(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
تدريب الدعاة على الأساليب البيانية   (عبد الرب نواب الدين)

القسم: كتب عامة


الكتاب: تدريب الدعاة على الأساليب البيانية

المؤلف: أ. د. : عبد الرب بن نواب الدين بن غريب الدين آل نواب

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: العدد 128 - السنة - 37 - 1425هـ

عدد الصفحات: 444

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বাগ্মিতার শৈলী ও পদ্ধতিতে দাঈদের প্রশিক্ষণ   (আব্দুর রব নবাব উদ্দিন)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: বাগ্মিতার শৈলী ও পদ্ধতিতে দাঈদের প্রশিক্ষণ

লেখক: প্রফেসর. ড. : আব্দুর রব বিন নবাব উদ্দিন বিন গরিব উদ্দিন আল নবাব

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ১২৮ - বর্ষ - ৩৭ - ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২৭)
ال‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد: فلا جرم أن إعداد الدعاة جزء أساس من الواجبات المنوطة بالأمة الإسلامية، فهي أمة دعوة وجهاد، تدعو إلى الخير وتأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر، كما قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ للنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنْ المُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلوْ آمَنَ أَهْل الكِتَابِ لكَانَ خَيْرًا لهُمْ مِنْهُمْ المُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمْ الفَاسِقُونَ} (1)

ولا شك أن الدعوة إلى الله تعالى لا تصح ولا تتم إلا إذا أديت على الوجه الشرعي وتحقق في الدعاة المؤهلات العلمية والخُلقية والنفسية المتوخاة لأن الدعوة لا تصح إلا على بصيرة قال تعالى: {قُل هَذِهِ سَبِيلي أَدْعُو إِلى اللهِ عَلى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنْ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللهِ وَمَا أَنَا مِنْ المُشْرِكِينَ} (2) .

والبصيرة هي: الحق واليقين والعلم (3) وإعداد الدعاة يشمل ذلك كله، وقد ورد في القرآن العظيم ما يدل على أن (إعداد الدعاة) بكل صور الإعداد من الواجبات الشرعية والمطالب الحياتية والضرورات الحضارية كما في قوله تعالى: {وَمَا كَانَ المُؤْمِنُونَ ليَنفِرُوا كَافَّةً فَلوْلا نَفَرَ مِنْ كُل فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ ليَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران: 110

(2) سورة يوسف: 108

(3) انظر تفسير الطبري 13 / 80
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাঈদের (আহ্বায়ক) প্রস্তুত করা মুসলিম উম্মাহর ওপর অর্পিত মৌলিক ওয়াজিব বা দায়িত্বগুলোর (واجبات) একটি অংশ। কারণ এটি দাওয়াত ও জিহাদের উম্মাহ; তারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু মুমিন রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী (فاسقون)} (১)।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান ততক্ষণ পর্যন্ত শুদ্ধ বা পূর্ণাঙ্গ হবে না, যতক্ষণ না তা শরয়ী পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে এবং দাঈদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ইলমি, চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক যোগ্যতাসমূহ অর্জিত হবে। কারণ, বসিরাহ বা সুস্পষ্ট জ্ঞান (بصيرة) ব্যতিরেকে দাওয়াত শুদ্ধ হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি বসিরাহ বা সুস্পষ্ট প্রমাণের (بصيرة) ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} (২)।

আর বসিরাহ (بصيرة) হলো: সত্য, নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) এবং ইলম (علم) (৩)। দাঈদের প্রস্তুতির বিষয়টি এই সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। মহান কুরআনে এমন অনেক বর্ণনা এসেছে যা নির্দেশ করে যে, প্রস্তুতির সকল রূপসহ (দাঈদের প্রস্তুতি) হলো শরয়ী ওয়াজিব (واجبات شرعية), জীবনের দাবি এবং সভ্যতার এক অপরিহার্য প্রয়োজন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর মুমিনদের সকলের একত্রে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান: ১১০

(২) সূরা ইউসুফ: ১০৮

(৩) দেখুন তাফসির তাবারী ১৩/৮০
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২৮)
وَليُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِليْهِمْ لعَلهُمْ يَحْذَرُونَ} (1) فالإعداد الجهادي الحربي يواكب ويضارع في فضله الإعداد الفقهي والإعداد البياني، وينبغي أن لا تخلو الأمة الإسلامية من طائفتين هما ركيزتا المجتمع: المجاهدون والدعاة بكل مؤهلاتهم وخصائصهم ومقوماتهم، فالمجاهدون في سبيل الله يدافعون عن العقيدة وينافحون عن العرض والأرض ويستخرجون حقوق المستضعفين المضطهدين، والدعاة يتفقهون في الدين ومن ثم يدعون إلى الله تعالى ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر على نور وبصيرة.

قال الإمام أبو السعود في الآية الشريفة: {ليَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ} أي يتكلفوا الفقه فيه ويتجشموا مشاق تحصيلها {وَليُنذِرُوا قَوْمَهُمْ} أي: وليجعلوا غاية سعيهم ومرمى غرضهم من ذلك إرشاد القوم وإنذارهم {إِذَا رَجَعُوا إِليْهِمْ} وتخصيصه بالذكر لأنه أهم، وفيه دليل على أن التفقه في الدين من فروض الكفاية، وأن يكون غرض المتعلم الاستقامة والإقامة، لا الترفع على العباد والتبسط في البلاد (2)

والتفقه في الدين ينتظم فيما ينتظمه (إعداد الدعاة) وهو باب واسع يشتمل على جوانب متعددة ومسالك متنوعة ومراحل مختلفة منها: الإعداد العلمي، والإعداد التربوي، والإعداد النفسي الروحي، والإعداد الخُلقي، والإعداد البلاغي والإعلامي، كما أن آلية الإعداد تختلف باختلاف النوع، وهي ما تسمى بمسميات متنوعة منها التطبيق والتدريب والممارسة والتجريب والتعويد والتربية والتوظيف وكل أولئك من فقه واجبات الدعاة.

ولعل من أجل المضامين العالية والمطالب السَّنِية في إعداد الدعاة (الإعداد

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة: 122

(2) إرشاد العقل السليم 4 / 112
{যাতে তারা তাদের কওমকে সতর্ক করতে পারে যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে। হয়তো তারা সতর্ক হবে।} (১) সুতরাং জিহাদি ও সামরিক প্রস্তুতি তার শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে ফিকহী (فقهي) ও বর্ণনামূলক প্রস্তুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী। মুসলিম উম্মাহ এমন দুটি দল থেকে শূন্য হওয়া উচিত নয় যারা সমাজের মূল ভিত্তি: মুজাহিদগণ এবং দাঈগণ, তাদের সকল যোগ্যতা, বৈশিষ্ট্য ও উপাদানসহ। আল্লাহর পথে মুজাহিদগণ আকিদা (عقيدة) রক্ষা করেন, সম্মান ও ভূমির সুরক্ষা দেন এবং মজলুম ও নিপীড়িতদের অধিকার পুনরুদ্ধার করেন। অন্যদিকে দাঈগণ দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন (يتفقهون في الدين) এবং অতঃপর প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন, সৎ কাজের আদেশ দেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন।

ইমাম আবু সুউদ এই মহিমান্বিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: {যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে (ليتفقهوا في الدين)} অর্থাৎ তারা যেন ফিকহ (فقه) অর্জনে সচেষ্ট হয় এবং তা হাসিলের কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করে। {এবং তারা যেন তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করে (ولينذروا قومهم)} অর্থাৎ: তারা যেন তাদের প্রচেষ্টার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে কওমের হেদায়েত ও সতর্কীকরণকে নির্ধারণ করে। {যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে (إذا رجعوا إليهم)} এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), আর শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একনিষ্ঠতা ও দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা বা দেশময় বিচরণ করা নয় (২)

দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের (تفقه في الدين) অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে (দাঈদের প্রস্তুতি); এটি একটি বিশাল ক্ষেত্র যা বিভিন্ন দিক, বিচিত্র পথ এবং ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়কে শামিল করে। যেমন: ইলমি (علمي) বা জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রস্তুতি, শিক্ষামূলক প্রস্তুতি, মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক প্রস্তুতি, নৈতিক প্রস্তুতি এবং সাবলীল বাগ্মিতা ও প্রচার-মাধ্যম সংক্রান্ত প্রস্তুতি। ঠিক তেমনি প্রস্তুতির কৌশলও ধরনভেদে ভিন্ন হয়, যাকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়; যেমন: প্রায়োগিক অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, চর্চা, পরীক্ষণ, অভ্যস্তকরণ, তরবিয়ত (تربية) ও নিয়োগ। আর এ সমস্ত কিছুই দাঈদের আবশ্যকীয় ফিকহের (فقه) অন্তর্ভুক্ত।

সম্ভবত দাঈদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিষয়বস্তু ও সুউচ্চ দাবিগুলোর অন্যতম হলো (প্রস্তুতি...

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবা: ১২২

(২) ইরশাদুল আকলিস সালিম ৪ / ১১২
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২৯)
المتعلق بسمة التبليغ والبيان والأداء) ويمكن تسميته بالإعداد البياني التعبيري، وسبيله بعد التحصيل العلمي الشرعي: الممارسة والأداء، فبالممارسة والتدريب تصقل المواهب الخطابية وتقوى العارضة البيانية وتتهذب العبارة وتنجلي الأخلاق الفاضلة، وبالتطبيق العملي يتعرف الداعية على مكامن التأثير ويتمكن من بلاغة التعبير. فالخطابة - مثلا - موهبة وعلم، لا تنجلي هذه الموهبة والملكة ولا تتكشف ولا تُكتشف إلا بالتدرب والتمرس، فقد يكون الإنسان خطيبا موهوبا مُمكّنا من الإمساك بأزمة البيان أوتي فصل الخطاب لكن ملكته تلك هامدة خامدة لم يثرها عامل ولا حركها فاعل! .. وقد تغشى النفس مشكلات معقدة مُشغلة تحول بينها وبين بروز ملكاتها التعبيرية الإبداعية فترى المرء بليد الحس ركيك الكلام خامد الفكر هدته المشكلات هداً فإذا ما حُلت مشكلاته وفُكت عقده انقلب أسدا هصورا وخطيبا مصقعا لا يشق له غبار ولا يخمد له أوار! .. وقد يكون الإنسان خطيبا في بني قومه وبين عشيرته وأهل لسانه وملته لا تتجاوز بلاغته حدودهم ولا تعدو منازلهم لتوافر العوامل التي أبرزت فيه هذا الجانب..وهكذا، فلا تبرز قدراته التعبيرية وملكاته الخطابية الجدلية إلا حين يتهيأ لها سبيل البروز، فالتدريب العملي والتطبيق الميداني مجال رحب لتفتيق المواهب وترسيخ القدرات وصقلها وتهذيبها نحو الرشد والسداد.

أضف إلى ذلك أن عصرنا عصر الإعلام المقنن والموجه، تتسارع فيه فنون الخطاب والإعلام فتغطي مساحات واسعة من حياتنا على نحو لم يكن معهودا من قبل، وهذا يستدعي أن يكون الدعاة على معرفة واسعة ودقيقة بكل فنون والاتصال كالخطابة والحوار والمناظرة وإدارة الندوات وغيرها مما يجده القارئ في هذا البحث.

وحبذا أن يتوافق ويتسهل مع الدراسة النظرية: التطبيق العملي والممارسة
(দাওয়াত প্রচার (تبليغ), বিশদীকরণ ও উপস্থাপনা (أداء) সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য) সম্পর্কিত। একে বাচনিক ও প্রকাশভঙ্গিগত প্রস্তুতি হিসেবেও অভিহিত করা যেতে পারে। শরিয়াহর জ্ঞান অর্জনের পর এর মাধ্যম হলো: অনুশীলন ও প্রয়োগ (أداء)। কেননা অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই বাগ্মিতা বিষয়ক প্রতিভা শাণিত হয়, বাচনভঙ্গি শক্তিশালী হয়, বর্ণনাশৈলী পরিমার্জিত হয় এবং মহৎ চারিত্রিক গুণাবলি পরিস্ফুট হয়। আর ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে একজন দাঈ প্রভাব বিস্তারের নিগূঢ় স্থানসমূহ সম্পর্কে অবগত হন এবং সাবলীল প্রকাশভঙ্গিতে সক্ষমতা অর্জন করেন। উদাহরণস্বরূপ, বাগ্মিতা একটি প্রতিভা ও বিজ্ঞান; নিরন্তর প্রশিক্ষণ ও চর্চা ব্যতিরেকে এই প্রতিভা ও যোগ্যতা বিকশিত হয় না এবং এর স্বরূপ উন্মোচিত হয় না। হতে পারে একজন ব্যক্তি এমন প্রতিভাবান বাগ্মী, যিনি বাকপটুতার লাগাম ধরতে সক্ষম এবং যাকে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী বক্তব্য প্রদানের শক্তি দেওয়া হয়েছে; কিন্তু তার সেই যোগ্যতা সুপ্ত ও নির্জীব অবস্থায় রয়ে গেছে, কোনো উদ্দীপক তাকে জাগ্রত করেনি কিংবা কোনো চালিকাশক্তি তাকে আন্দোলিত করেনি! আবার কখনও মানুষের মনোজগতকে এমন কিছু জটিল ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সমস্যা আচ্ছন্ন করে ফেলে, যা তার সৃজনশীল প্রকাশভঙ্গি বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তখন দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্থবির অনুভূতিসম্পন্ন, দুর্বল শব্দচয়ন ও নিষ্প্রাণ চিন্তার অধিকারী; নানাবিধ সমস্যায় সে বিপর্যস্ত। কিন্তু যখনই তার সমস্যাগুলোর সমাধান হয় এবং মানসিক জড়তা কেটে যায়, তখনই সে এক ক্ষিপ্র সিংহ এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাগ্মীতে পরিণত হয়, যার সমকক্ষ হওয়া দুষ্কর এবং যার তেজস্বিতা কখনও নির্বাপিত হয় না! আবার এমনও হতে পারে যে, কোনো ব্যক্তি নিজ জাতি, গোষ্ঠী এবং নিজ ভাষাভাষী ও ধর্মাবলম্বীদের মাঝে একজন বাগ্মী; কিন্তু তার বাগ্মিতা তাদের সীমা অতিক্রম করে না এবং তাদের বসতি ছাড়িয়ে যায় না, কারণ সেখানে কেবল সেই পরিবেশই বিদ্যমান ছিল যা তার এই দিকটিকে ফুটিয়ে তুলেছে। এভাবেই মানুষের প্রকাশভঙ্গিগত ক্ষমতা এবং তর্কমূলক ও বাগ্মিতা বিষয়ক যোগ্যতা ততক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তার জন্য বিকাশের পথ সুগম হয়। সুতরাং প্রতিভা বিকাশ, সক্ষমতা সুদৃঢ়করণ এবং প্রজ্ঞা ও সঠিকত্বের পথে সেগুলোকে পরিশীলিত করার জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের প্রয়োগ এক বিস্তৃত ক্ষেত্র।

এর সাথে যোগ করা প্রয়োজন যে, আমাদের বর্তমান যুগ হলো সুনিয়ন্ত্রিত ও লক্ষ্যনির্ভর গণমাধ্যমের যুগ। এখানে বক্তৃতা ও প্রচারের শিল্পকলাসমূহ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং আমাদের জীবনের বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করছে যা আগে কখনও পরিলক্ষিত হয়নি। এটি দাবি করে যে, দাঈগণ যেন যোগাযোগের সকল শিল্প—যেমন: বক্তৃতা, সংলাপ, বিতর্ক (مناظرة), সেমিনার পরিচালনা এবং এই গবেষণায় পাঠক যা পাবেন, সে সম্পর্কে বিস্তৃত ও সূক্ষ্ম জ্ঞান রাখেন।

কাম্য হলো যে, তাত্ত্বিক অধ্যয়নের সাথে সাথে ব্যবহারিক প্রয়োগ ও অনুশীলন যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সহজতর হয়।
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩০)
الفعلية للخطابة وغيرها من ضروب البيان في المجالات المناسبة كالمساجد والمنتديات وبعض الأسواق ونحو ذلك، لتسير النظرية والتطبيق في خطين متوازيين ولكي تتحقق للطالب الداعية إلى جانب الدراسة النظرية الممارسة العملية على الوجه الأتم الأكمل.

وقد ارتكز البحث في هذه الصفحات على محورين رئيسين: المحور الخطابي ويشمل المحاور الرئيسة للخطابة من حيث الأنواع والأجزاء وطرق الإعداد والإلقاء وصفات الخطيب وعيوبه، والمحور الإعلامي ويشمل الندوة والإذاعة والراي، وفي غضون هذين المحورين ترد المرتكزات الأساسية للمواقف التعبيرية البيانية للداعية.

وتضمنت خطة البحث الفصول التالية:

الفصل الأول (مفهوم التدريب وأهميته وخصائصه) وفيه مبحثان:

المبحث الأول: مفهوم التدريب وأهميته.

المبحث الثاني: خصائص التدريب البياني.

الفصل الثاني (التدريب على الخطابة) وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف الخطابة وبيان خصائص الأسلوب الخطابي

المبحث الثاني: مسالك التدريب على الخطابة

الفصل الثالث (التدريب على الندوة) وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف الندوة وأنواعها ومحاورها العامة

المبحث الثاني: مسالك التدريب على إقامة الندوات.

الفصل الرابع (التدريب على الكلمة الإذاعية) وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: مقدمة عن الإعلام وخصائصه ووسائله ووظائفه.
মসজিদ, সভা-সমিতি, কতিপয় বাজার এবং এই জাতীয় উপযুক্ত ক্ষেত্রগুলোতে বাগ্মিতা ও প্রকাশশৈলীর অন্যান্য প্রকারের বাস্তব অনুশীলন, যাতে তত্ত্ব ও প্রয়োগ দুটি সমান্তরাল ধারায় পরিচালিত হয় এবং শিক্ষার্থী দাঈর জন্য তাত্ত্বিক অধ্যয়নের পাশাপাশি বাস্তব অনুশীলন পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে অর্জিত হয়।

এই পৃষ্ঠাগুলোতে গবেষণাটি দুটি প্রধান অক্ষের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে: বাগ্মিতা বিষয়ক অক্ষ, যা বাগ্মিতার প্রধান দিকসমূহ যেমন— প্রকারভেদ, অংশসমূহ, প্রস্তুতি ও প্রদানের পদ্ধতি এবং খতিবের গুণাবলি ও ত্রুটিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে; এবং গণমাধ্যম বিষয়ক অক্ষ, যা সেমিনার, বেতার ও জনমতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই দুটি অক্ষের মধ্যেই একজন দাঈর বাচনিক ও প্রকাশভঙ্গিগত অবস্থানের মৌলিক ভিত্তিগুলো আলোচিত হয়েছে।

গবেষণা পরিকল্পনাটি নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম অধ্যায় (প্রশিক্ষণের ধারণা, গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য), এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রশিক্ষণের ধারণা ও গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাচনিক প্রশিক্ষণের বৈশিষ্ট্য।

দ্বিতীয় অধ্যায় (বাগ্মিতার ওপর প্রশিক্ষণ), এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বাগ্মিতার সংজ্ঞা ও বাগ্মিতা শৈলীর বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাগ্মিতা প্রশিক্ষণের পদ্ধতিসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায় (সেমিনারের ওপর প্রশিক্ষণ), এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সেমিনারের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও এর সাধারণ দিকসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সেমিনার আয়োজনের প্রশিক্ষণের পদ্ধতিসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায় (বেতার বার্তার ওপর প্রশিক্ষণ), এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম, এর বৈশিষ্ট্য, মাধ্যম ও কার্যাবলি সম্পর্কে ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩১)
المبحث الثاني: تعريف الإذاعة، وخصائصها

المبحث الثالث: مسالك التدريب على الكلمات الإذاعية.

الفصل الخامس (التدريب على الكلمة المرئية) وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف الراي، خصائصه، نبذة عن بعض الأحكام المتعلقة به

المبحث الثاني: مسالك التدريب على الكلمات المرئية

الخاتمة.

وقد حرصت في كتابي هذا على تقديم المعلومة الموثقة في تركيز وتلخيص، وكنت حثيثا على تتبع واستيفاء معالم الموضوع الأساسية، على ما هو المتوخى في الأبحاث العلمية ولأن تتبع المسائل الفرعية والإيغال فيها والإكثار من الاستطراد يضخم المادة وقد يذهب برونق البحث وبهائه ويقلل من قيمته

الإبداعية. وقد أطلت الحديث في الفصل الثاني وهو في: (التدريب على الخطابة) لأنه تضمن أسسا ومرتكزات عامة ينبني عليها ما تلاها من فصول.

وفي منهج البحث تتبعت النصوص المنقولة فأثبتها كما هي من مظانها ومصادرها لا سيما الأحاديث النبوية الشريفة، ورمزت في الحواشي في عزو الأحاديث إلى الصحاح الستة ومسند الإمام أحمد وموطأ الإمام مالك بالرموز الآتية: (خ) صحيح البخاري طبعة فتح الباري المطبعة السلفية، (م) صحيح مسلم ترقيم محمد عبد الباقي، (د) سنن أبي داود ترقيم الموسوعة الالكترونية (صخر) ، (ت) سنن الترمذي ترقيم أحمد شاكر، (ما) سنن ابن ماجة ترقيم محمد عبد الباقي، (ط) موطأ الإمام مالك ترقيم الموسوعة الإلكترونية صخر، (أحمد) مسند الإمام أحمد ترقيم الموسوعة الإلكترونية صخر. وذكرت إثر كل رمز اسم الكتاب من المرجع الحديثي ورقم الحديث وذلك للاختصار وتحرير
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বেতারের সংজ্ঞা এবং এর বৈশিষ্ট্য

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বেতার বার্তার প্রশিক্ষণের পথ ও পদ্ধতিসমূহ।

পঞ্চম অধ্যায় (দৃশ্যমান বার্তার ওপর প্রশিক্ষণ) এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অভিমতের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং এ সংশ্লিষ্ট কিছু বিধিবিধানের (الأحكام) সংক্ষিপ্ত বিবরণ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দৃশ্যমান বার্তার ওপর প্রশিক্ষণের পথ ও পদ্ধতিসমূহ

উপসংহার।

আমি আমার এই গ্রন্থে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা (الموثقة) বজায় রেখে তা সংক্ষিপ্ত ও সুসংহতভাবে উপস্থাপন করার বিষয়ে সচেষ্ট হয়েছি। গবেষণার মূল বিষয়বস্তু অনুসরণ এবং তা পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরার ব্যাপারে আমি অত্যন্ত তৎপর ছিলাম, যেমনটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রত্যাশিত। কেননা আনুষঙ্গিক ও শাখাগত বিষয়সমূহ নিয়ে অধিক নিমগ্ন হওয়া এবং অতিরিক্ত অবান্তর প্রসঙ্গের অবতারণা মূল বিষয়বস্তুর কলেবরকে স্ফীত করে দেয়, যা গবেষণার প্রাঞ্জলতা ও শ্রী নষ্ট করতে পারে এবং এর সৃজনশীল মান কমিয়ে দিতে পারে।

আমি দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনার বিস্তৃতি ঘটিয়েছি যা ছিল: (বাগ্মিতার প্রশিক্ষণ বা التدريب على الخطابة) বিষয়ক; কারণ এতে এমন কিছু সাধারণ ভিত্তি ও মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যার ওপর পরবর্তী অধ্যায়গুলো প্রতিষ্ঠিত।

গবেষণার পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমি উদ্ধৃত পাঠ্যগুলো (النصوص المنقولة) অনুসরণ করেছি এবং সেগুলো তাদের মূল উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে হুবহু সাব্যস্ত (أثبت) করেছি, বিশেষ করে সম্মানীত নববী হাদিসের ক্ষেত্রে। হাদিসগুলো সূত্রায়নের (عزو) ক্ষেত্রে আমি পাদটীকায় বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থ (সিহাহ সিত্তাহ), মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং মুওয়াত্তা ইমাম মালিক-এর জন্য নিম্নলিখিত সংকেতগুলো ব্যবহার করেছি: (খ) সহিহ বুখারি, ফাতহুল বারি সংস্করণ, আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ; (ম) সহিহ মুসলিম, মুহাম্মাদ আব্দুল বাকির নম্বর প্রদানকৃত; (দ) সুনানে আবু দাউদ, সখর ইলেকট্রনিক এনসাইক্লোপিডিয়া নম্বর প্রদানকৃত; (ত) সুনানে তিরমিজি, আহমাদ শাকির নম্বর প্রদানকৃত; (মা) সুনানে ইবনে মাজাহ, মুহাম্মাদ আব্দুল বাকির নম্বর প্রদানকৃত; (ত) মুওয়াত্তা ইমাম মালিক, সখর ইলেকট্রনিক এনসাইক্লোপিডিয়া নম্বর প্রদানকৃত; (আহমাদ) মুসনাদে ইমাম আহমাদ, সখর ইলেকট্রনিক এনসাইক্লোপিডিয়া নম্বর প্রদানকৃত। সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে এবং বিষয়বস্তুর স্পষ্টীকরণের (تحرير) স্বার্থে আমি প্রতিটি প্রতীকের পর হাদিস গ্রন্থ থেকে সংশ্লিষ্ট কিতাবের নাম এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩২)
الحواشي من ثقل الإطالة والتكرار، وعلى سبيل المثال فإذا قلت [خ: المغازي (4001) ] فإنني أعني: رواه البخاري في كتاب المغازي حديث رقم (4001) وهكذا في بقية الكتب الحديثية الأخرى.. وفيما عدا الكتب التسعة الآنفة فإني أذكرها باسمها دون رمز لقلة الإحالة إليها. والتزمتُ بطبعة واحدة في كل المراجع التي أحلت إليها، التزاما مني بمنهج البحث المتعارف عليه.

وأسأل الله العظيم رب العرش الكريم أن يكرم هذا العمل بالقبول، وأن يعفو عن التقصير والقصور، وأن يلهم الكاتب والقراء الصواب والسداد، وأن يجزل للجميع المثوبة، له سبحانه الفضل والحمد ظاهرا وباطنا وسرا وعلانية وأولا وآخر، وهو الحكيم الخبير. وصلى الله وسلم وبارك على خاتم النبيين وآله وصحبه أجمعين.
পাদটীকাগুলোকে দীর্ঘসূত্রতা ও পুনরাবৃত্তির ভার থেকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে আমি সংক্ষেপণ পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমি বলি [খ: আল-মাগাযী (৪০০১)], তবে এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো: বুখারি এটি 'কিতাবুল মাগাযী'-তে বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস নম্বর (৪০০১)। অনুরূপভাবে অন্যান্য হাদিসগ্রন্থের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে উল্লিখিত নয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদানের স্বল্পতার কারণে আমি কোনো সংকেত ব্যবহার না করে সরাসরি সেগুলোর নাম উল্লেখ করেছি। প্রচলিত গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণের দায়বদ্ধতা থেকে আমি প্রতিটি রেফারেন্সের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সংস্করণ ব্যবহার করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি।

আমি মহান আরশের অধিপতি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই আমলটিকে কবুলিয়তের (القبول) মর্যাদায় সিক্ত করেন, যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করেন এবং লেখক ও পাঠক উভয়কে সঠিক ও সত্যনিষ্ঠার দিশা দান করেন। আল্লাহ যেন সকলকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করেন। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, গোপন ও প্রকাশ্য এবং শুরু ও শেষে—সর্বাবস্থায় যাবতীয় অনুগ্রহ ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য; তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। শেষ নবী এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
‌‌الفصل الأول:

مفهوم التدريب وأهميته وخصائصه

‌‌المبحث الأول: مفهوم التدريب وأهميته

التدريب في اللغة: التدريب على وزن تفعيل من دَرِبَ بالأمر دَرَباً ودُرْبة، وتدرّب: ضَرِيَ ودرّبه به وعليه وفيه: ضَرّاهُ. والمدرَّب من الرجال: المجرّب.. والمدرّب: الذي قد أصابته البلايا ودربته الشدائد حتى قوي ومرن عليها. والدُّربة: الضراوة، والدُّربة: عادة وجرأة على الحرب وكل أمر. وقد درب بالشيء يدرُب ودرب به إذا اعتاده وضري به، تقول: ما زلت أعفو عن فلان حتى اتخذها دربة.. والدارب: الحاذق بصناعته (1)

ومن هذه المعاني والمرادفات اللغوية يتبين أن التدريب يكون بمعنى التعويد والحذق والتمرين، بحيث يتأهل المتدرب ويتعرف على ما هو بصدده ليكون فيما يتدرب فيه حاذقا متقنا متمرسا خبيرا، بحيث يعرف دقائق صناعته وأسرارها ويعرف مع ذلك كيف يستفيد من ملكاته وقدراته بدقة وإحكام.

والتدريب العملي اصطلاحا:

يتطابق مفهومه مع التعريف اللغوي، لأن التّدرُّب والتعوّد والتمرّس والوقوف على أسرار الصناعة والولوع بها والنبوغ فيها من مقتضيات التدريب ولوازمه ومعانيه، ورُكبت الجملة من كلمتين هكذا: (التدريب العملي) لتعطي دلالات على الجانب التطبيقي الميداني الذي ينتهجه المتدرب بعد الوقوف على

--------------------------------------------

(1) لسان العرب مادة (درب) 1/374
প্রথম অধ্যায়:

প্রশিক্ষণের (التدريب) ধারণা, গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রশিক্ষণের (التدريب) ধারণা ও গুরুত্ব

ভাষাগত অর্থে প্রশিক্ষণ (التدريب): প্রশিক্ষণ (التدريب) শব্দটি 'তাফয়ীল' ওজনে 'দারা-বা' ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ কোনো বিষয়ে অভ্যস্ত হওয়া এবং অভিজ্ঞতা লাভ করা। 'তাদাররাবা' অর্থ: কোনো কিছুতে লিপ্ত হওয়া। কাউকে কোনো বিষয়ে অভ্যস্ত করানো বা শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে 'দাররাবাহু' শব্দ ব্যবহৃত হয়। মানুষের মধ্যে 'মুদাররাব' (المدرَّب) বলতে তাকেই বোঝানো হয়, যে অভিজ্ঞ (المجرّب)। আর 'মুদাররাব' (المدرَّب) সেই ব্যক্তি, যে নানা বিপদ-আপদ ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। 'দুরবাহ' (الدُّربة) অর্থ হলো পারদর্শিতা; আবার যুদ্ধ বা যেকোনো বিষয়ে অভ্যাস ও সাহসিকতা অর্জনের ক্ষেত্রেও 'দুরবাহ' (الدُّربة) শব্দ ব্যবহৃত হয়। যখন কেউ কোনো বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাতে লিপ্ত হয়, তখন বলা হয় 'দারুবা বিহি'। যেমন বলা হয়: "আমি অমুককে ক্ষমা করতেই থাকলাম, যতক্ষণ না সে এটাকে অভ্যাসে (دربة) পরিণত করল।" আর 'দারিব' (الدارب) বলা হয় নিজ শিল্প বা পেশায় অত্যন্ত দক্ষ (الحاذق) ব্যক্তিকে। (১)

উল্লিখিত ভাষাগত অর্থ ও প্রতিশব্দগুলো থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, প্রশিক্ষণ (التدريب) বলতে অভ্যস্তকরণ, দক্ষতা অর্জন এবং অনুশীলনকে বোঝায়; যাতে প্রশিক্ষণার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এবং সে বিষয়ে সম্যক অবগত হতে পারে। এর ফলে সে যে বিষয়ে প্রশিক্ষণ (التدريب) গ্রহণ করছে, তাতে অত্যন্ত দক্ষ (حاذق), নিপুণ (متقن), অভিজ্ঞ (متمرس) ও বিশারদ (خبير) হয়ে ওঠে। এতে করে সে তার পেশার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় ও রহস্যগুলো জানতে পারে এবং সেই সাথে কীভাবে তার সহজাত প্রতিভা ও সামর্থ্যকে নির্ভুল ও সুসংগতভাবে কাজে লাগানো যায়, তাও আয়ত্ত করতে পারে।

পারিভাষিক অর্থে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (التدريب العملي):

এর পারিভাষিক ধারণা ভাষাগত সংজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ। কারণ প্রশিক্ষণ (التدرُّب), অভ্যাস গঠন (التعوّد), অভিজ্ঞতা অর্জন (التمرّس), পেশার রহস্য সম্পর্কে অবগতি, তাতে নিবিষ্ট হওয়া এবং বুৎপত্তি লাভ করা প্রশিক্ষণেরই (التدريب) দাবি ও অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এখানে 'ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ' (التدريب العملي) শব্দদ্বয়কে একত্রে বিন্যস্ত করা হয়েছে যাতে প্রশিক্ষণার্থী কোনো বিষয় তাত্ত্বিকভাবে জানার পর তার প্রয়োগিক ও মাঠপর্যায়ের দিকের প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, মূলশব্দ: (درب), ১/৩৭৪।
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
الجانب النظري فيطبق عمليا ما يدرسه نظريا، فيسير التنظير والتدريب في خطين متواكبين متوازيين.

وعليه فمن التعريفات الاصطلاحية لتدريب الدعاة إلى الله:

(القيام بأنماط التعبير المشروعة لتبليغ الدين وإيصال الحق) .

و (التمرس على أشكال التعبير البياني لتبليغ الدين الحق) .

و (تجلية المواقف التعبيرية للداعية) .

و (صقل المهارات الكلامية والقدرات البيانية) .

وهذه التعاريف متقاربة تبرز المعنى المتوخى المراد، وتتضمن العناصر الرئيسة الثلاثة:

1- التدرب وبذل الجهد فيه.

2- كون التدرب في شكل واحد وهو البيان التعبيري الكلامي.

3- توخي المقصد من ذلك وهو تبليغ الحق للخلق وبه ينوي الداعية الخير فيؤجر.

ويمكن تلخيصها في ثلاث كلمات: ممارسة البيان للتبليغ.

هذا وللتدريب العملي في حياة الدعاة مفهومان:

المفهوم الأول منصب نحو المناهج والخطط وجملة الوسائل والأساليب التي يتدرب عليها الداعية ويتمرس، كالوعظ والتذكير والتدرب على ذلك إما مشافهة أو من خلال وسائل الإعلام المختلفة، ومعرفة مواقع الكلام ووقفاته وسكتاته وتخير ألفاظه، وأيضا تأليف الكتب والنشرات وإقامة معارض الكتاب، وتأسيس وبناء دور الرعاية الاجتماعية والمعاهد العلمية، ومعرفة أولويات الدعوة … إلى آخر متعلقات المناهج والخطط، وهذا مفهوم عام وليس هو
তাত্ত্বিক দিকটি হলো তাত্ত্বিকভাবে যা অধ্যয়ন করা হয় তা ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করা, ফলে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ সমান্তরাল ও সমন্বিতভাবে অগ্রসর হয়।

সেই প্রেক্ষিতে, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের প্রশিক্ষণের পারিভাষিক সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

(দ্বীন প্রচার এবং সত্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শরীয়তসম্মত অভিব্যক্তির পদ্ধতিসমূহ সম্পাদন করা)।

এবং (সত্য দ্বীন প্রচারের জন্য আলঙ্কারিক অভিব্যক্তির রূপগুলোর চর্চা করা)।

এবং (দাঈর অভিব্যক্তিমূলক অবস্থানগুলো স্পষ্ট করা)।

এবং (বাচনিক দক্ষতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সক্ষমতাগুলোকে শাণিত করা)।

এই সংজ্ঞাগুলো পরস্পর কাছাকাছি যা কাঙ্ক্ষিত অর্থকে ফুটিয়ে তোলে এবং এতে তিনটি প্রধান উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১- প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং এতে শ্রম ব্যয় করা।

২- প্রশিক্ষণটি একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিকে হওয়া, আর তা হলো বাচনিক ও প্রকাশভঙ্গিমূলক অলঙ্কারশাস্ত্র।

৩- এর মূল উদ্দেশ্য লক্ষ্য রাখা, আর তা হলো সৃষ্টির কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া; এর মাধ্যমে দাঈ কল্যাণের নিয়ত করেন এবং সওয়াব লাভ করেন।

একে তিনটি শব্দে সারসংক্ষেপ করা যায়: প্রচারের উদ্দেশ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের অনুশীলন।

দাঈদের জীবনে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের দুটি ধারণা রয়েছে:

প্রথম ধারণাটি পাঠ্যক্রম, পরিকল্পনা এবং সেই সকল উপায় ও পদ্ধতির ওপর নিবদ্ধ যেগুলোর ওপর দাঈ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন গ্রহণ করেন; যেমন—ওয়াজ ও নসিহত এবং মৌখিকভাবে (مشافهة) বা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহায়তায় এর ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা, কথা বলার স্থান, যতিচিহ্ন, বিরতি ও শব্দ চয়নের জ্ঞান অর্জন করা। সেই সাথে গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনা, বইমেলার আয়োজন, সামাজিক সেবাকেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং দাওয়াতের অগ্রাধিকারসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া … পাঠ্যক্রম ও পরিকল্পনার অন্যান্য অনুষঙ্গ পর্যন্ত। এটি একটি সাধারণ ধারণা এবং এটি সেই...
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
المقصود بالدراسة في هذه المادة. إذ يدرسها طلاب الدراسات العليا في مادة (مناهج الدعوة) .

المفهوم الثاني: الأساليب البيانية خاصة، أي التي تعتمد على جارحة اللسان والبيان، كالخطابة والحوار والجدال والحديث الإذاعي وندوة الرائي، والصور التعبيرية المتنوعة، وغيرها من ضروب وألوان البيان والكلام، وهذا المفهوم هو المعني في هذا الكتاب.

والتدريب باعتباره فناً يتخذ مفاهيم أخر بحسب كل مجال وتخصص، فهناك التدريب الخطابي البياني، وهناك التدريب الإعلامي الصحفي، وهناك التدريب الإعلامي الإذاعي، وهناك التدريب على صور الحوار..

أهمية التدريب الميداني في عمل الدعاة:

ليس أدل على أهمية التدريب العملي (البياني) في إعداد الدعاة من كتاب الله تعالى وسنة النبي صلى الله عليه وسلم وسيرته المباركة، يتضح ذلك من خلال ما يأتي:

(أ) ورود مبادئ للصيغ البيانية في القرآن الكريم:

ولا غرو فالقرآن الكريم كله بيان وهدى للناس، بل هو قمة البيان وذروة البلاغة، وحسبنا في هذا المقام الإشارة إلى قبسات من ذلك، فمن ذلك:

- تضافر الكثير من الآيات على سوق الأدلة على قضايا الإيمان وتصديرها بقوله (قل) بصيغة الأمر المشعرة بأن الداعية ينبغي أن يصدع بالحق وأن يتخذ من القول المبين والحجة البالغة منهاجا وغاية، كما في قوله تعالى: {قُل أَغَيْرَ اللهِ أَتَّخِذُ وَليًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلا يُطْعَمُ قُل إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّل مَنْ
এই বিষয়ে অধ্যয়নের মূল উদ্দেশ্য। যেহেতু উচ্চতর গবেষণার (Postgraduate) শিক্ষার্থীরা এটি 'দাওয়াহর পদ্ধতিসমূহ' (মানাহিজুদ দাওয়াহ) নামক বিষয়ে পাঠ করে থাকে।

দ্বিতীয় ধারণা: বিশেষ করে অলঙ্কারিক (البيانية) পদ্ধতিসমূহ, অর্থাৎ যা জিহ্বা ও বাগ্মিতার ওপর নির্ভরশীল; যেমন: বাগ্মিতা (الخطابة), সংলাপ (الحوار), বিতর্ক (الجدال), রেডিওর বক্তব্য, টেলিভিশনের সেমিনার, বিভিন্ন প্রকার অভিব্যক্তি এবং বর্ণনা ও বক্তব্যের অন্যান্য ধরনসমূহ। এই গ্রন্থে এই ধারণাটিই উদ্দেশ্য।

একটি শিল্প হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রতিটি ক্ষেত্র ও বিশেষায়িত শাখা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে। যেমন: বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় প্রশিক্ষণ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ক প্রশিক্ষণ, রেডিও ও সম্প্রচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং সংলাপের বিভিন্ন পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ...

দায়ীদের কর্মক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব:

দায়ীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বা অলঙ্কারিক (البيانية) প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর মহান আল্লাহর কিতাব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং তাঁর বরকতময় সীরাতের চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই। বিষয়টি নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:

(ক) পবিত্র কুরআনে অলঙ্কারিক (البيانية) কাঠামোর মূলনীতিসমূহের উপস্থিতি:

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ পুরো কুরআনই মানুষের জন্য বর্ণনা ও হিদায়াত; বরং এটি বর্ণনার সর্বোচ্চ শিখর এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (البلاغة) চরম উৎকর্ষ। এই পর্যায়ে এ থেকে কিছু আলোকবর্তিকা প্রদান করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে, যার মধ্যে রয়েছে:

- ঈমানের বিষয়াবলিতে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক আয়াতের সমন্বয় ঘটেছে এবং সেগুলোর শুরুতে নির্দেশসূচক রূপ (صيغة الأمر) হিসেবে 'বলো' শব্দটির ব্যবহার এই ইঙ্গিত দেয় যে, একজন দায়ীর উচিত সত্যকে উচ্চকিত করা এবং সুস্পষ্ট বক্তব্য ও চূড়ান্ত দলিলকে (الحجة البالغة) তার কর্মপন্থা ও লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, আমি কি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব? অথচ তিনি আহার দান করেন এবং তাঁকে আহার দেওয়া হয় না। বলো, আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি প্রথম সেই ব্যক্তি হই যে...}
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
أَسْلمَ وَلا تَكُونَنَّ مِنَ المُشْرِكِينَ قُل إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ قُل أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُل اللهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِليَّ هَذَا القُرْآنُ لأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلغَ أَئِنَّكُمْ لتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللهِ آلهَةً أُخْرَى قُل لا أَشْهَدُ قُل إِنَّمَا هُوَ إِلهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ} (1)

وتأمل أيضا {قُل مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ قُل اللهُ قُل أَفَاتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِهِ أَوْليَاءَ لا يَمْلكُونَ لأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَلا ضَرًّا قُل هَل يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالبَصِيرُ أَمْ هَل تَسْتَوِي الظُّلمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلوا للهِ شُرَكَاءَ خَلقُوا كَخَلقِهِ فَتَشَابَهَ الخَلقُ عَليْهِمْ قُل اللهُ خَالقُ كُل شَيْءٍ وَهُوَ الوَاحِدُ القَهَّارُ} (2)

ونجد فعل الأمر: (قل) وردت (343) مرة في القرآن الكريم من تأملها وسبر غورها وصنف مضامينها وتدبر مقول القول: وقف على منهاج متكامل في صيغ البيان وطرائق الأداء ومسالك إقامة الحجة في إحقاق الحق ودحض الباطل، وهذا لون رفيع من بلاغة القرآن يتضمن التوجيه إلى ما ينبغي أن يكون عليه الداعية من قوة العارضة والتمرس على صيغ الخطاب.

- وقد يأتي الأسلوب القرآني الجليل على شكل تعليم الحوار وعلى غرار (إن قالوا كذا فقل كذا) وهي صورة من التدريب على القول ومثاله قوله تعالى: {وَقَالوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَئِنَّا لمَبْعُوثُونَ خَلقًا جَدِيدًا * قُل كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا * أَوْ خَلقًا مِمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولونَ مَنْ يُعِيدُنَا قُل الذِي فَطَرَكُمْ أَوَّل مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِليْكَ

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام: 14 – 19

(2) سورة الرعد: 16
{...ইসলাম গ্রহণ করি এবং কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত না হই। বলো, আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহাদিবসের আজাবের ভয় করি। বলো, সাক্ষ্য হিসেবে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বড়? বলো, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহি হিসেবে পাঠানো হয়েছে যেন আমি তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদের এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারি। তোমরা কি সত্যই সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে? বলো, আমি সাক্ষ্য দেব না। বলো, তিনিই একমাত্র উপাস্য এবং তোমরা যা শিরক করো তা থেকে আমি নির্লিপ্ত।} (১)

আরও গভীরভাবে অনুধাবন করুন: {বলো, আসমানসমূহ ও জমিনের রব কে? বলো, আল্লাহ। বলো, তোমরা কি তবে তাঁকে ছাড়া এমন সব অভিভাবক গ্রহণ করেছ যারা নিজেদের উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না? বলো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান? অথবা অন্ধকার ও আলো কি সমান? নাকি তারা আল্লাহর এমন শরিক সাব্যস্ত করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করেছে, ফলে সেই সৃষ্টিসমূহ তাদের নিকট সদৃশ মনে হয়েছে? বলো, আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি এক, পরাক্রমশালী।} (২)

আমরা দেখতে পাই যে, ‘বলো’ (কুল) এই আদেশসূচক ক্রিয়াটি পবিত্র কুরআনে ৩৪৩ বার এসেছে। যিনি এটি নিয়ে চিন্তা করবেন, এর গভীরতা অন্বেষণ (سبر) করবেন, এর বিষয়বস্তুসমূহ বিন্যস্ত করবেন এবং বক্তব্য বিষয় নিয়ে তদ্দবুর করবেন, তিনি বর্ণনাভঙ্গি, উপস্থাপনার পদ্ধতি এবং সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যাকে খণ্ডন করার লক্ষ্যে প্রমাণ (حجة) উপস্থাপনের পন্থাসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপদ্ধতি (منهاج) খুঁজে পাবেন। এটি কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্রের এক উচ্চতর ধারা, যা একজন দাঈর বাকপটুতা এবং সম্বোধন শৈলীতে কেমন পারদর্শিতা থাকা উচিত, সেদিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

- কুরআনের এই মহিমান্বিত শৈলী কখনো কখনো কথোপকথন শেখানোর পদ্ধতি হিসেবেও আসে, অনেকটা ‘যদি তারা এমন বলে, তবে তুমি এমন বলো’—এর মতো। এটি কথা বলার এক ধরণের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা বলে, যখন আমরা হাড্ডি ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনো কি আমাদের নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো, তোমরা পাথর কিংবা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো সৃষ্টি যা তোমাদের অন্তরে অনেক বড় মনে হয়। তখন তারা বলবে, কে আমাদের পুনরায় জীবিত করবে? বলো, তিনিই যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। তখন তারা তোমার দিকে মাথা নাড়াবে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনআম: ১৪ – ১৯

(২) সূরা আর-রাদ: ১৬
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
رُءُوسَهُمْ وَيَقُولونَ مَتَى هُوَ قُل عَسَى أَنْ يَكُونَ قَرِيبًا} (1)

وهذا يتضمن فيما يتضمنه التوجيه بتعلم صيغ الجدال والحوار ومعرفة متى يتكلم الداعية وكيف وبماذا.. مما هو من مؤهلات الدعاة ومقوماتهم الخطابية.

(ب) اتخاذه صلى الله عليه وسلم الخطابة أسلوباً في الدعوة:

لقد اتخذ النبي عليه الصلاة والسلام من الخطابة أسلوبا عمليا مباشراً في إيصال دعوته وأداء برسالته سواء خطبه الراتبة أيام الجمعة أو خطبه العارضة في النوازل وغيرها، فعامة الأحاديث النبوية القولية هي في حقيقتها مقاطع من خطبه البيانية الوعظية.

لقد كان أصحابه يرونه ويعاينونه وهو يخطب بين أظهرهم ولننقل لمحة عن هدي النبي الكريم صلى الله عليه وسلم في خطبه مما سطره يراع الإمام ابن القيم رحمه لله تعالى قال: ((فصل في هديه صلى الله عليه وسلم في خطبته: خطب صلى الله عليه وسلم على الأرض وعلى المنبر وعلى البعير وعلى الناقة، وكان إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومساكم ويقول بعثت أنا والساعة كهاتين ويقرن بين أصبعيه السبابة والوسطى ويقول أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة وكان لا يخطب خطبة إلا افتتحها بحمد الله، وأما قول كثير من الفقهاء إنه يُفتتح خطبة الاستسقاء بالاستغفار وخطبة العيدين بالتكبير فليس معهم فيه سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم البتة، وسنته تقتضي خلافه وهو افتتاح جميع الخطب

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء: 49 - 51
...তাদের মাথা নাড়বে এবং বলবে, ‘এটি কবে হবে?’ বলুন, ‘সম্ভবত তা শীঘ্রই হবে’।} (১)

এটি অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বিতর্ক ও সংলাপের কলাকৌশল শেখার এবং একজন দাঈ কখন, কীভাবে এবং কী বিষয়ে কথা বলবেন—তা জানার নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত; যা দাঈদের যোগ্যতা ও তাঁদের আলঙ্কারিক বাচনভঙ্গির মৌলিক উপাদানের অংশ।

(খ) দাওয়াতের পদ্ধতি হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষণ প্রদানকে গ্রহণ:

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াত পৌঁছে দিতে এবং রিসালাতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভাষণকে একটি সরাসরি ব্যবহারিক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন; চাই তা জুমার দিনের নিয়মিত খুতবা হোক অথবা বিভিন্ন দুর্যোগ ও অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাষণ হোক। মূলত নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ মৌখিক হাদিসসমূহ তাঁর সুস্পষ্ট ও উপদেশমূলক ভাষণসমূহেরই অংশবিশেষ।

তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে প্রত্যক্ষ করতেন যখন তিনি তাঁদের মাঝে ভাষণ দিতেন। ভাষণ প্রদানের ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর লেখনীতে যা উল্লেখ করেছেন, তা থেকে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো। তিনি বলেন: ((পরিচ্ছেদ: ভাষণ প্রদানের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমিনে দাঁড়িয়ে, মিম্বরের ওপর, উটের পিঠে এবং সাওয়ারির ওপর ভাষণ দিয়েছেন। যখন তিনি ভাষণ দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটো লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো; যেন তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে সতর্ককারী, যিনি বলছেন যে, শত্রু বাহিনী ভোরে বা সন্ধ্যায় তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে। তিনি বলতেন: 'আমি এবং কেয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি'—এই বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দুটিকে একত্রে মেলাতেন। অতঃপর বলতেন: 'পর সমাচার এই যে, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রত্যেকটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)।' তিনি আল্লাহর প্রশংসা পাঠ করা ব্যতীত কোনো ভাষণই শুরু করতেন না। তবে অনেক ফকিহ যে কথা বলেন যে—ইস্তিসকার খুতবা ইস্তিগফার দিয়ে এবং দুই ঈদের খুতবা তাকবীর দিয়ে শুরু করতে হয়—এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সুন্নাহ (سنة) একেবারেই প্রমাণিত নেই। বরং তাঁর সুন্নাহ (سنة) এর বিপরীত পদ্ধতিই নির্দেশ করে, আর তা হলো সকল ভাষণ শুরু করা...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা: ৪৯ - ৫১
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
بالحمد لله وهو أحد الوجوه الثلاثة لأصحاب أحمد وهو اختيار شيخنا قدس الله سره. وكان يخطب قائما، وفي مراسيل عطاء وغيره أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا صعد المنبر أقبل بوجهه على الناس ثم قال السلام عليكم، قال الشعبي وكان أبو بكر وعمر يفعلان ذلك وكان يختم خطبته بالاستغفار.

وكان كثيراً ما يخطب بالقرآن، وفي صحيح مسلم عن أم هشام بنت حارثة رضي الله عنها قالت: «ما أخذت {ق وَالقُرْآنِ المَجِيدِ} إلا عن لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرؤها كل يوم جمعة على المنبر إذا خطب الناس» (1) وذكر أبو داود عن ابن مسعود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا تشهد قال: «الحمد لله نستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا من يهد الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله أرسله بالحق بشيرا ونذيرا بين يدي الساعة من يطع الله ورسوله فقد رشد ومن يعصهما فإنه لا يضر إلا نفسه ولا يضر الله شيئا»

وقال أبو داود عن يونس أنه سأل ابن شهاب عن تشهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة فذكر نحو هذا إلا أنه قال: "ومن يعصهما فقد غوى" (2)

وقال ابن شهاب: وبلغنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول إذا خطب: "كل ما هو آت قريب لا بعد لما هو آت ولا يعجل الله لعجلة أحد يريد الله شيئا ويريد الناس شيئا ما شاء الله كان ولو كره الناس ولا مبعد لما قرب الله ولا مقرب لما بعد الله ولا يكون شيء إلا بإذن الله".

--------------------------------------------

(1) سورة ق: 1 والحديث رواه: م: الجمعة (873)

(2) م: الجمعة (870)
আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে (খুতবা শুরু করা), যা ইমাম আহমাদের অনুসারীদের তিনটি অভিমতের একটি এবং এটি আমাদের শাইখের (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) মনোনীত পছন্দ। তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। আতা ও অন্যদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাসমূহে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিম্বারে আরোহণ করতেন, তখন জনগণের দিকে মুখ ফিরাতেন এবং বলতেন, 'আসসালামু আলাইকুম'। শা'বী বলেন, আবু বকর ও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা এমনটিই করতেন এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁর খুতবা শেষ করতেন।

তিনি প্রায়শই কুরআনের মাধ্যমে খুতবা দিতেন। সহীহ মুসলিম-এ উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি 'ক্বাফ, শপথ মহিমান্বিত কুরআনের'—এই সূরাটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকেই মুখস্থ করেছি; তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বারের ওপর যখন মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন তখন এটি পাঠ করতেন।" (১) আবু দাউদ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পাঠ করতেন, তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে, আর যে ব্যক্তি তাঁদের অবাধ্য হবে সে কেবল নিজেরই ক্ষতি করবে এবং আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না।"

আবু দাউদ ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে শিহাবকে জুমার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাশাহহুদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন; তখন তিনি অনুরুপ উল্লেখ করেন, তবে তিনি বলেন: "আর যে ব্যক্তি তাঁদের অবাধ্য হবে সে নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হবে।" (২)

ইবনে শিহাব বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন বলতেন: "যা কিছু আসার তা নিকটবর্তী, যা আসন্ন তা কখনো দূরে নয়। আল্লাহ কারো তাড়াহুড়োর কারণে ত্বরান্বিত করেন না। আল্লাহ এক ইচ্ছা করেন আর মানুষ অন্য ইচ্ছা করে। তবে আল্লাহ যা চান তাই হয় যদিও মানুষ তা অপছন্দ করে। আল্লাহ যা নিকটবর্তী করেছেন তা কেউ দূরে সরাতে পারে না এবং আল্লাহ যা দূরে রেখেছেন তা কেউ নিকটবর্তী করতে পারে না। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না।"

--------------------------------------------

(১) সূরা ক্বাফ: ১ এবং হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: মুসলিম: আল-জুমুআ (৮৭৩)

(২) মুসলিম: আল-জুমুআ (৮৭০)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
وكان مدار خطبه صلى الله عليه وسلم على حمد الله والثناء عليه بآلائه وأوصاف كماله ومحامده وتعليم قواعد الإسلام وذكر الجنة والنار والمعاد والأمر بتقوى الله وتبيين موارد غضبه ومواقع رضاه فعلى هذا كان مدار خطبه.

وكان يقول في خطبه: "أيها الناس إنكم لن تطيقوا أو لن تفعلوا كل ما أمرتم به ولكن سددوا وأبشروا" (1)

وكان يخطب في كل وقت بما تقتضيه حاجة المخاطبين ومصلحتهم ولم يكن يخطب خطبة إلا افتتحها بحمد الله ويتشهد فيها بكلمتي الشهادة ويذكر فيها نفسه باسمه العلم، وثبت عنه أنه قال: "كل خطبة ليس فيها تشهد فهي كاليد الجذماء" (2) ولم يكن له شاويش يخرج بين يديه إذا خرج من حجرته ولم يكن يلبس لباس الخطباء اليوم لا طرحة ولا زيقا واسعا، وكان منبره ثلاث درجات فإذا استوى عليه واستقبل الناس أخذ المؤذن في الأذان فقط ولم يقل شيئا قبله ولا بعده فإذا أخذ في الخطبة لم يرفع أحد صوته بشيء البتة لا مؤذن ولا غيره. وكان إذا قام يخطب أخذ عصا فتوكأ عليها وهو على المنبر، كذا ذكره عنه أبو داود عن ابن شهاب وكان الخلفاء الثلاثة بعده يفعلون ذلك وكان أحيانا يتوكأ على قوس ولم يحفظ عنه أنه توكأ على سيف وكثير من الجهلة يظن أنه كان يمسك السيف على المنبر إشارة إلى أن الدين إنما قام بالسيف وهذا جهل قبيح من وجهين أحدهما أن المحفوظ أنه صلى الله عليه وسلم توكأ على العصا وعلى القوس، الثاني: أن الدين إنما قام بالوحي وأما

--------------------------------------------

(1) سورة التغابن: 15

(2) ت: النكاح (1106) وقال حسن صحيح غريب، د: الأدب (4201) ، صحيح ابن حبان (2797)
নবী (সা.)-এর খুতবাসম্মূহের মূল বিষয়বস্তু ছিল মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নেয়ামতরাজি, পূর্ণতা ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর স্তবগান করা, ইসলামের মূলনীতিসমূহ শিক্ষা দেওয়া এবং জান্নাত, জাহান্নাম ও পরকাল নিয়ে আলোচনা করা। এছাড়া আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া এবং তাঁর অসন্তুষ্টি ও সন্তুষ্টির ক্ষেত্রসমূহ স্পষ্ট করা ছিল তাঁর খুতবার মূল ভিত্তি।

তিনি তাঁর খুতবায় বলতেন: "হে লোকসকল! তোমাদের যা যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার সবটুকু পালন করার সামর্থ্য তোমাদের হবে না বা তোমরা তা করতে পারবে না; তবে তোমরা সঠিক পথে অবিচল থাকার চেষ্টা করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো।" (১)

তিনি সবসময় শ্রোতাদের প্রয়োজন ও কল্যাণ অনুযায়ী খুতবা প্রদান করতেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা না করে কোনো খুতবা শুরু করতেন না। তাতে তিনি সাক্ষ্যবাণী (তাশাহহুদ) পাঠ করতেন এবং নিজের নাম উল্লেখ করতেন। তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) যে তিনি বলেছেন: "যে খুতবায় সাক্ষ্যবাণী (তাশাহহুদ) নেই, তা ছিন্ন হাতের মতো।" (২) তিনি যখন নিজ কক্ষ থেকে বের হতেন, তখন তাঁর আগে আগে কোনো ঘোষক বা প্রহরী বের হতো না। তিনি বর্তমান সময়ের খতিবদের মতো বিশেষ কোনো মস্তকাবরণ বা প্রশস্ত কলারযুক্ত পোশাক পরিধান করতেন না। তাঁর মিম্বর ছিল তিন ধাপবিশিষ্ট। তিনি যখন মিম্বরে স্থির হয়ে বসতেন এবং মানুষের মুখোমুখি হতেন, তখন মুয়াজ্জিন কেবল আজান দেওয়া শুরু করতেন; আজানের আগে বা পরে মুয়াজ্জিন অন্য কিছু বলতেন না। তিনি যখন খুতবা শুরু করতেন, তখন মুয়াজ্জিন বা অন্য কেউ কোনোভাবেই উচ্চস্বরে কোনো কথা বলত না। তিনি যখন খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়াতেন, তখন একটি লাঠি নিতেন এবং মিম্বরে তার ওপর ভর দিতেন। আবু দাউদ ইবনে শিহাবের সূত্রে এভাবেই তা বর্ণনা করেছেন। তাঁর পরবর্তী তিন খলিফাও অনুরূপ করতেন। কখনো কখনো তিনি ধনুকের ওপর ভর দিতেন। তিনি তলোয়ারের ওপর ভর দিয়েছেন বলে কোনো বর্ণনা সংরক্ষিত (محفوظ) নেই। অনেক মূর্খ লোক ধারণা করে যে, তিনি মিম্বরে তলোয়ার ধারণ করতেন এই ইঙ্গিত দিতে যে, দীন তলোয়ারের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি দুই দিক থেকে জঘন্য মূর্খতা: প্রথমত, সংরক্ষিত (محفوظ) বর্ণনা অনুযায়ী নবী (সা.) লাঠি ও ধনুকের ওপর ভর দিতেন। দ্বিতীয়ত, দীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ওহির মাধ্যমে, আর...

--------------------------------------------

(১) সুরা আত-তাগাবুন: ১৫

(২) তিরমিজি: নিকাহ (১১০৬); তিনি বলেছেন এটি উত্তম বিশুদ্ধ (حسن صحيح) ও একক (غريب); আবু দাউদ: আদব (৪২০১); সহিহ ইবনে হিব্বান (২৭৯৭)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪০)
السيف فلمحق أهل الضلال والشرك ومدينة النبي صلى الله عيه وسلم التي كان يخطب فيها إنما فتحت بالقرآن ولم تفتح بالسيف. وكان إذا عرض له في خطبته عارض اشتغل به ثم رجع إلى خطبته، وكان يخطب فجاء الحسن والحسين يعثران في قميصين أحمرين فقطع كلامه فنَزل فحملهما ثم عاد إلى منبره ثم قال: صدق الله العظيم {إِنَّمَا أَمْوَالكُمْ وَأَوْلادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ} (1) رأيت هذين يعثران في قميصيهما فلم أصبر حتى قطعت كلامي فحملتهما، وجاء سليك الغطفاني وهو يخطب فجلس فقال له: «قم يا سليك فاركع ركعتين وتجوز فيهما» ثم قال وهو على المنبر: "إذا جاء أحدكم يوم الجمعة والإمام يخطب فليركع ركعتين وليتجوز فيهما" (2)

وكان يقصر خطبته أحيانا ويطيلها أحيانا بحسب حاجة الناس وكانت خطبته العارضة أطول من خطبته الراتبة وكان يخطب النساء على حدة في الأعياد ويحرضهن على الصدقة. والله أعلم)) (3)

وفي هذه اللمحة عن الخطابة النبوية يتبين لنا أهم أسس الخطابة وصفات الخطيب والمعايير التي ينبغي أن تراعى في الخطيب البارع والخطابة البليغة.

(ج) تقويمه الخطباء وتصويبه لأخطائهم:

لقد كانت الخطباء تخطب بين يديه، سواء كانوا من خطباء المجتمع المدني أو من خطباء الوفود القادمة من مختلف أنحاء الجزيرة العربية بعد الهجرة، وممن

--------------------------------------------

(1) سورة التغابن: 15

(2) متفق عليه: خ: الجمعة (930) ، م: الجمعة (875)

(3) زاد المعاد1/186-199 وفي خطبته صلى الله عليه وسلم النساء، الصحيحين: خ: الحيض (3304) ، م: الإيمان (80)
তরবারি দিয়ে তিনি পথভ্রষ্ট ও শিরককারীদের নির্মূল করেছেন, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহর (মদিনা), যেখানে তিনি খুতবা প্রদান করতেন, তা মূলত কুরআনের মাধ্যমেই বিজিত হয়েছিল, তরবারির মাধ্যমে নয়। তাঁর খুতবা চলাকালীন কোনো বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তিনি সেদিকে মনোনিবেশ করতেন এবং এরপর পুনরায় খুতবায় ফিরে আসতেন। একবার তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় হাসান ও হুসাইন লাল রঙের জামা পরিহিত অবস্থায় হোঁচট খেতে খেতে আসছিলেন; তখন তিনি তাঁর বক্তব্য থামিয়ে (মিম্বর থেকে) নেমে আসলেন এবং তাঁদের কোলে তুলে নিলেন। এরপর পুনরায় মিম্বরে ফিরে গিয়ে বললেন: আল্লাহ মহান সত্য বলেছেন— {إِنَّمَا أَمْوَالكُمْ وَأَوْلادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ} (১) (নিশ্চয় তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এক পরীক্ষা; আর আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার)। আমি এই দুই শিশুকে হোঁচট খেতে দেখে ধৈর্য ধরতে পারলাম না, তাই কথা থামিয়ে তাঁদের তুলে নিলাম। অন্য এক সময় সুলাইক আল-গাতাফানি আসলেন যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন; সুলাইক বসে পড়লে তিনি তাঁকে বললেন: "হে সুলাইক! দাঁড়াও এবং সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করো।" এরপর তিনি মিম্বরে থাকা অবস্থায় বললেন: "তোমাদের কেউ যখন জুমার দিনে আসে এবং ইমাম খুতবা দিতে থাকেন, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং তা যেন সংক্ষিপ্ত করে।" (২)

তিনি মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন আবার কখনো দীর্ঘ করতেন। তাঁর বিশেষ খুতবাগুলো নিয়মিত খুতবার চেয়ে দীর্ঘ হতো। তিনি ঈদের দিনগুলোতে নারীদের উদ্দেশ্যে পৃথকভাবে খুতবা দিতেন এবং তাঁদের সদকা করতে উৎসাহিত করতেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (৩)

নব্যুয়তি বাগ্মিতার এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আমাদের সামনে খুতবার প্রধান ভিত্তিগুলো, খতিবের গুণাবলি এবং একজন দক্ষ খতিব ও সাবলীল বাগ্মিতার ক্ষেত্রে যে মানদণ্ডগুলো রক্ষা করা উচিত তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

(গ) খতিবদের মূল্যায়ন এবং তাঁদের ভুল সংশোধন:

খতিবগণ তাঁর সামনে খুতবা দিতেন, তাঁরা মদিনার সমাজের খতিব হোক কিংবা হিজরতের পর আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধি দলের খতিব হোক, এবং তাঁদের মধ্য থেকে যারা...

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাগাবুন: ১৫

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি: জুমুআ (৯৩০), মুসলিম: জুমুআ (৮৭৫)

(৩) জাদুল মাআদ ১/১৮৬-১৯৯; নারীদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবার বিষয়ে, সহীহাইন: বুখারি: হায়জ (৩৩০৪), মুসলিম: ঈমান (৮০)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪১)
اشتهر من الخطباء في ذلك العهد الميمون ثابت بن قيس رضي الله عنه الذي خطب مقدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة وكان يجيب بخطبه على خطباء الوفود التي كانت تقدم المدينة.

ومن الأمثلة على تقويمه للخطباء وتعليمهم مواضع القول حديث عدي ابن حاتم رضي الله عنه: أن خطيبا خطب عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال من يطع الله ورسوله فقد رشد ومن يعصهما فقد غوى قال: «قم أو اذهب فبئس الخطيب أنت» وفي رواية أخرى عنه قال: تشهّد رجلان عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال أحدهما من يطع الله ورسوله فقد رشد ومن يعصهما فقد غوى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بئس الخطيب أنت قل ومن يعص الله ورسوله" (1) فهو هنا عليه الصلاة والسلام أنكر عليه تشريكه مع الله في المعصية فقد قال: ((ومن يعصهما)) ولم يقل ومن يعص الله ورسوله، وهذا درس في التوحيد بليغ.

ولقد كان صلى الله عليه وسلم يستمع إلى خطيب الأنصار كثابت بن قيس بن الشماس وإلى شعرائهم، وكانت خطباء الوفود تخطب بين يديه فيستمع ويعلم ويوجه.

(د) تربيته صلوات الله عليه أصحابه على أساليب البيان:

كان يتعهدهم ويوجههم ويصوّب من أخطأ منهم حتى في الدقائق التي قد تخفى على كثيرين، لاسيما ما يمس جناب التوحيد والعقيدة، وكان ذلك شاملا لكل الأشكال التعبيرية البيانية من خطابة وحوار وجدال … لذا برز عدد غير قليل من الصحابة رضي الله عنهم في الخطابة الحوار والجدال وجمعوا في هذه العلوم خصائصها ودقائقها على نحو قل مثيله.

--------------------------------------------

(1) م: الجمعة (870)
সেই বরকতময় যুগে বাগ্মীদের মধ্যে সাবিত বিন কায়েস (রা.) প্রসিদ্ধ ছিলেন, যিনি নবী (সা.)-এর মদিনায় আগমনের সময় ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি মদিনায় আগত প্রতিনিধি দলগুলোর বাগ্মীদের বক্তব্যের উত্তর তাঁর ভাষণের মাধ্যমে প্রদান করতেন।

বাগ্মীদের সংশোধন এবং কথা বলার যথাযথ স্থানসমূহ শেখানোর উদাহরণসমূহের মধ্যে আদি ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস হলো: নবী (সা.)-এর নিকট এক বাগ্মী ভাষণ দিলেন এবং বললেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল সে সঠিক পথ পেল, আর যে ব্যক্তি তাঁদের উভয়ের অবাধ্য হলো সে পথভ্রষ্ট হলো।" তখন তিনি (সা.) বললেন: "দাঁড়াও অথবা চলে যাও, তুমি কতই না মন্দ বাগ্মী।" তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে যে, দুজন ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট সাক্ষ্য প্রদান করলেন। তাঁদের একজন বললেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল সে সঠিক পথ পেল, আর যে ব্যক্তি তাঁদের উভয়ের অবাধ্য হলো সে পথভ্রষ্ট হলো।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তুমি কতই না মন্দ বাগ্মী! তুমি বলো: 'আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো'।" (১) এখানে তিনি (সা.) অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; কেননা সে ব্যক্তি বলেছিল: "তাঁদের উভয়ের অবাধ্য হলো" এবং "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো" কথাটি বলেনি। এটি তাওহিদের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী শিক্ষা।

তিনি (সা.) আনসারদের বাগ্মী সাবিত বিন কায়েস বিন শাম্মাস এবং তাঁদের কবিদের কথা শ্রবণ করতেন। আগত প্রতিনিধি দলের বাগ্মীরা তাঁর সম্মুখে ভাষণ দিতেন, আর তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, শিক্ষা দিতেন এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন।

(ঘ) সাহাবায়ে কেরামকে বর্ণনার শৈলীসমূহের ওপর তাঁর (সা.) প্রশিক্ষণ:

তিনি তাঁদের তত্ত্বাবধান করতেন, দিকনির্দেশনা দিতেন এবং তাঁদের মধ্যকার ভুলগুলো সংশোধন করে দিতেন, এমনকি সেই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতেও যা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে; বিশেষ করে যা তাওহিদ ও আকিদার মর্যাদাকে স্পর্শ করে। এটি ভাষণ, সংলাপ এবং বিতর্কসহ বর্ণনার সকল প্রকাশভঙ্গিকে অন্তর্ভুক্ত করত … ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাহাবী (রা.) ভাষণ, সংলাপ ও বিতর্কের ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং এই জ্ঞানসমূহের বৈশিষ্ট্য ও সূক্ষ্ম দিকগুলো এমনভাবে আয়ত্ত করেছিলেন যার দৃষ্টান্ত বিরল।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম: আল-জুমুআ (৮৭০)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪২)
ومن تأمل خطب هؤلاء الأماجد رضي الله عنهم يجد أنها مليئة بالمعالم العقدية والأسس الإيمانية والخصائص الخطابية والمقاصد السنية وهذا كله لم يأت من فراغ، ولولا أنه صلى الله عليه وسلم كان يتعهدهم ويربيهم على ذلك ما كان لهم أن يحققوه، ومن خُطب الصحابة رضي الله عنهم الذين تبؤوا المكانة السنية في التدرب البياني ممن رباهم صلى الله عليه وسلم على عينه:

أ - جعفر رضي الله عنه بين يدي النجاشي (خطبةً وحواراً) .

ب- مصعب بن عمير وعبد الله بن أم مكتوم رضي الله عنهما (تعليما وإقراءً)

ج- معاذ بن جبل وأبي موسى الأشعري رضي الله عنهما (تعليما وإقراءً وإفتاءً) .

د- عبد الله بن مسعود رضي الله عنه (تعليما ووعظاً)

هـ- عبد الله بن العباس رضي الله عنها (حواراً وجدالاً)

وإليك مقتبسات مختصرة من سير كل واحد من هؤلاء الأماجد والأسلوب البياني التعبيري الذي سلكه:

أ - جعفر بين يدي النجاشي: تروي القصة أم المؤمنين أم سلمة ابنة أبي أمية بن المغيرة زوج النبي صلى الله عليه وسلم بعد أن ساقت أحداث القصة قالت قال سفيرا قريش للنجاشي: ((أيها الملك إنه قد صبا إلى بلدك منا غلمان سفهاء فارقوا دين قومهم ولم يدخلوا في دينك وجاءوا بدين مبتدع لا نعرفه نحن ولا أنت وقد بعثنا إليك فيهم أشراف قومهم من آبائهم وأعمامهم وعشائرهم لتردهم إليهم فهم أعلى بهم عينا وأعلم بما عابوا عليهم وعاتبوهم فيه)) [وذكرت أحداث القصة] قالت فكان الذي كلمه جعفر بن أبي طالب فقال له أيها الملك: ((كنا قوما أهل جاهلية نعبد الأصنام ونأكل الميتة ونأتي الفواحش ونقطع الأرحام
যে ব্যক্তি এই মহান ব্যক্তিত্বদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ভাষণসমূহ পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে তা আকিদাগত নিদর্শন, ইমানি ভিত্তি, ভাষণশৈলীর বৈশিষ্ট্য এবং মহান উদ্দেশ্যসমূহে ভরপুর। আর এসব কিছুই কোনো শূন্যতা থেকে আসেনি; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তাঁদের তদারকি না করতেন এবং এগুলোর ওপর তাঁদের গড়ে না তুলতেন, তবে তাঁদের পক্ষে তা অর্জন করা সম্ভব হতো না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাঁদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করেছেন এবং যাঁরা বাগ্মিতার প্রশিক্ষণে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন, সেই সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ভাষণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

ক - নাজ্জাশির সম্মুখে জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (ভাষণ ও সংলাপ)।

খ - মুসআব বিন উমায়ের এবং আবদুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) (শিক্ষা ও কুরআন পাঠ দান)।

গ - মুয়াজ বিন জাবাল এবং আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) (শিক্ষা, কুরআন পাঠ দান ও ফতোয়া প্রদান)।

ঘ - আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (শিক্ষা ও নসিহত)।

ঙ - আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) (সংলাপ ও বিতর্ক)।

এই মহান ব্যক্তিত্বদের প্রত্যেকের জীবনী এবং তাঁদের অনুসৃত অলঙ্কারপূর্ণ প্রকাশভঙ্গির সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি নিচে তুলে ধরা হলো:

ক - নাজ্জাশির সম্মুখে জাফর: এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামাহ বিনতে আবি উমাইয়্যাহ ইবনুল মুগিরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা), যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কুরাইশদের দুই প্রতিনিধি নাজ্জাশিকে বলেছিল: ((হে সম্রাট, আমাদের মধ্য থেকে কিছু নির্বোধ যুবক আপনার দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদের স্বজাতির ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং আপনার ধর্মেও প্রবেশ করেনি। তারা একটি উদ্ভাবিত (مبتدع) ধর্ম নিয়ে এসেছে যা আমরাও চিনি না এবং আপনিও চেনেন না। তাদের স্বজাতির উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা অর্থাৎ তাদের পিতা, চাচা এবং আত্মীয়-স্বজনরা তাদের আপনার কাছে পাঠিয়েছে যাতে আপনি তাদের কাছে ফেরত পাঠান। কারণ তাঁরাই তাদের সম্পর্কে অধিক পর্যবেক্ষণকারী এবং তারা কী দোষ করেছে বা কেন তাদের তিরস্কার করা হয়েছে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।)) [উম্মে সালামাহ ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করলেন]। তিনি বলেন, জাফর বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন তাঁর সাথে কথা বলেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: ((হে সম্রাট, আমরা ছিলাম জাহিলিয়াতের এক কওম; আমরা মূর্তিপূজা করতাম, মৃত প্রাণীর মাংস খেতাম, অশ্লীল কাজ করতাম এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতাম...
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
ونسيء الجوار يأكل القوي منا الضعيف فكنا على ذلك حتى بعث الله إلينا رسولا منا نعرف نسبه وصدقه وأمانته وعفافه فدعانا إلى الله لنوحده ونعبده ونخلع ما كنا نعبد نحن وآباؤنا من دونه من الحجارة والأوثان وأمرنا بصدق الحديث وأداء الأمانة وصلة الرحم وحسن الجوار والكف عن المحارم والدماء ونهانا عن الفواحش وقول الزور وأكل مال اليتيم وقذف المحصنة وأمرنا أن نعبد الله وحده لا نشرك به شيئا وأمرنا بالصلاة والزكاة والصيام قال فعدد عليه أمور الإسلام فصدقناه وآمنا به واتبعناه على ما جاء به فعبدنا الله وحده فلم نشرك به شيئا وحرمنا ما حرم علينا وأحللنا ما أحل لنا فعدا علينا قومنا فعذبونا وفتنونا عن ديننا ليردونا إلى عبادة الأوثان من عبادة الله وأن نستحل ما كنا نستحل من الخبائث فلما قهرونا وظلمونا وشقوا علينا وحالوا بيننا وبين ديننا خرجنا إلى بلدك واخترناك على من سواك ورغبنا في جوارك ورجونا أن لا نظلم عندك أيها الملك)) قالت فقال له النجاشي هل معك مما جاء به عن الله من شيء قالت فقال له جعفر نعم فقال له النجاشي فاقرأه علي فقرأ عليه صدرا من سورة {كهيعص} قالت فبكى والله النجاشي حتى أخضل لحيته وبكت أساقفته حتى أخضلوا مصاحفهم حين سمعوا ما تلا عليهم ثم قال النجاشي: ((إن هذا والله والذي جاء به موسى ليخرج من مشكاة واحدة انطلقا فوالله لا أسلمهم إليكم أبدا ولا أكاد)) (1)

ومن هذه القصة يتبين كيف أن الكلمة الهادفة البناءة والحوار الصّيّب الحكيم كان سببا قويا بعد توفيق الله تعالى في صد كيد الأعداء وصيانة مصالح

--------------------------------------------

(1) أحمد: أهل البيت (1649) مختصرا، قال في مجمع الزوائد 6/26 رجاله رجال الصحيح غير إسحاق وقد صرح بالسماع، وقال في مسند إسحاق 1/73 (21) رواته ثقات سوى محمد بن إسحاق صدوق مدلس لكنه صرح هنا فإسناده حسن به.
আমরা প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার করতাম, আমাদের মধ্যকার শক্তিশালীরা দুর্বলের ওপর চড়াও হতো। আমরা এ অবস্থাতেই ছিলাম, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের নিকট আমাদের মধ্য হতেই একজন রাসূল প্রেরণ করলেন। আমরা তাঁর বংশপরিচয়, সত্যবাদিতা, আমানতদারি এবং পবিত্রতা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। তিনি আমাদের আল্লাহর একত্বের দিকে এবং তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান করলেন। আর আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা আল্লাহ ব্যতীত যে সকল পাথর ও মূর্তির পূজা করতাম, সেগুলো বর্জন করার দাওয়াত দিলেন। তিনি আমাদের সত্য কথা বলার, আমানত রক্ষা করার, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার, প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করার এবং হারাম ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন। তিনি আমাদের অশ্লীলতা, মিথ্যা কথা, এতিমের মাল ভক্ষণ এবং সতী নারীর অপবাদ দেওয়া থেকে নিষেধ করলেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিলেন যে, আমরা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো কিছুকে শরিক না করি। তিনি আমাদের নামাজ, জাকাত ও রোজার নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর জাফর (রা.) তাঁর কাছে ইসলামের বিষয়গুলো বর্ণনা করলেন। তখন আমরা তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করলাম, তাঁর ওপর ঈমান আনলাম এবং তিনি যা নিয়ে এসেছিলেন সে বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম। আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করলাম এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করলাম না। তিনি আমাদের জন্য যা হারাম করেছেন আমরা তা হারাম হিসেবে গ্রহণ করলাম এবং যা হালাল করেছেন তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করলাম। এতে আমাদের স্বগোত্রীয়রা আমাদের ওপর চড়াও হলো। তারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালাল এবং আমাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করল, যাতে আমাদের আল্লাহর ইবাদত থেকে ফিরিয়ে মূর্তিপূজার দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং আমরা যেন অপবিত্র কাজগুলোকে পুনরায় বৈধ মনে করি। যখন তারা আমাদের ওপর চড়াও হলো, জুলুম করল, আমাদের পথ রুদ্ধ করে দিল এবং আমাদের ও আমাদের ধর্মের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, তখন আমরা আপনার দেশে চলে এলাম। অন্য সবার তুলনায় আমরা আপনাকে পছন্দ করে নিয়েছি এবং আপনার প্রতিবেশী হতে আগ্রহী হয়েছি। হে রাজাধিপতি! আমরা আশা করি যে, আপনার কাছে আমরা জুলুমের শিকার হব না। উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন, তখন নাজাসি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর কাছ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন, তার কিছু কি তোমার কাছে আছে?" জাফর (রা.) তাঁকে বললেন, "হ্যাঁ।" নাজাসি বললেন, "তবে তা আমাকে পড়ে শোনাও।" তখন তিনি সূরা {ক্বাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ}-এর শুরুর অংশ তেলাওয়াত করলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তখন নাজাসি কান্নায় ভেঙে পড়লেন, এমনকি তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। তাঁর পাদ্রিগণও কান্নায় ভেঙে পড়লেন, এমনকি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোও ভিজে গেল যখন তারা তেলাওয়াত শুনলেন। এরপর নাজাসি বললেন, "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই এই বাণী এবং মুসা (আ.) যা নিয়ে এসেছিলেন, তা একই আলোক উৎস থেকে বিচ্ছুরিত। তোমরা চলে যাও, আল্লাহর কসম! আমি তাদের কখনোই তোমাদের হাতে সোপর্দ করব না এবং এমন করার চিন্তাও করি না।" (১)

এই ঘটনা থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, কীভাবে গঠনমূলক ও উদ্দেশ্যপূর্ণ কথা এবং সঠিক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সংলাপ আল্লাহর তাওফিকের পর শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং স্বার্থ সংরক্ষণে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আহমদ: আহলে বাইত (১৬৪৯) সংক্ষেপে; মাজমাউয যাওয়াইদ (৬/২৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে, এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) এর বর্ণনাকারী, তবে ইসহাক ব্যতীত এবং তিনি এখানে সরাসরি শোনার কথা ব্যক্ত করেছেন; এবং মুসনাদে ইসহাক (১/৭৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), কেবল মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ব্যতীত, তিনি সত্যবাদী (صدوق) ও মুদাল্লিস (مدلس), তবে তিনি এখানে সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেছেন, তাই এর সনদ হাসান (حسن)।
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
المسلمين وإقامة الحجة والبرهان على المنكرين والمتشككين، ولقد كان جعفر رضي الله عنه موفقا في خطابه وفي حواره. عارفا بمسالك الكلام ومكامن الحوار، ولا جرم أنه لم يكن بتلك المثابة من الحكمة والحنكة إلا بعد أن تعلم ذلك من النبي صلى الله عليه وسلم وتفقه فيه على يديه.

ب- مصعب بن عمير وعبد الله بن أم مكتوم رضي الله عنهما: لقد بعثهما النبي الكريم صلى الله عليه وسلم إلى المدينة داعيين معلمين مقرئَين، ولم يكن اختياره عليه الصلاة والسلام إلا بعد تأهلهما لهذه المهمة التربوية الإعلامية الجليلة تأهلا صقلته التجربة والممارسة والتربية على عينيه صلى الله عليه وسلم، قال البراء بن عازب رضي الله عنهما: «أول من قدم علينا مصعب بن عمير وابن أم مكتوم وكانا يقرئان الناس فقدم بلال وسعد وعمار بن ياسر ثم قدم عمر بن الخطاب في عشرين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ثم قدم النبي صلى الله عليه وسلم فما رأيت أهل المدينة فرحوا بشيء فرحهم برسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جعل الإماء يقلن قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فما قدم حتى قرأت سبح اسم ربك الأعلى في سور من المفصل» (1)

ففي هذا الحديث أن مصعبا وعبد الله كانت مهمتهما إقراء الأنصار القرآن وللقرآن كما هو معروف تأثيره النافذ من خلال قوته البيانية وما اشتمل عليه من إعجاز، والقرآن العظيم أجل ما اشتغل به الدعاة تعلما وتعليما وتلقيا وأداءً

ج - دعوة معاذ بن جبل وأبي موسى الأشعري لأهل اليمن:

عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما

--------------------------------------------

(1) خ: المناقب (3925)
মুসলমানদের সাহায্যার্থে এবং অস্বীকারকারী ও সংশয়বাদীদের বিরুদ্ধে অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে জাফর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর ভাষণ ও সংলাপে অত্যন্ত সফল ছিলেন। তিনি বাকশৈলী ও আলোচনার নিগূঢ় কৌশল সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন। নিঃসন্দেহে তিনি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার এই সুউচ্চ স্তরে উপনীত হতে পেরেছিলেন একমাত্র নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে তা শিক্ষা গ্রহণের পর এবং তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যে সে বিষয়ে বুৎপত্তি অর্জনের মাধ্যমে।

খ- মুসআব বিন উমায়ের এবং আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা): নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের উভয়কে দাঈ, শিক্ষক এবং কুরআন পাঠক হিসেবে মদিনায় প্রেরণ করেছিলেন। মহান এই শিক্ষামূলক ও প্রচারণামূলক দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার পরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নির্বাচন করেছিলেন; যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুসংহত হয়েছিল। বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন: "আমাদের নিকট সর্বপ্রথম যারা এসেছিলেন তাঁরা হলেন মুসআব বিন উমায়ের এবং ইবনে উম্মে মাকতূম; তাঁরা লোকদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। অতঃপর বিলাল, সাদ এবং আম্মার বিন ইয়াসির আসলেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বিশজন সাহাবীর একটি দলের সাথে উমর ইবনুল খাত্তাব আসলেন। সবশেষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন। আমি মদিনাবাসীদের অন্য কোনো বিষয়ে এত বেশি আনন্দিত হতে দেখিনি, যতটা আনন্দিত তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগমনে হয়েছিল; এমনকি দাসীরাও বলতে শুরু করেছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন। তাঁর আগমনের পূর্বেই আমি ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ সহ মুফাসসাল (المفصل) পর্যায়ের বেশ কিছু সূরা পড়ে ফেলেছিলাম।" (১)

এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুসআব ও আবদুল্লাহর মূল দায়িত্ব ছিল আনসারদের কুরআন পাঠ করানো। আর কুরআনের রয়েছে এক শাশ্বত প্রভাব যা এর ভাষাগত অলঙ্কার ও অলৌকিকতা (إعجاز) দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। দাঈগণ জ্ঞান অর্জন, শিক্ষাদান এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যা কিছু নিয়ে ব্যাপৃত থাকেন, তার মধ্যে মহান কুরআনই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।

গ - ইয়েমেনবাসীদের প্রতি মুআয বিন জাবাল এবং আবু মুসা আল-আশআরীর দাওয়াত:

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি: আল-মানাকিব (৩৯২৫)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
بعث معاذا رضي الله عنه على اليمن قال: «إنك تقدم على قوم أهل كتاب فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله، فإذا عرفوا الله فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم، فإذا فعلوا فأخبرهم أن الله فرض عليهم زكاة من أموالهم وترد على فقرائهم، فإذا أطاعوا بها فخذ منهم وتوق كرائم أموال الناس» (1)

وتأمل كيف وجهه النبي صلى الله عليه وسلم وهو يعلمه طرائق الدعوة ومنهجها إذ عرفه أولا بالمدعوين الذين سيدعوهم، وبين له بعد ذلك مراتب الدعوة وأولوياتها، ولم يكن اختيار النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ رضي الله عنه إلا لتأهله ومكنته في مجال ما بعث إليه. فهو يجمع بين فقه المفتي الأريب وفقه الداعية الحصيف، ومعاذ من فقهاء الصحابة وقرائهم ودعاتهم رضي الله عنه.

د - عبد الله بن مسعود رضي الله عنه:

لعبد الله أسلوب عرف به فهو فضلا عن كونه مرجعاً في إقراء القرآن وتفسيره، كما في الحديث الشريف: "استقرؤا القرآن من أربعة من ابن مسعود وسالم مولى أبي حذيفة وأبي بن كعب ومعاذ بن جبل" (2) نجده أيضا خطيبا مفوها وواعظا حكيما، فمن منهج ابن مسعود أنه كان يتحرى الوقت المناسب للوعظ والتعليم يستجلب بذلك في المستمعين والمتعلمين الاستيعاب ويدرأ عنهم السأم والملل، يدل على ذلك ما رواه شقيق أبي وائل قال كان عبد الله يذكرنا كل يوم خميس فقال له رجل: يا أبا عبد الرحمن إنا نحب حديثك ونشتهيه ولوددنا أنك حدثتنا كل يوم، فقال: «ما يمنعني أن أحدثكم إلا كراهية أن أملكم إن رسول

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: خ: الزكاة (1458) ، م: الإيمان (19)

(2) متفق عليه: خ: المناقب (3758) ، م: فضائل الصحابة (2464)
তিনি মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং বললেন: «নিশ্চয় তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার দাওয়াতের প্রথম বিষয় যেন হয় আল্লাহর ইবাদত। যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যখন তারা তা পালন করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন যা তাদের অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যখন তারা তা মেনে নেবে, তখন তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ কোরো এবং মানুষের অতি মূল্যবান সম্পদসমূহ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো» (১)

আর লক্ষ্য করুন, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দাওয়াতের পদ্ধতি ও মানহাজ শিক্ষা দেওয়ার সময় কীভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন; যেহেতু তিনি প্রথমে তাকে যাদের দাওয়াত দেওয়া হবে সেই দাওয়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং এর পরে তার নিকট দাওয়াতের স্তরসমূহ ও অগ্রাধিকারসমূহ বর্ণনা করেছেন। মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই নির্বাচন কেবল সেই বিষয়ের ওপর তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণেই ছিল যার জন্য তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি একজন বিচক্ষণ মুফতির ফিকহ এবং একজন প্রাজ্ঞ দায়ীর ফিকহকে একত্রিত করেছিলেন। মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন সাহাবিদের মধ্যকার ফকিহ, ক্বারি এবং দায়ীদের অন্তর্ভুক্ত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

ঘ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু):

আবদুল্লাহর এমন এক স্বতন্ত্র শৈলী ছিল যার মাধ্যমে তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি কুরআন শিক্ষা দান ও এর তাফসিরের ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ হওয়া ছাড়াও—যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা চারজন ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন শেখো: ইবনে মাসউদ, আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিম, উবাই ইবনে কাব এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল" (২)—আমরা তাঁকে একজন বাগ্মী খতিব এবং প্রাজ্ঞ নসিহতকারী হিসেবেও পাই। ইবনে মাসউদের মানহাজের একটি দিক ছিল এই যে, তিনি নসিহত ও শিক্ষা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় অন্বেষণ করতেন। এর মাধ্যমে তিনি শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করতেন এবং তাদের একঘেয়েমি ও বিরক্তি দূর করতেন। শাকিক আবু ওয়ায়েল যা বর্ণনা করেছেন তা এর প্রমাণ দেয়, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের প্রতি বৃহস্পতিবার উপদেশ দিতেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আবু আবদুর রহমান, আমরা আপনার হাদিস পছন্দ করি এবং তা শুনতে আগ্রহী, আমরা খুবই পছন্দ করতাম যদি আপনি প্রতিদিন আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন। তিনি বললেন: «তোমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতে আমাকে যা বাধা দেয় তা হলো—তোমাদের বিরক্তির কারণ হওয়াকে আমি অপছন্দ করি। নিশ্চয়ই রাসুল...

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি: জাকাত (১৪৫৮), মুসলিম: ঈমান (১৯)

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি: মানাকিব (৩৭৫৮), মুসলিম: সাহাবিদের ফজিলত (২৪64)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
الله صلى الله عليه وسلم كان يتخولنا بالموعظة في الأيام كراهية السآمة علينا» (1)

وكان عبد الله من المكثرين من ملازمة النبي صلى الله عليه وسلم حتى يظنه من لا يعرفه أنه من أهل البيت من كثرة دخوله على النبي وملازمته له، وحسبنا في هذا شهادة الصحابي حذيفة رضي الله عنه له قال حذيفة: «إِنَّ أَشْبَهَ النَّاسِ دَلاًّ وَسَمْتًا وَهَدْيًا بِرَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم لابْنُ أُمِّ عَبْدٍ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ إِلى أَنْ يَرْجِعَ إِليْهِ لا نَدْرِي مَا يَصْنَعُ فِي أَهْلهِ إِذَا خَلا» (2)

وهذا الشبه في السمت والهدي بالنبي صلى الله عليه وسلم سببه كثرة ملازمته له والأخذ عنه والجلوس بين يديه، ومن جملة ذلك معرفته بأصول الخطابة وخصائصها ومضامينها ومعالمها ومتعلقاتها يشهد لذلك حديث الأسود أنه سمع أبا موسى يقول: «قدمت أنا وأخي من اليمن فمكثنا حينا ما نرى إلا أن عبد الله بن مسعود رجل من أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، مما نرى من دخوله ودخول أمه عليه» (3)

إن هذه الملازمة بهذه المثابة أسلوب تربوي يتحقق معه التعلم والأخذ بطريق القدوة، وهي قدوة يصاحبها حب ورغبة في التشبه والإقتداء، فإذا كان ذلك بدافع الإيمان والتقوى لا لشيء آخر فكيف تراه يكون، وهذا ما كان من عبد الله بن مسعود رضي الله عنه في أخذه من رسول رب العالمين صلى الله عليه وسلم، وفي رواية أخرى عن أبي الأحوص قال كنا في دار أبي موسى مع نفر من

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: خ: العلم (70) ، م: صفة القيامة (2821)

(2) م: الأدب (6097)

(3) متفق عليه: خ: المناقب (3763) ، م: فضائل الصحابة (2460)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় দিন বিরতি দিয়ে নসিহত করতেন (১)

এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দীর্ঘ সাহচর্যদানকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এমনকি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর অধিক যাতায়াত এবং নিবিড় সাহচর্যের কারণে তাঁকে তাঁর পরিবারভুক্ত মনে করত। এ বিষয়ে আমাদের জন্য সাহাবী (صحابي) হুযাইফা (রা.)-এর সাক্ষ্যই যথেষ্ট। হুযাইফা (রা.) বলেছেন: "ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে ফিরে আসা পর্যন্ত চালচলন, গাম্ভীর্য এবং আচার-আচরণে ইবনে উম্মে আবদ (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে অন্য সকলের চেয়ে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; তবে তিনি যখন একান্তে নিজ পরিবারের সাথে অবস্থান করেন তখন তিনি কী করেন তা আমরা জানি না" (২)

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গাম্ভীর্য ও আচার-আচরণের সাথে এই সাদৃশ্যের মূল কারণ ছিল তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য, তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন এবং তাঁর সম্মুখে মজলিসে উপবেশন করা। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বক্তৃতাশৈলীর মূলনীতিসমূহ, এর বৈশিষ্ট্য, বিষয়বস্তু, নিদর্শন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে তাঁর সুগভীর জ্ঞান। আসওয়াদের বর্ণিত হাদিস এ বিষয়ের সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি আবু মুসাকে বলতে শুনেছেন: "আমি এবং আমার ভাই ইয়ামেন থেকে এসে বেশ কিছুকাল এমনভাবে অতিবাহিত করলাম যে, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারেরই একজন সদস্য মনে করতাম, কারণ আমরা তাঁকে এবং তাঁর মাতাকে অনবরত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যাতায়াত করতে দেখতাম" (৩)

এই স্তরের সাহচর্য মূলত একটি শিক্ষামূলক পদ্ধতি যার মাধ্যমে আদর্শ অনুকরণের ভিত্তিতে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন সম্ভব হয়। এটি এমন এক আদর্শ যার সাথে ভালোবাসা এবং অনুসরণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা মিশে থাকে। আর যদি তা কেবল ঈমান ও তাকওয়ার তাড়নায় হয়, তবে তার ফলাফল কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। রাব্বুল আলামীনের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি ছিল ঠিক এমনই। আবু আহওয়াস থেকে প্রাপ্ত অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) বলা হয়েছে যে, আমরা আবু মুসার ঘরে একদল লোকের সাথে অবস্থান করছিলাম...

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারী: ইলম (৭০), মুসলিম: সিফাতুল কিয়ামাহ (২৮২১)

(২) মুসলিম: আল-আদব (৬০৯৭)

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারী: আল-মানাকিব (৩৭৬৩), মুসলিম: ফাদায়িলুস সাহাবাহ (২৪৬০)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
أصحاب عبد الله وهم ينظرون في مصحف فقام عبد الله فقال أبو مسعود ما أعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم ترك بعده أعلم بما أنزل الله من هذا القائم فقال أبو موسى: «أما لئن قلت ذاك لقد كان يشهد إذا غبنا ويؤذَن إذا حُجبنا» (1)

وكل واحد من هؤلاء الأماجد وغيرهم رضي الله عنهم جميعا كان يقوم بالدعوة إلى الله بالخطابة تارة وبالموعظة تارة وبالجدال تارة وبالحوار تارة وبالنصح والتذكير تارة. ولولا أنه صلى الله عليه وسلم كان يربّيهم على أساليب البيان بالتقويم وبالقدوة والتوجيه ما بلغوا رتبة السفارة ولا تصدوا للدعوة ولا تصدروا الإفتاء، إذ تلك مناصب لا يصلح لها إلا المتكلم البليغ.

--------------------------------------------

(1) م: فضائل الصحابة (2461)
আবদুল্লাহর সঙ্গীগণ (أصحاب) একটি মাসহাফের দিকে দৃষ্টিপাত করছিলেন, এমতাবস্থায় আবদুল্লাহ উঠে দাঁড়ালেন। তখন আবু মাসউদ বললেন, "আমি জানি না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তিরোধানের পর আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব সম্পর্কে এই দণ্ডায়মান ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী আর কাউকে রেখে গেছেন কি না।" তখন আবু মুসা বললেন: "আপনি যা বলেছেন তা যথার্থ; কারণ আমরা যখন অনুপস্থিত থাকতাম তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন এবং আমাদের জন্য যখন প্রবেশাধিকার রুদ্ধ থাকত তখন তাঁকে অনুমতি প্রদান করা হতো।" (১)

এই মহান ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের বাইরে অন্যান্যরা (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), প্রত্যেকেই দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিতেন—কখনও ভাষণের মাধ্যমে, কখনও উপদেশের মাধ্যমে, কখনও বিতর্কের মাধ্যমে, কখনও সংলাপের মাধ্যমে এবং কখনও নসিহত ও স্মারক বার্তার মাধ্যমে। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে সংশোধন, আদর্শ স্থাপন এবং নির্দেশনার মাধ্যমে বয়ান বা প্রকাশের শৈলীসমূহের ওপর গড়ে না তুলতেন, তবে তাঁরা দূতিয়ালির স্তরে পৌঁছাতে পারতেন না, দাওয়াতের গুরুদায়িত্বে নিয়োজিত হতে পারতেন না এবং ফতোয়া প্রদানের আসনে সমাসীন হতে পারতেন না। কেননা, এগুলো এমন সব মর্যাদা যার যোগ্য কেবল একজন প্রাঞ্জল ও সাবলীল বক্তাই হতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম: ফাদাইলুস সাহাবা (২৪৬১)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৮)
‌‌المبحث الثاني:

خصائص التدرب على أساليب الكلام

يتسم الإنسان بسمة النطق والبيان، فهو يعبر بلسانه عما يستجيش في صدره ونفسه، ويحيل المشاعر والأحاسيس المتدفقة في قلبه إلى ألفاظ مفهومة وجمل مسموعة لها دلالاتها اللغوية ومعانيها التعبيرية المتنوعة، فالنطق والبيان من منن الرحمن على بني الإنسان، قال جل وعزّ: {الرَّحْمَانُ * عَلمَ القُرْآنَ * خَلقَ الإِنسَانَ * عَلمَهُ البَيَانَ} (1)

أولى خصائص التدرب على أساليب البيان: أنه واجب شرعي يجب على من تقوم فيه وبه الكفاية كالدعاة والمعلمين والوعّاظ والخطباء ونحوهم ممن يتصدون للدعوة ويتصدرونها. وعليه فالتدريب البياني ليس من فضول العلوم، ولقد نوّه الإسلام - وهو دين رسالة ودعوة عالمية - بقيمة العلوم اللسانية على اختلاف أنواعها وتعدد أنماطها من خطابة وجدل وحوار وبيان ووعظ وتذكير ونصح وإقراء وإعلام.. ووجّه إلى توظيف هذه العلوم للخير والرشد والبناء بإخلاص النية فيها لله تعالى، والتأسي بالنبي صلى الله عليه وسلم إمام الدعاة وقدوة المربين والمرشدين، وسيد البلغاء والفصحاء.

وعلى هذا فإن نشأة العلوم التعبيرية إنما تنبع من صميم الدعوة الإسلامية، إذ بالتعبير والبيان يتحقق التبليغ وتقوم الحجة وتتضح المحجة.

ولا صحة لما يذهب إليه بعض الباحثين أن العلوم الكلامية التعبيرية وليدة

--------------------------------------------

(1) سورة الرحمن: 1-4
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

বাকশৈলী অনুশীলনের বৈশিষ্ট্যসমূহ

মানুষ বাকশক্তি ও সাবলীল বর্ণনার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; সে তার অন্তরে ও মনে যা উদিত হয়, তা নিজ জিহ্বার মাধ্যমে প্রকাশ করে। সে তার হৃদয়ে প্রবাহমান আবেগ ও অনুভূতিসমূহকে বোধগম্য শব্দ এবং শ্রবণযোগ্য বাক্যে রূপান্তরিত করে, যার বিভিন্ন ভাষাগত দ্যোতনা ও অভিব্যক্তিমূলক অর্থ রয়েছে। সুতরাং বাকশক্তি ও বর্ণনা হলো মানবজাতির প্রতি দয়াময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। মহান আল্লাহ বলেন: “পরম করুণাময়, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা (البيান)।” (১)

বাকশৈলী অনুশীলনের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো: এটি একটি শরয়ি আবশ্যকতা (واجب شرعي), যা ঐ সকল ব্যক্তির ওপর বর্তায় যারা এই কাজের জন্য যোগ্য বা যাদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত; যেমন— দাঈ, শিক্ষক, ওয়ায়েজ ও খতিব এবং যারা দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত। অতএব, বর্ণনাভঙ্গির এই প্রশিক্ষণ কেবল অতিরিক্ত কোনো জ্ঞান নয়। ইসলাম—যা একটি বিশ্বজনীন দাওয়াত ও বার্তার ধর্ম—বিভিন্ন ধরনের ভাষাগত শাস্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে বক্তৃতা, বিতর্ক, সংলাপ, প্রাঞ্জল বর্ণনা, নসিহত, উপদেশ, পাঠদান ও তথ্য প্রচার। ইসলাম এই শাস্ত্রগুলোকে নিয়তের একনিষ্ঠতা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের মাধ্যমে কল্যাণ, সঠিক পথপ্রদর্শন এবং সমাজ গঠনের কাজে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে; যিনি ছিলেন দাঈদের ইমাম, শিক্ষক ও পথপ্রদর্শকদের আদর্শ এবং বাগ্মী ও শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ।

এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, প্রকাশভঙ্গি ও বাকলঙ্কার শাস্ত্রের উদ্ভব মূলত ইসলামি দাওয়াতের মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকেই উৎসারিত। কারণ, প্রকাশভঙ্গি ও সাবলীল বর্ণনার মাধ্যমেই দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়।

কিছু গবেষক যা মনে করেন তার কোনো ভিত্তি নেই যে, এই বাক্যলঙ্কার শাস্ত্রসমূহের জন্ম হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রহমান: ১-৪
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪৯)
الفلسفة الإغريقية واليونانية القديمة، حيث ترعرعت العلوم اللسانية وازدهرت إبان ظهور تلك الفلسفات ثم تبلورت قواعدها وتشكلت أسسها في غضون انبثاق الحضارة اليونانية حتى غدت علوما محددة المعالم واضحة القسمات. وهذا اتجاه نراه كثيرا في كتابات المؤرخين المعاصرين خاصة الذين يرون أن الخطابة والجدل وفنون التعبير والبيان الأخرى هي علوم فلسفية وأنها علوم عقلية راقية. فهذا رأي ليس يخلو من نظر، لأن ازدهار هذا اللون من صور التعبير كالخطابة والجدل في العصر اليوناني لا يعني بالضرورة أنها يونانية المنشأ أو فلسفية النّزعة.

والذي تسكن إليه النفس أن هذه العلوم البيانية قديمة قدم البشرية، عرفتها البشرية قبل الحضارة اليونانية بآلاف السنين، فمنذ أن خلق الله تعالى أبا البشر آدم عليه السلام علمه الأسماء كلها، قال تعالى: {وَعَلمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلى المَلائِكَةِ فَقَال أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلاء إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ} (1)

وخاطبه تبارك وتعالى وحاوره وأمره ونهاه كما في قوله تعالى {وَقُلنَا يَاآدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الجَنَّةَ وَكُلا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلا تَقْرَبَا هَذِهِ الشجَرَةَ فَتَكُونَا مِنْ الظَّالمِينَ} (2) وألهمه الله تعالى كلمات ليعرف الإنابة إلى الله والتوبة من الذنوب قال تعالى: {فَتَلقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلمَاتٍ فَتَابَ عَليْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} (3) وكان لآدم

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة: 31

(2) سورة البقرة: 35

(3) سورة البقرة: 37
প্রাচীন ইগরিক ও ইউনানী দর্শন, যেখানে ভাষাতাত্ত্বিক বিজ্ঞান (العلوم اللسانية) লালিত-পালিত হয়েছিল এবং সেই দর্শনগুলোর আবির্ভাবকালে বিকশিত হয়েছিল। অতঃপর গ্রীক সভ্যতার উন্মেষের সময় এগুলোর নিয়মকানুন দানা বাঁধে এবং এর ভিত্তি গঠিত হয়, যতক্ষণ না এগুলো সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও স্পষ্ট অবয়বসম্পন্ন বিজ্ঞানে পরিণত হয়। এটি এমন একটি ধারা যা আমরা আধুনিক ইতিহাসবিদদের লেখায় প্রায়ই দেখতে পাই, বিশেষ করে যারা মনে করেন যে বাগ্মিতা (خطابة), বিতর্ক (جدل) এবং অভিব্যক্তি ও অলঙ্কারের অন্যান্য শিল্পগুলো হলো দার্শনিক বিজ্ঞান এবং এগুলো উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلية) বিজ্ঞান। এই মতটি পর্যালোচনার (نظر) ঊর্ধ্বে নয়, কারণ গ্রীক যুগে বাগ্মিতা (خطابة) ও বিতর্কের (جدل) মতো প্রকাশের এই রূপগুলোর বিকাশ ঘটার অর্থ এই নয় যে, এগুলো গ্রীক উৎসজাত বা দার্শনিক প্রবণতাসম্পন্ন।

মন যাতে আশ্বস্ত হয় তা হলো, এই অলঙ্কার শাস্ত্র (العلوم البيانية) মানবজাতির মতোই প্রাচীন; গ্রীক সভ্যতার হাজার বছর পূর্বেই মানবজাতি এগুলো জানত। মহান আল্লাহ যখন মানবজাতির পিতা আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, 'যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও'।" (১)

এবং আল্লাহ মহিমান্বিত ও মহান তাঁকে সম্বোধন করেছেন, তাঁর সাথে সংলাপ করেছেন, তাঁকে আদেশ করেছেন এবং নিষেধ করেছেন; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "আর আমি বললাম, হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখান থেকে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের (ظالمين) অন্তর্ভুক্ত হবে।" (২) আর আল্লাহ তাআলা তাকে কিছু বাক্য অনুপ্রাণিত করলেন যাতে তিনি আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (إنابة) এবং পাপ থেকে তাওবা (توبة) করার বিষয়টি জানতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাক্য লাভ করলেন, ফলে আল্লাহ তার তাওবা (توبة) কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী (التواب), পরম দয়ালু (الرحيم)।" (৩) আর আদমের ছিল

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ: ৩১

(২) সূরা আল-বাকারাহ: ৩৫

(৩) সূরা আল-বাকারাহ: ৩৭
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫০)
وزوجه حواء عليهما السلام تعبير خاشع منيب وهو لون من علم البيان كما في قوله تعالى {قَالا رَبَّنَا ظَلمْنَا أَنفُسَنَا وَإِنْ لمْ تَغْفِرْ لنَا وَتَرْحَمْنَا لنَكُونَنَّ مِنْ الخَاسِرِينَ} (1)

ثم تتابعت هذه الأنماط التعبيرية الراقية في كلام آدم على قول من قال بأنه كان نبيا مرسلا وأن رسالته كانت إلى أولاده يأمرهم بأمر الله وينهاهم عن محارم الله، ويعظهم ويبصرهم.

وتتابعت من بعد آدم تلك الصور البيانية في رسالات الرسل الذين بعثهم الله من بعده على تباين عصورهم واختلاف ألسنتهم وألوانهم كنوح وهود وصالح وشعيب وإبراهيم وموسى وعيسى ومحمد عليهم جميعا الصلاة والتسليم.

قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلنَا منْ رَسُول إلاّ بلسَان قَوْمه ليُبَين لهُمْ فَيُضِل اللهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ العَزيزُ الحَكيمُ} (2) فقوله {إِلا بِلسَان قوْمه} أي بلغتهم ليبينوا لهم أمر دينهم، ووحد اللسان وإن أضافه إلى القوم لأن المراد اللغة فهي اسم جنس يقع على القليل والكثير كما يقول الإمام القرطبي (3)

وتأمل كيف تدافعت في دعوة نوح عليه الصلاة والتسليم لقومه كل أشكال التعبير كالجدال والحوار والترغيب والترهيب وإقامة الحجة والبرهان، قال تعالى: {وَلقَدْ أَرْسَلنَا نُوحًا إِلى قَوْمِهِ إِنِّي لكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ*أَنْ لا تَعْبُدُوا إِلا اللهَ إِنِّي أَخَافُ عَليْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَليمٍ * فَقَال المَلأُ الذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلا بَشَرًا مِثْلنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلا الذِينَ هُمْ أَرَاذِلنَا بَادِي الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لكُمْ عَليْنَا مِنْ فَضْل بَل نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ *قَال يَاقَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف: 23

(2) سورة إبراهيم: 4

(3) الجامع لأحكام القرآن 5/340
এবং তাঁর স্ত্রী হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর বিনীত ও তওবামুখী অভিব্যক্তি হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি ধরণ, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {তারা বলল, "হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।"} (১)

অতঃপর আদমের (আ.) কথাতেও এই উন্নত শৈল্পিক ভঙ্গিগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। এটি তাদের মতানুসারে যারা বলেন যে, তিনি একজন নবী ও প্রেরিত (مرسل) ছিলেন এবং তাঁর রিসালাত ছিল তাঁর সন্তানদের প্রতি। তিনি তাদের আল্লাহর নির্দেশের আদেশ দিতেন, আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হতে নিষেধ করতেন এবং তাদের উপদেশ দিতেন ও সত্যের পথ দেখাতেন।

আদমের পর থেকে পরবর্তী যুগে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূলদের রিসালাতেও এই অলঙ্কারময় চিত্রগুলো ধারাবাহিকভাবে বিদ্যমান ছিল; যদিও তাঁদের যুগ, ভাষা ও বর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ছিল। যেমন নূহ, হূদ, সালিহ, শুয়াইব, ইবরাহীম, মুসা, ঈসা এবং মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)।

মহান আল্লাহ বলেন: {আমি কোনো রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা ছাড়া পাঠাইনি, যাতে তিনি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (২) সুতরাং তাঁর বাণী {স্বজাতির ভাষা ছাড়া} এর অর্থ হলো তাদের ভাষা, যাতে তারা তাদের নিকট দ্বীনের বিষয়াদি স্পষ্ট করতে পারেন। এখানে "ভাষা" শব্দটিকে একবচনে ব্যবহার করা হয়েছে যদিও তা সম্প্রদায়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভাষা; যা একটি সাধারণ বিশেষ্য হিসেবে অল্প এবং অধিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, যেমনটি ইমাম কুরতুবী উল্লেখ করেছেন (৩)।

লক্ষ্য করুন, নূহের (আ.) দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি তর্কা-তর্কি, সংলাপ, উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন এবং দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপনের ন্যায় সকল ধরনের অভিব্যক্তি কীভাবে সঞ্চারিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তো নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম। তিনি বললেন, "আমি তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। যাতে তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করো। আমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।" তাঁর সম্প্রদায়ের কাফের নেতারা বলল, "আমরা তো তোমাকে আমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, আমাদের মধ্যে যারা নীচ প্রকৃতির ও চিন্তাহীন, তারা ছাড়া আর কেউ তোমার অনুসরণ করেনি। আর আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বও আমরা দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী (كذاب) মনে করি।" তিনি বললেন, "হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি...}

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ: ২৩

(২) সূরা ইবরাহীম: ৪

(৩) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন ৫/৩৪০
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫১)
كُنتُ عَلى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِنْ عِنْدِهِ فَعُمِّيَتْ عَليْكُمْ أَنُلزِمُكُمُوهَا وَأَنْتُمْ لهَا كَارِهُونَ * وَيَاقَوْمِ لا أَسْأَلكُمْ عَليْهِ مَالا إِنْ أَجْرِي إِلا عَلى اللهِ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الذِينَ آمَنُوا إِنَّهُمْ مُلاقُو رَبِّهِمْ وَلكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلونَ * وَيَاقَوْمِ مَنْ يَنصُرُنِي مِنْ اللهِ إِنْ طَرَدْتُهُمْ أَفَلا تَذَكَّرُونَ * وَلا أَقُول لكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللهِ وَلا أَعْلمُ الغَيْبَ وَلا أَقُول إِنِّي مَلكٌ وَلا أَقُول للذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لنْ يُؤْتِيَهُمْ اللهُ خَيْرًا اللهُ أَعْلمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لمِنْ الظَّالمِينَ * قَالوا يَانُوحُ قَدْ جَادَلتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنتَ مِنْ الصَّادِقِينَ * قَال إِنَّمَا يَأْتِيكُمْ بِهِ اللهُ إِنْ شَاءَ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ * وَلا يَنفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدْتُ أَنْ أَنصَحَ لكُمْ إِنْ كَانَ اللهُ يُرِيدُ أَنْ يُغْوِيَكُمْ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِليْهِ تُرْجَعُونَ} (1)

فالآيات البينات جلت مواقف نوح التعبيرية المتعددة، منها الخطابة والحوار والجدال والترغيب والترهيب والنصح والتذكير، لقد أقام لهم الحجج والبراهين على ما دعاهم إليه، وعلى بطلان ماهم عليه في أسلوب علمي ولغة تتسم بالأدبيات البيانية الراقية، ومع ذلك لم يُقابل إلا بالجحود حتى {قَالوا يَانُوحُ قَدْ جَادَلتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنتَ مِنْ الصَّادِقِينَ}

فالخطابة قديمة قدم الرسالات السماوية وكذلك الجدل وسائر الأشكال التعبيرية الأخرى، لأن الخطابة من خصائص الإنسانية، ولكل قوم نمط خطابي به يتفاهمون ويتخاطبون، والتاريخ يحدثنا عن مدارس في الخطابة برزت وازدهرت عند قدماء الفلاسفة في الأمم الغابرة كأفلاطون وأرسطو وغيرهم كذلك ما كان لدى فارس والروم وغيرهم من فلسفات وفنون وكان لها روادها وأساطينها

--------------------------------------------

(1) سورة هود: 25 - 34
{আমি আমার রবের পক্ষ থেকে আগত সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত দান করেছেন, যা তোমাদের দৃষ্টি থেকে গোপন রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় আমি কি তোমাদের ওপর তা জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে পারি, যখন তোমরা তা অপছন্দ করো? * আর হে আমার জাতি! আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো ধন-সম্পদ প্রার্থনা করি না; আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর জিম্মায়। আর যারা ঈমান এনেছে আমি তাদের বিতাড়িত করতে পারি না। নিশ্চয়ই তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে; কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ জাতি। * আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের বিতাড়িত করি, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে? তোমরা কি তবে উপদেশ গ্রহণ করবে না? * আর আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে, আর না আমি অদৃশ্যের জ্ঞান রাখি এবং আমি এ কথাও বলি না যে, আমি কোনো ফেরেশতা। আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা হীন, তাদের সম্পর্কে আমি এ কথা বলি না যে, আল্লাহ তাদের কোনো কল্যাণ দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত। (যদি আমি এমন বলি) তবে নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। * তারা বলল, হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ এবং আমাদের সাথে অতিমাত্রায় ঝগড়া করেছ। অতএব তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে এসো। * তিনি বললেন, আল্লাহ ইচ্ছা করলে কেবল তিনিই তা তোমাদের নিকট উপস্থিত করবেন এবং তোমরা তাঁকে ব্যর্থ করতে পারবে না। * আর আমার নসিহত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, যদি আমি তোমাদের হিতোপদেশ দিতে চাই অথচ আল্লাহ তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান। তিনিই তোমাদের রব এবং তাঁরই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।} (১)

এই সুষ্পষ্ট আয়াতসমূহ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর বিভিন্ন প্রকাশভঙ্গিগত অবস্থানসমূহকে স্পষ্ট করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বক্তৃতা, সংলাপ, বিতর্ক, উৎসাহ প্রদান (ترغيب), ভীতি প্রদর্শন (ترهيب), নসিহত ও উপদেশ দান। তিনি তাদের সামনে তাঁর দাওয়াতের সপক্ষে এবং তাদের ভ্রান্ত মতবাদের অসারতা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারসমৃদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণসমূহ উপস্থাপন করেছেন। তাসত্ত্বেও তিনি অস্বীকৃতি ও অবাধ্যতা ভিন্ন অন্য কোনো প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হননি; এমনকি তারা বলেছিল: {হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ এবং আমাদের সাথে অতিমাত্রায় ঝগড়া করেছ। অতএব তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে এসো।}

বক্তৃতা বা ভাষণশৈলী আসমানি রিসালাতসমূহের মতোই প্রাচীন। অনুরূপভাবে বিতর্ক ও অন্যান্য প্রকাশভঙ্গিও প্রাচীন; কেননা ভাষণ প্রদান করা মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি জাতিরই নিজস্ব ভাষণশৈলী থাকে যার মাধ্যমে তারা পরস্পর যোগাযোগ ও ভাববিনিময় করে। ইতিহাস আমাদের জানায় যে, প্রাচীন দার্শনিকদের মাঝে ভাষণের বিভিন্ন ধারা বা স্কুল বিকাশ লাভ করেছিল, যেমন—আফলাতুন (প্লেটো), আরিসতু (অ্যারিস্টটল) এবং অন্যান্যরা। একইভাবে পারস্য ও রোমসহ অন্যান্য জাতির মাঝেও নিজস্ব দর্শন ও শিল্পকলা বিদ্যমান ছিল এবং সে ক্ষেত্রে তাদের পথিকৃৎ ও দিকপাল ব্যক্তিত্বগণও ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ: ২৫ - ৩৪
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫২)
منهم من خلده التاريخ ومنهم من طواه الغيب..

(ب) ومن خصائص التدرب على البيان أنه من المطالب العالية والمقاصد المنيفة، وإنما تسمو المطالب بسمو النيات والغايات، والمسلمون من أرفع الأمم في البيان بمقتضى رسالة الإسلام التي يحملونها وهي رسالة بيان وبلاغ فهم خير أمة أخرجت للناس، ولحكمة يريدها الله كان العرب قد فاقوا غيرهم من الأمم في قوة البلاغة ونصاعة البيان، تدل عليه الشواهد الآتية:

- الإعجاز القرآني:

فالله تبارك وتعالى تحداهم أن يأتوا بمثل هذا القرآن فعجزوا قال تعالى: {قُل فَأْتُوا بِكِتَابٍ مِنْ عِنْدِ اللهِ هُوَ أَهْدَى مِنْهُمَا أَتَّبِعْهُ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ} (1)

ثم تحداهم أن يأتوا بعشر سور مثله فعجزوا قال تعالى: {أَمْ يَقُولونَ افْتَرَاهُ قُل فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنْ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللهِ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ} (2) ، ثم تحداهم أن يأتوا بسورة واحدة فعجزوا قال تعالى: {أَمْ يَقُولونَ افْتَرَاهُ قُل فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلهِ وَادْعُوا مَنْ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (3) وقال في موضع: {وَإِنْ كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلنَا عَلى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللهِ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ * فَإِنْ لمْ تَفْعَلوا وَلنْ تَفْعَلوا فَاتَّقُوا النَّارَ التِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالحِجَارَةُ أُعِدَّتْ للكَافِرِينَ} (4)

--------------------------------------------

(1) سورة القصص: 49

(2) سورة هود: 13

(3) سورة يونس: 38

(4) سورة البقرة: 23 - 24
তাদের মধ্যে কেউ আছেন যাঁদের ইতিহাস অমর করে রেখেছে, আবার কেউ আছেন যাঁদের অদৃশ্য কাল গ্রাস করে নিয়েছে..

(খ) সাবলীল বর্ণনা (بيان) চর্চার একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উচ্চতর আকাঙ্ক্ষা এবং মহান লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর নিয়ত ও উদ্দেশ্যের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই যেকোনো মহৎ লক্ষ্য সার্থকতা পায়। ইসলামের বার্তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিমরা সাবলীল বর্ণনায় (بيان) শ্রেষ্ঠ জাতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যে বার্তা তারা বহন করে তা হলো স্পষ্ট বর্ণনা ও প্রচারের (بيان وبلاغ) বার্তা। ফলে তারা হলো মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। আল্লাহ তাআলার বিশেষ হিকমতের কারণে আরবরা অলংকার শাস্ত্রের (بلاغة) শক্তি এবং বর্ণনার (بيان) স্পষ্টতায় অন্যান্য জাতিদের ছাড়িয়ে গিয়েছিল। নিচের প্রমাণাদি এর সত্যতা নির্দেশ করে:

- কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز):

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, কিন্তু তারা অক্ষম হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, তবে তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে এমন কোনো কিতাব নিয়ে এসো যা এই দুইটির চেয়ে অধিক হিদায়াতকারী হবে, আমি সেটি অনুসরণ করব যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} (১)

এরপর তিনি তাদের এর মতো দশটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিলেন, তাতেও তারা অক্ষম হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি নিজে রচনা করেছেন? বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি কৃত্রিম সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} (২), এরপর তিনি তাদের একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিলেন, তাতেও তারা অক্ষম হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি রচনা করেছেন? বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} (৩) এবং অন্য স্থানে বলেছেন: {আর আমি আমার দাসের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীগণকে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তোমরা তা না করো—আর কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।} (৪)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস: ৪৯

(২) সূরা হুদ: ১৩

(৩) সূরা ইউনুস: ৩৮

(৪) সূরা আল-বাকারা: ২৩ - ২৪
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
وإذا كانت العرب وهم أهل البراعة في الفصاحة والبلاغة والدراية قد عجزوا فإن غيرهم من الأمم أعجز … فيتقرر حينئذ أن محمدا لم يتقوله ولم يختلقه..) (1)

- نبوغ العرب في الشعر والنثر:

وهو نبوغ لا مثيل له في ذلك الزمان لدى أية أمة أخرى، ومن الدلائل على ذلك قولهم الشعر وتذوقهم إياه وتداولهم خبر المعلقات السبع المشهورة في مجالسهم ومنتدياتهم، هذا عدا ما كان العرب يفاخرون به من الأشعار في أسواقهم ونواديهم، بحيث كان بيت من الشعر ربما يتسبب في حروب طاحنة وويلات مستحكمة!

ولقد كان النبي عليه الصلاة والتسليم يستمع إلى الشعر وينوه بقيمته الأدبية الراقية لا سيما شعر الحكمة كما في حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَال قَال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "أَصْدَقُ كَلمَةٍ قَالهَا الشَّاعِرُ كَلمَةُ لبِيدٍ أَلا كُل شَيْءٍ مَا خَلا اللهَ بَاطِل وَكَادَ أُمَيَّةُ بْنُ أَبِي الصَّلتِ أَنْ يُسْلمَ" (2)

وفي رواية الإمام أحمد أنه صلى الله عليه وسلم كان يستنشد الشعر ويطلبه كما في حديث عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ: «أَنَّ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَنْشَدَهُ مِنْ شِعْرِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلتِ قَال فَأَنْشَدَهُ مِائَةَ قَافِيَةٍ فَلمْ أُنْشِدْهُ شَيْئًا إِلا قَال: "إِيهِ إِيهِ"، حَتَّى إِذَا اسْتَفْرَغْتُ مِنْ مِائَةِ قَافِيَةٍ قَال: "كَادَ أَنْ يُسْلمَ" (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر جامع البيان 1 / 128

(2) متفق عليه: خ: المناقب (3841) واللفظ له، م: الشعر (2256)

(3) أحمد: الكوفيين (18645) واللفظ له، وهو عند مسلم: الشعر (2255)
আর আরবরা, যারা ছিল বাগ্মিতা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং প্রজ্ঞার অধিকারী, যদি তারাই অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে অন্যান্য জাতিগুলো আরও বেশি অক্ষম … অতএব তখন এটাই প্রমাণিত হয় যে, মুহাম্মদ (সা.) এটি নিজে বানিয়ে বলেননি এবং এটি উদ্ভাবনও করেননি।) (১)

- কবিতা ও গদ্যে আরবদের অনন্য প্রতিভা:

এটি এমন এক অনন্য প্রতিভা ছিল যার সমকক্ষ তৎকালীন সময়ে অন্য কোনো জাতির মধ্যে ছিল না। এর অন্যতম প্রমাণ হলো তাদের কবিতা রচনা ও তার রসাস্বাদন এবং তাদের মজলিস ও সভাগুলোতে বিখ্যাত সাতটি ঝুলন্ত কবিতা বা 'সাবআ মুআল্লাকাত' সংক্রান্ত আলোচনার ব্যাপক প্রচলন। এ ছাড়াও আরবরা তাদের বাজার ও ক্লাবগুলোতে কবিতা নিয়ে গর্ব করত, এমনকি কখনো কখনো একটি কাব্যচরণ ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত!

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবিতা শুনতেন এবং এর উচ্চতর সাহিত্যিক মূল্যের প্রশংসা করতেন, বিশেষ করে প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতার। যেমন আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একজন কবির বলা সবচেয়ে সত্য কথা হলো লাবিদের এই কথাটি— 'জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া বাকি সবকিছুই নশ্বর'; আর উমাইয়া ইবনে আবিস সালত তো প্রায় ইসলাম গ্রহণই করে ফেলেছিল" (২)

ইমাম আহমদের এক বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবিতা আবৃত্তি করতে বলতেন এবং তা শুনতে চাইতেন। যেমন আমর ইবনুল শারীদ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে উমাইয়া ইবনে আবিস সালতের কবিতা শুনতে চান। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাঁকে একশটি অন্ত্যমিলযুক্ত পঙ্ক্তি শুনিয়েছিলাম। আমি যখনই কোনো অংশ আবৃত্তি করতাম, তিনি বলতেন: 'আরো বলো, আরো বলো', যতক্ষণ না আমি একশটি পঙ্ক্তি শেষ করলাম, তিনি বললেন: 'সে তো প্রায় ইসলাম গ্রহণই করে ফেলেছিল' (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামিউল বায়ান ১/১২৮

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি: আল-মানাকিব (৩৮৪১) এবং শব্দাবলি তাঁর, মুসলিম: আশ-শি’র (২২৫৬)

(৩) আহমদ: আল-কুফিয়্যিন (১৮৬৪৫) এবং শব্দাবলি তাঁর, এটি মুসলিমের নিকট রয়েছে: আশ-শি’র (২২৫৫)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫৪)
وعن محمد بن سيرين رحمه الله قال: كان شعراء أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم: عبد الله بن رواحة وحسان بن ثابت وكعب بن مالك (1) وهو لم يرد الحصر فلقد كان الشعراء منهم رضي الله عنهم أكثر من هذا بكثير مما تواترت به الأخبار سواء من كان قد اشتهر بالشعر أو من كانت تجود قريحته بالأشعار في المناسبات على كثرتها.

قال العلامة ابن القيم رحمه الله: ((فصل في شعرائه وخطبائه صلى الله عليه وسلم: كان من شعرائه الذين يذبون عن الإسلام كعب بن مالك وعبد الله بن رواحة وحسان بن ثابت وكان أشدهم على الكفار حسان بن ثابت وكعب بن مالك يعيرهم بالكفر والشرك وكان خطيبه ثابت بن قيس ابن شماس رضي الله عنهم جميعا)) (2)

فهذه الأحاديث والروايات - وهي غيض من فيض - في مجموعها تدل على أنه عليه الصلاة والسلام كان يستمع إلى الشعر فيشيد بحسنه ويصوّب خطأه ويحث عليه تعلما وإنشادا بما يُدحَض به الباطل ويظهر الحق كما في حديث البَرَاءِ رضي الله عنه قَال: قَال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لحَسَّانَ رضي الله عنه: " اهْجُهُمْ أَوْ هَاجِهِمْ وَجِبْرِيل مَعَكَ" (3)

ولا شك أن هذه الإشادة النبوية الكريمة بالشعر الحر النزيه والشعراء الدعاة إلى الخير، هي إشادة بالكلمة الطيبة البنّاءة، وهي كذلك دفعة قوية لباب عظيم من أبواب الأدب الإسلامي المستبصر. وأما ما ورد في ذم الشعر وأن

--------------------------------------------

(1) سنن البيهقي 10 / 241

(2) زاد المعاد في هدي خير العباد – ص 128

(3) متفق عليه: خ: بدء الخلق (3213) ، م: فضائل الصحابة (2486)
মুহাম্মদ বিন সিরিন (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্যে কবি ছিলেন: আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা, হাসসান বিন সাবিত এবং কা'ব বিন মালিক (১)। এর মাধ্যমে তিনি সংখ্যা সীমিত করতে চাননি, কেননা তাঁদের মধ্যে কবিদের সংখ্যা ছিল এর চেয়েও অনেক বেশি, যা অবিচ্ছিন্ন (متواتر) সংবাদের মাধ্যমে প্রমাণিত; চাই তিনি কবিতার জন্য প্রসিদ্ধ হোন বা সেই সব ব্যক্তি হোন যাঁদের প্রতিভা বিভিন্ন উপলক্ষে প্রচুর কবিতা রচনা করত।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: ((তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবি ও বাগ্মীগণের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ: তাঁর কবিদের মধ্যে যাঁরা ইসলামের প্রতিরক্ষা করতেন তাঁরা হলেন কা’ব বিন মালিক, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা এবং হাসসান বিন সাবিত। কাফিরদের বিরুদ্ধে তাঁদের মধ্যে কঠোরতম ছিলেন হাসসান বিন সাবিত; আর কা'ব বিন মালিক তাদেরকে কুফর ও শিরকের কারণে লজ্জিত করতেন। আর তাঁর বাগ্মী ছিলেন সাবিত বিন কায়েস ইবনে শামমাস—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।)) (২)

এই হাদিস ও বর্ণনা (رواية) গুলো—যা সাগরের মাঝে বিন্দুমাত্র—সমষ্টিগতভাবে এই প্রমাণ দেয় যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কবিতা শুনতেন, এর সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন, ভুল সংশোধন করে দিতেন এবং শিক্ষা গ্রহণ ও আবৃত্তির ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতেন, যার মাধ্যমে বাতিলকে পরাস্ত করা যায় এবং সত্যকে প্রকাশ করা যায়; যেমনটি বারা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসসান (রা.)-কে বলেছিলেন: "তুমি তাদের নিন্দা করো অথবা তাদের মোকাবিলা করো, আর জিবরাঈল তোমার সাথে আছেন।" (৩)

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মার্জিত ও সুন্দর কবিতা এবং কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী কবিদের প্রতি নববী এই মহতী প্রশংসা মূলত পবিত্র ও গঠনমূলক বাণীরই প্রশংসা। একইভাবে এটি প্রাজ্ঞ ইসলামি সাহিত্যের এক মহান অধ্যায়ের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। আর কবিতা নিন্দার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে এবং...

--------------------------------------------

(১) সুনান বায়হাকী ১০ / ২৪১

(২) যাদুল মা’আদ ফী হাদয়ি খাইরিল ইবাদ – পৃ. ১২৮

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারী: সৃষ্টির সূচনা (৩২১৩), মুসলিম: সাহাবীগণের মর্যাদা (২৪৮৬)
(খণ্ড: ১) তাদরীবুদ দুআতি আলাল আসালীবিল বায়ানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫৫)
الشعراء يتبعهم الغاوون فهو منصب على الأغراض الشعرية الرديئة التي تخرج بالشعر عن معانيه الأدبية الرفيعة. فالشعر ديوان العرب منذ فجر الإسلام تتلاقى فيه آدابهم، وتسجل فيه أيامهم ويخلد تاريخهم فهو سجل حافل لتراثهم وعوائدهم ونمط حياتهم بحسب كل حقبة وجيل.

- ورود الحوار والجدل في القرآن الكريم:

تضمن القرآن الكريم نماذج قويمة من الجدل والحوار والمناظرة مثل ما جرى بين إبراهيم الخليل عليه السلام والطاغية الذي حاجه في ربه وزعم أنه يحيي ويميت، والحوار بين مؤمن آل فرعون وقومه، والحوار بين إبراهيم وأبيه، وبين إبراهيم وقومه لما كسر أصنامهم، والحوار بين نوح وقومه حتى قالوا {يا نوح قد جادلتنا فأكثرت جدالنا فأتنا بما تعدنا إن كنت من الصادقين} وقد تقدم تفصيله، وأيضا مناظرته صلى الله عليه وسلم ومباهلته نصارى نجران (1)

والجدال باعتباره من ألوان التعبير البياني أسلوب في الدعوة إذا احتيج إليه، ويكون إبانئذ محمودا لأنه به يتبين الحق ويدحض الباطل، وبغير هذا المقصد يكون مذموما، ومنه ما ورد عن السلف كرههم للجدل حتى عده الإمام الذهبي من الكبائر.

أضف إلى ما تقدم كتبه صلى الله عليه وسلم والرسل إلى الآفاق وفيه دلالة على استخدام وسائل الاتصال والإعلام لإيصال الخير إلى أكبر عدد ممكن من المستمعين والمتلقين، فكل ذلك من صور البيان

(ج) ومن خصائص التدرب على أساليب البيان أنه لا يتأتى إلا لذوي

--------------------------------------------

(1) انظر قصة المباهلة في الصحيحين: خ: المغازي (4380) ، م: فضائل الصحابة (2420)
"কবিদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা" - এই আয়াতটি মূলত সেই সব নিকৃষ্ট কাব্যিক উদ্দেশ্যের ওপর আলোকপাত করে যা কবিতাকে তার উচ্চতর সাহিত্যিক তাৎপর্য থেকে বিচ্যুত করে। মূলত কবিতা ইসলামের উষালগ্ন থেকেই আরবদের 'দেওয়ান' বা কাব্যসংকলন হিসেবে পরিচিত, যেখানে তাদের সাহিত্যিক ধারাগুলো মিলিত হয়, তাদের গৌরবোজ্জ্বল দিনলিপি সংরক্ষিত হয় এবং তাদের ইতিহাস অমরত্ব লাভ করে। এটি প্রতিটি যুগ ও প্রজন্ম অনুযায়ী তাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি এবং জীবনধারার এক সমৃদ্ধ দলিল।

- পবিত্র কুরআনে সংলাপ ও বিতর্কের (جدل) অবতারণা:

পবিত্র কুরআনে বিতর্ক (جدل), সংলাপ ও মুনাজারার (مناظرة) সঠিক ও সুদৃঢ় নমুনা বিদ্যমান। যেমন ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম এবং সেই স্বৈরাচারী শাসকের মধ্যকার ঘটনা, যে তার প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল এবং দাবি করেছিল যে সে জীবন দান করে ও মৃত্যু ঘটায়। এছাড়া ফেরআউনের বংশের মুমিন ব্যক্তি ও তার কওমের মধ্যকার সংলাপ, ইব্রাহিম ও তাঁর পিতার মধ্যকার সংলাপ, এবং মূর্তিপূজা ভাঙার পর ইব্রাহিম ও তাঁর কওমের মধ্যকার সংলাপ। নূহ ও তাঁর কওমের মধ্যকার সংলাপের বিষয়টিও এতে শামিল, যেখানে তারা বলেছিল: {হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ এবং আমাদের সাথে বিতর্কে (جدال) লিপ্ত হয়ে বাড়াবাড়ি করেছ; অতএব তুমি যদি সত্যবাদীদের (صادقين) অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমাদের যে বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে এসো}। এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুনাজারা (مناظرة) এবং নাজরানের খ্রিস্টানদের সাথে তাঁর মুবাহালা (مباهلة) এর ঘটনাও উল্লেখযোগ্য (১)।

বিতর্ককে (جدال) যখন ভাব প্রকাশের একটি শৈলী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন প্রয়োজনে এটি দাওয়াতের একটি পদ্ধতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয় (محمود), কারণ এর দ্বারা সত্য প্রকাশিত হয় এবং বাতিলকে খণ্ডন করা হয়। তবে এই উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে এটি নিন্দনীয় (مذموم)। এ কারণেই সালফে সালেহীনদের পক্ষ থেকে বিতর্ক অপছন্দ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, এমনকি ইমাম যাহাবী একে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

পূর্বের আলোচনার সাথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিভিন্ন দিগন্তে প্রেরিত পত্রাবলি এবং দূতদের বিষয়টিও যোগ করা যায়, যা মূলত অধিক সংখ্যক শ্রোতা ও প্রাপকের কাছে কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য যোগাযোগ ও প্রচার মাধ্যম ব্যবহারেরই এক সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর এসবই হচ্ছে বয়ান বা বাগ্মিতার বিভিন্ন রূপ।

(গ) বাগ্মিতার কৌশলগুলো অনুশীলনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা...

--------------------------------------------

(১) সাহিহ বুখারি ও সাহিহ মুসলিম-এ মুবাহালার ঘটনাটি দেখুন: বুখারি: আল-মাগাজি (৪৩৮০), মুসলিম: ফাদায়িলুস সাহাবা (২৪২০)