(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي   (الحجوي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي

المؤلف: محمد بن الحسن بن العربيّ بن محمد الحجوي الثعالبي الجعفري الفاسي (ت 1376هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية -بيروت-لبنان

الطبعة: الأولى - 1416هـ- 1995م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামি ফিকহের ইতিহাসে উন্নত চিন্তা   (আল-হাজউয়ি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ

কিতাব: ইসলামি ফিকহের ইতিহাসে উন্নত চিন্তা

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আল-আরাবি বিন মুহাম্মাদ আল-হাজউয়ি আস-সাআলাবি আল-জাফারি আল-ফাসি (মৃত্যু: ১৩৭৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المجلد الأول

‌‌المقدمات

‌‌مقدمة التحقيق

…

باب المقدمات:

مقدمة التحقيق:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستهديه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا.

إنه من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} .

إن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلال في النار.

أما بعد:

"الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي" سفر جليل لعالم نحرير مدقق من جهابذة الخلف، تناول مُؤَلَّفَه نشأة العلوم الإسلامية، وهي متشعبة، لكنه ربط هذا بفقه، فجعله بابة الكتاب، فأجاد وأفاد عليه -رحمة الله.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা সংকলন

সম্পাদকের ভূমিকা

…

ভূমিকা অধ্যায়:

সম্পাদকের ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট হেদায়েত চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে।}

নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর:

“আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি” পরবর্তী যুগের এক বিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও সূক্ষ্মদর্শী আলেমের একটি মহৎ গ্রন্থ। লেখক তাঁর এই রচনায় ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদ্ভব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা অত্যন্ত বিস্তৃত। তবে তিনি একে ফিকহের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং একেই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রভূত উপকার সাধন করেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
وكم كانت تمس الحاجة لطرق هذا الموضوع لأهميته، فقد أصبحت العلوم السالفة طلاسم ذهبت مفاتيحها بانقطاع السند وقله أهل العلم، حتى حار طلاب العلم في تحصيل العلوم، فمنهم من طرق باب التمذهب عسى أن يجد ضالته.

ومنهم: من طرق باب المتون، ومنهم من ضرب سهم في الحديث، ومنهم … ، ومنهم …

فما كانت حصيلة هؤلاء إلّا تعقيد الجرير في الجرير، فما كانت بضاعتهم في العير، ولا في النفير -إلا مَنْ رحم ربي- حيث بدؤا مما انتهى إليه الأوَّلون، فلم يعرف هؤلاء درب المتقدمين في التأليف، إنما نظروا لرسمهم فحفظوا نقوشهم.

فهؤلاء كمن وقف أمام قصر عظيم متسع الأركان، كثير الحجرات، فأراد أن يدخل، لكن أبوابه موصدة، فعمد إلى تسوّرِ الأسوار، فبذل جهدًا جهيدًا، فقد يصل أو لا.

كذلك من طرق سبل التعلم دون أن يقف على التصور -إن صح التعبير- لنشأة العلوم وتطورها والطفرات العلمية، وظهور المدارس، وغير ذلك.

فهذا التصور أساس فهم العلوم والتبحر فيها، وجدير بالإشارة أن هذه العلوم لم تكن لها منهجية في حياة الأمة، أو مشروع نظامي، إنما نشأة العلوم وتطورها تكفل إلهي من الله سبحانه وتعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} .

وإنما غاية هذا "الفكر السامي" تصور اجتهادي مع دعم ذلك التصور بالحقائق التاريخية الثابتة، فهذا مؤلف فريد في بابه، عظيم في جوابه، قسم فيه مُؤلِّفه مادته إلى أربعة أقسام:

أ- القسم الأول: سماه: "طور الطفولية"، ويعني: نشأة الفقه، وهو الذي
এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম এর গুরুত্বের কারণে; কেননা পূর্ববর্তী জ্ঞানসমূহ এমন এক রহস্যে পরিণত হয়েছে যার চাবিকাঠিগুলো সনদ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এবং আহলে ইলমের স্বল্পতার দরুন হারিয়ে গেছে। এমনকি ইলম অন্বেষণকারীরা জ্ঞান অর্জনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে; ফলে তাদের কেউ কেউ মাযহাব অনুসরণ করার পথ বেছে নিয়েছে এই আশায় যে, হয়তো সে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান পাবে।

আর তাদের মধ্যে কেউ ‘মুতুন’ (মূল পাঠসমূহ) মুখস্থ করার পথ ধরেছে, কেউ হাদীস শাস্ত্রে মনোনিবেশ করেছে, আর কেউ … এবং কেউ …

কিন্তু এদের অর্জিত ফলাফল জটিলতাকে আরও জটিল করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তাদের পুঁজি গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে আসেনি—তবে আমার রব যাকে দয়া করেছেন তার কথা ভিন্ন—যেহেতু তারা সেখান থেকে শুরু করেছে যেখানে পূর্ববর্তীরা শেষ করেছিলেন। তাই তারা গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সালাফদের বা পূর্ববর্তীদের পথ চিনতে পারেনি; বরং তারা কেবল তাদের বাহ্যিক রূপটি দেখেছে এবং তাদের নকশাগুলো মুখস্থ করেছে।

এরা হচ্ছে সেই ব্যক্তির মতো যে একটি বিশাল প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়েছে যার স্তম্ভগুলো সুদূরপ্রসারী এবং কক্ষগুলো অনেক, সে সেখানে প্রবেশ করতে চাইল, কিন্তু তার ফটকগুলো বন্ধ ছিল। ফলে সে প্রাচীর টপকানোর চেষ্টা করল এবং কঠোর পরিশ্রম করল; সে সফল হতেও পারে আবার নাও পারে।

তেমনিভাবে সেই ব্যক্তিও যে জ্ঞান অর্জনের পথ অন্বেষণ করেছে অথচ সে জ্ঞানসমূহের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, বৈজ্ঞানিক উল্লম্ফন এবং বিভিন্ন ঘরানার উদ্ভব ও এ জাতীয় বিষয়গুলোর সঠিক রূপরেখা সম্পর্কে অবগত হয়নি—যদি এ কথাটি বলা সঠিক হয়।

আর এই রূপরেখা বা ধারণাটিই হলো ইলম বোঝা এবং তাতে গভীরতা অর্জনের মূল ভিত্তি। এটি উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, উম্মাহর জীবনে এই জ্ঞানসমূহের কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা নিয়মতান্ত্রিক পরিকল্পনা ছিল না; বরং এই জ্ঞানসমূহের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে একটি ঐশ্বরিক জিম্মাদারি ছিল: “নিশ্চয়ই আমি যিকির (উপদেশ) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।”

আর এই ‘আল-ফিকর আস-সামি’ গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো একটি গবেষণালব্ধ রূপরেখা প্রদান করা, সাথে সেই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করা। এটি নিজ বিষয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ এবং এর বিষয়বস্তু অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ। এর লেখক তার বিষয়বস্তুকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:

ক- প্রথম ভাগ: এর নাম দিয়েছেন: ‘শৈশবকাল’, যার অর্থ হলো: ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভবকাল, আর এটি হলো সেই সময় যা...
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
يبدأ ببعثة النبي صلى الله عليه وسلم، وينتهي بوفاته.

ب- القسم الثاني: سماه: "طور الشباب"، وهو عصر الاجتهاد، ويبدأ ببداية عهد الخلفاء الراشدين، وينتهي بنهاية القرن الثاني.

ج- القسم الثالث: سماه: "طور الكهولة"، وفي هذا الطور بيَّنَ فيه المؤلف توقف الخط البياني للفقه عن الصعود، أي أنه لم تُضف للفقه أيّ إضافات جديدة بحركة الاجتهاد، إنما انتشر خط جديد وهو التقليد والركون إليه.

د- القسم الرابع: سماه: "طور الشيخوخة والهرم المقرب من العدم"، وهو عنوان يتحدث عن مضمونه فلا يحتاج إلى تفصيل، ويبدأ ببداية القرن الخامس إلى وقتنا هذا.

ومما لا شَكَّ فيه عظم الخطب المتناول في هذا التصنيف البديع.

وكثير ما روادتني فكرة التأليف في هذا الموضوع لأهميته القصوى، ووعدت إخواني القراء بذلك في تقديمي لكتاب "الترغيب والترهيب"، كذا "الإقناع لابن المنذر"، فكانت مشيئة العليم الحكيم أن يقع في يدي هذا السفر الجليل، فرأيته حريّ بالاعتناء، وبضاعة ثمينة يجب أن تنشر، وما يفعل التراب في وجود الماء؟

ثم هذه الطبعة بعناية مركز تحقيق النصوص:

إسهام منها في نشر العلم النافع، مع الاعتناء به فأضافت:

‌‌1- العناية بأصل الكتاب المطبوع، حيث فتشت كثيرًا عن أصل خطي له دون جدوى، وهذا المطبوع بتحقيق فضيلة الدكتور عبد العزيز القاريء، طبعة جيدة، سيما وتعليقات فضيلة الدكتور أزالة الكثير من عور الكتاب، هذه التعليقات قد حافظنا على بعضها عازين الفضل لصاحبه، فجزاه الله خيرًا.

‌‌2- أصلحنا ما وقع في الكتاب من تحريف.
এটি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তির মাধ্যমে শুরু হয় এবং তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে শেষ হয়।

খ- দ্বিতীয় বিভাগ: একে তিনি 'যৌবনকাল' নামে অভিহিত করেছেন। এটি ইজতিহাদের যুগ এবং এটি খুলাফায়ে রাশিদীনের শাসনামলের সূচনা থেকে শুরু হয়ে দ্বিতীয় হিজরি শতকের শেষ দিকে গিয়ে শেষ হয়।

গ- তৃতীয় বিভাগ: একে তিনি 'প্রৌঢ়কাল' নামে অভিহিত করেছেন। এই স্তরে লেখক দেখিয়েছেন যে, ফিকহ শাস্ত্রের উন্নতির রেখাচিত্র ঊর্ধ্বমুখী হওয়া থেমে গেছে। অর্থাৎ ইজতিহাদ বা গবেষণার মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রে আর কোনো নতুন সংযোজন ঘটেনি; বরং এ সময় একটি নতুন ধারা বিস্তৃত হয়েছিল, আর তা হলো তাকলীদ বা অন্ধ অনুকরণ এবং তার ওপর নির্ভর করা।

ঘ- চতুর্থ বিভাগ: একে তিনি 'বার্ধক্য এবং বিলুপ্তির নিকটবর্তী স্থবিরতার কাল' নামে অভিহিত করেছেন। এই শিরোনামটি নিজেই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়, তাই বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নেই। এটি পঞ্চম হিজরি শতকের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অনন্য রচনায় আলোচিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিষয়টির চরম গুরুত্বের কারণে এতে গ্রন্থ রচনার ভাবনা বহুবার আমার মনে জাগ্রত হয়েছে। আমি 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' এবং ইবনুল মুনযিরের 'আল-ইকনা' গ্রন্থের ভূমিকায় পাঠকদের কাছে এর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম। অতঃপর সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর ইচ্ছা হলো যে, এই মহান গ্রন্থটি আমার হাতে এলো। আমি একে যত্ন লাভের যোগ্য এবং একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখলাম যা প্রচার করা আবশ্যক। আর পানির উপস্থিতিতে মাটির কাজ কী (অর্থাৎ তায়াম্মুমের কী প্রয়োজন)?

অতঃপর পাণ্ডুলিপি গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে এই সংস্করণটি প্রকাশিত হচ্ছে:

উপকারী ইলম প্রচারের অংশ হিসেবে এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়ে যা যা সংযোজন করা হয়েছে:

‌‌১- গ্রন্থের মূল মুদ্রিত কপির প্রতি যত্ন নেওয়া হয়েছে। আমি এর কোনো হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি অনেক খুঁজেছি কিন্তু সফল হতে পারিনি। আর শ্রদ্ধেয় ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-ক্বারী কর্তৃক সম্পাদিত এই মুদ্রিত কপিটি একটি উন্নত মানের সংস্করণ। বিশেষ করে ডক্টর সাহেবের টীকাগুলো গ্রন্থের অনেক অস্পষ্টতা দূর করেছে। আমরা এই টীকাগুলোর মধ্য থেকে কিছু অংশ মূল লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রেখে দিয়েছি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

‌‌২- বইটিতে বিদ্যমান ভুল-ত্রুটি বা বিকৃতিগুলো আমরা সংশোধন করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌3- قمنا بالتوسع في مصادر تراجم النقلة المذكورين.

‌‌4- تخريج الأخبار الواردة في الكتاب.

‌‌5- وضعنا فهرس أبجدي للرواة المترجمين.

ثم هذه البضاعة المزجاة منا، إنما هي جهد بشري يعتريه ما يعتري غيره.

ولله الكمال وإليه القصد.

وكتبه أ/ أيمن صالح شعبان، مدير مركز تحقيق النصوص القاهرة -ليلة الأحد- 25 من شوال لعام 1415 من الهجرة النبوية المباركة.
৩- আমরা উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের জীবনীমূলক তথ্যের উৎসসমূহ সম্প্রসারিত করেছি।

৪- গ্রন্থে বর্ণিত সংবাদসমূহের তাখরিজ (উৎস ও সূত্র নির্দেশ) করা।

৫- আমরা জীবনীভুক্ত বর্ণনাকারীদের একটি বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।

অতঃপর আমাদের এই সামান্য নিবেদন মূলত একটি মানবিক প্রচেষ্টা, যা অন্যান্য মানবিক বিষয়ের ন্যায় ভুল-ত্রুটির সম্মুখীন হতে পারে।

আর পূর্ণতা কেবল আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সন্তুষ্টিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

এটি লিখেছেন জনাব আয়মান সালেহ শাবান, পরিচালক, পাণ্ডুলিপি গবেষণা কেন্দ্র, কায়রো — রবিবার দিবাগত রাত — ২৫ শাওয়াল, ১৪১৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة المؤلف:

أترجم نفسي اقتداءً بالنبي صلى الله عليه وسلم إذ يقول: "أنا النبي لا كذب، أنا ابن عبد المطلب"، {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [سورة الأحزاب: 21] ، وبسيدنا يوسف إذ يقول: {اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ} [سورة يوسف: 55] ، ويقول: {أَلا تَرَوْنَ أَنِّي أُوفِي الْكَيْلَ وَأَنَا خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ} [سورة يوسف:59] ، وبسيدنا عيسى حيث قال: {إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا، وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا، وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا، وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا} [سورة مريم: 33] .

وقد ترجم نفسه ولي الدين ابن خلدون إمام التاريخ، ولسان ابن الخطيب إمام الأدب وغيرهما.

نعم أعتذر بما اعتذر به ابن الإمام في"سمط الجمان"، والحجاري في كتاب "المسهب"، وابن القطاع في "الدرة الخطيرة"، وأبو الحسن بن سعيد في كتاب "المغرب" وغيرهم.

ليت المغاربة كان لهم ولوع بالتاريخ، وبالأخص تاريخ الرجال، فأكتفي بأمانتهم واعتنائهم عما سأورده في هذه الترجمة المخجلة التي أقصد بها إظهار حقيقة من حياتي، ربما لا يعرفها غيري كما أعرفها أنا، وإني لأشعر بعبء ذلك على كاهلي، ولكنني لا أجد منه بدًّا، فلينتبه إخواننا إلى الاعتناء بتراجم الرجال وإظهارهم مظاهرهم، فالأمة برجالها، والسهام بنصالها، وليترجم الناس لأنفسهم بأنفسهم ما دامت الأفكار معرضة عن هذه الواجبة حتى لا تضيع حقائق من حياتهم، ربما تتطلب فلا توجد، وكم ضاعت من حقائق بإهمال هذا الفن لم يجدِ الأسف عليها شيئًا.
লেখকের জীবনী:

আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণক্রমে নিজের জীবনী লিখছি, যেহেতু তিনি বলেছিলেন: "আমি নবী, এতে কোনো মিথ্যা নেই; আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান", {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ} [সূরা আল-আহযাব: ২১]। এবং আমাদের নেতা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসরণক্রমে যখন তিনি বলেছিলেন: {আপনি আমাকে ভূমির ধন-ভাণ্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন; নিশ্চয়ই আমি একজন রক্ষণাবেক্ষণকারী ও জ্ঞানী} [সূরা ইউসুফ: ৫৫], এবং তিনি বলেন: {তোমরা কি দেখছ না যে, আমি পূর্ণ মাপে দান করি এবং আমিই শ্রেষ্ঠ মেজবান?} [সূরা ইউসুফ: ৫৯]। এবং আমাদের নেতা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসরণক্রমে যেখানে তিনি বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি, আমাকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমাকে আমার জননীর প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আর আমার প্রতি শান্তি, যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমি মারা যাব এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব} [সূরা মারইয়াম: ৩০-৩৩]।

ইতিহাসের ইমাম ওয়ালিউদ্দীন ইবনে খালদুন এবং সাহিত্যের ইমাম লিসানুদ্দীন ইবনুল খতীবসহ আরও অনেকেই নিজের জীবনী নিজে লিখেছেন।

হ্যাঁ, আমি সেইসব ওজর পেশ করছি যা ইবনুল ইমাম "সিমতুজ জুমান"-এ, আল-হাজারী "আল-মুসহিব" গ্রন্থে, ইবনুল কাত্তাহ "আদ-দুররাতুল খাতিরাহ"-তে এবং আবুল হাসান বিন সাঈদ "আল-মাগরিব" গ্রন্থে ও অন্যান্যরা পেশ করেছেন।

যদি মাগরিববাসীদের ইতিহাসের প্রতি, বিশেষ করে মনীষীদের জীবনীর প্রতি গভীর অনুরাগ থাকতো, তবে তাদের আমানতদারি ও যত্নের উপর নির্ভর করাই আমার জন্য যথেষ্ট হতো। তখন আমাকে এই সংকোচপূর্ণ জীবনীটি লিখতে হতো না, যার মাধ্যমে আমি আমার জীবনের সেই প্রকৃত সত্যগুলো প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করছি যা সম্ভবত আমি ছাড়া অন্য কেউ সেভাবে জানে না। আমি আমার কাঁধে এর গুরুভার অনুভব করছি, কিন্তু এটি করা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই। সুতরাং আমাদের ভাইদের উচিত মনীষীদের জীবনীর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাদের অবদানগুলো ফুটিয়ে তোলা। কারণ একটি জাতি তার মহান ব্যক্তিদের মাধ্যমেই টিকে থাকে এবং তীর তার ফলার মাধ্যমেই কার্যকর হয়। মানুষ যতক্ষণ এই আবশ্যিক দায়িত্ব থেকে বিমুখ থাকবে, ততক্ষণ যেন তারা নিজেরাই নিজেদের জীবনী লিখে যায়, যাতে তাদের জীবনের সত্যগুলো হারিয়ে না যায়। কারণ এমন অনেক বিষয় হয়তো পরবর্তীতে খোঁজা হবে কিন্তু পাওয়া যাবে না। এই শিল্পের প্রতি অবহেলার কারণে কত যে সত্য হারিয়ে গেছে যার জন্য পরবর্তীতে আক্ষেপ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
فليكن في عملي هذا تشجيع للناس على ترجمة أنفسهم، وتنشيط على الاعتناء بهذا الفن المهمَل الذي يضيق المقام عن تعداد فوائده التي منها: أن الأمم لا تعتبر في مقام الحياة إلّا بقدر ما فيها من الرجال وما يحسنون.

 

نسبي:

عُلِمَ من ترجمة سيدي الوالد -قدس الله روحه- بآخر تراجم المالكية من هذا الجزء، ومسقط رأسي فاس، بها قرأت وتعلمت، وبأدب أهلها تأدبت، وسكنت مكناسة الزيتون ستين ونيفًا، ثم وجدة ثلاث سنين، ثم مراكش نحو سنة، ثم الرباطسنة ثلاثين، ثم عدت إليه آخر سنة تسع وثلاثين، وبه وبفاس لي دار واستقرار الآن تمسكًا بالحق في العاصمتين، واعترافًا بفضل المدينتين، ودخلت جل مدن المغرب والجزائر، وتونس إلى سفاقص، ولقيت أهم رجال القطرين، وذاكرتهم وعرفتهم، وأخذت عن كبار أعلامهم، وأخذوا عني بما بُيِّنَ في "الفهرس"، وتجولت فيهما كثيرًا، وفي أوربا بما هو مفصل في رحلاتي.

 

وأما عقيدتي:

فسنية سلفية؛ اعتقد عن دليل قرآني، برهاني ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه الراشدون، مالكي المذهب ما قام دليل.

وجدت بخط سيدي الوالد رحمه الله في عقيدته: ولد لي سيدي محمد -حفظه الله- من الزوجة الصالحة بنت الأمين السيد الحسين عبد الكبير جنون يوم رابع رمضان المعظم عند النداء لصلاة الجمعة سنة 1291 إحدى وتسعين ومائتين وألف هجرية، جعله الله من علمائه العاملين، وأوليائه الصالحين أهـ، وذلك موافق 22 سبتمبر 1874، ومحل ولادتي بالدار التي أسسها سيدي الجد رحمه الله بجرنيز قرب الحرم الإدريسي.

ربيت في حجر سيدي الوالد والوالدة الصالحة القانتة، وكان لهما الاعتناء التام بتربيتي وتهذيبي، وإصلاح شئوني إذ كنت أول مولود لهما، واستعانت الأم في ذلك بجدتي من قبل الأب، فكانت تحوطني، وتحنو عليّ أكثر من الأم
আমার এই কর্মটি যেন মানুষের মাঝে নিজেদের জীবনী রচনার প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং এই অবহেলিত শিল্পকলার প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রেরণা জোগায়, যার উপকারিতা বর্ণনা করার জন্য এই স্থান সংকীর্ণ। যার মধ্যে অন্যতম হলো: জাতিসমূহকে জীবনের উচ্চ শিখরে কেবল তাদের মাঝে বিদ্যমান মহৎ ব্যক্তিত্ব এবং তারা যা উত্তমরূপে সম্পাদন করে, তারই ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

 

আমার বংশপরিচয়:

আমার শ্রদ্ধেয় পিতা—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—তাঁর জীবনী থেকে তা জানা যাবে, যা এই খণ্ডের মালিকি ফকিহদের জীবনীর শেষে বর্ণিত হয়েছে। আমার জন্মস্থান ফাস, সেখানেই আমি পড়াশোনা করেছি ও শিখেছি, এবং সেখানকার অধিবাসীদের শিষ্টাচার দ্বারা আদব অর্জন করেছি। আমি মিকনাসাতুজ জাইতুনে ষাট বছরের কিছু বেশি সময় বসবাস করেছি, এরপর তিন বছর উজদাহ শহরে, এরপর মাররাকেশে প্রায় এক বছর, তারপর ১৩৩০ হিজরি সালে রিবাত শহরে, এরপর ১৩৩৯ হিজরির শেষে পুনরায় সেখানে ফিরে আসি। বর্তমানে রিবাত এবং ফাস—উভয় শহরেই আমার ঘর ও স্থায়িত্ব রয়েছে, যা দুই রাজধানীর অধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং দুই শহরের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। আমি মরক্কো এবং আলজেরিয়ার অধিকাংশ শহরে এবং তিউনিসিয়ার সাফাকিস পর্যন্ত প্রবেশ করেছি। আমি এই দুই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁদের সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছি ও তাঁদের চিনেছি। আমি তাঁদের শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি এবং তাঁরাও আমার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যা 'ফিহরিস্ট'-এ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আমি এই দেশগুলোতে অনেক ভ্রমণ করেছি এবং ইউরোপেও ভ্রমণ করেছি যার বিবরণ আমার ভ্রমণকাহিনীগুলোতে বিস্তারিতভাবে রয়েছে।

 

আর আমার আকিদা বা বিশ্বাস প্রসঙ্গে:

তা সুন্নি সালাফি; আমি কুরআনি দলিল ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তা-ই বিশ্বাস করি যার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পথপ্রাপ্ত সাহাবীগণ ছিলেন। আমি ততোক্ষণ পর্যন্ত মালিকি মাযহাবের অনুসারী যতক্ষণ দলিল বিদ্যমান থাকে।

আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতার—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—হস্তাক্ষরে তাঁর আকিদা গ্রন্থের নোটে পেয়েছি: "আমার পুত্র সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—তাঁর জন্ম হয়েছে পুণ্যবতী স্ত্রী আল-আমিন সাইয়্যিদ আল-হুসাইন আব্দুল কবির গানুন-এর কন্যার গর্ভে, মহিমান্বিত রমজান মাসের চতুর্থ দিনে, জুমআর নামাজের আজানের সময় ১২৯১ হিজরি সালে। আল্লাহ তাকে তাঁর আমলকারী আলেম এবং পুণ্যবান ওলিদের অন্তর্ভুক্ত করুন।" সমাপ্ত। এটি ১৮৭৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের সাথে মিলে যায়। আমার জন্মস্থান সেই বাড়িতে যা আমার শ্রদ্ধেয় দাদা—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ইদ্রিসি হারামের নিকটবর্তী জারনিজে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতা এবং পুণ্যবতী ও অনুগত মাতার স্নেহে লালিত-পালিত হয়েছি। আমার লালন-পালন, শিষ্টাচার এবং সার্বিক অবস্থার সংশোধনের ব্যাপারে তাঁদের পূর্ণ মনোযোগ ছিল, যেহেতু আমি ছিলাম তাঁদের প্রথম সন্তান। এক্ষেত্রে আমার মাতা আমার দাদির (পিতার মাতা) সাহায্য গ্রহণ করতেন। তিনি আমাকে আগলে রাখতেন এবং মায়ের চেয়েও বেশি মমতা দেখাতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
بكثير، وما كانت تقدر على مفارقتي لا ليلًا ولا نهارًا. هذه السيدة الجليلة القدر كانت على جانب عظيم من التبتل والعبادة، صوامة، محافظة على أوقات الصلاة، حافظة للسانها وجوارحها عن الخروج عن عبادة الله تعالى، مكبة على طاعته، مشفقة على الضعفاء والمساكين وذوي العاهات، مواسية مَنْ يستحق المواساة، فكانت أفعالها وأخلاقها كلها دروسًا عملية علمية تهذيبية ينتفع بها من نفعه الله من العائلة كلها، أتلقاها عنها والفكر فارغ من غيرها، فكانت كنقش في حجر.

وطالما رغَّبتني بأنواع ما يرغب به الصبيان في القيام باكرًا، وإسباغ الوضوء للصلاة، والنظافة وحفظ الثياب، والاعتناء بكتاب الله، والمحافظة على أوقات المكتب، وحب المساكين، ورحمة الضعيف، وهجر كل ما ليس بمستحسن في الدين، وبثّ روح النشاط في الحفظ والتعليم، فهي التي غرست في قلبي عشق العالم، والهيام بحفظ القرآن العظيم، واعتياد الصلاة، والارتياض على الديانة بحالها ومقالها، لما كانت عليه من صلاح الأحوال، ومتانة الدين عن علم واعتقاد متين.

فمرآة أخلاقها وأعمالها في الحقيقة أول مدرسة ثقَّفت عواطفي، ونفثت في أفكاري روح الدين والفضيلة، فلم أشعر إلّا وأنا عاشق مغرم بالجد والنشاط، تارك لسفاسف الصبيان، متعود على حفظ الوقت ألَّا يذهب إلّا في ذلك، شيق إلى كل تعلم وتهذيب، لا أجد لذلك ألمًا ولا نصبًا، بل نشاطًا وداعية، امتزجت باللحم والدم، لذلك كان حفظي للقرآن والمتون قبل أقراني بكثير، وبدون كبير عناء، بل في الختمة الأولى حفظت الكتاب العزيز تقريبًا، وما زدت الثانية إلّا لزيادة الضبط وحفظ الرسم عن نشاط ومحبة داخلية من الضمير المتشوق بالأمل المناساق بعاطفة حب المعالي، وحب أداء الواجب الذي لأجله خلقت حسب ما تلهمني إليه عاطفتي، لا بإلزام خارجي. علي أن هذه التربية الجديدة المحضة قد أثرت على جسمي بضعف ونحول، وساعد ذلك التأثير عدم وجود نظام في المكتب، وعدم وجود لوازم الصحة
অনেক বেশি, আর তিনি দিনে বা রাতে কোনো সময়ই আমাকে ছেড়ে থাকতে পারতেন না। এই মহীয়সী নারী ইবাদত ও নিরাভরণ জীবন যাপনে এক মহান স্তরে আসীন ছিলেন; তিনি ছিলেন অতিশয় রোজা পালনকারী, নামাযের সময়ের ব্যাপারে যত্নশীল এবং মহান আল্লাহর ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে নিজের জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হেফাযতকারী। তিনি আল্লাহর আনুগত্যে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন এবং দুর্বল, মিসকিন ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও সহানুভূতিশীল ছিলেন; যারা সহমর্মিতার যোগ্য তাদের প্রতি তিনি সমবেদনা প্রকাশ করতেন। ফলে তাঁর প্রতিটি কাজ ও চরিত্র ছিল এক একটি বাস্তব, জ্ঞানগর্ভ ও সংশোধনমূলক শিক্ষা, যার মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারের যাকে উপকার করতে চেয়েছেন সে উপকৃত হয়েছে। আমি এগুলো তাঁর কাছ থেকেই গ্রহণ করতাম যখন আমার মস্তিষ্ক অন্য কিছু থেকে মুক্ত ছিল, ফলে তা পাথরের খোদাইয়ের মতো স্থায়ী হয়ে যেত।

তিনি প্রায়শই আমাকে সেইসব জিনিসের মাধ্যমে উৎসাহিত করতেন যা বালকদের ভোরে উঠতে, নামাযের জন্য উত্তমরূপে ওজু করতে, পরিচ্ছন্ন থাকতে ও পোশাকের যত্ন নিতে, আল্লাহর কিতাবের প্রতি মনোযোগী হতে, মক্তবের সময়ের গুরুত্ব দিতে, মিসকিনদের ভালোবাসতে, দুর্বলের প্রতি দয়া করতে এবং দ্বীনের দৃষ্টিতে যা পছন্দনীয় নয় তা বর্জন করতে উৎসাহিত করে। তিনি মুখস্থকরণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্দীপনার সঞ্চার করতেন। তিনিই আমার হৃদয়ে আলিমের প্রতি অনুরাগ, মহান কুরআন হিফজ করার ব্যাকুলতা, নামাযের অভ্যাস এবং নিজের অবস্থা ও কথার মাধ্যমে দ্বীনের ওপর অটল থাকার দৃঢ়তা বপন করে দিয়েছিলেন; কারণ তিনি ছিলেন উন্নত অবস্থার অধিকারী এবং ইলম ও সুদৃঢ় আকিদার ভিত্তিতে দ্বীনদারিতে অবিচল।

বস্তুত তাঁর চরিত্র ও কার্যাবলীর দর্পণই ছিল প্রথম বিদ্যাপীঠ যা আমার অনুভূতিকে মার্জিত করেছিল এবং আমার চিন্তা-চেতনার মাঝে দ্বীন ও শ্রেষ্ঠত্বের রূহ ফুঁকে দিয়েছিল। ফলে আমি নিজেকে কঠোর পরিশ্রম ও উদ্দীপনার একনিষ্ঠ অনুরাগী হিসেবে আবিষ্কার করলাম, যে বালকদের অসার কার্যকলাপ বর্জনকারী এবং সময় যেন নিরর্থক ব্যয় না হয় সে বিষয়ে অভ্যস্ত। আমি প্রতিটি শিক্ষা ও সংস্কারের প্রতি এতটাই আগ্রহী ছিলাম যে, এর জন্য আমি কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি অনুভব করতাম না; বরং এক অনন্য উদ্দীপনা ও প্রেরণা আমার রক্ত-মাংসের সাথে মিশে গিয়েছিল। এ কারণেই আমার সমসাময়িকদের অনেক আগেই আমি কুরআন ও বিভিন্ন মূল পাঠ (মতন) হিফজ করতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং তা কোনো বড় ধরনের কষ্ট ছাড়াই। বরং প্রথম বার পড়ার সময়কালেই আমি প্রায় সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করে ফেলেছিলাম, আর দ্বিতীয়বার পড়েছিলাম কেবল অধিকতর শুদ্ধতা অর্জন এবং লেখনরীতি আত্মস্থ করার জন্য; যা ছিল হৃদয়ের গভীর থেকে আসা স্বতঃস্ফূর্ত অনুরাগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং উচ্চমর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালনের অনুভূতির দ্বারা তাড়িত, কোনো বাহ্যিক বাধ্যবাধকতার কারণে নয়। তবে এই বিশুদ্ধ লালন-পালন আমার শরীরের ওপর কিছুটা দুর্বলতা ও শীর্ণতার প্রভাব ফেলেছিল, আর মক্তবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অভাব এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অনুপস্থিতি সেই প্রভাবকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
والرياضة هنالك، ولا أوقات للراحة، بل عمل متصل ممل.

اذكر هذه الحلقة من حياتني، ويعلم ما أقصده من ذكرها كل من له إلمام بفن التراجم، هذه هي الحلقة التي يغفلها كثير من الباحثين والمؤلفين منا، فتضيع بإهمالها أهم أطوار حياة الرجال، ويتعذّر تعليل كثير من أحوالهم، يأتون في عملهم هذا بالنتيجة، ويتركون المقدمات؛ لأن حياة الإنسان كلها إنما هي نتيجة ذلك الطور القصير؛ طور الطفولية، ومرآة ينطبع فيه كل حين أثر تربيته الأولى والمدرسة الأولى. إن تأثير هذه التربية الأولى على حياتي هي التي أوضحت لي أن تربية الأمهات لها دخل كبير في تهيئة الرجال النافعين، وإعداد الأمم للنهوض، لذلك أرى وجوب تعليمهن وتهذيبهن تعليمًا يليق بديننا، ويزين مستقبل أولادنا، ويصيرهن عضوًا نافعًا في هيأتنا الاجتماعية، فلا غنى لنا عن إعانتهن في تربية رجال المستقبل الذي عليهم مدار حياة البلاد، وتعليمهن فن التربية ونظام البيت، وقواعد الصحة والدين، وحفظ القرآن أو بضعه، والحساب والجغرافيا والتاريخ والعربية والأدب الحقيقي لا الخيالي، ونحو ذلك مما يعينهن على مهمتهن، ويضيء لهن الطريق، كما أن للرياضة دخلًا كبيرًا في تربية الأجسام وتقويتها، وتنظيم الكتاتب وجعلها موافقة لقواعد الصحة أمر ضروري لحياة الأمة، هذه هي حياتي مع جدتي جازاها الله عني بأفضل ما يجازي به المحسنين، وجازى والدتي التي كانت معينة لها في مهمتها، موافقة على كل أفكارها وأعمالها، معترفة في ذلك بفضلها.

أما سيدي الوالد، فهو أول من ألقى دروسًا في العقائد السنية السلفية طبق القرآن الكريم، وفي الفقه والتاريخ والسير والشمائل، وهذا الفن هو الذي كان أغلب عليه، وهو أدخل في تهذيب الأولاد من كل ما سواه، ولا تحسن تربية أولاد المسلمين دونه، وقد نبهني للابتعاد عن خلط المعتقدات بالأوهام، ودرَّبني على التفرقة بين ما هو يقين يعتقد بدلائله، ولا يقبل التقليد في شيء من مقدماته، وبين ما هو مظنون يجتهد فيه استدلالًا واستنتاجًا، ويقابل فيه فكر المخالف بالاحترام والاعتذار، وما هو موهوم يطرح، ولا يفسد به جوهر العقل
সেখানে শরীরচর্চাও ছিল, বিশ্রামের কোনো সময় ছিল না, বরং তা ছিল এক বিরামহীন ক্লান্তিকর কাজ।

আমি আমার জীবনের এই পর্যায়ের কথা উল্লেখ করছি; আর জীবনী রচনার শিল্প সম্পর্কে যাদের সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে, তারা জানেন এর দ্বারা আমি কী উদ্দেশ্য করছি। এটি এমন এক পর্যায় যা আমাদের অনেক গবেষক ও লেখক উপেক্ষা করে যান, ফলে তা অবহেলার কারণে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো হারিয়ে যায় এবং তাদের অনেক অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তারা তাদের এই কাজে কেবল ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং ভূমিকাগুলো বর্জন করেন; অথচ মানুষের সমগ্র জীবন মূলত সেই সংক্ষিপ্ত পর্যায়েরই ফল; যা শৈশবকাল এবং একটি দর্পণ স্বরূপ যাতে প্রতিক্ষণ তার প্রথম প্রতিপালন ও প্রথম বিদ্যালয়ের প্রভাব মুদ্রিত হতে থাকে। আমার জীবনের ওপর এই প্রাথমিক প্রতিপালনের প্রভাবই আমাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কল্যাণকর পুরুষদের গড়ে তোলা এবং জাতিসমূহকে জাগরণের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে মায়েদের প্রতিপালনের এক বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, তাদের এমন শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক যা আমাদের দ্বীনের উপযুক্ত হয়, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে সুশোভিত করে এবং তাদের আমাদের সামাজিক কাঠামোর এক উপকারী অঙ্গে পরিণত করে। ভবিষ্যতের পুরুষদের প্রতিপালনে তাদের সাহায্য করা ছাড়া আমাদের কোনো গত্যন্তর নেই, কারণ দেশের জীবনের চাবিকাঠি সেই পুরুষদের ওপরই নির্ভর করে। তাদের প্রতিপালন শিল্প, গৃহ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও ধর্মের নিয়মাবলি, কুরআন বা কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করা, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস, আরবি এবং বাস্তবধর্মী সাহিত্য—কাল্পনিক নয়—ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন, যা তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে এবং তাদের পথকে আলোকিত করবে। যেমন শরীরের গঠন ও শক্তির জন্য শরীরচর্চার বিরাট ভূমিকা রয়েছে, তেমনি মক্তবগুলোকে সুশৃঙ্খল করা এবং সেগুলোকে স্বাস্থ্যের নিয়মাবলির অনুকূলে রাখা জাতির জীবনের জন্য অপরিহার্য। এটিই ছিল আমার দাদির সাথে আমার জীবন, আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে মহৎ ব্যক্তিদের প্রাপ্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এবং আল্লাহ আমার মাকে প্রতিদান দান করুন, যিনি এই মহান কাজে দাদির সহায়িকা ছিলেন, তার সকল চিন্তা ও কর্মের সাথে একমত ছিলেন এবং এক্ষেত্রে দাদির শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিতেন।

আর আমার শ্রদ্ধেয় পিতা; তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি পবিত্র কুরআন অনুযায়ী সুন্নি সালাফি আকিদার ওপর পাঠ দান করেছিলেন। এছাড়া ফিকহ, ইতিহাস, সিরাত এবং শামাইল শাস্ত্রের ওপরও তিনি পাঠ দিতেন। আর এই শাস্ত্রটিই তার ওপর বেশি প্রবল ছিল, যা শিশুদের চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি কার্যকর। এটি ছাড়া মুসলিম শিশুদের প্রতিপালন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। তিনি আমাকে বিভ্রান্তিকর ধারণার সাথে আকিদাকে মিশ্রিত করা থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। তিনি আমাকে সেই সব বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন যা অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্বাস করা হয় এবং যার প্রারম্ভিক বিষয়গুলোতে অন্ধ অনুকরণ গ্রহণ করা হয় না; আর যে বিষয়গুলো ধারণাপ্রসূত যাতে দলিল ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করা হয় এবং যেখানে ভিন্নমতাবলম্বীর চিন্তাধারাকে শ্রদ্ধা ও মার্জনাপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখা হয়; আর যা অমূলক কল্পনাপ্রসূত যা বর্জন করা হয় এবং যার দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাকে কলুষিত করা হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
النقي. وكان يحذرني من تغلب العواطف على المصالح، ويحضني على مقاومة الحقائق للخيال، وعلى أن يكون العقل والدين سلطانًا حاكمًا على الخيال والعواطف، كما كان يحضني على حفظ القرآن وأشعار العرب وأمثالها، والأحاديث الصحاح، والوقائع التاريخية، واستنتاج العبر منها، وتطبيقها على الأحوال الوقتية، فكان نعم الأستاذ النافع، والله يحسن إليه بما أحسن لأوليائه المخلصين، لذا وذاك كنت أرى نفسي مطبوعًا على حب العلم والاشتغال به، بل الهيام المفرد فيه، راغبًا عَمَّا يعوق عنه.

وكنت لما بلغت سبع سنين أو نحوها، أدخلني لمكتب خصوصي ومعي أخوان صغيران، وبعض أبناء وبنات أحبائه الصغار أيضًا، فكنَّا نتلقَّى القرآن العظيم على الفقيه الزاهد البارع في علوم اللسان سيدي محمد بن عمر السودي، حفيد الشيخ التاودي الشهير، وتلميذ جنون الكبير، فقرأت عليه إلي يس، وعليه أتقنت الكتابة والقراءة والتجويد والرسم، ودروس الأخلاق، وبعض الحساب، ومبادئ الدين، وأقرأني بعض متون في العقائد والنحو، ثم انتقلنا لمكتب عموميٍّ بزقاق البغل، فأكملت حفظ القرآن العظيم على الأستاذ الصالح الناصح ذي الدين المتين الواضح، سيدي محمد بن الفقيه الورياجلي، المقرئ الشهير الذي تخرَّج به كثير من أعيان فاس وأعلامها، والأستاذ ذو مناقب جمة، ومقام عظيم، يكفي أن أقول في بعض ما رأيت منها، أني أقسم بالله: لقد جلست بين يديه سنين ملازمًا له في الجل من الغلس إلى المساء إلا الأوقات الضرورية ما رأيته إلّا في عبادة وطاعة، ولقد أحسن إليَّ تعليمًا وتهذيبًا، وبين يديه أكملت حفظ كتاب الله، وكثير من بقية المتون، ودرَّبَني على قواعد الإعراب، وفهم غريب القرآن، وعلمني كثيرًا من ضروريات العبادة، وألقح فكري بالتفكير، وعرفني عملًا وتخلقًا مقدار ما تساويه مكارم الأخلاق، معزز لما كنت ألقنه في البيت، والله يثيبه بأفضل وأعظم مثوبة.

وفي سنة 1307 سبع وثلاثمائة وألف، دخلت القرويين لتلقِّي دورس العريبة والدين، وغيرهما الثانوية والعالية، على جلة الشيوخ الذين أحرزوا قصب السباق، وطارت شهرتهم في الآفاق، وقد ترجمت جملة منهم في الفهرسة،
নিষ্কলঙ্ক। তিনি আমাকে স্বার্থের ওপর আবেগের প্রাধান্য বিস্তার থেকে সতর্ক করতেন এবং কল্পনার পরিবর্তে বাস্তবতাকে গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করতেন। তিনি চাইতেন যেন বুদ্ধি ও দীন হয় কল্পনা ও আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী শাসক। তিনি আমাকে কুরআন মাজীদ, আরবদের কবিতা ও প্রবাদ-প্রবচন, সহীহ হাদীসসমূহ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি মুখস্থ করতে উৎসাহিত করতেন। এছাড়াও সেসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তা প্রয়োগ করার উপদেশ দিতেন। তিনি কতই না উত্তম ও কল্যাণকর শিক্ষক ছিলেন! আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক বান্দাদের প্রতি যেভাবে ইহসান করেন, তাঁর প্রতিও সেভাবে ইহসান করুন। এর ফলে আমি নিজেকে ইলমের প্রতি সহজাত অনুরাগী ও এতে মগ্ন হিসেবে পেয়েছি, বরং এতেই আমার একমাত্র একাগ্রতা ছিল এবং যা কিছু ইলম থেকে বিমুখ করে তা থেকে আমি দূরে থাকতাম।

আমি যখন সাত বছর বা তার কাছাকাছি বয়সে পৌঁছলাম, তখন তিনি আমাকে একটি প্রাইভেট মক্তবে ভর্তি করে দিলেন। আমার সাথে আমার দুই ছোট ভাই এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কিছু ছোট ছেলে-মেয়েও ছিল। আমরা সেখানে ভাষা বিজ্ঞানে পারদর্শী ও দুনিয়াত্যাগী ফকীহ সায়্যিদী মুহাম্মাদ ইবনে উমর আস-সুদী—যিনি বিখ্যাত শায়খ আত-তাওদীর নাতি এবং জুনুন আল-কাবীরের ছাত্র ছিলেন—তাঁর কাছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সবক নিতাম। তাঁর কাছে আমি সূরা ইয়াসীন পর্যন্ত পড়েছি এবং তাঁর কাছেই আমি লেখালেখি, পঠন পদ্ধতি, তাজবীদ, লিখনরীতি (রাসম), আখলাক বিষয়ক পাঠ, কিছু গণিত এবং দীনের প্রাথমিক বিষয়াদি নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছি। তিনি আমাকে আকীদা ও নাহুর (ব্যাকরণ) কিছু মূল পাঠ (মতন) পড়িয়েছেন। এরপর আমরা ‘যুক্বাকুল বাগল’-এর একটি পাবলিক মক্তবে স্থানান্তরিত হলাম। সেখানে আমি মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হিফয সম্পন্ন করি নেককার, উপদেশদাতা ও সুদৃঢ় দীনের অধিকারী উস্তাদ সায়্যিদী মুহাম্মাদ ইবনে আল-ফকীহ আল-ওয়ারিয়াযালীর কাছে। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ক্বারী ছিলেন যার কাছে ফাস নগরীর অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আলিম শিক্ষা লাভ করেছেন। এই উস্তাদ বহু গুণের অধিকারী এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে আমি যা দেখেছি তা থেকে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, আল্লাহর কসম করে বলছি: আমি তাঁর সামনে দীর্ঘ বছর অবস্থান করেছি, শেষ রাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সবসময় তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম, কিন্তু প্রয়োজনীয় সময়টুকু ছাড়া আমি তাঁকে সর্বদা ইবাদত ও আনুগত্যের মধ্যেই লিপ্ত দেখেছি। তিনি আমাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে শিক্ষা ও আদব দান করেছেন। তাঁর কাছেই আমি আল্লাহর কিতাব হিফয সম্পন্ন করেছি এবং অন্যান্য অনেক মতন (মূল পাঠ) আয়ত্ত করেছি। তিনি আমাকে ইরাবের (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) নিয়মাবলি এবং কুরআনের কঠিন শব্দাবলি (গারীবুল কুরআন) বুঝতে দক্ষ করে তুলেছেন। তিনি আমাকে ইবাদতের অনেক জরুরি বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমার চিন্তাশক্তিকে শানিত করেছেন। তিনি আমল ও চরিত্রের মাধ্যমে আমাকে শিখিয়েছেন যে সচ্চরিত্রের মূল্য কতখানি, যা ঘরে আমাকে যা শেখানো হতো তাকে আরও শক্তিশালী করেছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম ও মহান প্রতিদান দান করুন।

১৩০৭ হিজরি সালে আমি কারাওয়িয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ভাষা, দীন এবং অন্যান্য মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য প্রবেশ করি। আমি সেখানে এমন শ্রেষ্ঠ শায়খদের কাছে পড়েছি যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং যাদের খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি আমার ‘ফাহরাসাহ’ (জীবনী গ্রন্থ) গ্রন্থে তাদের অনেকের জীবনী আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
إذ لم يسعني ذكرهم جميعًا في هذا المجموع، وذكرت هناك تفصيل ما أخذته عنهم من فقه وفرائض ونحوٍ وصرف وتجويد وتوجيه قراءات وتوحيد، وحديث، ولغة، واشتقاق، وتفسير، وبيان، ومعان، وبديع، ونقد الشعر، وعروض، وأصول، ومنطق، وأدب، وتاريخ، وفلسفة، وجغرافية، وتوقيت، وسير، وعلوم الحديث، وتصوف، وهيأة، ووضع، وحساب وجبر، وغير ذلك.

والذين لازمت دروسهم مدة التعاطي لزوم الظل للشاخص، إلى أن فرقنا الحِمَامُ، أو خروجي من القرويين هم:

‌‌1- الفقيه سيدي محمد بن التهامي الوزاني.

‌‌2- سيدي الحاج محمد فتح بن محمد بن عبد السلام جنون.

‌‌3- سيدي محمد فتحا القادري.

‌‌4- سيدي أحمد الخياط.

‌‌5- سيدي الحاج أحمد بن سودة.

‌‌6- سيدي عبد السلام الهواري.

‌‌7- سيد الكامل المراني.

‌‌8- سيدي أحمد بن الجيلاني.

وأخذت بعض العلوم والرياضية عن:

‌‌9- علامتها سيدي إدريس بن الطائع البلغيثي، آخر مهرة علوم التعليم بفاس، ولازمت كثيرًا غيرهم، ولكن لا كملازمتهم، وفي سنة 1316 كان ابتداء إلقائي للدروس، بعد ما أذن لي بعض الشيوخ منهم ومن غيرهم، وما أحقني بقول القائل:

خلت الديار من الرخا … خ ففرزنت فيها البياذق

ولم تكن القرويين تعرف إذا ذاك امتحانًا، وإنما كان يقوم مقامه إذن شيوخها الكبار لتلميذهم في التدريس، ثم تتوزع الشهرة والإقبال بقدر طول الباع.

فأصبحت في هذه السنة أعدّ في صف العلماء المدرسين، وفيها ألفت أول تأليف كتبته أناملي، تجد بيانه في الفهرس، وأني أعلم من نفسي أنه لم يكن معي من الذكاء والاقتدار ما يؤهلني لذلك، والمرء أعرف بنفسه، ولكن كان معي كد وجد، وانقطاع للطلب نادر، مع طاعة تامَّة لوالدي، وتعظيم لشيوخي، وفي هذين الأمرين سر عجيب يكاد يلمس، ولا ينكره إلا من كان أطمس، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء، والحمد لله رب العالمين.

وفي سنة 1317 أخذت أتناول شيئًا من التجارة في غير أوقات الدروس
যেহেতু এই সংকলনে তাদের সকলের নাম উল্লেখ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, এবং সেখানে আমি তাদের কাছ থেকে যা কিছু শিখেছি তার বিস্তারিত বর্ণনা করেছি—যেমন ফিকহ, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), তাজবিদ, কিরাআত বিশ্লেষণ, তাওহিদ, হাদিস, ভাষা, শব্দমূলতত্ত্ব, তাফসির, বায়ান, মাআনি, বদি’ (অলঙ্কারশাস্ত্র), কাব্য সমালোচনা, আরুজ (ছন্দতত্ত্ব), উসুল (মূলনীতি), যুক্তিবিদ্যা, আদব (সাহিত্য), ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল, সময় গণনা, সিরাত, হাদিস বিজ্ঞান, তাসাউফ, জ্যোতির্বিদ্যার মূলনীতি, শব্দ গঠন প্রক্রিয়া, পাটিগণিত ও বীজগণিত এবং আরও অনেক কিছু।

আর যাদের পাঠদানে আমি অধ্যয়নকালীন সময়ে ব্যক্তির সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকতাম, যতক্ষণ না মৃত্যু আমাদের পৃথক করেছে অথবা কারাউইন থেকে আমার প্রস্থান ঘটেছে, তারা হলেন:

‌‌১- ফকিহ সিদি মুহাম্মদ বিন আল-তুহামি আল-ওয়াজ্জানি।

‌‌২- সিদি আল-হজ মুহাম্মদ ফাতহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুস সালাম জানুন।

‌‌৩- সিদি মুহাম্মদ ফাতহা আল-কাদিরি।

‌‌৪- সিদি আহমদ আল-খাইয়াত।

‌‌৫- সিদি আল-হজ আহমদ বিন সুদা।

‌‌৬- সিদি আবদুস সালাম আল-হাওয়ারি।

‌‌৭- সাইয়িদ আল-কামিল আল-মারানি।

‌‌৮- সিদি আহমদ বিন আল-জিলানি।

এবং আমি কিছু শাস্ত্র ও গণিত শিখেছি:

‌‌৯- তার প্রাজ্ঞ পণ্ডিত সিদি ইদ্রিস বিন আল-তাইয়ি’ আল-বালগিসি-এর নিকট থেকে, যিনি ছিলেন ফেজ শহরের শিক্ষা বিজ্ঞানের শেষ দক্ষ পণ্ডিতদের একজন। আমি তাদের ছাড়াও আরও অনেকের সান্নিধ্যে থেকেছি, তবে তাদের মতো দীর্ঘস্থায়ীভাবে নয়। ১৩১৬ হিজরি সালে আমি পাঠদান শুরু করি, তাদের মধ্য থেকে এবং অন্যদের মধ্য থেকে কিছু শাইখ আমাকে অনুমতি দেওয়ার পর। আর জনৈক কবির এই কথাটি আমার জন্য কতই না উপযুক্ত:

বসতিগুলো যখন যোগ্য ব্যক্তি শূন্য হয়ে পড়ল … তখন সেখানে অযোগ্যরা কর্তৃত্বশীল হয়ে বসল

সেই সময় কারাউইন কোনো পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে পরিচিত ছিল না। বরং তার পরিবর্তে বড় বড় শাইখদের পক্ষ থেকে তাদের ছাত্রদের পাঠদানের অনুমতি প্রদানই যথেষ্ট ছিল। এরপর যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হতো।

সুতরাং এই বছর থেকে আমি শিক্ষক আলেমদের সারিতে গণ্য হতে শুরু করি। আর এই বছরেই আমি আমার প্রথম গ্রন্থটি রচনা করি যা আমার আঙুলগুলো লিখেছিল, যার বিবরণ সূচিপত্রে পাওয়া যাবে। আমি নিজের সম্পর্কে ভালো করেই জানি যে, আমার মধ্যে এমন মেধা বা সামর্থ্য ছিল না যা আমাকে এর যোগ্য করে তুলত; আর মানুষ নিজের সম্পর্কে অধিক অবগত। কিন্তু আমার সাথে ছিল কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা এবং জ্ঞান অন্বেষণে বিরল একাগ্রতা। সেই সাথে ছিল আমার পিতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং আমার শাইখদের প্রতি পরম সম্মান। এই দুই বিষয়ের মধ্যে এক বিস্ময়কর রহস্য নিহিত আছে যা প্রায় স্পর্শ করা যায়, আর কেবল দৃষ্টিহীন ব্যক্তিই তা অস্বীকার করতে পারে। আর তা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এবং ১৩১৭ হিজরি সালে আমি পাঠদানের সময়ের বাইরে সামান্য ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত হতে শুরু করি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
تدريبًا.

وفي السنة بعدها وظّفت أول وظيف عدلًا في صوائر دار المخزن بمكناس، أيام السلطان المولى عبد العزيز بن الحسن، وفي سنة 1320 رقيت منه إلى وظيف أمين ديوانة مدينة وجدة على الحدود المغربية الجزائرية، وفي هذه السنة قبل سفري إلى وظيفي الجديد تزوجت.

جملة اعتراضية:

في هذه السنة بدأ انقلاب الأحوال بالمغرب بثورة أبي حمارة التي سبَّبَت فقر مالية المغرب والسلف الأوربي، ثم سقوط المالية بيد إدارة السلف، وفناء حماة المغرب وأبطاله في الحروب الداخلية، وقد اختل النظام، وضاع الأمن، وفسدت الأخلاق، وضاعت الفضيلة والأمانة، وتكالبت الناس على الرياسات الوهمية وجمع الحطام، وتسلط على مناصب الدولة كل دخيل جاهل، فجَرَّ ذلك إلى تلاشي الدولة العزيزية، وتتابعت المحن، وأظلم جو المغرب، وفي أثناء ذلك وقعت معاهدة 8 إبريل سنة 1904 بين فرنسا والإنكليز، ثم مؤتمر الجزيرة الخضراء، بأثرِ المؤتمر بيسير سقطت الدولة العزيزية، وقامت الدولة الحفيظية، ثم وقع إثر ذلك الاحتلال، ثم إعلان الحماية سنة 1339، وما استقرَّ الأمن إلا سنة 1331 فما بعدها شيئًا فشيئًَا. هذه إحدى عشرة سنة رأى المغرب فيها من الأهوال والشدائد ما يشيب له الرضيع، وتندك له الجبال.

دخلت معترك الحياة، وقرعت باب السياسة والبلاد في هذه المشاكل، ويناسبني أن أتمثل هنا بقول عبد الحليم بن عبد الواحد:

عشقت صقلية يافعًا … وكانت كبعض جنان الخلود

فما قدر الوصل جتى اكتهل … ت وصارت جهنم ذات الوقود
প্রশিক্ষক হিসেবে।

পরবর্তী বছর আমি সুলতান আল-মাওলা আব্দুল আজিজ বিন আল-হাসানের শাসনামলে মেকনেসের দারুল মাখজান-এর ব্যয় বিভাগীয় বিচারিক পদে প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত হই। অতঃপর ১৩২০ হিজরি সালে সেখান থেকে পদোন্নতি পেয়ে মরক্কো-আলজেরিয়া সীমান্তে অবস্থিত ওজদা শহরের কাস্টমস ট্রাস্টি নিযুক্ত হই। এই বছরই নতুন কর্মস্থলে যাত্রার পূর্বে আমি বিবাহ করি।

প্রাসঙ্গিক মন্তব্য:

এই বছরেই আবু হিমারার বিদ্রোহের মাধ্যমে মরক্কোর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়, যা মরক্কোর রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দৈন্যদশা এবং ইউরোপীয় ঋণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর অর্থব্যবস্থা ঋণদানকারী প্রশাসনের কবলে চলে যায় এবং অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে মরক্কোর রক্ষক ও বীরেরা প্রাণ হারান। শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, নিরাপত্তা বিলীন হয়, নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে এবং পুণ্য ও আমানতদারি হারিয়ে যায়। মানুষ কাল্পনিক নেতৃত্ব ও পার্থিব সম্পদ আহরণের মোহে মত্ত হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অজ্ঞ ও অযোগ্য বহিরাগতদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আজিজিয়া রাষ্ট্রের বিলুপ্তির পথ প্রশস্ত করে। একের পর এক বিপদ আসতে থাকে এবং মরক্কোর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এরই মাঝে ১৯০৪ সালের ৮ই এপ্রিল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, অতঃপর আলজাজিরা আল-খাদরা (আলজেসিরাস) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের অল্পকাল পরেই আজিজিয়া রাষ্ট্রের পতন ঘটে এবং হাফিজিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দখলদারিত্ব শুরু হয় এবং ১৩৩৯ হিজরিতে আশ্রিত রাজ্য (প্রটেক্টরেট) হিসেবে ঘোষিত হয়। ১৩৩১ হিজরি এবং তার পর থেকে ধীরে ধীরে নিরাপত্তা ফিরে আসতে শুরু করে। এই এগারোটি বছর মরক্কো এমন সব ভয়াবহতা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল যা নবজাতককে বৃদ্ধ করে দেয় এবং পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।

আমি জীবনের রণাঙ্গনে প্রবেশ করলাম এবং দেশের এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে রাজনীতির দুয়ারে করাঘাত করলাম। এক্ষেত্রে আব্দুল হালীম বিন আব্দুল ওয়াহিদের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করা আমার জন্য সমীচীন মনে হচ্ছে:

আমি যৌবনে সিসিলিকে ভালোবেসেছিলাম … আর তা ছিল জান্নাতুল খুলদের বাগিচাগুলোর মতো

কিন্তু মিলনের সুযোগ হওয়ার আগেই আমি প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছে গেলাম … আর তা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা জাহান্নামে পরিণত হলো
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذال الزمن هو عنفوان العمر، وربيع الشباب، كنت آمل أني أستريح فيه من عناء الطلب، وأجد فيه راحة وهدوء وفراغًا لنشر العلم، والتمتع بحياة هنية، لكني صرت آسف على ما مضى، وأشفق من المستقبل، ووافق ذلك انزواء سيدي الوالد للعبادة، وتركه للدنيا التي كان كافيني إياها، فلزمني القيام بشئون كثيرة وعبء ثقيل ألهاني عن إعطاء كليتي لما كنت أتمناه من نشر العلم من اشتغالي بوظائفي الهامة، ثم آل الأمر للطامَّة الكبرى عليّ، وهي فقدي له -جعله الله فرطًا وذخرًا:

وما كان قيس هلكه هلك واحد … ولكنه بنيان قوم تهدما

وقد كنت أشاهد بركة دعائه في كل حركاتي وسكناتي، وقد كنت أحرزت الحمد لله في طاعته وإرضائه مكانًا عظيمًا، وقد فارقته ولسانه وجوارحه تدعو لي، غير أسف في الدنيا إلّا على فراقي، أعاد الله عليّ فضل دعائه، وتغمده في رحمته، ويرى المطلعون على ذلك أن ذلك من سر نجاحي في كل أعمالي، وسرعة تقدمي وارتقائي، وسبوغ نعم عظمى على العبد الفقير يعجز عن ذكرها فضلًا عن شكرها، وحديث أصحاب الغار في الصحيح يؤيد ذلك، والقرآن والسنة طافحة به.
এই সময়টি হলো জীবনের পূর্ণ যৌবন এবং তারুণ্যের বসন্তকাল। আমি আশা করেছিলাম যে, এই সময়ে জ্ঞান অন্বেষণের ক্লান্তি থেকে কিছুটা অবকাশ পাব এবং ইলম প্রচারের জন্য প্রশান্তি, স্থিরতা ও ফুরসত খুঁজে পাব এবং একটি সুখময় জীবন উপভোগ করব। কিন্তু আমি যা অতীত হয়ে গেছে তার জন্য আক্ষেপ করছি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইবাদতের জন্য আমার শ্রদ্ধেয় পিতার নির্জনবাস গ্রহণ এবং পার্থিব কর্মকাণ্ড ত্যাগ করা—যেসব বিষয়ে তিনি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট ছিলেন। ফলে আমার ওপর অনেক বিষয় ও ভারী বোঝার দায়িত্ব এসে পড়েছে, যা আমাকে আমার গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে নিমগ্ন রেখে ইলম প্রচারের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। অতঃপর আমার ওপর সবচেয়ে বড় মহাবিপদ ঘনিয়ে এল, আর তা হলো তাঁকে হারানো—আল্লাহ তাঁকে পরকালের অগ্রগামী পাথেয় ও সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে কবুল করুন:

কায়েসের মৃত্যু কেবল একজনের মৃত্যু ছিল না … বরং তা ছিল একটি জাতির অট্টালিকার ভেঙে পড়া

আমি আমার প্রতিটি চলনে ও মন্থরতায় তাঁর দোয়ার বরকত প্রত্যক্ষ করতাম। আল্লাহর শুকরিয়া যে, আমি তাঁর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে এক মহান স্থান অর্জন করেছিলাম। তিনি যখন বিদায় নিলেন, তখন তাঁর জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমার জন্য দোয়া করছিল; দুনিয়ার কোনো কিছুর জন্যই তাঁর আক্ষেপ ছিল না শুধু আমার বিচ্ছেদ ছাড়া। আল্লাহ তাঁর দোয়ার অনুগ্রহ আমার ওপর পুনরায় বর্ষণ করুন এবং তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন। যারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তারা মনে করেন যে, এটিই আমার সকল কাজের সফলতার রহস্য, আমার দ্রুত উন্নতি ও অগ্রগতির মূল এবং এই অধম বান্দার ওপর মহান নেয়ামতসমূহের প্রাচুর্য—যা বর্ণনা করতে সে অক্ষম, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তো দূরের কথা। সহিহ হাদিসে বর্ণিত গুহাবাসীদের ঘটনাটি একে সমর্থন করে এবং কুরআন ও সুন্নাহ এ জাতীয় বর্ণনায় পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
انعطاف:

توليت أمانة ديوانه وجدة، ولما ظهر للمخزن ثمرة أعمالي في ضبط أمر الديوان، حتى صار مدخولها ثلاثة أضعاف ما كان قبلي على ضعف النظام واختلال الأمن، وتيقن بما هو مثبوت في الدفاتر الرسمية من نجاح الأعمال، حصلت له الثقة بي، فزاد لي ذلك وظيف مفتش الجيش الذي كان مرابطًا هناك لصيانة وجدة من هجوم أبي حمارة، وشغله هناك عن رد وجهته عن فاس، وكان هو معظم الجيش المغرب إذ ذاك، وذلك سنة 1321، فكنت بهذه الصفة نائبًا عن وزير المالية في أمور الجيش المالية، وعن وزير الحرب فيما يرجع إلى الأسلحة والذخائر الحربية، وما إلى ذلك، وبمجرد استلامي للوظيف أخذت في التفتيش والضبط، وإسقاط كثير مما كان زائدًا في قوائم الجيش باطلًا، ولا حقيقة له مما كان من أسباب سقوط المغرب، ويسمى في اصطلاحهم "منفوخ"، وحسمت مادة بيع الدخائر والأسلحة، وأحرزت خزنتها كليًّا، فاقتصدت لخزينة الدولة ما ينيف عن خمسة عشر ألف بسيطة عزيزية يومية، كانت تحمل على عاتقها، وتذهب في بطون لا تعرف الشبع هباء منثورًا، وأهمية هذا القدر في ذلكم الوقت لا تخفى، وقد انحسمت بعد ذلك مادة بيع الدخائر الحربية والسلاح للعدو، وتوفَّر للخزينة مال وافر مما كان يضيع فيها، كل ذلك مثبوت بالدفاتر الرسمية، وقد قصدت بذلك انقاذ الوطن المهدد، وإصلاح ما فسد، ولكن أبى الله إلّا أن يقضي أمرًا كان مفعولًا، وقد كافأني المخزن على هذه الأعمال بترقيتي إلى وظيف أعلى زيادة على ما قبله، وهو نائب الملك في الحدود، وفي فصل دعاوي الإيالتين هناك، وكلفت بتنظيم جيش لحراسة الحدود المغربية، وأحق ما ينشد هنا:

وأنَّ بقوم سودوك لحاجة … إلى سيد لو يظفرون بسيد
পরিবর্তন বা মোড়:

আমি ওজদা শহরের দিওয়ানের আমানত (সচিবালয়) গ্রহণ করি। যখন দিওয়ানের কার্যাদি সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে আমার কাজের সুফল মাখজানের (তৎকালীন মরক্কো সরকার) নিকট স্পষ্ট হলো—এমনকি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিরাপত্তার অভাব থাকা সত্ত্বেও এর আয় পূর্বের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেল এবং যখন দাপ্তরিক নথিপত্রে কার্যাদির সাফল্য প্রমাণিত হলো—তখন সরকার আমার প্রতি আস্থাশীল হলো। এর ফলে আমার দায়িত্ব আরও বৃদ্ধি করা হলো এবং আমাকে সেই সেনাবাহিনীর পরিদর্শক নিযুক্ত করা হলো, যারা ওজদাকে আবু হিমারার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং তাকে ফাস অভিমুখী হওয়া থেকে বিরত রাখতে সেখানে অবস্থান করছিল। সেই সময় এই বাহিনীটিই ছিল মরক্কোর প্রধান সেনাবাহিনী; এটি ছিল ১৩২১ হিজরি সালের ঘটনা। এই পদে থাকাকালীন আমি সেনাবাহিনীর আর্থিক বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতিনিধি এবং অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্ত বিষয়ে যুদ্ধমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতাম। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমি পরিদর্শন ও শৃঙ্খলার কাজ শুরু করি এবং সেনাবাহিনীর তালিকা থেকে অসংখ্য ভুয়া ও ভিত্তিহীন নাম বাদ দিয়ে দিই, যা ছিল মরক্কোর পতনের অন্যতম কারণ। তাদের পরিভাষায় একে 'মানফুখ' (স্ফীত বা ভুয়া নাম) বলা হতো। আমি গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির পথ রুদ্ধ করি এবং সেগুলোর ভাণ্ডার পূর্ণরূপে সংরক্ষণ করি। ফলে আমি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য প্রতিদিন পনের হাজার আজিজিয়া বাসিদাহ’রও বেশি অর্থ সাশ্রয় করতে সক্ষম হই, যা আগে রাষ্ট্রীয় কাঁধে বোঝা হয়ে ছিল এবং অতৃপ্ত উদরগুলোতে ধূলিকণার ন্যায় বিলীন হয়ে যেত। তৎকালীন সময়ে এই অর্থের গুরুত্ব কারো অজানা নয়। এরপর শত্রুর কাছে যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রির পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং কোষাগারে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জমা হতে থাকে যা পূর্বে অপচয় হতো। এই সমস্ত বিষয় দাপ্তরিক নথিপত্রে লিপিবদ্ধ আছে। আমার উদ্দেশ্য ছিল এই সংকটাপন্ন মাতৃভূমিকে রক্ষা করা এবং যা কিছু নষ্ট হয়েছিল তার সংস্কার করা; কিন্তু আল্লাহ যা ফয়সালা করে রেখেছেন তা বাস্তবায়িত হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু তিনি হতে দিলেন না। মাখজান আমার এই সকল কাজের পুরস্কারস্বরূপ আমাকে পূর্বের চেয়ে উচ্চতর পদে পদোন্নতি প্রদান করে; আর তা হলো সীমান্তে বাদশাহর প্রতিনিধি এবং সেখানে দুই প্রদেশের বিচারিক বিষয়সমূহ নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব। আমাকে মরক্কোর সীমান্ত পাহারার জন্য একটি সেনাবাহিনী সুসংগঠিত করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এই পরিস্থিতির জন্য সর্বাধিক উপযোগী কবিতা হলো:

আর এক জাতি প্রয়োজনে তোমাকে নেতা বানিয়েছে … এমন এক নেতার আশায়, যদি তারা প্রকৃত কোনো নেতা খুঁজে পেত।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم أسندت إليَّ سفارة عن المغرب الجزائر مع وظائفي المتقدمة، والكل متقارب العهد خلال سنة 1321 المذكورة، ووقعت مباشرته على أحسن ما كان يؤمل، حتى وقع بلوغ المؤمل، وتحسنت العلائق بين الإيالتين، وجرت الأمور في مجاري التعادل والتوازن والحمد لله، ولا أظن أن ذلك من أجل ما يسمونه بالدهاء السياسي، وإنما هي فيما أظن نفحات وعناية إلهية، ثم لم أجد لدي مسائل عويصة يصعب حلها، ولا مشكلات يعسر فكها، من صفاء جو السياسة إذ ذاك بين الدولتين، ومن حسن حظ المرء أن يكون خصمه عاقلًا، لكنني طرأت عليّ عوارض صحية لتراكم الأشغال، مع اشتباك الأحوال السياسية بالعاصمة فجأة، وعزم المخزن على عقد مؤتمر الجزيرة، فاستعفيت سنة 1323، واستقدمني السلطان، فقدمت فاسًا، وعرض علي أن أسمى عضوًا في المؤتمر فاعتذرت، وليس كل عذر يبدو، ولا كل داء يعالج.

وإذا المنية أنشبت أظفهار … ألفيت كل تميمة لا تنفع

تعكرت الأحوال، وأظلم جوّ السياسة، واختلط الحابل بالنابل، فانعزت عن ذلك المعترك، وألقيت السلاح من غير تحمل درك، وأقبلت علي نشر العلم بفاس، وتحريك شيء من التجارة تكفيًا بها عن كل وظيف إلى سنة 1330، وعرضت عليّ أثناء مدة الإعفاء وظائف مهمة، فأعرضت عنها اختيارًا للسلامة.

إن السلامة من سلمى وجارتها … أن لا تحل على حال بواديها

وفي سنة 1330 المذكورة، سميت نائب الصدارة العظمى في وزارة العلوم والمعارف، أول ما أحدث هذا الوظيف في المغرب آخر أيام السلطان المولى عبد الحفيظ بن الحسن، فقبلته رجاء نفع العلم، وفي مدتي انفتحت عدة مدارس ابتدائية بالمدن المغرية بعد خلوها منها، وباشرت إدخال العربية والدروس الدينية والقرآن العظيم لها، وبسبب ذلك حصل الإقبال على التعليم، وامتلأت المدارس شيئًا فشيئًا، وانتشرت في عموم المملكة حتى البوادي، وذلك أيام السلطان المولى يوسف -قدس الله روحه، فكان ذلك أول ترق أدبي فكري ناله المغرب، ولا شك أنه سيعود بالرقي العظيم على الفقه الإسلامي بهذه الديار.
এরপর আমার পূর্ববর্তী দায়িত্বসমূহের সাথে সাথে আলজেরিয়ায় মরক্কোর প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হলো। এ সবই উল্লিখিত ১৩২১ হিজরি সালের কাছাকাছি সময়ের ঘটনা। এই দায়িত্ব পালন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, এমনকি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছিল। দুই অঞ্চলের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটে এবং ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতার সাথে সকল বিষয় পরিচালিত হয়, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি মনে করি না যে এটি তথাকথিত রাজনৈতিক ধূর্ততার কারণে হয়েছে, বরং আমার ধারণায় এটি ছিল মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃপা। তখন দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক পরিবেশ স্বচ্ছ থাকায় আমি কোনো জটিল সমস্যা বা সমাধান অযোগ্য সংকটের সম্মুখীন হইনি। মানুষের সৌভাগ্য যে তার প্রতিপক্ষ যেন বুদ্ধিমান হয়। কিন্তু কাজের চাপে আমার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, এর সাথে রাজধানীতে হঠাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা এবং সরকার কর্তৃক আলজাসিরাত সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে আমি ১৩২৩ সালে পদত্যাগ করি। সুলতান আমাকে তলব করলে আমি ফেজ শহরে উপস্থিত হই। তিনি আমাকে উক্ত সম্মেলনের সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দেন, কিন্তু আমি ক্ষমা প্রার্থনা করে তা প্রত্যাখ্যান করি। সকল ওজর যেমন প্রকাশ্যে বলা যায় না, তেমনি সকল রোগের চিকিৎসাও সম্ভব নয়।

আর যখন মৃত্যু তার নখ বিদ্ধ করে … তখন দেখা যায় কোনো কবচই আর উপকারে আসে না।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটল, রাজনৈতিক পরিবেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল এবং চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ল। তখন আমি সেই সংঘাতময় ক্ষেত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম এবং কোনো দায়ভার গ্রহণ না করেই অব্যাহতি নিলাম। এরপর আমি ফেজ শহরে জ্ঞান বিস্তারে মনোনিবেশ করলাম এবং ১৩৩০ সাল পর্যন্ত জীবিকার প্রয়োজনে সামান্য ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়ে কোনো চাকরির মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বিরত থাকলাম। এই অবসরকালীন সময়ে আমাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি নিরাপত্তার খাতিরে স্বেচ্ছায় তা প্রত্যাখ্যান করি।

নিশ্চয়ই সালমা ও তার প্রতিবেশী থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার উপায় হলো … কোনো অবস্থাতেই তাদের উপত্যকায় পদার্পণ না করা।

উল্লিখিত ১৩৩০ সালে আমাকে শিক্ষা ও জ্ঞান মন্ত্রণালয়ে উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হলো। সুলতান মাওলা আব্দুল হাফিজ বিন আল-হাসানের শাসনামলের শেষ দিকে মরক্কোতে এই পদটি প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হয়েছিল। আমি শিক্ষার কল্যাণের আশায় তা গ্রহণ করি। আমার দায়িত্বপালনকালে মরক্কোর বিভিন্ন শহরে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ইতিপূর্বে ছিল না। আমি সেই বিদ্যালয়গুলোতে আরবি ভাষা, ধর্মীয় পাঠ এবং মহান কুরআন অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু করি। এর ফলে শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে বিদ্যালয়গুলো পূর্ণ হয়ে ওঠে। সুলতান মাওলা ইউসুফ—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—এর শাসনকালে তা সমগ্র রাজ্যে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। এটিই ছিল মরক্কোর অর্জিত প্রথম সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি, এবং নিঃসন্দেহে এটি এই জনপদে ইসলামী ফিকহের ক্ষেত্রে এক মহান উন্নতি বয়ে আনবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي سنة 1332 باشرت تنظيم المجلس التحسيني لإصلاح العليم بالقرويين، وهو المجلس العلمي الموجود الآن، وهي بذرة لا بُدَّ أن تنبت ولو بعد حين، أسَّسْتُ هذه المجلس، وألَّفت قوانينه التحسينية، وما كان لفظ نظام أو تنظيم يعرف له المعنى المقصود هناك، ولا كان يوجد لعلماء ذلك المعهد مرتّب أو ترتيب، حتى فاجأتهم بذلك، فنفروا عنه، وبعد أن فهم المقصود أهل البصائر منهم، بما بذلته معهم من النصح والبيان، جأر منه مَنْ كان متسنمًا مقامًا يقضي عليه التنظيم بالنزول عنه، وقد قدمت الكلام على ذلك في هذا المجموع، ثم استعفيت سنة 1332، وأسقط هذه الوظيف من الوظائف المخزنية مدة، وأعطيت رتبة مستشار للحكومة المغربية شرفًا، فرجعت من الرباط إلى فاس، للإقبال على الدرس والتأليف، والتكفي بشيء من التجارة، وفي هذه السنة أشهرت الحرب العظمى بين دول أوربا، فنال المغرب حظه من أهوالها الكبرى، بما هو مبين في التواريخ، ثم تسببت عنها أهوال اقتصادية، وانقلابات وأزمات تغير بها وحه المغرب، وتبدلت أحواله. هذا جل ما يتعلق بالحياة السياسية، أما الحياة العلمية والقلمية فنقول:

قد درست صحيح البخاري بالرباط ومراكش لما كنت موظفًا، ثم بفاس، ولما بلغت كتاب التفسير قرأته مفصلًا، وكنت أملي فيه ملخصًا من جملة تفاسير؛ كالطبري والرازي والبيضاوي، وروح المعاني، وأحكام ابن العربي، والجصاص، وغيرها، بعدما تركوه مدة سنين من قبل، ورام بعض الولاة منعى منه بدعوى التطير بقراءته، وأنه يتسبب عنه موت السلطان، كما فعلوا بشيخي جنون فيما سبق، فعصمني الله منهم وأكملته والحمد لله، وكان ختمه سنة 1338، وألقيت منه درسًا بتونس من أول سورة المؤمنين، ثم أعدته بفاس أيضًا لإيصال حلقاته، وقد اعتنت به الحكومة التونسية، فجمعته وطبعته على نفقتها، كما أقرأت صحيح مسلم والموطأ ومختصر خليل إلى قرب الزكاة بفاس، والسير النبوية، والتحفة لابن عاصم، ولامية الزقاق، وألفيه ابن مالك، والمنطق، والكل بفاس، وأقرأت المرشد المعين، والتحفة، والربع المجيب برسالة المارديني قبل ذلك بوجدة، مدة مقامي بها.
১৩৩২ হিজরি সালে আমি আল-কারাউইয়্যিন শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে 'মজলিস আত-তাহসিনি' (উন্নয়ন পরিষদ) গঠনের কাজ শুরু করি, যা বর্তমানের বিদ্যমান ইলমি মজলিস। এটি এমন একটি বীজ ছিল যা বিলম্বে হলেও অঙ্কুরিত হওয়া অনিবার্য ছিল। আমি এই মজলিস প্রতিষ্ঠা করি এবং এর উন্নয়নমূলক কানুন বা নিয়মাবলী প্রণয়ন করি। সে সময় সেখানে 'নিযাম' (ব্যবস্থা) বা 'তানযিম' (সংগঠন) শব্দের কাঙ্ক্ষিত অর্থ কারো জানা ছিল না। এমনকি সেই প্রতিষ্ঠানের আলেমদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বেতন বা সুশৃঙ্খল বিন্যাসও ছিল না, যতক্ষণ না আমি তাদের এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চমকে দিলাম। ফলে তারা এতে অনীহা প্রকাশ করল। অতঃপর যখন তাদের মধ্য থেকে বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ আমার নসিহত ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর উদ্দেশ্য বুঝতে পারলেন, তখন যারা এমন উচ্চ পদে আসীন ছিলেন যেখান থেকে এই নতুন ব্যবস্থার কারণে তাদের নেমে যেতে হতো, তারা এর বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হলেন। আমি এই সংকলনে ইতিপূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ১৩৩২ সালে আমি পদত্যাগ করি এবং কিছু সময়ের জন্য এই পদটি সরকারি পদের তালিকা থেকে বিলুপ্ত করা হয়। আমাকে মরক্কো সরকারের সম্মানসূচক উপদেষ্টা পদ প্রদান করা হয়। তখন আমি রাবাত থেকে ফেসে ফিরে আসি যাতে পাঠদান, গ্রন্থ রচনা এবং জীবনধারণের জন্য কিছুটা ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারি। এই বছর ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মহাযুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে ইতিহাসের কিতাবসমূহে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী মরক্কোও এর ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়। পরবর্তীতে এর ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, অভ্যুত্থান এবং নানাবিধ সংকট তৈরি হয় যা মরক্কোর রূপ বদলে দেয় এবং এর সামগ্রিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। রাজনৈতিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মূলত এইটুকুই। এখন ইলমি ও তালিফি জীবন সম্পর্কে বলছি:

আমি যখন সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম তখন রাবাত ও মারাকেশে সহীহ বুখারীর দরস দিয়েছি, অতঃপর ফেসেও দিয়েছি। যখন আমি তাফসীর অধ্যায়ে পৌঁছালাম, তখন তা বিস্তারিতভাবে পড়িয়েছি। আমি তাবারী, রাযী, বায়যাভী, রূহুল মাআনী, ইবনুল আরাবীর আহকাম, জাসসাস এবং অন্যান্য তাফসীরের গ্রন্থসমূহ থেকে এর একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করতাম। অথচ এর আগে বহু বছর যাবত তারা এটি বর্জন করে রেখেছিল। কিছু প্রশাসক আমাকে এটি পড়াতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এই কুসংস্কারের অজুহাতে যে, এটি পাঠ করা কুলক্ষণ এবং এর ফলে সুলতানের মৃত্যু হতে পারে; যেমনটি ইতিপূর্বে তারা আমার উস্তাদ জানুন-এর সাথে করেছিল। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তাদের থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমি এটি সম্পন্ন করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। ১৩৩৮ হিজরি সালে এর সমাপ্তি ঘটে। আমি তিউনিসিয়ায় সূরা আল-মুমিনূন এর শুরু থেকে এর ওপর দরস প্রদান করি, অতঃপর এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য ফেসেও পুনরায় তা শুরু করি। তিউনিসিয়া সরকার এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং এটি সংকলন করে নিজ খরচে মুদ্রণ করে। এছাড়া আমি ফেসে সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা, মুখতাসারে খালীল (যাকাত অধ্যায়ের নিকট পর্যন্ত), সীরাতে নববী, ইবনে আসিমের তুহফা, লামিয়াতুয যুক্বাক্ব, আলফিয়্যা ইবনে মালিক এবং মানতিক শাস্ত্রের দরস দিয়েছি। এর পূর্বে ওজদা-তে অবস্থানকালে আমি আল-মুরশিদুল মুঈন, তুহফা এবং মারদিনীর রিসালাহ-এর মাধ্যমে রুবউল মুজাইবের দরস দিয়েছি।

(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
ثم رجعت سنة 1339 لوظيف نيابة الصدارة العظمى في وزارة العلوم والمعارف، ولا زلت به إلى ساعة كتابة هذه الأحرف، وأجمل الله الخلاص وسدد بمنه.

ومن أحسن ما أمكنني القيام به تفقُّد المدارس من حيث العلوم العربية والدينية من حين لآخر، ويتبع سيرها، وبثّ روح النهضة فيها، والميل إلى إحياء علومنا، والتشبع من العلوم العصرية، وحثّ المعلمين والمتعلمين على حفظ النظام، وتوجيه كلية النظر نحو العلم والأخلاق ومكارم الدين، وأوصي من يقوم بالوظائف من بعدي بذلك، فإنه من خير الأعمال التي يتسنَّى بها التجديد المجيد والعلم قبس، وليجتهد كل واحد منا أن يعلِّمَ واحدًا، والواحد يعلم ألفًا، ومن البعض يكون الكل، والله المستعان.

ولازلت على مباشرة ما يمكنني من الدروس بالرباط، فقد قرأت الفرائض الخليلية مرة بعد مرة، وجملة من البخاري بالرباط وسلا، وأعدت الفسير ثانيًا بالجلالين، ثم بالبيضاوي إلى آل عمران، وحظًّا وافرًا من الربع الرابع من المختصر الخليلي بالزرقاني وحواشيه، وبداية المجتهد لابن رشد الحفيد، وختمت جمع الجوامع، والشمائل مرارًا، وقاربت إتمام النصف من فروق القرافي، كل ذلك في هذه المدة التي ابتعدت فيها عن مسقط الرأس، وكلما رجعت إليه في رخصة من الرخص، أو فرصة من الفرص، أعدت قراءة التفسير بجامعه الأعظم، وأسأل الله الإعانة والتوفيق، وأن يتقبَّل بمحض فضله.

أما تواليفي، فقد بلغت الآن خمسين والحمد لله بين مطول ومختصر، ومطبوع أو مخرج أو مُسوَّد كما هو مبين في الفهرس، وبعضٌ منها يكون مسامرة أو محاضرة ألقيها في موضوع علمي أو اجتماعي أو أخلاقي أو اقتصادي أو نحو ذلك، فيقع موقع الاستحسان، فيصير تأليفًا، ومن الله أستمد التسديد ونفع العبيد: {وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ} [سورة الضحى: 11] ، {رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [سورة الأحقاف: 15] .

وإني لأرجو أن يكون في الشبيبة المغربية التي وقفت نفسي على ثقافتها،
এরপর ১৩৩৯ হিজরিতে আমি বিজ্ঞান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গ্র্যান্ড উজিরের উপ-প্রধানের দায়িত্বে ফিরে আসি এবং এই হরফগুলো লেখার সময় পর্যন্ত আমি সেই পদে বহাল আছি। আল্লাহ তাআলা উত্তম পরিসমাপ্তি দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।

আমি যা করতে সক্ষম হয়েছি তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হলো সময় সময় আরবি ও দ্বীনি শিক্ষার দিক থেকে মাদরাসাগুলোর তদারকি করা, তাদের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা এবং সেগুলোর মাঝে জাগরণের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া; আমাদের জ্ঞানসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া; শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং জ্ঞানের পূর্ণ লক্ষ্য জ্ঞান, চরিত্র ও দ্বীনের মহৎ গুণাবলির দিকে নিবদ্ধ করা। আমার পরে যারা এই দায়িত্ব পালন করবেন, আমি তাদের এই উপদেশ দিচ্ছি। কেননা এটি এমন একটি সর্বোত্তম কাজ যার মাধ্যমে গৌরবময় সংস্কার সম্ভব হয়। জ্ঞান হলো এক প্রজ্বলিত শিখা; আমাদের প্রত্যেকের উচিত অন্তত একজনকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালানো, আর সেই একজন ব্যক্তি হাজার জনকে শিক্ষা দেবে। আর এভাবেই অংশ থেকে পূর্ণ গঠিত হয়। আল্লাহই সাহায্যকারী।

আমি রাবাতে আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব পাঠদান অব্যাহত রেখেছি। আমি ‘আল-ফারায়িদুল খালীলিয়্যাহ’ বারবার পড়েছি, রাবাত ও সালা-তে বুখারী শরীফের একটি অংশ পড়েছি, পুনরায় জালালাইন দিয়ে তাফসির সম্পন্ন করেছি, এরপর বাইযাভী দিয়ে আলে ইমরান পর্যন্ত পড়েছি। এছাড়া যুরকানী ও এর টীকাগ্রন্থসহ ‘মুখতাসারুল খালীল’-এর চতুর্থ চতুর্থাংশের একটি বড় অংশ এবং ইবনে রুশদ আল-হাফীদের ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ পড়েছি। আমি ‘জামউল জাওয়ামে’ এবং ‘শামায়িল’ বারবার খতম করেছি এবং আল-কারাফীর ‘আল-ফুরুক’-এর প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন করেছি। এই সবকিছুই আমি আমার জন্মভূমি থেকে দূরে থাকাকালীন সময়ে করেছি। যখনই কোনো ছুটিতে বা সুযোগে সেখানে ফিরে গিয়েছি, সেখানকার প্রধান জামে মসজিদে আমি তাফসির পাঠ পুনরায় করেছি। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন কেবল তাঁর অনুগ্রহে এটি কবুল করে নেন।

আমার রচনাবলির কথা বলতে গেলে, আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত মিলিয়ে পঞ্চাশটি গ্রন্থ হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মুদ্রিত, কিছু সম্পাদিত আবার কিছু পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে, যা সূচিপত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ছিল ঘরোয়া আলোচনা বা বক্তৃতা যা আমি বৈজ্ঞানিক, সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ে দিয়েছিলাম, যা মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে গ্রন্থে রূপ নিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে সঠিক পথের দিশা এবং বান্দাদের উপকারের জন্য সাহায্য চাই: “আর আপনার রবের নেয়ামতসমূহ বর্ণনা করুন” [সূরা আদ-দুহা: ১১], “হে আমার রব! আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার সন্তানদের সংশোধন করে দিন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তওবা করছি এবং নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আল-আহকাফ: ১৫]।

আর আমি মরক্কোর যুবসমাজের মাঝে সেই আশাই পোষণ করি, যাদের সংস্কৃতির জন্য আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি,
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
والأخذ بناصرها ونفعها من يقوم بنهضة مغربية صادقة، حتى يناسب مستقبلهم ماضي أسلافهم، وتكون أيامهم عصرًا ذهبيًّا للمغرب تحيى المجد الغابر، والفضل الداثر، وللتاريخ أدوار كأدوار الموشحات، فإذا جاء الإبان أعادها.

وأوصي الشبيبة بتوجيه وجهتهم نحو رقي البلاد من حيث الأخلاق الكاملة، وثقافة الأفكار بالعلوم النافعة، ونشر محاسن الدين الحنيف، والكشف عن أسراره، وإزالة غشاوة الجهل به عن العقول، حتى يقف الناس على معنى الدين الحنيف، وينبذوا كل الأوهام التي خلطت به من أعدائه، فكل نهضة لا تؤسس على مبادئ الدين الصحيح والأخلاق الفاضلة تكون خلوًا من الفضيلة، وخطرًا عامًّا على نفسه، كما أنه وبال على بقية أنواع الحيوان، فلولا الدين لكانت الشهوة التي سطلته على الحيوان والجماد والنبات هي عينها تسلط بعضها على بعض، فالفضل كل الفضل في عمارة الكون ورقيّ النوع البشريّ هو للدين والمعوثين به، ولولا الأديان والرسل عليهم السلام، ما وصل البشر لهذا الرقي الذي هو عليه، ولما كان إلّا وحشًا ضاريًا مفسدًا شريرًا في الأغلب من أفراده، ولم تزل الترقيات العصرية، والاكتشافات الفنية معجزة دالة على صحة الأديان وصدق المرسلين، فقد انكشف لنا به سر حرمة الخمر والخنزير، وسر غسل الإناء سبعًا من ولوغ الكلب، وأسرار حرمة الزنى، وإباحة تعدد الزوجات، وغير ذلك، وها نحن نرى أميركا تشدد في حرمة تعاطي الخمر بنحو ما كان عند مسلمي الصدر الأول، إلى غير ذلك، والحياة بدون زمام الدين فساد وخراب، وشواهد أثر ذلك منذ نشأت الدنيا إلى الآن، ولن تجد لسنة الله تبديلًا.

فعليهم بإنهاض قومهم ووطنهم اقتصاديًّا بإرشادٍ إلى استخراج كنوزه العظيم التي اختلطت بأرضه ومائه، وبثّ روح جديدة في التجارة والزراعة والصنائع، وكافة أنواع الاقتصاد، حاربوا الفقر بالاقتصاد والاختصار من العوائد التي تستنزف الأموال، وباستنتاج الخيرات من الأرض والمياه، وبإحياء الصناعات الوطنية والنهوض بها إلى مستوى الرقي الجديد، فبالاقتصاد أصبح العالم مستعمرة اسرائيلية.

واستعينوا على ذلك بتهذيب الأخلاق، فالإخلاق أساس كل نجاح،
এবং এর সাহায্য ও উপকারের দায়িত্ব তাদেরই, যারা একনিষ্ঠ মরক্কান জাগরণ গড়ে তুলবে; যেন তাদের ভবিষ্যৎ তাদের পূর্বপুরুষদের অতীতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং তাদের দিনগুলো মরক্কোর জন্য এক স্বর্ণযুগ হয়ে দাঁড়ায়, যা বিলুপ্ত গৌরব ও মুছে যাওয়া মর্যাদাকে পুনরুজ্জীবিত করবে। ইতিহাসের আবর্তন মুওয়াশশাহ কাব্যরীতির চরণের আবর্তনের মতো; সময় এলেই ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়।

আমি তরুণ প্রজন্মকে নসিহত করছি যেন তারা দেশের উন্নতির লক্ষ্যে তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করে; পূর্ণাঙ্গ চরিত্র গঠন, উপকারী জ্ঞানের মাধ্যমে চিন্তাধারার উৎকর্ষ সাধন, সত্যনিষ্ঠ দ্বীনের সৌন্দর্য প্রচার, এর নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন এবং মানুষের মন থেকে দ্বীন সম্পর্কে মূর্খতার আবরণ অপসারণের মাধ্যমে। যাতে মানুষ সত্য দ্বীনের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে এবং এর শত্রুদের দ্বারা এতে মিশ্রিত সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা বর্জন করতে পারে। কেননা যে জাগরণ সঠিক দ্বীনি মূলনীতি ও উন্নত চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, তা গুণাবলি বর্জিত এবং খোদ নিজের জন্যই এক সাধারণ বিপদস্বরূপ; এমনকি এটি অন্যান্য প্রাণিকুলের জন্যও অভিশাপ। যদি দ্বীন না থাকত, তবে যে প্রবৃত্তি মানুষকে পশু, জড় পদার্থ ও উদ্ভিদের ওপর আধিপত্য দিয়েছে, সেই একই প্রবৃত্তি একে অপরের ওপর চড়াও হওয়ার কারণ হতো। সুতরাং বিশ্বজগত আবাদ করা এবং মানবজাতির অগ্রগতির সমস্ত কৃতিত্ব দ্বীন এবং যাদেরকে এর সাথে প্রেরণ করা হয়েছে তাদেরই। যদি আসমানি ধর্মসমূহ ও রাসুলগণ (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) না থাকতেন, তবে মানবজাতি আজ যে উন্নতিতে পৌঁছেছে তাতে পৌঁছাতে পারত না এবং মানুষের অধিকাংশ ব্যক্তিই হিংস্র, অনিষ্টকারী ও মন্দ পশুর ন্যায় রয়ে যেত। বর্তমান সময়ের অগ্রগতি এবং কারিগরি আবিষ্কারসমূহ সর্বদা ধর্মের সত্যতা এবং রাসুলদের সততার প্রমাণবাহী অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এর মাধ্যমেই আমাদের কাছে মদ ও শূকরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার রহস্য, কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র সাতবার ধৌত করার রহস্য, ব্যভিচারের নিষিদ্ধতা এবং বহুবিবাহের বৈধতার রহস্যসমূহ উন্মোচিত হয়েছে। এমনকি আমরা দেখছি যে, আমেরিকা মদ পানের ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করছে, যা অনেকটা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের মুসলমানদের পদ্ধতির মতো। দ্বীনের লাগাম ছাড়া জীবন মানেই বিপর্যয় ও ধ্বংস; পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এর প্রমাণ বিদ্যমান। আর আল্লাহর রীতিতে তুমি কখনোই কোনো পরিবর্তন পাবে না।

তাই তাদের উচিত তাদের জাতি ও স্বদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্জাগরিত করা; মাটির নিচে ও পানির স্তরে মিশে থাকা বিশাল সম্পদ আহরণের দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে নতুন প্রাণ সঞ্চারের মাধ্যমে। তোমরা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো মিতব্যয়িতার মাধ্যমে এবং সেই সব অভ্যাস বর্জনের মাধ্যমে যা অর্থ অপচয় করে; ভূগর্ভস্থ ও পানি হতে কল্যাণ আহরণের মাধ্যমে এবং জাতীয় শিল্পসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করে এক নতুন উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে। কারণ অর্থনীতির মাধ্যমেই আজ বিশ্ব একটি ইসরায়েলি উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।

আর এই কাজে চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে সাহায্য নাও, কেননা চরিত্রই হলো সকল সফলতার মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২২)
وفساد الأخلاق هو عين الإخفاق، وليتجنبوا المجادلات الدينية، والاختلافات المذهبية، فذلك شيء فرغ منه، فإياهم وإياي من ضياع الوقت النفيس إلّا فيما يفيد، حذار حذار من المجادلات العقيمة الدينية التي لا تأتي بفائدة، وليتجنبوا كل سياسية فإنها مفسدة للأعمال، معرقلة للمصالح.

وليجتهدوا أن يتخرَّج منهم مدرسون ماهرون يحاربون الأخلاق التي أوجبت انحطاطنا في الهيئة العالمية، ويحاربون تطرف الأفكار التي أضاعت وقتنا، وليحاربوا عدو الإسلام الألد، داء الأمية حتى يصير جل أمتهم يقرأ ويكتب ويحسب، ويعرب عن ضميره بعبارة صحيحة عربية بدوًا وحضرًا، كما كان نبينا عليه السلام يحاربها، وأصحابه بعده، ولن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.

وإن حاجة المغرب إلى المدرسين من أبناء جنسه فوق كل حاجة، وذلك هو الماء الذي يقطر في حلقوم المحتضر، وينشروا العلم الابتدائي أولًا في جميع أصقاع بلادهم العزيزة بين إخوانهم، وليتطوعوا في ذلك ما أمكنهم، وليعينوا من ظهرت أهليته على تحصيل العلوم العالية عربية وأوربية من طب وهندسة وطبيعيات، وحقوق ومكنيكيات، وغير ذلك.

فإذا اشتغلوا بهذا، وعملوا بأصول هذه الوصية، فإنهم ينهضون بأمتهم وملتهم، ويكونون قد خدموا وطنهم حقًّا لا تشدقًا.

وإياهم والاشتغال بسفاسف الأمور كتغيير الزي، وتكثير الشغب بلا طائل، فإني أربأ بهم أن يتركوا زيَّ قومهم في ظفرة، وأن ينفروا منهم آباءهم، ويلصقوا التهمة بهم في دينهم بيدهم.

فما أجبن قومًا تستَّروا وراء لباسٍ غير لباسهم، خجلًا من جنسيتهم، وما أرذل قومًا أرادوا التشبيه بمن يعتقد انحطاطهم عنه، فليجتهدوا أن يكونوا قادة لأمة، ويجروها وراءهم تهذيبًا وتعليمًا، لا أن ينفروها منهم.

وليكونوا مثال العفة والأخلاق الفاضلة، وأولها صدقة اللهجة، وتقديم المصالح العامة على الخاصة، ونزاهة اليد واللسان، وحسم مادة الباطل
চরিত্রের বিপর্যয়ই হলো প্রকৃত ব্যর্থতা। তারা যেন ধর্মীয় বাদানুবাদ ও মাযহাবী মতপার্থক্য পরিহার করে, কারণ এটি এমন এক বিষয় যা অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আমি তাদের এবং নিজেকে উপকারী বিষয় ব্যতীত মূল্যবান সময় নষ্ট করা থেকে সতর্ক করছি। সাবধান, সাবধান সেই সব নিষ্ফল ধর্মীয় বিতর্ক থেকে যা কোনো সুফল বয়ে আনে না। তারা যেন সর্বপ্রকার রাজনীতি বর্জন করে, কেননা তা কর্মকে কলুষিত করে এবং জনস্বার্থের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

তারা যেন এই প্রচেষ্টা চালায় যাতে তাদের মধ্য থেকে এমন সুদক্ষ শিক্ষক তৈরি হয় যারা সেই সব স্বভাব-চরিত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবে যা বিশ্বদরবারে আমাদের অধঃপতনের কারণ হয়েছে। তারা যেন সেই চরমপন্থী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে লড়ে যা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। তারা যেন ইসলামের ঘোরতর শত্রু নিরক্ষরতার ব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, যাতে তাদের জাতির অধিকাংশ লোক পড়তে, লিখতে ও হিসাব করতে সক্ষম হয় এবং গ্রাম ও শহর নির্বিশেষে শুদ্ধ আরবি ভাষায় নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে; যেভাবে আমাদের নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। আর এই উম্মতের শেষাংশ ততক্ষণ সংশোধিত হবে না যতক্ষণ না তারা সেই পথ অনুসরণ করবে যার মাধ্যমে তাদের প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।

মরক্কোর জন্য স্বজাতীয় শিক্ষকদের প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। আর এটিই হলো সেই সঞ্জীবনী সুধা যা মুমূর্ষু ব্যক্তির কণ্ঠে ঢালা হয়। তারা যেন প্রথমে তাদের প্রিয় দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভাইদের মাঝে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার করে এবং এতে তারা যতটুকু সম্ভব স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান করে। আর যাদের মধ্যে যোগ্যতা প্রকাশ পাবে, তাদের যেন আরবি ও ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা যেমন—চিকিৎসাবিদ্যা, প্রকৌশল, পদার্থবিজ্ঞান, আইন, মেকানিক্স এবং অন্যান্য বিষয় অর্জনে সহায়তা করা হয়।

যদি তারা এই কাজে আত্মনিয়োগ করে এবং এই অসিয়তের মূলনীতিগুলো মেনে চলে, তবে তারা তাদের জাতি ও মিল্লাতকে পুনর্জীবিত করবে এবং তারা বাগাড়ম্বর ছাড়াই প্রকৃত অর্থে দেশের সেবা করবে।

তারা যেন তুচ্ছ বিষয়ে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকে, যেমন—পোশাক পরিবর্তন করা এবং অনর্থক হট্টগোল সৃষ্টি করা। কারণ আমি চাই না তারা হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে নিজ জাতির পোশাক ত্যাগ করুক, তাদের পিতাদের নিজেদের থেকে দূরে সরিয়ে দিক এবং নিজ হাতে নিজেদের দীনের ওপর অপবাদ ডেকে আনুক।

সেই জাতি কতই না ভীরু যারা নিজ জাতীয়তা নিয়ে লজ্জিত হয়ে অন্য জাতির পোশাকের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। সেই জাতি কতই না অধম যারা এমন লোকদের অনুকরণ করতে চায় যারা তাদের নিচু মনে করে। অতএব তারা যেন জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সচেষ্ট হয় এবং শিক্ষা ও সংস্কারের মাধ্যমে জাতিকে তাদের অনুগামী করে তোলে, জাতি যেন তাদের দেখে ভীত হয়ে দূরে সরে না যায়।

তারা যেন পবিত্রতা ও মহৎ চরিত্রের মূর্ত প্রতীক হয়; যার মূলে থাকবে সত্যবাদিতা, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া, হাত ও জিহ্বার শুচিতা এবং মিথ্যার মূল উৎপাটন করা।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৩)
والرِّشَى، وترك الشبهات فضلًا عن المحرمات، وكل أمة هضمت خاصتها حقوق عامتها، كانت غنمًا مهزولة في ليلة شاتية لا يرجى لمستقبلها حياة، وليكونوا مثالًا للجد والنشاط والثبات في الأعمال والنزاهة، والبراعة والدهاء، وإني أعيذهم بالله من تضييع نصيحتي هذه.

قد رشحوك لأمر لو فطنت له … فاربأ بنفسك أن ترعى مع الهمل

أوصاني بهذا البيت شيخي جنون كتابة ومشافهة رحمه الله مرارًا، وإلى الله أضرع أن يحقق رجائي فيكم، وأن يحفظكم يا أولادي وأخواني مما أصاب غيركم من سموم المعتقدات الفاسدة، وتطرف الأفكار، وأن يحميكم من ضدية الدين، وأن يجعلكم شبيبة مغربية حقًّا، محافظة على مجدها وقوميتها وذاتيتها، حرة التفكير ضمن دائرة الأدب والدين الصحيح الخالي من الخرافات والتخرصات، محافظة على شريعتها السمحة الحقة العظيمة، عارفة بتطبيقها على الأحوال الوقتية المناسبة، حتى تكونوا حماتها، وحماة الوطن العزيز، واللغة العربية الشريفة، معتدلين في أمركم كله، مستقيمين على المهْيَعِ القويم، متمسكين بسنة سيد المرسلين، وخلفائه الراشدين المرشدين.
এবং ঘুষ বর্জন করা, এবং হারাম বিষয়াবলি তো বটেই, এমনকি সন্দেহজনক বিষয়গুলোও ত্যাগ করা; আর যে জাতির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের সাধারণ জনগণের অধিকার হরণ করেছে, সেই জাতি শীতের রাতে জীর্ণশীর্ণ দুর্বল ভেড়ার মতো হয়ে পড়েছে, যাদের ভবিষ্যতের জীবনের কোনো আশা নেই। আর তারা যেন কর্মতৎপরতা, উদ্যম, কর্মে অবিচলতা, চারিত্রিক নিষ্কলঙ্কতা, পারদর্শিতা এবং বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। আমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই যেন তারা আমার এই উপদেশটি হেলায় না হারায়।

তারা তোমাকে এমন এক মহান বিষয়ের জন্য মনোনীত করেছে যা যদি তুমি বুঝতে পারতে … তবে নিজেকে লক্ষ্যহীনদের সাথে বিচরণ করা থেকে সম্মানজনক দূরত্বে রাখতে।

আমার শায়খ জুনুন (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) আমাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার এই পঙক্তিটির অসিয়ত করেছেন। আর আমি আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি যেন তিনি আপনাদের ব্যাপারে আমার আশা পূর্ণ করেন। হে আমার সন্তান ও ভ্রাতৃমণ্ডলী, অন্যদের যে ভ্রান্ত আকিদার বিষ ও চরমপন্থী চিন্তাভাবনা গ্রাস করেছে, তিনি যেন আপনাদের তা থেকে রক্ষা করেন এবং দ্বীন-বিমুখতা থেকে আপনাদের হিফাজত করেন। তিনি যেন আপনাদের প্রকৃত মরক্কান যুবকে পরিণত করেন, যারা নিজেদের গৌরব, জাতীয়তা ও স্বকীয়তা বজায় রাখবে; এবং যারা শিষ্টাচার ও কুসংস্কার এবং অলীক কল্পনা মুক্ত সঠিক দ্বীনের গণ্ডির ভেতর থেকে স্বাধীন চিন্তাশক্তির অধিকারী হবে। যারা নিজেদের মহান, সত্য ও উদার শরীয়তকে সংরক্ষণ করবে এবং উপযুক্ত সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োগ সম্পর্কে অবগত থাকবে; যাতে আপনারা শরীয়ত, প্রিয় মাতৃভূমি এবং মহিমান্বিত আরবি ভাষার রক্ষক হতে পারেন। আপনারা যেন আপনাদের সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী হন, সঠিক পথে অবিচল থাকেন এবং রাসূলগণের সরদার ও পথপ্রদর্শক খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌تقريظات الكتاب:

تقاطرت على المؤلف تقاريظ كثيرة من أعظم علماء الأقطار الناهضة شرقًا وغربًا، ولطول تتبعها نقتصر على ما لا بد منه، إذ ما لا يدرك كله لا يترك جله، طالبين المعذرة ممن لم ينشر تقريظه.

تقريظ أمير شعراء المغرب وبلبله الصادح، الفقيه الأديب، البليغ البارع الأريب، الكاتب بوزارة الأوقاف المغربية، طائر الصيت بالديار الأفريقية، الشاعر المطبوع، ابن العباس الحاج عبد الله القباج، ونصه:

كم ذا تدافع في الورى وتحامي … عن حوزة الإيمان والإسلام

كم ذا تنافح عن شريعة أحمد … وتبين ما يخفى عن الأفهام

كم ذا تناضل عن سلالته وعن … أتباعه وصحابه الأعلام

وتذود عن أحبار ملته الأولى … صانوا محياها بخير لثام

وفَدَوْا حياة علومهم بنفوسهم … وحموا معابدها من الأصنام

وهووا محاسنها وأعلوا شأنها … وغدوا لها كالدرع والصمصام

أسهرت جفنك في بزوغ نجومهم … وطلعت بينهم كبدر تمام

وفتحت أبواب البصائر للهدى … منا وقلت لنا أدخلوا بسلام

في كل ما عام تجيء بآية … عظمى تسجل في سجل العام

ولكل شهر في الفنون مجلد … ضخم لديك سما عن الأسوام

يبدو لفاتحه بدو هلاله … من "فكرك" الحسن المنير "السامي"

فيسير في الدنيا مسير الشمس في … أقطارها والبرء في الأسقام

فإذا أتى الخضرا تسابق أهلها … للسكر منه بدون شرب مدام

وإذا أتى مصرًا تحقق أهلها … وأزاح عنهم سائر الأوهام

وإذا أتى للشام قال ذووه قد … هلَّ الهلال بأفق أرض الشام

وإذا أتى بغداد قال إمامهم … لست الإمام بل الإمام أمامي

وإذا أتى للهند أغنى الهند أو … للسند قال السند نلت مرامي

واليوم قد أيقنت أن مجددًا … بالمغرب الأقصى وبحرً طامي

وإذا أتى صقع الحجاز ومكة … ومدينة الممدوح في الأنعام

هادي الورى للحق والداعي إلى … ترك الخنا وتجنب الآثام

ورسول رب العالمين ونوره … في الكائنات ورحمة العلام

ومحب أصحاب الشجاعة والسخا … ومعين أهل البؤوس والأيتام

ومبيد أهل الظلم في الدنيا وهل … شيء أضر لها من الظلام
গ্রন্থের প্রশংসাগীতিসমূহ:

পূর্ব ও পশ্চিমের উদীয়মান দেশসমূহের শ্রেষ্ঠ আলেমদের পক্ষ থেকে লেখকের প্রতি অসংখ্য প্রশংসাগীতি বর্ষিত হয়েছে। সেগুলো দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমরা কেবল অতি প্রয়োজনীয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব; কেননা যা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করা যায় না, তার অধিকাংশও বর্জন করা অনুচিত। যাদের প্রশংসাগীতি প্রকাশিত হয়নি তাদের কাছে আমরা ক্ষমা প্রার্থী।

মরক্কোর কবি-কূলের সম্রাট ও তাঁর সুকণ্ঠ গায়ক, ফকিহ, সাহিত্যিক, সুদক্ষ বাগ্মী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি, মরক্কোর ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের লেখক, আফ্রিকা ভূখণ্ডে সুখ্যাতিসম্পন্ন, স্বভাবজাত কবি, ইবনে আব্বাস আল-হাজ্ব আব্দুল্লাহ আল-কাব্বাজ-এর প্রশংসাগীতি; তার বক্তব্য নিম্নরূপ:

কতই না আপনি মানুষের মাঝে ঈমান ও ইসলামের সীমানা রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা করেছেন …

কতই না আপনি মুহাম্মদী শরীয়তের পক্ষে লড়েছেন … এবং বোধশক্তির অগম্য বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন

কতই না আপনি তাঁর বংশধর, তাঁর অনুসারী … এবং বিশিষ্ট সাহাবীদের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন

আপনি এ মিল্লাতের আদি শ্রেষ্ঠ আলেমদের পক্ষ থেকে আক্রমণ প্রতিহত করেছেন … যারা সর্বোত্তম আবরণে এর সৌন্দর্য রক্ষা করেছেন

তারা তাদের প্রাণের বিনিময়ে ইলমের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন … এবং এর ইবাদতগাহগুলোকে মূর্তিপূজা থেকে রক্ষা করেছেন

তারা এর সৌন্দর্যের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং এর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন … আর তারা এর জন্য ঢাল ও তীক্ষ্ণ তলোয়ার স্বরূপ হয়েছিলেন

তাদের নক্ষত্র উদিত করার জন্য আপনি আপনার চোখের পাতা বিনিদ্র রেখেছেন … আর তাদের মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের মতো আপনি উদিত হয়েছেন

আপনি আমাদের জন্য হিদায়াতের অন্তর্দৃষ্টির দ্বার উন্মোচন করেছেন … এবং আমাদের বলেছেন, শান্তিতে প্রবেশ করুন

প্রতি বছর আপনি এমন এক মহৎ নিদর্শন নিয়ে আসেন … যা সেই বছরের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকে

বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর আপনার প্রতিটি মাসের এক একটি স্থুল খণ্ড রয়েছে … যা সকল মূল্যের ঊর্ধ্বে

এর পাঠকদের কাছে তা নতুন চাঁদের মতো প্রতিভাত হয় … আপনার সুন্দর, উজ্জ্বল ও উচ্চমার্গীয় চিন্তা থেকে

ফলে তা দুনিয়াতে সূর্যের মতো পরিভ্রমণ করে … দিগন্তজুড়ে এবং অসুস্থতায় আরোগ্য স্বরূপ

যখন এটি তিউনিসিয়ায় পৌঁছায়, সেখানকার অধিবাসীরা মদ্যপান ছাড়াই … এর মত্ততায় বুদ হয়ে একে পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে

আর যখন এটি মিশরে পৌঁছায়, সেখানকার অধিবাসীরা সত্য অনুধাবন করে … এবং তা তাদের থেকে যাবতীয় সংশয় দূর করে দেয়

যখন এটি শামে পৌঁছায়, সেখানকার অধিবাসীরা বলে … শাম দেশের দিগন্তে নতুন চাঁদ উদিত হয়েছে

যখন এটি বাগদাদে পৌঁছায়, সেখানকার ইমাম বলেন … আমি ইমাম নই, বরং ইমাম তো আমার সামনেই

যখন এটি ভারতে পৌঁছায়, তা ভারতকে সমৃদ্ধ করে; আর সিন্ধুতে পৌঁছালে … সিন্ধু বলে, আমি আমার লক্ষ্য অর্জন করেছি

আর আজ আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, সুদূর মরক্কোতে … একজন সংস্কারক ও উত্তাল সমুদ্রের আবির্ভাব হয়েছে

আর যখন এটি হিজাজ অঞ্চল, মক্কা … এবং সৃষ্টির সেরা রাসূলের শহরে পৌঁছায়

যিনি সৃষ্টির পথপ্রদর্শক এবং অশ্লীলতা ত্যাগ … ও পাপাচার বর্জনের আহ্বানকারী

যিনি রাব্বুল আলামীনের রাসূল ও তাঁর নূর … সমগ্র সৃষ্টিজগতে এবং মহাজ্ঞানী আল্লাহর রহমত

যিনি সাহস ও বদান্যতার অধিকারীদের ভালোবাসেন … এবং দুঃখী ও এতিমদের সাহায্যকারী

এবং দুনিয়াতে জালিমদের ধ্বংসকারী; আর … দুনিয়ার জন্য অন্ধকার জালিমদের চেয়ে ক্ষতিকর আর কী আছে?
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن الذي يؤذي العباد لسانه … كالحاسد المغتاب والنمام

أثنوا عليه حيال أشرف بقعة … ودعو لربه في أجل مقام

تفديه نفسي بالحياة فإن مضت … تفديه بعدي نفس كل همام

ولعل ذاك ما يحب ويبتغي … من سائر القراء في الإكرام

ولعل فكرك يا محمد الرضي … لم يبق في الأفكار من إبهام

ومن المحقق أن روحك فيه لا … تبلى ولا تفنى مع الأجسام

ولعله كان الدواء لعلتي … وقريحتي من آلم الآلام

ودليل ذلك أنني ألفيته … صبحًأ أغار على الدجا بحسام

وشعرت أن اللطف حيت تلوته … أضحى يلم وزاد في الإلمام

وجزمت أنه مرشد للنجح لا … يرشى ولا يخشى من اللوام

وبأن أمر الدين كالدنيا ولا … إصلاح للدنيا بدون "نظام"

بل شمت لما أن نقهت سجيتي … تنمو بجانها مع الأيام

وظفقت أنظِّم ما أشاء كأنني … أصبحت في عصري أبا تمام

فافخر وصل بصواب فكرك ولتثق … إن قلت إنه قد أصاب مرامي

لو لم يكن سهمًا لما قال الفتى … فكري يصيب كما تصيب سهامي

ولقد رميت وما رميت وإنما … رب السماء رمى بك المترامي

لا ريب في هذا لدى كل امرئ … يهوي الحقائق من سلالة سام

ومن الذي يرتاب فيما قلته … وبذاك تشهد ألسن الأقلام

فاهنأ أبا عبد الإله محمدًا … بالعلم والتوفيق والإلهام

فالعلم نور الله عند عباده … والكون دون العلم محض ظلام

والمرء مهما كان في ايامه … إن لم ينله يعد في الأنعام

وبه غدوت لدى الأمير مقرَّبًا … من صيد أهل النقض والإبرام

ورفلت في حلل الثناء وإنما … عدم الثناء نهاية الإعدام

ولأنت يا حَجَوي غيث نافع … لقلوبنا الموتى وللأحلام

والحافظ الفذ المحدث بيننا … بالصدق حجته على المتعامي

والفضل فضل الله لا يحصى وهل … تحصى نجوم الألفق بالأرقام

أعطاك ربك منه أشرف قسمة … والناس في الأخرى على أقسام
আর কে আছে যে তার জিহ্বা দ্বারা বান্দাদের কষ্ট দেয় … যেমন হিংসুক, পরনিন্দাকারী ও চোগলখোর?

তারা তার প্রশংসা করেছে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানের সম্মুখে … আর তার রবের নিকট দোয়া করেছে অতি মহান মর্যাদার স্থানে।

আমার প্রাণ তার জন্য উৎসর্গিত হোক, আর যদি তা গত হয় … তবে আমার পরে প্রতিটি সাহসী প্রাণ তার জন্য উৎসর্গিত হোক।

সম্ভবত সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সকল পাঠকের নিকট … এটিই কাঙ্ক্ষিত ও অন্বেষিত বিষয়।

হে সন্তুষ্ট মুহাম্মদ! সম্ভবত আপনার চিন্তা-ভাবনা … চিন্তার জগতে কোনো অস্পষ্টতা অবশিষ্ট রাখেনি।

আর এটি সুনিশ্চিত যে, আপনার রূহ তাতে … দেহের সাথে জীর্ণ বা ধ্বংস হবে না।

সম্ভবত এটিই ছিল আমার রোগের ঔষধ … এবং যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা থেকে আমার মেধার মুক্তি।

তার প্রমাণ এই যে, আমি একে পেয়েছি … প্রভাত হিসেবে যা তলোয়ার দিয়ে অন্ধকারকে আক্রমণ করে।

আমি যখন এটি পাঠ করলাম তখন অনুভব করলাম যে অনুগ্রহ … প্রকাশ পেতে শুরু করেছে এবং এর নিবিড়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছি যে এটি সফলতার পথপ্রদর্শক যা … ঘুষ গ্রহণ করে না এবং নিন্দুকদের ভয় পায় না।

আর দ্বীনের বিষয়টি দুনিয়ার মতোই এবং … "শৃঙ্খলার" (নিযাম) অভাব ব্যতীত দুনিয়ার সংশোধন সম্ভব নয়।

বরং আমি যখন সুস্থ হলাম তখন দেখলাম আমার স্বভাব … দিন দিন এর পাশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর আমি যা খুশি তা রচনা করতে শুরু করলাম যেন … আমি আমার যুগে আবু তামাম হয়ে গিয়েছি।

অতএব গর্ব করুন এবং আপনার সঠিক চিন্তার সাথে যুক্ত হোন আর নিশ্চিত থাকুন … যদি আমি বলি যে এটি আমার লক্ষ্য পূরণ করেছে।

যদি এটি তীর না হতো তবে যুবকটি বলত না যে … আমার চিন্তা সেভাবেই লক্ষ্যভেদ করে যেমন আমার তীরসমূহ করে।

আর আপনি নিক্ষেপ করেছেন অথচ আপনি নিক্ষেপ করেননি বরং … আকাশের রবই আপনার মাধ্যমে নিক্ষেপ করেছেন।

সামের বংশধরদের মধ্যে যারা সত্যকে ভালোবাসে … তাদের কারও কাছেই এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আর আমি যা বলেছি সে বিষয়ে কে সন্দেহ পোষণ করবে … অথচ কলমের জিহ্বাই তার সাক্ষ্য প্রদান করে।

অতএব হে আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ, আপনি আনন্দিত হোন … ইলম, তাওফিক ও ইলহামের মাধ্যমে।

কারণ ইলম হলো তাঁর বান্দাদের মাঝে আল্লাহর নূর … আর ইলম ব্যতীত মহাবিশ্ব নিছক অন্ধকার।

মানুষ তার জীবনে যে স্তরেই থাকুক না কেন … যদি সে ইলম অর্জন না করে তবে সে পশুর অন্তর্ভুক্ত।

আর এর মাধ্যমেই আপনি আমীরের নিকট নিকটবর্তী হয়েছেন … সমাধান ও সিদ্ধান্তের অধিকারীদের শিকার থেকে।

আপনি প্রশংসার পোশাকে সুশোভিত হয়েছেন আর প্রকৃতপক্ষে … প্রশংসার অভাবই হলো ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমা।

হে হাজাভী! আপনি তো আমাদের মৃত হৃদয়ের জন্য … এবং স্বপ্নের জন্য এক উপকারী বৃষ্টি।

আমাদের মাঝে আপনি সেই অনন্য হাফেজ ও মুহাদ্দিস … যার সত্যবাদিতা অন্ধ অনুসারীদের বিরুদ্ধে এক অকাট্য দলিল।

আর শ্রেষ্ঠত্ব তো আল্লাহরই শ্রেষ্ঠত্ব যা গণনা করা যায় না; আর দিগন্তের … নক্ষত্ররাজি কি সংখ্যা দিয়ে গণনা করা সম্ভব?

আপনার রব আপনাকে তা থেকে শ্রেষ্ঠ অংশ দান করেছেন … আর পরকালেও মানুষ বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৮)
لله فيك عناية تكفي بها … عن حسن تدبير وحسن كلام

وسعادة محجوبة تغنيك عن … إثم اليدين وباطن الأقدام

من لم ينل ما نلت من طيب الثنا … لليدر ما للمجد من إعظام

وإذا أحب الله عبدًا صالحًا … أثنى بنو سام عليه وحام

صلى الإله عليك غير مودع … وسقى ثرى أبويك صوب غمام

وحباك عن هذا الصنيع مثوبة … كالأرض والسماوات والأجرام

وكجنة الرضوان لا طلل بها … يشجي ويبكي عروة بن حزام

ترضيك في بدء بدون نهاية … ونهاية تزهى بحسن ختام

تقريظ قاضي تونس سابقًا، وشيخ الإسلام للمالكية حالًا بالديار التونسية، وصدر أعيانها الشريف العلامة النظار البابغة سيدي الطاهر بن عاشور، أمتع الله به وبتآليفه الإسلام، ونصه:

الحمد لله الذي قيَّض لهذه الأمة نوابغ علمائها، وأضاء بهم أفق مجدها، ومحجة هديها، فكانوا نجوم سمائها، يتعاقبون بالظهور مغربًا ومشرقًا، فما انقضَّ كوكب إلّا بدا نظيرها متألقًا، ومن أبهر الكواكب التي أسفر عنها أفقنا الغربي في العصر الحاضر، وكان مصداق قول المثل: "كم ترك الأول للآخر" الأستاذ الجليل والعلامة النبيل، وصاحب الرأي الأصيل، الشيخ محمد الحجوي، المستشار الوزيري للعلوم الإسلامية بالدولة المغربية، فلقد مدَّ للعلم بيض الأيادي بتآليفه التي سار ذكرها في كل نادي، ها هو اليوم قد عززها بكتاب سماه: "الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي" كتاب طالعته مليًا، فوجدت سماه باسمه حريًا، وأعجبت بعرضه وتحريره، واستخلاصه من دلائل علم الفقه ومقاصده، وتاريخ الإسلام وتراجم رجاله، ورأيت منه ما لا يأتي مثله إلا لعالم روي من منابع الشريعة المختلفة المذاق بزلالٍ تنزه عن التكدر والامتذاق، حتى صار رأيه من فكره درًّا معينًا، ثم تبرزه الأقلام من أنامله درًّا ثمينًا، فلله درَّه ودرِّه، ومنه الرجاء أن تكثر آثار مؤلفه ويطول عمره.

وكتب محمد الظاهر بن عاشور، في 5 ربيع الثاني سنة 1348
আপনার প্রতি আল্লাহর এমন যত্ন রয়েছে যা যথেষ্ট … উত্তম ব্যবস্থাপনা ও উত্তম বাক্যের ঊর্ধ্বে।

এবং এমন এক প্রচ্ছন্ন সৌভাগ্য যা আপনাকে অমুখাপেক্ষী করে … দুই হাতের পাপ এবং চরণের গভীর পঙ্কিলতা থেকে।

আপনি যে সুগন্ধি প্রশংসা অর্জন করেছেন, তা যে পায়নি … সে যেন জেনে নেয় মর্যাদার কত মহিমা।

আর আল্লাহ যখন কোনো নেক বান্দাকে ভালোবাসেন … তখন সাম ও হামের বংশধরেরা তার প্রশংসা করে।

মাবুদ আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন অবিরাম … এবং মেঘমালা আপনার পিতামাতার কবরের মাটিকে সিক্ত করুক।

আর এই কর্মের জন্য তিনি আপনাকে এমন প্রতিদান দান করুন … যা পৃথিবী, আকাশমন্ডলী ও জ্যোতিষ্কসমূহের ন্যায় বিশাল।

এবং রিদওয়ান জান্নাতের মতো, যেখানে কোনো ধ্বংসাবশেষ নেই … যা উরওয়াহ বিন হিযামকে ব্যথিত করবে ও কাঁদাবে।

যা আপনাকে সন্তুষ্ট করবে এমন এক শুরুতে যার শেষ নেই … এবং এমন এক সমাপ্তিতে যা শেষ পরিণতির সৌন্দর্যে শোভিত।

তিউনিসিয়ার প্রাক্তন কাজী, বর্তমানে তিউনিসিয়া ভূখণ্ডের মালিকি মাযহাবের শায়খুল ইসলাম, বিশিষ্ট নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, সুমহান আল্লামা, গভীর পর্যবেক্ষক ও অসাধারণ প্রতিভাধর সিদি তাহের বিন আশুর-এর প্রশংসামূলক অভিমত। আল্লাহ তাকে এবং তার রচনাবলীর মাধ্যমে ইসলামের উপকার সাধন করুন। তার বক্তব্য নিম্নরূপ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের প্রতিভাধর আলেমদের মনোনীত করেছেন এবং তাদের মাধ্যমে উম্মতের গৌরবের দিগন্ত ও হেদায়েতের পথকে আলোকিত করেছেন। তারা ছিলেন আকাশের নক্ষত্রতুল্য, যারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে একের পর এক উদিত হন। কোনো একটি নক্ষত্র যখনই অস্তমিত হয়, তখনই তার সদৃশ অন্য একটি উজ্জ্বল হয়ে উদিত হয়। বর্তমান যুগে আমাদের পশ্চিমা দিগন্ত থেকে যে সকল উজ্জ্বলতম নক্ষত্র আত্মপ্রকাশ করেছে এবং যা এই প্রবাদের বাস্তব প্রতিফলন— "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন"— তিনি হলেন সম্মানিত উস্তাদ, মহৎ আল্লামা, মৌলিক চিন্তাধারার অধিকারী, শেখ মুহাম্মদ আল-হাজউই; মরক্কো সরকারের ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। তিনি তার রচনাবলীর মাধ্যমে ইলমের সেবায় নিজ সাদা হাত প্রসারিত করেছেন, যার খ্যাতি প্রতিটি মজলিসে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ তিনি সেগুলোকে 'আল-ফিকর আল-সামি ফি তারিখ আল-ফিকহ আল-ইসলামি' নামক কিতাব দিয়ে আরও শক্তিশালী করেছেন। এটি এমন একটি কিতাব যা আমি দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ করেছি এবং একে এর নামের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত পেয়েছি। আমি এর উপস্থাপনা ও লেখনশৈলীতে এবং ফিকহ শাস্ত্রের দলীল ও উদ্দেশ্যসমূহ এবং ইসলামের ইতিহাস ও মনীষীদের জীবনী থেকে এর সারসংক্ষেপ গ্রহণে মুগ্ধ হয়েছি। আমি এতে এমন বিষয়াদি দেখেছি যা কেবল এমন একজন আলেমের পক্ষেই আনা সম্ভব, যিনি শরীয়তের বিভিন্ন উৎস থেকে নির্মল পানি পান করে পরিতৃপ্ত হয়েছেন, যা ঘোলাটে ভাব ও মিশ্রণ থেকে মুক্ত। এমনকি তার চিন্তা থেকে উৎসারিত তার অভিমতগুলো স্বচ্ছ মুক্তোয় পরিণত হয়েছে, অতঃপর কলম তার আঙুল থেকে সেগুলোকে মূল্যবান মুক্তা হিসেবে বের করে এনেছে। আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত হোক তার ও তার কর্মের শ্রেষ্ঠত্ব। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যেন লেখকের কর্মসমূহ বৃদ্ধি পায় এবং তার আয়ু দীর্ঘ হয়।

লিখিত: মুহাম্মদ তাহের বিন আশুর, ৫ই রবিউস সানি, ১৩৪৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৯)
تقريظ المفتى الأول الحنفي بالديار التونسية، ونخبة العلماء الحنفية بها، العلامة النحرير المتفنن، سيدي محمد بن يوسف -الله يبقيه، ونصه:

بسم الله، ما شاء الله، حمدًا لمن أظهر مواهب العلماء بنتائج الأفكار، ومدارك الأنظار، وخلَّد مآثرهم على صفحات القلوب، وصحائف الأسفار، فتنافست في اجتناء فوائدها، واقتناء فرائدها، أرباب البصائر والاعتبار، على تداول الأزمَّة والأعصار، وصلاة وسلامًا على ما تلألأت شريعته الغراء ومجبته البيضاء، مطالع ومظاهر الحكم والأسرار، سيدنا ومولانا محمد تاج الرسالة، وعين الرحمة المنثالة، النبي الصوة المختار، وعلى آله وأصحابه مصابيح الهدى، وأعلام الاهتداء، أمناء الوحي والآثار، أولئك هم الفضلاء الأخيار.

وبعد، فإن لإيضاح الحقائق فضيلة ومزية، والشمس عن مدح المادح غنية، ولكن الاختراع في إبرازها، وتمييز صدورها من أعجازها، هي المزية الأولى، وبموارد التصنيف الأجدر والأولى، يستلفت أريحية الناظر بعاطفة مستجدة، وطارفة من أفانين البلاغة مستمدة، فلا يزال كلفًا بما فيه، مغتبطًا بمنازعه وماحيه، ودونك ما سمحت به الأيام، وأهداه واضعه تحفة للأعلام، وغرة في جبين عالم الإسلام، كتاب "الفكر السامي"، فقد كساه الاختراع حللًا عبقرية، وقلده الإبداع من الجواهر حليه، وخلعت عليه الإجادة بهاءها، ومدت إليه الإفادة أضواءها، ناهيك به من ذخيرة صانها الدهر لهذا العصر، ما لمحاسنها من حصر، ومدون أحكم تاريخ الفقه الإسلام وفصله، وميز كل طور من أطواره بما انتمى إليه ووصله، فجاء بحمد الله كتابًا حافلًا مفيدًا، وفنًّا من الفنون الشرعية مبتكرًا جديدًا، ترتاح له الأسماع والنفوس، ويقول مجتليه: لا عطر بعد عروس، حيا الله جامعه، المبدي بدائعه، ألا وهو العلم الفرد والحهبذ الدراكة الأوحد، مفخر التخوم المغربية، وحامل راية العلوم الشرعية والأدبية، العمدة الهمام، العلامة المفضال أبو عبد الله الشيخ، سيدي محمد الحجوي -شكر الله سعيه، وأدام حفظه ورعيه، فلقد تقدَّم لاستنباط هذا الفن العزيز من مشارعه، واستخصله استخلاص الإبريز من معاهده ومواقعه، فأفرده ورسمه،
তিউনিসিয়ার প্রথম হানাফী মুফতি এবং সেখানকার বরেণ্য হানাফী আলেমদের প্রশংসা ও অনুমোদন, যিনি হলেন দক্ষ ও বহুবিদ্যায় পারদর্শী আল্লামা সায়্যিদী মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ —আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন। তাঁর বক্তব্যটি নিম্নরূপ:

আল্লাহর নামে, আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। সেই সত্তার প্রশংসা যিনি চিন্তার ফলাফল ও অন্তর্দৃষ্টির পরিধির মাধ্যমে আলেমদের প্রতিভাকে বিকশিত করেছেন। তিনি তাঁদের কীর্তিকে অন্তরের পাতায় এবং কিতাবের পৃষ্ঠায় অমর করে রেখেছেন। ফলে যুগ ও কালের পরিক্রমায় প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার অধিকারী ব্যক্তিগণ এর উপকারিতা সংগ্রহে এবং এর অনন্য বিষয়াদি অর্জনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর উজ্জ্বল শরীয়ত এবং শ্বেতশুভ্র রাজপথ প্রজ্ঞা ও রহস্যের উদয়স্থল ও প্রকাশস্থল হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে; আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ, যিনি রিসালাতের মুকুট, অফুরন্ত রহমতের প্রস্রবণ এবং মনোনীত নবী। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা হিদায়াতের প্রদীপ, পথনির্দেশনার আলোকবর্তিকা এবং ওহী ও ঐতিহ্যের বিশ্বস্ত আমানতদার। তাঁরাই হলেন শ্রেষ্ঠ ও বরেণ্য ব্যক্তি।

অতঃপর, সত্যের উন্মোচন করা একটি মহৎ গুণ ও বৈশিষ্ট্য, যদিও সূর্য প্রশংসাকারীর প্রশংসা থেকে অমুখাপেক্ষী। তবে সত্যকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে নতুনত্ব এবং এর আদি-অন্তের পার্থক্য নিরূপণ করাই হলো প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং রচনার ক্ষেত্রে এটিই অধিকতর যোগ্য ও উত্তম পদ্ধতি। এটি নতুন এক অনুভূতির মাধ্যমে পাঠকের আগ্রহকে আকর্ষণ করে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা থেকে উপাত্ত গ্রহণ করে। ফলে পাঠক সবসময় এতে নিবিষ্ট থাকে এবং এর সূক্ষ্মতা ও গভীরতা দেখে আনন্দিত হয়। আপনার সামনে রয়েছে তা-ই, যা সময়ের পরিক্রমায় সহজলভ্য হয়েছে এবং লেখক একে বরেণ্য ব্যক্তিদের জন্য উপহার হিসেবে এবং ইসলামী বিশ্বের কপালে রাজতিলক হিসেবে পেশ করেছেন; আর তা হলো "আল-ফিকরুস সামী" কিতাবটি। উদ্ভাবনী শক্তি একে অসাধারণ পোশাক পরিধান করিয়েছে, সৃজনশীলতা একে অলঙ্কৃত করেছে মণি-মুক্তার অলঙ্কারে, পারদর্শিতা একে দান করেছে নিজস্ব সৌন্দর্য এবং উপকারিতা এর ওপর ছড়িয়ে দিয়েছে আপন আলো। এটি এমন এক অনন্য ভাণ্ডার যা কালচক্র এই যুগের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছিল, যার গুণাবলির কোনো ইয়ত্তা নেই। এটি এমন এক সংকলন যা ইসলামী ফিকহের ইতিহাসকে সুনিপুণভাবে বিন্যস্ত ও বিস্তারিত বর্ণনা করেছে এবং এর প্রতিটি স্তরকে তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে পৃথক করে দেখিয়েছে। আল্লাহর প্রশংসায় এটি একটি সমৃদ্ধ ও উপকারী কিতাব এবং শরয়ী বিদ্যাসমূহের মধ্যে একটি নতুন ও অভিনব শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর আলোচনায় কান ও মন প্রশান্ত হয় এবং এর পাঠক বলে ওঠে: "দুলহানের সাজসজ্জার পর আর কোনো সুগন্ধির প্রয়োজন নেই।" আল্লাহ এর সংকলককে দীর্ঘজীবী করুন, যিনি এর চমৎকার বিষয়গুলো প্রকাশ করেছেন; তিনি হলেন অদ্বিতীয় জ্ঞানতিলক, অনন্য ধীমান পণ্ডিত, মাগরিব অঞ্চলের গৌরব এবং শরয়ী ও সাহিত্যিক জ্ঞানসমূহের পতাকাবাহী, মহৎ আশ্রয়স্থল, বরেণ্য আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ শেখ সায়্যিদী মুহাম্মদ আল-হাজভী —আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী করুন। তিনি এই দুর্লভ বিদ্যাকে এর উৎসস্থল থেকে আহরণ করতে এবং এর বিভিন্ন স্থান থেকে খাঁটি সোনার মতো নিষ্কাশন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, অতঃপর একে স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছেন এবং সংজ্ঞায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأوضح مجمله وأبدى علمه، على أسلوب متين، وطراز ثمين، إلى تحرير، لم يحم حوله تحرير، وتحبير كأنه الروض النضير، شنف أعزه الله بما صنَّف، واستظهر بالغريب المصنف، نسأل الله سبحانه أن يعينه على أمثاله، ويحرس معاقد فضله وكماله، بمنِّه ونعمه.

حرره محب العلم وأهله، عبد الله محمد بن يوسف، المفتي الحنفي بالديار التونسية - لطف الله به، في "25" شوال سنة سبع وأربعين وثلاثمائة وألف.

تقريظ حافظ مصر وشيخ محدثيها النقَّاد مؤلف كتاب "الإيقاظ"، الذي أعجب به الحفاظ، وصاحب المكتبة العامة الشهيرة بمصر.

العلامة النحرير المتقن، سيدي أحمد رافع الحسين القاسمي الطهطاوي الحنفي -نفع الله به، ونصه:

بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله الذي هدانا لأقوم سبيل، وأنزل شريعته الغراء بالغة الحكمة واضحة الدليل، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المؤيد بالآيات الباهرة، والداعي إلى سعادتي الدنيا والآخرة، وعلى آله المتبعين سننه، وأصحابه المجاهدين في الله على بيننة.

أما بعد، فقد اطعلت على أجزاء من كتاب "الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي" لحضرة الأستاذ الفقيه الجليل، سيدي محمد بن الحسن الحجوي الثعالبي الفاسي، فألفيته كتابًا سلك في البحث عن تاريخ التشريع الإسلامي أحسن طريقة، ورمى عن قوس النظر السديد فأصاب الحقيقة، ومن أجلِّ مباحثه ما احتواه من تراجم كثيرة من حملة الشريعة الزاهرة، وذكر مآثرهم الجليلة الفاخرة، أورد كل هذا في عبارات رائقة وأساليب فائقة، فنشكره على هذه الهدية السنية شكرًا وافيًا، ونسأل الله تعالى أن يكثير من أمثاله، ويجعل عمله متقبلًا، وذخرًا باقيًا.

القاهرة، في يوم الأربعاء رابع من شوال من سنة تسع وأربعين وثلاثمائة وألف الهجرية، كتبه الفقير إليه سبحانه؛ أحمد رافع الحسيني القاسمي الطهطاوي الحنفي -عفا الله عنه.
এবং এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছেন ও তার জ্ঞানকে প্রস্ফুটিত করেছেন একটি সুদৃঢ় শৈলী ও মূল্যবান পদ্ধতিতে, এমন এক নিপুণ সম্পাদনার মাধ্যমে যার সমকক্ষ কোনো সম্পাদনা ইতোপূর্বে হয়নি। এর লিখনশৈলী যেন এক প্রফুল্ল উদ্যান। আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন তার এই রচনার মাধ্যমে যা কর্ণকুহরকে তৃপ্ত করেছে, এবং তিনি বিরল প্রামাণিক গ্রন্থসমূহের সাহায্য গ্রহণ করেছেন। আমরা আল্লাহ সুবহানাহুর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে এই জাতীয় আরও কাজে সাহায্য করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার ভিত্তিগুলোকে রক্ষা করেন।

এটি লিপিবদ্ধ করেছেন জ্ঞান ও জ্ঞানানুরাগীদের প্রিয়ভাজন, তিউনিসিয়া ভূখণ্ডের হানাফি মুফতি, আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ—আল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন, ১৩৪৭ হিজরির ২৫ শে শাওয়াল।

মিশরের হাফেজ এবং তাঁর সূক্ষ্মদর্শী মুহাদ্দিসগণের শায়খ, 'আল-ইকাজ' গ্রন্থের রচয়িতা—যা হাফেজগণকে মুগ্ধ করেছে—এবং মিশরের বিখ্যাত গণগ্রন্থাগারের স্বত্বাধিকারীর প্রশংসা ও অভিমত।

প্রাজ্ঞ ও সুদক্ষ আল্লামা, সাইয়্যেদ আহমদ রাফে আল-হুসাইনি আল-কাসিমি আত-তহতাবি আল-হানাফি—আল্লাহ তাঁকে দিয়ে উম্মাহর উপকার করুন। তাঁর বক্তব্য নিম্নরূপ:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সরলতম পথের দিশা দিয়েছেন এবং তাঁর প্রদীপ্ত শরিয়ত অবতীর্ণ করেছেন যা হিকমতে পরিপূর্ণ ও স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি, যিনি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি দ্বারা সমর্থিত এবং যিনি ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের দিকে আহ্বানকারী। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি যারা তাঁর সুন্নাতের অনুসারী এবং তাঁর সাহাবীবর্গের প্রতি যারা আল্লাহর পথে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর জিহাদ করেছেন।

অতঃপর, আমি মহান ফকিহ ও উস্তাদ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-হাজউয়ি আস-সাআলাবি আল-ফাসি-এর 'আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি' গ্রন্থের কিছু অংশ পাঠ করেছি। আমি একে এমন একটি কিতাব হিসেবে পেয়েছি যা ইসলামি আইনের ইতিহাসের গবেষণায় সর্বোত্তম পথ অনুসরণ করেছে এবং সঠিক অন্তর্দৃষ্টির ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপ করে সত্যকে বিদ্ধ করেছে। এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলোচনা হলো এতে প্রদীপ্ত শরিয়তের ধারক-বাহকগণের অসংখ্য জীবনী এবং তাদের মহান ও গৌরবময় অবদানসমূহের উল্লেখ। তিনি এ সবকিছুই চমৎকার শব্দশৈলী ও অনন্য পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। এই অনন্য উপহারের জন্য আমরা তাঁকে পূর্ণাঙ্গ কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর মতো মনীষী আরও বৃদ্ধি করে দেন এবং তাঁর এই কর্মকে কবুল করে একে অবিনশ্বর পাথেয় হিসেবে গণ্য করেন।

কায়রো, বুধবার, ৪ঠা শাওয়াল, ১৩৪৯ হিজরি। এটি লিখেছেন আল্লাহর মুখাপেক্ষী আহমদ রাফে আল-হুসাইনি আল-কাসিমি আত-তহতাবি আল-হানাফি—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩১)
تقريظ المجمع العلمي العربي بدمشق الشام على لسان مجلته بالجزء 8، من قلم عضوه العلامة الحقق ذي التآليف البديعة، الشيخ عبد القادر المغربي، ونصه:

النهضة العلمية في المغرب الأقصى، وشيء من آثارها الدالة عليها:

كلنا نعلم أن في تونس من بلاد المغرب نهضة علمية وأدبية، وكنا نتمنَّى مثله للجزائر ومراكش، فلم يخيّب الله ظنَّنَا، فقد أخذ يبلغنا من وقت ولآخر تارةً بالآثار العلمية القيمة التي يصنفها أبناء هذين وجود القطرين العظيمين، وتارة بما نسمعه من أفواه القادمين إلى بلادنا من ذينك البلدين وجود نهضة علمية، وقيام علماء مصلحين يعملون على تنوير بلادهم، وإن كان الدهر فجعنا بعضو مجتمعنا الكريم الأستاذ أبي شنب الجزائري، فقد عوَّض الله تلك البلاد عنه بالأساتذة الحجوي والكتابي والرجراجي والجزولي، وغيرهم من أبناء مراكش والجزائر، وإن للأستاذ محمد بن الحسن الحجوي الثعالبي "مندوب المعارف العامة في مملكة مراكش ووزيرها وأستاذ العلوم العالية بالقرويين" اهتمامًا عظيمًا بأمر نشر العلم في تلك البلاد، وتنبيه الأفكار إلى وجوب إحداث نهضة عملية تتمشى مع النهضات الأخرى في سائر الأقطار الأخرى العربية، وهو يعمل دون ملل في هذه السبيل، فيكتب ويؤلف ويخطب، ويلقي المحاضرات الممتعة في الموضوعات المختلفة.

ومن آثار قلمه ما أهداه إلى مجتمعنا العلمي وهو كتاب "الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي" ألقى المؤلِّف ملخص كثير منه بشكل محاضرات في نادي الخطابة الأدبي بالمدرسة الثانوية، وموضوعه: كيف نشأ الفقه الإسلامي، إلى أن صار لما هو عليه الآن، فبيَّن فيه كيف كان فقه العرب، ثم مرتبته من العلوم في الإسلام، وأطواره الأربعة التي تطوَّر فيها الإسلام.

‌‌1- طور الطفولية.

‌‌2- طور الشباب.

‌‌3- طور الكهولة.

‌‌4- طور المشيب والهرم.

ثم يعقب ذلك الطور العتيد طور التجديد، هذا إلى ما يتعلق بالاجتهاد والتقليد، وقد وشَّح المؤلف كتابه بتراجم المجتهدين الثلاثة عشر مجتهدًا، وهم الذين دونت مذاهبهم في صدر الإسلام، وتراجم فقهاء الصحابة والتابعين، ومن بعدهم من نخبة علماء المذاهب المقلدة، وبالجملة، فإن مضمون هذا
সিরিয়ার দামেস্কের আরবি বৈজ্ঞানিক একাডেমির প্রশংসা বাণী, যা তাদের সাময়িকীর অষ্টম খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে; এটি লিখেছেন একাডেমির সদস্য, অনন্য রচনাবলীর অধিকারী বিদগ্ধ গবেষক শায়খ আব্দুল কাদির আল-মাগরিবি। তার বক্তব্যটি নিম্নরূপ:

মাগরেবে আকসায় ইলমি জাগরণ এবং তার প্রমাণস্বরূপ কিছু নিদর্শনাদি:

আমরা সবাই জানি যে, মাগরিবের দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত তিউনিসিয়ায় একটি ইলমি ও সাহিত্যিক জাগরণ রয়েছে। আমরা আলজেরিয়া ও মারাক্কেশের জন্যও অনুরূপ প্রত্যাশা করতাম। আল্লাহ আমাদের সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রাখেননি। সময়ে সময়ে এই দুই মহান ভূখণ্ডের সন্তানদের রচিত মূল্যবান ইলমি রচনাবলি আমাদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে। আবার কখনো কখনো এই দুই দেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের মুখেও আমরা সেখানকার ইলমি জাগরণ এবং সংস্কারক আলেমদের উত্থানের কথা শুনতে পাই, যারা তাদের দেশকে আলোকিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও মহাকাল আমাদের সম্মানিত একাডেমির সদস্য আলজেরীয় উস্তাদ আবু শানাবকে কেড়ে নিয়ে আমাদের শোকাতুর করেছে, তবুও আল্লাহ তাআলা সেই দেশগুলোকে তার বিনিময়ে উস্তাদ হাজ্জাউই, কিতাবি, রাজরাজি, জাজুলি এবং মারাক্কেশ ও আলজেরিয়ার অন্যান্য সন্তানদের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছেন। মারাক্কেশ সালতানাতের সাধারণ শিক্ষা বিষয়ক প্রতিনিধি ও উজির এবং কারউইয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞানের শিক্ষক উস্তাদ মুহাম্মদ বিন হাসান হাজ্জাউই আস-সাআলিবি সেই দেশগুলোতে জ্ঞান প্রচারের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন। তিনি অন্যান্য সকল আরব ভূখণ্ডের জাগরণের সাথে তাল মিলিয়ে একটি বাস্তবমুখী জাগরণ সৃষ্টির আবশ্যকতা সম্পর্কে চিন্তাধারাকে জাগ্রত করছেন। তিনি ক্লান্তিহীনভাবে এই পথে কাজ করে যাচ্ছেন; তিনি লিখছেন, গ্রন্থ রচনা করছেন, খুতবা দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে উপভোগ্য বক্তৃতা প্রদান করছেন।

তার লেখনীর অন্যতম নিদর্শন—যা তিনি আমাদের বৈজ্ঞানিক একাডেমিকে উপহার দিয়েছেন—তাহলো "আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি" নামক গ্রন্থটি। লেখক এর অধিকাংশের সারসংক্ষেপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাহিত্যিক বাগ্মিতা ক্লাবে বক্তৃতা আকারে প্রদান করেছিলেন। এর বিষয়বস্তু হলো: ইসলামি ফিকহের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল এবং বর্তমানে এটি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে সেখানে কীভাবে উপনীত হলো। এতে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, আরবদের ফিকহ কেমন ছিল, এরপর ইসলামে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এর মর্যাদা কী, এবং যে চারটি স্তরের মধ্য দিয়ে ফিকহ বিবর্তিত হয়েছে।

‌‌১- শৈশবকাল।

‌‌২- যৌবনকাল।

‌‌৩- প্রৌঢ়ত্বকাল।

‌‌৪- বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ততার কাল।

এরপর এই ভবিষ্যৎ স্তরের অনুগামী হবে সংস্কারের স্তর। এর পাশাপাশি এতে ইজতিহাদ ও তাকলিদ সংক্রান্ত বিষয়াদিও রয়েছে। লেখক তার গ্রন্থটিকে তেরোজন মুজতাহিদ ইমামের জীবনী দিয়ে অলঙ্কৃত করেছেন, যাদের মাযহাবসমূহ ইসলামের প্রাথমিক যুগে সংকলিত হয়েছিল। এছাড়াও এতে সাহাবী ফকিহগণ, তাবেয়ীগণ এবং পরবর্তী সময়ের মাযহাবসমূহের শ্রেষ্ঠ আলেমদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংক্ষেপে, এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الكتاب فلسفة تاريخية أصولية للفقه الإسلامي، وتاريخ لأشهر مشاهير فقهاء الإسلام، ففيه تبيان لأصول الاجتهاد، وتدريب عليه، مع بيان المذاهب الأربعة، مملوء بالفوائد التي تتعلق بذلك جميعه.

فالقارئ الفطن يفهم مما تقدَّم فضل الأستاذ المؤلف، ومبلغ الحاجة إلى تأليفه، لا في البلاد المغربية فقط، بل في البلاد الإسلامية التي نهضت اليوم من مرقدها، تبغي لنفسها مكانًا اجتماعيًّا راقيًا يتلاءم مع الأمكنة التي تتبوؤها أمم العالم، وهذا وكتاب "الفكر السامي" المذكور، يتألَّف من أربعة أرباع، كل ربع منها يتضمَّن طورًا من الأطوار الأربعة الآنفة الذكر، وقد طبع منها ربعان فقط، كل منهما في جزء مستقل. "الربع الأول" طور الطفولية، من بعثة النبي صلى الله عليه وسلم إلى يوم وفاته، "والربيع الثاني" طور الشباب، من زمان الخلفاء الراشدين إلى آخر القرن الثاني. أهدى المؤلف إلى مجمعنا هذين الربعين أو الجزئين الأول منهما في "160" صفحة، والثاني في "340" صفحة، وقد طبع في مطبعة النهضة بتونس، وإنا لنرجو أن يوفق المؤلف إلى طبع الربعين الأخيرين.

‌‌2- ومن آثار الأستاذ الحجوي المهداة إلينا "المحاضرة الرباطية في إصلاح تعليم الفتيات في الديار المغربية" وقد ألقى الأستاذ هذه المحاضرة في معهد الدروس العليا بالمؤتمر الذي انعقد برباط الفتح سنة 1922، وقد نشرتها جريدة النهضة التونسية، ومن يوم إلقائها ونشرها تقدم: تعليم النبات بسرعة مدهشة، حتى في المدينة التي كانت متعصبة كفاس، كان عدد التلميذات "374"، فبلغ الآن نحو "1400" تلميذة رغمًا عن معارضة بعض الأعيان في ذلك، عندما سمعوا المحاضرة تلقى جهرًا في المؤتمر.

وكل من يهمه مطالعة موضوع المرأة المسلمة وتعليمها، ينبغي له مطالعة هذه المحاضرة المفيدة، وقد طالعتها واستفدت منها.

‌‌3- ثم رسالة تتضمَّن المحاضرات التي ألقيت في المؤتمر سنة 1924، والخطب التي منها خطبة للمؤلف، ثم قال: ومن مضامين هذه الرسالة يتبيّن للقارئ مبلغ النهضة العلمية في المغرب الأقصى، وحسن اتجاهها إلى ما يرقِّي
বইটি ইসলামি ফিকহের একটি ঐতিহাসিক ও উসূলি দর্শন এবং ইসলামের সর্বাধিক প্রখ্যাত ফকিহগণের ইতিহাস। এতে ইজতিহাদের মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা এবং এর প্রশিক্ষণ রয়েছে, সাথে চার মাযহাবের বর্ণনাও রয়েছে। এটি এই সংশ্লিষ্ট যাবতীয় উপকারে ভরপুর।

বিচক্ষণ পাঠক পূর্বোক্ত আলোচনা হতে লেখক উস্তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর এই রচনার প্রয়োজনীয়তার মাত্রা উপলব্ধি করতে পারবেন। এটি কেবল মরক্কো অঞ্চলেই নয়, বরং সেই সকল মুসলিম দেশসমূহেও প্রয়োজনীয় যেগুলো আজ তাদের দীর্ঘ তন্দ্রা হতে জেগে উঠেছে এবং বিশ্বের জাতিসমূহের মাঝে নিজেদের জন্য একটি উন্নত সামাজিক অবস্থান আকাঙ্ক্ষা করছে। এটি এবং উল্লিখিত "আল-ফিকর আল-সামি" বইটি চারটি ভাগে বিভক্ত, যার প্রতিটি ভাগ উপরে উল্লিখিত চারটি যুগের একটি করে যুগকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে কেবল দুটি ভাগ মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রতিটি স্বতন্ত্র খণ্ডে। "প্রথম চতুর্থাংশ" হলো শৈশবকাল, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি হতে তাঁর ওফাতের দিন পর্যন্ত। "দ্বিতীয় চতুর্থাংশ" হলো যৌবনকাল, যা খুলাফায়ে রাশেদীনের সময়কাল হতে দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত। লেখক আমাদের মজলিসে এই দুটি ভাগ বা প্রথম দুটি খণ্ড উপহার দিয়েছেন; প্রথমটি ১৬০ পৃষ্ঠার এবং দ্বিতীয়টি ৩৪০ পৃষ্ঠার। এটি তিউনিসিয়ার নাহদা প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়েছে। আমরা আশা করি লেখক শেষোক্ত দুটি ভাগ মুদ্রণের তাওফিক লাভ করবেন।

‌‌২- এবং উস্তাদ হাজাউয়ির পক্ষ থেকে আমাদের নিকট প্রেরিত উপহারসমূহের মধ্যে রয়েছে "মরক্কো অঞ্চলে নারী শিক্ষার সংস্কার বিষয়ে রাবাতীয় বক্তৃতা"। উস্তাদ ১৯২২ সালে রাবাতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উচ্চতর শিক্ষা ইনস্টিটিউটে এই বক্তৃতাটি প্রদান করেন। তিউনিসীয় নাহদা পত্রিকা এটি প্রকাশ করে। এটি প্রদান এবং প্রকাশের পর হতে নারী শিক্ষা বিস্ময়কর দ্রুততায় অগ্রসর হয়েছে, এমনকি ফেজের মতো কট্টরপন্থী শহরেও যেখানে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭৪ জন, বর্তমানে তা প্রায় ১৪০০ জনে পৌঁছেছে; যদিও সম্মেলনে প্রকাশ্যে এই বক্তৃতা শোনার পর কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি এর বিরোধিতা করেছিলেন।

মুসলিম নারী ও তাদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যাদের অধ্যয়নের আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য এই উপকারী বক্তৃতাটি পাঠ করা উচিত। আমি এটি পাঠ করেছি এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছি।

‌‌৩- এরপর একটি পুস্তিকা রয়েছে যাতে ১৯২৪ সালের সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তৃতাগুলো এবং বিভিন্ন ভাষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে একটি লেখকের ভাষণ। এরপর তিনি বলেন: এই পুস্তিকার বিষয়বস্তু থেকে পাঠকের নিকট মরক্কোর জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের মাত্রা এবং উন্নতির পথে এর সুন্দর দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفكر، ويثقِّف العقول.

‌‌4- رسالة تتضمن محاضرة الأستاذ الحجوي، وزير المعارف المشار إليه في المسامرات "المحاضرات" بحاضرة فاس، وموضوعها: "مستقبل تجارة المغرب" وقد ضمَّنَها أفانين من الأحوال التجارية من الوجهة الدينية والاقتصادية والتاريخية، وقد أوَّل كلام المؤرخ ابن خلدون في مقدمة تاريخه "إن التجارة نازلة عن خلق الرؤساء، وبعيدة عن المروءة" فقال: إن المراد بها تجارة أولئك الضواطرة الذين ينزلون الأسواق، وليس معهم آداب التجارة وعلومها، سوى الختل والخديعة.

الإمضاء المغربي

ثم جاء مكتوب خاص من حضرة العلامة المحقق السيد عبد القادر المغربي الدمشقي المذكور، ونصه:

بسم الله، إلى السيد السند الأجلِّ، مولانا الأستاذ محمد الحجوي الثعالبي -حرسه الله تعالى آمين.

بعد حمد الله والصلاة على نبيه، أعرض أنها وصلت هديتكم، وهي الجزء الثالث من تأليفكم "الفكر السامي"، وكنتم منذ حين أرسلتم إلينا الجزءين الأولين باسمنا، وآخرين باسم المجمع، إلى أن قال: ولعلي أوفق إلى أن أكتب عليه كتابة توفيه حقَّه، فإنه يعلم الله خير ما كتب في عصرنا هذا عن الدين الإسلامي، وسر التشريع فيه. وقد طالعت الجزءين الأولين، فأعجبني منهما حسن التنسيق، وجودة الاستنتاج، وغزارة المادة، وجزالة الفائدة، فلا زلت أيها السيد منارًا يهتدى به، ويستضاء بنور علمه، وأنا بعد لم أطالع الجزاء الثالث، فسأطالعه، وأنتظر الجزء الرابع حتى إذ وصلني عدت، فكتبت في تقريظ الكتاب ما يفي بحقه إن شاء الله، إلى أن قال: وأختم كتابي بالدعاء والسلام. الداعي المغربي.
চিন্তা ও বুদ্ধিকে সংস্কৃতিমণ্ডিত করে।

‌‌৪- একটি পুস্তিকা যাতে রয়েছে মরক্কোর ফাস শহরে অনুষ্ঠিত 'মুসামারাত' (বক্তৃতা অনুষ্ঠান) এ পঠিত শিক্ষামন্ত্রী উস্তাদ আল-হাজভীর একটি ভাষণ, যার বিষয়বস্তু হলো: "মরক্কোর বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ"। তিনি এতে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাণিজ্যিক পরিস্থিতির নানা দিক তুলে ধরেছেন। তিনি ঐতিহাসিক ইবনে খালদুনের তাঁর ইতিহাসের ভূমিকায় বর্ণিত উক্তি—"নিশ্চয়ই বাণিজ্য নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের স্বভাবজাত মর্যাদার পরিপন্থী এবং তা পৌরুষদীপ্ত আভিজাত্য থেকে দূরে"—এর ব্যাখ্যা প্রদান করে বলেছেন: এর দ্বারা ঐ সকল নীচ ও অদক্ষ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যকে বোঝানো হয়েছে যারা বাজারে নামে কিন্তু যাদের কাছে প্রতারণা ও ছলচাতুরী ছাড়া বাণিজ্যের কোনো শিষ্টাচার বা জ্ঞান নেই।

আল-মাগরিবির স্বাক্ষর

এরপর উল্লিখিত মুহাক্কিক আল্লামা সাইয়্যেদ আব্দুল কাদির আল-মাগরিবী আদ-দিমাশকির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ পত্র আসে, যার ভাষ্য নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহ, মহান আশ্রয়স্থল আমাদের মুরব্বি উস্তাদ মুহাম্মদ আল-হাজভী আস-সা’লাবীর প্রতি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেফাজত করুন, আমীন।

আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নবীর ওপর দরূদ পাঠের পর নিবেদন এই যে, আপনার উপহারটি পৌঁছেছে, যা হলো আপনার রচিত "আল-ফিকর আস-সামী" গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড। আপনি ইতিপূর্বে আমাদের নামে প্রথম দুই খণ্ড এবং একাডেমির নামে আরও দুটি খণ্ড পাঠিয়েছিলেন। চিঠির এক পর্যায়ে তিনি বলেন: সম্ভবত আমি এই কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু লিখতে সক্ষম হব যা এর হক আদায় করবে; কারণ আল্লাহ সাক্ষী, আমাদের এই যুগে ইসলাম ধর্ম এবং এর শরয়ি বিধানের নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে তার মধ্যে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। আমি প্রথম দুই খণ্ড পাঠ করেছি; এর চমৎকার বিন্যাস, উন্নত মানের গবেষণা-লব্ধ সিদ্ধান্ত, উপকরণের প্রাচুর্য এবং গভীর উপযোগিতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। হে সাইয়্যেদ! আপনি সর্বদা এমন এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুন যার মাধ্যমে মানুষ সঠিক পথ খুঁজে পায় এবং যাঁর জ্ঞানের আলোয় অন্যরা আলোকিত হয়। আমি এখনও তৃতীয় খণ্ডটি পড়িনি, অচিরেই তা পড়ব। আমি চতুর্থ খণ্ডের প্রতীক্ষায় রইলাম, যাতে সেটি হাতে পাওয়ার পর আমি পুনরায় এই কিতাবের এমন এক উচ্চসিত প্রশংসা লিখতে পারি যা এর যথাযোগ্য মর্যাদা দান করবে, ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে তিনি বলেন: দোয়া ও সালামের মাধ্যমে আমার পত্র সমাপ্ত করছি। আপনার দোয়া প্রার্থী—আল-মাগরিবী।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
تقريظ وزير المعارف بدولة الشام، ورئيس المجتمع العلمي العربي، العلامة النابغة ذي التآليف السائرة مسيرة الشعاع، أبي عبد الله محمد كرد علي -حرسه الله، ونصه:

دولة سورة وزارة المعارف، الديوان رقم 6، لحضرة الأستاذ المحقق سيدي محمد الحسن الحجوي الثعالبي وزير المعارف في المملكة الشريفة المحترم.

سيدي الأستاذ، وصلني الجزء الثالث من "الفكر السامي" الذي خطته براعتك، وأملاه علمك، وإن عالم الأدب العربي ليرحب بكل سفر يصدر من معدن فضلك، ويغتبط بأياديك البيضاء على العلم في بلادك، وفقني الله وإياك إلى ما فيه نفع المسلمين والعرب بمنِّه وكرمه.

دمشق في 13 ذي العقدة 1349، "1" آذار 1931.

وزير معارف سورية، ورئيس المجمع العلمي العربي، محمد كرد علي.

تقريظ العضو المتطوع بمجلس القروين، العضو بالجمع العلمي العربي الدمشقي.

العلامة المحدث الشيخ أبي عبد الأحد عبد الحي بن عبد الكبير الكتاني الشهير، ونصه:

الحمد لله، إن أحسن ما تحلّت به الآذان والمسامع، واتخذ زينة للمحافل والمجامع، ما كان من الأوضاع جديد الاختراع، وأجادته يد الإبداع، ومن ذلك ما جادت به قريحة العبقري الأوحد، السري النابه الأسعد، الحلاحل العلامة، الذي جعل ضروب الرفعة مقامه، وابتزاز الفرائد اهتمامه، الأستاذ المشارك النابغة، مندوب المعارف أبي عبد الله محمد الحجوي، أقرَّ الله به أعين البلاد، وزيَّنَ به سماء الإصعاد، ورمى بقوسه الباتر عيون اهل الفساد والإفساد، في كتابه المعجب، فقد اجتليت مقاصد أجزائه الأولى، وتتبعت مضامينه المثلى، فوجدته أجاد فيها وأفاد وحرَّر وهذَّب وزاد، وجمع واختصر وقرر، وفصَّل وبوَّب وحرَّر.
সিরিয়া রাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী এবং আরবী বৈজ্ঞানিক পরিষদের সভাপতি, আলোকরশ্মির ন্যায় বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ রচনাবলীর অধিকারী অনন্য প্রতিভাধর আলেম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ কুর্দ আলী (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) এর প্রশংসা বাণী, যার পাঠ নিম্নরূপ:

সিরিয়া রাষ্ট্র, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কার্যালয় নম্বর ৬, মুহতারাম শরিফিয়া সাম্রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মুহাক্কিক উস্তাদ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-হাসান আল-হাজভী আস-সালাবী মহোদয়ের সমীপে।

শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, আপনার নিপুণ হাতে লিখিত এবং আপনার জ্ঞানসমৃদ্ধ "আল-ফিকরুস সামী" গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডটি আমার নিকট পৌঁছেছে। নিশ্চয়ই আরবী সাহিত্য জগত আপনার ফযীলতের খনি হতে প্রকাশিত প্রতিটি গ্রন্থকে সাদরে গ্রহণ করে এবং আপনার দেশে জ্ঞানের প্রসারে আপনার মহৎ অবদানের জন্য গর্ববোধ করে। আল্লাহ তাআলা তাঁর করুণা ও অনুগ্রহে আমাকে এবং আপনাকে মুসলিম ও আরবদের কল্যাণকর কাজের তাওফিক দান করুন।

দামেস্ক, ১৩ই জিলকদ ১৩৪৯ হিজরী, ১লা মার্চ ১৯৩১ ঈসায়ী।

সিরিয়ার শিক্ষামন্ত্রী এবং আরবী বৈজ্ঞানিক পরিষদের সভাপতি, মুহাম্মদ কুর্দ আলী।

কারাউয়্যিন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবী সদস্য এবং দামেস্কের আরবী বৈজ্ঞানিক পরিষদের সদস্যের প্রশংসা বাণী। প্রখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস শায়খ আবু আবদিল আহাদ আবদুল হাই বিন আবদিল কাবীর আল-কাত্তানী, যার পাঠ নিম্নরূপ:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। কান ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের জন্য সবচেয়ে সুন্দর অলঙ্কার এবং সভা ও সমাবেশসমূহের জন্য সর্বোত্তম সৌন্দর্য হলো সেই সকল নব উদ্ভাবিত রচনাশৈলী, যা সৃজনশীলতার হাত অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সেই অনন্য প্রতিভাশালী, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, প্রখ্যাত ও সৌভাগ্যবান মহান আলেমের মেধা হতে প্রসূত কর্ম—যিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরকে নিজের অবস্থানে পরিণত করেছেন এবং দুর্লভ জ্ঞানসমূহ আহরণকে নিজের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়ে পরিণত করেছেন—সেই অসাধারণ প্রতিভাধর উস্তাদ এবং শিক্ষা প্রতিনিধি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-হাজভী। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দেশের মানুষের চক্ষু শীতল করুন, তাঁকে উন্নতির আকাশের অলঙ্কার বানান এবং তাঁর তীক্ষ্ণ ধনুকের তীরের মাধ্যমে ফাসাদ ও অনিষ্ট সৃষ্টিকারীদের চক্ষু বিদ্ধ করুন। তাঁর এই বিস্ময়কর গ্রন্থটি সম্পর্কে আমি বলতে চাই যে, আমি এর প্রথম খণ্ডগুলোর উদ্দেশ্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এর আদর্শ বিষয়বস্তুগুলো অনুসরণ করেছি। আমি তাঁকে এতে অত্যন্ত নিপুণতা ও উপযোগিতা প্রদর্শনকারী হিসেবে পেয়েছি; তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তা পরিমার্জন ও সুশোভিত করেছেন এবং এতে নতুনত্ব যোগ করেছেন, তথ্য সংগ্রহ ও সংক্ষেপ করেছেন, মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন এবং বিস্তারিত আলোচনা ও অধ্যায় বিন্যাসের মাধ্যমে তা সুবিন্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فهكذا هكذا إلا فلا لا.

وإن موضوعًا شيقًا كالموضوع الذي انتدب له المواضيع الجديرة باهتبال العملة وإصغاء النقلة، واستفادة المستفيدين، وإقبال المقبلين؛ لأن فقهنا الإسلامي أحسن فقه، وأفضل قانون، وأكمل وحي يعمل به ليوم المنون، فالعلم بتاريخه يزيد وقعًا في القلوب، وشكرًا لواضعه علام الغيوب، ومبلغه أفضل نبي وأكبر مشرّع، أنالك أشرف مطلوب، فإذا ضمَّ لنفاسة الموضوع جزالة الترصيف والإتقان المرفوع، كأن الناظر والمستمع كالمستنشق أزهار بستان، والمستجلي عرائس أذهان، ونتائج قرائح وأطيب أفنان، فهاكه كتابًا عز مطلبًا، وجل رتبًا، فخذه من الشاكرين، واستجل محاسنه للنهابهين، والحمد لله وكفى وسلام على عباده الذين اصطفى.

9 ذي القعدة "1349"، عبد الحي الكتاني.

تقريظ قاضي الجديدة سابقًا ومفتى فاس، وخطيب حرمها الإدريسي، العلامة المحقق سيدي العابد السودي القرشي حفظه الله، ونصه:

الحمد لله المانح لذوي الأفكار السامية من مواهب العلوم والمعارف، ما سنح لهم به الدخول إلى روضة الرقائق واللطائف، ذات التربية الباهرة، والمعادن الفاخرة، والزهور العاطرة، المرصَّعة الجوانب الشاسعة، والزوايا الواسعة، بالأشجار اليانعة الأغصان، المثمرة بأنواع الفواكه الحسان، صنوان وغير صنوان، فسبحان مولانا الذي هيأ لمن شاء من ذوي الأفكار السامية أسباب الاقتطاف من الزهور الجميلة الأوصاف، اليانعة بروض المعارف والعلوم، ومنحهم الاقتدار بمعونته على استخراجهم له من منطوق ومفهوم، وإبراز ما خفي من مكنون مبانيها، واستخلاص ما حوته من اليواقيت في خبايا معادنها، إلى أن اجتمع لديهم بحسن وضعه، ومهارة صنعه، عقول ذوي العقول، ويسلب كل ذي لب، بما أودع فيه كل ما يؤمل على الاستغراق والشمول، والصلاة والسلام على سيدنا محمد القائل "أنا مدينة العلم وعليّ بابها"، وعلى آله وأصحابه، وكل من تعلق من أمته بعرى العلوم وأسبابها.

وبعد، فيقول أسير كسبه العبد الفقير إلى مولاه، العابد بن أحمد السودي القرشي، لا يزال يرفل في ظل رحمة مولاه ويمشي: لما ساعدتني الأقدار الإلهية
এমনি হওয়া উচিত, এমনি হওয়া উচিত, তা না হলে নয়।

নিশ্চয়ই একটি আকর্ষণীয় বিষয়, যেমন এই বিষয়টি যার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের কর্মতৎপরতা, বর্ণনাকারীদের মনোযোগ, জ্ঞানপিপাসুদের ফায়দা লাভ এবং আগ্রহীদের অগ্রগমন কাম্য; কেননা আমাদের ইসলামী ফিকহ হলো সর্বোত্তম ফিকহ, শ্রেষ্ঠতম আইন এবং সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ওহী, যার ওপর মৃত্যু পর্যন্ত আমল করা হয়। সুতরাং এর ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অন্তরে এর প্রভাব বৃদ্ধি করে এবং এর প্রবর্তক অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়িয়ে দেয়, আর এর প্রচারক হলেন সর্বোত্তম নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ শরীয়ত প্রণেতা, যিনি আপনাকে মহত্তম উদ্দেশ্য অর্জনে সাহায্য করেছেন। অতঃপর যখন বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের সাথে রচনার সাবলীলতা ও উচ্চতর নিপুণতা যুক্ত হয়, তখন পাঠক ও শ্রোতা যেন কোনো উদ্যানের ফুলের সুবাস গ্রহণকারী এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সৌন্দর্য ও মেধার ফসল ও উৎকৃষ্ট শাখার অবলোকনকারী হয়ে ওঠে। সুতরাং এই নিন এক কিতাব, যার অনুসন্ধান মেলা ভার এবং যার মর্যাদা অতি সুউচ্চ; একে কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করুন এবং প্রজ্ঞাবানদের নিকট এর সৌন্দর্য তুলে ধরুন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি।

৯ যিলকদ ১৩৪৯ হিজরি, আব্দুল হাই আল-কাত্তানি।

জাদিদার প্রাক্তন কাজী, ফাস-এর মুফতি এবং তার ইদ্রিসী হারামের খতিব, বিজ্ঞ গবেষক সায়্যিদী আল-আবিদ আস-সুদী আল-কুরাইশী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর প্রশংসা বাণী, যার পাঠ নিম্নরূপ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উচ্চতর চিন্তার অধিকারীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন প্রতিভা দান করেন, যা তাদের জন্য সূক্ষ্ম ও আধ্যাত্মিক রহস্যের উদ্যানে প্রবেশের পথ সুগম করে দেয়; যা চমৎকার লালন-পালন, মূল্যবান খনি এবং সুগন্ধি ফুলে সুশোভিত, যার সুবিস্তৃত প্রান্ত এবং প্রশস্ত আঙিনাগুলো সজীব ডালপালা বিশিষ্ট বৃক্ষরাজিতে ঘেরা, যা বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু ফলে ফলবতী—একই মূল থেকে উৎপন্ন হোক বা ভিন্ন মূল থেকে। সুতরাং পবিত্র সেই মহান প্রতিপালক, যিনি উচ্চতর চিন্তাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেছেন, তার জন্য সুন্দর গুণসম্পন্ন ফুল আহরণের মাধ্যমগুলো সহজ করে দিয়েছেন, যা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদ্যানে সজীব। আর তিনি তাঁর সাহায্যে তাদেরকে এই সক্ষমতা দিয়েছেন যেন তারা এর শব্দ ও মর্ম থেকে অর্থ আহরণ করতে পারে, এর কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা নিগুঢ় রহস্যগুলো প্রকাশ করতে পারে এবং এর খনির অন্তরালে থাকা মণি-মুক্তাগুলো সংগ্রহ করতে পারে; এমনকি তাদের উত্তম বিন্যাস ও নিপুণ কারুকার্যের মাধ্যমে তা জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে আকৃষ্ট করে এবং এর অন্তর্ভুক্ত ব্যাপকতা ও পূর্ণাঙ্গতার কারণে প্রতিটি বিবেকবান ব্যক্তিকে বিমোহিত করে। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি বলেছেন, "আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তার দরজা," এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং তাঁর উম্মতের সেই সকল ব্যক্তির প্রতি যারা জ্ঞানের রজ্জু ও উপায়সমূহের সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন।

অতঃপর, নিজের কর্মের নিগড়ে বন্দি, তাঁর রবের মুখাপেক্ষী বান্দা আবিদ ইবনে আহমদ আস-সুদী আল-কুরাইশী বলছেন—যিনি সর্বদা তাঁর রবের রহমতের ছায়ায় ধন্য হয়ে পথ চলছেন: যখন ঐশ্বরিক তাকদীর আমাকে সাহায্য করল...