(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: -)
شرح القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى القسم: العقيدة
الكتاب: شرح «القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى، للعلامة ابن عثيمين رحمه الله»
(تمت مقابلة المتن على طبعة مؤسسة ابن عثيمين الخيرية)
المؤلف: محمد بن خليفة التميمي
الناشر: دار منار التوحيد للنشر - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1441 هـ
عدد الصفحات: 204
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 صفر 1444
আল্লাহর গুণাবলি ও সুন্দর নামসমূহের শ্রেষ্ঠ মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা বিভাগ: আক্বিদাহ
বই: আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত «আল্লাহর গুণাবলি ও সুন্দর নামসমূহের শ্রেষ্ঠ মূলনীতিসমূহ, এর ব্যাখ্যা»
(মূল পাঠটি ইবনে উসাইমিন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমি
প্রকাশক: দার মানারুত তাওহীদ পাবলিশিং - মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ সফর ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدِّمة المُصَنِّفبسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه ونتوب إليه، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا ومِن سيئات أعمالنا، مَنْ يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلل فلا هاديَ له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريكَ له، وأشهد أنَّ محمدًا عبدُه ورسوله، صَلَّى الله وعلى آله وأصحابه ومَن تَبِعهم بإحسانٍ وسَلَّم تسليمًا.
وبعدُ: فإنَّ الإيمانَ بأسماءِ الله وصفاتِه أحدُ أركانِ الإيمان باللهِ تعالى، وهي الإيمانُ بوجود الله تعالى، والإيمان بربوبيته، والإيمان بألوهيته، والإيمان بأسمائه وصفاته.
وتوحيدُ الله به أحدُ أقسامِ التَّوحيد الثلاثة: توحيد الربوبية. وتوحيد الألوهية. وتوحيد الأسماء والصِّفات».
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথ প্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের উপর প্রচুর পরিমাণে দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনয়ন করা আল্লাহ তায়ালার প্রতি ঈমানের অন্যতম একটি স্তম্ভ। আর তা হলো: আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের প্রতি ঈমান, তাঁর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) প্রতি ঈমান, তাঁর উলুহিয়্যাহর (উপাসনার) প্রতি ঈমান এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান।
আর এর মাধ্যমে আল্লাহর তাওহীদ সাব্যস্ত করা তাওহীদের তিন প্রকারের অন্যতম একটি প্রকার। (তাওহীদের প্রকারগুলো হলো): তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ)।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الشَّارحبسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا؛ مَنْ يهدِه اللهُ فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا، ثم أما بعد ..
فقد بدأ المصنف رحمه الله هذه المقدمة بالإشارة إلى أهمية هذا الباب؛ فأشار أولًا إلى أن هذا الباب هو جزء وركن من أركان باب (الإيمان بالله سبحانه وتعالى، ومعلوم أن إيمانَ العبد وتوحيدَه لا يتمُّ إلا بأن يكون العبدُ مُوَحِّدًا لله سبحانه وتعالى في رُبوبيته وأسمائه وصفاته، وموحدًا له في عبادته سبحانه وتعالى؛ فلا بد من تحقيق هذين التوحيدين حتى يكونَ العبدُ مؤمنًا بالله تعالى، موحدًا لله.
أقسام التوحيد:تَنَوَّعَت عباراتُ علماء أهل السُّنَّة في التعبير عن أنواع التوحيد، ولكنها مع ذلك التنوع متفقة في المضمون، ولعل السبب في ذلك هو أن تلك التقسيمات مأخوذ من استقراء النصوص، ولم يُنص عليها باللفظ مباشرة، ولذلك فمن العلماء
(1) مَنْ قَسَّم التوحيد إلى ثلاثة أقسام، هي:
1 - توحيد الرُّبوبية: وهو إفراد الله بأفعاله كالخلق والرزق.
--------------------------------------------
ব্যাখ্যাকারীর ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর দুরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর...
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই অধ্যায়ের গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে এই ভূমিকা শুরু করেছেন। তিনি প্রথমে ইঙ্গিত করেছেন যে, এই অধ্যায়টি 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ওপর ঈমান' এর একটি অংশ এবং স্তম্ভ। এটা সুবিদিত যে, কোনো বান্দার ঈমান ও তাওহীদ ততক্ষণ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না বান্দা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব), তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিতে একত্ববাদী হয় এবং তাঁর ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করে। সুতরাং বান্দাকে আল্লাহ তায়ালার প্রতি মুমিন ও তাওহীদপন্থী হতে হলে এই উভয় প্রকার তাওহীদ অর্জন করা আবশ্যক।
তাওহীদের প্রকারভেদ:তাওহীদের প্রকারসমূহ বর্ণনায় আহলে সুন্নাহর আলেমদের অভিব্যক্তিতে বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে এই বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সেগুলো মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ। সম্ভবত এর কারণ হলো, এই বিভাজনগুলো দলীলসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে, এগুলো সরাসরি কোনো শব্দে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। এ কারণেই আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ তাওহীদকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:
১ - তাওহীদে রুবুবিয়াত: আর তা হলো আল্লাহর কার্যাবলিতে (যেমন—সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া) তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৮)
2 - توحيد الأسماء والصفات: وقد تقدم ذكر تعريفه.
3 - توحيد الألوهية: وهو إفراد الله بأفعال العباد التعبدية؛ كالصلاة، والصوم، والدعاء.
ومِن المتأخرين مَنْ زاد قسمًا رابعًا على الأقسام الثلاثة السَّابقة، وسمَّاه:
4 - توحيد الاتباع، أو توحيد الحاكمية (أي: التحاكم إلى الكتاب والسنة)، ولكن يُلاحظ على مَنْ ذكر هذا القسم أنَّ هذا القسم في الحقيقة داخل ضمن توحيد الألوهية؛ لأن العبادة لا تُقبل شرعًا إلا بشرطين هما:
1 - الإخلاص.
2 - الاتِّباع.
كما قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً}.
ومن العلماء من قَسَّم التوحيد إلى قسمين، وهذا هو الأغلب في كلام أهل العلم المتقدمين؛ لأنهم يَجمعون بين توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وذلك بالنظر إلى أنهما يُشكلان بمجموعهما جانب العلم بالله ومعرفته عز وجل؛ فجمعوا بينهما لذلك، بينما توحيد الألوهية يُشكل جانب العمل لله.
وتَقسيم التوحيد إلى ثلاثة أقسام راجع إلى اعتبار مُتَعَلَّق التوحيد، وتقسيمه إلى قسمين راجع إلى اعتبار ما يجب على المُوَحِّد.
فمن العلماء من يقول: التوحيد قسمان
(1):
القسم الأول: توحيد المعرفة والإثبات:
ويُريد به توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وسُمِّي بتوحيد المعرفة؛ لأن معرفة الله عز وجل إنما تكون بمعرفة أسمائه وصفاته وأفعاله.
--------------------------------------------
২ - তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলির তাওহীদ): ইতোপূর্বে এর সংজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ - তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ: আর তা হলো বান্দার ইবাদতমূলক কার্যাবলির মাধ্যমে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা; যেমন: সালাত, সাওম এবং দুআ।
পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ পূর্বোক্ত তিনটি প্রকারের সাথে চতুর্থ একটি প্রকার যোগ করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন:
৪ - তাওহীদুল ইত্তিবা বা তাওহীদুল হাকিমিয়্যাহ (অর্থাৎ: কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করা)। তবে যারা এই প্রকারটি উল্লেখ করেছেন তাদের ব্যাপারে লক্ষণীয় যে, এই প্রকারটি প্রকৃতপক্ষে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত; কারণ শরিয়ত অনুযায়ী ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে, আর তা হলো:
১ - ইখলাস (একনিষ্ঠতা)।
২ - ইত্তিবা (অনুসরণ)।
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে}।
কোনো কোনো আলেম তাওহীদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং পূর্ববর্তী আলেমদের কথায় এটিই অধিক প্রচলিত; কারণ তারা তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতকে একত্রে উল্লেখ করেন। এর কারণ হলো, এ দুটি প্রকার সম্মিলিতভাবে মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান ও পরিচয়ের দিকটি তুলে ধরে; তাই তারা এ দুটিকে একত্র করেছেন। অন্যদিকে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমল বা কর্মের দিকটি তুলে ধরে।
তাওহীদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে তাওহীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিবেচনায়, আর একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে তাওহীদপন্থীর (মুওয়াহহিদ) ওপর যা ওয়াজিব বা আবশ্যক তার বিবেচনায়।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: তাওহীদ দুই প্রকার
(১):
প্রথম প্রকার: তাওহীদুল মারেফাহ ওয়াল ইসবাত (পরিচয় ও সাব্যস্তকরণের তাওহীদ):
এর দ্বারা তিনি তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতকে বুঝিয়েছেন। একে তাওহীদুল মারেফাহ (পরিচয়ের তাওহীদ) নামকরণ করা হয়েছে কারণ মহান আল্লাহর পরিচয় কেবল তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি জানার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৯)
والإثبات: أي: إثبات ما أثبته اللهُ لنفسه من الأسماء والصفات والأفعال.
القسم الثاني: توحيد القَصد والطَّلب:
ويُراد به الألوهية، وسُمِّي بتوحيد القصد والطلب؛ لأن العبد يتوجه بقلبه ولسانه وجوارحه بالعبادة لله وحده؛ رغبة ورهبة، ويُقصد بذلك وجه الله وابتغاء مرضاته.
ومن العلماء مَنْ يُقَسِّم التوحيد إلى قِسمين هما
(1):
القسم الأول: التوحيد العلمي الخبري:
والمقصود به: توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات.
وسُمِّي بالتوحيد العلمي: لأنَّه يَعتني بجانب معرفة الله، فالعلمي أي: (العلم بالله).
والخبري: لأنَّه يَتوقف على الخبر، أي: (الكتاب والسنة).
القسم الثاني: التوحيد الإرادي الطلبي:
والمقصود به: توحيد الألوهية، وسُمِّي بالتوحيد الإرادي؛ لأن العبد له في العبادات إرادة، فهو إمَّا أن يقوم بتلك العبادة أو لا يقوم بها، وسمي بالطلبي؛ لأن العبد يطلب بتلك العبادات وجه الله ويقصده عز وجل بذلك.
ومِن العلماء مَنْ يُقَسِّم التوحيد إلى قسمين؛ فيقول
(2):
القسم الأول: التوحيد القولي:
والمراد به: توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وسُمِّي بالقولي؛
--------------------------------------------
এবং সাব্যস্তকরণ: অর্থাৎ আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি সাব্যস্ত করেছেন, তা সাব্যস্ত করা।
দ্বিতীয় প্রকার: উদ্দেশ্য ও অন্বেষণের তাওহীদ (তাওহীদুল কাসদ ওয়াত তলাব):
এর দ্বারা উলুহিয়্যাহ বা উপাসনার তাওহীদকে বোঝানো হয়। একে উদ্দেশ্য ও অন্বেষণের তাওহীদ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ বান্দা তার অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ইবাদতের মাধ্যমে আশা ও ভয়ের সাথে একমাত্র আল্লাহর দিকেই ধাবিত হয়; আর এর মাধ্যমে সে আল্লাহর চেহারা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ তাওহীদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো
(১):
প্রথম প্রকার: জ্ঞানগত ও সংবাদগত তাওহীদ (তাওহীদুল ইলমি আল-খবরী):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: প্রভুত্বের তাওহীদ (তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ) এবং নাম ও গুণাবলির তাওহীদ (তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত)।
একে জ্ঞানগত (ইলমি) তাওহীদ বলা হয়: কারণ এটি আল্লাহর পরিচয় লাভের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব ইলমি অর্থ: (আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান)।
আর সংবাদগত (খবরী): কারণ এটি সংবাদের (ওহীর খবরের) ওপর নির্ভরশীল, অর্থাৎ: (কিতাব ও সুন্নাহ)।
দ্বিতীয় প্রকার: ইচ্ছাকৃত ও অন্বেষণমূলক তাওহীদ (তাওহীদুল ইরাদী আত-তলাবী):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উলুহিয়্যাহ বা উপাসনার তাওহীদ। একে ইচ্ছাকৃত (ইরাদী) তাওহীদ বলা হয়; কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে বান্দার ইচ্ছা রয়েছে, ফলে সে হয় সেই ইবাদত সম্পাদন করে অথবা তা বর্জন করে। আর একে অন্বেষণমূলক (তলাবী) বলা হয়; কারণ বান্দা এই ইবাদতসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করে এবং এর দ্বারা মহান আল্লাহকেই উদ্দেশ্য করে।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ তাওহীদকে দুই ভাগে ভাগ করেন; এবং বলেন
(২):
প্রথম প্রকার: বাচনিক তাওহীদ (তাওহীদুল কওলী):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: প্রভুত্বের তাওহীদ এবং নাম ও গুণাবলির তাওহীদ। একে বাচনিক (কওলী) বলা হয়;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১০)
لأنه في مقابل توحيد الألوهية الذي يُشكل الجانب العلمي من التوحيد، وأما هذا الجانب فهو مختص بالجانب القولي العلمي.
القسم الثاني: التوحيد العملي:
والمراد به: توحيد الألوهية، وسُمِّي بالعملي؛ لأنه يشمل كلًّا من عمل القلب وعمل اللسان وعمل الجوارح التي تشكل بمجموعها جانب العمل من التوحيد.
فالتوحيد له جانبان: جانب تصديقي علمي. وجانب انقيادي عملي.
ومِن العلماء مَنْ يُقَسِّم التوحيد إلى قسمين؛ فيقول:
القسم الأول: توحيد السِّيادة:
ويُعنى بذلك: توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وسُمِّي بذلك؛ لأن تفرد الله بأفعاله وأسمائه وصفاته يُوجب له القيادة المطلقة والتصرف التام في هذا الكون خلقًا ورزقًا وإحياء وإماتة وتصرُّفًا وتدبيرًا سبحانه وتعالى، فمن واجب الموحد أن يُفرد الله بذلك.
والقسم الثاني: توحيد العبادة:
المراد به: توحيد الألوهية، وتسميته بذلك واضحة لا تحتاج إلى مزيد تفصيل.
وهذا ما وقفت عليه من تقسيمات العلماء للتوحيد، وهي واحدة من حيث مضمونها، كما سبق إيضاح ذلك من خلال ربطها بالتقسيم الأول، ولذا فإن الاختلاف بينها مُنحصر في الألفاظ فقط، والله أعلم.
وأما عن (العلاقة بين هذه الأقسام للتوحيد)، فأقول:
هذه الأقسام تُشكل بمجموعها جانب الإيمان بالله الذي نُسميه التوحيد، فلا يكمل لأحد توحيده إلا باجتماع أنواع التوحيد الثلاثة، فهي متكافلة
কারণ এটি তাওহিদুল উলুহিয়্যাহর বিপরীতে, যা তাওহিদের জ্ঞানগত দিক গঠন করে, আর এই দিকটি বাচনিক ও জ্ঞানগত বিষয়ের সাথে খাস।
দ্বিতীয় প্রকার: আমলগত তাওহিদ:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ। একে আমলগত বলা হয়; কারণ এটি অন্তরের আমল, জিহ্বার আমল এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল—সবকিছুকে শামিল করে, যা সামগ্রিকভাবে তাওহিদের কর্মগত দিক গঠন করে।
সুতরাং তাওহিদের দুটি দিক রয়েছে: বিশ্বাসগত ও জ্ঞানগত দিক এবং অনুসরণমূলক ও কর্মগত দিক।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ তাওহিদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন; তাঁরা বলেন:
প্রথম প্রকার: সার্বভৌমত্বের তাওহিদ:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাওহিদ। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ; আল্লাহ তাআলা তাঁর কার্যাবলি, নামসমূহ ও গুণাবলিতে একক হওয়া এই মহাবিশ্বে তাঁর জন্য নিরঙ্কুশ নেতৃত্ব এবং সৃষ্টি, রিযিক দান, জীবনদান, মৃত্যুদান, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পূর্ণ কর্তৃত্বকে সাব্যস্ত করে—তিনি পবিত্র ও মহান। সুতরাং একজন একত্ববাদীর কর্তব্য হলো আল্লাহকে এসবে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা।
দ্বিতীয় প্রকার: ইবাদতের তাওহিদ:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ। এর নামকরণটি স্পষ্ট, যা অধিক বিবরণের প্রয়োজন রাখে না।
তাওহিদের প্রকারভেদ সম্পর্কে আলেমদের নিকট থেকে আমি এগুলোই পেয়েছি। বিষয়বস্তুর দিক থেকে এগুলো অভিন্ন, যেমনটি ইতিপূর্বে প্রথম প্রকারভেদের সাথে সংশ্লিষ্ট করার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই এদের মধ্যাকার পার্থক্য কেবল শব্দগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর (তাওহিদের এই প্রকারগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক) প্রসঙ্গে আমি বলব:
এই প্রকারগুলো সামগ্রিকভাবে আল্লাহর প্রতি ঈমানের সেই দিকটি গঠন করে যাকে আমরা তাওহিদ বলি। সুতরাং তাওহিদের এই তিন প্রকারের সমন্বয় ছাড়া কারো তাওহিদ পূর্ণাঙ্গ হয় না; এগুলো পরস্পর নির্ভরশীল এবং একে অপরের পরিপূরক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১১)
متلازمة يكمل بعضها بعضًا، ولا يمكن الاستغناء ببعضها عن الآخر، فلا ينفع توحيد الربوبية بدون توحيد الألوهية، وكذلك لا يصح- ولا يقوم- توحيد الألوهية بدون توحيد الربوبية، وكذلك توحيد الله في ربوبيته وألوهيته لا يستقيم بدون توحيد الله في أسمائه وصفاته، فالخلل والانحراف في أيِّ نوع منها هو خلل في التوحيد كله، (فمعرفة الله لا تكون بدون عبادته، والعبادة لا تكون بدون معرفة الله، فهما متلازمان)
(1).
وقد أوضح بعضُ أهل العلم هذه العلاقة بقوله: «هي علاقة تلازم وتضمن وشمول».
فتوحيد الربوبية مُستلزم لتوحيد الألوهية.
وتوحيد الألوهية متضمن لتوحيد الربوبية.
وتوحيد الأسماء والصفات شامل للنوعين معًا.
بيان ذلك: أنَّ مَنْ أقرَّ بتوحيد الربوبية، وعلم أنَّ الله سبحانه هو الرب وحده لا شريك له في ربوبيته لَزمه
(2) من ذلك الإقرار أن يُفرد الله بالعبادة وحده سبحانه وتعالى؛ لأنه لا يصلح أن يعبد إلا من كان ربًّا خالقًا مالكًا مدبرًا، وما دام كله لله وحده وجب أن يكون هو المعبود وحده.
ولهذا جَرَت سُنَّة القرآن الكريم على سوق آيات الربوبية مَقرونة بآيات الدعوة إلى توحيد الألوهية، ومن أمثلة ذلك:
قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَكُمْ فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَاداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ}.
--------------------------------------------
এটি একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয় যা একে অপরকে পূর্ণ করে এবং এর একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির প্রয়োজন মিটানো সম্ভব নয়। সুতরাং উলুহিয়্যাতের তাওহীদ ব্যতীত রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ কোনো উপকারে আসে না। অনুরূপভাবে, রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ ব্যতীত উলুহিয়্যাতের তাওহীদ সঠিক হয় না এবং তা প্রতিষ্ঠিতও হয় না। ঠিক তেমনই আল্লাহর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের তাওহীদ তাঁর নাম ও গুণাবলির তাওহীদ ব্যতীত সঠিক হয় না। সুতরাং এর যেকোনো একটি প্রকারের মধ্যে ত্রুটি ও বিচ্যুতি ঘটা মানেই পুরো তাওহীদের মধ্যেই ত্রুটি ঘটা। (কেননা আল্লাহকে চেনা বা তাঁর মারিফাত তাঁর ইবাদত ব্যতীত হয় না, আর ইবাদতও আল্লাহকে চেনা ব্যতীত হয় না; সুতরাং এ দুটি পরস্পর অবিচ্ছেদ্য)
(১)।
আর কিছু আলেম এই সম্পর্কটিকে এভাবে স্পষ্ট করেছেন: «এটি হলো অপরিহার্যতা (তালাজুম), অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদাম্মুন) এবং ব্যাপকতার (শুমুল) সম্পর্ক।»
সুতরাং রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ উলুহিয়্যাতের তাওহীদকে অপরিহার্য করে।
আর উলুহিয়্যাতের তাওহীদ রুবুবিয়্যাতের তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এবং নাম ও গুণাবলির তাওহীদ উভয় প্রকারকেই ব্যাপকভাবে ধারণ করে।
এর ব্যাখ্যা হলো: যে ব্যক্তি রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ স্বীকার করল এবং জানল যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই একমাত্র রব, যাঁর রুবুবিয়্যাতে কোনো শরীক নেই, তবে সেই স্বীকৃতির দাবি অনুযায়ী
(২) তার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকেই একমাত্র ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ যিনি রব, স্রষ্টা, মালিক এবং পরিচালক—তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য হতে পারেন না। আর যেহেতু এই সবকিছুই একমাত্র আল্লাহর জন্য, তাই তিনিই একমাত্র মা'বুদ হওয়া ওয়াজিব।
এই কারণেই কুরআন কারীমের রীতি হলো রুবুবিয়্যাতের আয়াতগুলোকে উলুহিয়্যাতের তাওহীদের দিকে আহ্বানের আয়াতের সাথে মিলিয়ে পেশ করা। এর উদাহরণ হলো:
মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দিয়ে তোমাদের রিযিক হিসেবে ফলমূল উৎপন্ন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করাবে না।}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأمَّا توحيد الألوهية فهو متضمن لتوحيد الربوبية؛ لأنَّ مَنْ عبد الله ولم يُشرك به شيئًا فهذا يدل ضمنًا على أنه قد اعتقد بأن الله هو ربه ومالكه الذي لا ربَّ غيره.
وهذا أمر يشاهده المُوحد من نفسه، فكونه قد أفرد الله بالعبادة ولم يَصرف شيئًا منها لغير الله، ما هو إلا لإقراره بتوحيد الربوبية، وأنه لا ربَّ ولا مالك ولا متصرف إلا الله وحده.
وأمَّا توحيد الأسماء والصفات فهو شامل للنَّوعين معًا، وذلك لأنه يقوم على إفراد الله تعالى بكلِّ ما له من الأسماء الحسنى والصفات العُلى التي لا تنبغي إلا له سبحانه وتعالى، والتي من جملتها: الرَّب- الخالق- الرازق- الملك، وهذا هو توحيد الربوبية.
ومن جملتها: الله- الغفور- الرحيم- التَّواب، وهذا هو توحيد الألوهية
(1).
فائدة: القرآن كله دعوة للتوحيد.
قال ابنُ القيم رحمه الله: «كلُّ سُورة في القرآن هي متضمنة للتوحيد، بل نقول قولًا كليًّا: إن كل آية في القرآن فهي متضمنة للتوحيد، شاهدة به، داعية إليه.
فإن القرآن:
1 - إمَّا خبر عن الله وأسمائه وصفاته وأفعاله، فهو التوحيد العلمي الخبري.
2 - وإمَّا دعوة إلى عبادته وحده لا شريك له، وخلع كل ما يعبد من دونه، فهو التوحيد الإرادي الطلبي.
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করে না, তা পরোক্ষভাবে একথারই প্রমাণ দেয় যে, সে বিশ্বাস করে আল্লাহই তার রব ও মালিক এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোনো রব নেই।
আর এটি এমন একটি বিষয় যা একজন তাওহীদবাদী নিজের মধ্যেই প্রত্যক্ষ করে। তার ইবাদতকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা এবং এর কোনো অংশই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন না করা মূলত তার তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতিরই ফল, আর এটিই সাক্ষ্য দেয় যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো রব, মালিক ও নিয়ন্ত্রক নেই।
পক্ষান্তরে তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত পূর্বোক্ত উভয় প্রকারকেই শামিল করে। কারণ এটি আল্লাহ তাআলার সমস্ত সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলিতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা একমাত্র তাঁরই জন্য শোভনীয়। এসব নামের মধ্যে রয়েছে: আর-রব, আল-খালিক, আর-রাযযাক, আল-মালিক—আর এটিই হলো তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ।
আর এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ, আল-গফুর, আর-রাহীম, আত-তাওয়াব—আর এটিই হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ
(১)।
ফায়দা: পুরো কুরআনই তাওহীদের দাওয়াত।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «কুরআনের প্রতিটি সূরা তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে, বরং আমরা সামগ্রিকভাবে এই কথা বলি যে: কুরআনের প্রতিটি আয়াত তাওহীদকে ধারণ করে, এর সাক্ষ্য দেয় এবং এর প্রতি আহ্বান জানায়।
কেননা কুরআন হলো:
১ - হয় আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে সংবাদ, যা হলো তাওহীদুল ইলমি আল-খবরী।
২ - অথবা তাঁর একনিষ্ঠ ইবাদতের দিকে আহ্বান যার কোনো শরীক নেই এবং তিনি ব্যতীত যা কিছু উপাসনা করা হয় তা বর্জন করা, যা হলো তাওহীদুল ইরাদী আত-তলাবী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
3 - وإمَّا أمر ونهي، وإلزام بطاعته في نهيه وأمره، فهي حقوق التوحيد ومكملاته.
4 - وإمَّا خبر عن كرامة الله لأهل توحيده وطاعته، وما فعل بهم في الدنيا، وما يُكرمهم به في الآخرة، فهو جزاء توحيده.
5 - وإمَّا خبر عن أهل الشرك، وما فُعل بهم في الدنيا من النِّكال، وما يحل بهم في العقبى من العذاب، فهو خبر عمن خرج عن حكم توحيده.
فالقرآن كله في التوحيد وحقوقه وجزائه، وفي شأن الشرك وأهله وجَزائهم»
(1).
--------------------------------------------
৩ - অথবা এটি আদেশ ও নিষেধ এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনে তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা; আর এগুলো হলো তাওহীদের অধিকার ও তার পরিপূরকসমূহ।
৪ - অথবা এটি তাওহীদপন্থী ও তাঁর অনুগত বান্দাদের প্রতি আল্লাহর সম্মান প্রদর্শন এবং দুনিয়াতে তিনি তাঁদের সাথে কীরূপ আচরণ করেছেন ও আখিরাতে তাঁদের কী দিয়ে সম্মানিত করবেন সেই সংবাদ; আর এটি হলো তাওহীদের পুরস্কার।
৫ - অথবা এটি মুশরিকদের সংবাদ এবং দুনিয়াতে তাঁদের ওপর আপতিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরকালে তাঁদের ওপর যে আযাব নেমে আসবে সেই সংবাদ; আর এটি হলো তাদের সংবাদ যারা তাওহীদের বিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
সুতরাং পুরো কুরআনই তাওহীদ, এর অধিকার ও এর পুরস্কার সম্পর্কে এবং শিরক, এর অনুসারী ও তাদের প্রতিফল প্রসঙ্গে।
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال المصنف رحمه الله:
«فمنزلتُه في الدين عاليةٌ، وأهميتُه عظيمةٌ، ولا يُمكن أحدًا أن يَعبد الله على الوجه الأكمل حتى يكونَ على علمٍ بأسماء الله تعالى وصفاته؛ ليَعبده على بصيرةٍ، قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]. وهذا يشملُ دعاء المسألة، ودعاء العبادة.
فدعاء المسألة: أن تُقَدِّم بين يدي مَطلوبك من أسماء الله تعالى ما يكون مناسبًا؛ مثل أن تقول: يا غفور؛ اغفر لي. ويا رحيم؛ ارحمني. ويا حفيظ؛ احفظني. ونحو ذلك.
ودعاء العبادة: أن تَتعبد للهِ- تعالى- بمُقتضى هذه الأسماء؛ فتقوم بالتَّوبة إليه؛ لأنَّه التواب، وتذكره بلسانك؛ لأنه السَّميع، وتتعبد له بجوارحك؛ لأنَّه البصير، وتخشاه في السر؛ لأنه اللطيف الخبير، وهكذا.
ومِن أجل مَنزلته هذه، ومِن أجل كلامِ النَّاس فيه بالحق تارة، وبالباطل النَّاشئ عن الجهل أو التَّعصب تارة أخرى- أحببتُ أن أكتب فيه ما تَيَسَّر من القواعد؛ راجيًا مِنْ الله تعالى أن يَجعل عملي خالصًا لوجهه، موافقًا لمرضاته، نافعًا لعباده.
وسمَّيْتُه: «القواعد المُثلى في صفات الله تعالى وأسمائه الحسنى».
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
«দ্বীনের মধ্যে এর মর্যাদা সুউচ্চ এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ছাড়া কারো পক্ষেই আল্লাহ তাআলার ইবাদত যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়; যাতে করে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর ইবাদত করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে অতি উত্তম নামসমূহ। কাজেই তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।} [আল-আরাফ: ১৮০]। আর এটি প্রার্থনামূলক দোয়া এবং ইবাদতমূলক দোয়া—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রার্থনামূলক দোয়া হলো: তোমার প্রার্থিত বিষয়ের আগে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ থেকে উপযুক্ত কোনো নাম পেশ করা; যেমন তোমার বলা: হে ক্ষমাশীল, আমাকে ক্ষমা করুন; হে দয়ালু, আমার প্রতি দয়া করুন; হে রক্ষাকর্তা, আমাকে রক্ষা করুন; এবং এই জাতীয়।
আর ইবাদতমূলক দোয়া হলো: আল্লাহ তাআলার এই নামসমূহের দাবি অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করা। সুতরাং তুমি তাঁর কাছে তওবা করবে; কারণ তিনি তওবা কবুলকারী। তোমার জিহ্বা দ্বারা তাঁকে স্মরণ করবে; কারণ তিনি সর্বশ্রোতা। তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে তাঁর ইবাদত করবে; কারণ তিনি সর্বদ্রষ্টা। আর গোপনে তাঁকে ভয় করবে; কারণ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত। এমনিভাবে অন্যান্য।
এর এই উচ্চ মর্যাদার কারণে এবং কখনো সত্যের সাথে, আবার কখনো অজ্ঞতা বা গোঁড়ামি থেকে উদ্ভূত বাতিলের সাথে এ বিষয়ে মানুষের কথা বলার কারণে—আমি এ বিষয়ে যতটুকু সহজসাধ্য হয় কিছু মূলনীতি লিখতে চেয়েছি; আল্লাহ তাআলার কাছে এই আশা রেখে যে, তিনি আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করবেন, তাঁর পছন্দের অনুগামী করবেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করবেন।
আর আমি এর নামকরণ করেছি: «আল্লাহ তাআলার গুণাবলি ও তাঁর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাপারে সর্বোত্তম মূলনীতিসমূহ»।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الشَّرح
أهمية توحيد الأسماء والصفات:
تتجلى أهمية توحيد الأسماء الحُسنى والصِّفات العُلى في الأسباب التالية:
أولًا: هذا التوحيد شَطر باب الإيمان بالله تعالى:
لا يخفى على المسلم أهمية الإيمان بالله، فهو أول أركان الإيمان، بل هو أعظمها، فما بقية الأركان إلا تَبَع له وفرع عنه، وهو أهم ما خُلق لها الخلق، وأُرسلت به الرسل، وأُنزلت به الكتب، وأُسِّست عليه الملة؛ فالإيمان بالله هو أساس كل خير، ومصدر كل هداية، وسبب كل فلاح، ذلك لأنَّ الإنسان لما كان مخلوقًا مَربوبًا عاد في علمه وعمله إلى خالقه وبارئه؛ فبه يهتدي، وله يعمل، وإليه يصير، فلا غِنى له عنه، وانصرافه إلى غيره هو عين هلاكه وفساده، والإنسان له بالله عن كل شيء عِوض، وليس لكل شيء عن الله عوض؛ فليس للعبد صلاح ولا فلاح إلا بمعرفة ربِّه وعبادته، فإذا حصل له ذلك فهو الغاية المرادة له والتي خُلق من أجلها، فما سوى ذلك إما فضل نافع، أو فُضول غير نافعة، أو فضول ضارة، ولهذا صارت دعوة الرسل لأممهم إلى الإيمان بالله وعبادته؛ فكل رسول يبدأ دعوته بذلك كما يُعلم من تَتبع دعوات الرسل في القرآن.
وملاك السعادة والنجاة والفوز يكون بتحقيق التوحيدين اللذين عليهما يقوم الإيمان بالله تعالى، وبتحقيقهما بَعث الله سبحانه وتعالى رسوله صلى الله عليه وسلم، وإليه دَعت الرسل- صلوات الله وسلامه عليهم- من أولهم إلى آخرهم.
وأحدهما: التوحيد العِلمي الخبري الاعتقادي المتضمن إثبات صفات الكمال لله تعالى، وتنزيهه فيها عن التشبيه والتمثيل، وتنزيهه عن صفات النقص.
ব্যাখ্যা
নাম ও গুণাবলির তাওহিদের গুরুত্ব:
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির তাওহিদের গুরুত্ব নিম্নলিখিত কারণসমূহের মাধ্যমে প্রকাশ পায়:
প্রথমত: এই তাওহিদ হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের প্রবেশদ্বারের অর্ধেক:
আল্লাহর প্রতি ঈমানের গুরুত্ব কোনো মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়, কারণ এটি ঈমানের প্রথম স্তম্ভ, বরং এটি তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। বাকি স্তম্ভগুলো তো কেবল এরই অনুসারী ও এরই শাখা। এটিই হলো সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার জন্য সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, যার মাধ্যমে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং যার ওপর ভিত্তি করেই ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো সকল কল্যাণের মূলভিত্তি, সকল হিদায়াতের উৎস এবং সকল সাফল্যের কারণ। এর কারণ হলো, মানুষ যখন একজন সৃষ্ট ও প্রতিপালিত জীব, তখন তার জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে সে তার স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; তাঁর মাধ্যমেই সে পথনির্দেশ পায়, তাঁর জন্যই সে আমল করে এবং তাঁর দিকেই সে ফিরে যায়। তাঁকে ছাড়া মানুষের কোনো গতি নেই, আর তাঁকে ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ফিরে যাওয়া হলো নিশ্চিত ধ্বংস ও বিপর্যয়। মানুষের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে অন্য সবকিছুর বিকল্প রয়েছে, কিন্তু আল্লাহর কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং আপন রবকে জানা এবং তাঁর ইবাদত করা ব্যতীত বান্দার কোনো সংশোধন বা সফলতা নেই। যখন সে এটি লাভ করে, তখন এটাই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা হয় উপকারী অতিরিক্ত বিষয়, অথবা অপকারী বা অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য। এ কারণেই রাসূলগণের নিজ উম্মতদের প্রতি দাওয়াতের বিষয় ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর ইবাদত। কুরআনে রাসূলগণের দাওয়াতের ধারা অনুসরণ করলে জানা যায় যে, প্রত্যেক রাসূলই এই আহ্বানের মাধ্যমে তাঁর দাওয়াত শুরু করেছিলেন।
সৌভাগ্য, মুক্তি ও সফলতার মূল নিহিত রয়েছে সেই দুই তাওহিদ বাস্তবায়নের মধ্যে যার ওপর মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান প্রতিষ্ঠিত। আর এই দুই তাওহিদ বাস্তবায়নের জন্যই মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল রাসূল—তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর দিকেই দাওয়াত দিয়েছেন।
তার একটি হলো: জ্ঞানমূলক, সংবাদভিত্তিক ও বিশ্বাসগত তাওহিদ, যা মহান আল্লাহর জন্য পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং তাঁকে সাদৃশ্য ও উপমা থেকে পবিত্র রাখা এবং সব ধরণের ত্রুটিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الإمامُ ابنُ القَيِّم رحمه الله: «ولا ريبَ أنَّ العِلم به وبأسمائه وصفاته وأفعاله أَجَلُّ العلوم وأَفضلها، ونِسبته إلى سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات، وكما أنَّ العلمَ به أَجَلُّ العلوم وأشرفُها، فهو أصلها كلها، كما أنَّ كل موجود فهو مستند في وجوده إلى الملك الحق المبين ومفتقر اليه في تحقق ذاته وأينيته، وكل علم فهو تابع للعلم به مُفتقر في تحقق ذاته إليه، فالعلم به أصل كل علم، كما أنَّه- سبحانه- ربُّ كل شيء ومليكه ومُوجده
… »، إلى أن قال: «فالعِلم بذاته- سبحانه- وصفاته وأفعاله يستلزم العلم بما سواه فهو- في ذاته- ربُّ كل شيء ومليكه، والعلم به أصل كل علم ومَنشؤه؛ فمَن عَرف الله عرف ما سواه، ومَن جهل ربَّه فهو لما سواه أجهل»
(1).
والتوحيد الثاني: عبادته وحده لا شريك له، وتجريد محبته والإخلاص له وخوفه ورجاؤه والتوكل عليه، والرضا به ربًّا وإلهًا ووليًّا، وأن لا يَجعل له عدلًا في شيء من الأشياء.
وقد جمع سبحانه وتعالى هذين النوعين في سورتي الإخلاص، وهما سورة: {قُلْ يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ} المتضمنة للتوحيد العملي الإرادي.
وسورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} المتضمنة للتوحيد العلمي الخبري.
فسورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} فيها بيانُ ما يجب لله تعالى من صفات الكمال، وبيان ما يجب تنزيهه عنه من النقائص والأمثال.
وسورة {قُلْ يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ} فيها إيجاب عبادته وحده لا شريك له، والتبري من عبادة كل ما سواه.
ولا يتمُّ أحدُ التوحيدين إلا بالآخر، ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ بهاتين السورتين في سُنَّة الفجر والوتر والمغرب، وقد ورد كذلك في سُنَّة المغرب
--------------------------------------------
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «নিঃসন্দেহে আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সকল ইলমের মধ্যে সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ। অন্যান্য সকল ইলমের সাথে এই ইলমের সম্পর্ক ঠিক তেমনই, যেমনটি অন্যান্য সকল বিষয়ের তুলনায় স্বয়ং মাবুদের মর্যাদা। আর যেমনভাবে আল্লাহ সংক্রান্ত ইলম সবচেয়ে মহান ও সম্মানিত, তেমনি এটি সকল ইলমের মূল ভিত্তি। যেমনভাবে প্রতিটি অস্তিত্বশীল বিষয় তার অস্তিত্বের জন্য মহাসত্য ও সুস্পষ্ট অধিপতির মুখাপেক্ষী এবং স্বীয় সত্তা ও অবস্থানের বাস্তবায়নে তাঁরই মুখাপেক্ষী, তদ্রূপ প্রতিটি জ্ঞানই তাঁর সম্পর্কিত জ্ঞানের অনুসারী এবং নিজস্ব সত্তাগত সার্থকতায় তাঁরই মুখাপেক্ষী। সুতরাং আল্লাহ সংক্রান্ত ইলমই সকল ইলমের মূল, যেমনটি তিনি—সুবহানাহু—সবকিছুর প্রতিপালক, মালিক ও অস্তিত্বদানকারী
… »; তিনি আরও বলেন: «সুবহানাহু তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনকে অবধারিত করে। তিনি তো স্বীয় সত্তায় সবকিছুর প্রতিপালক ও মালিক। আর আল্লাহ সংক্রান্ত জ্ঞানই সকল ইলমের মূল ও উৎস; ফলে যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁর সৃষ্টিজগতকেও চিনেছে। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, সে অন্য সব বিষয়ে আরও অধিক অজ্ঞ»
(১)।
দ্বিতীয় তাওহিদ হলো: কোনো শরিক ছাড়াই একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা, কেবল তাঁর প্রতি ভালোবাসা নিবেদন করা, তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ হওয়া, তাঁকে ভয় করা, তাঁর কাছেই আশা রাখা, তাঁর ওপরই ভরসা করা এবং প্রতিপালক, ইলাহ ও অভিভাবক হিসেবে তাঁর ওপর সন্তুষ্ট থাকা। আর কোনো কিছুতেই তাঁর সমকক্ষ কাউকে সাব্যস্ত না করা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা ইখলাসের দুই সূরায় এই দুই প্রকারকে একত্রিত করেছেন। আর তা হলো সূরা: {কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন}, যা কর্মগত ও ইচ্ছাগত তাওহিদকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এবং সূরা {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ}, যা জ্ঞানগত ও সংবাদভিত্তিক তাওহিদকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সূরা {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ}-এ আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যকীয় পরিপূর্ণ গুণাবলি এবং তাঁর সত্তা থেকে যা কিছু দূরীভূত করা আবশ্যকীয় যেমন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সাদৃশ্য—তার বর্ণনা রয়েছে।
আর সূরা {কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন}-এ কোনো শরিক ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার অপরিহার্যতা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা রয়েছে।
তাওহিদের এই দুই প্রকারের একটি অপরটি ছাড়া পূর্ণ হয় না। এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সুন্নাত, বিতর এবং মাগরিবের সুন্নাতে এই দুই সূরা পাঠ করতেন। মাগরিবের সুন্নাতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القراءة بهاتين السورتين
(1)؛ ليكون فاتحة العمل وخاتمته توحيدًا؛ إذ مبدأ النهار توحيدًا وخاتمته توحيدًا
(2).
فالتوحيد المطلوب من العبد شَطره هو توحيد الأسماء والصفات.
ثانيًا: توحيد الأسماء والصِّفات أشرف العلوم وأهمها على الإطلاق:
إنَّ شرف العلم تابع لشرف معلومه؛ لوثوق النفس بأدلة وجوده وبراهينه، ولشدة الحاجة إلى معرفته وعِظم النفع بها.
ولا ريب أن أَجَلَّ مَعلوم وأعظمه وأكبره هو الله الذي لا إله إلا هو ربُّ العالمين، وقَيُّوم السموات والأرضين، الملك الحق المبين، الموصوف بالكمال كله، المنزه عن كل عيب ونقص وعن كل تشبيه وتمثيل في كماله.
فلا ريب أن العلمَ به وبأسمائه وصفاته وأفعاله أَجَلُّ العلوم وأفضلها، ونسبته إلى سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات
(3).
فإن قيل: فالعلم إنما هو وسيلة إلى العمل ومراد له، والعمل هو الغاية، ومعلوم أنَّ الغاية أشرف من الوسيلة؛ فكيف تُفضل الوسائل على غاياتها؟
--------------------------------------------
এই দুটি সূরা পাঠ করা
(১); যেন আমলের শুরু এবং শেষ তাওহীদের মাধ্যমে হয়; যেহেতু দিনের শুরু তাওহীদের সাথে এবং এর সমাপ্তিও তাওহীদের সাথে হয়
(২)।
বান্দার নিকট কাঙ্ক্ষিত তাওহীদের একটি অর্ধাংশ হলো আসমা ওয়া সিফাত বা নাম ও গুণাবলির তাওহীদ।
দ্বিতীয়ত: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদ হলো সর্বাবস্থায় সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান:
নিশ্চয়ই কোনো জ্ঞানের মর্যাদা তার আলোচ্য বিষয়ের মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল; যেহেতু আলোচ্য বিষয়ের অস্তিত্বের দলীল ও প্রমাণের ওপর অন্তরের গভীর আস্থা থাকে এবং তা জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা ও এর মাধ্যমে অর্জিত মহান উপকারিতার কারণে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবচেয়ে মহান, শ্রেষ্ঠ ও বড় আলোচ্য বিষয় হলেন আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি জগতসমূহের রব, আসমান ও জমিনসমূহের ধারক, সুষ্পষ্ট ও সত্য মালিক, যিনি পূর্ণাঙ্গরূপে সমস্ত পরিপূর্ণতার গুণে গুণান্বিত, যিনি যাবতীয় দোষ-ত্রুটি এবং তাঁর পূর্ণতার ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার উপমা ও সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র।
সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাই হলো সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। অন্যান্য জ্ঞানের তুলনায় এই জ্ঞানের মর্যাদা ঠিক তেমনই, যেমনটি অন্য সব বিষয়ের তুলনায় স্বয়ং আল্লাহর মর্যাদা
(৩)।
যদি বলা হয়: জ্ঞান তো কেবল আমলের মাধ্যম ও উদ্দেশ্য মাত্র, আর আমলই হলো মূল লক্ষ্য; আর এটি জানা কথা যে, মাধ্যমের চেয়ে লক্ষ্য অধিক মর্যাদাপূর্ণ; তাহলে মাধ্যমকে লক্ষ্যের ওপর কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قيل: كل مِنْ العلم والعمل ينقسم إلى قسمين؛ منه ما يكون وسيلة، ومنه ما يكون غاية، فليس العلم كله وسيلة مرادة لغيرها، فإنَّ العلم بالله وأسمائه وصفاته هو أشرف العلوم على الإطلاق، وهو مطلوب لنفسه، مراد لذاته؛ قال الله تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاَطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْماً}، فقد أخبر- سبحانه- أنه خلق السموات والأرض، ونَزَّل الأمر بينهن؛ ليَعلم عباده أنه بكل شي عليم، وعلى كل شي قدير؛ فهذا العلم هو غاية الخلق المطلوبة، وقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ}؛ فالعلم بوحدانيته تعالى وأنه لا إله إلا هو مطلوب لذاته وإن كان لا يُكتفى به وحده، بل لابد معه من عبادته وحده لا شريك له؛ فهما أمران مطلوبان لأنفسهما.
الأمر الأول: أن يُعرف الربُّ تعالى بأسمائه وصفاته وأفعاله وأحكامه.
والأمر الثاني: أن يُعبد بمُوجبها ومُقتضاها.
فكما أنَّ عبادته مطلوبة مرادة لذاتها، فكذلك العلم به ومعرفته أيضًا، فإنَّ العلم من أفضل العبادات
(1).
ثالثًا: توحيد الأسماء والصفات هو أصل العلوم الدينية:
كما أن العلم بأسماء الله وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأشرفها وأعظمها فهو أصلها كلها، فكل علم هو تابع للعلم به، مفتقر في تحقق ذاته إليه، فالعلم به أصل كل علم ومَنشؤه؛ فمَن عرف الله عَرف ما سواه، ومَن جهل ربَّه فهو لما سواه أجهل؛ قال تعالى: {وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ}، فتأمل هذه الآية تجد تحتها معنى شريفًا عظيمًا، وهو: أنَّ مَنْ نسي ربَّه أنساه ذاته ونفسه، فلم يَعرف حقيقته ولا مصالحه، بل نَسي ما به
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: ইলম (জ্ঞান) এবং আমল (কর্ম) উভয়ই দুই ভাগে বিভক্ত; যার একটি হলো মাধ্যম এবং অন্যটি হলো লক্ষ্য। সুতরাং সকল ইলমই কেবল অন্যের জন্য কাঙ্ক্ষিত মাধ্যম নয়; কেননা আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে ইলম হলো নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম, যা স্বয়ং কাম্য এবং সত্তাগতভাবে উদ্দীষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ সেই সত্তা যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ পৃথিবীও সৃষ্টি করেছেন। তাদের মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন}। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মাঝে নির্দেশ অবতীর্ণ করেছেন; যাতে তাঁর বান্দারা জানতে পারে যে তিনি সব বিষয়ে মহাজ্ঞানী এবং সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। অতএব, এই ইলমই হলো সৃষ্টির কাঙ্ক্ষিত মূল লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই}। সুতরাং আল্লাহর একত্ববাদ এবং তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই—এই ইলম সত্তাগতভাবে কাম্য, যদিও কেবল এতটুকুই যথেষ্ট নয়; বরং এর পাশাপাশি কোনো শরিক ছাড়া শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করাও অপরিহার্য। অতএব, এই বিষয় দুটি তাদের নিজেদের কারণেই কাম্য।
প্রথম বিষয়: মহান রবকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি, কার্যাবলি এবং বিধানাবলির মাধ্যমে চেনা।
আর দ্বিতীয় বিষয়: সেগুলোর দাবি ও চাহিদা অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করা।
সুতরাং, যেভাবে তাঁর ইবাদত করা সত্তাগতভাবে কাম্য ও উদ্দীষ্ট, ঠিক তেমনি তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান এবং পরিচয় লাভ করাও। কারণ ইলম বা জ্ঞান হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত
(১)।
তৃতীয়ত: আসমা ও সিফাতের তাওহিদ (নাম ও গুণাবলির একত্ববাদ) হলো ধর্মীয় জ্ঞানসমূহের মূল ভিত্তি:
যেভাবে আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সংক্রান্ত ইলম হলো মহানতম, শ্রেষ্ঠতম এবং সুউচ্চ ইলম, তেমনি তা হলো সকল ইলমের মূল ভিত্তি। প্রতিটি ইলম তাঁর (আল্লাহর) সংক্রান্ত ইলমের অনুগামী এবং স্বীয় সত্তার পূর্ণতায় তাঁর মুখাপেক্ষী। সুতরাং আল্লাহর পরিচয় সংক্রান্ত ইলম হলো প্রতিটি ইলমের মূল ও উৎস। যে আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁর ইতর (অন্যান্য) সবকিছুকেও চিনেছে। আর যে তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, সে অন্য সবকিছুর ব্যাপারে আরও বেশি অজ্ঞ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন}। এই আয়াতটি গভীরভাবে চিন্তা করলে আপনি এর নিচে এক সুমহান ও মর্যাদাপূর্ণ অর্থ খুঁজে পাবেন। তা হলো: যে তার রবকে ভুলে যায়, আল্লাহ তাকে তার নিজের সত্তা ও প্রাণের কথা ভুলিয়ে দেন। ফলে সে তার নিজের বাস্তবতা ও কল্যাণ সম্পর্কে জানতে পারে না, বরং সে ভুলে যায় কীসে তার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২০)
صلاحه وفلاحه في معاشه ومعاده؛ لأنَّه خرج عن فطرته التي خلق عليها، فنسي ربَّه فأنساه نفسه وصفاتها وما تكمل به وتزكو به وتسعد به في معاشها ومعادها؛ قال تعالى: {وَلا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطاً}، فغفل عن ذكر ربه؛ فانفرط عليه أمره وقلبه، فلا التفات له إلى مصالحه وكماله وما تزكو به نفسه وقلبه، بل هو مُشتت القلب مُضيعه، مفرط الأمر حيران لا يهتدي سبيلًا.
فالعِلم بالله أصل كل علم، وهو أصل علم العبد بسعادته وكماله ومصالح دنياه وآخرته، والجهل به مُستلزم للجهل بنفسه ومصالحها وكمالها وما تزكو به وتفلح به، فالعلم به سعادة العبد والجهل به أصل شقاوته
(1).
رابعًا: معرفة أسماء الله وصفاته أصل عظيم في منهج السلف:
معرفة أسماء الله وصفاته هي الأساس الذي يَنبني عليه عمل العبد، ومن خلالها تتحدد العلاقة التي تربط العبد بربه، وعلى ضوئها يَعبد المسلم ربَّه، ويتقرب إليه.
قال شيخُ الإسلام ابنُ تيمية رحمه الله: «وأصلُ الإيمان: قولُ القلب الذي هو التَّصديق. وعمل القلب الذي هو المحبة على سبيل الخضوع؛ إذ لا مُلائمة لأرواح العباد أتم من ملاءمة إلهها؛ الذي هو الله الذي لا إله إلا هو».
ولذلك كان منهج السلف يقوم على أمرين؛ هما:
1 - العلم بالله.
2 - والعمل لله.
فجمعوا بذلك بين التصديق العِلمي والعَمل الحُبِّي، وبذلك تميز منهج أهل السنة والجماعة (السلف) عن المناهج الأخرى.
وحققوا كِلا الأمرين؛ من القول التصديقي المعتمد على معرفة أسماء الله
--------------------------------------------
তার সংশোধন ও সফলতা তার জীবন ও পরকালের ওপর নির্ভরশীল; কারণ সে তার সেই ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) থেকে বিচ্যুত হয়েছে যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে সে তার রবকে ভুলে গেছে, আর আল্লাহও তাকে তার নিজের সত্তা, এর গুণাবলি এবং যার মাধ্যমে এটি পূর্ণতা পায়, পরিশুদ্ধ হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হয়—তা ভুলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আপনি এমন ব্যক্তির আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা লঙ্ঘন করে।" সুতরাং সে তার রবের স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে গেছে; ফলে তার কর্মকাণ্ড ও অন্তর বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। সে তার কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যার মাধ্যমে তার আত্মা ও অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না। বরং সে বিক্ষিপ্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হৃদয়ের অধিকারী, বিশৃঙ্খল অবস্থার শিকার ও দিশেহারা, যে সঠিক পথের সন্ধান পায় না।
সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সকল জ্ঞানের মূল। এটিই বান্দার নিজের সৌভাগ্য, পূর্ণতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বিষয়ক জ্ঞানের মূল ভিত্তি। আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা নিজের নফস (সত্তা), এর কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যার মাধ্যমে এটি পরিশুদ্ধ ও সফল হয় সে সম্পর্কে অজ্ঞতাকে অপরিহার্য করে তোলে। অতএব, আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানই বান্দার সৌভাগ্য এবং তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতাই তার দুর্ভাগ্যের মূল কারণ।
(১)।
চতুর্থত: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন সালাফদের মানহাজের একটি মহান মূলনীতি:
আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর বান্দার আমল বা কর্ম গড়ে ওঠে। এর মাধ্যমেই বান্দার সাথে তার রবের সম্পর্কের ধরণ নির্ধারিত হয় এবং এর আলোকেই একজন মুসলিম তার রবের ইবাদত করে ও তাঁর নৈকট্য লাভ করে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «ঈমানের মূল হলো: অন্তরের কথা, যা হলো বিশ্বাস বা সত্যায়ন; এবং অন্তরের কাজ, যা হলো বিনম্রচিত্তে ভালোবাসা। কেননা, বান্দাদের আত্মার জন্য তাদের ইলাহ তথা মাবুদের সাথে সামঞ্জস্যের চেয়ে পূর্ণতর আর কোনো সামঞ্জস্য নেই; আর তিনিই হলেন আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।»
এ কারণেই সালাফদের মানহাজ দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত; সেগুলো হলো:
১ - আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান।
২ - আল্লাহর জন্য আমল বা কাজ করা।
এর মাধ্যমে তাঁরা তাত্ত্বিক সত্যায়ন এবং ভালোবাসাপ্রসূত আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। আর এভাবেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের (সালাফ) মানহাজ অন্যান্য মানহাজ বা পথ থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।
এবং তাঁরা উভয় বিষয়ই বাস্তবায়ন করেছেন; আল্লাহর নামসমূহ জানার ওপর নির্ভরশীল সত্যায়নমূলক কথার মাধ্যমে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২১)
وصفاته وأفعاله الواردة في الكتاب والسنة. والعمل الإرادي، وذلك باتباع الأوامر واجتناب النواهي وفق ما شرعه الله في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
ولذلك كان كلامهم وعملهم باطنًا وظاهرًا بعلم، وكان كل واحد من قولهم وعملهم مقرونًا بالآخر، وهؤلاء هم المسلمون حقًّا؛ الذين سَلِموا من آفات منحرفة المتكلمة والمتصوفة.
فوقعت كل طائفة من هاتين الطائفتين المنحرفتين في مفسدتين:
إحداهما: القول بلا علم إن كان متكلمًا، والعمل بلا علم إن كان متصوفًا.
والمفسدة الثانية: فوت المتكلم العمل، وفوت المتصوف القول والكلام
(1).
وهو ما وقع من البدع الكلامية والعملية المخالفة للكتاب والسنة.
فالكلاميون: غالب نظرهم وقولهم في الثبوت والانتفاء، والوجود والعدم، والقضايا التصديقية؛ فغايتهم مجرد التصديق والعلم والخبر؛ فاعتنوا بجانب علمي لم يَنْبَنِ على الكتاب والسنة؛ لذلك عَطَّلوا أسماء الله عز وجل، وعَطَّلوا صفاتِه سبحانه وتعالى.
وعندما عَرَّفوا التوحيد؛ قالوا: «واحد في ذاته، وواحد في صفاته، وواحد في أفعاله». وأهملوا جانب توحيد العبادة: «واحد في ذاته» قالوا: «لا شريكَ له». و «واحد في صفاته»: «لا نظير له». و «واحد في أفعاله»: «لا نِدَّ له». فهذا تقسيمهم للتوحيد
(2)، ويُلاحظ أنه قد خلا في هذه الثلاثة من الجانب العملي، فلا يوجد عمل، ثم إذا تحدثوا عن ذات الله تعالى تحدثوا بالتعطيل؛ فقالوا بما قالوا: «ليس في جهة، ولا في عُلو، ولا في مكان، ولا
--------------------------------------------
এবং কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত তাঁর গুণাবলি ও কার্যাবলি। আর স্বেচ্ছাধীন আমল, আর তা হলো আল্লাহর কিতাবে এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে আল্লাহ যা শরিয়তভুক্ত করেছেন সে অনুযায়ী আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জন করা।
আর সেই কারণেই তাদের কথা ও কাজ গোপনে ও প্রকাশ্যে ইলমের (জ্ঞানের) সাথে ছিল, এবং তাদের কথা ও কাজের প্রতিটি একে অপরের সাথে যুক্ত ছিল। আর এরাই হলো প্রকৃত মুসলিম; যারা মুতাকাল্লিম (কালাম শাস্ত্রবিদ) ও সুফীদের বিভ্রান্তিকর আপদ থেকে নিরাপদ রয়েছে।
ফলে এই দুই বিভ্রান্ত দলের প্রতিটি দল দুটি করে বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হয়েছে:
এর একটি হলো: ইলম ব্যতীত কথা বলা—যদি সে মুতাকাল্লিম হয়, এবং ইলম ব্যতীত আমল করা—যদি সে সুফী হয়।
আর দ্বিতীয় বিপর্যয়টি হলো: মুতাকাল্লিমের আমল ছুটে যাওয়া এবং সুফীর কথা ও ইলম ছুটে যাওয়া
(১)।
আর তা হলো কালাম শাস্ত্রীয় ও আমলগত সেই সব বিদআত যা কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী।
কালাম শাস্ত্রবিদরা: তাদের অধিকাংশ দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্য হলো সাব্যস্তকরণ ও নেতিকরণ, অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব এবং প্রতিপাদ্য বিষয়াবলি নিয়ে; ফলে তাদের লক্ষ্য ছিল নিছক সত্যায়ন, জ্ঞান ও তথ্য; তাই তারা এমন একটি তাত্ত্বিক দিকের যত্ন নিয়েছিল যা কিতাব ও সুন্নাহর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি; এই কারণেই তারা মহান আল্লাহর নামসমূহকে অকেজো (তাতিল) করেছে এবং তাঁর গুণাবলিকেও অকেজো করেছে।
আর যখন তারা তাওহীদের সংজ্ঞা দিয়েছে, তখন তারা বলেছে: «তিনি তাঁর সত্তায় এক, তাঁর গুণাবলিতে এক এবং তাঁর কার্যাবলিতে এক»। তারা ইবাদতের তাওহীদের দিকটি অবহেলা করেছে। «সত্তায় এক» বলতে তারা বলেছে: «তাঁর কোনো শরিক নেই»। এবং «গুণাবলিতে এক» বলতে বলেছে: «তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই»। এবং «কার্যাবলিতে এক» বলতে বলেছে: «তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ নেই»। এটাই হলো তাওহীদের ব্যাপারে তাদের বিভাজন
(২), এবং এটি লক্ষ্যণীয় যে, এই তিনটির মধ্যে আমলগত কোনো দিক নেই, ফলে সেখানে কোনো আমল বিদ্যমান নেই। অতঃপর যখন তারা আল্লাহ তাআলার সত্তা সম্পর্কে কথা বলে, তখন তারা গুণাবলি অস্বীকারের (তাতিল) মাধ্যমে কথা বলে; ফলে তারা এমন সব কথা বলে যে: «তিনি কোনো দিকে নেই, কোনো উচ্চতায় নেই, কোনো স্থানে নেই, আর...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২২)
في حيز» ولا إلى غير ذلك؛ فجعلوه والعدم سواء، وإذا تحدثوا عن صفات الله تعالى تحدثوا عن سبع صفات فقط، وإذا تحدثوا عن أفعال الله تعالى هذا هو الذي سَلِم لهم: «توحيد الربوبية»؛ فلم يَسلم لهم إلا توحيد الربوبية، ونحن نعلم أن كفار قريش كانوا مُقِرِّين بتوحيد الربوبية: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [الزمر: 38]؛ فهذا حاصل توحيد هؤلاء.
وأمَّا الصُّوفيون: فغالب طلبهم وعملهم في المحبة والبغضة، والإرادة والكراهة، والحركات العملية؛ فاعتنوا بجانب العمل، وأهملوا جانب العلم، وكذلك عملهم لم ينبنِ على السنة، وإنَّما انبنى على البدعة؛ إذ غايتهم المحبة والانقياد والعمل والإرادة.
وهكذا إذا جئنا إلى أهل التصوف لم نجد عندهم من حقيقة التوحيد شيء.
أمَّا توحيدُ أهل السُّنَّة فيقوم على هذين الأصلين العظيمين: أن تَعرف اللهَ، وذاك بمعرفة أسمائه وصفاته التي وردت في الكتاب والسُّنَّة. وأن تعبد الله، وهذا باتِّباع شرع الله عز وجل على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
فالسلف وأتباعهم جعلوا من توحيد الأسماء والصفات إحدى الرَّكيزتين التي قام عليها منهجهم المعتمد على نصوص الكتاب والسنة، وذلك لما لهذا التوحيد من أهمية ومنزلة، وهذا ما تشهد له كثرة النصوص الشرعية الواردة في هذا الشأن.
فلذلك لا بد لصاحب السُّنَّة أن يدرس هذا الباب، وأن يَبني هذه الدراسة على الكتاب والسنة؛ ليعرف الله سبحانه وتعالى، فلن تكون من أصحاب السنة ولن تكون من أتباع السلف حتى تُعنى بهذا الباب، وطبعًا العلم بهذا الباب- كما ذكر العلماء مطلوب لذاته، ليس وسيلة للعمل كما يزعم البعض؛ فكلٌّ من العِلم بالله والعمل لله مطلوب لذاته؛ فقد يكون منه ما هو وسيلة، ومنه ما هو غاية؛ فيجب أن نعلم أنه لا بد من معرفة هذا الباب وتعلمه؛ باعتبار أنه أمر
"কোনো স্থান বা সীমানায় আবদ্ধ" অথবা এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়কে তারা অস্বীকার করেছে; ফলে তারা তাঁকে অনস্তিত্বের সমান করে দিয়েছে। আর যখন তারা মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন তারা মাত্র সাতটি গুণ সম্পর্কে কথা বলে। আর যখন তারা আল্লাহর কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাদের কাছে কেবল এটিই সঠিক থাকে: "তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ" (প্রভুত্বের একত্ববাদ); ফলে তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। অথচ আমরা জানি যে, কুরাইশ কাফেররাও তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিত: "আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ।" [সূরা যুমার: ৩৮]। সুতরাং এটিই হলো তাদের তাওহীদের সারকথা।
আর সুফীদের ব্যাপারে কথা হলো: তাদের অধিকাংশ অন্বেষণ ও আমল ভালোবাসা ও ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দ এবং কর্মগত নড়াচড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ; তারা কর্মের দিকের প্রতি যত্নবান হয়েছে এবং জ্ঞানের দিকটিকে অবহেলা করেছে। তেমনিভাবে তাদের আমল সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং তা বিদআতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যেহেতু তাদের লক্ষ্যই হলো ভালোবাসা, আনুগত্য, আমল এবং ইচ্ছা।
এভাবে আমরা যদি তাসাউফপন্থীদের কাছে আসি, তবে আমরা তাদের কাছে তাওহীদের হাকীকত বা প্রকৃত রূপের কিছুই পাই না।
পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাতের তাওহীদ এই দুটি মহান মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: আল্লাহকে চেনা, আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত তাঁর নাম ও গুণাবলির পরিচয়ের মাধ্যমে। এবং আল্লাহর ইবাদত করা, আর তা হলো তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে প্রাপ্ত মহান আল্লাহর শরীয়ত অনুসরণের মাধ্যমে।
অতএব সালাফ এবং তাঁদের অনুসারীগণ নাম ও গুণাবলির একত্ববাদকে অন্যতম একটি স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করেছেন, যার ওপর কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর নির্ভরশীল তাঁদের মানহাজ বা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত। আর তা এই তাওহীদের গুরুত্ব ও উচ্চ মর্যাদার কারণে, যার পক্ষে এ বিষয়ে বর্ণিত শরীয়তের অসংখ্য দলিল সাক্ষ্য প্রদান করে।
সেকারণে সুন্নাহর অনুসারীদের জন্য এই অধ্যায়টি অধ্যয়ন করা অপরিহার্য এবং এই অধ্যয়ন কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে হতে হবে; যাতে করে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে জানা যায়। আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত সুন্নাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না এবং সালাফদের অনুসারী হতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি এই অধ্যায়ের প্রতি যত্নবান হবেন। আর স্বাভাবিকভাবেই এই অধ্যায় সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা—যেমনটি আলেমগণ উল্লেখ করেছেন—তা স্বীয় সত্তাগতভাবেই কাম্য, এটি কেবল আমলের মাধ্যম নয় যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেন। কারণ আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং আল্লাহর জন্য আমল—উভয়ই স্বীয় সত্তাগতভাবে কাম্য। এগুলোর কোনোটি মাধ্যম হতে পারে, আবার কোনোটি উদ্দেশ্য হতে পারে। সুতরাং আমাদের জানা উচিত যে, এই অধ্যায়টি জানা এবং শেখা অপরিহার্য; এই বিবেচনায় যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مطلوب لذاته، وإن كان لا يُكتفى به وحده، بل لا بد وأن يجتمع معه عبادة الله سبحانه وتعالى، وإلا فإن العبد لا يكون مؤمنًا، وبهذا نعلم أن من أهمية هذا الباب أنه أصلٌ عظيمٌ في منهج أهل السنة والجماعة؛ فبالتالي لا بد من الاعتناء به، ولا بد من الاهتمام به، ولا بد من تعلُّمِه، وكما أشار المصنف: لا بد منه لأهميته وعِظمه ومنزلته، وكذلك لوقوع الاختلاف والافتراق في هذا الباب بين الفِرَق والطوائف لا بد من مزيد جهد وعناية بفهمه وتوضيحه ودراسته وتعلمه وتطبيقه.
والله تعالى ليس له مَثيل حتى يُقاس عليه، وعقول البشر لا يمكن أن تستقلَّ بمعرفة الله تعالى استقلالًا؛ لأنها قاصرة عاجزة، كما قال تعالى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} {الإسراء: 85]؛ فالله تعالى تَعَرَّف إليك! فضلًا منه ومِنَّة عليك عَرَّفك بأسمائه وصفاته، عَرَّفك بأنه العليم، وأنه السميع، وأنه البصير، وأنه القدير، وأنه الغفور، وأنه الرحيم، وأنه الجبَّار، وأنه المتكبر .. إلى غير ذلك مِنْ أسماء الله عز وجل وصفاتِه الواردة في الكتاب والسُّنَّة؛ فمِنَّةٌ عُظمى فتحها الله عليك! بالله عليك كيف تُغلقها على نفسِك؟! بل إن الله رَغَّبك في هذه المعرفة فقال: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]، وقال: {لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الحشر: 24]، وقال: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: 8] .. إلى غير ذلك من المواطن التي ذُكرت فيها أسماء الله سبحانه وتعالى؛ إمَّا جملة وإما تفصيلًا.
فافتح بابَ معرفة الله تعالى! لا تُغلقه على نفسك! لا تحرم هذا القلب من أن يَعرف ربَّه، ويَعرف معبودَه!
خامسًا: العلم بأسماء الله وصفاته يَفتح للعبد باب معرفة الله:
إنَّ محبة الشيء فرع عن الشعور به، وأعرف الخلق بالله أشدهم حُبًّا له، فكل من عرف الله أحبه، والعلم يَفتح هذا الباب العظيم الذي هو سِرُّ الخَلق
এটি স্বয়ং কাঙ্ক্ষিত, যদিও কেবল এটিই যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে মহান আল্লাহর ইবাদত সম্মিলিত হওয়া আবশ্যক; অন্যথায় বান্দা মুমিন হতে পারে না। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, এই অধ্যায়ের গুরুত্ব হলো এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের একটি মহান মূলনীতি; ফলশ্রুতিতে এর প্রতি যত্নবান হওয়া, এর প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং এটি শিক্ষা করা অপরিহার্য। লেখক যেমন ইশারা করেছেন: এর গুরুত্ব, মাহাত্ম্য এবং উচ্চমর্যাদার কারণে এটি অপরিহার্য। একইভাবে, এই অধ্যায়ে বিভিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে মতভেদ ও বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ার কারণে এটি অনুধাবন, স্পষ্টীকরণ, গবেষণা, শিক্ষা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও অধিক প্রচেষ্টা ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
মহান আল্লাহর কোনো সদৃশ নেই যে তাঁর সাথে তুলনা করা যাবে। মানুষের বুদ্ধি এককভাবে মহান আল্লাহকে চেনার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র হতে পারে না; কারণ তা অপূর্ণ ও অক্ষম। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} [আল-ইসরা: ৮৫]। মহান আল্লাহ আপনার কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছেন! এটি তাঁর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অনুগ্রহ ও দান যে তিনি তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে আপনাকে তাঁর পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আপনাকে জানিয়েছেন যে তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি সর্বশ্রোতা, তিনি সর্বদ্রষ্টা, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি পরম ক্ষমাশীল, তিনি পরম দয়ালু, তিনি মহা প্রতাপশালী, তিনি পরম শ্রেষ্ঠত্বময়.. এভাবে কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত আল্লাহর অন্যান্য নাম ও গুণাবলি। এটি এক মহান অনুগ্রহ যা আল্লাহ আপনার জন্য উন্মুক্ত করেছেন! আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি কীভাবে তা নিজের ওপর বন্ধ করে দিচ্ছেন?! বরং আল্লাহ আপনাকে এই জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী করেছেন, তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} [আল-আরাফ: ১৮০], এবং বলেছেন: {তাঁর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ} [আল-হাশর: ২৪], এবং বলেছেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ} [তহা: ৮].. এভাবে আরও অনেক স্থান যেখানে মহান আল্লাহর নামসমূহ সংক্ষেপে বা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহান আল্লাহকে জানার দ্বার উন্মুক্ত করুন! নিজের ওপর তা বন্ধ করবেন না! এই অন্তরকে তার প্রতিপালককে জানা এবং তার উপাস্যকে চেনা থেকে বঞ্চিত করবেন না!
পঞ্চম: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান বান্দার জন্য আল্লাহকে চেনার দ্বার উন্মুক্ত করে:
কোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা হলো তা অনুভবের একটি শাখা। সৃষ্টির মধ্যে যারা আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত, তারাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। সুতরাং যে আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁকে ভালোবেসেছে। আর জ্ঞানই এই মহান দ্বার উন্মুক্ত করে যা সৃষ্টির রহস্য।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والأمر
(1)؛ فمن أعظم أصول الدين: المحبة، بل هي قاعدة العبادة، فكيف يكون حبٌّ في قلب العبد المؤمن وهو لم يعرف الله عز وجل؛ فالله تعالى فتح لنا باب معرفته من هذا الطريق، فإن شأت فادخل وتعَرَّف على أسماء الله وصفاته وأفعاله، وإلا فإنك محروم مِنْ ضِمن مَنْ حُرم مِنْ هذا الخير العظيم؛ فطمأنينة القلب وحياته هي في هذا الأمر العظيم: في معرفة الله سبحانه وتعالى، ولا سبيل للحصول على هذه المعرفة إلا من باب العلم بأسماء الله وصفاته، فلا تَستقر للعبد قَدَم في معرفة الله إلا بالتعرف على أسمائه وصفاته الواردة في القرآن والسنة؛ فالعلم بأسماء الله وصفاته يَفتح للعبد هذا البابَ العظيمَ، فالله عز وجل لم يجعل السبيل إلى معرفته من طريق الاطلاع على ذاته، فهذا الباب موصود إلى قيام الساعة، كما أخبرنا بذلك نبينا محمد صلى الله عليه وسلم حيث قال: «تَعَلَّمُوا أنَّه لن يَرى أحدٌ مِنكم ربَّه عز وجل حتى يَموت»
(2).
وكذلك فإنَّ من المحال أن تَستقل العقول البشرية بمعرفة ذلك وإدراكه على وجه التفصيل، فهي عاجزة عن ذلك لكونه من المُغيبات التي لا سبيل إلى معرفتها إلا من طريق الوحي، والله عز وجل يقول: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلاً}، فهذه الآية تُبين محدودية علم الإنسان.
وقد اقتضت رحمة العزيز الحكيم أن بَعث الرسل به مُعَرِّفين وإليه داعين، وجعل معرفته سبحانه بأسمائه وصفاته، أفعاله هي مفتاح دعوتهم وزبدة رسالتهم، فأساس دعوة الرسل صلوات الله وسلامه عليهم والأصل الأول فيها: معرفة الله سبحانه بأسمائه وصفاته وأفعاله. ثم يتبع هذا الأصل أصلان عظيمان هما:
1 - تعريف الناس الطريق الموصلة إلى الله، وهي: «شريعته المتضمنة لأمره ونهيه».
--------------------------------------------
এবং বিষয়টি হলো
(১); দ্বীনের অন্যতম মহান মূলনীতি হচ্ছে: ভালোবাসা, বরং এটিই ইবাদতের মূল ভিত্তি। সুতরাং একজন মুমিন বান্দার হৃদয়ে কীভাবে ভালোবাসা থাকতে পারে যখন সে মহান আল্লাহকে চেনেই না? আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য তাঁর পরিচয়ের (মারিফাত) দ্বার এই পথেই উন্মোচন করেছেন। সুতরাং আপনি চাইলে এই পথে প্রবেশ করুন এবং আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জানুন। অন্যথায় আপনি সেই বঞ্চিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা এই মহান কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারণ হৃদয়ের প্রশান্তি ও জীবন নিহিত রয়েছে এই মহান বিষয়ের মধ্যে: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয়ের মধ্যে। আর আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির জ্ঞানের পথ ছাড়া এই পরিচয় অর্জনের অন্য কোনো উপায় নেই। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা ছাড়া আল্লাহকে চেনার ক্ষেত্রে বান্দার পা স্থির হয় না। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান বান্দার জন্য এই মহান দ্বারটি উন্মোচন করে দেয়। মহান আল্লাহ তাঁর সত্তাকে সরাসরি দেখার মাধ্যমে তাঁকে চেনার পথ রাখেননি, বরং কিয়ামত পর্যন্ত এই দরজা বন্ধ। যেমনটি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যখন তিনি বলেছিলেন: «তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের কেউ মৃত্যুবরণ করার আগে তার মহান রবকে দেখতে পাবে না»
(২).
তদ্রূপ, মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে এককভাবে এর বিস্তারিত জ্ঞান ও উপলব্ধি অর্জন করা অসম্ভব। কেননা এটি অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যা ওহীর পথ ছাড়া জানার কোনো উপায় নেই এবং এ বিষয়ে মানুষের বুদ্ধি অক্ষম। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে}। সুতরাং এই আয়াতটি মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে।
আর পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর রহমতের দাবি এই ছিল যে, তিনি রাসূলদের আল্লাহর পরিচয় প্রদানকারী এবং তাঁর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয়কে তাঁদের দাওয়াতের চাবিকাঠি ও রিসালাতের সারবস্তু করেছেন। সুতরাং রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) দাওয়াতের ভিত্তি এবং এর প্রথম মূলনীতি হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে চেনা। অতঃপর এই মূলনীতির অনুগামী হিসেবে আরও দুটি মহান মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো হলো:
১ - মানুষকে আল্লাহর দিকে পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে অবগত করা, আর তা হলো: «তাঁর শরীয়ত যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - تعريفهم مآلهم في الآخرة.
وهذان الأصلان تابعان للأصل الأول مَبنيان عليه، فأعرف الناس بالله أتبعهم للطريق الموصلة إليه، وأعرفهم بحال الناس عند القدوم عليه.
سادسًا: أساس العلم الصحيح هو الإيمان بالله وبأسمائه وصفاته:
على أساس العلم الصحيح بالله وبأسمائه وصفاته يقوم الإيمان الصحيح والتوحيد الخالص، وتنبني مطالب الرسالة جميعها؛ فهذا التوحيد هو أساس الهداية والإيمان، وهو أصل الدين الذي يقوم عليه، ولذلك فإنه لا يتصور إيمان صحيح ممن لا يعرف ربه، فهذه المعرفة لازمة لانعقاد أصل الإيمان، وهي مهمة جدًّا للمؤمن لشدة حاجته إليها؛ لسلامة قلبه، وصلاح معتقده، واستقامة عمله، فهذه المعرفة لأسماء الله وصفاته وأفعاله تُوجب للعبد التمييز بين الإيمان والكفر، والتوحيد والشرك، والإقرار والتعطيل، وتنزيه الرب عما لا يَليق به، ووصفه بما هو أهله من الجلال والإكرام.
وذلك يتم بتدبر كلام الله تعالى، وما تعَرَّف به سبحانه إلى عباده على ألسنة رسله من أسمائه وصفاته وأفعاله، وما نَزَّه نفسه عنه مما لا ينبغي له ولا يليق به سبحانه.
والجدير ذِكره أن معرفة الله نوعان:
النوع الأول: المعرفة الإجمالية:
وهي التي تَلزم العبد المؤمن؛ لينعقد بها أصلُ الإيمان، وهي تتحقق بالقدر الذي يميز العبد به بين ربه وبين سائر الآلهة الباطلة، ويتحقق بها الإيمان المجمل، وتجعله في سلامة من الكفر والشرك المُخرجين من الإيمان، وتُخرجه من حدِّ الجهل بربه وما يجب له.
وهذه المعرفة يتحصل عليها من قراءة سورة الإخلاص وآية الكرسي وغيرها من الآيات، ومعرفة معانيها.
২ - পরকালে তাদের শেষ পরিণাম সম্পর্কে তাদের পরিচয় প্রদান।
এই দুটি মূলনীতি প্রথম মূলনীতির অনুসারী এবং সেটির ওপরই প্রতিষ্ঠিত। ফলে আল্লাহর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তি তিনিই, যিনি আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথের সর্বাধিক অনুসারী এবং আল্লাহর কাছে উপস্থিত হওয়ার সময় মানুষের অবস্থা সম্পর্কেও সবচেয়ে বেশি অবগত।
ষষ্ঠত: সঠিক জ্ঞানের ভিত্তি হলো আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং গুণাবলির ওপর ঈমান আনা:
আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই সঠিক ঈমান ও বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রিসালাতের সমস্ত দাবিও এর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। কারণ এই তাওহীদই হলো হিদায়াত ও ঈমানের ভিত্তি এবং দ্বীনের সেই মূল উৎস যার ওপর তা দাঁড়িয়ে আছে। তাই যে ব্যক্তি তার রবকে চেনে না, তার পক্ষ থেকে কোনো সঠিক ঈমান কল্পনা করা যায় না। ফলে ঈমানের মূল ভিত্তি স্থাপনের জন্য এই পরিচয় অপরিহার্য। আর মুমিনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তার এর প্রতি তীব্র প্রয়োজন রয়েছে; তার হৃদয়ের সুস্থতা, আকিদাহর বিশুদ্ধতা এবং আমলের দৃঢ়তার জন্য। আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে এই জ্ঞান বান্দার জন্য ঈমান ও কুফর, তাওহীদ ও শিরক এবং স্বীকৃতি ও গুণাবলি অস্বীকারের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক করে দেয় এবং রবকে এমন বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করা যা তাঁর শানের সাথে মানানসই নয় এবং তাঁকে সেই মহিমা ও সম্মানের গুণে গুণান্বিত করা যার তিনি উপযুক্ত।
আর এটি অর্জিত হয় মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার মাধ্যমে এবং তাঁর রাসুলদের মুখে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের কাছে নিজের যে পরিচয় প্রদান করেছেন সেটির মাধ্যমে এবং সেই সকল বিষয় থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করার মাধ্যমে যা মহান আল্লাহর জন্য শোভনীয় ও উপযুক্ত নয়।
উল্লেখ্য যে, আল্লাহর পরিচয় দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: সাধারণ পরিচয়:
এটি সেই পরিচয় যা একজন মুমিন বান্দার জন্য অপরিহার্য; যাতে এর মাধ্যমে ঈমানের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়। এটি সেই পরিমাণ জ্ঞানের দ্বারা অর্জিত হয় যার মাধ্যমে বান্দা তার রব এবং অন্যান্য সকল বাতিল উপাস্যের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। এর মাধ্যমে সামগ্রিক ঈমান অর্জিত হয় এবং এটি তাকে ঈমান থেকে বের করে দেয় এমন কুফর ও শিরক থেকে নিরাপদ রাখে এবং তাকে তার রব এবং রবের জন্য যা যা আবশ্যক সে সম্পর্কে অজ্ঞতার সীমা থেকে বের করে আনে।
এই পরিচয় সূরা আল-ইখলাস, আয়াতুল কুরসি এবং অন্যান্য আয়াত পাঠ ও সেগুলোর অর্থ জানার মাধ্যমে অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولكن هذه المعرفة لا تُوجب قوة الإيمان والرسوخ فيه.
النوع الثاني: المعرفة التفصيلية:
وهذه تكون بمعرفة الأدلة التفصيلية الواردة في هذا الباب، وتعلمها واعتقاد اتصاف الله بها، ومعرفة معانيها، والعمل بمقتضياتها وأحكامها.
وهذه المعرفة هي التي يحصل بها زيادة الإيمان ورسوخه، فكلما ازداد العبد علمًا بالله زاد إيمانه وخشيته ومحبته لربِّه وتَعلقه به؛ قال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ}، كما تجلب للعبد النور والبصيرة التي تُحَصِّنه من الشبهات المضللة والشهوات المحرمة.
«والعلم بالله يُراد به في الأصل نوعان:
أحدهما: العلم به نفسه، أي: بما هو متصف به مِنْ نُعوت الجلال والإكرام، وما دَلَّت عليه أسماؤه الحسنى.
وهذا العلم إذا رَسخ في القلب أوجب خشية الله لا محالة، فإنه لابد أن يعلم أن الله يُثيب على طاعته، ويعاقب على معصيته.
والنوع الثاني: يُراد بالعلم بالله: العلم بالأحكام الشرعية من الأوامر والنواهي والحلال والحرام.
ولهذا قال بعض السلف: العلماء ثلاثة:
1 - عالم بالله ليس عالمًا بأمر الله.
2 - عالم بأمر الله ليس عالمًا بالله.
3 - عالم بالله وبأمر الله.
فالعالم بالله: الذي يخشى الله. والعالم بأمر الله: الذي يعرف الحلال والحرام»
(1).
--------------------------------------------
কিন্তু এই জ্ঞান ঈমানের শক্তি এবং তাতে দৃঢ়তা নিশ্চিত করে না।
দ্বিতীয় প্রকার: বিস্তারিত জ্ঞান:
আর এটি অর্জিত হয় এই বিষয়ে বর্ণিত বিস্তারিত দলিলসমূহ জানার মাধ্যমে, সেগুলো শিক্ষা করা ও আল্লাহ এই গুণাবলীতে গুণান্বিত বলে বিশ্বাস করা, সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করা এবং তাদের দাবি ও বিধান অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে।
এই জ্ঞানের মাধ্যমেই ঈমানের বৃদ্ধি ও দৃঢ়তা অর্জিত হয়। বান্দা আল্লাহ সম্পর্কে যতই জ্ঞান লাভ করে, তার ঈমান, তাঁর প্রতি ভয়, ভালোবাসা এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক ততই বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।" এছাড়া এটি বান্দার জন্য এমন আলো ও অন্তর্দৃষ্টি বয়ে আনে যা তাকে বিভ্রান্তিকর সংশয় ও হারাম প্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা দেয়।
«আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান বলতে মূলত দুই প্রকারের জ্ঞান বোঝানো হয়:
প্রথমটি: তাঁর সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান, অর্থাৎ: তিনি যে সকল মহিমা ও সম্মানের গুণাবলীতে গুণান্বিত এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ যা নির্দেশ করে।
আর এই জ্ঞান যখন অন্তরে বদ্ধমূল হয়, তখন তা অনিবার্যভাবে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে। কেননা তাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের জন্য পুরস্কৃত করেন এবং তাঁর অবাধ্যতার জন্য শাস্তি প্রদান করেন।
দ্বিতীয় প্রকার: আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান বলতে শারঈ বিধানসমূহ অর্থাৎ আদেশ, নিষেধ এবং হালাল ও হারাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাকে বোঝানো হয়।
এই কারণেই সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: আলেমগণ তিন প্রকার:
১ - আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী কিন্তু আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী নন।
২ - আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী নন।
৩ - আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী এবং আল্লাহর বিধান সম্পর্কেও জ্ঞানী।
সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী হলেন তিনি, যিনি আল্লাহকে ভয় করেন। আর আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী হলেন তিনি, যিনি হালাল ও হারাম সম্পর্কে জানেন»
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
سابعًا: العلم بأسماء الله وصفاته هو حياة القلوب:
يجب أن نعلم أنَّ معرفة الله تعالى هي حياة قلوبنا؛ فلا حياة للقلوب ولا نعيم ولا سرور ولا أمان ولا طمأنينة إلا بأن تَعرف ربها ومعبودها وفاطرها، ويكون أحب إليها مما سواه، ولا يمكن أن تنجو وأن تَسعد في الآخرة إلَّا بهذه المعرفة والمحبة.
والإنسان بدون الإيمان بالله لا يمكنه أن ينال معرفة ولا هداية، وبدون اهتدائه إلى ربِّه لا يكون إلا شقيًّا مُعذَّبًا كما هو حال الكافرين.
فالله- تبارك وتعالى خلق هذا الإنسان ورَكَّبه من الجسد والروح، وشاء أن يكون قَوَام هذا الجسد من هذه الأرض؛ قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ} [الحج: 5]، وجعل حياة هذا الجسد من التراب؛ فهو يأكل ويشرب ويكتسي من الأرض وما فيها.
وجعل في هذا الجسد الروح؛ قال تعالى: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ} [الحجر: 29].
أمَّا أصل هذه الروح ومادتها فهذا لا علم لنا به: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} [الإسراء: 85]؛ فأمرٌ استأثر الله تعالى به في علم الغيب عنده.
لكن الله سبحانه وتعالى شاء أن يكون قِوام هذه الروح وحياتها في معرفة الله وعبادته؛ قال عز وجل: {الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} [الرعد: 28]؛ فلا شيء أطيب للعبد ولا ألذ ولا أهنأ ولا أنعم لقلبه وعيشه من محبَّة فاطره وبارئه، ودوام ذِكره، والسعي في مرضاته، لذلك فإنَّ مَنْ في قلبه أدنى حياة أو محبة لربه وإرادة لوجهه وشوق إلى لقائه، فطلبه لهذا الباب وحرصه على معرفته وازدياده من التَّبَصُّر فيه وسؤاله واستكشافه عنه هو أكبر مقاصده وأعظم مطالبه وأجل غاياته، فهذا هو الكمال الذي لا كمال للعبد بدونه، وله خُلق الخلق، ولأجله نزل الوحي، وأُرسلت الرسل، وقامت
সপ্তম: আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই হলো হৃদয়ের জীবন।
আমাদের জানা উচিত যে, আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভ করাই হলো আমাদের হৃদয়ের জীবন। কোনো হৃদয়ের জন্যই জীবন নেই, নেই কোনো সুখ, নেই কোনো আনন্দ, নেই কোনো নিরাপত্তা এবং নেই কোনো প্রশান্তি; যতক্ষণ না সে তার প্রতিপালক, তার উপাস্য এবং তার স্রষ্টাকে চিনতে পারছে এবং তিনি যেন তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন। আর এই পরিচয় লাভ এবং ভালোবাসা ব্যতীত আখিরাতে মুক্তি ও সৌভাগ্য লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আল্লাহর প্রতি ঈমান ব্যতীত কোনো মানুষ জ্ঞান বা হিদায়াত লাভ করতে পারে না। স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া ছাড়া মানুষ কেবল দুর্ভাগা ও যন্ত্রণাকাতরই হবে, যেমনটি কাফিরদের অবস্থা।
আল্লাহ—তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ—এই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে গঠন করেছেন। আর তিনি চেয়েছেন যে, এই দেহের মূল উপাদান যেন এই মাটি থেকেই হয়; আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রেখো) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি} [হাজ্জ: ৫]। তিনি এই দেহের জীবনকে মাটির ওপর নির্ভরশীল করেছেন; সুতরাং সে মাটি এবং এতে যা কিছু আছে তা থেকেই আহার করে, পান করে এবং পরিধান করে।
আর তিনি এই দেহের মাঝে রুহ বা আত্মা স্থাপন করেছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সিজদাবনত হয়ো} [হিজর: ২৯]।
তবে এই রুহের মূল উৎস ও উপাদান সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই: {তারা আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন: রুহ আমার প্রতিপালকের নির্দেশ ঘটিত। আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই প্রদান করা হয়েছে} [ইসরা: ৮৫]। এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ তাআলা তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞানের ভাণ্ডারে কেবল নিজের জন্যই নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চেয়েছেন যে, এই রুহের স্থায়িত্ব ও জীবন হবে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে; মহান আল্লাহ বলেন: {যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়} [রাদ: ২৮]। একজন বান্দার কাছে তার স্রষ্টা ও জীবনদাতার প্রতি ভালোবাসা, সর্বদা তাঁর স্মরণ এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার চেয়ে অধিক উত্তম, অধিক সুস্বাদু, অধিক স্বস্তিদায়ক ও অধিক সুখকর বিষয় তার অন্তর ও জীবনের জন্য আর কিছুই হতে পারে না। তাই যার হৃদয়ে সামান্যতম জীবন বা তার প্রতিপালকের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতা বিদ্যমান থাকে, তার জন্য এই বিষয়ের অন্বেষণ করা, তাঁর পরিচয় লাভে সচেষ্ট হওয়া, এ বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধিতে যত্নবান হওয়া এবং এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করাই হলো তার সর্ববৃহৎ লক্ষ্য, মহান দাবি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য। এটিই সেই পূর্ণতা যা ব্যতীত বান্দার জন্য অন্য কোনো পূর্ণতা নেই। আর এরই জন্য সৃষ্টিজগত সৃজিত হয়েছে, ওহি নাজিল হয়েছে, রসূলদের পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
السموات والأرض، ووُجدت الجنة والنار، ولأجله شُرعت الشرائع، وأُسِّست الملة، ونُصبت القِبلة، وهو قطب رحى الخلق والأمر الذي مدارهما عليه.
وهو بحقٍّ أفضل ما اكتسبته القلوب، وحصَّلته النفوس، وأدركته العقول، وليست القلوب الصحيحة والنفوس المطمئنة إلى شيء من الأشياء أشوق منها إلى معرفة هذا الأمر، ولا فرحها بشيء أعظم من فرحها بالظفر بمعرفة الحق فيه
(1).
وإذا تأملت أعمال القلوب وجدت- مثلًا- أن كل حبٍّ هو تَبَعٌ لحبِّ الله سبحانه وتعالى؛ وكذلك الخوف، والرجاء، والتوكل، والإنابة، والإخلاص، والرغبة، والرهبة .. إلى غير ذلك.
فلا يمكن أن تتحرك أعمال القلوب في القلب ولا أن تقوم بواجبها ما لم تكن على معرفة بالله سبحانه وتعالى!
إذًا، كيف تتحقق في القلب أعمال القلوب؟
فمثلًا إذا علمت أن الله هو الخالق، وهو الرازق، وهو المحيي، وهو المُميت، وهو النَّافع، وهو الضَّار، وهو القابض، وهو الباسط .. إذا علمت هذا أَثْمَر في قلبك توكلًا على الله سبحانه وتعالى. هذه المعرفة تُوَلِّدُ التوكل. ممن تخاف ومَن ترجو والرزق بيد الواحد الأحد سبحانه وتعالى؟! يرزق من يشاء بغير حساب. وكيف ترجو ما في يد الناس؟ أو حتى كيف تحسد فلانًا من الناس: أن أعطاه الله تعالى من فضله؛ {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ} [آل عمران: 26]؛ فالخير بيد الله سبحانه وتعالى، والله يختص برحمته مَنْ يشاء؛ فكيف لقلبٍ أن يحسد لو كان على إيمان؟! ويحسد مَن؟! كأنما يعترض على حكم الله سبحانه وتعالى: أن أعطى فلانًا ومنع فلانًا!
--------------------------------------------
আসমানসমূহ ও জমিন, এবং সৃষ্টি করা হয়েছে জান্নাত ও জাহান্নাম। আর এরই জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে শরীয়তসমূহ, প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মিল্লাত, এবং নির্ধারণ করা হয়েছে কিবলা। আর এটিই হলো সৃষ্টি ও আদেশের যাঁতাকলের অক্ষবিন্দু, যা একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।
আর এটিই হলো প্রকৃতপক্ষে সেই শ্রেষ্ঠ বিষয় যা অন্তরসমূহ অর্জন করেছে, নফসসমূহ হাসিল করেছে এবং আকলসমূহ উপলব্ধি করেছে। সহীহ অন্তর এবং প্রশান্ত নফসসমূহ অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি এতটা লালায়িত নয় যতটা এই বিষয়টি জানার প্রতি, আর অন্য কোনো কিছুতে তাদের আনন্দ এর চেয়ে বেশি নয় যতটা এই বিষয়ে সত্য জ্ঞানের সন্ধান পাওয়ার আনন্দ
(১)।
আর আপনি যদি অন্তরের আমলসমূহ নিয়ে চিন্তা করেন তবে দেখবেন—উদাহরণস্বরূপ—প্রত্যেকটি ভালোবাসা মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অনুগামী; অনুরূপভাবে ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল, ইনাবাত, ইখলাস, আগ্রহ, ভীতি... ইত্যাদি বিষয়গুলোও।
সুতরাং অন্তরে অন্তরের আমলসমূহ সঞ্চালিত হওয়া এবং তাদের আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হবে!
তাহলে, অন্তরে অন্তরের আমলসমূহ কীভাবে অর্জিত হবে?
উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি জানবেন যে আল্লাহই হলেন সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, কল্যাণ দানকারী, অকল্যাণ দানকারী, সঙ্কুচিতকারী এবং প্রশস্তকারী... যখন আপনি এটি জানবেন, তখন তা আপনার অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের জন্ম দেবে। এই জ্ঞানই তাওয়াক্কুল সৃষ্টি করে। আপনি কাকে ভয় পাবেন আর কার কাছে আশা করবেন, যেখানে রিযিক তো কেবল সেই এক ও অদ্বিতীয় মহান আল্লাহর হাতে?! তিনি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন। আর মানুষের হাতে যা রয়েছে তার আশা আপনি কীভাবে করেন? অথবা কীভাবে আপনি কোনো ব্যক্তিকে এই কারণে হিংসা করেন যে, মহান আল্লাহ তাকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করেছেন; {বলুন, হে আল্লাহ! আপনিই সার্বভৌম শক্তির মালিক। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন; যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা অপদস্থ করেন। আপনার হাতেই রয়েছে সকল কল্যাণ।} [আলে ইমরান: ২৬]; সুতরাং সকল কল্যাণ মহান আল্লাহর হাতে, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতের জন্য নির্দিষ্ট করেন; কোনো অন্তরে ঈমান থাকলে সে কীভাবে হিংসা করতে পারে?! আর কাকে হিংসা করবে?! এ যেন মহান আল্লাহর ফয়সালার ওপর আপত্তি জানানো যে, তিনি অমুককে দিয়েছেন আর অমুককে দেননি!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فصلاح قلوبنا وحمايتها من تلك الأمراض التي تضرها، وتفسد على الإنسان حياته مِنْ غِلٍّ وحسد وحقد وغِيبة ونميمة .. إلى غير ذلك من أمراض- سببها هو: أن الإنسان ما عرف الله تعالى حقَّ المعرفة، ومثلًا الله سبحانه وتعالى أخبرك بأنه عليم، وأنَّه سميع، وأنه بصير؛ يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، ومُطَّلِع على عملك وعلى فعلك؛ أفَلَا يحملُك هذا على الحياء منه؟!
فيجب أن يحمل هذا العبدَ على خوف الله تعالى، على مراقبته، على خشيته؛ فلو أن النفوس استحضرت هذه المعاني لَمَا أَقْدَمَت على فِعل معصية، ولذلك يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يَزني الزَّاني حين يَزني وهو مؤمن، ولا يَشرب الخمرَ حين يَشرب وهو مُؤمنٌ، ولا يَسرق السارق حين يَسرق وهو مؤمن
… »، الحديث
(1)؛ لأنه لو قام الإيمان كما يجب- وكما ينبغي- في نفسِه في تلك اللحظات لَمَا أقدم على فَعلته.
أنت لو لَمَحت أحدًا من الناس وأنت على معصية لربما استحييت منه، ولربما خِفت أن يُفشي سِرَّك! فكيف وأنت أمام عالم الغيب والشَّهادة، المُطَّلِع على جميع أحوالك وعلى جميع أمورك وعلى جميع سكناتك وعلى جميع حركاتك؛ ألا تستحي مِنْ الله سبحانه وتعالى؟! وكما يذكرون أنَّ رجلًا لقي أعرابية فأرادها على نفسها فأَبَت وقالت: أي ثكلتك أمك، أَمَا لك زاجر من كرم؟ أما لك ناهٍ مِنْ دين؟ قال: قلت: واللهِ إنَّه لا يَرانا إلا الكواكب، قالت: ها بأبي أنت، وأين مُكوكبها»
(2)؛ فأراد أن يُطمأنها أنَّه لا يراهم أحد إلا هذه الكواكب!. فقالت له: «وأين مُكوكبُها؟!»؛ فذكَّرَته بالله سبحانه وتعالى في تلك اللحظة؛ فقام عنها، وكان ذلك سببًا في هدايته.
فنحن لو استحضرنا معاني أسماء الله وصفاته لكان هذا سببًا في حياة قلوبنا، ولكنَّ قلوبَنا مُلئت بالغفلة عن الله سبحانه وتعالى والإعراض عن معرفة أسمائه
--------------------------------------------
আমাদের অন্তরের সংশোধন এবং সেগুলোকে এমন সব ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দেওয়া যা অন্তরের ক্ষতি করে এবং মানুষের জীবনকে কলুষিত করে—যেমন বিদ্বেষ, হিংসা, ঘৃণা, গিবত (পরনিন্দা) ও চোগলখুরি ইত্যাদি—এই সব ব্যাধির মূল কারণ হলো: মানুষ আল্লাহ তাআলাকে সঠিকরূপে চিনতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনাকে জানিয়েছেন যে তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি সর্বশ্রোতা এবং তিনি সর্বদ্রষ্টা; তিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তরে যা গোপন থাকে সে সম্পর্কেও অবগত। তিনি আপনার আমল ও আপনার কর্মের ওপর পূর্ণ দৃষ্টি রাখেন; তবে কি এই বিষয়টি আপনাকে তাঁর প্রতি লজ্জা বোধ করতে উদ্বুদ্ধ করে না?
সুতরাং এটি একজন বান্দাকে আল্লাহ তাআলার ভয়, তাঁর নজরদারি এবং তাঁর প্রতি খাশিয়াতের (গভীর ভীতি) দিকে ধাবিত করা উচিত। যদি মানুষের আত্মা এই অর্থগুলো উপলব্ধি করত, তবে সে কোনো পাপে লিপ্ত হওয়ার সাহস করত না। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না, মদ পানকারী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন থাকে না, আর চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না...», হাদীস
(১); কারণ সেই মুহূর্তে যদি তার অন্তরে ঈমান তার যথাযথ ও প্রয়োজনীয় মানে বিদ্যমান থাকত, তবে সে এই অপকর্মে লিপ্ত হতো না।
আপনি যদি পাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় কোনো সাধারণ মানুষকেও দেখে ফেলতেন, তবে হয়তো আপনি তার সামনে লজ্জা পেতেন এবং এই ভয়ে থাকতেন যে সে হয়তো আপনার গোপন বিষয় প্রকাশ করে দেবে! তাহলে আপনার অবস্থা কেমন হওয়া উচিত সেই সত্তার সামনে, যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, যিনি আপনার সকল অবস্থা, আপনার সকল বিষয় এবং আপনার প্রতিটি স্থিতি ও প্রতিটি গতির ওপর পূর্ণ অবগত; আপনি কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে লজ্জা বোধ করবেন না?! যেমনটি বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি জনৈক বেদুঈন নারীর দেখা পেয়ে তার সাথে অপকর্মে লিপ্ত হতে চাইল। কিন্তু নারীটি তা অস্বীকার করল এবং বলল: তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, তোমার কি আভিজাত্যজনিত কোনো বাধা নেই? তোমার কি দ্বীন থেকে কোনো নিষেধকারী নেই? লোকটি বলল: আমি বললাম, আল্লাহর কসম! এই নক্ষত্রগুলো ছাড়া আমাদের আর কেউ দেখছে না। নারীটি বলল: আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তবে এই নক্ষত্রপুঞ্জের স্রষ্টা কোথায়?»
(২); মূলত লোকটি তাকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছিল যে এই নক্ষত্রগুলো ছাড়া তাদের কেউ দেখছে না। তখন নারীটি তাকে প্রশ্ন করল: «তাহলে নক্ষত্রপুঞ্জের স্রষ্টা কোথায়?!»; এর মাধ্যমে তিনি সেই মুহূর্তে লোকটিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন; ফলে লোকটি তার থেকে সরে দাঁড়াল এবং এটিই তার হিদায়াতের কারণ হলো।
সুতরাং আমরা যদি আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির অর্থগুলো অন্তরে উপস্থিত রাখতাম, তবে তা আমাদের অন্তরের সজীবতার কারণ হতো। কিন্তু আমাদের অন্তরগুলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে গাফিলতি (অসচেতনতা) এবং তাঁর নামসমূহ জানার প্রতি অনীহা দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وصفاته؛ فأصابها ما أصابها من أمراض أثقلت كواهلنا، وأفسدت علينا أمر ديننا، وأفسدت علينا أمر دنيانا، بل إن الواحد منا يقف في الصلاة ويسمع آيات الله سبحانه تُتلى عليه، ومع ذلك قلبه قاسٍ، وأصبح قلبًا متحجرًا مهما ذُكِّر بآية عذاب أو وعيد لا يهتز لها، ولا يتحرك لها شعور في قلبه من ذِكر شيء من آيات الله سبحانه وتعالى؛ فأصابنا ما أصابنا من أمراض في قلوبنا وفي نفوسنا بسبب أننا غفلنا عن معرفة الله سبحانه وتعالى.
فليتنا نعودُ إلى أسماء الله وصفاته! ليتنا نتدبر ما جاء فيها من معانٍ، وما تُثمره من ثمرات! أنت إذا أثمرت هذه المعرفة في قلبك التوكل حصلت عِزَّة للمؤمن، وحصلت طمأنينة للنفس، وكذلك إذا حصل حياء وإذا حصل خوف وإذا حصلت خشية- منعك هذا مِنْ أن تقترف معصية؛ لا في السر ولا في العلن. إذا حصلت هذه المعرفة قامت بك محبةٌ لله تعالى وتعظيم وإجلال.
هذه المعرفة وهذه المحبة وهذا التعظيم وهذا الإجلال يحملك على أن تُراقب الله سبحانه وتعالى في جميع أحوالك، وأن يكون اللهُ تعالى أحبَّ إليك مِنْ كل شيء وأعظم وأكبر وأجَل من كل شيء، لكن للأسف حَرمنا قلوبنا من ذلك، فلربما استحقت وعيدَ الله سبحانه وتعالى: {فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ} [الزمر: 22]؛ فقست القلوب، والقلوب تقسو، بل وتمرض وتموت، والله تعالى قد قال: {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ} [المطففين: 14]؛ فالران: هو الصدأ؛ يعلو على هذه القلوب حتى تصبح هذه القلوب صَدِأَة، هذه القلوب قاسية مُبتعدة عن ذكر الله سبحانه وتعالى.
فأين النفس المطمئنة التي ستنادى كما قال الله سبحانه وتعالى: {يَاأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ (27) ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً (28) فَادْخُلِي فِي عِبَادِي (29) وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 27]؟!
فمعرفةُ الله سبحانه وتعالى حياةٌ لقلوبنا، وستثمر لنا من أنواع الإيمان وأنواع العمل ما يكون- بإذن الله تعالى- سببًا في صلاحنا وصلاح أحوالنا وصلاح مَعاشنا وصلاح معادنا؛ لو أننا عرفنا ذلك وعملنا به!
এবং তাঁর গুণাবলি; ফলে আমাদের অন্তরসমূহ এমন সব ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে যা আমাদের কাঁধকে ভারাক্রান্ত করেছে এবং আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদিকে বিপর্যস্ত করেছে। এমনকি আমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় এবং তার সামনে মহান আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখনো তার অন্তর পাষাণ হয়ে থাকে। তা এমন এক পাথুরে অন্তরে পরিণত হয়েছে যে, শাস্তির কোনো আয়াত বা ভীতিপ্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করানো হলেও তা প্রকম্পিত হয় না এবং আল্লাহর আয়াতের স্মরণে তার হৃদয়ে কোনো অনুভূতির উদয় হয় না। আমাদের অন্তরে ও আত্মায় এই ব্যাধিগুলো দানা বেঁধেছে কারণ আমরা মহান আল্লাহর পরিচয় লাভের বিষয়ে গাফেল হয়ে পড়েছি।
হায়! আমরা যদি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির দিকে ফিরে আসতাম! আমরা যদি সেগুলোর অর্থ এবং এর মাধ্যমে অর্জিত ফলসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতাম! আপনার অন্তরে যখন এই পরিচয় 'তাওয়াক্কুল' বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতার ফল দেবে, তখন মুমিনের মর্যাদা অর্জিত হবে এবং আত্মার প্রশান্তি হাসিল হবে। অনুরূপভাবে, যদি লজ্জাবোধ, ভয় এবং খাশইয়াত বা ঐশী ভীতি সৃষ্টি হয়—তবে তা আপনাকে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে পাপাচার থেকে বিরত রাখবে। যখন এই পরিচয় সুদৃঢ় হয়, তখন আপনার হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর মহিমা ও বড়ত্বের বোধ জাগ্রত হয়।
এই পরিচয়, এই ভালোবাসা এবং এই মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ আপনাকে আপনার সকল অবস্থায় মহান আল্লাহর পর্যবেক্ষণে থাকতে উদ্বুদ্ধ করবে। তখন আল্লাহ তাআলা আপনার নিকট অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় এবং সব কিছুর চেয়ে মহান, বড় ও মহিমান্বিত হবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমরা আমাদের অন্তরসমূহকে তা থেকে বঞ্চিত করেছি। ফলে সম্ভবত তা মহান আল্লাহর এই হুশিয়ারির উপযুক্ত হয়ে পড়েছে: {সুতরাং দুর্ভোগ সেই কঠোর হৃদয় ব্যক্তিদের জন্য যারা আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ} [যুমার: ২২]। ফলে অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গেছে; আর অন্তর কঠোর হয়, এমনকি তা রুগ্ন হয় ও মরে যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {কখনোই নয়, বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে} [মুতাফফিফিন: ১৪]। এখানে 'রান' হলো মরিচা; যা এই অন্তরগুলোর ওপর ছেয়ে যায়, ফলে অন্তরগুলো মরিচাযুক্ত হয়ে পড়ে। এই অন্তরগুলো পাষাণ এবং মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে যোজন যোজন দূরে।
তবে সেই প্রশান্ত আত্মা কোথায় যাকে মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে সম্বোধন করা হবে: {হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো} [ফাজর: ২৭-৩০]?!
বস্তুত মহান আল্লাহর পরিচয়ই হলো আমাদের হৃদয়ের জীবন। এটি আমাদের জন্য এমন ঈমান ও আমল বয়ে আনবে যা—আল্লাহর ইচ্ছায়—আমাদের সংশোধন, আমাদের অবস্থার সংশোধন এবং আমাদের জীবন ও পরকালের কল্যাণের কারণ হবে; যদি আমরা তা উপলব্ধি করতাম এবং তদনুযায়ী আমল করতাম!
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثامنًا: ثمرة معرفة أسماء الله وصفاته:
مما يدلل ويؤكد أهمية هذا التوحيد هو ما تُثمره معرفة أسماء الله وصفاته في قلب المؤمن من زيادة في الإيمان ورسوخ في اليقين، وما تَجلبه له من النور والبصيرة التي تحصنه من الشبهات المضللة والشهوات المحرمة.
فهذا العلم إذا رسخ في القلب أوجب خشيةَ الله لا محالة؛ فلكلِّ اسم من أسماء الله تأثير معين في القلب والسلوك، فإذا أدرك القلب معنى الاسم وما يتضمنه واستشعر ذلك- تجاوب مع هذه المعاني، وانعكست هذه المعرفة على تفكيره وسلوكه.
ولكل صفة عبودية خاصة هي من موجباتها ومقتضياتها؛ فالأسماء الحسنى والصفات العُلى مقتضية لآثارها من العبودية، وهذا مُطَّرِد في جميع أنواع العبودية التي على القلب والجوارح؛ فمثلًا: علم العبد بتفرد الرب تعالى بالضر والنفع والعطاء والمنع والخلق والرزق والإحياء والإماتة يُثمر له عبودية التوكل عليه باطنًا، ولوازم التوكل وثمراته ظاهرًا.
وعلمه بسمعه تعالى وبصره وعلمه، وأنَّه لا يخفى عليه مثقال ذرة في السموات ولا في الأرض، وأنه يعلم السر وأخفى، ويعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، يثمر له حفظ لسانه وجوارحه وخطرات قلبه عن كل ما لا يُرضي الله، وأن يجعل تعلق هذه الأعضاء بما يحبه الله ويرضاه؛ فيثمر له ذلك الحياء باطنًا، ويثمر له الحياء اجتناب المحرمات والقبائح.
ومعرفته بغناه وجوده وكرمه وبِرِّه وإحسانه ورحمته تُوجب له سعة الرجاء، ويثمر له ذلك من أنواع العبودية الظاهرة والباطنة بحسب معرفته وعلمه. وكذلك معرفته بجلال الله وعظمته وعِزِّه تُثمر له الخضوع والاستكانة والمحبة، وتثمر له تلك الأحوال الباطنة أنواعًا من العبودية الظاهرة هي موجباتها.
وكذلك علمه بكماله وجماله وصفاته العُلى يوجب له محبة خاصة بمنزلة أنواع العبودية.
অষ্টম: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি জানার সুফল:
এই তাওহীদের গুরুত্ব যা থেকে প্রমাণিত ও সুনিশ্চিত হয় তা হলো—মুমিনের অন্তরে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি জানার মাধ্যমে অর্জিত ঈমানের বৃদ্ধি ও ইয়াকীনের দৃঢ়তা। আর এটি তার জন্য এমন নূর ও অন্তর্দৃষ্টি বয়ে আনে যা তাকে বিভ্রান্তিকর সংশয় ও নিষিদ্ধ কুপ্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা দেয়।
এই জ্ঞান যখন অন্তরে বদ্ধমূল হয়, তখন তা অনিবার্যভাবে আল্লাহর ভীতি সৃষ্টি করে; কারণ আল্লাহর প্রতিটি নামেরই অন্তর ও আচরণের ওপর সুনির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে। সুতরাং যখন অন্তর কোনো নামের অর্থ ও তার অন্তর্নিহিত বিষয় অনুধাবন করে এবং তা অনুভব করে, তখন সে এই অর্থগুলোর সাথে একাত্ম হয় এবং এই জ্ঞান তার চিন্তা ও আচরণের ওপর প্রতিফলিত হয়।
আর প্রতিটি গুণাবলিরই বিশেষ দাসত্ব বা ইবাদত রয়েছে যা সেটির দাবি ও আবশ্যকতা। সুতরাং আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবের দাবি রাখে। আর এটি অন্তরের ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সকল প্রকার ইবাদতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ: বান্দার এই জ্ঞান যে—ক্ষতি ও উপকার করা, দান ও বারণ করা, সৃষ্টি ও রিযিক দেওয়া এবং জীবন ও মৃত্যু দান করার ক্ষেত্রে মহান প্রতিপালক একক; এটি তার মধ্যে একান্তে তাঁর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) এবং প্রকাশ্যে সেই ভরসার আবশ্যকতা ও সুফল বয়ে আনে।
মহান আল্লাহর শ্রবণ, দর্শন ও জ্ঞান সম্পর্কে বান্দার অবগতি, এবং আসমান ও জমিনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়, তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন, তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তরে যা লুকায়িত থাকে তা জানেন—এই জ্ঞান তাকে তার জিহ্বা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং অন্তরের সংকল্পকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিষয়গুলো থেকে হিফাযত করতে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া সে তার এই অঙ্গগুলোকে আল্লাহর পছন্দ ও সন্তুষ্টির কাজে নিয়োজিত করতে সচেষ্ট হয়। ফলে এটি তার ভেতরে একান্তে লজ্জাবোধের সৃষ্টি করে এবং এই লজ্জা তাকে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ বর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।
তাঁর অভাবহীনতা, দানশীলতা, মহানুভবতা, সৌজন্য, অনুগ্রহ ও দয়া সম্পর্কে জ্ঞান তার জন্য আশার প্রশস্ততা তৈরি করে। আর তার জ্ঞান ও অবগতি অনুযায়ী এটি তার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতের সুফল দান করে। একইভাবে আল্লাহর মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব ও পরাক্রম সম্পর্কে জ্ঞান তার মধ্যে বিনয়, হীনতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে। আর সেই অভ্যন্তরীণ অবস্থাগুলো বিভিন্ন প্রকার প্রকাশ্য ইবাদতের জন্ম দেয় যা সেগুলোরই অনিবার্য দাবি।
একইভাবে তাঁর পূর্ণতা, সৌন্দর্য ও সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান তার জন্য এক বিশেষ প্রকার ভালোবাসা আবশ্যক করে দেয় যা বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের স্তরে উন্নীত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فرجعت العبودية كلها إلى مقتضى الأسماء والصفات وارتبطت بها
(1).
وبهذا يتبين أنَّ معرفة العبد لأسماء الله وصفاته على الوجه الذي أخبر الله عز وجل به في كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم تُوجب على العبد القيام بعبودية الله على الوجه الأكمل، فكلما كان الإيمان بالصفات أكمل كان الحب والإخلاص والتعبد أقوى، وأكمل الناس عبودية المتعبد بجميع الأسماء والصفات التي يطلع عليها البشر؛ إذ كل اسم من أسمائه عز وجل له تَعَبُّد مُختص به؛ علمًا ومعرفة وحالًا.
(علمًا ومعرفة): أي: إنَّ مَنْ عَلِم أنَّ الله مسمى بهذا الاسم، وعرف ما يتضمنه من الصفة، ثم اعتقد ذلك- فهذه عبادة.
و (حالًا) أي: إن لكل اسم من أسماء الله مدلولًا خاصًّا وتأثيرًا معينًا في القلب والسلوك، فإذا أدرك القلب معنى الاسم وما يتضمنه واستشعر ذلك- تجاوب مع هذه المعاني، وانعكست هذه المعرفة على تفكيره وسلوكه.
وهذه الطريقة مُشتقة من قلب القرآن؛ قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا}.
والدعاء بها يتناول: دعاء المسألة. ودعاء الثناء. ودعاء التعبد.
وهو- سبحانه- يدعو عباده إلى أن يَعرفوه بأسمائه وصفاته، ويُثنوا عليه بها، ويأخذوا بحظِّهم من عبوديتها
(2).
تاسعًا: ضرورة تجنُّب الباطل، وعدم مخالفة طر يق الحق في هذا الباب:
قد وقع الخلاف في هذا الباب، وكَثُر كلام أهل الباطل فيه؛ لما عرفوا من أهميته، فبالتالي ازداد تسلطهم عليه، وأرادوا أن يَحجبوا الناس عن معرفة الله تعالى؛ لأنهم بهذا سيوصدون الباب، وإذا أُوصد الباب لم يمكن الدخول! فَكَثُر الخلاف والافتراق، فكان لا بد مِنْ مَعرفة تَنبني على الكتاب
--------------------------------------------
ফলে সমস্ত দাসত্ব নাম ও গুণাবলির দাবি ও চাহিদার দিকে ফিরে আসে এবং সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়
(১).
এর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে আল্লাহ তাআলা যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন সেই অনুযায়ী বান্দার আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা বান্দার ওপর সর্বোত্তম উপায়ে আল্লাহর দাসত্ব পালন করাকে আবশ্যক করে। সুতরাং গুণাবলির প্রতি ঈমান যত বেশি পূর্ণাঙ্গ হবে, ভালোবাসা, একনিষ্ঠতা ও ইবাদত তত বেশি শক্তিশালী হবে। মানুষের মধ্যে তারাই দাসত্বে সবচেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ যারা মানুষের জানা সকল নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে ইবাদত করে; কেননা মহান আল্লাহর প্রতিটি নামেরই একটি বিশেষ ইবাদত রয়েছে; যা জ্ঞান, পরিচয় ও অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।
(জ্ঞান ও পরিচয়): অর্থাৎ, যে ব্যক্তি জানল যে আল্লাহ এই নামে নামধারী, এবং সেই নাম যে গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে তা চিনল, অতঃপর সেটির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল—তবে এটাই হলো ইবাদত।
এবং (অবস্থা): অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতিটি নামের একটি বিশেষ অর্থ এবং অন্তরে ও আচরণে একটি নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে। যখন অন্তর নামের অর্থ এবং তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন করে ও তা অনুভব করে, তখন সে এই অর্থগুলোর সাথে সাড়া দেয় এবং এই পরিচয় তার চিন্তা ও আচরণের ওপর প্রতিফলিত হয়।
আর এই পদ্ধতিটি কুরআনের মূল থেকে গৃহীত; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেগুলোর মাধ্যমেই ডাকো।"
আর সেগুলোর মাধ্যমে ডাকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে: চাওয়ার দোয়া, প্রশংসার দোয়া এবং ইবাদতের দোয়া।
আর তিনি—সুবহানাহু—তাঁর বান্দাদের আহ্বান জানান যেন তারা তাঁকে তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে চেনে, সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে এবং সেগুলোর দাসত্বের নিজেদের অংশ গ্রহণ করে
(২)।
নবম: বাতিল পরিহার করার প্রয়োজনীয়তা এবং এই বিষয়ে সত্যের পথের বিরোধিতা না করা:
এই বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং বাতিলপন্থীদের কথা এতে বৃদ্ধি পেয়েছে; কারণ তারা এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানত, ফলে এতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বেড়ে গেছে। তারা চেয়েছিল মানুষকে আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভ করা থেকে বিমুখ রাখতে; কারণ তারা এর মাধ্যমে পথ রুদ্ধ করে দিবে, আর পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না! ফলে মতভেদ ও অনৈক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والسنة، وكان لا بد من فهم للحقِّ حتى يُتَّبع، ولا بد من معرفة للباطل حتى يُجتنب.
فباب الأسماء والصفات من أكثر الأبواب خطورة ومَزلة؛ من جهة كونه محل خلافات شديدة ومعقدة دارت رحاها بين علماء السلف من جهة والفلاسفة وأهل الكلام والمُشبهة من جهة أخرى.
فمن واجب طالب العلم: أن يَتعمق في فهم الحق المَبني على الكتاب والسنة؛ قال تعالى: {وَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ}، فالرد إلى الله يكون بالرد إلى كتابه، والرد إلى الرسول بعد وفاته يكون بالرد إلى سنته صلى الله عليه وسلم، وقد قال تعالى: {أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّه}، فالله أعلم بنفسه، وهو الذي أخبر بأسمائه وصفاته في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، وكذلك فإن النبي صلى الله عليه وسلم أعلم الناس بربِّه وأصدقهم خبرًا، وقد قال الله في حقه: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى}.
فمن الواجب على المسلم: أن يدرس هذا الباب وأن يتعمق في فهمه وفق ما ورد في الكتاب والسنة، وأن يحذر من التيارات الفلسفية التي أضَرَّت أصحابها، وأدخلتهم في دوامة الانحراف والضياع، فحالت بين قلوبهم وبين معرفة ربهم، فأصبحت قلوبهم مظلمة جاهلة بحقائق الإيمان، فترتب على ذلك إعراضهم عن الله وعن ذكره ومحبته والثناء عليه بأوصاف كماله، ونعوت جلاله، فانصرفت قُوى حُبِّهم وشوقهم وأنسهم إلى سواه.
ومعلوم: أنه لا يستقر للعبد قَدَمٌ في المعرفة- بل ولا في الإيمان- حتى يؤمن بأسماء وصفات الربِّ جل جلاله، ويَعرفها معرفة تُخرجه عن حدِّ الجهل بربه، فالإيمان بالأسماء والصفات وتَعَرُّفها هو أساس الإسلام وقاعدة الإيمان وثمرة شجرة الإحسان؛ فمَن جَحدها فقد هدم أساس الإسلام والإيمان، وثمرة شجرة الإحسان، فضلًا عن أن يكون من أهل العرفان. فينبغي للمؤمن أن يَبذل مقدوره ومستطاعه في معرفة الأسماء والصفات،
...এবং সুন্নাহ। সত্য অনুসরণের জন্য সত্যকে উপলব্ধি করা আবশ্যক ছিল, আর পরিহার করার জন্য বাতিলকে চেনা অপরিহার্য ছিল।
নাম ও গুণাবলির অধ্যায়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এখানে পদস্খলনের সম্ভাবনা অনেক বেশি; কারণ এটি একদিকে সালাফী ওলামায়ে কেরাম এবং অন্যদিকে দার্শনিক, কালাম শাস্ত্রবিদ ও সাদৃশ্যবাদীদের মধ্যে তীব্র ও জটিল মতবিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
তাই ইলম অন্বেষীর কর্তব্য হলো: কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে সত্য বোঝার ক্ষেত্রে গভীরতা অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, আর রাসুলের ইন্তেকালের পর তাঁর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর সুন্নাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তোমরা কি বেশি জানো, নাকি আল্লাহ?" আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনিই তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যবানে নিজের নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তেমনিভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মানুষের মধ্যে তাঁর রব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং সবচেয়ে সত্যবাদী সংবাদদাতা। আল্লাহ তাঁর ব্যাপারে বলেছেন: "তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়।"
সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো: এই অধ্যায়টি অধ্যয়ন করা এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে এর গভীর মর্ম অনুধাবন করা। সেই সাথে সেই সকল দার্শনিক মতবাদ থেকে সতর্ক থাকা যা তাদের অনুসারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের বিচ্যুতি ও ধ্বংসের আবর্তে নিপতিত করেছে। ফলে তা তাদের অন্তর ও রবের পরিচয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ঈমানের হাকীকত সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়েছে। এর ফলে তারা আল্লাহ থেকে, তাঁর যিকির, তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁর পূর্ণতার গুণাবলি ও মহিমার বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা থেকে বিমুখ হয়েছে। ফলে তাদের ভালোবাসা, ব্যাকুলতা এবং সান্নিধ্য লাভের সমস্ত শক্তি আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্যের প্রতি ধাবিত হয়েছে।
এটি সুপরিচিত যে: রবের পরিচয় এবং ঈমানের ক্ষেত্রে বান্দার পা ততক্ষণ পর্যন্ত সুদৃঢ় হতে পারে না, যতক্ষণ না সে মহান রবের নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনবে এবং এমনভাবে তা চিনবে যা তাকে তার রব সম্পর্কে অজ্ঞতার সীমা থেকে বের করে আনবে। সুতরাং নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনা এবং তা জানা হলো ইসলামের ভিত্তি, ঈমানের মূল এবং ইহসানের বৃক্ষের ফল। যে ব্যক্তি এগুলো অস্বীকার করল, সে ইসলাম ও ঈমানের ভিত্তি এবং ইহসানের বৃক্ষের ফলকে ধ্বংস করল; আধ্যাত্মিক মারেফাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া তো দূরের কথা। অতএব, মুমিনের উচিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলি জানার ক্ষেত্রে তার সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأن تكون معرفته سالمة من داء التعطيل وداء التمثيل اللذين ابتُلي بهما كثير من أهل البدع المخالفة لما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، فالمعرفة الصحيحة هي المُتلقاة من الكتاب والسنة، وما رُوي عن الصحابة والتابعين لهم بإحسان، فهذه هي المعرفة النافعة التي لا يزال صاحبها في زيادة إيمانه وقوة يقينه، وطمأنينة أحواله.
ومما يذكره العلماء في أهمية هذا العلم- الذي هو العلم بأسماء الله وصفاته- بالإضافة إلى كونه شطر باب (الإيمان بالله تعالى): أنه أشرف العلوم؛ فهو أشرف العلوم وأعظمها وأجلها وأكبرها؛ فإذا قلنا: إن شرف العلم تابع لشرف المعلوم، فالمعلوم هنا: هو ما يليق بأسماء الله تعالى من أسمائه وصفاته سبحانه وتعالى، وما تَعَرَّف به إلى خلقه مما أخبر به في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم؛ من أسمائه الحسنى وصفاته العُلى؛ فأنت أمام أشرف علم تكتسبُه؛ فلا شك أن العلم شرفٌ لصاحبه، وأشرف علم يكتسبُه العبد المؤمن هو معرفة الله سبحانه وتعالى؛ لأن شرف العلم تابع لشرف المعلوم.
والمعلوم هنا: هو الله سبحانه وتعالى وما يليق به من الأسماء والصفات والأفعال؛ فلذلك ينبغي على المؤمن مع حرصه على إكمال توحيده أن يحرص كذلك على نيل هذا الشرف العظيم، وهو أن يكتسب هذا العلم الصحيح بأسماء الله وصفاته، كذلك مما يدل على شرف هذا العلم: أنه أصل العلوم وأساسها، كما يقول العلماء: «مَنْ عرف الله عرف ما سواه، ومَن جهل ربَّه فهو لما سواه أجهل»
(1).
وتأمل هذا وخذه من قول الله سبحانه وتعالى حيث قال: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ} {الحشر: 19]، وقد قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم في وصيته لابن عباس: «يا غلام- أو- يا غُلَيِّم: احفظ الله يحفظك، احفظ الله تَجده تُجاهك»
(2)، ونحن
--------------------------------------------
আর তাঁর (আল্লাহর) পরিচয় যেন ‘তাতীল’ (গুণাবলি অস্বীকার) ও ‘তামসীল’ (সাদৃশ্য প্রদান) নামক ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়, যে দুটিতে অনেক বিদআতপন্থী লিপ্ত হয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার বিরোধিতা করে। সুতরাং সঠিক পরিচয় হলো যা কিতাব ও সুন্নাহ এবং সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের থেকে প্রাপ্ত। এটিই হলো সেই উপকারী জ্ঞান, যার অধিকারী ব্যক্তির ঈমান সর্বদা বৃদ্ধি পেতে থাকে, একীন বা দৃঢ় বিশ্বাস শক্তিশালী হয় এবং তার সকল অবস্থার প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।
এই ইলমের গুরুত্ব সম্পর্কে আলেমগণ যা উল্লেখ করেন—আর তা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ইলম—পাশাপাশি এটি ‘আল্লাহর প্রতি ঈমান’ অধ্যায়ের অর্ধেক হওয়ার কারণে: তা হলো এটি ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম; এটি সর্বশ্রেষ্ঠ, মহানতম, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং সর্ববৃহৎ ইলম। আমরা যদি বলি: ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে যার সম্পর্কে ইলম অর্জন করা হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর, তবে এখানে যার সম্পর্কে ইলম অর্জন করা হচ্ছে (জ্ঞেয় বিষয়) হলো: মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মধ্য থেকে যা তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার শানে শোভনীয়, এবং তিনি তাঁর কিতাবে ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে তাঁর যে সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির কাছে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সুতরাং আপনি এক শ্রেষ্ঠতম ইলম অর্জনের সম্মুখে রয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইলম তার অধিকারীর জন্য এক মর্যাদা, আর একজন মুমিন বান্দা যে শ্রেষ্ঠতম ইলম অর্জন করে তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয়; কেননা ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে যার সম্পর্কে ইলম অর্জন করা হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর।
আর এখানে যার সম্পর্কে ইলম অর্জন করা হচ্ছে (জ্ঞেয় সত্তা) হলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর সাথে মানানসই নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি। তাই একজন মুমিনের জন্য তার তাওহীদ পূর্ণ করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই মহান মর্যাদা লাভের প্রতিও সচেষ্ট হওয়া উচিত, আর তা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে এই সঠিক জ্ঞান অর্জন করা। তেমনিভাবে এই ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি প্রমাণ হলো: এটি সকল ইলমের মূল ও ভিত্তি, যেমনটি আলেমগণ বলেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে সে অন্য সবকিছুকেও চিনেছে, আর যে তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ সে অন্য সব বিষয়ে আরও বেশি অজ্ঞ»
(১)।
আপনি এটি নিয়ে চিন্তা করুন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী থেকে তা গ্রহণ করুন যেখানে তিনি বলেছেন: {তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন} [হাশর: ১৯]। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাসকে অসিয়ত করতে গিয়ে বলেছিলেন: «হে যুবক—বা—হে বৎস: তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, তিনি তোমাকে হেফাজত করবেন; তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, তুমি তাঁকে তোমার সামনেই পাবে»
(২), এবং আমরা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
نعلم أنَّ حفظ الله سبحانه وتعالى بمعرفته وعبادته، فإذا ما العبدُ حَفِظ الله سبحانه وتعالى فإن الله تعالى تعَهَّد بحفظِه، وتعهد بصلاح أمره؛ فيجب أن نعلم أن هذا العلمَ هو أصلُ العلوم الدينية.
فنسيان العبد لربه عقوبته أن الله سبحانه وتعالى يُنسيه أمرَ نفسِه وصلاحَ نفسه؛ يقول ابن القيم في قوله تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ} {الحشر: 19]: «تأمل هذه الآية تجد تحتها معنى شريفًا عظيمًا، وهو أنَّ مَنْ نَسِي ربَّه أنساه ذاتَه ونفسَه؛ فلم يَعرف حقيقته ولا مصالحه، بل نَسِيَ ما به صلاحُه وفلاحُه في معاشه ومَعاده؛ فصار مُعَطَّلًا مُهملًا بمنزلة الأنعام السَّائبة، بل ربُّما كانت الأنعام أخبر بمصالحها منه؛ لبقائها هداها الذي أعطاها إيَّاه خالقُها»
(1)، وهذا تجده- كذلك- في قوله تعالى: {وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا} [الكهف: 28]، قال قتادة: «أضاع أكبر الضَّيعة؛ أضاع نفسه وعسى مع ذلك أن تجده حافظًا لما له، مُضَيِّعًا لدينه»
(2).
فإذا أنت علمت هذا الباب أصلحت أساس العلم عندك؛ فعلمك ومعرفتك بالله سبحانه وتعالى ستنبني عليها جميعُ المعارف؛ لأن هذا أصلُ العلم وأصلُ الدِّين، وإن كنت مضيعًا لهذا الباب ضَيَّعت جميعَ أحوالك وجميع أمورك وجميع مصالحك في دنياك وفي أُخراك.
وتأمل مَنْ كان غافلًا عن الله سبحانه وتعالى، وعن معرفته، وعن الإيمان بأسمائه وصفاته، ولو نظرنا إلى عينة من أحوال بعض الناس الذين غَفلوا عن الله سبحانه وتعالى، وغفلت قلوبهم عن ذِكر الله سبحانه وتعالى، وما يُصيبهم من القلق والضياع والحسرة
--------------------------------------------
আমরা জানি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার (বিধান) সংরক্ষণ তাঁর পরিচয় এবং তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সুতরাং যখন কোনো বান্দা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে (তাঁর বিধানকে) রক্ষা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষা করার এবং তার বিষয়াবলি সংশোধন করার জিম্মাদারি নেন; তাই আমাদের জানা উচিত যে, এই ইলমই হলো দ্বীনি ইলমসমূহের মূল ভিত্তি।
বান্দার তার রবকে ভুলে যাওয়ার শাস্তি হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে তার নিজের নফসের বিষয় এবং নিজের সংশোধন ভুলিয়ে দেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে ইবনুল কায়্যিম বলেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন} [আল-হাশর: ১৯]: «এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করলে আপনি এর নিচে এক সুউচ্চ ও মহান অর্থ খুঁজে পাবেন; আর তা হলো, যে ব্যক্তি তার রবকে ভুলে যায়, আল্লাহ তাকে তার নিজের সত্তা ও নিজের নফস ভুলিয়ে দেন; ফলে সে তার প্রকৃত রূপ এবং তার কল্যাণসমূহ চিনতে পারে না, বরং সে দুনিয়া ও আখিরাতে তার সংশোধন ও সফলতার পথ ভুলে যায়; ফলে সে এক পরিত্যক্ত ও অবহেলিত প্রাণীতে পরিণত হয়, যা চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদি পশুর মতো; বরং গবাদি পশু হয়তো তার চেয়েও নিজের কল্যাণ সম্পর্কে বেশি অবগত থাকে; কারণ তারা তাদের স্রষ্টা প্রদত্ত সহজাত হেদায়েতের ওপর অটল থাকে»
(১), আর আপনি এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতেও পাবেন: {এবং আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কর্মকাণ্ড সীমা লঙ্ঘন করে ফেলে} [আল-কাহফ: ২৮]। কাতাদাহ বলেন: «সে সবচেয়ে বড় ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে; সে নিজেকে ধ্বংস করেছে। অথচ হয়তো আপনি তাকে তার ধন-সম্পদ রক্ষায় সচেষ্ট দেখবেন, কিন্তু সে তার দ্বীনকে ধ্বংসকারী»
(২)।
আপনি যদি এই বিষয়টি জানতে পারেন, তবে আপনার ইলমের ভিত্তি সংশোধন হয়ে যাবে; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কিত আপনার ইলম ও মা’রিফাতের ওপরই অন্য সকল জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হবে; কেননা এটাই হলো ইলমের মূল এবং দ্বীনের মূল। আর আপনি যদি এই বিষয়টি অবহেলা করেন, তবে আপনি আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল অবস্থা, সকল বিষয় এবং সকল কল্যাণ ধ্বংস করবেন।
আর লক্ষ্য করুন সেই ব্যক্তির দিকে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা থেকে, তাঁকে জানা থেকে এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনা থেকে গাফেল রয়েছে। আমরা যদি সেই সব মানুষের অবস্থার কোনো নমুনার দিকে তাকাই যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা থেকে গাফেল এবং যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ, তবে দেখতে পাব তারা কী পরিমাণ অস্থিরতা, পথভ্রষ্টতা ও আফসোসের শিকার।
--------------------------------------------