(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: -)
الاستشراق والتبشير   (محمد السيد الجليند)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الاستشراق والتبشير

المؤلف: أ. د. محمد السيد الجليند

الناشر: دار قباء للطباعة والنشر والتوزيع

الطبعة: -

عدد الصفحات: 132

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

প্রাচ্যতত্ত্ব ও খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচার   (মুহাম্মদ আল-সায়্যিদ আল-জুলাইন্দ)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


গ্রন্থ: প্রাচ্যতত্ত্ব ও খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচার

লেখক: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল-সায়্যিদ আল-জুলাইন্দ

প্রকাশক: দার কুবা মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩২

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة:

أن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.

وبعد،

هذه دراسة موجزة عن الاستشراق والتبشير تلبية لرغبة عزيزة من كلية الشريعة بجامة قطر. وصادفت هذه الرغبة هوى في نفسي، خاصة بعد أن أثمرت جهود المستشرقين والمنصرين في بعض أقطارنا العربية بعض ثمارها على المستوى الثقافي والفكري في بعض منها، وعلى المستوى التعليمي والإعلامي في بعضها الآخر.

وسمعنا وقرأنا من يردد آراء المستشرقين في طلب المساواة بين الرجل والمرأة في الميراث والطلاق وتعدد الأزواج وتكوين الأسرة غير التقليدية.

ولست ممن يقولون إن الاستشراق أو المستشرقين يجمعهم حكم واحد، أو كلهم على رأي واحد في موقفهم من الإسلام وقضاياه، لا، بل إن الإنصاف يقضي علينا أن نقول: إن منهم منصفين للإسلام القضايا المسلمين، ولقد أفدنا من دراستهم الكثيرة حول قضايا الإسلام ينبغي أن لا ننكر ذلك ولا نشك فيه، ولكن مما لا أشك فيه أن
ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর,

এটি কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের পক্ষ থেকে ব্যক্ত করা একটি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষে প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) এবং মিশনারি কার্যক্রম (التبشير) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা। এই আকাঙ্ক্ষাটি আমার মনের ইচ্ছার সাথেও মিলে গিয়েছে, বিশেষ করে যখন আমাদের কিছু আরব দেশে প্রাচ্যতাত্ত্বিক (مستشرق) এবং খ্রিষ্টধর্ম প্রচারকদের (منصر) তৎপরতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে এবং অন্য ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গণমাধ্যম স্তরে তাদের কিছু প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

আমরা এমন অনেককে বলতে শুনছি এবং পড়তে দেখছি যারা উত্তরাধিকার, তালাক, বহুবিবাহ এবং প্রথা বহির্ভূত পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা দাবির প্রশ্নে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের (مستشرق) মতামতেরই প্রতিধ্বনি করছে।

আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই যারা বলে যে, প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) বা প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের (مستشرق) ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিধান (حكم) প্রযোজ্য, অথবা ইসলাম ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির ব্যাপারে তারা সবাই একই মত পোষণ করে। না, বরং নিরপেক্ষতা (الإنصاف) এর দাবি হলো এটি বলা যে: তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইসলাম এবং মুসলিমদের ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ইনসাফ করেছেন। ইসলামের নানাবিধ বিষয়ে তাদের করা অসংখ্য গবেষণা থেকে আমরা উপকৃত হয়েছি, যা অস্বীকার করার বা সন্দেহ করার অবকাশ নেই। তবে যে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই তা হলো-
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ৮)
الاستشراق والتنصير كانا من أخطر الوسائل التي سلكها الاستعمار في تنفيذ سياسته في العالم الإسلامي، ولا أشك في أنهما وجهان لعملة واحدة، وهو موقف الصليبية المعاصرة من العالم الإسلامي، أقول الصليبية ولا أقول المسيحية، وينبغي أن يكون القارئ على وعي بالفروق الجوهرية بينهما.

لأن المسيحية دين نؤمن بما نزل منه على عيسى عليه السلام، أما الصليبية المعاصرة، فهي موقف وأيديولوجية، هي تكوين سياسي وثقافي نرفضه ونحاربه.. نرفضه كاتجاه ثقافي يهدف إلى احتواء الإسلام بحضارته وثقافته، الصليبية موقف واتجاه يهدف إلى تذويب حضارتنا وخصوصيتنا في حضارة الغرب وثقافته، ولعل رءوس الفتن التي تطل علينا بين الحين والآخر تحت ستار التنوير والتقدمية هي من آثار جهود هاتين الظاهرتين، وهذه الدراسة الموجزة التي أقدمها؛ تلبية لرغبة كلية الشريعة آمل أن تكون محققة للمطلوب منها. توخينا فيها الإيجاز غير المخل بالمقصود مكتفين بإثارة القضايا الكبرى التي التي تمثل المحاور العامة والأهداف الكبرى والمقصودة، رغبة في توضيحها وتعريفها لتكشف النقاب عن هذه الروح الصليبية التي يتعامل به الغرب مع العالم الإسلامي، وليس ذلك من باب إثارة الأحقاد وزرع الضغائن، وإنما من باب تجلية المواقف وكشف الحقائق، تناولنا خلال القسم الأول ظاهرة الاستشراق وارتباطها تاريخيًّا بالحروب الصليبية، ثم بيَّنَّا موقف المستشرقين من أهم القضايا الكبرى؛ القرآن، النبي، "والفكر الإسلامي" مؤيدين ذلك بنصوصهم
প্রাচ্যতত্ত্ব এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচার ছিল মুসলিম বিশ্বে উপনিবেশবাদের নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম বিপজ্জনক মাধ্যম। আমার এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ; যা মুসলিম বিশ্বের প্রতি আধুনিক ক্রুসেডীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। আমি একে ক্রুসেডবাদ বলছি, খ্রিস্টধর্ম বলছি না; আর পাঠকের উচিত এই দুইয়ের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন থাকা।

কেননা খ্রিস্টধর্ম এমন এক ধর্ম, যার মধ্য হতে যা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করি। পক্ষান্তরে আধুনিক ক্রুসেডবাদ হলো একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি। এটি একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো যাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি এবং যার মোকাবিলা করি। একটি সাংস্কৃতিক প্রবণতা হিসেবে আমরা একে বর্জন করি কারণ এর লক্ষ্য হলো ইসলামকে তার সভ্যতা ও সংস্কৃতিসহ আত্মস্থ করা। ক্রুসেডবাদ হলো এমন এক অবস্থান ও ধারা যা আমাদের সভ্যতা ও স্বকীয়তাকে পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির মাঝে বিলীন করে দিতে চায়। সম্ভবত আলোকায়ন এবং প্রগতিশীলতার আবরণে মাঝেমধ্যেই আমাদের সামনে যেসব ফিতনার উদয় হয়, তা মূলত এই দুই প্রক্রিয়ারই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শরিয়াহ অনুষদের আগ্রহের প্রেক্ষিতে আমার উপস্থাপিত এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাটি যেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সার্থক হয়, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমরা এতে মূল প্রসঙ্গের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি এবং কেবলমাত্র সেই প্রধান বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি যা মৌলিক অক্ষ এবং প্রধান ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। এর উদ্দেশ্য হলো সেই ক্রুসেডীয় মানসিকতাকে স্পষ্ট করা ও সংজ্ঞায়িত করা যার মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্ব মুসলিম বিশ্বের সাথে আচরণ করে, যাতে এর প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয়। এটি কোনো বিদ্বেষ ছড়ানো বা শত্রুতা বপন করার জন্য নয়, বরং অবস্থানের স্বচ্ছতা এবং সত্য উদঘাটনের খাতিরে। আমরা প্রথম অংশে প্রাচ্যতত্ত্বের প্রপঞ্চ এবং ক্রুসেড যুদ্ধের সাথে এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর কুরআন, নবী এবং "ইসলামি চিন্তা"-র মতো প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের অবস্থান তাদের উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ৯)
لكما أمكن ذلك، ثم أوضحنا الأخطاء التاريخية والمنهجية والزيف والافتراء الذي وقعوا فيه بسبب بعدهم عن روح الإنصاف وعدم التحلي بطلب الحق وقصده.

وفي القسم الثاني تناولنا قضية التنصير في العالم الإسلامي، وركزنا بصفة خاصة على نشاط المنصرين في الجزيرة العربية وبينَّا وسائلهم في التنصير وسياستهم في الالتفاف حول الحرمين الشريفين في الجزيرة العربية، وحول دور الأزهر الشريف في مصر.

ونحن نعلم سلفا أن طبيعة هذه الدراسة تحتاج إلى التفصيل والشرح رغبة في إزالة الشبهات التي قد يثيرها هذا أو ذلك حول هذا الموضوع الذي نعترف بأهميته وخطورته معًا، ولكن حسبنا في هذا المقام أن تجيء هذه الدراسة وافية بالمطلوب منها، وأن تحقق الغرض الذي انتدبنا له ونحيل القارئ الكريم إلى المطولات والمصادر التاريخية التي تحقق مقصودة في معرفة التفصيلات ونلتمس منه العذر في قصدنا إلى الإيجاز والاختصار. والله من وراء القصد، ونسأله سبحانه أن يجعل عملنا كله خالصا لوجه الكريم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

محمد الجليند

14 رجب سنة 1413هـ

7 ديسمبر سنة 1995م.
যথাসম্ভব আমরা সেই সকল ঐতিহাসিক ও পদ্ধতিগত ভুলভ্রান্তি এবং মিথ্যাচার ও অপবাদগুলো স্পষ্ট করেছি, যাতে তারা ইনসাফের চেতনা থেকে বিচ্যুতি এবং সত্য অনুসন্ধানের সংকল্প না থাকার কারণে নিপতিত হয়েছিল।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমরা মুসলিম বিশ্বে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বিশেষভাবে আরব উপদ্বীপে মিশনারিদের তৎপরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা তাদের ধর্মান্তরকরণের মাধ্যমসমূহ এবং আরব উপদ্বীপের হারামাইন শরীফাইন ও মিশরের আল-আজহার আল-শরীফকে ঘিরে তাদের কৌশলী অপতৎপরতার নীতিসমূহ ব্যাখ্যা করেছি।

আমরা পূর্ব থেকেই অবগত যে, এই বিষয়ের গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় সংশয়সমূহ নিরসনের লক্ষ্যে এই গবেষণার প্রকৃতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তবে এই পর্যায়ে আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এই গবেষণাটি যেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় এবং যে উদ্দেশ্যে আমাদের এই প্রয়াস তা পূরণ করে। আমরা সম্মানিত পাঠককে বিস্তারিত জানার জন্য দীর্ঘ আলোচনা সম্বলিত গ্রন্থ এবং ঐতিহাসিক মূল উৎসগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আমাদের সংক্ষিপ্তকরণের প্রচেষ্টার জন্য তাঁর নিকট ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি। আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য এবং আমরা তাঁর মহান সত্তার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকল আমল কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

মুহাম্মদ আল-জালিন্দ

১৪ রজব, ১৪১৩ হিজরি

৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الاستشراق والمستشرقون:

‌‌ما هو الاستشراق:

أطلق لفظ الاستشراق على تلك المحاولة التي قام ويقوم بها بعض مفكري الغرب للوقوف على معالم الفكر الإسلامي وحضارته وثقافة الشرق وعلومه.

كما أطلق لفظ مستشرق على المفكرين المشتغلين بدراسة علوم الشرق وتاريخه وحضارته وأوضاعه الاجتماعية والسياسية والاقتصادية، ومن المفيد أن يعرف القارئ الكريم أن مصطلح الشرق يرجع في أصل وضعه إلى مفكري الغرب، فهم الذين قسموا العالم إلى شرق وغرب، وقسموا الشرق إلى شرق أدنى أوسط وأقصى، ويطلق لفظ الشرق عادة على المنطقة العربية وشعوب آسيا وأفريقيا، أما لفظ الشرق الأوسط فقط فيطلق عادة على المنطقة العربية فقط، وفي العصر الحاضر أطلق لفظ العالم الثالث على تلك الشعوب التي كان يطلق عليها الماضي العالم الشرقي، أو دول الشرق.

والذي يهمنا هنا بالدرجة الأولى هو ما يتعلق بمنطقة الشرق الأوسط فقط أو المنطقة العربية بالذات، ذلك أن متابعة جهود المستشرقين خارج المنطقة العربية عمل فوق الطاقة الشخصية وليس ذلك داخلا في خطتنا من هذه الدراسة ولا يمثل ذلك هدفا لنا الآن، كما أن دراسات المستشرقين المتعلقة بشعوب العالم الإسلامي من
‌‌প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতাত্ত্বিকগণ:

‌‌প্রাচ্যতত্ত্ব কী:

প্রাচ্যতত্ত্ব শব্দটি সেই প্রচেষ্টাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা পশ্চিমা কিছু চিন্তাবিদ ইসলামি চিন্তাধারা, এর সভ্যতা এবং প্রাচ্যের সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বরূপ অনুধাবনের উদ্দেশ্যে অতীতে করেছেন এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছেন।

তেমনিভাবে ‘প্রাচ্যতাত্ত্বিক’ শব্দটি সেই সকল চিন্তাবিদদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যারা প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস, সভ্যতা এবং এর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা অধ্যয়নে নিয়োজিত। সম্মানিত পাঠকের জন্য এটি জেনে রাখা উপকারী যে, ‘প্রাচ্য’ পরিভাষাটির আদি ব্যবহার মূলত পশ্চিমা চিন্তাবিদদের মাধ্যমেই হয়েছে। তারাই বিশ্বকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে বিভক্ত করেছেন এবং প্রাচ্যকে নিকট-প্রাচ্য, মধ্য-প্রাচ্য ও দূর-প্রাচ্যে ভাগ করেছেন। সাধারণত ‘প্রাচ্য’ শব্দটি আরব অঞ্চল এবং এশিয়া ও আফ্রিকার জাতিগোষ্ঠীর ওপর প্রয়োগ করা হয়। তবে ‘মধ্য-প্রাচ্য’ শব্দটি সাধারণত কেবল আরব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বর্তমান যুগে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটি সেই সকল জাতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাদের অতীতে ‘প্রাচ্য বিশ্ব’ বা ‘প্রাচ্যের দেশসমূহ’ বলা হতো।

এখানে আমাদের নিকট প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো যা কেবল মধ্য-প্রাচ্য অঞ্চল বা বিশেষত আরব অঞ্চলের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা, আরব অঞ্চলের বাইরে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের তৎপরতা অনুসরণ করা ব্যক্তিগত সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে এবং তা আমাদের এই গবেষণার পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত নয়, আর বর্তমানে এটি আমাদের লক্ষ্যও নয়। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের জাতিগোষ্ঠী সংক্রান্ত প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের গবেষণাসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১১)
غير العرب كالهند وباكستان وأندونيسيا ودول شرق وجنوب شرق آسيا وأفريقيا، وكانت في معظم أحوالها تسير على نفس المنهج والطريقة التي كانوا يسلكونها في منطقة العالم العربي، وكان الهدف من محاولات المستشرقين وجهودهم في الدراسات التي قاموا بها في هذه المناطق كلها هو تطويق المد الإسلامي والعمل على انحساره ووقف نموه المطرد بين أبناء هذه الشعوب المتباعدة، وإن كانت أعمالهم تبدو في معظم أحوالها في ثوب علمي أو أكاديمي، فإن ذلك ينبغي ألا يحجب عن أعيننا نواياهم الخفية التي صرح بها معظمهم في المؤلفات والمؤتمرات العلمية التي كانت تعقد بين الحين والحين لهذا الغرض.

أ- النشأة والتاريخ:
অনারব অঞ্চলসমূহ যেমন ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার দেশসমূহ; যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই একই পদ্ধতি (منهج) ও পন্থায় পরিচালিত হচ্ছিল যা তারা আরব বিশ্বে অবলম্বন করেছিল। এই সকল অঞ্চলে প্রাচ্যবিদদের প্রচেষ্টা ও তাদের পরিচালিত গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী জাগরণকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা এবং এর প্রভাব হ্রাস করা ও এই দূরবর্তী জাতিসমূহের মধ্যে এর ক্রমবর্ধমান বিকাশ রোধ করা। যদিও তাদের কাজগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অবয়বে প্রকাশ পেত, তবুও তা যেন আমাদের দৃষ্টি থেকে তাদের সেই গোপন উদ্দেশ্যগুলোকে আড়াল না করে যা তাদের অধিকাংশই এই উদ্দেশ্যে সময়ে সময়ে আয়োজিত বিভিন্ন গ্রন্থ ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ব্যক্ত করেছেন।

ক- উৎপত্তি ও ইতিহাস:
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌علاقة الاستشراق بالحروب الصليبية:

يربط كثير من الباحثين المهتمين بالدراسات الاستشراقية بين نشأة الاستشراق وبداية ظهوره، وذلك الفشل الذريع الذي منيت به أوربا في الحروب الصليبية على يد صلاح الدين الأيوبي، ذلك أن الحملات الصليبية لم تحقق للغرب طموحاته ولم تسعفه بالسيطرة على الشعوب العربية واستخلاص بيت المقدس من أيدي المسلمين، ومن الجدير بالذكر أن الحملات الصليبية المتكررة على العالم الإسلامي قد رفعت الصليب شعارا لهذه الحرب؛ لتعلن للعالم الأوربي أنها حرب دينية مقدسة من ناحية أسبابها ودوافعها ومن ناحية غايتها
ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সাথে প্রাচ্যতত্ত্বের সম্পর্ক:

প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণায় আগ্রহী অনেক গবেষক প্রাচ্যতত্ত্বের উৎপত্তি ও এর বিকাশের প্রারম্ভের সাথে ক্রুসেড যুদ্ধে সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর হাতে ইউরোপের শোচনীয় পরাজয়ের যোগসূত্র স্থাপন করেন। মূলত, ক্রুসেড অভিযানগুলো পশ্চিমের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি এবং আরব জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও মুসলিমদের হাত থেকে বাইতুল মাকদিস পুনরুদ্ধারে তাদের কোনো সহায়তা করেনি। উল্লেখ্য যে, মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঘন ঘন ক্রুসেড অভিযানগুলোতে ক্রুশকে যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল; যার উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয় বিশ্বের সামনে এটি ঘোষণা করা যে, কারণ, প্রেরণা এবং উদ্দেশ্য—সব দিক থেকেই এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় যুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১২)
وأهدافها، وما دامت هذه الحملات لم تحقق الهدف الذي قامت من أجله، فلا بد من البحث عن بديل آخر، ولا بد من التفكير في وسيلة أخرى -ربما كانت طويلة الأجل- تحقق لهم هدفهم من السيطرة على شعوب المنطقة وإخضاع العالم الإسلامي لنفوذهم الثقافي والحضاري ثم السياسي والاقتصادي، وكان الاستشراق هو ذلك البديل المتاح في حينها؛ ليحقق أحلام الغرب وأهدافه.

وإذا كانت فكرة السيطرة على العالم الإسلامي تمثل الهدف والغاية، من نشأة الاستشراق فإن ذلك لا يمنع أن يتجاوز الاستشراق هذا الهدف في سيرته التاريخية إلى أهداف أخرى علمية أو الأسمى للاستشراق لم يغب عن ذهن المستشرقين لحظة واحدة، بل كان هو المحور والأساس الذي دارت حوله معظم دراسات المستشرقين التي قاموا بها حول الشرق وعلومه، وقد تختلف درجة وضوح هذا الهدف ووسيلة التعبير عنه من شخص إلى آخر ومن جيل إلى جيل من المستشرقين، إلا أن ذلك لم يكن سببه غياب الهدف عن ذهن هذا المستشرق أو ذاك، وإنما كان سببه يرجع إلى حظ المستشرق نفسه من الثقافة العربية ودرجة اتقانه لها، وذكائه في أسلوب التعبير عن غايته وهدفه، تصريحا أو تلميحا.

ولقد تغير أسلوب المواجهة بين العالم الإسلامي والغرب بعد الحروب الصليبية فاحتلت الكلمة والحوار واستخدام المنهج العلمي
এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ; যেহেতু এই অভিযানগুলো যে উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল তা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি, তাই একটি বিকল্প অনুসন্ধান করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। আর এমন একটি অন্য কোনো মাধ্যম—সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী—নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন ছিল, যা এই অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম বিশ্বকে তাদের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের অধীনে আনার লক্ষ্য পূরণ করবে। প্রাচ্যতত্ত্ব (ওরিয়েন্টালিজম) ছিল সেই সময়কার সহজলভ্য বিকল্প, যাতে পাশ্চাত্যের স্বপ্ন ও উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়িত হতে পারে।

যদি মুসলিম বিশ্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ধারণাটি প্রাচ্যতত্ত্বের উৎপত্তির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে এটি প্রাচ্যতত্ত্বকে তার ঐতিহাসিক পথচলায় অন্যান্য বৈজ্ঞানিক বা উচ্চতর লক্ষ্যগুলোতে পৌঁছাতে বাধা দেয় না। তবে প্রাচ্যতত্ত্বের সর্বোচ্চ লক্ষ্যটি প্রাচ্যবিদদের মন থেকে এক মুহূর্তের জন্যও হারিয়ে যায়নি; বরং এটিই ছিল সেই কেন্দ্রবিন্দু ও ভিত্তি যাকে কেন্দ্র করে প্রাচ্য এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে প্রাচ্যবিদদের অধিকাংশ গবেষণা আবর্তিত হয়েছে। এই লক্ষ্যের স্পষ্টতার মাত্রা এবং তা প্রকাশের মাধ্যম ব্যক্তিভেদে এবং প্রাচ্যবিদদের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ভিন্ন হতে পারে, তবে এর কারণ নির্দিষ্ট কোনো প্রাচ্যবিদের মন থেকে লক্ষ্যের অনুপস্থিতি ছিল না। বরং এর কারণ ছিল সংশ্লিষ্ট প্রাচ্যবিদের আরবি সংস্কৃতিতে দখল ও তাতে পারদর্শিতার গভীরতা এবং তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে কিংবা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ।

ক্রুসেড পরবর্তী সময়ে মুসলিম বিশ্ব ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সংঘাতের ধরণ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল; ফলে কথা, সংলাপ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
المكانة الأولى في دراسة نفسية الشرق؛ لمعرفة الأسلوب الأمثل للمواجهة، وكان ذلك بديلا عن المواجهة بالسلاح والقوة العسكرية.

ولقد فرض هذا الأسلوب الجديد في المواجهة العكوف على دراسة أحوال الشرق؛ لغته ودينه، حضارته وتاريخه، فلسفته وعلومه، عقيدته وأصولها، وأن توضع المناهج الدراسية المناسبة لاستكشاف عوامل هذه القوة الصلبة التي تكسرت عليها تلك الحملات الصليببية المتكررة ومحاولة فهمها وتحليلها نفسيا لمواجهتها بأسلوب يختلف تمامًا عن المواجهة العسكرية.

ولما كان القائمون على أمر الحروب الصليبية والمحركون لها هم رجال الكنيسة وسدنتها، فإن ذلك جعل رجال الكنيسة في طليعة المهتمين بأمر الشرق ودراسة أحواله، ومن هنا فإن طليعة المستشرقين كانوا في معظمهم من القساوسة ورجال الدين المسيحي.
প্রাচ্যের মনস্তত্ত্ব গবেষণাই অগ্রগণ্য স্থানে পরিণত হয়েছিল; যাতে মোকাবিলার সর্বোত্তম পদ্ধতি নিরূপণ করা যায়। আর এটি ছিল অস্ত্র ও সামরিক শক্তির মাধ্যমে মোকাবিলার এক বিকল্প ব্যবস্থা।

মোকাবিলার এই নতুন পদ্ধতিটি প্রাচ্যের সামগ্রিক অবস্থা—তথা এর ভাষা ও ধর্ম, সভ্যতা ও ইতিহাস, দর্শন ও বিজ্ঞান এবং এর আকিদাহ ও তার মূলনীতিসমূহ (أصولها) অধ্যয়নে গভীরভাবে মনোনিবেশ করাকে আবশ্যক করে তুলেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল এমন উপযুক্ত পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে সেই সুদৃঢ় শক্তির উৎসসমূহ অন্বেষণ করা যায় যার ওপর আছড়ে পড়ে বারবার ক্রুসেড অভিযানগুলো ব্যর্থ হয়েছিল। সেই সাথে সামরিক মোকাবিলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পন্থায় প্রাচ্যকে মোকাবিলার লক্ষ্যে একে মনস্তাত্ত্বিকভাবে অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

যেহেতু ক্রুসেড যুদ্ধের ব্যবস্থাপক ও মূল চালিকাশক্তি ছিলেন গির্জার যাজক ও এর তত্ত্বাবধায়কগণ, তাই এটি গির্জার যাজকদের প্রাচ্যের বিষয়াবলী ও এর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অগ্রগণ্য করে তুলেছিল। আর এই কারণেই প্রথম সারির প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) অধিকাংশ ছিলেন মূলত পাদ্রী ও খ্রিস্টান ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌بداية الاستشراق وأسبابه:

1- لا نستطيع الجزم بتحديد من هو أول شخص نبتت في ذهنه فكرة الاستشراق وغزو الشرق من الداخل، إلا أن معظم المحققين لهذه المسألة يكادون يجمعون على أن بداية هذه الحركة نشأت في نهاية القرن العاشر الميلادي وأوائل القرن الحادي عشر بفرنسا، وإن الراهب الفرنسي "جرير دي أولياك 938-1003م" كان من أوائل المشتغلين بعلوم الشرق، وارتبطت باسمه بداية حركة الاستشراق، حيث رحل من فرنسا إلى أسبانيا مهد الحضارة الإسلامية في وقته، فتعلم فيها اللغة العربية، ووقف على علوم العرب في الرياضيات والطب والكيمياء والفلسفة، كما قرأ بعض العلوم الدينية حتى قيل إنه كان أوسع علماء عصره معرفة بعلوم العرب، وخاصة في الرياضيات والفلك، ثم ارتحل إلى روما حيث اشتهر من بين أقرانه بمعرفته الواسعة باللغة العربية وعلومها، وانتخب حبرًا أعظم باسم سلفستر الثاني "999-1003م" وكان بذلك أول بابا فرنسي، واستطاع من خلال منصبه الجديد أن ينشئ مدرستين؛ لتدريس اللغة العربية وعلومها، وكانت الأولى في روما مقر البابوية، والثانية في وطنه الأصلي "دايمس"، ثم أنشأ بعد ذلك مدرسة ثالثة تسمى مدرسة "شارتر"، وقام هذا الراهب الفرنسي بترجمة بعض الكتب العربية في الرياضة والفلك، وإليه يرجع الفضل في انتشار الأعداد العربية في أوربا التي كانت ينقصها رقم الصفر، ولم تكن تعرفه حتى نقله إليها "جرير دي أولياك" من اللغة العربية إلى اللغة اللاتينية.

2- ثم جاء بعده "قسطنطين الأفريقي 1087"، "بطرس المحترم 1092-1156م" و"أرجو دي سانتلا 1107م" ثم "جيرارد كريمون 1114-1187م"، ثم تتابع رواد هذه الحركة وتكاثرت أعدادهم واختلفت جنسياتهم بحيث شملت معظم دول أوربا
প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনা ও এর কারণসমূহ:

১- আমরা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে পারি না যে কার মস্তিষ্কে প্রাচ্যতত্ত্ব এবং ভেতর থেকে প্রাচ্যকে আক্রমণ করার ধারণাটি প্রথম অঙ্কুরিত হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে অধিকাংশ গবেষক প্রায় একমত যে, এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল দশম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শেষভাগ এবং একাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ফ্রান্সে। ফরাসি সন্ন্যাসী "জেরার ডি অরিলিয়াক (৯৩৮-১০০৩ খ্রি.)" ছিলেন প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকারীদের মধ্যে অন্যতম অগ্রপথিক এবং প্রাচ্যতত্ত্ব আন্দোলনের সূচনা তাঁর নামের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি তৎকালীন ইসলামি সভ্যতার কেন্দ্রস্থল স্পেন অভিমুখে ফ্রান্স থেকে যাত্রা করেন এবং সেখানে আরবি ভাষা শিক্ষা করেন। তিনি গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র, রসায়ন ও দর্শনশাস্ত্রে আরবদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হন। এমনকি তিনি কিছু ধর্মীয় শাস্ত্রও অধ্যয়ন করেন, যার ফলে বলা হয়ে থাকে যে তিনি তাঁর সমসাময়িক পণ্ডিতদের মধ্যে আরবদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশেষ করে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। এরপর তিনি রোমে গমন করেন এবং সেখানে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে আরবি ভাষা ও এর বিভিন্ন শাখায় অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি "দ্বিতীয় সিলভেস্টার (৯৯৯-১০০৩ খ্রি.)" নামে প্রধান ধর্মগুরু নির্বাচিত হন এবং এভাবে তিনি প্রথম ফরাসি পোপ হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন। তিনি তাঁর নতুন পদের মাধ্যমে আরবি ভাষা ও বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য দুটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন; যার প্রথমটি ছিল পোপের সদরদপ্তর রোমে এবং দ্বিতীয়টি তাঁর নিজ দেশ "ডেইমস"-এ। এরপর তিনি "চার্ট্রেস" নামে তৃতীয় একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এই ফরাসি সন্ন্যাসী গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের বেশ কিছু আরবি গ্রন্থ অনুবাদ করেন। ইউরোপে আরবি সংখ্যার প্রসারের কৃতিত্ব তাঁরই, কারণ তখন ইউরোপে 'শূন্য' সংখ্যাটির অভাব ছিল এবং "জেরার ডি অরিলিয়াক" এটি আরবি থেকে লাতিন ভাষায় স্থানান্তরের আগে তারা এ সম্পর্কে জানত না।

২- এরপর তাঁর পরবর্তীতে আসেন "কনস্টানটাইন দ্য আফ্রিকান (১০৮৭)", "পিটার দ্য ভেন্যারেবল (১০৯২-১১৫৬ খ্রি.)", "রবার্ট অফ কেটন (১১০৭ খ্রি.)" এবং "জেরার্ড অফ ক্রেমোনা (১১১৪-১১৮৭ খ্রি.)"। পরবর্তীতে এই আন্দোলনের অগ্রপথিকদের আগমন অব্যাহত থাকে এবং তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও জাতীয়তা বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়, যা ইউরোপের অধিকাংশ দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
وأمريكا في العصر الحديث، وكان هؤلاء إذا عادوا إلى بلادهم عملوا على نشر علوم العرب بين أبناء وطنهم إلى أن تطورت الأمور بعد ذلك حيث أنشأت الحكومات الأوربية في جامعاتها أقساما مستقلة؛ لتدريس اللغة العربية وعلوم الشرق.

3- ثم أخذت بعد ذلك حركة الاستشراق تنمو في اطِّراد مستمر حتى سنة 1311-1312م، حيث عقد مؤتمر فينا الكنسي، وكان من أهم قرارته إنشاء كرسي للغة العبرية والعربية في معظم جامعات أوربا، فتأسس كرسي اللغة العربية في روما على نفقة الفاتيكان، وفي باريس على نفقة ملك فرنسا، وفي إكسفرد على نفقة ملك انجلترا، ويعتبر كثير من المؤرخين لحركة الاستشراق أن هذا المؤتمر هو البداية المنظَّمة وشبه الرسمية للاستشراق، وما كان قبل ذلك إنما كان بمثابة الإرهاص لميلاد هذه الحركة، وتبع ذلك انتشار المدارس والمعاهد الاستشراقية المعنية بدراسة الشرق وعلومه الإسلامية بصفة خاصة.
আধুনিক যুগে আমেরিকাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা যখন নিজ দেশে ফিরে যেত, তখন তারা তাদের দেশবাসীর মাঝে আরবদের জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসারে কাজ করত। পরবর্তীতে পরিস্থিতির এমন বিকাশ ঘটে যে, ইউরোপীয় সরকারগুলো তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ভাষা এবং প্রাচ্যবিদ্যা পাঠদানের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে।

৩- এরপর প্রাচ্যতত্ত্ব চর্চার আন্দোলনটি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি ১৩১১-১৩১২ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনার গির্জা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিব্রু ও আরবি ভাষার জন্য একটি করে বিশেষ আসন প্রতিষ্ঠা করা। ফলস্বরূপ ভ্যাটিকানের ব্যয়ে রোমে, ফ্রান্সের রাজার ব্যয়ে প্যারিসে এবং ইংল্যান্ডের রাজার ব্যয়ে অক্সফোর্ডে আরবি ভাষার বিশেষ আসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাচ্যতত্ত্ব আন্দোলনের অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন যে, এই সম্মেলনটিই ছিল প্রাচ্যতত্ত্বের একটি সুসংগঠিত এবং আধা-প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা। এর আগে যা কিছু হয়েছিল তা ছিল মূলত এই আন্দোলনের আবির্ভাবের পূর্বাভাস মাত্র। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাচ্য এবং বিশেষ করে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণারত প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক বিভিন্ন স্কুল ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الدوافع والأهداف

‌‌مدخل

…

الدوافع والأهداف:

مما لا ريب فيه أن الحروب الصليبية قد تركت آثارها السيئة على نفسية الغرب، لكنها في الوقت نفسه قد فتحت أعين الغرب على الشرق وما فيه من علوم ومعارف وحضارة، ولقد واكب ذلك ما شهدته أوربا من حركة الإصلاح الديني وموقف الكنيسة من العلم والعلماء، ولقد فرضت هذه الظروف الجديدة على الكنيسة أن تعيد ترتيب أوراقها، وأن تعيد النظر في المفاهيم الدينية التي تتعامل بها مع العلماء، بحيث تعيد تأويل هذه المفاهيم بما لا تتعارض مع العلم، وترتب على هذه النزعة الإصلاحية أن أحس الغرب بحاجته إلى التعرف على المزيد من علوم الشرق وثقافته، ومن هذه المواقف وغيرها كانت الدوافع والأهداف وراء حركة الاستشراق، ونستطيع أن نوجز أهم هذه الدوافع كما أشار إليها المفكرون فيما يلي1:

--------------------------------------------

1 راجع في تفصيلات هذه الأسباب كتاب الفكر الإسلامي وصلته بالاستعمار، د. محمد البهي، الاستشراق والتبشير د. عمر فروخ، الاستشراق والمستشرقين نجيب العفيفي.
প্রেষণা ও উদ্দেশ্যসমূহ

ভূমিকা

…

প্রেষণা ও উদ্দেশ্যসমূহ:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ক্রুসেডসমূহ পাশ্চাত্যের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, তবে একই সাথে তা প্রাচ্য এবং সেখানকার বিজ্ঞান, জ্ঞান ও সভ্যতার প্রতি পাশ্চাত্যের দৃষ্টি উন্মোচন করেছিল। ইউরোপে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন এবং বিজ্ঞান ও বিদ্বানদের (علماء) প্রতি গির্জার অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই নতুন পরিস্থিতি গির্জাকে তার কর্মপন্থা পুনর্গঠন করতে এবং বিদ্বানদের (علماء) সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ধারণাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছিল, যাতে এই ধারণাগুলোর এমন ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করা যায় যা বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। এই সংস্কারবাদী ঝোঁকের ফলে পাশ্চাত্য প্রাচ্যের বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও বেশি জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই সকল প্রেক্ষাপট থেকেই প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) আন্দোলনের পেছনে প্রেষণা ও উদ্দেশ্যসমূহ তৈরি হয়েছিল। চিন্তাবিদগণ যেভাবে নির্দেশ করেছেন, তার আলোকে আমরা এই প্রেষণাগুলোর প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরতে পারি ১:

--------------------------------------------

১. এই কারণগুলোর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: ড. মুহাম্মদ আল-বাহী রচিত 'আল-ফিকর আল-ইসলামি ওয়া সিলাতুহু বিল-ইসতি'মার', ড. উমর ফাররুখ রচিত 'আল-ইসতিশরাক ওয়াত-তাবশির' এবং নাজিব আল-আকিকি রচিত 'আল-ইসতিশরাক ওয়াল-মুসতাশরিকুন'।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
1-‌‌ إثارة الخلافات الدينية:

لا يمكن إرجاع ظاهرة الاستشراق إلى عامل واحد فقط؛ وذلك نظرا لاتساع نشاطه وتعدد أهدافه، ولكن الذي لا أشك فيه هو سيطرة السبب الديني على سائر أسبابه الأخرى، وفي هذه الدراسة الموجزة من النصوص ما يدل بيقين على صدق ما نقول من سيطرة السبب الديني وهيمنته على الأسباب الأخرى، ولقد سلك المستشرقون وسائل شتى لتحقيق هذا الهدف الديني، لكن كان أخطرها بلا شك التركيز على إثارة القضايا الخلافية في الفكر الإسلامي والعمل على إحياء الآراء الشاذة للفرق المغالية؛ ليشغل المسلمون أنفسهم بها عن التفكير في عظائم الأمور، فعمدوا إلى إثارة الخلافات المذهبية والصوفية، كما ركزوا في دراساتهم على إحياء ألوان معينة من التراث الصوفي للغلاة من الصوفية فتخصص الكثير منهم في تراث ابن عربي وابن سبعين والحلاج وذي النون المصري، وحاول
1-‌‌ ধর্মীয় মতভেদ উসকে দেওয়া:

প্রাচ্যতত্ত্বের বিষয়টি কেবল একটি মাত্র কারণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়; কারণ এর তৎপরতা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এর লক্ষ্যও বহুমুখী। তবে যে বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো সংশয় পোষণ করি না তা হলো, অন্যান্য সকল কারণের ওপর ধর্মীয় কারণের আধিপত্য। আমাদের এই সংক্ষিপ্ত গবেষণার উদ্ধৃতিসমূহে এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে যা অন্যান্য কারণের ওপর ধর্মীয় কারণের প্রভাব ও আধিপত্যের সত্যতাকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে। প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ এই ধর্মীয় লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন, তবে তার মধ্যে নিসন্দেহে সর্বাধিক বিপজ্জনক ছিল ইসলামি চিন্তাধারার বিতর্কিত বিষয়গুলোকে সামনে আনা এবং চরমপন্থী দলগুলোর বিচ্ছিন্ন (شاذة) মতামতসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করা; যাতে মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি নিয়ে চিন্তা করার পরিবর্তে এসব বিষয়েই নিজেদের ব্যস্ত রাখে। তাই তারা সুপরিকল্পিতভাবে মাযহাবগত ও সুফিবাদ কেন্দ্রিক মতভেদগুলো উসকে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়েছে। তদুপরি, তারা তাদের গবেষণায় চরমপন্থী সুফিদের সুফিবাদী ঐতিহ্যের বিশেষ কিছু দিক পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একারণে তাদের অনেককেই ইবনে আরাবি, ইবনে সাবঈন, আল-হাল্লাজ এবং যুন্নুন আল-মিসরির ঐতিহ্যের ওপর বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে দেখা যায়, এবং তারা চেষ্টা করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
بعضهم إحياء الخصومات التاريخية بين المعتزلة والأشاعرة أو بين المعتزلة والسلف.

أ- وهذا الهدف قد أعلنه المستشرقون قديما وحديثا ولم يجدوا في ذلك حرجًا ولا عيبًا، ولكن الحرج والعيب من وجهة نظرنا أن يتشكك بعض الباحثين من المسلمين في صدق الهدف ويشككوا فيه، ولقد صرح المفكر الفرنسي "هانوتو" بعد أن احتلت فرنسا الجزائر بما يلي: لقد أصبحنا اليوم إزاء الإسلام والمسألة الإسلامية"، وكانت هذه العبارة عنونا لمقال كبير نشر مترجما باللغة العربية في جريدة المؤيد المصرية، ونقل أطرافا منه المرحوم الدكتور محمد البهي في كتابه عن الفكر الإسلامي الحديث وصلته بالاستعمار، ومما جاء فيه: إنه لا يوجد مكان على ظهر الأرض إلا واجتاز الإسلام فيه حدوده منتشرًا في الآفاق، فهو الدين الوحيد الذي أمكن انتحال الناس له زمرًا وأفواجًا، وهو الدين الوحيد الذي تفوق شدة الميل إليه والتدين به كل ميل إلى اعتناق دين سواه.. إن هذا الدين قائم الدعائم ثابت الأركان في أوربا عينها.. لقد صارت في صدر الإسلام وكبده.. ليس الإسلام في داخلنا فقط بل هو خارج عنا أيضا، قريب منا في مراكش.. قريب منا في طرابلس الغرب.. قريب منا في مصر.. وهو شائع ومنتشر في أسيا.. ولا يزال الهلال
তাদের কারো কারো উদ্দেশ্য হলো মুতাজিলা ও আশআরিদের মধ্যে অথবা মুতাজিলা ও সালাফদের মধ্যকার ঐতিহাসিক বিবাদসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা।

ক- এই লক্ষ্যের কথা প্রাচ্যবিদগণ প্রাচীন ও আধুনিক উভয়কালেই ঘোষণা করেছেন এবং তারা এতে কোনো সঙ্কোচ বা দোষ খুঁজে পাননি। তবে আমাদের দৃষ্টিতে আক্ষেপ ও সঙ্কোচের বিষয় হলো এই যে, কিছু মুসলিম গবেষক এই লক্ষ্যের সততা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এবং এতে সংশয় সৃষ্টি করেন। ফরাসি চিন্তাবিদ "হানোতো" ফ্রান্স কর্তৃক আলজেরিয়া অধিকৃত হওয়ার পর নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন: "আজ আমরা ইসলাম এবং ইসলামি সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি।" এই বাক্যটি মিশরের 'আল-মুয়াইয়্যাদ' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বৃহৎ অনূদিত প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল। মরহুম ডক্টর মুহাম্মদ আল-বাহী তাঁর 'আধুনিক ইসলামি চিন্তা ও সাম্রাজ্যবাদের সাথে এর সম্পর্ক' বিষয়ক গ্রন্থে এর কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে: "পৃথিবীর বুকে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে ইসলাম তার সীমানা অতিক্রম করে দিগন্তজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেনি। এটিই একমাত্র ধর্ম যা মানুষ দলে দলে ও ব্যুহাকারে গ্রহণ করতে পেরেছে। এটিই একমাত্র ধর্ম যার প্রতি আসক্তি ও ধর্মপরায়ণতার তীব্রতা অন্য যেকোনো ধর্ম গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে ছাড়িয়ে যায়। এমনকি খোদ ইউরোপেও এই ধর্মের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত এবং স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ়। এটি ইসলামের বক্ষস্থল ও মর্মমূলে স্থান করে নিয়েছে। ইসলাম কেবল আমাদের অভ্যন্তরেই নয়, বরং এটি আমাদের বাইরেও বিদ্যমান; এটি আমাদের নিকটবর্তী মরক্কোতে রয়েছে, সন্নিকটবর্তী ত্রিপোলিতে রয়েছে, আমাদের সন্নিকটে মিশরে রয়েছে এবং এটি এশিয়ায় পরিব্যাপ্ত ও বিস্তৃত। আর অর্ধচন্দ্র এখনও..."
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
"الإسلامي" ينتهي طرفاه من جهة بمدينة القسطنطينية ومن جهة أخرى ببلدة فاس في المغرب الأقصى معانقا بذلك الغرب كله.

ويقول هانوتو: إن هذا الدين قائم في الآستانة حيث عجزت الشعوب المسيحية عن استئصاله من هذا الركن المنيع الذي يحكم منه على البحار الشرقية ويفصل الدول الغربية بعضها عن بعض شطرين، ثم يعلن "هانوتو" صراحة أنه لا بد من العمل على تفكيك تلك الرابطة التي تجمع بين المسلمين شرقا وغربا على سطح المعمورة فتجعل منهم أمة واحدة، وهي رابطة الدين، لا بد من العمل على أضعاف هذه الروح السائدة التي تحرك المسلمين من سباتهم.. إنهم متى اقتربوا من الكعبة، من البيت الحرام.. من ماء زمزم المقدس، من الحجر الأسود.. وحققوا بأنفسهم أمنيتهم العزيزة التي استحثتهم على ترك بلادهم في أقصى مدن العالم للفوز بجوار الخالق في بيته الحرام اشتعلت جذوة الحمية الدينية في قلوبهم.. إن رابطة الإخاء الجامعة بين أفراد المسلمين كفيلة بأن تجعل المسلم في شرق الأرض يهبُّ لنصرة المسلم في غربها فهي عامل مؤرق لفرنسا في المستعمرات التي تخضع لها.

ومن هنا فإن العمل على إضعاف هذه الرابطة بين المسلمين كانت ولا زالت تمثل غاية وهدفا لنشاط المستشرقين؛ وما كتبه "هانوتو" صرح به غيره، ولقد كتب "كيمون" المستشرق الفرنسي في كتابه بثولوجيا الإسلام عن المسلمين وعن رسولهم صلى الله عليه وسلم بمثل ما صرح
"ইসলামি [বিশ্বের]" এক প্রান্ত একদিকে কনস্টান্টিনোপল শহর এবং অন্যদিকে সুদূর মরক্কোর ফাস শহর পর্যন্ত বিস্তৃত, যার মাধ্যমে তা সমগ্র পশ্চিমকে আলিঙ্গন করে আছে।

হ্যানোটো বলেন: এই দ্বীন আস্তানা (কনস্টান্টিনোপল)-এ সুপ্রতিষ্ঠিত, যেখানে খ্রিস্টান জাতিসমূহ একে এই অভেদ্য দুর্গ থেকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে; যেখান থেকে এটি পূর্বদিকের সাগরগুলোকে শাসন করে এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোকে একে অপরের থেকে দুই ভাগে বিভক্ত করে। এরপর "হ্যানোটো" স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, পৃথিবীর বুকে পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলমানদের একত্রিত করে এক উম্মাহ হিসেবে গড়ে তুলেছে যে বন্ধন—অর্থাৎ ধর্মীয় বন্ধন—তাকে ছিন্ন করার জন্য অবশ্যই কাজ করতে হবে। মুসলমানদের তাদের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে জাগ্রতকারী এই বিরাজমান চেতনাকে দুর্বল করার জন্য কাজ করা অপরিহার্য। যখনই তারা কাবার নিকটবর্তী হয়, বাইতুল্লাহিল হারামের নিকটবর্তী হয়, পবিত্র যমযম কূপের পানির নিকটবর্তী হয়, হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী হয় এবং নিজেরা তাদের সেই প্রিয় আকাঙ্ক্ষাটি পূর্ণ করে যা তাদের বিশ্বের দূরদূরান্তের শহরগুলো থেকে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আশায় বাইতুল্লাহর প্রতিবেশী হওয়ার জন্য ঘরবাড়ি ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তখন তাদের হৃদয়ে ধর্মীয় আবেগের শিখা প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। মুসলিমদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের এই সর্বজনীন বন্ধন পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের একজন মুসলিমকে পশ্চিম প্রান্তের মুসলিমের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে যথেষ্ট; যা ফ্রান্সের শাসনাধীন উপনিবেশগুলোতে তাদের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণেই মুসলমানদের মধ্যকার এই বন্ধন দুর্বল করার প্রচেষ্টা প্রাচ্যবিদদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল এবং এখনো আছে; হ্যানোটো যা লিখেছেন, অন্যরাও তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। ফরাসি প্রাচ্যবিদ "কিমোন" তার "প্যাথলজি অব ইসলাম" গ্রন্থে মুসলিমদের সম্পর্কে এবং তাদের রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে অনুরূপ মন্তব্য করেছেন যেমনটি তিনি প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
به "هانوتو" وزيادة؛ حيث وصف الرسول والإسلام بصفات يخجل القلم عن تسطيرها.

ب- إذا أضفنا إلى ذلك أن أول من اشتغل بعلوم الشرق بحثا ودراسة كان راهبا وقسيسا ثم بابا لروما فيما بعد، كما أن معظم المشتغلين بعلوم الشرق قديما وحديثا، معظمهم من رجال الكهنوت المسيحي واليهودي، ولا يمكن أن نتصور هؤلاء مجردين عن عواطفهم الدينية، بل إنهم كانوا مدفوعين إلى هذا اللون من الدراسة بدافع الانتصار لدينهم، إن هذه النوايا التي عبرت عنها نصوص أصحابها -وغيرها كثير- تجعلنا نثق في صدق سيطرة السبب الديني وهيمنته على الأسباب الأخرى، ومن هنا فقد تنوعت الدراسات الإسلامية عند المستشرقين وتعددت اهتماماتهم بالإسلام وحضارته، فمن دارس للعقيدة وأصولها، وللفقه وأصوله، وللتاريخ وحضارته، وللقرآن وعلومه، وللحديث ورجاله، واللغة وآدابها، والرسول وغزواته وعلاقته بأهل الكتاب في المدينة، واتبعوا في ذلك منهجا نفسيا ركزوا خلاله على سر قوة المسلم ونقاط الضعف في العالم الإسلامي؛ ليسلبوا المسلم سر قوته؛ ليصبح بعد ذلك لقمة سهلة التناول في أيديهم، يشكلون عقيدته حسب أهوائهم الصليبية، وحسب مكرهم السياسي والمذهبي، ولقد أفصح بعضهم عن هذا الهدف في بعض المؤتمرات بقوله: " … لا نريد أن نرسل إلى الشرق جنودا مسلحين وإنما نريد لهم رسلا مبشرين بالنصرانية".
যাতে "হানোতো" এবং তার চেয়েও বেশি রয়েছে; যেখানে তিনি রাসূল এবং ইসলামকে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন যা লিপিবদ্ধ করতে কলমও লজ্জাবোধ করে।

খ- এর সাথে যদি আমরা এটি যোগ করি যে, প্রাচ্যবিদ্যা নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়নের কাজে সর্বপ্রথম যিনি নিয়োজিত হয়েছিলেন তিনি ছিলেন একজন সন্ন্যাসী ও যাজক, যিনি পরবর্তীতে রোমের পোপ হয়েছিলেন। একইভাবে প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে প্রাচ্যবিদ্যায় নিয়োজিত অধিকাংশ ব্যক্তিই ছিলেন খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মযাজক। আর এটা কল্পনা করা অসম্ভব যে তারা তাদের ধর্মীয় আবেগ থেকে মুক্ত ছিলেন; বরং তারা তাদের নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। রচয়িতাদের নিজস্ব বক্তব্যসমূহ—এবং এমন আরও অনেক কিছু—থেকে প্রকাশিত এই উদ্দেশ্যগুলো আমাদের এই বিশ্বাসের প্রতি আস্থা জোগায় যে, ধর্মীয় কারণটিই অন্যান্য কারণের উপর প্রকৃত প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারকারী ছিল। এখান থেকেই প্রাচ্যবিদদের নিকট ইসলামি অধ্যয়ন বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে এবং ইসলাম ও এর সভ্যতার প্রতি তাদের আগ্রহের ক্ষেত্র বহুমুখী হয়। ফলে কেউ আকীদা ও তার মূলনীতি (أصول) নিয়ে, কেউ ফিকহ ও তার মূলনীতি (أصول) নিয়ে, কেউ ইতিহাস ও তার সভ্যতা নিয়ে, কেউ কুরআন ও তার জ্ঞান (علوم) নিয়ে, কেউ হাদিস এবং তার বর্ণনাকারী (رجال) নিয়ে, কেউ ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে এবং কেউ রাসূলের যুদ্ধসমূহ (غزوات) ও মদীনায় আহলে কিতাবদের সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। এক্ষেত্রে তারা একটি মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, যার মাধ্যমে তারা মুসলিমদের শক্তির রহস্য এবং মুসলিম বিশ্বের দুর্বল দিকগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন; যাতে তারা মুসলিমদের থেকে তাদের শক্তির রহস্য ছিনিয়ে নিতে পারেন এবং মুসলিমরা তাদের হাতে সহজ শিকারে পরিণত হয়, যেন তারা তাদের ক্রুসেডীয় প্রবৃত্তি এবং রাজনৈতিক ও মাযহাবী চক্রান্ত অনুযায়ী মুসলিমদের আকীদা গঠন করতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন সম্মেলনে এই লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলেছেন: " … আমরা প্রাচ্যে কোনো সশস্ত্র সৈন্য পাঠাতে চাই না, বরং আমরা তাদের নিকট খ্রিস্টধর্মের প্রচারক দূত পাঠাতে চাই।"
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২০)
وهذه الأهداف التبشيرية كانت واضحة تماما في كتابات المستشرقين قديما وحديثا مما مهد الطريق لحملات التبشير في العصر الحديث، حيث التقت أهداف الاستشراق والتبشير في العمل على بذر الشكوك حول عقيدة المسلم ورسوله؛ ليخرجوا المسلم عن دينه إن استطاعوا، فإذا عجزوا عن تحقيق هذا الهدف فلا أقل من أن يتركوه بلا دين ولا عقيدة كما صرح بذلك "زويمر" وصدق الله العظيم حيث يقول: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} [البقرة: الآية 120] .
আর এই মিশনারি উদ্দেশ্যগুলো প্রাচীন ও আধুনিক প্রাচ্যবিদদের লেখনীতে সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট ছিল, যা আধুনিক যুগে মিশনারি প্রচারণার পথ প্রশস্ত করেছে। সেখানে প্রাচ্যবাদ ও মিশনারি তৎপরতার লক্ষ্যসমূহ মুসলিমের আকিদা এবং তার রাসুলের ব্যাপারে সংশয় বপনের ক্ষেত্রে একবিন্দুতে মিলিত হয়েছে; যেন তারা সক্ষম হলে মুসলিমকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারে। আর যদি তারা এই লক্ষ্য অর্জনে অক্ষম হয়, তবে অন্তত যেন তাকে দ্বীন ও আকিদা বিহীন অবস্থায় ছেড়ে দেয়—যেমনটি 'জুইমার' স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করেন} [আল-বাকারা: ১২০]।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২০)
2-‌‌ التمهيد للاستعمار:

لم يكن استيلاء صلاح الدين الأيوبي على بيت المقدس بالأمر الذي ينساه الغرب، بل إن الأمل في السيطرة عليه وتخليصه من أيدي المسلمين ظل حلما وأملا بالنسبة للصليبيين، ولذلك فإن الحملات الصليبية تكررت كثيرا على بيت المقدس؛ لتحقيق هذا الهدف، وكان من الوسائل التي سلكها الغرب لتحقيق هدفهم محاولة دراسة ما يتعلق بشؤون البلاد وأحوال الناس فيها، وهذا الدور الذي قام به المستشرقون قد مهد السبيل للاستعمار لكي يحتل بلاد المسلمين بأيسر السبل وأقصرها معا، فلم يكد ينتهي القرن التاسع عشر إلا وقد احتل الغرب معظم البلاد الإسلامية والعربية بصفة خاصة، فوضعت فرنسا يدها على سوريا ولبنان ومعظم دول شمال أفريقيا الإسلامية، ووضعت انجلترا يدها على مصر والسودان والعراق والأردن
২-‌‌ উপনিবেশবাদের পটভূমি প্রস্তুতকরণ:

সালাহউদ্দিন আইয়ুবী কর্তৃক বাইতুল মাকদিস বিজয় এমন কোনো বিষয় ছিল না যা পশ্চিমা বিশ্ব ভুলে যেতে পারত; বরং এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের হাত থেকে এটি উদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা ক্রুসেডারদের নিকট একটি স্বপ্ন ও আশা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। এ কারণে এই উদ্দেশ্য হাসিলের নিমিত্তে বাইতুল মাকদিসের ওপর বারবার ক্রুসেডীয় অভিযান পরিচালিত হয়। পশ্চিমা বিশ্ব তাদের লক্ষ্য অর্জনে যেসব পন্থার আশ্রয় নিয়েছিল, তার অন্যতম ছিল সেই অঞ্চলের রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলী এবং জনজীবন সংক্রান্ত গবেষণার প্রচেষ্টা। প্রাচ্যবিদদের পালন করা এই ভূমিকাটি উপনিবেশবাদের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত উপায়ে দখল করার পথ সুগম করে দিয়েছিল। ফলে উনবিংশ শতাব্দী শেষ হওয়ার পূর্বেই পশ্চিমা শক্তিগুলো অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবং বিশেষ করে আরব ভূখণ্ড দখল করে নেয়। ফ্রান্স সিরিয়া, লেবানন এবং উত্তর আফ্রিকার অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং ইংল্যান্ড মিশর, সুদান, ইরাক ও জর্ডানকে করায়ত্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২১)
وفلسطين وكثير من إمارات الخليج العربي واليمن، وبدأ الاستعمار يتعامل بأسلوب جديد مع شعوب هذه المناطق، حيث عمل على إضعاف روح المقاومة في نفوس المسلمين؛ ليجعل منهم شعوبا قابلة للاستعمار فكرا وثقافة وحضارة وعقيدة، وهذا أخطر ما أصيب به العالم الإسلامي؛ قابليته للاستعمار بأشكاله وأساليبه الحديثة والمعاصرة، وكان من أهم وسائل الاستعمار في ذلك ما يلي:

أ- التشكيك في ماضي هذه الأمة، في تراثها وحضارتها، حتى إذا فقد المسلم ثقته في نفسه أخذ يبحث له عن هوية وانتماء يعيد به ثقته في نفسه ويجد فيه الأمان المفقود، فيرتمي في أحضان الغرب تقليدا واتباعا، وظهرت مصطلحات: التنوير، التقدمية، كمبررات لتقليد الغرب والارتقاء في أحضانه.

ب- وضع مفاهيم جديدة وطرحها على الرأي العام خلال أجهزة الإعلام التي نجح الاستعمار في استقطاب كثير من العاملين بها؛ ليقوموا نيابة عنهم بهذه المهمة، بقصد إضعاف روح الانتماء الإسلامي والعربي، فطرحوا الفكر القومي بدلا من الانتماء الإسلامي، وعملوا على إحياء الفرعونية في مصر، والفينيقية والآشورية في بلاد العراق والشام، والكردية والفارسية والتركية كلٌّ في موطنه، بعد أن كانت هذه الأقطار المترامية يجمعها رباط واحد هو الإسلام، وخلافة واحدة هي الخلافة العثمانية، ولقد روج المستشرقون ومن سار في ركبهم لهذه الروح الجاهلية التي كان القضاء عليها هدفا من أهداف الإسلام وانفراط عقد
...ফিলিস্তিন এবং আরব উপসাগরীয় অনেক আমিরাত ও ইয়েমেন; সেখানে উপনিবেশবাদ এই অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীর সাথে এক নতুন কৌশলে আচরণ করতে শুরু করে। তারা মুসলমানদের অন্তরে প্রতিরোধের স্পৃহা দুর্বল করার লক্ষ্যে কাজ করে; যাতে তাদের চিন্তা, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও আকিদাগত (عقيدة) দিক থেকে উপনিবেশবাদ-গ্রহণযোগ্য এক জাতিতে পরিণত করা যায়। মুসলিম বিশ্ব যে বিষয়গুলো দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বিপজ্জনক; তথা আধুনিক ও সমসাময়িক বিবিধ রূপ ও পদ্ধতিতে উপনিবেশবাদের প্রতি এই নতিস্বীকার বা গ্রহণযোগ্যতা। এ ক্ষেত্রে উপনিবেশবাদের অন্যতম প্রধান মাধ্যমগুলো ছিল নিম্নরূপ:

ক- এই উম্মাহর অতীত, তার ঐতিহ্য (تراث) ও সভ্যতার বিষয়ে সংশয় তৈরি করা; এমনকি একজন মুসলিম যখন নিজের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন সে নিজের জন্য এমন এক পরিচয় ও সম্বন্ধের (انتماء) অনুসন্ধান করতে শুরু করে যার মাধ্যমে সে পুনরায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং সেখানে হারানো নিরাপত্তা খুঁজে পায়। ফলে সে অন্ধ অনুকরণ ও অনুসরণের বশবর্তী হয়ে পাশ্চাত্যের কোলে নিজেকে সঁপে দেয়। আর পাশ্চাত্যের এই অনুকরণ এবং তাদের ছত্রছায়ায় প্রগতির অজুহাত হিসেবে ‘আলোকায়ন’ ও ‘প্রগতিশীলতা’র মতো পরিভাষাগুলোর উদ্ভব ঘটে।

খ- নতুন কিছু ধ্যান-ধারণা বা মাফহুম (مفاهيم) তৈরি করা এবং গণমাধ্যমের সাহায্যে তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করা, যেখানে কর্মরত অনেককেই উপনিবেশবাদীরা নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছিল; যাতে তারা তাদের পক্ষ হয়ে এই দায়িত্ব পালন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি ও আরবি পরিচয়ের বোধকে দুর্বল করা। ফলে তারা ইসলামি সম্বন্ধের (انتماء) পরিবর্তে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা (الفكر القومي) সামনে নিয়ে আসে। তারা মিশরে ফেরাউনবাদ, ইরাক ও শাম অঞ্চলে ফিনিশীয় ও আসিরীয় এবং কুর্দি, পারস্য ও তুর্কি জাতীয়তাবাদকে নিজ নিজ অঞ্চলে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করে। অথচ এই সুবিস্তৃত ভূখণ্ডগুলো ইসলামের এক সুদৃঢ় বন্ধনে এবং উসমানীয় খিলাফত নামক একটি একক খিলাফতের অধীনে ঐক্যবদ্ধ ছিল। প্রাচ্যবিদ (مستشرقون) এবং তাদের অনুসারীরা এই জাহেলি (جاهلية) চেতনার ব্যাপক প্রচার চালায়, যা নির্মূল করা ছিল ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য এবং ঐক্যের বন্ধন ছিন্ন হওয়ার...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২২)
الأمة بالقضاء على الخلافة العثمانية التي كانت رمزًا حيًّا لهذه الوحدة الإسلامية، واحتل الحديث عن القوميات مكان الصدارة بدلا من الحديث عن الانتماء الإسلامي والإخاء الديني، وأصبحت الفرصة مواتية للاستعمار ليملأ الفراغ في هذه البلاد بعد سقوط الخلافة العثمانية، وأخذ يحتل البلد تلو الآخر حتى تمت له السيطرة على الأقطار الإسلامية شرقًا وغربًا، ووضع يده على ثروات شعوبه، وأحكم القبضة على العالم الإسلامي، وكان له ما أراد بعد أن مهد الاستشراق له بخلقه روح القابلية للاستعمار، وإضعافه روح الانتماء الديني بين المسلمين.
উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্তির মাধ্যমে উম্মাহ এক চরম সংকটের সম্মুখীন হয়, যা ছিল এই ইসলামী ঐক্যের এক জীবন্ত প্রতীক। ইসলামী সংহতি ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের আলোচনার পরিবর্তে জাতীয়তাবাদের আলাপ-আলোচনা মূখ্য স্থান দখল করে নেয়। উসমানীয় খিলাফতের পতনের পর এই দেশগুলোতে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণের জন্য উপনিবেশবাদের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয় এবং তারা একের পর এক দেশ দখল করতে শুরু করে, যতক্ষণ না পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা এই অঞ্চলের জনগণের সম্পদের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করে এবং মুসলিম বিশ্বের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করে। প্রাচ্যবাদ যখন মুসলমানদের মধ্যে উপনিবেশিত হওয়ার মানসিকতা তৈরি করার মাধ্যমে এবং তাদের মাঝে ধর্মীয় সংহতির চেতনাকে দুর্বল করার মাধ্যমে পথ সুগম করে দিল, তখন উপনিবেশবাদ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হলো।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২২)
3-‌‌ ثروات الشرق:

كانت وما زالت ثروات الشرق وخبراته إحدى الأهداف التي سعى الغرب للسيطرة عليها ووضعها تحت يده، وحرمان شعوب المنطقة منها، ولذلك فقد أنشئت الأسواق التجارية والمؤسسات المالية، وكان الحصول على هذه الثروات بأبخس الأثمان دافعًا قويًّا لحركة الاستشراق ومن هذا أرسلت المؤسسات المالية في الغرب من يتولى إدارة شؤونها في الشرق فعينت المستشارين والمترجمين من المستشرقين، كما أخذ بعض المستشرقين المهتمين بالتراث العربي يعمل على تحقيقه ونشره والاستفادة منه، كما أنشأوا بعض المؤسسات المالية في دول الخليج واليمن، وكان بعض العاملين بها من المستشرقين الذين اهتموا بجمع المخطوطات العربية من المكتبات الخاصة من البلاد الخليجية ونقلوها إلى أوربا، والذي يقرأ فهارس المخطوطات بالمتحف البريطاني يتبين له أن كثيرا من تراثنا الإسلامي تحت أيديهم وفي حوزتهم.
৩-‌‌ প্রাচ্যের সম্পদ:

প্রাচ্যের সম্পদ এবং এর অভিজ্ঞতাগুলো ঐতিহাসিকভাবেই পাশ্চাত্যের অন্যতম লক্ষ্য ছিল এবং বর্তমানেও আছে, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করতে ও নিজেদের হস্তগত করতে এবং এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে তা থেকে বঞ্চিত করতে সচেষ্ট। এই উদ্দেশ্যেই বাণিজ্যিক বাজার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। অতি নগণ্য মূল্যে এসব সম্পদ আহরণ করার আকাঙ্ক্ষা প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) আন্দোলনের পেছনে একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এ কারণেই পাশ্চাত্যের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাচ্যে তাদের বিষয়াদি পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি প্রেরণ করত এবং প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقين) মধ্য থেকে উপদেষ্টা ও অনুবাদক নিয়োগ দিত। একইভাবে আরবি ঐতিহ্যের (التراث) প্রতি আগ্রহী কিছু প্রাচ্যতত্ত্ববিদ তা সম্পাদনা (تحقيق), প্রকাশ এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার কাজ শুরু করেন। এছাড়া তারা উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইয়েমেনে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমন কিছু প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ছিলেন যারা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে আরবি পাণ্ডুলিপি (المخطوطات) সংগ্রহে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন এবং তারা সেগুলো ইউরোপে স্থানান্তর করেন। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলো পাঠ করলে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যের (التراث الإسلامي) একটি বিশাল অংশ আজ তাদের অধিকারে ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
4-‌‌ الاحتواء السياسي:

بعد حركة التحرير التي سادت شعوب المنطقة العربية حرص الاستعمار على أن يكون له بين هذه الشعوب من يتولى تنفيذ مخططه والقيام على شؤون مصالحه، فعين في سفارته وقنصلياته مستشارين لهم من ذوة الخبرة والمعرفة بشؤون الشرق وعلومه، وكان المستشرقون من أهم العناصر التي قامت بهذه المهمة وكان نشاطهم السياسي ملحوظا في جميع البلاد التي عملوا بها وكان من أهم أعمالهم أن اتصلوا بكثير من المشتغلين بالثقافة والتعليم والإعلام في هذه المنطقة؛ ليشكلوا منهم ما يمكن أن نسميه بالطابور الخامس؛ ليتولى نيابة عنهم نشر الأفكار التي يرغبون في إشاعتها بين الشعوب العربية كالقوميات وإحلال العامية بدلا من الفصحى، ومثالية النموذج الأوربي ووجوب الأخذ به … إلخ، وكثيرا ما كانت تقع الاضطرابات السياسية والانقلابات العسكرية، وكثيرا ما كانت تتغير المناهج الدراسية والبرامج الثقافية في كثير من البلاد؛ استجابة لمصالح الغرب، وتلبية لرغبة هؤلاء العملاء في البلاد الإسلامية، خاصة إذا عرفنا أن هذه الشخصيات كانت تتولى مناصب قيادية في أجهزة الحكم في بلادهم وبالذات في المجالات الثقافية والإعلامية والتربوية، وهذا لم يسلم منه بلد إسلامي تقريبا ولا يغيب عن الذهن ما فعله كرومر ودانلوب في المنطقة العربية في مطلع هذا القرن.
4-‌‌ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ:

আরব অঞ্চলের জাতিসমূহের মাঝে মুক্তি আন্দোলনের প্রসারের পর সাম্রাজ্যবাদ এই জাতিগুলোর মধ্যে এমন একদল লোক তৈরি করতে সচেষ্ট ছিল যারা তাদের নীল-নকশা বাস্তবায়ন করবে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখাশোনা করবে। ফলে তারা তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে প্রাচ্য এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রাচ্যবিদগণ ছিলেন এই মিশন পরিচালনাকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং তারা যে সকল দেশে কাজ করেছেন সেখানে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। তাদের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত বহু ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা; যেন তাদের মাধ্যমে এমন একটি দল গঠন করা যায় যাকে আমরা ‘পঞ্চম বাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করতে পারি। এই গোষ্ঠী তাদের পক্ষ হয়ে সেই সব চিন্তাধারা আরব জাতিগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করত যা তারা প্রচার করতে চেয়েছিল; যেমন—জাতীয়তাবাদ, প্রমিত আরবির পরিবর্তে আঞ্চলিক ভাষার প্রচলন, ইউরোপীয় মডেলের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তা গ্রহণের আবশ্যকতা … ইত্যাদি। পশ্চিমা স্বার্থের অনুকূলে এবং মুসলিম দেশগুলোতে থাকা এই অনুচরদের ইচ্ছা পূরণে প্রায়শই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক অভ্যুত্থান ঘটত এবং অনেক দেশে শিক্ষাক্রম ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিবর্তন করা হতো। বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পারি যে, এই ব্যক্তিরা তাদের দেশের শাসনযন্ত্রের উচ্চপদে, বিশেষত সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম এবং শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে আসীন ছিলেন। প্রায় কোনো মুসলিম দেশই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত ছিল না এবং এই শতাব্দীর শুরুতে আরব অঞ্চলে ক্রোমার ও ডানলপ যা করেছিলেন তা বিস্মৃত হওয়ার নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
5-‌‌ طلب العلم والمعرفة:

وقد نجد عددًا قليلًا من المستشرقين طلبوا علوم الشرق والتعرف على حضارته طلبا بالمعرفة، وهذا عدد قليل إذا قيس بأعداد المستشرقين الآخرين، وهذا النوع من المستشرقين يتميز بالروح العلمية النزيهة، والدقة في الأحكام العلمية والإنصاف فيها، ولا نعدم أن نجد بينهما من شهد للحضارة العربية بدورها الرائد في الحضارة الأوربية المعاصرة، وخاصة في العلوم الرياضية والتجريبية، وكثير منهم كتب مؤلفاته وبحوثه حول شخصيات إسلامية كانت رائدة في مجالات العلم المتعددة، ونجد بين هؤلاء من وصل به بحثه النزيه وروحه العلمية إلى اكتشاف الحقيقة فآمن به وأعلنها، وقد يصل به الأمر في نهاية المطاف إلى أن يعلن إسلامه، ويعلم المتخصصون في هذا اللون من الدراسات أن هناك عدد غير قليل من المستشرقين يتمتعون بهذه الروح العلمية النزيهة، وقد تحولوا بعد إسلامهم إلى جنود مدافعين عن الإسلام وقضاياه، وعن العالم الإسلامي ومشكلاته، غير أن هناك أمور يشترك فيه جميع المستشرقين بما فيهم هذا النمط الأخير، فهم جميعا قد يقعون في أخطاء علمية بسبب جهلهم بأساليب اللغة العربية وطرائف التعبير فيها، ويرتبون على فههم الخاطئ نتائح وأحكاما خاطئة تبتعد بهم كثيرا عن منطق الصواب والإنصاف، وقد يكون الفارق بين هذا النمط الأخير وغيرهم هو توفر حسن النية عند النمط الأخير الذي تميز بالإنصاف والنزاهة وتوفر سوء القصد وعدم النزاهة عند غيرهم.
5-‌‌ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অন্বেষণ:

আমরা এমন অতি সামান্য সংখ্যক প্রাচ্যবিদকে দেখতে পাই যারা নিছক জ্ঞানার্জনের তাগিদে প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং তার সভ্যতা সম্পর্কে পরিচিতি লাভের অন্বেষা করেছেন। অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের সংখ্যার তুলনায় এদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এই শ্রেণির প্রাচ্যবিদগণ নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক চেতনা, গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তে (أحكام) সূক্ষ্মতা এবং ন্যায়নিষ্ঠার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আমরা তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের অভাব দেখি না যারা আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতায় আরব সভ্যতার অগ্রণী ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে গণিত ও পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। তাদের অনেকেই এমন সব ইসলামি ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ রচনা করেছেন যারা বিজ্ঞানের নানাবিধ ক্ষেত্রে পথিকৃৎ ছিলেন। আমরা তাদের মাঝে এমন কাউকে পাই যার নিরপেক্ষ গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক চেতনা তাকে সত্য উদ্ঘাটন পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে, ফলে তিনি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং তা প্রকাশ করেছেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিষয়টি এমন পর্যায়েও পৌঁছায় যে, তিনি নিজের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। এই ধারার গবেষণায় যারা বিশেষজ্ঞ তারা জানেন যে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাচ্যবিদ রয়েছেন যারা এই ধরনের নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মানসিকতা পোষণ করেন। তারা ইসলাম গ্রহণের পর ইসলাম ও তার আদর্শের এবং মুসলিম বিশ্ব ও তার সমস্যাবলির অতন্দ্র প্রহরী ও সৈনিকে পরিণত হয়েছেন। তবে কিছু বিষয় এমন রয়েছে যাতে এই শেষোক্ত ব্যক্তিবর্গসহ সকল প্রাচ্যবিদই সমান অংশীদার। তারা সকলেই আরবি ভাষার প্রয়োগরীতি এবং এর বৈচিত্র্যময় প্রকাশভঙ্গি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক ভুলের শিকার হতে পারেন। তারা তাদের এই ভুল বুঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে এমন সব ভ্রান্ত ফলাফল ও সিদ্ধান্ত (أحكام) প্রদান করেন যা তাদের সঠিক যুক্তি ও ইনসাফ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। সম্ভবত এই শেষোক্ত শ্রেণি এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য হলো এদের সদিচ্ছা যা ইনসাফ ও নিরপেক্ষতা দ্বারা চিহ্নিত, আর অন্যদের ক্ষেত্রে অসৎ উদ্দেশ্য ও নিরপেক্ষতার অভাব বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌موقف المستشرقين من الفكر الإسلامي

‌‌مدخل

…

موقف المستشرقين من الفكر الإسلامي:

تنوعت اهتمامات المستشرقين بالإسلام وتعددت اتجاهاتهم، بحيث شملت كل فروع الثقافة تقريبا، وأسسوا مدارس وأقساما في الجامعات الأوربية تخصصت في هذه الدراسات الشرقية، واستقدموا لها بعض أبناء العالم الإسلامي؛ ليتعلموا بها عن طريق المنح الدراسية، وعن طريق التبادل الثقافي بين الجامعات، وحصل كثير من أبناء العالم الإسلامي على درجاتهم العلمية من هذه الجامعات الأروبية، ومن جهة أخرى عملت بعض الدول الأوربية على إنشاء جامعات ومدارس في كثير من البلاد الإسلامية تعمل تحت إشرافها العلمي وخططها الدراسية، ولا تكاد تخلو بلد إسلامي من هذا النوع من المؤسسات التعليمية التي تخضع في تمويلها ومناهجها العلمية لدول أوربا، وفي معظم الأحوال فإن أبناء هذه المدارس وخريجيها يكون ولاؤهم الثقافي والحضاري والسياسي لهذه الدول التي تلقوا تعليمهم فيها أو تحت إشرافها.

ومن الجهود التي قام بها المستشرقون، أنهم قاموا بوضع الموسوعات العلمية الإسلامية مثل دوائر المعارف المختلفة مثل دائرة المعارف الإسلامية، والقاموس الإسلامي، والمعجم المفهرس لألفاظ الحديث، ورغم الأخطاء الكثيرة التي وقعت في دائرة المعارف الإسلامية وفي المعجم المفهرس لألفاظ الحديث، إلا أن هذه الأعمال قد أدت خدمات جليلة للباحثين ووفرت كثيرا من الجهد والوقت.
‌‌ইসলামি চিন্তাধারার প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থান

‌‌ভূমিকা

…

ইসলামি চিন্তাধারার প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থান:

ইসলামের প্রতি প্রাচ্যবিদদের আগ্রহ ছিল বহুমুখী এবং তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বৈচিত্র্যময়, যা সংস্কৃতির প্রায় সকল শাখাকেই অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তাঁরা ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই প্রাচ্যবিদ্যা চর্চার জন্য বিশেষায়িত বিভিন্ন একাডেমি ও বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা সেখানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য বৃত্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের একদল শিক্ষার্থীকে আমন্ত্রণ জানান। মুসলিম বিশ্বের অনেক শিক্ষার্থীই এই ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে তাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কিছু দেশ অনেক মুসলিম দেশে নিজস্ব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষাক্রমের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এমন কোনো মুসলিম দেশ নেই বললেই চলে যেখানে এই ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, যেগুলোর অর্থায়ন ও পাঠ্যক্রম ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, এই সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের সাংস্কৃতিক, সভ্যতাগত ও রাজনৈতিক আনুগত্য সেই সকল দেশের প্রতি থাকে যেখান থেকে তাঁরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন অথবা যেগুলোর তত্ত্বাবধানে তাঁরা শিক্ষিত হয়েছেন।

প্রাচ্যবিদদের পরিচালিত প্রচেষ্টাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো, তাঁরা ইসলামি জ্ঞানকোষসমূহ প্রণয়ন করেছেন, যেমন বিভিন্ন বিশ্বকোষের মধ্যে 'ইসলামি বিশ্বকোষ', 'ইসলামি অভিধান' এবং 'হাদিসের শব্দের বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট' (আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস লি-আলফাজ আল-হাদিস)। যদিও ইসলামি বিশ্বকোষ এবং হাদিসের শব্দের বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট গ্রন্থে অনেক ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তবুও এই কাজগুলো গবেষকদের জন্য মহান সেবা আঞ্জাম দিয়েছে এবং তাঁদের অনেক শ্রম ও সময় সাশ্রয় করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
للدرسين، والأخطاء التي وقعت في هذه الدوائر المعرفية قد انتقلت منها إلى كثير من أعمال الدارسين، وقبلوها على أنها قضايا مسلمة وشاعت هذه الأخطاء بين المهتمين بالدراسات الإسلامية من العرب وغيرهم.

كذلك امتدت نشاطات المستشرقين في مجال الدراسات العربية والإسلامية فعقدوا المؤتمرات والندوات وألقوا المحاضرات في الجامعات العربية والإسلامية، فضلا عن تأليف الكتب والاشتغال بتحقيق التراث العربي والإسلامي في مجالات كثيرة كما تسللوا إلى المجامع اللغوية في كثير من البلاد، فأصبح بعضهم أعضاء عاملين في مجمع اللغة العربية بمصر، وفي سوريا، وبغداد، والمغرب وتونس، ولا تكاد تخلو جامعة أوربية الآن من قسم متخصص في الدراسات الشرقية والإسلامية، وكانت أكثر دول أوروبا اهتماما بهذه القضية هي فرنسا، فأنشأت بها أقدم مدرسة للدراسات العربية منذ القرن الثاني عشر في "دايمس" بأمر البابا سلفستر، ثم مدرسة شارتر سنة 1117م، وأنشأ البابا هونوريوس معهدا للغات الشرقية سنة 1285م، كما أنشيء أخيرا كرسي للغات الشرقية الدراسات الإسلامية بباريس والسوربون، فضلا عن المدارس الكثيرة التي انتشرت في أنحاء كثيرة من فرنسا لهذا الغرض، ثم أنشأت فرنسا معاهد كثيرة في البلاد الإسلامية التي احتلتها، فأنشأت المعهد الفرنسي للآثار الشرقية بمصر في المنيرة سنة 1880م، وأنشأت كلية بورجاد في تونس سنة
গবেষকদের জন্য; এবং এই জ্ঞানতাত্ত্বিক বলয়গুলোতে যেসব ভুল সংঘটিত হয়েছে, তা সেখান থেকে গবেষকদের অনেক কর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে। তারা এগুলোকে স্বীকৃত বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এই ভুলগুলো আরব ও অন্যদের মধ্যে ইসলামি শিক্ষা নিয়ে আগ্রহীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।

একইভাবে আরবি ও ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের তৎপরতা বিস্তৃত হয়েছে। তারা বিভিন্ন আরব ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলন ও সেমিনার আয়োজন করেছে এবং বক্তৃতা প্রদান করেছে। এর পাশাপাশি তারা বহু ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনা এবং আরবি ও ইসলামি ঐতিহ্য সম্পাদনায় নিয়োজিত হয়েছে। তারা অনেক দেশের ভাষাতাত্ত্বিক একাডেমিগুলোতেও প্রবেশ করেছে, ফলে তাদের কেউ কেউ মিশর, সিরিয়া, বাগদাদ, মরক্কো ও তিউনিসিয়ার আরবি ভাষা একাডেমির কার্যকরী সদস্য হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই বললেই চলে যেখানে প্রাচ্য ও ইসলামি শিক্ষা বিষয়ক কোনো বিশেষ বিভাগ নেই। এই বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স ছিল সবচেয়ে বেশি আগ্রহী; পোপ সিলভেস্টারের নির্দেশে দ্বাদশ শতাব্দীতে 'দাইমস'-এ আরবি শিক্ষার জন্য সবচেয়ে প্রাচীন স্কুল সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১১১৭ খ্রিস্টাব্দে শার্ত্রে স্কুল এবং ১২৮৫ খ্রিস্টাব্দে পোপ অনোরিউস একটি প্রাচ্য ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। সবশেষে প্যারিস ও সোরবোনে প্রাচ্য ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার জন্য একটি বিশেষ অধ্যাপক পদ তৈরি করা হয়। এ উদ্দেশ্যে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য স্কুল ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ফ্রান্স তার দখলকৃত ইসলামি দেশগুলোতেও অনেক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। যেমন ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে মিশরের মুনীরায় 'ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট ফর ওরিয়েন্টাল আর্কিওলজি' এবং তিউনিসিয়ায় বুরগাদ কলেজ প্রতিষ্ঠা করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
1841م، ثم تحولت إلى جامعة للآداب العربية، وأنشأت مدرسة الآداب العالية بالجزائر سنة 1881م، ثم تحولت إلى جامعة سنة 1909م، وكذلك أنشأت في المغرب معهدًا للدراسات المغربية بالرباط سنة 1931م، ولها في دمشق المعهد الفرنسي سنة 1922م، وكذلك المعهد الفرنسي بطهران الذي أنشئ سنة 1948م.

ولقد أخذت معظم دول أوربا تحذو حذو فرنسا في الاهتمام بالدراسات الاستشراقية فأنشأت أقساما ومعاهد ومدارس مختلفة للدراسات الشرقية كما هو الحال في جامعة إيطاليا، وانجلترا، وأسبانيا والبرتغال، والنمسا، وهولندا، وألمانيا، والدنمارك، والسويد، والمجر، وروسيا، وأمريكا.. إلخ، وبعض هذه الدول قد أسست في كثير من البلدان التي تقع تحت نفوذها معاهد أو كليات تابعة لهم، كما فعلت أمريكا في بيروت ومصر وتركيا، غيرها، حيث أنشأت بكل منها جامعة مستقلة تسمى الجامعة الأمريكية يتسرب من خلال نشاطها الثقافي مبادؤها وأهدافها إلى الجامعات والمؤسسات التربوية في هذه الشعوب.

ولقد اختلفت مواقف المستشرقين من الفكر الإسلامي وقضاياه تبعا لاختلاف أديانهم أو مذاهبهم الفكرية والسياسية؛ لأننا نجد بين صفوف المستشرقين اليهودي الحاقد على الإسلام وأهله، والمسيحي الراهب المبشر بدينه، والشيوعي الملحد الذي لا دين له، ولا بد أن تختلف مواقف هؤلاء جميعا تبعا لانتمائهم الفكري والعقائدي، ولكن
১৮৪১ সাল, পরবর্তীতে এটি আরবি সাহিত্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ১৮৮১ সালে আলজেরিয়ায় 'মাদরাসাতুল আদাবিল আলিয়া' (উচ্চতর সাহিত্য বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১৯০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। একইভাবে ১৯৩১ সালে মরক্কোর রিবাত-এ 'মরক্কো বিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউট' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২২ সালে দামেস্কে এবং ১৯৪৮ সালে তেহরানেও তারা ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশ প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করে। তারা প্রাচ্য গবেষণার জন্য বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও বিদ্যালয় গড়ে তোলে, যেমনটি ইতালি, ইংল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, হল্যান্ড, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, হাঙ্গেরি, রাশিয়া এবং আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায়। এসব রাষ্ট্রের কোনো কোনোটি তাদের প্রভাবাধীন অনেক দেশে নিজেদের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট বা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে; যেমন আমেরিকা বৈরুত, মিসর ও তুরস্কসহ অন্যান্য দেশে করেছে। সেখানে তারা 'আমেরিকান ইউনিভার্সিটি' নামে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, যার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের নিজস্ব মূলনীতি ও লক্ষ্যসমূহ এই জাতিগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুপ্রবেশ করে।

ইসলামি চিন্তাধারা ও এর বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের ধর্মীয় পরিচয় কিংবা বুদ্ধিভিত্তিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কারণ প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের সারিতে আমরা ইসলাম ও তার অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ ইহুদি, স্বীয় ধর্মের প্রচারক খ্রিস্টান মিশনারি এবং ধর্মহীন নাস্তিক কমিউনিস্টদের দেখতে পাই। সুতরাং তাদের সকলের বুদ্ধিভিত্তিক ও আকিদাগত সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী তাদের অবস্থানের এই তারতম্য হওয়া অনিবার্য। তবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
على سبيل العموم كان أسوأ هؤلاء جميعا هم المستشرقون اليهود، فمنهم من يتهم الإسلام بأنه دين فرضه محمد وأتباعه بقوة السيف والحروب.

وفيهم من ينكر نبوة محمد أصلا، ويرى أن ما جاء به من تعاليم قرآنية أخذها عن أحبار اليهود وكهنة النصارى.

ومن المستشرقين من يتهم إله المسلمين بأنه متعالٍ جبار بينما إله النصارى عطوف ودود متواضع ظهر الناس في صورة واحد منهم وهو عيسى ابن مريم، ولا يكاد يخلو كتاب استشراقي يتصل بالإسلام ونبيه إلا وهو يقطر سما وحقدا على الإسلام والمسلمين، ويفصح بعض المستشرقين عن هذا الحقد المعلن في تعليق صريح له، على الحملات الصليبية فيقول: وهكذا تقهقرت قوة الهلال أمام راية الصليب، وانتصر الإنجيل على القرآن، وعلى ما تضمنه من قوانين الأخلاق الساذجة.

وقد يطول بنا المقام لو أردنا التفضيل في موقف المستشرقين من الفكر الإسلامي وعلمائه، ولكننا سوف نقصر دراستنا هنا على نقاظ محددة أراها أكثر مناسبة للمقام حسب المساحة المحددة لنا في هذا الكتاب.
সাধারণভাবে বলতে গেলে, তাদের সকলের মধ্যে ইহুদি প্রাচ্যবিদরাই ছিল সবচাইতে জঘন্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইসলামকে এমন একটি ধর্ম হিসেবে অভিযুক্ত করে যা মুহাম্মদ এবং তাঁর অনুসারীরা তরবারি ও যুদ্ধের শক্তির মাধ্যমে চাপিয়ে দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা মূলত মুহাম্মদের নবুয়তকেই অস্বীকার করে এবং মনে করে যে, তিনি কুরআনের যে সকল শিক্ষা নিয়ে এসেছেন তা ইহুদি পণ্ডিত ও খ্রিস্টান যাজকদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন।

প্রাচ্যবিদদের মধ্যে কেউ কেউ মুসলমানদের উপাস্য ইলাহকে অতি উচ্চ ও জবরদস্তিকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন, অথচ খ্রিস্টানদের ঈশ্বরকে দয়ালু, প্রেমময় ও বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করেন যিনি মানুষের মাঝে তাদেরই একজনের আকৃতিতে অর্থাৎ মরিয়ম তনয় ঈসা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইসলাম ও এর নবী সম্পর্কে এমন কোনো প্রাচ্যবাদী গ্রন্থ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি চরম বিদ্বেষ ও বিষোদগারে পূর্ণ নয়। কোনো কোনো প্রাচ্যবিদ ক্রুসেড সম্পর্কে তাদের প্রকাশ্য মন্তব্যে এই ঘোষিত বিদ্বেষ ব্যক্ত করে বলেন: "এভাবেই ক্রুশের পতাকার সামনে অর্ধচন্দ্রের শক্তি পিছু হটেছে এবং ইঞ্জিল বিজয়ী হয়েছে কুরআনের ওপর এবং তাতে বিদ্যমান সাধারণ নৈতিক বিধিবিধানের ওপর।"

ইসলামি চিন্তাধারা ও আলিমদের প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থানের বিস্তারিত বিবরণ দিতে গেলে প্রসঙ্গের ব্যাপ্তি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে; তবে আমরা এখানে আমাদের আলোচনাকে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ রাখব, যা এই কিতাবে আমাদের জন্য নির্ধারিত পরিসর অনুযায়ী আমি অধিকতর উপযুক্ত মনে করি।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
1-‌‌ موقفهم من النبي والقرآن الكريم:

يرتبط موقف المسشرقين من القرآن الكريم بموقفهم من نبوة محمد صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم يقفون من النبي موقف الإنكار المطلق، وقد ينكر بعضهم أصل النبوة أساسا ولا يعترف بها إطلاقا، لأي من أنبياء الله ورسله، وهذا الإنكار يترتب عليه القول بأن محمدا ليس نبيا وبالتالي فإن القرآن حسب زعمهم لا يكون وحيًا من السماء، وإنما هو من عند محمد ومن وضعه هو، وليس كتابا إلهيًّا ولا وحيًا سماويًّا.

ومعلوم أن الإيمان بالنبي والنبوة أصل من أصول الاعتقاد التي لا تقبل الشك يؤمن بها كل مسلم إيمانا جازما كإيمانه بالله وهي المفتاح الحقيقي لتقبل كل ما جاء به الوحي والإيمان به.

والنبوة في جوهرها إنباء الله عبدًا من عباده بشرع ما، فإن أمره بتبليغ هذا الشرع إلى الناس كان رسولا نبيا، وإن لم يأمره بالتبليغ كان نبيا فقط، والنبوة في جوهرها اصطفاء ووهب وعطاء من الله، وليست كسبا ولا اجتهادا كما يرى بعض الفلاسفة، وما بلغته الرسل من الله نزل به الروح الأمين على قلب محمد وغيره من الرسل ليكونوا من المنذرين به، فنزل القرآن بالعربية، والإنجيل بالسريانية، والتوراة بالعبرية؛ تحقيقا لمعنى قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [إبراهيم: 4] ، وهذا الوحي ليس فيضًا من العقل الفعال كما تدعى الفلاسفة، وليس إلهامًا ولا إبداعًا لعبقرية محمد كما يقول بعض المستشرقين، إنما هو وحي من الله على قلب الرسل بواسطة ملك الوحي جبريل عليه السلام فهو من عند الله بلفظه ومعناه.
1-‌‌ নবী এবং পবিত্র কুরআনের প্রতি তাঁদের অবস্থান:

পবিত্র কুরআনের প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থান মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের প্রতি তাঁদের অবস্থানের সাথে সম্পৃক্ত; কারণ তাঁরা নবীর প্রতি নিরঙ্কুশ অস্বীকৃতির অবস্থান পোষণ করেন। তাঁদের কেউ কেউ মূলত নবুয়তের মূল ভিত্তিকেই অস্বীকার করেন এবং আল্লাহর কোনো নবী বা রাসুলের ক্ষেত্রেই তা মোটেও স্বীকার করেন না। এই অস্বীকৃতির অনিবার্য ফলশ্রুতি হলো এই দাবি করা যে, মুহাম্মদ (সা.) কোনো নবী নন। ফলে তাঁদের দাবি অনুযায়ী কুরআন আসমানি ওহি (وحي) নয়, বরং এটি মুহাম্মদের পক্ষ থেকে এবং তাঁরই বানোয়াট (وضع) করা বিষয়; এটি কোনো ঐশী কিতাব বা আসমানি ওহি (وحي) নয়।

এটি সর্বজনবিদিত যে, নবী ও নবুয়তের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা আকিদার অন্যতম মূলনীতি যা কোনো প্রকার সন্দেহ গ্রহণ করে না। প্রত্যেক মুসলিম এর প্রতি সেভাবেই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেন যেভাবে তিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন। ওহির (وحي) মাধ্যমে যা কিছু এসেছে তা গ্রহণ ও বিশ্বাস করার এটিই প্রকৃত চাবিকাঠি।

নবুয়ত মূলত এর সারসত্তায় হলো আল্লাহ কর্তৃক তাঁর কোনো বান্দাকে কোনো বিধান সম্পর্কে অবহিত করা। যদি তিনি তাঁকে এই বিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তবে তিনি রাসুল ও নবী। আর যদি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ না দেন, তবে তিনি কেবলই একজন নবী। নবুয়ত মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্বাচন, দান ও অনুগ্রহ; এটি কোনো অর্জন বা ইজতিহাদ (اجتهاد) নয়, যা কোনো কোনো দার্শনিক মনে করেন। রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দিয়েছেন, তা রুহুল আমিন মুহাম্মদ (সা.) ও অন্যান্য রাসুলদের অন্তরে নিয়ে অবতরণ করেছেন যাতে তাঁরা এর মাধ্যমে সতর্ককারী হতে পারেন। অতঃপর কুরআন আরবি ভাষায়, ইঞ্জিল সুরিয়ানি ভাষায় এবং তাওরাত হিব্রু ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ বাস্তবায়ন করে: "আমি প্রত্যেক রাসুলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করেই পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাঁদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন" [ইব্রাহিম: ৪]। এই ওহি (وحي) কোনো সক্রিয় বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশ নয় যেমনটি দার্শনিকরা দাবি করেন, আর এটি মুহাম্মদের কোনো ইলহাম (إلهام) বা তাঁর প্রতিভার কোনো সৃজনশীলতাও নয় যেমনটি কিছু প্রাচ্যবিদ বলে থাকেন। বরং এটি জিবরাঈল (আ.) নামক ওহিবাহক ফেরেশতার মাধ্যমে রাসুলদের অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي); যা শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
والمستشرقون يرون القضية عكس ذلك تمامًا؛ فهم أولا لا يؤمنون بنبوة محمد ولا يعترفون بها.

1- فهو عند البعض أحد عباقرة العالم العشرة.

2- وعند البعض الآخر أحد الأبطال العظماء.

3- وعند آخرين ناقل ذكي من كتب الأولين.

4- أو متعلم من رهبان النصارى قد أجاد في تعلمه عنهم.

5- أو أحد المشعوذين وطلاب الرياسة والزعامة.. وهكذا يقولون في حق نبي الإسلام عليه الصلاة والسلام، وإذا أرادوا شيئا من الإنصاف قالوا: إنه جاء ليدعو إلى الاشتراكية وليس إلى عقيدة دينية جديدة.

أ- يقول هويرت جريمي "مستشرق ألماني" في كتابه: "محمد"1: لم يكن محمد في بادئ الأمر يبشر بدين جديد بل إنما كان يدعو إلى الاشتراكية، ثم يقول: فالإسلام في صورته الأولى لم يكن يحتاج إلى أن نرجعه إلى ديانة سابقة تفسر لنا تعاليمه، بل هو محاولة للإصلاح الاجتماعي تهدف إلى تغيير الأوضاع الفاسدة، وعلى الأخص إزالة الفوارق الصارخة بين الأغنياء والفقراء، لذلك نراه يفرض ضريبة معينة لمساعدة المحتاجين، وهو يستخدم فكرة الحساب في اليوم الآخر كوسيلة للضغط المعنوي وتأييد دعوته.

--------------------------------------------

1 ص3،141، 592، 565.
প্রাচ্যবিদগণ বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে দেখেন; তাঁরা প্রথমত মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুওয়াতকে (نبوة) বিশ্বাস করেন না এবং এটি স্বীকারও করেন না।

১- তাই কারো মতে তিনি বিশ্বের দশজন প্রতিভাধরের একজন।

২- আবার অন্যদের মতে তিনি মহান বীরদের একজন।

৩- আর অন্য অনেকের মতে তিনি পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহ থেকে তথ্য আহরণকারী একজন বুদ্ধিমান বর্ণনাকারী (ناقل)।

৪- অথবা খ্রিস্টান পাদ্রীদের একজন ছাত্র, যিনি তাঁদের নিকট থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

৫- অথবা তিনি একজন ভণ্ড এবং নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের লিপ্সু ব্যক্তিদের একজন... ইসলামের নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর শানে তাঁরা এ জাতীয় কথাই বলে থাকেন। আর তাঁরা যদি সামান্য ন্যায়বিচার করতে চান, তবে বলেন: তিনি সমাজতন্ত্রের দিকে আহ্বান করতে এসেছিলেন, কোনো নতুন ধর্মীয় আকিদার (عقيدة) দিকে নয়।

ক- জার্মান প্রাচ্যবিদ হুবার্ট গ্রিম তাঁর "মুহাম্মাদ"১ নামক গ্রন্থে বলেন: মুহাম্মাদ প্রাথমিক অবস্থায় কোনো নতুন দ্বীনের (دين) সুসংবাদ দিচ্ছিলেন না, বরং তিনি মূলত সমাজতন্ত্রের দিকেই আহ্বান জানাচ্ছিলেন। এরপর তিনি বলেন: ইসলামের প্রাথমিক রূপটি বোঝার জন্য এমন কোনো পূর্ববর্তী ধর্মের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই যা আমাদের কাছে তার শিক্ষাগুলো ব্যাখ্যা করবে; বরং এটি ছিল সমাজ সংস্কারের একটি প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য ছিল দূষিত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো, বিশেষ করে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার প্রকট বৈষম্য দূর করা। তাই আমরা দেখি তিনি অভাবগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর আরোপ করেছেন এবং তিনি পরকালের হিসাব-নিকাশের ধারণাকে তাঁর দাওয়াতের সমর্থনে একটি নৈতিক চাপের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

--------------------------------------------

১. পৃষ্ঠা- ৩, ১৪১, ৫৯২, ৫৬৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
ب- بينما يرى المستشرق الإنجليزي "جب" في كتابه: "المذهب المحمدي" أن محمدًا ككل شخصية مبدعة قد تأثرت بضرورات الظروف الخارجية المحيطة به من جهة ثم هو من جهة أخرى قد شق طريقا جديدًا بين الأفكار والعقائد السائدة في زمانه، والدوائر في المكان الذي نشأ فيه.. ومحمد نجح؛ لأنه كان واحدًا من المكيين، ومعارضة المكيين له لم تكن من أجل تمسكهم بالقديم، أو بسبب عدو رغبتهم في الإيمان وإنما كانت لسبب سياسي أو اقتصادي فالمستشرق "جب" يفسر موقفه من نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، فيرى أن الظروف المكية هي التي جعلت من محمد زعيمًا سياسيًّا، وأعطته الفرصة لكي يظهر في وسط قومه المكيين بهذه الصورة وإن يتلف حوله فقراء مكة طلبًا للإنصاف من الأغنياء.

ج- وهناك نمط آخر من المستشرقين يرون أن محمدًا صلى الله عليه وسلم قد حلت به حالة نفسية أدت به إلى نوع من التأمل الذاتي في السماء وما فيها من نجوم، وساعد على تألق هذا النوع من التأمل وعالمه الطبيعي الموحش من الجبال وما حولها، وما تثيره في النفوس من حالات الهلع والتأمل الذاتي.

وعلى مثل هذا النحو من الفهم عن الرسول صلى الله عليه وسلم كان موقف المستشرقين من النبي فهم ينكرون رسالته جملة
ব- যেখানে ইংরেজ প্রাচ্যবিদ ‘গিব’ তাঁর ‘আল-মাযহাব আল-মুহাম্মাদী’ গ্রন্থে মনে করেন যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের ন্যায় একদিকে যেমন তাঁর পারিপার্শ্বিক বাহ্যিক পরিস্থিতির আবশ্যকতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, তেমনি অন্যদিকে তিনি তাঁর সমসাময়িক প্রচলিত চিন্তাধারা ও বিশ্বাসসমূহ এবং তাঁর বেড়ে ওঠার পরিবেশের মাঝে এক নতুন পথ তৈরি করেছিলেন। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফল হয়েছিলেন কারণ তিনি ছিলেন মক্কাবাসীদেরই একজন; আর তাঁর প্রতি মক্কাবাসীদের বিরোধিতা তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি আসক্তি কিংবা ঈমান আনার অনিচ্ছার কারণে ছিল না, বরং তা ছিল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে। প্রাচ্যবিদ ‘গিব’ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত সম্পর্কে তাঁর অবস্থানের ব্যাখ্যায় মনে করেন যে, মক্কার পরিস্থিতিই মুহাম্মাদকে একজন রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করেছিল এবং তাঁকে তাঁর স্বগোত্রীয় মক্কাবাসীদের মাঝে এই রূপে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল যাতে মক্কার দরিদ্ররা ধনীদের নিকট থেকে ইনসাফ পাওয়ার আশায় তাঁর চারপাশে সমবেত হয়।

গ- প্রাচ্যবিদদের মাঝে এমন আরেকটি ধারা রয়েছে যারা মনে করেন যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ভর করেছিল যা তাঁকে আকাশ ও তারকারাজি নিয়ে এক ধরণের আত্ম-নিমগ্ন ধ্যানের দিকে পরিচালিত করেছিল। এই ধরণের ধ্যান এবং পাহাড়বেষ্টিত নির্জন প্রাকৃতিক পরিবেশের নির্জনতা—যা মানুষের মনে আতঙ্ক ও আত্ম-চিন্তার উদ্রেক করে—তা এই অবস্থাকে আরও বেগবান করতে সহায়ক হয়েছিল।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এই ধরণের উপলব্ধির আলোকেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল; ফলে তাঁরা তাঁর রিসালাতকে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করে।