(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تجريد القواعد والفوائد الأصولية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: تجريد القواعد والفوائد الأصولية
مؤلف الأصل: أبو الحسن علاء الدين ابن اللحام البعلي (ت 803 هـ)
جرَّده: عبد العزيز بن عدنان العيدان
تقديم: خالد بن علي المشيقح
الناشر: ركائز للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 192
أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الأولى 1443
তাজরিদ আল-কাওয়াইদ ওয়াল-ফাওয়াইদ আল-উসুলিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ
কিতাব: তাজরিদ আল-কাওয়াইদ ওয়াল-ফাওয়াইদ আল-উসুলিয়্যাহ
মূল লেখক: আবু আল-হাসান আলাউদ্দীন ইবনুল লাহহাম আল-বালি (ওফাত (ت) ৮০৩ হিজরি)
সারসংক্ষেপ করেছেন: আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-ঈদান
উপস্থাপনা: খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ
প্রকাশক: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
শামিলা লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تجريد
القواعد والفوائد الأصولية
لأبي الحسن علاء الدين ابن اللحام البعلي
ت: 803 هـ
تقديم
أ. د. خالد بن علي المشيقح
جرَّده
د. عبدالعزيز بن عدنان العيدان
তাজরীদ (সারসংক্ষেপ)
আল-কাওয়ায়েদ ওয়াল-ফাওয়ায়েদ আল-উসূলিয়্যাহ
আবুল হাসান আলাউদ্দীন ইবনুল লাহহাম আল-বালি বিরচিত
মৃত্যু: ৮০৩ হিজরি
উপস্থাপনায়
প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ
সংক্ষেপ করেছেন
ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.
وبعد:
فقد قرأت في كتاب (تجريد القواعد والفوائد الأصولية) للشيخ عبد العزيز بن عدنان العيدان، فألفيته مختصرًا مفيدًا اجتهد مختصره في تجريده من الخلاف والاقتصار على أصول القواعد وأمثلتها؛ ليسهل تناوله من قبل طلبة العلم والإفادة من أصله، ويمكن تناوله في الدروس العلمية، نفع ا لله به كما نفع بأصله، وبالله التوفيق.
كتبه
د/ خالد بن علي المشيقح
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর:
আমি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান রচিত ‘তাজরীদুল কাওয়ায়িদ ওয়াল ফাওয়ায়িদিল উসুলিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থটি পাঠ করেছি। আমি এটিকে একটি উপকারী সংক্ষিপ্তসার (مختصر) হিসেবে পেয়েছি, যেখানে সংক্ষেপকারী একে মতভেদ (خلاف) থেকে মুক্ত রাখতে এবং কেবল মূলনীতিসমূহের মৌলিক ভিত্তি (أصول) ও সেগুলোর উদাহরণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে সচেষ্ট হয়েছেন; যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এটি গ্রহণ করা এবং এর মূল কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। এটি ইলমি দরসসমূহে পাঠদান করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকৃত করুন যেমনটি তিনি এর মূল কিতাব দ্বারা করেছেন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
লিখেছেন
ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي فقَّه من شاء من عباده وعلَّم، وهدى من استهداه من خلقه وفهَّم، والصلاة والسلام على مَنْ به أكمل الدين وتمَّم، آتاه جوامع الكلم، فكان كلامه أصولاً وقواعد لمن تفقَّه وتعلَّم، وعلى آله وأصحابه والتابعين بإحسان ممن تأخر منهم أو تقدَّم.
وبعد:
فإنه يَعلم من تبصر بنور العلم وشنَّف سمعه بكلام أهله؛ ما للقواعد الأصولية من ضرورة لكل متفقه، إذ إنها تَنْظِم له منثورَ المسائل في سلك واحد، وترشده لأحكام النوازل وَفْق منهج متبع، وتبصره بأحكام الشريعة على سَنَن من سبق من الأئمة الأعلام، بلا وَكْسٍ ولا شَطَط، وأحسن الشوكاني إذ يقول عن علم أصول الفقه (هو العلم الذي تأوي إليه الأعلام، و الملجأ الذي يُلجأ إليه عند تحرير المسائل، وتقرير الدلائل في غالب الأحكام)
(1).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দ্বীনি প্রজ্ঞা ও শিক্ষা দান করেছেন; আর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যারা হিদায়াত প্রার্থনা করেছে, তাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন ও সমঝ দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণতা ও সমাপ্তি লাভ করেছে। তাঁকে দান করা হয়েছে সংক্ষেপিত অর্থপূর্ণ কথা (جوامع الكلم), ফলে তাঁর বাণীসমূহ ছিল সেই সব জ্ঞানান্বেষীদের জন্য মূলনীতি (أصول) ও নিয়ম (قواعد) স্বরূপ যারা দ্বীনি বুঝ ও শিক্ষা অর্জন করে। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের প্রতি—তাঁদের মধ্যে যারা গত হয়েছেন কিংবা যারা পরে এসেছেন সকলের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই যারা ইলমের নূর দ্বারা অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছেন এবং বিজ্ঞজনদের বক্তব্যের মাধ্যমে নিজ কর্ণকে সুশোভিত করেছেন, তারা অবগত আছেন যে প্রত্যেক গবেষকের জন্য উসূলি নীতিমালা (القواعد الأصولية) কতটা অপরিহার্য। কেননা, এটি তার সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাসআলাসমূহকে একটি সুশৃঙ্খল সূত্রে গেঁথে দেয় এবং একটি অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার (نوازل) বিধানের ক্ষেত্রে তাকে পথনির্দেশ করে। এটি তাকে প্রখ্যাত পূর্বসূরি ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণে কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা বাড়াবাড়ি ছাড়াই শরীয়তের বিধানসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত করে। আর ইমাম শাওকানী যথার্থই বলেছেন যখন তিনি উসূলে ফিকহ শাস্ত্র (علم أصول الفقه) প্রসঙ্গে বলেন— "এটি এমন এক বিদ্যা যার দিকে বরেণ্য আলিমগণ প্রত্যাবর্তন করেন এবং মাসআলাসমূহ বিশ্লেষণ ও অধিকাংশ বিধানের ক্ষেত্রে দলীল সুসংগত করার সময় এটিই প্রধান আশ্রয়স্থল।"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وممن شمَّر عن ساعده، وأضفى على علم أصول الفقه حُسناً بريشته: الإمام أبو الحسن علي بن محمد بن علي بن عباس البعلي الحنبلي، المعروف بابن اللحام، المتوفى سنة 803 هـ رحمه الله تعالى، فقد ألَّف كتابه القواعد، وأتبعه بجملة من الفوائد، وأردف كل قاعدة جملة من المسائل الشوارد، فيقول ملخصاً موضوع كتابه: (استخرت الله في تأليف كتابٍ أذكر فيه قواعد وفوائد أصولية، وأردف كل قاعدة مسائل تتعلق بها من الأحكام الفروعية)
(1).
ولما رأيت الكتاب على نفاسته وما اشتمل عليه من درر منثورة في أثنائه قد عزف عنه جملة من طلبة العلم، بسبب ما صُبِغ به الكتاب من التطويل، وكثرة التفريعات والاستطرادات الأصولية والتعريجات الفقهية التخصصية، حاولت بجهد المقل أن أجرِّده؛ ليسهل تناوله والإفادة منه، والله المستعان.
--------------------------------------------
যারা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন এবং আপন লেখনীর শৈলী দিয়ে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রে অনন্য সৌন্দর্য দান করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন: ইমাম আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্বাস আল-বালি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুল লাহহাম নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮০৩ হিজরি (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর ‘আল-কাওয়ায়িদ’ নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং এতে বেশ কিছু ফায়দা (فوائد) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এছাড়া প্রতিটি মূলনীতির (قاعدة) সাথে সংশ্লিষ্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন মাসআলাও তিনি জুড়ে দিয়েছেন। তিনি তাঁর কিতাবের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ করে বলেন: (আমি একটি কিতাব রচনার ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি, যেখানে আমি উসুলি মূলনীতি (قواعد أصولية) ও ফায়দাগুলো (فوائد أصولية) উল্লেখ করব এবং প্রতিটি মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট শাখাগত বিধানের (الأحكام الفروعية) মাসআলাসমূহ বর্ণনা করব)
(১)।
আমি যখন দেখলাম যে, কিতাবটি অত্যন্ত মূল্যবান হওয়া এবং এর পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা জ্ঞানগর্ভ মুক্তাসমূহ থাকা সত্ত্বেও বহু ইলম অন্বেষণকারী এটি থেকে বিমুখ হয়ে আছেন—যার কারণ হলো কিতাবটির দীর্ঘ কলেবর এবং এতে উসুলি শাখা-প্রশাখা, প্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ফিকহি সূক্ষ্মতার আধিক্য—তখন আমি আমার যৎসামান্য সামর্থ্য অনুযায়ী কিতাবটিকে সংক্ষেপ (تجريد) করার চেষ্টা করেছি; যাতে তা আয়ত্ত করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وخلاصة عملي فيه:
• أني ذكرت جميع القواعد والفوائد المذكورة في الكتاب الأصل.
• واختصرت ما فصَّله في القواعد الأصولية.
• وأبقيت سائر المسائل الأصولية المتعلقة بالقاعدة الأم.
• وأبقيت سائر الأقوال التي ذكرها المؤلف في القواعد، مع حذف نسبة الأقوال إلى قائليها وتعليلاتهم غالباً.
• وأما ما يتعلق بالتفريعات الفقهية للقاعدة، فالقاعدة التي ذكر لها المؤلف أقل من عشرة فروع ذكرتها جميعاً، والقاعدة التي زادت فروعها عن العشرة اقتصرت على عشرة منها فقط.
• كما أني اختصرت تلك الفروع بما يتناسب مع القاعدة الأصولية.
• وما جزم به المؤلف من الفروع، أو قدَّمه، أو صحَّحه، وكان موافقًا لمذهب المتأخرين من الحنابلة فلا أتعرض له اختصارًا، وإن أطلق الخلاف فيها بينت المذهب عند المتأخرين، وإن جزم بقول أو صححه وكان مذهب المتأخرين مخالفًا له نبَّهت عليه.
• وكان اعتمادي في بيان مذهب المتأخرين على ما في الإنصاف للمرداوي، والإقناع للحجاوي، ومنتهى الإرادات
এ কাজে আমার সারসংক্ষেপ হলো:
• আমি মূল গ্রন্থে উল্লিখিত সকল নিয়ম এবং উপকারিতা উল্লেখ করেছি।
• তিনি মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولي) নিয়মাবলীতে যে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, আমি তা সংক্ষিপ্ত করেছি।
• আমি প্রধান নিয়মের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولي) বিষয়াবলি বহাল রেখেছি।
• আমি নিয়মগুলোর ক্ষেত্রে লেখক কর্তৃক বর্ণিত সকল বক্তব্য বহাল রেখেছি, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বক্তব্যের প্রবক্তাদের নাম এবং তাদের কারণ দর্শানোর বিষয়টি বাদ দিয়েছি।
• নিয়মের ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলোর ক্ষেত্রে লেখক যে নিয়মটির জন্য দশটির কম শাখা উল্লেখ করেছেন, আমি তার সবগুলোই উল্লেখ করেছি; আর যে নিয়মের শাখা দশটির বেশি ছিল, আমি তা কেবল দশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি।
• এছাড়া আমি সেই শাখা-প্রশাখাগুলোকে মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولي) নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংক্ষেপ করেছি।
• লেখক যে শাখাগুলোর ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন, কিংবা অগ্রাধিকার দিয়েছেন অথবা বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন এবং তা যদি পরবর্তী যুগের হাম্বলি মাযহাবের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে সংক্ষেপ করার খাতিরে আমি তা আলোচনা করিনি। আর যদি তিনি মতপার্থক্য অনিষ্পন্ন রেখে থাকেন, তবে আমি পরবর্তী যুগের মাযহাব অনুযায়ী তা স্পষ্ট করেছি। আর যদি তিনি কোনো বক্তব্য দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন কিংবা বিশুদ্ধ (صحيح) বলেন এবং পরবর্তী যুগের মাযহাব তার বিপরীত হয়, তবে আমি সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি।
• পরবর্তী যুগের মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার নির্ভরতা ছিল মারদাউয়ি রচিত আল-ইনসাফ, হুজাউয়ি রচিত আল-ইকনা এবং মুনতাহাল ইরাদাত গ্রন্থের ওপর।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
للفتوحي، حيث استقر عند المتأخرين أن ما اتفقت عليه هذه الثلاثة هي المذهب.
ومن الشِّيَم نسبة الفضل لأهله، فالفضل أولاً لله تعالى، ثم لمحقِّقَي كتاب القواعد، الشيخين الفاضلين: عايض بن عبدالله بن عبدالعزيز آل عزيز الشهراني، وناصر بن عثمان بن عمير الغامدي، فلقد أفدت من تحقيقهما وحواشيهما، واعتمدت على نسختهما في هذا التجريد، فاللهم تقبل عملهما.
وختامًا أقول ما قال غيري ممن سبقني فضلاً وعلماً وعصرًا، إن رأيتَ خللاً - وأجزم أنك لاقٍ - فأرشدني وادعُ الله لي بالمغفرة، فإني أسأل الله أن يجنبني وإياك أسباب الزيغ والزلل، ثم تذكر أن الله أبى العصمة لكتاب غير كتابه، والمنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه.
والحمد لله في الابتداء والانتهاء وفي الأثناء.
وجرَّده
عبد العزيز بن عدنان العيدان
1435 هـ - 2014 م
আল-ফুতুহী-এর বক্তব্য অনুযায়ী; কারণ পরবর্তী যুগের (المتأخرين) আলেমদের নিকট এটি স্থির হয়েছে যে, এই তিনজনের ঐকমত্যই হলো মাযহাব।
যোগ্য ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা মহৎ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং সকল ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রথমত মহান আল্লাহর জন্য, অতঃপর 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থের দুই বিদগ্ধ মুহাক্কিক: শায়খ আয়েয বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আযীয আল আযীয আশ-শাহরানি এবং শায়খ নাসের বিন উসমান বিন উমাইর আল-গামিদির জন্য। আমি তাঁদের সম্পাদিত পাণ্ডুলিপি ও টীকা থেকে উপকৃত হয়েছি এবং এই সারসংক্ষেপ (تجريد) তৈরির ক্ষেত্রে তাঁদের সংস্করণটির ওপর নির্ভর করেছি। হে আল্লাহ! আপনি তাঁদের আমল কবুল করুন।
পরিশেষে আমি তাই বলছি যা ফযিলত, ইলম ও সময়ের বিচারে আমার পূর্বসূরিগণ বলে গেছেন—যদি আপনি কোনো ত্রুটি দেখতে পান (আর আমি নিশ্চিত যে আপনি তা পাবেন), তবে আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে ও আপনাকে সত্য বিচ্যুতি ও পদস্খলনের কারণসমূহ থেকে দূরে রাখেন। এরপর মনে রাখবেন, আল্লাহ তাঁর নিজ কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ভুল-ত্রুটিমুক্ত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। আর সেই ব্যক্তিই প্রকৃত ইনসাফকারী, যে কোনো মানুষের অজস্র সঠিক কাজের ভিড়ে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেয়।
শুরুতে, শেষে এবং মাঝখানে—সর্বাবস্থায় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
সারসংক্ষেপ করেছেন
আব্দুল আযীয বিন আদনান আল-ঈদান
১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
القاعدة الأولى
الفقه: هو العلم بالأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية بالاستدلال.
وغالب الفقه مظنون، ولكن عُبِّر هنا بالعلم، لأنه يجب العمل بالمظنون كما يجب في المقطوع.
وإذا تقرر هذا، فيتفرع على العمل بالظن فروع كثيرة، ولم يَطَّرِد أصل أصحابنا في ذلك، ففي بعض الأماكن قالوا: يعمل بالظن، وفي بعضها قالوا: لا بد من اليقين.
وطرد أبو العباس ابن تيمية أصله وقال: (يعمل بالظن في عامة أمور الشرع)
(1).
• فروع القاعدة
(2):
الأولى: إذا غلب على ظن المصلي دخول الوقت؛ فله العمل به إذا لم يكن له سبيل إلى العلم، لغيم ونحوه.
الثانية: المستجمر إذا أتى بالعدد المعتبر؛ فإنه يكتفي بغلبة الظن في زوال النجاسة.
--------------------------------------------
প্রথম নিয়ম
ফিকহ: এটি হলো বিস্তারিত দলিল (الأدلة التفصيلية) থেকে দলিলের ভিত্তিতে (بالاستدلال) প্রাপ্ত শরয়ি উপ-বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية الفرعية) সম্পর্কিত জ্ঞান (العلم)।
ফিকহের অধিকাংশ বিষয়ই ধারণাপ্রসূত (مظنون), তবে এখানে 'জ্ঞান' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে; কারণ অকাট্য (المقطوع) বিষয়ের ওপর আমল করা যেমন আবশ্যক, ধারণাপ্রসূত (مظنون) বিষয়ের ওপর আমল করাও তেমনি আবশ্যক।
যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন ধারণার (الظن) ওপর আমল করার বিষয়টি থেকে অনেক শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। এই ক্ষেত্রে আমাদের (মাযহাবের) আলেমদের মূলনীতি সব সময় একরূপ ছিল না; কোনো কোনো স্থানে তাঁরা বলেছেন: ধারণার (الظن) ওপর আমল করা হবে, আবার কোনো কোনো স্থানে তাঁরা বলেছেন: অবশ্যই নিশ্চিত জ্ঞান (اليقين) থাকতে হবে।
আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর মূলনীতিকে সর্বত্র প্রয়োগ করেছেন এবং বলেছেন: "শরয়ি সাধারণ বিষয়াবলিতে ধারণার (الظن) ওপর আমল করা হবে"
(১)।
• নিয়মের শাখাসমূহ
(২):
প্রথম: যদি মুসাল্লির প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয় যে ওয়াক্ত প্রবেশ করেছে, তবে তাঁর জন্য সে অনুযায়ী আমল করা বৈধ যদি মেঘ বা এই জাতীয় কারণে নিশ্চিতভাবে জানার কোনো পথ না থাকে।
দ্বিতীয়: ইস্তিঞ্জায় পাথর ব্যবহারকারী ব্যক্তি যদি শরয়ি নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করেন, তবে নাপাকি (النجاسة) দূর হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রবল ধারণাই (غلبة الظن) যথেষ্ট হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثالثة: ما لو كان معه مال حلال وحرام، وجهل قدر الحرام؛ تصدق بما يغلب على ظنه أنه حرام.
الرابعة: إذا شك في طلوع الفجر في رمضان؛ فإنه يباح له الأكل حتى يستيقن طلوعه.
الخامسة: لا يصح بيع ما قُصد به الحرام؛ كبيع العصير لمن يتخذه خمرًا، ومحله: إذا علم ذلك.
وجرى أبو العباس ابن تيمية على أصله: أنه يكفي الظن.
(1)السادسة: إذا شك في عدد الطلاق، أو عدد الرضعات؛ بني على اليقين.
السابعة: الشهادة، هل تجوز بغلبة الظن، أم لا بد من اليقين
(2)؟
--------------------------------------------
তৃতীয় (বিষয়): যদি কারো নিকট হালাল ও হারাম উভয় প্রকারের সম্পদ থাকে এবং হারামের পরিমাণ অজ্ঞাত থাকে; তবে সে এমন পরিমাণ সদকা করবে যা তার প্রবল ধারণায় (غلبة الظن) হারাম বলে মনে হয়।
চতুর্থ: রমজান মাসে যদি সুবহে সাদেক উদিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হয়; তবে তার জন্য পানাহার করা বৈধ যতক্ষণ না সে এর উদিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত (يقين) হয়।
পঞ্চম: যা দিয়ে হারামের সংকল্প করা হয় তা বিক্রয় করা শুদ্ধ হবে না; যেমন রস বিক্রয় করা এমন ব্যক্তির নিকট যে তা দিয়ে মদ তৈরি করবে, আর এর ক্ষেত্র হলো: যখন সে বিষয়টি অবগত থাকে।
আর আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর মূলনীতির (أصل) ওপর ভিত্তি করে অভিমত দিয়েছেন যে: ধারণা (ظن) হওয়াই যথেষ্ট।
(১)ষষ্ঠ: যদি তালাকের সংখ্যা বা দুগ্ধপানের (رضاع) সংখ্যার বিষয়ে সন্দেহ হয়; তবে তা নিশ্চিতের (يقين) ওপর ভিত্তি করতে হবে।
সপ্তম: সাক্ষ্যদান (شهادة); এটি কি প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে জায়েজ, নাকি নিশ্চিত (يقين) হওয়া আবশ্যক
(২)?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الثامنة: فرض الكفاية واجب على الجميع، ويسقط بفعل البعض، فإن غلب على ظن جماعة أن غيرهم يقوم بذلك؛ سقط عنهم.
التاسعة: يتعين تقييد إباحة النظر إلى المخطوبة بمن إذا خطبها غلب على ظنه إجابته، ومتى غلب على ظنه عدم الإجابة لم يجز.
العاشرة: لا يجوز الإقدام على فعلٍ لا يعلم جوازه
(1).
ويتوجه: يجوز له الإقدام إذا ظن جوازه.
--------------------------------------------
অষ্টম: ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) সকলের ওপর ওয়াজিব (واجب), এবং কয়েকজনের পালনের মাধ্যমে তা সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। যদি একদল মানুষের প্রবল ধারণা (غلب على ظن) হয় যে অন্য কেউ তা পালন করছে, তবে তাদের ওপর থেকেও তা রহিত হয়ে যায়।
নবম: বিবাহপ্রস্তাবিত নারীকে দেখার বৈধতাকে (إباحة) কেবল সেই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করা আবশ্যক যেখানে প্রস্তাবকারীর প্রবল ধারণা (غلب على ظنه) থাকে যে তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। আর যখন তার প্রবল ধারণা (غلب على ظنه) হয় যে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না, তখন দেখা জায়েজ (يجوز) নয়।
দশম: কোনো কাজের বৈধতা (جواز) না জেনে তাতে প্রবৃত্ত হওয়া জায়েজ (يجوز) নয়
(১)।
এবং অভিমত হলো: যদি সে কাজটির বৈধতা (جواز) সম্পর্কে ধারণা (ظن) পোষণ করে, তবে তার জন্য তাতে প্রবৃত্ত হওয়া জায়েজ (يجوز)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
القاعدة الثانيةشرط التكليف: العقل، وفهم الخطاب.
فلا تكليف على صبي غير مميز، ولا مجنون
(1).
وأما الصبي المميز، فالجمهور: على أنه ليس بمكلف، وهو الصحيح من المذهب.
وحكي عن أحمد رواية: بتكليفه؛ لفهمه الخطاب.
وعنه: يكلف المراهق.
• فرع: اختلف أصحابنا في سن التمييز:
فالأكثر: على أنه سبع سنين.
وقيل: المميز الذي يفهم الخطاب ويرد الجواب، ولا ينضبط بسن، بل يختلف باختلاف الأفهام
(2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মূলনীতিশরয়ী বিধান অর্পিত হওয়ার (تكليف) শর্ত: বিবেক (عقل) এবং সম্বোধন অনুধাবন করা.
সুতরাং বিচারবুদ্ধিহীন (غير مميز) বালক এবং উন্মাদের (مجنون) ওপর কোনো শরয়ী বিধান অর্পিত (تكليف) হবে না
(১).
তবে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন (مميز) বালকের ক্ষেত্রে অধিকাংশ (جمهور) আলিমের মত হলো: সে শরয়ী বিধানের দায়বদ্ধ (مكلف) নয়; আর এটিই মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত।
ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত হয়েছে যে: সে মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ; কারণ সে সম্বোধন অনুধাবন করতে সক্ষম।
তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক মতানুসারে: বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর (مراهق) মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ হবে।
• আনুষঙ্গিক মাসআলা: আমাদের (হাম্বলি মাযহাবের) ফকিহগণ তামিয বা বিচারবুদ্ধি জন্মানোর বয়সের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন:
অধিকাংশের মতে: এটি সাত বছর বয়স।
অন্য মতে: বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন (مميز) সেই ব্যক্তি যে সম্বোধন অনুধাবন করে এবং উত্তর দিতে পারে; এটি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বোধশক্তির ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
• فرع: ما فعله المميز من العبادات، فإنه يثاب عليه وثوابه له.
• مسائل تتعلق بالتمييز
(1):
الأولى: إذا جامعَ أو جُومعَ، وكان مثله يطأ أو يوطأ؛ لزمه الغسل.
(2)الثانية: لا تجب عليه الصلاة، وعنه: تجب عليه، وعنه: تجب على من بلغ عشراً، وعنه: تجب على المراهق
(3).
الثالثة: أذانه للبُلَّغ، هل يجزئ؟ فيه روايتان
(4).
وقال أبو العباس ابن تيمية: الأشبه أن الأذان الذي يُسقِط الفرضَ عن أهل القرية، ويعتمد في وقت الصلاة والصيام؛ لا يجوز أن يباشره صبي قولاً واحداً، ولا يسقط الفرض ولا
--------------------------------------------
• অনুচ্ছেদ: বুদ্ধিদীপ্ত শিশু (مميز) ইবাদতের মধ্য থেকে যা কিছু করে, সে জন্য তাকে সওয়াব প্রদান করা হবে এবং সেই সওয়াব তারই প্রাপ্য হবে।
• বুদ্ধিদীপ্ত হওয়া (تمييز) সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ
(1):
প্রথমত: যদি সে সহবাস করে অথবা তার সাথে সহবাস করা হয়, এবং তার সমবয়সী কেউ সহবাস করতে সক্ষম হয়; তবে তার জন্য গোসল করা আবশ্যক (لازم) হয়ে পড়ে।
(2)দ্বিতীয়ত: তার ওপর নামাজ ওয়াজিব (واجب) নয়। তবে ইমাম আহমদ হতে বর্ণিত (عنه) আছে যে: তার ওপর তা ওয়াজিব (واجب); অন্য বর্ণনামতে: যার বয়স দশ বছর পূর্ণ হয়েছে তার ওপর ওয়াজিব (واجب); আবার অন্য বর্ণনামতে: বয়ঃসন্ধির নিকটবর্তী (مراهق) ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (واجب)
(3)।
তৃতীয়ত: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তার আজান দেওয়া কি যথেষ্ট (مجزي) হবে? এ বিষয়ে ইমাম আহমদ হতে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে
(4)।
আবু আল-আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ মত হলো যে আজান গ্রামবাসীর ওপর থেকে ফরজ (فرض) দায় মুক্ত করে এবং নামাজ ও রোজার সময়ের ব্যাপারে যার ওপর নির্ভর করা হয়; সর্বসম্মতিক্রমে (قولاً واحداً) কোনো শিশুর পক্ষে তা সম্পাদন করা জায়েজ (جائز) নয়, আর এতে ফরজ (فرض) দায় মুক্ত হবে না এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يعتمد في مواقيت العبادات، وأما الأذان الذي يكون سنة مؤكدة، في مثل المساجد التي في المصر ونحو ذلك، فهذا فيه روايتان، والصحيح: جوازه
(1).
الرابعة: لا يجب عليه الصوم حتى يبلغ، وفي رواية: يجب عليه إن أطاقه.
الخامسة: بيعه بإذن وليه للكثير صحيحٌ، وبغير إذنٍ صحيحٌ في الشيء اليسير.
وفي رواية: يصح في الكثير بلا إذن، موقوفاً على إجازة وليه.
السادسة: إمامته بالبالغ، هل تصح أم لا؟ ثلاث روايات، ثالثها: تصح في النفل دون الفرض، واختارها أكثر أصحابنا
(2).
السابعة: لو التقط لقطة وعرَّفها، فظاهر كلام ابن قدامة: عدم الإجزاء، وقال الحارثي: والأظهر خلافه.
(3)--------------------------------------------
ইবাদতের ওয়াক্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভর করা হয়। আর সেই আজান যা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة), যেমন শহরের মসজিদসমূহ এবং অনুরূপ স্থানে, সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। আর সঠিক (الصحيح) মত হলো: এটি বৈধ।
(১)চতুর্থ: বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তার ওপর রোজা ওয়াজিব নয়। তবে অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: যদি সে সামর্থ্য রাখে তবে তার ওপর তা ওয়াজিব।
পঞ্চম: অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বড় কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে তার ক্রয়-বিক্রয় সঠিক (صحيح), আর ছোটখাটো জিনিসের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াও সঠিক (صحيح)।
আর অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: অনুমতি ব্যতীত বড় লেনদেনের ক্ষেত্রেও তা সঠিক (يصح), তবে তা অভিভাবকের অনুমোদনের ওপর স্থগিত (موقوفاً) থাকবে।
ষষ্ঠ: প্রাপ্তবয়স্কদের ইমামতি করা তার জন্য সঠিক (تصح) কি না? এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে। তৃতীয়টি হলো: নফল নামাজের ক্ষেত্রে সঠিক (تصح), ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে নয়। আমাদের অধিকাংশ ফকিহগণ এটিই পছন্দ করেছেন।
(২)সপ্তম: সে যদি কোনো কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু পায় এবং তার ঘোষণা দেয়, তবে ইবনে কুদামার বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো: এটি যথেষ্ট হবে না। আল-হারিছি বলেন: অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত এর বিপরীত।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الثامنة: هل تصح هبته؟ المنصوص عن أحمد: عدم الصحة، سواء أذن الولي أم لا
(1).
التاسعة: هل يكون وليًّا في النكاح؟ المذهب: لا يكون وليًّا
(2).
العاشرة: شهادته، وأصح الروايات عنه: أنها لا تقبل، وعنه: تقبل، ولنا قول: تقبل شهادته على مثله.
--------------------------------------------
অষ্টম: তার দান করা কি বৈধ? আহমদ (রহ.) থেকে বর্ণিত মূল পাঠ (المنصوص) অনুযায়ী: তা শুদ্ধ নয়, চাই অভিভাবক (ولي) অনুমতি প্রদান করুক বা না করুক।
(১)নবম: সে কি বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবক (ولي) হতে পারবে? মাযহাব হলো: সে অভিভাবক (ولي) হতে পারবে না।
(২)দশম: তার সাক্ষ্য প্রদান; তার থেকে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: তা গ্রহণযোগ্য নয়। তার থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: তা গ্রহণ করা হবে। আমাদের একটি অভিমত হলো: তার সমপর্যায়ের কারো ক্ষেত্রে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القاعدة الثالثةلا تكليف على الناسي حال نسيانه، وقيل: هو مكلف.
(1)ولنا خلاف في المعذور إذا قضى ما فاته، هل هو بأمر جديد أم بالأمر السابق؟ وينبني على ذلك:
إن قلنا: بأمر جديد، فيكون أداء.
وإن قلنا: بالأمر الأول، فيكون قضاء.
• مسائل تتعلق بالناسي
(2):
الأولى: إذا نسي الماء وتيمم، فإنه يلزمه الإعادة إذا بان له الخطأ على أصح الروايتين.
الثانية: هل لمس الذكر ينقض وضوء الناسي؟ روايتان
(3).
--------------------------------------------
তৃতীয় নীতি (القاعدة الثالثة)বিস্মৃতিরত অবস্থায় বিস্মৃত ব্যক্তির ওপর কোনো দায়বদ্ধতা (تكليف) নেই, এবং বলা হয়েছে: সে দায়বদ্ধ বা আদিষ্ট (مكلف)।
(১)ওজরগ্রস্ত (معذور) ব্যক্তি যদি তার ছুটে যাওয়া আমল কাজা (قضاء) করে, তবে সেটি কি নতুন আদেশের মাধ্যমে নাকি পূর্ববর্তী আদেশের মাধ্যমে—এ বিষয়ে আমাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আর এর ওপর ভিত্তি করে নির্ণিত হয়:
যদি আমরা বলি: এটি নতুন আদেশের মাধ্যমে, তবে তা হবে আদায় (أداء)।
আর যদি আমরা বলি: এটি প্রথম আদেশের মাধ্যমে, তবে তা হবে কাজা (قضاء)।
• বিস্মৃত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ
(২):
প্রথমত: যদি কেউ পানির কথা ভুলে গিয়ে তায়াম্মুম করে, তবে দুটি বর্ণনার মধ্যে বিশুদ্ধতর বর্ণনা (أصح الروايتين) অনুযায়ী ভুল প্রকাশ পাওয়ার পর তার জন্য পুনরায় আদায় করা (الإعادة) আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত: লিঙ্গ স্পর্শ করা কি বিস্মৃত ব্যক্তির অজু ভঙ্গ করে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الثالثة: لو نسي ستر العورة، لم تجزئه الصلاة.
الرابعة: لا يفطر بالاستقاء ناسياً، على الصحيح من القولين
(1).
الخامسة: يفطر ويكفِّر بالجماع ناسياً، وعنه: لا يكفِّر، وعنه: لا يقضي، اختاره أبو العباس ابن تيمية
(2).
السادسة: العمل المستكثر من غير جنس الصلاة، إذا فعله ناسياً، هل تبطل صلاته أم لا؟ قولان
(3).
السابعة: لو حلق المحرم رأسه، أو قلم أظفاره، أو قتل صيداً، ناسياً؛ وجبت عليه الكفارة، وإن لبس، أو تطيب، أو غطى رأسه، ناسياً فلا كفارة عليه.
وقيل: لا كفارة في الجميع.
--------------------------------------------
তৃতীয়: যদি কেউ সতর ঢাকা ভুলে যায়, তবে তার সালাত যথেষ্ট হবে না।
চতুর্থ: ভুলবশত বমি করার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হয় না, দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী
(১)।
পঞ্চম: ভুলবশত সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে; ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী: কাফফারা দিতে হবে না; এবং তাঁর থেকে আরও একটি বর্ণনা অনুযায়ী: কাজা করতে হবে না, যা আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ গ্রহণ করেছেন
(২)।
ষষ্ঠ: সালাতের বহির্ভূত অধিক কাজ যদি কেউ ভুলবশত করে, তবে কি তার সালাত বাতিল হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে
(৩)।
সপ্তম: ইহরামকারী ব্যক্তি যদি ভুলবশত মাথা মুণ্ডন করে, নখ কাটে অথবা কোনো শিকার হত্যা করে, তবে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে; কিন্তু যদি সে ভুলবশত পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে অথবা মাথা আবৃত করে, তবে তার ওপর কোনো কাফফারা নেই।
বলা হয়েছে: কোনো ক্ষেত্রেই কাফফারা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقيل: تجب الكفارة في الجميع.
الثامنة: هل تسقط التسمية في الوضوء والحدث الأكبر والذبيحة بالنسيان؟ روايتان
(1).
التاسعة: إذا أصاب المظاهِرُ المظاهَرَ منها ناسياً، فهل ينقطع تتابع صيامه؟ روايتان
(2).
العاشرة: إذا حلف لايفعل شيئاً، ففعله ناسياً، فهل يحنث أم لا؟ ثلاث روايات.
ثالثها: يحنث في الطلاق والعتاق دون غيرهما، وهي المذهب.
واختار أبو العباس ابن تيمية: عدم الحنث مطلقاً
(3).
--------------------------------------------
এবং বলা হয়েছে: সবগুলোর ক্ষেত্রেই কাফফারা ওয়াজিব হবে।
অষ্টম মাসআলা: ভুলবশত অযু, বড় নাপাকি এবং যবাইয়ের ক্ষেত্রে কি তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা) রহিত হয়ে যাবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে
(১)।
নবম মাসআলা: যদি জিহারকারী ব্যক্তি ভুলবশত সেই স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলে যার সাথে সে জিহার করেছে, তবে কি তার রোযার ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে
(২)।
দশম মাসআলা: যদি কেউ কোনো কাজ করবে না বলে শপথ করে, অতঃপর তা ভুলবশত করে ফেলে, তবে কি তার শপথ ভঙ্গ হবে কি না? এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে তৃতীয়টি হলো: তালাক ও দাসমুক্তির ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গ হবে, অন্য ক্ষেত্রে নয়; আর এটিই হলো মাযহাবের সিদ্ধান্ত।
এবং আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ পছন্দ করেছেন: কোনো অবস্থাতেই শপথ ভঙ্গ হবে না
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
القاعدة الرابعة
في المغمى عليه، هل هو مكلف أم لا؟
هو متردد بين النائم والمجنون:
- فبالنظر إلى كون عقله لم يَزُل بل ستره الإغماء: فهو كالنائم.
- وبالنظر إلى كونه إذا نُبِّه لم ينتبه: يشبه المجنون.
ولذلك اختلفوا في الأحكام المتعلقة به، فتارة يلحقونه بالنائم، وتارة بالمجنون، والأظهر: إلحاقه بالنائم في جميع الأحكام.
• مسائل تتعلق بالمغمى عليه:
الأولى: قضاء الصلاة، فالمنصوص عن أحمد: لزوم القضاء
(1).
ولنا قول: لا قضاء عليه.
--------------------------------------------
চতুর্থ মূলনীতি
অচেতন ব্যক্তি সম্পর্কে: সে কি শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) নাকি নয়?
সে নিদ্রিত ব্যক্তি এবং অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মধ্যবর্তী অবস্থায় দোদুল্যমান:
- তার বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়নি বরং অচেতনতা তা কেবল আচ্ছন্ন করে রেখেছে—এই বিবেচনায় সে নিদ্রিত ব্যক্তির মতো।
- আর তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও সে সচেতন হয় না—এই বিবেচনায় সে অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির সদৃশ।
একারণেই তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির ক্ষেত্রে আলেমগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন; কখনো তারা তাকে নিদ্রিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কখনো অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির। তবে অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো: সকল বিধানের ক্ষেত্রে তাকে নিদ্রিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করা।
• অচেতন ব্যক্তি সম্পর্কিত মাসয়ালাসমূহ:
প্রথম: সালাত কাজা (قضاء) করা। ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত সুস্পষ্ট বক্তব্য (المنصوص) হলো: কাজা (قضاء) করা আবশ্যক।
(১)আমাদের একটি অভিমত হলো: তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الثانية: إذا نوى الصوم ليلاً، ثم أغمي عليه جميع النهار؛ لم يصح صومه، وإذا لم يصح صومه لزمه قضاؤه في أصح القولين.
الثالثة: لو باع شيئاً أو اشتراه، فأغمي عليه في المجلس، فقال ابن قدامة: قام أبوه أو وصيه أو الحاكم مقامه؛ كالمجنون
(1).
الرابعة: الوكالة لا تبطل بالاغماء.
الخامسة: إذا حصل بعرفة مغمًى عليه، هل يجزيه عن الوقوف؟ المذهب: أنه لا يجزئه، إلحاقاً له بالمجنون.
وقيل: بالإجزاء؛ كالنائم.
السادسة: إذا أوجب العقدَ في النكاح، ثم أغمي عليه قبل أن يقبل الزوج، أو وُجد في عقد البيع، أو في الشركة، فهل يبطل حكم الإيجاب كالمجنون؟ في ذلك قولان
(2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: যদি কেউ রাতে রোযার নিয়ত করে, অতঃপর সারাদিন অজ্ঞান হয়ে থাকে; তবে তার রোযা সঠিক (صحيح) হবে না। আর যদি তার রোযা সঠিক না হয়, তবে দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর মতানুসারে (أصح القولين) তা কাযা করা তার ওপর আবশ্যক।
তৃতীয়ত: যদি কেউ কোনো কিছু বিক্রি বা ক্রয় করে, অতঃপর মজলিসে (المجلس) থাকা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে যায়, তবে ইবনে কুদামা বলেন: তার পিতা, অসি বা অভিভাবক কিংবা শাসক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন; যেমনটি পাগল (المجنون) ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে
(১)।
চতুর্থত: ওকালতি (الوكالة) বা প্রতিনিধিত্ব অজ্ঞান হওয়ার কারণে বাতিল (تبطل) হয় না।
পঞ্চমত: যদি আরাফাতে অবস্থানকালে কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ে, তবে তা কি অবস্থানের (الوقوف) জন্য যথেষ্ট (يُجزئ) হবে? মাযহাব (المذهب) হলো: এটি যথেষ্ট হবে না, তাকে পাগল (المجنون) ব্যক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করার কারণে।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি যথেষ্ট (الإجزاء) হবে; ঘুমন্ত ব্যক্তির ন্যায়।
ষষ্ঠত: যদি কেউ বিবাহের চুক্তিতে ইজাব (الإيجاب) বা প্রস্তাব দেয়, অতঃপর বর কবুল করার পূর্বেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়, অথবা ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তিতে বা অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে, তবে কি ইজাবের হুকুম (حكم) পাগলের (المجنون) ন্যায় বাতিল হবে? এ বিষয়ে দুটি মত (قولان) রয়েছে
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
السابعة: الإغماء لا يبطل به الإحرام بالحج، وفي الجنون وجهان
(1).
--------------------------------------------
সপ্তম: অজ্ঞান হওয়ার কারণে হজের ইহরাম বাতিল (يبطل) হয় না, তবে পাগলামির ক্ষেত্রে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
القاعدة الخامسة
في السكران، هل هو مكلف أم لا؟
(1) قولان لأهل العلم
(2):
• تنبيه: حدُّ السكر الذي تترتب عليه أحكامه: هو إذا كان يخلط في كلامه وقراءته، أو يسقط تمييزه بين الأعيان، ولا يشترط فيه أن يكون بحيث لا يميز بين السماء والأرض، وبين الذكر والأنثى.
• فرع: من زال عقله بالبنج نظرت:
- فإن تداوى به: فهو معذور، ويكون الحكم فيه كالمجنون.
- وإن تناوله متلاعباً أو قصداً ليزيل عقله ويصير مجنوناً: فحكمه حكم السكران.
…--------------------------------------------
পঞ্চম নীতি (القاعدة الخامسة)
নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে কথা হলো, সে কি শরিয়ত কর্তৃক দায়িত্বশীল (مكلف) নাকি নয়?
(১) আলেমদের দুটি অভিমত রয়েছে
(২):
• সতর্কবার্তা: নেশাগ্রস্ততার সেই সীমা যার ওপর ভিত্তি করে এর বিধানসমূহ (أحكام) কার্যকর হয়: তা হলো যখন সে তার কথাবার্তা ও তিলাওয়াতে তালগোল পাকিয়ে ফেলে, অথবা বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে; তবে এক্ষেত্রে এমন শর্ত নেই যে তাকে আকাশ ও জমিনের মধ্যে অথবা পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম হতে হবে।
• শাখা: যার হিতাহিত জ্ঞান অ্যানেস্থেশিয়া বা সংজ্ঞানাশক ওষুধের মাধ্যমে লোপ পেয়েছে, তার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হলো:
- যদি সে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তা গ্রহণ করে থাকে: তবে সে ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে এবং তার ক্ষেত্রে বিধান (حكم) হবে উন্মাদের ন্যায়।
- আর যদি সে তা খেলার ছলে কিংবা স্বেচ্ছায় হিতাহিত জ্ঞান লোপ করে উন্মাদ হওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে: তবে তার বিধান (حكم) হবে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির বিধানের ন্যায়।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القاعدة السادسة
المكرَه المحمول كالآلة؛ غير مكلف.
ولو أُكْرِه وباشر بنفسه، فمكلف؛ لصحة الفعل منه والترك، ولهذا يأثم المكره على القتل بلا خلاف.
وهذه القاعدة مختلفة الحكم في الفروع في المذهب بالنسبة إلى الأقوال والأفعال على ما لا يخفى.
وضابط المذهب: أن الإكراه لا يبيح الأفعال، وإنما يبيح الأقوال، وإن اخْتُلِف في بعض الأفعال واختلف الترجيح.
• فروع القاعدة:
(1)الأولى: لو أُكره على الكلام في الصلاة، هل تفسد؟ قولان
(2).
الثانية: إذا أُكره الصائم على الأكل والشرب، فإنه لا يفطر، سواء أكره على الفطر حتى فعله، أو فُعِل به بأن صُبَّ
--------------------------------------------
ষষ্ঠ নীতি
যাকে যন্ত্রের ন্যায় চালিত করতে বাধ্য করা হয়েছে, সে শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ নয় (غير مكلف)।
যদি তাকে বাধ্য করা হয় এবং সে নিজেই কাজটি সম্পাদন করে, তবে সে শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) হবে; কারণ তার পক্ষ থেকে কাজটি করা বা বর্জন করা সম্ভব। এই কারণেই হত্যার ক্ষেত্রে বাধ্যকৃত ব্যক্তি কোনো মতভেদ ছাড়াই গুনাহগার হবে।
আর এই নীতির বিধান মাজহাবের (مذهب) শাখা-প্রশাখাগত মাসআলাসমূহে কথা এবং কাজের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন, যা স্পষ্ট।
মাজহাবের (مذهب) মূলনীতি হলো: জবরদস্তি বা বাধ্য করা কাজকে (أفعال) বৈধ করে না, বরং তা কেবল কথা বা উক্তিকে (أقوال) বৈধ করে; যদিও কিছু কাজের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে এবং প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) ক্ষেত্রেও মতভেদ হয়েছে।
• নীতির শাখা-প্রশাখাসমূহ:
(১)প্রথম: যদি কাউকে সালাতে কথা বলতে বাধ্য করা হয়, তবে কি সালাত বাতিল (فساد) হয়ে যাবে? এ ব্যাপারে দুটি মত (قولان) রয়েছে।
(২)দ্বিতীয়: যখন কোনো রোজা পালনকারীকে পানাহারে বাধ্য করা হয়, তখন তার রোজা ভাঙবে না; চাই তাকে রোজা ভাঙতে বাধ্য করার পর সে নিজে তা সম্পাদন করুক, অথবা তার সাথে এমন করা হোক যে (তার গলায় খাবার বা পানি) ঢেলে দেওয়া হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
في حلقه الماء مكرهاً.
الثالثة: إذا أُكره المعتكف على الخروج من المسجد؛ لم يبطل اعتكافه ولو خَرَج بنفسه.
الرابعة: لو أُكره المحرِم على حلق رأسه؛ فإن الفدية تجب على الحالق.
وقيل: تجب على المحلوق، و يرجع بها على الحالق.
الخامسة: جميع عقود المكرَه وإقراراته، لا تصح.
السادسة: إذا ثبت خيار المجلس في صورة، فأُكره أحد المتعاقدين على مفارقة صاحبه، لم يبطل الخيار.
وقيل: يبطل.
السابعة: إذا أُكره مَنْ بيده الطلاق على الطلاق بغير حق، فنطق به يقصد دفع الإكراه عن نفسه؛ لم يقع الطلاق.
ولو قصد إيقاع الطلاق دون دفع الإكراه، ففيه قولان
(1).
الثامنة: لو أَكره مكلفاً على قتل إنسان يكافئه، فَقَتَل؛ فالقَوَدُ عليهما.
--------------------------------------------
বাধ্য হয়ে (مكرهاً) তার গলায় পানি প্রবেশ করলে।
তৃতীয়: যদি ইতিকাফকারীকে (المعتكف) মসজিদ থেকে বের হতে বাধ্য করা হয়; তবে তার ইতিকাফ বাতিল (يبطل) হবে না, যদিও সে নিজে বের হয়।
চতুর্থ: যদি ইহরামকারীকে (المحرم) তার মাথা মুণ্ডন করতে বাধ্য করা হয়; তবে ফিদিয়া (الفدية) মুণ্ডনকারীর ওপর ওয়াজিব হবে।
এবং বলা হয়েছে: যার মাথা মুণ্ডন করা হয়েছে তার ওপর ওয়াজিব হবে এবং সে তা মুণ্ডনকারীর থেকে উসুল করে নেবে।
পঞ্চম: বাধ্য করা ব্যক্তির (المكرَه) সমস্ত চুক্তি (عقود) এবং স্বীকারোক্তি (إقرارات) সহিহ (تصح) নয়।
ষষ্ঠ: যদি কোনো সুরতে বৈঠকের এখতিয়ার (خيار المجلس) সাব্যস্ত হয়, অতঃপর চুক্তিকারীদের একজনকে তার সঙ্গী থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করা হয়, তবে এখতিয়ার বাতিল (يبطل) হবে না।
এবং বলা হয়েছে: বাতিল (يبطل) হয়ে যাবে।
সপ্তম: যদি তালাক (الطلاق) প্রদানের অধিকার যার আছে তাকে অন্যায়ভাবে তালাক (الطلاق) দিতে বাধ্য করা হয়, আর সে নিজের ওপর থেকে জবরদস্তি দূর করার উদ্দেশ্যে তা উচ্চারণ করে; তবে তালাক পতিত হবে না (لم يقع)।
আর যদি সে জবরদস্তি দূর করার উদ্দেশ্য ব্যতীত তালাক কার্যকর করার সংকল্প করে, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত (قولان)
(1) রয়েছে।
অষ্টম: যদি কেউ একজন মুকাল্লাফকে (مكلفاً) তার সমপর্যায়ের কোনো মানুষকে হত্যা করতে বাধ্য করে এবং সে হত্যা করে; তবে তাদের উভয়ের ওপরই কিসাস (القَوَدُ) কার্যকর হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
التاسعة: لو أُكره على السرقة، أو تناوُلِ المسكر، ففعل، فهل يجب عليه الحد أم لا؟ روايتان
(1)، وقيل: يحد لشرب الخمر مكرهاً.
(2)العاشرة: لو أُكره على الرضاع، فإنه يثبت حكمه.
•مسألة: اختلفت الرواية عن الإمام أحمد في صفة الإكراه المانع من ترتيب الأحكام عليه:
فعنه: أنه الضرب أو الحبس أو أخذ المال.
وعنه: أن التوعد بذلك إكراه، إذا خاف أنه يُفعل به ما توعده به.
وقال أبو العباس ابن تيمية: إذا غلب على ظنه أنه يضره في نفسه أو أهله أو ماله، فإنه يكون مكرهاً.
•مسألة: لا فرق بين أن يكون الإكراه من السلطان، أو من لص، أو من متغلب
(3).
--------------------------------------------
নবম মাসআলা: যদি কাউকে চুরিতে কিংবা মাদক গ্রহণে বাধ্য (إكراه) করা হয় এবং সে তা করে ফেলে, তবে কি তার ওপর দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা ওয়াজিব হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان)
(১) রয়েছে। এবং বলা হয়েছে: বাধ্য (إكراه) অবস্থায় মদ পান করার কারণেও তাকে দণ্ড (حد) প্রদান করা হবে।
(২)দশম মাসআলা: যদি দুগ্ধপানের ক্ষেত্রে কাউকে বাধ্য (إكراه) করা হয়, তবে এর বিধান (حكم) সাব্যস্ত হবে।
• মাসআলা: ইমাম আহমাদ থেকে ওই বাধ্যবাধকতার (إكراه) স্বরূপ সম্পর্কে বর্ণনায় (رواية) মতভেদ হয়েছে যা বিধি-বিধান কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়:
তাঁর থেকে এক বর্ণনায় আছে: এটি হলো প্রহার করা, কারারুদ্ধ করা অথবা সম্পদ কেড়ে নেওয়া।
তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে: এর মাধ্যমে হুমকি প্রদান করাও বাধ্যবাধকতা (إكراه) হিসেবে গণ্য, যদি সে আশঙ্কা করে যে তাকে যা দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তা বাস্তবে কার্যকর করা হবে।
আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে এটি তার নিজের, তার পরিবারের কিংবা তার সম্পদের ক্ষতি করবে, তবে সে বাধ্য (مكره) বলে গণ্য হবে।
• মাসআলা: বাধ্যবাধকতা (إكراه) সুলতান (শাসক), চোর কিংবা কোনো প্রভাবশালী দখলদারের (متغلب) পক্ষ থেকে আসার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
•مسألة: الشتم والسب لا يكون إكراهاً رواية واحدة، في حق كل أحد ممن يتألم بالشتم أو لا يتألم.
وقيل: إن كان من ذوي المروءات على وجه يكون إخراقاً بصاحبه وغضًّا له وشهرة في حقه، فهو كالضرب الكثير في حق غيره.
• فرع: إن أكرهه بتعذيب ولده:
فقالت طائفة: إنه لا يكون إكراهاً.
والصحيح في المذهب: أنه يكون إكراهاً.
ويتوجه: بتعدِّيه إلى كل من يشق عليه تعذيبه مشقة عظيمة، من والدٍ وزوجةٍ وصديق.
•
… خاتمة: هل الأفضل لمن أُكره على شيء من المحرمات، أن يجيب إلى ما أُكره عليه، أو يصبر؟ نزاعٌ بين العلماء.
والمنصوص عن أحمد: إن صبر فله الشرف، وإن لم يصبر فله الرخصة.
মাসয়ালা: গালিগালাজ ও ভর্ৎসনা করা জবরদস্তি (إكراه) হিসেবে গণ্য হবে না—এটিই একমাত্র বর্ণনা (رواية واحدة); এটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে গালিগালাজে ব্যথিত হয় কিংবা হয় না।
এবং বলা হয়েছে: যদি এটি এমন আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয় যে এতে তার সম্মানহানি ঘটে, সে লাঞ্ছিত হয় এবং লোকসমাজে তার মানহানি ঘটে, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে প্রচুর প্রহার যেমন গণ্য হয়—তার ক্ষেত্রে এটি তেমনই গণ্য হবে।
• শাখা মাসয়ালা (فرع): যদি তাকে তার সন্তানকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বাধ্য করা হয়:
একদল আলিম বলেছেন: এটি জবরদস্তি (إكراه) হিসেবে গণ্য হবে না।
মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো: এটি জবরদস্তি (إكراه) হিসেবে গণ্য হবে।
এবং এ মতটিও পেশ করা হয়েছে যে: এর পরিধি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিস্তৃত যাকে নির্যাতন করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য চরম কষ্টদায়ক হয়, যেমন—পিতা, স্ত্রী বা বন্ধু।
•
… পরিশিষ্ট: যাকে কোনো হারাম কাজের জন্য বাধ্য করা হয়, তার জন্য কি বাধ্য হওয়া বিষয়ে সাড়া দেওয়া উত্তম, নাকি ধৈর্য ধারণ করা? এ বিষয়ে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ (نزاع) রয়েছে।
ইমাম আহমাদ থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) হয়েছে যে: যদি সে ধৈর্য ধারণ করে তবে তার জন্য রয়েছে গৌরব ও মর্যাদা, আর যদি সে ধৈর্য ধারণ না করে তবে তার জন্য রয়েছে ছাড় (رخصة)।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القاعدة السابعة
الكفار مخاطبون بالإيمان إجماعاً
(1).
وبفروع الإسلام في الصحيح عن أحمد.
وفي رواية: لا يخاطبون بالأوامر، ويخاطبون بالنواهي.
وحكى بعض أصحابنا رواية: أنهم غير مخاطبين بشيء من الفروع، الأوامر والنواهي.
• إذا تقرر هذا: فهل يظهر للخلاف فائدة في الدنيا، أو فائدة التكليف - إذا قلنا به - زيادة العقاب في الآخرة؟
غالب الأصوليين: أن فائدته زيادة العقاب في الآخرة فقط.
وقيل: للخلاف فائدة في الدنيا.
والذي يظهر: أن بناء الفروع التي تتعلق بالكفار على الخلاف في المسألة غير مطرد ولا منعكس في جميعها.
--------------------------------------------
সপ্তম নীতি
কাফিরগণ ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতভাবে (إجماعاً) শরয়ি বিধানের সম্বোধিত বা আদিষ্ট
(১)।
আর ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত সঠিক (الصحيح) মতানুসারে তারা ইসলামের শাখা-প্রশাখাসমূহ পালনেও আদিষ্ট।
অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: তারা আদেশসমূহ পালনে আদিষ্ট নয়, তবে নিষেধসমূহ বর্জনে আদিষ্ট।
আমাদের কতিপয় সাথী একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যে: তারা শাখা-প্রশাখার কোনো বিষয়—আদেশ হোক বা নিষেধ—কোনোটির মাধ্যমেই আদিষ্ট নয়।
• যখন এটি নির্ধারিত হলো: তবে কি এই মতভেদের কোনো পার্থিব উপকারিতা পরিলক্ষিত হয়, অথবা শরয়ি দায়বদ্ধতার সুফল—যদি আমরা তা মেনে নেই—কেবল পরকালে শাস্তি বৃদ্ধি হওয়াই কি এর উদ্দেশ্য?
অধিকাংশ মূলনীতিবিদদের (الأصوليين) মতে: এর সুফল কেবল পরকালে শাস্তি বৃদ্ধি পাওয়া।
কেউ কেউ বলেন: এই মতভেদের পার্থিব উপকারিতাও রয়েছে।
আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো: কাফিরদের সাথে সংশ্লিষ্ট শাখা-প্রশাখাসমূহের বিধানগুলোকে এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে সাজানো সব ক্ষেত্রে সুসংগত বা প্রতিলম্ব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
• مسائل تتعلق بالكفار بناها بعضهم على التكليف بالفروع وعدمه
(1):
الأولى: أن الزوج لا يُجبِر الذمية على غسل الحيض، وأنه يطأ بدونه
(2).
ولعل هذا مبني على أنهم ليسوا بمخاطبين.
الثانية: الذمي، هل يُمنع من قراءة القرآن؟ المنصوص عن أحمد: المنع
(3)، وقيل: لا يمنع.
وهذا يحسن أن يكون مبنيًّا على القاعدة.
الثالثة: المرتد إذا أسلم، فهل يلزمه قضاء ما ترك من العبادات زمن الردة؟ على روايتين، المذهب: عدم اللزوم.
وبناه بعضهم على القاعدة، وليس هذا بناء جيداً.
الرابعة: هل يجوز للكافر لبس الحرير؟ المذهب: لا يجوز.
--------------------------------------------
• কাফেরদের (الكفار) সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা যা কেউ কেউ শরিয়তের শাখা-বিধানসমূহে আদিষ্ট (التكليف بالفروع) হওয়া বা না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে উল্লেখ করেছেন
(১):
প্রথমত: স্বামী তার জিম্মি (الذمية) স্ত্রীকে হায়েজের (الحيض) গোসলের জন্য বাধ্য করবেন না এবং তিনি তা ব্যতীতই স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারেন
(২)।
সম্ভবত এটি এ কথার ওপর ভিত্তি করে যে, তারা শরিয়তের বিধানের জন্য সম্বোধনকৃত (مخاطبين) নন।
দ্বিতীয়ত: জিম্মিকে (الذمي) কি কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখা হবে? ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত ভাষ্য (المنصوص) হলো: তাকে বিরত রাখা হবে
(৩), আর বলা হয়েছে: তাকে বিরত রাখা হবে না।
আর এটি উক্ত মূলনীতির (القاعدة) ওপর ভিত্তি করে হওয়াটাই সমীচীন।
তৃতীয়ত: মুরতাদ (المرتد) ব্যক্তি যখন ইসলাম গ্রহণ করে, তখন কি তার জন্য মুরতাদ থাকাকালীন সময়ে পরিত্যক্ত ইবাদতসমূহ কাজা (قضاء) করা আবশ্যক? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে, মাযহাব (المذهب) হলো: তা আবশ্যক নয়।
কেউ কেউ একে মূলনীতির (القاعدة) ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন, তবে এটি কোনো উত্তম ভিত্তি নয়।
চতুর্থত: কাফেরের জন্য কি রেশমি বস্ত্র পরিধান করা বৈধ? মাযহাব (المذهب) হলো: তা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وبناه بعض الأصحاب على القاعدة.
واختار أبو العباس ابن تيمية: الجواز
(1).
الخامسة: إذا أسلم الكافر بعد تجاوز الميقات وأراد الإحرام، فإنه يُحرِم من موضعه، وهل يلزمه دم؟ على روايتين، المذهب: لا دم عليه.
وبناه بعضهم على القاعدة.
السادسة: أن أهل الذمة هل يمنعون من إظهار الأكل والشرب في نهار رمضان؟ المذهب: يمنعون.
وهذا قد يكون مبنيًّا على تكليفهم.
السابعة: استئجار الكافر للجهاد، فإنه يصح.
بناه بعضهم على القاعدة، وليس بناء جيداً.
الثامنة: إذا أتلف الكافر صيداً في الحرم، فإنه يضمنه.
وبناه بعضهم على هذه القاعدة، وليس بناء جيداً.
التاسعة: أنكحة الكفار، هل هي صحيحة أم لا
(2)؟
--------------------------------------------
কোনো কোনো ফকিহ (الأصحاب) একে মূলনীতির (القاعدة) ওপর ভিত্তি করেছেন।
আর আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বৈধতার (الجواز) মতটি গ্রহণ করেছেন
(১)।
পঞ্চম মাসআলা: যদি কোনো কাফির মিকাত অতিক্রম করার পর ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করে, তবে সে তার অবস্থানস্থল থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এখন প্রশ্ন হলো, তার ওপর কি কোনো দম (دم) দেওয়া আবশ্যক হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। মাযহাবের (المذهب) বিশুদ্ধ মত হলো: তার ওপর কোনো দম (دم) নেই।
এবং তাদের কেউ কেউ একে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন।
ষষ্ঠ মাসআলা: আহলে জিম্মিদের (أهل الذمة) কি রমজানের দিনে প্রকাশ্যে পানাহার করা থেকে বিরত রাখা হবে? মাযহাবের (المذهب) সিদ্ধান্ত হলো: তাদের বিরত রাখা হবে।
আর এটি সম্ভবত তাদের ওপর শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার (تكليفهم) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে।
সপ্তম মাসআলা: জিহাদের জন্য কাফিরকে ভাড়া করা; এটি সহিহ (يصح)।
কেউ কেউ একে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন, তবে এই ভিত্তিটি তেমন মজবুত নয়।
অষ্টম মাসআলা: যদি কোনো কাফির হারামের সীমানায় কোনো শিকার করা প্রাণীকে ধ্বংস করে, তবে তাকে এর ক্ষতিপূরণ (يضمنه) দিতে হবে।
এবং কেউ কেউ একে এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন, তবে এই ভিত্তিটি সঠিক নয়।
নবম মাসআলা: কাফিরদের বিবাহসমূহ কি সহিহ (صحيحة) নাকি নয়
(২)?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
صوب أبوالعباس ابن تيمية: أن أنكحتهم صحيحة من وجه، فاسدة من وجه، فإنه إن أريد نفوذه وترتب أحكام الزوجية عليه، من حصول الحل به للمطلق ثلاثاً، ووقوع الطلاق فيه، وثبوت الإحصان به؛ فصحيح.
وبنى بعضهم هذه المسألة على هذه القاعدة وطرده في جميع عقودهم.
العاشرة: إذا نذر الكافر عبادة صح نذره.
وهذا يحسن بناؤه على القاعدة.
আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়াহ সঠিক হিসেবে ব্যক্ত করেছেন যে: তাদের বিবাহসমূহ একদিক থেকে সঠিক (صحيح) এবং অন্য দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد); কেননা যদি এর দ্বারা তার কার্যকারিতা এবং এর ওপর দাম্পত্য বিধানের প্রয়োগ উদ্দেশ্য হয়—যেমন এর মাধ্যমে তিন তালাক প্রদানকারীর জন্য (স্ত্রী) বৈধতা অর্জন, এতে তালাক পতিত হওয়া এবং এর মাধ্যমে ইহসান (বৈবাহিক সতীত্ব) সাব্যস্ত হওয়া—তবে তা সঠিক (صحيح)।
এবং তাদের কেউ কেউ এই মাসআলাটিকে উক্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন এবং তাদের সকল চুক্তির ক্ষেত্রে একে সাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন।
দশম বিষয়: যদি কোনো কাফির ইবাদতের মানত করে, তবে তার মানত সঠিক (صحيح) হবে।
আর এটি উক্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করা উত্তম।
(খণ্ড: ১)
তাজরীদুল কাওয়ায়িদি ওয়াল ফাওয়াইদিল উসুলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
القاعدة الثامنة
يشترط لصحة التكليف: أن يكون المكلف عالماً بما كُلِّف به، ويُعبر عنه بـ (تكليف الغافل (.
فيه خلاف مبني على التكليف بالمحال.
• مسائل تتعلق بجاهل الحكم، هل هو معذور أم لا؟
(1)(2)الأولى: إذا تكلم في الصلاة جاهلاً بتحريم الكلام، أو الإبطال به، ففيه قولان للأصحاب، المذهب: تبطل.
الثانية: إذا أكل في الصلاة أو شرب يسيراً، جاهلاً بتحريم ذلك، فهل تبطل صلاته؟ روايتان، وإن كثر بَطَلت رواية واحدة.
(3)--------------------------------------------
অষ্টম মূলনীতি
শরয়ী বিধান অর্পণের বৈধতা (صحة التكليف)-এর জন্য শর্ত হলো: যার ওপর বিধান অর্পণ করা হচ্ছে, তাকে সেই অর্পিত বিধান সম্পর্কে অবগত হতে হবে; একে অসতর্ক ব্যক্তির ওপর বিধান অর্পণ (تكليف الغافل) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যা অসম্ভব বিষয়ের ওপর বিধান অর্পণ (التكليف بالمحال)-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
• বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট মাসয়ালাসমূহ; সে কি ওজরপ্রাপ্ত বা অপারগ হিসেবে গণ্য হবে কি না?
(১)(২)প্রথম মাসয়ালা: যদি কেউ নামাজের মধ্যে কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়া অথবা এর মাধ্যমে নামাজ বাতিল হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অবস্থায় কথা বলে, তবে এ বিষয়ে মাজহাবের ইমামগণের দুটি অভিমত রয়েছে; মাজহাব (المذهب) হলো: নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় মাসয়ালা: যদি কেউ নামাজের মধ্যে নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি না জেনে সামান্য কিছু আহার বা পান করে, তবে কি তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে; তবে আহারের পরিমাণ অধিক হলে এক বর্ণনা (رواية واحدة) অনুযায়ী নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।
(৩)--------------------------------------------