(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين
المؤلف: صالح بن عمر بن رسلان البلقيني الشافعيّ شيخ الإسلام (ت 868هـ)
المحقق: عبد الله بن معتق السهلي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 120 - السنة 35 - 1423 هـ/2003م
عدد الصفحات: 298
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কওলুহু বিলা ইয়ামিন বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কওলুহু বিলা ইয়ামিন
লেখক: সালেহ বিন উমর বিন রাসলান আল-বালকিনি আশ-শাফিয়ি শায়খুল ইসলাম (ওফাত ৮৬৮ হিজরি)
মুহাক্কিক: আব্দুল্লাহ বিন মুতাক আস-সাহলি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১২০ - বর্ষ ৩৫ - ১৪২৩ হিজরি/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৮
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد:
فإن العلم من أفضل القُرَب التي يتقرب بها العبد إلى ربه، كيف لا، وقد أثنى الله تعالى على أهله في غير آية، منها: قوله تعالى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِماً بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (آل عمران:18) 4. وقوله: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} ১
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩
অতঃপর:
নিশ্চয়ই জ্ঞান অর্জন করা হলো এমন এক শ্রেষ্ঠ ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা তার রবের নৈকট্য লাভ করে। কেনই বা তা হবে না, অথচ আল্লাহ তাআলা কুরআনের একাধিক আয়াতে জ্ঞানীদের প্রশংসা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ আলেমগণও (এ সাক্ষ্য দিয়েছেন); তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (আলে ইমরান: ১৮) ৪। এবং তাঁর বাণী: {বলো, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
يَتَذَكَّرُ أُولُو الأَلْبَابِ} 1، وأثنى عليهم رسوله صلى الله عليه وسلم في غير حديث: منها حديث معاوية رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من يرد الله به خيرا يفقه في الدين" 2.
وقد هيأ الله تبارك وتعالى ظهورَ علماء أجلاء في كل عصر من العصور، وقفوا أنفسهم على خدمة الكتاب والسنة واستنباط الأحكام منهما، فخلفوا ثروة عظيمة زخرت بها مكتبات العالَم في شتى الأقطار، ومن أولئك العلماء الأجلاء علم الدين صالح عمر البلقيني المتوفى سنة 868 هـ، فقد خلف ما يزيد على عشرين مؤلفا، ومما اطلعت عليه من مؤلفاته مخطوطة بعنوان: "تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين" فأردت أن أدلي بدلوي - مع قلة بضاعتي - بإخراج هذا المؤلف محققا.
أسأل الله العلي العظيم رب العرش الكريم أن يعينني على ذلك، وييسره لي وأن يرزقني الإخلاص في القول والعمل، إنه ولي ذلك، والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على عبده ورسوله محمد وآله وصحبه أجمعين.
خطة البحث
يحتوي هذا البحث على مقدمة وقسمين: قسم في الدراسة، وقسم في التحقيق.
فأما قسم الدراسة فيشتمل على ما يلي:
- التعريف بالمؤلف:
--------------------------------------------
{...কেবল জ্ঞানীরাই (أولوا الألباب) উপদেশ গ্রহণ করে} ১, এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একাধিক হাদিসে তাদের প্রশংসা করেছেন: যার মধ্যে মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (فقه) দান করেন" ২.
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা প্রত্যেক যুগে এমন মহান আলেমদের আবির্ভাবের ব্যবস্থা করেছেন, যারা নিজেদের কিতাব ও সুন্নাহর খিদমতে এবং তা থেকে বিধানসমূহ আহরণে (استنباط) উৎসর্গ করেছেন। ফলে তাঁরা এক বিশাল জ্ঞানসম্পদ রেখে গেছেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠাগারগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই সব মহান আলেমদের একজন হলেন ইলমুদ্দীন সালেহ উমর আল-বুলকিনী, যিনি ৮৬৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিশটিরও অধিক গ্রন্থ রেখে গেছেন। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে আমি যা দেখার সুযোগ পেয়েছি, তা হলো 'তুহফাতুল আমিন ফিমান ইয়াকবালু কাওলুহু বি-লা ইয়ামিন' শিরোনামের একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة)। তাই আমি—আমার সামান্য জ্ঞান সত্ত্বেও—এই গ্রন্থটি সম্পাদিত (محقق) অবস্থায় প্রকাশ করার মাধ্যমে আমার সাধ্যমতো অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছি।
আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ, যিনি সম্মানিত আরশের অধিপতি, তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এই কাজে সহায়তা করেন এবং তা আমার জন্য সহজ করে দেন, আর আমাকে কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা (إخلاص) দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম। আমাদের শেষ নিবেদন হলো—সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
গবেষণা পরিকল্পনা
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা এবং দুটি অংশে বিভক্ত: একটি গবেষণামূলক অংশ এবং অন্যটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) সংক্রান্ত অংশ।
গবেষণামূলক অংশটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- লেখকের পরিচিতি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
وهذا يشتمل على البحث عن: اسمه ونسبه، ومولده، ومكانته العلمية، وأبرز علماء أسرته، وشيوخه، وتلاميذه، وثناء العلماء عليه، وولايته للقضاء، ومؤلفاته، ووفاته.
- التعريف بالكتاب المحقق:
وذلك يشتمل على البحث عن: نسبة الكتاب للمؤلف، وموضوعات الكتاب وسبب تأليفه ومنهجه، ووصف النسخ المعتمدة في التحقيق، ونماذج من المخطوط، ومنهج التحقيق.
وأما قسم التحقيق فقد اتبعت فيه المنهج الآتي بيانه في صفحة (258) .
এটি তাঁর নাম ও বংশপরিচয়, জন্ম, পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবস্থান, পরিবারের প্রথিতযশা আলেমগণ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ, তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা, বিচারক পদে তাঁর নিযুক্তি, তাঁর রচনাবলি এবং মৃত্যু বিষয়ক অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত।
- সম্পাদিত (محقق) গ্রন্থের পরিচিতি:
এটি লেখকের প্রতি গ্রন্থের সম্বন্ধ (نسبة) নিরূপণ, গ্রন্থের বিষয়বস্তু, রচনার কারণ ও পদ্ধতি (منهج), সম্পাদনায় (تحقيق) নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخة) বিবরণ, পাণ্ডুলিপির (مخطوط) নমুনা এবং সম্পাদনা পদ্ধতি (منهج التحقيق) সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
আর সম্পাদনা (تحقيق) অংশের ক্ষেত্রে আমি সেই পদ্ধতি (منهج) অনুসরণ করেছি যা ২৫৮ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪২)
القسم الدراسي
في التعريف بالمؤلف والمخطوط المحقَّق
أولا: التعريف بالمؤلف
ويشتمل عل النقاط التالية:
* اسمه ونسبه:
هو علم الدين صالح بن عمر بن رسلان بن نصير بن صالح بن شهاب بن عبد الحق بن عبد الخالق البلقيني 1.
اشتهر بلقبه: "علم الدين " 2.
وكنيته: "أبو البقاء "و " أبو النقى " 3.
ونسبته إلى " بلقينة " محلة بالقرب من " بنها "إلى الشمال من القاهرة 4.
* مولده:
اتفق أكثر المترجمين له أن ولادته كانت ليلة الاثنين، الثالث من شهر جمادى الأولى، عام واحد وتسعين وسبعمائة للهجرة 5.
غير أن الحافظ ابن حجر ذكر أن المؤلف ولد سنة تسعين وسبعمائة
--------------------------------------------
শিক্ষা সংক্রান্ত অংশ
লেখক এবং সম্পাদিত (المحقق) পাণ্ডুলিপির পরিচিতি প্রসঙ্গে
প্রথমত: লেখকের পরিচিতি
এটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করে:
* তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আলামুদ্দীন সালেহ ইবনে উমর ইবনে রাসলান ইবনে নুসায়ের ইবনে সালেহ ইবনে শিহাব ইবনে আব্দুল হক ইবনে আব্দুল খালিক আল-বুলকিনি ১।
তিনি তাঁর উপাধিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন: "আলামুদ্দীন" ২।
তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম: "আবু আল-বাকা" এবং "আবু আন-নাকী" ৩।
এবং 'বুলকিনা'র সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা (نسبة), যা কায়রোর উত্তরে 'বানহা'র নিকটবর্তী একটি জনপদ ৪।
* তাঁর জন্ম:
তাঁর অধিকাংশ জীবনীকার (المترجمين) একমত পোষণ করেছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল সাতশত একানব্বই হিজরি সালের ৩রা জুমাদাল উলা, সোমবার রাতে ৫।
তবে হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, লেখক সাতশত নব্বই হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৩)
للهجرة1.
والأول هو الأقرب للصواب؛ إذ هو المثبت في جميع مصادر الترجمة، إلا ما ورد في كتاب "رفع الإصر " للحافظ ابن حجر، ولعله خطأ في النسخ أو الطباعة.
* مكانته العلمية:
تبوأ المؤلف مكانة علمية سامية، وبلغ رتبة عالية حتى كان إمام العلماء في عصره والمبرز فيهم، ولم يأت نبوغه من فراغ، بل إن نشأته في أسرة علمية، وترعرعه في بيت عريق اشتهر بالريادة العلمية، كان له الأثر الكبير في تكوين شخصيته العلمية الفذة.
فأسرة " مدرسة أسهمت في تخريج كثير من العلماء الأفذاذ الذين أسهموا في نشر العلوم الشرعية، وإثراء المكتبة الإسلامية بالعديد من الكتب والرسائل، التي أفاد منها المعاصرون لهم ومن جاءوا بعدهم وقد اشتهر العديد منهم، ممن كانوا على قدر كبير من العلم والخلق والورع.
* ومن أبرز علماء هذه الأسرة:
1- محمد بن عمر بن رسلان البلقيني " أخو المؤلف".
من أشهر الفقهاء في القرن الثامن الهجري، درَّس وأفتى، وتولى القضاء، له مؤلف بعنون «رسالة الكليم في تسلية أهل المصائب» ، توفي رحمه الله بالقاهرة سنة 791 هـ.2
2- عمر بن رسلان بن نصير سراج الدين البلقيني (والد المؤلف) .
--------------------------------------------
হিজরি ১।
এবং প্রথমটিই সত্যের অধিক নিকটতর; কারণ জীবনী সংক্রান্ত (ترجمة) সকল উৎসে এটিই লিপিবদ্ধ (المثبت), হাফিজ ইবনে হাজার রচিত "রাফ'উল ইসর" কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত। সম্ভবত এটি অনুলিপি (نسخ) বা মুদ্রণে কোনো ভুল হতে পারে।
* তাঁর ইলমী মর্যাদা:
লেখক এক উচ্চতর ইলমী মর্যাদা লাভ করেছিলেন এবং এমন এক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে তিনি তাঁর যুগের আলেমদের ইমাম এবং তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর এই প্রতিভা আকস্মিকভাবে আসেনি; বরং এক ইলমী পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা এবং এমন এক সুপ্রাচীন বংশে লালিত-পালিত হওয়া যা ইলমী নেতৃত্বের জন্য সুপরিচিত ছিল, তাঁর অসাধারণ ইলমী ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
বুলকিনী পরিবার ছিল এমন একটি মাদ্রাসার মতো, যা বহু অসামান্য আলেম তৈরিতে অবদান রেখেছিল। তাঁরা শরয়ি জ্ঞান প্রসারে এবং ইসলামি পাঠাগারকে অসংখ্য বই ও গবেষণাপত্রের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছিলেন, যা থেকে তাঁদের সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্ম উপকৃত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইলম, চরিত্র এবং পরহেজগারির (ورع) ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের অধিকারী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
* এই পরিবারের প্রখ্যাত আলেমদের মধ্যে রয়েছেন:
১- মুহাম্মদ বিন উমর বিন রাসলান আল-বুলকিনী "লেখকের ভাই"।
তিনি অষ্টম হিজরি শতাব্দীর অন্যতম প্রসিদ্ধ ফকিহদের (الفقهاء) একজন ছিলেন। তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর "রিসালাতুল কালিম ফি তাসলিয়াতি আহলিল মাসায়িব" শিরোনামের একটি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ৭৯১ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।২
২- উমর বিন রাসলান বিন নাসির সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনী (লেখকের পিতা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৪)
برز في كافة العلوم الشرعية، وأثنى عليه علماءُ عصره، وفاق أقرانه في الفقه وحفظ متون الحديث. من مصنفاته: التدريب في الفقه، ومناسبات تراجم أبواب البخاري، وتصحيح المنهاج. توفي رحمه الله سنة 805 هـ.1
1- عبد الرحمن بن عمر بن رسلان البلقيني، جلال الدين (أخو المؤلف) .
اشتهر بالذكاء وقوة الحفظ، وولي القضاء عدة مرات، ووصفه الحافظ ابن حجر بأنه من عجائب الدنيا في سرعة الفهم، وجودة الحفظ. من مؤلفاته: الإفهام لما في صحيح البخاري من الإبهام، وبيان الكبائر والصغائر، وحواشي الروضة. توفي رحمه الله سنة 824 هـ.2
2- أحمد بن أبي بكر بن رسلان البلقيني، شهاب الدين، ابن أخ المؤلف.
كان فقيها عالما فاضلا، وجيها. من مؤلفاته: الروضة الأريضة في قسمة الفريضة. توفي رحمه الله سنة 844 هـ.3
3- قاسم بن عبد الرحمن بن عمر بن رسلان، زين الدين (ابن أخ المؤلف) .
من فقهاء الشافعية. من مؤلفاته: شرح التنبيه، وشرح الحاوي، وشرح المنهاج. توفي رحمه الله سنة 861 هـ.4
4- محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن عمر بن رسلان البلقيني، بدر الدين،
(ابن ابن أخ المؤلف) .
اشتغل بالفقه والأصول والفرائض، ونبغ فيه، وتتلمذ عليه عدد كبير، وأخذوا عنه. من مؤلفاته: حاشية على خبايا الزوايا للزكشي في الفقه، وشرح
--------------------------------------------
তিনি সকল শরয়ী বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সমকালীন আলেমগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন। ফিকহ (فقه) এবং হাদিসের মূল পাঠ (متون) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আত-তাদরীব ফিল ফিকহ, মুনাসাবাতু তারাজিম আবওয়াব আল-বুখারি এবং তাসহিহ আল-মিনহাজ। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮০৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।1
1- আবদুর রহমান বিন উমর বিন রুসলান আল-বুলকিনি, জালালুদ্দিন (লেখকের ভাই)।
তিনি মেধা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং কয়েকবার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। হাফেজ (حافظ) ইবনে হাজার তাঁকে দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতা এবং উন্নত মানের হেফজ বা স্মৃতিশক্তির দিক থেকে বিশ্বের বিস্ময়কর ব্যক্তিদের একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-ইফহাম লিমা ফি সহিহ আল-বুখারি মিনাল ইবহাম, বায়ানুল কাবায়ের ওয়াস সাগায়ের এবং হাওয়াশি আল-রওদাহ। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮২৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।2
2- আহমদ বিন আবি বকর বিন রুসলান আল-বুলকিনি, শিহাবুদ্দিন, লেখকের ভ্রাতুষ্পুত্র।
তিনি একজন ফকিহ (فقيه), বিজ্ঞ আলেম এবং মর্যাদাবান ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-রওদাহ আল-আরীজাহ ফি কিসমাতিল ফারিদাহ। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮৪৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।3
3- কাসিম বিন আবদুর রহমান বিন উমর বিন রুসলান, জয়নুদ্দিন (লেখকের ভ্রাতুষ্পুত্র)।
তিনি শাফেয়ী মাজহাবের ফকিহগণের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: শারহুত তানবিহ, শারহুল হাজি এবং শারহুল মিনহাজ। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮৬১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।4
4- মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন উমর বিন রুসলান আল-বুলকিনি, বদরুদ্দিন,
(লেখকের ভ্রাতুষ্পুত্রের পুত্র)।
তিনি ফিকহ (فقه), উসুল (أصول) এবং উত্তরাধিকার আইন (فرائض) শাস্ত্রে ব্যাপৃত ছিলেন এবং এতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। বহুসংখ্যক ছাত্র তাঁর নিকট শিক্ষালাভ করেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ফিকহ শাস্ত্রে জারকাশির 'খাবায়া আল-জাওয়ায়া'-এর ওপর টিকা (حاشية) এবং ব্যাখ্যা (شرح)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৫)
مقدمة المناوي في النحو. توفي رحمه الله سنة 889 هـ.1
* شيوخه:
ظهر خلال الحقبة الزمنية التي عاش فيها المؤلف عدد كبير من أبرز العلماء والمجتهدين الذين تميزوا في مختلف العلوم والفنون، وازدهرت فيه الحركة العلمية، وكان لأولئك الجهابذة تأثير في إبراز شخصية العلم البلقيني، حيث أفاد من أولئك العلماء المبرزين، ومن أشهرهم:
1- عمر بن رسلان بن نصير البلقيني، سراج الدين، والد المؤلف المتوفى سنة 805 هـ2.
2- عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن، الإمام الحافظ العراقي الشافعي، المتوفى سنة 806 هـ3
3- أحمد بن حجي بن موسى، شهاب الدين الشافعي، الحافظ المؤرخ المتوفى سنة 816 هـ.4
4- محمد بن عبد الله بن ظهيرة القرشي المخزومي، قاضي مكة وخطيبها، المتوفى سنة 817 هـ.5
محمد بن أبي بكر بن عبد العزيز بن جماعة، عز الدين، أحد أبرز فقهاء
--------------------------------------------
নাহুশাস্ত্রে আল-মুনাবীর ভূমিকা। তিনি ৮৮৯ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।১
* তাঁর শিক্ষকগণ:
লেখক যে সময়কালে জীবন অতিবাহিত করেছেন, সে যুগে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কলায় পারদর্শী বিপুল সংখ্যক প্রথিতযশা আলেম ও মুজতাহিদ (المجتهدين) আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং সে সময়ে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন বিকশিত হয়েছিল। সেই বিদগ্ধ মনীষীদের প্রভাব আল-বুলকিনীর ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, কারণ তিনি সেই সব শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন:
১- উমর ইবনে রুসলান ইবনে নুসায়র আল-বুলকিনী, সিরাজুদ্দীন, লেখকের পিতা, যিনি ৮০৫ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।২
২- আবদুর রহিম ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান, ইমাম হাফেজ (الحافظ) ইরাকি শাফিঈ, যিনি ৮০৬ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।৩
৩- আহমদ ইবনে হাজ্জি ইবনে মুসা, শিহাবুদ্দীন শাফিঈ, হাফেজ (الحافظ) ও ঐতিহাসিক, যিনি ৮১৬ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।৪
৪- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জুহাইরাহ আল-কুরাশি আল-মাখজুমি, মক্কার বিচারক ও খতিব, যিনি ৮১৭ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।৫
মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে জামাআহ, ইজ্জুদ্দীন, অন্যতম প্রধান ফকিহ (فقهاء)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
- الشافعية. توفي رحمه الله سنة 819 هـ.1
6- عبد الرحمن بن عمر بن رسلان، جلال الدين، أخو المؤلف، المتوفى سنة 824 هـ.2
7- أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاني، الحافظ الشهير، والإمام المحدث، صاحب كتاب «فتح الباري» ، المتوفى سنة 852 هـ 3.
* تلاميذه:
برز المؤلف في عصره، واشتهر بالإمامة في الفقه وغيره، وذاع صيته، وفاق أقرانه، فاتجه إليه طلاب العلم من كل مكان، ولازموا حلقاته الدراسية، ونهلوا من العلوم التي يلقيها.
ومن أشهر التلاميذ الذين أخذوا عنه: -
1- محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن عمر بن رسلان، بدر الدين، المتوفى سنة 889 هـ4.
2- أحمد بن أحمد بن عبد الخالق الأسيوطي، ولي الدين الشافعي، أحد القضاة، المتوفى سنة 891 هـ.5
3- عبد الله بن زيد بن أبي بكر الجراعي الحنبلي، جمال الدين الصالحي، المتوفى سنة 896 هـ 6.
--------------------------------------------
শাফিঈ মাজহাবের অনুসারী। তিনি ৮১৯ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। ১
৬- আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে রুসলান, জালালুদ্দিন, লেখকের ভাই, যিনি ৮২৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। ২
৭- আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি, সুপ্রসিদ্ধ হাফিজ (الحافظ), এবং ইমাম (إمام) মুহাদ্দিস (المحدث), ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের রচয়িতা, যিনি ৮৫২ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৩
* তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
লেখক তাঁর সমসাময়িককালে অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হন এবং ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রে ইমামত (إمامة) বা নেতৃত্বের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি তাঁর সমকক্ষদের ছাড়িয়ে যান। ফলে দেশ-বিদেশের জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা তাঁর অভিমুখী হন, তাঁর পাঠদান মজলিসসমূহে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন এবং তাঁর পরিবেশিত ইলম থেকে জ্ঞান আহরণ করেন।
তাঁর কাছ থেকে যারা ইলম গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছাত্ররা হলেন:-
১- মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে রুসলান, বদরুদ্দিন, যিনি ৮৮৯ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৪
২- আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল খালিক আল-আসইউতি, ওয়ালিউদ্দিন শাফিঈ, অন্যতম বিচারক, যিনি ৮৯১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৫
৩- আব্দুল্লাহ ইবনে যাইদ ইবনে আবি বকর আল-জারায়ি আল-হানবালি, জামালুদ্দিন আস-সালিহি, যিনি ৮৯৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৭)
4- محمد بن إسماعيل بن محمد الشافعي، شمس الدين، الشهير بخطيب السقيفة، المتوفى سنة 896 هـ 1.
5- محمد بن إسماعيل بن خالد السعدي، بدر الدين، الفقيه الحنبلي، المتوفى سنة 900 هـ 2.
3- محمد بن عبد الرحمن بن محمد، شمس الدين السخاوي الشافعي، الحافظ المؤرخ الشهير المتوفى بالمدينة المنورة سنة 902 هـ 3.
6- عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد، السيوطي، جلال الدين، الحافظ، صاحب المؤلفات التي زادت عل ستمائة مصنف، والمتوفى سنة 911?4.
7- عمر بن إبراهيم بن محمد بن مفلح الراميني، نجم الدين الصالحي، الفقيه الحنبلي، المتوفى سنة 919 هـ 5.
8- زكريا بن محمد بن أحمد الأنصاري، زيد الدين، القاضي الفقيه الشافعي، المتوفى سنة 926 هـ 6.
9- أبو بكر بن عبد الله بن عبد الرحمن، الفقيه الشافعي، المعروف بابن قاضي عجلون، المتوفى سنة 928 هـ 7.
--------------------------------------------
4- মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ি, শামসুদ্দিন, খতিব আস-সাকিফাহ নামে সুপ্রসিদ্ধ, মৃত্যু ৮৯৬ হিজরি ১।
5- মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন খালিদ আস-সা’দি, বদরুদ্দিন, হাম্বলি ফকিহ, মৃত্যু ৯০০ হিজরি ২।
3- মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ, শামসুদ্দিন আস-সাখাভি আশ-শাফিয়ি, সুপ্রসিদ্ধ হাফিজ (الحافظ) ও ইতিহাসবিদ, মদিনা মুনাওয়ারায় মৃত্যু ৯০২ হিজরি ৩।
6- আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ, আস-সুয়ুতি, জালালুদ্দিন, হাফিজ (الحافظ), ছয় শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা, মৃত্যু ৯১১ হিজরি ৪।
7- উমর বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মুফলিহ আর-রামিনি, নাজমুদ্দিন আস-সালিহি, হাম্বলি ফকিহ, মৃত্যু ৯১৯ হিজরি ৫।
8- জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আনসারি, জাইনুদ্দিন, শাফিয়ি কাজি ও ফকিহ, মৃত্যু ৯২৬ হিজরি ৬।
9- আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান, শাফিয়ি ফকিহ, ইবনে কাজি আজলুন নামে পরিচিত, মৃত্যু ৯২৮ হিজরি ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৮)
* ثناء العلماء عليه:
تبوأ الإمام البلقيني مكانة مرموقة بين علماء عصره، وكان لنبوغه العلمي وسيرته في القضاء أثر محبة الناس له، واحتفظ التاريخ بذكراه العطرة، وسطر سيرته الحسنة، وعدد مناقبه الغزيرة، ومآثره العديدة.
ويتضح ذلك من خلال قراءة تاريخ حياته في المصادر التاريخية التي أوردت ترجمته:
قال عنه السخاوي، وهو من أبرز تلاميذه 1: -
كان إماما فقيها، عاملا قوي الحافظة، سريع الإدراك، خلق العبارة فصيحا، بساما بشوشا، طلق المحيا، فاشيا للسلام، مهابا، لطيفا في المحاضرة، فكها، ذاكرا لكثير من المتون والفوائد الحديثية والمبهمات، مستحضرا لجملة من الرقائق والمواعظ والأشعار، وكذا الوقائع والحوادث العلمية، شهما مقداما لا يهاب.
وقال عنه العلامة السيوطي 2: هو شيخنا، حامل لواء مذهب الشافعي في عصره في عراقه وحجازه وشامه ومصره، قاضي القضاة، شيخ الإسلام، تفرد بالفقه، وأخذ عنه الجم الغفير، وألحق الأصاغر بالأكابر، والأحفاد بالأجداد، وقد أفردت ترجمته بالتأليف.
وقد اشتهر الإمام البلقيني بأسلوبه الأخَّاذ في الوعظ والإرشاد المميز في الخطب، فكان يجتمع في مجالسه، والمسجد الذي يُلقي الإمام البلقيني فيه الخطب جموع غفيرة وأعداد كبيرة من الناس، وأصبح علما يشار إليه بالبنان، وقال أحد
--------------------------------------------
আলেমগণের দৃষ্টিতে তাঁর প্রশংসা:
ইমাম আল-বুলকিনী তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে এক সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর ইলমী প্রজ্ঞা এবং বিচারিক জীবনে তাঁর কর্মপদ্ধতি মানুষের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসার গভীর ছাপ ফেলেছিল। ইতিহাস তাঁর সুগন্ধি স্মৃতি সযত্নে ধারণ করে রেখেছে, তাঁর অনুপম জীবনী (ترجمة) লিপিবদ্ধ করেছে এবং তাঁর অগণিত গুণাবলি ও অসংখ্য কীর্তিগাথা বর্ণনা করেছে।
তাঁর জীবনী (ترجمة) ধারণকারী ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে তাঁর জীবন ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে:
তাঁর অন্যতম প্রধান ছাত্র ইমাম সাখাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: -
তিনি ছিলেন একজন ফকিহ (فقيه) ইমাম, ইলম অনুযায়ী আমলকারী এবং প্রখর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (قوي الحافظة)। তিনি ছিলেন দ্রুত অনুধাবনক্ষম ও চমৎকার বাচনভঙ্গির অধিকারী একজন প্রাঞ্জল ভাষী ব্যক্তি। তিনি অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল, প্রফুল্লচিত্ত ও সদালাপী ছিলেন। সর্বদা সালাম প্রচারে অগ্রণী এই মনীষী ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান। পাঠদানে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও রসিক। তিনি অসংখ্য মূলপাঠ (متون), হাদিস সংক্রান্ত বিশেষ শিক্ষা (فوائد حديثية) এবং অস্পষ্ট বর্ণনাকারী (مبهمات) বিষয়ক তত্ত্বে দক্ষ ছিলেন। এছাড়া তিনি প্রচুর পরিমাণে পরকাল স্মরণ উদ্রেককারী নসিহত (رقائق), উপদেশমালা, কবিতা এবং সেই সাথে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ইলমী ঘটনাপ্রবাহ উপস্থিত রাখতে পারতেন। তিনি ছিলেন একজন মহৎ ও সাহসী ব্যক্তিত্ব, যিনি কাউকে পরোয়া করতেন না।
আল্লামা সুয়ূতী তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি আমাদের শায়খ, তাঁর যুগে ইরাক, হিজাজ, শাম ও মিসরে শাফেয়ী মাযহাবের পতাকাবাহী, কাযীউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) এবং শায়খুল ইসলাম। ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে তিনি ছিলেন অনন্য এবং অগণিত মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন। তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ছোটরা বড়দের স্তরে উন্নীত হয়েছে এবং নাতিরা তাদের দাদাদের সমকক্ষতা অর্জন করেছে। আমি তাঁর জীবনী (ترجمة) নিয়ে স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থ রচনা করেছি।
ইমাম আল-বুলকিনী তাঁর ওয়াজ ও নসিহতের মনোমুগ্ধকর শৈলী এবং খুতবার অনন্য ঢঙের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মজলিসগুলোতে এবং যে মসজিদে ইমাম আল-বুলকিনী খুতবা দিতেন, সেখানে বিশাল জনসমাবেশ ও অগণিত মানুষের ভিড় হতো। তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন যাকে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করা হতো (সর্বজনখ্যাত)। জনৈক ব্যক্তি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
الأدباء مثنيا عليه1.
وعظ الأنام إمامنا الحبر الذي
… سكب العلوم كبحر فضل طافح
فشفا القلوب بعلمه وبوعظه
… والوعظ لا يشفي سوى من صالح
* ولايته القضاء:
لا عجب أن يتولى الإمام البلقيني منصب القضاء بعد الشهرة العلمية، والمنزلة الفقهية التي بلغها، وليس غريبا أن يتولى القضاء، وقد ولي معظم العلماء من أسرته وأقاربه هذا العمل.
فقد تولى القضاء مبكرا قبل بلوغه العشرين من عمره نيابة عن أخيه القاضي جلال الدين بن عمر، في «دمنهور» شمال مصر.
ثم استقر في القضاء بالديار المصرية، ثم عزل، ثم أعيد، وتوالى عزله وإعادته عدة مرات، وبلغ مجموع ما أمضاه في القضاء ثلاثة عشر عاما ونصف.
وعرض عليه الوالي قضاء دمشق، فامتنع. وأثنى عليه السخاوي، وذكر أنه سار في القضاء سيرة حسنة2.
* مؤلفاته:
حفل عصر العلامة البلقيني بأفذاذ من العلماء الذين أسهموا إسهاما بارزا في زيادة الإنتاج العلمي وتدوينه، وكثرت المؤلفات المختلفة في شتى أنواع المعارف والفنون بالإضافة إلى ما كانوا يقومون به من الإفتاء والتدريس، وإرشاد الناس وتوجيههم فإنهم لم يغفلوا عن جانب التأليف والكتابة، ولم ينصرفوا عنه رغم كثرة المشاغل والأعمال الأخرى.
--------------------------------------------
সাহিত্যিকগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন ১।
আমাদের ইমাম, সেই মহান পন্ডিত (الحبر) মানবমন্ডলীকে উপদেশ দিয়েছেন যিনি
… জ্ঞানের প্রবাহকে উপচে পড়া অনুগ্রহের সমুদ্রের ন্যায় ঢেলে দিয়েছেন
তিনি তাঁর জ্ঞান ও উপদেশের মাধ্যমে অন্তরসমূহকে আরোগ্য দান করেছেন
… আর উপদেশ কেবল সৎকর্মশীলদের পক্ষ থেকেই আরোগ্য দান করে থাকে
* বিচারপতির পদ (القضاء) গ্রহণ:
ইমাম বুলকিনি যে ইলমি প্রসিদ্ধি এবং ফিকহ বিষয়ক (الفقهية) সুউচ্চ মাকাম অর্জন করেছিলেন, তারপর তাঁর বিচারপতির (القضاء) দায়িত্ব গ্রহণ মোটেও বিস্ময়কর নয়। আর তাঁর বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করা মোটেও আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ আলেম এবং তাঁর নিকটাত্মীয়রা এই পদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি তাঁর বিশ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁর ভাই বিচারক (القاضي) জালালুদ্দিন বিন উমরের প্রতিনিধি হিসেবে উত্তর মিসরের 'দামানহুর'-এ বিচারপতির (القضاء) দায়িত্ব পালন করেন।
অতঃপর তিনি মিসরে বিচারপতির (القضاء) পদে স্থায়ী হন, এরপর তাঁকে অপসারণ করা হয়, পুনরায় বহাল করা হয়। এভাবে বেশ কয়েকবার তাঁর অপসারণ এবং পুনর্বহাল চলতে থাকে। তিনি বিচারকার্যে সর্বমোট সাড়ে তেরো বছর অতিবাহিত করেন।
গভর্নর তাঁকে দামেস্কের বিচারপতির (القضاء) পদের প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সাখাভি তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, বিচারকার্যে তিনি উত্তম আদর্শ অনুসরণ করেছিলেন ২।
* তাঁর রচনাবলি:
আল্লামা বুলকিনির যুগ এমন একদল ক্ষণজন্মা আলেমদের পদচারণায় মুখর ছিল, যাঁরা ইলমি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তা সংকলনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছিল। ফতোয়া প্রদান (الإفتاء), অধ্যাপনা এবং মানুষকে সঠিক পথের দিশা ও দিকনির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি তাঁরা গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের বিষয়ের প্রতিও বিমুখ হননি এবং অন্যান্য অনেক ব্যস্ততা ও কাজের আধিক্য সত্ত্বেও তাঁরা তা থেকে দূরে সরে যাননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
والإمام البلقيني واحد ممن كان لهم دور بارز في ذلك، فقد قدم للمكتبة الإسلامية عددا من المؤلفات التي جادت بها قريحته، وسطرها قلمه، أعانه عليها ما وهبه الله من ذكاء وفطنة، وحفظ واستيعاب للفنون المختلفة والعلوم المتنوعة.
وفيما يلي سرد لمؤلفاته التي أوردتها المصادر التي ترجمت له:
1- أجوبة عن أسئلة منظومة1.
2- أحكام المبعض2.
3- التجرد والاهتمام بجمع فتاوى الوالد شيخ الإسلام3.
يقع في ثلاثة مجلدات، مجموع أوراقها (908) ورقات، محفوظ بالمكتبة الأزهرية4، ومرتب على أبواب الفقه.
ويتضمن فتاوى والده في مختلف المسائل، وفرغ من تأليفه في شهر شعبان سنة أربع وأربعين وثمانمائة.
4- تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين.
وهو هذه الرسالة التي حققتها، وسيأتي الحديث عنها إن شاء الله تعالى5.
5- التذكرة، في ست مجلدات6.
--------------------------------------------
ইমাম বুলকিনি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন যারা এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডারে এমন অনেক গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন যা তাঁর প্রতিভা থেকে প্রসূত এবং তাঁর লেখনীর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এক্ষেত্রে তাঁকে সাহায্য করেছে আল্লাহ প্রদত্ত প্রখর মেধা ও প্রজ্ঞা এবং বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিচিত্র জ্ঞান শাখায় তাঁর মুখস্থ ও আয়ত্ত করার ক্ষমতা।
নিচে তাঁর রচনাবলির একটি তালিকা প্রদান করা হলো যা তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণনাকারী উৎসসমূহে উল্লিখিত হয়েছে:
১- আজউবিবা আন আসইলাতিন মানযুমা।
২- আহকামুল মুবা’আদ।
৩- আত-তাজাররুদ ওয়াল ইতিমাম বি-জাময়ি ফাতাওয়া আল-ওয়ালিদ শায়খুল ইসলাম।
এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত, যার মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা (৯০৮) টি। এটি আল-আযহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত এবং ফিকহের অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত।
এটি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পিতার ফতোয়াসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে এবং ৮৪৪ হিজরি সালের শাবান মাসে এর রচনার কাজ সমাপ্ত হয়।
৪- তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বিলা ইয়ামিন।
এটি সেই পুস্তিকা (رسالة) যা আমি সম্পাদনা (تحقيق) করেছি এবং ইনশাআল্লাহ তা’আলা এই বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে।
৫- আত-তাযকিরাহ, এটি ছয় খণ্ডে বিভক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
6- ترجمة البلقيني، كتاب ذكر فيه سيرة والده وحياته العلمية1.
7- ترجمة الجلال البلقيني، أفرد فيه ترجمة لأخيه جلال الدين عبد الرحمن2.
8- تفسير القرآن العظيم، في ثلاثة عشر مجلدا، فرغ من تأليفه سنة 863 ?3.
9- تكملة التدريب.
أكمل المؤلف فيه مؤلفا في الفقه لوالده، اسمه "التدريب"4، كان قد وصل فيه إلى كتاب "الرضاع"، وأتمَّه المؤلف إلى نهاية أبواب الفقه، وفرغ من تأليفه في شهر محرم سنة 857 ?5.
10- تلخيص الفوائد المحضة على الرافعي والروضة.
وهو تعليقات على كتاب "فتح العزيز" و "روضة الطالبين"، ويقع في سبع مجلدات6.
11- الجوهر الفرد فيما يخالف فيه الحر العبد 7.
--------------------------------------------
6- তারজামাতুল বুলকিনি; এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে তিনি তাঁর পিতার জীবনী (ترجمة) এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন বর্ণনা করেছেন১।
7- তারজামাতুল জালাল আল-বুলকিনি; এতে তিনি তাঁর ভাই জালালুদ্দিন আবদুর রহমানের একটি স্বতন্ত্র জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন২।
8- তাফসীরুল কুরআনিল আজিম; তেরো খণ্ডে সমাপ্ত, ৮৬৩ হিজরি সালে এর রচনা সম্পন্ন হয়েছে৩।
9- তাকমিলাতুত তাদরীব।
লেখক এতে তাঁর পিতার ফিকহ শাস্ত্রীয় একটি কিতাব সম্পন্ন করেছেন যার নাম "আত-তাদরীব"৪। তিনি (পিতা) এতে "কিতাবুর রাদা" (দুগ্ধপান অধ্যায়) পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং লেখক এটি ফিকহের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত সমাপ্ত করেছেন। ৮৫৭ হিজরি সালের মহররম মাসে এর রচনা সম্পন্ন হয়েছে৫।
10- তালখিসুল ফাওয়াইদিল মাহদাহ আলাল রাফেয়ি ওয়াল রওদাহ।
এটি "ফাতহুল আজিজ" এবং "রওদাতুত তালিবিন" গ্রন্থদ্বয়ের ওপর কিছু টীকা (تعليقات), যা সাত খণ্ডে বিন্যস্ত৬।
11- আল-জাওহারুল ফারদ ফিমা ইউখালিফু ফিহিল হুররু আল-আবদ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫২)
وهي رسالة جمع فيها المؤلف المسائل الفقهية التي يخالف فيها العبيد الأحرار مرتبة على أبواب الفقه. وقد حققها الدكتور عبد الرحمن بن عبد الله السحيمي.
12- دخول العبد المسلم في ملك الكافر.
توجد منها نسخة مصورة في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض تحت رقم (523/ف) كتب على غلافها اسم المؤلف، ولم أر من نسبها إليه ممن ترجموا له.
13- الغيث الجاري على صحيح البخاري 1.
شرح للمؤلف على صحيح البخاري من أوله إلى أواخر كتاب الصيام2.
14- القول المستبين في أحكام المرتدين3.
15- القول المفيد في اشتراط الترتيب بين كلمتي التوحيد4.
16- القول المقبول فيما يدعي فيه بالمجهول5.
مخطوطة صغيرة في ست ورقات محفوظة في مكتبة أحمد الثالث بتركيا، منها مصورة في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض تحت رقم (523/ف) .
17- الكشاف على الكشاف6.
وهو تعليق على شيء من تفسير الكشاف للزمخشري في عدة مجلدات.
--------------------------------------------
এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যেখানে লেখক ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করে সেই সকল মাসআলা একত্রিত করেছেন যেগুলোতে দাসগণ স্বাধীন ব্যক্তিদের থেকে ভিন্নতর বিধানের অন্তর্ভুক্ত। ডক্টর আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সুহাইমি এটি সম্পাদনা করেছেন।
১২- মুসলিম দাসের কাফিরের মালিকানায় প্রবেশ।
রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এর একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ৫২৩/ফা নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে, যার প্রচ্ছদে লেখকের নাম লেখা আছে; তবে যারা তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করেছেন তাদের কাউকে এটি তাঁর দিকে নিসবত করতে দেখিনি।
১৩- আল-গাইসুল জারি আলা সহীহ বুখারী ১।
এটি সহীহ বুখারীর ওপর লেখকের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এর শুরু থেকে কিতাবুস সওমের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত।২
১৪- আল-কাওলুল মুস্তাবীন ফী আহকামিল মুরতাদ্দীন ৩।
১৫- আল-কাওলুল মুফীদ ফী ইশতিরাতিত তারতীব বাইনা কালিমাতাইত তাওহীদ ৪।
১৬- আল-কাওলুল মাকবুল ফীমা ইউদ্দা'আ ফীহি বিল অজ্ঞাত (مجهول) ৫।
এটি ছয় পাতার একটি ক্ষুদ্র পাণ্ডুলিপি যা তুরস্কের আহমদ আস-সালিস লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত, এর একটি ফটোকপি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২৩/ফা নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।
১৭- আল-কাশশাফ আলাল কাশশাফ ৬।
এটি যামাখশারী রচিত তাফসীরে কাশশাফের কিছু অংশের ওপর কয়েক খণ্ডে রচিত একটি টীকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৩)
1- مؤلف في الطاعون1.
2- مقالات نثرية.
وهو تقريظ على بعض مصنفات معاصريه2.
3- المقال المقطر في مقام المنبر.
وهو ديوان خطب في مجلد واحد 3.
4- النثر الرائق في الرقائق.
وهو أربعة أجزاء في المواعظ 4.
5- النثر الفائق في الرقائق.
وهو في مجلد واحد في المواعظ 5.
* وفاته:
أجمعت المصادر التاريخية التي ترجمت للمصنف – رحمه الله تعالى – على أن وفاته كانت في يوم الأربعاء، الخامس من شهر رجب، عام ثمان وستين وثمانمائة للهجرة النبوية. ودفن في اليوم التالي لوفاته بعد أن أدت جموع غفيرة الصلاة عليه بجامع الحاكم6.
--------------------------------------------
১- মহামারী বিষয়ক একটি গ্রন্থ ১।
২- গদ্য প্রবন্ধসমূহ।
এটি তাঁর সমসাময়িকদের কিছু রচনার ওপর লিখিত প্রশংসামূলক মূল্যায়ন ২।
৩- আল-মাকাল আল-মুকাত্তার ফি মাকাম আল-মিনবার।
এটি এক খণ্ডে সমাপ্ত খুতবা সংকলন ৩।
৪- আন-নাশরুর রায়িক ফির রাকায়িক।
এটি নসিহত বা সদুপদেশ বিষয়ক চার খণ্ডে সমাপ্ত ৪।
৫- আন-নাশরুল ফায়িক ফির রাকায়িক।
এটি নসিহত বা সদুপদেশ বিষয়ক এক খণ্ডে সমাপ্ত ৫।
* তাঁর ইন্তেকাল:
যে সকল ঐতিহাসিক উৎস গ্রন্থকারের—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—জীবনী বর্ণনা করেছে, তারা এই মর্মে একমত যে, তাঁর ইন্তেকাল ৮৬৮ হিজরি সনের ৫ই রজব, বুধবার সংঘটিত হয়েছে। তাঁর ইন্তেকালের পরদিন আল-হাকিম জামে মসজিদে এক বিশাল জনসমাবেশ তাঁর জানাজার নামাজ আদায় করার পর তাঁকে দাফন করা হয় ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৪)
ثانيا: التعريف بالمخطوط المحقق:
ويشتمل على النقاط التالية:
* نسبة الرسالة إلى المؤلف:
وردت نسبة رسالة (تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين) ضمن قائمة مؤلفاته التي توردها المصادر المختصة، وكتاب (هدية العارفين أسماء المؤلفين وآثار المصنفين) لمؤلفه إسماعيل باشا البغدادي المتوفى 1339?، من أهم المصادر التي عنيت بنسبة المؤلفات إلى أصحابها وربط عناوينهابأسماء مؤلفيها.
وحين عدد البغدادي في كتابه هدية العارفين 1/422 أسماء مؤلفات العلامة البلقيني، ذكر منها هذه الرسالة: (تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين) .
كما نسبها للبلقيني، الحاج خليفة في مؤلفه الذي خصصه لذكر أسماء المؤلفين ومؤلفاتهم. فقد جاء في كتابه: «كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون 1/363: «تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين» لعلم الدين صالح بن سراج الدين عمر البلقيني.
فنسبة الرسالة إلى المؤلف ثابتة من خلال هذين المصدرين.
كما أن أسلوب المؤلف ومنهجه في كتابتها لا يختلف عن المنهج الذي سلكه في تأليف رسائله الأخرى التي اطلعت عليها، ومنها:
- الجوهر الفرد فيما يخالف فيه الحر العبد.
- القول المقبول فيما يدعي فيه بالمجهو.
- دخول العبد المسلم في ملك الكافر.
দ্বিতীয়ত: সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির (المخطوط المحقق) পরিচিতি:
এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
* লেখকের প্রতি পুস্তিকাটির সম্বন্ধযুক্তকরণ (نسبة):
‘তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বি-লাই ইয়ামিন’ পুস্তিকাটি লেখকের প্রতি সম্বন্ধযুক্তকরণ (نسبة)-এর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উৎসসমূহের প্রদানকৃত তাঁর রচনাবলীর তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি (মৃত্যু ১৩৩৯ হিজরি), যিনি ‘হাদিয়াতুল আরিফিন আসমাউল মুয়াল্লিফিন ওয়া আসারুল মুসান্নিফিন’ গ্রন্থের রচয়িতা, তাঁর এই গ্রন্থটি লেখকদের প্রতি রচনাসমূহ সম্বন্ধযুক্তকরণ (نسبة) এবং কিতাবের শিরোনামগুলোকে তাদের লেখকের নামের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত।
আল-বাগদাদি যখন তাঁর ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ (১/৪২২) গ্রন্থে আল্লামা বুলকিনির রচনাবলীর নাম গণনা করেছেন, তখন তিনি এই পুস্তিকাটির কথা উল্লেখ করেছেন: ‘তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বি-লাই ইয়ামিন’।
তেমনিভাবে হাজি খলিফা তাঁর সেই রচনায় এটি বুলকিনির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (نسبة) করেছেন যা তিনি লেখক এবং তাঁদের রচনাবলীর নাম উল্লেখের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁর গ্রন্থ ‘কাশফুয যুনুন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনুন’ (১/৩৬৩)-এ এসেছে: আলম উদ্দিন সালিহ বিন সিরাজ উদ্দিন উমর আল-বুলকিনির রচিত ‘তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বি-লাই ইয়ামিন’।
সুতরাং এই দুটি উৎসের মাধ্যমে লেখকের প্রতি পুস্তিকাটির সম্বন্ধ (نسبة) প্রমাণিত (ثابتة)।
এছাড়া এটি রচনায় লেখকের শৈলী ও কর্মপদ্ধতি (منهج) তাঁর অন্যান্য পুস্তিকা রচনায় অনুসরণকৃত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন নয় যা আমি পর্যবেক্ষণ করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
- আল-জাওহারুল ফারদ ফীমা ইউখালিফু ফিহিল হুররুল আবদ।
- আল-কাওলুল মাকবুল ফীমা ইউদ্দাআ ফিহি বিল মাজহুল।
- দুখুলুল আবদিল মুসলিম ফী মিলকিল কাফির।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৫)
* موضوع المخطوط وسبب تأليفه ومنهجه:
هذا المؤلف (تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين) يتحدث فيه مؤلفه عن بعض المسائل المتعلقة بمن يقبل قوله بلا يمين على مذهب الإمام الشافعي الذي ينتسب إليه.
أما سبب تأليفه فقد أشار المؤلف إليه في المقدمة حيث قال: ليتذكر بها الفقيه المتين الراغب في الفقه ولينتفع بذلك أهل التقوى والدين.
أما منهجه في هذا المؤلف فهو يختار من كل باب من أبواب الفقه مسألة أو مسألتين أو أكثر، ولذلك يعبر بـ (من) التبعيضية عند بداية كل باب.
ثم بعد ذلك يورد المسألة ويصوغها بأسلوبه في بعض الأحيان، وأحيانا ينقلها بنصها من كتب المذهب وأحيانا يصرح بالنقل من هذه الكتب كالتتمة، والكفاية، والحاوي، وغيرها. وقد اعتمد كثيرا على النقل من روضة الطالبين للإمام النووي.
وفي الغالب لا يذكر الأوجه في المسألة، بل يجزم بحكمها وهو الصحيح في المذهب، وفي بعض المسائل يذكر الأقوال والأوجه بدون تصحيح، وقد لا يذكر قولا أو وجها في المسألة بخلاف ما عليه المذهب، وهذا قليل.
والمؤلف – رحمه الله تعالى – جمع هذه المسائل ورتبها ونقلها من بطون كتب المذهب في مؤلف خاص بها وعرضها بأسلوب سهل واضح، وعلق على بعض المسائل بتعليقات مفيدة ولم يستقص المؤلف جميع المسائل الوادرة في هذا الموضوع، كما أنه لم يذكر الأدلة النقلية أو العقلية لما أورده من مسائل.
* وصف النسخ المعتمدة في التحقيق:
بعد الاجتهاد في البحث والتنقيب في فهارس المخطوطات المختلفة لم أعثر
* পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু, রচনার কারণ ও কর্মপদ্ধতি:
এই গ্রন্থটি (তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বিলা ইয়ামিন) এমন কিছু মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করে যেখানে ইমাম শাফেঈ-এর মাযহাব অনুযায়ী শপথ ছাড়াই কারো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য (يقبل) হিসেবে বিবেচিত হয়।
রচনার কারণ সম্পর্কে লেখক ভূমিকার মধ্যে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: যাতে সুদৃঢ় ও ফিকহ অনুরাগী ফকিহগণ এর মাধ্যমে স্মরণ করতে পারেন এবং তাকওয়া ও দ্বীনদার ব্যক্তিগণ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন।
এই গ্রন্থে লেখকের পদ্ধতি হলো, তিনি ফিকহের প্রতিটি অধ্যায় থেকে একটি, দুটি বা ততোধিক মাসয়ালা চয়ন করেন। একারণেই তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে অংশবাচক (تبعيضية) 'মিন' ব্যবহার করেন।
এরপর তিনি মাসয়ালাটি উপস্থাপন করেন এবং কখনো তা নিজস্ব শৈলীতে বর্ণনা করেন, আবার কখনো মাযহাবের কিতাবসমূহ থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেন। কখনো তিনি কিতাবগুলোর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যেমন: আত-তাতিনম্মাহ, আল-কিফায়াহ, আল-হাওয়ি ইত্যাদি। তিনি ইমাম নববীর রাওদাতুত তালিবিন গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি মাসয়ালার বিভিন্ন অভিমত (الأوجه) উল্লেখ করেন না; বরং এর বিধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যা মাযহাবের সঠিক (الصحيح) মত হিসেবে গণ্য। কিছু মাসয়ালায় তিনি কোনো প্রকার বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) ছাড়াই বিভিন্ন বক্তব্য ও অভিমত উল্লেখ করেন। আবার কখনো তিনি মাযহাবের পরিপন্থী কোনো বক্তব্য বা অভিমত উল্লেখ করেন না, তবে এমনটি খুব কমই ঘটে।
লেখক—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—এই মাসয়ালাগুলো একত্রিত ও বিন্যস্ত করেছেন এবং মাযহাবের মূল কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তিনি কিছু মাসয়ালার ওপর প্রয়োজনীয় টীকা প্রদান করেছেন। লেখক এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সকল মাসয়ালা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেননি এবং তাঁর উপস্থাপিত মাসয়ালাগুলোর সপক্ষে কোনো শ্রুতিগত (نقلية) বা যুক্তিনির্ভর (عقلية) দলিলও উল্লেখ করেননি।
* পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কপির বিবরণ:
পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন ক্যাটালগে অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর আমি আর কোনো সন্ধান পাইনি
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৬)
إلا على نسخة فريدة لهذا المؤلَّف: (تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين) ، وهذه المخطوطة محفوظة بالهند - حيدر أباد - في الجامعة العثمانية تحت رقم (361/297) .
وتقع هذه المخطوطة في أربع ورقات، في كل لوحة (23) سطرا ما عدا اللوحة الأخيرة من الورقة الرابعة، فهي أقل من ذلك وتتراوح كلمات كل سطر ما بين 10 إلى 11 كلمة. وقد كتبت هذه المخطوطة بخط جيد مختلط بين النسخ والرقعة، وهي خالية من التعليقات والحواشي. وناسخها: محمد بن المساوي الأهدل.
أما تاريخ نسخها فكان الفراغ منه ضحى يوم الاثنين في شهر محرم سنة 1223 هـ، كما هو مدون في آخر لوحة من المخطوط وكتب بعد ذلك:
كمل الكتاب تكاملت نعم السرور لصاحبه
… وعفى الإله بفضله وبجوده عن كاتبه
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليماكثيرا.
এই রচনার কেবল একটি অনন্য অনুলিপি (نسخة)-র ওপর ভিত্তি করা হয়েছে: (তোহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বিলা ইয়ামিন); এই পাণ্ডুলিপিটি (مخطوطة) ভারতের হায়দ্রাবাদে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (৩৬১/২৯৭) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি (مخطوطة) চারটি পত্র (ورقة) নিয়ে গঠিত, যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় (২৩)টি করে লাইন (سطر) রয়েছে, তবে চতুর্থ পত্রের (ورقة) শেষ পৃষ্ঠাটি এর চেয়ে কম। প্রতিটি লাইনের শব্দসংখ্যা ১০ থেকে ১১টির মধ্যে। এই পাণ্ডুলিপিটি (مخطوطة) নাসখ (نسخ) ও রুক'আ (رقعة) লিখনরীতির সংমিশ্রণে একটি চমৎকার হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এটি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা বা পার্শ্বটীকা (حواشي) মুক্ত। এর অনুলিপিকারক (ناسخ) হলেন: মুহাম্মদ বিন আল-মুসাওয়ী আল-আহদাল।
এর অনুলিপি সম্পন্ন করার তারিখ ছিল ১২২৩ হিজরি সনের মহররম মাসের সোমবার পূর্বাহ্নে, যেমনটি পাণ্ডুলিপির (مخطوطة) শেষ পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং এরপর লেখা হয়েছে:
গ্রন্থটি পূর্ণ হলো, এর অধিকারীর জন্য আনন্দের সকল নেয়ামত পূর্ণতা পেল
… আর আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে এর লেখকের অপরাধ ক্ষমা করুন।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৭)
نماذج من المخطوط
পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৮)
الورقة الأولى من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্র
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৫৯)
الورقة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পাতা।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬০)
منهج التحقيق:
من أجل أن تظهر هذه الرسالة على الوجه الصحيح، والصورة التي وضعها عليها المؤلف، سرت في تحقيقها على المنهج الآتي: -
1- كتبت النص حسب القواعد الإملائية المتعارف عليها في عصرنا الحاضر.
2- وثقت الأقوال التي نسبها المؤلف في المخطوط لبعض فقهاء الشافعية أو نقلها عنهم.
3- علقت على بعض المواضع التي رأيت مناسبة التعليق عليها في الهامش معتمدا في ذلك على مصادر الشافعية الأصلية.
4- عرفت بالكتب التي ذكر المؤلف ووثقت ما نقله منها.
5- ترجمت للأعلام الذين ذكرهم المؤلف ترجمة موجزة معتمدا على المصادر الأصلية في ذلك.
6- شرحت الكلمات الغريبة التي ورد ذكرها في المخطوط، وذلك بالرجوع إلى المصادر الأصلية المهتمة بذلك.
7- حددت نهاية كل ورقة، وذلك بوضع خط مائل (/) هكذا، ثم ذكرت في الهامش: نهاية لوحة رقم كذا من المخطوط.
8- وضعت في نهاية الكتاب فهرسا للمصادر التي اعتمدت عليها وآخر للموضوعات.
সম্পাদনা পদ্ধতি (منهজ التحقيق):
এই গবেষণাপত্রটি যাতে সঠিকরূপে এবং লেখকের অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রকাশিত হয়, সে লক্ষ্যে আমি এর সম্পাদনায় নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি: -
1- আমি বর্তমান যুগে প্রচলিত বানানরীতি অনুযায়ী মূল পাঠটি লিপিবদ্ধ করেছি।
2- পাণ্ডুলিপিতে লেখক শাফেঈ মাজহাবের যে সকল ফকিহদের (فقهاء) উক্তি বর্ণনা করেছেন বা তাদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, আমি সেগুলোর উৎস যাচাই (توثيق) করেছি।
3- পাণ্ডুলিপির যেসব স্থানে টীকা প্রদান করা উপযুক্ত মনে হয়েছে, সেখানে শাফেঈ মাজহাবের মৌলিক উৎসসমূহের ওপর ভিত্তি করে পাদটীকায় প্রয়োজনীয় মন্তব্য সংযোজন করেছি।
4- লেখক যেসব গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন আমি সেগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি এবং উদ্ধৃত পাঠসমূহের উৎস যাচাই (توثيق) করেছি।
5- লেখক যেসব বরেণ্য ব্যক্তিদের (أعلام) নাম উল্লেখ করেছেন, মৌলিক উৎসসমূহের আলোকে আমি তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) লিখেছি।
6- পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহৃত দুর্লভ শব্দসমূহের (الكلمات الغريبة) ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট মৌলিক উৎসসমূহের সহায়তায় প্রদান করেছি।
7- পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পাতার সমাপ্তি একটি হেলানো রেখা (/) চিহ্নের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি এবং পাদটীকায় উল্লেখ করেছি: ‘পাণ্ডুলিপির অমুক নম্বর পৃষ্ঠার সমাপ্তি’।
8- গ্রন্থের শেষে তথ্যসূত্র এবং বিষয়বস্তুর একটি নির্ঘণ্ট (فهرس) যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৩)
مدخل…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين الحق المبين الذي رفع عن دعوى المدعي دعواه في بعض كلفة اليمين، والصلاة والسلام على أشرف المخلوقين محمد خاتم النبيين، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد:
فقد استخرت الله تعالى في هذا التعليق على نبذ من المسائل التي يقبل فيها قول الأمين وغيره بلا يمين، ليتذكر بها الفقيه المتين الراغب في الفقه لينتفع بذلك أهل التقوى والدين، وسميته: "تحفة الأمين فيمن يقبل قوله بلا يمين" والله المسئول والمعين أن ييسره بفضله المتين، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
উপক্রমণিকা…পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি সুস্পষ্ট সত্য; যিনি কতিপয় ক্ষেত্রে শপথের কষ্ট ছাড়াই বাদীর দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং নবীগণের মোহর মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।
অতঃপর:
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট এই টীকাটি রচনার বিষয়ে ইস্তিখারা করেছি, যা এমন কিছু মাসআলা সম্পর্কিত যেখানে নির্ভরযোগ্য (الأمين) এবং অন্যদের কথা কোনো শপথ ছাড়াই গ্রহণ করা হয়। যাতে ফিকহ শাস্ত্রে আগ্রহী প্রাজ্ঞ ফকিহগণ এর মাধ্যমে বিষয়গুলো স্মরণ রাখতে পারেন এবং এর দ্বারা তাকওয়া ও দ্বীনদার ব্যক্তিবর্গ উপকৃত হতে পারেন। আমি এর নামকরণ করেছি: "তুহফাতুল আমিন ফিমান ইউকবালু কাওলুহু বিলা ইয়ামিন"। আল্লাহর কাছেই আমি প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই সাহায্য কামনা করছি যেন তিনি তাঁর সুদৃঢ় অনুগ্রহে এটি সহজ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৩)
من باب الزكاة1:
لو قال الفقير لا كسب لي وحاله يشهد بصدقه لكبر أو زمانة2 أعطي بلا بينة ولا يمين3. وحيث لا تهمة في دعوى المسكين والفقير يكتفي بقولهما ولا
--------------------------------------------
জাকাত অধ্যায় থেকে১:
যদি কোনো দরিদ্র (فقير) ব্যক্তি বলে যে, ‘আমার কোনো উপার্জন নেই’ এবং বার্ধক্য বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির (زمانة) কারণে তার অবস্থা তার সত্যতার সাক্ষ্য দেয়, তবে তাকে কোনো প্রমাণ (بينة) বা শপথ (يمين) ছাড়াই প্রদান করা হবে। আর যেখানে অভাবী (مسكين) ও দরিদ্র (فقير) ব্যক্তির দাবির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সন্দেহের (تهمة) অবকাশ থাকে না, সেখানে তাদের কথাই যথেষ্ট বলে গণ্য হবে এবং না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৪)
يندب التحليف، وحيث اتُّهِم مدعي الفقر والمسكنة حلَّفه الحاكم ندبا1.
ومن قال: من المؤلفة2، نيتي في الإسلام ضعيفة قُبِلَ قوله بلا يمين3.
مسألة: لو ادعى المالك تلف النصاب4 المخروص5 أو بعضه فإن أسنده إلى سبب خفي كالسرقة صدق بيمينه6 أو ظاهر كالنهب7 وعرف السبب8
--------------------------------------------
শপথ গ্রহণ করানো মুস্তাহাব (يندب), এবং যেখানে দারিদ্র্য ও অভাবী হওয়ার দাবিদারকে অভিযুক্ত করা হয়, সেখানে বিচারক তাকে মুস্তাহাব (ندبا) হিসেবে শপথ করাবেন ১।
আর যে বলে: আমি মুআল্লাফাতুল কুলুব (المؤلفة) ২-দের অন্তর্ভুক্ত, ইসলামে আমার নিয়ত দুর্বল (ضعيفة), তার কথা শপথ ছাড়াই গ্রহণ করা হবে ৩।
মাসআলা: যদি সম্পদের মালিক পরিমাপকৃত (المخروص) ৫ নিসাব (النصاب) ৪ বা তার কিছু অংশ ধ্বংস হওয়ার দাবি করে, তবে সে যদি চুরির মতো কোনো গোপন কারণ দর্শায়, তবে শপথের মাধ্যমে তাকে সত্যবাদী গণ্য করা হবে ৬। অথবা যদি লুণ্ঠনের (النهب) ৭ মতো কোনো প্রকাশ্য কারণ দর্শায় এবং কারণটি জানা থাকে ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৫)
صدق بلا يمين إن لم يتهم، وإلا حلف1.
مسألة: - النِّتاج2 يزكى بزكاة الأصل، ولو ادعى المالك أن النتاج بعد الحول صدق بلا يمين3، فإن اتهم حلف4.
--------------------------------------------
তাকে শপথ (يمিন) ছাড়াই সত্যবাদী বলে গণ্য করা হবে যদি সে অভিযুক্ত (يتهم) না হয়, অন্যথায় সে শপথ (حلف) করবে১।
মাসআলা: - শাবক (النتاج)২ এর জাকাত মূল (الأصل) সম্পদের জাকাতের সাথেই প্রদান করা হবে। যদি মালিক দাবি করেন যে, শাবক (النتاج) বছর পূর্ণ হওয়ার (الحول) পর ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তবে তাকে শপথ (يمিন) ছাড়াই সত্যবাদী বলে গণ্য করা হবে৩; কিন্তু যদি সে অভিযুক্ত (اتهم) হয়, তবে সে শপথ (حلف) করবে৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৫)
من باب بيع الأصول والثمار:فيما إذا باع الثمرة بعد بدو الصلاح، قال في "التتمة"5: "لو
--------------------------------------------
মূল সম্পদ (الأصول) এবং ফলমূল বিক্রয় অধ্যায় থেকে:ফল পরিপক্কতা প্রকাশ পাওয়ার (بدو الصلاح) পর তা বিক্রয় করার বিষয়ে "আত-তাতিম্মাহ" ৫ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
اختلف في وقوع الجائحة1 فالغالب أنها لا تخفى، فإن لم تعرف أصلا، فالقول قول البائع بلا يمين، وإن عُرف وقوعها عاما فالقول قول المشتري بلا يمين، وإن وقعت وأصابت قوما دون قوم فالقول قول البائع مع يمينه"2.
مسألة: إذا وجد بالمبيع عيبا، فإن لم يحتمل تقديمه3 كجراحة طرية، وقد جرى البيع والقبض من سنة، فالقول قول البائع بلا يمين4.
--------------------------------------------
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (الجائحة)১ ঘটার বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি গোপন থাকে না। যদি তা একেবারেই জানা না যায়, তবে বিক্রেতার (البائع) বক্তব্য শপথ (يمين) ছাড়াই গ্রহণীয় হবে। আর যদি সাধারণভাবে এর ঘটার বিষয়টি জানা থাকে, তবে ক্রেতার (المشتري) বক্তব্য শপথ (يمين) ছাড়াই গ্রহণীয় হবে। আর যদি তা ঘটে থাকে এবং সবার পরিবর্তে কেবল নির্দিষ্ট কিছু লোককে আক্রান্ত করে, তবে বিক্রেতার (البائع) কথা তার শপথসহ (يمينه)২ গ্রহণীয় হবে।
মাসআলা: যদি বিক্রিত বস্তুতে কোনো ত্রুটি (عيبا) পাওয়া যায়, তবে তা যদি আগে থেকে থাকার সম্ভাবনা না থাকে৩—যেমন তাজা ক্ষত—অথচ বিক্রি ও পণ্য হস্তগত করার (القبض) পর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে, তবে বিক্রেতার (البائع) কথাই শপথ (يمين) ছাড়াই গ্রহণীয় হবে৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আমীন ফীমান ইয়াকবালু ক্বাউলাহূ বিলা ইয়ামীন
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
من باب الرهن5:
لو قال: رهنتني الأشجار مع الأرض يوم رهن الأرض، فقال الراهن: لم تكن الأشجار أو بعضها يوم رهن الأرض، بل أخذتها بعد، نظر: إن كانت الأشجار بحيث لا يتصور وجودها يوم الرهن، فالمرتهن كاذب، والقول قول
--------------------------------------------
বন্ধক (الرهن) অধ্যায় হতে5:
যদি তিনি বলেন: জমি বন্ধক দেওয়ার দিন আপনি জমির সাথে গাছগুলোও আমার নিকট বন্ধক (الرهن) রেখেছিলেন, পক্ষান্তরে বন্ধকদাতা (الراهن) বলেন: জমি বন্ধক দেওয়ার দিন গাছগুলো বা সেগুলোর কিছু অংশ বিদ্যমান ছিল না, বরং আপনি সেগুলো পরে গ্রহণ করেছেন, তবে দেখা হবে: যদি গাছগুলো এমন হয় যে, বন্ধক (الرهن) প্রদানের দিন সেগুলোর অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়, তবে বন্ধকগ্রহীতা (المرتهن) মিথ্যাবাদী (كاذب) হিসেবে সাব্যস্ত হবেন, এবং বক্তব্য হবে (তারই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে)
--------------------------------------------