(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: -)
طرق تدريس التربية الإسلامية نماذج لإعداد دروسها   (عبد الرشيد عبد العزيز سالم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: طرق تدريس التربية الإسلامية نماذج لإعداد دروسها

المؤلف: دكتور/ عبد الرشيد عبد العزيز سالم

الناشر: وكالة المطبوعات

الطبعة: الثالثة 1402هـ-1982م

عدد الصفحات: 317

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামি শিক্ষা পাঠদান পদ্ধতি: পাঠ প্রস্তুতির নমুনা   (আব্দুর রশিদ আব্দুল আজিজ সালিম)

বিভাগ: ফিকহ সংক্রান্ত বিষয়াবলি


গ্রন্থ: ইসলামি শিক্ষা পাঠদান পদ্ধতি: পাঠ প্রস্তুতির নমুনা

লেখক: ডক্টর/ আব্দুর রশিদ আব্দুল আজিজ সালিম

প্রকাশক: ওকালত আল-মাতবুয়াত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০২ হিজরি-১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمات

‌‌مقدمة الطبعة الثانية

…

بسم الله الرحمن الرحيم

"أ"

مقدمة الطبعة الثانية:

الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله. والصلاة والسلام على رسوله محمد بن عبد الله الذي اختاره من بين عباده ليحمل رسالة العلم والتعليم والإيمان للبشرية في كل عصر وعلى كل أرض، وأهله لذلك برعاية سماوية وتربية إلهية، فما نطق عن هوى، ولا تردد إلى معلم، ولا انتحل من فكر، وإنما جاءته الآيات من لدن حكيم خبير، فبلغها في أمانة لم تعرف الإنسانية لها نظيرا، وسلك بها طريقا تنحني له جباه الفلاسفة والعلماء والمفكرين عصرا بعد عصر، وتهتدي على دروبه قوافل الحياة عهدا بعد عهد، ويقف التاريخ على مشارفها عاجزا عن أن ينال منها، أو أن يلج فيها بالتغيير أو التبديل، أو المحاصرة والتقييد. وظل انطلاقها على الرغم من تهاوي القائمين عليها حقبا طويلة من الزمان، وعلى الرغم من بروز قوى من الشر عاتية حاولت ولا زالت القضاء عليها بكل أساليب المكر والدهاء. ودار الزمن دورته ليشعر الناس من جديد أن التهافت والتهاوي لم يكن في الإسلام وإنما كان في المسلمين، ولتشعر تلك القوى التي تصارعت وتضاربت وأكل بعضها بعضا وانصهرت عظام البشرية بين أنيابها في حربين عالميتين وما تبعهما من مآسي للإنسان، أن الخلاص من أوهامها وعذابها لن يكون إلا بالعودة إلى أحكام الإسلام ومبادئه التي لا مصلحة لصانعها في تغليب طبقة على طبقة ولا فرد على فرد ولا أمة على أمة،
ভূমিকা

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

"আলিফ"

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আর আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো পথ পেতাম না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যাকে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন সর্বকালের ও সর্বভূমির মানবজাতির কাছে জ্ঞান, শিক্ষা ও ঈমানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এবং তিনি তাঁকে আসমানি তত্ত্বাবধান ও খোদায়ী প্রতিপালনের মাধ্যমে এর যোগ্য করে তুলেছেন; ফলে তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেননি, কোনো শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেননি এবং অন্যের চিন্তা নিজের নামে চালিয়ে দেননি। বরং প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে নিদর্শনাবলি এসেছে, অতঃপর তিনি তা এমন আমানতদারিতার সাথে পৌঁছে দিয়েছেন যার কোনো নজির মানবতা দেখেনি। তিনি এর মাধ্যমে এমন এক পথ অবলম্বন করেছেন যার সামনে যুগে যুগে দার্শনিক, আলিম ও চিন্তাবিদদের মস্তক অবনত হয়েছে এবং কালপরম্পরায় জীবন-কাফেলাগুলো এর পথে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে। ইতিহাস এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে একে স্পর্শ করতে কিংবা এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিমার্জন, অথবা একে সীমাবদ্ধ ও সংকুচিত করতে অক্ষম হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এর ধারক-বাহকদের পতন সত্ত্বেও এবং ধূর্ততা ও কৌশলের সকল পদ্ধতি অবলম্বন করে একে ধ্বংস করার অপচেষ্টাকারী প্রবল অশুভ শক্তিগুলোর উত্থান সত্ত্বেও এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। কালচক্র আবর্তিত হয়েছে যাতে মানুষ পুনরায় অনুভব করতে পারে যে, পতন ও বিচ্যুতি ইসলামের মধ্যে ছিল না, বরং তা ছিল মুসলমানদের মধ্যে। এবং যাতে সেই সকল শক্তি—যারা পরস্পর লড়াই ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে, একে অপরকে গ্রাস করেছে এবং যাদের দংশনে দুই বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তী মানবীয় ট্র্যাজেডিতে মানবতার হাড়গোড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে—তারা অনুভব করতে পারে যে, তাদের বিভ্রম ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি কেবল ইসলামের বিধান ও মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। কারণ ইসলামের বিধানদাতার কোনো স্বার্থ নেই কোনো বিশেষ শ্রেণিকে অন্য শ্রেণির ওপর, কোনো ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তির ওপর অথবা কোনো জাতিকে অন্য কোনো জাতির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৮)
لأن هؤلاء وأولئك جميعا عباد الله، وهم سواء من حيث منشئهم ومن حيث مآلهم الأخير. لقد كان فشل كل النظريات التربوية الاقتصادية والسياسية على كثرتها في بناء إنسان يتقارب مجتمعه تقاربا يقضي على نوازع الشر فيه، ويحوله إلى مصدر إسعاد له وللآخرين، بدلا من التصارع والأنانية والشراهة والأحقاد.

كان ذلك داعيا لظهور جماعات لا حصر لها في كل جوانب الأرض، رافضة لكل المباديء والقوانين بل والعادات والتقاليد التي يسير عليها الآخرون.

وكثرت الانقلابات العسكرية وشبه العسكرية في كثير من الأمم، وتبعها محاولات دائبة لتغيير المناهج والأفكار والسلوك، ولكنها فشلت واعتراها الضعف والهزال ثم تهاوت واضمحلت ليأتي من جديد غيرها ليسلك نفس الدرب وليخوض من أوهام جديدة نفس الطريق. وتتشابك القضايا وتهتز النفوس وتضطرب الجماعات، وتشتعل الحروب، ولا خلاص؛ لأن الصانع إنسان، وهو مهما أوتي لن يكون إلا واحدا من بين ملايين الآحاد، لا يمكن أن ينطبق نظامه وفكره على الجميع لصالح الجميع.

أما الإسلام ونظمه الاقتصادية والسياسية والتربوية فهي من وحي السماء، جاءت إلى الأرض جامعة وشاملة لكل جوانب الحياة فيها، لا يخرج عن دائرتها إنسان أو حيوان أو جماد، بل هي للجميع لصالح الجميع، لا فرق بين حاكم ومحكوم، غني أو فقير، قوي أو ضعيف، شريف أو وضيع، كلهم أمام التشريع الإلهي سواء.

{وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَمُسْتَوْدَعٌ قَدْ فَصَّلْنَا الْآَيَاتِ لِقَوْمٍ يَفْقَهُونَ} 1.

ولن تحصل البشرية على أمنها وسلامها، بل ورقيها الاجتماعي والأخلاقي والنفسي إلا بالأخذ بجوانب هذا النظام الإلهي تربويا واقتصاديا وسياسيا.

--------------------------------------------

1 الأنعام آية 98.
কারণ তারা সকলেই আল্লাহর বান্দা এবং তাদের উৎপত্তি ও শেষ পরিণতির দিক থেকে তারা সবাই সমান। অসংখ্য শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতবাদ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো এমন এক মানুষ গঠনে ব্যর্থ হয়েছে, যার সমাজ এমন এক সংহতি লাভ করবে যা মানুষের মধ্যকার অশুভ প্রবৃত্তিগুলোকে দূরীভূত করবে এবং তাকে সংঘাত, স্বার্থপরতা, লালসা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে নিজের ও অন্যের জন্য সুখের উৎসে পরিণত করবে।

এটি পৃথিবীর সকল প্রান্তে অগণিত এমন এক জনগোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশের কারণ হয়েছে, যারা অন্য সবার অনুসৃত সকল আদর্শ, আইন, এমনকি রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বহু জাতির মধ্যে সামরিক ও আধা-সামরিক অভ্যুত্থান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতায় পাঠ্যক্রম, চিন্তাধারা ও আচরণ পরিবর্তনের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে এবং দুর্বলতা ও জীর্ণতায় আক্রান্ত হয়ে ধসে পড়েছে ও বিলীন হয়ে গেছে; যাতে পুনরায় অন্য কেউ এসে একই পথ অবলম্বন করে এবং নতুন নতুন ভ্রান্ত ধারণার মধ্য দিয়ে একই পথে যাত্রা করে। এভাবে সমস্যাগুলো জটিল হয়ে ওঠে, মনগুলো বিচলিত হয়, জনসমষ্টি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধ বিগ্রহ ছড়িয়ে পড়ে, অথচ কোনো মুক্তি নেই; কারণ এর নির্মাতা একজন মানুষ। তাকে যতই জ্ঞান দেওয়া হোক না কেন, সে কোটি কোটি একক (آحاد) মানুষের মধ্যে একজন মাত্র। তার প্রবর্তিত ব্যবস্থা ও চিন্তা সবার কল্যাণে সবার ওপর সমভাবে প্রযোজ্য হওয়া সম্ভব নয়।

পক্ষান্তরে ইসলাম এবং এর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলো আসমানি ওহীপ্রসূত। এগুলো পৃথিবীতে জীবনের সকল দিককে অন্তর্ভুক্তকারী ও সামগ্রিক রূপ নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যার পরিধি থেকে মানুষ, পশু কিংবা জড়পদার্থ কেউই বিচ্যুত নয়। বরং এটি সবার কল্যাণের জন্য সবার তরে নিবেদিত। এখানে শাসক ও শাসিত, ধনী ও দরিদ্র, শক্তিশালী ও দুর্বল (ضعيف), কিংবা উচ্চবংশীয় ও নিম্নবংশীয়র মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; আল্লাহর বিধানের সামনে সবাই সমান।

“আর তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রয়েছে এক অবস্থানস্থল ও এক আমানত রাখার স্থান; অবশ্যই আমি অনুধাবনকারী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।” ১।

মানবজাতি ততক্ষণ পর্যন্ত তার নিরাপত্তা ও শান্তি, এমনকি সামাজিক, নৈতিক ও মানসিক উন্নতি লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে এই খোদায়ী ব্যবস্থার দিকগুলো গ্রহণ করবে।

--------------------------------------------

১. আল-আনআম, আয়াত ৯৮।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৯)
وترك هذه الأفانين التي ابتدعها الإنسان، إما لغايته الشخصية، أو من أجل جماعة ينسب إليها، أو وطن يستظل به أو جهل بأسس التشريع الإسلامي، أو فقر في الإيمان واختلال في العقيدة، وليس فيما أنادي به خروج على العلم وأهله، وإنما هو دعوة لهم على كل أرض ومن كل جنس ليتجهوا بما وهبهم الله من عقل وفكر إلى التحليل والموازنة والمقارنة بين النظم الإلهية الإسلامية، وبين ما هم فيه من تضاد واضطراب واختلاف في الرأي الواحد والنظرية الواحدة، ولست أشك أنهم سيجدون في رحاب الإسلام حلولا لكل القضايا التي ضاقت بها النفس الإنسانية منذ طغت عليها مادية الحياة، وابتعدت خطوات كثيرة عن روحانية الإيمان.

وأول ما أدعوهم إليه، تعمق نظم التربية الإسلامية، تلك التربية التي تعنى بالإنسان "جسدا، وعقلا، وروحا" فلا تكبت رغبات الجسد فيه، ولا تحد من قدرات العقل عنده، ولا تحصره في دائرة المادة الفانية، وإنما تجعل لروحه مددا متصلا بالقوة الخفية في هذا الكون تستلهم منه النور الذي لا تراه الحواس ولا يدركه العقل

ومن ينابيع تلك التربية سوف يهتدون إلى أسس العدالة والحق الذي اهتدى إليها المسلمون الأول، وأنشئوا بها مجتمعات الإخاء والتضحية والإيثار والوفاء والمحبة، والتي أصبح العالم اليوم في حاجة إليها أكثر من حاجته إلى الغذاء والكساء والمأوى؛ لأن هذه وتلك لا توفر للإنسان الأمان والاستقرار النفسي كما توفره تربية متصلة بالله تطلق الإنسان من عقاله وتدخله دائرة السلام مع نفسه وأهله وولده وجماعته.

وإني لأتساءل هل في كل مواثيق حقوق الإنسان وقوانينه ومبادئه وتشاريعه ما يعدل هذا القول الإسلامي عن أبي ذر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن الله عز وجل:

এবং মানুষের উদ্ভাবিত এই সকল বিচিত্র পন্থার বর্জন প্রয়োজন, যা সে হয় তার ব্যক্তিগত হীন স্বার্থে, অথবা তার কোনো দলীয় অনুরাগে যার সে অন্তর্ভুক্ত, কিংবা স্বদেশের আশ্রয়ে অথবা ইসলামি বিধিব্যবস্থার মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে, কিংবা ঈমানের দুর্বলতা ও আকিদাগত বিচ্যুতির ফলে সৃষ্টি করেছে। আমি যা আহ্বান করছি তা জ্ঞান এবং জ্ঞানীদের থেকে কোনো বিচ্যুতি নয়; বরং এটি হলো প্রতিটি ভূখণ্ডের এবং প্রতিটি জাতির মানুষের প্রতি একটি আহ্বান, যেন তারা আল্লাহ প্রদত্ত বিচারবুদ্ধি ও চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইসলামি ঐশী বিধানসমূহের সাথে তাদের বর্তমান বৈপরীত্য, অস্থিরতা এবং অভিন্ন মত ও তত্ত্বে বিদ্যমান মতভেদগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা ইসলামের বিশাল আঙিনায় সেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবে যার ভারে মানবাত্মা পর্যুদস্ত হয়েছে যখন থেকে বৈষয়িক জীবন তাকে আচ্ছন্ন করেছে এবং সে ঈমানের আধ্যাত্মিকতা থেকে বহুদূরে সরে গিয়েছে।

আমি তাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাই তা হলো ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার গভীরতা অনুধাবন করা—এমন এক শিক্ষা যা মানুষের "দেহ, মন ও আত্মা"র যত্ন নেয়। এটি শরীরের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখে না, মনের ক্ষমতাকে সীমিত করে না, আর তাকে নশ্বর পার্থিব জগতের বৃত্তে বন্দি করে রাখে না। বরং এটি তার আত্মাকে মহাবিশ্বের এক অদৃশ্য শক্তির সাথে নিরন্তর যুক্ত করে দেয়, যা থেকে সে এমন এক নূর বা জ্যোতি আহরণ করে যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এবং যা কেবল বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

এই শিক্ষা ব্যবস্থার ঝরনাধারা থেকেই তারা ন্যায়বিচার ও সত্যের সেই মূলভিত্তি খুঁজে পাবে যা প্রাথমিক যুগের মুসলিমগণ পেয়েছিলেন। তারা এর মাধ্যমেই ভ্রাতৃত্ব, আত্মত্যাগ, পরার্থপরতা, বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার সমাজ গঠন করেছিলেন, যা আজকের বিশ্বের জন্য অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের চেয়েও অধিক জরুরি। কারণ এই বস্তুগত উপাদানগুলো মানুষকে সেই নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিরতা দিতে পারে না, যা আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত শিক্ষা দিতে পারে, যা মানুষকে তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দেয় এবং তাকে নিজের সাথে, পরিবারের সাথে ও সমাজের সাথে এক শান্তিময় বলয়ে প্রবেশ করায়।

আর আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, মানবাধিকারের সকল সনদ, আইন, নীতি ও বিধানের মধ্যে কি এমন কিছু আছে যা আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিম্নোক্ত বর্ণনার সমকক্ষ হতে পারে, যা তিনি মহান আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন (হাদিসে কুদসি (حديث قدسي)):

(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১০)
"يا عبادي إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا. يا عبادي كلكم ضال إلا من هديته فاستهدوني أهدكم. يا عبادي كلكم جائع إلا من أطعمته فاستطعموني أطعمكم، يا عبادي كلكم عار إلا من كسوته فاستكسوني أكسكم. يا عبادي إنكم تخطئون بالليل والنهار وأنا أغفر الذنوب جميعا فاستغفروني أغفر لكم. يا عبادي إنكم لن تبلغوا ضري فتضروني، ولن تبلغوا نفعي فتنفعوني. يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم كانوا على أتقى قلب رجل واحد منكم ما زاد ذلك في ملكي شيئا. يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم كانوا على أفجر قلب رجل واحد منكم ما نقص ذلك من ملكي شيئا. يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم قاموا في صعيد واحد فسألوني فأعطيت كل إنسان مسألته ما نقص ذلك مما عندي إلا كما ينقص المخيط إذا أدخل البحر. يا عبادي إنما هي أعمالكم أحصيتها لكم ثم أوفيكم بها. فمن وجد خيرا فليحمد الله ومن وجد غير ذلك فلا يلومن إلا نفسه" 1 وقول الله تعالى:

{وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآَنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَاّ تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} .

وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إنما أفسد من كان قبلكم أنه إذا سرق فيهم الشريف تركوه، وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد، والله لو سرقت فاطمة بنت محمد لقطع محمد يدها" وثبت أن عمر بن الخطاب جلد أحد أبنائه حين شرب الخمر، لم يمنعه عن ذلك أنه ابن أمير المؤمنين ولم يشفع له حسبه ونسبه. تلك هي مبادئ الإسلام وأحكامه التي ملكت قلوب الناس فجعلتهم ينشدون العدل والحق والسلام لكل الناس وعلى كل أرض. والتي تحرص تعاليمها التربوية على أن يكون الفرد جزءا من الجماعة والجماعة شريحة من الأمة والأمة بعض من الأمم، والكل في اتساق واحد من صنع الخالق، وإليه يرجع.

--------------------------------------------

1 انظر رياض الصالحين للإمام النووي ص73.
"হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের ওপর জুলুমকে নিষিদ্ধ (محرم) করেছি এবং তোমাদের মাঝেও একে নিষিদ্ধ (محرم) করেছি; সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট, তবে আমি যাকে পথ প্রদর্শন করি সে ছাড়া; সুতরাং তোমরা আমার কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের পথ প্রদর্শন করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে অন্ন দান করি সে ছাড়া; সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের অন্ন দান করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সবাই বস্ত্রহীন, তবে আমি যাকে বস্ত্র পরিধান করাই সে ছাড়া; সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের বস্ত্র দান করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাত-দিন পাপাচার করো আর আমি সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিই; সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা কখনোই আমার ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখবে না যে আমার ক্ষতি করবে, আর না তোমরা আমার উপকার করার সামর্থ্য রাখবে যে আমার উপকার করবে। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন যদি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মুত্তাকী ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে কিছুই বৃদ্ধি করবে না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন যদি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে পাপিষ্ঠ ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে সামান্যতম ঘাটতি তৈরি করবে না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন যদি একই ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করে আর আমি প্রত্যেককে তার যাঞ্চা অনুযায়ী দান করি, তবে তা আমার নিকট যা আছে তাতে ততটুকুই কমাবে যতটুকু সমুদ্রের পানি কমায় একটি সুঁই তাতে প্রবেশ করালে। হে আমার বান্দাগণ! এগুলো কেবল তোমাদেরই আমল, যা আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করি, অতঃপর আমি তোমাদেরকে এর পূর্ণ প্রতিদান দেব। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে এর বিপরীত কিছু পাবে সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে।" ১ এবং মহান আল্লাহর বাণী:

{আর কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী।}

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমাদের পূর্ববর্তীরা কেবল এজন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত, আর যখন কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি চুরি করত তখন তারা তার ওপর দণ্ডবিধি (حد) কার্যকর করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে মুহাম্মাদ অবশ্যই তার হাত কেটে দিত।" এবং এটি প্রমাণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর এক পুত্রকে মদ্যপানের অপরাধে বেত্রাঘাত করেছিলেন; আমীরুল মুমিনীনের সন্তান হওয়া তাকে তা থেকে বিরত রাখতে পারেনি এবং তার বংশমর্যাদা তার জন্য কোনো সুপারিশ বয়ে আনেনি। এগুলোই হলো ইসলামের সেই মূলনীতি ও বিধানাবলি যা মানুষের অন্তর জয় করেছে এবং তাদেরকে সকল মানুষের জন্য এবং সকল ভূখণ্ডে ন্যায়বিচার, সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করেছে। ইসলামের শিক্ষামূলক আদর্শসমূহ ব্যক্তিকে সমাজের অংশ হিসেবে, সমাজকে উম্মাহর অংশ হিসেবে এবং উম্মাহকে মানবজাতির অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকে; আর এই সবকিছুই মহান স্রষ্টার এক নিপুণ সৃষ্টি এবং তাঁরই নিকট সবকিছু প্রত্যাবর্তন করবে।

--------------------------------------------

১. দেখুন ইমাম নববী রচিত রিয়াদুস সালিহীন, পৃষ্ঠা ৭৩।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১১)
ولو استطعنا من الوجهة السيكلوجية أن نستوعب هذا النظام، وأن نجعله قاعدة لتربية الإنسان لأمكننا -كما حدث في التاريخ مرة في زمن الرسول والخلفاء الراشدين وغيرهم- أن نعيد عمليات التطبيق المتكامل لأحكام الشريعة، وأن نجعلها موضع إجلال واحترام من كل بني الإنسان؛ لأنها في حقيقتها العدالة المطلقة، لا تظلم فردا من أجل فرد، ولا تحابي إنسانا على حساب آخر، الحاكم فيها كالمحكوم، والغني فيها كالفقير والعظيم فيها كالحقير لا يفترقان إلا بالتقوى والعمل الصالح من أجل الإنسان وفي سبيل الله.

وقد حاولت جهدي أن أعرض في ثنايا هذا العمل المتواضع بعضا من جوانب التربية الإسلامية، وأن أبين كيفية إيصالها إلى الأجيال المتعاقبة بأيسر طريق، وخاصة لتلاميذ المرحلة الابتدائية، وكنت حريصا على أن أعرض بعض الأمثلة التربوية من عصر صدر الإسلام في الطبعة الأولى، ولكن ظروفا خارجة عن إرادتي لم تسعفني لتحقيق هذه الغاية، وقد تمكنت بعون الله من تحقيق ذلك في الطبعة الثانية، وإني لأرجو من الله أن يكون عملي خالصا لوجهه، وأن يقبله عنده، إنه وحده الموفق والمعين …

دكتور

عبد الرشيد عبد العزيز سالم
আমরা যদি মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভিকোণ থেকে এই ব্যবস্থাকে অনুধাবন করতে পারতাম এবং একে মানুষের প্রশিক্ষণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারতাম, তবে আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো—যেমনটি ইতিহাসে একবার রাসূলুল্লাহ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে ও তাঁদের পরবর্তীদের সময়ে ঘটেছিল—শরীয়তের বিধানসমূহের (أحكام الشريعة) একটি সমন্বিত প্রয়োগ প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করা এবং একে সকল মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের বিষয়ে পরিণত করা; কারণ এটি মূলত পরম ন্যায়বিচার। এটি একজনের কারণে অন্যজনের ওপর জুলুম করে না এবং একজনের স্বার্থে অন্যজনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না। এখানে শাসক ও শাসিত, ধনী ও দরিদ্র এবং উচ্চ ও নিম্নবিত্তের অবস্থান অভিন্ন; তারা কেবল তাকওয়া (تقوى) এবং সৎকর্মের (العمل الصالح) মাধ্যমেই পৃথক হতে পারে, যা মানুষের কল্যাণে এবং আল্লাহর পথে সম্পাদিত হয়।

আমি আমার এই বিনীত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার কিছু দিক উপস্থাপন করার এবং সহজতম পন্থায় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমি প্রথম সংস্করণেই ইসলামের প্রাথমিক যুগের (صدر الإسلام) কিছু শিক্ষামূলক উদাহরণ উপস্থাপন করার বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু পরিস্থিতি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তাকারী হয়নি। আল্লাহর অনুগ্রহে আমি দ্বিতীয় সংস্করণে তা সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমার এই কাজ কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই নিবেদিত হয় এবং তিনি যেন তা কবুল করে নেন; নিশ্চয়ই তিনি একমাত্র তাওফীকদাতা ও সাহায্যকারী …

ডক্টর

আব্দুর রশীদ আব্দুল আযীয সালিম
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الطبعة الأولى:

منذ فجر الإسلام والناس يتداولون أفكاره وآراءه، بين منصف وجاحد، مؤمن وكافر، معتدل ومتشدد. مجرد عن الأهواء ومتصنع لأجلها. وسيظل هذا الأمر قائما ما بقيت الحياة والأحياء.

"ولكن الشيء الذي لم يختلف فيه الناس -أو على الأقل لم تصل حدة الخلاف فيه كغيره من تعاليم الإسلام- هو تربية الإسلام للإنسان تربية تفوق في قيمها وأهدافها كل النظريات والتعاليم التربوية التي عرفها الإنسان قبل الإسلام وبعده". وكما أن لكل حقيقة دليل عليها، فإن الدليل على هذه الحقيقة، هؤلاء النفر من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذي رباهم الإسلام وعلمهم الرسول فكانوا أعظم قادة، وأعلا مثلا، وأرقى خلقا، وأنضج عقولا، وأبلغ لسانا، وأسلم حجة من كل من وضع في مثل موضعهم من قادة وزعماء الأمم. وإن دل ذلك على شيء فإنما يدل على أن جوهر العقيدة الإسلامية هو منبع هذا البناء الرجولي والأخلاقي والعلمي، الذي بدونها ما كانت الجزيرة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

ইসলামের ঊষালগ্ন থেকেই মানুষ এর চিন্তা ও মতাদর্শ নিয়ে চর্চা করে আসছে; যাদের মধ্যে রয়েছে ন্যায়নিষ্ঠ ও সত্য অস্বীকারকারী, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী, মধ্যপন্থী ও চরমপন্থী। কেউ ছিল প্রবৃত্তিমুক্ত, আবার কেউ ছিল হীন স্বার্থান্বেষী। যতদিন জীবন ও প্রাণ অবশিষ্ট থাকবে, এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

"তবে যে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই—অথবা অন্ততপক্ষে ইসলামের অন্যান্য শিক্ষার মতো যেখানে মতভেদের তীব্রতা অতটা প্রকট হয়নি—তাহলো মানুষের প্রতি ইসলামের সেই লালন ও প্রশিক্ষণ, যা এর মূল্যবোধ ও লক্ষ্যের দিক থেকে ইসলামের পূর্বে ও পরে মানুষের পরিচিত সকল শিক্ষা ও তাত্ত্বিক দর্শনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ।" আর যেমন প্রতিটি সত্যেরই সপক্ষে প্রমাণ থাকে, তেমনি এই ধ্রুব সত্যের সপক্ষে প্রমাণ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই একদল সাহাবী (صحابة), যাদেরকে ইসলাম গড়ে তুলেছে এবং রাসূলুল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন। ফলে তারা হয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা, সর্বোচ্চ আদর্শ, অত্যন্ত উন্নত চরিত্রের অধিকারী, পরিপক্ক বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রাঞ্জলভাষী এবং সমপর্যায়ের সকল জাতির নেতাদের তুলনায় অধিকতর নির্ভুল দলিলের অধিকারী। এটি যদি কোনো কিছু নির্দেশ করে, তবে তা একথাই প্রমাণ করে যে, ইসলামি আকিদার মূল নির্যাসই হলো এই পৌরুষদীপ্ত, নৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর উৎস; যা ব্যতীত এই উপদ্বীপ...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
العربية إلا قفرا يشرب دماء الرجال، ويرعد بأصوات الحقد والعصبية، ويمتلئ بالرذيلة والدمار.

والإسلام يتميز في تربيته، أنه يأخذ الكائن البشري على طبيعته، ثم يعمد إلى تهذيب هذه الطبيعة والارتقاء بها إلى أقصى درجات السمو الإنساني، دون أن يكبت شيئا من النوازع الفطرية، أو يمزق الفرد بين الضغط الواقع عليه من هذه النوازع، وبين المثل العليا التي يرسمها له.

وهو في تعاليمه ومبادئه يقترب من الإنسان في حذر. فلا يراه ملاكا مجردا من الشهوات والرغبات. ولا شيطانا ليس فيه إلا الشهوات والرغبات.

وإنما هو بين بين. وفي مقدوره إن أراد أن يسمو بروحه إلى مستوى الملائكة من الطهر والنقاء، كما في مقدوره أيضا أن يصل إلى مستوى الشيطان من الفجور والشر ولكنه في حالته الطبيعية بين هذا وذاك -إنسان- مشتمل على الخير كما هو مشتمل على الشر. وذلك شيء من طبيعته وليس مفروضا عليه من خارج نفسه، لذلك تعمل التعاليم الإسلامية على إبراز جوانب الخير فيه، وجعلها في درجة أقوى من جوانب الشر لينتصر بذلك على ترابية الأرض، التي منها تنطلق كل ألوان الصراع البشري، وتأتي الأطماع والأحقاد والفتن، وتشب الحروب وتضرم النيران، وتموت الحقيقة، وتختفي بسمة الحياة تحت سياط الظالمين والجبابرة العتاة.

وبين الخير والشر، والاقتراب منهما في التربية الإسلامية، نجد حرصا كاملا على إيجاد التوازن في نفس الإنسان، ليمتد ذلك منه إلى التوازن في المجتمع، وفي ربوع الدنيا بعد ذلك بقدر الطاقة، حتى لا يطغى أحدهما على الآخر، أو ينفصلا، فلا يكون في الدنيا إلا ملاك أو شيطان.
...আরব ভূমি তখন ছিল এক জনমানবহীন প্রান্তর যা মানুষের রক্ত পান করত, বিদ্বেষ ও গোত্রপ্রীতির (العصبية) রবে প্রকম্পিত হতো এবং পাপাচার ও ধ্বংসলীলায় পূর্ণ ছিল।

ইসলাম তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এই বিশেষত্বের অধিকারী যে, সে মানুষকে তার স্বাভাবিক প্রকৃতিসহ গ্রহণ করে। এরপর সে এই প্রকৃতির পরিশোধন এবং একে মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করার প্রয়াস চালায়। এক্ষেত্রে সে কোনো সহজাত প্রবৃত্তিকে দমন করে না কিংবা এই প্রবৃত্তিগুলোর চাপ এবং মানুষের জন্য অঙ্কিত উচ্চতর আদর্শের মাঝে পড়ে ব্যক্তিকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে না।

ইসলাম তার শিক্ষা ও আদর্শে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মানুষের নিকটবর্তী হয়। সে মানুষকে প্রবৃত্তি ও কামনামুক্ত কোনো ফেরেশতা মনে করে না, আবার এমন কোনো শয়তানও মনে করে না যার মধ্যে কামনাবাসনা ছাড়া আর কিছুই নেই।

বরং মানুষ হলো এই দুইয়ের মাঝামাঝি। সে চাইলে তার আত্মাকে পবিত্রতা ও নির্মলতার দিক থেকে ফেরেশতাদের স্তরে উন্নীত করতে সক্ষম, আবার পাপাচার ও মন্দের দিক থেকে শয়তানের স্তরে পৌঁছাতেও সক্ষম। কিন্তু তার স্বাভাবিক অবস্থায় সে এই দুইয়ের মাঝে এক 'মানুষ'—যার মধ্যে কল্যাণের ন্যায় অকল্যাণও বিদ্যমান। এটি তার স্বভাবেরই অংশ, বাইরে থেকে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিছু নয়। তাই ইসলামি শিক্ষা মানুষের ভেতরের কল্যাণের দিকগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে এবং সেগুলোকে অকল্যাণের চেয়ে অধিক শক্তিশালী করতে কাজ করে, যাতে সে পার্থিব ধুলিময় তুচ্ছতার ওপর জয়ী হতে পারে। এই তুচ্ছতা থেকেই মানবীয় দ্বন্দ্বের সকল রূপ উৎসারিত হয় এবং লোভ, ঘৃণা ও ফিতনা (الفتن) সৃষ্টি হয়। এখান থেকেই যুদ্ধের সূচনা হয়, অগ্নি প্রজ্বলিত হয়, সত্যের মৃত্যু ঘটে এবং জালিম ও উদ্ধত স্বৈরশাসকদের চাবুকের নিচে জীবনের হাসি মিলিয়ে যায়।

ভালো ও মন্দের এই প্রেক্ষাপটে এবং ইসলামি প্রশিক্ষণে সেগুলোর নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে আমরা মানুষের অন্তরে ভারসাম্য তৈরির এক পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা দেখতে পাই; যাতে এই ভারসাম্য সমাজ এবং সাধ্যানুযায়ী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এর উদ্দেশ্য হলো যেন একটি অন্যটির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে না পারে কিংবা তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে, যার ফলে পৃথিবীতে শুধু ফেরেশতা অথবা শুধু শয়তানের অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
والتربية الإسلامية لا تنشد ذلك أبدا، ولو كان التحول كله جهة "الملاك".

وإنما تسعى إلى التوفيق الدائم بين أهداف الحياة وضرورات المجتمع ونوازع الفرد، من غير أن يطغى هدف على هدف، ولا مصلحة على مصلحة، وإنما يسير الكل في توافق واتساق، يحقق -حين يتم- أقصى ما يمكن من السعادة لبني الإنسان، ويجعل الطريق بين الخالق والمخلوق ممهدا بالفكر والتصور والعمل.

وقد حرصت أن أعرض في هذا الكتاب ألوانا من السلوك والأفعال التي تحقق هذا التوازن عند الإنسان. وبدأت بالطفولة لأنها مصدر الأمم، ومنبع الأجيال وحاولت أن أقترب -فيما عرضت من المبادئ والتعاليم الإسلامية- من آثارها في الطفولة وفي تلاميذ المدارس الابتدائية بالذات. ليكون ذلك هاديا لمعلمي التربية الإسلامية في هذه المدارس.

وكان تناولي لطرق تدريس القرآن الكريم والعبادات يقوم على أساس من الدراسة النفسية والاجتماعية والأخلاقية والعلمية لهذه الفرائض ومصدرها الأول كتاب الله المحكم. وبينت أن تدريس هذه الأشياء يستند أول ما يستند إلى المعلم المؤمن بأهداف الذين ثم إلى المدرسة كمؤسسة اجتماعية تأخذ من المجتمع وتصب فيه، وضربت أمثلة على طريقة التدريس المرجوة في كل.

وعلى الرغم من أن منهج معاهد التربية لم يتطرق إلى العقيدة والحديث، إلا أنني اكتمالا للفائدة ألقيت نظرة على العقائد، وخاصة العقيدة الإسلامية، وربطت بينها وبين العبادة، مبينا أثرها في فهم العبادات من الوجهة النظرية والتطبيقية وذكرت أهداف تدريس الحديث الشريف، وسقت أمثلة على كيفية تدريسه بالمرحلة الابتدائية وتناولت طرق تدريس التهذيب وما تهدف إليه، وأسلم الطرق لتحقيق سلوك أفضل عند الأبناء.
ইসলামি শিক্ষা কখনোই এমনটি প্রত্যাশা করে না, এমনকি যদি পুরো রূপান্তরটি "ফেরেশতাতুল্য" হওয়ার দিকেও হয়।

বরং এটি জীবনের লক্ষ্য, সমাজের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যক্তির সহজাত প্রবৃত্তির মাঝে সর্বদা একটি স্থায়ী সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে; যেন একটি লক্ষ্য অন্য লক্ষ্যের ওপর কিংবা একটি স্বার্থ অন্য স্বার্থের ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে। বরং সবকিছু এক সুষম সামঞ্জস্যের সাথে পরিচালিত হয়, যা অর্জিত হলে মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সুখ নিশ্চিত করে এবং চিন্তা, কল্পনা ও কর্মের মাধ্যমে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যবর্তী পথকে সুগম করে তোলে।

আমি এই গ্রন্থে মানুষের মাঝে এই ভারসাম্য রক্ষাকারী নানাবিধ আচরণ ও কার্যাবলি উপস্থাপনের প্রয়াস পেয়েছি। আমি শৈশব থেকে শুরু করেছি, কারণ শৈশব হলো উম্মাহর উৎস এবং প্রজন্মের মূল ভিত্তি। ইসলামি নীতিমালা ও শিক্ষা থেকে যা কিছু আমি উপস্থাপন করেছি, শৈশবে এবং বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সেগুলোর প্রভাব পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি; যাতে এটি সেই বিদ্যালয়গুলোর ইসলামি শিক্ষার শিক্ষকদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

পবিত্র কুরআন ও ইবাদতসমূহ পাঠদানের পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমার আলোচনা ছিল এই ফরজ কার্যাবলি এবং এর মূল উৎস আল্লাহর সুদৃঢ় কিতাবের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে। আমি স্পষ্ট করেছি যে, এই বিষয়গুলোর পাঠদান প্রথমত দ্বীনি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে বিশ্বাসী শিক্ষকের ওপর এবং দ্বিতীয়ত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে, যা সমাজ থেকে গ্রহণ করে এবং সমাজে বিলিয়ে দেয়। আমি প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য কাঙ্ক্ষিত পাঠদান পদ্ধতির উদাহরণ উপস্থাপন করেছি।

যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রমে আকিদা ও হাদিস অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবুও আমি পূর্ণাঙ্গ উপকারের স্বার্থে বিশ্বাসমালার ওপর দৃষ্টিপাত করেছি, বিশেষ করে ইসলামি আকিদার ওপর এবং ইবাদতের সাথে এর যোগসূত্র স্থাপন করেছি। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক থেকে ইবাদতসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বর্ণনা করেছি। আমি হাদিস পাঠদানের লক্ষ্যসমূহ উল্লেখ করেছি এবং প্রাথমিক স্তরে এটি পাঠদানের পদ্ধতির উদাহরণ দিয়েছি। পাশাপাশি আমি চরিত্র গঠন ও পরিমার্জনের (تهذيب) পাঠদান পদ্ধতি ও এর লক্ষ্যসমূহ এবং সন্তানদের মাঝে সর্বোত্তম আচরণ অর্জনের নিরাপদ পথসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وكما تحرص التربية الحديثة على استخدام الوسائل المعينة في التدريس، ذكرت أهم هذه الوسائل في تدريس الدين، وأثرها في الفهم والتطبيق، جاعلا للإسماع ووسائله درجة أكبر من الاهتمام والعناية. وفي النهاية أشرت إلى القيم والاتجاهات وأهمية تركيز المعلم عليهما.

ولا أتصور أنني قد بلغت ما أريد في كل ما قلت، ولكني أشعر بالرضا حيث إن هذا الكتاب يكاد يكون الأول من نوعه في المكتبة العربية والإسلامية؛ لأن كل من تعرضوا لبعض هذه الموضوعات، تعرضوا لها من زوايا أخرى، أو في ثنايا حديث لا يعرف بها ولا يدل عليها. ومن الله وحده أرجو الجزاء والأجر. وأن ينفع بهذا الجهد المتواضع كل طالب علم إنه سميع مجيب.

المؤلف

دكتور

عبد الرشيد عبد العزيز سالم
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যেমন পাঠদানে সহায়ক উপকরণের ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, তেমনি আমি ধর্মীয় শিক্ষাদানে এসকল গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের কথা এবং উপলব্ধি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছি; এক্ষেত্রে শ্রবণ (إسماع) ও এর মাধ্যমগুলোর প্রতি অধিক গুরুত্ব ও যত্ন প্রদান করেছি। পরিশেষে আমি মূল্যবোধ ও প্রবণতাসমূহ এবং শিক্ষকের পক্ষ থেকে এগুলোর ওপর একাগ্রতা বজায় রাখার গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।

আমি মনে করি না যে আমি যা বলতে চেয়েছি তার সবটুকুতেই আমি আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি, তবে আমি সন্তুষ্টি অনুভব করছি যে, এই বইটি আরবি ও ইসলামি গ্রন্থাগারে সম্ভবত এই ধরণের প্রথম কাজ; কারণ যারা এসকল বিষয়ের কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তারা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তা করেছেন অথবা এমন আলোচনার মাঝে করেছেন যা দ্বারা এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে পরিচিত হয় না বা নির্দেশিত হয় না। আর আমি কেবল আল্লাহর কাছেই এর প্রতিদান ও পুরস্কারের প্রত্যাশা করি। এবং এই বিনীত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি যেন প্রত্যেক জ্ঞান অন্বেষণকারীকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দোয়া কবুলকারী।

লেখক

ডক্টর

আব্দুর রশীদ আব্দুল আজিজ সালিম
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول: مراحل الطفولة - وتعاليم إسلامية

‌‌تطور الشعور الديني عند الطفل:

يمر الوليد بمرحلتين من مراحل حياته لهما أكبر الأثر في تكوينه الانفعالي والعقائدي والسلوكي، وعليهما تقوم شخصية هذا الوليد، وتتحدد اتجاهاته وقيمه الأخلاقية والاجتماعية، هما مرحلتا: الطفولة، والمراهقة.

ومرحلة الطفولة تنقسم إلى قسمين كما ذكر علم نفس الطفل: الطفولة المبكرة وتبدأ من المهد حتى السادسة من العمر. والطفولة المتأخرة وتبدأ من السادسة حتى فترة المراهقة "أو حتى الثانية عشر من عمره".

والذي يعنينا هنا هو مرحلة الطفولة بقسميها، حيث إنها المرحلة التي يقضي فيها الطفل جزءا كبيرا بالمدرسة الابتدائية التي هي مجال بحثنا.

فإذا ما نظرنا إلى الطفولة المبكرة، وجدنا الطفل فيها يتكون من مجموعة من الميول والرغبات والعواطف، ومزودا بقدر محدود من السلوك الفطري المتصل بالأفعال الحيوية الأساسية، كما هو مزود أيضا بقدر كبير من من قابلية التعليم والقدرة على التعليم. ولكنه يكاد يكون مجردا عن التفكير المنطقي والتعليل والموازنة. لهذا فهو متروك للبيئة بأشكالها المختلفة تستغل فيه هذه الجوانب
প্রথম অধ্যায়: শৈশবের স্তরসমূহ এবং ইসলামি শিক্ষা

শিশুর মাঝে ধর্মীয় অনুভূতির বিকাশ:

একজন নবজাতক তার জীবনের এমন দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, যার প্রভাব তার আবেগীয়, আকিদাগত (العقائدي) ও আচরণগত গঠনের ওপর অত্যন্ত গভীর। এই পর্যায় দুটির ওপর ভিত্তি করেই সেই নবজাতকের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ নির্ধারিত হয়। এই পর্যায় দুটি হলো: শৈশব ও কৈশোর।

শিশু মনোবিজ্ঞানে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী শৈশবকাল দুই ভাগে বিভক্ত: প্রারম্ভিক শৈশব, যা দোলনা থেকে শুরু করে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর উত্তর শৈশব, যা ছয় বছর বয়স থেকে কৈশোরকাল পর্যন্ত (বা বারো বছর বয়স পর্যন্ত) বিস্তৃত।

আমাদের আলোচনার মূল বিষয় হলো শৈশবকালের এই উভয় পর্যায়; কারণ এটি এমন একটি সময় যখন শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার একটি বড় অংশ অতিবাহিত করে, যা আমাদের গবেষণার ক্ষেত্র।

আমরা যদি প্রারম্ভিক শৈশবের দিকে লক্ষ করি, তবে দেখতে পাই যে, এই সময়ে শিশু একগুচ্ছ ঝোঁক, আকাঙ্ক্ষা ও আবেগের সমন্বয়ে গঠিত হয়। সে মৌলিক জৈবিক ক্রিয়াকলাপের সাথে সম্পৃক্ত সীমিত পর্যায়ের সহজাত (الفطري) আচরণের অধিকারী হয়। পাশাপাশি তার মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপক যোগ্যতা ও সক্ষমতাও থাকে। তবে সে যৌক্তিক চিন্তা, কার্যকারণ ব্যাখ্যা (التعليل) ও তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ থেকে প্রায় মুক্ত থাকে। এই কারণেই তাকে বিভিন্ন রূপের পরিবেশের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, যা তার এই দিকগুলোকে কাজে লাগায়।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২০)
وتمكنه من اكتساب ما يعينه لا على مجرد الحياة فقط وإنما على تحسين طرائق الحياة ووسائلها والتقدم بها إلى ما هو أفضل.

وفي سنوات حياته الأولى على الرغم من قابليته للتعلم، إلا أنه ينظر إلى الأشياء بمنظاره الشخصي ويقيسها بما يتفق وعواطفه، لا بما تدل عليه من مقدمات ونتائج. وكثيرا ما يعلل المواقف والأفعال بما يتفق وإرادته، ويختار من المحيطات المتعددة والمتنوعة التي ولد فيها ما يرضي عواطفه وينطلق برغباته إلى الغاية التي تصل بين الدافع والفعل، فتمنحه الهدوء والسكينة والرضا.

ولا شك أن ما يحيط بالطفل في تنوعه العقائدي، والأخلاقي والطبيعي والاجتماعي والاقتصادي والصحي وغير ذلك له تأثير كبير في عواطفه وانفعالاته ورغباته التي أشرت إليها. ومن خلالها ينتقل تصوره للأشياء الأبعد مدى في الرؤية والفهم. فإذا ما تقدم به العمرخطوات محسوبة داخل إطار اجتماعي معين أخذ يتغير ويتشكل تبعا للمحيط الذي يدور فيه. ولكن عواطفه تظل صاحبة السيادة على ميوله ورغباته وإن كانت ترتقي بعض الشيء. فبدلا من نسبة الأمور لإرادته ورغبته، ينسبها إلى الأجمل والأكمل، أو إلى والديه وهما في نظره الأجمل والأكمل. فإذا ما سئل عن الضوء أو البحر أو الشجر قال إن وجودها هكذا أجمل، وليس لقوله هذا مقدمات رتبه عليها، وإنما هو تعبير غير مباشر يتفق مع رغباته التي تريد أن يكون كل شيء في حقيقته هو الأجمل والأفضل. وغالبا ما يكون الأب بالنسبة للطفل في هذه الفترة من العمر هو البطل والعالم والقدوة الذي لا يتطرق إليه شك، ولا يخفى عليه أمر من الأمور. فإذا ما تعددت خبرة الطفل وتلونت بألوان مختلفة تتفق وما يدور في محيطه الأسري، وتعدى هو السنة الرابعة من عمره
এটি তাকে কেবল জীবনধারণের জন্যই নয়, বরং জীবনের পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহ উন্নত করতে এবং তা আরও উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা অর্জনে সক্ষম করে তোলে।

তার জীবনের শুরুর বছরগুলোতে শিক্ষার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, সে বিষয়গুলোকে তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে এবং সেগুলোকে তার আবেগ ও অনুভূতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিমাপ করে; কোনো ভূমিকা (مقدمات) ও ফলাফলের ভিত্তিতে নয়। সে প্রায়শই বিভিন্ন পরিস্থিতি ও কর্মকাণ্ডকে তার নিজের ইচ্ছার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাখ্যা করে। সে যে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছে, সেখান থেকে এমন কিছু বেছে নেয় যা তার আবেগকে তুষ্ট করে এবং তার আকাঙ্ক্ষাগুলোকে এমন এক লক্ষ্যে চালিত করে যা প্রেষণা ও কর্মের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে; ফলে তা তাকে প্রশান্তি, স্থৈর্য ও তুষ্টি দান করে।

নিঃসন্দেহে শিশুর চারপাশের আকিদাগত (عقائدي), নৈতিক, প্রাকৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্যগত ও অন্যান্য বৈচিত্র্য তার আবেগ, উত্তেজনা ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এগুলোর মাধ্যমেই তার দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুধাবন আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়। যখন তার বয়স একটি নির্দিষ্ট সামাজিক কাঠামোর মধ্যে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়, তখন সে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনুযায়ী পরিবর্তিত ও গঠিত হতে শুরু করে। তবে তার আবেগ তখনও তার ঝোঁক ও আকাঙ্ক্ষার ওপর আধিপত্য বজায় রাখে, যদিও তা কিছুটা পরিশীলিত হয়। বিষয়গুলোকে কেবল নিজের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করার পরিবর্তে, সে সেগুলোকে সৌন্দর্য ও পূর্ণতার সাথে অথবা তার বাবা-মায়ের সাথে সম্পৃক্ত করে, যারা তার দৃষ্টিতে সবচাইতে সুন্দর ও পরিপূর্ণ। যদি তাকে আলো, সমুদ্র বা গাছপালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে বলে যে এগুলো এভাবেই সবচেয়ে সুন্দর। তার এই বক্তব্যের পেছনে কোনো সুশৃঙ্খল ভূমিকা (مقدمات) নেই, বরং এটি একটি পরোক্ষ প্রকাশ যা তার সেই আকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ যেখানে সে চায় প্রতিটি জিনিসের বাস্তবতা হোক সর্বাধিক সুন্দর ও সর্বোত্তম। জীবনের এই পর্যায়ে শিশুর কাছে তার বাবা সাধারণত একজন বীর, জ্ঞানী ও আদর্শ (قدوة) হিসেবে গণ্য হন, যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ দানা বাঁধে না এবং যার কাছে কোনো বিষয়ই গোপন থাকে না। এরপর যখন শিশুর অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায় এবং তার পারিবারিক পরিবেশের সাথে সংগতি রেখে বিচিত্র রূপ লাভ করে এবং সে তার বয়সের চতুর্থ বছর অতিক্রম করে...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২১)
بدأت تعتريه الشكوك فيما كان يراه من أشياء، وفي قدرة الأبوين على معرفة كل شيء، وهنا يبدأ بحثه عن نفسه محاولا الاعتماد عليها، وتتكون لديه نوازع المعرفة والتحليل للأشياء ومناقشتها.

وفي هذه الفترة غالبا ما تكون الأسرة حريصة على أن تعلم الطفل لغتها، وأن تنقل إليه طرائقها في مواجهة الحياة ووسائلها في الحفاظ على البقاء، وعلى مفاهيمها عن المجتمع والدين والمثل العليا وغير ذلك من ميادين الحياة، وبذلك تضع الطفل في قوالب حيوية وفكرية واجتماعية لا يستطيع الطفل مهما حاول أن يخرج عنها؛ لأنها تصبح بالنسبة له جزءا من تكوينه يشابه بناءه العضوي والعضلي، وقد يعمل البعض على تغيير هذه القوالب أو تطويرها، ولكنه يمكث زمنا طويلا في مقاومة ما استقر في وجدانه حتى يستطيع تعديله أو تطويره. وحين ينطلق الطفل خارجا عن دائرة الأسرة ليدخل في دوائر أخرى أوسع وأشمل كالشارع والمدرسة والنادي وغير ذلك من المنظمات الاجتماعية، يجد نفسه وسط مفاهيم ومثل وعادات وتقاليد أخرى يتأثر بها وينطبع بطابعها. فإذا ما اتسعت الدائرة أكثر وانتقل إلى مدينة أخرى أو إلى وطن غير وطنه ووجه بعادات وتقاليد جديدة تأثر بها أيضا، وهكذا يظل في حركته وانطلاقه يأخذ من الحياة ومن الأحياء، حتى إننا في عصرنا الحالي عصر "التلفاز" والصور المرئية من وراء الأرض "القمر" وغيره من الكواكب التي يقوم علماء الفضاء باكتشافها ودراستها. نكاد نقول إن الطفل يتأثر بما يجري في الحياة كلها من عادات ومفاهيم ومثل؛ لأنه يشاهد ذلك أو يسمعه من خلال الأجهزة العلمية الحديثة التي أصبحت الآن منتشرة في كل مكان.

والتي ما إن يستطيع التمييز بين الأشياء والمقارنة بينها حتى يجدها أمامه بكل ما فيها من حسنات أو سيئات، لذلك فإن المجتمع الإسلامي والبيت المسلم في
তিনি যা প্রত্যক্ষ করছেন এবং সবকিছু অনুধাবন করার ক্ষেত্রে পিতামাতার সক্ষমতা নিয়ে তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হতে শুরু করে। এখান থেকেই নিজের ওপর নির্ভর করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার আত্ম-অন্বেষণ শুরু হয় এবং তার মধ্যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞানার্জন, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার প্রবৃত্তি তৈরি হয়।

এই পর্যায়ে পরিবার সাধারণত শিশুকে তাদের ভাষা শেখাতে এবং জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার পদ্ধতি, টিকে থাকার কৌশল এবং সমাজ, ধর্ম, উচ্চতর আদর্শ ও জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্র সম্পর্কে তাদের নিজস্ব ধারণাসমূহ তার মাঝে সঞ্চারিত করতে সচেষ্ট থাকে। এর মাধ্যমে তারা শিশুকে এমন কিছু প্রাণবন্ত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক ছাঁচে আবদ্ধ করে ফেলে যা থেকে শিশুটি শত চেষ্টা করেও বের হতে পারে না; কারণ এগুলো তার সত্তার এমন এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় যা তার শারীরিক ও পেশিবহুল কাঠামোর সদৃশ। কেউ কেউ হয়তো এই ছাঁচগুলো পরিবর্তন বা বিকশিত করার চেষ্টা করতে পারে, তবে তার হৃদয়ে যা বদ্ধমূল হয়ে গেছে তা প্রতিহত করে সংশোধন বা পরিমার্জন করতে তাকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। যখন শিশুটি পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, ক্লাব এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের মতো আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন সে নিজেকে এমন কিছু ভিন্ন ধারণা, আদর্শ, আচার-আচরণ ও ঐতিহ্যের মাঝে খুঁজে পায় যা তাকে প্রভাবিত করে এবং সেগুলোর ছাপ তার ওপর অঙ্কিত হয়। এই পরিমণ্ডল যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং সে অন্য কোনো শহর বা ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয় এবং নতুন রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সম্মুখীন হয়, তবে সেগুলোতেও সে প্রভাবিত হয়। এভাবেই সে তার পথচলা ও অগ্রযাত্রায় জীবন ও জগতের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করতে থাকে; এমনকি আমাদের বর্তমান 'টেলিভিশন' এবং পৃথিবী ছাড়িয়ে 'চাঁদ' ও মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ও গবেষণাধীন অন্যান্য গ্রহ থেকে আসা দৃশ্যমান চিত্রের যুগেও। আমরা প্রায় বলতে পারি যে, শিশু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রচলিত অভ্যাস, ধারণা ও আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়; কারণ সে আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তা অবলোকন করে বা শ্রবণ করে, যা এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

আর এই যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে শিশুটি বিভিন্ন বিষয়ের মাঝে পার্থক্য ও তুলনা করার ক্ষমতা অর্জন করার সাথে সাথেই সেগুলোকে তার সামনে ভালো কিংবা মন্দ—উভয় দিকসহ উপস্থিত পায়; তাই ইসলামী সমাজ ও মুসলিম পরিবার...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২২)
حاجة إلى قواعد ونظم ومناهج في حياتهم الخاصة والعامة، تساعد أطفالهم على تمثل السلوك الإسلامي، وتوضح لهم من خلال التطبيق مبادئه الإنسانية العليا، ومثله في الحق والعدل والمساواة، ومبادئه في الاقتصاد والسياسة، ومفاهيمه في العقيدة والعلم والعمل، وتقدميته الدائمة التي تنشد المحبة والسعادة والتعاون والإخاء والتقارب بين كل بني البشر. يحتاج الطفل في هذه المرحلة مرحلة ما قبل المدرسة، إلى تلك الصورة الإنسانية المسلمة، حتى إذا ما انتقل إلى المدرسة ودخل في دائرة الرؤية الجديدة من العلم والعمل، كانت للمعارف ومدلولاتها جذور في أعماق نفسه تساعده على التقبل في يسر، وكان القول الإسلامي الذي سيساق إليه من القرآن والحديث والسيرة والتهذيب، ليس قولا من العدم يتراقص كلمات على صفحات الكتب. بل فعلا وتطبيقا وواقعا عاشه الطفل وشاهده بنفسه في دائرة أسرته ومجتمعه ووطنه، ومن خلال مشاهداته وما يقرع سمعه كل يوم.

وحكمة الإسلام واضحة في أنه لم يكلف الطفل في هذه المرحلة أي أمر من أمور الدين؛ وذلك لأنه في دور البناء والتكوين، وعلى عاتق الأسرة والمجتمع يقع العبء الأكبر في غرس الفضائل والمبادئ والأحكام الإسلامية في نفس هذه الطفولة البريئة، وأن يجعلوا من هذه الفطرة مصدرا حيا لاستقبال تعاليم الله إلى الأرض. ويتمثلوا قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: $"كل طفل يولد على الفطرة وأبواه هما اللذان يهودانه وينصرانه" أي: على فطرة الإسلام.

{فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} ، وقد حدد الفقهاء وعي الطفل ومقدرته على التفريق بين الدابة والحصان أي: بين الجنس والنوع في الأمور التي يشاهدها في بيئته. واهتمام علم النفس بهذه المرحلة، وكذلك اهتمام الإسلام بها؛ لأنها شديدة التأثير فيما بعدها. بل وتعتمد عليها اعتمادا جوهريا. حيث من اليقين أن ثقافة الطفل، وعاداته وتقاليده، ومادته
ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তাদের এমন কিছু নিয়ম-কানুন, শৃঙ্খলা ও পদ্ধতির প্রয়োজন, যা তাদের সন্তানদের ইসলামী আচরণ ধারণ করতে সহায়তা করবে এবং বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের সামনে এর উচ্চতর মানবিক আদর্শসমূহ, সত্য, ন্যায় ও সমতার উদাহরণ এবং অর্থনীতি ও রাজনীতির মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করবে; সেই সাথে আকিদা (العقيدة), জ্ঞান ও কর্মের ধারণা এবং এর সেই চিরন্তন প্রগতিশীলতা যা সকল মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সুখ, সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি অন্বেষণ করে, তা ফুটিয়ে তুলবে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের এই স্তরে একটি শিশুর জন্য সেই মুসলিম মানবিক প্রতিচ্ছবি প্রয়োজন, যাতে সে যখন বিদ্যালয়ে পদার্পণ করে জ্ঞান ও কর্মের নতুন পরিমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তখন যেন তার অন্তরের গভীরে অর্জিত জ্ঞান ও তার তাৎপর্যের মূল প্রোথিত থাকে, যা তাকে তা সহজে গ্রহণে সহায়তা করবে। আর কুরআন, হাদিস, সিরাত ও চরিত্র গঠনমূলক শিক্ষা থেকে তার সামনে উপস্থাপিত ইসলামী বাণীগুলো যেন কেবল শূন্যগর্ভ কোনো কথা না হয় যা বইয়ের পাতায় শব্দ হয়ে নেচে বেড়ায়; বরং তা হবে এমন এক কর্ম, প্রয়োগ ও বাস্তবতা যা শিশু তার পরিবার, সমাজ ও স্বদেশ পরিমণ্ডলে নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছে এবং তার প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় যা প্রতিনিয়ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

ইসলামের হিকমত বা প্রজ্ঞা এখানে সুস্পষ্ট যে, এই পর্যায়ে শিশুকে দীনের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি; কারণ এটি তার গঠন ও বিকাশের কাল। তাই এই নিষ্পাপ শৈশবে উন্নত গুণাবলি, আদর্শ এবং ইসলামী বিধানসমূহ (الأحكام) প্রোথিত করার মূল দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের ওপর ন্যস্ত। তারা যেন এই স্বভাবজাত প্রকৃতিকে (الفطرة) জমিনে আল্লাহর শিক্ষা গ্রহণের এক জীবন্ত উৎসে পরিণত করে। আর তারা যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর প্রতিফলন ঘটায়: "প্রত্যেক শিশু স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর জন্ম নেয়, আর তার পিতামাতাই তাকে ইহুদি বা নাসারা হিসেবে গড়ে তোলে।" অর্থাৎ: ইসলামের স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর।

{আল্লাহর সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি (الفطرة), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই}। ফকিহগণ (الفقهاء) শিশুর সচেতনতা এবং তার পরিবেশে দৃশ্যমান বস্তুসমূহের মধ্যে যেমন—চতুষ্পদ জন্তু ও ঘোড়ার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা, অর্থাৎ শ্রেণি ও প্রজাতির মধ্যকার বৈষম্য করার সামর্থ্য নিরূপণ করেছেন। মনোবিজ্ঞান যেমন এই পর্যায়কে গুরুত্ব দেয়, ইসলামও তেমনি এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে; কারণ পরবর্তী জীবনের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। বরং পরবর্তী জীবন মূলত এর ওপরই মৌলিকভাবে নির্ভরশীল। যেহেতু এটি সুনিশ্চিত যে, শিশুর সংস্কৃতি, অভ্যাস, ঐতিহ্য এবং তার সারসত্তা...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
اللغوية والفكرية، وتصوراته عن العقاب والثواب، والرحمة وغيرها. كلها تتكون في نفس الطفل نتيجة لخبراته وعواطفه الناشئة عن معاملة أبوية له، وكذلك بيئته الأسرية والخارجية التي سمحت له الظروف أن يتعامل معها في هذه الفترة من العمر، وكل كائن حي هو مثل الطفل في تفاعل دائم مع البيئة وبوساطة هذا التفاعل يمكننا تغيير أطفالنا تغييرا كليا أو جزئيا، إذا وضح الهدف لدينا واستطعنا نحن المعلمين أن نكون المجال الحيوي الإسلامي لهذا الطفل؛ ليكتسب منه سلوك وعادات الفرد المسلم الذي ننشده ونعمل على تعريفه به في مناهج التربية الإسلامية، أما إذا كان مجال الطفل الذي يعيش فيه في البيت والمدرسة غير ما نعلمه إياه فإن تعديل سلوكه واتجاهاته نحو المثل الإسلامية سوف يصطدم بحواجز، من الصعب أن يتخطاها معلم مهما بلغ من الذكاء والعبقرية؛ لأن كل معلم إنما يبدأ عمله التربوي مع الطفل من الثقافة الأسرية التي حصل عليها. من محبته لوالديه، إلى التفكير في من خلقهما ورزقهما. من فكرة العقوبة على فعل ارتكبه فأغضب والديه، إلى تصور العقوبة الإلهية لمن يخالف أوامره. ومن تمثل رحمة الأبوين، لإدراك رحمة الله يحمل الطفل هذه المعاني بين مدركاته في الطفولة، وإن كان لا يستطيع التعبير عنها. فإذا ما تلقاه المعلم بما يغذي هذه الجوانب فيه، وجد أساسا يدفعه للاستجابة؛ لأنه عقيدته في الأشياء عاطفية، وقد سيطرت عليه في مرحلة ما قبل التعلم عواطف الإعجاب والمحبة والخوف من الكبار، وتحويل هذه العواطف نحو الله يلقى الاستجابة والتأثر؛ لأن فكرة الخالق عند الطفل تفوق في جانبها العاطفي كل ما عرفه من أنواع العظمة والتقدير والمحبة والخوف. لذلك فإن غرس التعاليم الإسلامية في نفوس الأطفال ودعوتهم إلى العمل بها عملية يشترك فيها البيت والمدرسة بقدر متساو من الهمة والإخلاص.

وحين يصل الطفل إلى المرحلة الثانية من طفولته "السادسة من عمره"
ভাষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শাস্তি ও পুরস্কার, রহমত ইত্যাদি সম্পর্কে তার ধারণা। এ সবকিছুই শিশুর মনে গঠিত হয় তার পিতা-মাতার আচরণের ফলে উদ্ভূত অভিজ্ঞতা ও আবেগ এবং তার পারিবারিক ও বাহ্যিক পরিবেশের প্রভাবে, যে পরিবেশে এই বয়সে মেলামেশার সুযোগ সে লাভ করেছে। প্রতিটি জীবন্ত সত্তাই শিশুর ন্যায় পরিবেশের সাথে নিরন্তর মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত থাকে। এই মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা আমাদের সন্তানদের আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন করতে পারি, যদি আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে এবং আমরা শিক্ষকরা যদি শিশুর জন্য একটি প্রাণবন্ত ইসলামি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি; যাতে সে সেখান থেকে সেই আদর্শ মুসলিম ব্যক্তির আচরণ ও অভ্যাস অর্জন করতে পারে, যা আমরা প্রত্যাশা করি এবং ইসলামি শিক্ষা কারিকুলামে তাকে যার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। পক্ষান্তরে, শিশু ঘর ও বিদ্যালয়ে যে পরিবেশে বসবাস করে তা যদি আমাদের শিক্ষার বিপরীত হয়, তবে ইসলামি আদর্শের আলোকে তার আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এমন সব বাধার সম্মুখীন হবে যা অতিক্রম করা একজন শিক্ষকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে, তিনি যতই বুদ্ধিমান বা প্রতিভাবান হোন না কেন; কারণ প্রত্যেক শিক্ষক শিশুর পারিবারিক সংস্কৃতি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই তার শিক্ষাদান প্রক্রিয়া শুরু করেন। পিতা-মাতার প্রতি তার ভালোবাসা থেকে শুরু করে যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন ও রিজিক দান করেছেন তাঁর সম্পর্কে চিন্তা করা পর্যন্ত। কোনো অপরাধের কারণে পিতা-মাতাকে রাগান্বিত করার ফলে শাস্তির ধারণা থেকে শুরু করে আল্লাহর আদেশ অমান্যকারীর জন্য ঐশী শাস্তির কল্পনা পর্যন্ত। এবং পিতা-মাতার রহমতের দৃষ্টান্ত থেকে আল্লাহর রহমত অনুধাবন করা পর্যন্ত—শিশু শৈশবে তার উপলব্ধির মধ্যে এই অর্থগুলো বহন করে, যদিও সে তা প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না। শিক্ষক যদি তাকে এমন কিছুর মাধ্যমে গ্রহণ করেন যা তার এই দিকগুলোকে পুষ্ট করে, তবে তিনি এমন একটি ভিত্তি খুঁজে পাবেন যা তাকে সাড়া দিতে উদ্বুদ্ধ করবে; কারণ বস্তুসমূহ সম্পর্কে তার বিশ্বাস (عقيدة) আবেগনির্ভর। শিক্ষা গ্রহণের পূর্ববর্তী পর্যায়ে বড়দের প্রতি বিস্ময়, ভালোবাসা ও ভয়ের আবেগ তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এই আবেগগুলোকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করা হলে তা ইতিবাচক সাড়া ও প্রভাব সৃষ্টি করে; কারণ শিশুর কাছে স্রষ্টার ধারণাটি তার আবেগীয় দিক থেকে মহত্ত্ব, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভয়ের পরিচিত সকল প্রকারের ঊর্ধ্বে। অতএব, শিশুদের মনে ইসলামি শিক্ষা গেঁথে দেওয়া এবং তাদের সে অনুযায়ী আমল করার আহ্বান জানানো এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে পরিবার ও বিদ্যালয় সমভাবে গুরুত্ব ও নিষ্ঠার সাথে অংশগ্রহণ করে।

এবং যখন শিশু তার শৈশবের দ্বিতীয় পর্যায়ে পদার্পণ করে "ছয় বছর বয়সে"
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهي مرحلة قبوله بالتعليم الابتدائي، نرى أن هذا الطفل في حاجة إلى من يعينه على أن يحيا حياة إنسانية كريمة بمعناها المادي والروحي، الفردي والاجتماعي القومي والإنساني؛ لأنه خرج من دائرة البيت إلى عالم آخر يختلف في تكوينه ومدركاته عما ألفه من فترة طفولته الأولى، ومعاونته على التكيف معه، إذا بدأت من منطلق إسلامي استطعنا أن نعمل على تكييف الإنسانية، وتطورها من خلال هذا الفرد الإنساني، إن الإسلام دين الإنسانية، ومبادؤه وأحكامه إنسانية، والتكيف معها يخلق مجتمعات مهما تباعدت إنسانية المنهج والسلوك، والطفل في هذه المرحلة يقوم إدراكه على الملموسات ويعتريه الشك فيما لا يراه لذلك يجب على المعلم أن يكون متفهما لمكونات نفس الطفل، وأن يتدرج معه في الأمور الدينية من الملموس إلى الغيبي، وأن يحاول الوصول إلى إقناعه بما يعرضه عليه متخذا لذلك الوسائل التي تربط بين عواطفه السابقة والأفكار الجديدة التي تعرض عليه؛ لأن النفس الإنسانية كل لا تتجزأ والتربية عملية شاملة تتناول الإنسان جسده ونفسه، عقله وعاطفته، سلوكه وشخصيته، مواقفه ومفاهيمه، مثله وطريقة حياته وطرائق تفكيره.

والدين يشمل كل هذه الجوانب فإذا ربطناها بالطفل وربطناه بها استطعنا أن نجعل مفهوم الدين لديه ليس عملا تقليديا عن الأباء والأجداد، وليس عملا غيبيا يتوهمه الإنسان ولا يجد أثره أو يعيش فيه. وهذه أول واجبات معلم التربية الإسلامية منذ اللحظة الأولى التي يلتقي فيها مع تلاميذه لأول مرة. وبهذه الطريقة سنجد أن عقيدة الطفل الدينية تزداد قوة وتطورا نحو المعقولية كما هي طبيعة هذه المرحلة من حياته. ويجب على المعلم أيضا أن يعرف أن الطريقة التي يتعلم بها الطفل قيمه تترسب في ذاته، وتؤثر تأثيرا عميقا في تقبله لهذه القيم أو رفضها. فطريقة المعلم وأسلوبه ورفقه بالأطفال وقربه منهم في دروس الدين خاصة، قد يدفع بنمو الذات لديهم إلى مستويات
এটি হলো প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে তার প্রবেশের পর্যায়; আমরা দেখতে পাই যে, এই শিশুটির এমন কাউকে প্রয়োজন যে তাকে বস্তুতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক এবং জাতীয় ও মানবিক উভয় অর্থেই একটি মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন যাপনে সহায়তা করবে। কারণ সে তার গৃহের গণ্ডি থেকে এমন এক অন্য জগতে বের হয়ে এসেছে, যার গঠন ও উপলব্ধি তার শৈশবের প্রথম দিকে অভ্যস্ত পরিবেশ থেকে ভিন্ন। তার এই নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করার বিষয়টি যদি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুরু হয়, তবে আমরা এই মানব সত্তার মাধ্যমে মানবতাকে সুসংগত করতে এবং তার উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবো। নিশ্চয়ই ইসলাম মানবতার ধর্ম এবং এর মূলনীতি ও বিধিবিধান (أحكام) মানবিক। এগুলোর সাথে মানিয়ে চলা এমন সমাজ তৈরি করে যেখানে পদ্ধতি ও আচরণগত দিক থেকে মানবতা ফুটে ওঠে, তা সে সমাজ যত দূরেই অবস্থিত হোক না কেন। এই পর্যায়ের শিশুর উপলব্ধি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহের ওপর নির্ভরশীল এবং সে যা দেখতে পায় না সে বিষয়ে তার মনে সংশয় জাগে। তাই শিক্ষককে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে এবং ধর্মীয় বিষয়ে তাকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যায় থেকে অদৃশ্যের (غيب) বিষয়ের দিকে ক্রমান্বয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষক যা উপস্থাপন করবেন সে বিষয়ে শিশুকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতে হবে এবং এর জন্য এমন মাধ্যম গ্রহণ করতে হবে যা শিশুর পূর্ববর্তী আবেগ এবং তার সামনে উপস্থাপিত নতুন চিন্তাধারার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কারণ মানবাত্মা একটি অবিভাজ্য একক এবং শিক্ষা হলো একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া যা মানুষের দেহ ও আত্মা, বুদ্ধি ও আবেগ, আচরণ ও ব্যক্তিত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা, আদর্শ ও জীবনপদ্ধতি এবং চিন্তাধারার প্রতিটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর ধর্ম এই সমস্ত দিককে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং আমরা যদি এই বিষয়গুলোকে শিশুর সাথে এবং শিশুকে এই বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি, তবে আমরা তার কাছে ধর্মের ধারণাকে কেবল পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত কোনো প্রথাগত কাজ হিসেবে নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো; এটি এমন কোনো অদৃশ্যের (غيب) বিষয় হবে না যা মানুষ কেবল কল্পনা করে কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রভাব খুঁজে পায় না বা তাতে সে জীবন অতিবাহিত করে না। ইসলামি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকের জন্য এটিই প্রথম কর্তব্য, যে মুহূর্ত থেকে তিনি প্রথমবারের মতো তার ছাত্রদের সাথে মিলিত হন। এই পদ্ধতিতে আমরা দেখতে পাব যে, শিশুর ধর্মীয় বিশ্বাস (عقيدة) উত্তরোত্তর শক্তিশালী হচ্ছে এবং যৌক্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা তার জীবনের এই পর্যায়ের স্বাভাবিক প্রকৃতি। শিক্ষককে ইহাও জানতে হবে যে, শিশু যেভাবে তার মূল্যবোধ শেখে তা তার অন্তরে গেঁথে যায় এবং এই মূল্যবোধ গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে তা গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ধর্ম শিক্ষার পাঠদানে শিক্ষকের কর্মপদ্ধতি, শৈলী, শিশুদের প্রতি তাঁর কোমলতা এবং তাদের সাথে তাঁর সান্নিধ্য শিশুদের আত্মিক বিকাশকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
أعلى في الأداء الديني فهما وسلوكان وقد يؤدي بالعكس إلى الجحود والتمرد على هذه القيم فهما وسلوكا أيضا، لذلك اهتمت معاهد التربية بدراسات علم النفس وأصول التربية لطلابها حتى يتمكنوا من فهم مراحل نمو الطفل وعواطفه وانفعالاته، ليتجنبوا مثل هذا الموقف الذي يعطي مردودا معاكسا لما تهدف إليه التربية، والشعور الديني عند الطفل يتطور بتطور خبرته ومفاهيمه عن الحياة والأحياء فإذا كان الطفل قبل السابعة لا يجد التعليل المنطقي لعملية "الموت" فإنه في هذه السن يدرك أن الموت شيء يقع على الرغم من الإنسان وعلى الرغم من كل ما حوله من أهل وأطباء ومال وصحبة، ومن هذا الإدراك يلتقط الدليل الذي ينقض الأساس الذي كان يبني عليه تصوراته للأمور بالعاطفة والرغبة. ويبدأ في معرفة أنه ليس مطلق الذات والرغبات، وأن هناك قوى خفية تفوق سلطانه وقدرة من يعرف من البشر. وعلى المربي أن يتدرج مع الطفل في بيان فكرة الموت وما يسبقه من مقدمات المرض والضعف وكبر السن، وأن يسوق له الأمثلة التي توضح ذلك من تكوين الثمار ثم نضجها وفي النهاية قطفها أو سقوطها. ويبين حكمة الله من ذلك في تداول الحياة والأحياء، كما يجب عليه أن يساعده في فهم الظواهر الكونية ودور القدرة الإلهية فيها خلقا وتنظيما وتصريفا، كالسحاب المسخر بين السماء والأرض وسقوط المطر منه، وسير الرياح، وتناوب فصول السنة وحركة النجوم والأفلاك وأثرها في الأرض، ونحن نعلم أن الطفل يتلقى بعض المعلومات عن هذه الظواهر ويتدرج فيها بتدرج عمره وسنوات دراسته. فإذا بين له معلم الدين أن هذه الظواهر ترجع إلى إرادة حكيمة مديرة تصرفها كيف تشاء، ساعده بذلك على تفهم جوانب من القدرة الإلهية، وأعانه على الربط بين التقارير العلمية والأحكام الدينية؛ لأن الطفل إذا تعلم أن الشمس هي التي تبخر الماء، والرياح هي التي تسوق البخار، ونزول درجة الحرارة
ধর্মীয় পালনের ক্ষেত্রে উপলব্ধি ও আচরণের দিক থেকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যায়; আবার বিপরীতে, এটি এই মূল্যবোধগুলোর প্রতি উপলব্ধি ও আচরণের ক্ষেত্রে অস্বীকার ও বিদ্রোহের দিকেও নিয়ে যেতে পারে। একারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য মনোবিজ্ঞান ও শিক্ষার মূলনীতি (أصول التربية) অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, যাতে তারা শিশুর বিকাশের পর্যায়সমূহ, তাদের আবেগ ও অনুভূতিগুলো বুঝতে সক্ষম হয়; যাতে তারা এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারে যা শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত ফলাফল বয়ে আনে। শিশুর ধর্মীয় অনুভূতি তার জীবন ও জীবজগত সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও ধারণার বিকাশের সাথে সাথে বিকশিত হয়। সাত বছর বয়সের আগে শিশু যদি "মৃত্যু" প্রক্রিয়ার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে না পায়, তবে এই বয়সে সে উপলব্ধি করতে পারে যে, মৃত্যু এমন এক বিষয় যা মানুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবং তার চারপাশের আত্মীয়স্বজন, চিকিৎসক, অর্থ-সম্পদ ও সঙ্গীদের উপস্থিতি সত্ত্বেও সংঘটিত হয়। এই উপলব্ধি থেকেই সে এমন প্রমাণ খুঁজে পায় যা তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা ধারণাগুলোর ভিত্তি ভেঙে দেয়। সে বুঝতে শুরু করে যে, তার সত্তা ও আকাঙ্ক্ষা নিরঙ্কুশ নয় এবং এমন এক অদৃশ্য শক্তি বিদ্যমান যা তার কর্তৃত্ব এবং তার পরিচিত মানুষের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। শিক্ষকের উচিত শিশুর কাছে মৃত্যুর ধারণা এবং এর পূর্বলক্ষণ হিসেবে অসুস্থতা, দুর্বলতা ও বার্ধক্যের বিষয়টি ধাপে ধাপে বর্ণনা করা। তার সামনে এমন উদাহরণ পেশ করা উচিত যা বিষয়টিকে স্পষ্ট করে, যেমন—ফল গঠন হওয়া, তারপর তা পেকে যাওয়া এবং অবশেষে তা আহরণ করা বা ঝরে পড়া। সেইসাথে জীবন ও জীবজগতের এই আবর্তনের পেছনে আল্লাহর হিকমত বর্ণনা করা। শিক্ষকের আরও দায়িত্ব হলো মহাজাগতিক ঘটনাবলি এবং এর সৃষ্টি, বিন্যাস ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ঐশ্বরিক ক্ষমতার ভূমিকা বুঝতে শিশুকে সহায়তা করা; যেমন আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে অনুগত মেঘমালা ও তা থেকে বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঋতুবৈচিত্র্য এবং নক্ষত্র ও গ্রহরাজির গতিবিধি ও পৃথিবীতে এগুলোর প্রভাব। আমরা জানি যে, শিশু এই সব বিষয় সম্পর্কে কিছু তথ্য লাভ করে এবং বয়স ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তা শেখে। এমতাবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষক যদি তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, এই সব বিষয় এক প্রজ্ঞাবান ও পরিচালক সত্তার ইচ্ছাধীন, যিনি এগুলোকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করেন, তবে তা তাকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার দিকগুলো বুঝতে সাহায্য করবে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ধর্মীয় বিধানাবলির (الأحكام الدينية) মধ্যে সমন্বয় সাধনে সহায়তা করবে; কারণ শিশু যখন শেখে যে সূর্যই পানিকে বাষ্পীভূত করে, বায়ুই সেই বাষ্পকে উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার ফলেই...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
هو الذي يكثف ذرات الماء فتهطل مطرا تصور سيطرة الطبيعة على نفسها، فإذا ما استطاع المعلم أن يبين له أن الشمس وحدها لا تعمل وأن الماء أصلا له خالق، وأن حركة الرياح لها سلطان يصرفها، ومن هذا كله يأتي المطر بأمر وحكمة، قضى على الازدواجية بين العلم والدين وأرجع كل شيء إلى أصله ومصدره. ومن هنا كانت مهمة معلم الدين مهمة صعبة. وقدرته العلمية والدينية يجب أن تكون فوق مستوى ما نراه ونعرفه من معلمي هذا العصر الذي نحن فيه. وإذا كنا نريد نجاح التربية الإسلامية فعلا في مدارسنا ومجتمعاتنا، فعلينا أن نشمل معلمها برعاية خاصة وعناية فائقة في إعداده إعدادا إكاديميا يقوم على البحث والتقصي في كل جوانب الدين، فكرا وعقيدة وفلسفة ومنهجا وتطبيقا، واذا أراد هو أن يؤدي رسالته بصورة ترضي الله والناس فعليه أن يكون قادرا على إقناع تلاميذه في مثل هذه المواقف، وأن يتبع معهم وسائل القرآن في الإقناع. فيبدأ بالملموس ويتدرج منه إلى المتصور ليصل في النهاية إلى المعقول. ولا يترك تلاميذه عند نقطة عقائدية إلا بعد أن يقنعهم بهذه الطريقة حتى لا تكون مسائل العقيدة في نظرهم مجرد طلاسم لا فكر فيها ولا حل لها …
তিনিই সেই সত্তা যিনি জলীয় অণুগুলোকে ঘনীভূত করেন যার ফলে তা বৃষ্টিরূপে পতিত হয়, যা প্রকৃতির স্বীয় নিয়ন্ত্রণের রূপকে চিত্রায়িত করে। যদি শিক্ষক শিক্ষার্থীকে এটি বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হন যে, সূর্য একা কাজ করে না এবং পানির মূলত একজন স্রষ্টা রয়েছেন, আর বায়ুপ্রবাহের ওপর এক আধিপত্যশীল সত্তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে যিনি একে পরিচালিত করেন এবং এই সবকিছুর মাধ্যমেই এক আদেশ ও হিকমতের অধীনে বৃষ্টি বর্ষিত হয়; তবে তিনি বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যকার দ্বৈততা নিরসন করলেন এবং প্রতিটি বিষয়কে তার মূল উৎস ও আদি সত্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করালেন। এখান থেকেই মূলত ধর্মীয় শিক্ষকের মহান দায়িত্বটি অত্যন্ত কঠিন হিসেবে গণ্য হয়। তাঁর বৈজ্ঞানিক এবং ধর্মীয় যোগ্যতা অবশ্যই আমাদের বর্তমান যুগের শিক্ষকদের স্তরের ঊর্ধ্বে হতে হবে। আমরা যদি সত্যিই আমাদের বিদ্যালয় ও সমাজগুলোতে ইসলামি শিক্ষার প্রকৃত সফলতা চাই, তবে আমাদের উচিত ধর্মীয় শিক্ষকদের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রস্তুতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা। এই প্রস্তুতি হতে হবে ধর্মের সকল দিক—চিন্তাধারা, আকীদা (عقيدة), দর্শন, মানহাজ (منهج) এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে। শিক্ষক যদি তাঁর এই অর্পিত দায়িত্ব আল্লাহ এবং মানুষের সন্তুষ্টির সাথে পালন করতে চান, তবে তাঁকে এ জাতীয় পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করতে সক্ষম হতে হবে এবং তাদের সাথে আল-কুরআনের বর্ণিত যুক্তিপ্রদানের পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য বিষয় থেকে শুরু করবেন এবং পর্যায়ক্রমে তা থেকে ধারণাগত বিষয়ের দিকে অগ্রসর হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে যৌক্তিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের কোনো আকীদা (عقيدة) সংক্রান্ত বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়বেন না যতক্ষণ না তিনি এই পদ্ধতিতে তাদের বোধগম্য করেন, যাতে আকীদার বিষয়গুলো তাদের নিকট কেবল এমন কোনো দুর্বোধ্য রহস্যের ন্যায় প্রতীয়মান না হয় যার কোনো যৌক্তিক চিন্তা বা সমাধান নেই …
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الطفل وعملية الميلاد والخلق:

كل طفل ما إن يصل إلى مرحلة الإدراك حتى يبدأ في التساؤل. من أين ولدت؟ وفي أي مكان كنت؟ وكيف سرت وتكلمت وغير ذلك من الأسئلة التي يبدأها طفل في الثانية من عمره وتظل معه حتى السابعة أو الثامنة تقريبا، وكل ما يسمعه من إجابات عنها لا تقنعه، وإن كان يظهر رضاه عنها في وقتها؛ لأنه لا يملك تعليلا غير ذلك، وبعض الأطفال في سن الخامسة
শিশু এবং জন্ম ও সৃষ্টির প্রক্রিয়া:

প্রতিটি শিশু যখনই বোধশক্তির স্তরে উপনীত হয়, তখনই সে নানাবিধ প্রশ্ন করতে শুরু করে। আমার জন্ম কোথা থেকে হয়েছে? আমি কোন স্থানে ছিলাম? আমি কীভাবে হাঁটতে ও কথা বলতে শিখলাম? এই জাতীয় আরও অনেক প্রশ্ন যা একটি শিশু দুই বছর বয়স থেকে শুরু করে এবং প্রায় সাত বা আট বছর বয়স পর্যন্ত তার মাঝে বিদ্যমান থাকে। এসব প্রশ্নের উত্তরে সে যা কিছু শ্রবণ করে, তা তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে না; যদিও সে তৎকালীনভাবে তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। কারণ তার নিকট তখন এর অতিরিক্ত অন্য কোনো ব্যাখ্যা বা যুক্তি থাকে না। এবং পাঁচ বছর বয়সী কিছু শিশু...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
يعتقد أن الله أوجده في بطن أمه من مجموع الغذاء الذي تتناوله، وبعضهم يتصور أنه وجد هكذا كما هو بشكله وحجمه. وأن أمه ولدت أباه كما ولدته فإذا ما وصل إلى السابعة من عمره راح يفكر إلى ما هو أبعد من ذاته وذات أبيه، فيسأل عن الإنسان الأول كيف ولد وكيف وهو فرد واحد امتلأت الدنيا هكذا؟ وهنا يبدأ تلمس الطريق نحو معرفة الخالق والبحث عنه. لذلك كانت المرحلة الابتدائية هامة في تكوين العقيدة على أسس صحيحة. وفي الإجابة على كل التساؤلات التي أرقت هذا الطفل منذ أدرك حتى جاء إلى المدرسة فإذا كان معلم التربية الإسلامية على درجة من العلم والكفاءة استطاع أن يجيب على كل هذه التساؤلات، وإن يربطها بالجوانب الفكرية والمنطقية في العقيدة الإسلامية. التي توضح أن الكون كله خلق من فيض الله. وأن ذات الله تعالى هي التي أوجدت هذا الكون كما يشهد على ذلك كل شيء في الوجود. بدءا من الحشرة الصغيرة إلى الجبل الكبير. إلى السماء والأفلاك والهواء والفضاء. كل شيء بمقدار. وكل حركة بحساب ولا يكون ذلك إلا من صنع خالق حكيم قادر. وكل هذه الدلائل تقودنا إلى التسليم لهذا الخالق، تسليما فرضته علينا قوى الطبيعة القاهرة وقبله العقل والمنطق؛ لأنه يتفق مع الحقائق التي نشاهدها وتمر بنا أحداثها في كل يوم.

وإذا كانت العملية التعليمية تعنى أول ما تعنى بخلق الملكات، والعمل على اتساعها وتنميتها، فإن الطفل معرض بناء على ذلك، إلى تصعيد أفكاره وتساؤلاته. لنراه في وقت من الأوقات يطلب لكل معلول علة، ويحاول تطبيق ذلك بالنسبة للذات الإلهية، والإجابة عن هذه الأشياء بالنسبة للأطفال يعد أمرا حيويا يتصل بالتوافق بين الدين والحياة، وبين الأوامر الإلهية والفكر الإنساني الذي يطرق على التلميذ بابه في كل لحظة، ولكي تكون الإجابة
শিশুটি বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তাকে তার মায়ের গর্ভে তার গ্রহণ করা খাদ্যের সমষ্টি থেকে সৃষ্টি করেছেন, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করে যে সে তার বর্তমান আকৃতি ও আকারেই সেখানে বিদ্যমান ছিল। সে মনে করে যে তার মা যেমন তাকে জন্ম দিয়েছে, তেমনি তার বাবাকেও জন্ম দিয়েছে। যখন সে সাত বছর বয়সে পৌঁছায়, তখন সে নিজের এবং তার বাবার সত্তার উর্ধ্বে গিয়ে চিন্তা করতে শুরু করে; সে আদি মানব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে সে কীভাবে জন্ম নিল এবং কীভাবে সে একজন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী এভাবে পূর্ণ হয়ে গেল? এখানেই সৃষ্টিকর্তাকে জানার এবং তাঁকে অনুসন্ধান করার পথ খোঁজা শুরু হয়। তাই সঠিক ভিত্তির ওপর আকিদা (عقيدة) গঠনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে যা এই শিশুটিকে বোধোদয় হওয়ার পর থেকে স্কুলে আসা পর্যন্ত বিচলিত করেছিল। যদি ইসলামি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী হন, তবে তিনি এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং সেগুলোকে ইসলামি আকিদা (عقيدة)-র বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক দিকগুলোর সাথে সংযুক্ত করতে সক্ষম হবেন। যা স্পষ্ট করে যে পুরো মহাবিশ্ব আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলার সত্তাই এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি অস্তিত্বমান প্রতিটি বস্তু এর সাক্ষ্য দেয়। ক্ষুদ্র পতঙ্গ থেকে শুরু করে বিশাল পাহাড় পর্যন্ত; আকাশ, গ্রহ-নক্ষত্র, বায়ু এবং মহাকাশ—সবই। প্রতিটি জিনিস একটি নির্দিষ্ট পরিমাপে। প্রতিটি গতিবিধি সুনির্দিষ্ট গণনায়, আর এটি কেবল একজন প্রজ্ঞাময় ও সর্বশক্তিমান স্রষ্টার নৈপুণ্যেই সম্ভব। এই সমস্ত প্রমাণ আমাদের সেই স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ (تسليم) করার দিকে পরিচালিত করে; এমন এক আত্মসমর্পণ যা প্রকৃতির অদম্য শক্তি আমাদের ওপর অপরিহার্য করে দিয়েছে এবং তার আগে বুদ্ধি ও যুক্তি তা গ্রহণ করেছে; কারণ এটি সেই সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ যা আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যার ঘটনাবলি প্রতিদিন আমাদের সামনে দিয়ে অতিক্রান্ত হয়।

আর শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য যদি হয় সুপ্ত প্রতিভা (ملكة) তৈরি করা এবং তার বিকাশ ও সংবর্ধনে কাজ করা, তবে শিশুটি সেই ভিত্তিতে তার চিন্তাভাবনা ও প্রশ্নগুলোকে আরও উচ্চতর স্তরে নিয়ে যেতে প্রবৃত্ত হয়। আমরা তাকে কোনো এক সময় দেখি যে সে প্রতিটি কার্য (معلول)-এর জন্য একটি কারণ (علة) অনুসন্ধান করছে এবং সে এটি মহান আল্লাহর সত্তার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। শিশুদের এই সব বিষয়ের উত্তর দেওয়া একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় যা দ্বীন ও জীবনের মধ্যে এবং ঐশ্বরিক আদেশ ও মানবীয় চিন্তার মধ্যে সমন্বয়ের সাথে সম্পর্কিত, যা শিক্ষার্থীর মনের দরজায় প্রতি মুহূর্তে কড়া নাড়ে। আর এই উত্তরগুলো যাতে হয়...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
سليمة ومقنعة يجب أن تنال الطفل من ناحيتيه النفسية والعقلية، وفي الناحية النفسية سنجد الأمر سهلا، إذ بيان عجز الطفل عن خلق حشرة أو زرع عضو أو إعادة الحياة لميت، وربط ذلك بأمثلة تبين عجز من هم أعظم منه وأكبر، كوالديه ورؤساء الدول وقادة الجيوش والعلماء والحكماء. عجزهم عن رد الموت عنهم، أو مقاومة المرض، ومنع العواصف والزلازل وغير ذلك مما هو مدار عجز الإنسان، كل هذا سوف يريح الطفل نفسيا. وهنا ننقله إلى الجانب العقلي الذي به يتضح له الكمال الإلهي في قدرته وعظمته وحكمته. تلك القدرة والعظمة والحكمة التي تقتضي ألا يكون هناك رب سواه. والتي تدعونا إلى التفكر في مخلوقاته الهائلة حتى لا نناقض أنفسنا ونتساءل عمن أوجد الله. إذ لو احتاج الله إلى من يوجده لكان ضعيفا مثلنا، ولكان هذا الكون فاسدا على غير نظام، يعتريه المرض ويحكمه الضعف، وتتداخل أشكاله وألوانه، فلا يكون على ما هو عليه من تناسق بديعة ومعجز.

وبسكون النفس واطمئنان العقل يتبين الطفل أن مثل هذا التساؤل مناف للإيمان بالله عز وجل وبكماله وقدرته التي نلمسها في كل شيء. ومعلم التربية الإسلامية يستطيع أن يلمس هذا الجانب في كل درس من دروس الدين. وأن يجيب عن هذه الأسئلة قبل أن تصبح مركز ثقل عن نفسية التلميذ ومدركاته. وكلما كان المعلم دقيقا وواضحا، كان تقبل التلاميذ لهذه النتائج سهلا وميسورا. ولا أكون مغاليا إذا قلت أن رسوخ العقيدة أو اضطرابها إنما يتكون في هذه الفترة من المرحلة الابتدائية. وأن دور المعلم فيها أكبر من دور الأسرة والمجتمع وأنه بسلوكه ومنطقه واعتداله يظل يلاحق تلاميذه حتى بعد فترة المراهقة. وليس معنى هذا، إلغاء دور الأسرة والمجتمع. وإنما هو بيان لمراكز التأثير في ترتيبها وأولويتها.

فالمدرسة ومعلم التربية الإسلامية أولا.
একটি সঠিক ও সন্তোষজনক উপস্থাপনা শিশুর মনস্তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধিভিত্তিক উভয় দিক থেকেই হওয়া আবশ্যক। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বিষয়টি সহজ হবে, যদি শিশুর সামনে একটি পতঙ্গ সৃষ্টি করা, শরীরের কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা বা কোনো মৃতকে জীবন দান করার ক্ষেত্রে তার অক্ষমতা বর্ণনা করা হয় এবং এর সাথে এমন উদাহরণ যুক্ত করা হয় যা তার চেয়েও বড় ও শক্তিশালী ব্যক্তিদের অক্ষমতা প্রকাশ করে, যেমন তার পিতামাতা, রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাপতি, বিজ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ। মৃত্যু প্রতিহত করা, রোগ প্রতিরোধ করা, ঝড় ও ভূমিকম্প রোধ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের অক্ষমতা, যা মানুষের অক্ষমতারই কেন্দ্রবিন্দু; এসবই শিশুকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে আশ্বস্ত করবে। এখান থেকেই আমরা তাকে বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ের দিকে নিয়ে যাব, যার মাধ্যমে তার কাছে আল্লাহর কুদরত, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা স্পষ্ট হবে। সেই কুদরত, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে, তিনি ছাড়া আর কোনো প্রতিপালক নেই। যা আমাদের তাঁর বিশাল সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে আমরা স্ববিরোধী না হয়ে পড়ি এবং 'আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে' এমন প্রশ্নে লিপ্ত না হই। কারণ আল্লাহ যদি তাঁর অস্তিত্বের জন্য কারও মুখাপেক্ষী হতেন, তবে তিনি আমাদের মতোই দুর্বল (ضعيف) হতেন এবং এই মহাবিশ্ব কোনো নিয়ম ছাড়া বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত, যা দুর্বলতা (الضعف) দ্বারা শাসিত ও ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যেত এবং এর রূপ ও রঙ এমনভাবে মিশে যেত যে তার বর্তমান অনুপম ও বিস্ময়কর সামঞ্জস্য বজায় থাকত না।

মনের স্থিরতা ও বুদ্ধির প্রশান্তির মাধ্যমে শিশুটি বুঝতে পারবে যে, এই ধরনের প্রশ্ন মহান আল্লাহ এবং তাঁর পূর্ণতা ও কুদরতের প্রতি ঈমানের পরিপন্থী, যা আমরা প্রতিটি বিষয়ে অনুভব করি। আর ইসলামি শিক্ষার শিক্ষক দ্বীনের প্রতিটি পাঠে এই দিকটি তুলে ধরতে পারেন এবং শিক্ষার্থীর মন ও উপলব্ধিতে কোনো বোঝা হয়ে ওঠার আগেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন। শিক্ষক যত বেশি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হবেন, শিক্ষার্থীদের কাছে এসব ফলাফল গ্রহণ করা তত বেশি সহজ ও সাবলীল হবে। আমি অতিরঞ্জন করছি না যদি বলি যে, আকিদার দৃঢ়তা বা বিচ্যুতি প্রাথমিক স্তরের এই সময়কালেই তৈরি হয়। এই ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা পরিবার ও সমাজের চেয়েও বেশি এবং তাঁর আচরণ, যুক্তি ও ভারসাম্যের মাধ্যমে তিনি বয়ঃসন্ধিকালের পরেও শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে চলেন। এর অর্থ এই নয় যে, পরিবার ও সমাজের ভূমিকাকে অস্বীকার করা হচ্ছে; বরং এটি কেবল প্রভাব বিস্তারকারী মাধ্যমগুলোর ধারাবাহিকতা ও অগ্রাধিকারের বর্ণনা মাত্র।

সুতরাং বিদ্যালয় এবং ইসলামি শিক্ষার শিক্ষকই অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم يأتي دور الأسرة مساعدا وموضحا.

وتكتمل الحلقة بالمجتمع وما فيه من مؤثرات وعبر.
অতঃপর সহায়ক ও স্পষ্টকারী হিসেবে পরিবারের ভূমিকা আসে।

আর সমাজ এবং এর মধ্যে থাকা প্রভাব ও উপদেশের মাধ্যমে এই বৃত্তটি পূর্ণতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الطفولة والخير والشر:

يظل الطفل -في مرحلة الطفولة الأولى- يتصور أن الخير هو ما حقق له رغباته وأن الشر هو ما يقاومها أو يقف في طريقها. حتى إذا ما انتقل إلى مرحلة الطفولة المتأخرة -أي: دخل في السابعة من عمره- بدأ يسأل عن الحسن والقبيح ويتعرف من خلال تجاربه على لون كل منهما. فهذا حسن لأنه يرضي والديه وأخوته وأصدقائه، وهذا قبيح لأنه يغضبهم. ويظل هذا الانطباع لديه، حتى يتعرف على مسائل الدين والخلق، فينتقل بفكره إلى إدراك أن الخير هو ما يتفق وأوامر الله، وأن الشر ما يخالف ذلك. حتى إذا ما وصل إلى التاسعة من عمره، وتقدم به التعليم بعض الشيء، واتسعت خبرته بالواقع، وتعقدت صلاته الاجتماعية، ارتقى حسه ونمى إدراكه وفكره فأصبح يرى الخير في أمور كثيرة لا يفعلها الناس، والشر في أمور أكثر يرتكبها الناس. وبذلك يحس بدافعية تسوقه إلى الله، وإلى حبه والاهتمام بتعاليمه؛ لأنه سبحانه هو وحده الذي يمكن أن يحقق له العدل والإنصاف. ويقاوم الظلم، ويدفع الشر عنه. وفي هذه الفترة تبدو أهمية معلم التربية الإسلامية، إذ يستطيع أن يستغل هذا التطور الطبيعي في الطفل، فيعمل على تقوية عقيدته بالله، تلك العقيدة التي سيرى فيها الطفل خير عون له على تقبل ما يتعرض له من آلام الواقع وصراعات الحياة. والتي سوف تمسح عنه الكثير من صنوف الحرمان والوهم والخوف، وتعمل على تقوية شخصيته واستعدادها للتضحية والفداء ومعاونة الآخرين.
শৈশব এবং কল্যাণ ও অকল্যাণ:

একটি শিশু—শৈশবের প্রাথমিক পর্যায়ে—মনে করে যে, কল্যাণ হলো তা-ই যা তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে এবং অকল্যাণ হলো তা-ই যা তার আকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে বা তার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি যখন সে শৈশবের পরবর্তী স্তরে উপনীত হয়—অর্থাৎ সাত বছর বয়সে পদার্পণ করে—তখন সে উত্তম (حسن) ও অনুত্তম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করে এবং নিজ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এ দুটির স্বরূপ চিনতে পারে। এটি উত্তম (حسن) কারণ এটি তার পিতামাতা, ভাইবোন ও বন্ধুদের সন্তুষ্ট করে; আর এটি অনুত্তম কারণ এটি তাদের অসন্তুষ্ট করে। তার মাঝে এই বোধটি কাজ করতে থাকে যতক্ষণ না সে দীনের মাসয়ালা ও চরিত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। তখন সে স্বীয় চিন্তার মাধ্যমে এটি উপলব্ধি করতে পারে যে, কল্যাণ হলো তা-ই যা আল্লাহর নির্দেশের অনুকূল, আর অকল্যাণ হলো তা-ই যা এর পরিপন্থী। এমনকি যখন সে নয় বছর বয়সে উপনীত হয়, তার শিক্ষা কিছুটা অগ্রসর হয়, বাস্তব জগত সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো আরও বিস্তৃত হয়, তখন তার বোধশক্তি উন্নত হয় এবং চিন্তা-চেতনা বিকশিত হয়। ফলে সে এমন অনেক বিষয়ে কল্যাণ দেখতে পায় যা সাধারণ মানুষ করে না, এবং এমন অনেক বিষয়ে অকল্যাণ দেখতে পায় যাতে মানুষ অহরহ লিপ্ত হয়। এর মাধ্যমে সে নিজের ভেতর এমন এক তাড়না অনুভব করে যা তাকে আল্লাহর দিকে, তাঁর প্রতি ভালোবাসার দিকে এবং তাঁর শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের দিকে ধাবিত করে; কারণ মহান আল্লাহই একমাত্র সত্তা যিনি তার জন্য ন্যায়বিচার (عدل) ও ইনসাফ নিশ্চিত করতে পারেন, জুলুম প্রতিহত করতে পারেন এবং তার থেকে অকল্যাণ দূর করতে পারেন। এই সময়েই ইসলামি শিক্ষা শিক্ষকের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; কেননা তিনি শিশুর এই স্বাভাবিক বিকাশকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর প্রতি তার আকিদাহ বা বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করতে পারেন। এই আকিদাহ শিশুর জন্য জাগতিক দুঃখ-কষ্ট ও জীবন-সংগ্রাম মোকাবিলায় সর্বোত্তম সহায়ক হবে, যা তার থেকে বহুবিধ বঞ্চনা, বিভ্রান্তি ও ভয় দূর করবে এবং তার ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে আত্মত্যাগ ও পরোপকারে উদ্বুদ্ধ করবে।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وهكذا يصبح فعل الخير له مدلول عند الطفل، وامتناعه عن الشر يصبح أشبه بالقربان يقربه إلى الله لينال عفوه ورضاه ومحبته. وصلاة الطفل في هذا العمر لها أثر عميق في نفسه؛ لأنها منه تخرج خاشعة لا يدخل فيها رياء أو نفاق أو غفلة، ويكون ارتباطه فيها بربه أقوى مما كان عليه في أي وقت مضى؛ لأنه أدرك معنى التوسل إلى الله، واتضح له صوت الحق في عظمته وسلطانه، ودعاه خوفه منه إلى التوسل إليه أن يعينه على نوازع الشر في نفسه، وأن يهديه إلى طريق الخير والإيمان، ولهذا كان أمر الرسول صلى الله عليه وسلم أن نأمر أولادنا بالصلاة لسبع وأن نضربهم عليها لعشر "أي: إذا لم يصلوا حتى العاشرة". ومتابعة الأطفال في الصلاة وخاصة بالمدرسة أمر يجعل من التربية الإسلامية حقيقة واقعة؛ لأن الطفل حساس إذا وجد القول يخالف الفعل اهتزت لديه كثير من القيم. فإذا علمناه الصلاة وفضائلها، وتركنا نحن الصلاة، أو تركناه بلا دافع يدفعه إليها، فكأننا بذلك، نقول له تعلم النفاق والكذب. وكل تعاليم الإسلام كذلك. تحتاج منا إلى متابعة وتهيئة الجو الذي يشعر فيه التلاميذ بحقيقة هذه التعاليم وفضلها على غيرها.

এভাবে সৎকর্ম শিশুর নিকট অর্থবহ হয়ে ওঠে এবং মন্দ কাজ থেকে তার বিরত থাকা একটি আত্মনিবেদন (قربان) সদৃশ হয়ে যায় যা তাকে আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায়, যাতে সে তাঁর ক্ষমা, সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভ করতে পারে। এই বয়সে শিশুর সালাত তার অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে; কারণ তা তার পক্ষ থেকে অত্যন্ত বিনম্রতার (خاشعة) সাথে সম্পাদিত হয়, যাতে লোকদেখানো (رياء), কপটতা (نفاق) বা উদাসীনতা (غفلة) প্রবেশ করে না। এক্ষেত্রে রবের সাথে তার সম্পর্ক পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়; কারণ সে আল্লাহর নিকট অসিলা (توسل) তালাশ করার মর্ম অনুধাবন করেছে এবং তাঁর মহিমা ও কর্তৃত্বের মধ্যে সত্যের আহ্বান তার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর আল্লাহর প্রতি তার ভয় তাকে তাঁর কাছে এই অসিলা (توسل) প্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করে যে, তিনি যেন তাকে তার অভ্যন্তরীণ কুমন্ত্রণাগুলো দমনে সাহায্য করেন এবং তাকে কল্যাণ ও ঈমানের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা আমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দেই এবং দশ বছর বয়সে তার জন্য শাসন করি (অর্থাৎ: যদি তারা দশ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও সালাত আদায় না করে)। শিশুদের সালাত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, বিশেষ করে বিদ্যালয়ে, এমন একটি বিষয় যা ইসলামি শিক্ষা বা তারবিয়াতকে একটি বাস্তব রূপ দান করে; কারণ শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল, যখন সে তার আশপাশে কথার সাথে কাজের অমিল দেখতে পায়, তখন তার লালিত অনেক মূল্যবোধই নড়বড়ে হয়ে যায়। সুতরাং আমরা যদি তাকে সালাত ও এর ফজিলত শিক্ষা দেই, অথচ আমরা নিজেরা সালাত বর্জন করি অথবা তাকে সালাতে উদ্বুদ্ধ করার মতো কোনো প্রেরণা ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেই, তবে এর মাধ্যমে আমরা যেন তাকে পরোক্ষভাবে কপটতা (نفاق) ও মিথ্যাচারই শিক্ষা দিচ্ছি। ইসলামের সকল শিক্ষাই অনুরূপ। এগুলোর জন্য আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষাগুলোর বাস্তবতা এবং অন্য সবকিছুর ওপর এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করতে পারে।

(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الطفولة المتأخرة والروحانية:

يتحول الطفل في العاشرة من عمرة إلى طاقة روحانية مستعدة لتقبل الأوامر الإلهية والامتثال لها أكثر من أي فترة أخرى في حياته الماضية والمستقبلة. ويتجه بفكره إلى الله مدركا جوانب التنزيه والوحدانية والقدرة لديه. ومتقبلا لهذه الصفات تقبلا نفسيا يشعر معه بالراحة والرضا والاطمئنان. ويرجع ذلك إلى رقي فكره، وتنوع خبرته، واتساع مدركاته، واحتكاكه مع مظاهر
উত্তর-শৈশব ও আধ্যাত্মিকতা:

দশ বছর বয়সে শিশু এমন এক আধ্যাত্মিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় যা তার জীবনের অতীত এবং ভবিষ্যতের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি গ্রহণ এবং তা পরিপালনের জন্য অধিকতর প্রস্তুত থাকে। সে তার চিন্তাশক্তিকে আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট করে এবং তাঁর পবিত্রতা, একত্ববাদ ও ক্ষমতার দিকগুলো উপলব্ধি করে। সে এই গুণাবলিকে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক স্বীকৃতির মাধ্যমে গ্রহণ করে যার ফলে সে স্বস্তি, সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি অনুভব করে। এর মূলে রয়েছে তার চিন্তার উৎকর্ষতা, অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য, উপলব্ধির প্রশস্ততা এবং বিভিন্ন নিদর্শনের সাথে তার সম্পৃক্ততা...
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
الطبيعة الدالة على خالقها ومبدعها. وقدرته في هذه المرحلة على التأمل والتخيل، مما يساعده على تصور عظمة الذات الإليهة وعدم القدرة على رؤيتها أو تشبيهها بشيء، وهو في تمثله لهذه الأشياء يتفق مع فطرته، ومع طبيعة المخلوقات التي هي مساقة دائما إلى الامتثال والخضوع للقوة العليا، المسيطرة على هذا الكون، والطفل في هذا العمر أرقى المخلوقات وأنقاها روحيا وجسديا، حيث هو بعيد عن الأدناس لم تدخله بعد عوامل الحقد والحسد والطمع.

ولم تسيطر عليه الشهوات والأهواء، لذلك نراه إذا ما وجه الوجهة السليمة نحو الإيمان والخير اندفع إليهما في تعلق وشوق. ودور التربية الدينية في هذه الفترة يقوم على تعليل الأشياء له تعليلا مقبولا، وربط الأمور الغيبية بالواقع المشاهد في حياته التعليمية والعملية.

وكلما كان معلم التربية الإسلامية واعيا لأهدافها، متمثلا لمواقف الحق والجمال فيها. كانت قدرته على تثبيت تلك الأهداف وتمثله لتلك المواقف في نفوس التلاميذ أدق وأنفع. فالمعلم الذي يبين أن الله شديد العقاب، ولا تخفى عليه خافية في الأرض ولا في السماء، وينسى أن الله غفور رحيم، ويقبل التوبة من عباده، ويجب التائبين ويتقرب إليهم، هو معلم آلي. ما إن تخرج المعلومات منه حتى تصطدم بجدران الصف الذي يقف فيه، لا تتعداه إلى فكر التلاميذ وسلوكهم واتجاهاتهم. لذلك أدعو إلى أن يكون معلم الدين متخصصا ومختارا بطريقة دقيقة وواعية، وأن يجري تدريبه دائما على تحسين مواقفه والارتقاء بها في دروس الدين، والعمل على إيجاد المجالات له ليتصل بتلاميذه وبيئاتهم ومجتمعاتهم الأسرية.

وقد عرف المربون المسلمون قديما أن لدى الطفل ميلا طبيعيا لحب الثناء والظهور، فمدحوه على ما يبدو منه من قول حسن أو فعل جميل، وشجعوه
প্রকৃতি তার স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের অস্তিত্বের নির্দেশক। এই পর্যায়ে শিশুর চিন্তা ও কল্পনার সক্ষমতা তাকে খোদায়ী সত্তার মাহাত্ম্য অনুধাবনে এবং তাঁকে দর্শনের সাধ্যাতীত হওয়া কিংবা কোনো কিছুর সাথে তাঁর সাদৃশ্য না থাকার বিষয়টি উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। এসব বিষয়ের উপলব্ধিতে সে তার সহজাত ফিতরাত এবং সৃষ্টির প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যা সর্বদা এই মহাবিশ্বের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী উচ্চতর শক্তির আনুগত্য ও মস্তক অবনত করার দিকে ধাবিত। এই বয়সের শিশু সৃষ্টি জগতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উন্নত এবং আত্মিকভাবে ও শারীরিকভাবে পবিত্রতম; যেহেতু সে যাবতীয় কলুষতা থেকে মুক্ত এবং তার মধ্যে এখনো ঘৃণা, হিংসা ও লোভের প্রভাব প্রবেশ করেনি।

প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশি তাকে এখনো গ্রাস করেনি, তাই আমরা তাকে দেখি যে, যখনই তাকে ঈমান ও কল্যাণের দিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা হয়, সে গভীর অনুরাগ ও আগ্রহ নিয়ে সেদিকে ধাবিত হয়। এই সময়ে ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা হলো শিশুর নিকট বিষয়গুলোর একটি গ্রহণযোগ্য কার্যকরণ ব্যাখ্যা করা এবং তার শিক্ষা ও ব্যবহারিক জীবনের দৃশ্যমান বাস্তবতার সাথে অদৃশ্যের বিষয়গুলোর যোগসূত্র স্থাপন করা।

ইসলামী শিক্ষার শিক্ষক যখনই এর লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে সচেতন হন এবং এর মধ্যকার সত্য ও সুন্দরের দিকগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করেন, ছাত্রদের অন্তরে সেই লক্ষ্যগুলো সুদৃঢ় করার এবং সেগুলোর প্রতিফলন ঘটানোর ক্ষেত্রে তাঁর সক্ষমতা তত বেশি নিখুঁত ও ফলপ্রসূ হয়। যে শিক্ষক কেবল আল্লাহ তাআলা যে কঠোর শাস্তিদাতা এবং আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়—এ কথাটিই বর্ণনা করেন, কিন্তু আল্লাহ যে পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল, তিনি যে বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাওবাকারীদের ভালোবাসেন ও তাদের নিকটবর্তী হন—এই দিকটি ভুলে যান, তিনি একজন যান্ত্রিক শিক্ষক মাত্র। তাঁর মুখ থেকে তথ্য নির্গত হওয়া মাত্রই তা শ্রেণিকক্ষের দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেয়ে সেখানেই থমকে যায়; তা ছাত্রদের চিন্তা, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পর্শ করতে পারে না। তাই আমি আহ্বান জানাই যেন ধর্মের শিক্ষককে অত্যন্ত নিপুণ ও সচেতনভাবে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচন করা হয় এবং ধর্মীয় পাঠদানে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য তাঁকে সর্বদা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষক যেন তাঁর ছাত্র, তাদের পরিবেশ এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।

প্রাচীন মুসলিম শিক্ষাবিদগণ জানতেন যে, শিশুদের মধ্যে প্রশংসা পাওয়ার এবং নিজেকে জাহির করার একটি সহজাত প্রবণতা রয়েছে। তাই তাঁরা শিশুর কোনো সুন্দর কথা বা ভালো কাজ দেখলে তার প্রশংসা করতেন এবং তাকে উৎসাহিত করতেন।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
بكل الوسائل على الاستمرار في المحافظة على مكانته لديهم، وعلى الاجتهاد الدائم في إصلاح نفسه، ولم يكثروا من لومه وتوبيخه حين يظهر حبه لنفسه أو رغبته في شيء؛ لأن الإكثار من التأنيب يميت قلب الطفل، وكلمة صغيرة من المدح والثناء تصلحه وتهذبه، وتقوم خلقه؛ لأنه يميل لذلك بفطرته ويكوه اللوم والتجريح وإساءة الظن به. ومعلم التربية الإسلامية يجب أن يلاحظ ذلك. وأن يتخذ من دروس الدين وسيلة لتحقيق ما يريده من العادات الحسنة لدى الأطفال، وتهذيب أخلاقهم، وتعويدهم فعل الخير واجتناب الشر. وأن يعمل جاهدا على أن يكون المثل والقدوة.
সকল উপায়ে তাদের নিকট নিজের মর্যাদা বজায় রাখা এবং সর্বদা নিজের সংশোধনের জন্য সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন। যখন শিশুর মাঝে আত্মপ্রেম বা কোনো বস্তুর প্রতি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়, তখন তাকে অধিক তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করা সমীচীন নয়; কারণ অতিমাত্রায় তিরস্কার শিশুর অন্তরকে মৃত করে দেয়। পক্ষান্তরে, প্রশংসা ও গুণকীর্তনের সামান্য একটি শব্দ তাকে সংশোধন ও মার্জিত করে এবং তার চরিত্রকে সুগঠিত করে; কেননা সে স্বভাবগতভাবেই এর প্রতি অনুরাগী এবং সে ভর্ৎসনা, সমালোচনা (التجريح) ও কুধারণাকে অপছন্দ করে। ইসলামি শিক্ষার শিক্ষকের অবশ্যই এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখা উচিত। শিশুদের মাঝে উত্তম অভ্যাস গড়ে তোলা, তাদের চরিত্রের পরিশুদ্ধি ঘটানো এবং তাদের সৎকাজে অভ্যস্ত ও মন্দ কাজ বর্জনে অভ্যস্ত করার মাধ্যম হিসেবে তাকে ধর্মীয় পাঠসমূহকে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া তাকে একজন আদর্শ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الدين وإشباع الحاجات:

للطفل في مراحل نموه المختلفة حاجات نفسية متعددة، ومن أهم وظائف التربية العمل على تلبية هذه الحاجات، بالطرق والوسائل التي تحقق له الأمن والاستقرار، وتساعده على تقبل مجتمعه الذي يعيش فيه، وتيسر له ما يراه من مظاهر الطبيعة التي تحيط به.

وطفل السادسة القادم إلى المدرسة الابتدائية، طاقاته واستعداداته منطلقة لتقبل كل جديد، إنه في عمر توسعي مستعد لعمل أي شيء، شهيته للخبرات الجديدة عظيمة. ولكنها تقوده إلى الرغبة في كل شيء. وتجعل من الصعب عليه أن يختار بين بديلين؛ لأنه يريد الاثنين معا، كما أنه لا يتقبل النقد أو اللوم أو العقاب، إنه يريد أن يكون على صواب دائما. وهو بحاجة إلى المديح والربح والغلبة. وهو من الصلابة وعدم القدرة على التكيف في علاقاته مع الأخرين بنفس المقدار الذي كان عليه حين كان عمره سنتين ونصف. ويرى أن الأشياء يجب أن تؤدى على طريقته، وعلى الآخرين أن يخضعوا له. إذا ما ربح فكل شيء طيب. أما إذا ربح الأخرون فإنه يبكي ويتهم الآخرين بالغش. يصبح عطوفا وحماسيا إذا سارت الأمور على ما يتمنى وينفجر ويبكي ويثور إذا سارت على غير ذلك1. إن الطفل في هذا السن

--------------------------------------------

1 انظر سلوك الطفل ص69 وما بعدها "لفرانسيس لـ: ابلغ. ولويزب، أيمز" ترجمة فاخر عاقل.
ধর্ম ও চাহিদাপূরণ:

বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে শিশুর নানাবিধ মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা থাকে। শিক্ষার অন্যতম প্রধান কাজ হলো এমন সব পন্থা ও উপায়ে এই চাহিদাগুলো পূরণ করা যা তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, সে যে সমাজে বসবাস করে তাকে গ্রহণ করতে সহায়তা করে এবং তার চারপাশের প্রকৃতির বিভিন্ন দৃশ্যপট অনুধাবন করা তার জন্য সহজতর করে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা ছয় বছর বয়সী শিশুর শক্তি ও সক্ষমতা নতুন সবকিছু গ্রহণের জন্য উন্মুখ থাকে। সে এমন এক প্রসারণশীল বয়সে থাকে যখন সে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকে এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ থাকে। কিন্তু এই আগ্রহ তাকে প্রতিটি বস্তু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার দিকে নিয়ে যায়। এটি তার জন্য দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেওয়া কঠিন করে তোলে; কারণ সে উভয়ই একসঙ্গে পেতে চায়। তদুপরি, সে সমালোচনা, তিরস্কার বা শাস্তি গ্রহণ করতে চায় না; সে সর্বদা নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে চায়। তার প্রশংসা, সাফল্য ও বিজয়ের প্রয়োজন হয়। অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সে ঠিক আড়াই বছর বয়সের মতোই অনমনীয় ও খাপ খাইয়ে নিতে অক্ষম থাকে। সে মনে করে যে, কাজগুলো তার পন্থায় সম্পন্ন হওয়া উচিত এবং অন্যদের তার অনুগত হতে হবে। সে যদি জয়ী হয় তবে সবকিছুই চমৎকার। কিন্তু অন্যরা জয়ী হলে সে কান্নাকাটি করে এবং অন্যদের প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করে। বিষয়গুলো তার ইচ্ছামতো চললে সে দয়ালু ও উৎসাহী হয়ে ওঠে, আর তার ব্যতিক্রম হলে সে ক্ষোভে ফেটে পড়ে, কান্নাকাটি করে ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।১ এই বয়সের শিশু...

--------------------------------------------

১ দেখুন: 'সুলুকুত তিফল' (শিশুর আচরণ), পৃ. ৬৯ এবং পরবর্তী অংশ; ফ্রান্সেস এল. ইলগ এবং লুইস বি. আমেস; অনুবাদ: ফাখের আকিল।
(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يمر بوقت عصيب في داخل نفسه وفي علاقاته مع الآخرين. لذلك علينا أن نلجأ في تعديل هذا السلوك إلى الدين. وأن نشبع حاجة الطفل عن طريق القيم الروحية التي لها في نفسيته أكبر الأثر، وأن نعتمد في ذلك على الوسائل والطرق التي توضح للطفل أن الإسلام ما جاء إلا تلبية لحاجات الإنسان وتنظيم حياته النفسية والاجتماعية. وأن هناك قوة عليا تساعده في كل ما يقول ويعمل. وأن هذه القوة هي التي تحقق له الأمن والاستقرار. ولا يرضيها تصرف قبيح أو فعل شائن. ونبين له أن علاقة المحبة بين الناس، تنقل الإنسان إلى علاقة من المحبة بينه وبين الله.

إذا استطعنا أن نبين للطفل هذه الأشياء بطريقة محببة إليه، وبأسلوب سهل مشوق أمكننا من خلال ذلك أن نعدل سلوكه، وأن نشبع حاجاته.

والإنسان بطبيعته ككائن حي يعمل جاهدا ليحقق الأمن لنفسه، بالمسكن والغذاء والكساء. ولكنه على الرغم من توصله لتحقيق ذلك في حالات كثيرة يظل يشعر بالخوف والرهبة أمام حوادث الطبيعة ومشكلاتها الكبرى، من عواصف وزلازل وبراكين ومخلوقات غريبة، يعمل العلم جاهدا على مقاوماتها، كحشرات الأمراض وميكروباتها. وآفات الزراعة وأنواعها المتعددة. والطفل أمام هذه الأشياء تنفذ إلى ذهنه أسئلة ملحة تبين حاجته إلى معرفة هذه الأشياء والتعرف على مصادرها ليشعر بالاستقرار والأمن. فهذه الغيوم من أين تأتي وإلى أين تسير، ومن صنعها، وهل تحرق من يخترقها أو يمر فيها. والجبال كيف بنيت ومن أوجدها ولماذا. والعواصف والأمطار والأنهار والبحار والنجوم وغير ذلك. كلها موضع تساؤل لدى الطفل. والإسلام يجيب عن كل هذه الأسئلة إجابة عامة تريح الطفل وتنقله من عالم التساؤل إلى عالم التدبر. {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا} .

তিনি নিজের অভ্যন্তরে এবং অন্যদের সাথে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হন। তাই এই আচরণের সংশোধন (تعديل) করার ক্ষেত্রে আমাদের ধর্মের শরণাপন্ন হতে হবে। আর শিশুর মনস্তত্ত্বে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মাধ্যমে তার মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং এর জন্য এমন সব মাধ্যম ও পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হবে, যা শিশুর নিকট স্পষ্ট করে তোলে যে, ইসলাম কেবল মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তার মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক জীবনকে সুশৃঙ্খল করতেই অবতীর্ণ হয়েছে। আরও বোঝাতে হবে যে, এমন এক সুউচ্চ শক্তি বিদ্যমান যিনি তাকে তার প্রতিটি কথা ও কাজে সাহায্য করেন। আর এই শক্তিই তার জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। কোনো মন্দ আচরণ বা জঘন্য কাজ সেই সত্তাকে সন্তুষ্ট করে না। আমরা তাকে বুঝিয়ে দেব যে, মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক ভালোবাসার সম্পর্ক মূলত মানুষকে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার ভালোবাসার সম্পর্কের দিকেই নিয়ে যায়।

যদি আমরা শিশুর নিকট এই বিষয়গুলো তার পছন্দনীয় পদ্ধতিতে এবং সহজ ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করতে পারি, তবে এর মাধ্যমে আমরা তার আচরণের সংশোধন (تعديل) করতে এবং তার চাহিদাগুলো পূরণ করতে সক্ষম হব।

মানুষ স্বভাবজাতভাবে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে বাসস্থান, খাদ্য ও বস্ত্রের সংস্থানের মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা অর্জনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এর বড় বড় সংকট যেমন—ঝড়, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি এবং অদ্ভুত সব সৃষ্টির সামনে সে ভয় ও আতঙ্ক অনুভব করতে থাকে; বিজ্ঞান যেগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যেমন—রোগবাহী পতঙ্গ ও জীবাণু এবং কৃষির নানাবিধ ক্ষতিকর কীট। এই সবকিছুর মোকাবিলায় শিশুর মনে কিছু জরুরি প্রশ্ন উদয় হয়, যা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার এবং এগুলোর উৎস জানার প্রয়োজনীয়তাকে প্রকাশ করে, যাতে সে স্থিতি ও নিরাপত্তা অনুভব করতে পারে। এই মেঘমালা কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায়, কে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং এর ভেতরে কেউ প্রবেশ করলে তা কি তাকে পুড়িয়ে ফেলে? পাহাড়গুলো কীভাবে নির্মিত হয়েছে, কে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং কেন? ঝড়, বৃষ্টি, নদ-নদী, সমুদ্র, নক্ষত্ররাজি এবং এই জাতীয় সবকিছুই শিশুর নিকট জিজ্ঞাসার বিষয়। ইসলাম এই সমস্ত প্রশ্নের এমন এক সামগ্রিক উত্তর প্রদান করে যা শিশুকে স্বস্তি দেয় এবং তাকে জিজ্ঞাসার জগত থেকে গভীর চিন্তাশীলতা বা গবেষণার (تدبر) জগতে উন্নীত করে। "তিনিই সেই সত্তা, যিনি যমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।"

(খণ্ড: ১) তুরুকু তাদরীসিত তারবিয়্যাতিল ইসলামিয়্যাহ নামাযিজ লিইদাদি দুরুসিহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
{فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ، أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا، ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا، فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبًّا، وَعِنَبًا وَقَضْبًا، وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا، وَحَدَائِقَ غُلْبًا، وَفَاكِهَةً وَأَبًّا، مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ،} . {وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ} {وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ} {وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ،} . وبعد هذه الإجابات العامة يترك الإسلام التفاصيل لمواقف محددة وسن معين، ينطلق فيه الإنسان ليحقق ويجرب ويقارن. وبهذا يطمئن الطفل على نفسه إزاء هذه الظواهر والكائنات. ويجد لديه الشجاعة ليخوض الحياة بلا خوف ولا عقد.

وفي الوقت نفسه يدرك أن خالق هذه الكائنات هو خالقنا. وأنه خلقها ليستخدم الإنسان معظمها، ويتلقى شر بعضها امتحانا وابتلاء، ليكون ذلك حافزا له على التفكر والحذر والجد. واستخدام العلم بكل أبعاده ومكوناته ليدفع عن نفسه خطرها. وليكون سيدها كما أراد الله له ذلك {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلائِفَ الأَرْضِ} .

وكما أن الطفل في حاجة إلى الأمن والاستقرار. فهو في حاجة إلى المحبة والرضا.

كل طفل في جميع مراحل نموه يشعر بالحاجة إلى الحب والارتواء منه، ونراه في مراحل طفولته الأولى "قبل التعلم" شديد التعلق بأبيه وأمه. كما نجد أن ثدي أمه يمثل في نظره قمة الحب والتعاطف. فيلجأ إليه كلما غضب أو اعتراه ضيق أو خوف. وعندما يدخل مرحلة الطفولة المتأخرة "مرحلة التعلم" ويبتعد عن الثدي وربما عن أحضان أمه تشتد حاجته إلى الحب، ويصبح في حاجة إلى أن يحب ويحب. والدين برحمته وتعاطفه وفطرته
{সুতরাং মানুষ যেন তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করে; আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করেছি, তারপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টভাবে বিদীর্ণ করেছি, অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জয়তুন, খেজুর, সুনিবিড় উদ্যানসমূহ, ফলমূল ও চারণভূমি; তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগের জন্য।}। {আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি; তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} {আর তুমি পাহাড়গুলোকে দেখছ, মনে করছ সেগুলো অটল, অথচ সেগুলো মেঘমালার মতো চলমান হবে; এটি আল্লাহরই সুনিপুণ কর্ম, যিনি সবকিছুকে অত্যন্ত মজবুত ও সুশৃঙ্খল করেছেন।} {আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবমান, এটি পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত পরিমাপ।}। এই সাধারণ উত্তরগুলোর পর ইসলাম সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও নির্দিষ্ট বয়সের জন্য বিস্তারিত বিষয়গুলো উন্মুক্ত রেখেছে, যেখানে মানুষ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যায়। এর ফলে শিশু এই সকল প্রাকৃতিক প্রপঞ্চ ও সৃষ্টিজগত সম্পর্কে আশ্বস্ত হয় এবং নির্ভয়ে ও কোনো মানসিক জড়তা ছাড়াই জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার সাহস সঞ্চয় করে।

একই সাথে সে উপলব্ধি করে যে, এই সকল সৃষ্টির স্রষ্টা আর আমাদের স্রষ্টা অভিন্ন। তিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন যাতে মানুষ এর অধিকাংশ ভোগ ও ব্যবহার করতে পারে এবং পরীক্ষার স্বরূপ কিছু বিষয়ের অনিষ্টের সম্মুখীন হয়, যা তাকে চিন্তা-গবেষণা, সতর্কতা ও নিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া বিজ্ঞানের সকল দিগন্ত ও উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সে যেন নিজের থেকে সম্ভাব্য বিপদ দূর করতে পারে এবং এগুলোর ওপর নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যেমনটি আল্লাহ তার জন্য নির্ধারণ করেছেন: {আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি করেছেন।}।

আর শিশুর যেমন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি তার ভালোবাসা ও মমতাময় স্বীকৃতিরও প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিটি শিশু তার বিকাশের সকল পর্যায়ে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা এবং তা থেকে পরিতৃপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে। আমরা তার শৈশবের প্রাথমিক পর্যায়ে "শিক্ষার পূর্বে" তাকে তার পিতা ও মাতার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী দেখতে পাই। একইভাবে আমরা দেখতে পাই যে, মায়ের স্তন্যদান তার দৃষ্টিতে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ। ফলে যখনই সে ক্ষুব্ধ হয় কিংবা কোনো সংকীর্ণতা বা ভয়ের শিকার হয়, তখনই সে এর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে। আর যখন সে পরবর্তী শৈশবে "শিক্ষার স্তরে" পদার্পণ করে এবং স্তন্যপান থেকে বিরত হয় ও সম্ভবত মায়ের কোল থেকেও দূরে সরে যায়, তখন তার ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্রতর হয় এবং সে ভালোবাসতে ও ভালোবাসার পাত্র হতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে। আর দ্বীন তার রহমত, সহানুভূতি ও স্বভাবজাত প্রকৃতির মাধ্যমে...