(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: -)
تحصين المجتمع المسلم ضد الغزو الفكري   (حمود الرحيلي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: تحصين المجتمع المسلم ضد الغزو الفكري

المؤلف: د. حمود بن أحمد بن فرج الرحيلي

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة (35) العدد (121) 1424هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজের সুরক্ষা   (হামুদ আল-রুহায়লি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজের সুরক্ষা

লেখক: ড. হামুদ বিন আহমদ বিন ফারাজ আল-রুহায়লি

প্রকাশক: মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: বর্ষ (৩৫) সংখ্যা (১২১) ১৪২৪ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাহ লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩২৯)
ال‌‌مقدّمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، حتى تركنا على المحجة البيضاء ليلها ونهارها سواء، لا يزيغ عنها إلا هالك، صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وبعد: فإن الحرب بين الإسلام وأعدائه لم تضع أوزارها بعد، وإنما الحق أن أعداء الإسلام يضعون لحربه كل يوم وسيلة، ويحشدون للوقوف في وجهه كل يوم قوة، وليس خطر الغزو الفكري بأقل من خطر السلاح في المعركة التي يشنها أعداء الإسلام وأهله.

إنهم الآن يشنون حرباً ضروساً هي أشد وأقسى على المسلمين من حرب السلاح، إنهم يشنون حرباً ضد القرآن والسنة، وضد شخص الرسول صلى الله عليه وسلم، وضد منهج الإسلام وتاريخه، وضد رجاله ولغة قرآنه، إنهم يحاربون المسلمين في عقيدتهم، وأخلاقهم، ومبادئهم، وأزيائهم، وعاداتهم، وبالجملة فهناك مخططات ضخمة إلى نقل الفكر البشري من مجال أصالة الفطرة، وطريق التوحيد، وطابع الإيمان بالله تعالى، ومنطق العقل السليم إلى الوثنية والإلحاد، والإباحية، وتفسخ الأخلاق، والعادات السيئة، والمبادئ الفاسدة. وهي دعوات تستمد أصولها من مخططات التلمود، وبروتوكولات حكماء صهيون، ووقف اليهود والنصارى والشيوعيون يؤيد بعضهم بعضاً في حرب الإسلام والمسلمين.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল; তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। এমনকি তিনি আমাদের এক শুভ্র উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যারা তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর: ইসলাম ও তার শত্রুদের মধ্যকার যুদ্ধ এখনও স্তিমিত হয়নি। বরং প্রকৃত সত্য এই যে, ইসলামের শত্রুরা এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে এবং এর মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত শক্তি সঞ্চয় করছে। ইসলাম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্রের বিপদের চেয়ে আদর্শিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বিপদ কোনো অংশেই কম নয়।

তারা বর্তমানে এমন এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু করেছে যা মুসলমানদের জন্য অস্ত্রের যুদ্ধের চেয়েও অধিক তীব্র ও কঠিন। তারা কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-র বিরুদ্ধে, রাসুল (সা.)-এর পবিত্র সত্তার বিরুদ্ধে, ইসলামের মানহাজ (منهج) ও ইতিহাসের বিরুদ্ধে এবং ইসলামের মনিষী ও কুরআনের ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তারা মুসলমানদের আকিদা (عقيدة), নৈতিকতা, আদর্শ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও রীতিনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মানবচিন্তাকে ফিতরাত (فطرة)-এর মৌলিকত্ব, তাওহিদ (توحيد)-এর পথ, আল্লাহর প্রতি ঈমান (إيمان)-এর বৈশিষ্ট্য এবং সুস্থ বিবেকের যুক্তি থেকে সরিয়ে মূর্তিপূজা, নাস্তিকতা, অবাধ যৌনাচার, চারিত্রিক অবক্ষয়, কুপ্রথা ও ভ্রান্ত মূলনীতির দিকে ধাবিত করার বিশাল সব নীল নকশা বিদ্যমান। এগুলো এমন সব আহ্বান যা তালমুদ ও জায়নবাদের প্রটোকলসমূহ থেকে নিজেদের মূলনীতি গ্রহণ করে। আর ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইহুদি, খ্রিস্টান ও কমিউনিস্টরা একে অপরের সমর্থনে একতাবদ্ধ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩০)
وإنه لشدة شراسة هجوم الغزو الفكري على الأمة الإسلامية في العصر الحديث، ولاختراقه لبعض صفوفها، في التقليد والمحاكاة، وما أحدثه هذا الغزو من تفكك وتمزق بين صفوفها.

ونظراً لهذه الأهمية التي أشرت إليها فقد شجعني ما اطلعت عليه من قرار "مجلس مجمع الفقه الإسلامي رقم 71 /7/7 المنعقد في دورة مؤتمره السابع بجدة في المملكة العربية السعودية من 7 إلى 12 ذو القعدة 1412هـ، الموافق 14 مايو 1992م، حيث ورد في القرار "إن مجلس مجمع الفقه الإسلامي … بعد اطلاعه على البحوث الواردة إلى المجمع بخصوص موضوع "الغزو الفكري" والتي بينت بداية هذا الغزو وخطورته وأبعاده، وما حققه من نتائج في بلاد العرب والمسلمين، واستعرضت صوراً مما أثار من شبه ومطاعن، ونفذ من مخطط وممارسات، استهدفت زعزعة المجتمع المسلم، ووقف انتشار الدعوة الإسلامية، كما بينت هذه البحوث الدور الذي قام به الإسلام في حفظ الأمة وثباتها في وجه الغزو، وكيف أحبط كثيراً من خططه ومؤامراته.

وقد اهتمت هذه البحوث ببيان سبل مواجهة هذا الغزو وحماية الأمة من آثاره في جميع المجالات وعلى كل الأصعدة، ثم أوصى المجلس بعدة توصيات لمقاومة الغزو الفكري، ثم ختم قراره بما يلي:

"كما يوصي المجلس أيضاً الأمانة العامة للمجمع باستمرار الاهتمام بطرح أهم قضايا هذا الموضوع في لقاءات المجمع وندواته القادمة، نظراً لأهمية موضوع الغزو الفكري، وضرورة وضع استراتيجية متكاملة لمجابهة مظاهره ومستجداته"1.

--------------------------------------------

1نقلاً عن مجلة البحوث الفقهية المعاصرة، السنة الرابعة، العدد الخامس عشر، عام 1413?، 208، أثر الإيمان في تحصين الأمة الإسلامية ضد الأفكار الهدامة، د. عبد الله الجربوع، ص6-7.
আধুনিক যুগে মুসলিম উম্মাহর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের তীব্রতা এবং অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কাতারগুলোতে এর অনুপ্রবেশ এবং এই আগ্রাসনের ফলে তাদের মধ্যে যে অনৈক্য ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে তার ভয়াবহতার কারণে (এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)।

আমি যে গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে, সৌদি আরবের জেদ্দায় ৭ থেকে ১২ই জিলকদ ১৪১২ হিজরি মোতাবেক ১৪ই মে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত "ইসলামিক ফিকহ একাডেমি"-র সপ্তম সম্মেলনে গৃহীত ৭১/৭/৭ নম্বর সিদ্ধান্তটি আমাকে উৎসাহিত করেছে। উক্ত সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, "ইসলামিক ফিকহ একাডেমি কাউন্সিল … 'বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন' সংক্রান্ত একাডেমিতে জমা পড়া গবেষণাগুলো পর্যালোচনার পর—যেখানে এই আগ্রাসনের সূচনা, এর ভয়াবহতা ও এর বিস্তার স্পষ্ট করা হয়েছে এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে এর কী প্রভাব পড়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এতে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের মাধ্যমে উসকে দেওয়া বিভিন্ন সন্দেহ ও অপবাদের চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মুসলিম সমাজকে অস্থিতিশীল করার ও ইসলামি দাওয়াতের প্রচার রুখে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। একইভাবে এই গবেষণাগুলো উম্মাহর সুরক্ষায় এবং এই আগ্রাসনের মুখে অটল থাকতে ইসলামের ভূমিকা এবং কীভাবে এটি তাদের অনেক পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছে তাও স্পষ্ট করেছে।

এই গবেষণাগুলো সকল ক্ষেত্রে এবং সকল স্তরে এই আগ্রাসন মোকাবিলা করার উপায় এবং এর প্রভাব থেকে উম্মাহকে রক্ষা করার পদ্ধতিগুলো বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এরপর কাউন্সিল বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন প্রতিরোধের লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ প্রদান করে এবং নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত সমাপ্ত করে:

"বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের গুরুত্ব এবং এর বাহ্যিক রূপ ও নতুনত্ব মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে কাউন্সিল একাডেমির সাধারণ সচিবালয়কে একাডেমির আগামী বৈঠক ও সেমিনারগুলোতে এই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপস্থাপনের ব্যাপারে নিরবচ্ছিন্ন গুরুত্বারোপ করারও সুপারিশ করছে"১।

--------------------------------------------

১. মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ থেকে উদ্ধৃত, চতুর্থ বর্ষ, ১৫তম সংখ্যা, ১৪১৩? সাল, ২০৮; আসারুল ইমান ফি তাহসিনিল উম্মাহ আল-ইসলামিয়্যাহ দিদদাল আফকারিল হাদ্দামাহ, ড. আবদুল্লাহ আল-জারবু, পৃষ্ঠা ৬-৭।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩১)
هذا ونظراً لكوني قد قمت بتدريس مادة (الغزو الفكري" لطلاب السنة الرابعة من كلية الدعوة وأصول الدين بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، فقد حاولت جمع وصياغة ما يتعلق بمواجهة الغزو الفكري، وسميته:

"تحصين المجتمع المسلم ضد الغزو الفكري"، وذلك تقديراً لحاجة المسلمين، وإسهاماً مني في محاربة هذا الغزو البغيض.

خطة البحث

وقد جعلت البحث في مقدمة وفصلين وخاتمة.

وقد اشتملت المقدمة على أهمية الموضوع، وسبب الاختيار، والخطة، ومنهجي في البحث.

ثم تمهيد عن الصراع بين الحق والباطل.

وأما الفصل الأول: فعن مفهوم الغزو الفكري، وأهدافه، ووسائله.

وقد اشتمل على سبعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الغزو الفكري في اللغة والاصطلاح.

المبحث الثاني: أهمية دراسته.

المبحث الثالث: مظاهره واتجاهاته.

المبحث الرابع: أنواعه.

المبحث الخامس: أهدافه.

المبحث السادس: أساليبه ووسائله.

المبحث السابع: آثاره.

وأما الفصل الثاني: فعن طرق تحصين المجتمع المسلم ضد الغزو الفكري، ويشتمل على عشرة مباحث:
এটি এবং যেহেতু আমি মদীনা নববিয়্যার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রদের ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ বিষয়টি পড়িয়েছি, তাই আমি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংকলন ও বিন্যাস করার চেষ্টা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি:

“সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষা”, মূলত মুসলিমদের প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং এই ঘৃণ্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমার পক্ষ থেকে একটি অবদান হিসেবে।

গবেষণা পরিকল্পনা

আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

ভূমিকাটিতে বিষয়ের গুরুত্ব, নির্বাচনের কারণ, পরিকল্পনা এবং আমার গবেষণা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এরপর সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্ব সম্পর্কে একটি প্রারম্ভিক আলোচনা।

আর প্রথম অধ্যায়: সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ধারণা, এর লক্ষ্য ও মাধ্যমসমূহ সম্পর্কে।

এটি সাতটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর অধ্যয়নের গুরুত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর বহিঃপ্রকাশ ও গতিপ্রকৃতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এর লক্ষ্যসমূহ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এর কৌশল ও মাধ্যমসমূহ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: এর প্রভাবসমূহ।

আর দ্বিতীয় অধ্যায়: সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষার উপায়সমূহ সম্পর্কে, যা দশটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩২)
المبحث الأول: ضرورة التمسك بالعقيدة الصحيحة ونشرها في المجتمعات الإسلامية.

المبحث الثاني: أثر الإيمان والتقوى في تحصين المجتمع المسلم.

1) أثر الإيمان في تحصين المجتمع المسلم.

2) أثر التقوى في تحصين المجتمع المسلم.

المبحث الثالث: أثر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في تحصين المجتمع المسلم.

المبحث الرابع: دور المنزل والمدرسة والمسجد والمجتمع في التوجيه والدعوة إلى الله تعالى.

المبحث الخامس: دور وسائل الإعلام والإنترنت.

المبحث السادس: إقامة الندوات والمحاضرات والدروس والمؤتمرات المفيدة.

المبحث السابع: أهمية المحافظة على الوحدة العقدية.

المبحث الثامن: الاهتمام بإصلاح المرأة المسلمة.

المبحث التاسع:. الاهتمام بالاقتصاد الإسلامي.

المبحث العاشر: ضرورة تطبيق الشريعة الإسلامية، وإقامة الحدود.

وأما الخاتمة فقد أوجزت فيها أهم النتائج والتوصيات.

منهج البحث:

عزوت الآيات الكريمة إلى السور.

خرجت الأحاديث مبيناً الجزء والصفحة، فالكتاب والباب، ورقم الحديث، وإذا لم يكن الحديث في الصحيحين أو أحدهما فإني أحاول ذكر درجته معتمداً على الكتب التي تعتني بذلك.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সঠিক আকিদা আঁকড়ে ধরা এবং মুসলিম সমাজগুলোতে তা প্রচার করার প্রয়োজনীয়তা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে ইমান ও তাকওয়ার প্রভাব।

১) মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে ইমানের প্রভাব।

২) মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে তাকওয়ার প্রভাব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রভাব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান ও আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পরিবার, বিদ্যালয়, মসজিদ ও সমাজের ভূমিকা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ভূমিকা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: উপকারী সেমিনার, বক্তৃতা, পাঠদান ও সম্মেলন আয়োজন করা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: আকিদাগত ঐক্য বজায় রাখার গুরুত্ব।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: মুসলিম নারীর সংস্কারের প্রতি গুরুত্বারোপ।

নবম পরিচ্ছেদ: ইসলামি অর্থনীতির প্রতি গুরুত্বারোপ।

দশম পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়াহর প্রয়োগ এবং দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা।

আর উপসংহারে আমি অতি সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশমালা তুলে ধরেছি।

গবেষণা পদ্ধতি:

আমি সম্মানীত আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্পৃক্ত করেছি।

আমি হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি—এক্ষেত্রে খণ্ড ও পৃষ্ঠা, অতঃপর কিতাব ও অধ্যায় এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। হাদিসটি যদি সহিহাইন অথবা এর কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি এ বিষয়ক প্রামাণ্য গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর করে হাদিসটির মান (درجة) উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
شرحت معاني الكلمات الغريبة في نظري، وكذلك أهم الفرق والمذاهب التي وردت في البحث.

عزوت ما تناولته في البحث إلى المصادر والمراجع التي رجعت إليها في هذا الشأن مبيناً الكتاب والصفحة، فالمؤلف.

وقد توخيت في ذلك السهولة، وإيضاح النقاط التي تناولتها بإيجاز، غير مخل ما أمكن.

ثم ألحقت بهذا فهرساً للمصادر والمراجع مرتبة حسب حروف الهجاء، وآخر للموضوعات.

ولا أدعي أن هذا البحث قد حوى الغاية، وإنما هو محاولة مني في المشاركة في البحث والدعوة إلى تعالى على قدر الجهد والطاقة، ولا يكلف الله نفساً إلا وسعها، وأرجو ممن وقف على شئ في هذا البحث أن يبادرني النصيحة، واسأل الله تعالى أن يتقبل مني هذا الجهد، وأن يجعله عملاً نافعاً للإسلام والمسلمين، ولوجهه خالصاً، ولا يجعل فيه لأحد شيئاً، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমি আমার দৃষ্টিতে দুর্বোধ্য বা বিরল (غريب) শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছি, এবং সেই সাথে এই গবেষণায় উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ দল ও মাযহাবসমূহও আলোচনা করেছি।

গবেষণায় আলোচিত বিষয়গুলোকে আমি সংশ্লিষ্ট মূল উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের উদ্ধৃতি (عزو) প্রদান করেছি, যেখানে কিতাব, পৃষ্ঠা এবং লেখকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি এক্ষেত্রে বিষয়টিকে সহজবোধ্য করার চেষ্টা করেছি এবং যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত অথচ মূল ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে বিষয়গুলো স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছি।

অতঃপর আমি এর সাথে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজানো তথ্যসূত্র ও মূল উৎসের একটি নির্ঘণ্ট এবং একটি বিষয়সূচি যুক্ত করেছি।

আমি এই দাবি করছি না যে এই গবেষণাটি পূর্ণতায় পৌঁছেছে, বরং এটি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইলমি গবেষণা ও মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের একটি প্রচেষ্টা মাত্র। আল্লাহ কোনো প্রাণের ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না। এই গবেষণায় যদি কারো কোনো ত্রুটি নজরে আসে, তবে আমি বিনীত অনুরোধ করি তিনি যেন আমাকে সদুপদেশ দিয়ে বাধিত করেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই শ্রম কবুল করেন এবং একে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য উপকারী একটি কাজ হিসেবে গণ্য করেন। তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এতে অন্য কারো কোনো অংশ না রাখেন। আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
‌‌تمهيد: عن الصراع بين الحق والباطل

الصراع بين الحق والباطل قديم قدم البشرية، وسنة من سنن الله في الحياة، ولقد كان العالم قبل الإسلام يموج بدعوات وتيارات فكرية هدامة، ولما بُعث النبي صلى الله عليه وسلم بالإسلام وفيه البيان الشافي لكل ما يحتاجه البشر لتحقيق وظيفتهم على الأرض، وهي عبودية الله تعالى، وتحصيل أسباب السعادة في الدنيا والآخرة، فكانت رسالة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم رحمة من الله للناس لتخليصهم من تلك الجاهليات التي جثت على قلوبهم ولوثت أفكارهم دهراً طويلاً، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} 1.

ولم ينتقل النبي صلى الله عليه وسلم إلى جوار ربه إلا وقد تحول الإسلام بكل ما فيه من عقائد وتعاليم وأخلاق إلى واقع حي، تظهر مظاهره وثماره في الأفكار والقلوب والسلوك، وبعد عهد النبي صلى الله عليه وسلم، رسخ الخلفاء الراشدون هذا الواقع ووسعوا دائرته بالفتوحات الإسلامية، سعياً لتخليص البشر من الجاهليات وما نتج عنها من ظلم وشقاء، وما هي إلا سنوات قليلة حتى دخل كثير من الناس في دين الله أفواجاً فحلَّ الأمن والعدل مكان الخوف والظلم، ونتج عن ذلك أعظم حضارة عرفتها البشرية.

إلا أن الانتصار السريع في المجال العسكري لم يكن نهائياً فقد كان أعداء الإسلام من اليهود والنصارى والمجوس والمشركين ومن يتعاون معهم من المنافقين وغيرهم، يخططون لجولة ثانية من الحرب اتخذت من الفكر ميداناً لها بعد أن أدرك قادتها قوة تأثير الأفكار على السلوك، وأن الحرب الفكرية هي

--------------------------------------------

1 سورة الأنبياء، الآية 107.
‌ভূমিকা: সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে

সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার দ্বন্দ্ব মানবজাতির ইতিহাসের মতোই প্রাচীন এবং এটি জীবনের ক্ষেত্রে আল্লাহর অমোঘ বিধানগুলোর একটি। ইসলামের পূর্বে পৃথিবী ধ্বংসাত্মক মতবাদ এবং বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতধারায় উথাল-পাথাল ছিল। যখন নবী (সা.) ইসলাম নিয়ে প্রেরিত হলেন—যাতে মানবজাতি পৃথিবীতে তাদের অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার দাসত্ব পালন এবং ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্যের উপকরণসমূহ অর্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সুস্পষ্ট বর্ণনা বিদ্যমান—তখন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাত ছিল মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত। এটি ছিল তাদেরকে ঐসব জাহেলিয়াত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যা দীর্ঘকাল ধরে তাদের অন্তরে চেপে বসেছিল এবং তাদের চিন্তা-চেতনাকে কলুষিত করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি} ১।

নবী (সা.) আপন রবের সান্নিধ্যে গমনের পূর্বেই ইসলাম তার আকিদা, শিক্ষা ও নৈতিকতাসহ একটি জীবন্ত বাস্তবে পরিণত হয়েছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ও সুফল চিন্তা, অন্তর এবং আচরণে পরিস্ফুট হয়েছিল। নবী (সা.)-এর যুগের পর খুলাফায়ে রাশেদিন এই বাস্তবতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং ইসলামি বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিধি বিস্তৃত করেছিলেন; যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে জাহেলিয়াত এবং এর থেকে উদ্ভূত জুলুম ও দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করা। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই দলে দলে অনেক মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল, ফলে ভয় ও অন্যায়ের স্থলে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং এর মাধ্যমে মানবজাতি তার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার প্রত্যক্ষদর্শী হলো।

তবে সামরিক ক্ষেত্রে এই দ্রুত বিজয় চূড়ান্ত ছিল না। ইসলামের শত্রু—ইহুদি, খ্রিষ্টান, অগ্নিপূজক, মুশরিক এবং তাদের সহযোগী মুনাফিক ও অন্যরা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা করছিল, যার ক্ষেত্র ছিল চিন্তা-চেতনা। কারণ তাদের নেতারা আচরণের ওপর চিন্তার প্রভাবের শক্তি বুঝতে পেরেছিল এবং তারা জানত যে বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধই হলো...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
السبيل الوحيد المتاح لها في ذلك الوقت لمقاومة الإسلام، وتفريق أهله وإضلالهم.

ولقد اختار الله هذه الأمة لحمل راية الإسلام، والوقوف في وجه الباطل، ودحض الشبهات، وكشف الزيوف.

ولا ريب أن الإسلام بمفهومه الصحيح، مازال وسيظل –بإذن الله – صامداً أمام الأحداث، ومواجهاً لكل الأفكار الباطلة، والمذاهب المنحرفة، حتى يتضح وجه الحق، ويكشف زيف الباطل، وهذه الدعوات – المعادية للإسلام- إنما وجدت طريقها حين حُرِّف الدين في بيئات الغرب، وحين فُصل بين الدين والحياة، وضاعت مفاهيم الالتزام الأخلاقي.

وقد فات الذين طرحوا هذه المذاهب والأفكار في البيئات الإسلامية أن هذه المذاهب إنما نشأت في بيئات خاصة بها، ومن خلال تحديات مختلفة … وأن العقيدة الإسلامية لها منزلتها وقيمتها الأصيلة، التي تعارض فصل الدين عن الحياة، والتي تنكر أن يكون الإنسان مادة فقط، والتي تفرق بين شريعة الله وقوانين البشر، وتنكر الوساطة بين الله تعالى وخلقه، أو إطلاق الحرية من جميع ضوابها، أو معارضة عالم الغيب والبعث والجزاء، وترى أن هذا كله إنما يراد بالبشرية لتحطيم الجدار القوي الذي تستند إليه في علاقتها بالله تعالى، ومن ثم السقوط في أحضان استعباد البشر، والعبودية للمخططات التلمودية المتطلعة إلى السيطرة على العالم الإسلامي بعد تحطيم قيمه، وأخلاقه ومقدراته، وتلك أخطر المخططات التي تجتاح البشرية اليوم، والتي طرحت في السنوات الأخيرة أنواعاً من الدعوات والمذاهب والفلسفات المضللة، بالأساليب والوسائل الساقطة، وكلها تقصد الإسلام، فهو القوة الوحيدة التي تستطيع أن تصمد في وجه
সেই সময়ে ইসলামকে প্রতিহত করার, ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার এবং তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য এটিই ছিল তাদের সামনে একমাত্র উন্মুক্ত পথ।

নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে ইসলামের পতাকাবাহী হিসেবে, বাতিলের মোকাবিলায় দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য, সংশয়সমূহ (الشبهات) নিরসন করার জন্য এবং মিথ্যাচার উন্মোচনের জন্য মনোনীত করেছেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম তার সঠিক ভাবধারায়—আল্লাহর ইচ্ছায়—সকল পরিস্থিতির সামনে অটল ছিল এবং থাকবে। এটি সকল ভ্রান্ত ধারণা ও বিচ্যুত মতবাদের মোকাবিলা করে যাবে, যতক্ষণ না সত্যের রূপ স্পষ্ট হয় এবং মিথ্যার অসারতা উন্মোচিত হয়। আর এই ইসলাম-বিদ্বেষী দাওয়াতসমূহ তখনই তাদের পথ খুঁজে পেয়েছিল, যখন পাশ্চাত্যের পরিবেশে ধর্ম বিকৃত করা হয়েছিল, যখন ধর্মকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার ধারণাগুলো বিলুপ্ত হয়েছিল।

যারা মুসলিম পরিবেশে এই সব মতবাদ ও চিন্তাচেতনা পেশ করেছে, তারা এই বিষয়টি ভুলে গেছে যে, এই মতবাদগুলো তাদের নিজস্ব বিশেষ পরিবেশে এবং ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে … আর ইসলামি আকিদার (العقيدة) নিজস্ব মর্যাদা ও মৌলিক মূল্যবোধ রয়েছে, যা ধর্মকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিরোধিতা করে; যা মানুষকে কেবল জড়পদার্থ হিসেবে গণ্য করাকে অস্বীকার করে; যা আল্লাহর শরিয়ত (الشريعة) ও মানুষের তৈরি আইনের মধ্যে পার্থক্য করে; যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকে অস্বীকার করে, অথবা সকল প্রকার নিয়ন্ত্রণহীন স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করে, কিংবা অদৃশ্যের জগত (عالم الغيب), পুনরুত্থান ও প্রতিদানকে অস্বীকার করার বিরোধিতা করে। এই আকিদা বিশ্বাস করে যে, এসবের মাধ্যমে মানবজাতির সেই শক্তিশালী প্রাচীর ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে যার ওপর ভর করে তারা আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। এর ফলে তারা মানুষের দাসত্বের শৃঙ্খলে এবং সেই তালমুদি পরিকল্পনার গোলামিতে নিপতিত হয়, যা মুসলিম বিশ্বের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সক্ষমতাকে ধ্বংস করার পর তার ওপর আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য রাখে। এটিই বর্তমানে মানবতাকে গ্রাসকারী সবচেয়ে বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা বিভ্রান্তিকর আহ্বান, মতবাদ ও দর্শনের মাধ্যমে নিকৃষ্ট পন্থায় উত্থাপন করা হয়েছে। আর এই সবকিছুরই লক্ষ্য হলো ইসলাম; কারণ এটিই একমাত্র শক্তি যা এর মোকাবিলায় অটল থাকতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
الإلحاد والمادية والوثنية، والإباحية، وغيرها من المذاهب الباطلة، والمسلمون مطالبون دائماً بإقامة دينهم، واليقظة تجاه أعدائهم، والتصدي لكل القوى التي تحاول أن تفت في عضدهم، أو تفسد مقوماتهم، أو تحطم معنوياتهم 1.

--------------------------------------------

1 انظر في هذا: صراع بين الحق والباطل، لسعد صدق محمد، والصراع بين الحق والباطل د. إبراهيم بن محمد أبو عباة، وأثر الإيمان في تحصين الأمة الإسلامية، لعبد الله الجربوع، 59 وما بعدها.
নাস্তিকতা, বস্তুবাদ, পৌত্তলিকতা, ভোগবাদ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বাতিল (باطلة) মতবাদসমূহ; আর মুসলিমরা সর্বদা তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা, শত্রুদের মোকাবিলায় সজাগ থাকা এবং ঐ সকল অশুভ শক্তির প্রতিরোধ করতে আদিষ্ট, যারা তাদের শক্তিকে খর্ব করতে, তাদের অস্তিত্বের বুনিয়াদকে কলুষিত করতে কিংবা তাদের মনোবলকে ভেঙে দিতে অপচেষ্টা চালায় ১।

--------------------------------------------

১. এই বিষয়ে দ্রষ্টব্য: সাদ সিদ্দিক মুহাম্মাদ রচিত ‘সিরা বিনাল হক ওয়াল বাতিল’; ড. ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আবু আবাহ রচিত ‘আস-সিরা বিনাল হক ওয়াল বাতিল’; এবং আব্দুল্লাহ আল-জারবু রচিত ‘আসারুল ঈমান ফি তাহসিনিল উম্মাহ আল-ইসলামিয়্যাহ’, পৃষ্ঠা ৫৯ ও পরবর্তী।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
‌‌الفصل الأول: مفهوم الغزو الفكري وأهدافه ووسائله

‌‌المبحث الأول: تعريف الغزو الفكري في اللغة والاصطلاح

‌‌تعريف الغزو الفكري لغة:

الغزو الفكري مصطلح مركب من كلمتين هما:

1-الغزو: يقال: غزاه غزواً: أراده وطلبه وقصده 1.

وغزا العدو غزواً وغزواناً أي سار إلى قتالهم وانتهابهم في ديارهم. ويقال عرفت ما يغزى من هذا الكلام أي ما يُراد، وأغزاه جهزه للغزو2.

يتبين من هذا أن معنى الغزو في اللغة: قصد الشئ وإرادته وطلبه.

2-الفكري: الفكر إعمال النظر أو إعمال الخاطر في الشيء، والتفكر التأمل3. والفكر: إعمال العقل في المعلوم للوصول إلى معرفة مجهول، ويقال: في الأمر فكر أي نظر وروية، وجمعه أفكار4.

والفكر: تردد القلب بالنظر والتدبر لطلب المعاني، ولي في الأمر فكر أي نظر وروية5. وفكر في الشيء أي أعمل الفكر فيه ليتوصل إلى حله أو إدراكه6.

--------------------------------------------

1 القاموس المحيط، للفيروزآبادي، 4/ 369.

2 المعجم الوسيط، 2/ 652، والقاموس العربي الشامل، 415.

3 اللسان لابن منظور، 5/65، والقاموس المحيط، 2/ 111.

4 المعجم الوسيط، 2/ 698.

5 المصباح المنير، لأحمد الفيومي، 182.

6 القاموس العربي الشامل، 439.
প্রথম অধ্যায়: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের (الغزو الفكري) ধারণা, এর লক্ষ্য ও মাধ্যমসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের (الغزو الفكري) সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের (الغزو الفكري) সংজ্ঞা:

বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন (الغزو الفكري) পরিভাষাটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, সেগুলো হলো:

১-আল-গাজউ (الغزو): বলা হয়: 'গাজাহু গাজওয়ান', অর্থাৎ সে তাকে পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, তালাশ করেছে এবং তার সংকল্প (قصده) করেছে।

আর শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান (غزا) পরিচালনা করার অর্থ হলো তাদের সাথে যুদ্ধ করতে এবং তাদের ভূখণ্ডে তাদের ধনসম্পদ লুণ্ঠন করতে অগ্রসর হওয়া। আরও বলা হয়ে থাকে, 'আমি বুঝতে পেরেছি এই কথার দ্বারা কী উদ্দেশ্য (يغزى) করা হয়েছে', অর্থাৎ এর মাধ্যমে কী চাওয়া হয়েছে। আর কাউকে 'আ-গাজাহু' (أغزاه) বলার অর্থ হলো তাকে অভিযানের (الغزو) জন্য প্রস্তুত করা।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আভিধানিক অর্থে 'গাজউ' (الغزو) এর অর্থ হলো: কোনো কিছুর সংকল্প করা, ইচ্ছা করা এবং তা অন্বেষণ করা।

২-আল-ফিকরি (الفكري): ফিক্‌র (الفكر) হলো কোনো বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা বা চিন্তা প্রয়োগ করা, আর 'তাফাক্কুর' (التفكر) হলো গভীর মনোযোগ বা ধ্যান। ফিক্‌র (الفكر) হলো কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য জানা বিষয়ের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ করা। বলা হয়: 'এই বিষয়ে তার ফিক্‌র (فكر) রয়েছে', অর্থাৎ গভীর দৃষ্টি ও ধীরস্থির চিন্তা (روية) রয়েছে। এর বহুবচন হলো 'আফকার' (أفكار)।

ফিক্‌র (الفكر) হলো অর্থ অন্বেষণের জন্য গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হৃদয়ের আন্দোলন। 'এই বিষয়ে আমার ফিক্‌র (فكر) আছে' এর অর্থ হলো এতে দৃষ্টি ও ধীরস্থির চিন্তা (روية) বিদ্যমান। কোনো বিষয়ে চিন্তা (فكر) করা মানে তাতে বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি প্রয়োগ করা যাতে তার সমাধান বা উপলব্ধি অর্জন করা যায়।

--------------------------------------------

১ আল-কামুস আল-মুহিত, ফিরোজাবাদি, ৪/ ৩৬৯।

২ আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, ২/ ৬৫২; এবং আল-কামুস আল-আরাবি আল-শামিল, ৪১৫।

৩ লিসানুল আরব, ইবন মানজুর, ৫/ ৬৫; এবং আল-কামুস আল-মুহিত, ২/ ১১১।

৪ আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, ২/ ৬৯৮।

৫ আল-মিসবাহুল মুনির, আহমাদ আল-ফাইউমি, ১৮২।

৬ আল-কামুস আল-আরাবি আল-শামিল, ৪৩৯।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
ومن هذا يتبين لنا أن معنى الغزو الفكري لغة: قصد الشئ وإرادته وطلبه مع تردد القلب وإعمال النظر بروية.
এ থেকে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আভিধানিক (لغة) অর্থে বৌদ্ধিক আগ্রাসন (الغزو الفكري)-এর অর্থ হলো: কোনো বিষয়কে লক্ষ্যবস্তু করা, তার ইচ্ছা পোষণ করা এবং হৃদয়ের একাগ্রতা ও গভীর ধীশক্তি প্রয়োগের সাথে তা অন্বেষণ করা।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
‌‌تعريف الغزو الفكري اصطلاحاً:

عرف الباحثون الغزو الفكري بعدة تعريفات نختار منها ما يلي:

1- (الغزو الفكري: هو مصطلح حديث يعني مجموعة الجهود التي تقوم بها أمة من الأمم للاستيلاء على أمة أخرى أو التأثير عليها حتى تتجه وجهة معينة) 1.

2- (هو أن تتبنى أمة من الأمم ـ وبخاصة الأمة الإسلامية ـ معتقدات وأفكار الأمة الأخرى من الأمم الكبيرة ـ وهي غير إسلامية دائماً ـ دون نظر فاحص وتأمل دقيق لما يترتب على ذلك التبني من ضياع لحاضر الأمة الإسلامية في أي قطر من أقطارها وتبديد لمستقبلها، فضلاً عما فيه من صرفها عن منهجها وكتابها، وسنة رسولها، وما يترتب على هذا الصرف من ضياع أي ضياع …) 2.

3- (الغزو الفكري: هو أن تتخذ أمة من الأمم مناهج التربية والتعليم لدولة من هذه الدول الكبيرة، فتطبقها على أبنائها وأجيالها، فتشوه بذلك فكرهم وتمسخ عقولهم، وتخرج بهم إلى الحياة، وقد أجادوا بتطبيق هذه المناهج عليهم شيئاً واحداً هو تبعيتهم لأصحاب تلك المناهج الغازية أولاً، ثم يلبس الأمر عليهم بعد ذلك فيحسبون أنهم بذلك على الصواب، ثم يجادلون عما حسبوه صواباً، ويدعون إليه) 3.

--------------------------------------------

1 مجموع فتاوى ومقالات متنوعة، للعلامة الشيخ عبد العزيز بن باز (يرحمه الله) : 3/ 438.

2 الغزو الفكري والتيارات المعادية للإسلام، د. علي محمود، 8-9.

3 المرجع السابق، 9.
‌পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের সংজ্ঞা:

গবেষকগণ বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনকে বিভিন্ন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেখান থেকে আমরা নিম্নোক্তগুলো নির্বাচন করেছি:

১- (বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন: এটি একটি আধুনিক পরিভাষা যা এক জাতি কর্তৃক অন্য জাতির ওপর আধিপত্য বিস্তার বা তাদের প্রভাবিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত প্রচেষ্টাসমূহকে বোঝায়, যাতে তারা একটি নির্দিষ্ট পথের দিকে পরিচালিত হয়।) ১.

২- (তা হলো কোনো এক জাতির—বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর—অন্য কোনো বৃহৎ জাতির (যারা সর্বদা অনৈসলামিক) বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণাগুলোকে গ্রহণ করা; কোনো তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও গভীর চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই। যার ফলে মুসলিম উম্মাহর যেকোনো অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা বিনষ্ট হয় এবং ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। পাশাপাশি এটি তাদের নিজস্ব আদর্শ, কিতাব এবং রাসূলের সুন্নাহ (سنة) থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আর এই বিচ্যুতির ফলে যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয় …) ২.

৩- (বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন: তা হলো কোনো এক জাতির এই বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করা, অতঃপর তা তাদের সন্তানদের ও পরবর্তী প্রজন্মের ওপর প্রয়োগ করা। এর মাধ্যমে তাদের চিন্তা-চেতনা বিকৃত করা হয় এবং তাদের বিবেককে কলুষিত করা হয়। তারা বাস্তব জীবনে এমনভাবে পদার্পণ করে যে, তারা এই শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে কেবল একটি বিষয়ই সুচারুভাবে রপ্ত করেছে, আর তা হলো—প্রথমত, এই আগ্রাসী শিক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তকদের অনুসারী হওয়া; অতঃপর বিষয়টি তাদের কাছে এমনভাবে সংশয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে তারা মনে করে তারা সঠিক পথে আছে। এরপর তারা যা সঠিক মনে করে সে বিষয়ে বিতর্ক করে এবং সেদিকেই আহ্বান জানায়।) ৩.

--------------------------------------------

১ মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, আল্লামা শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর: ৩/ ৪৩৮।

২ আল-গাযওয়ুল ফিকরওয়াল তায়্যারাতুল মুআদিয়াহ লিল ইসলাম, ড. আলী মাহমুদ, ৮-৯।

৩ পূর্বোক্ত উৎস, ৯।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
4- (الغزو الفكري: يعني هجمات فكرية متلاحقة ذات صلة بتاريخ المسلمين وحاضرهم، تطرح شبهات وأفكاراً مزيفة مستوعبة تراث الإسلام، وأحوال المسلمين، وقد انطلقت من البلاد الأجنبية شرقية أو غربية على يد المنصرين وأقلام المستشرقين1 بعيدة عن العمل العسكري المسلح) 2.

5- (يقصد بالغزو الفكري الوسائل غير العسكرية التي اتخذها أعداء الإسلام لإزالة مظاهر الحياة الإسلامية وصرف المسلمين عن التمسك بالإسلام، مما يتعلق بالعقيدة وما يتصل بها من أفكار وتقاليد وأنماط وسلوك)

6- (الغزو الفكري واحد من شعب الجهد البشري المبذول ضد عدو ما لكسب معارك الحياة منه، ولتذليل قياده وتحويل مساره، وضمان استمرار هذا التحول حتى يصبح ذاتياً إذا أمكن، وهذا هو أقسى مراحل الغزو الفكري بالنسبة للمغلوب، وإن كان في نفس الوقت هو أقصى درجات نجاح الغزاة) 4.

وبعد إيراد هذه التعريفات نستطيع القول بأن الغزو الفكري بوجه عام هو مجموعة الجهود التي تتخذها أمة من الأمم ضد أمة أخرى بهدف التأثير عليها لتوجيهها إلى وجهة معينة.

وهو بوجه خاص: مجموعة الجهود التي اتخذها أعداء الإسلام ضد الأمة

--------------------------------------------

1 الاستشراق هو: ذلك التيار الفكري الذي تمثل في الدراسات المختلفة عن الشرق الإسلامي، والتي شملت حضارته وأديانه وآدابه ولغاته وثقافته، وقد أسهم هذا التيار في صياغة التصورات الغربية عن العالم الإسلامي، معبراً عن الخلفية الفكرية للصراع الحضاري بينهما. انظر الموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة، 33.

2 في الغزو الفكري، نذير حمدان، 6-7.

3 انظر واقعنا المعاصر، محمد قطب، 195.

4 الغزو الفكري والتيارات المعادية للإسلام، عبد الستار فتح الله، 21.
4- (বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন (الغزو الفكري): এর অর্থ হলো মুসলিমদের ইতিহাস ও বর্তমানের সাথে সম্পর্কিত পর্যায়ক্রমিক বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণ, যা ইসলামের ঐতিহ্য ও মুসলিমদের অবস্থা সম্পর্কে সংশয় (شبهات) ও ভ্রান্ত ধারণা উপস্থাপন করে। এটি সশস্ত্র সামরিক তৎপরতা থেকে দূরে থেকে প্রাচ্যবিদদের (مستشرقين)১ লেখনী ও মিশনারিদের মাধ্যমে প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের অমুসলিম দেশগুলো থেকে সূচিত হয়েছে।) ২।

5- (বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন বলতে সেই সকল অ-সামরিক উপায়সমূহকে বোঝানো হয়, যা ইসলামের শত্রুরা ইসলামি জীবনধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ বিলোপ করার জন্য এবং মুসলিমদের আকিদা (عقيدة) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট চিন্তা-চেতনা, ঐতিহ্য ও আচরণগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ইসলামের ওপর অটল থাকা থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করেছে।)

6- (বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন হলো জীবনের যুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট শত্রুর বিরুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য, তাকে বশীভূত করার জন্য, তার গতিপথ পরিবর্তন করার জন্য এবং এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যয়িত মানবীয় প্রচেষ্টার একটি শাখা, যাতে সম্ভব হলে এই পরিবর্তনটি স্বয়ংক্রিয় রূপ লাভ করে। আর এটিই বিজিত পক্ষের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের কঠোরতম পর্যায়, যদিও একই সময়ে এটি আক্রমণকারীদের সফলতার সর্বোচ্চ পর্যায়।) ৪।

এই সংজ্ঞাগুলো উল্লেখ করার পর আমরা বলতে পারি যে, বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন সাধারণভাবে হলো এক জাতি কর্তৃক অন্য কোনো জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত একগুচ্ছ প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য হলো তাকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট একটি দিকে পরিচালিত করা।

আর এটি বিশেষ অর্থে হলো: উম্মাহর বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের পরিচালিত সামগ্রিক প্রচেষ্টাসমূহ...

--------------------------------------------

১ প্রাচ্যতত্ত্ব (استشراق) হলো: সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা যা ইসলামি প্রাচ্য বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে মূর্ত হয়ে ওঠে, যার মধ্যে এর সভ্যতা, ধর্ম, সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত। এই ধারাটি মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা গঠনে অবদান রেখেছে এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সভ্যতাগত সংঘাতের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তুলেছে। দেখুন: আল-মাওসুআতুল মুয়্যাসসারাহ ফিল আদইয়ানি ওয়াল মাযাহিবিল মুআসিরাহ, ৩৩।

২ ফি আল-গাজউ আল-ফিকরি, নাযির হামদান, ৬-৭।

৩ দেখুন: ওয়াকিউনা আল-মুআসির, মুহাম্মদ কুতুব, ১৯৫।

৪ আল-গাজউ আল-ফিকরি ওয়াত তাইয়্যারাতুল মুআদিয়াতু লিল ইসলাম, আবদুস সাত্তার ফাতহুল্লাহ, ২১।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪০)
الإسلامية بقصد التأثير عليها في جميع الميادين التعليمية، والثقافية، والاجتماعية، والاقتصادية، والسياسية،.. باستخدام الوسائل والأساليب التي يراها مناسبة من أجل صرف المسلمين عن التمسك بعقيدتهم، وأخلاقهم، وسيرسلف الأمة الصالح.

والدافع إلى استخدام الغزو الفكري في الحروب الصليبية المعاصرة هو الحصيلة المرة التي خرج بها الصليبيون من حروبهم الأولى مع المسلمين في القرنين الخامس والسادس الهجريين، (الحادي عشر والثاني عشر الميلاديين) ، والتي انتهت بالهزيمة الساحقة وعدم تحقيق شئ مما خرج الصليبيون من بلادهم لتحقيقه وبذلوا فيه الأموال والدماء والنفوس.

وفي تلك الحروب الأولى وقع لويس التاسع ملك فرنسا1 في الأسر بعد هزيمة حملته الصليبية، وبقي سجيناً في المنصورة فترة من الوقت حتى افتداه قومه وفُك أسره.

وفي أثناء سجنه أخذ يتفكر فيما حل به وبقومه، ثم عاد يقول لقومه: (إذا أردتم أن تهزموا المسلمين فلا تقاتلوهم بالسلاح وحده ـ فقد هُزمتم أمامهم في معركة السلاح ـ ولكن حاربوهم في عقيدتهم فهي مكمن القوة فيهم) 2.

--------------------------------------------

1 لويس التاسع ملك فرنسا من سنة 1226م-1270م قاد الحملة الصليبية السابعة عام 1249م، التي توجهت إلى مصر والتي باءت بالفشل، وأُسر فيها لويس، وسُجن في المنصورة بمصر، وأٌطلق سراحه بفدية كبيرة، ثم قاد في آخر حكمه حملة أخرى سنة 1270م، توجهت إلى تونس حيث فشلت أيضاً ومات فيها لويس. انظر أوربا العصور الوسطى، التاريخ السياسي، د. سعيد عبد الفتاح عاشور، 1/260-265، مكتبة الانجلو المصرية، مصر، ط السادسة، 1975م.

2 واقعنا المعاصر / محمد قطب، 196.
...ইসলামী জগতের ওপর শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে... এমন সব উপায় ও পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে যা তারা উপযুক্ত মনে করে, যাতে মুসলমানদেরকে তাদের আকিদা (عقيدة), নৈতিকতা এবং উম্মতের সৎ পূর্বসূরিদের (سلف الأمة الصالح) জীবনধারা অনুসরণ থেকে বিচ্যুত করা যায়।

সমকালীন ক্রুসেড যুদ্ধগুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন (الغزو الفكري) ব্যবহারের পেছনের চালিকাশক্তি হলো সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা যা ক্রুসেডাররা হিজরি পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে (একাদশ ও দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দ) মুসলমানদের সাথে তাদের প্রথম যুদ্ধগুলো থেকে লাভ করেছিল। সেই যুদ্ধগুলো চরম পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল এবং ক্রুসেডাররা যা অর্জনের জন্য নিজেদের দেশ ছেড়েছিল এবং যার পেছনে অর্থ, রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করেছিল, তার কিছুই অর্জিত হয়নি।

সেই প্রথম যুদ্ধগুলোর সময় ফ্রান্সের রাজা নবম লুই তার ক্রুসেড অভিযানের পরাজয়ের পর বন্দী হন। তিনি মনসুরায় কিছুকাল বন্দী অবস্থায় ছিলেন, যতক্ষণ না তার জাতি মুক্তিপণ দিয়ে তাকে মুক্ত করে।

কারাবন্দী অবস্থায় তিনি নিজের এবং তার জাতির ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি ফিরে গিয়ে তার জাতিকে বলেন: "তোমরা যদি মুসলমানদের পরাজিত করতে চাও, তবে শুধু অস্ত্র দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো না—কেননা অস্ত্রের লড়াইয়ে তোমরা তাদের সামনে পরাজিত হয়েছ—বরং তাদের আকিদার (عقيدة) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, কারণ এটাই তাদের শক্তির মূল উৎস।"

--------------------------------------------

১. নবম লুই ১২২৬-১২৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফ্রান্সের রাজা ছিলেন। তিনি ১২৪৯ খ্রিস্টাব্দে সপ্তম ক্রুসেড অভিযানের নেতৃত্ব দেন, যা মিশরের অভিমুখে পরিচালিত হয়েছিল এবং ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সেখানে লুই বন্দী হন এবং মিশরের মনসুরায় কারারুদ্ধ থাকেন। পরে বিশাল মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তার শাসনের শেষভাগে ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি تিউনিসিয়ার অভিমুখে আরেকটি অভিযানের নেতৃত্ব দেন, যা পুনরায় ব্যর্থ হয় এবং সেখানেই লুই মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: উরুব্বা আল-উসুর আল-উস্তা, আত-তারিখ আস-সিয়াসি, ড. সাঈদ আব্দুল ফাত্তাহ আশুর, ১/২৬০-২৬৫, মাকতাবাতুল আনজলো আল-মিসরিয়্যাহ, মিশর, ষষ্ঠ সংস্করণ, ১৯৭৫ খ্রি.।

২. ওয়াকিউনা আল-মুআসির / মুহাম্মদ কুতুব, ১৯৬।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪১)
ويرجع كثير من الباحثين أنَّ ملك فرنسا لويس التاسع ـ المذكور ـ وضع خيوط المؤامرة الفكرية الجديدة على الإسلام، ولخصها في الأمور التالية 1:

1- تحويل الحملات الصليبية العسكرية إلى حملات صليبية سلمية تستهدف ذات الغرض، لا فرق بين الحملتين إلا من حيث نوع السلاح الذي يُستخدم في المعركة.

2- تجنيد المبشرين2 الغربيين في معركة سلمية لمحاربة الإسلام ووقف إنتشاره، ثم القضاء عليه معنوياً، واعتبار هؤلاء المبشرين جنوداً للغرب.

3- العمل على استخدام مسيحي الشرق في تنفيذ سياسة الغرب.

4- العمل على إنشاء قاعدة للغرب في قلب الشرق الإسلامي يتخذها الغرب نقطة ارتكاز لقواته الحربية، ولدعوته السياسية والدينية، وقد اقترح لويس لهذه القاعدة الأماكن الساحلية في لبنان وفلسطين3.

--------------------------------------------

1 انظر في هذا معركة المصحف لمحمد الغزالي، ص 162، واحذروا الأساليب الحديثة في مواجهة الإسلام، د. سعد الدين السيد صالح، ص37-38، وأساليب الغزو الفكري الحديث، لعلي جريشة، ومحمد الزيبق، ص19. وأثر الإيمان في تحصين الأمة الإسلامية ضد الأفكار الهدامة، للشيخ عبد الله الجربوع، ص 111-112.

2 مفهوم التبشير المزعوم هو الدعوة إلى النصرانية، إلا أنه في الحقيقة يتقنع بالدين، والأعمال الخيرية لتحقيق الغرض الحقيقي، وهو زعزعة عقائد غير النصارى عامة، والمسلمين خاصة، ثم تهيئتهم بشتى الوسائل لقبول النفوذ الغربي، والاستكانة للاستعمار وبسط السيطرة الغربية عليهم ثقافياً، ودينياً، وسياسياً. انظر التبشير والاستعمار في البلاد العربية، د. مصطفى خالدي، د. عمر فروخ، 5، واحذروا الأساليب الحديثة في مواجهة الإسلام، 39.

3 انظر أساليب الغزو الفكري د/ علي جريشة ومحمد الزيبن، 19، واحذروا الأساليب الحديثة في مواجهة الإسلام، د/ سعد الدين السيد صالح، 37-38.
অনেক গবেষক মনে করেন যে, ফ্রান্সের রাজা উল্লিখিত নবম লুই ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন এবং তিনি সেগুলোকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সারসংক্ষেপ করেছিলেন ১:

১- সামরিক ক্রুসেড অভিযানগুলোকে শান্তিপূর্ণ ক্রুসেড অভিযানে রূপান্তর করা, যা একই উদ্দেশ্যকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে; লড়াইয়ে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ছাড়া উভয় অভিযানের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

২- ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং এর প্রসারের পথ রুদ্ধ করতে, অতঃপর একে আধ্যাত্মিকভাবে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে একটি শান্তিপূর্ণ যুদ্ধে পশ্চিমা মিশনারিদের নিয়োগ করা এবং এই মিশনারিদের পশ্চিমাদের সৈন্য হিসেবে গণ্য করা।

৩- পশ্চিমাদের নীতি বাস্তবায়নে প্রাচ্যের খ্রিস্টানদের ব্যবহারের ওপর কাজ করা।

৪- ইসলামি প্রাচ্যের কেন্দ্রস্থলে পশ্চিমাদের জন্য একটি ঘাঁটি তৈরির কাজ করা, যাকে পশ্চিমারা তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি কেন্দ্রবিন্দু এবং তাদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দাওয়াতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করবে; লুই এই ঘাঁটির জন্য লেবানন ও ফিলিস্তিনের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর প্রস্তাব করেছিলেন ৩।

--------------------------------------------

১ এই বিষয়ে দেখুন: মুহাম্মদ আল-গাজ্জালির মা'রাকাতুল মুসহাফ, পৃষ্ঠা ১৬২; ড. সাদউদ্দিন আস-সাইয়্যিদ সালিহ-এর ইহজারুল আসালিবুল হাদিসাহ ফি মুওয়াজাহাতিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৭-৩৮; আলী জুরিশাহ ও মুহাম্মদ আজ-জাইবাকের আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরিল হাদিস, পৃষ্ঠা ১৯ এবং শায়খ আবদুল্লাহ আল-জারবুর আসারুল ইমান ফি তাহসিনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদ্দামাহ, পৃষ্ঠা ১১১-১১২।

২ তথাকথিত মিশনারি কার্যক্রমের ধারণাটি হলো খ্রিস্টধর্মের প্রতি আহ্বান জানানো, তবে এটি প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ধর্ম ও জনকল্যাণমূলক কাজের ছদ্মবেশ ধারণ করে। এর আসল উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে অ-খ্রিস্টানদের এবং বিশেষভাবে মুসলিমদের আকিদায় ফাটল ধরানো, অতঃপর বিভিন্ন উপায়ে তাদেরকে পশ্চিমা প্রভাব কবুল করতে প্রস্তুত করা এবং তাদের ওপর সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমা আধিপত্য বিস্তার ও উপনিবেশবাদের প্রতি অনুগত করা। দেখুন: ড. মুস্তফা খালিদি ও ড. উমর ফাররুখের আত-তাবশির ওয়াল ইস্তিমার ফিল বিয়াদিল আরাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫ এবং ইহজারুল আসালিবুল হাদিসাহ ফি মুওয়াজাহাতিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৯।

৩ দেখুন: ড. আলী জুরিশাহ ও মুহাম্মদ আজ-জাইবাকের আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরিল হাদিস, পৃষ্ঠা ১৯ এবং ড. সাদউদ্দিন আস-সাইয়্যিদ সালিহ-এর ইহজারুল আসালিবুল হাদিসাহ ফি মুওয়াজাহাতিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৭-৩৮।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪২)
ولعل هذا الذي ذكره الباحثون من التوقعات أو بغير الأسلوب الأصلي.

وقد سار الأوربيون بالفعل في طريق تنفيذ وصية لويس حيث أعدوا جيوشاً من المستشرقين والمنصرين الذين قاموا بحركة تشويه للإسلام بهدف تشكيك المسلمين فيه، كما قاموا بإنشاء قاعدة نصرانية لهم في لبنان، ويهودية في فلسطين، بالاضافة إلى ما قاموا به من تمزيق وحدة العالم الإسلامي عن طريق إشاعة النعرات العصبية في العالم الإسلامي1.

هذا هو الأسلوب الجديد في مواجهة الإسلام، وهو أسلوب الغزو الفكري الذي يفوق بعشرات المراحل أسلوب الغزو العسكري، ذلك أنه يمتاز بما يأتي:

1- الخداع: فالعدو من خلال هذا الغزو لا يقف أمامك عياناً بياناً بل هو متخفي يأتيك من وراء حجاب ويداهمك بدون شعور منك، قد يأتيك في صورة مقال جذاب، أو كتاب بغلاف براق، أو برنامج إذاعي أو تلفزوني، أو فيلم2، أو مسلسل، بل إنه قد يأتيك من خلال واحد من أبناء جلدتك ووطنك، بل ودينك أحياناً.

2- الخطورة: الغزو الفكري أخطر بكثير من الغزو العسكري، لأنه عميق التأثير في الشعوب المغزوة، إذ يمتد تأثيره عشرات بل مئات السنين أحياناً، والشعب الذي يُحارب بالغزو الفكري يتصرف بمحض اقتناعه هو كما يريد الغازي.

3- عدم وجود المشقة: فالغزو الفكري سهل وبسيط، وأقل تكلفة من الغزو العسكري الذي يكلف كثيراً من الدماء والطاقات3.

--------------------------------------------

1 انظر احذروا الأساليب الحديثة، 38.

2 الفيلم، شريط تصويري أو تسجيلي (ج) أفلام. انظر المعجم الوسيط، 2/702.

3 احذروا الأساليب الحديثة، 39.
সম্ভবত গবেষকগণ যা উল্লেখ করেছেন তা কোনো প্রত্যাশার প্রতিফলন অথবা এটি মূল ধারার বাইরে ভিন্ন কোনো পদ্ধতি হতে পারে।

লুইসের অসিয়ত বাস্তবায়নের পথে ইউরোপীয়রা প্রকৃতপক্ষে অগ্রসর হয়েছে। তারা প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারকদের এমন এক বাহিনী প্রস্তুত করেছে, যারা ইসলামের বিকৃতি সাধনের আন্দোলনে লিপ্ত হয়েছে যাতে মুসলমানদের মধ্যে এ নিয়ে সংশয় তৈরি করা যায়। এছাড়া তারা লেবাননে নিজেদের জন্য একটি খ্রিস্টান ঘাঁটি এবং ফিলিস্তিনে ইহুদি ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এর পাশাপাশি তারা মুসলিম বিশ্বে গোত্রবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস চালিয়েছে১।

ইসলামের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এটিই নতুন পদ্ধতি, আর তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন, যা সামরিক আগ্রাসনের তুলনায় বহুগুণে শক্তিশালী। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

১- প্রতারণা: এই আগ্রাসনের মাধ্যমে শত্রু আপনার সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে দাঁড়ায় না, বরং সে পর্দার আড়ালে আত্মগোপন করে আসে এবং আপনার অজান্তেই অতর্কিত আক্রমণ করে। এটি হয়তো কোনো আকর্ষণীয় নিবন্ধ, আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের বই, কোনো রেডিও বা টেলিভিশন অনুষ্ঠান, কোনো চলচ্চিত্র২, কিংবা ধারাবাহিকের মাধ্যমে আসতে পারে। এমনকি এটি আপনার স্বজাতি, স্বদেশী, এমনকি কখনো কখনো আপনার স্বধর্মের কোনো লোকের মাধ্যমেও আসতে পারে।

২- ভয়াবহতা: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন সামরিক আগ্রাসনের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক। কারণ, আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর; কখনো কখনো এর প্রভাব কয়েক দশক এমনকি কয়েকশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যে জাতির বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন চালানো হয়, তারা আগ্রাসনকারীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ত বিশ্বাস বা উপলব্ধির ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়।

৩- কায়িক পরিশ্রমের অনুপস্থিতি: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন অত্যন্ত সহজ ও সরল এবং সামরিক আগ্রাসনের তুলনায় এর ব্যয় অনেক কম, যেখানে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল শক্তির প্রয়োজন হয়৩।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইহযারু আল-আসালিব আল-হাদিসাহ, ৩৮।

২ চলচ্চিত্র, চিত্রায়িত বা রেকর্ডকৃত ফিতা (বহুবচন) আফলাম। দেখুন: আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, ২/৭০২।

৩ ইহযারু আল-আসালিব আল-হাদিসাহ, ৩৯।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
‌‌المبحث الثاني: أهمية دراسته

إن معرفة ودراسة الغزو الفكري لها أهمية كبيرة فهي تهدف إلى:

1- إمداد المسلم أو طالب العلم بمعلومات موضوعية تقفه على أساليب ووسائل الأفكار المناوئة والمعادية للإسلام، ليكون على وعي باخطارها ودراية بطرق معالجتها بأسلوب يتسم بالحصانة والحكمة وبعد النظر.

2- تبصير المسلم بأن أعداء الإسلام تقوم خططهم على اختلاف مذاهبهم على أساس واحد هو الكيد للإسلام، فهم يركزون على تشويه الأصول قبل الفروع، يتصدون للقرآن الكريم، والرسول محمد صلى الله عليه وسلم، والسيرة النبوية، ويحاربون اللغة العربية، ويعملون على إفساد الأخلاق، ونشر الرذيلة والفساد بين المجتمعات، وفصل المسلمين عن تاريخهم، وسير سلف أمتهم الصالح.

3- دعوة الأجيال التي تأثرت بتلك المذاهب والاتجاهات وجعلها أجيالاً إسلامية واعية تحيا بالإسلام، وتعمل من أجله، وتستطيع أن تجابه تلك الاتجاهات الفاسدة المفسدة.

4- بيان أن اتباع المذاهب والأفكار المعادية للإسلام يسبب الخلاف والنزاع والفرقة بين المسلمين، والله تعالى أمر بالاعتصام بكتابه، قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} 1.

5- تحذير المسلمين عامة والشباب على وجه الخصوص من الاغترار والانخداع بالأفكار والأساليب التي يروج لها أعداء الإسلام والمسلمين،

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآية 103.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি অধ্যয়নের গুরুত্ব

বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন (الغزو الفكري) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ও তা অধ্যয়ন করার অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে; কেননা এর লক্ষ্য হলো:

১- মুসলিম অথবা ইলম অন্বেষণকারীকে এমন কিছু বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদান করা, যা তাকে ইসলামের বিপক্ষ ও শত্রুশক্তির চিন্তাধারার পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহ সম্পর্কে অবহিত করবে; যাতে সে তাদের বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে তা মোকাবেলা করার পন্থাসমূহ অবগত হতে পারে।

২- মুসলিমকে এই বিষয়ে দৃষ্টিদান করা যে, ইসলামের শত্রুদের পরিকল্পনা—তাদের মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও—একটি অভিন্ন ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। তারা শাখা-প্রশাখার (فروع) চেয়ে মূলনীতির (أصول) বিকৃতির ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়; তারা পবিত্র কুরআন, রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সীরাতুন্নবীর বিরুদ্ধাচরণ করে, আরবি ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, নৈতিকতা ধ্বংস ও সমাজে অশ্লীলতা ও ফাসাদ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষে কাজ করে এবং মুসলিমদেরকে তাদের ইতিহাস ও উম্মাহর সৎকর্মপরায়ণ পূর্বসূরীদের (سلف) জীবনী থেকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা চালায়।

৩- ঐসব প্রজন্মকে ইসলামের পথে আহ্বান করা যারা সেইসব মতবাদ ও প্রবণতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং তাদেরকে সচেতন মুসলিম প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলা যারা ইসলামের ছায়াতলে জীবন অতিবাহিত করবে, দ্বীনের জন্য কাজ করবে এবং ঐসব পথভ্রষ্ট ও ধ্বংসাত্মক মতাদর্শকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।

৪- এটি বর্ণনা করা যে, ইসলামের শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শ ও চিন্তাধারার অনুসরণ করা মুসলিমদের মাঝে বিবাদ, কলহ ও বিভক্তি সৃষ্টি করে; অথচ মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} (তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সমবেতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না)। ১

৫- সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সেইসব চিন্তা ও পদ্ধতি দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে সতর্ক করা, যা ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুরা প্রচার করে থাকে।

--------------------------------------------

১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
وتربيتهم التربية الإسلامية الصحيحة، القائمة على الكتاب والسنة وفهم السلف الصالح، حتى لا يقعوا فريسة سهلة لأفكار ومبادئ أعداء الإسلام.

6- العمل على محاربة الدعوات والأفكار المشبوهة، وبيان ما تنطوي عليه من أخطار، ومنع نشاطها بجميع الوسائل والأساليب.

7- إن معرفة الأفكار المنحرفة والهدامة تجعل المسلم يميز بين الحق والباطل، وذلك كما قال عمر ين الخطاب رضي الله عنه "إنما تنقض عرى الإسلام عروة عروة إذا نشأ في الإسلام من لم يعرف الجاهلية"1.

--------------------------------------------

1 لم أجده في كتب المسانيد، وقد ذكره ابن تيمية في منهاج السنة، 2/398، 4/590، ودرء تعارض العقل والنقل، 5/259، ومجموع الفتاوى، 10/301، وذكره ابن القيم في مدارج السالكين، 1/373، وفي كتاب الفوائد، 202، تحت عنوان قاعدة جليلة، وفي هامش تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب التوحيد، 286-287، مكتبة التراث الإسلامي، 1416?، وورد في مسند الإمام أحمد مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم، 4/232.
এবং তাদের সঠিক (صحيحة) ইসলামি তরবিয়ত বা শিক্ষা প্রদান করা, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং নেককার পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) বুঝের ওপর প্রতিষ্ঠিত; যাতে তারা ইসলামের শত্রুদের চিন্তাধারা ও মূলনীতির সহজ শিকারে পরিণত না হয়।

6- সন্দেহজনক (مشبوهة) আহ্বান ও চিন্তাধারার বিরুদ্ধে কাজ করা, এগুলোতে বিদ্যমান বিপদসমূহ স্পষ্ট করা এবং সকল প্রকার উপায় ও পদ্ধতিতে এগুলোর তৎপরতা প্রতিহত করা।

7- বিভ্রান্তিকর (المنحرفة) ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা সম্পর্কে জ্ঞান একজন মুসলিমকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম করে। এটি যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন, "ইসলামের রশিগুলো একে একে ছিঁড়ে যাবে যখন ইসলামে এমন লোক বেড়ে উঠবে যারা জাহিলিয়াত সম্পর্কে জানে না।"১

--------------------------------------------

১. আমি এটি মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে খুঁজে পাইনি। তবে ইবনে তাইমিয়া এটি মিনহাজুস সুন্নাহ (২/৩৯৮, ৪/৫৯০), দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (৫/২৫৯) এবং মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/৩০১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কায়্যিম এটি মাদারিজুস সালিকিন (১/৩৭৩) এবং কিতাবুল ফাওয়ায়েদ-এর ২০২ পৃষ্ঠায় 'একটি মহান মূলনীতি' শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তায়সীরুল আজিজিল হামিদ ফি শারহি কিতাবিত তাওহিদ-এর টীকাতেও (২৮৬-২৮৭, মাকতাবাতুত তুরাস আল-ইসলামি, ১৪১৬হি?) এটি পাওয়া যায়। আর এটি ইমাম আহমাদ-এর মুসনাদে নবী (সা.)-এর প্রতি মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (৪/২৩২)।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
‌‌المبحث الثالث: مظاهره واتجاهاته

اتخذ الغزو الفكري للإسلام والمسلمين في العصر الحديث مظاهر عديدة، واتجهت تياراته في مجاري عمقها صانعوها وزادوا في طولها وعرضها، حتى طافت بالعالم الإسلامي، حاملة إليه السم في العسل، أو الموت فيما يزعمون أنه الدواء.

ونستطيع أن نتعرف على تلك المظاهر للغزو الفكري وتياراته في حملات التشويه الموجهة ضد الإسلام في الأمور الآتية1:

حملات موجهة لتشويه القرآن الكريم.

حملات موجهة لتشويه السنة النبوية.

حملات موجهة لتشويه شخص الرسول صلى الله عليه وسلم.

حملات موجهة لتشويه التاريخ الإسلامي والسيرة النبوية.

حملات موجهة لتشويه التراث الإسلامي والحضارة الإسلامية.

كما نستطيع أن ندرك مظاهر هذا الغزو في حملات التغريب2 للحضارة الإسلامية وللمسلمين أنفسهم، كتغريب التعليم والثقافة والنظم الإجتماعية والسياسية والإقتصادية، وتغريب الأخلاق والآداب، ثم تكون قمة التغريب

--------------------------------------------

1 انظر الغزو الفكري والتيارات المعادية للإسلام، د. علي عبد الحليم، 23 بتصرف.

2 التغريب: مصدر تفعيل من غرّب يغرب تغريباً، وهو مشتق من الغرب، أي الدول الغربية الأوربية والأمريكية، ومن في حكمها.

ويراد بالتغريب: تغيير قيم الأمة ومثلها، أي تغيير عقيدتها وثقافتها وأخلاقها، وإبعاد المسلمين عن دينهم باسم المدنية والتطور والتقدم، وإحلال ما يقابل ذلك في الحضارة الغربية. انظر حاضر العالم الإسلامي وقضاياه المعاصره، د. جميل المصري، 165 بتصرف.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর স্বরূপ ও গতিধারা

আধুনিক যুগে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন (الغزو الفكري) বহুবিধ রূপ পরিগ্রহ করেছে। এর প্রবহমান ধারাগুলোকে এর হোতারা অত্যন্ত সুগভীর করেছে এবং এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বৃদ্ধি করেছে, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে—এটি তাদের কাছে মধুমিশ্রিত বিষ অথবা ওষুধের ছদ্মবেশে মৃত্যু বয়ে নিয়ে আসছে।

আমরা ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিকৃতি সাধনের প্রচারভিযানগুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের সেই স্বরূপ ও ধারাগুলোকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে চিহ্নিত করতে পারি ১:

পবিত্র কুরআন বিকৃতির উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রচারভিযান।

সুন্নাহ (السنة) বিকৃতির উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রচারভিযান।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহান ব্যক্তিত্বকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রচারভিযান।

ইসলামের ইতিহাস ও সীরাত (السيرة) বিকৃতির উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রচারভিযান।

ইসলামি ঐতিহ্য ও ইসলামি সভ্যতা বিকৃতির উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রচারভিযান।

একইভাবে আমরা এই আগ্রাসনের স্বরূপসমূহ ইসলামি সভ্যতা ও খোদ মুসলিমদের পাশ্চাত্যকরণের (التغريب) প্রচারভিযানের মধ্যেও উপলব্ধি করতে পারি; যেমন—শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পাশ্চাত্যকরণ এবং নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের পাশ্চাত্যকরণ। আর এটিই হলো পাশ্চাত্যকরণের চূড়ান্ত পর্যায়।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: আল-গাজওয়ুল ফিকরি ওয়াত তায়্যারাতুল মুয়াদিইয়াহ লিল ইসলাম, ড. আলী আব্দুল হালীম, পৃষ্ঠা ২৩ (পরিমার্জিত)।

২ পাশ্চাত্যকরণ (التغريب): এটি ‘তাফয়ীল’ (تفعيل) ছাঁচের একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যা ‘গাররাবা’ (غرب), ‘ইউগাররিবু’ (يغرب), ‘তাগরীবান’ (تغريباً) থেকে উদ্ভূত। এটি ‘আল-গারব’ (الغرب) বা পশ্চিম শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ইউরোপীয় ও আমেরিকান পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ এবং তাদের সমমনা দেশসমূহ।

পাশ্চাত্যকরণ বলতে উদ্দেশ্য হলো: উম্মাহর মূল্যবোধ ও আদর্শ পরিবর্তন করা, অর্থাৎ তাদের আকিদাহ (عقيدة), সংস্কৃতি ও নৈতিকতা পরিবর্তন করা এবং আধুনিকায়ন ও প্রগতির নামে মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং এর পরিবর্তে পশ্চিমা সভ্যতার সমজাতীয় বিষয়সমূহ প্রতিস্থাপন করা। দ্রষ্টব্য: হাদিরুল আলামিল ইসলামি ওয়া কাদায়াহুল মুআসিরাহ, ড. জামিল আল-মাসরি, পৃষ্ঠা ১৬৫ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
بتغريب اللسان لقطعة من لغة القرآن اللغة العربية الفصحى.

ويشمل الخطط الاستعمارية للدول الغربية والشرقية المتقدمة صناعياً، كما يشمل المذاهب والاتجاهات الفكرية المعادية للإسلام من صليبية تتمثل في الإرساليات التبشيرية، والدراسات الاستشراقية الموجهة، ويهودية تسعى للسيطرة على العالم بخططها الصهيونية1، وجمعياتها السرية، كالماسونية2 ونوادي الروتاري3 وغيرها.

--------------------------------------------

1 الصهيونية: هي حركة يهودية سياسية عنصرية دينية متطرفة تهدف إلى جمع الملايين من يهود العالم في كيان يهودي قومي في فلسطين استناداً إلى مزاعم تاريخية ودينية، واتخاذ فلسطين نقطة انطلاق لدولة كبيرة تمتد من الفرات إلى النيل، ومن ثم تكوين امبراطورية صهيونية عالمية تكون وريثة للحضارة الغربية.

انظر حاضر العالم الإسلامي، د. جميل المصري، 1/84، والموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة، 331، الصهيونية وخطرها على البشرية، د. حمود الرحيلي11-14.

2 منظمة يهودية سرية إرهابية غامضة محكمة التنظيم تهدف إلى ضمان سيطرة اليهود على العالم، وتدعو إلى الإلحاد والإباحية والفساد، وجل أعضائها من الشخصيات المرموقة في العالم، يوثقهم عهد بحفظ الأسرار، ويقومون بما يسمى بالمحافل للتجمع والتخطيط والتكليف بالمهام. انظر اليهودية، لأحمد شلبي، 325-330، والموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة، 449-453، والماسونية وموقف الإسلام منها، د. حمود الرحيلي، 11 وما بعدها.

3 الروتاري منظمة ماسونية تسيطر عليها اليهودية العالمية، تعرف باسم نادي الروتاري … وقد جاء هذا الاسم من التناوب.. تلك العبارة التي صاحبت الاجتماعات الأولى لأعضاء النادي الذين كانوا يعقدونها في مكاتبهم بشكل متناوب. انظر الموسوعة الميسرة، 243.
বিশুদ্ধ আরবি ভাষা—যা কুরআনের ভাষার একটি অংশ—তার ওপর বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো শিল্পোন্নত পশ্চিমা ও পূর্বদেশগুলোর ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা। এর পাশাপাশি এতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইসলাম-বিরোধী বিভিন্ন মতবাদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা, যেমন—মিশনারি কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত ক্রুসেডীয় চেতনা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যবাদী গবেষণা এবং ইহুদিবাদ যা তাদের জায়নবাদী১ পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, সাথে তাদের গোপন সংগঠনসমূহ যেমন ফ্রিম্যাসনারি২ ও রোটারি ক্লাব৩ ইত্যাদি।

--------------------------------------------

১ জায়নবাদ: এটি একটি উগ্র ইহুদি রাজনৈতিক, বর্ণবাদী ও ধর্মীয় আন্দোলন, যার লক্ষ্য হলো ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দাবির ওপর ভিত্তি করে ফিলিস্তিনে একটি জাতীয় ইহুদি সত্তার অধীনে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে একত্রিত করা। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে ইউফ্রেটিস থেকে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের সূচনাবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করা এবং পরিশেষে একটি বিশ্বব্যাপী জায়নবাদী সাম্রাজ্য গঠন করা, যা হবে পশ্চিমা সভ্যতার উত্তরসূরি।

দ্রষ্টব্য: হাজিরুল আলমিল ইসলামি, ড. জামিল আল-মিসরি, ১/৮৪; আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ ফিল আদিয়ান ওয়াল মাজাহিবিল মুআসিরাহ, ৩৩১; আস-সাহিউনিয়্যাহ ওয়া খাতারুহা আলাল বাশারিয়্যাহ, ড. হামুদ আল-রুহাইলি, ১১-১৪।

২ এটি একটি গোপন ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী ও রহস্যময় সুসংগঠিত সংস্থা, যার লক্ষ্য বিশ্বে ইহুদি আধিপত্য নিশ্চিত করা। এটি নাস্তিক্যবাদ, অশ্লীলতা ও দুর্নীতির দিকে আহ্বান জানায়। এর অধিকাংশ সদস্যই বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তারা গোপনীয়তা রক্ষার শপথের মাধ্যমে একে অপরের সাথে আবদ্ধ থাকে এবং বিভিন্ন সভার (যাকে লজ বা মাহফিল বলা হয়) মাধ্যমে একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টন করে। দ্রষ্টব্য: আল-ইয়াহুদিয়্যাহ, আহমাদ শালাবি, ৩২৫-৩৩০; আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ ফিল আদিয়ান ওয়াল মাজাহিবিল মুআসিরাহ, ৪৪৯-৪৫৩; আল-মাসুনিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলাম মিনহা, ড. হামুদ আল-রুহাইলি, ১১ এবং পরবর্তী অংশ।

৩ রোটারি একটি ম্যাসনিক সংস্থা যা বিশ্ব ইহুদিবাদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এটি রোটারি ক্লাব নামে পরিচিত … এই নামটি 'আবর্তন' বা 'পর্যায়ক্রম' শব্দ থেকে এসেছে। এই শব্দটি ক্লাবের সদস্যদের প্রথম দিকের বৈঠকগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট, যা তারা পর্যায়ক্রমে তাদের নিজস্ব অফিসে আয়োজন করত। দ্রষ্টব্য: আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ, ২৪৩।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
كما تشمل الديمقراطية1، والرأسمالية2، والشيوعية3، وكافة المذاهب الاشتراكية، والدعوة إلى العصبيات القومية4، الممزقة للأمة الواحدة.

--------------------------------------------

1 الديمقراطية: كلمة من أصل يوناني معناها حكم الشعب، وتنصرف إلى كل نظام سياسي يكون الشعب فيه مصدر السلطة وصاحب السيادة. انظر الموسوعة الثقافية، 466، القاموس السياسي، لأحمد عطية الله، 547-548، الديمقراطية في الميزان، لسعيد عبد العظيم، 31.

2 الرأسمالية: نظام اقتصادي ذو فلسفة اجتماعية وسياسية، يقوم على أساس إطلاق الحرية الشخصية للفرد فيما يعمل وفيما يكسب، وفيما يملك، وفيما ينفق، دون حدود أو قيود، ومن غير مراعاة لدين أو خلق. انظر الموسوعة الميسرة، 231، الاتجاهات الفكرية المعاصرة، د. جمعة الخولي، 157، الرأسمالية وموقف الإسلام منها، د. حمود الرحيلي، 15.

3 الشيوعية: مذهب فكري يقوم على الإلحاد، وأن المادة هي أساس كل شئ، ويفسر التاريخ بصراع الطبقات، وبالعامل الاقتصادي، ظهرت في ألمانيا على يد ماركس وانجلز، وتجسدت في الثورة البلشفية التي ظهرت في روسيا سنة 1917م، بتخطيط من اليهود، وتوسعت على حساب غيرها بالحديد والنار، وقد تضرر المسلمون منها كثيراً … انظر الموسوعة الميسرة، 309.

4 القومية: هي فكرة تقوم على التقاء كل شعب على الروابط المشتركة بين افراده، كالجنس، أو اللغة، أو التاريخ، أو الأرض والوطن، أو الظروف المعيشية والاقتصادية، أو عليها جميعاً، وأستثني من ذلك الدين، وقد اختلفت وجهات النظر في تحديد العنصر الأهم والمقوم الأساسي لهذه الفكرة، وحقيقة القومية التي دعا إليها الاستعمار هي دعوة كل جنس من شعوب العالم الإسلامي إلى التلاحم والتآخي على أساس اللغة والدم وغيرها من الروابط، دون اعتبار للدين، كما استبعد التاريخ الإسلامي من الروابط المشتركة. انظر نقد القومية العربية على ضوء الإسلام والواقع، ضمن مجموع فتاوى ومقالات متنوعة، لسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز (يرحمه الله) 1/187-188، والاتجاهات الفكرية المعاصرة وموقف الإسلام منها، د. جمعة الخولي، 115-116، المخططات الاستعمارية لمكافحة الإسلام، لمحمد محمود الصواف، 23-28، فكرة القومية العربية على ضوء الإسلام، د. صالح العبود، 21 وما بعدها.
তেমনি এর অন্তর্ভুক্ত হলো গণতন্ত্র১, পুঁজিবাদ২, সাম্যবাদ৩, এবং সকল প্রকার সমাজতান্ত্রিক মতবাদ ও জাতীয়তাবাদী৪ গোত্রপ্রীতির দিকে আহ্বান, যা একক উম্মাহর ঐক্যকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে।

--------------------------------------------

১. গণতন্ত্র: এটি গ্রিক বংশোদ্ভূত একটি শব্দ যার অর্থ জনগণের শাসন। এটি এমন প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে জনগণই ক্ষমতার উৎস ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী। দেখুন: আল-মাওসুআহ আল-সাক্বাফিয়্যাহ, ৪৬৬; আহমাদ আতিয়াতুল্লাহ রচিত আল-ক্বামুস আস-সিয়াসি, ৫৪৭-৫৪৮; সাঈদ আব্দুল আজিম রচিত আদ-দিমুক্বরাতিয়্যাহ ফিল মিজান, ৩১।

২. পুঁজিবাদ: এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শন সম্বলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা একজন ব্যক্তির কর্ম, উপার্জন, মালিকানা এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সীমা বা বাধানিষেধ ছাড়াই এবং ধর্ম বা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। দেখুন: আল-মাওসুআহ আল-মুয়াসসারাহ, ২৩১; ড. জুমআ আল-খুলি রচিত আল-ইত্তিজাহাত আল-ফিকরিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ, ১৫৭; ড. হামুদ আর-রুহাইলি রচিত আর-রা’সমালিয়্যাহ ওয়া মাওক্বিফুল ইসলাম মিনহা, ১৫।

৩. সাম্যবাদ (কমিউনিজম): এটি একটি নাস্তিক্যবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদ। এর মূল কথা হলো বস্তুই সবকিছুর ভিত্তি। এটি ইতিহাসকে শ্রেণি সংগ্রাম এবং অর্থনৈতিক উপাদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে। এটি জার্মানিতে মার্ক্স ও এঙ্গেলসের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৯১৭ সালে ইহুদিদের পরিকল্পনায় রাশিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ লাভ করে। এটি লোহা ও আগুনের (নিষ্ঠুর শক্তি) মাধ্যমে অন্যদের ওপর বিস্তার লাভ করে এবং এর মাধ্যমে মুসলমানরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে … দেখুন: আল-মাওসুআহ আল-মুয়াসসারাহ, ৩০৯।

৪. জাতীয়তাবাদ: এটি এমন একটি ধারণা যা প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে তাদের মধ্যকার অভিন্ন বন্ধনগুলোর ভিত্তিতে একত্রিত করে, যেমন: বংশ, ভাষা, ইতিহাস, ভূখণ্ড ও স্বদেশ, জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি অথবা এই সবগুলোর সমন্বয়ে। তবে ধর্মকে এর থেকে বিযুক্ত রাখা হয়। এই ধারণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও মৌলিক ভিত্তি নির্ধারণে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। উপনিবেশবাদ যে জাতীয়তাবাদের দাওয়াত দিয়েছে তার স্বরূপ হলো, বিশ্বের মুসলিম জনপদসমূহের প্রতিটি জাতিকে ধর্মকে বিবেচনা না করে কেবল ভাষা, রক্ত ও অন্যান্য বন্ধনের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো; এমনকি অভিন্ন বন্ধনসমূহ থেকে ইসলামী ইতিহাসকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। দেখুন: শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) এর মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ-এর অন্তর্ভুক্ত নাক্বদুল ক্বাওমিয়্যাহ আল-আরাবিয়্যাহ আলা দাউয়িল ইসলাম ওয়াল ওয়াকি, ১/১৮৭-১৮৮; ড. জুমআ আল-খুলি রচিত আল-ইত্তিজাহাত আল-ফিকরিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ ওয়া মাওক্বিফুল ইসলাম মিনহা, ১১৫-১১৬; মুহাম্মাদ মাহমুদ আস-সাউওয়াফ রচিত আল-মুখাত্তাতাত আল-ইস্তিমারিয়্যাহ লি-মুকাফাহাতিল ইসলাম, ২৩-২৮; ড. সালিহ আল-আবুদ রচিত ফিকরাতুল ক্বাওমিয়্যাহ আল-আরাবিয়্যাহ আলা দাউয়িল ইসলাম, ২১ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৮)
كما تشتمل على الفلسفات الهدامة كالوجودية1، والعلمانية2، وغيرها من المذاهب التي ابتدعها أعداء الإسلام، لتخريب المجتمعات البشرية، وهدم الأخلاق والآداب بمختلف الوسائل كدور اليهود، والجمعيات الهدامة، والاستغلال السئ لوسائل الإعلام الحديثة.

--------------------------------------------

1 الوجودية: تيار فلسفي يعلي من قيمة الإنسان، ويؤكد على تفرده، وأنه صاحب تفكير وحرية وإرادة واختيار، ولا يحتاج إلى موجه، وهو جملة من الاتجاهات والأفكار المتباينة، وليس نظرية فلسفية واضحة المعالم، ونظراً لهذا الاضطراب والتذبذب لم تستطع إلى الآن أن تأخذ مكانها بين العقائد والأفكار. انظر الموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة، 543.

2 العلمانية: ترجمة مضللة لمصطلح أجنبي وترجمته: اللادينية أو الدنيوية، وهي دعوة إلى إقامة الحياة على غير الدين، أو الفصل الكامل بين الدين والحياة، ولا صلة لها بالعلم. انظر الاتجاهات الفكرية المعاصرة. د. جمعة الخولي، 91، والموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة، 367.
তেমনি এটি অস্তিত্ববাদ১, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ২ এবং ইসলামের শত্রুদের প্রবর্তিত অন্যান্য মতবাদের মতো ধ্বংসাত্মক দর্শনসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা মানব সমাজকে কলুষিত করার জন্য এবং ইহুদিদের ভূমিকা, ধ্বংসাত্মক সংগঠনসমূহ ও আধুনিক গণমাধ্যমের অপব্যবহারের মতো বিভিন্ন উপায়ে নৈতিকতা ও শিষ্টাচারকে ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১ অস্তিত্ববাদ: এটি একটি দার্শনিক ধারা যা মানুষের মূল্যকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এবং তার অনন্যতাকে নিশ্চিত করে। এটি দাবি করে যে, মানুষ চিন্তা, স্বাধীনতা, ইচ্ছা ও নির্বাচনের অধিকারী এবং তার কোনো পথপ্রদর্শকের প্রয়োজন নেই। এটি মূলত পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন ঝোঁক ও চিন্তাধারার সমষ্টি, কোনো সুনির্দিষ্ট সুবিন্যস্ত দার্শনিক তত্ত্ব নয়। এই অস্থিরতা ও দোদুল্যমানতার কারণে এটি এখন পর্যন্ত ধর্মবিশ্বাস ও চিন্তাধারার মাঝে নিজের স্থান করে নিতে পারেনি। দেখুন: আল-মাউসুআতুল মুয়াসসারা ফিল আদইয়ানি ওয়াল মাজাহিবিল মুয়াসিরা, ৫৪৩।

২ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ: এটি একটি বিদেশি পরিভাষার বিভ্রান্তিকর অনুবাদ, যার প্রকৃত অনুবাদ হলো: ধর্মহীনতা বা ইহজাগতিকতা। এটি জীবনকে ধর্মের ওপর ভিত্তি না করে পরিচালনা করার অথবা ধর্ম ও জীবনের মাঝে পূর্ণ বিচ্ছেদের একটি আহ্বান, বিজ্ঞানের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। দেখুন: আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকরিয়্যা আল-মুয়াসিরা, ড. জুমা আল-খুলি, ৯১; এবং আল-মাউসুআতুল মুয়াসসারা ফিল আদইয়ানি ওয়াল মাজাহিবিল মুয়াসিরা, ৩৬৭।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৪৯)
‌‌المبحث الرابع: أنواعه

يتعرض المسلمون عامة ومنهم العرب وغيرهم … لغزو فكري عظيم، تداعت به عليهم أمم الكفر من الشرق والغرب، ومن أشد ذلك وأخطره:

الغزو النصراني الصليبي.

الغزو الصهيوني.

الغزو الشيوعي الإلحادي.

أما الغزو النصراني الصليبي فهو اليوم قائم على أشده ومنذ أن انتصر صلاح الدين الأيوبي على الصليبيين الغازين، لبلاد المسلمين بالقوة والسلاح، أدرك النصارى أن حربهم هذه وإن حققت انتصارات فهي وقتية لا تدوم، ولذا فكروا في البديل الأنكى، وتوصلوا بعد دراسات واجتماعات إلى ما هو أخطر من الحروب العسكرية، وهو أن تقوم الأمم النصرانية فرادى وجماعات بالغزو الفكري، لناشئة المسلمين لأن الإستيلاء على الفكر والقلب أمكن من الإستيلاء على الأرض، فالمسلم الذي لم يلوث فكره لا يطيق أن يرى الكافر له الأمر والنهي في بلده، ولهذا يعمل بكل قوته على إخراجه وإبعاده، ولو دفع في سبيل ذلك حياته وأغلى ثمن لديه، وهذا ما حصل بعد الانتصارات الكبيرة للجيوش الصليبية الغازية … وقد استغنى النصارىبالغزو الفكري عن الغزو المادي، لأنه أقوى وأثبت، وأي حاجة لهم في بعث الجيوش وإنفاق الأموال مع وجود من يقوم بما يريدون من أبناء الإسلام عن قصد أو عن غير قصد، وبثمن أو بلا ثمن، ولذلك لا يلجأون إلى محاربة المسلمين علانية بالسلاح والقوة إلا في الحالات النادرة التي تستدعي العجل …1

--------------------------------------------

1 مجموع فتاوى ومقالات متنوعة، لسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، 3/ 439-440.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ

সাধারণভাবে মুসলিমরা এবং তাদের মধ্যে আরব ও অনারবরা … এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের সম্মুখীন হচ্ছে, যার জন্য প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কুফরি জাতিসমূহ তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ও বিপজ্জনক হলো:

খ্রিস্টান ক্রুসেডার আগ্রাসন।

ইহুদিবাদী আগ্রাসন।

নাস্তিক্যবাদী কমিউনিস্ট আগ্রাসন।

খ্রিস্টান ক্রুসেডার আগ্রাসনের কথা বললে, তা আজ পূর্ণ শক্তিতে বিদ্যমান। যখন থেকে সালাহউদ্দীন আইয়ুবী মুসলিম ভূখণ্ডে শক্তি ও অস্ত্রের মাধ্যমে আক্রমণকারী ক্রুসেডারদের ওপর বিজয়ী হয়েছেন, তখন থেকেই খ্রিস্টানরা বুঝতে পেরেছিল যে, তাদের এই যুদ্ধ যদিও কিছু বিজয় অর্জন করেছে, তবে তা সাময়িক এবং দীর্ঘস্থায়ী নয়। তাই তারা আরও যন্ত্রণাদায়ক বিকল্পের কথা চিন্তা করল এবং বিভিন্ন গবেষণা ও বৈঠকের পর তারা সামরিক যুদ্ধের চেয়েও বিপজ্জনক একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হলো; আর তা হলো—খ্রিস্টান জাতিগুলো ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে মুসলিম তরুণ প্রজন্মের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন চালাবে। কারণ চিন্তা ও হৃদয়ের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা ভূমির ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। ফলে যে মুসলিমের চিন্তা কলুষিত হয়নি, সে নিজ দেশে কোনো কাফেরের আদেশ-নিষেধ সহ্য করতে পারে না। এই কারণেই সে তাকে বহিষ্কার ও দূর করতে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে, এমনকি এর বিনিময়ে তাকে যদি নিজের জীবন বা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদও উৎসর্গ করতে হয়। আক্রমণকারী ক্রুসেডার বাহিনীর বড় বড় বিজয়ের পর মূলত এটাই ঘটেছিল … বর্তমানে খ্রিস্টানরা বস্তুগত আগ্রাসনের পরিবর্তে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনকেই যথেষ্ট মনে করছে, কারণ এটি অধিক শক্তিশালী ও স্থায়িত্বশীল। আর যখন ইসলামের সন্তানদের মধ্য থেকেই এমন লোক বিদ্যমান আছে যারা জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে, অর্থের বিনিময়ে বা বিনিময় ছাড়াই তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে দিচ্ছে, তখন তাদের সৈন্য পাঠানোর বা অর্থ ব্যয়ের কী প্রয়োজন? এই কারণেই তারা অস্ত্র ও শক্তি দিয়ে প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না, কেবল সেই বিরল ক্ষেত্রগুলো ছাড়া যেখানে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে …১

--------------------------------------------

১ মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ, ৩/ ৪৩৯-৪৪০।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫০)
أما الغزو الصيهوني فهو كذلك، لأن اليهود لا يألون جهداً في إفساد المسلمين في أخلاقهم وعقائدهم، ولليهود مطامع في بلاد المسلمين وغيرها، ولهم مخططات أدركوا بعضها، ولا زالوا يعملون جاهدين لتحقيق ما تبقى، وهم وإن حاربوا المسلمين بالقوة والسلاح واستولوا على بعض الأرض فإنهم كذلك يحاربونهم في أفكارهم ومعتقداتهم، ولذلك ينشرون فيهم مبادئ ومذاهب ونحلاً باطلة كالماسونية والقاديانية1 والبابية والبهائية 2وغيرها، ويستعينون بالنصارى وغيرهم في تحقيق مآربهم وأغراضهم.

أما الغزو الشيوعي الإلحادي ـ فقد كان ـ يسري في بلاد الإسلام سريان النار في الهشيم نتيجة للفراغ وضعف الإيمان في الأكثرية، وغلبة الجهل، وقلة التربية الصحيجة السليمة. فقد استطاعت الأحزاب الشيوعية في روسيا والصين وغيرها أن تتلقف كل حاقد وموتور3 من ضعفاء الإيمان أو معدومي الإيمان، وتجعلهم ركائز في بلادهم ينشرون الإلحاد والفكر الشيوعي الخبيث، وتعدهم

--------------------------------------------

1 القاديانية حركة أسسها مرزا غلام أحمد القادياني عام 1900م، في القارة الهندية بتخطيط من الاستعمار الإنجليزي، وتهدف إلى إبعاد المسلمين عن دينهم، وعن فريضة الجهاد بشكل خاص، حتى لا يواجهوا المستعمر. انظر الموسوعة الميسرة، 389-391، والمخططات الاستعمارية لمكافحة الإسلام، 354-359.

2 البابية والبهائية: حركة أسسها المرزا علي محمد رضا الشيرازي، عام 1260هـ، تحت رعاية الاستعمار الروسي واليهودية العالمية والاستعمار الإنجليزي، بهدف إفساد العقيدة، وتفكيك وحدة المسلمين وصرفهم عن قضاياهم المعاصرة. انظر اليهودية، لأحمد شلبي، 339-358، والموسوعة الميسرة، 63-65.

3 الموتور لغة: الطالب بالثار، والموتور المفعول. انظر اللسان 5/274، والنهاية لابن الأثير، 5/148.
আর জায়নবাদী আগ্রাসনের বিষয়টিও তদ্রূপ। কেননা ইহুদিরা মুসলিমদের চরিত্র ও আকিদা (عقيدة) বিনষ্ট করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখে না। মুসলিম দেশসমূহ ও অন্যান্য স্থানেও ইহুদিদের লোভাতুর দৃষ্টি রয়েছে। তাদের এমন কিছু পরিকল্পনা রয়েছে যার কিছু তারা বাস্তবায়ন করেছে এবং বাকি অংশ বাস্তবায়নের জন্য তারা কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে শক্তি ও অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করে কিছু ভূমি দখল করে নিলেও, একইভাবে তারা তাদের চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একারণেই তারা তাদের মাঝে ফ্রিম্যাসনারি, কাদিয়ানিয়্যাহ, বাবিয়্যাহ ও বাহায়িয়্যাহর মতো ভ্রান্ত মূলনীতি, মতবাদ ও ভ্রান্ত ফেরকা (نحلة) ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের জন্য খ্রিষ্টান ও অন্যদের সহায়তা গ্রহণ করে।

অন্যদিকে নাস্তিক্যবাদী কমিউনিস্ট আগ্রাসন—এটি মুসলিম দেশগুলোতে শুষ্ক কাষ্ঠে অগ্নি বিস্তারের ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছিল। এর কারণ ছিল অধিকাংশের মধ্যে বিদ্যমান শূন্যতা, ঈমানের দুর্বলতা (ضعف الإيمان), মূর্খতার প্রাবল্য এবং সঠিক ও সুস্থ প্রতিপালনের (تربية) অভাব। রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য স্থানের কমিউনিস্ট দলগুলো ঈমানহীন বা দুর্বল ঈমানসম্পন্ন (ضعفاء الإيمان) সকল বিদ্বেষী ও প্রতিশোধপরায়ণ (موتور) ব্যক্তিদের কবজায় নিতে সক্ষম হয়েছে। তারা এদের নিজ নিজ দেশে নাস্তিক্যবাদ ও জঘন্য কমিউনিস্ট চিন্তাধারা প্রচারের স্তম্ভ হিসেবে তৈরি করেছে এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়...

--------------------------------------------

১ কাদিয়ানিয়্যাহ হলো এমন একটি আন্দোলন যা ১৯০০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে এবং বিশেষ করে জিহাদের (جهاد) আবশ্যিক বিধান থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, যাতে তারা ঔপনিবেশিক শক্তির মোকাবিলা না করে। দেখুন: আল-মাওসুআ আল-মুয়াসসারা, ৩৮৯-৩৯১; আল-মুকাততাত আল-ইসতিমারিয়্যাহ লি-মুকাহাফাত আল-ইসলাম, ৩৫৪-৩৫৯।

২ বাবিয়্যাহ ও বাহায়িয়্যাহ: এটি একটি আন্দোলন যা মির্যা আলী মুহাম্মদ রেজা আল-শিরাজি ১২৬০ হিজরি সনে রুশ সাম্রাজ্যবাদ, বিশ্ব ইহুদিবাদ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল আকিদা (عقيدة) নষ্ট করা, মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং তাদের সমসাময়িক সমস্যাবলি থেকে বিমুখ রাখা। দেখুন: আল-ইয়াহুদিয়্যাহ, আহমাদ শালবি, ৩৩৯-৩৫৮; আল-মাওসুআ আল-মুয়াসসারা, ৬৩-৬৫।

৩ 'আল-মাওতুর' (الموتور) এর শাব্দিক অর্থ: প্রতিশোধকামী ব্যক্তি। দেখুন: আল-লিসান ৫/২৭৪; আন-নিহায়াহ লি ইবনিল আসির ৫/১৪৮।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫১)
وتمنيهم بأعلى المناصب والمراتب، فإذا وقعوا تحت سيطرتها أحكمت أمرها فيهم، وأدبت بعضهم ببعض، وسفكت دماء من عارض أو توقف حتى أوجدت قطعاناً من بني الإنسان حرباً على أممهم وأهليهم، وعذاباً على إخوانهم وبني قومهم، فمزقوا بهم أمة الإسلام، وجعلوهم جنوداً للشيطان، يعاونهم في ذلك النصارى واليهود والتوطئة أحياناً وبالمدد والعون أحياناً أخرى، ذلك أنهم وإن اختلفوا فيما بينهم فإنهم جميعاً يد واحدةعلى المسلمين، يرون أن الإسلام هو عدوهم اللدود، ولذا تراهم متعاونين متكاتفين بعضهم أولياء بعض ضد المسلمين 1.

ومن خلال هذا الاستعراض الموجز يتبين لنا شدة عداوة النصارى الصليبيين، واليهود الصهاينة، والشيوعيين الملاحدة، لهذا الدين القويم، وسعيهم الخبيث ومكرهم المستمر في الكيد له بكل الطرق والأساليب، وتركيزهم على الحرب الفكرية، لإدراكهم لخطورتها، وأنها السبيل الأمثل لحرب الإسلام وتحطيم مثله وقيمه.

--------------------------------------------

1 انظر مجموع فتاوى ومقالات متنوعة، لسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، 3/440- 441.

এবং এটি তাদেরকে সর্বোচ্চ পদমর্যাদা ও অবস্থানের প্রলোভন দেখায়; ফলে তারা যখন এর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন এটি তাদের ওপর নিজের কর্তৃত্ব সুসংহত করে এবং তাদের এক পক্ষকে দিয়ে অন্য পক্ষকে শায়েস্তা করে। যারা বিরোধিতা করে বা থমকে দাঁড়ায়, এটি তাদের রক্ত প্রবাহিত করে; এমনকি এটি মানবজাতির মধ্য থেকে এমন এক পালের সৃষ্টি করে যারা তাদের নিজ উম্মাহ ও পরিবার-পরিজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং নিজ ভাই ও স্বগোত্রীয়দের জন্য আযাব স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে তারা মুসলিম উম্মাহকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং তাদেরকে শয়তানের সৈনিকে পরিণত করে। এক্ষেত্রে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা কখনও পটভূমি তৈরির মাধ্যমে, আবার কখনও সাহায্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে তাদেরকে মদদ জোগায়। এর কারণ হলো, তারা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য রাখলেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তারা সবাই এক হাত (একতাবদ্ধ); তারা মনে করে ইসলামই তাদের প্রধান শত্রু। আর এ কারণেই আপনি তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগী ও বন্ধু হিসেবে একতাবদ্ধ দেখতে পান ১。

এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের নিকট এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের প্রতি ক্রুসেডার খ্রিস্টান, জায়নবাদী ইহুদি এবং নাস্তিক কমিউনিস্টদের তীব্র শত্রুতা এবং একে বিপর্যস্ত করার জন্য সর্বপ্রকার পন্থা ও কৌশলে তাদের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা ও নিরন্তর ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে, কারণ তারা এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছে এবং তারা উপলব্ধি করেছে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং এর আদর্শ ও মূল্যবোধকে চূর্ণ করার এটিই সর্বোত্তম পন্থা।

--------------------------------------------

১. দেখুন: মাজমু’ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ, ৩/৪৪০-৪৪১।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫২)
‌‌المبحث الخامس: أهدافه

للغزو الفكري أهداف كثيرة من أهمها:

أولاً: اقتلاع العقيدة الإسلامية من قلوب المسلمين، وصرفهم عن

التمسك بالإسلام1.

ثانياً: منع الإسلام من الانتشار خارج ديار المسلمين، وذلك لئلا تتأثر الأقطار الأخرى بمبادئ الإسلام وأصوله السمحة، وهو الذي يتفق مع الفطرة الإنسانية التي فطر الله الناس عليها، والإسلام هو الدين الأكمل الذي يستطيع أن يجتاز بالإنسان مرحلة التناقض بين الفكر والسلوك، وحالة التذبذب بين العبادة والعمل، وحالة التمزق بين العمل للدنيا والعمل للآخرة، والإسلام وحده الذي حقق التوفيق بين هذه التناقضات التي تعيشها الديانات المحرفة.

وهذه المميزات التي اختص بها ديننا الإسلامي العظيم هي نفسها التي تورق مضاجع هؤلاء الغزاة، لأنها تكشف باطلهم من ناحية، وتظهرهم أمام شعوبهم وأمام الأمم الأخرى التي يطمعون في الإستيلاء عليها بمظهرهم العدواني الحقيقي، ومن ثم تهدد مخططاتهم جميعاً أبلغ تهديد، ومن هنا كان الهدف الأول من استراتيجيتهم أن يعملوا بكل الطاقات لوقف إنتشاره خارج هذه الديار.

وكانت لهم في ذلك وسائل متنوعة، تقوم أولاً وأخيراً على تشويه حقائق الإسلام وإظهار اتباعه في أسوأ صورة.

ومن وسائلهم في محاصرة الإسلام:

1-تشوية صورة الإسلام، وذلك عن طريق نشر الأباطيل حول الإسلام

--------------------------------------------

1 واقعنا المعاصر، محمد قطب، 196.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এর লক্ষ্যসমূহ

বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের অনেকগুলো লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:

প্রথমত: মুসলিমদের অন্তর থেকে ইসলামী আকিদা (عقيدة) উপড়ে ফেলা এবং ইসলামকে আঁকড়ে ধরা থেকে তাদেরকে বিমুখ করা।১

দ্বিতীয়ত: মুসলিম ভূখণ্ডের বাইরে ইসলামের প্রচার ও প্রসার রোধ করা; যাতে অন্যান্য অঞ্চল ইসলামের উদার মূলনীতি (أصول) ও আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত না হয়, যা সেই মানব প্রকৃতির (فطرة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। ইসলামই হলো সেই পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান যা মানুষের চিন্তা ও আচরণের মধ্যকার বৈপরীত্য, ইবাদত ও কর্মের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং ইহকাল ও পরকালের কর্মতৎপরতার মধ্যকার বিভাজন কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। একমাত্র ইসলামই সেইসব বৈপরীত্যের মধ্যে সফলভাবে সমন্বয় সাধন করেছে যা বিকৃত (محرفة) ধর্মগুলোতে বিদ্যমান।

আমাদের মহান দ্বীন ইসলামের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোই সেইসব আগ্রাসনকারীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। কারণ এগুলো একদিকে যেমন তাদের মিথ্যাকে উন্মোচিত করে দেয়, অন্যদিকে তাদের নিজ জাতি এবং অন্যান্য জাতি—যাদের তারা পদানত করার আকাঙ্ক্ষা রাখে—তাদের সামনে তাদের প্রকৃত আক্রমণাত্মক রূপটি প্রকাশ করে দেয়। ফলশ্রুতিতে এটি তাদের সকল পরিকল্পনাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দেয়। এই কারণেই তাদের রণকৌশলের প্রধান লক্ষ্য হলো এই ভূখণ্ডের বাইরে ইসলামের বিস্তার রোধে সর্বশক্তি নিয়োগ করা।

এ লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে, যা মূলত ইসলামের শাশ্বত সত্যকে বিকৃত করা এবং এর অনুসারীদের অত্যন্ত কদর্য রূপে উপস্থাপনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।

ইসলামকে অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের কিছু মাধ্যম হলো:

১-ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা; আর তা হলো ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিষয় প্রচারের মাধ্যমে।

--------------------------------------------

১ ওয়াকেউনা আল-মুআসির, মুহাম্মাদ কুতুব, ১৯৬।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
…، والهدف من وراء ذلك واضح، وهو محاولة صرف أنظار أتباعهم من التاثر بهذا الدين أو حتى عن مجرد النظر فيه..

2- تجسيم مظاهر الضعف في ديار المسلمين وحملها على الإسلام.. لكننا ننكر أشد الإنكار أن يكون الإسلام هو المسؤول عن ضعف المسلمين أو عن تخلفهم في أي مضمار، بل التبعية الكبرى تقع على المسلمين أنفسهم، لأنهم تخلوا عن دينهم فتخلى الله بنصره … ولكنه إذا عادوا إليه وتمسكوا به فسينصرهم الله وسيكون معهم {يا أيها الذين آمنوا إن تنصروا الله ينصركم ويثبت أقدامكم} 1.

3- تصوير الإسلام على أنه دين العنف والدماء، وذلك بدليل قطع يد السارق، ورجم الزاني المحصن، وضرب عنق القاتل، وبدليل فريضة الجهاد في سبيل الله، وهذه الشبهةوالأباطيل ليس هنا مكان الرد عليها.

4- تصوير مزايا الإسلام على أنها عيوب، وذلك كموضوع الطلاق، وتعدد الزوجات الذي يعتبر ـ بكل ما يكتنفه من ضوابط ـ رحمة رحيمة من الحق سبحانه بعباده … إلا أن هؤلاء صوروه لأتباعهم وللعالم على أنه ضرب من الهمجية وفوضى الجنس يبيحها هذا الدين للمسلمين.

5- اتهام الإسلام بشل قوى الإبداع والعبقرية بين اتباعه، ومن أجل ذلك اتهموا الإسلام بمجموعة من الاتهامات الغريبة، أبرزها أنه يبعث على الخمول والكسل، وأنه يلغي فاعلية العقل، ويسلب أتباعه القدرة على التفكير المبدع، ويسمونه بالدين المحمدي، للإيحاء بأنه من صنع النبي، وليس ديناً ربانياً، وإنما هو مجموعة من العادات والتقاليد التي أصبحت ديناً مع مرور الزمن للمسلمين. .2

--------------------------------------------

1 سورة محمد، الآية 7.

2 انظر الغزو الفكري أهدافه ووسائله، د. عبد الصبور مرزوق، 25-39، ووسائل مقاومة الغزو الفكري للعالم الإسلامي، د. حسان محمد حسان، 50 وما بعدها، وأخطار الغزو الفكري على العالم الإسلامي، د. صابر طعيمة، 43-44.
…। আর এর পেছনের লক্ষ্যটি অত্যন্ত স্পষ্ট; তা হলো তাদের অনুসারীদের দৃষ্টি এই দ্বীনের প্রভাবে প্রভাবিত হওয়া থেকে অথবা কেবল এর প্রতি সামান্যতম দৃষ্টিপাত করা থেকেও ফিরিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা।

২- মুসলিম ভূখণ্ডসমূহে বিদ্যমান দুর্বলতার দিকগুলোকে বড় করে দেখানো এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপানো। তবে আমরা অত্যন্ত জোরালোভাবে অস্বীকার করি যে, মুসলিমদের দুর্বলতা কিংবা যেকোনো ক্ষেত্রে তাদের অনগ্রসরতার জন্য ইসলাম দায়ী। বরং এর প্রধান দায়ভার মুসলিমদের নিজেদের ওপরই বর্তায়; কারণ তারা তাদের দ্বীনকে বর্জন করেছে, ফলে আল্লাহও তাঁর সাহায্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন...। কিন্তু তারা যদি পুনরায় দ্বীনের দিকে ফিরে আসে এবং তাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন এবং তাদের সঙ্গে থাকবেন: {হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা স্থির করে দেবেন} ১।

৩- ইসলামকে একটি সহিংস ও রক্তপিপাসু ধর্ম হিসেবে চিত্রিত করা; এর প্রমাণ হিসেবে তারা চোরের হাত কাটা, বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং হত্যাকারীর শিরশ্ছেদ করার বিষয়গুলো উপস্থাপন করে। সেই সাথে আল্লাহর পথে জিহাদের আবশ্যিকতাকেও তারা দলিল হিসেবে পেশ করে। এই সংশয় ও অসার উক্তিগুলো খণ্ডন করার উপযুক্ত স্থান এটি নয়।

৪- ইসলামের উৎকর্ষ বা বৈশিষ্ট্যসমূহকে ত্রুটি হিসেবে চিত্রিত করা; যেমন—তালাক এবং বহুবিবাহের বিষয়টি, যা এর সকল নীতিমালাসহ মহান সত্য (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এক অনন্য রহমত...। অথচ তারা একে তাদের অনুসারীদের ও বিশ্ববাসীর কাছে এক প্রকার বর্বরতা এবং যৌন অরাজকতা হিসেবে চিত্রিত করেছে, যা এই দ্বীন মুসলিমদের জন্য বৈধ করেছে বলে তারা দাবি করে।

৫- ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা যে, এটি তার অনুসারীদের সৃজনশীল শক্তি ও মেধাকে স্তব্ধ করে দেয়। এ লক্ষ্যে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অদ্ভুত অভিযোগ উত্থাপন করেছে; যার মধ্যে প্রধান হলো—এটি অলসতা ও জড়তা সৃষ্টি করে, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তাকে নস্যাৎ করে এবং অনুসারীদের সৃজনশীল চিন্তার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। তারা একে 'মোহাম্মদী ধর্ম' বলে অভিহিত করে, যাতে এমন ইঙ্গিত দেওয়া যায় যে এটি কেবল নবীর তৈরি করা কোনো বিষয়, কোনো ঐশী ধর্ম নয়; বরং এটি কিছু প্রথা ও ঐতিহ্যের সমষ্টি যা কালক্রমে মুসলিমদের কাছে ধর্মে পরিণত হয়েছে। ২

--------------------------------------------

১ সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ৭।

২ দেখুন: আল-গাজওয়ুল ফিকরি আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু, ড. আবদুস সবুর মারজুক, ২৫-৩৯; ওয়াসাইলু মুকাওয়ামাতিল গাজওয়িল ফিকরি লিল-আলামিল ইসলামি, ড. হাসান মুহাম্মদ হাসান, ৫০ এবং পরবর্তী; এবং আখতারুল গাজওয়িল ফিকরি আলাল আলামিল ইসলামি, ড. সাবের তুয়াইমাহ, ৪৩-৪৪।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫৪)
وهؤلاء الأعداء لا يستندون إلى أي دليل، لأن العمل في الإسلام هو المعيار الصحيح لتقويم الأشخاص والأعمال، والأدلة من الكتاب والسنة على حث الإسلام على العمل كثيرة جداً، ذكرنا بعضها في غير هذا البحث1.

ثالثاً: ضرب الإسلام من الداخل، وهو يشبه في العمل العسكري تصفية قوات العدو بعد فرض الحصار عليها.

وأهم وسائل الغزو الفكري التي أُتبعت في ضرب الإسلام من الداخل هي:

1- إثارة الخلافات والنزاعات وتضخيمها بين المسلمين.

2- محاولة إفساد المسلمين في عقيدتهم وأخلاقهم، وإغراقها في متاهات الشك، وقد وجدت الجذور لهذا الإفساد عندما دخل الإسلام من يريد هدمه، وتقويض أركانه من الداخل، ثم عندما ترجمت الكتب الفلسفية في العصر العباسي، وغزت الفكر الإسلامي بكثير من المنازع الفلسفية، والمذاهب الملحدة، في تفسيراتها للكون والمادة وما وراء الطبيعة، مما أدى إلى ظهور بعض المشككين الذين كانوا ينزعون في الشك منزع السوفسطائيين… 2

والحق أنه طالما كانت العقيدة صحيحة في النفوس، والحفاظ عليها موجوداً فإن جهود الغزاة سوف تمضي مع أدراج الرياح.

3-تجزئة المسلمين عن طريق إحياء العصبيات والقوميات الجاهلية.

--------------------------------------------

1 الشيوعية وموقف الإسلام منها، ص178، والرأسمالية وموقف الإسلام منها، ص46.

2 السوفسطائية: فرقة ينكرون الحساب والبديهات وغيرها، الواحد سوفسطائي. انظر المعجم الوسيط، 1/433.
এই শত্রুরা কোনো দলিল (دليل)-এর ওপর ভিত্তি করে কথা বলে না, কারণ ইসলামে আমল বা কাজই হলো ব্যক্তি ও কর্মের মূল্যায়নের সঠিক মানদণ্ড (المعيار الصحيح), আর ইসলামে কর্মের প্রতি উৎসাহ প্রদানের ব্যাপারে কিতাব ও সুন্নাহ (السنة) থেকে অসংখ্য দলিল (الأدلة) রয়েছে, যার কিছু আমরা এই গবেষণার বাইরে অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি।১

তৃতীয়ত: ভেতর থেকে ইসলামের ওপর আঘাত হানা, যা সামরিক তৎপরতায় শত্রুবাহিনীকে অবরুদ্ধ করার পর তাদের নির্মূল করার সদৃশ।

ভেতর থেকে ইসলামের ওপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের যে সকল গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম অনুসরণ করা হয়েছে সেগুলো হলো:

১- মুসলিমদের মাঝে মতভেদ ও বিবাদ উসকে দেওয়া এবং সেগুলোকে অতিরঞ্জিত করা।

২- মুসলিমদের আকিদাহ (عقيدة) এবং আখলাক (أخلاق)-এর মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো এবং তাদের সন্দেহের গোলকধাঁধায় নিমজ্জিত করা। এই বিপর্যয়ের মূল প্রোথিত হয়েছিল তখন, যখন ইসলামের ভেতর এমন লোক প্রবেশ করেছিল যারা একে ধ্বংস করতে এবং ভেতর থেকে এর স্তম্ভগুলো উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে যখন আব্বাসীয় যুগে দার্শনিক গ্রন্থসমূহ অনূদিত হয়, তখন মহাবিশ্ব, পদার্থ এবং অধিবিদ্যার ব্যাখ্যায় অনেক দার্শনিক প্রবণতা ও নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শ ইসলামি চিন্তাচেতনাকে আক্রমণ করে। এর ফলে এমন কিছু সংশয়বাদীর আবির্ভাব ঘটে যারা সোফিস্ট (السوفسطائية)-দের মতো সন্দেহের পথে ধাবিত হয়েছিল... ২

আর প্রকৃত সত্য এই যে, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে আকিদাহ (العقيدة) বিশুদ্ধ (صحيحة) থাকবে এবং তা অটুট থাকবে, ততক্ষণ আক্রমণকারীদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

৩- জাহেলি যুগের গোত্রপ্রীতি (العصبيات) ও জাতীয়তাবাদ (القوميات) পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে মুসলিমদের খণ্ডিত করা।

--------------------------------------------

১. আল-শিউয়িয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলাম মিনহা, পৃ. ১৭৮; এবং আল-রাসিমালিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলাম মিনহা, পৃ. ৪৬।

২. সোফিস্ট (السوفسطائية): এমন একটি দল যারা বিচার-বুদ্ধি ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহকে অস্বীকার করে, এদের একবচন হলো সোফিস্ট (سوفسطائي)। দেখুন: আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, ১/৪৩৩।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫৫)
4-نشر النظريات والأفكار المناهظة للدين.

5-دعم وتأسبس الحركات المعادية للإسلام كالبابية والبهائية، والقاديانية. والجدير بالذكر أن المستعمرين بتأسيسهم لهذه الحركات الهدامة، كانوا يصدرون عن القاعدة القديمة للتبشير بين المسلمين التي تقول "تبشير المسلمين يجب أن يكون بواسطة رسول من أنفسهم، ومن بين صفوفهم، لأن الشجرة يجب أن يقطعها أحد أغصانها"1.

رابعاً: إن هؤلاء الأعداء في غزوهم بثقافتهم وأفكارهم ومبادئهم للبلدان الإسلامية، إنما يهدفون إلى نهب خيرات الشعوب الإسلامية ومقدراتها، واغتصاب حقوقها، والاستفادة من أفرادها، وتسخيرهم في تحقيق أهدافهم2.

--------------------------------------------

1 انظر الغزو الفكري أهدافه ووسائله، د. عبد الصبور مرزوق، 45-79، والغارة على العالم الإسلامي، ترجمة محب الدين الخطيب وزميله، 38.

2 انظر في الغزو الفكري، نذير حمدان، 1/7، ووسائل مقاومة الغزو الفكري، د. حسان محمد حسان، 15.
4-ধর্মবিরোধী মতবাদ ও ধ্যান-ধারণা প্রচার করা।

5-ইসলামবিদ্বেষী বিভিন্ন আন্দোলন যেমন: বাবিয়া, বাহায়িয়া এবং কাদিয়ানিয়া আন্দোলনকে সমর্থন ও প্রতিষ্ঠা করা। এটি উল্লেখযোগ্য যে, এই ধ্বংসাত্মক আন্দোলনগুলো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপনিবেশবাদীরা মুসলমানদের মধ্যে মিশনারি তৎপরতার সেই পুরনো মূলনীতি অনুসরণ করছিল যা বলে— "মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করার কাজ তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে এবং তাদের কাতার থেকেই হতে হবে; কারণ গাছকে তার কোনো একটি ডাল দিয়েই কাটা উচিত"১।

চতুর্থত: এই শত্রুরা মুসলিম দেশগুলোতে তাদের সংস্কৃতি, চিন্তাধারা ও মতাদর্শের মাধ্যমে যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য হলো মুসলিম জাতিসমূহের সম্পদ ও সামর্থ্য লুণ্ঠন করা, তাদের অধিকার হরণ করা এবং তাদের জনশক্তিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে হীন উদ্দেশ্য হাসিল করা২।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-গাজউ আল-ফিকরি: আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু, ড. আবদুস সবুর মারজুক, পৃষ্ঠা ৪৫-৭৯; এবং আল-গারা আলাল আলামিল ইসলামি, অনুবাদ: মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব ও তাঁর সহযোগী, পৃষ্ঠা ৩৮।

২ দেখুন: ফি আল-গাজউ আল-ফিকরি, নাযির হামদান, ১/৭; এবং ওয়াসায়িলু মুকাওয়ামাতি আল-গাজউ আল-ফিকরি, ড. হাসসান মুহাম্মদ হাসসান, পৃষ্ঠা ১৫।
(খণ্ড: ১) তাহসীনুল মুজতামায়িল মুসলিম দিদ্দাল গাযউইল ফিকরী (পৃষ্ঠা: ৩৫৬)
‌‌المبحث السادس: أساليبه ووسائله

لقد درس قادة الدول الغربية وعلماؤها تاريخ الأمة الإسلامية، ووجدوا أن منابع القوة عند المسلمين تتمثل في العقيدة الإسلامية، المستقرة في القلوب، والشريعة الإسلامية التي تحكم الحياة، ووجدوا أن آباءهم الصليبيين هزموا قديماً بسبب تمسك المسلمين بهذا الدين، فوجهوا هممهم لزعزعة العقيدة الإسلامية، حتى يسهل عليهم اقتلاع عقيدة الإسلام، وتشويه صورته في نفوس المسلمين، وبذلك يسهل السيطرة عليهم1.

أهم الأساليب والوسائل التي استخدمها الغرب الصليبي:

وقد لخص هذه الأساليب صاحب كتاب "المخططات الاستعمارية لمكافحة الإسلام"، فيما يلي2:

فتح المدارس الأجنبية في ديار المسلمين وتكثيرها وتنويعها، وإرسال القسس والرهبان ليشرفوا على هذه المدارس، ويربوا أجيال المسلمين على أعينهم.

ومنها إرسال البعوث، وتكثير الإرساليات التبشيرية لنشر مكامن التنصير في كل مكان، وتشكيك الشباب المسلم في دينه وعقيدته، وإحاطته بسياج من أوهامها وضلالاتها، ومن وسائلهم فتح المستشفيات والمستوصفات، ودور التمريض لنفس الغرض الخبيث.

ومنها إرسال أكبر قدر ممكن من شباب المسلمين وأبنائهم إلى ديار

--------------------------------------------

1 انظر نحو ثقافة إسلامية أصيلة، د. عمر سليمان الأشقر، 60، بتصرف.

2 انظر المخططات الاستعمارية لمكافحة الإسلام، محمد محمود الصواف، 17-21، وانظر مجموع فتاوى ومقالات متنوعة، لسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، 3/441-444.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এর পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহ

পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং তাদের পণ্ডিতবর্গ মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস অধ্যয়ন করেছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন যে, মুসলমানদের শক্তির উৎসসমূহ তাদের অন্তরে প্রোথিত ইসলামি আকিদাহ (العقيدة) এবং জীবন পরিচালনাকারী ইসলামি শরিয়াহর (الشريعة) মধ্যে নিহিত। তারা আরও দেখতে পেয়েছেন যে, অতীতে তাদের ক্রুসেডার পূর্বপুরুষরা পরাজিত হয়েছিলেন মুসলমানদের এই দ্বীনের প্রতি অবিচল থাকার কারণে। ফলে তারা ইসলামি আকিদাহ (العقيدة) টলিয়ে দেওয়ার দিকে তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করেন, যাতে তাদের জন্য ইসলামের আকিদাহ (العقيدة) উপড়ে ফেলা এবং মুসলমানদের অন্তরে এর ভাবমূর্তি বিকৃত করা সহজ হয়; আর এর মাধ্যমে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা সহজতর হয়।১

ক্রুসেডার পাশ্চাত্য কর্তৃক ব্যবহৃত প্রধান প্রধান পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহ:

"ইসলামের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র" নামক বইয়ের লেখক এই পদ্ধতিগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করেছেন:২

মুসলিম দেশগুলোতে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা এবং সেগুলোর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা; সেই সাথে এই স্কুলগুলো তত্ত্বাবধান করার জন্য এবং তাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে মুসলিম প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য পাদ্রি ও যাজকদের প্রেরণ করা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصير) গোপন কেন্দ্রগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি দল প্রেরণ এবং মিশনারি মিশনগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, মুসলিম যুবকদের মনে তাদের দ্বীন ও আকিদাহ (العقيدة) সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে ভ্রান্ত ধারণা ও বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করা। তাদের মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একই অশুভ উদ্দেশ্যে হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও নার্সিং হোমসমূহ প্রতিষ্ঠা করা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুসলমানদের যুবসমাজ ও সন্তানদের একটি বিশাল অংশকে [পাশ্চাত্যের] দেশগুলোতে প্রেরণ করা...

--------------------------------------------

১ দেখুন: নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়াতিন আসিলাহ, ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার, পৃষ্ঠা ৬০, কিছুটা পরিমার্জিত।

২ দেখুন: আল-মুকাত তাতাতুল ইস্তিমারিইয়াহ লি মুকাফাহাতিল ইসলাম, মুহাম্মদ মাহমুদ আল-সাওয়াফ, পৃষ্ঠা ১৭-২১; এবং দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ, ৩/৪৪১-৪৪৪।