(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: -)
تجريد التوحيد المفيد (المقريزي)
القسم: العقيدة
الكتاب: تجريد التوحيد المفيد
المؤلف: أحمد بن علي بن عبد القادر، أبو العباس الحسيني العبيدي، تقي الدين المقريزي (ت 845هـ)
المحقق: طه محمد الزيني
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: 1409هـ/1989م
عدد الصفحات: 64
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাজরিদুত্তাওহিদ আল-মুফিদ (আল-মাকরিজি)
বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: তাজরিদুত্তাওহিদ আল-মুফিদ
লেখক: আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির, আবুল আব্বাস আল-হুসাইনি আল-উবাইদি, তাকি উদ্দিন আল-মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি)
সম্পাদক: ত্বহা মুহাম্মদ আল-জাইনি
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: ১৪০৯ হিজরি/১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تجريد التوحيد المفيدتأليف: تقي الدين أحمد بن علي المقريزي المتوفى سنة 854 هجريةمقدمة المؤلفالحمد لله ربّ العالمين، والعاقبة للمتقين، وصلّى الله على نبيّنا محمد خاتم النبيين، وعلى آله وصحبه أجمعين.أما بعد:فهذا كتاب جمّ الفوائد، بديع الفرائد، ينتفع به من أراد الله والدّار الآخرة، سمّيته: "تجريد التّوحيد المفيد".والله أسأل العون على العمل به بمنّه.
তাজরীদুত তাওহীদ আল-মুফীদরচনায়: তাকীউদ্দীন আহমাদ ইবনে আলী আল-মাকরীযী, মৃত্যু ৮৫৪ হিজরীলেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যিনি শেষ নবী এবং তাঁর সকল পরিবার ও সঙ্গীদের ওপরও।অতঃপর:এটি বিপুল কল্যাণসমৃদ্ধ এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী একটি কিতাব। এর দ্বারা সেই ব্যক্তি উপকৃত হবে যে আল্লাহ এবং পরকাল প্রত্যাশা করে। আমি এর নাম রেখেছি: "তাজরীদুত তাওহীদ আল-মুফীদ" (তাওহীদের উপকারী সারসংক্ষেপ)।আমি আল্লাহর নিকট তাঁরই অনুগ্রহে এর ওপর আমল করার তৌফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تجريد التوحيد المفيد…اعلم أن الله سبحانه هو ربّ كل شيءِ ومالكه وإلهه:فالرّب:
তাজরীদুত তাওহীদ আল-মুফীদ…জেনে রাখুন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন প্রতিটি বস্তুর রব, তার মালিক এবং তার ইলাহ:অতঃপর রব হলেন:
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مصدر ربَّ يَرُبُّ ربًّا فهو رابٌّ، فمعنى قوله تعالى: {رَبِّ الْعَالَمِينَ} : رابُّ العالمين، فإن الربّ سبحانه وتعالى هو الخالق الموجد لعباده، القائم بتربيتهم وإصلاحهم، المتكفّل بصلاحهم من خلقٍ ورزقٍ وعافيةٍ وإصلاح دين ودنيا.والإلهيّة: كون العباد يتّخذونه سبحانه محبوبًا مألوها، ويفردونه بالحب والخوف والرجاء والإخبات، والتّوبة والنّذر والطّاعة، والطّلب والتّوكل ونحو هذه الأشياء.فإن التوحيد
এটি রব্বা, ইয়ারুব্বু, রাব্বান ধাতু থেকে আগত ক্রিয়ামূল (মাসদার), আর তিনি হলেন প্রতিপালনকারী। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {রব্বিল আলামীন}-এর অর্থ হলো: জগতসমূহের প্রতিপালক। কেননা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন স্রষ্টা, যিনি তাঁর বান্দাদের অস্তিত্ব দানকারী, তাঁদের লালন-পালন ও সংশোধনের দায়িত্ব পালনকারী; এবং সৃষ্টি, রিযিক, সুস্থতা ও দ্বীন-দুনিয়ার সংশোধনের মাধ্যমে তাঁদের কল্যাণের জিম্মাদার।আর ইলাহিয়্যাত হলো: বান্দারা মহান আল্লাহকে তাদের একমাত্র ভালোবাসার পাত্র ও মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করবে এবং ভালোবাসা, ভয়, আশা, বিনয়, তওবা, মানত, আনুগত্য, প্রার্থনা, তাওয়াক্কুল ও এই জাতীয় বিষয়গুলোতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করবে।কেননা তাওহিদ
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حقيقته: أن ترى الأمور كلها من الله - تعالى - رؤية تقطع الالتفات إلى الأسباب والوسائط، فلا ترى الخير والشر إلاّ منه تعالى، وهذا المقام يثمر التّوكل، وترك شكاية الخلق، وترك لومهم، والرضا عن الله - تعالى -، والتسليم لحكمه.وإذا عرفت ذلك فاعلم أن الربوبية منه تعالى لعباده، والتألّه من عباده له سبحانه، كما أن الرحمة هي الوصلة بينهم وبينه عز وجل.واعلم أن أنفس الأعمال وأجلّها قدرًا: توحيد الله - تعالى -، غير أن التّوحيد له قشرتان:الأولى: أن تقول بلسانك: لا إله إلاّ الله، ويسمّى هذا
এর প্রকৃতরূপ হলো: সমস্ত বিষয়কে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এমনভাবে দেখা যা মাধ্যম ও কার্যকারণসমূহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করাকে ছিন্ন করে দেয়। ফলে আপনি কল্যাণ ও অকল্যাণ কেবল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই দেখতে পাবেন। আর এই মাকাম বা স্তরটি তাওয়াক্কুল, সৃষ্টিজগতের নিকট অভিযোগ করা বর্জন করা, তাদের তিরস্কার করা ত্যাগ করা, আল্লাহ তাআলার প্রতি সন্তুষ্টি এবং তাঁর হুকুমের কাছে আত্মসমর্পণ ফল হিসেবে প্রদান করে।যখন আপনি এটি জানতে পারলেন, তখন জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য রয়েছে রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), আর বান্দাদের পক্ষ থেকে তাঁর পবিত্র সত্তার জন্য রয়েছে তাআল্লুহ (উপাসনা); ঠিক যেমন রহমত হলো তাদের এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর মধ্যকার সংযোগসূত্র।জেনে রাখুন যে, আমলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান এবং মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে মহান হলো আল্লাহ তাআলার তাওহিদ। তবে তাওহিদের দুটি বহিরাবরণ রয়েছে:প্রথমটি হলো: আপনার জিহ্বা দিয়ে বলা যে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’, আর একে বলা হয়
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
القول توحيدًا، وهو مناقض للتثليث الذي تعتقده النصارى، وهذا التّوحيد يصدر أيضا من المنافق الذي يخالف سرّه جهره.والقشرة الثانية: أن لا يكون في القلب مخالفة ولا إنكار لمفهوم هذا القول، بل يشتمل القلب على اعتقاد ذلك والتصديق به، وهذا هو توحيد عامة النّاس.ولُبَاب التّوحيد: أن يرى الأمور كلها لله - تعالى -، ثم يقطع الالتفات إلى الوسائط، وأن يعبده سبحانه عبادة يفرده بها، ولا يعبد غيره.ويخرج عن هذا التّوحيد: أتباع الهوى، فكلّ من اتّبع هواه فقد اتّخذ هواه معبوده، قال الله - تعالى -: {أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ} .وإذا تأملت عرفت أن عابد الصنم لم يعبده إنما عبد هواه، وهو ميل نفسه إلى دين آبائه، فيتبع ذلك الميل، وميل النفس إلى المألوفات أحد المعاني التي يعبر عنها بالهوى.ويخرج عن هذا التوحيد: السخط على الخلق، والالتفات إليهم، فإن من يرى الكل من الله كيف يسخط على غيره أو يأمل سواه؟.وهذا التوحيد مقام الصديقين.ولا ريب أن توحيد الربوبية لم ينكره المشركون، بل أقرّوا بأنه سبحانه وحده خالقهم، وخالق السموات والأرض، والقائم بمصالح العالم كله، وإنما أنكروا توحيد الإلهيّة والمحبّة، كما قد حكى الله - تعالى - عنهم في قوله: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبّاً لِلَّهِ} ، فلما سووا غيره به في هذا التّوحيد كانوا مشركين،
তাওহীদ বাক্য মুখে উচ্চারণ করা; যা খ্রিস্টানদের বিশ্বাসকৃত ত্রিত্ববাদের পরিপন্থী। আর এই তাওহীদ এমন মুনাফিকের থেকেও প্রকাশ পায় যার গোপন অবস্থা তার প্রকাশ্য অবস্থার বিরোধী।দ্বিতীয় স্তর হলো: অন্তরে এই বাক্যের মর্মের প্রতি কোনো বিরোধিতা বা অস্বীকৃতি না থাকা; বরং অন্তর এর প্রতি বিশ্বাস ও সত্যায়ন ধারণ করবে। আর এটাই হলো সাধারণ মানুষের তাওহীদ।তাওহীদের সারবত্তা হলো: সকল বিষয়কে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখা, অতঃপর মাধ্যমগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা ছিন্ন করা; আর তাঁর ইবাদত এমনভাবে করা যাতে তিনি একক হন এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করা হয়।প্রবৃত্তি পূজারীরা এই তাওহীদ থেকে বিচ্যুত। কেননা যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে মূলত প্রবৃত্তিকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনি কি তাকে দেখেছেন যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে?"আপনি যদি চিন্তা করেন তবে জানতে পারবেন যে, মূর্তিপূজারী মূলত মূর্তির উপাসনা করেনি, বরং সে তার প্রবৃত্তির উপাসনা করেছে। আর তা হলো তার পূর্বপুরুষদের ধর্মের প্রতি তার অন্তরের ঝোঁক, যার সে অনুসরণ করে। আর অভ্যস্ত বিষয়গুলোর প্রতি নফসের ঝোঁক হলো সেই অর্থগুলোর একটি যাকে প্রবৃত্তি বলা হয়।সৃষ্টির প্রতি অসন্তুষ্টি এবং তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা এই তাওহীদ থেকে বিচ্যুত করে। কারণ যে ব্যক্তি সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করে, সে কীভাবে অন্যের ওপর অসন্তুষ্ট হবে বা অন্য কারও কাছে আশা পোষণ করবে?আর এই তাওহীদ হলো সিদ্দীকগণের স্তর।এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুশরিকরা তাওহীদুর রুবুবিয়াহকে অস্বীকার করেনি, বরং তারা স্বীকার করত যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাদের একমাত্র স্রষ্টা, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা এবং সমগ্র জগতের সবকিছুর ব্যবস্থাপক। তারা কেবল তাওহীদুল উলুহিয়াহ এবং ভালোবাসার তাওহীদকে অস্বীকার করেছিল; যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদের ভালোবাসে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো; কিন্তু যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে ভালোবাসায় অনেক সুদৃঢ়।" সুতরাং যখন তারা এই তাওহীদের ক্ষেত্রে অন্যকে আল্লাহর সমান করে নিল, তখন তারা মুশরিক হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
كما قال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} .وقد علّم الله سبحانه وتعالى عباده كيفية مباينة الشّرك في توحيد الإلهيّة، وأنه تعالى حقيق بإفراده وليًّا وحكمًا وربًّا، فقال تعالى: {قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيّاً} وقال: {أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَماً} وقال: {قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبّاً} ، فلا وليّ ولا حكم ولا ربّ إلاّ الله، الذي من عدل به غيره فقد أشرك في ألوهيّته ولو وحّد ربوبيّته، فتوحيد الربوبيّة هو الذي اجتمعت فيه الخلائق مؤمنها وكافرها، وتوحيد الإلهيّة مفرق الطرق بين المؤمنين والمشركين، ولهذا كانت كلمة الإسلام: لا إله إلاّ الله، ولو قال: لا ربّ إلاّ الله أجزاه عند المحققين، فتوحيد الألوهيّة هو المطلوب من العباد، ولهذا كان أصل "الله" الإله، كما هو قول سيبويه، وهو الصحيح، وهو قول جمهور أصحابه إلاّ من شذّ منهم.وبهذا الاعتبار الذي قررنا به الإله وأنه المحبوب، لاجتماع صفات الكمال فيه، كان الله: هو الاسم الجامع لجميع معاني الأسماء الحسنى والصفات العليا، وهو الذي ينكره المشركون، ويحتج الربّ سبحانه وتعالى عليهم بتوحيدهم ربوبيّته على توحيد ألوهيّته، كما قال الله - تعالى -: {قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ স্থির করে।} .আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের তাওহিদে উলুহিয়্যাতে শিরক থেকে পৃথক হওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন এবং এটিও যে অভিভাবক, বিচারক এবং রব হিসেবে এককভাবে তিনিই যোগ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব?} এবং তিনি বলেন: {আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে অন্বেষণ করব?} এবং তিনি বলেন: {বলুন, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে রব হিসেবে অন্বেষণ করব?}। অতএব আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক নেই, কোনো বিচারক নেই এবং কোনো রব নেই। যে ব্যক্তি তাঁর সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ নির্ধারণ করল সে তাঁর উলুহিয়্যাতে শিরক করল, যদিও সে তাঁর রুবুবিয়্যাতে একত্ববাদ পোষণ করে। কারণ তাওহিদে রুবুবিয়্যাত হলো এমন বিষয় যাতে মুমিন ও কাফির সকল সৃষ্টিই একমত হয়েছে। আর তাওহিদে উলুহিয়্যাত হলো মুমিন ও মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্যকারী পথ। এই কারণেই ইসলামের কালিমা হলো: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’। আর যদি কেউ বলত: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো রব নেই’, তবে গবেষক আলেমদের নিকট তা যথেষ্ট হতো। সুতরাং তাওহিদে উলুহিয়্যাতই হলো বান্দাদের নিকট থেকে কাম্য। এই কারণেই ‘আল্লাহ’ শব্দের মূল হলো ‘ইলাহ’, যেমনটি সিবওয়াইহ-এর অভিমত এবং এটিই সঠিক। এটিই তাঁর অধিকাংশ সহচরদের মত, কেবল তাদের মাঝে যারা ব্যতিক্রমী মত পোষণ করেছে তারা ছাড়া।ইলাহ সম্পর্কে আমরা যা সাব্যস্ত করেছি এবং সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলি তাঁর মধ্যে একত্রিত হওয়ায় তিনিই যে একমাত্র ভালোবাসার পাত্র—এই বিবেচনায় ‘আল্লাহ’ হলো এমন একটি নাম যা সমস্ত সুন্দর নাম ও উচ্চতর গুণাবলির সকল অর্থকে শামিল করে। আর এটিকেই মুশরিকরা অস্বীকার করে। অথচ রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের তাওহিদে রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতিকেই তাদের তাওহিদে উলুহিয়্যাতের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে পেশ করেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ} ، وكلما ذكر تعالى من آياته جملة من الجمل قال عقبها: {أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ} ؟، فأبان سبحانه وتعالى بذلك أن المشركين إنما كانوا يتوقفون في إثبات توحيد الإلهيّة لا الربوبيّة، على أن منهم من أشرك في الربوبيّة كما يأتي بعد ذلك إن شاء الله - تعالى -.وبالجملة فهو تعالى يحتج على منكري الإلهيّة بإثباتهم الربوبيّة.والملك: هو الآمر الناهي الذي لا يخلق خلقًا بمقتضى ربوبيّته ويتركهم سدى معطلين لا يؤمرون ولا ينهون، ولا يثابون ولا يعاقبون، فإن الملك هو الآمر الناهي، المعطي المانع، الضار النافع، المثيب المعاقب، ولذلك جاءت الاستعاذة في سورة الناس وسورة الفلق بالأسماء الحسنى الثلاثة: الربّ والملك والإله، فإنه لما قال: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} كان فيه إثبات أنه خالقهم وفاطرهم، فبقي أن يقال: لَمّا خلقهم هل كلّفهم وأمرهم ونهاهم؟، قيل: نعم، فجاء: {مَلِكِ النَّاسِ} ، فأثبت الخلق والأمر {أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأمْرُ} ، فلما قيل ذلك، قيل: فإذا كان ربا موجدًا، وملكا مكلفا، فهل يحب ويرغب إليه، ويكون التوجه إليه غاية الخلق والأمر، قيل: {إِلَهِ النَّاسِ} أي: مألوههم ومحبوبهم، الذي لا يتوجّه العبد المخلوق المكلّف العابد إلا له، فجاءت الإلهيّة خاتمة وغاية، وما قبلها كالتوطئة لها.وهاتان السورتان أعظم عوذة في القرآن، وجاءت الاستعاذة بهما
"এবং তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ নাকি তারা যাদেরকে তারা শরিক করে? নাকি তিনি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দ্বারা মনোরম উদ্যানসমূহ উৎপন্ন করেছি; যার বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক কওম যারা (সত্য থেকে) বিচ্যুত হয় (আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে)।" মহান আল্লাহ যখনই তাঁর নিদর্শনাবলির কোনো একটি সমষ্টি উল্লেখ করেছেন, তখনই তার পরপরই বলেছেন: "আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে?" এর মাধ্যমে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুশরিকরা কেবল উলুহিয়্যাতের তাওহীদ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেই বিরত থাকত, রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে নয়; যদিও তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা রুবুবিয়্যাতেও শিরক করত, যা সামনে ইনশাআল্লাহ তাআলা বিস্তারিত আসবে।সারকথা হলো, তিনি তাআলা উলুহিয়্যাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে তাদের রুবুবিয়্যাত সাব্যস্ত করার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।আর মালিক (অধিপতি) হলেন তিনি, যিনি আদেশদাতা ও নিষেধকারী; যিনি তাঁর রুবুবিয়্যাতের দাবি অনুযায়ী কোনো মাখলুক সৃষ্টি করে তাদের এমনি নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেন না যে, তাদেরকে আদেশ করা হবে না এবং নিষেধও করা হবে না, আর তারা কোনো সওয়াবও পাবে না এবং শাস্তিও ভোগ করবে না। কেননা অধিপতি হলেন তিনি যিনি আদেশ করেন ও নিষেধ করেন, দান করেন ও বঞ্চিত করেন, ক্ষতি করেন ও উপকার করেন, পুরস্কার দেন ও শাস্তি দেন। আর এই কারণেই সূরা নাস এবং সূরা ফালাকে তিনটি আসমাউল হুসনা (সুন্দর নাম)—রব, মালিক এবং ইলাহ—দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। কেননা যখন তিনি বলেছেন: "বলুন, আমি মানুষের প্রতিপালকের নিকট আশ্রয় চাই", এতে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি তাদের স্রষ্টা ও উদ্ভাবক। অতঃপর প্রশ্ন থেকে যায়: যখন তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তখন কি তিনি তাদের কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেছেন এবং আদেশ ও নিষেধ করেছেন? বলা হলো: হ্যাঁ। তাই এসেছে: "মানুষের অধিপতির নিকট", এভাবে সৃষ্টি ও আদেশ উভয়টি প্রমাণিত হলো— "জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ কেবল তাঁরই"। যখন এটি বলা হলো, তখন প্রশ্ন করা হলো: যদি তিনি অস্তিত্বদানকারী প্রতিপালক এবং দায়িত্ব প্রদানকারী অধিপতি হন, তবে কি তাঁকে ভালোবাসা হবে ও তাঁর প্রতি অনুরাগী হওয়া হবে? এবং তাঁর অভিমুখী হওয়াই কি সৃষ্টি ও আদেশের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হবে? বলা হলো: "মানুষের ইলাহ"; অর্থাৎ: তাদের মাবুদ ও প্রিয়তম সত্তা, সৃষ্টি হওয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইবাদতকারী বান্দা কেবল যাঁর দিকেই ধাবিত হয়। ফলে উলুহিয়্যাত এসেছে সমাপ্তি ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে, আর তার আগের বিষয়গুলো ছিল এর জন্য প্রারম্ভিকা স্বরূপ।আর এই সূরা দুটি কুরআনের শ্রেষ্ঠ আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যম, এবং এ দুটির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقت الحاجة إلى ذلك، وهو حين سحر النبي صلى الله عليه وسلم، وخيّل إليه أنه يفعل الشيء صلى الله عليه وسلم وما فعله، وأقام على ذلك أربعين يوما، كما في الصحيح،
যখন সেই প্রয়োজনের সময় উপস্থিত হয়েছিল, আর তা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর জাদু করার সময়কাল, যখন তাঁর নিকট প্রতীয়মান হতো যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো কাজ করছেন অথচ তিনি তা করেননি, এবং তিনি এই অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত করেছিলেন, যেমনটি সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে,
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكانت عقد السّحر إحدى عشرة عقدة، فأنزل الله المعوّذتين إحدى عشرة آية، فانحلّت بكلّ آيةٍ عقدةٍ. وتعلقت الاستعاذة في أوائل القرآن
যাদুর গ্রন্থিগুলো ছিল এগারোটি। অতঃপর আল্লাহ এগারো আয়াত বিশিষ্ট মুআউবিযাতাইন অবতীর্ণ করলেন এবং প্রতিটি আয়াতের মাধ্যমে একটি করে গ্রন্থি উন্মোচিত হয়ে গেল। আর কুরআনের প্রারম্ভিক পর্যায়েই আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
باسمه الإله، وهو المعبود وحده، لاجتماع صفات الكمال فيه. ومناجاة العبد لهذا الإله الكامل، ذي الأسماء الحسنى والصفات العليا، المرغوب إليه؛ في أن يعيذ عبده الذي يناجيه بكلامه من الشيطان الحائل بينه وبين مناجاة ربّه. ثم استحب التعليق باسم الإله في جميع المواطن الذي يقال فيها: " أعوذ بالله من الشيطان الرّجيم "، لأن اسم الله - تعالى - هو الغاية للأسماء، ولهذا كان كل اسم بعده لا يتعرف إلاّ به، فتقول: الله هو السّلام، المؤمن، المهيمن، فالجلالة تعرّف غيرها، وغيرها لا يعرفها.والذين أشركوا به تعالى في الربوبيّة منهم من أثبت معه خالقًا آخر، وإن لم يقولوا: إنه إله مكافئ له، وهم المشركون ومن ضاهاهم من القدريّة.وربوبيّته سبحانه للعالم الربوبيّة الكاملة المطلقة الشاملة تبطل أقوالهم، لأنها تقتضي ربوبيّته لجميع ما فيه من الذوات والصفات والحركات والأفعال.وحقيقة قول القدرية المجوسية: أنه تعالى ليس ربا لأفعال الحيوان ولا تتناولها ربوبيّته، إذ كيف يتناول ما لا يدخل تحت قدرته ومشيئته وخلقه.
সেই ইলাহ বা উপাস্যের নামে (আরম্ভ করছি), এবং তিনিই একমাত্র উপাস্য, কারণ তাঁর মধ্যেই সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলী পুঞ্জীভূত রয়েছে। আর এই পূর্ণাঙ্গ ইলাহ—যিনি সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীর অধিকারী এবং যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয়—তাঁর কাছে বান্দার একান্ত নিবেদন এই যে, তিনি যেন তাঁর সেই বান্দাকে, যে তাঁর কালামের মাধ্যমে তাঁর সাথে নিভৃতে কথা বলছে, সেই শয়তান থেকে রক্ষা করেন যা বান্দা ও তার রবের নিভৃত আলাপের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর যেখানেই "বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" বলা হয়, সেই সকল স্থানে ইলাহ বা মাবুদের নামের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া মুস্তাহাব করা হয়েছে। কারণ মহান আল্লাহর নামই হলো সকল নামের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই কারণেই তাঁর পরের প্রতিটি নাম কেবল তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি পায়। তাই আপনি বলেন: আল্লাহ-ই হলেন আস-সালাম, আল-মুমিন, আল-মুহাইমিন। সুতরাং এই মহিমান্বিত সত্তার নাম অন্য নামগুলোকে পরিচয় করিয়ে দেয়, কিন্তু অন্য নামগুলো তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেয় না।আর যারা রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাথে শিরক করেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর সাথে অন্য স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করেছে, যদিও তারা তাঁকে আল্লাহর সমকক্ষ ইলাহ বলেনি। এরা হলো মুশরিক সম্প্রদায় এবং কাদারিয়্যাদের মধ্যকার যারা তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে।আর সমগ্র জগতের প্রতি সুবহানাহু ওয়া তাআলার রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব হলো পূর্ণাঙ্গ, নিরঙ্কুশ এবং সর্বব্যাপী, যা তাদের বক্তব্যকে বাতিল করে দেয়। কারণ তাঁর এই প্রভুত্ব জগতের মধ্যস্থিত সমস্ত সত্তা, গুণাবলী, গতি ও কর্মের ওপর তাঁর প্রভুত্বকেই দাবি করে।আর অগ্নিউপাসক সদৃশ কাদারিয়্যাদের বক্তব্যের সারকথা হলো এই যে, মহান আল্লাহ প্রাণিকুলের কর্মসমূহের প্রতিপালক নন এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত সেই কর্মগুলোকে শামিল করে না। কেননা, যা তাঁর ক্ষমতা, ইচ্ছা ও সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত নয়, তা কীভাবে তাঁর আওতাভুক্ত হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وشرك الأمم كله نوعان: شرك في الإلهيّة، وشرك في الربوبيّةفالشرك في الإلهيّة والعبادة: هو الغالب على أهل الإشراك، وهو شرك عبّاد الأصنام، وعبّاد الملائكة، وعبّاد الجّن، وعبّاد المشايخ والصالحين الأحياء والأموات، الذين قالوا: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلاّ لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} ، ويشفعوا لنا عنده، وينالنا بسبب قربهم من الله وكرامته لهم قرب وكرامة، كما هو المعهود في الدنيا من حصول الكرامة والزلفى لمن يخدم أعوان الملك وأقاربه وخاصته.والكتب الإلهيّة كلها من أولها إلى آخرها تبطل هذا المذهب وتردّه، وتقبّح أهله، وتنص على أنهم أعداء الله - تعالى -، وجميع الرسل - صلوات الله عليهم - متفقون على ذلك، من أولهم إلى آخرهم، وما أهلك الله - تعالى - " من أهلك " من الأمم إلاّ بسبب هذا الشرك، ومن أجله. وأصله: الشرك في محبّة الله، قال تعالى: {يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبّاً لِلَّهِ} ، فأخبر سبحانه وتعالى أنه من أحبّ مع الله شيئًا غيره كما يحبّه فقد اتّخذ ندًّا من دونه. وهذا على أصح
জাতিসমূহের সকল শিরক দুই প্রকার: ইলাহিয়্যাতে শিরক এবং রুবুবিয়্যাতে শিরক।ইলাহিয়্যাত ও ইবাদতের শিরক: এটিই মুশরিকদের মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত। এটি হলো মূর্তিপূজারী, ফেরেশতা পূজারী, জিন পূজারী এবং জীবিত ও মৃত পীর ও নেককার ব্যক্তিদের পূজারীদের শিরক, যারা বলে: "আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটতম করে দিবে," এবং তারা যেন আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করে এবং আল্লাহর নিকট তাদের নৈকট্য ও তাদের প্রতি তাঁর সম্মানের কারণে আমরাও যেন নৈকট্য ও সম্মান লাভ করি; যেমনটি দুনিয়াতে রাজার সাহায্যকারী, আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের সেবা করার মাধ্যমে সম্মান ও নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে প্রচলিত।সমস্ত আসমানি কিতাব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই মতবাদকে বাতিল করে দেয় ও তা প্রত্যাখ্যান করে এবং এর অনুসারীদের নিকৃষ্ট সাব্যস্ত করে। কিতাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে তারা মহান আল্লাহর শত্রু। সমস্ত রাসূল (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) প্রথমজন থেকে শেষজন পর্যন্ত এই বিষয়ে একমত। আর মহান আল্লাহ ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের মধ্যে যাদেরই ধ্বংস করেছেন, তা এই শিরকের কারণেই এবং এরই জন্য। আর এর মূল হলো: আল্লাহর ভালোবাসায় শিরক করা। মহান আল্লাহ বলেন: "তারা তাদেরকে সেরূপ ভালোবাসে যেরূপ আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত, আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে।" অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে এমনভাবে ভালোবাসবে যেমন সে তাঁকে ভালোবাসে, তবে সে আল্লাহ ব্যতীত অপরকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করল। আর এটি অধিকতর বিশুদ্ধ...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القولين في الآية: أنهم يحبونهم كما يحبون الله، وهذا هو العدل المذكور في قوله تعالى: {ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} ، والمعنى على أصح القولين: أنهم يعدلون به غيره في العبادة، فيسوون بينه وبين غيره في الحبّ والعبادة. وكذلك قول المشركين في النار لأصنامهم: {تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ إِذْ نُسَوِّيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ} ، ومعلوم قطعًا أن هذه التسوية لم تكن بينهم وبين الله في كونه ربّهم وخالقهم، فإنهم كانوا كما أخبر الله عنهم مقرّين بأن الله - تعالى - وحده هو ربّهم وخالقهم، وأن الأرض ومن فيها لله وحده، وأنه ربّ السّموات السّبع وربّ العرش العظيم، وأنه سبحانه وتعالى هو الذي بيده ملكوت كل شيءٍ، وهو يجير ولا يجار عليه، وإنما كانت هذه التسوية بينهم وبين الله - تعالى - في المحبّة والعبادة، فمن أحبّ غير الله - تعالى - وخافه ورجاه، وذلّ له كما يحبّ الله - تعالى - ويخافه ويرجوه؛ فهذا هو الشرك الذي لا يغفره الله، فكيف بمن كان غير الله آثر عنده وأحبّ إليه، وأخوف عنده، وهو في مرضاته أشد سعيًا منه في مرضاة الله؟. فإذا كان المسوّي بين الله وبين غيره في ذلك مشركًا، فما الظن بهذا؟، فعياذًا بالله من أن ينسلخ القلب من التّوحيد والإسلام كانسلاخ الحيّة من قشرها، وهو يظن أنه مسلم موحّد، فهذا أحد أنواع الشرك.والأدلة الدّالة على أنه تعالى يجب أن يكون
আয়াতের ব্যাপারে বর্ণিত দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধটি হলো: তারা তাদের উপাস্যদের এমনভাবে ভালোবাসে যেমন তারা আল্লাহকে ভালোবাসে। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণীতে উল্লিখিত সেই ‘আদল’ বা সমতা বিধান: "অতঃপর যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে।" আর অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এর অর্থ হলো: তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করে; ফলে তারা ভালোবাসা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও অন্যের মাঝে সমতা বিধান করে। অনুরূপভাবে জাহান্নামে মুশরিকদের উক্তি তাদের মূর্তিদের প্রতি: "আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিলাম, যখন আমরা তোমাদেরকে জগৎসমূহের রবের সমতুল্য মনে করতাম।" এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, এই সমতা বিধান তাদের ও আল্লাহর মধ্যে রব ও স্রষ্টা হওয়ার ক্ষেত্রে ছিল না। কারণ তারা ছিল তেমন যেমনটি আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা এই স্বীকারোক্তি দিত যে আল্লাহ তাআলাই একমাত্র তাদের রব ও স্রষ্টা এবং পৃথিবী ও এতে যা কিছু আছে সব একমাত্র আল্লাহরই। আর তিনিই সাত আসমান ও মহান আরশের রব। আর তিনিই পবিত্র সত্তা যার হাতে প্রতিটি জিনিসের রাজত্ব এবং তিনি আশ্রয় দান করেন আর তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে আশ্রয় দেওয়া যায় না। বরং এই সমতা বিধান আল্লাহ ও তাদের উপাস্যদের মাঝে ছিল কেবল ভালোবাসা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসল, তাকে ভয় করল, তার কাছে আশা রাখল এবং তার সামনে নিজেকে এমনভাবে তুচ্ছ করল যেমন সে আল্লাহকে ভালোবাসে, ভয় করে ও তাঁর কাছে আশা রাখে; তবে এটাই সেই শিরক যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাহলে তার অবস্থা কী হবে যার কাছে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ অধিক অগ্রগণ্য, অধিক প্রিয় এবং অধিক ভীতিপ্রদ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে অন্যের সন্তুষ্টি অর্জনে সে অধিক সচেষ্ট? অতএব যখন এসব ক্ষেত্রে আল্লাহ ও অন্যের মাঝে সমতা বিধানকারী ব্যক্তিই মুশরিক হয়, তবে এই ব্যক্তির ব্যাপারে কী ধারণা করা যায়? সুতরাং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন অন্তর থেকে তাওহিদ ও ইসলাম এমনভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায় যেভাবে সাপ তার খোলস ত্যাগ করে, অথচ সে নিজেকে মুসলিম ও তাওহিদপন্থী বলে মনে করে। আর এটি শিরকের অন্যতম একটি প্রকার।আর যে সকল দলিল প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলার হওয়া আবশ্যক...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وحده هو المألوه يبطل هذا الشرك، ويدحض حجج أهله، وهي أكثر من أن يحيط بها إلاّ الله، بل كل ما خلقه الله - تعالى - فهو آية شاهدة بتوحيده، وكذلك كل ما أمر به، فخلقه وأمره، وما فطر عليه عباده وركبه فيهم من القوى؛ شاهد بأنه الله الذي لا إله إلاّ هو، وأن كل معبود سواه باطل، وأنه هو الحق المبين، تقدس وتعالى.وواعجبا كيف يعصى الإله … أم كيف يجحده الجاحدولله في كل تحريكةٍ … وتسكينةٍ أبدًا شاهدوفي كل شيءٍ له آيةٌ … تدل على أنه واحدوالنوع الثاني من الشرك: الشرك به تعالى في الربوبيّة، كشرك من جعل معه خالقا آخر، كالمجوس وغيرهم، الذين يقولون: بأن للعالم ربّين، أحدهما خالق الخير، يقولون له بلسان الفارسيّة " يزدان "، والآخر: خالق الشر، ويقولون له بلسانهم: " أهرمن ". وكالفلاسفة ومن تبعهم الذين يقولون: بأنه لم يصدر عنه إلاّ واحد بسيط، وإن مصدر المخلوقات كلها عن العقول والنفوس، وإن مصدر هذا العالم عن العقل الفعّال هو ربّ كل ما تحته ومدبّره. وهذا شرّ من شرك عبّاد الأصنام والمجوس والنّصارى، وهو أخبث شرك في العالم، إذ يتضمن من
তিনিই একমাত্র উপাস্য, যা এই শিরককে বাতিল করে এবং এর অনুসারীদের দলীলাদি খণ্ডন করে। আর এই দলীলাদি এত বেশি যে আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা পরিবেষ্টন করতে পারে না। বরং আল্লাহ তাআলা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তা তাঁর তাওহীদের সাক্ষ্য দানকারী নিদর্শন। অনুরূপভাবে তিনি যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তাও। সুতরাং তাঁর সৃষ্টি ও তাঁর নির্দেশ এবং বান্দাদের তিনি যে স্বভাবজাত ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মাঝে যেসব শক্তি নিহিত রেখেছেন, তার সবই সাক্ষ্য দেয় যে, তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি ব্যতীত অন্য সকল উপাস্য বাতিল এবং তিনিই সুস্পষ্ট সত্য; তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ।আশ্চর্যের বিষয়! কীভাবে ইলাহের অবাধ্য হওয়া হয়? … অথবা কীভাবে অস্বীকারকারী তাঁকে অস্বীকার করে?আল্লাহর জন্য প্রতিটি নড়াচড়া … এবং স্থিরতায় সর্বদা সাক্ষী রয়েছে।আর প্রতিটি জিনিসের মাঝে তাঁর জন্য নিদর্শন রয়েছে … যা প্রমাণ করে যে তিনি এক।শিরকের দ্বিতীয় প্রকার হলো: রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করা। যেমন ঐ ব্যক্তির শিরক যে তাঁর সাথে অন্য কোনো স্রষ্টা সাব্যস্ত করে। যেমন অগ্নিপূজক (মাজুস) এবং অন্যরা, যারা বলে যে জগতের দুইজন রব আছে; তাদের একজন কল্যাণের স্রষ্টা, যাকে তারা ফারসি ভাষায় "ইয়াজদান" বলে। আর অন্যজন অকল্যাণের স্রষ্টা, যাকে তারা তাদের ভাষায় "আহরিমান" বলে। এবং দার্শনিক ও তাদের অনুসারীদের ন্যায়, যারা বলে যে তাঁর থেকে কেবল একটি সরল সত্তা ব্যতীত আর কিছু নির্গত হয়নি এবং সকল সৃষ্টির উৎস হলো আকল (বুদ্ধিবৃত্তি) ও নাফস (আত্মা)। আর এই জগতের উৎস হলো 'আকলুল ফাউয়াল' (সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তি), যা তার নিম্নে অবস্থিত সবকিছুর প্রতিপালক ও পরিচালক। এটি মূর্তিপূজক, অগ্নিপূজক এবং খ্রিষ্টানদের শিরকের চেয়েও জঘন্য এবং এটি জগতের নিকৃষ্টতম শিরক; কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التعطيل وجحد الإلهيّة والربوبيّة واستناد الخلق إلى غيره سبحانه وتعالى ما لم يتضمنه شرك أمة من الأمم. وشرك القدريّة مختصر من هذا، وباب يدخل منه إليه، ولهذا شبّههم الصّحابة رضي الله عنهم بالمجوس، كما ثبت عن ابن عمر وابن عبّاس رضي الله عنهم، وقد روى أهل السنن فيهم ذلك مرفوعًا: أنهم مجوس هذه الأمة.وكثيرًا ما يجتمع
তা’তীল (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার), উলুহিয়্যাত ও রুবুবিয়্যাতকে অস্বীকার করা এবং সৃষ্টিজগতকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এমন বিষয়, যা অন্য কোনো জাতির শিরকের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কাদারিয়্যাহদের শিরক এরই একটি সংক্ষিপ্ত রূপ এবং এটি এমন একটি দরজা যা এর দিকে নিয়ে যায়। এই কারণেই সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাদেরকে মাজুসদের সাথে তুলনা করেছেন, যেমনটি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে। আর সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ তাদের ব্যাপারে মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: তারা এই উম্মতের মাজুস।আর অনেক সময়ই একত্রিত হয়
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الشركان في العبد وينفرد أحدهما عن الآخر، والقرآن الكريم بل الكتب المنزلة من عند الله - تعالى - كلها مصرّحةً بالرد على أهل هذا الإشراك، كقوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} ، فإنه ينفي شرك المحبّة والإلهيّة، وقوله: {وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} فإنه ينفي شرك الخلق والربوبيّة، فتضمّنت هذه الآية تجريد التّوحيد لربّ العالمين في العبادة، وأنه لا يجوز إشراك غيره معه، لا في الأفعال ولا في الألفاظ ولا في الإرادات، فالشرك به في الأفعال، كالسجود لغيره سبحانه وتعالى، والطواف بغير بيته المحرّم، وحلق الرأس عبوديّةً وخضوعًا لغيره، وتقبيل الأحجار غير الحجر الأسود الذي هو يمينه في الأرض، وتقبيل القبور واستلامها والسجود لها. وقد لعن النبي صلى الله عليه وسلم من اتّخذ
বান্দার মধ্যে উভয় প্রকার শিরক একত্রিত হতে পারে আবার একটি অন্যটি থেকে পৃথকও হতে পারে। পবিত্র কুরআন, বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সকল কিতাবই এই শিরককারীদের খণ্ডন করার বিষয়ে সুস্পষ্ট। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি}, এটি ভালোবাসা ও উলুহিয়্যাতের শিরককে নাকচ করে। এবং তাঁর বাণী: {এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}, এটি সৃষ্টি ও রুবুবিয়্যাতের শিরককে নাকচ করে। সুতরাং এই আয়াতটি ইবাদতের ক্ষেত্রে রাব্বুল আলামীনের তাওহীদকে একনিষ্ঠ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এটিও যে, তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা বৈধ নয়; কর্মে নয়, শব্দে নয় এবং সংকল্পের ক্ষেত্রেও নয়। কর্মের মাধ্যমে তাঁর সাথে শিরক করা হলো—যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করা, তাঁর পবিত্র ঘর ব্যতিরেকে অন্য কিছুর তাওয়াফ করা, অন্য কারো প্রতি দাসত্ব ও আনুগত্য প্রকাশ স্বরূপ মাথা মুণ্ডন করা, হাজরে আসওয়াদ ব্যতীত অন্য পাথর চুম্বন করা—যা জমিনে আল্লাহর ডান হাত—এবং কবর চুম্বন করা, তা স্পর্শ করা ও সেখানে সিজদা করা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অভিশাপ দিয়েছেন যে ব্যক্তি গ্রহণ করেছে...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قبور الأنبياء والصالحين مساجد، فكيف من اتّخذ القبور أوثانًا تعبد من دون الله؟ {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} ، وفي الصحيح عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: "لعن الله اليهود والنصارى، اتّخذوا قبور أنبيائهم مساجد" يحذّر ما صنعوا. وفيه عنه - أيضا -: "إن من شرار النّاس من تدركهم السّاعة وهم أحياء، والذين يتّخذون القبور مساجد"، وفيه - أيضا - عنه صلى الله عليه وآله وسلم: "إن من كان قبلكم كانوا يتّخذون القبور مساجد، ألا فلا تتّخذوا القبور مساجد، فإنّي أنهاكم عن ذلك"، وفي مسند الإمام أحمد وصحيح ابن حبّان عنه صلى الله عليه وآله وسلم: "لعن الله زوّارات القبور، والمتّخذين عليها المساجد والسرج"، وقال: "اشتدّ غضب الله على قوم اتّخذوا قبور أنبيائهم مساجد"، وقال: "إن من كان قبلكم كانوا إذا مات فيهم الرّجل الصّالح بنوا على قبره مسجدًا، وصوّروا فيه تلك الصّور، أولئك شرار الخلق عند الله". والنّاس في هذا
নবী এবং নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করা হয়েছে, তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে কবরসমূহকে প্রতিমা হিসেবে গ্রহণ করেছে যাদের আল্লাহর পরিবর্তে ইবাদত করা হয়? "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি"। সহীহ হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের ওপর লানত করেছেন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" তারা যা করেছিল সে সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছেন। সহীহ হাদীসে তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা যাদের জীবিত থাকাবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং যারা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করে।" তাতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের এ থেকে নিষেধ করছি।" মুসনাদে ইমাম আহমদ এবং সহীহ ইবনে হিব্বানে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন অধিক কবর যিয়ারতকারী নারীদের ওপর এবং যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে ও বাতি প্রজ্বলন করে।" তিনি আরও বলেছেন: "সেই জাতির ওপর আল্লাহর ক্রোধ তীব্র হয়েছে যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের মাঝে যখন কোনো নেককার লোক মারা যেত, তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেখানে সেই ছবিগুলো অঙ্কন করত। আল্লাহর নিকট তারাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম।" এই বিষয়ে মানুষ...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الباب - أعني: زيارة القبور - على ثلاثة أقسام:قوم يزورون الموتى فيدعون لهم. وهذه هي الزّيارة الشرعيّة.وقوم يزورونهم يدعون بهم، فهؤلاء هم المشركون في الألوهيّة والمحبّة.وقوم يزورونهم فيدعونهم أنفسهم، وقد قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد"، وهؤلاء هم المشركون في الربوبيّة.وقد حمى النبيّ صلى الله عليه وسلم جانب التّوحيد أعظم حماية، تحقيقًا لقوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} ، حتى نهى عن الصّلاة في هذين الوقتين لكونه ذريعةً إلى التّشبيه بعبّاد الشّمس الذين يسجدون لها في هاتين الحالتين، وسد الذّريعة بأن منع من الصّلاة بعد العصر والصّبح لاتصال هذين الوقتين بالوقتين اللذين
পরিচ্ছেদ - অর্থাৎ: কবর যিয়ারত - তিন প্রকার:একদল যারা মৃতদের যিয়ারত করে এবং তাদের জন্য দুআ করে। এটিই হলো শরীয়তসম্মত যিয়ারত।আরেক দল যারা তাদের যিয়ারত করে এবং তাদের উসিলায় (আল্লাহর নিকট) প্রার্থনা করে; এরাই হলো উলুহিয়্যাত ও মহব্বতের ক্ষেত্রে মুশরিক।আর একদল যারা তাদের যিয়ারত করে এবং খোদ তাদের নিকটই প্রার্থনা করে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার ইবাদত করা হয়।" এরাই হলো রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে মুশরিক।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওহীদের হেফাযতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তবায়নকল্পে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি}। এমনকি তিনি এই দুই সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন যাতে এটি সূর্যপূজারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনের মাধ্যম না হয়ে দাঁড়ায়, যারা এই দুই অবস্থায় সূর্যকে সিজদা করে। আর তিনি এই পথ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আসর ও ফজরের পর সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ করেছেন, যেহেতু এই দুই সময় এমন দুই সময়ের সাথে যুক্ত যা
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
يسجد المشركون فيهما للشّمس.وأمّا السّجود لغير الله فقد قال عليه الصلاة والسلام: "لا ينبغي لأحد أن يسجد لأحد إلاّ لله".و"لا ينبغي" في كلام الله ورسوله صلى الله عليه وسلم إنما يستعمل للذي هو في غاية الامتناع، كقوله تعالى: {وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَداً} ، وقوله تعالى: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ} ، وقوله تعالى: {وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ وَمَا يَنْبَغِي لَهُمْ} ، وقوله تعالى: {مَا كَانَ يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَتَّخِذَ مِنْ دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ} .ومن الشرك بالله - تعالى - المباين لقوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} الشرك به في اللفظ كالحلف بغيره، كما رواه الإمام أحمد وأبو داود عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من حلف بغير الله فقد أشرك" صحّحه الحاكم وابن حبّان.قال ابن حبّان: أخبرنا الحسن وسفيان، ثنا عبد الله بن عمر الجعفي، ثنا عبد الرّحمن بن سليمان، عن الحسن بن عبد الله النخعي، عن سعيد بن عبيدة قال: كنت عند ابن عمر رضي الله عنهما، فحلف رجل بالكعبة، فقال
মুশরিকরা এই দুই সময়ে সূর্যের উদ্দেশ্যে সিজদা করে।আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি সিজদা করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো উদ্দেশ্যে কারো সিজদা করা সমীচীন নয়।"আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কালামে "সমীচীন নয়" শব্দটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ বা অসম্ভব, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর পরম করুণাময়ের জন্য সন্তান গ্রহণ করা সমীচীন নয়", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য সমীচীন নয়", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর শয়তানরা এটা নিয়ে অবতীর্ণ হয়নি এবং এটা তাদের জন্য সমীচীন নয়", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার পরিবর্তে অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করা আমাদের জন্য সমীচীন ছিল না।"আর মহান আল্লাহর সাথে শিরকের অন্তর্ভুক্ত—যা মহান আল্লাহর বাণী "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি"-এর পরিপন্থী—হলো শব্দ বা উচ্চারণের মাধ্যমে শিরক করা, যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা। যেমনটি ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল।" হাকিম ও ইবনে হিব্বান একে সহিহ আখ্যা দিয়েছেন।ইবনে হিব্বান বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ও সুফিয়ান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-জু'ফী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান, হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি কাবার নামে শপথ করল, তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ابن عمر رضي الله عنهما: " ويحك، لا تفعل، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من حلف بغير الله فقد أشرك" ".ومن الإشراك قول القائل لأحد من النّاس: ما شاء الله وشئت، كما ثبت عن النبيّ صلى الله عليه وسلم أنه قال له رجل: ما شاء الله وشئت. فقال: "أجعلتني لله ندًا؟، قل ما شاء الله وحده". هذا مع أن الله - تعالى - قد أثبت للعبد مشيئة، كقوله تعالى: {لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ} ، فكيف بمن يقول: أنا متوكّل على الله وعليك، وأنا في حسب الله وحسبك، وما لي إلاّ الله وأنت، وهذا من الله ومنك، وهذا من بركات الله وبركاتك، والله لي في السماء وأنت لي في الأرض؟؟، وزن بين هذه الألفاظ الصادرة من غالب النّاس اليوم وبين ما نهى عنه من: ما شاء الله وشئت، ثم انظر أيّها أفحش؟؛ يتبيّن لك أن قائلها أولى بالبعد من {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} ، وبالجواب من النبي صلى الله عليه وسلم لقائل تلك الكلمة، وأنه إذا كان قد جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ندًا فهذا قد جعل من لا يدانيه لله ندًا.وبالجملة فالعبادة المذكورة في قوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} هي السّجود، والتوكّل، والإنابة، والتّقوى، والخشية، والتّوبة، والنّذور، والحلف، والتّسبيح، والتّكبير، والتّهليل، والتّحميد، والاستغفار، وحلق الرأس خضوعا وتعبّدًا، والدعاء، كل ذلك محض حق الله - تعالى -.وفي مسند الإمام أحمد:
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "তোমার জন্য আফসোস, এমন করো না; কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল'।"শিরকের অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের মধ্যে কাউকে উদ্দেশ্য করে কারো এই কথা বলা: "আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান", যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল: "আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান।" তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে দিলে? বরং বলো, আল্লাহ যা একাই চান।" এটি সত্ত্বেও যে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য ইচ্ছা সাব্যস্ত করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য", তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে বলে: "আমি আল্লাহর ওপর এবং আপনার ওপর ভরসা করি", "আমি আল্লাহর আশ্রয়ে এবং আপনার আশ্রয়ে আছি", "আল্লাহ এবং আপনি ছাড়া আমার কেউ নেই", "এটি আল্লাহ এবং আপনার পক্ষ থেকে", "এটি আল্লাহর বরকত এবং আপনার বরকত", এবং "আসমানে আল্লাহ আমার জন্য আছেন আর জমিনে আপনি আমার জন্য আছেন"? বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের মুখ থেকে নির্গত এসব শব্দ এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন—অর্থাৎ "আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান"—এই দুয়ের মধ্যে তুলনা করে দেখুন, এরপর লক্ষ্য করুন কোনটি অধিক জঘন্য? আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এসব কথা উচ্চারণকারী "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি" এই ঘোষণা থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগণ্য এবং সেই ব্যক্তির কথার জবাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছিলেন, এই ব্যক্তিও সেই জবাবের অধিক উপযুক্ত। আর যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সমকক্ষ নির্ধারণ করা শিরক হয়, তবে এই ব্যক্তি তো এমন একজনকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়েছে যে তাঁর (রাসূলের) ধারেকাছেও নয়।সারকথা হলো, মহান আল্লাহর বাণী: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি"-তে উল্লিখিত ইবাদতসমূহ হলো—সিজদাহ, তাওয়াক্কুল (ভরসা), ইনাবাত (প্রত্যাবর্তন), তাকওয়া (আল্লাহভীতি), খাশইয়্যাত (ভীতি), তাওবাহ (অনুশোচনা), মানত, শপথ, তাসবিহ (মহিমা ঘোষণা), তাকবির (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ), তাহমিদ (প্রশংসা পাঠ), ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা), বিনয় ও ইবাদত হিসেবে মাথা মুণ্ডন করা এবং দুআ; এই সব কিছুই কেবল মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ প্রাপ্য অধিকার।এবং ইমাম আহমদের মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أن رجلاً أتى به إلى النبي صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم قد أذنب ذنبا، فلما وقف بين يديه قال: اللهم إني أتوب إليك ولا أتوب إلى محمّد، فقال صلى الله عليه وسلم: "عرف الحق لأهله ". وأخرجه الحاكم من حديث الحسن عن الأسود بن سريع وقال: "حديث صحيح".وأما الشرك في الإرادات والنيّات: فذلك البحر الذي لا ساحل له، وقل من ينجو منه، فمن نوى بعمله غير وجه الله - تعالى - فلم يقُم بحقيقة قوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} ، فإن {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} هي الحنيفيّة ملّة إبراهيم التي أمر الله بها عباده كلهم، ولا يقبل من أحد غيرها، وهي حقيقة الإسلام: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} ، فاستمسك بهذا الأصل، ورد ما أخرجه المبتدعة والمشركون إليه تتحقق معنى الكلمة الإلهيّة.فإن قيل: المشرك إنما قصد تعظيم جناب الله - تعالى -، وأنه لعظمته لا ينبغي الدخول عليه إلاّ بالوسائط والشفعاء، كحال الملوك، فالمشرك لم يقصد الاستهانة بجناب الربوبيّة، وإنما قصد تعظيمه، وقال: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} ، وإنما أعبد هذه الوسائط لتقربني إليه، وتدخل بي عليه، فهو الغاية، وهذه وسائل، فلم كان هذا القدر موجبا لسخط الله - تعالى - وغضبه، مخلداً في النار، وموجبا
এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আনা হলো যে একটি গুনাহ করেছিল। যখন সে তাঁর সামনে দাঁড়ালো, তখন সে বললো: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট তওবা করছি এবং মুহাম্মাদের নিকট তওবা করছি না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "সে হকের অধিকারীকে চিনতে পেরেছে।" হাকেম এটি হাসান-এর সূত্রে আসওয়াদ বিন সারী' থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "হাদিসটি সহীহ।"আর ইচ্ছা ও নিয়তের ক্ষেত্রে শিরক: এটি এমন এক কূলহীন সমুদ্র যেখান থেকে খুব কম লোকই মুক্তি পায়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার চেহারা ব্যতীত অন্য কিছুর নিয়ত করে, সে তাঁর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি}-এর হাকিকত বা বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করেনি। কেননা {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি} হলো হানিফিয়্যাহ তথা ইবরাহীমের মিল্লাত, যার নির্দেশ আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাকে দিয়েছেন এবং তিনি এছাড়া অন্য কিছু কারো নিকট থেকে কবুল করবেন না। এটিই ইসলামের হাকিকত: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার নিকট থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে}। সুতরাং এই মূলনীতিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং বিদআতি ও মুশরিকরা যা উদ্ভাবন করেছে তা এর দিকেই ফিরিয়ে দিন, তবেই ইলাহী বাণীর মর্মার্থ বাস্তবায়িত হবে।যদি বলা হয়: মুশরিক তো কেবল আল্লাহ তাআলার মহান সত্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই ইচ্ছা পোষণ করেছে, এবং তাঁর মহানত্বের কারণে রাজাবাদশাহদের অবস্থার মতো মধ্যস্থতাকারী ও সুপারিশকারী ব্যতীত তাঁর নিকট পৌঁছানো সমীচীন নয় বলে মনে করেছে। সুতরাং মুশরিক রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করার ইচ্ছা করেনি, বরং সে কেবল তাঁর সম্মান প্রদর্শনেরই ইচ্ছা করেছে এবং বলেছে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি}, আর আমি তো কেবল এই মধ্যস্থতাকারীদের ইবাদত করছি যেন তারা আমাকে তাঁর নিকটবর্তী করে দেয় এবং তাদের মাধ্যমে আমি তাঁর দরবারে পৌঁছাতে পারি; সুতরাং তিনিই হলেন চূড়ান্ত লক্ষ্য আর এরা হলো মাধ্যম মাত্র। তাহলে এই বিষয়টি কেন আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের কারণ হলো, যা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণ এবং যা অবধারিতকারী হলো?
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لسفك دماء أصحابه، واستباحة حريمهم وأموالهم؟، وهل يجوز في العقل أن يشرع الله - تعالى - لعباده التقرّب إليه بالشفعاء والوسائط، فيكون تحريم هذا إنما استفيد بالشرع فقط، أم ذلك قبيح في الشرع والعقل، يمنع أن تأتي به شريعة من الشرائع، وما السر في كونه لا يغفر من بين الذنوب، كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} ؟؟.قلنا: الشرك شركان:شرك يتعلق بذات المعبود وأسمائه وصفاته وأفعاله.وشرك في عبادته ومعاملته، وإن كان صاحبه يعتقد أنه سبحانه وتعالى لا شريك له في ذاته ولا في صفاته.وأما الشرك الثاني وهو الذي فرغنا من الكلام فيه، وأشرنا إليه الآن، وسنشبع الكلام فيه إن شاء الله - تعالى-.أما الشرك الأول: فهو نوعان:أحدهما: شرك التعطيل، وهو أقبح أنواع الشرك، كشرك فرعون في قوله: {وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ} ؟، وقال: {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحاً لَعَلِّي أَبْلُغُ الأسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ
তাঁর সাথীদের রক্ত ঝরানোর জন্য, এবং তাদের নারী ও সম্পদকে বৈধ করার জন্য? আর বিবেকের বিচারে কি এটা জায়েয হতে পারে যে, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য সুপারিশকারী ও মাধ্যমগুলোর সাহায্যে তাঁর নৈকট্য লাভের বিধান দেবেন, যার ফলে এই বিষয়টির নিষিদ্ধ হওয়া কেবল শরীয়তের বর্ণনা হতেই জানা যায়? নাকি এটি বিবেক ও শরীয়ত উভয় মতেই অত্যন্ত কদর্য, যা কোনো শরীয়তের পক্ষেই বৈধ করা সম্ভব নয়? আর সমস্ত গুনাহের মধ্যে কেবল এটিই ক্ষমা না করার রহস্য কী, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এ ছাড়া অন্য যা কিছু তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন"?আমরা বলি: শিরক দুই প্রকার:এক প্রকার শিরক যা মা’বূদের সত্তা, নামসমূহ, গুণাবলী এবং কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট।আর অন্যটি হলো তাঁর ইবাদত ও মুয়ামালাতে শিরক, যদিও এর লিপ্ত ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সত্তা ও গুণাবলীতে কোনো শরীক নেই।আর দ্বিতীয় প্রকার শিরক নিয়েই আমরা আলোচনা শেষ করেছি এবং এখন তার প্রতি ইঙ্গিত করলাম; ইনশাআল্লাহু তায়ালা অচিরেই আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।প্রথম প্রকার শিরক দুই ধরনের:তার একটি হলো: আল্লাহর অস্তিত্ব ও গুণাবলী অস্বীকার করার শিরক (শিরকুত তা’তীল), যা শিরকের নিকৃষ্টতম ধরন। যেমন ফিরআউনের শিরক তার এই উক্তিতে: "আর জগতসমূহের রব কে?", এবং সে বলেছিল: "হে হামান! আমার জন্য একটি উচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি পথসমূহে পৌঁছাতে পারি—আসমানসমূহের পথসমূহে, অতঃপর আমি উঁকি দিয়ে দেখতে পারি..."
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لأَظُنُّهُ كَاذِباً} ، والشرك والتّعطيل متلازمان، فكل مشرك معطّل، وكل معطّل مشرك، لكن الشرك لا يستلزم أصل التّعطيل، بل قد يكون المشرك مقراً بالخالق سبحانه وتعالى وصفاته ولكنه معطّله حق التّوحيد.وأصل الشرك وقاعدته التي يرجع إليها: هو التّعطيل، وهو ثلاثة أقسام:أحدها: تعطيل المصنوع عن صانعه.الثاني: تعطيل الصّانع عن كماله الثابت له.الثالث: تعطيل معاملته عمّا يجب على العبد من حقيقة التّوحيد.ومن هذا شرك أهل الوحدة، ومنه شرك الملاحدة القائلين بقدم العالم وأبديّته، وأن الحوادث بأسرها مستندة إلى أسباب ووسائط اقتضت إيجادها، ويسمّونها العقول والنفوس.ومنه شرك معطّلة الأسماء والصفات، كالجهمية والقرامطة وغلاة المعتزلة. النوع
...মুসার ইলাহের দিকে, আর নিশ্চয়ই আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।}, এবং শিরক ও তা’তীল (অস্বীকৃতি) একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; সুতরাং প্রত্যেক শিরককারীই একজন মুয়াত্তিল (অস্বীকারকারী), এবং প্রত্যেক মুয়াত্তিলই একজন শিরককারী। তবে শিরক মূল তা’তীলকে অনিবার্য করে না; বরং শিরককারী ব্যক্তি মহান সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর গুণাবলির স্বীকৃতি দিতে পারে, কিন্তু সে তাওহীদের প্রকৃত হকের ক্ষেত্রে তা’তীলকারী বা অস্বীকারকারী হয়।আর শিরকের মূল ভিত্তি ও মূলনীতি—যার দিকে এটি ফিরে যায়—তা হলো তা’তীল, আর তা তিন প্রকার:প্রথমটি: সৃষ্টিকে তার স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করা।দ্বিতীয়টি: স্রষ্টাকে তাঁর জন্য সাব্যস্ত হওয়া পূর্ণতা থেকে বঞ্চিত করা।তৃতীয়টি: বান্দার ওপর তাওহীদের যে বাস্তবতা ওয়াজিব, তা অনুযায়ী আল্লাহর সাথে ইবাদত ও আচরণের ক্ষেত্রে তা’তীল বা অবহেলা করা।আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সর্বেশ্বরবাদীদের শিরক এবং ঐসব নাস্তিকদের শিরক যারা জগতের অনাদিত্ব ও অনন্ত হওয়ার কথা বলে এবং মনে করে যে, সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ এমন কিছু কারণ ও মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল যা সেগুলোর অস্তিত্ব লাভকে আবশ্যক করেছে, আর তারা সেগুলোকে ‘আকল’ (বুদ্ধিবৃত্তি) ও ‘নফস’ (আত্মা) নামে অভিহিত করে।আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের শিরক, যেমন জাহমিয়া, কারামিতা এবং চরমপন্থী মুতাযিলাগণ। প্রকার
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الثاني: شرك التمثيل، وهو شرك من جعل معه إلهًا آخر، كالنصارى في المسيح، واليهود في عزير، والمجوس القائلين بإسناد حوادث الخير إلى النور، وحوادث الشر إلى الظلمة، وشرك القدرية والمجوسيّة مختصر منه.وهؤلاء أكثر مشركي العالَم، وهم طوائف جمّة، منهم من يعبد أجزاء أرضية، ومن هؤلاء من يزعم أن معبوده أكبر الآلهة، ومنهم من يزعم أن إلهه من جملة الآلهة، ومنهم من يزعم أنه إذا خصّه بعبادته والتبتّل إليه أقبل عليه واعتنى به، ومنهم من يزعم أن معبوده الأدنى يقربه إلى الأعلى الفوقاني، والفوقاني يقربه إلى من هو فوقه، حتى تقرّبه تلك الآلهة إلى الله سبحانه وتعالى، فتارة تكثر الوسائط، وتارة تقل.
দ্বিতীয়: সাদৃশ্য স্থাপনের শিরক; আর এটি হলো সেই ব্যক্তির শিরক যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ সাব্যস্ত করে, যেমন খ্রিস্টানরা মাসীহের ক্ষেত্রে, ইহুদিরা উযাইরের ক্ষেত্রে এবং অগ্নিপূজকরা—যারা কল্যাণকর ঘটনাবলিকে আলোর দিকে এবং অকল্যাণকর ঘটনাবলিকে অন্ধকারের দিকে সম্বন্ধ করার প্রবক্তা—করে থাকে। আর কাদারিয়া ও অগ্নিপূজকদের শিরক মূলত এরই একটি সংক্ষিপ্ত রূপ।আর এরাই বিশ্বের অধিকাংশ মুশরিক এবং তারা অনেক বড় বড় দলে বিভক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পার্থিব বস্তুসমূহের পূজা করে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে যে তার উপাস্যই উপাস্যদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; তাদের মধ্যে কেউ দাবি করে যে তার ইলাহ অনেকগুলো ইলাহের অন্তর্ভুক্ত; তাদের মধ্যে কেউ দাবি করে যে যদি সে একাগ্রচিত্তে তার ইবাদত ও আনুগত্য তার জন্য নির্দিষ্ট করে তবে সেই উপাস্য তার দিকে মনোনিবেশ করে এবং তার প্রতি যত্নবান হয়; আবার তাদের কেউ দাবি করে যে তার নিম্নস্তরের উপাস্য তাকে উচ্চতর উপাস্যের নিকটবর্তী করে দেয় এবং উচ্চতর উপাস্য তাকে তার উপরের স্তরের কারো কাছে পৌঁছে দেয়, এভাবে ওই উপাস্যগুলো তাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকটবর্তী করে দেয়। ফলে কখনো এই মাধ্যমগুলো সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়, আবার কখনো কমে যায়।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فإذا عرفت هذه الطوائف، وعرفت اشتداد نكير الرّسول صلى الله عليه وسلم على من أشرك به تعالى في الأفعال والأقوال والإرادات كما تقدّم ذكره، انفتح لك باب الجواب عن السّؤال، فنقول:اعلم أن حقيقة الشرك: تشبيه الخالق بالمخلوق، وتشبيه المخلوق بالخالق.أمّا الخالق فإن المشرك شبّه المخلوق بالخالق في خصائص الإلهيّة، وهي التفرّد بملك الضّر والنفع، والعطاء والمنع، فمن علّق ذلك بمخلوق فقد شبهه بالخالق تعالى، وسوّى بين التراب وربّ الأرباب، فأي فجور وذنب أعظم من هذا؟.واعلم أن من خصائص الإلهيّة: الكمال المطلق من جميع الوجوه، الذي لا نقص فيه بوجه من الوجوه، وذلك يوجب أن تكون العبادة له وحده عقلاً وشرعا وفطرةً، فمن جعل ذلك لغيره فقد شبّه الغير بمن لا شبيه له، ولشدّة قبحه وتضمّنه غاية الظلم أخبر من كتب على نفسه الرّحمة أنه لا يغفره أبدًا.ومن خصائص الإلهيّة والعبوديّة التي لا تقوم إلاّ على ساق الحب والذّل، فمن أعطاهما لغيره فقد شبّهه بالله سبحانه وتعالى في خالص حقه. وقُبح هذا مستقر في العقول والفطر، لكن لما غيّرت الشياطين فطر أكثر الخلق، واجتالتهم عن دينهم، وأمرتهم أن يشركوا بالله ما لم ينزل به سلطانًا، كما روى عن الله أعرف الخلق به وبخلقه، عموا عن قبح الشرك حتى ظنّوه حسنًا.ومن خصائص الإلهيّة: السّجود، فمن سجد لغيره فقد شبّهه به.ومنها: التوكل، فمن توكل على غيره
যখন আপনি এই দলগুলো সম্পর্কে জানলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই কঠোর আপত্তির কথা জানলেন যা তিনি আল্লাহ তাআলার কার্যাবলি, কথা এবং সংকল্পের ক্ষেত্রে শিরককারীর বিরুদ্ধে করেছিলেন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন আপনার নিকট প্রশ্নের উত্তরের দ্বার উন্মোচিত হলো। আমরা বলছি:
জেনে রাখুন যে, শিরকের প্রকৃত স্বরূপ হলো: স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা এবং সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করা।
স্রষ্টার ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, শিরককারী ইলাহী বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করেছে। আর সেই বৈশিষ্ট্যগুলো হলো ক্ষতি ও উপকারের একক মালিকানা এবং দান ও বারণ করার ক্ষমতা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিষয়গুলোকে কোনো সৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট করল, সে তাকে আল্লাহ তাআলার সাথে তুলনা করল এবং নগণ্য মাটির সাথে রব্বুল আরবাবের সমতা বিধান করল। এর চেয়ে বড় পাপাচার ও গুনাহ আর কী হতে পারে?
জেনে রাখুন যে, ইলাহী বৈশিষ্ট্যের অন্যতম হলো: সর্বদিক থেকে পরম পূর্ণতা, যাতে কোনো প্রকারের কোনো ত্রুটি নেই। এটিই বিবেক, শরিয়ত এবং ফিতরাত অনুযায়ী একমাত্র তাঁরই ইবাদত হওয়াকে অবধারিত করে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি অন্য কারও জন্য সাব্যস্ত করল, সে অন্যকে এমন একজনের সাথে তুলনা করল যাঁর কোনো সদৃশ নেই। এর চরম জঘন্যতা এবং এটি চরম জুলুম হওয়ার কারণে সেই মহান সত্তা—যিনি নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন—তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এই অপরাধ কখনোই ক্ষমা করবেন না।
ইলাহী বৈশিষ্ট্য ও ইবাদত—যা কেবল ভালোবাসা ও বিনয়ের স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—এর অন্যতম দিক হলো এই যে, যে ব্যক্তি এ দুটি গুণ অন্য কাউকে প্রদান করল, সে তাকে আল্লাহর সাথে তাঁর একান্ত প্রাপ্য অধিকারে তুলনা করল। এর জঘন্যতা বিবেক ও ফিতরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু শয়তানরা যখন অধিকাংশ সৃষ্টির ফিতরাতকে বিকৃত করে দিল এবং তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করল এবং তাদের আদেশ দিল আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করতে যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি—যেমনটি আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত সত্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—তখন তারা শিরকের বীভৎসতা সম্পর্কে অন্ধ হয়ে গেল, এমনকি তারা একে উত্তম মনে করতে লাগল।
ইলাহী বৈশিষ্ট্যের আরেকটি হলো: সিজদা। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্য কাউকে সিজদা করল, সে তাকে আল্লাহর সাথে তুলনা করল।
এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি হলো: তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্য কারও ওপর ভরসা করল...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فقد شبهه به. ومنها: التوبة، فمن تاب لغيره فقد شبهه به.ومنها: الحلف باسمه، فمن حلف بغيره فقد شبّهه به.ومنها: الذّبح له، فمن ذبح لغيره فقد شبّهه به.ومنها: حلق الرّأس. إلى غير ذلك. هذا في جانب التّشبيه.وأمّا في جانب التّشبّه: فمن تعاظم وتكبّر، ودعى النّاس إلى إطرائه ورجائه ومخافته؛ فقد تشبّه بالله ونازعه في ربوبيّته، وهو حقيق بأن يهينه الله غاية الهوان، ويجعله كالذّر تحت أقدام خلقه.وفي الصحيح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "يقول الله عز وجل: العظمة إزاري، والكبرياء ردائي، فمن نازعني في واحدٍ منهما عذّبته".
তবে সে তাকে তাঁর সাথে তুলনা করল। এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তওবা; সুতরাং যে ব্যক্তি অন্য কারও নিকট তওবা করল, সে তাকে তাঁর সাথে তুলনা করল।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর নামে শপথ করা; সুতরাং যে ব্যক্তি অন্য কারও নামে শপথ করল, সে তাকে তাঁর সাথে তুলনা করল।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর উদ্দেশ্যে জবাই করা; সুতরাং যে ব্যক্তি অন্য কারও উদ্দেশ্যে জবাই করল, সে তাকে তাঁর সাথে তুলনা করল।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: মাথা মুণ্ডন করা। এছাড়া আরও অনেক বিষয়। এটি হলো (অন্যকে আল্লাহর সাথে) তুলনার দিক।আর সাদৃশ্য গ্রহণের দিকটি হলো: যে ব্যক্তি নিজেকে বড় মনে করল ও অহংকার করল এবং মানুষকে তার অত্যধিক প্রশংসা করার, তার প্রতি আশা রাখার ও তাকে ভয় পাওয়ার প্রতি আহ্বান জানাল; সে আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করল এবং তাঁর প্রভুত্বে তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো। আল্লাহ তাকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করার এবং তাঁর সৃষ্টির পায়ের নিচে ধূলিকণার মতো করে রাখারই উপযুক্ত।সহীহ বর্ণনায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: গরিমা আমার লুঙ্গি এবং অহংকার আমার চাদর। সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটির কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, আমি তাকে আজাব দেব।"
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وإذا كان المصوّر الذي يصنع الصور بيده من أشد النّاس عذابًا يوم القيامة لتشبّهه بالله في مجرّد الصّنعة، فما الظّن بالمشبّه بالله في الربوبيّة والإلهيّة؟، كما قال صلى الله عليه وسلم: "أشدّ النّاس عذابا يوم القيامة المصوّرون، يقال لهم: أحيوا ما خلقتم"، وفي الصحيح عنه صلى الله عليه
আর যদি সেই চিত্রকর, যে নিজের হাত দিয়ে ছবি তৈরি করে, নিছক কারিগরির ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের কারণে কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হয়, তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা করা যায় যে রুবুবিয়্যাহ এবং উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করে? যেমনটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে চিত্রকরদের, তাদেরকে বলা হবে: তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তাতে প্রাণ সঞ্চার করো", এবং তাঁর থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রয়েছে—
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وسلم أنه قال: "يقول الله عز وجل: ومن أظلم ممن ذهب يخلق كخلقي؟، فليخلقوا ذرّةً فليخلقوا شعيرةً"، فنبّه بالذّرة والشعيرة على ما هو أعظم منهما.وكذلك: من تشبّه به تعالى في الاسم الذي لا ينبغي إلاّ له، كملك الملوك، وحاكم الحكّام، وقاضي القضاة، ونحوه، وقد ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إن أخنع الأسماء عند الله رجلٌ تسمّى بشاهان شاه، ملك الملوك، لا مالك إلاّ الله"، وفي لفظ: "أغيظ رجلٍ عند الله رجلٌ تسمّى ملك الأملاك".وبالجملة فالتّشبيه والتّشبّه
...এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে প্রবৃত্ত হয়? তারা যেন একটি অণু সৃষ্টি করে অথবা তারা যেন একটি যব সৃষ্টি করে।" অতঃপর তিনি অণু ও যবের কথা উল্লেখ করে এর চেয়ে বড় সৃষ্টির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।অনুরূপভাবে: যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো নামের মাধ্যমে তাঁর সাদৃশ্য অবলম্বন করে, যা তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য শোভনীয় নয়; যেমন—রাজাধিরাজ, শাসকদের শাসক, বিচারকদের বিচারক এবং অনুরূপ নামসমূহ। সহীহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম নাম হলো সেই ব্যক্তির, যার নাম রাখা হয়েছে শাহানশাহ অর্থাৎ রাজাধিরাজ; আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত মালিক নেই।" অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ক্রোধের পাত্র সেই ব্যক্তি, যার নাম রাখা হয়েছে রাজাধিরাজ।"সারকথা, সাদৃশ্য প্রদান এবং সাদৃশ্য অবলম্বন...
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
هو حقيقة الشرك، ولذلك كان من ظن أنه إذا تقرّب إلى غيره بعبادةٍ ما يقرّبه ذلك الغير إليه تعالى فإنه يخطئ، لكونه شبّهه به، وأخذ ما لا ينبغي أن يكون إلاّ له، فالشرك منعه سبحانه وتعالى حقّه، فهذا قبيح عقلاً وشرعًا، ولذلك لم يشرع، ولم يغفر لفاعله.واعلم أن الذي ظن أن الرّب سبحانه وتعالى لا يسمع له، أو لا يستجيب له إلاّ بواسطة تُطلعه على ذلك، أو تسأل ذلك منه؛ فقد ظنّ بالله ظنّ السّوء، فإنه إن ظنّ أنه لا يعلم أو لا يسمع إلاّ بإعلام غيره له وإسماعه؛ فذلك نفي لعلم الله وسمعه وكمال إدراكه، وكفى بذلك ذنبا.وإن ظنّ أنه يسمع ويرى ولكن يحتاج إلى من يليّنه ويعطّفه عليه، فقد أساء الظّن بأفضال ربّه وبرّه وإحسانه وسعة جوده.وبالجملة فأعظم الذنوب عند الله - تعالى - إساءة الظّن، ولهذا يتوعّدهم في كتابه على إساءة الظّن به أعظم وعيد، كما قال تعالى: {الظَّانِّينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السَّوْءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ
এটিই হলো শির্কের প্রকৃত স্বরূপ। আর একারণেই যে ব্যক্তি মনে করে যে, সে যদি কোনো ইবাদতের মাধ্যমে অন্য কারো নৈকট্য লাভ করে, তবে সেই সত্তা তাকে মহান আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে, সে ভুল করছে। কারণ সে তাকে আল্লাহর সাথে তুলনা করেছে এবং এমন কিছু গ্রহণ করেছে যা কেবল আল্লাহর জন্যই হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। সুতরাং শির্ক হলো মহান আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এটি বুদ্ধিগতভাবে এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য বিষয়। তাই এটি কখনো বিধিবদ্ধ করা হয়নি এবং এর কর্তাকে ক্ষমা করা হবে না।জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি মনে করে যে, প্রতিপালক মহান আল্লাহ কোনো মাধ্যম ছাড়া তার কথা শুনবেন না কিংবা তার ডাকে সাড়া দেবেন না, যে মাধ্যম তাঁকে বিষয়টি অবহিত করবে অথবা তাঁর কাছে তা প্রার্থনা করবে; তবে সে আল্লাহর সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করল। কেননা সে যদি মনে করে যে অন্য কেউ অবহিত করা বা শোনানো ছাড়া তিনি জানেন না বা শোনেন না, তবে তা আল্লাহর জ্ঞান, শ্রবণ এবং তাঁর পূর্ণ উপলব্ধিকে অস্বীকার করার শামিল। আর গুনাহ হিসেবে এটিই যথেষ্ট।আর সে যদি মনে করে যে তিনি শোনেন এবং দেখেন কিন্তু তাঁর মন নরম করার জন্য বা তাঁর সহানুভূতি লাভের জন্য কারো প্রয়োজন, তবে সে তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, কল্যাণ, ইহসান এবং তাঁর দানশীলতার ব্যাপকতা সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করল।সারকথা হলো, মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো মন্দ ধারণা পোষণ করা। একারণেই তিনি তাঁর কিতাবে তাঁর সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণকারীদের কঠিনতম শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "যারা আল্লাহর সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে; অমঙ্গল চক্র তাদের উপরই আপতিত।"
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلَعَنَهُمْ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيراً} ، وقال تعالى عن خليله إبراهيم عليه السلام: {أَإِفْكاً آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ فَمَا ظَنُّكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ} أي: فما ظنّكم أن يجازيكم إذا عبدتم معه غيره، وظننتم أنه يحتاج في الاطلاع على ضرورات عباده، لمن يكون بابا للحوائج إليه، ونحو ذلك.وهذا بخلاف الملوك، فإنهم محتاجون إلى الوسائط ضرورةً لحاجتهم وعجزهم وضعفهم، وقصور علمهم عن إدراك حوائج المضطرين.فأما من لا يشغله سمع عن سمع، وسبقت رحمته غضبه، وكتب على نفسه الرّحمة، فما تصنع الوسائط عنده؟.فمن اتخذ واسطةً بينه وبين الله - تعالى - فقد ظنّ به أقبح الظن، ومستحيل أن يشرعه لعباده، بل ذلك يمتنع في العقول والفطر.
"আর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন; আর তা অত্যন্ত মন্দ গন্তব্য।" এবং মহান আল্লাহ তাঁর বন্ধু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে অলীক উপাস্যসমূহ কামনা করছ? তাহলে জগৎসমূহের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী?} অর্থাৎ: যদি তোমরা তাঁর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো, তবে তিনি তোমাদের কী প্রতিদান দেবেন বলে তোমরা ধারণা করো? এবং তোমরা কি ধারণা করেছ যে, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রয়োজনসমূহ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য এমন কারও মুখাপেক্ষী, যে তাঁর নিকট হাজত পূরণের মাধ্যম হবে এবং এই জাতীয় বিষয়াদি।আর এটি রাজাদের বিপরীত, কারণ তারা তাদের প্রয়োজন, অক্ষমতা, দুর্বলতা এবং বিপদগ্রস্তদের অভাব উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আবশ্যিকভাবেই মধ্যস্থতাকারীদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে।পক্ষান্তরে যাঁর নিকট এক শ্রবণ অন্য শ্রবণ থেকে বাধা সৃষ্টি করে না, যাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর অগ্রগামী হয়েছে এবং যিনি নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন, তাঁর নিকট মধ্যস্থতাকারীদের কী কাজ থাকতে পারে?অতএব, যে ব্যক্তি নিজের ও আল্লাহ তাআলার মধ্যে কোনো মধ্যস্থতাকারী গ্রহণ করল, সে তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধারণা পোষণ করল। আর এটি অসম্ভব যে, তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কিছুর বিধান দেবেন; বরং তা বিবেক ও স্বভাবজাত বোধের দৃষ্টিতে অসম্ভব।