(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
تلخيص صفة صلاة النبي صلى الله عليه وآله وسلم   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: تَلخيصُ صِفة صَلاة النَّبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلهِ وَسَلَّمَ

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: المكتب الإسلامي

الطبعة: الخامسة، 1404 هـ - 1984 م

عدد الصفحات: 36

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির সংক্ষিপ্তসার   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির সংক্ষিপ্তসার

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন، বিন আল-হাজ নূহ বিন নাজাতি বিন আদম، আল-আশকুদারী আল-আলবানী (ওফাত ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী

সংস্করণ: পঞ্চম، ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[تلخيص صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم]ـ

تأليف: محمد ناصر الدين الألباني

 

كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من التكبير إلى التسليم كأنك تراها بعبارة وجيزة لا تعقيد فيها ولا غموض بعيدة عن الأقيسة والآراء

كل مسألة فيها تجد مستندها من قوله صلى الله عليه وسلم أو فعله في أصلها " صفة الصلاة " فهي بهذه المزايا فائقة كل ما هو معروف اليوم من الرسائل المؤلفة

محمد ناصر الدين الألباني - رحمه الله
[নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির সংক্ষিপ্তসার]

রচনা: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবির থেকে তাসলিম পর্যন্ত কীভাবে সালাত আদায় করতেন—তা এমন এক সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণিত হয়েছে যেন আপনি তা প্রত্যক্ষ করছেন; এতে কোনো জটিলতা বা অস্পষ্টতা নেই এবং এটি কিয়াস (قياس) ও ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

এর প্রতিটি মাসআলার ভিত্তি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা বা কাজের মধ্যে পাবেন যা এর মূল গ্রন্থ "সিফাতুস সালাহ"-তে বিস্তারিত রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে এটি বর্তমান সময়ে রচিত এ সংক্রান্ত সকল পুস্তিকার মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী - রাহিমাহুল্লাহ
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تقديم

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا- من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد: فقد اقترح علي أخي الفاضل الأستاذ زهير الشاويش صاحب المكتب الإسلامي أن أقوم بتلخيص كتابي "صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها" واختصاره وتقريب عبارته إلى عامة الناس.
উপক্রমণিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

অতঃপর: আমার শ্রদ্ধেয় ভাই আল-মাকতাব আল-ইসলামীর পরিচালক উস্তাদ যুহাইর আল-শাভিশ আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন আমি আমার রচিত গ্রন্থ "সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাত তাকবীর ইলাت তাসলীম কাআন্নাকা তারা-হা" (তাকবীর থেকে তাসলীম পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি, যেন আপনি তা দেখছেন) এর একটি সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্ত রূপ প্রস্তুত করি এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য করার জন্য এর ভাষাকে সহজ ও সাবলীল করি।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪)
ولما رأيته اقتراحا مباركا، وكان موافقا لما كان يجول في نفسي من زمن بعيد، وطالما سمعت مثله من أخ أو صديق. فشجعني ذلك على أن أقتطع له قليلا من وقتي المزدحم بكثير من الأعمال العلمية، فبادرت إلى تحقيق ما اقترحه حسب طاقتي وجهدي، سائلا المولى سبحانه وتعالى أن يجعله خالصا لوجهه، وينفع به إخواني المسلمين.

وقد أوردت فيه بعض الفوائد الزائدة على "الصفة"، تنبهت لها، واستحسنت ذكرها في أثناء التلخيص، كما عنيت عناية خاصة بشرح بعض الألفاظ الواردة في بعض الجمل الحديثية أو الأذكار.

وجعلت له عناوين رئيسية، وأخرى كثيرة جانبية توضيحية، وأوردت تحتها مسائل الكتاب بأرقام متسلسلة.

وصرحت بجانب كل مسألة بحكمها من ركن أو واجب، وما سكت عن بيان حكمه فهو من السنن، وبعضها قد يحتمل القول بالوجوب، والجزم بهذا أو ذاك ينافي التحقيق العلمي.

والركن: هو ما يتم به الشيء الذي هو فيه، ويلزم من عدم وجوده بطلان ما هو ركن فيه، كالركوع مثلا في الصلاة، فهو ركن فيها، يلزم من عدمه بطلانها.
যখন আমি এটিকে একটি বরকতময় প্রস্তাব হিসেবে দেখলাম এবং এটি দীর্ঘকাল ধরে আমার মনে যা ঘুরপাক খাচ্ছিল তার সাথে সংগতিপূর্ণ হলো, আর আমি দীর্ঘকাল ধরে কোনো ভাই বা বন্ধুর নিকট থেকে এ জাতীয় প্রস্তাব শুনে আসছিলাম; তখন এটি আমাকে উৎসাহিত করল যেন আমি আমার বহু ইলমি কাজে ব্যস্ত সময়ের কিছুটা অংশ এর জন্য বরাদ্দ করি। ফলে আমি আমার সাধ্য ও প্রচেষ্টা অনুযায়ী প্রস্তাবিত বিষয়টি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হলাম; মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন এটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন।

আমি এতে "সিফাত" গ্রন্থের অতিরিক্ত কিছু বিশেষ জ্ঞাতব্য বিষয় বা ফায়দা যুক্ত করেছি, যেগুলোর প্রতি আমি লক্ষ্য করেছি এবং সংক্ষেপণ করার সময় সেগুলো উল্লেখ করা উত্তম মনে করেছি। এছাড়া হাদিসের বাক্য বা জিকিরসমূহের মধ্যে আসা কিছু শব্দের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি।

আমি এতে প্রধান শিরোনাম এবং আরও অনেক ব্যাখ্যামূলক পার্শ্ব-শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং সেগুলোর অধীনে কিতাবের মাসআলাগুলো ধারাবাহিক নম্বরসহ উল্লেখ করেছি।

আমি প্রত্যেকটি মাসআলার পাশে তার বিধান স্পষ্ট করে দিয়েছি যে সেটি রুকন (ركن) নাকি ওয়াজিব (واجب)। আর যার বিধান বর্ণনায় আমি নীরব থেকেছি, তা সুন্নাহ (السنن) হিসেবে গণ্য। এগুলোর কোনো কোনোটি ওয়াজিব হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে, তবে এক্ষেত্রে কোনো একটির ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া তাত্ত্বিক গবেষণার (التحقيق العلمي) পরিপন্থী।

আর রুকন (الركن) হলো: যার দ্বারা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পূর্ণতা পায় এবং যার অনুপস্থিতিতে ওই বিষয়টি বাতিল (بطلان) হয়ে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ নামাজের মধ্যে রুকু (الركوع); এটি নামাজের একটি রুকন (ركن), যার অনুপস্থিতিতে নামাজ বাতিল হওয়া অনিবার্য।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
والشرط: كالركن إلا أنه يكون خارجا عما هو شرط فيه. كالوضوء مثلا في الصلاة. فلا تصح بدونه.

والواجب: هو ما ثبت الأمر به في الكتاب أو السنة، ولا دليل على ركنيته أو شرطيته، ويثاب فاعله.، ويعاقب تاركه إلا لعذر. ومثله (الفرض)، والتفريق بينه وبين الواجب اصطلاح حادث لا دليل عليه.

والسنة: ما واظب النبي صلى الله عليه وسلم عليه من العبادات دائما. أو غالبا. ولم يأمر به أمر إيجاب، ويثاب فاعلها. ولا يعاقب تاركها ولا يعاتب. وأما الحديث الذي يذكره بعض المقلدين معزوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم: "من ترك سنتي لم تنله شفاعتي" فلا أصل له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. وما كان كذلك فلا يجوز نسبته إليه صلى الله عليه وسلم خشية التقول عليه. فقد قال صلى الله عليه وسلم: "من قال علي ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار".

وإن من نافلة القول أن أذكر أنني لم ألتزم فيه تبعا لأصله مذهبا معينا من المذاهب الأربعة المتبعة. وإنما سلكت فيه
শর্ত (شرط) হলো রুকনের (ركن) মতো, তবে তা যে বিষয়ের জন্য শর্ত করা হয়েছে তার বহির্ভূত থাকে। যেমন— নামাজের ক্ষেত্রে অযু। অযু ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না।

ওয়াজিব (واجب) হলো তা, যা কুরআন বা সুন্নাহর নির্দেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু সেটি রুকন (ركن) বা শর্ত (شرط) হওয়ার কোনো দলিল নেই। এর আমলকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন এবং ওজর (অপারগতা) ব্যতীত এটি পরিত্যাগকারী শাস্তির যোগ্য হন। আর ফরজ (فرض)-ও অনুরূপ; ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যে পার্থক্য করা একটি পরবর্তীকালের উদ্ভাবিত পরিভাষা (اصطلاح حادث), যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই।

সুন্নাহ (سنة) হলো সেসব ইবাদত, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা বা অধিকাংশ সময় নিয়মিত পালন করেছেন এবং যা পালনের নির্দেশ আবশ্যিক হিসেবে দেননি। এর আমলকারী সওয়াব পান, কিন্তু পরিত্যাগকারী শাস্তির সম্মুখীন বা তিরস্কৃত হন না। আর যে হাদিসটি কিছু মুকাল্লিদ (مقلدين) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেন যে— “যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ পরিত্যাগ করবে, সে আমার সুপারিশ লাভ করবে না”, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই। যার অবস্থা এরূপ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের আশঙ্কায় তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা জায়েজ নেই। কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।”

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, আমি এই গ্রন্থে মূল গ্রন্থের অনুকরণে প্রচলিত চার মাযহাবের (مذهب) কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করিনি। বরং আমি এতে অনুসরণ করেছি...
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
مسلك أهل الحديث الذين يلتزمون الأخذ بكل ما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم من الحديث، ولذلك كان مذهبهم أقوى من مذاهب غيرهم، كما شهد بذلك المنصفون من كل مذهب، منهم العلامة أبو الحسنات اللكنوي الحنفي القائل: "وكيف لا وهم ورثة النبي صلى الله عليه وسلم حقا. ونواب شرعه صدقا، حشرنا الله في زمرتهم، وأماتنا على حبهم وسيرتهم".

ورحم الله الإمام أحمد بن حنبل إذ قال:

دين النبي محمد أخبار … نعم المطية للفتى آثار

لا ترغبن عن الحديث وأهله … فالرأي ليل والحديث نهار

ولربما جهل الفتى أثر الهدى … والشمس بازغة لها أنوار

دمشق 26 صفر 1392هـ.

محمد ناصر الدين الألباني.
আহলে হাদিসের পথ হচ্ছে সেই পদ্ধতি যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত (ثابت) হওয়া প্রতিটি হাদিস গ্রহণ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এই কারণেই তাদের মাযহাব অন্যদের মাযহাবের তুলনায় অধিক শক্তিশালী, যেমনটি প্রতিটি মাযহাবের ইনসাফপরায়ণ ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আল্লামা আবুল হাসনাত লখনভী হানাফী অন্যতম, যিনি বলেছেন: "আর কেনই বা হবে না, অথচ তাঁরাই তো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রকৃত উত্তরসূরি এবং তাঁর শরীয়তের সত্যনিষ্ঠ প্রতিনিধি। আল্লাহ আমাদের তাঁদের দলে হাশর করুন এবং তাঁদের ভালোবাসা ও আদর্শের ওপর আমাদের মৃত্যু দান করুন।"

আর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন যখন তিনি বলেছেন:

নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীন হলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা (أخبار) … যুবকের জন্য সর্বোত্তম বাহন হলো প্রাচীন নিদর্শন (آثار)

তুমি হাদিস ও আহলে হাদিস থেকে বিমুখ হয়ো না … কারণ ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) হলো অন্ধকার রাত্রি আর হাদিস হলো উজ্জ্বল দিন

হতে পারে কোনো যুবক হিদায়াতের নিদর্শন (أثر) সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে গেছে … যখন সূর্য প্রদীপ্ত হয়ে তার আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে দিচ্ছে

দামেস্ক, ২৬ সফর ১৩৯২ হিজরি।

মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌1 - استقبال الكعبة:

1 - إذا قمت أيها المسلم إلى الصلاة، فاستقبل الكعبة حيث كنت، في الفرض والنفل، وهو ركن من أركان الصلاة التي لا تصح الصلاة إلا بها.

2 - ويسقط الاستقبال:

- عن المحارب في صلاة الخوف والقتال الشديد.

- وعن العاجز عنه كالمريض، أو من كان في السفينة أو السيارة .. أو الطيارة. إذا خشي خروج الوقت.

- وعمن كان يصلي نافلة أو وترا، وهو يسير راكبا دابة أو غيرها. ويستحب له- إذا أمكن- أن يستقبل بها القبلة عند تكبيرة الإحرام، ثم يتجه بها حيث كانت وجهته.

3 - ويجب على كل من كان مشاهدا للكعبة أن يستقبل عينها.

وأما من كان غير مشاهد لها فيستقبل جهتها.

حكم الصلاة إلى غير الكعبة خطأ:

4 - وإن صلى إلى غير القبلة لغيم أو غيره بعد الاجتهاد والتحري جازت صلاته، ولا إعادة عليه.

5 - وإذا جاءه من يثق به وهو يصلي فأخبره بجهتها فعليه أن يبادر إلى استقبالها. وصلاته صحيحة.
‌‌১ - কাবামুখী হওয়া:

১ - হে মুসলিম! আপনি যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবেন, তখন যেখানেই থাকুন না কেন কাবার দিকে মুখ করবেন, চাই তা ফরজ (فرض) নামাজ হোক বা নফল (نفل) নামাজ। এটি নামাজের অন্যতম একটি স্তম্ভ (ركن), যা ব্যতীত নামাজ সহিহ (صحيحة) হয় না।

২ - তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কিবলামুখী হওয়ার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়:

- ভীতিপূর্ণ অবস্থায় নামাজ (صلاة الخوف) ও তীব্র যুদ্ধের সময় যোদ্ধার ক্ষেত্রে।

- কিবলামুখী হতে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেমন অসুস্থ ব্যক্তি অথবা যিনি জাহাজ, গাড়ি বা বিমানে আরোহী এবং ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

- যিনি নফল (نافلة) বা বিতর (وتر) নামাজ পড়ছেন এমতাবস্থায় যে তিনি বাহন বা অন্য কিছুর উপর সওয়ার হয়ে চলছেন। তবে সম্ভব হলে তার জন্য মুস্তাহাব হলো—তাহরিমা তাকবির (تكبيرة الإحرام) বলার সময় কিবলামুখী হওয়া, অতঃপর বাহন যেদিকে যায় সেদিকেই ফিরে থাকা।

৩ - যে ব্যক্তি কাবা দেখতে পাচ্ছেন, তার জন্য সরাসরি কাবার দিকেই মুখ করা অবশ্যকর্তব্য (واجب)।

আর যিনি সরাসরি কাবা দেখতে পাচ্ছেন না, তিনি কাবার দিকের দিকে মুখ করবেন।

ভুলবশত কাবা ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার বিধান:

৪ - যদি মেঘাচ্ছন্ন আকাশ বা অন্য কোনো কারণে ইজতিহাদ (اجتهاد) ও অনুসন্ধান (تحري) করার পর কেউ কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে, তবে তার নামাজ বৈধ (جائز) হবে এবং তাকে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না।

৫ - নামাজ পড়া অবস্থায় যদি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি আসেন যিনি তাকে কিবলার সঠিক দিক সম্পর্কে অবহিত করেন, তবে তার জন্য দ্রুত কিবলার দিকে ঘুরে যাওয়া আবশ্যক এবং তার নামাজ সহিহ (صحيحة) হবে।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌2 - القيام:

6 - ويجب عليه أن يصلي قائما، وهو ركن إلا على:

- المصلي صلاة الخوف والقتال الشديد.، فيجوز له أن يصلي راكبا. والمريض العاجز عن القيام، فيصلي جالسا إن استطاع، وإلا فعلى جنب. والمتنفل له أن يصلي راكبا، أو قاعدا إن شاء، ويركع ويسجد إيماء برأسه. وكذلك المريض، ويجعل سجوده أخفض من ركوعه.

7 - ولا يجوز للمصلي جالسا أن يضع شيئا على الأرض مرفوعا يسجد عليه، وإنما يجعل سجوده أخفض من ركوعه كما ذكرنا إذا كان لا يستطيع أن يباشر الأرض بجبهته.

الصلاة في السفينة والطائرة:

8 - وتجوز صلاة الفريضة في السفينة. وكذلك الطائرة.

9 - وله أن يصلي فيهما قاعدا إذا خشي على نفسه السقوط.

10 - ويجوز أن يعتمد في قيامه على عمود أو عصا لكبر سنه، أو ضعف بدنه.
‌২ - দণ্ডায়মান হওয়া (القيام):

৬ - সালাত আদায়কারীর ওপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক (واجب), আর এটি একটি রুকন (ركن), তবে নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ ব্যতীত:

- ভীতি ও তীব্র যুদ্ধের সময় সালাত আদায়কারী (المصلي صلاة الخوف والقتال الشديد); তার জন্য সওয়ারিতে আরোহণ অবস্থায় সালাত আদায় করা বৈধ। এবং দণ্ডায়মান হতে অক্ষম অসুস্থ ব্যক্তি; সে সক্ষম হলে বসে সালাত আদায় করবে, অন্যথায় পার্শ্বদেশ দিয়ে (শুয়ে)। এবং নফল সালাত আদায়কারীর (المتنفل) জন্য ইচ্ছা করলে আরোহণ অবস্থায় বা বসে সালাত আদায়ের অনুমতি রয়েছে; সে মাথার ইশারায় রুকু ও সিজদাহ করবে। তদ্রূপ অসুস্থ ব্যক্তিও (ইশারায় সালাত আদায়ের সময়) তার সিজদাহকে রুকুর চেয়ে অধিক নিচু করবে।

৭ - উপবিষ্ট অবস্থায় সালাত আদায়কারীর জন্য জমিনের ওপর উঁচু কোনো কিছু রাখা বৈধ নয় যার ওপর সে সিজদাহ করবে; বরং আমরা যেভাবে উল্লেখ করেছি, যদি সে কপাল দিয়ে জমিন স্পর্শ করতে সক্ষম না হয়, তবে সে তার সিজদাহকে রুকুর চেয়ে অধিক নিচু করবে।

নৌকা এবং বিমানে সালাত আদায়:

৮ - নৌকায় ফরয (فريضة) সালাত আদায় করা জায়েজ। তদ্রূপ বিমানেও।

৯ - যদি সে নিজের পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তবে সে উভয়টিতে বসে সালাত আদায় করতে পারবে।

১০ - বার্ধক্যজনিত কারণে বা শারীরিক দুর্বলতার দরুন দণ্ডায়মান হওয়া (القيام) অবস্থায় কোনো খুঁটি বা লাঠির ওপর ভর দেওয়া জায়েজ।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الجمع بين القيام والقعود:

11 - ويجوز أن يصلي صلاة الليل قائما، أو قاعدا بدون عذر، وأن يجمع بينهما، فيصلي ويقرأ جالسا، وقبيل الركوع يقوم فيقرأ ما بقي عليه من الآيات قائما، ثم يركع ويسجد، ثم يصنع مثل ذلك في الركعة الثانية.

12 - وإذا صلى قاعدا جلس متربعا، أو أي جلسة أخرى يستريح بها.

 

‌‌الصلاة في النعال:

13 - ويجوز له أن يقف حافيا، كما يجوز له أن يصلي منتعلا.

14 - والأفضل أن يصلي تارة هكذا، وتارة هكذا. حسبما تيسر له، فلا يتكلف لبسهما للصلاة ولا خلعهما، بل إن كان حافيا صلى حافيا، وإن كان منتعلا صلى منتعلا، إلا لأمر عارض.

15 - وإذا نزعهما فلا يضعهما عن يمينه. وإنما عن يساره، إذا لم يكن عن يساره أحد يصلي، وإلا وضعهما بين
‌‌দণ্ডায়মান ও উপবিষ্ট অবস্থার সমন্বয়:

১১ - রাতের সালাত দণ্ডায়মান অবস্থায় অথবা কোনো ওজর ছাড়াই উপবিষ্ট অবস্থায় আদায় করা বৈধ এবং উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করাও বৈধ। ফলে উপবিষ্ট অবস্থায় কিরাত পাঠ করবে এবং রুকু করার ঠিক আগে দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট কিরাত দণ্ডায়মান অবস্থায় সম্পন্ন করবে, অতঃপর রুকু ও সিজদাহ করবে। দ্বিতীয় রাকাতেও অনুরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করবে।

১২ - যখন উপবিষ্ট অবস্থায় সালাত আদায় করবে, তখন বাবু হয়ে (পালকি স্টাইলে) বসবে অথবা অন্য যেকোনো স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক ভঙ্গিতে বসবে।

 

‌‌পাদুকা পরিহিত অবস্থায় সালাত:

১৩ - খালি পায়ে সালাতে দাঁড়ানো যেমন বৈধ, পাদুকা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করাও তেমনি বৈধ।

১৪ - উত্তম হলো পরিস্থিতির সহজলভ্যতা অনুযায়ী কখনো এভাবে এবং কখনো সেভাবে সালাত আদায় করা। সালাতের জন্য পাদুকা পরিধান করা বা খোলার ব্যাপারে কোনো কৃত্রিমতা বা অহেতুক কষ্ট করবে না। বরং খালি পায়ে থাকলে খালি পায়েই সালাত আদায় করবে এবং পাদুকা পরিহিত থাকলে তা পরিধান করেই সালাত আদায় করবে; তবে কোনো বিশেষ কারণ থাকলে ভিন্ন কথা।

১৫ - যদি পাদুকা জোড়া খোলে, তবে তা নিজের ডান দিকে রাখবে না; বরং তা নিজের বাম দিকে রাখবে যদি তার বাম দিকে কেউ সালাত আদায় না করে। অন্যথায় তা নিজের দুই পায়ের মাঝখানে রাখবে।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
رجليه، بذلك صح الأمر عن النبي صلى الله عليه وسلم (1).

 

‌‌الصلاة على المنبر:

16 - وتجوز صلاة الإمام على مكان مرتفع كالمنبر لتعليم الناس، يقوم عليه فيكبر، ويقرأ ويركع وهو عليه، ثم ينزل القهقرى حتى يتمكن من السجود على الأرض في أصل المنبر، ثم يعود إليه، فيصنع في الركعة الأخرى كما صنع في الأولى.

 

‌‌وجوب الصلاة إلى سترة والدنو منها:

17 - ويجب أن يصلي إلى سترة. لا فرق في ذلك بين المسجد وغيره. ولا بين كبيرة وصغيرة لعموم قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تصل إلا إلى سترة، ولا تدع أحدا يمر بين يديك، فإن أبى فلتقاتله فإن معه القرين". يعني الشيطان.

18 - ويجب أن يدنو منها. لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك.

19 - وكان بين موضع سجوده صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) قلت: وفيه إيماء لطيف إلى أنه لا يضعهما أمامه. وهذا أدب أخل به جماهير المصلين. فنراهم يصلون إلى نعالهم.
তাঁর পদদ্বয়; এভাবেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিষয়টি সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে (১)।

 

‌‌মিম্বারের ওপর সালাত:

১৬ - মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইমামের কোনো উঁচু স্থানে—যেমন মিম্বার—দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা জায়েজ (جائز)। তিনি এর ওপর দাঁড়াবেন, অতঃপর তাকবির দেবেন, কিরাত পাঠ করবেন এবং এর ওপরেই রুকু করবেন। এরপর তিনি উল্টো পায়ে পেছনে ফিরে নিচে নেমে আসবেন যাতে মিম্বারের গোড়ায় জমিনের ওপর সিজদা করতে সক্ষম হন। এরপর পুনরায় সেখানে ফিরে যাবেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে তা-ই করবেন যা প্রথম রাকাতে করেছিলেন।

 

‌‌সুতরাহ (سترة)-এর দিকে সালাত আদায় এবং এর নিকটবর্তী হওয়ার আবশ্যকতা:

১৭ - সুতরাহ (سترة)-এর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা ওয়াজিব (واجب)। এ ক্ষেত্রে মসজিদ এবং মসজিদের বাইরে কোনো পার্থক্য নেই। বড় বা ছোট মসজিদের মাঝেও কোনো তারতম্য নেই; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর ব্যাপকতা রয়েছে: "তুমি সুতরাহ (سترة) ব্যতিরেকে সালাত আদায় করো না এবং তোমার সম্মুখ দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে দিয়ো না। যদি সে অস্বীকার করে, তবে তার সাথে লড়াই করো; কারণ তার সাথে 'কারিন' (القرين) অর্থাৎ শয়তান রয়েছে।"

১৮ - আর সুতরাহ-এর নিকটবর্তী হওয়া ওয়াজিব (واجب); যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ দিয়েছেন।

১৯ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিজদাহ করার স্থানের মাঝখানে ছিল...

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: এতে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি তাঁর জুতো জোড়া সামনে রাখতেন না। এটি এমন একটি আদব (أدب) যা অধিকাংশ মুসল্লিই লঙ্ঘন করে থাকেন। ফলে আমরা দেখি তারা তাদের জুতোকে সামনে রেখে সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
والجدار الذي يصلي إليه نحو ممر شاة، فمن فعل ذلك فقد أتى بالدنو الواجب (1).

 

‌‌مقدار ارتفاع السترة:

25 - ويجب أن تكون السترة مرتفعة عن الأرض نحو شبر أو شبرين لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا وضع أحدكم بين يديه مثل مؤخرة (2) الرحل فليصل، ولا يبالي من وراء ذلك".

21 - ويتوجه إلى السترة مباشرة، لأنه، الظاهر من الأمر بالصلاة إلى سترة، وأما التحول عنها يمينا أو يسارا بحيث أنه لا يصمد إليها صمدا، فلم يثبت.

22 - وتجوز الصلاة إلى العصا المغروزة في الأرض أو نحوها، وإلى شجرة أو اسطوانة، وإلى امرأته المضطجعة على

--------------------------------------------

(1) قلت: ومنه نعلم أن ما يفعله الناس في كل المساجد التي رأيتها في سورية وغيرها من الصلاة وسط المسجد بعيدا عن الجدار أو السارية، ما هو إلا غفلة عن أمره صلى الله عليه وسلم وفعله.

(2) هي العود الذي في آخر الرحل. و (الرحل) هو للجمل بمنزلة السرج للفرس. وفي الحديث إشارة إلى أن الخط على الأرض لا يجزي، والحديث المروي فيه ضعيف.
এবং যে দেয়ালের দিকে তিনি সালাত আদায় করতেন, তার দূরত্ব ছিল প্রায় একটি ছাগল চলাচলের পথের সমান। সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ করল, সে মূলত ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় নৈকট্য বজায় রাখল (১)।

 

‌‌সুতরাহ’র উচ্চতার পরিমাণ:

২৫ - সুতরাহ ভূমি থেকে প্রায় এক বিঘত বা দুই বিঘত পরিমাণ উঁচু হওয়া আবশ্যক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ তার সামনে উটের জিনের পেছনের কাঠের (২) ন্যায় কোনো কিছু রাখবে, তখন সে যেন সালাত আদায় করে এবং এর ওপাশ দিয়ে কে যাতায়াত করল সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে।"

২১ - আর সরাসরি সুতরাহ’র দিকে অভিমুখী হতে হবে; কেননা সুতরাহ’র অভিমুখে সালাত আদায়ের নির্দেশের এটিই বাহ্যিক অর্থ। পক্ষান্তরে সুতরাহ থেকে ডানে কিংবা বামে এমনভাবে সরে দাঁড়ানো যাতে সরাসরি তার দিকে মুখ না থাকে—তা প্রমাণিত নয়।

২২ - মাটিতে পোঁতা লাঠি বা তদ্রূপ কোনো কিছু, গাছ কিংবা স্তম্ভ এবং শায়িত স্ত্রীর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা বৈধ...

--------------------------------------------

(১) আমি বলি: এর দ্বারা আমরা জানতে পারি যে, সিরিয়া ও অন্যান্য দেশে আমি যত মসজিদ দেখেছি, সেখানে মানুষ দেয়াল কিংবা খুঁটি থেকে দূরে মসজিদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যে সালাত আদায় করে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ ও কর্ম সম্পর্কে অসাবধানতা ব্যতীত আর কিছুই নয়।

(২) এটি হলো উটের পিঠের জিনের শেষ প্রান্তের কাঠ। আর ‘রাহল’ হলো উটের জন্য ঘোড়ার জিনের সমতুল্য। এই হাদিসে ইঙ্গিত রয়েছে যে, মাটিতে দাগ টানা যথেষ্ট নয়। আর এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১২)
السرير، وهي تحت لحافها، وإلى الدابة ولو كانت جملا.

 

‌‌تحريم الصلاة إلى القبور:

23 - ولا تجوز الصلاة إلى القبور مطلقا، سواء كانت قبورا للأنبياء أو غيرهم.

 

‌‌تحريم المرور بين يدي المصلي ولو في المسجد الحرام:

24 - ولا يجوز المرور بين يدي المصلي إذا كان بين يديه سترة.

ولا فرق في ذلك بين المسجد الحرام وغيره من المساجد. فكلها سواء في عدم الجواز، لعموم قوله صلى الله عليه وسلم: "لو يعلم المار بين يدي المصلي ماذا عليه لكان أن يقف أربعين. خيرا له من أن يمر بين يديه". يعني المرور بينه وبين موضع سجوده (1).

 

‌‌وجوب منع المصلي للمار بين يديه ولو في المسجد الحرام:

25 - ولا يجوز للمصلي إلى سترة أن يدع أحدا يمر بين يديه، للحديث السابق: "ولا تدع أحدا يمر بين يديك … "

--------------------------------------------

(1) وأما حديث صلاته صلى الله عليه وسلم في حاشية المطاف دون سترة والناس يمرون بين يديه فلا يصح. على أنه ليس فيه أن المرور كان بينه وبين سجوده.
খাট, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর লেপের নিচে ছিলেন এবং পশুর দিকে মুখ করে, এমনকি তা উট হলেও।

 

‌‌কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ:

২৩ - কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা সাধারণভাবে বৈধ নয় (لا يجوز), চাই তা নবীদের কবর হোক বা অন্যদের।

 

‌‌মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষিদ্ধ, এমনকি মসজিদুল হারামে হলেও:

২৪ - যদি মুসল্লির সামনে সুতরাহ (سترة) থাকে, তবে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা বৈধ নয় (لا يجوز)।

এক্ষেত্রে মসজিদুল হারাম এবং অন্যান্য মসজিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নিষিদ্ধতার ক্ষেত্রে সবগুলোই সমান, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ব্যাপকতা: "যদি মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তি জানত তার ওপর কী (পাপ) রয়েছে, তবে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য উত্তম হতো।" অর্থাৎ মুসল্লি এবং তার সিজদাহ করার স্থানের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করা (১)।

 

‌‌মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে বাধা দেওয়ার আবশ্যকতা (وجوب), এমনকি মসজিদুল হারামে হলেও:

২৫ - সুতরাহ (سترة) সামনে রেখে সালাত আদায়কারীর জন্য কাউকে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে দেওয়া বৈধ নয় (لا يجوز), পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে: "এবং তুমি তোমার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে দিও না..."।

--------------------------------------------

(১) আর মাতাফের এক প্রান্তে সুতরাহ (سترة) ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায় এবং মানুষের তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার বিষয়ে যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, তা সহিহ (صحيح) নয়। তদুপরি, সেই বর্ণনায় এমন কোনো উল্লেখ নেই যে অতিক্রম করাটা তাঁর এবং তাঁর সিজদাহর স্থানের মাঝখান দিয়ে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقوله: "إذا صلى أحدكم إلى شيء يستره من الناس، فأراد أحد أن يجتاز بين يديه فليدفع في نحره، وليدرأ ما استطاع، وفي رواية: فليمنعه مرتين، فإن أبى فليقاتله فإنما هو شيطان ".

 

‌‌المشي إلى الأمام لمنع المرور:

26 - ويجوز أن يتقدم خطوة أو أكثر ليمنع غير مكلف من المرور بين يديه كدابة أو طفل، حتى يمر من ورائه.

ما يقطع الصلاة:

27 - وإن من أهمية السترة في الصلاة، أنها تحول بين المصلي إليها، وبين إفساد صلاته بالمرور بين يديه، بخلاف الذي لم يتخذها، فإنه يقطع صلاته إذا مرت بين يديه المرأة البالغة، وكذلك الحمار، والكلب الأسود.

 

‌‌3 - النية:

28 - ولا بد للمصلي من أن ينوي الصلاة التي قام إليها وتعيينها بقلبه، كفرض الظهر أو العصر، أو سنتهما مثلا، وهو شرط أو ركن، وأما التلفظ بها بلسانه فبدعة مخالفة للسنة، ولم يقل بها أحد من متبوعي المقلدين من الأئمة.
وقوله: "তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো বস্তুর দিকে সালাত আদায় করে যা তাকে মানুষের চলাচল থেকে আড়াল করে, অতঃপর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায়, তবে সে যেন তার বক্ষদেশে ধাক্কা দেয় এবং সাধ্যমতো প্রতিহত করে। অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে: সে যেন তাকে দুইবার বাধা দেয়, এরপরও যদি সে অস্বীকার করে তবে সে যেন তার সাথে মোকাবিলা করে, কারণ সে তো শয়তান।"

 

‌‌চলাচল রোধ করতে সামনে অগ্রসর হওয়া:

২৬ - পশুর মতো চতুষ্পদ জন্তু বা শিশুর ন্যায় গায়রে মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ নয় এমন) সত্তাকে সামনে দিয়ে অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখতে এক বা একাধিক কদম সামনে অগ্রসর হওয়া জায়েজ, যাতে সে তার পিছন দিক দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।

যা সালাত বিচ্ছিন্ন করে:

২৭ - সালাতে সুতরার গুরুত্বের অন্যতম একটি দিক হলো, এটি মুসল্লি এবং তার সামনে দিয়ে যাতায়াতকারীর মাঝে অন্তরায় হয়ে সালাত বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। পক্ষান্তরে যে সুতরা গ্রহণ করেনি তার বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সাবালিকা নারী, গাধা অথবা কালো কুকুর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তার সালাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

‌‌৩ - নিয়ত:

২৮ - মুসল্লির জন্য অবশ্যই সেই সালাতের নিয়ত করতে হবে যার জন্য সে দাঁড়িয়েছে এবং মনে মনে তা নির্দিষ্ট করতে হবে; যেমন যোহর বা আসরের ফরজ কিংবা এগুলোর সুন্নাত। এটি একটি শর্ত (شرط) অথবা রুকন (ركن)। আর মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা একটি বিদআত (بدعة), যা সুন্নাহর পরিপন্থী; এবং মুকাল্লিদদের অনুসরণীয় ইমামগণের মধ্যে কেউ এমনটি বলেননি।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌4 - التكبير:

29 - ثم يستفتح الصلاة بقوله: "الله أكبر" وهو ركن، لقوله صلى الله عليه وسلم: "مفتاح الصلاة الطهور، وتحريمها (1) التكبير، وتحليلها التسليم".

35 - ولا يرفع صوته بالتكبير في كل الصلوات، إلا إذا كان إماما.

31 - ويجوز تبليغ المؤذن تكبير الإمام إلى الناس، إذا وجد المقتضي لذلك، كمرض الإمام، وضعف صوته أو كثرة المصلين خلفه.

32 - ولا يكبر المأموم إلا عقب انتهاء الإمام من التكبير.

 

‌‌رفع اليدين وكيفيته:

33 - ويرفع يديه مع التكبير، أو قبله، أو بعده، كل ذلك ثابت في السنة.

34 - ويرفعهما ممدودتا الأصابع.

--------------------------------------------

(1) أي وتحريم ما حرم الله من الأفعال، وكذا تحليلها، أي تحليل ما أحل خارجها من الأفعال، والمراد بالتحريم والتحليل المحرم والمحلل.
৪ - তাকবির:

২৯ - অতঃপর তিনি "আল্লাহু আকবার" বলার মাধ্যমে সালাত শুরু করবেন এবং এটি একটি মৌলিক স্তম্ভ; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, এর তাহরিম (১) হলো তাকবির এবং এর তাহলিল হলো তাসলিম।"

৩৫ - আর তিনি সকল সালাতে তাকবিরের সময় নিজের আওয়াজ উচ্চ করবেন না, তবে ইমাম হলে ভিন্ন কথা।

৩১ - আর প্রয়োজনে মুয়াজ্জিন কর্তৃক ইমামের তাকবির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জায়েজ, যখন এর সংগত কারণ থাকে; যেমন ইমাম অসুস্থ হওয়া, তার কণ্ঠস্বর দুর্বল হওয়া অথবা তার পেছনে মুসল্লিদের সংখ্যা অধিক হওয়া।

৩২ - আর ইমামের তাকবির শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তাদি তাকবির বলবে না।

 

হাত উঠানো এবং এর পদ্ধতি:

৩৩ - তিনি তাকবিরের সাথে, অথবা তার আগে, কিংবা পরে হাত উঠাবেন; এর প্রতিটি পদ্ধতিই সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত (ثابت)।

৩৪ - তিনি আঙুলগুলো প্রসারিত অবস্থায় হাত উঠাবেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ আল্লাহ যেসব কাজ হারাম করেছেন তা নিষিদ্ধ হওয়া, অনুরূপভাবে এর তাহলিল অর্থাৎ সালাতের বাইরে যা হালাল ছিল তা পুনরায় বৈধ হওয়া; আর তাহরিম ও তাহলিল দ্বারা এখানে 'যা হারামকারী' এবং 'যা হালালকারী' তা-ই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
35 - ويجعل كفيه حذو منكبيه، وأحيانا يبالغ في رفعهما حتى يحاذي بهما أطراف أذنيه (1).

 

‌‌وضع اليدين وكيفيته:

36 - ثم يضع يده اليمنى على اليسرى عقب التكبير، وهو من سنن الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، وأمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه، فلا يجوز إسدالهما.

37 - ويضع اليمنى على ظهر اليسرى، وعلى الرسغ والساعد.

38 - وتارة يقبض باليمنى على اليسرى (2).

 

‌‌محل الوضع:

39 - ويضعهما على صدره فقط، الرجل والمرأة في ذلك سواء (3).

40 - ولا يجوز أن يضع يده اليمنى على خاصرته.

--------------------------------------------

(1) قلت وأما مس شحمتي الأذنين بإبهاميه، فلا أصل له في السنة، بل هو عندي من دواعي الوسوسة.

(2) وأما ما استحسنه بعض المتأخرين من الجمع بين الوضع والقبض في آن واحد فمما لا أصل له.

(3) قلت: ووضعهما على غير الصدر إما ضعيف، وإما لا أصل له
35 - তিনি তাঁর উভয় হাতের তালুকে কাঁধ বরাবর রাখতেন এবং কখনো কখনো তা উত্তোলনে এতোটা উচ্চতায় নিয়ে যেতেন যে কানের লতি বরাবর পৌঁছে যেত (১)।

 

‌‌হাত রাখার পদ্ধতি ও অবস্থান:

36 - এরপর তাকবিরের অব্যবহিত পরেই তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতেন। এটি ছিল নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) অন্যতম সুন্নত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং হাত দুটি পাশে ঝুলিয়ে রাখা বৈধ নয়।

37 - তিনি ডান হাত রাখতেন বাম হাতের পিঠ, কবজি ও বাহুর ওপর।

38 - আবার কখনো ডান হাত দিয়ে বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন (قبض) (২)।

 

‌‌হাত রাখার স্থান:

39 - তিনি হাত দুটি কেবল বুকের ওপরই রাখতেন; নারী ও পুরুষ উভয়েই এ ক্ষেত্রে সমান (৩)।

40 - কোমরের ওপর হাত রাখা বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের লতি স্পর্শ করার যে বিষয়টি রয়েছে, সুন্নাহতে তার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই; বরং আমার মতে এটি ওয়াসওয়াসা বা সংশয় সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

(২) পরবর্তী যুগের কিছু আলিম একই সাথে হাত রাখা (وضع) এবং হাত আঁকড়ে ধরার (قبض) সমন্বয় করাকে যে উত্তম মনে করেছেন, তার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।

(৩) আমি বলছি: বুক ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে হাত রাখার বর্ণনাটি হয় দুর্বল (ضعيف), নতুবা তার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الخشوع والنظر إلى موضع السجود:

41 - وعليه أن يخشع في صلاته، وأن يتجنب كل ما قد يلهيه عنه من زخارف ونقوش، فلا يصلي بحضرة طعام يشتهيه، ولا وهو يدافعه البول والغائط.

42 - وينظر في قيامه إلى موضع سجوده.

43 - ولا يلتفت يمينا، ولا يسارا، فإن الالتفات اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد.

44 - ولا يجوز أن يرفع بصره إلى السماء.

 

‌‌دعاء الاستفتاح:

45 - ثم يستفتح القراءة ببعض الأدعية الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم وهي كثيرة أشهرها:

"سبحانك اللهم وبحمدك، وتبارك اسمك، وتعالى جدك، ولا إله غيرك ".

وقد ثبت الأمر به فينبغي المحافظة عليه (1).

--------------------------------------------

(1) ومن شاء الإطلاع على بقية الأدعية فليراجع"صفة الصلاة" (ص 83 - 89) من الطبعة الخامسة أو السادسة أو السابعة.
একাগ্রতা (خشوع) এবং সিজদাহর জায়গার দিকে দৃষ্টি রাখা:

41 - মুসুল্লির উচিত তার সালাতে একাগ্রতা (خشوع) অবলম্বন করা এবং তাকে সালাত থেকে বিমুখ করতে পারে এমন সব কারুকাজ ও নকশা পরিহার করা। সুতরাং সে যেন এমন খাবারের উপস্থিতিতে সালাত আদায় না করে যা সে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখে, আর পেশাব-পায়খানার বেগ থাকা অবস্থায়ও সালাত আদায় না করে।

42 - সে দণ্ডায়মান অবস্থায় (قيام) তার সিজদাহর জায়গার দিকে তাকাবে।

43 - সে ডানে বা বামে এদিক-ওদিক তাকাবে না; কেননা এদিক-ওদিক তাকানো হলো এক প্রকার ছিনতাই, যা শয়তান বান্দার সালাত থেকে ছিনিয়ে নেয়।

44 - আর আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা বৈধ নয়।

 

‌সালাত শুরুর দোয়া (دعاء الاستفتاح):

45 - এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (ثابت) কিছু দোয়ার মাধ্যমে কিরাত শুরু করবে। এই দোয়াগুলো অনেক, যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো:

"হে আল্লাহ! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মহিমা সুউচ্চ এবং আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।"

এর সপক্ষে নির্দেশ প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, তাই এর প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত (১)।

--------------------------------------------

(১) আর যে ব্যক্তি অবশিষ্ট দোয়াগুলো সম্পর্কে অবগত হতে চায়, সে যেন 'সিফাতুস সালাত' (পৃষ্ঠা ৮৩ - ৮৯), পঞ্চম, ষষ্ঠ অথবা সপ্তম মুদ্রণ দেখে নেয়।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌5 - القراءة:

46 - ثم يستعيذ بالله تعالى وجوبا ويأثم بتركه.

47 - والسنة أن يقول تارة:

"أعوذ بالله من الشيطان الرجيم، من همزه، ونفخه، ونفثه "، و (النفث) هنا الشعر المذموم.

48 - وتارة يقول:

"أعوذ بالله السميع العليم، من الشيطان … " الخ.

49 - ثم يقول سرا في الجهرية والسرية:

"بسم الله الرحمن الرحيم"

 

‌‌قراءة الفاتحة:

50 - ثم يقرأ سورة (الفاتحة) بتمامها والبسملة منها، وهي ركن لا تصح الصلاة إلا بها، فيجب على الأعاجم حفظها.

51 - فمن لم يستطع أجزأه أن يقول: "سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، الله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله ".

52 - والسنة في قراءتها أن يقطعها آية آية، يقف على رأس كل آية.، فيقول: "بسم الله الرحمن الرحيم" ثم يقف، ثم يقول: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}، ثم يقف، ثم يقول:
‌‌৫ - কিরাত (পাঠ):

৪৬ - অতঃপর সে আবশ্যিকভাবে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং এটি বর্জন করলে সে গুনাহগার হবে।

৪৭ - আর সুন্নাহ হলো কখনও এভাবে বলা:

"আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, মিন হামজিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফথিহি", আর এখানে (নাফথ) হলো নিন্দনীয় কবিতা।

৪৮ - এবং কখনও বলবে:

"আউজু বিল্লাহিস সামিউল আলিম, মিনাশ শাইতানি..." ইত্যাদি।

৪৯ - অতঃপর সশব্দ ও নিঃশব্দ উভয় সালাতেই মনে মনে বলবে:

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"

 

‌‌সুরা ফাতিহা পাঠ:

৫০ - অতঃপর পূর্ণ সুরা ফাতিহা এবং এর অংশ হিসেবে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে; এটি একটি রোকন, যা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না। তাই অনারবদের জন্য এটি মুখস্থ করা আবশ্যক।

৫১ - অতঃপর যে ব্যক্তি এটি পাঠ করতে সক্ষম হবে না, তার জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট হবে: "সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"

৫২ - আর সুরা ফাতিহা পাঠ করার সুন্নাহ পদ্ধতি হলো প্রতিটি আয়াত আলাদা করা এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে থামা। সে বলবে: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" অতঃপর থামবে, এরপর বলবে: {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন}, অতঃপর থামবে, এরপর বলবে:
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
{الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}، ثم يقف، ثم يقول: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ}، ثم يقف، وهكذا إلى آخرها.

وهكذا كانت قراءة النبي صلى الله عليه وسلم كلها، يقف على رؤوس الآي، ولا يصلها بما بعدها، وإن كانت متعلقة المعنى بها.

53 - ويجوز قراءتها (مالك) و (ملِك).

قراءة المقتدي لها:

54 - ويجب على المقتدي أن يقرأها وراء الإمام في السرية، وفي الجهرية أيضا إن لم يسمع قراءة الإمام، أو سكت هذا بعد فراغه منها سكتة ليتمكن فيها المقتدي من قراءتها، وإن كنا نرى أن هذا السكوت لم يثبت في السنة (1).

 

‌‌القراءة بعد الفاتحة:

55 - ويسن أن يقرأ بعد الفاتحة، سورة أخرى، حتى في صلاة الجنازة، أو بعض الآيات في الركعتين الأوليين.

56 - ويطيل القراءة بعدها أحيانا، ويقصرها أحيانا، لعارض سفر، أو سعال، أو مرض، أو بكاء صبي.

57 - وتختلف القراءة باختلاف الصلوات، فالقراءة في

--------------------------------------------

(1) قلت: وفد ذكرت مستند من ذهب إليه، وما يرد عليه في سلسلة"الأحاديث الضعيفة رقم 546و547.
{আর-রাহমানির রাহীম}, তারপর তিনি বিরতি নিতেন, এরপর বলতেন: {মালিকি ইয়াওমিদ্দীন}, তারপর বিরতি নিতেন, এভাবে শেষ পর্যন্ত।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুরো কিরাআত এমনই ছিল; তিনি প্রতিটি আয়াতের শেষে বিরতি নিতেন এবং পরবর্তী আয়াতের সাথে তা মেলাতেন না, যদিও অর্থের দিক থেকে তা পরবর্তী আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট হতো।

৫৩ - আর এটি ‘মালিক’ ও ‘মালিক’ উভয় শব্দে পাঠ করা বৈধ।

মুক্তাদীর সূরা ফাতেহা পাঠ:

৫৪ - আর মুক্তাদীর জন্য ইমামের পেছনে নিঃশব্দ কিরাআতের সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করা ওয়াজিব। আর সশব্দ কিরাআতের সালাতেও (তা পাঠ করা ওয়াজিব) যদি সে ইমামের কিরাআত শুনতে না পায় অথবা ইমাম কিরাআত শেষ করার পর সামান্য সময় নীরব (সাকতাহ) থাকেন যাতে মুক্তাদী তা পাঠ করে নিতে পারে; যদিও আমরা মনে করি যে এই নীরবতা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয় (১)।

 

‌‌ফাতেহার পর কিরাআত:

৫৫ - আর ফাতেহার পর অন্য একটি সূরা পাঠ করা সুন্নাত, এমনকি জানাযার সালাতেও; অথবা প্রথম দুই রাকাতে কিছু আয়াত পাঠ করা।

৫৬ - তিনি কখনো এরপর কিরাআত দীর্ঘ করতেন, আবার কখনো সফর, কাশি, অসুস্থতা বা শিশুর কান্নার মতো কারণে তা সংক্ষেপ করতেন।

৫৭ - সালাত ভেদে কিরাআত ভিন্ন ভিন্ন হতো। যেমন—

--------------------------------------------

(১) আমি বলি: যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের দলীল এবং তার খণ্ডন আমি ‘সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ’ এর ৫৪৬ ও ৫৪৭ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
صلاة الفجر أطول منها في سائر الصلوات الخمس، ثم الظهر، ثم العصر والعشاء، ثم المغرب غالبا.

58 - والقراءة في صلاة الليل أطول من ذلك كله.

59 - والسنة إطالة القراءة في الركعة الأولى أكثر من الثانية.

60 - وأن يجعل القراءة في الأخريين أقصر من الأوليين، قدر النصف (1).

 

‌‌قراءة الفاتحة في كل ركعة:

61 - وتجب قراءة الفاتحة في كل ركعة.

62 - ويسن الزيادة عليها في الركعتين الأخيرتين أيضا أحيانا.

63 - ولا تجوز إطالة الإمام للقراءة بأكثر مما جاء في السنة، فإنه يشق بذلك على من قد يكون وراءه من رجل كبير في السن، أو مريض، أو امرأة لها رضيع، أو ذي الحاجة.

 

‌‌الجهر والإسرار بالقراءة:

64 - ويجهر بالقراءة في صلاة الصبح، والجمعة،

--------------------------------------------

(1) وتفصيل هذا الفصل راجعه إن شئت في صفة الصلاة (ص 106 - 125) من الطبعة الثامنة.
ফজরের সালাতে কিরাত অন্য সব সালাতের তুলনায় দীর্ঘ হয়, অতঃপর জোহর, এরপর আসর ও এশা এবং সাধারণত মাগরিব (সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত) হয়।

58 - এবং রাতের সালাতে কিরাত এ সবগুলোর চেয়েও দীর্ঘতর হয়।

59 - আর সুন্নাত হলো প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় রাকাতের তুলনায় কিরাত দীর্ঘ করা।

60 - এবং শেষ দুই রাকাতের কিরাত প্রথম দুই রাকাতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত করা, যা প্রায় অর্ধেক পরিমাণ (১)।

 

‌‌প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ:

61 - এবং প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব।

62 - এবং কখনো কখনো শেষ দুই রাকাতেও সূরা ফাতিহার সাথে অতিরিক্ত কিরাত পাঠ করা সুন্নাত।

63 - আর ইমামের জন্য সুন্নাহয় বর্ণিত সীমার চেয়ে অধিক কিরাত দীর্ঘ করা বৈধ নয়, কারণ এর ফলে তার পেছনে থাকা কোনো বৃদ্ধ লোক, অসুস্থ ব্যক্তি, দুগ্ধদায়ী মা কিংবা প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তির কষ্ট হতে পারে।

 

‌‌উচ্চস্বরে এবং নিঃশব্দে কিরাত পাঠ:

64 - এবং ফজর ও জুমুআর সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতে হয়,

--------------------------------------------

(১) এই পরিচ্ছেদের বিস্তারিত আলোচনার জন্য আপনি চাইলে 'সিফাতুস সালাত' (পৃষ্ঠা ১০৬ - ১২৫) এর অষ্টম সংস্করণটি দেখে নিতে পারেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
والعيدين، والاستسقاء، والكسوف، والأوليين من صلاة المغرب والعشاء. ويسر بها في صلاة الظهر والعصر، وفي الثالثة من صلاة المغرب، والأخريين من صلاة العشاء.

65 - ويجوز للإمام أن يسمعهم الآية أحيانا في الصلاة السرية.

66 - وأما الوتر وصلاة الليل، فيسر فيها تارة، ويجهر تارة، ويتوسط في رفع الصوت.

 

‌‌ترتيل القرآن:

67 - والسنة أن يرتل القرآن ترتيلا، لا هذا ولا عجلة، بل قراءة مفسرة حرفا حرفا، ويزين القرآن بصوته، ويتغنى به في حدود الأحكام المعروفة عند أهل العلم بالتجويد، ولا يتغنى به على الألحان المبتدعة، ولا على القوانين الموسيقية.

 

‌‌الفتح على الإمام:

68 - ويشرع للمقتدي أن يتقصد الفتح على الإمام إذا أرتج عليه في القراءة.
এবং দুই ঈদ, ইস্তিসকা (বৃষ্টির জন্য দুয়া), কুসূফ (সূর্যগ্রহণ) এবং মাগরিব ও এশা নামাজের প্রথম দুই রাকাতে (সশব্দে পাঠ করবেন)। আর জোহর ও আসর নামাজে, মাগরিব নামাজের তৃতীয় রাকাতে এবং এশা নামাজের শেষ দুই রাকাতে নিঃশব্দে (يسر) পাঠ করবেন।

৬৫ - ইমামের জন্য মাঝে মাঝে নিঃশব্দ (سرية) নামাজে কোনো আয়াত মুসল্লিদের শোনানো বৈধ (يجوز)।

৬৬ - আর বিতর ও রাতের নামাজের ক্ষেত্রে কখনো নিঃশব্দে (يسر), আবার কখনো সশব্দে (يجهر) পাঠ করবেন এবং আওয়াজ উচ্চ করার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবেন।

 

‌কুরআন তারতীল (ترتيل) সহকারে পাঠ করা:

৬৭ - সুন্নাহ (السنة) হলো কুরআন তারতীল (ترتيل) সহকারে সুস্পষ্টভাবে পাঠ করা; অস্পষ্টতা বা তাড়াহুড়া করে নয়, বরং প্রতিটি অক্ষর স্পষ্টভাবে আলাদা করে পাঠ করতে হবে। তিনি স্বীয় কণ্ঠস্বরে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করবেন এবং তাজবীদ (تجويد) শাস্ত্রের বিজ্ঞ আলেমদের নিকট সুপরিচিত নিয়মাবলীর সীমার মধ্যে থেকে সুর করে পাঠ করবেন। তবে কোনো উদ্ভাবিত বা বিদআতী (مبتدعة) সুর কিংবা সংগীতের ব্যাকরণ অনুযায়ী পাঠ করা যাবে না।

 

‌ইমামের কিরাত সংশোধন (الفتح) করে দেওয়া:

৬৮ - যদি ইমাম কিরাত পাঠের সময় বিভ্রান্ত হন বা পাঠে বাধাপ্রাপ্ত হন, তবে মুক্তাদীর (المقتدي) জন্য ইমামের কিরাত সংশোধন (الفتح) করে দেওয়ার বিধান (يشرع) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌6 - الركوع:

69 - فإذا فرغ من القراءة سكت سكتة لطيفة بمقدار ما يترادّ إليه نفَسُه.

70 - ثم يرفع يديه على الوجوه المتقدمة في تكبيرة الإحرام.

71 - ويكبر، وهو واجب.

72 - ثم يركع، بقدر ما تستقر مفاصله، ويأخذ كل عضو مأخذه، وهذا ركن.

 

‌‌كيفية الركوع:

73 - ويضع يديه على ركبتيه، ويمكنهما من ركبتيه، ويفرج بين أصابعه، كأنه قابض على ركبتيه، وهذا كله واجب.

74 - ويمد ظهره ويبسطه، حتى لو صب عليه الماء لاستقر، وهو واجب.

75 - ولا يخفض رأسه، ولا يرفعه، ولكن يجعله مساويا لظهره.
‌৬ - রুকু:

৬৯ - যখন তিনি তিলাওয়াত শেষ করতেন, তখন শ্বাস ফিরে আসার সমপরিমাণ সময় সামান্য বিরতি নিতেন।

৭০ - অতঃপর তিনি তাকবিরে তাহরিমার ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন।

৭১ - এবং তিনি তাকবির বলতেন, আর এটি আবশ্যক (واجب)।

৭২ - অতঃপর তিনি রুকু করতেন যতক্ষণ না তাঁর শরীরের জোড়াগুলো স্থির হতো এবং প্রতিটি অঙ্গ নিজ নিজ অবস্থানে স্থিত হতো; আর এটি একটি স্তম্ভ (ركن)।

 

‌‌রুকুর পদ্ধতি:

৭৩ - তিনি তাঁর উভয় হাত তাঁর হাঁটুদ্বয়ের ওপর রাখতেন এবং হাঁটু দুটির ওপর হাতের তালু সুপ্রতিষ্ঠিত করতেন। তিনি তাঁর আঙুলগুলো ফাঁকা রাখতেন যেন তিনি হাঁটু দুটি আঁকড়ে ধরে আছেন; আর এই পুরো বিষয়ই আবশ্যক (واجب)।

৭৪ - তিনি তাঁর পিঠ প্রসারিত ও সমান্তরাল করতেন, এমনকি যদি তার ওপর পানি ঢেলে দেওয়া হতো তবে তা স্থির হয়ে থাকত; আর এটি আবশ্যক (واجب)।

৭৫ - তিনি তাঁর মাথা অতিরিক্ত নিচুও করতেন না আবার উঁচুও রাখতেন না, বরং পিঠের সমান্তরাল রাখতেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
76 - ويباعد مرفقيه عن جنبيه.

77 - ويقول في ركوعه: "سبحان ربي العظيم " ثلاث مرات أو أكثر (1).

 

‌‌تسوية الأركان:

78 - ومن السنة أن يسوي بين الأركان في الطول، فيجعل ركوعه وقيامه بعد الركوع، وسجوده، وجلسته بين السجدتين قريبا من السواء.

79 - ولا يجوز أن يقرأ القرآن في الركوع ولا في السجود.

 

‌‌الاعتدال من الركوع:

80 - ثم يرفع صلبه من الركوع، وهذا ركن.

81 - ويقول في أثناء الاعتدال: سمع الله لمن حمده، وهذا واجب.

82 - ويرفع يديه عند الاعتدال على الوجوه المتقدمة.

--------------------------------------------

(1) وهناك أذكار أخرى تقال في هذا الركن، منها الطويل ومنها المتوسط، ومنها القصير تراجع في"صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم" (ص 136 - الطبعة السابعة).
76 - এবং তিনি তাঁর দুই কনুইকে পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখবেন।

77 - এবং তিনি তাঁর রুকুতে বলবেন: "সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম" (আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) তিনবার বা তার বেশি (১)।

 

‌‌রুকনগুলোর (أركان) সমতা বিধান:

78 - আর সুন্নাহ হলো রুকনগুলোর (أركان) দৈর্ঘ্যের মধ্যে সমতা বজায় রাখা। সুতরাং তিনি তাঁর রুকু, রুকুর পরবর্তী দণ্ডায়মান অবস্থা, সাজদাহ এবং দুই সাজদাহর মধ্যবর্তী বৈঠককে সময়ের দিক থেকে প্রায় সমান করবেন।

79 - আর রুকু কিংবা সাজদাহর অবস্থায় কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়।

 

‌‌রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো (اعتدال):

80 - অতঃপর তিনি রুকু থেকে তাঁর পিঠ সোজা করবেন, এবং এটি একটি রুকন (ركن)।

81 - এবং সোজা হওয়ার (اعتدال) সময় তিনি বলবেন: "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ", এবং এটি ওয়াজিব (واجب)।

82 - এবং সোজা হওয়ার (اعتدال) সময় তিনি ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর হাত উত্তোলন করবেন।

--------------------------------------------

(১) এই রুকনে (ركن) পাঠ করার মতো আরও অন্যান্য জিকির রয়েছে, যার কোনোটি দীর্ঘ, কোনোটি মাঝারি এবং কোনোটি সংক্ষিপ্ত। বিস্তারিত জানতে "সিফাতু সালাতিন নবী" (পৃ. ১৩৬ - সপ্তম সংস্করণ) দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
83 - ثم يقوم معتدلا مطمئنا حتى يأخذ كل عظم مأخذه، وهذا ركن.

84 - ويقول في هذا القيام: "ربنا ولك الحمد" (1) وهذا واجب على كل مصل ولو كان مؤتما (2)، فإنه ورد القيام، أما التسميع فورد الاعتدال.

85 - ويسوي بين هذا القيام والركوع في الطول كما تقدم.

 

‌‌7 - السجود:

86 - ثم يقول: " الله أكبر" وجوبا.

87 - ويرفع يديه، أحيانا.

 

‌‌الخرور على اليدين:

88 - ثم يخر إلى السجود على يديه، يضعهما قبل ركبتيه. بهذا أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو

--------------------------------------------

(1) وهناك أذكار أخرى تقال هنا. فراجعا صفة الصلاة (ص 153 - الطبعة السابعة).

(2) ولا يشرع وضع اليدين إحداهما على الأخرى في هذا القيام لعدم وروده، وانظر إن شئت البسط في الأصل"صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم.
83 - অতঃপর তিনি সোজা ও স্থির হয়ে দাঁড়াবেন যাতে প্রতিটি হাড় স্বস্থানে ফিরে আসে, আর এটি একটি রোকন (ركن)।

84 - আর এই দণ্ডায়মান অবস্থায় তিনি বলবেন: "রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" (১) এবং এটি প্রত্যেক নামাজির জন্য ওয়াজিব (واجب), যদিও সে মুক্তাদি (مؤتم) হয় (২)। কেননা এটি দাঁড়ানো অবস্থায় বর্ণিত হয়েছে, আর তাসমি' (التسميع) বর্ণিত হয়েছে সোজা হওয়ার সময়।

85 - আর এই দণ্ডায়মান অবস্থা ও রুকুর (ركوع) দৈর্ঘ্যের মধ্যে সমতা রক্ষা করবেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

‌‌৭ - সিজদা:

86 - অতঃপর তিনি আবশ্যকভাবে (وجوبا) "আল্লাহু আকবার" বলবেন।

87 - আর মাঝে মাঝে তিনি দুই হাত উত্তোলন করবেন।

 

‌‌হাতের ওপর ভর দিয়ে অবনত হওয়া:

88 - অতঃপর তিনি হাতের ওপর ভর দিয়ে সিজদায় অবনত হবেন, হাঁটু রাখার পূর্বেই হাত দুটি রাখবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন, আর এটি...

--------------------------------------------

(১) এখানে পাঠ করার মতো আরও অন্যান্য জিকির (أذكار) রয়েছে। সুতরাং সিফাতুস সালাত (পৃষ্ঠা ১৫৩ - সপ্তম সংস্করণ) দেখে নিন।

(২) বর্ণিত না হওয়ার কারণে এই দাঁড়ানো অবস্থায় এক হাতের ওপর অন্য হাত রাখা বিধেয় নয়। আপনি চাইলে মূল গ্রন্থ "সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম"-এ এর বিস্তারিত বর্ণনা দেখতে পারেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
الثابت عنه من فعله صلى الله عليه وسلم، ونهى عن التشبه ببروك البعير، وهو إنما يخر على ركبتيه اللتين هما في مقدمتيه.

89 - فإذا سجد- وهو ركن- اعتمد على كفيه وبسطهما.

95 - ويضم أصابعهما.

91 - ويوجههما إلى القبلة.

92 - ويجعل كفيه حذو منكبيه.

93 - وتارة يجعلهما حذو أذنيه.

94 - ويرفع ذراعيه عن الأرض، وجوبا، ولا. يبسطهما بسط الكلب.

95 - ويمكن أنفه وجبهته من الأرض، وهذا ركن.

96 - ويمكن أيضا ركبتيه.

97 - وكذا أطراف قدميه.

98 - وينصبهما، وهذا كله واجب.

99 - ويستقبل بأطراف أصابعهما القبلة.

100 - ويرصّ عقبيه.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্ম থেকে যা প্রমাণিত (ثابت), তিনি উটের বসার সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে নিষেধ করেছেন; অথচ উট তার সামনের দুই হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে।

89 - যখন তিনি সিজদা করতেন—আর এটি একটি রুকন (ركن)—তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালুর ওপর ভর দিতেন এবং সেগুলো বিছিয়ে দিতেন।

95 - আর তিনি হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে রাখতেন।

91 - এবং সেগুলোকে কিবলার দিকে মুখ করে রাখতেন।

92 - তিনি তাঁর হাতের তালুদ্বয়কে কাঁধ বরাবর রাখতেন।

93 - আবার কখনো সেগুলোকে কান বরাবর রাখতেন।

94 - তিনি মাটি থেকে তাঁর বাহুদ্বয় উপরে রাখতেন, যা ওয়াজিব (واجب); এবং কুকুরের মতো সেগুলো বিছিয়ে দিতেন না।

95 - তিনি তাঁর নাক ও কপাল মাটির সাথে স্থিরভাবে স্থাপন করতেন এবং এটি একটি রুকন (ركن)।

96 - একইভাবে তিনি তাঁর দুই হাঁটুও স্থিরভাবে স্থাপন করতেন।

97 - আর তাঁর দুই পায়ের অগ্রভাগকেও।

98 - এবং তিনি সেগুলো খাড়া করে রাখতেন, আর এসবই ওয়াজিব (واجب)।

99 - আর তিনি পায়ের আঙুলের ডগাগুলো কিবলার অভিমুখী করে রাখতেন।

100 - এবং তিনি তাঁর দুই গোড়ালি মিলিয়ে রাখতেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الاعتدال في السجود:

101 - ويجب عليه أن يعتدل في سجوده، وذلك بأن يعتمد فيه اعتمادا متساويا على جميع أعضاء سجوده، وهي: الجبهة والأنف معا، والكفان، والركبتان، وأطراف القدمين.

102 - ومن اعتدل في سجوده هكذا فقد اطمأن يقينا، والاطمئنان في السجود ركن أيضا.

103 - ويقول فيه: "سبحان ربي الأعلى" ثلاث مرات أو أكثر (1).

104 - ويستحب أن يكثر الدعاء فيه، فإنه مظنة الإجابة.

155 - ويجعل سجوده قريبا من ركوعه في الطول كما تقدم.

106 - ويجوز السجود على الأرض، وعلى حائل بينها وبين الجبهة، من ثوب، أو بساط، أو حصير، أو نحوه.

107 - ولا يجوز أن يقرأ القرآن وهو ساجد.

--------------------------------------------

(1) وفيه أذكار أخرى تراها في"صفة الصلاة" (ص 153).
সিজদায় পরিমিতি (اعتدال) অবলম্বন:

১০১ - মুসল্লির জন্য তার সিজদাহর মধ্যে পরিমিতি (اعتدال) বজায় রাখা ওয়াজিব (واجب); আর তা হলো সিজদাহর সকল অঙ্গের ওপর সমানভাবে ভর দেওয়া। অঙ্গগুলো হলো: কপাল ও নাক একত্রে, উভয় হাতের তালু, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ।

১০২ - যে ব্যক্তি এভাবে সিজদায় পরিমিতি বজায় রাখল, সে নিশ্চিতভাবে স্থৈর্য (اطمئنان) অর্জন করল। আর সিজদায় স্থৈর্য (اطمئنان) বজায় রাখাও একটি রুকন (ركن)।

১০৩ - তিনি সিজদাহয় বলবেন: "সুবহানা রাব্বিয়াল আলা" (আমার সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) তিনবার বা তার বেশি (১)।

১০৪ - আর সিজদাহর মধ্যে অধিক পরিমাণে দোয়া করা মুস্তাহাব (مستحب); কেননা এটি দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত ক্ষেত্র।

১৫৫ - তিনি তাঁর সিজদাহর দৈর্ঘ্যকে রুকুর দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি করবেন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

১০৬ - সরাসরি মাটির ওপরে সিজদাহ করা জায়েজ (جائز), আবার মাটি ও কপালের মাঝখানে কোনো আবরণ—যেমন কাপড়, গালিচা, পাটি বা অনুরূপ কিছুর ওপরেও সিজদাহ করা জায়েজ (جائز)।

১০৭ - সিজদাহরত অবস্থায় কুরআন পাঠ করা জায়েজ (جائز) নয়।

--------------------------------------------

(১) এতে আরও অন্যান্য জিকির রয়েছে যা আপনি "সিফাতুস সালাত" (পৃষ্ঠা ১৫৩) গ্রন্থে দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الافتراش والإقعاء بين السجدتين:

108 - ثم يرفع رأسه مكبرا، وهذا واجب.

109 - ويرفع يديه أحيانا.

110 - ثم يجلس مطمئنا حتى يرجع كل عظم إلى موضعه، وهو ركن.

111 - ويفرش رجله اليسرى فيقعد عليها، وهذا واجب.

112 - وينصب رجله اليمنى.

113 - ويستقبل بأصابعها القبلة.

114 - ويجوز الإقعاء أحيانا، وهو أن ينتصب على عقبيه وصدور قدميه.

115 - ويقول في هذه الجلسة: "اللهم اغفر لي، وارحمني، واجبرني، وارفعني، وعافني، وارزقني".

116 - وإن شاء قال: "رب اغفر لي، رب اغفر لي ".

117 - ويطيل هذه الجلسة حتى تكون قريبا من سجدته.
দুই সিজদাহর মাঝে ইফতিরাশ (الافتراش) ও ইকরা (الإقعاء):

108 - অতঃপর তিনি তাকবির (تكبير) পাঠ করে তাঁর মাথা ওঠাবেন, আর এটি ওয়াজিব (واجب)।

109 - তিনি মাঝে মাঝে উভয় হাত উত্তোলন করবেন।

110 - এরপর তিনি প্রশান্তির সাথে (مطمئنا) বসবেন যতক্ষণ না প্রতিটি হাড় তার নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়; আর এটি রুকন (ركن)।

111 - তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে দেবেন এবং তার ওপর বসবেন, আর এটি ওয়াজিব (واجب)।

112 - তিনি তাঁর ডান পা খাড়া রাখবেন।

113 - আর এর আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখবেন।

114 - মাঝে মাঝে ইকরা (الإقعاء) করা বৈধ (يجوز); আর তা হলো দুই গোড়ালি ও পায়ের পাতার অগ্রভাগের ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে বসা।

115 - তিনি এই বৈঠকে বলবেন: "হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমার অভাব পূরণ করে দিন, আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।"

116 - তিনি চাইলে এ-ও বলতে পারেন: "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।"

117 - তিনি এই বৈঠকটি দীর্ঘ করবেন, এমনকি তা সিজদাহর (سجدة) সময়ের কাছাকাছি হবে।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌السجدة الثانية:

118 - ثم يكبر وجوبا.

119 - ويرفع يديه مع هذا التكبير أحيانا.

120 - ويسجد السجدة الثانية، وهي ركن أيضا.

121 - ويصنع فيها ما صنع في الأولى.

 

‌‌جلسة الاستراحة:

122 - فإذا رفع رأسه من السجدة الثانية، وأراد النهوض إلى‌‌ الركعة الثانية كبر وجوبا.

123 - ويرفع يديه أحيانا.

124 - ويستوي قبل أن ينهض قاعدا على رجله اليسرى، معتدلا، حتى يرجع كل عظم إلى موضعه.

 

الركعة الثانية:

125 - ثم ينهض معتمدا على الأرض بيديه المقبوضتين كما يقبضهما العاجن إلى الركعة الثانية، وهي ركن.

126 - ويصنع فيها ما صنع في الأولى.

127 - إلا أنه لا يقرأ فيها دعاء الاستفتاح.

128 - ويجعلها أقصر من الركعة الأولى.
দ্বিতীয় সিজদাহ (السجدة الثانية):

১১৮ - অতঃপর তিনি আবশ্যিকভাবে (وجوبا) তাকবির বলবেন।

১১৯ - এবং মাঝে মাঝে এই তাকবিরের সাথে হাত উঠাবেন।

১২০ - অতঃপর দ্বিতীয় সিজদাহ (السجدة الثانية) করবেন, আর এটিও একটি রুকন (ركن)।

১২১ - এবং সেখানে তা-ই করবেন যা তিনি প্রথম সিজদায় করেছিলেন।

 

বিরতির বৈঠক (جلسة الاستراحة):

১২২ - অতঃপর যখন তিনি দ্বিতীয় সিজদাহ (السجدة الثانية) থেকে মাথা উঠাবেন এবং দ্বিতীয় রাকাত (الركعة الثانية)-এর জন্য দাঁড়াতে চাইবেন, তখন আবশ্যিকভাবে (وجوبا) তাকবির বলবেন।

১২৩ - এবং মাঝে মাঝে হাত উঠাবেন।

১২৪ - আর দাঁড়ানোর পূর্বে বাম পায়ের ওপর সোজা হয়ে স্থিরভাবে বসবেন, যাতে প্রতিটি হাড় তার নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়।

 

দ্বিতীয় রাকাত (الركعة الثانية):

১২৫ - অতঃপর আটা খামিরকারীর ন্যায় দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জমিনে ভর দিয়ে দ্বিতীয় রাকাত (الركعة الثانية)-এর জন্য দাঁড়াবেন, আর এটি একটি রুকন (ركن)।

১২৬ - এবং এতে তা-ই করবেন যা প্রথম রাকাতে করেছিলেন।

১২৭ - তবে তিনি এতে ইস্তিফতাহ দোয়া (دعاء الاستفتاح) পড়বেন না।

১২৮ - আর দ্বিতীয় রাকাতকে প্রথম রাকাত (الركعة الأولى) অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত করবেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الجلوس للتشهد:

129 - فإذا فرغ من الركعة الثانية قعد للتشهد، وهو واجب.

135 - ويجلس مفترشا كما سبق بين السجدتين.

131 - لكن لا يجوز الإقعاء هنا.

132 - ويضع كفه اليمنى على فخذه وركبته اليمنى، ونهاية مرفقه الأيمن على فخذه لا يبعده عنه.

133 - ويبسط كفه اليسرى على فخذه وركبته اليسرى.

134 - ولا يجوز أن يجلس معتمدا على يده. وخصوصا اليسرى.

 

‌‌تحريك الأصبع والنظر إليها:

135 - ويقبض أصابع كفه اليمنى كلها، ويضع إبهامه على إصبعه الوسطى تارة.

136 - وتارة يُحلق بهما حلقة.

137 - ويشير بإصبعه السبابة إلى القبلة.

138 - ويرمي ببصره إليها.
তাশাহহুদের জন্য বসা:

129 - অতঃপর যখন দ্বিতীয় রাকাত শেষ করবেন, তখন তাশাহহুদের জন্য বসবেন; আর এটি অবশ্যপালনীয় (واجب)।

135 - আর তিনি দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ের ন্যায় বাম পা বিছিয়ে ও ডান পা খাড়া করে (مفترشا) বসবেন।

131 - তবে এখানে দুই পায়ের গোড়ালি খাড়া করে তার ওপর বসা (الإقعاء) বৈধ নয়।

132 - তিনি তাঁর ডান হাতের তালু ডান উরু ও হাঁটুর ওপর রাখবেন এবং ডান কনুইয়ের শেষ অংশ উরুর ওপর রাখবেন, তা উরু থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।

133 - এবং তিনি তাঁর বাম হাতের তালু বাম উরু ও হাঁটুর ওপর প্রসারিত করে রাখবেন।

134 - আর হাতের ওপর ভর দিয়ে বসা বৈধ নয়, বিশেষ করে বাম হাতের ওপর।

 

আঙুল নাড়ানো এবং তার দিকে তাকানো:

135 - তিনি তাঁর ডান হাতের সমস্ত আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করবেন এবং কখনো বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমা আঙুলের ওপর রাখবেন।

136 - আবার কখনো তা দিয়ে একটি বৃত্ত (حلقة) তৈরি করবেন।

137 - আর তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল দিয়ে কিবলার দিকে ইশারা করবেন।

138 - এবং তাঁর দৃষ্টি সেটির দিকে নিবদ্ধ রাখবেন।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
139 - ويحركها يدعو بها من أول التشهد إلى آخره.

140 - ولا يشير بإصبع يده اليسرى.

141 - ويفعل هذا كله في كل تشهد.

 

‌‌صيغة التشهد والدعاء بعده:

142 - والتشهد واجب، إذا نسيه سجد سجدتي السهو.

143 - ويقرؤه سرا.

144 - وصيغته: " التحيات لله، والصلوات، والطيبات، السلام على النبي (1) ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله " (2).

145 - ويصلي بعده على النبي صلى الله عليه وسلم فيقول:

--------------------------------------------

(1) هذا هو المشروع بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، وهو الثابت في تشهد ابن مسعود وعائشة وابن الزبير وابن عباس رضي الله عنهم. ومن شاء التفصيل فعليه بكتابي صفة الصلاة، (ص 173 - 175).

(2) وفي كتابي المذكور صيغ أخرى ثابتة، وما ذكرته هنا أصحها.
139 - তিনি তা (আঙুলটি) নাড়াতেন এবং এর মাধ্যমে তাশাহহুদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দোয়া করতেন।

140 - আর তিনি বাম হাতের আঙুল দ্বারা ইশারা করতেন না।

141 - এবং তিনি প্রতিটি তাশাহহুদের ক্ষেত্রে এই পুরো আমলটি করতেন।

 

‌‌তাশাহহুদের শব্দাবলি এবং এর পরবর্তী দোয়া:

142 - আর তাশাহহুদ ওয়াজিব (واجب); যদি কেউ তা ভুলে যায়, তবে সে দুটি সাহু সিজদা (سجدتي السهو) প্রদান করবে।

143 - এবং তিনি তা নিভৃতে (سراً) পাঠ করতেন।

144 - আর এর শব্দাবলি হলো: "সমস্ত সম্মানজনক সম্বোধন আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত এবং পবিত্র বিষয়সমূহও আল্লাহর জন্য। হে নবী (১), আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল" (২)।

145 - এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করতেন এবং বলতেন:

--------------------------------------------

(1) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর এটাই শরিয়তসম্মত (المشروع); আর এটি ইবনে মাসউদ, আয়েশা, ইবনে যুবাইর এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বর্ণিত তাশাহহুদে প্রমাণিত (الثابت)। যে ব্যক্তি বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন আমার সিফাতুস সালাত গ্রন্থটি (পৃষ্ঠা ১৭৩-১৭৫) দেখে নেয়।

(2) আমার উল্লিখিত গ্রন্থে অন্যান্য প্রমাণিত (ثابتة) শব্দাবলিও রয়েছে, তবে আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তা সবচাইতে বিশুদ্ধ (أصحها)।
(খণ্ড: ১) তালখীছু ছিফাতি ছালাতিন নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
"اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل. إبراهيم، أنك حميد مجيد".

"اللهم بارك على محمد، وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم، وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد".

146 - وإن شئت الاختصار قلت: "اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد، وبارك على محمد، وعلى آل محمد، كما صليت وباركت على إبراهيم، وعلى آل إبراهيم. إنك حميد مجيد".

147 - ثم يتخير في هذا التشهد من الدعاء الوارد أعجبه إليه، فيدعو الله به.

 

‌‌الركعة الثالثة والرابعة:

148 - ثم يكبر وجوبا، والسنة أن يكبر وهو جالس.

149 - ويرفع يديه أحيانا.
"হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।"

"হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।"

146 - আর আপনি চাইলে সংক্ষেপে বলতে পারেন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন ও মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত ও বরকত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।"

147 - অতঃপর এই তাশাহহুদ (التشهد) শেষে বর্ণিত দুআগুলোর (الدعاء الوارد) মধ্যে যা তার কাছে অধিক পছন্দনীয় তা বেছে নেবে এবং তা দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে।

 

‌‌তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত:

148 - এরপর আবশ্যিকভাবে (وجوبا) তাকবির বলবে; আর সুন্নাত (السنة) হলো বসা অবস্থায় তাকবির বলা।

149 - এবং কখনো কখনো হাত উত্তোলন করবেন।