(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: -)
تدوين السنة ومنزلتها   (عبد المنعم السيد نجم)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: تدوين السنة ومنزلتها

المؤلف: عبد المنعم السيد نجم

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: السنة الحادية عشر - العدد الثالث - ربيع الأول 1399هـ

عدد الصفحات: 50

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহর (السنة) সংকলন (تدوين) ও এর মর্যাদা   (আব্দুল মুনিম আস-সাইয়্যিদ নাজিম)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: সুন্নাহর (السنة) সংকলন (تدوين) ও এর মর্যাদা

লেখক: আব্দুল মুনিম আস-সাইয়্যিদ নাজিম

প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: একাদশ বর্ষ - তৃতীয় সংখ্যা - রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌مدخل

…

تدوين السنة ومنزلتها

لفضيلة الدكتور عبد المنعم نجم الأستاذ المساعد بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية

نريد بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم مجموع ما صدر عنه من قول أو فعل أو تقرير، ولا شك أن رسول الله مبلغ عن الله {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} 1، ومبين عن الله مراده {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} 2؛ فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبين ما أراد القرآن أحيانا بالقول وحده، وأحيانا بالفعل وحده، وأحيانا بهما، كما صلى وقال: "صلوا كما رأيتموني أصلي"، وحج وقال: "خذوا عني مناسككم"؛ فهي إذا شارحة للقرآن تبين مجمله وتقيد مطلقه، وتؤول مشكله، فليس في السنة شيء إلا والقرآن دلّ على معناه دلالة إجمالية، أو تفصيلة وتلك الدلالة من وجوه.

منها ما هو عام جدا، وهو ما ورد في القرآن من إيجاب اتباع الرسول صلى اله عليه وسلم، نحو قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} 3، وقوله: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} 4 إلى غير ذلك من الآيات ومنها الوجه المشهور عند العلماء، كالأحاديث في بيان ما أجمل ذكره من الأحكام، إما يحسب كيفيات العمل أو أسبابه أو شروطه أو مواقعه أو لواحقه، أو ما أشبه ذلك، كبيانها للصلاة والزكاة وغير ذلك مما وقع في السنة بيانا للقرآن.

--------------------------------------------

1 انظر كشف الظنون في أساس العلوم والفنون

2 الآية 67 من سورة المائدة

3 آية 7 من سورة الحشر

4 الآية 65 من سورة النساء
ভূমিকা

…

সুন্নাহর (سنة) সংকলন ও এর মর্যাদা

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ফযীলাতুশ শায়খ ডক্টর আব্দুল মুনিম নাজমের প্রবন্ধ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) বলতে আমরা তাঁর থেকে প্রকাশ পাওয়া কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌন সম্মতির (تقرير) সমষ্টিকে বুঝিয়ে থাকি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বাণী প্রচারকারী: {হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন} ১, এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অভিপ্রায় ব্যাখ্যা প্রদানকারী: {আর আমি আপনার প্রতি জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} ২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো শুধু কথার মাধ্যমে, কখনো শুধু কাজের মাধ্যমে, আবার কখনো উভয়টির মাধ্যমেই কুরআনের মর্ম ব্যক্ত করতেন; যেমন তিনি সালাত আদায় করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ", আবার তিনি হজ সম্পাদন করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো"। সুতরাং এটি কুরআনের ব্যাখ্যাকার যা এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, এর শর্তহীন (مطلق) বিধানকে নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করে এবং এর জটিল (مشكل) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে। সুন্নাহর এমন কিছুই নেই যার মূল অর্থ কুরআন সংক্ষিপ্তভাবে (إجمالي) বা বিস্তারিতভাবে (تفصيلي) নির্দেশ করেনি, আর সেই নির্দেশনার বিভিন্ন দিক রয়েছে।

তার মধ্যে একটি দিক অত্যন্ত ব্যাপক, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} ৩, এবং তাঁর বাণী: {না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়} ৪। এ ছাড়াও আরও অন্যান্য আয়াত রয়েছে। আর একটি দিক আলেমদের নিকট সুপরিচিত, যেমন সে সকল হাদিস যা কুরআনে সংক্ষেপে বর্ণিত বিধানগুলোকে স্পষ্ট করে—চাই তা আমলের পদ্ধতি, কারণ, শর্ত, ক্ষেত্র, অনুগামী বিষয় বা এ জাতীয় যা-ই হোক না কেন; যেমন সালাত, জাকাত এবং সুন্নাহতে বর্ণিত অন্যান্য বিধান যা কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে।

--------------------------------------------

১ আসাসুল উলূম ওয়াল ফুনূনের ক্ষেত্রে কাশফুয যুনুন দেখুন।

২ সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬৭।

৩ সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭।

৪ সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌السنة من الوحي:

السنة النبوية بالمعنى المتقدم - ما أضيف للنبي صلى الله عليه وسلم من الأقوال والأفعال والتقريرات - هي أحد قسمي الوحي الإلهي الذي نزل به جبريل الأمين على النبي صلى الله عليه وسلم،
ওহি হিসেবে সুন্নাহ:

পূর্বোক্ত সংজ্ঞানুযায়ী সুন্নাহে নববি—যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী (الأقوال), কর্ম (الأفعال) ও মৌনসম্মতি (التقريرات) হিসেবে তাঁর প্রতি সম্বন্ধিত—তা হলো ঐশী ওহির দু’টি প্রকারের একটি, যা বিশ্বস্ত জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
والقسم الثاني من الوحي هو القرآن الكريم.

فالسنة النبوية من الوحي، بذلك نطق الكتاب العزيز {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إلا وَحْيٌ يُوحَى} 1، وبذلك جاءت السنة نفسها؛ فقد روى أبو داود والترمذي وابن ماجه، عن المقدام بن معد يكرب أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان على أريكته، يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه، ألا لا يحل لكم لحم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السبع ولا لقطة معاهد، إلا أن يستغني عنها صاحبها، ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه، فإن لم يقروه فله أن يعقبهم بمثل قراه"2.

يقول المنذري في مختصر السنن: وأخرجه الترمذي وابن ماجه، وقال الترمذي: حسن غريب من هذا الوجه.

يقول الإمام الخطابي في معالم السنن: "قوله " أوتيت الكتاب ومثله معه" يحتمل وجهين من التأويل، أحدهما: أن يكون معناه: أنه أوتي من الوحي الباطن غير المتلو مثل ما أعطى من الوحي الظاهر المتلو.

ويحتمل أن يكون معناه: أنه أوتي الكتاب وحيا يتلى، وأوتي من البيان، أي أذن له أن يبين ما في الكتاب ويعم ويخص، وأن يزيد عليه فيشرح ما ليس له في الكتاب ذكر، فيكون ذلك في وجوب الحكم ولزوم العمل به كالظاهر المتلو من القرآن.

وقوله: "يوشك شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن" فانه يحذر بذلك مخالفة السنن التي سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم مما ليس له في القرآن ذكر، على ما ذهبت إليه الخوارج والروافض؛ فإنهم تعلقوا بظاهر القرآن وتركوا السنن التي قد ضمنت بيان الكتاب فتحيروا وضلوا.

(والأريكة) : السرير، ويقال: إنه لا يسمى أريكة حتى يكون في حجلة iii.

وإنما أراد بهذه الصفة: أصحاب الترفه والدعة الذين لزموا البيوت، ولم يطلبوا العلم ولم يغدوا ولم يروحوا في طلبه في مظانه واقتباسه من أهله".

ثم يقول الخطابي: "وفي الحديث دليل على أنه لا حاجة بالحديث أن يعرض على الكتاب، وأنه مهما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان حجة بنفسه".

--------------------------------------------

i الآية 10 من سورة النجم، وانظر الحديث والمحدثين للشيخ أبي زهو.

ii انظر سنن أبي داود جـ 2 ص 505 كتاب السنة باب فما لزوم السنة ط ا.

iii الحجلة بفتحتين: واحدة حجال العروس، وهى بيت يزين بالثياب والأسرة والستور اهـ. مختار الصحاح ص124ط7.
ওহীর দ্বিতীয় প্রকার হলো কুরআনুল কারীম।

সুতরাং সুন্নাহও ওহীর অন্তর্ভুক্ত, যা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, এটি তো ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়" ১, এবং স্বয়ং সুন্নাহতেও এ বিষয়টি এসেছে। আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ মিকদাম ইবনে মা’দিকারিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তির উদ্ভব হবে যে তার আসনে বসে বলবে: তোমরা শুধু এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো, এতে যা হালাল পাবে তাই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং যা হারাম পাবে তাই হারাম হিসেবে বর্জন করো। সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার মাংস হালাল নয়, শিকারি হিংস্র প্রাণীও নয় এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিকের হারিয়ে যাওয়া বস্তুও হালাল নয়, যতক্ষণ না তার মালিক তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে তা ছেড়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি কোনো কওমের নিকট মেহমান হয়, তবে তাদের উচিত তার মেহমানদারি করা। যদি তারা তা না করে, তবে মেহমানদারির সমপরিমাণ পাওনা আদায় করে নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে" ২।

মুনজিরি মুখতাসারুস সুনানে বলেন: এটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি একে এই সূত্রে হাসান (حسن) গরিব (غريب) বলেছেন।

ইমাম খাত্তাবি মাআলিমুস সুনান গ্রন্থে বলেন: "আমাকে কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ প্রদান করা হয়েছে"—এই বক্তব্যের দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে। একটি হলো: এর অর্থ তাঁকে অপ্রকাশ্য ওহী প্রদান করা হয়েছে যা পাঠ করা হয় না, ঠিক যেভাবে তাঁকে দৃশ্যমান প্রকাশ্য ওহী প্রদান করা হয়েছে যা পাঠ করা হয়।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি হলো: এর অর্থ তাঁকে ওহী হিসেবে কিতাব প্রদান করা হয়েছে যা পাঠ করা হয় এবং এর পাশাপাশি এর বর্ণনা বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁকে কিতাবে যা আছে তা ব্যাখ্যা করার, সাধারণ বিষয়কে নির্দিষ্ট করার এবং নির্দিষ্ট বিষয়কে সাধারণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি কিতাবে উল্লেখ নেই এমন বিষয়ে অতিরিক্ত বিধান প্রদান বা ব্যাখ্যা করতে পারেন। ফলে বিধানের আবশ্যকতা এবং তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এটি কুরআনের প্রকাশ্য পাঠযোগ্য আয়াতের মতোই গণ্য হবে।

আর তাঁর কথা—"অচিরেই এক তৃপ্ত ব্যক্তি তার আসনে বসে বলবে: তোমরা এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরো"—এর মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবর্তিত সেই সকল সুন্নাহর বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যেগুলোর উল্লেখ কুরআনে নেই। যেমনটি খাওয়ারিজ ও রাফেজিরা করে থাকে; তারা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ভর করেছে এবং সেই সুন্নাহসমূহ বর্জন করেছে যা কুরআনের ব্যাখ্যার দায়িত্ব পালন করে। ফলে তারা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে।

(আরিকা) : পালঙ্ক বা আসন। বলা হয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এটি পর্দার ঘেরাটোপ বা সজ্জিত কক্ষের মধ্যে না থাকে, ততক্ষণ একে আরিকা বলা হয় না ৩।

এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ঐ সকল বিলাসপ্রিয় ও আয়েশী লোকদের বুঝিয়েছেন যারা ঘরে বসে থাকে এবং ইলম অন্বেষণ করে না, আর ইলম অর্জনের যথাযথ স্থানসমূহে বা বিশেষজ্ঞদের নিকট সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করে না।

এরপর খাত্তাবি বলেন: "এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, হাদিসকে কুরআনের সামনে পেশ করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং যা কিছুই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হবে, তা নিজেই একটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।"

--------------------------------------------

i. সূরা আন-নাজমের ১০ নং আয়াত (দ্রষ্টব্য: প্রকৃতপক্ষে এটি ৩-৪ নং আয়াতের অংশ), এবং শায়খ আবু জাহুর হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন দ্রষ্টব্য।

ii. সুনান আবু দাউদ, ২য় খণ্ড, ৫০৫ পৃষ্ঠা, কিতাবুস সুন্নাহ, বাবু লুজুমিস সুন্নাহ, ১ম মুদ্রণ দ্রষ্টব্য।

iii. 'হাজালাহ' (الحجلة) উভয় হরফে ফাতহাহসহ: কনের জন্য সুসজ্জিত কক্ষ, যা কাপড়, আসন ও পর্দা দিয়ে সাজানো হয়। মুখতারুস সিহাহ, ১২৪ পৃষ্ঠা, ৭ম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌عرض الحديث على القرآن:

أما ما رواه بعضهم أنه قال: "إذا جاءكم الحديث فاعرضوه على كتاب الله؛ فان وافقه فخذوه وإن
কুরআনের নিকট হাদিস উপস্থাপন (عرض):

তবে কেউ কেউ যা বর্ণনা (رواية) করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যখন তোমাদের নিকট কোনো হাদিস পৌঁছাবে, তখন তা আল্লাহর কিতাবের সাথে উপস্থাপন (عرض) করো; যদি তা এর সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
خالفه فدعوه" فإنه حديث باطل لا أصل له، وقد حكى زكريا بن يحي الساجي عن يحي بن معين أنه قال: هذا حديث وضعته الزنادقة.

ويقول الخطابي: "وقد روي هذا من حديث الشاميين، عن يزيد بن ربيعة عن أبى الأشعث عن ثوبان. ويزيد بن ربيعة هذا مجهول، ولا يعرف له سماع من أبي الأشعث، وأبو الأشعث لا يروي عن ثوبان وإنما يروي عن أبي أسماء الرحبي عن ثوبان". اهـ1.

وعلى هذا فالسنة صنو الكتاب العزيز، والذي جاءنا بالقرآن هو الذي نطق بالسنة؛ فلا يستغنى بأحدهما عن الآخر، وروى أبو داود بسنده عن عبد الله بن أبى رافع عن أبيه رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا ألفين أحدكم متكئا على أريكته، يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه، فيقول: لا ندري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه".

قال المنذري: وأخرجه الترمذي وابن ماجه، وقال الترمذي: حسن، وذكر أن بعضهم رواه مرسلا2. وروى الحافظ ابن عبد البر بسنده عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يوشك بأحدكم يقول: هذا كتاب الله ما كان فيه من حلال أحللناه وما كان فيه من حرام حرمناه، ألا من بلغه عني حديث فكذب به فقد كذب الله ورسو له والذي حدثه" 3.

--------------------------------------------

1 انظر مختصر وشرح سنن بي داود جـ7 ص1 حديث 4436.

2 انظر مختصر سنن أبي داود المنذرى جـ7 ص 10 حديث 4441.

3 انظر جامع بيان العلم وفضله وما ينبغي في روايته وحمله لأيى عمر يوسف بن عبد البر النورى القرطبي المتوفى 463هـ.
"সেটি যদি এর পরিপন্থী হয় তবে তা বর্জন করো"—এটি একটি বাতিল (باطل) হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-সাজি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "এটি এমন একটি হাদিস যা জিন্দিকরা জাল করেছে (وضعه)।"

আল-খাত্তাবি বলেন: "এটি শামবাসীদের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা ইয়াজিদ ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি আবুল আশ'আস থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই ইয়াজিদ ইবনে রাবিয়াহ একজন অপরিচিত (مجهول) ব্যক্তি, আবুল আশ'আস থেকে তার সরাসরি শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয়। আর আবুল আশ'আস সরাসরি সাওবান থেকে বর্ণনা (يروي) করেন না, বরং তিনি আবু আসমা আল-রাহাবি থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেন।" সমাপ্ত। ১

এর ভিত্তিতে সুন্নাহ হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সহোদর স্বরূপ। যিনি আমাদের নিকট কুরআন নিয়ে এসেছেন, তিনিই সুন্নাহ ব্যক্ত করেছেন; সুতরাং একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আবু দাউদ তাঁর সনদসহ (بسنده) আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাফে থেকে, তিনি তাঁর পিতার (রা.) সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে আর তার কাছে আমার নির্দেশসমূহের মধ্য হতে কোনো নির্দেশ আসবে—যাতে আমি কোনো আদেশ করেছি বা নিষেধ করেছি—তখন সে বলবে: আমরা তা জানি না, আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল সেটিই অনুসরণ করেছি।"

আল-মুনজিরি বলেন: তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, কেউ কেউ এটি বিচ্ছিন্নভাবে (مرسلا) বর্ণনা করেছেন। ২ হাফেজ ইবনে আবদিল বার তাঁর সনদসহ (بسنده) জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "শীঘ্রই তোমাদের কেউ এমন বলবে যে: এটি আল্লাহর কিতাব, এতে যা হালাল পেয়েছি তাকেই আমরা হালাল গণ্য করেছি এবং যা হারাম পেয়েছি তাকেই হারাম গণ্য করেছি। সাবধান! যার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদিস পৌঁছেছে আর সে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, সে মূলত আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং যে ব্যক্তি তা বর্ণনা করেছে তাকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করল।" ৩

--------------------------------------------

১. দেখুন: মুখতাসার ওয়া শারহু সুনানু আবি দাউদ, ৭ম খণ্ড, ১ম পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৪৪৩৬।

২. দেখুন: আল-মুনজিরি কৃত মুখতাসার সুনানু আবি দাউদ, ৭ম খণ্ড, ১০ম পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৪৪৪১।

৩. দেখুন: আবু উমর ইউসুফ ইবনে আবদিল বার আল-নামারি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) রচিত জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌شرف علم الحديث:

لا يختلف اثنان في أن علم الحديث أشرف علم بعد كتاب الله، كيف لا وهو المرتبة الثانية بعد القرآن، والمصدر الثاني للشريعة الإسلامية، نطق به الذي جاءنا بالقرآن من عند الله، المعطى جوامع الكلم المفوض إليه من الله أمر التبيين والتحصيل، روى أبو داود بسنده عن العرباض بن سارية.. فقال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم ثم أقبل علينا، فوعظنا موعظة بليغة فقال: "أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن عبد حبشي؛ فانه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين؛ تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة" 4.

قال الإمام الخطابي: "والنواجذ آخر الأضراس، واحدها: ناجذ، وإنما أراد بذلك الجد في لزوم السنة؛ فعل من أمسك الشيء بين أضراسه وعض عليه منعاً له أن ينتزع، وذلك أشد ما يكون من التمسك بالشيء، إذا كان ما يمسكه بمقاديم فمه أقرب تناولا وأسهل انتزاعا. وفي قوله: " عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين" دليل على أن الواحد من الخلفاء الراشدين إذا قال قولا وخالفه فيه غيره من الصحابة كان المصير إلى قول الخليفة أولى"5.

--------------------------------------------

4 انظر سنن أبي داود جـ 2 كتاب السنة باب في لزوم السنة ص 506 ط 1.

5 انظر مختصر المنذري جـ7 ص12 حديث 4443.
হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা:

এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আল্লাহর কিতাবের পর হাদিস শাস্ত্রই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান। কেনই বা হবে না, যেখানে এটি কুরআনের পরেই দ্বিতীয় স্তর এবং ইসলামি শরিয়াহর দ্বিতীয় উৎস (مصدر)। এটি তাঁরই মুখনিসৃত বাণী, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট কুরআন নিয়ে এসেছেন, যাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দসমষ্টি (جوامع الكلم) প্রদান করা হয়েছে এবং যাঁর ওপর ব্যাখ্যা ও আহরণের দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পণ করা হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ তাঁর সনদ (سند)-সহ ইরবাজ বিন সারিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন... তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি আমাদের মাঝে এক অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী উপদেশ প্রদান করলেন। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহভীতির এবং শোনার ও মানার (নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের) উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশি গোলাম হয়। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাহ (سنة) এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করা। তোমরা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয় (محدثة) থেকে বেঁচে থাকবে; কেননা প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)" ৪।

ইমাম খাত্তাবি বলেন: "নাওয়াজিজ হলো শেষ প্রান্তের দাঁত বা মাড়ির দাঁত, এর একবচন হলো নাজিজ। এর মাধ্যমে তিনি মূলত সুন্নাহ (سنة)-কে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে বুঝিয়েছেন; যেমন কোনো ব্যক্তি কোনো কিছুকে তার মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকে যাতে তা ছিনিয়ে নেওয়া না যায়। কোনো কিছুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে এটিই হলো সর্বোচ্চ পর্যায়; কারণ সামনের দাঁত দিয়ে কোনো কিছু ধরা হলে তা কেড়ে নেওয়া সহজ এবং ছিনিয়ে নেওয়া সুবিধাজনক হয়। আর তাঁর বাণী: 'তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক'—এ কথাটি এই বিষয়ের দলিল (دليل) যে, খুলাফায়ে রাশিদীনের মধ্য থেকে কোনো একজন যখন কোনো কথা বলেন এবং অন্য কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা করেন, তখন খলিফার কথা গ্রহণ করাই অধিকতর শ্রেয়" ৫।

--------------------------------------------

৪ দেখুন: সুনান আবু দাউদ, ২য় খণ্ড, কিতাবুস সুন্নাহ, সুন্নাহর অপরিহার্যতা অধ্যায়, পৃ. ৫০৬, ১ম সংস্করণ।

৫ দেখুন: মুখতাসার আল-মুনযিরি, ৭ম খণ্ড, পৃ. ১২, হাদিস ৪৪৪৩।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
يقول الإمام النووي: "إن من أهم العلوم تحقيق معرفة الأحاديث النبويات، أعني معرفة متونها، صحيحها وحسنها وضعيفها وبقية أنواعها المعروفة، ودليل ذلك أن شرعنا مبني على الكتاب العزيز والسنن المرويات، وعلى السنن المحكمات، وقد اتفق العلماء على أن من شرط المجتهد من القاضي والمفتي أن يكون عالما بالأحاديث الحكميات، فثبت بما ذكرناه أن الاشتغال بالحديث من أجَلّ العلوم الراجحات وأفضل أنواع الخير وآكد القربات، وكيف لا يكون كذلك؟ وهو مشتمل على بيان أفضل المخلوقات، عليه من الله الكريم أفضل الصلوات والسلام والبركات الخ"1.

ويقول العلامة الشهاب أحمد المنبتي الدمشقي الحنفي "إن علم الحديث علم رفيع القدر عظيم الفخر، شريف الذكر، لا يعنى به إلا كل حبر، ولا يحرمه إلا كل غمر، لا تفنى محاسنه على ممر الدهر، لم يزل في القديم والحديث يسمو عزة وجلالة، وكم عزّ به من كشف الله له مخبآت أسراره وجلاله؛ إذ به يعرف المراد من كلام رب العالمين، ويظهر المقصود من حبله المتصل المتين، ومنه يدرى شمائل من سما ذاتا ووصفا واسما، ووقف على أسرار بلاغة من شرف الخلائق عربا وعجما.

وناهيك بعلم من المصطفى صلى الله عليه وسلم بدايته وإليه مستنده وغايته، وحسب الراوي للحديث مشرفا وفضلا وجلالة ونبلا، أن يكون أول سلسلة آخرها الرسول، وإلى حضرته الشريفة بها الانتهاء والوصول.

وطالما كان السلف يقاسون في تحمله شدائد الأسفار، ليأخذوه عن أهله بالمشافهة، ولا يقنعون بالنقل من الأسفار، فربما ارتكبوا غارب الإغتراب بالارتحال إلى البلدان الشاسعة لأخذ حديث عن إمام انحصرت روايته فيه، أو لبيان وضع حديث تتبعوا سنده حتى انتهى إلى من يختلق الكذب ويفتريه.

وتأسى بهم من بعدهم من نقلة الأحاديث النبوية؛ فضبطوا الأسانيد وقيدوا منها كل شريد، وسبروا الرواة بين تجريح وتعديل، وسلكوا في تحرير المتن أقوم سبيل، ولا غرض لهم إلا الوقوف على الصحيح من أقوال المصطفى وأفعاله، ونفي الشبهة بتحقيق السند واتصاله؛ فهذه هي المنقبة التي تتسابق إليها الهمم العوالي"2.

وفي كتاب الخطة: "اعلم أن آنف3 العلوم الشرعية ومفتاحها، ومشكاة الأدلة السمعية ومصباحها، ومبنى شرائع الإسلام وأساسها، ومستند الروايات الفقهية كلها، ومركز المعاملات ومحط حارها وقارها هو علم الحديث الشريف الذي تعرف به جوامع الكلم، وتنفجر منه ينابيع الحكم وتدور عليه رحى الشرع بالأسر، وهو ملك كل نهي وأمر، ولولاه، لقال:

--------------------------------------------

1 انظر مقدمة صحيح مسلم.

2 انظر قواعد التحديث.

3 آنف: أول.
ইমাম নববী বলেন: "নিশ্চয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান হলো নববী হাদিসসমূহের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা, অর্থাৎ এগুলোর মতন (متن), এগুলোর সঠিক (صحيح), হাসান (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) হওয়া এবং অন্যান্য সুপরিচিত প্রকারভেদ সম্পর্কে জানা। এর প্রমাণ হলো আমাদের শরিয়ত মহান কিতাব এবং বর্ণিত সুন্নাহ ও সুদৃঢ় সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, বিচারক ও মুফতি হিসেবে একজন মুজতাহিদের জন্য আইনি হাদিসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়া একটি শর্ত। আমরা যা উল্লেখ করলাম তা থেকে প্রমাণিত হয় যে, হাদিস চর্চায় নিয়োজিত থাকা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অগ্রগণ্য বিজ্ঞান এবং কল্যাণের সর্বোত্তম প্রকার ও অন্যতম দৃঢ় ইবাদত। আর কেনই বা তা হবে না? অথচ এটি সৃষ্টির সেরা সত্তার বর্ণনার ওপর পরিবেষ্টিত, যাঁর ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ, সালাম ও বরকত ইত্যাদি।"1

আল্লামা শিহাব আহমদ আল-মানবিতি আদ-দিমাশকি আল-হানাফি বলেন, "নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন, অত্যন্ত গৌরবময় ও অত্যন্ত সম্মানিত এক জ্ঞান। গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ এতে নিবিষ্ট হয় না এবং স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ এ থেকে বঞ্চিত হয় না। কালের পরিক্রমায় এর সৌন্দর্য শেষ হয় না। অতীত ও বর্তমান সব যুগেই এর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য সমুন্নত রয়েছে। কত মানুষই না এর মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে, যাদের কাছে আল্লাহ তাআলা তাঁর গোপন রহস্য ও মহিমা উন্মোচিত করেছেন। কারণ এর মাধ্যমেই রাব্বুল আলামীনের বাণীর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায় এবং তাঁর সুদৃঢ় ও অবিচ্ছিন্ন রজ্জুর মর্মার্থ প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমেই তাঁর গুণাবলি জানা যায় যাঁর সত্তা, গুণাবলি ও নাম সুউচ্চ। আর এর মাধ্যমেই তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়, যিনি আরব ও অনারব সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"

"আপনার জন্য এমন এক জ্ঞানই যথেষ্ট যার সূচনা ও ভিত্তি স্বয়ং আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে এবং যার পরিসমাপ্তিও তাঁর কাছেই। একজন হাদিস বর্ণনাকারীর (راوي) জন্য এটিই গৌরব, শ্রেষ্ঠত্ব, মহিমা ও আভিজাত্যের জন্য যথেষ্ট যে, তিনি এমন একটি সিলসিলার প্রথম ব্যক্তি হবেন যার শেষ ব্যক্তি হলেন রাসুলুল্লাহ, এবং তাঁর পবিত্র দরবারেই এর সমাপ্তি ও মিলন ঘটে।"

"সালাফগণ দীর্ঘদিন ধরে হাদিস গ্রহণের জন্য সফরের অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন, যাতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে সরাসরি মৌখিকভাবে তা গ্রহণ করতে পারেন; তাঁরা কেবল কিতাব থেকে নকলের ওপর সন্তুষ্ট হতেন না। অনেক সময় তাঁরা দূর-দূরান্তের শহরে প্রবাসের কষ্ট স্বীকার করতেন কেবল এমন একজন ইমামের কাছ থেকে একটি হাদিস গ্রহণ করার জন্য যার কাছে ওই বর্ণনাটি সীমাবদ্ধ ছিল, অথবা কোনো হাদিসের জালকরণ (وضع) স্পষ্ট করার জন্য যার সনদ (سند) তাঁরা শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করতেন যতক্ষণ না তা কোনো মিথ্যা রচনাকারী ও অপবাদ আরোপকারীর নিকট গিয়ে থামত।"

"তাঁদের পরবর্তী হাদিস সংগ্রাহকগণও তাঁদের অনুসরণ করেছেন; তাঁরা সনদসমূহ (أسانيد) সুসংরক্ষিত করেছেন এবং প্রতিটি বিক্ষিপ্ত বর্ণনাকে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁরা জরাহ (تجريح) ও তাদিল (تعديل)-এর মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই করেছেন এবং মতন (متن) সম্পাদনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক পথ অবলম্বন করেছেন। আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা ও কাজের মধ্যে যা সঠিক (صحيح) তা নিরূপণ করা এবং সনদ (سند) ও এর অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) নিশ্চিত করার মাধ্যমে সন্দেহ দূর করা ব্যতীত তাঁদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এটিই হলো সেই মহান গুণ যার দিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনগুলো ধাবিত হয়।"2

এবং আল-খুততাহ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: "জেনে রাখুন, শরয়ি জ্ঞানসমূহের অগ্রগণ্য3 ও এর চাবিকাঠি, শ্রবণযোগ্য দলিলসমূহের আলোর আধার ও প্রদীপ, ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও মূলকাঠামো, ফিকহি বর্ণনাসমূহের মূল উৎস, এবং সকল লেনদেনের কেন্দ্রবিন্দু ও মূল ভিত্তি হলো ইলমে হাদিস। এর মাধ্যমেই ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) চেনা যায়, প্রজ্ঞার ঝরনাধারা প্রবাহিত হয় এবং সম্পূর্ণ শরিয়তের চাকা এর ওপরই আবর্তিত হয়। এটি প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের মূল। যদি এটি না থাকত, তবে [যে কেউ যা ইচ্ছা] বলত:

--------------------------------------------

1 সহিহ মুসলিমের ভূমিকা দেখুন।

2 কাওয়ায়েদুত তাহদিস দেখুন।

3 অগ্রগণ্য: প্রথম।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
من شاء وخبط الناس خبط عشواء وركبوا متن عمياء.. وهو تلو كلام الله العلام، وثاني أدلة الأحكام …

تم قال: وما الحق إلا فيما قاله صلى الله عليه وسلم أو عمل به أو قرره أو أشار إليه أو تفكر فيه أو خطر بباله أو هجس في خلده واستقام عليه.

فالعلم في الحقيقة هو علم السنة والكتاب، والعمل بهما في كل إياب وذهاب، ومنزلته بين العلوم منزلة الشمس بين كواكب السماء، ومزية أهله على غيرهم من العلماء مزية الرجال على النساء {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ} 1.

فياله من علم مزج بدمه الحق والهدى، ونيط بعنقه الفوز بالدرجات العلى.

وقد كان الإمام محمد بن علي بن الحسين رحمه الله يقول: "إن من فقه الرجل بصيرته أو فطنته بالحديث". لقد صدق فإنه لو تأمل بالنظر العميق والفكر الدقيق، لعلم أن لكل علم خاصية تتحصل بمزاولته للنفس الإنسانية كيفية من الكيفيات الحسنة أو السيئة، وهذا العلم تعطي مزاولته صاحبه معنى الصحابة؛ لأنها في الحقيقة هي الإطلاع على جزئيات أحواله صلى الله عليه وسلم ومشاهدة أوضاعه في العبادات والعادات كلها، وعند بعد الزمان يتمكن هذا المعنى بمزاولته في مدركة المزاول، ويرتسم في خياله بحيث يصير في حكم المشاهدة والعيان، وإليه أشار القائل بقوله:

أهل الحديث هموا أهل النبي وإن … لم يصحبوا نفسه أنفاسه صحبوا

ويروى عن بعض الصلحاء أنه قال: "أشد البواعث وأقوى الدواعي لي على تحصيل علم الحديث قال رسول الله صلى الله عليه وسلم".

فالحاصل أن أهل الحديث - كثر الله سوادهم، ورفع عمادهم - لهم نسبة خاصة ومعرفة مخصوصة بالنبي صلى اله عليه وسلم لا يشاركهم فيها أحد من العالمين، فضلا عن الناس أجمعين؛ لأنهم الذين لا يزال يجري ذكر صفاته العليا وأحواله الكريمة وشمائله الشريفة على لسانهم". اهـ بتصرف i.

--------------------------------------------

1 انظر قواعد التحديث
যে ইচ্ছা করে সে মানুষের মাঝে লক্ষ্যহীনভাবে পথ চলে এবং অন্ধত্বের সওয়ারিতে আরোহণ করে... অথচ তা (সুন্নাহ) মহাজ্ঞানী আল্লাহর বাণীর অনুগামী এবং বিধানের প্রমাণাদির (أدلة الأحكام) দ্বিতীয় উৎস …

অতঃপর তিনি বলেন: সত্য কেবল তা-ই যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অথবা যা তিনি আমল করেছেন, অথবা যা তিনি মৌনসম্মতি (تقرر) প্রদান করেছেন, অথবা যার প্রতি তিনি ইশারা করেছেন, অথবা যা নিয়ে তিনি চিন্তা করেছেন, অথবা যা তাঁর অন্তরে উদিত হয়েছে কিংবা তাঁর মনে প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং যার ওপর তিনি অবিচল ছিলেন।

বস্তুত প্রকৃত ইলম হলো সুন্নাহ ও কিতাবের ইলম এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এ দুটির ওপর আমল করা। অন্যান্য ইলমের মাঝে এর মর্যাদা হলো আসমানের নক্ষত্ররাজির মাঝে সূর্যের মর্যাদার মতো। আর অন্যান্য আলিমদের ওপর এই শাস্ত্রের বিদগ্ধজনদের শ্রেষ্ঠত্ব হলো নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো। {এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন} ১।

এটি কতই না মহান ইলম যার সত্তায় সত্য ও হিদায়াত মিশে আছে এবং উচ্চ মর্যাদা লাভের বিষয়টি যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন রাহিমাহুল্লাহ বলতেন: "কোনো ব্যক্তির গভীর প্রজ্ঞা (فقه) হলো হাদিসের প্রতি তার অন্তর্দৃষ্টি বা প্রখর ধীশক্তি।" তিনি সত্যই বলেছেন, কেননা কেউ যদি গভীর দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম চিন্তা দিয়ে অনুধাবন করে তবে সে জানতে পারবে যে, প্রতিটি ইলমেরই এমন একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা চর্চার মাধ্যমে মানুষের নফসে ভালো বা মন্দের কোনো এক অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর এই ইলম চর্চাকারীকে সাহচর্য (صحابة) লাভের গূঢ় অর্থ দান করে; কারণ এটি মূলত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থার খুঁটিনাটি সম্পর্কে অবগতি এবং তাঁর ইবাদত ও অভ্যাসের সার্বিক চিত্র অবলোকন করা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, নিরবচ্ছিন্ন চর্চার মাধ্যমে চর্চাকারীর উপলব্ধিতে এই বিষয়টি বদ্ধমূল হয় এবং তার কল্পনায় এমনভাবে অঙ্কিত হয় যে তা চাক্ষুষ দর্শনের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। এ দিকেই ইঙ্গিত করে কবি বলেছেন:

হাদিসের পণ্ডিতগণই (أهل الحديث) নবীজির আপনজন, যদিও … তাঁরা তাঁর ব্যক্তিসত্তার সাহচর্য পাননি, তবে তাঁর প্রতিটি বাণীর সান্নিধ্য পেয়েছেন।

কোনো এক পুণ্যবান ব্যক্তি থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: "হাদিস শাস্ত্র অর্জনে আমার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও শক্তিশালী প্রেরণা হলো 'রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'—এই বাক্যটি।"

সারকথা হলো, হাদিসের পণ্ডিতগণ (أهل الحديث) —আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন এবং তাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করুন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের এক বিশেষ সম্পর্ক ও সুনির্দিষ্ট পরিচয় রয়েছে, যাতে জগতের অন্য কেউ শরিক নয়, এমনকি সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা; কারণ তাঁরাই সেই ব্যক্তি যাঁদের জিহ্বায় সর্বদা তাঁর মহান গুণাবলি, মর্যাদাপূর্ণ অবস্থা এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ শামায়েল (شمائل) বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচিত হয়।" সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত i.

--------------------------------------------

১. কাওয়াইদুত তাহদিস দেখুন।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌فضل نشر الحديث وروايته:

روى أبو داود بسنده عن زيد بن ثابت قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "نضر الله امرأ سمع منا حديثا فحفظه حتى بلغه؛ فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه، ورب حامل فقه ليس بفقيه" 2.

--------------------------------------------

2 انظر سنن أبي داود كتاب العلم فضل نشر العلم جـ 2ص 289.
হাদিস প্রচার ও বর্ণনার ফজিলত:

আবু দাউদ তার সনদ (سند) এর মাধ্যমে জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিয়েছে; কেননা অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী ব্যক্তি এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকিহ (فقيه), আবার অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী নিজে ফকিহ (فقيه) নন।" ২।

--------------------------------------------

২. দেখুন: সুনান আবি দাউদ, কিতাবুল ইলম, জ্ঞান প্রচারের ফজিলত অধ্যায়, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮৯।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال المنذري: وأخرجه الترمذي والنسائي. وقال الترمذي: حديث حسن. وأخرجه ابن ماجه من حديث عبّاد والد يحيي عن زيد بن ثابت. اهـ1.

وروي: "نضر الله امرأ سمع مقالتي فحفظها ووعاها وأداها".

وفيه روايات عدة لهذا الحديث.

قال سفيان بن عيينة: "ليس من أهل الحديث أحد إلا في وجهه نضرة لهذا الحديث".

يقول الإمام الخطابي:" في قوله "نضر الله " معناه: الدعاء له بالنضارة وهي النعمة والبهجة، يقال بتخفيف الضاد وتثقيلها، وأجودهما التخفيف.

وفي قوله: "ربّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه" دليل على كراهة اختصار الحديث لمن ليس بالمتناهي في الفقه؛ لأنه إذا فعل ذلك فقد قطع طريق الاستنباط والاستدلال لمعاني الكلام من طريق التفهم، وفي ضمنه وجوب التفقه والحث على استنباط معاني الحديث، واستخراج المكنون من سره". اهـ.

وقد قيل في قوله تعالى: {يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ} 2 ليس لأهل الحديث منقبة أشرف من ذلك؛ لأنه لا إمام لهم غيره صلى الله عليه وسلم3.

وقد ورد في شرف الحديث وأصحابه، وفضل الإسناد وأربابه أخبار كثيرة؛ فمن ذلك حديث أسامة بن زبد رفعه: " بحمل هذا العلم من كل خلف عدوله؛ ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين"، وهذا الحديث رواه من الصحابة علي وعمر وابن مسعود وابن عباس وجابر بن سمرة ومعاذ وأبو هريرة وأبو أمامة، وأورده ابن عدى من طرق كثيرة كلها ضعيفة، كما صرح به الدارقطني وأبو نعيم وابن عبد البر.

لكن يمكن أن يتقوّى بتعدد طرقه ويكون حسنا لغيره، كما جزم به العلائي.

وفيه تخصيص حملة السنة بهذه المنقبة العلية؛ لأنهم يحمون مشارع الشريعة ومتون الروايات من تحريف الغالين الذين غلوا في الدين، وتأويل الجاهلين بنقل النصوص المحكمة لرد المتشابه إليها.

قال النووي في أول تهذيبه: "وهذا إخبار منه صلى الله عليه وسلم بصيانة هذا العلم بحفظه، وعدالة ناقليه، وأن الله يوفق في كل عصر خلقا من العدول يحملونه وينفون عنه التحريف فلا يضيع، وهذا تصريح بعدالة حامليه في كل عصر، وهكذا وقع، وهو من أعلام النبوة، ولا يضر كون بعض الفساق يعرف شيئا من علم الحديث؛ فان الحديث إنما هو إخبار بأن العدول يحملونه لا أن غيرهم لا يعرف شيئا". اهـ.

--------------------------------------------

1 انظر مختصر المنذرى ومعالم السنن للخطايى جـ 5 ص253 باب جامع في فضل العلم.

2 سورة الإسراء آية 71.

3 كذا في تدريب الراوي ص 170.
আল-মুনযিরি বলেছেন: এটি তিরমিযি ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। ইবনে মাজাহ এটি ইয়াহিয়ার পিতা আব্বাদের সূত্রে যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। ১।

বর্ণিত আছে: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ করেছে, অনুধাবন করেছে এবং পৌঁছে দিয়েছে।"

এই হাদিসটির একাধিক বর্ণনা রয়েছে।

সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না বলেছেন: "হাদিস বিশারদগণের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মুখে এই হাদিসের (বরকতে) উজ্জ্বলতা নেই।"

ইমাম খাত্তাবি বলেন: "'আল্লাহ উজ্জ্বল করুন' কথাটির অর্থ হলো: তার জন্য উজ্জ্বলতা তথা নেয়ামত ও প্রফুল্লতার দোয়া করা। 'নাদ্বারা' শব্দে 'দ্বদ' বর্ণটি হালকা (তাশদীদ ছাড়া) এবং ভারী (তাশদীদসহ) উভয়ভাবেই পড়া যায়, তবে হালকাভাবে পড়াই অধিকতর উত্তম।"

আর তাঁর (সা.) বাণী: "অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফিকহসম্পন্ন" - এটি সেই ব্যক্তির জন্য হাদিস সংক্ষেপ করার অপছন্দনীয়তার প্রমাণ যে ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শী নয়। কারণ, সে যদি এমনটি করে তবে সে উপলব্ধি বা বুঝের মাধ্যমে কথা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলীল সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করে দিল। এর মধ্যে ফিকহ অর্জন করা ওয়াজিব হওয়া এবং হাদিসের অর্থ উদ্ঘাটন ও এর গোপন রহস্য বের করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে।

মহান আল্লাহর বাণী: "যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব" ২ এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, হাদিস বিশারদদের জন্য এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো মর্যাদা নেই; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া তাদের আর কোনো ইমাম নেই ৩।

হাদিস ও হাদিস বিশারদদের মর্যাদা এবং ইসনাদ (إسناد) ও এর অধিকারীদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। তার মধ্যে উসামা বিন যায়দ কর্তৃক মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম: "প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিগণ এই ইলম বহন করবেন; তারা এতে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।" এই হাদিসটি সাহাবীদের মধ্যে আলী, উমর, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির বিন সামুরা, মুয়াজ, আবু হুরায়রা এবং আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদী এটি অনেকগুলো সূত্রে উল্লেখ করেছেন যেগুলোর সবগুলোই দুর্বল (ضعيف), যেমনটি দারা কুতনি, আবু নুয়াইম এবং ইবনে আব্দুল বার স্পষ্ট করেছেন।

তবে বহু সূত্রের কারণে এটি শক্তিশালী হতে পারে এবং হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) হতে পারে, যেমনটি ইমাম আলাইয়ি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন।

এতে সুন্নাহর বাহকদের এই উচ্চতর মর্যাদার বিশেষত্ব নিহিত; কেননা তারা শরীয়তের উৎসসমূহ ও বর্ণনাসমূহের মতন (متن) রক্ষা করেন সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি থেকে যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে, এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করেন যারা অকাট্য নস (نصوص محكمة) বা দলীলসমূহকে অস্পষ্ট বিষয়ের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

ইমাম নববী তাঁর তহযীব-এর শুরুতে বলেছেন: "এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এই ইলমের হেফাজত এবং এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে সংবাদ। আল্লাহ তাআলা প্রতি যুগে একদল ন্যায়পরায়ণ (عدول) লোক সৃষ্টি করবেন যারা এই ইলম বহন করবেন এবং বিকৃতি রোধ করবেন যাতে ইলম হারিয়ে না যায়। এটি প্রতি যুগের ইলম বহনকারীদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং বাস্তবেও তা-ই ঘটেছে। এটি নবুয়তের অন্যতম নিদর্শন। আর কোনো কোনো ফাসিক (পাপিষ্ঠ) ব্যক্তি হাদিসের কিছু অংশ জানলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই; কেননা হাদিস দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিরা এটি বহন করবেন, এটা নয় যে অন্য কেউ কিছুই জানবে না।"

--------------------------------------------

১ দেখুন: মুখতাসার আল-মুনযিরি এবং খাত্তাবির মাআলিমুস সুনান, ৫নং খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৩, জ্ঞান অর্জনের মর্যাদা বিষয়ক অধ্যায়।

২ সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৭১।

৩ দ্রষ্টব্য: তাদরীবুর রাবী, পৃষ্ঠা ১৭০।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
على أنه قد يقال: ما يعرفه الفساق من العلم ليس بعلم؛ لعدم عملهم". اهـ1.

وقال العراقي: "قال ابن عبد البر: كل حامل علم معروف العناية به فهو عدل محمول في أمره أبدا على العدالة حتى يتبين جرحه، واستدل على ذلك بحديث رواه من طريق أبي جعفر العقيلي من رواية ابن رفاعة السلامي عن إبراهيم بن عبد الرحمن العذري، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: " يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله …به" أورده العقيلي في الضعفاء في ترجمة معان بن رفاعة، وقال: لا يعرف إلا به، ورواه ابن أبي حاتم في مقدمة الجرح والتعديل.

وفي كتاب علل الحلال: أن أحمد بن حنبل سئل عن هذا الحديث فقيل له: كأنه كلام موضوع؟ فقال: لا هو صحيح؟ فقيل له: ممن سمعته؟ قال: عن غير واحد …الخ "2.

وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: "سيأتي قوم يجادلونكم بشبهات القرآن فخذوهم بالسنن؛ فإن أصحاب السنن أعلم بكتاب الله عز وجل3.

--------------------------------------------

1 انظر القول السديد في اتصال الأسانيد للشيخ أحمد عثمان العدوي المعروف بالمنبتي مصطلح 38 مخطوط تيمور.

2 انظر فتح المغيث شرح ألفية الحديث.

3 انظر قواعد التحديث ص 50
বলা হয়ে থাকে যে: "পাপাচারীরা যে জ্ঞান অর্জন করে তা প্রকৃত জ্ঞান নয়; কারণ তারা সে অনুযায়ী আমল করে না।" সমাপ্ত। ১।

ইরাকি বলেন: "ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: ইলম বহনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি যার এ বিষয়ে বিশেষ যত্ন সুবিদিত, সে সর্বদা ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবেই গণ্য হবে এবং তার বিষয়টি চিরকাল ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ না তার ত্রুটি (جرح) স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি এর স্বপক্ষে একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা তিনি আবু জাফর আল-উকাইলির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে রিফায়া আস-সালামি ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-উযরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের মধ্য থেকে তাদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ (عدوله) এই ইলম বহন করবেন... এর দ্বারা।" আল-উকাইলি এটিকে আদ-দুয়াফা গ্রন্থে মুআন ইবনে রিফায়ার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ছাড়া এটি আর কারও থেকে পরিচিত নয়। ইবনে আবি হাতিমও এটি আল-জারহ ওয়াত-তাদিল গ্রন্থের ভূমিকায় বর্ণনা করেছেন।

ইলালুল হালাল গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে: আহমাদ বিন হাম্বলকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তাকে বলা হলো: এটি কি জাল (موضوع) কথা মনে হচ্ছে? তিনি বললেন: "না, এটি সহিহ (صحيح)।" তাকে পুনরায় বলা হলো: আপনি এটি কার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: "একাধিক ব্যক্তির থেকে... ইত্যাদি।" ২।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: "শীঘ্রই এমন এক কওম আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্ক করবে, তখন তোমরা তাদের সুনান দ্বারা মোকাবিলা করো; কেননা সুনান এর অনুসারীগণ মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।" ৩।

--------------------------------------------

১. দেখুন আল-কাওলুস সাদিদ ফি ইত্তিসালিল আসানিদ, শায়খ আহমাদ উসমান আল-আদাবি (আল-মুনবাতি হিসেবে পরিচিত), পরিভাষা ৩৮, পান্ডুলিপি তিমুর।

২. দেখুন ফাতহুল মুগিস শারহু আলফিয়াতিল হাদিস।

৩. দেখুন কাওয়াইদুত তাহদিস, পৃষ্ঠা ৫০।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌تدوين الحديث وأطواره منذ فجر الإسلام حتى عصر أصحاب الصحاح الستة

لما كان الحديث من أصل الفروض وجب الاعتناء به، والاهتمام بضبطه وحفظه؛ فلذلك يسر الله للعلماء الثقات الذين حفظوا قوانينه وأحاطوا به؛ فتناقلوه كابرا عن كابر، وأوصله كما سمعه أولهم إلى أخرهم، وحببه الله إليهم لحكمه حفظ دينه وحراسة شريعته؛ فلم يزل هذا العلم من عهد الرسول صلى الله عليه وسلم غضا طريا، والدين محكم الأساس قوي البنيان.

أشرف العلوم وأجلها لدى الصحابة والتابعين، وتابعي التابعين خلفا عن سلف، لا يشرف بينهم أحد بعد حفظ كتاب الله إلا بقدر ما يحفظ منه، ولا يعظم في النفوس إلا بحسب ما سمع من الأحاديث؛ فتوفرت الرغبات فيه، فما زال لهم من لدن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أن انقطعت الهمم شغف على تعلمه، حتى لقد كان أحدهم يرحل المراحل ذوات العدد ويفني الأموال والعدد ويقطع الفيافي والمفاوز، ويجوب البلاد شرقا وغربا في طلب حديث واحد يسمعه من راويه؛ فمنهم من يكون الباعث له على الرحلة طلب ذلك الحديث لذاته، ومنهم من تقترن بتلك الرغبة سماعه من ذلك الراوي بعينه إما لثقته في نفسه، وإما لعلو إسناده؛ فانبعثت العزائم إلى تحصيله.

وكان اعتمادهم أولا على الحفظ والضبط في القلوب، غير ملتفتين إلى ما يكتبونه محافظة على هذا العلم، كحفظهم كتاب الله، ولا معولين على ما يسطرونه وذلك لسرعة حفظهم وسيلان أذهانهم.
হাদিস সংকলন ও এর পর্যায়সমূহ: ইসলামের উষালগ্ন থেকে সিহাহ সিত্তাহ সংকলকদের যুগ পর্যন্ত

যেহেতু হাদিস মৌলিক ফরজসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং এটি নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও মুখস্থ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এমন নির্ভরযোগ্য (ثقات) আলেমদের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন, যারা এর নিয়মকানুনসমূহ সংরক্ষণ করেছেন এবং একে পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করেছেন। ফলে তাঁরা বংশপরম্পরায় জ্যেষ্ঠদের নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছেন এবং প্রথম প্রজন্ম যেভাবে শ্রবণ করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই শেষ প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর দীন সংরক্ষণ এবং শরিয়ত হেফাজতের হিকমতের কারণে তাঁদের নিকট এই ইলমকে প্রিয় করে দিয়েছেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে এই ইলম সর্বদা সতেজ ও প্রাণবন্ত রয়েছে এবং দীনের ভিত্তি সুদৃঢ় ও কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে।

সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাবে-তাবেয়িদের নিকট উত্তরসূরি থেকে পূর্বসূরি পর্যন্ত এটি ছিল অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করার পর তাদের মধ্যে কেউ কেবল ততটুকুই মর্যাদা পেতেন, যতটুকু তিনি হাদিস সংরক্ষণ করতেন। হাদিস শ্রবণের মাধ্যমেই কেবল মানুষের অন্তরে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হতো। ফলে এর প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে নিয়ে মানুষের উদ্যম স্তিমিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এর জ্ঞান অর্জনের প্রতি তাঁদের গভীর অনুরাগ বজায় ছিল। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ অগণিত পথ পাড়ি দিতেন, অঢেল অর্থ ও পাথেয় ব্যয় করতেন, মরুভূমি ও বিজন প্রান্তর অতিক্রম করতেন এবং একজন বর্ণনাকারী (راوي) থেকে মাত্র একটি হাদিস শ্রবণের জন্য দেশ-বিদেশের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিচরণ করতেন। তাঁদের মধ্যে কারো সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বয়ং ওই হাদিসটি লাভ করা, আবার কারো এই আকাঙ্ক্ষার সাথে যুক্ত হতো নির্দিষ্ট সেই বর্ণনাকারী থেকে হাদিসটি সরাসরি শ্রবণ করা; হয় বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) কারণে, অথবা তাঁর উচ্চ সনদ (علو إسناد) হওয়ার কারণে। ফলে এটি অর্জনের জন্য সুদৃঢ় সংকল্প জাগ্রত হয়েছিল।

প্রথমদিকে তাঁদের নির্ভরতা ছিল মূলত অন্তরে মুখস্থ ও নিখুঁত সংরক্ষণের (ضبط) ওপর। এই ইলমকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের ন্যায় হিফাজত করার উদ্দেশ্যে তাঁরা লিখিত বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং যা লিপিবদ্ধ করতেন তার ওপরও নির্ভর করতেন না। এর কারণ ছিল তাঁদের প্রখর স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধা।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فلما انتشر الإسلام واتسعت الأمصار، وتفرقت الصحابة في الأقطار، وكثرت الفتوحات، ومات معظم الصحابة وتفرقت أصحابهم وأتباعهم وقلّ الضبط، وكاد الباطل يلتبس بالحق احتاج العلماء إلى تدوين الحديث وتقييده بالكتابة؛ لأنها الأصل، فإن الخاطر يغفل، والقلم يحفظ؛ فمارسوا الدفاتر وسايروا المحابر وعقدوا العزم وأجابوا في نظم قلائده أفكارهم، وأنفقوا في تحصيله أعمارهم، واستغرقوا في تقييدهم ليلهم ونهارهم، فأبرزوا تصانيف كثرت صنوفها، ودونوا دواوين ظهرت شفوفها؛ فاتخذها العالمون قدوة، ونصبها العارفون قبلة.

অতঃপর যখন ইসলাম ছড়িয়ে পড়ল এবং জনপদসমূহ বিস্তৃত হলো, আর সাহাবীগণ বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেন এবং বিজয়াভিযান বৃদ্ধি পেল, আর অধিকাংশ সাহাবী ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁদের সঙ্গী ও অনুসারীগণ (أتباع) বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন এবং নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (الضبط) হ্রাস পেল, এমনকি সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটার উপক্রম হলো; তখন উলামায়ে কেরাম হাদিস সংকলন (تدوين) এবং তা লেখনীর মাধ্যমে গেঁথে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। কারণ লেখনীই হলো মূল ভিত্তি; কেননা মানুষের অন্তর বিস্মৃত হয় কিন্তু কলম তা সংরক্ষণ করে। ফলে তাঁরা খাতা-পত্রের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়লেন এবং দোয়াতের সঙ্গী হলেন। তাঁরা দৃঢ় সংকল্প করলেন এবং এর রত্নমালা সুবিন্যস্ত করতে নিজেদের মেধা নিয়োগ করলেন, এটি অর্জনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করলেন এবং একে লিপিবদ্ধ করার কাজে দিন-রাত মগ্ন থাকলেন। ফলে তাঁরা এমন সব গ্রন্থ প্রবর্তন করলেন যার প্রকারভেদ ছিল বহুমুখী এবং এমন সব সংকলন লিপিবদ্ধ করলেন যার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেল। অতঃপর বিদগ্ধ সমাজ একে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং তত্ত্বজ্ঞানীগণ একে অনুসরণীয় লক্ষ্য হিসেবে স্থির করলেন।

(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌الحديث على عهد النبي صلى الله عليه وسلم:

بعث النبي صلى الله عليه وسلم والعرب في جهالة جهلاء وضلالة عمياء موروثة عن ذي قبل، فكان من رحمة الله بهم وبالإنسانية جمعاء أن أرسل فيهم رسولا من أنفسهم يتلوا عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة.

والرسول هو محمد صلى الله عليه وسلم، أشرف الناس نسبا وأكرمهم أما وأبا وأصلا ومحتدا.

ومن الحكمة البالغة أن بدأ بالدعوة سرا حتى لا يفجأ القوم بها، خاصة وهم غارقون في جهلهم يتخبطون في غيهم، فتبعه أفراد قلائل، لا يتجاوز عددهم أصابع اليد، ثم جهر بالدعوة إلى الله؛ فدخل في الدين خلق كثير، دخلوا الإسلام عن بينة من أمره، واستمعوا إلى كتاب ربهم وسنة نبيهم، فخالطت أنوار الإيمان قلوبهم، لا سيما وهم متعطشون إلى ما ينقذهم من ظلمات الشرك ويهديهم إلى صراط مستقيم؛ فصادف الإسلام قلوبا مستعدة متهيأة فتمكن فيها كل التمكن، وجرى الإيمان فيهم مجرى الدم في عروقهم، ذلك أنهم عرفوا من النبي عليه السلام أن هذا الدين هو طريق سعادتهم ومعقد عزهم وسبب نهضتهم وتقدمهم، فعقدوا عليه خناصرهم، وأحبوا رسول الله حبا يسمو على الأبناء والآباء، وانكبوا على ما جاءهم به من القرآن يحفظونه، وعلى ما حدثهم في بنائه العظيم بعد القرآن الكريم، كما علموا أمر الله باتباعها، وتحذيره الشديد من مخالفة أمره، اعتقدوا هذا بقلوبهم ووضعوه نصب أعينهم.

ملكت الآيات والأحاديث على الصحابة مشاعرهم، وسيطرت على ألبابهم وحواسهم، وأفسحت قلوبهم حبا لله ورسوله عليه السلام، وألهبت نفوسهم نشاطا نحو العلم والعمل؛ فلم يدخروا وسعا في حفظ الأحكام والسن.

وإلى جانب هذه الحمية الدينية، استعداد فطري ونشاط طبيعي هو استعداد الحافظة ونشاط الذاكرة وسرعة الخاطر ووفرة الذكاء وكمال العبقرية.

فالصحابة عرب خلص أميون لا يقرؤون ولا يكتبون، فكل اعتمادهم على ملكاتهم في الحفظ، واعتبر ذلك بحالهم في الجاهلية، فقد حفظوا أنساهم ومناقبهم وأشعارهم وخطبهم، وكثيرا ما كانت تقع بينهم
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সময়ে প্রেরিত হয়েছিলেন যখন আরবরা পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত চরম মূর্খতা এবং ঘোর পথভ্রষ্টতার মাঝে নিমজ্জিত ছিল। তাদের প্রতি এবং সমগ্র মানবতার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি এক বিশেষ রহমত ছিল যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের আত্মশুদ্ধি করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।

আর সেই রাসূল হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি বংশমর্যাদায় মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং পিতা-মাতা ও বংশীয় আভিজাত্যের দিক থেকে অত্যন্ত সম্মানিত।

অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞার বিষয় ছিল যে, তিনি দাওয়াতের কাজ শুরু করেছিলেন গোপনে, যাতে জাতি আকস্মিকভাবে তাতে চমকে না যায়; বিশেষ করে তারা যখন নিজেদের মূর্খতায় নিমজ্জিত এবং বিভ্রান্তিতে দিশেহারা ছিল। ফলে হাতেগোনা অল্প কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করলেন, যাদের সংখ্যা আঙুলে গণনা করা যায়। এরপর তিনি প্রকাশ্যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন; তখন বহু মানুষ এই দ্বীনে প্রবেশ করলেন। তারা পূর্ণ সচেতনতা ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাদের রবের কিতাব ও তাঁদের নবীর সুন্নাহ (سنة) শ্রবণ করলেন। ফলে ঈমানের নূর তাদের হৃদয়ে মিশে গেল, বিশেষ করে তারা যখন এমন কিছুর জন্য তৃষ্ণার্ত ছিলেন যা তাদের শিরকের অন্ধকার থেকে রক্ষা করবে এবং সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে পরিচালিত করবে। ফলস্বরূপ, ইসলাম এমন কিছু হৃদয় খুঁজে পেল যা ছিল প্রস্তুত ও উন্মুখ, ফলে তা সেখানে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেল এবং ঈমান তাদের শিরা-উপশিরায় রক্তপ্রবাহের মতো প্রবাহিত হতে লাগল। কারণ তারা নবী আলাইহিস সালামের নিকট থেকে জেনেছিলেন যে, এই দ্বীনই তাদের সৌভাগ্যের পথ, সম্মানের মূলভিত্তি এবং তাদের জাগরণ ও অগ্রগতির কারণ। তাই তারা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের সন্তান ও পিতা-মাতার চেয়েও বেশি ভালোবাসলেন। তারা তাঁর আনীত কুরআনের ওপর গভীর মনোনিবেশ করলেন এবং তা মুখস্থ করতে থাকলেন। তেমনিভাবে পবিত্র কুরআনের পর তাঁর মহিমান্বিত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত যেসব হাদিস তিনি তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তার ওপরও গুরুত্ব দিলেন। কারণ তারা এগুলোর অনুসরণ করার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ এবং তাঁর আদেশের অবাধ্য হওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা সম্পর্কে জানতেন। তারা অন্তরে এটি বিশ্বাস করতেন এবং তা সর্বদা চোখের সামনে দেদীপ্যমান রাখতেন।

কুরআনের আয়াত এবং হাদিসসমূহ সাহাবায়ে কিরামের অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে নিয়েছিল এবং তাদের মেধা ও ইন্দ্রিয়কে জয় করে নিয়েছিল। তাদের অন্তর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আলাইহিস সালামের ভালোবাসায় পূর্ণ হয়েছিল এবং তাদের মনকে ইলম ও আমলের প্রতি উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল; ফলে তারা শরয়ি বিধান এবং সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি।

এই দ্বীনি আবেগের পাশাপাশি তাদের ছিল সহজাত যোগ্যতা ও স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা; যা ছিল মূলত প্রখর হিফজ বা মুখস্থ করার ক্ষমতা, তুখোড় স্মৃতিশক্তি, উপস্থিত বুদ্ধি, মেধার প্রাচুর্য এবং অনন্য ধীশক্তি।

সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন খাঁটি নিরক্ষর আরব, তারা পড়তে বা লিখতে জানতেন না। ফলে তাদের সকল নির্ভরতা ছিল মুখস্থ করার সহজাত শক্তির ওপর। জাহেলি যুগে তাদের অবস্থার দিকে তাকালেই এটি উপলব্ধি করা যায়; তারা তাদের বংশপরিচয়, গৌরবগাথা, কবিতা ও ভাষণসমূহ মুখস্থ করে রাখতেন এবং প্রায়ই তাদের মধ্যে এমনটি ঘটত যে—
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
المفاخرة المفاخرة بالأنساب والأحساب فلا يسعفهم غير اللسان يثيرون به ما حفظوه من أخبارهم، وأخبار خصومهم، مما يرفع من شأن أعدائهم.

ساعدهم حبهم للتفاخر بالأحساب والأنساب، والتنابز والمثالب بالألقاب، مع ما رسخ فيهم من عصبية قبلية على إجادة الحفظ والضبط ونشاط في الذاكرة لم يتوفر لأمة من الأمم؛ فكانت هذه الصدور الحافظة مهدا لآي الذكر الحكيم، وكانت هذه القلوب الواعية أوعية لحديث النبي صلى الله عليه وسلم، فاندفع الصحابة إلى تلقي حديث رسول الله بنهم عظيم وشوق كبير، وأظهر الله بهم دينه على الدين كله.

وتظاهر العامل الروحي والعامل الفطري؛ فأتى القوم بما لم يأت به أمة من يوم أن بعث الله رسله إلى الخلق، فحفظوا كتاب ربهم وسنة نبيهم.
বংশমর্যাদা ও আভিজাত্য নিয়ে পারস্পরিক গর্ব ও অহংকার; এক্ষেত্রে জিহ্বা ছাড়া তাদের আর কোনো অবলম্বন ছিল না, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ও তাদের প্রতিপক্ষের সংরক্ষিত সংবাদসমূহ চর্চা করত, যা তাদের শত্রুদের মর্যাদাকেও উচ্চকিত করত।

আভিজাত্য ও বংশ নিয়ে গর্ব করার প্রতি অনুরাগ, একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ভূষিত করা ও দোষত্রুটি চর্চা করা এবং তাদের মাঝে বদ্ধমূল গোত্রীয় গোঁড়ামি তাদের মুখস্থকরণ (حفظ) ও নির্ভুলভাবে আয়ত্তকরণের (ضبط) বিশেষ দক্ষতা এবং স্মৃতির এমন প্রখরতা অর্জনে সহায়তা করেছিল যা অন্য কোনো জাতির মাঝে পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে এই মুখস্থকারী বক্ষসমূহ ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকিরের (কুরআনের) আয়াতের লালনভূমি এবং এই সচেতন হৃদয়গুলো ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের আধার। তাই সাহাবীগণ প্রবল ব্যাকুলতা ও গভীর আগ্রহ নিয়ে রাসূলুল্লাহর হাদিস গ্রহণের প্রতি ধাবিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেছেন।

এভাবে আধ্যাত্মিক ও সহজাত কারণসমূহের সমন্বয় ঘটেছিল; ফলে এই জাতি এমন এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছিল যা আল্লাহ সৃষ্টির নিকট তাঁর রাসূল প্রেরণের সূচনালগ্ন থেকে আর কোনো জাতি করতে পারেনি; তারা তাদের রবের কিতাব ও তাদের নবীর সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الطريقة التي تلقى الصحابة بها الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم:

لم يكن في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من يجيد الكتابة إلا نفر قليل؛ فقد كانت الأمية غالبة عليهم، فكان اعتمادهم في تلقي الحديث عنه صلى الله عليه وسلم على استعدادهم في الحفظ، كما أنهم نهوا عن كتابة الحديث في بدء الأمر خوف اختلاطه بالقرآن الكريم، وكان الصحابة يتلقون الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إما بطريقة المشافهة، وإما بطريقة المشاهدة لأفعاله وتقريراته، وإما بطريق السماع ممن سمع منه صلى الله عليه وسلم، أو شاهد أفعاله وتقريراته؛ لأنهم لم يكونوا جميعا يحضرون مجالسه صلى الله عليه وسلم، بل كان منهم من يتخلف لبعض حاجاته.
যে পদ্ধতিতে সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকই লিখতে জানতেন; কেননা তাদের মধ্যে নিরক্ষরতা ছিল ব্যাপক। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নির্ভরতা ছিল মুখস্থকরণের (حفظ) যোগ্যতার ওপর। এছাড়া শুরুর দিকে পবিত্র কুরআনের সাথে হাদিস মিশে যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের তা লিখে রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন হয় সরাসরি মৌখিক যোগাযোগের (مشافهة) মাধ্যমে, অথবা তাঁর কর্ম ও মৌন সম্মতি (تقريرات) প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে, কিংবা যারা সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছিলেন বা তাঁর কর্ম ও মৌন সম্মতি (تقريرات) প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাদের নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে। কারণ তারা সকলেই সবসময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে উপস্থিত থাকতে পারতেন না, বরং তাদের কেউ কেউ নিজেদের প্রয়োজনে অনুপস্থিত থাকতেন।

(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌كتابة الحديث في عهد النبي عليه السلام:

تقدم أن الصحابة قد اعتمدوا على الحفظ في تلقي ما يأتيهم به النبي صلى الله عليه وسلم، وزعم البعض أن قلة التدوين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم تعود بالدرجة الأولى إلى ندرة وسائل الكتابة، وأنا لست مع من يقول بذلك؛ لأنها لم تكن قليلة إلى هذا الحد الذي يبالغ فيه، وهي - على كل حال - قلة نسبية، قد تكون أحد العوامل في ترك كتابة الحديث، ولكنها بلا ريب ليست العامل الوحيد، فما منعت ندرة هذه الأدوات صحابة الرسول صلى الله عليه وسلم من تجشم المشاق وركوب الصعاب في كتابة القرآن كله في اللخاف والعسب والأكتاف والأقناب وقطع الأديم، ولو أنهم أرادوا تدوينه مثل القرآن لفعلوا، ولكن الصحابة بتوجيه من نبيهم ومن تلقاء أنفسهم كانوا منصرفين إلى تلقي القرآن، مشغولين بجمعه في الصدور والسطور، وكان كتاب الله يستغرق جل أوقاتهم، كما يملك عليهم مشاعرهم، وحديث رسول الله حينئذ أكثر من أن يحصوه، فله في كل حادثة قول، وفي كل استفتاء توضيح، وفي كثير
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে হাদিস লিখন:

ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, সাহাবীগণ (صحابة) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা প্রাপ্ত হতেন তা গ্রহণের ক্ষেত্রে মুখস্থ রাখার (حفظ) ওপর নির্ভর করতেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সংকলনের (تدوين) স্বল্পতা প্রধানত লিখন উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ছিল। আমি এই মতের প্রবক্তাদের সাথে একমত নই; কারণ উপকরণসমূহ এতটা দুর্লভ ছিল না যতটা অতিরঞ্জিত করে বলা হয়। এটি—যেকোনো বিচারে—একটি আপেক্ষিক স্বল্পতা মাত্র, যা হাদিস লিখন ত্যাগের অন্যতম কারণ হতে পারে, কিন্তু নিঃসন্দেহে এটিই একমাত্র কারণ ছিল না। এই সরঞ্জামগুলোর দুষ্প্রাপ্যতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণকে (صحابة) পাতলা পাথর, খেজুরের ডাল, পশুর কাঁধের হাড়, কাঠের জিন এবং চামড়ার টুকরোতে সম্পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধ করার কঠোর শ্রম ও অসাধ্য সাধনে বিরত রাখতে পারেনি। যদি তাঁরা কুরআনের ন্যায় এটিও সংকলন (تدوين) করতে চাইতেন, তবে অবশ্যই তা করতেন। কিন্তু সাহাবীগণ (صحابة) তাঁদের নবীর দিকনির্দেশনায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কুরআন গ্রহণের প্রতি নিবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা তা হৃদয়ে এবং পাণ্ডুলিপিতে সংগ্রহ (جمع) করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং আল্লাহর কিতাব তাঁদের সময়ের অধিকাংশ জুড়ে থাকত ও তাঁদের অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে রাখত। তৎকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস ছিল সংখ্যাতীত, প্রতিটি ঘটনায় তাঁর কোনো না কোনো বাণী ছিল, প্রতিটি জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
من الوحي القرآني تبيان وتفسير، فأنى للكتبة منهم الوقت لمتابعة الرسول عليه السلام في كتابة جميع ما يقوله أو يعمله أو يقر الناس عليه، خاصة وأن الكاتبين منهم قليل.

ومع ذلك قام بعض هؤلاء الكاتبين بتقيد جميع ما سمعه ورآه من النبي صلى الله عليه وسلم، وأقرهم على ذلك حين أمن التباس السنة بالقرآن، على حين كتب أفراد آخرون أشياء قليلة، وظل سائرهم بين قارئ كاتب لكنه مشغول بالقرآن شغلا لا يتيح له كتابة الحديث، فغدا يسمعه من الرسول صلى الله عليه وسلم ويعمل به ولا يجد الحاجة لتقييده، وبين أمي يحفظ من القرآن والحديث ما تيسر له في صدره، وهو ما كان عليه أكثر الصحابة في بدء الإسلام ومطلع فجره.

وانصرف الصحابة إلى القرآن جمعا له في الصدور والسطور، واشتغالهم به عن كل شئ سواه كان جزءا من التوجيه النبوي الحكيم لهؤلاء التلامذة الخالدين من الأميين والكاتبين، وهو توجيه متدرج مع الحياة والأحياء متطور مع الأحداث التي تعاقبت على المجتمع الإسلامي، فما كان لهذا التوجيه أن يجمد على صورة واحدة، بل روعي فيه الزمان، وروعيت الأشخاص.

فنهى الرسول صلى الله عليه وسلم عن كتابة الأحاديث أول نزول الوحي مخافة التباس أقواله وشروحه وسيرته بالقرآن، ولا سيما إذا كتب هذا كله في صحيفة واحدة مع القرآن.1

وقال: " لا تكتبوا عني، ومن كتب عني غير القرآن فليمحه، وحدثوا عني ولا حرج، ومن كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار" 2.

--------------------------------------------

1 وقد أشار إلى ذلك الخطابي في معالم السنن فقال: (يشبه أن يكون النهي متقدما، وآخر الأمرين الإباحة) .

وقد قيل: إنه إنما نهى أن يكتب الحديث مع القرآن في صحيفة واحدة؛ لئلا يختلط به ويشتبه على القارئ، فأما أن يكون نفس الكتاب مخطوطا وتقييد العلم بالخط منهيا عنه فلا. اهـ مختصر جـ5 ص 346 كتاب العلم حديث 3499.

2 صحيح مسلم بشرح النووي جـ18 ص 129 كتاب الزهد من حديث أبي سعيد الخدري. وقد أعل بعضهم هذا الحديث ووقفه على أبي سعيد الخدري قال: ابن حجر في الفتح ج1 ص 218: ومنهم من أعل حديث أبي سعيد وقال: الصواب وقفه على أبي سعيد، قاله البخاري وغيره اهـ. وقال الشيخ أحمد شاكر في تعليقه على الباعث الحثيث ص 148: وهذا غير جيد؛ فإن الحديث الصحيح. وملحظ الشيخ شاكر لأن الحديث معروف متدوال بين العلماء وفي كتب الحديث.
কুরআনের ওহীর স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা বিদ্যমান, তাই তাঁদের লেখকদের পক্ষে রাসূল (সা.) যা বলতেন, করতেন বা কোনো বিষয়ে মানুষকে যে মৌনসম্মতি দিতেন, তার সবকিছু লিখে রাখার জন্য তাঁকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করার মতো পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কীভাবে সম্ভব ছিল? বিশেষ করে যখন তাঁদের মধ্যে লেখকের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য।

তা সত্ত্বেও, এই লেখকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নবী (সা.)-এর কাছ থেকে যা কিছু শুনেছেন ও দেখেছেন তা লিপিবদ্ধ (تقييد) করার কাজ করেছেন; এবং যখন কুরআনের সাথে সুন্নাহর সংমিশ্রণের (التباس) আশঙ্কা দূরীভূত হলো, তখন তিনি তাঁদেরকে এর ওপর অনুমোদন দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, অন্য কিছু ব্যক্তি সামান্য কিছু লিখেছিলেন এবং বাকিরা পড়তে ও লিখতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কুরআনের কাজে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে তা তাঁদেরকে হাদিস লিখে রাখার সুযোগ দিত না। ফলে তাঁরা রাসূল (সা.)-এর কাছ থেকে হাদিস শুনতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন, কিন্তু তা লিপিবদ্ধ (تقييد) করার প্রয়োজন বোধ করতেন না। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন নিরক্ষর, যারা কুরআন ও হাদিসের যতটুকু সহজ হতো তা নিজ স্মৃতিতে (صدر) সংরক্ষণ করতেন; আর ইসলামের প্রাথমিক যুগে ও এর উষালগ্নে অধিকাংশ সাহাবীর অবস্থাই ছিল এরূপ।

সাহাবীগণ অন্তরে এবং লিপিতে কুরআন সংকলনের (جمع) প্রতি নিবিষ্ট হয়েছিলেন। কুরআন ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে তাঁদের এই নিবিষ্ট থাকা ছিল নিরক্ষর ও লেখক—উভয় শ্রেণির এই কালজয়ী ছাত্রদের প্রতি নবী (সা.)-এর প্রাজ্ঞ নির্দেশনারই অংশ। এটি ছিল জীবন ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ক্রমিক নির্দেশনা, যা ইসলামি সমাজে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনার সাথে বিকশিত হয়েছিল। এই নির্দেশনার কোনো একটি নির্দিষ্ট রূপের ওপর স্থবির থাকার অবকাশ ছিল না, বরং এতে সময় ও পাত্রের বিবেচনা করা হয়েছিল।

রাসূল (সা.) ওহী নাজিলের শুরুর দিকে হাদিস লিখে রাখতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে তাঁর বাণী, ব্যাখ্যা ও সীরাত কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার ভয় না থাকে; বিশেষ করে যখন এই সবকিছু কুরআনের সাথে একই পাণ্ডুলিপিতে (صحيفة) লেখা হতো।১

তিনি বলেন: "তোমরা আমার থেকে কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি আমার থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তবে তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করতে পারো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"২

--------------------------------------------

১ খাত্তাবি 'মাআলিমুস সুনান' গ্রন্থে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: (সম্ভবত এই নিষেধাজ্ঞাটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের এবং সর্বশেষ নির্দেশ হলো বৈধতা)।

বলা হয়ে থাকে: তিনি কেবল কুরআনের সাথে একই পাণ্ডুলিপিতে (صحيفة) হাদিস লিখতে নিষেধ করেছিলেন; যাতে এটি কুরআনের সাথে সংমিশ্রিত না হয় এবং পাঠকের মনে সংশয় তৈরি না হয়। কিন্তু মূল লিখন বা ইলমকে লিপিবদ্ধ (تقييد) করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এমন নয়। সমাপ্ত। মুখতাসার, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৪৬, কিতাবুল ইলম, হাদিস ৩৪৯৯।

২ সহিহ মুসলিম বি-শারহিন নববী, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ১২৯, কিতাবুজ জুহদ, আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর হাদিস থেকে। কেউ কেউ এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করেছেন এবং একে আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর ওপর মৌকুফ (موقوف) বলেছেন। ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'র ১ম খণ্ড ২১৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবু সাঈদের হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) বলেছেন এবং বলেছেন যে, সঠিক হলো একে মৌকুফ (موقوف) গণ্য করা; ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা এমনটিই বলেছেন।" সমাপ্ত। শেখ আহমদ শাকির 'আল-বায়িছুল হাশীছ' (পৃষ্ঠা ১৪৮)-এর টিকায় বলেছেন: "এটি সঠিক নয়; কেননা হাদিসটি সহিহ (صحيح)।" শেখ শাকিরের দৃষ্টিভঙ্গি হলো—হাদিসটি উলামাদের মাঝে সুপরিচিত ও প্রচলিত এবং হাদিস গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الصحف المكتوبة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم:

ثم أذن بذلك إذنا عاما حين نزل أكثر الوحي وحفظه الكثيرون، وأمن اختلاطه بسواه، فقال عليه الصلاة والسلام: " قيدوا العلم بالكتاب" 3.

من المؤكد أن بعض الصحابة كتبوا طائفة من الأحاديث في حياته صلى الله عليه وسلم، ومنهم من كتبها بإذن خاص من النبي صلى الله عليه وسلم.

من تلك الصحف: صحيفة سمرة بن جندب (60هـ) ، كان قد جمع أحاديث كثيرة في نسخة كبيرة ورثها ابنه سليمان ورواها عنه، وهي التي يقول فيها ابن سيرين: في رسالة سمرة إلى بنيه علم كثير.

--------------------------------------------

3 رواه ابن عبد البر عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قيدوا العلم بالكتاب". ورواه موقوفا على عمر بن الخطاب وابن عباس مثله، وعن أنس أيضا أنه كان يقول لبنيه: يا بني قيدوا العلم بالكتاب اهـ جامع بيان العلم وفضله جـ 1 باب الرخصة في كتاب العلم ص 86.

انظر مسند عبد الله بن عمرو في مسند أحمد 2/158-226.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লিখিত সহিফাসমূহ (صحيفة):

অতঃপর যখন ওহির (وحي) অধিকাংশ নাজিল হলো এবং অনেকে তা মুখস্থ করলেন এবং অন্য কিছুর সাথে তার সংমিশ্রণের আশঙ্কা দূর হলো, তখন তিনি এর জন্য সাধারণ অনুমতি প্রদান করলেন। অতঃপর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বললেন: "তোমরা লেখনীর মাধ্যমে ইলমকে (علم) আবদ্ধ করো" ৩।

এটি নিশ্চিত যে, কতিপয় সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই হাদিসের একটি অংশ লিখেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ অনুমতিক্রমে তা লিখেছিলেন।

সেই সহিফাসমূহের (صحيفة) মধ্যে অন্যতম হলো: সামুরা বিন জুনদুব (৬০ হি.)-এর সহিফা (صحيفة)। তিনি একটি বৃহৎ পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) অনেক হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন যা তাঁর পুত্র সুলায়মান উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন এবং তাঁর থেকে তা বর্ণনা (رواية) করেন। এটি সেই সহিফা (صحيفة) যার সম্পর্কে ইবনে সিরিন বলেন: সামুরার তাঁর সন্তানদের কাছে প্রেরিত পত্রে প্রচুর ইলম (علم) রয়েছে।

--------------------------------------------

৩. এটি ইবনে আবদিল বার আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা লেখনীর মাধ্যমে ইলমকে (علم) আবদ্ধ করো।" তিনি এটি উমর ইবনুল খাত্তাব এবং ইবনে আব্বাসের ওপর স্থগিত (موقوف) হিসেবেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আনাস থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর সন্তানদের বলতেন: হে আমার প্রিয় সন্তানেরা, লেখনীর মাধ্যমে ইলমকে (علم) আবদ্ধ করো। সমাপ্ত। - জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি, ১ম খণ্ড, ইলম লিখে রাখার অনুমতির অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৮৬।

মুসনাদ আহমদে আবদুল্লাহ বিন আমরের মুসনাদ দেখুন ২/১৫৮-২২৬।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ومن أشهر الصحف المكتوبة في العصر النبوي (الصحيفة الصادقة) التي كتبها جامعها عبد الله بن عمرو بن العاص من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد اشتملت على ألف حديث، كما يقول ابن الأثير1، ومحتواها محفوظ في مسند أحمد بن حنبل2، حتى ليصح أن نصفها بأنها أصدق وثيقة تاريخية تثبت كتابة الحديث على عهده صلوات الله عليه، وهذه الوثيقة كانت نتيجة محتومة لفتوى النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الله بن عمرو وإرشاده الحكيم له؛ فقد جاء عبد الله يستفتي رسول الله صلى الله عليه وسلم في شأن الكتابة قائلا: أكتب كل ما أسمع؟ قال: "نعم"، قال: في الرضا والغضب؟ قال: "نعم؛ فإني لا أقول في ذلك إلا حقا".

وسأذكر الحديث فيما بعد، والذي يظهر لي أنه لا بد أن يكون عبد الله بن عمرو قد أخذ في كتابة الحديث بعد هذه الفتوى الصريحة من الرسول الكريم، وتلك الصحيفة الصادقة كانت ثمرة هذه الفتوى، وآية اشتغال عبد الله بن عمرو بكتابة هذه الصحيفة وسواها من الصحف أيضا قول أبي هريرة الصحابي الجليل: "ما في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أحد أكثر حديثا عنه مني إلا ما كان عبد الله بن عمرو؛ فإنه كان يكتب وكنت لا أكتب"3.

وقد أتيح لمجاهد بن جبر (103هـ) أن يرى هذه الصحيفة عند صاحبها عبد الله بن عمرو4، وكان عبد الله بن عمرو - لشدة حرصه على هذه الصحيفة - لا يسمح لأعزّ الناس عليه بتناولها، ورؤية مجاهد لها لم تكن إلا عرضا؛ فإنه قال: "أتيت عبد الله بن عمرو؛ فتناولت صحيفة تحت مفرشه فمنعني، قلت: ما كنت تمنعني شيئا! قال: هذه الصحيفة الصادقة، فيها ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ليس بيني وبينه أحد، إذا سلمت هذه وكتاب الله والوهط فلا أبالي علام كانت عليه الدنيا! والوهط أرض كان يزرعها"5.

ولقد شاعت في عصر الصابة صحيفة خطيرة الشأن أمر النبي عليه السلام نفسه بكتابتها في السنة الأولى للهجرة، فكانت أشبه (بدستور) للدولة الفتية الناشئة آنذاك في المدينة، وهي الصحيفة التي دون فيها كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حقوق المهاجرين والأنصار واليهود، ولفظ الكتابة صريح في مطلعها: "هذا كتاب محمد النبي رسول الله بين المؤمنين والمسلمين من قريش وأهل يثرب ومن تبعهم فلحق بهم وجاهد معهم أنهم أمة واحدة من دون الناس"6. وقد تكررت فيها عبارة أهل هذه الصحيفة وغير ذلك من الصحف.

--------------------------------------------

1 جامع العلم لابن عبد البر ج1 ص84 باب الرخصة في كتابة العلم.

2 تهذيب التهذيب ج8، والمحدث الفاصل نقل الدكتور صبحي الصالحي.

3 جامع بيان العلم، وأسد الغابة لابن الأثير ترجمة عبد الله بن عمرو ح3 ص350 ط الشعب.

4 أسد الغابة - المرجع السابق.

5 أسد الغابة - المرجع السابق.

6 راجع الوثائق السياسية في العهد النبوي للدكتور محمد حميدة رقم 1.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিখিত সহিফাসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো ‘সহিফা আস-সাদিকাহ’, যা এর সংকলক আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনে লিখেছিলেন। ইবনুল আসিরের বর্ণনা মতে এতে এক হাজার হাদিস অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর বিষয়বস্তু Musnad Ahmad bin Hanbal-এ সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি এটিকে তাঁর (সা.) যুগে হাদিস সংকলনের প্রমাণবাহী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أصدق) ঐতিহাসিক দলিল (وثيقة) হিসেবে অভিহিত করা যথাযথ হবে। এই দলিলটি ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমরের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফতোয়া বা ব্যবস্থা এবং তাঁর বিজ্ঞোচিত নির্দেশনার এক অনিবার্য ফলাফল। আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে লেখার ব্যাপারে অনুমতি চেয়ে জিজ্ঞেস করলেন: "আমি যা কিছু শুনি, সবই কি লিখব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: "তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই?" তিনি উত্তর দিলেন: "হ্যাঁ, কারণ আমি সেই অবস্থায় সত্য ছাড়া কিছুই বলি না।"

আমি পরবর্তীতে এই হাদিসটি উল্লেখ করব। আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সুস্পষ্ট ফতোয়ার পরেই আবদুল্লাহ ইবনে আমর হাদিস সংকলনে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন এবং ‘সহিফা আস-সাদিকাহ’ ছিল সেই ফতোয়ারই ফসল। আবদুল্লাহ ইবনে আমর যে এই সহিফা এবং অন্যান্য সহিফা লিখতেন, তার প্রমাণ হলো মহান সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.)-এর এই উক্তি: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ ছিল না। কারণ সে লিখে রাখত, আর আমি লিখতাম না।"৩

মুজাহিদ ইবনে জাবর (১০৩ হি.) আবদুল্লাহ ইবনে আমরের নিকট এই সহিফাটি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর এই সহিফাটির প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন এবং তাঁর অতি প্রিয়জনকেও তা স্পর্শ করতে দিতেন না। মুজাহিদ এটি আকস্মিকভাবেই দেখেছিলেন; তিনি বলেন: "আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের কাছে গেলাম এবং তাঁর বিছানার নিচ থেকে একটি সহিফা গ্রহণ করতে চাইলে তিনি আমাকে বাধা দিলেন। আমি বললাম: আপনি তো আমাকে কখনো কোনো কিছুতে বাধা দেননি! তিনি বললেন: এটি ‘সহিফা আস-সাদিকাহ’, এতে যা কিছু আছে তা আমি সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি, আমার ও তাঁর মাঝে আর কেউ ছিল না। যদি এই সহিফা, আল্লাহর কিতাব এবং ‘আল-ওয়াহাত’ (তাঁর আবাদি জমি) নিরাপদ থাকে, তবে দুনিয়াতে কী ঘটল তাতে আমার কোনো পরোয়া নেই।"৫

সাহাবীদের যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি সহিফা প্রচলিত ছিল, যা হিজরতের প্রথম বছরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি ছিল মদিনার তৎকালীন উদীয়মান রাষ্ট্রের একটি সংবিধান (دستور) স্বরূপ। এটি সেই সহিফা যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেখকগণ মুহাজির, আনসার ও ইহুদিদের অধিকারসমূহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এর প্রারম্ভেই লেখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল: "এটি আল্লাহর নবী ও রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে কুরাইশ ও ইয়াসরিবের মুমিন ও মুসলিম এবং যারা তাদের অনুসারী হয়ে তাদের সাথে মিলিত হয়েছে ও জিহাদ করেছে, তাদের মধ্যকার একটি লিখিত দলিল (كتاب)। তারা অন্য সব মানুষ থেকে আলাদা একটি একক উম্মাহ।"৬ এই দলিলে ‘এই সহিফার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ’ শব্দগুচ্ছটি এবং অন্যান্য সহিফার উল্লেখ বারবার এসেছে।

--------------------------------------------

১ জামিউল ইলম - ইবনে আবদিল বার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৪, ‘ইলম লিপিবদ্ধ করার অনুমতি’ অধ্যায়।

২ তাহজিবুত তাহজিব, খণ্ড ৮ এবং আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল - ড. সুবহি আল-সালেহ বর্ণিত।

৩ জামিউ বায়ানিল ইলম এবং ইবনুল আসিরের আসাদুল গাবাহ - আবদুল্লাহ ইবনে আমরের জীবনী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৫০, আশ-শা'ব সংস্করণ।

৪ আসাদুল গাবাহ - পূর্বোক্ত সূত্র।

৫ আসাদুল গাবাহ - পূর্বোক্ত সূত্র।

৬ দেখুন: আল-ওয়াসায়িক আস-সিয়াসিয়াহ ফি আল-আহদ আন-নববী - ড. মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ, নম্বর ১।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌عصر الخلفاء الراشدين:

سار الأمر على ما تقدم، حتى إذا كان عهد الخلفاء الراشدين لم يتغير الحال، فقد كانت آراء هؤلاء الخلفاء في التشدد في الرواية والتورع عن الكتابة امتدادا لآراء إخوانهم الصحابة في عصر الرسول صلى الله عليه وسلم! فهذا أبو بكر يجمع بعض الأحاديث ثم يحرقها، يقول الذهبي بسنده: حدثني القاسم بن محمد قالت عائشة: جمع أبي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكانت خمسمائة حديث فبات ليلته يتقلب كثيرا، قالت فغمني فقلت: أتتقلب بشكوى أو لشيء يقلقك؟ فلما أصبح قال: أي بنية! هلمي الأحاديث التي عندك، فجئته بها فدعا بنار فحرقها، فقلت: لِم أحرقتها؟ قال: خشيت أن أموت وهي عندي فيكون فيها أحاديث عن رجل قد ائتمنته ووثقت، ولم يكن كما حدثني؛ فأكون قد نقلت ذاك فهذا لا يصح". اهـ 1.

وكان أبو بكر أول من احتاط في قبول الأخبار؛ فروى ابن شهاب عن قبيصة بن ذويب أن الجدة جاءت إلى أبي بكر تلتمس أن تورث، فقال:" ما أجد لك في كتاب الله شيئا، وما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر لك شيئا، ثم سأل الناس فقام المغيرة فقال: حضرت رسول الله عليه السلام يعطيها السدس، فقال له: هل معك أحد؟ فشهد محمد بن مسلمة بمثل ذلك، فأنفذه لها أبو بكر.

ومن مراسيل ابن أبي مليكة: أن الصديق جمع الناس بعد وفاة نبيهم؟ فقال: (إنكم تحدثون عن رسول الله أحاديث تختلفون فيها والناس بعدكم أشد اختلافا؛ فلا تحدثوا عن رسول الله شيئا، فمن سألكم فقولوا بيننا وبينكم كتاب الله؛ فاستحلوا حلاله وحرموا حرامه) . فهذا المرسل يدلك أن مراد الصديق التثبت في الأخبار والتحري، لا سداد باب الرواية، ألا تراه لما نزل به أمر الجدة ولم يجده في الكتاب كيف سأل عنه في السنة، فلما أخبره الثقة ما اكتفى حتى استظهر الثقة بثقة آخر، ولم يقل حسبنا كتاب الله كما تقول الخوارج". اهـ.

وهذا عمر بن الخطاب لا يلبث أن يعدل عن كتابه السنن بعد أن عزم على تدوينها.

عن عروة بن الزبير أن عمر بن الخطاب أراد أن يكتب السنن، فاستفتى أصحاب الني صلى الله عليه وسلم في ذلك، فأشاروا عليه بأن يكتبنها، فطفق عمر يستخير الله فيها شهرا، ثم أصبح يوما وقد عزم الله له، فقال: إني كنت أريد أن أكتب السنن وإني ذكرت قوما كانوا قبلكم كتبوا كتبا فأكبوا عليها وتركوا كتاب الله، وإني والله لا أشوب كتاب الله بشيء أبدا2.

وفي رواية أخرى: أن عمر بن الخطاب أراد أن يكتب السنة، ثم بدا له أن يكتبها ثم كتب في الأمصار: من كان عنده شئ فليمحه3.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ جـ اص5.

2 انظر جامع بيان العلم لابن عبد البرجـ1 ص 77 باب كراهية كتابة العلم وتخليده في مصحف.

3 تذكرة الحفاظ جـ 1ص 7 ط 3.
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ:

বিষয়টি পূর্বের ন্যায় চলতে থাকে, এমনকি খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন এবং তা লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে সংযম প্রদর্শনে এই খলিফাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাদের অন্য সাহাবী ভাইদের দৃষ্টিভঙ্গিরই সম্প্রসারণ। এই যে আবু বকর (রা.), তিনি কিছু হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। আল-যাহাবি তার সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেন: কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আয়েশা (রা.) বলেন: আমার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছিলেন, যার সংখ্যা ছিল পাঁচশত। (এক রাতে) তিনি সারা রাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে থাকেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি এতে চিন্তিত হয়ে পড়লাম এবং জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি কোনো শারীরিক কষ্টের কারণে নাকি অন্য কোনো দুশ্চিন্তায় এভাবে এপাশ-ওপাশ করছেন? যখন ভোর হলো, তিনি বললেন: হে বৎসা! তোমার কাছে যে হাদিসগুলো আছে সেগুলো নিয়ে এসো। আমি সেগুলো নিয়ে এলাম, এরপর তিনি আগুন আনিয়ে তা পুড়িয়ে দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনি এগুলো কেন পুড়িয়ে দিলেন? তিনি বললেন: আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, আমি মারা যাব এবং এগুলো আমার কাছে থেকে যাবে, অথচ এতে এমন সব হাদিস থাকতে পারে যা এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যাকে আমি নির্ভরযোগ্য (ائتمنته) মনে করেছিলাম এবং বিশ্বাস (وثقت) করেছিলাম, কিন্তু সে প্রকৃতপক্ষে তেমন ছিল না যেমনটি সে আমার কাছে বর্ণনা করেছিল; ফলে আমি সেই ভুল বর্ণনাটিই পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়ী থাকব, আর এটি সঠিক নয়। (এখানে শেষ)। ১।

আবু বকর (রা.)-ই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি সংবাদ (الأخبار) গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। ইবনে শিহাব কাবিসা ইবনে যুওয়াইব থেকে বর্ণনা করেন যে, একজন দাদী আবু বকর (রা.)-এর কাছে এসে তার মিরাসের অংশ দাবি করেন। তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই পাচ্ছি না, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।" এরপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন। তখন মুগীরা (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন।" আবু বকর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার সাথে আর কেউ কি আছেন?" তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ (রা.)-ও অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। এরপর আবু বকর (রা.) তার জন্য সেই বিধান কার্যকর করলেন।

ইবনে আবি মুলাইকার বিচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট বর্ণনা (مراسيل) থেকে পাওয়া যায়: সিদ্দীক (রা.) নবী কারিমের ওফাতের পর লোকজনকে একত্রিত করলেন এবং বললেন: "আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যে বিষয়ে আপনারা নিজেরাই মতভেদ করেন, আর আপনাদের পরবর্তী লোকেরা আরও বেশি মতভেদে লিপ্ত হবে। অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কিছু বর্ণনা করবেন না। যদি কেউ আপনাদের কিছু জিজ্ঞেস করে, তবে বলবেন: আমাদের ও আপনাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রয়েছে; সুতরাং এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করুন এবং এর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করুন।" এই বিচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট বর্ণনা (المرسل) আপনাকে নির্দেশ করে যে, সিদ্দীক (রা.)-এর উদ্দেশ্য ছিল সংবাদ (الأخبار) যাচাই (التثبت) ও অনুসন্ধান করা, বর্ণনার পথ রুদ্ধ করা নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন দাদীর মিরাসের বিষয়টি তাঁর সামনে এল এবং কিতাবুল্লাহতে তিনি তার সমাধান পেলেন না, তখন তিনি কীভাবে সুন্নাহর মাঝে তা অনুসন্ধান করলেন? অতঃপর যখন একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তি তাকে খবর দিলেন, তখন তিনি কেবল তাতেই সন্তুষ্ট হননি বরং সেই নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তির বর্ণনার সত্যতা অন্য একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির মাধ্যমে সুদৃঢ় করতে চাইলেন। তিনি খারেজীদের মতো এ কথা বলেননি যে—'আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট'। (এখানে শেষ)।

আর এই যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), তিনি সুন্নাহসমূহ সংকলনের সংকল্প করার পর তা থেকে বিরত থাকতে দ্বিধা করেননি।

উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সুন্নাহসমূহ লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। তিনি এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। তারা তাঁকে তা লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দিলেন। উমর (রা.) এক মাস ধরে এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করতে থাকলেন। এরপর একদিন সকালে আল্লাহ তাঁর মনে এই সংকল্প সুদৃঢ় করে দিলেন। তিনি বললেন: "আমি সুন্নাহসমূহ লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার পূর্ববর্তী এক জাতির কথা মনে পড়ে গেল যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপরই ঝুঁকে পড়েছিল আর আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কখনোই কোনো কিছুর মিশ্রণ ঘটাব না।" ২।

অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, পরে তাঁর কাছে এটি না করার সিদ্ধান্তই সমীচীন মনে হলো। এরপর তিনি বিভিন্ন জনপদে লিখে পাঠালেন: "যার কাছে (সুন্নাহর) কোনো কিছু লিখিত আছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।" ৩।

--------------------------------------------

১. তাযকিরাতুল হুফফায, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫।

২. দেখুন: ইবনে আবদিল বার রচিত জামি' বয়ানিল ইলম, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৭; অনুচ্ছেদ: ইলম লিপিবদ্ধ করা এবং মুসহাফে তা চিরস্থায়ী করার অপছন্দনীয়তা।

৩. তাযকিরাতুল হুফফায, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭, ৩য় মুদ্রণ।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
والخلفاء الراشدون لم يتشددوا في أمر الكتابة وحدها، بل بلغ بهم الورع أن راحوا يتشددون حتى في الرواية.

وعمر بن الخطاب هو الذي سنّ للمحدثين التثبت في النقل، وربما كان يتوقف في خبر الواحد إذا ارتاب؛ فروى الجريري (سعيد ابن إياس) عن أبي نضرة عن أبي سعيد أن أبا موسى سلّم على عمر من وراء الباب ثلاث مرات، فلم يؤذن له فرجع، فأرسل عمر في أثره، فقال: لِم رجعت؟ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إذا سلم أحدكم ثلاثا فلم يجب فليرجع"، قال: لتأتيني على ذلك ببينة أو لأفعلن بك! فجاءنا أبو موسى منتقعا لونه ونحن جلوس فقلنا: ما شأنك، فأخبرنا وقال: فهل سمع أحد منكم؟ فقلنا: نعم كلنا سمعه، فأرسلوا معه رجلا منهم حتى أتى عمر فأخبره.

أحب عمر أن يتأكد عنده خبر أبي موسى بقول صاحب آخر؟ ففي هذا دليل على أن الخير إذا رواه ثقتان كان أقوى وأرجح مما انفرد به واحد، وفي ذلك حض على تكثير طرق الحديث لكي يرتقي عن درجة الظن إلى درجة العلم؛ إذ الواحد يجوز عليه النسيان والوهم ولا يكاد يجوز ذلك على ثقتين لم يخالفهما أحد، وقد كان عمر من وجله أن يخطئ الصاحب على رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرهم أن يقلوا الرواية عن نبيهم؛ لئلا يتشاغل الناس بالأحاديث عن حفظ القرآن اهـ1.

أقول: ومن هنا بدأ علم أصول الحديث أو مصطلح الحديث، وأنه نشأ مع الرواية فكانا توأمين ولدا وعاشا معا.

فإذا رأينا كلا من أبي بكر وعمر - بعد هذا - يكتبان الحديث أو ينصحان بكتابته i، وأن كثيرا من كبار الصحابة في عصرهما كانوا كذلك ينصحون بالكتابة ويأمرون بها أمرا صريحا، أدركنا علة ذلك التشدد الذي وصفناه قبل، وثبت لنا - كما قال إسماعيل بن إبراهيم بن علية البصري (200 هـ) أن الصحابة إنما كرهوا الكتابة لأن من كان قبلكم اتخذوا الكتب؛ فأعجبوا بها؛ فكانوا يكرهون أن يشتغلوا عن القرآن2.

وكما قال الخطيب البغدادي: "إن كراهة من كره الكتابة من الصدر الأول: إنما هي لئلا يضاهي بكتاب الله تعالى غيره، أو يشتغل عن القرآن بسواه"3

رأي آخر:

يقول الشيخ أبو بكر بن عقال الصقلي في فوائده على ما رواه ابن بشكوال: "إنما لم يجمع الصحابة سنن رسول الله صار الله عليه وسلم في مصحف كما جمعوا القرآن؛ لأن السنن انتشرت وخفي محفوظها من

--------------------------------------------

1 انظر الحديث ومصطلحه.

2 تذكرة الحفاظ

3 انظر علم الحديث ومصطلحه للدكتور صبحي.
খোলাফায়ে রাশেদিন কেবল লেখার বিষয়েই কঠোরতা অবলম্বন করেননি, বরং তাদের পরহেজগারী এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তারা বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি শুরু করেছিলেন।

আর উমর ইবনুল খাত্তাবই হাদিস বিশারদদের জন্য বর্ণনার সত্যতা যাচাইয়ের (التثبت) নীতি প্রবর্তন করেন, এবং তিনি সম্ভবত একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) ক্ষেত্রে বিরত থাকতেন যখন তিনি সন্দেহ পোষণ করতেন। আল-জুরারি (সাঈদ ইবনে ইয়াস) আবু নাদারা হতে এবং তিনি আবু সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা দরজার ওপাশ থেকে উমরকে তিনবার সালাম দিলেন, কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। তখন তিনি ফিরে গেলেন। উমর তার পেছনে লোক পাঠালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: কেন ফিরে গেলে? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যখন তোমাদের কেউ তিনবার সালাম দেয় এবং উত্তর না পায়, তবে সে যেন ফিরে যায়।" উমর বললেন: তোমাকে এর ওপর প্রমাণ (بينة) পেশ করতে হবে নতুবা আমি তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব! আবু মুসা বিমর্ষ মুখে আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা বসা ছিলাম। আমরা বললাম: তোমার কী হয়েছে? তিনি আমাদের খবরটি জানালেন এবং বললেন: আপনাদের কেউ কি এটি শুনেছেন? আমরা বললাম: হ্যাঁ, আমরা সবাই এটি শুনেছি। এরপর তারা তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে তার সাথে পাঠালেন এবং তিনি উমরের কাছে গিয়ে তাকে অবহিত করলেন।

উমর কি অন্য একজন সাথীর বক্তব্যের মাধ্যমে আবু মুসার সংবাদটি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন? এতে এ কথার প্রমাণ (دليل) রয়েছে যে, কোনো সংবাদ যদি দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তবে তা একজন একক ব্যক্তির বর্ণনার তুলনায় অধিক শক্তিশালী ও অগ্রাধিকারযোগ্য (أرجح) হয়। এর মধ্যে হাদিসের সূত্রের সংখ্যা (طرق الحديث) বাড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহ রয়েছে, যাতে এটি ধারণার (الظن) পর্যায় থেকে নিশ্চিত জ্ঞানের (العلم) পর্যায়ে উন্নীত হয়; কেননা একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিস্মৃতি ও বিভ্রম (الوهم) ঘটা সম্ভব, কিন্তু দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা ঘটা প্রায় অসম্ভব যখন কেউ তাদের বিরোধিতা না করে। উমর এই ভয়ে থাকতেন যে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কোনো ভুল আরোপ করতে পারেন, তাই তিনি তাদের নবীজির থেকে বর্ণনা (الرواية) কমিয়ে দিতে বলতেন; যাতে মানুষ কুরআনের হিফজ বাদ দিয়ে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে। ১

আমি বলি: এখান থেকেই হাদিসের মূলনীতি শাস্ত্র (علم أصول الحديث) বা হাদিসের পরিভাষা শাস্ত্রের (مصطلح الحديث) সূচনা হয়েছে, এবং এটি বর্ণনার (الرواية) সাথেই উদ্ভূত হয়েছে। সুতরাং এ দুটি যমজ সন্তানের মতো যারা একসাথে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অতিবাহিত হয়েছে।

এর পর যদি আমরা দেখি যে আবু বকর এবং উমর উভয়েই হাদিস লিখছেন অথবা তা লেখার পরামর্শ দিচ্ছেন, এবং তাদের যুগের অনেক বড় বড় সাহাবীও অনুরূপভাবে হাদিস লেখার পরামর্শ দিতেন এবং স্পষ্টভাবে এর আদেশ দিতেন, তবে আমরা আগে যে কঠোরতার বর্ণনা দিয়েছি তার কারণ (علة) বুঝতে পারি। আর আমাদের কাছে এটি প্রমাণিত হয়—যেমনটি ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উলইয়াহ আল-বসরি (২০০ হিজরি) বলেছেন—সাহাবীগণ লেখালেখিকে অপছন্দ করেছিলেন কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা কিতাবসমূহ গ্রহণ করেছিল এবং তাতে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল; তাই তারা কুরআনের বদলে অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে যাওয়াকে অপছন্দ করতেন।২

যেমনটি খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: "প্রথম যুগের যারা লেখালেখিকে অপছন্দ করতেন তাদের অপছন্দের কারণ ছিল যাতে আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কিছুর সাদৃশ্য তৈরি না হয়, অথবা কুরআন বাদ দিয়ে অন্য কিছুতে মগ্ন না হয়।"৩

ভিন্ন মত:

শেখ আবু বকর ইবনে আক্কাল আস-সিকিল্লি ইবনে বাশকুয়ালের বর্ণিত বর্ণনার ওপর তার ফাওয়ায়েদ-এ বলেন: "সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহসমূহ (السنن) কুরআনের মতো এক কিতাবে (مصحف) সংকলন করেননি কারণ সুন্নাহসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এর সংরক্ষিত অংশগুলো অনেকের কাছে অপ্রকাশিত ছিল..."

--------------------------------------------

১ দেখুন: হাদিস ও তার পরিভাষা।

২ তাজকিরাতুল হুফফাজ।

৩ দেখুন: ড. সুবহির ইলমুল হাদিস ও তার পরিভাষা।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪০)
مدخولها، فوكل أهلها في نقلها إلى حفظهم، ولم يوكلوا من القرآن إلى مثل ذلك، وألفاظ السنن غير محروسة من الزيادة والنقصان كما حرص الله كتابه ببديع النظم الذي أعجز الخلق عن الإتيان بمثله؛ فكانوا في الذي جمعوه من القرآن مجتمعين، وفي حروف السنن ونقل نظم الكلام نصا مختلفين، فلم يصح تدوين ما اختلفوا فيه، ولو طمعوا في ضبط السنن كما اقتدوا على ضبط القرآن لما قصوا في جمعها، ولكنهم خافوا إن دونوا ما لا يتنازعون فيه أن يجعل العمدة في القول على المدوّن، فيكذبوا ما خرج عن الديوان فتبطل سنن كثيرة، فوسعوا طريق الطلب للأمة فاعتنوا بجمعها على قدر عناية كل واحد في نفسه، فصارت السنن عندهم مضبوطات، فمنها ما أصيب في النقل حقيقة الألفاظ المحفوطة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي السنن السالمة من العلل، ومنها ما حفظ معناها ونسي لفظها، ومنها ما اختلفت الروايات في نقل ألفاظها، واختلف أيضا رواتها في الثقة والعدالة، وهي تلك السنن التي تدخلها العلل فاعتبر صحيحها من سقيمها أهل المعرفة بها على أصول صحيحة وأركان وثيقة لا يخلص منها طعن طعان ولا يوهنها كيد كائد". انتهى1.

--------------------------------------------

1 انظر شروط الأئمة الخمسة ص48.
এর বিষয়বস্তু এমন ছিল যে, এর বাহকগণ তা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তাদের মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর করেছিলেন; কুরআনের ক্ষেত্রে তেমনটি করা হয়নি। সুন্নাহর শব্দাবলী বৃদ্ধি বা হ্রাস থেকে সেভাবে সংরক্ষিত ছিল না, যেভাবে আল্লাহ তাঁর কিতাবকে এক অনন্য রচনাশৈলীর মাধ্যমে রক্ষা করেছেন, যা সৃষ্টিজগতকে এর সমতুল্য কিছু আনতে অক্ষম করে দিয়েছে। তাই তারা যা কুরআন থেকে সংগ্রহ করেছেন সে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও, সুন্নাহর শব্দাবলী এবং এর ভাষাগত বিন্যাস বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। ফলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিলেন তা লিপিবদ্ধ করা সঠিক ছিল না। তারা যদি সুন্নাহর সংরক্ষণ (ضبط) নিশ্চিত করতে আগ্রহী হতেন যেমনটি তারা কুরআনের সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে সক্ষম হয়েছিলেন, তবে তারা তা সংগ্রহে কোনো ত্রুটি করতেন না। কিন্তু তারা ভয় পাচ্ছিলেন যে, যদি তারা সেই বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করেন যেগুলোতে কোনো বিবাদ নেই, তবে মানুষ কেবল সেই সংকলিত বিষয়ের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে সংকলনের বাইরে যা থাকবে তাকে তারা অস্বীকার করবে, যার দরুন অনেক সুন্নাহ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই তারা উম্মতের জন্য জ্ঞান অন্বেষণের পথ প্রশস্ত রেখেছেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ সাধ্যমতো তা সংগ্রহে সচেষ্ট হয়েছেন। এর ফলে সুন্নাহসমূহ তাদের নিকট সুসংরক্ষিত (مضبوطات) হয়েছে। এর মধ্যে কিছু সুন্নাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মুখস্থ করা প্রকৃত শব্দাবলী সংরক্ষিত হয়েছে, আর এগুলোই হলো ত্রুটি (العلل) মুক্ত সুন্নাহ। আবার কিছু ক্ষেত্রে কেবল মর্মার্থ সংরক্ষিত হয়েছে এবং শব্দাবলী বিস্মৃত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দ বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাসমূহ (الروايات) ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। তদুপরি, বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) এবং ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) বিষয়েও মতভেদ তৈরি হয়েছে। আর এরাই হলো সেই সুন্নাহ যেগুলোর মধ্যে ত্রুটি (العلل) প্রবেশ করে। অতঃপর এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ সঠিক মূলনীতিসমূহ (أصول) এবং সুদৃঢ় ভিত্তির আলোকে এর সহিহ (صحيح) বর্ণনাকে দুর্বল (سقيم) বর্ণনা থেকে পৃথক করেছেন, যা কোনো সমালোচকের সমালোচনা দ্বারা ক্ষুণ্ণ হয় না এবং কোনো ষড়যন্ত্রকারীর চক্রান্ত দ্বারাও দুর্বল হয় না। সমাপ্ত।১

--------------------------------------------

১ দেখুন: শুরুতুল আইম্মাতিল খামসাহ, পৃষ্ঠা: ৪৮।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌حول النهي والإباحة:

اختلف السلف من الصحابة والتابعين في الكتابة، فكرهها طائفة منهم لحديث أبي سعيد الخدري قال: "لا تكتبوا عني شيئا إلا القرآن، ومن كتب عني شيئا غير القرآن فليمحه" 2.

قال القاضي عياض:" كان بين السلف من الصحابة والتابعين اختلاف كثير في كتابة العلم، فكرهها كثيرون منهم، وأجازها أكثرهم، ثم أجمع المسلمون على جوازها وزال الخلاف، ومن مليح قولهم في ذلك: يعيبون علينا أن نكتب العلم وندوّنه وقد قال الله عز وجل: {قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لا يَضِلُّ رَبِّي وَلا يَنْسَى} 3.

وجاء في الإباحة والنهي حديثان؛ فحديث النهي وهو ما رواه مسلم عن أبي سعيد: "لا تكتبوا عني الحديث"، وحديث الإباحة: "اكتبوا لأبي شاه" متفق عليه.

روى أبو داود بسنده عن أبي سلمة بن عبد الرحمن قال: حدثني أبو هريرة قال: لما فتحت مكة قام النبي صلى الله عليه وسلم، فذكر الخطبة خطبة النبي قال: فقام رجل من أهل اليمن يقال له أبو شاه فقال: يا رسول الله! اكتبوا لي فقال: "اكتبوا لأبي شاه".

وبيّن في الرواية الثانية: أنها الخطبة التي سمعها يومئذ منه4.

--------------------------------------------

2 انظر صحيح مسلم بشرح النووي ج18 ص129 ط المصرية.

3 سورة طه - آية 52.

4 انظر سنن أبي داود - كتاب العلم - ج2 ص286.
নিষেধাজ্ঞা (نهي) ও অনুমতি (إباحة) প্রসঙ্গে:

(হাদিস) লিখে রাখার বিষয়ে সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীগণের (تابعين) মধ্য থেকে সালাফ (سلف) গণের মধ্যে মতভেদ ছিল। তাঁদের একটি দল একে অপছন্দ (كره) করেছেন; আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত আমার পক্ষ থেকে অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।" ২।

কাযী আইয়ায বলেন: "ইলম (علم) লিখে রাখার ব্যাপারে সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীগণের (تابعين) মধ্যবর্তী সালাফ (سلف) গণের মাঝে অনেক মতভেদ ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেই একে অপছন্দ (كره) করেছেন, তবে তাঁদের অধিকাংশ একে অনুমতি (أجاز) দিয়েছেন। পরবর্তীতে মুসলিমগণ এর বৈধতার (جواز) ওপর ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেন এবং মতভেদ দূরীভূত হয়। এ প্রসঙ্গে তাঁদের একটি চমৎকার উক্তি হলো: তারা আমাদের সমালোচনা করে যে আমরা ইলম (علم) লিখি এবং তা সংকলন করি, অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তিনি বললেন, এর জ্ঞান আমার রবের কাছে কিতাবে সংরক্ষিত আছে; আমার রব ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না} ৩।"

অনুমতি (إباحة) ও নিষেধাজ্ঞা (نهي) প্রসঙ্গে দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে; নিষেধাজ্ঞার (نهي) হাদিসটি ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা আমার থেকে হাদিস লিখো না।" আর অনুমতির (إباحة) হাদিসটি হলো: "তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও।" এটি ঐক্যমত্যপূর্ণ (متفق عليه)।

আবু দাউদ তাঁর সনদ (سند) সহকারে আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মক্কা বিজয় হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন—অতঃপর তিনি নবীর খুতবা (خطبة) উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন: তখন ইয়েমেনের অধিবাসীদের মধ্য থেকে আবু শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য লিখে দিন। তখন তিনি বললেন: "তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও।"

দ্বিতীয় বর্ণনায় (رواية) স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি সেই খুতবা (خطبة) ছিল যা তিনি সেদিন তাঁর থেকে শুনেছিলেন। ৪।

--------------------------------------------

২ দেখুন: সহিহ মুসলিম বিশরাহ আন-নববী, ১৮শ খণ্ড, ১২৯ পৃষ্ঠা, মিশরীয় সংস্করণ।

৩ সূরা ত্বহা - আয়াত ৫২।

৪ দেখুন: সুনান আবু দাউদ - কিতাবুল ইলম - ২য় খণ্ড, ২৮৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪১)
ورواه بن عبد البر بمثله1.

وروى أبو داود بسنده عن عبد الله بن عمرو، قال: كنت أكتب كل شئ أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنهتني قريش وقالوا: أتكتب كل شيء تسمعه ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم في الغضب والرضا، فأمسكت عن الكتاب، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فأومأ بأصبعه إلى فيه فقال: "أكتب فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حق" 2.

وقد تقدم حديث أبي هريرة "ليس أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أكثر حديثا عنه مني إلا ما كان من عبد الله بن عمرو…الحديث3.

وقد اختلف في الجمع بينها وبين حديث أبي سعيد السابق، فقيل هو في حق من يوثق بحفظه ويخاف اتكاله على الكتابة إذا كتب، ويحمل الأحاديث الواردة بالإباحة على من لا يوثق بحفظه كحديث "اكتبوا لأبي شاه"، وحديث صحيفة علي رضي الله عنه4، وحديث كتاب عمرو بن حزم الذي فيه الفرائض والسنن والديات، وحديث كتاب الصدقة ونصاب الزكاة الذي بعث به أبو بكر رضي الله عنه أنسا حين وجهه إلى البحرين، وحديث أبي هريرة أن ابن عمرو ابن العاص كان يكتب ولا أكتب.

وقيل إن حديث النهي منسوخ بهذه الأحاديث، وكان النهي حين خيف اختلاطه بالقرآن فلما أمن ذلك أذن في الكتابة، وقيل: إنما نهى عن كتابة الحديث مع القرآن في صحيفة واحدة لئلا يختلط فيشتبه على القارئ5؛ لأنهم كانوا يسمعون تأويل الآية فربما كتبوه معها فنهوا عن ذلك لخوف الاشتباه، وقيل: النهي خاص بوقت نزول القرآن خشية التباسه، والإذن في غيره6.

قال ابن القيم:" قد صحّ عن النبي صلى الله عليه وسلم النهي عن الكتابة والإذن فيها، والإذن متأخر فيكون ناسخا لحديث النهي، وقد صحّ عن النبي أنه قال لهم في مرض موته: " إئتوني اللوح والدوار والكتف لأكتب لكم كتابا لا تضلوا بعده أبدا" وهذا كتابة كلامه بإذنه" اهـ7.

وقد قال ابن الصلاح: "ثم إنه زال ذلك الخلاف، وأجمع المسلمون على تسويغ ذلك وإباحته، ولولا تدوينه في الكتب لدرس في الأعصر الآخرة". ولقد صدق رحمه الله8.

--------------------------------------------

1 انظر جامع بيان العلم وفضله جـ1 ص84 باب الرخصة في كتاب العلم

2 انظر سنن أبي داود جـ2 ص 286، وأبو شاه: بالهاء الأصلية وشاه لفظ فارسي معناه الملك، قيل لفظه بالهاء وقفا ووصلا وقيل بنون وصلا كما في الإصابة.

3 فتح الباري كتاب العلم باب كتاب العلم ص 217وانظر بيان العلم لابن عبد البرجـ1ص84.

4 انظر فتح الباري كتاب العلم باب كتاب العلم جـ 1ص 214

5 ينظر شرح النووي على صحيح مسلم جـ18 كتاب الزهد ص 129.

6 ينظر تدريب الراوي.

7 انظر مختصر المنذري جـ5 ص 245 حديث 3497 باب رواية حديث أهل الكتاب.

8 مقدمة ابن الصلاح ص 171، النوع الخامس والعشرون في كتابه الحديث.
ইবনে আবদিল বার এটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।১

আবু দাউদ তার সনদ (سند)-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু শুনতাম তা মুখস্থ রাখার সংকল্পে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করল এবং তারা বলল: "তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা সবকিছুই লিখবে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, তিনি ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন।" ফলে আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি তার আঙুল দিয়ে নিজের পবিত্র মুখের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: "তুমি লেখো। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ মুখ থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।" ২

ইতিপূর্বে আবু হুরায়রা-এর সেই হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন আমর ব্যতীত আর কারো কাছে আমার চেয়ে অধিক হাদিস নেই..." হাদিস।৩

এই হাদিস এবং পূর্বে বর্ণিত আবু সাঈদ-এর হাদিসের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞাটি তাদের জন্য ছিল যাদের স্মৃতির ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল এবং আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে তারা লেখার ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আর অনুমতির হাদিসগুলোকে তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে যাদের স্মৃতির ওপর আস্থা ছিল না; যেমন "আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও" হাদিসটি, এবং আলী (রা.)-এর সহিফা (صحيفة) সম্পর্কিত হাদিস৪, আর আমর বিন হাযম-এর কিতাব সম্পর্কিত হাদিস যাতে ফারায়েয (فرائض), সুন্নাহ এবং দিয়াত (ديات) বর্ণিত ছিল। এছাড়াও সদকা ও জাকাতের নিসাব বিষয়ক কিতাব যা আবু বকর (রা.) আনাস (রা.)-কে বাহরাইনে পাঠানোর সময় প্রদান করেছিলেন এবং আবু হুরায়রা-এর এই সাক্ষ্য যে ইবনে আমর ইবনুল আস লিখতেন কিন্তু আমি লিখতাম না।

আবার বলা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি এই হাদিসগুলোর মাধ্যমে রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ছিল সেই সময়ের জন্য যখন এটি কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল; অতঃপর যখন সেই আশঙ্কা দূর হলো, তখন লেখার অনুমতি প্রদান করা হয়। আরও বলা হয়েছে: কুরআনের সাথে একই লিপিতে হাদিস লিখতে নিষেধ করা হয়েছিল যাতে তা পাঠকের কাছে মিশ্রিত না হয়ে যায়৫; কারণ তারা আয়াতের ব্যাখ্যাও শ্রবণ করতেন এবং অনেক সময় তা আয়াতের সাথেই লিখে ফেলতেন, ফলে অস্পষ্টতা তৈরির ভয়ে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। এটাও বলা হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা ছিল শুধুমাত্র কুরআন নাজিল হওয়ার সময়ের জন্য যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, আর অন্য সময়ে অনুমতি ছিল।৬

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস লেখার নিষেধাজ্ঞা এবং অনুমতি উভয়টিই সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত। অনুমতির বিষয়টি পরবর্তী সময়ের, ফলে তা নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসের জন্য রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন বলেছিলেন: 'তোমরা আমার কাছে ফলক, দোয়াত ও পশুর হাড় নিয়ে এসো, যাতে আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কিতাব লিখে দিতে পারি যার পর তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না।' এটি তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর বাণী লিখে রাখারই প্রমাণ।" — সমাপ্ত।৭

ইবনুস সালাহ বলেছেন: "পরবর্তীতে সেই মতভেদ দূর হয়ে গেছে এবং মুসলিমগণ হাদিস লিখে রাখা জায়েজ ও বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। যদি গ্রন্থসমূহে হাদিস লিপিবদ্ধ করা না হতো, তবে পরবর্তী যুগে তা বিলুপ্ত হয়ে যেত।" তিনি সত্যই বলেছেন, রাহিমাহুল্লাহ।৮

--------------------------------------------

১ দেখুন: জামি বায়ান আল-ইলম ওয়া ফাদলিহি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৪, ইলম লিপিবদ্ধ করার অনুমতি সংক্রান্ত অধ্যায়।

২ দেখুন: সুনান আবু দাউদ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮৬; আবু শাহ: শেষ বর্ণটি মূল 'হা'। 'শাহ' একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ বাদশাহ। বলা হয়েছে এটি ওয়াকফ ও ওয়াসল উভয় অবস্থায় 'হা' দিয়ে উচ্চারিত হয়, আবার বলা হয়েছে ওয়াসল-এর ক্ষেত্রে 'নুন' দিয়ে উচ্চারিত হয়, যেমনটি আল-ইসাবাহ গ্রন্থে রয়েছে।

৩ ফাতহুল বারি, কিতাবুল ইলম, হাদিস লিপিবদ্ধকরণ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ২১৭; এবং দেখুন: ইবনে আবদিল বার-এর বায়ান আল-ইলম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৪।

৪ দেখুন: ফাতহুল বারি, কিতাবুল ইলম, হাদিস লিপিবদ্ধকরণ অধ্যায়, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৪।

৫ দেখুন: সহিহ মুসলিম-এর ওপর ইমাম নববীর শারহ, খণ্ড ১৮, কিতাবুজ জুহদ, পৃষ্ঠা ১২৯।

৬ দেখুন: তাদরীবুর রাবি।

৭ দেখুন: মুখতাসার আল-মুনযিরি, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৪৫, হাদিস ৩৪৯৭, আহলে কিতাবদের হাদিস বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়।

৮ মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা ১৭১, ২৫তম প্রকার: হাদিস লিখন পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌عصر التابعين وتابعيهم:

وإذا انتقلنا إلى عصر التابعين هالتنا تلك الروايات المتضافرة على كراهة كبار التابعين وأوساطهم وأواخرهم للكتابة، ثم لا نلبث أن تجد كثيرا منهم يتساهلون في أمرها، يرخصون بها أو يحضون عليها، ونجدها أصبحت أمرا رسميا في عصر أوساطهم.

والأسباب التي حملت الخلفاء الراشدين على الكراهة على التدوين، هي التي حملت التابعين عليها، فإذا بطلت أسباب هذه الكراهة قال الجميع قولا واحدا، وأخذوا به وأجمعوا عليه، وهو جواز كتابة العلم، بل وإيثار تقييده التشجيع عليه.

هنا جاء دور الخليفة الورع التقي عمر بن عبد العزيز، حين أمر رسميا بالشروع في تدوين الحديث، إنما استند إلى آراء العلماء، ولعله لم يقدم على ذلك إلا بعد أن استشارهم أو اطمأن إلى تأييد كثرتهم، وإن كانت الأخبار المتضافرة توحي بتفرده في هذه الفكرة؛ لما له في القلوب من منزلة ولا سيما بين معاصريه الواثقين بتقواه وورعه.

ويتضح من جملة الأخبار المروية في هذا الشأن أن خوف عمر عبد العزيز من دروس العلم وذهاب أهله هو الذي حمله على الأمر بالتدوين.
তাবিঈ (تابعين) এবং তাবি-তাবিঈদের (تابعيهم) যুগ:

আমরা যখন তাবিঈদের (تابعين) যুগে প্রবেশ করি, তখন জ্যেষ্ঠ, মধ্যম ও কনিষ্ঠ স্তরের তাবিঈদের (تابعين) পক্ষ থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করার প্রতি অনীহা প্রকাশ পাওয়া বর্ণনাসমূহের (روايات) আধিক্য আমাদের বিস্মিত করে। তবে শীঘ্রই আমরা দেখতে পাই যে, তাদের মধ্যে অনেকেই এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করছেন, এর অনুমতি দিচ্ছেন কিংবা উৎসাহিত করছেন এবং মধ্যবর্তী স্তরের তাবিঈদের (تابعين) যুগেই এটি একটি দাপ্তরিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

খুলাফায়ে রাশেদিনকে সংকলনের (تدوين) প্রতি অনীহা প্রকাশে যেসব কারণ উদ্বুদ্ধ করেছিল, তাবিঈদেরকেও (تابعين) সেই একই কারণগুলো প্রভাবিত করেছিল। অতঃপর যখন এই অনীহার কারণসমূহ বিলুপ্ত হলো, তখন সকলে একমত হলেন এবং তা গ্রহণ করে এ বিষয়ে ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করলেন যে, ইলম লিপিবদ্ধ করা কেবল বৈধই নয়, বরং একে লিখে রাখা এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করাই উত্তম।

এখানেই ধর্মভীরু ও মুত্তাকি খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের ভূমিকা সামনে আসে। তিনি যখন দাপ্তরিকভাবে হাদিস সংকলনের (تدوين) কাজ শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন তিনি আলেমদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই তা করেছিলেন। সম্ভবত তিনি তাদের সাথে পরামর্শ করার পর অথবা তাদের অধিকাংশের সমর্থনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন; যদিও বিভিন্ন সংবাদ (أخبار) থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই চিন্তাধারায় তিনি একক ছিলেন। মানুষের হৃদয়ে, বিশেষ করে সমসাময়িকদের কাছে তাঁর তাকওয়া ও আল্লাহভীতির প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কারণে তাঁর উচ্চ মর্যাদা থাকায় এটি সম্ভব হয়েছিল।

এই বিষয়ে বর্ণিত (مروية) সংবাদসমূহের (أخبار) সামগ্রিক রূপ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইলম বিলুপ্ত হওয়া এবং আলেমদের প্রয়াণের আশঙ্কায় হাদিস সংকলনের (تدوين) নির্দেশ দিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌التدوين العام للحديث:

يقول الحافظ ابن حجر في مقدمته:" اعلم - علمني الله وإياك - أن آثار النبي صلى الله عليه وسلم، لم تكن في عصر أصحابه وكبار تبعهم مدوّنة في الجوامع ولا مرتبة لأمرين:

أحدهما: أنهم كانوا في ابتداء الحال قد نهوا عن ذلك، كما ثبت في صحيح مسلم؛ خشية أن يختلط بعض ذلك بالقرآن العظيم.

وثانيهما: لسعة حفظهم، ولأن أكثرهم كانوا لا يعرفون الكتابة".

أقول: نفي كتابة الآثار المشار إليها، ليس على إطلاقه؛ فقد وجد من كتب أن عهد الني صلى الله عليه وسلم وأقره بل طلب عليه السلام أن يكتب كتابا لأصحابه، كما تقدم.

فيحمل كلام ابن حجر على الكتابة العامة.

يقول ابن حجر: "فأول من جمع ذلك الربيع بن صبيح (توفي 160 هـ) ، وسعيد بن أبي عروبة (156هـ) وغيرهما، وكانوا يصنفون كل باب على حدة، إلى أن قام كبار أهل الطبقة الثالثة؛ فدونوا الأحكام.

فصنف الإمام مالك "الموطأ" وتوخى فيه القوي من حديث أهل الحجاز، ومزجه بأقوال الصحابة وفتاوى التابعين، ومن بعدهم (توفي 179 هـ) .
হাদিসের সাধারণ সংকলন (التدوين العام):

হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ভূমিকায় বলেন: "জেনে রেখো—আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে শিক্ষা দান করুন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্মসমূহ (آثار) তাঁর সাহাবীদের এবং প্রবীণ তাবেয়ীদের যুগে সামগ্রিক সংগ্রহগ্রন্থ (الجوامع) হিসেবে সংকলিত (مدونة) ছিল না এবং সুবিন্যস্তও (مرتبة) ছিল না, আর তা ছিল দুটি কারণে:

প্রথমত: তাঁরা সূচনালগ্নে তা থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন, যেমনটি সহিহ মুসলিম-এ প্রমাণিত হয়েছে; এই আশঙ্কায় যে পাছে তার কিছু অংশ মহান কুরআনের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত: তাঁদের মুখস্থশক্তির প্রখরতার কারণে এবং তাঁদের অধিকাংশ লিখনপদ্ধতি জানতেন না বলে।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: উল্লিখিত বাণী ও কর্মসমূহের (الآثار) লিখন অস্বীকার করার বিষয়টি নিরঙ্কুশ নয়; কেননা এমন ব্যক্তিদের পাওয়া যায় যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও লিখেছিলেন এবং তিনি তা অনুমোদন করেছিলেন, বরং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জন্য একটি লিপি লিখে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

সুতরাং ইবনে হাজারের বক্তব্যকে সাধারণ লিখনের (الكتابة العامة) ওপর প্রয়োগ করা হবে।

ইবনে হাজার বলেন: "সর্বপ্রথম যারা তা সংগ্রহ করেছিলেন তারা হলেন রবী বিন সাবিহ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি) এবং সাঈদ বিন আবি আরুবাহ (মৃত্যু ১৫৬ হিজরি) ও অন্যান্যরা। তাঁরা প্রতিটি অধ্যায় (باب) পৃথকভাবে শ্রেণীবিন্যাস (تصنيف) করতেন, যতক্ষণ না তৃতীয় স্তরের (الطبقة) প্রবীণ ব্যক্তিত্বগণ আবির্ভূত হলেন; অতঃপর তাঁরা বিধানসমূহ (الأحكام) সংকলন (تدوين) করলেন।

অতঃপর ইমাম মালিক মুয়াত্তা শ্রেণীবিন্যাস (تصنيف) করেন এবং তাতে তিনি হিজাজবাসীদের হাদিস থেকে শক্তিশালী (القوي) বর্ণনাগুলো চয়ন করার চেষ্টা করেন। তিনি সেগুলোকে সাহাবীদের উক্তি ও তাবেয়ীদের এবং পরবর্তীগণের ফতোয়াসমূহের সাথে মিশ্রিত করেন (ইমাম মালিক ১৭৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন)।"
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وصنف أبو محمد عبد الملك بن عبد العزيز بن جريح بمكة (توفي ببغداد 150 وقيل: 151) 1.

وصنف أبو عمرو عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي بالشام (156هـ) ، وأبو عبد الله سفيان بن سعيد الثوري بالكوفة (توفي 161 هـ) ، وحماد بن سلمة بن دينار أبو سلمة بالبصرة (نوفي 176هـ) ، ومعمر بن راشد باليمن (المتوفى 153هـ) ، وجرير بن عبد الحميد بالري (توفي 188هـ) ، وعبد الله بن المبارك بخراسان (المتوفى 181هـ) .

ثم تلاهم كثير من أهل عصرهم في النسج على منوالهم إلى أن رأى بعض الأئمة منهم أن يفرد حديث الني صلى الله عليه وسلم خاصة، وذلك على رأس المائتين؛ فصنف عبيد الله بن موسى العبسي الكوفي مسندا (توفي 213هـ) ، وصنف مسدد بن مسرهد البصري مسندا، وصنف أسد بن موسى الأموي مسندا (توفي 212هـ) ، وصنف نعيم بن حماد الخزاعي نزبل مصر مسندا.

ثم اقتفى الأئمة بعد ذلك أثرهم، فقلّ إمام من الحفاظ إلا وصنف حديثه على المسانيد؛ أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه وعثمان بن أبي شيبة وغيرهم من النبلاء.

ومنهم من صنف على الأبواب والمسانيد معا، كأبي بكر بن أبي شيبة.

ولما رأى البخاري هذه التصانيف ورواها وجدها جامعة للصحيح والحسن، والكثير منها يشمله التضعيف؛ فحرك همته لجمع الحديث الصحيح، وقوى همته لذلك ما سمعه من أستاذه الإمام إسحاق بن راهويه حيث قال لمن عنده والبخاري فيهم: "لو جمعتم كتابا مختصرا لصحيح سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم"، قال البخاري: فوقع ذلك في قلبي وأخذت في جمع الجامع الصحيح". انتهى2.

يقول السيوطي: "وهؤلاء المذكورون في أول من جمع كلهم من أثناء المائة الثانية".

--------------------------------------------

1 يقول بروكلمان عن النجوم الزاهرة: إن عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج، كان جده جريج عبدا روميا، وأصل اسمه جريجوريونرس، كان أول من صنف أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد جمع كتابه في الآثار وحروف التفسير، أحاديث لمجاهد وعطاء وغيرهما بمكة، ولكنه لم ينل من الخليفة المنصور ما كان يرجو من العطاء يقول: وقد بقيت بقايا قليلة من مجموعات القدماء من رجال الحديث منذ المرحلة الأولى للتدوين تشتمل عليها دور الكتب قي استانبول. وذكر فايسفيلر أوصاف هذه الأجزاء قي كتابه عن مخطوطات الحديث في مكتبات استانبول.

2 نظر هدى الساري. وانظر تنوير الحوالك ج1ص5 وتدريب الراوي ص 39 ط 1.
আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ মক্কায় (বাগদাদে ১৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ১৫১) হাদিস সংকলন করেন। ১.

আবু আমর আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওজায়ি সিরিয়ায় (১৫৬ হিজরি), আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আল-সাওরি কুফায় (১৬১ হিজরিতে মৃত্যু), হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে দিনার আবু সালামাহ বসরায় (১৭৬ হিজরিতে মৃত্যু), মা'মার ইবনে রাশিদ ইয়ামেনে (১৫৩ হিজরিতে মৃত্যু), জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ রাই-তে (১৮৮ হিজরিতে মৃত্যু) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুবারক খোরাসানে (১৮১ হিজরিতে মৃত্যু) হাদিস সংকলন করেন।

অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগে অনেকে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সংকলন করেন, শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে কিছু ইমাম কেবল বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস পৃথকভাবে সংকলন করার সংকল্প করেন, আর এটি ছিল দুইশত হিজরির শুরুর দিকে; ফলে উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি আল-কুফি একটি মুসনাদ সংকলন করেন (২১৩ হিজরিতে মৃত্যু), মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ আল-বাসরি একটি মুসনাদ সংকলন করেন, আসাদ ইবনে মুসা আল-উমায়ি একটি মুসনাদ সংকলন করেন (২১২ হিজরিতে মৃত্যু) এবং মিশরে বসবাসকারী নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ আল-খুজায়ি একটি মুসনাদ সংকলন করেন।

এরপর পরবর্তী ইমামগণ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, ফলে হাফেজ (حفاظ) ইমামদের মধ্যে খুব কমই এমন ছিলেন যারা মুসনাদ আকারে হাদিস সংকলন করেননি; যেমন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, উসমান ইবনে আবু শায়বাহ এবং অন্যান্য উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন মনিষীগণ।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ অধ্যায়ভিত্তিক এবং মুসনাদ—উভয় পদ্ধতিতেই সংকলন করেছেন, যেমন আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ।

ইমাম বুখারি যখন এই সংকলনগুলো দেখলেন এবং সেগুলো বর্ণনা করলেন, তখন তিনি সেগুলোকে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিসের সমষ্টি হিসেবে পেলেন, যার অনেকগুলোই দুর্বলতা (تضعيف)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি তাকে সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ সংগ্রহের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করল। আর তার উস্তাদ ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে যা শুনেছিলেন তা তার সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করল; তিনি তার নিকট উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—যাদের মধ্যে ইমাম বুখারিও ছিলেন: "যদি আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিহ সুন্নাহর উপর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতেন!" ইমাম বুখারি বলেন: "কথাটি আমার অন্তরে গেঁথে গেল এবং আমি আল-জামি আল-সহিহ সংকলনের কাজ শুরু করলাম।" সমাপ্ত ২।

সুয়ূতী বলেন: "প্রথম সংকলক হিসেবে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সকলেই দ্বিতীয় হিজরি শতকের মাঝামাঝি সময়ের।"

--------------------------------------------

১ ব্রোকলম্যান 'আন-নুজুম আয-যাহিরা' গ্রন্থ প্রসঙ্গে বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজের দাদা জুরাইজ একজন রোমান দাস ছিলেন, তার আদি নাম ছিল গ্রেগোরিওনাস। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ সংকলন করেছিলেন। তিনি তার কিতাবে আছার (হাদিস ও সাহাবীদের বাণী) এবং তাফসিরের বর্ণনাসমূহ একত্রিত করেছিলেন; যেখানে মক্কায় মুজাহিদ, আতা এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ ছিল। কিন্তু খলিফা মনসুরের কাছ থেকে তিনি যতটা পুরস্কার আশা করেছিলেন তা পাননি। তিনি আরও বলেন: প্রাথমিক স্তরের প্রাচীন হাদিস বিশারদদের সংকলনের কিছু সামান্য অংশ ইস্তাম্বুলের লাইব্রেরিগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। ফয়সওয়াইলার ইস্তাম্বুলের লাইব্রেরিগুলোতে সংরক্ষিত হাদিসের পাণ্ডুলিপি বিষয়ক তার গ্রন্থে এই অংশগুলোর বর্ণনা প্রদান করেছেন।

২ হুদাস সারী দ্রষ্টব্য। আরও দেখুন তানভীর আল-হাওয়ালিক খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫ এবং তাদরীব আল-রাবি পৃষ্ঠা ৩৯, ১ম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) তাদওয়ীনুস সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وأما ابتداء تدوين الحديث فإنه وقع على رأس المائة في خلافة عمر1 بن عبد العزيز بأمره؛ ففي صحيح البخاري: "وكتب عمر بن عبد العزيز أبي أبي بكر بن حزم: انظر ما كان من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكتبه؛ فإني خفت دروس العلم وذهاب العلماء) ، وأخرجه أبو نعيم في تاريخ أصبهان بلفظ: "كتب عمر بن عبد العزيز إلى الآفاق: انظروا حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فأجمعوه". قال في فتح الباري: "يستفاد من هذا ابتداء تدوين الحديث النبوي، ثم أفاد أن أول من دونه بأمر عم بن عبد العزيز ابن شهاب الزهري". اهـ2.

وأخرج الهروي في ذم الكلام من طريق يحيى بن سعيد، عن عبد الله بن دينار قال:"لم يكن الصحابة ولا التابعون يكتبون الأحاديث، إنما كانوا يؤدونها لفظا، ويأخذونها حفظا، إلا كتاب الصدقات"3.

--------------------------------------------

1 عمر بن عبد العزيز بن مروان بن الحكم، الإمام أمير المؤمنين أبو حفص الأموي القرشي، مولده بالمدينة زمن يزيد، ونشأ في مصر في ولاية أبيه عليها، حدث عن عبد الله بن جعفر وأنس بن مالك وسعيد بن المسيب وطائفة، وكان إماما فقيها مجتهدا، عارفا بالسنن كبير الشأن ثبتا حجة حافظا قانتا لله أواها منيبا، حدث عنه ابناه عبد الله وعبد العزيز والزهري وأيوب وأبو بكر بن حزم، وأبو سلمة بن عبد الرحمن وهما من شيوخه، وأمه أم عاصم بنت عمر بن الخطاب، وكان مليحا أبيض جميل الشكل حسن اللحية، بجبهته أثر حافر فرس شحه في صغره، وذا كان يقال له أشج بني أمية، وفي آخر أيامه خطه الشيب، عاش أربعين سنة، ويعد له وزهده يضرب به المثل رضي الله عنه.

قال الشافعي: الخلفاء خمسة: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي وعمر بن عبد العزيز، وقد ولي أولاً إمرة المدينة خلافة الوليد، وبنى المسجد وزخرفه، وكان إذ ذاك لا يذكر بكثير عمل ولا زهد، ولكن تجدد له لما استخلف وقلبه الله فصار بعد حسن السيرة والقيام بالقسط مع جده لأمه عمر، وفي الزهد مع الحسن البصري، وفي العلم مع الزهري، ولكن موته قرب من شيوخه فلم ينشر عمله، عن أبي جعفر الباقر قال: إن نجيب بني أمية عمر بن عبد العزيز؛ إنه يبعث يوم القيامة أمة واحدة، وقال مجاهد: أتينا لنعلمه فما برحنا حتى تعلمنا منه، وقال ميمون بن مهران: ما كانت العلماء عند عمر بن عبد العزيز إلا تلامذة.

قال ابن سعد: ولد سنة 63، وكان ثقة مأمونا له فقه وعلم وورع، وروى حديثا كثيرا، وكان إمام عدل، سمعت عبد الله بن داود يقول: ولد مقتل الحسين سنة (61) ، وقال أنس بن مالك: ما رأيت أحدا أشبه صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا الفتى، وقال الذهبي: سيرته تحتمل مجلدا، ومات بدير سمعان وقبره هناك يزار، ومات في رجب سنة إحدى ومائة، وله أربعون سنة سوى ستة أشهر.. اهـ. مقدمة تحفة الأحوذي ج2 ص471.

2 انظر تدريب الراوي ص40 ط1.

3 روى أبو داود بسنده عن سالم بن عبد الله بن عمر عن أبيه قال: كتب رسول الله صلى الله عليه وسلم كتاب الصدقة، فلم يخرجه إلى عماله حتى قبض، فقرنه بسيفه، فعمل به أبو بكر حتى قبض، ثم عمل به عمر حتى قبض، فكان فيه: في خمس من الإبل شاة … الحديث.

وروى عن يونس بن يزيد عن ابن شهاب قال: (هذه نسخة كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي كتبه في الصدقة، وهي عند آل عمر بن الخطاب، قال ابن شهاب: أقرأنيها سالم بن عبد الله بن عمر، فوعيتها على وجهها، وهي التي انتسخ عمر بن عبد العزيز من عبد الله بن عمر، وسلم بن عبد الله بن عمر، فذكر الحديث. اهـ. مختصر سنن أبي داود للمنذري ج2 ص185، حديث 1510، 1512 من كتاب الزكاة باب زكاة السائمة.
আর হাদিস সংকলনের (تدوين) সূচনা সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি প্রথম শতাব্দীর শেষে উমর ইবনে আবদুল আজিজের খেলাফতকালে তাঁরই নির্দেশে সংঘটিত হয়েছিল। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে: উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে হাযমের নিকট লিখেছিলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের মধ্যে যা বর্তমান আছে তা দেখো এবং লিখে নাও; কারণ আমি ইলমের বিলুপ্তি এবং আলেমদের অন্তর্ধানের আশঙ্কা করছি।" আবু নুয়াইম তারিখ আসবাহান-এ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "উমর ইবনে আবদুল আজিজ বিভিন্ন অঞ্চলে লিখেছিলেন: তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস অনুসন্ধান করো এবং তা সংগ্রহ করো।" ফাতহুল বারিতে বলা হয়েছে: "এ থেকে নববী হাদিস সংকলনের (تدوين) সূচনার বিষয়টি জানা যায়। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজের নির্দেশে যিনি সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন (تدوين) করেন তিনি হলেন ইবনে শিহাব যুহরি।" সমাপ্ত।

আর হারবি যম্মুল কালাম-এ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সাহাবী বা তাবেয়ীগণ কেউই হাদিস লিখতেন না, তাঁরা কেবল মৌখিকভাবে তা বর্ণনা করতেন এবং মুখস্থ করে তা গ্রহণ করতেন, সদকার বিধান সম্বলিত কিতাব (কিতাবুস সাদাকাত) ব্যতীত।"

--------------------------------------------

১. উমর ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম, ইমাম, আমিরুল মুমিনিন আবু হাফস আল-উমাবি আল-কুরাশি। তাঁর জন্ম মদিনায় ইয়াজিদের আমলে এবং লালন-পালন মিসরে তাঁর পিতার শাসনকালে। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর, আনাস ইবনে মালিক, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং একদল রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, ফকিহ এবং মুজতাহিদ। তিনি সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ, উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য (ثبت), অকাট্য দলিল (حجة), হাফেজ (حافظ), আল্লাহর প্রতি অনুগত এবং রোনাজারিকারী ও প্রত্যাবর্তনশীল বান্দা ছিলেন। তাঁর থেকে তাঁর দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও আব্দুল আজিজ এবং যুহরি, আইয়ুব, আবু বকর ইবনে হাযম এবং আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, যাঁরা তাঁর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন উম্মে আসিম বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি গৌরবর্ণ ও অত্যন্ত সুশ্রী চেহারার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর দাড়ি ছিল সুন্দর। শৈশবে ঘোড়ার খুরের আঘাতে তাঁর কপালে একটি চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছিল, একারণে তাঁকে বনু উমাইয়াদের ‘আশাজ’ (ক্ষতচিহ্নধারী) বলা হতো। জীবনের শেষভাগে তাঁর চুলে শুভ্রতা দেখা দিয়েছিল। তিনি চল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর ন্যায়বিচার এবং দুনিয়াবিমুখতা প্রবাদের মতো বর্ণনা করা হয়, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

ইমাম শাফেয়ী বলেন: খলিফা পাঁচজন: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ। তিনি প্রথমে ওয়ালিদের খেলাফতকালে মদিনার গভর্নর নিযুক্ত হন, তখন তিনি মসজিদ নির্মাণ ও সুসজ্জিত করেন। তখন তাঁর অতিরিক্ত ইবাদত বা দুনিয়াবিমুখতার কথা তেমন আলোচিত হতো না। কিন্তু যখন তিনি খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন তাঁর আমূল পরিবর্তন ঘটে এবং আল্লাহ তাঁর হৃদয়ের পরিবর্তন করে দেন। এরপর তাঁর সুন্দর জীবনচরিত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর মাতামহ উমরের স্তরে পৌঁছান, দুনিয়াবিমুখতায় হাসান বসরীর সাথে এবং ইলমে যুহরির সমপর্যায়ে আসীন হন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাঁর উস্তাদদের ইন্তেকালের কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় তাঁর কাজগুলো ব্যাপক প্রচার পায়নি। আবু জাফর আল-বাকির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনু উমাইয়ার নেককার সন্তান হলেন উমর ইবনে আবদুল আজিজ; কিয়ামতের দিন তিনি একাই একটি উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন। মুজাহিদ বলেন: আমরা তাঁকে শেখাতে এসেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরাই তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ফিরেছি। মাইমুন ইবনে মিহরান বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে আলেমগণ কেবল ছাত্রের মতোই ছিলেন।

ইবনে সাদ বলেন: তিনি ৬৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), বিশ্বস্ত (مأمون) এবং ফিকহ, ইলম ও তাকওয়ার অধিকারী। তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ইমাম। আমি আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদকে বলতে শুনেছি: তিনি হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের বছর অর্থাৎ ৬১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন: আমি এই যুবকের চেয়ে আর কাউকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। যাহাবি বলেন: তাঁর জীবনী একটি পূর্ণ খণ্ডে সংকুলান হতে পারে। তিনি দাইরে সামআনে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁর কবর রয়েছে যা যিয়ারত করা হয়। তিনি ১০১ হিজরির রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩৯ বছর ৬ মাস। সমাপ্ত। মুকাদ্দিমা তুহফাতুল আহওয়াযি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৭১।

২. দেখুন তাদরীবুর রাবী, পৃষ্ঠা ৪০, ১ম সংস্করণ।

৩. আবু দাউদ তাঁর সনদসহ সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাকাত সংক্রান্ত একটি বিধানপত্র লিখেছিলেন, কিন্তু তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তা আমিলদের (কর্মকর্তাদের) কাছে পাঠাননি। তিনি তা তাঁর তলোয়ারের সাথে রেখেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.) তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে অনুযায়ী আমল করেন, তারপর উমর (রা.) তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে অনুযায়ী আমল করেন। তাতে ছিল: পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরি... হাদিস।

এবং ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জাকাত সংক্রান্ত সেই বিধানপত্রের অনুলিপি যা তিনি লিখেছিলেন এবং এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের বংশধরদের কাছে সংরক্ষিত। ইবনে শিহাব বলেন: সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আমাকে এটি পড়িয়েছেন এবং আমি যথাযথভাবে তা মুখস্থ করেছি। এটিই সেই কপি যা উমর ইবনে আবদুল আজিজ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এবং সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের কপি থেকে নকল করেছিলেন।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। সমাপ্ত। মুখতাসার সুনানে আবু দাউদ (মুনযিরি), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৫, হাদিস ১৫১০, ১৫১২, কিতাবুয জাকাত, বাবু জাকাতিল সায়িমা।