(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: -)
دراسات في علوم القرآن - محمد بكر إسماعيل القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: دراسات في علوم القرآن
المؤلف: محمد بكر إسماعيل (ت 1426هـ)
الناشر: دار المنار
الطبعة: الثانية 1419هـ-1999م
عدد الصفحات: 375
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন বিজ্ঞানের ওপর গবেষণা - মুহাম্মদ বকর ইসমাইল বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: কুরআন বিজ্ঞানের ওপর গবেষণা
লেখক: মুহাম্মদ বকর ইসমাইল (মৃত্যু ১৪২৬ হিজরি)
প্রকাশক: দার আল-মানার
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি-১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد، فإن القرآن الكريم هو المعجزة العقلية الباهرة التي أيَّدَ الله بها خير خلقه، وخاتم أنبيائه -صلوات الله وسلامه عليه.
وهو خالد في إعجازه لا يزيده التقدُّم العلميُّ إلا رسوخًا في الإعجاز، وهو حجة الله البالغة على خلقه، تعبدهم بتلاوته وتدبره، وفهمه والعمل به، وأطلعهم من خلاله على بعض أسراره في ملكه وملكوته.
وهو كتاب الهداية، ومنهج الحياة، بيَّنَ فيه لعباده ما يحلُّ لهم، وما يحرِّمُ عليهم، وما ينفعهم، وما يضرهم، بإسلوب واضح مشرق، لا عوج فيه ولا التواء.
وعبَّرَ عن واقعهم، ولبَّى رغباتهم على اختلاف أجناسهم وبيئاتهم، وأزمانهم.
فما من شيء يحتاجون إليه في شئونهم الخاصة والعامة إلَّا شمله تشريعه، ووسعه بيانه.
قال تعالى في سورة النحل: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} 1.
فكان بحقٍّ كتابًا جامعًا أفاض في شرح الحقوق والواجبات إفاضة واسعة، تضمنتها أحكام جامعة، وقواعد كلية، يندرج تحتها كل ما جَدَّ ويَجِدُّ في شئون الحياة، وأناط بالرسول عليه الصلاة والسلام بيان ما قد يغمض على بعض
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর, নিশ্চয়ই আল-কুরআনুল কারীম হলো সেই উজ্জ্বল বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন), যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা ও শেষ নবীকে—তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—সমর্থন দান করেছেন।
এটি এর অলৌকিকত্বের দিক থেকে শাশ্বত; বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এর অলৌকিকত্বের দৃঢ়তাকেই কেবল বৃদ্ধি করে। এটি সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অকাট্য দলিল। তিনি এর তিলাওয়াত, এর বিষয়াবলী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা, এটি অনুধাবন এবং সেই অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে তাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এর মাধ্যমে তিনি তাঁর রাজত্ব ও আধিপত্যের কিছু রহস্যের ব্যাপারে তাদের অবহিত করেছেন।
এটি হিদায়াতের কিতাব এবং জীবন বিধান। এতে তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কী হালাল আর কী হারাম, এবং কোনটি তাদের জন্য উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর—তা এক স্পষ্ট ও উজ্জ্বল শৈলীতে বর্ণনা করেছেন, যাতে কোনো বক্রতা বা জটিলতা নেই।
এটি তাদের বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে এবং তাদের বর্ণ, পরিবেশ ও কালের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাদের চাহিদা পূরণ করেছে।
ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক বিষয়ে তাদের যা কিছু প্রয়োজন, এর বিধান তার সবকিছুকেই শামিল করেছে এবং এর বর্ণনা তা পরিব্যপ্ত করেছে।
মহান আল্লাহ সূরা আন-নাহল-এ বলেছেন: "আর আমি আপনার ওপর কিতাবটি নাযিল করেছি সবকিছু স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার জন্য এবং এটি মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদ।" ১।
সুতরাং এটি যথাযথভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যা অধিকার ও কর্তব্যসমূহের বর্ণনায় ব্যাপকতা দান করেছে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ব্যাপক বিধিবিধান ও মৌলিক মূলনীতিসমূহ, যার অধীনে জীবনের প্রতিটি নতুন ও আগত বিষয় শামিল হয়। আর কারো কারো কাছে যা অস্পষ্ট হতে পারে, তা স্পষ্ট করার দায়িত্ব তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ন্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৬)
الناس فهمه، فكان بيانه للقرآن مستنبطًا من القرآن نفسه، وبقدرة خاصة منحها الله، وكيفية معينة علَّمه الله إياها.
قال تعالى في سورة القيامة:
{لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآَنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآَنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} 1.
وهو الذكر الحكيم الذي علَّمَ الناس الحكمة -وبالحكمة يستطيعون أن يضعوا الأمور في موضعها، ويتعرَّفوا النهج القويم للحياة المطمئنة، والسعادة المرجوّة في داري الدنيا والآخرة.
قال تعالى:
{هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} 2.
وهو مأدبة الله التي لا ينفذ زادها، ولا ينضب معينها ولا يملها أهلها.
وهو للمؤمنين دواء وشفاء وغذاء، وروح وريحان، هو الحياة في أسمى صورها وأجلِّ معانيها، هو نعيم الدنيا ونعيم الآخرة.
لهذا جمع المسلمون الأوائل كل قواهم، وكرَّسُوا جُلَّ حياتهم لخدمة هذا الكتاب العظيم، ولم يدَّخِروا جهدًا في حفظة وتدوينه، وتفسيره، واستنباط أحكامه، والتنقيب عن لطائفه وأسراره، والعمل به والسير على نهجه في عباداتهم وعاداتهم ومعاملاتهم، فتركوا لنا تراثًا خالدًا غصَّت به المكتبات في مشارق الأرض ومغاربها.
وتتابه الغيث من بعدهم إلى يومنا هذا، يفتح للباحثين في كتاب الله تعالى أبوبًا واسعة من العلم والمعرفة، ويتيح لهم أن ينهلوا من معينه ما شاء الله أن ينهلوا في سهولة ويسر، ولا سيما بعد أن تقدَّمت أدوات الطباعة ووسائل النشر.
--------------------------------------------
মানুষের তা অনুধাবন করা, ফলে কুরআনের ব্যাপারে তাঁর বর্ণনা ছিল খোদ কুরআন থেকেই আহরিত এবং আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ সক্ষমতা ও নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে যা আল্লাহ তাঁকে শিখিয়েছিলেন।
মহান আল্লাহ সূরা আল-কিয়ামাহতে বলেছেন:
{তাড়াহুড়ো করে আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। এরপর এর বিশদ বর্ণনা করার দায়িত্বও আমাদেরই।} ১।
আর এটি হলো হিকমতপূর্ণ যিকির (স্মারক) যা মানুষকে হিকমত বা প্রজ্ঞা শিক্ষা দিয়েছে - আর হিকমতের মাধ্যমেই তারা বিষয়সমূহকে সঠিক স্থানে স্থাপন করতে সক্ষম হয় এবং প্রশান্ত জীবনের সঠিক পথ ও ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্যের পরিচয় লাভ করে।
মহান আল্লাহ বলেছেন:
{তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও ইতিপূর্বে তারা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।} ২।
এটি আল্লাহর দস্তরখান (ভোজসভা), যার খাদ্যসম্ভার কখনো ফুরিয়ে যায় না, যার ঝর্ণাধারা কখনো শুকিয়ে যায় না এবং এর অনুসারীরা কখনো এতে ক্লান্তি বোধ করে না।
মুমিনদের জন্য এটি মহৌষধ, আরোগ্য ও খোরাক, এবং এটি রূহ ও প্রশান্তি। এটি তার সর্বোচ্চ রূপে ও সুমহান অর্থে প্রকৃত জীবন; এটি দুনিয়ার নেয়ামত ও আখেরাতের নেয়ামত।
একারণেই আদি যুগের মুসলিমগণ তাঁদের সকল শক্তিকে একীভূত করেছিলেন এবং এই মহান কিতাবের খেদমতে তাঁদের জীবনের অধিকাংশ সময় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁরা এটি মুখস্থ ও সংকলন করা, এর তাফসীর করা, এর বিধানসমূহ আহরণ করা এবং এর সূক্ষ্মতত্ত্ব ও রহস্যসমূহ উদ্ঘাটন করার পাশাপাশি তাঁদের ইবাদত, অভ্যাস ও পারস্পরিক লেনদেনে এর অনুসরণে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি। ফলে তাঁরা আমাদের জন্য এমন এক অমর ঐতিহ্য রেখে গিয়েছেন যার দ্বারা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের লাইব্রেরিগুলো পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
তাঁদের পরবর্তীকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই জ্ঞানের বারিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যা আল্লাহর কিতাব নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রশস্ত দ্বার উন্মোচন করে দেয় এবং তাঁদেরকে এর ঝর্ণাধারা থেকে আল্লাহ যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকু সহজে ও সাবলীলভাবে আহরণ করার সুযোগ করে দেয়, বিশেষ করে মুদ্রণযন্ত্র ও প্রকাশনা মাধ্যমের উন্নতির পর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وما على الباحثين إلّا أن يشمِّرُوا عن ساعد الجدِّ، ويخترقوا أسوار التقليد إلى الآفاق الرحبة يفتحها لهم القرآن بعباراته وإشاراته، فيستنبطوا منه ما ينفع أمتهم في دينها ودنياها، ويستلهموا منه الرشد في حلِّ المشكلات المعاصرة التي بلغت الغاية في التعقيد والتعجيز.
وإنا لقادورن -إن شاء الله تعالى، إذا ما تمسَّكْنَا بهذا الكتاب المبين، وتدبَّرْنَاه بحرية وأمانة وفق المقاييس التي رسمها لنا فيه -على تحقيق ما نصبو إليه في حاضرنا ومستقبلنا.
وإني أحاول أن أضرب في كتابي هذا بسهم متواضع في تبصير الناس ببعض ما يتعلَّق بهذا القرآن العظيم من البحوث المهمة التي تعينهم على تدبره، وفهم معانيه ومراميه، والعمل بما جاء فيه، عسى أن أُحْشَر يوم القيامة مع خدمته فأفوز فوزًا عظيمًا، وهو رجاء عبد ليس له من العمل الصالح ما يجعله أهلًا له إلّا أن رحمة الله واسعة، وفضله عظيم.
وقد التزمت في تأليف هذا الكتاب أمورًا ثلاثة:
الأول: تهذيب الأسلوب وتيسيره بحيث يكون -بفضل الله تعالى- مناسبًا لأهل العصر على اختلاف درجاتهم في الثقافة والفهم، مبينًا كل لفظ أراه غامضًا، وموضحًا كل قول أراه يحتاج إلى مزيد بيان.
وهذا الإلتزام جعلني أتحاشى النصوص الوعِرَة التي تكثر فيها الصناعة اللفظية المتكلفة، أو الألفاظ المعقدة أو الغريبة، واختار النصوص السهلة الجزلة التي تخلو من الركاكة والتعقيد.
فإن كان النص لا يتمشَّى مع سهولة الأسلوب وعذوبته، وفيه من العلم ما نحن في حاجة إليه نقلته بالمعنى، وقلت في نهايته: أفاده فلان أو ذكره فلان بمعناه.
أو قلت في أوله: ذكر فلان ما حاصله، أو ما فحواه كذا وكذا.
أو كتبت في هامش الصفحة: راجع كتاب كذا وكذا أو انتهي بتصرف، وما أشبه ذلك.
গবেষকদের জন্য কর্তব্য হলো একাগ্রতার সাথে সচেষ্ট হওয়া এবং অন্ধ অনুকরণের দেয়াল ভেঙে সেই প্রশস্ত দিগন্তের দিকে অগ্রসর হওয়া, যা কুরআন তার শব্দাবলি ও ইঙ্গিতসমূহের মাধ্যমে তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়; যাতে তারা তা থেকে এমন বিষয়াবলি আহরণ করতে পারে যা তাদের উম্মাহর দ্বীন ও দুনিয়ার উপকারে আসে এবং তা থেকে সমসাময়িক জটিল ও দুঃসাধ্য সমস্যাবলি সমাধানের সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারে।
আর আমরা অবশ্যই সক্ষম—আল্লাহ তাআলা যদি চান—যদি আমরা এই সুস্পষ্ট কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরি এবং এতে আমাদের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন ও আমানতদারিতার সাথে এতে গভীর চিন্তা-গবেষণা করি, তবে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমরা যা প্রত্যাশা করি তা অর্জনে আমরা সমর্থ হব।
আমি আমার এই কিতাবে মানুষের সামনে এই মহান কুরআন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় তুলে ধরার মাধ্যমে একটি বিনম্র প্রচেষ্টা চালানোর প্রয়াস পেয়েছি, যা তাদেরকে কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করতে, এর অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝতে এবং এতে যা অবতীর্ণ হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করতে সাহায্য করবে। সম্ভবত কিয়ামতের দিন আমি এর খাদেমদের সাথে পুনরুত্থিত হব এবং মহা সাফল্য লাভ করব; আর এটি এমন এক বান্দার প্রত্যাশা যার কাছে এমন কোনো নেক আমল নেই যা তাকে এর যোগ্য করতে পারে, তবে আল্লাহর রহমত অত্যন্ত প্রশস্ত এবং তাঁর অনুগ্রহ সুমহান।
এই কিতাব রচনায় আমি তিনটি বিষয় অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি:
প্রথমত: রচনারীতিকে মার্জিত ও সহজতর করা, যাতে তা—আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে—সংস্কৃতি ও বোধশক্তির ভিন্নতা সত্ত্বেও সমকালীন মানুষের জন্য উপযোগী হয়; আমি প্রতিটি অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং এমন প্রতিটি বক্তব্যকে স্পষ্ট করেছি যা অতিরিক্ত ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী বলে মনে হয়েছে।
এই অঙ্গীকারের কারণে আমি সেই সকল দুর্গম পাঠ্য পরিহার করেছি যেগুলোতে কৃত্রিম শব্দালংকারের আধিক্য রয়েছে অথবা যা জটিল কিংবা দুর্লভ শব্দের সমাহার; বরং আমি সেই সহজ ও প্রাঞ্জল পাঠ্যসমূহ নির্বাচন করেছি যা দুর্বলতা ও জটিলতামুক্ত।
আর যদি কোনো মূল পাঠ্য রচনারীতির সহজবোধ্যতা ও মাধুর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, অথচ তাতে আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকে, তবে আমি তা ভাবানুবাদ করেছি এবং শেষে বলেছি: ‘অমুক ব্যক্তি এটি প্রদান করেছেন’ অথবা ‘অমুক ব্যক্তি এটি ভাবার্থে উল্লেখ করেছেন’।
অথবা শুরুতে বলেছি: ‘অমুক ব্যক্তি যা উল্লেখ করেছেন তার সারমর্ম হলো এই’ অথবা ‘এর মর্মার্থ হলো এই এই’।
অথবা পৃষ্ঠার টীকায় লিখেছি: ‘অমুক কিতাবটি দেখুন’ অথবা ‘সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিতরূপে সমাপ্ত’, এবং এই জাতীয় কথা।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৮)
فإن كان النص سهلًا في أسلوبه نقلته بين علامتي تنصيص، وأشرت إلى مصدره في هامش الصفحة فقلت: كتاب كذا ج كذا ص كذا.
فإذا غيَّرت فيه ضميرًا أو حرفًا ليناسب الكلام قلت في هامش الصفحة:
انظر كتاب كذا.
وإذا حذفت منه شيئًا، وضعت مكان المحذوف ثلاث نقط كما هو مُتَّبَعٌ في كتابة البحوث والرسائل، وبذلك يكون أسلوب الكتاب متشابهًا متماسكًا كالبنيان يَشُدُّ بعضه بعضًا، لا يجد القاريء فيه ما يعكِّر صفو الفهم عليه من تغاير الأساليب، وتباعد المعاني، وتفكُّك الجمل، وتنافر الألفاظ.
الثاني: توخي الإيجار في العبارة، والاختصار على المقيَّد من المسائل، وتحري الدقة والأمانة العلمية في البحث والدراسة بقدر الطاقة البشرية.
الثالث: ترتيب الموضوعات بحسب أهميتها، وبحسب صلة بعضها ببعض، أو تقارُب بعضها من بعض، مع الاقتصار على ما تكون إليه الحاجة ماسَّة والضرورة إليه ملحة.
فعلوم القرآن بحر زخار لا يستطيع أحد أن يجمعها في كتاب، مهما اتسع جهده، وطال عمره.
هذا وقد بذلت وسعي في التحليل والتعليل والتحقيق والتنقيح والاستنباط، والكشف عن الجديد من المسائل العلمية المتعلقة بمعاني هذا الكتاب العزيز.
فإن أكن وفِّقْتُ في شيء من ذلك فإنما هو بحمد الله تعالى وتوفيقه.
والله المستعان، وله الفضل، وبه الثقة، وعليه المعتمد.
ربنا عليك توكلنا وإليك أنبنا وإليك المصير.
المؤلف
যদি পাঠের বর্ণনাভঙ্গি সহজ হয়, তবে আমি তা উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে স্থানান্তর করেছি এবং পৃষ্ঠার পাদটীকায় তার উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছি: অমুক কিতাব, অমুক খণ্ড, অমুক পৃষ্ঠা।
আর যদি আলোচনার সাথে সংগতিপূর্ণ করার জন্য আমি তাতে কোনো সর্বনাম বা অক্ষর পরিবর্তন করে থাকি, তবে পৃষ্ঠার পাদটীকায় বলেছি:
অমুক কিতাব দেখুন।
আর যখন আমি তা থেকে কোনো কিছু বিলোপ করেছি, তখন বিলুপ্ত অংশের স্থলে তিনটি বিন্দু বসিয়েছি যেমনটি গবেষণাপত্র ও থিসিস রচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়। এর মাধ্যমে কিতাবের বর্ণনাভঙ্গি অভিন্ন এবং সুদৃঢ় ইমারতের ন্যায় সংগতিপূর্ণ হয়েছে যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে; ফলে পাঠক এতে বর্ণনাভঙ্গির ভিন্নতা, অর্থের দূরত্ব, বাক্যের শিথিলতা কিংবা শব্দের অসংগতির কারণে বোধগম্যতায় কোনো বিঘ্ন অনুভব করবেন না।
দ্বিতীয়ত: অভিব্যক্তিতে সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখা, নির্দিষ্ট মাসআলাসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং মানবীয় সাধ্যানুযায়ী গবেষণা ও পর্যালোচনায় সূক্ষ্মতা ও বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতা বজায় রাখা।
তৃতীয়ত: বিষয়বস্তুগুলোকে তাদের গুরুত্ব এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক বা নৈকট্যের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা; সাথে সাথে কেবল অতি প্রয়োজনীয় ও একান্ত জরুরি বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা।
কেননা উলূমুল কুরআন এক উত্তাল সমুদ্র, যা কোনো একজনের পক্ষে একটি কিতাবে সংকলন করা সম্ভব নয়, তার প্রচেষ্টা যতই ব্যাপক হোক না কেন এবং তার আয়ু যতই দীর্ঘ হোক না কেন।
আমি এই মহান কিতাবের অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক মাসআলাসমূহ উন্মোচনে এবং এর বিশ্লেষণ, কারণ নির্ণয়, গবেষণা, পরিমার্জন ও নির্যাস গ্রহণের ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।
যদি আমি এসবের কোনোটিতে সফল হয়ে থাকি, তবে তা কেবল মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফীকের মাধ্যমেই হয়েছে।
আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি, সকল অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁরই, তাঁর ওপরই বিশ্বাস এবং তাঁর ওপরই নির্ভরতা।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আপনার দিকেই আমাদের শেষ গন্তব্য।
লেখক
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: معنى علوم القرآنعلوم القرآن مركَّب إضافي، مؤلَّف من كلمتين، يقتضينا منهج البحث البحث التحليلي أن نعرِّفَ كل كلمة على حدة أولًا، ثم نبيِّنُ معنى كلمة علوم مضافة إلى القرآن الكريم، فنقول:
1- أما العلوم فجمع علم، والعلم مصدر "علم - يعلم" وهو مرادف للفهم والمعرفة واليقين، والجزم على الجملة، وبينها فروق دقيقة تُطْلَبُ من كتب فقة اللغة، مثل كتاب "الفروق اللغوية" لأبي هلال العسكري.
والعلم مصدر -كما قلنا- يصح إطلاقه على المفرد والجمع، تقول: تلقيت العلم في الجامع الأزهر، تعني: علم التفسير، والحديث، والفقه، والنحو، والصرف، وغير ذلك من أنواع العلم.
وإن أريد الكثرة، جمع على علوم، ولهذا سميت المباحث القرآنية: "علوم القرآن" لكثرتها وتشعُّب مسائلها.
كما يقول الفقهاء في كتبهم: "باب البيع"، فإن أرادوا الكثرة قالوا: "باب البيوع".
ويطلق العلم في لسان الشرع العام على معرفة الله تعالى وآياته، وأفعاله في عباده وخلقه.
ومعناه عند علماء التدوين: المعلومات المنضبطة بجهة واحدة، أي: موضوع معين.
فمسائل النحو مثلًا تُسَمَّى: علم النحو.
ومسائل الفقة تُسَمَّى: علم الفقه.
أو هو إدراك المسائل المنضبطة تحت موضوع معين.
أو هو الملكة التي تحصل بها تلك المعارف.
والتعريف الأول هو الأَوْلَى بالقبول، وهو الأشهر عند العلماء.
প্রথম পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের অর্থউলূমুল কুরআন একটি সম্বন্ধযুক্ত পদ, যা দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা পদ্ধতির দাবি হলো, আমরা প্রথমে প্রতিটি শব্দকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করব, অতঃপর পবিত্র কুরআনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত 'উলূম' শব্দটির অর্থ বর্ণনা করব। আমরা বলি:
১- আর 'উলূম' হলো 'ইলম'-এর বহুবচন। ইলম হলো "আলিমা-ইয়া'লামু" ক্রিয়ামূলের মাসদার, যা মূলত সম্যক উপলব্ধি, পরিচিতি, দৃঢ় বিশ্বাস ও অকাট্যতার সমার্থক। এগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে যা ভাষাতত্ত্বের কিতাবসমূহ থেকে অন্বেষণ করা যাবে, যেমন আবু হিলাল আল-আসকারীর "আল-ফুরুকুল লুগাউয়্যাহ" কিতাব।
যেমনটি আমরা বলেছি, ইলম একটি মাসদার—এটি একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে। আপনি বলতে পারেন: "আমি জামে আল-আযহারে ইলম অর্জন করেছি", এর দ্বারা আপনি তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, নাহু, সরফ এবং অন্যান্য প্রকারের ইলমকে বুঝিয়ে থাকেন।
আর যদি আধিক্য বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে একে 'উলূম' হিসেবে বহুবচনে আনা হয়। এই কারণেই কুরআন সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিকে "উলূমুল কুরআন" নামে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ এর বিষয়সমূহ প্রচুর ও বিস্তৃত।
যেমন ফকীহগণ তাঁদের কিতাবসমূহে বলেন: "ক্রয়-বিক্রয়ের অধ্যায়", আবার যখন তাঁরা আধিক্য বুঝাতে চান, তখন বলেন: "ক্রয়-বিক্রয়সমূহের অধ্যায়"।
সাধারণ শরয়ী পরিভাষায় ইলম বলতে আল্লাহ তাআলার পরিচয়, তাঁর নিদর্শনাবলি এবং তাঁর বান্দা ও সৃষ্টির মধ্যে তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কে জানাকে বোঝায়।
গ্রন্থনয়নকারী আলেমদের নিকট এর অর্থ হলো: কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পর্কিত তথ্যাবলি।
উদাহরণস্বরূপ, নাহু শাস্ত্রের মাসআলাগুলোকে বলা হয়: ইলমুন নাহু।
ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাগুলোকে বলা হয়: ইলমুল ফিকহ।
অথবা এটি হলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের অধীনে সুশৃঙ্খল মাসআলাগুলোর উপলব্ধি।
অথবা এটি এমন এক অর্জিত যোগ্যতা, যার মাধ্যমে সেই জ্ঞানসমূহ অর্জিত হয়।
আর প্রথম সংজ্ঞাটিই গ্রহণের দিক থেকে অধিক উত্তম এবং আলেমদের নিকট এটিই অধিক প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১০)
أما القرآن في اللغة فهو مصدر "قرأ".
يُقَال: قرأ يقرأ قراءة، وقرآنًا.
قال تعالى في سورة القيامة:
{لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآَنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآَنَهُ} 1.
ثم نقل من هذا المعنى المصدري، وجُعِلَ اسمًا للكلام المعجِِزِ المنزَّلِ على النبي صلى الله عليه وسلم، من باب إطلاق المصدر على مفعوله.
فالقرآن على هذا يكون بمعنى المقروء.
هذا ما اختاره أكثر العلماء استنادًا إلى موارد اللغة وقوانين الاشتقاق.
"أما القول بأنه وصف من القرء -بسكون الراء- بمعنى الجمع، فهو قولٌ ليس براجح، وكذلك قول من قال: إنه مشتق من قرنت الشيء، أو أنه مرتجل، أي: موضوع من أول الأمر علمًا على الكلام المعجِز المنزَّل، فكل ذلك -كما يقول الزرقاني- لا يظهر له وجه وجيه، ولا يخلو توجيه بعضه من كلفة"2.
هذا هو مفهوم لفظ "قرآن" في اللغة.
واما مفهومه في اصطلاح علماء العقيدة والشريعة واللغة، فهو منتَزَعٌ من خصائصه ومقاصده الكبرى.
وأشهر تعريف له قولهم:
القرآن كلام الله المعجِز، المنزَّل على محمد صلى الله عليه وسلم، المكتوب في المصاحف، المنقول بالتواتر، المُتعبَّد بتلاوته.
بهذا عرَّفه اكثر أهل العلم.
وتوضيحه:
إن الكلام البشري نفسي ولفظي، فالنفسي هو المعاني التي تجول بالفؤاد
--------------------------------------------
ভাষাগত দিক থেকে কুরআন হলো 'ক্বারাআ' (পাঠ করা) শব্দের মাসদার বা ক্রিয়ামূল।
বলা হয়ে থাকে: ক্বারাআ, ইয়াকরাউ, কিরাআতান এবং কুরআনান।
মহান আল্লাহ সূরা আল-কিয়ামাহ-তে ইরশাদ করেছেন:
{তাড়াহুড়ো করে আয়ত্ত করার জন্য আপনি এর সাথে আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।} ১।
অতঃপর এই ক্রিয়ামূলীয় অর্থ থেকে একে পরিবর্তন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ মুজিজাপূর্ণ বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; এটি মূলত মাসদারকে মাফ'উল (কর্মপদ) অর্থে ব্যবহার করার অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং এই হিসেবে কুরআন অর্থ হলো 'পঠিত'।
ভাষাগত উৎস এবং শব্দতত্ত্বের নিয়মের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলেম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।
"আর একে 'আল-ক্বরউ' (র-এ সাকিন যোগে) থেকে নির্গত গুণবাচক শব্দ বলা—যার অর্থ হলো একত্রিত করা—তা গ্রহণযোগ্য মত নয়। তেমনিভাবে যারা বলেন যে, এটি 'ক্বারানতুশ শাইআ' (আমি বস্তুকে যুক্ত করেছি) থেকে নির্গত, অথবা এটি 'মুর্তাজাল' অর্থাৎ অবতীর্ণ মুজিজাপূর্ণ বাণীর জন্য শুরু থেকেই নাম হিসেবে নির্ধারিত—এসব মতের কোনোটিই, যেমনটি যারকানী বলেছেন, বলিষ্ঠ কোনো ভিত্তি রাখে না এবং এগুলোর কোনো কোনোটির ব্যাখ্যা বেশ কষ্টসাধ্য।" ২।
এটিই হলো ভাষাগতভাবে 'কুরআন' শব্দের ধারণা।
আর আকিদাহ, শরিয়াহ এবং ভাষাবিদদের পরিভাষায় এর ধারণাটি এর বৈশিষ্ট্য এবং বৃহৎ উদ্দেশ্যসমূহ থেকে গৃহীত।
এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ সংজ্ঞা হলো:
কুরআন হলো আল্লাহর মুজিজাপূর্ণ বাণী, যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ, যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, যা তাওয়াতুর বা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য।
অধিকাংশ আলেম এভাবেই এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
এর ব্যাখ্যা হলো:
মানুষের কথা মানসিক এবং শাব্দিক উভয়ই হয়ে থাকে; মানসিক কথা হলো সেই অর্থ বা ভাব যা অন্তরে আবর্তিত হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১১)
قبل أن تخرج بها الأصوات، واللفظ هو قالب تلك المعاني، وهي التي نسمعها من الأصوات.
فقولنا: القرآن كلام الله، قد يُرَاد به الكلام النفسيّ، وقد يُرَادُ به الكلام اللفظي -ولله المثل الأعلى وهو العزيز الحكيم- فالمتكلمون يطلقون كلام الله على الكلام النفسي فقط، ويقررون أنه كلام قديم غير مخلوق، فيجب تنزهه عن الحوادث وأعراض الحوادث، وتجرده عن الحروف اللفظية المتعاقبة المستلزمة لتجدد الزمان والحدوث.
والأصوليون والفقهاء اهتمُّوا بإطلاق القرآن على الكلام اللفظي؛ لأن غرضهم الاستدلال على الأحكام، وهو لا يكون إلّا بألفاظ، وكذلك علماء اللغة العربية يهتمون بالكلام اللفظي؛ لأن عنايتهم بالإعجاز، وطريقة الألفاظ"1.
وهذا التعريف جمع أشهر خصائص القرآن وأهم مقاصده.
وكان بعضها كافيًا في التعريف، فلو قالوا: القرآن كلام الله المعجز.
أو قالوا: هو كلام الله المُتعبَّد بتلاوته.
أو قالوا: هو كلام الله المكتوب في المصاحف، لكان وافيًا بالمقصود في تحديد ما هو قرآن من غيره، لكنهم أطنبوا في التعريف مبالغة في التوضيح، ورغبةً في ذكر أهم خصائصه ومقاصده، فهو ليس تعريفًا بالمعنى الاصطلاحي الذي يُرَاعَى فيه الاختصار، والاقتصار على ما هو جامع مانع.
ومن هذا التعريق يُعْرَفُ الفرق بين القرآن والحديث القدسي والحديث النبوي، على ما سيأتي بيانه قريبًا -إن شاء الله تعالى.
ومن خلال هذا التعريق أيضًا يُعْرَفُ الفرق بين القراءة المتواترة وغير المتواترة، فما تواتر منها فهو قرآن يُتْلَى ويتعبَّد بتلاوته.
وما هو غير متواتر لا يُتْلَى ولا يُتَعَبَّد بتلاوته، ولا يُسَمَّى قرآنًا، وإن جاز الاحتجاج بها في تصحيح لغة على لغة، وترجيح مذهب فقهي على آخر، بالشروط التي ذكرها الفقهاء في كتهبم.
هذا -ويطلق لفظ القرآن على الكتاب المُنزَّل كله وعلى بعضه.
--------------------------------------------
শব্দরূপে নির্গত হওয়ার পূর্বে; আর শব্দ হলো সেই অর্থগুলোর কাঠামো, যা আমরা ধ্বনি থেকে শুনতে পাই।
সুতরাং আমাদের এই উক্তি: "কুরআন আল্লাহর কালাম" দ্বারা কখনো 'কালামে নাফসি' (মানসস্থিত কথা) উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার কখনো 'কালামে লাফযি' (শব্দময় কালাম) উদ্দেশ্য হতে পারে—আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ, এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়—মুতাকাল্লিমগণ কেবল 'কালামে নাফসি'র ওপরই 'আল্লাহর কালাম' পরিভাষাটি প্রয়োগ করেন এবং তারা সাব্যস্ত করেন যে, এটি অনাদি ও অসৃষ্ট। তাই একে নশ্বর বিষয়াবলী ও নশ্বর গুণাবলি থেকে পবিত্র রাখা এবং সময়ের পরিবর্তন ও নতুনত্বের আবশ্যকতা সৃষ্টিকারী পরস্পর অনুগামী শাব্দিক বর্ণসমূহ থেকে বিমুক্ত রাখা আবশ্যক।
উসুলবিদ ও ফকিহগণ 'কুরআন' শব্দটিকে 'কালামে লাফযি'র ওপর প্রয়োগ করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন; কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো হুকুম-আহকামের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা, আর তা শব্দসমূহ ছাড়া সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে আরবি ভাষাবিদগণও শাব্দিক কালামের ওপর গুরুত্ব দেন; কারণ তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলো অলৌকিকত্ব এবং শব্দশৈলী। ১।
আর এই সংজ্ঞাটি কুরআনের প্রসিদ্ধতম বৈশিষ্ট্যসমূহ ও এর অতি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যসমূহকে একত্রিত করেছে।
সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এর কোনো কোনো অংশই যথেষ্ট ছিল। যেমন যদি তারা বলতেন: কুরআন হলো আল্লাহর অলৌকিক কালাম।
অথবা যদি তারা বলতেন: এটি আল্লাহর কালাম যার তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয়।
অথবা যদি তারা বলতেন: এটি আল্লাহর কালাম যা মাসহাফসমূহে লিখিত, তবে কোনটি কুরআন আর কোনটি নয় তা নির্ধারণের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু তারা সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় অতিরঞ্জন করেছেন বিষয়টিকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে এবং এর অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ করার আকাঙ্ক্ষায়। সুতরাং এটি এমন কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা নয় যাতে সংক্ষিপ্ততা এবং 'জামে ও মানি' (সার্বিক ও স্বতন্ত্র) হওয়ার শর্ত বজায় রাখা হয়েছে।
আর এই সংজ্ঞা থেকেই কুরআন, হাদিসে কুদসি এবং হাদিসে নববির মধ্যকার পার্থক্য জানা যায়, যার বর্ণনা সামনে শীঘ্রই আসছে—ইনশাআল্লাহু তায়ালা।
এই সংজ্ঞার মাধ্যমেই মুতাওয়াতির কিরাত এবং অ-মুতাওয়াতির কিরাতের মধ্যকার পার্থক্যও জানা যায়। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যা মুতাওয়াতির, তা-ই কুরআন যা তিলাওয়াত করা হয় এবং যার তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয়।
আর যা মুতাওয়াতির নয়, তা তিলাওয়াত করা হয় না এবং তার তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় না, আর তাকে কুরআনও বলা হয় না; যদিও এক ভাষার ওপর অন্য ভাষাকে শুদ্ধ প্রমাণ করতে এবং এক ফিকহি মাযহাবকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দিতে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা জায়েজ, সেইসব শর্তসাপেক্ষে যা ফকিহগণ তাদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, 'কুরআন' শব্দটি অবতীর্ণ কিতাবটির পূর্ণ অংশের ওপরও ব্যবহৃত হয় এবং এর কিয়দংশের ওপরও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১২)
فيُقَال لمن قرأ منه ولو آية إنه قرأ قرآنًا.
3- وأما تعريف علوم القرآن بالمعنى الإضافي، أي: باعتبار إضافة العلوم إلى هذا الكتاب المنزَّل، فهو عبارة عن طوائف المعارف المتصلة بالقرآن.
وهذا التعريف يشمل بعمومه جميع العلوم الشرعية من التفسير والحديث والفقه، وأصول الفقه، وجميع العلوم التي تعين على فهم معانيه ومقاصده، كالعلوم اللغوية والتاريخية، وغيرها، فكل ما يتصل بالقرآن من قريب أو من بعيد داخل تحت هذا التعريف.
غير أن المشتغِلِين بدراسة القرآن الكريم -فيما يبدو لنا- يقتصرون في بحوثهم على العلوم الوثيقة الصلة بالقرآن الكريم، والتي تعين على فهمه بطريق مباشر، مثل البحوث التي تضمَّنها كتاب "البرهان" للزركشي، وكتاب "الإتقان" للسيوطي.
وانفرد التفسير عن هذه العلوم بالتأليف والتصنيف، مع أنه داخل فيها لمسيس الحاجة إليه من غيره عند جميع المكلَّفين بلا استثناء.
أما غيره من علوم القرآن، فلا يكاد يحتاج إليه إلّا المتخصصون في دراسة كتاب الله تعالى، على نحو من تفسيره للناس، تفسيرًا صحيحًا، وفق هذه العلوم التي يعنون بدراستها.
فعلوم القرآن سوى التفسير، من شأن أولي العلم والنُّهَى، ورجال التفسير والتأويل الذي يُنَاطُ بهم فهم القرآن أولًا، وبيان معانيه للناس ثانيًا.
وأما التفسير، فالأمر فيه ما قد علمت، فلا تغفل عن ذلك، وقد كانت علوم القرآن قبل عصر التدوين وبعده بزمن غير يسير متصلة بسائر العلوم الشرعية، بل والعلوم العربية أيضًا، ثم انفصلت عنها.
وفيما يلي نبذة تاريخية يتبين لك فيها المراحل التي مرَّ بها هذا العلم، حتى انتهى إلى ما هو عليه الآن.
সুতরাং যে ব্যক্তি এখান থেকে একটি আয়াতও পাঠ করে, তাকে বলা হয় যে সে কুরআন পাঠ করেছে।
৩- আর ইযাফি বা সম্বন্ধীয় অর্থে উলুমুল কুরআনের সংজ্ঞা হলো: এই নাযিলকৃত কিতাবের দিকে ‘উলুম’ বা জ্ঞানসমূহকে সম্বন্ধযুক্ত করার বিচারে, এটি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জ্ঞানসমষ্টির নাম।
আর এই সংজ্ঞাটি তার ব্যাপকতায় তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, উসূলে ফিকহসহ সকল শারঈ জ্ঞানকে এবং তার অর্থ ও উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে সাহায্যকারী সকল জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞান এবং অন্যান্য। সুতরাং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই এই সংজ্ঞার অধীনে অন্তর্ভুক্ত।
তবে আমাদের নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যারা কুরআনুল কারীমের গবেষণায় নিয়োজিত তারা তাদের আলোচনায় সেই সকল জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন যা কুরআনুল কারীমের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট এবং যা সরাসরি কুরআন বুঝতে সাহায্য করে। যেমন যারকাশীর ‘আল-বুরহান’ এবং সুয়ূতী-র ‘আল-ইতকান’ কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি।
এবং তাফসীর শাস্ত্রটি গ্রন্থনা ও বিন্যাসের দিক থেকে এই সকল জ্ঞান থেকে স্বতন্ত্র হয়ে গিয়েছে, যদিও এটি এগুলোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত; কারণ সকল মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি এবং এতে কোনো ব্যতিক্রম নেই।
আর তাফসীর ব্যতীত উলুমুল কুরআনের অন্যান্য শাখাগুলোর প্রয়োজন কেবল তাদের জন্যই হয় যারা মহান আল্লাহর কিতাব নিয়ে গবেষণায় বিশেষজ্ঞ, যাতে তারা মানুষের সামনে এই সকল অর্জিত জ্ঞানের আলোকে সঠিকভাবে এর তাফসীর বা ব্যাখ্যা তুলে ধরতে পারেন।
সুতরাং তাফসীর ব্যতীত উলুমুল কুরআন হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবানদের এবং তাফসীর ও তাবীলের পণ্ডিতদের কাজ, যাদের ওপর প্রথমত কুরআন বোঝার এবং দ্বিতীয়ত মানুষের নিকট তার অর্থ বর্ণনা করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
আর তাফসীরের বিষয়টি তো আপনি জানলেনই, সুতরাং এ বিষয়ে উদাসীন হবেন না। উলুমুল কুরআন সংকলনের যুগের পূর্বে এবং সংকলন শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অন্যান্য শারঈ জ্ঞান, এমনকি আরবী ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথেও যুক্ত ছিল, পরবর্তীতে তা এগুলি থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে।
নিম্নে একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক বর্ণনা তুলে ধরা হলো যার মাধ্যমে আপনি এই ইলম বা জ্ঞান যে সকল পর্যায় অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে তা জানতে পারবেন।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني: نشأة علوم القرآن وتطورها1- كان الرسول صلى الله عليه وسلم، وأصحابه يعرفون عن القرآن وعلومه، ما عرف العلماء، وفوق ما عرف العلماء من بعد.
أما الرسول صلى الله عليه وسلم، فقد كان يعلم من القرآن ظاهره وباطنه، ومحكمه ومتشابهه، وعامَّه وخاصَّه، ومطلقه ومقيده، وغير ذلك من الأمور الجلية والخفية، التي اشتملها هذا الكتاب العظيم.
فقد كتب الله على نفسه الرحمة ليجمعنَّه له في صدره، وليطلق لسانه بقراءته وترتيله، وليميطنَّ اللثام عن معانيه وأسراره.
قال جل شأنه في سورة القيامة: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآَنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآَنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} 1.
وأما أصحابه، فقد نهلوا من معينه، فعلموا منه بقدر طاقتهم ما أعانهم على فهم ما يتعلق بشئون دينهم ودنياهم، وعرفوا من أقواله وأفعاله صلى الله عليه وسلم مراد الله تعالى من كلامه المنَزَّل، أعان بعضهم بعضًا على ذلك، بعد أن لقي الرسول صلى الله عليه وسلم ربه، فكان منهم يسأل الآخر عَمَّا غمض عليه فهمه، أو جهل حكمه.
وكان منهم من دعا له الرسول صلى الله عليه وسلم بالعلم والفقه؛ كابن عباس رضي الله عنهما، والخلفاء الأربعة، وعبد الله بن مسعود، وأُبَيّ بن كعب، وزيد بن ثابت، وأبي موسى الأشعري، وعبد الله بن الزبير، وغيرهم.
وكان الصحابة عربًا خُلَّصًا، متمتعين بجميع خصائص العروبة ومزاياها الكاملة من قوة في الحافظة، وذكاء في القريحة، وتذوق للبيان، وتقدير
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের উদ্ভব ও বিকাশ১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ কুরআন ও এর জ্ঞানসমূহ (উলূম) সম্পর্কে তা-ই জানতেন যা পরবর্তী যুগের আলেমগণ জেনেছেন, বরং তাঁরা তার চেয়েও বেশি জানতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের জাহির (প্রকাশ্য) ও বাতিন (গোপন), মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট), আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), মুতলাক (নিশর্ত) ও মুকায়্যাদ (শর্তযুক্ত) এবং এই মহান কিতাব যে সকল স্পষ্ট ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছে, তার সবই জানতেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন যেন তিনি তাঁর (রাসূলের) বক্ষে এটি জমা করে দেন, তাঁর জিহ্বাকে এর তিলাওয়াত ও তারতীলের জন্য সাবলীল করে দেন এবং এর অর্থ ও রহস্যসমূহের আবরণ উন্মোচন করে দেন।
সূরা আল-কিয়ামাহ-তে মহান আল্লাহ বলেন: {তাড়াহুড়া করার জন্য আপনি কুরআনের সাথে আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। অতএব আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। অতঃপর এর বর্ণনা করাও আমাদেরই দায়িত্ব।} ১।
আর তাঁর সাহাবীগণ এই প্রস্রবণ থেকে পান করেছিলেন; ফলে তাঁরা তাঁদের সাধ্য অনুযায়ী ততটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যা তাঁদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াভিভূত বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করত। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজ থেকে অবতীর্ণ কালাম সম্পর্কে আল্লাহর উদ্দেশ্য অবগত হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার পর তাঁরা এই কাজে একে অপরকে সহায়তা করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অন্য কাউকে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন যা তাঁর কাছে অস্পষ্ট থাকত অথবা যার বিধান তিনি জানতেন না।
তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিবর্গও ছিলেন যাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইলম ও ফিকহের (গভীর জ্ঞান) দোয়া করেছিলেন; যেমন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, চার খলিফা, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উবাই ইবনে কা'ব, যায়েদ ইবনে সাবিত, আবু মুসা আল-আশ'আরী, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর এবং অন্যান্যরা।
সাহাবীগণ ছিলেন খাঁটি আরব, যাঁরা প্রখর স্মৃতিশক্তি, তীক্ষ্ণ মেধা, বাকশৈলীর রসাস্বাদন এবং মূল্যায়নের ক্ষমতার মতো আরবীয় স্বভাবজাত সমস্ত গুণাবলি ও পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
للأساليب، ووزن لما يسمعون بأدق المعايير، حتى أدركوا من علوم القرآن ومن إعجازه بسليقتهم، وصفاء فطرتهم، ما لا نستطيع نحن أن ندركه مع زحمة العلوم، وكثرة الفنون.
وكان الصحابة -رضوان الله عليهم- مع هذه الخصائص أمِّيين، وأدوات الكتابة لم تكن ميسورة لديهم، والرسول صلى الله عليه وسلم نهاهم أن يكتبوا عنه شيئًا غير القرآن، وقال لهم أول العهد بنزول القرآن فيما رواه مسلم في صحيحه، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: "لا تكتبوا عني، ومن كتب عني غير القرآن فليمحه، وحدِّثُوا عني فلا حرج، ومن كذب عليَّ متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار".
وذلك مخافة أن يلتبس القرآن بغيره، أو يختلط بالقرآن ما ليس منه.
فلتلك الأسباب المتضافرة لم تكتب علوم القرآن، كما لم يكتب الحديث الشريف، ومضى الرعيل الأول على ذلك في عهد الشيخين أبي بكر وعمر.
ولكن الصحابة كانوا مضرب الأمثال في نشر الإسلام وتعاليمه، والقرآن وعلومه، والسنة وتحريرها تتلقينًا لا تدوينًا، ومشافهة لا كتابة" أ. هـ1.
2- ولما اتسعت رقعة الإسلام في عهد عثمان بن عفان رضي الله عنه، واختلط العرب الفاتحون بالأمم التي لا تعرف العربية، خاف بعض المسلمين على القرآن أن يختلف المسملون في قراءته إن لم يجتمعوا على مصحف واحد، فأشاروا على عثمان بكتابة القرآن الكريم في مصحف واحد، وتنسخ منه عدة مصاحف يُبْعَثُ بها إلى أقطار الإسلام، وأن يحرق الناس ما عداها، على ما سيأتي بيانه مفصَّلًا عند الكلام على جمع القرآن.
فاستجاب رضي الله عنه لهذه النصيحة الغالية؛ فجمع المسلمين على مصحف واحد عُرِفَ بمصحف الإمام، وبهذا العمل وضع عثمان رضي الله عنه الأساس لما نسميه علم رسم القرآن، أو علم الرسم العثماني.
--------------------------------------------
শৈলীসমূহ এবং তারা যা শুনতেন তা সূক্ষ্মতম মানদণ্ডে পরিমাপ করার যোগ্যতা রাখতেন। এমনকি তারা তাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ও ফিতরাতের পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে উলূমুল কুরআন এবং এর অলৌকিকত্ব সম্পর্কে এমন সব বিষয় অনুধাবন করেছিলেন, যা আমরা বর্তমানের অগণিত জ্ঞান ও বিভিন্ন শাস্ত্রের ভিড়ে অনুধাবন করতে সক্ষম নই।
সাহাবায়ে কেরাম—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এই সব বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও উম্মী ছিলেন এবং তাঁদের কাছে লিখন সরঞ্জামও সহজলভ্য ছিল না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে কুরআন ছাড়া তাঁর থেকে অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন। কুরআন নাযিলের শুরুর যুগে তিনি তাঁদের যা বলেছিলেন তা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা আমার থেকে কিছু লিখো না। আর যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া আমার থেকে অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তবে তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে পারো, তাতে কোনো বাধা নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
এটি ছিল এই ভয়ে যাতে কুরআন অন্য কিছুর সাথে অস্পষ্ট হয়ে না যায়, অথবা কুরআনের সাথে এমন কিছু মিশ্রিত না হয়ে যায় যা তার অংশ নয়।
এসকল সম্মিলিত কারণে উলূমুল কুরআন লিপিবদ্ধ করা হয়নি, ঠিক যেমন হাদীস শরীফও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। প্রথম প্রজন্মের অগ্রজগণ শাইখাইন আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার যুগে এই অবস্থাতেই অতিবাহিত করেছেন।
তবে সাহাবীগণ ইসলামের প্রচার ও এর শিক্ষা প্রদান, কুরআন ও এর জ্ঞান এবং সুন্নাহ ও এর সুনিপুণ বর্ণনার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিলেন। এটি ছিল সরাসরি পাঠদানের মাধ্যমে, গ্রন্থবদ্ধ করার মাধ্যমে নয়; এবং মৌখিকভাবে, লিখনের মাধ্যমে নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত ১)।
২- যখন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ইসলামের সীমানা বিস্তৃত হলো এবং বিজয়ী আরবরা অনারব জাতিগুলোর সাথে মিশে গেল যারা আরবি জানত না, তখন কিছু মুসলিম কুরআনের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করলেন যে, যদি তারা একটি মাসহাফের ওপর ঐক্যবদ্ধ না হয় তবে মুসলিমদের মাঝে এর পাঠরীতি নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হবে। ফলে তাঁরা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পরামর্শ দিলেন যেন পবিত্র কুরআনকে একটি মাসহাফে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তা থেকে কয়েকটি কপি তৈরি করে ইসলামের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, আর মানুষ যেন তা ব্যতিরেকে অন্য সব কপি পুড়িয়ে ফেলে। এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা কুরআন সংকলনের আলোচনার সময় সামনে আসবে।
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই মূল্যবান উপদেশে সাড়া দিলেন এবং মুসলিমদেরকে একটি মাসহাফের ওপর ঐক্যবদ্ধ করলেন যা 'মাসহাফে ইমাম' নামে পরিচিত। এই কাজের মাধ্যমে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই জ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন যাকে আমরা 'ইলমু রাসমিল কুরআন' বা 'রসমুল উসমানী' বলে থাকি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم جاء علي بن أبي طالب رضي الله عنه، فلاحظ أن العُجْمَة تكاد تحفيف على اللغة العربية، وسمع بعض الناس يلحنون في اللسان العربي، فأمر أبا الأسود الدؤليّ أن يضع بعض القواعد لحماية لغة القرآن من هذا العبث والخلل، ووضع له المنهج، وقال له: انح للناس على هذا النحو.
وبذلك يكون رضي الله عنه أول مَنْ وضع علم النحو، وتبعه فيما بعد علم إعراب القرآن، وهو علم يعين المفسِّر على فهم كتاب الله تعالى كما هو معلوم، والإعراب فرع المعنى كما يقولون.
ومضى المسلمون بعد الخلافة الرشيدة في نشر علوم القرآن، بالمشافهة والتلقين، حتى جاء عهد التدوين بعد المائة الأولى من الهجرة، فأُلِّفَت كتب في أنواع شتَّى من علوم القرآن، واتجهت الهمم قبل كل شيء إلى التفسير بوصفه رأس العلوم وعمدتها، لما فيه من التعرُّضِ لها في كثير من المناسبات عند شرح الكتاب العزيز.
ومن أوائل الكاتبين في التفسير: شعبة بن الحجاج، وسفيان بن عيينة، ووكيع بن الجراح، وتفاسيرهم جامعة لأقوال الصحابة والتابعين، وهم من علماء القرن الثاني.
ثم تلاهم ابن جرير الطبري المتوفَّى سنة 310هـ، وكتابه أجلّ التفاسير وأعظمها، لأنه أوَّل من عرض لتوجيه الأقوال، وترجيح بعضها على بعض، كما عرض للإعراب والاستنباط.
وبقيت العناية بالتفسير قائمة إلى عصرنا هذا. أما علوم القرآن الأخرى، ففي مقدمة المؤلفين فيها: على بن المديني شيخ البخاري، إذ ألَّفَ في أسباب النزول، وأبو عبيد القاسم بن سلام، إذ كتب في الناسخ والمنسوخ، وكلاهما من علماء القرن الثالث.
وفي مقدمة من ألَّفَ في غريب القرآن: أبو بكر السجستاني، وهو من علماء القرن الرابع.
অতঃপর আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন যে, অনারব প্রভাব আরবি ভাষার ওপর প্রায় ছেয়ে যাচ্ছে এবং তিনি কিছু মানুষকে আরবি ভাষায় ভুল করতে শুনলেন। তখন তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে কোরআনের ভাষাকে এই বিশৃঙ্খলা ও ত্রুটি থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু নিয়ম প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর জন্য একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি তাকে বললেন: "মানুষের জন্য এই পথ অনুসরণ করো।"
এর মাধ্যমে তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইলমুন নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা হলেন। পরবর্তীতে একে অনুসরণ করে ইলমু ইরাবিল কোরআন (কোরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) শাস্ত্রের উদ্ভব হয়। এটি এমন একটি বিদ্যা যা মুফাসসিরকে মহান আল্লাহর কিতাব বুঝতে সাহায্য করে, যেমনটি সর্বজনবিদিত। আর বলা হয়ে থাকে যে, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ হলো অর্থের একটি শাখা।
খুলাফায়ে রাশেদীনের পরবর্তী যুগে মুসলমানরা মৌখিক বর্ণনা ও শ্রুতির মাধ্যমে উলূমুল কোরআন বা কোরআনিক জ্ঞানসমূহ প্রচার অব্যাহত রাখেন। হিজরি প্রথম শতাব্দীর পর যখন গ্রন্থলিপিবদ্ধকরণের যুগ আসে, তখন উলূমুল কোরআনের বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচিত হয়। সকল বিষয়ের আগে তাফসিরের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ হয়, কারণ তাফসিরকে সকল ইলমের শীর্ষ ও মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। মহান কিতাবের ব্যাখ্যা করার সময় অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন শাস্ত্রের অবতারণা করতে হয় বলে এর গুরুত্ব অত্যধিক।
তাফসির শাস্ত্রের প্রাথমিক লেখকদের মধ্যে রয়েছেন: শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ এবং ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ। তাঁদের তাফসিরসমূহ সাহাবী ও তাবিঈগণের বক্তব্যের সমষ্টি এবং তাঁরা দ্বিতীয় শতাব্দীর আলেম ছিলেন।
তাদের পর আসলেন ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরি)। তাঁর কিতাবটি তাফসিরসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মহান। কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিভিন্ন মতের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং এক মতের ওপর অন্য মতের প্রাধান্য নিরূপণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ও মাসআলা উদ্ভাবন নিয়েও আলোচনা করেছেন।
তাফসিরের প্রতি এই বিশেষ গুরুত্ব আমাদের বর্তমান যুগ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। উলূমুল কোরআনের অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রে প্রাথমিক লেখকদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম বুখারীর শিক্ষক আলী ইবনুল মাদীনী, যিনি আসবাবুন নুযূল (কোরআন নাযিলের প্রেক্ষাপট) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আর আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম নাসিখ ও মানসূখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত আয়াত) বিষয়ে লিখেছেন। তাঁরা উভয়েই তৃতীয় শতাব্দীর আলেম ছিলেন।
আর গারীবুল কোরআন (কোরআনের কঠিন শব্দাবলি) বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন আবু বকর আস-সিজিস্তানী, যিনি চতুর্থ শতাব্দীর একজন আলেম।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي طليعة من صنَّف في إعراب القرآن: علي بن سعيد الحوفي، وهو من علماء القرن الخامس.
ومن أوائل من كتب في مبهمات القرآن: أبو القاسم عبد الرحمن المعروف بالسبيلي، وهو من علماء القرن السادس.
كذلك تصدَّر للتأليف في مجاز القرآن: العز بن عبد السلام، وفي القراءات: عَلَمُ الدين السخاوي، وهما من علماء القرن السابع.
وهكذا قويت العزائم، وتبارت الهمم، ونشأت علوم جديدة للقرآن، وظهرت مؤلفات في كل نوع منها، لهذا اشرأَبَّت أعناق العلماء أن يعتصروا من تلك العلوم علمًا جديدًا يكون كالفهرس لها، والدليل عليها والمتحدِّث عنها، فكان هذا العلم هو ما نسميه "علوم القرآن" بالمعنى المدوَّن.
قال الزرقاني: "ولا نعلم أن أحدًا قبل المائة الرابعة للهجرة ألَّفَ أو حاول أن يؤلِّفَ في علوم القرآن بالمعنى المدوَّن؛ لأن الدواعي لم تكن موفورة لديهم نحو هذا النوع من التأليف، وإن كنَّا نعلم أنها كانت مجموعة في صدور المبرزين من العلماء، على الرغم من أنهم لم يدونوها في كتاب، ولم يفردوها باسم.
ولقد كان المعروف لدى الكاتبين في تاريخ هذا الفن، أن أوَّل عهد ظهر فيه هذا الإصطلاح، أي اصطلاح علوم القرآن، وهو القرن السابع.
لكني ظفرت في دار الكتب المصرية بكتابٍ لعلي بن إبراهيم بن سعيد، الشهير بالحوفي، المتوفَّى سنة 330هـ، اسمه "البرهان في علوم القرآن"، وهو يقع في ثلاثين مجلدًا، والموجود منه الآن خمسة عشر مجلدًا غير مرتبة، ولا متعاقبة، من نسخة مخطوطة.
وإذن نستطيع أن نتقدّم بتاريخ هذا الفن نحو قرنين من الزمان، أي: إلى بداية القرن الخامس بدلًا من القرن السابع.
ثم جاء القرن السادس فألَّفَ فيه ابن الجوزي، المتوفَّى سنة 597هـ كتابين: أحدهما اسمه "فنون الأفنان في علوم القرآن"، والثاني اسمه: "المجتبى في علوم تتعلق بالقرآن"، وكلاهما مخطوط بدار الكتب المصرية.
কুরআনের ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আলী ইবনে সাঈদ আল-হাউফী, তিনি পঞ্চম শতাব্দীর একজন আলেম ছিলেন।
কুরআনের মুবহামাত (অস্পষ্ট বিষয়াদি) নিয়ে যারা প্রথম দিকে লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবুল কাসিম আবদুর রহমান আস-সুবাইলী, তিনি ষষ্ঠ শতাব্দীর একজন আলেম ছিলেন।
একইভাবে কুরআনের মাজায (রূপক) বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন আল-ইযয ইবনে আবদুস সালাম এবং কিরাত বিষয়ে আলামুদ্দীন আস-সাখাবী; তাঁরা উভয়েই সপ্তম শতাব্দীর আলেম ছিলেন।
এভাবেই সংকল্প সুদৃঢ় হলো এবং প্রচেষ্টাগুলো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠল, ফলে কুরআন সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন শাখা জন্ম নিল এবং এর প্রতিটি শাখায় গ্রন্থ রচিত হলো। এ কারণেই আলেমদের মাঝে সেই সব জ্ঞান থেকে এমন এক নতুন শাস্ত্র আহরণ করার প্রবল আগ্রহ তৈরি হলো যা হবে ঐ বিষয়গুলোর নির্ঘণ্ট স্বরূপ, সেগুলোর পথপ্রদর্শক ও বর্ণনাকারী। আর এই শাস্ত্রটিই হলো সেই বিষয় যা আমরা পারিভাষিক অর্থে "উলূমুল কুরআন" বলে অভিহিত করি।
যারকানী বলেন: "হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর পূর্বে কেউ পারিভাষিক অর্থে উলূমুল কুরআন বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন বা করার চেষ্টা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই; কারণ এই ধরনের রচনার প্রয়োজনীয়তা তখন তাদের মাঝে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান ছিল না, যদিও আমরা জানি যে সেসব বিষয় বিজ্ঞ আলেমদের বক্ষস্থ ছিল। তবে তাঁরা সেগুলো কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেননি এবং কোনো বিশেষ নামেও পৃথক করেননি।
এই শাস্ত্রের ইতিহাস রচয়িতাদের নিকট এটিই পরিচিত ছিল যে, এই পরিভাষাটি অর্থাৎ 'উলূমুল কুরআন' পরিভাষাটি সর্বপ্রথম যে যুগে আত্মপ্রকাশ করেছে, তা হলো সপ্তম শতাব্দী।
কিন্তু আমি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ ৩৩০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আল-হাউফী নামে খ্যাত আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাঈদের একটি কিতাব পেয়েছি, যার নাম 'আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন'। এটি ৩০ খণ্ডে রচিত ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে পাণ্ডুলিপি আকারে ১৫টি খণ্ড অগোছালো ও অসংলগ্ন অবস্থায় বিদ্যমান আছে।
অতএব, আমরা এই শাস্ত্রের ইতিহাসকে প্রায় দুই শতাব্দী এগিয়ে নিয়ে আসতে পারি, অর্থাৎ সপ্তম শতাব্দীর পরিবর্তে পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে।
এরপর ষষ্ঠ শতাব্দীতে ৫৯৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনুল জাওযী দুটি গ্রন্থ রচনা করেন: একটির নাম 'ফুনুনুল আফনান ফী উলূমিল কুরআন' এবং দ্বিতীয়টির নাম 'আল-মুজতাবা ফী উলূমিন তাতাআল্লাকু বিল কুরআন'। উভয়টিই মিসরের দারুল কুতুব-এ পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي القرن السابع ألَّفَ علم الدين السخاوي المتوفَّى سنة 641هـ كتابًا سماه: "جمال القرَّاء".
وألَّفَ أبو شامة المتوفى سنة 665هـ كتابًا أسماه: "المرشد الوجيز فيما يتعلق بالقرآن العزيز"، وهما -كما قال السيوطي- عبارة عن طائفة يسيرة ونبذ قصيرة، بالنسبة للمؤلفات التي أُلِّفَتْ بعد ذلك في هذا النوع.
ثم أهلَّ القرن الثامن، فكتب فيه بدر الدين الزركشي المتوفى سنة 794هـ كتابًا سماه: "البرهان في علوم القرآن"، ثم طلع القرن التاسع على هذا العلم باليمن والبركة، فدرج فيه وترعرع، إذا ألَّف محمد بن سليمان الكافيجي المتوفى سنة 873هـ كتابًا يقول السيوطي عنه: إنه لم يسبق إليه.
وفي هذا القرن أيضًا وضع جلال الدين البلقيني كتابًا سماه: "مواقع العلوم من مواقع النجوم".
وفي هذا القرن التاسع أيضًا ألَّف السيوطي كتابًا سماه: "التحبير في علوم التفسير"، ضمَّنه ما ذكره البلقيني من الأنواع مع زيادة مثلها، وأضاف إليه فوائد سمحت قريحته بنقلها، وقد أوفى هذا الكتاب على الاثنين بعد المائة من الأنواع، وفرغ الإمام من تأليف تحبيره هذا سنة 872هـ، غير أن نفسه الكبيرة لم تقنع بهذا المجهود العظيم، بل طمح إلى التبحُّر والتوسُّع والترتيب، فوضع كتابه الثاني "كتاب الإتقان في علوم القرآن"، وهو عمدة الباحثين والكاتبين في هذا الفن، ذكر فيه ثمانين نوعًا من أنواع علوم القرآن على سبيل الإجمال والإدماج"1.
ثم فترت الهمم بعد السيوطي المتوفى سنة 911هـ، لكنها لم تلبث حتى انبعثت مرة أخرى تجدد لهذه العلوم ثوبها، وتضيف إليها من البحوث ما يزيل شبه المستشرقين، ومن لف لفهم حول بعض ما جاء في كتب الأقدمين من روايات، وتَقَّول، وتطفوا على هذه العلوم القرآنية نظريات جديدة دعت إليها
--------------------------------------------
সপ্তম শতাব্দীতে ৬৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইলমুদ্দিন আস-সাখাভী 'জামালুল কুররা' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
এবং ৬৬৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু শামাহ 'আল-মুরশিদ আল-ওয়াজিজ ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বিল কুরআনিল আজিজ' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। সুয়ূতী যেমনটি বলেছেন, এই দুটি গ্রন্থ পরবর্তীকালে এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের তুলনায় একটি সংক্ষিপ্ত অংশ এবং সামান্য কিছু আলোচনার সংকলন মাত্র।
এরপর অষ্টম শতাব্দীর আগমন ঘটে, তখন ৭৯৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী বদরুদ্দিন আজ-যারকাশী 'আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন' নামক একটি গ্রন্থ লেখেন। অতঃপর নবম শতাব্দী এই শাস্ত্রের জন্য কল্যাণ ও বরকত নিয়ে উদিত হয় এবং এতে এই শাস্ত্র পূর্ণতা ও সমৃদ্ধি লাভ করে। তখন ৮৭৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-কাফিয়াজী একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যার সম্পর্কে সুয়ূতী বলেছেন যে, ইতিপূর্বে এমন গ্রন্থ রচিত হয়নি।
এই শতাব্দীতেই জালালুদ্দিন আল-বুলকিনী 'মাওয়াকিউল উলূম মিন মাওয়াকিন নুজূম' নামক একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।
এই নবম শতাব্দীতেই সুয়ূতী 'আত-তাহবীর ফি উলূমিত তাফসির' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তিনি বুলকিনী কর্তৃক উল্লিখিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সমপরিমাণ বিষয় বৃদ্ধি করেন। এতে তিনি এমন সব জ্ঞানগর্ভ তথ্য যোগ করেছেন যা তাঁর মেধা ও চিন্তাশক্তি থেকে উৎসারিত হয়েছে। এই গ্রন্থটি একশ দুই প্রকারের বিষয় পর্যন্ত সমৃদ্ধ হয়েছিল। ইমাম ৮৭২ হিজরিতে তাঁর এই 'তাহবীর' রচনার কাজ সম্পন্ন করেন। তবে তাঁর মহান সত্তা এই বিশাল প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট হয়নি, বরং তিনি আরও গভীরতা, বিস্তৃতি এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ 'কিতাবুল ইতকান ফি উলূমিল কুরআন' প্রণয়ন করেন, যা এই শাস্ত্রের গবেষক ও লেখকদের প্রধান অবলম্বন। এতে তিনি সংক্ষেপণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কুরআনের শাস্ত্রসমূহের আশিটি প্রকার উল্লেখ করেছেন।১
অতঃপর ৯১১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী সুয়ূতীর পরে মানুষের উদ্যমে কিছুটা ভাটা পড়ে। কিন্তু কিছুকাল পর তা পুনরায় জেগে ওঠে এই শাস্ত্রগুলোকে নতুন রূপ দিতে এবং এতে এমন সব গবেষণা যোগ করতে যা প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারীদের সেই সব সংশয় দূর করে, যা তারা পূর্ববর্তীদের কিতাবে বর্ণিত কিছু বর্ণনা ও উক্তির বিষয়ে তৈরি করেছিল। একই সাথে এই কুরআনীয় শাস্ত্রসমূহের ওপর নতুন তত্ত্বসমূহ ফুটে ওঠে যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ضرورة العصر الذي تميَّزَ بظهور كثير من الاكتشافات العلمية في العلوم الطبيعية والفلسفية، وغيرها، فألفت في هذه العلوم القرآنية كتب كثيرة، منها:
1- "البيان في علوم القرآن" للشيخ طاهر الجزائري، يقع في قريب من ثلاثمائة صفحة، وفرُغَ من تأليفه سنة 1335هـ.
2- "منهج الفرقان في علوم القرآن" للشيخ محمد علي سلامة.
3- "النبأ العظيم" للشيخ محمد عبد الله دراز.
4- "مناهل العرفان" للشيخ محمد عبد العظيم الزرقاني.
5- اللآلئ الحسان في علوم القرآن" للدكتور موسى لاشين.
6- "مباحث في علوم القرآن" للشيخ منَّاع القطان.
هذا وهناك بحوث ورسائل كثيرة كُتِبَت في بحوث مختلفة نُشِرَت في جامعة الأزهر، وجامعة القاهرة وجامعة عين شمس، وغيرها من جامعات العالم.
ولو جُمِعَ من هذه البحوث والرسائل أنقاها وأزكاها في موسوعة بالغة ما بلغت من الحجم لكان عملًا رائعًا يستحقه الإكبار والتقدير.
إذ يجد الباحث في هذه الموسوعة ما يبتغيه من أيسر طريق، وبأقل جهد.
বর্তমান যুগের প্রয়োজনীয়তা, যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, দর্শন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে। ফলে এই উলূমুল কুরআনের ওপর অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১- শায়খ তাহির আল-জাযায়েরী রচিত "আল-বায়ান ফী উলূমিল কুরআন"; এটি প্রায় তিনশ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ এবং ১৩৩৫ হিজরিতে এর রচনা সমাপ্ত হয়।
২- শায়খ মুহাম্মদ আলী সালামা রচিত "মানহাজুল ফুরকান ফী উলূমিল কুরআন"।
৩- শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দিরাজ রচিত "আন-নাবাউল আযীম"।
৪- শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল আযীম আয-যারকানী রচিত "মানাহিলুল ইরফান"।
৫- ডক্টর মূসা লাশীন রচিত "আল-লাআলিল হাসান ফী উলূমিল কুরআন"।
৬- শায়খ মান্না আল-কাত্তান রচিত "মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন"।
এ ছাড়াও আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে অনেক গবেষণা ও থিসিস রচিত এবং প্রকাশিত হয়েছে।
যদি এই গবেষণা ও থিসিসগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্নগুলো নিয়ে একটি বিশ্বকোষ সংকলন করা হতো—তা আয়তনে যাই হোক না কেন—তবে তা হতো একটি চমৎকার কাজ, যা সম্মান ও মূল্যায়নের যোগ্য।
কেননা গবেষক এই বিশ্বকোষে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো সহজতম উপায়ে এবং ন্যূনতম পরিশ্রমে খুঁজে পেতেন।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثالث: أسماء القرآنسُمِّيَ القرآن الكريم بأسماء كثيرة، أخذت من أوصافه التي وردت فيه، وأشهر هذه الأسماء:
1- القرآن:
وقد تقدَّمَ تعريفه لغة، وشرعًا.
2- الكتاب:
وهو مصدر من الكتب، ومعناه الضمِّ والجمع، ومنه الكتيبة، وهي القطعة من الجيش.
وهذا الاسم موافق للذي قَبِلَه في المعنى، فالقرآن جمع الحروف، وضمّ بعضها إلى بعض في النطق، والكتاب جمع الحروف وضمّ بعضها إلى بعض في الخط.
3- التنزيل:
وهو مصدر "نزَّل" بتشديد الزاي، قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِين} 1.
4- الفرقان:
سُمِّيَ بذلك لأنه يفرِّقُ بين الحق والباطل بالحجة القاطعة والبرهان الساطع، قال تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 2.
5- الهدى:
قال تعالى: {هُدًى لِلْمُتَّقِين} .
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের নামসমূহপবিত্র কুরআনকে অনেকগুলো নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা এতে বর্ণিত এর বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই নামগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো:
১- কুরআন:
এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
২- আল-কিতাব:
এটি ‘কাতব’ থেকে গৃহীত একটি মাসদার (মূল শব্দ), যার অর্থ হলো একত্রিত করা ও জমা করা। এখান থেকেই ‘কাতিবাহ’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো সেনাবাহিনীর একটি দল।
এই নামটি অর্থের দিক থেকে তার পূর্ববর্তী নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ ‘কুরআন’ হলো উচ্চারণের সময় অক্ষরগুলোকে একত্রিত করা এবং একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা। আর ‘কিতাব’ হলো লেখার সময় অক্ষরগুলোকে একত্রিত করা এবং একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা।
৩- আত-তানযীল:
এটি ‘যা’ বর্ণের তাশদীদসহ ‘নাযযালা’ ক্রিয়াপদের মাসদার। আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” ১।
৪- আল-ফুরকান:
এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অকাট্য দলীল ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।” ২।
৫- আল-হুদা:
আল্লাহ তাআলা বলেন: “মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال جلَّ شأنه:
{هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ} 1.
6- الصراط المستقيم:
لأنه المنهج الواضح الذي لا عِوَجَ فيه ولا انحراف، ولا تناقضَ فيه ولا اختلاف.
وقد صنَّف الحرالي من أسماء القرآن جزءًا، وأنهى أساميه إلى اثنين وتسعين، كما قال الزركشي في البرهان.
وقد عَدَّ الزركشي منها جملة، وبيَّنَ اشتقاقها2، ولكن أكثرها غير مشهور، والمشهور منها ما ذكرناه، والأوصاف لا تنزل منزلة الأسماء، إلّا إذا اشتهر بها الموصوف، وكانت دالَّة عليه بالأصالة، قائمة مقام العلم عند حذفه.
وأكثر ما ذكره الحرالي والزركشي وغيرهما أوصاف للقرآن، وليست أسماء، ولا هي كالأسماء؛ لعدم استقلالها في الدلالة عليه.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন:
তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। ১.
৬- আস-সিরাত আল-মুস্তাকীম (সরল পথ):
কারণ এটি এমন এক সুস্পষ্ট পন্থা যাতে কোনো বক্রতা বা বিচ্যুতি নেই, এবং এতে কোনো স্ববিরোধিতা বা বৈসাদৃশ্য নেই।
আল-হারালি কুরআনের নামসমূহ নিয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং এর নামগুলোকে বিরানব্বইটি পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, যেমনটি আল-যারকাশি 'আল-বুরহান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আল-যারকাশি সেখান থেকে একগুচ্ছ নাম গণনা করেছেন এবং সেগুলোর ব্যুৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন ২, তবে সেগুলোর অধিকাংশই প্রসিদ্ধ নয়। আর যা প্রসিদ্ধ তা আমরা উল্লেখ করেছি। গুণাবলি ততক্ষণ পর্যন্ত নামের মর্যাদা পায় না, যতক্ষণ না বর্ণিত বিষয়টি তার দ্বারা প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তা মৌলিকভাবে তার ওপর নির্দেশক হয় এবং নাম উহ্য থাকলেও তার স্থলাভিষিক্ত হয়।
আল-হারালি, আল-যারকাশি এবং অন্যান্যরা যা উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশই কুরআনের গুণাবলি, নাম নয়; এবং সেগুলো নামের মতোও নয়, কারণ এককভাবে কুরআনকে বুঝানোর ক্ষেত্রে এগুলোর স্বতন্ত্র কোনো অর্থগত ভিত্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الرابع: الفرق بين القرآن والحديث القدسي والنبوييجدُرُ بنا بعد أن ذكرنا لك مفهومه لفظ "قرآن" في اللغة وفي الاصطلاح، أن نبيِّنَ لك الفرق بين القرآن الكريم والحديث القدسي، فنقول:
إن كان المراد بالحديث القدسي ما نَزَلَ لفظه ومعناه من عند الله تعالى، فالفرق بينه وبين القرآن الكريم من وجوه.
الأول: أن القرآن معجزة تحدَّى الله به الإنس والجن، والحديث القدسي ليس كذلك.
الثاني: أن القرآن الكريم متعبَّدٌ بتلاوته، والحديث القدسي ليس كذلك.
الثالث: القرآن متواتِرٌ، نقله الجمع الغفير ممَّن بلغ الغاية في العدالة والضبط عن مثلهم، إلى النبي صلى الله عليه وسلم، والحديث القدسي منه الصحيح ومنه الحسن، ومنه الضعيف.
الرابع: لا تجوز رواية القرآن بالمعنى، بخلاف الحديث القدسي، فإنه يجوز أن يروى بمعناه، بشرط أن يكون الراوي محيطًا بالمعاني، فقيهًا بمباني الألفاظ واشتقاقها.
الخامس: لا يجوز للجنُبِ قراءة القرآن ولا مسَّ المصحف، ويجوز له قراءة الحديث القدسي ومسُّ الكتاب الذي يحتويه.
السادس: أن الله تكفَّلَ بحفظ القرآن، فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.
فلا يضيع حرف من حروفه حتى يأتي أمر الله.
بخلاف الحديث القدسي، فإنه قد يبدل لفظ من ألفاظه، أو ينسى بعضه بمرور الزمان، وذهاب الحافظين.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআন, হাদিসে কুদসি এবং হাদিসে নববির মধ্যে পার্থক্যভাষা ও পরিভাষায় "কুরআন" শব্দের অর্থ বর্ণনা করার পর আমাদের জন্য এটি সমীচীন যে, আমরা আপনার নিকট কুরআনুল কারিম ও হাদিসে কুদসির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করি। সুতরাং আমরা বলছি:
যদি হাদিসে কুদসি দ্বারা উদ্দেশ্য এমন বিষয় হয় যার শব্দ ও অর্থ উভয়ই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে কুরআনুল কারিমের সাথে এর পার্থক্য কয়েকটি দিক থেকে স্পষ্ট হয়।
প্রথমত: কুরআন হলো একটি মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন, যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষ ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, কিন্তু হাদিসে কুদসি তেমন নয়।
দ্বিতীয়ত: কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য, কিন্তু হাদিসে কুদসি তেমন নয়।
তৃতীয়ত: কুরআন হলো মুতাওয়াতির, যা ন্যায়পরায়ণতা ও মুখস্থশক্তিতে পূর্ণতা লাভ করেছেন এমন এক বিশাল জনসমষ্টি তাঁদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। আর হাদিসে কুদসির মধ্যে সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) ও জয়িফ (দুর্বল) রয়েছে।
চতুর্থত: কুরআনকে অর্থের মাধ্যমে বর্ণনা করা (শব্দ পরিবর্তন করে সারমর্ম বলা) বৈধ নয়। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসির ক্ষেত্রে এটি বৈধ যে, তা অর্থের মাধ্যমে বর্ণনা করা যাবে; তবে শর্ত হলো বর্ণনাকারীকে অর্থের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন এবং শব্দের গঠন ও ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।
পঞ্চমত: অপবিত্র (গোসল ফরজ হওয়া) ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করা এবং মুসহাফ (কুরআনের অনুলিপি) স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে তার জন্য হাদিসে কুদসি পাঠ করা এবং তা সম্বলিত কিতাব স্পর্শ করা জায়েজ।
ষষ্ঠত: আল্লাহ তাআলা কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি এরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় আমিই এই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" ১
অতএব আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) না আসা পর্যন্ত এর একটি অক্ষরও হারিয়ে যাবে না।
পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসি তেমন নয়; কেননা সময়ের আবর্তনে এবং হিফজকারীদের বিদায়ের ফলে এর কোনো কোনো শব্দ পরিবর্তিত হতে পারে অথবা এর কিছু অংশ বিস্মৃত হওয়া সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২২)
السابع: أنه من أنكر لفظًا من ألفاظ القرآن الكريم كفر؛ لأنه متواتر كله، بخلاف الحديث القدسي، فإنه من أنكر شيئًا منه لم يُعْلَمْ من الدين بالضورة لا يكفر، وهذا ظاهر لا يحتاج إلى بيان.
وأما إن قلنا: إن الحديث القدسي هو ما نَزَلَ من عند الله بمعناه دون لفظه، فلا يكون هناك ما يستدعي ذكر هذه الفروق.
وهذا القول هو الأولى بالقبول من سابقه.
قال محمد عبد الله دراز في كتابه "النبأ العظيم"1 مرجِّحًا هذا القول: "وهذا هو أظهر القولين فيه عندنا؛ لأنه لو كان منَّزلًا بلفظه لكان له في الحرمة والقدسية في نظر الشرع ما للنَّظْمِ القرآني، إذ لا وجه للتفرقة بين لفظين منَزَّلَين من عند الله، فكان من لوازم ذلك وجوب المحافظة على نصوصه، وعدم جواز روايته بالمعنى إجماعًا، وحرمة مسِّ المحدِّث لصحيفته، ولا قائل بذلك كله.
وأيضًا فإن القرآن لما كان مقصودًا منه مع العمل بمضمونه شيء آخر وهو التحدي بأسلوبه والتعبد بتلاوته احتيج لإنزال لفظه، والحديث القدسي لم ينزل للتحدُّث ولا للتعبُّد، بل لمجرد العمل بما فيه، وهذه الفائدة تحصل بإنزال معناه.
فالقول بإنزال لفظه، قول شيء لا داعي في النظر إليه، ولا دليل في الشرع عليه، اللهمَّ إلا ما قد يلوح من إسناد الحديث القدسي إلى الله بصيغة "يقول الله تبارك وتعالى كذا".
لكن القرائن التي ذكرناها آنفًا كافية في إفساح المجال لتأويله بأن المقصود نسبة مضمونه لا نسبة ألفاظه، وهذا تأويل شائع في العربية، فإنك تقول حينما تنثر بيتًا من الشعر: "يقول الشاعر كذا"، وتقول حينمًا تفسِّر آية من كتاب الله بكلام من عندك "يقول الله تعالى كذا"، وعلى هذه القاعدة حكى الله تعالى عن موسى وفرعون، وغيرهما مضمون كلامهم بألفاظ غير ألفاظهم، وأسلوب غير أسلوبهم، ونسب ذلك إليهم.
--------------------------------------------
সপ্তম: আল-কুরআনের শব্দাবলির মধ্য থেকে কোনো একটি শব্দকে যে অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে; কারণ এর পুরোটাই মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত)। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী এর ব্যতিক্রম; কেননা এর মধ্য থেকে এমন কিছু যদি কেউ অস্বীকার করে যা দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে সুনিশ্চিতভাবে পরিচিত নয়, তবে সে কাফির হবে না। এটি একটি স্পষ্ট বিষয় যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না।
আর আমরা যদি বলি যে: হাদীসে কুদসী হলো তা-ই যা আল্লাহর পক্ষ থেকে কেবল মর্মগতভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, শব্দগতভাবে নয়, তবে সেক্ষেত্রে এই পার্থক্যগুলো উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন থাকে না।
আর এই মতটিই পূর্ববর্তী মতের চেয়ে গ্রহণের অধিকতর যোগ্য।
মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দরাজ তাঁর 'আন-নাবাউল আজিম'১ গ্রন্থে এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন: "আমাদের নিকট এই বিষয়ে দুটি মতের মধ্যে এটিই অধিকতর স্পষ্ট; কারণ যদি এটি শব্দসহ অবতীর্ণ হতো, তবে শরয়ি দৃষ্টিতে কুরআনের বাচনভঙ্গির মতো এরও মর্যাদা ও পবিত্রতা থাকত। কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য করার কোনো অবকাশ নেই। এমতাবস্থায় এর মূল পাঠ (Text) সংরক্ষণ করা ওয়াজিব হওয়া, সর্বসম্মতিক্রমে এর মর্মগত বর্ণনা (রেওয়ায়েত বিল মা'না) জায়েয না হওয়া এবং অপবিত্র অবস্থায় এর পাণ্ডুলিপি স্পর্শ করা হারাম হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ত; অথচ এর কোনোটিই কেউ বলেন না।
এছাড়া কুরআনের বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমল করার পাশাপাশি আরও কিছু উদ্দেশ্য ছিল, যেমন: এর শৈলী বা বাচনভঙ্গির মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান করা এবং এর তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা; যার ফলে এর শব্দাবলি অবতীর্ণ করার প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু হাদীসে কুদসী চ্যালেঞ্জ প্রদান বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করার জন্য অবতীর্ণ হয়নি, বরং কেবল এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ওপর আমল করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। আর এই উদ্দেশ্যটি এর মর্ম অবতীর্ণ করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
অতএব এর শব্দ অবতীর্ণ হওয়ার কথা বলা এমন একটি বিষয় যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার কোনো আবশ্যকতা নেই এবং শরীয়তেও এর কোনো দলিল নেই। তবে হ্যাঁ, হাদীসে কুদসীকে আল্লাহর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করে "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এমনটি বলেন"—এই বাক্যরীতি থেকে যা প্রতীয়মান হতে পারে তা ভিন্ন কথা।
কিন্তু আমরা পূর্বে যে সমস্ত আলামত বা যুক্তি উল্লেখ করেছি, তা এ বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করার অবকাশ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট যে, এখানে মূলত এর বিষয়বস্তুর সম্বন্ধ করা হয়েছে, শব্দাবলির নয়। আর আরবি ভাষায় এ ধরনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ অত্যন্ত প্রচলিত। যেমন আপনি যখন কোনো কবিতার পঙ্ক্তিকে গদ্যে রূপান্তর করেন তখন বলেন: "কবি এমনটি বলেন"। আবার যখন আপনি আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা নিজের ভাষায় প্রদান করেন তখন বলেন: "আল্লাহ তা'আলা এমনটি বলেন"। এই নিয়ম অনুসারেই আল্লাহ তা'আলা মূসা, ফেরাউন এবং অন্যদের বক্তব্যের মর্মার্থ তাদের ব্যবহৃত শব্দ ও শৈলী ব্যতিরেকে ভিন্ন শব্দ ও শৈলীতে বর্ণনা করেছেন এবং তা তাদের দিকেই সম্বন্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإن زعمت أنه لو لم يكن في الحديث القدسي شيء آخر مقدَّس وراء المعنى لصحَّ لنا أن نسمي بعض الحديث النبوي قدسيًّا أيضًا، لوجود هذا المعنى فيه، فجوابه: إننا لما قطعنا في الحديث القدسي بنزول معناه لورود النصِّ الشرعي عن نسبته إلى الله بقوله -صلى الله عليه وعلى آله وسلم: "قال الله تعالى كذا" سميناه قدسيًّا لذلك، بخلاف الأحاديث النبوية، فإنها لما لم يرد فيها مثل هذا النص، جاز في كل واحد منها أن يكون مضمونه معلمًا بالوحي، وأن يكون مستنبطًا بالاجتهاد والرأي، فسمي الكل نبويًّا وقوفًا بالتسمية عند الحدِّ المقطوع به، ولو كانت لدينا علامة تمييز لنا قسم الوحي لسميناه قدسيًّا كذلك".
যদি আপনি দাবি করেন যে, হাদিসে কুদসিতে অর্থের অতিরিক্ত অন্য কোনো পবিত্র বিষয় না থাকত, তবে আমাদের জন্য কিছু হাদিসে নববীকেও কুদসি নামে অভিহিত করা সঠিক হতো, যেহেতু তাতেও এই অর্থ বিদ্যমান রয়েছে। তবে এর উত্তর হলো: আমরা যেহেতু হাদিসে কুদসির অর্থের অবতরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি আল্লাহর প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে শরয়ী বর্ণনা বিদ্যমান থাকার কারণে—যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "আল্লাহ তাআলা এমন বলেছেন"—তাই আমরা একে সেই কারণেই কুদসি নামকরণ করেছি। পক্ষান্তরে হাদিসে নববীসমূহের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা সেগুলোতে এ ধরনের কোনো বর্ণনা আসেনি। ফলে এগুলোর প্রত্যেকটির বিষয়বস্তু ওহি মারফত প্রাপ্ত হওয়া যেমন সম্ভব, তেমনি ইজতিহাদ ও সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হওয়াও সম্ভব। তাই নিশ্চিত সীমার ওপর ভিত্তি করে সবগুলোকে 'নববী' নামকরণ করা হয়েছে। আর যদি ওহির অংশকে পৃথক করার মতো কোনো চিহ্ন আমাদের কাছে থাকত, তবে আমরা সেটিকেও অনুরূপভাবে কুদসি নামে অভিহিত করতাম।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الخامس: تنزلات القرآن1- نزل القرآن أولًا من الله تعالى إلى اللوح المحفوظ بكيفية لا نعلمها، الله يعلمها.
قال تعالى: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ، فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} 1.
"ومعنى إنزاله في اللوح المحفوظ مجرَّد إثباته فيه، من غير نظر إلى علوٍّ وسفل، وحكمة هذا النزول ترجع إلى الحكمة من وجود اللوح نفسه، فإنه السجل الجامع لما كان وما سيكون إلى يوم القيامة، وقد بيَّن الله حكمة وجوده بقوله:
{مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ، لِكَيْ لَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ} 2، 3.
2- ثم نزل من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة في السماء الدنيا جملة واحدة في ليلة مباركة هي ليلة القدر.
قال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ} 4.
وقال جل شأنه: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} .
وقال عز من قائل:
{شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} 5.
وليلة القدر من ليالي شهر رمضان كما هو معلوم.
فهذه الآيات الثلاث تدل بمجموعها على أن هذا القرآن العظيم قد نزل غير مُنَجَّمٍ، مما يدل على أنه نوع آخر من أنواع التنزُّلات غير النوع الذي أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কুরআনের অবতরণসমূহ১- কুরআন সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে লাওহে মাহফুজে এমন এক পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে যা আমরা জানি না, আল্লাহই তা জানেন।
মহান আল্লাহ বলেন: {বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) লিপিবদ্ধ} ১।
“লাওহে মাহফুজে এটি অবতীর্ণ হওয়ার অর্থ হলো স্রেফ সেখানে এটি সাব্যস্ত বা লিপিবদ্ধ হওয়া, উচ্চতা বা নিম্নতার বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করা ছাড়া। এই অবতরণের হিকমত বা রহস্য স্বয়ং লাওহে মাহফুজের অস্তিত্বের হিকমতের দিকেই ফিরে যায়; কেননা তা হলো কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে তার এক মহাসাংগ্রহিক দলিল। মহান আল্লাহ এর অস্তিত্বের হিকমত বর্ণনা করে বলেছেন:
{পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে যে বিপদই আসুক না কেন, তা সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটি আল্লাহর জন্য সহজ। যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য দম্ভ প্রকাশ না করো। আর আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না} ২, ৩।
২- এরপর এটি লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের 'বাইতুল ইজ্জতে' এক বরকতময় রাতে অর্থাৎ কদরের রাতে একযোগে (পুরোটা একত্রে) অবতীর্ণ হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি এটি এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী} ৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয় আমি এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি}।
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন:
{রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ} ৫।
আর কদরের রাত রমজান মাসের রাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি সুবিদিত।
এই তিনটি আয়াত একত্রে একথাই প্রমাণ করে যে, এই মহান কুরআন একযোগে (কিস্তিতে নয়) অবতীর্ণ হয়েছে। যা নির্দেশ করে যে, এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে তা থেকে ভিন্ন এক প্রকারের অবতরণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
"وإنما قلنا ذلك جمعًا بين هذه النصوص في العمل بها، ودفعًا للتعارض فيما بينها، ومعلوم بالأدلة القاطعة -كما يأتي- أن القرآن أنزل على النبي صلى الله عليه وسلم مفرَّقًا لا في ليلة واحدة، بل في مدى سنين عددًا، فتعيَّنَ أن يكون هذا النزول الذي نوَّهت -هذه الآيات الثلاث نزولًا آخر غير النزول على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد جاءت الأخبار الصحيحة مبينة لمكان هذا النزول، وأنه في بيت العزة من السماء الدنيا.
أخرج الحاكم بسنده، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس أنه قال: "فُصِّلَ القرآن من الذكر"1 فوضع في بيت العزة من السماء الدنيا، فجعل جبريل ينزل به على النبي صلى الله عليه وسلم".
وأخرج النسائي والحاكم والبيهقي من طريق داود بن أبي هند، عن عكرمة، عن ابن عباس أنه قال: "أنزل القرآن جملة واحدة إلى سماء الدنيا ليلة القدر، ثم أُنْزِل بعد ذلك في عشرين سنة"2 ثم قرأ:
{وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} 3.
{وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} 4.
وأخرج الحاكم والبيهقي وغيرهما من طريق منصور، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس قال: "أُنْزِلَ القرآن جملة واحدة إلى سماء الدنيا، وكان بمواقع النجوم، وكان الله ينزله على رسوله صلى الله عليه وسلم بعضه في إثر بعض".
وأخرج ابن مردويه والبيهقي، عن ابن عباس أنه سأله عطية بن الأسود فقال: أوقع في قلبي الشك قوله تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} 5.
--------------------------------------------
আমরা এই কথাগুলো বলেছি এসকল পাঠের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য এবং এগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ নিরসনের জন্য। অকাট্য দলিলাদির মাধ্যমে এটি সুবিদিত—যেমনটি সামনে আসবে—যে, কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর একবারে এক রাতে অবতীর্ণ হয়নি, বরং দীর্ঘ বহু বছর ধরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, এই তিনটি আয়াতে যে অবতরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হওয়া ব্যতিরেকে অন্য একটি অবতরণ। সহীহ বর্ণনাগুলো এই অবতরণের স্থানটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তা হলো দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জাহ্-তে।
হাকেম তাঁর সনদসহ সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কুরআন যিকির১ থেকে পৃথক করা হয়েছে, অতঃপর তা দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জাহ্-তে রাখা হয়েছে। এরপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হতেন।"
নাসাঈ, হাকেম এবং বায়হাকী দাউদ ইবনে আবি হিন্দ-এর সূত্রে ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কুরআন কদরের রাতে দুনিয়ার আসমানে একবারে অবতীর্ণ করা হয়েছে, অতঃপর তা বিশ বছরে২ পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে।" এরপর তিনি পাঠ করলেন:
{তারা আপনার কাছে কোনো সমস্যা উপস্থিত করলেই আমি আপনার কাছে তার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা এনে দেই} ৩।
{আমি কুরআনকে পৃথক পৃথক অংশে অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি এটি মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি} ৪।
হাকেম, বায়হাকী এবং অন্যান্যরা মানসুরের সূত্রে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কুরআন দুনিয়ার আসমানে একবারে অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তা নক্ষত্ররাজির অবস্থানে ছিল। আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর তা একের পর এক অংশ হিসেবে অবতীর্ণ করতেন।"
ইবনে মারদুবাইহ এবং বায়হাকী ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আতিয়্যাহ ইবনুল আসওয়াদ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে} ৫—এই আয়াতটি আমার অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করেছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقوله: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْر} .
وهذا أنزل في شوال، وفي ذي القعدة، وفي ذي الحجة، وفي المحرم، وصفر، وشهر ربيع، فقال ابن عباس: "إنه أنزل في رمضان في ليلة القدر جملة واحدة، ثم أنزل على مواقع النجوم ورسلًا في الشهور والأيام" قال أبو شامة: رسلًا أي: وفقًا، وعلى مواقع النجوم أي: مثل مساقطها.
يريد أنه أنزل في رمضان في ليلة القدر جملة واحدة، ثم أنزل على مواقع النجوم مفرقًا، يتلو بعضه بعضًا على تؤدة ورفق.
هذه أحاديث أربعة من جملة أحاديث ذكرت في هذا الباب، وكلها صحيحة كما قال السيوطي، وهي أحاديث موقوفة على ابن عباس، غير أن لها حكم المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، لما هو مقرر من أن قول الصحابي مما لا مجال للرأي فيه، ولم يعرف بالأخذ عن الإسرائيليات، حكمه حكم المرفوع، ولا ريب أن نزول القرآن إلى بيت العزة من أنباء الغيب التي لا تعرف إلّا من المعصوم، وابن عباس لم يعرف بالأخذ عن الإسرائيليات، فثبت الاحتجاج بها.
وكان هذا النزول جملة واحدة في ليلة واحدة هي ليلة القدر كما علمت؛ لأنه المتبادر من نصوص الآيات الثلاث السابقة، وللتنصيص على ذلك في الأحاديث التي عرضناها عليك، بل ذكر السيوطي أن القرطبي نقل حكاية الإجماع على نزول القرآن جملةً من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة في السماء الدنيا"1 والحكمة في هذا التنزل لا نعلمها على وجه اليقين، ولسنا مكلفين بمعرفتها.
وأبلغ الظن أنه تفخيم لشأن القرآن الكريم، وشأن من نزل عليه، بإعلام سكان السماوات السبع أن هذا آخر الكتب المنزَّلة على خاتم الرسل لأشرف الأمم.
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি এটি লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি}।
আর এটি শাওয়াল, যিলকদ, যিলহজ, মুহাররম, সফর এবং রবিউল মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। তাই ইবনে আব্বাস বলেন: "নিশ্চয়ই এটি রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে একবারে অবতীর্ণ হয়েছে, অতঃপর তা নক্ষত্রসমূহের অবস্থানের ন্যায় এবং কিস্তিতে কিস্তিতে বিভিন্ন মাস ও দিনে অবতীর্ণ হয়েছে।" আবু শামাহ বলেন: 'রসূলান' অর্থ পর্যায়ক্রমে বা কিস্তিতে, আর 'নক্ষত্রসমূহের অবস্থানের ন্যায়' অর্থ সেগুলোর পতনের স্থানের ন্যায়।
তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এটি রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে একবারে অবতীর্ণ হয়েছে, এরপর নক্ষত্রসমূহের অবস্থানের ন্যায় পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, যার একটির পর অন্যটি ধীরস্থিরভাবে ও কোমলতার সাথে অবতীর্ণ হয়েছে।
এ পরিচ্ছেদে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এগুলো চারটি হাদিস, যার সবগুলোই সহিহ যেমনটি সুয়ূতি বলেছেন। এগুলো ইবনে আব্বাসের ওপর মাওকুফ হাদিস, তবে এগুলোর হুকুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু। কেননা এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, সাহাবীর এমন বক্তব্য যাতে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো সুযোগ নেই এবং তিনি যদি ইসরাঈলী বর্ণনা গ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত না হন, তবে তাঁর বক্তব্যের হুকুম মারফু হিসেবে গণ্য হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'বায়তুল ইজ্জত'-এ কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া গায়েবের সংবাদের অন্তর্ভুক্ত, যা মাসুম (নিষ্পাপ নবী) ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে জানা সম্ভব নয়। আর ইবনে আব্বাস ইসরাঈলী বর্ণনা গ্রহণের জন্য পরিচিত ছিলেন না, ফলে এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা প্রমাণিত হয়েছে।
আর এই অবতীর্ণ হওয়া ছিল একবারে এক রাতে, যা হলো লাইলাতুল কদর যেমনটি আপনি জেনেছেন; কারণ পূর্ববর্তী তিনটি আয়াতের মূলপাঠ থেকে এটিই সরাসরি বোধগম্য হয় এবং আপনার সামনে আমরা যে হাদিসগুলো উপস্থাপন করেছি তাতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। বরং সুয়ূতি উল্লেখ করেছেন যে, কুরতুবী লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের 'বায়তুল ইজ্জত'-এ কুরআন একবারে অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যের (ইজমা) বর্ণনা নকল করেছেন।১ আর এই অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য সম্পর্কে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না এবং তা জানার জন্য আমাদের বাধ্যও করা হয়নি।
প্রবল ধারণা এই যে, এটি কুরআনুল কারীমের মর্যাদা এবং যাঁর ওপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর উচ্চ মর্যাদা প্রদর্শনের নিমিত্তে করা হয়েছে; যাতে সাত আসমানের অধিবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের জন্য সর্বশেষ রাসূলের ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ কিতাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3- ومن بيت العزة نزل به جبريل عليه السلام على قلب محمد بن عبد الله -صلوات الله وسلامه عليه- منجَّمًا في نحو ثلاث وعشرين سنة هدًى للناس، وتبيانًا لكلِّ شيء، يتعلَّق به شأن من شئونهم الدنيوية والأخروية، قال -جلَّ شأنه- في سورة الشعراء:
{وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ، بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} 1.
"والذي يجب الجزم به أن جبريل نزل بألفاظ القرآن المعجِزَة من أول الفاتحة إلى آخر سورة الناس، وتلك الألفاظ هي كلام الله وحده، لا دخل لجبريل ولا لمحمد صلى الله عليه وسلم في إنشائها ولا في ترتيبها، فالألفاظ التي نقرؤها ونكتبها هي من عند الله، وليس لجبريل عليه السلام في هذا القرآن سوى حكايته للرسول صلى الله عليه وسلم، وليس للرسول صلى الله عليه وسلم سوى وعيه وحفظه وتبليغه، ثم بيانه وتفسيره، ثم تطبيقه وتنفيذه"2.
وقد تلقَّاه النبي صلى الله عليه وسلم عن الله بواسطة جبريل عليه السلام بقلبه، إذ هو المالك لجميع جوارحه؛ به يسمع، وبه يعقل، وبه يبصر.
وقد قال الله عز وجل: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ} .
للدلالة على أنَّ ما نزل عليه محفوظ بعناية الله تعالى، وأن الرسول عليه الصلاة والسلام متمكن من تلقيه واستيعابه حفظًا وفهمًا.
"والقلب هو المخاطَبُ في الحقيقية؛ لأنه موضع التمييز والاختيار، وسائر الأعضاء مسخرة له.
يدل على ذلك القرآن والحديث والمعقول، أما القرآن فقوله تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قَلْب} 3.
--------------------------------------------
৩- এবং বাইতুল ইজ্জাহ থেকে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এটি (কুরআন) নিয়ে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড ভাবে মানুষের জন্য হেদায়েত এবং তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর (তার ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) অন্তরে অবতীর্ণ হন। মহামহিম আল্লাহ সুরা আশ-শুআরায় বলেন:
“নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন, আপনার অন্তরে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” ১।
“যে বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা আবশ্যক তা হলো, জিবরাঈল কুরআনের অলৌকিক শব্দাবলি নিয়ে সুরা ফাতিহার শুরু থেকে সুরা নাসের শেষ পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়েছেন। আর সেই শব্দগুলো কেবল আল্লাহর কালাম; এর রচনা বা বিন্যাসে জিবরাঈল কিংবা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো ভূমিকা নেই। সুতরাং আমরা যে শব্দগুলো পাঠ করি ও লিখি তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই। এই কুরআনের ক্ষেত্রে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর কাজ ছিল কেবল তা রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাজ ছিল তা পরিগ্রহ করা, মুখস্থ করা ও পৌঁছে দেওয়া, অতঃপর এর বর্ণনা ও ব্যাখ্যা প্রদান এবং তা প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা।” ২।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার অন্তরের দ্বারা এটি গ্রহণ করেছেন; কারণ অন্তরই হলো সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রক; এর মাধ্যমেই তিনি শ্রবণ করেন, এর মাধ্যমেই উপলব্ধি করেন এবং এর মাধ্যমেই দেখেন।
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে আপনার অন্তরে অবতরণ করেছেন।”
এটি একথার প্রমাণ যে, তার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত এবং রাসুল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তা গ্রহণ করতে এবং হিফজ ও অনুধাবনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে পূর্ণ সক্ষম ছিলেন।
“প্রকৃতপক্ষে অন্তরই হলো মূল সম্বোধিত সত্তা; কারণ এটিই পার্থক্যকরণ ও পছন্দের কেন্দ্রস্থল এবং অন্যান্য সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর অনুগত।
কুরআন, হাদিস এবং যুক্তি এর প্রমাণ দেয়। কুরআনের দলীল হলো আল্লাহর বাণী: ‘নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার অন্তর আছে’।” ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما الحديث: فقوله صلى الله عليه وسلم: "ألا وإن في الجسد مضغة، إذا صلُحَت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب".
وأما المعقول: فإن القلب إذا غُشِّيَ عليه، وقطع سائر الأعضاء لم يحصل له شعور، وإذا أفاق القلب شعر بجميع ما ينزل بالأعضاء من الآفات"1.
هذا ما انتهى إليه علمنا في كيفية التلقي، لا تجاوزه إلى ما لا علم لنا به، ولا قدرة لنا على تحصيله وفهمه.
وقد كان الوحي ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم بكيفيات مختلفة، ويلقي إليه القرآن كما أمره ربه عز وجل، فيسمعه الرسول صلى الله عليه وسلم بأذنَي قلبه، والناس من حوله لا يسمعون شيئًا.
وهذا أمر من أمر الله، وآية من آيات قدرته الباهرة، وسرٌّ من أسراره الخفية، وبرهان على أن رسوله الكريم طراز فريد، له روح ليست كالأرواح البشرية، وله قلب من معدن خاصٍّ يسمع به ويرى ما لا يسمعه غيره ويراه.
--------------------------------------------
আর হাদিস প্রসঙ্গে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যখন তা সংশোধন হয়, তখন পুরো শরীর সংশোধিত হয়, আর যখন তা কলুষিত হয়, তখন পুরো শরীর কলুষিত হয়। জেনে রেখো, সেটি হলো অন্তর।"
আর যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে: যখন অন্তর আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তার কোনো অনুভূতি থাকে না। কিন্তু অন্তর যখন সজাগ হয়, তখন সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর আপতিত সকল বিপদ-আপদ অনুভব করতে পারে।১
ওহী গ্রহণের পদ্ধতির বিষয়ে আমাদের জ্ঞান এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ; আমরা এর বাইরে এমন কিছুর দিকে অগ্রসর হবো না যার জ্ঞান আমাদের নেই এবং যা অর্জন বা অনুধাবন করার সক্ষমতা আমাদের দেওয়া হয়নি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহী বিভিন্ন পদ্ধতিতে নাযিল হতো এবং তাঁর মহান প্রতিপালকের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর নিকট কুরআন পেশ করা হতো; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর অন্তরের কান দিয়ে শুনতেন, অথচ তাঁর আশেপাশে থাকা মানুষজন কিছুই শুনতে পেত না।
এটি আল্লাহর নির্দেশিত একটি বিষয়, তাঁর বিস্ময়কর কুদরতের এক নিদর্শন, তাঁর গোপন রহস্যগুলোর একটি রহস্য এবং এর এক উজ্জ্বল প্রমাণ যে, তাঁর সম্মানিত রাসূল এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী; তাঁর রূহ সাধারণ মানুষের রূহের মতো নয় এবং তাঁর অন্তর এক বিশেষ উপাদানে তৈরি, যার মাধ্যমে তিনি এমন কিছু শুনতে ও দেখতে পান যা অন্য কেউ শুনতে বা দেখতে পায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث السادس: تنجيم القرآنعرفنا أن القرآن الكريم قد نَزَلَ من لدن الحكيم العليم إلى اللوح المحفوظ أولًا، بمعنى: أن الله عز وجل أثبته فيه، كما أثبت كل شيء كان ويكون إلى ما شاء الله جل جلاله، وذلك لحكمة خفيت علينا.
وعرفنا أن القرآن الكريم قد نزل على النبي صلى الله عليه وسلم منجمًا في نحو ثلاث وعشرين سنة، على حسب الوقائع والأحداث، ومقتضيات الأحوال، ولكن هل هو الكتاب الوحيد الذي نزل منجَّمًا؟
ذهب كثير من أهل العلم إلى أن التنجيم خصوصية من خصائص القرآن الكريم، بدليل أن الذين كفروا من أهل مكة وغيرهم قالوا -شاكين ومشككين في صحة نزوله من الله تعالى على محمد صلى الله عليه وسلم: هلَّا نزل هذا القرآن من الله جملة واحدة، كما أنزلت الكتب السابقة، فأبطل الله شبهتهم، وأبان عن الحكمة من إنزال القرآن على وجه الخصوص منجمًا بقوله:
{وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا، وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} 1.
والدليل على أن الكتب السماوية السابقة قد نزلت جملة واحدة، أن الله عز وجل قد عدل عن الجواب على سؤالهم إلى بيان الحكمة من التنجيم، ولو كانت
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআনের পর্যায়ক্রমিক অবতরণআমরা জানতে পেরেছি যে, কুরআনুল কারীম সর্বপ্রথম প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে লওহে মাহফুজে অবতীর্ণ হয়েছে। এর অর্থ হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এতে তা লিপিবদ্ধ করেছেন, যেভাবে তিনি আল্লাহ জাল্লা জালালুহু যা চেয়েছেন সে অনুযায়ী যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে তার সবকিছুই এতে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর তা এমন এক হিকমত বা রহস্যের কারণে যা আমাদের কাছে অপ্রকাশিত।
আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বিভিন্ন ঘটনা, প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী প্রায় তেইশ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে এটিই কি একমাত্র কিতাব যা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে?
অনেক জ্ঞানতাপস এই মত পোষণ করেছেন যে, পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়া কুরআনুল কারীমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর প্রমাণ হলো, মক্কার কাফির এবং অন্যরা—আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় পোষণ করে বলেছিল: কেন এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে একবারে অবতীর্ণ হলো না, যেমনটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছিল? তখন আল্লাহ তাদের সংশয়কে অসার করে দিলেন এবং বিশেষভাবে পর্যায়ক্রমে কুরআন অবতীর্ণ করার হিকমত সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করলেন:
‘আর কাফিররা বলে, কেন তার ওপর কুরআন একবারে নাযিল করা হলো না? আমি এভাবেই নাযিল করেছি যাতে এর মাধ্যমে তোমার অন্তরকে মজবুত করতে পারি এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে ও স্পষ্টভাবে পাঠ করেছি। তারা তোমার কাছে কোনো উদাহরণ নিয়ে এলেই আমি তোমার কাছে সত্য ও উত্তম ব্যাখ্যা পৌঁছে দেই।’ ১।
পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ যে একবারে অবতীর্ণ হয়েছিল তার প্রমাণ হলো, মহান আল্লাহ তাদের প্রশ্নের উত্তরে সেটি অস্বীকার না করে বরং পর্যায়ক্রমিক অবতরণের হিকমত বর্ণনার দিকে ধাবিত হয়েছেন। আর যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الكتب السماوية السابقة نزلت مفرقة لكان يكفي في الردِّ عليهم أن يقول: إن ذلك سنة الله في الكتب التي أنزلها على الرسل السابقة.
والقول بأن الكتب السماوية نزلت جملة واحدة، هو مذهب كثير من رجال العلم.
ويرى القاسمي أنه لم يثبت على وجه قاطع أن الكتب السماوية نزلت جملة واحدة، ويرجِّح أنها نزلت منجَّمة بمقدار مكث النبي صلى الله عليه وسلم، فيقول في تفسيره النفيس المسمَّى بمحاسن التأويل، عند تفسير قوله تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً} .
إلى قوله: {وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا} .
"يذكر المفسرون ههنا أن الآية ردٌّ على الكفرة في طلبهم نزول القرآن جملة، كنزول بقية الكتب جملة، ويرون أن القول بنزول بقية الكتب دفعة صحيح، فيأخذون لأجله في سرِّ مفارقة التنزيل له.
والحال أن القول بنزولها دفعة واحدة لا أصل له، وليس عليه أثارة من علم، ولا يصححه عقل، فإن تفريق الوحي وتمديد مدته بديهي الثبوت لمقدار مكث النبي صلى الله عليه وسلم، إذ ما دام بين ظهراني قومه فالوحي يتوارد تنزله ضرورة، ومن راجع التوراة والإنجيل الموجودين يتجلَّى له ذلك واضحًا لا مرية فيه، وعذر القائل به ظنه أن الآية تعريض بنزول غيره كذلك، وما كلّ كلام معرض به، وإنما الآية حكاية لاقتراح خاص، وتعنّت متفنِّن فيه -والله أعلم".
ورأي القاسمي عندي جدير بالاعتبار، للأسباب الوجيهة التي ذكرها، ولعدم الدلالة في الآية على ما ذهب إليه المفسرون على وجهٍ تطمئن إليه النفس، ولأن حاجة النبيين قاضية بتجدد الوحي على حسب مقتضيات الأحوال، وحاجتهم إلى التثبيت والمواساة، كحاجة نبينا صلى الله عليه وسلم، فقد واجهوا أممًا عاتية لا تقلُّ في ضلالها وغلوائها عن أهل مكة.
পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ যদি খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ হতো, তবে তাদের প্রতিউত্তরে এ কথা বলাই যথেষ্ট হতো যে: এটি পূর্ববর্তী রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি।
আর আসমানি কিতাবসমূহ একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে—এই কথাটি বহু জ্ঞানীর অভিমত।
কাসেমী মনে করেন যে, আসমানি কিতাবসমূহ একযোগে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। তিনি এটিকে প্রাধান্য দেন যে, কিতাবসমূহ নবীদের অবস্থানের সময়কাল অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি তাঁর 'মাহাসিনুত তাবিল' নামক মূল্যবান তাফসিরে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: "আর কাফিররা বলে, কেন তাঁর ওপর কুরআন একযোগে অবতীর্ণ হলো না?"
তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "আর আমি তা ধীরে ধীরে পাঠ করেছি।"
"মুফাসসিরগণ এখানে উল্লেখ করেন যে, এই আয়াতটি কাফিরদের সেই দাবির জবাব যা তারা কুরআনকে অন্যান্য কিতাবের মতো একযোগে অবতীর্ণ করার বিষয়ে করেছিল। তাঁরা মনে করেন যে, অন্যান্য কিতাব একযোগে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি সঠিক। একারণেই তাঁরা কুরআনের অবতরণ পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ার রহস্য আলোচনায় প্রবৃত্ত হন।
অথচ বাস্তবতা হলো, কিতাবসমূহ একযোগে অবতীর্ণ হওয়ার এই কথার কোনো ভিত্তি নেই, এর স্বপক্ষে জ্ঞানের কোনো লেশমাত্র নেই এবং বিবেকও একে সমর্থন করে না। কেননা ওহীর বিভাজন ও এর সময়কাল দীর্ঘ হওয়া তো নবীর অবস্থানের সময়ের দৈর্ঘ্যের কারণে সপ্রমাণিত। কারণ তিনি যতক্ষণ তাঁর জাতির মধ্যে অবস্থান করেন, ততক্ষণ ওহীর আগমন অনিবাৰ্যভাবেই অব্যাহত থাকে। আর যারা বর্তমানে বিদ্যমান তাওরাত ও ইঞ্জিল পর্যালোচনা করবেন, তাদের নিকট বিষয়টি কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর যারা একযোগে অবতীর্ণ হওয়ার কথা বলেছেন তাদের অজুহাত হলো, তারা ধারণা করেছেন যে এই আয়াতে অন্যান্য কিতাবও সেভাবে অবতীর্ণ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অথচ প্রতিটি কথা এমন ইঙ্গিতবহ হয় না। বরং আয়াতটি কেবল একটি বিশেষ প্রস্তাব ও কূটতর্কের বর্ণনা মাত্র—আল্লাহই ভালো জানেন।"
কাসেমীর এই অভিমতটি আমার নিকট বিবেচনার যোগ্য মনে হয়। কারণ তিনি এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তি উপস্থাপন করেছেন এবং মুফাসসিরগণ যা মনে করেছেন আয়াতের মধ্যে সেটির এমন কোনো প্রমাণ নেই যা মনকে আশ্বস্ত করে। এছাড়া নবীদের প্রয়োজনীয়তাও পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী এবং তাঁদের অবিচল রাখা ও সান্ত্বনা দেওয়ার প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য ওহীর মুখাপেক্ষী, যেমনটি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রয়োজন ছিল। কারণ তাঁরাও এমন অবাধ্য জাতিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন যাদের পথভ্রষ্টতা ও সীমালঙ্ঘন মক্কাবাসীদের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكانوا أيضًا في حاجة إلى دفع شبهات المشركين بالوحي الذي يتنزل عليهم، كحاجة نبينا صلى الله عليه وسلم لذلك، فأصول الدين واحدة، وقلوب المشركين متشابهة، فكان تنجيم الكتب السماوية جميعًا أمرًا لا بُدَّ منه شرعًا وعقلًا -والله أعلم.
الحكمة من تنجيم القرآن:
أما الحكمة في نزول القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم منجَّمًا فقد أطلعنا الله عليها في محكم هذا التنزيل.
وهي تتلخص المقاصد الآتية:
1- تثبيت قلب النبي صلى الله عليه وسلم، وتسليته ومواساته، ورفع الحرج عنه، وإزالة ما يعتري صدره من ضيق وحزن، وإدخال السرور عليه الفَيْنَة بعد الفينة، ومده بالقوة التي تدفعه إلى المضي في دعوته، وتبليغ رسالته على خير وجه وأكمله، وتهوِّن عليه ما يلقاه من قومه من أذى وعنت وصدود، وليدفع عنه شبح اليأس كلما حام حوله، واعترض طريقه، لتظل همته دائمًا في الذروة العليا.
قال تعالى: {كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ} 1.
وقال -جل شأنه- في سورة هود: {وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ} 2.
2- ومن أهداف التنجيم أيضًا تيسير حفظ هذا القرآن العظيم على النبي صلى الله عليه وسلم، وعلى أصحابه، وقد كان أكثرهم لا يقرأ ولا يكتب ولا عهد لهم بمثل هذا الكتاب المعجِز، فهو ليس شعرًا يسهل عليهم حفظه، ولا نثرًا يشبه كلامهم، يسهل عليهم نقله وتداوله، وإنما هو قول كريم، ثقيل في معانيه ومراميه، يحتاج المسلم في حفظه وتدبره إلى تريِّثٍ وتؤدة وإنعام نظر.
--------------------------------------------
তাদের ওপর অবতীর্ণ ওহীর মাধ্যমে মুশরিকদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করারও প্রয়োজন ছিল, যেমনটি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল। কারণ দ্বীনের মূলনীতিগুলো অভিন্ন এবং মুশরিকদের অন্তরগুলো পরস্পর সদৃশ। ফলে সমস্ত আসমানী কিতাব খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হওয়া শরীয়ত ও বিবেক উভয় বিচারেই অপরিহার্য ছিল - এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
কুরআন খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হওয়ার হিকমত বা রহস্য:
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এই সুদৃঢ় অবতীর্ণ কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন।
তা নিচের উদ্দেশ্যসমূহে সংক্ষেপিত হয়:
১- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে সুদৃঢ় করা, তাঁকে সান্ত্বনা ও সহমর্মিতা প্রদান করা, তাঁর ওপর থেকে সংকীর্ণতা দূর করা, এবং সময়ে সময়ে তাঁর হৃদয়ে যে সঙ্কোচ ও দুঃখ আসত তা অপসারণ করা; ক্ষণে ক্ষণে তাঁর মাঝে আনন্দ সঞ্চার করা এবং তাঁকে এমন শক্তি জোগানো যা তাঁকে দাওয়াতের কাজে অগ্রসর হতে এবং তাঁর রিসালাতকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচার করতে প্রেরণা দেয়। এছাড়া তাঁর কওমের পক্ষ থেকে তিনি যে কষ্ট, দুর্ভোগ ও বিমুখতার সম্মুখীন হতেন তা তাঁর জন্য সহজ করে দেওয়া, এবং যখনই নিরাশার ছায়া তাঁর চারপাশে ঘুরপাক খেত বা তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত, তা দূর করে দেওয়া; যাতে তাঁর মনোবল সর্বদা উচ্চশিখরে থাকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অনুরূপ (আমি অবতীর্ণ করেছি), যাতে এর মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি} ১।
আর মহান প্রতাপশালী আল্লাহ সূরা হূদ-এ বলেন: {আর রাসূলদের সংবাদ থেকে আমি আপনার কাছে সবকিছু বর্ণনা করছি যার মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি} ২।
২- খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম লক্ষ্য হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের জন্য এই মহান কুরআন মুখস্থ করা সহজতর করা। তাঁদের অধিকাংশ ছিল নিরক্ষর এবং এই ধরনের মুজিযাস্বরূপ কিতাব সম্পর্কে তাঁদের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কারণ এটি কোনো কবিতা নয় যে তাঁদের জন্য মুখস্থ করা সহজ হবে, আর না এটি তাঁদের সাধারণ কথাবার্তার মতো কোনো গদ্য যা তাঁদের জন্য বর্ণনা করা ও চর্চা করা সহজ হবে। বরং এটি এক মহিমান্বিত বাণী, যা এর অর্থ ও লক্ষ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ; এটি মুখস্থ করতে ও অনুধাবন করতে একজন মুসলিমের ধৈর্য, ধীরস্থিরতা ও গভীর মনোযোগের প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال تعالى: {وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا} .
"قال القاشاني: الترتيل هو أن يتخلَّل بين كل نجم وآخر مدة يمكن فيها ترسخه في قلبه، وأن يصير ملكة لا حالًا"1.
وقال جل شأنه: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} 2.
"أي: نزَّلْنَاه مفرقًا منجَّمًا لتقرأه على الناس على مهل وتؤدة وتَثَبُّت، فإنه أيسر للحفظ، وأعون في الفهم ونزلناه تنزيلًا من لدنا على حسب الأحوال والمصالح"3.
3- ومن أهم الأهداف التي أُنْزِلَ من أجلها القرآن مفرَّقًا "التدرج بالأمة في تخليهم عن الرذائل، وتحليهم بالفضائل، والترقي بهم في التشريعات، فلو أنهم أُمِروا بكل الواجبات، ونُهوا عن جميع المنكرات دفعة واحدة لشقَّ عليهم، ولضعُفَت الهمم الصغيرة عن التجاوب والمسايرة.
تمامًا كالطبيب الذي يعطي المريض دواءه على جرعات، ولو أعطاه له مرة واحدة لتحقق أحد أمرين، إما رفض المريض للدواء والصد عنه، وإما القضاء عليه"4.
4- نزل القرآن منجَّمًا لمواكبة الحوادث، وهي متتجددة متعددة.
فكان كلما جَدَّ جديد من الأمور الصحية التي تتعلق بمصالح العباد في العاجل والآجل، جاء حكم الله فيها، فيرسخ في النفوس، وتتجاوب معه وترتضيه.
وفي القرآن آيات كثيرة نزلت على سبب أو أكثر، إذا جهل سببها لا يعرف حكمها، على ما سيأتي بيانه في أسباب النزول، فكم من قضية توقَّفَ النبي
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি তা সুবিন্যস্তভাবে পাঠ করেছি।}।
"আল-কাশানি বলেছেন: তারতিল (সুবিন্যস্ত পাঠ) হলো প্রতিটি অংশ অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে এমন বিরতি রাখা যাতে তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হওয়া সম্ভব হয় এবং এটি যেন একটি স্থায়ী স্বভাবে পরিণত হয়, কেবল সাময়িক অবস্থা নয়"১।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি কুরআনকে অবতীর্ণ করেছি খণ্ড খণ্ড করে, যাতে আপনি তা মানুষের কাছে পাঠ করেন ধীরে ধীরে এবং আমি তা অবতীর্ণ করেছি পর্যায়ক্রমে।} ২।
"অর্থাৎ: আমি তা অবতীর্ণ করেছি পৃথক পৃথক ও খণ্ড খণ্ড করে, যাতে আপনি মানুষের নিকট তা পাঠ করতে পারেন ধীরস্থিরভাবে, গাম্ভীর্যের সাথে এবং সুনিশ্চিতভাবে। কেননা তা মুখস্থ করার জন্য অধিকতর সহজ এবং উপলব্ধির ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক। আর আমি তা আমার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করেছি পর্যায়ক্রমে, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও জনকল্যাণ অনুযায়ী"৩।
৩- কুরআন পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো: "উম্মাহর মন্দ স্বভাব বর্জন ও সচ্চরিত্র অর্জনে পর্যায়ক্রমিক ধারা বজায় রাখা এবং শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে তাদের ক্রমশ উন্নত করা। কারণ, যদি তাদের সবকটি ওয়াজিব পালনের নির্দেশ দেওয়া হতো এবং সমস্ত মন্দ কাজ থেকে একযোগে নিষেধ করা হতো, তবে তা তাদের জন্য কষ্টকর হতো এবং দুর্বল সংকল্পগুলো এই আহ্বানে সাড়া দিতে ও তাল মেলাতে অক্ষম হতো।
ঠিক যেমন একজন চিকিৎসক রোগীকে ঔষধ দেন নির্দিষ্ট মাত্রায়। যদি তিনি তাকে একবারে সব ঔষধ দিয়ে দেন, তবে দুটি বিষয়ের একটি ঘটবে: হয় রোগী ঔষধ গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে ও বিমুখ হবে, অথবা এটি তাকে ধ্বংস করে ফেলবে"৪।
৪- কুরআন খণ্ড খণ্ড আকারে অবতীর্ণ হয়েছে সমসাময়িক ঘটনাবলির সাথে তাল মেলাতে, আর এই ঘটনাবলি ছিল সর্বদা নতুন ও বহুমুখী।
ফলে যখনই বান্দাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো নতুন পরিস্থিতি উদ্ভূত হতো, তখনই সে বিষয়ে আল্লাহর বিধান অবতীর্ণ হতো। এতে তা অন্তরে বদ্ধমূল হতো এবং তারা তার সাথে একাত্ম হতো ও তা সানন্দে গ্রহণ করে নিত।
আর কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা এক বা একাধিক কারণে অবতীর্ণ হয়েছে। যদি সেই কারণটি অজানা থাকে, তবে তার বিধানও সঠিকভাবে জানা যায় না, যেমনটি অচিরেই ‘আসবাবুন নুযূল’ (অবতরণের প্রেক্ষাপট) আলোচনায় বিস্তারিত আসবে। কত এমন বিষয় রয়েছে যে ক্ষেত্রে নবী থমকে গিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন - মুহাম্মাদ বাকর ইসমাঈল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
صلى الله عليه وسلم- في البتِّ فيها، حتى نزل في شأنها قرآن يُتْلَى، فكان ما نزل فيها تقريرًا شافيًا، وحكمًا عادلًا، لا يستطيع أحدٌ رده، ولا يسع المسلمين إلّا قبوله والرضى به.
5- الردّ على شبه المشركين، ودحض حجج المبطلين؛ إحقاقًا للحقِّ، وإبطالًا للباطل، كما قال تعالى:
{وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} .
وفي ذلك لكيدهم في نحروهم أولًا بأوَّل، حتى يتمادوا في غيهم وإضلالهم لضعفاء النفوس منهم، وحتى لا يتأثَّر أحد من المسلمين بأقوالهم، فينعكس ذلك على إيمانه وطاعته لله رب العالمين، والقلوب تحتاج دائمًا إلى تطهير من الشبهات والوساوس الشيطانية، والهواجس النفسية، فكان القرآن الكريم كفيلًا بذلك كله، كما قال -جل شأنه:
{وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا} 1.
6- وهناك أمر آخر يغفل عنه كثيرٌ من أهل العلم في حكمة التنجيم، وهو الدلالة على الإعجاز البياني، والتشريعي للقرآن، فإنه -وإن كان قد نزل مفرَّقًا في نحو ثلاث وعشرين سنة، وفي أوقات متباينة، وأحكام مختلفة، وحوادث متعددة، قد رُتِّبَ ترتيبًا عجبًا لا ترى فيه بترًا، ولا خللًا بين آياته، ولا تنافرًا بين ألفاظه، ولا تناقضًا في معانيه، ولا اختلافًا في مقاصده ومراميه.
{كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} 2.
إنه كلام الله تعالى قد استوت ألفاظه ومعانيه على محجة بيضاء، لا يعرف الناس لها عوجًا ولا أمتًا، وانتظمت في عقدٍ فريد لا يبلغ كلام أحد شأوه، ولا يعرف كنه جلاله وجماله إلا من أنزله.
--------------------------------------------
—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—তাতে চূড়ান্ত ফয়সালা করতে, যতক্ষণ না সেই বিষয়ে তিলাওয়াতযোগ্য কুরআন অবতীর্ণ হয়। ফলে যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা ছিল একটি সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত এবং একটি ন্যায়সঙ্গত হুকুম, যা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা কারো ছিল না এবং তা গ্রহণ ও তাতে সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া মুসলমানদের আর কোনো উপায় ছিল না।
৫- মুশরিকদের সংশয়ের জবাব প্রদান এবং বাতিলপন্থীদের দলীলসমূহ খণ্ডন করা; সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং মিথ্যাকে বিলুপ্ত করতে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“তারা তোমার কাছে কোনো উদাহরণ (বা সমস্যা) নিয়ে আসে না যার সঠিক সত্য ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করি না।”
আর এর মধ্যে তাদের ষড়যন্ত্রকে তাদেরই বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে তারা তাদের বিভ্রান্তি ও দুর্বলচিত্তদের পথভ্রষ্ট করার কাজে লিপ্ত হতে না পারে এবং যাতে মুসলমানদের কেউ তাদের কথায় প্রভাবিত না হয়, অন্যথায় এর প্রভাব তাদের ঈমান ও রব্বুল আলামীনের আনুগত্যের ওপর পড়বে। আর অন্তরসমূহ সর্বদা সংশয়, শয়তানি কুমন্ত্রণা এবং মনের কুচিন্তা থেকে পবিত্র হওয়ার মুখাপেক্ষী থাকে। মহান কুরআন এই সবকিছুর জন্য যথেষ্ট ছিল, যেমন মহান সত্তা বলেছেন:
“আমি কুরআন থেকে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” ১।
৬- কুরআনের ক্রমিক অবতীর্ণ হওয়ার (তানজীম) হিকমতের বিষয়ে আরও একটি বিষয় রয়েছে যা অনেক আলিমই এড়িয়ে যান, আর তা হলো কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও বিধানিক অলৌকিকত্বের প্রমাণ। কেননা এটি—যদিও দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন বিধানসহ এবং বহুমুখী ঘটনার প্রেক্ষিতে খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, তবুও এটি এমন এক বিস্ময়কর বিন্যাসে সুবিন্যস্ত যে এর আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো বিচ্ছিন্নতা বা ত্রুটি দেখা যায় না, এর শব্দমালার মধ্যে কোনো অসংগতি নেই, এর অর্থের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই এবং এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
“এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।” ২।
নিশ্চয় এটি আল্লাহ তাআলার কালাম যার শব্দ এবং অর্থসমূহ এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর উঠে গেছে, যাতে মানুষ কোনো বক্রতা বা অসমতা খুঁজে পায় না। এটি এক অনন্য সূত্রে সুসংবদ্ধ যে কোনো মানুষের কথা এর উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে না এবং এর মহিমা ও সৌন্দর্যের প্রকৃত রহস্য তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না যিনি এটি অবতীর্ণ করেছেন।
--------------------------------------------