(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: -)
تفسير ابن عربي للقرآن حقيقته وخطره القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: تفسير ابن عربي للقرآن حقيقته وخطره
المؤلف: الدكتور محمد السيد حسين الذهبي (ت 1398هـ)
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: الثانية
عدد الصفحات: 31
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআনের ইবনে আরাবি কৃত তাফসির: এর স্বরূপ ও বিপদ বিভাগ: কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
গ্রন্থ: কুরআনের ইবনে আরাবি কৃত তাফসির: এর স্বরূপ ও বিপদ
লেখক: ডক্টর মুহাম্মদ আস-সাইয়্যিদ হুসাইন আয-যাহাবি (মৃত্যু ১৩৯৮ হিজরি)
প্রকাশক: জামিয়া ইসলামিয়া (ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়), মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: দ্বিতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
تفسير ابن عربي للقرآن حقيقته وخطره
تأليف: محمد حسين الذهبي
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وبعد:
فقد هالني ما كان من بعض دور النشر في مصر وبيروت من الأخذ في طبع كتاب التفسير المنسوب لابن عربي، وإصدار بعض أجزائه وطرحها في الأسواق ليشتريها القراء على اختلاف ثقافاتهم وتفاوت ما بينهم من صلة بعلوم الدين.
وقد قدر لهذا التفسير أن يطبع من زمن بعيد ومضى على طبعته الأخيرة نحو مائة سنة، ونفذت نسخه من الأسواق، ولم يبق منها إلا ما ندر في بعض المكتبات العامة أو الخاصة، وأصبح الكتاب- والحمد لله- في عداد المنسيات أو كاد، وما عرفت المطابع ودور النشر عن إخراج هذا التفسير طوال هذه المدة إلا لما فيه من زيع وفساد، ولعل بقية من دين كان لها أثر في ذلك.
ولكن بعض دور النشر في هذه الأيام أصبحت لا تهتم إلا بما تحصل عليه من أرباح مالية، فتنشر من الكتب ما يحقق لها الربح ولو كانت كلها شرا وفسادا، وما دام الربح يجرى لتفيض به جيوبهم، فلا عليهم بعد ذلك أن يسري الزيغ والضلال إلى قلوب العامة لتفيض بالشك والحيرة في دينها حتى تضل وتشقى!!.
ইবন আরাবীর কুরআন তাফসির: এর স্বরূপ ও ভয়াবহতা
রচনায়: মুহাম্মদ হুসাইন আল-যাহাবী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গীসাথী এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর। অতঃপর:
মিসর ও বৈরুতের কিছু প্রকাশনা সংস্থার কর্মকাণ্ড দেখে আমি স্তম্ভিত হয়েছি, যারা ইবন আরাবীর প্রতি আরোপিত (منسوب) তাফসির গ্রন্থটি মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর কিছু খণ্ড প্রকাশ করে বাজারে ছেড়েছে, যাতে বিভিন্ন স্তরের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী পাঠকরা তা ক্রয় করতে পারে।
এই তাফসিরটি সুদীর্ঘ কাল আগে মুদ্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল এবং এর সর্বশেষ মুদ্রণের পর প্রায় একশ বছর অতিবাহিত হয়েছে। বাজার থেকে এর কপিগুলো নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং বিভিন্ন পাবলিক বা ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত অতি সামান্য কিছু কপি ছাড়া এর আর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। আল্লাহর শুকরিয়া যে, বইটি প্রায় বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গিয়েছিল। সুদীর্ঘ এই সময়কাল ধরে ছাপাখানা ও প্রকাশনা সংস্থাগুলো এই তাফসিরটি প্রকাশ করা থেকে বিরত ছিল এর মধ্যে বিদ্যমান বিচ্যুতি (زيغ) ও কলুষতার (فساد) কারণে। সম্ভবত মানুষের অন্তরে অবশিষ্ট ধর্মীয় চেতনাই এর পেছনে প্রভাব বিস্তার করেছিল।
কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু প্রকাশনা সংস্থা কেবল তাদের অর্জিত মুনাফার দিকেই ভ্রুক্ষেপ করে। তারা এমন সব বই প্রকাশ করে যা তাদের জন্য আর্থিক মুনাফা বয়ে আনে, যদিও তা পুরোপুরি মন্দ ও অনিষ্টকর হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পকেট উপচে পড়া মুনাফা অর্জিত হতে থাকে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিচ্যুতি (زيغ) ও পথভ্রষ্টতা (ضلال) ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা থাকে না; এমনকি সাধারণ মানুষ তাদের দ্বীন সম্পর্কে সন্দেহ (شك) ও সংশয়ে (حيرة) নিপতিত হয়ে পথভ্রষ্ট ও দুর্ভাগা হয়ে পড়লেও তাদের কিছু যায় আসে না!!
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
هالني ذلك، وهال الكثير غيري، وقال بعض الغيورين على دينهم وكتاب ربهم: ما بال الأزهر يسكت عن مثل هذا الفعل الذي يسيء إلى الإسلام ويذهب بقدسية القرآن!!؟.
وكنت أعلم أن الأزهر- ممثلا في مجمع البحوث الإسلامية- لم يسكت عن هذا العمل الذي اجترأت عليه بعض دور النشر فأحيت به بدعة وأيقظت فتنة، فسارع إلى اتخاذ إجراء- هو من صميم مهمته- لمصادرة ما طبع من هذا التفسير، وللحيلولة دون إتمام طبعه ونشره.
وقال قائل: ولكن بعض أجزاء الكتاب وصلت إلى أيدي القراء وبعضهم- لاشك- مضلل مخدوع، وبعضهم سوف لا يعرف سر توقف ناشره عن نشره، وقد يظنه لأمر مالي، أو لندرة الورق، أو لشيء من هذا القبيل، وحق هؤلاء وأولئك أن يبصروا بحقيقة الأمر، ويعلموا أن الكتاب ضلال يجب أن تقي الناس شره، وتجنبهم ضره.
ورأى بعض الزملاء الأفاضل أن أتجرد لهذه المهمة وأحمل عبئها، دفاعا عن كتاب الله وحماية له من عبث العابثين، وإلا فعلى من وزر هذه الشنيعة النكراء كعبء لا طاقة لي به.
ورأيتني- إن سكت عن هذا الباطل- شيطانا أخرس، فاستخرت الله تعالى في كتابة كتيب يكشف للناس حقيقة ابن عربي، وحقيقة هذا التفسير المنسوب إليه، وسألته- سبحانه- التوفيق والسداد، وأن يجعله عملا خالصا لوجهه، والله من وراء القصد وهو يهدى السبيل.
د. محمد حسين الذهبي
এটি আমাকে এবং আমার মতো আরও অনেককে আতঙ্কিত করেছে। তাদের ধর্ম ও রবের কিতাবের প্রতি আত্মমর্যাদাশীল কিছু মানুষ বলেছেন: আল-আজহার কেন এমন একটি কাজের ব্যাপারে নীরব রয়েছে যা ইসলামের অবমাননা করে এবং কুরআনের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়!!?
আমি জানতাম যে আল-আজহার—ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি-র মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল হয়ে—এমন একটি কাজের ব্যাপারে নীরব থাকেনি যা করার ধৃষ্টতা কিছু প্রকাশনী দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা একটি বিদআত (بدعة) পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং ফিতনা (فتنة) জাগ্রত করেছে। ফলে আল-আজহার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে—যা ছিল তার মূল কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত—যাতে এই তাফসিরের যা কিছু মুদ্রিত হয়েছে তা বাজেয়াপ্ত করা যায় এবং এর মুদ্রণ ও প্রকাশনা সম্পন্ন হওয়া রোধ করা যায়।
কেউ কেউ বলেছেন: কিন্তু এই বইটির কিছু অংশ পাঠকদের হাতে পৌঁছে গেছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ—নিঃসন্দেহে—বিভ্রান্ত ও প্রতারিত। আবার অনেকে হয়তো প্রকাশকের প্রকাশনা বন্ধ করার রহস্য জানবে না; তারা মনে করতে পারে এটি কোনো আর্থিক কারণে, কাগজের দুষ্প্রাপ্যতার জন্য অথবা অনুরূপ কিছুর জন্য হয়েছে। এদের সবার অধিকার রয়েছে যে তারা বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে এবং জানবে যে এই বইটি একটি পথভ্রষ্টতা (ضلال), যার অনিষ্ট থেকে মানুষকে রক্ষা করা এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তাদের দূরে রাখা অপরিহার্য।
কিছু শ্রদ্ধেয় সহকর্মী মনে করেছেন যে আল্লাহর কিতাবকে রক্ষা করার জন্য এবং বিকৃতিকারীদের অপতৎপরতা থেকে একে সুরক্ষা প্রদানের জন্য আমারই এই কাজের জন্য একনিষ্ঠ হওয়া উচিত এবং এর দায়ভার বহন করা উচিত। অন্যথায়, এই জঘন্য কাজের বোঝা (وزر) কার ওপর বর্তাবে, যা বহন করার সামর্থ্য আমার নেই।
আমি লক্ষ্য করেছি যে—যদি আমি এই বাতিলের সামনে নীরব থাকি—তবে আমি একজন বোবা শয়তান হিসেবে গণ্য হব। তাই আমি মানুষের সামনে ইবনে আরাবীর বাস্তবতা এবং তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত এই তাফসিরের স্বরূপ উন্মোচন করার জন্য একটি ছোট গ্রন্থ রচনার বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে ইস্তিখারা করেছি। আমি তাঁর কাছে তাওফিক এবং সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং এই আরজি জানাচ্ছি যেন তিনি একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা একটি কাজ হিসেবে কবুল করেন। আল্লাহই মূল লক্ষ্য এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করেন।
ড. মুহাম্মদ হোসেন আয-যাহাবী
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
نشأة التصوف وتطوره:كلمة "تصوف" قيل: إنها مشتقة من الصوف، وذلك لأن الصوفية خالفوا الناس فلبسوا الصوف تقشفا وزهدا.
وقيل: هي مشتقة من "الصفاء"، وذلك لصفاء قلب المريد، وطهارة باطنه وظاهره عن مخالفة ربه!.
وقيل: إنه مأخوذ من "الصفة" التي ينسب لها فقراء الصحابة المعروفون بأهل الصفة.
ويرى بعض العلماء أن الكلمة لقب غير مشتق، قال القشيري
رحمه الله: "ولا يشهد لهذا الاسم اشتقاق من جهة العربية ولا قياس، والظاهر أنه لقب، ومن قال باشتقاقه من الصفاء أو الصفة فبعيد من جهة القياس اللغوي. قال: وكذلك من الصوف، لأنهم لميختصوا به"1.
وأيا ما كان الأمر فالتصوف هو- كما قيل- إرسال النفس مع الله على ما يريده.
وقيل: "هو مناجاة القلب، ومحادثة الروح، وفي هذه المناجاة طهرة لمن شاء أن يتطهر، وصفاء لمن أراد التبرؤ من الرجس والدنس، وفي تلك المحادثة عروج إلى سماء النور والملائكة، وصعود إلى عالم الفيض والإلهام، وما هذا الحديث والنجوى إلا ضرب من التأمل والنظر والتدبر في ملكوت السماوات والأرض، بيد أن الجسم والنفس متلازمان، وتوأمان لا ينفصلان، ولا سبيل إلى تهذيب أحدهما بدون
--------------------------------------------
তাসাউফের (التصوف) উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:'তাসাউফ' (تصوف) শব্দটি সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি 'সূফ' (الصوف) তথা পশম থেকে উদ্ভূত। এর কারণ হলো, সূফীগণ সাধারণ মানুষের রীতির বিপরীতে কৃচ্ছ্রসাধন ও দুনিয়াবিমুখতার (زهد) তাকিদে পশমি বস্ত্র পরিধান করতেন।
আবার বলা হয়েছে: এটি 'সাফা' (الصفاء) থেকে উদ্ভূত, যা মুরিদের হৃদয়ের স্বচ্ছতা এবং স্বীয় রবের অবাধ্যতা (مخالفة) থেকে তার বাতিন (باطن) ও জাহিরের (ظاهر) পবিত্রতাকে নির্দেশ করে।
আরও বলা হয়েছে: এটি 'সুফফাহ' (الصفة) থেকে গৃহীত, যার সাথে সাহাবায়ে কিরামের সেই দরিদ্র (فقراء) দলটিকে নিসবত করা হয় যারা 'আহলে সুফফাহ' (أهل الصفة) নামে পরিচিত ছিলেন।
কোনো কোনো আলিম মনে করেন যে, শব্দটি একটি উপাধি (لقب) যা অন্য কোনো শব্দ থেকে উদ্ভূত নয়। ইমাম কুশাইরী (রহ.) বলেন:
"আরবি ভাষা বা ব্যুৎপত্তিগত কিয়াস (قياس) কোনো দিক থেকেই এই নামের পক্ষে সাক্ষ্য দেয় না। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি উপাধি মাত্র। যারা একে 'সাফা' বা 'সুফফাহ' থেকে উদ্ভূত বলেন, ভাষাতাত্ত্বিক কিয়াসের (قياس لغوي) দিক থেকে তা অত্যন্ত দূরবর্তী। তিনি আরও বলেন: পশম (সূফ) থেকে উৎপত্তির বিষয়টিও তদ্রূপ, কারণ পশমি বস্ত্র পরিধান কেবল তাদেরই বৈশিষ্ট্য ছিল না।"১
বিষয় যাই হোক না কেন, তাসাউফ হলো—যেমনটি বলা হয়েছে—আল্লাহর মর্জিমতো নফসকে (نفس) তাঁর নিকট সমর্পণ করা।
আবার বলা হয়েছে: "এটি হলো হৃদয়ের মুনাজাত (مناجاة) ও রূহের কথোপকথন। যারা পবিত্র হতে চায় তাদের জন্য এই মুনাজাতে রয়েছে পবিত্রতা এবং যারা পঙ্কিলতা ও কলুষতা থেকে মুক্ত হতে চায় তাদের জন্য রয়েছে স্বচ্ছতা। আর এই কথোপকথনে রয়েছে নূরের আকাশ ও ফেরেশতাদের জগতে আরোহণ (عروج) এবং ফয়জ (فيض) ও ইলহামের (إلهام) জগতে উত্তরণ। এই হাদিস ও গোপন আলাপ (نجوى) আসমান ও যমীনের রাজত্ব (ملكوت) নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গভীর ধ্যানের একটি রূপ মাত্র। তবে দেহ ও নফস একে অপরের পরিপূরক এবং অবিচ্ছেদ্য যমজ সদৃশ। এদের একটিকে বাদ দিয়ে অপরটির সংশোধন সম্ভব নয়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
الآخر، فمن شاء لنفسه صفاء ورفعة فلابد له أن يتبرأ عن الشهوات وملذات البدن.. فالتصوف إذا: فكر، وعمل، ودراسة، وسلوك"1. والتصوف بهذا المعنى موجود منذ الصدر الأول للإسلام، فكثير من الصحابة كانوا معرضين عن الدنيا ومتاعبها، آخذين أنفسهم بالزهد والتقشف، مبالغين في العبادة. فكان منهم من يقوم الليل ويصوم النهار، ومنهم من يشد الحجر على بطنه تربية لنفسه، وتهذيبا لروحه، غير أنهم لم يعرفوا في زمنهم باسم الصوفية، وإنما اشتهر بهذا اللقب فيها بعد من عرفوا بالزهد والتفاني في طاعة الله، وكان ظهو هذا اللقب في القرن الثاني الهجري، قيل: وأول من اشتهر به، أبو هاشم الصوفي المتوفي سنة 55اهـ خمسين ومائة من الهجرة2.
وفي القرن الثاني وما بعده تولدت بعض الأبحاث الصوفية، وظهرت تعاليم القوم ونظرياتهم التي تواضعوا عليها، وأخذت هذه الأبحاث تنمو وتتزايد كلما مر عليها الزمن، وبمقدار ما اقتبسه القوم من المحيط العلمي الذي يعيشون فيه تطورت هذه الأبحاث والنظريات. غير أن الصوفية تأثروا بالفلاسفة أكثر من تأثرهم بغيرهم، وأخذوا من الفكر الفلسفي كثيرا من النظريات الفلسفية التي يتنافي بعضها مع الدين، بل وكون بعض المتصوفة لأنفسهم فلسفات خاصة، وأوغلوا في ذلك حتى أصبحنا نرى بعضا منهم أشبه بالفلاسفة منهم بالمتصوفة.
وكان لبعض هؤلاء المتصوفة فلسفات لا تتفق ومباديء الشريعة، مما أثار عليهم جمهور أهل السنة إلى حد أن رموهم بالكفر والزندقة، ومن
--------------------------------------------
...অন্যটি, সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের জন্য স্বচ্ছতা ও উচ্চমর্যাদা কামনা করে, তাকে অবশ্যই কুপ্রবৃত্তি ও দৈহিক ভোগবিলাস থেকে মুক্ত হতে হবে। অতএব, তাসাউফ হলো: চিন্তা, আমল, অধ্যয়ন ও আচরণ। আর এই অর্থে তাসাউফ ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। অনেক সাহাবীই দুনিয়া ও এর মোহ থেকে বিমুখ ছিলেন, তাঁরা নিজেদেরকে সংযম (زهد) ও কৃচ্ছ্রসাধনে নিয়োজিত রেখেছিলেন এবং ইবাদতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান হতেন এবং দিনে রোজা রাখতেন, আবার কেউ কেউ নফসের আত্মশুদ্ধি ও রুহের পরিমার্জনের জন্য পেটে পাথর বাঁধতেন। তবে তাঁদের যুগে তাঁরা 'সুফি' নামে পরিচিত ছিলেন না। বরং পরবর্তীতে যারা সংযম (زهد) এবং আল্লাহর আনুগত্যে আত্মনিয়োগের জন্য পরিচিতি লাভ করেন, তাঁরাই এই লকব বা উপাধিতে প্রসিদ্ধি পান। এই উপাধির উদ্ভব ঘটে হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে। বলা হয়ে থাকে যে, এই উপাধিতে সর্বপ্রথম প্রসিদ্ধি লাভ করেন আবু হাশিম আল-সুফি, যিনি হিজরি ১৫০ সনে ইন্তেকাল করেন।
দ্বিতীয় শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ে কিছু সুফি গবেষণার জন্ম হয় এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর শিক্ষা ও মতবাদসমূহ প্রকাশিত হতে থাকে যা তাঁরা নিজেরা নির্ধারণ করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে এই গবেষণাগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তাঁরা যে জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে বাস করতেন, তা থেকে যা কিছু গ্রহণ করেছিলেন, সেই অনুযায়ী এই গবেষণা ও মতবাদগুলো বিকশিত হয়। তবে সুফিরা অন্যদের তুলনায় দার্শনিকদের দ্বারা অধিক প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁরা দার্শনিক চিন্তা থেকে এমন অনেক তাত্ত্বিক মতবাদ গ্রহণ করেন, যার কিছু অংশ দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। এমনকি কোনো কোনো সুফি নিজেদের জন্য বিশেষ দর্শন গড়ে তোলেন এবং তাতে এতদূর অগ্রসর হন যে, আমাদের কাছে তাঁদের কাউকে কাউকে সুফির চেয়ে দার্শনিক হিসেবেই বেশি মনে হতে থাকে।
এই সুফিদের কারো কারো এমন সব দর্শন ছিল যা শরীয়তের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এটি আহলে সুন্নাতের সংখ্যাগুরু (جمهور) আলিমদের তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলে, এমনকি তাঁরা তাঁদেরকে কুফর (كفر) ও ধর্মদ্রোহিতা (زندقة) বা যিন্দিক হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
ذلك الوقت دخل في التصوف رجال من غير أهله، تظاهروا بالورع والطاعة، وتحلوا بالزهد الكاذب والتقشف المصطنع، ومن هؤلاء الذين اندسوا بين جماعة المتصوفة، جماعة الباطنية الذين تبطنوا الكفر والتحفوا الإسلام، وتستروا وراء مظاهر الزهد الكاذب والورع المصنوع، كما تستروا وراء التشيع لآل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا غرض لهم من وراء ذلك كله إلا أن يفسدوا على المسلمين عقائدهم، ويزعزعوا ثقتهم في دينهم وكتاب ربهم!!.
ولقد نتج عن تأثر المتصوفة بالفلاسفة وبمن اندسوا بينهم من الباطنية أن تنوع التصوف إلى نوعين:
تصوف نظري: وهو الذي يقوم على البحث والدراسة.
وتصوف علمي: وهو الذي يقوم على التقشف والزهد والتفاني في طاعة الله.
وكل من النوعين كان له أثر في تفسير القرآن الكريم، مما جعل التفسير الصوفي يتنوع- هو أيضا- إلى نوعين:
تفسير نظري أو فلسفي، وتفسير صوفي فيضي أو إشاري.
সেই সময়ে তাসাউফের মধ্যে এমন কিছু লোক অনুপ্রবেশ করেছিল যারা এর প্রকৃত অনুসারী ছিল না। তারা পরহেজগারি (ورع) ও আনুগত্যের ভান করত এবং মিথ্যা বিরাগ (زهد) ও কৃত্রিম কৃচ্ছ্রসাধনার (تقشف) বেশ ধারণ করেছিল। সুফিদের মাঝে যারা এভাবে লুকিয়ে প্রবেশ করেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল বাতিনিয়া (باطنية) সম্প্রদায়; যারা অন্তরে কুফর (كفر) গোপন রেখেছিল এবং ইসলামের আবরণে নিজেদের আবৃত করেছিল। তারা মিথ্যা বিরাগ (زهد) ও কৃত্রিম পরহেজগারির (ورع) আড়ালে নিজেদের গোপন রেখেছিল, ঠিক যেভাবে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের প্রতি অনুরাগের (تشيع) আড়ালে আত্মগোপন করেছিল। এসকল কর্মকাণ্ডের পেছনে তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের আকিদাহ (عقيدة) নষ্ট করা এবং তাদের দ্বীন ও রবের কিতাবের প্রতি তাদের বিশ্বাসকে টলিয়ে দেওয়া!!
দার্শনিকদের দ্বারা এবং সুফিদের মাঝে অনুপ্রবেশকারী বাতিনিয়াদের (باطنية) দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলে তাসাউফ দুটি প্রকারে বিভক্ত হয়ে পড়ে:
তাত্ত্বিক তাসাউফ (تصوف نظري): যা মূলত গবেষণা ও জ্ঞানগত অধ্যয়নের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
জ্ঞানগত তাসাউফ (تصوف علمي): যা মূলত কৃচ্ছ্রসাধন (تقشف), বিরাগ (زهد) এবং আল্লাহর আনুগত্যে আত্মনিয়োগের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এই উভয় প্রকারের তাসাউফেরই পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ওপর প্রভাব ছিল, যার ফলে সুফি ঘরানার তাফসিরও একইভাবে দুটি প্রকারে বিভক্ত হয়ে যায়:
তাত্ত্বিক বা দার্শনিক তাফসির এবং সুফি আধ্যাত্মিক বা ইঙ্গিতবাহী তাফসির (تفسير إشاري)।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
التفسير الصوفي النظري أو الفلسفي:أما التفسير الصوفي النظري أو الفلسفي، فقوامه المباحث النظرية، والتعاليم الفلسفية، والصوفي إذا كان من أصحاب هذه النزعة الفلسفية، نظر إلى القرآن من خلال نزعته، وكله حرص على أن يجد في القرآن ما يشهد لنظرياته وفلسفاته، وليس من السهل أن يجد في القرآن ما يتفق صراحة مع تعاليمه، ولا ما يتمشى بوضوح مع نظرياته فإذا به يحاول أن يطوع القرآن قسرا إلى ما يقول به، وإذا به ينتهي بعد
তাত্ত্বিক বা দার্শনিক সুফি তাফসির:আর তাত্ত্বিক বা দার্শনিক সুফি তাফসিরের মূল ভিত্তি হলো তাত্ত্বিক গবেষণা ও দার্শনিক শিক্ষা। সুফি যখন এই দার্শনিক প্রবণতার অধিকারী হন, তখন তিনি তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কুরআনের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। তিনি কুরআনের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পেতে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন যা তাঁর তত্ত্ব ও দর্শনের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। কিন্তু কুরআনের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পাওয়া সহজ নয় যা তাঁর শিক্ষার সাথে সরাসরি একমত পোষণ করে অথবা তাঁর তত্ত্বের সাথে স্পষ্টভাবে সংগতিপূর্ণ হয়। এমতাবস্থায় তিনি কুরআনকে জোরপূর্বক তাঁর নিজের বক্তব্যের অনুগামী করার অপচেষ্টা করেন এবং এর ফলে তিনি পরিশেষে...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
إلى تعسف في فهم النص القرآني فهما يخرجه عن ظاهره الذي يؤيده الشرع وتشهد له اللغة!!.
...কুরআনিক নস (نص) অনুধাবনের ক্ষেত্রে এমন এক জবরদস্তিমূলক ব্যাখ্যার দিকে যা একে তার সেই বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে বিচ্যুত করে দেয়, যা শরিয়াহ সমর্থিত এবং ভাষা যার সাক্ষ্য প্রদান করে!!
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
ابن عربي والتفسير النظري الفلسفي:ونستطيع أن نعتبر محي الدين بن عربي شيخ هذه الطريقة في التفسير، إذ أنه أظهر من خب فيها ووضع، وأكثر أصحابه معالجة لتفسير القرآن على طريقة التصوف النظري.
وفي الكتب المنسوبة لابن عربي على اختلافها وكثرتها نراه يطبق
كثيرا من الآيات القرآنية على مفاهيم فلسفية.
فمثلا: يفسر بعض الآيات بما يتفق والنظريات الفلسفية الكونية، فعند تفسيره لقوله تعالى في الآية (50) من سورة مريم في شأن إدريس عليه السلام {وَرَفَعْنَاهُ مَكَاناً عَلِيّاً} ويقول ما نصه:
"وأعلى الأمكنة المكان الذي تدور عليه رحى عالم الأفلاك، وهو فلك الشمس، وفيه مقام روحانية إدريس وتحته سبعة أفلاك، وفوقه سبعة أفلاك، وهو الخامس عشر.. ثم ذكر الأفلاك التي تحته والتي فوقه، ثم قال: "وأما علو المكانة فهولنا أعني المحمديين، كما قال تعالى: {وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ وَاللَّهُ مَعَكُمْ} في هذا العلو، وهو يتعالى عن المكان لا عن المكانة1.
وعند تفسيره لقوله تعالى في الآيتين (19، 20) من سورة الرحمن: {مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ. بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لا يَبْغِيَانِ} يقول ما نصه:
--------------------------------------------
ইবনে আরাবি এবং তাত্ত্বিক দার্শনিক তাফসির:আমরা মহিউদ্দিন ইবনে আরাবিকে তাফসিরের এই পদ্ধতির শায়খ (شيخ) হিসেবে গণ্য করতে পারি; কারণ তিনিই ছিলেন এই পথের সবচেয়ে প্রথিতযশা অনুসারী ও প্রবর্তক এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যেই তাত্ত্বিক সুফিবাদ (التصوف النظري) এর পদ্ধতিতে কুরআনের তাফসির করার প্রবণতা সর্বাধিক লক্ষ্য করা যায়।
ইবনে আরাবির প্রতি সম্বন্ধিত (المنسوبة) বিভিন্ন ও অসংখ্য গ্রন্থে আমরা তাঁকে প্রয়োগ করতে দেখি
কুরআনের অনেক আয়াতকে দার্শনিক ধারণাসমূহের ওপর।
উদাহরণস্বরূপ: তিনি কিছু আয়াতকে মহাজাগতিক দার্শনিক মতবাদসমূহের সাথে সংগতি রেখে ব্যাখ্যা করেন। সূরা মারইয়ামের ৫০ নম্বর আয়াতে ইদরিস (আলাইহিস সালাম) এর প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী "আর আমি তাকে উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছি" এর তাফসিরকালে তিনি হুবহু যা বলেছেন তা হলো:
"আর স্থানসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান হলো সেটি যার ওপর মহাজাগতিক কক্ষপথসমূহের (الأفلاك) আবর্ত আবর্তিত হয়, আর তা হলো সূর্যের কক্ষপথ (فلك الشمس)। সেখানেই ইদরিসের আধ্যাত্মিক মাকাম অবস্থিত। এর নিচে সাতটি কক্ষপথ এবং উপরে সাতটি কক্ষপথ রয়েছে এবং এটি হলো পঞ্চদশ... এরপর তিনি তাঁর নিম্নস্থ ও ঊর্ধ্বস্থ কক্ষপথসমূহ (الأفلاك) উল্লেখ করেন এবং বলেন: 'আর মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্বের (علو المكانة) বিষয়টি আমাদের জন্য অর্থাৎ মুহাম্মাদিদের (المحمديين) জন্য নির্ধারিত। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন" - এই শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে। আর তিনি স্থানের (مكان) ঊর্ধ্বে, মর্যাদার (مكانة) ঊর্ধ্বে নন।"১
এবং সূরা আর-রহমানের ১৯ ও ২০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী "তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়। তাদের উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরায় (برزخ), যা তারা অতিক্রম করে না" এর তাফসিরে তিনি হুবহু যা বলেন তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
"مرج البحرين " بحر الهيولى الجسمانية الذي هو الملح الأجاج، وبحر الروح المجرد الذي هو العذب الفرات "يلتقيان" في الوجود الإنساني، "بينهما برزخ " هو النفس الحيوانية التي ليست في صفاء الروح المجردة ولطافتها، ولا في كثرة الأجساد الهيولانية وكثافتها "لايبغيان" لا يتجاوز أحدهما حده فيغلب على الآخر بخاصيته، فلا الروح يجرد البدن ويخرج به ويجعله من جنسه، ولا البدن يجسد الروح ويجعله ماديا.. سبحان خالق الخلق القادر على ما يشاء"1.
كذلك نرى ابن عربي يتأثر في تفسيره للقرآن الكريم بنظرية
وحدة الوجود التي هي أهم النظريات التي بنى عليها تصوفه، فتراه في كثير من الأحيان يشرح الآيات على وفق هذه النظرية حتى أنه ليخرج بالآية عن مدلولها الذي أراده الله تعالى منها!!.
فمثلا: عندما تعرض لقوله تعالى في أول سورة النساء {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ..} الآية، يقول ما نصه: "اتقوا ربكم" اجعلوا ما ظهر منكم وقاية لربكم، واجعلوا ما بطن منكم- وهو ربكم- وقاية لكم، فإن الأمر ذم وحمد فكونوا وقايته في الذم، واجعلوه وقايتكم في الحمد تكونوا أدباء عالمين"2.
وعند تفسيره لقوله تعالى في الآيتين (29، 30) من سورة الفجر: {فَادْخُلِي فِي عِبَادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي} يقول ما نصه:
"
… وادخلي جنتي التي هي ستري، وليست جنتي سواك، فأنت تسترني بذاتك الإنسانية، فلا أعرف إلا بك، كما أنك لا تكون
--------------------------------------------
"তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন" (مرج البحرين) যা হলো দৈহিক মূলপদার্থের সমুদ্র যা অতিশয় লবণাক্ত এবং বিমূর্ত রূহের সমুদ্র যা সুপেয় ও মিষ্টি; তারা মানব অস্তিত্বে "পরস্পর মিলিত হয়" (يلتقيان)। "উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল (برزخ)" যা হলো সেই পাশবিক নফস (النفس الحيوانية) যা না বিমূর্ত রূহের স্বচ্ছতা ও সূক্ষ্মতা সম্পন্ন, আর না স্থূল বস্তুপদার্থের আধিক্য ও ঘনত্বের অন্তর্ভুক্ত। "তারা একে অপরকে অতিক্রম করে না" (لا يبغيان); অর্থাৎ তাদের কেউই নিজ সীমা লঙ্ঘন করে নিজ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অপরের ওপর প্রবল হয় না। ফলে রূহ দেহকে বিমূর্ত করে তাকে নিজ শ্রেণিভুক্ত করে না, আবার দেহও রূহের অবয়ব তৈরি করে তাকে জাগতিক বস্তুতে পরিণত করে না... পবিত্র সেই সৃষ্টির স্রষ্টা, যিনি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম।১
একইভাবে আমরা দেখি যে, ইবনে আরবি আল-কুরআনুল কারীমের তাফসিরের ক্ষেত্রে অস্তিত্বের একত্ববাদ (وحدة الوجود)-এর তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত, যা তার তাসাউফ (تصوف)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্বরূপ প্রধানতম তত্ত্ব। তাকে প্রায়শই দেখা যায় যে, তিনি আয়াতসমূহকে এই তত্ত্ব অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেন, এমনকি তিনি আয়াতকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক উদ্দেশ্যকৃত মূল অর্থ থেকে দূরে সরিয়ে নেন!!
উদাহরণস্বরূপ: যখন তিনি সূরা আন-নিসার প্রথম দিকের মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন...} আয়াতটির সম্মুখীন হন, তখন তিনি যা বলেন তার সারমর্ম হলো: "তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো" অর্থাৎ তোমাদের প্রকাশ্য রূপকে তোমাদের প্রতিপালকের জন্য ঢাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং তোমাদের অভ্যন্তরীণ সত্তাকে—যা তোমাদের প্রতিপালক—তোমাদের জন্য ঢাল হিসেবে গ্রহণ করো। কেননা বিষয়টি হলো প্রশংসা ও নিন্দার; সুতরাং নিন্দার ক্ষেত্রে তোমরা তাঁর ঢাল হও, আর প্রশংসার ক্ষেত্রে তাঁকে তোমাদের ঢাল করো; তবেই তোমরা প্রাজ্ঞ আদব রক্ষাশীল হতে পারবে।২
এবং সূরা আল-ফাজরের ২৯ ও ৩০ নম্বর আয়াতের মহান আল্লাহর বাণীর তাফসিরকালে: {অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো}, তিনি বলেন:
"
… এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো যা আমার আবরণ, আর তুমি ব্যতীত আমার কোনো জান্নাত নেই; কেননা তুমি তোমার মানবীয় সত্তা দ্বারা আমাকে আবৃত করো, ফলে তোমাকে ছাড়া আমি পরিচিত হই না, যেমনটি তুমিও হতে পারো না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
إلا بي، فإن عرفك عرفني، وأنا لا أعرف فأنت لا تعرف، فإذا دخلت جنته دخلت نفسك فتعرف نفسك معرفة أخرى غزير المعرفة التي عرضا حين عرفت ربك بمعرفتك إياها، فتكون صاحب معرفتين معرفة به من حيث أنت، ومعرفة به بك من حيث هو لا من حيث أنت، فأنت عبد رأيت ربا، وأنت رب لمن فيه أنت عبد، وأنت رب وأنت عبد لمن له في الخطاب عهد"1.
--------------------------------------------
"কেবল আমার মাধ্যমেই; কেননা তিনি যদি তোমাকে চিনে থাকেন তবে তিনি আমাকেও চিনেছেন। আর আমি যেহেতু পরিচিত নই, তাই তুমিও পরিচিত নও। অতঃপর যখন তুমি তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তুমি নিজের সত্তাতেই প্রবেশ করবে। তখন তুমি নিজেকে ভিন্ন এক মারেফাত (معرفة) বা পরিচিতির মাধ্যমে চিনতে পারবে, যা সেই সুগভীর মারেফাত (معرفة) বা জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যা তোমার রব্বকে তাঁর সম্পর্কে তোমার পরিচয়ের মাধ্যমে জানার সময় উপস্থাপিত হয়েছিল। এমতাবস্থায় তুমি দ্বিমুখী মারেফাত (معرفة) বা জ্ঞানের অধিকারী হবে: একটি তোমার প্রেক্ষিত থেকে তাঁর মারেফাত (معرفة), আর অন্যটি তাঁর মাধ্যমে তাঁরই মারেফাত (معرفة) যা তাঁর সত্তাগত দিক থেকে, তোমার প্রেক্ষিত থেকে নয়। সুতরাং তুমি এমন এক বান্দা যে একজন রব্বকে প্রত্যক্ষ করেছ, আবার তুমি তার জন্য রব্ব যার মধ্যে তুমি বান্দা হিসেবে বিদ্যমান। আর তুমি রব্ব এবং তুমিই বান্দা তার জন্য যার সাথে সম্বোধনের মাধ্যমে অঙ্গীকার রয়েছে।"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
كلمة الحق في التفسير النظري الفلسفي:بعد هذه الأمثلة التي سقناها، نستطيع أن نقرر في صراحة واطمئنان. أن التفسير الصوفي النظري تفسير يخرج بالقرآن عن هدفه الذي يرمى إليه: يقصد القرآن هدفا معينا بنصوصه وآياته، ويقصد الصوفي هدفا آخر معينا بأبحاثه ونظرياته، وقد يكون بين الهدفين تنافر وتضاد، فيأبى الصوفي إلا أن يحول القرآن عن هدفه ومقصده إلى ما يقصده هو ويرمى إليه، وغرضه بهذا كله: أن يروج لتصوفه على حساب القرآن الكريم، وأن يقيم أبحاثه ونظرياته على أساس من كتاب الله، وبهذا الصنيع يكون الصوفي قد خدم فلسفته الصوفية ولم يعمل للقرآن شيئا، اللهم إلا هذا التأويل الذي كله شر على الدين، وإلحاد نص آيات الله!!.
رأينا ابن عربي يميل ببعض الآيات إلى مذهبه القائل بوحدة الوجود، ووحدة الوجود- عنده وعند من يقول بها- معناها: أنه ليس هناك إلا وجود واحد، كل العالم مظاهر ومجال له، فالله- سبحانه- هو الموجود الحق، وكل ما عداه ظواهر وأوهام، ولا توصف بالوجود إلا بضرب من التوسع والمجاز. وهذه النظرية سرت إلى بعض المتصوفة عن
তাত্ত্বিক দার্শনিক তাফসির (التفسير النظري الفلسفي) প্রসঙ্গে ধ্রুব সত্য:আমাদের উপস্থাপিত এই উদাহরণগুলোর পর আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং নিশ্চিন্তে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে, তাত্ত্বিক সুফি তাফসির (التفسير الصوفي النظري) এমন একটি তাফসির যা কুরআনকে তার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে। কুরআন তার পাঠ্য ও আয়াতসমূহ দ্বারা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আর সুফি তার গবেষণা ও তত্ত্বের মাধ্যমে অন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেন। অনেক ক্ষেত্রে এই দুই লক্ষ্যের মাঝে বৈরিতা ও বৈপরীত্য থাকতে পারে, কিন্তু সুফি কুরআনকে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে স্বীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত করতে বদ্ধপরিকর থাকেন। এই সবকিছুর মূলে তার উদ্দেশ্য হলো: পবিত্র কুরআনের বিনিময়ে নিজের সুফি মতবাদকে জনপ্রিয় করা এবং আল্লাহর কিতাবের ভিত্তির ওপর নিজের গবেষণা ও তত্ত্বগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করা। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুফি মূলত তার সুফি দর্শনেরই সেবা করেছেন এবং কুরআনের জন্য কিছুই করেননি; বরং এমন এক অপব্যাখ্যা (التأويل) করেছেন যা দ্বীনের জন্য চরম অকল্যাণকর এবং আল্লাহর আয়াতের মর্মার্থের ক্ষেত্রে এক প্রকার ধর্মদ্রোহিতা (إلحاد)!!
আমরা দেখেছি যে, ইবন আরাবি কিছু আয়াতকে তার অস্তিত্বের এককত্ব (وحدة الوجود) মতবাদের দিকে ধাবিত করেছেন। তার এবং এই মতাবলম্বীদের নিকট অস্তিত্বের এককত্ব (وحدة الوجود)-এর অর্থ হলো: অস্তিত্ব কেবল একটিই, সমগ্র বিশ্বজগত তারই প্রকাশস্থল ও ক্ষেত্র মাত্র। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা-ই হলেন পরম সত্য অস্তিত্ব (الموجود الحق), আর তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুই স্রেফ বাহ্যিক রূপ ও অলীক কল্পনা মাত্র, যা রূপক বা ব্যাপ্তির অর্থ ছাড়া অন্য কোনোভাবে অস্তিত্বের বিশেষণে বিশেষিত হতে পারে না। এই মতবাদটি কিছু সুফীদের মাঝে সংক্রমিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
طريق الفلاسفة، وعن طريق الإسماعيلية الباطنية الذين خالطوهم وأخذوا عنهم مذهبهم القائل بحلول الإله في أئمتهم، وصوروه- أعني الصوفية، بصورة أخرى تتفق مع مذهب الباطنية في الحقيقة، وإن اختلفت في الاصطلاح والألفاظ...."1.
هذا المذهب الذي، خول لمثل الحلاج أن يقول: أنا الله ولمثل ابن عربي أن يقول: إن عجل بنى إسرائيل أحد المظاهر التي اتخذها الله وحل فيها، والذي جرّه فيما بعد إلى القول بوحدة الأديان لا فرق بين سماوي وغير سماوي، إذ الكل يعبدون الإله الواحد المتجلي في صورهم وصور جميع المعبودات.. هذا المذهب الذي يذهب بالدين من أساسه، هل يكون سائغا ومقبولا أن نجعله أصلا نبنى عليه أفهامنا لآيات القرآن الكريم؟.
وهل يليق بهذا الصوفي الذي وضعه مريدوه في القمة أن يتأثر بمذهبه في وحدة الوجود فيقول في شرحه لقوله تعالى في الآية (23) من سورة الإسراء: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ} ما نصه:".. فعلماء الرسوم يحملون لفظ قضى على الأمر ونحن نحمله على الحكم كشفا، وهو الصحيح، فإنهم اعترفوا أنهم ما يعبدون هذه الأشياء إلا لتقربهم إلى الله زلفى، فأنزلهم منزلة النواب الظاهرة بصورة من استنابهم وما ثم صورة إلا الألوهية فنسبوها إليهم، ولهذا يقضي الحق حوائجهم إذا توسلوا بها إليه غيرة منه على المقام أن يهتضم وإن أخطئوا في النسبة فما أخطئوا في المقام، ولهذا قال: "إن هي إلا أسماء
--------------------------------------------
দার্শনিকদের পথ এবং বাতেনী ইসমাঈলীদের পথ ধরে, যারা তাদের সাথে মেলামেশা করেছিল এবং তাদের নিকট থেকে সেই মতবাদ গ্রহণ করেছিল যা তাদের ইমামদের মাঝে ইলাহের অনুপ্রবিষ্ট হওয়া (حلول) সমর্থন করে। সুফীরা—অর্থাৎ সুফীগণ—একে অন্য এক রূপে চিত্রায়িত করেছেন যা হাকিকত বা বাস্তবতার বিচারে বাতেনী মতবাদের সাথে সংগতিপূর্ণ, যদিও তা পরিভাষা (اصطلاح) ও শব্দচয়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন..."১।
এই মতবাদটিই হাল্লাজের মতো ব্যক্তিকে এ কথা বলার ধৃষ্টতা দিয়েছে যে: 'আমিই আল্লাহ'; এবং ইবনে আরাবীর মতো ব্যক্তিকে এ কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে যে: 'বনী ইসরাঈলের গোবৎস হলো আল্লাহর গ্রহণ করা বিভিন্ন প্রকাশস্থলের একটি এবং তিনি তাতে অনুপ্রবিষ্ট (حلول) হয়েছেন'। যা তাকে পরবর্তীতে সকল ধর্মের অভিন্নতা বা সর্বধর্মীয় একত্ববাদের (وحدة الأديان) প্রবক্তা হওয়ার দিকে টেনে নিয়েছে—যেখানে আসমানী এবং অ-আসমানী ধর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা সবাই সেই এক ইলাহেরই ইবাদত করছে যিনি তাদের অবয়বে এবং সমস্ত উপাস্যের অবয়বে প্রকাশিত। এই মতবাদ যা দ্বীনকে তার মূল ভিত্তি থেকে উপড়ে ফেলে, তাকে কি কুরআনের আয়াতের মর্ম অনুধাবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
আর এই সুফী—যাকে তার মুরিদগণ সর্বোচ্চ শিখরে স্থান দিয়েছে—তার জন্য কি এটি শোভনীয় যে তিনি তাঁর অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ (وحدة الوجود) মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হবেন? তিনি সূরা আল-ইসরা-এর ২৩ নম্বর আয়াতের আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যায়: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ} (আর আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না), এর বক্তব্যে যা বলেছেন তার পাঠ হলো: "...বাহ্যিক শাস্ত্রের আলিমগণ (علماء الرسوم) 'কাদা' (قضى) শব্দটিকে 'আদেশ' (أمر) অর্থে গ্রহণ করেন, কিন্তু আমরা একে আধ্যাত্মিক উন্মোচন (كشف) হিসেবে 'ফয়সালা' বা 'বিধান' (حكم) অর্থে গ্রহণ করি, আর এটাই সঠিক বা বিশুদ্ধ (صحيح)। কেননা তারা (মূর্তিপূজকরা) স্বীকার করেছে যে, তারা এই বস্তুগুলোর ইবাদত কেবল আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্যই করে। ফলে তিনি তাদের সেই প্রকাশ্য প্রতিনিধিদের মর্যাদায় নামিয়েছেন যারা তাদের নিয়োগকর্তার রূপ ধারণ করে। সেখানে উলুহিয়্যাত (الألوهية) বা উপাস্যত্ব ছাড়া অন্য কোনো রূপ নেই, ফলে তারা একে তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছে। এই কারণেই যখন তারা এগুলোর মাধ্যমে তাঁর নিকট মাধ্যম (توسلوا) অন্বেষণ করে তখন সত্য (আল্লাহ) তাদের প্রয়োজন পূরণ করেন; এটি তাঁর পক্ষ থেকে এই মাকাম বা মর্যাদার প্রতি আত্মমর্যাদাবোধের (غيرة) কারণে যেন তা ক্ষুণ্ণ না হয়, যদিও তারা সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছে, তবে তারা মাকাম বা মর্যাদার ক্ষেত্রে ভুল করেনি। এই কারণেই তিনি বলেছেন: 'এগুলো তো কেবল কতগুলো নাম'..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
سميتموها" أي أنتم قلتم عنها آلهة.. وإلا فسموهم فلو سموهم لقالوا: هذا حجر، أو شجر، أو ما كان فتتميز عندهم بالاسمية، إذ ما كل حجر عبد ولا اتخذ إلها ولا كل شجر ولا كل جسم منير، ولا كل حيوان، فلله الحجة البالغة عليهم بقوله: "قل سموهم"1.
وأصرح من هذا أنه لما عرض لقوله تعالى في الآية (163) من سورة البقرة: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِد} قال ما نصه.
".. إن الله تعالى خاطب في هذه الآية المسلمين والذين عبدوا غير الله قربة إلى الله فما عبدوا إلا الله، فلما قالوا: ما نعبدهم إلا ليقربونا إلى الله زلفى فأكدوا ذكر العلة، فقال الله لنا: إن إلهكم والإله الذي يطلب المشرك القربة إليه بعبادة هذا الذي أشرك به واحد، كأنكم ما اختلفتم في أحديته.. فقال: وإلهكم، فجمعنا وإياهم إله واحد، فما أشركوا إلا بسببه فيما أعطاهم نظرهم، ومن قصد عن أجل أمر فذلك الأمر على الحقيقة هو المقصود لا من ظهر أنه قصد، كما يقال: من صحبك لأمر، أو حبك لأمر ولى بانقضائه، ولهذا ذكر الله: أنهم يتبرءون منهم يوم القيامة وما أخذوا إلا من كونهم فعلوا ذلك من نفوسهم، لا أنهم جهلوا قدر الله في ذلك، ألا ترى الحق لما علم هذا منهم كيف قال: وإلهكم إله واحد؟ ونبههم فقال: "قل سموهم" فيذكرونهم بأسمائهم المخالفة أسماء الله، ثم وصفهم بأنهم في شركهم قد ضلوا ضلالا بعيدا أو مبينا، لأنهم أوقعوا أنفسهم في الحيرة، لكونهم عبدوا ما نحتوا بأيدهم وعلموا أنه لا يسمع ولا يبصرو لا يغنى عنهم من الله شيئا".
ويستطرد ابن عربي في الحديث إلى أن يقول: "فإذا علمت هذا وتقرر لديك، علمت أن الله إله واحد في كل شرع عينا، وكثير صورة
--------------------------------------------
"তোমরা এদের নামকরণ করেছ" অর্থাৎ তোমরা এদের উপাস্য বলে অভিহিত করেছ... অন্যথায় তোমরা তাদের নাম বলো। যদি তারা তাদের নাম বলত, তবে তারা বলত: এটি পাথর, বা বৃক্ষ, অথবা যা কিছু ছিল; ফলে নামকরণের মাধ্যমে তাদের নিকট এগুলো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত হতো। কারণ প্রতিটি পাথর তো উপাসনা করা হয় না বা উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না, আর না প্রতিটি বৃক্ষ, না প্রতিটি উজ্জ্বল বস্তু, আর না প্রতিটি প্রাণী। সুতরাং আল্লাহর বাণী: "বলো, তোমরা তাদের নাম বলো" এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।১
এর চেয়েও স্পষ্টতর হলো, যখন তিনি সূরা আল-বাকারার ১৬৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ} প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন, তখন তিনি যা বলেন তার পাঠ হলো এটি।
"...নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই আয়াতে মুসলিমদের এবং যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করত তাদের সম্বোধন করেছেন; মূলত তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করেনি। যখন তারা বলেছিল: 'আমরা তাদের ইবাদত করি না তবে তারা যেন আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী করে দেয়', তখন তারা এই উপাসনার কারণটিকে জোরালোভাবে উল্লেখ করল। অতঃপর আল্লাহ আমাদের বললেন: তোমাদের ইলাহ এবং মুশরিক যার ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করে—উভয় ইলাহ তো এক ও অভিন্ন। যেন তোমরা তাঁর একত্বের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত পোষণ করোনি। তাই তিনি বললেন: 'আর তোমাদের ইলাহ', এভাবে এক ইলাহ আমাদের এবং তাদেরকে একত্রিত করেছেন। তাদের বিচারবুদ্ধি তাদের যা প্রদান করেছিল, কেবল সেই কারণেই তারা শিরক করেছে। আর কেউ যখন কোনো বিষয়ের উদ্দেশ্যে কোনো লক্ষ্য স্থির করে, তখন প্রকৃতপক্ষে সেই উদ্দেশ্যটিই প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু হয়, যা বাহ্যত লক্ষ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয় তা নয়। যেমন বলা হয়: যে ব্যক্তি কোনো পার্থিব স্বার্থে তোমার সঙ্গ দেয় বা কোনো উদ্দেশ্যে তোমাকে ভালোবাসে, উদ্দেশ্য শেষ হয়ে গেলে সে চলে যায়। এই কারণেই আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, কিয়ামতের দিন তারা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। আর তারা কেবল এ কারণেই পাকড়াও হয়েছে যে, তারা এটি নিজ প্রবৃত্তির তাড়নায় করেছে, এমন নয় যে তারা এ বিষয়ে আল্লাহর মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। তুমি কি দেখনি যে সত্য (আল্লাহ), যখন তাদের থেকে এটি অবগত হলেন, তখন কীভাবে বললেন: 'আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ'? এবং তিনি তাদের সতর্ক করে বললেন: 'বলো, তোমরা তাদের নাম বলো', তখন তারা তাদের এমন সব নামে স্মরণ করবে যা আল্লাহর নামের বিপরীত। অতঃপর তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন যে, তারা তাদের শিরকের কারণে সুদূরপ্রসারী বা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে। কারণ তারা নিজেদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মধ্যে নিপতিত করেছে, যেহেতু তারা তাদের নিজ হাতে খোদাই করা মূর্তির পূজা করত অথচ তারা জানত যে সেগুলো শোনে না, দেখে না এবং আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদের বিন্দুমাত্র বাঁচাতে পারবে না।"
ইবনে আরাবি আলোচনায় আরও অগ্রসর হয়ে বলেন: "যখন তুমি এটি জানতে পারলে এবং তোমার নিকট বিষয়টি সুনিশ্চিত হলো, তখন তুমি জানতে পারলে যে আল্লাহ প্রতিটি শরিয়তেই সত্তাগতভাবে এক ইলাহ, তবে রূপ বা আকৃতির দিক থেকে বহুমুখী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكونا، فإن الأدلة العقلية تكثره باختلافها فيه، وكلها حق، ومدلولها صدق، والتجلي في الصور كثرة أيضا لاختلافها، والعين واحدة، فإذا كان الأمر هكذا فما تصنع؟ أو كيف يصح لي أن أخطيء قائلا؟.. الخ"1.
وبعد: فالذي أدين الله عليه أن مثل هذا التفسير الذي أخضعه ابن عربي وغيره إلى نظرية وحدة الوجود أو إلى المفاهيم الفلسفية الغامضة، مرفوض بالكلية، لأنه خروج بالنص العربي عن مدلوله، ولا يعرف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من صحابته أو تابعيهم: أنه نحى مثل هذا المنحى العجيب في التفسير، وكتاب الله أعلى وأجل من أن تلصق به هذه الأفهام الضالة المضلة. "ومن يضلل الله فما له من هادى".
--------------------------------------------
...এবং অস্তিত্ববান হওয়া; কেননা যৌক্তিক প্রমাণসমূহ এদের ভিন্নতার কারণে একে বহুত্ব প্রদান করে, যার প্রতিটিই সত্য এবং এদের প্রতিপাদ্য বিষয় যথার্থ। রূপের মাঝে প্রকাশও বৈচিত্র্যের কারণে বহুবিধ, অথচ মূল সত্তা এক। বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আপনি কী করবেন? অথবা কোনো বক্তাকে ভুল বলা আমার জন্য কীভাবে সঠিক হতে পারে? ... ইত্যাদি।"১।
অতঃপর: আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আমি যে বিশ্বাস পোষণ করি তা হলো— ইবনে আরবি ও অন্যান্যরা এই ধরনের যে তাফসিরকে 'অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ' তত্ত্ব বা অস্পষ্ট দার্শনিক ধারণার বশীভূত করেছেন, তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত (مرفوض)। কারণ এটি আরবি পাঠকে তার মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত করা। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিংবা তাঁর কোনো সহচর (صحابة) অথবা তাঁদের অনুসারী (تابعين)-দের সম্পর্কে এমনটি জানা যায় না যে, তাঁরা তাফসিরের ক্ষেত্রে এমন অদ্ভুত পথ অনুসরণ করেছেন। আল্লাহর কিতাব এই ধরনের বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট উপলব্ধিগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও মহান। "আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
التفسير الصوفي الفيضي أو الإشاري:وأما التفسير الصوفي الفيضي أو الإشاري: فهو تأويل آيات القرآن الكريم على خلاف ما يظهر منها، بمقتضى إشارات خفية تظهر لأرباب السلوك، ويمكن التطبيق بينها وبين الظواهر المرادة من الآيات.
الفرق بين التفسير النظري والتفسير الإشاري:
على ضوء ما تقدم نستطيع القول بأن الفرق بين التفسير النظري والتفسير الإشاري من وجهين:
أولا: أن التفسير الصوفي النظري، ينبني على مقدمات علمية تنقدح في ذهن الصوفي أولا، ثم ينزل القرآن عليها بعد ذلك.
সুফি ফয়জি অথবা ইশারি তাফসির (التفسير الإشاري):আর সুফি ফয়জি অথবা ইশারি তাফসির (التفسير الإشاري) হলো: পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে এমন কিছু নিগূঢ় সংকেতের নিরিখে ব্যাখ্যা (تأويل) করা, যা আধ্যাত্মিক সাধকদের নিকট উন্মোচিত হয় এবং যার সাথে আয়াতসমূহের উদ্দিষ্ট বাহ্যিক অর্থের সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়।
তাত্ত্বিক তাফসির (التفسير النظري) ও ইশারি তাফসিরের (التفسير الإشاري) মধ্যে পার্থক্য:
পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, তাত্ত্বিক তাফসির (التفسير النظري) ও ইশারি তাফসিরের (التفسير الإشاري) মধ্যে পার্থক্য দুটি দিক থেকে স্পষ্ট হয়:
প্রথমত: তাত্ত্বিক সুফি তাফসির এমন কিছু তাত্ত্বিক পূর্বসিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে যা প্রথমে সুফির মনে উদিত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি পবিত্র কুরআনকে সেগুলোর ওপর প্রয়োগ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أما التفسير الإشاري، فلا يرتكز على مقدمات علمية، بل يرتكز على رياضة روحية يأخذ بها الصوفي نفسه حتى يصل إلى درجة تنكشف له فيها من سخف العبارات هذه الإشارات القدسية، وتنهل على قلبه من سحب الغيب ما تحمله الآيات من المعارف السبحانية.
ثانيا: أن التفسير الصوفي النظري، يرى صاحبه أنه كل ما تحمله الآية من المعاني، وليس وراءه معنى آخر يمكن أن تحمل الآية عليه.. هذا بحسب طاقته طبعا.
أما التفسير الإشاري، فلا يرى الصوفي أنه كل ما يراد من الآية بل يرى أن هناك معنى آخر تحتمله الآية ويراد منها أولا وقبل كل شيء: ذلك هو المعنى الظاهر الذي ينساق إليه الذهن قبل غيره.
شرعية التفسير الإشاري:
ولسنا ننكر أن للتفسير الإشاري سندا شرعيا، ولا ندعى أنه حدث في الدين ابتدعه المتصوفة في تفسير القرآن الكريم فقد أشار إليه القرآن الكريم بقوله: {.. فَمَالِ هَؤُلاءِ الْقَوْمِ لا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثاً} النساء82، وقوله: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} محمد 24 وبيان ذلك- كما يقرره الشاطبي في الموافقات- 2 ص 382،383-: "أن القرآن له ظهر وبطن، فحيث ينعى القرآن على الكفار أنهم لا يكادون يفقهون حديثا يحضهم على التدبر في آياته، لا يريد بذلك أنهم لا يفهمون نفس الكلام أو حضهم على فهم ظاهره، لأن القوم عرب والقرآن لم يخرج عن لغتهم فهم يفهمون ظاهره ولاشك، وإنما أراد بذلك: أنهم لا يفهمون عن الله مراده من الخطاب، وحضهم على أن يتدبروا في آياته حتى يقفوا على مقصود الله ومراده، وذلك هو الباطن الذي جهلوه ولم يصلوا إليه بعقولهم.
পক্ষান্তরে ইঙ্গিতবাহী ব্যাখ্যা (التفسير الإشاري), কোনো বৈজ্ঞানিক ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিক সাধনার ওপর ভিত্তি করে যা সুফি নিজে অবলম্বন করেন, যাতে করে তাঁর সামনে শাব্দিক আড়ালের মধ্য থেকে এই পবিত্র ইঙ্গিতসমূহ উন্মোচিত হয় এবং অদৃশ্যের মেঘমালা থেকে সেই ঐশী জ্ঞান তাঁর হৃদয়ে বর্ষিত হয় যা আয়াতসমূহ ধারণ করে।
দ্বিতীয়ত: তাত্ত্বিক সুফি ব্যাখ্যার (التفسير الصوفي النظري) ক্ষেত্রে এর প্রবক্তা মনে করেন যে, একটি আয়াত যেসব অর্থ ধারণ করে এটিই তার সবকিছু এবং এর বাইরে অন্য কোনো অর্থ নেই যার ওপর আয়াতটিকে প্রয়োগ করা সম্ভব—অবশ্যই এটি তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী।
পক্ষান্তরে ইঙ্গিতবাহী ব্যাখ্যার (التفسير الإشاري) ক্ষেত্রে সুফি মনে করেন না যে, আয়াত থেকে যা উদ্দেশ্য এটিই তার সবকিছু; বরং তিনি মনে করেন যে আয়াতের অধীনে অন্য একটি অর্থও রয়েছে যা সর্বাগ্রে এবং প্রধানত উদ্দেশ্য: আর তা হলো প্রকাশ্য (الظاهر) অর্থ যার দিকে অন্য সবকিছুর আগে মস্তিস্ক ধাবিত হয়।
ইঙ্গিতবাহী ব্যাখ্যার (التفسير الإشاري) শরয়ি বৈধতা:
আমরা অস্বীকার করি না যে ইঙ্গিতবাহী ব্যাখ্যার (التفسير الإشاري) একটি শরয়ি ভিত্তি (سند شرعي) রয়েছে, আর আমরা এটিও দাবি করি না যে এটি দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো উদ্ভাবন যা সুফিগণ পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যায় তৈরি করেছেন। বরং পবিত্র কুরআন নিজেই এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "...তবে এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?" (আন-নিসা: ৭৮), এবং তাঁর বাণী: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো রয়েছে?" (মুহাম্মদ: ২৪)। এর বর্ণনা—যেমনটি ইমাম শাতিবি আল-মুওয়াফাকাত গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৩৮২-৩৮৩ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন—হলো: "নিশ্চয়ই কুরআনের একটি প্রকাশ্য (ظهر) এবং একটি অন্তর্নিহিত (بطن) দিক রয়েছে। যেখানে কুরআন কাফেরদের নিন্দা করে বলেছে যে তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না এবং তাদের আয়াতের গভীর চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছে, সেখানে তিনি এটি বুঝাতে চাননি যে তারা স্বয়ং কথাটি বুঝত না কিংবা তাদের কেবল প্রকাশ্য (ظاهر) দিকটি বোঝার তাগিদ দেননি; কারণ তারা ছিল আরব এবং কুরআন তাদের ভাষার বাইরে ছিল না, ফলে তারা এর প্রকাশ্য অর্থ নিঃসন্দেহে বুঝত। বরং তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন: তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্বোধনের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি। আর তিনি তাদের আয়াতের গভীর চিন্তা করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা আল্লাহর মাকসুদ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে, আর সেটিই হলো সেই অন্তর্নিহিত (الباطن) বিষয় যা তারা জানত না এবং তাদের বিবেকের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।"
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ويقرر الإمام السيوطي وغيره: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نبه على التفسير الإشاري بقوله في الحديث الذي رواه الغربابي عن الحسن مرسلا "لكل آية ظهر وبطن، ولكل حرف حد، ولكل حد مطلع " وقد فسر الحديث بتفسيرات عدة، ولم أقف له على أصل صحيح يعتد به فلعل المعنى القريب للحديث ما حكاه ابن النقيب: من أن ظهرها: ما ظهر من معانيه لأهل العلم بالظاهر وبطنها: ما تضمنته من الأسرار التي يطلع الله عليها أرباب الحقائق.
وأقول: أن بعض الصحابة كانت لهم في القرآن أفهام فوق ظاهر النص، هي في الواقع إشارات قد لا يفهما الكثير منهم، فمن ذلك مثلا:
ما رواه البخاري عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "كان عمر يدخلني مع أشياخ بدر، فكأن بعضهم وجد في نفسه فقال: لم تدخل هذا معنا ولنا أبناء مثله؟ فقال عمر: أنه من حيث علمتم، فدعاه ذات يوم فأدخله معهم فما رأيت أنه دعاني يومئذ إلا ليريهم، قال: ماتقولون في قوله تعالى: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} فقال بعضهم: أمرنا أن نحمد الله ونستغفره إذا نصرنا وفتح علينا، وسكت بعضهم فلم يقل شيئا، فقال لي: أكذاك تقول يا ابن عباس؟ فقلت: لا، قال: فما تقول؟ قلت: هو أجل رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلمه الله له: قال إذا جاء نصر الله والفتح، فذلك علامة أجلك فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا، فقال عمر: ما أعلم منها إلا ما تقول"1.
فبعض الصحابة لم يفهم من السورة أكثر من معناها الظاهر، أما
--------------------------------------------
ইমাম সুয়ুতী এবং অন্যান্যগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর একটি বাণীর মাধ্যমে ইশারি তাফসিরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা আল-গুরবাবি হাসান (আল-বাসরি) থেকে মুরসাল (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "প্রতিটি আয়াতের একটি বাহ্যিক ও একটি অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে এবং প্রতিটি অক্ষরের একটি সীমা ও প্রতিটি সীমার জন্য একটি পর্যবেক্ষণের স্থান রয়েছে।" হাদিসটির একাধিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, তবে আমি এর এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সহিহ (صحيح) উৎস খুঁজে পাইনি যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। সম্ভবত হাদিসটির নিকটবর্তী অর্থ হলো ইবনে আন-নকিব যা বর্ণনা করেছেন: তা হলো—এর বাহ্যিক দিক বলতে সেই অর্থসমূহকে বোঝায় যা বাহ্যিক জ্ঞানের পারদর্শীগণের নিকট স্পষ্ট এবং এর অভ্যন্তরীণ দিক বলতে সেই রহস্যসমূহকে বোঝায় যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ আধ্যাত্মিক সত্যের অধিকারীগণকে অবগত করেন।
আমি বলছি: কতিপয় সাহাবীর কুরআনের ব্যাপারে এমন প্রজ্ঞা ও অনুধাবন ক্ষমতা ছিল যা টেক্সটের বাহ্যিক অর্থের ঊর্ধ্বে, যা মূলত এমন কিছু ইশারা (ইঙ্গিত) যা তাঁদের অনেকের পক্ষেই অনুধাবন করা সম্ভব ছিল না। উদাহরণস্বরূপ:
ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর (রা.) আমাকে বদরী প্রবীণদের সাথে (বৈঠকে) প্রবেশ করাতেন। এতে তাঁদের কেউ কেউ মনে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করে বললেন: ‘কেন আপনি এই কিশোরকে আমাদের সাথে প্রবেশ করান, অথচ আমাদেরও তো এর মতো সন্তান রয়েছে?’ তখন উমর (রা.) বললেন: ‘সে যে মর্যাদার অধিকারী তা তো আপনারা জানেনই।’ একদিন তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে বৈঠকে প্রবেশ করালেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, সেদিন তিনি কেবল তাঁদেরকে (আমার যোগ্যতা) দেখানোর জন্যই আমাকে ডেকেছেন। তিনি বললেন: মহান আল্লাহর বাণী—{যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে}—এ সম্পর্কে আপনারা কী বলেন? তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন: ‘আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, যখন আমাদের সাহায্য করা হবে এবং বিজয় দান করা হবে, তখন যেন আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।’ আবার তাঁদের কেউ কেউ চুপ থাকলেন, কিছুই বললেন না। তখন তিনি আমাকে বললেন: ‘হে ইবনে আব্বাস! তুমিও কি তা-ই বলো?’ আমি বললাম: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘তবে তুমি কী বলো?’ আমি বললাম: ‘এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের সময়কাল, যা আল্লাহ তাঁকে অবহিত করেছেন। আল্লাহ বলেছেন: যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে, তখন তা হবে আপনার ওফাতের নিদর্শন। সুতরাং আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।’ তখন উমর (রা.) বললেন: ‘আমি এই সূরাটি সম্পর্কে কেবল সেটুকুই জানি যা তুমি বলেছ’।"১
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো সাহাবী সূরার বাহ্যিক অর্থের অতিরিক্ত কিছু বুঝতে পারেননি, পক্ষান্তরে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ابن عباس وعمر- رضي الله عنهم فقد فهما معنى آخر وراء الظاهر هو المعنى الباطن الذي تدل عليه السورة بطريق الإشارة.
وأيضا ما ورد من أنه لما نزل قوله تعالى في الآية (12) من سورة المائدة: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} ، فرح الصحابة وبكى عمر رضي الله تعالى عنه وقال: ما بعد الكمال إلا النقص مستشعرا نعيه عليه الصلاة والسلام، فقد أخرج ابن أبى شيبة: أن عمر رضي الله عنه لما نزلت الآية بكى، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ما يبكيك؟ " قال: أبكاني أنا كنا في زيادة من ديننا، فأما إذا كمل، فانه لم يكمل شيء قط إلا نقص، فقال عليه الصلاة والسلام: "صدقت" 1.
فعمر- رضي الله عنه أدرك المعنى الإشاري، وهو نعي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأقره النبي على فهمه هذا. وأما باقي الصحابة فقد فرحوا بنزول الآية، لأنهم أيفهموا أكثر من المعنى الظاهر لها.
هذه الأدلة مجتمعة تعطينا أن القرآن الكريم له ظهر وبطن.. ظهر يفهمه كل من يعرف اللسان العربي، وبطن يفهمه أصحاب المواهب وأرباب البصائر، غير أن المعاني الباطنية للقرآن لا تقف عند الحد الذي تصل إليه مداركنا القاصرة، بل هي أمر فوق ما نظن وأعظم مما نتصور، ولقد فهم ابن مسعود رضي الله عنه: أن في فهم معاني القرآن مجالا رحبا ومتسعا بالغا فقال: "من أراد علم الأولين والآخرين فليثور2 القرآن" وإلى هذا أشار الله تعالى بقوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} سورة الأنعام "28".
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস ও উমর (রা.)—তাঁরা বাহ্যিক (الظاهر) অর্থের অন্তরালে অন্য একটি অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন, আর তা হলো অন্তর্নিহিত (الباطن) অর্থ, যা এই সূরাটি ইঙ্গিত (الإشارة) প্রদানের মাধ্যমে নির্দেশ করে।
এছাড়াও বর্ণিত হয়েছে যে, যখন সূরা আল-মায়েদার আয়াতে (মূল পাঠে ১২ উল্লেখ থাকলেও এটি ৩ নম্বর আয়াত) মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}, তখন সাহাবীগণ আনন্দিত হলেন, কিন্তু উমর (রা.) কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন: "পূর্ণতার পর কেবল ঘাটতিই অবশিষ্ট থাকে।" এর মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের সংবাদ অনুভব করেছিলেন। ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, যখন আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, উমর (রা.) কাঁদতে লাগলেন। তখন নবী (সা.) বললেন: "তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে?" তিনি বললেন: "আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমরা আমাদের দ্বীনের প্রবৃদ্ধির মধ্যে ছিলাম; কিন্তু যখন কোনো কিছু পূর্ণতা পায়, তখন তা কেবল হ্রাস পেতে শুরু করে।" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তুমি সত্য বলেছ" ১।
সুতরাং উমর (রা.) ইঙ্গিতবহ (الإشاري) অর্থটি বুঝতে পেরেছিলেন, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের সংবাদ। নবী (সা.) তাঁর এই উপলব্ধিকে অনুমোদন (أقره) করেছেন। অন্যদিকে অন্যান্য সাহাবীগণ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ায় আনন্দিত হয়েছিলেন, কারণ তাঁরা এর বাহ্যিক (الظاهر) অর্থের অতিরিক্ত কিছু বুঝতে পারেননি।
এই প্রমাণসমূহ একত্রে আমাদের এই বার্তা প্রদান করে যে, আল-কুরআনের একটি বাহ্যিক (ظهر) ও একটি অভ্যন্তরীণ (بطن) দিক রয়েছে। বাহ্যিক (ظهر) দিকটি আরবি ভাষা সম্পর্কে অবগত সকলে বুঝতে পারে, আর অভ্যন্তরীণ (بطن) দিকটি বুঝতে পারেন বিশেষ প্রতিভার অধিকারী ও দূরদর্শী ব্যক্তিবর্গ। তবে কুরআনের অন্তর্নিহিত (الباطنية) অর্থসমূহ আমাদের সীমাবদ্ধ বোধশক্তির সীমানায় থেমে থাকে না, বরং এগুলো আমাদের ধারণার চেয়েও ঊর্ধ্বের এবং কল্পনার চেয়েও মহান। ইবনে মাসউদ (রা.) উপলব্ধি করেছিলেন যে, কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে এক বিশাল ও সুদূরপ্রসারী ক্ষেত্র রয়েছে। তাই তিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (فليثور) ২ করে।" আর আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} (সূরা আল-আনআম: ৩৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هذا، وينبغي أن يعلم أن المعاني الظاهرة للنص القرآني لا يشترط لمعرفتها أكثر من الجريان على اللسان العربي، وكل معنى مستنبط من القرآن غير جار على اللسان العربي فليس من تفسير القرآن في شيء.. لا مما يستفاد منه ولا مما يستفاد به، ومن ادعى فيه ذلك فهو مبطل في دعواه.
أما المعنى الباطن، فلا يكفي فيه الجريان على اللسان العربي وحده، بل لابد فيه مع ذلك من نور يقذفه الله تعالى في قلب الإنسان يصير به نافذ البصيرة في التفكير، ومن هذا: أن التفسير الإشاري ليس أمرا خارجا عن مدلول اللغة، ولهذا اشترط العلماء لصحة هذا اللون من التفسير شرطين أساسيين:
أولهما: أن يصح على مقتضى الظاهر المقرر في لسان العرب، بحيث يجرى على المقاصد العربية.
ثائيهما: أن يكون له شاهد نصا أو ظاهرا في محل آخر يشهد لصحته من غير معارض.
أما الشرط الأول: فظاهر من قاعدة كون القرآن عربيا، فإنه لو كان له فهم لا يقتضيه كلام العرب لم يوصف بكونه عربيا، ولأنه مفهوم يلصق بالقرآن وليس في ألفاظه ولا في معانيه ما يدل عليه، وما كان كذلك فلا يصح أن ينسب إلى القرآن أصلا، ومن قال هذا فهو متقول على الله بالهوى والغرض.
وأما الشرط الثاني: فانه إذا لم يكن له شاهد في محل آخر، أو كان له معارض، صار مرر جملة الدعاوى التي تدعى على القرآن، والدعوة المجردة عن الدليل غير مقبولة باتفاق العلماء"1.
--------------------------------------------
এখানে এটি জেনে রাখা উচিত যে, কুরআনের পাঠের প্রকাশ্য অর্থ (المعنى الظاهر) উপলব্ধির জন্য আরবি ভাষার স্বাভাবিক গতিধারা অনুসরণের অতিরিক্ত কোনো শর্ত নেই। আর কুরআন থেকে উদ্ভূত এমন প্রতিটি অর্থ যা আরবি ভাষার প্রয়োগরীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তা কুরআনের তাফসিরের কোনো পর্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত নয়—চাই তা থেকে কোনো ফায়দা হাসিল হোক বা না হোক। যে ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে এমন দাবি করবে, সে তার দাবিতে অসার।
পক্ষান্তরে অভ্যন্তরীণ অর্থ (المعنى الباطن) অনুধাবনের ক্ষেত্রে কেবল আরবি ভাষার প্রয়োগরীতি যথেষ্ট নয়; বরং এর পাশাপাশি এমন এক নূর বা জ্যোতির প্রয়োজন যা মহান আল্লাহ মানুষের অন্তরে নিক্ষেপ করেন, যার মাধ্যমে তার চিন্তাশক্তি প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে ওঠে। এর থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, ইঙ্গিতমূলক তাফসির (التفسير الإشاري) ভাষাগত অর্থের বাইরের কোনো বিষয় নয়। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম এই ধরনের তাফসিরের বিশুদ্ধতার জন্য দুটি মৌলিক শর্ত আরোপ করেছেন:
প্রথমত: এটি যেন আরবি ভাষার স্বীকৃত প্রকাশ্য (الظاهر) নিয়মনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, যাতে তা আরবি ভাষার উদ্দেশ্যসমূহের অনুকূলে পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয়ত: অন্য কোনো স্থানে এর সপক্ষে এমন কোনো পাঠ্যগত প্রমাণ (نصا) অথবা প্রকাশ্য দলীল (ظاهرا) থাকতে হবে যা এর বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দেয় এবং এর কোনো বিরোধী (معارض) বিষয় না থাকে।
প্রথম শর্তটির ব্যাপারে বক্তব্য হলো: কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হওয়ার মূলনীতি থেকেই এটি সুস্পষ্ট। কারণ, যদি এর এমন কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয় যা আরবি ভাষার দাবি অনুযায়ী হয় না, তবে তাকে 'আরবি' হিসেবে বিশেষায়িত করা সম্ভব হতো না। এছাড়া এটি এমন এক ধারণা যা কুরআনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, অথচ এর শব্দ বা অর্থের মধ্যে এমন কোনো কিছু নেই যা তার প্রমাণ দেয়। আর যা এমন হয়, তা মূলগতভাবেই কুরআনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা সঠিক নয়। যে ব্যক্তি এমনটি বলে, সে মূলত প্রবৃত্তি ও হীন উদ্দেশ্যে আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপকারী।
আর দ্বিতীয় শর্তটির বিষয়ে কথা হলো: যদি অন্য কোনো স্থানে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকে অথবা এর কোনো বিরোধী (معارض) বিষয় বিদ্যমান থাকে, তবে এটি কুরআনের নামে করা অন্যান্য সাধারণ ও ভিত্তিহীন দাবির অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে। আর দলীলবিহীন দাবি আলেমদের ঐকমত্যে অগ্রহণযোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم لابد مع ذلك من اعتقاد أن المعنى الظاهر مراد الله تعالى، ومن ادعى أن الظاهر غير مراد لله عد كافرا. قال ابن الصلاح في فتاواه- وقد سئل عن كلام الصوفية في القرآن-: وجدت عن الإمام أبى الحسن الواحدي المفسر- رحمه الله أنه قال: صنف أبو عبد الرحمن السلمي حقائق التفسير، فإن كان قد اعتقد أن ذلك تفسير فقد كفر. قال ابن الصلاح: وأنا أقول: الظن بمن يوثق به منهم أنه إذا قال شيئا من ذلك أنه لم يذكره تفسيرا، ولا ذهب به مذهب الشرح للكلمة المذكورة من القرآن العظيم، فإنه لو كان كذلك كانوا قد سلكوا مسلك الباطنية "وإنما ذلك ذكر منهم لنظير ما ورد به القرآن، فإن النظير يذكر بالنظير، ومن ذلك قتال النفس في الآية المذكورة- يريد قوله تعالى في الآية (133) من سورة التوبة: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ} فكأنه قال: "أمرنا بقتل النفس ومن يلينا من الكفار، ومع ذلك فياليتهم لم يتساهلوا في مثل ذلك لما فيه من الإبهام والإلباس"1.
--------------------------------------------
তদুপরি, এর সাথে এই বিশ্বাস রাখা আবশ্যক যে, বাহ্যিক অর্থই মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য; আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে বাহ্যিক অর্থ আল্লাহর উদ্দেশ্য নয়, তাকে কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য করা হবে। ইবনুল সালাহ তার ফাতাওয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—যখন তাকে কুরআনের ব্যাপারে সুফিদের বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—: আমি মুফাসসির ইমাম আবুল হাসান আল-ওয়াহিদী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা পেয়েছি যে তিনি বলেছেন: আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি ‘হাকাইকুত তাফসির’ সংকলন করেছেন; যদি তিনি বিশ্বাস করেন যে এটিই তাফসির (تفسير), তবে তিনি কুফরি করেছেন। ইবনুল সালাহ বলেন: আমি বলি: তাদের মধ্যে যারা নির্ভরযোগ্য (ثقة), তাদের ব্যাপারে ধারণা হলো—তারা যখন এই ধরনের কথা বলেন, তখন তারা তা তাফসির (تفسير) হিসেবে উল্লেখ করেন না এবং মহান কুরআনের উল্লেখিত শব্দের ব্যাখ্যা (الشرح) হিসেবেও তা গ্রহণ করেন না। কারণ যদি তা-ই হতো, তবে তারা বাতিনিয়াদের (الباطنية) পথ অনুসরণ করতেন। "বরং এটি তাদের পক্ষ থেকে কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের সদৃশ একটি বিষয়ের অবতারণা মাত্র, কারণ সদৃশ বিষয়কে সদৃশ বিষয়ের মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। এর উদাহরণ হলো উল্লিখিত আয়াতে নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ—এখানে উদ্দেশ্য হলো সূরা আত-তাওবার ১৩৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো}। ফলে তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: 'আমাদেরকে নফসের বিরুদ্ধে এবং আমাদের নিকটবর্তী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।' তাসত্ত্বেও, আফসোস! তারা যদি এই ধরণের বিষয়ে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন না করতেন, কারণ এতে অস্পষ্টতা (إبهام) ও বিভ্রান্তি (إلباس) তৈরির অবকাশ রয়েছে।"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
موقف ابن عربي من التفسير الإشاري:ما ذكرناه من كلام الإمام أبي الحسن الواحدي، وما عقب به عليه العلامة ابن الصلاح في فتاواه، ليس إلا حسن ظن بالقوم ومنهم ابن عربي. وكنت أود أن أقف من هؤلاء ومن ابن عربي بخاصة- وهو الشيخ الأكبر والكبريت الأحمر كما يقولون- هذا الموقف الذي وقفه ابن الصلاح منهم حملا لحال المسلم على الصلاح. ولكن تبدد أملي في حسن الظن بابن عربي وبمن يحطب في حبله من المتصوفة أثر مقالة قرأتها لابن عربي في فتوحاته وفيها يصرح بأن مقالات الصوفية في كتاب
ইশারি তাফসির (التفسير الإشاري) প্রসঙ্গে ইবনুল আরাবির অবস্থান:ইমাম আবুল হাসান আল-ওয়াহিদির যে বক্তব্য আমরা উল্লেখ করেছি এবং আল্লামা ইবনুস সালাহ তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে এর পরে যে পর্যালোচনা করেছেন, তা ইবনুল আরাবিসহ ওই ব্যক্তিবর্গের প্রতি নিছক সুধারণা পোষণ ছাড়া আর কিছু নয়। আমি বিশেষ করে ইবনুল আরাবি—যাকে তারা ‘আশ-শাইখুল আকবার’ ও ‘আল-কিবরিতুল আহমার’ বলে থাকে—এবং তাঁর অনুসারীদের ব্যাপারে ইবনুস সালাহর ন্যায় এই অবস্থানই গ্রহণ করতে চেয়েছিলাম, যেন একজন মুসলমানের অবস্থাকে সততা ও কল্যাণের অনুকূলে বিবেচনা (حملاً لحال المسلم على الصلاح) করা যায়। কিন্তু ইবনুল আরাবি এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী সুফীদের ব্যাপারে সুধারণা পোষণের সেই প্রত্যাশা তিরোহিত হলো তাঁর ‘ফুতুহাত’ গ্রন্থে ইবনুল আরাবির একটি প্রবন্ধ পাঠ করার পর; যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, কিতাবে বর্ণিত সুফীদের বক্তব্যসমূহ...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الله ليست إلا تفسيرا حقيقيا لمعاني القرآن الكريم، وشرحا لمراد الله من ألفاظه وآياته، ويقول بكل صراحة: أن تسميتها إشارة ليس إلا من قبيل التقية والمداراة لعلماء الرسوم أهل الظاهر.. وفي هذه المقالة يحمل حملة شعواء على أهل الرسوم- على حد تعبيره- الذين ينكرون عليه وعلى غيره من الصوفية هذا المسلك في التفسير. وإليك ما قاله بالنص، لتقف على رأيه الصريح الذي لا لبس فيه ولا خفاء.
مقالة ابن عربي في التفسير الإشاري:
قال رحمه الله: "اعلم أن الله عز وجل لما خلق الخلق، خلق الإنسان أطوارا، فمنا العالم والجاهل، ومنا المنصف والمعاند، ومنا القاهر ومنا المقهور، ومنا الحاكم ومنا المحكوم، ومنا المتحكم ومنا المتحكم فيه، ومنا الرئيس ومنا المرءوس، ومنا الأمير ومنا المأمور، ومنا الملك ومنا السوقة، ومنا الحاسد ومنا المحسود، وما خلق الله أشق ولا أشد من علماء الرسوم على أهل الله المختصين بخدمته.. العارفين به من طريق الوهب الإلهي الذي منحهم أسراره في خلقه، وفهمهم معاني كتابه، وإشارات خطابه فهم لهذه الطائفة مثل الفراعنة للرسل عليهم السلام، لما كان الأمر في الوجود الواقع على ما سبق به العلم القديم- كما ذكرنا- عدل أصحابنا إلى الإشارات، فكلامهم- رضي الله عنهم في شرح كتابه العزيز الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه إشارات وإن كان ذلك حقيقة وتفسيرا لمعانيه النافعة، ورد ذلك كله إلى نفوسهم مع تقديرهم إياه في العموم وفيما نزل فيه، كما يعلمه أهل اللسان الذين نزل الكتاب بلسانهم، فعم به- سبحانه- عندهم الوجهين كما قال: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ} ، يعني الآيات المنزلة في الآفاق وفي أنفسهم، فكل آية منزلة لها وجهان:
আল্লাহর বাণীসমূহ পবিত্র কুরআনের অর্থের প্রকৃত ব্যাখ্যা এবং তাঁর শব্দ ও আয়াত থেকে মহান আল্লাহর অভিপ্রায়ের একটি বিশদ বর্ণনা মাত্র। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, এর নামকরণ ‘ইঙ্গিত’ (إشارة) করা কেবল আনুষ্ঠানিকতার আলেম (علماء الرسوم) তথা বাহ্যিকতবাদী (أهل الظاهر) অনুসারীদের সাথে এক প্রকার সতর্কতা (تقية) ও নম্র আচরণের (مداراة) খাতিরেই করা হয়েছে। এই নিবন্ধে তিনি তথাকথিত ‘আনুষ্ঠানিকতার আলেমদের’ ওপর—তাঁর ভাষ্যমতে—তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন, যারা তাঁর এবং অন্যান্য সুফিদের এই তাফসিরি পদ্ধতির বিরোধিতা করে থাকেন। তাঁর সুস্পষ্ট মতামতটি বোঝার জন্য নিচে তাঁর মূল বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো, যাতে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় না থাকে।
ইঙ্গিতবহ (إشاري) তাফসির সম্পর্কে ইবনে আরাবীর বক্তব্য:
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জেনে রাখুন, আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তখন মানুষকে বিভিন্ন স্তরে সৃষ্টি করেছেন। ফলে আমাদের মধ্যে কেউ আলেম (العالم) আবার কেউ জাহেল (الجاهل), কেউ ইনসাফকারী (المنصف) আবার কেউ হঠকারী (المعاند), কেউ বিজয়ী (القاهر) আবার কেউ বিজিত (المقهور), কেউ শাসক (الحاكم) আবার কেউ শাসিত (المحكوم), কেউ কর্তৃত্বকারী (المتحكم) আবার কেউ যার ওপর কর্তৃত্ব করা হয় (المتحكم فيه), কেউ নেতা (الرئيس) আবার কেউ অনুসারী (المرءوس), কেউ আমির (الأمير) আবার কেউ আদিষ্ট (المأمور), কেউ রাজা (الملك) আবার কেউ সাধারণ প্রজা (السوقة), এবং কেউ ইর্ষাকারী (الحاسد) আবার কেউ ইর্ষার পাত্র (المحسود)। আল্লাহ তাআলা তাঁর খাস বান্দাদের (أهل الله) জন্য—যারা তাঁর খিদমতে নিবেদিত এবং তাঁর সৃষ্টিজগতের রহস্যময় ঐশী দান (الوهب الإلهي) লাভ করেছেন, যারা তাঁর কিতাবের মর্মার্থ ও সম্বোধনের গূঢ় ইঙ্গিতসমূহ (إشارات) বুঝতে সক্ষম—তাদের জন্য আনুষ্ঠানিকতার আলেমদের (علماء الرسوم) চেয়ে অধিক কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক আর কিছুই সৃষ্টি করেননি। এই দলের কাছে সেই আলেমরা ঠিক তেমনি, যেমনটি ছিল রাসুলদের জন্য ফেরাউনরা। যেহেতু অস্তিত্বের বিষয়টি সেভাবেই বাস্তবায়িত হয়েছে যা অনাদি জ্ঞানে (العلم القديم) পূর্বনির্ধারিত ছিল—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তাই আমাদের সাথীরা ইঙ্গিতসমূহের (إشارات) পথ বেছে নিয়েছেন। মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যায় তাঁদের যে বক্তব্য—যাতে কোনো দিক থেকেই বাতিল বা মিথ্যা অনুপ্রবেশ করতে পারে না—তা মূলত ইঙ্গিতসমূহ (إشارات), যদিও বাস্তবে তা পবিত্র কুরআনের উপকারী অর্থের প্রকৃত ব্যাখ্যা। তাঁরা এই সবই নিজেদের নফসের ওপর প্রয়োগ করেন, পাশাপাশি সাধারণভাবে এর অর্থ এবং যে প্রেক্ষাপটে তা অবতীর্ণ হয়েছে তার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ রাখেন, যেমনটি সেই ভাষার অভিজ্ঞরা (أهل اللسان) জানেন যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের নিকট উভয় দিককেই শামিল করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: ‘আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাবো দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে’। অর্থাৎ দিগন্ত এবং নিজেদের মধ্যে অবতীর্ণ নিদর্শনাবলি। সুতরাং প্রতিটি অবতীর্ণ আয়াতেরই দুটি দিক রয়েছে:"
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
وجه يرونه في نفوسهم، ووجه آخر يرونه فيما خرج عنهم، فيسمون ما يرونه في نفوسهم إشارة ليأنس الفقيه صاحب الرسوم إلى ذلك ولا يقولون في ذلك أنه تفسير وقاية لشرهم وتشنيعهم في ذلك بالكفر عليه، وذلك لجعلهم بمواقع خطاب الحق، واقتدوا في ذلك بسنن الهدى، فإن الله كان قادرا على تنصيص ما تأوله أهل الله في كتابه، ومع ذلك فما فعل، بل أدرج في تلك الكلمات الإلهية التي نزلت بلسان العامة علوم معاني الاختصاص التي فهمها عباده حين فتح لهم فيها بعين الفهم الذي رزقهم.
ولو كان علماء الرسوم ينصفون لاعتبروا في نفوسهم إذا نظروا في الآية بالعين الظاهرة التي يسلمونها فيما بينهم، فيرون أنهم يتفاضلون في ذلك، وبعلو بعضهم على بعض لا الكلام في معنى تلك الآية، وبقر القاصر بفضل غير القاصر فيها وكلهم في مجرى واحد، ومع هذا الفضل المشهود لهم فيما بينهم في ذلك، ينكرون على أهل الله إذا جاءوا بشيء مما يغمض عن إدراكهم، وذلك لأنهم يعتقدون فيهم أنهم ليسوا بعلماء، وأن العلم لا يحصل إلا بالتعلم المعتاد في العرف، وصدقوا، فان أصحابنا ما حصل لهم ذلك العلم إلا بالتعلم، وهو الإعلام الرحماني الرباني، قال تعالى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الْأِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ. الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْأِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} فإنه القائل: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئاً} . {خَلَقَ الْأِنْسَانَ. عَلَّمَهُ الْبَيَانَ} فهو- سبحانه- علم الإنسان فلا نشك أن أهل الله هم ورثة الرسل عليهم السلام، والله يقول في حق الرسول: {وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ} وقال في حق عيسى: {وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالأِنْجِيلَ} وقال في حق خضر صاحب موسى عليهما السلام: {وَعَلَّمْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا عِلْماً} فصدق علماء الرسوم
একটি দিক তারা তাদের অন্তরে দেখেন এবং অন্য একটি দিক তারা তাদের থেকে যা প্রকাশিত হয় তাতে দেখেন। তারা তাদের অন্তরে যা প্রত্যক্ষ করেন তাকে ইঙ্গিত (إشارة) বলে অভিহিত করেন, যাতে বাহ্যিক রীতিনীতির অনুসারী ফকিহগণ তাতে আশ্বস্ত হতে পারেন। তারা একে ব্যাখ্যা (تفسير) বলেন না, যাতে তাদের অনিষ্ট এবং বিষয়টিকে কুফর বলে অপবাদ দেওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি মূলত এজন্য যে, তারা নিজেদেরকে সত্যের (হক) সম্বোধনের ক্ষেত্রে যথাযথ অবস্থানে স্থাপন করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তারা হেদায়েতের সুন্নাহর অনুসরণ করেছেন। কেননা আল্লাহ তাঁর কিতাবে আল্লাহওয়ালাগণ যা রূপক ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে সক্ষম ছিলেন, কিন্তু তবুও তিনি তা করেননি। বরং তিনি সেই সব ঐশী বাণীর মধ্যে—যা সাধারণ মানুষের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে—এমন বিশেষায়িত অর্থতত্ত্বের জ্ঞানসমূহ নিহিত রেখেছেন, যা তাঁর বান্দাগণ তখনই বুঝতে পেরেছেন যখন তিনি তাদের জন্য সেই বিশেষ অন্তর্দৃষ্টির দুয়ার উন্মোচন করেছেন যা তিনি তাদের দান করেছেন।
যদি প্রথাগত আলিমগণ ন্যায়পরায়ণ হতেন, তবে তারা যখন কোনো আয়াতের বাহ্যিক দিক—যা তারা নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করেন—তা নিয়ে ভাবতেন, তখন দেখতেন যে এই ক্ষেত্রেও তাদের মাঝে স্তরের পার্থক্য রয়েছে এবং এক জন অন্য জনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথচ আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে যার জ্ঞান সীমিত সে অন্য জনের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে হার মানে, যদিও তারা সবাই একই ধারায় প্রবহমান। নিজেদের মাঝে এই স্বীকৃত শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা আল্লাহওয়ালাদের প্রতি আপত্তি তোলেন যখন তারা এমন কিছু নিয়ে আসেন যা তাদের উপলব্ধির ঊর্ধ্বে। এর কারণ হলো তারা বিশ্বাস করেন যে এরা আলিম নন এবং জ্ঞান কেবল প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। তারা সত্যই বলেছেন; কারণ আমাদের সঙ্গীগণ কেবল শিক্ষার মাধ্যমেই সেই জ্ঞান অর্জন করেছেন, আর তা হলো পরম করুণাময় রব্বানী শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পাঠ করো, আর তোমার রব মহা মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।" তিনিই বলেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমতাবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না।" "তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে বর্ণনা শিখিয়েছেন।" সুতরাং তিনি—সুবহানাহু—মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহওয়ালাগণ হলেন রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাম) উত্তরসূরি। আর আল্লাহ রাসুলের ক্ষেত্রে বলেন: "তিনি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না।" ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে বলেন: "এবং তিনি তাকে শিক্ষা দেবেন কিতাব ও প্রজ্ঞা (حكمة), তাওরাত ও ইনজিল।" এবং মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সঙ্গী খিদিরের ক্ষেত্রে বলেন: "এবং আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে বিশেষ জ্ঞান (علم) শিক্ষা দিয়েছিলাম।" সুতরাং প্রথাগত আলিমগণ সত্যই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
عندنا فيما قالوا: أن العلم لا يكون إلا بالتعلم وأخطأوا في اعتقادهم أن الله لا يعلم من ليس بنبي ولا رسول بقول الله: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ} وهي العلم، وجاء بمن وهي نكرة، ولكن علماء الرسوم لما آثروا الدنيا على الآخرة، وآثروا جانب الخلق على جانب الحق وتعودوا أخذ العلم من الكتب ومن أفواه الرجال الذين من جنسهم ورأوا- في زعمهم- أنهم من أهل الله بما علموا وامتازوا به على العامة، حجبهم ذلك عن أن يعلموا أن لله عبادا تولى الله تعليمهم في سرائرهم بما أنزله في كتبه وعلى السنة رسله وهو العلم الصحيح عن العالم المعلم الذي لا يشك مؤمن في كمال علمه ولا غير مؤمن، فان الذين قالوا: إن الله لا يعلم الجزئيات ما أرادوا نفي العلم عنه، وإنما قصدوا بذلك أنه تعالى لا يتجدد له علم بشيء بل علمها مندرجة في علمه بالكليات، فأثبتوا له العلم- سبحانه- مع كونهم غير مؤمنين، وقصدوا تنزيهه- سبحانه- في ذلك وإن أخطأوا في التعبير عن ذلك، فتولى الله بعنايتة لبعض عباده تعليمهم بنفسه بإلهامه وإفهامه إياهم {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} في أثر قوله {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا} فبين لها الفجور من التقوى إلهاما من الله لها لتتجنب الفجور وتعمل بالتقوى.
وكما كان أصل تنزيل الكتاب من الله على أنبيائه، كان تنزيل الفهم على قلوب بعض المؤمنين به، فالأنبياء عليهم السلام ما قالت على الله ما لم يقل لها، ولا أخرجت ذلك من نفوسها ولا من أفكارها ولا تعلمت فيه، بل جاءت من عند الله، كما قال تعالى: {تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} وقال فيه: {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ} وإذا كان الأصل المتكلم فيه من عند الله لا من فكر الإنسان ورويته-وعلماء الرسوم يعلمون ذلك- فينبغي أن يكون أهل الله العاملون به أحق بشرحه وبيان ما أنزل الله فيه من علماء الرسوم، فيكون شرحه
আমাদের নিকট তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কথা হলো: তারা বলেছে যে, জ্ঞান কেবল শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয়; এ বিষয়ে তারা ভুল করেছে। তারা তাদের এই বিশ্বাসেও ভুল করেছে যে, আল্লাহ এমন কাউকে জ্ঞান দান করেন না যে নবী বা রসূল নয়—অথচ আল্লাহর বাণী হলো: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন}, আর হিকমত হলো জ্ঞান। এখানে 'মান' (من) শব্দটি অনির্দিষ্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বাহ্যিক রূপসর্বস্ব আলিমগণ যখন পরকালের তুলনায় দুনিয়াকে প্রাধান্য দিল এবং হকের চেয়ে সৃষ্টির দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিল, আর কিতাব এবং তাদের সমজাতীয় ব্যক্তিবর্গের মুখ থেকে জ্ঞান গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ল এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী মনে করল যে, তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও সাধারণ মানুষের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আল্লাহর খাস বান্দা হয়ে গেছে—তখন এই বোধ তাদের সত্য উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত করল। ফলে তারা জানতে পারল না যে, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যাদের আল্লাহ তাঁর কিতাবসমূহে যা নাজিল করেছেন এবং তাঁর রসূলদের সুন্নাহর ভিত্তিতে সরাসরি তাদের অন্তরে শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আর এটিই হলো মহাজ্ঞানী পরম শিক্ষক (আল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সঠিক (صحيح) জ্ঞান, যার জ্ঞানের পূর্ণতা সম্পর্কে কোনো মুমিন বা এমনকি কোনো অবিশ্বাসীও সন্দেহ পোষণ করে না। কেননা যারা বলেছিল যে, আল্লাহ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়সমূহ জানেন না, তারা আল্লাহর জ্ঞানকে অস্বীকার করতে চায়নি; বরং তারা এর দ্বারা বোঝাতে চেয়েছিল যে, মহান আল্লাহর জন্য কোনো বিষয়ে নতুন কোনো জ্ঞান সৃষ্টি হয় না, বরং প্রতিটি বিষয়ের জ্ঞান তাঁর সামগ্রিক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। তারা মুমিন না হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য জ্ঞান সাব্যস্ত করেছে এবং তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে চেয়েছে, যদিও তারা তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ভুল শব্দ চয়ন করেছে। আল্লাহ তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে তাঁর কিছু বান্দার অন্তরে ইলহাম এবং প্রজ্ঞা দান করে নিজেই তাদের শিক্ষার ভার গ্রহণ করেছেন: {অতঃপর তিনি তাকে তার অসততা ও তার তাকওয়া সম্পর্কে ইলহাম করেছেন}, যা {শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন}—এই বাণীর প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ প্রাণের জন্য ইলহামের মাধ্যমে অসততা ও তাকওয়ার পার্থক্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যাতে সে অসততা পরিহার করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে।
যেভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীদের ওপর কিতাব নাজিল হওয়া মূল ভিত্তি ছিল, তেমনিভাবে তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী কিছু মুমিনের অন্তরে সঠিক বুঝ নাজিল হওয়াও একটি বাস্তবতা। কারণ নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) আল্লাহর নামে এমন কিছু বলেননি যা তাঁদের বলা হয়নি, আর তা তাঁরা নিজেদের নফস বা চিন্তা-গবেষণা থেকেও উদ্ভাবন করেননি এবং এ বিষয়ে কোথাও থেকে শিক্ষা গ্রহণও করেননি; বরং তা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} তিনি আরও বলেছেন: {এতে কোনো মিথ্যা বা বাতিল এর সামনে থেকেও আসতে পারে না এবং এর পেছন থেকেও আসতে পারে না।} সুতরাং যদি কোনো বিষয়ের মূল উৎস মানুষের চিন্তা বা বুদ্ধিবৃত্তি থেকে না হয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়—আর বাহ্যিক রূপসর্বস্ব আলিমগণও তা জানেন—তবে বাহ্যিক রূপসর্বস্ব আলিমদের তুলনায় সেই কিতাব অনুযায়ী আমলকারী আল্লাহর খাস বান্দাগণই এর ব্যাখ্যা প্রদান এবং আল্লাহ এতে যা নাজিল করেছেন তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অধিকতর হকদার। অতএব তার ব্যাখ্যা হবে...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
أيضا- تنزيلا من عند الله على قلوب أهل العلم كما كان الأصل، وكذا قال علي بن أبى طالب رضي الله عنه في هذا الباب: "ما هو إلا فهم يؤتيه الله من يشاء من عباده في هذا القرآن " فجعل ذلك عطاء من الله، يعبر عن ذلك العطاء بالفهم عن الله، فأهل الله أولى به من غيرهم فلما رأى أهل الله أن الله قد جعل الدولة في الحياة الدنيا لأهل الظاهر من علماء الرسوم، وأعطاهم التحكم في الخلق بما يفتون به، وألحقهم بالذين يعلمون ظاهرا من الحياة الدنيا وهم عن الآخرة غافلون- وهم في إنكارهم على أهل الله يحسبون أنهم يحسنون صنعا- سلم أهل الله لهم أحوالهم لأنهم علموا من أين تكلموا، وصانوا عنهم أنفسهم بتسميتهم الحقائق إشارات، فإن علماء الرسوم لا ينكرون الإشارات، فإذا كان في غد يوم القيامة يكون الأمر في الشكل كما قال القائل:
سوف ترى إذا انجلى الغبار
… أفرس تحتك أم حمار
كما يتميز المحق من أهل الله من المدعى في الأهلية، غدا يوم القيامة. قال بعضهم:
إذا اشتبكت دموع في خدود
… تبين من بكى ممن تباكى
أين عالم الرسوم من قول علي بن أبى طالب- رضي الله عنه-حين أخبر عن نفسه: أنه لو تكلم في الفاتحة من القرآن لحمل منها سبعين وقرأ؟ هل هذا إلا من الفهم الذي أعطاه الله في القرآن؟ فاسم الفقيه أولى بهذه الطائفة من صاحب علم الرسم، فإن الله يقول فيهم {لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} فأقامهم مقام الرسول في التفقه في الدين والإنذار، وهو الذي يدعو إلى الله على بصيرة كما يدعو رسول الله لصلى الله عليه وسلم على بصيرة لا على غلبة ظن كما يحكم عالم الرسوم، فشتان بين من هو فيما يفتى به وبقوله على بصيرة
আরও—এটি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আলেমদের (أهل العلم) হৃদয়ে অবতীর্ণ বিষয়, যেমনটি মূলত ছিল। আর এ বিষয়ে আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেন: "এটি তো কেবল একটি সমঝ বা প্রজ্ঞা যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এই কুরআনের ব্যাপারে দান করেন।" সুতরাং তিনি একে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর সেই দানকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা বা সমঝ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। অতএব, আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণই অন্যদের তুলনায় এর অধিক হকদার। যখন আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ দেখলেন যে, আল্লাহ পার্থিব জীবনে লৌকিক আলেমদের প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা যা ফতোয়া দেয় তার মাধ্যমে সৃষ্টির ওপর তাদের কর্তৃত্ব দিয়েছেন, আর তাদেরকে সেই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা কেবল পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয়গুলো জানে এবং পরকাল সম্পর্কে বিমুখ—অথচ তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিরোধিতা করতে গিয়ে মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে—তখন আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তাদের অবস্থাকে তাদের হাতেই ছেড়ে দিলেন। কারণ তারা জানতেন যে ওই আলেমরা কোন প্রেক্ষিত থেকে কথা বলছে। তারা বাস্তব সত্যগুলোকে 'ইশারা' বা ইঙ্গিত নামে অভিহিত করে নিজেদেরকে তাদের থেকে রক্ষা করেছেন। কেননা লৌকিক আলেমরা অন্তত ইঙ্গিতকে অস্বীকার করে না। কিয়ামতের দিন যখন বিষয়টি স্পষ্ট হবে, তখন প্রকৃত অবস্থা হবে সেই কবির কথার মতো:
শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে যখন ধুলিকণা অপসৃত হবে
… তোমার নিচে কি ঘোড়া নাকি গাধা আছে
তেমনিভাবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মধ্য থেকে যারা সত্যপন্থী এবং যারা যোগ্যতার দাবিদার, তাদের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। জনৈক ব্যক্তি বলেন:
যখন গাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়ে একে অপরের সাথে মিশে যায়
… তখন স্পষ্ট হয়ে যায় কে প্রকৃতপক্ষে কাঁদছে আর কে কান্নার ভান করছে
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর বাণীর তুলনায় লৌকিক আলেমের অবস্থান কোথায়? যখন তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে: যদি তিনি কুরআনের সুরা ফাতিহা নিয়ে আলোচনা করতেন, তবে সত্তরটি উটের পিঠের বোঝার সমপরিমাণ ইলম তাঁর থেকে অর্জিত হতো। এটি কি সেই সমঝ বা প্রজ্ঞা ছাড়া অন্য কিছু যা আল্লাহ তাঁকে কুরআনের ব্যাপারে দান করেছেন? সুতরাং ফকিহ (فقيه) উপাধিটি লৌকিক জ্ঞানের অধিকারীর চেয়ে এই দলের জন্যই অধিক উপযুক্ত। কেননা আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেন: {যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে চলতে পারে}। অতঃপর তিনি তাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান লাভ এবং সতর্ক করার ক্ষেত্রে রাসূলের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানান, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আহ্বান জানাতেন; কোনো প্রবল ধারণার (غلبة ظن) ওপর ভিত্তি করে নয় যেমনটি লৌকিক আলেমগণ বিচার করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ফতোয়া ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার সাথে অন্যের ব্যবধান অনেক।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
منه في دعائه إلى الله وهو على بينة من ربه، وبين من يفتى في دين الله بغلبة ظنه.
ثم إن من شأن عالم الرسوم في الذب عن نفسه أن يجهل من يقول: فهمني ربي، ويرى أنه أفضل منه وأنه صاحب العلم إذ يقول من هو من أهل الله: إن الله ألقى في سرى مراده بهذا الحكم في هذه الآية، أو يقول: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في واقعتي فأعلمني بصحة هذا الخبر المروي عنه وبحكمه عنده. قال أبو يزيد البسطامي- رضي الله عنه في هذا المقام يخاطب علماء الرسوم: "أخذتم علمكم ميتا عن ميت، وأخذنا علمنا عن الحي الذي لا يموت".
يقول أمثالنا: حدثني قلبي عن ربي، وأنتم تقولون حدثني فلان.. وأين هو؟ قالوا: مات. عن فلان، وأين هو؟ قالوا؟ مات. وكان الشيخ أبو مدين- رحمه الله إذا قيل له: قال فلان، عن فلان، عن فلان، يقول: ما في يد نأكل قديدا هاتوا ائتوني بلحم طري- يرفع همم أصحابه- فأولئك أكلوه لحما طريا، والواهب لم يمت، وهو أقرب إليكم من حبل الوريد.
والفيض الإلهي والمبشرات ما سد بابها، وهي من أجزاء النبوة، والطريق واضحة، والباب مفتوح، والعمل مشروع، والله يهرول لتلقى من إليه يسعى، وما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم، وهو معهم أينما كانوا، فمن كان معك بهذه المثابة من القرب- مع دعواك العلم بذلك والإيمان به- لم تترك الأخذ عنه والحديث معه، وتأخذ عن غيره ولا تأخذ عنه، فتكون حديث عهد بربك
… " انتهى كلام ابن عربي، من الفتوحات المكية ج1 ص279-.28.
আল্লাহ্র প্রতি তাঁর আহ্বানে তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে সুষ্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তাঁর এবং সেই ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য রয়েছে যে কেবল প্রবল ধারণার (غلبة الظن) বশবর্তী হয়ে আল্লাহ্র দ্বীন সম্পর্কে ফতোয়া দেয়।
অতঃপর প্রচলিত প্রথাগত আলেমদের স্বভাব হলো আত্মপক্ষ সমর্থনে সেই ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করা যে বলে: "আমার রব আমাকে বুঝিয়েছেন।" সে নিজেকে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রকৃত ইলমের অধিকারী মনে করে; যখন আল্লাহ্ওয়ালাদের কেউ বলেন: "আল্লাহ্ আমার অন্তরে এই আয়াতের এই বিধানের উদ্দেশ্য ঢেলে দিয়েছেন," অথবা বলেন: "আমি আমার আধ্যাত্মিক দর্শনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি এবং তিনি আমাকে তাঁর থেকে বর্ণিত এই খবর (خبر)-এর বিশুদ্ধতা (صحة) এবং তাঁর নিকট এর বিধান সম্পর্কে অবহিত করেছেন।" আবু ইয়াজিদ আল-বিস্তামি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই পর্যায়ে প্রথাগত আলেমদের সম্বোধন করে বলেন: "তোমরা তোমাদের ইলম গ্রহণ করেছ মৃত ব্যক্তির নিকট থেকে মৃত ব্যক্তির সূত্রে (عن), আর আমরা আমাদের ইলম গ্রহণ করেছি সেই চিরঞ্জীবের নিকট থেকে যার মৃত্যু নেই।"
আমাদের মতো লোকেরা বলে: "আমার অন্তর আমার রবের পক্ষ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)," আর তোমরা বলো: "অমুক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)..." কিন্তু তিনি কোথায়? তারা বলে: "মারা গেছেন।" অমুকের সূত্রে (عن), কিন্তু তিনি কোথায়? তারা বলে: "মারা গেছেন।" আর শাইখ আবু মাদইয়ান (রাহিমাহুল্লাহ)-কে যখন বলা হতো: "অমুক বলেছেন, অমুকের সূত্রে (عن), অমুকের সূত্রে (عن)," তখন তিনি বলতেন: "আমাদের হাতে শুকনো মাংস খাওয়ার মতো সময় নেই, তোমরা আমার কাছে তাজা মাংস নিয়ে এসো।" —এর মাধ্যমে তিনি তাঁর সাথীদের হিম্মত বৃদ্ধি করতেন—তারা তো তাজা মাংসই ভক্ষণ করতেন; কেননা দাতা তো মৃত্যুবরণ করেননি, আর তিনি তোমাদের ঘাড়ের শাহরগ অপেক্ষাও অধিক নিকটবর্তী।
ঐশ্বরিক করুণাধারা এবং সুসংবাদসমূহের (مبشرات) দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি, আর এগুলো নবুওয়তের অংশবিশেষ। পথ সুষ্পষ্ট, দ্বার উন্মুক্ত এবং আমল বিধিসম্মত। আল্লাহ্ সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের জন্য দ্রুত অগ্রসর হন যে তাঁর দিকে ধাবিত হয়। তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ নেই যেখানে তিনি চতুর্থজন নন এবং তারা যেখানেই থাকুক তিনি তাদের সাথেই থাকেন। সুতরাং যিনি তোমার সাথে এমন নৈকট্যের স্তরে আছেন—অথচ তুমি তা জানার এবং তাতে বিশ্বাসের দাবি করো—তবে কেন তুমি তাঁর থেকে গ্রহণ করা এবং তাঁর সাথে কথোপকথন ছেড়ে দিয়ে অন্য কারো থেকে গ্রহণ করছো এবং তাঁর থেকে গ্রহণ করছো না? যার ফলে তুমি তোমার রবের সান্নিধ্য লাভে ধন্য হতে পারতে
… " —ইবনে আরাবীর বক্তব্য সমাপ্ত, আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৯-২৮০।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
رأينا في مقالة ابن عربي:ولسنا ننكر على ابن عربي دعواه أن ثم أفهاما يلقيها الله في قلوب أصفيائه وأحبابه، نحصهم بها دون غيرهم على تفاوت بينهم في ذلك بمقدار ما بينهم من تفاوت في درجات السلوك ومراتب الوصول، كما لا ننكر عليه أن تكون هذه الأفهام مرادة لله من كلامه، ولكن بشرط أن تكون داخلة تحت مدلول النص القرآني وأن يكون لها شاهد شرعي يؤيدها كما قلنا، أما أن تكون هذه الأفهام خارجة عن مدلول اللفظ القرآني وليس لها من الشرع ما يؤيدها، فذلك ما لا يمكن أن نقبله على أنه تفسير للآية وبيان لمراد الله منها لأن القرآن عربي قبل كل شيء، والله- سبحانه- يقول في شأنه: {كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} 1 وحاشا لله أن يلغز في آياته، أو يعمي على عباده طريق النظر في كتابه وهو يقول: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} 2.
يقولون: إنهم يدركون بعض المعاني بعين اليقين، إذا فلابد لمن يريد أن يحكم على القوم حكما صحيحا أن يجتهد في الوصول إلى ما وصلوا إليه بالعيان دون أن يطلبه عن طريق البيان، فإنه طور وراء طور العقل، والشاعر يقول:
علم التصوف علم ليس يعرف
… إلا أخو فطنة بالحق معروف
وليس يعرفه من ليس يشهد
… وكيف يشهد ضوء الشمس مكفوف3
--------------------------------------------
ইবনে আরাবির বক্তব্যের বিষয়ে আমাদের অভিমত:আমরা ইবনে আরাবির এই দাবিকে অস্বীকার করি না যে, সেখানে এমন কিছু বিশেষ বুঝ বা উপলব্ধি (أفهام) রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর মনোনীত ও প্রিয় বান্দাদের অন্তরে ঢেলে দেন এবং আধ্যাত্মিক পরিক্রমা (سلوك) ও আল্লাহ-প্রাপ্তির (وصول) স্তরের পার্থক্যের ভিত্তিতে তাদের মাঝে বিদ্যমান তারতম্য অনুযায়ী অন্যদের তুলনায় কেবল তাদেরই বিশেষভাবে দান করেন। তেমনিভাবে আমরা এটিও অস্বীকার করি না যে, এই উপলব্ধিগুলো আল্লাহর কালাম থেকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হতে পারে; তবে শর্ত হলো, সেগুলোকে কুরআনি ভাষ্যের (نص) অর্থগত ব্যাপ্তির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে এবং আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী সেগুলোর সপক্ষে শারঈ প্রমাণ (شاهد شرعي) থাকতে হবে। কিন্তু যদি এই উপলব্ধিগুলো কুরআনি শব্দের অর্থগত পরিমণ্ডলের বাইরে হয় এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকে, তবে আয়াতের ব্যাখ্যা (تفسير) এবং তা থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্য হিসেবে আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না। কারণ কুরআন সবকিছুর আগে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন: {এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে; জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আরবি ভাষায় কুরআন হিসেবে।} ১ আর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহে কোনো ধাঁধা রাখবেন অথবা তাঁর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণার পথ বান্দাদের জন্য দুর্বোধ্য করে দেবেন—তা অসম্ভব; অথচ তিনি বলছেন: {আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?} ২।
তারা বলেন: তারা কিছু কিছু অর্থ চাক্ষুষ নিশ্চিতির (عين اليقين) মাধ্যমে উপলব্ধি করেন। অতএব, যারা এই সম্প্রদায়ের ওপর সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করতে চান, তাদের উচিত বর্ণনার (بيان) পথে তা না খুঁজে বরং চাক্ষুষ দর্শনের (عيان) মাধ্যমে তারা যেখানে পৌঁছেছেন সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা। কেননা এটি বুদ্ধিবৃত্তিক (عقل) স্তরেরও ঊর্ধ্বে এক স্তর। কবি বলেন:
সুফিবাদ (تصوف) এমন এক জ্ঞান যা চেনা যায় না
… কেবল সত্যের মাধ্যমে পরিচিত প্রখর ধীশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া।
আর যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করে না সে তা চেনে না
… অন্ধ ব্যক্তি কীভাবে সূর্যের আলো প্রত্যক্ষ করবে? ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويقول ابن خلدون "وليس البرهان والدليل بنافع في هذه الطريق ردا وقبولا، إذ هي من قبيل الوجدانيات" 1.
ويقول الآلوسي في مقدمة تفسيره: "فالإنصاف كل الإنصاف التسليم للسادة الصوفية الذين هم مراكز الدائرة المحمدية ما هم عليه، واتهام ذهنك السقيم فيما لم يصل- لكثرة العوائق والعلائق- إليه.
وإذا لم تر الهلال فسلم
… لأناس رأوه بالأبصار" 2
ويقول الآلوسي أيضا بعد أن نقل عن ابن عربي ما قاله في تفسير الفاتحة في فتوحاته: "فإذا وقع الجدار، وانهدم السور، وامتزجت الأنهار، والتقى البحران، وعدم البرزخ صار العذاب نعيما، وجهنم جنة، ولا عذاب ولا عقاب إلا نعيم وأمان بمشاهدة العيان
… الخ ".. يقول الآلوسي بعد نقله لهذا الكلام الغريب: "وهذا وأمثاله محمول على معنى صحيح يعرفه أهل الذوق، ولا ينافي ما وردت به القواطع.. " ثم قال: "وإياك أن تقول بظاهره مع ما أنت عليه، وكلما وجدت مثل هذا لأحد من أهل الله تعالى فسلمه لهم بالمعنى الذي أراده مما لا تعلمه أنت ولا أنا لا بالمعنى الذي ينقدح في عقلك المشوب بالأوهام، فالأمر- والله- وراء ذلك"3.
ومثل هذه الأقوال أشبه ما تكون بالإكراه لنا على قبول وجدانيات القوم وشطحاتهم مهما أوغلت في البعد والغرابة، وتوريط لنا بتسليم كل ما يقولون تحت تأثير مالهم في مجال التصوف والمتصوفة من شهرة علمية، ومكانة دينية، ومهما يكن من شيء فأنا عند رأي وهو: أن هذه التفاسير الإشارية، مزلة قدم لمن لم يعرف مقاصد القوم، وليتهم احتفظوا بها
--------------------------------------------
ইবনে খালদুন বলেন, "এই পথে (সুফিবাদে) প্রত্যাখ্যান (ردا) ও গ্রহণ (قبولا) করার ক্ষেত্রে যুক্তি ও প্রমাণ কোনো ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে না; কারণ এটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির বিষয়।" ১।
আলূসী তাঁর তাফসীরের ভূমিকায় বলেন: "প্রকৃত ইনসাফ হলো সেই সুফি মহানুভবদের প্রতি আত্মসমর্পণ করা যারা মুহাম্মদী পরিমণ্ডলের কেন্দ্রবিন্দু; এবং প্রতিবন্ধকতা ও জাগতিক সম্পর্কের আধিক্যের কারণে যা তোমার নিকট পৌঁছায়নি, সে বিষয়ে তোমার অসুস্থ মেধাকেই অভিযুক্ত করা।
আর যদি তুমি নতুন চাঁদ না দেখো, তবে তাদের নিকট সমর্পণ করো
… যারা তা স্বচক্ষে দেখেছেন।" ২
আলূসী ইবনে আরাবী থেকে তাঁর ফুতুহাত-এ সূরা ফাতিহার যে তাফসীর করেছেন তা উদ্ধৃত করার পর আরও বলেন: "অতঃপর যখন প্রাচীর ধসে পড়বে, দেয়াল চূর্ণ হবে, নদ-নদীসমূহ মিলেমিশে একাকার হবে, দুই সমুদ্র মিলিত হবে এবং অন্তরায় বিলুপ্ত হবে, তখন আজাবও নিআমতে পরিণত হবে এবং জাহান্নাম জান্নাতে রূপান্তরিত হবে। চাক্ষুষ দর্শনের ফলে সেখানে নিআমত ও নিরাপত্তা ছাড়া কোনো আজাব বা শাস্তি অবশিষ্ট থাকবে না
… ইত্যাদি।" এই অদ্ভুত কথাটি উদ্ধৃত করার পর আলূসী বলেন: "এটি এবং এর অনুরূপ উক্তিগুলো এমন একটি সহীহ (صحيح) অর্থের ওপর নির্ভরশীল যা আধ্যাত্মিক স্বাদ আস্বাদনকারীগণ অবগত এবং এটি অকাট্য দলীলসমূহের পরিপন্থী নয়..." অতঃপর তিনি বলেন: "সাবধান! তুমি যে অবস্থায় আছো সে অবস্থায় এর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করো না। যখনই আল্লাহর কোনো ওলীর পক্ষ থেকে এমন কথা পাবে, তখন তা তাঁদের জন্য এমন অর্থে সোপর্দ করো যা তাঁরা উদ্দেশ্য করেছেন—যা তুমি বা আমি কেউই জানি না—এমন অর্থে নয় যা তোমার বিভ্রান্তিকর ও সংশয়পূর্ণ বুদ্ধিতে উদয় হয়। আল্লাহর কসম, বিষয়টি এর চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে।" ৩।
এই ধরণের উক্তিগুলো এই সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং রহস্যময় আধ্যাত্মিক উক্তিগুলো (শাতাহাত) গ্রহণে আমাদের ওপর এক প্রকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করার মতো, তা সে সব কথা যতই দূরবর্তী বা অদ্ভুত হোক না কেন। তাসাউফ ও সুফিদের অঙ্গনে তাঁদের ইলমী খ্যাতি ও ধর্মীয় উচ্চ মর্যাদার প্রভাবে তাঁরা যা বলেন, তা-ই বিনাবাক্যে মেনে নেওয়ার গোলকধাঁধায় আমাদের ফেলে দেয়। যাই হোক না কেন, আমার অভিমত হলো: এই ইশারি তাফসীরসমূহ তাঁদের জন্য পদস্খলনের কারণ হতে পারে যারা এই সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নন। আফসোস, যদি তাঁরা এগুলো নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইবনে আরাবী লিল কুরআনি হাকীকাতুহু ওয়া খাতারুহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لأنفسهم ولا يذيعوها على الناس فيوقعوهم في حيرة واختلاف: منهم من يأخذها على ظاهرها ويعتقد أن ذلك هو مراد الله من كلامه، وإذا عارضه ما ينقل من كتب التفسير على خلافه فربما كذبه أو أشكل عليه.. ومنهم من يكذبها ويرى أنها تقول على الله وبهتان!!.. ليتهم فعلوا ذلك، إذا لأراحونا من هذه الحيرة، وأراحوا أنفسهم من كلام الناس فيهم، وقذف البعض لهم بالكفر والإلحاد في آيات الله!! …
...নিজেদের জন্য (রাখতেন) এবং তা জনসাধারণের নিকট প্রচার না করতেন, যার ফলে তারা বিভ্রান্তি ও মতানৈক্যের মধ্যে নিপতিত হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে বাহ্যিক বা শাব্দিক অর্থে (ظاهر) গ্রহণ করে এবং বিশ্বাস করে যে, এটিই আল্লাহর বাণীর প্রকৃত উদ্দেশ্য; এমতাবস্থায় যখন তাফসিরের কিতাবসমূহ থেকে বর্ণিত কোনো বিষয় এর পরিপন্থী হয়, তখন সম্ভবত সেটিকে সে অস্বীকার করে অথবা বিষয়টি তার নিকট অস্পষ্ট (مشكل) হয়ে পড়ে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং মনে করে যে, এটি আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ ও অপবাদ!! হায়! তারা যদি এমনটি করত, তবে তারা আমাদের এই বিভ্রান্তি থেকে নিষ্কৃতি দিত এবং নিজেরাও মানুষের সমালোচনা এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে কুফরি ও বিকৃতির (إلحاد) অপবাদ থেকে রেহাই পেত!! …