(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: -)
تلوين الخطاب لابن كمال باشا دراسة وتحقيق القسم: البلاغة
الكتاب: تلوين الخطاب لابن كمال باشا دراسة وتحقيق
المؤلف: أحمد بن سليمان بن كمال باشا، شمس الدين (ت 940هـ)
المؤلف: عبد الخالق بن مساعد الزهراني
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة 33 - العدد (113) 1421هـ
عدد الصفحات: 384
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন কামাল পাশার তালউইনুল খিতাব: গবেষণা ও সম্পাদনা বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
বই: ইবন কামাল পাশার তালউইনুল খিতাব: গবেষণা ও সম্পাদনা
লেখক: আহমাদ বিন সুলাইমান বিন কামাল পাশা, শামসুদ্দিন (ওফাত ৯৪০ হিজরি)
লেখক: আবদুল খালিক বিন মুসাঈদ আল-জাহরানি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ৩৩তম বর্ষ - সংখ্যা (১১৩) ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
تلوين الخطاب لابن كمال باشا: دراسة وتحقيق
إعداد: د. عبد الخالق بن مساعد الزهراني
الأستاذ المشارك في كلية اللغة العربية
ال
مقدمةالحمد لله حمداً طيباً كثيراً مباركاً فيه، كما يحب ربنا ويرضى، والصلاة والسلام على صفوة خلق الله سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه: أما بعد:
فإن الله قد هيّأ للغة العربية رجالاً، سبروا أغوارها العميقة، وفهموا أسرارها، واستخرجوا دررها، وتنافسوا في خدمتها، فملأت مؤلفاتهم الصحائف، وانتشرت في مشارق الأرض ومغاربها، وبين الحين والآخر نجد مؤلّفاً قشيباً، نفض عنه غبار النسيان، فبدأ بهيّ الطلعة، وليد اللحظة، تتطلع إليه الأنظار، وتهفو إليه الأفئدة، ومع هذا الدأب في إخراج كنوز التراث، والجهد المتواصل في تحقيقها، فما زالت المكتبات تخبّئ في زواياها نفائس، تضنّ بها على محبيها، والمتعطشين إلى ورود حياضها، على الرغم من سعيهم الحثيث إليها، وتنقيبهم الدؤوب عنها في كلّ مكان.
و"تلوين الخطاب" من نفائس المخطوطات، رسالة صغيرة الحجم، جليلة القدر، عثرت على مصورتين منها في مكتبة المخطوطات بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وهي للعالم المشهور ابن كمال باشا رحمه الله تعالى.
وقد أغراني عنوانها، فهو عنوان جذاب، ينبئ عن اختيار أديب بارع، وعالم متمكن، وحين قلّبت صفحاتها، وجدتها رسالة قيّمة، حقيقة بأن يبذل فيها الجهد والوقت، وقد عثرت على مصوّرتين لها، فشرعت في نسخها، ومقابلة نُسختيها، وحين استعصى عليّ اختيار إحدى النسختين أصلاً عمدت إلى اختيار ما أراه صواباً منهما، وما ترجّح لديّ من خلال قرائن السياق، وأثبت في الهامش ما يخالفه.
وإذا تبيّن لي أنّ في النسختين خطأ ظاهراً، فإنَّني أجعل ما أراه صواباً في المتن وأضعه بين معكوفتين، وأذكر في الهامش ما هو موجود فيهما، وإن كان ما
ইবনে কামাল পাশার 'তালওয়িনুল খিতাব': অধ্যয়ন ও সম্পাদনা
উপস্থাপনা: ড. আব্দুল খালিক বিন মুসাঈদ আল-জাহরানি
সহযোগী অধ্যাপক, আরবি ভাষা অনুষদ
ভূ
মিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা পবিত্র, অগণিত ও বরকতময়, যেমনটি আমাদের রব ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আরবি ভাষার জন্য এমন কিছু ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছেন, যারা এর গভীরতা পরিমাপ করেছেন, এর রহস্যসমূহ অনুধাবন করেছেন এবং এর মুক্তাসমূহ আহরণ করেছেন। তারা এর সেবায় একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন, ফলে তাদের রচনাবলি কাগজের পাতায় পূর্ণ হয়েছে এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ে সময়ে আমরা এমন কোনো নতুন ও সতেজ রচনার সন্ধান পাই, যা থেকে বিস্মৃতির ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলা হয়েছে, ফলে তা এক উজ্জ্বল অবয়বে বর্তমান সময়ের উপযোগী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে; যার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় এবং হৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ঐতিহ্যের ভাণ্ডার বের করে আনার এই নিরলস প্রচেষ্টা এবং এর সম্পাদনায় ধারাবাহিক পরিশ্রম সত্ত্বেও গ্রন্থাগারগুলো এখনও তাদের কোণে কোণে এমন কিছু মূল্যবান সম্পদ লুকিয়ে রেখেছে, যা তাদের প্রেমীদের এবং এর জ্ঞানতৃষ্ণায় পিপাসার্তদের কাছে প্রকাশ পেতে কার্পণ্য করছে, যদিও তারা এর সন্ধানে সর্বত্র অবিরাম চেষ্টা ও নিখুঁত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
"তালওয়িনুল খিতাব" হলো পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অমূল্য রত্ন। এটি আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও মর্যাদায় অতি মহান। আমি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারে এর দুটি ছায়ালিপি পেয়েছি। এটি প্রখ্যাত আলেম ইবনে কামাল পাশা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-র রচনা।
এর শিরোনামটি আমাকে আকৃষ্ট করেছে; এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি শিরোনাম, যা একজন দক্ষ সাহিত্যিক এবং বিজ্ঞ আলেমের রুচির পরিচয় দেয়। যখন আমি এর পাতাগুলো উল্টালাম, তখন একে একটি অত্যন্ত মূল্যবান রিসালাহ হিসেবে পেলাম, যা সময় ও শ্রম ব্যয়ের উপযুক্ত। যেহেতু আমি এর দুটি ছায়ালিপি পেয়েছি, তাই আমি এর অনুলিপি তৈরি এবং কপি দুটির মধ্যে তুলনা করার কাজ শুরু করি। যখন মূল কপি হিসেবে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ল, তখন আমি প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে যেটিকে সঠিক মনে করেছি সেটি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং যা এর বিপরীত ছিল তা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
যদি আমার কাছে স্পষ্ট হয় যে উভয় কপিতেই প্রকাশ্য ভুল রয়েছে, তবে আমি যা সঠিক মনে করি তা মূল পাঠে বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি এবং পাণ্ডুলিপিতে যা বিদ্যমান ছিল তা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। আর যদি...
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ২৯৮)
أظنَّه خطأ منقولاً عن أحد المصادر، فإني أستعين بهذا المصدر في التصويب، فأجعل الصواب في المتن، وأذكر في الهامش ما يخالفه.
وقد خدمت النصّ؛ فخرّجت الآيات القرآنية الكريمة التي وردت فيه، فبينت سورها وأرقامها، وخرّجت الأبيات الشعريّة وعزوتها إلى أصحابها، وذكرت مصادرها في الهامش.
وتتتبعت الأقوال التي أوردها المؤلف، فعزوتها إلى أصحابها، ووثّقتها من مؤلفاتهم، سوى نقلين لم أجدهما في المصادر التي أشار المؤلف إلى أنه نقلهما عنها، ونبّهت على ذلك في موضعه من الرسالة.
كما أنه نقل عن الكشف مرتين، والكشف لا يزال مخطوطاً، وقد بحثت عنه في المدينة فلم أجده، وسألت بعض المهتمين بكتب التفسير فلم أجد له خبراً لديهم، ولذا فقد اكتفيت بالتوثيق من حاشية الشهاب الخفاجي على تفسير البيضاوي لأن الشهاب ينقل عن الكشف كثيراً في حاشيته هذه.
وجعلت مدخلاً قبل الرِّسالة، تحدثت فيه عن المؤلف؛ مولده، ونشأته، وطلبه للعلم، ومؤلفاته، وأعماله، ووفاته.
واتضح لي جهده وكفاحه في سبيل تحصيله العلم، حتى أصبح عالماً لا يجارى، يتبوأ أعلى المناصب العلمية في عصره، ويخلّف ثروة كبيرة من المؤلفات في كثير من الفنون.
وتحدثت - أيضاً - عن الرِّسالة؛ فبيّنت عنوانها ووثّقت نسبتها إلى مؤلفها، وعرضت محتواها، وبيّنت قيمتها العلميّة، فذكرت ما فيها من مزايا وحسنات، والمآخذ التي ظهرت لي.
ثم قدّمت وصفاً للنسخ المخطوطة التي اعتمدت عليها في التحقيق وأوردت نماذج منها. ولا يخفى ما في تحقيق المخطوطات من مشقة وعناء، ولا
আমি মনে করি এটি কোনো একটি উৎস থেকে ভুলভাবে সংগৃহীত হয়েছে, তাই আমি সংশোধনের জন্য সেই মূল উৎসের সাহায্য নিয়েছি। ফলে আমি মূল পাঠে সঠিক বিষয়টি রেখেছি এবং টীকায় তার বিপরীতটি উল্লেখ করেছি।
আমি পাঠ্যটি সম্পাদনা করেছি; এতে বর্ণিত কুরআনের আয়াতগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি এবং সেগুলোর সূরা ও আয়াত নম্বর স্পষ্ট করেছি। কাব্যিক চরণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে তাদের রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং টীকায় সেগুলোর উৎস উল্লেখ করেছি।
লেখক যেসব উক্তি উদ্ধৃত করেছেন আমি সেগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। তাদের নিজস্ব গ্রন্থাদি থেকে আমি সেগুলোর প্রামাণিকতা নিশ্চিত করেছি, কেবল দুটি উদ্ধৃতি ছাড়া যা আমি লেখক নির্দেশিত উৎসগুলোতে খুঁজে পাইনি। আমি রিসালাহর সংশ্লিষ্ট স্থানে সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।
তদ্রূপ তিনি 'আল-কাশফ' থেকে দুইবার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা এখনো পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়ে গেছে। আমি মদিনায় এটি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু পাইনি এবং তাফসির শাস্ত্র নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কাছেও এর কোনো খবর পাইনি। তাই আমি বাইযাবীর তাফসিরের ওপর শিহাব আল-খাফাজির টীকা (হাশিয়া) থেকে প্রামাণিকতা নিশ্চিত করার ওপরই নির্ভর করেছি, কেননা শিহাব তাঁর এই টীকায় 'আল-কাশফ' থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
আমি রিসালাহর পূর্বে একটি ভূমিকা যুক্ত করেছি, যেখানে আমি লেখকের জন্ম, বেড়ে ওঠা, জ্ঞানার্জন, রচনাবলি, কর্মজীবন এবং মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
আমার নিকট জ্ঞানার্জনের পথে তাঁর প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি এমন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আলিমে পরিণত হয়েছিলেন যে তিনি তাঁর যুগের সর্বোচ্চ ইলমি মাকামে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় বিপুল সংখ্যক রচনাবলি রেখে গেছেন।
আমি এই রিসালাহ সম্পর্কেও আলোচনা করেছি; এর শিরোনাম স্পষ্ট করেছি এবং লেখকের সাথে এর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছি। এর বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছি এবং এর ইলমি গুরুত্ব তুলে ধরেছি। আমি এতে বিদ্যমান বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির পাশাপাশি আমার নিকট প্রতীয়মান হওয়া সীমাবদ্ধতাগুলোও উল্লেখ করেছি।
অতঃপর আমি পাণ্ডুলিপির সেই অনুলিপিগুলোর বিবরণ পেশ করেছি যেগুলোর ওপর আমি সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভর করেছি এবং সেগুলোর কিছু নমুনা তুলে ধরেছি। পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে যে কষ্ট ও পরিশ্রম রয়েছে তা কারও অজানা নয়, এবং...
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ২৯৯)
قدّر ذلك حقّ قدره إلا من مارسه، ورأي الجهد الذي يتكبّده الباحث في سبيل إقامة عبارة أو تصحيح كلمة، أو تخريج بيت، أو توثيق نقل
… وغير ذلك مما يعترض الباحث من عقبات يقف أمامها الساعات الطّوال حتى ييسّر الله له تجاوزها.
وكل جهد مهما عظم في عين صاحبه، يكون يسيراً وينقلب متعةً حين تتحقّق الفائدة المرجوّة من ورائه، وأسأل الله عز وجل أن ينفع بهذا الجهد، وأن يجعله لبنة بنّاءة في خدمة اللغة العربية، لغة القرآن الكريم، وأن يجعلنا جنداً مخلصين في سبيل إعلائها والمحافظة عليها، إنه سميع مجيب.
وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه.
এর যথাযোগ্য মূল্যায়ন কেবল তারাই করতে পারেন যারা এই কাজে লিপ্ত ছিলেন এবং সেই শ্রম প্রত্যক্ষ করেছেন যা একজন গবেষক একটি বাক্য গঠন, একটি শব্দ সংশোধন, কবিতার একটি পঙক্তির উৎস নির্ণয় কিংবা কোনো উদ্ধৃতির প্রামাণিকতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহ্য করেন
… এ ছাড়াও গবেষককে এমন সব বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় যার সামনে তাকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তা অতিক্রম করা তার জন্য সহজ করে দেন।
যেকোনো পরিশ্রম তা এর শ্রমিকের দৃষ্টিতে যতই বিশাল মনে হোক না কেন, যখন তার পেছনের কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জিত হয়, তখন তা সহজ হয়ে যায় এবং আনন্দে পরিণত হয়। আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করেন এবং একে আরবি ভাষা—যা পবিত্র কুরআনের ভাষা—তার সেবায় একটি গঠনমূলক ভিত্তি হিসেবে কবুল করেন; আর তিনি যেন আমাদের এই ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখা ও একে সংরক্ষণ করার পথে একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর।
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
التعريف بالمؤلف1
اسمه ونسبه:هو: أحمد2 بن سليمان بن كما باشا، الملقب شمس الدين.
اشتهر بابن كمال باشا. تركي الأصل، مستعرب.
--------------------------------------------
লেখকের পরিচিতি১
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: আহমদ২ বিন সুলায়মান বিন কামাল পাশা, শামসুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত।
তিনি ইবনে কামাল পাশা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং আরবায়িত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
حياته:كانت لأسرته مكانة عالية إضافة إلى ما عرفت به من علم وفضل فقد كان جدّه من أمراء الدولة العثمانية، ولذا فقد نشأ ابن كمال في بيت جاهٍ وسلطان، وهذا يجعل حياته مرفّهة ومنعمّة، ولكنه التحق بالجيش وهو شاب، فكان لهذا أثر في تكوين شخصيته، من حرصٍ على الوقت، وجدٍّ، وتحمّلٍ للشدائد، والصبر على الصعوبات.
তাঁর জীবন:তাঁর পরিবারের একটি উচ্চ মর্যাদা ছিল, সেই সাথে তাঁরা ইলম ও ফযীলতের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর দাদা উসমানীয় সাম্রাজ্যের আমীরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ কারণে ইবনে কামাল মান-সম্মান ও প্রতিপত্তির ঘরে লালিত-পালিত হন, যা তাঁর জীবনকে বিলাসপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছিল। কিন্তু যুবক থাকাকালীন তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন, যা তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল—যেমন সময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ, কর্মতৎপরতা, কঠোরতা সহ্য করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা।
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০১)
وأراد الله له الخير والذّكر الحسن، فرأى منظراً صرفه عمّا هو فيه من عملٍ إلى طلب العلم، وقد وصف ذلك المنظر، فذكر أنه كان مسافراً مع السلطان بايزيد خان ووزيره إبراهيم باشا، ثم صادف أن كان في حضرة الوزير أمير ليس في الأمراء أعظم مكانةً منه؛ لا يتصدّر عليه أحد من الأمراء، وبينما ابن كمال في هذا الموقف العسكري، الذي يقف فيه كل إنسان عند حدود رتبته، ولا يتطلّع إلى أعلى منها؛ إذا هو يشاهد رجلاً رثّ اللباس؛ لا تدلّ هيئته على علوّ منزلة، يخطو خطوات واثقة، فيتصدّر المجلس، ويتبوأ مكاناً أعلى من الأمير، فتدخل الدهشة والحيرة نفس ابن كمال، ويتساءل: لماذا لم يمنعه أحد؟! ولماذا رضي الأمير بهذا الأمر؟! وهمس إلى بعض رفقائه: من هذا الذي تصدّر على مثل هذا الأمير؟!.
فأخبره: إن هذا عالم، يقال له: المولى لطفي.
ولكن ابن كمال لم يقتنع بهذا الجواب، فهو لا يزال يزن الأمور بميزان مادّيّ بحتٍ، ولذا فقد سأل رفيقه أيضاً: كم وظيفته؟ أي ما مقدار ما يتقاضاه من الأجر؟ فأجابه رفيقه: ثلاثون درهماً. ويدهش دهشة كبيرةً، لهذه المكانة التي أتيحت لهذا الرجل؛ إذ كيف يقدّم على الأمير ووظيفته بهذا المقدار الضّئيل؟
ولكن رفيقه بيّن له حقيقة الأمر، فقال:
العلماء معظّمون لعلمهم، فإنه لو تأخّر لم يرض بذلك الأمير ولا الوزير.
وكان له في هذا القول تفكير وتأمّل، دفع به إلى طلب العلم، فهو يريد علوّ المنزلة، ولا يمكن أن يصل إلى منزلة الأمير، ولكنه لو طلب العلم، فأصبح عالماً، فإنّه سيصل إلى منزلة أعلى، ولهذا فقد قرّر أن يكون تلميذاً؛ وكانت هذه بداية انطلاقه نحو تحصيل العلوم المتنوّعة، وبذل في سبيلها أقصى جهده، ووجّه
আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ ও উত্তম সুখ্যাতি চেয়েছিলেন। তাই তিনি এমন একটি দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেন যা তাকে তার তৎকালীন কর্মধারা থেকে জ্ঞান অন্বেষণের দিকে ধাবিত করল। তিনি সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সুলতান বায়েজিদ খান ও তার উজির ইবরাহিম পাশার সাথে সফর করছিলেন। তখন উজিরের দরবারে এমন একজন আমির উপস্থিত ছিলেন যার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবান কোনো আমির ছিল না; অন্য কোনো আমির তার চেয়ে অগ্রগণ্য হতেন না। ইবন কামাল যখন এই সামরিক অবস্থানে ছিলেন—যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পদমর্যাদার সীমার মধ্যে অবস্থান করে এবং এর চেয়ে উচ্চ পদের আকাঙ্ক্ষা করে না—তখন তিনি জীর্ণ পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার বাহ্যিক বেশভূষা উচ্চ মর্যাদার পরিচয় দেয় না। তিনি দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে সভার অগ্রভাগে বসলেন এবং আমিরের চেয়েও উচ্চতর স্থান গ্রহণ করলেন। এতে ইবন কামালের অন্তরে বিস্ময় ও দ্বিধা প্রবেশ করল এবং তিনি মনে মনে প্রশ্ন করলেন: কেন কেউ তাকে বাধা দিল না?! আর আমিরই বা কেন এই বিষয়টি মেনে নিলেন?! তিনি তার জনৈক সঙ্গীকে কানে কানে জিজ্ঞেস করলেন: এই ব্যক্তি কে যে এমন একজন আমিরের উপরে স্থান গ্রহণ করল?!
তাকে জানানো হলো: তিনি একজন আলেম, তাকে ‘মাওলা লুতফি’ বলা হয়।
কিন্তু ইবন কামাল এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না, কারণ তিনি তখনও বিষয়গুলোকে নিছক বস্তুগত মানদণ্ডে পরিমাপ করছিলেন। তাই তিনি তার সঙ্গীকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: তার পদমর্যাদার ভাতা কত? অর্থাৎ তিনি পারিশ্রমিক হিসেবে কত গ্রহণ করেন? তার সঙ্গী উত্তর দিলেন: ত্রিশ দিরহাম। এই ব্যক্তির জন্য উন্মুক্ত হওয়া এই বিশেষ মর্যাদা দেখে তিনি ভীষণভাবে বিস্মিত হলেন; কারণ যার পারিশ্রমিক এত নগণ্য, তাকে কীভাবে আমিরের চেয়ে অগ্রগণ্যতা দেওয়া হলো?
কিন্তু তার সঙ্গী তার কাছে বিষয়টির প্রকৃত রহস্য স্পষ্ট করে বললেন:
আলেমগণ তাদের ইলমের কারণেই সমাদৃত হন। তিনি যদি পেছনে থাকতেন, তবে আমির কিংবা উজির কেউই তাতে সন্তুষ্ট হতেন না।
এই কথাটি তাকে গভীরভাবে চিন্তা ও অনুধাবনে নিমগ্ন করল, যা তাকে ইলম অর্জনে উদ্বুদ্ধ করল। তিনি উচ্চ মর্যাদা চেয়েছিলেন, আর আমিরের মর্যাদায় পৌঁছানো তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু তিনি যদি ইলম অর্জন করেন এবং আলেম হতে পারেন, তবে তিনি আরও উচ্চতর মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবেন। এই কারণেই তিনি একজন ছাত্র হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। আর এটিই ছিল বিভিন্ন বিদ্যায় জ্ঞান অর্জনের পথে তার অভিযাত্রার সূচনা, যেখানে তিনি তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন এবং মনোনিবেশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
كلّ طاقاته، فحصل له خير كثير، وجمع فنوناً عديدةً، برع فيها كلها وقد وصفه صاحب الشقائق النعمانية وصفاً رائعاً حين قال: "كان رحمه الله تعالى من العلماء الذين صرفوا جميع أوقاتهم إلى العلم، وكان يشتغل به ليلاً ونهاراً، ويكتب جميع ما لاح بباله.. وقد فتر الليل والنهار ولم يفتَّر قلمه"1.
وأثمر هذا الجهد عن مكانة عالية، وعلم متدفّق، جعلت ابن كمال باشا يتولّى التدريس في عدد من المدارس، حتى وصل إلى أرقاها؛ فدرّس في مدرسة علي بك بمدينة أدرنة، ثم بمدرسة أسكوب، ثم درّس بإحدى المدارس الثمان2، ثم بمدرسة السلطان بايزيد بأدرنة.
وتولّى بعد ذلك القضاء بأدرنة. ثم قضاء العسكر الأناضولي. وانتهى به المطاف ليستقرّ في الإفتاء بالقسطنطينية إلى أن توفي سنة 940هـ3 رحمه الله تعالى.
--------------------------------------------
তাঁর সকল সামর্থ্য [নিয়োগ করেছিলেন], ফলে তিনি প্রচুর কল্যাণ লাভ করেন এবং বহু শাস্ত্র আয়ত্ত করেন, যেগুলোর সবকটিতেই তিনি ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। আর 'আশ-শাকাইকুন নু'মানিয়া' গ্রন্থের লেখক তাঁর একটি চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন যখন তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ছিলেন সেই সকল আলিমদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের পুরো সময় ইলমের পেছনে ব্যয় করেছেন। তিনি দিন-রাত ইলম চর্চায় ব্যস্ত থাকতেন এবং তাঁর মনে যা উদয় হতো তার সবকিছুই লিখে রাখতেন... রাত এবং দিন ক্লান্ত হয়ে পড়ত, কিন্তু তাঁর কলম কখনো ক্লান্ত হতো না"১।
এই প্রচেষ্টার ফলে এক উচ্চ মর্যাদা ও প্রবহমান ইলম অর্জিত হয়, যা ইবনে কামাল পাশাকে বহু মাদরাসায় অধ্যাপনার দায়িত্ব এনে দেয়, এমনকি তিনি সেগুলোর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছান; তিনি এদির্নে শহরের আলী বেগ মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন, এরপর উস্কুব মাদরাসায়, তারপর মাদরাসাতুস সামানিয়াহর (আট মাদরাসা) কোনো একটিতে, এরপর এদির্নের সুলতান বায়েজিদ মাদরাসায়।
এরপর তিনি এদির্নের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর আনাতোলিয়ার কাজিয়ে আসকার (সেনা বিচারপতি) নিযুক্ত হন। সবশেষে তিনি কনস্টান্টিনোপলে প্রধান মুফতি হিসেবে থিতু হন এবং ৯৪০ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
مؤلفاته:كان ابن كمال باشا باحثاً موسوعياًّ، خاض غمار التأليف في فنون شتّى، ولو تصفّحنا عناوين مؤلفاته التي ذكرت في المصادر لوجدناه عالماً فذاًّ محيطاً بكثير من العلوم، فقد صنّف في: التفسير، والفقه، والفرائض، والأصول، وعلم
তাঁর রচনাবলী:ইবনে কামাল পাশা ছিলেন একজন বহুশাস্ত্রবিদ গবেষক, যিনি বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় গ্রন্থ রচনার গভীরে অবগাহন করেছিলেন। আমরা যদি উৎসগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত তাঁর রচনাবলীর শিরোনামগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করি, তবে তাঁকে বহু বিদ্যায় পারদর্শী এক অনন্য আলেম হিসেবে দেখতে পাবো; কেননা তিনি তাফসীর, ফিকহ, ফারায়েজ, উসুল এবং ইলমে... শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৩)
الكلام، والبلاغة، واللغة، ولم يقف عند التأليف بالعربيّة، ولكنه ألّف بالفارسيّة والتركيّة، كما كان بارعاً في النظم والإنشاء أيضاً، فهو رجل موهوب، وقد وهب نفسه للعلم، فأثمر جهده عن حصيلة متميّزة، وليس من اليسير حصر مؤلفاته، خاصة أنه كان يعمد إلى اختيار الموضوعات الدقيقة، فيصنف فيها، ولذا كثرت رسائله، فقال عنه صاحب الشقائق "وصنّف رسائل كثيرة في المباحث المهمّة الغامضة، وكان عدد رسائله قريباً من مائة"1. وشبّهه د/ناصر الرشيد في كثرة تأليفه "بالسيوطي وابن الجوزي وابن حزم وابن تيمية ممن اشتهر في تاريخ الإسلام بكثرة التأليف"2.
وسأشير هنا إلى ما وقفت عليه من مؤلفاته:
1- أسرار النحو. وقد حققه د. أحمد حسن حامد3.
2- إصلاح الإيضاح، أو إيضاح الإصلاح4 في الفقه وهو شرح لمتن للمؤلف.
3- تاريخ آل عثمان5.
4- تجريد التجريد6 في علم الكلام.
5- تغيير التنقيح7 في الأصول وهو شرح لمتن للمؤلف.
6- تفسير القرآن العزيز8.
--------------------------------------------
ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব), অলঙ্কারশাস্ত্র ও ভাষাতত্ত্ব; তিনি কেবল আরবিতে রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ফারসি ও তুর্কি ভাষায়ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। একইভাবে তিনি কাব্য ও গদ্য রচনায়ও পারদর্শী ছিলেন। তিনি ছিলেন এক প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজেকে জ্ঞানের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন, ফলে তাঁর প্রচেষ্টা এক অনন্য প্রাপ্তি বয়ে এনেছে। তাঁর রচনাবলি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে তিনি সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নির্বাচনের সংকল্প করতেন এবং সেগুলোর ওপর গ্রন্থনা করতেন, যার ফলে তাঁর রিসালাহ বা ক্ষুদ্রপুস্তিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই 'আশ-শাকাউকের' রচয়িতা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল গবেষণামূলক বিষয়ে অনেক রিসালাহ রচনা করেছেন এবং তাঁর রিসালাহগুলোর সংখ্যা প্রায় একশোর কাছাকাছি।"১ ড. নাসির আল-রশীদ তাঁর অধিক গ্রন্থ রচনার বিষয়টিকে আস-সুয়ূতী, ইবনুল জাওযী, ইবনে হাযম এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে তুলনা করেছেন, যারা ইসলামের ইতিহাসে অধিক গ্রন্থ রচনার জন্য প্রসিদ্ধ।২
এখানে আমি তাঁর সেইসব রচনাবলির উল্লেখ করব যা আমি অবগত হয়েছি:
১- আসরারুন নাহু। এটি ড. আহমদ হাসান হামিদ সম্পাদনা করেছেন।৩
২- ইসলাহুল ইদাহ, অথবা ইদাহুল ইসলাহ৪; এটি ফিকহ শাস্ত্রের একটি গ্রন্থ এবং লেখকের নিজস্ব একটি মূল পাঠের (মাতন) ব্যাখ্যা।
৩- তারিখু আলি উসমান (উসমানীয় রাজবংশের ইতিহাস)।৫
৪- তাজরিদুল তাজরিদ৬; এটি ইলমুল কালাম বা ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক।
৫- তাগয়ীরুত তানকীহ৭; এটি উসুল বা মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থ এবং লেখকের নিজস্ব একটি মূল পাঠের ব্যাখ্যা।
৬- তাফসিরুল কুরআনিল আযীয।৮
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৪)
وقد حقق الباحث يونس عبد الحي ما سورتي الفاتحة والبقرة منه في رسالة علمية لنيل درجة الماجستير من الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة وذكر أن هذا التفسير من أول سورة الفاتحة إلى نهاية سورة الصافات.
7- حواشٍ على التلويح1.
8- حواشٍ على التهافت للمولى خواجة زاده2.
9- حواشٍ على شرح المفتاح للسيد الشريف3.
10- حواشٍ على الكشاف4.
11- رجوع الشيخ إلى صباه5.
12- شرح بعض الهداية6.
13- شرح مشكاة المصابيح7.
14- شرح مفتاح العلوم للسكاكي8.
15- طبقات الفقهاء9.
16- طبقات المجتهدين10.
17- كتاب في الفرائض11 وهو شرح لمتن للمؤلف.
--------------------------------------------
গবেষক ইউনুস আব্দুল হাই মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি গবেষণাপত্রে এর সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আল-বাকারাহ অংশটি সম্পাদনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই তাফসীরটি সূরা আল-ফাতিহার শুরু থেকে সূরা আস-সাফফাতের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
৭- আত-তালউইহ-এর ওপর টীকা১।
৮- মাওলা খাওয়াজা জাদাহ রচিত আত-তাহাফুত-এর ওপর টীকা২।
৯- সাইয়্যিদ শরীফ রচিত শারহুল মিফতাহ-এর ওপর টীকা৩।
১০- আল-কাশশাফ-এর ওপর টীকা৪।
১১- রুজুউশ শাইখ ইলা সিবাহু৫।
১২- আল-হিদায়াহ-এর কিছু অংশের ব্যাখ্যা৬।
১৩- মিশকাতুল মাসাবীহ-এর ব্যাখ্যা৭।
১৪- সাক্কাকি রচিত মিফতাহুল উলূম-এর ব্যাখ্যা৮।
১৫- তাবাকাতুল ফুকাহা৯।
১৬- তাবাকাতুল মুজতাহিদীন১০।
১৭- ফরায়েয বিষয়ক একটি কিতাব১১ যা লেখকের একটি মূল পাঠের (মাতন) ব্যাখ্যা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
18- محيط اللغة1.
19- المهمات في فروع الفقه الحنفي2.
وله عدد من الرسائل طبع منها مجموعة تضم ستاً وثلاثين رسالة3، ومنها مجموعة مخطوطة تضم ثماناً وعشرين رسالة في الخزانة التيمورية، ومجموعة خطيّة أخرى في أربع وعشرين رسالة فيها أيضاً4.
ومن الرسائل التي نشرت - فيما وقفت عليه:
1- رسالة في تحقيق معنى كاد.
2- رسالة في تحقيق التغليب.
3- رسالة أن التوسع شائع.
4- رسالة في تحقيق المشاكلة.
5- رسالة في رفع ما يتعلق بالضمائر من الأوهام5.
6- رسالة في الفرق بين "من" التبعيضية و"من" التبيينية.
7- رسالة في بيان ما إذا كان صاحب علم المعاني يشارك اللغوي في البحث عن مفردات الألفاظ6.
--------------------------------------------
১৮- মুহিতুল লুগাহ ১।
১৯- আল-মুহিম্মাত ফী ফুরুইল ফিকহিল হানাফি ২।
তাঁর বেশ কিছু রিসালাহ (পুস্তিকা) রয়েছে, যার মধ্যে ছত্রিশটি রিসালাহ সম্বলিত একটি সংকলন মুদ্রিত হয়েছে ৩, এছাড়া তায়মুরিইয়াহ লাইব্রেরিতে আটাশটি রিসালাহ সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি সংকলন রয়েছে এবং সেখানে চব্বিশটি রিসালাহ সম্বলিত অপর একটি হাতে লেখা সংকলনও রয়েছে ৪।
আমার দৃষ্টিগোচর হওয়া প্রকাশিত রিসালাহগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১- 'কাদা' শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ বিষয়ক রিসালাহ।
২- 'তাগলিব' (প্রধান্য দান) এর স্বরূপ বিশ্লেষণ বিষয়ক রিসালাহ।
৩- ভাষাগত প্রশস্ততা বহুল প্রচলিত হওয়া বিষয়ক রিসালাহ।
৪- 'মুশাকলাহ' (সাদৃশ্য বিধান) এর স্বরূপ বিশ্লেষণ বিষয়ক রিসালাহ।
৫- সর্বনাম সংশ্লিষ্ট সংশয়সমূহ নিরসন বিষয়ক রিসালাহ ৫।
৬- আংশিকত্ববোধক 'মিন' এবং বর্ণনামূলক 'মিন'-এর মধ্যকার পার্থক্য বিষয়ক রিসালাহ।
৭- ইলমুল মা'আনি বিশেষজ্ঞ শব্দের একক অর্থ গবেষণায় ভাষাভিদদের সাথে অংশগ্রহণ করেন কি না, তার বর্ণনা বিষয়ক রিসালাহ ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৬)
8- رسالة في تحقيق تعريب الكلمة الأعجمية1.
9- التنبيه على غلط الجاهل والنّبية2.
10- رسالة في الكلمات المعرّبة3.
11- رسالة في بيان الأسلوب الحكيم4.
12- المزايا والخواص في الأسلوب البلاغي5.
13- تحقيق معنى النظم والصياغة6.
وهذا ما استطعت أن أصل إليه، وهناك من الباحثين من ذكر أن عدد رسائله تفوق ما ذكره صاحبا الشقائق والكواكب السائرة فقد ذكرا أن رسائله قريبة من مائة رسالة، بينما أشار د. محمد حسين: أبو الفتوح إلى أن لابن كمال باشا
--------------------------------------------
৮- অ-আরবি শব্দের আরবিয়করণ যাচাই সংক্রান্ত পুস্তিকা১।
৯- মূর্খ ও জ্ঞানীদের ভুলের ব্যাপারে সতর্কতা২।
১০- আরবিয়কৃত শব্দাবলি সংক্রান্ত পুস্তিকা৩।
১১- আল-উসলুব আল-হাকিম (প্রাজ্ঞ রীতি) বর্ণনা সংক্রান্ত পুস্তিকা৪।
১২- আলঙ্কারিক রীতির বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি৫।
১৩- বিন্যাস ও শৈলীর অর্থের বিশ্লেষণ৬।
এ পর্যন্তই আমি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। গবেষকদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পুস্তিকাসমূহের সংখ্যা 'আশ-শাকাইক' এবং 'আল-কাওয়াকিব আস-সায়িরাহ' গ্রন্থদ্বয়ের লেখকগণ যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়েও বেশি। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে তাঁর পুস্তিকার সংখ্যা প্রায় একশতটির কাছাকাছি। পক্ষান্তরে ড. মুহাম্মদ হুসাইন আবুল ফুতুহ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইবনে কামাল পাশার
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
"عدة رسائل في اللغة، قيل إنها تزيد على ثلاثمائة رسالة في اللغة"1.
وهذا تراث ضخم أسأل الله أن يدلّ الباحثين على مواطنه كي يخرجوه إلى اللغة العربية ليفيدوا منه، وينهلوا من معينه.
--------------------------------------------
"ভাষাবিষয়ক বেশ কিছু পুস্তিকা, বলা হয়ে থাকে যে এগুলো ভাষাবিজ্ঞানের ওপর তিনশটিরও বেশি পুস্তিকা"১।
এটি একটি বিশাল ঐতিহ্য; আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন গবেষকদের এর সন্ধান পেতে সাহায্য করেন যাতে তারা একে আরবি ভাষার সামনে নিয়ে আসতে পারেন এবং এর থেকে উপকৃত হতে পারেন ও এর ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
التعريف بالرِّسالة:
عنوانها - توثيق نسبتها إلى المؤلف - بيان محتواها - قيمتها العلميّة - المآخذ عليها
عنوانها:
لم أجد صعوبة في تحديد عنوان الرِّسالة، لأنّ المؤلّف نصّ عليه في مقدمّته، فقال: "وبعد فهذه رسالة مرتّبة في بيان تلوين الخطاب، وتفصيل شعبه....".
ووجدت في إحدى النسخ التي اعتمدتها عنواناً بارزاً هو: "رسالة تلوين الخطاب".
وذكر هذا العنوان - أيضاً - الباحث يونس عبد الحي ما، فقال: "رسالة في الالتفات، وتسمّى برسالة في تلوين الخطاب"1.
وإن كان قد وهم في جعلها في الالتفات، لأن المؤلّف نصّ على أنها في تلوين الخطاب، والالتفات إحدى شعبه.
--------------------------------------------
রিসালাত (পুস্তিকা) পরিচিতি:এর শিরোনাম - লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা - বিষয়বস্তুর বর্ণনা - এর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব - এর ওপর সমালোচনা বা আপত্তি
শিরোনাম:
রিসালাতটির শিরোনাম নির্ধারণে আমি কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হইনি, কারণ লেখক নিজেই তাঁর ভূমিকায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "অতঃপর, এটি 'তালউইনে খিতাব' (সম্বোধনের বৈচিত্র্য) বর্ণনা এবং এর শাখাসমূহের বিস্তারিত আলোচনার একটি বিন্যস্ত রিসালাত...."।
আমি যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, তার একটিতে একটি প্রধান শিরোনাম পেয়েছি, যা হলো: "রিসালাতু তালউইনি খিতাব" (সম্বোধনের বৈচিত্র্য বিষয়ক রিসালাত)।
গবেষক ইউনুস আব্দুল হাই মা-ও এই শিরোনামটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এটি ইলতিফাত (বাক্যরীতির পরিবর্তন) বিষয়ক রিসালাত, যাকে 'রিসালা ফি তালউইনি খিতাব' নামেও অভিহিত করা হয়"১।
যদিও একে ইলতিফাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তিনি ভ্রমে পতিত হয়েছেন; কারণ লেখক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি 'তালউইনে খিতাব' প্রসঙ্গে, আর ইলতিফাত হলো এর অন্যতম একটি শাখা মাত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
توثيق نسبتها إلى المؤلف:رسائل ابن كمال باشا كثيرة ومتنوّعة، ولذا كان المترجمون له يذكرون أنّ له رسائل كثيرةٌ وقد تربو على الثلاثمائة عند بعضهم2.
وأمام هذا العدد الهائل من الرسائل أحجم الباحثون عن تتبُّعها وبيان عناوينها وفنونها، واكتفوا بذكر ما اطلعوا عليه منها فقط، حتّى هيّأ الله باحثاً جادّاً، تتبّع مصنّفات ابن كمال جميعها، وفصّل فيها، فذكر عناوينها وموضوعاتها، وهو الباحث: يونس عبد الحي ما، وقد أورد مصنفات المؤلف
--------------------------------------------
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত বা সম্বন্ধের প্রমাণ:ইবনে কামাল পাশার রিসালাসমূহ অনেক এবং বৈচিত্র্যময়। এই কারণেই তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর অসংখ্য রিসালা রয়েছে এবং কারো কারো মতে এর সংখ্যা তিনশ’রও বেশি হতে পারে।২
রিসালার এই বিশাল সংখ্যার সামনে গবেষকগণ সেগুলোর অনুসন্ধান এবং শিরোনাম ও বিষয়বস্তু বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন। তাঁরা কেবল সেগুলোর বর্ণনাই যথেষ্ট মনে করেছেন যা তাঁরা দেখতে পেয়েছেন। পরিশেষে আল্লাহ একজন একনিষ্ঠ গবেষককে তাওফিক দান করেন, যিনি ইবনে কামালের সমস্ত রচনা অনুসন্ধান করেছেন এবং সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি সেগুলোর শিরোনাম ও বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন গবেষক ইউনুস আব্দুল হাই মা, যিনি লেখকের রচনাবলি সংকলন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
باللغة العربية في (44) صفحة1 وهذا جهد يُشكر عليه، وتتبّع دقيق يحمد له.
وكان ممّا أورده من هذه المصنّفات، الرِّسالة التي نحن بصددها، وقد أسماها:
- رسالة في الالتفات، وتسمّى برسالة في تلوين الخطاب2.
ومن عرف أسلوب ابن كمال باشا، أو قرأ بعض رسائله، فإنه لن يجد مشكلة في معرفة ما هو له، أو ليس له من الرسائل، فمما يميّز رسائله، أنه درج على نمط معين في التعريف بموضوعها، إذ يقول بعد التحميد: "فهذه رسالة رتبناها"، أو "فهذه رسالة مرتبة في.."
وانظر ما قاله في الرسائل الآتية:
- وبعد فهذه رسالة مرتّبة في وضع كاد وتوضيح طريق استعماله3.
- وبعد فهذه رسالة رتّبناها في تحقيق المشاكلة وتفصيل ما يتعلق بها..4.
- وبعد فهذه رسالة رتبناها في رفع ما يتعلق بالضمائر من الأوهام..5.
- وبعد فهذه رسالة رتّبناها في تحقيق معنى النظم والصياغة..6.
وهنا نجد أنّ هذه الرسالة تسير وفق ما ألفناه من قبل في الرسائل السابقة فقد جاء فيها:
- وبعد فهذه رسالة مرتّبة في تلوين الخطاب وتفصيل شعبه....
وممّا يوثّق نسبة الرِّسالة إلى صاحبها، أننا نجد علماء يكثر دورانهم في
--------------------------------------------
আরবি ভাষায় (৪৪) পৃষ্ঠায়১ এবং এটি একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ও একটি সূক্ষ্ম অনুসন্ধান যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
তিনি যেসব গ্রন্থ উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটিও রয়েছে যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তিনি এটির নামকরণ করেছেন:
- রিসালাহ ফিল ইলতিফাত (ইলতিফাত বিষয়ক পুস্তিকা), যাকে রিসালাহ ফি তালউইনিল খিতাব২ (ভাষার বৈচিত্র্য বিষয়ক পুস্তিকা) নামেও অভিহিত করা হয়।
যে ব্যক্তি ইবনে কামাল পাশার লিখনশৈলী সম্পর্কে জানেন অথবা তাঁর কিছু পুস্তিকা পড়েছেন, তিনি কোনোটি তাঁর রচনা আর কোনোটি তাঁর নয় তা চিহ্নিত করতে কোনো সমস্যায় পড়বেন না। তাঁর পুস্তিকাগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি এগুলোর বিষয়বস্তু পরিচয়ে একটি নির্দিষ্ট ধারা অনুসরণ করতেন; তিনি হামদ বা আল্লাহর প্রশংসার পর বলতেন: "এটি একটি পুস্তিকা যা আমরা বিন্যস্ত করেছি" অথবা "এটি ... বিষয়ে বিন্যস্ত একটি পুস্তিকা"।
নিম্নোক্ত পুস্তিকাগুলোতে তিনি যা বলেছেন তা লক্ষ করুন:
- অতঃপর, এটি ‘কাদা’ শব্দের প্রয়োগ এবং এর ব্যবহারের পদ্ধতি স্পষ্টীকরণ বিষয়ে বিন্যস্ত একটি পুস্তিকা৩।
- অতঃপর, এটি ‘মুশাকলাহ’ (সাদৃশ্য বিধান) এর স্বরূপ বিশ্লেষণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনায় আমরা বিন্যস্ত করেছি..৪।
- অতঃপর, এটি সর্বনাম সংশ্লিষ্ট সংশয়সমূহ নিরসনে আমরা বিন্যস্ত করেছি..৫।
- অতঃপর, এটি কাব্যিক বিন্যাস ও রচনার অর্থ বিশ্লেষণের বিষয়ে আমরা বিন্যস্ত করেছি..৬।
এখানে আমরা দেখতে পাই যে, এই পুস্তিকাটিও আমাদের পরিচিত পূর্ববর্তী পুস্তিকাগুলোর ধারা অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছে; এতে বর্ণিত হয়েছে:
- অতঃপর, এটি ‘তালউইনুল খিতাব’ (ভাষার বৈচিত্র্য) এবং এর শাখা-প্রশাখার বিস্তারিত বর্ণনায় বিন্যস্ত একটি পুস্তিকা...
আর এই পুস্তিকাটি এর লেখকের সঠিক সম্বন্ধ হওয়ার বিষয়টি যা দ্বারা সুদৃঢ় হয় তা হলো, আমরা এমন আলেমদের পাই যাদের উদ্ধৃতি এতে অধিক আবর্তিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
رسائله، ينقل عنهم، أو يناقشهم ويعترض عليهم، وهؤلاء هم:
1- الزمخشري، ويشير إليه كثيراً بقوله: صاحب الكشاف1.
2- صاحب الكشف2.
3- البيضاوي3.
4- الشريف الفاضل4.
5- الفاضل التفتازاني5.
6- صدر الأفاضل في ضرام السقط6.
وهؤلاء هم الذين تردّد ذكرهم كثيراً في هذه الرسالة، ويبدو أنَّ المؤلّف قد ألفهم واعتاد مناقشتهم أو النقل عنهم في كثير من رسائله.
--------------------------------------------
তাঁর পত্রাবলীতে, তিনি তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন, অথবা তাঁদের সাথে আলোচনা করেন এবং তাঁদের ওপর আপত্তি উত্থাপন করেন; আর তাঁরা হলেন:
১- আজ-জামাশারি, যাঁর প্রতি তিনি প্রায়ই ইঙ্গিত করেন এই বলে: কাশশাফ প্রণেতা।
২- আল-কাশফ প্রণেতা।
৩- আল-বাইদাভি।
৪- আশ-শারিফ আল-ফাদিল।
৫- আল-ফাদিল আত-তাফতাজানি।
৬- দিরাম আস-সাকাত-এর রচয়িতা সদরুল আফাদিল।
এরাই তাঁরা যাঁদের নাম এই পত্রে বারবার আলোচিত হয়েছে, এবং প্রতীয়মান হয় যে লেখক তাঁদের সাথে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর অনেক পত্রাবলীতেই তাঁদের সাথে আলোচনা করতে বা তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি দিতে অভ্যস্ত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
محتوى الرسالة:في هذه الرسالة يبحث ابن كمال باشا تلوين الخطاب، فيبيّن أهميته وعناية العرب به أكثر من عنايتهم بقرى الأضياف، وما ذاك إلا لأنَّه قرىً للأرواح، ولذا فقد أولوه عنايتهم.
ثم ذكر أن تلوين الخطاب يكون بأحد هذه الأمور:
1- العدول عن الخطاب الخاص إلى الخطاب العام، وقد مثّل له بقوله
রিসালার বিষয়বস্তু:এই রিসালায় ইবনে কামাল পাশা বক্তব্যের বৈচিত্র্যায়ন (ত্বলবীনুল খিতাব) নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে তিনি এর গুরুত্ব এবং এই বিষয়ের প্রতি আরবদের বিশেষ মনোযোগের কথা বর্ণনা করেছেন, যা মেহমানদারির প্রতি তাদের গুরুত্বারোপের চেয়েও অধিক ছিল। আর তা কেবল এজন্যই যে, এটি হলো রুহের মেহমানদারি; তাই তারা এর প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন।
এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বক্তব্যের বৈচিত্র্যায়ন নিচের বিষয়গুলোর কোনো একটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:
১- বিশেষ সম্বোধন থেকে সাধারণ সম্বোধনের দিকে ফিরে আসা, যার উদাহরণ হিসেবে তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
تعالى: {اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكُوا وَمَا جَعَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيلٍ وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ
… } 1 والشاهد من هذه الآيات في قوله تعالى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ} بعد قوله {اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ} .
2- صرف الخطاب عن مخاطب إلى مخاطب. ومثّل له بقول جرير2:
ثِقِيْ بِاللهِ لَيْسَ لَهُ شَرِيْكٌ وَمِنْ عِنْدِ الْخَلَيْفَةِ بِالنَّجَاحِ
أَغِثْنِيْ يَا فِدَاكَ أَبِيْ وَأُمِّي بِسَيْبٍ مِنْكَ إِنَّك ذُو ارْتِياحِ
فهو يرى أن الشاعر انتقل من خطاب زوجته إلى خطاب الخليفة، وبناءً على ذلك فليس فيه التفات عنده، وإنما هو من قبيل تلوين الخطاب، لأن من شرط الالتفات أن يكون المخاطب في الحالين واحداً، وقد بيّنت أنّ في هذين البيتين التفاتاً خلاف ما ذهب إليه المؤلف3. وسواء كان فيهما التفات أو لم يكن كما قرّر ذلك المؤلف، فهما داخلان تحت تلوين الخطاب.
3- العدول عن صيغة من الصيغ الثلاث وهي: صيغة التكلم، وصيغة الخطاب، وصيغة الغيبة، إلى الأخرى منها.
وهذا النوع لم يمثّل له.
4- الالتفات: وذكر أنه: تغيير أسلوب الكلام بنقله من إحدى الصيغ الثلاث المذكورة سابقاً إلى الأخرى؛ بشرط أن يكون الكلام بعد النقل مع من كان قبله.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা ওহী করা হয়েছে আপনি তা অনুসরণ করুন। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং আপনি মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকুন। যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা শিরক করত না। আর আমি আপনাকে তাদের হিফাজতকারী নিযুক্ত করিনি এবং আপনি তাদের কর্মবিধায়ক নন। আর তোমরা গালি দিও না তাদের যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য হিসেবে ডাকে...} ১ এই আয়াতগুলোতে দলীল হলো মহান আল্লাহর এই কথা: {আর তোমরা গালি দিও না তাদের যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য হিসেবে ডাকে} যা {আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে আপনি তা অনুসরণ করুন} কথার পরে এসেছে।
২- সম্বোধনকে এক সম্বোধিত ব্যক্তি থেকে অন্য সম্বোধিত ব্যক্তির দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। আর এর উদাহরণস্বরূপ তিনি জারিরের পঙক্তি উল্লেখ করেছেন ২:
আল্লাহর ওপর ভরসা করো, যাঁর কোনো শরিক নেই, আর খলিফার পক্ষ থেকে সাফল্য আসবে।
আপনি আমাকে সাহায্য করুন, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, আপনার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি দানশীল।
তিনি মনে করেন যে, কবি তার স্ত্রীর সম্বোধন থেকে খলিফার সম্বোধনের দিকে চলে গেছেন। আর সেই ভিত্তিতে তার নিকট এতে কোনো 'ইলতিফাত' (সম্বোধন পরিবর্তন) নেই, বরং এটি 'তালউইনুল খিতাব' (সম্বোধনের বৈচিত্র্যকরণ) এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ইলতিফাতের শর্ত হলো উভয় ক্ষেত্রে সম্বোধিত ব্যক্তি এক হওয়া। আর আমি স্পষ্ট করেছি যে, এই দুই পঙক্তিতে ইলতিফাত রয়েছে, যা লেখকের মতের বিপরীত ৩। আর এই দুই পঙক্তিতে ইলতিফাত থাকুক বা লেখক যা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তার মতো না থাকুক, এগুলো সম্বোধনের বৈচিত্র্যকরণের আওতাভুক্ত।
৩- তিনটি রীতির (যথা: উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ ও নাম পুরুষ) কোনো একটি থেকে অন্য একটিতে পরিবর্তন করা।
এই প্রকারের জন্য তিনি কোনো উদাহরণ দেননি।
৪- ইলতিফাত (সম্বোধন পরিবর্তন): তিনি উল্লেখ করেছেন যে: ইতিপূর্বে উল্লেখিত তিনটি রীতির একটি থেকে অন্যটিতে রূপান্তরের মাধ্যমে কথার ভঙ্গি পরিবর্তন করা; তবে শর্ত হলো রূপান্তরের পরের কথা যেন তার পূর্বের ব্যক্তির সাথেই সম্পর্কিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
والفرق بين هذا وما قبله، أنّ هذا خاصّ فيما إذا كان المخاطب قبل النقل وبعده واحداً، بينما الذي قبله عامّ لا يشترط فيه استمرار الكلام بعد النقل مع من كان قبله.
وقد أسهب في هذا النوع، واستغرق منه معظم صفحات الرسالة، ولا غرابة في ذلك فالالتفات مما اعتنى ببحثه البلاغيون.
5- تغيير الأسلوب دون النقل.
وهذا أيضاً لم يمثّل له، وأرى أنه باب واسع، يشمل كثيراً من الأمور التي يكون فيها تغيير للأسلوب عن مقتضى ظاهر المقام، ويمكن حينئذٍ أن يدخل فيه ما أورده ابن الأثير في الالتفات مثل: الرجوع عن الفعل المستقبل إلى فعل الأمر وعن الفعل الماضي إلى فعل الأمر، والإخبار عن الفعل الماضي بالمستقبل، وعن المستقبل بالماضي1.
وحين نمعن النظر في تلوين الخطاب لدى ابن كمال باشا، نجده يحاول استقصاء الأساليب التي تلفت الانتباه، حين تتغيّر من حال إلى حال، وتخرج عن مقتضى الظاهر، فيجعلها داخلة في فروعه، وذلك لأنه رأى أن علماء البلاغة لا يعدّونها من الالتفات بعد أن تحدّد مفهومه، ووضعت له الشروط التي تخرج كثيراً من الأساليب الخارجة عن مقتضى الظاهر، وخاصة عند متأخري علماء البلاغة حيث ذكروا أن الالتفات هو: "التعبير عن معنى بطريق من الثلاثة بعد التعبير عنه بآخر منها"2 وإن كان السّكاكي أكثر تسامحاً منهم: فلا يشترط
--------------------------------------------
এবং এটি এবং এর আগেরটির মধ্যে পার্থক্য হলো যে, এটি তখন নির্দিষ্ট যখন স্থানান্তরের আগে এবং পরে সম্বোধিত ব্যক্তি একজনই হন; পক্ষান্তরে এর আগেরটি সাধারণ, যেখানে স্থানান্তরের পর পূর্ববর্তী ব্যক্তির সাথে কথোপকথন অব্যাহত থাকা শর্ত নয়।
তিনি এই প্রকারটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এটি রিসালার অধিকাংশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ ইলতিফাত এমন একটি বিষয় যার গবেষণায় অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।
৫- স্থানান্তর ব্যতীত শৈলীর পরিবর্তন।
তিনি এর জন্যও কোনো উদাহরণ দেননি, এবং আমি মনে করি এটি একটি প্রশস্ত অধ্যায়, যা এমন অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে পরিস্থিতির আপাত দাবির বিপরীতে শৈলীর পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায় ইবনুল আসির ইলতিফাতের আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন তা এর অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব; যেমন: ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া থেকে আদেশবাচক ক্রিয়ার দিকে ফিরে আসা, অতীতকালীন ক্রিয়া থেকে আদেশবাচক ক্রিয়ার দিকে ফিরে আসা, অতীতকালীন ক্রিয়াকে ভবিষ্যৎকালীন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে অতীতকালীন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা ১।
যখন আমরা ইবন কামাল পাশার নিকট তালোয়িনুল খিতাব-এর বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে তিনি এমন সকল শৈলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছেন যা মনোযোগ আকর্ষণ করে যখন তা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয় এবং বাহ্যিক চাহিদার পরিপন্থী হয়। তিনি সেগুলোকে এর শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কারণ তিনি দেখেছিলেন যে, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ ইলতিফাতের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করার পর এবং এর জন্য এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করার পর—যা বাহ্যিক চাহিদার বহির্ভূত অনেক শৈলীকেই বাদ দিয়ে দেয়—সেগুলোকে আর ইলতিফাতের অন্তর্ভুক্ত করেন না। বিশেষ করে পরবর্তী যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট, যারা উল্লেখ করেছেন যে ইলতিফাত হলো: "একটি অর্থকে (বক্তব্যের) তিনটি পদ্ধতির কোনো একটির মাধ্যমে প্রকাশ করার পর অন্য আরেকটি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকাশ করা" ২। যদিও সাক্কাকি তাদের তুলনায় অধিক উদার ছিলেন: তিনি শর্তারোপ করেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৩)
تحقّق التعبير أوّلاً، بل يكتفي بأن يكون التعبير قد عدل عمّا يتطلبه مقتضى الظاهر إلى خلافه1.
وكان الالتفات عند السابقين من علماء البيان مصطلحاً عائماً يدخل فيه ما ليس منه، وهذا ما وجد لدى ابن قتيبة، وابن المعتز، وقدامة بن جعفر، وأبي هلال العسكري، وابن رشيق، وغيرهم فالالتفات لديهم غير محدّد، بل أدخل فيه بعضهم التذييل2 والاعتراض والاستدراك3، وكذلك نجد التوسّع فيه عند ابن الأثير من بعد، حيث جعل منه التعبير بالأمر عن المضارع أو الماضي، والتعبير
--------------------------------------------
প্রথমে অভিব্যক্তির বাস্তবতা অর্জিত হওয়া, বরং এটিই যথেষ্ট যে অভিব্যক্তিটি যা বাহ্যিক চাহিদা দাবি করে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে তার বিপরীতে চলে গেছে।
অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বয়ান) পূর্ববর্তী আলেমদের নিকট 'ইলতিফাত' (দৃষ্টিভঙ্গি বা পুরুষ পরিবর্তন) ছিল একটি অস্পষ্ট পরিভাষা, যার মধ্যে এমন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হতো যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি ইবনে কুতায়বাহ, ইবনে আল-মুতাজ, কুদামা বিন জাফর, আবু হিলাল আল-আসকারি, ইবনে রাশিক এবং অন্যদের মধ্যে পাওয়া যায়। তাদের নিকট ইলতিফাত সুনির্দিষ্ট ছিল না, বরং তাদের কেউ কেউ এর মধ্যে তাজয়িল (বাক্যসংযোজন), ইতিরাদ (মধ্যবর্তী বাক্য) এবং ইস্তিদরাক (সংশোধনী)-কেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একইভাবে আমরা পরবর্তীকালে ইবনে আল-আসিরের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি দেখতে পাই, যেখানে তিনি মুদারি (বর্তমান/ভবিষ্যৎ) বা মাদি (অতীত) ক্রিয়ার পরিবর্তে আমর (আদেশসূচক)-এর মাধ্যমে প্রকাশকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এবং অভিব্যক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৪)
بالمضارع عن الماضي، وبالماضي عن المضارع1.
وحين وجد ابن كمال الانفتاح لدى بعض البلاغيين في مفهوم الالتفات، والانغلاق والتضييق لدى بعضهم الآخر، اختار تلوين الخطاب فجمع فيه بين رؤية السابقين واللاحقين، وحافظ على مصطلح الالتفات محدّداً دقيقاً وجعله نوعاً من أنواع تلوين الخطاب.
--------------------------------------------
অতীতকালের পরিবর্তে বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল ব্যবহারের মাধ্যমে এবং বর্তমান/ভবিষ্যৎকালের পরিবর্তে অতীতকাল ব্যবহারের মাধ্যমে১।
যখন ইবনে কামাল কতিপয় অলঙ্কারশাস্ত্রবিদের নিকট 'ইলতিফাত' (দিক পরিবর্তন) ধারণার ক্ষেত্রে উদারতা এবং অন্যদের নিকট এ বিষয়ে সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি 'তালোয়ীনুল খিতাব' (বক্তব্যের বৈচিত্র্যকরণ) বিষয়টি বেছে নিলেন এবং এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটালেন। তিনি 'ইলতিফাত' পরিভাষাটিকে সুনির্দিষ্ট ও সূক্ষ্মভাবে বজায় রাখলেন এবং একে 'তালোয়ীনুল খিতাব'-এর একটি প্রকার হিসেবে সাব্যস্ত করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৫)
قيمتها العلمية…قيمة الرسالة العلمية
تأتي أهميّة الرسالة من كونها تتناول موضوعاً، لم أجد من أفرد له بحثاً مستقلاً، وهو تلوين الخطاب، ولم أقف على مؤلفٍ - فيما اطلعت عليه - يتحدث عنه، أو يشير إليه سوى عند الشهاب الخفاجي، فقد وردت إشارة خاطفة إليه1، ولذا فقد خلت منه المعاجم الأدبية والنقدية الحديثة التي تهتمّ برصد المصطلحات الواردة في القديم والحديث2.
ومع هذه الأهميّة، فإنّ للمؤلف وقفاتٍ رائعة، ومناقشات لمن سبقه من العلماء تدلّ على سعة علمه، ودِقَّته، وتفصح عن مكانة الرسالة العلمية، ومن ذلك:
1- اعتراضه على الزمخشري في استنباط النكتة البلاغية من الالتفات في قوله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى} 3. حيث قال: "ولذلك صرّح الإمام البيضاوي على وفق إشارة صاحب الكشاف بوجود الالتفات في قوله تعالى: {وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى} فإن العدول فيه عن مقتضى ظاهر الكلام، حيث كان سباقه، وهو قوله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى} على صيغة الغيبة، لا عن مقتضى ظاهر المقام، لأن مقتضاه الخطاب في الموضعين، ونكتة العدول عن مقتضى الظاهر بحسب المقام، التعظيم للنبي عليه الصلاة والسلام، والتلطيف في تأديبه بالعدول عن الخطاب في مقام
--------------------------------------------
এর ইলমি গুরুত্ব…গবেষণাপত্রটির ইলমি মূল্য
এই গবেষণাপত্রটির গুরুত্ব এই দিক থেকে যে, এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে যার ওপর আমি কাউকে স্বতন্ত্র কোনো গবেষণা করতে দেখিনি; আর তা হলো 'বক্তব্যের বৈচিত্র্যকরণ' (তলোয়ীনুল খিতাব)। আমার জানামতে শিহাব আল-খাফাজীর আলোচনা ব্যতীত আর কোনো লেখককে এ সম্পর্কে আলোচনা করতে বা এর দিকে ইঙ্গিত করতে দেখিনি; সেখানেও বিষয়টির প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত এসেছে মাত্র। এই কারণেই প্রাচীন ও আধুনিক পরিভাষাগুলো সংকলনে গুরুত্বারোপকারী আধুনিক সাহিত্য ও সমালোচনা বিষয়ক অভিধানগুলোতে এই বিষয়টি স্থান পায়নি।
এই গুরুত্বের পাশাপাশি, এখানে গ্রন্থকারের চমৎকার কিছু পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর পূর্ববর্তী আলিমদের সাথে এমন কিছু আলোচনা রয়েছে যা তাঁর ইলমের প্রশস্ততা ও সূক্ষ্মতা নির্দেশ করে এবং এই গবেষণাপত্রটির ইলমি মর্যাদা প্রকাশ করে। তার মধ্যে রয়েছে:
১- আল্লাহ তাআলার বাণী: {সে ভ্রুকুটি করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে সেই অন্ধ ব্যক্তিটি এসেছিল। আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো} - এর মধ্যে 'ইলতিফাত' (পুরুষ পরিবর্তন) থেকে অলঙ্কারিক রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে যামাখশারীর ওপর তাঁর আপত্তি। যেখানে তিনি বলেছেন: "এই কারণেই ইমাম বায়দাভী 'সাহেবে কাশশাফ'-এর ইঙ্গিতের আলোকে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো}-এর মধ্যে 'ইলতিফাত' বা পুরুষ পরিবর্তনের অস্তিত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। কেননা এখানে কথার প্রকাশ্য রূপের দাবি থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে; যেহেতু এর পূর্ববর্তী অংশ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার বাণী: {সে ভ্রুকুটি করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে সেই অন্ধ ব্যক্তিটি এসেছিল} ছিল নামপুরুষের বর্ণনায়। তবে এটি প্রেক্ষাপটের প্রকাশ্য চাহিদার পরিপন্থী নয়; কারণ উভয় স্থলের প্রেক্ষাপটই ছিল সম্বোধন বা মধ্যম পুরুষ। প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রকাশ্য রূপ থেকে এই বিচ্যুতির সূক্ষ্ম রহস্য হলো নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর শিষ্টাচার শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সরাসরি সম্বোধন পরিহার করে কোমলতা অবলম্বন করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৬)
العتاب، والإباء عن المواجهة بما فيه الكراهة".
وعقَّب على هذا بقوله: "وأمَّا ما قيل: في الإخبار عمّا فرط منه ثم الإقبال عليه، دليل على زيادة الإنكار، كمن يشكو إلى الناس جانياً جنى عليه، ثم يقبل على الجاني إذا حمي في الشكاية مواجهاً له بالتوبيخ، وإلزام الحجة -فوهم لا ينبغي أن يذهب إليه فهم"1. وهذا القول الذي أشار إليه بقوله: "وأما ما قيل" ورد عند الزمخشري في الكشاف2.
2- اعتراضه على اشتراط "أن يكون التعبير الثاني على خلاف مقتضى الظاهر"3 في الالتفات ويرى أنه "لا حاجة إلى ذكره، واعتباره شرطاً زائداً على ما ذكرنا، لأن أسلوب الكلام لا يتغيّر إلا إذا كان كذلك، بناءً على أن المراد من مقتضى الظاهر هنا، ظاهر الكلام لا مقتضى ظاهر المقام"4.
وهذا الذي ذكره وجيه، إذ إن الالتفات في الأصل لا يكون إلا إذا كان التعبير الثاني على خلاف مقتضى الظاهر، فكأنّ اشتراطه لا داعي له، فهو متحقّق، ومن الأولى تركه.
3- وقد انتقد الزمخشري في عدم تفصيله لأنواع الالتفات، وأعجب بما أورده السكاكي في هذا الأمر، فقال: "وقد أفصح عن هذا صاحب المفتاح بقوله: بل الحكاية والخطاب والغيبة ثلاثتها ينقل كل واحدٍ منها إلى الآخر، ويسمّى هذا النقل التفاتاً عند علماء المعاني، وإن قصر عنه بيان صاحب
--------------------------------------------
ভর্ৎসনা এবং অপছন্দনীয় বিষয় নিয়ে সরাসরি মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত থাকা।"
তিনি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "আর যা বলা হয়েছে যে: তার পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া এবং পরে তার দিকে মনোনিবেশ করা অধিকতর অস্বীকৃতি বা আপত্তির দলিল, যেমন কোনো ব্যক্তি মানুষের কাছে তার ওপর অন্যায়কারী কোনো অপরাধী সম্পর্কে অভিযোগ করে, অতঃপর অভিযোগ করার সময় যখন ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছায় তখন সে অপরাধীর দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকে তিরস্কার করে এবং অকাট্য প্রমাণ পেশ করে—এটি এমন এক বিভ্রান্তি যার দিকে কোনো বোধসম্পন্ন ব্যক্তির যাওয়া উচিত নয়।"১। যে কথাটির দিকে তিনি তাঁর ‘আর যা বলা হয়েছে’ বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন, তা যামাখশারীর আল-কাশশাফ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে২।
২- ইলতিফাত-এর ক্ষেত্রে ‘দ্বিতীয় প্রকাশভঙ্গিটি বাহ্যিক দাবি বা প্রেক্ষাপটের পরিপন্থী হওয়া’৩ শীর্ষক শর্তারোপের ব্যাপারে তাঁর আপত্তি। তিনি মনে করেন যে, "এটি উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে এটি গণ্য করারও দরকার নেই; কারণ কথার শৈলী কেবল তখনই পরিবর্তিত হয় যখন সেটি এরূপ হয়। আর এখানে ‘বাহ্যিক দাবি’ বলতে কথার বাহ্যিক রূপই উদ্দেশ্য, পরিস্থিতির বাহ্যিক দাবি নয়।"৪।
তাঁর এই বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত; কেননা ইলতিফাত মূলত তখনই ঘটে যখন দ্বিতীয় প্রকাশভঙ্গিটি বাহ্যিক দাবির বিপরীতে হয়। ফলে এই শর্তটি আরোপ করার যেন কোনো আবশ্যকতা নেই, কারণ এটি এমনিতেই বিদ্যমান থাকে এবং এটি বাদ রাখাই শ্রেয়।
৩- তিনি ইলতিফাতের প্রকারভেদের বিস্তারিত বিবরণ না দেওয়ার কারণে যামাখশারীর সমালোচনা করেছেন এবং এই বিষয়ে সাককাকী যা উপস্থাপন করেছেন তাতে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন: "মিফতাহ প্রণেতা এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এই বলে যে: বরং বর্ণনা, সম্বোধন এবং নামপুরুষ—এই তিনটির প্রত্যেকটিই একটি থেকে অন্যটিতে রূপান্তরিত হয়। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের নিকট এই রূপান্তরকেই ‘ইলতিফাত’ বলা হয়, যদিও এর ব্যাখ্যা প্রণেতার বর্ণনার তুলনায় সংক্ষিপ্ত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৭)
الكشاف بقوله: هذا يسمّى الالتفات في علم البيان، وقد يكون من الغيبة إلى الخطاب، ومن الخطاب إلى الغيبة، ومن الغيبة إلى التكلم، حيث اقتصر على ذكر أنواعه الثلاثة"1.
وهذا التقصير واضح من الزمخشري، فإن كلامه يوهم أن أنواع الالتفات ثلاثة فقط، بينما هي ستة، وهي ظاهرة في قول السكّاكي.
وفي موضع آخر وجدناه يقدّم الزمخشري على السكاكي في توضيح الالتفات في أبيات امرئ القيس: تطاول ليلك بالإثمد
…فقال: "وقال صاحب المفتاح: فالتفت - يعني امرأ القيس - في الأبيات الثلاثة، أراد أنه التفت في كل بيت، وكلام صاحب الكشاف في هذا المعنى أظهر، حيث قال: التفت امرؤ القيس ثلاث التفاتات في ثلاثة أبيات، فإنه نصّ في الثلاث وظاهر في التوزيع"2.
وهذا مما يدلّ على إنصافه، وميله مع الحق، وتتبّعه للأمانة العلميّة في نقده واستحسانه.
4- وانتقد السكّاكي، لأنه لم يأت بمثالٍ على الالتفات من التكلم إلى الغيبة، واستدرك عليه بمثالٍ من القرآن الكريم، ورأى أن المثال وإن لم يكن موجوداً في الشعر الجاهلي، فإنه موجود فيما هو أفضل منه وأتمّ، وعلى هذا فلا عذر للسكّاكي في عدم التمثيل له، يقول: «ومثال النوع المذكور من الشعر لم يوجد في أشعار الجاهلية، ولذلك لم يورد صاحب المفتاح مثالاً له، إلا أنه لم يصب في ذلك؛ لأن وجود مثاله في التنزيل كان كافياً، فلا وجه لاقتصاره على
--------------------------------------------
আল-কাশশাফ এর এই বক্তব্য: "একে ইলমে বয়ানের পরিভাষায় ইলতিফাত বলা হয়। এটি নামপুরুষ থেকে মধ্যম পুরুষে, মধ্যম পুরুষ থেকে নামপুরুষে এবং নামপুরুষ থেকে উত্তম পুরুষে হতে পারে।" এখানে তিনি এর কেবল তিনটি প্রকার উল্লেখ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন১।
যামাখশারীর এই সীমাবদ্ধতা সুস্পষ্ট; কেননা তাঁর বক্তব্য এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে ইলতিফাতের প্রকারভেদ মাত্র তিনটি, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা ছয়টি, যা সাক্কাকীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
অন্য এক স্থানে আমরা তাঁকে ইমরুল কায়েসের কবিতায় ইলতিফাতের ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সাক্কাকীর তুলনায় যামাখশারীকে অগ্রাধিকার দিতে দেখি: "ইতমিদ মাখা অবস্থায় তোমার রাত দীর্ঘ হলো..."
…তিনি বলেন: "মিফতাহ রচয়িতা বলেছেন: ইমরুল কায়েস—অর্থাৎ তিনি—এই তিনটি পঙক্তিতে ইলতিফাত করেছেন। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে তিনি প্রতিটি পঙক্তিতে ইলতিফাত করেছেন। তবে আল-কাশশাফ রচয়িতার কথা এই অর্থে অধিকতর স্পষ্ট। তিনি বলেছেন: 'ইমরুল কায়েস তিনটি পঙক্তিতে তিনটি ইলতিফাত করেছেন।' কেননা এটি তিন সংখ্যার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট এবং বণ্টনের ক্ষেত্রেও প্রকাশ্য"২।
এটি তাঁর নিরপেক্ষতা, সত্যের প্রতি অনুরাগ এবং সমালোচনা ও প্রশংসার ক্ষেত্রে তাঁর বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতা অনুসরণের প্রমাণ দেয়।
৪- তিনি সাক্কাকীর সমালোচনা করেছেন, কারণ তিনি উত্তম পুরুষ থেকে নামপুরুষে ইলতিফাতের কোনো উদাহরণ পেশ করেননি। তিনি পবিত্র কুরআনের একটি উদাহরণ দিয়ে তা সংশোধন করেছেন। তাঁর অভিমত হলো, জাহেলি কবিতায় এর উদাহরণ পাওয়া না গেলেও যা তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ, তাতে এর উদাহরণ বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং সাক্কাকীর পক্ষে এর উদাহরণ না দেওয়ার কোনো অজুহাত নেই। তিনি বলেন: "উক্ত প্রকারের উদাহরণ কবিতা থেকে জাহেলি কবিতাসমূহে পাওয়া যায়নি, আর এই কারণেই মিফতাহ রচয়িতা এর কোনো উদাহরণ পেশ করেননি। তবে তিনি এই ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন না; কেননা অবতীর্ণ গ্রন্থে এর উদাহরণ থাকাই যথেষ্ট ছিল। সুতরাং তাঁর কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৮)
إيراد المثال للأقسام الخمسة"1.
ومثال هذا النوع الذي ذكره، هو قوله تعالى: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ، فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} 2.
ومما يدلّ على اهتمامه بالاستشهاد بالقرآن وعنايته به، استدراكه أيضاً على التفتازاني حين نفى وجود التعبير عن الغائب أو المخاطب بلفظ الجمع المتكلم، وذلك في قوله: "وقد كثر في الواحد من المتكلم لفظ الجمع تعظيماً له، لعدّهم المعظّم كالجماعة، ولم يجيء ذلك للغائب والمخاطب في الكلام القديم، وإنما هو استعمال المولّدين
… "3.
حيث قال المؤلف بعد إيراده هذا القول -: "وفيه نظر؛ لأنه قد جاء ذلك للغائب والمخاطب أيضاً في الكلام القديم"4 ومثّل للغائب بقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} 5 فقد نقل عن البيضاوي في تفسير هذه الآية: "أي قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذكر الله لتعظيم أمره، والإشعار بأن قضاءه قضاء الله تعالى، وجمع الضمير الثاني للتعظيم"6.
ومثّل للمخاطب بقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا..} 7
--------------------------------------------
পাঁচটি প্রকারের উদাহরণ উপস্থাপন১।
তিনি যে প্রকারটি উল্লেখ করেছেন তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি, সুতরাং আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।"২।
কুরআন থেকে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বারোপ ও বিশেষ যত্নের একটি প্রমাণ হলো আল-তাফতাজানির ওপর তাঁর সংশোধনী। তাফতাজানি যখন নাম পুরুষ (গায়েব) বা মধ্যম পুরুষের (মুখাতাব) ক্ষেত্রে উত্তম পুরুষের বহুবচন ব্যবহারের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "একবচন উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে সম্মান প্রদর্শনার্থে বহুবচনের শব্দ ব্যবহার বহুল প্রচলিত, কারণ তারা সম্মানিত ব্যক্তিকে একটি দলের মতো গণ্য করে। তবে প্রাচীন আরবি ভাষায় নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের ক্ষেত্রে এমন ব্যবহার আসেনি; এটি মূলত পরবর্তী যুগের (মুওয়াল্লাদিন) ব্যবহার..."৩।
এখানে লেখক এই বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: "এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ প্রাচীন আরবি ভাষায় নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের ক্ষেত্রেও এমন ব্যবহার এসেছে"৪। তিনি নাম পুরুষের উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের নিজেদের বিষয়ে অন্য কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না"৫। তিনি এই আয়াতের তাফসিরে আল-বায়দাভি থেকে উদ্ধৃত করেছেন: "অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা করেছেন, আর আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর নির্দেশকে মহিমান্বিত করার জন্য এবং এটি বুঝাতে যে তাঁর ফয়সালা মূলত মহান আল্লাহরই ফয়সালা। আর দ্বিতীয় সর্বনামটি বহুবচনে আনা হয়েছে সম্মান প্রদর্শনের জন্য"৬।
আর মধ্যম পুরুষের উদাহরণ হিসেবে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা 'রায়িনা' বলো না..."৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩১৯)
في قراءة من جمع لفظ (راعونا) ونقل ذلك عن الزمخشري فقال: "وأما الثاني فقد قال صاحب الكشاف في تفسير قوله تعالى: {لا تقُولُوا راعِنَا} وقرأ ابن مسعود (راعونا) على أنهم كانوا يخاطبونه بلفظ الجمع للتوقير"1.
5- وانتقد التفتازاني في شرحه للتلخيص حين قال: "لأنا نعلم من إطلاقاتهم واعتباراتهم، أن الالتفات هو انتقال الكلام من أسلوب من التكلم والخطاب والغيبة، إلى أسلوب آخر غير ما يترقبه المخاطب؛ ليفيد تطرئةً لنشاطه، وإيقاظاً في إصغائه"2.
فقال: "ولما عرفت أن فائدة التطرئة والإيقاظ مدارها على نقل الكلام من أسلوب إلى آخر مطلقاً، فقد وقفت على ما في كلام الفاضل التفتازاني.... من الخلل، حيث اعتبر في ترتّب الفائدة المذكورة قيداً في الأسلوب المنقول إليه، لا دخل له فيه"3.
فالمؤلف يرى أن التفتازاني أخطأ هنا، لأنه جعل هذه الفوائد محصورة في الالتفات، بينما هي في الواقع أعم، فهي صالحة لكل انتقال دون تقييد؛ ولذا فقد ذكر التفتازاني التكلم والخطاب والغيبة، والانتقال إلى أسلوب آخر غير ما يترقبه السامع، يعني لديه: الانتقال من صيغة إلى أخرى من هذه الصيغ، وابن كمال لا يريد هذا التقييد في الأسلوب المنقول إليه، لأنّ الفائدة تشمل ما قيّد بهذا القيد الذي ذكره التفتازاني وما لم يقيّد.
ويلحق بهذا انتقاده السكّاكي ومن تابعه لذكرهم "السامع" حين ذكروا فوائد الالتفات، وكان الأولى أن يذكروا "المخاطب" حتى ينصرف الذهن إلى
--------------------------------------------
(রাউনা) শব্দটিকে বহুবচন হিসেবে পাঠ করার কিরাআত সম্পর্কে এবং সেটি যামাখশারী থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন: "আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে, কাশশাফ গ্রন্থের লেখক আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা 'রায়িনা' বলো না} এর তাফসিরে বলেছেন: ইবনে মাসউদ (রা.) 'রাউনা' পড়েছেন এই ভিত্তিতে যে, তারা সম্মানের খাতিরে তাঁকে বহুবচনের শব্দে সম্বোধন করতেন।"১
৫- এবং তিনি তালখিসের ব্যাখ্যায় তাফতাযানীকে সমালোচনা করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "কারণ আমরা তাদের (ভাষাবিদদের) প্রয়োগ ও বিবেচনা থেকে জানি যে, আল-ইলতিফাত (বাকভঙ্গি পরিবর্তন) হলো বাক্যকে উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ ও নাম পুরুষের কোনো একটি পদ্ধতি থেকে অন্য এমন একটি পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা যা সম্বোধিত ব্যক্তি প্রত্যাশা করে না; যাতে তার উদ্যম সজীব হয় এবং তার মনোযোগ জাগ্রত হয়।"২
অতঃপর তিনি বলেন: "যেহেতু আপনি জেনেছেন যে সজীবতা প্রদান ও জাগ্রত করার উপকারিতাটি সাধারণভাবে বক্তব্যকে এক পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে স্থানান্তরের ওপর নির্ভরশীল, তাই আমি বিজ্ঞ তাফতাযানীর বক্তব্যে... ত্রুটি খুঁজে পেয়েছি, যেখানে তিনি উল্লিখিত উপকারিতা অর্জনের ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত পদ্ধতির ওপর এমন একটি শর্তারোপ করেছেন যার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।"৩
সুতরাং লেখক মনে করেন যে তাফতাযানী এখানে ভুল করেছেন, কারণ তিনি এই উপকারিতাগুলোকে ইলতিফাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন, অথচ বাস্তবে এগুলো আরও ব্যাপক। এগুলো কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যেকোনো স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; একারণেই তাফতাযানী উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ ও নাম পুরুষ এবং শ্রোতার প্রত্যাশার বাইরে অন্য পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তার নিকট এর অর্থ হলো: এই রূপগুলোর একটি থেকে অন্যটিতে পরিবর্তন হওয়া। কিন্তু ইবনে কামাল স্থানান্তরিত পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা চান না, কারণ এই উপকারিতাটি তাফতাযানীর উল্লিখিত শর্তযুক্ত এবং শর্তহীন উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাক্কাকী এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছেন তাদের প্রতি তাঁর সমালোচনা, যেহেতু তারা ইলতিফাতের উপকারিতা বর্ণনার সময় 'শ্রোতা' শব্দটি উল্লেখ করেছেন। অথচ 'সম্বোধিত ব্যক্তি' শব্দটি উল্লেখ করাই অধিকতর উত্তম ছিল, যাতে মনোযোগ সেদিকে নিবদ্ধ হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩২০)
الالتفات خاصة، فأمّا ذكرهم «السامع» فإنّه لا يفهم منه اقتصار الفوائد على الالتفات فقط، بل يكون الأمر عاماًّ فيه وفي غيره من الأساليب التي يكون فيها انتقال من حالٍ إلى حال.
ورأيه هذا صائب؛ خاصة إذا استحضرنا شرط الالتفات: وهو أن يكون المخاطب بالكلام في الحالين واحداً وقد اختار المؤلف هذا الشرط، ونقله عن صدر الأفاضل1.
يقول في ذلك: "واعلم أنّ مدار تلك الفوائد على تلوين الخطاب مطلقاً، سواء كان المخاطب بالكلام في الحالين واحداً، فيوجد شرط الالتفات، أو لا يكون واحداً، فلا يكون من باب الالتفات فحق من يريد ترتّبها على الالتفات خاصة؛ أن يذكر المخاطب بدل السامع، فصاحب المفتاح ومن حذا حذوه من الذين ذكروا السامع، عند تقريرهم الفوائد المذكورة، مرتبة على الالتفات المشروط بالشرط المزبور، لم يكونوا على بصيرة"2.
6- وتعقّب السيد الشريف في مسألة نحوية، حين شرح السيد الشريف قول السكّاكي - بعد إيراد أمثلة الالتفات – "وأمثال ما ذكر أكثر من أن يضبطها القلم"3.
فقد قال المؤلف: "قوله: أكثر من أن يضبطها القلم، مما أخطأ فيه الشارح الفاضل، حيث زعم أن المذكور (من) التفضيلية"4 وردّ عليه مبيّناً خطأه فقال:
--------------------------------------------
বিশেষত ইলতিফাত; আর তাদের 'শ্রোতা' শব্দের উল্লেখ থেকে এটি বোঝা যায় না যে এর উপকারিতাগুলো কেবল ইলতিফাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বরং বিষয়টি এতে এবং অন্য সব শৈলীতেও সাধারণ যেখানে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় উত্তরণ ঘটে।
তাঁর এই অভিমতটি সঠিক; বিশেষ করে যদি আমরা ইলতিফাতের শর্তটি স্মরণে রাখি: আর তা হলো উভয় অবস্থায় সম্বোধিত ব্যক্তি এক হওয়া। লেখক এই শর্তটিই পছন্দ করেছেন এবং এটি সদরুল আফাদিল থেকে বর্ণনা করেছেন।১
তিনি এই বিষয়ে বলেন: "জেনে রাখুন যে, সেই উপকারিতাগুলোর ভিত্তি হলো সাধারণভাবে সম্বোধনের বৈচিত্র্য আনয়ন, চাই উভয় অবস্থায় সম্বোধিত ব্যক্তি অভিন্ন হোক—যার ফলে ইলতিফাতের শর্ত পাওয়া যায়—কিংবা অভিন্ন না হোক—যার ফলে তা ইলতিফাতের অন্তর্ভুক্ত হয় না। সুতরাং যারা এই উপকারিতাগুলোকে বিশেষভাবে ইলতিফাতের ওপর বিন্যস্ত করতে চান, তাদের উচিত 'শ্রোতা'র পরিবর্তে 'সম্বোধিত ব্যক্তি' শব্দটি উল্লেখ করা। তাই মিফতাহ গ্রন্থের লেখক এবং যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে উক্ত উপকারিতাগুলো বর্ণনার সময় 'শ্রোতা' শব্দটির উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে পূর্বোক্ত শর্তযুক্ত ইলতিফাতের ওপর বিন্যস্ত করেছেন, তারা সঠিক অন্তর্দৃষ্টির ওপর ছিলেন না।"২
৬- এবং তিনি একটি ব্যাকরণগত বিষয়ে আস-সাইয়্যিদ আশ-শারিফকে পর্যালোচনা করেছেন, যখন আস-সাইয়্যিদ আশ-শারিফ আস-সাক্কাকির উক্তিটি ব্যাখ্যা করছিলেন—ইলতিফাতের উদাহরণগুলো উল্লেখ করার পর—"যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুরূপ উদাহরণগুলো এত অধিক যে কলম তা লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম নয়।"৩
লেখক বলেছেন: "তাঁর উক্তি: 'কলম তা লিপিবদ্ধ করার চেয়েও অধিক', এটি এমন একটি বিষয় যাতে বিদগ্ধ ব্যাখ্যাকার ভুল করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে উল্লিখিত 'মিন' শব্দটি তুলনামূলক বা আধিক্যবাচক (তাফদিলিয়্যাহ)।"৪ তিনি তাঁর ভুল স্পষ্ট করে এর প্রত্যুত্তর দিয়ে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবীনুল খিতাব লি ইবনি কামাল পাশা দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক
(পৃষ্ঠা: ৩২১)
«ومبنى ما ذكره أوّلاً وآخراً، الغفول عن أصل في هذا الباب، ذكره الإمام المرزوقي في شرح الحماسة، وصاحب المغرّب، وغيرهما، وهو: أنّ أفعل التفضيل إذا وقع خبراً تحذف عنه أداة التفضيل قياساً، ومنه: الله أكبر وقول الشاعر:
دَعَائِمُهُ أَعَزُّ وَأَطْوَلُ
فكلمة (من) في أمثال ما ذكر متعلقة بما يتضمنه اسم التفضيل"1.
7- وانتقد السيد الشريف في فهم قول السكّاكي: "قد يختص مواقعه بلطائف"2 أي مواقع الالتفات، حيث فهم السيد الشريف أن (قد) هنا معناها التقليل، ولذا ردّ عليه المؤلف هذا الفهم، داعماً ردّه بالشواهد، فقال: "لفظة (قد) تستعار للتكثير، كما في قوله تعالى: {قدْ نرَى تقلُّبَ وجْهِكِ في السِّماءِ} 3 وقول الشاعر:
قَدْ أَتْرُكُ مُصْفَراًّ أَنَامِلُهُ كَأَنَّ أَثْوَابَهُ مُجَّتْ بِفِرْصَادِ
والشارح الفاضل لغفوله عن استعارة (قد) للتكثير في أمثال هذا المقام، قال في شرحه: ولفظة (قد) إشارة إلى أن الفائدة العامة كافية لحسن الالتفات في مواقعها كلها، لكن ربّما اشتمل بعضها على فائدة أخرى، فيزداد حسنه فيه"4.
--------------------------------------------
«তিনি প্রথমে এবং শেষে যা উল্লেখ করেছেন তার ভিত্তি হলো এই বিষয়ের একটি মূলনীতি সম্পর্কে অসতর্কতা, যা ইমাম মারজুকি 'শারহুল হামাসাহ'-তে, 'আল-মুগরিব' এর লেখক এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো: যখন শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষ্য (আফয়ালুত তাফদিল) খবর হিসেবে আসে, তখন নিয়ম অনুযায়ী তার থেকে তুলনাবোধক অব্যয়টি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আল্লাহু আকবার' (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) এবং কবির উক্তি:
তাঁর স্তম্ভসমূহ অধিক শক্তিশালী এবং দীর্ঘতর
সুতরাং উল্লেখিত উদাহরণগুলোতে 'মিন' (থেকে) শব্দটি শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট।"১।
৭- তিনি সাক্কাকির উক্তি: "এর ক্ষেত্রগুলো কিছু সূক্ষ্ম রহস্যের জন্য সুনির্দিষ্ট হতে পারে"২ - অর্থাৎ ইলতিফাত (বাক্যরীতি পরিবর্তন) এর ক্ষেত্রসমূহ - অনুধাবনের ক্ষেত্রে সাইয়্যিদ শরীফকে সমালোচনা করেছেন। কারণ সাইয়্যিদ শরীফ এখানে 'কাদ' শব্দটিকে স্বল্পতা অর্থে বুঝেছেন, ফলে লেখক তাঁর এই বুঝকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাখ্যানকে সমর্থন করে বলেছেন: "'কাদ' শব্দটি আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: {আমি অবশ্যই আকাশে আপনার বারবার মুখ ফিরানো লক্ষ্য করছি} ৩ এবং কবির উক্তি:
আমি অনেক সময় শত্রুকে এমন অবস্থায় রেখে আসি যে তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ হলদে হয়ে যায়, যেন তার পোশাক তুঁত ফল দ্বারা রঞ্জিত হয়েছে
আর বিজ্ঞ ব্যাখ্যাকার এই জাতীয় ক্ষেত্রে 'কাদ' শব্দটির আধিক্য অর্থে ব্যবহারের বিষয়টি খেয়াল না করায় তাঁর ব্যাখ্যায় বলেছেন: 'কাদ' শব্দটি এই দিকে ইঙ্গিত করছে যে, ইলতিফাতের সকল ক্ষেত্রেই তার সৌন্দর্যের জন্য সাধারণ উপকারিতাই যথেষ্ট, তবে সম্ভবত কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য কোনো ফায়দাও অন্তর্ভুক্ত হয়, ফলে তাতে এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়।"৪।
--------------------------------------------