(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ديكارت مبادئ الفلسفة القسم: علوم أخرى
الكتاب: ديكارت مبادئ الفلسفة
المؤلف: د/ عثمان أمين
الناشر: دار الثقافة للنشر والتوزيع
الطبعة: -
عدد الصفحات: 107
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ডেসকার্টেস: দর্শনের নীতিমালা বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞান
বই: ডেসকার্টেস: দর্শনের নীতিমালা
লেখক: ড/ উসমান আমিন
প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ প্রকাশনী ও পরিবেশনী
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمات
إهداء المترجم
دواعي نشر كتاب المبادئ…إهداء المترجم:
تقديم بقلم مترجم الكتاب إلى العربية:
1- دواعي نشر كتاب المبادئ:
كتاب "مبادئ الفلسفة" الذي يسعدني اليوم أن أقدمه إلى قراء العربية أحد المؤلفات الفلسفية التي ما تزال ذات مكانة ممتازة، لا في تاريخ الفلسفة الديكارتية فحسب، بل في تاريخ الفلسفة على العموم. ألفه صاحبه على أثر الحملة العنيفة التي شنها عليه التقليديون من أنصار الفلسفة المدرسية، تلك الحملة التي لم تقتصر على اختيار ميدانها في وطنه فرنسا، بل تجاوزتها إلى هولندا. ولقد أشار الفيلسوف إلى هذه المعركة التي لا هوادة فيها حين كتب إلى صديق له يقول: لقد صممت على أن أكتب مبادئ فلسفتي قبل أن أبرح هذا البلد، وربما نشرتها قبل انقضاء عام. وقصدي أن أكتب عرضا مرتبا لدروس من فلسفتي في صورة دعاوى أقتصر فيها على ذكر جميع النتائج التي انتهيت إليها، والدواعي الحقيقية لها. وهذا أمر أظنني أستطيع أداءه في كلمات قلائل، وأود أن أطبع في الكتاب نفسه دروسا في الفلسفة التقليدية كفلسفة الأخ "أوستاش" مع تعقيباتي على كل مسألة.... وربما وازنت في النهاية بين الفلسفتين المتعارضتين، ولكني أسألك ألا تذكر لأحد شيئا عن قصدي هذا حتى يتم لي نشر ميتافيزيقاي.
بعد ذلك بقليل نشر ديكارت ميتافيزيقاه التي أشار إليها في العبارة السابقة، وهي كتابه "التأملات في الفلسفة الأولى" وحدث أن ألف الأب "بوردان"
ভূমিকাসমূহঅনুবাদকের উৎসর্গ'মাবাদি' (মূলনীতি) গ্রন্থটি প্রকাশের কারণসমূহ…অনুবাদকের উৎসর্গ:
বইটির আরবি অনুবাদকের পক্ষ থেকে উপস্থাপনা:
১- 'মাবাদি' (মূলনীতি) গ্রন্থটি প্রকাশের কারণসমূহ:
"মাবাদিউল ফালসাফাহ" (দর্শনের মূলনীতি) গ্রন্থটি আজ আরবি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি এমন একটি দার্শনিক রচনা যা আজও এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী; কেবল দেকার্তীয় দর্শনের ইতিহাসেই নয়, বরং দর্শনের সাধারণ ইতিহাসেও। এর লেখক এটি রচনা করেছিলেন রক্ষণশীল স্কলাস্টিক দর্শনের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত একটি তীব্র আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায়। সেই আক্রমণ কেবল তাঁর নিজ দেশ ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা নেদারল্যান্ডস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এই আপসহীন সংগ্রামের প্রতি ইঙ্গিত করে দার্শনিক তাঁর এক বন্ধুকে লিখেছিলেন: "আমি এই দেশ ত্যাগ করার আগেই আমার দর্শনের মূলনীতিগুলো লিখে ফেলার সংকল্প করেছি এবং হয়তো এক বছর শেষ হওয়ার আগেই তা প্রকাশ করব। আমার উদ্দেশ্য হলো আমার দর্শনের পাঠগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল উপস্থাপনায় উপস্থাপন করা, যা দাবির আকারে হবে। সেখানে আমি কেবল আমার উপনীত হওয়া সমস্ত ফলাফল এবং সেগুলোর প্রকৃত কারণসমূহ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব। আমার ধারণা, আমি এটি অল্প কিছু শব্দের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে পারব। আমি এই গ্রন্থেই রক্ষণশীল দর্শনের পাঠগুলোও মুদ্রণ করতে চাই, যেমন ভাই 'ইউস্টাস'-এর দর্শন, এবং এর সাথে প্রতিটি বিষয়ে আমার নিজস্ব মন্তব্য যুক্ত করতে চাই... সম্ভবত শেষে আমি এই দুটি পরস্পরবিরোধী দর্শনের মধ্যে একটি ভারসাম্য বা তুলনা করব। তবে আমি তোমাকে অনুরোধ করছি যে, যতক্ষণ না আমি আমার অধিবিদ্যা প্রকাশ করি, ততক্ষণ আমার এই উদ্দেশ্যের কথা কাউকে না বলতে।" এর কিছুকাল পরেই দেকার্ত তাঁর সেই অধিবিদ্যা প্রকাশ করেন যার দিকে তিনি পূর্বোক্ত উক্তিতে ইঙ্গিত করেছিলেন, সেটি ছিল তাঁর গ্রন্থ "প্রথম দর্শন নিয়ে ধ্যান" (মেডিটেশনস অন ফার্স্ট ফিলোসফি)। সেই সময়ে ফাদার "বোর্ডিন"...
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كتابا سخر فيه من التأملات الديكارتية، عاقدا العزم -كما يقول- "على أن يضيع ما لمؤلفها من شهرة في روما وفي كل جهة أخرى"، وتساءل اليسوعيون عن موقف ديكارت من تحدي "بوردان" وعهدوا إلى ألب "مرسن" أن يكشف لهم عن نية ديكارت. فكتب ديكارت ردا عليه يقول: "لقد عدلت عما كنت نويته من نقض تلك الفلسفة -أي: المدرسية- لأني أرى أن مجرد نهوض فلسفتي يقوض الفلسفة المدرسية تقويضا لا تحتاج بعده إلى تفنيد آخر"1.
وإذن فقد قنع ديكات بتقويض الفلسفة المدرسية بنشر كتابه "مبادئ الفلسفة" متوخيا فيه أن يبسط مذهبه "على ترتيب خاص يجعل تعلمه ميسورًا" ومؤملا أن "يتحقق الناس بالتجربة أن آراءه ليس فيها شيء مما قد يخشاه رجال التعليم، بل سيجدوا فيها نفعا وإصلاحا كبيرا".
وظهر الكتاب الموعود بأمستردام في 20 يوليو سنة 1644 بعنوان هذا نصه: "مبادئ فلسفة رينيه ديكارت".
Renati Decartes principia Philosophiae.
كتبه ديكارت باللغة اللاتينية، وقام الأب "بيكو" فوضع للكتاب فرنسية راجعها ديكارت ونشرت بباريس سنة 1947 بالعنوان التالي:
Principes de la philosohie; ecrits en latin par Rene Descartes et traduits en francais par un de ses amis.
وبعث ديكارت إلى مترجم الكتاب رسالة هامة جعلها بمثابة المقدمة للترجمة الفرنسية، أوضح فيها الخلاف بين الفلسفة القديمة والفلسفة الجديدة،
--------------------------------------------
তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন যাতে তিনি ডিকার্টীয় ধ্যান-ধারণাকে (Meditations) উপহাস করেন, এবং তিনি সংকল্প করেন—যেমনটি তিনি বলেন—"রোমে এবং অন্য সব স্থানে এর লেখকের যে খ্যাতি রয়েছে তা ধূলিসাৎ করার জন্য"। জেসুইটগণ "বোর্ডিন"-এর চ্যালেঞ্জের প্রতি ডিকার্টের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান এবং তারা ফাদার "মারসেন"-কে ডিকার্টের উদ্দেশ্য উন্মোচন করার দায়িত্ব দেন। ডিকার্ট এর উত্তরে লিখেছিলেন: "আমি সেই দর্শন—অর্থাৎ স্কুলস্টিক দর্শন—খণ্ডন করার যে ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম তা থেকে নিবৃত্ত হয়েছি, কারণ আমি মনে করি যে কেবল আমার দর্শনের উত্থানই স্কুলস্টিক দর্শনকে এমনভাবে ধূলিসাৎ করে দেবে যার পর অন্য কোনো খণ্ডনের প্রয়োজন হবে না"১।
সুতরাং ডিকার্ট তার "দর্শনের মূলনীতি" গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে স্কুলস্টিক দর্শনকে ধূলিসাৎ করার বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি এতে তার মতবাদকে "একটি বিশেষ বিন্যাসে বিস্তৃত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন যা এর শিক্ষাকে সহজতর করে তুলবে" এবং এই আশা করেছিলেন যে "মানুষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি উপলব্ধি করবে যে, তার মতামতের মধ্যে এমন কিছু নেই যা শিক্ষাবিদগণ ভয় পেতে পারেন, বরং তারা এতে প্রভূত উপকার ও সংস্কার খুঁজে পাবেন"।
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেই বইটি ১৬৪৪ সালের ২০ জুলাই আমস্টারডামে প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল: "রেনে ডিকার্টের দর্শনের মূলনীতি"।
রেনাটি ডিকার্টেস প্রিন্সিপিয়া ফিলোসোফিয়া।
ডিকার্ট এটি ল্যাটিন ভাষায় লিখেছিলেন এবং ফাদার "পিকো" বইটির একটি ফরাসি অনুবাদ তৈরি করেন যা ডিকার্ট নিজে পর্যালোচনা করেছিলেন এবং ১৯৪৭ সালে প্যারিসে নিম্নোক্ত শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল:
প্রিন্সিপেস ডি লা ফিলোসোফি; রেনে ডিকার্ট কর্তৃক ল্যাটিন ভাষায় লিখিত এবং তার জনৈক বন্ধু কর্তৃক ফরাসিতে অনূদিত।
ডিকার্ট বইটির অনুবাদকের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্র প্রেরণ করেন যেটিকে তিনি ফরাসি অনুবাদের ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেন, সেখানে তিনি প্রাচীন দর্শন এবং আধুনিক দর্শনের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والمميزات التي توجد في فلسفته، وفضلها في تقدم المعارف البشرية تقدما مضطردا غير محدود.
وأهدى ديكارت كتاب المبادئ إلى الأميرة "إليزابث" وهي كبرى بنات الناخب البالاتيني "فردريك الخامس" الذي ملك على بوهيميا مدة قصيرة، وأمها هي "إليزابث على ستيوارت" ابنة جاك الأول ملك إنجلترا، ولقد كانت الأميرة إليزابث على جمال نادر وأخلاق رصينة وذكاء متوقد لا يخلو من القلق، وحظ من الثقافة المتينة المنوعة، هذا إلى دراية وحذق للعلوم الرياضية والفلكية والطبيعية، واتصلت الأميرة بالفيلسوف عن طريق المراسلات، فكانت تستشيره لا في الصعوبات التي كانت تلقاها في المسائل العلمية فحسب، بل في شئونها الخاصة، وكان ديكارت يقدر الأميرة تقديرا عاليا لما امتازت به من صفات نادرة. ونعتقد أن الفلسفة كسبت كسبا عظيما من تلك الصلة وما استتبعته من مراسلات ذات قيمة. فإذا كانت كتب الفيلسوف توقفنا على ديكارت الميتافيزيقي والعالم، فإن رسائله إلى الأميرة تكشف لنا عن جوانح الرجل ودخيلته. وهذا ما يجعل لها أهمية فريدة، فإن كل مذهب لا يساوي في الحقيقة إلا ما يساوي صاحبه، وما وضع فيه من نفسه.
وكان في نية ديكارت أن يجعل كتاب المبادئ في ستة أجزاء:
"مبادئ المعرفة، مبادئ الأشياء المادية، السماء، الأرض، النبات والحيوان، الإنسان".
ولكنه لم يستطع إتمام الجزأين الأخيرين لقلة ما لديه من التجارب، فقنع بالأجزاء الأربعة الأولى التي يشمل أولها الميتافيزيقا، ويشمل ثانيها وثالثها ورابعها الفيزيقا المؤسسة على تلك الميتافيزيقا.
এবং তাঁর দর্শনে বিদ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং মানবীয় জ্ঞানের নিরবচ্ছিন্ন ও অসীম অগ্রগতির ক্ষেত্রে এর অবদান।
দেকার্ত তাঁর 'মূলনীতি' গ্রন্থটি রাজকুমারী এলিজাবেথকে উৎসর্গ করেন। তিনি ছিলেন প্যালাটাইন নির্বাচক পঞ্চম ফ্রেডেরিকের জ্যেষ্ঠ কন্যা, যিনি স্বল্প সময়ের জন্য বোহেমিয়ার রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের কন্যা এলিজাবেথ স্টুয়ার্ট। রাজকুমারী এলিজাবেথ ছিলেন বিরল সৌন্দর্য, গম্ভীর চরিত্র এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী, যার মধ্যে কিছুটা অস্থিরতাও বিদ্যমান ছিল। তাঁর ছিল সুদৃঢ় ও বহুমুখী জ্ঞান এবং গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে বিশেষ পারদর্শিতা ও দক্ষতা। রাজকুমারী চিঠিপত্রের মাধ্যমে এই দার্শনিকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিনি কেবল বৈজ্ঞানিক সমস্যাবলিতেই তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন না, বরং নিজের ব্যক্তিগত বিষয়েও পরামর্শ নিতেন। দেকার্ত রাজকুমারীকে তাঁর বিরল গুণাবলির কারণে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা প্রদান করতেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, দর্শন এই সম্পর্ক এবং এর ফলশ্রুতিতে বিনিমিত মূল্যবান পত্রাবলি থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছে। যদি এই দার্শনিকের রচিত গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে পরাবিদ্যক ও বিজ্ঞানী দেকার্তকে পরিচিত করে, তবে রাজকুমারীর নিকট লিখিত তাঁর পত্রাবলি আমাদের কাছে তাঁর হৃদয়ের গহীন কোণ এবং অভ্যন্তরীণ সত্তাকে উন্মোচিত করে। আর এটাই একে অনন্য গুরুত্ব প্রদান করে; কেননা প্রতিটি মতবাদ প্রকৃতপক্ষে তার প্রবক্তার ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং তিনি এর মধ্যে নিজের সত্তার যা কিছু নিহিত করেছেন, তার চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়।
দেকার্তের সংকল্প ছিল 'মূলনীতি' গ্রন্থটিকে ছয়টি খণ্ডে বিভক্ত করার:
"জ্ঞানের মূলনীতি, বস্তুগত বিষয়ের মূলনীতি, আকাশ, পৃথিবী, উদ্ভিদ ও প্রাণী, এবং মানুষ।"
কিন্তু পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার অভাবে তিনি শেষোক্ত দুটি খণ্ড সম্পন্ন করতে সক্ষম হননি। ফলে তিনি প্রথম চারটি খণ্ডেই সন্তুষ্ট থাকেন, যার প্রথম খণ্ডে পরাবিদ্যা এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে সেই পরাবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে রচিত পদার্থবিদ্যা স্থান পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فكتاب المبادئ ينقسم إذن أربعة أجزاء: الأول وعنوانه: "مبادئ المعرفة البشرية"، يحوي على التقريب ما يحويه كتاب التأملات لولا أنه بأسلوب آخر، ولولا أن ما وضع في الواحد مطولا وضع في الآخر مختصرا وبالعكس. والجزء الأول هذا، إذا قِيس بالثلاثة الأخرى، وجد عبارة عن نحو عشر الكتاب كله، وهو أقل قدر من الميتافيزيقا لازم لكل فيزيقا في ذلك الوقت.
والجزء الثاني وعنوانه: "مبادئ الأشياء المادية" بيّن ديكارت فيه لِمَ يعتبر الأجسام إلا مادة ممتدة طولا وعرضا وعمقا، ولم يعتبر في تغيراتها المتعاقبة إلا حركات خاضعة لبعض قوانين بسيطة جدا؟
وعنوان الجزء الثالث: "في عالم الشهادة" Du Monda Visible. وهو بحث في الميكانيكا السماوية، يصف ديكارت فيه حركة الأرض والكواكب الأخرى حول الشمس.
وعنوان الجزء الرابع: "في الأرض" ويفسر فيه ديكارت الثقل وظاهرة المد والجزر وخواص المغناطيس
… إلخ، ويبقى الجذبة بين الأجسام؛ لأن فكرة الجذبة فكرة مبهمة.
‘নীতিমালা’ গ্রন্থটি চারটি অংশে বিভক্ত। প্রথমটির শিরোনাম: "মানবীয় জ্ঞানের মূলনীতি", এতে মোটামুটিভাবে ‘ধ্যান’ (মেডিটেশনস) গ্রন্থে যা রয়েছে তা-ই অন্তর্ভুক্ত আছে, তবে এটি ভিন্ন শৈলীতে লিখিত, এবং কোনোটিতে যা বিস্তারিত ছিল অন্যটিতে তা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং এর বিপরীতটিও ঘটেছে। এই প্রথম অংশটি যখন অন্য তিনটি অংশের সাথে তুলনা করা হয়, তখন দেখা যায় এটি সমগ্র গ্রন্থের প্রায় দশমাংশ মাত্র, এবং এটি তৎকালীন সময়ের যেকোনো পদার্থবিদ্যার জন্য প্রয়োজনীয় পরাবিদ্যার ন্যূনতম পরিমাণ।
দ্বিতীয় অংশের শিরোনাম: "বস্তুগত বিষয়ের মূলনীতি"। এতে দেকার্ত ব্যাখ্যা করেছেন কেন তিনি বস্তুসমূহকে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতায় বিস্তৃত জড় পদার্থ ব্যতিরেকে অন্য কিছু মনে করেন না এবং কেন তিনি এদের ধারাবাহিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাধারণ কিছু নিয়মের অধীন গতি ছাড়া আর কিছুই বিবেচনা করেন না?
তৃতীয় অংশের শিরোনাম: "দৃশ্যমান জগৎ প্রসঙ্গে" (Du Monde Visible)। এটি মহাকাশীয় বলবিদ্যার একটি গবেষণা, যেখানে দেকার্ত সূর্যের চারদিকে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহের গতি বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ অংশের শিরোনাম: "পৃথিবী প্রসঙ্গে", এতে দেকার্ত অভিকর্ষ, জোয়ার-ভাটার ঘটনা এবং চুম্বকত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ
… ইত্যাদি ব্যাখ্যা করেছেন; তবে বস্তুসমূহের মধ্যকার আকর্ষণকে তিনি এড়িয়ে গেছেন, কারণ আকর্ষণের ধারণাটি ছিল অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
2-
ماهية الفلسفة ومقصدها عند ديكارت:يرى ديكارت أن الفلسفة هي دراسة الحكمة، والحكمة علم واحد كلي، هي تفسير جامع للكون أو هي نظام شامل للمعرفة البشرية. وليست الفلسفة مجرد مجموعة معارف جزئية خاصة، وإنما هي علم المبادئ العامة، يعني: أنها علم للأصول التي هي أسمى ما في العلوم. وإذن، فالفلسفة عند ديكارت يدخل فيها علم الله وعلم الطبيعة وعلم الإنسان، لكن دعامة الفلسفة عنده إنما هي في الفكر المدرك لذاته، والذي هو في ذاته مدرك الموجود الكامل أي: الله منبع كل وجود، والضامن لكل حقيقة.
২-
ডেককার্টের নিকট দর্শনের স্বরূপ ও উদ্দেশ্য:ডেককার্ট মনে করেন যে, দর্শন হলো প্রজ্ঞার অধ্যয়ন, আর প্রজ্ঞা হলো একটি একক ও সামগ্রিক জ্ঞান, যা মহাবিশ্বের এক পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা অথবা মানবীয় জ্ঞানের এক সর্বজনীন ব্যবস্থা। দর্শন কেবল বিশেষ কিছু আংশিক জ্ঞানের সমষ্টি নয়, বরং এটি হলো সাধারণ মূলনীতিসমূহের বিজ্ঞান; অর্থাৎ এটি এমন মৌলিক নীতিসমূহের জ্ঞান যা বিজ্ঞানের শাখাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অতএব, ডেককার্টের দর্শনে আল্লাহর জ্ঞান, প্রকৃতির জ্ঞান এবং মানুষের জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত। তবে তাঁর নিকট দর্শনের মূল ভিত্তি হলো সেই চিন্তা যা নিজেকে উপলব্ধি করে এবং যা নিজের মাঝে সেই পূর্ণ সত্তাকে অর্থাৎ আল্লাহকে উপলব্ধি করে, যিনি সকল অস্তিত্বের উৎস এবং সকল সত্যের নিশ্চয়তাদানকারী।
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والفلسفة عند فيلسوفنا نظر وعمل، لكن النظر هو بمثابة الأساس الذي يقوم عليه العمل. ولقد بين ديكارت نفسه ماهية الفلسفة وموضوعها في مقدمة كتاب المبادئ، قال: "لفظ الفلسفة هذا معناه: دراسة الحكمة وليس معنى الحكمة قاصرا على الحيطة والتبصر في الأمور، بل تفيد أيضا معرفة كاملة لجميع الأشياء التي يستطيع الإنسان معرفتها إما لهداية حياته، أو للمحافظة على صحته، أو لاختراع جميع الفنون"1.
وإذن، فليست غاية العلم عند ديكارت مقتصرة على المعركة، بل إن من غاياته أن يكفل للإنسان الراحة والهناء. ولعل فكر ديكارت في هذا الموضوع أقل سموا من فكر أرسطو الذي جعل من براءة النظرة وخلوها من المنفعة طابع الفلسفة. على أننا ينبغي ألا نسرع في الحكم على ديكارت فهو نفسه يضيف إلى ما تقدم قوله: "ينبغي على البشر الذين جزؤهم الرئيسي هو الذهن أن يوجهوا أكبر قسط من عنايتهم إلى طلب الحكمة التي هي غذاؤه الصحيح
… وليس من النفوس نفس مهما بلغت من قلة النبل تظل متعلقة بأمور الحواس تعلقا كبيرا يحول دون انصرافها عنها أحيانا، مؤملة خيرا آخر أكبر، وإن كانت تجهل في الأغلب ماهية ذلك الخير
… وهذا الخير الأسمى إذا اعتبر بالنور الطبيعي دون نور الإيمان، لم يكن شيئا آخر غير معرفة الحقيقة بواسطة علتها الأولى، أعني: الحكمة"2.
وكيف الوصول إلى تلك المعرفة ذات القيمة الكبرى؟
يرى عامة الناس، بل أغلب الفلاسفة، أن المعرفة على أربعة ضروب:
"الضرب الأول لا يحوي إلا معاني بلغت من الوضوح بذاتها أن كان تحصيلها ممكننا من غير تأمل" أو لعل ديكارت قد خطر بباله هنا المعاني
--------------------------------------------
আমাদের দার্শনিকের নিকট দর্শন হলো তত্ত্ব ও কর্মের সমষ্টি, তবে তত্ত্বই হচ্ছে সেই ভিত্তি যার ওপর কর্ম দণ্ডায়মান। স্বয়ং ডিকার্ট তাঁর 'মাবাদিউল ফালসাফাহ' (দর্শনের মূলনীতি) গ্রন্থের ভূমিকায় দর্শনের স্বরূপ ও বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: "দর্শন শব্দের অর্থ হলো প্রজ্ঞার পাঠ; আর প্রজ্ঞা বলতে কেবল বিষয়াবলির ক্ষেত্রে সতর্কতা ও অন্তর্দৃষ্টিকেই বুঝায় না, বরং এটি মানুষের জানার যোগ্য এমন সকল বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকেও বুঝায়, যা হয় তার জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনার জন্য, অথবা তার স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য, কিংবা সকল শিল্প উদ্ভাবনের জন্য"১।
সুতরাং, ডিকার্টের নিকট জ্ঞানের উদ্দেশ্য কেবল জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের জন্য প্রশান্তি ও সুখ নিশ্চিত করা। সম্ভবত এই বিষয়ে ডিকার্টের চিন্তা অ্যারিস্টটলের চিন্তার চেয়ে কম উচ্চমার্গের, যিনি তত্ত্বীয় দৃষ্টিভঙ্গির বিশুদ্ধতা ও স্বার্থহীনতাকে দর্শনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ডিকার্টের ওপর রায় দিতে আমাদের তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়, কারণ তিনি পূর্বোক্ত কথার সাথে আরও যোগ করেছেন: "মানুষের প্রধান অংশ যেহেতু মন, তাই তাদের উচিত প্রজ্ঞা অন্বেষণে সর্বোচ্চ মনোযোগ প্রদান করা, যা হলো মনের প্রকৃত খাদ্য … আর এমন কোনো আত্মা নেই, তা যতই মাহাত্ম্যহীন হোক না কেন, যা সর্বদা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে এমন নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকে যে তা থেকে মাঝে মাঝে বিমুখ হতে পারে না; বরং সে সর্বদা আরও বড় কোনো কল্যাণের আশা করে, যদিও অধিকাংশ সময় সে সেই কল্যাণের স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে … আর এই পরম কল্যাণকে যদি ঈমানের নূরের পরিবর্তে কেবল প্রাকৃতিক আলোর নিরিখে বিচার করা হয়, তবে তা আদি কারণের মাধ্যমে সত্যের জ্ঞান লাভ করা ছাড়া আর কিছুই নয়; অর্থাৎ: প্রজ্ঞা"২।
এই সুউচ্চ মূল্যের জ্ঞান কীভাবে অর্জন করা সম্ভব?
সাধারণ মানুষ, এমনকি অধিকাংশ দার্শনিক মনে করেন যে, জ্ঞান চার প্রকার:
"প্রথম প্রকারটি কেবল এমন সব অর্থ ধারণ করে যা নিজ থেকেই এতটা স্পষ্ট যে, কোনো গভীর চিন্তা ছাড়াই তা অর্জন করা সম্ভব।" অথবা সম্ভবত ডিকার্টের মনে এখানে এমন সব অর্থের উদয় হয়েছিল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرياضية، "والثاني يشمل كل ما توقفنا عليه تجربة الحس. والثالث ما تفيدنا إياه المحادثة مع غيرنا من الناس، والرابع مطالعة الكتب"1.
ويلاحظ أن ديكارت لم يضمن في إحصاء عملية الاستدلال. على أن من الصعب علينا أن نقبل ذلك التقييم الذي يضع محادثة الناس ومطالعة الكتب في مستوى واحد مع حدس المعاني الرياضية والتجربة، ولكن تلك الأضرب ليست إلا لصور الدنيا للمعرفة. فلكي تكون المعرفة كاملة ينبغي أن تكون مستنبطة من العلل الأولى. ومهمة الفيلسوف هي البحث عن تلك العلل أو المبادئ: "لقد وجد في كل زمان رجال عظماء حاولوا أن يجدوا مرتبة خامسة لبلوغ الحكمة، هي أسمى وأوثق ولا يعدلها شيء من المراتب الأربع الأخرى، وهي طلب العلل الأولى للمبادئ الحقة التي بها يكون بمقدور الإنسان أن يستنبط أسباب كل ما يستطيع أن يعرف. وأولئك الذين جدوا في هذا المطلب هم الذين سماهم الناس فلاسفة".
وما شرائط تلك المبادئ الأولى؟
ينبغي أن يتوافر في تلك المبادئ شرطان: الأول: أن تكون من الوضوح والبداهة بحيث لا يشك الذهن في حقيقتها إذا جد في النظر فيها. والثاني: أن تعتمد عليها معرفة الأشياء الأخرى، فلا تتم تلك المعرفة بدونها، في حين أن المبادئ يمكن معرفتها بدون تلك الأشياء: "ينبغي أن نستنبط من تلك المبادئ الأولى معرفة الأشياء التي تعتمد عليها بحيث لا يكون من سلسلة الاستنباطات التي تقوم بها شيء إلا وهو شديد الجلاء"2.
وعلى ذلك يكون منهج الفلسفة هو المنهج الاستنباطي، ومعيارها الوضوح والتميز وربط المعاني.
--------------------------------------------
গাণিতিক, "এবং দ্বিতীয়টি এমন সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা লাভ করি। তৃতীয়টি হলো অন্য মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং চতুর্থটি হলো গ্রন্থ পাঠ।"১।
লক্ষণীয় যে, দেকার্ত তাঁর এই তালিকায় অনুমান বা যুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। তবে মানুষের সাথে কথোপকথন এবং গ্রন্থ পাঠকে গাণিতিক অর্থের স্বজ্ঞা (Intuition) ও অভিজ্ঞতার সাথে একই স্তরে রাখার বিষয়টি মেনে নেওয়া আমাদের জন্য কঠিন; আসলে ওই স্তরগুলো জ্ঞানের নিম্নতর রূপ মাত্র। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনের জন্য তা আদি কারণসমূহ (First Causes) থেকে উৎসারিত হওয়া আবশ্যক। আর দার্শনিকের কাজ হলো সেই কারণ বা মূলনীতিসমূহ অনুসন্ধান করা: "সর্বকালেই এমন কিছু মহান ব্যক্তি ছিলেন যারা প্রজ্ঞা লাভের জন্য পঞ্চম একটি স্তর খুঁজে পেতে চেষ্টা করেছেন, যা অন্য চারটি স্তরের চেয়ে উচ্চতর ও নির্ভরযোগ্য এবং যার সমকক্ষ আর কিছুই নেই। এটি হলো সত্য মূলনীতিসমূহের আদি কারণসমূহের অনুসন্ধান, যার মাধ্যমে মানুষ তার প্রতিটি জ্ঞাতব্য বিষয়ের কারণ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। আর যারা এই অন্বেষায় ব্রতী হয়েছেন, মানুষ তাদেরই দার্শনিক বলে অভিহিত করেছে।"
সেই আদি মূলনীতিসমূহের শর্তাবলি কী?
এই মূলনীতিগুলোতে দুটি শর্ত থাকা প্রয়োজন: প্রথমত, এগুলো এমন স্পষ্ট এবং স্বতঃসিদ্ধ হতে হবে যে, যখন মন গভীরভাবে তা নিয়ে চিন্তা করবে, তখন এর সত্যতা নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য বিষয়ের জ্ঞান এই মূলনীতিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যাতে এগুলো ছাড়া সেই জ্ঞান অর্জন সম্ভব না হয়; বিপরীতে মূলনীতিগুলো অন্য বিষয়গুলো ছাড়াই জানা সম্ভব হয়: "এই আদি মূলনীতিগুলো থেকে সেই সব বিষয়ের জ্ঞান আহরণ করতে হবে যা এগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যাতে আপনার কৃত অনুমানের ধারাক্রমের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়।"২।
সেই অনুযায়ী দর্শনের পদ্ধতি হলো অবরোহী পদ্ধতি (Deductive Method), এবং এর মানদণ্ড হলো স্পষ্টতা, স্বাতন্ত্র্য এবং অর্থসমূহের যোগসূত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ب- والفلسفة عند ديكارت واحدة، ولكنها لسهولة التعليم تنقسم عدة أجزاء:
"الجزء الأول هو الميتافيزيقا التي تشمل مبادئ المعرفة، التي بينها تفسير أهم صفات الله، ولامادية نفوسنا، وجميع المعاني الواضحة البسيطة التي هي فينا، والثاني الفيزيقا التي ينظر فيها على العموم بعد إيجاد المبادئ الصحيحة للأشياء المادية؛ كيف نشأ الكون كله؟ ثم علي الخصوص ما طبيعة هذه الأرض وجميع الأجسام التي توجد عليها كالهواء والماء والنار والمغناطيس؟ وبعد ذلك نحتاج إلى أن نفحص أيضا على الخصوص عن طبيعة النبات وطبيعة الحيوان، وبالأخص عن طبيعة الإنسان لكي نستطيع بعد ذلك أن نجد العلوم الأخرى التي فيها منفعة له؛ ولذلك كانت الفلسفة كلها كشجرة جذورها الميتافيزيقا، وجذعها الفيزيقا، والفروع التي تخرج من هذا الجذع هي جميع العلوم الأخرى التي ترجع إلى ثلاثة علوم كبرى، هي: الطب والميكانيكا والأخلاق، وأقصد الأخلاق الأرفع والأكمل التي تفيد معرفة تامة بالعلوم الأخرى؛ ولذلك كانت هي أقصى مرتبة من مراتب الحكمة"1.
فلنلاحظ أن ديكارت قلب النظام المعهود في المعرفة البشرية، وجعل من الميتافيزيقا مدخلا إلى الميكانيكا وإلى الطب وإلى الأخلاق. فالميتافيزيقا عند ديكارت إنما تمدنا بالمبادئ الأولى للأشياء، ويشتق من الفيزيقا علمان عمليان، أو فنان هما: الميكانيكا والطب، وأخيرا يشتق من الفلسفة كلها علم الأخلاق الصحيح الذي هو آخر مراتب الحكمة، والذي هو عبارة عن الحياة على وفاق مع نظام العالم وإخضاع إرادتنا لنظام الأشياء.
جـ- ارتاع ديكارت لما شاهد من عقم الفلسفة المدرسية وبعدها عن الحياة العامة، وأيقن أن الفلسفة يجب أن يكون لها غرض عملي، يجب أن يفيد منها
--------------------------------------------
খ- দেকার্তের নিকট দর্শন অভিন্ন একটি বিষয়, তবে শিক্ষা প্রদানের সহজলভ্যতার খাতিরে একে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:
“প্রথম অংশটি হলো পরাবিদ্যা (মেটাফিজিক্স), যা জ্ঞানের মূলনীতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলির ব্যাখ্যা, আমাদের আত্মার অবস্তুগত বৈশিষ্ট্য এবং আমাদের মাঝে বিদ্যমান সমস্ত স্পষ্ট ও সরল বোধগম্য ধারণাগুলো। দ্বিতীয় অংশটি হলো পদার্থবিদ্যা (ফিজিক্স), যাতে বস্তুগত বিষয়াবলির সঠিক মূলনীতিসমূহ নিরূপণের পর সাধারণভাবে দেখা হয় যে, এই মহাবিশ্ব কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? এরপর বিশেষভাবে এই পৃথিবীর প্রকৃতি এবং এতে বিদ্যমান বায়ু, পানি, আগুন ও চুম্বকের মতো সকল বস্তুর প্রকৃতি কী—তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর আমাদের উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতি এবং বিশেষভাবে মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কেও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন, যাতে আমরা পরবর্তীতে মানুষের উপকারে আসে এমন অন্যান্য বিজ্ঞানসমূহ খুঁজে পেতে পারি। আর এ কারণেই সমগ্র দর্শন একটি বৃক্ষের মতো, যার মূল হলো পরাবিদ্যা, কান্ড হলো পদার্থবিদ্যা এবং এই কান্ড থেকে নির্গত শাখাগুলো হলো অন্যান্য সকল বিজ্ঞান, যা মূলত তিনটি প্রধান বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো হলো: চিকিৎসা বিজ্ঞান, বলবিদ্যা (মেকানিক্স) এবং নীতিশাস্ত্র। আর আমি নীতিশাস্ত্র বলতে সেই সর্বোচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ নীতিশাস্ত্রকে বোঝাচ্ছি যা অন্যান্য বিজ্ঞানের পূর্ণ জ্ঞান লাভের ওপর নির্ভরশীল; একারণে এটিই প্রজ্ঞার সোপানসমূহের মধ্যে চূড়ান্ত স্তর।”১।
লক্ষ্যণীয় যে, দেকার্ত মানবীয় জ্ঞানের প্রচলিত ধারাকে উল্টে দিয়েছেন এবং পরাবিদ্যাকে বলবিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও নীতিশাস্ত্রের প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। দেকার্তের মতে, পরাবিদ্যা আমাদের বস্তুনিচয়ের আদি মূলনীতিসমূহ সরবরাহ করে। আর পদার্থবিদ্যা থেকে দুটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান বা কলা উদ্ভূত হয়: বলবিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান। পরিশেষে সম্পূর্ণ দর্শন থেকে সঠিক নীতিশাস্ত্র উদ্ভূত হয়, যা প্রজ্ঞার সর্বশেষ স্তর; আর এটি হলো জগতের শৃঙ্খলার সাথে সংগতি রেখে জীবন অতিবাহিত করা এবং আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে বস্তুজগতের শৃঙ্খলার অনুগত করা।
গ- দেকার্ত তৎকালীন প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনের বন্ধ্যাত্ব এবং জনজীবন থেকে এর দূরত্ব দেখে শঙ্কিত হয়েছিলেন। তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে দর্শনের একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য থাকা উচিত, যা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الإنسان في إصلاح معاشه. وقد تبدو لأول وهلة على فلسفة ديكارت صبغة نظرية بحتة، لكن الحقيقة أن ديكارت لم تفارقه المشاغل العملية أبدا؛ فقد أراد أن يقيم علما طبيا مؤسسا على العقل، وكان دائم العناية بالأخلاق. كتب إلى شانو: "إن أمثل السبل لكي نعرف كيف ينبغي أن نحيا هو أن نعرف أولا من نحن؟ وما العالم الذي نعيش فيه؟ ومن هو خالق هذا الكون الذي فيه مقامنا؟ ".
ولقد أصر ديكارت في القسم السادس من كتاب "المقال في المنهج" على ذلك الاتجاه العملي الذي يجب أن توجه إليه الفلسفة، وبين هذه الأفكار وأفكار "بيكون" مشابهة عجيبة: "بدلا من تلك الفلسفة النظرية التي تعلم في المدارس، يمكن أن نجد فلسفة عملية نستطيع بها إذا عرفنا قوة الهواء وفعله، وفعل النجوم والسموات وجميع الأجسام الأخرى التي تحيط بنا، وكذلك الحال في جميع المهن التي يمارسها صناعنا، نستطيع أن نستعملها على ذلك النحو في جميع الاستعمالات التي اختصت بها، فنجعل بها أنفسنا سادة لها مسيطرين عليها"1.
وفضل التفلسف عند ديكارت ليس مقصورا على سمو النظر وشرف المرتبة، بل إن فيه أيضا منفعة عملية، والفلسفة ضرورية لإصلاح أخلاقنا ولهداية حياتنا، إذ ترشدنا إلى ماهية الخير الأسمى. وديكارت يميز هنا -كما فعل الرواقيون- نوعين من الخيرات: خيرات ليس أمرها بأيدينا، وخيراتهي في مقدورنا، والخيرات من النوع الأول ليست هي الخير الحق، وقد قال ديكارت: "الخير الأسمى لكل واحد عبارة عن التصميم على فعل الخير، وما يحدثه ذلك من رضى في النفس، ولا أرى غيره خيرا يعدله في جلال قدرة، ويكون بمقدور كل واحد، فإن خيرات البدن والحظ واليسار ليست على الإطلاق في مقدورنا"، ولا
--------------------------------------------
মানুষের জীবনযাত্রা সংশোধনের ক্ষেত্রে। প্রথম দর্শনে দেকার্তের দর্শনের ওপর একটি নিছক তাত্ত্বিক বর্ণচ্ছটা পরিলক্ষিত হতে পারে, কিন্তু সত্য হলো এই যে, দেকার্তকে ব্যবহারিক চিন্তা ও কর্মতৎপরতা কখনোই ছেড়ে যায়নি; কেননা তিনি বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে একটি চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি সর্বদা নীতিবিদ্যার প্রতি যত্নশীল ছিলেন। তিনি শ্যনুকে লিখেছিলেন: "আমরা কীভাবে জীবন অতিবাহিত করব তা জানার সর্বোত্তম পন্থা হলো প্রথমে এটি জানা যে, আমরা কে? এবং আমরা যে জগতে বাস করছি সেটি কী? আর এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা কে, যেখানে আমাদের অবস্থান?"।
দেকার্ত তাঁর "ডিসকোর্স অন দ্য মেথড" (পদ্ধতির ওপর বক্তব্য) গ্রন্থের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে সেই ব্যবহারিক দিকনির্দেশনার ওপর জোর দিয়েছেন যেদিকে দর্শনের ধাবিত হওয়া উচিত, এবং এই সকল চিন্তা ও "বেকন"-এর চিন্তাগুলোর মাঝে এক অদ্ভুত সাদৃশ্য বিদ্যমান: "বিদ্যালয়গুলোতে শেখানো সেই তাত্ত্বিক দর্শনের পরিবর্তে আমরা এমন একটি ব্যবহারিক দর্শন খুঁজে পেতে পারি, যার মাধ্যমে আমরা যদি বায়ুর শক্তি ও কার্যকারিতা, নক্ষত্র ও আসমানসমূহের ক্রিয়া এবং আমাদের চারপাশের অন্যান্য সকল বস্তুর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারি, তদ্রূপ আমাদের কারিগরদের দ্বারা চর্চিত সকল পেশার ক্ষেত্রেও—তবে আমরা সেগুলোকে নির্দিষ্ট সকল প্রয়োজনে এমনভাবে ব্যবহার করতে পারব যার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে সেগুলোর ওপর কর্তৃত্বশীল ও বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব"১।
দেকার্তের নিকট দার্শনিক চিন্তার শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাত্ত্বিক উচ্চতা এবং মর্যাদার আভিজাত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে ব্যবহারিক উপকারিতাও নিহিত রয়েছে; এবং আমাদের চরিত্র সংশোধন ও জীবন পরিচালনার জন্য দর্শন অপরিহার্য, কারণ এটি আমাদের পরম কল্যাণের স্বরূপ প্রদর্শনে পথপ্রদর্শন করে। এখানে দেকার্ত—যেমনটি স্টোয়িকবাদীগণ করেছিলেন—কল্যাণকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: এমন সব কল্যাণ যা আমাদের হাতে নেই, এবং এমন সব কল্যাণ যা আমাদের আয়ত্তাধীন। প্রথম প্রকারের কল্যাণগুলো প্রকৃত কল্যাণ নয়। দেকার্ত বলেছেন: "প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পরম কল্যাণ হলো কল্যাণকর কাজ করার সংকল্প গ্রহণ এবং এর ফলে আত্মার মধ্যে যে প্রশান্তি সৃষ্টি হয় তা-ই। আমি মহত্ত্ব ও সামর্থ্যের বিচারে এর সমতুল্য অন্য কোনো কল্যাণ দেখি না যা প্রত্যেকের সাধ্যাধীন হতে পারে; কেননা শরীরের সুস্থতা, সৌভাগ্য এবং প্রাচুর্য মোটেও আমাদের আয়ত্তাধীন নয়", এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يرى ديكارت فرقا بين الخير الأسمى وبين معرفة الحق. قال في المقال: "إرادتنا لا تتجه إلى الإقبال على شيء، أو الانصراف عنه إلا بقدر ما يمثله لنا ذهننا حسنا أو قبيحا. ويلزم عند ذلك أنه يكفي أن نحكم على الأشياء حكما حسنا ليكون فعلنا حسنا" وإذن فليس هنالك حقيقة علمية وحقيقة أخلاقية. فالإرادة توجهها الأفكار، وهي تحسن حين تدبرها أفكار واضحة متميزة، وتسيء حين تتجه بأفكار غامضة مبهمة. وإذن، فالعلم والفضيلة شيء واحد، والخطأ والرذيلة أمران متماثلان. إنما قاعدة إرادتنا هو أن نريد نظام العالم" "ولا شيء هو في تمام استطاعتنا إلا أفكارنا". فإذا صح ذلك وجب أن نسعى لتغيير رغباتنا بدلا من محاولة تغيير نظام العالم. ويترتب على ذلك أن الفضيلة واحدة، وأن من كان له فضيلة فله جميع الفضائل.
ونحن نتبين في نظرات ديكارت هذه مشابهة للنظرات الأخلاقية التي عرفناها عند سقراط والرواقيين.
والواقع أن النظرة الديكارتية إلى الفلسفة إنما هي في صميمها نظرة قدماء الفلاسفة وأغلب فلاسفة القرون الوسطى، وديكارت في هذا كله ما زال يمت إلى الماضي بسبب وثيق. وكل ما هنالك من فرق عميق بين القديم والحديث إنما نجده في المنهج الفلسفي الجديد؛ ومن ثم في النتائج التي نتجت عنه. وفلسفة ديكارت قد اتخذت أيضا صورة استدلالية استنباطية، فسنرى أنه من المبدأ الأول للأشياء تستخرج الأشياء بحركة متصلة من حركات الفكر، لكن ديكارت إنما وضع نصب عينيه أن لا يستخدم إلا مبادئ هي من البداهة والوضوح، بحيث لا يستطيع العقل أن يشك في صحتها. وهذه البداهة والوضوح سيذيعان بالضرورة في سلسلة الأشياء التي تستخلص من تلك المبادئ.
ডেককার্ট পরম কল্যাণ এবং সত্যের জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য দেখেন। তিনি প্রবন্ধে বলেছেন: "আমাদের ইচ্ছা কোনো বিষয়ের দিকে অগ্রসর হতে বা তা থেকে বিমুখ হতে চায় না, কেবল আমাদের মন তাকে যতটুকু ভালো বা মন্দ হিসেবে উপস্থাপন করে সেই অনুযায়ী কাজ করে। এর ফলে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, আমাদের কাজ ভালো হওয়ার জন্য বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে বিচার করাই যথেষ্ট।" সুতরাং সেখানে কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য এবং নৈতিক সত্যের মাঝে পৃথক কোনো সত্তা নেই। কারণ ইচ্ছাশক্তি চিন্তা দ্বারা পরিচালিত হয়; যখন তা স্পষ্ট ও স্বতন্ত্র চিন্তা দ্বারা পরিচালিত হয় তখন তা কল্যাণকর হয়, আর যখন তা অস্পষ্ট ও অসংজ্ঞায়িত চিন্তা দ্বারা চালিত হয় তখন তা মন্দ হয়। অতএব, জ্ঞান ও সদগুণ অভিন্ন বস্তু, এবং ভ্রান্তি ও দুর্গুণ সমজাতীয় বিষয়। আমাদের ইচ্ছাশক্তির মূল ভিত্তি হলো "জগতের শৃঙ্খলাকে চাওয়া" এবং "আমাদের চিন্তাভাবনা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদের পূর্ণ সামর্থ্যের মধ্যে নেই"। যদি এটি সঠিক হয়, তবে জগতের শৃঙ্খলা পরিবর্তনের প্রচেষ্টার পরিবর্তে আমাদের নিজেদের আকাঙ্ক্ষাগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা আবশ্যক। এর ফলে এটি প্রতীয়মান হয় যে সদগুণ এক ও অভিন্ন, এবং যার মাঝে একটি সদগুণ বিদ্যমান তার মাঝে সকল সদগুণই বর্তমান থাকে।
ডেককার্টের এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে আমরা সক্রেটিস এবং স্টোয়িকবাদীদের মাঝে বিদ্যমান নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্য দেখতে পাই।
প্রকৃতপক্ষে, দর্শনের প্রতি ডেককার্টীয় দৃষ্টিভঙ্গি এর মূলে প্রাচীন দার্শনিক এবং মধ্যযুগের অধিকাংশ দার্শনিকের দৃষ্টিভঙ্গিরই অনুরূপ; এবং ডেককার্ট এই সবকিছুর মধ্যে অতীতের সাথে একটি নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছেন। প্রাচীন ও আধুনিকের মধ্যে যে গভীর পার্থক্য বিদ্যমান, তা আমরা কেবল নতুন দার্শনিক পদ্ধতিতে খুঁজে পাই; এবং এর ফলে সেখান থেকে উদ্ভূত ফলাফলগুলোতেও তা পরিলক্ষিত হয়। ডেককার্টের দর্শনও একটি যৌক্তিক ও অবরোহী রূপ ধারণ করেছে, ফলে আমরা দেখতে পাব যে বস্তুসমূহের প্রথম নীতি থেকে চিন্তার নিরবচ্ছিন্ন গতির মাধ্যমে বিষয়সমূহকে বের করে আনা হয়। তবে ডেককার্ট লক্ষ্য স্থির করেছিলেন যে, তিনি এমন সব মূলনীতি ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করবেন না যা স্বতঃসিদ্ধ এবং এতটাই স্পষ্ট যে বুদ্ধি তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। আর এই স্বতঃসিদ্ধতা ও স্পষ্টতা অনিবার্যভাবে সেই বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতায় ছড়িয়ে পড়বে যা ঐ মূলনীতিগুলো থেকে সংগৃহীত হয়।
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2-
الجزء الأول من "مبادئ الفلسفة":
إن المكان الذي يخص به ديكارت الميتافيزيقا كثير الدلالة على منحى الفيلسوف. كانت الكتب المستعملة في المدارس والمعاهد تضع الميتافيزيقا بعد الفيزيقا، أعني: كانت تضعها آخر الدروس. فمثلا كتاب "الأخ أوستاش دوسان بول" Fr. Eustache de St. Paul المسمى "Summa philosophiae، quadripartita. De rebus Dialecticis، Moralibus، physreis & metaphyaieis.
ظاهر في ترتيبه أن الجزء الأول يشمل المنطق والثاني الأخلاق والثالث الفيزيقا والرابع الميتافيزيقا. فالميتافيزيقا تقع في النهاية في هذا الكتاب وكذلك شأن الفلاسفة الإسلاميين كابن سينا
… لكن ديكارت قد خالف ذلك مخالفة ظاهرة فبدأ بالميتافيزيقا. وهذا القلب للترتيب التقليدي كان بمثابة ثورة في عهد الفيلسوف، فلم تعد الفلسفة عبارة عن الارتفاع عن الأشياء المشهودة إلى غير المشهودة، ومن العالم إلى الله، باعتبار أن الميتافيزيقا مرتبة عالية لا نجد فوقها إلا العلم الأعلى أو اللاهوت، وإنما الفلسفة تفسير للعالم بواسطة المبادئ التي تكفلها لنا الميتافيزيقا، وليس من الضروري أن تنصرف الفلسفة عن اللاهوت. ولكن تلك المعرفة العالية ليست مع ذلك هي قصد الفلسفة عن اللاهوت، إنما تنزع الفلسفة إلى علم الطبيعة ومقصدها الأكبر أن تعطي لعلم الطبيعة المبادئ التي هو بحاجة إليها.
نجد إذن في الجزء الأول من المبادئ ما كان موضوع كتاب التأملات1. وديكارت يعنون هذا الجزء قصدا "مبادئ المعرفة"، على أن ترتيب الموضوعات لم يتغير إلا في نقطة واحدة؛ فدليل وجود الله من ماهيته لم يعد هنا الدليل الثالث بل الأول، باعتباره أقرب الأدلة إلى الحدس. والدليلان الآخران لا يأتيان
--------------------------------------------
২-
"দর্শনের মূলনীতিসমূহ" এর প্রথম খণ্ড:
পরাবিদ্যার (মেটাফিজিক্স) জন্য দেকার্ত যে স্থান নির্ধারণ করেছেন, তা এই দার্শনিকের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে গভীর তাৎপর্য বহন করে। তৎকালীন স্কুল ও ইন্সটিটিউটগুলোতে ব্যবহৃত বইগুলোতে পরাবিদ্যাকে পদার্থবিদ্যার (ফিজিক্স) পরে রাখা হতো; অর্থাৎ, সেগুলোকে পাঠক্রমের সর্বশেষে রাখা হতো। উদাহরণস্বরূপ, 'ব্রাদার ইউস্টাচ ডি সেন্ট পল' (Fr. Eustache de St. Paul) এর রচিত গ্রন্থ "Summa philosophiae, quadripartita. De rebus Dialecticis, Moralibus, physreis & metaphyaieis" এর কথা বলা যেতে পারে।
গ্রন্থটির বিন্যাস থেকে স্পষ্ট যে, এর প্রথম খণ্ডে যুক্তিবিদ্যা, দ্বিতীয় খণ্ডে নীতিবিদ্যা, তৃতীয় খণ্ডে পদার্থবিদ্যা এবং চতুর্থ খণ্ডে পরাবিদ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুতরাং এই গ্রন্থে পরাবিদ্যা একদম শেষে অবস্থিত এবং ইবনে সিনার মতো ইসলামি দার্শনিকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই ছিল... কিন্তু দেকার্ত এর স্পষ্ট বিরোধিতা করেছেন এবং পরাবিদ্যা দিয়েই আলোচনা শুরু করেছেন। প্রচলিত এই ক্রমবিন্যাসের পরিবর্তন ওই দার্শনিকের যুগে একটি বিপ্লব স্বরূপ ছিল। দর্শন এখন আর কেবল দৃশ্যমান বস্তু থেকে অদৃশ্য বস্তুর দিকে এবং জগত থেকে আল্লাহর দিকে আরোহণ নয়—এই বিবেচনায় যে, পরাবিদ্যা এমন এক উচ্চতর স্তর যার উপরে কেবল পরম জ্ঞান বা ধর্মতত্ত্বই বিদ্যমান; বরং দর্শন হলো পরাবিদ্যার সুনিশ্চিত করে দেওয়া মূলনীতিগুলোর মাধ্যমে জগতের ব্যাখ্যা প্রদান। দর্শনের জন্য ধর্মতত্ত্ব থেকে বিমুখ হওয়া জরুরি নয়, তবে সেই উচ্চতর জ্ঞানটি দর্শনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বরং দর্শন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের দিকে ধাবিত হয় এবং এর মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানকে সেই মূলনীতিসমূহ সরবরাহ করা যা তার প্রয়োজন।
অতএব আমরা 'মূলনীতিসমূহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে সেই বিষয়গুলোই পাই যা 'মেডিটেশনস' গ্রন্থের বিষয়বস্তু ছিল। দেকার্ত উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এই খণ্ডটির শিরোনাম দিয়েছেন "জ্ঞানের মূলনীতিসমূহ", তবে বিষয়ের বিন্যাস কেবল একটি ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়েছে; আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ তাঁর সত্তা (মাহিয়াত) থেকে যা গৃহীত, তা এখানে তৃতীয় প্রমাণ হিসেবে নয় বরং প্রথম প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, কারণ এটি স্বজ্ঞা বা বোধির (ইনটুইশন) নিকটতম প্রমাণ। অন্য দুটি প্রমাণ আসেনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلا بعد ذلك: دليل وجود الله من فكرته في ذهننا، ودليل وجود الله من وجود ذهننا مع فكرة كهذه "المواد 14، 15، 16 الدليل الأول، والمواد 17، 18، 19 الدليل الثاني، والمواد 20، 21، الدليل الثالث".
أما التشبيه المأخوذ من فكرة آلة صناعية، وهي الفكرة التي تحتاج إلى علة تفسرها فلم يكن موجودا إلا في الردود على الاعتراضات لا في التأملات، وأدخله ديكارت في المبادئ "مادة 17"، وفي بقية ذلك اتبع ديكارت في كتاب المبادئ الترتيب الذي اتبعه في كتاب التأملات. وإن بين الكتابين تجاوبا، وعلى الخصوص بين الخاتمة؛ ففي الناحيتين تعالج مسألة الخطأ لا على العموم "فإن نظرية الخطأ في مكانها خلال المناقشة" بل الأخطاء الحقيقية التي نقع فيها أثناء البحث عن الحقيقة، مع إحصائها في البداية وفي النهاية ذكر عللها وعواقبها، وهي إفساد الفلسفة، وآية ذلك التعاليم المدرسية. ومع ذلك، فديكارت يبين هنا بأوضح مما قد بينه في التأملات نصيب الكسب وحرية الاختيار، يفسر الخطأ بضعف الإرادة التي تتراخى، والشك الذي هو كتحرر الذهن هو فعل من أفعال النشاط تمسك به الإرادة زمام نفسها "المواد: 31-44".
ويصر فيلسوفنا أكثر مما فعل على فكرة "اللامتناهي" في حين أنه في التأملات قد مال إلى اعتبار الله الموجود الكامل، ومع ذلك فبين الكتابين فرق عظيم، ولو تتبعناه إلى النهاية لأدى إلى توجيه الميتافيزيقا وجهة الأخلاق أكثر من توجيهها وجهة العلم. لكن ديكارت لا يقدر وقوع أمر كهذا، وإنما تقوده فكرة اللامتناهي إلى تفسيرين، كلاهما أدخل في باب العلم: اللامتناهي في العظم
فضاء يضاف إلى فضاء بلا وقوف عند حد، واللامتناهي في الصغر، ومادة تنقسم بلا تناهٍ "المواد 26، 27" فمن الجهتين ينفتح مجال واسع أمام الذهن لمعرفة الكون. ولكن ديكات قد استعمل الحيطة فاستعاض عن "اللامتناهي"
কেবল এর পরেই: আমাদের মনে তাঁর ধারণা থেকে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ, এবং এই ধরণের ধারণার পাশাপাশি আমাদের মনের অস্তিত্ব থেকে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ "অনুচ্ছেদ ১৪, ১৫, ১৬ প্রথম প্রমাণ, এবং অনুচ্ছেদ ১৭, ১৮, ১৯ দ্বিতীয় প্রমাণ, এবং অনুচ্ছেদ ২০, ২১, তৃতীয় প্রমাণ"।
আর একটি শিল্পজাত যন্ত্রের ধারণা থেকে গৃহীত উপমা—যা এমন একটি ধারণা যার ব্যাখ্যা করার জন্য একটি কারণ প্রয়োজন—তা কেবলমাত্র আপত্তির উত্তরসমূহে বিদ্যমান ছিল, 'তন্ময় চিন্তা' (মেডিটেশনস)-এ নয়। দেকার্ত এটিকে 'মূলনীতি' (প্রিন্সিপালস)-এ অন্তর্ভুক্ত করেছেন "অনুচ্ছেদ ১৭"। এর অবশিষ্টাংশে দেকার্ত 'মূলনীতি' গ্রন্থে সেই ক্রম অনুসরণ করেছেন যা তিনি 'তন্ময় চিন্তা' গ্রন্থে অনুসরণ করেছিলেন। আর গ্রন্থ দুটির মধ্যে একটি সামঞ্জস্য রয়েছে, বিশেষ করে সমাপ্তির ক্ষেত্রে; উভয় ক্ষেত্রেই ভুলের বিষয়টি সাধারণভাবে আলোচিত হয়নি "কেননা আলোচনার সময় ভুলের তত্ত্বটি তার স্বস্থানে থাকে", বরং সত্য অনুসন্ধানের সময় আমরা যেসব প্রকৃত ভুলের শিকার হই তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শুরুতে সেগুলো গণনা করা হয়েছে এবং শেষে সেগুলোর কারণ ও পরিণাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা হলো দর্শনের কলুষতা এবং এর নিদর্শন হলো প্রাচীন পাণ্ডিত্যপূর্ণ (স্কলাস্টিক) শিক্ষাসমূহ। তা সত্ত্বেও, দেকার্ত এখানে 'তন্ময় চিন্তা'-র তুলনায় অধিক স্পষ্টভাবে অর্জন এবং ইচ্ছার স্বাধীনতার অংশটি ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি ভুলকে ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন যা শিথিল হয়ে পড়ে। আর সন্দেহ, যা মনের মুক্তি স্বরূপ, তা হলো এমন এক সক্রিয়তার কাজ যার মাধ্যমে ইচ্ছাশক্তি নিজের লাগাম ধরে রাখে "অনুচ্ছেদ: ৩১-৪৪"।
আমাদের এই দার্শনিক 'অসীম'-এর ধারণার ওপর পূর্বের চেয়ে অধিক জোর দিয়েছেন, যেখানে 'তন্ময় চিন্তা'-এ তিনি আল্লাহকে পূর্ণ সত্তা হিসেবে বিবেচনা করার দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবুও, গ্রন্থ দুটির মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য রয়েছে। যদি আমরা শেষ পর্যন্ত এটি অনুসরণ করি, তবে তা অধিবিদ্যাকে বিজ্ঞানের দিকে পরিচালিত করার চেয়ে বরং নীতিশাস্ত্রের দিকে অধিক পরিচালিত করবে। কিন্তু দেকার্ত এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা অনুমান করেননি, বরং অসীমের ধারণা তাকে দুটি ব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যায়, যার উভয়ই বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত: ব্যাপকতায় অসীম
কোনো সীমা ছাড়াই স্থানের সাথে স্থানের সংযুক্তি, এবং ক্ষুদ্রতায় অসীম, তথা বস্তুর অন্তহীন বিভাজন "অনুচ্ছেদ ২৬, ২৭"। ফলে উভয় দিক থেকে মহাবিশ্বকে জানার জন্য মনের সামনে এক বিশাল ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। কিন্তু দেকার্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং 'অসীম'-এর পরিবর্তে ব্যবহার করেছেন...
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
"ذلك اللفظ الخطر" بلفظ "اللامحدود" indefini وهو في هذا لم يفعل أكثر من اتباع ذهنه في ميله الطبيعي، لقد كان يشعر بأن ذهنه متناهٍ. فكل تأكيد سواء كانت الأشياء لامتناهية أو لم تكن، يجعل الذهن متساويا للانهائية الله، وذلك ادعاء باطل. على أن ذلك الموقف المتحوط الحذر كان يلائم أخلاق ديكارت، فهو يتجنب الفصل في ذلك الموضوع الخطر، موضوع لاتناهي العالم، ولا يرد بشأنه على رجال الدين، بل إنه يتفادى كل سؤال مقحم محرج من جانبهم، وبهذا يستبعد الصعوبات العملية التي قد تنجم عن اعتبار العلل الغائبة "مادة 20، 40، 41". إن ذهننا لا يستطيع في تبجح سخيف أن يدعي المقدرة على النفاذ إلى مقاصد الله، وهو يستبعد أيضا كل صعوبة لاهوتية تنتج من سبق التدبير الإلهي، ذلك السابق المتناهي، فيما يظهر، مع الحرية الإنسانية. ولقد نبهه جاسندي إلى ذلك الأمر، ولقد عاد ديكارت إليه في كتاب المبادئ وإن كان قد تعرض لبيان وجهة نظره فيه من قبل.
وربما جاز لنا أيضا أن نعزو إلى حيطة ديكارت منحه التعاليم المدرسية قسطا كبيرا من العناية في الجزء الأول من المبادئ. فهو يعالج مشكلة "الليات" ويعيد الكلام في "التقسيمات الحقيقية والصورية والعرضية"1 التي كان قد تعرض لها من قبل في نهاية رده على كاتيروس2. وكان ديكارت قد أراد أن يبسط فلسفة تعطي الجواب الشافي عن كل مسألة، من أجل ذلك لا نراه يرفض المسائل التي كانت لها منزلة الشرف عند المدرسيين، بل يعالجها على طريقة ما، مبينا أن فلسفته تستطيع أيضا أن تحملها، إذ إن فلسفة جديدة لا تحل محل الفلسفة التي تريد تقويضها إلا إذا استخدمت أنقاضها كمولد وأدوات لمبانيها الخاصة.
--------------------------------------------
এই বিপজ্জনক শব্দটিকে "অনির্ধারিত" (indéfini) শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে দেকার্ত কেবল তার মনের সহজাত প্রবণতাকেই অনুসরণ করেছেন। তিনি অনুভব করেছিলেন যে তার মন সসীম। তাই বস্তুসমূহ অসীম হোক বা না হোক, যে কোনো প্রকার নিশ্চিত দাবি মানুষের মনকে আল্লাহর অসীমত্বের সমান করে দেয়, যা একটি ভিত্তিহীন দাবি। তদুপরি, এই সতর্ক অবস্থান দেকার্তের চরিত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল; তিনি জগতের অসীমত্বের মতো বিপজ্জনক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান এড়িয়ে চলতেন এবং এ ব্যাপারে ধর্মতাত্ত্বিকদের কোনো জবাব দিতেন না। বরং তিনি তাদের পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি বিব্রতকর ও অনাহুত প্রশ্ন এড়িয়ে যেতেন। এর মাধ্যমে তিনি উদ্দেশ্যমূলক কারণসমূহ (Final Causes) বিবেচনার ফলে উদ্ভূত হতে পারে এমন বাস্তব সমস্যাগুলোকে দূরে রাখতেন (ধারা ২০, ৪০, ৪১)। আমাদের মন কোনো হাস্যকর দাম্ভিকতার সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি করার সক্ষমতা দাবি করতে পারে না। তিনি আল্লাহর পূর্ব-নির্ধারণ বা তাকদির থেকে উদ্ভূত প্রতিটি ধর্মতাত্ত্বিক জটিলতাকেও অপসারিত করেন, যা আপাতদৃষ্টিতে মানুষের স্বাধীনতার সাথে সসীম বলে প্রতীয়মান হয়। গাসেন্দি তাকে এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন এবং দেকার্ত তার ‘প্রিন্সিপলস’ (Principles) গ্রন্থে পুনরায় এই প্রসঙ্গে ফিরে এসেছিলেন, যদিও তিনি এর আগেই সেখানে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছিলেন।
সম্ভবত দেকার্তের সতর্কতার কারণেই তিনি ‘প্রিন্সিপলস’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে স্কলাস্টিক বা স্কুলীয় শিক্ষাগুলোর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি সেখানে ‘সামান্যসমূহ’ (Universals) সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করেন এবং ‘প্রকৃত, রূপগত ও আপতিক বিভাজন’১ নিয়ে পুনরায় আলোচনা করেন, যা তিনি এর আগে ক্যাটেরাস২-এর উত্তরের শেষে উল্লেখ করেছিলেন। দেকার্ত এমন একটি দর্শন প্রচার করতে চেয়েছিলেন যা প্রতিটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে সক্ষম। এই কারণেই আমরা তাকে স্কলাস্টিক পণ্ডিতদের নিকট মর্যাদাপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে দেখি না, বরং তিনি সেগুলোকে নিজস্ব পদ্ধতিতে আলোচনা করেন। তিনি দেখিয়েছেন যে তার দর্শনও এই বিষয়গুলোকে ধারণ করতে সক্ষম; কারণ একটি নতুন দর্শন ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দর্শনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না যাকে সে ধ্বংস করতে চায়, যতক্ষণ না সে তার ধ্বংসাবশেষকে নিজের ইমারত নির্মাণের উপাদান ও উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
لم يكن تاريخ الفلسفة في القرن السابع عشر علما وكانت فكرة الناس عن مذاهب القدماء من أبسط الفكرات، إلا أنها صحيحة مضبوطة. ويقسم ديكارت قدماء الفلاسفة شيعتين: الذين يشكون وليسوا بأقل الناس حكمة، والذين يدعون من غير حق أنهم على يقين؛ وعلى هذا النحو يقسم "بسكال" الناس إلى شكاك وقطعيين1.
لم يقتصر ديكارت على أن جعل من الطائفة الأولى الأكاديميين، بل يجعل منهم أيضا أسلاف الأكاديميين حتى أفلاطون وسقراط نفسه. وهو يمتدحهم؛ لأنهم أقروا بسذاجة أنهم ما عرفوا حقا، بل شبيها بالحق، ولا ننسى النصيب الذي جعله ديكارت لهذا المذهب في فلسفته، إذ هو يفتتحها بالشك. وديكارت يؤيد أولا قضية الشك في ظاهر الأمر، ولكنه سرعان ما يرجع ويفارقهم فرقة نهائية لكن الفلاسفة الآخرين أقل صراحة من الشكاك في نظر ديكارت. هم يعلنون أنهم مالكون للحق، ويرون حقا مبادئ ليست كذلك ولعل ديكارت يقصد هنا أرسطو مع أنصاره المحدثين وديمقريطس. وديكارت منصف لتلك الفلسفة الثانية، فإن المبادئ التي يتخذها هو كالامتداد والشكل والحركة توجد من قبل عند ديمقريطس وعند أرسطو نفسه، ولكنها مخلوطة بفروض أخرى تفسد حقيقتها، ويستخلصها ديكارت من تلك اللوثة المنكودة ويجلي ما لتلك المبادئ من بداهة.
وعلى هذا النحو يستعمل فيلسوفنا من المذاهب القديمة القسم القطعي والقسم الارتيابي، ويدخلهما في مذهبه فيعطيهما بطابع جديد. ذلك أننا نجد ديكارت يأخذ أسباب الشك فيبررها هذه المرة ويحملها إلى القمة، ولكن ينتهي الأمر بأن تتعارض تلك الأسباب من نفسها. ومن جهة أخرى نجد أسباب القسمين تكتسب قوة لم تكن لها قط من قبل. من أجل هذا، تجيب فلسفة ديكات عن التعريف
--------------------------------------------
সপ্তদশ শতাব্দীতে দর্শনের ইতিহাস কোনো বিজ্ঞান হিসেবে পরিগণিত ছিল না এবং প্রাচীনদের মতবাদ সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল অত্যন্ত সাধারণ, যদিও তা ছিল সঠিক ও সুসংহত। দেকার্ত প্রাচীন দার্শনিকদের দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: যারা সংশয় পোষণ করেন এবং প্রজ্ঞায় কারও চেয়ে কম নন, আর যারা অন্যায়ভাবে নিজেদের সুনিশ্চিত জ্ঞানের অধিকারী বলে দাবি করেন। এভাবেই "প্যাসকাল" মানুষকে সংশয়বাদী ও নিশ্চিতবাদীতে বিভক্ত করেছেন১।
দেকার্ত প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত কেবল একাডেমিয়ানদেরই করেননি, বরং তিনি তাঁদের পূর্বসূরিদেরও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এমনকি প্লেটো এবং খোদ সক্রেটিসকেও। তিনি তাঁদের প্রশংসা করেছেন; কারণ তাঁরা সরলচিত্তে স্বীকার করেছেন যে তাঁরা প্রকৃত সত্য জানতে পারেননি, বরং সত্যের সদৃশ কিছু জেনেছেন। আমরা তাঁর দর্শনে এই মতবাদের জন্য দেকার্ত যে অংশটি বরাদ্দ করেছেন তা ভুলে যাই না, কারণ তিনি সংশয়ের মাধ্যমেই তাঁর দর্শনের সূচনা করেন। দেকার্ত বাহ্যিকভাবে প্রথমে সংশয়ের বিষয়টিকে সমর্থন করেন, কিন্তু শীঘ্রই তিনি ফিরে আসেন এবং তাঁদের থেকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তবে দেকার্তের দৃষ্টিতে অন্য দার্শনিকরা সংশয়বাদীদের তুলনায় কম স্পষ্টবাদী। তাঁরা ঘোষণা করেন যে তাঁরা সত্যের অধিকারী, এবং তাঁরা এমন সব মূলনীতিকে সত্য বলে গণ্য করেন যা আসলে সত্য নয়। সম্ভবত দেকার্ত এখানে অ্যারিস্টটল, তাঁর আধুনিক অনুসারীগণ এবং ডেমোক্রিটাসকে বুঝিয়েছেন। দেকার্ত সেই দ্বিতীয় দর্শনের প্রতি ইনসাফ করেছেন। কেননা তিনি যেসব মূলনীতি গ্রহণ করেছেন—যেমন বিস্তৃতি, আকৃতি ও গতি—সেগুলো পূর্বেই ডেমোক্রিটাস ও খোদ অ্যারিস্টটলের নিকট বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সেগুলো অন্য সব অনুমানের সাথে মিশ্রিত ছিল যা তাদের প্রকৃত রূপকে কলুষিত করেছিল। দেকার্ত সেগুলোকে সেই দুর্ভাগ্যজনক মালিন্য থেকে মুক্ত করেছেন এবং সেই মূলনীতিগুলোর স্বতঃসিদ্ধতাকে স্পষ্ট করেছেন।
এভাবেই আমাদের এই দার্শনিক প্রাচীন মতবাদসমূহ থেকে নিশ্চিতবাদী ও সংশয়বাদী—উভয় অংশ ব্যবহার করেছেন এবং সেগুলোকে নিজ দর্শনে অন্তর্ভুক্ত করে এক নতুন রূপ দান করেছেন। এর কারণ হলো, আমরা দেখি দেকার্ত সংশয়ের কারণগুলোকে গ্রহণ করে এবার সেগুলোকে যৌক্তিক ভিত্তি দান করেন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কারণগুলো নিজেরাই একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আমরা দেখি যে উভয় অংশের কারণসমূহ এমন শক্তি অর্জন করে যা আগে কখনও ছিল না। এই কারণে, দেকার্তের দর্শন সেই সংজ্ঞার উত্তর দেয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الذي كان أطلقه عليها أولا، والذي وضح شرطين كافيين: الموضوع الكامل وبداهة المبادئ ثم إمكان استخلاص جميع المعلومات التي توجد في الطبيعة، وبعبارة أخرى: هي مزج موفق بين الفيزيقا والرياضة.
وههنا نجد الإصلاح الكبير بل الثورة التي قام بها فيلسوفنا؛ فهو لم يكف عن التصريح بذلك في كتاب المبادئ في خاتمة الأجزاء الأربعة، وفي كل لحظة في صلب الكتاب. وهنالك شخص على الأقل قد فهم ذلك، وبين بوضوح مدى ذلك العمل وهو الأب "بيكو"1، وهو يذكر بحق أن الفيزيقا كانت إلى عهده هي علم الطبيعة كله، وأن الرياضة لم تكن إلا جزءًا منها بين أجزاء أخرى كبيرة، ولكن ديكارت قد قلب ذلك النظام، فالرياضة أصبحت على يديه كل شيء ولن تكون الفيزيقا إلا جزءًا.
والموضوعات التي تدرسها الرياضة تشمل عددا لامتناهيا من الممكنات. والعالم الحقيقي الواقع إنما هو أحد هذه الممكنات وهو خاضع لنفس القواعد ولنفس القوانين التي تخضع لها جميع العوالم الأخرى. وإذن فلكي نفهم العالم الواقع جيدا ينبغي أولا أن نعرف قوانينه، وهكذا تستعاد حقوق الرياضة وامتيازاتها، وبفضل الرياضة تستطيع الفيزيقا -إذ ترضى بأن تصبح تابعة لها- أن تدعي لنفسها شرف العلم الصحيح. وقبل ذلك قال غاليليو بأن الرياضة تعطينا المفتاح، أو هو مكتوب بحروف جفرية والرياضة تعطينا الجفرة؛ ولكن أهي الجفرة الصحيحة الحقيقية الواقعية؟ ما علينا بعد هذا إذا كنا بها نستطيع أن نترجم عن الأشياء أو أن نفسرها. أجل، إن الآثار التي نشاهدها في هذا العالم يمكن أن تتحقق بوسائل غير ما نظن، ولكن هذه معقولة لنا، وتلائم حاجاتنا. وإذن فهي لنا كالوسائل الصحيحة، وتحل عندنا محل الوسائل الحقيقية
--------------------------------------------
যা তিনি প্রথমে এর উপর প্রয়োগ করেছিলেন এবং যা দুটি পর্যাপ্ত শর্ত স্পষ্ট করেছিল: পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এবং মূলনীতিসমূহের স্বতঃসিদ্ধতা, অতঃপর প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল তথ্য আহরণ করার সক্ষমতা। অন্য কথায়: এটি পদার্থবিদ্যা ও গণিতের একটি সফল সংমিশ্রণ।
এখানেই আমরা সেই মহান সংস্কার, বরং সেই বিপ্লব খুঁজে পাই যা আমাদের দার্শনিক সম্পন্ন করেছিলেন; তিনি 'মূলনীতি' গ্রন্থের চারটি অংশের শেষে এবং গ্রন্থের মূল পাঠের প্রতিটি মুহূর্তে এটি ঘোষণা করতে ক্ষান্ত হননি। এবং অন্তত একজন ব্যক্তি এটি বুঝতে পেরেছিলেন এবং সেই কাজের পরিধি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনি হলেন ফাদার 'পিকো'১; তিনি যথাযথভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সময় পর্যন্ত পদার্থবিদ্যাই ছিল সমগ্র প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং গণিত ছিল এর অন্যান্য বড় অংশগুলোর মধ্যে কেবল একটি অংশ মাত্র। কিন্তু দেকার্ত সেই ব্যবস্থাকে উল্টে দিয়েছিলেন; ফলে গণিত তাঁর হাতে সবকিছু হয়ে উঠল এবং পদার্থবিদ্যা কেবল একটি অংশে পরিণত হলো।
আর গণিত যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে, তাতে অসীম সংখ্যক সম্ভাব্যতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকৃত বাস্তব জগৎ হলো এই সম্ভাব্যতাসমূহেরই একটি রূপ এবং এটি সেই একই নিয়ম ও আইনের অধীন যার অধীন অন্য সকল জগৎসমূহ। সুতরাং, বাস্তব জগৎকে ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রথমে এর নিয়মগুলো জানা আবশ্যক; এভাবেই গণিতের অধিকার ও শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার হয় এবং গণিতের বদৌলতে পদার্থবিদ্যা—তার অনুগামী হওয়া মেনে নিয়ে—নিজেদের জন্য সঠিক বিজ্ঞানের মর্যাদা দাবি করতে পারে। এর আগে গ্যালিলিও বলেছিলেন যে, গণিত আমাদের চাবিকাঠি প্রদান করে, অথবা প্রকৃতি সাংকেতিক হরফে লিখিত এবং গণিত আমাদের সেই পাঠোদ্ধারের সংকেত প্রদান করে; কিন্তু এটিই কি সঠিক, প্রকৃত ও বাস্তব সংকেত? এর মাধ্যমে যদি আমরা বস্তুসমূহকে অনুবাদ করতে বা ব্যাখ্যা করতে পারি, তবে এর বেশি কিছু আমাদের জন্য জরুরি নয়। হ্যাঁ, এই জগতে আমরা যেসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করি, তা আমাদের ধারণার অতীত উপায়েও সম্পন্ন হতে পারে, কিন্তু সেগুলো আমাদের বুদ্ধিগম্য এবং আমাদের প্রয়োজনের অনুকূল। সুতরাং সেগুলো আমাদের কাছে সঠিক উপায়ের ন্যায় এবং আমাদের নিকট তা প্রকৃত উপায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التي لا نعرفها. بل إذا استطعنا يوما أن نعرف الوسائل الحقيقية لو صح أنها موجودة وليست خرافة، فلسنا نكسب من ذلك شيئا لا للنظر -ما دمنا قد كسبنا بدونها من قبل معرفة للأشياء صحيحة واضحة متميزة- ولا للعمل ما دامت تلك المعرفة تمكننا من أن نؤثر على الطبيعة1. فالواقع هو كله عندنا في الفكرة الواضحة المتميزة، وهي ماهية الحقيقة وجوهرها. والكلمة الأخيرة في تلك الفيزيقا -كما كان الحال في الميتافيزيقا عند ديكارت- هي "المثالية الجوانية". وفيلسوفنا يريد اليقين المطلق التام، فهو يستدل تبعا لذلك، وهو أخيرا يلتجئ إلى الموجود الكامل كما لو كانت قضيته خاسرة، قال: "إن الشك في عقلنا، أو في فكرنا بمثابة العيب في حق الله"2.
هذا، وقد راعيت في الترجمة على العموم أن تكون مطابقة لأصلها اللاتيني الذي كتبه ديكارت، وإن كنت قد رجحت في بعض المواضع صياغة الترجمة الفرنسية التي راجعها الفيلسوف قبل نشرها.
ولا يفوتني ههنا أن أنوّه بطبعتين للمبادئ بالفرنسية، انتفعت بهما في تعليقاتي على الكتاب: الأولى طبعة "لوي ليار" والثانية طبعة "دور إندان".
القاهرة إبريل 1959
عثمان أمين
--------------------------------------------
যেগুলো আমরা জানি না। বরং, কোনোদিন যদি আমরা সেই প্রকৃত উপায়গুলো জানতে সক্ষম হই—যদি সত্যিই তা বিদ্যমান থাকে এবং কোনো গালগল্প না হয়—তবে তাত্ত্বিক দিক থেকে আমরা তা থেকে নতুন কিছু অর্জন করব না; কারণ এর মাধ্যম ছাড়াই আমরা ইতঃপূর্বে বস্তুসমূহ সম্পর্কে সঠিক, স্পষ্ট ও স্বতন্ত্র জ্ঞান লাভ করেছি। এমনকি কর্মক্ষেত্রেও তা কোনো ফল দেবে না, যতক্ষণ সেই জ্ঞান আমাদের প্রকৃতির ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম করে। কারণ বাস্তবতা আমাদের কাছে সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট ও স্বতন্ত্র ধারণার মধ্যেই বিদ্যমান, আর এটাই সত্যের স্বরূপ ও সারবস্তু। দেকার্তের অধিবিদ্যার ন্যায় এই পদার্থবিদ্যারও শেষ কথা হলো "অভ্যন্তরীণ ভাববাদ"। আমাদের এই দার্শনিক পূর্ণ ও পরম নিশ্চিতি কামনা করেন, তাই তিনি তদনুসারে যুক্তি পেশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পূর্ণ সত্তার (আল্লাহর) শরণাপন্ন হন যেন তাঁর যুক্তি হেরে যাচ্ছিল। তিনি বলেন: "আমাদের বুদ্ধি বা চিন্তার ক্ষেত্রে সন্দেহ পোষণ করা আল্লাহর হকের ব্যাপারে ত্রুটির নামান্তর।"২।
এই অনুবাদে আমি সাধারণভাবে দেকার্তের লেখা মূল লাতিন পাঠের অনুসারী হওয়ার চেষ্টা করেছি, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমি ফরাসি অনুবাদের ভাষ্যকে প্রাধান্য দিয়েছি, যা দার্শনিক নিজেই প্রকাশের পূর্বে পর্যালোচনা করেছিলেন।
এখানে 'মাবাদিউ' বা মূলনীতি গ্রন্থের দুটি ফরাসি সংস্করণের কথা উল্লেখ করা জরুরি, যা থেকে আমি এই গ্রন্থের টীকা রচনায় উপকৃত হয়েছি: প্রথমটি 'লুই লিয়ার' সংস্করণ এবং দ্বিতীয়টি 'ডোর ইনডান' সংস্করণ।
কায়রো, এপ্রিল ১৯৫৯
ওসমান আমিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إهداء المؤلف
مدخل…إهداء المؤلف:
إهداء إلى حضرة صاحبة الشوكة 1 الأميرة إليزابث كبرى بنات فردريك، ملك بوهيميا، وكونت بالاتينا والأمير الناخب للإمبراطورية:
سيدتي:
إن أعظم نفع ظفرت به من المؤلفات التي نشرتها من قبل هو أنني قد نلت بسببها شرف الالتفات إليّ من سموك، وحظيت حينا بالتحدث إلى جنابك، فتيسر لي بهذا أن أتبين في شخصك خصالا قيمة نادرة جعلتني أعتقد أنني أسدي خدمة للجمهور إذا أنا قدمتها إلى الخلف قدوة تحتذى. لا يليق بي أن أتملق أو أن أكتب أشياء ليس لي بها معرفة يقينية، وعلى الخصوص في الصفحات الأولى لهذا الكتاب، الذي قصدت فيه إلى أن أضع مبادئ جميع الحقائق التي يستطيع الذهن الإنساني أن يعرفها. وإن التواضع الكريم الذي نراه متألقا في جميع أفعال سموك يجعلني على ثقة من أن الكلام البسيط الصريح الذي ينطق به رجل، لا يكتب إلا ما يعتقد، سيلقي لديك من ارتياح أكثر مما تلقي خطب الثناء المنمقة بعبارات التفخيم، التي يعمد إليها من درسوا فن المديح. ولهذا لن أضع في هذه الرسالة شيئا ما لم تكن التجربة والعقل قد جعلاني مستيقنا منه. وسوف أكتب في الديباجة كما في بقية الكتاب على النحو الذي يلائم الفيلسوف.
--------------------------------------------
লেখকের উৎসর্গ
প্রবেশিকা...লেখকের উৎসর্গ:
মহামহিম ১ রাজকুমারী এলিজাবেথের প্রতি উৎসর্গিত, যিনি বোহেমিয়ার রাজা ফ্রেডরিকের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং প্যালাটিনা কাউন্টেস ও সাম্রাজ্যের নির্বাচক রাজপুত্র (ইলেক্টর প্রিন্স):
মাননীয়া মহোদয়া:
পূর্বে আমি যে সমস্ত গ্রন্থ প্রকাশ করেছি, তা থেকে আমি সবচেয়ে বড় যে উপকারটি লাভ করেছি তা হলো—আপনার মহামহিমার দৃষ্টি আকর্ষণ করার সৌভাগ্য অর্জন এবং আপনার সাথে মাঝে মাঝে কথোপকথনের সুযোগ লাভ। এর মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিত্বে এমন কিছু বিরল ও মূল্যবান গুণাবলি প্রত্যক্ষ করা আমার জন্য সহজ হয়েছে, যা আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, আমি যদি আপনার সেই গুণাবলিকে উত্তরসূরিদের জন্য অনুসরণযোগ্য আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করি, তবে তা জনসাধারণের জন্য এক মহৎ সেবা হিসেবে গণ্য হবে। তোষামোদি করা কিংবা এমন কিছু লেখা যে বিষয়ে আমার সুনিশ্চিত জ্ঞান নেই—তা আমার জন্য মোটেও সমীচীন নয়; বিশেষ করে এই গ্রন্থের শুরুর পৃষ্ঠাগুলোতে, যেখানে আমি সেই সমস্ত সত্যের মূলনীতিগুলো বর্ণনা করার সংকল্প করেছি যা মানব মন অনুধাবন করতে সক্ষম। আপনার প্রতিটি কর্মে যে মহান বিনয় দীপ্তিমান হতে দেখি, তা আমাকে এই আত্মবিশ্বাস জোগায় যে—একজন ব্যক্তির সরল ও স্পষ্ট কথা, যিনি কেবল যা বিশ্বাস করেন তা-ই লেখেন, তা আপনার নিকট সেই সমস্ত অলংকৃত প্রশংসা ও আড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতার চেয়ে অধিক সন্তোষজনক হবে, যা প্রশংসাশাস্ত্রে পারদর্শীরা ব্যবহার করে থাকেন। এই কারণেই, অভিজ্ঞতা ও যুক্তির আলোকে আমি যা নিশ্চিত হতে পারিনি, তা এই পত্রে উল্লেখ করব না। আমি এই প্রস্তাবনায় এবং গ্রন্থের বাকি অংশে এমনভাবে লিখব যা একজন দার্শনিকের জন্য শোভনীয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إن هناك فرقا بين الفضائل الحقيقية والفضائل التي ليست إلا ظاهرية، كما أن هنالك فرقا كبيرا بين الفضائل التي تصدر عن معرفة الحقيقة معرفة صحيحة والفضائل التي تكون مصحوبة بالجهل أو بالخطأ، والفضائل التي أسميها ظاهرية ليست في حقيقة الأمر إلا رذائل.
ولكن من حيث إنها ليست من الشيوع بقدر الرذائل الأخرى التي هي أضداد لها، ومن حيث إنها أبعد عنها من الفضائل التي تشغل منزلة وسطى، فقد جرت عادة الناس أن يقدروها أكثر مما يقدرون من الفضائل؛ ولذلك لما كان عدد من يخافون المخاطر خوفا شديدا جدا أكثر من عدد من يخافونها قليلا جدا، غلب على الناس أن يقابلوا بين التهور والاستحياء كما يقابلون بين فضيلة ورذيلة، وزاد تقديرهم للتهور على تقديرهم للشجاعة الحقيقية. ولذلك أيضا وجدنا المبذرين يمدحون عادة أكثر مما يمدح أهل السخاء، ووجدنا الأخيار المخلصين حقا لا ينالون من الاشتهار بالبر والتقوى قدر ما ينال المخرفون والمنافقون.
وكثير من الفضائل الحقيقية لا تصدر عن معرفة حقيقية، بل إن منها ما يصدر أيضا عن نقص أو خطأ، فغالبا ما تكون البساطة علة لرقة القلب، والخوف علة للتقوى، واليأس علة للشجاعة. والفضائل المصحوبة بنقص يختلف بعضها عن بعض ويسميها الناس أيضا بأسماء مختلفة. أما الفضائل الخالصة الكاملة التي لا تصدر إلا عن معرفة الخير، فهي كلها من طبيعة واحدة، ويمكن أن يشتمل عليها اسم الحكمة؛ لأن كل من صدقت عزيمته وثبتت إرادته على أن يستعمل عقله دوما أحسن ما وسعه من استعمال، وان يتوخى في جميع أفعاله ما يراه أحسن الأشياء، وهو حكيم حقا بقدر ما تهيئه له طبيعته. وبهذا وحده يكون عادلا ومعتدلا، ويكون مالكا لكل الفضائل الأخرى، وتكون كلها مجتمعة فيه بقسطاس مستقيم، فلا تطغى إحداها على الأخرى. وهذا هو السبب في أن هذه
প্রকৃত গুণাবলি এবং যে গুণগুলো কেবল বাহ্যিক বা লোকদেখানো, তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে, সত্যের সঠিক জ্ঞান থেকে উৎপন্ন গুণাবলি এবং মূর্খতা বা ভুলের সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলির মধ্যে বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান। আমি যে গুণগুলোকে বাহ্যিক বলি, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে দোষ বা মন্দ স্বভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিন্তু যেহেতু এই গুণগুলো তাদের বিপরীতধর্মী অন্যান্য দোষের মতো অতটা প্রচলিত নয় এবং যেহেতু এগুলো মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী গুণাবলি থেকে অধিকতর দূরে অবস্থান করে, তাই মানুষের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা এই বাহ্যিক গুণগুলোকে প্রকৃত গুণাবলির চেয়েও বেশি মূল্যায়ন করে। এই কারণে, বিপদ-আপদকে যারা চরমভাবে ভয় পায় তাদের সংখ্যা যারা খুব সামান্য ভয় পায় তাদের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায়, মানুষের মাঝে হঠকারিতা এবং লজ্জাশীলতাকে এমনভাবে তুলনা করার প্রবণতা প্রবল হয়েছে যেন তারা একটি সগুণ ও একটি দোষের মধ্যে তুলনা করছে। ফলে প্রকৃত বীরত্বের চেয়ে হঠকারিতার প্রতি তাদের কদর বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে আমরা দেখি যে, অপব্যয়ীদের সাধারণত দানশীল ব্যক্তিদের চেয়েও বেশি প্রশংসা করা হয় এবং আমরা দেখি যে, প্রকৃত একনিষ্ঠ নেককার ব্যক্তিরা পুণ্য ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে ততটা খ্যাতি লাভ করেন না যতটা বিভ্রান্ত ও মুনাফিকরা লাভ করে থাকে।
অনেক প্রকৃত গুণও প্রকৃত জ্ঞান থেকে উদ্ভূত হয় না, বরং এমন কিছু গুণ রয়েছে যা ত্রুটি বা ভুল থেকেও উৎসারিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সারল্যই অন্তরের কোমলতার কারণ হয়, ভয় হয় তাকওয়ার কারণ এবং নিরাশা হয় সাহসিকতার কারণ। ত্রুটিযুক্ত গুণাবলি একে অপরের থেকে ভিন্ন হয় এবং মানুষ এগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকে। পক্ষান্তরে, সেই বিশুদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি যা কেবল মঙ্গলের জ্ঞান থেকে উৎপন্ন হয়, সেগুলো সবই একই প্রকৃতির এবং সেগুলোকে 'হিকমত' বা প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কারণ যার সংকল্প সত্য এবং যার ইচ্ছা এই মর্মে দৃঢ় যে সে সর্বদা তার বুদ্ধিবৃত্তিকে সাধ্যমতো সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করবে এবং তার সকল কাজে যা সর্বোত্তম মনে করে তা অন্বেষণ করবে, সে-ই তার প্রকৃতিগত সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকৃতপক্ষে একজন হাকীম বা প্রজ্ঞাবান। কেবল এভাবেই সে ন্যায়পরায়ণ ও পরিমিতিবোধ সম্পন্ন হয় এবং অন্য সকল গুণের অধিকারী হয়। এই সকল গুণ তার মাঝে এক সুসংগত ভারসাম্যের সাথে একত্রিত হয়, ফলে একটি গুণের আধিক্য অন্যটিকে আড়াল করে না বা সীমা লঙ্ঘন করে না। আর এই কারণেই এই...
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفضائل مع كونها أكمل جدا من الفضائل التي تلمع وتبرز بسبب امتزاجها ببعض النقص، غير أنه لما كانت العامة أقل التفاتا إليها، لم تجر العادة بأن تنظم لها عقود الثناء1.
يضاف إلى هذا أن من بين الأمرين المطلوبين للحكمة على نحو ما وصفنا -أعني: إدراك الذهن لما هو خير، واستعداد الإرادة لأن تتبعه على الدوام- أن هنالك أمرا هو مناط الإرادة وحده يمكن أن يملكه الناس جميعا على السواء؛ نظرا إلى أن قرائح بعض الناس أقل جودة من قرائح غيرهم2. ولكن مع أن من لم يرزقوا جودة القريحة يستطيعون أن يبلغوا من الحكمة ما تؤهلهم له
--------------------------------------------
গুণাবলি, যদিও তা সেইসব গুণাবলি অপেক্ষা অধিকতর পূর্ণ যা কিঞ্চিৎ ত্রুটির মিশ্রণের কারণে উজ্জ্বল ও প্রকাশমান হয়ে ওঠে, তবুও যেহেতু সাধারণ মানুষ সেগুলোর প্রতি খুব কমই ভ্রূক্ষেপ করে, তাই সেগুলোর সপক্ষে প্রশংসার স্তুতি গাওয়ার রীতি সচরাচর দেখা যায় না।১
এর সাথে যুক্ত করা প্রয়োজন যে, আমরা প্রজ্ঞার জন্য যে দুটি বিষয় আবশ্যক বলে বর্ণনা করেছি—অর্থাৎ মেধা কর্তৃক যা কল্যাণকর তা অনুধাবন করা এবং সর্বদা তার অনুসরণ করতে ইচ্ছাশক্তির প্রস্তুতি—তার মধ্যে এমন একটি বিষয় রয়েছে যা একমাত্র ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরশীল এবং যা সকল মানুষ সমানভাবে অর্জন করতে পারে; যদিও কিছু মানুষের প্রতিভা অন্যদের তুলনায় কম গুণমানসম্পন্ন হতে পারে।২ তবে, যারা উচ্চমানের প্রতিভাপ্রাপ্ত হননি তারাও প্রজ্ঞার সেই স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম যার জন্য তারা যোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طبائعهم، وأن ينالوا رضى الله بفضائلهم، ما داموا مستمسكين بعرا العزيمة الصادقة مصممين على أن يعملوا كل ما يرونه خيرا، وأن لا يدخروا جهدا في تعلم الواجبات التي يجهلونها. بيد أن من يقصدون إلى فعل الخير بعزم صادق، ويبذلون في تثقيف أنفسهم عناية خاصة، ويملكون أيضا قريحة نفاذة، لا جرم يصلون إلى مرتبة من الحكمة أرفع من مرتبة غيرهم. وإني لأرى أن هذه الأمور الثلاثة قد اجتمعت في سموك بغاية الكمال، فعنايتك بتثقيف نفسك تتجلى في أنه لا شيء من ملهيات البلاط ولا الأسلوب المألوف في تربية الأميرات، ذلك الأسلوب الذي يصرفهن عادة عن الدرس والتحصيل، قد استطاع أن يحول بينك وبين أن تدرسي بمزيد من العناية أحسن ما في العلوم، ونفاذ قريحتك الذي لا نظير له يتبين من أنك نفذت إلى أسرار العلوم وأحطت بها إحاطة دقيقة في زمن وجيز جدا. ولكن عندي دليل يخصني أنا، وهو أنني لم ألق قط شخصا قد استطاع أن يفهم، بمثل ما بلغت من إحاطة وإتقان، كل ما تشتمل عليه مؤلفاتي؛ فإن هنالك كثيرين، حتى من بين ذوي الأذهان الفذة والعلم الغزير، يجدونها غامضة جدا. وقد لاحظت عند جمهرة المتبحرين في الرياضيات أنهم غير مستعدين إطلاقا لهم مباحث الميتافيزيقا، ولاحظت من جهة أخرى أن من يستسهلون هذه لا قدرة لهم على أن يفهموا تلك؛ ولهذا أستطيع أن أقول محقا: إنني لم ألق قط إلا ذهن سموك وحده الذي يستسهل هذه وتلك على السواء، ولهذا يحق لي أن أصفه بأنه ذهن لا نظير له. ولكن الشيء الذي يزيد من إعجابي هو أن هذه الإحاطة بجميع العلوم على هذا النحو من التنوع والكمال، لم أجدها عند عالم من الشيوخ أنفق سنوات عديدة في الدرس والتحصيل، بل عند أميرة ما زالت شابة محياها أقرب إلى أن يمثل محيا إحدى
তাদের প্রকৃতি, এবং তারা যেন তাদের সৎগুণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে, যতক্ষণ তারা দৃঢ় সংকল্পের রশিকে আঁকড়ে ধরে রাখবে এবং যা কিছু তারা কল্যাণকর মনে করবে তা করার জন্য বদ্ধপরিকর থাকবে, আর যে সকল কর্তব্য সম্পর্কে তারা অজ্ঞ তা শেখার ক্ষেত্রে কোনো শ্রম অবহেলা করবে না। তবে যারা সত্য সংকল্পের সাথে কল্যাণকর কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, নিজেদের জ্ঞানার্জনে বিশেষ যত্ন ব্যয় করে এবং প্রখর মেধার অধিকারী হয়, তারা নিঃসন্দেহে অন্যদের তুলনায় প্রজ্ঞার এক উচ্চতর স্তরে আরোহণ করে। আমি লক্ষ্য করছি যে, আপনার উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বে এই তিনটি বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে একত্রিত হয়েছে। আপনার আত্ম-শিক্ষার প্রতি যত্নশীলতা এতেই স্পষ্ট যে, রাজসভার কোনো বিনোদন বা রাজকন্যাদের লালন-পালনের প্রচলিত পদ্ধতি—যা সাধারণত তাদেরকে পাঠ ও জ্ঞানার্জন থেকে বিমুখ রাখে—তা আপনাকে বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ বিষয়সমূহ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। আপনার অতুলনীয় মেধার প্রখরতা এতেই প্রমাণিত হয় যে, আপনি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে বিজ্ঞানের রহস্যসমূহ উদঘাটন করেছেন এবং সে সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞান অর্জন করেছেন। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগত একটি প্রমাণ রয়েছে, তা হলো—আমি এমন কোনো ব্যক্তির দেখা পাইনি যিনি আমার রচনাবলির বিষয়বস্তু আপনার মতো এত ব্যাপক পরিধি ও নিপুণতার সাথে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন; কেননা অনেক অনন্য সাধারণ মেধাবী ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তিরাও এগুলোকে অত্যন্ত দুর্বোধ্য মনে করেন। আমি লক্ষ্য করেছি যে, গণিতশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এক বিশাল গোষ্ঠী মেটাফিজিক্স বা পরাবিদ্যার আলোচনা বুঝতে একেবারেই প্রস্তুত নন। অন্যদিকে, যারা পরাবিদ্যাকে সহজ মনে করেন, তাদের সেগুলোকে বোঝার ক্ষমতা নেই। তাই আমি যথাযথভাবেই বলতে পারি: আমি আপনার সুউচ্চ প্রতিভা ছাড়া এমন আর কোনো মেধার সন্ধান পাইনি যা এই উভয় বিষয়কেই সমানভাবে সহজ মনে করে। আর এ কারণেই আপনার মেধাকে অতুলনীয় হিসেবে বর্ণনা করা আমার জন্য সংগত। কিন্তু যা আমাকে অধিক বিস্ময়াভিভূত করে তা হলো—নানা বৈচিত্র্য ও পূর্ণতাসহ সমস্ত বিজ্ঞানে এই পরিব্যাপ্ত জ্ঞান আমি এমন কোনো প্রবীণ আলিমের মধ্যে খুঁজে পাইনি যিনি বহু বছর পাঠ ও জ্ঞানার্জনে ব্যয় করেছেন, বরং এটি পেয়েছি এমন এক রাজকন্যার মাঝে যিনি এখনও তরুণী, যার অবয়ব কোনো একজনের অবয়বের সদৃশ...
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ربات الجمال1 اللواتي يتحدث عنهن الشعراء، من أن يمثل محيا إحدى ربات الشعر2 أو محيا العالمة "مينرفا"3.
وختاما، ألاحظ في سموك كل ما هو مطلوب من جانب الذهن للحكمة الكاملة الفائقة، وليس هذا فحسب، بل كل ما يمكن أن يكون مطلوبا من جانب الإرادة أو الأخلاق، وفيها نرى علو الهمة والرقة، ملتئمتين مع الجلالة التئاما جعل صروف الدهر -مع أنها وجهت إليك ضرباتها المتواليات، ومع أنها بدت وكأنها قد بذلت كل ما في وسعها لتحويلك عن طبعك الرضي- لم تستطع قط أن توغر صدرك أو تكسر قلبك. وقد تضطرني هذه الحكمة الكاملة إلى إكبارك إكبارا يجعلني لا أقتصر على الاعتقاد أنك صاحبة الفضل في هذا الكتاب، إذ يبحث في الفلسفة التي هي دراسة الحكمة، بل يجعلني أشعر بأن حرصي على التفلسف، أي: السعي إلى تحصيل الحكمة، ليس أشد من حرصي على أن أكون يا سيدتي، لسموك،
الخادم المتواضع جدا،
والمطيع المتواضع جدا،
ديكارت
--------------------------------------------
সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবীগণ১ যাদের সম্পর্কে কবিগণ বর্ণনা করেন, তাদের কারো অবয়ব অথবা কাব্যদেবীগণের২ কারো অবয়ব কিংবা বিদুষী "মিনার্ভা"র৩ অবয়বের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়েও।
পরিশেষে, আমি আপনার মহিমার মধ্যে লক্ষ্য করছি সেই সবকিছু যা এক পূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে প্রয়োজনীয়; কেবল তাই নয়, বরং সংকল্প বা নৈতিকতার দিক থেকে যা কিছু কাম্য হতে পারে তার সবকিছুই আপনার মাঝে বিদ্যমান। আর এতে আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কোমলতার এমন এক সমন্বয় দেখতে পাই যা গাম্ভীর্যের সাথে এমনভাবে মিশে আছে যে, মহাকালের বিবর্তন—যদিও তা আপনার ওপর একের পর এক আঘাত হেনেছে এবং আপনার সন্তুষ্ট স্বভাব থেকে আপনাকে বিচ্যুত করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে বলে মনে হয়েছে—তবুও তা কখনো আপনার অন্তরকে তিক্ত করতে বা আপনার হৃদয়কে ভাঙতে সক্ষম হয়নি। এই পূর্ণ প্রজ্ঞা আমাকে আপনার প্রতি এমন এক পরম শ্রদ্ধায় উপনীত হতে বাধ্য করছে যা আমাকে কেবল এই বিশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রাখে না যে, আপনিই এই গ্রন্থের মূল কৃতিত্বের অধিকারিণী, যেহেতু এটি দর্শন নিয়ে আলোচনা করে যা প্রজ্ঞারই চর্চা; বরং এটি আমাকে অনুভব করায় যে, হে মহীয়সী, আমার দর্শনচর্চার প্রতি আগ্রহ, অর্থাৎ প্রজ্ঞা অর্জনের প্রচেষ্টা, আপনার মহিমার প্রতি আমার অনুগত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অধিক তীব্র নয়।
আপনার একান্ত বিনয়ী সেবক,
এবং একান্ত অনুগত ও নম্র,
দেকার্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رسالة من المؤلف إلى مترجم الكتاب:وهي بمثابة تقديم له:
سيدي:
إن ترجمة "مبادئ" التي بذلت جهدك في إخراجها قد بلغت من الوضوح والإتقان ما يجعلني أتوقع أن يكون قراء الكتاب في الفرنسية أكثر من قرائه في اللاتينية، ويجعلني آمل أن يكونوا له أحسن فهما. والذي أخشاه هو أن يصدّ العنوان كثيرين ممن لم ينشئوا على الدراسات، أو ممن ساء ظنهم بالفلسفة؛ لأن الفلسفة التي تلقنوها لم تفز برضاهم. وذلك يجعلني أرى أن من الخير أن أضيف إليها تقديما يبين لهم ما هو موضوع الكتاب؟ وما القصد الذي توخيته حين كتبته؟ وما المنفعة التي يمكن أن تنال منه؟
لكن مع أنه قد يكون من شأني أنا أن أكتب تقديما من هذا القبيل، إذ المفروض أني أعرف تلك الأمور خيرا من أي شخص آخر، إلا أني لا أستطيع أن أظفر من نفسي بشيء أكثر من أن أضع هنا موجزا للنقط الرئيسية التي يبدو لي أن من الواجب بحثها في ذلك التقديم، وأترك لحسن تصرفك أن تنشر منها على الجمهور ما تراه ملائما المقام.
كنت أبغي أولا أن أشرح فيه معنى الفلسفة، مبتدئا بأقرب الأشياء إلى فهم الكافة، مثل أن لفظ "الفلسفة" معناه دراسة الحكمة، وأنه لا يقصد بالحكمة التحوط في تدبير الأمور فحسب، بل يقصد منها معرفة كاملة لكل ما يستطيع الإنسان أن يعرفه، إما لتدبير حياته، أو لحفظ صحته، أو لاستكشاف الفنون
লেখকের পক্ষ থেকে বইটির অনুবাদকের প্রতি একটি পত্র:এটি বইটির ভূমিকা স্বরূপ:
মহোদয়:
"মাবাদিউ" (মূলনীতিসমূহ) গ্রন্থের যে অনুবাদটি আপনি আপনার প্রচেষ্টায় প্রকাশ করেছেন, তা এতোটাই স্পষ্ট ও নিপুণ হয়েছে যে, আমি আশা করছি লাতিন ভাষার চেয়ে ফরাসি ভাষায় এই বইটির পাঠক সংখ্যা অধিক হবে এবং তারা এটি আরও উত্তমভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। আমি যা আশঙ্কা করছি তা হলো, এর শিরোনামটি এমন অনেককে নিরুৎসাহিত করতে পারে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি অথবা দর্শন সম্পর্কে যাদের মনে বিরূপ ধারণা রয়েছে; কারণ যে দর্শন তারা শিখেছেন তা তাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এ কারণে আমি মনে করছি যে, এর সাথে এমন একটি ভূমিকা যুক্ত করা কল্যাণকর হবে যা পাঠকদের নিকট স্পষ্ট করবে যে, বইটির বিষয়বস্তু কী? এটি লেখার সময় আমার উদ্দেশ্য কী ছিল? এবং এটি থেকে কী উপকার লাভ করা সম্ভব?
যদিও এই ধরনের একটি ভূমিকা লেখা আমারই দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল, কারণ ধরে নেওয়া হয় যে আমি এই বিষয়গুলো অন্য যে কারো চেয়ে ভালো জানি, তবুও আমি এখানে প্রধান পয়েন্টগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সার তুলে ধরার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারছি না, যে বিষয়গুলো আমার মতে সেই ভূমিকায় আলোচনা করা উচিত ছিল। আর আমি আপনার বিজ্ঞ বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি যে, আপনি এর মধ্য থেকে যতটুকু এই প্রেক্ষাপটের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন, ততটুকুই জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করবেন।
আমি প্রথমে এতে দর্শনের অর্থ ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলাম, যা সাধারণ মানুষের বোঝার জন্য সবচেয়ে সহজ বিষয়গুলো দিয়ে শুরু হতো। যেমন "দর্শন" শব্দটির অর্থ হলো প্রজ্ঞার চর্চা বা জ্ঞানানুশীলন। আর প্রজ্ঞা বলতে কেবল কাজকর্মে সতর্কতা অবলম্বন করাকেই বোঝায় না, বরং মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব এমন সব বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকেই বোঝায়; চাই তা জীবন পরিচালনার জন্য হোক, বা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য হোক, অথবা বিভিন্ন কারিগরি বিদ্যা ও কলাকৌশল আবিষ্কারের জন্য হোক।
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
جميعا؛ وأن المعرفة التي يتوسل بها إلى هاتيك الغايات لا بد أن تكون مستنبطة من العلل الأولى بحيث يكون من الضروري لاكتسابها "وهو ما يسمى على التحقيق تفلسفا" أن نبدأ بالفحص عن هاتيك العلل الأولى، أي: بالفحص عن "المبادئ"؛ وأن هاتيك المبادئ لا بد أن يتوافر فيها شرطان: أحدهما: أن يكون من الوضوح والبداهة بحيث لا يستطيع الذهن الإنساني أن يرتاب في حقيقتها متى أمعن النظر فيها، والثاني: أن تعتمد عليها معرفة الأشياء الأخرى، بحيث إنها يمكن أن تعرف بدون هذه الأشياء ولا تعرف هذه الأشياء الأخرى، بحيث إنها يمكن أن تعرف بدون هذه الأشياء ولا تعرف هذه الأشياء بدونها، ويلزم بعد هذا أن نسعى إلى أن نعرف بدون هذه الأشياء ولا تعرف هذه الأشياء بدونها، ويلزم بعد هذا أن نسعى إلى أن نستنبط من تلك المبادئ معرفة الأشياء المعتمدة عليها بحيث لا يكون في سلسلة الاستنباطات شيء إلا وهو بين كل البيان، والله وحده هو حقا الموجود الذي هو حكيم إطلاقا، أي: المحيط علنه بحقائق الأشياء جميعا. لكنا نستطيع أن نقول: إن مراتب الناس من الحكمة متفاوتة بمقدار تفاوتهم في معرفة أهم الحقائق، وأنا واثق أنه لا شيء مما قد قلته الآن إلا ويقره جميع العلماء.
وكنت أبغي بعد ذلك أن أوجه النظر إلى منفعة الفلسفة، وأن أبين أنه ما دامت تتناول كل ما يستطيع الذهن الإنساني أن يعرفه، فيلزمنا أن نعتقد أنها هي وحدها تميزنا من الأقوام المتوحشين والهمجيين، وأن حضارة الأمة وثقافتها إنما تقاس بمقدار شيوع التفلسف الصحيح فيها؛ ولذلك فإن أجل نعمة ينعم الله بها على بلد من البلاد هو أن يمنحه فلاسفة حقيقيين. وكنت أبغي أن أبين فوق هذا أنه بالنسبة إلى الأفراد، ليس فقط من النافع لكل إنسان أن يخالط من يفرغون لهذه الدراسة، بل إن الأفضل له قطعا أن يوجه انتباهه إليها وأن يشغل
সকলের জন্য; এবং যে জ্ঞানকে সেই লক্ষ্যগুলো অর্জনের মাধ্যম বানানো হয়, তা অবশ্যই আদি কারণসমূহ থেকে আহরিত হতে হবে, যাতে সেই জ্ঞান অর্জন করা—যা মূলত দর্শনচর্চা হিসেবে অভিহিত—আমাদের জন্য সেই আদি কারণসমূহ অনুসন্ধানের মাধ্যমে শুরু করা আবশ্যক হয়, অর্থাৎ: "মূলনীতিসমূহ" অনুসন্ধানের মাধ্যমে; আর সেই মূলনীতিসমূহে অবশ্যই দুটি শর্তের সমন্বয় থাকতে হবে: প্রথমটি হলো, সেগুলো এমন সুস্পষ্ট ও স্বতঃসিদ্ধ হতে হবে যে, মানুষের মন যখন তাতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবে, তখন তার সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ করতে পারবে না। দ্বিতীয়টি হলো, অন্যান্য বিষয়সমূহের জ্ঞান সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যাতে মূলনীতিগুলোকে ওই বিষয়সমূহ ছাড়াই জানা সম্ভব হয়, কিন্তু ওই বিষয়সমূহকে মূলনীতিগুলো ছাড়া জানা সম্ভব না হয়। এরপর আমাদের জন্য আবশ্যক হলো এই প্রচেষ্টা চালানো যাতে আমরা সেই মূলনীতিগুলো থেকে সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল বিষয়সমূহের জ্ঞান আহরণ করতে পারি, যেন সেই আহরণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এমন কোনো কিছু না থাকে যা সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট নয়। আর একমাত্র আল্লাহই হলেন প্রকৃত বিদ্যমান সত্তা যিনি পরম প্রজ্ঞাময়, অর্থাৎ: যাঁর জ্ঞান সমস্ত জিনিসের প্রকৃত স্বরূপকে পরিবেষ্টন করে আছে। তবে আমরা বলতে পারি যে, প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে মানুষের মর্যাদার স্তরগুলো গুরুত্বপূর্ণ সত্যসমূহ জানার ক্ষেত্রে তাদের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর আমি নিশ্চিত যে, আমি এখন যা বলেছি তা সমস্ত পণ্ডিত ব্যক্তিই স্বীকার করবেন।
এরপর আমি দর্শনের উপযোগিতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি এবং এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, যেহেতু দর্শন মানুষের মনের বোধগম্য সবকিছু নিয়ে আলোচনা করে, তাই আমাদের এটি বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, এটিই একমাত্র বিষয় যা আমাদের অসভ্য ও বর্বর জাতিসমূহ থেকে পৃথক করে। আর কোনো জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতি সেই জাতির মধ্যে সঠিক দর্শনচর্চার প্রসারের মাত্রা দ্বারাই পরিমাপ করা হয়; তাই আল্লাহ কোনো জনপদের ওপর যে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেন, তা হলো সেই জনপদকে প্রকৃত দার্শনিক দান করা। আমি এর অতিরিক্ত এটিও স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের জন্য কেবল এটাই উপকারী নয় যে সে এই অধ্যয়নে নিমগ্ন ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করবে, বরং তার জন্য নিশ্চিতভাবে এটিই অধিকতর উত্তম যে সে নিজে এর প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করবে এবং নিজেকে ব্যাপৃত রাখবে
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بها؛ كما أن استعمال المرء عينيه لهداية خطواته واستمتاعه عن هذا الطريق بجمال اللون والضوء، أفضل بلا ريب من أن يسير مغمض العينين وليس له من مرشد إلا نفسه. ولأن يحيا المرء دون تفلسف هو حقا كمن يظل مغمضا عينيه لا يحاول أن يفتحهما؛ والتلذذ برؤية كل ما يستكشفه البصر لا يمكن أن يقارن بالرضى الذي ينال من معرفة الأشياء التي تتكشف لنا بالفلسفة.
وأود أن أقول أخيرا: إن هذه الدراسة ألزم لإصلاح أخلاقنا وهداية سلوكنا في الحياة من استعمال عيوننا لهداية خطواتنا. والبهائم العجماوات التي لا هم لها إلا حفظ جسومها، لا تكل عن الدأب والسعي في طلب أقواتها. أما الناس الذين أهم جزء فيهم هو الذهن، فيجب عليهم أن يجعلوا طلب الحكمة همهم الأكبر؛ لأن الحكمة هي القوت الصحيح للعقول. وأستطيع أيضا أن أقنع نفسي أن هنالك كثيرين ما كان يفوتهم هذا الطلب لو أنهم أملوا شيئا من النجاح فيه، وعرفوا مبلغ مقدرتهم عليه. وليس من النفوس نفس مهما تكن من قلة النبل، تظل متعلقة بالحواس تعلقا شديدا فلا تتحول عنها حينا من الدهر، متشوقة إلى خير آخر أعظم وإن تكن في الغالب تجهل ماهية ذلك الخير. والذين آتاهم الله حظا عظيما، فأنعم عليهم بالعافية والمناصب والأموال ليسوا أقل من غيرهم رغبة في ذلك الخير، بل إني لأحسبهم أشد لهفة واشتياقا إلى خير آخر أكمل، وأسمى من كل ما يملكون من خيرات.
وهذا "الخير الأسمى" إذا نظر إليه بالنور الفطري دون نور الإيمان، لم يكن شيئا سوى معرفة الحقيقة عن طريق عللها الأولى، أعني: الحكمة التي تدرسها الفلسفة1. ولما كانت هذه الأمور كلها حقا لا مراء فيها، لم يصعب إقناع الناس بها، متى أحسنا عرضها والتدليل عليها.
--------------------------------------------
এর দ্বারা; যেমন কোনো ব্যক্তির নিজ পদক্ষেপকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য এবং এই পথে রঙ ও আলোর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য নিজের চোখের ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে চোখ বন্ধ করে চলার চেয়ে উত্তম, যেখানে নিজের সত্তা ছাড়া তার আর কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আর দর্শনচর্চা ছাড়া জীবন অতিবাহিত করা মূলত চোখ বন্ধ করে রাখার মতোই, যা খোলার কোনো চেষ্টাই করা হয় না। দৃষ্টিশক্তি যা কিছু উন্মোচন করে তা দেখার আনন্দ আর দর্শনের মাধ্যমে আমাদের সামনে প্রকাশিত হওয়া বিষয়গুলোর জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত পরিতৃপ্তির মধ্যে কোনো তুলনা হতে পারে না।
পরিশেষে আমি বলতে চাই: আমাদের চরিত্র সংশোধন এবং জীবনে আমাদের আচরণের দিকনির্দেশনার জন্য এই জ্ঞানচর্চা চোখের ব্যবহারের মাধ্যমে পদক্ষেপ পরিচালনার চেয়েও বেশি অপরিহার্য। মূক পশুরা যাদের একমাত্র চিন্তা হলো নিজেদের শরীর রক্ষা করা, তারা তাদের আহার অন্বেষণে নিরন্তর প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে কোনো ক্লান্তি বোধ করে না। আর মানুষ, যাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মন, তাদের উচিত প্রজ্ঞা অন্বেষণকে তাদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত করা; কারণ প্রজ্ঞাই হলো বুদ্ধিবৃত্তির সঠিক খাদ্য। আমি নিজেকে এই বিষয়েও আশ্বস্ত করতে পারি যে, এমন অনেকেই আছেন যারা এই অন্বেষণ থেকে পিছিয়ে থাকতেন না যদি তারা এতে সফলতার আশা পেতেন এবং এ বিষয়ে নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে জানতেন। এমন কোনো আত্মা নেই, তা যতই আভিজাত্যহীন হোক না কেন, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে থাকবে যে জীবনের কোনো এক সময় তা থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কোনো মহত্তর কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা করবে না, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে সেই কল্যাণের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। আর আল্লাহ যাদেরকে মহান ভাগ্য দান করেছেন, অর্থাৎ যাদেরকে সুস্থতা, উচ্চপদ এবং ধন-সম্পদ দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, তারা সেই কল্যাণের আকাঙ্ক্ষায় অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে নেই; বরং আমি মনে করি, তারা তাদের অধিকারভুক্ত সকল কল্যাণের চেয়েও অধিকতর পূর্ণ ও সুমহান অন্য এক কল্যাণের জন্য অধিকতর ব্যাকুল ও লালায়িত।
আর এই "সর্বোচ্চ কল্যাণ" ঈমানের নূর বাদ দিয়ে যদি কেবল ফিতরতি বা স্বভাবজাত নূরের মাধ্যমে দেখা হয়, তবে তা প্রথম কারণসমূহের মাধ্যমে সত্যের জ্ঞান লাভ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থাৎ: সেই প্রজ্ঞা যা দর্শন পাঠদান করে১। আর যেহেতু এই সব বিষয় সন্দেহাতীতভাবে সত্য, তাই মানুষকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করা কঠিন নয়, যদি আমরা একে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করি এবং এর সপক্ষে যথাযথ দলিল পেশ করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
لكن من حيث إنه قد حِيل بيننا وبين أن نعتقد هذه الأمور، بسبب التجربة التي تدلنا على أن محترفي الفلسفة هم غالبا أقل حكمة وأقل اعتصاما بالعقل من غيرهم ممن لم يشتغلوا بتلك الدراسة قط، فيلزمني ههنا أن أشرح بإيجاز: مم تتألف كل المعرفة التي نملكها الآن؟ وإلى أي درجات الحكمة وصلنا؟ الأولى لا تشتمل إلا على تصورات بلغ من وضوحها بذاتها أن أصبح اكتسابها ميسورا دون تأمل، والثانية تشتمل على كل ما تدلنا عليه تجربة الحواس، والثالثة ما نتعلمه من أحاديثنا مع غيرنا من الناس، ويصح أن نضيف إلى ما سبق درجة رابعة، وهي مطالعة الكتب لا أقول جميعا، بل على الخصوص تلك التي كتبها أشخاص قادرون على تزويدنا بإرشادات حسنة؛ لأن مطالعة الكتب ضرب من التحدث مع مؤلفيها. ويبدو لي أن كل الحكمة التي يقع امتلاكها في مألوفنا مكتسبة بهذه الطرق الأربعة فقط؛ لأني لا أضع الوحي الإلهي من بينها؛ إذ إن هدايته ليست على درجات، وإنما يرفعنا دفعة واحدة إلى إيمان لا يتزعزع.
نعم، لقد وجد في كل العصور من فطاحل المفكرين من حاولوا في سعيهم إلى بلوغ الحكمة أن يجدوا طريقا خامسا أرفع وأوثق بمراحل من الطرق الأربعة الأخرى؛ ذلك هو البحث عن العلل الأولى والمبادئ الحقة التي يستطيع المرء أن يستنبط منها أسباب كل ما في مقدورنا أن نعرفه، وعلى هؤلاء الذين اشتغلوا بهذا البحث على الخصوص أطلق الناس اسم الفلاسفة1. وأول وأكبر من
--------------------------------------------
তবে যেহেতু এই বিষয়গুলো বিশ্বাস করার পথে আমাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে সেই অভিজ্ঞতার কারণে, যা আমাদের দেখায় যে দর্শনের পেশাদাররা সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম প্রজ্ঞাবান এবং বিচারবুদ্ধির অনুসরণে কম অবিচল থাকেন, যারা এই জ্ঞানচর্চায় কখনও লিপ্ত হননি। তাই এখানে আমার জন্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা আবশ্যক যে: বর্তমানে আমাদের অধিকারে থাকা যাবতীয় জ্ঞান কী কী নিয়ে গঠিত? এবং আমরা প্রজ্ঞার কোন স্তরে পৌঁছেছি? প্রথম স্তরে কেবল এমন সব ধারণা রয়েছে যা স্বয়ংসিদ্ধভাবে এতটা স্পষ্ট যে কোনো গভীর চিন্তা ছাড়াই তা অর্জন করা সহজসাধ্য। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে যা কিছু আমাদের ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে। তৃতীয় স্তরটি হলো যা আমরা অন্যদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করি। আর পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর সাথে চতুর্থ একটি স্তর যুক্ত করা সম্ভব, যা হলো গ্রন্থ অধ্যয়ন—আমি সকল গ্রন্থের কথা বলছি না, বরং বিশেষভাবে সেই সব গ্রন্থের কথা বলছি যা আমাদের উত্তম দিকনির্দেশনা প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিবর্গ রচনা করেছেন; কারণ গ্রন্থ পাঠ করা হলো তাদের লেখকদের সাথে এক প্রকার কথোপকথন। আর আমার কাছে মনে হয় যে, আমাদের অভ্যস্ততায় প্রজ্ঞার যা কিছু অর্জন করা সম্ভব তা কেবল এই চারটি পথেই অর্জিত হয়; কারণ আমি এর মধ্যে ঐশী ওহিকে অন্তর্ভুক্ত করছি না; কেননা এর পথনির্দেশ বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত নয়, বরং এটি আমাদের একবারে এক অবিচল ঈমানের স্তরে উন্নীত করে।
হ্যাঁ, প্রত্যেক যুগেই এমন প্রথিতযশা চিন্তাবিদ ছিলেন যারা প্রজ্ঞা অর্জনের প্রচেষ্টায় এমন এক পঞ্চম পথ খোঁজার চেষ্টা করেছেন যা অন্য চারটি পথের তুলনায় বহুলাংশে উচ্চতর ও নির্ভরযোগ্য। সেটি হলো আদি কারণসমূহ এবং সেই সত্য মূলনীতিসমূহ অনুসন্ধান করা যা থেকে মানুষ আমাদের জ্ঞানের আওতাধীন সবকিছুর হেতু উদ্ঘাটন করতে পারে। বিশেষ করে যারা এই অনুসন্ধানে লিপ্ত ছিলেন, মানুষ তাদেরই ‘দার্শনিক’ নামে অভিহিত করেছে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وصلت إلينا مؤلفاتهم هما أفلاطون وأرسطو، ولم يكن بينهما من فرق سوى أن أفلاطون قد سار على آثار أستاذه سقراط، فاعترف في خلوص نية بأنه لم يهتد بعد إلى شيء يقيني، وأنه قد اكتفى بتحرير ما بدا له شيئا محتمل الصدق، وتخيل لهذا الغرض بعض مبادئ حاول بواسطتها أن يفسر الأشياء الأخرى. أما أرسطو فكان أقل صراحة، ومع أنه تتلمذ على أفلاطون عشرين سنة ولم يكن لديه مبادئ غير مبادئ أستاذه، فقد غير طريقة عرضها تغييرا تاما، وقدمها على أنها صحيحة ومؤكدة، ولو أن الأرجح أنها لم تكن قط في تقديره كذلك1.
ولقد أصاب هذان الرجلان من الألمعية والحكمة التي تكتسب بالوسائل الأربع السابقة ما أضفى عليهما سلطانا كبيرا جعل من جاءوا بعدهما يقفون عند متابعة آرائهما أكثر مما يسعون إلى شيء أفضل. والنزاع الكبير الذي نشب بين تلاميذهما إنما كان مداره أن يتبينوا: هل ينبغي أن توضع الأشياء كلها موضع الشك أم أن هناك أشياء يقينية؟ وهو خلاف أفضى بالفريقين إلى ضلال بعيد؛ لأن فريقا ممن ذهبوا إلى الشك قد وسعوا نطاقه وجعلوه يمتد إلى أفعل الحياة،
--------------------------------------------
যাদের রচনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তারা হলেন প্লেটো এবং এরিস্টটল। তাদের মধ্যে পার্থক্য বলতে কেবল এটাই ছিল যে, প্লেটো তাঁর শিক্ষক সক্রেটিসের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন এবং বিশুদ্ধ নিয়তে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি তখনো সুনিশ্চিত কোনো বিষয়ের সন্ধান পাননি। তিনি কেবল সেই বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করার ওপরই সন্তুষ্ট ছিলেন যা তাঁর কাছে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে বলে মনে হয়েছিল এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি কিছু নীতিমালা কল্পনা করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি অন্যান্য বিষয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। এরিস্টটলের বিষয়টি ছিল অপেক্ষাকৃত কম স্পষ্ট। তিনি প্লেটোর কাছে বিশ বছর শিক্ষা গ্রহণ করা সত্ত্বেও এবং তাঁর কাছে স্বীয় শিক্ষকের নীতিমালা ব্যতীত ভিন্ন কোনো নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও, তিনি সেগুলোর উপস্থাপনের পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। তিনি সেগুলোকে সঠিক এবং সুনিশ্চিত হিসেবে পেশ করেছিলেন, যদিও জোরালো সম্ভাবনা এটাই যে, তাঁর দৃষ্টিতেও সেগুলো কখনোই তেমন ছিল না১।
এই দুই ব্যক্তি পূর্বোক্ত চারটি উপায়ের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিভা এবং প্রজ্ঞার এমন স্তরে পৌঁছেছিলেন যা তাঁদের ওপর এক ব্যাপক আধিপত্য আরোপ করেছিল। ফলে তাঁদের উত্তরসূরিরা আরও উত্তম কিছুর অন্বেষণের চেয়ে তাঁদের মতামতের অনুসরণের ওপরই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের ছাত্রদের মধ্যে যে বড় বিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটা স্পষ্ট করা যে: সব বিষয়কেই কি সন্দেহের অবকাশে রাখা উচিত, নাকি সেখানে সুনিশ্চিত কিছু বিষয় রয়েছে? এটি এমন একটি মতপার্থক্য ছিল যা উভয় পক্ষকে চরম বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে গিয়েছিল; কারণ যারা সংশয়বাদের পথ অবলম্বন করেছিলেন, তারা এর পরিধিকে এত বিস্তৃত করেছিলেন যে তা জীবনের কার্যকলাপ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بحيث إنهم أهملوا استعمال الحيطة والتبصر في سلوكهم، أما من ناصروا مذهب اليقين فقد افترضوا أنه يعتمد على الحواس، فاطمأنوا إليها كل الاطمئنان، حتى إنه يقال: إن "أبيقور" بلغت به الجرأة في أقواله أن صرح، خلافا لجميع استدلالات علماء الفلك، بأن الشمس ليست أكبر حجما مما تبدو لنا.
وهناك عيب يمكن أن يلاحظ في جميع المنازعات، وهو أنه لما كانت الحقيقة وسطا بين الرأيين المتقابلين، فإن كل طرف يبعد عنها بمقدار ما يكون ميله إلى معارضة الطرف الآخر.
لكن خطأ من مالوا كل الميل إلى جانب الشك لم يجد من تابعه زمنا طويلا. أما خطأ الفريق الآخر فقد تيسر تصحيحه شيئا ما، حين تبين أن الحواس تخدعنا في كثير من الأشياء.
غير أني لا أحسب أن ذلك الخطأ قد زال زوالا تاما؛ لأن أحدا لم يبين أن اليقين ليس في الحواس بل في الذهن وحده حين يكون لديه مدركات بديهية، وأنه حين لا يكون لدينا إلا معارف اكتسبناها عن طريق درجات الحكمة الأربع الأولى، حينذاك لا ينبغي أن نشك في الأشياء التي تبدو لنا حقيقة إذا كانت متصلة بسلوكنا في الحياة، ولكن لا ينبغي كذلك أن نعدها يقينية يقينا يمتنع معه أن نغير رأينا فيها، إذا اضطرتنا إلى ذلك بداهة من بداهات العقل1.
--------------------------------------------
তারা তাদের আচরণে সতর্কতা এবং অন্তর্দৃষ্টির ব্যবহারে অবহেলা করেছিলেন। অন্যদিকে যারা নিশ্চয়তাবাদের সমর্থন করেছিলেন, তারা ধরে নিয়েছিলেন যে এটি ইন্দ্রিয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে তারা সেগুলোর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। এমনকি বলা হয় যে, "এপিকিউরাস" তার বক্তব্যে এতটা দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন যে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সমস্ত যুক্তির বিপরীতে ঘোষণা করেছিলেন যে, সূর্য আমাদের কাছে যতটুকু বড় মনে হয় তার চেয়ে আকারে বড় নয়।
সকল বিতর্কের মধ্যে একটি ত্রুটি লক্ষ্য করা যেতে পারে, আর তা হলো—যেহেতু সত্য দুটি বিপরীত মতের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে, তাই প্রতিটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরোধিতার দিকে যতটুকু ঝুঁকে পড়ে, সত্য থেকে ঠিক ততটুকুই দূরে সরে যায়।
তবে যারা সম্পূর্ণরূপে সন্দেহের দিকে ঝুঁকেছিলেন তাদের ভুল দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অনুসারী পায়নি। অন্যদিকে অপর পক্ষের ভুলটি কিছুটা সংশোধন করা সহজ হয়েছিল যখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইন্দ্রিয়সমূহ অনেক বিষয়ে আমাদের প্রতারিত করে।
তদাপি আমি মনে করি না যে সেই ভুলটি পুরোপুরি দূর হয়েছে; কারণ কেউ এটি স্পষ্ট করেনি যে নিশ্চয়তা ইন্দ্রিয়ের মধ্যে নয়, বরং কেবল মনের মধ্যে থাকে যখন তার কাছে স্বতঃসিদ্ধ উপলব্ধিগুলো বিদ্যমান থাকে। এবং যখন আমাদের কাছে কেবল প্রজ্ঞার প্রথম চারটি স্তরের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান থাকে, তখন আমাদের জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো যা আমাদের কাছে সত্য বলে মনে হয় তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ করা উচিত নয়; তবে সেগুলোকে এমন অকাট্য নিশ্চিত হিসেবে গণ্য করাও উচিত নয় যার প্রেক্ষিতে আমাদের মতামত পরিবর্তন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যদি বুদ্ধির কোনো স্বতঃসিদ্ধ সত্য আমাদের তা করতে বাধ্য করে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقد نشأ عن الجهل بهذه الحقيقة، أو عن عدم استعمالها ممن عرفوها أن معظم من أرادوا في هذه القرون الأخيرة أن يكونوا فلاسفة قد تابعوا أرسطو متابعة عمياء، حتى إنهم كثيرا ما أفسدوا معنى كتاباته، ناسبين إليه آراء مختلفة ما كان ليقر نسبتها إليه لو أنه عاد إلى هذه الدنيا. أما من لم يتابعوه -ومنهم كثيرون من ذوي العقول الراجحة1- فلم يبرءوا من التشبع بآرائه في شبابهم؛ لأنه لا يعلم في المدارس سواها، وقد شغلهم ذلك شغلا حال دون وصولهم إلى معرفة المبادئ الحقة. ومع أني أقدرهم جميعا ولا أريد أن أعرض نفسي للخزي بتوجيه اللوم إليهم، فإني أستطيع أن أقدم على قولي دليلا لا أظن أن منهم من ينكره، وهو أنهم قالوا بشيء لم يكونوا على معرفة كاملة به وافترضوه مبدأ. فأنا مثلا لا أعرف منهم من يفترض الثقل في الأجسام الأرضية، ولكن مع أن التجربة تدلنا بوضوح على أن الأجسام التي تسمى ثقيلة تهبط نحو مركز الأرض، فإننا لا نعلم مع ذلك ما هي طبيعة ما يسمى ثقلا، أي: طبيعة العلة أو المبدأ الذي يجعلها تهبط على هذا النحو، وعلينا أن نستقي معرفتنا بذلك من مصدر آخر. ويمكن أن يقال مثل هذا عن الخلاء والذرات، وعن الحار والبارد، وعن الجاف والرطب، وعن الملح والكبريت والزئبق وما شابه ذلك مما افترضه بعضهم مبادئ2.
لكن جميع النتائج التي تستنبط من مبدأ ليس ببديهي، لا يمكن أن تكون بديهية مهما يكن الاستنباط من حيث صورته صحيحا. ويترتب على هذا أن
--------------------------------------------
এই সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা যারা এটি জানেন তাদের দ্বারা এর যথাযথ প্রয়োগ না করার ফলে এটি উদ্ভূত হয়েছে যে, সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোতে যারা দার্শনিক হতে চেয়েছেন তাদের অধিকাংশই অ্যারিস্টটলকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেছেন। এমনকি তারা প্রায়শই তাঁর রচনার অর্থ বিকৃত করেছেন এবং তাঁর প্রতি এমন সব ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ আরোপ করেছেন যা তিনি এই পৃথিবীতে ফিরে আসলে কখনই নিজের বলে স্বীকার করতেন না। আর যারা তাঁকে অনুসরণ করেননি—যাদের মধ্যে অনেক প্রখর বুদ্ধিমান ব্যক্তিও রয়েছেন—তারাও তাদের যৌবনে তাঁর মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে মুক্ত হতে পারেননি; কারণ বিদ্যালয়গুলোতে এটি ছাড়া অন্য কিছু শেখানো হতো না। আর এটি তাদের এমনভাবে মগ্ন রেখেছিল যা তাদের সত্য নীতিমালা অনুধাবনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদিও আমি তাদের সকলকে শ্রদ্ধা করি এবং তাদের সমালোচনা করে নিজেকে লজ্জিত করতে চাই না, তবুও আমি আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে এমন একটি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারি যা আমি মনে করি না যে তাদের কেউ অস্বীকার করবেন। আর সেটি হলো, তারা এমন কিছু সম্পর্কে মত প্রকাশ করেছেন যা সম্পর্কে তাদের পূর্ণ জ্ঞান ছিল না এবং সেটিকে তারা একটি মূলনীতি বা উৎস হিসেবে ধরে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, আমি এমন কাউকে চিনি না যিনি পার্থিব বস্তুসমূহের মধ্যে ‘ভার’ বিদ্যমান থাকার বিষয়টি অনুমান করেন না; কিন্তু যদিও অভিজ্ঞতা আমাদের স্পষ্টভাবে দেখায় যে ‘ভারী’ হিসেবে পরিচিত বস্তুসমূহ পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয়, তবুও আমরা এর পাশাপাশি এটি জানি না যে এই তথাকথিত ভারের প্রকৃত প্রকৃতি কী, অর্থাৎ সেই কারণ বা মূলনীতির প্রকৃতি কী যা বস্তুসমূহকে এভাবে নিচে পড়তে বাধ্য করে। আমাদের এই সংক্রান্ত জ্ঞান অন্য কোনো উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। শূন্যতা, পরমাণু, উষ্ণ ও শীতল, শুষ্ক ও আর্দ্র, এবং লবণ, গন্ধক ও পারদ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কেও একই কথা বলা যেতে পারে, যা তাদের কেউ কেউ মূলনীতি হিসেবে ধরে নিয়েছেন।
কিন্তু এমন কোনো মূলনীতি যা স্বতঃসিদ্ধ নয়, তা থেকে আহরিত কোনো সিদ্ধান্তই স্বতঃসিদ্ধ হতে পারে না, সেই অনুমানটি গঠনগত দিক থেকে যতই সঠিক হোক না কেন। এর ফলে এটি দাঁড়ায় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিকারত মাবাদীউল ফালসাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
جميع الاستدلالات التي أقاموها على مثل تلك المبادئ لم تستطع أن تؤديهم إلى المعرفة اليقينية لشيء واحد، ولم تستطع بالتالي أن تجعلهم يقدمون خطوة واحدة في البحث عن الحكمة. وإذا كانوا قد وجدوا أية حقيقة، فمرجع ذلك إلى بعض الطرق الأربعة المشار إليها فيما تقدم. وعلى الرغم من هذا لا أريد أن أنتقص شيئا مما قد يدعيه كل واحد منهم لنفسه من فضل، لكني مضطر إلى أن أقول تهدئة لخواطر من لم ينصرفوا إلى الدرس: إن مثلنا كمثل المسافر، إذا أدار ظهره إلى المكان الذي يبتغي الذهاب إليه نأى عنه بقدر مضيه في الاتجاه الجديد زمانا أطول وبسرعة أشد، بحيث إنه لو عاد بعد ذلك إلى الطريق السوي لم يستطع أن يدرك المكان المقصود في نفس الوقت الذي كان يدركه فيه لو أنه لم يشرع في السير إطلاقا. وكذلك شأن الفلسفة، إذا اصطنعنا فيها مبادئ فاسدة كان ابتعادنا عن معرفة الحقيقة ومعرفة الحكمة بمقدار ما نبذل من عناية في تعهدهما، وما ننفق من جهد في استخلاص مختلف النتائج منهما، ونحن نظن أننا نحسن التفلسف، مع أننا نكون قد أمعنا في الابتعاد عن الحق. ويتعين أن نستخلص من هذا أن أولئك الذين تعلموا أقل قدر من كل ما خصّ حتى الآن باسم الفلسفة، هم أقدر الناس على إدراك الفلسفة الحقة.
وأود، بعد إيضاح هذه الأمور، أن أورد هنا الأدلة اللازمة لإثبات أن المبادئ التي تعيننا على الوصول إلى مراتب الحكمة هذه -وهو قوام الخير الأسمى في الحياة الإنسانية- هي المبادئ التي وضعتها في هذا الكتاب.
وحسبنا لإثبات ذلك دليلان اثنان: الأول: أن هذه المبادئ واضحة جدا. والثاني: أن باستطاعتنا أن نستنبط منها جميع الحقائق الأخرى؛ لأن هذين الشرطين وحدهما هما المطلوبان في المبادئ. ومن الميسور لي أن أثبت أنها
সেই নীতিগুলোর ওপর তারা যে সকল যুক্তিপ্রমাণ দাঁড় করিয়েছেন, তার কোনোটিই তাদেরকে কোনো একটি বিষয়েও নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করতে পারেনি এবং ফলশ্রুতিতে প্রজ্ঞা অনুসন্ধানে তাদেরকে এক ধাপও এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়নি। আর তারা যদি কোনো সত্যের সন্ধান পেয়েও থাকেন, তবে তার উৎস হলো পূর্বে উল্লেখিত চারটি পদ্ধতির কোনো একটি। এতদসত্ত্বেও, তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করেন, আমি তার মর্যাদা বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করতে চাই না; তবে যারা এখনও অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেননি তাদের আশ্বস্ত করার জন্য আমি এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে: আমাদের উদাহরণ সেই মুসাফিরের মতো, যে তার গন্তব্যস্থলের বিপরীতে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়েছে; সে নতুন অভিমুখে যত দীর্ঘ সময় ধরে এবং যত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হবে, গন্তব্য থেকে সে তত বেশি দূরে সরে যাবে। ফলে সে যদি পরবর্তীতে সঠিক পথে ফিরেও আসে, তবে সে সেই সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না, যে সময়ে সে পৌঁছাতে পারত যদি সে আদৌ ভুল পথে যাত্রা শুরু না করত। দর্শনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ; যদি আমরা এতে ভ্রান্ত মূলনীতিসমূহ গ্রহণ করি, তবে সত্য ও প্রজ্ঞা অর্জনের পথ থেকে আমরা ততটুকুই দূরে সরে যাব, যতটুকু যত্ন আমরা সেই নীতিগুলোর পরিচর্যায় নিবেদন করব এবং সেই নীতিগুলো থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আহরণে যতটুকু শ্রম ব্যয় করব। এমতাবস্থায় আমরা মনে করি যে আমরা উত্তমরূপে দর্শনচর্চা করছি, অথচ বাস্তবে আমরা সত্য থেকে অনেক দূরে নিক্ষিপ্ত হই। আর এখান থেকে আমাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া উচিত যে, দর্শনের নামে এ পর্যন্ত যা কিছু পরিচিতি পেয়েছে সে সম্পর্কে যারা সবচেয়ে কম জ্ঞান লাভ করেছে, তারাই প্রকৃত দর্শন অনুধাবনে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী।
এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করার পর, আমি এখানে সেই প্রয়োজনীয় প্রমাণসমূহ পেশ করতে চাই যা প্রমাণ করে যে—প্রজ্ঞার এই স্তরসমূহে পৌঁছাতে আমাদের সহায়ক মূলনীতিগুলো (যা মানবজীবনের সর্বোচ্চ কল্যাণের মূল ভিত্তি)—সেই নীতিগুলোই যা আমি এই কিতাবে উপস্থাপন করেছি।
এটি প্রমাণের জন্য আমাদের দুটি দলিলই যথেষ্ট: প্রথমত, এই মূলনীতিসমূহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। দ্বিতীয়ত, আমরা এগুলি থেকে অন্যান্য সকল সত্য উদ্ঘাটন করতে পারি; কারণ মূলনীতির ক্ষেত্রে কেবল এই দুটি শর্তই কাম্য। আর আমার জন্য এটি প্রমাণ করা সহজ যে সেগুলো...