলিমের ঐকমত্য অনুসারে তার জন্য তা বিক্রেতার কাছে ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই বিচ্ছিন্ন হওয়া (تفرق) এই অধিকারকে রহিত করে না।
মুসাররাহ ছাগল ক্রেতার বিষয়টিও তদ্রূপ। যখন সে পশুটি কবজ করে এবং তার দুধ দোহন করে, তখন সে বুঝতে পারে যে, বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তার কাছে প্রকাশ করা হয়েছিল। যেহেতু একবার বা দুবার দোহন করার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া সম্ভব নয়, তাই তার জন্য তিন দিন সময় নির্ধারিত করা হয়েছে, যাতে সে এর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে। যদি এর অভ্যন্তরীণ অবস্থা বাহ্যিক অবস্থার অনুরূপ হয়, তবে কেনাবেচা চূড়ান্ত হয়ে যাবে এবং সে যা ক্রয় করেছে তা পূর্ণরূপে লাভ করল। আর যদি বাহ্যিক অবস্থা অভ্যন্তরীণ অবস্থার বিপরীত হয়, তবে ত্রুটি (عيب) প্রমাণিত হলো এবং এটি ফেরত দেওয়া তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেল।
(খ) অতঃপর তিনি বলেন: ঈসা ইবনে আবান বলেছেন, মুসাররাহ পশুর বিধান সম্পর্কে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের বর্ণনাগুলোর (آثار) অন্তর্ভুক্ত ছিল; সেই সময়ে পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে শাস্তিস্বরূপ সম্পদ গ্রহণ করা হতো। এর উদাহরণ হলো জাকাত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস যে, যে ব্যক্তি তা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করবে সে তার সওয়াব পাবে, আর যে তা অস্বীকার করবে আমরা তার থেকে জাকাত এবং তার সম্পদের অর্ধেক আদায় করব; এটি আমাদের রব্ব عز وجل-এর পক্ষ থেকে একটি কঠোর নির্দেশ।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো সংরক্ষিত নয় এমন স্থান থেকে খেজুর চুরির বিষয়ে আমর ইবনে শুআইবের বর্ণিত হাদিস, যেখানে চোরকে বেত্রাঘাত করা হবে এবং চুরি করা মালের দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে।
তিনি বলেন: ইসলামের শুরুর দিকে বিধান এমনই ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা সুদকে হারাম করে পূর্বের নিয়ম রহিতকরণ (نسخ) করলেন। তখন গৃহীত বস্তুগুলো তার সমজাতীয় জিনিসের (যদি সমজাতীয় থাকে) দিকে অথবা তার মূল্যের (যদি সমজাতীয় না থাকে) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হলো। এই মতটি এই যুক্তিতে খণ্ডন করা হয়েছে যে, 'তসরিয়াহ' (দুধ জমিয়ে রাখা) হলো বিক্রেতার কাজ। যদি এটি সেই পূর্বের নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হতো তবে বিক্রেতার ওপর জরিমানা হওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো মুসাররাহ পশুর হাদিস ক্রেতার ওপর জরিমানা আরোপ করে; সুতরাং এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
(গ) ঈসা ইবনে আবানের বক্তব্য উল্লেখ করার পর তহাবি বলেন: আমি এ বিষয়ে এমন একটি দিক দেখতে পেয়েছি যা আমার কাছে ঈসা ইবনে আবানের সেই মতের চেয়ে রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার অধিক নিকটবর্তী মনে হয়। আর তা হলো—মুসাররাহ পশুর যে দুধ ক্রেতা তিন দিনে দোহন করেছে, তার কিছু অংশ ক্রয়ের আগে বিক্রেতার মালিকানাধীন ছিল এবং কিছু অংশ ক্রয়ের পর ক্রেতার মালিকানায় সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে তা বারবার দোহন করেছে। যা বিক্রেতার মালিকানায় ছিল তা বিক্রয়কৃত পণ্যের অন্তর্ভুক্ত। যদি ছাগলের কেনাবেচা বাতিল করা আবশ্যক হয়, তবে সেই দুধের কেনাবেচাও বাতিল হওয়া আবশ্যক। আর ক্রেতার কাছে যা উৎপন্ন হয়েছে তা কেনাবেচার কারণেই তার মালিকানায় এসেছে এবং এর হুকুম ছাগলের হুকুমের মতোই, কারণ এটি তার শরীরেরই অংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هذا على مذهبنا وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد جعل لمشتري المصراة بعد ردها جميع لبنها الذي حلبه منها بالصاع من التمر الذي أوجب عليه رده مع الشاة وذلك اللبن حينئذ قد تلف أو تلف بعضه فكان المشتري قد ملك لبنا دينا بصاع تمر دين فدخل ذلك في بيع الدين بالدين ثم نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الدين بالدين فنسخ ذلك ما كان تقدم منه مما روى عنه في المصراة مما حكمه حكم الدين1.
أجاب الحافظ ابن حجر عن هذا بقوله بأن الحديث ضعيف باتفاق المحدثين2 وعلى التنزل فالتمر إنما شرع في مقابل الحلب سواء أكان اللبن موجودا أو غير موجود فلم يتعين في كونه من الدين بالدين3 (3) .
(د) وقيل ناسخه حديث الخراج بالضمان قال الطحاوي قد روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "الخراج بالضمان" وعملت بذلك العلماء ثم سرد روايات الحديث ثم قال وزعمت أنت أن رجلا لو اشترى شاة فحلبها ثم أصاب بها عيبا غير التحفيل أنه يردها ويكون اللبن له وكذلك لو كان مكان اللبن ولد ولدته ردها على البائع وكان الولد له وكان ذلك عندك، من الخراج بالضمان الذي جعله النبي صلى الله عليه وسلم للمشتري بالضمان4 (4) وقال الحافظ ابن حجر في
--------------------------------------------
এটি আমাদের মাজহাব অনুযায়ী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'মুসাররাত' (দুধ আটকে রাখা পশু) ক্রেতার জন্য তা ফেরত দেওয়ার পর দোহনকৃত সমস্ত দুধের বিনিময়ে এক সা' খেজুর প্রদান করা আবশ্যক করেছিলেন। ঐ সময় ওই দুধ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বা তার কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ক্রেতা ঋণের বিনিময়ে ঋণের মাধ্যমে দুধের মালিক হয়েছিলেন। এটি ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা 'মুসাররাত' সংক্রান্ত পূর্ববর্তী বিধানকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে, যার হুকুম ঋণের হুকুমের পর্যায়ভুক্ত ছিল।1.
হাফিজ ইবনে হাজার এর উত্তরে বলেছেন যে, হাদিসটি মুহাদ্দিসগণের সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল (ضعيف)।2 আর তর্কের খাতিরে মেনে নিলেও, খেজুর মূলত দোহনের বিনিময়েই শরয়ি বিধান করা হয়েছে, দুধ বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক। সুতরাং এটি ঋণের বিনিময়ে ঋণ হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত নয়।3 (3) .
(ঘ) বলা হয়েছে যে, এর রহিতকারী (ناسخ) হলো 'আল-খারাজ বি আদ-দামান' (লাভ ক্ষতির দায়িত্ব গ্রহণের বিনিময়ে) হাদিসটি। ইমাম তহাবি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "লাভ ক্ষতির দায়িত্ব গ্রহণের বিনিময়ে।" ওলামায়ে কেরাম এর ওপর আমল করেছেন। অতঃপর তিনি হাদিসটির বর্ণনা পরম্পরা উল্লেখ করেন এবং বলেন, আপনার দাবি অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি একটি ছাগল ক্রয় করে এবং তার দুধ দোহন করে, অতঃপর তাতে দুধ জমিয়ে রাখা ব্যতীত অন্য কোনো ত্রুটি পায়, তবে সে তা ফেরত দেবে এবং দুধ তার জন্যই থাকবে। একইভাবে দুধের স্থলে যদি তার কোনো বাচ্চা জন্ম নেয়, তবে সে পশুটি বিক্রেতাকে ফেরত দেবে এবং বাচ্চাটি ক্রেতার থাকবে। আপনার মতে এটি 'আল-খারাজ বি আদ-দামান'-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামানত বা দায়বদ্ধতার বিনিময়ে ক্রেতার জন্য নির্ধারণ করেছেন।4 (4) হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الجواب عن هذا وتعقب بأن حديث المصراة أصح منه باتفاق1 (1) فكيف يقدم المرجوح على الراجح. ودعوى كونه بعده لا دليل عليه. وعلى التنزل فالمشتري لم يؤمر بغرامة ما حدث في ملكه بل بغرامة اللبن الذي ورد عليه العقد ولم يدخل في العقد فليس بين الحديثين تعارض2.
5- قال ابن دقيق العيد:وقولهم أنه مخالف للأصول فقد فرق بعضهم بين مخالفة الأصول ومخالفة قياس الأصول وخص الرد لخبر الواحد بالمخالفة في الأصول لا بمخالفة قياس الأصول وهذا الخبر إنما يخالف قياس الأصول وفيه نظر ثم قال وسلك آخرون تجريح جميع هذه الاعتراضات والجواب عنها:
أما الاعتراض الأول: فلا نسلم أن جميع الأصول تقتضي الضمان بأحد الأمرين على ما ذكرتموه- يعني أن ضمان المثليات بالمثل وضمان المقومات بالقيم من النقدين- فإن الحر يضمنِ بالإبل وليست بمثل له ولا قيمة: والجنين يضمن بالغرة وليست بمثل له ولا قيمة، وأيضاً فقد يضمن المثل بالقيمة إذا تعذرت المماثلة وهاهنا تعذرت: أما الأول: فمن أتلف شاة لبنونا كان عليه قيمتها مع اللبن ولا يجعل بازاء لبنها لبن آخر لتعذر المماثلة. وأما الثاني: وهو أنه تعذرت المماثلة هاهنا فلأن ما يرده من اللبن عوضاً عن اللبن التالف لا يتحقق مماثلته له في المقدار ويجوز أن يكون أكثر من اللبن الموجود حالة العقد أو أقل.
أما الاعتراض الثاني: وهو قولهم أن القواعد الكلية تقتضي أن يكون المضمون مقدر الضمان بقدر التالف وذلك مختلف فقدر الضمان مختلف لكنه قدر هاهنا بمقدار واحد وهو الصاع مطلقا- قيل في جوابه:إن بعض الأصول لا يتقدر بما ذكرتموه كالموضحة فإن أرشها
--------------------------------------------
এর উত্তর ও পর্যালোচনা হলো যে, মুসাররাত (পালিত পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা) সংক্রান্ত হাদিসটি অন্যটির চেয়ে সর্বসম্মতিক্রমে (باتفاق) অধিক সহিহ (أصح)। সুতরাং কীভাবে অগ্রগণ্য (الراجح) বর্ণনার ওপর গৌণ (المرجوح) বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব? আর এটি পরের দিকের ঘটনা হওয়ার যে দাবি করা হয়, তার কোনো দলিল নেই। আর তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও ক্রেতাকে তার মালিকানাধীন অবস্থায় যা সৃষ্টি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বরং সেই দুধের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে যার ওপর চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল কিন্তু তা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অতএব, হাদিস দুটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।২
৫- ইবন দাকীক আল-ঈদ বলেন: তাদের এই বক্তব্য যে এটি মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী; এ প্রসঙ্গে কেউ কেউ মূলনীতির বিরোধিতা এবং মূলনীতির কিয়াসের (অনুমান) বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা একক সংবাদ (خبر الواحد) প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে কেবল মূলনীতির বিরোধিতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন, মূলনীতির কিয়াসের বিরোধিতার ক্ষেত্রে নয়। আর এই হাদিসটি কেবল মূলনীতির কিয়াসের পরিপন্থী, যা পর্যালোচনার দাবি রাখে। অতঃপর তিনি বলেন, অন্যগণ এই সকল আপত্তির ব্যবচ্ছেদ করেছেন এবং সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন:
প্রথম আপত্তির ক্ষেত্রে: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, সকল মূলনীতি আপনাদের উল্লিখিত বর্ণনানুসারে কেবল দুটি পদ্ধতির কোনো একটির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদান আবশ্যক করে—অর্থাৎ সমজাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে সমজাতীয় বস্তু (মিসলি) এবং মানসম্পন্ন বস্তুর ক্ষেত্রে স্বর্ণ বা রৌপ্য দ্বারা তার মূল্য (কিমত) পরিশোধ করা। কেননা, একজন স্বাধীন ব্যক্তির দিয়ত বা ক্ষতিপূরণ উটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, অথচ উট তার সমজাতীয়ও নয় এবং সঠিক মূল্যও নয়। একইভাবে গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতিপূরণ দাসের (গুররাহ) মাধ্যমে দেওয়া হয়, যা তার সমজাতীয়ও নয় এবং মূল্যও নয়। এছাড়া সমজাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রেও মূল্য দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে যখন সমজাতীয়তা রক্ষা করা অসম্ভব হয়, আর এখানে তা অসম্ভব। প্রথমত: যে ব্যক্তি দুধালো বকরি বিনষ্ট করল, তার ওপর সেই বকরির মূল্যের সাথে দুধের মূল্যও পরিশোধ করা আবশ্যক হবে এবং দুধের বিনিময়ে অন্য দুধ নির্ধারণ করা হবে না সমজাতীয়তা রক্ষা অসম্ভব হওয়ার কারণে। দ্বিতীয়ত: এখানে সমজাতীয়তা রক্ষা অসম্ভব হওয়ার কারণ হলো, বিনষ্ট হওয়া দুধের বদলে সে যে দুধ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেবে, তার পরিমাণ হুবহু এক হওয়া নিশ্চিত নয়; বরং তা চুক্তিকালীন বিদ্যমান দুধের চেয়ে বেশি বা কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দ্বিতীয় আপত্তির ক্ষেত্রে: তাদের বক্তব্য হলো, সামগ্রিক মূলনীতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বিনষ্ট হওয়া বস্তুর সমপরিমাণ হওয়া আবশ্যক, অথচ এখানে তা ভিন্ন। কারণ এখানে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তা ঢালাওভাবে এক 'সা' (এক প্রকার পরিমাপক) হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর উত্তরে বলা হয়েছে: কিছু মূলনীতি আপনারা যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয় না, যেমন 'মাওদিহা' (মাথার এমন ক্ষত যাতে হাড় প্রকাশ পায়) এর ক্ষেত্রে এর ক্ষতিপূরণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مقدر مع اختلافها بالكبر والصغر: والجنين مقدر أرشه ولا يختلف بالذكورة والأنوثة واختلاف الصفات والحر ديته مقدرة وإن اختلف بالصغر والكبر وسائر الصفات والحكمة فيه أن ما يقع فيه من التنازع والتشاجر يقصد قطع النزاع فيه بتقديره بشيء معين وتقدم هذه المصلحة في مثل هذا المكان على تلك القاعدة1.
وقال ابن حجر رحمه الله تعالى معللا لما تقدم: "فإن اللبن الحادث بعد العقد اختلط باللبن الموجود وقت العقد فلم يعرف مقداره حتى يوجب نظيره على المشتري ولو عرف مقداره فوكل إلى تقديرهما أو تقدير أحدهما لأفضى إلى النزاع والخصام فقطع الشارع النزاع والخصام وقدره بحد لا يتعديانه فصلا للخصومة وكان تقديره بالتمر أقرب الأشياء إلى اللبن فإنه كان قوتهم إذ ذلك كاللبن وهو مكيل كاللبن ومقتات، فاشتركا في كون كل واحد مطعوما مقتاتا مكيلا واشتركا أيضاً في أن كلا منهما يقتات به بغير صنعة ولا علاج"2.
أما الاعتراض الثالث: وهو أن اللبن التالف إن كان موجودا عند العقد فقد ذهب جزء من المعقود عليه من أصل الخلقة وذلك مانع من الرد-.. الخ فجوابه أن يقال متى يمتنع الرد بالنقص إذا كان النقص لاستعلام العيب أو إذا لم يكن الأول ممنوعاً والثاني مسلماً وهذا النقص لاستعلام العيب فلا يمتنع الرد.
أما الاعتراض الرابع: وهو إثبات الخيار ثلاثا من غير شرط مخالف للأصول.. الخ الجواب عنه: "إنما يكون الشيء مخالفا لغيره إذا كان مماثلا له وخولف في حكمه وهاهنا هذه الصورة انفردت عن غيرها فإن الغالب أن هذه المدة حسي التي يتبين بها لبن الجبلة المجتمع بأصل الخلقة واللبن المجتمع بالتدليس فهي مدة يتوقف علم الغيب عليها غالبا بخلاف خيار الرؤية والعيب فإنه يحصل المقصود من غير هذه المدة فيهما وخيار المجلس ليس لاستعلام عيب"3، وقال الحافظ ابن حجر موضحا لهذا القول: إن حكم المصراة انفرد بأصله عن مماثلة غيره فلا يستغرب أن ينفرد بوصف زائد على غيره"4.
أما الاعتراض الخامس: وهو قولهم يلزم من القول بظاهر الحديث الجمع بين الثمن والمثمن للبائع في بعض الصور
… الخ.
والجواب عنه: قيل فيه أن الخبر وارد على العادة والعادة أن لا تباع شاة بصاع وفي هذا ضعف: وقيل أن صاع التمر بدل عن اللبن لا عن الشاة فلا يلزم الجمع بين العوض والمعوض.
--------------------------------------------
আকার ও বয়সের ভিন্নতা সত্ত্বেও নির্ধারিত পরিমাণ: গর্ভস্থ ভ্রূণের রক্তমূল্য নির্ধারিত এবং তা পুরুষ বা নারী হওয়া অথবা গুণাগুণের ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয় না। স্বাধীন ব্যক্তির রক্তপণও নির্ধারিত, যদিও তা ছোট-বড় বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ভিন্ন হয়ে থাকে। এর পেছনের হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো, যে বিষয়গুলোতে বিবাদ ও ঝগড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মাধ্যমে বিবাদ নিরসনের উদ্দেশ্য থাকে। আর এই ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের ওপর এই জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয় ১।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) পূর্বোক্ত বিষয়ের কারণ বর্ণনা করে বলেন: "চুক্তির পর উৎপাদিত দুধ চুক্তির সময় বিদ্যমান দুধের সাথে মিশে যায়, ফলে এর সঠিক পরিমাণ জানা সম্ভব হয় না যাতে ক্রেতার ওপর সমপরিমাণ কিছু আবশ্যক করা যায়। যদি এর পরিমাণ জানাও যেত এবং তা নির্ধারণের দায়িত্ব তাদের উভয়ের বা যেকোনো একজনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তা বিবাদ ও কলহের দিকে নিয়ে যেত। তাই শরিয়ত প্রণেতা বিবাদ ও কলহ নিরসন করেছেন এবং একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা তারা অতিক্রম করবে না, যাতে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়। দুধের বিনিময়ে খেজুর নির্ধারণ করা ছিল দুধের সবচেয়ে কাছাকাছি বিষয়, কারণ তখন খেজুর ছিল তাদের প্রধান খাদ্য যেমনটি ছিল দুধ। আবার খেজুরও দুধের মতো পরিমাপযোগ্য এবং খাদ্য হিসেবে গণ্য। ফলে উভয়টিই খাদ্য হওয়া, প্রধান খাবার হওয়া এবং পরিমাপযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার। তারা এ বিষয়েও সদৃশ যে, এগুলোর কোনোটিই কোনো প্রকার প্রক্রিয়াজাতকরণ বা বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়" ২।
তৃতীয় আপত্তি সম্পর্কে: তা হলো, নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ যদি চুক্তির সময় বিদ্যমান থাকে, তবে চুক্তিকৃত বস্তুর মৌলিক সৃষ্টিগত একটি অংশ চলে গেছে, যা পণ্য ফেরত দেওয়ার পথে বাধা—ইত্যাদি। এর উত্তরে বলা হবে যে, খুঁত বা ত্রুটির কারণে ফেরত দেওয়া কখন নিষিদ্ধ হয়? যখন ত্রুটিটি খুঁত পরীক্ষা করার জন্য হয়ে থাকে, অথবা যদি প্রথমটি নিষিদ্ধ না হয় এবং দ্বিতীয়টি স্বীকৃত হয়। আর এই ঘাটতি মূলত খুঁত পরখ করার জন্যই হয়েছে, তাই ফেরত দিতে কোনো বাধা নেই।
চতুর্থ আপত্তি সম্পর্কে: আর তা হলো শর্তহীনভাবে তিন দিনের ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) সাব্যস্ত করা মূলনীতির পরিপন্থী... ইত্যাদি। এর উত্তর হলো: "কোনো বিষয় তখনই অন্য বিষয়ের পরিপন্থী হয় যখন তা তার সদৃশ হয় অথচ হুকুম বা বিধানে ভিন্নতা দেখা দেয়। কিন্তু এখানে এই চিত্রটি অন্য সব ক্ষেত্র থেকে স্বতন্ত্র। কেননা সাধারণত এই নির্দিষ্ট সময়ের মাধ্যমেই স্বাভাবিকভাবে জমা হওয়া দুধ এবং প্রতারণা (تدليس)-এর মাধ্যমে জমা করা দুধের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। এটি এমন এক সময় যার ওপর অদৃশ্যের বিষয়টি জানার বিষয়টি নির্ভর করে। এটি দেখার ইখতিয়ার বা খুঁতজনিত ইখতিয়ারের মতো নয়, কারণ সেই দুই ক্ষেত্রে এই সময় ছাড়াও উদ্দেশ্য হাসিল হয়। আর মজলিসের ইখতিয়ার কোনো খুঁত অনুসন্ধানের জন্য নয়" ৩। হাফেজ ইবনে হাজার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন: মুসাররাত (দুধ আটকে রাখা পশু)-এর বিধান তার মৌলিকত্বের কারণে অন্যান্য সদৃশ বিষয় থেকে স্বতন্ত্র, তাই এতে অন্য বিষয়ের চেয়ে অতিরিক্ত কোনো বৈশিষ্ট্য থাকা বিস্ময়কর নয় ৪।
পঞ্চম আপত্তি সম্পর্কে: তা হলো তাদের এই কথা যে, হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল করলে কিছু ক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য মূল্য এবং পণ্য উভয়ই একত্রিত হয়ে যায়
… ইত্যাদি।
এর উত্তর: এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এই বর্ণনা (خبر) অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এসেছে, আর অভ্যাস হলো একটি বকরি এক সা’ (পরিমাণ) এর বিনিময়ে বিক্রি না হওয়া। তবে এই মতের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এক সা’ খেজুর হলো দুধের বিনিময়, বকরির বিনিময় নয়; ফলে বিনিময় এবং যার বিনিময় দেওয়া হচ্ছে তা একত্রিত হওয়া আবশ্যক হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أما الاعتراض السادس: وهو أنه مخالف لقاعدة الربا في بعض الصور وهو ما إذا اشترى شاة بصاع فإذا استرد معها صاعا من تمر فقد استرجع الصاع الذي هو الثمن
… الخ.
والجواب عنه: أن الربا إنما يعتبر في العقود لا في الفسوخ بدليل أنهما لو تبايعا ذهبا بفضة لم يجز أن يفترقا قبل القبض ولو تقابلا في هذا العقد لجاز أن يفترقا قبل القبض.
أما الاعتراض السابع: وهو قوهم إذا كان اللبن باقيا لم يكلف رده عندكم
… الخ.
الجواب عنه: إن اللبن الذي كان في الضرع حال العقد يتعذر رده لاختلاطه باللبن الحادث بعد العقد وأحدهما للباب والآخر للمشتري وتعذر الرد لا يمنع من الضمان مع بقاء العين كما لو غصب عبدا فأبق فإنه يضمن قيمته مع بقاء عينه لتعذر الرد1.
أما الاعتراض الثامن: وهو قولهم أنه أثبت الرد من غير عيب ولا شرط
… الخ.
قال الحافظ ابن حجر: "الجواب أن الخيار يثبت بالتدليس كمنِ باع رحى دائرة بما جمعه له بغير علم المشتري فإذا اطلع عليه المشتري كان له الرد، وأيضاً فالمشتري لما رأى ضرعا مملوءا لبنا ظن أنه عادة لها فكأن الباب شرط له ذلك فتبين الأمر بخلافه فثبت له الرد لفقد الشرط المعنوي لأن البائع يظهر صفة المبيع تارة بقوله وتارة بفعله فإذا أظهر المشتري على صفة فبان الأمر بخلافها كان قد دلس عليه فشرع له الخيار وهذا هو مخص القياس ومقتضى العدل فإن المشتري إنما بذل ماله بناء على الصفة التي أظهرها له البائع، وقد أثبت الشارع الخيار للركبان إذا تلقوا واشترىَ منهم قبل أن يهبطوا إلى السوق ويعلموا السعر وليس هناك عيب ولا خلف في شرط ولكن لما فيه من الغش والتدليس"2.
قال ابن دقيق العيد: "وأما المقام الثاني وهو النزاع في تقديم قياس الأصول على خبر الواحد فقيل فيه أن خبر الواحد أصل بنفسه يجب اعتباره لأن الذي أوجب اعتبار الأصول نص صاحب الشرع عليها وهو موجود في خبر الواحد فيجب اعتباره وأما تقديم القياس على الأصول باعتبار القطع وكون خبر الواحد مظنونا فتناول الأصل لمحا خبر الواحد غير مقطوع به لجواز استثناء محل الخبر عن ذلك الأصل وعندي إن التمسك بهذا الكلام أقوى من التمسك بالاعتذارات عن المقام الأول"3.
وقال الخطابي: "والأصل أن الحديث إذا ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وجب القول به وصار أصلا في نفسه وعلينا قبول الشريعة المبهمة كما علينا قبول الشريعة المفسرة والأصول إنما
--------------------------------------------
ষষ্ঠ আপত্তি: এটি কিছু ক্ষেত্রে সুদের নিয়মের পরিপন্থী। যেমন, যদি কেউ একটি বকরী এক সা' (খাদ্যশস্যের বিনিময়ে) ক্রয় করে, আর যখন সে বকরী ফেরত দেওয়ার সাথে সাথে এক সা' খেজুর প্রদান করে, তবে সে যেন সেই সা'-টিই ফিরিয়ে দিল যা ছিল মূল্য
… ইত্যাদি।
এর উত্তর হলো: সুদের বিষয়টি চুক্তির ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়, চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে নয়। এর প্রমাণ হলো, যদি তারা উভয়ে স্বর্ণের বিনিময়ে রূপা ক্রয়-বিক্রয় করে, তবে হস্তান্তরের পূর্বে বিচ্ছিন্ন হওয়া বৈধ নয়। কিন্তু যদি তারা এই চুক্তিতে একে অপরের সাথে বিনিময় করে, তবে হস্তান্তরের পূর্বে বিচ্ছিন্ন হওয়া বৈধ।
সপ্তম আপত্তি: তাদের বক্তব্য হলো, যদি দুধ অবশিষ্ট থাকে তবে আপনাদের মতে তা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয় না
… ইত্যাদি।
এর উত্তর হলো: চুক্তির সময় ওলানে যে দুধ ছিল তা ফেরত দেওয়া অসম্ভব, কারণ চুক্তির পর উৎপন্ন দুধের সাথে তা মিশ্রিত হয়ে গেছে। এর একটি অংশ বিক্রেতার এবং অন্যটি ক্রেতার। আর মূল বস্তু বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তা ফেরত দেওয়া অসম্ভব হওয়া জামানত প্রদান থেকে বিরত রাখে না। যেমন কেউ যদি কোনো গোলামকে আত্মসাৎ করে এবং সে পালিয়ে যায়, তবে তার মূল সত্তা বিদ্যমান থাকলেও ফেরত দেওয়া অসম্ভব হওয়ায় সে তার মূল্য পরিশোধের জামানত বহন করবে।১
অষ্টম আপত্তি: তাদের বক্তব্য হলো, এটি কোনো ত্রুটি বা শর্ত ছাড়াই পণ্য ফেরত দেওয়ার বিধান সাব্যস্ত করেছে
… ইত্যাদি।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "উত্তর হলো, প্রতারণার (تدليس) কারণে ইখতিয়ার বা অধিকার সাব্যস্ত হয়; যেমন কেউ যদি এমন একটি আবর্তনশীল ঘানি বিক্রি করে যা সে ক্রেতার অগোচরে জমা করে রেখেছিল, তবে ক্রেতা যখন তা অবগত হয় তখন তার জন্য তা ফেরত দেওয়ার অধিকার থাকবে। এছাড়া, ক্রেতা যখন দুধপূর্ণ ওলান দেখেছে, সে ধারণা করেছে যে এটি এর স্বাভাবিক অবস্থা, তাই যেন বিক্রেতা তার কাছে এটি শর্ত হিসেবে পেশ করেছে। এরপর বিষয়টি এর বিপরীত প্রকাশ পাওয়ায় গুণগত শর্ত না থাকার কারণে তার ফেরত দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হয়েছে। কারণ বিক্রেতা বিক্রিত পণ্যের বৈশিষ্ট্য কখনো কথার মাধ্যমে, আবার কখনো কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করে। সুতরাং বিক্রেতা যখন একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করল এবং বিষয়টি তার বিপরীত হলো, তবে সে ক্রেতার সাথে প্রতারণা (تدليس) করেছে এবং তার জন্য ইখতিয়ার বা পণ্য ফেরতের সুযোগ বিধিবদ্ধ হয়েছে। এটিই হলো কিয়াসের (قياس) মূল নির্যাস এবং ইনসাফের দাবি। কারণ ক্রেতা তার সম্পদ ব্যয় করেছে সেই বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে যা বিক্রেতা তার সামনে প্রকাশ করেছে। আর শরীয়ত প্রণেতা কাফেলার লোকদের জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত করেছেন যখন মানুষ তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তারা বাজারে পৌঁছানোর ও দাম জানার আগেই তাদের থেকে পণ্য কিনে নেয়। সেখানে কোনো ত্রুটি বা শর্ত ভঙ্গ নেই, কিন্তু যেহেতু সেখানে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি (تدليس) রয়েছে।"২
ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: "আর দ্বিতীয় প্রেক্ষিতটি হলো, একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর মূলনীতির কিয়াসের (قياس) অগ্রাধিকার নিয়ে বিবাদ। এ বিষয়ে বলা হয়েছে যে, একক বর্ণনা (خبر الواحد) নিজেই একটি মূলভিত্তি (أصل) যা বিবেচনা করা ওয়াজিব। কারণ যা মূলনীতিগুলোকে বিবেচনা করা আবশ্যক করেছে তা হলো শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে সেগুলোর ওপর স্পষ্ট বক্তব্য, আর তা একক বর্ণনার (خبر الواحد) ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। সুতরাং এটি বিবেচনা করা ওয়াজিব। আর নিশ্চিত হওয়ার বিচারে মূলনীতির ওপর কিয়াসকে (قياس) প্রাধান্য দেওয়া এবং একক বর্ণনা (خبر الواحد) ধারণা নির্ভর (مظنون) হওয়ার বিষয়ে বলা যায় যে, একক বর্ণনার পরিধির সাথে মূলনীতির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত নয়, কারণ সেই মূলনীতি থেকে ওই হাদিসের ক্ষেত্রটি ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমার মতে, এই বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা প্রথম প্রেক্ষিতের অজুহাতগুলোর ওপর নির্ভর করার চেয়ে অধিক শক্তিশালী।"৩
খাত্তাবি বলেন: "মূলনীতি হলো, হাদিস যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়, তখন সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায় এবং তা নিজেই একটি মূলভিত্তিতে (أصل) পরিণত হয়। অস্পষ্ট শরীয়ত মেনে নেওয়া আমাদের জন্য তেমনি আবশ্যক যেমনটি স্পষ্ট শরীয়ত মেনে নেওয়া আবশ্যক। আর মূলনীতিগুলো তো কেবল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صارت أصولا لمجيء الشريعة بها وخبر المصراة قد جاء به الشرع من طرق جياد أشهرها هذا الطريق فالقول به واجب وليس تركه لسائر الأصول بأولى من تركها له"1.
وقال الحافظ: "ابن حجر والأصول الكتاب والسنة والإجماع والقياس والكتاب والسنة في الحقيقة هما الأصل والآخران مردودان إليهما فالسنة أصل والقياس فرع فكيف يرد الأصل بالفرع بل الحديث الصحيح أصل بنفسه فكيف يقال أن الأصل يخالف نفسه وعلى تقدير التسليم يكون قياس الأصول يفيد القطع وخبر الواحد لا يفيد إلا الظن فتناول الأصل لا يخالف هذا الخبر الواحد غير مقطوع به لجواز استثناء محله عن ذلك الأصل"2.
ثم قال: "قال ابن السمعاني: متى ثبت الخبر صار أصلا من الأصول ولا يحتاج إلى عرضه على أصلَ آخر لأنه إن وافقه فذاك وإن خالفه فلا يجوز رد أحدهما لأنه رد للخبر بالقياس وهو مردود باتفاق فإن السنة مقدمة على القياس بلا خلاف إلى أن قال والأولى عندي في هذه المسألة تسليم الأقيسة لكنها ليست لازمة لأن السنة الثابتة مقدمة عليها والله تعالى أعلم"3.
وقال ابن القيم:"والحديث موافق لأصول الشريعة وقواعدها ولو خالفها لكان أصلا بنفسه كما أن غيره أصل بنفسه وأصول الشرع لا يضرب بعضها ببعض كما نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يضرب كتاب الله بعضه ببعض بل يجب اتباعها كلها ويقر كل منها على أصله وموضعه فإنها كلها من عند الله الذي أتقن شرعه وخلقه وما عدا هذا فهو الخطأ الصريح"4.
قلت: ولا يخفى ما في هذه الاعتراضات التي اعترض بها على حديث المصراة من التكلف وعسف الأدلة فالواجب على كل منصف أن يقف مع النص ولا يتعداه إلى غديره لأنه جاء عن من لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى. وهو الذي أصل الأصول وبن الحلال من الحرام وقد أمر الله تعالى باتباعه وحذر عن مخالفة أمره عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم فقال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 5
وقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 6
--------------------------------------------
এগুলো শরিয়তে আসার কারণে মূলনীতিতে (أصول) পরিণত হয়েছে। 'মুসাররাত' (দুগ্ধবতী পশুর স্তনে দুধ জমিয়ে রাখা) সংক্রান্ত হাদিসটি শরিয়তে চমৎকার (جياد) সনদে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে এই সনদটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। সুতরাং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং অন্যান্য মূলনীতির (أصول) দোহাই দিয়ে একে বর্জন করা সমীচীন নয়।"১
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "মূলনীতিসমূহ (أصول) হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ঐক্যমত (إجماع) এবং কিয়াস (قياس)। প্রকৃতপক্ষে কিতাব ও সুন্নাহ হলো মূল, আর বাকি দুটি এই দুটির দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়। সুতরাং সুন্নাহ হলো মূল এবং কিয়াস (قياس) হলো শাখা। তাহলে কীভাবে শাখার মাধ্যমে মূলকে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব? বরং সহিহ (صحيح) হাদিস নিজেই একটি স্বতন্ত্র মূল (أصل); তাহলে কীভাবে বলা যায় যে, একটি মূল তার নিজেরই বিরোধিতা করছে? আর যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেওয়া হয় যে, মূলনীতিসমূহের কিয়াস (قياس) সুনিশ্চিত (القطع) জ্ঞান প্রদান করে এবং খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) কেবল প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে, তবুও মূলনীতির প্রয়োগ এই খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد)-এর বিরোধী হবে না, কারণ এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয় যে, এই বিশেষ ক্ষেত্রটি সেই মূলনীতি থেকে ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই।"২
অতঃপর তিনি বলেন: "ইবনে সামআনি বলেছেন: যখনই কোনো বর্ণনা (خبر) সাব্যস্ত হয়, তখনই তা মূলনীতিসমূহের (أصول) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং একে অন্য কোনো মূলের ওপর পেশ করার প্রয়োজন হয় না। কারণ, যদি তা মূলের অনুকূল হয় তবে তো ভালোই, আর যদি প্রতিকূল হয় তবুও তাদের কোনোটিকে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়। কেননা তা হবে কিয়াস (قياس)-এর মাধ্যমে বর্ণনাকে (خبر) প্রত্যাখ্যান করা, যা সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যাত। কারণ সুন্নাহ কোনো দ্বিমত ছাড়াই কিয়াস (قياس)-এর ওপর অগ্রগণ্য। তিনি আরও বলেন, এই মাসআলায় আমার কাছে অগ্রাধিকারযোগ্য মত হলো কিয়াসসমূহকে মেনে নেওয়া, তবে সেগুলো আবশ্যকীয় নয়। কারণ সাব্যস্ত সুন্নাহ সেগুলোর ওপর অগ্রগণ্য। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।"৩
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "হাদিসটি শরিয়তের মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলির (قواعد) অনুকূল। আর যদি তা প্রতিকূলও হতো, তবে এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র মূল (أصل) হিসেবে গণ্য হতো, যেমন অন্যান্য বিষয়গুলো স্বতন্ত্র মূল (أصل)। শরিয়তের মূলনীতিসমূহের একটিকে অন্যটির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো যাবে না, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে নিষেধ করেছেন। বরং এগুলোর সব অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং প্রত্যেকটিকে তার নিজস্ব মূল ও স্থানে বহাল রাখতে হবে। কারণ এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি তাঁর শরিয়ত ও সৃষ্টিকে সুনিপুণ করেছেন। এর বাইরে যা কিছু আছে তা স্পষ্ট ভুল।"৪
আমি (লেখক) বলছি: 'মুসাররাত' সংক্রান্ত হাদিসের ওপর যেসব আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, তাতে কৃত্রিমতা ও দলিলের অপপ্রয়োগ স্পষ্ট। সুতরাং প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির দায়িত্ব হলো মূল পাঠের (النص) ওপর অটল থাকা এবং এর সীমা লঙ্ঘন না করা। কেননা এটি তাঁর পক্ষ থেকে এসেছে যিনি খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না, বরং তা কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তিনিই মূলনীতিসমূহ (أصول) প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং হালাল ও হারামের পার্থক্য বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করতে সতর্ক করেছেন। তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} ৫
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসবে।} ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فالخير في الاتباع والشر في مخالفة النصوص وضرب بعضها ببعض.
أما ما ذكر عن الإمام مالك رحمه الله تعالى أنه لم يقل بالحديث فقد ذكر الباجي عن ابن القاسم قال: "قلت لمالك أتأخذ بحديث المصراة قال: نعم ثم قال: وقد روى أن مالكا قال لما سئل عن ذلك: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} "1.
وقال: "قال ابن المواز ولم يأخذ به أشهب وقال جاء ما يضعفه أن الغلة بالضمان"2 فكأن نسبة عدم الأخذ به إلى مالك غير صحيحة لأن المعروف عن مالك رحمه الله العمل به ولعل الذي نسبه إلى مالك ظن أن قول أشهب عن مالك فأخطأ والله تعالى أعلم.
ولعل من حكمة رد الصاع مع المصراة أنه قد يكون من بعض ضعاف النفوس الطمع في لبن المصراة حتى يحلبها ثم يردها بدعوى أنها مصراة فجعل الشارع الحكيم ردعا لمن تسول له نفسه ذلك حتى لا يتلاعب أهل الأهواء بأهل السلع ويفوتون عليهم ألبان المواشي فإذا كان صادقا دفع بدل اللبن صاع تمر ولا يتقدم إلا وهو صادق في دعواه مع أنني لم أجد من قال بهذه العلة. والله تعالى أعلم.
هل حكم التصرية يتعدى إلى غير الإبل والغنم
قال ابن قدامة:جمهور أهل العلم على أنه لا فرق في التصرية بين الشاة والناقة والبقرة وشذ داود فقال: لا يثبت الخيار بتصرية البقرة لأن الحديث: "لا تصروا الإبل والغنم" فدل على إنما عداهما بخلافهما ولأن الحكم ثبت فيهما بالنص والقياس لا تثبت به الأحكام.
ثم قال ولنا عموم قوله: "من اشترى مصراة فهو بالخيار ثلاثة أيام" وفي حديث ابن عمر: "من ابتاع محفلة"3 ولم يفصل ولأنه تصرية بلبن من بهيمة الأنعام أشبه الإبل والغنم والخبر فيه تنبيه على تصرية البقر لأن لبنها أغزر وأكثر نفعا وقولهم أن الأحكام لا تثبت بالقياس ممنوع ثم هو هاهنا ثبت بالتنبيه وهو حجة عند الجميع4 أما حكم غير بهيمة الأنعام من الآدميات وغيرها فقد اختلفوا في ذلك فقال الخطابي: "أنه يدخل في حكم المصراة من الإبل والغنم والبقر والآدميات فلو اشترى رجل جارية ذات لبن لترضع ولده فوجدها مصراة كان هذا حكمها سواء لا فرق بينها وبين غيرها من الحيوانات في هذا المعنى"5
--------------------------------------------
কল্যাণ নিহিত রয়েছে অনুসরণের মাঝে এবং অকল্যাণ নিহিত রয়েছে নস (النصوص)-এর বিরোধিতা করা এবং একটিকে অপরটির বিপরীতে দাঁড় করানোর মাঝে।
আর ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি এই হাদিসটি গ্রহণ করেননি, সে প্রসঙ্গে আল-বাজি ইবনুল কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি মালিককে বললাম, আপনি কি মুসাররাহ (مصراة) সংক্রান্ত হাদিসটি গ্রহণ করেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আরও বললেন: বর্ণিত আছে যে, যখন মালিককে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি (কুরআনের আয়াত) পাঠ করলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে কিংবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে}" ১।
তিনি আরও বলেন: "ইবনুল মাওয়াজ বলেছেন যে, আশহাব এটি গ্রহণ করেননি এবং বলেছেন এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা একে দুর্বল (يضعفه) সাব্যস্ত করে, আর তা হলো—লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার ওপর নির্ভরশীল (الغلة بالضمان)" ২। সুতরাং ইমাম মালিকের দিকে এটি গ্রহণ না করার যে নিসবত বা সম্পর্ক আরোপ করা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে এর ওপর আমল করার বিষয়টিই সুপরিচিত। সম্ভবত যিনি এটি ইমাম মালিকের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন, তিনি আশহাবের কথাকে মালিকের কথা মনে করে ভুল করেছেন। আর মহান আল্লাহই ভালো জানেন।
মুসাররাহ (مصراة) পশুর সাথে এক সা’ (খেজুর) ফিরিয়ে দেওয়ার হিকমত সম্ভবত এই হতে পারে যে, কোনো কোনো হীনমনা মানুষ মুসাররাহ পশুর দুধের প্রতি প্রলুব্ধ হতে পারে, ফলে সে দুধ দোহন করে নেবে এবং পরে মুসাররাহ হওয়ার অজুহাতে তা ফিরিয়ে দেবে। তাই প্রাজ্ঞ শরীয়ত প্রণেতা এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেছেন যাদের নফস তাদের এই প্ররোচনা দেয়, যাতে প্রবৃত্তিপূজারীরা পণ্য মালিকদের সাথে প্রতারণা করতে না পারে এবং তাদের গবাদি পশুর দুধ নষ্ট করতে না পারে। সুতরাং যদি ক্রেতা সত্যবাদী হয় তবে সে দুধের বিনিময়ে এক সা’ খেজুর প্রদান করবে; সে কেবল তখনই অগ্রসর হবে যখন সে তার দাবিতে সত্যবাদী হবে। যদিও আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই ইল্লত (العلة) বা কারণ উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
তাসরিয়াহ-এর হুকুম কি উট ও ছাগল ব্যতীত অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে?
ইবনে কুদামা বলেন: জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম একমত যে, তাসরিয়াহ-এর ক্ষেত্রে বকরি, উষ্ট্রী এবং গাভীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে দাউদ (ইবনে আলী) বিচ্ছিন্ন মত (شذ) পোষণ করে বলেছেন: গাভীর তাসরিয়াহ-এর মাধ্যমে (চুক্তি বাতিলের) এখতিয়ার সাব্যস্ত হয় না। কারণ হাদিসে এসেছে: "তোমরা উট ও বকরিকে তাসরিয়াহ করো না।" সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এ দুটি ব্যতীত অন্যগুলোর হুকুম ভিন্ন হবে। কারণ এ দুটির বিধান নস (النص)-এর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, আর কিয়াস (القياس)-এর মাধ্যমে শরীয়তের বিধান সাব্যস্ত হয় না।
অতঃপর তিনি বলেন, আমাদের স্বপক্ষে দলিল হলো এই বাণীর ব্যাপকতা: "যে ব্যক্তি কোনো মুসাররাহ (مصراة) পশু ক্রয় করবে, তার জন্য তিন দিনের এখতিয়ার থাকবে।" আর ইবনে ওমরের হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো মাহফিলাহ (محفلة) ক্রয় করবে," ৩ সেখানে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। এছাড়া যেহেতু এটি গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুর দুধের তাসরিয়াহ, তাই এটি উট ও ছাগলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এই বর্ণনায় গাভীর তাসরিয়াহ-এর প্রতিও ইঙ্গিত (التنبيه) রয়েছে, কারণ এর দুধ আরও প্রচুর এবং অধিক উপকারী। আর তাদের এই দাবি যে কিয়াস (القياس)-এর মাধ্যমে হুকুম সাব্যস্ত হয় না—তা অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এখানে হুকুমটি ইঙ্গিতের (التنبيه) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যা সবার নিকট দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। ৪ তবে গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু ব্যতীত মানুষ বা অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে তাসরিয়াহ-এর হুকুম কী হবে, সে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। খাত্তাবি বলেছেন: "উট, ছাগল, গরু এবং মানুষের ক্ষেত্রেও মুসাররাহ (مصراة)-এর বিধান প্রযোজ্য হবে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি তার সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য কোনো দুগ্ধবতী দাসী ক্রয় করে এবং তাকে মুসাররাহ হিসেবে পায়, তবে তার হুকুমও একই হবে। এ ক্ষেত্রে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।" ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فكأن الخطابي رحمه الله اقتصر على هذا القول ولم يذكر ما قال غيره من علماء الشافعية علما بأن النووي قد ذكر في ذلك ثلاثة أوجه فقال: "لو اشترى أتانا فوجدها مصراة فأوجه الصحيح أنه يردها ولا يرد للبن شيئا لأنه نجس.
والثاني: يردها ويرد بدله، قاله الاصطخري لذهابه إلى أنه طاهر مشروب.
والثالث: لا يردها لحقارة لبنها.
ولو اشترى جارية فوجدها مصراة فأوجه أصحها يردها ولا يرد بدل اللبن لأنه لا يعتاظ عنه غالبا، والثاني يرد ويرد بدله. والثالث لا يرد بل يأخذ الأرش"1.
وعند الحنابلة وجهان: أحدهما: يثبت الخيار اختاره ابن عقيل لعموم قوله: "من اشترى مصراة ومن أشترى محفلة" ولأنه تصرية بما يختلف الثمن به فأثبت الخيار كخيار تصرية بهيمة الأنعام وذلك أن لبن الآدمية يراد للرضاع ويرغب فيها ظئرا ويحسن ثديها ولذلك لو اشترط كثرة لبنها فبان بخلافه ملك الفسخ ولو لم يكن مقصودا لما ثبت باشتراطه وملك الفسخ بعدمه ولأن الأتان والفرس يرادان لولدهما.
الوجه الثاني: لا يثبت به الخيار لأن لبنها لا يعتاض عنه في العادة ولا يقصد قصد لبن بهيمة الأنعام والخبر ورد في بهيمة الأنعام ولا يصح القياس عليه لأن قصد لبن بهيمة الأنعام أكثر واللفظ العام أريد به الخاص، بدليل أنه أحمر في ردها بصاع من تمر ولا يجب في لبن غيرها ولأنه ورد عاما وخاصا في قضية واحدة فيحمل العام على الخاص ويكون المراد بالعام في أحد الحديثين الخاص في الحديث الآخر وعلى الوجه الأول: إذا ردها لم يلزم بدل لبنها ولا يرد معها شيئا لأن هذا اللبن لا يباح عادة ولا يعاوض
عنه2.
هذه الخلافات التي ذكروا فيها ولا شك والله تعالى أعلم أن البقر يلحق بالإبل والغنم لأنه يراد منها ما يراد من الإبل والغنم في اللبن ولذلك قال ابن السبكي: "واتفقوا على إثبات الحكم في البقر إما بالنص وإما بالقياس فإن القياس فيها ظاهر جلي وهي في معنى الإِبل والغنم فلذلك اتفقوا على ثبوت الحكم فيها أما ما عدى ذلك من الحيوانات كالجارية3 والأتان فلا يظهر فيهما أنهما في معنى الأصل المنصوص عليه
… " ثم قال: "والذي تجري أحكام المصراة عليهما فطريقه: إما القياس وإن كان ليس في الجلاء والظهور كالأول- يعني البقر- وإما إدراجها في عموم قول: "من اشترى مصراة" والذي لا تجري عليهما أحكام المصراة
--------------------------------------------
মনে হয় আল-খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) কেবল এই মতের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং শাফিঈ পণ্ডিতগণের মধ্যে অন্য যারা রয়েছেন তাদের উক্তি উল্লেখ করেননি। উল্লেখ্য যে, ইমাম আন-নববী এ বিষয়ে তিনটি দিক (ওয়াজহ) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "যদি কেউ একটি মাদি গাধা ক্রয় করে এবং সেটিকে মুসাররাহ হিসেবে পায়, তবে সঠিক (صحيح) দিকটি হলো যে সে তা ফেরত দেবে, কিন্তু দুধের বিনিময়ে কিছু ফেরত দেবে না; কারণ তা অপবিত্র।
দ্বিতীয়টি: সে তা ফেরত দেবে এবং এর বিনিময়ও প্রদান করবে। আল-ইসতাখরি এটি বলেছেন, কারণ তাঁর মতে এটি পবিত্র ও পানযোগ্য।
তৃতীয়টি: এর দুধের তুচ্ছতার কারণে সে এটি ফেরত দেবে না।
আর যদি কেউ একজন দাসী ক্রয় করে এবং তাকে মুসাররাহ হিসেবে পায়, তবে এ ক্ষেত্রে অভিমতগুলোর মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح) হলো—সে তাকে ফেরত দেবে কিন্তু দুধের বিনিময় ফেরত দেবে না, কারণ সাধারণত এর কোনো বিনিময় নেওয়া হয় না। দ্বিতীয়টি হলো, সে ফেরত দেবে এবং বিনিময়ও প্রদান করবে। তৃতীয়টি হলো, ফেরত দেবে না বরং ক্ষতিপূরণ (আরশ) গ্রহণ করবে।"১
হাম্বলি মাজহাবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এতে ইখতিয়ার (নির্বাচনের অধিকার) সাব্যস্ত হবে। ইবনে আকিল এটি পছন্দ করেছেন। এর কারণ হলো রাসুলুল্লাহর বাণীর সাধারণতা (عام): "যে ব্যক্তি কোনো মুসাররাহ ক্রয় করল এবং যে ব্যক্তি কোনো মাহফিলাহ ক্রয় করল।" এছাড়া এটি এমন এক ধরনের 'তাসরিয়াহ' (ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা), যার মাধ্যমে মূল্যের তারতম্য ঘটে; তাই গবাদিপশুর তাসরিয়াহর ইখতিয়ারের মতোই এখানেও ইখতিয়ার সাব্যস্ত হবে। কেননা মানুষের দুধ দুগ্ধপোষ্য শিশুর পানের জন্য প্রয়োজন হয় এবং ধাত্রী হিসেবে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তার স্তন সুশ্রী দেখায়। এই কারণেই যদি দুধের আধিক্যের শর্ত করা হয় এবং পরে তার বিপরীত প্রকাশ পায়, তবে ক্রেতা চুক্তি বাতিলের (ফসখ) অধিকার লাভ করে। যদি এটি উদ্দেশ্য না-ই হতো, তবে শর্ত করার মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হতো না এবং এর অভাবে বাতিলের অধিকার জন্মাত না। তদুপরি, মাদি গাধা এবং ঘোড়াকে তাদের বাচ্চার জন্যই পালন করা হয়।
দ্বিতীয় অভিমত: এতে ইখতিয়ার সাব্যস্ত হবে না। কারণ অভ্যাসগতভাবে এর দুধের কোনো বিনিময় দেওয়া হয় না এবং গবাদিপশুর দুধের মতো এটি উদ্দেশ্যও থাকে না। আর এ সংক্রান্ত বর্ণনা (خبر) গবাদিপশুর ক্ষেত্রে এসেছে, যার ওপর কিয়াস বা অনুমান করা সঠিক (صحيح) নয়; কারণ গবাদিপশুর দুধের উদ্দেশ্য অধিকতর ব্যাপক। এখানে সাধারণ (عام) শব্দ দ্বারা বিশেষ (خاص) অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। এর প্রমাণ হলো—দুধের বিনিময়ে এক সা' খেজুর প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অন্য পশুর দুধের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়। যেহেতু একই বিষয়ে বিষয়টি সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص) উভয় ভাবেই এসেছে, তাই সাধারণটিকে (عام) বিশেষটির (خاص) ওপর প্রয়োগ করা হবে। ফলে একটি হাদিসের সাধারণ (عام) শব্দ দ্বারা অন্য হাদিসের বিশেষ (خاص) অর্থটিই উদ্দেশ্য হবে। প্রথম অভিমত অনুযায়ী: যদি সে পশুটি ফেরত দেয়, তবে দুধের বিনিময় দেওয়া আবশ্যক হবে না এবং সাথে অন্য কিছুও ফেরত দেবে না। কারণ সাধারণত এই দুধ বৈধ নয় এবং এর বিনিময়ও দেওয়া হয় না।২
এগুলোই হলো সেই মতভেদ যা তাঁরা উল্লেখ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই—এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত—যে গরুও উট ও ছাগলের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ দুধের ক্ষেত্রে উট ও ছাগল থেকে যা উদ্দেশ্য থাকে, গরু থেকেও তাই উদ্দেশ্য থাকে। এই কারণেই ইবনে সুবকি বলেছেন: "পণ্ডিতগণ গরুর ক্ষেত্রে বিধান সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, চাই তা সরাসরি অকাট্য পাঠ (نص) দ্বারা হোক অথবা কিয়াসের মাধ্যমে। কারণ এর কিয়াস অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এটি উট ও ছাগলের পর্যায়ভুক্ত। তাই এতে বিধান সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে এগুলো ছাড়া অন্য প্রাণী যেমন দাসী৩ এবং মাদি গাধার ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট নয় যে, তারা সেই মূল বিষয়ের পর্যায়ভুক্ত যার ব্যাপারে অকাট্য পাঠ (نص) এসেছে
… " অতঃপর তিনি বলেন: "যাদের ক্ষেত্রে মুসাররাহ-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, তার পদ্ধতি হলো: হয় কিয়াসের মাধ্যমে—যদিও তা প্রথমটির (অর্থাৎ গরুর) মতো এতটা স্পষ্ট নয়—অথবা "যে ব্যক্তি মুসাররাহ ক্রয় করল" এই সাধারণ (عام) বাণীর অন্তর্ভুক্ত করা। আর যাদের ওপর মুসাররাহ-এর বিধান চলবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
طريقة قطع القياس ويتبين أنهما غير داخلين في عموم قوله مصراة إما بأن الاسم غير صادق عليهما عند الإطلاق وإما بإخراجهما من اللفظ بدليل وقد يقال: إن من جملة ما يدل على إخراج الجارية قوله في الحديث: "بعد أن يحلبها " فإن ذلك يقتضي قصر الحكم على ما يصدق عليه اسم الحلب وفي إطلاق الحلب على الجارية نظر"1
هل يلزم كون المردود صاعا من تمر أو يجور غيره من أقوات البلد
اختلف القائلون بالحديث في حكم ذلك فعند الحنابلة وطائفة من الشافعية يلزم صاعا من تمر أخذا بظاهر أكثر روايات الحديث وحملوا لفظ الطعام على التمر لأنه يطلق في بعض الروايات مقيد في الأخرى حب قضية واحدة والمطلق فيما هذا سبيله يحمل على المقيد2
وعند مالك وبعض الشافعية أنه لا يلزم التمر وإنما الواجب غالب قوت البلد لورود الحديث بصاع من طعام جمعا بين ألفاظ الحديث وإنما أطلق التمر لكونه غالب قوت المدينة3.
وقد ذكره البهوتي قولا لبعض الحنابلة4.
وقال زفر: "يتخير بين صاع من تمر ونصف صاع من بر"
وقال ابن أبي ليلى وأبو يوسف بمثل قول زفر إلا أنهما قالا: "لا يتعين صاع التمر بل قيمته"5
قال الطحاوي: "وقد كان أبو يوسف قال بهذا في بعض أماليه غير أنه ليس بالمشهور عنه"6.
وقال الذين أوجبوا التمر: لو كان في بلد لا يوجد فيها التمر أنه لا يلزم المشتري قيمته بالبلد الذي وقع فيه البيع وذلك لأنه بمنزلة ما لو أتلفه.
ثم قالوا: "ولو كان اللبن باقيا بحاله بعد الحلب لم يتغير بحموضة ولا غيرها رده المشتري ولزم البائع قبوله ولا شيء عليه لأن اللبن هو الأصل والتمر إنما وجب بدلا عنه فإذا رد الأصل أجزأ كسائر الأصول مع مبدلاتها كرد المصراة قبل الحلب إذا علم بالتصرية بإقرار البائع أو شهادة من تقبل شهادته"7.
--------------------------------------------
কিয়াস (قياس) বা অনুমান পদ্ধতি নাকচ করার পন্থা এবং এটি স্পষ্ট যে তারা উভয়ই 'মুসাররাত' শব্দের সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত নয়; হয় নামটির সাধারণ প্রয়োগে তাদের ক্ষেত্রে তা সত্য নয়, অথবা দলীলের মাধ্যমে তাদের এই শব্দার্থ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বলা যেতে পারে যে, দাসীকে এই বিধানের বাইরে রাখার একটি দলিল হলো হাদিসের এই উক্তি: "সেটি দোহন করার পর"। কারণ এটি নির্দেশ করে যে, বিধানটি কেবলমাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য যার ক্ষেত্রে দোহন শব্দটি প্রযোজ্য। আর দাসীর ক্ষেত্রে দোহন শব্দের প্রয়োগ প্রশ্নাতীত নয়।১
ফেরতযোগ্য বস্তুটি কি এক সা' খেজুর হওয়া আবশ্যক, নাকি এলাকার অন্যান্য প্রধান খাদ্যদ্রব্য প্রদান করাও বৈধ হবে?
যারা এই হাদিস অনুযায়ী আমল করেন, তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। হাম্বলিদের মতে এবং শাফেয়িগণের একটি দলের মতে, হাদিসের অধিকাংশ বর্ণনার প্রকাশ্য অর্থের (ظاهر) ভিত্তিতে এক সা' খেজুর প্রদান করা আবশ্যক। তারা 'খাদ্য' শব্দটিকে খেজুরের অর্থে গ্রহণ করেছেন, কারণ কিছু বর্ণনায় এটি নিঃশর্ত (مطلق) ভাবে এবং অন্যগুলোতে শর্তযুক্ত (مقيد) ভাবে এসেছে; যেহেতু এটি একই ঘটনা, তাই এই ধরনের ক্ষেত্রে নিঃশর্ত (مطلق) শব্দটিকে শর্তযুক্ত (مقيد) শব্দের অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়।২
ইমাম মালিক এবং শাফেয়িদের কারও কারও মতে, খেজুর দেওয়া আবশ্যক নয়, বরং এলাকার প্রধান খাদ্যদ্রব্য দেওয়াই ওয়াজিব; কারণ হাদিসের সকল শব্দের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে হাদিসে 'এক সা' খাদ্য' কথাটি এসেছে। আর খেজুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তা মদিনার প্রধান খাদ্য ছিল।৩
আল-বাহুতি এটিকে কিছু হাম্বলি আলেমের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।৪
ইমাম জুফার বলেন: "এক সা' খেজুর অথবা আধা সা' গমের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ থাকবে।"
ইবনে আবি লায়লা এবং আবু ইউসুফ ইমাম জুফারের মতের অনুরূপ বলেছেন, তবে তারা বলেছেন: "এক সা' খেজুর নির্দিষ্ট নয়, বরং তার মূল্য প্রদান করতে হবে।"৫
ইমাম ত্বহাবী বলেন: "আবু ইউসুফ তাঁর কিছু 'আমালি'তে (অধ্যপনা বা শ্রুতিলিপি) এটি বলেছিলেন, তবে এটি তাঁর পক্ষ থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور) বর্ণনা নয়।"৬
যারা খেজুর ওয়াজিব করেছেন তারা বলেন: যদি এমন কোনো শহর হয় যেখানে খেজুর পাওয়া যায় না, তবে যে শহরে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে সেই শহরের মূল্য পরিশোধ করা ক্রেতার ওপর আবশ্যক হবে না, কারণ এটি কোনো বস্তু বিনষ্ট করার সমপর্যায়ের।
অতঃপর তারা বলেছেন: "যদি দোহন করার পর দুধ তার পূর্বাবস্থায় অপরিবর্তিত থাকে এবং টক হয়ে যাওয়া বা অন্য কোনোভাবে পরিবর্তিত না হয়, তবে ক্রেতা তা ফেরত দিবে এবং বিক্রেতা তা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে; এমতাবস্থায় তার ওপর আর কিছুই বর্তাবে না। কারণ দুধই হলো মূল (أصل), আর খেজুর তার বিকল্প (بدل) হিসেবে ওয়াজিব হয়েছিল। সুতরাং যখন মূল (أصل) ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়, তখন সেটিই যথেষ্ট হবে; যেমন অন্যান্য মূল এবং তার বিকল্পের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটি দোহন করার পূর্বে 'মুসাররাত' ফেরত দেওয়ার মতো, যখন বিক্রেতার স্বীকারোক্তি অথবা যার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রতারণা প্রমাণিত হয়।"৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال ابن حزم: "فإن كان اللبن الذي في ضرعها يوم اشتراها حاضرا رده كما هو حليبا أو حامضاً"1 وقد خالف المالكية في رد اللبن وقالوا: "لأن ذلك يدخله بيع الطعام قبل استيفائه"2.
وقال ابن قدامه ولنا أنه قدر على رد المبدل فلم يلزمه المبدل كسائر المبدلات مع أبدالها. والحديث المراد به رد التمر حالة عدم اللبن لقوله ففي حلبتها صاع من تمر3.
ولعل الصواب والله تعالى أعلم مع من قال برد اللبن إذا كان موجودا ولم يتغير وسبب هذا الاختلاف اختلاف ألفاظ الحديث حيث ورد بذكر التمر وحده كما في رواية الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه وكذلك رواية ابن سيرين ومجاهد والوليد بن رباح وموسى بن يسار وثابت مولى عبد الرحمن بن زيد وهمام بن منبه.
2- وكذلك ورد بلفظ الطعام كما في رواية ابن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه وخلاس ابن عمرو ورواية ابن أبي ليلى عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.
3- كما ورد بلفظ التمر والخيار ثلاثة أيام كما في رواية أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه ورواية الحسن عن أنس بن مالك، ورواية سالم بن عبد الله عن أبيه عبد الله بن عمر بن الخطاب.
4- كذلك ورد بلفظ "الطعام" و"الخيار ثلاثة أيام" كما في رواية محمد بن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه وقد تقدمت هذه الروايات ومن خرجها قال الحافظ فالجمع بين هذه الروايات والذي يظهر في الجمع بينها أن من زاد الثلاث معه زيادة علم وهو حافظ ويحمل الأمر فيمن لم يذكرها على أنة لم يحفظها أو اختصرها وتحمل الرواية التي فيها الطعام على التمر وقد روى الطحاوي من طريق أيوب عن ابن سيرين أن المراد بالسمراء الحنطة الشامية4.
وروى ابن أبي شيبة وأبو عوانة من طريق هشام بن حسان عن ابن سيرين "لا سمراء"- يعنى الحنطة-.
وروى ابن المنذر من طريق ابن عون عن ابن سيرين أنه سمع أبا هريرة يقول: "لا سمراء ليس ببر" فهذه الروايات تبين أن المراد بالطعام التمر ولما كان المتبادر إلى الذهن أن المراد بالطعام القمح نفاه بقوله: "لا سمراء" لكن يعكر على هذا الجمع ما رواه البزار من
--------------------------------------------
ইবনে হাজম বলেন: "যদি তাকে ক্রয় করার দিন তার ওলানে বিদ্যমান দুধ এখনো উপস্থিত থাকে, তবে সে তা যেভাবে আছে সেভাবেই ফেরত দেবে—চাই তা তাজা দুধ হোক বা টক হয়ে যাওয়া।"১ আর মালিকিগণ দুধ ফেরতের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং তারা বলেছেন: "কেননা এটি তা হস্তগত করার পূর্বেই খাদ্য বিক্রয় করার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।"২
ইবনে কুদামা বলেন: আমাদের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো যে, সে মূল বস্তুটি ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছে, তাই তার ওপর বিনিময় প্রদান আবশ্যক নয়, যেমনটা অন্যান্য বিনিময়যোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুধ না থাকার অবস্থায় খেজুর ফেরত দেয়া, কারণ তাঁর বাণী হলো: "তার দোহনকৃত দুধের বিনিময়ে এক সা' খেজুর দিতে হবে।"৩
সম্ভবত সঠিক মতটি হলো—আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত—তাদের সাথে যারা বলেছেন যে, দুধ যদি বিদ্যমান থাকে এবং পরিবর্তিত না হয় তবে তা-ই ফেরত দিতে হবে। এই মতপার্থক্যের কারণ হলো হাদিসের শব্দগত ভিন্নতা, যেখানে কোনো বর্ণনায় কেবল খেজুরের উল্লেখ এসেছে, যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আল-আরাজ-এর বর্ণনা (رواية); এবং ইবনে সিরিন, মুজাহিদ, ওয়ালিদ ইবনে রাবাহ, মুসা ইবনে ইয়াসার, আবদুর রহমান ইবনে জায়দ-এর মুক্তদাস সাবিত এবং হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ্-এর বর্ণনা (رواية) ও তদ্রূপ।
২- অনুরূপভাবে এটি 'খাদ্য' শব্দেও বর্ণিত হয়েছে, যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে ইবনে সিরিনের বর্ণনায় (رواية), খুলাস ইবনে আমর এবং ইবনে আবি লায়লার বর্ণনায় (رواية) নবী (সা.)-এর জনৈক সাহাবি থেকে এসেছে।
৩- আবার এটি 'খেজুর' এবং 'তিন দিনের ইখতিয়ার' শব্দেও বর্ণিত হয়েছে, যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আবু সালিহ্-এর বর্ণনা (رواية), আনাস ইবনে মালিক থেকে হাসানের বর্ণনা (رواية) এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে সালিম ইবনে আবদুল্লাহর বর্ণনা (رواية)।
৪- তেমনিভাবে এটি 'খাদ্য' এবং 'তিন দিনের ইখতিয়ার' শব্দেও বর্ণিত হয়েছে, যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বর্ণনায় (رواية)। এই বর্ণনাগুলো (روايات) এবং কারা এটি সংকলন (خرج) করেছেন তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। হাফিজ [ইবনে হাজার] বলেন: এই বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, যিনি 'তিন দিন' অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন তাঁর নিকট অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে এবং তিনি একজন সংরক্ষণকারী (حافظ)। আর যিনি এটি উল্লেখ করেননি তাঁর ক্ষেত্রে ধরে নেয়া হবে যে তিনি তা মুখস্থ রাখতে পারেননি বা সংক্ষেপ করেছেন। আর যে বর্ণনায় 'খাদ্য' শব্দ এসেছে তা 'খেজুর' অর্থে গণ্য হবে। ইমাম তহাবি আইয়ুব-এর সূত্রে ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'সামরা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শামী গম।৪
ইবনে আবি শায়বাহ এবং আবু আওয়ানাহ হিশাম ইবনে হাসসানের সূত্রে ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন: "সামরা নয়"—অর্থাৎ গম।
ইবনে মুনজির ইবনে আউনের সূত্রে ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: "সামরা নয়, গমও নয়।" সুতরাং এই বর্ণনাগুলো (روايات) স্পষ্ট করে দেয় যে, 'খাদ্য' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খেজুর। যেহেতু সাধারণত মনে হতে পারে যে খাদ্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গম, তাই তিনি "সামরা নয়" বলে তা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে আল-বাযযার কর্তৃক বর্ণিত যা রয়েছে তা এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
طريق أشعث بن عبد الملك عن ابن
سيرين بلفظ "إن ردها رد ومعها صاع من بر لا سمراء" وهذا يقتضي أن المنفي في قوله "لا سمراء "حنطة مخصوصة وهي الحنطة الشامية فيكون المثبت بقوله:"من طعام" أي من قمح ويحتمل أن يكون راويه رواه بالمعنى الذي ظنه مساويا وذلك أن المتبادر من الطعام البر فظن الراوي أنه البر فعبر به وإنما أطلق لفظ الطعام على التمر لأنه كان غالب قوت أهل المدينة فهذا طريق الجمع بين مختلف الروايات عن ابن سيرين في ذلك لكن يعكر على هذا ما رواه أحمد بإسناد صحيح عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن رجل من الصحابة نحو حديث الباب وفيه "فإن ردها رد معها صاعا من طعام أو صاعا من تمر" فإن ظاهره يقتضي التخيير بين التمر والطعام وأن الطعام غير التمر ويحتمل أن تكون "أو" شكا من الراوي لا تخييرا وإذا وقع الاحتمال في هذه الروايات لم ينصح الاستدلال بشيء منها فيرجع إلى الروايات التي لم يختلف فيها وهي التمر فهي الراجحة كما أشار إليه البخاري1.
هكذا جمع الحافظ رحمه الله والذي يظهر لي والله تعالى أعلم أنه يحمل على غالب قوت البلد كما هو مذهب الإمام مالك وبعض الشافعية لثبوت لفظ الطعام كما تقدم عن أبي هِريرة وعن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وحديث أبي هريرة في الصحيحين وغيرهما وهذا أيضاَ فيه تيسير للأمة والشريعة وردت بذلك. أما قوله: "لا سمراء" فلعل المقصود منها نوع من الحنطة الخاصة كما ورد عن أبي سعيد الخدري رضي الله تعالى عنه قال: "كنا نعطيها- يعني زكاة الفطر- في زمان النبي صلى الله عليه وسلم صاعا من طعام أو صاعا من تمر أو صاعا من شعير أو صاعا من زبيب فلما جاء معاوية وجاءت السمراء قال: أرى مدا من هذا يعدل مدين"2.
وقد وردت الروايات بلفظ الطعام وصحت فالأولى حمله على الأصل وهوِ البر وليس النوع الفاخر من الحنطة ولا الرديء بل المتوسط.
ولفظ الطعام عام في كان ما يقتات من الحنطة والشعير والتمر وغير ذلك3 ولهذا رجحت قوت كل بلد كما في زكاة الفطر لأنها تعطى من قوت كل بلد. والله أعلم.
وبهذا تم البحث وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
--------------------------------------------
ইবনে সিরিন থেকে আশআছ বিন আব্দুল মালিকের সূত্র (طريق) হলো: "যদি সে তা ফেরত দেয়, তবে তা ফেরত দেবে এবং সাথে এক সা' গম প্রদান করবে, সামরা নয়।" এটি নির্দেশ করে যে, "সামরা নয়" কথাটির মাধ্যমে একটি বিশেষ ধরনের গমের কথা নিষেধ করা হয়েছে, যা হলো সিরীয় অঞ্চলের গম। ফলে "খাবার থেকে" কথাটির দ্বারা গমই সাব্যস্ত হয়। এটিও সম্ভব যে, বর্ণনাকারী একে এমন অর্থে বর্ণনা করেছেন যা তিনি সমার্থক মনে করেছেন। কারণ সাধারণত খাবার বলতে গমকেই বুঝানো হতো, তাই বর্ণনাকারী ধারণা করেছেন এটি গম এবং সেই শব্দেই ব্যক্ত করেছেন। তবে মদিনাবাসীদের প্রধান খাদ্য হওয়ার কারণে খেজুরের ক্ষেত্রেও "খাবার" শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনার (رواية) মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি এটিই। কিন্তু ইমাম আহমাদ জনৈক সাহাবী থেকে আব্দুল রহমান ইবনে আবি লায়লার সূত্রে সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) -এর মাধ্যমে মূল আলোচনার অনুরূপ যে বর্ণনাটি দিয়েছেন, তা এই সমন্বয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে বলা হয়েছে: "যদি সে তা ফেরত দেয়, তবে তার সাথে এক সা' খাবার অথবা এক সা' খেজুর ফেরত দেবে।" এর বাহ্যিক অর্থ "খাবার" এবং "খেজুরের" মধ্যে ঐচ্ছিকতা নির্দেশ করে এবং এটিও বুঝায় যে খাবার খেজুর থেকে ভিন্ন। এটিও হতে পারে যে, এখানে "অথবা" শব্দটি বর্ণনাকারীর সন্দেহ, ঐচ্ছিকতা নয়। যখন এই বর্ণনাগুলোতে একাধিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়, তখন এগুলোর কোনোটি দ্বারা দলিল পেশ করা সঠিক হবে না। এমতাবস্থায় সেই বর্ণনাগুলোর দিকেই ফিরে যেতে হবে যাতে কোনো মতভেদ নেই, আর তা হলো "খেজুর"। ইমাম বুখারি যেদিকে ইঙ্গিত করেছেন, সে অনুযায়ী এটিই অগ্রগণ্য।
হাফেজ (ইবনে হাজার) রহিমাহুল্লাহ এভাবেই সমন্বয় করেছেন। তবে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়—এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ—তা হলো, একে সংশ্লিষ্ট জনপদের প্রধান খাদ্যের ওপর প্রয়োগ করা হবে; যেমনটি ইমাম মালিক এবং কিছু শাফেয়ি ফকিহদের মাযহাব। কারণ আবু হুরায়রা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে "খাবার" শব্দটি প্রমাণিত হয়েছে। আবু হুরায়রার হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম সহ অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। এটি উম্মতের জন্য সহজতর এবং শরিয়তও এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। আর "সামরা নয়" কথাটির মাধ্যমে সম্ভবত কোনো বিশেষ প্রজাতির গম উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেমনটি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক সা' খাবার অথবা এক সা' খেজুর অথবা এক সা' যব অথবা এক সা' কিশমিশ প্রদান করতাম (অর্থাৎ জাকাতুল ফিতর)। যখন মুয়াবিয়া (রা.) আসলেন এবং সামরা গম আসলো, তিনি বললেন: আমি মনে করি এর এক মুদ (অন্যান্য শস্যের) দুই মুদের সমান।"
বর্ণনাগুলো (رواية) "খাবার" শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং তা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে। তাই এর মূল অর্থাৎ গমের ওপরই বিষয়টিকে প্রয়োগ করা উত্তম; যা উচ্চমানের বা নিম্নমানের গম নয় বরং মধ্যম মানের।
"খাবার" শব্দটি গম, যব, খেজুর এবং অন্য সব খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে সাধারণ। এজন্য প্রত্যেক জনপদের প্রধান খাদ্যকেই অগ্রগণ্য বলা হয়েছে, যেমনটি জাকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে করা হয়; কারণ তা জনপদের প্রধান খাদ্য থেকে প্রদান করা হয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এভাবেই এই গবেষণা সমাপ্ত হলো। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مصادر ومراجع…قائمة المراجع
ا- القرآن الكريم.
2- الإحسان بترتيب صحيح ابن حبان للأمير علاء الدين بلبان الفارسي/ الطبعة الأولى عام 1407 هـ.
3- إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام: لابن دقيق العيد/ دار الكتب العلمية/ بيروت.
4- إرواء الغليل تخريج أحاديث منار السبيل: للألباني/ المكتب الإسلامي.
5- إعلام الموقعين: لابن القيم الجوزي/ الناشر مكتبة الكليات الأزهرية.
6- بلوغ الأماني من أسرار الفتح الرباني للساعاتي/ ط/ الأولى 1355 هـ.
7- التاريخ الكَبير: للإمام البخاري محمد بن إسماعيل/ ط/ دار الكَتب العلمية بيروت.
8- تحفة الأحوذي شرح سنن الترمذي: للمباركفوري/ المكتبة السلفية بالمدينة.
9- تفسير القرآن العظيم: لابن كثير/ طبع عيسى البابي الحلبي/ مصر.
10- تقريب التهذيب: لابن حجر العسقلاني/ دار المعرفة/ بيروت.
11- التخليص الحبير: لابن حجر العسقلاني/ طبع السيد هاشم اليماني.
12- التمهيد: لابن عبد البر/ طبع وزارة الأوقاف المغربية.
13- تهذيب السنن: لابن القيم مع مختصر السنن للمنذري/ تحقيق أحمد محمد شاكر ومحمد حامد الفقي.
14-تهذيب التهذيب: لابن حجر العسقلاني/ دار صادر- بيروت.
15- الثقات: لابن حبان البستي/ دار الفكر- بيروت.
16- الجرح والتعديل: لابن أبي حاتم/ دار الفكر- بيروت.
17- ديوان الضعفاء والمتروكين: للذهبي تحقيق الشيخ حماد الأنصاري.
18- روضة الطالبين: للنووي المكَتب الإسلامي.
19- سلسلة الأحاديث الصحيحة: للألباني/ طبع المكتب الإسلامي.
20- سلسلة الأحاديث الضعيفة: للألباني/ طبع المكتب الإسلامي.
21- سنن الترمذي مع تحفة الأحوذي/ طبع المكتبة السلفية بالمدينة.
উৎস ও তথ্যসূত্র...তথ্যসূত্রের তালিকা
১- আল-কুরআনুল কারীম।
2- আমীর আলাউদ্দীন বিলবান আল-ফারিসী রচিত আল-ইহসান বিতরতীবি সহিহ ইবনে হিব্বান/ প্রথম সংস্করণ ১৪০৭ হিজরি।
3- ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম: ইবনু দাকীকিল ঈদ/ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ/ বৈরুত।
4- ইরওয়াউল গালীল তাখরীজু আহাদিসি মানারিস সাবীল: আলবানী/ আল-মাকতাবুল ইসলামী।
5- ইলামুল মুওয়াক্কিঈন: ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ/ প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুল্লিয়্যাতিল আজহারিয়্যাহ।
6- আস-সাআতী রচিত বুলুগুল আমানী মিন আসরারিল ফাতহির রব্বানী/ ১ম সংস্করণ ১৩৫৫ হিজরি।
7- আত-তারিখুল কাবীর: ইমাম বুখারী মুহাম্মদ বিন ইসমাইল/ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত।
8- তুহফাতুল আহওয়াযী শারহু সুনানিত তিরমিযী: মুবারকপুরী/ আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মদিনা।
9- তাফসীরুল কুরআনিল আজীম: ইবনে কাসীর/ ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী কর্তৃক মুদ্রিত/ মিশর।
10- তাকরীবুত তাহযীব: ইবনে হাজার আসকালানী/ দারুল মা'রিফাহ/ বৈরুত।
11- আত-তালখীসুল হাবীর: ইবনে হাজার আসকালানী/ সায়্যিদ হাশেম আল-ইয়ামানী কর্তৃক মুদ্রিত।
12- আত-তামহীদ: ইবনে আব্দুল বারর/ মরক্কোর আওকাফ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মুদ্রিত।
13- তাহযীবুস সুনান: ইবনুল কাইয়্যিম, সাথে মুনযিরীর মুখতাসারুস সুনান/ তাহকীক: আহমাদ মুহাম্মদ শাকির ও মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী।
14-তাহযীবুত তাহযীব: ইবনে হাজার আসকালানী/ দারু সাদির- বৈরুত।
15- আস-সিকাত: ইবনে হিব্বান আল-বুসতী/ দারুল ফিকর- বৈরুত।
16- আল-জারহ ওয়াত তাদীল: ইবনে আবী হাতিম/ দারুল ফিকর- বৈরুত।
17- দিওয়ানুয যুয়াফা ওয়াল মাত্রুকীন: আয-যাহাবী/ তাহকীক: শেখ হাম্মাদ আল-আনসারী।
18- রওজাতুত তালিবীন: আন-নববী/ আল-মাকতাবুল ইসলামী।
19- সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহাহ: আলবানী/ আল-মাকতাবুল ইসলামী কর্তৃক মুদ্রিত।
20- সিলসিলাতুল আহাদিসিজ জয়ীফাহ: আলবানী/ আল-মাকতাবুল ইসলামী কর্তৃক মুদ্রিত।
21- সুনানিত তিরমিযী সাথে তুহফাতুল আহওয়াযী/ আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মদিনা কর্তৃক মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
22- سنن أبي داود/ تحقيق الدعاس.
23- سنن الدارقطني: عن بن عمر الدارقطني/ طبع عبد الله هاشم اليماني 1386هـ.
24- سنن سعيد بن منصور/ دار الكتب العلمية.
25- السنن الكبى للبيهقي/ دار الفكر/ بيروت.
26- سنن ابن ماجة/ تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي.
27- سنن النسائي/ إحياء التراث العربي.
28- شرح مسلم: للنووي/ المطبعة المصرية ومكتبتها/ القاهرة.
29- شرح معاني الآثار: للطحاوي/ مطبعة الأنوار المحمدية/ القاهرة.
30- صحيح البخاري: محمد بن إسماعيل/ مكتبة النهضة الحديثة بمكة.
31- صحيح مسلم: لمسلم بن الحجاج/ تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي.
32- صحيح الجامع الصغير: للألباني/ المكَتب الإسلامي.
33- ضعيف الجامع الصغير: للألباني/ المكتب الإسلامي.
34- علل الحديث/ لابن أبي حاتم عبد الرحمن الرازي/ دار المعرفة.
35- عمدة القارئ شرح صحيح البخاري: للعيني/ تصوير أمين دمج.
36- عون المعبود شرح سنن أبي داود: لشمس الحق العظيم أبادي/ طبع المكتبة السلفية بالمدينة.
37- فتح الباري شرح صحيح البخاري: للحافظ ابن حجر/ طبع المطبعة السلفية.
38- الفتح الرباني ترتيب مسند الإمام أحمد: للساعاتي/ ط/ االأولى 55 13 هـ.
39- الفردوس: للديلمي/ دار الكتب العلمية.
40- القاموس المحيط: للفيروزبادي/ دار الجيل/ بيروت.
41- قوانين الأحكام: لابن جزي المالكي/ دار العلم للملايين/ بيروت.
42- الكاشف: للذهبي/ تحقيق عزت علي عطية وموسى محمد علي.
43- الكافي لابن عبد البر/ الناشر مكتبة الرياض الحديثة.
44- كشاف القناع: للبهوتي/ مطبعة الحكومة بمكَة.
45- كشف الأستار عن زوائد البزار: للهيثمي/ مؤسسة الرسالة.
46- لسان العرب: لابن منظور/ ط/ دار المعارف.
47- مجمع الزوائد ومنبع الفوائد: للهيثمي/ ط/ دار الكتاب العربي/ بيروت.
22- সুনান আবি দাউদ/ আদ-দা'আস-এর সম্পাদনা।
23- সুনান আদ-দারাকুতনি: ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি কর্তৃক/ আব্দুল্লাহ হাশিম আল-ইয়ামানি কর্তৃক মুদ্রিত, ১৩৮৬ হিজরি।
24- সুনান সাঈদ বিন মনসুর/ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
25- আস-সুনান আল-কুবরা লিল-বায়হাকি/ দারুল ফিকর/ বৈরুত।
26- সুনান ইবনে মাজাহ/ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সম্পাদনা।
27- সুনান আন-নাসায়ি/ ইহয়াউত তুরাথিল আরবি।
28- শরহু মুসলিম: আন-নববী কর্তৃক/ আল-মাতবাআ আল-মিসরিয়্যাহ ও তার লাইব্রেরি/ কায়রো।
29- শরহু মাআনিল আসার: আত-তহাবি কর্তৃক/ মাতবাআতুল আনওয়ার আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ/ কায়রো।
30- সহিহ বুখারি: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল/ মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-হাদিসাহ, মক্কা।
31- সহিহ মুসলিম: মুসলিম বিন হাজ্জাজ কর্তৃক/ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সম্পাদনা।
32- সহিহ আল-জামি আস-সগির: আলবানি কর্তৃক/ আল-মাকতাব আল-ইসলামি।
33- জইফ আল-জামি আস-সগির: আলবানি কর্তৃক/ আল-মাকতাব আল-ইসলামি।
34- ইলালুল হাদিস/ ইবনে আবি হাতিম আব্দুর রহমান আল-রাজি কর্তৃক/ দারুল মা'রিফাহ।
35- উমদাতুল কারি শরহু সহিহ বুখারি: আল-আইনি কর্তৃক/ আমিন দামজ কর্তৃক অফসেট মুদ্রণ।
36- আওনুল মাবুদ শরহু সুনান আবি দাউদ: শামসুল হক আজিমাবাদি কর্তৃক/ মদিনার আল-মাকতাবাহ আস-সালাফিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত।
37- ফাতহুল বারি শরহু সহিহ বুখারি: হাফিজ ইবনে হাজার কর্তৃক/ আল-মাতবাআ আস-সালাফিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত।
38- আল-ফাতহুর রব্বানি তারতিব মুসনাদ আল-ইমাম আহমদ: আস-সাআতি কর্তৃক/ ১ম সংস্করণ, ১৩৫৫ হিজরি।
39- আল-ফিরদাউস: আদ-দাইলামি কর্তৃক/ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
40- আল-কামুস আল-মুহিত: আল-ফিরোজাবাদি কর্তৃক/ দারুল জিল/ বৈরুত।
41- কাওয়ানিনুল আহকাম: ইবনে জুযাই আল-মালিকি কর্তৃক/ দারুল ইলম লিল-মালাঈন/ বৈরুত।
42- আল-কাশিফ: আজ-জাহাবি কর্তৃক/ ইজ্জত আলী আতিয়্যাহ ও মুসা মুহাম্মদ আলীর সম্পাদনা।
43- আল-কাফি লিল-ইবনে আব্দিল বারর/ প্রকাশক: মাকতাবাতুর রিয়াদ আল-হাদিসাহ।
44- কাশশাফুল কিনা: আল-বাহুতি কর্তৃক/ সরকারি মুদ্রণালয়, মক্কা।
45- কাশফুল আস্তার আন জাওয়াইদ আল-বাজার: আল-হাইসামি কর্তৃক/ মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ।
46- লিসানুল আরব: ইবনে মানজুর কর্তৃক/ সংস্করণ/ দারুল মাআরিফ।
47- মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ: আল-হাইসামি কর্তৃক/ সংস্করণ/ দারুল কিতাব আল-আরবি/ বৈরুত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুল মুসাররাহ - রেওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
48_ المجموع التكملة لابن السبكي/ دار الفكر.
49_ المحلي: لابن حزم/ دار الكتب العلمية/ بيروت.
50_ مختصر سنن أبي داود: للمنذري/ ط/ دار المعرفة/ بيروت.
51_ المستدرك: للحاكم/ دار الكتاب العربي.
52_ مسند الإمام أحمد/ المكتب الإسلامي.
53_ مسند أبي يعلي أحمد بن علي/ دار المأمون للتراث/ دمشق.
54_ مصنف ابن أبي شيبة: أبو بكر بن أبي شيبة/ دار القرآن الإسلامية.
55_ مصنف عبد الرزاق/ المكتب الإسلامي.
56_ المطالب العالية بزوائد الثمانية: لابن حجر/ تحقيق حبيب الرحمن الأعظمي.
57_ معالم السنن: للخطابي مع مختصر المنذري/ دار المعرفة.
58_ معجم الطبراني الأوسط: تحقيق الدكتور محمود الطحان.
59_ معجم الطبراني الصغير: دار الكتب العلمية/ بيروت.
60_ معجم الطبراني الكبير: ط/ الأمة/ بغداد.
61_ معجم مقاييس اللغة: لابن فارس/ ط/ مصطفى البابي الحلبي 1391 هـ.
62_ المغني: لابن قدامة/ تحقيق التركي والحلو.
63_ المنتقى شرح الموطأ: للباجي مصور عن الأولى 1332 هـ.
64_ مورد الظمآن بزوائد ابن حبان: للهيثمي/ دار الكتب العربية.
65_ الموطأ: للإمام مالك/ تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي.
66_ نيل الأوطار شرح منتقى الأخبار: للشوكاني مكتبة الكليات الأزهرية.
67_ النهاية في غريب الحديث: لابن الأثير تحقيق الطناحي.
48_ আল-মাজমু আত-তাকমিলা, ইবনে আস-সুবকি / দার আল-ফিকর।
49_ আল-মুহাল্লা: ইবনে হাজম / দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ / বৈরুত।
50_ মুখতাসার সুনান আবি দাউদ: আল-মুনযিরি / সংস্করণ / দার আল-মারিফাহ / বৈরুত।
51_ আল-মুস্তাদরাক: আল-হাকিম / দার আল-কিতাব আল-আরাবি।
52_ মুসনাদ ইমাম আহমদ / আল-মাকতাব আল-ইসলামি।
53_ মুসনাদ আবি ইয়ালা আহমদ বিন আলি / দার আল-মামুন লিত-তুরাস / দামেস্ক।
54_ মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ: আবু বকর বিন আবি শায়বাহ / দার আল-কুরআন আল-ইসলামিয়্যাহ।
55_ মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক / আল-মাকতাব আল-ইসলামি।
56_ আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ বি-জাওয়াইদ আস-সামানিয়াহ: ইবনে হাজার / সম্পাদনা: হাবিবুর রহমান আল-আজমি।
57_ মাআলিম আস-সুনান: আল-খাত্তাবি, সাথে আল-মুনযিরির মুখতাসার / দার আল-মারিফাহ।
58_ মুজাম আত-তাবারানি আল-আওসাত: সম্পাদনা: ডক্টর মাহমুদ আত-তাহহান।
59_ মুজাম আত-তাবারানি আস-সগির: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ / বৈরুত।
60_ মুজাম আত-তাবারানি আল-কাবির: সংস্করণ / আল-উম্মাহ / বাগদাদ।
61_ মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ: ইবনে ফারিস / সংস্করণ / মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ১৩৯১ হিজরি।
62_ আল-মুগনি: ইবনে কুদামাহ / সম্পাদনা: আত-তুর্কি ও আল-হুলু।
63_ আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা: আল-বাজি, প্রথম সংস্করণের প্রতিলিপি ১৩৩২ হিজরি।
64_ মাওয়ারিদুজ জামআন বি-জাওয়াইদ ইবনে হিব্বান: আল-হাইসামি / দার আল-কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ।
65_ আল-মুয়াত্তা: ইমাম মালিক / সম্পাদনা: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি।
66_ নাইলুল আওতার শারহু মুনতাকাল আখবার: আশ-শাওকানি, মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আজহারিয়্যাহ।
67_ আন-নিহায়াহ ফি দুর্বোধ্য (غريب) হাদিস: ইবনে আল-আসির, সম্পাদনা: আত-তানাহি।