(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: -)
المسائل العقدية المتعلقة باسم الله عز وجل القسم: العقيدة
الكتاب: المسائل العقدية المتعلقة باسم الله عز وجل
المؤلف: محمد بن خليفة التميمي
الناشر: دار منار التوحيد للنشر - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1440 هـ
عدد الصفحات: 166
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 صفر 1444
মহান আল্লাহর নামের সাথে সংশ্লিষ্ট আকিদাহ বিষয়ক মাসআলাসমূহ বিভাগ: আকিদাহ
বই: মহান আল্লাহর নামের সাথে সংশ্লিষ্ট আকিদাহ বিষয়ক মাসআলাসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমী
প্রকাশক: দার মানারুত তাওহীদ প্রকাশনী - মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ সফর ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب 70 - 71].
أما بعد: فإن الله أمر المؤمنين بالإيمان في غير موضع من كتابه الكريم، فقال جلّ وعلا {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [النساء 136].
وقال سبحانه وتعالى {فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} [البقرة 186].
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। এবং আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষণকারী} [আন-নিসা ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে} [আল-আহযাব ৭০ - ৭১]।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবের একাধিক স্থানে মুমিনদেরকে ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো} [আন-নিসা ১৩৬]।
এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতএব তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে} [আল-বাকারা ১৮৬]।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى غيرها من الآيات الدالة على وجوب الإيمان بالله.
وإن من أهم ما يتضمنه الإيمان بالله تعالى -الذي هو أول أركان الإيمان وأعظمها- التعرف عليه سبحانه بأسمائه وصفاته، معرفة يتبعها العمل بآثارها على منهج أهل السنة والجماعة. وإن مما يبين
أهمية موضوع أسماء الله الحسنى أموراً كثيرة منها:
1 ـ أن العلم بالله وأسمائه وصفاته أشرف العلوم وأجلها على الإطلاق؛ لأن شرف العلم بشرف المعلوم، والمعلوم في هذا العلم هو الله سبحانه وتعالى بأسمائه وصفاته وأفعاله، فالاشتغال بفهم هذا العلم، والبحث التام عنه، اشتغال بأعلى المطالب، وحصول للعبد من أشرف المواهب، ولذلك بينه الرسول صلى الله عليه وسلم غاية البيان، ولاهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم ببيانه لم يختلف فيه الصحابة رضوان الله عليهم كما اختلفوا في الأحكام
(1).
2 ـ أن معرفة الله سبحانه وتعالى بأسمائه الحسنى، مما يزيد الإيمان، كما قال الشيخ عبد الرحمن بن سعدي
(2) رحمه الله: ((إن الإيمان
--------------------------------------------
আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়ার দলীল হিসেবে এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
মহান আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—যা ঈমানের রুকনসমূহের মাঝে প্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ—হলো তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর সুমহান সত্তার পরিচয় লাভ করা; এমন এক পরিচয় যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী সেই গুণাবলির প্রভাব অনুযায়ী আমল করার অনুগামী হবে। নিশ্চয়ই যা
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের বিষয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তা অনেক বিষয়, তার মধ্যে রয়েছে:
১- আল্লাহ্, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান হলো নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠতম ও মহানতম জ্ঞান; কারণ জ্ঞানের মর্যাদা নির্ধারিত হয় যার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে তার মর্যাদার ভিত্তিতে। আর এই জ্ঞানে যাকে জানা হচ্ছে তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা—তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলিসহ। সুতরাং এই জ্ঞান বুঝার পেছনে আত্মনিয়োগ করা এবং এ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চালানো হলো সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়া এবং বান্দার জন্য এটি শ্রেষ্ঠতম দান লাভের মাধ্যম। একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়টি বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ গুরুত্বের কারণে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এতে কোনো মতবিরোধ করেননি, যেমনটি তাঁরা আহকামের (বিধিবধানের) ক্ষেত্রে করেছিলেন
(১)।
২- মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে চেনা ঈমান বৃদ্ধি করে, যেমনটি শাইখ আব্দুর রহমান বিন সাদী
(২) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই ঈমান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৭)
بأسماء الله الحسنى ومعرفتها يتضمن أنواع التوحيد الثلاثة: توحيد الربوبية، وتوحيد الإلهية، وتوحيد الأسماء والصفات، وهذه الأنواع هي روح الإيمان ورَوْحُه، وأصله وغايته، فكلما ازداد العبد معرفة بأسماء الله وصفاته ازداد إيمانه وقوي يقينه))
(1).
3 ـ أن معرفة الله تدعو إلى محبته وخشيته، وخوفه ورجائه، وإخلاص العمل له، وهذا هو عين سعادة العبد، ولا سبيل إلى معرفة الله إلا بمعرفة أسمائه الحسنى، والتفقه في فهم معانيها.
4 ـ أن الله خلق الخلق ليعرفوه ويعبدوه، وهذا هو الغاية المطلوبة منهم؛ لأنه كما قال ابن القيم رحمه الله: ((مفتاح دعوة الرسل، وزبدة رسالتهم، معرفة المعبود بأسمائه وصفاته وأفعاله، إذ على هذه المعرفة تبنى مطالب الرسالة كلها من أولها إلى آخرها))
(2).
فالاشتغال بمعرفة الله، اشتغال بما خلق له العبد، وتركه وتضييعه إهمال لما خلق له، وليس معنى الإيمان هو التلفظ به فقط دون معرفة الله؛ لأن حقيقة الإيمان بالله أن يعرف العبد ربه الذي يؤمن به، ويبذل جهده في معرفة الله بأسمائه وصفاته، وبحسب معرفته بربه يزداد إيمانه.
5 ـ أن العلم بأسماء الله الحسنى أصل للعلم بكل معلوم، كما يقول ابن القيم رحمه الله: ((إن العمل بأسماء الله الحسنى أصل للعلم بكل معلوم؛ فإن المعلومات سواه إما أن تكون خلقاً له تعالى أو أمراً، إما علم بما كوّنه، أو علم بما شرعه، ومصدر الخلق والأمر عن أسمائه الحسنى، أصل لإحصاء كل معلوم؛ لأن المعلومات هي
--------------------------------------------
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং সেগুলোর জ্ঞান তাওহীদের তিনটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত। আর এই প্রকারগুলো হলো ঈমানের রুহ (প্রাণ) ও স্বস্তি, এর মূল এবং এর লক্ষ্য। সুতরাং বান্দা যখনই আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করে, ততই তার ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তার ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) শক্তিশালী হয়
(১)।
৩ ـ আল্লাহর পরিচয় লাভ করা তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা, ভয় ও আশা এবং তাঁর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করার দিকে আহ্বান করে। আর এটাই হলো বান্দার প্রকৃত সৌভাগ্য। আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ জানা এবং সেগুলোর অর্থ অনুধাবনের গভীর জ্ঞান অর্জন ব্যতীত আল্লাহর পরিচয় লাভ করার কোনো পথ নেই।
৪ ـ আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন যেন তারা তাঁকে চেনে এবং তাঁর ইবাদত করে, আর এটাই তাদের নিকট কাম্য লক্ষ্য। কারণ, যেমনটি ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((রাসূলগণের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং তাঁদের রিসালাতের সারকথা হলো মাবুদকে তাঁর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে চেনা; কেননা এই পরিচয়ের ওপরই রিসালাতের সমস্ত দাবি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত))
(২)।
সুতরাং আল্লাহর পরিচয়ের অন্বেষণে লিপ্ত থাকা মানে হলো এমন কাজে লিপ্ত থাকা যার জন্য বান্দাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তা ত্যাগ করা ও অপচয় করা মানে হলো যে উদ্দেশ্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা অবহেলা করা। ঈমানের অর্থ কেবল মুখে উচ্চারণ করা নয়, বরং আল্লাহর পরিচয় লাভ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ আল্লাহর প্রতি ঈমানের হাকিকত হলো, বান্দা তার সেই রবকে চিনবে যার প্রতি সে ঈমান আনছে এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁকে জানার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করবে। আর রবের প্রতি তার পরিচয় অনুযায়ীই তার ঈমান বৃদ্ধি পায়।
৫ ـ আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের জ্ঞান হলো প্রতিটি জ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞানের মূল ভিত্তি। যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের জ্ঞান হলো প্রতিটি জ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞানের মূল ভিত্তি। কেননা তিনি ব্যতীত অন্যান্য জ্ঞাত বিষয়সমূহ হয় তাঁর সৃষ্টি হবে অথবা তাঁর আদেশ হবে; হয় তিনি যা অস্তিত্ব দান করেছেন তার জ্ঞান, অথবা তিনি যা শরীয়তভুক্ত করেছেন তার জ্ঞান। আর সৃষ্টি ও আদেশের উৎস হলো তাঁর সুন্দর নামসমূহ, যা প্রতিটি জ্ঞাত বিষয়কে আয়ত্ত করার মূল ভিত্তি; কারণ জ্ঞাত বিষয়সমূহ হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৮)
من مقتضاها ومرتبطة بها.))
(1).
فينبغي للمؤمن أن يبذل مقدوره ومستطاعه في معرفة الأسماء والصفات، وتكون معرفته سالمة من داء التعطيل، ومن داء التمثيل، الذين ابتلي بهما كثير من أهل البدع المخالفة لما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، بل تكون المعرفة متلقاة من الكتاب والسنة، وما روي عن الصحابة والتابعين لهم بإحسان. فهذه هي المعرفة النافعة التي لا يزال صاحبها في زيادة في إيمانه، وقوة في يقينه، وطمأنينة في أحواله.
ومن مقتضيات هذا الإيمان الوقوف على مباحث تتعلق بلفظ الجلالة (الله)، وما خص به هذا اللفظ من خصائص لفظية
(2) ومعنوية، مع بيان معناه من حيث اللغة واشتقاقه واختلاف العلماء في ذلك. والتنبيه إلى حقيقة الخلاف الدائر بين علماء أهل السنة ومن خالفهم من أهل الأهواء والبدع في بعض مسائله، إلى غير ذلك من المباحث التي سيقف عليها القارئ في ثنايا هذا البحث الذي ضمنته المباحث الآتية:
التمهيد: وفيه استعراض مواقف الطوائف من أسماء الله الحسنى.
المبحث الأول: الخلاف في اسم ((الله)) هل هو مشتق أم جامد
وفيه أربعة مطالب:
--------------------------------------------
এর দাবি বা আবশ্যকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট।))
(১).
সুতরাং মুমিনের উচিত তার সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী জানার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা। আর তার এই জ্ঞান যেন 'তাতিল' (গুণ অস্বীকার করা) এবং 'তামসিল' (সাদৃশ্য প্রদান) নামক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকে; যে দু'টি ব্যাধিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার বিরোধিতাকারী অনেক বিদআতী লোক আক্রান্ত হয়েছে। বরং এই জ্ঞান অর্জিত হতে হবে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সাহাবী ও উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারী তাবেঈগণের নিকট থেকে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে। এটিই হলো সেই উপকারী জ্ঞান, যার অধিকারী ব্যক্তির ঈমান সর্বদা বৃদ্ধি পায়, তার ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) শক্তিশালী হয় এবং তার সর্বাবস্থায় প্রশান্তি বিরাজ করে।
এই ঈমানের অন্যতম দাবি হলো মহিমান্বিত শব্দ 'আল্লাহ' (লাফজুল জালালাহ) সংশ্লিষ্ট গবেষণামূলক বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং এই শব্দটিকে শব্দগত
(২) ও অর্থগত যে সকল বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করা হয়েছে সেগুলো জানা। সেই সাথে আভিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর অর্থ, এর বুৎপত্তি এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতপার্থক্য বর্ণনা করা। এছাড়া এর কিছু মাসআলায় আহলে সুন্নাহর আলেমগণ এবং তাঁদের বিরোধিতাকারী প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতীদের মধ্যকার বিদ্যমান মতভেদের প্রকৃত স্বরূপের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এছাড়াও আরও অনেক গবেষণামূলক বিষয় রয়েছে যা পাঠক এই গবেষণাপত্রের অভ্যন্তরে জানতে পারবেন, যা আমি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছি:
উপক্রমণিকা: এতে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ব্যাপারে বিভিন্ন দলের অবস্থানের পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'আল্লাহ' নামটি কি নিষ্পন্ন (মুশতাক) নাকি অ-নিষ্পন্ন (জামেদ)—এ বিষয়ে মতপার্থক্য।
এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الأول: تعريف الاسم لغة واصطلاحاً
المطلب الثاني: هل أسماء الله جامدة أم مشتقة.
المطلب الثالث: هل لفظ الجلالة جامد أم مشتق.
المطلب الرابع: مادة اشتقاق اسم ((الله)).
المبحث الثاني: هل هو اسم الله الأعظم.
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: المفاضلة بين أسماء الله تعالى.
المطلب الثاني: الأقوال في تحديد الاسم الأعظم.
المطلب الثالث: القائلين بأن الاسم الأعظم لفظ الجلالة (الله) وأدلتهم.
المطلب الرابع: الراجح في المسألة.
المبحث الثالث: الذكر بلفظ الجلالة مفرداً.
وفيه تمهيد ومطلبان
التمهيد: في فضل ذكر الله والمشروع فيه.
المطلب الأول: من قال بالذكر المفرد وشبهتهم.
المطلب الثاني: الرد عليهم.
المبحث الرابع: خصائص لفظ الجلالة.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: الخصائص اللفظية لاسم الله عز وجل.
المطلب الثاني: الخصائص المعنوية لاسم الله عز وجل.
الخاتمة.
وقد كان جهدي منصباً على جمع وترتيب ما تفرق من كلام أهل العلم في هذه المسائل، وهو جهد بشري يعتريه ما يعتري عمل البشر من نقص وقصور، فإن أصبت فذلك من توفيق الله وعونه، وإن حصل فيه قصور ونقص وخلل فذلك من طبيعة عمل البشر.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নামের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ কি মৌলিক নাকি ব্যুৎপন্ন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আল্লাহ’ শব্দটি কি মৌলিক নাকি ব্যুৎপন্ন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ‘আল্লাহ’ নামের ব্যুৎপত্তির মূল উপাদান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি কি আল্লাহর ইসমে আজম (মহানতম নাম)।
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও তারতম্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসমে আজম নির্ধারণে বিভিন্ন মতামত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা মনে করেন ‘আল্লাহ’ শব্দটিই ইসমে আজম এবং তাদের দলীলসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ের অধিকতর সঠিক মত।
তৃতীয় অধ্যায়: এককভাবে ‘আল্লাহ’ শব্দের যিকির।
এতে একটি ভূমিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
ভূমিকা: আল্লাহর যিকিরের ফযীলত ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা একক যিকিরের পক্ষে বলেছেন এবং তাদের সংশয়সমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের খণ্ডন।
চতুর্থ অধ্যায়: ‘আল্লাহ’ শব্দের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নামের শব্দগত বৈশিষ্ট্যসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নামের অর্থগত বৈশিষ্ট্যসমূহ।
উপসংহার।
আমার এই প্রচেষ্টা নিবদ্ধ ছিল এই সকল বিষয়ে আলেমগণের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আলোচনাগুলো সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করার ওপর। এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা যাতে মানুষের কাজের ন্যায় ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পাওয়া স্বাভাবিক। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য; আর যদি এতে কোনো সীমাবদ্ধতা, ত্রুটি ও বিচ্যুতি ঘটে থাকে তবে তা মানুষের কাজেরই স্বভাবজাত প্রকৃতি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১০)
سائلاً المولى عز وجل أن ينفع به كاتبه وقارئه، وهو سبحانه الموفق والهادي إلى سواء السبيل.
মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা এর লেখক ও পাঠককে উপকৃত করেন। তিনি পবিত্র সত্তা, তিনিই তাওফিকদাতা এবং সরল পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১১)
التمهيدفيه استعراض مواقف الطوائف من أسماء الله الحسنى:إن من فضل الله ونعمته على أهل السنة أن وفقهم للعمل بكتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فالهداية والنور والحق إنما هي في الكتاب والسنة، فالله يقول في شأن كتابه {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} [الإسراء 9]، وقال {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا} [الشورى 52]، وقال تعالى {الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ} [الرعد 1].
وقال في شأن رسوله صلى الله عليه وسلم {الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ} [الشورى 52]، وقال تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب 45، 46]، وقال تعالى {رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِ اللَّهِ مُبَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} [الطلاق 11].
فكل إنسان لا يمكنه أن يخرج من ظلمات الجهل والشرك والكفر والشك إلى نور العلم والتوحيد والإيمان واليقين إلا بالكتاب والسنة، ففيهما بحمد الله طريق الهدى وسبيل الرشاد، وضياء النفوس وشفاء الصدور، وبصائر القلوب والتذكرة لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد، ومعلوم أن كل من سلك إلى الله عز وجل علما وعملا بطريق ليست مشروعة موافقة للكتاب والسنة وما كان عليه سلف الأمة
উপক্রমণিকাএতে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের অবস্থান পর্যালোচনা করা হয়েছে:নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাতের ওপর আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ ও নেয়ামত হলো যে, তিনি তাদেরকে তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিয়েছেন। কেননা হেদায়াত, নূর এবং সত্য কেবল কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যেই নিহিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের শানে বলেন, "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা অধিকতর সুদৃঢ়।" [আল-ইসরা: ৯], এবং তিনি বলেন, "এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে এক রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে করেছি নূর, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করি।" [আশ-শূরা: ৫২], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, "আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা-ই সত্য।" [আর-রাদ: ১]।
এবং তিনি তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শানে বলেন, "আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা-ই সত্য।" [আশ-শূরা: ৫২], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, "হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।" [আল-আহযাব: ৪৫, ৪৬], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, "এমন একজন রাসূল, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন, যাতে তিনি যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন।" [আত-তালাক: ১১]।
সুতরাং কোনো মানুষের পক্ষেই কিতাব ও সুন্নাহ ব্যতিরেকে মূর্খতা, শিরক, কুফুর ও সন্দেহের অন্ধকার থেকে জ্ঞান, তাওহীদ, ঈমান ও ইয়াকীনের আলোর দিকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। কারণ আল্লাহর প্রশংসায়, এই দুইটির মধ্যেই রয়েছে হেদায়াতের পথ ও সঠিক নির্দেশনা, আত্মার জ্যোতি ও অন্তরের আরোগ্য, হৃদয়ের অন্তর্দৃষ্টি এবং তার জন্য উপদেশ যার অন্তর আছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে। আর এটি সুবিদিত যে, যে ব্যক্তি জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ শরীয়তসম্মত পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأئمتها فلا بد أن يقع في بدعة قولية أو عملية، فإن السائر إذا سار على غير الطريق المهيع فلا بد أن يسلك بنيات الطريق، بخلاف الطريق المشروعة في العلم والعمل، فإنها أقوم طريق ليس فيها عوج، فعن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه قال: ((خط رسول الله صلى الله عليه وسلم خطاً وخط خطوطاً عن يمينه وشماله ثم قال: ((هذه سبيل الله وهذه سبل على كل سبيل منها شيطان يدعو الناس إليه ثم قرأ {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153]))
(1).
ومعلوم أن الضلال والتهوك إنما استولى على كثير من المتأخرين بنبذهم كتاب الله وراء ظهورهم، وإعراضهم عما بعث الله به محمداً صلى الله عليه وسلم من البينات والهدى، وتركهم البحث عن طريقة السابقين من الصحابة والتابعين وتابعي التابعين، والتماسهم علم معرفة الله ممن لم يعرف الله
(2).
ولقد كان من نتاج ذلك البعد والإعراض الذي وقع فيه هؤلاء المبتدعة إلحادهم في أسماء الله الحسنى، بنوعيه الجلي الواضح والخفي غير المباشر معاندة ومشاقة لقوله تعالى {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف 180].
فمسألة أسماء الله مع وضوحها وجلائها في النصوص، مع ذلك لم تسلم من إلحاد المعطلة على اختلاف طوائفهم
(3)، فأحببت
--------------------------------------------
এবং এর ইমামগণ, তাই অবশ্যই মৌখিক বা কার্যগত বিদআতে লিপ্ত হতে হবে। কারণ পথচারী যদি প্রশস্ত সঠিক পথ ব্যতীত অন্য পথে চলে, তবে অবশ্যই সে উপ-পথসমূহে প্রবেশ করবে। এটি জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত পথের বিপরীত, যা সবচেয়ে সোজা পথ এবং যাতে কোনো বক্রতা নেই। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রেখা টানলেন এবং এর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন। এরপর বললেন: 'এটি আল্লাহর পথ এবং এগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান রয়েছে যে মানুষকে সেদিকে আহ্বান করে।' এরপর তিনি পাঠ করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।} [আল-আনআম: ১৫৩]"
(১).
এটি সুবিদিত যে, অনেক পরবর্তী প্রজন্মের ওপর পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি কেবল তখনই আধিপত্য বিস্তার করেছে যখন তারা আল্লাহর কিতাবকে পেছনে নিক্ষেপ করেছে এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন তা থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণের মতো পূর্বসূরীদের পথ অনুসন্ধান করা বর্জন করেছে এবং আল্লাহকে চেনে না এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে আল্লাহর পরিচয় অন্বেষণ করেছে
(২).
এই দূরত্ব ও বিমুখতার অন্যতম ফল ছিল আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে এই বিদআতিদের ইলহাদ বা বিকৃতি, যা প্রকাশ্য-সুস্পষ্ট এবং প্রচ্ছন্ন-পরোক্ষ উভয় প্রকারের ছিল। এটি ছিল মহান আল্লাহর এই বাণীর বিরুদ্ধে হঠকারিতা ও বিরোধিতা: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই তোমরা তাঁকে সেই সব নামেই ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে।} [আল-আরাফ: ১৮০]।
সুতরাং আল্লাহর নামসমূহের বিষয়টি দলীলসমূহে অত্যন্ত স্পষ্ট ও উজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মুআত্তিলাদের (গুণাবলী অস্বীকারকারী) বিকৃতি থেকে রক্ষা পায়নি
(৩), তাই আমি চেয়েছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أن أعرض في هذا التمهيد لتلك الأقوال التي صدرت عن هؤلاء، لأجل أن تعرف المقالات والمذاهب في هذا الباب وما هي عليه من الدرجات والمراتب ليعطى كل ذي حق حقه ويعرف المسلم أين يضع قدمه، وإن كان ليس المقصود في هذا التمهيد بيان خطأ هؤلاء وبيان ما في مقالاتهم من الخطأ والصواب، وموافقة أهل السنة ومخالفتهم، بل أن يعلم مقالة كل فريق على حقيقتها.
ثم إن العرض لهذه الأقوال المخالفة، ثم إتباع ذلك بعرض قول أهل السنة هو من باب إظهار حسن الشيء بذكر ضده، كما قيل ((الضد يظهر حسنه الضد)) و ((وبضدها تتميز الأشياء)). والقصد
আমি এই উপক্রমণিকায় সেই সকল বক্তব্য উপস্থাপন করতে চাই যা তাদের পক্ষ থেকে এসেছে, যেন এই অধ্যায়ের মতবাদ ও মাযহাবসমূহ এবং সেগুলোর স্তর ও পর্যায় সম্পর্কে জানা যায়, যাতে প্রত্যেক হকদারকে তার যথাযথ অধিকার প্রদান করা হয় এবং একজন মুসলিম জানতে পারে সে কোথায় পা রাখছে। যদিও এই উপক্রমণিকার উদ্দেশ্য তাদের ভুলসমূহ বর্ণনা করা এবং তাদের বক্তব্যের সঠিক ও বেঠিক দিকগুলো স্পষ্ট করা কিংবা আহলুস সুন্নাহর সাথে তাদের সংগতি ও বিরোধ তুলে ধরা নয়, বরং প্রতিটি দলের বক্তব্যকে তার প্রকৃত রূপে জানাই হলো এর লক্ষ্য।
অতঃপর এই ভিন্নমতগুলো উপস্থাপন করা এবং এর পরেই আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য তুলে ধরা হলো কোনো জিনিসের সৌন্দর্যকে তার বিপরীতটি উল্লেখ করার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি বলা হয়েছে: "বিপরীতের মাধ্যমেই তার সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়" এবং "বিপরীত বস্তুর মাধ্যমেই বিষয়সমূহ পৃথকভাবে চেনা যায়"। আর উদ্দেশ্য হলো
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
في ذلك أن يتبين للقارئ الكريم معالم معتقد أهل السنة في باب الأسماء الحسنى وما تميز واختص به من بين سائر الأقوال الأخرى، الأمر الذي يساعد على تصور فهم ما سيعرض في هذه الدراسة من مسائل ومباحث لها صلة وعلاقة بما أظهرته تلك الطوائف من مقالات فاسدة في باب أسماء الله الحسنى.
وإليك عرض تلك الأقوال المخالفة وهي أربعة أقوال ثم أتبعها بذكر القول الخامس وهو قول أهل السنة والجماعة:
القول الأول: من يقول إن الله لا يسمى بشيء.
وهذا قول الجهمية أتباع جهم بن صفوان، والغالية من الملاحدة كالقرامطة والفلاسفة.
وهؤلاء المعطلة نفاة الأسماء لهم في تعطيلهم لأسماء الله أربعة مسالك هي:
المسلك الأول: الاقتصار على نفي الإثبات فقالوا لا يسمى بإثبات.
المسلك الثاني: أنه لا يسمى بإثبات ولا نفي.
المسلك الثالث: السكوت عن الأمرين الإثبات والنفي.
المسلك الرابع: تصويب جميع الأقوال بالرغم من تناقضها.
فهم بذلك اتفقوا على إنكار الأسماء جميعاً، ولكن تنوعت مسالكهم في الإنكار.
1 ـ فأصحاب المسلك الأول: اقتصروا على قولهم: بأنه ليس له اسم كالحي والعليم ونحو ذلك. وشبهتهم في ذلك:
أ ـ أنه إذا كان له اسم من هذه الأسماء، لزم أن يكون متصفاً
এর মাধ্যমে সম্মানিত পাঠকের নিকট আসমাউল হুসনা অধ্যায়ে আহলে সুন্নাতের আকিদার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং অন্যান্য সকল মতবাদের মধ্যে এর স্বাতন্ত্র্য ও বিশেষত্ব স্পষ্ট হবে; যা এই গবেষণায় উপস্থাপিত ঐ সকল মাসআলা ও গবেষণামূলক আলোচনা বুঝতে সাহায্য করবে, যেগুলোর সাথে ঐ সকল ভ্রান্ত ফেরকাগুলোর আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কে ব্যক্ত করা বাতিল উক্তিগুলোর সম্পর্ক রয়েছে।
আপনার সম্মুখে সেই বিরোধী মতবাদসমূহ উপস্থাপন করা হলো যা সংখ্যায় চারটি, অতঃপর আমি পঞ্চম মতবাদটি উল্লেখ করব, আর তা হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অভিমত:
প্রথম মত: যারা বলে যে, আল্লাহকে কোনো নামেই নামকরণ করা যাবে না।
এটি হলো জাহম ইবনে সাফওয়ানের অনুসারী জাহমিয়া এবং নাস্তিকদের মধ্যে চরমপন্থী যেমন কারামিতা ও দার্শনিকদের বক্তব্য।
আল্লাহর নামসমূহ অস্বীকারকারী এই মুআত্তিলাদের আল্লাহর নামসমূহ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে চারটি পন্থা রয়েছে, সেগুলো হলো:
প্রথম পন্থা: কেবল ইতিবাচক বা সাব্যস্তকারী নাম অস্বীকার করা; তারা বলে, আল্লাহকে কোনো সাব্যস্তকারী নামে নামকরণ করা যাবে না।
দ্বিতীয় পন্থা: আল্লাহকে সাব্যস্তকারী বা নেতিবাচক কোনো নামেই নামকরণ করা যাবে না।
তৃতীয় পন্থা: ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় বিষয়েই নীরবতা অবলম্বন করা।
চতুর্থ পন্থা: পরস্পরবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও সকল বক্তব্যকে সঠিক বলে গণ্য করা।
সুতরাং তারা আল্লাহর সকল নাম অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত হয়েছে, তবে তাদের অস্বীকার করার পদ্ধতিগুলো ভিন্ন ভিন্ন।
১ ـ প্রথম পন্থার অনুসারীগণ: তারা কেবল এই কথাটুকুই বলে যে, আল্লাহর কোনো নাম নেই, যেমন: চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ এবং এই জাতীয় নামসমূহ। এই ক্ষেত্রে তাদের সংশয় হলো:
ক ـ যদি আল্লাহর এই নামগুলোর কোনো একটিও থাকত, তবে এর জন্য তাঁকে গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بمعنى الاسم كالحياة والعلم؛ فإن صدق المشتق -أي الاسم كالعليم- مستلزم لصدق المشتق منه -أي الصفة كالعلم-، وذلك محال عندهم.
ب ـ ولأنه إذا سمي بهذه الأسماء فهي مما يسمى به غيره. والله منزه عن مشابهة الغير
(1).
فهؤلاء المعطلة المحضة -نفاة الأسماء- يسمون من سمى الله بأسمائه الحسنى مشبهاً، فيقولون: إذا قلنا حي عليم فقد شبهناه بغيره من الأحياء العالمين؛ وكذلك إذا قلنا هو سميع بصير فقد شبهناه بالإنسان السميع البصير، وإذا قلنا رؤوف رحيم فقد شبهناه بالنبي الرؤوف الرحيم، بل قالوا إذا قلنا إنه موجود فقد شبهناه بسائر الموجودات لاشتراكهما في مسمى الموجود
(2).
وهذا المسلك ينسب لجهم بن صفوان، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((جهم كان ينكر أسماء الله تعالى فلا يسميه شيئاً لا حياً ولا غير ذلك إلا على سبيل المجاز))
(3).
وهو كذلك قول ابن سينا وأمثاله
(4).
2 ـ وأما أصحاب المسلك الثاني: فقد زادوا في الغلو فقالوا لا يسمى بإثبات ولا نفي، ولا يقال موجود ولا لا موجود، ولا حي ولا لا حي؛ لأن في الإثبات تشبيها بالموجودات وفي النفي تشيبها له بالمعدومات، وكل ذلك تشبيه
(5).
--------------------------------------------
নামের অর্থের ক্ষেত্রে যেমন জীবন ও জ্ঞান; কেননা উৎপন্ন শব্দের (অর্থাৎ আল-আলিম এর মতো নাম) সত্যতা এর মূল শব্দের (অর্থাৎ আল-ইলম এর মতো সিফাত বা বৈশিষ্ট্য) সত্যতাকে আবশ্যক করে, আর তাদের মতে তা অসম্ভব।
খ — এবং কারণ হলো যখন তাঁকে এই নামগুলোতে নামকরণ করা হয়, তখন তা এমন কিছু হয় যা দ্বারা অন্যকেও নামকরণ করা হয়। অথচ আল্লাহ অন্যের সাদৃশ্য হওয়া থেকে পবিত্র
(১)।
সুতরাং এই বিশুদ্ধ গুণাবলি অস্বীকারকারীরা —যারা নামসমূহ অস্বীকার করে— যারা আল্লাহকে তাঁর সুন্দর নামসমূহে ভূষিত করে তাদেরকে সাদৃশ্যদানকারী (মুসাব্বিহ) বলে অভিহিত করে। তারা বলে: আমরা যদি বলি তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বজ্ঞ, তবে আমরা তাঁকে অন্যান্য জীবিত ও জ্ঞানীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম; একইভাবে যদি আমরা বলি তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তবে আমরা তাঁকে শ্রবণকারী ও দর্শনকারী মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম। যদি আমরা বলি তিনি মমতাময় ও দয়ালু, তবে আমরা তাঁকে মমতাময় ও দয়ালু নবীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম। এমনকি তারা এও বলেছে যে, যদি আমরা বলি তিনি অস্তিত্ববান, তবে আমরা তাঁকে অন্য সকল অস্তিত্ববানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম, কারণ 'অস্তিত্ববান' নামকরণের ক্ষেত্রে উভয়ের অংশীদারিত্ব রয়েছে
(২)।
আর এই পথটি জাহম বিন সাফওয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ((জাহম আল্লাহ তাআলার নামসমূহ অস্বীকার করত, তাই সে তাঁকে কোনো নামেই অভিহিত করত না—না চিরঞ্জীব, না অন্য কিছু—কেবল রূপক অর্থ ব্যতিরেকে))
(৩)।
এটি ইবনে সিনা এবং তাঁর অনুসারীদেরও বক্তব্য
(৪)।
২ — আর দ্বিতীয় পথের অনুসারীদের কথা: তারা চরমপন্থায় আরও অগ্রসর হয়েছে। তারা বলেছে—তাঁকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো নামেই অভিহিত করা যাবে না। বলা যাবে না তিনি অস্তিত্ববান, আবার বলা যাবে না তিনি অস্তিত্বহীন; বলা যাবে না তিনি চিরঞ্জীব, আবার বলা যাবে না তিনি অজীবিত। কারণ ইতিবাচক সাব্যস্ত করার মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান বস্তুসমূহের সাথে সাদৃশ্য প্রদান, আর নেতিবাচক অস্বীকারের মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন বস্তুসমূহের সাথে সাদৃশ্য প্রদান। আর এ সবই হলো সাদৃশ্য প্রদান
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والمسلك الثاني: ينسب لغلاة المعطلة من القرامطة الباطنية والمتفلسفة، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((فالقرامطة الذين قالوا لا يوصف بأنه حي ولا ميت، ولا عالم ولا جاهل، ولا قادر ولا عاجز، بل قالوا لا يوصف بالإيجاب ولا بالسلب، فلا يقال حي عالم ولا يقال ليس بحي عالم، ولا يقال هو عليم قدير ولا يقال ليس بقدير عليم، ولا يقال هو متكلم مريد، ولا يقال ليس بمتكلم مريد.
قالوا لأن في الإثبات تشبيها بما تثبت له هذه الصفات، وفي النفي تشبيها له بما ينفي عنه هذه الصفات
(1).
3 ـ وأما أصحاب المسلك الثالث فيقولون: نحن لا نقول ليس بموجود ولا معدوم ولا حي ولا ميت، فلا ننفي النقيضين، بل نسكت عن هذا وهذا، فنمتنع عن كل من المتناقضين، لا نحكم لا بهذا ولا بهذا، فلا نقول: ليس بموجود ولا معدوم، ولكن نقول هو موجود ولا نقول هو معدوم.
ومن الناس من يحكي نحو هذا عن الحلاج، وحقيقة هذا القول هو الجهل البسيط والكفر البسيط، الذي مضمونه الإعراض عن الإقرار بالله ومعرفته وحبه وذكره وعبادته ودعائه
(2).
وأصحاب المسلك الثالث هم المتجاهلة اللاأدرية.
وأصحاب المسلك الثاني هم المتجاهلة الواقفة الذين يقولون لا نثبت ولا ننفي.
وأصحاب المسلك الأول هم المكذبة النفاة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পথ: এটি চরমপন্থী মুয়াত্তিলাদের অন্তর্ভুক্ত কারামিতা বাতেনি এবং দার্শনিকদের দিকে নিসবত করা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "কারামিতারা হলো তারা, যারা বলে যে, তাঁকে (আল্লাহকে) জীবন্ত বা মৃত, জ্ঞানী বা অজ্ঞ, সক্ষম বা অক্ষম—কোনো গুণেই গুণান্বিত করা যাবে না। বরং তারা বলেছে যে, তাঁকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনোভাবেই বিশেষিত করা যাবে না। সুতরাং বলা যাবে না তিনি জীবন্ত ও জ্ঞানী, আবার বলা যাবে না যে তিনি জীবন্ত ও জ্ঞানী নন। বলা যাবে না তিনি মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান, আবার বলা যাবে না যে তিনি সর্বশক্তিমান ও মহাজ্ঞানী নন। বলা যাবে না তিনি কথা বলেন ও ইচ্ছা পোষণ করেন, আবার বলা যাবে না যে তিনি কথা বলেন ও ইচ্ছা পোষণ করেন না।
তারা বলেছে, কারণ সাব্যস্তকরণের মধ্যে সেইসব জিনিসের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে যাদের জন্য এই গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়, আর অস্বীকারের মধ্যে সেইসব জিনিসের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে যাদের থেকে এই গুণাবলি অস্বীকার করা হয়
(১)।
৩ — আর তৃতীয় পথের অনুসারীরা বলে: আমরা বলি না যে তিনি 'বিদ্যমান নন কিংবা অবিদ্যমান নন' কিংবা 'জীবন্ত বা মৃত নন'। সুতরাং আমরা পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়কেই অস্বীকার করি না, বরং আমরা এটি এবং ওটি উভয় সম্পর্কেই নীরব থাকি। আমরা এই পরস্পরবিরোধী প্রতিটি বিষয় থেকে বিরত থাকি, আমরা এর কোনোটির মাধ্যমেই ফয়সালা করি না। সুতরাং আমরা বলি না যে তিনি 'বিদ্যমান নন কিংবা অবিদ্যমান নন', কিন্তু আমরা বলি তিনি বিদ্যমান এবং আমরা বলি না তিনি অবিদ্যমান।
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল-হাল্লাজ সম্পর্কে এই ধরণের কথা বর্ণনা করেন। এই মতবাদের বাস্তবতা হলো নিরেট অজ্ঞতা এবং নিরেট কুফর, যার সারকথা হলো আল্লাহর স্বীকৃতি, তাঁর পরিচিতি, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর যিকির, তাঁর ইবাদত এবং তাঁর নিকট দোয়া করা থেকে বিমুখ হওয়া
(২)।
আর তৃতীয় পথের অনুসারীরা হলো অজ্ঞাতবাদী সংশয়বাদী।
আর দ্বিতীয় পথের অনুসারীরা হলো অজ্ঞাতবাদী স্থবিরতাবাদী, যারা বলে আমরা সাব্যস্তও করি না এবং অস্বীকারও করি না।
আর প্রথম পথের অনুসারীরা হলো মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী অস্বীকারকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4 ـ وهناك مسلك رابع يقول بتصويب كل واحد من القائلين للأقوال المتناقضة، كما يقوله من يقوله من أصحاب الوحدة، كابن عربي ونحوه الذي يقول بأن كل من اعتقد في الله عقيدة فهو مصيب فيها حتى قال:
عقد الخلائق في الإله عقائدا
… وأنا أعتقد جميع ما عقدوه
فأصحاب وحدة الوجود يعطون أسماءه سبحانه لكل شيء في الوجود إذ كان وجود الأشياء عندهم هو عين وجوده ما ثمت فرق إلا بالإطلاق والتقييد
(1).
وهذا منتهى قول طوائف المعطلة
(2).
وغاية ما عندهم في الإثبات قولهم هو وجود مطلق أي وجود خيالي في الذهن، أو وجود مقيد بالأمور السلبية، وقالوا لا نقول موجود ولا معدوم، أو قالوا: هو لا موجود ولا معدوم
(3).
حكم القول بنفي الأسماء:
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((والتحقيق أن التجهم المحض وهو نفي الأسماء والصفات كما يحكى عن جهم والغالية من الملاحدة ونحوهم، من نفي الأسماء الحسنى كفر بين مخالف لما علم بالاضطرار من دين الرسول صلى الله عليه وسلم)
(4).
القول الثاني: أن الله يسمى بالخالق القادر فقط.
وهذا القول منسوب كذلك للجهم بن صفوان.
--------------------------------------------
৪ — চতুর্থ আরেকটি পথ রয়েছে যা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রদানকারীদের প্রত্যেকের বক্তব্যকেই সঠিক বলে গণ্য করে। যেমনটি ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের একত্ববাদ) পন্থীদের মধ্যে যারা বলে থাকে তারা বলে, যেমন ইবনুল আরাবি এবং তার মতো অন্যরা, যারা মনে করে যে ব্যক্তিই আল্লাহর ব্যাপারে যে কোনো আকিদা পোষণ করে সে তার মধ্যে সঠিক। এমনকি তিনি বলেছেন:
সৃষ্টিজগত ইলাহ সম্পর্কে নানাবিধ আকিদা পোষণ করেছে
… আর তারা যা কিছুই পোষণ করেছে আমি তার সবটুকুই বিশ্বাস করি
সুতরাং ওয়াহদাতুল উজুদের অনুসারীরা তাঁর (সুবহানাহু) নামসমূহ অস্তিত্বমান প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। কারণ তাদের নিকট বস্তুজগতের অস্তিত্ব মূলত তাঁরই অস্তিত্ব। তাদের নিকট ব্যাপকতা এবং সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে আর কোনো পার্থক্য নেই
(১)।
আর এটিই হলো মুয়াত্তিলা (গুণাবলি অস্বীকারকারী) দলগুলোর বক্তব্যের চূড়ান্ত পরিণতি
(২)।
গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ বক্তব্য হলো—তিনি এক নিরঙ্কুশ অস্তিত্ব, অর্থাৎ মস্তিষ্কের একটি কাল্পনিক অস্তিত্ব, অথবা এমন এক অস্তিত্ব যা নেতিবাচক বিষয়াদির দ্বারা সীমাবদ্ধ। তারা বলে, আমরা তাঁকে বিদ্যমানও বলব না আবার অবিদ্যমানও বলব না। অথবা তারা বলে: তিনি বিদ্যমানও নন আবার অবিদ্যমানও নন
(৩)।
নামসমূহ অস্বীকার করার বিধান:
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ((গবেষণালব্ধ বিষয় হলো, বিশুদ্ধ জাহমিয়্যাত—যা মূলত নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা, যেমনটি জাহম এবং নাস্তিকদের মধ্য থেকে যারা চরমপন্থী তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়—আল্লাহর সুন্দর নামসমূহকে অস্বীকার করা একটি স্পষ্ট কুফর, যা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে যা জানা যায় তার পরিপন্থী))
(৪)।
দ্বিতীয় মত: আল্লাহকে শুধুমাত্র ‘স্রষ্টা’ (আল-খালিক) ও ‘ক্ষমতাবান’ (আল-কাদির) নামে নামকরণ করা হবে।
আর এই মতটিও জাহম বিন সাফওয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((كان الجهم وأمثاله يقولون: إن الله ليس بشيء؛ وروي عنه أنه قال: لا يسمى باسم يسمى به الخلق فلم يسمه إلا بالخالق القادر، لأنه كان جبريا يرى أن العبد لا قدرة له))
(1).
وقال أيضاً: ((ولهذا نقلوا عن جهم أنه لا يسمي الله بشيء، ونقلوا عنه أنه لا يسميه باسم من الأسماء التي يسمى بها الخلق، كالحي، والعالم، والسميع، والبصير، بل يسميه قادراً خالقاً، لأن العبد عنده ليس بقادر، إذ كان هو رأس الجهمية الجبرية))
(2).
القول الثالث: إثبات الأسماء مجردة عن الصفات
وهذا قول المعتزلة فهم يجمعون على تسمية الله بالاسم ونفي الصفة عنه، يقول ابن المرتضى المعتزلي: ((فقد أجمعت المعتزلة على أن للعالم محدثاً قديماً قادراً عالماً حياً لا لمعان))
(3).
ولهم في ذلك النفي مسلكان:
المسلك الأول: من جعل الأسماء كالأعلام المحضة المترادفة
(4)--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: ((জাহম ও তার সমমনারা বলতেন: আল্লাহ কোনো বস্তু নন; এবং তার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: আল্লাহকে এমন কোনো নামে অভিহিত করা যাবে না যা দ্বারা সৃষ্টিকে অভিহিত করা হয়, তাই তিনি তাঁকে কেবল স্রষ্টা ও ক্ষমতাশালী ব্যতীত অন্য কোনো নামে ডাকতেন না, কারণ তিনি ছিলেন জবরিয়া এবং মনে করতেন যে বান্দার কোনো ক্ষমতা নেই))
(১).
তিনি আরও বলেন: ((এই কারণেই তারা জাহম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি আল্লাহকে কোনো বস্তু বলতেন না, এবং তারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি আল্লাহকে এমন কোনো নামে অভিহিত করতেন না যা দ্বারা সৃষ্টিকে অভিহিত করা হয়, যেমন চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা; বরং তিনি তাঁকে ক্ষমতাশালী ও স্রষ্টা বলতেন, কারণ তার নিকট বান্দা ক্ষমতাশালী নয়, যেহেতু তিনি ছিলেন জবরিয়া জাহমিয়াদের প্রধান))
(২).
তৃতীয় মত: গুণাবলি ব্যতীত কেবল নামসমূহ সাব্যস্ত করা
এটি মুতাজিলাদের মত, তারা আল্লাহর জন্য নাম সাব্যস্ত করা এবং তাঁর থেকে গুণাবলি অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত। মুতাজিলা ইবনুল মুরতাদা বলেন: ((মুতাজিলারা একমত হয়েছে যে এই জগতের একজন অনাদি সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি ক্ষমতাশালী, সর্বজ্ঞ ও চিরঞ্জীব; তবে তা কোনো গুণের (অর্থের) কারণে নয়))
(৩).
এই অস্বীকারের ক্ষেত্রে তাদের দুটি পথ রয়েছে:
প্রথম পথ: যারা নামগুলোকে নিছক সমার্থক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করেন
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التي لم توضع لمسماها باعتبار معنى قائم به. فهم بذلك ينظرون إلى هذه الأسماء على أنها أعلام خالصة لا تدل على صفة والمحضة الخالصة الخالية من الدلالة على شيء آخر، فهم يقولون إن العليم والخبير والسميع ونحو ذلك أعلام لله ليس دالة على أوصاف، وهي بالنسبة إلى دلالتها على ذات واحدة هي: مترادفة، وذلك مثل تسميتك ذاتا واحدة بزيد وعمرو ومحمد وعلي، فهذه الأسماء مترادفة وهي أعلام خالصة لا تدل على صفة لهذه الذات المسماة بها
(1).
المسلك الثاني: من يقول منهم إن كل علم منها مستقل، فالله يسمى عليما وقديراً، وليست هذه الأسماء مترادفة، ولكن ليس معنى ذلك أن هناك حياة أو قدرة.
ولذلك يقولون عليم بلا علم، قدير بلا قدرة، سميع بلا سمع، بصير بلا بصر.
وقول المعتزلة وإن كان دون قول الجهمية، لكنه عظيم أيضاً
(2).
قال أبو الحسن الأشعري: ((وزعمت الجهمية -يعني المعتزلة- أن الله عز وجل لا علم له ولا قدرة ولا حياة ولا سمع ولا بصر له، وأرادوا أن ينفوا أن الله عالم قادر حي سميع بصير، فمنعهم خوف السيف من إظهارهم نفي ذلك، فأتوا بمعناه، لأنهم إذا قالوا: لا علم لله ولا قدرة له، فقد قالوا: إنه ليس بعالم ولا قادر، ووجب ذلك عليهم؛ وهذا إنما أخذوه عن أهل الزندقة
--------------------------------------------
যা তার নামীয় সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো গুণের ভিত্তিতে রাখা হয়নি। এর মাধ্যমে তারা এই নামগুলোকে এমন নিছক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করে যা কোনো গুণ নির্দেশ করে না। এগুলো এমন বিশুদ্ধ ও নিরঙ্কুশ নাম যা অন্য কোনো অর্থের দিকে ইঙ্গিত করা থেকে মুক্ত। তারা বলে যে, আল-আলিম (মহাজ্ঞানী), আল-খাবির (সর্বজ্ঞ), আস-সামি (সর্বশ্রোতা) এবং এই জাতীয় নামগুলো আল্লাহর জন্য নিছক বিশেষ্য মাত্র, যা কোনো গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে না। একই সত্তাকে নির্দেশ করার দিক থেকে এগুলো সমার্থক; যেমন আপনি একই ব্যক্তিকে জায়েদ, আমর, মুহাম্মদ ও আলী নামে ডাকেন। সুতরাং এই নামগুলো সমার্থক এবং এগুলো নিছক বিশেষ্য যা এই সত্তার কোনো গুণ প্রকাশ করে না
(১)।
দ্বিতীয় পন্থা: তাদের মধ্যে যারা বলে যে প্রতিটি নামই স্বতন্ত্র। তাই আল্লাহকে আলিম (মহাজ্ঞানী) ও কাদির (মহাক্ষমতাধর) বলা হয় এবং এই নামগুলো সমার্থক নয়; কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সেখানে জীবন বা ক্ষমতা বিদ্যমান রয়েছে।
এ কারণেই তারা বলে: তিনি জ্ঞান ছাড়াই মহাজ্ঞানী, ক্ষমতা ছাড়াই মহাক্ষমতাধর, শ্রবণশক্তি ছাড়াই সর্বশ্রোতা এবং দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই সর্বদ্রষ্টা।
আর মুতাযিলাদের বক্তব্য যদিও জাহমিয়াদের বক্তব্যের চেয়ে কিছুটা কম স্থূল, তবে এটিও অত্যন্ত গুরুতর
(২)।
আবুল হাসান আল-আশআরী বলেছেন: "জাহমিয়ারা—অর্থাৎ মুতাযিলারা—দাবি করেছে যে, মহান আল্লাহর কোনো জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি নেই। তারা মূলত আল্লাহ যে মহাজ্ঞানী, মহাক্ষমতাধর, চিরঞ্জীব, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা—তা অস্বীকার করতে চেয়েছিল। কিন্তু তরবারির ভয় তাদের এই অস্বীকৃতি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে বাধা দিয়েছে। তাই তারা এর মূল অর্থটি ভিন্নভাবে পেশ করেছে। কারণ তারা যখন বলে আল্লাহর কোনো জ্ঞান ও ক্ষমতা নেই, তখন প্রকারান্তরে তারা একথাই বলে যে তিনি মহাজ্ঞানী বা মহাক্ষমতাধর নন, এবং এটাই তাদের বক্তব্যের অপরিহার্য ফলাফল; মূলত তারা এটি যিন্দিকদের থেকে গ্রহণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২০)
والتعطيل، لأن الزنادقة قال كثير منهم: إن الله ليس بعالم ولا قادر ولا حي ولا سميع ولا بصير، فلم تقدر المعتزلة أن تفصح بذلك، فأتت بمعناه، وقالت: إن الله عالم قادر حي سميع بصير من طريق التسمية من غير أن يثبتوا له حقيقة العلم والقدرة والسمع والبصر))
(1).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((إن المعتزلة لما رأوا الجهمية قد نفوا أسماء الله الحسنى، استعظموا ذلك لما فيه من تكذيب القرآن تكذيباً ظاهر الخروج عن العقل، فأقروا بالأسماء ونفوا الصفات، فصاروا هم كذلك متناقضين، فإن إثبات حي عليم قدير حكيم سميع بصير، بلا حياة ولا علم ولا قدرة، ولا حكمة ولا سمع، ولا بصر، مكابرة للعقل كإثبات مصلٍّ بلا صلاة وصائم بلا صيام، وقائم بلا قيام، ونحو ذلك من الأسماء المشتقة كأسماء الفاعلين والصفات المعدولة عنها))
(2).
وقد ضم المعتزلة إلى بدعتهم هذه بدعاً أخرى منها:
1 ـ قولهم بأن أسماء الله مخلوقة.
2 ـ قول بعضهم بأن أسماء الله ليست توقيفية.
أما قولهم بأن أسماء الله مخلوقة فلأنهم يقولون: الاسم غير المسمّى، وأسماء الله غيره، وماكان غيره فهو مخلوق، ويقولون إن كلام الله مخلوق، وأسماؤه مخلوقة، وهو نفسه لم يتكلم بكلام يقوم بذاته ولا سمّى نفسه باسم هو المتكلم به، بل قد يقولون إنه
--------------------------------------------
এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা, কারণ অনেক যিন্দিক বলেছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ নন, সক্ষম নন, চিরঞ্জীব নন, সর্বশ্রোতা নন এবং সর্বদ্রষ্টা নন। মুতাজিলারা বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম না হওয়ায় তারা এর সমার্থবোধক কথা নিয়ে এসেছে এবং বলেছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সক্ষম, চিরঞ্জীব, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা কেবল নামকরণের দিক থেকে; অথচ তারা আল্লাহর জন্য জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ ও দর্শনের প্রকৃত বাস্তবতা সাব্যস্ত করেনি।
(১)শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মুতাজিলারা যখন দেখল যে জাহমিয়ারা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ অস্বীকার করেছে, তখন তারা বিষয়টিকে গুরুতর মনে করল। কারণ এতে কুরআনকে এমনভাবে অস্বীকার করা হয় যা বিবেকবুদ্ধির পরিপন্থী হওয়া স্পষ্ট। তাই তারা নামসমূহকে স্বীকার করল এবং গুণাবলিকে অস্বীকার করল। ফলে তারাও একইভাবে স্ববিরোধী হয়ে পড়ল। কেননা জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা, শ্রবণ ও দর্শন ব্যতিরেকেই কাউকে চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা সাব্যস্ত করা বিবেকবুদ্ধির সাথে জেদ করার শামিল; যেমন—সালাত ছাড়াই কাউকে সালাত আদায়কারী, রোজা ছাড়াই রোজাদার এবং দণ্ডায়মান হওয়া ছাড়াই দণ্ডায়মান ব্যক্তি সাব্যস্ত করা। অনুরুপভাবে কর্তৃবাচক বিশেষ্য ও এ থেকে উদ্ভূত বিশেষণগুলোও একই পর্যায়ভুক্ত।))
(২)মুতাজিলারা তাদের এই বিদআতের সাথে আরও কিছু বিদআত যুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১- তাদের কথা যে, আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি।
২- তাদের কারও কারও কথা যে, আল্লাহর নামসমূহ তাওকিফি (শরীয়ত নির্ধারিত) নয়।
আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি—তাদের এই বক্তব্যের কারণ হলো তারা বলে: নাম হলো নামধারী থেকে ভিন্ন, আর আল্লাহর নামসমূহ তাঁর থেকে ভিন্ন। আর যা তাঁর থেকে ভিন্ন তা-ই সৃষ্টি। তারা বলে যে আল্লাহর কালাম (কথা) সৃষ্টি এবং তাঁর নামসমূহও সৃষ্টি। তিনি নিজে এমন কোনো কথা বলেননি যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান ছিল এবং তিনি নিজেকে এমন কোনো নামে অভিহিত করেননি যার প্রবক্তা তিনি নিজে। বরং তারা এমনকি এটাও বলে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২১)
تكلم به، وسمى نفسه بهذه الأسماء بمعنى أنه خلقها في غيره، لا بمعنى أنه نفسه تكلم بها كلام القائم به. فالقول في أسمائه هو نوع من القول في كلامه.
وقد ذم السلف المعتزلة بقولهم هذا وغلَّظوا فيهم القول؛ لأن أسماء الله من كلامه وكلام الله غير مخلوق، بل هو المتكلم به، وهو المسمِّي لنفسه بما فيه من الأسماء.
ولهذا يروى عن الشافعي والأصمعي وغيرهما أنه قال: ((إذا سمعت الرجل يقول: الاسم غير المسمى فاشهد عليه بالزندقة))
(1).
وقال الإمام أحمد: ((من قال أسماء الله تعالى مخلوقة فقد كفر))
(2).
وأما بدعتهم الثالثة في أسماء الله فهي قولهم بأن أسماء الله غير توقيفية.
فقد نقل البغدادي عن المعتزلة البصرية أنهم أجازوا إطلاق الأسماء على الله بالقياس
(3).
وقال أبو الحسن الأشعري: ((واختلفت المعتزلة هل يجوز أن يسمي الباريء عالما من استدل على أنه عالم بظهور أفعاله عليه وإن لم يأته السمع من قبل الله سبحانه بأن يسميه بهذا الاسم أم لا على مقالتين:
فزعمت الفرقة الأولى منهم أنه جائز أن يسمي الله سبحانه
--------------------------------------------
(মু'তাযিলাদের মতে) তিনি এগুলো দ্বারা কথা বলেছেন এবং নিজের এই নামগুলো রেখেছেন—এর অর্থ হলো তিনি এগুলো অন্য কারো মধ্যে সৃষ্টি করেছেন; এর অর্থ এই নয় যে, তিনি নিজে এগুলো দ্বারা এমনভাবে কথা বলেছেন যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান। সুতরাং তাঁর নামসমূহ সম্পর্কে বক্তব্য হলো তাঁর কালাম (বক্তব্য) সম্পর্কে বক্তব্যেরই একটি ধরন।
সালাফগণ মু'তাযিলাদের এই বক্তব্যের কারণে তাদের নিন্দা করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন; কারণ আল্লাহর নামসমূহ তাঁর কালামের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়। বরং তিনিই তা বলেছেন এবং তিনিই এসকল নামের মাধ্যমে নিজের নামকরণ করেছেন।
এই কারণেই শাফি'ঈ, আসমা'ঈ এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা বলেছেন: ((যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনবে যে, 'নাম এবং নামধারী (মুসাম্মা) ভিন্ন', তখন তার যিনদীক হওয়ার সাক্ষ্য দাও))
(১)।
ইমাম আহমাদ বলেছেন: ((যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ সৃষ্টি, সে কুফরী করল))
(২)।
আর আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে তাদের তৃতীয় বিদ'আত হলো তাদের এই দাবি যে, আল্লাহর নামসমূহ তাওকীফী (শরীয়ত নির্ধারিত) নয়।
বাগদাদী বসরার মু'তাযিলাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা কিয়াসের ভিত্তিতে আল্লাহর ওপর নাম প্রয়োগ করাকে বৈধ মনে করত
(৩)।
আবুল হাসান আল-আশ'আরী বলেন: ((মু'তাযিলারা এই বিষয়ে মতভেদ করেছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা না আসা সত্ত্বেও কি তাঁর কার্যাবলীর বহিঃপ্রকাশ দেখে অনুমানের ভিত্তিতে স্রষ্টাকে 'আলিম' (জ্ঞানী) বলে অভিহিত করা জায়েয কি না—এই প্রশ্নে তারা দুই মতে বিভক্ত হয়েছে:
তাদের মধ্যে প্রথম দলটি ধারণা করেছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে নাম প্রদান করা জায়েয...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২২)
عالما قادرا حيا سميعا بصيرا من استدل على معنى ذلك أنه يليق بالله وإن لم يأت به رسول.
وزعمت الفرقة الثانية أنه لا يجوز أن يسمي الله سبحانه بهذه الأسماء من دله العقل على معناها إلا أن يأتيه بذلك رسول من قبل الله سبحانه يأمره بتسميته بهذه الأسماء))
(1).
- موافقة ابن حزم للمعتزلة في مسألة نفي معاني الأسماء:
هذا القول بإثبات الأسماء ونفي الصفات قال به أيضاً بعض متكلمة الظاهرية
(2) كابن حزم الذي قال: ((إن أسماءه الحسنى كالحي والعليم والقدير بمنزلة أسماء الأعلام التي لا تدل على حياة ولا علم ولا قدرة، وقال: لا فرق بين الحي وبين العليم وبين القدير في المعنى أصلا))
(3).
وهذا القول لابن حزم وأمثاله من الظاهرية في باب الصفات هو بعينه مسلك المعتزلة في الصفات كما سبق وأن بيناه. ومثل هذه المقالات إنما هي في الحقيقة سفسطة في العقليات وقرمطة في السمعيات.
القول الرابع: إثبات الأسماء الحسنى مع إثبات معاني بعضها وتحريف معاني البعض الآخر، وهذا قول الكلابية والأشاعرة والماتريدية ومن وافقهم.
--------------------------------------------
সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। যে ব্যক্তি এসকল অর্থের তাৎপর্য আল্লাহ তাআলার জন্য উপযুক্ত বলে দলিল পেশ করে, যদিও কোনো রাসুল তা নিয়ে আসেননি।
দ্বিতীয় দলটি দাবি করেছে যে, যে ব্যক্তির বুদ্ধি আল্লাহর জন্য এই নামগুলোর অর্থের দিকে নির্দেশনা দেয়, তার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এই নামগুলোতে নামকরণ করা জায়েয হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রাসুল তাঁর কাছে আগমন করেন এবং তাঁকে এই নামগুলোতে ডাকার নির্দেশ প্রদান করেন))
(১)।
- নামের অর্থ অস্বীকার করার মাসআলায় মুতাজিলাদের সাথে ইবনে হাজমের ঐকমত্য:
নামসমূহ সাব্যস্ত করা এবং গুণাবলি অস্বীকার করার এই মতটি জাহিরি মতবাদের কিছু কালামশাস্ত্রবিদও পোষণ করেছেন
(২) যেমন ইবনে হাজম। তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তাঁর সুন্দর নামসমূহ যেমন চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান হলো ব্যক্তিনাম বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের সমপর্যায়ের, যা জীবন, জ্ঞান বা ক্ষমতার প্রমাণ দেয় না। তিনি আরও বলেছেন: চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান নামগুলোর অর্থের মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নেই))
(৩)।
গুণাবলির ক্ষেত্রে ইবনে হাজম এবং তাঁর মতো জাহিরি অনুসারীদের এই বক্তব্যটি হুবহু মুতাজিলাদের গুণাবলি বিষয়ক মাযহাব বা পথের অনুরূপ, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। এ ধরনের বক্তব্য মূলত যুক্তির বিচারে কুযুক্তি এবং শ্রুতিগত প্রমাণের ক্ষেত্রে এক প্রকারের বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
চতুর্থ মত: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সাব্যস্ত করার সাথে সাথে সেগুলোর কোনো কোনোটির অর্থ সাব্যস্ত করা এবং অন্যগুলোর অর্থ বিকৃত করা। এটি হলো কুল্লাবিয়্যাহ, আশআরিয়্যাহ, মাতুরিদিয়্যাহ এবং তাদের অনুসারীদের মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ورأيهم في هذه المسألة مبني على قولهم في صفات الله تعالى.
فالكلابية وقدماء الأشاعرة ينفون الصفات الاختيارية وبالتالي لا يثبتون معاني الأسماء التي اشتقت من الصفات الاختيارية على الوجه الصحيح.
وأما المتأخرون من الأشاعرة ومعهم الماتريدية، فإنهم لا يثبتون من الصفات سوى سبع صفات وهي: (العلم، والقدرة، والحياة، والسمع، والبصر، والإرادة والكلام) ويزيد بعض الماتريدية صفة ثامنة هي (التكوين)
(1).
فالاسم عندهم إن دل على ما أثبتوه من الصفات، أثبتوا ما دل عليه من المعنى، وإن كان دالاً على خلاف ما أثبتوه صرفوه عن حقيقته وحرفوا معناه.
ومعلوم أنه لم يرد في باب الأسماء من تلك الصفات التي ذكروها إلا خمسة فقط وهي: (العليم) و (القدير) و (الحي) و (السميع) و (البصير)؛ فهذه الخمسة يثبتون معناها وإن كان هناك من يرجع صفتي (السمع) و (البصر) إلى (العلم) ولكن جمهورهم على خلاف ذلك
(2).
--------------------------------------------
এই বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মহান আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে তাদের মতবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
কুল্লাবিয়া ও প্রাচীন আশআরিরা আল্লাহর ঐচ্ছিক গুণাবলি (সিফাত ইখতিয়ারিয়া) অস্বীকার করেন। ফলস্বরূপ, তারা ঐচ্ছিক গুণাবলি থেকে উদ্ভূত নামগুলোর অর্থকে সঠিক পদ্ধতিতে সাব্যস্ত করেন না।
আর পরবর্তী যুগের আশআরি এবং তাদের সাথে মাতুরিদিগণ মাত্র সাতটি গুণ ব্যতীত অন্য কিছু সাব্যস্ত করেন না। সেগুলো হলো: (ইলম বা জ্ঞান, কুদরত বা ক্ষমতা, হায়াত বা জীবন, সামা বা শ্রবণ, বাসার বা দর্শন, ইরাদাহ বা ইচ্ছা এবং কালাম বা কথা)। কোনো কোনো মাতুরিদি অষ্টম একটি গুণ বৃদ্ধি করেছেন, যা হলো (তাকউইন বা সৃষ্টি করা)
(১)।
তাদের নিকট আল্লাহর নাম যদি তাদের সাব্যস্ত করা গুণাবলির কোনোটির অর্থ প্রদান করে, তবে তারা সেই অর্থ সাব্যস্ত করেন। আর যদি তা তাদের সাব্যস্ত করা বিষয়ের বিপরীত কিছু নির্দেশ করে, তবে তারা সেটিকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করেন এবং এর অর্থ বিকৃত করেন।
এটি সুবিদিত যে, আসমা বা নামসমূহের অধ্যায়ে তাদের উল্লিখিত গুণাবলি থেকে মাত্র পাঁচটি নামের উল্লেখ এসেছে, সেগুলো হলো: (আল-আলিম বা সর্বজ্ঞ), (আল-কাদির বা সর্বশক্তিমান), (আল-হায় বা চিরঞ্জীব), (আস-সামি বা সর্বশ্রোতা) এবং (আল-বাসির বা সর্বদ্রষ্টা)। তারা এই পাঁচটি নামের অর্থ সাব্যস্ত করেন, যদিও কেউ কেউ 'শ্রবণ' ও 'দর্শন' গুণ দুটিকে 'জ্ঞান' এর অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে তাদের অধিকাংশ আলেম (জমহুর) এর ভিন্ন মত পোষণ করেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما بقية الأسماء التي لا تتفق مع ما أثبتوه من الصفات، فإنهم لا يثبتون ما دلت عليه من المعاني، بل يحرفونها كتحريفهم لمعنى (الرحمة) في اسمه (الرحمن) إلى (إرادة الثواب، أو إرادة الإنعام)، و (الود) في (الودود) بـ (إرادة إيصال الخير)
(1).
ومن المخالفات التي وقع فيها بعض هؤلاء بالإضافة إلى ما تقدم:
1 ـ قولهم بأن في الأسماء اسما غير مشتق.
2 ـ قول بعضهم بأن أسماء الله ليست توقيفية.
3 ـ مسألة الاسم والمسمى:
وأما بالنسبة لما يتعلق بالمسألة الأولى، فإن بعض الأشاعرة يقسمون الأسماء إلى قسمين:
القسم الأول: أسماء مشتقة.
القسم الثاني: أسماء غير مشتقة.
قال البغدادي: ((جملة أسمائه قسمان مشتق وغير مشتق))
(2).
فيجعلون اسم الله غير مشتق أي لا يدل على معنى، فيعاملونه معاملة الأسماء الجامدة، وهذا مخالف لمذهب أهل السنة الذين يعتقدون بأن أسماء الله جميعها متضمنة لمعان وليس فيها اسم جامد لا يدل على معنى.
وأما المسألة الثانية وهي كون أسماء الله توقيفية.
فإن الماتريدية وجمهور الأشاعرة يوافقون أهل السنة في هذه
--------------------------------------------
আর অবশিষ্ট নামসমূহ যা তাদের সাব্যস্তকৃত গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলোর মাধ্যমে নির্দেশিত অর্থসমূহকে তারা সাব্যস্ত করে না; বরং তারা সেগুলোকে বিকৃত করে, যেমন তারা তাঁর 'আর-রাহমান' নামের 'রহমত' (দয়া) গুণের অর্থ পরিবর্তন করে 'সওয়াব বা পুরস্কার প্রদানের ইচ্ছা' অথবা 'নেয়ামত প্রদানের ইচ্ছা' বলে এবং 'আল-ওয়াদুদ' নামের 'উদ্দ' (ভালবাসা) গুণের অর্থকে 'কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা' হিসেবে বিকৃত করে।
(১)পূর্বোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও তাদের কারো কারো মাঝে যে সকল বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায় তার অন্তর্ভুক্ত হলো:
১ ـ তাদের এই দাবি যে, নামসমূহের মধ্যে এমন নাম রয়েছে যা ব্যুৎপন্ন নয়।
২ ـ তাদের কারো কারো এই অভিমত যে, আল্লাহর নামসমূহ 'তাওকিফিয়্যাহ' (শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত) নয়।
৩ ـ নাম এবং নামী সংক্রান্ত মাসআলা:
প্রথম মাসআলার বিষয়ে বলা যায় যে, আশআরীদের কেউ কেউ নামসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন:
প্রথম প্রকার: ব্যুৎপন্ন নামসমূহ।
দ্বিতীয় প্রকার: অব্যুৎপন্ন নামসমূহ।
বাগদাদী বলেন: ((তাঁর সকল নাম দুই প্রকার: ব্যুৎপন্ন ও অব্যুৎপন্ন))
(২)।
তারা আল্লাহর নামকে অব্যুৎপন্ন গণ্য করেন অর্থাৎ এটি কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, ফলে তারা এর সাথে জড় বা অর্থহীন নামসমূহের মতো আচরণ করেন। এটি আহলে সুন্নাতের মাযহাবের পরিপন্থী, যারা বিশ্বাস করেন যে আল্লাহর সকল নামই নির্দিষ্ট অর্থের ধারক এবং এমন কোনো জড় নাম নেই যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
আর দ্বিতীয় মাসআলাটি হলো আল্লাহর নামসমূহ 'তাওকিফিয়্যাহ' বা শরীয়ত নির্ধারিত হওয়া প্রসঙ্গে।
নিশ্চয়ই মাতুরিদী এবং জমহুর আশআরীগণ এই বিষয়ে আহলে সুন্নাতের সাথে একমত পোষণ করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المسألة، ولكن القاضي الباقلاني من الأشاعرة لا يشترط أن يكون توقيف من الكتاب والسنة في أسماء الله واشترط أمرين:
1 ـ أن يدل على معنى ثابت لله تعالى.
2 ـ أن لا يكون إطلاقه موهما لما لا يليق بالله تعالى
(1).
وتوقف الجويني في هذه المسألة
(2).
وأما المسألة الثالثة وهي مسألة الاسم والمسمى.
فإن قول الأشاعرة والماتريدية فيها واحد، فهم يقولون: ((الاسم عين المسمى))
(3).
وحقيقة هذه العبارة عندهم أن المسمى أي الله غير مخلوق وأما التسميات فهي مخلوقة.
فهم وافقوا الجهمية والمعتزلة في المعنى، وإن أظهروا أنهم موافقون لأهل السنة في اللفظ بقولهم: ((إن أسماء الله غير مخلوقة)).
ومرادهم بذلك أن الله غير مخلوق. وهذا مما لا تنازع فيه الجهمية والمعتزلة
(4).
القول الخامس: إثبات الأسماء الحسنى مع إثبات معانيها جميعاً وإثبات ما يتعلق بها من الأحكام والمقتضيات.
وهذا قول أهل السنة والجماعة واعتقادهم يمكن إجماله في النقاط التالية:
--------------------------------------------
মাসআলাটি, তবে আশআরিদের মধ্য থেকে কাযী বাকিল্লানি আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর তাওকিফ (দালিলিক নির্দেশ) হওয়াকে শর্ত করেননি, বরং তিনি দুটি বিষয় শর্ত করেছেন:
১ ـ তা আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করবে।
২ ـ এর প্রয়োগ যেন আল্লাহ তাআলার শানের অযোগ্য কোনো বিষয়ের ভ্রম সৃষ্টি না করে
(১)।
আর আল-জুওয়াইনি এই মাসআলায় কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিরত থেকেছেন
(২)।
আর তৃতীয় মাসআলাটি হলো নাম (ইসিম) এবং নামধারী (মুসাম্মা) সংক্রান্ত মাসআলা।
এ বিষয়ে আশআরি ও মাতুরিদিদের বক্তব্য অভিন্ন; তারা বলেন: ((নামই হলো নামধারী সত্তা))
(৩)।
তাদের নিকট এই বক্তব্যের প্রকৃত তাৎপর্য হলো, নামধারী অর্থাৎ আল্লাহ সৃষ্টি নন, তবে নামসমূহ সৃষ্টি।
ফলে তারা প্রকৃত অর্থে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের সাথে একমত হয়েছেন, যদিও তারা "আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি নয়" একথার মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে আহলুস সুন্নাহর সাথে শব্দের মিল প্রকাশ করেছেন।
এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সৃষ্টি নন। আর এটি এমন এক বিষয় যাতে জাহমিয়া ও মুতাজিলারাও কোনো বিবাদ করে না
(৪)।
পঞ্চম মত: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহকে (আসমাউল হুসনা) সেগুলোর সকল অর্থ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট হুকুম ও অপরিহার্য বিষয়সমূহ সাব্যস্ত করাসহ মেনে নেওয়া।
আর এটিই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত এবং তাদের আকিদাকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে বর্ণনা করা সম্ভব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
1 ـ الإيمان بثبوت الأسماء الحسنى الواردة في القرآن والسنة من غير زيادة ولا نقصان.
2 ـ الإيمان بأن الله هو الذي يسمي نفسه، ولا يسميه أحد من خلقه، فالله عز وجل هو الذي تكلم بهذه الأسماء، وأسماؤه منه، وليست محدثة مخلوقة كما يزعم الجهمية والمعتزلة والكلابية والأشاعرة والماتريدية.
3 ـ الإيمان بأن هذه الأسماء دالة على معان في غاية الكمال فهي أعلام وأوصاف، وليست كالأعلام الجامدة التي لم توضع باعتبار معناها، كما يزعم المعتزلة.
4 ـ احترام معاني تلك الأسماء وحفظ ما لها من حرمة في هذا الجانب وعدم التعرض لتلك المعاني بالتحريف والتعطيل كما هو شأن أهل الكلام.
5 ـ الإيمان بما تقتضيه تلك الأسماء من الآثار وما ترتب عليها من الأحكام.
وبالجملة فإن أهل السنة يؤمنون بأسماء الله إيمانا صحيحاً وفق ما أمرت به نصوص القرآن والسنة ووفق ما كان عليه فهم سلف الأمة، بخلاف أهل الباطل الذين أنكروا ذلك وعطلوه، فألحدوا في أسماء الله إلحاداً كلياً أو جزئياً، كما سبق وأن بيناه خلال عرض الأقوال الأربعة السابقة. وهذا التمهيد ضروري لطالب العلم، حتى يقف على الحقيقة ويعرف الباطل معرفة تفصيلية، وحتى لا يشتبه عليه الحق والباطل. فإن الاشتقاق مثلا في لفظ الجلالة (الله) والخلاف الموجود فيه بين أهل السنة وطوائف أهل الباطل مرجعه إلى ما ذكرت، فهو خلاف عقدي وإن كان أهل الأهواء جعلوا
১. কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ কোনো প্রকার সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়াই সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ঈমান আনা।
২. এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ নিজেই নিজের নামকরণ করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর নামকরণ করেনি। মহান আল্লাহ নিজেই এই নামগুলো উচ্চারণ করেছেন এবং তাঁর নামসমূহ তাঁর থেকেই উৎসারিত; এগুলো নতুনভাবে সৃষ্ট কিছু নয়, যেমনটি জাহমিয়া, মুতাজিলা, কুল্লাবিয়া, আশআরিয়া এবং মাতুরিদিয়াহরা দাবি করে থাকে।
৩. এই বিশ্বাস রাখা যে, এই নামসমূহ অত্যন্ত নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ অর্থের নির্দেশক। এগুলো একই সাথে নাম এবং গুণাবলি; এগুলো এমন কোনো অর্থহীন বা নিরেট বিশেষ্য নয় যা তার অর্থের বিবেচনা ছাড়াই রাখা হয়েছে, যেমনটি মুতাজিলাগণ দাবি করে।
৪. সেই নামসমূহের অর্থকে সম্মান করা এবং এই বিষয়ে সেগুলোর যে মর্যাদা রয়েছে তা রক্ষা করা। এছাড়া কালামশাস্ত্রবিদদের মতো সেই অর্থগুলোকে বিকৃতি বা অর্থহীন করার অপচেষ্টা না করা।
৫. সেই নামসমূহ যে প্রভাবের দাবি রাখে এবং তার ওপর ভিত্তি করে যে সমস্ত বিধান সাব্যস্ত হয়, তার ওপর ঈমান আনা।
সংক্ষেপে, আহলুস সুন্নাহ কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী এবং উম্মাহর সালাফদের বুঝ অনুযায়ী আল্লাহর নামসমূহের প্রতি সঠিক বিশ্বাস পোষণ করেন। এটি বাতিলপন্থীদের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা একে অস্বীকার করেছে এবং অকেজো করে দিয়েছে। ফলে তারা আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বিকৃতি ঘটিয়েছে, যা ইতিপূর্বে চারটি মতবাদ বর্ণনার সময় আমরা ব্যাখ্যা করেছি। এই ভূমিকাটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য, যাতে সে সত্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং বাতিলকে বিস্তারিতভাবে চিনতে পারে এবং যাতে তার কাছে সত্য ও বাতিল গুলিয়ে না যায়। উদাহরণস্বরূপ, ‘আল্লাহ’ শব্দের বুৎপত্তি এবং এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ও বাতিলপন্থী দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, তার মূল কারণ হলো যা আমি উল্লেখ করেছি। সুতরাং এটি একটি আকিদাগত মতভেদ, যদিও প্রবৃত্তি পূজারীরা একে অন্যভাবে উপস্থাপন করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الخلاف اللغوي وهو عدم الاشتقاق سلما ومطية لخدمة معتقدهم في هذا الباب أعني باب الأسماء الحسنى.
ولا يضرك الخلاف الموجود بين علماء أهل السنة في قضية الاشتقاق في لفظ الجلالة وعدمه، فذاك مرجعه إلى اللغة وأن استعمال لفظ الجلالة استعمال الأعلام الجامدة لغلبة الاستعمال فلا يقع صفة ولا خبراً عند من قال بعدم الاشتقاق فيه من أهل السنة كالشافعي وغيره، لا يعني ذلك عدم دلالته على صفة الألوهية واشتقاقه منها ودلالتها عليه باللزوم، وسيأتي مزيد بيان لذلك في بابه إن شاء الله.
ভাষাগত মতপার্থক্য—যা হলো শব্দের ব্যুৎপত্তিহীনতা—এই অধ্যায়ে অর্থাৎ আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের অধ্যায়ে তাদের আকিদাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি সোপান ও বাহন হিসেবে কাজ করেছে।
আর আল্লাহর মহান নামের ব্যুৎপত্তি থাকা বা না থাকার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আলেমদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য আপনার জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না; কারণ এর ভিত্তি হলো ভাষাতত্ত্ব এবং অধিক ব্যবহারের প্রাবল্যের কারণে আল্লাহর মহান নামটিকে ব্যুৎপত্তিহীন নামবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করা। ফলে ইমাম শাফেয়ী এবং আহলে সুন্নাতের অন্যান্যদের মধ্যে যারা একে ব্যুৎপত্তিহীন বলেন, তাদের নিকট এটি গুণবাচক শব্দ বা বিধেয় হিসেবে গণ্য হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এটি উপাস্য হওয়ার গুণের ওপর এবং তা থেকে ব্যুৎপন্ন হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না, কিংবা অপরিহার্যভাবে সেই অর্থের ওপর প্রমাণ প্রদান করে না। ইনশাআল্লাহ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الأول: الخلاف في اسم (الله) هل هو مشتق أم جامد.وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: تعريف الاسم لغة واصطلاحاً.
المطلب الثاني: هل أسماء الله جامدة أم مشتقة.
المطلب الثالث: هل لفظ الجلالة جامد أم مشتق.
المطلب الرابع: مادة اشتقاق اسم ((الله)).
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'আল্লাহ' নামটি ব্যুৎপন্ন নাকি মৌলিক, সে বিষয়ে মতভেদ।এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে নামের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ কি মৌলিক নাকি ব্যুৎপন্ন।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দে জালালাত (আল্লাহ) কি মৌলিক নাকি ব্যুৎপন্ন।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: 'আল্লাহ' নামের ব্যুৎপত্তিগত মূল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المطلب الأول: تعريف الاسم لغة واصطلاحاً.
أ- أصل اشتقاق الاسم:اختلف في أصل اشتقاق "الاسم" على قولين:
القول الأول: أنه مشتق من "السُّمُوِّ" وهو العلوُّ والارتفاع، وقال به النُّحاةُ البصريُّون.
القول الثاني: أنه مشتق من "السمة"، وهي العلامة، وقال به النُّحاة الكوفيُّون.
والصواب من القولين هو القول الأول
(1)
أولاً: لأن اشتقاقه من "السُّمُوِّ" هو "الاشتقاق الخاصُّ"(2).
الذي يتفق فيه اللفظان في الحروف وترتيبها، فإنهم:
• يقولون في تصريفه: "سمِّيت"، ولا يقولون: "وَسَمْتُ".
• ويقولون في جمعه: "أسماء"، ولا يقولون: "أوسام".
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'ইসম' (নাম) শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।ক- 'ইসম' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত মূল:'ইসম' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত মূল সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে:
প্রথম মত: এটি 'সুমুউ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ উচ্চতা ও সমুন্নত হওয়া। বসরার ব্যাকরণবিদগণ এই মত পোষণ করেন।
দ্বিতীয় মত: এটি 'সিমা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ চিহ্ন। কুফার ব্যাকরণবিদগণ এই মত পোষণ করেন।
এই দুই মতের মধ্যে প্রথম মতটিই সঠিক।
(১) প্রথমত: কারণ 'সুমুউ' থেকে এর ব্যুৎপত্তি হওয়া হলো 'বিশেষ ব্যুৎপত্তি' (আল-ইশতিকাক আল-খাস)।(২)যাতে শব্দদ্বয়ের অক্ষর এবং অক্ষরের বিন্যাসের মধ্যে মিল থাকে। কেননা তারা:
• শব্দরূপান্তরের ক্ষেত্রে বলেন: "সাম্মাইতু" (আমি নামকরণ করেছি), কিন্তু তারা "ওয়াসামতু" বলেন না।
• এবং এর বহুবচনের ক্ষেত্রে বলেন: "আসমা" (নামসমূহ), কিন্তু তারা "আওসাম" বলেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
• ويقولون في تصغيره: "سُمَيٌّ"، ولا يقولون: "وُسيم".
• ويقالُ لصاحبه: "مسمَّى"، ولا يقالُ: "موسومٌ".
وأما "السِّمة" فهي تتفق مع الاسم في "الاشتقاق الأوسط " وهو ما يتفق فيه حروف اللفظين دون ترتيبهما، فإنه في كليهما (السِّين والميم والواو) لكن اشتقاقه من "السُّمُوِّ" هو الاشتقاق الخاصُّ، كما أسلفنا.
ثانيا: ثُمَّ إن "السُّمُوَّ" هو بمعنى العلوِّ والارتفاع والرِّفعة.و"السَّمة" بمعنى العلامة.
وإذا كان الاسم مقصوده إظهار المسمَّى وبيانه فإن المعنى الثاني وإن كان صحيحا، لكن المعنى الأول أخص وأتم، فإن العلو مقارن للظُّهور، فالاسم يظهر به المسمَّى ويعلو؛ فيقالُ للمسمِّي: سمِّهِ: أي أظهره وأعلِه، أي أعلِ ذكره بالاسم الذي يُذكرُ به، وبعض النحاة يقول: سمي اسمًا لأنه علا على المسمَّى؛ أو لأنه علا على قسيميه الفعل والحرف؛ وليس المراد به هذا، بل لأنه يُعلي المسمى فيظهر؛ ولهذا يقالُ: سمَّيته أي أعليته وأظهرته، فتجعل المعلى المظهر هو المسمى، وهذا إنما يحصل بالاسم. وما ليس له اسم فإنه لا يُذكر ولا يظهر ولا يعلو ذكره؛ بل هو كالشيء الخفي الذي لا يُعرفُ؛ ولهذا يقال:
الاسم دليل على المسمَّى، وعلمٌ على المسمَّى، ونحو ذلك.
ولهذا كان أهل الإسلام الذين يذكرون أسماء الله، يعرفونه ويعبدونه ويحبونه ويذكرونه، ويظهرون ذكره. بخلاف الملاحدة الذين
• এবং তারা এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে 'সুমাই' বলে থাকে, 'উসাইম' বলে না।
• এবং এর সত্তার (অধিকারীর) ক্ষেত্রে 'মুসাম্মা' বলা হয়, 'মাওসুম' বলা হয় না।
আর 'সিমা' (চিহ্ন) শব্দের ক্ষেত্রে তা 'ইসম' (নাম) শব্দের সাথে 'ইশতিকাক আল-আওসাত' (মধ্যম ব্যুৎপত্তি) এর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি এমন এক ব্যুৎপত্তি যেখানে উভয় শব্দের বর্ণগুলো একই থাকে তবে তাদের বিন্যাস ভিন্ন হতে পারে। কারণ উভয় শব্দেই (সিন, মিম এবং ওয়াও) বর্ণত্রয় বিদ্যমান। কিন্তু 'সুমু' (উচ্চতা) থেকে এর ব্যুৎপত্তি হওয়াই হলো 'ইশতিকাক আল-খাস' (বিশেষ ব্যুৎপত্তি), যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয়ত: অতঃপর 'সুমু' শব্দটি উচ্চতা, ঊর্ধ্বগমন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়।আর 'সামাহ' বা 'সিমা' হলো চিহ্নের অর্থে।
যখন নামের উদ্দেশ্য হলো নামধারী সত্তাকে (মুসাম্মা) প্রকাশ করা এবং স্পষ্ট করা, তখন দ্বিতীয় অর্থটি সঠিক হলেও প্রথম অর্থটি অধিক সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ। কেননা উচ্চতা প্রকাশের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং নামের মাধ্যমেই নামধারী সত্তা প্রকাশিত ও উচ্চকিত হয়। এজন্য নাম প্রদানকারীকে বলা হয়: তাকে নাম দাও; অর্থাৎ তাকে প্রকাশ করো এবং উচ্চ করো, তথা সেই নামের মাধ্যমে তার আলোচনা উচ্চ করো যার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা হয়। কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ বলেন: নামকে 'ইসম' বলা হয় কারণ তা নামধারী সত্তার ওপর উচ্চ হয়; অথবা এটি তার সমগোত্রীয় অন্য দুই প্রকার—ক্রিয়া ও অব্যয়—এর চেয়ে উচ্চ। তবে বিষয়টি এমন নয়, বরং এটি নামধারী সত্তাকে উচ্চ করে বলেই তাকে প্রকাশ করে। এই কারণেই বলা হয়: 'আমি তাকে নাম দিয়েছি', অর্থাৎ আমি তাকে উচ্চ করেছি এবং প্রকাশ করেছি। ফলে আপনি যাকে উচ্চ ও প্রকাশ করেছেন তা হলো নামধারী সত্তা (মুসাম্মা), আর এটি কেবল নামের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। যার কোনো নাম নেই, তাকে স্মরণ করা হয় না, সে প্রকাশিত হয় না এবং তার আলোচনাও উচ্চ হয় না; বরং তা এমন এক গুপ্ত বিষয়ের মতো যা পরিচিত নয়। এই কারণেই বলা হয়:
নাম হলো নামধারী সত্তার প্রমাণ, নামধারী সত্তার পরিচিতি এবং এই জাতীয় বিষয়।
এই কারণেই ইসলামের অনুসারীরা যারা আল্লাহর নামসমূহ স্মরণ করে, তারা তাঁকে চেনে, তাঁর ইবাদত করে, তাঁকে ভালোবাসে, তাঁকে স্মরণ করে এবং তাঁর আলোচনাকে প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে নাস্তিকদের অবস্থা এর বিপরীত যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ينكرون أسماءه وتُعرِضُ قلوبهم عن معرفته وعبادته ومحبته وذكره
(1).
ب- تعريف الاسم في اللغة:عُرّف الاسم بعدَّة تعريفات، نذكر منها:
ا- الاسم: هو اللفظ الدَّلُّ على المسمَّى
(2).
2 - الاسم: هو القول الدال على المسمَّى
(3).
3 - الاسم: حروف منظومة دالة على معنى، مفرد.
(4)4 - الاسم: قول يدل على مذكور يضاف إليه.
(5)
ج- الفرق بين "الاسم" و"المسمَّى" و"التَّسمية":يجب التفريق بين هذه الألفاظ الثلاثة؛ لأن منشأ الغلط في هذه المسألة من إطلاق هذه الألفاظ لغير معانيها التي لها، فلا يفصل النزاع إلا بتفصيل تلك المعاني، وتنزيل ألفاظها عليها
(6).
فـ "الاسم" هو: اللفظ الدال على المسمَّى.
وأما "المسمى" فهو: الشيء الموجود في الأعيان أو الأذهان.
وأما "التسمية" فهي: فعل المُسمِّى ووضعه الاسم للمُسمَّى.
كما أن التحلية عبارة عن فعل " المُحلى" ووضعه الحلية للتَّحلية.
ولهذا تقول: سمَّيت هذا الشخص بهذا الاسم، كما تقول:
--------------------------------------------
তারা তাঁর নামসমূহ অস্বীকার করে এবং তাদের অন্তর তাঁর পরিচয়, ইবাদত, ভালোবাসা ও স্মরণ থেকে বিমুখ থাকে
(১)।
খ- ভাষাগতভাবে নামের সংজ্ঞা:নামকে বেশ কিছু সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তন্মধ্যে আমরা কয়েকটি উল্লেখ করছি:
১- নাম: এটি এমন শব্দ যা নামধারী (মুসাম্মা)-র ওপর দালালত করে
(২)।
২ - নাম: এটি এমন বক্তব্য যা নামধারী (মুসাম্মা)-র ওপর দালালত করে
(৩)।
৩ - নাম: এটি সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো এমন কিছু বর্ণ, যা একটি একক অর্থের ওপর দালালত করে
(৪)৪ - নাম: এটি এমন বক্তব্য যা এমন এক উল্লিখিত বিষয়ের ওপর দালালত করে যার সাথে তা সম্বন্ধযুক্ত হয়
(৫)
গ- 'নাম' (ইসম), 'নামধারী' (মুসাম্মা) এবং 'নামকরণ' (তাসমিয়া)-র মধ্যে পার্থক্য:এই তিনটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক; কারণ এই মাসআলায় ভুল হওয়ার মূল উৎস হলো এই শব্দগুলোকে তাদের জন্য নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহার করা। সুতরাং সেই অর্থগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা এবং শব্দগুলোকে তার প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা ব্যতীত এই বিতর্কের অবসান হবে না
(৬)।
সুতরাং 'নাম' (ইসম) হলো: সেই শব্দ যা নামধারী (মুসাম্মা)-র ওপর দালালত করে।
আর 'নামধারী' (মুসাম্মা) হলো: সেই সত্তা যা বাস্তবে অথবা চিন্তাজগতে বিদ্যমান।
আর 'নামকরণ' (তাসমিয়া) হলো: নামদাতার কাজ এবং নামধারীর জন্য নাম নির্ধারণ করা।
যেমন অলঙ্করণ বলতে অলঙ্কার প্রদানকারীর কাজ এবং অলঙ্কৃত করার উদ্দেশ্যে অলঙ্কার নির্ধারণ করাকে বোঝায়।
এই কারণেই আপনি বলেন: আমি এই ব্যক্তিকে এই নামে নামকরণ করেছি, যেমনটি আপনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
حليته بهذه، التَّحلية، والحلية غير المحلَّى
(1)والتَّسمية: مصدر "سمَّى" "يُسِّمي " "تسمية" فالتسمية نطق بالاسم وتكلُّمٌ به وليست هي الاسم نفسه
(2).
فهنا ثلاث حقائق "اسم" و"مسمى" و"تسمية" ك"حلية" و"مُحلى" و"تحلية"، و"علامة" و"مُعْلَم" و"تعليم"، ولا سبيل إلى جعل لفظين منهما مترادفين على معنى واحد، لتباين حقائقها، وإذا جعلت الاسم هو المسمى، بطل واحد من هذه الثلاثة ولابدَّ
(3).
--------------------------------------------
আমি তাকে এটি দ্বারা সজ্জিত করেছি, এটি হলো অলঙ্করণ, আর অলঙ্কার অলঙ্কৃত বস্তু থেকে ভিন্ন।
(১)আর নামকরণ: এটি "সাম্মা" "ইউসাম্মী" "তাসমিয়াহ" এর ক্রিয়ামূল। সুতরাং নামকরণ হলো নাম উচ্চারণ করা এবং তা ব্যক্ত করা; এটি স্বয়ং নাম নয়।
(২)এখানে তিনটি বাস্তবতা রয়েছে: "নাম", "নামধারী" এবং "নামকরণ"; যেমন: "অলঙ্কার", "অলঙ্কৃত" ও "অলঙ্করণ", এবং "চিহ্ন", "চিহ্নিত" ও "চিহ্নিতকরণ"। এদের বাস্তব স্বরূপ ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের মধ্যকার যেকোনো দুটি শব্দকে একই অর্থের সমার্থক করার কোনো অবকাশ নেই। আর যদি আপনি নামকে নামধারী হিসেবে গণ্য করেন, তবে এই তিনটির মধ্য থেকে একটি অবশ্যই বাতিল হয়ে যাবে।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুল আকিদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাতু বিসমিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المطلب الثاني: هل أسماء الله جامدة أم مشتقة؟
القول الأول: قول أهل السنة والجماعة في المسألة.من الأمور المتقرِّرة في عقيدة أهل السنة والجماعة أن أسماء الله الحُسنى متضمنة للصفات، فكل اسم يدلُّ على معنى من صفاته ليس هو المعنى الذي دل عليه الاسم الآخر، فالعزيز متضمِّنٌ لصفة العزة وهو مشتقٌ منها، والخالق متضمن لصفة الخلق وهو مشتق منه، فأسماء الله مشتقة من صفاته وليست جامدة كما يزعم المعتزلة ومن وافقهم الذين ادَّعوا أنها أعلامٌ جامدةٌ لا معاني لها، فقالوا: سميع بلا سمع، بصيرٌ بلا بصر، وعزيزٌ بلا عزة، فسلبوا بذلك عن أسماء الله معانيها.
فالرب تعالى يُشتقُّ له من أوصافه وأفعاله أسماءٌ ولا يشتق له من مخلوقاته، وكل اسم من أسمائه فهو مشتقٌ من صفة من صفاته أو فعل قائم به.
فأسماء الله الحُسنى كلها متفقة في الدلالة على نفسه المقدسة، ثم كل اسمٍ يدل على معنى من صفاته ليس هو المعنى الذي دلَّ عليه الاسم الآخر
(1).
وذلك لأن أسماءه الحسنى لها اعتباران:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ কি অনড় নাকি ব্যুৎপন্ন?
প্রথম মত: এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্য।আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর অন্যতম সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় হলো, আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ তাঁর গুণাবলীকে (সিফাত) অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং প্রতিটি নাম তাঁর গুণাবলীর মধ্য থেকে এমন এক একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে যা অন্য নাম দ্বারা নির্দেশিত অর্থ থেকে ভিন্ন। যেমন 'আযীয' (মহাপরাক্রমশালী) নামটি 'ইযযত' (পরাক্রম) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা থেকে ব্যুৎপন্ন। আর 'খালিক' (সৃষ্টিকর্তা) নামটি 'খালক' (সৃষ্টি করা) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা থেকে ব্যুৎপন্ন। সুতরাং আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণাবলী থেকে ব্যুৎপন্ন, এগুলো অনড় বা অর্থহীন নয়—যেমনটি মুতাযিলা এবং তাদের অনুসারীরা দাবি করে থাকে। তারা দাবি করে যে, এগুলো এমন কিছু অনড় নাম যার কোনো অর্থ নেই। তারা বলে: তিনি শ্রবণেন্দ্রিয় ছাড়াই সর্বশ্রোতা, দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই সর্বদ্রষ্টা এবং পরাক্রম ছাড়াই মহাপরাক্রমশালী। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর নামসমূহ থেকে সেগুলোর অর্থকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
সুতরাং সুমহান রবের নামসমূহ তাঁর গুণাবলী ও কার্যাবলী থেকে ব্যুৎপন্ন হয়, তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে ব্যুৎপন্ন হয় না। তাঁর প্রতিটি নামই তাঁর কোনো না কোনো গুণ অথবা তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ থেকে ব্যুৎপন্ন।
আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ তাঁর পবিত্র সত্তাকে নির্দেশ করার ক্ষেত্রে অভিন্ন, কিন্তু প্রতিটি নাম তাঁর গুণাবলীর মধ্য থেকে এমন একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে যা অন্য নাম দ্বারা নির্দেশিত অর্থ থেকে ভিন্ন
(১)।
আর তা এই কারণে যে, তাঁর সুন্দরতম নামসমূহের দুটি দিক রয়েছে:
--------------------------------------------