(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق القول بالعمل بالحديث الضعيف القسم: علوم الحديث
الكتاب: تحقيق القول بالعمل بالحديث الضعيف
المؤلف: د. عبد العزيز عبد الرحمن بن محمد العثيم
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: (السنة السابعة عشر - العددان السابع والستون والثامن والستون) ، رجب - ذو الحجة 1405هـ.
عدد الصفحات: 72
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিধানের বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিধানের বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা
লেখক: ড. আব্দুল আজিজ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-উথাইম
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: (সপ্তদশ বর্ষ - ৬৭ ও ৬৮ তম সংখ্যা) ، রজব - জিলহজ ১৪০৫ হিজরি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تحقيق القول بالعمل بالحديث الضعيف
د. عبد العزيز عبد الرحمن بن محمد العثيم أستاذ مساعد بكلية الدعوة وأصول الدين جامعة أم القرى
مقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضِل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيراً
أما بعد:-
فإن أوّل أصول التشريع وأجلها هو القرآن الكريم، الذي هو كلام الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم التي هي وحي كذلك قال تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} 1وقد وصلت السنة المطهرة إلينا من طرق مختلفة صحة وضعفاً.
ورغم ما بذله أساطين هذه الأمة من جهود مضنية حيال السنة فقد بقي جزء منها لم تثبت صحته بل ثبت ضعفه وهو متفاوت الضعف فمنه ما اشتد ضعفه ومنه ما قرب ضعفه. وهذا القسم اختلفت فيه آراء العلماء في العمل به قديماً وحديثاً فمن قائل بجواز العمل به مطلقاً، ومن مانع لذلك، ومنهم من فصَّل فيه واشترط له شروطاً.
وكنت إذا سمعت القول بجواز العمل بالحديث الضعيف أخذت أتساءل هل نحن بحاجة إلى مثل هذا، وبين أيدينا كتاب الله وما ثبت من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي حوت كلَّ ما تحتاج إليه هذه الأمة من أمور دينها ودنياها قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً} 2 فأحببت أن أجمع شتات هذه المسألة من بطون الكتب ومن أقوال الأئمة ثم أحقق القول فيها، وأرجح ما أراه راجحاً إذا عضده الدليل مع
--------------------------------------------
দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিধানের চুলচেরা বিশ্লেষণ
ড. আবদুল আজিজ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-উসাইম, সহকারী অধ্যাপক, দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
উপক্রমণিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:-
নিশ্চয়ই শরয়ি বিধানের মূল উৎসসমূহের মধ্যে প্রথম ও মহান উৎস হলো পবিত্র কুরআন, যা আল্লাহর কালাম; এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ, যা একইভাবে ওহি (প্রত্যাদেশ)। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} ১। আর এই পবিত্র সুন্নাহ আমাদের নিকট বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف)-এর বিভিন্ন সূত্রে পৌঁছেছে।
এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মনীষীগণ সুন্নাহর সংরক্ষণে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও, এর একটি অংশ এমন রয়ে গেছে যার বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত হয়নি, বরং তার দুর্বলতা (ضعف) প্রমাণিত হয়েছে। আর এই দুর্বলতার (ضعف) স্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন; এর মধ্যে কোনোটি অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف) আবার কোনোটির দুর্বলতা সামান্য (خفيف الضعف). এই প্রকারের হাদিসের ওপর আমল করার ব্যাপারে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের উলামায়ে কিরামের মাঝে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ ঢালাওভাবে এর ওপর আমল করার বৈধতার প্রবক্তা, কেউ এর পরিপন্থী (অর্থাৎ নিষেধকারী), আবার কেউ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং এর জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন।
আমি যখনই দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতার কথা শুনতাম, তখন মনে মনে প্রশ্ন জাগত যে, আমাদের কি এমন কিছুর আদৌ প্রয়োজন আছে? অথচ আমাদের হাতে রয়েছে আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই প্রমাণিত (ثابت) সুন্নাহ, যা এই উম্মতের দ্বীন ও দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সকল বিষয়কে বেষ্টন করে আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।} ২। তাই আমি বিভিন্ন কিতাবের গভীর থেকে এবং ইমামগণের বক্তব্য থেকে এই মাসআলাটির বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করতে চেয়েছি, অতঃপর এ সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দলিলের ভিত্তিতে আমার কাছে যা অগ্রগণ্য (راجح) মনে হয়েছে তা উপস্থাপনের প্রয়াস পেয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مناقشة ما خالف ذلك مناقشة علميّة مبنية على الحجج والبراهين. وسأتكلم على العمل بالحديث الضعيف المتفق على ضعفه، وإن كان مختلف فيه فعلى رأي من قال بضعفه لا على رأي من قال بصحته. وجعلته على خمسة أبواب:
الباب الأول: الأحاديث الواردة في الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وبيان معنى الكذب والوعيد الوارد في ذلك. وقد استفتح كلامي على هذا الموضوع بهذا الباب لأن الحديث الضعيف الباقي على تلك الصفة لا يزال احتمال عدم ثبوته قائماً فالعمل به وهو على تلك الصفة يؤيد ثبوته فيكون للعامل به نصيب من الكذب.
الباب الثاني: تعريف الحديث الضعيف وأنواعه.
الباب الثالث: وجوب معرفة الحديث الصحيح من الضعيف.
الباب الرابع: رواية الأحاديث الضعيفة.
الباب الخامس: العمل بالحديث الضعيف.
والله أسأل أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني وقارئه بما فيه، ويعفو عن ما صدر من خطأ أو زلل إنه جواد كريم.
এর পরিপন্থী বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা। আমি এমন দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা প্রসঙ্গে আলোচনা করব, যার দুর্বলতার (ضعف) বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে; আর যদি এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকে, তবে তা তাদের মতানুসারেই হবে যারা একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, তাদের মতানুসারে নয় যারা একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। আমি একে পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করা প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং মিথ্যার অর্থ ও এ সংক্রান্ত কঠোর সতর্কবাণীর বর্ণনা। আমি এই বিষয়ের আলোচনা এই অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছি, কারণ যে দুর্বল (ضعيف) হাদিসটি ওই অবস্থাতেই রয়ে যায়, তার অপ্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়; এমতাবস্থায় সেটির ওপর আমল করা তার সাব্যস্ত হওয়াকেই সমর্থন করে, ফলে আমলকারীর জন্য মিথ্যার একটি অংশ থেকে যায়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ।
তৃতীয় অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিস থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে পৃথকভাবে চেনা বা জানার আবশ্যকতা।
চতুর্থ অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করা।
পঞ্চম অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ করেন, এবং এর মাধ্যমে আমাকে ও এর পাঠককে উপকৃত করেন, আর যা কিছু ভুল-ত্রুটি বা বিচ্যুতি হয়েছে তা ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব ও পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الأول الأحاديث الواردة في الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وبيان معنى الكذب والوعيد الوارد في ذلك:وردت أحاديث في وعيد من كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، ومن أجل ذلك كان بعض الصحابة يتحرج من التحديث خوفاً من الوقوع في الكذب عليه - صلوات الله وسلامه عليه - كالزبير بن العوام وأنس وأبو قتادة وعثمان بن عفان وصهيب1 رضي الله عنهم. واستفتح البحث في هذا الموضوع بإيراد بعض الأحاديث المتضمنة لوعيد من كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم مما أخرجه الشيخان أو أحدهما، وأشير إلى الأحاديث التي لم يخرجاها.
1- عن علي رضي الله عنه: قال قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تكذبوا عليَّ، فإنه من كذب عليّ فليلج النار"2.
2- وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: "إنه ليمنعني أن أحدثكم حديثاً كثيراً أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من تعمد عليَّ كذباً فليتبوأ مقعده من النار"3.
3- وعن أبي هريرة رضي الله عنه: عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "تسموا باسمي ولا تكتنوا بكنيتي، ومن رآني في المنام فقد رآني، فإن الشيطان لا يتمثل في صورتي، ومن كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"4.
4- وعن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "إن كذباً عليَّ ليس ككذبِ على أحد، من كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"5.
5- وعن عبد الله بن الزبير قال قلت للزبير: "إني لا أسمعك تحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما يحدث فلان وفلان؟ قال: أما أني لم أفارقه ولكن سمعته يقول: "من كذب عليَّ فليتبوأ مقعده من النار"6.
6- وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بلغوا عني ولو آية،
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং মিথ্যার অর্থ ও এ বিষয়ে বর্ণিত সতর্কবাণীর বর্ণনা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপকারীর জন্য ঘোষিত সতর্কবাণী সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এই কারণেই সাহাবীদের কেউ কেউ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং তাঁর ওপর মিথ্যারোপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভীত থাকতেন—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—যেমন জুবাইর ইবনুল আওয়াম, আনাস, আবু কাতাদা, উসমান ইবনে আফফান এবং সুহাইব ১ (রা.)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপকারীর জন্য ঘোষিত সতর্কবাণী সম্বলিত এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করার মাধ্যমে এই বিষয়ের আলোচনা শুরু করা হচ্ছে, যা শাইখাইন (الشيخان) অথবা তাঁদের অন্তত একজন বর্ণনা করেছেন; আর যে হাদিসগুলো তাঁরা বর্ণনা করেননি সেগুলোর দিকেও আমি ইঙ্গিত করব।
১- আলী (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার ওপর মিথ্যারোপ করো না, কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।" ২
২- আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমাদের কাছে অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করতে আমাকে যা বাধা দেয় তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়'।" ৩
৩- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার নামে নামকরণ করো, কিন্তু আমার কুনিয়াত (كنية) গ্রহণ করো না। যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে, সে প্রকৃতপক্ষে আমাকেই দেখেছে; কারণ শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" ৪
৪- মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" ৫
৫- আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জুবাইরকে বললাম: "আমি আপনাকে অমুক অমুকের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনি না কেন? তিনি বললেন: শোনো, আমি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়'।" ৬
৬- আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، ومن كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"1.
7- وعن سلمة رضي الله عنه: قال:" سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من يقل عليَّ ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار"2.
8- وعن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه يقول:" قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن من أعظم الفرى أن يدعى الرجل إلى غير أبيه، أو يري عينه ما لم تر، أو يقول على رسول صلى الله عليه وسلم ما لم يقل"3.
9- وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تكتبوا عني، ومن كتب عنيٍ غير القرآن فليمحه، وحدثوا عني ولا حرج، ومن كذب عليّ- قال همام- أحسبه متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"4.
10- وعن سمرة بن جندب رضي الله عنه قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين"5.
أحاديث أخرى لم ترد في الصحيحين:
وهناك أحاديث أخرى ليست في الصحيحين، وهي صحيحة أو حسنة أو ضعيفة متفاوته في ضعفها.
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "وصح أيضاً في غير الصحيحين من حديث عثمان بن عفان وابن مسعود وابن عمر وأبي قتادة وجابر وزيد بن أرقم، وورد بأسانيد حسان من حديث طلحة ابن عبيد الله وسعيد بن زيد وأبي عبيدة بن الجراح وسعد بن أبي وقاص ومعاذ بن جبل وعقبة بن عامر وعمران بن حصين وابن عباس وسلمان الفارسي ومعاوية بن أبي سفيان ورافع بن خديج وطارق الأشجعي والسائب بن يزيد وخالد بن عرفطة وأبي أمامة وأبي قرصافه وأبي موسى الغافقي وعائشة رضي الله عنهم فهؤلاء ثلاث وثلاثون نفساً من الصحابة6 وورد أيضاً عن نحو من خمسين غيرهم بأسانيد ضعيفة، وعن نحو من عشرين آخرين بأسانيد ساقطة"7.
--------------------------------------------
এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"১।
৭- সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।'"২।
৮- ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় মিথ্যাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো—কোনো ব্যক্তির নিজেকে তার পিতা ব্যতীত অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করা, অথবা নিজের চোখে যা দেখেনি তা দেখার দাবি করা, অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.) যা বলেননি তা তাঁর নামে বর্ণনা করা।'"৩।
৯- আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'তোমরা আমার থেকে (কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি আমার থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তবে তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে পারো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে—হাম্মাম বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন: ইচ্ছাকৃতভাবে—সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।'"৪।
১০- সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।'"৫।
অন্যান্য হাদিস যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়নি:
এছাড়া আরও অন্যান্য হাদিস রয়েছে যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে নেই, তবে সেগুলো সঠিক (صحيحة) অথবা গ্রহণযোগ্য (حسنة) অথবা দুর্বল (ضعيفة) যেগুলোর দুর্বলতার স্তর ভিন্ন ভিন্ন।
হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ছাড়াও উসমান ইবনে আফফান, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, আবু কাতাদা, জাবির এবং যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসগুলোও সঠিক (صحيحة) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এবং হাসান (حسان) সনদে বর্ণিত হয়েছে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, সাঈদ ইবনে যায়েদ, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, মুয়াজ ইবনে জাবাল, উকবাহ ইবনে আমির, ইমরান ইবনে হুসাইন, ইবনে আব্বাস, সালমান আল-ফারসি, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, রাফি ইবনে খাদিজ, তারিক আল-আশজাঈ, সায়িব ইবনে ইয়াযিদ, খালিদ ইবনে উরফাতাহ, আবু উমামা, আবু কুরসাফাহ, আবু মুসা আল-গাফকি এবং আয়েশা (রা.)-এর হাদিসসমূহ। তাঁরা সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে তেত্রিশ জন।৬ এছাড়া আরও প্রায় পঞ্চাশ জন সাহাবী থেকে দুর্বল (ضعيفة) সনদে এবং আরও বিশ জন সাহাবী থেকে অত্যন্ত দুর্বল (ساقطة) সনদে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।"৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم قال: "وقد اعتنى الحفاظ بجمع طرق هذا الحديث فذكر من جمعهم من الحفاظ مبتدأ بعلي بن المديني ثم ذكر بعده عدداً من الحفاظ ممن جمع طرق هذا الحديث إلى أن قال: وتحصل من مجموع ذلك كله رواية مائة من الصحابة على ما فصلته من صحيح وحسن وضعيف وساقط مع أن فيها ما هو في مطلق ذم الكذب عليه من غير تقييد بهذا الوعيد الخاص، ونقل النووي1 أنه جاء عن مائتين من الصحابة، ولأجل كثرة طرقه أطلق عليه جماعة أنه متواتر"2.
بيان معنى الكذب:
والكذب: خلاف الصدق
قال الصغاني: "تركيب الكذب يدل على خلاف الصدق وتلخيصه أنه لا يبلغ نهاية الكلام في الصدق"3.
وقال النووي: "الكذب فهو عند المتكلمين من أصحابنا الإخبار عن الشيء على خلاف ما هو عمداً كان أو سهواً هذا مذهب أهل السنة". وقالت المعتزلة: "شرطه العمدية"، ودليل خطاب هذه الأحاديث لنا فإنه قيده صلى الله عليه وسلم بالعمد لكونه قد يكون عمداً وقد يكون سهواً مع أن الإجماع والنصوص المشهورة في الكتاب والسنة متوافقة متظاهرة على أنه لا إثم على الناسي والغالط فلو أطلق صلى الله عليه وسلم الكذب لتوهم أنه يأثم الناسي أيضاً فقيده وأما الروايات المطلقة فمحمولة على المقيدة بالعمد4 والله أعلم.
ومعنى "لا تكذبوا عليَّ" قال الحافظ5: "هو عام في كل كاذب، مطلق في كل نوع من الكذب. ومعناه - لا تنسبوا الكذب إليَّ، ولا مفهوم لقوله "عليَّ" لأنه لا يتصور أن يكذب له لنهيه عن مطلق الكذب. وقد اغتر قوم من الجهلة فوضعوا أحاديث في الترغيب والترهيب، وقالوا: نحن لم نكذب عليه، بل فعلنا ذلك لتأييد شريعته، وما دروا أن تقويله صلى الله عليه وسلم ما لم يقل يقتضي الكذب على الله تعالى، لأنه إثبات حكم من الأحكام الشرعية، سواء كان في الإيجاب أو الندب، وكذا مقابلهما وهو الحرام والمكروه. ولا يعتد بمن خالف ذلك من الكراهية حيث جوزوا وضع الكذب في الترغيب والترهيب في تثبيت ما ورد في القرآن والسنة
--------------------------------------------
এরপর তিনি বললেন: "হাফিজগণ এই হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) সংগ্রহের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আলী ইবনুল মাদিনী থেকে শুরু করে এমন অনেক হাফিজের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এই হাদিসের সূত্রসমূহ সংগ্রহ করেছেন। পরিশেষে তিনি বলেন: এই সমস্ত বর্ণনার সমষ্টি থেকে একশত সাহাবীর বর্ণনা পাওয়া যায়, যা আমি সহিহ (صحيح), হাসান (حسن), দুর্বল (ضعيف) এবং অগ্রহণযোগ্য (ساقط) হিসেবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। যদিও এর মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা কেবল তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ওপর মিথ্যা আরোপের সাধারণ নিন্দাজ্ঞাপন সম্পর্কিত, যা এই বিশেষ শাস্তির বাণীর সাথে সীমাবদ্ধ নয়। ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন যে, এটি দুইশত সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এর অধিক সংখ্যক সূত্রের কারণে একদল আলিম একে মুতাওয়াতির (متواتر) বলে অভিহিত করেছেন।"
মিথ্যাচারের অর্থের বর্ণনা:
মিথ্যা: সত্যের বিপরীত।
সাগানী বলেছেন: "মিথ্যা (الكذب) শব্দটির গঠন সত্যের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে এবং এর সারকথা হলো এটি সত্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় না।"
ইমাম নববী বলেছেন: "আমাদের সাথীদের মধ্যে ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণের নিকট মিথ্যার সংজ্ঞা হলো—কোনো বিষয়ে বাস্তবতার বিপরীত সংবাদ দেওয়া, তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত; এটাই আহলে সুন্নাতের মাযহাব।" মুতাযিলা সম্প্রদায় বলেছে: "মিথ্যা হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত হওয়া শর্ত।" এই হাদিসসমূহের সম্বোধন আমাদের প্রতি এর প্রমাণ দেয়, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে 'ইচ্ছাকৃত' হওয়ার শর্তে যুক্ত করেছেন। কারণ মিথ্যা কখনো ইচ্ছাকৃত হয় আবার কখনো অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। অথচ ইজমা (إجماع) এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রসিদ্ধ নসসমূহ (نصوص) এ বিষয়ে একমত ও সুস্পষ্ট যে, বিস্মৃত ও ভুলকারীর ওপর কোনো গুনাহ নেই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি সাধারণভাবে মিথ্যার কথা বলতেন, তবে ধারণা হতে পারত যে বিস্মৃত ব্যক্তিও গুনাহগার হবে। তাই তিনি একে শর্তযুক্ত করেছেন। আর সাধারণ বর্ণনাগুলোকে ইচ্ছাকৃত হওয়ার শর্তযুক্ত বর্ণনার ওপর প্রয়োগ করতে হবে, আল্লাহই ভালো জানেন।
"আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না"—এর অর্থ সম্পর্কে হাফিজ বলেছেন: "এটি প্রতিটি মিথ্যাবাদীর জন্য সাধারণ এবং মিথ্যার প্রতিটি প্রকারের ক্ষেত্রে নিঃশর্ত। এর অর্থ হলো—আমার দিকে মিথ্যা সম্বন্ধ করো না। 'আমার ওপর' (عليَّ) কথাটির কোনো ভিন্ন অর্থ (مفحوم) নেই, কারণ তাঁর অনুকূলে মিথ্যা বলা কল্পনা করা যায় না, যেহেতু তিনি সাধারণভাবে মিথ্যার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। একদল মূর্খ লোক প্রতারিত হয়ে উৎসাহ প্রদান (তারগিব) ও ভীতি প্রদর্শনের (তারহিব) ক্ষেত্রে হাদিস জাল (وضع) করেছে এবং বলেছে: 'আমরা তো তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলছি না, বরং আমরা তাঁর শরীয়তকে শক্তিশালী করার জন্যই এটি করছি।' তারা বুঝতে পারেনি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি তা তাঁর উক্তি হিসেবে দাবি করা মূলত মহান আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপেরই নামান্তর। কারণ এটি কোনো একটি শারয়ী বিধান সাব্যস্ত করা, তা ওয়াজিব (إيجاب) হোক বা মুস্তাহাব (ندب), অথবা তাদের বিপরীত হারাম (حرام) বা মাকরুহ (مكروه) হোক। যারা এর বিরোধিতা করে একে মাকরুহ (مكروه) বলেছেন তাদের মত গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে তারা কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত বিষয়গুলোকে সুদৃঢ় করার জন্য উৎসাহ ও ভীতির ক্ষেত্রে জাল (وضع) করাকে বৈধ মনে করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
واحتج بأنه كذب له لا عليه. وهو جهل باللغة العربية. وتمسك بعضهم بما ورد في بعض طرق الحديث من زيادة لم تثبت وهي ما أخرجه البزار1 وأبو نعيمِ2 قال البزار: حدثنا عبد الله بن سعيد ثنا يونس بن بكير ثنا الأعمش عن طلحة بن مصرف عن عمرو بن شرحبيل عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من كذب عليّ ليضل به الناس
… " الحديث. وقد اختلف في وصله وإرساله ورجح الدارقطني3 والحاكم4 إرساله.
قال الهيثمي5 في سند البزار: "رجاله رجال الصحيح".
قلت: فيه يونس بن بكير من رجال مسلم لكنه صدوق يخطئ6 وقد وهم في سند هذا الحديث في موضعين.
قال الحاكم: "يونس بن بكير واهم في إسناد هذا الحديث في موضعين: أحدهما أنه أسقط بين طلحة بن مصرف وعمرو بن شرحبيل أبا عمار.
والآخر أنه وصل بذكر عبد الله بن مسعود، وغير مستبدع من يونس بن بكير الوهم"7
وقال أبو نعيم: "هذا حديث غريب من حديث طلحة والأعمش، لم يروه مجوداً مرفوعاً إلا يونس بن بكير"8.
قلت: فدل هذا على أنه لم يصله بذكر ابن مسعود بالزيادة المذكورة غيره.
وأخرجه الدارمي9 من حديث يعلي بن مرة وهو من طريق عمر بن عبد الله بن يعلي بن مرة عن أبيه عن جده وعمر قال الحافظ: فيه ضعيف10.
قلت: حاله أسوأ مما قاله الحافظ11.
--------------------------------------------
তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, এটি তাঁর সপক্ষে মিথ্যাচার, তাঁর বিরুদ্ধে নয়। আর এটি আরবি ভাষার প্রতি অজ্ঞতা। তাঁদের কেউ কেউ হাদিসের কিছু সূত্রে বর্ণিত এমন এক অতিরিক্ত অংশের (زيادة) ওপর নির্ভর করেছেন যা প্রমাণিত নয়। সেটি হলো যা আল-বাজার এবং আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন। আল-বাজার বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুরাহবিল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য
… " (হাদিসটি)। এর সংযুক্ত হওয়া (وصل) এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া (إرسال) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আদ-দারাকুতনি ও আল-হাকিম এর বিচ্ছিন্ন হওয়াকে (إرسال) প্রাধান্য দিয়েছেন।
আল-হাইসামি আল-বাজারের সনদে (سند) বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী।"
আমি বলব: এতে ইউনুস ইবনে বুকাইর রয়েছেন যিনি মুসলিম-এর বর্ণনাকারীগণের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু ভুল করেন (يخطئ)। এই হাদিসের সনদে (سند) দুই স্থানে তাঁর ভ্রম (وهم) ঘটেছে।
আল-হাকিম বলেন: "ইউনুস ইবনে বুকাইর এই হাদিসের ইসনাদে (إسناد) দুই স্থানে ভুলকারী (واهم): একটি হলো তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ ও আমর ইবনে শুরাহবিলের মাঝখান থেকে আবু আম্মারকে বাদ দিয়েছেন।
আর অন্যটি হলো তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে উল্লেখ করে এটি সংযুক্ত (وصل) করেছেন। ইউনুস ইবনে বুকাইরের পক্ষ থেকে ভ্রম (وهم) হওয়া কোনো অভিনব বিষয় নয়।"7
আবু নুআইম বলেন: "তালহা ও আল-আমাশের সূত্রে এটি একটি সূত্রহীন (غريب) হাদিস, ইউনুস ইবনে বুকাইর ছাড়া আর কেউ এটিকে উত্তমরূপে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেননি।"8
আমি বলব: এটি প্রমাণ করে যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবনে মাসউদকে উল্লেখ করে উক্ত অতিরিক্ত অংশসহ (زيادة) এটি সংযুক্ত (وصل) করেননি।
আদ-দারিমি এটি ইয়ালা ইবনে মুররাহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি উমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়ালা ইবনে মুররাহ-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে। হাফিজ (ইবনে হাজার) উমর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)১০।
আমি বলব: তাঁর অবস্থা হাফিজ যা বলেছেন তার চেয়েও অধিকতর মন্দ।১১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وعلى تقدير ثبوته فليست اللام فيه للعلة بل للصيرورة كما فسر قوله تعالى: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ} 1.
والمعنى أن مآل أمره إلى الإضلال، أو هو من تخصيص بعض أفراد العموم بالذكر فلا مفهوم له كقوله تعالى: {لا تَأْكُلُوا الرِّبا أَضْعَافاً مُضَاعَفَةً} 2 و {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ} 3 فإن قتل الأولاد، ومضاعفة الربا، والإضلال في هذه الآيات إنما هو لتأكيد الأمر فيها لا لاختصاص الحكم4.
قال القاري: "وبهذا يندفع زعم من جوز وضع الأحاديث للتحريض على العبادة كما وقع لبعض الصوفية الجهلة في وضع أحاديث في فضائل السور وفي الصلوات الليلية والنهارية وغيرها والأظهر أن تعديته بعلي لتضمين معنى الإفتراء"5.
قلت: وحمل بعضهم حديث "من كذب عليَّ" على من قال في حقه صلى الله عليه وسلم ساحر أو مجنون مستدلين على ذلك بحديث أخرجه الطبراني6 عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده بين عيني جهنم فشق ذلك على أصحابه، فقالوا: يا رسول الله نحدث عنك بالحديث نزيد وننقص؟ قال: ليس ذا أعنيكم إنما أعني الذي يكذب علي متحدثاً يطلب به تشقيق الإسلام" وأخرجه الحاكم7.
قال الحاكم فيه: "حديث باطل والحمل فيه على محمد بن الفضل بن عطية وهو ساقط"8وقال ابن حجر: "فيه كذبوه"9.
قال الترمذي: "سألت عبد الله بن عبد الرحمن أبا محمد عن حديث النبي صلى الله عليه وسلم: "من حدث عني حديثاً وهو يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين" قلت له: من يروي حديثاً وهو يعلم أن إسناده خطأ، أتخاف أن يكون قد دخل في حديث النبي صلى الله عليه وسلم أو إذا روى الناس حديثاً مرسلاً فأسنده بعضهم، أو قلب إسناده يكون قد دخل في هذا الحديث؟ فقال: لا. إنما
--------------------------------------------
এবং এর সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) অনুমানে, এখানে 'লাম' বর্ণটি কারণ দর্শানোর জন্য নয়, বরং পরিণতির জন্য; যেভাবে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা করা হয়েছে: "আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা (كذب) অপবাদ দেয় মানুষকে জ্ঞান ছাড়াই বিভ্রান্ত করার জন্য।" 1.
এর অর্থ হলো তার বিষয়ের পরিণতি বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত হওয়া। অথবা এটি ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা বিষয়ের উল্লেখ করার মতো, যার কোনো বিপরীত অর্থ নেই; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে সুদ খেও না" 2 এবং "তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না" 3। কেননা এই আয়াতগুলোতে সন্তান হত্যা, সুদের আধিক্য এবং বিভ্রান্ত করা কেবল বিষয়টির গুরুত্ব ও তাকিদ দেওয়ার জন্য এসেছে, বিধানকে নির্দিষ্ট করার জন্য নয় 4।
আল-ক্বারী বলেন: "এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির ধারণা খণ্ডন হয়ে যায়, যে ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য হাদিস জাল (وضع) করাকে বৈধ মনে করে। যেমনটি কিছু মূর্খ সুফিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে, যারা বিভিন্ন সূরার ফজিলত এবং দিন-রাতের সালাত ও অন্যান্য বিষয়ে হাদিস জাল (وضع) করেছে। আর অধিক স্পষ্ট মত হলো যে, ‘আলাই’ অব্যয়টি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এতে অপবাদ আরোপের (إفتراء) অর্থ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।" 5।
আমি বলছি: কেউ কেউ "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করল" হাদিসটিকে ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেছেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শানে জাদুকর বা উন্মাদ শব্দ ব্যবহার করে। তারা এর স্বপক্ষে তাবারানি বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন 6 যা আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামের দুই চোখের মাঝখানে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি সাহাবীগণের জন্য কঠিন মনে হলো, তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার থেকে হাদিস বর্ণনা করি, যাতে কখনও কিছু বাড়ে বা কমে যায়?" তিনি বললেন: "আমি তোমাদের উদ্দেশ্য করছি না, বরং আমি ঐ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করছি যে আমার ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে এমন কথা বলে যা দ্বারা ইসলামকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায়।" এটি হাকেম-ও বর্ণনা করেছেন 7।
হাকেম এ সম্পর্কে বলেন: "এটি বাতিল (باطل) হাদিস এবং এর দায়ভার মুহাম্মদ বিন ফজল বিন আতিয়্যাহর ওপর, আর সে বর্জনীয় (ساقط)" 8। ইবনে হাজার বলেন: "তার মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যাকে তারা মিথ্যাবাদী (كذبوه) সাব্যস্ত করেছেন" 9।
তিরমিজি বলেন: "আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবু মুহাম্মদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস: 'যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করল যা সে মিথ্যা (كذب) বলে মনে করে, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকে বললাম: 'যে ব্যক্তি এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যার সনদ (إسناد) ভুল বলে সে জানে, আপনি কি ভয় করেন যে সেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে? অথবা যখন মানুষ একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস বর্ণনা করে এবং তাদের কেউ সেটিকে সংযুক্ত (أسند) করে দেয় অথবা তার সনদ (إسناد) উল্টে দেয় (قلب), তবে কি সে এই হাদিসের আওতাভুক্ত হবে?' তিনি বললেন: 'না। বরং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
معنى هذا الحديث إذا روى الرجل حديثاً ولا يعرف لذلك الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أصل فحدث به فأخاف أن يكون قد دخل في هذا الحديث"1.
قال ابن حجر2: "فإن قيل الكذب معصية، إلا ما استثنى في الإصلاح وغيره، والمعاصي قد توعد عليها بالنار فما الذي امتاز به الكاذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوعيد على من كذب غيره فالجواب عنه من وجهين:
أحدهما: أن الكذب عليه يكفر متعمده عند بعض أهل العلم، وهو الشيخ أبو محمد الجويني، لكن ضعفه ابنه إمام الحرمين ومن بعده.
وقال ابن المنير إلى اختياره، ووجهه بأن الكاذب عليه في تحليل حرام مثلاً لا ينفك عن استحلال ذلك الحرام أو الحمل على استحلاله، واستحلال الحرام كفر. والحمل على الكفر كفر. وفيما قاله نظر لا يخفى. والجمهور على أنه لا يكفر إلا إذا اعتقد حل ذلك.
الجواب الثاني: أن الكذب عليه كبيرة، والكذب على غيره صغيرة فافترقا ولا يلزم من استواء الوعيد في حق من كذب عليه، أو كذب على غيره أن يكون مقرهما واحد أو طول إقامتهما سواء، فقد دل قوله صلى الله عليه وسلم " فليتبوأ " على طول الإقامة فيها، بل ظاهره أنه لا يخرج منها لأنه لم يجعل له منزلاً غيره إلا أن الأدلة القطعية قامت على أن خلود التأبيد مختص بالكافرين.
وقد فرق النبي صلى الله عليه وسلم بين الكذب عليه وبن الكذب على غيره كما في حديث المغيرة بن شعبة المتقدم " أن كذباً عليَّ ليس ككذب على أحد".
وقال السخاوي مشيراً إلى حديث سمرة المتقدم: "وكفى بهذه الجملة وعيداً شديداً في حق من روى الحديث وهو يظن أنه كذب فضلاً أن يتحقق ذلك ولا يبينه لأنه صلى الله عليه وسلم جعل المحدث بذلك مشاركاً لكاذبه في وضعه"3.
والكذب على الله تعالى وعلى رسوله بالجملة معلوم تحريمه من الدين ضرورة فإن القرآن مملوء بذلك في حقه تعالى والسنة في حق رسوله صلى الله عليه وسلم ولأن الإفتراء على الرسول افتراء على الله عز وجل4
--------------------------------------------
এই হাদিসের অর্থ হলো, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো হাদিস বর্ণনা করে এবং সেই হাদিসের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো মূল (أصل) তার জানা না থাকে, তবুও সে তা বর্ণনা করে; তখন আমি আশঙ্কা করি যে সে এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।১
ইবনে হাজার২ বলেন: "যদি বলা হয় যে মিথ্যা (كذب) বলা একটি পাপ, তবে সংশোধন বা অনুরূপ বিষয়গুলো ছাড়া যেখানে একে ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে। আর সকল পাপের জন্যই জাহান্নামের আগুনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারীর হুঁশিয়ারি অন্য কারো ওপর মিথ্যা আরোপকারীর চেয়ে কেন স্বতন্ত্র? এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপকারীকে কোনো কোনো আলেম কাফির সাব্যস্ত করেছেন। তাঁরা হলেন শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি; তবে তাঁর পুত্র ইমামুল হারামাইন এবং তাঁর পরবর্তীগণ একে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন।
ইবনুল মুনাইয়্যির এই মতটিই পছন্দ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, উদাহরণস্বরূপ হারামের বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপকারী সেই হারামকে হালাল মনে করা (استحلال) বা অন্যকে তা হালাল মনে করার প্ররোচনা থেকে মুক্ত হতে পারে না। আর হারামকে হালাল মনে করা কুফরি এবং কুফরির দিকে প্ররোচিত করাও কুফরি। তবে তাঁর এই বক্তব্যে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়। অধিকাংশ আলেম (جمهور) এই মত পোষণ করেন যে, যতক্ষণ না সে একে বৈধ মনে করছে ততক্ষণ সে কাফির হবে না।
দ্বিতীয় উত্তর: তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা কবিরা গুনাহ (كبيرة), আর অন্য কারো ওপর মিথ্যা বলা সগিরা গুনাহ (صغيرة); তাই এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপকারী এবং অন্য কারো ওপর মিথ্যা আরোপকারীর হুঁশিয়ারি সমান হওয়ার মানে এই নয় যে তাদের আবাসস্থল এক হবে অথবা সেখানে অবস্থানের দীর্ঘতা সমান হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "সে যেন তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" সেখানে দীর্ঘ অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। বরং এর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ হলো সে সেখান থেকে বের হবে না, কারণ তিনি তার জন্য জাহান্নাম ছাড়া অন্য কোনো আবাস নির্ধারণ করেননি; তবে অকাট্য দলিলসমূহ (الأدلة القطعية) এ কথা প্রমাণ করে যে চিরস্থায়ী অবস্থান কেবল কাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ওপর মিথ্যা বলা এবং অন্যদের ওপর মিথ্যা বলার মাঝে পার্থক্য করেছেন, যেমনটি মুগীরা ইবনে শু'বা বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়"।
সাখাভী সামুরা বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসের দিকে ইশারা করে বলেন: "এই বাক্যটি সেই ব্যক্তির জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি হিসেবে যথেষ্ট, যে এমন হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা (كذب) বলে ধারণা করে; আর যে ব্যক্তি এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তা বর্ণনা করে এবং এর রহস্য প্রকাশ করে না তার কথা তো বলাই বাহুল্য। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ধরনের হাদিস বর্ণনাকারীকে মিথ্যা জালিয়াতির (وضعه) ক্ষেত্রে মূল মিথ্যাবাদীর (كاذبه) অংশীদার সাব্যস্ত করেছেন"৩।
সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করা দ্বীনের অপরিহার্যভাবে জ্ঞাত নিষিদ্ধ (تحريمه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কেননা কুরআন আল্লাহর ব্যাপারে এবং সুন্নাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাপারে এ জাতীয় বিষয়ে পরিপূর্ণ। এছাড়া রাসূলের ওপর মিথ্যা অপবাদ (الإفتراء) দেওয়া মহান আল্লাহর ওপরই মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার শামিল।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بيان معنى فليتبوأ: فليتبوأ: أي فليتخذ لنفسه منزلاً، يقال تبوأ الرجل المكان إذا اتخذه سكناً، وهو أمر بمعنى الخبر، أو بمعنى التهديد، أو بمعنى التهكم، أودعا على فاعل ذلك: أي بوأه الله ذلك1.
وقال الكرماني2:يحتمل أن يكون الأمر حقيقة، والمعنى من كذب فليأمر نفسه بالتبؤ ورجح أنه أمر بمعنى الخبر. ووافقه الحافظ ابن حجر عليه3 مستدلاً بحديث ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الذي يكذب عليَّ يبنى له بيت في النار"4.
'ফাল-ইয়াতাবাওওয়া' (فليتبوأ) শব্দের অর্থের ব্যাখ্যা: 'ফাল-ইয়াতাবাওওয়া' (فليتبوأ) অর্থাৎ সে যেন নিজের জন্য একটি আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়। বলা হয়ে থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যখন কোনো স্থানকে বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করে তখন সে ঐ স্থানে 'তাবাওওয়া' (تبوأ) করল। এটি এমন একটি আদেশ যা সংবাদ প্রদানের (خبر) অর্থে, অথবা হুমকির (تهديد) অর্থে, অথবা বিদ্রূপের (تهكم) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথবা এটি উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে একটি বদদোয়া; অর্থাৎ আল্লাহ তাকে সেখানে স্থান দিন১।
আল-কিরমানি২ বলেন: এটি সম্ভব যে আদেশটি তার প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, এমতাবস্থায় অর্থ হবে—যে ব্যক্তি মিথ্যাচার করল সে যেন নিজেকে সেখানে স্থান গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়। তবে তিনি এটিকে সংবাদ প্রদানের (خبر) অর্থবাহী আদেশ হিসেবেই প্রাধান্য দিয়েছেন। হাফিজ ইবনে হাজার৩ এ বিষয়ে তার সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিস দ্বারা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়"৪।
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الثاني وجوب معرفة الحديث الصحيح من الضعيفيجب على المشتغل في الحديث النبوي الشريف، أن يبذل قصارى جهده في معرفة الحديث الصحيح من غيره، إذا كان من أهل الصناعة، حتى يتبين له الحديث الصحيح الذي تتوفر فيه شروط الصحة أو الحُسْن المعروفة من ضبط وعدالة واتصال وسلامة من شذوذ وعلة من الحديث الذي لا يتوفر فيه ذلك أو بعضه.
وإن لم يكن من أهل الصناعة فعليه أن يتعرف على ذلك من مظانه، كالكتب المشهود لها بالصحة، أومن أقوال العلماء المعتبرين في هذا الفن، حتى لا يتعرض للوعيد الشديد الصادر من فيه صلوات الله وسلامه عليه، المتقدم ذكره، إذا نسب حديثاً إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو منه براء، إذا لم يرد من وراء ذلك بيان حاله لأنه يترتب على الأحاديث الأحكام الشرعية والأمور العلمية، فإذا كان الحديث ضعيفاً كيف يسوغ أن ينسب ذلك القول إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو لم يصدر عنه.
والإشتغال في تمييز الحديث الضعيف من الصحيح أولى من الإشتغال في تمييز الصحيح من الحسن أو العكس لأن كلا القسمين من المقبول، ويعمل بهما إلا إن احتيج إلى ذلك عند التعارض للترجيح.
وقد نهض أئمة هذا الشأن ببيان حال أكثر الأحاديث من صحة أو ضعف أو وضع
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: সহিহ (صحيح) হাদিসকে দুর্বল (ضعيف) হাদিস থেকে পৃথকভাবে চেনার আবশ্যকতাহাদিসে নববী নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য আবশ্যিক হলো, যদি তিনি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ হন, তবে সহিহ (صحيح) হাদিসকে অন্যান্য হাদিস থেকে পৃথকভাবে জানার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা। যাতে তাঁর নিকট এমন সহিহ (صحيح) হাদিস স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যাতে সহিহ (صحة) বা হাসান (حُسْن) হওয়ার সুপরিচিত শর্তাবলি যেমন—সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط), ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) এবং শায (شذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত থাকা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান; সেই হাদিস থেকে যা এই শর্তাবলির সবটুকু বা কিছু অংশ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
আর যদি তিনি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ না হন, তবে তাঁর কর্তব্য হলো এর নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে বিষয়টি জেনে নেওয়া; যেমন—সেই সকল কিতাব যা সহিহ হওয়ার ব্যাপারে স্বীকৃত, অথবা এই শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য আলেমগণের বক্তব্য থেকে। যেন তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্র মুখনিসৃত সেই কঠিন হুমকির সম্মুখীন না হন—যার উল্লেখ ইতিপূর্বে গত হয়েছে—যখন কেউ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে এমন হাদিস সম্বন্ধযুক্ত করে যা থেকে তিনি মুক্ত, যদি সে এর অবস্থা বর্ণনা না করে। কারণ হাদিসের ওপরই শরিয়তের বিধান ও ইলমি বিষয়সমূহ নির্ভরশীল। সুতরাং হাদিসটি যদি দুর্বল (ضعيف) হয়, তবে সেই কথাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা কীভাবে বৈধ হতে পারে, যা তাঁর থেকে প্রকাশ পায়নি?
সহিহ (صحيহ) থেকে দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে পৃথক করার কাজে আত্মনিয়োগ করা সহিহ (صحيহ) থেকে হাসান (حَسَن) হাদিসকে অথবা এর বিপরীতটি পৃথক করার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য। কারণ এই উভয় প্রকারই গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত এবং এ দুটির ওপর আমল করা হয়। তবে যদি বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) প্রয়োজন হয়, তখন এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি হয়ে পড়ে।
আর এই শাস্ত্রের ইমামগণ অধিকাংশ হাদিসের অবস্থা—তা সহিহ (صحة), দুর্বল (ضعف) নাকি জাল (وضع)—তা বর্ণনায় সচেষ্ট হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأصَّلوا أصولاً متينة، وقعدوا قواعد رصينة، من أتقنها وتضلع بمعرفتها أمكنه أن يعلم درجة أي حديث ولو لم ينصوا عليه وذلك هو علم أصول الحديث أو مصطلح الحديث.
قال الحافظ ابن حجر: "السبيل لمن أراد الإحتجاج بحديث من السنن الأربعة لا سيما سنن ابن ماجة ومصنف ابن أبي شيبة ومصنف عبد الرزاق مما الأمر فيه أشد، أو بحديث من المسانيد لأن هذه لم يشترط جامعوها الصحة والحسن: أنه إن كان أهلاً للنقل والتصحيح فليس له أن يحتج بشيء من القسمين حتى يحيط به. وإن لم يكن أهلاً لذلك فإن وجد أهلاً لتصحيح أو تحسين قلّده، وإلا فلا يقوم على الإحتجاج كحاطب ليل، فلعله يحتج بالباطل وهو لا يشعر"1.
ونحو ذلك قال زكريا الأنصاري في فتح الباقي شرح ألفية العراقي2.
وقال ابن تيمية: "المنقولات فيها كثير من الصدق وكثير من الكذب، والمرجع في التمييز بين هذا وهذا إلى علم الحديث، كما نرجع إلى النحاة في الفرق بين نحو العرب وغير نحو العرب، ونرجع إلى علماء اللغة، فيما هو من اللغة وما ليس من اللغة، وكذلك علماء الشعر والطب وغير ذلك فلكل علم رجال يعرفون به، والعلماء بالحديث أجل قدراً من هؤلاء وأعظمهم صدقاً، وأعلاهم منزلة وأكثر ديناً وهم من أعظم الناس صدقاً وأمانة وعلماً وخبرة فيما يذكرونه من الجرح والتعديل"3.
فعلى هذا يجب التحري في كل حديث حتى تتبين حاله. قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} 4.
ومن المعلوم أن حجة الله عز وجل على عباده إنما هي الكتاب والسنة لا غير، إلا اللهم ما استنبطه العلماء منهما: فالقرآن تكفل الله عز وجل بحفظه كما قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 5.
وأما السنة المطهرة فلم يتكفل بحفظها كالقرآن لحكمة يعلمها، ولهذا قد أدخل فيها ما لم يكن منها، فالإعتماد عليها مطلقاً، ونشرها دون تمييز أو تحقيق يؤدي حتماً إلى تشريع ما لم يأذن به الله. وفاعل ذلك قد لا يسلم من الوقوع في المحظور الذي هو الكذب على
--------------------------------------------
তারা শক্তিশালী মূলনীতি প্রবর্তন করেছেন এবং সুদৃঢ় নিয়মাবলী নির্ধারণ করেছেন; যে ব্যক্তি সেগুলোতে দক্ষতা অর্জন করবে এবং সেগুলোর জ্ঞানে পূর্ণ পাণ্ডিত্য লাভ করবে, সে যেকোনো হাদিসের মান জানতে সক্ষম হবে, যদিও তারা (পূর্ববর্তী ইমামগণ) সুনির্দিষ্টভাবে সে সম্পর্কে কোনো বক্তব্য প্রদান না করেন। আর এটিই হলো হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث)।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "যিনি চার সুনান গ্রন্থ—বিশেষ করে সুনান ইবনে মাজাহ, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ এবং মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, যেগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল—কিংবা মুসনাদসমূহ থেকে কোনো হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে চান, তবে তার পন্থা হলো: যেহেতু এই কিতাবসমূহের সংকলকগণ হাদিসগুলো সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) হওয়ার শর্তারোপ করেননি, তাই যদি তিনি হাদিস বর্ণনা এবং তা সহিহ বলে গণ্য করার (تصحيح) যোগ্য হন, তবে তার জন্য উচিত নয় এই দুই শ্রেণির কিতাব থেকে কোনো কিছু দলিল হিসেবে পেশ করা যতক্ষণ না তিনি বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ অবগত হন। আর যদি তিনি তার যোগ্য না হন, তবে তিনি যদি হাদিস সহিহ বলে গণ্য করার (تصحيح) বা হাসান বলে গণ্য করার (تحسين) মতো কোনো বিশেষজ্ঞের মতামত পান, তবে তার অনুসরণ করবেন। অন্যথায় দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে তিনি 'রাতের আঁধারে কাঠ সংগ্রহকারীর' মতো হয়ে যাবেন; হতে পারে তিনি অজান্তেই কোনো বাতিল (باطل) বিষয়কে দলিল হিসেবে পেশ করছেন।"১
একই ধরনের কথা জাকারিয়া আল-আনসারি ফাতহুল বাকি শরহু আলফিয়াতিল ইরাকি গ্রন্থে বলেছেন।২
ইবনে তাইমিয়া বলেন: "বর্ণিত বিষয়াবলির মধ্যে অনেক সত্য এবং অনেক মিথ্যা বিদ্যমান। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করার মানদণ্ড হলো হাদিস বিজ্ঞান; যেমন আমরা আরবি ব্যাকরণ ও অনারবি ব্যাকরণের পার্থক্য বোঝার জন্য বৈয়াকরণদের শরণাপন্ন হই এবং কোনটি ভাষা আর কোনটি ভাষা নয় তা জানতে ভাষাবিদদের কাছে ফিরে যাই। তেমনিভাবে কবিতা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ রয়েছেন যারা তা চেনেন। আর হাদিস বিশেষজ্ঞরা এদের চেয়েও অধিক মর্যাদাবান, সত্যনিষ্ঠায় অধিক অগ্রগণ্য, সুউচ্চ মাকামের অধিকারী এবং দ্বীনদারিতে শ্রেষ্ঠ। তারা মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অগ্রগামী, বিশেষ করে তারা যা জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত বর্ণনায় উল্লেখ করেন সে ক্ষেত্রে।"৩
সুতরাং এই ভিত্তিতে, প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা আবশ্যক যতক্ষণ না তার অবস্থা স্পষ্ট হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} ৪।
এটি সুবিদিত যে, বান্দাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল কেবল কিতাব ও সুন্নাহ, অন্য কিছু নয়; তবে ওলামায়ে কেরাম এই দুই উৎস থেকে যা উদ্ভাবন করেছেন তা এর অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশবাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} ৫।
পক্ষান্তরে পবিত্র সুন্নাহকে তিনি কুরআনের মতো সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেননি এমন কোনো হিকমতের কারণে যা তিনিই জানেন। আর এ কারণেই সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করানো হয়েছে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব, বিচার-বিশ্লেষণ বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঢালাওভাবে এর ওপর নির্ভর করা এবং তা প্রচার করা অনিবার্যভাবে এমন বিধান প্রণয়নের দিকে নিয়ে যাবে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। আর যে ব্যক্তি এমনটি করে, সে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না, যা হলো মিথ্যা আরোপ করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقيض الله عز وجل للأمة رجالاً أمناء، يقظين، مخلصين، قاوموا الوضاعين وتتبعوهم، ومازوا الغثه من السمن، ولولا الجهود المضنية التي بذلها الصحابة، والتابعون وعلماء الأمة من بعدهم لاشتبه على كثيرين من الناس بعض أمور دينهم لكثرة ما اختلقه من الكذب الوضاعون، ونسبوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم زوراً وبهتاناً.
فصانوا كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم منا أن يكون مطية لأهل الأهواء.
وقد كان بعض كبار التابعين، إذا سمعوا الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من غير الصحابة فزعوا إلى من عندهم من الصحابة ليتثبتوا عن ذلك الحديث، وكذلك شأن في صغار التابعين، يفزعون إلى من عندهم من كبار التابعين كل ذلك ليثبت1.
وهكذا أسهمت جهود العلماء في هذا المضمار بتكوين علم الجرح والتعديل، الذي أرسى قواعده وأسسه الصحابة والتابعون وأتباعهم، وقد ظهر في كل عصر عدد كبير من النقاد تكفل ببيان أحوال الرواة، ونقل السنة وحفظها على أسلم القواعد العلمية. ثم ما لبث أن صنف العلماء المؤلفات الضخمة في الرواة وأقوال النقاد فيهم، حتى أنه لم يعد يختلط الكذابون والضعفاء بالعدول الثقات2.
قيل لابن المبارك: "هذه الأحاديث الموضوعة؟ فقال: تعيش لها الجهابذة"3.
وقال مسلم: "فلولا الذي رأينا من سؤ صنيع كثير ممن نصب نفسه محدثاً فيما يلزمهم من طرح الأحاديث الضعيفة والروايات المنكرة، وتركهم الإقتصار على الأحاديث الصحيحة المشهورة مما نقله الثقات المعروفون بالصدق والأمانة، بعد معرفتهم وإقرارهم بألسنتهم أن كثيراً مما يقذفون به إلى الأغبياء من الناس هو مستنكر، ومنقول عن قوم غير مرضيين ممن ذم الرواية عنهم أئمة الحديث، مثل مالك بن أنس وشعبة بن الحجاج وسفيان ابن عيينة ويحيى بن سعيد القطان وعبد الرحمن بن مهدي وغيرهم من الأئمة لما سهل علينا الإنتصاب لما سألت من التمييز والتحصيل، ولكن من أجل ما أعلمناك من نشر القوم الأخبار المنكرة بالأسانيد الضعاف المجهولة وقذفهم بها إلى العوام الذين لا يعرفون عيوبها خف على قلوبنا إجابتك إلى ما سألت".
وقال في موضع آخر: "ولا أحسب كثيراً ممن يُعَرِّج من الناس على ما وصفنا من هذه
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের মধ্য থেকে এমন কিছু আমানতদার, জাগ্রত ও একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন, যারা জালিয়াতদের (الوضاعون) মোকাবিলা করেছেন এবং তাদের অনুসরণ করে পাকড়াও করেছেন। তারা অসার ও মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করেছেন। যদি সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী উলামায়ে কেরামের এই হাড়ভাঙা পরিশ্রম না থাকত, তবে জালিয়াতদের (الوضاعون) আবিষ্কৃত মিথ্যার আধিক্যের কারণে বহু মানুষের কাছে দ্বীনের অনেক বিষয় অস্পষ্ট হয়ে যেত, যা তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে মিথ্যা ও অপবাদ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছিল।
এভাবেই তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীকে প্রবৃত্তি পূজারীদের বাহন হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।
কিছু শ্রেষ্ঠ তাবেয়ী যখন সাহাবী ব্যতীত অন্য কারও নিকট থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস শুনতেন, তখন তারা তাদের নিকটস্থ সাহাবীদের কাছে ছুটে যেতেন যাতে সেই হাদিসটি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। একইভাবে ছোট তাবেয়ীগণও বড় তাবেয়ীদের কাছে ছুটে যেতেন; আর এ সবের উদ্দেশ্য ছিল হাদিসের সত্যতা নিশ্চিত করা।১
এভাবে এই ময়দানে আলেমদের প্রচেষ্টা 'যারহ ও তা'দীল' (الجرح والتعديل) শাস্ত্র গঠনে অবদান রেখেছে, যার ভিত্তি ও মূলনীতি সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের অনুসারীগণ স্থাপন করেছেন। প্রত্যেক যুগে এমন বিপুল সংখ্যক সমালোচক (نقاد) আবির্ভূত হয়েছেন যারা বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা বর্ণনা করার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং অত্যন্ত নিখুঁত বৈজ্ঞানিক মূলনীতির ভিত্তিতে সুন্নাহর বর্ণনা ও সংরক্ষণের কাজ করেছেন। এরপর উলামায়ে কেরাম বর্ণনাকারীদের (الرواة) পরিচয় এবং তাদের সম্পর্কে সমালোচকদের উক্তি নিয়ে বিশাল বিশাল গ্রন্থ রচনা করেন, যার ফলে চরম মিথ্যাবাদী (الكذابون) ও দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ (العدول) ও নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের সাথে মিশে যাওয়া আর সম্ভব ছিল না।২
ইবনে মুবারককে জিজ্ঞাসা করা হলো, "এই যে জাল হাদিসগুলো (الأحاديث الموضوعة), এগুলোর কী হবে?" তিনি বললেন, "এগুলোর (রহস্য উন্মোচনের) জন্য বিচক্ষণ বিশেষজ্ঞগণ বেঁচে আছেন।"৩
ইমাম মুসলিম বলেন: "আমরা যদি দেখতাম না যে, যারা নিজেদের মুহাদ্দিস হিসেবে দাবি করে, তাদের মধ্যে অনেকে দুর্বল হাদিসসমূহ (الأحاديث الضعيفة) এবং প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা (الروايات المنكرة) বর্জন করা এবং সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণিত প্রসিদ্ধ (المشهورة) সহিহ হাদিসসমূহের (الأحاديث الصحيحة) ওপর সীমাবদ্ধ থাকার আবশ্যকতা উপেক্ষা করে অপকর্ম করছে—যদিও তারা মুখে স্বীকার করে যে নির্বোধদের কাছে তারা যে সব বর্ণনা পেশ করে তার অধিকাংশই বর্জনীয় (مستنكر) এবং এমন লোকদের থেকে বর্ণিত যাদের থেকে হাদিস গ্রহণকে ইমাম মালেক বিন আনাস, শু'বা বিন হাজ্জাজ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান বিন মাহদী এবং অন্যান্য ইমামগণ নিন্দা করেছেন—তবে আপনি যে হাদিস পৃথক করা ও সংকলন করার অনুরোধ করেছেন, তা গ্রহণ করা আমাদের জন্য সহজ হতো না। কিন্তু তারা দুর্বল (الضعاف) ও অজ্ঞাত (المجهولة) সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত সংবাদসমূহ (الأخبار المنكرة) সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যারা এগুলোর ত্রুটি সম্পর্কে অবগত নয়, তাই আপনার অনুরোধ রক্ষা করা আমাদের হৃদয়ের জন্য সহজ হয়েছে।"
তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: "মানুষের মধ্যে যারা আমরা যা বর্ণনা করেছি তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না, তাদের সম্পর্কে আমি মনে করি না যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأحاديث الضعاف والأسانيد المجهولة، ويعتد بروايتها بعد معرفته بما فيها، من التوهن والضعف - إلا أن الذي يحمله على روايتها والإعتداد بها إرادة التكثر بذلك عند العوام، ولأن يقال ما أكثر ما جمع فلان من الحديث وألَّف من العدد، ومن ذهب في العلم هذا المذهب، وسلك هذا الطريق فلا نصيب له فيه. وكان بأن يسمى جاهلاً، أولى من أن ينسب إلى علم"1.
وقد لا يسلم الإنسان من الوقوع في المهالك إذا لم تكن عنده الخبرة التامة في معرفة الأحاديث، أو يعتمد في ذلك على من اعترف له بالإمامة في هذا الشأن.
أخرج مسلم2 بسنده عن أبي هريرة رضي الله. عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كفى بالمرء كذباً أن يحدث بكل ما سمع".
ومن أجل ذلك قال مالك: "ليس يسلم رجل حدث بكل ما سمع، ولا يكون إماماً أبداً وهو يحدث بكل ما سمع"3
وقال عبد الرحمن بن مهدي: "لا يكون الرجل إماماً يقتدى به حتى يُمسك عن بعض ما سمع"4
وقال: "إن العالم إذا لم يعرف الصحيح والسقيم من الحديث لا يسمى عالماً"5.
وقال الإمام أحمد وإسحاق بن راهوية: "أن العالم إذا لم يعرف الصحيح والسقيم والناسخ والمنسوخ من الحديث لا يسمى عالماً"6.
وقال الثوري: "اتقوا الكلبي قال فقيل له: فإنك تروي عنه؟ قال: أنا أعرف صدقه من كذبه"7.
قال أبو عوانة: "لما مات الحسن البصري رحمه الله، اشتهيت كلامه فتتبعته عن أصحاب الحسن، فأتيت به أبان بن أبي عياش فقرأه عليَّ كله عن الحسن، فما استمل أن أروي عنه شيئاً"8.
--------------------------------------------
দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ এবং অজ্ঞাত (مجهول) সনদসমূহ; আর তিনি এগুলোর মধ্যকার দুর্বলতা (وهن) ও দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর বর্ণনাকে ধর্তব্য মনে করেন। তবে যা তাকে এসব বর্ণনায় এবং এগুলোকে ধর্তব্য মনে করতে উদ্বুদ্ধ করে, তা হলো সাধারণ মানুষের নিকট আধিক্য প্রদর্শন করার ইচ্ছা এবং যাতে বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি কতই না অধিক হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং কত সংখ্যায় সংকলন করেছেন। আর ইলমের ক্ষেত্রে যার এই নীতি এবং যে এই পথ অবলম্বন করে, এ শাস্ত্রে তার কোনো অংশ নেই। তাকে আলেম হিসেবে অভিহিত করার চেয়ে মূর্খ বলাই অধিক শ্রেয়।"1.
মানুষ ধ্বংসাত্মক পথে পতিত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না যদি হাদিস চেনার ক্ষেত্রে তার পূর্ণ অভিজ্ঞতা না থাকে, অথবা সে এ বিষয়ে ইমাম হিসেবে স্বীকৃত কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে।
ইমাম মুসলিম তার সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন মানুষের মিথ্যাবাদী (كاذب) হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।"
এ কারণেই ইমাম মালিক বলেছেন: "সেই ব্যক্তি নিরাপদ থাকতে পারে না যে যা শোনে তাই বর্ণনা করে, আর সে কখনো ইমাম হতে পারে না যখন সে যা শোনে তাই বর্ণনা করতে থাকে।"3
এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি অনুসরণযোগ্য ইমাম হতে পারে না যতক্ষণ না সে যা শোনে তার কিছু অংশ থেকে বিরত থাকে।"4
তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই একজন আলেম যখন হাদিসের সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিযুক্ত (سقيم) সম্পর্কে অবগত হবে না, তখন তাকে আলেম বলা হবে না।"5.
ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক বিন রাহওয়াই বলেছেন: "নিশ্চয়ই আলেম যখন হাদিসের সহিহ (صحيح), ত্রুটিযুক্ত (سقيم), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কে অবগত হবে না, তখন তাকে আলেম বলা হবে না।"6.
সুফিয়ান সাওরী বলেছেন: "তোমরা কালবী থেকে বেঁচে থাকো।" তাকে বলা হলো: "আপনি তো তার থেকে বর্ণনা করেন?" তিনি বললেন: "আমি তার সত্যবাদীতা (صدق) এবং মিথ্যাচার (كذب) সম্পর্কে অবগত।"7.
আবু আওয়ানা বলেন: "যখন হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি তার বাণীর প্রতি আগ্রহী হলাম এবং হাসানের ছাত্রদের নিকট থেকে তা অন্বেষণ করলাম। অতঃপর আমি আবান বিন আবি আইয়াশকে তা নিয়ে আসলাম এবং তিনি হাসানের সূত্রে আমার নিকট তার সমস্ত কথা পড়ে শোনালেন। ফলে আমি তার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করা সমীচীন মনে করলাম না।"8.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال عبد الرحمن بن مهدي: "لإن أعرف علة حديث هو عندي أحب إلي من أن أكتب عشرين حديثاً ليست عندي"1.
قال يحيى بن سعيد: "سألت شعبة وسفيان بن سعيد وسفيان بن عيينة ومالك بن أنس عن الرجل لا يحفظ أو يتهم في الحديث قال: قالوا جميعاً: بين أمره"2 فكل من كان متهماً في الحديث بالكذب أو كان مغفلاً يخطئ الكثير فالذي اختاره أكثر أهل الحديث من الأئمة أن لا يشتغل بالرواية عنه ألا ترى أن عبد الله بن المبارك حدث عن قوم من أهل العلم فلما تبين له أمرهم ترك الرواية عنهم3..
--------------------------------------------
আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেন: "একটি হাদিসের ত্রুটি (علة) চিহ্নিত করতে পারা আমার নিকট এমন বিশটি হাদিস লিখে রাখার চেয়ে অধিক প্রিয়, যা আমার কাছে নেই।"১
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেন: "আমি শু’বাহ, সুফিয়ান বিন সাঈদ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং মালিক বিন আনাসকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, যার মুখস্থশক্তি ভালো নয় অথবা হাদিসের ক্ষেত্রে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ (يتهم) রয়েছে; তিনি (ইয়াহইয়া) বলেন: তারা সকলেই বলেছেন: 'তার অবস্থা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে দাও'।"২ সুতরাং হাদিসের ক্ষেত্রে যার বিরুদ্ধে মিথ্যার (الكذب) অভিযোগ (متهم) রয়েছে অথবা যে অত্যন্ত অসতর্ক (مغفل) এবং প্রচুর ভুল (يخطئ الكثير) করে, ইমামগণের মধ্য থেকে অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণের মনোনীত মত হলো—তার থেকে বর্ণনা (رواية) গ্রহণে ব্যাপৃত না হওয়া। আপনি কি দেখেন না যে, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক একদল আলেম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু যখন তাদের আসল অবস্থা তার নিকট স্পষ্ট হলো, তখন তিনি তাদের থেকে বর্ণনা (رواية) করা পরিত্যাগ করলেন।৩..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الثالث تعريف الحديث الضعيف وأنواعهتعريفه: عرفه ابن الصلاح بأنه هو: "كل حديث لم تجتمع فيه صفات الحديث الصحيح ولا صفات الحديث الحسن"4
وعرفه ابن دقيق العيد5 بأنه: "هو ما نقص عن درجة الحسن"6 وهذا هو التعريف المختار. لأن ما لم تجتمع فيه صفات الحسن فهو من الصحيح أبعد7 ولأنه لو اختلت بعض صفات الصحيح كخفة الضبّط مثلاً لا يكون ضعيفاً وإنما يكون حسناً8.
والأولى من ذلك أن يقال في تعريفة: هو ما لم تتوفر فيه صفات القبول9وأنواع الحديث الضعيف كثيرة منها ما يعود إلى اتصال السند ومنها ما لا يعود إلى اتصال السند وإنما إلى أسباب متعددة تكون في السند أو المتن أو فيهما معاً.
وأنواعه كثيرة أوصلها ابن حبان إلى تسعة وأربعين نوعاً. وبلغ بها العراقي إلى إثنين وأربعين وبلغ بها غيرهما إلى ثلاثة وستين نوعاً، وزاد آخرون على هذا العدد10.
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদএর সংজ্ঞা: ইবনুল সালাহ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: "এটি এমন প্রত্যেক হাদিস যাতে সহিহ (صحيح) হাদিসের বৈশিষ্ট্যসমূহ বা হাসান (حسن) হাদিসের বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রিত হয়নি।"৪
ইবনু দাকীক আল-ঈদ৫ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে: "এটি এমন যা হাসান (حسن) এর স্তর থেকে নিচে।"৬ আর এটিই মনোনীত সংজ্ঞা। কারণ যাতে হাসান (حسن) এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পাওয়া যায় না, তা সহিহ (صحيح) থেকে অধিক দূরে।৭ এবং কারণ যদি সহিহ (صحيح) এর কিছু বৈশিষ্ট্যে ত্রুটি দেখা দেয়, যেমন উদাহরণস্বরূপ মুখস্থ বা আয়ত্ত করার ক্ষমতার দুর্বলতা (خفة الضبط), তবে তা দুর্বল (ضعيف) হয় না বরং তা হাসান (حسن) হয়ে থাকে।৮
এর চেয়ে উত্তম হলো এর সংজ্ঞায় এটি বলা যে: এটি এমন হাদিস যাতে গ্রহণযোগ্যতার (القبول) বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান নেই।৯ দুর্বল (ضعيف) হাদিসের প্রকারভেদ অনেক। এর মধ্যে কিছু প্রকার সনদের ধারাবাহিকতার (اتصال السند) সাথে সংশ্লিষ্ট, আবার কিছু সনদের ধারাবাহিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং সনদ বা মতন (المتن) অথবা উভয়টির মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন কারণের সাথে সংশ্লিষ্ট।
এর প্রকারভেদ অনেক, ইবনু হিব্বান একে ঊনপঞ্চাশটি প্রকার পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। আল-ইরাকি একে বিয়াল্লিশটি প্রকারে এবং অন্যগণ একে তেষট্টিটি প্রকারে নিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ এই সংখ্যার চেয়েও বৃদ্ধি করেছেন।১০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
والحاجة لا تدعو هنا إلى تعداد أنواع الحديث الضعيف لأنها مبسوطة في كتب علوم الحديث. وهذه الأنواع متفاوتة الضعف ويمكننا حصر ذلك التفاوت في ثلاثة أقسام:
الأول: الموضوع وهو أشر أنواع الضعيف، وما قيل في إسناده كذاب أو وضاع.
الثاني: أخف من سابقه قليلاً، لكنه شديد الضعف، وهو ما قيل فيه متهم أو مجمع على تركه أو ضعفه أو ذاهب الحديث أو هالك أو منكر أو ساقط أو ليس بشيء أو ضعيف جداً.
الثالث: الضعيف الذي ينجبر بمثله، وهو ما كان في سنده سيئ الحفظ أوله أوهام أو يهم أو مدلس معنعن أو مختلط أو ما قيل فيه ضعيف فقط أو لم أر فيه توثيقاً ونحو ذلك.
تنبيه: وفائدة هذا التقسيم هو معرفة ما ينجبر ومالا ينجبر فالقسم الأول والثاني لا ينجبران بالمتابعة، ولا ينتفعان بالشواهد إلا ما قيل في قرب ضعفه كما سيأتي بيانه إن شاء الله.
وأما الثالث فهو بعكس ذلك، وهو الذي وقع الخلاف فيه بالعمل به في حال تفرده، في فضائل الأعمال، كما ذهب إليه بعض الأئمة، وسيأتي بيان الحق فيه إن شاء الله وسنتكلم على كيفية رواية الأحاديث الواقعة في هذه الأقسام في الباب الرابع.
এখানে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের প্রকারভেদ গণনা করার প্রয়োজন নেই, কারণ সেগুলো হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর এই প্রকারগুলোর দুর্বলতার স্তরে পার্থক্য রয়েছে এবং আমরা সেই তারতম্যকে তিন ভাগে সীমাবদ্ধ করতে পারি:
প্রথমত: জাল (موضوع), যা দুর্বল (ضعيف) প্রকারগুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতম। আর এটি এমন বর্ণনা যার সনদে মিথ্যাবাদী (كذاب) অথবা জালকারী (وضاع) রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এটি পূর্ববর্তিটির চেয়ে সামান্য হালকা, তবে এটি অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف)। এটি এমন বর্ণনা যার বর্ণনাকারী সম্পর্কে অভিযুক্ত (متهم), অথবা যার পরিত্যক্ত (مجمع على تركه) হওয়ার ব্যাপারে কিংবা দুর্বলতার (ضعفه) ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে, অথবা যাকে হাদিস বিচ্যুত (ذاهب الحديث), ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك), প্রত্যাখ্যাত (منكر), পতিত (ساقط), ‘কিছুই নয়’ (ليس بشيء) অথবা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত: সেই দুর্বল (الضعيف) হাদিস যা সমপর্যায়ের বর্ণনার মাধ্যমে পরিপূরণযোগ্য (ينجبر)। এটি এমন বর্ণনা যার সনদে মন্দ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (سيئ الحفظ), অথবা যার ভ্রম রয়েছে (أوهام) বা যিনি বিভ্রান্ত হন (يهم), অথবা ‘আন’ শব্দযোগে বর্ণিত মুদাল্লাস (مدلس معنعن) বর্ণনা রয়েছে, কিংবা সংমিশ্রণকারী বা স্মৃতিভ্রষ্ট (مختلط) বর্ণনাকারী রয়েছে, অথবা যার সম্পর্কে কেবল দুর্বল (ضعيف) বলা হয়েছে কিংবা যার ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ (توثيق) দেখা যায়নি এবং এই জাতীয় অন্যান্য মন্তব্য করা হয়েছে।
সর্তকতা: এই বিভাজনের উপকারিতা হলো—কোনটি পরিপূরণযোগ্য (ينجبر) আর কোনটি পরিপূরণযোগ্য নয় (لا ينجبر) তা জানা। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারের হাদিসগুলো মুতাবাহ (متابعة) বা অনুগামী বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয় না এবং শাহেদ (شواهد) বা সাক্ষী বর্ণনার মাধ্যমেও উপকৃত হয় না, তবে যেটির দুর্বলতা কম হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেটি ভিন্ন কথা, যা সামনে ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে।
আর তৃতীয় প্রকারটি এর বিপরীত। এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে যখন এটি একক বর্ণনায় (تفرد) থাকে তখন ফাযায়েলে আমলের ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে, যেমনটি কোনো কোনো ইমাম মনে করেন। এ বিষয়ে সঠিক বক্তব্য ইনশাআল্লাহ সামনে বর্ণিত হবে। আর এই প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত হাদিসগুলো বর্ণনা করার পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা চতুর্থ অধ্যায়ে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الباب الرابع رواية الأحاديث الضعيفةالأحاديث الضعيفة تنقسم بالنسبة إلى روايتها إلى قسمين:
أحاديث صالحة للإعتبار.
وأحاديث اشتد ضعفها، لا تصلح للإعتبار بها، إلا على قول من قال: إن شديدة الضعف يعضد بعضها البعض الآخر حتى يقرب ضعفها، وتكون بمجموعها بمثابة طريق ضعيف صالح للمتابعة. وبهذا يظهر أن للحديث أصلاً، فإذا أتى الحديث من طريق آخر، أو عن صحابي آخر وضعفه يسير اعتضدا، وعمل بما فيها لأنه أصبح من قسم الحسن لغيره1.
فالقسم الأول: إما أن يكون مسنداً أو غير مسند.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহের বর্ণনাবর্ণনার প্রেক্ষাপটে দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:
এমন সব হাদিস যা পর্যালোচনার (اعتبار) উপযুক্ত।
এবং এমন সব হাদিস যেগুলোর দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট এবং তা পর্যালোচনার (اعتبار) উপযুক্ত নয়; তবে তাদের মতানুসারে যারা বলেন: অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف) বর্ণনাগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে, ফলে তাদের দুর্বলতা হ্রাস পায় এবং সমষ্টিগতভাবে তা অনুসরণের (متابعة) উপযুক্ত একটি দুর্বল (ضعيف) সূত্রের পর্যায়ে উপনীত হয়। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, হাদিসটির একটি ভিত্তি রয়েছে। সুতরাং যদি হাদিসটি অন্য কোনো সূত্রে (طريق) অথবা অন্য কোনো সাহাবীর (صحابي) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয় এবং তার দুর্বলতা সামান্য (يسير) হয়, তবে সেগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে এবং এর সারমর্ম অনুযায়ী আমল করা হয়; কারণ তা তখন অন্য সূত্রের কারণে উত্তম (حسن لغيره) পর্যায়ে উন্নীত হয়।১
প্রথম প্রকার: এটি হয় মুসনাদ (مسند) হবে অথবা মুসনাদ (مسند) নয় এমন হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والمسند إما أن يكون في فضائل الأعمال، والترغيب والترهيب والقصص وما أشبه ذلك، وإما أن يكون في الأحكام أو في العقائد.
فإن كانت مسندة وكانت في فضائل الأعمال وما في معناها جازت روايتها على قول كثير من الأئمة ولو لم تبين حالها، لأنه يُحتاج إليها للإعتبار بها عند ما يرد طريق آخر أو حديث آخر عن صحابي آخر صالح للمتابعة فعندئذ يكون ما اشتمل عليه من أقسام المقبول ويعمل به.
ولأنه لو لم تنقل لتعطل جزء كبير من السنة عن العمل به. وتقدم قول الحافظ ابن حجر1 أن أهل السنن الأربعة لا سيما سنن ابن ماجة، وأهل المصنفات، والمسانيد لم يلتزموا الصحة والحسن.
ففرق بين رواية الحديث الضعيف وبين العمل به. فالأحاديث الضعيفة موجودة في بطون دواوين السنة لا سيما عند من لم يلتزم الصحة2.
قال أحمد في رواية عباس الدوري عنه - ابن إسحاق رجل تكتب عنه هذه الأحاديث يعني المغازي ونحوها وإذا جاء الحلال والحرام أردنا قوماً هكذا وقبض أصابع يده الأربع3.
وقال النوفلي: "سمعت أحمد بن حنبل يقول: إذا روينا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحلال والحرام والسنن والأحكام تشددنا في الأسانيد، وإذا روينا عن النبي صلى الله عليه وسلم في فضائل الأعمال، وما لا يضع، حكماً أو يرفعه، تساهلنا في الأسانيد"4.
وقال الميموني: "سمعت أبا عبد الله يقول: أحاديث الرقاق يحتمل أن يتساهل فيها حتى يجئ شئ فيه حكم"5.
وكان أبو زكريا العنبري يقول: "الخبر إذا ورد لم يحرم حلالاً ولم يحل حراماً ولم يوجب حكماً، وكان في ترغيب أو ترهيب أو تشديد أو ترخيص وجب الإغماض عنه والتساهل في رواته"6.
وقال البيهقي في المدخل عن ابن مهدي: "إذا روينا عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحلال والحرام
--------------------------------------------
মুসনাদ হয় নেক আমলের ফজিলত, উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (ترغيب وترهيب), কিচ্ছা-কাহিনী এবং এই জাতীয় বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত হয়, অথবা এটি আহকাম (বিধান) কিংবা আকাইদ (বিশ্বাস) সংক্রান্ত বিষয়ে হয়।
যদি এই মুসনাদগুলো সূত্রযুক্ত (مسندة) হয় এবং নেক আমলের ফজিলত বা এই অর্থবোধক বিষয়ে হয়, তবে অনেক ইমামের মতে তার অবস্থা বর্ণনা করা ছাড়াই তা বর্ণনা করা বৈধ। কারণ যখন অন্য কোনো সূত্র (طريق) বা অন্য কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে অন্য কোনো হাদিস যা সমর্থক বর্ণনার (متابعة) জন্য উপযুক্ত হয়, তখন বিবেচনার (اعتبار) জন্য এগুলোর প্রয়োজন পড়ে; তখন এগুলো গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের প্রকারভুক্ত হয়ে যায় এবং এর ওপর আমল করা হয়।
কেননা এগুলো বর্ণিত না হলে সুন্নাহর এক বিশাল অংশের ওপর আমল করা স্থগিত হয়ে যেত। হাফিজ ইবনে হাজারের বক্তব্য পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, চার সুনান গ্রন্থের সংকলকগণ—বিশেষ করে সুনান ইবনে মাজাহ—এবং মুসান্নাফ ও মুসনাদ রচয়িতাগণ কেবল সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) হাদিস বর্ণনা করার প্রতিশ্রুতি দেননি।
সুতরাং দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করা এবং তার ওপর আমল করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ সুন্নাহর সংকলনগুলোর অভ্যন্তরে বিদ্যমান রয়েছে, বিশেষ করে যারা কেবল সহিহ (صحة) বর্ণনার শর্তারোপ করেননি তাদের কিতাবসমূহে।
আব্বাস আদ-দুরি-র বর্ণনায় ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ইবনে ইসহাক সম্পর্কে বলেছেন—তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার থেকে এই হাদিসগুলো অর্থাৎ মাগাজি (مغازي) বা যুদ্ধাভিযান এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো লিখে রাখা যায়। কিন্তু যখন হালাল ও হারামের বিষয় আসে, তখন আমাদের এমন লোকদের প্রয়োজন হয়—এই বলে তিনি তার হাতের চার আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করলেন।
আন-নাওফালি বলেন: "আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: যখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে হালাল, হারাম, সুন্নত এবং আহকাম (বিধান) সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহের (أسانيد) ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি। আর যখন আমরা নবী (সা.) থেকে নেক আমলের ফজিলত এবং যা কোনো বিধানকে সাব্যস্ত বা রহিত করে না এমন বিষয়ে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহের (أسانيد) ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করি।"
আল-মাইমুনি বলেন: "আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: হৃদয়স্পর্শী বর্ণনার (رقاق) হাদিসগুলোতে শিথিলতা (تساهل) গ্রহণ করা যেতে পারে, যতক্ষণ না কোনো বিধান সংক্রান্ত বিষয় আসে।"
আবু জাকারিয়া আল-আনবারি বলতেন: "কোনো সংবাদ (خبر) যখন হালালকে হারাম করে না, হারামকে হালাল করে না এবং কোনো বিধানকে আবশ্যক করে না, বরং তা কোনো বিষয়ে উৎসাহ প্রদান, ভীতি প্রদর্শন, সতর্কতা কিংবা শিথিলতা (ترخيص) সম্পর্কে হয়, তখন তার ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করা এবং এর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করা আবশ্যক।"
আল-বায়হাকি তার আল-মাদখাল গ্রন্থে ইবনে মাহদি থেকে বর্ণনা করে বলেন: "যখন আমরা নবী (সা.) থেকে হালাল ও হারাম সম্পর্কে বর্ণনা করি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والأحكام شددنا في الأسانيد وانتقدنا في الرجال، وإذا روينا في الفضائل والثواب والعقاب سهلنا في الأسانيد وتسامحنا في الرجال"1.
وممن رُوي عنه ذلك السفيانان وابن معين وابن المبارك2.
وقال ابن عبد البر: "أحاديث الفضائل لا نحتاج فيها إلى من يحتج به"3.
وأما إذا كانت في الأحكام والعقائد فلا تروى وإذا كانت مسندة إلا مع بيان حالها، ولم ينقل عن أحد التساهل فيها.
قال ابن الصلاح: "يجوز عند أهل الحديث وغيرهم التساهل في الأسانيد ورواية ما سوى الموضوع من أنواع الأحاديث الضعيفة من غير اهتمام ببيان ضعفها فيما سوى صفات الله عز وجل وأحكام الشريعة من الحلال والحرام وغيرهما وذلك كالمواعظ وقصص وفضائل الأعمال وسائر فنون الترغيب والترهيب وسائر ما لا تعلق له بالأحكام والعقائد"4.
ونحو ذلك قال النووي5 والعراقي6.
وإذا لم تكن في الأحكام والعقائد وكانت غير مسندة، فإنها لا تروى بصيغ الجزم، بل تروى بصيغ التمريض، لا سيما عند عدم بيان حالها.
قال ابن الصلاح: "إذا أردت رواية الحديث الضعيف بغير إسناد فلا تقل فيه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا، وما أشبه هذا من الألفاظ الجازمة بأنه صلى الله عليه وسلم قال ذلك، وإنما تقول فيه روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا، أو بلغنا عنه كذا وكذا، أو ورد عنه، أو جاء عنه، أو روى بعضهم، وما أشبه ذلك.
وهكذا الحكم فيما تشك في صحته وضعفه وإنما تقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما ظهر لك صحته"7.
لكن هذا الأمر لا يقال أعني نسبة الحديث الضعيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بصيغة التمريض إلا عند العلماء، أما عند طلاب العلم المبتدئين، أوفي المجالس العامة أو على
--------------------------------------------
"এবং বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে আমরা সনদসমূহের (الأسانيد) ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং বর্ণনাকারীদের (الرجال) ব্যাপারে সমালোচনা করি। আর যখন আমরা ফযীলত, সওয়াব এবং আযাব সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করি এবং বর্ণনাকারীদের (الرجال) ব্যাপারে নমনীয় হই।"1.
যাদের থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই সুফিয়ান (সুফিয়ান সাওরি ও সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না), ইবনে মাঈন এবং ইবনে মুবারক।2.
ইবনে আব্দুল বার বলেন: "ফযীলত বিষয়ক হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের এমন বর্ণনাকারীর প্রয়োজন হয় না যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণীয় (يحتج به) হয়।"3.
পক্ষান্তরে যদি তা বিধি-বিধান এবং আকিদাহ সংক্রান্ত হয়, তবে তা বর্ণনা করা যাবে না—এমনকি তা মুসনাদ (مسندة) হলেও—তার অবস্থা বর্ণনা করা ছাড়া। আর এ বিষয়ে কারো থেকেই শিথিলতা (التساهল) অবলম্বনের কথা বর্ণিত হয়নি।
ইবনে আল-সালাহ বলেন: "হাদিস বিশারদগণ এবং অন্যদের নিকট সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل) অবলম্বন করা এবং জাল (الموضوع) হাদিস ব্যতীত অন্যান্য প্রকারের দুর্বল (الضعيفة) হাদিসসমূহ বর্ণনা করা বৈধ; যদি তা আল্লাহ তাআলার গুণাবলি এবং শরিয়তের হালাল-হারাম সংক্রান্ত বিধি-বিধান ব্যতিরেকে অন্য বিষয়ে হয়—তার দুর্বলতা (ضعفها) বর্ণনা করার প্রতি গুরুত্বারোপ না করেই। যেমন: নসিহত, কিচ্ছা-কাহিনী, আমলের ফযীলত এবং উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب) সংক্রান্ত অন্যান্য সকল বিষয়াদি এবং যা বিধি-বিধান ও আকিদাহর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।"4.
অনুরূপ কথা ইমাম নববী5 এবং ইরাকিও6 বলেছেন।
আর যদি তা বিধি-বিধান ও আকিদাহ সংক্রান্ত না হয় এবং সনদবিহীন (غير مسندة) হয়, তবে তা নিশ্চয়সূচক শব্দের (بصيغ الجزم) মাধ্যমে বর্ণনা করা যাবে না; বরং সংশয়সূচক শব্দের (بصيغ التمريض) মাধ্যমে বর্ণনা করতে হবে, বিশেষ করে যখন এর অবস্থা স্পষ্ট করা না হয়।
ইবনে আল-সালাহ বলেন: "যখন তুমি কোনো দুর্বল (الضعيف) হাদিস সনদ (إسناد) ছাড়া বর্ণনা করতে চাইবে, তখন বলবে না যে: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন বলেছেন', বা এজাতীয় কোনো নিশ্চয়সূচক শব্দ (الألفاظ الجازمة) ব্যবহার করবে না যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিই তা বলেছেন। বরং তুমি বলবে: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে...', অথবা 'আমাদের কাছে পৌঁছেছে (بلغنا) যে...', অথবা 'উদ্ধৃত (ورد/جاء) হয়েছে যে...', অথবা 'তাদের কেউ বর্ণনা (روى) করেছেন যে...' এবং এজাতীয় শব্দ।
একই বিধান প্রযোজ্য হবে ঐ হাদিসের ক্ষেত্রে যার বিশুদ্ধতা (صحته) ও দুর্বলতা (ضعفه) নিয়ে তোমার সন্দেহ রয়েছে। তুমি কেবল তখনই 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন' বলবে যখন তোমার নিকট তার বিশুদ্ধতা (صحته) স্পষ্ট হবে।"7.
তবে এই বিষয়টি—অর্থাৎ দুর্বল (الضعيف) হাদিসকে সংশয়সূচক শব্দের (بصيغة التمريض) মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে নিসবত করা—কেবল আলেমদের নিকট প্রযোজ্য। কিন্তু ইলমে দ্বীনের প্রাথমিক শিক্ষার্থী অথবা সাধারণ মজলিসে বা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رؤوس المنابر، فلا ينبغي الإكتفاء بذلك، لأنهم إذا سمعوا التلفظ برسول الله صلى الله عليه وسلم ظنوا أنه حديث صحيح لجهلهم بقواعد علم الحديث وحصول هذا كثير مشاهد1.
ويؤيده قول علي- رضي الله عنه "حدثوا الناس بما يعرفون أتحبون أن يكذب الله ورسوله"2.
والأولى الإحتياط في ذلك كله، ما دام الحديث ضعيفاً فلا يروى أو ينقل إلا مقروناً ببيان حاله من غير تمييز بين ما كان في الأحكام والعقائد، وما كان في فضائل الأعمال.
ولهذا كان بعض الأئمة كابن خزيمة3 إذا روى حديثاً ضعيفاً بسنده قال: حدثنا فلان مع البراءة من عهدته، وربما قال هو والبيهقي "إن صح الخبر"4.
قال الشيخ أحمد شاكر رحمه الله: "والذي أراه أن بيان الضعف في الحديث الضعيف واجب على كل حال لأن ترك البيان يوهم المطلع عليه، أنه حديث صحيح، خصوصاً إذا كان الناقل من علماء الحديث الذي يرجع إلى قولهم في ذلك"5.
وقال الترمذي: "وقد روى غير واحد من الأئمة عن الضعفاء وبينوا أحوالهم"6
قال الشاطبي: "ولو كان من شأن أهل الإسلام الأخذ بكل ما جاء عن كل ما جاء لم يكن لانتصابهم للتعديل والتجريح معنى، مع أنهم قد أجمعوا على ذلك، ولا كان لطلب الإسناد معنى يتحصل"7.
القسم الثاني: ما اشتد ضعفه، على اختلاف أنواعه، بأن يكون لوضاع أم متروك أو ما أشبه ذلك.
وقد كثرت الأحاديث التي من هذا القبيل، وانتشرت في بطون الكتب، ككتب التفاسير والسير والترغيب والترهيب وغيرها.
وقد أوجدت لغايات مختلفة وأغراض متباينة، منها عدم الدين كما وقع من بعض الزنادقة، والعصبية المذهبية، والأحوال السياسية، والأغراب لقصد الإشتهار، والتقرب إلى
--------------------------------------------
মিম্বরসমূহের চূড়ায় (বক্তৃতার সময়); শুধু এতেই ক্ষান্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ, সাধারণ মানুষ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উচ্চারণ করতে শোনে, তখন হাদিস শাস্ত্রের নিয়মাবলী সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তারা মনে করে যে এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস; আর এমন ঘটনা সচরাচর প্রত্যক্ষ করা যায়১।
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি একে সমর্থন করে: "মানুষের কাছে তা-ই বর্ণনা করো যা তারা বুঝতে পারে। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?"২
আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করাই উত্তম। যতক্ষণ পর্যন্ত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) থাকবে, ততক্ষণ তার অবস্থা বর্ণনা করা ব্যতিরেকে তা বর্ণনা বা উদ্ধৃত করা উচিত নয়; চাই তা বিধি-বিধান ও আকিদা সংক্রান্ত হোক কিংবা আমলের ফজিলত সংক্রান্ত হোক—এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা চলবে না।
এই কারণেই ইবনে খুজাইমার৩ মতো কোনো কোনো ইমাম যখন তাঁদের সনদ (سند) সহকারে কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: "অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন", এর দায়ভার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে। কখনো কখনো তিনি এবং বায়হাকি বলতেন: "যদি বর্ণনাটি সহিহ (صحيح) হয়"৪।
শায়খ আহমাদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি মনে করি যে, দুর্বল (ضعيف) হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করা সর্বাবস্থায় ওয়াজিব। কারণ, এর বর্ণনা বর্জন করলে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারে এবং একে সহিহ (صحيح) হাদিস মনে করতে পারে; বিশেষ করে যদি বর্ণনাকারী হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত হন, যাদের কথা এ বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়"৫।
তিরমিজি বলেছেন: "একাধিক ইমাম দুর্বল বর্ণনাকারীগণ (ضعفاء) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের অবস্থা বর্ণনা করে দিয়েছেন"৬।
শাতাবি বলেছেন: "যদি ইসলামের অনুসারীদের রীতি এমন হতো যে, যার কাছ থেকে যা পাওয়া যায় তা-ই গ্রহণ করা হবে, তবে বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই ও ত্রুটি অন্বেষণ বা জারহ ও তাদিল (جرح وتعديل)-এর জন্য তাঁদের আত্মনিয়োগের কোনো অর্থ থাকতো না—অথচ তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এমনকি ইসনাদ (إسناد) বা সনদ তালাশ করারও কোনো কার্যকর অর্থ থাকতো না"৭।
দ্বিতীয় প্রকার: যার দুর্বলতা (ضعف) অত্যন্ত প্রবল, এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে; যেমন বর্ণনাকারী জালকারী (وضاع) হওয়া অথবা পরিত্যক্ত (متروك) হওয়া কিংবা এই জাতীয় কিছু।
এ জাতীয় হাদিসের সংখ্যা অনেক এবং এগুলো বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে আছে; যেমন তাফসির, সিরাত, তারগিব ও তারহিব এবং অন্যান্য বিষয়ের কিতাবসমূহ।
এগুলো বিভিন্ন লক্ষ্য ও ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যের কারণে তৈরি হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে দ্বীন-বিদ্বেষ—যেমনটি কিছু জিন্দিক বা ধর্মদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ঘটেছে, মাযহাবগত গোঁড়ামি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এবং প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে অদ্ভুত বর্ণনা (إغراب) নিয়ে আসা কিংবা নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الله بوضع الأحاديث بزعمهم، وما وضع للتكسب به كالقصاص، ومن ذلك أيضاً ما وقع خطأ من بعض المغفلين من الصوفية، وضعفاء الحفظ، ممن لا عناية لهم بالحديث.
وهذا الأمر مستمر متجدد في كل عصر، فيجب على علماء هذا الشأن بيان وجه الحق فيما ينسب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من الأحاديث لا سيما التي لم يسبق لها بيان، ويخشى من عدم ثبوتها.
فالأحاديث التي من هذا القبيل لا تجوز روايتها مسندة، أو غير مسندة، إلا على جمعة بيان حالها، لخطورة أمرها، لأن روايتها من غير بيان حالها تفصيلاً أو جملة، يؤدي إلى الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم نص على ذلك ابن الصلاح1 والنووي2 وابن حجر3 وغيرهم.
قال النووي4: "تحرم رواية الحديث الموضوع على من عرف كونه موضوعاً أو غلب على ظنه وضعه، فمن روى حديثاً علم أو ظن وضعه ولم يبين حال رواية وضعه فهو داخل في هذا الوعيد، مندرج في جملة الكاذبين على رسول الله صلى الله عليه وسلم ويدل عليه الحديث "من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين".
وقال: أنه لا فرق في تحريم الكذب عليه صلى الله عليه وسلم بين ما كان في الأحكام وما لا حكم فيه كالترغيب والترهيب والمواعظ وغير ذلك، فكله حرام من أكبر الكبائر وأقبح القبائح بإجماع المسلمين الذين يعتد بهم في الإجماع خلافاً للكراهية إلى أن قال وخالفوا صريح هذه الأحاديث المتواترة والأحاديث الصريحة المشهورة في إعظام شهادة الزور وخالفوا إجماع أهل الحل والعقد وغير ذلك من الدلائل القطعيات في تحريم الكذب على آحاد الناس فكيف بمن قوله شرع وكلامه وحي"!!
وإذا نظر إلى قولهم وجد كذباً على الله تعالى فإن الله تعالى قال: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} 5.
قال الشافعي: "إذا كان الحديث عندك كذباً فحدثت به فأنت أحد الكاذبين"6.
وقد تقدم بعض الأحاديث المحذرة من ذلك وبيان وعيده.
--------------------------------------------
তাদের দাবি অনুযায়ী জাল (موضوع) হাদিস তৈরির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে, অথবা জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে—যেমন কিচ্ছাকারকগণ করে থাকে। এর মধ্যে সেই ভুলগুলোও অন্তর্ভুক্ত যা সুফীদের কিছু অসতর্ক ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটেছে এবং যাদের মুখস্থশক্তি দুর্বল (ضعيف الحفظ) ও হাদিসশাস্ত্রের প্রতি যাদের কোনো বিশেষ মনোযোগ ছিল না।
এই বিষয়টি প্রতিটি যুগে অব্যাহত ও নতুন করে উদ্ভূত হয়। তাই এই শাস্ত্রের আলেমদের ওপর আবশ্যিক হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হাদিসসমূহের সত্যতা স্পষ্ট করা; বিশেষ করে সেই হাদিসগুলো যার স্বরূপ আগে বর্ণিত হয়নি এবং যার নির্ভরযোগ্যতা (ثبوت) না থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ধরণের হাদিসগুলো সনদযুক্ত (مسند) হোক বা সনদবিহীন হোক, তার অবস্থা বর্ণনা করা ছাড়া বর্ণনা করা বৈধ নয়। কারণ এর বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা বিস্তারিতভাবে বা সংক্ষেপে তার অবস্থা বর্ণনা করা ছাড়া তা বর্ণনা করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। ইবন আল-সালাহ, ইমাম নববী, ইবন হাজার এবং অন্যান্যগণ এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম নববী বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো হাদিস জাল (موضوع) হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত অথবা তার প্রবল ধারণা যে এটি জাল (موضوع), তার জন্য সেটি বর্ণনা করা হারাম। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো হাদিস বর্ণনা করল অথচ সে জানে বা তার ধারণা যে সেটি জাল (موضوع), এবং সে বর্ণনার সময় তার জাল (موضوع) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করল না, সে এই শাস্তির হুমকির অন্তর্ভুক্ত এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এর প্রমাণ হলো সেই হাদিস: 'যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন'।"
তিনি আরও বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচারের হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-বিধান এবং অন্যান্য বিষয় যেমন উৎসাহ প্রদান (ترغيب), ভীতি প্রদর্শন (ترهيب), উপদেশমালা (مواعظ) ইত্যাদির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজ। তিনি আরও বলেন: তারা এই প্রকাশ্য মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসসমূহ এবং মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে বর্ণিত প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসসমূহের বিরোধিতা করেছে। তারা সাধারণ মানুষের ওপর মিথ্যা বলা হারাম হওয়ার বিষয়ে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ এবং অন্যান্যদের অকাট্য দলীলসমূহের বিরোধিতা করেছে; তাহলে এমন সত্তার ওপর মিথ্যা বলা কেমন হবে যার কথা হলো শরিয়ত এবং যার বক্তব্য হলো ওহি!
তাদের কথার দিকে তাকালে আল্লাহর ওপর মিথ্যাচার পরিলক্ষিত হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি (রাসুল) নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।"
ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: "যদি তোমার নিকট কোনো হাদিস মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয় এবং তুমি তা বর্ণনা করো, তবে তুমিও মিথ্যাবাদীদের একজন।"
ইতিপূর্বে এই বিষয়ে সতর্ককারী কিছু হাদিস এবং এর শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا يجوز نشر الحديث التي من هذا القبيل وروايتها دون التثبت من صحتها، وأن من فعل ذلك فهو حسبه من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مشارك في الإثم لواضعه أو كاذبه، لأن من كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يشترط في حقه تعمد الكذب أو عدمه1 وقد تقدم سؤال الترمذي للدارمي عن حكم هذه المسألة 2.
دل على هذا الحديث ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أن الذي يكذب عليَّ يبنى له بيت في النار" أخرجه أحمد3 والشافعي4 والبزار5 والحاكم6 والبيهقي7 والخطيب8.
وصحح الحافظ مسند الإمام أحمد وذكر مرة أخرى بأنه من الأحاديث الصحيحة9 الواردة في هذا المقام.
وحدث عثمان بن عفان رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من قال عليَّ ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار".
أخرجه الطيالسي10 وأحمد11 والبزار12 والطحاوي13 والحاكم14 وصححه الحافظ ابن حجر15.
قلت: فيه عند هؤلاء عبد الرحمن بن أبي الزناد صدوق تغير حفظه لما قدم بغداد16 ولم يتبين لي هل رُوي عنه هذا الحديث قبل ذلك أم بعده. وتصحيح الحافظ له إما لعلمه بأن عبد الرحمن حفظه أو أن له متابعاً لم أقف عليه.
--------------------------------------------
এই ধরণের হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করা ব্যতীত তা প্রচার ও বর্ণনা করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারী হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য এটাই তার জন্য যথেষ্ট এবং সে এই হাদিসটি জালকারী (واضع) অথবা মিথ্যুক (كاذب)-এর পাপের অংশীদার হবে। কেননা, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের উদ্দেশ্য থাকা বা না থাকা শর্ত নয়১। এ মাসআলাটির বিধান সম্পর্কে তিরমিযীর দারিমীকে করা প্রশ্নটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে ২।
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি একথারই প্রমাণ দেয় যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।" এটি আহমদ৩, শাফেয়ি৪, বাযযার৫, হাকেম৬, বায়হাকি৭ এবং খাতিব৮ বর্ণনা করেছেন।
হাফেজ (ইবনে হাজার) মুসনাদে ইমাম আহমদ-এর হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি এ বিষয়ে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের৯ অন্তর্ভুক্ত।
উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
এটি তায়ালিসি১০, আহমদ১১, বাযযার১২, তহাবি১৩ এবং হাকেম১৪ বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার একে সহিহ (صحيح)১৫ বলেছেন।
আমি বলছি: এদের বর্ণনাসূত্রে আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ রয়েছেন, যিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে বাগদাদে আসার পর তার মুখস্থ শক্তিতে পরিবর্তন ঘটেছিল১৬। আমার কাছে এটি স্পষ্ট নয় যে, এই হাদিসটি তার নিকট থেকে সেই পরিবর্তনের আগে বর্ণিত হয়েছে নাকি পরে। আর হাফেজ কর্তৃক এটি সহিহ (صحيح) করার কারণ হতে পারে যে, হয় তিনি জানতেন আব্দুর রহমান এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেছেন অথবা এর কোনো সমর্থক বর্ণনা (متابع) রয়েছে যা আমি অবগত হতে পারিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وحديث واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: "إن من أفرى الفري من قولني ما لم أقل". أخرجه البخاري وقد تقدم.
ويؤدي مع ذلك إلى العمل عند جهلة الناس كما نسمع من بعض الناس في بعض الأحيان إذا سئلوا عن عمل استدلوا عليه بحديث، فإذا نظر ذلك الحديث وجد أنه من الموضوعات.
ولما سئل السيوطي رحمه الله عن حديث موضوع استغفر الله عز وجل قبل إيراده وبعد إيراده وقال: "علي ذلك ولولا الضرورة إلى حكايته لأجل بيان أنه كذب ما حكيته" ثم قال بعد بيان بطلانه: "لا تحل روايته ولا ذكره وخصوصاً بين العوام والسوقة والنساء"1.
وابن حجر لما أورد حديثاًُ لأبي الدرداء في فضل صيام أيام من رجب قال: "وهذا حديث موضوع ظاهر الوضع قبح الله من وضعه فوالله لقد قف شعري من قراءته في حال كتابته فقبح الله من وضعه، ما أجرأه على الله وعلى رسوله"2.
فظهر بهذا أنه لا تجوز رواية الأحاديث التي لا أصل لها إلا مقرونة ببيان حالها لئلا يغتر بها، ولأنه لو سكت عن ذلك مع العلم به لكان آثماً، وكان له نصيبه من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
قال مسلم- بعد بحث عن وجوب الكشف عن معائب رواة الحديث وذكر أقوال الأئمة في ذلك: "- إنما ألزموا أنفسهم الكشف عن معائب رواة الحديث، وناقلي الأخبار وأفتوا بذلك حين سئلوا لما فيه من عظيم الخطر إذ الأخبار في أمر الدين إنما تأتي بتحليل أو تحريم أو أمر أو نهي أو ترغيب أو ترهيب فإذا كان الراوي لها ليس بمعدن للصدق والأمانة ثم أقدم على الرواية عنه من قد عرفه ولم يبين ما فيه لغيره ممن جهل معرفته كان آثماً بفعله ذلك غاشاً لعوام المسلين إذ لا يؤمن على بعض من سمع تلك الأخبار أن يستعملها أو يستعمل بعضها ولعلها أو أكثرها أكاذيب لا أصل لها، مع أن الأخبار الصحاح من رواية الثقات وأهل القناعة أكثر من أن يضطر إلى نقل من ليس بثقة ولا مقنع"3.
قال أبو بكر بن خلاد: "قلت ليحيى بن سعيد آما تخشى أن يكون هؤلاء الذين تركت
--------------------------------------------
ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই চরম মিথ্যাগুলোর অন্যতম হলো আমার প্রতি এমন কিছু আরোপ করা যা আমি বলিনি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং ইতিপূর্বে তা অতিক্রান্ত হয়েছে।
উপরন্তু, এর ফলে মূর্খ লোকরা তদানুযায়ী আমল করতে শুরু করে; যেমনটি আমরা মাঝেমধ্যে কিছু মানুষের থেকে শুনে থাকি যে, যখন তাদের কোনো আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তারা তার সপক্ষে একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে। অথচ যখন সেই হাদিসটি পর্যালোচনা করা হয়, তখন দেখা যায় যে সেটি জাল (موضوعات) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ)-কে যখন একটি জাল (موضوع) হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি তা উল্লেখ করার আগে এবং পরে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি এর ওপর ক্ষমা চাচ্ছি; এটি যে মিথ্যা তা স্পষ্ট করার প্রয়োজন না হলে আমি এটি বর্ণনা করতাম না।" অতঃপর এর অসারতা বর্ণনা করার পর তিনি বলেন: "এটি বর্ণনা করা বা উল্লেখ করা বৈধ নয়, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ, বাজারী লোক এবং নারীদের মাঝে।"1.
ইবনে হাজার যখন রজব মাসের কতিপয় দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন: "এটি একটি জাল (موضوع) হাদিস এবং এর জাল হওয়া (الوضع) সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন যে এটি জাল করেছে! আল্লাহর কসম, লেখার সময় এটি পড়ার কারণে আমার গায়ের পশম শিউরে উঠেছে। আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন যে এটি জাল করেছে; সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর মিথ্যাচার করতে কতই না দুঃসাহসী!"2.
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, ভিত্তিহীন (لا أصل لها) হাদিসগুলো বর্ণনা করা বৈধ নয়—যদি না সেগুলোর অবস্থা বর্ণনার সাথে যুক্ত থাকে, যাতে কেউ ধোঁকায় না পড়ে। কারণ, জানা থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে নীরব থাকলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যাচারের দায়ভার তাকেও বহন করতে হবে।
ইমাম মুসলিম হাদিস বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচন করার আবশ্যকতা নিয়ে আলোচনার পর এবং এ বিষয়ে ইমামদের বাণী উল্লেখ করে বলেন: "তাঁরা হাদিস বর্ণনাকারী এবং সংবাদ বাহকদের ত্রুটিসমূহ উন্মোচনের বিষয়টি নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছেন এবং যখন এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তখন তাঁরা এ মর্মে ফতোয়া প্রদান করেছেন। কারণ এতে রয়েছে মহান ঝুঁকি। কেননা দ্বীনি বিষয়ের সংবাদগুলো হালাল, হারাম, আদেশ, নিষেধ, উৎসাহ প্রদান বা ভীতি প্রদর্শনের বার্তা নিয়ে আসে। সুতরাং বর্ণনাকারী যদি সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার আধার না হয়, আর যে ব্যক্তি তার অবস্থা জানে সে যদি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করে এবং যার জানা নেই তার কাছে তার অবস্থা বর্ণনা না করে, তবে সে তার এই কাজের জন্য গুনাহগার হবে এবং সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হবে। কেননা যারা সেই সংবাদগুলো শুনবে তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তার ওপর আমল করবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, অথচ সেগুলোর হয়তো অধিকাংশ বা সবই ভিত্তিহীন (لا أصل لها) মিথ্যাচার। অথচ নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণিত সহিহ (الصحاح) বর্ণনাগুলো এত অধিক যে, কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বা গ্রহণযোগ্য নয় এমন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়ে না।"3.
আবু বকর ইবনে খাল্লাদ বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বললাম, আপনি কি এই ভয় করেন না যে, যাদের আপনি বর্জন করেছেন তারা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حديثهم خصماك عند الله يوم القيامة؟ فقال: لأن يكون هؤلاء خصمائي أحب إلي من أن يكون خصمي رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لم حدثت عني حديثاً ترى أنه كذب"1.
وقال يحيى بن سعيد: "سألت شعبة وسفيان بن سعيد وسفيان بن عيينة ومالك بن أنس عن الرجل لا يحفظ أو يتهم في الحديث فقالوا جميعاً: بين أمره"2.
وقال عبد الرحمن بن مهدي: "مررت مع سفيان الثوري برجل فقال: كذاب والله! لولا أنه لا يحل لي أن أسكت لسكت"3.
وقال الشافعي: "إذا علم الرجل من محدث الكذب لم يسعه السكوت عليه، ولا يكون ذلك غيبة فإن مثل العلماء كالنقاد، فلا يسع الناقد في دينه أن لا يبين الزيوف من غيرها4.
وقال محمد بن بندار بن السباك الجرجاني: "قلت لأحمد بن حنبل يا أبا عبد الله إنه ليشتد علي أن أقول فلان كذاب فلان ضعيف، فقال لي: إذا سكت أنت وسكت أنا فمتى يعرف الجاهل الصحيح من السقيم"5.
ويجاب عن ما وجد في كتب بعض الأئمة العارفين بالحديث كالحافظ أبي نعيم الأصبهاني بأنهم نقلوا ما وجدوا كما هو من غير بيان حاله، لأنهم جعلوا العهدة على قائله.
قال ابن تيمية: "وقد روى أبو نعيم في أول الحلية في فضائل الصحابة وفي كتاب مناقب أبي بكر وعمر وعثمان وعلي أحاديث بعضها صحيحة وبعضها ضعيفة بل منكرة، وكان رجلاً عالماً بالحديث فيما ينقله لكن هو وأمثاله يروون ما في الباب لا يعرف أنه روي، كالمغسي الذي ينقل أقوال الناس في التفسير، والفقيه الذي يذكر الأقوال في الفقه، والمصنف الذي يذكر حجج الناس ليذكر ما ذكروه وإن كان كثير من ذلك لا يعتقد صحته بل يعتقد ضعفه لأنه يقول أنا نقلت ما ذكر غيري فالعهدة على القائل لا على الناقل"6.
والأحاديث الموضوعة أو الساقطة كثيرة نذكر قولاً لحماد بن زيد يوضح شيئاً من ذلك أخرج العقيلي بسنده عن حماد بن زيد قال: "وضعت الزنادقة على رسول الله صلى الله عليه وسلم اثني عشر ألف حديث"7.
--------------------------------------------
তাদের হাদিস কি কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হবে? তিনি বললেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বিপক্ষে অভিযোগকারী হয়ে এ কথা বলার চেয়ে—যে কেন তুমি আমার নামে এমন হাদিস বর্ণনা করলে যা তুমি মিথ্যা (كذب) মনে করতে—এরা আমার বিপক্ষে অভিযোগকারী হওয়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।"1.
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন: "আমি শু'বা, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এবং মালিক ইবনে আনাসকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার হেফজ বা স্মৃতিশক্তি ভালো নয় (لا يحفظ) অথবা যে হাদিসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (يتهم), তাঁরা সকলেই বললেন: তার অবস্থা বর্ণনা করে দাও।"2.
আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: "আমি সুফিয়ান সাওরির সাথে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)! যদি চুপ থাকা আমার জন্য বৈধ না হতো, তবে আমি অবশ্যই চুপ থাকতাম।"3.
ইমাম শাফিঈ বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে মিথ্যা (كذب) সম্পর্কে জানতে পারে, তখন তার জন্য এ বিষয়ে চুপ থাকা সমীচীন নয়। এটি গীবত (পরনিন্দা) হবে না; কারণ আলেমগণের দৃষ্টান্ত হলো মুদ্রাপরীক্ষকদের মতো। সুতরাং একজন ধর্মীয় মুদ্রাপরীক্ষকের পক্ষে অচল মুদ্রাকে (زيوف) সচল থেকে আলাদা না করে থাকা সম্ভব নয়।"4.
মুহাম্মদ ইবনে বুন্দার ইবনে সাব্বাক আল-জুরজানি বলেন: "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললাম, হে আবু আব্দুল্লাহ! অমুক চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), অমুক দুর্বল (ضعيف)—এ কথা বলা আমার কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি যদি চুপ থাকেন এবং আমিও চুপ থাকি, তবে মূর্খ ব্যক্তি কীভাবে সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণের (سقيم) মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে?"5.
হাদিসশাস্ত্রে অভিজ্ঞ কিছু ইমাম যেমন হাফেজ আবু নুআইম আল-আসফাহানির গ্রন্থে যা পাওয়া যায় সে সম্পর্কে উত্তর হলো—তাঁরা যা পেয়েছেন তা-ই কোনো অবস্থা বর্ণনা করা ছাড়াই নকল করেছেন; কারণ তাঁরা এর দায়ভার (عهدة) বর্ণনাকারীর ওপর অর্পণ করেছেন।
ইবনে তাইমিয়া বলেন: "আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া'র শুরুতে সাহাবায়ে কেরামের ফযিলত অধ্যায়ে এবং আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর মর্যাদা বিষয়ক গ্রন্থে এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যার কিছু সহিহ (صحيحة), কিছু দুর্বল (ضعيفة), এমনকি কিছু প্রত্যাখ্যাত (منكرة)। তিনি যা বর্ণনা করেন সে বিষয়ে একজন হাদিস বিশেষজ্ঞ আলেম ছিলেন, কিন্তু তিনি এবং তাঁর সমসাময়িকগণ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে যা বর্ণিত হয়েছে তাই বর্ণনা করেন যাতে জানা যায় যে এটি বর্ণিত হয়েছে। যেমন মুফাসসির যিনি তাফসির বিষয়ে মানুষের বক্তব্য বর্ণনা করেন, ফকিহ যিনি ফিকহ শাস্ত্রের মতামতগুলো উল্লেখ করেন এবং সংকলক যিনি মানুষের দলিলসমূহ উল্লেখ করেন যাতে তাঁরা যা বলেছেন তা বর্ণনা করা যায়; যদিও এর অনেকগুলোর বিশুদ্ধতায় (صحة) তিনি বিশ্বাস করেন না বরং সেগুলোকে দুর্বল (ضعف) মনে করেন। কেননা তিনি বলেন, আমি কেবল অন্যের বর্ণিত বিষয় নকল করেছি, সুতরাং দায়ভার (عهدة) প্রবক্তার ওপর, বর্ণনাকারীর ওপর নয়।"6.
জাল (موضوعة) কিংবা পরিত্যক্ত (ساقطة) হাদিসের সংখ্যা অনেক। আমরা এখানে হাম্মাদ ইবনে যাইদের একটি উক্তি উল্লেখ করছি যা বিষয়টি স্পষ্ট করে। উকাইলি তাঁর সনদে হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ধর্মদ্রোহীরা (زنادقة) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে বারো হাজার হাদিস জাল করেছে (وضعت)।"7.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الباب الخامس: أضرار رواية الأحاديث شديدة الضعف…أضرار رواية الأحاديث شديدة الضعف
الأحاديث شديدة الضعف لا تنفك عن أضرار جسيمة منها:
أ- الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم كما تقدم بيانه.
ب- العمل بها وذلك يؤدي إلى زيادة في الدين لا أصل لها.
ج- تفضي إلى الإبتداع في الدين، لأن معظم البدعة قدم أمرها، أم حدث مستندها حديث لا أصل له1
د- ما توجده من الشقاق والخلاف بين صفوف المسلمين، وهي لا أصل لها.
هـ- تحليل بعض المحرمات، أو تحريم بعض الحلال.
و الخوض في شأن بعض الصحابة الذين قال فيهم الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا تسبوا أصحابي، فلو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهباً، ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه"2.
ز- مدح بعض المهن والبلاد أو ذمها.
ح- تضارب الأحاديث في مدح أو ذم بعض الصحابة، مما يؤدي إلى التناقض الذي قد ينسب إلى السنة، والسنة منه براء.
ط- انشغال الناس بها عن أمور دينهم، الثابتة بالأدلة الصحيحة.
ى- ما تحدثه من بعض التكاليف، التي لا أصل لها، حتى يتصور أن دين الإسلام شاق وصعب.
ك- أنه يفتح ثغرة لأعداء الإسلام لنيل منه باستغلال تلك الأحاديث لخدمة أغراضهم الدنيئة، ولتشويش أذهان بعض المسلمين.
الجواب عن رواية بعض كبار الأئمة عن الضعفاء:
قال الإمام النووي في شرح مسلم3: "قد يقال لم حدَّث هؤلاء الأئمة عن هؤلاء مع علمهم بأنهم لا يُحتج بهم؟ ويجاب عنه بأجوبة:
أحدها: أنهم رووها ليعرفوها، وليبينوا ضعفها لئلا يلتبس في وقت عليهم، أو على غيرهم، أو يتشككوا في صحتها.
الثاني: أن الضعيف يكتب حديثه ليعتبر به أو يستشهد، ولا يحتج به على إنفراده.
الثالث: رواية الراوي الضعيف يكون فيها الصحيح والضعيف والباطل، فيكتبونها
--------------------------------------------
পঞ্চম অধ্যায়: অত্যধিক দুর্বল (شديد الضعف) হাদিস বর্ণনা করার অপকারিতা…অত্যধিক দুর্বল (شديد الضعফ) হাদিস বর্ণনা করার অপকারিতা
অত্যধিক দুর্বল (شديد الضعف) হাদিসগুলো গুরুতর অপকারিতা থেকে মুক্ত নয়, যার মধ্যে রয়েছে:
ক- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করা, যেমনটি পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে।
খ- সেগুলোর ওপর আমল করা, আর এটি দ্বীনের মধ্যে এমন বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায় যার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
গ- এটি দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবন বা বিদআতের (بدعة) দিকে ধাবিত করে। কারণ অধিকাংশ বিদআতের বিষয়বস্তু অনেক পুরোনো, অথবা সেগুলোর ভিত্তি হিসেবে এমন হাদিস উপস্থাপন করা হয় যার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই১।
ঘ- এটি মুসলিমদের কাতারগুলোর মধ্যে যে বিভেদ ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে, অথচ সেগুলোর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
ঙ- কিছু হারামকে হালাল করা অথবা কিছু হালালকে হারাম করা।
চ- কিছু সাহাবীর মর্যাদা নিয়ে অহেতুক আলোচনায় লিপ্ত হওয়া, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করে, তবুও তাদের একজনের এক 'মুদ' (এক আজলা) বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবের সমতুল্য হবে না"২।
ছ- নির্দিষ্ট কিছু পেশা বা জনপদের প্রশংসা কিংবা নিন্দা করা।
জ- কিছু সাহাবীর প্রশংসা বা নিন্দা বিষয়ে হাদিসগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ তৈরি হওয়া, যা এমন বৈপরীত্যের দিকে নিয়ে যায় যা সুন্নাহর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করা হতে পারে; অথচ সুন্নাহ তা থেকে মুক্ত।
ঝ- বিশুদ্ধ (صحيح) দলিল দ্বারা প্রমাণিত দ্বীনি বিষয়গুলো ছেড়ে মানুষকে এই সব ভিত্তিহীন বিষয়ে ব্যস্ত রাখা।
ঞ- দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু কষ্টসাধ্য বিষয় তৈরি করা যার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই, এমনকি শেষ পর্যন্ত এমন ধারণা তৈরি হওয়া যে ইসলাম ধর্ম অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য।
ট- এটি ইসলামের শত্রুদের জন্য আঘাত করার একটি সুযোগ করে দেয়। তারা এই হাদিসগুলোকে তাদের হীন উদ্দেশ্য সাধনে এবং কিছু মুসলিমের মনে সংশয় তৈরির কাজে ব্যবহার করে।
কতিপয় বড় ইমাম কেন দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন তার উত্তর:
ইমাম নববী শরহে মুসলিমে৩ বলেছেন: "বলা হয়ে থাকে যে, এই ইমামগণ কেন তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন অথচ তারা জানতেন যে তাদের মাধ্যমে দলিল পেশ (احتجاج) করা যায় না? এর উত্তরে কয়েকটি জবাব দেওয়া হয়েছে:
প্রথমত: তারা এগুলো বর্ণনা করেছেন যাতে সেগুলো চিনতে পারেন এবং তাদের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করতে পারেন, যাতে কোনো এক সময় তাদের কাছে বা অন্যদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট না থাকে অথবা সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে তারা সংশয়ে না পড়েন।
দ্বিতীয়ত: দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর হাদিস লিখে রাখা হয় যাতে তা সমর্থক হিসেবে বিবেচনা (اعتبار) করা যায় অথবা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ (استشهاد) করা যায়; কিন্তু এককভাবে তা দিয়ে দলিল পেশ (احتجاج) করা হয় না।
তৃতীয়ত: দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح), দুর্বল (ضعيف) এবং বাতিল (باطل) সব ধরনের বর্ণনা থাকে। তাই তারা সেগুলো লিখে রাখতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثم يميز أهل الحديث والإتقان بعض ذلك من بعض وذلك سهل عليهم، معروف عندهم. وبهذا احتج سفيان رحمه الله، حين نهى عن الرواية عن الكلبي، فقيل له: أنت تروي عنه.! فقال:"أنا أعلم صدقه من كذبه".
الرابع: أنهم قد يروون عنهم أحاديث الترغيب والترهيب، وفضائل الأعمال، والقصص، وأحاديث الزهد، ومكارم الأخلاق، ونحو ذلك مما لا يتعلق بالحلال والحرام، وسائر الأحكام.
وهذا الضرب من الحديث يجوز عند أهل الحديث وغيرهم التساهل فيه، ورواية ما سوى الموضوع منه، والعمل به1 لأن أصول ذلك صحيحة مقررة في الشرع، معروفة عند أهله.
وعلى كل حال فإن الأئمة لا يروون عن الضعفاء شيئاً يحتجون به على انفراده في الأحكام، فإن هذا الشيء لا يفعله إمام من أئمة المحدثين، ولا محقق من غيرهم من العلماء وأما فِعْلُ كثيرين من الفقهاء، أو أكثرهِم، ذلك، وِاعتمادهم عليه، فليس بصواب! بل قبيح جداًَ! وذلك لأنه إن كان يعرف ضعْفه لم يحلّ له أن يحتجّ به فإنهم متفقون على أنه لا يحتج بالضعيف في الأحكام، وإنْ كان لا يعرف ضعفه، لم يحل له أن يهجم على الإحتجاج به من غير بحث عليه بالتفتيش عنه إن كان عارفاً، أو بسؤال أهل العلم به إن لم يكن عارفاً" انتهى.
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: "قد يكون الرجل عندهم ضعيفاً لكثرة الغلط في حديثه، ويكون حديثه الغالب عليه الصحة، فيروون عنه لأجل الإعتبار به، والإعتضاد به، فإن تعدد الطرق وكثرتها يقوي بعضها بعضاً، حتى قد يحصل العلم بها، ولو كان الناقلون فجاراً وفساقاً، فكيف إذا كانوا علماء عدولاً، ولكن كثر في حديثهم الغلط؟ ومثل هذا عبد الله بن لهيعة، فإنه من أكابر علماء المسلمين، وكان قاضياً بمصر، كثير الحديث، لكن احترقت كتبه فصار يحدث من حفظه فوقع في حديثه غلط كثير، مع أن الغالب على حديثه الصحة. قال أحمد: قد أكتب حديث الرجل للإعتبار به، مثل ابن لهيعة، وأما من عرف منه أنه يتعمد الكذب فمنهم من لا يروي عن هذا شيئاً. وهذه طريقة أحمد بن حنبل وغيره، لم يرو في مسنده عمن يعرف أنه يتعمد الكذب، لكن يروي عمن عرف منه الغلط للإعتبار به، والإعتضاد. ومن العلماء من كان يسمع حديث من يكذب
--------------------------------------------
অতঃপর হাদিস বিশেষজ্ঞ ও নিপুণ পারদর্শীগণ এগুলোর একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করেন এবং এটি তাঁদের নিকট সহজ ও সুপরিচিত। এর মাধ্যমেই সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) দলিল পেশ করেছেন, যখন তিনি কালবী থেকে বর্ণনা (رواية) করতে নিষেধ করেছিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো: "আপনি তো তাঁর থেকে বর্ণনা করেন!" তিনি বললেন: "আমি তাঁর সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য জানি।"
চতুর্থত: তাঁরা হয়তো তাঁদের থেকে উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب) সংক্রান্ত হাদিস, আমলের ফজিলত, কিসসা-কাহিনী, দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) এবং উন্নত চরিত্র সম্পর্কিত এমন সব বিষয় বর্ণনা করেন যা হালাল-হারাম এবং অন্যান্য বিধানের (الأحكام) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।
হাদিসের এই প্রকারটির ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণ ও অন্যদের নিকট শিথিলতা প্রদর্শন করা, জাল (الموضوع) হাদিস ব্যতীত অন্যগুলো বর্ণনা করা এবং তার ওপর আমল করা বৈধ; কারণ এর মূলনীতিগুলো শরিয়তে সঠিক (صحيحة) ও সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট তা সুবিদিত।
যা-ই হোক না কেন, ইমামগণ দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন না যা দিয়ে তাঁরা বিধানের ক্ষেত্রে এককভাবে দলিল পেশ করবেন। কারণ মুহাদ্দিসগণের ইমামদের কেউ অথবা গবেষক আলেমদের কেউ এমনটি করেন না। তবে অনেক ফকিহ বা তাঁদের অধিকাংশের এমনটি করা এবং এর ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়! বরং এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ! কারণ, তিনি যদি বর্ণনাকারীর দুর্বলতা (ضعفه) সম্পর্কে অবগত থাকেন তবে তাঁর জন্য তা দিয়ে দলিল পেশ করা বৈধ নয়; কারণ তাঁরা এই বিষয়ে একমত যে বিধানের ক্ষেত্রে দুর্বল (الضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না। আর যদি তিনি তার দুর্বলতা সম্পর্কে না জানেন, তবে তাঁর জন্য অনুসন্ধান ছাড়াই দলিল পেশে প্রবৃত্ত হওয়া বৈধ নয়—যদি তিনি পারদর্শী হন তবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে, আর যদি পারদর্শী না হন তবে এ বিষয়ের জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসার মাধ্যমে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি তাঁদের নিকট তাঁর বর্ণিত হাদিসে অত্যধিক ভুলের কারণে দুর্বল (ضعيفاً) হতে পারেন, অথচ তাঁর বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসই সঠিক (الصحة)। তাই তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেন তুলনামূলক বিশ্লেষণের (الإعتبار) জন্য এবং সমর্থক (الإعتضাদ) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য। কারণ সুত্র বা পথের বহুত্ব একে অপরকে শক্তিশালী করে, এমনকি এর মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞানও অর্জিত হতে পারে—যদিও বর্ণনাকারীগণ পাপাচারী (فجار) বা ফাসেক (فساق) হয়। তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে যখন তাঁরা ন্যায়পরায়ণ আলেম (علماء عدولاً) হন কিন্তু তাঁদের বর্ণিত হাদিসে ভুলের পরিমাণ বেশি? এর উদাহরণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ। তিনি মুসলিমদের বড় আলেমদের একজন ছিলেন এবং মিসরের বিচারক ছিলেন। তিনি প্রচুর হাদিস জানতেন, কিন্তু তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ায় তিনি স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করেন; ফলে তাঁর বর্ণিত হাদিসে অনেক ভুল প্রকাশ পায়, যদিও তাঁর অধিকাংশ হাদিসই সঠিক (الصحة)। ইমাম আহমাদ বলেন: আমি কোনো ব্যক্তির হাদিস তুলনামূলক বিশ্লেষণের (الإعتبار) জন্য লিখে রাখি, যেমন ইবনে লাহিয়াহ। তবে যার সম্পর্কে জানা যায় যে সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা (الكذب) বলে, তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁর থেকে কিছুই বর্ণনা করেন না। আর এটিই হলো আহমাদ ইবনে হাম্বল ও অন্যদের পদ্ধতি। তিনি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এমন কারও থেকে বর্ণনা করেননি যার সম্পর্কে জানা আছে যে সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা (الكذب) বলে। তবে তিনি এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যার ভুল করার বিষয়টি জানা ছিল, যাতে তা তুলনামূলক বিশ্লেষণ (الإعتبار) ও সমর্থক (الإعتضাদ) হিসেবে গণ্য হয়। আলেমদের মধ্যে এমন কেউ কেউ ছিলেন যারা মিথ্যাবাদীর (من يكذب) হাদিসও শুনতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ويقول: إنه يميز بين ما يكذبه وبين مالا يكذبه، ويذكر عن الثوري أنه كان يأخذ عن الكلبي، وينهى عن الأخذ عنه، ويذكر أنه يعرف. ومثل هذا قد يقع لمن كان خبيراًَ بشخص، إذا حدثه بأشياء يميز بين ما صدق فيه، وما كذب فيه، بقرائن لا يمكن ضبطها. وخبر الواحد قد يقترن به قرائن تدل على أنه صدق، أو تقترن به القرائن تدل على أنه كذب"1 انتهى.
وروى الإمام ابن عبد البر2 في (جامع بيان العلم وفضله) في باب الرخصة في كتابة العلم، عن سفيان الثوري أنه قال: "إني أحب أن أكتب الحديث على ثلاثة أوجه، حديث أكتبه أريد أن أتخذه ديناًَ، وحديث رجل أكتبه فأوقفه لا أطرحه ولا أدين به، وحديث رجل ضعيف أحب أن أعرفه ولا أعبأ به. وقال الأوزاعي: تعلم ما لا يؤخذ به، كما تتعلم ما يؤخذ به"3.
--------------------------------------------
তিনি বলেন: তিনি যা মিথ্যা এবং যা মিথ্যা নয় তার মধ্যে পার্থক্য করেন। আর সাওরীর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি কালবীর নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ করতেন অথচ অন্যের জন্য তা গ্রহণ করতে নিষেধ করতেন এবং উল্লেখ করতেন যে তিনি তা চিনতে পারেন। আর এই ধরনের ঘটনা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে যিনি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ; যখন তিনি তার নিকট এমন বিষয় বর্ণনা করেন যার সত্য ও মিথ্যার মাঝে তিনি এমন সব আলামতের ভিত্তিতে পার্থক্য করতে সক্ষম হন যা সুনির্দিষ্ট নিয়মে ধরা সম্ভব নয়। একক বর্ণনার (خبر الواحد) সাথেও এমন সব আলামত যুক্ত হতে পারে যা তার সত্যতা নির্দেশ করে, অথবা এমন আলামত যুক্ত হতে পারে যা তার মিথ্যা হওয়া নির্দেশ করে।১ সমাপ্ত।
এবং ইমাম ইবনে আব্দুল বার২ (জামে বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি) গ্রন্থে 'জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার অনুমতি' সংক্রান্ত অধ্যায়ে সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি তিন প্রকারে হাদিস লিখে রাখতে পছন্দ করি; এমন হাদিস যা আমি লিপিবদ্ধ করি এবং তা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার ইচ্ছা রাখি, এমন ব্যক্তির হাদিস যা আমি লিখে রাখি কিন্তু তা স্থগিত রাখি—আমি তা বর্জনও করি না আবার তা দ্বীন হিসেবে গ্রহণও করি না, এবং এমন দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির হাদিস যা আমি কেবল জানার জন্য পছন্দ করি কিন্তু সেটির ওপর গুরুত্ব দিই না। আর আওযায়ী বলেন: যা গ্রহণ করা হয় না তা-ও শেখো, ঠিক যেমনটি শেখো যা গ্রহণ করা হয়।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الباب السادس: العمل بالحديث الضعيف…الباب الخامس العمل بالحديث الضعيف
العمل الذي ندين الله به من فعل أو كف لا يكون إلا بدليل من كتاب الله أو مما صح من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن الأخبار المقبولة أربعة أقسام:
الأول: متواتر لفظاً ومعنى.
والثاني: أخبار متواترة معنى، وإن لم تتواتر لفظاً.
والثالث: أخبار مستفيضة متلقاة بالقبول بين الأمة.
والرابع: أخبار أحاد مروية بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط عن مثله، حتى تنتهي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وما عدا ذلك فهو الحديث الضعيف وتتفاوت درجته في الضعف بحسب بعده عن شروط الصحة، وله أحوال:
إما أن تتعدد طرقه وفيها طريقان فأكثر صالحة للإعتبار فيعضد بعضها البعض الآخر فيصبح حسناً لغيره، ويكون من أقسام الحديث المقبول المعمول به.
ষষ্ঠ অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা…পঞ্চম অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা
আমল—যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ইবাদত করি, চাই তা কোনো কাজ সম্পাদন করা হোক বা বর্জন করা—তা অবশ্যই আল্লাহর কিতাব অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সহিহ (صحيح) দলিলের ভিত্তিতে হতে হবে। কারণ গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাগুলো চার প্রকার:
প্রথমত: শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে মুতাওয়াতির (متواتر)।
দ্বিতীয়ত: অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনা, যদিও তা শব্দগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) নয়।
তৃতীয়ত: মুস্তাফিদ (مستفيض) বর্ণনা, যা উম্মতের নিকট সর্বজনগৃহীত।
চতুর্থত: আহাদ (آحاد) বর্ণনা, যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) রাবী কর্তৃক তাঁর সমগোত্রীয় ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) রাবীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এগুলো ছাড়া বাকি সব হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিস। সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি থেকে দূরত্বের ভিত্তিতে এর দুর্বলতার স্তরে তারতম্য হয়ে থাকে। এর কয়েকটি অবস্থা রয়েছে:
হয়তো এর সূত্র একাধিক হবে এবং সেখানে দুই বা ততোধিক এমন সূত্র থাকবে যা বিবেচনার যোগ্য (صالح للاعتبار), ফলে একটি সূত্র অন্যটিকে শক্তিশালী করবে। এমতাবস্থায় তা হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) স্তরে উন্নীত হয় এবং এটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও আমলযোগ্য হাদিসের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাহক্বীকুল ক্বাউলি বিল আমালি বিল হাদীসিল যয়ীফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإما أن تتعدد طرقه وكلها غير صالحة للإعتبار على تفاوت مراتب ضعفه كأن يكون موضوعاً وهو الذي في إسناده كذاب أو وضاع - وهو أشر أنواع الضعيف- أو أخف من سابقه قليلاً وهو الذي اشتد ضعفه بأن يكون في إسناده متهم أو مجمع على تركه، أو ذاهب الحديث، أو هالك، أو منكر الحديث، أو ليس بشيء أو ضعيف جداً، فهذا لا يلتفت إليه، مهما تعددت طرقه، ما دامت بهذه الصفة إلا على قول أنه بتعدد طرقه تخف شدة ضعفه1 بحيث تكون بمجموعها بمثابة طريق واحد صالح للمتابعة فهذا يكون العمل به كلاحقه.
وإما أن لا تتعدد طرقه بأن لا يكون له إلا طريق واحد صالح للإعتبار، أو تتعدد وهي كلها واهية سوى طريقاً واحداً صالحاً للمتابعة، فهذا إما أن تتلقاه الأمة بالقبول، فيعمل به على الصحيح، كما قال الشافعي: حديث "لا وصية لوارث" أنه لا يثبته أهل الحديث ولكن العامة تلقته بالقبول وعملوا به حتى جعلوه ناسخاً لآية الوصية له 2.
قلت: هذا إذا كان الحديث ضعيفاً، أما هذا الحديث فصحيح3.
وإما أن لا تتلقاه بالقبول فهذا يتوقف فيه، لأنه لا عاضد له من متابع وشاهد فيقبل ولم يشتد ضعفه فيرد من أجل ذلك4.
وهذا القسم اختلف العلماء في العمل به على أقوال ثلاثة5:
الأول: لا يعمل به مطلقاً، لا في الأحكام، ولا في الفضائل، حكاه ابن سيد الناس6 عن يحيى ابن معين ونسب إلى أبي بكر بن العربي7.
والظاهر أنه مذهب البخاري ومسلم، أخذ ذلك من شروط البخاري في صحيحه وتشنيع الإمام مسلم على رواة الضعيف وعدم إخراجها في صحيحهما شيئاً منه ذكره القاسمي8.
وذهب ابن حزم إلى هذا قال: "ما نقله أهل المشرق والمغرب، أو كافة عن كافة، أو ثقة عن ثقة، حتى يبلغ إلى النبي صلى الله عليه وسلم إلا أن في الطريق رجلاً مجروحاً: بكذب أو غفلة أو
--------------------------------------------
অথবা এর একাধিক সনদ (طرق) থাকতে পারে, কিন্তু সেগুলোর দুর্বলতার (ضعف) স্তরে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তার সবগুলোই বিবেচনার অযোগ্য (غير صالحة للإعتبار)। যেমন হাদিসটি জাল (موضوع) হওয়া—আর এটি এমন হাদিস যার সনদে (إسناد) চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) বা জালকারী (وضاع) থাকে, যা দুর্বল (ضعيف) হাদিসের নিকৃষ্টতম প্রকার। অথবা পূর্বের চেয়ে কিছুটা হালকা হতে পারে, যা হলো যার দুর্বলতা অত্যন্ত প্রবল (اشتد ضعفه); যেমন যার সনদে (إسناد) অভিযুক্ত (متهم), অথবা যার পরিত্যক্ত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (مجمع على تركه) রয়েছে, অথবা হাদিস বর্ণনায় অযোগ্য (ذاهب الحديث), অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك), অথবা অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث), অথবা হাদিস বর্ণনায় যার কোনো অবস্থান নেই (ليس بشيء), অথবা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) কেউ বিদ্যমান থাকে। সুতরাং এমন হাদিসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা যাবে না, এর সনদ যত বেশিই হোক না কেন, যতক্ষণ তা এই অবস্থায় থাকে। তবে একটি মতানুসারে, এর বিভিন্ন সনদ থাকার কারণে এর চরম দুর্বলতা কিছুটা লাঘব হয়, ফলে সনদগুলো সম্মিলিতভাবে এমন একটি একক সনদের স্তরে পৌঁছে যা সমর্থক হিসেবে (للمتابعة) বিবেচনার যোগ্য হয়। এক্ষেত্রে এর ওপর আমল করা পরবর্তী প্রকারের হাদিসের মতোই হবে।
অথবা এর একাধিক সনদ না থাকা, অর্থাৎ বিবেচনার যোগ্য (صالح للإعتبار) কেবল একটি মাত্র সনদ থাকা; অথবা অনেক সনদ থাকা সত্ত্বেও একটি মাত্র সমর্থকযোগ্য (صالح للمتابعة) সনদ ছাড়া বাকি সবগুলোই অন্তঃসারশূন্য (واهية)। এমতাবস্থায়, উম্মাহ যদি এটি গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করে নেয় (تلقته الأمة بالقبول), তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে এর ওপর আমল করা হবে। যেমন ইমাম শাফেয়ী বলেন: "উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই" শীর্ষক হাদিসটিকে হাদিস বিশারদগণ সাব্যস্ত করেন না, কিন্তু সাধারণ উম্মাহ একে গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করে নিয়েছেন এবং এর ওপর আমল করেছেন, এমনকি একে অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াতের রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য করেছেন।
আমি (লেখক) বলছি: এটি তখনই যখন হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হয়; কিন্তু এই হাদিসটি তো সহিহ।
আর যদি উম্মাহ একে গ্রহণ না করে, তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে বিরত থাকা (يتوقف فيه) হবে; কারণ একে গ্রহণ করার মতো কোনো মুতাবি (متابع) বা শাহিদ (شاهد) নেই, আবার এর দুর্বলতাও এতটা চরম নয় যে সে কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
এই প্রকারের ওপর আমল করার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম তিনটি মতের ওপর ভিত্তি করে মতভেদ করেছেন:
প্রথমত: এর ওপর নিরঙ্কুশভাবে আমল করা যাবে না—না বিধিবিধানের ক্ষেত্রে, আর না ফজিলতের (فضائل) ক্ষেত্রে। ইবনে সাইয়্যিদিন নাস একে ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু বকর ইবনুল আরাবির প্রতি নিসবত করেছেন।
বাহ্যিকভাবে এটিই ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের মাযহাব। ইমাম বুখারির সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত শর্তাবলি এবং দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের ওপর ইমাম মুসলিমের কঠোর সমালোচনা এবং তাদের সহিহ গ্রন্থে এ জাতীয় কিছু বর্ণনা না করা থেকে এটি গৃহীত হয়েছে; যেমনটি কাসিমী উল্লেখ করেছেন।
ইবনে হাজম এই মতের দিকে গিয়েছেন। তিনি বলেন: "পূর্ব ও পশ্চিমের মানুষ যা বর্ণনা করেছেন, অথবা এক জামাত অপর জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন, অথবা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অন্য নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; তবে সনদে যদি এমন কোনো ব্যক্তি থাকে যে মিথ্যাচার, গাফিলতি অথবা অন্য কোনো কারণে অভিযুক্ত (مجروح) হয়..."
--------------------------------------------