(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح التدمرية - محمد بن خليفة التميمي القسم: العقيدة
الكتاب: شرح التَّدمرية لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله
(تحقيق الإثبات للأسماء والصفات وحقيقة الجمع بين القدر والشرع)
المؤلف: محمد بن خليفة التميمي
الناشر: دار إيلاف الدولية للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 صفر 1444
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামীমী বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ রচিত আত-তাদমুরিয়্যাহর ব্যাখ্যা
(নাম ও গুণাবলির সাব্যস্তকরণ এবং তাকদির ও শরিয়তের সমন্বয়ের স্বরূপ বিশ্লেষণ)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামীমী
প্রকাশক: দার ইলাফ আদ-দুওয়ালিয়া প্রকাশনী ও পরিবেশনী
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বর)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ সফর ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الشارحالحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفرُه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا؛ مَنْ يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومَن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا، ثم أما بعد:
أَوَدُّ قَبل الشروع-بإذن الله تعالى-في شرح الرسالة التدمرية لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى، أن أُقَدِّم بثلاث مقدمات:
المقدمة الأولى: أهمية طلب العلم.لا بد أن نُذَكِّر أنفسنا بِعِظَم الأمانة التي نَصَّبنا أنفسنا لها، واستجبنا فيها لنداء الله تعالى، وهي: حمل العلم وتعليمه.
قال الله جل وعلا: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122].
فهذه الآية الكريمة قد أشارت إلى أمرين:
الأمر الأول: أمانة التحمل في قوله: {ليتفقهوا}.
والأمر الثاني: مسئولية الأداء في قوله: {ولينذروا}.
ولا بد من التحمل والفقه أَوَّلًا قبل الأداء والبلاغ والبيان، ونحن نعلم أن هذا الأمر شريف وعظيم، فالله قد امتن على نبيه بتعليمه ما لم يعلم من قبل، فقال جل وعلا: {وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} [النساء: 113].
ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'আর-রিসালাহ আত-তাদমুরিয়্যাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যা শুরু করার পূর্বে আমি তিনটি ভূমিকা পেশ করতে চাই:
প্রথম ভূমিকা: ইলম অন্বেষণের গুরুত্ব।আমরা যে সুমহান আমানত কাঁধে তুলে নিয়েছি এবং যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছি, সে সম্পর্কে আমাদের নিজেদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া আবশ্যক; আর তা হলো: ইলম বহন করা এবং তা শিক্ষা দেওয়া।
মহান আল্লাহ বলেন: "আর মুমিনদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একযোগে বের হবে; তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়।" [আত-তাওবাহ: ১২২]।
এই সম্মানিত আয়াতটি দুটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছে:
প্রথম বিষয়: ইলম গ্রহণের আমানত; যা তাঁর এই বাণীতে প্রকাশিত: "যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে"।
দ্বিতীয় বিষয়: তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব; যা তাঁর এই বাণীতে প্রকাশিত: "যাতে তারা সতর্ক করতে পারে"।
আর প্রচার, প্রচারকার্য এবং বর্ণনার আগে অবশ্যই প্রথমে ইলম গ্রহণ ও অনুধাবন করা আবশ্যক। আমরা জানি যে, এই বিষয়টি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মহান। আল্লাহ তাঁর নবীকে যা তিনি আগে জানতেন না তা শিক্ষা দিয়ে তাঁর ওপর অনুগ্রহ করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তিনি আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না, আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।" [আন-নিসা: ১১৩]।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ونحن طلبة العلم إذ نسلك هذا المَسلك فإننا نزداد من هذا العلم ونتزود منه ولا شك، وكلما ازددنا علمًا كلما ازددنا شرفًا ورفعة في الدنيا والآخرة وقربًا من الله تعالى؛ وذلك لابد فيه من شرطين:
الشرط الأول: الإخلاص.
والشرط الثاني: إتباع العلم العمل.
قال جل جلاله: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة 11].
وفي الحديث: «أن نافع بن عبد الحارث لقي عُمر بعُسْفان، وكان عمر يستعمله على مكة، فقال: مَنْ استعملت على أهل الوادي؟ فقال: ابن أبزى. قال: ومَن ابن أبزى؟ قال: مَولى من موالينا. قال: فاستخلفت عليهم مولى؟ قال: إنَّه قارئ لكتاب الله عز وجل، وإنه عالم بالفرائض، قال عمر: أَمَا إنَّ نبيَّكم صلى الله عليه وسلم قد قال: «إنَّ اللهَ يَرفع بهذا الكتاب أقوامًا، ويَضع به آخرين»
(1).
وطالب العلم حري أن يكون أخشى الناس لله، وأَتْبَع الخلق لطاعته؛ قال جل وعلا: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ} [فاطر: 28]، وتأَمَّل قولَه تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [الزمر: 9]؛ لتتبين الفرق بين مَنْ عَلِم وبَين مَنْ لم يَعلم.
وقد قرن الله جل جلاله شهادته بشهادة الملائكة الذين هم عباده المكرمون وشهادة أهل العلم له جل وعلا بالألوهية؛ فقال: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [آل عمران: 18].
والإنسان يجب أن ينظر إلى نفسه قبل سلوك طريق طلب العلم؛ هل حاله بعد
--------------------------------------------
আমরা ইলম অন্বেষণকারী হিসেবে যখন এই পথে চলি, তখন নিঃসন্দেহে আমরা এই ইলম বৃদ্ধি করি এবং তা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করি। আর আমরা যতই ইলম বৃদ্ধি করি, দুনিয়া ও আখিরাতে ততই আমাদের মর্যাদা ও উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করি; আর এর জন্য অবশ্যই দুটি শর্ত প্রয়োজন:
প্রথম শর্ত: ইখলাস (একনিষ্ঠতা)।
দ্বিতীয় শর্ত: ইলম অনুযায়ী আমল করা।
মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম প্রদান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।” [আল-মুজাদালাহ: ১১]।
হাদীসে এসেছে: “নাফি ইবনে আব্দুল হারিস ‘উসফান’ নামক স্থানে ওমরের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। ওমর তাকে মক্কার শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন। ওমর জিজ্ঞেস করলেন: আপনি উপত্যকাবাসীদের ওপর কাকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন? তিনি বললেন: ইবনে আবজাকে। ওমর বললেন: ইবনে আবজা কে? তিনি বললেন: আমাদের একজন আযাদকৃত দাস। ওমর বললেন: আপনি তাদের ওপর একজন আযাদকৃত দাসকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের ক্বারী এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) সম্পর্কে বিজ্ঞ। তখন ওমর বললেন: শোনো, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উন্নত করেন এবং অন্যান্যের অবনত করেন’”
(১)।
ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এটাই বাঞ্ছনীয় যে, তিনি আল্লাহর প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভীতি পোষণ করবেন এবং তাঁর আনুগত্যের ক্ষেত্রে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসারী হবেন; মহান আল্লাহ বলেন: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।” [ফাতির: ২৮]। আর মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: “বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?” [আয-যুমার: ৯]; যাতে যারা জানে এবং যারা জানে না তাদের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ তাঁর নিজের সাক্ষ্যের সাথে তাঁর সম্মানিত বান্দা ফেরেশতাদের সাক্ষ্য এবং ইলমওয়ালাদের সাক্ষ্যকে নিজের উলুহিয়্যাতের ব্যাপারে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: “আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন); তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [আল-ইমরান: ১৮]।
মানুষের উচিত ইলম অন্বেষণের পথে চলার আগে নিজের দিকে দৃষ্টিপাত করা; তার অবস্থা কি (অন্বেষণের) পরে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৫)
أن قطع فيه مراحل كحاله قبل الطلب!
والطالب الذي وَفَّقَه الله وحَصَّل شيئًا من العلم الشرعي؛ عليه أن يَنظر إلى أقرانه الذين كانوا معه في الدراسة أو في بداية الطلب ونشأ بينهم، ولم يُكملوا السَّير فيه؛ ليعلم أن الله قد اختاره دون غيره من أقرانه؛ لسلوك ذلك السبيل العظيم المُوَصِّل إلى الجنة؛ وليضع نُصب عينيه ما رواه أبو داود والترمذي عن كثير بن قيس، قال: «كنت جالسًا مع أبي الدرداء في مسجد دمشق، فجاءه رجل، فقال: يا أبا الدرداء: إني جئتك من مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم لحديثٍ بَلغني أنَّك تُحدثه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما جئت لحاجة، قال: فإني سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: «مَنْ سلك طريقًا يَطلب فيه علمًا سَلَك الله به طريقًا مِنْ طُرُق الجنة، وإن الملائكة لتضع أجنحتها رضا لطالب العلم، وإن العالم ليستغفر له من في السموات ومن في الأرض، والحيتان في جوف الماء، وإنَّ فضل العالم على العابد كفضل القمر ليلة البدر على سائر الكواكب، وإنَّ العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يُوَرِّثوا دينارًا ولا دِرهمًا؛ وَرَّثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظٍّ وافر»
(1).
فلا شكَّ أن ميراث المرء يناله في الدنيا أقرب الناس إليه؛ وهذا يدل على أن أهل العلم هم أقرب الناس للنبي صلى الله عليه وسلم، والنبي إنما وَرَّث هذا العلم وخَلَّفه؛ وطلاب العلم هم الذين حملوا ميراثه، وهذا فضل عظيم وشرف رفيع.
ففضل العلم معلوم، ومهما بذل طالب العلم مِنْ وقت وجهد فهو في نجاح وفلاح، وهو في طريق عليه أن يلزمه ولا يحيد عنه أبدًا؛ فإن نهايته إلى جنة الله ورضوانه، وقد بَشَّره النبيُّ صلى الله عليه وسلم بقوله: «مَنْ يُرِد الله به خيرًا يُفقهه في الدين، وإنما أنا
--------------------------------------------
যেন সে এতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেছে, তার জ্ঞান অন্বেষণের পূর্বের অবস্থার মতোই!
আর সেই জ্ঞানান্বেষী যাকে আল্লাহ তাওফিক দান করেছেন এবং যে শরয়ী জ্ঞানের কিছু অংশ অর্জন করেছে; তার উচিত তার সমসাময়িকদের দিকে তাকানো যারা পড়াশোনার সময় বা জ্ঞান অন্বেষণের শুরুতে তার সাথে ছিল এবং যাদের মাঝে সে বেড়ে উঠেছিল, কিন্তু তারা এই পথে চলা অব্যাহত রাখেনি; যাতে সে বুঝতে পারে যে আল্লাহ তার সমসাময়িক অন্যদের বাদ দিয়ে তাকেই জান্নাতে পৌঁছানোর এই মহান পথে চলার জন্য মনোনীত করেছেন। আর তার উচিত স্বীয় দৃষ্টির সামনে সেই বর্ণনাটি রাখা যা আবু দাউদ ও তিরমিজি কাসীর ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «আমি দামেস্কের মসজিদে আবু দারদার সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল: হে আবু দারদা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর থেকে আপনার কাছে এসেছি এমন একটি হাদিসের জন্য যা আমার কাছে পৌঁছেছে যে আপনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; আমি অন্য কোনো প্রয়োজনে আসিনি। তিনি (আবু দারদা) বললেন: নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পরিচালিত করেন। আর নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞানান্বেষীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর নিশ্চয়ই আলেমের জন্য আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির পেটের মাছও। আর ইবাদতকারীর ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণিমার রাতে সমস্ত নক্ষত্রের ওপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো। নিশ্চয়ই উলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি; বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন জ্ঞান। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা অংশ লাভ করল»
(১)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দুনিয়াতে একজন ব্যক্তির উত্তরাধিকার তার নিকটতম লোকেরাই লাভ করে; আর এটি প্রমাণ করে যে, ইলম অন্বেষণকারীরাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ। নবী তো কেবল এই ইলমকেই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন এবং পেছনে রেখে গেছেন; আর তালিবে ইলমরা বা জ্ঞানান্বেষীরাই সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন। এটি এক মহান অনুগ্রহ এবং সুউচ্চ মর্যাদা।
ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত। একজন তালিবে ইলম যতই সময় ও শ্রম ব্যয় করুক না কেন, সে সফলতা ও সার্থকতার মধ্যেই থাকে। সে এমন এক পথে রয়েছে যা তার আঁকড়ে ধরা উচিত এবং তা থেকে কখনোই বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়; কারণ এর শেষ গন্তব্য হলো আল্লাহর জান্নাত ও তাঁর সন্তুষ্টি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই সুসংবাদ দিয়েছেন: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন। আর আমি তো কেবল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৬)
قاسم والله يعطي، ولن تزال هذه الأمة قائمة على أمر الله، لا يَضُرهم مَنْ خالفهم، حتى يأتي أمر الله»
(2)، فالله قد أراد بطالب العلم الخير وأراده له.
ولينظر طالب العلم إلى حاله وحال عَوَامِّ الناس وجُهَّالهم؛ ليعلم أنه في منزلة رفيعة وشأن عظيم قد اختاره الله له ويَسَّره وهَيَّأه له، لذا يقول جل جلاله: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} [القصص: 68].
وهذا الشرف الذي جاءت به النصوص لا شك أنه عظيم، وفضل من الله جليل، حقه أن يُرعى، وأن يُحرص على نَيله وتحصيله، وقد قَسَّم النبيُّ صلى الله عليه وسلم الناس إلى ثلاثة أصناف؛ فقال: «مَثَلُ ما بَعثني الله به من الهدى والعلم، كمثل الغيث الكثير أصاب أرضًا، فكان منها نقيَّة، قَبِلت الماء، فأنبتت الكلأ والعُشب الكثير، وكانت منها أجادب، أمسكت الماء، فنفع الله بها الناس؛ فشَربوا وسَقُوا وزرعوا، وأصابت منها طائفة أخرى، إنما هي قِيعان لا تُمسك ماء ولا تنبت كلأ، فذلك مَثَلُ مَنْ فقه في دين الله، ونفعه ما بعثني الله به فعَلِم وعَلَّم، ومَثَل مَنْ لم يرفع بذلك رأسًا، ولم يَقبل هدى الله الذي أرسلت به»
(1)؛ فقسم النبيُّ صلى الله عليه وسلم السامعين لهذا العلم والهدى إلى ثلاثة أصناف:
الأول: (الأرض الطيبة)، وهم مَنْ أعطاهم الله ذكاء وزكاء؛ فأعطاهم ذكاء استطاعوا به أن يحفظوا العلم وأن يحصلوه ويدركوا به مسائله. وأعطاهم زكاء حملهم على العمل بالعلم والدعوة إليه وتبليغه.
والثاني: (أجادب، أمسكت الماء)، وهم الذين أُوتوا ذكاء ولم يُؤتوا زكاء؛ فاستطاعوا بذكائهم أن يحفظوا العلم، وأن يدركوا مسائله، لكنهم لم يستفيدوا به في
--------------------------------------------
বণ্টনকারী এবং আল্লাহ দান করেন, আর এই উম্মত সর্বদা আল্লাহর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকবে, তাদের বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে»
(২), সুতরাং আল্লাহ ইলম অন্বেষণকারীর কল্যাণ চেয়েছেন এবং তা তার জন্য নির্ধারণ করেছেন।
ইলম অন্বেষণকারীর উচিত নিজের অবস্থা এবং সাধারণ মানুষ ও মূর্খদের অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করা; যাতে সে জানতে পারে যে, সে এক উচ্চ মর্যাদা ও সুমহান অবস্থানে রয়েছে যা আল্লাহ তার জন্য পছন্দ করেছেন, তার জন্য সহজ করেছেন এবং তাকে তার জন্য প্রস্তুত করেছেন। এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন} [আল-কাসাস: ৬৮]।
নصوص (দলিলসমূহ) দ্বারা প্রমাণিত এই সম্মান নিঃসন্দেহে মহান, এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল অনুগ্রহ। এর দাবি হলো একে রক্ষা করা এবং তা অর্জন ও হাসিল করার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন; তিনি বলেছেন: «আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো সেই প্রচুর বৃষ্টির মতো যা কোনো জমিতে পতিত হলো। তার মধ্যে কিছু জমি ছিল উর্বর, যা পানি গ্রহণ করল এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপন্ন করল। আর কিছু জমি ছিল শক্ত ও অনুর্বর, যা পানি আটকে রাখল, ফলে আল্লাহ তার দ্বারা মানুষের উপকার করলেন; তারা নিজেরা পান করল, অন্যদের পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির কিছু অংশ এমন এক জমিতে পড়ল যা নিছক সমতল মরুপ্রান্তর, যা পানিও আটকে রাখে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করল এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এল, ফলে সে নিজে শিখল ও অন্যকে শেখাল। আর এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করল না এবং আল্লাহর সেই হিদায়াত গ্রহণ করল না যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে»
(১); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ইলম ও হিদায়াত শ্রবণকারীদের তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম: (উত্তম জমি), তারা হলো সেই সব লোক যাদের আল্লাহ মেধা ও পবিত্রতা দান করেছেন; তিনি তাদের মেধা দিয়েছেন যার মাধ্যমে তারা ইলম মুখস্থ করতে, তা অর্জন করতে এবং তার মাসআলাসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। আর তিনি তাদের পবিত্রতা দিয়েছেন যা তাদেরকে ইলম অনুযায়ী আমল করতে এবং তার দিকে দাওয়াত দিতে ও তা পৌঁছে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
দ্বিতীয়: (শক্ত জমি যা পানি আটকে রাখে), তারা হলো সেই সব লোক যাদের মেধা দেওয়া হয়েছে কিন্তু পবিত্রতা (আমল) দেওয়া হয়নি; তারা তাদের মেধা দিয়ে ইলম মুখস্থ করতে এবং তার মাসআলাসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু তারা তা থেকে উপকৃত হতে পারেনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৭)
ذات أنفسهم، وإنما حفظوه ليستفاد منه غيره؛ كما قال صلى الله عليه وسلم: «نَضَّر الله امرءًا سمع منا حديثًا، فحفظه حتى يبلغه، فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه، ورب حامل فقه ليس بفقيه»
(1).
والثالث: (قيعان)، وهم مَنْ حرموا الذكاء والزكاء، فلم يُحَصِّلوا العلم وبالتالي لم يعملوا به.
لذلك لا بد أن يحرص طالب العلم على أن يكون من الصنف الأول.
وأما أفضل طريقة لتحصيل العلم والاستفادة منه: هي كما قال ابن القيم: «وللعلم سِتُّ مَرَاتِب:
أولها: حُسْن السُّؤَال.
الثَّانِيَة: حُسْن الإنصات.
الثَّالِثَة: الاستماع.
الرَّابِعَة: حُسْن الفَهم.
الْخَامِسَة: الحِفْظ.
السَّادِسَة: التَّعْلِيم، وَهِي ثَمَرَته، وَهِي الْعَمَل بِهِ ومراعاة حُدُوده.
فَمن النَّاس مَنْ يُحرمه لعدم حُسْن سُؤَاله، إمَّا لأنه لَا يَسأل بِحَال أَوْ يسأل عَنْ شَيْء وَغَيره أهم إليه مِنْهُ؛ كمن يَسْأَل عَنْ فضوله الَّتِي لَا يَضر جَهلُه بهَا ويدع مَالا غِنى لَهُ عَنْ مَعْرفَته. وَهَذِه حَال كثير من الْجُهَّال المُتعلمين.
وَمن النَّاس مَنْ يُحرمه لِسُوء إنصاته؛ فَيكون الْكَلَام والممارات آثرَ عِنْده وَأحبَّ إليه من الإنصات، وَهَذِه آفَة كامنة فِي أكثر النُّفُوس الطالبة للْعلم، وَهِي تمنعهم علمًا
--------------------------------------------
তাদের নিজেদের জন্য নয়, বরং তারা তা সংরক্ষণ করেছেন যাতে অন্যেরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কথা (হাদিস) শুনল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করল যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার, আবার অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে সমঝদার (ফকিহ) নয়।”
(১).
আর তৃতীয় প্রকার হলো: (অনূর্বর সমতল ভূমি), তারা ওই সকল লোক যারা প্রখর মেধা ও আত্মিক পবিত্রতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, ফলে তারা ইলম অর্জন করতে পারেনি এবং ফলস্বরূপ তারা সে অনুযায়ী আমলও করেনি।
তাই ইলম অন্বেষণকারীর উচিত প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া।
আর ইলম অর্জন ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো তা-ই যা ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেছেন: “ইলমের ছয়টি স্তর রয়েছে:
প্রথমটি হলো: সুন্দরভাবে প্রশ্ন করা।
দ্বিতীয়টি হলো: মনোযোগসহকারে নীরব থাকা।
তৃতীয়টি হলো: শ্রবণ করা।
চতুর্থটি হলো: সঠিকভাবে অনুধাবন করা।
পঞ্চমটি হলো: মুখস্থ করা বা সংরক্ষণ করা।
ষষ্ঠটি হলো: শিক্ষা দেওয়া, যা ইলমের ফল স্বরূপ; আর তা হলো এর ওপর আমল করা এবং এর সীমারেখাগুলো মেনে চলা।
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ইলম থেকে বঞ্চিত হয় সুন্দরভাবে প্রশ্ন না করার কারণে; হয় সে একেবারেই প্রশ্ন করে না, অথবা সে এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করে যার তুলনায় অন্য বিষয় তার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেমন কেউ এমন সব অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশ্ন করে যা না জানলে কোনো ক্ষতি নেই, অথচ সে এমন বিষয় ছেড়ে দেয় যা জানা তার জন্য অপরিহার্য। আর এটি অনেক মূর্খ শিক্ষার্থীর অবস্থা।
আবার মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ইলম থেকে বঞ্চিত হয় মনোযোগ দিয়ে কথা না শোনার কারণে; ফলে কথা বলা এবং তর্কে লিপ্ত হওয়া তার কাছে নীরব থেকে শোনার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ও প্রিয় হয়ে থাকে। এটি ইলম অন্বেষণকারী অধিকাংশ অন্তরের মাঝে লুকিয়ে থাকা একটি ব্যাধি, যা তাদেরকে ইলম থেকে বঞ্চিত করে রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৮)
كثيرًا»
(1).
فإذا طبق طالب العلم هذه المراتب فهو أهل لِنَيْل العِلم.
فأولًا: حُسن الإنصات، وهذا يُستفاد من قوله تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} [ق: 37]، فليحرص طالب العلم جيدًا على أن يسمع قبل أن يتكلم.
ثانيًا: حُسن السؤال، فعَنْ مُغِيرَةَ قَالَ: قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ: كَيْفَ أَصَبْتَ هذا العِلمَ؟ قال: «بِلِسَانٍ سَؤُولٍ، وَقَلْبٍ عَقُولٍ»
(2).
وقالت عائشة رضي الله عنها: «نِعم النساءُ نِساءُ الأنصار؛ لم يَمنعهن الحياء أن يَتفقهن في الدِّين»
(3).
وقال مجاهد: «لا يتعلم العلمَ مُستحي ولا مستكبرٌ»
(4).
وكما جاء في الحديث: «شِفَاءُ العِيِّ السُّؤال»
(5).
ثالثًا: حُسن الفهم، ويستفاد من قوله تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} [ق: 37]؛ فلا بد من حسن الفهم ومعرفة المسائل والأقوال والأدلة.
رابعًا: الحفظ والكتابة، فعن أنس بن مالك رضي الله عنه، قال: قال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «قَيِّدُوا
--------------------------------------------
অনেক।»
(১).
সুতরাং ইলম অন্বেষণকারী যদি এই স্তরগুলো অনুসরণ করে, তবে সে ইলম অর্জনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
প্রথমত: উত্তমরূপে শ্রবণ করা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করা হয়েছে: {নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে হৃদয় অথবা যে কান পেতে দেয় এবং সে উপস্থিত থাকে (মনোযোগী হয়)} [কাফ: ৩৭]। অতএব ইলম অন্বেষণকারীর উচিত কথা বলার আগে শোনার ব্যাপারে খুব যত্নশীল হওয়া।
দ্বিতীয়ত: উত্তমরূপে প্রশ্ন করা। মুগীরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে এই ইলম অর্জন করেছেন? তিনি বললেন: «জিজ্ঞাসু জিহ্বা এবং বোধশক্তিসম্পন্ন হৃদয়ের মাধ্যমে»
(২)।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: «আনসারদের নারীরা কতই না উত্তম! লজ্জা তাদেরকে দ্বীনী জ্ঞান অন্বেষণ করতে বাধা দেয়নি»
(৩)।
মুজাহিদ বলেন: «লজ্জাশীল এবং অহংকারী ব্যক্তি ইলম শিখতে পারে না»
(৪)।
যেমনটি হাদীসে এসেছে: «অজ্ঞতার আরোগ্য হলো প্রশ্ন করা»
(৫)।
তৃতীয়ত: উত্তমরূপে অনুধাবন করা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করা হয়েছে: {নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে হৃদয় অথবা যে কান পেতে দেয় এবং সে উপস্থিত থাকে} [কাফ: ৩৭]; সুতরাং সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং মাসয়ালা, মতামত ও দলিলসমূহ জানা আবশ্যক।
চতুর্থত: মুখস্থ করা এবং লিখে রাখা। আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আবদ্ধ করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৯)
العِلْمَ بِالْكِتَابِ»
(1).
وكما روي عن الإمام الشافعي رحمه الله أنه قال:
العِلمُ صَيدٌ والكِتابةُ قَيدُهُ
… قَيِّدْ صيودكَ بالحِبالِ الواثِقَه
فَمِنْ الحَماقَةِ أَنْ تَصيدَ غَزالَةً
… وتَرُدَّها بَينَ الخَلائقِ طالِقه
وكما قال الخليل بن أحمد: «ما سمعت شيئًا إلا كتبتُه، ولا كتبت شيئًا إلا حفظته، ولا حفظت شيئًا إلا انتفعتُ به»
(2).
خامسًا: السعي لتعليمه، فإذا أرادت طالب العلم أن يبقى ما تعَلَّمه، فعليه أن يبذله، كما قال عليٌّ رضي الله عنه: «العلم يزكو على الإنفاق»
(3).
فالشيخ والمُعَلِّم هو الطالب الأول، وهو أول مُستفيد من العلم الذي يشرحه ويَنشره.
ومن نظر إلى من اشتغل عن العلم بوظيفة ودنيا يرى أنه ينسى العلم سريعًا، ويرجع إلى الحال التي كان عليها قبل الطلب.
سادسًا: العمل به، كما قال عليُّ بن أبي طالب رضي الله عنه: «هتف العلم بالعمل؛ فإن أجابه، وإلَّا ارتحل»
(4).
فإذا حرص طالب العلم على تطبيقه والعمل به، فهذا أدعى لبقائه؛ فقدر العلم ومنزلته وطلبه يرتقي بهها المرتبة.
--------------------------------------------
"জ্ঞানকে লেখনীর মাধ্যমে (আবদ্ধ করো)।"
(১).
যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
জ্ঞান হলো শিকার এবং লিখন হলো তার বন্ধন
… তোমার শিকারকে মজবুত রশি দিয়ে বেঁধে রাখো
এটা বোকামি যে তুমি একটি হরিণ শিকার করবে
… আর সেটিকে সৃষ্টিজগতের মাঝে মুক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেবে
যেমনটি খলীল বিন আহমদ বলেছেন: «আমি যা-ই শুনেছি তা-ই লিখেছি, যা-ই লিখেছি তা-ই মুখস্থ করেছি এবং যা-ই মুখস্থ করেছি তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি»
(২).
পঞ্চম: এটি শিক্ষাদানের প্রচেষ্টা করা। সুতরাং জ্ঞান অন্বেষণকারী যদি চায় সে যা শিখেছে তা অবশিষ্ট থাকুক, তবে তার উচিত তা বিতরণ করা, যেমনটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «ব্যয় করার মাধ্যমে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়»
(৩).
সুতরাং শায়খ ও শিক্ষক হলেন প্রথম ছাত্র এবং তিনি যে জ্ঞান ব্যাখ্যা ও প্রচার করেন তা থেকে তিনিই প্রথম উপকৃত ব্যক্তি।
আর যে ব্যক্তি জ্ঞানের পরিবর্তে চাকরি এবং দুনিয়ায় লিপ্ত হয়, সে দেখতে পায় যে সে দ্রুত জ্ঞান ভুলে যাচ্ছে এবং জ্ঞান অন্বেষণের আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
ষষ্ঠ: সে অনুযায়ী আমল করা, যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «জ্ঞান আমলকে আহ্বান করে; যদি সে সাড়া দেয় (তবে থাকে), অন্যথায় তা প্রস্থান করে»
(৪).
সুতরাং জ্ঞান অন্বেষণকারী যদি তা প্রয়োগ ও আমল করার ব্যাপারে যত্নবান হয়, তবে তা জ্ঞানের স্থায়িত্বের জন্য অধিক সহায়ক; কেননা এই স্তরের মাধ্যমেই জ্ঞানের মর্যাদা, অবস্থান ও অন্বেষণ উন্নত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وضد هذه المراتب الست موانع تصد عن تحصيل العلم وتصرف عن طلبه أو بقائه.
ولا بد لطالب العلم من آداب حتى يتأدب بأخلاق أهل العلم، وأهمها:
أولها: الإخلاص، وهو عزيز، وعلى الإنسان أن يجاهد أن يكون نفسه في تحصيله؛ ليكون كل عمله لوجه الله، وخاصة طلبه للعلم وبذله، والأمر- كما قال عن سفيان الثوري-: «ما عالجتُ شيئًا أشدَّ عليَّ مِنْ نيتي؛ لأنَّها تَنقلب عليَّ». وعن يوسف بن أسباط، قال: تخليص النية من فسادها أشد على العاملين من طول الاجتهاد»
(1).
ويُشترط في العبادات- حتى يَقبلها الله عز وجل، ويُثيب عليها العبد- شرطان:
الشرط الأول: الإخلاص لله عز وجل؛ قال تعالى: {وما أمروا إلا ليعبدوا الله مخلصين له الدين حنفاء} [البينة: 5]، ومعنى الإخلاص هو: أن يكون مراد العبد بجميع أقواله وأعماله الظاهرة والباطنة ابتغاء وجه الله تعالى؛ قال تعالى: {إنما نطعمكم لوجه الله لا نريد منكم جزاءً ولا شكورًا} [الإنسان: 9]، وعن عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى؛ فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»
(2).
وعن أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: «أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنْ الشِّرْكِ مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ»
(3).
الشرط الثاني: مُوافقة العمل للشرع الذي جاء به النبيُّ صلى الله عليه وسلم؛ فقد جاء في الحديث
--------------------------------------------
এই ছয়টি স্তরের বিপরীতে এমন কিছু প্রতিবন্ধক রয়েছে যা জ্ঞান অর্জন থেকে বাধা দেয় এবং তা অন্বেষণ করা বা ধরে রাখা থেকে বিমুখ করে।
জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য কিছু শিষ্টাচার (আদব) অবলম্বন করা অপরিহার্য যাতে সে জ্ঞানীদের চরিত্রে চরিত্রবান হতে পারে, আর সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
প্রথমত: ইখলাস (একনিষ্ঠতা), আর এটি অত্যন্ত দুর্লভ। মানুষের উচিত এটি অর্জনে নিজের নফসের সাথে জিহাদ করা; যাতে তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর জন্য হয়, বিশেষ করে তার জ্ঞান অন্বেষণ ও তা বিলিয়ে দেওয়া। বিষয়টি—যেমনটি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণিত হয়েছে—: «আমি আমার নিয়তের চেয়ে কঠিন আর কোনো কিছুর প্রতিকার করিনি; কারণ তা আমার ওপর বারবার পরিবর্তিত হয়»। ইউসুফ ইবনে আসবাত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিয়তকে কলুষতা থেকে মুক্ত করা আমলকারীদের জন্য দীর্ঘ পরিশ্রমের চেয়েও বেশি কঠিন»
(১)।
ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য—যাতে মহান আল্লাহ তা গ্রহণ করেন এবং বান্দাকে এর প্রতিদান দেন—দুটি শর্ত রয়েছে:
প্রথম শর্ত: মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস; আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]। আর ইখলাসের অর্থ হলো: বান্দার সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজের মাধ্যমে কেবল আল্লাহ তাআলার চেহারা (সন্তুষ্টি) অন্বেষণ করা; আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমরা তো কেবল আল্লাহর চেহারার উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাওয়াই, আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না} [আল-ইনসান: ৯]। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করে; সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে»
(২)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বরকতময় ও সুমহান আল্লাহ বলেন: «আমি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরককে পরিত্যাগ করি»
(৩)।
দ্বিতীয় শর্ত: আমলটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত শরিয়ত অনুযায়ী হওয়া; কেননা হাদিসে এসেছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১১)
عن النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رَدٌّ»
(1).
قال الإمام ابن رجب رحمه الله: «هذا الحديث أصلٌ عظيم من أصول الإسلام، وهو كالميزان للأعمال في ظاهرها، كما أن حديث: «إنما الأعمال بالنيات» ميزان للأعمال في باطنها، فكما أن كل عمل لا يُراد به وجه الله تعالى فليس لعامله فيه ثواب، فكذلك كلُّ عمل لا يكون عليه أمر الله ورسوله فهو مردود على عامله، وكل مَنْ أحدث في الدين ما لم يأذن به الله ورسوله، فليس من الدين في شيء»
(2).
وقال الإمام ابن القيم رحمه الله: «فإن الله جعل الإخلاص والمتابعة سَبَبَا لقبول الأعمال، فإذا فقد لم تُقبل الأعمال»
(3).
فاحرص- يا طالب العلم- على الإخلاص وإصلاح الطوية وترك المعاصي؛ فقد قال الإمام الشافعي رحمه الله:
شَكَوْتُ إلَى وَكِيعٍ سُوءَ حِفْظِي
… فَأرْشَدَنِي إلَى تَرْكِ المعَاصي
وَأخْبَرَنِي بأَنَّ العِلْمَ نُورٌ
… ونورُ الله لا يُهدى لعاصي
فلا يمكن أن يجتمع النور والظلمة معًا.
فليس من الحكمة أن يقوم الغارس ببذر الأرض قبل حرثها وإصلاح بيئتها؛ لذا مَنْ طلب العلم فعليه أن يُصلح نيته ويَعمل على تهذيب نفسه؛ لكي يُحَصِّل العلم ويعود عليه بالنفع.
وليس طالب العلم بمعصوم، ولكن حياة القلب كحياة البدن، فالبدن لا يقوم إلا بالغذاء النافع (الطعام والشراب) وحميته مما يضرُّه، واستفراغ الفاسد منه؛ كالبول
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: «যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ব্যাপারে আমাদের এই দ্বীনের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত»
(১).
ইমাম ইবনে রাজাব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «এই হাদীসটি ইসলামের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি মহান মূলনীতি। এটি আমলের প্রকাশ্য দিক পরিমাপের মানদণ্ডস্বরূপ, যেমনটি "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদীসটি আমলের অভ্যন্তরীণ দিক পরিমাপের মানদণ্ড। সুতরাং যে আমলের দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থাকে না, তার সম্পাদনকারীর জন্য তাতে কোনো সওয়াব নেই; তেমনিভাবে যে আমল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী হয় না, তা তার সম্পাদনকারীর ওপর প্রত্যাখ্যাত হবে। আর যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছুর উদ্ভাবন করবে যার অনুমতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দেননি, তা দ্বীনের কোনো অংশ নয়»
(২).
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও অনুসরণকে আমল কবুল হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যদি এই দুটি গুণ অনুপস্থিত থাকে, তবে আমল কবুল হবে না»
(৩).
অতএব, হে ইলম অন্বেষণকারী! তুমি ইখলাস অর্জন, অন্তরের সংশোধন এবং গুনাহ বর্জনের প্রতি যত্নবান হও; কেননা ইমাম শাফিঈ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
আমি ওয়াকীর নিকট আমার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার অভিযোগ জানালাম
… তখন তিনি আমাকে গুনাহ বর্জনের নির্দেশ দিলেন
এবং তিনি আমাকে জানালেন যে ইলম হলো একটি নূর
… আর আল্লাহর নূর কোনো গুনাহগারকে দান করা হয় না
আলো এবং অন্ধকার কখনও একসাথে অবস্থান করতে পারে না।
জমি চাষ এবং তার পরিবেশ উপযোগী করার আগেই চারা রোপণকারীর পক্ষে বীজ বপন করা প্রজ্ঞার কাজ নয়; তাই যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করে, তার উচিত নিজের নিয়ত সংশোধন করা এবং নিজের চরিত্র পরিশুদ্ধ করার জন্য কাজ করা; যাতে সে ইলম অর্জন করতে পারে এবং তা তার উপকারে আসে।
ইলম অন্বেষণকারী নিষ্পাপ নয়, কিন্তু হৃদয়ের জীবন শরীরের জীবনের মতোই। শরীর যেমন পুষ্টিকর খাদ্য (খাবার ও পানীয়), ক্ষতিকারক বিষয় থেকে সুরক্ষা এবং শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়া (যেমন প্রস্রাব) ব্যতীত সুস্থ থাকতে পারে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১২)
والبراز والعرق. وهذا ما يحرص عليه أطباء البدن.
ويقابل إصلاح البدن إصلاح الرُّوح والنفس، وهو ما يقوم به العلم النافع والعمل الصالح.
فالله قد أودع في الإنسان قُوَّتين: قوة في النظر وقوة في الإرادة، والشيطان لا يَدخل على الإنسان إلا منهما؛ أي: من باب الشبهة التي تتسلط على نظره، ومن باب الشهوة في الحرام التي تتسلط على إرادته.
والشبهات المُضللة تُدفع بالعلم النافع، والشهوات المحرمة تدفع بالعمل الصالح.
فالدواء النافع هو في طلب العلم ولزوم الطاعة والحرص عليها.
والأمر ليس هينًا في البداية، ولكنه يحتاج إلى مجاهدة حتى تألفه النفس؛ وساعتها لن تبغي به بديلًا.
فإذا صحت النفس واستقامت على العلم النافع والعمل الصالح لن تبغي به بديلًا.
فهذا سبيل طالب العلم الذي يجب عليه أن يجاهد في مدارسته، وأن يثني الركب في مجالس العلماء من أجل تحصيله.
فإذا انشغل المسلم بطلب العلم فلن يكون عنده وقت لتفكير فاسد في شبهة أو انشغال بشهوة محرمة.
فالنفس إن لم تشغلها بالطاعة شغلتك بالمعصية، ولذلك قال صلى الله عليه وسلم: «أصدق الأسماء: حارثٌ وهَمَّامٌ»
(1)؛ لأن الإنسان في فكر دائم وعمل دائب.
--------------------------------------------
মল ও ঘাম। আর এটিই সেই বিষয় যার প্রতি দেহ-চিকিৎসকগণ সচেষ্ট থাকেন।
দেহের সংশোধনের বিপরীতে রয়েছে রুহ ও নফসের সংশোধন, যা অর্জিত হয় উপকারী ইলম ও নেক আমলের মাধ্যমে।
বস্তুত আল্লাহ মানুষের মধ্যে দুটি শক্তি গচ্ছিত রেখেছেন: একটি হলো উপলব্ধির শক্তি এবং অপরটি হলো ইচ্ছাশক্তি। আর শয়তান এই দুটি পথ ছাড়া মানুষের মাঝে প্রবেশ করতে পারে না; অর্থাৎ: সংশয়ের পথ যা তার উপলব্ধির ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং হারামের প্রতি কুপ্রবৃত্তির পথ যা তার ইচ্ছাশক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
আর পথভ্রষ্টকারী সংশয়সমূহকে উপকারী ইলম দ্বারা প্রতিহত করা হয় এবং নিষিদ্ধ কুপ্রবৃত্তিগুলোকে নেক আমল দ্বারা দমন করা হয়।
সুতরাং উপকারী ঔষধ হলো ইলম অন্বেষণ করা এবং আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকা ও এর প্রতি সচেষ্ট হওয়া।
শুরুতে বিষয়টি সহজ নয়, বরং এর জন্য কঠোর সাধনার প্রয়োজন, যতক্ষণ না নফস এতে অভ্যস্ত হয়; আর যখন সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন সে এর কোনো বিকল্প খুঁজবে না।
সুতরাং যখন নফস সুস্থ হয়ে যাবে এবং উপকারী ইলম ও নেক আমলের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, তখন সে এর কোনো বিকল্প কামনা করবে না।
এটিই হলো ইলম অন্বেষণকারীর পথ, যার জন্য আবশ্যক হলো তার পাঠ্য বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করা এবং ইলম অর্জনের লক্ষ্যে আলেমদের মজলিসে হাঁটু গেঁড়ে বসা।
যখন একজন মুসলিম ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন তার কাছে কোনো সংশয় নিয়ে মন্দ চিন্তা করার বা হারাম কুপ্রবৃত্তিতে মগ্ন হওয়ার মতো সময় থাকে না।
কেননা নফসকে যদি আপনি আনুগত্যের কাজে ব্যস্ত না রাখেন, তবে সে আপনাকে পাপাচারের কাজে লিপ্ত করে ফেলবে। এই কারণেই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সবচেয়ে সত্য নাম হলো হারিস (উদ্যমী) ও হাম্মাম (সংকল্পকারী)”; কারণ মানুষ সর্বদাই চিন্তাশীল এবং নিরন্তর কর্মচঞ্চল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم لا بد من استفراغ الفاسد؛ لأن الإنسان من طبعه التقصير، والخطأ يلازمه في كثير من أحواله، فيستفرغ ما دخل على النفوس من أمور لا يرضاها الله تعالى- بالتوبة والاستغفار، فعن أبي مُوسى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه، عن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ؛ لِيَتُوب مُسيءُ النَّهَارِ، وَيبْسُطُ يَدهُ بالنَّهَارِ ليَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مغْرِبِها»
(1). فباب التوبة مفتوح على مدار الوقت، وليس بين العبد وبين ربه واسطة، وهو جل وعلا ينادي على عباده كل ليلة ليسألوه ويستغفروه؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يَنزل ربُّنا- تبارك وتعالى كُلَّ ليلة إلى السماء الدُّنيا حِين يَبقى ثُلُثُ الليل الآخر يقول: مَنْ يَدعوني، فأستجيبَ له؟ مَنْ يسألني فأعطيَه؟ مَنْ يَستغفرني فأغفرَ له؟»
(2).
فالله غفور رحيم؛ يغفر الذنوب، بل يُبدلها حسنات كرمًا منه سبحانه، كما قال: {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا * يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا * إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [الفرقان: 68 - 70].
فطالب العلم بحاجة بعد الإخلاص إلى تطهير النفس وتهيئتها لتَقَبُّل العلم.
والذي يفسد على طلاب العلم أمر التحصيل: أمراض النفوس وعللها التي تحمل على الكسل، ومصاحبة رفقاء السوء، والوقوع في المعاصي.
ولا نجاة لنا في الدنيا ولا في الآخرة إلا بصلاح النفوس؛ قال تعالى: {وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ * يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ * إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} [الشعراء: 87 - 89]؛
--------------------------------------------
অতঃপর কলুষতা দূর করা অপরিহার্য; কেননা মানুষের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য হলো ত্রুটি করা, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল তার সাথে লেগেই থাকে। সুতরাং নফসের মধ্যে প্রবেশ করা মহান আল্লাহর অপ্রিয় বিষয়গুলোকে তওবা এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে দূর করতে হবে। আবু মূসা আল-আশআরী (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের অপরাধীরা তওবা করতে পারে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের অপরাধীরা তওবা করতে পারে—যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়»
(১)। সুতরাং তওবার দরজা সবসময় খোলা রয়েছে এবং বান্দা ও তার রবের মাঝে কোনো মাধ্যম নেই। তিনি প্রত্যেক রাতে তাঁর বান্দাদের ডাকেন যাতে তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করে এবং ক্ষমা ভিক্ষা করে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আমাদের বরকতময় ও সুমহান রব প্রতি রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?»
(২)।
আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু; তিনি পাপসমূহ ক্ষমা করেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে সেগুলোকে নেকিতে রূপান্তরিত করে দেন। যেমন তিনি বলেছেন: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না এবং আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এগুলো করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে লাঞ্ছিত অবস্থায় স্থায়ী হবে। তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে; আল্লাহ তাদের গুনাহসমূহকে নেকি দিয়ে পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আল-ফুরকান: ৬৮ - ৭০]।
ইলম অন্বেষণকারীর জন্য ইখলাসের পর নফসকে পবিত্র করা এবং ইলম গ্রহণের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন।
ইলম অর্জনকারীদের জন্য যা জ্ঞান লাভকে ব্যাহত করে তা হলো: নফসের ব্যাধি ও অসুস্থতা যা অলসতার দিকে নিয়ে যায়, মন্দ বন্ধুদের সঙ্গ এবং পাপাচারে লিপ্ত হওয়া।
দুনিয়া ও আখিরাতে নফসের সংশোধন ছাড়া আমাদের কোনো মুক্তি নেই; মহান আল্লাহ বলেন: {আর যেদিন পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আসবে।} [আশ-শুআরা: ৮৭ - ৮৯];
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والقلب لا يكون سليما إلا بالسلامة من الشرك والشبهة والحسد والغل والمعاصي.
ومن حفظ طالب العلم لنفسه وعمله على صلاحها: ألا يصاحب إلا الأخيار الذين يعينونه على الطلب؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «المَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ؛ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ»
(1).
وأما ما يفعله طلاب العلم من الجلوس مع أقرانهم؛ ليتدارسوا مسائل العلم، دون الذهاب إلى مجالس العلماء؛ فهذه آفة يجب التنبه لها؛ لأنهم جميعًا صغار أَغْرار في بداية الطلب؛ فيُضيعون الأوقات، ولا يُحْكِمون ما يتدارسونه، وقد يكون فهم أحدهم أسوأ من فهم الآخر، فلا يزدادون إلا سوء فهم وبُعد عن الطلب الصحيح، وقد يكون هذا سببًا في انحرافهم عن الفهم المستقيم.
وكذلك لا بد أن يكون لطالب العلم أن يكون كسبه طيبًا حلالًا، فإن هذا مما يعينه على الطلب والتحصيل؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الله تعالى طَيِّبٌ لا يَقبل إلا طيبًا، وإنَّ الله أمر المؤمنين بما أمر به المُرسلين؛ فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا} [المؤمنون: 51]، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: 172]، ثم ذكر الرجلَ يُطيل السفر، أشعث، أغبر، يَمد يديه إلى السماء: يا رب، يا رب، ومَطعمه حرام، وملبسه حرام، وغُذي بالحرام، فأنَّى يُستجاب له؟!»
(2).
ثم على طالب العلم بعد حفظ نفسه من فتنة الشبهات والشهوات: أن يحفظ وقته؛ فلا يضيعه فيما لا يفيد، ولا يضيع لحظة بدون فائدة، وليحذر فضول الطعام والشراب والنوم، وليأخذ نفسه بالمجاهدة حتى تألف الطاعة وحفظ الوقت؛ كما قيل:
--------------------------------------------
অন্তর কেবল শিরক, সংশয়, হিংসা, বিদ্বেষ এবং পাপাচার থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই নিরাপদ হতে পারে।
ইলম অন্বেষণকারীর নিজের হিফাজত ও তার সংশোধনের প্রচেষ্টার অন্যতম হলো: কেবল সেই সব নেককারদের সাহচর্য গ্রহণ করা যারা তাকে অন্বেষণে সাহায্য করে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ব্যক্তি তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে; সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।”
(১)।
আর ইলম অন্বেষণকারীরা আলেমদের মজলিসে না গিয়ে কেবল নিজেদের সমসাময়িকদের সাথে বসে ইলমের মাসআলাসমূহ নিয়ে যে আলোচনা করে, তা এমন এক ব্যাধি যার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। কারণ তারা সকলেই অন্বেষণের শুরুতে অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ক; ফলে তারা সময় নষ্ট করে এবং যা আলোচনা করে তা সুসংহত করতে পারে না। এমনকি হতে পারে তাদের একজনের বুঝ অন্যের চেয়েও মন্দ, ফলে তাদের মাঝে ভুল বুঝ এবং সঠিক অন্বেষণ থেকে দূরত্বই বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের সঠিক বুঝ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ হতে পারে।
তদ্রূপ ইলম অন্বেষণকারীর উপার্জন অবশ্যই পবিত্র ও হালাল হতে হবে; কারণ এটি তাকে জ্ঞান অন্বেষণ ও অর্জনে সাহায্য করে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদের দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো} [আল-মুমিনুন: ৫১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করো} [আল-বাকারাহ: ১৭২]। এরপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে, যার চুল এলোমেলো ও ধূলিধূসরিত, সে আকাশের দিকে তার হাত প্রসারিত করে ডাকছে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামে পুষ্ট হয়েছে; তবে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে?!”
(২)।
অতঃপর ইলম অন্বেষণকারীর জন্য সংশয় ও কুপ্রবৃত্তির ফিতনা থেকে নিজেকে রক্ষার পর আবশ্যক হলো সময়ের হিফাজত করা; সুতরাং সে যেন অনর্থক কাজে সময় নষ্ট না করে এবং কোনো মুহূর্ত ফায়দাহীনভাবে পার না করে। সে যেন অতিরিক্ত পানাহার ও নিদ্রা থেকে সতর্ক থাকে এবং কৃচ্ছ্রসাধনার মাধ্যমে নিজেকে অভ্যস্ত করে যাতে সে আনুগত্য ও সময় রক্ষায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে; যেমন বলা হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والنفس كالطفل إن تهمله شَبَّ على
… حُبِّ الرضاع وإن تَفطمه ينفطم
وجاهد النفس والشيطان واعصهما
… وإن هما مَحَضَّاك النصح فاتَّهِم
فعليك بتنظيم الوقت، فأول النهار بعد الفجر للحفظ والاستذكار. ووسط النهار للكتابة والتصنيف.
إلى جملة آداب يجدها طالب العلم مبسوطة في كتب أهل العلم التي ذكرت آداب طلب العلم والسبيل إلى تحصيله.
هذا، والعلم يحتاج إلى الصبر وحبس النفس عليه وتحمل المشقة على سبيل تحصيله؛ ليكون ما يطلبه معينًا له على فهم هذا الدين؛ وقد قال ابن القيم عن الصبر: «إنَّه يُورث صاحبه درجة الإمامة؛ سمعت شيخ الإسلام ابن تيمية- قَدَّس الله رُوحه- يقول: بِالصَّبر واليقين تُنال الإمامة في الدِّينِ. ثم تلا قوله تعالى: {وجعلنا منهم أئمة يهدون بأمرنا لما صبروا وكانوا بآياتنا يوقنون} [السجدة: 24]»
(1).
فالأمر جِدٌّ لا هزل فيه، على حَدِّ قول الشاعر:
قد هَيَّئوك لأمرٍ لو فَطنت له
… فأربأ بنفسك أن تَرعى مع الهَمَلِ
وعن إبراهيم بن عيسى، عن عبد الله بن مسعود أنه قال لأصحابه: «كُونوا ينابيع العلم، مصابيح الهدى، أحلاس البيوت، سُرُج الليل، جُدُد القلوب، خُلْقان الثياب؛ تُعرفون في السماء وتَخفون على أهل الأرض»
(2).
لذا نجد طالب العلم من أحسن الناس، وقلبه من أطهر القلوب ونفسه من أنقى النفوس؛ لأنه دائمًا متجدد في إيمانه يسمع ويدرس ويذاكر كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم.
وهناك أنواع لا يَصلحون لحمل العلم:
--------------------------------------------
নফ্স বা প্রবৃত্তি হলো শিশুর মতো, যদি তাকে অবহেলা করো তবে সে বড় হবে
… স্তন্যপানের আসক্তি নিয়ে, আর যদি তাকে ছাড়িয়ে দাও, তবে সে বিরত হবে।
নফ্স ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করো এবং তাদের অবাধ্য হও
… আর তারা যদি তোমাকে নিখাদ উপদেশও দেয়, তবুও তাদের সন্দেহ করো।
সুতরাং আপনার উচিত সময়কে গুছিয়ে নেওয়া; দিনের শুরুর অংশ—ফজরের পর—মুখস্থকরণ ও পুনরাবৃত্তির জন্য। আর মধ্যভাগ লেখালেখি ও গ্রন্থ সংকলনের জন্য।
এ ছাড়া আরও একগুচ্ছ আদব বা শিষ্টাচার রয়েছে যা ইলম অন্বেষণকারী আলেমদের কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে পাবেন, যেখানে ইলম অন্বেষণের আদব এবং তা অর্জনের পথ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, ইলম বা জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নফ্সকে ইলমের কাজে নিবদ্ধ রাখা এবং তা অর্জনের পথে কষ্ট সহ্য করা; যাতে সে যা অন্বেষণ করছে তা এই দ্বীন বোঝার ক্ষেত্রে তার জন্য সহায়ক হয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ধৈর্য সম্পর্কে বলেছেন: «নিশ্চয়ই এটি তার অধিকারীকে ইমামতের (নেতৃত্বের) সুউচ্চ আসনে পৌঁছে দেয়। আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে—আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন—বলতে শুনেছি: ধৈর্য ও ইয়াকিনের (দৃঢ় বিশ্বাস) মাধ্যমেই দ্বীনের ইমামত লাভ করা যায়। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা ছিল আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী} [আস-সাজদাহ: ২৪]»
(১)।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ, এতে কোনো কৌতুকের অবকাশ নেই; যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:
তারা আপনাকে এমন এক মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করেছে যা আপনি যদি বুঝতেন
… তাই নিজেকে লক্ষ্যহীনদের সাথে বিচরণ করা থেকে রক্ষা করুন।
ইবরাহিম ইবনে ঈসা হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর সাথীদের উদ্দেশে বলেছিলেন: «তোমরা ইলমের ঝরনাধারা হও, হেদায়াতের আলোকবর্তিকা হও, ঘরের আসবাবের মতো স্থির ও একনিষ্ঠ হও, রাতের প্রদীপ হও, তোমাদের অন্তর হোক সতেজ এবং পোশাক হোক জীর্ণ; তোমরা আসমানে পরিচিত হবে এবং জমিনবাসীর কাছে অজ্ঞাত থাকবে»
(২)।
এ কারণেই আমরা ইলম অন্বেষণকারীকে সর্বোত্তম মানুষের অন্তর্ভুক্ত পাই, তার অন্তর পবিত্রতম এবং তার নফ্স অত্যন্ত নির্মল; কেননা তার ঈমান সর্বদা নবায়ন হতে থাকে; সে আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী শ্রবণ করে, অধ্যয়ন করে এবং তা নিয়ে আলোচনা করে।
আর এমন কিছু শ্রেণির লোক আছে যারা ইলম বহনের যোগ্য নয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
النوع الأول: مَنْ جعل هذا العلم مطيَّة لدنياه.
النوع الثاني: رجل مُنقاد لشهوته.
النوع الثالث: رجل ذو هِمَّة وَضِيعة.
النوع الرابع: ورجل همه كسب المال وجمعه؛ فهو يريد أن يكون صاحب دنيا؛ كتاجر ونحو ذلك.
فإذا أراد أحد هذه الأصناف أن يطلب العلم؛ فليعلم أنه سيكون في واد والعلم في واد آخر.
وهناك أربعة أصناف ضد أهل العلم؛ يقول ابن القيم رحمه الله: «قال محمدُ بن الفضل: ذهابُ الإسلام على يدي أربعة أصنافٍ من الناس: صنفٍ لا يعملون بما يعلمون. وصنفٍ يَعملون بما لا يعلمون. وصنفٍ لا يتعلَّمون ولا يعملون. وصنفٍ يمنعونَ الناسَ من التعلُّم»
(1).
قلتُ- أي: القيم-: الصنفُ الأول: مَنْ له علمٌ بلا عمل؛ فهو أضرُّ شيءٍ على العامَّة، فإنه حجَّةٌ لهم في كلِّ نقيصةٍ ومَبْخَسَة
والصنفُ الثاني: العابدُ الجاهل؛ فإنَّ الناسَ يُحسنون الظنَّ به؛ لعبادته وصلاحه، فيقتدون به على جهله.
وهذان الصنفان هما اللذان ذكرهما بعضُ السَّلف في قوله: «احذروا فتنةَ العالم الفاجر والعابد الجاهل، فإنَّ فتنتهما فتنةٌ لكل مفتون»
(2)؛ فإنَّ الناسَ إنما يقتدون
--------------------------------------------
প্রথম প্রকার: যে ব্যক্তি এই জ্ঞানকে তার পার্থিব জগতের বাহন বানিয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন ব্যক্তি যে তার প্রবৃত্তির অনুসারী।
তৃতীয় প্রকার: হীন সংকল্পের অধিকারী ব্যক্তি।
চতুর্থ প্রকার: এমন ব্যক্তি যার লক্ষ্য হলো অর্থ উপার্জন ও তা সঞ্চয় করা; সে একজন দুনিয়াদার হতে চায়; যেমন ব্যবসায়ী বা অনুরূপ কিছু।
অতএব এই শ্রেণির কেউ যদি ইলম অর্জন করতে চায়, তবে সে যেন জেনে রাখে যে, সে থাকবে এক প্রান্তে আর ইলম থাকবে অন্য প্রান্তে।
আর আহলে ইলমদের বিপরীতে চার প্রকার লোক রয়েছে; ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল বলেছেন: চার শ্রেণির মানুষের হাতে ইসলামের বিনাশ ঘটে: এক শ্রেণি যারা যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে না। এক শ্রেণি যারা না জেনে আমল করে। এক শ্রেণি যারা শেখেও না এবং আমলও করে না। আর এক শ্রেণি যারা মানুষকে জ্ঞান অর্জন থেকে বাধা দেয়»
(১)।
আমি—অর্থাৎ ইবনুল কাইয়্যিম—বলছি: প্রথম শ্রেণি হলো: যার আমলহীন জ্ঞান রয়েছে; সে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয়, কারণ সে তাদের প্রতিটি ত্রুটি ও হীন কাজের জন্য দালিলিক অজুহাত হিসেবে কাজ করে।
আর দ্বিতীয় শ্রেণি হলো: জাহেল ইবাদতকারী; কেননা মানুষ তার ইবাদত ও নেক আমলের কারণে তার প্রতি সুধারণা পোষণ করে, ফলে তারা তার অজ্ঞতার ওপরই তার অনুসরণ করে।
আর এই দুই শ্রেণির কথাই কিছু পূর্বসূরি (সালাফ) তাদের এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: «তোমরা পাপাচারী আলেম এবং জাহেল ইবাদতকারীর ফিতনা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ তাদের ফিতনা হলো প্রত্যেক ফিতনাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য এক বড় ফিতনা»
(২); কেননা মানুষ তো কেবল অনুসরণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بعلمائهم وعبَّادهم، فإذا كان العلماءُ فَجَرةً والعبَّادُ جَهَلةً عمَّت المصيبةُ بهما وعَظُمَت الفتنةُ على الخاصَّة والعامَّة.
والصنفُ الثالث: الذين لا علمَ لهم ولا عمل؛ وإنما هم كالأنعام السائمة.
والصنفُ الرابع: نُوَّابُ إبليس في الأرض؛ وهم الذين يثبِّطون الناسَ عن طلب العلم والتفقُّه في الدين، فهؤلاء أضرُّ عليهم من شياطين الجنِّ، فإنهم يحُولون بين القلوب وبين هدى الله وطريقه.
فهؤلاء الأربعةُ أصنافٍ الذين ذكرهم- رحمةُ الله عليه- كلُّهم على شفا جُرفٍ هار، وعلى سبيلِ هَلَكة، وما يَلقى العالِمُ الداعي إلى الله ورسوله ما يلقاه من الأذى والمحاربة إلا على أيديهم، والله يَستعملُ من يشاءُ في سخطه كما يستعملُ مَنْ يحبُّ في مرضاته؛ إنه بعباده خبيرٌ بصير.
ولا ينكشفُ سرُّ الطوائف المنحرفة وطريقتُهم إلا بالعلم؛ فعاد الخيرُ بحذافيره إلى العلم ومُوجَبه، والشرُّ بحذافيره إلى الجهل ومُوجَبه»
(1).
وقال عمر رضي الله عنه: «إنَّ أخوف ما أخاف عليكم ثلاثة: منافق يَقرأ القرآن لا يخطئ فيه واوًا ولا ألفًا؛ يجادل الناس أنه أعلم منهم؛ ليضلهم عن الهدى. وزَلَّة عالم. وأئمة مُضلون»
(2).
وقال ابن المبارك:
وهلْ أفسدَ الدينَ إلا الملوكُ
… وَأحبارُ سُوءٍ وَرُهبانها
فباعُوا النفوسَ ولمْ يربحَوا
… ولمْ تغلُ في البيعِ أثمانها
لقد وقع القوم في جيفةٍ
… يَبين لذي اللُّبِّ إنتانُها
--------------------------------------------
তাদের আলিম ও ইবাদতকারীদের মাধ্যমে। সুতরাং যখন আলিমগণ পাপাচারী হয় এবং ইবাদতকারীগণ মূর্খ হয়, তখন তাদের উভয়ের মাধ্যমে বিপদ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশেষ ও সাধারণ সর্বস্তরের মানুষের ওপর ফিতনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
আর তৃতীয় শ্রেণি: যাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং কোনো আমলও নেই; তারা তো কেবল চারণভূমিতে বিচরণকারী চতুষ্পদ জন্তুর মতো।
আর চতুর্থ শ্রেণি: জমিনে ইবলিসের প্রতিনিধি; এরা হচ্ছে তারা যারা মানুষকে ইলম অর্জন এবং দ্বীনের প্রজ্ঞা লাভ করা থেকে নিরুৎসাহিত করে। এরা জিন শয়তানদের চেয়েও মানুষের জন্য বেশি ক্ষতিকর, কারণ তারা অন্তরসমূহ এবং আল্লাহর হিদায়াত ও তাঁর পথের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
সুতরাং এই চার শ্রেণির মানুষ—যাদের কথা তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উল্লেখ করেছেন—সকলেই ধসে পড়ার উপক্রম হওয়া এক খাদের কিনারায় এবং ধ্বংসের পথে রয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বানকারী আলিম যে কষ্ট ও বিরোধিতার সম্মুখীন হন, তা এদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর অসন্তুষ্টির কাজে নিয়োজিত করেন, যেমন তিনি যাকে ভালোবাসেন তাকে তাঁর সন্তুষ্টির কাজে নিয়োজিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত ও সর্বদ্রষ্টা।
আর পথভ্রষ্ট দলগুলোর রহস্য ও তাদের কর্মপদ্ধতি ইলম বা জ্ঞান ছাড়া উন্মোচিত হয় না। সুতরাং যাবতীয় কল্যাণ পরিপূর্ণভাবে জ্ঞান ও তার আবশ্যিক বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং যাবতীয় অকল্যাণ পরিপূর্ণভাবে মূর্খতা ও তার আবশ্যিক বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে»
(১)।
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «আমি তোমাদের ব্যাপারে যে তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হলো: এমন মুনাফিক যে কুরআন পাঠ করে এবং তাতে একটি 'ওয়াও' বা একটি 'আলিফ'ও ভুল করে না; সে মানুষের সাথে বিতর্ক করে যে সে তাদের চেয়ে বেশি জানে, যেন সে তাদেরকে হিদায়াত থেকে বিচ্যুত করতে পারে। আর আলিমের পদস্খলন। এবং পথভ্রষ্টকারী নেতৃবৃন্দ»
(২)।
ইবনুল মুবারক বলেন:
রাজাবাদশাহ, মন্দ আলিম এবং বৈরাগীরা ছাড়া
… দ্বীনকে আর কে নষ্ট করেছে?
তারা নিজেদের নফসকে বিক্রি করে দিয়েছে কিন্তু লাভবান হতে পারেনি
… আর তাদের বিক্রয়মূল্যও চড়া ছিল না।
এই কওম এমন পচা লাশে পতিত হয়েছে
… যার দুর্গন্ধ বুদ্ধিমানদের কাছে স্পষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لذلك كان هم السلف الصالح هو قيام الدِّين.
فالعبرة بقيام هذا الدين وإرجاع الناس إليه، وليس العبرة بتكثير الأتباع والاغترار بهم؛ لأن الله يقول: {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} [يوسف: 103].
فلا ينبغي أن نجمع الناس كيفما اتفق، وإنما الواجب أن نعمل أن يهتدي الناس للدين الحق القائم على التمسك بالكتاب والسنة.
وكما يقول عليٌّ رضي الله عنه: «النَّاس ثلاثة: فعالم ربَّانيٌّ. ومتعلِّم على سبيل نجاة. وهمج رعاع أتباع كلِّ ناعق؛ لم يَستضيئوا بنور العلم، ولم يَلجؤوا إلى ركن وثيق
… »
(1).
فالعالم الرباني: هو الذي عَلِم وعمل ودعا وعَلَّم.
والمتعلم على سبيل نجاة: هو الذي في طريق أن يكون في طريق العلماء الرَّبانيين.
وهمج رعاع: هم كَذُباب القُرى، حمقى لا عقول لهم؛ لذا فهم أتباع كل ناعق لا يُميزون بين الحق والباطل.
وبالمجمل فإن طلب العلم لا شك أنه عظيم، ومع ذلك فمسئوليته كبيرة فإذا لم يعطه الطالب حقه من الرعاية تَحَمُّلًا؛ فكيف في المستقبل يكون أهلًا لأدائه؟! إذ فاقد الشيء لا يعطيه، وكل إناء بالذي فيه يَنضح.
فهذه مقدمة أردت أن أُقَدِّم بها بين يدي شرح هذا الكتاب؛ لتكون حافزًا لإخواني على طلب العلم، والمثابرة عليه والجد في تحصيله، والله الموفق والهادي على سواء السبيل.
--------------------------------------------
তাই সালাফে সালেহীনদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা।
মূল লক্ষ্য হলো এই দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মানুষকে এর দিকে ফিরিয়ে আনা; অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা বা তাদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হওয়া প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আপনি যতই চান না কেন, অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনবে না।" [ইউসুফ: ১০৩]।
সুতরাং যেভাবে হোক কেবল মানুষকে একত্রিত করা আমাদের উচিত নয়, বরং আমাদের কর্তব্য হলো মানুষকে সেই সত্য দ্বীনের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করা, যা কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
যেমনটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «মানুষ তিন প্রকার: আলিমে রব্বানী, মুক্তির পথে থাকা ইলম অন্বেষণকারী, আর লক্ষ্যহীন নির্বোধ জনতা যারা প্রতিটি চিৎকারকারীর অনুসরণ করে; তারা ইলমের আলোয় আলোকিত হয়নি এবং কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় গ্রহণ করেনি...»
(১)।
আলিমে রব্বানী হলেন তিনি: যিনি ইলম অর্জন করেছেন, আমল করেছেন, দাওয়াত দিয়েছেন এবং শিক্ষা প্রদান করেছেন।
মুক্তির পথে থাকা ইলম অন্বেষণকারী হলো সে: যে আলিমে রব্বানীদের পথে হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আর লক্ষ্যহীন নির্বোধ জনতা: তারা হলো সাধারণ পতঙ্গের মতো, নির্বোধ যাদের কোনো বিচারবুদ্ধি নেই; তাই তারা প্রতিটি আহ্বানকারীর অনুসারী হয়, তারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।
সামগ্রিকভাবে, ইলম অন্বেষণ করা নিঃসন্দেহে একটি মহান কাজ, তবে এর দায়িত্বও অনেক বড়। ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্র যদি যথাযথ যত্নের সাথে তার হক আদায় না করে, তবে ভবিষ্যতে সে এটি প্রচারের যোগ্য কীভাবে হবে?! কারণ, যার কাছে কিছু নেই সে অন্যকে কিছু দিতে পারে না, আর প্রতিটি পাত্র থেকে তা-ই চুইয়ে পড়ে যা তার ভেতরে থাকে।
এই কিতাবটির ব্যাখ্যা শুরুর আগে আমি এই ভূমিকাটি পেশ করতে চেয়েছি; যাতে এটি আমার ভাইদের ইলম অন্বেষণে, এতে ধৈর্য ধারণে এবং তা অর্জনে প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المقدمة الثانية: مناهج الناس في مسائل العقيدة.فلابد من إعطاء نبذة عن المناهج التي انقسم إليها الناس عند الخوض في هذه المسائل: فحقيقة الخلاف والنزاع قائم بين منهجين لا ثالث لهما، قال شيخ الإسلام ابن تيمية موضحًا هذه الأقسام: "الْفِرَقِ بَيْنَ الْمِنْهَاجِ النَّبَوِيِّ الْإِيمَانِيِّ الْعِلْمِيِّ الصلاحي وَالْمِنْهَاجِ الصَّابِئِ الْفَلْسَفِيِّ
(1) وَمَا تَشَعَّبَ عَنْهُ مِنْ الْمِنْهَاجِ الْكَلَامِيِّ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় ভূমিকা: আকিদার মাসআলাসমূহে মানুষের মানহাজ (পদ্ধতিসমূহ)।সুতরাং এই মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনার সময় মানুষ যে সকল মানহাজে বিভক্ত হয়েছে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। মূলত বিরোধ ও বিবাদ দুটি মানহাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যার তৃতীয় কোনোটি নেই। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই বিভাগগুলো স্পষ্ট করে বলেন: "নবুওয়াতী, ঈমানী, ইলমী ও সংশোধনমূলক মানহাজ এবং সাবেয়ী দার্শনিক মানহাজ ও তা থেকে উদ্ভূত কালামী মানহাজের মধ্যে পার্থক্য..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْعِبَادِيِّ الْمُخَالِفِ لِسَبِيلِ الْأَنْبِيَاءِ وَسُنَّتِهِمْ. وَذَلِكَ أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ عليهم السلام دَعَوْا النَّاسَ إلَى عِبَادَةِ اللَّهِ أَوَّلًا بِالْقَلْبِ وَاللِّسَانِ وَعِبَادَتُهُ مُتَضَمِّنَةٌ لِمَعْرِفَتِهِ وَذِكْرِهِ. فَأَصْلُ عِلْمِهِمْ وَعَمَلِهِمْ: هُوَ الْعِلْمُ بِاَللَّهِ وَالْعَمَلُ لِلَّهِ
(1) ".
فالمنهج الأول: المنهاج النبوي الإيماني
وهو منهج الأنبياء والرسل من أولهم إلى أخرهم القائم على العلم والعمل معًا وهذا ما عناه شيخ الإسلام ابن تيمية بقوله: "وَذَلِكَ أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ عليهم السلام دَعَوْا النَّاسَ إلَى عِبَادَةِ اللَّهِ أَوَّلًا بِالْقَلْبِ وَاللِّسَانِ وَعِبَادَتُهُ مُتَضَمِّنَةٌ لِمَعْرِفَتِهِ وَذِكْرِهِ. فَأَصْلُ عِلْمِهِمْ وَعَمَلِهِمْ: هُوَ الْعِلْمُ بِاَللَّهِ وَالْعَمَلُ لِلَّهِ".
وهؤلاء هم أهلُ السنَّة الذين اعتنوا بالعلمٌ والعمل معًا.
--------------------------------------------
এবং সেই ইবাদতকারী যে নবীদের পথ ও তাদের সুন্নাহর পরিপন্থী। আর তা এজন্য যে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) মানুষকে প্রথমত অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁর ইবাদত তাঁর পরিচয় ও যিকরকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তাদের জ্ঞান ও আমলের মূল ভিত্তি হলো: আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং আল্লাহর জন্য আমল করা
(১) "।
প্রথম মানহাজ: নববী ঈমানি মানহাজ
আর তা হলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল নবী ও রাসূলের মানহাজ, যা জ্ঞান ও আমল উভয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এটাই উদ্দেশ্য করেছেন: "আর তা এজন্য যে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) মানুষকে প্রথমত অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁর ইবাদত তাঁর পরিচয় ও যিকরকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তাদের জ্ঞান ও আমলের মূল ভিত্তি হলো: আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং আল্লাহর জন্য আমল করা"।
আর এরাই হলো আহলে সুন্নাত যারা জ্ঞান ও আমল উভয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২১)
والمنهج الثاني: المنهج الصابئ الفلسفي.
وهذا المنهج مخالف لمنهج الأنبياء والرسل وهو منقسم إلى قسمين: وهو ما عناه شيخ الإسلام بقوله: "وَمَا تَشَعَّبَ عَنْهُ مِنْ الْمِنْهَاجِ الْكَلَامِيِّ وَالْعِبَادِيِّ".
ويفهم منه أن المنهاج الفلسفي منقسم إلى قسمين:
القسم الأول: المنهج الكلامي. وهم أهل الكلام ومن وافقهم.
وهؤلاء قومٌ اعتنوا بالعلم دونَ العمل وإن كان علمهم لم ينبنِ على الكتابِ والسنَّة:
وهم أهلُ الكلام الذين بنوا علمهم على الرأيِ والقياس وعلى الفلسفة وخلا علمهم من العمل، إذ لا يوجد عندهم منهج عمل.
القسم الثاني: المنهج العبادي. وهؤلاء هم المتصوفة.
وقومٌ اعتنوا بالعمل دون العلم: وهم المتصوفة وأشباههم فهؤلاءِ عملٌ بلا علم.
وهؤلاء وقعوا في مفسدتين:
فالمتكلم لم يبنِ علمه على الكتابِ والسنَّة، ثم إنه تركَ العمل.
والمتصوِّف لم يبنِ عمله على الكتابِ والسنَّة، ثم إنه تركَ العلم فبالتالي ضلوا وأضلوا.
وأما أهل السنَّة فإن منهجهم يقومُ على العلمِ والعمل معاً، وهذا العلمُ والعمل مبنيٌ على كتابِ الله عز وجل وسنَّةِ نبيه صلى الله عليه وسلم وعلى ما كان عليه السلفُ الصالح.
قال ابن تيمية: "وَقَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَة: كَانُوا يَقُولُونَ مَنْ فَسَدَ مِنْ عُلَمَائِنَا فَفِيهِ شَبَهٌ مِنْ الْيَهُودِ وَمَنْ فَسَدَ مِنْ عُبَّادِنَا فَفِيهِ شَبَهٌ مِنْ النَّصَارَى. وَكَانَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ السَّلَفِ يَقُولُ: "احْذَرُوا فِتْنَةَ الْعَالِمِ الْفَاجِرِ وَالْعَابِدِ الْجَاهِلِ فَإِنَّ فِتْنَتَهُمَا فِتْنَةٌ لِكُلِّ
দ্বিতীয় পদ্ধতি: সাবীয় দার্শনিক পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিটি নবী ও রাসূলগণের পদ্ধতির পরিপন্থী এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত: আর শাইখুল ইসলাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এটিই বুঝিয়েছেন: "এবং যা তা থেকে কালামী ও ইবাদতগত পদ্ধতি হিসেবে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে।"
এর দ্বারা বোঝা যায় যে, দার্শনিক পদ্ধতিটি দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম ভাগ: কালামী পদ্ধতি। তারা হলেন আহলুল কালাম এবং যারা তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
এরা এমন এক দল লোক যারা আমল বাদ দিয়ে কেবল ইলমের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যদিও তাদের ইলম কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি:
তারা হলেন আহলুল কালাম যারা তাদের ইলমকে রায় (ব্যক্তিগত অভিমত), কিয়াস (যুক্তি) এবং দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন এবং তাদের ইলম আমল শূন্য ছিল, যেহেতু তাদের কাছে কোনো আমলি পদ্ধতি নেই।
দ্বিতীয় ভাগ: ইবাদতগত পদ্ধতি। তারা হলেন সূফী সম্প্রদায়।
এবং এক দল লোক যারা ইলম বাদ দিয়ে কেবল আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন: তারা হলেন সূফী এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ, সুতরাং এদের আমল ইলম বিহীন।
আর এরা দুটি অনিষ্টের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন:
মুতাকাল্লিম তার ইলমকে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলেনি, তদুপরি সে আমল বর্জন করেছে।
আর সূফী তার আমলকে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলেনি, তদুপরি সে ইলম বর্জন করেছে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে।
পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহর পদ্ধতি ইলম ও আমল—উভয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এই ইলম ও আমল মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের আদর্শের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বলেছেন: তারা বলতেন, আমাদের আলেমদের মধ্যে যারা পথভ্রষ্ট হবে তাদের মধ্যে ইহুদিদের সাদৃশ্য রয়েছে এবং আমাদের ইবাদতকারীদের মধ্যে যারা পথভ্রষ্ট হবে তাদের মধ্যে খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য রয়েছে। আর সালাফদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি বলতেন: "তোমরা পাপাচারী আলেম এবং মূর্খ ইবাদতকারীর ফেতনা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ তাদের ফিতনা প্রত্যেকের জন্যই ফিতনা..."
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مَفْتُونٍ".
فَمَنْ عَرَفَ الْحَقَّ وَلَمْ يَعْمَلْ بِهِ أَشْبَهَ الْيَهُودَ الَّذِينَ قَالَ اللَّهُ فِيهِمْ: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ}.
وَمَنْ عَبَدَ اللَّهَ بِغَيْرِ عِلْمٍ بَلْ بِالْغُلُوِّ وَالشِّرْكِ أَشْبَهَ النَّصَارَى الَّذِينَ قَالَ اللَّهُ فِيهِمْ: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ}.
فَالْأَوَّلُ مِنْ الْغَاوِينَ، وَالثَّانِي مِنْ الضَّالِّينَ. "
(1)ولذلك كان منهج السلف في التوحيد يقوم على أمرين؛ هما:
1 - العلم بالله.
2 - والعمل لله.
فجمعوا بذلك بين التصديق العِلمي والعَمل الحُبِّي، وبذلك تميز منهج أهل السنة والجماعة (السلف) عن المناهج الأخرى.
حيث حققوا كِلا الأمرين؛ من القول التصديقي المعتمد على معرفة أسماء الله وصفاته وأفعاله الواردة في الكتاب والسنة. والعمل الإرادي، وذلك باتباع الأوامر واجتناب النواهي وفق ما شرعه الله في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
ولذلك كان كلامهم وعملهم باطنًا وظاهرًا بعلم، وكان كل واحد من قولهم وعملهم مقرونًا بالآخر، وهؤلاء هم المسلمون حقًّا؛ الذين سَلِموا من آفات منحرفة المتكلمة والمتصوفة.
فوقعت كل طائفة من هاتين الطائفتين المنحرفتين في مفسدتين:
إحداهما: القول بلا علم إن كان متكلمًا، والعمل بلا علم إن كان متصوفًا.
والمفسدة الثانية: فوت المتكلم العمل، وفوت المتصوف القول والكلام
(2).
--------------------------------------------
বিভ্রান্ত।"
সুতরাং যে ব্যক্তি সত্যকে জানল অথচ সে অনুযায়ী আমল করল না, সে ওইসব ইহুদিদের সদৃশ হলো যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত করো। তবে কি তোমরা বুঝো না?}।
আর যে ব্যক্তি জ্ঞানহীনভাবে বরং বাড়াবাড়ি ও শিরকের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করল, সে ওইসব নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সদৃশ হলো যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না এবং ওই সম্প্রদায়ের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।}।
অতএব, প্রথম দল হলো বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত, আর দ্বিতীয় দল হলো বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত।"
(১)আর এই কারণেই তাওহীদের ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ (পদ্ধতি) দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত; সেগুলো হলো:
১ - আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
২ - এবং আল্লাহর জন্য আমল করা।
এর মাধ্যমে তারা জ্ঞানগত সত্যায়ন এবং ভালোবাসাপ্রসূত আমল—উভয়টিকে একত্রিত করেছেন। আর এভাবেই অন্যান্য মানহাজ থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের (সালাফ) মানহাজ স্বতন্ত্র হয়েছে।
যেহেতু তারা উভয়টিই বাস্তবায়ন করেছেন; যথা কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির মারেফাত বা পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে সত্যায়নমূলক বক্তব্য প্রদান। এবং ইচ্ছাপ্রসূত আমল করা, যা আল্লাহর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন সে অনুযায়ী আদেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
আর এ কারণেই তাদের কথা ও কাজ—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই—জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে ছিল। তাদের প্রতিটি কথা ও কাজ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। আর এরাই হলেন প্রকৃত মুসলিম; যারা বিভ্রান্ত মুতাকাল্লিম (ধর্মতত্ত্ববিদ) এবং সুফিদের নানাবিধ বিপর্যয় থেকে মুক্ত ছিলেন।
ফলে এই দুটি বিভ্রান্ত দলের প্রত্যেকেই দুটি করে ক্ষতির মধ্যে নিপতিত হয়েছে:
এক: জ্ঞানহীন কথা বলা—যদি সে মুতাকাল্লিম হয়; আর জ্ঞানহীন আমল করা—যদি সে সুফি হয়।
আর দ্বিতীয় ক্ষতিটি হলো: মুতাকাল্লিমের আমল ছুটে যাওয়া, এবং সুফির সঠিক কথা ও জ্ঞানগত আলোচনা ছুটে যাওয়া।
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهو ما وقع من البدع الكلامية والعملية المخالفة للكتاب والسنة.
فالكلاميون: ويدخل فيهم الفلاسفة ومن سار على نهجهم، أو على بعض مناهجهم من المتكلمين، كمتكلمة الفرق من المعتزلة والجهمية والفرق الكلامية التي جاءت بعدها، والتي تسمى بالفرق الصفاتية الكلامية (الكلابية والأشاعرة والماتريدية)، وكذلك من دخل منهم أو معهم في هذا المجال من متكلمة الخوارج ومتكلمة الشيعة الرافضة ومتكلمة القدرية ومتكلمة المرجئة وغيرهم، فكلهم يجمعهم وصف واحد، أعني: وصفهم بأنهم أهل النظر.
غالب نظرهم وقولهم في الثبوت والانتفاء، والوجود والعدم، والقضايا التصديقية؛ فغايتهم مجرد التصديق والعلم والخبر؛ فاعتنوا بجانب علمي لم يَنْبَنِ على الكتاب والسنة؛ لذلك عَطَّلوا أسماء الله تعالى، وعَطَّلوا صفاتِه عز وجل.
وعندما عَرَّفوا التوحيد؛ قالوا: «واحد في ذاته، وواحد في صفاته، وواحد في أفعاله». وأهملوا جانب توحيد العبادة: «واحد في ذاته» قالوا: «لا شريكَ له». و «واحد في صفاته»: «لا نظير له». و «واحد في أفعاله»: «لا نِدَّ له». فهذا تقسيمهم للتوحيد
(1).
ويُلاحظ أنه قد خلا في هذه الثلاثة من الجانب العملي، فلا يوجد عمل، ثم إذا تحدثوا عن ذات الله تعالى تحدثوا بالتعطيل؛ فقالوا بما قالوا: "ليس في جهة، ولا في عُلو، ولا في مكان، ولا في حيز" ولا إلى غير ذلك؛ فجعلوه والعدم سواء، وإذا تحدثوا عن صفات الله تعالى تحدثوا عن سبع صفات فقط، وإذا تحدثوا عن أفعال الله تعالى وهذا هو الذي سَلِم لهم: «توحيد الربوبية»؛ فلم يَسلم لهم إلا توحيد الربوبية، ونحن نعلم أن كفار قريش كانوا مُقِرِّين بتوحيد الربوبية: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [لقمان: 25]؛ فهذا حاصل توحيد هؤلاء.
--------------------------------------------
আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী কালামশাস্ত্রীয় এবং আমলগত যেসব বিদআত সংঘটিত হয়েছে।
মুতাকাল্লিমগণ: এদের অন্তর্ভুক্ত হলো দার্শনিকগণ এবং যারা তাদের পথে চলেছে, অথবা মুতাকাল্লিমদের মধ্য থেকে যারা তাদের কোনো কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। যেমন মুতাজিলা ও জাহমিয়া ফেরকার মুতাকাল্লিমগণ এবং তাদের পরবর্তী কালামী দলসমূহ, যাদেরকে সিফাত-সংক্রান্ত কালামী ফেরকা (কুল্লাবিয়া, আশআরিয়া ও মাতুরিদিয়া) বলা হয়। অনুরূপভাবে এই ক্ষেত্রে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বা তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে যেমন খাওয়ারিজদের মুতাকাল্লিমগণ, রাফেযি শিয়াদের মুতাকাল্লিমগণ, কাদারিয়া ও মুরজিয়াদের মুতাকাল্লিমগণ এবং অন্যান্যরা। এই সকলকে একটি বৈশিষ্ট্য একত্রিত করে, তা হলো: তারা 'আহলুন নাযার' বা যুক্তিনির্ভর লোক হিসেবে পরিচিত।
তাদের অধিকাংশ চিন্তা ও বক্তব্য হলো কোনো কিছু সাব্যস্তকরণ ও অস্বীকৃতি, অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব এবং প্রত্যয়নমূলক বিষয়সমূহ নিয়ে। তাদের লক্ষ্য কেবল সত্যায়ন, জ্ঞান ও সংবাদ লাভ করা। তাই তারা এমন এক তাত্ত্বিক দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে যা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়। এই কারণেই তারা মহান আল্লাহর নামসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর গুণাবলিকেও অস্বীকার করেছে।
আর তারা যখন তাওহীদের সংজ্ঞা প্রদান করেছে, তখন তারা বলেছে: «তিনি তাঁর সত্তায় এক, তাঁর গুণাবলিতে এক এবং তাঁর কার্যাবলিতে এক»। তারা ইবাদতের তাওহীদের দিকটিকে উপেক্ষা করেছে। «সত্তায় এক» বলতে তারা বলেছে: «তাঁর কোনো অংশীদার নেই»। এবং «গুণাবলিতে এক» বলতে বলেছে: «তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই»। আর «কার্যাবলিতে এক» বলতে বলেছে: «তাঁর কোনো সদৃশ নেই»। এটিই হলো তাওহীদ নিয়ে তাদের বিভাজন
(১)।
লক্ষ্য করার বিষয় হলো যে, এই তিনটি ভাগের মধ্যে প্রায়োগিক কোনো দিক নেই, সেখানে কোনো আমল বিদ্যমান নেই। অতঃপর যখন তারা মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন তারা ‘তাতীল’ বা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারের মাধ্যমে আলোচনা করে। ফলে তারা যা বলার তা বলেছে: "তিনি কোনো দিকে নেই, কোনো উচ্চতায় নেই, কোনো স্থানে নেই, কোনো সীমারেখায় নেই" ইত্যাদি। এভাবে তারা তাঁকে এবং অস্তিত্বহীনতাকে সমান করে দিয়েছে। আর যখন তারা আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন তারা মাত্র সাতটি গুণ নিয়ে আলোচনা করে। আর যখন তারা আল্লাহর কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে—যা তাদের কাছে বিশুদ্ধ থেকেছে—তা হলো: «তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ»। ফলে তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ ব্যতীত তাদের কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি। অথচ আমরা জানি যে, কুরাইশ কাফেররাও তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিত: {আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন যে, কে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ} [লুকমান: ২৫]। এটিই হলো তাদের তাওহীদের সারমর্ম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأمَّا الصُّوفيون: فغالب طلبهم وعملهم في المحبة والبغضة، والإرادة والكراهة، والحركات العملية؛ فاعتنوا بجانب العمل، وأهملوا جانب العلم، وكذلك عملهم لم ينبنِ على السنة، وإنَّما انبنى على البدعة؛ إذ غايتهم المحبة والانقياد والعمل والإرادة.
وهكذا إذا جئنا إلى أهل التصوف لم نجد عندهم من حقيقة التوحيد شيء.
أمَّا توحيدُ أهل السُّنَّة فيقوم على هذين الأصلين العظيمين: أن تَعرف اللهَ، وذاك بمعرفة أسمائه وصفاته التي وردت في الكتاب والسُّنَّة. وأن تعبد الله، وهذا باتِّباع شرع الله عز وجل على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
فالسلف وأتباعهم جعلوا من توحيد الأسماء والصفات إحدى الرَّكيزتين التي قام عليها منهجهم المعتمد على نصوص الكتاب والسنة، وذلك لما لهذا التوحيد من أهمية ومنزلة، وهذا ما تشهد له كثرة النصوص الشرعية الواردة في هذا الشأن.
فلذلك لا بد لصاحب السُّنَّة أن يدرس هذا الباب، وأن يَبني هذه الدراسة على الكتاب والسنة؛ ليعرف الله عز وجل، فلن تكون من أصحاب السنة ولن تكون من أتباع السلف حتى تُعنى بهذا الباب، والعلم بهذا الباب-كما ذكر العلماء- مطلوب لذاته، ليس وسيلة للعمل كما يزعم البعض؛ فكلٌّ من العِلم بالله والعمل لله مطلوب لذاته؛ فقد يكون منه ما هو وسيلة، ومنه ما هو غاية؛ فيجب أن نعلم أنه لا بد من معرفة هذا الباب وتعلمه؛ باعتبار أنه أمر مطلوب لذاته، وإن كان لا يُكتفى به وحده، بل لا بد وأن يجتمع معه عبادة الله عز وجل، وإلا فإن العبد لا يكون مؤمنًا، وبهذا نعلم أن من أهمية هذا الباب أنه أصلٌ عظيمٌ في منهج أهل السنة والجماعة.
পক্ষান্তরে সুফিবাদীদের কথা বলতে গেলে: তাদের অধিকাংশ অন্বেষণ ও আমল ভালোবাসা ও ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দ এবং কর্মগত তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তারা আমলের দিকের যত্ন নিয়েছেন এবং ইলমের দিকটি অবহেলা করেছেন। একইভাবে তাদের আমল সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং তা বিদআতের ওপর প্রতিষ্ঠিত; যেহেতু তাদের লক্ষ্য হলো ভালোবাসা, আনুগত্য, আমল এবং ইচ্ছা।
এভাবে আমরা যদি তাসাউফপন্থীদের দিকে তাকাই, তবে আমরা তাদের কাছে তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপের কিছুই পাব না।
পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাহর তাওহীদ এই দুটি মহান মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: আল্লাহকে চেনা, আর তা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত তাঁর নাম ও গুণাবলি জানার মাধ্যমে। এবং আল্লাহর ইবাদত করা, আর তা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ নিঃসৃত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার শরীয়ত অনুসরণের মাধ্যমে।
সালাফ এবং তাদের অনুসারীরা তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাতকে (নাম ও গুণাবলির তাওহীদ) এমন দুটি স্তম্ভের অন্যতম করেছেন যার ওপর কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যের ওপর নির্ভরশীল তাদের মানহাজ বা কর্মপন্থা প্রতিষ্ঠিত। আর তা এই তাওহীদের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে; এ বিষয়ে বর্ণিত প্রচুর শরয়ি নস বা ভাষ্য এর সাক্ষ্য দেয়।
তাই একজন সুন্নাহর অনুসারীর জন্য এই অধ্যায়টি অধ্যয়ন করা এবং এই অধ্যয়নকে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করা অপরিহার্য, যাতে তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে চিনতে পারেন। আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না এবং সালাফদের অনুসারী হতে পারবেন না যতক্ষণ না এই অধ্যায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন। আর এই অধ্যায় সম্পর্কিত জ্ঞান—যেমনটি আলেমগণ উল্লেখ করেছেন—তা নিজস্ব সত্তায় কাম্য, এটি আমলের মাধ্যম মাত্র নয় যেমনটি কেউ কেউ দাবি করে। কেননা আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং আল্লাহর জন্য আমল—উভয়টিই নিজস্ব সত্তায় কাম্য; এর মধ্যে কিছু হতে পারে মাধ্যম এবং কিছু হতে পারে লক্ষ্য। সুতরাং আমাদের জানা উচিত যে, এই অধ্যায় সম্পর্কে জানা এবং তা শেখা অপরিহার্য; এই বিবেচনায় যে এটি নিজস্ব সত্তায় একটি কাম্য বিষয়। যদিও কেবল এটিই যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইবাদতও যুক্ত হওয়া আবশ্যক, অন্যথায় বান্দা মুমিন হতে পারবে না। এর মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, এই অধ্যায়ের গুরুত্ব হলো এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজের একটি মহান মূলনীতি।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المقدمة الثالثة: بيان قاعدة مهمة بين يدي شرح الكتاب:هناك قاعدة مهمة يجدر التنبه لها لفهم مسائل هذا الباب بل ولفهم جميع مسائل الدين، فإذا كانت الحكمة هي وضع الشيء في موضعه والله يقول: (يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا) [البقرة: 269].
قال أبو إسماعيل الهروي: "الحِكْمَة اسم لإحكام وضع الشيء في موضعه"
(1).
وقال ابن القيِّم: "الحِكْمَة: فعل ما ينبغي، على الوجه الذي ينبغي، في الوقت الذي ينبغي.
(2) "
فإن من الحكمة أن تدرك أن هذه القسمة الثنائية للتوحيد يرجع أصلها إلى أن النظر إلى الشريعة يكون من عدة اعتبارات، ومن بين تلك الاعتبارات أننا لو نظرنا للشرع من جهة ما يجب على الإنسان، باعتبار أن هذا الوحي أنزل ليخاطب الإنسان، كما قال تعالى في سورة البقرة: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 38]، وقوله تعالى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى} [طه: 123].
وبما أن الإنسان مركب من (جسد وروح).
وهذا الجسد خلق من تراب؛ قال الله تعالى: {فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ} [الحج: 5]، وقد جعل الله غذاء هذا الجسد وقوامه إنما يكون من الأرض وما يخرج منها، وما يعيش عليها. فهذا هو أصل الجسد أصله من التراب، ويعيش على ما يخرج من التراب.
--------------------------------------------
তৃতীয় ভূমিকা: কিতাবের ব্যাখ্যার প্রারম্ভে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বর্ণনা:এই অধ্যায়ের মাসআলাগুলো বোঝার জন্য, বরং দ্বীনের সমস্ত মাসআলা বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে যা লক্ষ্য রাখা উচিত। হিকমত (প্রজ্ঞা) যদি হয় কোনো বস্তুকে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করা, আর আল্লাহ বলেন: (তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন; আর যাকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে নিশ্চয়ই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে) [আল-বাকারা: ২৬৯]।
আবু ইসমাঈল আল-হারাবী বলেছেন: "হিকমত হলো কোনো বস্তুকে তার সঠিক স্থানে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করার নাম"
(১)।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "হিকমত হলো: যা করা উচিত তা করা, যেভাবে করা উচিত সেভাবে, যে সময়ে করা উচিত সেই সময়ে।
(২) "
হিকমতের অন্তর্ভুক্ত হলো এটি অনুধাবন করা যে, তাওহীদের এই দ্বিমুখী বিভাজনের মূল ভিত্তি হলো শরীয়তকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। সেই সকল দৃষ্টিকোণের মধ্যে একটি হলো: আমরা যদি শরীয়তকে মানুষের উপর যা ওয়াজিব সেই দিক থেকে দেখি—এই বিবেচনায় যে এই ওহী মানুষকে সম্বোধন করার জন্যই নাজিল হয়েছে—যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারায় বলেছেন: {অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসবে, তখন যারা আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [আল-বাকারা: ৩৮]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসবে, তখন যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না} [তহা: ১২৩]।
আর যেহেতু মানুষ (দেহ ও রুহ) এর সমন্বয়ে গঠিত।
আর এই দেহ মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি} [আল-হজ: ৫]। আর আল্লাহ এই দেহের খাদ্য ও স্থায়িত্ব নির্ধারণ করেছেন জমিন এবং জমিন থেকে যা নির্গত হয় ও যা তার ওপর বাস করে তার মাধ্যমে। সুতরাং এটিই দেহের উৎস; এর মূল হলো মাটি থেকে এবং এটি মাটি থেকে যা উৎপন্ন হয় তার ওপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما الجزء الثاني من الإنسان فهو (الروح)؛ فقد قال جل وعلا: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي} [الحجر: 29]، وهذه الروح نحن لا نعلم طبيعتها ولا حقيقتها، قال تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} [الإسراء: 85]، ولكن الروح لها غذاء كغذاء البدن، وحياة كحياة البدن، ولكن غذاء الروح هو العلم النافع والعمل الصالح، وإذا لم تتناول الروح هذا الغذاء فإنها سوف تمرض أو تموت، كما أن الجسد إذا لم يتناول غذاءه سيمرض أو يموت.
قال ابن القيم رحمه الله: «ومدار الصحة على حفظ القوة، والحمية عن المؤذي، واستفراغ المواد الفاسدة
… فالقلب محتاج إلى ما يحفظ عليه قوته، وهو الإيمان وأوراد الطاعات، وإلى حمية عن المؤذي الضار، وذلك باجتناب الآثام والمعاصي، وأنواع المخالفات، وإلى استفراغه من كل مادة فاسدة تعرض له، وذلك بالتوبة النصوح»
(1).
وحياة القلب والروح وغذاؤهما إنما يكون بما أنزله الله تعالى من دينه وشرعه.
وهذه الروح قد تكلم العلماء في بعض ما يتعلق بها كالعقل، وهل هو هذه المضغة التي تسمى بالقلب والتي قال عنها النبي صلى الله عليه وسلم: «ألا إن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله»
(2)، أم هي ما يدور في الدماغ من الأفكار والإرادات ونحوها، أم هو مجموع الأمرين؟
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: " لفظ القلب قد يُرَادُ به:
ا-المضغة الصنوبرية الشكل التي في الجانب الأيسر من البدن، التي جوفها علقة سوداء، كما في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم: "ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت
--------------------------------------------
আর মানুষের দ্বিতীয় অংশটি হলো (রুহ বা আত্মা); মহান ও মহীয়ান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করলাম এবং তাতে আমার রুহ হতে ফুঁক দিলাম} [আল-হিজর: ২৯]। এই রুহের প্রকৃতি বা হাকিকত সম্পর্কে আমরা জানি না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন: রুহ আমার রবের নির্দেশ ঘটিত, আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} [আল-ইসরা: ৮৫]। তবে দেহের যেমন খাদ্য আছে, রুহেরও তেমনি খাদ্য আছে; আর দেহের জীবনের মতো রুহেরও জীবন আছে। রুহের খাদ্য হলো উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল। যদি রুহ এই খাদ্য গ্রহণ না করে, তবে তা অসুস্থ হয়ে পড়বে অথবা মারা যাবে, ঠিক যেমন দেহ খাদ্য গ্রহণ না করলে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা মারা যায়।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «সুস্থতার ভিত্তি হলো শক্তি সংরক্ষণ করা, ক্ষতিকর বিষয় থেকে বেঁচে থাকা এবং দূষিত উপাদান বের করে দেওয়া
… সুতরাং অন্তর তার শক্তি বজায় রাখার জন্য (উপাদানের) মুখাপেক্ষী, আর তা হলো ঈমান ও আনুগত্যের আমলসমূহ। আর ক্ষতিকর ও যন্ত্রণাদায়ক বিষয় থেকে সুরক্ষার মুখাপেক্ষী, আর তা হলো পাপ, অবাধ্যতা এবং বিভিন্ন প্রকার লঙ্ঘন বর্জন করা। আর অন্তরে আসা প্রতিটি দূষিত উপাদান বের করে দেওয়ার মুখাপেক্ষী, আর তা হলো খাঁটি তওবা»
(১)।
অন্তর ও রুহের জীবন এবং এগুলোর খোরাক কেবল আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীন ও শরিয়ত থেকে যা নাজিল করেছেন তার মাধ্যমেই সম্ভব।
এই রুহ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আলেমগণ আলোচনা করেছেন, যেমন—আকল (বুদ্ধি)। এটি কি সেই মাংসপিণ্ড যাকে অন্তর বলা হয় এবং যার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে, যখন তা সংশোধিত হয়, তখন পুরো শরীরই সংশোধিত হয়»
(২), নাকি তা মস্তিষ্কে সঞ্চালিত চিন্তা ও ইচ্ছাশক্তি বা অনুরূপ কিছু? অথবা তা কি উভয় বিষয়ের সমষ্টি?
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "অন্তর (ক্বলব) শব্দটি দিয়ে কখনো উদ্দেশ্য করা হয়:
১- দেহের বাম পাশে অবস্থিত পাইন ফলের (শঙ্কু আকৃতির) ন্যায় মাংসপিণ্ডটি, যার অভ্যন্তরে কালো রক্তপিণ্ড থাকে। যেমনটি সহীহাইন-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে, যখন তা সংশোধিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب" متفق عليه
(1).
2 - وقد يراد بالقلب باطن الإنسان مطلقًا، فإن قلب الشيء باطنه، كقلب الحنطة، واللوزة والجوزة، ونحو ذلك، ومنه، سمي القُليب قُليبًا، لأنه أخرج قلبه وهو باطنه، وعلى هذا فإذا أريد بالقلب هذا فالعقل متعلق بدماغه أيضًا، ولهذا قيل: إن العقل في الدماغ كما يقوله كثير من الأطباء، ونقل ذلك عن الإمام أحمد، ويقول طائفة من أصحابه: (إن أصل العقل في القلب، فإذا كمل انتهى إلى الدماغ).
والتحقيق "أن الروح التي هي النفس لها تعلق بهذا وهذا، وما يتصف من العقل به يتعلق بهذا وهذا، لكن:
مبدأ الفكر والنظر في الدماغ.
ومبدأ الإرادة في القلب.
والعقل يراد به العلم، ويراد به العمل، فالعلم والعمل الاختياري أصله الإرادة، وأصل الإرادة في القلب، والمريد لا يكون مريدًا إلا بعد تصور المراد، فلابد أن يكون القلب متصورًا، فيكون منه هذا وهذا، ويبتدئ ذلك من الدماغ وآثاره صاعدة إلى الدماغ، فمنه المبتدأ وإليه الانتهاء.
وكلا القولين له وجه صحيح"
(2).
ولو نظرنا إلى طبيعة الإنسان لوجدنا أن الله عز وجل ركب ركَّب في الإنسان:
- قوةً في التفكير والعلم والنظر.
- وقوةً في الإرادة والعمل.
--------------------------------------------
পুরো শরীর সুস্থ থাকে, আর তা যদি কলুষিত হয়, তবে পুরো শরীরই কলুষিত হয়ে যায়। জেনে রাখো, তা হলো অন্তর।" এটি সর্বসম্মত (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)
(১).
২ - কখনো অন্তর দ্বারা মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্তাকে নিঃশর্তভাবে বোঝানো হয়। কেননা কোনো বস্তুর কেন্দ্র হলো তার অভ্যন্তরীণ অংশ, যেমন গমের শাঁস, কাঠবাদাম ও আখরোটের শাঁস এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এ থেকেই কুয়াকে 'কুলিব' (খোঁড়া কুয়া) বলা হয়, কারণ এর ভেতরকার অংশ বের করে আনা হয়েছে। এই ভিত্তিতে যদি অন্তর দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য হয়, তবে বুদ্ধি মস্তিষ্কের সাথেও সংশ্লিষ্ট। এই কারণেই বলা হয়েছে যে, বুদ্ধি মস্তিষ্কের মধ্যে থাকে, যেমনটি অনেক চিকিৎসক বলে থাকেন। ইমাম আহমাদ থেকেও এমনটি বর্ণিত হয়েছে। তাঁর অনুসারীদের একটি দল বলেন: (বুদ্ধির মূল হলো অন্তরে, অতঃপর যখন তা পূর্ণতা পায় তখন তা মস্তিষ্কে গিয়ে পৌঁছে)।
প্রকৃত গবেষণা এই যে, "রূহ যা মূলত নাফস বা আত্মা, তার সম্পর্ক এর সাথেও এবং ওর সাথেও রয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক গুণাবলিও এ দুটির সাথেই সংশ্লিষ্ট। তবে:
চিন্তা ও গবেষণার সূচনা হয় মস্তিষ্কে।
আর ইচ্ছাশক্তির সূচনা হয় অন্তরে।
বুদ্ধি দ্বারা জ্ঞানও উদ্দেশ্য হয়, আবার আমল বা কর্মও উদ্দেশ্য হয়। সুতরাং জ্ঞান ও ঐচ্ছিক কর্মের মূল হলো ইচ্ছা, আর ইচ্ছার মূল হলো অন্তরে। আর কোনো ইচ্ছুক ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ইচ্ছুক হতে পারে না যতক্ষণ না সে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি কল্পনা করে। অতএব অন্তরের কল্পনাশক্তি থাকা আবশ্যক। সুতরাং অন্তর থেকেই এ দুটি বিষয় ঘটে থাকে। আর এর সূচনা হয় মস্তিষ্ক থেকে এবং এর প্রভাব মস্তিষ্কের দিকে আরোহণ করে। তাই এটিই হলো প্রারম্ভস্থল এবং এটিই সমাপ্তিস্থল।
আর উভয় মতেরই সঠিক দিক রয়েছে"
(২).
আমরা যদি মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব যে, মহান আল্লাহ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন:
- চিন্তা, জ্ঞান ও গবেষণার একটি শক্তি।
- এবং ইচ্ছা ও কর্মের একটি শক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بيان القوة العلمية والقوة العملية في القلبالقلب معناه: الباطن، ومنه سمي البئر قليبًّا؛ لأنه يحتوي على الماء في باطنه.
وهل القلب هو الباطن فقط أم يتعلق به الأفكار التي هي في الدماغ؟
عندما ننظر نجد أنه يقصد به مجموع الأمرين، فعندما زكى ربنا تعالى النبي صلى الله عليه وسلم زكاه بأمرين فقال: {مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى} [النجم: 2].
وعندما زكى النبي صلى الله عليه وسلم الخلفاء زكاهم بقوله: «الرَّاشدين المهديين»
(1)، فعندما تجمع بين الآية والحديث تجد أنهما متقابلين فنفي الضلال هو الرشد ونفي الغواية هو الهدى.
والرشد يكون في العقل، قال تعالى: {فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} [النساء: 6].
وهاتان القوتان (قوة العلم وقوة العمل) جمع بينهما النبي بقوله (أَصْدَقُ الْأَسْمَاءِ حَارِثٌ وَهَمَّامٌ"
(2) لأن معنى (حارث) أي: عامل، ومعنى (همام): مريد.
قال ابن القيم رحمه الله: «وينبغي أن يعرف أن هاتين القوتين لا تتعطلان في القلب، بل إن استعمل قوته العلمية في معرفة الحق وإدراكه، وإلا استعملها في معرفة ما يليق به ويناسبه من الباطل، وإن استعمل قوته الإرادية العملية في العمل به، وإلا استعملها في ضده، فالإنسان حارث هَمَّام بالطبع، كما قال النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: «أَصْدَقُ الأَسْمَاءِ: حَارِثٌ وَهَمَّامٌ"، فالحارث: الكاسب العامل، والهمام: المريد، فإن النفس متحركة بالإرادة، وحركتها الإرادية لها من لوازم ذاتها، والإرادة تستلزم مرادًا يكون متصوَّرًا لها، متميزًا عندها، فإن لم تتصور الحق وتطلبه وتريده
--------------------------------------------
অন্তরে জ্ঞানগত শক্তি এবং কর্মগত শক্তির বর্ণনাকালব বা অন্তরের অর্থ হলো: অভ্যন্তরীণ সত্তা; আর এ কারণেই কূয়াকে ‘কালীব’ বলা হয়, কারণ এটি তার অভ্যন্তরে পানি ধারণ করে।
অন্তর কি কেবল এই অভ্যন্তরীণ সত্তাই নাকি মস্তিষ্কে উৎপন্ন হওয়া চিন্তাভাবনাও এর সাথে যুক্ত?
যখন আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করি, তখন দেখতে পাই যে অন্তর দ্বারা মূলত উভয় বিষয়ের সমষ্টিকেই বোঝানো হয়েছে। যখন মহান রব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিশুদ্ধি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে তা করেছেন। তিনি বলেছেন: {তোমাদের সাথী বিভ্রান্ত হননি এবং বিপথগামীও হননি} [আন-নাজম: ২]।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর খলীফাদের প্রশংসা করেছেন, তখন তিনি তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন: «সঠিক পথপ্রাপ্ত ও সুপথপ্রাপ্ত»
(১)। সুতরাং যখন আপনি এই আয়াত এবং হাদীসকে একত্রিত করবেন, তখন দেখতে পাবেন যে তারা একে অপরের পরিপূরক। ভ্রষ্টতার অনুপস্থিতিই হলো সঠিক পথে থাকা (রুশদ), আর বিপথগামিতার অনুপস্থিতিই হলো সুপথ প্রাপ্তি (হিদায়াত)।
আর রুশদ বা সঠিক বিচারবুদ্ধি থাকে আকল বা বিবেকের মধ্যে। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমরা তাদের মধ্যে সঠিক বিচারবুদ্ধি লক্ষ্য করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করো} [আন-নিসা: ৬]।
এই দুটি শক্তিকে (জ্ঞানের শক্তি এবং কর্মের শক্তি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে একত্রিত করেছেন: “সবচেয়ে সত্য নাম হলো হারিস এবং হাম্মাম”
(২)। কারণ ‘হারিস’ শব্দের অর্থ হলো: কর্ম সম্পাদনকারী, আর ‘হাম্মাম’ শব্দের অর্থ হলো: সংকল্পকারী।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এটি জানা প্রয়োজন যে, এই দুটি শক্তি অন্তরে কখনো নিষ্ক্রিয় থাকে না। বরং সে যদি তার জ্ঞানগত শক্তিকে সত্য জানা এবং তা অনুধাবনের কাজে ব্যয় করে তবে ভালো, অন্যথায় সে এটিকে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাতিলের জ্ঞান অন্বেষণে ব্যবহার করবে। আর সে যদি তার ইচ্ছা ও কর্মগত শক্তিকে সেই সত্য অনুযায়ী কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যয় করে তবে ভালো, অন্যথায় সে এর বিপরীতে তা ব্যয় করবে। কেননা মানুষ স্বভাবগতভাবেই কর্মতৎপর ও সংকল্পকারী, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সবচেয়ে সত্য নাম হলো হারিস এবং হাম্মাম”। এখানে হারিস হলো উপার্জনকারী কর্মী, আর হাম্মাম হলো সংকল্পকারী। কেননা আত্মা ইচ্ছার মাধ্যমেই পরিচালিত হয় এবং এই ঐচ্ছিক গতিশীলতা তার সত্তাগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর ইচ্ছা এমন এক উদ্দিষ্ট লক্ষ্যকে দাবি করে যা তার কাছে কল্পিত ও সুস্পষ্ট থাকে। সুতরাং সে যদি সত্যকে উপলব্ধি না করে এবং তা অন্বেষণ ও আকাঙ্ক্ষা না করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تصورت الباطل وطلبته، وأرادته ولا بد"
(1).
وتأمل قوله تعالى: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (40) وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ (41) وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ (42)}] الحاقة: 40 - 41 - 42 [
وقوله تعالى: {هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ (221) تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ (222) يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ (223) وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ (224)}] الشعراء: 221 - 222 - 223 [.
والسؤال: لماذا جمع بين الشاعر والكاهن في السورتين؟
الجواب: جمع بينهما لأن كلًّا منهما يؤثر على العلم والإرادة، فالشاعر يؤثر على الجانب العملي في القلب، الذي هو الإرادة، فيلهب المشاعر، ويحرك القلوب، وأما الكاهن فإنه يؤثر على الجانب العلمي فيتلاعب بالحقائق العلمية.
والخلاصة: أن الإنسان فيه قوتان: قوة العلم والفكر والنظر، وقوة الإرادة والعمل، ولذلك قال أهل السنة: الإيمان قول وعمل، فيقصدون بالقول: العلم، وقول القلب هو التصديق الذي هو العلم بالله تعالى وشرعه.
والإسلام منهج كامل يحوي جانب العلم وجانب العمل، فإذا صلح القلب الذي هو الباطن فلا بد أن يصلح الظاهر، فما الذي يجعل شخصًا يمر على الأغاني فيحبها ويطرب لها، ويمر عليها آخر فيبغضها ويتضجر منها؟
إن الفرق هو ما اشتمل عليه قلب كل منهما من العلم والعمل.
ومن النصوص الدالة على وجود هاتين القوتين:
قول الله تعالى: {مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى} [النجم: 2].
وقول النبي صلى الله عليه وسلم: ««اللهم إني أستهديك لأرشد أموري وأعود بك من شر
--------------------------------------------
মিথ্যাকে কল্পনা করেছে, তা অন্বেষণ করেছে এবং অবধারিতভাবে তা কামনা করেছে।"
(১)মহান আল্লাহর এই বাণীটি নিয়ে চিন্তা করুন: {নিশ্চয় এটি একজন সম্মানিত রাসূলের বাণী (৪০), আর এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস কর (৪১), এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর (৪২)} [আল-হাক্কাহ: ৪০-৪২]
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কি তোমাদের বলব, কাদের ওপর শয়তানরা অবতীর্ণ হয়? (২২১) তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপাচারীর ওপর (২২২)। তারা কান পেতে শোনে এবং তাদের অধিকাংশ মিথ্যাবাদী (২২৩) এবং কবিদের অনুসরণ করে বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা (২২৪)} [আশ-শুআরা: ২২১-২২৪]।
প্রশ্ন: কেন এই দুই সূরায় কবি ও গণককে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: তাদের উভয়কে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তাদের প্রত্যেকেই জ্ঞান ও ইচ্ছার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কবি অন্তরের কর্মগত দিক তথা ইচ্ছাশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে সে আবেগকে প্রজ্বলিত করে এবং অন্তরকে আন্দোলিত করে। আর গণক জ্ঞানগত দিকের ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে সে তাত্ত্বিক সত্যসমূহ নিয়ে কারসাজি করে।
সারসংক্ষেপ: মানুষের মধ্যে দুটি শক্তি রয়েছে: জ্ঞান, চিন্তা ও গবেষণার শক্তি এবং ইচ্ছা ও কর্মের শক্তি। এজন্যই আহলুস সুন্নাহ বলেছেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ। তারা ‘কথা’ বলতে ‘জ্ঞান’ বুঝিয়েছেন। আর অন্তরের কথা হলো সত্যায়ন, যা মহান আল্লাহ এবং তাঁর শরিয়ত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান যা জ্ঞান ও কর্ম উভয় দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। যখন অন্তর—যা মানুষের অভ্যন্তরীণ বিষয়—সংশোধিত হয়, তখন অবধারিতভাবে তার বাহ্যিক দিকও সংশোধিত হয়। কী কারণে একজন ব্যক্তি গান শুনলে তা পছন্দ করে এবং তাতে আনন্দ পায়, আর অন্যজন তা শুনলে ঘৃণা করে এবং বিরক্ত হয়?
পার্থক্যের মূল কারণ হলো তাদের প্রত্যেকের অন্তরে বিদ্যমান জ্ঞান ও কর্মের অবস্থা।
এই দুটি শক্তির অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ কিছু পাঠ্য নিম্নরূপ:
মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি} [আন-নাজম: ২]।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "হে আল্লাহ, আমি আমার সকল কাজের সঠিক পথের জন্য আপনার কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করছি এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি অনিষ্ট হতে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
نفسي»»
(1)،
وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي، وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ»
(2).
وضع خطوطًا تحت {مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى} [النجم: 2]، وقوله صلى الله عليه وسلم: «اللهم إني أستهديك لأرشد أموري وأعود بك من شر نفسي»»
(3)، وقوله صلى الله عليه وسلم: «الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ»
(4).
ستجد إرشاداً ودليلاً على أن في الإنسان:
قوةً في العلم: فإذاً هو أُلهِم الرشد، وسَلِم من الغواية؛ استقامت عنده قوة العلم.
وقوة في العمل: فإذا هو هُدِي لطريق الحق وعرفه، وسَلِم من الضلال، فعند ذلك تسقيم عنده قوة العمل.
فإذًا قوله: {مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى} [النجم: 2]، دليل على سلامة علمه وفكره واعتقاده، وسلامة عمله وسلوكه.
ولذلك قال النبي صلى الله عليه وسلم في تزكية أصحابه: «الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ»، والرشد ضد الغواية، والهدى ضده الضلال، فلذلك كما نعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم أوتي جوامع الكلم، فكان يدعو بهذا الدعاء ««اللهم إني أستهديك لأرشد أموري وأعود بك من شر نفسي»».
لأنك إذا أُلهمت الرشد استقام وسُدِّد فكرك، وإن سلمت من شر النفس؛ فبالتالي استقام عملك وسلوكك، وبعد ذلك حصلت لك الهداية في الدنيا وفي
--------------------------------------------
আমার নফসের...»»
(১),
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা আমার সুন্নাহ এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো»
(২)।
{তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত হননি এবং বিপথগামীও হননি} [আন-নাজম: ২]-এর নিচে রেখা টেনেছেন, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: «হে আল্লাহ, আমি আমার কাজের সঠিক নির্দেশনার জন্য আপনার কাছে হেদায়াত প্রার্থনা করছি এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি»»
(৩), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «সঠিক পথপ্রাপ্ত হেদায়াতপ্রাপ্তদের»
(৪)।
আপনি এতে এমন পথনির্দেশনা ও প্রমাণ পাবেন যে, মানুষের মধ্যে রয়েছে:
জ্ঞানের শক্তি: যখন তাকে সঠিক পথের অনুপ্রেরণা (রুশদ) দেওয়া হয় এবং সে বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকে; তখন তার জ্ঞানের শক্তি সুদৃঢ় হয়।
কর্মের শক্তি: যখন সে সত্যের পথের দিশা পায় ও তা চিনতে পারে এবং পথভ্রষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকে, তখন তার কর্মের শক্তি সুদৃঢ় হয়।
সুতরাং আল্লাহর বাণী: {তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত হননি এবং বিপথগামীও হননি} [আন-নাজম: ২], এটি তাঁর জ্ঞান, চিন্তা ও বিশ্বাসের বিশুদ্ধতার এবং তাঁর কর্ম ও আচরণের সঠিকতার প্রমাণ।
এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের প্রশংসায় বলেছেন: «সঠিক পথপ্রাপ্ত হেদায়াতপ্রাপ্তগণ», আর 'রুশদ' (সঠিক পথ) হলো 'গাওয়া' (বিপথগামিতা)-এর বিপরীত, এবং 'হিদায়াত' হলো 'দালাল' (পথভ্রষ্টতা)-এর বিপরীত। এই কারণেই আমরা জানি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'জাওয়ামিউল কালিম' (অল্প কথায় ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) দান করা হয়েছিল, তাই তিনি এই দুআ করতেন: ««হে আল্লাহ, আমি আমার কাজের সঠিক নির্দেশনার জন্য আপনার কাছে হেদায়াত প্রার্থনা করছি এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি»»।
কারণ আপনাকে যখন সঠিক পথের অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে, তখন আপনার চিন্তা সুদৃঢ় ও সঠিক হবে। আর আপনি যদি নফসের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকেন; তবে ফলশ্রুতিতে আপনার কর্ম ও আচরণ সঠিক হবে, এবং এরপর আপনার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে হিদায়াত অর্জিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الآخرة؛ لأن الإنسان يُخشى عليه من أمرين: الشهوات والشبهات، فهما جيشان من الباطل الشيطان يغزوك بهما، جيش الشهوات المحرمة، وجيش الشبهات المضللة، فأنت إن نجوت من الشهوات المحرمة ومن الشبهات المضللة؛ فبالتالي تكون قد نلت الخير كله.
فلا بد أن تسقيم عند الإنسان كل من القوَّتين.
فقوة التفكير والعلم: يتم بناؤها على كلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وليس على الفلسفة والمنطق، وعلى آراء الرجال.
وقوة العمل والسلوك: ينبغي كذلك أن يكون العمل الذي يطبِّقه العبد ويعمله مبنيًا على نصوص الكتاب والسُنَّة.
فينبغي ألا تغيب هذه المسألة؛ لأنها مسألة أساسية، ما دام العبد قد اختار لنفسه طريق العلم، فعليه أن يدخل من باب السُنَّة، ويتعمق ويقرأ، ويستقرئ هذا المنهج من خلال القرآن، ومن خلال السُنَّة ومن خلال كلام السلف الصالح، وحينها سيجد ينابيع العلم.
وعلى هذا الأساس فما من مسألة من مسائل الدين إلا وهي تخاطب الإنسان في هذين الجانبين وتجد فيها هذه القسمة الثنائية، ومن الأمثلة على ذلك
مسألة الإيمان بالله فإن الإنسان لا يعد مؤمنًا بالله إلا بأمرين هما:
أن يعرف الله.
وأن يعبد الله.
وكذلك الإيمان بالقرآن لا يتم إلا بأمرين هما:
أن يصدق بأخباره.
وأن يتبع أوامره.
পরকাল; কারণ মানুষের জন্য দুটি বিষয়ে আশঙ্কা করা হয়: লালসা ও সংশয়। এ দুটি হলো বাতিলের দুটি বাহিনী যার মাধ্যমে শয়তান আপনার ওপর আক্রমণ চালায়—হারাম লালসার বাহিনী এবং বিভ্রান্তিকর সংশয়ের বাহিনী। আপনি যদি হারাম লালসা ও বিভ্রান্তিকর সংশয় থেকে মুক্তি পান, তবে ফলশ্রুতিতে আপনি সকল কল্যাণ লাভ করলেন।
সুতরাং মানুষের মাঝে এই উভয় শক্তিরই সঠিক অবস্থানে থাকা অপরিহার্য।
চিন্তা ও জ্ঞানের শক্তি: এটি মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; দর্শন, যুক্তিবিদ্যা কিংবা মানুষের মতামতের ওপর নয়।
আমল ও আচরণের শক্তি: একইভাবে বান্দা যে আমল প্রয়োগ ও পালন করবে, তা কিতাব ও সুন্নাহর নস বা ভাষ্যের ওপর ভিত্তি করে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
এই বিষয়টি যেন বিস্মৃত না হয়; কারণ এটি একটি মৌলিক বিষয়। যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা নিজের জন্য জ্ঞানের পথ বেছে নিয়েছে, ততক্ষণ তাকে সুন্নাহর দ্বার দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, এর গভীরে প্রবেশ করতে হবে এবং অধ্যয়ন করতে হবে। তাকে কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বাণীর মাধ্যমে এই পদ্ধতিটি অনুসন্ধান করতে হবে; আর তখনই সে ইলমের ঝর্ণাধারাসমূহ খুঁজে পাবে।
এই ভিত্তির ওপর ভিত্তি করে দ্বীনের এমন কোনো মাসআলা নেই যা মানুষকে এই দুই দিক থেকে সম্বোধন করে না এবং আপনি তাতে এই দ্বিমুখী বিভাজন খুঁজে পাবেন। এর কিছু উদাহরণ হলো:
আল্লাহর ওপর ঈমানের মাসআলা; কেননা একজন মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমানদার হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তার মাঝে দুটি বিষয় থাকে:
আল্লাহকে চেনা।
এবং আল্লাহর ইবাদত করা।
একইভাবে কুরআনের ওপর ঈমানও দুটি বিষয় ছাড়া পূর্ণ হয় না:
এর সংবাদসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করা।
এবং এর নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করা।