(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: -)
حجية السنة النبوية ومكانتها في التشريع الإسلامي   (عبد القادر بن حبيب الله السندي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: حجية السنة النبوية ومكانتها في التشريع الإسلامي

المؤلف: عبد القادر بن حبيب الله السندي

الناشر: الجامعة الإسلامية المدينة المنورة

الطبعة: السنة الثامنة - العدد الثاني - رمضان 1395هـ سبتمبر 1975م

عدد الصفحات: 106

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামি শরিয়া বিধানে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) ও এর গুরুত্ব ও অবস্থান   (আব্দুল কাদির বিন হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: ইসলামি শরিয়া বিধানে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) ও এর গুরুত্ব ও অবস্থান

লেখক: আব্দুল কাদির বিন হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: অষ্টম বর্ষ - দ্বিতীয় সংখ্যা - রমজান ১৩৯৫ হিজরি - সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৮৭)
‌‌مدخل

…

حجية السنة النبوية

ومكانتها في التشريع الإسلامي

لفضيلة الشيخ عبد القادر بن حبيب الله السندي المدرس بمعهد الحرم المكي

الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، والصلاة والسلام على رسول الهدى محمد المصطفى وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:

فهذه فذلكة مجملة، وكلمة مختصرة عن سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم الأصل الثاني للتشريع الإسلامي العظيم، وإن كنت لست فارسا من فرسان هذا الميدان الخضم إلا أني حملت حبا عظيما، وشعورا فياضا، وعاطفة دينية في نفسي الصغيرة نحو أولئك الأمجاد الكرام من الصحابة التابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، الذين خدموا هذا الأصل العظيم خدمة ممتازة ضخمة لا نظير لها في تاريخ الإنسانية الطويل، فأتوا بالعجب العجاب في هذه الخدمة المشار إليها، فأحببت أن يكون لي في تمجيد هؤلاء ورفع شأنهم بعض الحظ حتى أقف به بين يدي المولى سبحانه وتعالى في يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، وبحب هؤلاء الكرام، وبجهودهم، وخدماتهم الطويلة، ورحلاتهم الشاسعة إلى أقطار العالم في سبيل حفظ هذا الأصل الأصيل - السنة المطهرة على صاحبها أفضل السلام وأتم التسليم - أتقرب إليه جل وعلا إن كان ليس عندي غير هذا العمل وسأذكر في هذه الكلمة المتواضعة:
ভূমিকা

...

নবুওয়ী সুন্নাহর (سنة نبوية) প্রামাণ্যতা (حجية)

এবং ইসলামী বিধানে (تشريع إسلامي) এর গুরুত্ব ও অবস্থান

মসজিদে হারামের মা’হাদুল হারামের শিক্ষক ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল কাদির বিন হাবীবুল্লাহ আস-সিন্দী কর্তৃক প্রণীত

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতের রাসূল মুহাম্মদ মুস্তফা এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর (صحابة) ওপর। অত:পর:

এটি মহান ইসলামী বিধানের (تشريع إسلامي) দ্বিতীয় উৎস (أصل ثاني) মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও নাতিদীর্ঘ আলোচনা। যদিও আমি এই বিশাল ও গভীর ময়দানের কোনো পারদর্শী অশ্বারোহী নই, তবুও আমার ক্ষুদ্র সত্তায় সেই সকল সম্মানিত মহীয়ান সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি এক সুমহান ভালোবাসা, উপচে পড়া অনুভূতি ও ধর্মীয় আবেগ লালন করি; যাঁরা এই মহান উৎসের (أصل) এমন চমৎকার ও বিশাল খিদমত করেছেন যার কোনো নজির দীর্ঘ মানব ইতিহাসে নেই। এই খিদমতের ক্ষেত্রে তাঁরা বিস্ময়কর সব অবদান রেখে গেছেন। তাই আমি আকাঙ্ক্ষা করেছি যে, তাঁদের মহিমা কীর্তন ও মর্যাদা তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমারও যেন কিছু অংশ থাকে, যাতে আমি মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সামনে সেই দিন দাঁড়াতে পারি যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর নিকট ‘কালবে সালীম’ (সুস্থ অন্তর) নিয়ে উপস্থিত হবে। এই মহীয়ান ব্যক্তিদের প্রতি ভালোবাসা, তাঁদের সুদীর্ঘ প্রচেষ্টা ও খিদমত এবং এই মৌলিক উৎস—পবিত্র সুন্নাহ (سنة مطهرة) (যার অধিকারীর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)—সংরক্ষণের তাগিদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের করা দীর্ঘ সফরের উসিলায় আমি মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করছি, যদি আমার কাছে এই আমলটি ছাড়া অন্য কিছু না-ও থাকে। এই বিনীত আলোচনায় আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করব:
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৮৭)
1-‌‌ معنى السنة لغة واصطلاحا.

2- مكانتها ومنزلتها من التشريع الإسلامي.

3- ذكر بعض الجهود الضخمة التي قام بها العلماء المحدثون من الصحابة
1-‌‌ সুন্নাহ (السنة)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা।

2- ইসলামী শরীয়াহ বিধানে এর অবস্থান ও মর্যাদা।

3- সাহাবী (الصحابة) ও মুহাদ্দিস (المحدثون) আলেমদের সম্পাদিত বিশাল কর্মপ্রচেষ্টার বিবরণ।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৮৮)
والتابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين في حفظها، وصيانتها، وذكر بعض نماذج السير لرجالها الذين كانوا حماتها وحفاظها.

أما معنى السنة لغة: فهي على وزن فعلة بمعنى مفعولة، وجمعها السنن، قال العلامة الإمام ابن الأثير: "قد تكرر في الحديث ذكر السنة، وما تصرف منها، والأصل فيها الطريقة، والسيرة، وإذا أطلقت في الشرع، فإنما يراد بها ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم، ونهى عنه، وندب إليه قولا، وفعلا مما لا ينطق به الكتاب العزيز، ولهذا يقال: في أدلة الشرع الكتاب والسنة. أي القرآن والحديث". وقال أيضاً: "ويجوز أن تكون من سننت الإبل إذا أحسنت رعيتها، والقيام عليها، ومنه الحديث: "أنه نزل المحصب، ولم يسنه" - أي لم يجعل سنة يعمل بها، وقد يفعل الشيء لسبب خاص لا يعم غيره"1 قلت: ورد هذا المعنى اللغوي في الأحاديث الكثيرة منها حديث ابن عباس رضي الله تعالى عنهما قال: "رمل رسول الله صلى الله عليه وسلم وليس بسنة" - أي أنه لم يسنه لكافة الأمة، ولكن لسبب خاص وهو أن يرى المشركين قوة أصحابه، وهو مذهب ابن عباس وحده من الصحابة، وغيره يرى أن الرمل في طواف القدوم سنة2. ومنها حديث أخرجه الإمام مالك في موطئه عن جعفر بن محمد، عن أبيه، عن عمر قال: "لا أدري ما أصنع بالمجوس، فقال عبد الرحمن بن عوف رضي الله تعالى عنه: "أشهد لسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "سنوا بهم سنة أهل الكتاب" 3. فالمقصود أنها تطلق على الطريقة سواء كانت حسنة أو قبيحة كما جاء في حديث أخرجه مسلم في الصحيح والنسائي في السنن والإمام أحمد في المسند من حديث جرير بن عبد الله البجلي رضي الله تعالى عنه مرفوعا: "من سن سنة حسنة فله أجرها، وأجر من عمل بها، ومن سن سنة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها"4. ومنها حديث أخرجه الشيخان من حديث أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لتتبعن سنن من كان قبلكم شبرا شبرا، ذراعا ذراعا

--------------------------------------------

1 النهاية لابن الأثير 1/186

2 أخرجه الأمام أحمد في المسند 1/229 وأبو داود في السنن، المناسك (50) .

3 فتح الباري 6/361 وانظر مسند الحافظ أبي يعلى برقم 456 والموطأ الزكاة (42)

4 مسلم العلم (15) النسائي الزكاة (64) مسند الإمام أحمد 4/357
এবং তাবিঈগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁরা সুন্নাহর সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় আত্মনিয়োগ করেছেন এবং সেই সব মহান ব্যক্তিদের জীবনী থেকে কিছু নমুনা উল্লেখ করা হয়েছে যারা এর রক্ষক ও হাফেজ (সংরক্ষণকারী) ছিলেন।

সুন্নাহ (سنة) শব্দের আভিধানিক অর্থ: এটি 'ফুআলাহ' ওজনে 'মাফউলাহ' অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এর বহুবচন হলো পদ্ধতিসমূহ (سنن)। আল্লামা ইমাম ইবনুল আসির বলেছেন: "হাদিসে সুন্নাহ (سنة) এবং এর বিভিন্ন রূপের কথা বারবার এসেছে। মূলত এর মূল অর্থ হলো পথ ও জীবনপদ্ধতি। আর যখন এটি শরিয়তের পরিভাষায় ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে যা করার জন্য উৎসাহিত (ندب) করেছেন, যা মহাগ্রন্থ কুরআনে বর্ণিত হয়নি। একারণেই শরিয়তের দলিলের ক্ষেত্রে বলা হয়: কিতাব ও সুন্নাহ। অর্থাৎ কুরআন ও হাদিস।" তিনি আরও বলেন: "এটি 'সানানতুল ইবিল' (উটের যত্ন নেওয়া) শব্দ থেকেও হতে পারে, যার অর্থ হলো যখন কেউ পশুর ভালোভাবে যত্ন নেয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে। এ থেকেই হাদিসে এসেছে: 'তিনি আল-মুহাসসাব নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি একে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত করেননি'—অর্থাৎ তিনি একে এমন কোনো নিয়ম (سنة) করেননি যার ওপর আমল করা হবে। অনেক সময় কোনো কাজ বিশেষ কারণে করা হয় যা অন্যদের জন্য সাধারণ নিয়ম হিসেবে গণ্য হয় না।"১ আমি বলছি: এই আভিধানিক অর্থটি অনেক হাদিসে এসেছে, তার মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'রামাল' (দ্রুত পদে চলা) করেছেন, তবে এটি সুন্নাহ (سنة) নয়"—অর্থাৎ তিনি এটি পুরো উম্মতের জন্য সুন্নাহ (سنة) হিসেবে নির্ধারণ করেননি, বরং একটি বিশেষ কারণে করেছিলেন, আর তা ছিল মুশরিকদেরকে তাঁর সাহাবীদের শক্তি প্রদর্শন করা। এটি সাহাবীদের মধ্যে কেবল ইবনে আব্বাসের অভিমত ছিল, তবে অন্যরা মনে করেন যে তাওয়াফে কুদুমের সময় 'রামাল' করা একটি সুন্নাহ (سنة)২। আরেকটি হাদিস ইমাম মালিক তাঁর মুওয়াত্তায় জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, উমর (রা.) বলেন: "আমি জানি না অগ্নিপূজকদের (মাজুস) সাথে কী আচরণ করব।" তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'তোমরা তাদের সাথে আহলে কিতাবদের নিয়ম (سنة) অনুসরণ করো'।"৩ এর উদ্দেশ্য হলো—এটি যেকোনো পথ বা পদ্ধতির ওপর প্রযোজ্য হয়, তা ভালো হোক বা মন্দ। যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-তে, ইমাম নাসায়ি তাঁর সুনান-এ এবং ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে জারির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) একটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো পদ্ধতির (سنة) প্রচলন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা এরপর তা আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ পদ্ধতির (سنة) প্রচলন করবে, তার ওপর সেই মন্দ কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং যারা এরপর তা আমল করবে তাদের গুনাহও তার ওপর পড়বে।"৪ আরেকটি হাদিস শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পদ্ধতিসমূহ (سنن) হুবহু অনুসরণ করবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে এবং প্রতি হাতে হাতে।"

--------------------------------------------

১ ইবনুল আসির রচিত আন-নিহায়াহ, ১/১৮৬।

২ ইমাম আহমদ এটি মুসনাদ ১/২২৯ গ্রন্থে এবং আবু দাউদ সুনান-এর মানাসিক অধ্যায়ে (৫০) বর্ণনা করেছেন।

৩ ফাতহুল বারি ৬/৩৬১; আরও দেখুন হাফেজ আবু ইয়া’লার মুসনাদ, হাদিস নং ৪৫৬ এবং মুওয়াত্তা মালিক-এর যাকাত অধ্যায় (৪২)।

৪ মুসলিম, ইলম (১৫); নাসায়ি, যাকাত (৬৪); মুসনাদ ইমাম আহমদ ৪/৩৫৭।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৮৯)
حتى لو دخلوا حجر ضب تبعتموهم، قلنا يا رسول الله: اليهود والنصارى؟ قال: فمن؟ "1.

وبهذا المعنى اللغوي جاء به كتاب الله تعالى كقوله تعالى في سورة الأنفال: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الأَوَّلِينَ} 2 وقال تعالى في سورة الحجر حاكيا عن الكفار الذين لا يؤمنون بهذا القرآن قال: {لا يُؤْمِنُونَ بِهِ وَقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ الأَوَّلِينَ} 3 وقال جل وعلا في سورة الإسراء: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلاً} 4 وقال عز من قائل في سورة الكهف: {وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلاً} 5. قال جل وعلا في سورة الأحزاب: {مَا كَانَ عَلَى النَّبِيِّ مِنْ حَرَجٍ فِيمَا فَرَضَ اللَّهُ لَهُ سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَراً مَقْدُوراً} 6. وقال أيضاً في سورة الأحزاب: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً} 7. وقال جل وعلا في سورة فاطر: {فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلا سُنَّتَ الأَوَّلِينَ فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلاً وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَحْوِيلاً} 8 وقال أيضا في سورة غافر: {فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} 9 وقال جل وعلا في سورة الفتح: {سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً} 10 وقال في سورة آل عمران: {قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} 11 وقال في سورة النساء: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} 12 فكلمة السنة الواردة في هذه الآيات الكريمات بمعناها اللغوي، وهو الطريقة، والسيرة، وقد اقتصرت على نقل هذه الكلمة من

--------------------------------------------

1 البخاري: الاعتصام بالسنة (14)

2سورة الأنفال رقم الآية (38)

3 سورة الحجر رقم الآية (13)

4 سورة الإسراء رقم الآية (77)

5 سورة الكهف رقم الآية (55)

6 سورة الأحزاب رقم الآية (38)

7 سورة الأحزاب رقم الآية (62)

8 سورة فاطر رقم الآية (43)

9 سورة غافر رقم الآية (85)

10 سورة الفتح رقم الآية (23)

11 سورة آل عمران رقم الآية (137)

12سورة النساء رقم الآية 26 ومسلم العلم (6)
"...এমনকি তারা যদি কোনো গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করে, তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে। আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! (তারা কি) ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টান? তিনি বললেন: তবে আর কে?" ১।

আর এই আভিধানিক অর্থেই মহান আল্লাহর কিতাবে এ শব্দটি এসেছে। যেমন মহান আল্লাহ সূরা আল-আনফালে ইরশাদ করেছেন: {যারা কুফরি করেছে তাদের বলুন, যদি তারা বিরত হয় তবে যা গত হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে। আর যদি তারা পুনরায় ফিরে আসে তবে পূর্ববর্তীদের রীতি (سنة) অতিবাহিত হয়েছে।} ২ এবং মহান আল্লাহ সূরা আল-হিজরে এই কুরআনের প্রতি ঈমান না আনা কাফিরদের সম্পর্কে বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন: {তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না, আর অবশ্যই পূর্ববর্তীদের রীতি (سنة) গত হয়েছে।} ৩ এবং মহান আল্লাহ সূরা আল-ইসরা-তে ইরশাদ করেছেন: {আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটিই ছিল রীতি (سنة); আর আপনি আমার রীতির (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।} ৪ এবং সূরা আল-কাহফে সেই মহান সত্তা ইরশাদ করেছেন: {লোকদের কাছে হিদায়াত আসার পর ঈমান আনা এবং তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে তাদেরকে কেবল এটাই বিরত রেখেছে যে, পূর্ববর্তীদের রীতি (سنة) তাদের ওপর আসুক অথবা তাদের সামনে সরাসরি আযাব উপস্থিত হোক।} ৫। মহান আল্লাহ সূরা আল-আহযাবে ইরশাদ করেছেন: {নবী যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত পান সে বিষয়ে তার কোনো সংকীর্ণতা থাকে না। যারা পূর্বে গত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এটিই ছিল আল্লাহর রীতি (سنة) এবং আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত।} ৬। তিনি সূরা আল-আহযাবে আরো ইরশাদ করেছেন: {পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর এই রীতি (سنة) কার্যকর ছিল। আপনি আল্লাহর রীতিতে (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।} ৭। এবং মহান আল্লাহ সূরা ফাতিরে ইরশাদ করেছেন: {তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের রীতিরই (سنة) প্রতীক্ষা করছে? কিন্তু আপনি আল্লাহর রীতিতে (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতির (سنة) কোনো বিচ্যুতিও পাবেন না।} ৮ এবং সূরা গাফিরে তিনি আরো ইরশাদ করেছেন: {কিন্তু যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান কোনো উপকারে আসল না। আল্লাহর এই রীতি (سنة) তাঁর বান্দাদের ক্ষেত্রে পূর্ব থেকেই অতিবাহিত হয়ে আসছে। আর সেখানে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হলো।} ৯ এবং মহান আল্লাহ সূরা আল-ফাতহে ইরশাদ করেছেন: {এটিই আল্লাহর রীতি (سنة), যা পূর্ব থেকে চলে আসছে। আর আপনি আল্লাহর রীতিতে (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।} ১০ এবং সূরা আলে ইমরানে ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের পূর্বে বহু রীতি (سنن) অতিবাহিত হয়েছে; সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।} ১১ এবং সূরা আন-নিসায় ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ চান তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি (سنن) তোমাদেরকে প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তাওবা কবুল করতে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} ১২ সুতরাং এই সম্মানিত আয়াতগুলোতে বর্ণিত 'সুন্নাহ' শব্দটি এর আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, যা হলো পদ্ধতি (الطريقة) এবং জীবনচরিত (السيرة)। আর আমি এই শব্দটি কেবল... থেকে উদ্ধৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

--------------------------------------------

১ বুখারি: আল-ইতিসাম বিস সুন্নাহ (১৪)

২ সূরা আল-আনফাল, আয়াত নং (৩৮)

৩ সূরা আল-হিজর, আয়াত নং (১৩)

৪ সূরা আল-ইসরা, আয়াত নং (৭৭)

৫ সূরা আল-কাহফ, আয়াত নং (৫৫)

৬ সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং (৩৮)

৭ সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং (৬২)

৮ সূরা ফাতির, আয়াত নং (৪৩)

৯ সূরা গাফির, আয়াত নং (৮৫)

১০ সূরা আল-ফাতহ, আয়াত নং (২৩)

১১ সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং (১৩৭)

১২ সূরা আন-নিসা আয়াত নং ২৬ এবং মুসলিম: আল-ইলম (৬)
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯০)
الكتاب الكريم والسنة النبوية لكونهما منبعا أصيلا، ومنهلا عذبا لأخذ العلوم كلها.
মহাগ্রন্থ কুরআন এবং সুন্নাহ (السنة) সকল জ্ঞান আহরণের এক মৌলিক উৎস এবং সুমিষ্ট প্রস্রবণ হওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯০)
‌‌معنى السنة اصطلاحا:

وأما معنى السنة في اصطلاح علماء الإسلام، فقد اختلف فيه باختلاف أعراضهم وفنونهم:

1- فهي عند العلماء الأصوليين عبارة عما صدر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما عدا القرآن الكريم من قول، أو فعل، أو تقرير، فيخرج من السنة عندهم ما صدر من غيره عليه الصلاة والسلام رسولا كان أو غير رسول، وما صدر عنه صلى الله عليه وسلم قبل البعثة.

2- وأما الفقهاء فهي عندهم عبارة عن الفعل الذي دل الخطاب على طلبه من غير إيجاب، ويرادفها المندوب والمستحب، والتطوع، والنفل، والتفرقة بين معاني هذه الألفاظ اصطلاح خاص لبعض الفقهاء، وقد تطلق على ما يقابل البدعة منه قولهم طلاق السنة كذا، وطلاق البدعة كذا، فهم بحثوا عن رسول الله صلة الله عليه وسلم الذي تدل أفعاله على حكم شرعي.

3- وأما المحدثون، فإن الرأي السائد بينهم - ولا سيما المتأخرين منهم - أن الحديث والسنة مترادفان متساويان يوضع أحدهما مكان الآخر وهذا هو بحثنا اليوم1 وعلى هذا المعنى قال العلامة الإمام شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: "الحديث النبوي عند الإطلاق ينصرف إلى ما حدث به رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد النبوة من قول أو فعل أو إقرار، فإن سنته صلى الله عليه وسلم ثبتت عن هذه الوجوه الثلاثة وإن كان تشريعا إيجابا أو تحريما أو إباحة وجب اتباعه فيه صلى الله عليه وسلم فإن الآيات الدالة على نبوة الأنبياء دلت على أنهم معصومون فيما يخبرون به عن الله تعالى فلا يكون خبرهم إلا حقاً"2. فالسنة

--------------------------------------------

1 نقلا عن رسالة الماجستير التي قدمها أخونا الشيخ لقمان السلفي إلى معهد القضاء العالي بالرياض..

2 مجموع الفتاوى شيخ الإسلام 18/6-10
পরিভাষায় (اصطلاحًا) সুন্নাহর অর্থ:

আর ইসলামি পণ্ডিতদের পরিভাষায় সুন্নাহর অর্থের ক্ষেত্রে তাঁদের উদ্দেশ্য ও শাস্ত্রের (فنون) ভিন্নতা অনুযায়ী মতভেদ রয়েছে:

১- উসুলবিদ (الأصوليون) পণ্ডিতদের নিকট সুন্নাহ হলো আল-কুরআন ব্যতিরেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে—চাই তা কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير) হোক। তাঁদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, তিনি রাসূল হোন বা না হোন। এমনকি নবুয়ত প্রাপ্তির (البعثة) পূর্বে তাঁর থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তাও তাঁদের নিকট সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়।

২- আর ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট এটি এমন কাজকে বোঝায় যার প্রতি শরয়ি সম্বোধন কোনো প্রকার আবশ্যকতা (إيجاب) ছাড়াই উদ্বুদ্ধ করেছে। এর সমার্থক শব্দগুলো হলো পছন্দনীয় (المندوب), মুস্তাহাব (المستحب), ঐচ্ছিক (التطوع) এবং নফল (النفل)। এই শব্দগুলোর অর্থের মধ্যে পার্থক্য করা কিছু ফকিহদের নিজস্ব পরিভাষা। আবার কখনও এটি বিদআতের (البدعة) বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁদের উক্তি: 'সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক এমন, আর বিদআতি তালাক তেমন'। তাঁরা মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন যা শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) প্রমাণ দেয়।

৩- আর হাদিসবিশারদগণের (المحدثون) ক্ষেত্রে প্রচলিত মত হলো—বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে যারা পরবর্তী যুগের (المتأخرين)—হাদিস এবং সুন্নাহ (السنة) সমার্থক (مترادفان) ও সমান, একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহার করা যায়। আর এটিই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। ১ এই অর্থের প্রেক্ষিতে আল্লামা ইমাম শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "সাধারণভাবে নববী হাদিস বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির পরবর্তী কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতিকে (إقرار) বোঝায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (السنة) এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়; চাই তা কোনো বিধান প্রবর্তন, আবশ্যককরণ (إيجاب), হারামকরণ (تحريم) বা বৈধকরণ (إباحة) সংক্রান্ত হোক—সবক্ষেত্রেই তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব। কারণ নবীদের নবুয়তের প্রমাণবাহী নিদর্শনসমূহ একথাই প্রমাণ করে যে, তাঁরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা কিছু সংবাদ দেন সেক্ষেত্রে তাঁরা নিষ্পাপ (معصومون)। অতএব তাঁদের সংবাদ সত্য ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।" ২। সুতরাং সুন্নাহ...

--------------------------------------------

১ রিয়াদের উচ্চ বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটে আমাদের ভাই শায়খ লোকমান সালাফী কর্তৃক উপস্থাপিত মাস্টার্স থিসিস থেকে উদ্ধৃত।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ১৮/৬-১০।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯১)
على هذا المعنى في اصطلاح أهل الحديث ما أثر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل، أو تقرير، أو صفة خلقية.

قال العلامة السيد سليمان الندوي - وهو من علماء الأحناف الكبار في الهند وقد توفي رحمه الله تعالى-: "وأما الذين فرقوا بين الحديث والسنة فقد لاحظوا بينهما معناهما اللغوي فقالوا: إن الحديث اسم من التحديث وهو الإخبار ثم سمي به قول، أو فعل أو تقرير نسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم. وأما السنة - فهي تبعا لمعناها اللغوي - كانت تطلق على الطريقة الدينية التي سلكها الرسول صلى الله عليه وسلم في سيرته المطهرة، لأن معنى السنة في اللغة الطريقة والسيرة كما سبق بيانه. فإن كان الحديث عاما يشمل قول النبي صلى الله عليه وسلم، وفعله، وتقريره فالسنة خاصة بأعمال النبي صلى الله عليه وسلم وفي ضوء هذا التباين الظاهري بين المفهومين نجد أن بعض العلماء يقولون أحيانا هذا الحديث مخالف للقياس والسنة والإجماع، ويقولون أحيانا إمام في الحديث، وإمام في السنة وإمام فيهما معا، فالحديث على هذا هو كل قول، أو فعل، أو تقرير نسب إلى المصطفى صلى الله عليه وسلم، وبتعبير آخر الحديث هو الرواية اللفظية لأقوال الرسول صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وتقريراته.

وأما السنة فهي اسم لكيفية عمل الرسول صلى الله عليه وسلم المنقول إلينا بالعمل سواء كان متواترا أو آحادا بأنه عمله النبي صلى الله عليه وسلم ثم من بعده الصحابة ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وهلم جرا، ولا يشترط تواترها بالرواية اللفظية فيمكن أن يكون الشيء متواترا عملا ولا يكون متواترا معنى، وأما المتداول بين علماء الحديث المتأخرين كما سبق فإنهما في معنى واحد، ولا يخفى ارتباط معناهما اللغوي بالمعنى الاصطلاحي وهذا واضح جلي إن شاء الله تعالى"1
এই অর্থ অনুযায়ী হাদিস বিশারদদের পরিভাষায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (ما أثر) কথা, কাজ, অনুমোদন (تقرير) অথবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে (صفة خلقية) হাদিস বলা হয়।

আল্লামা সাইয়্যিদ সুলায়মান নদভী—যিনি ভারতের প্রখ্যাত হানাফি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইন্তেকাল করেছেন (رحمه الله تعالى)—বলেন: "আর যারা হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তারা মূলত এগুলোর আভিধানিক অর্থের প্রতি লক্ষ রেখেছেন। তারা বলেছেন: 'হাদিস' শব্দটি 'তাহিদিস' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো সংবাদ প্রদান করা (الإخبار)। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা, কাজ বা অনুমোদনকে (تقرير) হাদিস নামে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে 'সুন্নাহ' শব্দটি—তার আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র জীবনীতে যে দ্বীনি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তার ওপর প্রয়োগ করা হয়। কারণ, ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, অভিধানে সুন্নাহ অর্থ হলো পথ ও জীবনী। সুতরাং হাদিস যদি ব্যাপক অর্থবোধক হয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও অনুমোদনকে (تقرير) অন্তর্ভুক্ত করে, তবে সুন্নাহ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্যাবলীর সাথে খাস বা বিশিষ্ট। এই দুই ধারণার মধ্যকার বাহ্যিক পার্থক্যের আলোকে আমরা দেখি যে, কোনো কোনো আলেম কখনো কখনো বলেন, 'এই হাদিসটি কিয়াস (القياس), সুন্নাহ এবং ইজমার (الإجماع) পরিপন্থী।' আবার তারা কখনো বলেন, 'অমুক ব্যক্তি হাদিসের ইমাম, সুন্নাহর ইমাম অথবা উভয় বিষয়েরই ইমাম।' সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত প্রতিটি কথা, কাজ বা অনুমোদনই (تقرير) হলো হাদিস। অন্য কথায়, হাদিস হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও অনুমোদনের শাব্দিক বর্ণনা (الرواية اللفظية)।

আর সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতির নাম যা আমলের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে—তা মুতাওয়াতির (متواتر) হোক কিংবা একক (آحاد) বর্ণনার মাধ্যমে হোক—যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তারা করেছেন এবং এ ধারা একইভাবে চলে আসছে। এক্ষেত্রে শাব্দিক বর্ণনার (الرواية اللفظية) মাধ্যমে মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়া শর্ত নয়; বরং কোনো বিষয় কার্যত মুতাওয়াতির (متواتر) হতে পারে কিন্তু অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) না-ও হতে পারে। তবে পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদদের নিকট প্রচলিত মত অনুযায়ী—যেমনটি আগে গত হয়েছে—উভয়টি একই অর্থ বহন করে। আর আভিধানিক অর্থের সাথে পারিভাষিক (الاصطلاحي) অর্থের সম্পর্কটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ইনশাআল্লাহ এটি সুপ্রকট।"১
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯১)
‌‌مكانة السنة ومنزلتها من التشريع الإسلامي:

وأما مكانتها، ومنزلتها من التشريع الإسلامي، فلقد انتهى العلماء المحققون من السلف والخلف رحمهم الله تعالى إلى أن الحديث النبوي الشريف والذي صح حسب القواعد الأصولية حجة على جميع

--------------------------------------------

1 انظر تحقيق معنى السنة ص (18) نقلا عن رسالة الأخ لقمان السلفي..
ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা ও অবস্থান:

আর ইসলামি শরিয়তে এর গুরুত্ব ও মর্যাদার বিষয়ে সালাফ ও খালাফ যুগের বিজ্ঞ গবেষক উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পবিত্র নববী হাদিস যা উসুলের মূলনীতি অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) হয়েছে, তা সকলের জন্য দলিল (حجة)...

--------------------------------------------

১. দেখুন: 'তাহক্বীকু মানাস সুন্নাহ', পৃষ্ঠা (১৮); ভাই লোকমান সালাফীর রিসালা থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯২)
الأمة، وقد أجمعوا على ذلك إجماعا استناده الكتاب الكريم، والسنة النبوية.

وأما الكتاب فقوله جل وعلا في سورة النساء: {أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَآتَيْنَاهُمْ مُلْكاً عَظِيماً} 1

قال الإمام السيوطي: "أخرج الزبير بن بكار في الموفقيات عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أن معاوية قال: "يا بني هاشم إنكم تريدون أن تستحقوا الخلافة كما استحقيتم2 النبوة ولا يجتمعان لأحد، وتزعمون أن لكم ملكا؟ " فقال له ابن عباس: "أما قولك إنا نستحق الخلافة بالنبوة، فإن لم نستحقها بالنبوة فبم نستحقها؟ وأما قولك أن النبوة والخلافة لا يجتمعان لأحد، فأين قول الله تعالى {فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَآتَيْنَاهُمْ مُلْكاً عَظِيماً} فالكتاب النبوة، والحكمة السنة"3 هذا هو الشاهد من إيراد هذه الرواية، وقد يسأل السائل أين إسناد هذه الرواية وإن كانت موقوفة، فأقول له قد بحثت عن هذا الكتاب ببعض البحث حتى أطلع على إسناده فلم أجد له أثرا في الفهارس الموجودة بين أيدينا، وقد ذكره بن النديم في الفهرست وعمر ابن شبة النميري في تاريخ المدينة وهو كتاب عظيم نافع جمعه الإمام الزبير بن بكار الأسدي المدني من شيوخ ابن ماجه رحمه الله تعالى وهو صاحب كتاب جمهرة نسب قريش المطبوع منه الجزء الأول بتحقيق الأستاذ محمود محمد شاكر، ولرواية ابن عباس الموقوفة شاهد قوي من مرسل قتادة ابن دعامة السدوسي، والحسن البصري رحمهما الله تعالى أخرجهما الإمام العلامة أبو جعفر محمد بن جرير الطبري في تفسيره تحت قوله تعالى: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} قال أبو جعفر: "اختلف أهل التأويل في معنى الحكمة التي ذكرها الله تعالى في هذا الموضع، فقال بعضهم: هي السنة"، ثم قال: "وذكر من قال ذلك" ثم ساق إسناده بقوله: "حدثنا بشر بن معاذ، قال حدثنا يزيد، قال: حدثنا سعيد عن قتادة: الحكمة: أي السنة"4 قلت: لا يخفى على من له علم بأسماء الرجال أن هذا الإسناد هو من أصح الأسانيد المروية إلى قتادة بن دعامة السدوسي الإمام الثقة الحافظ الثبت التابعي.

--------------------------------------------

1 سورة النساء (54) ..

2 كذا في المطبوع والصواب: استحققتم

3 الدر المنثور 173/2

4 ابن جرير الطبري 86-87/3
উম্মাহ, এবং তারা এ বিষয়ে এমন এক ঐক্যমত্যে (إجماع) পৌঁছেছেন যার ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন ও নববী সুন্নাহ।

আর পবিত্র কুরআনের দলিল হলো সূরা আন-নিসায় আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার বাণী: "তবে কি তারা মানুষকে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে যা দিয়েছেন সেজন্য তাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করে? নিশ্চয়ই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিশাল রাজত্ব দান করেছিলাম।" ১

ইমাম সুয়ূতী বলেন: "যুবাইর ইবনে বাক্কার আল-মুওয়াফফাকিয়াত গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, মুআবিয়া বলেছিলেন: 'হে বনী হাশিম! তোমরা নবুওয়াতের মতো খিলাফতও নিজেদের প্রাপ্য বলে দাবি করছ, অথচ এই দুই বিষয় কারো জন্য একসাথে একত্রিত হয় না। তোমরা কি মনে করছ যে তোমাদের রাজত্ব রয়েছে?'" তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: "তোমার এ কথার উত্তর হলো—আমরা নবুওয়াতের মাধ্যমেই খিলাফতের হকদার; যদি নবুওয়াতের মাধ্যমে হকদার না হই, তবে আর কিসের ভিত্তিতে হব? আর তোমার এ উক্তি যে—নবুওয়াত ও খিলাফত কারো জন্য একত্রিত হয় না—তবে আল্লাহ তাআলার এই বাণী কোথায় গেল: 'নিশ্চয়ই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিশাল রাজত্ব দান করেছিলাম।' এখানে কিতাব অর্থ নবুওয়াত এবং হিকমত অর্থ সুন্নাহ।" ৩ এই বর্ণনাটি (رواية) উপস্থাপনের উদ্দেশ্য এটাই। কোনো প্রশ্নকারী হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন যে, এই বর্ণনাটি (رواية) যদিও তা মওকুফ (موقوفة), তার সনদ (إسناد) কোথায়? উত্তরে আমি বলব, আমি এই কিতাবটি নিয়ে বেশ অনুসন্ধান করেছি যেন এর সনদ (إسناد) সম্পর্কে জানতে পারি, কিন্তু আমাদের হাতে থাকা কিতাবগুলোর তালিকায় এর কোনো হদিস পাইনি। তবে ইবনুন নাদীম আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থে এবং উমর ইবনে শাব্বাহ আন-নুমাইরী তারিখে মাদীনাহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এটি একটি সুমহান ও উপকারী কিতাব যা ইমাম যুবাইর ইবনে বাক্কার আল-আসাদী আল-মাদানী সংকলন করেছেন, যিনি সুনান ইবনে মাজাহ-র রচয়িতার শায়খদের অন্যতম। তিনি জামহারাতু নাসাবি কুরাইশ গ্রন্থের লেখক, যার প্রথম খণ্ড উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকিরের তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে। ইবনে আব্বাসের এই মওকুফ (موقوفة) বর্ণনার (رواية) জন্য কাতাদাহ ইবনে দিআমাহ আস-সাদূসী এবং হাসান বসরী (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমর্থক (شاهد) বর্ণনা রয়েছে। ইমাম আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে আল্লাহর এই বাণীর অধীনে তা বর্ণনা (أخرج) করেছেন: "হে আমাদের রব! তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" আবু জাফর বলেন: "আল্লাহ তাআলা এই স্থানে যে হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন তার অর্থ সম্পর্কে ব্যাখ্যাকারগণ মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তা হলো সুন্নাহ।" অতঃপর তিনি বলেন: "যারা এ কথা বলেছেন তাদের বিবরণ" উল্লেখপূর্বক তিনি তাঁর সনদ (إسناد) বর্ণনা করে বলেন: "আমাদের নিকট বিশর ইবনে মুয়ায বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট সাঈদ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: হিকমত অর্থ হলো সুন্নাহ।" ৪ আমি বলছি: রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে যাদের জ্ঞান আছে তাদের নিকট এটা গোপন নয় যে, কাতাদাহ ইবনে দিআমাহ আস-সাদূসীর বর্ণিত বর্ণনাগুলোর মধ্যে এই সনদটি (إسنাদ) অন্যতম বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد)। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফিজ (حافظ), সুপ্রতিষ্ঠিত (ثبت) ইমাম এবং একজন তাবেয়ী (تابعي)।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা (৫৪)।

২ মুদ্রিত কপিতে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো: ইস্তাহকাকতুম (استحققتم)।

৩ আদ-দুররুল মানসুর ২/১৭৩।

৪ ইবনে জারীর আত-তাবারী ৩/৮৬-৮৭।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৩)
وقال العلامة ابن كثير رحمه الله تعالى في تفسيره في هذا الموضع: "الحكمة السنة قاله الحسن، وقتادة، ومقاتل بن حيان، وأبو مالك وغيرهم"1 وهكذا فسرها في جميع المواضع التي وردت في القرآن الكريم، الحكمة هي السنة، وهكذا قال العلامة الشوكاني في تفسيره فتح القدير2. فإذا علم هذا وفهم فاسمعوا ما قال الله تعالى في سورة البقرة: {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ} 3 وقال أيضاً في هذه السورة: {وَلا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُواً وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} 4، وقال تعالى في سورة آل عمران حاكيا عن عبده ورسوله عيسى عليه الصلاة والسلام: {وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالإنْجِيلَ} 5. فهذه الآية، وآية أخرى وهي قوله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ} 6 فهذا نص صريح على أن الله تعالى لم يخص نبيه صلى الله عليه وسلم وحده بالسنة بل إنه جل وعلا سن هذه السنة لجميع رسله، وأنبيائه عليهم الصلاة والسلام الذين أكرمهم بالنبوة والرسالة، ونحو هذا المعنى قوله تعالى في سورة المائدة: {إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَى وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدْتُكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالإنْجِيلَ} 7 وقال تعالى في سورة آل عمران: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} 8 وقال عز من قائل في سورة النساء: {وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ لَهَمَّتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ أَنْ يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ

--------------------------------------------

1 تفسير بن كثير 184/1

2 تفسير فتح القدير 124/1

3 البقرة (151)

4 البقرة (231)

5 آل عمران (48)

6 آل عمران (81)

7 المائدة (110)

8 آل عمران (164)
আল্লামা ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর তাফসিরে এই স্থানে বলেছেন: "হিকমাহ (الحكمة) হলো সুন্নাহ (السنة); এটি হাসান, কাতাদা, মুকাতিল ইবনে হাইয়ান, আবু মালিক ও অন্যরা বলেছেন।"১ পবিত্র কুরআনের যেসব স্থানে এই শব্দটি এসেছে, তিনি সবক্ষেত্রেই এর এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন যে, হিকমাহ (الحكمة) হলো সুন্নাহ (السنة)। আল্লামা শাওকানীও তাঁর তাফসির ফাতহুল কাদিরে তদ্রূপ বলেছেন।২ সুতরাং যখন এটি জানা ও বোঝা গেল, তখন মহান আল্লাহ সূরা আল-বাকারায় যা বলেছেন তা শ্রবণ করুন: {যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসুল প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) শিক্ষা দেন; আর তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না।}৩ তিনি এই সূরায় আরও বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমাদের ওপর আল্লাহর যে নেয়ামত রয়েছে এবং কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) থেকে যা তিনি তোমাদের ওপর নাজিল করেছেন—যার মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।}৪ মহান আল্লাহ সূরা আলে-ইমরানে তাঁর বান্দা ও রাসুল ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কে বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন: {আর তিনি তাকে কিতাব, হিকমাহ (الحكمة), তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দেবেন।}৫ এই আয়াত এবং অন্য একটি আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আল্লাহ নবীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) থেকে যা কিছু দান করেছি, অতঃপর তোমাদের কাছে থাকা বিষয়ের সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসুল আসবেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে?’ তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।’}৬ এটি একটি সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) যে, আল্লাহ তায়ালা কেবল তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেই সুন্নাহর (السنة) জন্য সুনির্দিষ্ট করেননি, বরং তিনি মহান রাব্বুল আলামিন এই সুন্নাহর (السنة) বিধান তাঁর সকল রাসুল ও নবীদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্য বিধিবদ্ধ করেছিলেন, যাদেরকে তিনি নবুওয়াত ও রিসালাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। এই অর্থের সদৃশ হলো সূরা আল-মায়িদায় মহান আল্লাহর বাণী: {যখন আল্লাহ বললেন, হে মারইয়াম তনয় ঈসা! তোমার ওপর ও তোমার জননীর ওপর আমার নেয়ামত স্মরণ করো, যখন আমি তোমাকে রুহুল কুদুস দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম, তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলতে; আর যখন আমি তোমাকে কিতাব, হিকমাহ (الحكمة), তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছিলাম।}৭ মহান আল্লাহ সূরা আলে-ইমরানে বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।}৮ মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ সূরা আন-নিসায় বলেছেন: {আর তোমার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল; কিন্তু তারা কেবল নিজেদেরই পথভ্রষ্ট করে এবং তোমার কোনোই ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ তোমার ওপর নাজিল করেছেন...}

--------------------------------------------

১. তাফসির ইবনে কাসীর ১/১৮৪

২. তাফসির ফাতহুল কাদীর ১/১২৪

৩. আল-বাকারা (১৫১)

৪. আল-বাকারা (২৩১)

৫. আলে-ইমরান (৪৮)

৬. আলে-ইমরান (৮১)

৭. আল-মায়িদা (১১০)

৮. আলে-ইমরান (১৬৪)
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৪)
الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً} 1 وقال جل وعلا في حق أمهات المؤمنين في سورة الأحزاب: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفاً خَبِيراً} 2، قال العلامة السيوطي تحت هذه الآية الكريمة: "أخرج بن سعد وعبد الرزاق، وابن جرير الطبري، وابن المنذر، وابن أبي حاتم عن قتادة رضي الله تعالى عنه في قوله تعالى - ثم ذكر هذه الآية ثم قال - القرآن والسنة عتب عليهن بذلك"3 وقال جل وعلا: في سورة الجمعة {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} 4 وهذه الجملة كبيرة من الآيات الكريمات تنص على أن السنة هي وحي الله تعالى إلى سائر رسله، وأنبيائه عليهم الصلاة والسلام. منهم هذا النبي الكريم عليه الصلاة والسلام. قال الإمام أبو جعفر محمد بن جرير الطبري تحت قوله تعالى: {وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ} قال: "وما أنزل عليكم من الحكمة وهي السنن التي علمكموها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسنها لكم"5، وقال أيضا تحت قوله تعالى: {وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالأِنْجِيلَ} ثم ساق إسناده إلى قتادة برقم (8071) وقال: "الحكمة السنة" وكذا نقل عن عبد الملك بن جريج بإسناده الصحيح. وقال أبو جعفر مفسرا لهذه الآية وهي قوله تعالى: {وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} الآية.. قال: "يعلمهم الله كتاب الله الذي أنزله عليه، ويبين لهم تأويله، ومعانيه، والحكمة السنة التي سنها الله تعالى للمؤمنين على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم وبيانه لهم" ثم أيد هذا المعنى بأثر قتادة بسياق طويل وهو برقم (8177) وإسناده من أصح الأسانيد المروية إلى قتادة وأيد هذا المعنى العلامة السيوطي … في رسالته القيمة (مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة) نقلا عن أئمة الإسلام الكبار مثل الإمام الشافعي، وأبي حنيفة، وأحمد، ومالك رحمهم الله تعالى ونقل أقوالهم، ونصائحهم فيما يتعلق بالعمل بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم6 ونحو هذا المعنى في سورة النور قال الله تعالى: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ

--------------------------------------------

1 النساء (113)

2 الأحزاب (34)

3 الدر المنثور5/199

4 الجمعة (2)

5 تفسير بن جرير الطبري 5/15 من نسخة العلامة أحمد شاكر

6 ص (8)
{কিতাব ও হিকমত এবং আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। আর আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ মহতী।} 1 এবং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা সুরা আল-আহজাবে উম্মুল মুমিনীনগণের হকের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ।} 2, আল্লামা সুয়ূতী এই সম্মানিত আয়াতের অধীনে বলেছেন: "ইবনে সাদ, আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর তাবারী, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ (রা.) থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর তিনি এই আয়াতটি উল্লেখ করে বললেন—কুরআন ও সুন্নাহ; এর মাধ্যমেই তাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে।" 3 এবং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা সুরা আল-জুমুআয় ইরশাদ করেছেন: {তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।} 4 এই বিশাল সংখ্যক সম্মানিত আয়াতসমূহ একথারই প্রমাণ দেয় যে, সুন্নাহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সকল রাসূল ও নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রতি অবতীর্ণ ওহী। তাঁদের মধ্যে এই সম্মানিত নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-ও অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অধীনে: {তোমাদের ওপর আল্লাহর যে নেয়ামত রয়েছে এবং তোমাদের প্রতি কিতাব ও হিকমত যা নাজিল করেছেন তা স্মরণ করো} বলেছেন: "এবং তোমাদের প্রতি যা হিকমত নাজিল করেছেন, তা হলো সেই সুন্নাহসমূহ (السنن) যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন।" 5, তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তিনি তাকে কিতাব ও হিকমত এবং তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দেবেন} এর অধীনেও বলেছেন। অতঃপর তিনি ৮০৭১ নম্বর ক্রমিকে কাতাদাহ পর্যন্ত তাঁর সনদ (إسناد) পেশ করেছেন এবং বলেছেন: "হিকমত হলো সুন্নাহ।" অনুরূপভাবে তিনি আবদুল মালিক ইবনে জুরাইজ থেকেও তাঁর সহিহ (صحيح) সনদের (إسناد) মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং আবু জাফর এই আয়াতের অর্থাৎ আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন}—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আল্লাহ তাদের তাঁর কিতাব শিক্ষা দেন যা তিনি তাঁর ওপর নাজিল করেছেন এবং তাদের জন্য এর ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ স্পষ্ট করেন। আর হিকমত হলো সেই সুন্নাহ যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে মুমিনদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তাদের জন্য এর বর্ণনা দিয়েছেন।" অতঃপর তিনি কাতাদাহর একটি আসার (أثر) দ্বারা এই অর্থকে সমর্থন করেছেন যা একটি দীর্ঘ প্রেক্ষাপটে বর্ণিত এবং এর নম্বর হলো ৮১৭৭। আর এর সনদ (إسناد) কাতাদাহ থেকে বর্ণিত সনদসমূহের (الأسانيد) মধ্যে অন্যতম বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد)। আর আল্লামা সুয়ূতী … তাঁর মূল্যবান রিসালা (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ)-তে ইসলামের মহান ইমামগণ যেমন—ইমাম শাফেয়ি, আবু হানিফা, আহমাদ ও মালিক (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর আমল করার ব্যাপারে তাঁদের বাণী ও উপদেশসমূহ বর্ণনা করার মাধ্যমে এই অর্থকে সমর্থন করেছেন। 6 একই অর্থের বর্ণনা সুরা আন-নূরেও রয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {মুমিনদের কথা তো এটাই, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়...

--------------------------------------------

1 নিসা (113)

2 আহজাব (34)

3 আদ-দুররুল মানসুর 5/199

4 জুমুআ (2)

5 তাফসীরে ইবনে জারীর তাবারী 5/15, আল্লামা আহমাদ শাকিরের সংস্করণ থেকে

6 পৃষ্ঠা (8)
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৫)
لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 1، ولقد عرفنا إن شاء الله تعالى خلال سرد هذه الآيات البينات أن السنة النبوية لها مكانة سامية، ومنزلة رفيعة في التشريع الإسلامي، وهي مفسرة، ومبينة لكتاب الله تعالى ومقيدة لعمومه كما قال تعالى في هذا المعنى في سورة الأنعام: {وَمَا لَكُمْ أَلَاّ تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَاّ مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ وَإِنَّ كَثِيراً لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ} 2.

وقال تعالى: في سورة الأعراف: {وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} 3، وقال تعالى في سورة الإسراء: {وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلاً} 4 وقال تعالى: {الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} 5 والآيات في هذا المعنى كثيرة، ولو تضرب الأمثلة لبيان هذا التفصيل الوارد في الكتاب الكريم لم يكف لنا النهار كله، فالآيات كلها تعطينا بيانا واضحا، وتفسيرا شافيا عن منزلة السنة من القرآن الكريم، ولقد عرفنا جميعا إن شاء الله تعالى حجية السنة والاستدلال بها على ما يستدل به على أحكام الشرع حلالا، وحراما، وأمرا، ونهيا، وقال جل وعلا في سورة النساء: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيما} 6 قال السيوطي7: "أخرج عبد الرزاق، وأحمد، وعبد بن حميد، والبخاري ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، وابن جرير الطبري، وابن المنذر، وابن أبي حاتم، وابن حبان، والبيهقي من طريق الزهري أن عروة بن الزبير حدث عن الزبير بن العوام، أنه خاصم رجلا من الأنصار وقد شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في شراج من الحرة كانا يسقيان به كلاهما النخل، فقال الأنصاري: "سرح الماء يمر" فأبى عليه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اسق يا زبير ثم أرسل الماء إلى جارك" فغضب الأنصاري وقال: "يا رسول الله أن كان ابن

--------------------------------------------

1النور (51)

2الأنعام (119)

3 الأعراف (52)

4الإسراء (12)

5 هود (1)

6 النساء (65)

7 الدر المنثور 2/180
যাতে তিনি তাদের মধ্যে বিচার করেন, তাদের উক্তি তো এই যে, তারা বলে: 'আমরা শুনেছি ও আনুগত্য করেছি।' আর তারাই সফলকাম।" ১। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের বর্ণনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহর এক সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান স্থান রয়েছে। এটি মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং তার বিশদ বর্ণনাকারী, আর এটি কুরআনের সাধারণ (عموم) হুকুমকে সুনির্দিষ্টকারী (تقييد); যেমনটি মহান আল্লাহ সূরা আল-আনআমে এই অর্থে ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা তা থেকে ভক্ষণ করবে না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে? অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন যা তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন, তবে যদি তোমরা নিরুপায় হও। আর নিশ্চয়ই অনেকে না জেনে নিজেদের খেয়াল-খুশি দ্বারা পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে অধিক অবগত।" ২।

মহান আল্লাহ সূরা আল-আরাফে ইরশাদ করেন: "আমি তো তাদের নিকট এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, যা মুমিন কওমের জন্য হিদায়াত ও রহমত।" ৩। সূরা আল-ইসরায় মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি; অতঃপর রাতের নিদর্শনকে অপসারিত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকপ্রদ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা বর্ষসংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আর আমি প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।" ৪। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: "আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এক প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে।" ৫। এই মর্মে আয়াতসমূহ অনেক। কুরআনুল কারীমে বর্ণিত এই বিশদ বিবরণের ব্যাখ্যার জন্য যদি উদাহরণ পেশ করা হয়, তবে আমাদের জন্য পুরো দিনও যথেষ্ট হবে না। এই সবকটি আয়াতই আমাদের কুরআনুল কারীমের প্রেক্ষিতে সুন্নাহর মর্যাদা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বর্ণনা এবং পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা সবাই সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং হালাল, হারাম, আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান (أحكام) হিসেবে এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (استدلال) সম্পর্কে জেনেছি। মহান আল্লাহ সূরা আন-নিসায় ইরশাদ করেছেন: "অতএব তোমার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেবে।" ৬। সুয়ূতী ৭ বলেন: "আবদুর রাজ্জাক, আহমদ, আবদ বিন হুমাইদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারীর তাবারী, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকী যুহরী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উরওয়াহ বিন জুবাইর, জুবাইর বিন আল-আওয়াম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাররার নালা নিয়ে জনৈক আনসারী ব্যক্তির সাথে বিবাদে লিপ্ত হন—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা দুজনেই সেই নালা দিয়ে খেজুর গাছে পানি সেচ দিতেন। আনসারী ব্যক্তিটি বললেন: 'পানি ছেড়ে দিন যাতে তা চলে যেতে পারে', কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকার করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'হে জুবাইর! তুমি পানি সেচ দাও, অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি পাঠিয়ে দাও।' এতে আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই বলে কি?'

--------------------------------------------

১ আন-নূর (৫১)

২ আল-আনআম (১১৯)

৩ আল-আরাফ (৫২)

৪ আল-ইসরা (১২)

৫ হুদ (১)

৬ আন-নিসা (৬৫)

৭ আদ-দুররুল মানসূর ২/১৮০
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৬)
عمتك"، فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: "اسق يا زبير، ثم احبس الماء حتى يرجع إلى الجدار، ثم أرسل الماء إلى جارك"، واستوعى رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير حقه، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل ذلك أشار على الزبير برأي أراد فيه السعة له وللأنصاري، فلما لم يرضى الأنصاري استوعى للزبير حقه في صريح الحكم فقال الزبير: "ما أحسب هذه الآية نزلت إلا في ذلك، {فَلا وَرَبِّكَ} " وهكذا أخرجه الحميدي في مسنده، وسعيد بن منصور، وعبد بن حميد، فقضى للزبير، فقال الرجل إنما قضى له لأنه ابن عمته، فأنزل الله تعالى هذه الآية، وهكذا أخرجه الإمام ابن الجارود في المنتقى، والإسماعيلي فيما نقل عنه الحافظ في الفتح"1.

قلت: إن هذه الآية الكريمة وما في معناها نص صريح في وجوب اتباع سنة الرسول صلى الله عليه وسلم. قال العلامة أبو جعفر الطبري مفسرا لهذه الآية: "فليس الأمر كما يزعمون أنهم يؤمنون بما أنزل إليك، وهم يتحاكمون إلى الطاغوت، ويصدون عنك إذا دعوا إليك يا محمد، واستأنف القسم جل ذكره، فقال: وربك يا محمد لا يؤمنون أي لا يصدقون بي وبك وبما أنزل إليك، حنى يحكموك فيما شجر بينهم، يقول: حتى يجعلوك حكما بينهم فيما اختلط بينهم من أمورهم، فالتبس عليهم حكمه، قال رحمه الله تعالى: شجر يشجر شجورا، شجرا، وتشاجر القوم إذا اختلفوا في الكلام والأمر {بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ} أي لا تأثم بإنكارها ما قضيت وشكها في طاعتك، وإن الذي قضيت به بينهم حق، لا يجوز لهم خلافه، ثم ساق أسانيده الكثيرة بهذا المعنى في أسباب نزول هذه الآية، ومنها حديث الزبير بن العوام رضي الله عنه المتفق عليه بين الشيخين وغيرهما، وحققها، وخرجها العلامة أحمد محمد شاكر في تعليقه على ابن جرير الطبري2 وللإمام عمدة المفسرين العلامة ابن كثير رحمه الله تعالى كلام جيد في تفسير هذه الآية الكريمة فليراجع منه3. وقال الله تعالى: {لا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذاً فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 4

--------------------------------------------

1 فتح الباري 5/26

2 ابن جرير الطبري8/524-525

3 تفسير ابن كثير 1/252-254

4 سورة النور (63)
"তোমার ফুফু (হওয়ার কারণে)," এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা মোবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: "হে জুবাইর! তুমি সেচ করো, তারপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে, এরপর তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দাও।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুবাইরের জন্য তার পূর্ণ হক আদায় করে দিলেন। ইতিপূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুবাইরকে এমন এক পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে তার এবং আনসারী সাহাবীর উভয়ের জন্য প্রশস্ততা থাকে। কিন্তু যখন আনসারী ব্যক্তি তাতে সন্তুষ্ট হলো না, তখন তিনি সুস্পষ্ট ফয়সালার মাধ্যমে জুবাইরকে তার পূর্ণ হক প্রদান করলেন। জুবাইর (রা.) বলেন: "আমার ধারণা, এই আয়াতটি—{তবে না, তোমার রবের শপথ}—এই ঘটনা কেন্দ্র করেই অবতীর্ণ হয়েছে।" এভাবেই আল-হুমাইদি তার মুসনাদ-এ, সাঈদ ইবনে মানসুর এবং আবদ ইবনে হুমাইদ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি জুবাইরের পক্ষে ফয়সালা দিলে ঐ ব্যক্তি বলল যে, তিনি তাঁর ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণেই তাঁর পক্ষে ফয়সালা দিয়েছেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন। একইভাবে ইমাম ইবনুল জারুদ আল-মুনতাকা-তে এবং আল-ইসমাঈলি বর্ণনা করেছেন যা হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ-এ উদ্ধৃত করেছেন।

আমি বলি: এই মহান আয়াত এবং এর সমার্থবোধক বিষয়গুলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص صريح)। আল্লামা আবু জাফর তাবারী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "বিষয়টি এমন নয় যেমন তারা দাবি করে যে তারা আপনার প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের ওপর ঈমান এনেছে অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যায় এবং হে মুহাম্মদ, যখন তাদের আপনার দিকে আহ্বান করা হয় তখন তারা আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।" অতঃপর মহান মহিমাময় শপথ পুনরায় ব্যক্ত করে বলেন: "আপনার প্রতিপালকের শপথ হে মুহাম্মদ, তারা মুমিন হতে পারবে না অর্থাৎ তারা আমাকে, আপনাকে এবং আপনার প্রতি অবতীর্ণ বিষয়কে সত্য বলে স্বীকারকারী হবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে।" তিনি বলেন: অর্থাৎ তাদের বিষয়গুলোর মধ্যে যা জটিলতা তৈরি হয়েছে তাতে আপনাকে বিচারক মনোনীত না করা পর্যন্ত। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: 'শাজারা' (شجر) ক্রিয়ামূলের অর্থ মতবিরোধ হওয়া; যখন কোনো সম্প্রদায় কথা ও কাজে মতবিরোধ করে তখন তাকে 'তাশাজারা' বলা হয়। {এরপর আপনি যে ফয়সালা করবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা থাকবে না} অর্থাৎ আপনার ফয়সালার প্রতি অস্বীকৃতি বা আপনার আনুগত্যের ক্ষেত্রে সংশয়জনিত কোনো গুনাহ যেন তাদের মনে না থাকে; আর আপনি তাদের মাঝে যে ফয়সালা করেছেন তা সত্য, যা লঙ্ঘন করা তাদের জন্য বৈধ নয়। এরপর তিনি এই আয়াতের শানে নুযূল সম্পর্কে এই অর্থবোধক অনেকগুলো সনদ বা সূত্র (أسانيد) উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম যা শায়খাইন এবং অন্যদের নিকট ঐক্যমত পোষণকৃত (المتفق عليه)। আল্লামা আহমাদ মুহাম্মদ শাকির ইবনে জারির তাবারীর ওপর তাঁর টীকায় এটি যাচাই (تحقيق) ও সূত্র নির্দেশ (تخريج) করেছেন। মুফাসসিরদের ইমাম আল্লামা ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই মহান আয়াতের ব্যাখ্যায় চমৎকার আলোচনা রয়েছে, যা সেখান থেকে দেখে নেয়া যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই তাদের জানেন যারা তোমাদের মধ্য থেকে চুপিচুপি সটকে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে কিংবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।}

--------------------------------------------

1 ফাতহুল বারী 5/26

2 ইবনে জারির তাবারী 8/524-525

3 তাফসীরে ইবনে কাসীর 1/252-254

4 সূরা আন-নূর (63)
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৭)
قال العلامة الإمام ابن كثير رحمه الله تعالى في تفسيره تحت هذه الآية بعد إيراده روايات عديدة في أسباب نزولها، قال: " {يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} أي عن أمر الرسول صلى الله عليه وسلم وهو سبيله، ومنهاجه، وطريقته، وسنته، وشريعته، فتوزن الأقوال والأعمال، بأقواله وأعماله، فما وافق ذلك قُبِل، وما خالفه فهو مردود على قائله، وفاعله، كائنا من كان، كما ثبت في الصحيحين وغيرهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد"، {فَلْيَحْذَرِ} وليخش من خالف شريعة الرسول صلى الله عليه وسلم باطنا، وظاهرا، {أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} أي في قلوبهم من كفر، أو حد، أو حبس، أو نحو ذلك كما روى الإمام أحمد، فقال: حدثنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، عن همام بن منبه، قال: هذا ما حدثنا عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مثلي ومثلكم كمثل رجل استوقد نارا فلما أضاءت ما حوله جعل الفراش، وهذه الدواب اللائي يقعن في النار وجعل يحجزهن، ويغلبنه فيقتحمن فيها" قال: "فذلك مثلي، ومثلكم أنا آخذ بحجزكم عن النار (أمنعكم عن النار) فتغلبوني وتقتحمون فيها" أخرجاه من حديث عبد الرزاق". قلت: أخرجه البخاري1 ومسلم2 والترمذي3 والإمام أحمد في مسنده4 والغوي في شرح السنة5. ورواه همام بن منبه عند البغوي بالإخبار. وقال العلامة الإمام البغوي في نهاية الحديث هذا حديث: "متفق على صحته أخرجه مسلم عن محمد بن رافع عن عبد الرزاق، وأخرجاه من أوجه عن أبي هريرة" اهـ. ونحو هذا المعنى قوله جل وعلا في سورة النور: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ. وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} 6.

الآيات في هذا المعنى كثيرة جدا وكلها نص صريح في وجوب اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم واتباعه يتمثل في اتباع سنته الصحيحة الثابتة

--------------------------------------------

1البخاري: كتاب الاعتصام، كتاب الأنبياء (6) الرقاق (26)

2 مسلم: الفضائل حديث رقم (17)

3 الترمذي الأدب (82)

4 مسند الإمام أحمد 2/244/1312

5 البغوي شرح السنة 1/189

6 سورة النور (51) (52)
আল্লামা ইমাম ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর তাফসিরে এই আয়াতের অধীনে এর শানে নুযুল সম্পর্কিত বহু বর্ণনাসমূহ (روايات) উল্লেখ করার পর বলেছেন: "{যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে} অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের, আর তা হলো তাঁর পথ, তাঁর কর্মপন্থা, তাঁর পদ্ধতি, তাঁর সুন্নাহ এবং তাঁর শরীয়াহ। সুতরাং সমস্ত কথা ও কাজকে তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে; যা এর সাথে মিলবে তা কবুল করা হবে, আর যা এর বিপরীত হবে তা প্রবক্তা বা কর্তার ওপর প্রত্যাখ্যাত হবে, সে যেই হোক না কেন। যেমন সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।' {অতএব যারা সতর্ক হওয়া উচিত} এবং যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়াহর প্রকাশ্যে বা গোপনে বিরোধিতা করে তাদের ভয় করা উচিত, {যাতে তারা কোনো ফিতনায় পতিত না হয়} অর্থাৎ তাদের অন্তরে কুফর, শরয়ী শাস্তি, কারাদণ্ড বা এই জাতীয় কিছুর আশঙ্কা রয়েছে, যেমনটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এটি সেই হাদিস যা আবু হুরায়রা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আমার এবং তোমাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালাল, অতঃপর যখন তা চারপাশ আলোকিত করল, তখন পতঙ্গ এবং আগুনের উপর নিপতিত হওয়া এই প্রাণীকুল তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল। আর সে সেগুলোকে বাধা দিচ্ছিল, কিন্তু তারা তাকে পরাস্ত করে আগুনের ভেতর ঢুকে পড়ছিল।' তিনি বলেন: 'তেমনি আমি তোমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে রক্ষা করছি (তোমাদের আগুন থেকে বাধা দিচ্ছি), কিন্তু তোমরা আমাকে পরাস্ত করে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছ।' তাঁরা উভয়েই (বুখারি ও মুসলিম) এটি আব্দুর রাজ্জাক-এর হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি বুখারি, মুসলিম, তিরমিযী, ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এবং বাগাভী শারহুস সুন্নাহ-তে বর্ণনা করেছেন। আর বাগাভীতে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ এটি সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে (بالإخبار) বর্ণনা করেছেন। আল্লামা ইমাম বাগাভী হাদিসটির শেষে বলেন: এটি এমন একটি হাদিস যা: "এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য (متفق على صحته) হয়েছে। মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে রাফি’র সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়েই (বুখারি ও মুসলিম) একাধিক সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।" সমাপ্ত। এই অর্থের অনুরূপ মহান আল্লাহ তাআলার বাণী যা সূরা আন-নূরে বর্ণিত হয়েছে: {মুমিনদের উক্তি তো কেবল এই—যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য।} 6.

এই অর্থের আয়াতসমূহ অনেক এবং এগুলোর প্রতিটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص صريح)। আর তাঁর অনুসরণ বলতে তাঁর বিশুদ্ধ (صحيحة) ও সুপ্রতিষ্ঠিত (الثابتة) সুন্নাহর অনুসরণই বুঝায়।

--------------------------------------------

1 বুখারি: কিতাবুল ইতিসাম, কিতাবুল আম্বিয়া (৬) আর-রিকাক (২৬)

2 মুসলিম: আল-ফাযাইল হাদিস নম্বর (১৭)

3 তিরমিযী: আল-আদাব (৮২)

4 মুসনাদে ইমাম আহমাদ ২/২৪৪/১৩১২

5 বাগাভী: শারহুস সুন্নাহ ১/১৮৯

6 সূরা আন-নূর (৫১) (৫২)
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৮)
عنه صلى الله عليه وسلم، وتثبت حجية السنة النبوية ثبوتا واضحا مبينا من قوله جل وعلا في سورة البقرة قال تعالى: {وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ} 1. والشاهد في هذه الآية الكريمة هو أنه صلى الله عليه وسلم كان يصلي إلى بيت المقدس قبل أن يؤمر بالتوجه إلى الكعبة المشرفة، وكان صلاته صلى الله عليه وسلم إلى بيت المقدس بأمر من الله تعالى ولكن أين هذا الأمر في القرآن الكريم؟ قال العلامة الإمام ابن كثير رحمه الله تعالى ملخصا ما ذكره قبل هذا الكلام: "حاصل الأمر أنه كان صلى الله عليه وسلم أمر باستقبال الصخرة من بيت المقدس فكان بمكة يصلي بين الركنين، فيكون بين يدي الكعبة وهو مستقبل الصخرة بيت المقدس، فلما هاجر إلى المدينة تعذر الجمع بينهما فأمره الله بالتوجه إلى بيت المقدس، قاله ابن عباس والجمهور". ثم قال: "وقد جاء في هذا الباب أحاديث كثيرة"2. وهكذا قال الإمام العلامة أبو جعفر في تفسيره3 أخرج الإمام الشافعي في الرسالة4 والإمام أحمد في المسند5 وأبو داود6 والترمذي7 وابن ماجه8 والبغوي في شرح السنة9 وحسنه الترمذي، وصححه الحاكم10 من حديث أبي رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا ألفين أحدكم متكئا على أريكته، يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به، أو نهيت عنه، فيقول لا أدري ما وجدناه في كتاب الله تعالى اتبعناه". قال العلامة الإمام البغوي في شرح السنة: "قال الأزهري: كل من اتُكِئَ عليه فهو أريكة. وأراد بهذه الصفة أصحاب الترفه، والدعة، الذين لزموا البيوت، وقعدوا عن طلب العلم". وفي الحديث دليل على أنه لا حاجة بالحديث إلى أن يعرض على الكتاب، وأنه مهما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان حجة بنفسه، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه" قلت: أورده السيوطي في مفتاح الجنة في

--------------------------------------------

1 البقرة (143)

2 تفسير ابن كثير 1/195

3 تفسير ابن جرير الطبري /138-140

4 رسالة الإمام الشافعي 295

5 مسند الإمام أحمد 6/8

6أبو داود رقم 4605

7 الترمذي 2665

8 ابن ماجه المقدمة 13

9 شرح السنة 1/200-201

10 الحاكم في المستدرك1/108-109
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সূরা বাকারায় মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আপনি যে কিবলার ওপর ছিলেন তাকে আমি কেবল এই জন্যই নির্ধারণ করেছিলাম যাতে আমি জেনে নিতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে আর কে পিঠ ফিরিয়ে ফিরে যায়} ১। এই আয়াতে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সম্মানিত কাবার দিকে মুখ করার আদেশ দেওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। তাঁর বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করা ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আদেশের ভিত্তিতে। কিন্তু এই আদেশ পবিত্র কুরআনের কোথায় আছে? আল্লামা ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর পূর্বোক্ত আলোচনার সারাংশ উল্লেখ করে বলেন: "সারকথা হলো, তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসের পাথরের (সাখরাহ) দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তিনি মক্কায় থাকাকালীন রুকনদ্বয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন, যাতে তিনি কাবার সামনেও থাকতেন আবার বায়তুল মুকাদ্দাস মুখীও হতেন। অতঃপর যখন তিনি মদীনায় হিজরত করলেন, তখন উভয়টির মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ল, ফলে আল্লাহ তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করার নির্দেশ দিলেন। এটি ইবনে আব্বাস ও জুমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম বলেছেন"। অতঃপর তিনি বলেন: "এই বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে" ২। অনুরূপভাবে ইমাম আল্লামা আবু জাফর তাঁর তাফসিরে ৩ উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাফেয়ী রিসালা গ্রন্থে ৪, ইমাম আহমাদ মুসনাদে ৫, আবু দাউদ ৬, তিরমিজি ৭, ইবনে মাজাহ ৮ এবং বগভী শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে ৯ এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন ১০; হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস আবু রাফে থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, আর তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ কিংবা নিষেধ পৌঁছালে সে বলবে— আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি"। আল্লামা ইমাম বগভী শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেন: "আযহারী বলেছেন: যার ওপর হেলান দেওয়া হয় তাকেই আরিকাহ (আসন) বলা হয়। এই গুণের মাধ্যমে তিনি বিলাসপ্রিয় ও স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয় ব্যক্তিদের বুঝিয়েছেন, যারা ঘরে অবস্থান করে এবং ইলম অর্জনে বিমুখ থাকে"। এই হাদিসে এই প্রমাণ রয়েছে যে, হাদিসকে কুরআনের সামনে পেশ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু সাব্যস্ত (ثبت) হবে, তা স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো! আমাকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ দেওয়া হয়েছে"। আমি বলব: সুয়ূতি এটি মিফতাহুল জান্নাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন

--------------------------------------------

১ সূরা বাকারা (১৪৩)

২ তাফসির ইবনে কাসির ১/১৯৫

৩ তাফসির ইবনে জারির তাবারী /১৩৮-১৪০

৪ রিসালা ইমাম শাফেয়ী ২৯৫

৫ মুসনাদ ইমাম আহমাদ ৬/৮

৬ আবু দাউদ নং ৪৬০৫

৭ তিরমিজি ২৬৬৫

৮ ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমা ১৩

৯ শারহুস সুন্নাহ ১/২০০-২০১

১০ হাকেম, মুস্তাদরাক ১/১০৮-১০৯
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯৯)
الاحتجاج بالسنة، وقال رحمه الله تعالى: "وأخرج البيهقي بسنده عن المقدام بن معد يكرب رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم أشياء يوم خيبر من الحمار الأهلي وغيره فقال صلى الله عليه وسلم: "يوشك أن يقعد الرجل منكم على أريكته يحدث حديثي، فيقول بيني وبينكم كتاب الله تعالى فما وجدنا فيه حلالا استحللناه وما وجدنا فيه حراما حرمناه وإنما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرم الله"، الحديث أخرجه العلامة البغوي في شرح السنة برقم (101) وخرجه الشيخ شعيب في التعليق وقال: "أخرجه أحمد والدارمي وأبو داود، والترمذي، وابن ماجه وقال: حسنه الترمذي" اهـ قلت: نعم أخرجه الإمام الترمذي في الجامع تحت باب ما نهي عنه أن يقال عند حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحسنه ثم قال: "وروى بعضهم عن سفيان بن عيينة عن ابن المنكدر عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا، وسالم أبي النضر عن عبيد الله ابن أبي رافع عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكان ابن عيينة إذا روى هذا الحديث على الانفراد بين حديث المنكدر من حديث سالم أبي النضر، وإذا جمعهما روى هكذا" وأبو رافع مولى النبي صلى الله عليه وسلم. قال العلامة المحدث المباركفوري: "روي هذا الحديث موقوفا على أبي رافع كما ترى في طريق الترمذي ورواه أبو داود في السنن مرفوعا" ثم قال: "رواه أبو داود في السنن فقال: حدثنا أحمد بن محمد بن حنبل، وعبد الله بن محمد النفيلي، قالا: حدثنا سفيان، عن أبي النضر عن عبيد الله بن أبي رافع عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم ثم ذكر الحديث". قلت: الذين رووه بالرفع هم أكثر عددا من الذين رووه بالوقف، ورواه البغوي مرفوعا وكذا ابن ماجه، وأبو داود، وأحمد في المسند، والدارمي في سننه من غير هذا الوجه مرفوعا برقم (592) ثم قال العلامة المباركفوري: "وهذا الحديث دليل من دلائل النبوة، وعلامة من علاماتها، فقد وقع ما أخبر به صلى الله عليه وسلم فإن رجلا قد خرج في البنجاب من أقليم الهند. وسمى نفسه بأهل القرآن، شتان بينه وبين أهل القرآن بل هو من أهل الإلحاد، وكان قبل ذلك من الصالحين - قلت ما كان من الصالحين ولم يتمكن الإيمان من قلبه - فأضله الشيطان، وأغواه، وأبعده عن الصراط المستقيم فتفوه بما لا يتكلم به

সুন্নাহর প্রামাণ্যতা; তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল-বাইহাকি স্বীয় সনদে মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধাসহ অন্যান্য কিছু জিনিস হারাম করেছেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: অচিরেই তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার সামনে আমার হাদিস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে—আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পাব তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা হারাম হিসেবে গ্রহণ করব। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা হারাম করেছেন, তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ'।" হাদিসটি আল্লামা বগভী শারহুস সুন্নাহ-এর ১০১ নম্বর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং শেখ শুয়াইব এর টীকায় উল্লেখ করেছেন: "এটি আহমাদ, দারেমি, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন।" আমি বলি: হ্যাঁ, ইমাম তিরমিজি তার জামিউত তিরমিজি গ্রন্থে 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে যা বলা নিষেধ' অধ্যায়ের অধীনে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "তাদের কেউ কেউ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার সালিম আবু নাদর উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে উইয়াইনাহ যখন এককভাবে এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন তিনি মুনকাদিরের হাদিসকে সালিম আবু নাদরের হাদিস থেকে পৃথক করে দেখাতেন, আর যখন তিনি উভয়কে একত্রে বর্ণনা করতেন তখন এভাবেই বর্ণনা করতেন।" আর আবু রাফি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আযাদকৃত দাস ছিলেন। আল্লামা মুহাদ্দিস মুবারকপুরী বলেন: "এই হাদিসটি আবু রাফির ওপর মওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি তিরমিজির সূত্রে দেখছেন, তবে আবু দাউদ একে তার সুনান গ্রন্থে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।" অতঃপর তিনি বলেন: "আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আন-নুফাইলি, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আবু নাদর থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।" আমি বলি: যারা একে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যা মওকুফ (موقوف) বর্ণনাকারীদের চেয়ে অধিক। বগভী একে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ এবং দারেমি তার সুনান গ্রন্থে ভিন্ন সূত্রে ৫৯২ নম্বরে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আল্লামা মুবারকপুরী বলেন: "এই হাদিসটি নবুওয়তের অন্যতম নিদর্শন এবং এর চিহ্নসমূহের একটি। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যে নিজেকে 'আহলে কুরআন' বলে দাবি করে। প্রকৃত আহলে কুরআনদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই, বরং সে ধর্মত্যাগীদের অন্তর্ভুক্ত। এর পূর্বে সে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিল—আমি বলি: সে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না বরং তার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়নি—অতঃপর শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করেছে এবং তাকে সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে সে এমন কথা মুখ দিয়ে বের করেছে যা সাধারণত কেউ বলে না।"

(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০০)
أهل الإسلام، فأطال لسانه في رد الأحاديث النبوية بأسرها ردا بليغا وقال هذه كلها مكذوبة، ومفتريات على الله تعالى، وإنما يجب العمل على القرآن العظيم فقط دون أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، وإن كانت صحيحة متواترة، ومن عمل على غير القرآن فهو داخل تحت قوله تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} ، وغير ذلك من أقواله الكفرية وتبعه على ذلك كثير من الجهال، وجعلوه إماما، وقد أفتى علماء العصر بكفره، وإلحاده، وأخرجوه من دائرة الإسلام كما قالوا". ثم خرج هذا الحديث بقوله: "أخرجه الإمام أحمد في مسنده، وأبو داود، وابن ماجه، والبيهقي في الدلائل"1. قلت: أخرجه الإمام أحمد في مسنده من ثلاث طرق، طريق أبي هريرة رضي الله تعالى عنه وفيه أبو معشر وهو ضعيف إلا أنه يكتب حديثه ويستشهد به، وطريق آخر وهو طريق أبي رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم واسمه أسلم وهو طريق جيد، وطريق ثالث وهو طريق المقدام بن معد يكرب رضي الله تعالى عنه وهو أيضا طريق جيد، وأنهي هذا الموضوع بآيات من الذكر الحكيم قال تعالى في سورة الحشر: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا} 2 وقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِيناً} 3 وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً. وَلَمَّا رَأى الْمُؤْمِنُونَ الأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَاناً وَتَسْلِيماً} 4 وقال جل وعلا في سورة الأحزاب: {يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولا} 5 وقال جل وعلا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} 6 وقال عز من قائل في سورة الحديد: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ

--------------------------------------------

1 تحفة الأحوذي 3/374

2 الحشر 7

3 الأحزاب 36

4 الأحزاب 22

5 الأحزاب 66

6 النساء 59
ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে সে (ব্যক্তিটি) সমস্ত নববী হাদিসকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে নিজের জিহ্বাকে দীর্ঘায়িত করেছে এবং বলেছে যে এগুলো সবই মিথ্যা বানোয়াট (مكذوبة), এবং মহান আল্লাহর ওপর অপবাদ। তার দাবি হলো, নবী (সা.)-এর হাদিসসমূহ ছাড়াই কেবলমাত্র মহান কুরআনের ওপর আমল করা আবশ্যক, যদিও সেগুলো সহিহ (صحيحة) এবং মুতাওয়াতির (متواترة) হয়। আর যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া অন্য কিছুর ওপর আমল করবে, সে আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী বিধান দেয় না, তারাই কাফির}; এছাড়াও তার আরও অনেক কুফরি বক্তব্য রয়েছে এবং অনেক মূর্খ লোক এই পথে তাকে অনুসরণ করেছে ও তাকে ইমাম বানিয়ে নিয়েছে। সমকালীন উলামাগণ তার কুফরি ও ধর্মহীনতার ফতোয়া দিয়েছেন এবং তারা যেমনটি বলেছেন, তাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিয়েছেন। এরপর তিনি এই হাদিসটি এই বলে উদ্ধার করেছেন: "ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ-এ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকি 'দালায়িল' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।"১। আমি বলি: ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদ-এ তিনটি সূত্র (طرق) থেকে বর্ণনা করেছেন; প্রথমটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্র, যাতে আবু মা’শার রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف), তবে তাঁর হাদিস লিখে রাখা হয় এবং তা সাক্ষ্য বা সমর্থন হিসেবে গ্রহণ (يستشهد به) করা হয়। দ্বিতীয় সূত্রটি হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুক্তদাস আবু রাফি-এর সূত্র—তাঁর নাম আসলাম—এবং এই সূত্রটি উত্তম (جيد)। তৃতীয়টি হলো মিকদাম ইবনে মা’দিকারিব (রা.)-এর সূত্র এবং এটিও একটি উত্তম (جيد) সূত্র। আমি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের কয়েকটি আয়াতের মাধ্যমে এই বিষয়ের সমাপ্তি ঘটাচ্ছি; মহান আল্লাহ সূরা হাশরে বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো}২। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে নিজেদের অন্য কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হলো}৩। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন মুমিনরা সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল, তখন তারা বলে উঠল: এটিই তো সেই বিষয় যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। আর এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি পেল}৪। মহান আল্লাহ সূরা আহযাবে আরও বলেন: {যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমণ্ডল উলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম!}৫। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটিই শ্রেষ্ঠতর এবং পরিণামে সর্বোত্তম}৬। মহান আল্লাহ সূরা হাদীদে বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো, তিনি তোমাদের তাঁর রহমত থেকে দ্বিগুণ অংশ দান করবেন এবং তোমাদের দান করবেন আলোকবর্তিকা...}

--------------------------------------------

১ তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/৩৭৪

২ আল-হাশর ৭

৩ আল-আহযাব ৩৬

৪ আল-আহযাব ২২

৫ আল-আহযাব ৬৬

৬ আন-নিসা ৫৯
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০১)
لَكُمْ نُوراً تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} . فالإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم هو الإيمان الكامل بما جاء به من عند الله تعالى من كتاب وسنة صحيحة ثابتة والعمل بهما ظاهرا وباطنا وتسليم الأمر إليهما والدعوة إليهما، والاستماتة في سبيلهما حتى يأتيه الموت فيلقى ربه بلقاء عظيم مرضي.
...তোমাদেরকে এমন এক নূর দান করবেন যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনার সারকথা হলো—আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন অর্থাৎ কিতাব ও সহিহ (صحيحة) ও সাব্যস্ত (ثابتة) সুন্নাহ-এর ওপর পূর্ণাঙ্গ ঈমান আনা এবং প্রকাশ্য ও গোপনে সে অনুযায়ী আমল করা, সকল বিষয় এ দুটির নিকট সমর্পণ করা, এ দুটির দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং মৃত্যু অবধি এ পথে জীবন উৎসর্গ করা; যাতে করে এক মহান ও সন্তোষজনক সাক্ষাতের মাধ্যমে স্বীয় প্রতিপালকের সাথে মিলিত হওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌جهود العلماء في حفظ السنة:

أما جهود العلماء المحدثين من الصحابة ومن تبعهم في حفظ السنة النبوية فإنها جهود مباركة ضخمة، وقعت مصداقا لقوله جل وعلا في سورة الحجر {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1 ولقوله جل وعلا: في سورة التوبة: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} 2 ومصداقا لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث أخرجه الإمام أحمد في المسند3 وأبو داود في السنن4 والترمذي في الجامع5 وابن ماجه6 والدارمي7 في سننيهما عن عبد الله بن مسعود رضي الله تعالى عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "نضر الله امرأً سمع مني حديثا فحفظه، حتى يبلغه فرب مبلغ أحفظ له من سامع" قال الإمام السيوطي رحمه الله تعالى (في مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة) : "هذا الحديث متواتر"8. وقال في تدريب: "روي من ثلاثين صحابيا". وقال الشافعي رحمه الله تعالى: "فلما ندب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى استماع مقالته، وحفظها، وأدائها دل على أنه لا يأمر أن يؤدى عنه إلا ما تقوم به الحجة، على من أدى إليه، وأن ما يؤدى عنه حلال يؤتى، وحرام يجتنب، وحد يقام، ومال يؤخذ، ويعطى، ونصيحة في دين، ودنيا". أخرج الإمام نصر المقدسي في كتاب الحجة على ترك المحجة بسنده عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من غدا أو راح في طلب سنة مخافة أن تندرس كان كمن غدا أو راح في سبيل الله ومن كتم علما علمه الله إياه ألجمه الله يوم القيامة بلجام من النار" وأخرج عن معاذ بن جبل رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا

--------------------------------------------

1 الحجر 9

2 التوبة 122

3 مسند الأمام أحمد 1/437، 3/225، 4/80، 4/82، 5/183

4 سنن أبي داود العلم 10

5 الترمذي العلم 7

6 ابن ماجه المقدمة 8

7 الدارمي المقدمة 20

8 ص6
সুন্নাহ সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের অনুসারী হাদিসবিদ ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা অত্যন্ত বরকতময় ও বিশাল। যা সূরা আল-হিজরে মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তব প্রতিফলন: {নিশ্চয়ই আমি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} ১ এবং সূরা আত-তাওবাহ-তে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতিফলন: {অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সচেতন হয়} ২। এছাড়া এটি মুসনাদ গ্রন্থে ইমাম আহমাদ ৩, সুনান গ্রন্থে আবু দাউদ ৪, জামি' গ্রন্থে তিরমিযী ৫, ইবনে মাজাহ ৬ এবং দারেমী ৭ তাঁদের সুনান গ্রন্থদ্বয়ে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসেরও বাস্তবায়ন; তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক সময় যাকে হাদিস পৌঁছে দেওয়া হয়, সে সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হতে পারে।" ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মিফতাহুল জান্নাহ ফীল ইহতিজাজি বিসসুন্নাহ গ্রন্থে) বলেন: "এই হাদিসটি মুতাওয়াতির (متواتر)" ৮। তিনি তাদরীব গ্রন্থে বলেছেন: "এটি ত্রিশজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।" ইমাম শাফিঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর বাণী শ্রবণ, সংরক্ষণ এবং তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন, তখন তা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কেবল এমন কিছুই প্রচার করার নির্দেশ দেননি যা দলিল (حجة) হিসেবে অকাট্য নয়; বরং তাঁর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দেওয়া হয় তা হলো পালনীয় হালাল, বর্জনীয় হারাম, কার্যকর করার মতো দণ্ডবিধি, গ্রহণ ও প্রদানের সম্পদ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার নসিহত।" ইমাম নসর আল-মাকদিসি ‘আল-হুজ্জাহ আলা তারকিল মাহাজ্জাহ’ গ্রন্থে তাঁর সনদে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুন্নাহ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা অন্বেষণে সকাল বা সন্ধ্যায় বের হয়, সে আল্লাহর রাস্তায় সকাল-সন্ধ্যায় জিহাদকারীর সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান গোপন করে যা আল্লাহ তাকে শিখিয়েছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।" এছাড়া তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন

--------------------------------------------

১ আল-হিজর ৯

২ আত-তাওবাহ ১২২

৩ মুসনাদে ইমাম আহমাদ ১/৪৩৭, ৩/২২৫, ৪/৮০, ৪/৮২, ৫/১৮৩

৪ সুনানে আবু দাউদ, ইলম ১০

৫ তিরমিযী, ইলম ৭

৬ ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমাহ ৮

৭ দারেমী, মুকাদ্দিমাহ ২০

৮ পৃষ্ঠা ৬
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০২)
ظهرت البدع في أمتي وشتم أصحابي فليظهر العالم علمه فإن لم يفعل فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين". ومن هنا كانت تلك الجهود الضخمة والمباركة التي كانت فريدة في نوعها، وعزيزة في وجودها ولا يوجد لها مثيل في سائر الأمم الماضية، يقول الدكتور اسبر نكر أحد علماء الألمان البارزين فيما نقل عنه العلامة المحدث المباركفوري في سيرة البخاري قال: "إن علم أسماء الرجال اختصت به هذه الأمة الإسلامية دون سائر الأمم، وإنه مفخرة كبيرة للمسلمين، وثورة علمية هائلة جُمِعَت لهم من أسلافها، وميدان خضم ولهم في ذلك أقدام راسخة". قلت: هكذا يمجد هذا المستشرق هذا العلم الشريف وهو بكلامه هذا يقضي على جميع الشبه التافهة التي أوردها أعداء السنة النبوية حديثا، وقديما، قال الإمام البخاري رحمه الله تعالى في الجامع الصحيح في كتاب العلم، باب الخروج في طلب العلم: "ورحل جابر بن عبد الله مسيرة شهر إلى عبد الله بن أنيس في حديث واحد". وأشار رحمه الله تعالى بهذا التعليق إلى الحديث رواه في كتاب الأدب المفرد في باب المعانقة ص 337 من طريق عبد الله بن محمد بن عقيل أنه سمع جابر بن عبد الله يقول: "بلغني من رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فاشتريت بعيرا، ثم شددت رحلي فسرت إليه شهرا حتى قدمت الشام، فإذا عبد الله بن أنيس، فقلت للبواب: قل له: جابر على الباب، فقال: ابن عبد الله؟ قلت نعم.. فخرج عبد الله بن أنيس فاعتنقني، فقلت: حديث بلغني عنك أنك سمعته من النبي صلى الله عليه وسلم فخشيت أن أموت، أو تموت قبل أن أسمعه فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "يحشر الله الناس يوم القيامة عراة، غرلا، بُهْماً، قلنا ما بهما؟ قال: ليس عليهم شيء، فينادهم بصوت يسمعه من بعد كما يسمعه من قرب، أنا الملك، أنا الديان، لا ينبغي لأحد من أهل الجنة يدخل الجنة، وأحد من أهل النار يطلبه بمظلمة" يعني لا يدخل أهل الجنة الجنة، وأهل النار النار إلا بعد تصفية الحساب. قال الحافظ في الفتح بعد إيراد حديث جابر هذا ورحلته إلى عبد الله بن أنيس: "وفي هذا الحديث ما كان عليه الصحابة من الحرص على تحصيل السنن النبوية قال الخطيب البغدادي في رسالته القيمة (الرحلة في طلب الحديث) بإسناده عن أبي عثمان النهدي قال: "بلغني عن

"আমার উম্মতের মধ্যে যখন বিদআতের (البدع) প্রকাশ ঘটবে এবং আমার সাহাবীদের গালিগালাজ করা হবে, তখন আলেমদের উচিত তাদের জ্ঞান প্রকাশ করা; আর যদি তিনি তা না করেন, তবে তার ওপর আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের লানত এবং সকল মানুষের লানত।" এখান থেকেই শুরু হয়েছিল সেই বিশাল এবং বরকতময় প্রচেষ্টাসমূহ, যা ছিল আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য এবং উপস্থিতিতে বিরল, যার কোনো দৃষ্টান্ত বিগত অন্য কোনো জাতির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রখ্যাত জার্মান পণ্ডিত ডক্টর স্প্রেঙ্গার—আল্লামা মুহাদ্দিস মুবারকপুরী তার সীরাতুল বুখারীতে যার উদ্ধৃতি দিয়েছেন—তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক জ্ঞান বা ইলমে আসমাউর রিজাল (علم أسماء الرجال) কেবল এই মুসলিম উম্মাহরই অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা অন্য কোনো জাতির নেই। এটি মুসলমানদের জন্য একটি বিশাল গৌরবের বিষয় এবং এক সুমহান বৈজ্ঞানিক বিপ্লব যা তাদের পূর্বসূরীদের মাধ্যমে তাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এটি এক সুবিশাল ক্ষেত্র এবং এই বিদ্যায় তাদের পদচারণা অত্যন্ত সুদৃঢ়।"

আমি বলছি: এভাবেই একজন প্রাচ্যবিদ এই মহিমান্বিত জ্ঞানকে উচ্চাসনে বসিয়েছেন এবং তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সুন্নাহর শত্রুদের দ্বারা আধুনিক ও প্রাচীনকালে উত্থাপিত সকল অন্তঃসারশূন্য সন্দেহকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার কিতাব আল-জামিউস সহিহ-এর 'কিতাবুল ইলম'-এ 'জ্ঞান অন্বেষণে যাত্রার অধ্যায়'-এ উল্লেখ করেছেন: "জাবির ইবনে আবদুল্লাহ একটি মাত্র হাদিসের জন্য আবদুল্লাহ ইবনে আনাইসের কাছে এক মাসের পথ পাড়ি দিয়ে সফর করেছিলেন।"

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এই টীকা বা তালীক (التعليق)-এর মাধ্যমে সেই হাদিসের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যা তিনি তার আল-আদাবুল মুফরাদ কিতাবের 'মুআনাকা' বা কোলাকুলি অধ্যায়ে ৩৩৭ পৃষ্ঠায় আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: "নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবীর কাছে একটি হাদিস আছে বলে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছাল, যা তিনি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন। সংবাদ পেয়েই আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং আমার হাওদা বা সফরের আসবাবপত্র শক্ত করে বেঁধে সিরিয়ার পথে এক মাস সফর করে সেখানে পৌঁছালাম। পৌঁছে দেখলাম তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আনাইস। আমি দ্বাররক্ষীকে বললাম: তাকে বলো, জাবির দরজায় অপেক্ষা করছে। সে জিজ্ঞাসা করল: ইবনে আবদুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন আবদুল্লাহ ইবনে আনাইস বেরিয়ে এসে আমাকে আলিঙ্গন করলেন। আমি বললাম: আপনার নিকট থেকে একটি হাদিস শোনার সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেছে, যা আপনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, সেটি শোনার পূর্বেই আমার অথবা আপনার মৃত্যু হয়ে যায় কি না। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, 'কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মানুষকে উলঙ্গ, খতনাবিহীন এবং রিক্তহস্তে (বুহমান) একত্রিত করবেন।' আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: বুহমান মানে কী? তিনি বললেন: 'তাদের সাথে পার্থিব কোনো সম্পদ থাকবে না।' অতঃপর তিনি এমন এক স্বরে তাদের আহ্বান করবেন যা দূরের মানুষও ঠিক সেভাবে শুনতে পাবে যেভাবে কাছের মানুষ শুনতে পায়। (আল্লাহ বলবেন) আমিই রাজাধিরাজ, আমিই বিচারক (الديان)। কোনো জান্নাতবাসীর পক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না, যদি কোনো জাহান্নামবাসীর তার কাছে কোনো পাওনা থাকে।" অর্থাৎ, হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করা ছাড়া জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারবে না।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারীতে জাবিরের এই হাদিস এবং আবদুল্লাহ ইবনে আনাইসের কাছে তার সফরের কথা উল্লেখ করার পর বলেন: "এই হাদিসের মধ্যে নববী সুন্নাহ অর্জনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামদের প্রবল আগ্রহের প্রমাণ রয়েছে।" খতীব বাগদাদী তার মূল্যবান গ্রন্থ 'রিহলা ফি তলাবিল হাদিস'-এ তার সনদ (بإسناده) সহকারে আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে..."

(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০৩)
أبي هريرة حديث أنه قال: إن الله ليكتب لعبده بالحسنة الواحدة ألف ألف حسنة فحججت ذلك العام، ولم أكن أريد الحج إلا للقائه في هذا الحديث فأتيت أبا هريرة ،فقلت: يا أبا هريرة بلغني عنك حديث فحججت العام ولم أكن أريد الحج إلا لألقاك، قال: فما هو؟ قلت إن الله ليكتب لعبده المؤمن الحسنة الواحدة ألف ألف حسنة فقال أبو هريرة: ليس هكذا قلت: إنما قلت إن الله ليعطي عبده المؤمن بالحسنة الواحدة ألفي ألف حسنة، ثم قال: أو ليس في كتاب الله تعالى ذلك؟ قلت: كيف؟ قال: لأن الله تعالى يقول: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضاً حَسَناً فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافاً كَثِيرَةً} والكثير عند الله أكثر من ألفي ألف وألف ألف" اهـ وقال الخطيب أيضا في هذه الرسالة بإسناده الطويل: "عن عطاء بن أبي رباح قال: خرج أبو أيوب الأنصاري إلى عقبة ابن عامر وهو بمصر يسأله عن حديث سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما قدم أتى منزل مسلمة بن مخلد الأنصاري وهو أمير مصر، فأخبر به فعجل فخرج إليه فعانقه، وقال: ما جاء بك يا أبا أيوب قال حديث سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يبق أحد سمعه غيري وغيرك في ستر المؤمن قال: نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من ستر مؤمنا في الدنيا ستره الله يوم القيامة" فقال له أبو أيوب: صدقت ثم انصرف أبو أيوب إلى راحلته فركبها راجعا إلى المدينة". قلت: هكذا نجدهم رضي الله تعالى عنهم أجمعين حريصين أشد الحرص على حفظ السنة وصيانتها، ثم قال الخطيب بإسناده عن عبد الله بن بريدة: "إن رجلا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم رحل إلى فضالة بن عبيد وهو بمصر، فقدم عليه، فقال: إني لم آتيك زائرا ولكن سمعت أنا وأنت حديثا من رسول الله صلى الله عليه وسلم رجوت أن يكون عندك منه علم قال: فما هو؟ قال كذا وكذا". وساق الحديث، وهكذا نجد سيد التابعين وعالم المدينة الإمام سعيد بن المسيب، كما قال الإمام الحافظ ابن كثير في البداية والنهاية قال مالك عن يحي بن سعيد، عن سعيد بن المسيب قال: "كنت أرحل الأيام والليالي في طلب الحديث الواحد". قال الحافظ الإمام ابن أبي حاتم الرازي الحنظلي في مقدمة الجرح والتعديل في ترجمة أبيه الإمام أبي حاتم الرازي عند ذكر رحلته في طلب الحديث قال ابن أبي

আবু হুরাইরা (রাযি.)-এর একটি হাদিস সম্পর্কে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য একটি নেকির বিনিময়ে দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন।" ফলে আমি সেই বছর হজ করলাম, অথচ এই হাদিসটির ব্যাপারে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা ছাড়া হজের আর কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। এরপর আমি আবু হুরাইরার কাছে আসলাম এবং বললাম, "হে আবু হুরাইরা! আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি হাদিস পৌঁছেছে, ফলে আমি এ বছর হজ করেছি আর আপনার সাথে সাক্ষাৎ করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।" তিনি বললেন, "সেটি কী?" আমি বললাম, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার জন্য একটি নেকির বিনিময়ে দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন।" তখন আবু হুরাইরা (রাযি.) বললেন, "আমি এভাবে বলিনি। বরং আমি বলেছি যে, আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে একটি নেকির বিনিময়ে বিশ লক্ষ নেকি দান করেন।" তারপর তিনি বললেন, "আল্লাহ তাআলার কিতাবে কি তা নেই?" আমি বললাম, "কীভাবে?" তিনি বললেন, "কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে? ফলে তিনি তা তাঁর জন্য বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেবেন।} আর আল্লাহর কাছে 'বহু' (অগণিত) এর পরিমাণ বিশ লক্ষ এবং দশ লক্ষের চেয়েও অনেক বেশি।" সমাপ্ত।

খতিব (আল-বাগদাদি) তাঁর এই রিসালায় (পুস্তিকায়) দীর্ঘ সনদের (إسناد) মাধ্যমে আরও উল্লেখ করেছেন: "আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু আইয়ুব আনসারী (রাযি.) মিশরে অবস্থানরত উকবা ইবনে আমিরের কাছে গেলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে শোনা একটি হাদিস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করার জন্য। যখন তিনি পৌঁছালেন, তখন মিশরের গভর্নর মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ আনসারীর বাড়িতে আসলেন। তাঁকে খবর দেওয়া হলে তিনি তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে এসে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং বললেন, 'হে আবু আইয়ুব! আপনাকে কিসে নিয়ে এসেছে?' তিনি বললেন, 'মুমিনের দোষ গোপন রাখা বিষয়ক একটি হাদিস যা আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে শুনেছি এবং আমি ও আপনি ছাড়া তা শুনেছে এমন আর কেউ অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন"।' তখন আবু আইয়ুব (রাযি.) তাঁকে বললেন, 'আপনি সত্য বলেছেন।' এরপর আবু আইয়ুব (রাযি.) তাঁর সওয়ারির দিকে ফিরে গেলেন এবং তাতে চড়ে মদিনার দিকে রওয়ানা হলেন।"

আমি বলছি: এভাবেই আমরা তাঁদের সকলকে (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সুন্নাহর সংরক্ষণ ও সুরক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী দেখতে পাই। অতঃপর খতিব তাঁর সনদের (إسناد) মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা থেকে বর্ণনা করেন: "নবী (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি মিশরে অবস্থানরত ফাদালাহ ইবনে উবাইদ (রাযি.)-এর কাছে সফর করলেন। তিনি তাঁর কাছে পৌঁছে বললেন, 'আমি আপনার কাছে নিছক সাক্ষাৎ করতে আসিনি, বরং আমি ও আপনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে একটি হাদিস শুনেছিলাম, আমি আশা করছি যে আপনার কাছে সেই ইলম (علم) থাকবে।' তিনি বললেন, 'সেটি কী?' তিনি বললেন, 'এমন এমন...'।" এবং তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন।

একইভাবে আমরা তাবেয়িদের (التابعين) সরদার ও মদিনার আলিম ইমাম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে দেখতে পাই। যেমনটি হাফেজ (الحافظ) ইবনে কাসীর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: মালিক (রহ.) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি কেবল একটি হাদিস অনুসন্ধানে দিনের পর দিন এবং রাতের পর রাত সফর করতাম।" হাফেজ (الحافظ) ইমাম ইবনে আবি হাতিম আল-রাযী আল-হানযালি আল-জারহ ওয়াত তাদীল গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর পিতা ইমাম আবু হাতিম আল-রাযীর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় তাঁর হাদিস অনুসন্ধানের সফরের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: ইবনে আবি (হাতিম বলেন)...

(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০৪)
حاتم: "سمعت أبي يقول: أول ما خرجت في طلب الحديث أقمت سبع سنين أحصيت ما مشيت على قدمي زيادة على ألف فرسخ، لم أزل أحصي فلما زاد على ألف فرسخ تركته، وأما ما كنت سرت أنا من الكوفة إلى بغداد فما لا أحصى كم مرة، ومن مكة إلى المدينة مرات كثيرة، خرجت من البحر من قرب مدينة (سلا) إلى مصر ماشيا، ومن مصر إلى الرملة ماشيا، ومن الرملة إلى بيت المقدس ماشيا، ومن الرملة إلى عسقلان، ومن الرملة إلى طبرية، ومن طبرية إلى دمشق، ومن دمشق إلى حمص، ومن حمص إلى أنطاكية إلى طرسوس ثم رجعت من طرسوس إلى حمص، وكان بقي عليَّ شيء من حديث أبي اليماني، فسمعته، ثم خرجت من حمص إلى بيسان، ومن بيسان إلى الرقة، ومن الرقة ركبت إلى الفرات إلى بغداد، وخرجت قبل خروجي إلى الشام من واسط إلى النيل ومن النيل إلى الكوفة كل ذلك ماشيا هذا في سفري الأول، وأنا ابن عشرين سنة أجول سبع سنين، خرجت من الري سنة 213هـ، في شهر رمضان، ورجعت سنة 221هـ"، هكذا نجدهم رحمهم الله تعالى في رحلاتهم، وسفراتهم يتنقلون راجلين يقطعون آلاف من الأميال والفراسخ لحفظ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم. وهذا الدارقطني صاحب السنن يعلن في بغداد في الأسواق والشوارع: "يا أهل بغداد لا يمكن لأحد منكم أن يكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما دمت حيا". وهذا أبو حامد الشرقي صاحب كتاب الصحيح وهو تلميذ نجيب للإمام مسلم النيسابوري كانت حياته كلها حاجزة بين الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا أبو زكريا يحي بن معين نودي في جنازته بصوت عال مرتفع هذا الذي كان يذب الكذب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا الجبل الناطح الإمام البارع أبو عبد الله أحمد بن حنبل وقف وقفة رائعة مثالية في الدفاع عن السنة النبوية أمام أكبر حكومة كانت على وجه الأرض حتى قال الإمام ابن حبان البستي فيما نقل عنه الحافظ بن حجر في التهذيب: "أغاث الله تعالى به أمة محمد صلى الله عليه وسلم". وهذا البخاري صاحب الصحيح الذي اتسم كتابه بأصح الكتب بعد كتاب الله تعالى قال الحافظ في مقدمة الفتح قال: "وراقة محمد بن خراش يقول: سمعت أحيد بن حفص يقول: دخلت على إسماعيل والد أبي عبد الله عند موته

হাতেম বর্ণনা করেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: যখন আমি প্রথম হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন সাত বছর অবস্থান করেছি। আমি পদব্রজে যে দূরত্ব অতিক্রম করেছি তা গণনা করতাম, যা এক হাজার ফরসাখ (فرسخ) এর অধিক ছিল। যখন তা এক হাজার ফরসাখ (فرسخ) ছাড়িয়ে গেল, তখন আমি গণনা করা ছেড়ে দিলাম। আর আমি কুফা থেকে বাগদাদ কতবার যাতায়াত করেছি তা অগণিত, এবং মক্কা থেকে মদিনায় বহুবার গিয়েছি। আমি সমুদ্র তীরবর্তী (সালা) শহরের নিকট থেকে মিসর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গিয়েছি। এরপর মিসর থেকে রামলা, রামলা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস, রামলা থেকে আসকালান, রামলা থেকে তাবারিয়া, তাবারিয়া থেকে দামেস্ক, দামেস্ক থেকে হিমস এবং হিমস থেকে আনতাকিয়া হয়ে তারসুস পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছি। তারপর তারসুস থেকে হিমসে ফিরে আসি, কারণ আবু ইয়ামানের বর্ণিত কিছু হাদিস আমার বাকি ছিল, যা আমি শ্রবণ করি। এরপর হিমস থেকে বাইসান এবং বাইসান থেকে রাক্কাহ যাই। রাক্কাহ থেকে ফোরাত নদী হয়ে নৌযানে বাগদাদ পৌঁছাই। সিরিয়া যাওয়ার আগে আমি ওয়াসিত থেকে নীল এবং নীল থেকে কুফা পর্যন্ত এই পুরো পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছিলাম। এটা ছিল আমার প্রথম সফর, তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর এবং আমি সাত বছর পরিভ্রমণ করি। আমি ২১৩ হিজরি সনের রমজান মাসে রে (Rayy) শহর থেকে বের হয়েছিলাম এবং ২২১ হিজরি সনে ফিরে আসি।" এভাবেই আমরা তাঁদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) তাঁদের সফর ও ভ্রমণে দেখতে পাই যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য হাজার হাজার মাইল ও ফরসাখ (فرسخ) পথ পদব্রজে পাড়ি দিতেন।

আর এই সুনান গ্রন্থের রচয়িতা দারাকুতনি বাগদাদের বাজার ও রাস্তায় ঘোষণা দিতেন: "হে বাগদাদবাসী! আমি জীবিত থাকা পর্যন্ত তোমাদের কারো পক্ষেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যাচার (كذب) করা সম্ভব নয়।"

আর এই আবু হামিদ আশ-শারকি, যিনি কিতাবুস সহিহ গ্রন্থের রচয়িতা এবং ইমাম মুসলিম নিশাপুরীর একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন, তাঁর পুরো জীবনটিই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যাচারের (كذب) বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য প্রতিবন্ধক।

আর এই আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, যাঁর জানাজায় উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করা হয়েছিল: "ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ওপর আরোপিত মিথ্যা (كذب) প্রতিরোধ করতেন।"

আর এই সুউচ্চ পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল, যিনি তৎকালীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শাসনের সামনে নববী সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় এক অনন্য ও আদর্শিক অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহজিব' গ্রন্থে ইমাম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মাদীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন।"

আর এই সহিহ বুখারীর রচয়িতা ইমাম বুখারী, যাঁর গ্রন্থটি আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব হিসেবে স্বীকৃত। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'র ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে খিরাশের লেখক বলেছেন: আমি আহাইদ ইবনে হাফসকে বলতে শুনেছি: আমি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম বুখারী) পিতা ইসমাইলের মৃত্যুর সময় তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম..."

(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০৫)
فقال: لا أعلم من مالي درهما من حرام، ولا درهما من شبهة". ثم قال الحافظ: "حكى وراقة أنه ورث من أبيه مالا جليلا، وكان يعطيه مضاربة، فقطع له غريم خمسة وعشرين ألفا، فقيل له: استعن بكتاب الوالي فقال: إن أخذت منهم كتابا طمعوا، ولن أبيع ديني بدنياي، ثم صالح غريمه على أن يعطيه كل شهر عشرة دراهم، وذهب ذلك المال كله". ثم قال الحافظ: "ومات إسماعيل ومحمد صغير، فنشأ في حجر أمه، ثم حج مع أمه، وأخيه أحمد، وكان أسن منه فأقام بمكة مجاورا، يطلب العلم، ورجع أخوه أحمد إلى بخارى، فمات بها". روى نمنجار في تاريخ البخاري واللالكائي في شرح السنة في باب كرمات الأولياء منه: "أن محمد بن إسماعيل ذهبت عيناه في صغره، فرأيت والدته الخليل إبراهيم في المنام، فقال لها: يا هذه رد الله على ابنك بصره بكثرة دعائك قال: فاصبح وقد رد الله عليه بصره"، قال الفربري: "سمعت محمد بن أبي حاتم وراق البخاري يقول: سمعت البخاري يقول: ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكتاب، قلت: كم أتى عليك إذ ذاك؟ فقال: عشر سنين أو أقل، ثم خرجت من الكتاب فجعلت أختلف إلى الداخلي وغيره، فقال يوماً فيما كان يقرأ الناس، سفيان عن أبي الزبير عن إبراهيم، فقلت يا أبا الزبير: لم يرو عن إبراهيم1، فانتهرني، فقلت له: ارجع إلى الأصل، إن كان عندك؟ فدخل فنظر فيه، ثم رجع فقال: كيف هو يا غلام؟ فقلت: هو الزبير وهو ابن عدي عن إبراهيم، فأخذ القلم، وأصلح كتابه، وقال لي: صدقت، قال: فقال له إنسان ابن كم حين رددت عليه فقال: ابن إحدى عشرة سنة". قلت: هذه الرواية تدل على عظمة الرجل العظيم في الإسلام في هذه السن المبكرة يوجهه الله تعالى إلى أن يقف هذا الموقف العظيم من معرفة الرجال الذين نقلوا إلينا هذا العلم الشريف، وكان لما ورث من أبيه من مال حلال أثر عظيم في تربيته، وتنشئته ثم قال الحافظ: "قال البخاري: فلما طعنت في ست عشرة سنة حفظت كتب ابن المبارك ووكيع، وعرفت كلام هؤلاء يعني أصحاب الرأي قال: ثم خرجت مع أمي وأخي إلى الحج".

--------------------------------------------

1 كذا في الأصل

তিনি বললেন: "আমি আমার সম্পদের মধ্যে হারাম কোনো দিরহাম আছে বলে জানি না, আর সন্দেহযুক্ত (شبهة) কোনো দিরহাম আছে বলেও জানি না।" অতঃপর হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: "তাঁর লেখক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতার নিকট হতে বিপুল সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন এবং তিনি তা মুদারাবা (مضاربة) ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতেন। অতঃপর এক ঋণগ্রহীতা তাঁর পঁচিশ হাজার দিরহাম আটকে ফেলেছিল। তাঁকে বলা হলো: 'আপনি কি শাসকের চিঠির সাহায্য নেবেন না?' তিনি বললেন: 'আমি যদি তাদের নিকট হতে চিঠি গ্রহণ করি, তবে তারা লুব্ধ হবে; আর আমি পরকালের বিনিময়ে আমার দুনিয়া বিক্রয় করব না।' অতঃপর তিনি সেই ঋণগ্রহীতার সাথে এই মর্মে আপস করলেন যে, সে প্রতি মাসে তাঁকে দশ দিরহাম করে প্রদান করবে। এভাবেই সেই সম্পদের সবটুকুই নিঃশেষ হয়ে যায়।" অতঃপর হাফিজ আরও বলেন: "ইসমাইল ইন্তেকাল করেন যখন মুহাম্মদ শিশু ছিলেন। ফলে তিনি তাঁর মাতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। অতঃপর তিনি তাঁর মাতা ও বড় ভাই আহমদের সাথে হজ পালন করেন—যিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। তিনি মক্কায় অবস্থান করে ইলম অন্বেষণ করতে থাকেন এবং তাঁর ভাই আহমদ বুখারায় ফিরে যান ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।" নামানজারি 'তারিখে বুখারি' গ্রন্থে এবং লালকায়ী 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থের 'কারামাতুল আউলিয়া' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যে: "শৈশবে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল। তখন তাঁর মাতা স্বপ্নে ইব্রাহিম খলিলকে দেখলেন। তিনি তাঁকে বললেন: 'হে নারী! তোমার অত্যধিক দোয়ার বরকতে আল্লাহ তোমার পুত্রের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।' বর্ণনাকারী বলেন: 'অতঃপর সকালে দেখা গেল আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন'।" ফারাবরি বলেন: "আমি বুখারির লেখক মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেমকে বলতে শুনেছি, তিনি বুখারিকে বলতে শুনেছেন: 'মক্তবে থাকাকালীনই আমাকে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছিল।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম: 'তখন আপনার বয়স কত ছিল?' তিনি বললেন: 'দশ বছর বা তার কম। এরপর আমি মক্তব থেকে বের হয়ে দাখেলি এবং অন্যদের মজলিসে যাতায়াত শুরু করি। একদিন তিনি লোকজনের সামনে পাঠদানকালে বললেন— সুফিয়ান, আবু জুবাইর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন আমি বললাম, হে আবু জুবাইর: তিনি তো ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা (روى) করেননি। এতে তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাঁকে বললাম: আপনার নিকট মূল পাণ্ডুলিপি থাকলে তা যাচাই করে দেখুন। তিনি ভেতরে গিয়ে সেটি দেখলেন এবং ফিরে এসে বললেন: ওহে বালক, সঠিকটি কী? আমি বললাম: তিনি হলেন জুবাইর ইবনে আদি, যিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন তিনি কলম হাতে নিলেন এবং নিজের কিতাব সংশোধন করলেন এবং আমাকে বললেন: তুমি সত্য বলেছ।' বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'আপনি যখন তাঁকে সংশোধন করে দিয়েছিলেন তখন আপনার বয়স কত ছিল?' তিনি বললেন: 'এগারো বছর'।" আমি বলছি: এই বর্ণনাটি (رواية) ইসলামের এই মহান ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে যে, এই অল্প বয়সেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে সেই সকল বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের (الرجال) চেনার মতো মহান অবস্থানে আসীন করেছিলেন যারা আমাদের নিকট এই মহান ইলম পৌঁছে দিয়েছেন। আর তাঁর পিতা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হালাল সম্পদের এক বিরাট প্রভাব ছিল তাঁর লালন-পালন ও গড়ে ওঠার পেছনে। অতঃপর হাফিজ আরও বলেন: "বুখারি বলেছেন: যখন আমি ষোলো বছর বয়সে পদার্পণ করলাম, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকির কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেললাম এবং তাঁদের অর্থাৎ যুক্তিপন্থীদের (أصحاب الرأي) বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হলাম। অতঃপর আমি আমার মাতা ও ভাইয়ের সাথে হজের উদ্দেশ্যে বের হলাম।"

--------------------------------------------

1 মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে
(খণ্ড: ১) হুজজিয়াতুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতিহা ফীত তাশরিউল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০৬)
قلت: فكان أول رحلة على هذا سنة عشر ومائتين ولو رحل أول ما طلب لأدرك ما أدركته أقرانه من طبقة عالية وإن كان أدرك ما قاربها كيزيد بن هارون، وأبي داود الطياليسي، ثم قال: "فلما طعنت في ثماني عشرة صنفت كتاب قضايا الصحابة والتابعين، ثم صنفت التاريخ في المدينة عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم" وقال: "وكنت أكتبه في الليالي المقمرة". قال: "وقل اسم في التاريخ إلا وله عندي قصة إلا أني كرهت أن يطول الكتاب" ثم ذكر الحافظ رحلة البخاري في طلب الحديث، تلك رحلة عظيمة تعطينا فكرة أصيلة عن اهتماهم البالغ، وسعيهم الحثيث لحفظ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فهذه جهود فردية قام بها هؤلاء رحمهم الله تعالى في هذا الميدان العظيم وأما الجهود الجماعية فإنها جهود كبيرة شامخة لا يتسع لها هذا الوقت وأرجو أن أوفق لها إن شاء الله في حلقة قادمة.

وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমি বললাম: এই হিসেবে তাঁর প্রথম সফর ছিল ২১০ হিজরী সালে। যদি তিনি ইলম অন্বেষণের শুরুতেই সফরে বের হতেন, তবে তিনি তাঁর সমসাময়িক উচ্চ স্তর (طبقة عالية)-এর ব্যক্তিবর্গ যা অর্জন করেছিলেন তা তিনিও অর্জন করতে পারতেন; যদিও তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন এবং আবু দাউদ আত-তায়ালিসি-র মতো তাঁদের কাছাকাছি পর্যায়ের ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। অতঃপর তিনি বলেন: "যখন আমি আঠারো বছর বয়সে পদার্পণ করি, তখন আমি 'কাজায়া আস-সাহাবা ওয়াত-তাবিঈন' গ্রন্থটি রচনা করি। এরপর মদিনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রওজার পাশে অবস্থানকালে 'আত-তারিখ' গ্রন্থটি সংকলন করি।" তিনি আরও বলেন: "আমি জ্যোৎস্নালোকিত রাতগুলোতে এটি লিখতাম।" তিনি বলেন: "'আত-তারিখ' গ্রন্থে এমন খুব কম নামই আছে যার ব্যাপারে আমার কাছে কোনো বিশেষ ঘটনা নেই; তবে আমি গ্রন্থটি দীর্ঘ করা অপছন্দ করেছি।" এরপর হাফিজ (الحافظ) হাদিস অন্বেষণে বুখারীর সফরের কথা উল্লেখ করেন। সেটি ছিল এক মহান সফর যা আমাদের তাঁদের গভীর গুরুত্বারোপ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা সম্পর্কে এক মৌলিক ধারণা প্রদান করে। এই মহান ময়দানে এগুলো ছিল ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা যা তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) সম্পাদন করেছিলেন। আর সামষ্টিক প্রচেষ্টার কথা বলতে গেলে তা অত্যন্ত বিশাল ও সুউচ্চ, যা আলোচনা করার জন্য এই সময় পর্যাপ্ত নয়। আমি আশা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী কোনো পর্বে এ বিষয়ে তাওফিক লাভ করব।

আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।