(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: -)
تاريخ نيسابور «طبقة شيوخ الحاكم» - جمع البيروتي القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تاريخ نيسابور «طبقة شيوخ الحاكم»
جمع وتحقيق ودراسة: أبي معاوية مازن بن عبد الرحمن البحصلي البيروتي
موضوع الكتاب: بناه على مختصر «تاريخ نيسابور» للخليفة النيسابوري، فساق تراجم الطبقة السابعة (طبقة شيوخ الحاكم)، يذكر اسم الترجمة بلفظها الوارد في المختصر، ويجمع تحتها ما قاله الحاكم فيها في كتب التراجم، ورمز لهذه الكتب برموز سردها آخر الكتاب
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1427 هـ
عدد الصفحات: 519
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1444
নিশাপুরের ইতিহাস «আল-হাকিম-এর শিক্ষকদের স্তর» - আল-বৈরুতীর সংকলন বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: নিশাপুরের ইতিহাস «আল-হাকিম-এর শিক্ষকদের স্তর»
সংকলন, সম্পাদনা ও গবেষণা: আবু মুয়াবিয়া মাজেন বিন আব্দুর রহমান আল-বাহসালি আল-বৈরুতী
গ্রন্থের বিষয়বস্তু: এটি আল-খলিফা আন-নিশাপুরীর «নিশাপুরের ইতিহাস»-এর সংক্ষিপ্তসারের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এতে সপ্তম স্তরের (আল-হাকিম-এর শিক্ষকদের স্তর) জীবনীসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জীবনীগুলো সংক্ষিপ্তসারে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সে শব্দেই উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার অধীনে জীবনচরিত বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে তাদের সম্পর্কে ইমাম আল-হাকিম যা বলেছেন তা একত্রিত করা হয়েছে। তিনি এই গ্রন্থগুলোর নির্দেশক হিসেবে কিছু সংকেত চিহ্ন ব্যবহার করেছেন যা গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١)
المقدمةإن الحمدَ للهِ نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذُ باللهِ من شرورِ أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده اللهُ فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هاديَ له، وأشهد أنْ لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله.
أما بعدُ، فإنَّ أصدق الحديث كتابُ اللهِ، وأحسنَ الهَدْي هديُ محمد صلى الله عليه وسلم، وشَرَّ الأمورِ مُحدثَاتُها، وكلَّ محدثةٍ بدعة، وكلَّ بدعةٍ ضلالة، وكُلَّ ضلالةٍ في النار.
وبعد، "إن أحسن ما يجب أن يُعْتنى به، ويُلَمّ بجانبه، بعد الكتاب والسنة، معرفة الأخبار، وتقييد المناقب والآثار، ففيها تذكرة بتقلب الدهر بأبنائه، وإعلام بما طرأ في سالف الأزمان من عجائبه وأنبائه، وتنبيه على أهل العلم الذين يجب أن تُتَّبَع آثارهم، وتُدَوَّن مناقبهم وأخبارهم، ليكونوا كأنهم ماثلون بين عينيك مع الرجال، ومتصرفون ومخاطبون لك في كل حال، ومعروفون بما هم به، متصفون فيتلو سورهم من لم يعاين صورهم، ويشاهد محاسنهم من لم يعطه السن أن يعاينهم، فيعرف بذلك مراتبهم ومناصبهم، ويعلم المتصرف منهم في المنقول والمفهوم، والمتميّز في المحسوس والمرسوم، ويتحقق منهم من كَسَته الآداب حُليّها، وأرضعته الرياسة ثديها، فيجد في الطلب ليلحق بهم ويتمسك بسببهم"
(1).
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
এরপর, "নিশ্চয়ই কুরআন ও সুন্নাহর পরে যে বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং যার সংশ্লিষ্টতা থাকা সবচেয়ে বেশি সংগত, তা হলো ইতিহাস বা খবরাখবর জানা এবং গুণাবলি ও স্মৃতিচিহ্নসমূহ লিপিবদ্ধ করা। কেননা এতে রয়েছে সন্তানদের ওপর কালের বিবর্তনের স্মারক এবং অতীতকালে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর ঘটনা ও সংবাদের তথ্য। এটি সেই সকল আলেম সম্পর্কে সচেতন করে তোলে যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত এবং যাদের গুণাবলি ও ইতিহাস সংকলন করা প্রয়োজন; যাতে তাঁরা যেন আপনার চোখের সামনে উপস্থিত ব্যক্তিদের ন্যায় বিদ্যমান থাকেন এবং প্রতিটি অবস্থায় আপনার সাথে বিচরণকারী ও সম্বোধনকারীরূপে থাকেন। তাঁরা তাঁদের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সুপরিচিত থাকেন, ফলে যে ব্যক্তি তাঁদের সচক্ষে দেখেনি সে যেন তাঁদের জীবনচরিত পাঠ করে এবং কাল যাকে তাঁদের দেখার সুযোগ দেয়নি সে যেন তাঁদের গুণাবলি প্রত্যক্ষ করে। এর মাধ্যমে তাঁদের স্তর ও মর্যাদা জানা যায় এবং তাঁদের মধ্যে যারা বর্ণিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে পারদর্শী এবং যারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অঙ্কিত বিষয়ে বিশিষ্ট, তাঁদের সম্পর্কে জানা যায়। তাঁদের মধ্য থেকে যারা শিষ্টাচারের অলঙ্কারে ভূষিত এবং যারা নেতৃত্ব লাভে ধন্য হয়েছেন তাঁদের সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এর ফলে জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তি তাঁদের সাথে মিলিত হওয়ার এবং তাঁদের পথ আঁকড়ে ধরার প্রেরণা খুঁজে পায়"
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢)
والتاريخ - في اللغة - الإعلام بالوقت. يُقال: أرّخت الكتاب وورّخته، أي: بيّنت وقت كتابته
(1).
والتاريخ - في الاصطلاح - التعريف بالوقت الذي تضبط به الأحوال من مولد الرواة والأئمة ووفاة وصحة وعقل وبدن ورحلة وحج وحفظ وضبط وتوثيق وتجريح وما أشبه هذا مما مرجعه الفحص عن أحوالهم في ابتدائهم وحالهم واستقبالهم
(2). وهذا محتوى كتابنا "تاريخ نيسابور"
(3).
ونيسابور هي المركز الرئيس لإقليم خراسان الذي يقع - حاليًا - في الزاوية الشمالية الغربية من إيران على حدود روسيا وأفغانستان. وقد ذكرها ياقوت الرومي في معجم البلدان (5/ 331) فقال: "هي مدينة عظيمة ذات فضائل جسيمة، معدن الفضلاء ومنبع العلماء، لم أرَ فيما طَوّفْتُ من البلاد مدينة كانت مثلها
… وكان المسلمون فتحوها في أيام عثمان بن عفان رضي الله عنه، والأمير عبد الله بن عامر بن كُرَيز في سنة إحدى وثلاثين صلحًا وبنى بها جامعًا، وقيل إنها فُتِحَت في أيام عمر رضي الله عنه على يد الأحنف بن قيس، وإنما انتقضت في أيام عثمان فأرسل إليها عبد الله بن عامر ففتحها ثانية.
… وقال أبو العباس الزوزني - المعروف بالمأموني -:
ليس في الأرض مثل نيسابور
… بلدٌ طيبٌ وربٌّ غفور
وقد خرج منها من أئمة العلم من لا يُحْصى". اهـ.
وذكر السمعاني في الأنساب (مادة: النيسابوري) - نقلًا عن أبي حاتم سهل بن محمد - أنَّه إنما قيل لها نيسابور، لأنَّ سابور مَرَّ
--------------------------------------------
আভিধানিক অর্থে ‘তারিখ’ (ইতিহাস) বলতে সময় সম্পর্কে জানানোকে বোঝায়। বলা হয়ে থাকে: ‘আমি কিতাবটির তারিখ নির্ধারণ করেছি’, অর্থাৎ আমি এটি রচনার সময় স্পষ্ট করেছি
(১)।
পারিভাষিক অর্থে ‘তারিখ’ বলতে এমন সময়ের পরিচয়কে বোঝায়, যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী ও ইমামগণের অবস্থা নিরূপণ করা হয়। যেমন: তাঁদের জন্ম, মৃত্যু, সুস্থতা, বুদ্ধিবৃত্তি, শারীরিক অবস্থা, ইলমি সফর, হজ পালন, মুখস্থশক্তি, নির্ভুলতা, বিশ্বস্ততা এবং দুর্বলতা যাচাই এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়; যার মূল লক্ষ্য হলো তাঁদের জীবনের প্রারম্ভিক, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা
(২)। আর এটিই আমাদের ‘তারিখু নিসাবুর’ (নিসাবুরের ইতিহাস) গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু
(৩)।
নিসাবুর হলো খোরাসান অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র, যা বর্তমানে ইরানের উত্তর-পশ্চিম কোণে রাশিয়া ও আফগানিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। ইয়াকুত আর-রুমি ‘মুজামুল বুলদান’ (৫/৩৩১) গ্রন্থে এর উল্লেখ করে বলেছেন: “এটি এক মহান শহর যার মর্যাদা অত্যন্ত ব্যাপক, এটি গুণীজনদের আকর এবং আলেমদের উৎস। আমি দেশ-বিদেশে যত পরিভ্রমণ করেছি, তার মধ্যে এর মতো কোনো শহর দেখিনি... মুসলমানরা এটি উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে হিজরি ৩১ সনে আমির আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন কুরাইজের মাধ্যমে সন্ধির ভিত্তিতে জয় করেন এবং তিনি সেখানে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। আবার বলা হয় যে, এটি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে আল-আহনাফ বিন কায়েসের হাতে বিজিত হয়েছিল, তবে উসমানের যুগে সেখানে বিদ্রোহ দেখা দিলে তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমিরকে পাঠান এবং তিনি পুনরায় তা জয় করেন।
... এবং আবুল আব্বাস আয-যাওযানী—যিনি আল-মামুনি নামে পরিচিত—বলেছেন:
পৃথিবীতে নিসাবুরের মতো আর কিছু নেই... এটি এক পবিত্র জনপদ এবং এখানে রয়েছে ক্ষমাশীল রবের অনুগ্রহ।
এখান থেকে অসংখ্য ইলমি ইমামের উদ্ভব ঘটেছে।” সমাপ্ত।
আস-সামআনি ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থে (নিসাবুরি পরিচ্ছেদে) আবু হাতিম সাহল বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একে নিসাবুর এই কারণে বলা হয় যে, যখন সাবুর সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٣)
بها فقال: هذه تصلح أن تكون مدينة، فأمر بها، فقُطِع قصبها، ثمَّ كبس، ثمَّ بنيت، فقيل لها: نيسابور، والنيّ: القصب. اهـ.
ويحدِّثنا الحاكم عن سبب تأليفه لـ "تاريخ نيسابور" فيقول: "اعْلَم بأن خراسان وما وراء النهر، لكل بلدةٍ تاريخٌ صنَّفه عالمٌ منها، ووجدت نيسابور مع كثرة العلماء بها والحفاظ لم يصنّفوا فيه شيئًا، فدعاني ذلك إلى أن صنفت تاريخ النيسابوريين"
(1).
ويقول تاج الدين السبكي (ت 771): "كانت نيسابور من أجلِّ البلاد وأعظمها، ولم يكن بعد بغداد مثلها، وقد عمل لها الحافظ أبو عبد الله الحاكم تاريخًا تخضع له جهابذة الحفاظ، وهو عندي سيد التواريخ"
(2). ويقول: "وهو عندي أعْوَد التواريخ على الفقهاء بفائدة، ومن نظره عرف تَفَنُّن الرجل في العلوم جميعها"
(3). والذي يقرأ فيما تجمَّع لديَّ من الطبقة السابعة من "تاريخ نيسابور" - وهي طبقة شيوخ الحاكم - يجد كمًّا هائلًا من الفوائد في العلوم جميعها، في علوم القرآن، والحديث، والتاريخ، واللغة، والأدب، والشعر، وغيرها من العلوم، وهذا يدلُّ على قوة حافظة الحاكم وسعة علومه، وقد وصفه تلميذه البيهقي بأنّه "أحفظ عصره وأتقنهم في الرواية"
(4)، فرحمَ الله الحاكمَ رحمةً واسعة، وحشره مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصِّدِّيقين والشهداء والصالحين، وحسن أولئك رفيقًا.
واأسفاه على فقدان هذا التاريخ العظيم، حيث لم يُعْثَر في عصرنا على مخطوطة له يقينًا، فاستخرتُ الله عز وجل في تجميع "طبقة شيوخ الحاكم" من "تاريخ نيسابور"، وعسى أن أكون سَدَّيْتُ
--------------------------------------------
সেখানে এসে তিনি বললেন: এটি একটি শহর হওয়ার উপযুক্ত। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন, ফলে এর নলখাগড়া কাটা হলো, এরপর মাটি ভরাট করা হলো, তারপর সেটি নির্মিত হলো। অতঃপর একে 'নিশাপুর' বলা হলো, আর 'নি' অর্থ হলো নলখাগড়া। সমাপ্ত।
আল-হাকিম আমাদের কাছে তাঁর "তারিখ নিশাপুর" রচনার কারণ বর্ণনা করে বলেন: "জেনে রাখুন যে, খোরাসান এবং মা-ওয়ারাউন নহর-এর প্রতিটি শহরের জন্য এমন একটি ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে যা সেখানকার কোনো একজন আলেম সংকলন করেছেন। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নিশাপুরে বিপুল সংখ্যক আলেম ও হাফেজ থাকা সত্ত্বেও তারা এই বিষয়ে কিছুই রচনা করেননি। তাই এই বিষয়টি আমাকে নিশাপুরবাসীদের ইতিহাস সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে"
(১)।
তাজউদ্দিন আস-সুবকী (মৃত্যু: ৭৭১ হি.) বলেন: "নিশাপুর ছিল সুউচ্চ ও মহান শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত, বাগদাদের পর এর মতো আর কোনো শহর ছিল না। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এর জন্য এমন এক ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন যার সামনে বড় বড় হাফেজরা মাথা নত করে, আর আমার নিকট এটি সকল ইতিহাস গ্রন্থের সর্দার"
(২)। তিনি আরও বলেন: "ফকিহদের জন্য উপকারের দিক থেকে এটি আমার নিকট সবচেয়ে ফলপ্রসূ ইতিহাস গ্রন্থ। যে ব্যক্তি এটি দেখবে, সে সমস্ত বিজ্ঞানে এই ব্যক্তির পারদর্শিতা সম্পর্কে জানতে পারবে"
(৩)। "তারিখ নিশাপুর"-এর সপ্তম স্তর (তবকা) থেকে যা আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে—যা আল-হাকিমের শিক্ষকদের স্তর—তা পাঠকারী ব্যক্তি সমস্ত বিজ্ঞানে বিপুল পরিমাণ উপকারিতা খুঁজে পাবেন; চাই তা কুরআনের বিজ্ঞান, হাদিস, ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, কবিতা বা অন্যান্য শাস্ত্রেই হোক না কেন। এটি আল-হাকিমের মুখস্থ শক্তি এবং তাঁর ইলমের ব্যাপকতার প্রমাণ দেয়। তাঁর ছাত্র আল-বাইহাকী তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি তাঁর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ এবং বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিখুঁত"
(৪)। আল্লাহ আল-হাকিমকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং তাঁকে ঐসব ব্যক্তিদের সাথে হাশর করুন যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাদের সাথে; আর সাথী হিসেবে তারা কতই না উত্তম!
আফসোস! এই মহান ইতিহাস গ্রন্থটি হারিয়ে যাওয়ার জন্য, কারণ আমাদের যুগে নিশ্চিতভাবে এর কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই আমি "তারিখ নিশাপুর" থেকে "আল-হাকিমের শিক্ষকদের স্তর" সংকলন করার বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি; আশা করি আমি এই অভাব পূরণ করতে পেরেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٤)
بعض الفراغ الذي أحدثه فقدان هذا التاريخ العظيم، وقدَّمْتُ للكتاب بعمل ترجمة وافية للحاكم استخرجتها من "تاريخ نيسابور"، وأرجو أن تكون جامعةً لسيرة الحاكم رحمه الله، والله من وراء القصد.
وكتبه
أبو معاوية
مازن بن عبد الرحمن
البحصلي البيروتي
بيروت، صباح الجمعة 24 صفر 1427
এই মহান ইতিহাস হারানোর ফলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তার কিছুটা আমি পূরণ করেছি। আমি 'তারিখে নিশাপুর' থেকে ইমাম হাকেমের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী সংকলন করে তা গ্রন্থটির ভূমিকা হিসেবে উপস্থাপন করেছি। আমি আশা করি এটি ইমাম হাকেম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীর একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ হবে। আর আল্লাহই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
এটি লিখেছেন
আবু মুয়াবিয়া
মাযেন বিন আবদুর রহমান
আল-বাহসালি আল-বাইরুতি
বৈরুত, শুক্রবার সকাল, ২৪ সফর ১৪২৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٥)
منهجي في تجميع الكتاب:اقتصرتُ في عملي على تجميع الطبقة السابعة من "تاريخ نيسابور"، وهي طبقة شيوخ الحاكم التي قال فيها: "نشرع الآن في أسامي الذين أدركتهم ورُزِقتُ السَّماع منهم بنيسابور"، واعتمدتُ على مخطوطة فارسية مختصرة لتاريخ نيسابور، اختصرها مصنف اسمه محمَّد بن حسين أحمد المعروف بالخليفة النيسابوري (كان حيًّا في سنة 717)، فلم يترك لنا إلا أسماء تراجم "تاريخ نيسابور"، فذكرتُ أولًا اسم الترجمة كما ورد في المختصر، وحافظت على نص المخطوطة كما هي، مع العلم أن فيها الكثير من اللحن والتصحيف، ونقلتُ تحتها ما تجمَّع لديَّ من كلام الحاكم في الترجمة المذكورة، ووضعت رموزًا للمصادر التي اعتمدتها في تجميع الترجمة على هامش فقرات الترجمة إذا وجدتُ لها أكثر من مصدرٍ، وذكرت الرموز في المصادر في آخر الكتاب، وقد ذكر الخطيب البغدادي أن أول سماع للحاكم كان في سنة ثلاثين وثلاثمائة وهو ابن تسع سنين، فمن هذا التاريخ تبدأ طبقة شيوخ الحاكم، وبناءً على هذا الشرط لم أرجع إلى المصادر التي ترجمت لأناس توفوا قبل سنة ثلاثين وثلاثمائة، كأمثال "تهذيب الكمال" للمزي، و"تهذيب التهذيب" و"تعجيل المنفعة" لابن حجر، وغيرها من المصادر. ولا تقتصر طبقة شيوخ الحاكم على سنة خمس وأربعمائة - وهي سنة وفاته -، لأنَّ الحاكم ترجم في تاريخه لأناس عاصرهم وتوفوا بعده، كأمثال: محمَّد بن الحسين السلمي (ت 412)، وعمر بن أحمد العبدوي (ت 417)، وأحمد بن الحسن الحيري (ت 421)، وغيرهم.
আমার কিতাব সংকলনের পদ্ধতি:আমি আমার কাজে 'তারিখে নিশাপুর'-এর সপ্তম স্তর সংকলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, আর এটি হলো হাকেমের শায়খদের স্তর, যে সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "আমরা এখন তাদের নাম উল্লেখ করা শুরু করছি যাদের সান্নিধ্য আমি পেয়েছি এবং নিশাপুরে যাদের থেকে শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।" আমি 'তারিখে নিশাপুর'-এর একটি সংক্ষিপ্ত ফারসি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা মুহাম্মদ বিন হুসাইন আহমদ—যিনি খলিফা নিশাপুরি নামে পরিচিত (তিনি ৭১৭ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন)—সংক্ষেপণ করেছিলেন; তিনি আমাদের জন্য 'তারিখে নিশাপুর'-এর কেবল জীবনীগুলোর নামই অবশিষ্ট রেখেছেন। তাই আমি প্রথমে সংক্ষিপ্তসারে যেভাবে এসেছে সেভাবেই জীবনীর নাম উল্লেখ করেছি এবং পাণ্ডুলিপির মূল পাঠ্যটি অবিকল বজায় রেখেছি, যদিও এতে প্রচুর ভাষাগত ভুল ও লিপিক্রমের ত্রুটি বিদ্যমান। আমি এর নিচে উক্ত জীবনী সম্পর্কে হাকেমের যে সকল বক্তব্য আমার কাছে সংগৃহীত হয়েছে তা উদ্ধৃত করেছি। যদি কোনো জীবনীর ক্ষেত্রে একাধিক উৎস পাওয়া যায়, তবে আমি সেই জীবনী সংকলনে ব্যবহৃত উৎসগুলোর জন্য অনুচ্ছেদের পার্শ্বটীকায় সংকেত চিহ্ন ব্যবহার করেছি এবং কিতাবের শেষে উৎসের বিবরণে সংকেতগুলো উল্লেখ করেছি। খতিব আল-বাগদাদি উল্লেখ করেছেন যে, ৩৩০ হিজরি সনে ইমাম হাকেমের প্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু হয় যখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর; সুতরাং এই তারিখ থেকেই হাকেমের শায়খদের স্তর শুরু হয়। এই শর্তের ভিত্তিতে আমি এমন সব উৎসের সাহায্য নিইনি যেখানে ৩৩০ হিজরি সনের পূর্বে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে, যেমন মিজ্জি-র 'তহজিবুল কামাল', ইবনে হাজারের 'তহজিবুত তহজিব' ও 'তাজিলুল মানফায়াহ' এবং অন্যান্য উৎসসমূহ। হাকেমের শায়খদের এই স্তর কেবল ৪০৫ হিজরি—যা তাঁর মৃত্যুর বছর—পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, কারণ হাকেম তাঁর ইতিহাসে এমন সব ব্যক্তিদের জীবনীও বর্ণনা করেছেন যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাঁর পরে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমন: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামি (মৃত্যু ৪১২ হি.), উমর বিন আহমদ আল-আবদুয়ি (মৃত্যু ৪১৭ হি.), আহমদ বিন আল-হাসান আল-হিরি (মৃত্যু ৪২১ হি.) এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٧)
الفصل الأول
نسبه:هو محمَّد بن عبد الله بن محمَّد بن حمدويه بن نعيم بن الحكم، أبو عبد الله الحافظ البَيِّع، إمام أهل الحديث في عصره، والعارف به حق معرفته.
ويُقال له: الضبِّي؛ لأنَّ جدّ جدّته عيسى بن عبد الرحمن بن سليمان الضبِّي، وأم عيسى بن عبد الرحمن هي مَتُّوَيْه بنت إبراهيم بن طهمان الزاهد الفقيه، فلذلك يُقال له: الطهماني
(1).
وقال ابن خلكان: "وإنما عُرِفَ بالحاكم لتقليده القضاء"
(2).
مولده:ولد في صبيحة يوم الإثنين الثالث من شهر ربيع الأوّل سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة
(3).
وذكر الحاكم في ترجمته لشيخه محمَّد بن عبد الله الشيباني أن: "أول سماعه للحديث سنة إحدى وعشرين، وكنت أقول: السنة التي ولدت فيها
(4) ".
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
তাঁর বংশপরিচয়:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদুওয়াইহ ইবনে নুআইম ইবনে আল-হাকাম, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আল-বাইয়ি‘, নিজ যুগের আহলে হাদিসের ইমাম এবং এই শাস্ত্রের প্রকৃত বিশেষজ্ঞ।
তাঁকে আদ্ব-দ্বব্বি-ও বলা হয়; কারণ তাঁর প্রপিতামহীর পিতা ছিলেন ঈসা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান আদ্ব-দ্বব্বি। আর ঈসা ইবনে আব্দুর রহমানের মাতা ছিলেন মাত্তুওয়াইহ বিনতে ইব্রাহিম ইবনে তাহমান, যিনি একজন দুনিয়াবিমুখ ফকিহ ছিলেন। একারণেই তাঁকে আত-তাহমানি-ও বলা হয়
(১)।
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: "বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালনের কারণেই তিনি আল-হাকিম নামে পরিচিতি লাভ করেছেন"
(২)।
তাঁর জন্ম:তিনি ৩২১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ৩ তারিখ সোমবার সকালে জন্মগ্রহণ করেন
(৩)।
আল-হাকিম তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাইবানি-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে: "তাঁর (উস্তাদের) প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল ২১ সনে, আর আমি বলতাম: এটি সেই বছর যে বছর আমি জন্মগ্রহণ করেছি
(৪) "।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٨)
موطنه:قال السمعاني في الأنساب (مادة: النيسابوري): "هذه النسبة إلى نيسابور، وهي أحسن مدينة وأجمعها للخيرات بخراسان .. ذكر أبو علي الغسّاني الحافظ في كتاب "تقييد المهمل" قال: قال محمَّد بن عبد السلام: أخبرنا أبو حاتم سهل بن محمَّد قال: "إنما قيل لها نيسابور، لأنَّ سابور مَرَّ بها، فلما نظر إليها قال: هذه تصلح أن تكون مدينة، فأمر بها، فقطع قصبها، ثمَّ كبس، ثمَّ بنيت، فقيل لها نيسابور، والنيّ: القصب". وكان فتحها زمنَ عثمان بن عفان رضي الله عنه على يد ابن خالته عبد الله بن عامر بن كُرَيز في سنة تسعٍ وعشرين من الهجرة". اهـ.
وذكر ابن الأثير في "الكامل في التاريخ" أن التتر - لعنهم الله - قدموا نيسابور في سنة سبع عشرة وستمائة، فخربّوها وأبادوا أهلها، فلم يسلم منهم أحد.
وفي الوقت الحالي، تقع نيسابور ضمن دولتي إيران وأفغانستان.
عائلته:قال عبد الغافر الفارسي: وبيته بيت الصلاح والورع والتأذين
(1).
وسنذكر مِن عائلته مَنْ ترجم له الحاكم في تاريخه:
1) والده:ترجم الحاكم في تاريخه
(2) لوالده أبي محمَّد البيّع فقال: "هو الذي أذّن ثلاثًا وستين سنة محتسبًا، وحَجَّ ثلاث حجج، وغزا اثنتين وعشرين غزوة، وما ترك قيام الليل، وأنفق على العلماء والزهّاد أكثر من مائة ألف. أدرك عبد الله بن أحمد بن حنبل ومسلم بن الحجاج، وروى عن ابن خزيمة وغيره، توفي سنة تسع وثلاثين وثلاثمائة
(3) عن ثلاث وتسعين سنة". اهـ.
--------------------------------------------
তাঁর জন্মস্থান ও আবাসভূমি:সামআনি ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থে (নিশাবুরি পরিচ্ছেদে) বলেন: "এই নিসবতটি (উপাধি) নিশাপুরের সাথে সম্পর্কিত, যা খুরাসানের সবচেয়ে সুন্দর এবং সব ধরনের কল্যাণের আধার একটি শহর... হাফিজ আবু আলী আল-গাসসানি ‘তাকয়িদুল মুহমাল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সালাম বলেছেন: আবু হাতিম সাহল ইবনে মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ‘একে নিশাপুর বলা হয় কারণ শাপুর এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন তিনি এর দিকে তাকালেন, তখন বললেন: এটি একটি শহর হওয়ার যোগ্য। এরপর তিনি আদেশ দিলেন, এর নলখাগড়া কাটা হলো, তারপর ভরাট করা হলো, এরপর এটি নির্মাণ করা হলো। ফলে একে নিশাপুর বলা হয়; আর ‘নি’ অর্থ হলো নলখাগড়া।’ এটি হিজরি ঊনত্রিশ সালে উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে তাঁর খালাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে কুরাইযের হাতে বিজিত হয়েছিল।" সমাপ্ত।
ইবনুল আসির ‘আল-কামিল ফিত তারিখ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাতারীরা—আল্লাহ তাদের লানত করুন—ছয়শ সতেরো হিজরিতে নিশাপুরে আসে। তারা শহরটি ধ্বংস করে দেয় এবং এর বাসিন্দাদের সমূলে নির্মূল করে দেয়, ফলে তাদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পায়নি।
বর্তমানে নিশাপুর ইরান ও আফগানিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর পরিবার:আব্দুল গাফির আল-ফারিসি বলেন: তাঁর পরিবার ছিল পুণ্য, পরহেজগারি এবং আজান প্রদানের (মুয়াজ্জিনদের) পরিবার
(১)।
আমরা তাঁর পরিবারের মধ্য থেকে তাঁদের কথা উল্লেখ করব যাঁদের জীবনী হাকিম তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন:
১) তাঁর পিতা:হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(২) তাঁর পিতা আবু মুহাম্মদ আল-বাই-এর জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন: "তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি সওয়াবের আশায় তেষট্টি বছর আজান দিয়েছেন, তিনবার হজ করেছেন এবং বাইশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি কখনো কিয়ামুল লাইল (রাত্রিকালীন ইবাদত) বর্জন করেননি এবং আলেম ও জাহিদদের (তপস্বী) জন্য এক লক্ষেরও অধিক মুদ্রা ব্যয় করেছেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে পেয়েছেন (তাঁদের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন) এবং ইবনে খুজাইমাহ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৩৯ হিজরিতে
(৩) ৯৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٩)
ويظهر أن والد الحاكم كان من الصالحين وذي مكانة عالية بين أهل العلم، فقد ذكر الحاكم
(1) أنَّه سأل أبا الطيب الصعلوكي غير مرة أن يحدثه فأبى، قال: "وكان صديق أبي، فمشى معي إليه، وسأله فأجاب، ثمَّ قصدته بعد ذلك غير مرة، فقال: أنا أستحي من أبيك أن أردَّه إذا سألني، فأما التحديث فليس إليه سبيل".
وكان منزل والده في سكة حمدان بنيسابور
(2)، وكان أهل العلم يقصدونه للزيارة، بل ويقيمون عنده. قال الحاكم: "وكان أبي يسأل محمَّد بن صالح الميداني يومَ الجمعة أن ينصرف إلى منزله، فيفعل، ويقيم عنده إلى الجمعة المستقبلة، يفعل ذلك غير مرَّةٍ في السنة"
(3)، وقال: "وكان محمَّد بن حيّان الصوفي يغشانا أيام والدي"
(4)، وقال: "لم أُرْزَق السَّماع من عمرو بن عبد الله البصري، على أنَّه كان يحضر منزلنا، وأنبسطُ إليه"
(5).
وقد رأى والده مسلمًا صاحب "الصحيح"، فقال الحاكم: "سمعتُ أبي يقول: رأيت مُسلم بن الحجاج يحدِّث في خان مَحْمِش، فكان تامَّ القامة، أبيض الرأس واللحية، يُرخي طرف عمامته بين كتفيه"
(6).
وكان والده يحضر مجالس أهل الحديث، فسمع عيسى بن محمَّد الطهماني
(7)، ومحمد بن إسحاق بن خزيمة
(8)، ومحمد بن إسحاق السَّرَّاج
(9)، والحسين بن إسماعيل المحاملي بالعراق في إحدى رحلاته إلى الحج
(10).
--------------------------------------------
এটা প্রতীয়মান হয় যে হাকেমের পিতা নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। হাকেম উল্লেখ করেছেন
(১) যে, তিনি আবু তাইয়্যেব আস-সা'লুকিকে একাধিকবার হাদিস বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন: "তিনি আমার পিতার বন্ধু ছিলেন, তাই তিনি আমার সাথে তার কাছে গেলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন, ফলে তিনি সাড়া দিলেন। এরপর আমি একাধিকবার তার কাছে গেলাম, তখন তিনি বললেন: তোমার পিতা যখন আমার কাছে কিছু চান, তখন তাঁকে ফিরিয়ে দিতে আমি লজ্জা পাই; তবে হাদিস বর্ণনা করার কোনো সুযোগ নেই।"
নিসাবুরের সিক্কাহ হামদানে তার পিতার বাড়ি ছিল
(২)। আলিমগণ সেখানে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আসতেন, এমনকি সেখানে অবস্থানও করতেন। হাকেম বলেন: "আমার পিতা জুমার দিনে মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-মাইদানিকে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করতেন, তিনি রাজি হতেন এবং পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন। বছরে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটত"
(৩)। তিনি আরও বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে হায়্যান আস-সুফি আমার পিতার জীবদ্দশায় আমাদের কাছে আসতেন"
(৪)। তিনি আরও বলেন: "আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বসরির কাছ থেকে সরাসরি হাদিস শোনার সৌভাগ্য আমার হয়নি, যদিও তিনি আমাদের বাড়িতে আসতেন এবং আমি তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলাম"
(৫)।
তাঁর পিতা 'সহীহ' গ্রন্থের সংকলক মুসলিমকে দেখেছিলেন। হাকেম বলেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে খান মাহমিশ-এ হাদিস বর্ণনা করতে দেখেছি। তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন, তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি ছিল সাদা এবং তিনি তাঁর পাগড়ির শেমলা দুই কাঁধের মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখতেন"
(৬)।
তাঁর পিতা আহলে হাদিসদের মজলিসে উপস্থিত হতেন। তিনি ইসা ইবনে মুহাম্মদ আত-তাহমানি
(৭), মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ
(৮), মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ
(৯) এবং হজ পালনের এক সফরে ইরাকে হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলির
(১০) নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ويظهر أن والده تزوّج في حياته امرأتين أو أكثر، فقد قال الحاكم في ترجمة جعفر بن أحمد بن نصر الحَصيري في تاريخه: "سمع منه أخي محمَّد الكثير، وهو جدُّه"
(1). اهـ. فهو جده لأمه وليس لأبيه، لأنَّ اسم جده لأبيه محمَّد بن حمدويه بن نعيم الضّبي، وهو ليس جدًّا للحاكم، فعندها؛ والدة الحاكم هي غير والدة أخيه.
2) أخوه:ذكره الحاكم في تاريخه - كما سبق - في ترجمة الحصيري فقال: "سمع منه أخي محمَّد الكثير، وهو جدُّه".
وقد قرأت من تاريخ نيسابور الطبقة الخامسة والسادسة وطبقة شيوخ الحاكم و"اللاحقة" التي ألحقها في آخر تاريخه، ولم أعثر على اسم أخيه مترجمًا، بينما عثرتُ على اسم ابن أخيه محمَّد بن محمَّد في "اللاحقة"
(2) وتاريخ الإِسلام (الطبقة/ 381 - 400 هـ) (ص 275 - 276)، ونقل الذهبي عن الحاكم أنَّه ذكر وفاته "سنة اثنتين وتسعين وثلاثمائة في جمادى الآخرة، وله سبع وثمانون سنة، وكان أكبر مني بخمس عشرة سنة"، أي أن ولادة ابن أخيه كانت سنة خمس أو ست وثلاثمائة، فوفاة أخي الحاكم تكون بعد هذا التاريخ. ولعل اسم أخي الحاكم سقط من تاريخ نيسابور.
3) ابنُ أخيه:هو محمَّد بن محمَّد بن عبد الله بن محمَّد بن حمدويه بن نعيم، أبو سهل الضبّي ابن أخي الحاكم النيسابوري، ترجم له الحاكم في "لاحقة" تاريخه
(3) فقال: "سمع الكثير قبلي ومعي، وكتب بخطه جملة، وحدَّث، وكان أكبر مني بخمس عشرة سنة، وكذا علقمة بن قيس أكبر
(4) من عمّه
--------------------------------------------
এটি প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর পিতা তাঁর জীবদ্দশায় দুই বা ততোধিক বিবাহ করেছিলেন। আল-হাকিম তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর আল-হাসিরির জীবনীতে বলেছেন: "আমার ভাই মুহাম্মদ তাঁর নিকট থেকে প্রচুর (হাদিস) শ্রবণ করেছেন, আর তিনি (আল-হাসিরি) তাঁর নানা"
(১)। উদ্ধৃতি শেষ। সুতরাং তিনি তাঁর মাতামহ (মায়ের দিকের দাদা), পিতৃ-পিতামহ নন। কারণ তাঁর পিতৃ-পিতামহের নাম মুহাম্মদ ইবনে হামদুয়াহ ইবনে নুআইম আদ-দাব্বি, আর তিনি আল-হাকিমের পিতামহ নন। এমতাবস্থায়, আল-হাকিমের মাতা এবং তাঁর ভাইয়ের মাতা ভিন্ন ছিলেন।
২) তাঁর ভাই:আল-হাকিম তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—আল-হাসিরির জীবনীতে তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: "আমার ভাই মুহাম্মদ তাঁর নিকট থেকে প্রচুর শ্রবণ করেছেন, আর তিনি তাঁর নানা।"
আমি ‘তারিখে নিসাপুর’-এর পঞ্চম ও ষষ্ঠ তবকা এবং আল-হাকিমের শায়খদের তবকা ও ‘আল-লাহিকা’ (পরিশিষ্ট) যা তিনি তাঁর তারিখের শেষে যুক্ত করেছেন, তা পাঠ করেছি; কিন্তু সেখানে আমি তাঁর ভাইয়ের কোনো স্বতন্ত্র জীবনী খুঁজে পাইনি। তবে আমি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদের নাম ‘আল-লাহিকা’
(২) এবং ‘তারিখুল ইসলাম’ (তবকা/ ৩৮১ - ৪০০ হিজরি) (পৃষ্ঠা ২৭৫ - ২৭৬)-এ খুঁজে পেয়েছি। আয-যাহাবি আল-হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "তিনি তিনশ বিরানব্বই হিজরির জামাদিউল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন, তাঁর বয়স হয়েছিল সাতাশি বছর এবং তিনি আমার চেয়ে পনের বছরের বড় ছিলেন।" অর্থাৎ তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের জন্ম হয়েছিল তিনশ পাঁচ বা ছয় হিজরিতে, সুতরাং আল-হাকিমের ভাইয়ের মৃত্যু এই তারিখের পরেই হয়েছে। সম্ভবত আল-হাকিমের ভাইয়ের নাম ‘তারিখে নিসাপুর’ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
৩) তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদুয়াহ ইবনে নুআইম, আবু সাহল আদ-দাব্বি; আল-হাকিম আন-নিসাপুরির ভ্রাতুষ্পুত্র। আল-হাকিম তাঁর তারিখের ‘লাহিকা’
(৩) অংশে তাঁর জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন: "তিনি আমার পূর্বে এবং আমার সাথে প্রচুর শ্রবণ করেছেন, স্বহস্তে অনেক কিছু লিখেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি আমার চেয়ে পনের বছরের বড় ছিলেন, যেমন আলকামা ইবনে কায়স তাঁর চাচার চেয়ে বড় ছিলেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١١)
عبد الله بن شبرمة. توفي سنة اثنتين وتسعين وثلاثمائة في جُمادى الآخرة، وله سبع وثمانون سنة. رحمه الله".
4) ابن خال أمِّه:هو محمَّد بن عيسى بن محمَّد، أبو صالح العارض، ترجم له الحاكم في طبقة شيوخه في تاريخه
(1)، وقال: "كان أبو صالح ابن خال أمي، ولنا به اختصاص القرابة والصحبة، كتبت عنه بنيسابور غير مرة، ثمَّ كتبنا عنه بمرو، ونظرت في كتبه بها سنة ثلاث وأربعين، وتوفي بمرو ليلة الجُمعة لخمس بقين من صفر سنة أربع وأربعين وثلاثمائة".
5) ابن خاله:هو محمَّد بن عبد الله بن حمشاد الحاسب، ترجم له الحاكم في تاريخه
(2)، وقال: "هو ابن خالي
(3)، وكان أبوه من أعيان المشايخ والتجار بنيسابور، طلب معنا أبو سعد الحديث في صباه من سنة ثلاثين وثلاثمائة إلى سنة سبع وأربعين، ثمَّ أقام ببلخ وسمرقند، وذُكِر بعد ذلك بالحساب، سمع بنيسابور ورحل معي إلى أبي النضر ودخل قبلي بغداد وحدَّث، وتوفي غداة يوم الخميس الثاني والعشرين من ربيع الآخر من سنة ست وثمانين وثلاثمائة".
6) ابنه أو ابن أخيه محمَّد:هو عبد الله بن محمَّد بن عبد الله بن محمَّد بن حمدويه بن نعيم، أبو الحسن الضبّي النيسابوري، هكذا ذكره الحاكم في تاريخه
(4)، ولم أعثر له على ترجمة.
--------------------------------------------
عبدুল্লাহ ইবনে শুবরুমাহ। তিনি ৩৯২ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স হয়েছিল সাতাশি বছর। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন।
৪) তাঁর মায়ের মামাতো ভাই:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে মুহাম্মদ, আবু সালিহ আল-আরিম। হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে নিজ উস্তাদদের স্তরে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন
(১) এবং বলেছেন: "আবু সালিহ ছিলেন আমার মায়ের মামাতো ভাই। তাঁর সাথে আমাদের আত্মীয়তা ও সাহচর্যের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। আমি নিশাপুরে তাঁর নিকট একাধিকবার লিখেছি, তারপর আমরা মার্ভে তাঁর নিকট থেকে লিখেছি। আমি ৩৪৩ হিজরিতে সেখানে তাঁর কিতাবসমূহ দেখেছি। তিনি ৩৪৪ হিজরি সনের সফর মাসের অবশিষ্ট পাঁচ দিন থাকতে (অর্থাৎ ২৫শে সফর) জুমআর রাতে মার্ভে মৃত্যুবরণ করেন।"
৫) তাঁর মামাতো ভাই:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হামশাদ আল-হাসিব। হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন
(২) এবং বলেছেন: "তিনি আমার মামাতো ভাই
(৩)। তাঁর পিতা নিশাপুরের বিশিষ্ট শাইখ ও ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু সাদ আমাদের সাথে তাঁর শৈশবে ৩৩০ হিজরি থেকে ৩৪৭ হিজরি পর্যন্ত হাদিস অন্বেষণ করেছেন। অতঃপর তিনি বলখ ও সমরকন্দে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীতে গণনাবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি নিশাপুরে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং আমার সাথে আবু নাদরের নিকট সফর করেছেন। তিনি আমার আগেই বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৮৬ হিজরি সনের ২২শে রবিউস সানি বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন।"
৬) তাঁর পুত্র অথবা তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ:তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদাওয়াইহ ইবনে নুয়াইম, আবুল হাসান আদ-দব্বি আন-নিশাপুরি। হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এভাবেই তাঁর উল্লেখ করেছেন
(৪), তবে আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
7) خاله:هو محمَّد بن علي بن محمَّد، أبو علي المؤذن النصروي، كان من العباد الصالحين، القاعدين عن السُّوق والتصرف، القانعين بميراث الآباء، حج وغزا، وأنفق على العلماء الفاضلَ من قوته، وأذَّنَ نيّفًا وخمسين سنة محتسبًا، وتوفي في شعبان سنة تسع وسبعين وثلاثمائة
(1).
8) صهره (2):
هو العباس بن محمَّد بن علي بن معاوية، أبو جعفر بن أبي الحسن، صهر الحاكم المصنف النيسابوري. هكذا ذُكِر في "اللاحقة"
(3).
* * *
--------------------------------------------
৭) তাঁর মামা:তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ, আবু আলী আল-মুয়াযযিন আন-নাসরাওয়ী। তিনি ছিলেন পুণ্যবান ইবাদতগুজার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বাজার ও বৈষয়িক কারবার থেকে বিমুখ থাকতেন এবং পৈতৃক উত্তরাধিকারে তুষ্ট থাকতেন। তিনি হজ পালন করেছেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আলেমদের জন্য নিজের প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করতেন। তিনি সওয়াবের আশায় পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় আযান দিয়েছেন এবং ৩৭৯ হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন
(১)।
৮) তাঁর জামাতা (২):
তিনি হলেন আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুয়াবিয়া, আবু জাফর বিন আবিল হাসান, নিসাপুরী গ্রন্থকার আল-হাকিমের জামাতা। এভাবেই ‘আল-লাহিকা’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে
(৩)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الفصل الثاني: بداية طلب الحاكم للحديث وأول سَماعهقال الذهبي: وطلب هذا الشأن في صِغَرِه بعناية والده وخاله
(1).
وقال الخطيب: وأول سَماعه في سنة ثلاثين وثلاثمائة
(2).
فأول سَماعه وهو ابن تسع سنين، ولكنه كان يحضر مجالس أهل الحديث وهو ابن سبع سنين، فقال: "حضرتُ مجلس وَعْظ أبي علي الثقفي
(3) وأنا صغير، فسمعته يقول في دعائه: إنك أنت الوهّاب الوهّاب الوهّاب، وشهدتُ جنازته، فلا أذكر أني رأيتُ بنيسابور مثل ذلك الجمع"
(4).
وذكر الحاكم أنَّه رأى أبا محمَّد ابن الشرقي، فقال في ترجمته في تاريخه
(5): "توفي في ربيع الآخر سنة ثمان وعشرين وثلاثمائة، وله اثنتان وتسعون سنة. وقد رأيته: شيخ طوال أسمر، وله أُذُنان كأنهما مِرْوَحتان، وأصحاب المحابر بين يديه، ولم أُرْزَق السَّماع منه".
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-হাকিমের হাদিস অন্বেষণের সূচনা এবং তাঁর প্রথম শ্রবণআয-যাহাবী বলেন: তিনি তাঁর শৈশবকালেই পিতা ও মামার তত্ত্বাবধানে এই বিষয়ের (হাদিস) অন্বেষণ শুরু করেন
(১)।
আল-খাতীব বলেন: তাঁর প্রথম শ্রবণ ছিল তিনশত ত্রিশ হিজরি সনে
(২)।
সুতরাং তাঁর প্রথম শ্রবণ হলো নয় বছর বয়সে, তবে তিনি সাত বছর বয়স থেকেই মুহাদ্দিসগণের মজলিসে উপস্থিত হতেন। তিনি বলেন: "আমি ছোটবেলায় আবু আলী আস-সাকাফীর
(৩) ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত হয়েছিলাম, আমি তাঁকে তাঁর দোয়ায় বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় দানকারী, অতিশয় দানকারী, অতিশয় দানকারী। আর আমি তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলাম; নিসাবুরে আমি এমন জনসমাবেশ আর দেখেছি বলে মনে পড়ে না"
(৪)।
আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু মুহাম্মদ ইবনুল শারকীকে দেখেছেন। তিনি তাঁর রচিত ইতিহাসের জীবনীতে
(৫) বলেন: "তিনি তিনশত আটাশ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল বিরানব্বই বছর। আমি তাঁকে দেখেছি: তিনি ছিলেন একজন দীর্ঘকায় শ্যামবর্ণের বৃদ্ধ ব্যক্তি, তাঁর কান দুটি ছিল যেন দুটি হাতপাখা। দোয়াতধারীরা তাঁর সামনে উপবিষ্ট থাকত, তবে তাঁর থেকে শ্রবণ করার তাওফিক আমার হয়নি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ورأى الحاكم أبا حامد أحمد بن محمَّد الخشاب ولم يَقَعْ له عنه شيء، وقال: "توفي في يوم عيد الأضحى سنة ثلاثين وثلاثمائة"
(1).
وقال الحاكم في تاريخه: "أحضروني مجلس أبي بكر محمَّد بن الحسين القطان غير مرّة، ولم يصحّ لي عنه شيء، توفي في شوال سنة اثنتين وثلاثين وثلاثمائة"
(2).
وحضور الحاكم لهذه المجالس وهو ما يزال صغيرًا في السّن يدلَّنا على عناية والده به في التبكير به إلى طلب الحديث، وأما بالنسبة إلى السّن التي يُقْبَل فيها سماع الصغير، فقد بوَّب البخاري في صحيحه في كتاب العلم: باب متى يَصِحُّ سَماعُ الصغيرِ، وقال: حدثني محمَّد بن يوسف قال: حدثنا أبو مسهر قال: حدثني محمَّد بن حرب، حدثني الزبيدي، عن الزهري، عن محمود بن الربيع رضي الله عنه قال: عَقَلْتُ من النبي صلى الله عليه وسلم مَجَّةً مَجَّها في وجهي، وأنا ابنُ خمس سنين، من دلو"
(3).
قال ابن كثير في "اختصار علوم الحديث" (الباعث/ ص 103): "يصحُّ تَحَمُّل الصغار الشهادة والأخبار، وكذلك الكفار إذا أدَّوا ما حملوه في حال كمالهم، وهو الاحتلام والإِسلام. وينبغي المباراة إلى إسْماعِ الولدان الحديثَ النبوي. والعادة المطردة في أهل هذه الأعصار وما قبلها بمدد متطاولة: أنَّ الصغير يُكتب له حضور إلى تمام خمس سنين من عمره، ثمَّ بعد ذلك يُسَمَّى سَماعًا، واستأنسوا في ذلك بحديث محمود بن الربيع".
آداب طالب الحديث:قال الخطيب البغدادي في مقدمة كتابه "الجامع لأخلاق الراوي وآداب السَّامع": الواجب أن يكون طلبة الحديث أكملَ الناسِ أدباً، وأشدَّ الخَلْقِ تواضعًا، وأعظمهم نزاهةً وتديُّنًا، وأقلهم طيشًا وغضبًا، لدوام قَرْعِ أسماعهم
--------------------------------------------
আল-হাকিম আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাশশাবকে দেখেছিলেন, তবে তাঁর থেকে কোনো কিছু (হাদিস) অর্জন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন: "তিনি ৩৩০ হিজরির ঈদুল আযহার দিনে মৃত্যুবরণ করেন"
(১).
আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ'-এ বলেন: "তাঁরা আমাকে আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-কাত্তানের মজলিসে একাধিকবার উপস্থিত করেছিলেন, কিন্তু তাঁর থেকে আমার কোনো কিছু (বর্ণনা) শুদ্ধ হয়নি। তিনি ৩৩২ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন"
(২).
অল্প বয়সেই আল-হাকিমের এই মজলিসগুলোতে উপস্থিত হওয়া আমাদের নির্দেশ করে যে, তাঁর পিতা তাঁকে অল্প বয়সেই হাদিস অন্বেষণে নিয়োজিত করার ব্যাপারে কতটা যত্নশীল ছিলেন। আর শিশুর শ্রবণের (সামা') গ্রহণযোগ্যতার বয়সের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থের ইলম অধ্যায়ে পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন: "পরিচ্ছেদ: শিশুর শ্রবণ কখন শুদ্ধ হয়।" তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসহির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন হারব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুবায়দি আমাকে জুহরি থেকে, তিনি মাহমুদ বিন রবী' (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বালতি থেকে এক কুলকুচা পানি নিয়ে আমার মুখে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন, তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর; যা আমি স্মরণ রেখেছি"
(৩).
ইবনে কাসির তাঁর 'ইখতিসার উলুমিল হাদিস' (আল-বাঈস/ পৃ. ১০৩) গ্রন্থে বলেন: "শিশুদের সাক্ষ্য এবং সংবাদ (হাদিস) গ্রহণ করা শুদ্ধ, একইভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রেও, যদি তারা যা (শৈশব বা কুফরি অবস্থায়) গ্রহণ করেছিল তা তাদের পূর্ণতার অবস্থায় (অর্থাৎ বালেগ হওয়া ও ইসলাম গ্রহণের পর) পৌঁছে দেয়। শিশুদেরকে নববী হাদিস শোনানোর ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করা উচিত। এই যুগের এবং এর পূর্বের দীর্ঘ সময়ের মানুষের চিরাচরিত অভ্যাস হলো: শিশুর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার উপস্থিতিকে 'হুজুর' (উপস্থিতি) হিসেবে লেখা হয়, এরপর থেকে একে 'সামা' (শ্রবণ) হিসেবে নামকরণ করা হয়। মাহমুদ বিন রবী'র হাদিস থেকে তারা এই ব্যাপারে দলিল গ্রহণ করেছেন।"
হাদিস অন্বেষণকারীর আদবসমূহ:খাতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'আল-জামি' লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "আবশ্যকীয় হলো হাদিসের ছাত্রদের শিষ্টাচারের দিক থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হওয়া, বিনয়ের দিক থেকে সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে দৃঢ় হওয়া, পবিত্রতা ও ধার্মিকতায় সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়া এবং অস্থিরতা ও ক্রোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম হওয়া; কারণ তাদের কান সর্বদা প্রকম্পিত হয়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
بالأخبار المشتملة على محاسنِ أخلاق رسول الله صلى الله عليه وسلم وآدابه، وسيرة السلف الأخيار من أهل بيته وأصحابه، وطرائق المحدثين، ومآثر الماضين، فيأخذوا بأجملها وأحسنها، ويَصْدِفوا عن أرذلها وأدونها". اهـ.
وأخرج الحاكم في المستدرك
(1) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنما بُعِثتُ لأُتمِّمَ مكارمَ الأخلاق".
ولهذا، فقد اختلف الحاكم منذ بداية طلبه للحديث - وهو في سن الحادية عشرة - إلى مؤدِّب على مدى أربع سنين، لكي يتأدَّب بآداب طالب الحديث.
مؤدِّب الحاكم:هو محمَّد بن علي الأديب، أبو العباس الكرخي، ترجم له الحاكم في تاريخه
(2) فقال: "مؤدبنا، وكان من الأدباء الزهّاد العلماء، ولم يكن بعد ابن سلمة للتأديب بنيسابور مثله، كان يبكّر من منزله إلى أن يجيء إلى مدرسته في سكّة الدهّانين، يقرأ نصف سُبع، ثمَّ يقعد إلى أن نقرأ وِردنا من الأدب عليه. ولقد اختلفتُ إليه أربع سنين، من سنة اثنتين وثلاثين إلى سنة ست، فما رأيته قط أفطر إلا يومي العيد وأيام التشريق، وكان يتعمّم ويرتدي على السُّنَّة، ويُرخي عمامته خلف ظهره. توفي في ذي الحجة سنة ثلاث وأربعين وثلاثمائة".
نبوغه وتقدُّمه منذ بداية طلبه للحديث:
1) استملائه على الحافظ ابن حبان وهو ابن ثلاث عشرة سنة:قال الحاكم في تاريخه
(3): "ولما ورد ابنُ حبَّان نيسابور سنة أربع
--------------------------------------------
"...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্দর চরিত্র ও শিষ্টাচার সম্বলিত সংবাদসমূহ, তাঁর পরিবার ও সাহাবায়ে কিরামের মধ্য থেকে উত্তম পূর্বসূরিদের (সালাফ) জীবনী, মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা এবং পূর্ববর্তীদের কীর্তিসমূহ সম্পর্কে, যাতে তারা এগুলোর মধ্য থেকে সর্বাধিক সুন্দর ও উত্তম বিষয়গুলো গ্রহণ করতে পারে এবং নিকৃষ্ট ও তুচ্ছ বিষয়গুলো পরিহার করতে পারে।" সমাপ্ত।
ইমাম হাকেম তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক'
(১) গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কেবল উন্নত চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।"
এই কারণে হাকেম তাঁর হাদিস অন্বেষণের শুরু থেকেই—যখন তাঁর বয়স মাত্র এগারো বছর—টানা চার বছর একজন শিক্ষকের নিকট যাতায়াত করেছেন, যাতে তিনি হাদিসের ছাত্রের আদব ও শিষ্টাচার শিখতে পারেন।
হাকেমের শিক্ষক:তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আলী আল-আদীব, আবুল আব্বাস আল-কারখী। হাকেম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে
(২) তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: "আমাদের শিক্ষক; তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ আলেম ও সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত। নিশাপুরে শিষ্টাচার শিক্ষার ক্ষেত্রে ইবনে সালামার পর তাঁর মতো আর কেউ ছিলেন না। তিনি খুব ভোরে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে সিক্কাতুদ দাহহানীন-এ অবস্থিত তাঁর মাদরাসায় আসতেন। তিনি (কুরআনের) সাত ভাগের অর্ধেক তিলাওয়াত করতেন, এরপর বসে থাকতেন যতক্ষণ না আমরা তাঁর কাছে আমাদের সাহিত্যের পাঠ সম্পন্ন করতাম। আমি হিজরী ৩৩২ সাল থেকে ৩৩৬ সাল পর্যন্ত চার বছর তাঁর কাছে যাতায়াত করেছি। আমি তাঁকে দুই ঈদের দিন এবং আইয়ামে তাশরীক ব্যতীত কখনো রোজা ভঙ্গ করতে (রোজা ছাড়া থাকতে) দেখিনি। তিনি সুন্নাহ অনুযায়ী পাগড়ি ও চাদর পরিধান করতেন এবং পাগড়ির অবশিষ্টাংশ পিঠের দিকে ঝুলিয়ে রাখতেন। তিনি হিজরী ৩৪৩ সালের জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন।"
হাদিস অন্বেষণের শুরু থেকেই তাঁর মেধা ও অগ্রগামিতা:
১) তেরো বছর বয়সে হাফেজ ইবনে হিব্বানের নিকট তাঁর শ্রুতিলিপি গ্রহণ:হাকেম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে
(৩) বলেছেন: "যখন ইবনে হিব্বান হিজরী [৩]৩৪ সালে নিশাপুরে আসলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وثلاثين، حضرناه يوم جمعة بعد الصلاة، فلما سألناه الحديث نظر إلى الناس وأنا أصغرهم سِنًّا، فقال: استملِ، فقلت: نعم. فاستمليتُ عليه".
2) شروعه في تصنيف الكتب وهو ابن ست عشرة سنة:قال عبد الغافر الفارسي في ترجمته للحاكم: "وقد شرع الحاكم في التصنيف سنة سبع وثلاثين، فاتفق له من التصانيف ما لعلّه يبلغُ قريبًا من ألف جزءٍ"
(1).
3) إفادته في المذاكرة لأبي أحمد الحاكم وهو ابن تسع عشرة سنة:وقد حصلت هذه المذاكرة سنة أربعين وثلاثمائة كما ذكرها الحاكم في تاريخه
(2)، فقال: "
… فقام أبو علي الحافظ ومعه أبو الحسين الحجاجي وأبو العباس الدقاق وأبو إسحاق الأبزاري وأحمد بن طاهر وجماعتنا، فلما دخلنا على أبي أحمد الحاكم قال لهم: قد غِبْتُ عنكم سبع عشرة سنة، اذكروا بكل سنة منها حديثًا أستفيده"، فابتدأت المذاكرة وكُلٌّ يدلي بدلوه من دون فائدة تُقْنِع أبا أحمد الحاكم، حتى قال الحاكم: "فقلتُ: أنبأنا عن أبي العُمَيس، عن الشعبي، عن فاطمة بنت قيس قصة الجسّاسة
(3)، فقال أبو أحمد: هذا نعم، هذا من غرر الحديث، وقد فاتني".
4) إمامته في الجرح والتعديل وعلل الحديث وهو دون الحادي والعشرين سنة:قال عبد الغافر الفارسي في ترجمته للحاكم
(4): "واختصّ الحاكم بصحبة إمام وقته أبي بكر محمَّد
(5) بن إسحاق بن أيوب الصبغي، فكان في
--------------------------------------------
...এবং ত্রিশ [হিজরি সালে], আমরা জুমার নামাজের পর তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। যখন আমরা তাঁকে হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি লোকজনের দিকে তাকালেন এবং আমি তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট ছিলাম। তিনি বললেন: ‘ইমলা (শ্রুতিলিপি) গ্রহণ করো’। আমি বললাম: ‘হ্যাঁ’। অতঃপর আমি তাঁর থেকে ইমলা গ্রহণ করলাম।
২) ষোলো বছর বয়সে তাঁর কিতাব রচনা শুরু:আল-হাকিমের জীবনীতে আব্দুল গাফির আল-ফারিসি বলেন: "হাকিম তিনশ সাইত্রিশ হিজরি সালে কিতাব রচনা শুরু করেন। তাঁর রচিত কিতাবসমূহের সংখ্যা সম্ভবত প্রায় এক হাজার জুজ (খণ্ড) পর্যন্ত পৌঁছেছে।"
(১).
৩) উনিশ বছর বয়সে আবু আহমাদ আল-হাকিমের সাথে হাদিস আলোচনায় তাঁর অবদান:এই মুজাকারা (হাদিস আলোচনা) তিনশ চল্লিশ হিজরি সালে হয়েছিল, যেমনটি হাকিম তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন
(২)। তিনি বলেন: " ...অতঃপর আবু আলী আল-হাফিয দাঁড়ালেন, তাঁর সাথে ছিলেন আবু আল-হুসাইন আল-হাজ্জাজি, আবু আল-আব্বাস আদ-দাক্কাক, আবু ইসহাক আল-আবজারি, আহমাদ ইবনে তাহির এবং আমাদের দলটি। যখন আমরা আবু আহমাদ আল-হাকিমের কাছে প্রবেশ করলাম, তিনি তাদের বললেন: ‘আমি সতেরো বছর আপনাদের থেকে অনুপস্থিত ছিলাম। এই সময়ের প্রতিটি বছরের বদলে একটি করে হাদিস উল্লেখ করুন, যা থেকে আমি উপকৃত হতে পারি।’" অতঃপর মুজাকারা শুরু হলো এবং প্রত্যেকেই তাদের জ্ঞান উপস্থাপন করতে লাগলেন, কিন্তু আবু আহমাদ আল-হাকিম সন্তুষ্ট হতে পারেন এমন কোনো তথ্য পাচ্ছিলেন না। অবশেষে (আল-) হাকিম বলেন: "আমি বললাম: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল উমাইস, তিনি শাবি থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স থেকে জাসসাসার (গোয়েন্দা প্রাণী) কাহিনী বর্ণনা করেছেন
(৩)। তখন আবু আহমাদ বললেন: ‘হ্যাঁ, এটিই সেই চমৎকার হাদিস যা আমার কাছে ছিল না’।"
৪) একুশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই জারহ-তাদিল ও হাদিসের ইল্লাত (সুক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ে তাঁর ইমামত বা দক্ষতা:আল-হাকিমের জীবনীতে আব্দুল গাফির আল-ফারিসি বলেন
(৪): "আল-হাকিম তাঁর সময়ের ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ
(৫) ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব আস-সিবগির বিশেষ সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الخواص عنده والمرموقين، وكان يراجعه في السؤال عن الجرح والتعديل وعلل الحديث، ويقدمه على أقرانه".
وقال الحافظ أبو حازم عمر بن أحمد العبدوي: "سمعت مشايخنا يقولون: كان الشيخ أبو بكر بن إسحاق وأبو الوليد
(1) يرجعان إلى أبي عبد الله في السؤال عن الجرح والتعديل وعلل الحديث وصحيحه وسقيمه"
(2).
5) تولّيه أمور مدرسة دار السّنّة وأوقاف أبي بكر الصبغي وهو دون الحادي والعشرين سنة:قال عبد الغافر الفارسي في ترجمته للحاكم
(3): "وأدى اختصاص أبي بكر الصبغي به واعتماده أنَّه أوصى إليه في أمور مدرسته دار السّنّة، وفوّض إليه تولية أوقافه، واستضاء برأيه في أموره اعتمادًا على حسن ديانته ووفور أمانته".
6) شهادة شيخه أبي علي الحافظ بتميّزه في سِنِّه:قال الحاكم في تاريخه
(4): "ذكرنا يومًا ما روى سليمان التيمي عن أنس، فمررتُ أنا في الترجمة، وكان بحضرة أبي علي رحمه الله وجماعة من المشايخ، إلى أن ذكرت حديث "لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن"، فحمل بعضهم عَلَيَّ، فقال أبو علي له: لا تفعل، فما رأيتَ أنتَ ولا نحن في سِنِّه مثله"
(5).
--------------------------------------------
তাঁর নিকট বিশিষ্ট ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি জারাহ-তাদীল এবং হাদিসের ইলল (ত্রুটি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে তাঁর শরণাপন্ন হতেন এবং তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন।"
হাফেজ আবু হাযেম উমর ইবনে আহমাদ আল-আবদুওয়ী বলেন: "আমি আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি: শায়খ আবু বকর ইবনে ইসহাক এবং আবুল ওয়ালিদ
(১) জারাহ-তাদীল, হাদিসের ইলল এবং সহিহ ও যয়িফ হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে আবু আব্দুল্লাহর শরণাপন্ন হতেন"
(২)।
৫) একুশ বছর বয়সের পূর্বেই দারুস সুন্নাহ মাদরাসার কার্যাবলি ও আবু বকর আস-সিবগির ওয়াকফসমূহের দায়িত্বভার গ্রহণ:আব্দুল গাফির আল-ফারিসি হাকেমের জীবনীতে
(৩) বলেন: "আবু বকর আস-সিবগির সাথে তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁর ওপর আস্থার কারণে তিনি তাঁর দারুস সুন্নাহ মাদরাসার কার্যাবলি পরিচালনার জন্য তাঁকে ওসিয়ত করেন, তাঁর ওয়াকফসমূহের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং তাঁর উত্তম দ্বীনদারী ও পূর্ণ আমানতদারিতার ওপর ভরসা করে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামতের মাধ্যমে আলোকবর্তিকা গ্রহণ করতেন।"
৬) তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তাঁর শায়খ আবু আলী আল-হাফেজের সাক্ষ্য:হাকেম তাঁর তারিখ গ্রন্থে
(৪) বলেন: "একদিন আমরা আনাস থেকে সুলায়মান আত-তাইমীর বর্ণিত হাদিসগুলো নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমি বর্ণনাকারীদের জীবনী আলোচনা করছিলাম, তখন আবু আলী (রহ.) এবং শায়খদের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আমি 'ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না' হাদিসটি উল্লেখ করি। তখন উপস্থিতদের কেউ একজন আমার ওপর চড়াও হলেন। তখন আবু আলী তাকে বললেন: এমন করো না, কারণ তুমি বা আমরা—কেউই তাঁর বয়সে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
7) رواية شيخه عنه وهو ابن ستٍّ وعشرين سنة:قال الذهبي
(1): "قال الحافظ أبو صالح المؤذن: أخبرنا مسعود بن علي السجزي
(2)، حدثنا أبو بكر محمَّد بن الحسن بن فورك، حدثنا الحافظ أبو عمرو محمَّد بن أحمد بن جعفر البحيري، حدثنا أحمد بن محمَّد بن الفضل بن مطرِّف الكرابيسي في سنة سبع وأربعين وثلاثمائة، حدثنا محمَّد بن عبد الله بن حمدويه الحافظ، حدثنا أحمد بن سلمان النجاد، حدثنا محمَّد بن عثمان، حدثنا يحيى الحِماني، حدثنا سُعَير بن الخمس، عن عبيد الله، عن القاسم، عن عائشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم: "إنَّ بلالًا يؤذِّنُ بليل، فكُلُوا واشربوا حتى يؤذِّن ابن أُمِّ مكتوم"
(3).
ثمَّ قال مسعود السجزي: حدثنيه الحاكم غير مرة بهذا.
وقد كان الحاكم لما روى عنه الكرابيسي هذا شابًّا طريًّا، [ابن] ستٍّ وعشرين سنة".
طلبه لمختلف العلوم والفنون:قال الذهبي
(4):
قرأ القرآن العظيم على أبي عبد الله محمَّد بن أبي منصور الصرّام، وابن الإمام المقرئ، وأحمد بن سهل الأشناني وغيره بنيسابور، وأبي علي بن النقار مقرئ الكوفة، وأبي عيسى بكار مُقرئ بغداد.
وتفقّه على أبي علي بن أبي هريرة، وأبي الوليد حسّان بن محمَّد، وأبي سهل محمَّد بن سليمان الصعلوكي.
--------------------------------------------
৭) তাঁর ছাব্বিশ বছর বয়সে তাঁর নিকট থেকে তাঁর শিক্ষকের বর্ণনা:আয-যাহাবী
(১) বলেন: "হাফেয আবু সালিহ আল-মুয়াযযিন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাসউদ বিন আলী আস-সিজযী
(২), আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন ফুরাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাফেয আবু আমর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন জাফর আল-বুহাইরী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল বিন মুতাররিফ আল-কারাবিসী তিনশ সাতচল্লিশ হিজরীতে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাফেয মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামদুয়াইহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন সালমান আন-নাজ্জাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন উসমান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া আল-হিমানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুআইর বিন আল-খুমুস, উবায়দুল্লাহর সূত্রে, আল-কাসিমের সূত্রে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বিলাল রাতে আযান দেয়, সুতরাং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম আযান দেয়"
(৩)।
অতঃপর মাসউদ আস-সিজযী বলেন: আল-হাকিম আমার নিকট এটি একাধিকবার বর্ণনা করেছেন।
কারাবিসী যখন তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছিলেন তখন আল-হাকিম ছিলেন একজন নবীন যুবক, [বয়স] ছাব্বিশ বছর"।
বিভিন্ন জ্ঞান ও শাস্ত্র অন্বেষণ:আয-যাহাবী
(৪) বলেন:
তিনি মহান কুরআন পাঠ করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি মানসুর আস-সাররাম, ইবনুল ইমাম আল-মুকরী, আহমাদ বিন সাহল আল-উশনানী এবং নিশাপুরের আরও অনেকের নিকট; আর কুফার মুকরী আবু আলী বিন আন-নাক্কার এবং বাগদাদের মুকরী আবু ঈসা বাক্কারের নিকট।
তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন আবু আলী বিন আবি হুরাইরাহ, আবু আল-ওয়ালিদ হাসান বিন মুহাম্মাদ এবং আবু সাহল মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আস-সালুকীর নিকট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وأخذ فنون الحديث عن أبي علي الحافظ، وأبي بكر محمَّد بن عمر الجعابي، وأبي أحمد الحاكم، وأبي الحسن الدارقطني، وعدة.
وقال أبو حازم عمر بن أحمد العبدوي الحافظ
(1):
صحب مشايخ التصوف أبا عمرو بن نجيد، وأبا الحسن البوشنجي، وأبا سعيد أحمد بن يعقوب الثقفي، وأبا نصر الصفار، وأبا القاسم الرازي، وبالعراق جعفر بن نصير وأقرانه، وبالحجاز أبا عمرو الزجاجي، وجعفر بن إبراهيم الحذاء، وكان يكثر الاختلاف إلى الشيخ أبي عثمان المغربي.
* * *
--------------------------------------------
তিনি হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা শিক্ষা লাভ করেছেন আবু আলী আল-হাফিয, আবু বকর মুহাম্মদ বিন উমর আল-জা'আবী, আবু আহমদ আল-হাকিম, আবু হাসান আদ-দারাকুতনী এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।
এবং আবু হাযিম উমর বিন আহমদ আল-আবদুওয়ী আল-হাফিয
(১) বলেছেন:
তিনি তাসাউফের শায়খগণের সাহচর্য লাভ করেছেন, যথা— আবু আমর বিন নুজাইদ, আবু হাসান আল-বুশাঞ্জী, আবু সাঈদ আহমদ বিন ইয়াকুব আস-সাকাফী, আবু নাসর আস-সাফফার এবং আবুল কাসিম আর-রাযী। ইরাকে জাফর বিন নুসায়ের ও তাঁর সমসাময়িকদের সাথে এবং হিজাজে আবু আমর আয-যুযাজী ও জাফর বিন ইব্রাহিম আল-হাদ্দায়ের সাথে। তিনি শায়খ আবু উসমান আল-মাগরিবীর নিকট অধিক যাতায়াত করতেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الفصل الثالث: شيوخ الحاكم
1) عدد شيوخه:قال أبو حازم عمر بن أحمد العبدوي الحافظ: وليس يمكن حصر شيوخ الحاكم، فإن معجمه على شيوخه يقرب من ألفي رجل.
وقال عبد الغافر الفارسي: روى عن ألف شيخ أو أكثر من أهل الحديث.
وقال الذهبي: وسمع من نحو ألفي شيخ، ينقصون أو يزيدون فإنَّه سمع بنيسابور وحدها من نحو ألف شيخ، وسمع بالعراق وغيرها من البلدان مِن نحو ألف شيخ.
إن قول الذهبي: (سمع بنيسابور وحدها من نحو ألف شيخ) ليس مبالغًا فيه، بل هو الأقرب إلى الصحة. فبالنظر إلى الطبقة الأخيرة من تاريخ نيسابور التي قال فيها الحاكم: "نشرع الآن في أسامي الذين أدركتهم ورُزِقْتُ السَّماع منهم بنيسابور"، نجد أن عدد شيوخه يبلغ التسعمائة وخمسين شيخًا تقريبًا، وبالنظر إلى "اللاحقة" التي أضافها كذيل على الطبقة الأخيرة من تاريخه نجد أن عدد شيوخه فيها يبلغ المائة تقريبًا، فيصبح عدد شيوخه الذين أدركهم ورُزِقَ السَّماع منهم بنيسابور وحدها قرابة الألف وخمسين شيخًا.
তৃতীয় অধ্যায়: আল-হাকিমের শিক্ষকগণ১) তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা:হাফিজ আবু হাযিম উমর ইবনে আহমদ আল-আবদুওয়ী বলেন: আল-হাকিমের শিক্ষকদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ তাঁর শিক্ষকদের নিয়ে রচিত তাঁর মু'জাম (অভিধান) প্রায় দুই হাজার ব্যক্তির কাছাকাছি।
আব্দুল গাফির আল-ফারিসি বলেন: তিনি আহলে হাদিসদের মধ্য থেকে এক হাজার বা তারও বেশি শিক্ষকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আয-যাহাবী বলেন: তিনি প্রায় দুই হাজার শিক্ষকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, যা কিছু কম বা বেশি হতে পারে। কেননা তিনি কেবল নিশাপুরেই প্রায় এক হাজার শিক্ষকের নিকট শ্রবণ করেছেন এবং ইরাক ও অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় এক হাজার শিক্ষকের নিকট শ্রবণ করেছেন।
ইমাম আয-যাহাবীর এই উক্তি: (তিনি কেবল নিশাপুরেই প্রায় এক হাজার শিক্ষকের নিকট শ্রবণ করেছেন) এটি অতিরঞ্জিত নয়, বরং এটি সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি। নিশাপুরের ইতিহাসের শেষ স্তর পর্যালোচনার মাধ্যমে যেখানে আল-হাকিম বলেছেন: "আমরা এখন তাদের নাম উল্লেখ শুরু করছি যাদেরকে আমি পেয়েছি এবং নিশাপুরে তাদের নিকট থেকে শ্রবণের সৌভাগ্য লাভ করেছি", আমরা দেখতে পাই যে তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় নয়শত পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছে। আর তাঁর ইতিহাসের শেষ স্তরের সাথে পরিশিষ্ট হিসেবে যা তিনি যোগ করেছেন তা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে সেখানে তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় একশতে পৌঁছেছে। ফলে কেবল নিশাপুরেই তিনি যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং যাদের নিকট থেকে শ্রবণের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন তাদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার পঞ্চাশ জনে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
2) سبب كثرتهم:إن تبكير الحاكم في طلب العلم - وهو دون العاشرة من عمره - واعتناء والده وخاله به في توجيهه باكرًا إلى طلب العلم، وكون والده من أهل العلم والرواية، وإحضاره للحاكم إلى مجالس أهل العلم للسَّماع، وزيارة أهل العلم لوالده في منزله والإقامة عنده، كل هذه الأسباب وفّرت للحاكم بيئة علمية غنية حفّزته على تحصيل الأسانيد العالية والسَّماع مما يزيد على ألف شيخ في بلده نيسابور وحدها.
3) همّة الحاكم:ونسوق هنا قصة تصوِّر لنا همّة الحاكم وصبره وسعيه لفترة طويلة على طلب شيخ له حتى ظفر به، قال الحاكم في تاريخه
(1): "دخلتُ مرو وما وراء النهر
(2) فلم أظفر بأبي مسلم عبد الرحمن بن محمَّد البغدادي، وفي سنة خمس وستين في الحج طلبته في القوافل فأخفى نفسه، فحججتُ سنة سبع وستين وعندي أنَّه بمكة، فقالوا: هو ببغداد، فاستوحَشْت من ذلك وتطَلَّبته فلم أظفر به، ثمَّ قال لي أبو نصر الملاحمي ببغداد: هنا شيخ من الأبدال تشتهي أن تراه؟ قلت: بلى، فذهب بي فأدخلني خان الصبّاغين، فقالوا: خرج، فقال أبو نصر: نجلس في هذا المسجد فإنَّه يجيء، فقعدنا. وأبو نصر لم يذكر لي من الشيخ، فأقبل أبو نصر ومعه شيخ نحيف ضعيف برداء، فسَلَّمَ عليَّ، فأُلهِمْتُ أنَّه أبو مسلم الحافظ، فبينا نحن نحدِّثه إذ قلتُ له: وجد الشيخ ها هنا من أقاربه أحدًا؟ قال: الذين أردت لقاءهم انقرضوا، فقلتُ له: هل خَلَّفَ إبراهيم ولدًا؟ - أعني أخاه إبراهيم الحافظ -، فقال: ومن أين عرفت أخي إبراهيم؟ فسكتُّ، فقال لأبي نصر: من هذا الكهل
(3)؟ فقال: أبو فلان، فقام إليَّ وقمتُ إليه، وشكا شوقه وشكوت مثله، واشتفينا من المذاكرة، وجالسته مرارًا".
--------------------------------------------
২) তাদের আধিক্যের কারণ:ইলম অর্জনে আল-হাকিমের অল্প বয়সে ব্রতী হওয়া—যখন তার বয়স দশ বছরেরও কম ছিল—এবং তাকে ইলম অন্বেষণে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পিতা ও মামার বিশেষ যত্ন, তার পিতার ইলম ও বর্ণনার অধিকারী হওয়া, আল-হাকিমকে ইলম শোনার (সামা‘র) জন্য আলিমদের মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত করা এবং আলিমদের তার পিতার বাড়িতে আসা-যাওয়া ও সেখানে অবস্থান করা—এই সকল কারণ আল-হাকিমের জন্য একটি সমৃদ্ধ ইলমি পরিবেশ তৈরি করেছিল। যা তাকে উচ্চতর সনদ অর্জন করতে এবং শুধুমাত্র তার নিজ শহর নিশাপুরেই এক হাজারের বেশি শাইখের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
৩) আল-হাকিমের হিম্মত:এখানে আমরা একটি কাহিনী বর্ণনা করছি যা আল-হাকিমের হিম্মত (উচ্চাকাঙ্ক্ষা), ধৈর্য এবং একজন শাইখকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে ফুটিয়ে তোলে। আল-হাকিম তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে বলেছেন
(১): "আমি মার্ভ এবং মা ওরাউন নাহরে
(২) প্রবেশ করলাম, কিন্তু আবু মুসলিম আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদিকে খুঁজে পেলাম না। ৩৬৫ হিজরিতে হজের সময় কাফেলাগুলোতে আমি তাকে অনেক খুঁজেছি, কিন্তু তিনি নিজেকে আত্মগোপন করে রেখেছিলেন। অতঃপর ৩৬৭ হিজরিতে আমি এই বিশ্বাস নিয়ে হজ করলাম যে তিনি মক্কায় আছেন, কিন্তু লোকেরা বলল: তিনি বাগদাদে। এতে আমি ব্যথিত হলাম এবং তাকে সন্ধান করলাম কিন্তু পেলাম না। অতঃপর বাগদাদে আবু নাসর আল-মালাহিমি আমাকে বললেন: ‘এখানে আবদালদের অন্তর্ভুক্ত একজন শাইখ আছেন, আপনি কি তাকে দেখতে চান?’ আমি বললাম: ‘হ্যাঁ’। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন এবং ‘খানুস সাব্বাগিন’ নামক স্থানে প্রবেশ করালেন। সেখানকার লোকেরা বলল: ‘তিনি বাইরে গেছেন’। আবু নাসর বললেন: ‘আমরা এই মসজিদে বসি, তিনি অবশ্যই আসবেন’। আমরা বসলাম। আবু নাসর আমার কাছে শাইখের নাম প্রকাশ করেননি। এমতাবস্থায় আবু নাসর আসলেন এবং তার সাথে চাদর পরিহিত একজন কৃশ ও দুর্বল শাইখ ছিলেন। তিনি আমাকে সালাম দিলেন, তখন আমার অন্তরে ইলহাম হলো যে তিনিই আবু মুসলিম আল-হাফিয। আমাদের কথা বলার একপর্যায়ে আমি তাকে বললাম: ‘শাইখ কি এখানে তার কোনো আত্মীয়কে পেয়েছেন?’ তিনি বললেন: ‘যাদের সাথে আমি দেখা করার ইচ্ছা পোষণ করতাম তারা সবাই গত হয়েছেন’। আমি তাকে বললাম: ‘ইব্রাহিম কি কোনো সন্তান রেখে গেছেন?’—আমি তার ভাই ইব্রাহিম আল-হাফিযের কথা বুঝিয়েছিলাম। তিনি বললেন: ‘আপনি আমার ভাই ইব্রাহিমকে কোত্থেকে চিনলেন?’ আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবু নাসরকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘এই প্রৌঢ়
(৩) ব্যক্তিটি কে?’ তিনি বললেন: ‘আবু অমুক’। তখন তিনি আমার দিকে উঠে আসলেন এবং আমিও তার দিকে উঠে গেলাম। তিনি তার ব্যাকুলতার কথা জানালেন এবং আমিও অনুরূপ আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করলাম। ইলমি আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরিতৃপ্ত হলাম এবং আমি তার সাথে বহুবার মজলিসে বসেছি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
4) شره الحاكم في السَّماع:وقد يكون شيخ الحاكم من الضعفاء الكذابين المعروفين بسرقة الأحاديث، ومع عِلْمِ الحاكم بحاله يروي عنه، وما يحمله على ذلك إلا الشَّرَه، كما حكى عن نفسه في تاريخه
(1) في ترجمة أبي علي محمَّد بن علي البرنوذي المذَكِّر؛ قال: "لو اقتصر أبو علي على هؤلاء الشيوخ لصار محدِّث عصره، ولكنه أبى إلا أن يحدِّث عن جماعة من شيوخ أبيه لم يسمع منهم، مثل محمَّد بن رافع وعلي بن سلمة اللبقي وعلي بن الحسن الأفطسي وعتيق بن محمَّد الحرشي وأقرانهم، ثمَّ لم يقتصر على ذلك أيضًا حتى حدَّث عن هؤلاء الشيوخ بما لم يُتَابَع عليه. هذه حاله، والشَّرَه يحملنا على الرواية عن أمثاله، فقد روى السلف عنهم
(2).
سرق أبو علي المذكر حديث الأعمال، فحدثنا به عن عبد الله بن هاشم، عن يحيى بن سعيد القطان، عن يحيى بن سعيد الأنصاري [بسنده]. وهذا كان تفرّد به علي بن محمَّد بن العلاء عن أبي هاشم، ثمَّ حدَّث به أبو بكر الذهبي عن أبي هاشم، ثمَّ سرقه منهما أبو علي".
5) بعض شيوخه الذين رووا عنه:
أ - أبو الحسن علي بن عمر الدارقطني:كان فريد عصره، وقريع دهره، ونسيج وحده، وإمام وقته بلا مدافعة. قال الحاكم: "صار واحد عصره في الحفظ والفهم والورع، وإمامًا في القرّاء والنحويين، أول ما دخلت بغداد كان يحضر المجالس وسنّه دون الثلاثين، وكان أحد الحفاظ، ثمَّ صحبنا في رحلتي الثانية وقد زاد على ما كنت شاهدته، وحجَّ شيخنا أبو عبد الله بن أبي ذهل سنة ثلاث وخمسين وثلاثمائة
--------------------------------------------
৪) হাদিস শ্রবণের প্রতি হাকিমের লালসা:কখনও কখনও হাকিমের উস্তাদ এমন দুর্বল ও চরম মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হতেন যারা হাদিস চুরির জন্য পরিচিত ছিলেন। হাকিম তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তাদের থেকে বর্ণনা করতেন; মূলত হাদিস সংগ্রহের লালসা ছাড়া আর কিছুই তাকে এমন করতে প্ররোচিত করত না। যেমনটি তিনি নিজেই তাঁর ‘তারিখ’ (ইতিহাস) গ্রন্থে
(১) আবু আলি মুহাম্মদ বিন আলি আল-বারনুজি আল-মুযাককিরের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: “যদি আবু আলি এই উস্তাদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হতেন; কিন্তু তিনি তাঁর পিতার একদল উস্তাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে অনড় ছিলেন যাদের কাছ থেকে তিনি সরাসরি কিছুই শোনেননি। যেমন: মুহাম্মদ বিন রাফে, আলি বিন সালামাহ আল-লাবাকি, আলি বিন আল-হাসান আল-আফতাসি, আতিক বিন মুহাম্মদ আল-হারাসি এবং তাঁদের সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ। এমনকি তিনি কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এই উস্তাদদের থেকে এমন সব বর্ণনা করেছেন যার কোনো সমর্থিত বর্ণনা (মুতাবায়াত) নেই। এই হলো তাঁর অবস্থা, আর লালসাই আমাদের তাঁর মতো ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করে, কেননা সালাফগণও তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন
(২)।
আবু আলি আল-মুযাককির আমল সংক্রান্ত হাদিসটি চুরি করেছেন এবং সেটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন হাশিম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি থেকে [নিজ সনদে]। এই হাদিসটি আবু হাশিম থেকে বর্ণনায় আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা একক ছিলেন; এরপর আবু বকর আয-যাহাবি এটি আবু হাশিম থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর আবু আলি তাঁদের উভয়ের কাছ থেকে এটি চুরি করেন।”
৫) তাঁর কিছু উস্তাদ যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন:
ক - আবু আল-হাসান আলি বিন উমর আদ-দারা কুতনি:তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অদ্বিতীয়, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠতম, অতুলনীয় এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজ সময়ের ইমাম। হাকিম বলেছেন: “তিনি মুখস্থশক্তি, বোধশক্তি ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন এবং ক্বারী ও ব্যাকরণবিদদের ইমাম ছিলেন। আমি যখন প্রথম বাগদাদে প্রবেশ করি, তখন তিনি বিভিন্ন মজলিসে উপস্থিত হতেন অথচ তাঁর বয়স ছিল ত্রিশের নিচে এবং তিনি অন্যতম হাফেজ ছিলেন। এরপর আমার দ্বিতীয় সফরে তিনি আমাদের সঙ্গী হন এবং আমি পূর্বে যা প্রত্যক্ষ করেছিলাম তার চেয়েও তিনি অনেক বেশি জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছিলেন। আমাদের উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ বিন আবু যুহল তিনশত তিপ্পান্ন হিজরি সনে হজ পালন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وانصرف، فكان يصف حفظه وتفرده بالتقدم حتى استنكرت وصفه، إلى أن حججت سنة سبع وستين، فلما انصرفت إلى بغداد أقمت بها زيادة على أربعة أشهر، وكثر اجتماعنا بالليل والنهار، فصادفته فوق ما كان وصفه الشيخ أبو عبد الله، وسألته عن العلل والشيوخ، ودوَّنت أجوبته عن سؤالاتي، وقد سمعها مني أصحابي"
(1).
وقال أبو ذر الهروي: "قلتُ للحاكم: رأيتُ مثل الدارقطني؟ فقال: هو لم يَرَ مثل نفسه، فكيف رأيتُ أنا؟ "
(2).
وقال الحاكم: "ورد عليَّ كتاب شيخنا أبي عبد الرحمن السلمي - سلّمه الله - من مدينة السلام يذكر بخط يده وفاة الشيخ الحافظ أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني يوم الخميس لثمانٍ خلون من ذي القعدة من سنة خمس وثمانين، وقد قعدتُ للإملاء وكثر الدعاء والبكاء، ثمَّ أمليتُ عنه حديثًا، وذكرت بعده تاريخ وفاته من خط أبي عبد الرحمن، ثمَّ شهدتُ بالله أنَّه لم يخلف على أديم الأرض مثله في معرفة حديث رسول رب العالمين صلوات الله عليه وعلى آله أجمعين، وذلك في حديث أصحابه المنتخبين، والأئمة من التابعين، وأتباع التابعين، رضي الله عنهم أجمعين"
(3).
ومن رواية الدارقطني عن الحاكم ما ذكره في تاريخه
(4) قال: "حدثنا أبو بكر بن إسحاق، حدثنا يوسف بن يعقوب القزويني، حدثنا سعيد بن يحيى الأصبهاني، حدثنا سُعَير بن الخِمس، عن أبي إسحاق، عن أبي الأحوص، عن عبد الله قال: "من أحبَّ أن يلقى الله غدًا مسلمًا، فليحافظ على هؤلاء الصلوات الخمس حيث يُنادى بهن".
كتب عني الدارقطني هذا، وقال: ما كتبته عن أحدٍ قط".
--------------------------------------------
...এবং তিনি ফিরে গেলেন। তিনি তাঁর মুখস্থশক্তি এবং শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে অনন্যতার এমন বর্ণনা দিতেন যে, আমি তাঁর সেই বর্ণনাকে অবিশ্বাস্য মনে করতাম। অবশেষে আমি তিনশ সাতষট্টি হিজরিতে হজ্জ পালন করলাম। যখন আমি বাগদাদে ফিরে এলাম, সেখানে চার মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করলাম এবং দিন-রাত আমাদের মাঝে প্রচুর সাক্ষাৎ হতে লাগল। তখন আমি তাঁকে শায়খ আবু আব্দুল্লাহ যেমন বর্ণনা করেছিলেন, তার চেয়েও উন্নত স্তরে পেলাম। আমি তাঁকে ইলমে ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও শায়খদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং আমার প্রশ্নের উত্তরে তাঁর প্রদানকৃত জবাবসমূহ লিপিবদ্ধ করলাম; আমার সাথীরাও আমার নিকট থেকে সেগুলো শুনেছে।
(১)আবু যার আল-হারাবী বলেন: "আমি আল-হাকিমকে বললাম: আপনি কি দারাকুতনীর মতো কাউকে দেখেছেন? তিনি বললেন: তিনি নিজেই তো নিজের মতো কাউকে দেখেননি, তবে আমি কীভাবে দেখব?"
(২)আল-হাকিম বলেন: "শান্তির শহর (বাগদাদ) থেকে আমাদের শায়খ আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী —আল্লাহ তাঁকে শান্তিতে রাখুন— এর একটি পত্র আমার নিকট পৌঁছেছে। তিনি তাতে নিজ হাতে শায়খ হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনীর মৃত্যুসংবাদ উল্লেখ করেছেন, যা তিনশ পঁচাশি হিজরির যিলকদ মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সংঘটিত হয়েছে। আমি তখন হাদিস পাঠ (ইমলা) করানোর জন্য বসেছিলাম এবং প্রচুর দোয়া ও কান্নাকাটি হলো। এরপর আমি তাঁর পক্ষ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করলাম এবং আবু আব্দুর রহমানের হস্তলিখিত লিপি থেকে তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করলাম। অতঃপর আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাব্বুল আলামীনের রাসুলের —তাঁর ওপর এবং তাঁর সকল পরিবারের ওপর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক— হাদিস সম্পর্কে জ্ঞানের ক্ষেত্রে ভূপৃষ্ঠে তাঁর মতো কোনো উত্তরসূরি তিনি রেখে যাননি। আর তা ছিল তাঁর মনোনীত সাথীগণ, তাবিঈন ইমামগণ এবং তাবি-তাবিঈনদের হাদিসের ক্ষেত্রে, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।"
(৩)আল-হাকিম থেকে আদ-দারাকুতনীর বর্ণনাসমূহের মধ্যে একটি হলো যা তিনি তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন
(৪), তিনি বলেন: "আবু বকর ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-কাযওয়িনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুআইর ইবনে আল-খিমস আমাদের নিকট আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'যে ব্যক্তি আগামীকাল মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে, সে যেন এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হয় যেখানে এগুলোর জন্য আহ্বান (আজান) করা হয়'।"
আদ-দারাকুতনী আমার নিকট থেকে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি এটি ইতিপূর্বে আর কারো নিকট থেকে লিপিবদ্ধ করিনি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ب - أحمد بن أبي عثمان سعيد، أبو الحسن الحيري (1):
ترجم له الحاكم في تاريخه (ترجمة/ 36).
ج - إبراهيم بن محمَّد بن يحيى، أبو إسحاق المزكي (2):
ترجم له الحاكم في تاريخه (ترجمة/ 165).
د - محمَّد بن علي بن إسماعيل، أبو بكر القفال الشاشي (3):
ترجم له الحاكم في تاريخه (ترجمة/ 773) وقال: "كتبت عنه وكتب عني بخط يده".
6) النساء اللاتي روى عنهن الحاكم:
أ - جمعة بنت أحمد بن محمَّد بن عبيد الله الرئيس النيسابورية:ترجم لها الحاكم في تاريخه
(4) وقال: "هي من ولد عثمان بن عفان رضي الله عنه".
ب - خديجة بنت أحمد بن محمَّد بن رجاء القاضي النيسابورية:ترجم لها الحاكم في تاريخه
(5) فقال: "كان أبوها أبو رجاء قاضي القضاة، تفقهت على أبيها، عاشت أكثر من مائة سنة، وكانت تحسن العربية والكتابة، وسمعت من أبي يحيى البزار، توفيت سنة اثنتين وسبعين وثلاثمائة".
ج - ربطة بنت عبد الله العابدة الزاهدة النيسابورية (6).
--------------------------------------------
খ - আহমদ বিন আবী উসমান সাঈদ, আবু আল-হাসান আল-হীরী (১):
আল-হাকিম তাঁর তারীখ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন (জীবনী/ ৩৬)।
গ - ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, আবু ইসহাক আল-মুযাক্কী (২):
আল-হাকিম তাঁর তারীখ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন (জীবনী/ ১৬৫)।
ঘ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইসমাঈল, আবু বকর আল-কাফফাল আশ-শাশী (৩):
আল-হাকিম তাঁর তারীখ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন (জীবনী/ ৭৭৩) এবং বলেছেন: "আমি তাঁর থেকে লিখেছি এবং তিনিও তাঁর নিজ হাতে আমার থেকে লিখেছেন।"
৬) যে সকল নারীগণের নিকট থেকে আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন:
ক - জুমুআহ বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আর-রাইস আন-নিসাবুরী:আল-হাকিম তাঁর তারীখ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন
(৪) এবং বলেছেন: "তিনি উসমান বিন আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর।"
খ - খাদীজাহ বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন রাজা আল-কাযী আন-নিসাবুরী:আল-হাকিম তাঁর তারীখ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন
(৫) এবং বলেছেন: "তার পিতা আবু রাজা ছিলেন প্রধান বিচারপতি, তিনি তার পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, তিনি একশত বছরেরও বেশি জীবিত ছিলেন, তিনি আরবি ভাষা ও লিখনে পারদর্শী ছিলেন এবং আবু ইয়াহইয়া আল-বাযযার থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেছেন; তিনি তিনশত বাহাত্তর হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।"
গ - রাবতাহ বিনতে আব্দুল্লাহ আল-আবিদা আয-যাহিদা আন-নিসাবুরী (৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
د - فاطمة أم علي بنت أبي جعفر النيسابوري
(1).
هـ - فاطمة بنت بكر بن محمَّد بن إسحاق بن خزيمة:ترجم لها الحاكم في "اللاحقة"
(2) وقال: "سمعت أباها، وتوفيت رحمها الله في رجب سنة اثنتين وأربعمائة".
7) من سيرة الحاكم مع شيوخه وأقرانه:
أ) صِحْبَتِه لهم في السفر والحضر:قال الحاكم في تاريخه
(3): "ولقد صحبت أبا عبد الله محمَّد بن العباس العصمي في السفر والحضر، فما رأيت أحسن وضوءًا وصلاةً منه، ولا رأيت في مشايخنا أحسن تضرّعًا ولا ابتهالًا في دعواته منه".
وقال في تاريخه
(4): "صحبت أبا الحسين محمَّد بن محمَّد الحجاجي نيّفًا وعشرين سنة، بالليل والنهار، فما أعلم أني علمت أن المَلَك كتب عليه خطيئة".
وقال في تاريخه
(5): "صحبتُ محمَّد بن المؤمل الماسرجسي في السفر والحضر، فما رأيته يكلِّم بالفارسية إلا من يعلم أنَّه أعجمي لا يحسن العربية، وكنت معه ببغداد والحرمين سنة إحدى وأربعين".
وقال الحاكم في تاريخه
(6): "لقد صحبتُ الحسين بن علي بن محمَّد التميمي قريبًا من ثلاثين سنة في الحضر والسفر، في الحر والبرد، فما رأيته ترك صلاة الليل، وكان يقرأ كل ليلة سبعًا من القرآن، ولا يفوته ذلك".
--------------------------------------------
দ - ফাতিমা উম্মে আলী বিনতে আবি জাফর আল-নিসাবুরি
(১)।
হ - ফাতিমা বিনতে বকর বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজায়মাহ:আল-হাকিম "আল-লাহিকা"-তে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন
(২) এবং বলেছেন: "আমি তাঁর পিতার নিকট (হাদিস) শুনেছি, এবং তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—চারশ দুই হিজরি সালের রজব মাসে ইন্তেকাল করেন।"
৭) তাঁর শাইখ ও সমসাময়িকদের সাথে আল-হাকিমের জীবনচরিত:
ক) সফর ও আবাসে তাঁদের সাথে তাঁর সাহচর্য:আল-হাকিম তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে
(৩) বলেছেন: "আমি সফর ও আবাসে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস আল-আসমি-র সাহচর্য লাভ করেছি। তাঁর চেয়ে সুন্দর ওজু ও সালাত আদায়কারী আমি আর কাউকে দেখিনি। আর আমাদের শাইখদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক বিনীত ও আকুল হয়ে দোয়া করতে কাউকে দেখিনি।"
তিনি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আরও বলেছেন
(৪): "আমি আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাজ্জাজির সাথে দিন-রাত বিশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছি। আমার জানামতে, ফেরেশতা তাঁর আমলনামায় কোনো পাপ লিখেছে বলে আমি অবগত নই।"
তিনি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আরও বলেছেন
(৫): "আমি সফর ও আবাসে মুহাম্মাদ বিন আল-মুআম্মাল আল-মাসারজিসির সাহচর্য পেয়েছি। আমি তাঁকে কেবল সেই ব্যক্তির সাথেই ফারসি ভাষায় কথা বলতে দেখেছি, যাকে তিনি জানতেন যে সে অনারব এবং আরবি ভালো বোঝে না। আমি চারশ একচল্লিশ হিজরি সালে বাগদাদ ও হারামাইন শরিফাইনে তাঁর সাথে ছিলাম।"
আল-হাকিম তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আরও বলেছেন
(৬): "আমি শীতে ও গরমে, সফরে ও আবাসে প্রায় ত্রিশ বছর যাবৎ আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আত-তামিমির সাথে ছিলাম। আমি তাঁকে কখনো রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) ত্যাগ করতে দেখিনি। তিনি প্রতি রাতে কুরআনের এক-সপ্তমাংশ তিলাওয়াত করতেন এবং এটি কখনো তাঁর থেকে বাদ যেত না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ب) رِفْقه بهم:قال الحاكم في تاريخه
(1): "لقد استقبلني أحمد بن إبراهيم المزكي وهو يسعى بين الصفا والمروة حافيًا حاسرًا وهو محموم، فأخذت بيده حتى صعد الصفا، فلما قعد غشي عليه، فطلبنا الماء، وكنتُ أرُشُّه على وجهه حتى أفاق، فقلت: لو رفقت بنفسك وأنت عليل، فقال: ألا تدري أين نحن؟ ولا ندري نرجع إليها أم لا".
ج) نصيحته لهم:قال الحاكم في تاريخه
(2): "دخلت الري سنة سبع وستين، فصادفتُ محمَّد بن عبد الله بن عبد العزيز الرازي بها وهو ينتسب إلى محمَّد بن أيوب، فأخبرني عبد العزيز بن أبان أنَّه أملى عليهم: محمَّد بن عبد الله بن محمَّد بن أيوب بن يحيى بن الضريس البجلي. فقلت لعبد العزيز: لا تذكر هذا لأحد حتى ألتقي به، فخلوتُ به، وزجرته، فانزجر وترك ذلك النسب، ولو سمع أهل الري بذلك لتولّد منه ما يكرهه، فإن محمَّد بن أيوب لم يعقِّب ولدًا ذكرًا قط".
وقال الحاكم: "أبو عمرو محمَّد بن محمَّد الفامي، كثير السَّماع، صاحب كتاب، إلا أن بعض الغرباء خرَّج له فوائد فوجد فيها - يعني في كتبه - أطباقًا عن الحسين بن شاكر، فأخرج له عنه، وحدَّث عنه بها ببغداد، فلما وافا وقفته على حقيقة الحال، فرجع وأناب وثاب"
(3).
وقال الحاكم في تاريخه
(4): "عقدت لمحمد بن الفضل بن محمَّد بن إسحاق بن خزيمة المجلس للتحديث في شهر رمضان من سنة ثمان وستين وثلاثمائة، ودخلت بيت كتب جدِّه وأخرجت له مائتين وخمسين جزءًا من
--------------------------------------------
খ) তাদের প্রতি তাঁর কোমলতা:আল-হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(১) বলেন: "আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-মুযাক্কী আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন যখন তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝে খালি পায়ে ও খালি মাথায় দৌড়াচ্ছিলেন এবং তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর হাত ধরলাম যতক্ষণ না তিনি সাফায় উঠলেন। যখন তিনি বসলেন, তিনি মূর্ছা গেলেন। আমরা পানি খুঁজলাম এবং আমি তাঁর মুখে পানি ছিটাচ্ছিলাম যতক্ষণ না তিনি সচেতন হলেন। আমি বললাম: আপনি যদি নিজের প্রতি সদয় হতেন যেহেতু আপনি অসুস্থ। তিনি বললেন: আপনি কি জানেন না আমরা কোথায় আছি? আর আমরা জানি না আমরা এখানে পুনরায় ফিরতে পারব কি না।"
গ) তাদের প্রতি তাঁর উপদেশ:আল-হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(২) বলেন: "আমি তিনশ সাতষট্টি হিজরীতে রেই শহরে প্রবেশ করলাম। সেখানে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ আর-রাযীর দেখা পেলাম যিনি নিজেকে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুবের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন। আব্দুল আজিজ ইবনে আবান আমাকে জানালেন যে, তিনি তাদের কাছে এভাবে নাম লিখিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আদ-দারিস আল-বাজালি। আমি আব্দুল আজিজকে বললাম: আমার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি কাউকে বলবেন না। এরপর আমি তাঁর সাথে একান্তে মিলিত হলাম এবং তাঁকে তিরস্কার করলাম। ফলে তিনি সংযত হলেন এবং সেই বংশপরিচয় ত্যাগ করলেন। যদি রেই শহরের অধিবাসীরা এই কথা জানতে পারত তবে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো যা তিনি অপছন্দ করতেন। কারণ মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুবের কোনো দিন কোনো পুত্র সন্তান হয়নি।"
আল-হাকিম বলেন: "আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফামি ছিলেন বহু হাদীস শ্রবণকারী এবং কিতাবের মালিক। কিন্তু জনৈক আগন্তুক ব্যক্তি তাঁর জন্য কিছু হাদীস চয়ন করে দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর কিতাবসমূহে হুসাইন ইবনে শাকিরের বরাতে কিছু শ্রবণ-সনদ (আতবাক) খুঁজে পেয়েছিলেন। ফলে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে তা চয়ন করেছিলেন এবং বাগদাদে তা বর্ণনা করেছিলেন। যখন তিনি এলেন, আমি তাঁকে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলাম, তখন তিনি তা থেকে ফিরে এলেন, অনুতপ্ত হলেন এবং সত্যে প্রত্যাবর্তন করলেন"
(৩)।
আল-হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(৪) বলেন: "আমি তিনশ আটষট্টি হিজরীর রমজান মাসে মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমার জন্য হাদীস বর্ণনার মজলিস নির্ধারণ করেছিলাম এবং তাঁর দাদার কুতুবখানায় প্রবেশ করে তাঁর জন্য দুইশ পঞ্চাশটি খণ্ড বের করেছিলাম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
سماعاته الصحيحة، وحُمِلَت إلى منزلي، فخرَّجتُ له الفوائد في عشرة أجزاء، وقلتُ: دعِ الأصول عندي صيانةً لها وحدِّث بالفوائد. فلما كان بعد سنين حمل تلك الأصول وفرّقها على الناس وذهبت، ومَدَّ يده إلى كتب غيره فقرأ منها".
وقال الحاكم في تاريخه
(1): "قلتُ لأبي أحمد الحاكم الحافظ: إن أبا عبد الله بن أبي ذهل قد أُلقي إليه ما كان جرى بينك وبين أبي علي الحافظ في سماعك من محمَّد بن أحمد بن الحسن بن خراش، فلو أذنت في حمله إلى ها هنا وأمليت تلك الأحاديث من أصلك، فشكرني على قولي وقال: وكرامة، فحملتُ أبا عبد الله إليه ومعه جماعة من أهل الحديث، فأخرج كتابه بخط يده - الأصل العتيق المؤرَّخ -، وأخرج أصل أخيه أبي الحسن بخطه الذي كان أبو علي يقول: إن المجلس إنما سمعه معي ومع أبي بكر بن الجعابي أبو الحسن قبل ورود أبي أحمد بغداد، فأملَّه علينا وتأمل أبو عبد الله، فلما خرجنا قال أبو عبد الله: واللهِ لو عرض هذا الأصل على أحمد بن حنبل وعلي بن المديني لرضياه".
وقال الحاكم في تاريخه
(2): "قُمنا يومًا من عند حامد بن محمَّد الرفّاء ودخلت على أبي علي الحافظ، فقال: يا أبا عبد الله! يمكنك أن تذكر لي عن هذا الشيخ حديثًا أستفيده، قلت: بلى، تحفظ: عن شعبة عن حنظلة السدوسي عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم قصة العرنيين؟ فقال: لا واللهِ، فقلت: قُمْ معي حتى تسمعها، فقام في الوقت ومشى معي إلى حامد وسمع الحديث وشكرني عليه"
(3).
د) سعيه للصلح بينهم:قال الحاكم في تاريخه
(4) في ترجمة أبي الفضل عبد الرحمن بن علي
--------------------------------------------
তাঁর সহীহ শ্রবণসমূহ আমার বাড়িতে আনা হয়েছিল। আমি তাঁর জন্য দশটি খণ্ডে ‘ফাওয়াইদ’ সংকলন করেছিলাম এবং বলেছিলাম: ‘সুরক্ষার জন্য মূল কপিগুলো আমার কাছেই থাকতে দিন আর আপনি ফাওয়াইদ থেকে বর্ণনা করুন।’ কয়েক বছর পর তিনি সেই মূল কপিগুলো নিয়ে গেলেন এবং মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিলেন, ফলে সেগুলো হারিয়ে গেল। এরপর তিনি অন্যের কিতাবের দিকে হাত বাড়িয়েছিলেন এবং তা থেকে পাঠ করতে লাগলেন।
হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(১) বলেছেন: "আমি আবু আহমদ আল-হাকিম আল-হাফিযকে বললাম: আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবু যুহল আপনার এবং আবু আলী আল-হাফিযের মাঝে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে খিরাশ থেকে শ্রবণের বিষয়ে যা ঘটেছিল তা জানতে পেরেছেন। আপনি যদি তাঁকে এখানে আসার অনুমতি দিতেন এবং আপনার মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সেই হাদিসগুলো আমাদের লিখে দিতেন (ইমলা করতেন), তবে ভালো হতো। তিনি আমার প্রস্তাবে শুকরিয়া আদায় করলেন এবং বললেন: ‘সম্মানের সাথে’। এরপর আমি আবু আবদুল্লাহকে হাদিসবিশারদদের একটি দলসহ তাঁর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি তাঁর নিজ হাতের লেখা কিতাব বের করলেন—যা ছিল একটি প্রাচীন ও তারিখযুক্ত মূল পাণ্ডুলিপি। তিনি তাঁর ভাই আবু হাসানের নিজ হাতের লেখা মূল পাণ্ডুলিপিটিও বের করলেন, যার সম্পর্কে আবু আলী বলতেন: আবু আহমদ বাগদাদে আসার আগেই আবু হাসান আমার এবং আবু বকর ইবনে আল-জা'য়াবির সাথে এটি শুনেছিলেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে তা বর্ণনা করলেন এবং আবু আবদুল্লাহ তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। যখন আমরা বের হলাম, আবু আবদুল্লাহ বললেন: আল্লাহর কসম, যদি এই মূল পাণ্ডুলিপিটি আহমদ ইবনে হাম্বল এবং আলী ইবনে আল-মাদীনীর সামনে পেশ করা হতো, তবে তাঁরাও এতে সন্তুষ্ট হতেন।"
হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(২) বলেছেন: "একদিন আমরা হামিদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-রাফ্ফার নিকট থেকে উঠলাম এবং আবু আলী আল-হাফিযের নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: ‘হে আবু আবদুল্লাহ! আপনি কি এই শায়খের কোনো হাদিস উল্লেখ করতে পারেন যা থেকে আমি উপকৃত হতে পারি?’ আমি বললাম: ‘হ্যাঁ, আপনার কি শু'বা থেকে, হানযালা আস-সাদূসী থেকে, আনাস থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে উরাইনাবাসীদের ঘটনাটি মুখস্থ আছে?’ তিনি বললেন: ‘না, আল্লাহর কসম।’ আমি বললাম: ‘আমার সাথে চলুন যাতে আপনি এটি শুনতে পারেন।’ তিনি তৎক্ষণাৎ উঠলেন এবং আমার সাথে হামিদের কাছে হেঁটে গেলেন, হাদিসটি শুনলেন এবং এজন্য আমাকে ধন্যবাদ জানালেন"
(৩).
ঘ) তাদের মধ্যে মীমাংসার জন্য তাঁর প্রচেষ্টা:হাকিম তাঁর ইতিহাসে
(৪) আবু আল-ফযল আবদুর রহমান ইবনে আলীর জীবনীতে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
التميمي: "كنتُ قد تكنيت بأبي أحمد وأبي الفضل للوحشة القائمة بينهما، فمرَّة كنت أتوسّط ومرّة آيس من صلحهما رحمة الله عليهما".
هـ) تعزيته لهم وإفادتهم في نفس الوقت:قال الحاكم: "جمعني وأخانا محمَّد بن إسحاق ابن مندة الأصبهاني يرحمنا الله وإياه مجلس حضره عبد الله بن حامد الأصبهاني، فذكر لي وفاة ابنه وبكى، فقلتُ له أُبَشِّرُكَ بما بَشَّرَ به أبو طلحة الخولاني أبا سنان:
أخبرنا أبو بكر بن إسحاق الفقيه، أنا أحمد بن إبراهيم بن ملحان، أخبرنا أبو نصر التمار، أخبرنا حماد بن سلمة، عن أبي سنان قال: دفنتُ ابني سنانًا، فقعدتُ على شفير القبر، فأخذ بيدي أبو طلحة الخولاني فقال: ألا أُبَشِّرك، حدثني الضحاك بن عبد الرحمن بن عرزب، أنَّ أبا موسى الأشعري حدَّثَ، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا قُبِضَ ولد العبد قال الله تعالى لملائكته: قبضتم ولد عبدي وثمرة فؤاده، فماذا قال؟ قالوا: حَمِدَكَ وقال خيرًا. قال: فابنوا له بيتًا في الجنة وسَمُّوه بيتَ الحَمْد"
(1).
فقال: نعم هذا حديث مشهور، بحماد بن سلمة.
فقلتُ: أبو سنان هذا، من هو؟
قال: ليس بالشيباني، ولا بالقزويني.
فقلتُ: فمن هو، وما اسمه، ومن أي بلدٍ هو؟
فقال: أظُنُّه من أهل البصرة.
فقلتُ: هذا رجل من فلسطين، واسمه عيسى بن سنان، وقد روى عنه غير حمّاد بن سلمة. أخبرني الحسين بن محمَّد الدارمي، أخبرنا عبد الرحمن بن أبي حاتم قال: أبو سنان القسملي اسمه عيسى بن سنان، هو فلسطيني شامي، قدم البصرة، روى عن الضحاك بن عبد الرحمن بن عرزب
--------------------------------------------
তামিমি বলেন: "আমি তাদের দুজনের মধ্যে বিদ্যমান তিক্ততার কারণে আবু আহমদ এবং আবু ফজল নামে কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করেছিলাম। কখনও আমি মধ্যস্থতা করতাম, আবার কখনও তাদের মিটমাটের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়তাম, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন।"
ঙ) তাদের প্রতি তাঁর সমবেদনা এবং একই সাথে তাদের জ্ঞানদান:হাকিম বলেন: "একটি মজলিসে আমি এবং আমাদের ভাই মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মান্দাহ আল-আসবাহানী—আল্লাহ আমাদের এবং তাঁর প্রতি রহম করুন—একত্রিত হয়েছিলাম, যেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে হামিদ আল-আসবাহানী উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমার কাছে তাঁর ছেলের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলেন এবং কাঁদলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমি আপনাকে সেই সুসংবাদ দিচ্ছি যা আবু তালহা আল-খাওলানি আবু সিনানকে দিয়েছিলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে ইসহাক আল-ফকিহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মিলহান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আত-তাম্মার, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আবু সিনান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার ছেলে সিনানকে দাফন করলাম এবং কবরের কিনারায় বসে পড়লাম। তখন আবু তালহা আল-খাওলানি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না? আদ-দাহহাক ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আরজাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা আল-আশআরি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বান্দার সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলেন: তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করেছ এবং তার কলিজার টুকরাকে কেড়ে নিয়েছ? তারা বলে: হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলেন: সে (বান্দা) কী বলেছে? তারা বলে: সে আপনার প্রশংসা করেছে এবং ভালো কথা (ইন্না লিল্লাহ...) বলেছে। তখন আল্লাহ বলেন: তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করো এবং এর নাম রাখো 'প্রশংসার ঘর' (বাইতুল হামদ)"
(১)।
তখন তিনি (আব্দুল্লাহ) বললেন: হ্যাঁ, এটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর সূত্রে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস।
আমি বললাম: এই আবু সিনান কে?
তিনি বললেন: তিনি শায়বানি নন, আবার কাযভিনিও নন।
আমি বললাম: তবে তিনি কে, তাঁর নাম কী এবং তিনি কোন শহরের অধিবাসী?
তিনি বললেন: আমার ধারণা তিনি বসরার অধিবাসী।
আমি বললাম: এই ব্যক্তি ফিলিস্তিনের লোক এবং তাঁর নাম ঈসা ইবনে সিনান, তাঁর থেকে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ছাড়া অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দারিমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, তিনি বলেন: আবু সিনান আল-কাসমালি—তাঁর নাম ঈসা ইবনে সিনান, তিনি একজন ফিলিস্তিনি শামি, তিনি বসরায় এসেছিলেন এবং আদ-দাহহাক ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আরজাব থেকে বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ووهب بن منبه وعلي بن عبد الله بن عباس وأبي طلحة الخولاني وعثمان بن أبي سودة، روى عنه حماد بن سلمة وجعفر بن سليمان"
(1).
و) قبوله النصيحة من إخوانه وشكرهم عليها:ألّف عبد الغني بن سعيد الأزدي المصري
(2) - وهو من أقران الحاكم - كتابًا
(3) يبيّن فيه أوهام كتاب الحاكم "المدخل إلى الصحيح"، قال عبد الغني: "لما رددتُ على أبي عبد الله الحاكم الأوهام التي في "المدخل"، بعث إليَّ يشكرني، ويدعو لي، فعلمتُ أنَّه رجلٌ عاقل"
(4).
ز) ذبّه عن أهل العلم:قال الحاكم: "سمعت أبا علي الحافظ يقول: حدثنا أحمد بن حمدون إنْ حَلَّت الرواية عنه. فقلتُ لأبي علي: أهذا الذي تذكره من جهة المُجون والسُّخف الذي كان، أو لشيءٍ أنكرته منه في الحديث؟ قال: بل من جهة الحديث، قلت: فما أنكرت عليه؟ قال: حديث عبيد الله بن عمر عن عبد الله بن الفضل، قلت: قد حَدَّث به غيره، فأخذ يذكر أحاديث حَدَّث بها غيره، فقلتُ: أبو تراب
(5) مظلومٌ في كل ما ذكرته. ثمَّ حدَّثت أبا الحسين الحجاجي بهذا، فرضي كلامي فيه وقال: القولُ ما قلته. ثمَّ تأمّلتُ أجزاء كثيرةً بخطه، فلم أجِدْ فيها حديثًا يكون الحملُ فيه عليه، وأحاديثه كلها مستقيمة"
(6).
وقال الحاكم في تاريخه
(7): "سمعتُ أبا علي الحافظ، وذكر كتاب "المجروحين" لأبي حاتم محمَّد بن حبَّان البستي، فقال: كان لعمر بن سعيد بن سنان المنبجي ابن رحل في الحديث وأدرك هؤلاء الشيوخ، وهذا
--------------------------------------------
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ, আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবু তালহা আল-খাওলানী এবং উসমান ইবনে আবু সাওদা। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এবং জাফর ইবনে সুলাইমান
(১)।
চ) তাঁর ভাইদের (সহকর্মীদের) থেকে উপদেশ গ্রহণ এবং সে জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:আব্দুল গনী ইবনে সাঈদ আল-আযদি আল-মিসরি
(২) —যিনি আল-হাকিমের সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত— একটি গ্রন্থ
(৩) রচনা করেন যাতে তিনি আল-হাকিমের 'আল-মাদখাল ইলাস সহীহ' গ্রন্থের ভুল-ভ্রান্তিগুলো স্পষ্ট করেন। আব্দুল গনী বলেন: "আমি যখন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের 'আল-মাদখাল' গ্রন্থের ভুলগুলো খণ্ডন করলাম, তখন তিনি আমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং আমার জন্য দোয়া করে (বার্তা) পাঠান। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি"
(৪)।
ছ) আলেমদের পক্ষ সমর্থন ও তাঁদের প্রতিরক্ষা:আল-হাকিম বলেন: "আমি আবু আলী আল-হাফিযকে বলতে শুনেছি: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে হামদুন বর্ণনা করেছেন, যদি তাঁর থেকে বর্ণনা করা বৈধ হয়। তখন আমি আবু আলীকে বললাম: আপনি এই যে কথাটি বলছেন, তা কি তাঁর মধ্যকার চপলতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে, নাকি হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর এমন কিছু আপনি অস্বীকার করেছেন যা দোষণীয়? তিনি বললেন: বরং হাদীসের দিক থেকে। আমি বললাম: তবে তাঁর কোন বিষয়টি আপনি অস্বীকার করেছেন? তিনি বললেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমরের হাদীস যা আব্দুল্লাহ ইবনে ফাদল থেকে বর্ণিত। আমি বললাম: এটি তো অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এমন কিছু হাদীস উল্লেখ করতে লাগলেন যা অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। তখন আমি বললাম: আপনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার সবকটিতেই আবু তুরাব
(৫) মজলুম (অন্যায়ের শিকার)। এরপর আমি আবু আল-হুসাইন আল-হাজ্জাজীকে এটি জানালে তিনি আমার কথায় সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন: কথা সেটিই যা আপনি বলেছেন। পরে আমি তাঁর স্বহস্তে লিখিত অনেক পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করি এবং সেখানে এমন কোনো হাদীস পাইনি যার দায়ভার তাঁর ওপর বর্তায়; বরং তাঁর হাদীসগুলো সবই সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ"
(৬)।
আল-হাকিম তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে
(৭) বলেন: "আমি আবু আলী আল-হাফিযকে আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তির 'আল-মাজরুহীন' কিতাবটি উল্লেখ করতে শুনেছি। তিনি বললেন: ওমর ইবনে সাঈদ ইবনে সিনান আল-মানবিজির এমন এক পুত্র ছিল যে হাদীস সংগ্রহের জন্য দেশভ্রমণ করেছিল এবং সে এই শায়খদের পেয়েছিল, এবং এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারিখু নাইসাবুর তবাকাতু শুয়ুখিল হাকিম - জামউল বাইরুতী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
تصنيفه. وأساء القول في أبي حاتم، [قلتُ]: أبو حاتم كبير في العلوم، وكان يُحْسَد لفضله وتقدمه".
قال الخطيب البغدادي: "سمعت أبا بكر البرقاني وسُئِل عن ابن مالك - فقال:
… لما اجتمعت مع الحاكم بن عبد الله ابن البيِّع بنيسابور، ذكرتُ ابنَ مالكٍ ولينته، فأنكر عليّ وقال: ذاك شيخي. وحسّن حاله أو كما قال"
(1).
ح) زيارته لهم عند الاحتضار:قال الحاكم في تاريخه
(2): "دخلتُ على حسان بن محمَّد القرشي بعد صلاة العشاء من ليلة الجمعة وهو قاعد، فأشار إليَّ بيده أنْ "انصرف فقد أمسيت"، فلم أنصرف إلى أن صليت صلاة العتمة في منزله، فقال: خرِّج عليَّ من يحمل جنازتي إلى الميقات، فانصرفت، فمات تلك الليلة وقت السَّحَر".
وقال الحاكم في تاريخه
(3): "دخلتُ على عبد الواحد بن أحمد المتكلِّم يوم وفاته باكرًا، فبكى كثيرًا وقال: أستودعك الله أيها الحاكم، فإني راحل".
وقال الحاكم في تاريخه
(4): "اشتد بأبي منصور محمَّد بن عبد الله الزاهد المرض يوم الثلاثاء السابع من ابتداء مرضه، فبكّرت إليه وقد ثقل لسانه، وكان يشير بإصبعه بالدعاء، ثمَّ قال لي بجهد جهيد: تذكر قصة محمَّد بن واسع مع قتيبة بن مسلم؟ قلت: تفيد، فقال: إن قتيبة كان يجري على محمَّد بن واسع تلك الأرزاق وهو شيخ هرم ضعيف، فعُوتِب على ذلك، فقال: إصبعه في الدعاء أبلغ في النصر من رماحكم هذه.
ثمَّ عُدْتُ إليه يوم الثلاثاء، فقال لي بعد جهد جهيد: أيها الحاكم غير مودع فإني راحل، فكان يقاسي لما احتضر من الجهد ما يقاسيه، وأنا أقول لأصحابنا إنه يؤخذ ليلة الجمعة".
--------------------------------------------
তাঁর সংকলন। আর তিনি আবু হাতিম সম্পর্কে মন্দ কথা বলেছেন। [আমি বলছি]: আবু হাতিম জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক বড় ছিলেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতার কারণে তিনি ঈর্ষার পাত্র হতেন।"
খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "আমি আবু বকর আল-বারকানিকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে ইবনে মালিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি বলেছিলেন:
… যখন নিশাপুরে আল-হাকিম বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল বায়্যি'-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়, তখন আমি ইবনে মালিক এবং তাঁর দুর্বলতার কথা উল্লেখ করি। তিনি আমার কথা অস্বীকার করেন এবং বলেন: 'তিনি আমার শায়খ।' আর তিনি তাঁর অবস্থাকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন বা তিনি যেমন বলেছিলেন।"
(১)।
৮) মৃত্যুশয্যায় তাঁদের প্রতি তাঁর সাক্ষাৎ:আল-হাকিম তাঁর ইতিহাসে বলেছেন
(২): "জুমার রাতে এশার নামাজের পর আমি হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাশি-এর কাছে প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বসা ছিলেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার দিকে ইশারা করে বললেন, 'ফিরে যাও, অনেক রাত হয়েছে।' কিন্তু আমি তাঁর বাড়িতে এশার নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত ফিরে যাইনি। তখন তিনি বললেন: 'আমার জন্য এমন কাউকে বের করে দাও যে আমার জানাজা মিকাত পর্যন্ত বহন করবে।' এরপর আমি ফিরে গেলাম এবং তিনি সেই রাতে সাহরির সময় মৃত্যুবরণ করেন।"
আল-হাকিম তাঁর ইতিহাসে বলেছেন
(৩): "আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মুতাকাল্লিম-এর মৃত্যুর দিন ভোরে আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি অনেক কাঁদলেন এবং বললেন: হে হাকিম, আমি আপনাকে আল্লাহর জিম্মায় সপে দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আমি বিদায় নিচ্ছি।"
আল-হাকিম তাঁর ইতিহাসে বলেছেন
(৪): "আবু মনসুর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আজ-জাহিদ-এর অসুস্থতার সপ্তম দিন মঙ্গলবার রোগ প্রবল হলো। আমি ভোরে তাঁর কাছে গেলাম যখন তাঁর জিহ্বা ভারী হয়ে গিয়েছিল। তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে দোয়া করছিলেন। এরপর তিনি অত্যন্ত কষ্টের সাথে আমাকে বললেন: 'কুতাইবা বিন মুসলিমের সাথে মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি'-এর সেই ঘটনাটি কি তোমার মনে আছে?' আমি বললাম: 'আপনি বলুন।' তিনি বললেন: 'কুতাইবা মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি'-এর জন্য সেই সব বরাদ্দ (ভাতা) চালু রেখেছিলেন অথচ তিনি তখন একজন অতি বৃদ্ধ ও দুর্বল মানুষ ছিলেন। এ নিয়ে তাঁকে (কুতাইবাকে) তিরস্কার করা হলে তিনি বলেছিলেন: দোয়ার সময় তাঁর এই আঙ্গুলটি তোমাদের এসব বর্শার চেয়ে বিজয়ের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর।'
এরপর আমি পুনরায় মঙ্গলবার তাঁর কাছে ফিরে এলাম। তখন তিনি অনেক কষ্টের সাথে আমাকে বললেন: 'হে হাকিম, আমি চিরবিদায় নিচ্ছি না (অর্থাৎ পরকালে দেখা হবে), আমি প্রস্থান করছি।' মৃত্যুশয্যায় তিনি প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করছিলেন। আমি আমাদের সাথীদের বলতাম যে, জুমার রাতে তাঁর রূহ কবজ করা হবে।"
--------------------------------------------