(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: -)
التخمير شرح المفصل في صنعة الإعراب   (صدر الأفاضل الخوارزمي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح «المفصل في صنعة الإعراب، للزمخشري» الموسوم بـ «التخمير»

المؤلف: صدر الأفاضل القاسم بن الحسين الخوارزمي (555 - 617 هـ)

المحقق: د عبد الرحمن بن سليمان العثيمين [ت 1436 هـ]

(جامعة أم القرى - مكة المكرمة)

الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1990 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444

আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সান'আতিল ই'রাব   (সদরুল আফাদিল আল-খাওয়ারিজমি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: যামাখশারী রচিত «আল-মুফাসসাল ফী সান'আতিল ই'রাব»-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা «আত-তাখমীর» নামে অভিহিত

লেখক: সদরুল আফাদিল আল-কাসিম বিন আল-হুসাইন আল-খাওয়ারিজমি (৫৫৫ - ৬১৭ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক: ড. আবদুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উসাইমীন [মৃ. ১৪৩৬ হিজরি]

(উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - মক্কা আল-মুকাররমা)

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামী, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على محمد خير خلقه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا دائمًا إلى يوم الدين.

أما بعد:

فقد رأيت كتاب (المفصل في صنعة الإِعراب) لأبي القاسم الزمخشري من أحسن كتب التراث النحوي المختصرة المفيدة فأردت أن تكون دراستي هذه حول هذا الكتاب فاخترت شرح الخوارزمي المعروف بكتاب: "التخمير" وذلك لأسباب منها:

أولًا: أن الخوارزمي من البيئة التي أنجت الزَّمخشري مؤلف الكتاب الأصلي فهو من أقدر الناس على فهم مقاصده، ومراميه.

ثانيًا: أن المؤلف يحرص كل الحرص على توضيح عبارة المؤلف بالرجوع إلى نسخ متعددة من الكتاب ومنها نسخة المؤلف نفسه ونسخ تلاميذه ويصحح بعض الألفاظ مما سمع عن المؤلف.

ثالثًا: أن مؤلف الكتاب صدر الأفاضل الخوارزمي من النحاة المغمورين فأردت أن أعرف به وبفكره وعلمه لكي يستفاد من دراساته وآرائه الجيدة النافعة.

وقد صدرت الكتاب بدراسة قسمتها إلى ثلاثة فصول:

الفصل الأول: تحدثت فيه عن حياة المؤلف ومؤلفاته وشعره.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীবর্গের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিরন্তর।

অতঃপর:

আমি আবু আল-কাসিম আল-জামাখশারির ‘আল-মুফাসসাল ফি সানআতিল ইরাব’ নামক গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত উপকারী ব্যাকরণিক ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব হিসেবে পেয়েছি। তাই আমি চেয়েছি আমার এই গবেষণাটি যেন এই কিতাবটিকে কেন্দ্র করেই হয়। এজন্য আমি খাওয়ারিজমির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি নির্বাচন করেছি যা ‘আত-তাখমির’ নামে পরিচিত। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার কয়েকটি হলো:

প্রথমত: খাওয়ারিজমি সেই পরিবেশ থেকেই এসেছেন যা মূল গ্রন্থের লেখক আল-জামাখশারিকে তৈরি করেছিল; তাই তিনি লেখকের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুধাবনে অন্য সবার চেয়ে বেশি সক্ষম।

দ্বিতীয়ত: ব্যাখ্যাকার মূল লেখকের বক্তব্য স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গ্রন্থটির একাধিক পাণ্ডুলিপির সাহায্য নিতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন, যার মধ্যে লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপি এবং তাঁর ছাত্রদের সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া তিনি মূল লেখকের নিকট থেকে যা শুনেছিলেন তার ভিত্তিতে কিছু শব্দও সংশোধন করেছেন।

তৃতীয়ত: এই কিতাবের লেখক সদরুল আফাদিল আল-খাওয়ারিজমি এমন একজন ব্যাকরণবিদ যিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গেছেন; তাই আমি তাঁর পরিচয়, চিন্তা ও জ্ঞান সম্পর্কে আলোকপাত করতে চেয়েছি যেন তাঁর উচ্চমানের এবং কল্যাণকর গবেষণা ও মতামতের সুফল লাভ করা যায়।

আমি এই গ্রন্থটি একটি গবেষণার মাধ্যমে শুরু করেছি যাকে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি লেখকের জীবনী, তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الثاني: تحدثت فيه عن كتاب (المفصل) وعناية العلماء به وشرحهم له.

الفصل الثالث: تحدثت فيه عن كتاب (التَّخمير) ضبط اسمه، وأجزائه وزمن تأليفه؛ ومصادره وشواهده.

ثم تحدثت عن أثره فيمن بعده ومنهج المؤلف فيه وآرائه الخاصة وردود العلماء عليه ومخالفاته للزمخشري ثم بعد ذلك تحدثت عن منهجه وموقفه من مسائل الخلاف. وعقدت مقارنة بشرح الأندلسي؛ لأنه أوسع شروح المفصل، ومقارنة أخرى بشرح ابن يعيش، لأنه أشهرها .. أما المنهج الذي سرت عليه في تحقيق النص فقد أوضحته في مبحث خاص تحت عنوان؛ (عملي في التحقيق) كما سيأتي.

والله أسأل أن يوفقنا للصواب.

ويجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم … !!!.

وكتبه الفقير إلى الله تعالى

عبد الرحمن بن سليمان العثيمين

مكة المكرمة: 21/ 7/ 1402
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি 'আল-মুফাসসাল' কিতাব এবং এর প্রতি আলেমদের যত্ন ও তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি 'আত-তাখমীর' কিতাবটির নামের সঠিক উচ্চারণ, এর খণ্ডসমূহ, রচনার সময়কাল এবং এর উৎস ও প্রমাণসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

অতঃপর আমি পরবর্তী জ্ঞানসাধকদের ওপর এর প্রভাব, এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি, তাঁর নিজস্ব মতামতসমূহ, তাঁর ওপর আলেমদের খণ্ডন এবং যামাখশারীর সাথে তাঁর বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর আমি তাঁর পদ্ধতি এবং মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোতে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। আর আমি আন্দালুসীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে একটি তুলনা উপস্থাপন করেছি; কারণ সেটি 'আল-মুফাসসাল'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিস্তারিত। এছাড়া ইবন ইয়াঈশের ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথেও একটি তুলনা করেছি; কারণ সেটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। আর মূল পাঠ্য সম্পাদনার (তাহকীক) ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, তা আমি 'সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি' শিরোনামের অধীনে একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে স্পষ্ট করেছি, যা সামনে আসবে।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সঠিক বিষয়ের তাওফীক দান করেন।

এবং এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন … !!!।

এটি লিখেছেন আল্লাহ তাআলার নিকট মুখাপেক্ষী—

আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উসাইমীন

মক্কা মুকাররমা: ২১/ ০৭/ ১৪০২ হিজরী।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৭)
القِسمُ الأول

مؤلّف الكتَابْ

صَدْر الأفَاضِل الخوَارزمي

(555 - 617 هـ)

حَيَاته وَآثَاره وَكتَابه "التخمير"

وفيه ثلاثة فصول:
প্রথম অংশ

গ্রন্থকার

সদরুল আফাদিল আল-খাওয়ারিজমি

(৫৫৫ - ৬১৭ হিজরি)

তাঁর জীবন, কর্ম এবং তাঁর গ্রন্থ "আত-তাখমির"

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول: التّعْريف بِالخَوارزمي

- مصادر ترجمته

- اسمه ونسبه

- مولده ووفاته

- شيوخه

- تلاميذه

- مؤلفاته

- شعره
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-খাওয়ারিজমির পরিচিতি

- তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ

- তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

- তাঁর জন্ম ও মৃত্যু

- তাঁর শিক্ষকবৃন্দ

- তাঁর ছাত্রবৃন্দ

- তাঁর রচনাবলি

- তাঁর কবিতা
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌1 - مصادر ترجمته:

لم يرزق صدر الأفاضل من الشهرة ما يتناسب مع مكانته العلمية، ولا يعرف عن حياته إلَّا اليسير، على الرَغم من أن له نشاطًا واسعًا في التأليف فقد ترك مؤلفات كثيرة في النحو واللغة والأدب والبلاغة والشعر، وانتشر بعض هذه المؤلفات في حياته فتجاوز منطقته التي كان يعيش فيها خوارزم؛ إلى أن صل إلى الشام والعراق.

وقد أغفل كثير من المؤرخين ذكر هذا الإِمام الجليل فلم يترجموا له، ولولا الرحلة التاريخية التي قام بها ياقوت الحموي 626 هـ إلى بلاد خراسان وما وراء النهر (خوارزم وما جاورها) وقابل العُلماء في تلك البلاد، وترجم لبعضهم في كتابه؛ (معجم الأدباء) وكان لصاحبنا -الخوارزمي- حظٌّ وافرٌ في هذا الكتاب لما عرفنا عن حياته شيئًا يذكر. وكان اللِّقاءُ بينهما قبيل وفاة الخوارزمي وذلك سنة 617 هـ، وهو العام الذي اجتاح فيه التتار خوارزم(1) وذلك أثناء إقامة ياقوت بها فولى هاربًا ونجا بنفسه ووصل إلى إربل في العام نفسه فوصف مشاعره وأحاسيسه وما شاهده من المجازر التي ارتكبها التتار هناك للإِمام ابن المستوفى(2).

ثم خرج منها إلى حلب وذكر هذه المشاهد للإِمام القفطي(3). وكان

--------------------------------------------

(1) انظر حوادث سنة 616 - 617 هـ في الكامل والبداية والنهاية.

(2) تاريخ إربل: 1/ 319.

(3) إنباه الرواة؛ 4/ 77.

১ - তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

সদরুল আফাদিল তাঁর ইলমি মাকাম বা পাণ্ডিত্যের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খ্যাতি অর্জন করতে পারেননি এবং তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। অথচ গ্রন্থ রচনায় তাঁর ব্যাপক পদচারণা ছিল; তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা), আদব (সাহিত্য), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও কবিতা বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রেখে গেছেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই এই গ্রন্থগুলোর কিছু অংশ তাঁর বসবাসের অঞ্চল খাওয়ারিজম ছাড়িয়ে শাম ও ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

অনেক ঐতিহাসিকই এই মহান ইমামের কথা উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন এবং তাঁর জীবনী সংকলন করেননি। যদি ইয়াকুত আল-হামাভি (৬২৬ হি.) খোরাসান ও মা-ওয়ারাউন নহর (খাওয়ারিজম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা) অঞ্চলে সেই ঐতিহাসিক সফর না করতেন এবং সেখানের উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থে তাঁদের কারও কারও জীবনী না লিখতেন, তবে আমাদের এই খাওয়ারিজমি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই জানা যেত না। খাওয়ারিজমির মৃত্যুর কিছুকাল আগে ৬১৭ হিজরিতে তাঁদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছিল। এটি সেই বছর যখন তাতাররা খাওয়ারিজম আক্রমণ করেছিল(১)। ইয়াকুত সেখানে অবস্থানকালে এই আক্রমণ ঘটে, ফলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যান এবং একই বছর এরবিলে পৌঁছান। সেখানে তিনি তাঁর অনুভূতি এবং তাতারদের দ্বারা সংঘটিত যে হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তা ইমাম ইবনুল মুস্তাওফির(২) কাছে বর্ণনা করেন।

এরপর তিনি সেখান থেকে আলেপ্পোতে (হালাব) যান এবং এই দৃশ্যগুলো ইমাম আল-কিফতির(৩) নিকট বর্ণনা করেন। আর

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল এবং আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে ৬১৬ - ৬১৭ হিজরির ঘটনাবলী দেখুন।

(২) তারিখু এরবিল: ১/ ৩১৯।

(৩) ইনবাহুর রুওয়াত; ৪/ ৭৭।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১২)
من ضحايا هذا الهجوم صدر الأفاضل رحمه الله.

استطاع ياقوت أن يظفر بلقاء صدر الأفاضل والاجتماع به في داره بخوارزم فترجم له ترجمة هي من أنفس ما كتب عن حياته وكان ياقوت هو المصدر الأساسي لترجمة الخوارزمي.

وقد استمد منه كل من أتى بعده دون زيادة تذكر.

ولولا هذه الترجمة التي ذكرها ياقوت لأسدل ستار من النسيان على حياته، ولم يعرف عنه شيء، شأن كثير من علماء هذا الإِقليم في هذه الحقبة بالذات، فأكثر المؤرخين الذين كتبوا عن علماء الإِقليم لهذه الفترة - ذهبت مؤلفاتهم أو أغلبها -على الأقل- في حروب التتار (الذين أشعلوا النار في المدارس والمساجد وغيرها من المباني حتى أصبحت بخارى كأن لم تغن بالأمس)(1).

ولما كانت هذه المعلومات التي أوردها ياقوت لا تكفي لبيان ملامح شخصية الخوارزمي فقد بحثت عن آثاره وعثرتُ على بعضها وقرأتها قراءة كاملة حرفًا حرفًا حتى خرجت منها بمعلومات قد لا تقلّ أهمية عن المعلومات التي أوردها ياقوت. وبذلك استطعت أن أعوض بعض النَّقص، وإن كان هناك تساؤلات في حياة الرجل عن أشياء لا تزال مجهولة وقد تجيب عنها الأيام في بعض المصادر.

أمّا إغفال كثير من المؤرخين للخوارزمي فذلك راجع -في نظري- إلى أنَّ الخوارزمي لم يرحل إلى مراكز الحضارة كبغداد والموصل وحلب ودمشق والقاهرة … ولم يجتمع بعلمائها وأدبائها ومؤرخيها، ولو أنه فعل لعرفوا قدره وأنزلوه منزلته.

وربما كان ما رأوه في كتبه من حدة في الطَّبع وقسوة في الرَّدِّ على العلماء وهجوم على مشاهيرهم جعلهم ينفرون منه، ولعلَّ هذا هو السبب الذي جعل القفطيّ بالذات يغفل ذكره في (إنباه الرواة)، مع أنَّ الإِمام القفطي

--------------------------------------------

(1) الكامل في التاريخ لابن الأثير: 12/ 240.

এই আক্রমণের শিকারদের মধ্যে সদরুল অফাজিল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অন্যতম ছিলেন।

ইয়াকুত খাওয়ারিজমে সদরুল অফাজিলের আবাসে তাঁর সাথে সাক্ষাত ও মিলিত হতে সক্ষম হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর এমন একটি জীবনী রচনা করেন যা তাঁর জীবন সম্পর্কে লিখিত অত্যন্ত মূল্যবান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। খাওয়ারিজমির জীবনীর ক্ষেত্রে ইয়াকুতই ছিলেন মৌলিক উৎস।

তাঁর পরবর্তী যারাই এসেছেন, তারা উল্লেখযোগ্য কোনো সংযোজন ছাড়াই তাঁর থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন।

ইয়াকুত কর্তৃক বর্ণিত এই জীবনীটি না থাকলে তাঁর জীবনের ওপর বিস্মৃতির পর্দা পড়ে যেত এবং তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানা যেত না, যেমনটি ঘটেছে এই অঞ্চলের সমসাময়িক অনেক আলেমের ক্ষেত্রে। এই সময়ের এই অঞ্চলের আলেমদের সম্পর্কে যারা লিখেছিলেন, সেই সব ঐতিহাসিকদের অধিকাংশের বা অন্ততপক্ষে বড় একটি অংশের রচনাবলি তাতারদের যুদ্ধে বিলীন হয়ে গেছে (যারা মাদ্রাসা, মসজিদ এবং অন্যান্য ইমারতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে বুখারা এমন হয়ে গিয়েছিল যেন গতকাল সেখানে কোনো সমৃদ্ধিই ছিল না)(১)।

যেহেতু ইয়াকুত বর্ণিত এই তথ্যগুলো খাওয়ারিজমির ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল না, তাই আমি তাঁর রচনাবলি অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলোর কিছু খুঁজে পেয়েছি। আমি সেগুলো আদ্যোপান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাঠ করেছি, যার ফলে আমি এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছি যা ইয়াকুত বর্ণিত তথ্যের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে আমি কিছু অপূর্ণতা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি, যদিও এই ব্যক্তির জীবন সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় এখনও অজানা রয়ে গেছে যার উত্তর হয়তো ভবিষ্যতে কোনো উৎসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

অনেক ঐতিহাসিকের খাওয়ারিজমিকে উপেক্ষা করার কারণ—আমার দৃষ্টিতে—এই যে, খাওয়ারিজমি বাগদাদ, মসুল, আলেপ্পো, দামেস্ক এবং কায়রোর মতো সভ্যতার কেন্দ্রগুলোতে সফর করেননি... এবং সেখানকার আলেম, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিকদের সাথে একত্রিত হননি। যদি তিনি তা করতেন, তবে তারা তাঁর মর্যাদা অনুধাবন করতে পারতেন এবং তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান প্রদান করতেন।

সম্ভবত তাঁর কিতাবসমূহে তাঁরা তাঁর মেজাজের তীক্ষ্ণতা, আলেমদের প্রতিউত্তরের ক্ষেত্রে কঠোরতা এবং তাঁদের বরেণ্য ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখেছিলেন, যা তাঁদের তাঁর থেকে বিমুখ করে তুলেছিল। সম্ভবত এটিই সেই কারণ যার জন্য আল-কিফতি বিশেষভাবে তাঁর (ইনবাহুর রুওয়াত) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেননি, যদিও ইমাম আল-কিফতি

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসির রচিত আল-কামিল ফিত তারিখ: ১২/ ২৪০।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
كان يعرفه، إذ أنه رجع إلى (معجم الأدباء) واستفاد منه. فلا بدّ أنه وقف على ترجمته فيه، كما أنّه وقف على شرحه للمفصل (التَّخمير) وانتقده انتقادًا شديدًا كما سيأتي. وكذلك أغفله ابن خلكان، وابن شاكر، والصفدي، وابن العماد وغيرهم.

أمَّا الذين ترجموا له فقد جاءت تراجمهم مختصرة ترجع كلّها إلى ياقوت، والذين ترجموا له هم:

ياقوت الحموي ت 626 هـ في معجم الأدباء: 16/ 238 - 253.

وابن الشَّعَّار الموصلي ت 654 هـ في عقود الجمان: 5/ 298 - 301.

والذَّهبي ت 748 هـ في تاريخ الإِسلام: وفيات 617.

والقُرشي ت 775 هـ في الجواهر المضية: 2/ 703، 704.

والفيروز آبادي ت 818 هـ في البلغة: 141، والمرقاة الوفية: نسخة مكتبة شيخ الإِسلام رقم 237.

وابن قاضي شُهبَة ت 851 في: طبقات النحاة واللغويين، (الظاهرية رقم: 3486) ورقة: 476، والإِعلام له: وفيات 617 هـ.

وابن قُطلوبَغَا ت 879 هـ في تاج التَّراجم: 50.

والسُّيوطيّ ت 911 هـ في بغية الوعاة: 2/ 252، 253.

والكَفَوِيّ ت 990 في كَتَائب أعلام الأخيار: ورقة 92 (نسخة شهيد علي) رقم: 238.

والتَمِيمِيّ 1004 هـ في الطَّبقات السَّنية: ورقة 345 (نسخة حميدية) رقم 969.

والقارِي 1014 هـ في الطَّبقات: ورقة 41 (نسخة أوقاف بغداد) رقم: 23180.

 

‌‌2 - اسمه ونسبه:

هو القاسم بن الحسين بن محمد وقيل(1) أحمد، أبو محمد وقيل أبو

--------------------------------------------

(1) انظر عقود الجمان: 5/ 298.

তিনি তাকে চিনতেন, কারণ তিনি (মু'জামুল উদাবা)-এর শরণাপন্ন হয়েছিলেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছিলেন। সুতরাং অবশ্যই তিনি সেখানে তার জীবনী সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন, ঠিক যেমন তিনি মুফাসসাল-এর ভাষ্য (আত-তাখমির) সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং সেটির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন যেমনটি সামনে আসবে। একইভাবে ইবনে খাল্লিকান, ইবনে শাকির, আস-সাফাদি, ইবনুল ইমাদ এবং অন্যান্যরা তাকে এড়িয়ে গেছেন।

আর যারা তার জীবনী রচনা করেছেন, তাদের জীবনীগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে এসেছে যা মূলত ইয়াকুত-এর বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল। যারা তার জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন তারা হলেন:

ইয়াকুত আল-হামাউয়ি মৃত্যু ৬২৬ হি. মু'জামুল উদাবা: ১৬/ ২৩৮ - ২৫৩।

ইবনুশ শা'আর আল-মাওসিলি মৃত্যু ৬৫৪ হি. উকুুদুল জুমান: ৫/ ২৯৮ - ৩০১।

আয-যাহাবি মৃত্যু ৭৪৮ হি. তারিখুল ইসলাম: মৃত্যু ৬১৭ হিজরির আলোচনা।

আল-কুরাশি মৃত্যু ৭৭৫ হি. আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ: ২/ ৭০৩, ৭০৪।

আল-ফাইরোজাবাদি মৃত্যু ৮১৮ হি. আল-বুলগাহ: ১৪১, এবং আল-মিরকাতুল ওয়াফিয়্যাহ: শায়খুল ইসলাম লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি নং ২৩৭।

ইবনে কাজি শুহবাহ মৃত্যু ৮৫১ হি. তাবাকাতুন নুহাত ওয়াল লুগাউয়িয়্যিন, (যাহিরিয়্যাহ নং: ৩৪৮৬) পত্র: ৪৭৬, এবং আল-ই'লাম: মৃত্যু ৬১৭ হি.।

ইবনে কুতলুবুগা মৃত্যু ৮৭৯ হি. তাজুত তারাজিম: ৫০।

আস-সুয়ুতি মৃত্যু ৯১১ হি. বুগয়াতুল উয়াত: ২/ ২৫২, ২৫৩।

আল-কাফাউয়ি মৃত্যু ৯৯০ হি. কাতািবু আ'লামিল আখইয়ার: পত্র ৯২ (শাহিদ আলি পাণ্ডুলিপি) নং: ২৩৮।

আত-তামিমি ১০০৪ হি. আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ: পত্র ৩৪৫ (হামিদিয়া পাণ্ডুলিপি) নং ৯৬৯।

আল-কারি ১০১৪ হি. আত-তাবাকাত: পত্র ৪১ (বাগদাদ ওয়াকফ পাণ্ডুলিপি) নং: ২৩১৮০।

 

‌‌২ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আল-কাসিম বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ, এবং বলা হয়েছে(১) আহমাদ; আবু মুহাম্মদ এবং বলা হয়েছে আবু

--------------------------------------------

(১) দেখুন উকুুদুল জুমান: ৫/ ২৯৮।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
الفضل(1) أيضًا، صدر الأفاضل، مجد الدين الطَّرائِفِيّ الخُوارزمي.

هذا ما ذكرته المصادر عن اسمه ونسبه.

أمَّا (الطَّرائِفِيُّ) فقد ذكرت على غلاف كتابيه (بدائع المُلح) و (التَّوضيح شرح المقامات).

وأوردها الإِمامُ فخرُ الدين الأسفندري 698 هـ في كتابه (المقتبس شرح المفصل)(2) في مقام رده عليه حيث قال: ما إن رأيت ولا سمعت بفاضل، أطرف من هذا الإِمام الطَّرائفي؟! على سبيل التَّهكُّم.

ولست أعرف على سبيل الجَزم إلى أيّ شيءٍ تَرجعُ هذه النِّسبة؟ وقد ذكر الإِمام السّمعاني في كتابه (التَّحبير في المعجم الكبير)(3): رجلًا من شيوخه يسمّى الطرائفي من أهل نيسابور، قال: .. سكن بباب خان الطَّرائفيين. وقال في كتابه (الأنساب)(4): نسبة إلى بيع الطُّرف وشرائها، وهي الأشياء المليحة من الخشب.

فلعلّ هذه النِّسبة: (الطَّرائفي) عائدة إلى محلّةٍ كان يسكنها، أو أن أحد آبائه كان يبيع الطُّرف.

أمَّا الخوارزمي فهي نِسبته التي عُرِفَ بها إذ أنه ولد بخوارزم وسكنها ومات فيها كما سيأتي، ولا ندري على وجه التحديد في أيَّةِ مدينةٍ من هذا الإِقليم كانت إقامته، ولم ينص ياقوت الحَموي على المدينة التي سكنها حيث قال: وحضرت بمنزله بخوارزم …

والذي يغلب على ظنّي أنه كان في (الجُرجانيّة) عاصمة الإِقليم، وكثيرًا ما تأخذ العاصمة اسم المنطقة بأسرها.

وهنا لا بدَّ لنا من وَقفَةٍ قصيرة نتعرف خلالها على هذا الإِقليم الذي

--------------------------------------------

(1) انظر طبقات النحاة … لابن قاضي شهبة: ورقة 476، ونسخة نور عثمانية من كتابه "ضرام السقط".

(2) المقتبس: 4/ 173.

(3) 1/ 194

(4) ورقة: 161.

আল-ফজল(১)-ও, সদরুল আফাদিল, মাজদুদ্দীন আত-তারায়িফি আল-খাওয়ারিজমি।

তাঁর নাম ও বংশপরিচয় সম্পর্কে উৎসসমূহ যা উল্লেখ করেছে তা হলো এই।

আর 'আত-তারায়িফি' (নিসবাতটি) তাঁর দুটি বই 'বাদায়িউল মুলহ' এবং 'আত-তাওজিহ শারহুল মাকামাত'-এর প্রচ্ছদে উল্লেখ করা হয়েছে।

এবং ইমাম ফখরুদ্দীন আল-আসফানদারি (৬৯৮ হিজরি) তাঁর 'আল-মুকতাবাস শারহুল মুফাসসাল'(২) গ্রন্থে তাঁর প্রতিউত্তর দেওয়ার সময় এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বিদ্রূপের সুরে বলেছেন: আমি এই ইমাম আত-তারায়িফির চেয়ে বেশি চমৎকার বা অদ্ভুত (আতরাফ) কোনো বিদ্বানকে দেখিনি বা শুনিনি!

আমি নিশ্চিতভাবে জানি না এই নিসবাত বা সম্বন্ধটি কিসের দিকে ফিরেছে? তবে ইমাম আস-সামআনি তাঁর 'আত-তাহবির ফিল মুজামিল কাবির'(৩) গ্রন্থে তাঁর শায়খদের মধ্যে নিশাপুরের একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যাকে তারায়িফি বলা হতো; তিনি বলেছেন: .. তিনি তারায়িফিয়্যিন সরাইখানার দরজায় বসবাস করতেন। তিনি তাঁর 'আল-আনসাব'(৪) গ্রন্থে বলেছেন: এই নিসবাতটি 'তুরাফ' কেনা-বেচার সাথে সম্পর্কিত, যা হলো কাঠ দিয়ে তৈরি সুন্দর ও সূক্ষ্ম জিনিসপত্র।

সম্ভবত এই নিসবাত 'আত-তারায়িফি' এমন কোনো মহল্লার দিকে নির্দেশ করে যেখানে তিনি বাস করতেন, অথবা তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ 'তুরাফ' বিক্রি করতেন।

আর 'আল-খাওয়ারিজমি' হলো তাঁর সেই নিসবাত যার মাধ্যমে তিনি সমধিক পরিচিত, কারণ তিনি খাওয়ারিজমে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেখানে বসবাস করেছেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে। তবে এই অঞ্চলের ঠিক কোন শহরে তাঁর আবাসন ছিল তা আমরা সুনির্দিষ্টভাবে জানি না। ইয়াকুত আল-হামাভিও তিনি যে শহরে বাস করতেন তা স্পষ্ট করেননি, বরং তিনি বলেছেন: আমি খাওয়ারিজমে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলাম …

আমার প্রবল ধারণা যে, তিনি এই অঞ্চলের রাজধানী 'জুরজানিয়া'তে ছিলেন; আর রাজধানী শহর অনেক সময় পুরো অঞ্চলের নামেই পরিচিত হয়।

এখানে আমাদের একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি দেওয়া প্রয়োজন যার মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলটি সম্পর্কে জানতে পারব যা

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনে কাদি শুহবাহ-র 'তাবাকাতুন নুহাত' …: ৪৭৬ নম্বর পৃষ্ঠা, এবং তাঁর 'দিরামুস সাকাত' গ্রন্থের নূর উসমানিয়া পাণ্ডুলিপি।

(২) আল-মুকতাবাস: ৪/ ১৭৩।

(৩) ১/ ১৯৪

(৪) পৃষ্ঠা: ১৬১।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
عاش فيه الخوارزمي ونُسِبَ إليه.

 

‌‌خُوارَزم:

ضَبطه البكري في معجمه(1) فقال: بضم أوَّله، وبالرّاء المُهملة المَكسورة وبالزّاي المُعجمة بعدها ميمٌ، من بلاد خُراسان.

وقالَ ياقوت(2): أوله بين الضمة والفتحة والألف مُسترقة مختلسة ليست بألف صحيحة. هكذا يتلفَّظون به.

وقد ذكرها الحِميَرِيّ في (الرَّوض المِعطار)(3) ولم يضبطها، وذكرها ابن عبد الحقّ في (مَراصِد الاطِّلاع)(4) فلم يزد على ما قال ياقوت شَيئًا.

وقد حدَّد كثيرٌ من علماء المسلمين في مؤلفاتهم الجُغرافيَّة(5) هذا الإِقليم فبعضهم يجعله من إقليم ما وراء النهر(6)، وبعضهم يعتبره من إقليم خراسان(7)، لذلك لُقِّبَ صدر الأفاضل (بعلّامة خُراسان)، وبعضهم يجعل بعضه من خراسان وبعضه من بلاد ما وراء النهر(8).

أمَّا ياقوت الحموي فجعله إقليمًا منقطعًا عن خُراسان وعن ما وراء النهر، عدَّه إقليمًا مستَقِلًا عنهما(9).

وإقليم خوارزم الآن من المناطق الإِسلامية التي استولى عليها الاتحاد السوفيتي وضمَّها إليه.

أمَّا لقبه (صدرُ الأفاضل) فقد ذكره كل من ترجم له، وهو مدون على

--------------------------------------------

(1) معجم ما استعجم: 2/ 515.

(2) معجم البلدان: 2/ 395.

(3) الروض المعطار: 224، 225.

(4) مراصد الاطلاع: 1/ 487.

(5) انظر مثلًا. المسالك والممالك: 168 وصورة الأرض: 395، وتقويم البلدان: 105.

(6) الأقاليم للأصطخري: 155.

(7) نبذة من كتاب الخراج وصنعة الكتاب لقدامة بن جعفر؛ 243، ضمن كتاب (المسالك والممالك).

(8) أحسن التقاسيم للمقدسي: 284.

(9) معجم البلدان لياقوت الحموي: 2/ 395.

খাওয়ারিজমি সেখানে বসবাস করেছেন এবং তাঁর নাম এই অঞ্চলের দিকেই সম্বন্ধিত করা হয়।

 

‌‌খাওয়ারিজম:

আল-বাকরি তাঁর অভিধানে এর উচ্চারণ নির্ধারণ করে বলেছেন(১): এর প্রথম বর্ণে দম্মা (পেশ), এরপর নুকতাহীন 'র' বর্ণে কাসরা (জের), তারপর নুকতাযুক্ত 'ঝা' এবং শেষে 'মিম'। এটি খোরাসানের শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

ইয়াকুত বলেছেন(২): এর প্রথম বর্ণটি দম্মা (পেশ) ও ফাতহা (জবর)-এর মাঝামাঝি উচ্চারিত হয় এবং আলিফটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট, যা পূর্ণাঙ্গ আলিফ নয়। তারা এভাবেই এটি উচ্চারণ করে থাকে।

আল-হিমইয়ারি 'আর-রাওদ আল-মিতার' গ্রন্থে(৩) এটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর উচ্চারণ নির্দিষ্ট করেননি। ইবনে আব্দুল হক 'মরাসিন আল-ইত্তিলা' গ্রন্থে(৪) এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইয়াকুত যা বলেছেন তার অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

অনেক মুসলিম আলেম তাঁদের ভৌগোলিক গ্রন্থাবলীতে(৫) এই অঞ্চলটি চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ একে মা ওয়ারাননাহার অঞ্চলের(৬) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কেউ কেউ একে খোরাসান অঞ্চলের(৭) অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। এ কারণেই সদরুল আফাদিল-কে 'খোরাসানের আল্লামা' উপাধি দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ এর কিছু অংশকে খোরাসান এবং কিছু অংশকে মা ওয়ারাননাহার অঞ্চলের(৮) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তবে ইয়াকুত আল-হামাউই একে খোরাসান ও মা ওয়ারাননাহার থেকে বিচ্ছিন্ন একটি স্বতন্ত্র অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছেন; তিনি একে এই দুটি অঞ্চল থেকে আলাদা একটি স্বাধীন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেছেন(৯)।

খাওয়ারিজম অঞ্চলটি বর্তমানে সেই সব মুসলিম অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত যা সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিল।

আর তাঁর উপাধি 'সদরুল আফাদিল'-এর কথা তাঁর জীবনীকারদের প্রত্যেকেই উল্লেখ করেছেন এবং এটি লিপিবদ্ধ আছে...

--------------------------------------------

(১) মুজাম মা ইস্তাজাম: ২/ ৫১৫।

(২) মুজামুল বুলদান: ২/ ৩৯৫।

(৩) আর-রাওদ আল-মিতার: ২২৪, ২২৫।

(৪) মরাসিন আল-ইত্তিলা: ১/ ৪৮৭।

(৫) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক: ১৬৮ এবং সুরাত আল-আরদ: ৩৯৫, এবং তাকউইম আল-বুলদান: ১০৫।

(৬) আল-আকালিম (আল-ইস্তাখরি কৃত): ১৫৫।

(৭) কুদামা ইবনে জাফরের 'কিতাবুল খারাজ ওয়া সানআতুল কিতাব'-এর অংশবিশেষ; ২৪৩, আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

(৮) আহসানুত তাকাসিম (আল-মাকদিসি কৃত): ২৮৪।

(৯) ইয়াকুত আল-হামাউই রচিত মুজামুল বুলদান: ২/ ৩৯৫।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
كلِّ مؤلفاته التي وقفتُ عليها، وهذا اللَّقب غير مألوف حينذاك عند أهل العراق ولا عند أهل الشام ولا عند أهل مصر … بينما هو مألوف جدًّا عند أهل المشرق؛ خوارزم وخراسان، وغزنة، وما جاورها من البلاد فتجد هناك كثيرًا من الألقاب المشابهة لهذا اللَّقب مثل: شيخ الأفاضل، وحجَّة الأفاضل، وشمس الأفاضل، وصدر الشريعة، وصدر الدين، وصدر الملك، كما يسمون: ذا الفضائل وزين المشايخ ونجم الأئمة وفخر المشايخِ وفخر خوارزم … وهذه الألقاب متداولة كثيرة عند أهل المشرق فإذا جئتَ إلى الشام ومصر والعراق وجدتَ ألقابًا أخرى مألوفة كصلاح الدين وشهاب الدين وركن الدين، وهذه الألقاب جاءت كذلك من اختلاط الثّقافة العربية بالثّقافات الفارسية والتُّركية، أي أنها مُؤثّرات أجنَبِيَّة، حتى إذا بَعُد الإِقليم عن مناطق التأثر بالأعجمية عمومًا اختفت هذه الألقاب.

أمّا في بلاد المغرب والأندلس فلا تكاد تجد من يتلَّقب بمثل هذه الألقاب بل تجدهم يلحون في نسبتهم إلى القبائل العربية سواء أصالة أو ولاء، وذلك هو غالب أمرهم. وفي ترجمة الإِمام أحمد بن يوسف الفهري اللبلي ت 691 تجدهم يقولون: رحل إلى المشرق ولُقّب هناك: شهاب الدين(1).

ووجدتُ من يشارك صاحبنا هذا اللَّقب، فهناك:

ناصر بن هادي بن ناصر الحُسيني لقّبَ صدرُ الأفاضِلِ. نحوي غير معروف، له كتاب، اسمه (توشيح العِلَلِ في شرحِ الجُمل) شرح فيه جملَ عبد القاهر الجرجانِي، رأيته في مكتبة (لا له لي) ورقمه هناك: (3314).

وابنُ صدرِ الأفاضل البُخاري رأيتُ له كتابًا اسمه (إنسان عَينِ المعاني) في التَّفسير في مكتبة شهيد علي رقم (72).

ورأيت في هامش نُسخة الظَّاهرية من كتاب (طبقات النُحاة واللغويين) لابن قاضي شُهبة الورقة رقم 510 في تَرجمة ناصر بن أبي المكارم المطرزي

--------------------------------------------

(1) ملء العيبة: 1/ 161.

তাঁর যতগুলো রচনার সন্ধান আমি পেয়েছি, তাতে এই উপাধিটি পাওয়া যায়। এই উপাধিটি তৎকালীন ইরাক, শাম (সিরিয়া) কিংবা মিসরবাসীদের কাছে পরিচিত ছিল না … পক্ষান্তরে এটি প্রাচ্যবাসীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ছিল; যেমন খোয়ারেজম, খোরাসান, গজনি এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো। সেখানে আপনি এই উপাধির মতো অনেক সাদৃশ্যপূর্ণ উপাধি দেখতে পাবেন, যেমন: শায়খুল আফাদিল, হুজ্জাতুল আফাদিল, শামসুল আফাদিল, সদরুশ শারিয়াহ, সদরুদ্দিন, সদরুল মুলক। যেমন তারা আরও নামকরণ করতেন: যুল ফাদায়িল, যাইনুল মাশায়েখ, নাজমূল আইম্মাহ, ফাখরুল মাশায়েখ এবং ফাখর-ই-খোয়ারেজম … এই উপাধিগুলো প্রাচ্যবাসীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। আর আপনি যখন শাম, মিসর এবং ইরাকের দিকে আসবেন, তখন আপনি অন্যান্য পরিচিত উপাধি দেখতে পাবেন যেমন সালাহুদ্দিন, শিহাবুদ্দিন এবং রুকুদ্দিন। এই উপাধিগুলো মূলত আরবি সংস্কৃতির সাথে ফারসি ও তুর্কি সংস্কৃতির মিশ্রণ থেকে এসেছে; অর্থাৎ এগুলো মূলত বিদেশি প্রভাব। এমনকি কোনো অঞ্চল যখন অনারব সংস্কৃতির প্রভাবের ক্ষেত্রগুলো থেকে দূরে সরে যায়, তখন সাধারণত এই উপাধিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়।

অন্যদিকে মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) এবং আন্দালুসে আপনি এমন উপাধি ধারণকারী কাউকে খুব একটা পাবেন না; বরং তাদের ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যে তারা বংশগতভাবে হোক বা আনুগত্যের (ওয়ালার) মাধ্যমে হোক, তারা নিজেদেরকে কোনো না কোনো আরব গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকে। এটাই তাদের সাধারণ চিত্র। ইমাম আহমাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিহরি আল-লাবলি (মৃত্যু: ৬৯১ হি.)-এর জীবনীতে তাদের এই কথা বলতে দেখা যায়: তিনি প্রাচ্যের দিকে সফর করেছিলেন এবং সেখানে তাঁকে ‘শিহাবুদ্দিন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল(১)।

আমি এমন কয়েকজনকে পেয়েছি যারা আমাদের আলোচ্য ব্যক্তির এই উপাধিতে অংশীদার, তারা হলেন:

নাসির বিন হাদি বিন নাসির আল-হুসাইনি, যাকে ‘সদরুল আফাদিল’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তিনি একজন স্বল্প পরিচিত ব্যাকরণবিদ। তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম (তাওশিহুল ইলাল ফি শারহিল জুমাল), সেখানে তিনি আব্দুল কাহির আল-জুরজানির ‘আল-জুমাল’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন। আমি এটি (লা লে লি) লাইব্রেরিতে দেখেছি এবং সেখানে এর নম্বর ছিল: (৩৩১৪)।

আর ইবনে সদরিল আফাদিল আল-বুখারি; তাঁর একটি কিতাব আমি দেখেছি যার নাম তাফসির বিষয়ক (ইনসানু আইনিল মাআনি), যা শহীদ আলী লাইব্রেরিতে ৭২ নম্বর সংগ্রহে রয়েছে।

এবং আমি ইবনে কাজি শুহবাহ এর কিতাব (তাবাকাতুন নুহাত ওয়াল লুগাভিয়্যিন)-এর জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির ৫১০ নম্বর পৃষ্ঠার টীকায় নাসির বিন আবিল মাকারিম আল-মুতারাযির জীবনীতে দেখেছি—

--------------------------------------------

(১) মিলউল আইবাহ: ১/ ১৬১।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال: ويلقب صدر الأفاضل. وهذا غير صحيح، ولا أعتقد أنّه من كلام ابن قاضي شهبة كما سنوضح ذلك فيما يستقبل.

 

‌‌3 - مولده ووفاته:

قال ياقوت(1): سألته عن مولده فقال: مولدي في اللّيلة التاسعةِ من شعبان سنةَ خمس وخمسين وخمسماية.

أمّا وفاته فكانت على يَد التتار أثناء هجومهم على خوارزم شهيدًا في الثاني عشر من ربيع الأول سنة سبع عشرة وستماية(2).

 

‌‌رحلاته في طلب العلم:

نصّ (ياقوت الحموي على أنه ولد في خوارزم فيبدو أنه تعلم فيها مبادئ القراءة والكتابة ثم سافر في طلب العلم إلى البلاد المجاورة، فدخل بخارى كما أخبر عن نفسه حيثُ قال: مضيتُ إلى بخارى طلبًا للعلم. كما أنّه دخل (جُخَنْدَة) قال في اليُمني(3): .. كذا سمعتُهُ بجخندة عن طائفةٍ من المُتَصَوِّفَةِ. وقال في الإِيضاح(4): أنشدني الأُستاذ العالم فخر الدين الرّازي بـ (جُخَنْدَة). ودخل سَمرقند وألَّف فيها (شرح سقط الزند)، جاء في الإِيضاح(5) قوله: أَنشدني بسَمَرقَنْد بعض الأئمة … وفي (ضرام السقط)(6) قوله: ومثلها ما حكى لي بعض من دخل الهند ثم خرج إلينا بسَمَرْقَنْد … ، كما أنه تجوّلَ في بعض قرى هذه المناطق. قالَ في اليُمني(7): خاخستَر بطرح التّاءِ وإبدال الخاءِ من الكاف فهي من قِبالة (درعم) أحد أرباع سمرقند وقد دخلتها.

--------------------------------------------

(1) معجم الأدباء: 16/ 250.

(2) طبقات النحاة واللغويين لابن قاضي شُهبة: 476 والطبقات السَّنية: 345.

(3) اليمني: وهو أحد مؤلفات صدر الأفاضل ورقة 27.

(4) الإيضاح: ورقم 187.

(5) المصدر السابق: ورقة 181.

(6) شروح السقط: 1391.

(7) اليمني: ورقة 30.

তিনি বলেন: তাকে 'সাদরুল আফাদিল' উপাধি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি সঠিক নয়, এবং আমি মনে করি না যে এটি ইবনে কাদি শুহবার বক্তব্য, যেমনটি আমরা ভবিষ্যতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব।

 

‌‌৩ - তার জন্ম ও মৃত্যু:

ইয়াকুত(১) বলেন: আমি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: আমার জন্ম ৫৫৫ হিজরি সনের শাবান মাসের নবম দিবাগত রাতে।

আর তার মৃত্যু হয়েছিল তাতারীদের হাতে তাদের খাওয়ারিজম আক্রমণের সময়; ৬১৭ হিজরি সনের ১২ই রবিউল আউয়াল তিনি শাহাদাত বরণ করেন(২)।

 

‌‌ইলম অন্বেষণে তার সফরসমূহ:

ইয়াকুত আল-হামাভি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি খাওয়ারিজমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই প্রতীয়মান হয় যে তিনি সেখানেই পড়া ও লেখার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এরপর তিনি ইলম অন্বেষণে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সফর করেন এবং বুখারায় প্রবেশ করেন, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে অবহিত করেছেন: "আমি ইলম অন্বেষণে বুখারার দিকে যাত্রা করেছি।" তদ্রূপ তিনি (জুখান্দাহ)-তেও প্রবেশ করেছিলেন; তিনি 'আল-ইউমানি'(৩) গ্রন্থে বলেন: "...আমি জুখান্দাহ-তে একদল সুফীর নিকট থেকে এভাবেই শুনেছি।" তিনি 'আল-ইজাহ'(৪) গ্রন্থে বলেন: "উস্তাদ আলিম ফখর উদ্দিন আল-রাজি জুখান্দাহ-তে আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন।" তিনি সমরকন্দেও প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে 'শারহু সাকতিল জান্দ' রচনা করেছিলেন। 'আল-ইজাহ'(৫) গ্রন্থে তার উক্তি এসেছে: "সমরকন্দে কতিপয় ইমাম আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন..." এবং 'দিরমুস সাকত'(৬) গ্রন্থে তার উক্তি রয়েছে: "অনুরূপ বর্ণনা যা আমাকে ভারত সফরকারী জনৈক ব্যক্তি দিয়েছেন, যিনি পরে সমরকন্দে আমাদের কাছে এসেছিলেন..." তদ্রূপ তিনি এই অঞ্চলের কিছু গ্রামও ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি 'আল-ইউমানি'(৭) গ্রন্থে বলেছেন: খখাসতার, 'তা' বর্ণ বর্জন করে এবং 'কাফ' এর স্থলে 'খা' স্থলাভিষিক্ত করে; এটি সমরকন্দের চার ভাগের এক ভাগ (দারআম)-এর বিপরীতে অবস্থিত এবং আমি সেখানে প্রবেশ করেছি।

--------------------------------------------

(১) মুজামুল উদাবা: ১৬/২৫০।

(২) ইবনে কাদি শুহবা রচিত তাবাকাতুন নুহাত ওয়াল লুগাভিয়্যিন: ৪৭৬ এবং আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ: ৩৪৫।

(৩) আল-ইউমানি: এটি সাদরুল আফাদিলের অন্যতম একটি গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২৭।

(৪) আল-ইজাহ: পৃষ্ঠা ১৮৭।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস: পৃষ্ঠা ১৮১।

(৬) শুরূহুস সাকত: ১৩৯১।

(৭) আল-ইউমানি: পৃষ্ঠা ৩০।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌4 - شيوخُ الخُوارَزمِيّ:

‌‌1 - المطرزي الخوارزمي:

لم يشتهر من شيوخ الخوارزمي إلا الإِمام ناصر الدين وبرهان الدين أيضًا عبد السيد بن أبي المكارم علي المطرزي الخوارزمي. مولده في العام الذي مات فيه الزمخشري 538 هـ في شهر رَجب في خُوارَزم، لذلك لُقِّبَ بـ (خليفة الزمخشري)، وهو على مذهبه في المجاهرة بالاعتزال، دخل بَغداد حاجًّا سنة إحدى وستمائة وحدَّث بشيءٍ من مصنفاته. وتوفي في خُوارَزم في يوم الثُّلاثاء الحادي والعشرين من جمادى الأولى سنة عشر وستمائة (610 هـ). ورثي بأكثر من ثلاثمائة قصيدة. وخَطَّ يده على (شرح أبيات الجمل) لابن سيدة في دار الكتب المصرية على طرة الكتاب يجيز أحد تلاميذه رواية كتابه (الإِيضاح شرح المقامات الحريرية). ألف كتبًا كثيرة منها "المغرب" في شرح ألفَاظ الفقهاء الحنفية، والمصباح في النحو، والإِيضاح شرحٍ المقامات والإِقناع في اللغة ومختصر في النحو غير المصباح رأيتهما معًا في مجلد واحد. وقيل إنه شرح المفصل، أخذ عن تلاميذ الزَّمخشري، ومنهم أبو المؤيد المكي خطيب خوارزم، والبقالي … كما أخذ عن تلاميذ الحريري منهم ابن السجادة البغدادي وعبد الكريم الأنماطي … وغيرهم.

وأخذ عنه الخُوارَزمِّي، وأبو المعالي ابن العَجَمي، وإسماعيل بن الحسين عزيز الدين أبو طالب الحسيني … وغيرهم. وله شعر ذكر جملة منه ابن الشعار في (عقود الجمان) كما ذكر الخوارزمي نماذج منه في (بدائع الملح).

أخباره في سير أعلام النبلاء 13/ 123، والوافي بالوفيات 26/ 171، 172 وكتاب أعلام الأخيار: 218، والطبقات السنيّة: 523 وانظر: وفيات الأعيان: 5/ 369، ومعجم الأدباء: 19/ 212، 213، والجواهر المضية: 2/ 190، وتاج التراجم: 58، وإنباه الرواة: 3/ 339، وبغية الوعاة: 2/ 40، وروضات الجنات 41/ 223.

وقد صرَّح الخوارزمي بقراءته عليه واستفادته منه في (شرح سقط
৪ - খাওয়ারিজমির শিক্ষকবৃন্দ:

১ - আল-মুতাররিজি আল-খাওয়ারিজমি:

খাওয়ারিজমির শিক্ষকদের মধ্যে কেবল ইমাম নাসিরুদ্দিন এবং বুরহানুদ্দিন নামেও পরিচিত আব্দুস সাইয়িদ ইবনে আবিল মাকারিম আলি আল-মুতাররিজি আল-খাওয়ারিজমিই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তিনি খাওয়ারিজমে ৫৩৮ হিজরির রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন—যে বছর যামাখশারি ইন্তেকাল করেছিলেন। এই কারণে তাকে ‘খলিফাতুয যামাখশারি’ (যামাখশারির উত্তরসূরি) উপাধি দেওয়া হয়। তিনি মুতাজিলা মতবাদ প্রকাশ্যে প্রচারের ক্ষেত্রে যামাখশারির মাযহাব বা মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি ছয়শত এক হিজরিতে হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে তার কিছু গ্রন্থ বর্ণনা করেন। তিনি ছয়শত দশ (৬১০) হিজরি সনের একুশে জুমাদাল উলা, মঙ্গলবার খাওয়ারিজমে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে তিনশতেরও বেশি শোকগাথা (কাসিদা) রচিত হয়েছিল। মিসরের ‘দারুল কুতুব’ (জাতীয় গ্রন্থাগার)-এ সংরক্ষিত ইবনে সিদাহর ‘শারহু আবইয়াতিল জামাল’ গ্রন্থের মূল কপির প্রান্তটিকায় তার হস্তাক্ষর বিদ্যমান, যেখানে তিনি তার এক ছাত্রকে তার রচিত গ্রন্থ ‘আল-ঈজাহ শারহুল মাকামাতিল হারিরিয়্যাহ’ বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে হানাফি ফকিহদের পরিভাষা ব্যাখ্যার ওপর ‘আল-মুগরিব’, নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের ওপর ‘আল-মিসবাহ’, ‘আল-ঈজাহ শারহুল মাকামাত’, ভাষাতত্ত্বের ওপর ‘আল-ইকনা’ এবং ‘আল-মিসবাহ’ ব্যতীত নাহু শাস্ত্রের ওপর আরেকটি সংক্ষিপ্ত সার—আমি এ দুটিকে এক খণ্ডে একত্রে দেখেছি। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ‘আল-মুফাসসাল’-এরও ব্যাখ্যা লিখেছেন। তিনি যামাখশারির ছাত্রদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন খাওয়ারিজমির খতিব আবু মুআইয়িদ আল-মাক্কি, আল-বাক্কালি … অনুরূপভাবে তিনি হারিরির ছাত্রদের থেকেও শিক্ষা নিয়েছেন, যেমন ইবনুস সাজ্জাদাহ আল-বাগদাদি, আব্দুল কারিম আল-আনমাতি … প্রমুখ।

খাওয়ারিজমি, আবুল মাআলি ইবনুল আজমি, ইসমাইল ইবনুল হুসাইন আজিজুদ্দিন আবু তালিব আল-হুসাইনি … এবং আরও অনেকে তার থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তার কিছু কবিতা রয়েছে যার একটি অংশ ইবনুশ শা’আর ‘উকুদুল জুমান’-এ উল্লেখ করেছেন, আর খাওয়ারিজমিও তার ‘বাদায়িউল মুলাহ’ গ্রন্থে এর কিছু নমুনা তুলে ধরেছেন।

তার জীবনী সংক্রান্ত তথ্যাদি পাওয়া যাবে: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/১২৩, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ২৬/১৭১, ১৭২, আলামুল আখইয়ার ২১৮, আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ ৫২৩। আরও দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৫/৩৬৯, মুজামুল উদাবা ১৯/২১২, ২১৩, আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ২/১৯০, তাজুত তারাজিম ৫৮, ইনবাহুর রুওয়াত ৩/৩৩৯, বুগইয়াতুল উয়াত ২/৪০ এবং রওজাতুল জান্নাত ৪১/২২৩।

খাওয়ারিজমি তার নিকট পাঠ গ্রহণ এবং তার থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি ‘শারহু সাকত...’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
الزند)، قال في مقدمة شرحه: فصل، أخبرنا بمتن هذا الديوان الأستاذ البارع برهان الدين أبو المظفر ناصر بن أبي المكارم المعروف بابن المطرِّزي قراءة عليه … وفي أثناء شرحه يصفه بـ (الأستاذ البارع) ويدعو له بقوله: (جزاه الله عنّي خَيرًا) انظر الصفحات: 380، 390، 746، 1314، 1328، 1614، 1724، 1820، 1875، 1953. ولم يذكر أحد من العلماء أنه أخذ عن غيره. ولم يذكر ياقوت الحموي شيئًا عن شيوخه. وذكر ابن الشعار المطرزي وقال: وعليه يعتمد في علمه، وهذه العبارة تشعر بأنّه لم يأخذ عن غيره. وهذا غيرُ صحيحٍ. وقال القُرَشِيّ في (الجواهر المضيئة) 2/ 703، تفقّه على أبي الفتح ناصر بن عبد السيد المطرزي وأخذ عنه علم العربية. ومثله قال الفيروز آبادي في (المرقاة الوفية) وابن قُطلُوبَغَا في (تاج التراجم) والتَّميميّ في (الطبقات السنيّة) والكَفَوِيّ في (كتائب أعلام الأخيار). وزاد أخذ العربية عنه عن الزَّمخشري والصَّحيحُ أنَّ المُطرِّزي لم يأخذ عن الزَّمخشري، إنما أخذ عن المُوفّق المكي، والبَقالي … وغيرهما عن الزمخشري لأنَّ المطرِّزي لم يدركه، وإنما أدرك تلاميذه.

وبعد وقوفي على بعض مؤلفاته وقراءتها تبيَّن لي أن الخوارزمي قرأ على كثير من العلماء إلا أنه لم يصرح بذلك، وتعمّد إخفاءهم لحاجة في نفسه، وهو لا يخفي أسماء شيوخه ليسطو على آرائهم ويدعيها لنفسه، ولذلك نجده يصرح بنسبة الآراء إلى أصحابها بصورة مبهمة كقوله: قال بعضهم، وأخبرني بعض شيوخي، وأخبرني بعض أصحابنا من الأفاضل …

وأنا لا أعرف سببًا لإِخفائه أسماءهم.

 

‌‌2 - الأنماطيّ:

وبعد بحث طويل تعرّفتُ على من يغلب على ظنّي أنهم من شيوخه: منهم عبد الكريم الأنماطي الذي أثبت الخوارزمي قراءَتَه عليه كتاب (المقامات) للحريري ورواها عنه رواية مسندة إلى مؤلفها أبي محمد القاسم بن علي الحريري (446 هـ - 516 هـ) قالَ في مقدّمة شرحه "التَّوضيح" ورقة 25: أخبرني بمتن المقامات سماعًا وقراءةً الإِمام العالم
আয-যান্দ), তিনি তার ব্যাখ্যার ভূমিকায় বলেন: পরিচ্ছেদ, এই দেওয়ানের মূল পাঠটি আমাদের অবহিত করেছেন দক্ষ ওস্তাদ বুরহান উদ্দিন আবুল মুজাফফার নাসির বিন আবিল মাকারিম, যিনি ইবনুল মুতাররিযি নামে পরিচিত, তার নিকট পাঠের মাধ্যমে … এবং তার ব্যাখ্যার বিভিন্ন স্থানে তিনি তাকে (দক্ষ ওস্তাদ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার জন্য দোয়া করে বলেছেন: (আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন)। দেখুন পৃষ্ঠা: ৩৮০, ৩৯০, ৭৪৬, ১৩১৪, ১৩২৮, ১৬১৪, ১৭২৪, ১৮২০, ১৮৭৫, ১৯৫৩। আলেমদের কেউই উল্লেখ করেননি যে তিনি অন্য কারো কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। ইয়াকুত আল-হামাভি তার উস্তাদদের সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি। ইবনুশ শা'আর মুতাররিযি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: তার ইলমের ওপর নির্ভর করা হয়; এই বাক্যটি থেকে অনুভূত হয় যে তিনি অন্য কারো থেকে শিক্ষা নেননি। অথচ এটি সঠিক নয়। আল-কুরাশি (আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ) ২/৭০৩ গ্রন্থে বলেন, তিনি আবুল ফাতহ নাসির বিন আবদুস সাইয়্যেদ আল-মুতাররিযির নিকট ফিকহ শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তার থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা নিয়েছেন। একই কথা আল-ফাইরুযাবাদি (আল-মিরকাতুল ওয়াফিয়্যাহ) গ্রন্থে, ইবনু কুতলুবুগা (তাজুত তারাজিম) গ্রন্থে, আত-তামিমি (আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ) গ্রন্থে এবং আল-কাফাউয়ি (কাতায়েবু আলামিল আখইয়ার) গ্রন্থে বলেছেন। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, তিনি তার মাধ্যমে যামাখশারির নিকট থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা নিয়েছেন। তবে সঠিক হলো মুতাররিযি সরাসরি যামাখশারির নিকট থেকে শিখেননি, বরং আল-মুওয়াফফাক আল-মাক্কি, আল-বাককালি … এবং যামাখশারির অন্যান্য ছাত্রদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কারণ মুতাররিযি তাকে (যামাখশারিকে) পাননি, বরং তার ছাত্রদের পেয়েছেন।

তার কিছু কিতাব পাওয়ার পর এবং সেগুলো পড়ার পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, খাওয়ারিজমি অনেক আলেমের কাছে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তিনি নিজের কোনো উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের নাম গোপন রেখেছেন। তিনি তার উস্তাদদের নাম এজন্য গোপন করেননি যে তিনি তাদের মতামতের ওপর হস্তক্ষেপ করে তা নিজের বলে দাবি করবেন, বরং আমরা তাকে দেখি যে তিনি মতামতগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের দিকে অস্পষ্টভাবে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যেমন তার কথা: কেউ কেউ বলেছেন, আমার কোনো কোনো উস্তাদ আমাকে অবহিত করেছেন, আমাদের মর্যাদাবান সাথীদের কেউ আমাকে জানিয়েছেন …

তাদের নাম গোপন রাখার কারণ আমার জানা নেই।

 

‌‌২ - আল-আনমাতি:

দীর্ঘ গবেষণার পর আমি এমন ব্যক্তিদের চিনেছি যাদের সম্পর্কে আমার প্রবল ধারণা যে তারা তার উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত: তাদের মধ্যে আব্দুল কারিম আল-আনমাতি অন্যতম, যার নিকট খাওয়ারিজমি হারিরির (আল-মাকামাত) কিতাবটি পাঠ করেছেন বলে প্রমাণিত এবং তার থেকে কিতাবটির লেখক আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন আলী আল-হারিরি (৪৪৬ হি. - ৫১৬ হি.) পর্যন্ত মুসনাদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আত-তাওদিহ"-এর ২৫ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন: ইমাম আলিম আমাকে শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে মাকামাত-এর মূল পাঠ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২০)
الكبير شيخ الخطباء فخر الأئمة أبو المؤيد عبد الكريم بن عبد الواحد الأنماطي .... وفي ورقة: 30 قال: سمعتُ من مسمعي وهو الخَطيب الأنماطي رحمه الله. ولم أعثر على ترجمته.

 

‌‌3 - فخرُ الدين الرّازي:

ومنهم الشيخ الإِمام فخر الدين الرَّازِي صاحب التفسير، العالم المشهور، فقد ورد في شرح المقامات (التوضيح): 197 أنشدني العالم فخر الدين الرَّازي بجخندة لذي الفضائل الأخسيتكي، وأورد ابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 299، مقطوعة لصدر الأفاضل في مدح الفخر الرازي قال: أنشدني المؤيد بن محمد الخاصى الخوارزمي، قال أنشدنا أبو محمد لنفسه في الشّيخ فخرِ الدين أبي الفضل الرَّازِي رحمه الله:

قَد نَسينا قَد نَسينا … حِكمةَ الشيخ ابنِ سِينَا

بإمامِ الرَيِّ صِرنا … مُذ زَمانٍ مُؤْنَسِينَا

إننَّا بعنا حصاةً … واشتَرينَا طُورَ سِينا

والخطيب فخر الدِّين الرَّازِيّ محمد بن عمر 606 هـ غني عن التَّعريف. وهو من شُراح المُفَضّل. وشرحه يُسمى (المُحرّر) وقف عليه ياقوت الحموي 626 هـ، وابن رُشيد 710 هـ وأبو حيَّان الأندلسي 754 هـ وغيرهم. ثم عثرت على نسخة منه، وهي عندي.

 

‌‌4 - العارِضُ السَّرَخْسِيّ:

وقد ذكر الخوارزمي في كتابه (اليُمني) شرح اليَمِيني للعُتْبِيّ: ورقة 80 نسخة (رئيس الكتاب) ما يفيد بأنه أخذ عن العارض السّرخسي بسَمَرْقَندَ. صدّرها بقوله: أخبرني …

 

‌‌5 - رَضِيُّ الدين النَيسابُورِيّ:

وأخذ الخُوَارَزميّ عن من يسميه "الرَّضِيّ" في بخارى فقد ورد في "معجم الأُدباء" عن الخُوَارَزميّ أنه قال: إني مضيتُ إلى بخارى طالبًا
মহান ব্যক্তিত্ব, খতিবদের শায়খ, ইমামদের গৌরব আবু আল-মুওয়াইয়্যাদ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-আনমাতি... এবং ৩০ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: আমি আমার উস্তাদের নিকট থেকে শুনেছি, আর তিনি হলেন খতিব আল-আনমাতি (রাহিমাহুল্লাহ)। তবে আমি তার জীবনী খুঁজে পাইনি।

 

‌‌৩ - ফখরুদ্দিন আল-রাজি:

তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজি, যিনি তাফসিরের রচয়িতা এবং সুপ্রসিদ্ধ আলেম। 'শরহুল মাকামাত' (আত-তাওদিহ): ১৯৭-এ বর্ণিত হয়েছে যে, আলেম ফখরুদ্দিন আল-রাজি জখন্দাহ নামক স্থানে যুল ফাদায়েল আল-আখসিতাকির কবিতা আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন। ইবনে আল-শি'আর 'উকুুদ আল-জুমান' (৫/২৯৯) গ্রন্থে ফখর রাজির প্রশংসায় সদর আল-আফাদিলের একটি কবিতাংশ উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: আল-মুওয়াইয়্যাদ বিন মুহাম্মদ আল-খাসি আল-খাওয়ারিজমি আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ শায়খ ফখরুদ্দিন আবুল ফজল আল-রাজি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শানে নিজের রচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন:

আমরা বিস্মৃত হয়েছি, আমরা বিস্মৃত হয়েছি … শায়খ ইবনে সিনার দর্শন

রই-এর ইমামের সান্নিধ্যে আমরা … দীর্ঘকাল ধরে হৃদ্যতা লাভ করছি

নিশ্চয়ই আমরা একটি কঙ্করের বিনিময়ে … তুর পাহাড় ক্রয় করেছি

খতিব ফখরুদ্দিন আল-রাজি মুহাম্মদ বিন উমর (৬০৬ হিজরি) পরিচিতির মুখাপেক্ষী নন। তিনি 'আল-মুফাদদাল' গ্রন্থের ব্যাখ্যাকারীদের অন্যতম। তার ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম 'আল-মুহাররার'; যা ইয়াকুত আল-হামাউই (৬২৬ হিজরি), ইবনে রুশাইদ (৭১০ হিজরি), আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (৭৫৪ হিজরি) এবং অন্যান্যরা দেখেছেন। পরবর্তীতে আমি এর একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি এবং সেটি এখন আমার সংগ্রহে রয়েছে।

 

‌‌৪ - আল-আরিদ আস-সারাকসি:

আল-খাওয়ারিজমি তার 'আল-ইউমনি' গ্রন্থে (যা উতবির লেখা 'ইয়ামিনি'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ) 'রয়ীসুল কুতুব' পাণ্ডুলিপির ৮০ নম্বর পৃষ্ঠায় এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সমরকন্দে আল-আরিদ আস-সারাকসির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি এটি এই বলে শুরু করেছেন: তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন...

 

‌‌৫ - রাদিউদ্দিন আন-নাইসাবুরি:

আল-খাওয়ারিজমি বোখারায় এমন একজনের নিকট থেকে শিক্ষা নিয়েছেন যাকে তিনি "আর-রাদি" বলে সম্বোধন করেছেন। 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থে আল-খাওয়ারিজমির উদ্ধৃতিতে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: আমি জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বোখারার পথে যাত্রা করলাম।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২১)
للعلم، وقاصدًا للقراءةِ على الرَّضِيّ … ولعلّ الرَضيّ هذا هو الإِمامُ منشئُ النَّظر رضي الدّين النَيسابُورِيّ الذي قال في مدح الخُوَارزَميّ، ذكره في كتابه: (بدائع الملح) ورقة: 60.

غلبَ مجدُ الدّين عَنّي غَيبةً … عرّضتني لظَني بعدَ هَلَاك

أطلبُ المجد فلا أدركه … وَكَذَا المجد عَسِيرُ الإِدّراك

وذكره في كتابِ "التَّوضيح" شرح المقامات الحريرية في عدة مواضع منها: 19، 130، 146، 169 … ، كما ذكره في التخمير: 1/ 291 وفي كل موضع يذكره يسبقه بقوله قال الأستاذ أو حكى لي الأُستاذ إلَّا في (بدائِعِ المُلَح) فإنَّه قال: قال الإِمام ..... لم أقف على ترجمته.

 

‌‌6 - برهانُ الدِّين الرِّشتَانِيّ المَرغِنَانِيّ:

ويفهم من قصيدة قالها في رثاء الإِمام شيخِ الإِسلام برهان الدّين أبي الحَسَن علي بن أبي بكر بن عبد الجليل بن الخليل الرِّشتاني المَرغِنَانِيّ ومدح أولاده أنَّ الإِمام كان من شُيوخه حيثُ يقولُ:

وأفقهُ في تَدريسِهِ من مُحَمَدٍ … وأجودُ من كعبٍ وأخطبُ من قُسِّ

والرُّشتاني هذا كانَ مقيمًا بسَمَرْقَنْدَ. ذكر ذلك ابن قاضي شُهبة في ترجمة تلميذه أبي الوحدة شمسِ الأئمَّة البراتيقي في طبقات النحويين: 1/ 166 وتحرفت في المخطوط والمطبوع إلى الرّشداني. لم أعثر على ترجمته. قال ياقوت في "معجم البلدان": 3/ 45 (رِشَتان): بكسر الرّاءِ وبعد الشين تاءٌ مثناة من فوقها وآخرها نون من قرى مرغنان … ينسب إليها شيخ الإِسلام بخوارزم المعروف بـ (الرشتانِيّ)

 

‌‌7 - أفضلُ الدّين الغَيلانِيّ:

ولعل من شيوخه أيضًا أفَضلُ الدّين الغَيلَانِيّ الذي أثنى عليه الخُوَارَزمِيّ بأبياتٍ ذكرها في (بدايع الملح): 55 وهي:

يَقُولونَ رِسطالِيسُ في العلمِ وَاحدٌ … وذا خَطَأ مِنهم فأفضلُ أفضلُ
জ্ঞানের উদ্দেশ্যে, এবং আর-রাদীর নিকট পাঠ করার মনোবাসনা নিয়ে … সম্ভবত এই রাদী হলেন ইমাম, উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী রাদীউদ্দীন আন-নায়সাবুরী, যিনি খুওয়ারিযমীর প্রশংসায় কিছু বলেছিলেন। তিনি এটি তাঁর ‘বাদায়িউল মুলাহ’ কিতাবের ৬০ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

মাজদুদ্দীন আমার অনুপস্থিতিতে আমার ওপর প্রবল হয়েছেন … যা আমাকে ধ্বংসের পর আশঙ্কার সম্মুখীন করেছে।

আমি মর্যাদা অন্বেষণ করি কিন্তু তা পাই না … আর এভাবেই মর্যাদা লাভ করা অত্যন্ত কঠিন।

এবং তিনি তাঁকে ‘আত-তাওদীহ’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যা মাকামাতে হারীরীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। সেখানে বিভিন্ন স্থানে যেমন: ১৯, ১৩০, 1৪৬, ১৬৯ … পৃষ্ঠায় তাঁর কথা রয়েছে। একইভাবে ‘আত-তাখমীর’ গ্রন্থেও (১/২৯১) তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি স্থানে যেখানেই তিনি তাঁর উল্লেখ করেছেন, তার আগে ‘উস্তাদ বলেছেন’ অথবা ‘উস্তাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন’ কথাটি ব্যবহার করেছেন, কেবল ‘বাদায়িউল মুলাহ’ ব্যতীত। কারণ সেখানে তিনি বলেছেন: ‘ইমাম বলেছেন...’। আমি তাঁর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারিনি।

 

‌‌৬ - বুরহানুদ্দীন আর-রিশতানি আল-মারগিনানি:

ইমাম শায়খুল ইসলাম বুরহানুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবু বকর বিন আব্দুল জলীল বিন আল-খলীল আর-রিশতানি আল-মারগিনানির শোকগাথা এবং তাঁর সন্তানদের প্রশংসায় রচিত একটি কবিতা থেকে বোঝা যায় যে, ইমাম তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন:

এবং তিনি তাঁর পাঠদানে মুহাম্মাদের চেয়েও বড় ফকীহ … তিনি কাব-এর চেয়েও অধিক দানশীল এবং কুস-এর চেয়েও বড় বাগ্মী।

এবং এই রিশতানি সমরকন্দে বসবাস করতেন। ইবনে কাজী শুহবা তাঁর ছাত্র আবুল ওয়াহদাহ শামসুল আইম্মাহ আল-বারাতীকি-এর জীবনীতে ‘তাবাকাতুন নাহউয়্যিন’ (১/১৬৬) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপিতে শব্দটি ‘আর-রুশদানি’ হিসেবে বিকৃত হয়েছে। আমি তাঁর জীবনী খুঁজে পাইনি। ইয়াকুত ‘মুজামুল বুলদান’ (৩/৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: (রিশতান): রা-এর নিচে কাসরা এবং শীন-এর পর উপরে দুই নুকতা বিশিষ্ট তা এবং শেষে নুন। এটি মারগিনানের গ্রামসমূহের একটি … খুওয়ারিযমের শায়খুল ইসলাম, যিনি ‘আর-রিশতানি’ নামে পরিচিত, তাঁর দিকেই এটি সম্পর্কিত।

 

‌‌৭ - আফজালুদ্দীন আল-গাইলানি:

সম্ভবত আফজালুদ্দীন আল-গাইলানিও তাঁর শিক্ষকদের একজন ছিলেন, যার প্রশংসা খুওয়ারিযমী ‘বাদায়িউল মুলাহ’ (৫৫) গ্রন্থে বর্ণিত কিছু কবিতার চরণে করেছেন। সেগুলো হলো:

তারা বলে এরিস্টটল জ্ঞানে অনন্য … কিন্তু এটি তাদের ভুল, কারণ আফজালই (আফজালুদ্দীন) অধিক শ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২২)
فلا عَجَبُ أن فاقَهُ وهو آخِرٌ … أَتى بَعدَ أزمانٍ وذلك أوّلُ

فأوَّل ما يَبدو من السَّيفِ مِقبَضٌ … وآخر ما يَبدو فِرِندٌ ومُنصَلُ

والغَيلانِيُّ هذا لم أَقف على تَرجَمَتِهِ أيضًا.

 

‌‌5 - تلاميذه:

أفنى الخُوارزمي بعد تصدره أكثر وقته في التأليف والتدريس فلم تكن له وظيفة(1) ولم يكن من المشتغلين بالتجارة(2)، وقد ذكر في مقدمة "التَّخمير" أنه حلَّق على كتاب "المُفَصَّل" قريبًا من ثلاثين سنة، ومع ذلك لم يذكر أحد من المؤرخين وأصحاب الطّبقات شيئًا عن تلاميذه. على أننا نعلم أنه لم يقتصر على إقليمه فحسب بل كانت تأتيه المكاتبات من العواق يُسأل فيها عن بعض المسائل النَّحوية والأدبيَّة، فهو يقول في مؤلفاته سألني بعض العِراقية، وكتب إليَّ المواصلة … وما أشبه ذلك.

وياقوت الحَمَوي -الذي يعدّ المصدر الأول في أخباره- لم يذكر أحدًا من تلاميذه ولعلّ لحروب التتار التي راح ضحيتها صدرُ الأفاضل أثرًا في خفاء أسماءِ تلاميذه، وربما قتل أغلبهم في معارك التتار، على أن أخبارالعلماء الذين عاشوا في تلك الأقاليم بعد غزو التتار لها أصبحت قليلةً جدًا في المصادر التاريخية أفقدتنا بذلك حلقة من سلسلة تاريخنا الإِسلامي.

وبعد البحث عثرت على أسماء بعض الأشخاص الذين يغلب على ظني أنهم من طلبته فهم على الأقل من مستجازيه منهم:

1 - موفق الدين أبو المفاخر بن طاهر بن أبي سهل بن طاهر بن عصام بن محمد المفسري الفِرْيَابِيّ. ناسخ كتاب "بدائع الملح" للخوارزمي، أجازه وكتب له بخطه سنة 595 كما هو مدون على نسخة الكتاب المذكور.

--------------------------------------------

(1) معجم الأدباء: 16/ 251.

(2) المصدر نفسه.

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে তিনি শেষে এসেও তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন … তিনি এসেছেন বহু যুগ পরে, আর তিনি ছিলেন প্রথম।

কেননা তলোয়ারের যা প্রথমে দৃশ্যমান হয় তা হলো হাতল … আর যা শেষে প্রকাশ পায় তা হলো এর কারুকাজ ও ধারাল ফলক।

আর এই গাইলানি সম্পর্কেও আমি কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

 

‌‌৫ - তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

আল-খাওয়ারিজমি প্রধান্য লাভের পর তাঁর অধিকাংশ সময় রচনা ও পাঠদানে ব্যয় করেছেন। তাঁর কোনো দাপ্তরিক পদ ছিল না(১) এবং তিনি ব্যবসার সাথেও যুক্ত ছিলেন না(২)। তিনি "আত-তাখমির" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে "আল-মুফাসসাল" গ্রন্থের ওপর পাঠদান করেছেন। তা সত্ত্বেও ঐতিহাসিক ও জীবনীকারদের কেউই তাঁর ছাত্রদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে আমরা জানি যে তিনি কেবল তাঁর অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং ইরাক থেকেও তাঁর কাছে পত্র আসত যাতে বিভিন্ন ব্যাকরণগত ও সাহিত্যিক মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো। তিনি তাঁর রচনাবলীতে বলেন, "জনৈক ইরাকি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন", "মুসুলের অধিবাসীগণ আমাকে লিখেছেন..." এবং এই জাতীয় কথা।

ইয়াকুত আল-হামাউই—যাঁকে তাঁর সংবাদের প্রধান উৎস বিবেচনা করা হয়—তিনিও তাঁর কোনো ছাত্রের কথা উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তাতারদের যুদ্ধ, যার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন সাদরুল আফাদিল, তাঁর ছাত্রদের নাম অপ্রকাশিত থাকার পেছনে প্রভাব ফেলেছে; সম্ভবত তাদের অধিকাংশ তাতারদের যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। তদুপরি তাতার আক্রমণের পর ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারী আলেমদের সংবাদ ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে, যা আমাদের ইসলামি ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশকে হারিয়ে দিয়েছে।

অনুসন্ধানের পর আমি এমন কিছু ব্যক্তির নাম পেয়েছি যাদের সম্পর্কে আমার প্রবল ধারণা যে তারা তাঁর ছাত্র ছিলেন অথবা অন্তত তাঁর নিকট থেকে ইজাজত গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - মুওয়াফফাকুদ্দীন আবুল মাফাখির বিন তাহির বিন আবি সাহল বিন তাহির বিন ইসাম বিন মুহাম্মাদ আল-মুফাসসিরি আল-ফিরিয়াবি। খাওয়ারিজমির "বাদায়িউল মুলাহ" গ্রন্থের অনুলিপিকার। তিনি তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন এবং ৫৯৫ হিজরিতে স্বহস্তে তা লিখে দেন, যেমনটি উক্ত গ্রন্থের কপিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুজামুল উদাবা: ১৬/ ২৫১।

(২) একই উৎস।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - الملخي؟ هكذا ولا أعرف عنه شيئًا ذكره ناسخ كتاب "التوضيح" شرح المقامات الحريرية للخوارزمي في هامش ورقة 30 عند إحالة الخوارزمي على كتابه "اليمني شرح اليَمِيني" علق الناسخ بهامش الكتاب بقوله: "اليمني" بسكون الميم وكسر النون بخطّ المصنّف في إجازة مولانا الملخي رحمه الله.

3 - الإِمام أبو البركات المبارك بن محمد بن المُستَوفى الإِرْبِلِّي 639 هـ ذكر إجازة الخوارزمي له فى أول كتابه "إثبات المُحَصَّل" قال في الورقة رقم 5: وقالَ صدرُ الأفاضل أبو محمد القاسم بن الحسين بن أحمد الخوارزمي فيما أجاز لي.

4 - ويظهر من كلام ابن الشَّعَّار الموصلي 645 هـ في كتابه "عقود الجمان"(1)، رواية أبي المُؤيد مُحمّد الخاصّي الخوارزمي عن صدرِ الأفاضل حيث ورد فيه قول ابن الشَّعَّار: وأنشدني أبو المؤَيَّد … قال أنشدنا أبو محمد لنفسه: …

فلعل أبا المؤيّد هذا كان من تلاميذه.

 

‌‌6 - مؤلفات الخوارزمي:

ألف الإِمام صدر الأفاضل الخوارزمي ما يربو على عشرين مؤلفًا في النحو واللغة والبلاغة والأدب، ولم يؤلف -فيما أعلم- في غير هذه الفنون فهو من العلماء باللغة وآدابها أمَّا العلومُ الشرعيةُ والتاريخ … وغيرها فقد ظهرت آثار معرفته فيها في ثنايا مؤلفاته، وإن لم يخصها بالتأليف فلعله كان ينزع إلى فكرة التخصص، أو يرغب في تأليف ما تمس الحاجة إليه، وما يتطلع إليه طلاب العلم في ذلك العهد في موضوع اللغة وآدابها.

ومؤلفات الخوارزمي منها ما وصل إلينا، ومنها ما فُقد أو اختَفى فلم نعثر له على أثر إلى الآن. لذلك رأيت أن أتحدّثَ عن مؤلفاته مقسمة إلى ثلاثة أقسام:

--------------------------------------------

(1) عقود الجُمان: 5/ 299.

২ - আল-মুলাখি? এভাবেই আছে এবং আমি তার সম্পর্কে কিছুই জানি না। আল-খাওয়ারিজমি রচিত হারিরির মাকামাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আত-তাওদিহ"-এর লিপিকার ৩০ নম্বর পৃষ্ঠার হাশিয়ায় (টীকা) এটি উল্লেখ করেছেন। যখন আল-খাওয়ারিজমি তার গ্রন্থ "আল-ইয়ামানি শারহুল ইয়ামিনি"-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তখন লিপিকার গ্রন্থের হাশিয়ায় মন্তব্য করেছেন: "আল-ইয়ামানি" মিম বর্ণে সুকুন এবং নুন বর্ণে কাসরাহ সহকারে, যা আমাদের মাওলানা আল-মুলাখির (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ইজাজতনামায় স্বয়ং গ্রন্থকারের হস্তলিপিতে রয়েছে।

৩ - ইমাম আবুল বারাকাত আল-মুবারক বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুস্তাওফি আল-ইরবিলি (৬৩৯ হিজরি)। তিনি তার গ্রন্থ "ইসবাতুল মুহাসসাল"-এর শুরুতে আল-খাওয়ারিজমি তাকে যে ইজাজত প্রদান করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। তিনি ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন: "সাদরুল আফাদিল আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম বিন আল-হুসাইন বিন আহমাদ আল-খাওয়ারিজমি আমাকে যে বিষয়ে ইজাজত দিয়েছেন তাতে বলেছেন..."।

৪ - ইবনুল শা'আর আল-মাওসিলির (৬৪৫ হিজরি) গ্রন্থ "উকুদুল জুমান"-এর(১) বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আবুল মুয়াইয়্যাদ মুহাম্মাদ আল-খাসসি আল-খাওয়ারিজমি সাদরুল আফাদিল থেকে বর্ণনা করেছেন। সেখানে ইবনুল শা'আরের উক্তি এভাবে এসেছে: "আবুল মুয়াইয়্যাদ আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন... তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মাদ তার স্বরচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন:..."

সম্ভবতঃ এই আবুল মুয়াইয়্যাদ তার ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

 

‌‌৬ - আল-খাওয়ারিজমির রচনাবলি:

ইমাম সাদরুল আফাদিল আল-খাওয়ারিজমি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (অভিধান), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও আদব (সাহিত্য) বিষয়ে বিশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমার জানামতে, এই সকল শাস্ত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করেননি। তিনি ছিলেন ভাষা ও সাহিত্যের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত। তবে শরয়ি জ্ঞান, ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয়ে তার পাণ্ডিত্যের ছাপ তার রচনাবলির মাঝেই ফুটে উঠেছে, যদিও তিনি সেগুলোকে রচনার জন্য নির্দিষ্ট করেননি। সম্ভবতঃ তিনি বিশেষজ্ঞ হওয়ার ধারণার প্রতি আগ্রহী ছিলেন, অথবা তৎকালীন যুগের শিক্ষার্থীরা ভাষা ও সাহিত্যের যে বিষয়গুলোর প্রয়োজন বোধ করত এবং যা তারা অন্বেষণ করত, সেগুলোই তিনি রচনা করতে চেয়েছিলেন।

আল-খাওয়ারিজমির রচনাবলির মধ্যে কিছু আমাদের কাছে পৌঁছেছে, আর কিছু হারিয়ে গেছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে যার কোনো চিহ্ন আজ পর্যন্ত আমরা খুঁজে পাইনি। তাই আমি তার রচনাবলিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি:

--------------------------------------------

(১) উকুদুল জুমান: ৫/ ২৯৯।

(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
القسم الأول: مؤلفاته الموجودة التي اطّلعت عليها.

القسم الثاني: مؤلفاته التي لم أطلع عليها ولا أعلم لها وجودًا، ولكن ذكرها هو في مؤلفاته الأخرى، أو وقف عليها العلماء من بعده، ونقلوا منها منسوبة إليه.

القسم الثالث: مؤلفاته التي ذكرت في كتب التراجم التي ترجمت له.

‌‌القسم الأول، وفيه خمسة كتب:

 

‌‌1 - " شرح سقط الزند": لأبي العلاء المعري:

واسمه "ضرام السقط" عرفه العلماء، ونقلوا عنه قديمًا وحديثًا، وأثنوا عليه، وهو من أوائل مؤلفاته، أتم تأليفه كما قال في خطبته في أوائل المحرم سنة سبع وثمانين وخمسمائة، والشَّمس في الدّرجة الثانية من الدلو، وكان ذلك بسَمَرْقَنْدَ أعادنا الله إليها. هكذا قال عن زمن تأليفه ومكانه. وعرفه الاسفندري 698 هـ ونقل عنه في كتابه "المقتبس" في عدة مواضع منها 3/ 148 .. والبغدادي 1093 هـ في "خزانة الأدب" 3/ 377، وابن معصوم في "أنوار الربيع" 1/ 379 وغيرهم.

و"ضرام السقط" من أوائل كتبه التي طبعت، إذ تمَّ طبعه سنة 1276 هـ في مدينة تبريز على هامش (التَّنوير)، ثم أعادت طباعته وزارة الثقافة المصرية، فطبعه المجلس الأعلى لرعاية الفنون والآداب بالقاهرة، في مطبعة دار الكتب سنة 1364 هـ/1954 م مع شرحي الخطيب التبريزي 502 هـ، وابن السِّيد البَطليوسي 521 هـ، وحققها الأساتذة مصطفى السقا، وعبد الرحيم محمود، وعبد السلام هارون، وإبراهيم الأبياري وحامد عبد المجيد، بإشراف الدكتور طه حسين.

وقد وصفت هذه اللّجنة شرح الخوارزمي بأنه يمتاز بعمق غوصه على أسرار معاني أبي العلاء … وهذه الميزة وحدها تكفي دليلًا واضحًا على أهمية الكتاب وخاصة وهو يشرح كلام رجل من عباقرة اللغة وأساتيذها الأجلاء.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বিদ্যমান রচনাবলি যা আমি দেখেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সেই সব রচনাবলি যা আমি দেখিনি এবং যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কেও আমার জানা নেই, তবে তিনি নিজে তাঁর অন্যান্য রচনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন, অথবা তাঁর পরবর্তী আলেমগণ সেগুলোর সন্ধান পেয়েছেন এবং তাঁর দিকে নিসবত করে তা থেকে উদ্ধৃতি পেশ করেছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সেই সব রচনাবলি যেগুলোর উল্লেখ তাঁর জীবনী গ্রন্থে করা হয়েছে যা তাঁর সম্পর্কে রচিত।

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ, এতে পাঁচটি গ্রন্থ রয়েছে:

 

‌‌১ - "শারহু সাকতিয যান্দ": আবু আল-আলা আল-মাআরি-এর জন্য:

এর নাম হলো "দ্বিরামাস সাকত"। আলেমগণ একে চিনেছেন এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালে তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এটি তাঁর প্রাথমিক দিকের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত। তিনি এর রচনা সম্পন্ন করেছেন—যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেছেন—৫৮৭ হিজরী সনের মহরম মাসের শুরুতে, যখন সূর্য কুম্ভ রাশির দ্বিতীয় ডিগ্রিতে ছিল। এটি সমরকন্দে সম্পন্ন হয়েছিল, আল্লাহ আমাদের সেখানে ফিরিয়ে নিন। তাঁর রচনার সময় ও স্থান সম্পর্কে তিনি এভাবেই বলেছেন। আল-ইসফান্দারি (৬৯৮ হি.) এর পরিচয় দিয়েছেন এবং তাঁর গ্রন্থ "আল-মুকতাবাস"-এর বেশ কয়েকটি স্থানে তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার মধ্যে ৩/১৪৮ উল্লেখযোগ্য। আল-বাগদাদী (১০৯৩ হি.) "খিজানাতুল আদাব" ৩/৩৭৭ গ্রন্থে, ইবনে মাসুম "আনোয়ারুর রাবি" ১/৩৭৯ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

"দ্বিরামাস সাকত" তাঁর প্রথম দিককার মুদ্রিত বইগুলোর একটি, কারণ এটি ১২৭৬ হিজরীতে তাবরিজ শহরে (আত-তানভীর)-এর টীকায় মুদ্রিত হয়েছিল। এরপর মিশরের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এটি পুনরায় মুদ্রণ করে। কায়রোর শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক উচ্চ পরিষদ এটি 'দারুল কুতুব' প্রেসে ১৩৬৪ হিজরী/১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে খতিব তাবরিজি (৫০২ হি.) ও ইবনুস সিদ আল-বাতালইউসি (৫২১ হি.)-এর ব্যাখ্যাসহ মুদ্রণ করে। এটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক মুস্তফা আস-সাক্কা, আবদুর রহিম মাহমুদ, আবদুস সালাম হারুন, ইব্রাহিম আল-আবিয়ারি এবং হামিদ আবদুল মাজিদ, যা ডক্টর তাহা হুসাইনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।

এই কমিটি আল-খোয়ারিজমির ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে আবু আল-আলার অর্থের রহস্যগুলোর গভীরে অবগাহনের বৈশিষ্ট্যে অনন্য বলে অভিহিত করেছে... এই একটি বৈশিষ্ট্যই কিতাবটির গুরুত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট, বিশেষ করে যখন এটি এমন এক ব্যক্তির বক্তব্যের ব্যাখ্যা করছে যিনি ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিভা এবং শ্রদ্ধেয় উস্তাদদের একজন।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد ضمن الخوارزمي شرحه كثيرًا من المباحث اللُّغوية واللّفتات البلاغية، والمسائل النَّحوية، والفوائد التاريخية، كما تعرض فيه لمسائل فقهية وعروضية. وذكر جملة من شوارد اللُّغة وأمثال العرب وأشعارها، ونوادر العرب وحكاياتها … كل ذلك وغيره له أمثلة واضحة في متن الكتاب، ونظرًا إلى أنَّ الكتاب مطبوع مشهور فالقارئ الكريم يستطيع أن يرجع فيه إلى كلّ ما ذكرناه.

 

‌‌2 - كتابُ بَدَائِعِ المُلَحِ:

وهذا الكتاب أيضًا من أقدم مؤلفات الخوارزمي ألفه سنة 590 هـ، وأحال عليه في كتابه: "اليُمني شرح اليَمِينِي" ورقة: 69، ونقل عنه الاسفندري في "المقتبس" 2/ 94.

وقفت على نسخة واحدة من هذا الكتاب فقط، ولا أعرف له نسخة أخرى، وهي محفوظة في مكتبة (لا له لي) في تركيا رقم (1760) تقع في (98) ورقة. وهذه النسخة تنقص ورقة من أولها وبها خرم في وسطها. تبدأ بقوله: … الأشعار، وتخجل في أكمامها الأزهار … (فصل) يقول قاسم بن الحسين بن محمد الخوارزمي رمى الله إليه أزمة المقاصد وخلّى بينه وبين عذارى المحامد، وشَّحت هذا الكتاب بكلّ غُرَّةٍ ووضح، وسمَّيتُهُ: "بَدَائِعَ المُلَحِ" وكسَّرتُهُ على اثني عشر بابًا، وفتحتُ به إلى المحاسِنِ بابًا: وذلك سنة تسعين وخمسمائة …

أمَّا ما يشتمل عليه الكتاب من الأبواب فهو كالتالي:

الباب الأول: في الحكم والأمثال لوحة /2.

الباب الثاني: في مكارم الأخلاق لوحة: 12، وآخره مفقود في الخرم.

الباب الثالث: في الافتخار بالنفس والإِباء لوحة 17، وأول الباب مفقود في الخرم.

الباب الرابع: في الخمر والعزل لوحة 20.

আল-খাওয়ারিজমি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে অনেক ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা, অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সূক্ষ্মতা, ব্যাকরণগত বিষয় এবং ঐতিহাসিক তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি এতে ফিকহ ও ছন্দশাস্ত্রীয় বিষয়াদিও তুলে ধরেছেন। তিনি আরবের বিরল শব্দাবলি, প্রবাদ-প্রবচন, কবিতা, কৌতুক এবং গল্পসমূহের একটি বিশাল অংশ উল্লেখ করেছেন … এই সবকিছুর এবং অন্যান্য বিষয়ের স্পষ্ট উদাহরণ মূল বইটিতে রয়েছে। বইটি মুদ্রিত ও প্রসিদ্ধ হওয়ায় সম্মানিত পাঠক আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সবকিছুর জন্য সেটির দিকে ফিরে যেতে পারেন।

 

‌‌২ - বাদা-ইউল মুলাহ গ্রন্থ:

এই গ্রন্থটিও আল-খাওয়ারিজমির প্রাচীনতম রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি ৫৯০ হিজরিতে রচনা করেছেন। তিনি তাঁর ‘আল-ইয়ুমনি শারহুল ইয়ামিনি’ গ্রন্থের ৬৯ নম্বর পৃষ্ঠায় এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং আল-ইসফান্দারি তাঁর ‘আল-মুকতাবাস’ গ্রন্থের ২/৯৪ অংশে এটি থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি এই বইটির মাত্র একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেয়েছি এবং আমি এর অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে অবগত নই। এটি তুরস্কের (লালেলি) লাইব্রেরিতে ১৭৬০ নম্বরে সংরক্ষিত আছে, যা ৯৮টি পৃষ্ঠা সংবলিত। এই পাণ্ডুলিপিটির প্রথম দিক থেকে একটি পৃষ্ঠা কম রয়েছে এবং এর মাঝখানেও কিছুটা অংশ ছিঁড়ে গেছে। এটি শুরু হয়েছে তাঁর এই কথার মাধ্যমে: … কবিতাগুলো, এবং তার মুকুলে ফুলগুলো লজ্জিত হয় … (পরিচ্ছেদ) কাসিম বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমি বলেন: আল্লাহ তাঁর কাছে লক্ষ্যসমূহের লাগাম অর্পণ করুন এবং তাঁর ও প্রশংসিত গুণাবলির সৌন্দর্যের মাঝে অবাধ সুযোগ করে দিন। আমি এই বইটিকে প্রতিটি শুভ্র চিহ্ন ও ঔজ্জ্বল্য দিয়ে সুশোভিত করেছি এবং এর নাম দিয়েছি: ‘বাদা-ইউল মুলাহ’। আমি একে বারোটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি এবং এর মাধ্যমে সৌন্দর্যের একটি দ্বার উন্মোচন করেছি; আর এটি ছিল ৫৯০ হিজরি সনে …

গ্রন্থটি যেসব অধ্যায় নিয়ে গঠিত তা নিম্নরূপ:

প্রথম অধ্যায়: প্রজ্ঞা ও প্রবাদ-প্রবচন বিষয়ে, পৃষ্ঠা ২।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মহৎ চরিত্র সম্পর্কে, পৃষ্ঠা ১২; এর শেষ অংশটি পাণ্ডুলিপির ছিন্ন অংশে হারিয়ে গেছে।

তৃতীয় অধ্যায়: আত্ম-গৌরব ও আত্মমর্যাদা সম্পর্কে, পৃষ্ঠা ১৭; অধ্যায়ের শুরুটি পাণ্ডুলিপির ছিন্ন অংশে হারিয়ে গেছে।

চতুর্থ অধ্যায়: মদ ও নির্জনতা সম্পর্কে, পৃষ্ঠা ২০।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
الباب الخامس: في الأوصاف والتشبيهات: لوحة: 29.

الباب السادس: في الثناء والشكر والاستماحة: لوحة: 35.

الباب السابع في المكاتبات: لوحة: 55.

الباب الثامن: في الهجاء والمجون: لوحة: 60.

الباب التاسع: في شكاية الدَّهر وأهله: لوحة: 67.

الباب العاشر: في التهاني والتعازي: لوحة: 74.

الباب الحادي عشر: في الشيب والزهد: لوحة: 81.

الباب الثاني عشر: في لطائف الحكايات: لوحة: 92.

وقد ضمن هذه الأبواب مقطعات شعرية لمجموعة من الشعراء المحدثين الذين عاشوا في العصر العباسي، ومنهم شعراء عاصرهم صدر الأفاضل، وهؤلاء الشعراء هم في الغالب من نفس الإِقليم الذي عاش فيه، ومن هنا تأتي أهمية هذا الكتاب حيث سجَّل فيه مقطعات لشعراء عصره قد لا توجد في مصدر آخر. كما أنَّ المؤلفَ يختتم كل باب بمقطوعة من شعره هو، وهذا يعطي الباحث الدليل على قُوَّة شاعريته إلى جانب وفرة شعره وغزارته، وتنوّع أغراضه، وقدرته على التعبير عما يجيش في نفسه في كل غرض من أغراض الشعر الرحبة مع فصاحة في اللسان، وقوة في البيان.

والشّعراء الذين اختار لهم الشعر -بالِإضافة إلى ما ذكر لنفسه- هم: أبو العلاء المعري، وأبو الحسن التهامي، وأبو منصور الكاتب (صرَّبعر) والصاخب بن عباد، وأبو الفتح البستي، وأبو بكر الخوارزمي، وأبو الخطاب محمد بن علي الجُبَّلي، وهو ممن عاصر أبا العلاء المعري، وابن الرومي والسَّرِيّ الرفاء، وبديع الزمان الهمذاني، ونصر بن سيَّار، ومؤيَّد الملك أبو إسماعيل الكاتب، والإِمام جار الله الزَّمَخْشَريّ، وأوحد الزمان الغزي والشّريف الرضي، والشَّريف المُرتَضَى، وأبو الفَضل المِيكالِيّ، وزين العرب الأبيوَرْدِيّ، وعبد الوهاب بن نوح، وعبد الصمد بن بابَك، وأبو سعيد الرُّسَتُمِيّ، ومسعود بن سعد بن سليمان، وبديع الترك الأجّي، والقاضي
পঞ্চম অধ্যায়: বর্ণনা ও উপমাসমূহ প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ২৯।

ষষ্ঠ অধ্যায়: প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও ক্ষমা প্রার্থনা প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৩৫।

সপ্তম অধ্যায়: পত্রালাপ প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৫৫।

অষ্টম অধ্যায়: বিদ্রূপ ও নির্লজ্জতা প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৬০।

নবম অধ্যায়: কাল ও সমকালীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৬৭।

দশম অধ্যায়: অভিনন্দন ও সমবেদনা প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৭৪।

একাদশ অধ্যায়: বার্ধক্য ও সংসারবিরাগ প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৮১।

দ্বাদশ অধ্যায়: সূক্ষ্ম ও আকর্ষণীয় গল্পসমূহ প্রসঙ্গে: পৃষ্ঠা: ৯২।

এই অধ্যায়গুলোতে আব্বাসীয় যুগে বসবাসকারী একদল আধুনিক কবির কাব্যখণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ সদরুল ফাযায়িল-এর সমসাময়িক ছিলেন। এই কবিদের অধিকাংশ মূলত সেই অঞ্চলেরই বাসিন্দা যেখানে তিনি বসবাস করতেন। এই গ্রন্থের গুরুত্ব এখানেই নিহিত যে, এতে এমন সব সমসাময়িক কবিদের কাব্যখণ্ড লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যা অন্য কোনো উৎসে পাওয়া না-ও যেতে পারে। একইভাবে, লেখক প্রতিটি অধ্যায় তার নিজস্ব কবিতার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যা গবেষককে তার কবিত্ব শক্তির প্রমাণ দেয়। এর পাশাপাশি তার কবিতার প্রাচুর্য ও প্রাচুর্যতা, বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য এবং কবিতার বিশাল অঙ্গনের প্রতিটি শাখায় নিজের মনের ভাব সাবলীল ভাষা ও শক্তিশালী বর্ণনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

আর নিজের কবিতার পাশাপাশি তিনি যাদের কবিতা নির্বাচন করেছেন তারা হলেন: আবুল আলা আল-মা'আররি, আবুল হাসান আত-তুহামি, আবু মনসুর আল-কাতিব (সররা-বা'র), আস-সাহিব বিন আব্বাদ, আবুল ফাতহ আল-বুসতি, আবু বকর আল-খাওয়ারিজমি, আবুল খাত্তাব মুহাম্মদ বিন আলি আল-জুব্বালি (যিনি আবুল আলা আল-মা'আররির সমসাময়িক ছিলেন), ইবনে রুমি, আস-সাররি আর-রাফ্ফা, বাদিউজ্জামান আল-হামাদানি, নাসর বিন সাইয়্যার, মুয়াইয়্যাদুল মুলক আবু ইসমাইল আল-কাতিব, ইমাম জারুল্লাহ আল-যামাখশারি, আওহাদুয যামান আল-গাযযি, আশ-শরিফ আল-রাযি, আশ-শরিফ আল-মুরতাদা, আবুল ফজল আল-মিকালি, যাইনুল আরব আল-আবিওয়ারদি, আব্দুল ওয়াহহাব বিন নূহ, আব্দুল সামাদ বিন বাবাক, আবু সাঈদ আল-রুসতুমি, মাসউদ বিন সাদ বিন সুলাইমান, বাদিউত তুর্ক আল-আজ্জি এবং আল-কাদি।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
التَّنوخي، وجَحظة البَرمكي، والخطيب معين الدّين الحَصكَفِيّ، والباخَرْزِيّ والخازِنُ، وَصفِيّ المُلك علي بن محمد الخاتُونيّ، وشمسُ الشعراء طَلحَة النُّعمَانِيّ، وحسامُ الدين النَّسفِيّ، وأبو إسحاق الصّابي، والثَّعالبيّ، والوأواء الدِّمَشقيّ، وابن سُكّرة الهاشمي، والحَريري، وناصر بن أبي المكارم المُطَرّزِيّ، وابن نَباتَةِ السَّعدي، والحاكم المُطَوّعِي، ومِهْيَار الدَّيلَمِيّ، وأبو علي الدَّقاق، ومجير الدَّولة، وصدرُ الأئِمَّة أخطب خُوارَزم، وشِبْلُ الدَّولة، وأبو العَلاء الغانِمِيّ، وذو الفَضائل الأخْسِيتكيّ ومُنتَخَبُ الملك الخاتُوني، ورَضِيّ الدّين النَيسابُورِيّ، والتَّنوخي وعبد القاهر الجرجاني وابن حَجّاج، وابنُ العَميد، وأبو الفَرج بن هِندو، وابن سناء الحكيم، ورَشيد الدّين الوَطوَاط، والكَركَس الخُوارَزمي، وأبو نصر الهَيضَم، وشمسُ الأفاضل الضَّائِعِي، وأبو سعيد لا يَليق وغيرهم ممن ذَهَبَ في الخَرم الذي أصاب الكتاب.

وعدد الأبيات التي وردت في هذه المخطوطة: (889) بيتًا، موزعة على أحد عشر بابًا في الكتاب دون مراعاة لعدد الأبيات في كل باب. فمثلًا في باب الثَّناء والشُّكر أورد: (195) بيتًا، بينما ورد في باب الأوصاف والتشبيهات: (62) بيتًا. وقد ختمَ المؤلف الكتاب بالباب الثاني عشر وخصصه لِلَطائف الحكايات والمحاضرات.

والمؤلف مسبوق إلى هذا اللَّون من التأليف بكتاب ألفه البارع الحُسين بن محمد بن عبد الوهاب الدَّبَاس البَغدادي الشاعر المتوفى سنة 524 هـ وسماه: "طَرَائِفَ الطُّرَف". وقفت له على عدّة نسخ لا مجال لذكرها وربما نُسب كتابُ الدَّبَّاس هذا إلى الإِمام الثعالبي 429 هـ في بعض النسخ ولا نريد الآن أن نحقق في هذا الأمر فعلى أية حال هو مسبوق إليه. وكتاب: "بَدَائِعِ المُلَحِ". المؤلف على منهج وطريقة كتاب: "طَرَائِفَ الطُّرف" مختارات لشعراء عبَّاسيين في اثني عشر بابًا والباب الثاني عشر في منثور الحكايات، ويختتم كل باب بمقطوعة من شعره.
তানুখি, জাহজা আল-বারমাকি, খতিব মুঈন আদ-দিন আল-হাসকাফি, আল-বাখারজি, আল-খাজিন, সাফিয়্যুল মুলক আলি বিন মুহাম্মাদ আল-খাতুনি, শামসুশ শুআরা তালহা আন-নুমানি, হুসামুদ্দিন আন-নাসাফি, আবু ইসহাক আস-সাবি, আস-সাআলিবি, আল-ওয়াওয়া আদ-দিমাশকি, ইবনে সুক্কারা আল-হাশেমি, আল-হারিরি, নাসির বিন আবিল মাকারিম আল-মুতরিজি, ইবনে নাবাতা আস-সাদি, আল-হাকিম আল-মুতায়ি, মিহয়ার আদ-দাইলামি, আবু আলি আদ-দাক্কাক, মুজিরুদ দাওলা, সদরুল আইম্মাহ আখতাব খুয়ারিজম, শিবলুদ দাওলা, আবু আল-আলা আল-গানিম, জুল ফাদায়িল আল-আখসিতাকি, মুনতাখাবুল মুলক আল-খাতুনি, রাজিউদ্দিন আন-নায়সাবুরি, তানুখি, আবদুল কাহির আল-জুরজানি, ইবনে হাজ্জাজ, ইবনুল আমিদ, আবু আল-ফারাজ বিন হিন্দু, ইবনে সানা আল-হাকিম, রশিদ আদ-দিন আল-ওয়াতওয়াত, আল-কারকাস আল-খুয়ারিজমি, আবু নাসর আল-হাইসাম, শামসুল আফাদিল আদ-দায়ি, আবু সাঈদ লা ইয়ালিক এবং অন্যান্যরা যাদের নাম কিতাবটিতে হওয়া ছিদ্র বা নষ্ট হওয়ার কারণে হারিয়ে গেছে।

এই পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত শ্লোক সংখ্যা হলো (৮৮৯) টি, যা কিতাবের এগারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত; তবে প্রতিটি অধ্যায়ের শ্লোক সংখ্যার সমতার প্রতি লক্ষ রাখা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, 'প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা' অধ্যায়ে তিনি (১৯৫) টি শ্লোক উল্লেখ করেছেন, যেখানে 'গুণাবলি ও উপমা' অধ্যায়ে এসেছে মাত্র (৬২) টি শ্লোক। লেখক কিতাবটি দ্বাদশ অধ্যায়ের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন এবং একে সূক্ষ্ম কৌতুকপূর্ণ গল্প ও সাহিত্যিক আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।

এই ধরনের রচনার ক্ষেত্রে লেখকের পূর্বে প্রাজ্ঞ কবি আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহাব আদ-দাব্বাস আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৫২৪ হিজরি) একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "তারায়িফুত তুরাফ"। আমি এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি যা এখানে উল্লেখ করার অবকাশ নেই; সম্ভবত কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে আদ-দাব্বাসের এই কিতাবটি ইমাম আস-সাআলিবি (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি)-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে। আমরা বর্তমানে এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় প্রবৃত্ত হতে চাই না; যাই হোক, লেখক এ পদ্ধতিতে তাঁর দ্বারা পূর্বসুরি। এবং "বাদায়িউল মুলাহ" কিতাবটিও অনুরূপ। লেখক এখানে "তারায়িফুত তুরাফ" কিতাবের মানহাজ ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; যা মূলত বারোটি অধ্যায়ে আব্বাসীয় কবিদের বাছাইকৃত কবিতার সংকলন এবং দ্বাদশ অধ্যায়টি গদ্য কাহিনীর জন্য রাখা হয়েছে। আর তিনি প্রতিটি অধ্যায় নিজের রচিত একটি খণ্ড-কবিতার মাধ্যমে সমাপ্ত করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهكذا حذا الخوارزمي حذو الدَّبَّاس، ولم يشر إلى وقوفه عليه ولا اتباعه لمنهجه سامحه الله وغفر له.

 

‌‌3 - كتاب اليُمِنيّ شرح اليَمِينِيّ:

كتاب: (اليَمِينِيّ) مما عنى بتأليفه محمد بن عبد الجبّار العُتْبِيّ 427 هـ وقد تناول فيه سيرة يمين الدولة محمود بن سُبُكْتَكين الغَزنَوِيّ. وألفه بأسلوب أدبي رفيع، مما جعله يدخل في عداد كتب الأدب التي يتسابق الطلبة على حفظها ودرايتها، وقد اهتم به جماعة من العلماء فشرحوه وفسّروا ألفاظه ومعانيه. وقد بادر الخوارزمي إلى شرحه بعبارة موجزة مختصرة وسماه: (اليُمنِيّ).

ذكره العلماء الذين ترجموا له في عداد مؤلفاته، منهم ياقوت الحموي في معجم الأدباء: 16/ 253، وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 299 وقد وقفت على أربع من نسخ الكتاب وهذا بيانها:

1 - نسخة محفوظة في مكتبة "حميدية" بتركيا رقم: (1004) وهي أجود النسخ وأقدمها، تقع في (62) ورقة بخط فارسي قديم جميل، كثير الضبط، وفي آخر النسخة ترجمة المؤلف ذكر فيها بعض مؤلفاته وهي نسخة مقروءة ومصححة. قال ناسخها: تمت المقابلة والعرض والتصحيح بعد عصر يوم الأحد بعون الله الأحد الصمد في سنة إحدى وخمسين وستمائة بكاشان. وهذه هي أم النسخ والنسخ الأخرى -فيما أظنُّ- منقولة عنها. وهي ضمن مجموع.

2 - نسخة "حميدية" أيضًا رقم: (1168) منقولة عن سابقتها بكاشان أيضًا سنة 1144 هـ ضمن مجموع (100 - 168).

3 - نسخة "رئيس الكتاب" رقم: (758) متأخرة جدًّا لا تحمل تاريخًا، جميلة الخط كثيرة التَّصحيف والتَّحريف.

4 - نسخة "ولي الدين" رقم: (2432) وهي بنفس خط نسخة "حميدية" رقم: (1168) وناسخها هو: أبو الحسن محمد بن مجيب بن أحمد بن
এভাবে খাওয়ারিজমি আদ-দাব্বাসের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তিনি যে তার কিতাবটি দেখেছেন বা তার মানহাজ অনুসরণ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন।

 

‌‌৩ - কিতাবুল ইউমিনি শারহুল ইয়ামিনি:

কিতাব: (আল-ইয়ামিনি) মুহাম্মদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতবি (মৃত্যু ৪২৭ হি.) রচনার প্রয়াস পেয়েছিলেন। এতে তিনি ইয়ামিনুদ দাওলা মাহমুদ বিন সবুক্তগিন আল-গজনভির জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি এটি অত্যন্ত উচ্চমানের সাহিত্যিক শৈলীতে রচনা করেছেন, যা একে এমন এক সাহিত্যগ্রন্থের মর্যাদায় আসীন করেছে যা মুখস্থ করতে এবং অনুধাবন করতে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা করত। একদল আলেম এই কিতাবটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, তারা এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর শব্দাবলি ও অর্থসমূহ বিশ্লেষণ করেছেন। খাওয়ারিজমি সংক্ষিপ্ত ও সংহত ভাষায় এটি ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ নেন এবং এর নামকরণ করেন: (আল-ইউমিনি)।

যারা তার জীবনী লিখেছেন সেই আলেমগণ তার রচনাবলির তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াকুত আল-হামাউই ‘মু'জামুল উদাবা’ গ্রন্থে: ১৬/২৫৩ এবং ইবনুশ শা’আর ‘উকুদুল জুমান’ গ্রন্থে: ৫/২৯৯। আমি এই কিতাবটির চারটি পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং সেগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:

১ - তুরস্কের "হামিদিয়া" লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি, যার নম্বর: (১০০৪)। এটি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, যা প্রাচীন ও সুন্দর ফারসি লিপিতে ৬২টি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত এবং এটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে স্বরচিহ্নযুক্ত। পাণ্ডুলিপির শেষে লেখকের জীবনী রয়েছে যেখানে তার কিছু রচনার উল্লেখ আছে। এটি একটি পঠিত ও সংশোধিত পাণ্ডুলিপি। এর অনুলিপিকারক বলেছেন: আল্লাহর সাহায্যে—যিনি অদ্বিতীয় ও অমুখাপেক্ষী—৬৫১ হিজরিতে কাশানে রবিবার আসরের পর এর মোকাবিলা, উপস্থাপন ও সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে। এটিই হলো পাণ্ডুলিপিগুলোর মূল এবং অন্য পাণ্ডুলিপিগুলো—আমার ধারণা মতে—এ থেকেই অনুলিপি করা হয়েছে। এটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।

২ - "হামিদিয়া" লাইব্রেরিরই আরেকটি পাণ্ডুলিপি, নম্বর: (১১৬৮)। এটিও ১১৪৪ হিজরিতে কাশানে পূর্বোক্ত পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এটি একটি সংকলনের (১০০ - ১৬৮) মধ্যে রয়েছে।

৩ - "রাইসুল কুতুব" পাণ্ডুলিপি, নম্বর: (৭৫৮)। এটি অনেক পরবর্তী সময়ের এবং এতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। এর লিপি সুন্দর হলেও এতে প্রচুর শব্দগত ও অর্থগত বিকৃতি রয়েছে।

৪ - "ওয়ালিউদ্দিন" পাণ্ডুলিপি, নম্বর: (২৪৩২)। এটি "হামিদিয়া" পাণ্ডুলিপির (নম্বর: ১১৬৮) অনুরূপ লিপিতে লিখিত এবং এর অনুলিপিকারক হলেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন মুজিব বিন আহমদ বিন
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
الحسين. وعدد أوراقها: (69) ورقة أثنى الناسخ على الكتاب بقوله:

لَقَدْ شَرَحَ الأُستَاذُ صَدرُ الأفاضِلِ … يَمِيْنِيَّ عُتْبيٍّ وَسَمَّاه باليُمني

فَمَنْ كانَ بالإِمعَانِ فيه مُطالِعًا … تَشَرَّفَ بالإِقبالِ والرُّشدِ واليُمنِ

 

‌‌مقدمة الكتاب:

أوله: الحمد الله الذي أخرج لكل فن رجلًا يحلُّ يفاعه .. وبعد: فإني لمّا قرأت كتاب: اليَمني للكامل ملك الكلام محمد بن عبد الجبار المعروف بأبي نَصر العُتْبِيّ رحمه الله … فشرحت على تَرتيب الصِّحاح ما فيه من المَفاريد المُشكلة، والحكايات النادرة، والأمثال العويصة، وأعلام الرّجال والأماكن المُبهَمَة، من عربيها وأعجميها … وسمّيتُهُ كتاب: "اليُمْنِيّ في شرح اليَمِيْنِيّ" والله في كل ما أتوقَّاه يَقِيني.

وقد تحدث الخوارزمي في الكتاب عن المفردات فشرحها شرحًا لغويًا مرتبة على حروف المعجم، ثم تحدث عن المركبات مرتبة ترتيبًا معجميًا أيضًا، وقدم قبل ذلك مقدمة تاريخية عن دولة آل سامان الذين ألف الكتاب في سيرة أحد ملوكهم ولم يقتصر الخوارزمي على العرض الجاف للكلمة ومعناها، أو الكلمة المركبة وما تشير إليه، بل عرض فيه من المعلومات الأدبية والمسائل النحوية والحكايات المستظرفة والوقائع التاريخية ما أزال جفاف اللغة الخالص مما جعل القارئ لكتابه لا يحس بالسأم والملل، كل ذلك بطريقة مبسطة مختصرة بأسلوب أدبي سلس.

أما مصادره في هذا الكتاب فإنها تتنوع بتنوع المعلومات التي يوردها فمنها المصادر التاريخية مثل: "تاريخ خوارزم الكبير"، و"تاريخ الولاة والفقهاء بنيسابور" و"القَند في تاريخ سَمَرْقَنْدَ" و"مختصر تاريخ الخلفاء".

ومن المصادر اللغوية: "الصحاح"، و "التهذيب" و "الأساس" و"ما تلحن فيه العامة لأبي حاتم" و "شرح الفَصيح للمرزوقي"، و "الفائق لابن جني" وهو شرح "المقصور" لابن السكيت، و "شرح مقصورة ابن دريد لابن
আল-হুসাইন। এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা: (৬৯) পাতা। পাণ্ডুলিপিকার এই কিতাবটির প্রশংসা করে বলেছেন:

নিশ্চয়ই উস্তাদ সদরুল আফাযিল ব্যাখ্যা করেছেন … উতবীর ইয়ামিনীকে এবং এর নাম রেখেছেন আল-ইউমনি

অতঃপর যে ব্যক্তি গভীর মনোযোগের সাথে এটি অধ্যয়ন করবে … সে সৌভাগ্য, সঠিক পথ লাভ এবং বরকতে সম্মানিত হবে

 

‌‌কিতাবটির ভূমিকা:

এর শুরু: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি প্রত্যেক শাস্ত্রের জন্য এমন একজন ব্যক্তি সৃষ্টি করেছেন যিনি তার শিখর উন্মোচন করেন .. অতঃপর: যখন আমি কালামের বাদশাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল জব্বার, যিনি আবু নাসর আল-উতবী (রাহিমাহুল্লাহ) নামে পরিচিত, তার ইয়ামিনী কিতাবটি পাঠ করলাম … তখন আমি 'সিহাহ'-এর বিন্যাস অনুযায়ী এতে থাকা জটিল একক শব্দসমূহ, বিরল কিসসা-কাহিনী, দুরূহ প্রবাদসমূহ এবং অস্পষ্ট ব্যক্তি ও স্থানের নামসমূহ ব্যাখ্যা করেছি, চাই তা আরবি হোক বা অনারবি … এবং আমি এর নাম দিয়েছি: "আল-ইউমনি ফি শারহিল ইয়ামিনী"; আর আমি যা কিছু থেকে আত্মরক্ষা করতে চাই, সে সব বিষয়ে আল্লাহ-ই আমার রক্ষাকারী।

আর আল-খাওয়ারিজমি এই কিতাবে একক শব্দসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোকে অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী ভাষাতাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। অতঃপর তিনি যৌগিক শব্দসমূহ সম্পর্কেও অভিধানের বিন্যাস অনুযায়ী আলোচনা করেছেন। এর আগে তিনি সামানি বংশের রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পেশ করেছেন, যাদের অন্যতম একজন রাজার জীবনী নিয়ে কিতাবটি রচিত হয়েছে। আল-খাওয়ারিজমি কেবল শব্দ ও তার অর্থের নীরস উপস্থাপনা বা যৌগিক শব্দ ও তার নির্দেশিত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি এতে এমন সব সাহিত্যিক তথ্য, ব্যাকরণগত মাসআলা, চমকপ্রদ কাহিনী এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন যা ভাষার নিছক কাঠিন্য দূর করে দিয়েছে, ফলে কিতাবটির পাঠক কোনো ক্লান্তি বা একঘেয়েমি অনুভব করে না। এই সমস্ত কিছুই তিনি করেছেন সহজ, সংক্ষিপ্ত এবং সাবলীল সাহিত্যিক শৈলীতে।

এই কিতাবে তার উৎসসমূহের ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি এতে যে ধরণের তথ্য দিয়েছেন তার উৎসগুলোও তেমনি বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে ঐতিহাসিক উৎসসমূহ হলো যেমন: "তারিখে খাওয়ারিজম আল-কাবীর", "তারিখুল উলাত ওয়াল ফুকাহা বি-নিশাপুর", "আল-কান্দ ফি তারিখে সামারকান্দ" এবং "মুখতাসারু তারিখিল খুলাফা"।

আর ভাষাতাত্ত্বিক উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে: "আস-সিহাহ", "আত-তাহযীব", "আল-আসাস", আবু হাতিমের "মা তালহানু ফিহিল আম্মাহ", আল-মারযুকির "শারহুল ফাসিহ", ইবনু জিন্নির "আল-ফায়িক" যা ইবনুস সিক্কিতের "আল-মাকসুর"-এর ব্যাখ্যা এবং ইবনু দুরাইদের "মাকসুরা"-এর ইবনু...
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
خالويه" و "المستقصى للزمخشري" … وغيرها.

ونقل عن كتاب "البَحر للرَّويَانِيّ" وقال: هو كتاب في مذهب الشافعي يحتوي على ثلاثين مجلّدًا، و"المسائل الخلافية في الفقه".

كما نقل عن "فردوس الحكمة" لأبي زبّن الطَّبري، و"المدخل التعليمي" لمحمد بن زكريا الرازي في الطب … وغير ذلك.

 

‌‌4 - شرح المقامات الحريرية: واسمه: "التوضيح":

ذكر في صدر مؤلفاته في كتب التراجم انظر معجم الأدباء: 16/ 253، وعقود الجمان: 5/ 298.

ونقل عنه الاسفندري 698 هـ في كتاب "المقتبس" انظر: 1/ 119، 121، 127، 202، 215، 251. 2/ 95، 119، 143 ..

و"المقامات الحريرية" لأبي محمد القاسم بن علي الحريري 446 - 516 هـ شرحها كثير من العلماء قبل الخوارزمي وبعده، منهم شيخه ناصر بن أبي المكارم المطرزي وسمَّى شرحه: "الإِيضاح".

وكتاب الخوارزمي من الكتب التي وصلتنا، ومنه نسخة واحدة محفوظة في مكتبة برلين رقم: "8543" وهي نسخة كاملة في مجلد يحتوي على جزءين وهي نسخة مقروءة مصححة، ويظهر لي أنها منقولة عن نسخة بخط الإِمام الاسفندري 698 هـ وكاتبها مسعود بن مظفّر بن مؤيّد، أحد طلبة الاسفندري، لأنّ في ورقة العنوان بعض التَّعليقات عن الاسفندري بخطّ الناسخ ويصفه فيها بـ (مولانا) و (الأستاذ) وتاريخ نسخ الكتاب يوم عرفة التاسع من ذي الحجة عام 701 هـ في (225) ورقة أما تاريخ الانتهاء من تأليف الكتاب فقد جاء في الورقة الأخيرة منه: فرغت من كتاب: "التَّوضيح شرح المقامات الحريرية" إنشاء وكتابة في الثامن عشر من شهر ربيع الآخر الواقع في سنة تسع وستمائة.
খালুওয়াইহ এবং যামাখশারীর "আল-মুস্তাকসা" … এবং অন্যান্য গ্রন্থ।

তিনি আর-রূইয়ানীর "আল-বাহর" কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং বলেছেন: এটি শাফেয়ী মাযহাবের একটি কিতাব যা ত্রিশটি খণ্ডে সমাপ্ত, এবং "আল-মাসায়েলুল খিলাফিয়্যাহ ফিল ফিকহ"।

তদ্রূপ তিনি আবু যাবান আত-তাবারীর "ফিরদাউসুল হিকমাহ" এবং চিকিৎসা শাস্ত্র বিষয়ে মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া আর-রাযীর "আল-মাদখালুত তালীমী" … ও অন্যান্য কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

 

‌‌৪ - শারহুল মাকামাতিল হারিরিয়্যাহ: এর নাম হলো: "আত-তাওযীহ":

জীবনী গ্রন্থাবলীতে তাঁর রচনার শুরুতে এটি উল্লিখিত হয়েছে, দেখুন মু'জামুল উদাবা: ১৬/ ২৫৩ এবং উকূদুল জুমান: ৫/ ২৯৮।

আল-ইসফান্দারী (মৃত্যু ৬৯৮ হিজরী) তাঁর "আল-মুকতাবাস" কিতাবে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, দেখুন: ১/ ১১৯, ১২১, ১২৭, ২০২, ২১৫, ২৫১। ২/ ৯৫, ১১৯, ১৪৩...

আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন আলী আল-হারিরীর (৪৪৬ - ৫১৬ হিজরী) "মাকামাতুল হারিরিয়্যাহ" গ্রন্থটির ব্যাখ্যা আল-খাওয়ারিজমীর পূর্বে ও পরে অনেক আলেম লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর উস্তাদ নাসির বিন আবুল মাকারিম আল-মুতারাযী এবং তিনি তাঁর ব্যাখ্যার নাম দিয়েছিলেন: "আল-ঈযাহ"।

আল-খাওয়ারিজমীর কিতাবটি সেই সকল কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি বার্লিন লাইব্রেরিতে "৮৫৪৩" নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি যা এক ভলিউমের দুটি অংশে বিভক্ত এবং এটি পাঠযোগ্য ও সংশোধিত। আমার নিকট এটি স্পষ্ট যে, এটি ইমাম ইসফান্দারীর (৬৯৮ হিজরী) হস্তলিপিতে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। এর লেখক হলেন মাসউদ বিন মুজাফফর বিন মুআইয়াদ, যিনি ইসফান্দারীর একজন ছাত্র ছিলেন। কারণ এর শিরোনাম পাতায় ইসফান্দারীর উদ্ধৃতিতে লিপিকারের হস্তাক্ষরে কিছু টীকা রয়েছে যেখানে তিনি তাঁকে 'মাওলানা' ও 'আল-উস্তাদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিতাবটি নকল করার তারিখ হলো ৭০১ হিজরীর ৯ই যিলহজ আরাফাহর দিন এবং এটি (২২৫) পৃষ্ঠার। আর কিতাবটির রচনা সম্পন্ন করার তারিখ সম্পর্কে শেষ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: আমি ৬০৯ হিজরীর ১৮ই রবিউস সানী তারিখে "আত-তাওযীহ শারহুল মাকামাতিল হারিরিয়্যাহ" কিতাবটির রচনা ও অনুলিপি শেষ করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
أوله: الحمد الله المتنزه توحيده عن الاستفهام ..

وذكر في المقدمة أنه شرح هذا الكتاب إجابة لطلب بعض أصحابه حيث يقول: وبعد: فإنَّ بعض أصحابي ممن لهم عليَّ حقوق، وصرفه بالحرمان عقوق، قد حدَّثني أنه عليل، وحشو فؤاده غليل، وأني لغلته ناضح بالريَّ، لو شرحت له مقامات الحريري … فاستقبله بكيت وكيت، وهو يعارضني شئت أو أبيت، حتَّى ألان شكائمي، وفسخ عزائمي، فشرحتها عن آخرها تَشريحا، وأَوضحتها له "توضيحا" عسى أن أتخلّص منه وأستريحا.

ثم ذكر روايته لكتاب: "المقامات" فقال: أخبرنا بمتن المقامات سماعًا وقراءة الإِمام العالم الكبير شيخ الخطباء فخر الأئمة أبو المؤيد عبد الكريم بن عبد الواحد الأنماطي عن أشياخه الثلاثة زكريا بن علي البغدادي المعروف: بـ (ابن السجادة) وشمس الشعراء طلحة بن أحمد النعماني، والقاضي الإِمام ظهير الدين الباقرحي، وكلهم عن المنشئ رحمهم الله.

وهو شرح يغلب عليه الاتجاه اللُّغوي، وقد استفاد كثيرًا من شرح شيخه ناصر بن أبي المكارم المطرّزي، ولم يشر إلى ذلك. هذا ما يظهر لي من تشابه نصوصهما واتحاد مأخذهما، إلا أن يكون اتحاد مصادرهما هو السبب في ذلك لا سيما أن الخوارزمي ألف شرحه في حياة شيخه.

وما قلناه في شرحه اليميني للعتبي، من حيث رجوعه إلى كتب متعددة في مختلف الفنون، فلا حاجة بنا إلى إعادة ما قلناه ويغلب على هذا الشرح إيراد الشواهد الشعرية سواء كانت هذه الشواهد لشعراء يحتج بشعرهم أو لشعراء عباسيين لا يحتج بشعرهم مثل أبي الطيب المتنبي وأبي تمام والبحتري وأبي فراس الحمداني وأبو بكر الخوارزمي وأبى العلاء المعري، وزين العرب الأبيوردي وأبي منصور الكاتب وغيرهم.

 

‌‌5 - شرح المفصل "الشرح الكبير" واسمه "التَّخمير":

وهو موضوع هذا البحث سنتحدث عنه بالتفصيل إن شاء الله في فصل مستقل.
এর শুরু: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর একত্ববাদ জিজ্ঞাসার ঊর্ধ্বে...

তিনি মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর কিছু বন্ধুর অনুরোধে এই বইটি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন: "অতঃপর: আমার এমন কিছু বন্ধু যাদের আমার ওপর অধিকার রয়েছে, আর তাদের বঞ্চিত করা অবাধ্যতার শামিল। তারা আমাকে জানিয়েছে যে সে (বন্ধু) পীড়িত এবং তার অন্তরে রয়েছে ব্যাকুল তৃষ্ণা। আমি যদি 'মাকামাত আল-হারীরি' ব্যাখ্যা করি তবেই যেন তার সেই তৃষ্ণা নিবারিত হবে। ... সে আমার কাছে অনেক অনুনয়-বিনয় নিয়ে আসল এবং আমি চাই বা না চাই সে আমার বিরোধিতা করতে লাগল, শেষ পর্যন্ত সে আমার কঠোরতাকে শিথিল করে দিল এবং আমার সংকল্প পরিবর্তন করে দিল। তাই আমি এটি আদ্যোপান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করেছি এবং তার জন্য বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যাতে আমি তার থেকে নিষ্কৃতি পাই এবং স্বস্তি লাভ করি।"

এরপর তিনি 'মাকামাত' গ্রন্থটি বর্ণনার সূত্র উল্লেখ করে বলেন: "আমাদেরকে মাকামাতের মূল পাঠ শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে জানিয়েছেন মহান আলেম ইমাম, খতীবদের শায়খ, আইম্মাহদের গৌরব আবু আল-মুয়াইয়িদ আব্দুল কারিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-আনমাতি। তিনি তাঁর তিনজন শায়খের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: যাকারিয়া বিন আলী আল-বাগদাদী (যিনি ইবনুস সাজ্জাদাহ নামে পরিচিত), শামসুশ শুআরা তালহা বিন আহমাদ আল-নুমানী এবং ইমাম ও বিচারপতি জহীরুদ্দিন আল-বাকারিহী। তাঁরা সকলেই গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন।"

এটি এমন একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ যাতে ভাষাতাত্ত্বিক দিকটি প্রবল। তিনি তাঁর উস্তাদ নাসির বিন আবি আল-মাকারিম আল-মুতাররিজীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন, তবে তিনি তা উল্লেখ করেননি। তাদের পাঠ্যের সাদৃশ্য এবং উৎসের অভিন্নতা থেকে আমার কাছে এটিই প্রতীয়মান হয়; অবশ্য তাদের মূল উৎসের অভিন্নতাও এর কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু খাওয়ারেজমি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি তাঁর উস্তাদের জীবিত থাকাকালেই রচনা করেছিলেন।

আল-উতবীর 'শরহে ইয়ামিনী' সম্পর্কে আমরা যা বলেছি—বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে বহু গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে—সেটির পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে কাব্যিক প্রমাণের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়, চাই সেই প্রমাণগুলো এমন কবিদের হোক যাদের কবিতা দলীল হিসেবে গ্রহণীয়, অথবা এমন আব্বাসীয় কবিদের যাদের কবিতা দলীল হিসেবে গণ্য নয়—যেমন আবু তাইয়িব আল-মুতানাব্বি, আবু তাম্মাম, আল-বুহতুূরি, আবু ফিরাত আল-হামদানি, আবু বকর আল-খাওয়ারেজমি, আবুল আলা আল-মাআররি, যয়নুল আরব আল-আবিওয়ার্দি, আবু মনসুর আল-কাতিব এবং অন্যান্যরা।

 

‌‌৫ - আল-মুফাসসালের ব্যাখ্যা "আশ-শারহুল কাবীর" এবং এর নাম "আত-তাখমীর":

এটিই এই গবেষণার মূল বিষয়, ইনশাআল্লাহ একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আমরা এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌القسم الثاني من مؤلفاته: وفيه ستة كتب وهي:

‌‌1 - " زوايا الخبايا" في النحو:

أحال الخوارزمي عليه في: "شرح سقط الزند" 3/ 1134 فقال: الجُندُب مضموم عند البصريين، مفتوح عند الأخفش، وعليه الكوفيون. وهذه المسألة أشبعها في كتاب: "زوايا الخبايا".

وذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253 وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 298.

 

‌‌2 - شرح المفرد والمؤلف:

كتاب: "المفرد والمؤلف" للزمخشري 538 هـ في النحو، كتاب صغيره حققته الدكتورة بَهيجة الحُسيني ونشر في "مجلة المجمع العراقي" 15/ 194 - 121.

وشرح المفرد هذا من أوائلِ مؤلفات الخوارزمي أحال عليه في "شرح سقط الزَّند" 5/ 1908: ذكر بحثًا حول: (بَرَاحِ) قال: وهو عند أهل الحجاز مبنى على الكسر وأمَّا عند بني تميم فغير منصرف، والحقُّ مذهبُ أهلِ الحجاز، وقد ذكرت هذه المسألة في: "شرحِ المفرَدِ والمُؤَلَّفِ".

وذكره مرة ثانية في الجزء نفسه ص: 1913 في أثناء كلامه عن البيت:

وكلُّ أخٍ مفارقه أخوه

فقال: وفي البيت المتمثل به سر كشفته في "شرح المُفَردِ والمُؤَلَّفِ".

وفي الجزء نفسه أيضًا ص: 2020 قال: حرف الجر متى دخل على "ما" الاستفهامية سقط. وما فيه من السر قد ذكرته في: "شرحِ المُفرَدِ".

ونقل عنه الاسفندري في "المقتبس" في عدة مواضع منها: 1/ 204. 2/ 9، 3/ 158 قال: رأيت في "شرحِ المُفرَدِ والمُؤَلَّفِ" لصاحب "التَّخمير" 4/ 164: قال: ذكر صاحب "التَّخمير" في "شرح المُفرَدِ والمُؤَلَّفِ" وذكره
‌তাঁর রচনাবলির দ্বিতীয় ভাগ: এতে ছয়টি গ্রন্থ রয়েছে, সেগুলো হলো:

‌১ - নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের গ্রন্থ "জাওয়াইয়া আল-খাবাইয়া":

খাওয়ারিজমি তাঁর "শারহু সাকতিয যান্দ" (৩/১১৩৪) গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: বাসরাবাসীদের মতে 'আল-জুন্দুব' (ফড়িং) শব্দটি (জিম বর্ণে) দম্মা (পেশ) বিশিষ্ট, আর আখফাশের মতে এটি ফাতহা (যবর) বিশিষ্ট এবং কুফাবাসীরা এই মত পোষণ করেন। এই মাসয়ালাটি তিনি "জাওয়াইয়া আল-খাবাইয়া" গ্রন্থে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন।

ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' (১৬/২৫৩) গ্রন্থে এবং ইবনে আশ-শিআর 'উকুদুল জুম্মান' (৫/২৯৮) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।

 

‌২ - শারহুল মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ:

যামাখশারী (মৃত্যু ৫৩৮ হি.) রচিত নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ "আল-মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ" একটি ছোট বই। এটি ডক্টর বাহিজা আল-হুসাইনি সম্পাদনা করেছেন এবং এটি "মাজাল্লাতুল মাজমাউল ইরাকি" (১৫/১৯৪-১২১)-তে প্রকাশিত হয়েছে।

এই "শারহুল মুফরাদ" খাওয়ারিজমির প্রাথমিক যুগের রচনাগুলোর অন্যতম। তিনি "শারহু সাকতিয যান্দ" (৫/১৯০৮) গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দিয়ে 'বারাহি' শব্দটির ওপর একটি গবেষণা উল্লেখ করে বলেছেন: হিজাযবাসীদের নিকট এটি কাসরা (যের) ভিত্তিক মাবনি (অপরিবর্তনীয়), আর বনু তামীম গোত্রের নিকট এটি গায়রে মুনসারিফ। সঠিক মত হলো হিজাযবাসীদের মাযহাব। আমি এই মাসয়ালাটি "শারহুল মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।

তিনি একই খণ্ডের ১৯১৩ পৃষ্ঠায় এই পঙক্তিটি আলোচনার সময় পুনরায় এর উল্লেখ করেছেন:

প্রত্যেক ভাই তার ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়

অতঃপর তিনি বলেন: উদাহরণ হিসেবে পেশকৃত এই পঙক্তিতে একটি রহস্য রয়েছে যা আমি "শারহুল মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ" গ্রন্থে উন্মোচন করেছি।

একই খণ্ডের ২০২০ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: প্রশ্নবোধক 'মা'-এর পূর্বে যখন হরফে জার যুক্ত হয়, তখন (আলিফ) বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর রহস্য সম্পর্কে আমি "শারহুল মুফরাদ" গ্রন্থে আলোচনা করেছি।

আল-ইসফান্দারি 'আল-মুকতাবাস' গ্রন্থের বেশ কয়েকটি স্থানে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ১/২০৪, ২/৯, ৩/১৫৮। তিনি বলেছেন: আমি "আত-তাখমির" রচয়িতার "শারহুল মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ" গ্রন্থে দেখেছি। ৪/১৬৪ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন: "আত-তাخমির" রচয়িতা "শারহুল মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253، وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 298.

 

‌‌3 - لهجة الشرع: (شرح ألفاظ الفقه):

هذا الكتاب -كما يظهر من عنوانه- أشبه ما يكون بكتاب شيخه المطرزي 610 هـ (المُغْرِب) وبما أن الخُوارَزمِيّ حَنَفِيُّ المذهب فلا يبعد أن يكون في شرح ألفاظ الفقهاء الحنفية فقط. ولا نستطيع الجزم بذلك.

وقد ذكر الخوارزمي كتابه هذا في عدة مواضع من كتابه (التَّوضيح شرح المقامات) منها ورقة: 41، 65، 203.

وذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253 وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 198.

 

‌‌4 - السَّبيكَةُ في شرحِ المُفَصّلِ، "الشرح المتوسط".

‌‌5 - المُجَمَّرَةُ في شرحِ المُفَصّلِ، "الشرح الصغير":

ذكرهما المؤلف في "التَّخمير" 2/ ورقة: 283 قال: "وأمَّا حجة الكسائي في هذه المسألة فقد ذكرتُها في كتابي الموسوم بـ "السَّبيكة في شَرح المُفَصَّل" وهي الشرح الأوسط، وأمَّا "المُجَمَّرةُ" في شرحِهِ أيضًا فأصغر من السَّبيكَةِ، وذكرهما ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 352 وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 298.

 

‌‌6 - لُبابُ الاعتِصَارِ:

تفرد بذكره الاسفندري 698 هـ في "المقتبس" حيث نَقَل عنه في مواضع منها: 2/ 61، 112، 3/ 74. ونَسَبَهُ إلى الخُوارَزِميّ.

 

‌‌القسم الثالث: وفيه ثمانية كتب وهي:

‌‌1 - شرح الأنموذج:

والأنموذَج في النَّحو للزَّمخشرِيّ 538 هـ طبع بمصر سنة 1289 هـ،
ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে: ১৬/ ২৫৩, এবং ইবনে আশ-শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে: ৫/ ২৯৮।

 

‌‌৩ - লাহজাতুশ শারাহ: (ফেকাহর শব্দাবলির ব্যাখ্যা):

এই বইটি—যেমনটি এর শিরোনাম থেকে প্রতীয়মান হয়—তার উস্তাদ আল-মুতারিজি (মৃত্যু: ৬১০ হি.)-এর কিতাব 'আল-মুগরিব'-এর সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। যেহেতু আল-খাওয়ারিজমি হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তাই এটি কেবল হানাফি ফকিহদের ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যাখ্যা হওয়া অসম্ভব নয়। তবে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।

আল-খাওয়ারিজমি তার 'আত-তাওজিহ শারহুল মাকামাত' গ্রন্থের বেশ কয়েকটি স্থানে এই কিতাবটির উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে পৃষ্ঠা: ৪১, ৬৫, ২০৩।

আর ইয়াকুত এটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে: ১৬/ ২৫৩ এবং ইবনে আশ-শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে: ৫/ ১৯৮-এ উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৪ - আস-সাবিকাহ ফি শারহিল মুফাসসাল, "মধ্যম মানের ব্যাখ্যা"।

‌‌৫ - আল-মুজাম্মারাহ ফি শারহিল মুফাসসাল, "সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা":

লেখক তার 'আত-তাখমির' গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ২৮৩ পৃষ্ঠায় এই দুটি কিতাবের উল্লেখ করে বলেছেন: "এই মাসআলায় কিসায়ির দলিল আমি 'আস-সাবিকাহ ফি শারহিল মুফাসসাল' নামক কিতাবে উল্লেখ করেছি, যা হলো মধ্যম মানের ব্যাখ্যা। আর এর ব্যাখ্যায় 'আল-মুজাম্মারাহ' কিতাবটি 'আস-সাবিকাহ' অপেক্ষা ছোট।" ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে: ১৬/ ৩৫২ এবং ইবনে আশ-শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে: ৫/ ২৯৮-এ এগুলোর উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৬ - লুবাবুল ইতিসার:

আল-ইসফানদারি (মৃত্যু: ৬৯৮ হি.) 'আল-মুকতাবাস' গ্রন্থে এককভাবে এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি এর থেকে কয়েকটি স্থানে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন: ২/ ৬১, ১১২ এবং ৩/ ৭৪। তিনি এটি আল-খাওয়ারিজমির কৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌তৃতীয় বিভাগ: এতে আটটি কিতাব রয়েছে, সেগুলো হলো:

‌‌১ - শারহুল আনমুজাজ:

আর 'আল-আনমুজাজ' হলো নাহু শাস্ত্রের উপর আজ-জামাকশারি (মৃত্যু: ৫৩৮ হি.)-এর একটি কিতাব, যা ১২৮৯ হিজরি সনে মিসরে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وباستانبول سنة 1289 هـ كما طبع في كريستيانا سنة 1859 م، وقازان سنة 1897 م. وشرحه قبل الخوارزمي الإِمام محمد بن سعد الدِّيبَاجِيّ 609 هـ وهو من تلاميذ الزمخشري يعرف بـ "حجة الأفاضل" ذكر شرح الخوارزمي ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253، وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 298.

 

‌‌2 - شرح الأحاجِي النَّحوِيَّة:

و"الأحاجي" للزَّمخشري 538 أيضًا، وقد طبع مرتين إحداهما في دمشق سنة 1392 هـ، والأخرى في بغداد سنة 1393 هـ ويسمى "المحاجات بالمسائل النحوية" ذكره ياقوت: 16/ 153.

 

‌‌3 - المحصل للمحصلة في البيان:

ذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253.

 

‌‌4 - خلوة الرياحين في المحاضرات:

ذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253، وابن الشعار في عقود الجمان؛ 5/ 299.

 

‌‌5 - شرحُ الأَبنِيَةِ:

ذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253، وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 299.

 

‌‌6 - عُجَالَةُ السَّفَرِ في الشِّعر:

ذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253.

 

‌‌7 - عجائِبُ النَّحوِ:

ذكره ياقوت في معجم الأدباء: 16/ 253 وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 298.
এবং ইস্তাম্বুলে ১২৮৯ হিজরি সনে, যেমনটি ক্রিস্টিয়ানায় ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে এবং কাজানে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে। আর খাওয়ারিজমির পূর্বে এর ব্যাখ্যা (শারহ) করেছেন ইমাম মুহাম্মদ বিন সাদ আদ-দিবাজি (মৃত্যু ৬০৯ হি.), যিনি যামাখশারির অন্যতম ছাত্র ছিলেন এবং "হুজ্জাতুল আফাদিল" নামে পরিচিত ছিলেন। খাওয়ারিজমির ব্যাখ্যার কথা ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) এবং ইবনুল শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে (৫/২৯৮) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌২ - শারহু আল-আহাজি আন-নাহউইয়্যাহ (ব্যাকরণিক ধাঁধার ব্যাখ্যা):

এবং যামাখশারির (মৃত্যু ৫৩৮ হি.) "আল-আহাজি" গ্রন্থটিও রয়েছে, যা দুইবার মুদ্রিত হয়েছে—একবার দামেস্কে ১৩৯২ হিজরি সনে এবং অন্যবার বাগদাদে ১৩৯৩ হিজরি সনে। একে "আল-মুহাজাত বিল-মাসাইল আন-নাহউইয়্যাহ"ও বলা হয়। ইয়াকুত এটি ১৬/১৫৩-তে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৩ - আল-মুহাসসিল লিল-মুহাসসালাহ ফিল বায়ান:

ইয়াকুত এটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৪ - খালওয়াতুর রায়াহিন ফিল মুহাদারাত:

ইয়াকুত এটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) এবং ইবনুল শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে (৫/২৯৯) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৫ - শারহুল আবনিয়াহ:

ইয়াকুত এটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) এবং ইবনুল শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে (৫/২৯৯) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৬ - উজালাতুস সাফার ফিশ শির:

ইয়াকুত এটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৭ - আজাইবুন নাহু:

ইয়াকুত এটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) এবং ইবনুল শিআর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে (৫/২৯৮) উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাখমীর শারহুল মুফাসসাল ফী সানআতিল ইকরাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌8 - السِرُّ في الإِعراب:

ذكره ياقوت الحموي في معجم الأدباء: 16/ 253، وابن الشعار في عقود الجمان: 5/ 298.

 

شعره:

صدر الأفاضل من أبرز أدباء عصره، فهو شاعر ناثر له شعر جيد ويعدّ رسائل أدبية حسنة، ولم يذكر له المترجمون ديوانًا مجموعًا لا لشعره ولا لرسائله، وقد أورد له ياقوت الحموي في "معجم الأدباء"(1) قصائد ومقطعات من شعره، كما أورد بعض الرسائل التي أنشأها وقال عنه(2): "برع في علم الأدب وفاق نظم الشعر ونثر الخطب".

كما أورد له ابن الشعار الموصلي في كتابه: "عقود الجمان"(3) ما أورده ياقوت الحموي وزاد عليه يسيرًا وقال(4): "وله شعر كثير ليس بالرائق المستحسن يظهر فيه التعجرف والركاكة".

وفي هذه الأيّام قامت الأخت كريمة هند حسين طه بدراسة الأدب العربي في إقليم خوارزم(5) فعدت صدر الأفاضل من بين أدباء الإِقليم وقالت(6): "صار من ألمع أدباء عصره ومن أشهر شعرائه". وقدمت دراسة جيدة عن أدبه من خلال ما أورده له ياقوت الحموي في "معجم الأدباء". وهذه الدراسة وإن كانت ناقصة حيث اعتمدت على ما أورده ياقوت فقط دون الرجوع إلى "عقود الجمان" ومؤلفات الخوارزمي إلّا أنها بذلت جهدًا مشكورًا. وحين تعرضت هذه الباحثة إلى ذكر مؤلفات الخوارزمي قالت(7):

--------------------------------------------

(1) معجم الأدباء 16/ 252.

(2) المصدر نفسه.

(3) عقود الجمان 5/ 299.

(4) المصدر نفسه.

(5) الأدب العربي في إقليم خوارزم: 276 - 295، 353 - 356.

(6) المصدر نفسه.

(7) المصدر نفسه.

৮ - ই'রাবের রহস্য (আস-সিররু ফিল ই'রাব):

ইয়াকুত আল-হামাউয়ি 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থে (১৬/২৫৩) এবং ইবনে আশ-শা'আর 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে (৫/২৯৮) এটি উল্লেখ করেছেন।

 

তাঁর কবিতা:

সদুরুল আফাদিল তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের অন্যতম ছিলেন; তিনি ছিলেন একজন কবি ও গদ্যকার, যাঁর কবিতা ছিল চমৎকার এবং তিনি অত্যন্ত সুন্দর সাহিত্যিক পত্র রচনা করতেন। তবে জীবনীকারগণ তাঁর কবিতা বা পত্রাবলির কোনো সংকলিত দিওয়ানের কথা উল্লেখ করেননি। ইয়াকুত আল-হামাউয়ি তাঁর "মু'জামুল উদাবা"(১) গ্রন্থে তাঁর কিছু কাসিদা ও কবিতার অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন, পাশাপাশি তাঁর রচিত কিছু পত্রও উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন(২): "তিনি সাহিত্য বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং কাব্য রচনা ও ভাষণ গদ্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন।"

অনুরূপভাবে ইবনে আশ-শা'আর আল-মাওসিলি তাঁর "উকুদুল জুমান"(৩) গ্রন্থে ইয়াকুত আল-হামাউয়ির উদ্ধৃত অংশগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তার ওপর সামান্য কিছু সংযোজন করে বলেছেন(৪): "তাঁর প্রচুর কবিতা রয়েছে যা খুব একটা প্রাঞ্জল ও প্রশংসনীয় নয়, যাতে রুক্ষতা ও দুর্বলতা প্রকাশ পায়।"

বর্তমানে বোন কারীমা হিন্দ হুসাইন তাহা খোয়ারিজম অঞ্চলের আরবি সাহিত্য নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন(৫)। সেখানে তিনি সদুরুল আফাদিলকে সেই অঞ্চলের সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন(৬): "তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল সাহিত্যিক এবং সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কবিদের একজন হয়ে উঠেছেন।" তিনি ইয়াকুত আল-হামাউয়ির "মু'জামুল উদাবা"-তে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে একটি চমৎকার গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। যদিও এই গবেষণাটি অসম্পূর্ণ—যেহেতু এটি 'উকুদুল জুমান' এবং খোয়ারিজমির নিজের রচনাবলির সাহায্য না নিয়ে কেবল ইয়াকুতের বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছে—তবুও তিনি এক প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন। যখন এই গবেষিকা খোয়ারিজমির রচনাবলি উল্লেখ করতে গেলেন, তখন তিনি বললেন(৭):

--------------------------------------------

(১) মু'জামুল উদাবা ১৬/২৫২।

(২) একই উৎস।

(৩) 'উকুদুল জুমান' ৫/২৯৯।

(৪) একই উৎস।

(৫) খোয়ারিজম অঞ্চলের আরবি সাহিত্য: ২৭৬ - ২৯৫, ৩৫৩ - ৩৫৬।

(৬) একই উৎস।

(৭) একই উৎস।